(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: -)
الإقناع لابن المنذر   (ابن المنذر)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الإقناع لابن المنذر

المؤلف: أبو بكر محمد بن إبراهيم بن المنذر النيسابوري (ت 319هـ)

تحقيق: الدكتور عبد الله بن عبد العزيز الجبرين

الناشر: (بدون)

الطبعة: الأولى، 1408 هـ

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনুল মুনযিরের আল-ইকনা   (ইবনুল মুনযির)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: ইবনুল মুনযিরের আল-ইকনা

লেখক: আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম বিন আল-মুনযির আন-নাইসাবুরি (মৃত্যু ৩১৯ হিজরি)

সম্পাদনা: ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-জিবরীন

প্রকাশক: (অনুল্লেখিত)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের নম্বরকরণ মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৪৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين وصلى الله عَلَى مُحَمَّد وعلى آله وسلم تسليما.

 

‌‌كتاب الوضوء

1 - أَخْبَرَنِي كَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমরা তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং আল্লাহ মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর রহমত ও যথাযথ শান্তি বর্ষণ করুন।

 

‌‌ওযুর কিতাব

১ - আমাকে কাসীর ইবনে যায়েদ সংবাদ দিয়েছেন,
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৪৪)
عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «لا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلاةً بِغَيْرِ طُهُورٍ، وَلا صَدَقَةً مِنْ غَلُولٍ»
ওয়ালীদ ইবনে রাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পবিত্রতা ব্যতিরেকে আল্লাহ কোনো সালাত কবুল করেন না এবং আত্মসাৎকৃত মাল থেকে কোনো সাদাকাহ গ্রহণ করেন না।”
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌باب ذكر الأحداث التي تنقض الطهارة وتوجب الوضوء

2 - نا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ: نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ الْعَدَنِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ زِرِّ بْنِ
পবিত্রতা ভঙ্গকারী এবং ওযু ওয়াজিবকারী বিষয়সমূহের বর্ণনার অধ্যায়

২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল হাসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়ালীদ আল-আদানী, সুফিয়ান থেকে, তিনি আসিম থেকে, তিনি ঝির ইবনে... থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৪৬)
حُبَيْشٍ، قَالَ: أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ أَسْأَلُهُ عَنِ الْمَسْحِ، فَقَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَأْمُرُنَا أَلا نَنْزَعَ خِفَافَنَا ثَلاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ إِلا مِنْ جَنَابَةٍ، وَلَكِنْ مِنْ: نَوْمٍ، وَغَائِطٍ، وَبَوْلٍ "

الذي يوجب الوضوء خروج الغائط، والريح من الدبر، وخروج البول من ذكر الرجل، وقبل الْمَرْأَة، والمذي، والنوم وإن قل عَلَى أي حال كَانَ النوم، وملامسة
হুবাইশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান ইবনে আসসালের নিকট আসলাম তাঁকে মাসেহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নির্দেশ দিতেন যেন আমরা তিন দিন ও তিন রাত পর্যন্ত আমাদের মোজাগুলো না খুলি, অপবিত্রতা (জানাবাত) ব্যতীত; তবে ঘুম, মলত্যাগ এবং প্রস্রাবের কারণে (না খুলে মাসেহ করতে পারি)।

যা ওযু ওয়াজিব করে তা হলো মলত্যাগ, মলদ্বার দিয়ে বায়ু নির্গত হওয়া, পুরুষের লিঙ্গ ও নারীর সম্মুখপথ থেকে প্রস্রাব নির্গত হওয়া, মযী এবং ঘুম—তা সামান্য হোক বা যে কোনো অবস্থাতেই হোক না কেন, এবং স্পর্শ করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৪৭)
الرجل أهله، وأكل لحوم الإبل، زوال العقل بأي وجه زال عقل المرء، بجنون أو إغماء، وجميع مَا خرج من ذكر رجل أو قبل امرأة أو دبرهما، أحداث كل واحد منها ينقض الوضوء ويوجب الطهارة ودم الاستحاضة يوجب الوضوء، ويقين الطهارة لا يزيله الشك في الحدث.

 

‌‌باب ذكر مَا يوجب الغسل

3 - نا الرَّبِيعُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الشَّافِعِيُّ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ،
পুরুষের তার স্ত্রীর সাথে সহবাস, উটের গোশত আহার করা, যে কোনোভাবে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান লোপ পাওয়া—চাই তা উন্মাদনা কিংবা মূর্ছা যাওয়ার কারণে হোক—এবং পুরুষের লিঙ্গ অথবা নারীর সম্মুখপথ কিংবা উভয়ের পশ্চাৎপথ দিয়ে যা কিছু নির্গত হয়; এসব বিষয়ের প্রতিটিই ওজু ভঙ্গ করে এবং পবিত্রতা অর্জন আবশ্যক করে। আর ইস্তিহাযার রক্ত ওজু আবশ্যক করে। পবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকলে ওজু ভঙ্গের ব্যাপারে উদিত হওয়া সন্দেহ তা দূর করতে পারে না।

 

‌‌গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহের বর্ণনা অধ্যায়

৩ - রাবি’ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে—
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৪৮)
عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: جَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ امْرَأَةُ أَبِي طَلْحَةَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ اللَّهَ لا يَسْتَحِي مِنَ الْحَقِّ، هَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ غُسْلٍ إِذَا هِيَ احْتَلَمَتْ.

قَالَ: نَعَمْ إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ "
জয়নাব বিনতে আবি সালামা থেকে বর্ণিত, তিনি উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু তালহার স্ত্রী উম্মে সুলাইম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জা বোধ করেন না। নারীর যদি স্বপ্নদোষ হয়, তবে কি তার ওপর গোসল করা আবশ্যক?

তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যদি সে পানি (বীর্য) দেখতে পায়।"
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৪৯)
الذي يوجب الاغتسال خروج الْمَاء الدافق من ذكر الرجل، وقبل الْمَرْأَة في اليقظة والنوم بجماع وغير جماع، والتقاء الختانين، ويجب عَلَى الحائض، وعلى النفساء الاغتسال عند طهرهما من المحيض والنفاس، ويجب عَلَى الكافر إذا أسلم أن يغتسل، وغسل الميت المسلم واجب عَلَى من علم بموته.

 

‌‌باب ذكر الآنية

4 - نا أَبُو مَيْسَرَةَ، قَالَ: نا عَبْدُ الأَعْلَى، وَوَهْبُ بْنُ بَقِيَّةَ، قَالا: نا خَالِدٌ، عَنْ
যা গোসলকে ওয়াজিব করে তা হলো জাগ্রত বা নিদ্রিত অবস্থায় সহবাস অথবা সহবাস ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে পুরুষের লিঙ্গ ও নারীর যোনি থেকে সবেগে বীর্য নির্গত হওয়া এবং দুই খতনাস্থলের মিলন। ঋতুমতী ও নিফাসগ্রস্ত মহিলার ওপর তাদের ঋতুস্রাব ও নিফাস থেকে পবিত্র হওয়ার সময় গোসল করা ওয়াজিব। কাফির ব্যক্তি যখন ইসলাম গ্রহণ করে তখন তার ওপর গোসল করা ওয়াজিব। আর মুসলিম মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া তার মৃত্যু সম্পর্কে অবগত ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব।

 

‌‌পাত্রসমূহের বর্ণনা সংক্রান্ত অধ্যায়

৪ - আবু মাইসারা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল আলা এবং ওয়াহাব ইবনে বাকিয়্যাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা বলেন: খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন... হতে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৫০)
سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: «أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِتَغْطِيَةِ الإِنَاءِ، وَإِيكَاءِ السِّقَاءِ»

يستحب تغطية الإناء بالليل للوضوء، والوضوء جائز في جميع الآنية الطاهر منها، إلا آنية الذهب والفضة، فإنا نكره الوضوء منها، ويجزئ وضوء من توضأ فيها.
সুহাইল তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের পাত্র ঢেকে রাখতে এবং মশকের মুখ বেঁধে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।"

ওযুর জন্য রাতে পাত্র ঢেকে রাখা মুস্তাহাব। সকল প্রকার পবিত্র পাত্রে ওযু করা জায়েজ, তবে সোনা ও রূপার পাত্র ব্যতীত। কারণ আমরা তা থেকে ওযু করাকে অপছন্দ করি, তবে কেউ তাতে ওযু করলে তা যথেষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌باب آداب الوضوء

5 - حَدَّثَنَا بَكَّارُ بْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ: نا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى، قَالَ: نا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَجْلانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْقَعْقَاعُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ
ওযুর আদব অধ্যায়

৫ - বাক্কার ইবনে কুতাইবা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাফওয়ান ইবনে ঈসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আজলান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-কাক্কা ইবনে হাকিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৫২)
رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ مِثْلُ الْوَالِدِ، فَإِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْغَائِطَ فَلا يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ وَلا يَسْتَدْبِرْهَا، وَإِذَا اسْتَطَابَ فَلا يَسْتَطِبْ بِيَمِينِهِ.

وَكَانَ يَأْمُرُنَا بِثَلاثَةِ أَحْجَارٍ، وَيَنْهَى عَنِ الرَّوْثِ وَالرِّمَّةِ»

من السنة أن يتباعد من الناس من أراد الغائط ويستتر، وله أن
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট একজন পিতার সমতুল্য। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন মলত্যাগ করতে যায়, তখন সে যেন কিবলার দিকে মুখ না করে এবং তার দিকে পিঠও না দেয়। আর যখন সে শৌচকার্য সম্পাদন করে, তখন যেন ডান হাত দ্বারা শৌচকার্য না করে।"

তিনি আমাদের তিনটি পাথর ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন এবং গোবর ও জরাজীর্ণ হাড় ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন।

সুন্নাহ হলো, যে ব্যক্তি মলত্যাগ করতে চায় সে যেন লোকালয় থেকে দূরে সরে যায় এবং নিজেকে আবৃত করে। আর তার জন্য উচিত যে...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৫৩)
يبول بقرب الناس، ويقول عند دخول الخلاء: «اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث» .

وَلا يستقبل القبلة وَلا يستدبرها للغائط والبول في الصحارى، وَلا حرج عليه في المنازل، وَلا يتغوط في طرق الناس وَلا مجالسهم، وَلا أبنيتهم، وَلا يمس ذكره بيمينه، إلا أن يكون بيساره علة يلجأ إِلَى أن يمسه بيمينه، والبول قائما وجالسا مباح، والوقوف عن ذكر اللَّه والمرء جالس للغائط والبول حسن، وَلا يرد السلام من عَلَى هذه الحال، ويستحب أن يضع الخاتم الذي فِيهِ ذكر اللَّه عند دخول الخلاء.

 

‌‌باب ذكر الاستنجاء

6 - نا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: نا ابْنُ
তিনি মানুষের নিকটবর্তী স্থানে প্রস্রাব করেন এবং শৌচাগারে প্রবেশের সময় বলেন: "হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট অপবিত্র পুরুষ জিন ও অপবিত্র নারী জিন হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

উন্মুক্ত প্রান্তরে মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলামুখী হবে না এবং কিবলার দিকে পিঠও দেবে না। তবে ঘরবাড়ির অভ্যন্তরে (আবদ্ধ স্থানে) এতে কোনো দোষ নেই। আর মানুষের চলাচলের পথে, তাদের মজলিসে কিংবা তাদের দালানকোঠায় মলত্যাগ করবে না। আর নিজের লিঙ্গ ডান হাত দিয়ে স্পর্শ করবে না, তবে যদি বাম হাতে কোনো সমস্যা থাকে যার ফলে সে ডান হাত ব্যবহার করতে বাধ্য হয় (তবে ভিন্ন কথা)। দাঁড়িয়ে এবং বসে প্রস্রাব করা বৈধ। মলমূত্র ত্যাগের জন্য উপবিষ্ট অবস্থায় আল্লাহর জিকির থেকে বিরত থাকা উত্তম। এমতাবস্থায় সালামের উত্তর প্রদান করবে না। শৌচাগারে প্রবেশের সময় আল্লাহর নাম সংবলিত আংটি রেখে যাওয়া মুস্তাহাব।

 

ইস্তিঞ্জা (শৌচকার্য) সংক্রান্ত অধ্যায়

৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসান বিন আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৫৪)
نُمَيْرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ: قَالَ الْمُشْرِكُونَ: لَقَدْ عَلَّمَكُمْ صَاحِبُكُمْ حَتَّى يُوشِكَ أَنْ يُعَلِّمَكُمُ الْخِرَاءَةَ.

فَقَالَ: أَجَلْ، «نَهَانَا أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِالْعِظَامِ، وَبِالرَّجِيعِ» .
নুমায়র, আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ থেকে এবং তিনি সালমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুশরিকরা বলল, ‘তোমাদের সঙ্গী তোমাদের সবকিছুই শিক্ষা দিচ্ছেন, এমনকি মলত্যাগের নিয়ম পর্যন্ত।’

তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, তিনি আমাদের হাড় এবং গোবর দিয়ে ইস্তিনজা করতে নিষেধ করেছেন।’
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَقَالَ: «لا يَكْفِي أَحَدُكُمْ دُونَ ثَلاثَةِ أَحْجَارٍ» يُجْزِئُهُ أَنْ يَسْتَنْجِيَ بِثَلاثَةِ أَحْجَارٍ إِذَا أَنْقَى، وَلا يُجْزِئُهُ دُونَ ثَلاثَةِ أَحْجَارٍ، وَإِنْ لَمْ تُنَقِّهْ ثَلاثَةُ أَحْجَارٍ زَادَ حَتَّى يُنَقَّى، وَلا يُجْزِئُهُ فِيمَا عَدَا الْمَخْرَجِ مِنَ الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ إِلا الْغُسْلَ بِالْمَاءِ، وَالاسْتِنْجَاءُ مِنَ الْبَوْلِ كَالاسْتِنْجَاءِ مِنَ الْغَائِطِ، وَيُجْزِئُ الاسْتِنْجَاءُ بِالْمَدَرِ، وَالْخَشَبِ، وَالْخِرَقِ، وَالْقُطْنِ، وَالْخَزَفِ وَمَا أَشْبَهُ ذَلِكَ، وَلا يُسْتَنْجَى بِشَيْءٍ مِنَ الأَرْوَاثِ، وَلا بِمَا اسْتُنْجِيَ بِهِ مَرَّةً إِلا أَنْ يَطْهُرَ، وَلا يُسْتَنْجَى بِالْعِظَامِ وَلا بِشَيْءٍ نَجِسٍ، وَيُسْتَحَبُّ الاسْتِنْجَاءُ بِالْمَاءِ، وَإِنْ جَمَعَ الْحِجَارَةَ وَالْمَاءَ فَحَسَنٌ، وَيُسْتَحَبُّ إِذَا فَرَغَ مِنَ الاسْتِنْجَاءِ أَنْ يَمْسَحَ يَدَهُ بِتُرَابٍ أَوْ مَا يَقُومُ مَقَامَهُ، وَيَغْسِلُ يَدَهُ إِذَا فَرَغَ مِنَ الاسْتِنْجَاءِ، وَيَقُولُ إِذَا فَرَغَ مِنَ الْخَلاءِ: «غُفْرَانَكَ»

 

‌‌باب السواك

7 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ: نا يَعْلَى، قَالَ:
এবং তিনি বলেছেন: "তোমাদের কারো জন্য তিনটি পাথরের কম পর্যাপ্ত হবে না।" যদি পরিষ্কার হয়ে যায়, তবে তিনটি পাথর দিয়ে ইসতিনজা করা তার জন্য যথেষ্ট হবে, আর তিনটি পাথরের কম তার জন্য যথেষ্ট হবে না। আর যদি তিনটি পাথর দ্বারা পরিষ্কার না হয়, তবে পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত (পাথরের সংখ্যা) বৃদ্ধি করবে। আর মল ও মূত্র নির্গমনের মূল স্থান ব্যতিরেকে শরীরের অন্য কোথাও লেগে গেলে পানি দিয়ে ধোয়া ছাড়া তা যথেষ্ট হবে না। প্রস্রাব থেকে ইসতিনজা করা পায়খানা থেকে ইসতিনজা করার মতোই। আর শুকনো মাটি, কাঠ, ন্যাকড়া, তুলা, মাটির পাত্রের টুকরো এবং এই জাতীয় বস্তু দ্বারা ইসতিনজা করা যথেষ্ট। আর কোনো প্রকার গোবর বা বিষ্ঠা দিয়ে ইসতিনজা করা যাবে না, এবং একবার ব্যবহৃত হয়েছে এমন বস্তু দিয়েও ইসতিনজা করা যাবে না যতক্ষণ না তা পবিত্র করা হয়। আর হাড় বা কোনো অপবিত্র বস্তু দিয়ে ইসতিনজা করা যাবে না। পানি দিয়ে ইসতিনজা করা মুস্তাহাব, আর যদি কেউ পাথর এবং পানি উভয়টি একত্র করে তবে তা উত্তম। ইসতিনজা থেকে ফারেগ হওয়ার পর হাত মাটি বা তার স্থলাভিষিক্ত কোনো কিছু দিয়ে ঘষে নেওয়া মুস্তাহাব, এবং ইসতিনজা থেকে ফারেগ হয়ে সে তার হাত ধুয়ে নেবে। আর শৌচাগার থেকে বের হওয়ার সময় সে বলবে: "আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি (গুফরানাকা)।"

 

‌‌মিসওয়াক অধ্যায়

৭ - আমাদের কাছে আলী ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইয়ালা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৫৬)
نا مِسْعَرٌ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قُلْتُ لِعَائِشَةَ: " بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ يَبْدَأُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ؟ قَالَتْ: بِالسِّوَاكِ
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিসআর, আল-মিকদাম ইবন শুরাইহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আয়িশাকে জিজ্ঞাসা করলাম, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজ ঘরে প্রবেশ করতেন তখন সর্বপ্রথম কোন কাজ দিয়ে শুরু করতেন?" তিনি বললেন, "মিসওয়াক দিয়ে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৫৭)
يبدأ إذا أراد المرء الوضوء بالسواك، لأن النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يبدأ إذا دخل بيته، ويستاك لكل وضوء، ولقيام الليل ".

 

‌‌باب ذكر الْمَاء

8 - نا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اسْتَحَمَّتْ مِنْ جَنَابَةٍ، فَجَاءَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيَسْتَحِمَّ مِنْ فَضْلِهَا، فَقَالَتْ: إِنِّي اغْتَسَلْتُ فِيهِ.

فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ الْمَاءَ لا يُنَجِّسُهُ شَيْءٌ»
একজন ব্যক্তি যখন ওজু করার ইচ্ছা করে তখন সে মেসওয়াক দিয়ে শুরু করবে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ঘরে প্রবেশ করতেন তখন মেসওয়াক দিয়ে শুরু করতেন এবং তিনি প্রতিটি ওজুর জন্য ও কিয়ামুল লাইলের জন্য মেসওয়াক করতেন।"

 

পানি সংক্রান্ত অধ্যায়

৮ - আলী ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈক স্ত্রী জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করেছিলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ব্যবহৃত অবশিষ্ট পানি দিয়ে গোসল করতে আসলেন। তখন তিনি (স্ত্রী) বললেন: আমি তো এতে গোসল করেছি।

তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই পানিকে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না।"
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৫৮)
فالماء كله طاهر يجوز الوضوء والاغتسال به إلا مَا حلت فِيهِ نجاسة غيرت للماء طعما أو لونًا أو ريحًا، فإن ذَلِكَ لا تجوز الطهارة به، والعذب والبحر والقليل والكثير منه سواء، وَلا يجوز الوضوء بشيء من الأشربة والأطعمة والألبان والأنبذة ومياه الشجر، وَلا بما يخالط الْمَاء من الأطعمة والأشربة حَتَّى يزال عنه اسم الْمَاء، وذلك مثل: العسل، واللبن، والخل يختلط بالماء فيزول عنه اسم الْمَاء، وَلا حد فيما يغتسل به المرء أو يتوضأ إلا الكفاية.

والوضوء بفضل الجنب، والحائض، والنفساء جائز، وأسآر الدواب التي يؤكل لحومها، وَلا يؤكل طاهر، وإذا ولغ الكلب من بين الدواب في الإناء غسل سبعًا إحداهن بالتراب.

 

‌‌باب صفة الوضوء

9 - نا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا
অতএব সমস্ত পানিই পবিত্র, তা দ্বারা অজু ও গোসল করা বৈধ, তবে যদি তাতে এমন কোনো নাপাকি নিপতিত হয় যা পানির স্বাদ, বর্ণ অথবা গন্ধ পরিবর্তন করে দেয়, তবে তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন বৈধ নয়। এক্ষেত্রে মিষ্টি পানি, সমুদ্রের পানি, অল্প পানি কিংবা অধিক পানি সবই সমান। আর কোনো প্রকার পানীয়, খাদ্যদ্রব্য, দুধ, নাবিয এবং গাছের পানি দ্বারা অজু করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে পানির সাথে মিশ্রিত এমন কোনো খাদ্য বা পানীয় দ্বারাও অজু করা বৈধ নয় যা পানির নামকে বিলুপ্ত করে দেয়। যেমন: মধু, দুধ ও সিরকা পানির সাথে মিশে গেলে পানির নাম আর অবশিষ্ট থাকে না। আর মানুষ যা দ্বারা গোসল বা অজু করবে তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই, কেবল পর্যাপ্ত হওয়া বা প্রয়োজন পূর্ণ হওয়াই যথেষ্ট।

এবং জুনুবী (অপবিত্র ব্যক্তি), ঋতুবতী ও নিফাসগ্রস্ত নারীর ব্যবহৃত অতিরিক্ত পানি দিয়ে অজু করা বৈধ। আর যেসব পশুর গোশত খাওয়া হয় এবং যাদের গোশত খাওয়া হয় না তাদের উচ্ছিষ্ট পবিত্র। পশুকুলের মধ্য থেকে কুকুর যদি পাত্রে মুখ দেয়, তবে তা সাতবার ধৌত করতে হবে, যার মধ্যে একবার মাটি দ্বারা।

 

‌‌অজুর পদ্ধতি পরিচ্ছেদ

৯ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইবরাহিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৫৯)
عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ حُمْرَانَ بْنِ
আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মা‘মার, তিনি যুহরী থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াজিদ আল-লায়সী থেকে, তিনি হুমরান ইবনে... থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৬০)
أَبَانٍ، قَالَ: رَأَيْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ «تَوَضَّأَ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ ثَلاثًا فَغَسَلَهُمَا، ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْثَرَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاثًا، ثُمَّ غَسَلَ يَدَهُ الْيُمْنَى إِلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلاثًا، ثُمَّ غَسَلَ الْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ» ، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ قَدَمَهُ الْيُمْنَى مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي، ثُمَّ قَالَ: مَنْ تَوَضَّأَ مِثْلَ وُضُوئِي هَذَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ "

আবান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উসমান বিন আফফানকে দেখেছি, «তিনি অজু করলেন; প্রথমে তাঁর দুই হাতের ওপর তিনবার পানি ঢাললেন এবং হাত দুটি ধৌত করলেন, তারপর কুলি করলেন এবং নাকে পানি দিয়ে ঝাড়লেন, এরপর তিনবার তাঁর মুখমণ্ডল ধৌত করলেন, তারপর কনুই পর্যন্ত তাঁর ডান হাত তিনবার ধৌত করলেন, অতঃপর বাম হাত একইভাবে ধৌত করলেন», এরপর মাথা মাসেহ করলেন, অতঃপর একইভাবে তাঁর ডান পা ধৌত করলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার এই অজুর ন্যায় অজু করতে দেখেছি। অতঃপর তিনি (নবীজি) বললেন: যে ব্যক্তি আমার এই অজুর ন্যায় অজু করবে, এরপর দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং তাতে নিজের মনের সাথে কোনো কথা বলবে না, তার পূর্ববর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৬১)
إذا أردت الوضوء فأن تغسل يديك ثلاثًا أحب إلي، ويجزئ واحدة، وليس عَلَى من تركه شيء، وقال: بسم اللَّه وأنوي الطهارة، ثم مضمض ثلاثًا، واستنثر ثلاثًا إن شئت من غرفة واحدة، وإن شئت من ثلاث غرف، ثم اغسل وجهك ثلاثًا تبدأ بأعلى الوجه، وحد الوجه الذي يجب غسله، مَا بين منابت شعر الرأس إِلَى الأذنين، واللحيين، والذقن، ويمر الْمَاء عَلَى ظاهر اللحية، وتمسح المؤقين ببعض أصابعك، ثم اغسل يدك اليمنى مَا بين أطراف الأصابع إِلَى المرفق ثلاثًا واليسرى كذلك، ثم تغترف الْمَاء بكفك اليمنى، ثم تمسح الكف اليمنى عَلَى اليسرى حَتَّى تصب مَا غرفت من كفيك، ثم تمسح برأسك تبدأ بمقدم رأسك حَتَّى تبلغ أطراف شعرك عَلَى قفاك، ثم تردهما إِلَى مقدم رأسك، وتمسح ظاهر أذنيك وباطنهما تدخل سبابتيك في صماخي أذنيك، وتمسح بإبهاميك ظهورهما، ثم تغسل رجلك اليمنى إِلَى الكعب، والكعب: هو الناتئ، ثم اليسرى كذلك، فإذا فرغت من وضوئك، قلت: سبحانك وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك، اللهم اجعلني من التوابين، واجعلني من المتطهرين، ويجزيك الوضوء مرة مرة، ومرتين مرتين، وثلاثًا أفضل.

 

‌‌باب المسح عَلَى الخفين

10 - نا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ، قَالَ: نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ التَّيْمِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ
আপনি যদি ওযু করতে চান তবে আপনার দুই হাত তিনবার ধৌত করা আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়, তবে একবার ধৌত করাও যথেষ্ট হবে এবং যে ব্যক্তি এটি ত্যাগ করবে তার ওপর কোনো দায় নেই। আপনি বলবেন: আল্লাহর নামে শুরু করছি এবং পবিত্রতার নিয়ত করবেন। এরপর তিনবার কুলি করবেন এবং চাইলে এক আঁজলা পানি থেকে অথবা চাইলে তিন আঁজলা পানি থেকে তিনবার নাকে পানি দিয়ে ঝাড়বেন। এরপর তিনবার আপনার মুখমণ্ডল ধৌত করবেন, মুখমণ্ডলের উপরিভাগ থেকে শুরু করবেন। মুখমণ্ডলের যে সীমানা ধৌত করা ওয়াজিব তা হলো মাথার চুলের স্বাভাবিক রেখা থেকে দুই কান এবং চোয়ালের দুই হাড় ও চিবুক পর্যন্ত। দাড়ির বহিরাংশের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করবেন এবং আপনার কোনো আঙুল দিয়ে চোখের দুই কোণ মুছবেন। এরপর আপনার ডান হাত আঙুলের ডগা থেকে কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করবেন এবং বাম হাতও একইভাবে ধৌত করবেন। এরপর আপনার ডান হাতের তালু দিয়ে পানি গ্রহণ করবেন, তারপর ডান হাতের তালু বাম হাতের ওপর ঘষবেন যতক্ষণ না আপনার দুই হাতের তালু থেকে গৃহীত পানি ঢেলে দেওয়া হয়। এরপর আপনার মাথা মাসাহ করবেন, মাথার সম্মুখভাগ থেকে শুরু করে ঘাড়ের চুলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাবেন, তারপর পুনরায় হাত দুটিকে মাথার সম্মুখভাগে ফিরিয়ে আনবেন। আপনার কানদ্বয়ের পিঠ এবং ভেতর মাসাহ করবেন, আপনার দুই তর্জনী কানের ছিদ্রের ভেতর প্রবেশ করাবেন এবং দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের পিঠ মাসাহ করবেন। এরপর আপনার ডান পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করবেন, আর টাখনু হলো উঁচু অংশটি। এরপর বাম পা-ও একইভাবে ধৌত করবেন। যখন আপনি ওযু শেষ করবেন তখন বলবেন: হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র এবং আপনারই সকল প্রশংসা, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। একবার করে অঙ্গগুলো ধৌত করা আপনার জন্য যথেষ্ট হবে, দুইবার দুইবারও যথেষ্ট হবে, তবে তিনবার করাই সর্বোত্তম।

 

‌‌চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ করার অধ্যায়

১০ - আলী ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আত-তায়মী থেকে, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৬২)
الأَوْدِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ، عَنْ خُزَيْمَةَ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ: «جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمَسْحَ عَلَى الْخُفَّيْنِ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ لِلْمُسَافِرِ، وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ» ، وَلَوْ مَضَى السَّائِلُ فِي مَسْأَلَتِهِ لَجَعَلَهُ خَمْسًا
আল-আওদি হতে, আবু আব্দুল্লাহ আল-জাদালি হতে, তিনি খুজায়মাহ ইবনে সাবিত হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চামড়ার মোজার ওপর মাসেহ করার মেয়াদ মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিন রাত এবং মুকিমের জন্য এক দিন ও এক রাত নির্ধারণ করেছেন।” আর প্রশ্নকারী যদি তার প্রশ্ন করা অব্যাহত রাখত, তবে তিনি তা পাঁচ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৬৩)
المسح عَلَى جميع الخفاف جائز لثبوت الخبر عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أنه أمرهم أن يمسحوا عَلَى خفافهم يومًا وليلة للمقيم، وثلاثًا للمسافر يمسح عَلَى ظهور الخفين خططًا بالأصابع، ويمسح عَلَى العمامة لثبوت ذَلِكَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وعن أبي
সকল প্রকার মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধ, যেহেতু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ বিষয়ে বর্ণনা সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা তাদের মোজার ওপর মাসেহ করে—মুকিমের জন্য একদিন ও একরাত এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন। মোজার উপরিভাগে আঙুল দিয়ে রেখা টেনে মাসেহ করতে হয়। পাগড়ির ওপরেও মাসেহ করা বৈধ, যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবু হতে তা সাব্যস্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৬৪)
بكر، وعمر.
বকর এবং উমর।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌باب التيمم

11 - نا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: نا عَفَّانُ، قَالَ: نا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَكِيمُ، عَنْ ذَرٍّ، عَنِ ابْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ
তায়াম্মুমের অধ্যায়

১১ - আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আফফান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আল-হাকীম বর্ণনা করেছেন, যার্র থেকে, তিনি ইবন আবদুর রহমান ইবন...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৬৬)
أَبْزَى، عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ شَهِدَ عُمَرَ جَاءَهُ رَجُلٌ فَسَأَلَهُ إِنْ أَجْنَبَ فَلَمْ يَجِدِ الْمَاءَ، فَقَالَ عُمَرُ: " إِنَّا كُنَّا فِي سَرِيَّةٍ فَأَجْنَبْتُ فَتَمَعَّكْتُ فِي التُّرَابِ، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: إِنَّمَا يَكْفِيكَ هَذَا ".

وَضَرَبَ عَفَّانُ بِيَدِهِ وَنَفَخَ فِيهِمَا، وَمَسَحَ وَجْهَهُ وَظَهْرَ كَفَّيْهِ
আবযা থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি উমরের নিকট উপস্থিত ছিলেন এমতাবস্থায় যে, এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল—সে যদি অপবিত্র হয়ে পড়ে এবং পানি না পায় (তবে কী করবে)? তখন উমর বললেন: "আমরা একটি বিশেষ সেনাদলে ছিলাম, এমতাবস্থায় আমি অপবিত্র হয়ে পড়লাম এবং মাটিতে গড়াগড়ি করলাম। অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলাম, তিনি বললেন: 'তোমার জন্য কেবল এটাই যথেষ্ট ছিল'।"

আর আফফান তাঁর উভয় হাত (মাটিতে) মারলেন এবং তাতে ফুঁ দিলেন, অতঃপর তাঁর মুখমণ্ডল ও উভয় কব্জির উপরিভাগ মাসেহ করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৬৭)
يتيمم الجنب والمحدث إذا لم يجد الْمَاء، ويفعل ذَلِكَ المريض الجنب الخائف عَلَى نفسه من البرد إن اغتسل في الحضر والسفر، وَلا إعادة عَلَى واحد منهم في وقت وغير وقت، وإن وجدوا الْمَاء، ومن ثبت لَهُ أن يتيمم فله أن يتيمم في أول الوقت، ويصلي وَلا إعادة عليه إن وجد الْمَاء في الوقت، وَلا بعد خروج الوقت.

وأحسن مَا قيل في طلب الْمَاء: أن ينظر الطالب يمينًا وشمالا وبين يديه وخلفه، فإن وجد الْمَاء أو دل عليه وإلا يتيمم، ويعمد الذي يريد التيمم إِلَى الصعيد، فيضرب بيديه عليه ضربة واحدة، ثم يرفعهما فيمسح بهما وجهه وكفيه، وَلا يجوز التيمم بغير الصعيد الطاهر، لقوله صلى الله عليه وسلم: «جعلت لي الأرض مسجدًا وطهورًا» .
অপবিত্র ব্যক্তি এবং অযু ভঙ্গকারী যদি পানি না পায় তবে তায়াম্মুম করবে। একই কাজ করবে সেই অসুস্থ অপবিত্র ব্যক্তি যে গোসল করলে শীতের কারণে নিজের জীবনের আশঙ্কা বোধ করে, চাই সে নিজ অবস্থানে থাকুক কিংবা সফরে। তাদের কারোর জন্যই সালাত পুনরায় আদায় করা আবশ্যক নয়—ওয়াক্তের মধ্যে হোক বা ওয়াক্তের বাইরে—যদিও তারা পরে পানি পায়। যার জন্য তায়াম্মুম করা বৈধ হয়েছে, সে ওয়াক্তের শুরুতেই তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করতে পারে। ওয়াক্ত থাকাকালীন পানি পাওয়া গেলেও কিংবা ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পরেও তাকে সেই সালাত পুনরায় পড়তে হবে না।

পানি অনুসন্ধানের বিষয়ে সবচেয়ে উত্তম কথা হলো: অন্বেষণকারী ডানে, বামে, সামনে এবং পেছনে লক্ষ্য করবে। যদি সে পানি পায় কিংবা কেউ তাকে পানির সন্ধান দেয়, অন্যথায় তায়াম্মুম করবে। তায়াম্মুমের ইচ্ছা পোষণকারী ব্যক্তি ভূপৃষ্ঠের পবিত্র মাটির সংকল্প করবে এবং তাতে তার দুই হাত দিয়ে একবার আঘাত করবে। অতঃপর হাত দুটি উঠিয়ে তা দিয়ে নিজের মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি পর্যন্ত মাসাহ করবে। পবিত্র মাটি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে তায়াম্মুম করা বৈধ নয়, কারণ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার জন্য জমিনকে সিজদাহর স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৬৮)
وله أن يصلي بتيمم واحد صلوات مكتوبات وغير ذَلِكَ، ويتيمم لكل مكتوبة أحوط، ويتيمم في قريب السفر وبعيده، وليس عليه أن يشتري الْمَاء بأكثر من ثمنه، وإذا خاف العطش ومعه ماء بقاه للشرب، ويتيمم وَلا يعيد، ويجامع من لا ماء مَعَهُ، ويتيمم ويصلي، ويجزئه، ويتيمم لصلاة النافلة، ولتجويد القرآن.

وإذا تيمم ودخل في الصلاة، ثم رأى الْمَاء لم ينصرف بل يمضي فيها، وَلا يجوز التيمم بغير نية، وكل من تيمم فعليه إن كَانَ جنبًا أن يغتسل إذا وجد الْمَاء، ويتوضأ إن كَانَ محدثًا لما يستقبل من الصلوات، وتفعل الحائض إذا طهرت من حيضتها والنفساء عند طهرهما مَا يفعله الجنب في جميع مَا ذكرناه، ويؤم المتيمم المتطهرين.

 

‌‌باب صفة الاغتسال من الجنابة

12 - نا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ، قَالَ:
এবং তার জন্য এক তায়াম্মুমের মাধ্যমে একাধিক ফরয সালাত এবং অন্যান্য সালাত আদায় করা বৈধ, তবে প্রত্যেক ফরয সালাতের জন্য পুনরায় তায়াম্মুম করা অধিকতর সতর্কতামূলক। সে সফরের দূরত্ব কম হোক বা বেশি, উভয় অবস্থায় তায়াম্মুম করতে পারবে। পানির স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে অধিক মূল্যে পানি ক্রয় করা তার ওপর আবশ্যক নয়। যদি সে তৃষ্ণার্ত হওয়ার ভয় পায় এবং তার নিকট পানি থাকে, তবে সে তা পান করার জন্য রেখে দিবে এবং তায়াম্মুম করবে, তাকে পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে না। যার নিকট পানি নেই সে সহবাস করতে পারবে, অতঃপর তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করবে এবং এটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে। সে নফল সালাত এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য তায়াম্মুম করবে।

আর যদি সে তায়াম্মুম করে সালাত শুরু করে দেয়, এরপর পানি দেখতে পায়, তবে সে সালাত ভাঙবে না বরং তা পূর্ণ করবে। নিয়ত ছাড়া তায়াম্মুম করা বৈধ নয়। যে ব্যক্তি তায়াম্মুম করেছে, পানি পাওয়ার পর যদি সে জুনুবি (বড় অপবিত্র) থাকে তবে তার ওপর গোসল করা এবং অজুহীন থাকলে পরবর্তী সালাতসমূহের জন্য অজু করা আবশ্যক। ঋতুবতী নারী যখন ঋতু থেকে পবিত্র হবে এবং নিফাসগ্রস্ত নারী যখন পবিত্র হবে, তখন তারা তা-ই করবে যা একজন জুনুবি ব্যক্তি করে থাকে—যা আমরা উপরে উল্লেখ করেছি। তায়াম্মুমকারী ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জনকারীদের (অজু-গোসলকারীদের) ইমামতি করতে পারবে।

 

‌‌জানাবাত থেকে গোসল করার পদ্ধতির অধ্যায়

১২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর ইবন আওন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৬৯)
أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «يَبْدَأُ فَيَغْسِلُ يَدَيْهِ، ثُمَّ يَتَوَضَّأُ وُضُوءَهُ لِلصَّلاةِ، ثُمَّ يُدْخِلُ كَفَّيْهِ فِي الْمَاءِ فَيُخَلِّلُ بِهِمَا أُصُولَ شَعْرِهِ، حَتَّى إِذَا خُيِّلَ إِلَيْهِ أَنَّهُ قَدِ اسْتَبْرَأَ الْبَشْرَةَ، غَرَفَ بِيَدِهِ ثَلاثَ غَرْفَاتٍ فَصَبَّهَا عَلَى رَأْسِهِ، ثُمَّ اغْتَسَلَ»

فإذا أردت أن تغتسل من الجنابة فاستتر.

قَالَت ميمونة: «سترت رَسُول اللَّهِ وهو يغتسل من الجنابة» .

ثم أفرغ الإناء عَلَى يدك اليمنى فاغسلها، ثم صب عَلَى فرجك فاغسل فرجك بشمالك، ثم اضرب بيدك الأرض فاغسلها، ثم توضأ وضوءك للصلاة، ثم أدخل أصابعك في الْمَاء فخلل بها أصول شعرك، ثم صب عَلَى رأسك ثلاثا، وتفيض الْمَاء عَلَى جلدك كله.

ويكفي صاحب الجمة والشعر الكثير أن يتسرب الْمَاء أصول شعره، ويفيض الْمَاء في الاغتسال عَلَى الميامن قبل المياسر.

والمرأة كالرجل في الاغتسال والحائض كالجنب غير أن الحائض تأخذ عند طهرها
হিশাম ইবনে উরওয়াহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আয়েশা (রা.) বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথমে তাঁর উভয় হাত ধৌত করার মাধ্যমে শুরু করতেন, অতঃপর সালাতের ওজুর ন্যায় ওজু করতেন, এরপর তাঁর দুই হাতের তালু পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তা দিয়ে চুলের গোড়াগুলো খিলাল করতেন। এমনকি যখন তিনি মনে করতেন যে পানি চামড়া পর্যন্ত পৌঁছেছে, তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে তিন আজলা পানি নিয়ে মাথার ওপর ঢেলে দিতেন, অতঃপর পূর্ণ গোসল সম্পন্ন করতেন।

সুতরাং যখন তুমি জানাবাত থেকে গোসল করতে চাইবে, তখন পর্দা গ্রহণ করো।

মায়মুনা (রা.) বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন জানাবাত থেকে গোসল করছিলেন, তখন আমি তাঁকে আড়াল করে রেখেছিলাম।"

অতঃপর পাত্র থেকে তোমার ডান হাতের ওপর পানি ঢালো এবং তা ধৌত করো, তারপর তোমার লজ্জাস্থানে পানি ঢালো এবং তোমার বাম হাত দিয়ে তা ধৌত করো। এরপর তোমার হাতটি মাটির ওপর ঘষো এবং তা ধৌত করো, তারপর সালাতের ওজুর ন্যায় ওজু করো। অতঃপর তোমার আঙুলগুলো পানির মধ্যে প্রবেশ করাও এবং তা দিয়ে চুলের গোড়া খিলাল করো, তারপর তোমার মাথায় তিনবার পানি ঢালো এবং তোমার সমগ্র শরীরে পানি প্রবাহিত করো।

বাবরি চুল বা ঘন চুলের অধিকারীর জন্য চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে দেওয়াই যথেষ্ট। আর গোসলের সময় বাম দিকের আগে ডান দিকে পানি প্রবাহিত করতে হবে।

গোসলের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের মতোই এবং ঋতুবতী নারী জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তির মতোই, তবে ঋতুবতী নারী তাঁর পবিত্রতা অর্জনের সময় গ্রহণ করবেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৭০)
شَيْئًا من مسك أو مسك تتبع به آثار الدم اتباعًا للسنة.

 

‌‌باب ذكر طهارة الثياب والأبدان

13 - نا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: نا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَالِمٍ، وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَعَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ
সুন্নাহ অনুসরণে রক্তের চিহ্নগুলোতে সামান্য কস্তুরী বা সুগন্ধি ব্যবহার করবে।

 

‌‌পোশাক ও শরীরের পবিত্রতা বর্ণনার পরিচ্ছেদ

১৩ - মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সালিম, মালিক ইবনে আনাস এবং আমর ইবনুল হারিস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে...
(খণ্ড: ১) আল-ইকনা লি-ইবনিল মুনযির (পৃষ্ঠা: ৭১)
الْمُنْذِرِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ: أَنَّهَا قَالَتْ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الثَّوْبِ يُصِيبُهُ الدَّمُ مِنَ الْحَيْضَةِ، قَالَ: لِتُحَتَّهُ ثُمَّ لِتَقْرُصْهُ، ثُمَّ لِتَنْضَحْهُ بِالْمَاءِ ثُمَّ لِتُصَلِّ فِيهِ "

غسل الغائط، والبول، والمذي، والدم يحت من الثوب الذي يريد المرء الصلاة فِيهِ سواء قليل ذَلِكَ وكثيره، ويستحب أن يفرك المني من الثوب، وليس ذَلِكَ
মুনজির হতে আসমা বিনতে আবি বকর (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ঋতুর রক্ত লেগেছে এমন কাপড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: “সে যেন তা ঘষে তুলে ফেলে, অতঃপর আঙুলের ডগা দিয়ে কচলে ধোয়, এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে এবং তাতে সালাত আদায় করে।”

মল, মূত্র, মজি এবং রক্ত সেই কাপড় থেকে ঘষে তুলে পরিষ্কার করা আবশ্যক যাতে ব্যক্তি সালাত আদায়ের ইচ্ছা করে, চাই তা পরিমাণে অল্প হোক বা অধিক। আর কাপড় থেকে বীর্য ঘষে পরিষ্কার করা মুস্তাহাব, আর এটি