(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: -)
مقام الرشاد بين التقليد والاجتهاد   (فيصل آل مبارك)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: مقام الرشاد بين التقليد والاجتهاد

المؤلف: فيصل بن عبد العزيز بن فيصل ابن حمد المبارك الحريملي النجدي (ت 1376هـ)

تحقيق: أَبِي الْعَالِيَةَ محَمّدُ بِنُ يُوسُفُ الجُورَانِيّ

الناشر: بدون ناشر أو رقم طبعة أو عام نشر!

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 37

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মাকামুর রাশাদ বাইনাত তাকলিদি ওয়াল ইজতিহাদ (অন্ধ অনুসরণ (تقليد) ও গবেষণার (اجتهاد) মাঝে সঠিক পথের দিশা)   (ফয়সাল আল-মুবারক)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


বই: মাকামুর রাশাদ বাইনাত তাকলিদি ওয়াল ইজতিহাদ (তাকলিদ ও ইজতিহাদের মাঝে হেদায়েতের অবস্থান)

লেখক: ফয়সাল ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে ফয়সাল ইবনে হামাদ আল-মুবারক আল-হুরায়মিলি আন-নাজদি (মৃত্যু ১৩৭৬ হিজরি)

যাচাই ও সম্পাদনা (تحقيق): আবুল আলিয়া মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-জুরানি

প্রকাশক: কোনো প্রকাশক, সংস্করণ নম্বর বা প্রকাশের বছর উল্লেখ নেই!

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ১)
تَألِيفُ

فَضَيلةِ الشَّيْخِ العَلَاّمةِ

فَيْصَلَ بِنَ عَبدِ العَزِيزِ آل مُبَارَك

ت 1376هـ رحمه الله

 

تَحْقَيِقُ

أَبِي الْعَالِيَةَ محَمّدُ بِنُ يُوسُفُ الجُورَانِيّ
রচনা করেছেন

ফযিলাতুশ শায়খ আল-আল্লামাহ

ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল-মুবারক

মৃত্যু ১৩৭৬ হি. (রাহিমাহুল্লাহ)

 

সম্পাদনা ও যাচাইকরণ (تحقيق)

আবুল আলিয়া মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-জুরানি
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌مُقَدِّمة

إنَّ الحمْدَ للهِِِِ، نَحْمَدُهُ ونَسْتعِينُهُ ونَسْتغفِرُهُ، ونَعُوذُ بِِِِاللهِِِ مِِنْ شُرورِ أَنْفسِنَا وسَيِّئَاتِ أَعمَالِِنَا، مَنْ يَهْدِهِِ اللهُ فَلا مُضِلَّ لَهُ، ومَنْ يُضْلِل فَلا هَادِي لَهُ، وأَشْهدُ أنَّ لا إِلَهَ إِلَّا الله وَحدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، وأَشْهدُ أنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ ورَسُولُهُ.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً}

[النساء: 1]

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدا ً* يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب: 70، 71] .

أمَّا بعدُ: فَإنَّ أصدقَ الحدِيْثِ كِتابُ اللهِ تعالى، وخَيرَ الهَدْي هَدْيُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَشَرَّ الأمُورِ مُحْدَثاتُها، وكلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعة، وكلَّ بِدْعةٍ ضَلالة، وكلَّ ضَلالةٍ في النَّارِ.

فَإنَّ مِنْ أجلِّ القُرَبِ والطَّاعاتِ التي يَنْبَغي للمُسْلمِ السَّعْيُ فِيْها، والمسَارعةُ إِلَيْهَا والازدِيَادُ مِنْها؛ الاشتِغَالُ بِعُلومِ الشَّرِيعةِ الغرَّاءِ، مَعْ حُسْنِ النيَّةِ، سَائراً في ذِلك عَلى مِنْهاجِ النُّبوَّةِ المُحَمَّديَّةِ، ومُقْتَفِياً آثارَ السَّلفِ العَلِيَّة.

قَال الحقُّ جَلَّ فِي عُلاهُ: {وَقُل رَّبِّ زِدْنِي عِلْماً} [طه: 114]

قَال الحَافِظُ ابنُ حَجَرٍ رحمه الله: ((وَاضِحُ الدَّلَالَةِ فِي فَضْلِ الْعِلْمِ؛ لِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يَأْمُرْ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم بِطَلَبِ الِازْدِيَادِ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا مِنْ الْعِلْمِ، وَالْمُرَادُ بِالْعِلْمِ؛ الْعِلْمُ الشَّرْعِيُّ الَّذِي … يُفِيدُ مَعْرِفَةَ مَا يَجِبُ عَلَى الْمُكَلَّفِ مِنْ أَمْرِ عِبَادَاتِهِ وَمُعَامَلَاتِهِ، وَالْعِلْمُ بِاَللَّهِ وَصِفَاتِهِ، وَمَا يَجِبُ لَهُ مِنْ الْقِيَامِ بِأَمْرِهِ، وَتَنْزِيهِهِ عَنْ النَّقَائِصِ، وَمَدَارُ ذَلِكَ عَلَى التَّفْسِيرِ وَالْحَدِيثِ وَالْفِقْهِ)) (1) .

--------------------------------------------

(1) الفتح (1/187) .
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]

{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে অনেক পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য চাও এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।}

[আন-নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।} [আল-আহজাব: ৭০, ৭১] ।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নব-উদ্ভাবিত বিষয় (محدثة), প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة) এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামে।

নিশ্চয়ই মহান নৈকট্য ও আনুগত্যের কাজসমূহের মধ্যে—যাতে একজন মুসলিমের সচেষ্ট হওয়া, দ্রুত অগ্রসর হওয়া এবং যা অধিক হারে অর্জন করা উচিত তা হলো—বিশুদ্ধ নিয়তের সাথে উজ্জ্বল শরিয়তের জ্ঞানসমূহে মগ্ন থাকা; এ ক্ষেত্রে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়তের মানহাজ অনুসরণ করা এবং পূর্বসূরি মহান সালাফদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা।

মহা মহিমান্বিত সত্য আল্লাহ বলেছেন: {আর আপনি বলুন, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।} [ত্বহা: ১১৪]

হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে এটি এক সুস্পষ্ট দলিল; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জ্ঞান ব্যতীত অন্য কোনো কিছু বৃদ্ধি করার প্রার্থনা করার নির্দেশ দেননি। আর এখানে জ্ঞান বলতে উদ্দেশ্য হলো শরয়ী জ্ঞান, যা … মুকাল্লাফের ওপর তার ইবাদত ও লেনদেনের ক্ষেত্রে যা ওয়াজিব তা জানতে সাহায্য করে। আর আল্লাহ ও তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং তাঁর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে তাঁর জন্য যা আবশ্যক তা জানা ও যাবতীয় ত্রুটি থেকে তাঁকে পবিত্র রাখা—এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো তাফসির, হাদিস এবং ফিকহ।” (১) ।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতহ (১/১৮৭) ।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ২)
فَلَو قَد ذُقتَ مِن حَلواهُ طَعما … لَآثَرتَ التَعَلُّمَ وَاِجتَهَدتا

ًوَلَم يَشغَلْكَ عَنهُ هَوىً مُطاعٌ … وَلا دُنْيَا بِزُخرُفِها فُتِنْتا

وَلا أَلهاكَ عَنهُ أَنيقُ رَوضٍ … وَلا دُنْيَا بِزِينَتِهَا كَلِفْتا

فَقُوتُ الرُّوحِ أَرواحُ المعَانِي … وَلَيسَ بِأَن طَعِمتَ وَلا شَرِبْتا

فَواظِبهُ وَخُذْ بِالجِدِّ فيهِ … فَإِنْ أَعطاكَهُ اللَهُ انْتَفَعْتَا (1)

وَلِأَجْلِ هَذا وذَاك، تَطلَّعَتْ هِمَّةُ الشَّيخِ فَيْصَلَ رحمه الله بِالمشَارَكَةِ - ولَو بِالقَلِيلِ - فِي هَذا الفَنِّ الجَدِيرِ بِالاهتِمَامِ؛ فَأخَرْجَ لَنَا هَذِهِ الدُّرَةَ، وهَاتِهِ الرَّائعَةَ مِنْ رَوَائِعِ تَصَانِيْفِهِ؛ فَاسْتَلَّ هَذهِ الرِّسالةَ اسْتِلَالَ العَالِمِ النَّحْرِيْرِ، والنَّاقدِ البَصِيْرِ، مِنْ بِيْنِ مَوضُوعَاتِ الاجْتِهادِ والتَّقْليدِ وأَبْحَاثِهِمَا المتَشَعِّبِةِ؛ فَرَفَعَ لِوَاءَ الاجْتِهادِ وَأَهَمِّيَّتَهُ، وَحَثَّ العُلَمَاءَ وَطَلَبَةَ العِلْمِ المتَّقِيْنَ إِلَيْهِ، وَأَنْ يَدُورُوا مَعْ الدَّلِيْلِ حَيْثُ دَارَ، وَيَتْرُكُوا أَقْوَالَ العُلَمَاءِ إِنْ خَالَفَتْهُ؛ فَمَحَبَّةُ الحَقِّ أَحَبُّ مِنْ مَحَبَّةِ الخَلْقِ؛ فَسَاقَ هَذِهِ الرِّسَالَةَ بِبَرَاعةِ أُسْلُوبِهِ، وَجَمَالِ رَوْنَقِهِ؛ مِمَّا جَعَلَهَا سَهْلةً يَسِيْرةً بَعِيدةً عن التَّعْقيدِ والتنْظِيرِ؛ كعَادَةِ أَصْحَابِ الأُصُولِ والمتِكَلِّمِينَ.

فَجَاءتْ رِسَالتُهُ مَاتِعَةً في بَابِها؛ نَافِعَةً لطُلَاّبِهَا؛ فجَزَاه اللهُ خَيْرَ الجَزَاءِ عَلى مَا نَفَعَ بِهِ الإِسْلامَ والمسْلِمِينَ.

وَإذَا كَانَ ذَلكَ كَذَلِكَ؛ فَقَدْ نَشِطَتْ الهِمَّةُ، وقَوِيتْ العَزِيمةُ، وحَسُنتْ النِّيَّةُ - إنْ شَاءَ اللهُ - فِي إِخْراجِ هِذهِ الرِّسالَةِ الَّلَطِيفةِ، في ثَوْبٍ جَديدٍ مُتْقَنٍ - إنْ شَاءَ اللهُ - عَلَّنِي أَدْخُلَ في صُفوفِ أُولئكَ النَّفرِ الَّذِين يَخْدِمونَ مِيراثَ العُلَماءِ - وأَنَا المتَطفِّلُ عَلَيْهِم - لِيستَفِيدَ مِنْه مَنْ خَلْفَهُمْ، وليَقِفُوا عَلى أَرَائِهم في تَصَانِيْفِهِم؛ فيَذْكُرُونَا بِالجَمِيلِ، بَعْدَ وقْتِ الرَّحيلِ؛ فَاللهُمَّ أَنْتَ بِكُلِّ جَميلٍ كَفِيلٍ، وأَنْتَ حَسْبُنا ونِعْم الوَكِيل.

وَرَحِمَ اللهُ ابنَ الجوزيِّ حِيْن نَقَل عَنْ الإمامِ العَالِمِ المُجَاهِدِ عَبْدِ اللهِ بِنِ المبَارَكِ، إذْ يَقُولُ: ((لا أَعْلَمُ بَعْدَ النُّبُوَّةِ أَفْضَلُ مِنْ بَثِّ العِلْمِ)) (2) .

--------------------------------------------

(1) من قصيدة أبي إسحاق الإلبيري رحمه الله، انظرها في الجامع للمتون العلمية للشمراني (629) .

(2) صفة الصفوة (4/124) .
যদি তুমি এর মিষ্টতার স্বাদ আস্বাদন করতে ... তবে তুমি ইলম অর্জনকেই প্রাধান্য দিতে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে।

কোনো বশীভূত প্রবৃত্তি তোমাকে তা থেকে বিমুখ করতে পারত না ... আর পার্থিব চাকচিক্য তোমাকে মোহিত করতে পারত না।

মনোহর উদ্যান তোমাকে তা থেকে গাফেল করতে পারত না ... আর দুনিয়ার সৌন্দর্যে তুমি আসক্ত হতে না।

কেননা আত্মার খোরাক হলো অর্থের নির্যাস ... তোমার পানাহার করার নাম আত্মার খোরাক নয়।

সুতরাং এতে একনিষ্ঠ হও এবং গুরুত্বের সাথে তা গ্রহণ করো ... যদি আল্লাহ তোমাকে তা দান করেন, তবে তুমি উপকৃত হবে। (১)

আর এই সকল কারণেই শায়খ ফয়সাল (রহিমাহুল্লাহ)-এর উচ্চাকাঙ্ক্ষা এই গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রের প্রতি—সামান্য হলেও—অংশগ্রহণের প্রতি ধাবিত হয়েছে। ফলস্বরূপ তিনি আমাদের সামনে এই মুক্তাসম এবং চমৎকার রচনাটি উপস্থাপন করেছেন। তিনি একজন প্রাজ্ঞ আলিম এবং দূরদর্শী পর্যালোচকের (ناقد) ন্যায় ইজতিহাদ (اجتهاد) ও তাকলিদ (تقليد) সংক্রান্ত বিষয়াবলি এবং তাদের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক গবেষণার মধ্য হতে এই রিসালাহটি নিপুণভাবে নিষ্কাশন করেছেন। তিনি ইজতিহাদের (اجتهاد) ঝাণ্ডাকে সমুন্নত করেছেন এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি তিনি উলামায়ে কিরাম এবং মুত্তাকি জ্ঞানান্বেষীদের এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন; আর যেন তারা দলিলের (دليل) অনুসরণে আবর্তিত হয় দলিল (دليل) যেখানেই নিয়ে যায়, এবং উলামাদের বক্তব্য যদি দলিলের (دليل) পরিপন্থী হয় তবে তা বর্জন করে। কেননা সৃষ্টির ভালোবাসার চেয়ে সত্যের প্রতি ভালোবাসা অধিক কাম্য। তিনি তার প্রাঞ্জল রচনাশৈলী এবং চমৎকার উপস্থাপনার মাধ্যমে এই রিসালাহটি সাজিয়েছেন; যা একে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল করে তুলেছে এবং উসুল (أصول) শাস্ত্রবিদ ও কালামশাস্ত্রবিদদের (متكلمين) ন্যায় তাত্ত্বিক জটিলতা থেকে মুক্ত রেখেছে।

ফলে তার এই রিসালাহটি নিজ বিষয়ে অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক এবং এর শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়েছে। ইসলাম ও মুসলিমদের যে উপকার তিনি সাধন করেছেন, তার জন্য আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আর বিষয়টি যখন এরূপ, তখন এই সংক্ষিপ্ত রিসালাহটি একটি নতুন ও সুসংহত রূপে—ইনশাআল্লাহ—প্রকাশ করার লক্ষ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়েছে, সংকল্প দৃঢ় হয়েছে এবং নিয়ত শুদ্ধ হয়েছে—ইনশাআল্লাহ। হয়তো এর মাধ্যমে আমি সেই দলের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব যারা উলামাদের ইলমি উত্তরাধিকারের খিদমত আঞ্জাম দিয়ে থাকেন—যদিও আমি তাদের মাঝে একজন অনাহূত অনুপ্রবেশকারী মাত্র—যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে এবং তাদের কিতাবসমূহে তাদের মতামত সম্পর্কে অবগত হতে পারে; আর তারা যেন আমাদের বিদায়ের পর আমাদের কল্যাণের সাথে স্মরণ করে। হে আল্লাহ! আপনিই সকল কল্যাণের জিম্মাদার এবং আপনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও উত্তম কর্মবিধায়ক।

আল্লাহ রহম করুন ইবনুল জাওযির ওপর, যখন তিনি প্রাজ্ঞ আলিম ও মুজাহিদ ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নবুওয়াতের পর ইলম প্রচারের চেয়ে উত্তম আর কিছু আমি জানি না।" (২)।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু ইসহাক আল-ইলবিরি (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি কাসিদা থেকে নেওয়া হয়েছে, দেখুন: আশ-শামরানি প্রণীত আল-জামি লীল মুতুনিল ইলমিয়্যাহ (৬২৯)।

(২) সিফাতুস সাফওয়াহ (৪/১২৪)।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
ومِنْ المنَاسِبِ أنْ تُبيَّنَ خِطَّةُ العَمَلِ في هَذهِ الرِّسَالةِ؛ فَيُقَالَ بَعْدَ عَوْنِ اللهِ وتَوْفِيقِهِ:

أَولاً: قدَّمَ المحقِّقُ مُقدِّمةً يَسِيرةً بَيْنَ يَدَي الرِّسَالةِ كتَمْهِيدٍ، واحْتَوتْ عَلى:

1- تَرْجَمَةِ المؤلِّفِ رحمه الله، وبَيانِ مَصَادِرِ تَرْجَمَتِهِ.

2- دِرَاسةِ الرِّسالةِ، مِنْ حَيْثُ مَوْضُوعِها، وصِحْةِ نِسْبَتِها لِلِّمُؤَلِّفِ، وَوَصْفِ النُّسَخِ المطْبُوعَةِ، والنُّسْخَةِ المعْتَمَدَةِ فِي التَّحْقِيقِ.

ثانياً: تَوْثِيقُ النَّصِّ.

ثُمَّ خُتِمَت بِالفِهْرِسِ.

واعْلَم أَيُّهَا القَارِئُ الكَرِيم أنَّ ((نتائِجَ الأِفْكَارِ عَلى اختِلافِ القَرَائحِ لا تَتَنَاهَى، وإنَّما يُنفقُ كلُّ أَحدٍ على قَدْرِ سَعَتهِ، لا يُكلِّفُ اللهُ نفساً إلا مَا آتَاهَا، ورَحِم اللهُ مَنْ وَقَفَ فِيهِ عَلى سَهْوٍ أو خَطَإٍ؛ فأصْلَحَهُ عَاذراً لا عَاذِلاً، ومُنيلاً لا نَائِلاً؛ فَلَيْسَ المبرَّأُ من الخَطَلِ إلا مَنْ وقَى اللهُ وعَصَمْ، وقَدْ قِيل: الكتابُ كالمُكَلَّّفِ؛ لا يَسْلَمَ مِنْ المُؤاخَذَةِ ولا يَرْتفعَ عَنْه القَلَمُ، واللهُ تَعَالى يُقرنُهُ بالتَّوفِيقِ، ويُرشدُ فيهِ إِلى أَوْضَحِ طَريقٍ، ومَا تَوْفيقي إلا بِالله عَليه تَوكلتُ وإليهِ أُنِيب)) (1) .

ومَا خطَّ كفُ امرئٍ شيئاً ورَاجعَهُ … إلَّا وعَنَّ لَهُ تَبْدِيلُ مَا فِيْهِ

ًوقَالَ ذَاكَ كَذَا أَوْلَى وَذَاكَ كَذَا … وإنْ يَكُنْ هَكَذَا تَسْمُوُ مَعَانِيهِ

وصَلَّى اللهُ وسَلَّمَ عَلى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وعَلى آلِهِ وصَحْبِهِ أَجْمَعِيْن.

قَالَهُ مُقيِّدُهُ

 

أَبُو الْعَالِيَة

محَمّدُ بِنُ يُوسُفُ الجُورَانِي

المنطقةالشرقية1422هـ (2)

M_aljorany@hotmail.com

--------------------------------------------

(1) صبح الأعشى (1/36) .

(2) ثم أعدتُ النظر فيها من جديد في رمضان لعام 1427هـ؛ لتطبع مع مجموع مؤلفات الشيخ رحمه الله بعناية سبطه الشيخ المفضال محمد بن حسن آل مبارك نفع الله به.
এই পুস্তিকাটির কর্মপরিকল্পনা বর্ণনা করা সমীচীন হবে; আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকের পর বলা হচ্ছে:

প্রথমত: মুহাক্কিক এই পুস্তিকার শুরুতে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা উপক্রমণিকা হিসেবে পেশ করেছেন, যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

১- লেখকের (রাহিমাহুল্লাহ) জীবনী এবং তাঁর জীবনীর উৎসসমূহের বর্ণনা।

২- পুস্তিকাটি সম্পর্কে পর্যালোচনা—এর বিষয়বস্তু, লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা (صحة), মুদ্রিত পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ এবং তাহকিকের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির পরিচয়।

দ্বিতীয়ত: পাঠ্য প্রামাণ্যতা (توثيق)।

অতঃপর এটি নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র দ্বারা সমাপ্ত করা হয়েছে।

হে সম্মানিত পাঠক, জেনে রাখুন যে, "মেধার বৈচিত্র্য অনুযায়ী চিন্তার ফলাফল সীমাহীন, প্রত্যেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে; আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। আল্লাহ ঐ ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন যিনি এতে কোনো ভুল বা বিচ্যুতি লক্ষ্য করে তা সংশোধন করে দেন—দোষারোপকারী হিসেবে নয় বরং ওজর পেশকারী হিসেবে, এবং অনুগ্রহকারী হিসেবে—লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। কেননা বিচ্যুতি থেকে একমাত্র সেই ব্যক্তিই মুক্ত যাকে আল্লাহ রক্ষা করেছেন এবং হেফজত করেছেন। বলা হয়ে থাকে: কিতাব হলো একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত (مكلف) ব্যক্তির মতো; যা জবাবদিহিতা থেকে মুক্ত নয় এবং যার ওপর থেকে কলম উঠে যায় না। আল্লাহ তাআলা একে তাওফিকের সাথে যুক্ত করুন এবং একে স্পষ্টতম পথের দিকে পরিচালিত করুন। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহরই পক্ষ থেকে, আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাই।" (১)

কোনো মানুষ যখনই কিছু লেখে এবং তা পুনরায় পর্যালোচনা করে … তখনই তাতে পরিবর্তনের অবকাশ তার সামনে প্রকাশ পায়।

সে বলে এটি এমন হওয়া বেশি উত্তম ছিল অথবা সেটি তেমন … আর যদি তা এমন হতো তবে এর অর্থ আরও উচ্চাঙ্গের হতো।

আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

এটি লিপিবদ্ধ করেছেন

 

আবুল আলিয়া

মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-জুরানি

পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ, ১৪২২ হিজরি (২)

M_aljorany@hotmail.com

--------------------------------------------

(১) সুবহুল আ’শা (১/৩৬)।

(২) অতঃপর আমি রমজান ১৪২৭ হিজরিতে এটি পুনরায় পর্যবেক্ষণ করি; যাতে এটি শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) সংকলিত রচনাবলীর সাথে তাঁর নাতি পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ মুহাম্মদ বিন হাসান আল-মুবারকের তত্ত্বাবধানে মুদ্রিত হয়, আল্লাহ তাঁর দ্বারা উপকৃত হওয়ার তাওফিক দান করুন।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌تَرْجَمةٌ مُوجَزَةٌ:

لِلشَّيخِ فَيْصَلَ بِنَ عَبدِ العَزِيزِ آل مُبَارَكِ رحمه الله
(1) .

 

*‌‌ اسْمُهُ وَنَسَبُهُ:

هُوَ الشَّيخُ العَالِمُ المفَسِّرُ الفَقِيْهُ القَاضِي الجلِيْلُ: فَيْصَلَ بِنَ عَبدِ العَزِيزِ بِنِ فَيْصَلَ بنَ حَمَدِ بِنِ مُبَارَكِ آلِ حَمَدٍ النَّجْدِيِّ رحمه الله.

*‌‌ مَوْلِدُهُ ونَشْأَتُهُ:

وَلِدَ الشَّيخُ رحمه الله فِي بَيْتِ عِلْمٍ وفَضْلٍ، عَام 1313هـ فِي حُرَيْمَلاءٍ

وَحِيْنَ بَلَغَ السَّابِعَةَ مِنْ عُمُرِهِ انتَقَلَ مَعْ بَعْضِ أَفْرَادِ أسْرَتِهِ إِلى الرِّيَاضِ، وفِي عَام 1322هـ قُتِلَ وَالِدُهُ فِي مَوْقِعَِة البِكِيْرِيَّةِ وكانَ مع جَيشِ الملكِ عبد العزيز رحمه الله؛ فَنَشَأَ يَتِيْمَاً؛ فَتَولَّى رِعَايَتَهُ مِعْ إِخْوَتِهِ عَمُّهُ الشَّيخُ مُحَمَّدُ بِنُ فَيْصَلَ رحمه الله؛ فَكَانَ لَهُم بِمَثَابَةِ الأَبِ الصَّالِحِ لِلابْنِ الصَّالِحِ.

--------------------------------------------

(1) مصادر ترجمته:

الأعلام للزركلي (5/168) ، ومشاهير علماء نجد لآل الشيخ (398) ، وعلماء نجد خلال ثمانية قرون للبسام (5/392) ، وروضة الناظرين عن مآثر علماء نجد وحوادث السنين لمحمد بن عثمان بن صالح القاضي (2/159) ، ومعجم مصنفات الحنابلة للطريقي (7/26) ، وموسوعة آسبار (3/936) ، وممن أفرده بالترجمة أبو بكر فيصل البديوي في ((العلامة المحقق والسلفي المدقق)) ، ومحمد بن حسن عبد الله آل مبارك في … ((المتدارك من تاريخ الشيخ فيصل بن عبد العزيز آل مبارك)) ، وترجم له الشيخ حماد بن عبد الله الحماد في مجلة العدل العامرة (10/203) ، وكذا علي جواد الطاهر في مجلة العرب (9/909) ، وغيرهم من الذين ترجموا له في بداية كتبه سواءً من تلاميذه أو محققي كتبه رحمه الله، وأحسنها ترجمة الشيخ عبد العزيز الزير في تحقيقه لتفسيره، ثم أحسن هذه الكتب المفردة؛ كتاب: ((معالم الوسطية والتيسير والاعتدال في سيرة الشيخ فيصل بن عبد العزيز آل مبارك)) فقد جاء شاملاً عن حياته رحمه الله، وهو لسبطه الشيخ الفاضل محمد بن حسن آل مبارك جزاه الله خيراً كثيراً ونفع به. والله أعلم.
‌‌সংক্ষিপ্ত জীবনী:

শায়খ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল মুবারক (রহিমাহুল্লাহ)-এর
(১) ।

 

*‌‌ তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন শায়খ, বিজ্ঞ আলেম, তাফসীরবিদ (مفسر), ফকিহ (فقيه) ও মহান বিচারক (قاضي): ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ বিন ফয়সাল বিন হামাদ বিন মুবারক আল হামাদ আন-নাজদী (রহিমাহুল্লাহ)।

*‌‌ তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) ১৩১৩ হিজরী সালে হুরাইমিলা-তে এক জ্ঞান ও মর্যাদাবান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

যখন তাঁর বয়স সাত বছর হয়, তখন তিনি তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সাথে রিয়াদে স্থানান্তরিত হন। ১৩২২ হিজরী সালে তাঁর পিতা আল-বুকাইরিয়্যাহ যুদ্ধে নিহত হন, তিনি তখন বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সেনাবাহিনীর সাথে ছিলেন। ফলে তিনি পিতৃহীন অবস্থায় বেড়ে ওঠেন; অতঃপর তাঁর চাচা শায়খ মুহাম্মাদ বিন ফয়সাল (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ও তাঁর ভাইদের লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তাঁদের জন্য একজন নেককার সন্তানের প্রতি নেককার পিতার স্থলাভিষিক্ত ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ:

যিরিকলী রচিত আল-আলাম (৫/১৬৮), আল-শায়খ রচিত মাশাহির উলামায়ে নজদ (৩৯৮), আল-বাসসাম রচিত উলামায়ে নজদ খিলালা সামানিয়াহ কুরুনি (৫/৩৯২), মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন সালিহ আল-কাদি রচিত রওদাতুন নাযিরিন আন মাআসির উলামায়ে নজদ ওয়া হাওয়াদিসিস সিনিন (২/১৫৯), আল-তারিকী রচিত মুজামু মুসান্নাফাতিল হানাবিলাহ (৭/২৬), মাওসুয়াতু আসবার (৩/৯৩৬)। আর যাঁরা তাঁর স্বতন্ত্র জীবনী লিখেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবু বকর ফয়সাল আল-বাদিওয়ী তাঁর ‘আল-আল্লামাতুল মুহাক্কিক (محقق) ওয়াস সালাফিউল মুদাক্কিক (مدقق)’ গ্রন্থে, মুহাম্মাদ বিন হাসান আব্দুল্লাহ আল মুবারক তাঁর … ‘আল-মুতাদারাক মিন তারিখিশ শায়খ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল মুবারক’ গ্রন্থে। তাঁর জীবনী লিখেছেন শায়খ হাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাম্মাদ মাজাল্লাতুল আদল-এ (১০/২০৩), তেমনি আলী জাওয়াদ আল-তাহির মাজাল্লাতুল আরব-এ (৯/৯০৯), এবং আরও অনেকে যাঁরা তাঁর কিতাবসমূহের শুরুতে জীবনী লিখেছেন, চাই তাঁরা তাঁর ছাত্র হোন বা কিতাবসমূহের গবেষক/সম্পাদক (محقق) (রহিমাহুল্লাহ)। সেগুলোর মধ্যে শায়খ আব্দুল আজিজ আল-যাইর তাঁর তাফসীরের তাহকীক (تحقيق) বা সম্পাদনার শুরুতে যে জীবনী লিখেছেন তা অন্যতম। অতঃপর এই সকল স্বতন্ত্র গ্রন্থের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো: ‘মাআলিমুল ওয়াসাতীয়্যাহ ওয়াত তায়সীর ওয়াল ইতিদাল ফী সিরাতিশ শায়খ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল মুবারক’ কিতাবটি; এটি শায়খের জীবন সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা পেশ করেছে। এটি তাঁর দৌহিত্র শায়খ মুহাম্মাদ বিন হাসান আল মুবারক-এর রচনা, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং এর দ্বারা উপকৃত হওয়ার তাওফিক দিন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
لَقَدْ دَرَسَ الشَّيخُ رحمه الله القُرْآنَ عَلى يَدِ الشَّيخِ عَبْدِ العَزِيزِ الخيَّالِ رحمه الله فِي الرِّيَاضِ، وَمَكثَ بِهَا أربع سنوات، وَمِنْ ثَمَّ رَجَعَ إِلى حُرَيْمَلاءَ عَام 1324هـ فدرَسَ على علماءِ بلدتِه، ثُمَّ كانَ بعدَ ذلِكَ يتردَّدُ عل الرياضِ للقراءةِ على عُلمائِها.

*‌‌ طلَبَهُ ُلِلعِلْمِ:

حَرِصَ الشَّيخُ رحمه الله مُنْذُ نُعُومَةِ أَظْفَارِهِ عَلى تَلقِّي العِلْمَ وَالجِدِّ فِي تَحْصِيلهِ، وَلَيْسَ هَذا بِغَرِيبٍ؛ فَقَدْ نَشَأَ فِي بَيْتٍ عَرِيقٍ فِي الفَضْلِ وَالكَرَمِ وَالعِلْمِ؛ فَعَمُّهُ الشَّيخُ مُحَمَّدُ بِنُ فَيْصَلَ أَحَدُ العُلَمَاءِ الأَفَاضِلِ فِي حُرَيْمَلاءَ، وَجَدُّهُ لِأُمِّهِ الشَّيخُ نَاصِرُ بِنُ نَاصِرِ بِنِ مُحَمَّدِ بِنِ نَاصِرِ كَانَ مِثْلَ عَمِّهِ مَعْرُوفَاً بِالعِلْمِ وَالخَيْرِ والصَّلاحِ؛ فَالبِيئَةُ الَّتِي عَاشَ فِيْهَا الشَّيخُ بِيئَةً تَبْعَثُ فِي النَّفْسِ الِهمَّةَ عَلى تَحْصِيلِ العِلْمِ والمِيرَاثِ النَّبَوِيِّ.

وَبِفَضْلِ اللهِ عز وجل حَفِظَ القُرْآنَ الكَرِيمَ وَهُوَ فِي سِنِّ الثَّامِنَةَ عَشْرَ مِنْ عُمُرِهِ، ثُمَّ بَعْدَ ذَلِكَ حَرِصَ عَلى تَلَقِّي الأَهَمِّ فَالمهِمِّ مِنْ العِلْمِ: فَبَدأَ بِالأُصُولِ الثَّلاثَةِ، ثُمَّ كِتَابِ التَّوحِيدِ، ثُمَّ العَقِيدَةِ الوَاسِطِيَّةِ، ثُمَّ أَخَذَ يَتَعَلَّمُ الفِقْهَ والنَّحْوَ والفَرَائِضَ، حَتَّى أَصْبَحَ بِفَضْلِ اللهِ ذَا إِلْمَاٍم كَبِيرٍ بِكَثيرٍ مِنْ عُلومِ الدِّيْنِ.

وتَلَقَّى الشَّيخُ رحمه الله العِلْمَ عَنْ عُلَمَاءِ أَهْلِ بَلَدِهِ حُرَيْمَلاءَ، ثُمَّ انْتَقَلَ إِلى الرِّيَاضِ لِيُكْمِلَ مِشْوَارَهُ الَّذي قَطَعَهُ فِي تَحْصِيلِ العِلْمِ؛ فَأخَذَ عَنْ عُلَمَائِهَا الأَجِلَّاءِ وَرِجَالِهَا النُّبَلاءِ.

وَبَعْدَ أَنْ تَمَّ فَتُحُ بِلادِ الأَحْسَاءِ عَام 1331هـ ارْتَحَلَ إِليْهَا لِلاسْتِزَادَةِ مِنْ العِلْمِ؛ فَدَرَسَ عَلى الشَّيخِ عِيْسَى بِنِ عَكَّاسٍِ رحمه الله، والشَّيخِ عَبْدِ العَزِيزِ بِنِ بِشْرٍ رحمه الله، ثُمَّ ارْتَحَلَ إِلى قَطَرَ، حَيْثُ دَرَسَ عَلى الشَّيخِ مُحَمَّدِ بِنِ مَانِعٍ رحمه الله ضُرُوبَ العِلْمِ وَفُنُونِهِ (1) .

شيوخه:

تلقَّى الشَّيخُ رحمه الله العِلْمَ عَلى أَيْدِي عُلَمَاءَ عُرِفُوا بِالصَّلاحِ، وَصَفَاءِ العَقِيدَةِ، وَكَانَ مِنْ أَبْرَزِهِمْ:

--------------------------------------------

(1) ذكر الشيخُ عبدُ العزيزِ الزَّيرِ حَفِظهُ اللهُ فِي ترجمتِهِ قَال: ((كان الشيخُ رحمه الله يَنوي الرَّحيلَ إلى الهندِ؛ لِدِراسةِ الحديثِ هُنَاك، فَلَمَّا وصلَ إلى قَطر؛ وَجَدَ الشيخَ مُحَمدَ بِنَ مَانِعٍ رحمه الله بِهَا، وكانَ مُتَضَلِّعاً مِنْ عِلْمِ الحدِيثِ؛ فَآثَرَ الجلُوسَ عِنْدَهُ. أفادَهُ الشيخُ نَاصرُ بنُ حمدِ الرَّاشدِ وَفَّقَهُ اللهُ)) تَوفيقُ الرَّحمنِ (1/17) .
শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) রিয়াদে শায়খ আব্দুল আজিজ আল-খাইয়াল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট কুরআন অধ্যায়ন করেন এবং সেখানে চার বছর অবস্থান করেন। এরপর ১৩২৪ হিজরিতে তিনি হুরাইমিলায় ফিরে আসেন এবং নিজ শহরের আলেমদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি রিয়াদের আলেমদের কাছে পাঠ গ্রহণের জন্য সেখানে যাতায়াত করতেন।

*‌‌ তাঁর ইলম অর্জন:

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) শৈশব থেকেই ইলম অর্জন এবং তা হাসিল করার প্রচেষ্টায় অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ তিনি মর্যাদা, উদারতা ও ইলমের জন্য সুপরিচিত এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর চাচা শায়খ মুহাম্মদ বিন ফয়সাল ছিলেন হুরাইমিলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম। তাঁর নানা শায়খ নাসির বিন নাসির বিন মুহাম্মদ বিন নাসিরও তাঁর চাচার মতোই ইলম, কল্যাণ ও নেককার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে শায়খ যে পরিবেশে বসবাস করেছেন, তা ইলম ও নববী মিরাস (উত্তরাধিকার) অর্জনের ব্যাপারে মনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তোলার মতো এক পরিবেশ ছিল।

মহান আল্লাহর অনুগ্রহে তিনি আঠারো বছর বয়সে পবিত্র কুরআন হিফজ করেন। এরপর তিনি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং তার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ইলম অর্জনে মনোনিবেশ করেন। তিনি 'উসুল আল-সালাসা' (তিনটি মূলনীতি) দিয়ে শুরু করেন, এরপর 'কিতাবুত তাওহিদ', তারপর 'আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ' অধ্যয়ন করেন। অতঃপর তিনি ফিকহ, নাহু (ব্যাকরণ) এবং ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শিখতে শুরু করেন, এমনকি আল্লাহর মেহেরবানিতে তিনি দ্বীনি ইলমের অনেক শাখায় গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর নিজ শহর হুরাইমিলার আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর ইলম অর্জনের পথ পূর্ণ করতে রিয়াদে পাড়ি জমান এবং সেখানকার মহান আলেম ও গুণীজনদের নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করেন।

১৩৩১ হিজরিতে আল-আহসা বিজিত হওয়ার পর তিনি ইলম বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সেখানে সফর করেন। সেখানে তিনি শায়খ ঈসা বিন আক্কাস (রাহিমাহুল্লাহ) এবং শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বিশর (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি কাতারে সফর করেন এবং সেখানে শায়খ মুহাম্মদ বিন মানি' (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট ইলমের বিভিন্ন শাখা ও কলাকৌশল শিক্ষা করেন।

তাঁর উস্তাদগণ:

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) এমন সব আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন যারা তাদের নেক আমল ও আকিদাহর বিশুদ্ধতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

--------------------------------------------

(১) শায়খ আব্দুল আজিজ আল-যাইর (হাফিযাহুল্লাহ) তাঁর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে: "শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) হাদিস অধ্যয়নের জন্য ভারত সফরের নিয়ত করেছিলেন। কিন্তু যখন তিনি কাতারে পৌঁছালেন, সেখানে তিনি শায়খ মুহাম্মদ বিন মানি' (রাহিমাহুল্লাহ)-কে পেলেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রে (علم الحديث) অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন; ফলে শায়খ তাঁর কাছেই অবস্থান করাকে প্রাধান্য দিলেন। শায়খ নাসির বিন হামাদ আল-রাশিদ (ওয়াফ্ফাকাহুল্লাহ) এটি জানিয়েছেন।" তাওফিকুর রহমান (১/১৭)।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
1- الشَّيخُ عَبْدُ العَزيزِ الخيَّالِ رحمه الله، الَّذِي تَعَلَّمَ عَلى يَدَيْهِ القُرْآنَ الكَرِيمَ وَأَتَمَّ حِفْظَهُ.

2- الشيخُ عبدُ اللهِ بنِ عبدِ اللَّطيفِ مُفْتي الدِّيارِ السُّعودِيةِ رحمه الله قرأَ عَليه كثيراً، لا سِيَّمَا في علم العَقِيدةِ.

3- الشَّيخُ مُحَمَّدُ بِنُ عُبْدُ الَّلطِيفِ آلِ الشَّيخِ رحمه الله، الذي دَرَسَ عَلَيْهِ كِتَابَ التَّوحِيدِ، والعَقِيدَةَ الوَاسِطِيَّةِ، وَغَيْرِهَا مِنْ كُتُبِ العَقِيدَةِ السَّلَفِيَّةِ.

4- سَمَاحَةُ الشَّيخِ مُحَمَّدِ بِنِ إِبْرَاهِيمِ آلِ الشَّيخِ مُفْتِي الممْلَكَةِ السَّابِقِ رحمه الله الَّذي تَلقَّى مِنْهُ دُرُوسَاً في التَّوْحِيدِ والفِقْهِ وغَيْرِهَا مِنْ الفُنُونِ.

5- الشَّيخُ سَعْدُ بِنُ حَمْدِ بِنِ عَتِيقٍ رحمه الله الَّذي تَلقَّى مِنْهُ دُرُوسَاً فِي التَّفْسِيرِ والحدِيثِ وَغَيْرِهِمَا.

وكَانَ قَدْ أَجَازَهُ بِمَا رَوَاهُ مِنْ كُتُبِ الحدِيْثِ: كَالصَّحِيْحَيْنِ، وَالسُّنَنِ الأَرْبَعَةِ، ومُسْنَدِ أَحْمَدَ، وَالموَطَّإِ لِلإِمَامِ مَالِكٍ وَغَيْرِهَا مِنْ كُتُبِ الحدِيْثِ المصَنَّفَةِ، وَكَذَا أَجَازَهُ فِي التَّفْسِيرِ والفِقْهِ وبِمُصَنَّفَاتِ شَيْخِ الإسْلامِ ابِنِ تَيْمِيَّةَ وَابِنِ قَيِّمِ الجوْزِيَّةَ رحمهم الله وغَيْرِهَا مِنْ الكُتُبِ المصَنَّفَةِ.

6- الشَّيخُ عَبْدُ اللهِ بِنِ عَبْدُ العَزيزِ العَنْقَرِيِّ رحمه الله الذي تَلقَّى عَلى يَدَيْهِ شَيْئَاً مِنْ الحدِيْثِ وَغَيْرِهِ مِنْ فُنُونِ العِلْمِ. وقَدْ أَجَازَهُ بِمَا رَوَاهُ مِنْ كُتُبِ الحدِيْثِ والتَّفْسِيرِ والفِقْهِ وغَيْرِهَا مِنْ المصَنَّفَاتِ، وأَجَازَهُ بِالرِّوَايَةِ لِمَذْهَبِ الإِمَامِ أَحْمَدَ رحمه الله وبِالرِّوَايَةِ لمصَنَّفَاتِ شَيْخِ الإسْلامِ ابِنِ تَيْمِيَّةَ وَابِنِ قَيِّمِ الجوْزِيَّةَ رحمهم الله، وَبِجَمِيعِ مَا أَجَازَهُ بِهِ شُيُوخُهُ وَتَلَقَّاهُ عَنْهُمُ رِوَايَةً.

7- الشَّيخُ حَمَدُ بِنُ فَارِسٍ رحمه الله أَخَذَ عَنْهُ فِي الفِقْهِ والنَّحْوِ.

8- الشَّيخُ مُحَمَّدُ بِنُ فَيْصَلَ رحمه الله وهُوَ عَمُّهُ الَّذي تَلقَّى عَلى يَدَيْهِ شَيْئَاً مِنْ الحدِيْثِ وَغَيْرِهِ مِنْ الفُنُونِ.

9- الشَّيخُ نَاصِرُ بِنُ نَاصِرِ بِنِ مُحَمَّدِ بِنِ نَاصِرِ رحمه الله وهُوَ جَدُّهُ لِأُمِّهِ الَّذي دَرَسَ عَلَيْهِ الأُصُوَلَ الثَّلاثَةَ، وَسِيْرَةَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم.

10- الشَّيخُ مُحَمَّدُ بنُ عَبْدُ العَزيزِ بِنِ مَانِعٍ رحمه الله.
১- শেখ আব্দুল আজিজ আল-খাইয়াল (রহিমাহুল্লাহ), যাঁর নিকট তিনি পবিত্র কুরআন শিক্ষা করেছেন এবং তাঁর হিফজ সম্পন্ন করেছেন।

২- শেখ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফ (রহিমাহুল্লাহ), সৌদি আরবের মুফতি; তাঁর নিকট তিনি প্রচুর পাঠ গ্রহণ করেছেন, বিশেষ করে আকীদা শাস্ত্রে।

৩- শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ আলে শেখ (রহিমাহুল্লাহ), যাঁর নিকট তিনি কিতাবুত তাওহীদ, আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ এবং সালাফী আকীদার অন্যান্য গ্রন্থসমূহ পাঠ করেছেন।

৪- মহামান্য শেখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আলে শেখ (রহিমাহুল্লাহ), সৌদি আরবের প্রাক্তন মুফতি; যাঁর নিকট তিনি তাওহীদ, ফিকহ এবং অন্যান্য শাস্ত্রের পাঠ গ্রহণ করেছেন।

৫- শেখ সাদ বিন হামাদ বিন আতিক (রহিমাহুল্লাহ), যাঁর নিকট তিনি তাফসির, হাদিস এবং অন্যান্য বিষয়ের পাঠ গ্রহণ করেছেন।

এবং তিনি তাঁকে তাঁর বর্ণিত হাদিসের কিতাবসমূহের অনুমতি (أجازه) প্রদান করেছিলেন: যেমন- সহীহাইন, চার সুনান (সুনানে আরবাআ), মুসনাদে আহমদ, ইমাম মালিকের মুয়াত্তা এবং সংকলিত অন্যান্য হাদিস গ্রন্থ। তদ্রূপ তিনি তাঁকে তাফসির, ফিকহ এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনে কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলনসমূহ ও অন্যান্য সংকলিত গ্রন্থের জন্যও অনুমতি (أجازه) প্রদান করেছিলেন।

৬- শেখ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-আনকারী (রহিমাহুল্লাহ), যাঁর নিকট তিনি হাদিস এবং শাস্ত্রের অন্যান্য শাখার কিছু পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁকে তাঁর বর্ণিত হাদিস, তাফসির, ফিকহ এবং অন্যান্য সংকলিত গ্রন্থসমূহের অনুমতি (أجازه) দিয়েছেন। এছাড়াও ইমাম আহমদের (রহিমাহুল্লাহ) মাযহাব এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও ইবনে কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলনসমূহ বর্ণনার অনুমতি (أجازه بالرواية) তিনি তাঁকে দিয়েছিলেন। তদ্রূপ তাঁর উস্তাদগণ তাঁকে যা কিছু বর্ণনা করার অনুমতি (أجازه) দিয়েছিলেন এবং তিনি তাঁদের নিকট থেকে বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে যা গ্রহণ করেছেন, তার সবকিছুরই অনুমতি তিনি তাঁকে প্রদান করেছেন।

৭- শেখ হামাদ বিন ফারিস (রহিমাহুল্লাহ), যাঁর নিকট থেকে তিনি ফিকহ এবং নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেছেন।

৮- শেখ মুহাম্মদ বিন ফয়সাল (রহিমাহুল্লাহ), তিনি তাঁর চাচা; যাঁর নিকট তিনি হাদিস এবং অন্যান্য শাস্ত্রের কিছু পাঠ গ্রহণ করেছেন।

৯- শেখ নাসের বিন নাসের বিন মুহাম্মদ বিন নাসের (রহিমাহুল্লাহ), তিনি তাঁর মাতামহ; যাঁর নিকট তিনি উসুলে সালাসা এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সিরাত পাঠ করেছেন।

১০- শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মানি (রহিমাহুল্লাহ)।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
11- الشَّيخُ عِيْسَى بِنِ عَكَّاسٍِ رحمه الله.

12- الشَّيخُ عَبْدُ العَزِيزِ بِنُ بِشْرٍ رحمه الله، وَغَيْرِهِم.

*‌‌ صفاته الخَلْقِيَّة والخُلُقِيَّة:

فَالخَلْقِيةُ: كان الشَّيخُ رحمه الله أَبْيَضَ، وَكَانَ بَيَاضُهُ مُشْرَباً بِحُمْرَةٍ قَلِيلاً، مُتَوسِّطَ الطُّوْلِ، وِيَمِيلُ إِلى الطُّولِ قَلِيلاً، جَمِيلَ الوَجْهِ، حَسَنَ المنْظَرِ، ذَا لِحْيةٍِ كَثَّةٍ، رِبْعَةٍ بَيْنَ الرِّجَالِ.

وَالخُلُقِيةُ: كاَنَ رحمه الله ذَا خُلُقٍ رَفِيعٍ كَرِيماً، لَيِّنَ الجَانِبِ، سَهْلَ المعَامَلَةِ، بَشُوشاً مَعْ النَّاسِ جَمِيْعَاً، ولا صَخَّابَاً، وَلا يَغْضَبُ إِلا إِذَا انْتُهِكَتْ مَحَارِمُ اللهِ، وَتُعُدِّيَتْ حُدُودَهُ، وَكانَ لا تَأْخُذُهُ فِي اللهِ لَوْمَةَ لائِمٍ، يَتَوخَّى العَدْلَ وَلا يَأْبَاهُ، وَيُجَافِي الظُّلْمَ وَلا يَرْضَاهُ، مُتَواضِعَاً زَاهِدَاً فِي حُطَامِ الدُّنْيَا، رَاغِبَاً فِي الدَّارِ الآخِرَةِ؛ فَرَحِمَهُ اللهُ وَأَكْرَمَ مَثْوَاهُ.

*‌‌ زُهْدُهُ وَوَرَعُهُ وَعِبَادَتُهُ:

كاَنَ الشَّيخُ رحمه الله مُعْرِضَاً عَنْ الدُّنْيَا وَعَنْ حُطَامِهَا الزَّائِل ِوَمَظْهَرِهَا الخَادِعِ؛ فَتُوُفِّيَ.

رحمه الله ولَمْ يُخْلِفْ مُلْكَاً، أَوْ تِجَارَةً أَوْ مَالاً كَثِيرَاً، وَمِنْ صُوَرِ عُزُوفِهِ عَنْ الدُّنْيَا.

مَا ذَكَرَهُ أَحَدُ تَلامِذَتِِهِ: أَنَّهُ ذَاتَ مَرَّةٍ أَحْيَا قِطْعَةَ أَرْضٍِ، وَقَامَ بِزِرَاعَتِهَا، وَحَفَرَ بِئْراً بِهَا، وبَنَى فِيْهَا مَسْجِدَاً، وَزَرَعَ زَرْعَاً يَسِيرَاً؛ فَلَمَّا رَأَى تَلمِيذُهُ ابِنُ عَبِدِ الوَهَّابِ عَمَلَ الشَّيْخِ، أَخْبَرَهُ بِأَنَّهَا سَتَصْرِفُهُ عَنْ أَمْرِ الآخِرَةِ؛ فَقَالَ الشَّيخُ رحمه الله: ((أَنَا أَحْيَيْتُ هَذِهِ الأَرْضَ وَبَنَيْتُ المسْجِدَ، وَحَفَرْتُ البِئْرَ؛ لِأَجْلِ إِذَا مَرَّ المارَّةُ مِنْ أَهْلِ الإبْلِ وَغَيْرِهِم، أَنْ يُصَلُّوا فِيْهِ؛ فَيَكُونُ لَهُم عَوْناً عَلى أَدَاءِ الصَّلاةِ، أَوْ كَلامَاً نَحْواً مِنْ هَذا ثُمَّ قَامَ الشَّيخُ رحمه الله وَقَدَّمَهَا لابِنِ عَيْشَانِ وَشَرَطَ عَلَيْهِ أَنْ يُقِيمَ المدَي وَيُحَافِظُ عَلى المسْجِدِ)) .

وَلَمَّا كَتَبَ أَحَدُهُم تَرْجَمَةً بِسِيرَتِهِ الذَّاتِيَّةِ، وَعَرَضَهَا عَلَيْهِ، بَكَى، وَفَاضَتْ عَيْنَاهُ بِالدُّمُوعِ؛ فَكَتَبَ عَلَيْهَا: ((اللهُمَّ اجْعَلْنِي أَحْسَنَ مِمَّا يَظُنَّونَ، وَأَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا يَقُولُونَ)) .

وَكَانَ رحمه الله جُلُّ وَقْتِهِ وَمُعْظَمُهُ إِمَّا فِي صَلاةٍ وَعِبَادَةٍ، وَخَلْوَةٍ مَعْ رَبِّهِ عز وجل يِسْتَغْفِرُ فِيْهَا ذُنُوبَهُ، وَيَسْأَلُهُ مِنْ خَيْرَيْ الدُّنْيا وَالآخِرَةِ، وَإِمَّا مَعْ تَلامِيذِهِ يُعَلِّمُهُمُ أُمُورَ دِيْنِهِم وَدُنْيَاهُمُ.
১১- শায়খ ঈসা বিন আক্কাস (রহিমাহুল্লাহ)।

১২- শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বিশর (রহিমাহুল্লাহ) এবং অন্যান্য।

*‌‌ তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ:

শারীরিক বৈশিষ্ট্য: শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) গৌরবর্ণের ছিলেন এবং তাঁর গায়ের রঙে সামান্য লালাভ আভা ছিল। তিনি মাঝারি উচ্চতার ছিলেন এবং কিছুটা দীর্ঘাকৃতির দিকে ঝুঁকে ছিলেন। তিনি সুন্দর চেহারা ও সুশ্রী অবয়বের অধিকারী ছিলেন; তাঁর দাড়ি ছিল ঘন এবং তিনি ছিলেন সুষম (ربعة) গড়নের।

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য: তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সুউচ্চ চারিত্রিক মাধুর্যের অধিকারী ও অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। তিনি ছিলেন কোমল স্বভাবের, লেনদেনে সহজ এবং সকল মানুষের প্রতি সদা হাস্যোজ্জ্বল। তিনি উচ্চবাচ্যকারী ছিলেন না এবং আল্লাহর পবিত্রতা লঙ্ঘিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম না করা পর্যন্ত রাগ করতেন না। আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে তিনি কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে পরোয়া করতেন না। তিনি সর্বদা ইনসাফ তথা ন্যায়ের অনুসন্ধান করতেন এবং তা থেকে বিমুখ হতেন না। তিনি জুলুম থেকে দূরে থাকতেন এবং তা অপছন্দ করতেন। তিনি ছিলেন বিনয়ী, দুনিয়ার মোহমুক্ত (زاهد) এবং পরকালীন জীবনের প্রতি আগ্রহী। আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁর প্রত্যাবর্তনস্থলকে সম্মানিত করুন।

*‌‌ তাঁর দুনিয়াবৈরাগ্য (زهد), তাকওয়া (ورع) এবং ইবাদত:

শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) দুনিয়া, এর ক্ষণস্থায়ী বস্তু এবং এর প্রতারণামূলক চাকচিক্য থেকে বিমুখ ছিলেন; তিনি ইন্তেকাল করেন

(রহিমাহুল্লাহ) এমতাবস্থায় যে, তিনি কোনো সম্পদ, ব্যবসা বা প্রচুর অর্থকড়ি রেখে যাননি। দুনিয়ার প্রতি তাঁর নির্লিপ্ততার একটি চিত্র হলো:

তাঁর এক ছাত্র উল্লেখ করেছেন যে: একবার তিনি একটি অনাবাদি জমি আবাদ করেছিলেন এবং সেখানে চাষাবাদ শুরু করেছিলেন। তিনি সেখানে একটি কূয়ো খনন করেছিলেন, একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন এবং সামান্য কিছু শস্য রোপণ করেছিলেন। যখন তাঁর ছাত্র ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব শায়খের এই কাজ দেখলেন, তখন তিনি তাঁকে জানালেন যে, এটি তাঁকে পরকালের কাজ থেকে বিমুখ করে দিতে পারে। তখন শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বললেন: "আমি এই জমিটি আবাদ করেছি, মসজিদটি নির্মাণ করেছি এবং কূয়োটি খনন করেছি যাতে উট আরোহী ও অন্যান্য পথচারীরা যখন এখান দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন তারা যেন এতে নামাজ আদায় করতে পারে; এটি তাদের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।" অথবা তিনি এই জাতীয় কোনো কথা বলেছিলেন। এরপর শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) জমিটি ইবনে আয়শানকে প্রদান করেন এবং তাঁর ওপর এই শর্তারোপ করেন যে, তিনি যেন মসজিদটির দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করেন।

যখন কেউ তাঁর একটি জীবনী (ترجمة) লিখে তাঁর সামনে পেশ করল, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং তাঁর দুই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল। এরপর তিনি তাতে লিখে দিলেন: "হে আল্লাহ! তারা আমার সম্পর্কে যা ধারণা করে আমাকে তার চেয়ে উত্তম বানিয়ে দিন এবং তারা যা বলে সে ব্যাপারে আমি আপনার কাছে দায়মুক্তি চাই।"

তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) সময়ের অধিকাংশ এবং সিংহভাগ ব্যয় হতো হয় নামাজ ও ইবাদতে এবং তাঁর মহান রবের সাথে নির্জনে, যেখানে তিনি তাঁর পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং দুনিয়া ও পরকালের কল্যাণ কামনা করতেন। নতুবা তিনি তাঁর ছাত্রদের সাথে অতিবাহিত করতেন এবং তাদেরকে দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়াদি শিক্ষা দিতেন।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
وَكَانَ الشَّيخُ رحمه الله لا يَأْخُذُ مِنْ رَاتِبِهِ شَيْئَاً، وَلا يَسْتَلِمَهُ، بَلْ يَقُومُ عَنْهُ وَكِيْلُهُ بِأَخْذِهِ، وِصَرْفِهِ عَلى أَهْلِ بَيْتِهِ، وَإِعْطَاءِ كُلِّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ مِنْ المسَاكِيْنِ وَالأَيْتَامِ وَالأَرَامِلِ.

 

*‌‌ أعماله ومناصبه:

لمَّا تَلقَّى الشَّيخُ رحمه الله العِلْمَ عَلى يَدِ كَثِيرٍ مِنْ العُلَمَاءِ؛ أَهَّلَهُ ذلك لِأَنْ يَتَقَلَّدَ المنَاصِبَ؛ فوُلِّيَ القَضَاءَ؛ لِلفَصْلِ بَيْنَ الخُصُومِ، وَإِرْشَادِ النَّاسَ وَتَوجِيْهِهِمْ؛ فأُرْسِلَ إِلى تُهَامَةَ وَالحِجَازَ مُعَلِّماً وَوَاعِظَاً وَمُوجِّهَاً، مَعْ غَيْرِهِ مِنْ المشَايِخِ.

فعُيِّنَ قَاضِيَاً فِي الصُّبَيْخَةِ (تَثْلِيْث) ، وَفِي أَبْهَا، وَفِي القَرْيةِ العُلْيَا، وَفِي تُرَبَةَ، وَتَرَدَّدَ بَيْنَ هَذِهِ المنَاطِقَ وَغَيْرِهَا، وَكَانَ الشَّيخُ رحمه الله فِي كُلِّ بَلَدٍ مِنْ هَذِهِ البِلادِ يَدْعُو إِلى التَّوْحِيْدِ، وَإِلى الإلْتِزَامِ بِشَرْعِ اللهِ وَحْدَهُ، وَكَانَ أَوَّلَ مَا يَبْتَدِئُ فِي تَعْلِيْمِهِمِ: كِتَابَ اللهِ، ثُمَّ عَقِيدَةَ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالجَمَاعَةِ، وَذَلِكَ مِنْ خِلالِ كِتَابِ التَّوْحِيْدِ، وَكَشْفِ الشُّبُهَاتِ، وَالأُصُولِ الثَّلاثَةِ، وَالقَوَاعِدِ الأَرْبَعَةِ لِلشَّيْخِ مُحَمَّدِ بِنِ عَبْدِ الوَهَّابِ رحمه الله.

إِلى أَنْ آَلَ بِهِ المطَافُ إِلى قَضَاءِ الجَوْفِ حِيْنَ قَالَ لَهُ الملِكُ عَبْدُ العَزِيزِ رحمه الله: ((إِنِّي سَأُرْسِلُكَ إِلى مِكَانٍ بَعِيْدٍِ، وِلَكِنْ سَتَجِدُ فِيْهِ دَعْوَةً بِإِذْنِ اللهِ)) فَرَحَلَ إِلى هُنَاكَ فِي آخِرِ شَعْبَانَ مِنْ سَنَةِ 1362هـ وَوَصَلَ فِي أَولِ يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ، وَكَانَ فِي وُصُولِهِ إِلى تِلْكَ البِلادِ بُزُوغُ شَمْسِ الخَيْرِ وَالعِلْمِ وَالتَّوْحِيْدِ، وَهَدْمِ واضْمِحْلالِ دَيَاجِيْرِ الجَهْلِ وِالشَّرْكِ وَالتَّنْدِيدِ؛ فَأَقَامَ بِهَا قُرَابَةَ خَمْسَةَ عَشْرَ عَامَاً مُعَلِّمَاً، وَمُوجِّهَاً، وَمُرْشِدَاً، وَدَاعِيَاً إِلى اللهِ عَلى بَصِيْرَةٍِ.

*‌‌ تلاميذه:

تَلقَّى عَنْ الشَّيخِ رحمه الله طُلَّابٌ كُثُرٌ، وَدَرَسُوا عَلَيْهِ مُصَنَّفَاتِ العُلَمَاءِ، وَكَانَ مِنْ أَكْثَرِ مَنْ لَازَمَهُ وَتَلقَّى عَنْهُ:

1- الشيخُ العالم ُإبراهيمُ بنُ سُلَيمانِ الرَّاشدِ رحمه الله.

2- الشيخُ العالم ُعبدُ الرَّحمنِ بنُ سَعدِ بنِ يحيى رحمه الله.

3- الشيخُ القاضِي محمَّدُ بنُ عبدِ العزيزِ المهيزِعِ رحمه الله.
শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বেতন থেকে কিছুই গ্রহণ করতেন না এবং তা নিজে বুঝে নিতেন না। বরং তাঁর প্রতিনিধি তাঁর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করতেন এবং তা তাঁর পরিবারের জন্য ব্যয় করতেন এবং অভাবী, এতিম ও বিধবাদের মধ্য থেকে প্রত্যেক হকদারের নিকট তাদের পাওনা পৌঁছে দিতেন।

 

*‌‌ তাঁর কার্যাবলি ও পদসমূহ:

যখন শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বহু উলামায়ে কেরামের নিকট ইলম অর্জন করলেন, তখন এটি তাঁকে বিভিন্ন পদের যোগ্য করে তুলল। ফলে তাঁকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো, যেন তিনি বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে ফয়সালা করেন এবং মানুষকে দিকনির্দেশনা ও পথপ্রদর্শন করেন। তাঁকে অন্যান্য শাইখদের সাথে শিক্ষক, ওয়াইজ ও পথপ্রদর্শক হিসেবে তিহামাহ ও হিজাজে পাঠানো হয়েছিল।

তাঁকে সুবাইখাহ (তাথলিথ), আভা, আল-কারইয়া আল-উলিয়া এবং তুরাবাহ-তে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি এসব অঞ্চল ও এর বাইরে যাতায়াত করতেন। শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) এসব জনপদের প্রত্যেকটিতে তাওহিদের দিকে এবং একমাত্র আল্লাহর শরিয়ত অনুসরণের দিকে আহ্বান করতেন। তিনি শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে যা দিয়ে শুরু করতেন তা হলো: আল্লাহর কিতাব, এরপর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ। আর তা শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবুত তাওহিদ, কাশফুশ শুবুহাত, উসুলুস সালাসাহ এবং কাওয়ায়িদুল আরবাআ-এর মাধ্যমে আঞ্জাম দিতেন।

পরিশেষে তাঁর কর্মস্থল আল-জাওফ-এর বিচারকার্যের দিকে মোড় নেয়, যখন বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁকে বলেছিলেন: "আমি আপনাকে একটি দূরবর্তী স্থানে পাঠাব, তবে আল্লাহর ইচ্ছায় সেখানে আপনি দাওয়াতের ক্ষেত্র খুঁজে পাবেন।" অতঃপর তিনি ১৩৬২ হিজরির শাবান মাসের শেষের দিকে সেখানে রওনা হন এবং রমজানের প্রথম দিনে পৌঁছান। সেই জনপদে তাঁর আগমন ছিল কল্যাণ, ইলম ও তাওহিদের সূর্যোদয় এবং মূর্খতা, শিরক ও অংশীদারিত্বের অন্ধকার বিনাশ ও বিলুপ্তির স্বরূপ। তিনি সেখানে প্রায় পনের বছর শিক্ষক, পথপ্রদর্শক, নির্দেশক এবং দূরদর্শিতার সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী হিসেবে অবস্থান করেন।

*‌‌ তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

শাইখের (রাহিমাহুল্লাহ) নিকট থেকে অসংখ্য ছাত্র ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁরা তাঁর নিকট উলামায়ে কেরামের কিতাবসমূহ পাঠ করেছেন। যাঁরা তাঁর সান্নিধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন এবং তাঁর থেকে ইলম অর্জন করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন:

১- শাইখ আলিম ইবরাহিম বিন সুলাইমান আল-রাশিদ (রাহিমাহুল্লাহ)।

২- শাইখ আলিম আব্দুর রহমান বিন সাদ বিন ইয়াহইয়া (রাহিমাহুল্লাহ)।

৩- শাইখ বিচারক মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আল-মুহাইজি' (রাহিমাহুল্লাহ)।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
4- الشَّيخُ العالم نَاصِرُ بِنُ حَمَدِ الرَّاشِدِ رحمه الله.

5- الشَّيخُ القاضي سَعْدُ بِنُ مُحَمَّدِ بِنِ فَيْصَلَ آلَ مُبَارَكِ رحمه الله.

6- الشَّيخُ القاضي عَبْدُ اللهِ بِنُ عَبْدِ العَزِيزِ آلِ عَبْدِ الوَهَّابِ رحمه الله.

7- الشَّيخُ القاضِي حُمُودُ بِنُ مَتْرُوكِ البِلِيْهِدِ - حَفِظَهُ اللهُ -.

 

وَغَيْرِهِمُ الكَثِيرِ مِمَّنْ تَقَلَّدَ مَنَاصِبَ فِي القَضَاءِ أَوْ الشُّوْرَى أَوْ التَّعْلِيْمِ؛ فَرَحِمَ اللهُ مَنْ فِي بَاطِنِ الأَرْضِ، وَبَارَكَ وَنفَعَ وَخَتَمَ بِخَيْرٍ لِمَنْ فَوْقَهَا.

*‌‌ مصنفاته:

لَقَدْ أَثْرَى الشَّيخُ رحمه الله المكْتَبَةَ الإسْلامِيَّةَ، بِمُصَنَّفَاتِهِ الزَّاخِرَةِ؛ فَتَرَكَ لَنَا العَدِيْدَ مِنْ المؤَلَّفَاتِ فِي فُنُونِ العِلْمِ فِي التَّفْسِيرِ، والحدِيْثِ، والعَقِيدَةِ، والفِقْهِ، والفَرَائِضِ، وَالنَّحْوِ، والرَّقَائِقِ وغَيْرِهَا؛ وَهُو يُعدُّ مِنْ أَكْثَرِ عُلَمَاءِ نَجْدٍ تَصْنِيْفَاً وَتَأْلِيْفَاً.

وَلَمَّا أَرْسَلَ المؤَلِّفُ رحمه الله كِتَابَهُ: ((خُلاصَةُ الكَلامِ شَرْحُ عُمْدَةِ الأَحْكَامِ)) لِلشَّيخِ العَلامَةِ عَبْدِ الرَّحْمَنَ السِّعْدِيِّ رحمه الله، أَرْسَلَ لَهُ رِسَالةً خَاصَّةً؛ مُثْنِيَاً عَلى تَصَانِيْفِهِ، وَيَقُولُ فِيْها: ((هَدِيَّتُكُمُ لِمُحِبِّكُمِ ((خُلاصَةُ الكَلامِ شَرْحُ عُمْدَةِ الأَحْكَامِ)) وَصَلَ وَسُرِرْتُ بِهِ، وَسَأَلْتُ الموْلَى أَنْ يُضَاعِفَ لَكُمُ الأَجْرَ؛ بِمَا أَبْدَيِتُمُوهُ فِيْهِ مِنْ الفَوَائِدِ الجَلِيْلَةِ، وَالمعَانِي الكَثِيْرَةِ، وَسَعْيِكُم فِي نَشْرِهِ. لَازِلْتُمُ تُخْرِجُونَ أَمْثَالَهُ مِنْ الكُتُبِ العَامِّ نَفْعُهَا، وَالعَظِيْمِ وَقْعُهَا)) أهـ.

وَهَا هُوَ الشَّيْخُ عَبْدُ المِحْسِنِ أَبَا بِطَيْنِ رحمه الله يَقُولُ عَنْ سَائِرِ تَصَانِيْفِ الشَّيْخِ فَيْصَلَ رحمه الله: ((وَقَدْ أَلَّفَ كُتُبَاً كَثِيْرَةً، صَارَ لَهَا رَوَاجٌ فِي جَمِيْعِ أَقْطَارِ الممْلَكَةِ العَرَبِيَّةِ السُّعُودِيَّةِ)) .

وَبَعْدَ هَذَا، وَقَدْ تَاقَتْ نَفْسُكَ لِمَعْرِفَةِ تَصَانِيْفِ الشَّيْخِ؛ فَهَا هِيَ مُصَنَّفَاتِهِ قَيْدَ نَاظِرَيْكَ، وَبَيْنَ يَدَيْكَ؛ مُبَيِّنَاً المطْبُوعَ مِنْهَا وَالمخْطُوُطَ بِاخْتِصَارٍ:

وَاعْلَمْ - عَلَّمَنِي اللهُ وَإِيَّاكَ - أَنَّ كُتُبَ الشَّيخِ رحمه الله لا تَعْدُو أَحَدَ هَذِهِ الأنْوَاعِ:

النَّوعُ الأَولُ: الشُّرُوحُ المخْتَصَرَةُ عَلى المتُوُنِ.

النَّوعُ الثَّانِي: الشُّرُوحُ المطوَّلةُ عَلى المتُوُنِ.
4- শায়খ আল-আলিম নাসির বিন হামাদ আল-রাশিদ রাহিমাহুল্লাহ।

5- শায়খ আল-কাদি সা’দ বিন মুহাম্মদ বিন ফয়সাল আল মুবারক রাহিমাহুল্লাহ।

6- শায়খ আল-কাদি আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল আবদুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ।

7- শায়খ আল-কাদি হুমুদ বিন মাতরুক আল-বিলিহিদ -হাফিযাহুল্লাহ-।

 

এবং তাঁদের ব্যতীত আরও অনেকেই যারা বিচার বিভাগ, শুরা বা শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন; আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি রহম করুন যারা কবরের অভ্যন্তরে শায়িত আছেন, আর যারা মাটির উপরে জীবিত আছেন তাদের জন্য বরকত দান করুন, তাদের দ্বারা উপকৃত করুন এবং কল্যাণের সাথে তাদের ইহকাল ও পরকাল সমাপ্ত করুন।

*‌‌ তাঁর গ্রন্থসমূহ:

শায়খ রাহিমাহুল্লাহ তাঁর সমৃদ্ধ রচনার মাধ্যমে ইসলামি পাঠাগারকে ধন্য করেছেন; তিনি আমাদের জন্য তাফসির, হাদিস, আকাইদ, ফিকহ, ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন), নাহু (ব্যাকরণ), রাকা’ইক (আত্মশুদ্ধি) ও অন্যান্য বিষয়ের বিভিন্ন বিদ্যায় অনেক রচনা রেখে গেছেন; তিনি নজদ অঞ্চলের আলেমদের মধ্যে গ্রন্থ প্রনয়ণ ও রচনার দিক থেকে অন্যতম সর্বাধিক সক্রিয় আলেম হিসেবে বিবেচিত হন।

যখন লেখক রাহিমাহুল্লাহ তাঁর গ্রন্থ: "খুলাসাতুল কালাম শারহু উমদাতিল আহকাম" শায়খ আল-আল্লামা আবদুর রহমান আস-সাদি রাহিমাহুল্লাহর নিকট প্রেরণ করেন, তখন তিনি (সাদি) তাঁকে একটি বিশেষ পত্র লিখেছিলেন; সেখানে তাঁর রচনার প্রশংসা করে তিনি বলেন: "আপনার মুহিব্বের প্রতি আপনার প্রেরিত হাদিয়া 'খুলাসাতুল কালাম শারহু উমদাতিল আহকাম' পৌঁছেছে এবং আমি এতে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আপনার প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেন; আপনি এতে যে সকল সুমহান ফায়দা এবং প্রচুর অর্থ ব্যক্ত করেছেন এবং এটি প্রসারে আপনার যে প্রচেষ্টা রয়েছে তার বিনিময়ে। আপনারা যেন সর্বদা এ ধরণের ব্যাপক কল্যাণকর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পন্ন কিতাবসমূহ প্রকাশ করতে থাকেন।" সমাপ্ত।

এই তো শায়খ আবদুল মুহসিন আবা বাত্বীন রাহিমাহুল্লাহ শায়খ ফয়সাল রাহিমাহুল্লাহর অন্যান্য সকল রচনা সম্পর্কে বলেন: "তিনি অনেক কিতাব রচনা করেছেন, যা সৌদি আরব সাম্রাজ্যের সকল প্রান্তে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।"

অতঃপর, আপনার মন যেহেতু শায়খের রচনাগুলি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী; তাই তাঁর কিতাবসমূহের তালিকা এখানে আপনার দৃষ্টিগোচরে এবং আপনার সম্মুখে উপস্থাপন করা হলো; যেখানে মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি (مخطوط) সংস্করণসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে:

জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাকে ও আপনাকে ইলম দান করুন—যে শায়খ রাহিমাহুল্লাহর কিতাবসমূহ এই প্রকারগুলোর বাইরে নয়:

প্রথম প্রকার: মূলপাঠের (متن) সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (شرح)।

দ্বিতীয় প্রকার: মূলপাঠের (متن) বিস্তারিত ব্যাখ্যা (شرح)।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
النَّوعُ الثَّالِثُ: اختِصَارُهُ لِكَثِيرٍ مِنْ الكُتُبِ المطوَّلةِ.

النَّوعُ الرَّابِعُ: التَّأْلِيفُ فِي الفُنُونِ تَأْصِيْلاً وَابْتِدَاءً.

*‌‌ فِي العَقِيدَةِ:

1- القَصْدُ السَّدِيدُ شَرْحُ كِتَابِ التَّوْحِيدِ: طُبِعَ فِي مُجَلَّدٍِ عَنْ دَارِ الصُّمَيْعِي بِالرِّيَاضِ، بِتَحْقِيقِ الشَّيخِ عَبْدِ الإلَهِ الشَّايِعِ وَفَّقَهُ اللهُ.

2- التَّعْلِيقَاتُ السَّنِيَّةُ عَلى العَقِيدَةِ الوَاسِطِيَّةِ: طُبِعَ فِي مُجَلَّدٍِ عَنْ دَارِ الصُّمَيْعِي بِالرِّيَاضِ، بِتَحْقِيقِ الشَّيخِ عَبْدِ الإلَهِ الشَّايِعِ وَفَّقَهُ اللهُ.

*‌‌ فِي التَّفْسِيرِ:

3- تَوْفُيقُ الرَّحْمَنِ فِي دُرُوسِ القُرْآنِ: طُبِعَ فِي أَرْبَعَةِ مُجَلَّدَاتٍ عَنْ دَارِ العَاصِمَةِ بِالرِّيَاضِ، باعْتِنَاءِ الشَّيخِ عَبْدِ العَزيزِ الزَّيْرِ حَفِظَهُ اللهُ.

4- القَوْلُ فِي الكُرَّةِ الجَسِيْمَةِ الموَافِقُ لِلفِطْرَةِ السَّلِيْمَةِ: مَخْطُوطٌ فِي مُجَلَّدٍِ، وَمِنْهُ مَخْطُوطُةٌ فِي مَكْتَبَةِ الملِكِ فَهْدٍ.

* ِ‌‌في الحدِيْثِ:

5- لَذَّةُ القَارِي مُخْتَصَرُ فَتْحِ البَارِي: مَخْطُوطٌ فِي ثَمَانِيَةِ مُجَلَّدَاتٍ، وهُوَ مَفْقُودٌ.

6- نَقْعُ الأُوَامِ بِشَرْحِ أَحَادِيْثَ عُمْدَةِ الأَحْكَامِ: مَخْطُوطٌ، وَهُوَ الشَّرْحُ الكَبِيرُ عَلى عُمْدَةِ الأَحْكَامِ، خَمْسَةُ أَجْزَاءٍ كِبَارٍِ، فِي إِحْدَى عَشْرَةَ مُجَلَّدَةٍ، وَمِنْهُ مَخْطُوطَةٌ كَامِلَةٌ بِخَطِّ الشَّيخِ فَيْصَلَ رحمه الله فِي مَكْتَبَةِ الملِكِ فَهْدٍ بِالرِّيَاضِ.

7- أَقوَالُ العُلَمَاءِ الأَعْلامِ عَلى أَحَادِيْثَ عُمْدَةِ الأَحْكَامِ: مَخْطُوطٌ فِي مُجَلَّدَيْنِ ضَخْمَيْنِ، فِي سَبْعَةِ مَلازِمٍ، بِدَارَةِ الملِكِ عَبْدِ العَزِيزِ، وَمَكْتَبَةِ الشَّيخِ عَبْدِ المِحْسِنِ أَبَا بِطَيْنِ وَهُوَ مُخْتَصَرٌ عَنْ سَابِقِِهِ.

8- خُلاصَةُ الكَلامِ شَرْحُ عُمْدَةِ الأَحْكَامِ: طُبِعَ فِي مُجَلَّدٍ بمكتبة الرُّشْدِ بِالرِّيَاضِ، وَهُوَ اخْتِصَارٌ لِشَرْحَيْهِ عَلى العُمْدَةِ؛ الكَبِيرِ وَالمتَوَسِّطِ، وَمِنْهُ مَخْطُوطُةٌ فِي مَكْتَبَةِ الملِكِ فَهْدٍ ضِمْنَ مَجْمُوعِ (زُبْدَةُ الكَلامِ) .
তৃতীয় প্রকার: অনেক দীর্ঘ কিতাবসমূহের সংক্ষিপ্তকরণ (اختصار)।

চতুর্থ প্রকার: বিভিন্ন শাস্ত্রে মৌলিক ও নতুন আঙ্গিকে গ্রন্থ রচনা।

*‌‌ আকীদাহ শাস্ত্রে:

১- আল-কাসদুস সাদিদ শারহু কিতাবিত তাওহিদ: এটি রিয়াদের দারুস সুমাইয়ি থেকে এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, শায়খ আব্দুল ইলাহ আশ-শায়ি’ (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন)-এর তাহকিকসহ।

২- আত-তালিকাতুস সানিয়্যাহ আলাল আকীদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ: এটি রিয়াদের দারুস সুমাইয়ি থেকে এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, শায়খ আব্দুল ইলাহ আশ-শায়ি’ (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন)-এর তাহকিকসহ।

*‌‌ তাফসির শাস্ত্রে:

৩- তাওফিকুর রহমান ফি দুরুসিল কুরআন: এটি রিয়াদের দারুল আসিমাহ থেকে চার খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, শায়খ আব্দুল আজিজ আজ-জাইর (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন)-এর তত্ত্বাবধানে।

৪- আল-কওলু ফিল কুররাতিল জাসিমাহ আল-মুওয়াফিকু লিল ফিতরাতিস সালিমা: এটি এক খণ্ডের একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط), যার একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) বাদশাহ ফাহাদ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

* ِ‌‌হাদিস শাস্ত্রে:

৫- লাজ্জাতুল কারি মুখতাসারু ফাতহুল বারি: এটি আট খণ্ডের একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط), তবে এটি বর্তমানে নিখোঁজ।

৬- নাক্বউল উওয়াম বি-শারহি আহাদিসি উমদাতিল আহকাম: এটি একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوط), যা উমদাতিল আহকামের বৃহৎ ব্যাখ্যাগ্রন্থ (الشرح الكبير); এটি পাঁচটি বড় অংশ এবং এগারোটি খণ্ডে বিন্যস্ত। এর একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) শায়খ ফয়সাল (রহিমাহুল্লাহ)-এর স্বহস্তে লিখিত রিয়াদের বাদশাহ ফাহাদ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

৭- আকওয়ালুল উলামাইল আ’লাম আলা আহাদিসি উমদাতিল আহকাম: এটি দুটি বিশাল খণ্ডে বিন্যস্ত পাণ্ডুলিপি (مخطوط), যা সাতটি বাঁধানো সংকলনে (ملازم) বিভক্ত। এটি দারাতে মালিক আব্দুল আজিজ এবং শায়খ আব্দুল মুহসিন আবা বাতিন লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত। এটি পূর্ববর্তী গ্রন্থটির সংক্ষিপ্তসার (مختصر)।

৮- খুলাসাতুল কালাম শারহু উমদাতিল আহকাম: এটি রিয়াদের মাকতাবাতুর রুশদ থেকে এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। এটি উমদাহর ওপর তাঁর রচিত বৃহৎ (الكبير) ও মাঝারি (المتوسط) উভয় ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংক্ষিপ্তকরণ (اختصار)। এর একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) বাদশাহ ফাহাদ লাইব্রেরিতে 'জুবদাতুল কালাম' সংকলনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
9- مُخْتَصَرُ الكَلامِ شَرْحِ بُلُوغِ المَرَامِ: طُبِعَ عَنْ دَارِ كُنُوزِ إشْبِيلْيَا، وَمِنْهُ مَخْطُوطُةٌ فِي مَكْتَبَةِ الملِكِ فَهْدٍ ضِمْنَ مَجْمُوعِ (زُبْدَةُ الكَلامِ) .

10- بُسْتَانُ الأَحْبَارِ بِاخْتِصَارِ نَيْلِ الأَوْطَارِ: طُبِعَ عَنْ دَارِ كُنُوزِ إشْبِيلْيَا فِي مُجَلَّدَيْنِ.

11- تِجَارَةُ المؤْمِنِيْنَ فِي المُرَابَحَةِ مَعْ رَبِّ العَالَمِيْنَ: طُبِعَ فِي مُجَلَّدٍ مَرَّتَيْنِ؛ بِدِمَشْقٍ أُولَاهُمَا عَلى نَفَقَةِ الأَمِيْرِ عَبْدِالرَّحْمَنِ السِّدِيْرِيِّ عَام 1372هـ، وَآخِرْهُمَا عَلى نَفَقَةِ تِلْمِيذِهِ الشَّيخِ عَبْدِالرَّحْمَنِ بِنِ عَطَا الشَّايعِ عَام 1404هـ.

12- تَطْرِيزُ رِيَاضِ الصَّالِحِيْن: طُبِعَ عَنْ دَارِ العَاصِمَةَ بِالرِّيَاضِ، بِتَحْقِيقِ الشَّيخِ عَبْدِ العَزيزِ الزَّيْرِ حَفِظَهُ اللهُ.

13- مَحَاسِنُ الدِّيْنِ بِشَرْحِ الأَرْبَعِينَ (النَّوَوِيَّة) : طُبِعَ عَنْ دَارِ إِشْبِيلْيَا بِالرِّيَاضِ.

14- تَعْلِيمُ الأَحَبِّ أَحَادِيثَ النَّوَوِيِّ وَابْنِ رَجَبِ: طُبِعَ ضِمْنَ (المُخْتَصَرَاتُ النَّافِعَةُ) ، وَمِنْهُ مَخْطُوطُةٌ فِي مَكْتَبَةِ الملِكِ فَهْدٍ ضِمْنَ مَجْمُوعِ (زُبْدَةُ الكَلامِ) .

15- نَصِيْحَةُ المُسْلِمِيْنَ = نَصِيْحَةٌ دِيْنِيَّةٌ: طُبِعَتْ بِتَحْقِيقِ الشَّيخِ عَبْدِ العَزيزِ الزَّيْرِ حَفِظَهُ اللهُ.

16- وَصِيَّةٌ لِطَلَبَةِ العِلْمِ: طُبِعَتْ بِتَحْقِيقِ الشَّيخِ عَبْدِ العَزيزِ الزَّيْرِ حَفِظَهُ اللهُ.

17- غِذاءُ القُلُوبِ وَمُفَرِّجُ الكُرُوبِ: وَقَدْ طُبِعَ قَدِيْماً ضِمْنَ مَجْموعِ … (المخْتَصَراتِ النَّافِعَةِ) ، وَمِنْهُ مَخْطُوطُةٌ فِي مَكْتَبَةِ الملِكِ فَهْدٍ ضِمْنَ مَجْموعِ (زُبْدَةُ الكَلامِ) .

*‌‌ فِي الفِقْهِ وأُصُولِهِ:

18- مَقَامُ الرَّشَادِ بَيْنَ التَّقْلِيْدِ والاجْتِهَادِ: وهُوَ كِتَابُنَا هَذَا.

19- كَلِمَاتُ السَّدَادِ عَلى مَتْنِ الزَّادِ (المسْتَقْنَعِ) : طُبِعَ فِي مُجَلَّدٍ عدة مرات عَنْ مَكْتَبَةِ النَّهْضَةِ، وصدر مؤخَّراً محققاً عن دار اشبيليا.

20- المرْتَعُ المشْبِعُ شَرْحُ مَوَاضِعَ مِنْ الرَّوْضِ المرْبِعِ: مَخْطُوطٌ فِي أَرْبَعَةِ أَجْزَاءٍ، وَسِتَّةِ مُجَلَّدَاتٍ كَبِيرِةٍ. وَمِنْهُ مَخْطُوطُةٌ فِي مَكْتَبَةِ الملِكِ فَهْدٍ، وَعَنْهَا مُصَوَّرةٌ بِدَارَةِ الملِكِ عَبْدِ العَزِيزِ، وَسَيُطْبَعُ قَرِيْبَاً بِعناية الشَّيخِ عبد العزيز القاسم حفظه الله.
9- মুখতাসারুল কালাম শারহু বুলুগিল মারাম: এটি দার কুনুজ ইশবিলিয়া থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং কিং ফাহদ লাইব্রেরিতে 'জুবদাতুল কালাম' সংকলন (مجموع)-এর অন্তর্ভুক্ত এর একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) রয়েছে।

10- বুসতানুল আহবার বি-ইখতিসারি নাইলিল আওতার: এটি দার কুনুজ ইশবিলিয়া থেকে দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে।

11- তিজারাতুল মুমিনিন ফিল মুরাবাহাতি মা'আ রাব্বিল আলামিন: এটি এক খণ্ডে দুইবার প্রকাশিত হয়েছে; প্রথমবার দামেস্কে ১৩৭২ হিজরি সনে আমির আব্দুর রহমান আস-সিদিরির অর্থায়নে এবং শেষবার ১৪০৪ হিজরি সনে তাঁর ছাত্র শায়খ আব্দুর রহমান বিন আতা আশ-শায়ার অর্থায়নে।

12- তাতরিজু রিয়াদুস সালিহিন: এটি শায়খ আব্দুল আজিজ আজ-জাইর (হাফিযাহুল্লাহ)-এর তাহকিক (تحقيق) সহ রিয়াদের দারুল আসিমাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

13- মাহাসিনুদ দিন বি-শারহিল আরবাঈন (আন-নওয়াবিয়্যাহ): এটি রিয়াদের দার ইশবিলিয়া থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

14- তালিমুল আহাব আহাদিসে নববী ওয়া ইবনে রজব: এটি 'আল-মুখতাসারাতুন নাফিয়া' সংকলন (مجموع)-এর অধীনে মুদ্রিত হয়েছে এবং কিং ফাহদ লাইব্রেরিতে 'জুবদাতুল কালাম' সংকলন (مجموع)-এর অন্তর্ভুক্ত এর একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) রয়েছে।

15- নাসিহাতুল মুসলিমিন = নাসিহাতুন দিনিয়্যাহ: এটি শায়খ আব্দুল আজিজ আজ-জাইর (হাফিযাহুল্লাহ)-এর তাহকিক (تحقيق) সহ মুদ্রিত হয়েছে।

16- ওয়াসিয়্যাতুন লি-তালাবাতিল ইলম: এটি শায়খ আব্দুল আজিজ আজ-জাইর (হাফিযাহুল্লাহ)-এর তাহকিক (تحقيق) সহ মুদ্রিত হয়েছে।

17- গিজাউল কুলুব ওয়া মুফাররিজুল কুরুব: এটি পূর্বে 'আল-মুখতাসারাতুন নাফিয়া' সংকলন (مجموع)-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত হয়েছে এবং কিং ফাহদ লাইব্রেরিতে 'জুবদাতুল কালাম' সংকলন (مجموع)-এর অন্তর্ভুক্ত এর একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) রয়েছে।

*‌‌ ফিকহ ও এর মূলনীতি (أصول) প্রসঙ্গে:

18- মাকামুর রাশাদ বাইনাত তাকলিদ (تقليد) ওয়াল ইজতিহাদ (اجتهاد): এটি আমাদের বর্তমান এই কিতাব।

19- কালিমাতুস সাদাদ আলা মাতনিয যাদ (আল-মুসতাকনি): এটি এক খণ্ডে কয়েকবার মাকতাবাতুন নাহদাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে এবং সম্প্রতি দার ইশবিলিয়া থেকে তাহকিক (تحقيق) সহ প্রকাশিত হয়েছে।

20- আল-মারতাউল মুশবি' শারহু (شرح) মাওয়াদি'আ মিনাল রওদিল মুরবি: এটি চার অংশ (أجزاء) ও ছয়টি বড় খণ্ডে (مجلدات) পাণ্ডুলিপি (مخطوط) আকারে রয়েছে। কিং ফাহদ লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) সংরক্ষিত আছে এবং দারাতে মালিক আব্দুল আজিজে এর একটি অনুলিপি (مصورة) রয়েছে। শীঘ্রই এটি শায়খ আব্দুল আজিজ আল-কাসিম (হাফিযাহুল্লাহ)-এর তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হবে।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
21- الوَابِلُ المُمْرِعُ عَلى الرَّوْضِ المرْبِعِ: مَخْطُوطٌ غَيْرُ مُكْتَمِلٍ، مِنْهُ نُسْخَةٌ فِي مَكْتَبَةِ الملِكِ فَهْدٍ إِلى كِتَابِ الجَنَائِزِ، وَعَنْهَا مَصَوَّرةٌ بِدَارَةِ الملِكِ عَبْدِ العَزِيزِ.

22- مَجْمَعُ الجوَادِ حَاشِيةُ شَرْحِ الزَّادِ: مَخْطُوطٌ غَيْرُ مُكْتَمِلٍ، وَهُوَ شَرْحٌ كَبِيرٌ مُطوَّلٌ عَلى ((الرَّوْضِ المُرْبِعِ)) وَذَلِك أَنَّ الشَّيخَ رحمه الله فِي الشَّرْحَيْنِ السَّابِقَيْنِ انْتَقَى مَسَائِلَ خِلافِيَةً مُعَيَّنةً؛ فَشَرَحَهَا، أمَّا فِي هَذَا المُطَوَّلِ؛ فَقَدَ وَجَّهَ عِنَايَتَهُ إِلى غَالِبِ المسَائِلِ الخِلافِيَّةِ فِيْهِ. وَلَهُ: زُبْدةُ المرَادِ فِهْرْسِ مَجْمَعِ الجَوادِ: مَخْطُوطٌ، فِي تِسْعٍِ وَعِشْرِينَ وَرَقةً، بِخَطِّ الشَّيخِ إِسَمْاعِيلِ البِلالِ أَحَدُ تَلامِذَةِ الشَّيخِ، وَكانَ المخطُوطُ لَدَيْهِ رحمه الله، وَعَنْهُ مَصَوَّرةٌ بِدَارَةِ الملِكِ عَبْدِ العَزِيزِ.

23- القَوْلُ الصَّائِبُ فِي حُكْمِ بَيْعِ الَّلحْمِ بِالتَّمْرِ الغَائِبِ: مَخْطُوطٌ فِي مَكْتَبَةِ الملِكِ

فَهْدٍ.

24- الغُرَرُ النَّقِيَةُ شَرْحُ الدُّرَرِ البَهِيَّةِ: طُبِعَتْ بِاعْتِنَاءِ الشَّيخِ مُحَمَّدِ بِنِ حَسَنِ آل مُبَارَكِ وَفَّقَهُ اللهُ وَسَدَّدَهُ، عَنْ دَارِ إِشْبِيلْيَا.

*‌‌ فِي الفَرَائِضِ:

25- الحُجَجُ القَاطِعَةِ فِي الموَارِيثِ الوَاقِعَةِ: طُبِعَتْ بِاعْتِنَاءِ الشَّيخِ مُحَمَّدِ بِنِ حَسَنِ آل مُبَارَك وَفَّقَهُ اللهُ وَسَدَّدَهُ. عَنْ دَارِ إِشْبِيلْيَا.

26- السَّبِيكَةُ الذَّهَبِيَّةُ عَلى مَتْنِ الرَّحَبِيَّةِ: طُبِعَتْ بِاعْتِنَاءِ الشَّيخِ مُحَمَّدِ بِنِ حَسَنِ آل مُبَارَكِ وَفَّقَهُ اللهُ وَسَدَّدَهُ. عَنْ دَارِ إِشْبِيلْيَا.

*‌‌ فِي النَّحْو:

27- صِلَةُ الأَحْبَابِ شَرْحُ مُلْحَةَ الإعْرَابِ: مَفْقُودٌ.

28- مَفَاتِيحُ العَرَبِيَّةِ عَلى مَتْنِ الآجُرُّومِيَّةِ: مطبوعٌ - عن دار الصميعي - بِتَحْقِيقِ الشَّيخِ عَبْدِ العَزيزِ بِنِ سَعْدِ الدّغِيثِر وَفَّقَهُ اللهُ وسَدَّدَهُ.

29- لُبَابُ الإعْرَابِ فِي تَيْسِيرِ عِلْمِ النَّحْوِ لَعَامَّةِ الطُّلابِ: طُبِعَتْ بِتَحْقِيقِ الشَّيخِ مُحَمَّدِ بِنِ حَسَنِ آل مُبَارَكِ وَفَّقَهُ اللهُ وَسَدَّدَهُ.
21- আল-ওয়াবিলুল মুমরি' আলা আর-রাওদিল মুরবি': এটি একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি। এর একটি অনুলিপি কিং ফাহাদ লাইব্রেরিতে 'কিতাবুল জানায়েয' (জানাজা অধ্যায়) পর্যন্ত সংরক্ষিত আছে এবং তা থেকে একটি অনুলিপি দারাতিউল মালিক আব্দুল আজিজে সংরক্ষিত আছে।

22- মাজমাউল জাওয়াদ হাশিয়াতু শারহিজ জাদ: এটি একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি। এটি 'আর-রাওদুল মুরবি'-এর ওপর একটি বৃহৎ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ। কারণ শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) পূর্ববর্তী দুটি ব্যাখ্যাগ্রন্থে কেবল নির্দিষ্ট কিছু মতভেদপূর্ণ (خلافية) মাসআলা নির্বাচন করে সেগুলোর ব্যাখ্যা করেছিলেন; পক্ষান্তরে এই বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থে তিনি এর অধিকাংশ মতভেদপূর্ণ (خلافية) মাসআলার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন। তাঁর আরও একটি গ্রন্থ হলো: জুবদাতুল মুরাদ ফিহরিতু মাজমায়িল জাওয়াদ। এটি উনত্রিশ পৃষ্ঠার একটি পাণ্ডুলিপি, যা শায়খের অন্যতম ছাত্র শায়খ ইসমাইল আল-বিলার হস্তাক্ষরে লিখিত। পাণ্ডুলিপিটি তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) নিকট সংরক্ষিত ছিল এবং তা থেকে একটি অনুলিপি দারাতিউল মালিক আব্দুল আজিজে সংরক্ষিত আছে।

23- আল-কাউলুস সায়িব ফি হুকমি বায়িল লাহমি বিত-তামরিল গায়িব: কিং ফাহাদ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি।

24- আল-গুরারুন নাকিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ: এটি শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আল মুবারকের তত্ত্বাবধানে (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন) দার ইশবিলিয়া থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

*‌‌ ফারায়েজ (উত্তরাধিকার শাস্ত্র) বিষয়ে:

25- আল-হুজাজুল কাতিয়াহ ফিল মাওয়ারিছিল ওয়াকিআহ: এটি শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আল মুবারকের তত্ত্বাবধানে (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন) দার ইশবিলিয়া থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

26- আস-সাবিকাতুজ জাহাবিয়্যাহ আলা মাতনিল (متن) রাহাবিয়্যাহ: এটি শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আল মুবারকের তত্ত্বাবধানে (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন) দার ইশবিলিয়া থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

*‌‌ নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ে:

27- সিলাতুল আহবাব শারহু মুলহাতিল ইরাব: এটি বিলুপ্ত।

28- মাফাতিহুল আরাবিয়্যাহ আলা মাতনিল (متن) আজুরুম্মিয়্যাহ: এটি শায়খ আব্দুল আজিজ বিন সাদ আদ-দুগাইসিরের সম্পাদনায় (تحقيق) দারুস সুমাইয়ি থেকে মুদ্রিত হয়েছে—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।

29- লুবাবুল ইরাব ফি তাইসিরি ইলমিন নাহউ লি-আম্মাতিত তুল্লাব: এটি শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আল মুবারকের সম্পাদনায় (تحقيق) মুদ্রিত হয়েছে—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
*‌‌ وَفَاته:

تُوُفِّيَ الشَّيخُ رحمه الله عَنْ عُمُرٍ نَاهَزَ 63هـ سَنَةً، قَضَاهَا فِي الدَّعْوَةِ إِلى اللهِ تَعَالى، وَإِلى تَعْلِيمِ النَّاسَ أُمُورَ دِيْنِهِم.

واخْتَلَفَ المتَرْجِمُونَ فِي تَحْدِيدِ يَومِ وَسَنَةِ وَفاتِهِ؛ فَذَكَرَ بَعْضُهُم أَنَّهُ تُوُفِّيَ فِي سَنَةِ 1377هـ فِي العَاشِرِ مِنْ شَهْرِ ذِي القِعْدَةِ، وَقِيْلَ فِي السَّادِسِ عَشَرَ، وَقِيْلَ فِي السَّابِعِ عَشَرَ.

وَالصَّوابُ أَنَّهُ تُوُفِّيَ فِي الثُّلُثِ الأَخِيْرِ مِنْ لَيْلَةِ الجمْعَةِ الموَافِقِ السَّادِسَ عَشَرَ مِنْ شَهْرِ ذِي القِعْدَةِ عَام 1376هـ. واللُه أَعْلَمُ.

*‌‌ عَقِبَهُ:

لم يُرْزَق الشَّيخُ رحمه الله ْ بِذُكُورٍ، وَإِنَّمَا وُهِبَ سِتَّاً مِنْ البَنَاتِ، جَعَلَهُنَّ اللهُ مِنْ المؤمِنَاتِ الصَّالِحَاتِ. وَصَلَّى اللهُ عَلى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ وَعَلى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ.

 

‌‌الحدِيثُ عَنْ الرِّسَالةِ

 

-‌‌ الموضُوعُ:

مَوضُوعُ الرِّسالةِ هو التَّقليدُ والاجتهادُ، وهُمَا مَوْضوعانِ يَخْتَصَّانِ بِعِلْمِ أُصُولِ الفِقْهِ.

وهُمَا مِنْ المواضِيعِ الهامَّةِ جِداً لِكلِّ مُفْتٍ وفَقِيهٍ، سِيَّما مَعْ مَا يَمُرُّ مِنْ ضَرُوريَّاتٍ يُمْلِيها الواقعُ في بِلادِ المسلِمِينَ، أوْ فِي أَحْوالِ النَّاسِ ومَعَاشِهِم مِنْ مَسَائِلَ لَيْسَ فِيْها نَصٌّ شَرْعِيٌّ؛ لِذَا اعتَنَى بِهِ المتقَدِّمونَ؛ ومِنْهُم الأئمةُ الأَربَعةُ، وهُم الفُقَهاءُ المجتَهِدُونَ في أَزْهَى عُصُورِ الفِقْهِ الِإسْلَامِيِّ.
*‌‌ মৃত্যু:

শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) প্রায় ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, যা তিনি মহান আল্লাহর প্রতি দাওয়াত এবং মানুষকে তাদের দ্বীনের বিষয়াদি শিক্ষা দানে ব্যয় করেছেন।

জীবনীকারগণ (المترجمون) তাঁর মৃত্যুর দিন ও বছর নির্ধারণে মতভেদ করেছেন; তাঁদের মধ্যে কেউ উল্লেখ করেছেন যে তিনি ১৩৭৭ হিজরি সনের ১০ই জিলকদ ইন্তেকাল করেছেন, আবার কেউ বলেছেন ১৬ই তারিখ, আবার কেউ বলেছেন ১৭ই তারিখ।

সঠিক মত হলো, তিনি ১৩৭৬ হিজরি সনের ১৬ই জিলকদ জুমুআর রাতের শেষ তৃতীয়াংশে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

*‌‌ সন্তানসন্ততি:

শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) কোনো পুত্র সন্তান লাভ করেননি, বরং তাঁকে ছয়টি কন্যা সন্তান দান করা হয়েছিল, আল্লাহ তাঁদেরকে নেককার মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

‌‌গবেষণাপত্র সংক্রান্ত আলোচনা

 

-‌‌ বিষয়বস্তু:

গবেষণাপত্রটির বিষয়বস্তু হলো তাকলিদ (التقليد) এবং ইজতিহাদ (الاجتهاد), যা উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত দুটি বিশেষ বিষয়।

এগুলো প্রত্যেক মুফতি (مفتي) ও ফকিহর (فقيه) জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি যে সব চাহিদাকে নির্দেশ করছে অথবা মানুষের জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে উদ্ভূত সেসব মাসআলার ক্ষেত্রে যার কোনো শরয়ী দলীল (نص شرعي) বিদ্যমান নেই। একারণে পূর্বসূরিগণ (المتقدمون) এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চার ইমাম, যারা ইসলামের ফিকহ শাস্ত্রের স্বর্ণযুগের মুজতাহিদ (المجتهدون) ফকিহ ছিলেন।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
-‌‌ نِسْبَتُهَا:

نِسْبَتُها للمؤلِّفِ ثَابِتةٌ والحمدُ للهِ؛ فَقَدْ أَثْبَتَهَا لَهُ كُلُّ مَنْ تَرْجَمَ لِلشَّيخِ، بَلْه أَنَّها بِخطِّهِ ومَكْتوبٌ اسمُهُ عَلى طُرَّتِهَا (1)

-‌‌ النُّسَخُ:

‌‌أمَّا المطْبُوعَةُ؛ فَفِي بِدَايةِ اهتِمَامِي بِالرِّسَالةِ، كُنْتُ قَدْ اعْتَنَيْتُ بِهَا مِنْ خِلالِ طَبْعَةِ … (المجْمُوعَةُ الجَلِيْلَةُ) والَّتِي تَضُمُّ الرَّسائلَ التَّالِية:

الأُوْلَى: مُخْتَصَرُ الكَلامِ شَرْحُ بُلُوغِ المَرَامِ، وطُبِعَتْ مُفْرَدةً عَنْ دَارِ كُنُوزِ إشْبِيلْيَا بِالرِّيَاضِ.

الثانية: مَحَاسِنُ الدِّيْنِ بِشَرْحِ الأَرْبَعِينَ (النَّوَوِيَّة) . وطُبِعَتْ عَنْ دَارِ كُنُوزِ إشْبِيلْيَا.

الثالثة: مَقَامُ الرَّشَادِ بَيْنَ التَّقْلِيْدِ والاجْتِهَادِ. وَهِي الَّتي قَيْدَ نَاظِرَيْكَ.

وبَيْنَا كُنْتُ مُشْتَغِلاً بِالاعتِنَاءِ بِهَا، أَوْقَفنِي أَحَدُ الإِخْوَةِ الفُضَلاءِ على طَبْعةٍ مُفرَدةٍ لَهَا عَنْ دَارِ السَّلفِ بِالرِّيَاضِ؛ بِاعتِنَاءِ الشَّيخِ رَاشدَ الغُفَيْلِي وَفَّقهُ اللهُ.

فَلمَّا وَقَفْتُ عَلَيْهَا تَرَكْتُ العَمَلَ بِإكْمَالِهَا؛ لِاعتِقَادِي أَنِّي قَدْ سُبِقتُ بِذَلكَ؛ فَتَوَجَّهْتُ لِلمَشَارِيعِ العِلْمِيَّةِ الأُخْرَى، سِيَّمَا خُلاصَةُ الكَلامِ عَلى عُمْدةِ الأَحْكَامِ لِلشَّيخِ فَيْصَلَ رحمه الله (2) .

وبَعْدَ حِيْنٍ مِنْ الزَّمنِ قَرَأتُهَا كَامِلَةً وأَبَنْتُ بَعْضَ الأُمُورِ فِيْهَا وقَيَّدْتُهَا عَلى نُسْخَتِي؛ مِنْ سَقطٍ، أوْ تَخْرِيجٍ؛ أوْ عَزْوٍ.

وَحِينَمَا كُنْتُ أَبْحَثُ عَنْ مخَطُوطَةِ خُلاصَةُ الكَلامِ لَمْ آلُ جهداً في البَحْثِ والتَّنْقيبِ والسُّؤالِ عَنْها مِنْ أَقْرِبَاءِ الشَّيخِ رحمه الله أوْ تَلامِذَتِهِ وَمُحِبِّيهِ، حَتَّى وَقفَ السُّؤالُ عِنْدَ الشَّيخِ الفَاضلِ عَبْدِ العَزِيزِ الزَّيرِ حَفِظَهُ اللهُ وسَدَّدَ خُطَاهُ؛ فَسَألتُهُ عَنْ مَخْطُوطِ شَرْحِ العُمْدَةِ؛ فَلمْ أَظْفَر بِهِ، ثُمَّ عَرَّجتُ بِالحدِيثِ عَلى مَقَامِ الرَّشَادِ؛ فَأخْبَرَنِي بَأَنَّهُ يَقتَنِي نُسْخَةً مِنْها؛

--------------------------------------------

(1) انظر: مصادر ترجمته صـ (5) .

(2) وقد انتهيتُ من الاعتناءِ به على وَجْهٍ أسألُ الله أن يكون غيرَ مسبوقٍ بحمد الله، والفضلُ له وحدَهُ، ثمَّ للأخِ الشيخِ الفاضلِ السِّبْطِ محمد بن حسن آل مبارك وفَّقه الله؛ فقد أرسل إليَّ النسخة الخطية، والكتابُ الآن في طَوْر المقابلة النهائية؛ فالحمد لله على توفيقه.
-‌‌ গ্রন্থটির সম্বন্ধযুক্ত হওয়া:

আলহামদুলিল্লাহ, লেখকের প্রতি এই গ্রন্থটির সম্বন্ধ সাব্যস্ত (ثابتة) হয়েছে। যারা শাইখের জীবনী লিখেছেন, তারা সকলেই এটি তাঁর বলে উল্লেখ করেছেন। তদুপরি, এটি তাঁর স্বহস্তে লিখিত এবং এর প্রচ্ছদে তাঁর নাম লিখিত রয়েছে। (১)

-‌‌ পাণ্ডুলিপি ও অনুলিপি (النسخ):

‌‌মুদ্রিত কপি সম্পর্কে: এই রিসালাহ (رسالة) নিয়ে কাজ করার শুরুতে আমি এটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে ‘আল-মাজমুআতুল জালিল্লাহ’ নামক মুদ্রণের মাধ্যমে মনোনিবেশ করেছিলাম, যাতে নিম্নোক্ত রিসালাহগুলো (رسالة) অন্তর্ভুক্ত ছিল:

প্রথমটি: মুখতাসারুল কালাম শারহু বুলুগিল মারাম। এটি রিয়াদের দারু কুনুজি ইশবিলিয়া থেকে স্বতন্ত্রভাবে মুদ্রিত হয়েছে।

দ্বিতীয়টি: মাহাসিনুদ দীন বিশারহিল আরবাঈন আন-নওয়াবিয়্যাহ। এটি দারু কুনুজি ইশবিলিয়া থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

তৃতীয়টি: মাকামুর রাশাদ বাইনাত তাকলিদি ওয়াল ইজতিহাদ। এটিই এখন আপনার দৃষ্টির সামনে রয়েছে।

যখন আমি এটি সম্পাদনার কাজে ব্যস্ত ছিলাম, তখন এক বিদগ্ধ ভাই আমাকে রিয়াদের দারুস সালাফ থেকে প্রকাশিত এর একটি স্বতন্ত্র মুদ্রণ সম্পর্কে অবহিত করেন, যা শাইখ রাশিদ আল-গুফাইলি (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন) এর তত্ত্বাবধানে সম্পাদিত।

যখন আমি এটি হাতে পেলাম, তখন এর কাজ সম্পন্ন করা ছেড়ে দিলাম; কারণ আমি মনে করলাম যে এই কাজে কেউ আমার অগ্রগামী হয়ে গেছেন। ফলে আমি অন্যান্য ইলমি প্রজেক্টের দিকে মনোনিবেশ করলাম, বিশেষ করে শাইখ ফয়সাল (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘খুলাসাতুল কালাম আলা উমদাতিল আহকাম’ এর প্রতি। (২)

কিছুকাল পর আমি এটি সম্পূর্ণ পাঠ করলাম এবং এতে কিছু বিষয় স্পষ্ট করলাম এবং আমার ব্যক্তিগত কপিতে তা লিপিবদ্ধ করলাম; যেমন—বাদ পড়া অংশ (سقط), হাদিস বিশ্লেষণ (تخريج) অথবা সূত্রনির্দেশ (عزو)।

যখন আমি ‘খুলাসাতুল কালাম’-এর পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) খুঁজছিলাম, তখন শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর আত্মীয়-স্বজন, ছাত্র ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে এ ব্যাপারে অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে কোনো ত্রুটি করিনি। অবশেষে জিজ্ঞাসার সূত্র ধরে শ্রদ্ধেয় শাইখ আব্দুল আজিজ আল-যাইর (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন ও তাঁর পথ সুগম করুন) পর্যন্ত পৌঁছলাম। আমি তাঁকে ‘শারহুল উমদাহ’-এর পাণ্ডুলিপি (مخطوط) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, কিন্তু তা পেলাম না। এরপর আলাপের এক পর্যায়ে ‘মাকামুর রাশাদ’ প্রসঙ্গে এলাম; তখন তিনি আমাকে জানালেন যে তাঁর কাছে এর একটি অনুলিপি (نسخة) রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ, পৃষ্ঠা ৫।

(২) আলহামদুলিল্লাহ, আমি এর সম্পাদনার কাজ এমনভাবে শেষ করেছি যার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে তা যেন নজিরবিহীন হয়। সকল অনুগ্রহ কেবল আল্লাহর। এরপর শ্রদ্ধেয় শাইখ মুহাম্মদ বিন হাসান আল-মুবারক-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা, আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দিন; তিনি আমার কাছে পাণ্ডুলিপিটি (النسخة الخطية) পাঠিয়েছিলেন। বইটি এখন চূড়ান্ত পাঠ-পরখ বা পর্যালোচনার (المقابلة) পর্যায়ে রয়েছে। আল্লাহর তাওফিকের জন্য তাঁর শুকরিয়া।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فَفَرِحتُ وَرَغِبتُ بِمُصَوَّرَتِها، فَأرسَلَهَا إِليَّ مَشكُوراً مَعْ تَحْقِيقِهِ لِكِتَابِ (مَحَجَّةُ القُرُبِ في فَضْلِ العَرَبِ) للعِرَاقِي رحمه الله، وحِينَ وَصَلَتْنِي سَارَعتُ بِمَقَابَلَتِها عَلى طَبْعَةِ الشَّيخِ الغُفَيْلِي - وَلَمْ تَكُن عَنْ أَصْلٍ خَطِّيٍّ كَذَلِك - فَوَجَدتُ الدَّاعِي لإعَادَةِ تَحْقِيقِها مُتَحَقِّقاً؛ فَعُدْتُ عَلى مَا بَدأتُه سَابِقاً حَتَّى أَنْهَيتُهَا، وهَاهِيَ بَيْنَ يَدَيْكَ، وَأَمَامَ نَاظِرَيكَ، وَالحمْدُ للهِ عَلى تَوْفِيْقِهِ أَوَّلاً وَآخِرَاً.

 

‌‌وأمَّا النُّسْخَةُ الخَطِّيَةُ المعْتَمَدَةُ (1) فهَاكَ وَصْفُها:

1- عِنْوَانُها كَمَا هُو مُدَوَّنٌ عَلى طُرَّتِها: ((مَقَامُ الرَّشَادِ بَيْنَ التَّقْلِيدِ وَالاجْتِهَادِ)) .

2 - المُؤلِّفُ: فَيْصَلَ بِنَ عَبدِ العَزِيزِ آل مُبَارَكِ رحمه الله.

3- اسْمُ النَّاسِخِ: بِخَطِّ المُؤلِّفِ.

4- تَأْرِيخُهَا: القَرْنُ الرَّابِعُ عَشَرِ الهِجْرِي.

5- عَدَدُ الأَوْرَاقِ: (13) وَرَقةً مَعْ وَرَقَةِ العِنْوانِ. وَفِي كُلِّ وَرَقَةٍ صَفْحَتَانِ، وَفِي كُلِّ صَفْحَةٍ (13) سَطْراً.

6- مَصْدَرُهَا: جَامِعَةُ الرِّيَاضِ (الملَِكِ سُعُودٍ حَالِيَّاً) ، وَرَقَمُهَا: (1156)

7- الخَطُّ: كُتِبَتْ بِخَطِّ الرُّقْعَةِ، وَتميَّزَتْ بِالتَّقْيِدَةِ؛ وَهِيَ كَلِمَةٌ تَوضَعُ فِي أَسْفَلِ الصَّفْحَةِ الأُولَى وَتَكُونُ هِي الأُوْلَى في نَصِّ الصَّفْحَةِ الثَّانِيَةِ؛ دِلَالَةً عَلى تَتَابُعِ الصَّفَحَات.

‌‌عَمَلُ المحَقِّقِ اشْتَمَلَ عَلى مَا يَلِي:

أ. ضَبْطِ النَّصِّ وشَكْلِهِ، وتَوْزِيعِ فَقراتِهِ، وتَقْسِيمِهِ عَلَى صَفحَاتِ المخطُوُطِ بِوَضْعِ أَرْقَامِ صَفحَاتِهِ بَيْنَ مَعْقُوفَتَيْن [/] .

ب. عَزْوِ الآيَاتِ القُرْآنِيَّةِ، وَجَعْلِهَا عَقِبَ الآيةِ في النَّصِّ المحقَّقِ.

--------------------------------------------

(1) اعتمدتُ في ضَبْطِ النَّصِ على المخطوطِ وَحْدَهُ؛ لأنها بخط المؤلِّف نفسه، ولَمْ أثُبتْ الفروقَ بين النُّسَخِ سواء ما كان من فُروقاتٍ أو تغيرٍ أو سقطٍ أو غيره؛ ولو فعلتً لطالتْ الرِّسالةُ وكَبُرَ حَجْمُها، وحُسنُ ذلك يكمن في ذلك. واللهُ أعلم.
আমি এতে আনন্দিত হলাম এবং এর একটি অনুলিপি (مصورة) পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। অতঃপর তিনি ইরাকি (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলিত 'মাহাজ্জাতুল কুরুবি ফি ফাদলিল আরাবি' গ্রন্থের তাহকিক (تحقيق) সহ এটি অনুগ্রহপূর্বক আমার নিকট পাঠালেন। যখন এটি আমার কাছে পৌঁছাল, আমি দ্রুত শায়খ আল-গুফাইলি-র সম্পাদিত সংস্করণের সাথে এর মুকাবালা বা পাঠ-তুলনা (مقাবلة) করলাম—আর সেটিও কোনো মূল পাণ্ডুলিপি (أصل خطي) থেকে প্রস্তুত করা হয়নি—ফলে আমি এর পুনরায় তাহকিক (تحقيق) করার যৌক্তিক কারণ খুঁজে পেলাম। সুতরাং আমি আমার পূর্বের শুরু করা কাজে ফিরে গেলাম এবং তা সম্পন্ন করলাম। এখন এটি আপনার সম্মুখে ও আপনার দৃষ্টির নাগালে বিদ্যমান। শুরুতে এবং শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, যিনি তাওফিক (توفيق) দান করেছেন।

 

‌‌আর নির্ভরযোগ্য (معتمدة) পাণ্ডুলিপিটির (النسخة الخطية) বর্ণনা নিম্নরূপ:

১- এর শিরোনাম, যেভাবে প্রচ্ছদে লিপিবদ্ধ রয়েছে: 'মাক্বামুর রাশাদি বাইনাত তাক্বলিদি ওয়াল ইজতিহাদ'।

২ - লেখক: ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ আল মুবারক (রহিমাহুল্লাহ)।

৩- প্রতিলিপিকারীর (ناسخ) নাম: লেখকের স্বহস্তে লিখিত।

৪- রচনার সময়কাল: হিজরি চতুর্দশ শতাব্দী।

৫- পত্র সংখ্যা: শিরোনামের পাতাসহ (১৩)টি পত্র (ورقة)। প্রতিটি পত্রে দুটি করে পৃষ্ঠা এবং প্রতি পৃষ্ঠায় (১৩)টি করে লাইন রয়েছে।

৬- এর উৎস: রিয়াদ বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমানে কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়), এর নম্বর: (১১৫৬)।

৭- লিপি: এটি রুকআ (الرقعة) লিপিতে লিখিত এবং এতে 'তাক্বাইদাহ্' (التقييدة) এর বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান; এটি এমন একটি শব্দ যা কোনো পৃষ্ঠার নিচে লেখা হয় এবং সেটিই পরবর্তী পৃষ্ঠার প্রথম শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যা পৃষ্ঠাগুলোর ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।

‌‌মুহাক্কিক (محقق)-এর কাজ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

ক. মূল পাঠের প্রমিতকরণ (ضبط النص) ও হরকত প্রদান, অনুচ্ছেদ বিন্যাস এবং পাণ্ডুলিপির (مخطوط) পৃষ্ঠা অনুযায়ী বণ্টন, যেখানে মূল পৃষ্ঠার নম্বরগুলোকে বন্ধনী [/] এর মধ্যে রাখা হয়েছে।

খ. কুরআনের আয়াতগুলোর উৎস নির্দেশ (عزو) এবং সম্পাদিত পাঠে আয়াতের ঠিক পরেই তা উল্লেখ করা।

--------------------------------------------

(১) আমি পাঠ্য-প্রমিতকরণের (ضبط النص) ক্ষেত্রে কেবল পাণ্ডুলিপির (مخطوط) ওপর নির্ভর করেছি; কারণ এটি খোদ লেখকের হস্তলিপি। আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার পার্থক্য (فروق), চাই তা কোনো পরিবর্তন হোক, বা স্খলন (سقط) অথবা অন্য কিছু—তা উল্লেখ করিনি। আমি যদি তা করতাম তবে এই রিসালাহ (رسالة) দীর্ঘ এবং এর কলেবর বৃদ্ধি পেত; আর এর সৌন্দর্য তো এর সংক্ষিপ্ততার মধ্যেই নিহিত। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ج. تَخْريجِ الأَحَادِيثِ النَّبَوِيَّةِ، والآثَارِ مِنْ مصَادِرِهَا الأَصِيْلَةِ؛ فمَا كَانَ في الصَّحِيْحَيْنِ أوْ أَحَدِهِمَا اكْتُفِيَ بِذلِكَ، ومَا عَدَاهُما تُوُسِّعَ فِيْهِ بَعْضَ الشَّيءِ، مُبَيَّنَاً حُكْمَ أَهْلِ الصِّنَاعةِ الحدِيثِيَّةِ عَلى الحدِيْثِ صِحْةً أو ضَعْفاً.

د. عَزْوِ النُّقولِ لأَصْحَابِهَا.

ومِنْ بَابِ قَولِ المصْطَفَى صلى الله عليه وسلم: ((لا يَشْكُرِ اللهَ مَنْ لا يَشْكُرِ النَّاسَ)) (1)

فَالشُّكُرُ لِشَيْخِي الكَرِيمِ القَاضِي المفْضَالِ مُحَمَّدٍ بِنِ سُلَيْمَانَ آل سُلَيْمَانَ؛ الَّذِي لازَمْتُهُ قُرَابَةِ السِّتِّ سَنَواتٍ أَنْهَلُ مِنْ مَعِيْنِ عِلْمِهِ وخُلُقِهِ وفَضْلِهِ، حَفِظَهُ اللهُ وأَمَدَّ فِي عُمُرِهِ، عَلى تَقْدِيمهِ لِلرِّسَالَةِ. وكَذَا الشَّكُرُ مَوْصُولٌ لِلشَّيخِ عَبدِ العَزِيزِ الزَّيرِ الَّذِي تَفَضَّلَ وتَكَرَّمَ عَليَّ بِإرْسَالِهِ النُّسْخَةَ الخَطِّيةَ؛ فَجَزَاهُ اللهُ خَيْرَاً.

وكَذا كُلِّ مَنْ أَعَانَنِي بِنُصْحٍ، أوْ فَائِدَةٍ، أوْ دِلَالَةً، أَسألُ اللهَ العَلِيَّ القَدِيرِ أَنْ يُثِيبَهُم خَيْراً كَثِيرَاً؛ فَهُو سُبْحَانَهُ خَيرَ مَسْؤُولٍ، وَالحمْدُ للهِ الَّذِي بِنِعْمَتِهِ تَتِمُّ الصَّالِحَاتِ.

 

***

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود: كتاب الأدب، باب في شكر المعروف، حديث (4811) ، والترمذي: كتاب البر والصلة عن رسول الله، باب ما جاء في الشكر لمن أحسن إليك، حديث (1954) وقال أبو عيسى: هذا حديثٌ حسنٌ صحيح. وأحمد في مسنده برقم (7879) قال الهيثمي في المجمع (8/180) : ((رواه كله أحمد والطبراني، ورجال أحمد ثقات)) وصححه الشيخ العلامة ناصر الدين الألباني رحمه الله في الأدب المفرد (83) برقم (218) .

قال المنذري رحمه الله: رُوِيَ هذا الحديث، برفع الله، وبرفع الناس، وروي أيضاً: بنصبهما، وبرفع الله، ونصب الناس، وعكسه، أربع روايات ((الترغيب والترهيب)) (2/46) ، وقال الحافظ الزين العراقي رحمه الله: ((والمعروف المشهور في الرواية بنصبهما)) ، فيض القدير للمناوي (6/225) ، والله أعلم.
গ. মূল উৎসসমূহ থেকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস এবং আসার (آثار) সমূহের উৎস অনুসন্ধান (تخريج) করা হয়েছে; এক্ষেত্রে যা সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা এই দুটির কোনো একটিতে রয়েছে, তার জন্য সেটুকুই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। আর এই দুটি গ্রন্থ ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থের ক্ষেত্রে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এবং হাদিসটি বিশুদ্ধতা (صحة) নাকি দুর্বলতা (ضعف)-এর পর্যায়ে, সেই বিষয়ে হাদিস শাস্ত্র বিশারদগণের সিদ্ধান্ত বর্ণনা করা হয়েছে।

ঘ. উদ্ধৃতিসমূহকে তাদের মূল প্রবক্তার দিকে নিসবত করা বা সম্বন্ধযুক্ত করা।

আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর প্রেক্ষিতে: ((যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা আদায় করে না)) (১)

তাই আমার সম্মানিত উস্তাদ, মহীয়ান বিচারক মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল সুলাইমান-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা; যার সান্নিধ্যে আমি প্রায় ছয় বছর অতিবাহিত করেছি এবং তার জ্ঞান, চরিত্র ও ফজিলতের ঝরনাধারা থেকে অবগাহন করেছি—আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন এবং দীর্ঘজীবী করুন—এই গবেষণাপত্রটির ভূমিকা লিখে দেওয়ার জন্য। একইভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই শায়খ আব্দুল আজিজ আল-জাইর-এর প্রতি, যিনি আমাকে পাণ্ডুলিপিটি পাঠিয়ে অনুগ্রহ ও সম্মান প্রদর্শন করেছেন; আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

সেই সাথে যারা আমাকে পরামর্শ, জ্ঞান বা দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করেছেন, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের অনেক কল্যাণ দান করেন; কেননা তিনি পবিত্র এবং সর্বোত্তম প্রার্থনাস্থল। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়।

 

***

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ: কিতাবুল আদব, অনুচ্ছেদ: উপকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, হাদিস (৪৮১১); এবং তিরমিজি: কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ, অনুচ্ছেদ: যে তোমার প্রতি ইহসান বা ভালো ব্যবহার করে তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ প্রসঙ্গে, হাদিস (১৯৫৪) এবং আবু ঈসা (ইমাম তিরমিজি) বলেন: এই হাদিসটি হাসান সহিহ (حسن صحيح)। এবং আহমদ তার মুসনাদ-এ বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৭৮৭৯)। হাইসামি তার মাজমাউয যাওয়াইদ (৮/১৮০) গ্রন্থে বলেন: ((এটি আহমদ ও তাবারানি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন এবং আহমদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)))। এবং আল্লামা শায়খ নাসিরুদ্দিন আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) আদাবুল মুফরাদ (৮৩), হাদিস নং (২১৮)-এ একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন।

মুনজিরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: এই হাদিসটি 'আল্লাহ' শব্দের রফ (পেশ) যোগে এবং 'মানুষ' শব্দের রফ (পেশ) যোগে বর্ণিত হয়েছে। আবার উভয় শব্দের নসব (জবর) যোগেও বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া 'আল্লাহ' শব্দের রফ এবং 'মানুষ' শব্দের নসব, এবং এর বিপরীতভাবেও বর্ণিত হয়েছে—এভাবে মোট চারটি বর্ণনা রয়েছে ((আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব)) (২/৪৬)। হাফেজ জাইনুল ইরাকি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: ((বর্ণনার ক্ষেত্রে উভয় শব্দের নসব (জবর) যুক্ত হওয়াটিই অধিক পরিচিত ও প্রসিদ্ধ)), ফাইদুল কাদির লিল মানাভি (৬/২২৫), আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
[2/]‌‌ هذه نُبذَةٌ في مَعْرفةِ أُصُولِ الفِقْهِ.

[والفِقْهُ] (1) هُوَ العِلْمُ بالأَحْكامِ الشَّرْعِيَّة (2) .

قالَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: ((مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ)) (3) .

وأُصُولُ الأَدلَّةِ: الكِتَابُ، والسُّنَّةُ، والإِجْمَاعُ، وشَرْعُ مَنْ قَبْلَنا شَرْعٌ لنَا إِذَا قَصَّه اللهُ عَلَيْنا ورَسُولُهُ ولَمْ يُنْسخْ؛ لِقَولِ اللهِ تَعَالى: {أُوْلَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ} [الأنعام: 90] (4)

وَسُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ السَّمْنِ وَالْجُبْنِ وَالْفِرَاءِ (5)

--------------------------------------------

(1) ما بين المعقوفتين زيادة يقتضيها السياق.

(2) هذا تعريفٌ مختصرٌ للفقه، والتعريف المشهور له هو: ((العلم بالأحكام الشرعية العملية من أدلتها التفصيلية)) ومصطلح (الفِقْه) يختلف بين المتقدمين والمتأخرين. وانظر في بيان ذلك بياناً لطيفاً في تاريخ الفقه الإسلامي لشيخنا العلامة أ. د. عمر الأشقر حفظه الله (11: 17) والمدخل الفقهي العام للعلامة مصطفى الزرقا رحمه الله (1/65) ومعجم أصول الفقه. خالد رمضان حسن (213) .

(3) أخرجه البخاري: كتاب العلم، باب من يرد الله به خيراً يفقهه في الدين، حديث (71) وغيره. ومسلم: الزكاة، باب النهي عن المسألة، حديث (2389) وغيره، من حديث معاوية رضي الله عنه.

(4) يضاف للأصول الثلاثة الأولى القياس؛ لتكون أصول الأدلة الأساسية، وأما الفرعية؛ فهي: الاستحسان، والمصالح المرسلة، وسدِّ الذرائع، والعُرْف، وقول الصحابي، وشرع من قبلنا، والاستصحاب. انظر: المستصفى للغزالي (1/189) ، والمدخل الفقهي العام للعلامة مصطفى الزرقا رحمه الله (1/73) وتيسير الوصول إلى قواعد الأصول للفوزان (1/102) وما بعدها، ومعالم في أصول الفقه عند أهل السنة والجماعة للجيزاني (68) .

(5) الفِرَاء: حمار الوحش. انظر: المعجم الوسيط (678) مادة (الفَرَأُ) وَتحفة الأحوذي (5/324) .
[2/]‌‌এটি ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه) সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ।

[আর ফিকহ] (১) হলো শরয়ী বিধানাবলি (الأحكام الشرعية) সংক্রান্ত জ্ঞান (২)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন" (৩)।

আর দলিলের মূল উৎসসমূহ (أصول الأدلة): কিতাব, সুন্নাহ, ঐকমত্য (الإجماع), এবং আমাদের পূর্ববর্তীদের শরিয়ত যা আমাদের জন্য শরিয়ত হিসেবে গণ্য হবে যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের নিকট তা বর্ণনা করেছেন এবং তা রহিত হয়ে যায়নি; আল্লাহ তাআলার বাণীর কারণে: "তারাই সেই লোক যাদেরকে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন, সুতরাং আপনি তাদের পথ অনুসরণ করুন" [আল-আনআম: ৯০] (৪)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘি, পনির এবং বন্য গাধা (৫) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) বন্ধনীভুক্ত অংশটি প্রসঙ্গের প্রয়োজনে সংযোজিত অতিরিক্ত অংশ।

(২) এটি ফিকহের একটি সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা। এর সুপরিচিত সংজ্ঞা হলো: "বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ হতে শরয়ী আমলি বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান"। আর 'ফিকহ' (الفقه) পরিভাষাটি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের নিকট ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ বিষয়ে চমৎকার আলোচনার জন্য দেখুন: আমাদের শাইখ আল্লামা ড. উমর আল-আশকার হাফিজাহুল্লাহ রচিত তারীখুল ফিকহ আল-ইসলামী (১১: ১৭), আল্লামা মুস্তফা আয-যারকা রাহিমাহুল্লাহ রচিত আল-মাদখালুল ফিকহী আল-আম (১/৬৫) এবং খালিদ রমাদান হাসান রচিত মুজামু উসুলিল ফিকহ (২১৩)।

(৩) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন: ইলম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন, হাদিস (৭১) ও অন্যান্য। এবং মুসলিম: জাকাত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: চাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা, হাদিস (২৩৮৯) ও অন্যান্য, মুআবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিস থেকে।

(৪) প্রথম তিনটি মূল উৎসের সাথে সাদৃশ্যবিধান বা কিয়াস (القياس)-কে যুক্ত করা হয়; যাতে এগুলো দলিলের মৌলিক উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। আর শাখা উৎসগুলো হলো: ইসতিহসান (الاستحسان), জনকল্যাণ (المصالح المرسلة), অনিষ্টের পথ রুদ্ধ করা (سد الذرائع), প্রথা (العرف), সাহাবীর উক্তি, পূর্ববর্তীদের শরিয়ত এবং পূর্বাবস্থা বজায় রাখা (الاستصحاب)। দেখুন: গাজালীর আল-মুস্তাসফা (১/১৮৯), আল্লামা মুস্তফা আয-যারকা রাহিমাহুল্লাহ রচিত আল-মাদখালুল ফিকহী আল-আম (১/৭৩), ফাউজানের তাইসিরুল উসুল ইলা কাওয়াইদিল উসুল (১/১০২) ও পরবর্তী অংশ এবং জিজানীর মাআলিম ফি উসুলিল ফিকহ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (৬৮)।

(五) আল-ফিরাউ: বন্য গাধা। দেখুন: আল-মুজামুল ওয়াসিত (৬৭৮), শব্দমূল (আল-ফারাউ) এবং তুহফাতুল আহওয়াযী (৫/৩২৪)।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
؛ فَقَالَ: ((الْحَلَالُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ وَالْحَرَامُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فِي كِتَابِهِ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ مِمَّا عَفَا عَنْهُ)) (1)

والسُّنَّةُ: مَا وَرَدَ عَنْ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ قَولٍ أَوْ فِعْلٍ أَوْ تَقْرِيرٍ (2) .

قالَ إِمَامُ الحَرَمَيْن: ((والأَحْكامُ سَبعةٌ: الوَاجبُ، والمنْدُوبُ، والمُبَاحُ، والمَحْظُورُ، والمكرُوهُ، والصَّحيحُ، والفَاسِدُ)) (3)

قَالَ: والتَّقليدُ: قَبولُ [/3] قَوْلِ القَائِلِ بِلا حُجَّةٍ.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي: كتاب اللباس، باب ما جاء في لبس الفراء، ح (1726) ، وابن ماجه: كتاب الأطعمة، باب أكل السمن والجبن، حديث (3367) ، والحاكم في مستدركه (4/ حديث 7115) = =والبيهقي في سننه الكبرى (9/320) ، و (10/12) . وحسَّنَهُ الشيخ الألباني رحمه الله في صحيح سنن الترمذي (2/1726/267) ، وصحيح سنن ابن ماجه (3/3430/141) والله أعلم.

(2) تعريف السنة يقابل تعريف الحديث، وبعض أهل الحديث يُفرِّق بينها من حيث العموم والخصوص، والتعريف هنا خاص بالأصوليين؛ إذ يقتصرون في تعريفهم على ما يكون محلاً للتشريع بخلاف أهل الحديث؛ فهم يبحثون كل ما أضيف للنبي صلى الله عليه وسلم ويضيفون الصفات الخَلْقية والخُلُقية. انظر: معالم في أصول الفقه عند أهل السنة والجماعة للجيزاني (118) ، ومنهج النقد في علوم الحديث للدكتور نور الدين عتر نفع الله به (26: 30) .

(3) متن الورقات (497) من الجامع للمتون العلمية للشمراني، وفيه (الباطل) بدل الفاسد.

لطيفة: كثير من النسخ الخطية والمطبوعة فيها (الفاسد) بدل (الباطل) وأيَّاً كان؛ فإن جمهور الأصوليين لم يفرِّقوا بين الباطل والفاسد، سواء كان ذلك في العبادات أو في المعاملات، وأما الحنفيّة ففرَّقوا بينهما في المعاملات، وأما في العبادات فوافقوا الجمهور في عدم التفريق بين الباطل والفاسد. انظر: شرح الورقات للمحلي (86) و (94) تحقيق د. حسام الدين عفانه، وشرح الورقات للفوزان (48) ، والمدخل إلى مذهب الإمام أبي حنيفة رحمه الله لشيخنا الدكتور أحمد سعيد حوى (153) . ومعجم أصول الفقه (212) ، وفي ذلك يقول صاحب مراقي السعود رحمه الله:

والصحة القبول فيه يدخل … وبعضهم للاستواء ينقل

وخصص الإجزاء بالمطلوب … وقيل بل يختص بالمكتوب

وقابل الصحة بالبطلان … وهو الفساد عند أهل الشان

وخالف النعمان فالفساد … ما نهيه للوصف يستفاد

ج

 

نثر الورود للعلامة الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله (1/64، 65) .
؛ তিনি বলেছেন: ((হালাল হলো তা-ই যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে হালাল করেছেন এবং হারাম হলো তা-ই যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে হারাম করেছেন; আর যে বিষয়ে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন, তা ক্ষমার (عفو) অন্তর্ভুক্ত)) (১)

আর সুন্নাহ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কথা, কাজ অথবা মৌনসম্মতি (تقرير) (২)।

ইমামুল হারামাইন বলেছেন: ((বিধান সাতটি: ওয়াজিব (واجب), মানদুব (مندوب), মুবাহ (مباح), নিষিদ্ধ (محظور), মাকরুহ (مكروه), সহিহ (صحيح) এবং ফাসিদ (فاسد))) (৩)

তিনি বলেছেন: আর তাকলিদ (تقليد) হলো: কোনো প্রমাণ (حجة) ছাড়াই বক্তার কথা গ্রহণ করা।

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন: পোশাক অধ্যায়, পশমের পোশাক পরিধান বিষয়ক অনুচ্ছেদ, হাদিস (১৭২৬); এবং ইবনে মাজাহ: খাদ্য অধ্যায়, মাখন ও পনির ভক্ষণ বিষয়ক অনুচ্ছেদ, হাদিস (৩৩৬৭); এবং হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে (৪/ হাদিস ৭১১৫); এবং বাইহাকি তাঁর সুনানুল কুবরা গ্রন্থে (৯/৩২০) ও (১০/১২)। শায়খ আলবানি (রহিমাহুল্লাহ) এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন সহিহ সুনান তিরমিজি (২/১৭২৬/২৬৭) এবং সহিহ সুনান ইবনে মাজাহ (৩/৩৪৩০/১৪১)-তে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(২) সুন্নাহর সংজ্ঞা হাদিসের সংজ্ঞার অনুরূপ, তবে কিছু হাদিস বিশারদ (أهل الحديث) ব্যাপকতা ও বিশেষত্বের বিচারে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করে থাকেন। এখানে প্রদত্ত সংজ্ঞাটি উসুলবিদদের (أصوليين) পরিভাষা অনুযায়ী; কেননা তাঁরা তাঁদের সংজ্ঞায় কেবল সেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেন যা শরয়ি বিধানের উৎস হতে পারে। পক্ষান্তরে হাদিস বিশারদগণ (أهل الحديث) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন এবং তারা তাঁর শারীরিক গঠন ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেন। দেখুন: আল-জিজানি রচিত ‘মাআলিম ফি উসুলিল ফিকহ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ’ (১১৮) এবং ড. নুরুদ্দিন আতর রচিত ‘মানহাজুন নাকদ ফি উলুমিল হাদিস’ (২৬: ৩০), আল্লাহ তাঁর দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন।

(৩) শামরানির সংকলিত ‘আল-জামি লিল মুতুন আল-ইলমিয়্যাহ’ থেকে ‘মাতনুল ওরাকাত’ (৪৯৭); সেখানে ‘ফাসিদ’ (فاسد) এর পরিবর্তে ‘বাতিল’ (باطل) শব্দ রয়েছে।

একটি সূক্ষ্ম বিষয়: অনেক পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপির পাঠে ‘বাতিল’ (باطل) এর পরিবর্তে ‘ফাসিদ’ (فاسد) রয়েছে। তবে বিষয়টি যাই হোক; অধিকাংশ উসুলবিদ (أصوليين) ‘বাতিল’ (باطل) ও ‘ফাসিদ’ (فاسদ) এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি, চাই তা ইবাদত সংক্রান্ত হোক কিংবা লেনদেন (معاملات) সংক্রান্ত। তবে হানাফিগণ লেনদেনের ক্ষেত্রে এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করেছেন। কিন্তু ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁরা জুমহুর বা সংখ্যাগুরু আলেমদের সাথে একমত পোষণ করেছেন যে, বাতিল ও ফাসিদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। দেখুন: ড. হুসামুদ্দিন আফানা সম্পাদিত মাহাল্লির ‘শারহুল ওরাকাত’ (৮৬) ও (৯৪), ফাউজানের ‘শারহুল ওরাকাত’ (৪৮) এবং আমাদের শায়খ ড. আহমদ সাঈদ হাওয়া রচিত ‘আল-মাদখাল ইলা মাজহাবি ইমাম আবি হানিফা’ (১৫৩)। আরও দেখুন ‘মুজামু উসুলিল ফিকহ’ (২১২)। এ প্রসঙ্গে ‘মারাকিস সুউদ’-এর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

সহিহ (صحيح) হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা শামিল থাকে ... এবং কেউ কেউ একে সমতা বা ভারসাম্যের অর্থে বর্ণনা করেন।

পর্যাপ্ত হওয়া বা ইজজাকে (إجزاء) কেবল কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের সাথে খাস করা হয়েছে ... আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি কেবল ফরজ বা নির্ধারিত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।

তিনি সহিহ (صحيح) এর বিপরীতে বাতিলকে (بطلان) রেখেছেন ... আর এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট এটিই ফাসিদ (فساد)।

তবে নুমান (ইমাম আবু হানিফা) এর দ্বিমত পোষণ করেছেন; তাঁর নিকট ফাসিদ (فساد) হলো ... যা কেবল কোনো অতিরিক্ত গুণের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া থেকে সাব্যস্ত হয়।

জ

 

আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতির (রহিমাহুল্লাহ) ‘নাশরিউল উরুদ’ (১/৬৪, ৬৫)।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
والاجْتِهادُ: بَذْلُ الوُسْعِ في بُلُوغِ الغَرَضِ (1) .

وَقالَ مَالكٌ: ((يَجِبُ على العَوَامِ تَقْليدُ المُجْتَهدِين في الأَحْكامِ، كَمَا يَجِبُ على المُجْتَهدِين الاجْتِهادُ في أَعْيَانِ الأَدِلَّةِ)) (2) .

قَالَ شَيخُ الإِسلامِ ابنُ تَيمِيَّة: ((النَّبِيهُ الَّذِي سَمِعَ اخْتَلافَ العُلَمَاءِ وأَدِلَّتَهُم؛ في الجُمْلةِ عِنْدَهُ مَا يَعْرِفُ بِهِ رُجْحَانَ القَوْلِ)) (3) .

قَالَ: ((وأَكثرُ مَنْ يُميِّزُ في العِلْمِ من المتّوسِّطِينَ إذَا نَظَرَ وتَأَمَّلَ أَدِلَّةَ الفَرِيقَيْنِ بقَصْدٍ حَسَنٍ، ونَظَرٍ تَامٍ، تَرَجَّحَ عِنْدَهُ أَحَدُهما، لكِنْ قَدْ لا يَثِقُ بِنَظَرِهِ، بَلْ يَحْتَمِلُ أَنَّ عِنْدَهُ مَا لا يَعْرِفُ جَوَابَهُ، والوَاجِبُ عَلى مِثْلِ هَذَا مُوافَقَتهُ القَوْلَ الَّذِي تَرَجَّحَ عِنْدهُ بِلا دَعْوَى مِنْهُ لِلاجْتِهَادِ)) (4) . انْتَهَى.

وقَالَ الشَّافِعيُّ في الرِّسَالةِ: ((فَكلُّ مَا أَنَزْلَ اللهُ في كِتَابِهِ جَلَّ ثَنَاؤُهُ رَحمةٌ وحُجَّةٌ [4/] ، عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ، وجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ. وَالنَّاسُ طَبَقاتٌ في العِلْمِ مَوقِعُهُم مِنْ العِلْمِ بِقَدْرِ دَرَجَاتِهِمْ فِيْهِ؛ فَحَقٌّ عَلى طَلَبَةِ العِلْمِ بُلُوغُ غَايَةِ جَهْدَهِمْ في الاسْتِكْثَارِ مِنْ عِلْمِهِ، والصَّبرُ عَلى كُلِّ عَارِضٍ دُونَ طَلَبِهِ، واخْلاصُ النِّيَّةِ للهِ في اسْتِدْرَاكِ عِلْمِهِ نَصَّاً واستِنْبَاطَاً، وَالرَّغبَةُ إلى اللهِ في العَوْنِ عَلَيْهِ؛ فَإِنَّهً لا يُدْرَكُ خَيرٌ إلَّا بِعَوْنِهِ.فَإنّ مَنْ أَدْرَكَ عِلْمَ أَحْكَامِ اللهِ مِنْ كِتَابِهِ نَصَّاً واسْتِدْلالاً، وَوَفَّقَهُ اللهُ لِلقَوْلِ والعَمَلِ بِمَا عَلِمَ مِنْهُ، فَازَ بِالفَضِيلَةِ في دِيْنِهِ ودُنْياهُ؛ فَنَسْأَلُ اللهَ أَنْ يَرْزُقَنَا فَهْمَاً في كِتَابِهِ ثُمَّ سُنَّةِ نَبِيِّه ِ صلى الله عليه وسلم (5)) ) .

--------------------------------------------

(1) الورقات (508) باختصار. وانظر: معجم أصول الفقه (91) و (21) ومعالم في أصول الفقه عند أهل السنة والجماعة للجيزاني (463) و (489) فهو نفيس، والتقليد للدكتور سعد الشثري (16) ففيه مناقشة لتعريف التقليد نفيسة.

(2) لم أجد من ذكره على طول بحث.

(3) الاختيارات مع الفتاوى الكبرى لشيخ الإسلام (5/555) .

(4) الاختيارات مع الفتاوى الكبرى (5/556) .

(5) الرسالة (34) . …
এবং ইজতিহাদ (الاجتهاد) হলো: উদ্দেশ্য হাসিলে সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় করা (১)।

ইমাম মালেক বলেছেন: "সাধারণ মানুষের (العوام) জন্য বিধানাবলির (الأحكام) ক্ষেত্রে মুজতাহিদদের (المجتهدين) তাকলিদ (تقليد) করা ওয়াজিব, যেমনটি মুজতাহিদদের (المجتهدين) ওপর নির্দিষ্ট দলিলসমূহের (الأدلة) ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (الاجتهاد) করা ওয়াজিব" (২)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "সেই বুদ্ধিমান ব্যক্তি যিনি আলেমদের মতভেদ এবং তাদের দলিলসমূহ (الأدلة) শুনেছেন; সামগ্রিকভাবে তার কাছে এমন কিছু থাকে যার মাধ্যমে তিনি মতের প্রাধান্যতা (الرجحان) বুঝতে পারেন" (৩)।

তিনি বলেছেন: "জ্ঞান অন্বেষণকারীদের মধ্যে যারা মাঝারি স্তরের এবং ভালো বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, তাদের অধিকাংশ যখন সৎ উদ্দেশ্যে এবং পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে উভয় পক্ষের দলিলসমূহ (الأدلة) পর্যালোচনা ও চিন্তা-ভাবনা করেন, তখন তাদের নিকট একটি মত প্রাধান্য পায় (ترجح)। তবে তারা হয়তো নিজেদের পর্যালোচনার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারেন না, বরং মনে হতে পারে যে সেখানে এমন কিছু থাকতে পারে যার উত্তর তাদের জানা নেই। এমন ব্যক্তির ওপর কর্তব্য হলো ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর দাবি না করে তার নিকট যে মতটি প্রাধান্য পেয়েছে সেটির অনুসরণ করা" (৪)। সমাপ্ত।

এবং ইমাম শাফিঈ আর-রিসালাহ গ্রন্থে বলেছেন: "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন তা রহমত এবং অকাট্য প্রমাণ (حجة), যে জানার সে তা জেনেছে এবং যে জানে না সে তা জানে না। জ্ঞানের ক্ষেত্রে মানুষ বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত এবং জ্ঞানে তাদের অবস্থান তাদের মর্যাদার স্তর অনুযায়ী। সুতরাং জ্ঞান অন্বেষণকারীদের কর্তব্য হলো জ্ঞানের প্রাচুর্য অর্জনে তাদের প্রচেষ্টার সর্বোচ্চ ব্যয় করা, জ্ঞান অর্জনের পথে আসা সকল প্রতিকূলতার ওপর ধৈর্য ধারণ করা এবং সুস্পষ্ট পাঠ (نصاً) ও উদ্ঘাটন (استنباطاً) উভয় পদ্ধতিতে আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান অর্জনে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিয়তকে বিশুদ্ধ করা এবং এই কাজে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা; কারণ তাঁর সাহায্য ব্যতীত কোনো কল্যাণ লাভ করা সম্ভব নয়। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে তাঁর বিধানাবলির (الأحكام) জ্ঞান সুস্পষ্ট পাঠ (نصاً) ও যুক্তি-প্রমাণ (استدلالاً) উভয় মাধ্যমে অর্জন করল এবং আল্লাহ তাকে সেই অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী কথা বলা ও আমল করার তাওফিক দান করলেন, সে তার দ্বীন ও দুনিয়াতে শ্রেষ্ঠত্ব লাভে সফল হলো। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর সঠিক বুঝ দান করেন" (৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়ারাকাত (৫০৮) সংক্ষেপে। দেখুন: মুজাম উসুল আল-ফিকা (৯১) ও (২১) এবং আল-জিজানি রচিত মাআলিম ফি উসুল আল-ফিকা ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (৪৬৩) ও (৪৮৯) এটি অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থ, এবং ডক্টর সাদ আল-শাথরি রচিত আত-তাকলিদ (১৬) এতে তাকলিদ-এর সংজ্ঞা নিয়ে চমৎকার আলোচনা রয়েছে।

(২) দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরেও আমি এর কোনো সূত্র খুঁজে পাইনি।

(৩) শায়খুল ইসলামের আল-ফাতাওয়া আল-কুবরার সাথে আল-ইখতিয়ারাত (৫/৫৫৫)।

(৪) আল-ইখতিয়ারাত মাআল ফাতাওয়া আল-কুবরা (৫/৫৫৬)।

(৫) আর-রিসালাহ (৩৪)। …
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
قَالَ: ((وَإِنَّمَا خَاطبَ اللهُ بِكِتَابِهِ العَرَبَ بِلِسَانِهَا عَلى مَا تَعْرِفُ مِنْ مَعَانِيْهَا)) (1) .

وَقَالَ أَيْضَاً: ((القِيَاسُ [/5] أَنْ يُحَرِّمَ اللهُ في كِتَابِهِ، أَوْ يُحَرِّمَ رَسُولُهُ القَلِيلَ مِنْ الشَّيءِ؛ فيُعْلَمُ أَنَّ قَلِيلَهُ إِذَا حُرِّمَ كَانَ كَثيرُهُ مِثلَ قَلِيلِهِ في التَّحْرِيم أَوْ أَكثرَ، وكَذَلِك إذا حُمِدَ على يَسيرٍ مِنْ الطاعَةِ كانَ مَا هُوَ أكثرُ مِنْها أَوْلَى أَنْ يُحْمَدَ عَليهِ، وَكذَلِك إِذَا أَبَاحَ كثيرَ شَيءٍ كانَ الأَقَلُّ مِنْهُ أَوْلَى أَنْ يَكونَ مُبَاحَاً)) (2) .

وقال أيضاً: ((القِيَاسُ مَنْزِلَةُ ضَرُورةٍ؛ لأنَّهُ لا يَحِلُّ القِياسُ والخَبرُ مَوجودٌ، كَما يكونَ التَّيَمُّمُ طَهارةً في السَّفَرِ عِنْدَ الإِعْوَازِ مِنْ الماءِ.)) (3) . انْتَهَى مُلَخَّصَاً.

وَقَدْ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِمُعَاذٍ بِنِ جَبَلٍ حِيْنَ بَعَثَهُ إِلى اليَمَنِ: ((بِمَ تَقْضِي؟ فَقَالَ أَقْضِي بِكِتَابِ اللَّهِ. قَالَ: فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي كِتَابِ اللَّهِ؟ قَالَ: أَقْضِي َبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ.

قَالَ: فَإِنْ لَمْ تَجِدْ؟ قَالَ: أَجْتَهِدُ رَأْيِي؛ فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي رَسُولَ اللَّهِ)) (4) .

--------------------------------------------

(1) الرسالة (51) .

(2) الرسالة (513) .

(3) الرسالة (599) بتلخيصٍ وتصرفٍ لما سبق من المؤلف رحمه الله كما ذكر. وانظر: إعلام الموقعين (4/43) .

(4) أخرجه: أبو داود. في كتاب القضاء، باب اجتهاد الرأي في القضاء، حديث (3592) ، والترمذي: في كتاب الأحكام، باب ما جاء في القاضي كيف يقضي، حديث (1327) ، وأحمد في مسند (36/ حديث 22007 و 22100 و 22061، طبعة الرسالة) ، والدارمي في مسنده (1/267 / رقم 170) تحقيق الأسد، وأبو داود الطيالسي في مسنده رقم (559) طبعة المعرفة، وفي المنحة (1/286/رقم 1452) ، والبيهقي في السنن الكبرى (10/114) ، وابن أبي شيبة في مصنفه، (4/544/22979) ، وابن عبد البر في جامعه (2/ رقم 1592، 1593) ، والعُقَيْلي في الضعفاء في ترجمة الحارث بن عمرو (1/234/ رقم 263) طبعة السلفي، والدارقطني في العلل (6/88/ رقم 1001) ، وغيرهم.

من طرق عن شعبة عن أبي العون محمد بن عبيد الله الثقفي عن الحارث بن عمرو - أخي المغيرة بن شعبة - عن معاذ، وتارة عن أصحاب معاذ عن معاذ، واخرى عن أناس من أصحاب معاذ من أهل حمص عن معاذ قال ابن أبي حاتم في الجرح والتعديل (3/82) : ((الحارث بن عمرو؛ روى عن أصحاب معاذ، روى عنه أبو عون الثقفي سمعت أبي يقول ذلك)) .=

=وقال الذهبي في الميزان (2/175) : ((عن رجال عن معاذ بحديث الاجتهاد، قال البخاري لا يصح … حديثه)) . وانظر: التاريخ الصغير للبخاري (1/304) ؛ فمدار الحديث على الحارث بن عمرو:

قال الحافظ: ((مجهول)) ، وقال البخاري: ((لا يصح حديثه)) وقال الذهبي: ((تفرد به أبو عون محمد بن عبيد الله الثقفي، عن الحارث بن عمرو الثقفي ابن أخي المغيرة، وما روى عن الحارث غير أبي عون، فهو مجهول)) . وانظر: التهذيب (1/474) طبعة المعرفة.

وقال الترمذي: ((هذا حديث لا نعرفه إلا من هذا الوجه، وليس إسناده عندي بمتصل)) . وانظر تحفة الأحوذي (3/449) .

وقال ابن الجوزي في العلل (2/758) : ((لا يصح وإن كان الفقهاء كلهم يذكرونه في كتبهم ويعتمدون عليه وإن كان معناه صحيحاً)) .

وقال الجوزقاني في الأباطيل والمناكير (1/243 رقم 101) طبعة الفريوائي: ((هذا حديث باطل)) .

وقال ابن الملقن في خلاصة البدر المنير (2/424) تحقيق السلفي: ((رواه أبو داود والترمذي بإسناد ضعيف، وقال البخاري: مرسل، وقال ابن حزم: لا يصح، وقال عبد الحق: لا يسند ولا يوجد من وجه صحيح.)) باختصار.

وقال العلامة المحدث الراحل الشيخ ناصر الدين الألباني رحمه الله في الضعيفة (2/273) ((منكر)) وذكر كلاماً لابن حزم رحمه الله فقال: ((هذا حديث ساقط، لم يروه أحد من هذا الطريق، وأول سقوطه أنه عن قوم مجهولين لم يُسموا، فلا حجة فيمن لا يعرف من هو؟ وفيه الحارث بن عمرو، وهو مجهول لا يعرف من هو؟ ولم يأت هذا الحديث من غير طريقه)) وقال في موضع آخر بعد أن نقل قول البخاري فيه: ((لا يصح)) ثم قال: ((وهذا حديث باطل لا أصل له)) أ. هـ.

وقال الحافظ رحمه الله في التلخيص الحبير (4/182) فيما نقله عن محمد بن طاهر المقدسي (ت … 507هـ) : ((اعلم أنني فحصت عن هذا الحديث في المسانيد الكبار والصغار، وسألت عنه من لقيته من أهل العلم بالنقل؛ فلم أجد له غير طريقين؛ إحداهما طريق شعبة؛ والأخرى عن محمد بن جابر، عن أشعث بن أبي الشعثاء، عن رجل من ثقيف، عن معاذ؛ وكلاهما لا يصح)) . أ. هـ.

ولقد صنَّف جمع من أهل العلم في بيان درجة هذا الحديث، انظر: التعريف بما أفرد من الأحاديث بالتصنيف للشيخ يوسف العتيق أثابه الله.

وجوَّد إسناده الحافظُ ابن كثير رحمه الله في تفسيره (1/113) ، فقال: ((وهذا الحديث في المسانيد والسنن بإسناد جيد كما هو مقرَّر في موضعه)) .

= ومن رام مزيد بيان وتوضيح وردٍّ على من صحَّح الحديث أو حسَّنه يُرجع إلى ما سطرته يراعُ العلاّمَة المحدِّث الشيخ ناصر الدين الألباني رحمه الله في السلسلة الضعيفة (2/273/ رقم 881) والله أعلم.
তিনি বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর কিতাবের মাধ্যমে আরবদেরকে তাদের নিজেদের ভাষায় সম্বোধন করেছেন, যা তারা তাদের অর্থ ও ব্যবহারের রীতি অনুযায়ী জানত)) (১)।

তিনি আরও বলেছেন: ((সাদৃশ্যমূলক অনুমান (القياس) [/৫] হলো—আল্লাহ তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল কোনো বস্তুর সামান্য পরিমাণ হারাম করেছেন; ফলে এটি জানা যায় যে, তার সামান্য অংশ যদি হারাম হয়, তবে তার অধিক পরিমাণ হারামের ক্ষেত্রে ঐ সামান্যের মতোই হবে অথবা তার চেয়েও বেশি প্রযোজ্য হবে। একইভাবে যদি সামান্য আনুগত্যের জন্য প্রশংসা করা হয়, তবে তার চেয়ে বেশি আনুগত্যের ক্ষেত্রে প্রশংসা পাওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। তদ্রূপ, যদি কোনো জিনিসের অধিক পরিমাণ বৈধ করা হয়, তবে তার কম পরিমাণ বৈধ হওয়া আরও বেশি সমীচীন)) (২)।

তিনি আরও বলেছেন: ((সাদৃশ্যমূলক অনুমান (القياس) হলো অপরিহার্য অবস্থার বিধান; কারণ বর্ণনা বা টেক্সট বিদ্যমান থাকতে সাদৃশ্যমূলক অনুমান (القياس) করা বৈধ নয়, ঠিক যেমন পানির অভাবে সফরে তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা হয়।)) (৩)। সংক্ষেপে সমাপ্ত।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুয়াজ ইবনে জাবালকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন তখন তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: ((তুমি কিসের মাধ্যমে বিচার করবে? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব। তিনি বললেন: যদি তুমি আল্লাহর কিতাবে তা না পাও? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ অনুযায়ী ফয়সালা করব।

তিনি বললেন: যদি তাতেও না পাও? তিনি বললেন: আমি আমার বুদ্ধি খাটিয়ে গবেষণা (اجتهاد) করব; তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতিনিধিকে এমন বিষয়ের তাওফিক দিয়েছেন যাতে আল্লাহর রাসূল সন্তুষ্ট)) (৪)।

--------------------------------------------

(১) আর-রিসালাহ (৫১)।

(২) আর-রিসালাহ (৫১৩)।

(৩) আর-রিসালাহ (৫৯৯), লেখকের পূর্ববর্তী বক্তব্যের সংক্ষিপ্ত ও পরিমার্জিত রূপ, যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন। দেখুন: ইলামুল মুয়াক্কিঈন (৪/৪৩)।

(৪) এটি বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, কিতাবুল কাদা, অনুচ্ছেদ: বিচারকার্যে বুদ্ধি খাটিয়ে গবেষণা করা (اجتهاد الرأي), হাদিস (৩৫৯২); তিরমিজি: কিতাবুল আহকাম, অনুচ্ছেদ: কাজি যেভাবে ফয়সালা করবেন, হাদিস (১৩২৭); আহমদ তাঁর মুসনাদ-এ (৩৬/ হাদিস ২২০০৭, ২২১০০ এবং ২২০৬১, আর-রিসালাহ সংস্করণ); দারিমি তাঁর মুসনাদ-এ (১/২৬৭/ নম্বর ১৭০) আসাদ-এর তাহকিক; আবু দাউদ তায়ালিসি তাঁর মুসনাদ-এ নম্বর (৫৫৯) আল-মা'রিফা সংস্করণ এবং আল-মিনহাহ-তে (১/২৮৬/ নম্বর ১৪৫২); বায়হাকি আস-সুনান আল-কুবরা-তে (১০/১১৪); ইবনে আবি শায়বা তাঁর মুসান্নাফ-এ (৪/৫৪৪/২২৯৭৯); ইবনে আব্দুল বার তাঁর জামি-তে (২/ নম্বর ১৫৯২, ১৫৯৩); উকাইলি আদ-দুয়াফা-তে হারিস ইবনে আমরের জীবনীতে (১/২৩৪/ নম্বর ২৬৩) সালাফি সংস্করণ; দারাকুতনি আল-ইলাল-এ (৬/৮৮/ নম্বর ১০০১) এবং আরও অনেকে।

শুবা থেকে বিভিন্ন সূত্রে, তিনি আবু আউন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আস-সাকাফি থেকে, তিনি মুগিরা ইবনে শুবার ভাই হারিস ইবনে আমর থেকে, তিনি মুয়াজ থেকে; কখনো মুয়াজের ছাত্রদের থেকে, আবার কখনো হিমসবাসীদের মধ্য থেকে মুয়াজের একদল ছাত্র থেকে বর্ণিত। ইবনে আবি হাতিম আল-জারহ ওয়াত তাদিল (৩/৮২) গ্রন্থে বলেছেন: ((হারিস ইবনে আমর; মুয়াজের ছাত্রদের থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তার থেকে আবু আউন আস-সাকাফি বর্ণনা করেছেন; আমি আমার পিতাকে এ কথা বলতে শুনেছি))।=

=জাহাবি আল-মিজান (২/১৭৫) গ্রন্থে বলেছেন: ((কয়েকজন লোকের মাধ্যমে মুয়াজের ইজতিহাদ সংক্রান্ত হাদিসটি বর্ণিত। ইমাম বুখারি বলেছেন: তার হাদিসটি সঠিক (لا يصح) নয়...))। দেখুন: বুখারির আত-তারিখ আস-সাগির (১/৩০৪); সুতরাং এই হাদিসের মূল কেন্দ্র হলো হারিস ইবনে আমর:

হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: ((অপরিচিত (مجهول))); বুখারি বলেছেন: ((তার হাদিস সঠিক (لا يصح) নয়)); জাহাবি বলেছেন: ((আবু আউন মুহাম্মদ ইবনে উবাইদুল্লাহ আস-সাকাফি এককভাবে এটি হারিস ইবনে আমর আস-সাকাফি—যিনি মুগিরার ভ্রাতুষ্পুত্র—তার থেকে বর্ণনা করেছেন; আবু আউন ছাড়া হারিস থেকে আর কেউ বর্ণনা করেননি, তাই তিনি অপরিচিত (مجهول)))। দেখুন: আত-তাহজিব (১/৪৭৪) আল-মা'রিফা সংস্করণ।

তিরমিজি বলেছেন: ((এটি এমন একটি হাদিস যা আমরা কেবল এই সূত্রেই চিনি, আর আমার নিকট এর সনদটি সংযুক্ত (متصل) নয়))। দেখুন তুহফাতুল আহওয়াজি (৩/৪৪৯)।

ইবনুল জাওজি আল-ইলাল (২/৭৫৮) গ্রন্থে বলেছেন: ((এটি সঠিক (لا يصح) নয়, যদিও ফকিহগণ সবাই এটি তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করেন এবং এর ওপর নির্ভর করেন এবং এর অর্থ সঠিক (صحيح) হলেও))।

জাওজাকানি আল-আবাতিল ওয়াল মানাকির (১/২৪৩ নম্বর ১০১) গ্রন্থে বলেছেন: ((এই হাদিসটি বাতিল (باطل)))।

ইবনুল মুলাক্কিন খুলাসাতুল বাদরুল মুনির (২/৪২৪) গ্রন্থে বলেছেন: ((আবু দাউদ ও তিরমিজি এটি দুর্বল (ضعيف) সনদে বর্ণনা করেছেন। বুখারি বলেছেন: এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل)। ইবনে হাজম বলেছেন: এটি সঠিক (لا يصح) নয়। আব্দুল হক বলেছেন: এটি মুসনাদ (مسند) হিসেবে বর্ণিত হয়নি এবং কোনো সহিহ (صحيح) সূত্রে এটি পাওয়া যায় না।)) সংক্ষেপে।

আল্লামা মুহাদ্দিস শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানি আদ-দাইফাহ (২/২৭৩) গ্রন্থে একে আপত্তিকর (منكر) বলেছেন এবং ইবনে হাজম-এর কথা উল্লেখ করে বলেছেন: ((এটি একটি পরিত্যাক্ত হাদিস, যা এই সূত্র ছাড়া আর কেউ বর্ণনা করেনি। এর প্রথম ত্রুটি হলো এটি একদল অপরিচিত লোকের মাধ্যমে বর্ণিত যাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। যার পরিচয় জানা নেই তার কথা দলিল হিসেবে গণ্য হয় না। এতে হারিস ইবনে আমর রয়েছে, যিনি অপরিচিত (مجهول) এবং তার পরিচয় জানা নেই। এই হাদিসটি কেবল তার মাধ্যমেই এসেছে।)) তিনি অন্য জায়গায় বুখারির উক্তি ((সঠিক নয় (لا يصح))) উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: ((এটি একটি বাতিল (باطل) হাদিস যার কোনো ভিত্তি নেই।)) সমাপ্ত।

হাফিজ (ইবনে হাজার) আত-তালখিস আল-হাবির (৪/১৮২) গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৫০৭ হিজরি) থেকে উদ্ধৃত করেছেন: ((জেনে রাখুন, আমি বড় ও ছোট মুসনাদ গ্রন্থগুলোতে এই হাদিসটি তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি এবং রেওয়ায়েত বিশেষজ্ঞ যে সকল আলেমদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে তাদের এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। আমি এর দুটি সূত্র ছাড়া আর কিছু পাইনি; একটি হলো শুবা-র সূত্র, অন্যটি মুহাম্মদ ইবনে জাবের—আশআস ইবনে আবুশ শা'সা—সাকাফি গোত্রের এক ব্যক্তি—মুয়াজ থেকে বর্ণিত। এই দুটির কোনটিই সঠিক (لا يصح) নয়।)) সমাপ্ত।

একদল আলেম এই হাদিসের মান বর্ণনায় পৃথক কিতাব রচনা করেছেন। দেখুন: শেখ ইউসুফ আল-আতিক এর 'আত-তারিফ বিমা উফরিদা মিনাল আহাদিসি বিত তাসনিফ'।

হাফিজ ইবনে কাসির তাঁর তাফসির (১/১১৩) গ্রন্থে এর সনদকে উন্নত মানের বলেছেন: ((এই হাদিসটি মুসনাদ ও সুনান গ্রন্থগুলোতে উত্তম (جيد) সনদে রয়েছে, যেমনটি এর যথাস্থানে প্রতিষ্ঠিত।))

= যে ব্যক্তি এই হাদিসকে যারা সহিহ (صحيح) বা হাসান (حسن) বলেছেন তাদের উত্তর ও বিস্তারিত বর্ণনা পেতে চান, তিনি আল্লামা মুহাদ্দিস শেখ নাসিরুদ্দিন আলবানি-র আস-সিলসিলা আদ-দাইফাহ (২/২৭৩/ নম্বর ৮৮১) গ্রন্থে যা লিখেছেন তার দিকে ফিরে যেতে পারেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقالَ عُمرَ بنَ الخطَّابِ في كِتَابِهِ إِلى أَبِي مُوسَى: ((ثُمَّ الْفَهْمَ الْفَهْمَ فِيمَا أُدْلِيَ إِليْكَ مِمَّا وَرَدَ عَلَيْكَ مِمَّا لَيْسَ فِي قُرْآنٍ وَلا سُنَّة، ثُمَّ قَايِسِ الأُمُورَ عِنْدَ ذَلِكَ، وَاعْرِفِ الأَمْثَالَ، ثُمَّ َاعْمَدْ فِيْمَا تَرَى إِلَى أَحَبِّهَا إِلَى اللَّهِ وَأَشْبَهِهَا بِالْحَقِّ)) (1) .

وَقَالَ الشَّافِعيُّ: ((أَجْمَعَ الْمُسْلِمُونَ عَلَى أَنَّ مَنْ اسْتَبَانَتْ لَهُ سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَكُنْ لَهُ أَنْ يَدَعَهَا لِقَوْلِ أَحَدٍ)) (2) .

قَالَ في الوَرَقَاتِ:

((وَالفِقْهُ أَخَصُّ مِنْ العِلْمِ. والعِلْمُ: مَعْرفةُ المعْلُومِ عَلى مَا هُوَ بِهِ في الوَاقِعِ.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الدارقطني في سننه (5/367/ رقم 4471 الرسالة) ، والبيهقي في الكبرى (10/150) ، والمعرفة (7/366) وعبد الرزاق في مصنفه (8/300 رقم 15290) ، ووكيع في أخبار القضاة (1/70) ، وخرَّجه الزيلعي في نصب الراية (4/63) ، وضعَّفه ابن حزم رحمه الله في الإحكام (2/1002) ووصفه في المحلَّى (1/59) بأنه مكذوب موضوع على عمر! ففنّد ذلك العلامة أحمد شاكر رحمه الله في تحقيقه وانتهى إلى ثبوته بعد أن جمع طرقه وأسانيده. (أفدته من بحث شيخنا العلامة أ. د. عمر الأشقر حفظه الله من كتابه (نظرات في أصول الفقه (117) حاشية) ، وكذا الشيخ الألباني رحمه الله في الإرواء (8/241/ رقم 2619) وقال ((صحيح)) . فانظره إنْ رُمْتَ فائدةً.

وانظر مزيداً: تحقيق صحة هذا الكتاب في مجلة الشريعة العدد (4) من جامعة الإمام محمد بن سعود بالرياض (1402هـ) للشيخ عبد الفتاح أبو غدة رحمه الله بعنوان: ((تحقيق ثبوت كتاب عمر إلى أبي موسى الأشعري في شأن القضاء، وفيه العمل بالقياس)) صـ (299) ، وبحثاً للشيخ سعود الدريب في مجلة البحوث الإسلامية العدد (7) صـ (269) ، وكذا تحقيق رسالة عمر بن الخطاب إلى أبي موسى الشعري رضي الله عنهما للدكتور ناصر بن عقيل الطريقي في العدد (17) صـ (195) حيث أثبت صحتها وردَّ الشُّبَه عنها.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله في منهاج السنة (6/71) : ((ورسالة عمر المشهورة في القضاء إلى أبي موسى الأشعري تداولها الفقهاء وبنوا عليها واعتمدوا على ما فيها من الفقه وأصول الفقه)) . وانظر إعلام الموقعين (2/158) ، وشرحها (2/163) ، وذكر الحافظ ابن حجر رحمه الله في الفتح (13/264) : ((فيما أنشد ابن عبد البر لأبي محمد اليزيدي النحوي من أبيات طويلة في إثبات القياس:

وكتاب الفاروق يرحمه الله … إلى الأشعري في تبيان

 

قس إذا أشكلت عليك الأمور … ثم قل بالصواب والعرفان)) .

 

(2) إعلام الموقعين (2/11) .
উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু আবু মুসা আল-আশআরী রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রে বলেছেন: "অতঃপর তোমার নিকট যা পেশ করা হয়, সেগুলোর মধ্য থেকে যা কুরআন বা সুন্নাহতে নেই তা অনুধাবন করার চেষ্টা করো, গভীরভাবে অনুধাবন করো। এরপর অনুরূপ বিষয়গুলোর সাথে সেগুলোকে তুলনা করো এবং দৃষ্টান্তসমূহ চিহ্নিত করো। অতঃপর তোমার নিকট আল্লাহর কাছে যা অধিক প্রিয় এবং সত্যের যা অধিক নিকটবর্তী বলে মনে হয় তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো।" (১) .

ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "মুসলমানগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ স্পষ্ট হয়ে গেছে, তার জন্য অন্য কারোর কথার কারণে সেই সুন্নাহ পরিত্যাগ করা বৈধ নয়।" (২) .

আল-ওয়ারাকাত গ্রন্থে বলা হয়েছে:

"আর ফিকহ হলো ইলমের চেয়ে অধিক বিশেষায়িত। আর ইলম হলো: কোনো কিছুকে বাস্তবে তা যেভাবে আছে সেই অনুযায়ী জানা।

--------------------------------------------

(১) দারাকুতনি তাঁর সুনান গ্রন্থে (৫/৩৬৭/ নং ৪৪৭১ রিসালাহ প্রকাশনী), বায়হাকি আল-কুবরা গ্রন্থে (১০/১৫০), আল-মা'রিফাহ গ্রন্থে (৭/৩৬৬), আব্দুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে (৮/৩০০ নং ১৫২৯০), এবং ওয়াকি' আখবারুল কুদাত গ্রন্থে (১/৭০) এটি বর্ণনা করেছেন। যাইলায়ি এটি নাসবুর রাইয়াহ গ্রন্থে (৪/৬৩) সংকলন করেছেন। ইবনে হাযম রহমাতুল্লাহি আলাইহি একে আল-ইহকাম গ্রন্থে (২/১০০২) দুর্বল (ضعيف) বলে অভিহিত করেছেন এবং আল-মুহাল্লা গ্রন্থে (১/৫৯) একে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নামে মিথ্যারোপকৃত ও জাল (موضوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন! অতঃপর আল্লামা আহমদ শাকের রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর তাহকিকে তা খণ্ডন করেছেন এবং এর সকল সূত্র ও সনদ একত্রিত করে এটি প্রমাণিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। (আমি এই তথ্যটি আমাদের শায়খ আল্লামা অধ্যাপক ড. উমর আশকার হাফিজাহুল্লাহ-এর কিতাব 'নাজারাত ফিল উসুলিল ফিকহ' (পৃ. ১১৭ হাশিয়া) থেকে গ্রহণ করেছি)। একইভাবে শায়খ আলবানি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইরওয়াউল গালীল গ্রন্থে (৮/২৪১/ নং ২৬১৯) একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। সুতরাং আপনি অধিক উপকারিতা চাইলে তা দেখে নিতে পারেন।

আরও দেখুন: রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত মাজাল্লাতুশ শারিয়াহ-এর ৪ নম্বর সংখ্যায় (১৪০২ হিজরি) শায়খ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক এই পত্রটির বিশুদ্ধতা যাচাই সংক্রান্ত প্রবন্ধ, যার শিরোনাম: 'বিচারকার্যের বিষয়ে আবু মুসা আল-আশআরীর নিকট উমরের চিঠির বিশুদ্ধতা প্রমাণ এবং এতে কিয়াসের প্রয়োগ' (পৃ. ২৯৯)। এবং মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ-এর ৭ নম্বর সংখ্যায় (পৃ. ২৬৯) শায়খ সউদ আদ-দ্বরীব-এর একটি গবেষণা নিবন্ধ। একইভাবে ড. নাসের বিন আকিল আত-তরীকি ১৭ নম্বর সংখ্যায় (পৃ. ১৯৫) আবু মুসা আল-আশআরী রাযিয়াল্লাহু আনহুমা-এর নিকট উমর ইবনুল খাত্তাবের পত্রের তাহকিক করেছেন, যেখানে তিনি এর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করেছেন এবং এর ওপর আরোপিত সংশয়সমূহ খণ্ডন করেছেন।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি মিনহাজুস সুন্নাহ গ্রন্থে (৬/৭১) বলেছেন: "বিচারকার্যের বিষয়ে আবু মুসা আল-আশআরীর নিকট উমরের প্রসিদ্ধ পত্রটি ফকিহগণ একে অপরের থেকে গ্রহণ করেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে তারা ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ-এর বিভিন্ন মাসআলা সাব্যস্ত করেছেন।" দেখুন ইলামুল মুয়াক্কিইন (২/১৫৮) এবং এর ব্যাখ্যা (২/১৬৩)। হাফেজ ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি আল-ফাতহ গ্রন্থে (১৩/২৬৪) উল্লেখ করেছেন: "ইবনে আব্দুল বার আবু মুহাম্মদ আল-ইয়াজিদি আন-নাহভির দীর্ঘ কবিতার পংক্তিমালায় কিয়াস সাব্যস্ত করার বিষয়ে যা আবৃত্তি করেছেন:

আর ফারুক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সেই পত্র... যা আশআরীর নিকট বিষদ বর্ণনায় রয়েছে

 

যখন তোমার নিকট বিষয়সমূহ অস্পষ্ট হয় তখন কিয়াস করো... অতঃপর সঠিক কথা ও প্রজ্ঞাসহকারে বলো।"

 

(২) ইলামুল মুয়াক্কিইন (২/১১)।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
والجَهْلُ: تَصوُّرُ الشَّيءِ عَلى خِلافِ مَا هُوَ بِهِ في الوَاقِعِ.

والعِلْمُ الضَّرُوريُّ: مَا لا يَقَعُ عَنْ [/7] نَظَرٍ واسْتِدْلَالٍ؛ كَالعِلْمِ الوَاقعِ بِإِحْدَى الحوَاسِّ الخَمْسِ.

وأمَّا العِلمُ المُكْتَسبُ؛ فَهُوَ: الموقُوفُ عَلى النَّظرِ والاسْتِدْلَالِ.

والنَّظرُ: هُوَ الفِكْرُ في حَالِ المنْظُورِ فِيْهِ.

والاسْتِدْلَالُ: هُوَ طَلبُ الدَّليلِ. والدَّليلُ: هُوَ المُرْشِدُ إِلى المطْلُوبِ.

والظَّنُّ: تَجْويزُ أَمْرَين أحدُهُما أظهرُ من الآخر.

والشَّكُّ: تَجْويزُ أَمْرَين لا مَزيَّةَ لأحدِهِما عن الآخَر)) (1) .

انْتَهَى.

قَالَ الخَطَّابِيُّ: ((ورَأَيْتُ أَهْلَ العِلْمِ في زَمَانِنَا قَدْ حَصَلُوا حِزْبَيْنِ، وانَقْسَمُوا إِلى فِرْقَتَيْنِ: أَصْحَابُ حَدِيثٍ وأَثَرٍ، وَأَهْلُ فِقْهٍ وَنَظَرٍ.

وَكُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا لا تَتَمَيَّزُ عَنْ أُخْتِهَا في الحَاجَةِ، ولا تَسْتَغنِي عَنْهَا في دَرَكِ مَا تَنْحُوهُ مِنْ البُغْيَةِ والإِرَادَةِ؛ لأَنَّ الحدِيثَ بِمَنْزِلَةِ الأَسَاسِ الَّذِي هُوَ الأَصْلُ، [8/] وَالفِقْهُ بِمَنْزِلَةِ البِنَاءِ الَّذِي هُوَ لَهُ كَالفَرْعِ.

وَكُلُّ بِنَاءٍ لَمْ يُوضَعْ عَلى قَاعِدةٍ وأَسَاسٍ؛ فَهُوَ مُنْهَارٌ، وَكُلُّ أَسَاسٍ خَلا عَنْ بِنَاءٍ وعِمَارَةٍ؛ فَهُوَ قَفْرٌ وخَرَابٌ.

قَالَ: وَوَجدْتُ هَذَيْنِ الفَرِيقَيْنِ عَلى مَا بَيْنَهُمُ مِنْ التَّدَانِي؛ إِخْوَانَاً مُتَهَاجِرِينَ؛ فأَمَّا هَذِهِ الطَّبَقةُ - الَّذِين هُمْ أَصْحَابُ الأَثَرِ والحَدِيثِ - فَإِنَّ الأَكْثَرِينَ مِنْهُم إِنَّما وَكْدُهُمُ (2) الرِّوَايَاتِ، وَجَمْعُ الطُّرُقِ، وَطَلَبُ الغَرِيبِ والشَّاذِّ مِنْ الحَدِيثِ الَّذِي أَكْثرهُ مَوْضُوعٌ أَوْ مَقْلُوبٌ لا يُرَاعُونَ المُتُونَ، ولا يَتَفَهَّمُونَ المَعَانِي، ولا يَسْتَنْبِطُونَ سِيَرَهَا، ولا يَسْتَخْرِجُونَ

--------------------------------------------

(1) الورقات صـ (498) .

(2) (وَكْدُهم) قال ابن فارس في معجمه: ((وَكَدَ)) الواو والكاف والدال: كلمةٌ تدل على شَدٍّ وإحكام، وقال: وَكَدَ وَكْدَه: إذا أمَّه وعُنِيَ به " أ. هـ فيكون المعنى أي: أن عملهم ووَكْدهم أي؛ قصدهم الروايات في مظانها واستخراجها وجمعها. وانظر لسان العرب (6/482) مادة: (وكد) .
অজ্ঞতা (الجهل) হলো কোনো বস্তুকে বাস্তবে সেটি যেভাবে আছে তার বিপরীতে কল্পনা করা।

এবং আবশ্যিক জ্ঞান (العلم الضروري) হলো তা, যা কোনো প্রকার পর্যবেক্ষণ (نظر) ও প্রমাণানুসন্ধান (استدلال) ছাড়াই অর্জিত হয়; যেমন পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কোনো একটির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান।

আর অর্জিত জ্ঞান (العلم المكتسب) হলো তা, যা পর্যবেক্ষণ (النظر) ও প্রমাণানুসন্ধানের (الاستدلال) ওপর নির্ভরশীল।

আর পর্যবেক্ষণ (النظر) হলো পর্যালোচিত বিষয়ের অবস্থা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা।

আর প্রমাণানুসন্ধান (الاستدلال) হলো কোনো প্রমাণের (الدليل) অন্বেষণ করা। এবং প্রমাণ (الدليل) হলো তা, যা কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করে।

আর প্রবল ধারণা (الظن) হলো দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা রাখা যার একটি অপরটির চেয়ে অধিক প্রকাশ্য।

আর সংশয় (الشك) হলো দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা রাখা যেখানে একটির ওপর অপরটির কোনো অগ্রাধিকার নেই। (১)।

সমাপ্ত।

খাত্তাবি বলেন: "আমি আমাদের সময়ের জ্ঞানীদের দুটি দলে বিভক্ত হতে দেখেছি এবং তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন: একদল হাদিস ও আছারের (الأثر) অনুসারী, আর অন্যদল ফিকহ ও পর্যালোচনার (النظَر) অনুসারী।

এ দুই দলের কেউই প্রয়োজনের দিক থেকে অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয় এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে কেউই অপরটি থেকে অমুখাপেক্ষী নয়। কেননা হাদিস হলো ভিত্তির মতো যা মূল (الأصل), আর ফিকহ হলো দালানের মতো যা তার শাখা (الفرع) স্বরূপ।

আর যে কোনো ইমারত যদি কোনো ভিত্তি বা বনিয়াদের (قاعدة وأساس) ওপর স্থাপিত না হয়, তবে তা ধসে পড়ার উপক্রম; আর যে ভিত্তি ইমারত ও নির্মাণশৈলী বর্জিত, তা জনমানবহীন ধ্বংসস্তূপের মতো।

তিনি বলেন: আমি এই দুই দলকে পরস্পরের নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও বিবাদমান ভাইদের মতো দেখতে পেয়েছি। এই যে একদল—যারা আছার ও হাদিসের অনুসারী—তাদের অধিকাংশেরই মূল প্রচেষ্টা (وَكْدُهم) হলো বর্ণনা (الروايات) সংগ্রহ করা, বিভিন্ন সূত্র (الطرق) জমা করা এবং হাদিসের মধ্য থেকে বিরল (الغريب) ও শায (الشاذ) হাদিসের অন্বেষণ করা, যার অধিকাংশই জাল (موضوع) অথবা ওলটপালট করা (مقلوب)। তারা হাদিসের মূল পাঠের (المتون) প্রতি লক্ষ্য রাখে না, এর অর্থ অনুধাবন করে না এবং এর অন্তর্নিহিত বিধিবিধান উদ্ঘাটন করে না...

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়ারাকাত, পৃষ্ঠা: ৪৯৮।

(২) (وَكْدُهم) ইবনে ফারিস তার অভিধানে বলেছেন: "ওয়াও, কাফ ও দাল (وكد): এই শব্দমূলটি কোনো কিছু সুদৃঢ় ও মজবুত করা বোঝায়।" তিনি আরও বলেছেন: "সে তার লক্ষ্যে (وَكَدَ وَكْدَه) অবিচল রয়েছে: অর্থাৎ যখন সে কোনো কিছুর সংকল্প করে এবং সে বিষয়ে যত্নবান হয়।" অতএব অর্থটি হলো: তাদের কর্ম ও প্রচেষ্টা; অর্থাৎ বর্ণনাসমূহ সংশ্লিষ্ট উৎস হতে অনুসন্ধান করা, তা উদ্ঘাটন করা এবং সংগ্রহ করা। দেখুন: লিসানুল আরব (৬/৪৮২), শব্দমূল: (وكد)।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
رِكَازَهَا وَفِقْهَهَا، وَرُبَّمَا عَابُوا الفُقَهَاءَ وتَنَاوَلُوُهُمْ بِالطَّعْنِ، وادَّعُوْا عَلَيْهِمُ مُخَالَفةَ السُّنَنِ، ولايَعْلَمُونَ أَنَّهُمُ عَنْ مَبْلَغِ مَا أُوْتُوهُ مِنْ العِلْمِ قَاصِرُونَ، وبِسُوءِ القَوْلِ فِيْهِمُ آثِمُونَ.

[/9] وأَمَّا الطَّبَقةُ الاخْرَى - وَهُمْ أَهْلُ الفِقْهِ والنَّظَرِ - فِإِنَّ أَكْثَرَهُمُ لا يُعَرِّجُونَ مِنْ الحَدِيثِ إَلَّا عَلى أَقلِّهِ، ولا يَكادُونَ يُمَيِّزُونَ صَحِيْحَهُ مِنْ سَقِيْمِهِ، وَلا يَعْرِفُونَ جَيِّدَهُ مِنْ رَدِيْئِهِ، ولا يَعْبَؤُونَ بِمَا بَلَغَهُمُ مِنْهُ أَنْ يَحْتَجُّوا بِهِ عَلى خُصُومِهمُ إِذَا وَافَقَ مَذَاهِبَهُم الَّتِي يِنْتَحِلُونَهَا، ووَافَقَ آرَاءَهُمُ الَّتِي يَعْتَقِدُونَها، وقَدْ اصْطَلَحُوا عَلى مَوَاضِعةٍ بَيْنَهُمُ في قَبُولِ الخَبَرِ الضَّعِيْفِ، والحَدِيثِ المُنْقَطِعِ، إِذَا كانَ ذَلِك قَدْ اشْتُهِرَ عِنْدَهُم.

إِلى أَنْ قَالَ: وَلكِنَّ أَقْوَامَاً عَسَاهُم اسْتَوْعَرُوا طَرِيقَ الحَقِّ، واسْتَطَالُوا المدَّةَ في دَرَكِ الحَظِّ، وأَحَبُّوا عُجَالَةَ النَّيْلِ؛ فاخْتَصَرُوا طَرِيقَ العِلْمِ، واقْتَصَرُوا على نُتَفٍ وحُرُوفٍ مُنْتَزَعَةٍ مِنْ مَعَانِي أُصُولِ الفِقْهِ سَمَّوْهَا [10/] عِلَلا، وجَعَلُوهَا شِعَاراً لِأَنْفُسِهِم في التَّرَسُّمِ بِرَسْمِ العِلْمِ، واتَّخَذُوهَا جُنَّةً عِنْدَ لِقَاءِ خُصُومِهِمُ، ونَصَبُوهَا دَرِيْئَةً للخَوْضِ والجِدَالِ، يَتَناظَرُونَ بِهَا، ويَتَلاطَمُونَ عَلَيْهَا، وعِنْدَ التَّصَادُرِ عَنْهَا قَدْ حُكِمَ لِلغَالِبِ بالحَذْقِ والتَّبْرِيزِ؛ فَهُوَ الفَقِيْهُ المذْكُورُ في عَصْرِهِ، والرَّئِيسُ المعَظَّمُ في بَلَدِهِ ومَصْرِهِ.

هَذا وقَدْ دَسَّ لَهُمُ الشَّيطَانُ حِيْلةً لَطِيفًَة، وبَلَغَ مِنْهُمْ مَكِيدَةً بَلِيغَةً؛ فَقَالَ لَهُمْ:

هَذَا الَّذِي في أَيْدِيِكُمُ عِلْمٌ قَصِيرٌ، وبِضَاعَةٌ مُزْجَاةٌ لا يَفِي بِمَبْلَغِ الحَاجَةِ والكِفَايِةِ؛ فَاسْتَعِينُوا عَلَيْهِ بِالكَلامِ، وَصِلُوُه بِمَقْطَعَاتٍ مِنْهُ، واسْتَظْهِرُوا بِأُصُولِ المتَكَلِّمِينَ، يِتَّسِعُ لَكُمُ مَذْهبُ الخَوضِ ومَجَالُ النَّظَرِ؛ فَصَدَّقَ عَلَيْهُمُ ظَنَّهُ، وأَطَاعَهُ كَثِيرٌ مِنْهُمُ واتَّبَعُوهُ [/11] إِلَّا فَرِيقَاً مِنْ المؤْمِنِيْنَ.

فَيَا لِلرِّجَالِ والعُقُولِ! أَنَّى يُذْهَبُ بِهِمُ! وأَنَّى يَخْتَدِعَهُمُ الشَّيْطَانُ عَنْ حَظِّهِمْ وَمَوْضِعِ رُشْدِهِمْ، وَاللهُ المُسْتَعَان)) (1) انْتَهَى.

 

واعْلَمْ أَنَّ بَعْضَ الكَلامِ في هَذا الفَنِّ تَعَبٌ عَاجِلٌ في تَحْصِيلِ حَاصِلٍ.

وَالمقْصُودُ؛ العَمَلُ بِكِتَابِ اللهِ، وَسُنَّةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، واتِّبَاعِ الحَقِّ والعَدْلِ.

--------------------------------------------

(1) معالم السنن للخطابي رحمه الله (1/4: 6) بتصرف.
...এর সারমর্ম ও গভীর উপলব্ধি; অনেক সময় তারা ফকিহদের নিন্দা করে এবং তাদের ওপর বিদ্রূপের বাণ হানে। তারা তাদের বিরুদ্ধে সুন্নাহ পরিপন্থী কাজের অভিযোগ তোলে, অথচ তারা জানে না যে তারা যা লাভ করেছে সেই জ্ঞানের তুলনায় তারা আসলে অপরিপক্ক। তাদের ব্যাপারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তারা কেবল পাপই অর্জন করছে।

[/৯] পক্ষান্তরে দ্বিতীয় স্তর—যারা ফিকহ ও বিচার-বিশ্লেষণের অধিকারী—তাদের অধিকাংশ হাদিসের অতি সামান্য অংশের প্রতিও ভ্রুক্ষেপ করে না। তারা হাদিসের বিশুদ্ধ (صحيح) ও অসুস্থ (سقيم) অংশের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, তারা এর উত্তম (جيد) ও নিকৃষ্ট (رديء) অংশ সম্পর্কে জানে না। তারা তাদের নিকট যা পৌঁছেছে তার পরোয়া করে না, কেবল যখন তা তাদের অনুসৃত মাযহাবের অনুকূলে যায় এবং তাদের বিশ্বাসকৃত মতামতের সাথে মিলে যায়, তখন তারা বিরোধীদের বিরুদ্ধে তা দিয়ে দলিল পেশ করে। তারা তাদের মাঝে দুর্বল সংবাদ (الخبر الضعيف) এবং বিচ্ছিন্ন হাদিস (الحديث المنقطع) গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি রীতির ওপর একমত হয়েছে, যখন তা তাদের নিকট প্রসিদ্ধ হয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন: কিন্তু কিছু গোষ্ঠী সম্ভবত সত্যের পথকে দুর্গম মনে করেছে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের সময়কে দীর্ঘ মনে করেছে, আর তারা দ্রুত কিছু প্রাপ্তি পছন্দ করেছে; ফলে তারা জ্ঞানের পথকে সংক্ষিপ্ত করে ফেলেছে। তারা উসুলে ফিকহের মূল অর্থের মধ্য হতে ছিঁড়ে আনা সামান্য কিছু অংশ ও শব্দের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছে এবং সেগুলোকে [১০/] ত্রুটিসমূহ (عللا) হিসেবে নাম দিয়েছে। তারা এগুলোকে জ্ঞান চর্চার ভেক ধরার প্রতীক বানিয়ে নিয়েছে এবং বিরোধীদের সাথে মোকাবেলার সময় ঢাল হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা এগুলোকে বিতর্ক ও কলহের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে স্থির করেছে, যা দিয়ে তারা পরস্পর বিতর্ক করে এবং একে অপরকে আক্রমণ করে। আর যখন সেখান থেকে তারা প্রস্থান করে, তখন বিজয়ীকে অত্যন্ত পারদর্শী ও শ্রেষ্ঠ হিসেবে রায় দেওয়া হয়; তবেই সে তার যুগের আলোচিত ফকিহ এবং তার শহর ও নগরের সম্মানিত নেতা হিসেবে গণ্য হয়।

এমতাবস্থায় শয়তান তাদের মাঝে একটি সূক্ষ্ম কৌশল ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং তাদের ওপর এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র সফল করেছে। সে তাদের বলেছে:

তোমাদের হাতে যা আছে তা অতি সামান্য জ্ঞান এবং তুচ্ছ পুঁজি যা প্রয়োজন ও পর্যাপ্ততার চাহিদা মেটাতে সক্ষম নয়। সুতরাং তোমরা এর ওপর ইলমুল কালামের সাহায্য নাও এবং এর সাথে তার বিচ্ছিন্ন অংশগুলো জুড়ে দাও। আর মুতাকাল্লিমদের মূলনীতির মাধ্যমে নিজেদের শক্তিশালী করো, তবেই তোমাদের জন্য বিতর্কের পথ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্র প্রশস্ত হবে। শয়তান তাদের ওপর তার কুধারণাকে সত্য প্রমাণ করেছে এবং তাদের অনেকেই তার আনুগত্য করেছে ও তাকে অনুসরণ করেছে [/১১] কেবল মুমিনদের একটি দল ব্যতীত।

হায় মানুষের দল ও তাদের বিচারবুদ্ধি! তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে! শয়তান কীভাবে তাদের প্রকৃত সৌভাগ্য ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে প্রতারিত করছে! আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি)) (১) সমাপ্ত।

 

জেনে রাখুন যে, এই শাস্ত্রের কিছু আলোচনা হলো অর্জিত বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করার এক তাৎক্ষণিক পরিশ্রম মাত্র।

আর মূল লক্ষ্য হলো: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা এবং সত্য ও ন্যায়ের অনুসরণ করা।

--------------------------------------------

(১) খাত্তাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বিরচিত মাআলিমুস সুনান (১/৪-৬), কিছুটা পরিবর্তিত।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} [سورة النساء: 59] .

قَالَ ابْنُ القَيِّمِ: ((فَأَمَرَ تَعَالَى بِطَاعَتِهِ وَطَاعَةِ رَسُولِهِ، وَأَعَادَ الْفِعْلَ إعْلَامًا بِأَنَّ طَاعَةَ الرَّسُولِ تَجِبُ اسْتِقْلَالًا مِنْ غَيْرِ عَرْضِ مَا أَمَرَ بِهِ عَلَى الكِتَابِ، بَلْ إذَا أَمَرَ وَجَبَتْ [12/] طَاعَتُهُ مُطْلَقًا، سَوَاءٌ كَانَ مَا أَمَرَ بِهِ فِي الْكِتَابِ أَوْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ؛ فَإِنَّهُ أُوتِيَ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، وَلَمْ يَأْمُرْ بِطَاعَةِ أُولِي الْأَمْرِ اسْتِقْلَالًا، بَلْ حَذَفَ الْفِعْلَ وَجَعَلَ طَاعَتَهُمْ فِي ضِمْنِ طَاعَةِ الرَّسُولِ؛ إيذَانًا بِأَنَّهُمْ إنَّمَا يُطَاعُونَ تَبَعًا لِطَاعَةِ الرَّسُولِ؛ فَمَنْ أَمَرَ مِنْهُمْ بِطَاعَةِ الرَّسُولِ وَجَبَتْ طَاعَتُهُ، وَمَنْ أَمَرَ بِخِلَافِ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ؛ فَلَا سَمْعَ لَهُ وَلَا طَاعَةَ.

ثُمَّ أَمَرَ تَعَالَى بِرَدِّ مَا تَنَازَعَ فِيهِ الْمُؤْمِنُونَ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ إنْ كَانُوا مُؤْمِنِينَ، وَأَخْبَرَهُمْ أَنَّ ذَلِكَ خَيْرٌ لَهُمْ فِي الْعَاجِلِ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا فِي الْعَاقِبَةِ، وَقَدْ تَضَمَّنَ هَذَا أُمُورًا:

مِنْهَا: أَنَّ أَهْلَ الْإِيمَانِ قَدْ يَتَنَازَعُونَ فِي بَعْضِ الْأَحْكَامِ وَلَا يَخْرُجُونَ بِذَلِكَ عَنْ الْإِيمَانِ، إذَا رَدُّوا مَا تَنَازَعُوا فِيهِ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ.

ثُمَّ أَخْبَرَ سُبْحَانَهُ أَنَّ مَنْ تَحَاكَمَ أَوْ حَاكَمَ إلَى غَيْرِ مَا جَاءَ بِهِ الرَّسُولُ فَقَدْ حَكَّمَ الطَّاغُوتَ وَتَحَاكَمَ إلَيْهِ.

[/13] وَالطَّاغُوتُ: كُلُّ مَا تَجَاوَزَ بِهِ الْعَبْدُ حَدَّهُ مِنْ مَعْبُودٍ أَوْ مَتْبُوعٍ أَوْ مُطَاعٍ.

ثُمَّ أَقْسَمَ سُبْحَانَهُ بِنَفْسِهِ عَلَى نَفْيِ الْإِيمَانِ عَنْ الْعِبَادِ حَتَّى يُحَكِّمُوا رَسُولَهُ فِي كُلِّ مَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ، وَيَنْقَادُوا)) (1) انْتَهَى مُلَخَّصَاًَ.

وعن عبد الرحمن بن زيد عن ابن مسعود، قال: ((أَكْثَرُوا عَلَيْهِ ذَاتَ يَوْمٍ؛ فَقَالَ: إِنَّهُ قَدْ أَتَى عَلَيْنَا زَمَانٌ وَلَسْنَا نَقْضِي، وَلَسْنَا هُنَالِكَ، ثُمَّ إِنَّ اللَّهَ بَلَّغْنَا مَا تَرَوْنَ؛ فَمَنْ عَرَضَ لَهُ مِنْكُمْ قَضَاءٌ بَعْدَ الْيَوْمِ؛ فَلْيَقْضِ بِمَا فِي كِتَابِ اللَّهِ؛ فَإِنْ جَاءَهُ أَمْرٌ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ؛ فَلْيَقْضِ بِمَا قَضَى بِهِ نَبِيُّهُ؛ فَإِنْ جَاءَهُ أَمْرٌ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَلَا قَضَى بِهِ؛ فَلْيَقْضِ بِمَا قَضَى

--------------------------------------------

(1) إعلام الموقعين (2/89: 93) .
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং আল্লাহর রাসুলের আনুগত্য করো আর তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের)। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট (تأويلاً)} [সুরা আন-নিসা: ৫৯] ।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: ((আল্লাহ তাআলা তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর রাসুলের আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি (আনুগত্যের) ক্রিয়াটি পুনরায় উল্লেখ করেছেন এটি জানানোর জন্য যে, রাসুলের আনুগত্য করা স্বতন্ত্রভাবে (استقلالاً) ওয়াজিব, যা আল্লাহর কিতাবের ওপর উপস্থাপন করা ছাড়াই (পালন করতে হবে)। বরং যখনই তিনি নির্দেশ দেবেন, তখনই তাঁর আনুগত্য করা নিঃশর্তভাবে [১২/] ওয়াজিব হবে; চাই সেই নির্দেশ আল্লাহর কিতাবে থাকুক বা না থাকুক। কেননা তাঁকে কিতাব (কুরআন) এবং তার সাথে অনুরূপ আরেকটি জিনিস (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে। তিনি উলুল আমরের ক্ষেত্রে আনুগত্যের ক্রিয়াটি স্বতন্ত্রভাবে (استقلالاً) উল্লেখ করেননি, বরং তা উহ্য রেখেছেন এবং তাদের আনুগত্যকে রাসুলের আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত করে দিয়েছেন। এটি নির্দেশ করার জন্য যে, তাদের আনুগত্য করা হবে কেবল রাসুলের আনুগত্যের অনুগামী হিসেবে। সুতরাং তাদের মধ্যে যারা রাসুলের আনুগত্যের নির্দেশ দেবেন, তাদের আনুগত্য করা ওয়াজিব হবে। আর যারা রাসুলের আনীত আদর্শের পরিপন্থী কোনো কিছুর নির্দেশ দেবেন, তবে তাদের কথা শোনা হবে না এবং আনুগত্যও করা হবে না।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা মুমিনদের মধ্যকার বিবাদমান বিষয়গুলোকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যদি তারা মুমিন হয়ে থাকে। তিনি তাদের জানিয়েছেন যে, এটিই তাদের জন্য ইহকালে কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট ব্যাখ্যা (تأويلاً)। এই বিষয়টি কয়েকটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

তার মধ্যে একটি হলো: ঈমানদাররা কোনো কোনো বিধানের (أحكام) ক্ষেত্রে বিবাদে লিপ্ত হতে পারে, কিন্তু তারা এর মাধ্যমে ঈমান থেকে বের হয়ে যাবে না, যদি তারা তাদের বিবাদমান বিষয়গুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দেয়।

অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি রাসুলের আনীত আদর্শ ছাড়া অন্য কিছুর কাছে বিচার প্রার্থনা করে বা বিচার পরিচালনা করে, সে মূলত তগুতের (طاغوت) কাছে বিচার প্রার্থনা করল এবং তাকেই বিচারক হিসেবে মান্য করল।

[/১৩] আর তগুত (طاغوت) হলো: বান্দা তার সীমা অতিক্রম করে যার ইবাদত করে, যার অনুসরণ করে অথবা যার আনুগত্য করে।

অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা স্বীয় সত্তার কসম খেয়ে বান্দাদের ঈমানকে ততক্ষণ পর্যন্ত নাকচ করেছেন, যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সকল বিবাদমান বিষয়ে তাঁর রাসুলকে বিচারক মানবে এবং পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করবে)) (১) সংক্ষেপিত।

আবদুর রহমান ইবনে যায়দ থেকে বর্ণিত, ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: ((একদা তাঁর নিকট মানুষের ভিড় বেড়ে গেল; তখন তিনি বললেন: আমাদের ওপর এমন এক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে যখন আমরা বিচারকার্য (قضاء) পরিচালনা করতাম না এবং আমরা সেই অবস্থানেও ছিলাম না। অতঃপর আল্লাহ আমাদের এই অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছেন যা তোমরা দেখতে পাচ্ছ। সুতরাং আজকের পর তোমাদের মধ্যে যার কাছে কোনো বিচারকার্য (قضاء) আসবে, সে যেন আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার করে। আর যদি তার কাছে এমন কোনো বিষয় আসে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তবে সে যেন তাঁর নবী যেভাবে বিচার (قضاء) করেছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা করে। আর যদি তার নিকট এমন বিষয় আসে যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং নবীও সে বিষয়ে ফয়সালা করেননি, তবে সে যেন ফয়সালা করে...

--------------------------------------------

(১) ইলামুল মুওয়াক্কিইন (২/৮৯: ৯৩) ।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
بِهِ الصَّالِحُونَ؛ فَإِنْ جَاءَهُ أَمْرٌ لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ وَلَا قَضَى بِهِ نَبِيُّهُ صلى الله عليه وسلم وَلَا قَضَى بِهِ الصَّالِحُونَ؛ فَلْيَجْتَهِدْ رَأْيَهُ؛ فَإِنْ لَمْ يُحْسِنْ فَلْيَقُمْ وَلا يَسْتَحْي)) (1) .

وقال أيضاً: ((إنَّ اللَّهَ اطَّلَعَ فِي قُلُوبِ الْعِبَادِ فَرَأَى قَلْبَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم خَيْرَ قُلُوبِ الْعِبَادِ فَاخْتَارَهُ لِرِسَالَتِهِ. ثُمَّ اطَّلَعَ فِي قُلُوبِ الْعِبَادِ بَعْدَهُ فَرَأَى قُلُوبَ أَصْحَابِهِ خَيْرَ قُلُوبِ الْعِبَادِ فَاخْتَارَهُمْ لِصُحْبَتِهِ؛ [14/] فَمَا رَآهُ الْمُؤْمِنُونَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّه حَسَنٌ، وَمَا رَآهُ الْمُؤْمِنُونَ قَبِيحًا فَهُوَ عِنْدَ اللَّهِ قَبِيحٌ)) (2) .

وَقَالَ بَعْضُهُمْ:

العِلْمُ قَالَ اللهُ قَالَ رَسُولُهُ … قَالَ الصَّحَابَةُ لَيْسَ خُلْفٌ فِيْهِ

 

مَا العِلْمُ نَصْبُكَ لِلخِلافِ سَفَاهةً … بَيْنَ النُّصُوصِ وَبَيْنَ رَأْيِ سَفِيْهِ

كَلَّا وَلا نَصْبُ الخِلافِ جَهَالة … بَيْنَ الرَّسُولِ وَبَيْنَ رَأْيِ فَقِيْهِ

ً

كَلَّا وَلا رَدُّ النُّصُوصِ تَعَمُّدَاً … حَذَرَاً مِنْ التَّجْسِيمِ والتَّشْبِيْهِ

--------------------------------------------

(1) أخرجه النسائي، كتاب آداب القضاة، باب الحكم باتفاق أهل العلم ح (5412) ، والدارمي، باب الفتيا وما فيه من الشدة ح (172) ، والحاكم في مستدركه (4/106/ رقم 7030) ، والبيهقي في الكبرى (10/115) ، وابن أبي شيبة في مصنفه (4/455/22979) ، وعبد الرزاق في مصنفه (8/301/ رقم 15295) ، ووكيع في أخبار القضاة (1/76) ، وابن عبد البر في جامعه (2/874/ رقم 1597) ، والدارقطني في العلل (5/210) ، والضياء المقدسي في المختارة (1/239/ رقم 133) . وقال محققه: … ((إسناده صحيح)) وأطال ابن حزم رحمه الله في الإحكام (5/205) في ذكر طرقه وشواهده؛ فانظره.

وقال النسائي: ((وهذا الحديث جيدٌ جيد)) وقال الحافظ ابن حجر في الفتح (13/301) : ((وأخرج ابن أبي شيبة بسند صحيح عن ابن مسعود نحو حديث عمر من رواية الشيباني)) ، وقال الحاكم في المستدرك: ((هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه)) ، وقال الشيخ الألباني رحمه الله في صحيح النسائي ((صحيح الإسناد موقوفاً)) وانظر سياقه عند ابن القيم رحمه الله في الإعلام (2/116 وَ 118) .

(2) أخرجه أحمد في مسنده (6/84) ، والطيالسي في مسنده (33) ، وفي المنحة (69) ، والحاكم في مستدركه (1/177) ، والدارقطني في العلل (5/66) ، والبغوي في شرح السنة (1/214/ رقم 105) ، وأورده الهيثمي في المجمع (1/428/ رقم 832) ، وقال: ((رواه أحمد والطبراني في الكبير ورجاله موثقون)) ، وحسَّن وقفه على ابن مسعود رضي الله عنه الشيخ الألباني رحمه الله في الضعيفة (2/ رقم 532) ، واللفظ للطبراني (8/12) والله أعلم.
...যা নেককার ব্যক্তিগণ করেছেন; সুতরাং যদি তার নিকট এমন কোনো বিষয় আসে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তাঁর নাবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সে বিষয়ে ফয়সালা করেননি এবং নেককার ব্যক্তিগণও কোনো ফয়সালা দেননি; তবে সে যেন নিজ প্রজ্ঞা দ্বারা ইজতিহাদ করে; আর যদি সে তাতে পারদর্শী না হয়, তবে সে যেন বিরত থাকে এবং লজ্জাবোধ না করে। (১)।

তিনি আরও বলেছেন: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন, অতঃপর তিনি তাঁকে তাঁর রিসালাতের জন্য মনোনীত করেছেন। এরপর তিনি তাঁর পরে বান্দাদের অন্তরের প্রতি পুনরায় দৃষ্টিপাত করেছেন এবং তাঁর সাহাবিদের অন্তরকে বান্দাদের অন্তরের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন, ফলে তিনি তাঁদেরকে তাঁর (নবির) সহচর হিসেবে মনোনীত করেছেন; [১৪/] মুমিনগণ যা উত্তম মনে করেন, তা আল্লাহর নিকটও উত্তম; আর মুমিনগণ যা নিকৃষ্ট মনে করেন, তা আল্লাহর নিকটও নিকৃষ্ট)) (২)।

এবং তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন:

জ্ঞান হলো যা আল্লাহ বলেছেন, যা রাসুল বলেছেন … এবং যা সাহাবিগণ বলেছেন, এতে কোনো বিরোধ নেই

 

ইলম বা জ্ঞান মানে শরয়ি দলিল (نصوص) এবং কোনো নির্বোধের মতামতের মাঝে … বোকামিবশত বিরোধ দাঁড় করানো নয়

কখনোই নয়, আর না রাসুল এবং কোনো ফকিহর মতামতের মাঝে … অজ্ঞতাবশত বিরোধ তৈরি করা ইলম

ً

কখনোই না, আর না তাজসিম ও তাশবিহ-এর ভয়ে … ইচ্ছাকৃতভাবে শরয়ি দলিলসমূহ (نصوص) প্রত্যাখ্যান করা ইলম

--------------------------------------------

(১) এটি নাসাঈ আদাবুল কুদাত কিতাবের 'আহলুল ইলম বা আলেমগণের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিচার করা' নামক পরিচ্ছেদে, হাদিস নং (৫৪১২); দারেমি 'ফতোয়া প্রদান ও এতে বিদ্যমান কঠোরতা' পরিচ্ছেদে, হাদিস নং (১৭২); হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে (৪/১০৬/ নং ৭০৩০); বায়হাকি সুনানে কুবরা গ্রন্থে (১০/১১৫); ইবনে আবি শায়বা তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে (৪/৪৫৫/২২৯৭৯); আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে (৮/৩০১/ নং ১৫২৯৫); ওয়াকি আখবারুল কুদাত গ্রন্থে (১/৭৬); ইবনে আবদিল বার তাঁর জামে গ্রন্থে (২/৮৭৪/ নং ১৫৯৭); দারা কুতনি আল-ইলাল গ্রন্থে (৫/২১০); এবং দিয়া মাকদিসি আল-মুখতারা গ্রন্থে (১/২৩৯/ নং ১৩৩) বর্ণনা করেছেন। এর মুহাক্কিক বলেছেন: … "এর সনদটি সহিহ (صحيح)"। ইবনে হাজম (রহ.) আল-ইহকাম গ্রন্থে (৫/২০৫) এর বিভিন্ন মাধ্যম (طرق) এবং সমর্থক বর্ণনা (شواهد) বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন; তা দেখে নিন।

নাসাঈ বলেছেন: ((এই হাদিসটি অত্যন্ত জায়্যিদ (جيدٌ جيد)))। হাফিজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারিতে (১৩/৩০১) বলেছেন: ((ইবনে আবি শায়বা শায়বানির বর্ণনায় ইবনে মাসউদ থেকে ওমরের হাদিসের অনুরূপ একটি বর্ণনা সহিহ (صحيح) সনদে বর্ণনা করেছেন))। হাকিম মুস্তাদরাক গ্রন্থে বলেছেন: ((এই হাদিসটির সনদ সহিহ (صحيح الإسناد) তবে তাঁরা এটি সংকলন করেননি))। শেখ আলবানি (রহ.) সহিহ নাসায়ি গ্রন্থে বলেছেন: ((এটি মাওকুফ (موقوفاً) হিসেবে সনদটি সহিহ (صحيح الإسناد))) এবং ইবনুল কায়্যিম (রহ.)-এর ইলাম গ্রন্থে (২/১১৬ ও ১১৮) এর প্রেক্ষাপট দেখে নিন।

(২) এটি আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (৬/৮৪), তায়ালিসি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে (৩৩) এবং আল-মিনহা গ্রন্থে (৬৯), হাকিম মুস্তাদরাক গ্রন্থে (১/১৭৭), দারা কুতনি আল-ইলাল গ্রন্থে (৫/৬৬), বাগবি শারহুস সুন্নাহ গ্রন্থে (১/২১৪/ নং ১০৫) বর্ণনা করেছেন। হাইসামি এটি মাজমাউয যাওয়াইদ গ্রন্থে (১/৪২৮/ নং ৮৩২) উল্লেখ করে বলেছেন: ((আহমদ ও তবারানি এটি আল-কাবির গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (موثقون)))। শেখ আলবানি (রহ.) সিলসিলাতুদ জয়িফা গ্রন্থে (২/ নং ৫৩২) এটিকে ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তি হিসেবে বা মাওকুফ (وقفه) হিসেবে হাসান (حسن) বলেছেন। এর শব্দাবলি তবারানি (৮/১২) থেকে নেওয়া এবং আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
حَاشَا النُّصُوصَ مِنْ الَّذِي رُمِيتْ بِهِ … مِنْ فِرْقَةِ التَّعْطِيلِ وَالتَّمْوِيْهِ (1)

 

وَعَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ إلَى شُرَيْحٍ: ((إذَا حَضَرَك أَمْرٌ لَا بُدَّ مِنْهُ؛ فَانْظُرْ مَا فِي كِتَابِ اللَّهِ فَاقْضِ بِهِ؛ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَفِيمَا قَضَى بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؛ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَفِيمَا قَضَى بِهِ الصَّالِحُونَ وَأَئِمَّةُ الْعَدْلِ؛ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فَأَنْتَ بِالْخِيَارِ؛ فَإِنْ شِئْت أَنْ تَجْتَهِدَ رَأْيَك فَاجْتَهِدْ رَأْيَك، وَإِنْ شِئْت أَنْ تُؤَامِرنِي، وَلَا أَرَى مُؤَامَرَتَك إيَّايَ إلَّا خَيْرًا لَك، وَالسَّلَامُ)) (2)

وَعَنْ الشَّعْبِي أَيْضَاً قَالَ: ((أَخَذَ عُمرَ فَرَساً مِنْ رَجُل عَلى سَوْمٍ (3) .

--------------------------------------------

(1) نسبها إلى الذهبي رحمه الله الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله في مؤلفاته (3/ قسم الرسائل الخاصة /144) ، والقنوجي في أبجد العلوم (3/98) ، وكذا الشيخ حماد الأنصاري رحمه الله في تقديمه لتخريج كتاب الجهاد لابن أبي عاصم (1/8) ولم أقف عليه في مؤلفاته الآن، وبعضهم نسبها إلى ابن القيم الجوزية رحمه الله في كتابه ((عناية النساء بالحديث النبوي)) (20) وأظنه وهماً؛ فقد أوردها ابن القيم في إعلام الموقعين (2/149) وقال: ولبعض أهل العلم، ولو كانت له لنسبها لنفسه.

أما الأبيات التي في النُّونيَّة (226 ط: ابن الجوزي) فهي قريبة منها؛ لكنها على قافية النون، ويقول فيها:

العِلمُ قَالَ اللهُ قَالَ رَسُولُهُ … قَالَ الصَّحَابَةُ هُم ذَوُو العِرفَانِ

 

مَا العِلمُ نَصبَكَ لِلخِلَافِ سَفَاهَةً … بينَ الرَّسُولِ وَبَينَ رَأي فَلَانِ

كَلَاّ وَلَا جَحدَ الصِّفَاتِ لِرَبِّنَا … فِي قَالَبِ التَّنزِيهِ وَالسُّبحَانِ

 

(2) أخرجه النسائي، كتاب آداب القضاة، باب الحكم باتفاق أهل العلم (8/231/ رقم 5414) ، والدارمي في مسنده، باب الفتيا وما فيه من الشدة (1/265/169) ، والبيهقي في الكبرى (10/150) ، وأبو نعيم في الحلية (4/149) ، ووكيع في أخبار القضاة (1/189) ، وهو في تحفة الإشراف (8/29/ رقم 10463) ، والفقيه والمتفقه باسنادٍ صحيح (2/99/ برقم 527) ، وذكره الحافظ ابن حجر في الفتح (13/352) وسكت عنه. وصحَّحه في موافقة الخُبر الخَبر (1/120) ، والله أعلم.

(3) السَّوْم: المُحاذَبَة بين البائِع والمشتري على السّلْعةِ وفَصلُ ثَمنِها يقال سَام يَسُوم سَوْماً. انظر النهاية (2/425) مادة (سوم) .
নুসাসসমূহ সেই সকল অপবাদ থেকে পবিত্র যা তাদের প্রতি আরোপ করা হয়েছে … অস্বীকারকারী ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী দলের পক্ষ থেকে (১)

 

শাবি (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ওমর (রা.) শুরাইহ-এর নিকট লিখেছেন: ((যখন আপনার সামনে এমন কোনো বিষয় উপস্থিত হয় যার ফয়সালা করা আবশ্যক; তখন আল্লাহর কিতাবে যা আছে তা দেখুন এবং সে অনুযায়ী বিচার করুন; যদি সেখানে তা না থাকে তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) যা ফয়সালা করেছেন তা দেখুন; যদি সেখানেও না থাকে তবে নেককার ও ন্যায়পরায়ণ ইমামগণ (أئمة العدل) যা ফয়সালা করেছেন তা দেখুন; আর যদি তাও না থাকে তবে আপনি ইখতিয়ারপ্রাপ্ত; আপনি চাইলে নিজের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে পারেন, আর চাইলে আমার সাথে পরামর্শ করতে পারেন; আর আমি আপনার জন্য আমার সাথে পরামর্শ করাকেই উত্তম মনে করি। ওয়াসসালাম)) (২)

শাবি (রহ.) থেকে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন: ((ওমর (রা.) এক ব্যক্তির নিকট থেকে দরদামের ভিত্তিতে একটি ঘোড়া নিলেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহ.) তার রচনাবলীতে (৩/ বিশেষ পত্রাবলি বিভাগ /১৪৪) একে আল-ধাহাবী (রহ.)-এর দিকে নিসবত করেছেন, এবং আল-কান্নুজী 'আবজাদুল উলুম' (৩/৯৮) গ্রন্থেও তাই করেছেন। অনুরূপভাবে শেখ হাম্মাদ আল-আনসারী (রহ.) ইবনে আবি আসিমের কিতাবুল জিহাদ-এর তাখরিজের উপক্রমণিকায় (১/৮) এটি উল্লেখ করেছেন, যদিও বর্তমানে তার রচনাবলীতে আমি এটি খুঁজে পাইনি। কেউ কেউ একে ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (রহ.)-এর দিকে তার 'ইনায়াতুন নিসা বিল হাদিস আন-নাবাউয়ি' (২০) গ্রন্থে নিসবত করেছেন, যা আমার ধারণা মতে ভুল; কারণ ইবনুল কাইয়্যিম এটি ইলামুল মুওয়াক্কিঈন (২/১৪৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন: "কোনো কোনো আহলে ইলমের জন্য", যদি এটি তার নিজের হতো তবে তিনি নিজের দিকেই নিসবত করতেন।

আর 'নূনিয়া' (২২৬, ইবনুল জাওজি সংস্করণ) কাব্যে যে পংক্তিগুলো রয়েছে তা এর কাছাকাছি; তবে সেগুলো 'নুন' অন্ত্যমিলে রচিত, যেখানে তিনি বলেছেন:

ইলম হলো যা আল্লাহ বলেছেন, যা রাসুল বলেছেন … যা সাহাবায়ে কেরাম বলেছেন, তারাই প্রকৃত জ্ঞানের অধিকারী।

 

ইলম মানে মূর্খতাবশত রাসূলের বাণীর বিপরীতে … অমুক ব্যক্তির মতামতের বিরোধ দাঁড় করানো নয়।

এবং পবিত্রতা বর্ণনার আবরণে আমাদের রবের … গুণাবলিকে অস্বীকার করাও ইলম নয়।

 

(২) এটি বর্ণনা করেছেন নাসায়ী, আদাবুল কুদাত অধ্যায়, উলামায়ে কেরামের ঐকমত্য অনুযায়ী বিধান দান পরিচ্ছেদ (৮/২৩১/ হাদিস নং ৫৪১৪); দারেমি তার মুসনাদ-এ, ফতোয়া এবং এর কঠোরতা পরিচ্ছেদ (১/২৬৫/১৬৯); বায়হাকী আল-কুবরা (১০/১৫০) গ্রন্থে; আবু নুআইম আল-হিলয়া (৪/১৪৯) গ্রন্থে; ওকি আখবারুল কুদাত (১/১৮৯) গ্রন্থে; এটি তুহফাতুল আশরাফ (৮/২৯/ হাদিস নং ১০৪৬৩) গ্রন্থেও রয়েছে। আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ গ্রন্থে সহিহ সনদ (بإسناد صحيح) সহকারে (২/৯৯/ হাদিস নং ৫২৭) এটি বর্ণিত হয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহ (ফাতহুল বারী) গ্রন্থে (১৩/৩৫২) এটি উল্লেখ করে মৌনতা অবলম্বন (سكت عنه) করেছেন। আর তিনি মুয়াফাকাতুল খুবর আল-খবর (১/১২০) গ্রন্থে একে সহিহ (صحح) বলে আখ্যা দিয়েছেন। আল্লাহু আলাম।

(৩) আল-সাওম: পণ্য নিয়ে বিক্রেতা ও ক্রেতার মধ্যে দরাদরি করা এবং এর মূল্য নির্ধারণ করা। একে সামা-ইয়াসুমু-সাওমান বলা হয়। দেখুন আল-নিহায়া (২/৪২৫), শব্দমূল সাওম।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
؛ فحَمَلَ عَلَيْهِ فَعُطِبَ؛ فَخَاصَمَهُ الرَّجُلُ، فَقالَ عُمَرُ: اجْعَلْ بَيْنِي وَبَيْنَكَ رَجُلاً.

فَقَالَ الرَّجُلُ: إِنِّي أَرْضَى بِشُرَيحٍ العِرَاقِي [/15] ؛ فَقَالَ شُرَيْحٌ: أَخَذْتَهُ صَحِيْحَاً سَلِيْمَا ً؛ فأَنْتَ لَهُ ضَامِنٌ حَتَّى تَرُدَّهُ صَحِيْحَاً سَلِيْمَاً. قَالَ: فَكَأَنَّهُ أَعْجَبَهُ؛ فَبَعَثَهُ قَاضِيَاً، وقَالَ: مَا اسْتَبَانَ لَكَ مِنْ كِتَابِ اللهِ؛ فَلا تَسْأَلْ عَنْهُ؛ فَإِنْ لَمْ يَسْتَبِنْ في كِتَابِ اللهِ؛ فَمِنْ السُّنَّةِ؛ فَإِنْ لَمْ تَجِدْ في السُّنَّةِ؛ فَاجْتَهِدْ رَأْيَك)) (1) .

قَالَ ابنُ القَيِّمِ: ((فَالرَّأْيُ ثَلَاثَةُ أَقْسَامٍ: رَأْيٌ بَاطِلٌ بِلَا رَيْبٍ، وَهُوَ الرَّأْيُ الْمُخَالِفُ لِلنَّصِّ، والْكَلَامُ فِي الدِّينِ بِالْخَرْصِ.

وَرَأْيٌ صَحِيحٌ، وهُوَ الَّذِي اسْتَعْمَلهُ السَّلَفُ وَعَمِلُوا بِهِ.

وَالْقِسْمُ الثَّالِثُ: سَوَّغُوا الْعَمَلَ وَالْفُتْيَا وَالْقَضَاءَ بِهِ عِنْدَ الِاضْطِرَارِ إلَيْهِ حَيْثُ لَا يُوجَدُ مِنْهُ بُدٌّ، وَلَمْ يُلْزِمُوا أَحَدًا الْعَمَلَ بِهِ، وَلَمْ يُحَرِّمُوا مُخَالَفَتَهُ، وَلَا جَعَلُوا مُخَالِفَهُ مُخَالِفًا لِلدِّينِ)) . انْتَهَى مُلَخَّصَاً مَعْ تَقْدِيمٍ وَتَأْخِيرٍ (2) .

وَقَالَ أَيْضَاً: ((لَفْظَ الْقِيَاسِ لَفْظٌ مُجْمَلٌ، يَدْخُلُ فِيهِ الْقِيَاسُ الصَّحِيحُ وَالْفَاسِدُ، وَالصَّحِيحُ هُوَ الَّذِي وَرَدَتْ بِهِ الشَّرِيعَةُ، وَهُوَ الْجَمْعُ بَيْنَ الْمُتَمَاثِلَيْنِ وَالْفَرْقُ بَيْنَ الْمُخْتَلِفَيْنِ، فَالْأَوَّلُ قِيَاسُ الطَّرْدِ، وَالثَّانِي قِيَاسُ الْعَكْسِ، وَهُوَ مِنْ الْعَدْلِ الَّذِي بَعَثَ اللَّهُ بِهِ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم، وَحَيْثُ عَلِمْنَا أَنَّ النَّصَّ وَرَدَ بِخِلَافِ قِيَاسٍ عَلِمْنَا قَطْعًا أَنَّهُ قِيَاسٌ فَاسِدٌ)) (3)

[16/] وَقَالَ أَيْضَاً: ((ذِكْرُ تَفْصِيلِ الْقَوْلِ فِي التَّقْلِيدِ وَانْقِسَامِهِ إلَى مَا يَحْرُمُ الْقَوْلُ فِيهِ وَالْإِفْتَاءُ بِهِ، وَإِلَى مَا يَجِبُ الْمَصِيرُ إلَيْهِ، وَإِلَى مَا يَسُوغُ مِنْ غَيْرِ إيجَابٍ.

فَأَمَّا النَّوْعُ الْأَوَّلُ؛ فَهُوَ ثَلَاثَةُ أَنْوَاعٍ:

أَحَدُهَا: الْإِعْرَاضُ عَمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ وَعَدَمُ الِالْتِفَاتِ إلَيْهِ اكْتِفَاءً بِتَقْلِيدِ الْآبَاءِ.

الثَّانِي: تَقْلِيدُ مَنْ لَا يَعْلَمُ الْمُقَلِّدُ أَنَّهُ أَهْلٌ لَأَنْ يُؤْخَذَ بِقَوْلِهِ.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الخطيب في الفقيه والمتفقه (2/88 برقم 526) ، وأبو نعيم في الحلية (4/149) ، والمزي في تهذيب الكمال (3/377) ، وابن أبي حاتم في الجرح والتعديل (4/332/ ترجمة 1458) .

(2) إعلام الموقعين (2/125) .

(3) الإعلام (3/165) .
...অতঃপর তিনি সেটির ওপর আরোহণ করলেন এবং সেটি জখম হলো। তখন লোকটি তাঁর সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো। ওমর (রা.) বললেন: ‘আমার ও তোমার মাঝে একজন বিচারক নির্ধারণ করো।’

লোকটি বলল: ‘আমি শুরাইহ আল-ইরাকির বিচারে সন্তুষ্ট’ [/15]; তখন শুরাইহ বললেন: ‘আপনি এটি সুস্থ (صحيح) ও ত্রুটিমুক্ত অবস্থায় গ্রহণ করেছিলেন; সুতরাং আপনি এটি সুস্থ (صحيح) ও ত্রুটিমুক্ত অবস্থায় ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত এর দায়ভার বহন করবেন।’ বর্ণনাকারী বলেন: মনে হলো বিষয়টি তাঁর (ওমরের) পছন্দ হয়েছে; তাই তিনি তাঁকে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করে পাঠালেন এবং বললেন: ‘আল্লাহর কিতাব থেকে যা আপনার নিকট স্পষ্ট হবে, সে বিষয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করবেন না; যদি আল্লাহর কিতাবে তা স্পষ্ট না হয়, তবে সুন্নাহ থেকে দেখুন; আর যদি সুন্নাহতেও না পান, তবে আপনার বিচারবুদ্ধি দিয়ে ইজতিহাদ (اجتهاد) করুন।’ (১)।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: “ব্যক্তিগত রায় বা অভিমত তিন প্রকার: প্রথমত, নিঃসন্দেহে বাতিল (باطل) রায়; আর তা হলো সেই রায় যা নস (نص) বা অকাট্য প্রমাণের পরিপন্থী এবং অনুমানবশত দ্বীনের বিষয়ে কথা বলা।

দ্বিতীয়ত, সঠিক (صحيح) রায়; আর এটি হলো সেই রায় যা সালাফগণ ব্যবহার করেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন।

তৃতীয় প্রকার: যেটির ক্ষেত্রে কোনো গত্যন্তর না থাকলে নিরুপায় অবস্থায় তাঁরা আমল করা, ফতোয়া প্রদান এবং বিচারকার্য পরিচালনা করাকে বৈধ মনে করেছেন, তবে তাঁরা কাউকেই এর ওপর আমল করতে বাধ্য করেননি, এর বিরোধিতা করাকে হারাম করেননি এবং বিরোধিতাকারীকে দ্বীন লঙঘনকারী হিসেবে গণ্য করেননি।” সংক্ষিপ্তভাবে এবং কিছু অংশ আগে-পিছে বিন্যস্ত করে এখানে সমাপ্ত (২)।

তিনি আরও বলেন: “কিয়াস (قياس) শব্দটি একটি অস্পষ্ট (مجمل) শব্দ, যার মধ্যে সঠিক ও ভ্রান্ত উভয় প্রকার কিয়াসই অন্তর্ভুক্ত। সঠিক কিয়াস হলো সেটিই যা শরিয়ত কর্তৃক সমর্থিত; আর তা হলো দুটি সদৃশ বিষয়ের মাঝে সমতা রক্ষা করা এবং দুটি বিসদৃশ বিষয়ের মাঝে পার্থক্য করা। প্রথমটি হলো কিয়াসে তরদ (قياس الطرد) এবং দ্বিতীয়টি হলো কিয়াসে আক্স (قياس العكس)। এটি সেই ইনসাফের অন্তর্ভুক্ত যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন। আর যখনই আমরা জানব যে, কোনো নস (نص) কোনো কিয়াসের বিপরীতে এসেছে, তখনই আমরা নিশ্চিতভাবে জানব যে সেটি একটি ভ্রান্ত (فاسد) কিয়াস।” (৩)

[16/] তিনি আরও বলেন: “তাকলিদ (تقليد) এবং এর প্রকারভেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা—যার কিছু প্রকারের ওপর আমল করা ও ফতোয়া দেওয়া হারাম (حرام), কিছু প্রকারের দিকে ফিরে যাওয়া ওয়াজিব এবং কিছু প্রকার বাধ্যতামূলক করা ছাড়াই বৈধ।

প্রথম প্রকারটি আবার তিন ধরনের:

এক: আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণের ওপর নির্ভর করে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করা।

দুই: এমন ব্যক্তির তাকলিদ (تقليد) করা যাকে তাকলিদকারী জানে না যে সে অনুসরণ করার যোগ্য কি না।”

--------------------------------------------

(১) আল-খতিব আল-বাগদাদি আল-ফকিহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ (২/৮৮, হাদিস নং ৫২৬) গ্রন্থে, আবু নুয়াইম আল-হিলয়াহ (৪/১৪৯) গ্রন্থে, আল-মিজ্জি তাহজিবুল কামাল (৩/৩৭৭) গ্রন্থে এবং ইবনে আবি হাতিম আল-জারহ ওয়াত তাদিল (الجرح والتعديل) (৪/৩৩২, জীবনী নং ১৪৫৮) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) ইলামুল মুওয়াক্কিইন (২/১২৫)।

(৩) আল-ইলাম (৩/১৬৫)।
(খণ্ড: ১) মাক্বামুর রাশাদ বাইনাত তাক্বলীদি ওয়াল ইজতিহাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الثَّالِثُ: التَّقْلِيدُ بَعْدَ قِيَامِ الْحُجَّةِ وَظُهُورِ الدَّلِيلِ عَلَى خِلَافِ قَوْلِ الْمُقَلَّدِ.)) (1)

إلى أن قال: ((وَالْمُقَلِّدُ لَا يَعْرِفُ الْحَقَّ مِنْ الْبَاطِلِ، وَقَدْ نَهَاهُمُ أَئِمَّتُهُم عَنْ تَقْلِيْدِهِم، وَأَوْصَوْهُمْ إذَا ظَهَرَ الدَّلِيلُ أَنْ يَتْرُكُوا أَقْوَالَهُمْ وَيَتَّبِعُوهُ، فَخَالَفُوهُمْ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ!

وَأَعْجَبُ مِنْ هَذَا أَنَّهُمْ مُصَرِّحُونَ فِي كُتُبِهِمْ بِبُطْلَانِ التَّقْلِيدِ وَتَحْرِيمِهِ، وَأَنَّهُ لَا يَحِلُّ الْقَوْلُ بِهِ فِي دِينِ اللَّهِ، وَلَوْ اشْتَرَطَ الْإِمَامُ عَلَى الْحَاكِمِ أَنْ يَحْكُمَ بِمَذْهَبٍ مُعَيَّنٍ لَمْ يَصِحَّ شَرْطُهُ وَلَا تَوْلِيَتُهُ، وَمِنْهُمْ مَنْ صَحَّحَ التَّوْلِيَةَ وَأَبْطَلَ الشَّرْطَ.

وَكَذَلِكَ الْمُفْتِي يَحْرُمُ عَلَيْهِ الْإِفْتَاءُ بِمَا لَا يَعْلَمُ صِحَّتُهُ بِاتِّفَاقِ النَّاسِ، وَالْمُقَلِّدُ لَا عِلْمَ لَهُ بِصِحَّةِ الْقَوْلِ وَفَسَادِهِ؛ إذْ طَرِيقُ ذَلِكَ مَسْدُودَةٌ عَلَيْهِ، ثُمَّ كُلٌّ مِنْهُمْ يَعْرِفُ مِنْ نَفْسِهِ أَنَّهُ مُقَلِّدٌ لِمَتْبُوعِهِ لَا يُفَارِقُ قَوْلَهُ، [/17] وَيَتْرُكُ لَهُ كُلَّ مَا خَالَفَهُ مِنْ كِتَابٍ أَوْ سُنَّةٍ أَوْ قَوْلِ صَاحِبٍ أَوْ قَوْلِ مَنْ هُوَ أَعْلَمُ مِنْ مَتْبُوعِهِ أَوْ نَظِيرِهِ، وَهَذَا مِنْ أَعْجَبِ الْعَجَبِ)) . انْتَهَى مُلَخَّصَاً (2) .

وَقَالَ الأَمِيرُ مُحَمَّدُ بِنُ إِسْمَاعِيل الصَّنْعَانِي فِي قَصِيْدَتِهِ المشْهُورَةِ:

وَمَا كُلُّ قَوْلٍ بَالقَبُولِ مُقَابَلٌ … وَمَا كُلُّ قَوْلٍ وَاجِبُ الرَّدِّ والطَّرْدِ

ً

سِوَى مَا أَتَى عَنْ رَبِّنَا ورَسُولِهِ … فَذَلِك قَوْلٌ جَلَّ يَا ذَا عَنْ الرَّدِّ

 

وَأَمَا أَقَاوِيلُ الرِّجَالِ فَإِنَّهَا … تَدُورُ عَلى حَسْبِ الأَدِلَّةِ فِي النَّقْدِ

 

فَمُقْتدِياً كُنْ فِي الهُدَى لا مُقَلِّدَاً … وَخَلِّ أَخَا التَّقْلِيدِ فِي الأَسْرِ بِالقَدِ (3)

--------------------------------------------

(1) الإعلام (3/447) .

(2) الإعلام (3/484) .

(3) ديوان الصنعاني (128) عن نسخة الشيخ الغفيلي وفقه الله.
তৃতীয়: প্রমাণ (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এবং মুকাল্লাদ (যাকে অনুসরণ করা হয়) এর বক্তব্যের বিপরীতে দলিল (الدليل) স্পষ্ট হওয়ার পর অন্ধ অনুসরণ (التقليد)। (১)

তিনি আরও বলেন: ((অন্ধ অনুসরণকারী (المقلد) সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে জানে না। অথচ তাদের ইমামগণ তাঁদের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে নিষেধ করেছেন এবং তাদের এই উপদেশ দিয়েছেন যে, যখন দলিল (الدليل) স্পষ্ট হবে, তখন তারা যেন তাঁদের বক্তব্য বর্জন করে এবং দলিলের অনুসরণ করে। কিন্তু তারা এর সব কিছুতেই তাঁদের বিরোধিতা করেছে!

এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো তারা তাদের কিতাবসমূহে অন্ধ অনুসরণ (التقليد) বাতিল হওয়া এবং তা হারাম (تحريم) হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। আল্লাহর দ্বীনে অন্ধ অনুসরণের মাধ্যমে কোনো কথা বলা বৈধ নয়। যদি ইমাম কোনো বিচারকের ওপর শর্তারোপ করেন যে তাকে একটি নির্দিষ্ট মাযহাব (مذهب) অনুযায়ী বিচার করতে হবে, তবে সেই শর্ত এবং তার নিয়োগ কোনোটাই সহিহ (صح) হবে না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিয়োগকে সহিহ (صح) বলে গণ্য করেছেন কিন্তু শর্তকে বাতিল ঘোষণা করেছেন।

একইভাবে, মানুষের ঐকমত্য (اتفاق) অনুযায়ী একজন মুফতি (المفتي) এর জন্য এমন বিষয়ে ফতোয়া প্রদান (الإفتاء) করা হারাম যার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে তিনি জানেন না। আর অন্ধ অনুসরণকারী (المقلদ) কোনো বক্তব্যের বিশুদ্ধতা (صحة) বা অসারতা (فساد) সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না; যেহেতু সেই পথ তার জন্য রুদ্ধ। তদুপরি, তাদের প্রত্যেকেই নিজের সম্পর্কে জানে যে সে তার অনুসরণীয় ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণকারী (مقلদ), সে তার কথা ত্যাগ করে না। [/১৭] বরং তার জন্য সে কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ (سنة), সাহাবীর (صاحب) উক্তি অথবা তার অনুসরণীয় ব্যক্তির চেয়ে অধিক জ্ঞানী কিংবা তার সমকক্ষ কারও বক্তব্য— যা কিছুই তার ইমামের মতের বিরুদ্ধে যায়, তা বর্জন করে। আর এটি আশ্চর্যের চেয়েও মহাবিস্ময়কর))। সংক্ষেপে সমাপ্ত (انتهى ملخصاً) (২)।

আমীর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-সানয়ানি তাঁর বিখ্যাত কাসিদা বা কবিতায় বলেছেন:

সব কথাই গ্রহণের মাধ্যমে গৃহীত হয় না … আবার সব কথাই প্রত্যাখ্যান ও বর্জন করা আবশ্যক নয়।

কেবল আমাদের প্রতিপালক ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যা এসেছে তা ব্যতিরেকে … হে ব্যক্তি! সেই কথা তো প্রত্যাখ্যানের ঊর্ধ্বে।

 

আর মানুষের কথাগুলোর অবস্থা তো এমন যে … পর্যালোচনার (النقد) ক্ষেত্রে সেগুলো দলিলসমূহের (الأدلة) ভিত্তিতে আবর্তিত হয়।

 

অতএব হেদায়াতের পথে তুমি অনুসারী (مقتدياً) হও, অন্ধ অনুসরণকারী (مقلد) নয় … আর অন্ধ অনুসরণকারী ভাইকে চর্মনির্মিত রশিরূপী শৃঙ্খলে আবদ্ধ অবস্থায় ছেড়ে দাও (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইলাম (৩/৪৪৭)।

(২) আল-ইলাম (৩/৪৮৪)।

(৩) দিওয়ান আল-সানয়ানি (১২৮), শেখ আল-গুফাইলি (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) এর পাণ্ডুলিপি হতে।