(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: -)
المنتقى من الفوائد الحسان في الحديث   (المزي، جمال الدين)

القسم: كتب السنة


الكتاب: المنتقى من الفوائد الحسان في الحديث

المؤلف: يوسف بن عبد الرحمن بن يوسف، أبو الحجاج، جمال الدين ابن الزكي أبي محمد القضاعي الكلبي المزي (ت 742هـ)

قام بتحقيقه وتخريجه: أبو المنذر سامي بن أنور خليل جاهين

الناشر: مكتبة الغرباء الأثرية، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م

عدد الصفحات: 85

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাদীসের সুন্দর কল্যাণকর বিষয়াবলি থেকে নির্বাচিত সংকলন   (আল-মিযযী, জামালুদ্দীন)

বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ


বই: হাদীসের সুন্দর কল্যাণকর বিষয়াবলি থেকে নির্বাচিত সংকলন

লেখক: ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ, আবু হাজ্জাজ, জামালুদ্দীন ইবনুল জাকি আবু মুহাম্মাদ আল-কুদায়ী আল-কালবি আল-মিযযী (মৃত্যু ৭৪২ হিজরি)

গবেষণা ও তথ্যসূত্র যাচাইকরণ: আবু আল-মুনযির সামি বিন আনোয়ার খলিল জাহিন

প্রকাশক: মাকতাবাতুল গুরবা আল-আসারিইয়াহ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৫

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: -)
الْمُنْتَقَى مِنَ الْفَوَائِدِ الْحِسَانِ فِي الْحَدِيثِ

لِلإِمَامِ الْحَافِظِ أَبِي الْحَجَّاجِ يُوسُفَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمِزِّيِّ
হাদিস বিষয়ক চমৎকার ও সুন্দর শিক্ষাগুলো থেকে চয়নকৃত

ইমাম হাফিজ আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মিজ্জীর
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ২১)
جُزْءٌ فِيهِ مُنْتَقًى مِنْ جُزْءٍ فِيهِ مِنَ الْفَوَائِدِ الْحِسَانِ مِنْ حَدِيثِ: أَبِي حَامِدٍ مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَيَّاحٍ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ شُيُوخِهِ.

رِوَايَةُ: أَبِي طَاهِرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْمُخَلِّصِ عَنْهُ.

رِوَايَةُ: أَبِي الْحُسَيْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ النَّقُّورِ عَنْهُ.

رِوَايَةُ: أَبِي مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الطّرَاحِ الْمُدِيرِ عَنْهُ.

رِوَايَةُ: أَبِي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزُذَ الدَّاجزِيِّ عَنْهُ.

رِوَايَةُ: أَحْمَدَ بْنِ شَيْبَانَ، وَزَيْنَبَ بِنْتِ مَكِّيِّ بْنِ عَلِيِّ بْنِ كَامِلٍ عَنْهُ.

رِوَايَةُ: الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْبِرْزَالِيِّ عَنْهُمَا

انْتَقَى هَذَا الْجُزْءَ الإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو الْحَجَّاجِ الْمِزِّيُّ نَفَعَ اللَّهُ بِهِ، وَهُوَ خَمْسَةٌ وَخَمْسُونَ حَدِيثًا.
একটি পুস্তিকা যাতে আবু হামিদ মুহাম্মাদ ইবনে হারুন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাইয়্যাহ আল-হাদরামি-এর হাদীস থেকে চয়ন করা সুন্দর ও উপকারী বর্ণনাসমূহ সংকলিত হয়েছে, যা তিনি তাঁর উস্তাদদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

বর্ণনা: আবু তাহের মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনুল আব্বাস আল-মুখাল্লিস, তাঁর থেকে।

বর্ণনা: আবু হুসাইন আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুন নাক্কুর, তাঁর থেকে।

বর্ণনা: আবু মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুত তাররাহ আল-মুদির, তাঁর থেকে।

বর্ণনা: আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মা'মার ইবনে তাবারযুদ আদ-দাজজি, তাঁর থেকে।

বর্ণনা: আহমদ ইবনে শায়বান এবং যায়নাব বিনতে মাক্কি ইবনে আলী ইবনে কামিল, তাঁর থেকে।

বর্ণনা: কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মাদ আল-বিরযালি, তাঁদের দুইজনের থেকে।

এই পুস্তিকাটি চয়ন করেছেন ইমাম হাফেজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিযযি, আল্লাহ তাঁর দ্বারা উপকৃত করুন। এতে পঞ্চান্নটি হাদীস রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ২২)
بسم الله الرحمن الرحيم

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ شَيْبَانَ بْنِ تَغْلِبَ الشَّيْبَانِيُّ، وَأُمُّ أَحْمَدَ زَيْنَبُ بِنْتُ مَكِّيِّ بْنِ عَلِيِّ بْنِ كَامِلٍ الْحَرَّانِيِّ، قِرَاءَةً عَلَيْهِمَا، وَأَنَا أَسْمَعُ، قَالا: أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَعْمَرِ بْنِ طَبَرْزُذَ فِي شَعْبَانَ سَنَةَ أَرْبَعٍ وَسِتِّ مِائَةٍ بِالْجَامِعِ الْمُظَفَّرِيِّ، قَالَ: أنا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الطّرَاحِ الْمُدِيرُ بِبَغْدَادَ، قَالَ: أنا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ النَّقُّورِ، قَالَ: أنا أَبُو طَاهِرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْعَبَّاسِ الْمُخَلِّصُ فِي سَنَةِ سَبْعِينَ وَثَلاثِ مِائَةٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حَامِدٍ مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَيَّاحٍ الْحَضْرَمِيُّ قَالَ:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শায়খ আবুল আব্বাস আহমাদ ইবন শায়বান ইবন তাগলিব আশ-শায়বানী এবং উম্মু আহমাদ যায়নাব বিনতে মাক্কী ইবন আলী ইবন কামিল আল-হাররানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন—তাদের সম্মুখে পাঠকালে এবং আমি শ্রবণরত অবস্থায়; তারা উভয়ে বললেন: আবু হাফস উমর ইবন মুহাম্মাদ ইবন মা'মার ইবন তাবারযুদ ছয়শত চার হিজরীর শাবান মাসে আল-জামি আল-মুযাফফরীতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: বাগদাদের পরিচালক আবু মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ইবন আলী ইবন মুহাম্মাদ ইবনুত তাররাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-হুসাইন আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুন নাক্কুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু তাহের মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান ইবনুল আব্বাস আল-মুখলিস তিনশত সত্তর হিজরীতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু হামিদ মুহাম্মাদ ইবন হারুন ইবন আব্দুল্লাহ ইবন মাইয়াহ আল-হাদরামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الْحَدِيثُ الأَوَّلُ

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عُمَرَ بْنِ خَالِدٍ الأَقْطَعُ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ مَنْصُورٍ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: - وَلا أَرَاهُ إِلا مَرْفُوعًا - قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عز وجل يَقْبَلُ الصَّدَقَةَ وَلا يَقْبَلُ مِنْهَا إِلا طَيِّبًا، وَيَقْبَلُهَا بِيَمِينِهِ فَيَرُبُّهَا كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ أَوْ فَصِيلَهُ حَتَّى يَجْعَلَهَا أَعْظَمَ مِنْ أُحُدٍ.

قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: وَهُوَ فِي كِتَابِ اللَّهِ: {يَمْحَقُ اللَّهُ الرِّبَا وَيُرْبِي الصَّدَقَاتِ} [البقرة: 276] .

ثُمَّ تَلا: {أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ} [التوبة: 104] إِلَى آخِرِ الآيَةِ.
প্রথম হাদীস

সুলাইমান ইবন উমর ইবন খালিদ আল-আক্বত্বা' আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি আব্বাদ ইবন মানসুর থেকে, তিনি কাসিম ইবন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন—তিনি বলেন (আর আমি একে রাসূলুল্লাহর বাণী হিসেবেই জানি): "নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ সদকা কবুল করেন এবং তিনি কেবল পবিত্র বস্তুই কবুল করেন। তিনি তা তাঁর ডান হাতে গ্রহণ করেন, অতঃপর তা এমনভাবে লালন-পালন করেন যেমনভাবে তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চা বা উটের বাচ্চাকে লালন-পালন করে, এমনকি তিনি সেটাকে ওহুদ পাহাড়ের চেয়েও বিশাল করে দেন।"

আবু হুরায়রা বলেন: এটি আল্লাহর কিতাবেও রয়েছে: {আল্লাহ সুদকে মিটিয়ে দেন এবং সদকাকে বৃদ্ধি করেন} [আল-বাকারা: ২৭৬]।

অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {তারা কি জানে না যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন} [আত-তাওবা: ১০৪] আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّانِي

وَبِهِ إِلَى مُحَمَّدِ بْنِ هَارُونَ الْحَضْرَمِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ أَبِي إِسْرَائِيلَ، أَنَا أَبُو يُوسُفَ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَتَى مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَقَرَّ بِالزِّنَا فَرَدَّهُ، ثُمَّ عَادَ فَأَقَرَّ بِالزِّنَا فَرَدَّهُ، ثُمَّ عَادَ فَأَقَرَّ بِالزِّنَا فَرَدَّهُ، فَلَمَّا كَانَ فِي الرَّابِعَةِ سَأَلَ عَنْهُ قَوْمَهُ: هَلْ يُنْكِرُونَ مِنْ عَقْلِهِ شَيْئًا؟ قَالُوا: لا، فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ فِي مَوْضِعٍ قَلِيلِ الْحِجَارَةِ، فَأَبْطَأَ عَلَيْهِ الْمَوْتُ، فَانْطَلَقَ يَسْعَى إِلَى مَوْضِعٍ كَثِيرِ الْحِجَارَةِ، وَاتَّبَعَهُ النَّاسُ فَرَجَمُوهُ حَتَّى قَتَلُوهُ، ثُمَّ ذَكَرُوا شَأْنَهُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا صَنَعَ، فَقَالَ: فَلَوْ خَلَّيْتُمْ سَبِيلَهُ، قَالَ: فَسَأَلَ قَوْمُهُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتَأْذَنُوهُ فِي دَفْنِهِ وَالصَّلاةِ عَلَيْهِ فَأَذِنَ لَهُمْ فِي ذَلِكَ، وَقَالَ: لَقَدْ تَابَ تَوْبَةً لَوْ تَابَهَا فِئَامٌ مِنَ النَّاسِ قُبِلَ مِنْهُمْ.
দ্বিতীয় হাদিস

এবং তাঁর সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে হারুন আল-হাদরামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে আবি ইসরাঈল বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইউসুফ আল-কাদি, আমাদের নিকট আবু হানিফা বর্ণনা করেছেন আলকামা ইবনে মারসাদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বুরাইদা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মায়িজ ইবনে মালিক আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং ব্যভিচারের স্বীকৃতি দিলেন, তখন তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি পুনরায় ফিরে এসে ব্যভিচারের স্বীকৃতি দিলেন এবং তিনি তাকে আবারও ফিরিয়ে দিলেন। পুনরায় তিনি ফিরে এসে ব্যভিচারের স্বীকৃতি দিলেন এবং তিনি তাকে আবারও ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর যখন চতুর্থবার হলো, তিনি তার কওমের নিকট তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন: তোমরা কি তার বিবেকের কোনো অস্বাভাবিকতা বা ত্রুটি লক্ষ করেছ? তারা বলল: না। তখন তিনি তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাকে অল্প পাথর বিশিষ্ট একটি স্থানে পাথর নিক্ষেপ (রজম) করা হলো। এতে তার মৃত্যুতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি দৌড়ে অধিক পাথর বিশিষ্ট একটি স্থানের দিকে চলে গেলেন এবং লোকেরাও তার পিছু নিয়ে তাকে পাথর মারতে থাকল যতক্ষণ না তারা তাকে হত্যা করল। অতঃপর তারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তার অবস্থা ও কর্মের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: তোমরা কেন তাকে তার পথে ছেড়ে দিলে না? বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তার কওমের লোকেরা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তাকে দাফন করার এবং তার জানাজার সালাত আদায়ের অনুমতি চাইলে তিনি তাদের সে বিষয়ে অনুমতি দিলেন এবং বললেন: সে এমন এক তওবা করেছে যে, যদি একদল মানুষও এমন তওবা করত তবে তাদের পক্ষ থেকেও তা কবুল করা হতো।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّالِثُ

وَبِهِ إِلَى الْحَضْرَمِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ جَمِيلٍ، ثنا السَّكَنُ بْنُ أَبِي السَّكَنِ الْبُرْجُمِيُّ أَبُو عَمْرٍو، ثنا يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: وَلا أَرَانِي إِلا قَدْ سِمِعْتُهُ مِنْ حُمَيْدٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: نَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى رَجُلٍ يُهَادَى بَيْنَ رَجُلَيْنِ فَقَالَ: مَا لَهُ؟ قَالُوا: نَذَرَ أَنْ يَمْشِيَ، قَالَ: مَا أَغْنَى اللَّهُ عَنْ مِثْلِ هَذَا نَفْسَهُ، مُرُوهُ فَلْيَرْكَبْ.
তৃতীয় হাদিস

এবং তাঁর মাধ্যমে আল-হাদরামি পর্যন্ত (সনদসহ), তিনি বলেন: আমাদের নিকট আজহার ইবনে জামিল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আস-সাকান ইবনে আবিস সাকান আল-বুরজুমি আবু আমর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইউনুস ইবনে উবাইদ বর্ণনা করেছেন, তিনি হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন—আর আমার ধারণা আমি এটি হুমাইদ থেকে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রেই শুনেছি—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তির দিকে তাকালেন যাকে দুজন মানুষের মাঝে ভর দিয়ে হাঁটিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন: তার কী হয়েছে? তারা বলল: সে হেঁটে যাওয়ার মানত করেছে। তিনি বললেন: আল্লাহ এই ব্যক্তির নিজের ওপর এমন কষ্টদায়ক আচরণ থেকে অমুখাপেক্ষী। তোমরা তাকে নির্দেশ দাও যেন সে সওয়ার হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الْحَدِيثُ الرَّابِعُ

وَبِهِ إِلَى الْحَضْرَمِيِّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، ثنا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ: {اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِنَ الْجِنِّ} [الجن: 1] قَالَ: هَبَطُوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ بِبَطْنِ نَخْلَةَ فَقَالَ: صَهْ وَكَانُوا تِسْعَةً، وَالْعَاشِرُ زَوْبَعَةُ.
চতুর্থ হাদিস

এবং তার মাধ্যমেই হাদরামি পর্যন্ত (সনদ পৌঁছেছে), তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মানি‘, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ আজ-জুবাইরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, তিনি আসিম থেকে, তিনি জির থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: {জিনদের একটি দল মনোযোগ দিয়ে শুনল} [সুরা জিন: ১]। তিনি বলেন: তারা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অবতরণ করল যখন তিনি বাতন-এ নাখলায় ছিলেন। তখন তিনি বললেন: চুপ করো। তারা ছিল নয়জন, আর দশমজন ছিল জাওবাআ।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الْحَدِيثُ الْخَامِسُ

وَبِهِ إِلَى الْحَضْرَمِيِّ، ثنا زَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ الْوَاسِطِيُّ، ثنا بِشْرُ بْنُ السُّرِّيِّ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: ذَرَعْنَا الْمَسْجِدَ، ثَمَّ أَتَيْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: عَرِيشًا كَعَرِيشِ مُوسَى ثُمَامٌ وخُشَيْبَاتٌ وَالأمْرُ أَعْجَلُ مِنْ ذَلِكَ.
পঞ্চম হাদিস

এবং তাঁর সূত্রে আল-হাযরামী পর্যন্ত বর্ণিত; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনে সাঈদ আল-ওয়াসিতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুস সুররি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরী, তিনি সাওর থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মা’দান থেকে, তিনি আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমরা মসজিদটি পরিমাপ করলাম, অতঃপর আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলাম। তখন তিনি বললেন: "মূসার ছাপরার ন্যায় একটি ছাপরা; যা শুকনো ঘাস এবং কিছু কাঠ দিয়ে তৈরি। আর বিষয়টি (পরকাল) এর চেয়েও নিকটবর্তী।"
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌الْحَدِيثُ السَّادِسُ

وَبِهِ إِلَى الْحَضْرَمِيِّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ شَاهِينَ، ثنا هُشَيْمٌ، عَنْ عَوْفٍ، عَنِ الْحَسَنِ، ثنا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رضي الله عنه عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: تَعَاهَدُوا الْقُرْآنَ، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَصِّيًا مِنَ الإِبِلِ الْمُعَلَّقَةِ إِلَى أَعْطَانِهَا.
ষষ্ঠ হাদিস

এবং সেই একই সূত্রে আল-হাদরামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইসহাক ইবনে শাহীন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওফ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা কোরআনের নিয়মিত চর্চা করো। সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই এটি (স্মৃতি থেকে) হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে খোঁয়াড়ে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা উটের চেয়েও অধিক দ্রুত।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الْحَدِيثُ السَّابِعُ

وَبِهِ إِلَى الْحَضْرَمِيِّ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ عُمَرَ بْنِ خَالِدٍ، ثنا أَبِي، ثنا مَعْقِلُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مُحْرِمٌ.
সপ্তম হাদিস

এবং একই সূত্রে আল-হাদরামি পর্যন্ত; সুলায়মান ইবনে উমর ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'কিল ইবনে উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে দীনার থেকে, তিনি আতা থেকে, আর তিনি ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় হিজামা (শিঙা) গ্রহণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّامِنُ

وَبِهِ قَالَ: ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بِشْرِ بْنِ الْحَكَمِ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، ثنا هَاشِمٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ، فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى أَمَرَنِي أَنْ أُعَلِّمَكُمْ مَا جَهِلْتُمْ فِي يَوْمِكُمْ هَذَا.

قَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: فَقُلْتُ لِيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ: إِنَّ هَمَّامًا يَدْخُلُ بَيْنَ قَتَادَةَ وَبَيْنَ مُطَرِّفٍ رَجُلا، فَقَالَ يَحْيَى: ثنا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفٍ نَحْوَهُ.
অষ্টম হাদীস

এবং এর মাধ্যমেই তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে বিশর ইবনুল হাকাম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাশিম হাদীস বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে, তিনি ইয়াদ ইবনে হিমার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাষণ দিলেন। তাতে তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে আমি তোমাদেরকে এমন বিষয় শিক্ষা দিই যা সম্পর্কে তোমরা তোমাদের আজকের এই দিনে অজ্ঞ।

আবদুর রহমান বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বললাম: নিশ্চয়ই হাম্মাম, কাতাদাহ এবং মুতাররিফের মাঝে একজন ব্যক্তিকে যুক্ত করেন। তখন ইয়াহইয়া বললেন: আমাদের নিকট শু'বাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الْحَدِيثُ التَّاسِعُ

وَبِهِ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلِ بْنِ عَسْكَرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: كَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى النَّجَاشِيِّ أَرْبَعَ تَكْبِيرَاتٍ.
নবম হাদিস

এবং উক্ত সূত্রেই তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে সাহল ইবনে আসকার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, আর তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাজ্জাশীর (জানাজার) ওপর চার তাকবীর পাঠ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌الْحَدِيثُ الْعَاشِرُ

وَبِهِ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ بْنِ مَالِجٍ، ثنا دَاوُدُ بْنُ الزِّبْرِقَانِ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: خَيْرُ هَذِهِ الأُمَّةِ الْقَرْنُ الَّذِي بُعِثْتُ فِيهِمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ.
দশম হাদিস

এবং উক্ত সূত্রে তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুআবিয়া ইবনে মালিজ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনুল জিব্রিকান, মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি যুরারাহ ইবনে আওফা থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ হলো সেই প্রজন্ম যাদের মধ্যে আমাকে পাঠানো হয়েছে, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী হবে, অতঃপর যারা তাদের পরবর্তী হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌الْحَدِيثُ الْحَادِيَ عَشَرَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ بْنُ أَبِي إِسْرَائِيلَ، ثنا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ وَثَّابٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: مَنْ أَتَى الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ.
একাদশ হাদিস

এবং এই সনদে তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে আবু ইসরাঈল, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন শারিক, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি জুমুআর সালাতে আসবে, সে যেন গোসল করে।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّانِي عَشَرَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي مَعْشَرٍ، ثنا أَبِي أَبُو مَعْشَرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ مِنَ الشِّعْرِ حِكْمَةً.
দ্বাদশ হাদিস

এবং সেই একই সনদে তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবু মা’শার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আবু মা’শার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই কিছু কবিতার মধ্যে প্রজ্ঞা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪০)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّالِثَ عَشَرَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ بْنُ أَبِي إِسْرَائِيلَ، ثنا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمِ الطَّائِفِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! مَا شَأْنُ النَّاسِ حَلُّوا وَلَمْ تَحِلَّ مِنْ عُمْرَتِكَ؟ قَالَ: إِنِّي لَبَّدْتُ رَأْسِي، وَقَلَّدْتُ هَدْيِي، فَلا أَحِلُّ حَتَّى أَنْحَرَ.
ত্রয়োদশ হাদিস

এবং একই সনদে তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে ইসহাক বিন আবু ইসরাঈল বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইয়াহইয়া বিন সুলাইম আত-তায়েফী বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়দুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি নাফে’ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের অবস্থা কী যে তারা ইহরামমুক্ত হয়ে গেল, অথচ আপনি আপনার উমরাহ থেকে ইহরামমুক্ত হলেন না? তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই আমি আমার মাথার চুল জমাটবদ্ধ করেছি এবং আমার হাদই (কুরবানির পশু)-কে মালা পরিয়েছি; সুতরাং আমি কুরবানি না করা পর্যন্ত ইহরামমুক্ত হব না।”
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌الْحَدِيثُ الرَّابِعَ عَشَرَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا أَبُو هَمَّامٍ الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعٍ، ثنا أَيُّوبُ بْنُ جَابِرٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، عَنْ زِرٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنِّي رَأَيْتُنِي اللَّيْلَةَ يَا أَبَا بَكْرٍ عَلَى قَلِيبٍ فَنَزَعْتُ مِنْهُ ذَنُوبًا أَوْ ذَنُوبَيْنِ، ثُمَّ جِئْتَ أَنْتَ يَا أَبَا بَكْرٍ فَنَزَعْتَ ذَنُوبًا أَوْ ذَنُوبَيْنِ، وَإِنَّكَ لَضَعِيفٌ يَرْحَمُكَ اللَّهُ، ثُمَّ جَاءَ عُمَرُ فَنَزَعَ مِنْهَا حَتَّى اسْتَحَالَتْ غَرْبًا فَضُرِبَتْ بِعَطَنٍ، فَعَبِّرْهَا يَا أَبَا بَكْرٍ.

قَالَ: إِلَيَّ الأَمْرُ مِنْ بَعْدِكَ وَيَلِيهِ عُمَرُ، فَقَالَ: وَكَذَلِكَ عَبَرَهَا الْمَلَكُ.
চতুর্দশ হাদীস

এবং তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু হাম্মাম আল-ওয়ালিদ ইবনে শুজা‘, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব ইবনে জাবির, আসিম ইবনে আবিন নাজুদ থেকে, তিনি জির থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে আবু বকর, আজ রাতে আমি নিজেকে একটি কূপের নিকট দেখলাম। আমি সেখান থেকে এক বালতি বা দুই বালতি পানি তুললাম। এরপর তুমি এলে হে আবু বকর এবং তুমিও এক বালতি বা দুই বালতি পানি তুললে, আর তোমার মাঝে কিছুটা দুর্বলতা ছিল, আল্লাহ তোমাকে রহম করুন। এরপর ওমর এল এবং সে (পানি) তুলতে থাকল যতক্ষণ না তা বিশাল বালতির রূপ নিল এবং উটগুলো তৃপ্ত হয়ে বিশ্রামস্থলে বসে পড়ল। অতএব হে আবু বকর, তুমি এর ব্যাখ্যা করো।"

তিনি (আবু বকর) বললেন: "আপনার পরে নেতৃত্বের বিষয়টি আমার নিকট আসবে এবং এরপর ওমরের নিকট আসবে।" তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: "ফেরেশতাও এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌الْحَدِيثُ الْخَامِسَ عَشَرَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ، ثنا هُشَيْمٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: لا يَتَوَارَثُ أَهْلُ مِلَّتَيْنِ.
পঞ্চদশ হাদীস

এবং তাঁর মাধ্যমে তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আলী ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি আমর ইবনে উসমান থেকে, তিনি উসামা ইবনে যায়েদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: দুই ভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা একে অপরের উত্তরাধিকারী হয় না।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌الْحَدِيثُ السَّادِسَ عَشَرَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ عُمَرَ، ثنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسٍ: أَنَّ جَرِيرًا قَدِمَ الْيَمَنَ وَفِيهَا رَجُلٌ يَسْتَقْسِمُ بِالأَزْلامِ، فَقِيلَ لَهُ: مَا تَصْنَعُ؟ هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ ظَهْرَانِيكَ، لَئِنْ قَدِمَ عَلَيْكَ لَيَضْرِبَنَّ عُنُقَكَ، فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ وَقَفَ، فَقَالَ: وَاللَّهِ لَتَكْسِرَنَّهَا وَتَشْهَدْ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ أَوْ لأَضْرِبَنَّ عُنُقَكَ، فَكَسَرَهَا وَشَهِدَ
ষোড়শ হাদিস

এবং তাঁর মাধ্যমে তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান ইবন উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ঈসা ইবন ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল ইবন আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়স থেকে বর্ণনা করেন যে: জারীর ইয়ামানে আসলেন এবং সেখানে এক ব্যক্তি ভাগ্য নির্ধারণী তীরের মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা করছিল। তখন তাকে বলা হলো: তুমি একি করছ? অথচ এই যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মাঝেই বিদ্যমান। তিনি যদি তোমার কাছে আসেন, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমার গর্দান উড়িয়ে দেবেন। সে যখন এই অবস্থায় ছিল, তখন তিনি (জারীর) সেখানে এসে দাঁড়ালেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম! হয় তুমি এগুলো ভেঙে ফেলবে এবং সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, অন্যথায় আমি অবশ্যই তোমার গর্দান উড়িয়ে দেব। অতঃপর সে সেগুলো ভেঙে ফেলল এবং সাক্ষ্য প্রদান করল।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌الْحَدِيثُ السَّابِعَ عَشَرَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلانَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَسْتَاكُ عَلَى اللِّسَانِ.
সপ্তদশ হাদীস

এবং এই সনদে তিনি (গ্রন্থকার) বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ ইবনে যায়েদ হাদীস বর্ণনা করেছেন গায়লান ইবনে জারীর থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রবেশ করলাম, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর জিহ্বার ওপর মিসওয়াক করছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّامِنَ عَشَرَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا أَزْهَرُ بْنُ جَمِيلٍ، ثنا حَاتِمُ بْنُ وَرْدَانَ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ - يَعْنِي ابْنَ إِسْحَاقَ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِذَا ضَرَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْتَنِبِ الْوَجْهَ.
অষ্টাদশ হাদিস

এবং একই সনদে তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আজহার বিন জামিল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাতিম বিন ওয়ারদান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান — অর্থাৎ ইবনে ইসহাক — তিনি আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন প্রহার করবে, তখন সে যেন মুখমণ্ডল পরিহার করে।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌الْحَدِيثُ التَّاسِعَ عَشَرَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا إِسْحَاقُ بْنُ أَبِي إِسْرَائِيلَ، ثنا حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الكَرَمَانِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي بَيْنَ الْعِشَاءِ وَالْغَدَاةِ ثَلاثَ عَشْرَةَ، يُوتِرُ مِنْهَا بِخَمْسٍ لا يُسَلِّمُ إِلا فِي الْخَامِسَةِ.
উনবিংশতম হাদীস

উক্ত সনদে তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে আবু ইসরাঈল, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাসসান ইবনে ইবরাহীম আল-কিরমানী, তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, আর তিনি আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এশা এবং ফজর নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে তেরো রাকআত নামায পড়তেন, যার মধ্যে তিনি পাঁচ রাকআত বিতর আদায় করতেন এবং পঞ্চম রাকআতের আগে সালাম ফিরাতেন না।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
‌‌الْحَدِيثُ الْعِشْرُونَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا خَالِدُ بْنُ يُوسُفَ، ثنا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِمَّا يَكْثُرُ أَنْ يَقُولَ فِي رُكُوعِهِ: سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي.
বিংশতম হাদীস

এবং তাঁর মাধ্যমেই তিনি (গ্রন্থকার) বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানাহ, তিনি মানসূর থেকে, তিনি আবুয যুহা থেকে, তিনি মাসরূক থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রুকুতে অধিক পরিমাণে এই দুআটি পাঠ করতেন: "হে আল্লাহ, হে আমাদের রব! আপনার প্রশংসার সাথে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন।"
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌الْحَدِيثُ الْحَادِي وَالْعِشْرُونَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا خَالِدٌ، ثنا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ أَنَّهُ قَالَ عَلَى الْمِنْبَرِ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لا يَجِدُ مَا يَمْلأُ بَطْنَهُ مِنَ الدَّقَلِ وَهُوَ جَائِعٌ.
একুশতম হাদিস

এবং এর মাধ্যমেই তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আওয়ানাহ বর্ণনা করেছেন, সিমাক থেকে, নুমান ইবনে বশীর থেকে বর্ণিত যে, তিনি মিম্বরের উপর দাঁড়িয়ে বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষুধার্ত থাকা অবস্থায় তাঁর পেট পূর্ণ করার মতো সাধারণ মানের খেজুরও পেতেন না।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّانِي وَالْعِشْرُونَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، ثنا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، ثنا عَبْدُ الْمُؤْمِنُ بْنُ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ، وَصَلَّى وَأَقَامَنِي عَنْ يَسَارِهِ.
দ্বাবিংশ হাদিস

এবং একই সনদে তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে হুরাইস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফজল ইবনে মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল মুমিন ইবনে খালিদ, আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি আল-মুগিরা ইবনে শু'বাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অজু করলেন এবং তাঁর মোজাদ্বয়ের ওপর মাসেহ করলেন, এবং সালাত আদায় করলেন ও আমাকে তাঁর বাম পাশে দাঁড় করালেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫০)
‌‌الْحَدِيثُ الثَّالِثُ وَالْعِشْرُونَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، ثنا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عُقَيْلٍ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُكْثِرُ الذِّكْرَ وَيُقِلُّ اللَّغْوَ، وَيُطِيلُ الصَّلاةَ وَيُقَصِّرُ الْخُطْبَةَ، وَكَانَ لا يَأْنَفُ ولا يَسْتَكْبِرُ أَنْ يَمْشِي مَعَ الأرْمَلَةِ وَالْمِسْكِينِ حَتَّى يَقْضِيَ لَهُ حَاجَتَهُ.
তেইশতম হাদিস

এবং তাঁর মাধ্যমেই তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে হুরাইস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফজল ইবনে মুসা, হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ থেকে বর্ণিত, ইয়াহইয়া ইবনে উকাইল থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধিক পরিমাণে জিকির করতেন এবং অনর্থক কথা কম বলতেন। তিনি সালাত দীর্ঘ করতেন এবং খুতবা সংক্ষিপ্ত করতেন। তিনি বিধবা ও মিসকিনের সাথে চলতে এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ করে দিতে কোনো প্রকার সংকোচ বোধ করতেন না এবং অহংকার করতেন না।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌الْحَدِيثُ الرَّابِعُ وَالْعِشْرُونَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، ثنا أَبُو قُتَيْبَةَ، ثنا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْعَبَّاسِ الشِّبَامِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: الْغُلامُ الَّذِي قَتَلَهُ الْخِضْرُ طُبِعَ كَافِرًا.
চব্বিশতম হাদিস

এবং তাঁর মাধ্যমে তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে আলী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুতায়বাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল জাব্বার ইবনুল আব্বাস আশ-শিবামি, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: খিজির যে বালকটিকে হত্যা করেছিলেন, তাকে কাফের হিসেবেই সৃষ্টি করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫২)
‌‌الْحَدِيثُ الْخَامِسُ وَالْعِشْرُونَ

وَبِهِ قَالَ: ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيُّ، ثنا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ الرِّيَاحِيُّ، ثنا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ رِبْعِيٍّ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: لأَدْفَعَنَّ الرَّايَةَ إِلَى رَجُلٍ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ.

فَبَعَثَ إِلَى عَلِيٍّ، فَجَاءَ وَهُوَ أَرْمَدُ فَتَفَلَ فِي عَيْنِهِ وَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ، فَمَا رَدَّ وَجْهَهُ حَتَّى فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَمَا أَشْكَاهَا بَعْدُ.
পঁচিশতম হাদিস

এবং তাঁর সূত্রে তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উমর ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-রিয়াহি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুতামির ইবনে সুলাইমান তাঁর পিতা সুলাইমান আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মানসুর থেকে, তিনি রিবয়ি থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা অর্পণ করব, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন।

অতঃপর তিনি আলীর নিকট লোক পাঠালেন, তিনি আসলেন এমতাবস্থায় যে তিনি চক্ষুপ্রদাহে আক্রান্ত ছিলেন। তখন তিনি তাঁর চোখে থুথু দিলেন এবং তাঁকে পতাকা প্রদান করলেন। অতঃপর তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরে তাকাননি যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে বিজয় দান করলেন এবং এরপর তিনি আর কখনও সেই ব্যথায় ভোগেননি।
(খণ্ড: ১) আল-মুনতাকা মিনাল ফাওয়াইদিল হিসান ফিল হাদীছ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
‌‌الْحَدِيثُ السَّادِسُ وَالْعِشْرُونَ

وَبِهِ قَال: ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي عَامِرٍ الْخَزَّازِ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَآهُ أَوْ رَأَى رَجُلا يُصَلِّي الْفَجْرَ وَقَدْ أُقِيمَتِ الصَّلاةُ، فَقَالَ: أَتُصَلِّي الصُّبْحَ أَرْبَعًا "؟ !.
ছাব্বিশতম হাদীস

এবং একই সূত্রে তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ আত-তাইমী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, তিনি আবু আমির আল-খাজ্জায হতে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ হতে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে অথবা এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে তিনি ফজরের সালাত আদায় করছেন এমতাবস্থায় যে সালাতের একামত হয়ে গিয়েছিল। তখন তিনি বললেন: "তুমি কি ফজরের সালাত চার রাকাত পড়ছ?!"