(খণ্ড: ১)
জুযু ফিহি মুনতাকা মিন সীরাতি ইবনু হিশাম
(পৃষ্ঠা: -)
جزء فيه منتقى من سيرة ابن هشام القسم: كتب السنة
الكتاب: جزء فيه منتقى من سيرة ابن هشام
المؤلف: محمد بن عبد الله المظفري الشافعيّ (ت بعد 649 هـ)
مطبوع ضمن: مجموع أوله "الفوائد" لابن منده، وطبع المجموع كله بهذا الاسم
تحقيق: خلاف محمود عبد السميع
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সীরাতে ইবনে হিশাম থেকে সংকলিত একটি অংশ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: সীরাতে ইবনে হিশাম থেকে সংকলিত একটি অংশ
লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মুজাফফারি আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু ৬৪৯ হিজরীর পর)
সংকলনের অন্তর্ভুক্ত: একটি সংকলন যার শুরুতে রয়েছে ইবনে মানদাহ-র "আল-ফাওয়াইদ", এবং সম্পূর্ণ সংকলনটি এই নামেই মুদ্রিত হয়েছে
তাহকীক: খিলাফ মাহমুদ আব্দুস সামী
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরী - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ٢)
জুযু ফিহি মুনতাকা মিন সীরাতি ইবনু হিশাম
(পৃষ্ঠা: ২৮৯)
جُزْءٌ فِيهِ مُنْتَقَى مِنْ سِيرَةِ أَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ هِشَامٍ
بسم الله الرحمن الرحيم
رَبِّ أَعِنْ
الْحَدِيثُ الأَوَّلُأنا أَسَدُ الدِّينِ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عِيسَى بْنِ السُّلْطَانِ الْمَلِكِ الْعَادِلِ سَيْفِ الدِّينِ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ بْنِ شَاذِي، بِقِرَاءَةِ وَالِدِي رحمهم الله سَنَةَ 732 أنا الْخَطِيبُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْفَتْحِ الْمِصْرِيُّ ، سَنَةَ 643 أنا صَنِيعَةُ الْمَلِكِ أَبُو مُحَمَّدٍ هِبَةُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ حَيْدَرَةَ الْمِصْرِيُّ، أنا الْقَاضِي أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رِفَاعَةَ بْنِ غَدِيرٍ السَّعْدِيُّ الْفَرَضِيُّ، أنا الْقَاضِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْخُلَعِيُّ، أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ النَّحَّاسِ التُّجِيبِيُّ، أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ الْوَرْدِ بْنِ زَنْجَوَيْهِ الْبَغْدَادِيُّ، أنا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ بْنِ الْبَرْقِيِّ، أنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ هِشَامٍ النَّحْوِيُّ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْبَكَّائِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ يَسَارٍ الْمُطَّلِبِيِّ الْمَدَنِيِّ ، قَالَ:
2111 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُمَرَ بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ عَمِّهِ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ ، قَالَ: «لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ يَنْزِلَ عَلَيْهِ الْوَحْيُ، وَإِنَّهُ لَوَاقِفٌ عَلَى بَعِيرٍ لَهُ بِعَرَفَاتٍ مَعَ النَّاسِ مِنْ بَيْنِ قَوْمِهِ حَتَّى يَدْفَعَ مَعَهُمْ مِنْهَا تَوْفِيقًا مِنَ اللَّهِ عز وجل»
الْحَدِيثُ الثَّانِي2112 - وَبِالإِسْنَادِ إِلَى ابْنِ إِسْحَاقَ ، قَالَ: حَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أُمِّهِ أَسْمَاءَ ابْنَةِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ: " لَقَدْ رَأَيْتُ زَيْدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ شَيْخًا كَبِيرًا مُسْنِدًا ظَهْرَهُ إِلَى الْكَعْبَةِ ، وَهُوَ يَقُولُ: يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ وَالَّذِي نَفْسُ زَيْدِ بْنِ عَمْرٍو بِيَدِهِ مَا أَصْبَحَ مِنْكُمْ
আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক ইবনে হিশামের সীরাত থেকে নির্বাচিত অংশ সম্বলিত একটি পুস্তিকা।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আমার প্রতিপালক, সাহায্য করুন।
প্রথম হাদীসআসাদ আদ-দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির ইবনে আব্দুল আযীয ইবনে ঈসা ইবনে সুলতান আল-মালিক আল-আদিল সাইফ আদ-দীন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব ইবনে শাযী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন—৭৩২ হিজরী সালে আমার পিতার পাঠ করার মাধ্যমে, আল্লাহ তাঁদের উপর দয়া করুন—আল-খতীব আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে আহমদ ইবনে আবিল ফাতহ আল-মিসরী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ৬৪৩ হিজরী সালে, সানীআতুল মালিক আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে হায়দারাহ আল-মিসরী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, কাজি আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে রিফাআহ ইবনে গাদীর আস-সাদী আল-ফারাযী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, কাজি আবু আল-হাসান আলী ইবনে আল-হাসান ইবনে আল-হুসাইন আল-খুলায়ী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আন-নাহহাস আত-তুজীবী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আল-ওয়ারদ ইবনে যানজাওয়াইহ আল-বাগদাদী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু সাঈদ আব্দুর রহীম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহীম ইবনুল বারকী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম আন-নাহভী আমাকে যিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাক্কায়ী-এর সূত্রে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার আল-মুত্তালিবী আল-মাদানী থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:
২১১১ - আব্দুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে হাযম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উসমান ইবনে আবি সুলাইমান ইবনে জুবায়ের ইবনে মুতঈম থেকে, তিনি তাঁর চাচা নাফে ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি তাঁর পিতা জুবায়ের ইবনে মুতঈম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওহী নাযিল হওয়ার আগে দেখেছি যে, তিনি তাঁর একটি উটের পিঠে চড়ে আরাফাতের ময়দানে তাঁর কওমের লোকদের সাথে অবস্থান করছেন, যাতে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফীকপ্রাপ্ত হয়ে তিনি তাদের সাথে সেখান থেকে প্রস্থান করতে পারেন»
দ্বিতীয় হাদীস২১১২ - এবং ইবনে ইসহাক পর্যন্ত পূর্বোক্ত সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমার কাছে তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর মাতা আসমা বিনতে আবি বকর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমি যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েলকে একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি হিসেবে দেখেছি, তিনি কাবার গায়ে তাঁর পিঠ ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে বলছিলেন: হে কুরাইশ সম্প্রদায়! যাঁর হাতে (অর্থাৎ আল্লাহর হাতে) যায়েদ ইবনে আমরের প্রাণ আছে তাঁর কসম, তোমাদের মধ্যে কেউ নেই যে..."
(খণ্ড: ٢)
জুযু ফিহি মুনতাকা মিন সীরাতি ইবনু হিশাম
(পৃষ্ঠা: ২৯০)
أَحَدٌ عَلَى دِينِ إِبْرَاهِيمَ غَيْرِي، ثُمَّ يَقُولُ: اللَّهُمَّ لَوْ أَنِّي أَعْلَمُ أَيُّ الْوُجُوهِ أَحَبُّ إِلَيْكَ عَبَدْتُكَ بِهِ، وَلَكِنْ لا أَعْلَمُهُ، ثُمَّ يَسْجُدُ عَلَى رَاحَتِهِ ".
أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ تَعْلِيقًا ، فَقَالَ: وَقَالَ اللَّيْثُ، كَتَبَ إِلَيَّ هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ.
وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ ، نَحْوَهُ
الْحَدِيثُ الثَّالِثُ2113 - وَبِهِ حَدَّثَنِي صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «افْتُرِضَتِ الصَّلاةُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوَّلَ مَا افْتُرِضَتْ رَكْعَتَيْنِ كُلَّ صَلاةٍ، ثُمَّ إِنَّ اللَّهَ أَتَمَّهَا فِي الْحَضَرِ أَرْبَعًا، وَأَمَرَ بِهَا فِي السَّفَرِ عَلَى فَرْضِهَا الأَوَّلِ رَكْعَتَيْنِ» .
أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ وَأَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ مِنْ حَدِيثِ مَالِكٍ ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ ، بِنَحْوِهِ
الْحَدِيثُ الرَّابِعُ2114 - وَبِهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُبَشِّرَ خَدِيجَةَ بِبَيْتٍ مِنْ قَصَبٍ لا صَخَبَ فِيهِ وَلا نَصَبَ»
الْحَدِيثُ الْخَامِسُ2115 - وَبِهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ عُرْوَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ: قُلْتُ لَهُ: مَا أَكْثَرُ مَا رَأَيْتُ قُرَيْشًا أَصَابُوا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا كَانُوا يُظْهِرُونَ مِنْ عَدَاوَتِهِ؟ قَالَ: حَضَرْتُهُمْ وَقَدِ اجْتَمَعَ أَشْرَفُهُمْ يَوْمًا إِلَى الْحَجَرِ، فَذَكَرُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالُوا: مَا رَأَيْنَا مِثْلَ مَا صَبَرْنَا عَلَيْهِ مِنْ أَمْرِ هَذَا الرَّجُلِ قَطُّ، سَفَّهَ أَحْلامَنَا وَشَتَمَ آبَاءَنَا وَعَابَ دِينَنَا وَفَرَّقَ جَمَاعَتَنَا وَسَبَّ آلِهَتَنَا، لَقَدْ صَبَرْنَا مِنْهُ عَلَى أَمْرٍ عَظِيمٍ أَوْ كَمَا قَالُوا فَبَيْنَمَا هُمْ لَهُ فِي ذَلِكَ إِذْ طَلَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَقْبَلَ يَمْشِي حَتَّى اسْتَلَمَ الرُّكْنَ، ثُمَّ مَرَّ بِهِمْ طَائِفًا بِالْبَيْتِ، فَلَمَّا مَرَّ بِهِمْ غَمَزُوهُ بِبَعْضِ الْقَوْلِ ، قَالَ:
আমি ব্যতীত ইব্রাহিমের দ্বীনের উপর আর কেউ নেই। তারপর তিনি বলতেন: হে আল্লাহ! আপনার কাছে কোন পদ্ধতিটি অধিক পছন্দনীয় তা যদি আমি জানতাম, তবে আমি সেভাবেই আপনার ইবাদত করতাম; কিন্তু আমি তা জানি না। এরপর তিনি তাঁর হাতের তালুর ওপর সিজদাহ করতেন।
এটি ইমাম বুখারী তালীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস বলেছেন, হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমার কাছে লিখেছিলেন এবং এর অনুরুপ উল্লেখ করেছেন।
এবং ইমাম নাসাঈ এটি আবু উসামার হাদীস থেকে হিশাম ইবনে উরওয়াহর সূত্রে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয় হাদীস২১১৩ - এবং এই একই সূত্রে সালেহ ইবনে কায়সান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত যখন প্রথম ফরয করা হয়েছিল, তখন প্রতি ওয়াক্তে দুই রাকাত করে ফরয করা হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ আবাসে (হজরে) তা পূর্ণ চার রাকাত করে দেন এবং সফরে একে তার আদি ফরয হিসেবে দুই রাকাত রাখার আদেশ দেন।”
ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ এবং নাসাঈ এটি মালিকের হাদীস থেকে সালেহ ইবনে কায়সানের সূত্রে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
চতুর্থ হাদীস২১১৪ - এবং এই সূত্রে তিনি বলেন: হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাকে খাদীজাকে মুক্তার তৈরি এমন একটি গৃহের সুসংবাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে কোনো শোরগোল নেই এবং কোনো ক্লান্তি নেই।”
পঞ্চম হাদীস২১১৫ - এবং এই সূত্রে তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে উরওয়াহ ইবনে যুবাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তাঁর পিতা উরওয়াহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধে যে শত্রুতা প্রকাশ করত, তার মধ্যে আপনি তাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিতে দেখেছেন কোন ঘটনায়? তিনি বললেন: আমি উপস্থিত ছিলাম যখন একদিন তাদের নেতারা হিজর-এ সমবেত হয়েছিল। তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা উল্লেখ করে বলছিল: “আমরা এই ব্যক্তির ব্যাপারে যতটা ধৈর্য ধারণ করেছি, এর আগে আর কখনও তা করিনি। সে আমাদের বিবেক-বুদ্ধিকে তুচ্ছজ্ঞান করে, আমাদের পিতৃপুরুষদের গালমন্দ করে, আমাদের দ্বীনের নিন্দা করে, আমাদের ঐক্য নষ্ট করে এবং আমাদের উপাস্যদের গালি দেয়। আমরা তার থেকে এক কঠিন বিষয় সহ্য করে চলেছি” অথবা তারা যেমনটি বলেছিল। তারা যখন এই আলোচনায় লিপ্ত ছিল, ঠিক তখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আত্মপ্রকাশ করলেন এবং হেঁটে এসে রুকন (হাজরে আসওয়াদ) চুম্বন করলেন। এরপর তিনি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে করতে তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। যখনই তিনি তাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তারা ব্যঙ্গাত্মক কথাবার্তা বলে তাঁকে উত্যক্ত করছিল। বর্ণনাকারী বলেন:
(খণ্ড: ٢)
জুযু ফিহি মুনতাকা মিন সীরাতি ইবনু হিশাম
(পৃষ্ঠা: ২৯১)
فَعَرَفْتُ ذَلِكَ فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ مَضَى، فَلَمَّا مَرَّ بِهِمُ الثَّانِيَةَ غَمَزُوهُ بِمِثْلِهَا، فَعَرَفْتُ ذَلِكَ فِي وَجْهِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ مَرَّ الثَّالِثَةَ فَغَمَزُوهُ بِمِثْلِهَا، فَوَقَفَ ، ثُمَّ قَالَ: «أَتَسْمَعُونَ يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ، أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِالذَّبْحِ» .
فَأَخَذَتِ الْقَوْمَ كَلِمَتُهُ حَتَّى مَا مِنْهُمْ رَجُلٌ إِلا كَأَنَّمَا عَلَى رَأْسِهِ طَائِرٌ وَاقِعٌ حَتَّى أَشَدُّهُمْ مَنْ وَصَّاهَ قَبْلَ ذَلِكَ بِأَحْسَنِ مَا يَجِدُ مِنَ الْقَوْلِ، حَتَّى إِنَّهُ لَيَقُولُ: انْصَرِفْ يَا أَبَا الْقَاسِمِ وَاللَّهِ مَا كُنْتَ جَهُولا ، قَالَ: فَانْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا الْغَدُ اجْتَمَعُوا فِي الْحَجَرِ ، وَأَنَا مَعَهُمْ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: ذَكَرْتُمْ مَا بَلَغَ مِنْكُمْ وَمَا بَلَغَكُمْ عَنْهُ، حَتَّى إِذَا بَادَأَكُمْ بِمَا تَكْرَهُونَ تَرَكْتُمُوهُ، فَبَيْنَمَا هُمْ فِي ذَلِكَ إِذْ طَلَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَثَبُوا إِلَيْهِ وَثْبَةَ رَجُلٍ وَاحِدٍ فَأَحَاطُوا بِهِ يَقُولُونَ: أَنْتَ الَّذِي تَقُولُ كَذَا وَكَذَا، لِمَا كَانَ يَقُولُ مِنْ عَيْبِ دِينِهِمْ وَآلِهَتِهِمْ؟ فَيَقُولُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نَعَمْ ، أَنَا الَّذِي أَقُولُ ذَلِكَ» ، قَالَ: فَلَقَدْ رَأَيْتُ رَجُلا مِنْهُمْ آخِذًا بِمَجْمَعِ رِدَائِهِ، قَالَ: وَقَامَ أَبُو بَكْرٍ دُونَهُ وَهُوَ يَبْكِي، أَتَقْتُلُونَ رَجُلا أَنْ يَقُولَ: رَبِّيَ اللَّهُ؟ ثُمَّ انْصَرَفُوا عَنْهُ ، فَإِنَّ ذَلِكَ لَأَشَدُّ مَا رَأَيْتُ قُرَيْشًا نَالُوا مِنْهُ قَطُّ.
أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ ، بِقِصَّةِ أَبِي بَكْرٍ مُخْتَصَرًا، وَقَالَ: تَابَعَهُ ابْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، قَالَ: قُلْتُ: لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو.
قَالَ عَبَدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ ، قِيلَ لِعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ
الْحَدِيثُ السَّادِسُ2116 - وَبِهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي حَكِيمُ بْنُ جُبْيَرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، قَالَ: قُلْتُ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ: أَكَانَ الْمُشْرِكُونَ يَبْلُغُونَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْعَذَابِ مَا يُعْذَرُونَ بِهِ فِي تَرْكِ دِينِهِمْ؟ قَالَ: نَعَمْ ، وَإِنْ كَانُوا لَيَضْرِبُونَ أَحَدَهُمْ وَيُجِيعُونَهُ وَيُعَطِّشُونَهُ حَتَّى مَا يَقْدِرُ أَنْ يَسْتَوِيَ جَالِسًا مِنْ شِدَّةِ الضُّرِّ الَّذِي بِهِ، حَتَّى يُعْطِيَهُمْ مَا سَأَلُوهُ مِنَ الْفِتْنَةِ، حَتَّى يَقُولُوا لَهُ: اللاتُ وَالْعُزَّى إِلَهُكَ مِنْ دُونِ اللَّهِ، فَيَقُولُ: نَعَمْ ، حَتَّى إِنَّ الْعِجْلَ لَيَمُرُّ بِهِمْ، فَيَقُولُونَ: لَحْمُ هَذَا الْعِجْلِ إِلَهُكَ مِنْ دُونِ اللَّهِ ، فَيَقُولُونَ: نَعَمْ ، افْتِدَاءً مِنْهُمْ مَا يَبْلُغُونَ مِنْ جَهْدِهِ
الْحَدِيثُ السَّابِعُ2117 - وَبِهِ قَالَ: حَدَّثَنِي جَعْفَرُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: جَعْفَرُ بْنُ عَمْرِو بْنِ جَعْفَرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمَيَّة الضَّمْرِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ ، أَخِي مُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمِ بْنِ شِهَابٍ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ، وَقِيلَ لَهُ: يَا رَسُولُ مَا الْكَوْثَرُ الَّذِي أَعْطَاكَ اللَّهُ عز وجل إِيَّاهُ؟ قَالَ: «نَهْرٌ كَمَا
আমি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় বুঝতে পারলাম। এরপর তিনি চলে গেলেন। যখন তিনি দ্বিতীয়বার তাঁদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁরা আবার অনুরূপ বিদ্রুপ করল। আমি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় বুঝতে পারলাম। এরপর তিনি তৃতীয়বার যখন যাচ্ছিলেন এবং তাঁরা আবার অনুরূপ করল, তখন তিনি থেমে গেলেন। এরপর বললেন: «হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমরা কি শুনছ? সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমি তোমাদের কাছে যবেহ (সংহার) নিয়ে এসেছি»।
এই কথাটি লোকগুলোকে এমনভাবে জাপটে ধরল যে, মনে হচ্ছিল তাদের প্রত্যেকের মাথার ওপর যেন পাখি বসে আছে। এমনকি তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইতিপূর্বে তাঁর সাথে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় কথা বলত, সেও সবচেয়ে উত্তম ভাষায় বলতে লাগল: হে আবুল কাসিম, আপনি ফিরে যান। আল্লাহর শপথ, আপনি তো কোনো কালেই মূর্খ ছিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে গেলেন। পরদিন তাঁরা হিজর-এ সমবেত হলো এবং আমি তাঁদের সাথে ছিলাম। তাঁদের একে অন্যকে বলতে লাগল: তোমাদের সাথে যা কিছু ঘটেছে এবং তাঁর পক্ষ থেকে যা কিছু তোমরা শুনেছ তা তোমরা আলোচনা করেছ, অথচ যখনই তিনি তোমাদের সামনে তোমাদের অপছন্দনীয় কিছু নিয়ে আসেন, তোমরা তাঁকে ছেড়ে দাও। তাঁরা যখন এই আলোচনায় রত ছিলেন, তখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেখানে উপস্থিত হলেন। তাঁরা একযোগে এক ব্যক্তির মতো তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে ঘিরে ধরে বলতে লাগল: আপনিই কি সেই ব্যক্তি যিনি এই এই কথা বলেন? —অর্থাৎ তিনি তাঁদের ধর্ম ও উপাস্যদের যে সমালোচনা করতেন সে সম্পর্কে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হ্যাঁ, আমিই সেই ব্যক্তি যে এসব কথা বলি»। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাঁদের একজনকে দেখলাম তাঁর চাদরের কোণ ধরে টেনে ধরেছে। তিনি বলেন, আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সামনে এসে দাঁড়ালেন এবং কাঁদতে কাঁদতে বললেন: তোমরা কি একজন ব্যক্তিকে কেবল একারণে হত্যা করবে যে তিনি বলেন: আমার প্রতিপালক আল্লাহ? এরপর তাঁরা তাঁর কাছ থেকে সরে গেল। কুরাইশরা তাঁর ওপর যত নির্যাতন চালিয়েছে, এটিই ছিল আমার দেখা সবচেয়ে কঠিনতম ঘটনা।
ইমাম বুখারী এটি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমীর হাদীস হতে উরওয়াহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যেখানে আবু বকর-এর ঘটনাটি সংক্ষেপে আছে। তিনি বলেছেন: ইবনে ইসহাক তাঁর অনুসরণ করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে উরওয়াহ আমাকে উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আমরকে জিজ্ঞাসা করলাম।
আবদাহ ইবনে সুলাইমান হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আমর ইবনুল আসকে জিজ্ঞাসা করা হলো।
ষষ্ঠ হাদীস২১১৬ - এবং একই সূত্রে তিনি বলেন: হাকীম ইবনে জুবায়ের আমার কাছে সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করলাম: মুশরিকরা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের ওপর এমন নির্যাতন চালাত যার কারণে তাঁদের দ্বীন ত্যাগের ওজর তৈরি হতো? তিনি বললেন: হ্যাঁ। এমনকি তাঁরা তাঁদের কাউকে মারধর করত এবং তাঁকে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত রাখত, যার ফলে শারীরিক কষ্টের তীব্রতায় সে সোজা হয়ে উঠে বসতেও সক্ষম হতো না, যতক্ষণ না সে ফিতনা (বিপদ) থেকে বাঁচতে তারা যা চাইত তা প্রদান করত। এমনকি তারা তাকে বলত: আল্লাহকে বাদ দিয়ে লাত ও উযযা কি তোমার ইলাহ? তখন সে বলত: হ্যাঁ। এমনকি তাদের পাশ দিয়ে যখন কোনো গোবৎস অতিক্রম করত, তখন তারা বলত: আল্লাহকে বাদ দিয়ে এই গোবৎসের মাংস কি তোমার ইলাহ? তখন তারা তাদের অসহনীয় কষ্ট থেকে নিষ্কৃতি পেতে বলত: হ্যাঁ।
সপ্তম হাদীস২১১৭ - এবং একই সূত্রে তিনি বলেন: জাফর ইবনে আমর আমাকে বর্ণনা করেছেন; ইবনে হিশাম বলেন: জাফর ইবনে আমর ইবনে জাফর ইবনে আমর ইবনে উমাইয়াহ আদ-দামরী, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম থেকে —যিনি মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আয-যুহরীর ভাই— তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, কাউসার কী যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আপনাকে দান করেছেন? তিনি বললেন: «এটি একটি নহর যা...»
(খণ্ড: ٢)
জুযু ফিহি মুনতাকা মিন সীরাতি ইবনু হিশাম
(পৃষ্ঠা: ২৯২)
بَيْنَ صَنْعَاءَ إِلَى أَيْلَةَ آنِيَتُهُ كَعَدَدِ النُّجُومِ تَرِدُهُ طَيْرٌ لَهَا أَعْنَاقٌ كَأَعْنَاقِ الإِبِلِ» .
قَالَ: يَقُولُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا لَنَاعِمَةٌ ، قَالَ: «أُكُلُهَا أَنْعَمُ مِنْهَا» .
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: وَقَدْ سَمِعْتُ هَذَا الْحَدِيثَ أَوْ غَيْرَهُ أَنَّهُ عليه السلام ، قَالَ: «مَنْ شَرِبَ مِنْهُ لَمْ يَظْمَأْ» .
أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ فِي صِفَةِ الْجَنَّةِ، عَنْ عَبْدِ بْنِ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِيهِ ، نَحْوَهُ.
وَقَالَ: حَسَنٌ
الْحَدِيثُ الثَّامِنُ2118 - وَبِهِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ سَلَمَةَ ، زَوْجِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَتْ: لَمَّا أَهَمَّ أَبُو سَلَمَةَ الْخُرُوجَ إِلَى الْمَدِينَةِ رَحَلَ لِي بَعِيرَهُ ثُمَّ حَمَلَنِي عَلَيْهِ وَحَمَلَ مَعِيَ ابْنِي سَلَمَةَ بْنَ أَبِي سَلَمَةَ فِي حِجْرِي ، ثُمَّ خَرَجَ بِي يَقُودُنِي بَعِيرَهُ، فَلَمَّا رَأَتْهُ رِجَالُ بَنِي الْمُغِيرَةِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ مَخْزُومٍ قَامُوا إِلَيْهِ ، فَقَالُوا: هَذِهِ نَفْسُكَ غَلَبْتَنَا عَلَيْهَا أَرَأَيْتَ صَاحِبَتَنَا هَذِهِ عَلامَ نَتْرُكُكَ تَسِيرُ بِهَا فِي الْبِلادِ ، قَالَتْ: فَنَزَعُوا خِطَامَ الْبَعِيرِ، فَأَخَذُونِي مِنْهُ ، قَالَتْ: وَغَضِبَتْ عِنْدَ ذَلِكَ بَنُو عَبْدِ الأَسَدِ رَهْطُ أَبِي سَلَمَةَ، فَقَالُوا: لا وَاللَّهِ لا نَتْرُكُ ابْنَنَا عِنْدَهَا ، نَزَعْتُمُوهَا مِنْ صَاحِبِنَا، قَالَتْ: فَتَجَاذَبُوا ابْنِي سَلَمَةَ بَيْنَهُمَا حَتَّى خَلَعُوا يَدَهُ ، وَانْطَلَقَ بِهِ بَنُو عَبْدِ الأَسَدِ وَحَبَسَنِي بَنُو الْمُغِيرَةِ عِنْدَهُمْ ، وَانْطَلَقَ زَوْجِي سَلَمَةُ إِلَى الْمَدِينَةِ ، قَالَتْ: فَفُرِّقَ بَيْنِي وَبَيْنَ زَوْجِي وَبَيْنَ ابْنِي ، قَالَتْ: فَكُنْتُ أَخْرُجُ كُلَّ غَدَاةٍ فَأَجْلِسُ بِالأَبْطَحِ، فَمَا أَزَالُ أَبْكِي حَتَّى أُمْسِيَ سَبْعًا أَوْ قَرِيبًا مِنْهَا، حَتَّى مَرَّ بِي رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَمِّي أَحَدِ بَنِي الْمُغِيرَةِ فَرَأَى مَا فِي وَجْهِي، فَقَالَ لِبَنِي الْمُغِيرَةِ: أَلا تَخْرُجُونَ مِنْ هَذِهِ الْمِسْكِينَةِ، فَرَّقْتُمْ بَيْنَهَا وَبَيْنَ زَوْجِهَا وَبَيْنَ وَلَدِهَا، قَالَتْ: فَقَالُوا: الْحَقِي بِزَوْجِكِ إِنْ شِئْتِ ، قَالَتْ: وَرَدَّ بَنُو عَبْدِ الأَسَدِ إِلَيَّ عِنْدَ ذَلِكَ ابْنِي، قَالَتْ: فَارْتَحَلْتُ بِبَعِيرِي، ثُمَّ أَخَذْتُ ابْنِي فَوَضَعْتُهُ فِي حِجْرِي ، ثُمَّ خَرَجْتُ أُرِيدُ زَوْجِي بِالْمَدِينَةِ، قَالَتْ: وَمَا مَعِيَ أَحَدٌ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ، قَالَتْ: قُلْتُ لِمَنْ لَقِيتُ حَتَّى أَقْدَمَ عَلَى زَوْجِي حَتَّى إِذَا كُنْتُ بِالتَّنْعِيمِ لَقِيتُ عُثْمَانَ بْنَ طَلْحَةَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ ، أَخَا بَنِي عَبْدِ الدَّارِ، فَقَالَ: أَيْنَ يَا بِنْتَ أَبِي أُمَيَّةَ؟ قَالَتْ: أُرِيدُ زَوْجِي بِالْمَدِينَةِ ، قَالَ: أَوَ مَا مَعَكِ أَحَدٌ؟ قُلْتُ: لا وَاللَّهِ، إِلا اللَّهُ وَابْنِي هَذَا ، قَالَ: وَاللَّهِ مَا لَكِ مِنْ مَتْرَكٍ ، فَأَخَذَ بِخِطَامِ الْبَعِيرِ ، فَانْطَلَقَ مَعِيَ يَهْوِي بِي، فَوَاللَّهِ مَا صَحِبْتُ رَجُلا مِنَ الْعَرَبِ قَطُّ أَرَى أَنَّهُ كَانَ أَكْرَمَ مِنْهُ، كَانَ إِذَا بَلَغَ الْمَنْزِلَ أَنَاخَ بِي، ثُمَّ اسْتَأْخَرَ عَنِّي، حَتَّى إِذَا نَزَلْنَا اسْتَأْخَرَ بِبَعِيرِي فَحَطَّ عَنْهُ، ثُمَّ قَيَّدَهُ فِي الشَّجَرَةِ، ثُمَّ تَنَحَّى
সানআ থেকে আয়লা পর্যন্ত (বিস্তৃত), এর পাত্রসমূহ আকাশের নক্ষত্ররাজির ন্যায় অসংখ্য। সেখানে এমন সব পাখি আসবে যাদের ঘাড় উটের ঘাড়ের মতো।
বর্ণনাকারী বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! সেগুলো তো খুবই সুস্বাদু ও আরামদায়ক হবে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "সেগুলোর আহার্য তার চেয়েও বেশি সুস্বাদু।"
ইবনে ইসহাক বলেন: আমি এই হাদিস অথবা এর অনুরূপ অন্য হাদিসে শুনেছি যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তা থেকে পান করবে, সে আর কখনও তৃষ্ণার্থ হবে না।"
তিরমিযী এটি জান্নাতের বর্ণনা অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, আবদ ইবনে হুমাইদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ আল-কানাবী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি বলেছেন: এটি হাসান (উত্তম) হাদিস।
অষ্টম হাদিস2118 - এবং এই একই সূত্রে তিনি বলেন: আমার কাছে আবু ইসহাক ইবনে ইয়াসার বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আবি সালামাহ থেকে, তিনি তার দাদী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আবু সালামাহ মদিনায় হিজরত করার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তিনি আমার জন্য তার উট প্রস্তুত করলেন এবং আমাকে তাতে সওয়ার করালেন, আর আমার সাথে আমার পুত্র সালামাহ ইবনে আবি সালামাহকে আমার কোলে তুলে দিলেন। তারপর তিনি আমাকে নিয়ে বের হলেন এবং নিজের উটের লাগাম ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। যখন বনু মুগীরা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে মাখজুম গোত্রের লোকেরা তাকে দেখল, তখন তারা তার দিকে এগিয়ে এল এবং বলল: "তুমি নিজে আমাদের হাত থেকে বেঁচে গেছ, কিন্তু আমাদের এই মেয়েটির ব্যাপারে কী ভেবেছ? আমরা কেন তোমাকে তাকে নিয়ে দেশময় ঘুরে বেড়াতে দেব?" তিনি বলেন: তখন তারা উটের লাগাম কেড়ে নিল এবং আমাকে তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল। তিনি বলেন: তখন আবু সালামাহর গোত্র বনু আবদুল আসাদ রাগান্বিত হল এবং বলল: "না, আল্লাহর কসম! আমাদের পুত্রকে আমরা তার কাছে থাকতে দেব না, যেহেতু তোমরা তাকে আমাদের লোকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছ।" তিনি বলেন: এরপর তারা আমার পুত্র সালামাহকে নিয়ে টানাটানি শুরু করল, এমনকি তারা তার হাত মচকে দিল। বনু আবদুল আসাদ তাকে নিয়ে চলে গেল এবং বনু মুগীরা আমাকে তাদের কাছে আটকে রাখল। আর আমার স্বামী আবু সালামাহ মদিনার পথে রওয়ানা হয়ে গেলেন। তিনি বলেন: এভাবে আমার স্বামী এবং আমার সন্তানের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়া হল। তিনি বলেন: আমি প্রতিদিন সকালে বের হতাম এবং ‘আবতাহ’ নামক স্থানে গিয়ে বসে থাকতাম। এভাবে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি অনবরত কাঁদতাম। সাত দিন বা এর কাছাকাছি সময় পর্যন্ত এমনটি চলতে থাকল। অবশেষে বনু মুগীরা গোত্রের আমার এক চাচাতো ভাই আমার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমার অবস্থা দেখে ব্যথিত হলেন। তিনি বনু মুগীরাকে বললেন: "তোমরা কি এই অসহায় নারীটিকে মুক্তি দেবে না? তোমরা তার স্বামী এবং তার সন্তানের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছ!" তিনি বলেন: তখন তারা বলল: "তুমি চাইলে তোমার স্বামীর সাথে গিয়ে মিলিত হতে পারো।" তিনি বলেন: সেই সময় বনু আবদুল আসাদ আমার পুত্রকেও আমার কাছে ফিরিয়ে দিল। তিনি বলেন: তখন আমি আমার উট সাজালাম এবং আমার পুত্রকে নিয়ে আমার কোলে বসালাম। এরপর মদিনায় আমার স্বামীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। তিনি বলেন: আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে আমার সাথে আর কেউ ছিল না। তিনি বলেন: আমি মনে মনে বলছিলাম, পথে যার সাথেই দেখা হবে তার সাহায্য নেব যতক্ষণ না আমি আমার স্বামীর কাছে পৌঁছাই। অবশেষে যখন আমি ‘তানঈম’ নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন বনু আবদুদ দারের ভাই উসমান ইবনে তালহা ইবনে আবি তালহার সাথে আমার দেখা হল। তিনি বললেন: "হে আবু উমাইয়ার কন্যা! তুমি কোথায় যাচ্ছ?" তিনি বলেন: আমি বললাম: "আমি মদিনায় আমার স্বামীর কাছে যেতে চাই।" তিনি বললেন: "তোমার সাথে কি কেউ নেই?" আমি বললাম: "না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ এবং আমার এই পুত্র ছাড়া আর কেউ নেই।" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম! তোমাকে এভাবে একাকী ছেড়ে দেওয়া যায় না।" এরপর তিনি উটের লাগাম ধরলেন এবং আমাকে নিয়ে দ্রুত গতিতে চলতে শুরু করলেন। আল্লাহর কসম! আমি আরবদের মধ্যে এমন কোনো লোকের সঙ্গ পাইনি যাকে তার চেয়ে বেশি মর্যাদাবান ও ভদ্র মনে হয়েছে। যখন তিনি কোনো বিশ্রামস্থলে পৌঁছাতেন, তখন উটটিকে বসাতেন এবং আমার থেকে দূরে সরে যেতেন। যখন আমরা অবতরণ করতাম, তিনি উটটিকে দূরে নিয়ে যেতেন এবং পিঠ থেকে আসবাবপত্র নামাতেন। এরপর তিনি উটটিকে একটি গাছের সাথে বাঁধতেন এবং নিজে দূরে গিয়ে অবস্থান করতেন।
(খণ্ড: ٢)
জুযু ফিহি মুনতাকা মিন সীরাতি ইবনু হিশাম
(পৃষ্ঠা: ২৯৩)
إِلَى شَجَرَةٍ فَاضْطَجَعَ تَحْتَهَا فَإِذَا دَنَا الرَّوَاحُ قَامَ إِلَى بَعِيرِي فَقَدَّمَهُ فَرَحَّلَهُ، ثُمَّ اسْتَأْخَرَ عَنِّي، فَقَالَ: ارْكَبِي ، فَإِذَا رَكِبْتُ فَاسْتَوَيْتُ عَلَى بَعِيرِي أَتَى فَأَخَذَ بِخِطَامِهِ فَقَادَ بِي حَتَّى يَنْزِلَ بِي، فَلَمْ يَزَلْ يَصْنَعُ ذَلِكَ بِي حَتَّى أَقْدَمَنِي الْمَدِينَةَ، فَلَمَّا نَظَرَ إِلَى قَرْيَةِ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ بِقُبَاءَ، قَالَ: زَوْجُكِ فِي هَذِهِ الْقَرْيَةِ وَكَانَ أَبُو سَلَمَةَ نَازِلا بِهَا فَادْخُلِيهَا عَلَى بَرَكَةِ اللَّهِ ، ثُمَّ انْصَرَفَ رَاجِعًا إِلَى مَكَّةَ، قَالَ: وَكَانَتْ تَقُولُ: مَا أَعْلَمُ أَهْلُ بَيْتٍ لَهُ فِي الإِسْلامِ أَصَابَهُمْ مَا أَصَابَ أَبُو سَلَمَةَ، وَمَا رَأَيْتُ صَاحِبًا قَطُّ كَانَ أَكْرَمَ مِنْ عُثْمَانَ بْنِ طَلْحَةَ
الْحَدِيثُ التَّاسِعُ2119 - وَبِهِ قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ، أَنَّ أَبَاهُ عَبَّادًا حَدَّثَهُ ، عَنْ جَدَّتِهِ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ: " لَمَّا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَخَرَجَ مَعَهُ أَبُو بَكْرٍ حَمَلَ مَالَهُ كُلَّهُ مَعَهُ خَمْسَةَ آلافِ دِرْهَمٍ أَوْ سِتَّةً، فَانْطَلَقَ بِهَا مَعَهُ، قَالَتْ: فَدَخَلَ عَلَيْنَا جَدِّي أَبُو قُحَافَةَ وَقَدْ ذَهَبَ بَصَرُهُ فَقَالَ: وَاللَّهِ إِنِّي لأَرَاهُ قَدْ فَجَعَكُمْ بِمَالِهِ مَعَ نَفْسِهِ، قَالَتْ: قُلْتُ: كَلا يَا أَبَتِ قَدْ تَرَكَ خَيْرًا كَثِيرًا، قَالَتْ: فَأَخَذْتُ أَحْجَارًا مِنْ كُوَّةِ الْبَيْتِ كَانَ أَبِي يَضَعُ مَالَهُ فِيهَا، ثُمَّ وَضَعْتُ عَلَيْهَا ثَوْبًا، ثُمَّ أَخَذْتُ بِيَدِهِ، فَقُلْتُ: يَا أَبَتِ ضَعْ يَدَكَ عَلَى هَذَا الْمَالِ، قَالَتْ: فَوَضَعَ يَدَيْهِ عَلَيْهِ فَقَالَ: لا بَأْسَ إِنْ كَانَ تَرَكَ لَكُمْ هَذَا فَقَدْ أَحْسَنَ.
وَفِي هَذَا بَلاغٌ لَكُمْ وَلا وَاللَّهِ مَا تَرَكَ لَنَا شَيْئًا وَلَكِنْ أَرَدْتُ أَنْ أُسْكِتَ الشَّيْخَ بِذَلِكَ
الْحَدِيثُ الْعَاشِرُ2120 - وَبِهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ حَدَّثَهُ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ سُرَاقَةَ بْنِ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ، قَالَ: لَمَّا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَكَّةَ مُهَاجِرًا إِلَى الْمَدِينَةِ جَعَلَتْ قُرَيْشٌ فِيهِ مِائَةَ نَاقَةٍ لِمَنْ رَدَّهُ عَلَيْهِمْ ، قَالَ: فَبَيْنَمَا أَنَا جَالِسٌ فِي نَادِي قَوْمِي فَأَقْبَلَ رَجُلٌ مِنَّا حَتَّى وَقَفَ عَلَيْنَا فَقَالَ: وَاللَّهِ لَقَدْ رَأَيْتُ رَكَبَةً ثَلاثَةً مَرُّوا عَلَيَّ آنِفًا، إِنِّي لأَرَاهُمْ مُحَمَّدًا وَأَصْحَابَهُ ، قَالَ: فَأَوْمَأْتُ إِلَيْهِ بِعَيْنِي أَنِ اسْكُتْ ، قَالَ: فَمَكَثْتُ قَلِيلا، ثُمَّ قُلْتُ: إِنَّمَا هُمْ بَنُو فُلانٍ يَبْتَغُونَ ضَالَّةً لَهُمْ، قَالَ: لَعَلَّهُ ، ثُمَّ سَكَتَ ، قَالَ: فَمَكَثْتُ قَلِيلا، ثُمَّ قُمْتُ فَدَخَلْتُ بَيْتِي ثُمَّ أَمَرْتُ بِفَرَسِي فَقُيِّدَ لِي إِلَى بَطْنَ الْوَادِي، وَأَمَرْتُ بِسِلاحِي فَأُخْرِجَ لِي مِنْ دُبُرِ حُجْرَتِي ، ثُمَّ أَخَذْتُ قِدَاحِي الَّتِي أَسْتَقْسِمُ بِهَا ، فَلَبِسْتُ لامَتِي ثُمَّ أَخْرَجْتُ قِدَاحِي فَاسْتَقْسَمْتُ بِهَا فَخَرَجَ السَّهْمُ الَّذِي أَكْرَهُ لا نُصْرَةَ ، قَالَ: وَكُنْتُ أَرْجُو أَنْ أَرُدَّهُ عَلَى قُرَيْشٍ فَآخُذَ الْمِائَةَ، قَالَ: فَرَكِبْتُ عَلَى أَثَرِهِ ، فَبَيْنَمَا فَرَسِي يَشْتَدُّ بِي عَثَرَ بِي فَسَقَطْتُ عَنْهُ، قَالَ: فَقُلْتُ: مَا هَذَا؟ قَالَ: ثُمَّ أَخْرَجْتُ قِدَاحِي فَاسْتَقْسَمْتُ بِهَا فَخَرَجَ السَّهْمُ
একটি গাছের কাছে গিয়ে তিনি তার নিচে শুয়ে পড়তেন। যখন রওয়ানা হওয়ার সময় হতো, তিনি আমার উটের কাছে আসতেন এবং সেটিকে প্রস্তুত করে সামনে আনতেন। তারপর তিনি আমার থেকে দূরে সরে যেতেন এবং বলতেন: ‘আরোহণ করুন’। যখন আমি আরোহণ করতাম এবং আমার উটের ওপর উঠে বসতাম, তখন তিনি এসে উটের লাগাম ধরতেন এবং আমাকে নিয়ে পথ চলতেন যতক্ষণ না আমাকে নিয়ে কোথাও যাত্রা বিরতি করতেন। তিনি আমার সাথে এভাবেই করতে থাকলেন যতক্ষণ না আমাকে মদিনায় পৌঁছে দিলেন। যখন তিনি কুবাতে বনু আমর ইবনে আউফের পল্লী দেখলেন, তখন বললেন: ‘আপনার স্বামী এই পল্লীতে আছেন’—সেখানে আবু সালামাহ (রা.) অবস্থান করছিলেন—‘সুতরাং আল্লাহর বরকতে আপনি সেখানে প্রবেশ করুন।’ এরপর তিনি মক্কায় ফিরে গেলেন। উম্মে সালামাহ (রা.) বলতেন: ‘ইসলামে এমন কোনো পরিবারের কথা আমার জানা নেই যারা আবু সালামার পরিবারের মতো বিপদের সম্মুখীন হয়েছে। আর আমি উসমান ইবনে তালহার চেয়ে অধিক মহানুভব কোনো সঙ্গী কখনো দেখিনি।’
নবম হাদিস২১১৯ - এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত: ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা আব্বাদ তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর দাদী আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বের হলেন এবং তাঁর সাথে আবু বকর (রা.) বের হলেন, তিনি (আবু বকর) তাঁর সমস্ত সম্পদ যা পাঁচ অথবা ছয় হাজার দিরহাম ছিল তা সাথে নিয়ে নিলেন এবং তা নিয়ে রওয়ানা হলেন। আসমা (রা.) বলেন: অতঃপর আমাদের কাছে আমার দাদা আবু কুহাফা আসলেন, তখন তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি মনে করি সে (আবু বকর) নিজের প্রাণের সাথে সাথে তার সম্পদ দিয়েও তোমাদের বিপদে ফেলে গেছে। আসমা (রা.) বলেন: আমি বললাম: কদাচ নয় হে পিতা, তিনি আমাদের জন্য অনেক সম্পদ রেখে গেছেন। আসমা (রা.) বলেন: এরপর আমি ঘরের একটি তাক থেকে কিছু পাথর নিলাম যেখানে আমার পিতা তাঁর সম্পদ রাখতেন। তারপর আমি সেগুলোর ওপর একটি কাপড় রাখলাম। এরপর আমি তাঁর হাত ধরলাম এবং বললাম: হে পিতা, এই সম্পদের ওপর আপনার হাত রাখুন। আসমা (রা.) বলেন: তিনি তাঁর হাত দু'টি সেটির ওপর রাখলেন এবং বললেন: কোনো অসুবিধা নেই, যদি তিনি তোমাদের জন্য এটি রেখে গিয়ে থাকেন তবে তিনি ভালো কাজই করেছেন।" আসমা (রা.) বলেন: অথচ এতেই আপনাদের জন্য সংবাদ রয়েছে যে, আল্লাহর কসম, তিনি আমাদের জন্য কিছুই রেখে যাননি, কিন্তু আমি এর মাধ্যমে বৃদ্ধ মানুষটিকে শান্ত করতে চেয়েছিলাম।
দশম হাদিস২১২০ - এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত: যুহরী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান ইবনে মালিক ইবনে জুশুম তাঁর কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর চাচা সুরাকা ইবনে মালিক ইবনে জুশুম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরত করে বের হলেন, তখন কুরাইশরা তাঁকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারবে এমন ব্যক্তির জন্য একশত উট পুরস্কার ঘোষণা করল। সুরাকা বলেন: একদা আমি আমার সম্প্রদায়ের মজলিসে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের এক ব্যক্তি আসলেন এবং আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন: আল্লাহর কসম, আমি এখনই তিনজন আরোহীকে যেতে দেখেছি, আমি নিশ্চিত তারা মুহাম্মদ এবং তাঁর সাথীরা। সুরাকা বলেন: আমি আমার চোখের ইশারায় তাকে ইশারা করলাম যেন সে চুপ থাকে। সুরাকা বলেন: আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম, তারপর বললাম: তারা তো অমুক গোত্রের লোক যারা তাদের হারিয়ে যাওয়া পশুকে খুঁজছে। সে বলল: হতে পারে। এরপর সে চুপ হয়ে গেল। সুরাকা বলেন: আমি আরও কিছুক্ষণ অবস্থান করলাম, এরপর উঠে আমার ঘরে প্রবেশ করলাম এবং আমার ঘোড়া প্রস্তুত করতে নির্দেশ দিলাম, উপত্যকার সমতলে সেটি আমার জন্য বেঁধে রাখা হলো। আমি আমার অস্ত্রের নির্দেশ দিলাম এবং তা আমার কক্ষের পেছন দিক দিয়ে বের করে আনা হলো। এরপর আমি আমার তীরের ভাগ্যনির্ধারণী কাঠিগুলো নিলাম যা দিয়ে আমি ভাগ্য পরীক্ষা করি। আমি আমার বর্ম পরিধান করলাম এবং ভাগ্য পরীক্ষার কাঠিগুলো বের করে ভাগ্য পরীক্ষা করলাম। কিন্তু সেই তীরটি বের হলো যা আমি অপছন্দ করি—অর্থাৎ কোনো সাহায্য পাওয়া যাবে না। সুরাকা বলেন: অথচ আমি আশা করছিলাম যে তাঁকে কুরাইশদের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে একশত উট পাব। সুরাকা বলেন: এরপর আমি তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে আরোহণ করলাম। এমতাবস্থায় আমার ঘোড়া আমাকে নিয়ে দ্রুত ছুটছিল, হঠাৎ সেটি হোঁচট খেল এবং আমি তা থেকে পড়ে গেলাম। সুরাকা বলেন: আমি বললাম, এটি কী হলো? সুরাকা বলেন: এরপর আমি পুনরায় ভাগ্য পরীক্ষার কাঠি বের করলাম এবং তা দিয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করলাম, তখন সেই তীরটিই বের হলো...
(খণ্ড: ٢)
জুযু ফিহি মুনতাকা মিন সীরাতি ইবনু হিশাম
(পৃষ্ঠা: ২৯৪)
الَّذِي أَكْرَهُ، قَالَ: فَأَبَيْتُ إِلا أَنْ أَتَّبِعَهُ، فَرَكِبْتُ فِي أَثَرِهِ، فَلَمَّا بَدَا لِيَ الْقَوْمُ وَرَأَيْتُهُمْ عَثَرَ بِي فَرَسِي وَذَهَبَتْ يَدَاهُ فِي الأَرْضِ وَسَقَطْتُ عَنْهُ، قَالَ: ثُمَّ انْتَزَعَ يَدَيْهِ مِنَ الأَرْضِ وَتَبِعَهَا دُخَانٌ كَالإِعْصَارِ، قَالَ: فَعَرَفْتُ حِينَ رَأَيْتُ ذَلِكَ أَنَّهُ قَدْ مُنِعَ مِنِّي، وَأَنَّهُ ظَاهِرٌ، قَالَ: فَنَادَيْتُ الْقَوْمَ: أَنَا سُرَاقَةُ بْنُ جُعْشُمٍ، انْظُرُونِي أُكَلِّمْكُمْ، فَوَاللَّهِ لا أُرِيبُكُمْ وَلا يَأْتِيكُمْ مِنِّي شَيْءٌ تَكْرَهُونَهُ، قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَبِي بَكْرٍ: «قُلْ لَهُ وَمَا تَبْغِي مِنَّا» .
قَالَ: فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ لِي ذَلِكَ، قَالَ: فَقُلْتُ: تَكْتُبُ لِي كِتَابًا يَكُونُ آيَةً بَيْنِي وَبَيْنَكَ.
قَالَ: «اكْتُبْ لَهُ يَا أَبَا بَكْرٍ» .
قَالَ: فَكَتَبَ لِي كِتَابًا فِي عَظْمٍ أَوْ فِي رُقْعَةٍ أَوْ فِي خَزَفَةٍ، ثُمَّ أَلْقَاهُ إِلَيَّ ، فَأَخَذْتُهُ فَجَعَلْتُهُ فِي كِنَانَتِي، ثُمَّ رَجَعْتُ فَسَكَتُّ فَلَمْ أَذْكُرْ شَيْئًا مِمَّا كَانَ حَتَّى إِذَا كَانَ فَتْحُ مَكَّةَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَفَرَغَ مِنْ حُنَيْنٍ وَالطَّائِفِ، خَرَجْتُ وَمَعِيَ الْكِتَابُ لأَلْقَاهُ ، فَلَقِيتُهُ بِالْجُعْرَانَةِ، قَالَ: فَدَخَلْتُ فِي كَتِيبَةٍ مِنْ خَيْلِ الأَنْصَارِ، قَالَ: فَجَعَلُوا يُقْرِعُونَنِي بِالرِّمَاحِ وَيَقُولُونَ: إِلَيْكَ إِلَيْكَ، مَاذَا تُرِيدُ؟ قَالَ: فَدَنَوْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى نَاقَتِهِ، وَاللَّهِ لَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى سَاقِهِ فِي غَرْزِهِ كَأَنَّهَا جُمَّارَةٌ، قَالَ: فَرَفْعُت يَدِي بِالْكِتَابِ وَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا كِتَابُكَ لِي، أَنَا سُرَاقَةُ بْنُ جُعْشُمٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «يَوْمُ وَفَاءٍ وَبِرٍّ، ادْنُهْ» . قَالَ: فَدَنَوْتُ مِنْهُ فَأَسْلَمْتُ فَتَذَكَّرْتُ شَيْئًا أَشْكُرُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمَا أَذْكُرُهُ إِلا أَنِّي قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ الضَّالَّةُ مِنَ الإِبِلِ تَغْشَى حِيَاضِي وَقَدْ مَلأْتُهَا لإِبِلِي، هَلْ لِي أَجْرٌ فِي أَنْ أَسْقِيَهَا؟ قَالَ: «نَعَمْ فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ حَرَّى أَجْرٌ» .
ثُمَّ رَجَعْتُ إِلَى قَوْمِي فَسُقْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَدَقَتِي.
أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ مِنْ حَدِيثِ عُقَيْلِ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، نَحْوَهُ مُخْتَصَرًا
الْحَدِيثُ الْحَادِي عَشَرَ2121 - وَبِهِ وَحَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْيَزَنِيِّ، عَنْ أَبِي رُهْمٍ السَّمَاعِيِّ، حَدَّثَنِي أَبُو أَيُّوبَ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيْتِي نَزَلَ فِي السُّفْلِ وَأَنَا وَأُمُّ أَيُّوبَ فِي الْعُلُوِّ، فَقُلْتُ لَهُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي، إِنِّي أَكْرَهُ وَأُعَظِّمُ أَنْ أَكُونَ فَوْقَكَ وَتَكُونَ تَحْتِي ، فَاظْهَرْ أَنْتَ فَكُنْ فِي الْعُلُوِّ وَنَنْزِلُ نَحْنُ فَنَكُونُ فِي السُّفْلِ، فَقَالَ: يَا أَبَا أَيُّوبَ أَنْ أَرْفَقُ بِنَا وَبِمَنْ يَغْشَانَا أَنْ نَكُونَ فِي سُفْلِ الْبَيْتِ، قَالَ: فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سُفْلِهِ وَكُنَّا فَوْقَهُ فِي السَّكَنِ، فَلَقَدِ انْكَسَرَ حُبٌّ لَنَا فِيهِ مَاءٌ، فَقُمْتُ أَنَا وَأُمُّ أَيُّوبَ بِقَطِيفَةٍ لَنَا مَا لَنَا لِحَافٍ غَيْرُهَا نُنَشِّفُ بِهَا الْمَاءَ تَخَوُّفًا أَنْ يَقْطُرَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْهُ شَيْءٌ فَيُؤْذِيَهُ، قَالَ: وَكُنَّا نَصْنَعُ لَهُ الْعَشَاءَ ثُمَّ نَبْعَثُ بِهِ إِلَيْهِ، فَإِذَا رَدَّ عَلَيْنَا فَضْلَهُ تَيَمَّمْتُ أَنَا وَأُمُّ أَيُّوبَ مَوْضِعَ يَدِهِ، فَأَكَلْنَا مِنْهُ نَبْتَغِي بِذَلِكَ
...যা আমি অপছন্দ করি। তিনি বলেন: আমি তাঁকে অনুসরণ করা ছাড়া আর সব কিছু করতে অস্বীকার করলাম। আমি তাঁর পিছু নিলাম। যখন কওমের লোকেরা আমার দৃষ্টিগোচর হলো এবং আমি তাদের দেখলাম, তখন আমার ঘোড়া হোঁচট খেল এবং তার দুই পা মাটিতে দেবে গেল, আর আমি ঘোড়া থেকে পড়ে গেলাম। তিনি বলেন: তারপর ঘোড়াটি মাটি থেকে তার দুই পা টেনে তুলল এবং তার খুরের নিচ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের ন্যায় ধোঁয়া বের হতে লাগল। তিনি বলেন: যখন আমি তা দেখলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে আমাকে তাঁর ক্ষতি করা থেকে বাধা প্রদান করা হয়েছে এবং তিনি অবশ্যই বিজয়ী হবেন। তিনি বলেন: তখন আমি কওমকে ডেকে বললাম: আমি সুরাকা ইবনে জুশুম, আপনারা থামুন, আমি আপনাদের সাথে কথা বলব। আল্লাহর কসম, আমি আপনাদের কোনো অনিষ্ট করব না এবং আপনাদের অপছন্দনীয় কিছুই আমার পক্ষ থেকে আসবে না। তিনি বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে বললেন: «তাকে বলো, সে আমাদের কাছে কী চায়?»।
তিনি বলেন: আবু বকর আমাকে তা বললেন। তিনি বলেন: আমি বললাম: আপনি আমার জন্য একটি লিপি লিখে দিন, যা আমার ও আপনার মাঝে একটি নিদর্শন (নিরাপত্তা পত্র) হয়ে থাকবে।
তিনি বললেন: «হে আবু বকর, তার জন্য লিখে দাও»।
তিনি বলেন: অতঃপর তিনি আমার জন্য একটি হাড়ের টুকরোয় অথবা চামড়ার টুকরোয় কিংবা মাটির পাত্রের টুকরোয় একটি লিপি লিখে দিলেন, অতঃপর তিনি তা আমার দিকে ছুঁড়ে দিলেন। আমি সেটি নিয়ে আমার তূণীরে রেখে দিলাম। এরপর আমি ফিরে এলাম এবং চুপ থাকলাম, যা ঘটেছিল তা নিয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করিনি। এমনকি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে মক্কা বিজয় হলো এবং তিনি হুনাইন ও তায়েফের যুদ্ধ থেকে অবসর হলেন, তখন আমি সেই লিপিটি নিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে বের হলাম। আমি আল-জি’রানায় তাঁর দেখা পেলাম। তিনি বলেন: আমি আনসারদের অশ্বারোহী এক সেনাদলের মাঝে প্রবেশ করলাম। তিনি বলেন: তারা আমাকে বর্শার অগ্রভাগ দিয়ে আঘাত করতে লাগল এবং বলতে লাগল: দূরে সরো, দূরে সরো, তুমি কী চাও? তিনি বলেন: তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হলাম যখন তিনি তাঁর উটনীর ওপর ছিলেন। আল্লাহর কসম, আমি যেন তাঁর পায়ের নলার দিকে তাকিয়ে দেখছি যা রেকাবের ভেতর ছিল, সেটি দেখতে যেন খেজুর গাছের মজ্জার মতো সাদা। তিনি বলেন: আমি লিপিটি নিয়ে আমার হাত তুললাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি আমার জন্য আপনার সেই লিপি, আমি সুরাকা ইবনে জুশুম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আজ প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও সদাচরণের দিন, কাছে এসো»। তিনি বলেন: তখন আমি তাঁর নিকটবর্তী হলাম এবং ইসলাম গ্রহণ করলাম। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায় এমন কিছু জিজ্ঞেস করার কথা চিন্তা করলাম। তখন আমার শুধু এই কথাটিই মনে পড়ল, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, পথহারা উটগুলো আমার জলাধারে আসে যা আমি আমার উটগুলোর জন্য পূর্ণ করে রেখেছি, আমি যদি সেগুলোকে পানি পান করাই তবে কি আমি সওয়াব পাব? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, প্রতিটি তৃষ্ণার্ত প্রাণসম্পন্ন সজীব কলিজার অধিকারীকে পান করানোর মাঝেই সওয়াব রয়েছে»।
অতঃপর আমি আমার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমার সদকা পাঠিয়ে দিলাম।
এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন উকাইল ইবনে খালিদ থেকে, তিনি যুহরি থেকে, এর অনুরূপ সংক্ষিপ্তভাবে।
একাদশ হাদিস২১২১ - একই সূত্রে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মারসাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ইয়াজানি থেকে, তিনি আবু রুহম আস-সামায়ী থেকে, তিনি বলেন, আবু আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বাড়িতে অবতরন করলেন, তিনি নিচতলায় থাকলেন এবং আমি ও উম্মে আইয়ুব ওপরতলায় থাকলাম। আমি তাঁকে বললাম: হে আল্লাহর নবী, আপনার প্রতি আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোন, আমি এটি অপছন্দ করি এবং এটিকে গুরুতর মনে করি যে, আমি আপনার ওপরে থাকব আর আপনি আমার নিচে থাকবেন। তাই আপনিই ওপরতলায় গিয়ে অবস্থান করুন এবং আমরা নিচে নেমে যাই। তিনি বললেন: হে আবু আইয়ুব, যারা আমাদের সাথে সাক্ষাত করতে আসে তাদের জন্য এবং আমাদের নিজেদের জন্য নিচতলায় থাকাটাই অধিক সুবিধাজনক। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিচতলায় অবস্থান করলেন এবং আমরা ওপরের অংশে থাকলাম। একদা আমাদের একটি পানির পাত্র ভেঙে গেল যাতে পানি ছিল। আমি এবং উম্মে আইয়ুব আমাদের একটি চাদর দিয়ে তা মুছতে শুরু করলাম, অথচ তা ছাড়া আমাদের অন্য কোনো লেপ ছিল না। আমরা পানি মুছছিলাম এই ভয়ে যে পাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কোনো পানি চুঁইয়ে পড়ে তাঁকে কষ্ট দেয়। তিনি বলেন: আমরা তাঁর জন্য রাতের খাবার তৈরি করতাম এবং তা তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিতাম। যখন তিনি তাঁর খাবারের অবশিষ্টাংশ আমাদের কাছে ফেরত পাঠাতেন, আমি ও উম্মে আইয়ুব তাঁর হাতের চিহ্ন তালাশ করতাম এবং সেখান থেকে খেতাম এই আশায়।
(খণ্ড: ٢)
জুযু ফিহি মুনতাকা মিন সীরাতি ইবনু হিশাম
(পৃষ্ঠা: ২৯৫)
الْبَرَكَةَ، حَتَّى بَعَثْنَا إِلَيْهِ لَيْلَةً بِعَشَائِهِ وَقَدْ جَعَلْنَا فِيهِ بَصَلا أَوْ ثُومًا، فَرَدَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ أَرَ لِيَدِهِ فِيهِ أَثَرًا قَالَ: فَجِئْتُهُ فَزِعًا ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي رَدَدْتَ عَشَاءَكَ لَمْ أَرَ فِيهِ مَوْضِعَ يَدِكَ، وَكُنْتَ إِذَا رَدَدْتَهُ عَلَيْنَا تَيَمَّمْتُ أَنَا وَأُمُّ أَيُّوبَ مَوْضِعَ يَدِكَ نَبْتَغِي بِذَلِكَ الْبَرَكَةَ.
قَالَ: «إِنِّي وَجَدْتُ فِيهِ رِيحَ هَذِهِ الشَّجَرَةَ وَأَنَا رَجُلٌ أُنَاجِي، فَأَمَّا أَنْتُمْ فَكُلُوهُ» .
فَقَالَ: فَأَكَلْنَاهُ وَلَمْ نَضَعْ لَهُ تِلْكَ الشَّجَرَةَ بَعْدُ.
أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ أَفْلَحَ مَوْلَى أَبِي أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ ، عَنْهُ
الْحَدِيثُ الثَّانِي عَشَرَ2122 - وَبِهِ حَدَّثَنِي صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ، عَنْ صَالِحٍ مَوْلَى التَّوْأَمَةِ بِنْتِ أُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَمَنْ لا أَتَّهِمُ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " دَخَلُوا الْبَابَ الَّذِي أُمِرُوا أَنْ يَدْخُلُوا مِنْهُ سُجَّدًا يَزْحَفُونَ وَهُمْ يَقُولُونَ: حِنْطَةٌ مِنْ شَعِيرٍ "
الْحَدِيثُ الثَّالِثَ عَشَرَ2123 - وَبِهِ قَالَ: حَدَّثَنِي عُتْبَةُ بْنُ مُسْلِمٍ ، مَوْلَى بَنِي تَمِيمٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: " يُوشِكُ النَّاسُ أَنْ يَتَسَاءَلُوا بَيْنَهُمْ حَتَّى يَقُولَ قَائِلُهُمْ: هَذَا اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ الْخَلْقَ، فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ؟ فَإِذَا قَالُوا ذَلِكَ فَقُولُوا: {اللَّهُ أَحَدٌ {1} اللَّهُ الصَّمَدُ {2} لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ {3} وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 1-4] ثُمَّ لِيَتْفُلِ الرَّجُلُ عَنْ يَسَارِهِ ثَلاثًا وَلْيَسْتَعِذْ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ ".
أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ، مِنْ حَدِيثِ سَلَمَةَ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ.
وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ، مِنْ حَدِيثِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، وَغَيْرِهِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ
الْحَدِيثُ الرَّابِعَ عَشَرَ2124 - وَبِهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ، حِبِّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: رَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ يَعُودُهُ مِنْ شَكْوٍ أَصَابَهُ عَلَى حِمَارٍ عَلَيْهِ إِكَافٌ فَوْقَهُ قَطِيفَةٌ فَدَكِيَّةٌ مُخْتَطِمَةٌ بِحَبْلٍ مِنْ لِيفٍ وَأَرْدَفَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَمَرَّ بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيٍّ وَهُوَ ظِلُّ مُزَاحِمِ أُطُمِهِ قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: مُزَاحِمٌ اسْمُ الأُطُمِ، قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: وَحَوْلَهُ رِجَالٌ مِنْ قَوْمِهِ، فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَذَمَّمَ مِنْ أَنْ يُجَاوِزَهُ حَتَّى يَنْزِلَ فَنَزَلَ فَسَلَّمَ ثُمَّ جَلَسَ قَلِيلا فَتَلا الْقُرْآنَ وَدَعَا إِلَى اللَّهِ عز وجل وَذَكَّرَ بِاللَّهِ وَحَذَّرَ وَبَشَّرَ وَأَنْذَرَ.
قَالَ: وَهُوَ
বরকতের জন্য, এমনকি এক রাতে আমরা তাঁর কাছে তাঁর রাতের খাবার পাঠালাম এবং আমরা তাতে পিঁয়াজ বা রসুন দিয়েছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ফেরত দিলেন, এবং আমি তাতে তাঁর হাতের কোনো চিহ্ন দেখতে পেলাম না। তিনি (আবু আইয়ুব) বললেন: আমি ভীত হয়ে তাঁর কাছে গেলাম এবং বললাম: হে আল্লাহর রাসুল, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোক, আপনি আপনার রাতের খাবার ফেরত দিয়েছেন অথচ আমি তাতে আপনার হাতের চিহ্ন দেখতে পাইনি। আপনি যখন আমাদের কাছে তা ফেরত দিতেন, আমি ও উম্মে আইয়ুব বরকত লাভের আশায় আপনার হাতের স্পর্শের স্থানটি খুঁজে নিতাম।
তিনি বললেন: «আমি এতে এই বৃক্ষের (রসুন বা পিঁয়াজের) গন্ধ পেয়েছি, আর আমি এমন এক ব্যক্তি যে (একান্তে) কথোপকথন করে থাকি, তবে তোমরা এটি খাও»।
তিনি বললেন: তারপর আমরা তা খেলাম এবং এরপর আর কখনো তাঁর জন্য ওই বৃক্ষ (পিঁয়াজ বা রসুন) দেইনি।
ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন আবু আইয়ুবের মুক্তদাস আফলাহ থেকে, তিনি আবু আইয়ুব থেকে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে।
দ্বাদশ হাদিস2122 - এবং এই সূত্রে সালেহ ইবনে কায়সান আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সালেহ থেকে, যিনি উমাইয়া ইবনে খালাফের কন্যা তুয়ামার মুক্তদাস, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং যার ব্যাপারে আমি কোনো সন্দেহ পোষণ করি না এমন একজনের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "তারা সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করেছিল যেখান দিয়ে তাদের সিজদারত অবস্থায় প্রবেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা হামাগুড়ি দিয়ে প্রবেশ করছিল এবং বলছিল: যবের মধ্যে গম।"
ত্রয়োদশ হাদিস2123 - এবং এই সূত্রে তিনি বলেন: উত্বা ইবনে মুসলিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, যিনি বনু তামীমের মুক্তদাস, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "মানুষ শীঘ্রই একে অপরকে প্রশ্ন করতে শুরু করবে, এমনকি তাদের কেউ বলে উঠবে: ‘ইনি তো আল্লাহ যিনি সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, তবে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে?’ যখন তারা এমন কথা বলবে, তখন তোমরা বলো: {বলুন, তিনি আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।} [আল-ইখলাস: ১-৪] তারপর সেই ব্যক্তি যেন তার বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় প্রার্থনা করে।"
এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন সালামাহ ইবনুল ফাদল থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে।
এবং এটি নাসায়ি 'আল-ইয়াওম ওয়াল লায়লাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে সাদ ও অন্যদের সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে।
চতুর্দশ হাদিস2124 - এবং এই সূত্রে তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আজ-জুহরি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে যুবায়ের থেকে, তিনি উসামা ইবনে যায়েদ ইবনে হারিসাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয়পাত্র ছিলেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’দ ইবনে উবাদাহর অসুস্থতার খবর পেয়ে তাকে দেখতে যাওয়ার জন্য একটি গাধার পিঠে চড়লেন। গাধাটির পিঠে একটি জিনের ওপর ফাদাকি মখমলের কাপড় বিছানো ছিল এবং এর লাগাম ছিল খেজুরের আঁশের তৈরি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর পেছনে বসিয়ে নিলেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন সে তার মুজাহিম নামক দুর্গের ছায়ায় বসা ছিল। ইবনে হিশাম বলেন: মুজাহিম হলো দুর্গের নাম। ইবনে ইসহাক বলেন: তার (ইবনে উবাইয়ের) চারপাশে তার গোত্রের লোকেরা ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে দেখলেন, তিনি তাকে অতিক্রম করে চলে যাওয়াকে অপছন্দ করলেন যতক্ষণ না তিনি নিচে নামেন। সুতরাং তিনি নিচে নামলেন, সালাম দিলেন, এরপর কিছুক্ষণ বসলেন এবং কুরআন তিলাওয়াত করলেন, মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান জানালেন, আল্লাহকে স্মরণ করিয়ে দিলেন, সতর্ক করলেন, সুসংবাদ দিলেন এবং ভয় প্রদর্শন করলেন।
তিনি বললেন: আর তিনি
(খণ্ড: ٢)
জুযু ফিহি মুনতাকা মিন সীরাতি ইবনু হিশাম
(পৃষ্ঠা: ২৯৬)
زَامٌّ لا يَتَكَلَّمُ حَتَّى إِذَا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَقَالَتِهِ قَالَ: «يَا هَذَا إِنَّهُ لا أَحْسَنُ مِنْ حَدِيثِكَ، إِنْ كَانَ حَقًّا فَاجْلِسْ فِي بَيْتِكَ، فَمَنْ جَاءَكَ لَهُ فَحَدِّثْهُ إِيَّاهُ، وَمَنْ لَمْ يَأْتِكَ فَلا تَغُتَّهُ بِهِ، وَلا تَأْتِهِ فِي مَجْلِسِهِ بِمَا يَكْرَهُ مِنْهُ» .
قَالَ: فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ فِي رِجَالٍ كَانُوا عِنْدَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ: فَاغْشِنَا بِهِ وَائْتِنَا بِهِ فِي مَجَالِسِنَا وَدُورِنَا وَبُيُوتِنَا فَهُوَ وَاللَّهِ مِمَّا نُحِبُّ وَمِمَّا أَكْرَمَنَا اللَّهُ بِهِ وَهَدَانَا لَهُ.
فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي حِينٍ رَأَيَا خِلافَ قَوْمِهِ مَا رَأَى:
مَتَي مَا يَكُنْ مَوْلاكَ خَصْمَكَ لا تَزَلْ
… تُذَلُّ وَيَصْرَعْكَ الَّذِينَ تُصَارِعُ
وَهَلْ يَنْهَضُ الْبَازِي بِغَيْرِ جَنَاحِهِ
… وَإِنْ جُذَّ يَوْمًا رِيشُهُ فَهُوَ وَاقِعُ.
أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ مَعْمَرٍ، وَغَيْرِهِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، نَحْوَهُ.
وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ، مِنْ حَدِيثِ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، مُخْتَصَرًا
الْحَدِيثُ الْخَامِسَ عَشَرَ2125 - وَبِهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أُسَامَةَ ، قَالَ: وَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَدَخَلَ عَلَى سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ وَفِي وَجْهِهِ مَا قَالَ عَدُوُّ اللَّهِ ابْنُ أُبَيٍّ، فَقَالَ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لأَرَى فِي وَجْهِكَ شَيْئًا لَكَأَنَّكَ سَمِعْتَ شَيْئًا تَكْرَهُهُ.
فَقَالَ: «أَجَلْ» .
ثُمَّ أَخْبَرَهُ بِمَا قَالَ ابْنُ أُبَيٍّ، فَقَالَ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ارْفُقْ بِهِ، فَوَاللَّهِ لَقَدْ جَاءَ اللَّهُ بِكَ وَإِنَّا لَنَنْظِمُ لَهُ الْخَرَزَ لِنُتَوِّجَهُ، فَإِنَّهُ يَرَى أَنْ قَدْ سَلَبْتَهُ مُلْكًا
الْحَدِيثُ السَّادِسَ عَشَرَ2126 - وَبِهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ رُومَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ: لَمَّا أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْقَتْلَى أَنْ يَطْرَحُوا بِالْقَلِيبِ طُرِحُوا فِيهِ، إِلا مَا كَانَ مِنْ أُمَيَّةَ بْنِ خَلَفٍ؛ فَإِنَّهُ انْتَفَخَ فِي دِرْعِهِ فَمَلأَهَا فَذَهَبُوا لِيُخْرِجُوهُ فَتَزَايَلَ فَأَقَرُّوهُ بِهِ، وَأَلْقَوْا عَلَيْهِ مَا غَيَّبَهُ مِنَ التُّرَابِ وَالْحِجَارَةِ فَلَمَّا أَلْقَاهُمْ فِي الْقَلِيبِ وَقَفَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: «يَا أَهْلَ الْقَلِيبِ هَلْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَكُمْ رَبُّكُمْ حَقًّا؟ فَإِنِّي قَدْ وَجَدْتُ مَا وَعَدَنِي رَبِّي
তিনি চুপ রইলেন এবং কোনো কথা বললেন না, যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন। অতঃপর তিনি (ইবনে উবাই) বললেন: «হে ব্যক্তি! তোমার কথার চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই যদি তা সত্য হয়। সুতরাং তুমি তোমার ঘরে বসে থাকো। যে তোমার কাছে আসবে, তাকে তা শুনিও। আর যে তোমার কাছে আসবে না, তাকে তা দিয়ে বিরক্ত করো না এবং তার মজলিসে এমন কিছু নিয়ে যেও না যা সে অপছন্দ করে»।
বর্ণনাকারী বলেন: তখন আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা সেখানে উপস্থিত মুসলিমদের মধ্য থেকে বলে উঠলেন: আপনি আমাদের কাছে এ নিয়ে আসুন এবং আমাদের মজলিসে, আঙিনায় ও ঘরবাড়িতে আমাদের নিকট নিয়ে আসুন। আল্লাহর শপথ! এটি এমন কিছু যা আমরা ভালোবাসি এবং যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের সম্মানিত করেছেন ও হিদায়াত দান করেছেন।
অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই যখন তার কওমের মতামত তার নিজের মতের বিপরীতে দেখলেন, তখন বললেন:
যখনই তোমার আপনজন তোমার প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবে, তখন তুমি সর্বদা
… লাঞ্ছিত হবে এবং যাদের সাথে তুমি লড়াই করছ তারাই তোমাকে ধরাশায়ী করবে।
বাজপাখি কি তার ডানা ছাড়া উড়তে পারে?
… আর যদি কোনো দিন তার পালক কেটে ফেলা হয়, তবে সে তো মাটিতেই লুটিয়ে পড়বে।
এটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম মা'মার এবং অন্যদের সূত্রে যুহরী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
আর ইমাম নাসাঈ সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজের সূত্রে যুহরী থেকে সংক্ষেপে এটি বর্ণনা করেছেন।
পঞ্চদশ হাদিস২১২৫ - এই সনদেই তিনি (পূর্ববর্তী রাবী) বলেন: আমাকে যুহরী বর্ণনা করেছেন উরওয়াহ থেকে, তিনি উসামাহ থেকে। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উঠে দাঁড়ালেন এবং সাদ ইবনে উবাদাহর নিকট প্রবেশ করলেন। আল্লাহর শত্রু ইবনে উবাই যা বলেছিল, তার চিহ্ন নবীজীর চেহারায় প্রকাশ পাচ্ছিল। তখন সাদ বললেন: আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার চেহারায় এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি, যেন আপনি অপ্রীতিকর কিছু শুনেছেন।
তিনি বললেন: «হ্যাঁ»।
অতঃপর তিনি ইবনে উবাই যা বলেছিল তা তাকে জানালেন। তখন সাদ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি তার প্রতি সদয় হোন। আল্লাহর শপথ, আল্লাহ যখন আপনাকে নিয়ে এসেছেন, তখন আমরা তাকে মুকুট পরানোর জন্য মণি-মুক্তা গাঁথছিলাম। তাই সে মনে করে যে, আপনি তার কাছ থেকে রাজত্ব ছিনিয়ে নিয়েছেন।
ষোড়শ হাদিস২১২৬ - এই সনদেই তিনি বলেন: আমাকে ইয়াজিদ ইবনে রুমান বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে যুবাইর থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে। তিনি বলেন: যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিহতদের কূপে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিলেন, তখন তাদের তাতে নিক্ষেপ করা হলো। তবে উমাইয়্যা ইবনে খালাফের ব্যাপারটি ছিল ভিন্ন; কারণ সে তার বর্মের মধ্যেই ফুলে গিয়েছিল এবং তা পূর্ণ করে ফেলেছিল। তারা তাকে বের করতে গিয়ে দেখল তার দেহ খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যাচ্ছে, তাই তারা তাকে সেখানেই রেখে দিল এবং তার ওপর মাটি ও পাথর দিয়ে ঢেকে দিল। যখন তিনি তাদের কূপে নিক্ষেপ করলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সামনে দাঁড়ালেন এবং বললেন: «হে কূপের অধিবাসীরা! তোমাদের রব তোমাদের সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন, তা কি তোমরা সত্য হিসেবে পেয়েছ? নিশ্চয়ই আমার রব আমার সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন তা আমি সত্য হিসেবে পেয়েছি»।
(খণ্ড: ٢)
জুযু ফিহি মুনতাকা মিন সীরাতি ইবনু হিশাম
(পৃষ্ঠা: ২৯৭)
حَقًّا» .
قَالَ: فَقَالَ لَهُ أَصْحَابُهُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُكَلِّمُ قَوْمًا مَوْتَى؟ قَالَتْ: فَقَالَ لَهُمْ: «لَقَدْ عَلِمُوا» أَنَّ مَا وَعَدْتُهُمْ حَقٌّ ".
قَالَتْ عَائِشَةُ: وَالنَّاسُ يَقُولُونَ: لَقَدْ سَمِعُوا مَا قُلْتُ لَهُمْ ، وَإِنَّمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَقَدْ عَلِمُوا»
সত্য।"
তিনি বলেন: তখন তাঁর সাহাবীগণ তাঁকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি এমন এক মৃত সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলছেন? তিনি (আয়েশা) বলেন: তখন তিনি তাদের বললেন: "তারা অবশ্যই জেনেছে" যে, আমি তাদের যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা সত্য।"
আয়েশা (রা.) বলেন: আর মানুষ বলে থাকে: 'আপনি তাদের যা বলেছেন তারা তা শুনেছে', অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেবল বলেছিলেন: "তারা অবশ্যই জেনেছে।"