(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: -)
أمالي ابن بشران - الجزء الثاني   (ابن بشران، أبو القاسم)

القسم: كتب السنة


الكتاب: أمالي ابن بشران - الجزء الثاني

المؤلف: أبو القاسم عبد الملك بن محمد بن عبد الله بن بشْران بن محمد بن بشْران بن مهران البغدادي (ت 430هـ)

المحقق: أحمد بن سليمان

الناشر: دار الوطن للنشر، الرياض

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 348

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আমালী ইবনে বিশরান - দ্বিতীয় খণ্ড   (ইবনে বিশরান, আবুল কাসিম)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: আমালী ইবনে বিশরান - দ্বিতীয় খণ্ড

লেখক: আবুল কাসিম আবদুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বিশরান বিন মুহাম্মদ বিন বিশরান বিন মেহরান আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪৩০ হিজরী)

মুহাক্কিক: আহমাদ বিন সুলাইমান

প্রকাশক: দারুল ওয়াতান লিন-নাশর, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরী - ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৮

[কিতাবটির নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٩)
الْجُزْءُ الثَّامِنُ عَشَرَ مِنْ أَمَالِي أَبِي الْقَاسِمِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الزَّاهِدِ رحمه الله رِوَايَةُ الشَّيْخِ الإِمَامِ الْحَافِظِ فَخْرِ الأُمَّةِ نَقِيبِ السَّلَفِ أَبِي طَاهِرٍ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السِّلَفِيِّ الأَصْبَهَانِيِّ، رضي الله عنه.

عَنِ الرَّئِيسِ أَبِي الْخَطَّابِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هَارُونَ، عَنْهُ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ، رَبِّ يَسِّرْ بِرَحْمَتِكَ.
আবু কাসিম আবদুল মালিক বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন বিশরান আল-জাহিদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর উপদেশমালার (আমালী) অষ্টাদশ অংশ; শাইখ, ইমাম, হাফেজ, উম্মাহর গৌরব ও সালাফদের প্রতিনিধি আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আস-সিলাফি আল-আসবাহানি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর বর্ণনা।

প্রধান আবু আল-খাত্তাব আলী বিন আবদুর রহমান বিন হারুন থেকে, তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। হে প্রতিপালক, আপনার রহমতের মাধ্যমে সহজ করে দিন।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ١١)
974 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السِّلَفِيُّ الأَصْبَهَانِيُّ رضي الله عنه، بِالإِسْكَنْدَرِيَّةِ، أنبا الرَّئِيسُ أَبُو الْخَطَّابِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ هَارُونَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عِيسَى بْنِ دَاوُدَ بْنِ الْجَرَّاحِ، ثنا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْوَاعِظُ، إِمْلاءً، يَوْمَ الْجُمُعَةِ، السَّادِسَ مِنْ جُمَادَى الآخِرَةِ، سَنَةَ ثَلاثٍ وَعِشْرِينَ، نا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْفَاكِهِيُّ، بِمَكَّةَ، ثنا أَبُو يَحْيَى بْنُ أَبِي مَسَرَّةَ، ثنا الْعَلاءُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، ثنا وُهَيْبٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«الْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَهُ مَدَّ صَوْتِهِ، وَيَشْهَدُ لَهُ كُلُّ رَطْبٍ وَيَابِسٍ، وَلِشَاهِدِ الصَّلاةِ خَمْسٌ وَعِشْرُونَ دَرَجَةً، وَيُكَفَّرُ عَنْهُ مَا بَيْنَهُمَا» ، هَذَا حَدِيثٌ مَحْفُوظٌ مِنْ أَحَادِيثَ مَنْصُورٍ، وَهُوَ حَدِيثٌ عَالٍ مِنْ حَدِيثِهِ

أَخْبَرَنَا

 

975 - أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، ثنا السَّدُوسِيُّ عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، ثنا عَاصِمٌ، ثنا الْقَاسِمُ بْنُ الْفَضْلِ الْحُدَّانِيُّ، ثنا أَبُو نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: بَيْنَمَا رَاعٍ يَرْعَى، أَخَذَ الذِّئْبُ شَاةً مِنَ الشَّاءِ، فَحَالَ الرَّاعِي بَيْنَهُ وَبَيْنَ الشَّاةِ، قَالَ: فَأَقْعَى الذِّئْبُ عَلَى ذَنَبِهِ، فَقَالَ لِلرَّاعِي: أَلا تَتَّقِي اللَّهَ! تَحُولُ بَيْنِي وَبَيْنَ رِزْقٍ سَاقَهُ اللَّهُ إِلَيَّ، فَقَالَ: الْعَجَبُ لِلذِّئْبِ مُقْعٍ عَلَى ذَنَبِهِ، يُكَلِّمُنِي كَلامَ الإِنْسِ،
৯৭৪ - শেখ ইমাম হাফিজ আবু তাহির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আস-সিলাফি আল-আসবাহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের আলেকজান্দ্রিয়ায় সংবাদ দিয়েছেন যে, রঈস আবুল খাত্তাব আলি বিন আবদুর রহমান বিন হারুন বিন আবদুর রহমান বিন ঈসা বিন দাউদ বিন আল-জাররাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম আবদুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন বিশরান আল-ওয়ায়েজ, শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে, শুক্রবার, ৬ই জুমাদাল আখিরাহ, চারশ তেইশ হিজরি সনে। আমাদের কাছে মক্কায় বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-ফাকিহি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া বিন আবি মাসাররাহ। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-আলা বিন আবদিল জাব্বার। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উহাইব, মানসুর থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «মুয়াজ্জিনের কণ্ঠস্বর যতদূর যায়, ততদূর পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয় এবং প্রতিটি আর্দ্র ও শুষ্ক বস্তু তার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। আর যে ব্যক্তি সালাতে উপস্থিত হয়, তার জন্য পঁচিশটি মর্যাদা রয়েছে এবং দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের পাপসমূহ মোচন করে দেওয়া হয়»। এটি মানসুরের বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে একটি সংরক্ষিত হাদিস এবং এটি তার বর্ণিত উচ্চ পর্যায়ের হাদিস।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন

 

৯৭৫ - আবু মুহাম্মদ দা’লাজ বিন আহমদ বিন দা’লাজ। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আস-সাদুসি উমর বিন হাফস। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আসিম। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম বিন আল-ফজল আল-হুদ্দানি। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু নাদারা, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "একদা একজন রাখাল পশু চরাচ্ছিল, এমতাবস্থায় একটি নেকড়ে পাল থেকে একটি ভেড়া ধরে নিয়ে গেল। তখন রাখালটি নেকড়ে ও ভেড়াটির মাঝখানে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াল। তখন নেকড়েটি তার লেজের ওপর ভর দিয়ে বসে পড়ল এবং রাখালকে বলল: তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না! তুমি আমার এবং আল্লাহ আমার নিকট যে রিজিক পাঠিয়েছেন তার মাঝে বাধা দিচ্ছো। তখন রাখালটি বলল: বিস্ময়কর ব্যাপার! একটি নেকড়ে লেজের ওপর বসে মানুষের মতো আমার সাথে কথা বলছে!"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ١٢)
قَالَ الذِّئْبُ: أَلا أُخْبِرُكَ بِأَعْجَبَ مِنْ ذَلِكَ، رَسُولُ اللَّهِ بَيْنَ الْحَرَّتَيْنِ، يُحَدِّثُ النَّاسَ بِأَنْبَاءِ مَا قَدْ سَبَقَ، فَانْطَلَقَ الرَّاعِي بِشَائِهِ، حَتَّى أَتَى الْمَدِينَةَ، فَأَوَاهَا إِلَى زَاوِيَةٍ مِنْ زَوَايَاهَا، ثُمَّ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَحَدَّثَهُ بِمَا قَالَ الذِّئْبُ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى النَّاسِ، ثُمَّ قَالَ لِلرَّاعِي: «قُمْ، فَحَدِّثْهُمْ بِمَا قَالَ الذِّئْبُ» ، فَقَامَ الرَّاعِي، فَحَدَّثَهُمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «صَدَقَ الرَّاعِي، أَلا إِنَّ‌‌ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ كَلامَ السِّبَاعِ الإِنْسَ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُكَلِّمَ السِّبَاعُ الإِنْسَ، وَيُكَلِّمَ الرَّجُلَ شِرَاكُ نَعْلِهِ، وَعَذَبَةُ سَوْطِهِ، وَتُخْبِرَهُ فَخِذُهُ بِمَا أَحْدَثَ أَهْلُهُ بَعْدَهُ»

 

976 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ خُزَيْمَةَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ رُوَيْنِ بْنِ لاحِقٍ، ثنا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم "‌‌ قَرَأَ النَّجْمَ، فَسَجَدَ النَّاسُ كُلُّهُمْ إِلا شَيْخًا كَبِيرًا، أَخَذَ كَفًّا مِنْ حَصًى، فَقَالَ: هَذَا يُجْزِينِي، فَوَضَعَهُ عَلَى وَجْهِهِ "،
নেকড়ে বলল: "আমি কি তোমাকে এর চেয়েও বিস্ময়কর কিছু বলব না? আল্লাহর রাসূল দুই প্রস্তরময় ভূমির মাঝখানে অবস্থান করছেন, তিনি মানুষকে পূর্ববর্তী সংবাদসমূহ বলছেন।" এরপর মেষপালক তার বকরিগুলো নিয়ে যাত্রা করল এবং মদীনায় পৌঁছে সেগুলোকে একটি কোণে রাখল। এরপর সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে নেকড়ে যা বলেছিল তা বর্ণনা করল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের নিকট বের হলেন এবং মেষপালককে বললেন: "দাঁড়াও এবং নেকড়ে যা বলেছে তা তাদের কাছে বর্ণনা করো।" মেষপালক দাঁড়িয়ে তা বর্ণনা করল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "মেষপালক সত্য বলেছে। জেনে রেখো,‌‌ হিংস্র প্রাণীদের মানুষের সাথে কথা বলা কিয়ামতের আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না হিংস্র প্রাণীরা মানুষের সাথে কথা বলবে, মানুষের জুতার ফিতা তার সাথে কথা বলবে, তার চাবুকের অগ্রভাগ কথা বলবে এবং তার উরু তাকে সংবাদ দেবে যে তার অবর্তমানে তার পরিবার কী ঘটিয়েছে।"

 

৯৭৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আহমদ ইবনুল ফজল ইবনুল আব্বাস ইবনে খুজাইমা, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে রুয়াইন ইবনে লাহিক, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শু'বাহ, হাকাম থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "‌‌সূরা আন-নাজম পাঠ করলেন, এরপর একজন বৃদ্ধ লোক ব্যতীত সকল মানুষ সিজদা করল। সে এক মুষ্টি কঙ্কড় নিয়ে বলল: আমার জন্য এটিই যথেষ্ট। এরপর সে তা তার চেহারার ওপর রাখল।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ١٣)
قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَرَأَيْتُهُ بَعْدَ ذَلِكَ قُتِلَ كَافِرًا

 

977 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قَانِعٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، ثنا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ، ثنا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ وَثَّابٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَرَفَعَهُ، قَالَ: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ‌‌ السَّيِّئَ لا يُكَفِّرُ السَّيِّئَ، إِنَّمَا يُكَفِّرُ الطَّيِّبُ السَّيِّئَ»

 

978 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الصَّوَّافِ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا عُمَرُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْلٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ نَوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«كَبُرَتْ خِيَانَةً، تُحَدِّثُ أَخَاكَ حَدِيثًا هُوَ لَكَ مُصَدِّقٌ وَأَنْتَ بِهِ كَاذِبٌ»

 

979 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ بِنْجَابٍ الطِّيبِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الزَّنْجَانِيُّ، ثنا الْحَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ، ثنا بِشْرُ بْنُ الْحُسَيْنِ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى:
আবদুল্লাহ বললেন: এরপর আমি তাকে কাফির অবস্থায় নিহত হতে দেখেছি।

 

৯৭৭ - আবুল হুসাইন আবদুল বাকি ইবনে কানি' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আসিম ইবনে আলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, কাইস ইবনুর রাবি' আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হুসাইন থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াসসাব থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন এবং তিনি তা মারফু সূত্রে (নবী পর্যন্ত) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই মন্দ কাজ মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয় না, বরং ভালো কাজই মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেয়।”

 

৯৭৮ - আবু আলি মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনুস সাওয়াফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে হারুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাওরের সূত্রে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে শুরাইহ থেকে, তিনি জুবায়ের ইবনে নুফাইর আল-হাদরামি থেকে, তিনি নাওয়াস ইবনে সামআন থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এটি একটি বড় ধরণের খেয়ানত যে, তুমি তোমার ভাইয়ের কাছে এমন কোনো কথা বললে যা সে সত্য বলে বিশ্বাস করল, অথচ তুমি তার কাছে মিথ্যা বলছিলে।”

 

৯৭৯ - আবুল হাসান আহমাদ ইবনে ইসহাক ইবনে বিনজাব আত-তিবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আজ-জানজানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, বিশর ইবনুল হুসাইন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জুবায়ের ইবনে আদি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেন:
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ١٤)
«إِذَا تَحَدَّثَ عَبْدِي بِأَنْ يَعْمَلَ حَسَنَةً، فَأَنَا أَكْتُبُهَا لَهُ حَسَنَةً مَا لَمْ يَعْمَلْهَا، فَإِنْ عَمِلَهَا كَتَبْتُهَا لَهُ بِعَشْرِ حَسَنَاتٍ أَمْثَالِهَا، وَإِذَا تَحَدَّثَ عَبْدِي بِأَنْ يَعْمَلَ سَيِّئَةً، فَأَنَا أَغْفِرُهَا لَهُ مَا لَمْ يَعْمَلْهَا، فَإِذَا عَمِلَهَا كَتَبْتُهَا لَهُ سَيِّئَةً مِثْلَهَا»

 

980 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ الْحَسَنِ الْمُعَدِّلُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، قَالَ: " سَمِعْتُ رَجُلا يَسْتَغْفِرُ لأَبَوَيْهِ، وَهُمَا مُشْرِكَانِ، فَقُلْتُ:‌‌ أَتَسْتَغْفِرُ لأَبَوَيْكَ، وَهُمَا مُشْرِكَانِ؟ قَالَ: أَوَلَمْ يَسْتَغْفِرْ إِبْرَاهِيمُ لأَبِيهِ، وَهُوَ مُشْرِكٌ؟ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَنَزَلَتْ: {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا} [التوبة: 113] ، إِلَى آخِرِ الآيَةِ "

 

981 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ التِّرْمِذِيُّ، ثنا الْحُمَيْدِيُّ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ ‌‌«يَتَعَوَّذُ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ»
«যখন আমার বান্দা কোনো নেক আমল করার সংকল্প করে, তখন আমি তার জন্য তা একটি নেকি হিসেবে লিখে রাখি যতক্ষণ না সে তা সম্পাদন করে। আর যদি সে তা সম্পাদন করে, তবে আমি তার জন্য অনুরূপ দশগুণ নেকি লিখে দেই। আর যখন আমার বান্দা কোনো মন্দ কাজ করার সংকল্প করে, আমি তা তার জন্য ক্ষমা করে দেই যতক্ষণ না সে তা সম্পাদন করে। অতঃপর যখন সে তা সম্পাদন করে, তখন আমি তার জন্য কেবল একটি মন্দ কাজ (গুনাহ) হিসেবেই তা লিখে রাখি»

 

৯৮০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল খালিক ইবনুল হাসান আল-মুআদ্দিল, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু নুআইম, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু খলীল থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি এক ব্যক্তিকে তার পিতা-মাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে শুনলাম, অথচ তারা উভয়েই ছিল মুশরিক। আমি তাকে বললাম: আপনি কি আপনার পিতা-মাতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছেন অথচ তারা মুশরিক? সে বলল: ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) কি তার পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেননি অথচ তিনি মুশরিক ছিলেন? এরপর আমি বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উল্লেখ করলাম, তখন নাযিল হলো: {নবী ও মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে} [আত-তাওবা: ১১৩], আয়াতের শেষ পর্যন্ত।"

 

৯৮১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যিয়াদ, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আত-তিরমিযী, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-হুমাইদী, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সুফিয়ান, তিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) «ঋণের বোঝা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন»।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ١٥)
982 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الْوَاسِطِيُّ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ الْوَكِيعِيُّ، ثنا أَبِي، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، ثنا الإِفْرِيقِيُّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَثَلُ أُمَّتِي مَثَلُ الْمَطَرِ، لا يُدْرَى أَوَّلُهُ أَنْفَعُ أَوْ آخِرُهُ»

 

983 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الآجُرِّيُّ، بِمَكَّةَ، ثنا أَبُو بَكْرٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْفِرْيَابِيُّ، سَنَةَ أَرْبَعٍ وَتِسْعِينَ وَمِائَتَيْنِ، ثنا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "‌‌ إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا مَاتَ عُرِضَ عَلَى مَقْعَدِهِ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ، إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ، يُقَالُ: هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "

 

984 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ الْخَضِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ النَّسَائِيُّ، أنبا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي تَمِيمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«الدِّينَارُ بِالدِّينَارِ، وَالدِّرْهَمُ بِالدِّرْهَمِ، لا فَضْلَ بَيْنَهُمَا»

 

985 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ أَبِي السَّرِيِّ بِالْكُوفَةِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ نُمَيْرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْكِنْدِيُّ، قَالا: ثنا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي غَطَفَانَ بْنِ مَالِكٍ الْمُزَنِيِّ، كَذَا قَالَ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
৯৮২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-ওয়াসিতি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবন আহমদ আল-ওয়াকিঈ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান আল-মুকরি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আল-ইফরিকি, তিনি আবদুল্লাহ ইবন ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: «আমার উম্মতের উদাহরণ বৃষ্টির মতো, জানা যায় না এর শুরুটি অধিক উপকারী নাকি শেষটি।»

 

৯৮৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবন আবদুল্লাহ আল-আজুরি মক্কায়, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর জাফর ইবন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-ফিরইয়াবি ২৯৪ হিজরি সনে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কুতাইবা ইবন সাঈদ, তিনি মালিক ইবন আনাস থেকে, তিনি নাফি থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যখন কেউ মৃত্যুবরণ করে, তখন সকাল ও সন্ধ্যায় তার সামনে তার জান্নাত বা জাহান্নামের ঠিকানা পেশ করা হয়। যদি সে জান্নাতবাসী হয় তবে জান্নাতবাসীদের ঠিকানার অন্তর্ভুক্ত, আর যদি সে জাহান্নামী হয় তবে জাহান্নামীদের ঠিকানার অন্তর্ভুক্ত। তাকে বলা হয়: 'এটিই তোমার ঠিকানা, যতক্ষণ না কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাকে পুনরুত্থিত করেন'।"

 

৯৮৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী হাসান ইবনুল খাদির ইবন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবন শুআইব ইবন আবদুর রহমান আন-নাসায়ি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুতাইবা ইবন সাঈদ, তিনি মালিক থেকে, তিনি মুসা ইবন আবু তামিম থেকে, তিনি সাঈদ ইবন ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন: «দীনারের বিনিময়ে দীনার এবং দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম (হতে হবে), এদের মাঝে কোনো কমবেশি নেই।»

 

৯৮৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী ইবন আবদুর রহমান ইবন আবুস সারি কুফায়, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন সুলাইমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন নুমাইর ও মুহাম্মদ ইবন উমর আল-কিন্দি, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইউনুস ইবন বুকাইর ও মুহাম্মদ ইবন ইসহাক, তাঁরা ইয়াকুব ইবন উতবাহ থেকে, তিনি আবু গাতাফান ইবন মালিক আল-মুজানি থেকে—তিনি এভাবেই বলেছেন—তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ١٦)
«مَنْ أَشَارَ فِي صَلاتِهِ إِشَارَةً تُفْهَمُ عَنْهُ، فَلْيُعِدْهَا»

 

986 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمَّادِ بْنِ سُفْيَانَ، ثنا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، ثنا أَبُو سَعِيدٍ، ثنا أَبُو يَحْيَى التَّيْمِيُّ، عَنْ إِدْرِيسَ الأَوْدِيِّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي حَبِيبَةَ الطَّائِيِّ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَثَلُ الَّذِي يُعْتِقُ عِنْدَ الْمَوْتِ مَثَلُ الَّذِي يُهْدِي إِذَا شَبِعَ»

 

987 - وَجَدْتُ فِي كِتَابَةِ وَالِدِي مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُوسَى، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ غَنَّامٍ، ثنا أَبُو زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، ثنا سُفْيَانُ، ثنا سُهَيْلٌ بِهَذِهِ الأَبْيَاتِ:

إِذَا مَا رَأَيْتَ الْكَهْلَ يَعْتَادُهُ الصِّبَى … فَقَدْ ثَكَلَتْهُ عِنْدَ ذَاكَ ثَوَاكِلُهْ

وَأَشْمَتَ بِهِ الأَعْدَاءَ جَهْلا بِنَفْسِهِ … وَقَدْ وَجَدَتْ فِيهِ مَقَالا عَوَاذِلُهْ

وَلا يَزْجُرِ النَّفْسَ اللَّجُوجَ عَنِ الْهَوَى … مِنَ الْقَوْمِ إِلا وَافِرُ الْعَقْلِ كَامِلُهْ
«যে ব্যক্তি তার সালাতে এমন কোনো ইশারা করে যা তার পক্ষ থেকে বোঝা যায়, তবে সে যেন তা পুনরায় আদায় করে।»

 

৯৮৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন হাম্মাদ বিন সুফিয়ান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হান্নাদ বিন আল-সারী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া আল-তৈমি, ইদ্রিস আল-আউদি থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু হাবিবা আল-ত্বয়ী থেকে, তিনি আবুদ্দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «মৃত্যুর সময় (দাস) মুক্তকারীর উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো, যে পেট পূর্ণ হওয়ার পর উপহার প্রদান করে।»

 

৯৮৭ - আমি আমার পিতা মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহর পাণ্ডুলিপিতে পেয়েছি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন গান্নাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন হাসসান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, সুহাইল আমাদের নিকট এই কবিতাগুলি বর্ণনা করেছেন:

যখন তুমি কোনো প্রৌঢ় ব্যক্তিকে দেখবে যে শিশুসুলভ আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে … তখন বিলাপকারিনী নারীরা তাকে হারিয়ে ফেলেছে।

সে নিজের সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে শত্রুদের হাসির পাত্র হয়েছে … এবং তার নিন্দুকেরা তার ব্যাপারে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে।

আর মানুষের মধ্যে কেবল পরিপূর্ণ এবং পর্যাপ্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তিই একগুঁয়ে প্রবৃত্তিকে কামনা-বাসনা থেকে নিবৃত্ত করতে পারে।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ١٧)
988 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوْحٍ، ثنا يَزِيدُ ابْنَ هَارُونَ، أنبا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ لا يَتَمَنَّيَنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ، وَلَكِنْ لِيَقُلْ: اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي "، هَذَا حَدِيثٌ عَالٍ مِنْ حَدِيثِ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، وَهُوَ إِسْنَادٌ كُلُّهُمْ ثِقَاتٌ

 

989 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْفَقِيهُ النَّجَّادُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُكْرَمٍ، ثنا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ أَبِي سِرَاجٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«لأَنْ أَمْشِيَ مَعَ أَخٍ لِي فِي حَاجَةٍ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَعْتَكِفَ شَهْرًا فِي مَسْجِدِي هَذَا، وَمَنْ مَشَى مَعَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ فِي حَاجَةٍ حَتَّى يَقْضِيَهَا ثَبَّتَ اللَّهُ قَدَمَيْهِ يَوْمَ تَزُولُ الأَقْدَامُ»

 

990 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ خُزَيْمَةَ، ثنا أَبُو قَبِيصَةَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، ثنا سَعِيدُ بْنُ مُحَمَّدِ الْجَرْمِيُّ، ثنا أَبُو عُبَيْدَةَ الْحَدَّادُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ ثَابِتٍ الْبُنَانِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَوْفَلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:‌‌ لِلأَنْبِيَاءِ مَنَابِرُ مِنْ ذَهَبٍ، فَيَجْلِسُونَ عَلَيْهَا، وَيَبْقَى مِنْبَرِي لا أَجْلِسُ عَلَيْهِ، أَوْ قَالَ: لا أَقْعُدُ عَلَيْهِ، قَائِمًا بَيْنَ يَدَيْ رَبِّي، مُنْتَصِبًا لأُمَّتِي، مَخَافَةَ أَنْ يَبْعَثَ
988 - আবু আহমাদ হামযা ইবন মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ ইবন রূহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবন হারুন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হুমায়দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "‌‌তোমাদের কেউ যেন তার ওপর আপতিত কোনো বিপদের কারণে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে, বরং সে যেন বলে: হে আল্লাহ! যতক্ষণ পর্যন্ত জীবন আমার জন্য কল্যাণকর হয় আমাকে জীবিত রাখুন, আর আমাকে মৃত্যু দান করুন যদি মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয়", এটি হুমায়দ আত-তবীল এর বর্ণিত একটি উচ্চ পর্যায়ের হাদিস, আর এর সনদের বর্ণনাকারীরা সবাই নির্ভরযোগ্য।

 

989 - আবু বকর আহমাদ ইবন সুলায়মান আল-ফাক্বীহ আন-নাজ্জাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান ইবন মাকরাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, দাঊদ ইবনুল মুহাব্বর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবন আবী সিরাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবন দীনার থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‌‌«আমার কোনো ভাইয়ের প্রয়োজনে তার সাথে চলা আমার কাছে এই মসজিদে এক মাস ইতিকাফ করার চেয়ে অধিক প্রিয়। আর যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে তার প্রয়োজনে চলবে যতক্ষণ না সে তা পূরণ করে, আল্লাহ তার পা দুটিকে অটল রাখবেন সেদিন পাগুলো বিচলিত হবে»

 

990 - আবু আলী আহমাদ ইবনুল ফযল ইবনুল আব্বাস ইবন খুযাইমাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ক্বাবীসাহ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রহমান ইবন উমারাহ ইবনুল ক্বাক্বা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবন মুহাম্মাদ আল-জারমী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু উবাইদাহ আল-হাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন সাবিত আল-বুনানী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন নাওফাল থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবন আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:‌‌ নবীদের জন্য স্বর্ণের মিম্বর থাকবে, তাঁরা সেগুলোর ওপর বসবেন, আর আমার মিম্বরটি অবশিষ্ট থাকবে যাতে আমি বসব না - অথবা তিনি বলেছেন: আমি উপবেশন করব না, আমার রবের হাতদ্বয়ের সামনে দাঁড়িয়ে, আমার উম্মতের জন্য প্রস্তুত অবস্থায়, এই ভয়ে যে (কাউকে জাহান্নামে) পাঠানো হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ١٨)
بِي إِلَى الْجَنَّةِ، وَتَبْقَى أُمَّتِي مِنْ بَعْدِي، فَأَقُولُ: يَا رَبِّ، أُمَّتِي أُمَّتِي، فَيَقُولُ اللَّهُ: «يَا مُحَمَّدُ، وَمَا تُرِيدُ أَنْ أَصْنَعَ بِأُمَّتِكَ؟» فَأَقُولُ: يَا رَبِّ، عَجِّلْ حِسَابَهُمْ.

فَيُدْعَى بِهِمْ، فَيُحَاسَبُونَ، فَمِنْهُمْ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ بِرَحْمَةِ اللَّهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ بِشَفَاعَتِي، فَمَا أَزَالُ أَشْفَعُ، حَتَّى أُعْطَى صِكَاكًا بِرِجَالٍ بُعِثَ بِهِمْ إِلَى النَّارِ، وَحَتَّى أَنَّ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ يَقُولُ: يَا مُحَمَّدُ، مَا تَرَكْتَ لِلنَّارِ لِغَضَبِ رَبِّكَ فِي أُمَّتِكَ مِنْ نِقْمَةٍ "

 

991 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْفَاكِهِيُّ، بِمَكَّةَ، ثنا أَبُو يَحْيَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي مَسَرَّةَ، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، ثنا 3 سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ 3، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ‌‌ إِذَا اسْتَيْقَظَ مِنَ اللَّيْلِ، قَالَ: «لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَغْفِرُكَ لِذَنْبِي، وَأَسْأَلُكَ رَحْمَتَكَ، اللَّهُمَّ زِدْنِي عِلْمًا، وَلا تُزِغْ قَلْبِي بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنِي، وَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ»

 

992 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُكْرَمٍ بْنِ حَسَّانَ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَاصِمٍ، ثنا سُهَيْلٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ،
আমাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, আর আমার উম্মত আমার পরে রয়ে যাবে। তখন আমি বলব: হে আমার রব, আমার উম্মত, আমার উম্মত! তখন আল্লাহ বলবেন: «হে মুহাম্মদ, তুমি কী চাও যে আমি তোমার উম্মতের সাথে করি?» তখন আমি বলব: হে আমার রব, তাদের হিসাব দ্রুত সম্পন্ন করুন।

অতঃপর তাদেরকে ডাকা হবে এবং তাদের হিসাব নেওয়া হবে। ফলে তাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর কেউ আমার সুপারিশে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি অনবরত সুপারিশ করতে থাকব, এমনকি আমাকে এমন কিছু লোকদের নামের তালিকা দেওয়া হবে যাদেরকে জাহান্নামে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি জাহান্নামের রক্ষী মালিক বলবে: হে মুহাম্মদ, আপনি আপনার উম্মতের মধ্য থেকে আপনার রবের ক্রোধের কারণে জাহান্নামের জন্য আর কোনো শাস্তিই অবশিষ্ট রাখেননি।

 

৯৯১ - মক্কায় আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-ফাকিহি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াহইয়া আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আবি মাসাররাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবু আবদির রহমান আল-মুকরি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ৩ সাঈদ বিন আবি আইয়ুব ৩ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন ওয়ালিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ বিন আল-মুসাইয়্যিব থেকে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে ঘুম থেকে জাগতেন, তখন বলতেন: «আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি পবিত্র হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার রহমত ভিক্ষা করছি, হে আল্লাহ! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন, আর আমাকে হিদায়াত প্রদানের পর আমার অন্তরকে বক্র করে দেবেন না। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে রহমত দান করুন, নিশ্চয়ই আপনি অতিশয় দাতা»

 

৯৯২ - আবু সাহল আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন যিয়াদ আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান বিন মুকরাম বিন হাসসান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী বিন আসিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, সুহাইল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন দীনার থেকে,
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
996 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قَانِعٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ بِشْرٍ، ثنا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ النَّادِمُ يَنْتَظِرُ الرَّحْمَةَ، وَالْمُصِرُّ يَنْتَظِرُ الْمَقْتَ، وَكُلُّ عَامِلٍ سَيَقْدَمُ عَلَى مَا أَسْلَفَ عِنْدَ مَوْتِهِ، وَمِلاكُ الْعَمَلِ بِخَوَاتِيمِهَا، وَاللَّيْلُ وَالنَّهَارُ مَطِيَّتَانِ فَارْكَبُوهُمَا بَلاغًا إِلَى الآخِرَةِ، وَإِيَّاكَ وَالتَّسْوِيفَ بِالتَّوْبَةِ، وَإِيَّاكَ وَالْغِرَّةَ بِحِلْمِ اللَّهِ عز وجل عَنْكَ، وَاعْلَمْ أَنَّ الْجَنَّةَ وَالنَّارَ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ، {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ} [الزلزلة: 7] ، {وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ} [الزلزلة: 8] "

 

997 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ الْحَسَنِ الْمُعَدِّلُ، ثنا أَبُو يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مَيْمُونٍ الْحَرْبِيُّ، ثنا هَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، حَدَّثَنِي الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْعَلاءِ بْنِ زَبْرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ الضَّحَّاكَ بْنَ عَرْزَبٍ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "‌‌ أَوَّلُ مَا يُقَالُ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: أَلَمْ أُصِحَّ جِسْمَكَ؟ وَأَرْوِكَ مِنَ الْمَاءِ الْبَارِدِ؟ "

 

998 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الآجُرِّيُّ، بِمَكَّةَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ، ثنا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، ثنا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
৯৯৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল বাকি বিন কানি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন বিশর, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান সাওরি, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ অনুশোচনাকারী রহমতের অপেক্ষা করে, আর পাপে অবিচল ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির অপেক্ষা করে। প্রত্যেক আমলকারী মৃত্যুর সময় তার অতীত আমলের মুখোমুখি হবে। আমলের মূল্যায়ন নির্ভর করে তার সমাপ্তির ওপর। রাত ও দিন দুটি বাহন, তোমরা সেগুলোতে চড়ে আখেরাতে পৌঁছানোর জন্য পাড়ি দাও। তওবা করতে দেরি করা থেকে বেঁচে থাকো, আর তোমার প্রতি আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালীর সহনশীলতায় ধোঁকায় পড়া থেকে সাবধান থাকো। জেনে রেখো যে, জান্নাত ও জাহান্নাম তোমাদের কারো জুতার ফিতার চেয়েও বেশি নিকটে। {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখতে পাবে} [যিলযাল: ৭], {আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে সে তা দেখতে পাবে} [যিলযাল: ৮]"

 

৯৯৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল খালিক বিন আল-হাসান আল-মুয়াদ্দিল, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াকুব ইসহাক বিন আল-হাসান বিন মায়মুন আল-হারবি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাইসাম বিন খারিজাহ, তিনি বলেন আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ওয়ালিদ বিন মুসলিম, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আল-আলা বিন যাবর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যাহহাক বিন আরযাবকে বলতে শুনেছি, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "‌‌ কিয়ামতের দিন বান্দাকে সর্বপ্রথম যা বলা হবে তা হলো: আমি কি তোমার শরীর সুস্থ রাখিনি? এবং তোমাকে কি সুশীতল পানি পান করিয়ে তৃপ্ত করিনি?‌ "

 

৯৯৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-আজুরি মক্কায়, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আল-হাসান বিন আব্দুল জাব্বার, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন মাইন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হাফস বিন গিয়াস, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٢١)
«مَنْ أَقَالَ مُسْلِمًا عَثْرَتَهُ، أَقَالَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»

 

999 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ بِنْجَابٍ الطِّيبِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ خَضِرٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا سُهَيْل، حَدَّثَنِي أَبُوكَ أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسِتُّونَ، أَوْ: بِضْعٌ وَسَبْعُونَ، شُعْبَةً، أَعْلاهَا شَهَادَةُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإِيمَانِ "

أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ يَعْنِي الْحَرْبِيَّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ، ثنا سَعِيدُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنِ الْعَلاءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«أَلا أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الْخَطَايَا، وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ؟» ، قَالَوا: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «إِسْبَاغُ الْوُضُوءِ عَلَى الْمَكَارِهِ، وَكَثْرَةُ الْخُطَا إِلَى الْمَسَاجِدِ، وَانْتِظَارُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلاةِ، فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ»

أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْجَمَّالُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُعَلَّى، عَنْ زِيَادِ بْنِ خَيْثَمَةَ، عَنْ أَبِي دَاوُدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَخْبَرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنِ ابْتُلِيَ فَصَبَرَ، وَأُعْطِيَ فَشَكَرَ، وَظَلَمَ فَاسْتَغْفَرَ، وَظُلِمَ فَغَفَرَ» ، ثُمَّ سَكَتَ، فَقِيلَ: مَا لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «أُولَئِكَ لَهُمُ الأَمْنُ، وَهُمْ مُهْتَدُونَ»

أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الصَّوَّافِ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَجْلانَ، حَدَّثَنِي الْقَعْقَاعُ بْنُ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«رَحِمَ اللَّهُ رَجُلا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى، وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَصَلَّتْ، فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ، رَحِمَ اللَّهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ، وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَصَلَّى، فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ»

 

. . . . . . . . . عَنْ كِنَانَةَ بْنِ جَبَلَةَ، عَنْ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه، قَالَ: "‌‌ تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ، فَإِنَّ تَعَلُّمَهُ لِلَّهِ خَشْيَةٌ، وَطَلَبَهُ عِبَادَةٌ، وَمُذَاكَرَتَهُ تَسْبِيحٌ، وَالْبَحْثَ عَنْهُ جِهَادٌ، وَتَعْلِيمَهُ لِمَنْ لا يَعْلَمُهُ صَدَقَةٌ، وَبَذْلَهُ لأَهْلِهِ قُرْبَةٌ، لأَنَّهُ مَعَالِمُ الْحَلالِ وَالْحَرَامِ، وَمَنَارُ سَبِيلِ الْجَنَّةِ، وَالأُنْسُ فِي الْوَحْدَةِ، وَالْمُحَدِّثُ فِي الْخَلْوَةِ، وَالصَّاحِبُ فِي الْعُزْلَةِ، وَالدَّلِيلُ عَلَى السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ، وَالسِّلاحُ عَلَى الأَعْدَاءِ، وَالزَّيْنُ عِنْدَ الأَخِلَّاءِ، وَالْقَرِيبُ عِنْدَ الْغُرَبَاءِ، يَرْفَعُ اللَّهُ بِهِ أَقْوَامًا فَيَجْعَلُهُمْ فِي الْخَيْرِ قَادَةً، وَهُدَاةً يُهْتَدَى بِهِمْ، وَأَئِمَّةً فِي الْخَيْرِ تُقْتَصُّ آثَارُهُمْ، وَتُرْمَقُ أَعْمَالُهُمْ، وَيُقْتَدَى بِفِعَالِهِمْ، وَيُنْتَهَى إِلَى رَأْيِهِمْ، تَرْغَبُ الْمَلائِكَةُ فِي خِلَّتِهِمْ، وَبِأَجْنِحَتِهَا تَمْسَحُهُمْ، وَفِي صَلاتِهَا تَسْتَغْفِرُ لَهُمْ، حَتَّى حِيتَانِ الْبَحْرِ وَهَوَامِّهِ، وَسِبَاعِ الْبَرِّ وَأَنْعَامِهِ، وَالسَّمَاءِ وَنُجُومِهَا، لأَنَّ الْعِلْمَ حَيَاةُ الْقُلُوبِ مِنَ الْعَمَى، وَنُورُ الأَبْصَارِ مِنَ الظُّلَمِ، وَقُوَّةُ الأَبْدَانِ مِنَ الضَّعْفِ، يَبْلُغُ بِالْعَبْدِ مَنَازِلَ الأَبْرَارِ، وَمَجَالِسَ الْمُلُوكِ، وَالدَّرَجَاتِ الْعُلَا فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، وَالْفِكْرَةُ فِيهِ تُعْدَلُ بِالصِّيَامِ، وَمُدَارَسَتُهُ بِالْقِيَامِ، وَبِهِ يُطَاعُ وَيُعْبَدُ، وَبِهِ يُعْمَلُ وَيُحْفَدُ، وَبِهِ يُتَوَرَّعُ وَيُؤْجَرُ، وَبِهِ تُوصَلُ الأَرْحَامُ، وَيُعْرَفُ الْحَلالُ مِنَ الْحَرَامِ، إِمَامُ الْعَمَلِ وَالْعَمَلُ، قَالَ: تَابِعُهُ، يُلْهَمُهُ السُّعَدَاءُ، وَيُحْرَمُهُ الأَشْقِيَاءُ "
«যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের পদস্خলন ক্ষমা করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার পদস্খলন ক্ষমা করবেন।»

 

৯৯৯ - আবু আল-হাসান আহমাদ বিন ইসহাক বিন বিঞ্জাব আত-তিবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন খাদির আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বিন আব্দুল মালিক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, সুহাইল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আবু সালেহ আমাকে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "‌‌ ঈমানের ষাটের অধিক অথবা সত্তরটির বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং এর সর্বনিম্ন শাখা হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।"

আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আশ-শাফিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক বিন আল-হাসান অর্থাৎ আল-হারবি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন রাজা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সাঈদ বিন সালামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-আলা থেকে, তার পিতা থেকে, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‌‌«আমি কি তোমাদের এমন কিছুর কথা বলব না, যার মাধ্যমে আল্লাহ পাপসমূহ মিটিয়ে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন?» তারা বললেন, "হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!" তিনি বললেন: «কষ্টসাধ্য অবস্থায়ও ভালোভাবে ওযু করা, মসজিদের দিকে অধিক পদচারণা করা এবং এক সালাতের পর অন্য সালাতের জন্য অপেক্ষা করা; এটাই হলো রিবাত (সীমান্ত পাহারা)»

আবু মুহাম্মাদ দালাজ বিন আহমাদ বিন দালাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইব্রাহিম বিন আবি তালিব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন মিহরান আল-জাম্মাল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আল-মুআল্লা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, যিয়াদ বিন খাইসামাহ থেকে, আবু দাউদ থেকে, আব্দুল্লাহ বিন সাখবারাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‌‌«যাকে পরীক্ষায় ফেলা হলো এবং সে ধৈর্য ধরল, যাকে দান করা হলো এবং সে শুকরিয়া আদায় করল, যে জুলুম করল এবং ক্ষমা চাইল, আর যার ওপর জুলুম করা হলো এবং সে ক্ষমা করে দিল» , এরপর তিনি নীরব হলেন। তখন বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তার জন্য কী রয়েছে? তিনি বললেন: «তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত»

আবু আলী মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আস-সাওয়াফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আজলান থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-কাক্কা বিন হাকিম আমাকে আবু সালেহ থেকে হাদীস শুনিয়েছেন, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‌‌«আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে সালাত আদায় করে এবং তার স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয় ফলে সেও সালাত আদায় করে; যদি সে অস্বীকার করে তবে সে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ সেই নারীর প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে সালাত আদায় করে এবং তার স্বামীকে জাগিয়ে দেয় ফলে সেও সালাত আদায় করে; যদি সে অস্বীকার করে তবে সে তার মুখে পানি ছিটিয়ে দেয়»

 

. . . . . . . . . কিনানাহ বিন জাবালাহ থেকে, রাজা বিন হাইওয়াহ থেকে, আব্দুর রহমান বিন গানম থেকে, মুআয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "‌‌ তোমরা জ্ঞান অর্জন করো, কারণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞান অর্জন করা হলো তাকওয়া, এর অনুসন্ধান করা ইবাদত, এর পর্যালোচনা করা তাসবিহ, এ নিয়ে গবেষণা করা জিহাদ, যে জানে না তাকে তা শিক্ষা দেওয়া সদকা এবং এর উপযুক্ত পাত্রের কাছে তা বিলিয়ে দেওয়া নৈকট্য লাভের মাধ্যম। কারণ এটি হালাল ও হারামের নিদর্শন, জান্নাতের পথের আলোকবর্তিকা, একাকীত্বের বন্ধু, নির্জনতার সঙ্গী, নিঃসঙ্গতার সাথী, সুখ ও দুঃখের পথপ্রদর্শক, শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র, বন্ধুদের কাছে অলঙ্কার এবং প্রবাসে আপনজন। এর মাধ্যমে আল্লাহ বিভিন্ন জাতিকে উন্নত করেন এবং তাদের কল্যাণের পথে নেতা ও অনুসরণযোগ্য পথপ্রদর্শক বানান, কল্যাণের এমন ইমাম বানান যাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা হয়, যাদের কর্ম পর্যবেক্ষণ করা হয়, যাদের কার্যাবলীকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং যাদের মতামতের ওপর নির্ভর করা হয়। ফেরেশতারা তাদের বন্ধুত্ব কামনা করেন এবং নিজেদের ডানা দিয়ে তাদের স্পর্শ করেন। ফেরেশতারা তাদের সালাতে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি সমুদ্রের মাছ ও জলজ প্রাণী, স্থলের হিংস্র প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তু এবং আকাশ ও তার নক্ষত্ররাজি তাদের জন্য দোয়া করে। কেননা জ্ঞান হলো অন্ধত্ব থেকে অন্তরের জীবন, অন্ধকার থেকে চোখের আলো এবং দুর্বলতা থেকে শরীরের শক্তি। এর মাধ্যমে বান্দা নেককারদের স্তরে, রাজাদের মজলিসে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছাতে পারে। এটি নিয়ে চিন্তা করা সিয়ামের সমতুল্য এবং এর অধ্যয়ন কিয়ামুল লাইলের সমতুল্য। এর মাধ্যমেই আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদত করা হয়, এর মাধ্যমেই আমল ও প্রচেষ্টা চালানো হয়, এর মাধ্যমেই তাকওয়া অবলম্বন ও পুরস্কার লাভ হয়, এর মাধ্যমেই আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা হয় এবং হালাল ও হারামকে চেনা যায়। জ্ঞান হলো আমলের ইমাম আর আমল হলো তার অনুসারী; সৌভাগ্যবানদের এটি দান করা হয় এবং দুর্ভাগাদের তা থেকে বঞ্চিত করা হয়।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
1000 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ السُّكَّرِيُّ، بِمَكَّةَ، أَنْشَدَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، أَنْشَدَنِي أَبُو سَهْلٍ الرَّازِيُّ النَّحْوِيُّ:

الْحِرْصُ دَاءٌ قَدْ أَضَرَّ … بِمَنْ تَرَى إِلا قَلِيلا

كَمْ مِنْ عَزِيزٍ قَدْ رَأَيْتَ … الْحِرْصَ صَيَّرَهُ ذَلِيلا
১০০০ - মক্কায় আবুল আব্বাস আহমাদ বিন ইব্রাহিম আস-সুক্কারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন জাফর আমাদের নিকট কবিতা আবৃত্তি করেছেন, আবু সাহল আর-রাজি আন-নাহবি আমার নিকট কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

লোভ এমন এক ব্যাধি যা ক্ষতি করেছে … আপনি যাদের দেখছেন তাদের প্রায় সকলেরই, অল্প কতিপয় ব্যতীত

কতই না সম্মানিত ব্যক্তিকে আপনি দেখেছেন … লোভ তাকে লাঞ্ছিত করে ছেড়েছে।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
1001 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ، ثنا عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ الْهَيْثَمِ، ثنا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ:‌‌ أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ بِقَدَحَيْنِ مِنْ خَمْرٍ، وَلَبَنٍ، فَنَظَرَ إِلَيْهِمَا، ثُمَّ أَخَذَ اللَّبَنَ، فَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ: «هُدِيتَ لِلْفِطْرَةِ، لَوْ أَخَذْتَ الْخَمْرَ غَوَتْ أُمَّتُكَ» ،

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ،

أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ، عَنْ أَبِي الْيَمَانِ

1002 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ الْحَارِثِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، ثنا عَمْرُو بْنُ الْحُصَيْنِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُلاثَةَ، ثنا ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ يُحَدِّثُ، عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ: شَكَوْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَقًا أَجِدُهُ، فَقَالَ لِي: "‌‌ إِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَنَامَ وَأَخَذْتَ مَضْجَعَكَ، فَقُلْ: هَدَأَتِ الْعُيُونُ، وَغَارَتِ النُّجُومُ، وَأَنْتَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ "، قَالَ: فَقُلْتُهَا، فَأَذْهَبَ اللَّهُ مَا كُنْتُ أَجِدُ
১০০১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন যিয়াদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল কারীম বিন আল-হাইসাম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ বিন আবদ রাব্বিহি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হারব, তিনি আয-যুবাইদি থেকে, তিনি আয-যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন:‌‌ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসরা বা নৈশ ভ্রমণের রাতে মদ ও দুধের দুটি পেয়ালা প্রদান করা হয়েছিল। তিনি সেগুলোর দিকে তাকালেন, অতঃপর দুধ গ্রহণ করলেন। তখন জিবরাঈল তাকে বললেন: «আপনি স্বভাবজাত দ্বীন বা ফিতরাতের দিকে পরিচালিত হয়েছেন; আপনি যদি মদ গ্রহণ করতেন, তবে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হয়ে যেত»।

এটি আয-যুহরির হাদীস থেকে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস।

ইমাম বুখারী এটি আবু আল- ইয়ামান থেকে বর্ণনা করেছেন।

১০০২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ হামযাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস বিন আল-ফদল বিন আল-হারিস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর বিন আল-হুসাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন উলাসাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাওরি বিন ইয়াযিদ, তিনি খালিদ বিন মা'দান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল মালিক বিন মারওয়ানকে মারওয়ান বিন আল-হাকাম থেকে এবং তিনি যায়িদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আমার নিদ্রাহীনতার অভিযোগ করলাম যা আমি অনুভব করছিলাম। তিনি আমাকে বললেন: "‌‌ যখন তুমি ঘুমানোর ইচ্ছা করবে এবং নিজের বিছানা গ্রহণ করবে, তখন বলো: চক্ষুসমূহ শান্ত হয়েছে, নক্ষত্ররাজি ডুবে গিয়েছে, আর আপনিই চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক ", তিনি বলেন: অতঃপর আমি তা পাঠ করলাম এবং আল্লাহ আমার সেই কষ্ট দূর করে দিলেন যা আমি অনুভব করছিলাম।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
1003 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ خُزَيْمَةَ، ثنا أَبُو قِلابَةَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا يَزِيدُ بْنُ بَيَانٍ الْمُعَلِّمُ، ثنا أَبُو الرَّحَّالِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: ‌‌«مَا أَكْرَمَ شَابٌّ شَيْخًا لِسِنِّهِ، إِلا قَيَّضَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ سِنِّهِ مَنْ يُكْرِمُهُ»

 

1004 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْفَاكِهِيُّ، بِمَكَّةَ، ثنا أَبُو يَحْيَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي مَسَرَّةَ، ثنا خَلادُ بْنُ يَحْيَى، ثنا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، ثنا زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ فَلا يُؤْذِيَنَّ جَارَهُ، مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا كَرَامَتُهُ؟ قَالَ: «جَائِزَتُهُ» ، قَالُوا: وَمَا جَائِزَتُهُ؟ قَالَ: «إِضَافَةُ ثَلاثِ لَيَالٍ، فَمَا كَانَ بَعْدَ ذَاكَ، فَهُوَ صَدَقَةٌ»

 

1005 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ، ثنا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ النُّعْمَانِ، ثنا حَمْزَةُ الزَّيَّاتُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ أَبِي الْحَوْرَاءِ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: عَلَّمَنِي أَبِي، أَوْ جَدِّي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أَقُولَ فِي قُنُوتِ الْوِتْرِ:
১০০৩ - আবু আলি আহমদ ইবনুল ফজল ইবনুল আব্বাস ইবনে খুজাইমা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু কিলাবা আব্দুল মালিক ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে বায়ান আল-মুয়াল্লিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-রাহহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «কোনো যুবক কোনো বৃদ্ধকে তার বয়সের কারণে সম্মান করলে, আল্লাহ তার বার্ধক্যে এমন কাউকে নিয়োজিত করবেন যে তাকে সম্মান করবে»

 

১০০৪ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-ফাকিহি মক্কায় আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়াহইয়া আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে জাকারিয়া ইবনে আবি মাসাররাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে সাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জায়েদ ইবনে আসলাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়; যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নীরব থাকে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে», তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তার সম্মান কী? তিনি বললেন: «তার পুরস্কার», তারা বললেন: আর তার পুরস্কার কী? তিনি বললেন: «তিন রাত মেহমানদারি করা, এরপর যা কিছু হবে তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে»

 

১০০৫ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-শাফিঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে গালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুস সামাদ ইবনে নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হামজা আল-জাইয়াত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি বুরাইদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে, তিনি আবুল হাওরা থেকে, তিনি হাসান ইবনে আলি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার পিতা অথবা আমার নানা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বিতর নামাজের কুনুতে বলার জন্য শিখিয়েছেন:
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
«اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ، إِنَّكَ تَقْضِي وَلا يُقْضَى عَلَيْكَ، إِنَّهُ لا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، تَبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ»

 

1006 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ بِنْجَابٍ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الزَّنْجَانِيُّ، ثنا الْحَجَّاجُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ قُتَيْبَةَ، ثنا بِشْرُ بْنُ الْحُسَيْنِ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ، عَنْ أَنَسٍ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: ‌‌«إِنَّ الْعَفْوَ لا يَزِيدُ الْعَبْدَ إِلا عِزًّا، فَاعْفُوا يَعِزَّكُمُ اللَّهُ، وَإِنَّ التَّوَاضُعَ لا يَزِيدُ الْعَبْدَ إِلا رِفْعَةً، فَتَوَاضَعُوا يَرْفَعْكُمُ اللَّهُ، وَإِنَّ الصَّدَقَةَ لا تَزِيدُ الْمَالَ إِلا نَمَاءً، فَتَصَدَّقُوا يَرْحَمْكُمُ اللَّهُ»

 

1007 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الصَّوَّافِ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ يَزِيدَ يَعْنِي ابْنَ كَيْسَانَ، حَدَّثَنِي ابْنُ حَازِمٍ، قَالَ: رَأَيْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يُشِيرُ بِأُصْبُعِهِ مِرَارًا:
«হে আল্লাহ! আপনি যাদের পথ দেখিয়েছেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে পথ দেখান, আপনি যাদের সুস্থতা দান করেছেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে সুস্থতা দান করুন, আপনি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন, আপনি আমাকে যা দান করেছেন তাতে বরকত দান করুন এবং আপনি যে ফয়সালা করেছেন তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ফয়সালা করেন এবং আপনার বিরুদ্ধে কোনো ফয়সালা করা হয় না। নিশ্চয়ই আপনি যার সাথে বন্ধুত্ব করেন সে লাঞ্ছিত হয় না। আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ।»

 

১০০৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমদ বিন ইসহাক বিন বিঞ্জাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইবরাহিম আজ-জানজানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বিন কুতাইবাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন আল-হুসাইন, যুবাইর বিন আদি থেকে বর্ণিত, আনাস (রা.) থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই ক্ষমা দাসের মর্যাদা বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই করে না, সুতরাং তোমরা ক্ষমা করো, আল্লাহ তোমাদের সম্মানিত করবেন। আর নিশ্চয়ই বিনয় দাসের উচ্চতা বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই করে না, সুতরাং তোমরা বিনয়ী হও, আল্লাহ তোমাদের উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। আর নিশ্চয়ই সদকাহ সম্পদ বৃদ্ধি ছাড়া আর কিছুই করে না, সুতরাং তোমরা সদকাহ করো, আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।»

 

১০০৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আস-সাওয়াফ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল, তিনি বলেন আমাকে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন সাঈদ, ইয়াজিদ অর্থাৎ ইবনে কায়সান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমাকে ইবনে হাজিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবু হুরাইরা (রা.)-কে বারবার তাঁর আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করতে দেখেছি:
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
«وَالَّذِي نَفْسُ أَبِي هُرَيْرَةَ بِيَدِهِ،‌‌ مَا شَبِعَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاثَةَ أَيَّامٍ تِبَاعًا مِنْ خُبْزِ حِنْطَةٍ، حَتَّى فَارَقَ الدُّنْيَا»

 

1008 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسْيَنِ عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قَانِعٍ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ، ثنا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ، ثنا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ، عَنْ نَهَارٍ الْعَبْدِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "‌‌ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ يَكُونُ خَيْرَ الْمَالِ فِيهِ شَاءٌ، أَوْ قَالَ: غَنَمٌ، يَتْبَعُ شَعَفَ الْجِبَالِ، وَمَوَاقِعَ الْقَطْرِ، يَفِرُّ بِدِينِهِ مِنَ الْفِتَنِ "

 

1009 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، ثنا مُوسَى بْنُ هَارُونَ، ثنا أَبُو صَالِحٍ الْحَكَمُ بْنُ مُوسَى الشَّيْخُ الصَّالِحُ، ثنا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ الدِّمَشْقِيُّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حَسَّانَ، ثنا الْحَارِثُ بْنُ مُسْلِمٍ التَّمِيمِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ:‌‌ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي سَرِيَّةٍ، فَلَمَّا هَجَمْنَا عَلَى الْقَوْمِ، تَقَدَّمْتُ أَصْحَابِي عَلَى فَرَسِي، فَاسْتَقْبَلَنَا النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ يَضِجُّونَ، فَقُلْتُ لَهُمْ: تُرِيدُونَ أَنْ تُحْرَزُوا مِنْهُمْ؟ قَالَوا: نَعَمْ، قُلْتُ: قُولُوا: نَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، فَقَالُوهَا، فَجَاءَ أَصْحَابِي فَلامُونِي، وَقَالُوا: أَشْرَفْنَا عَلَى الْغَنِيمَةِ، فَمَنَعْتَنَا، ثُمَّ انْصَرَفْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَخْبَرُوهُ بِالَّذِي صَنَعْتُ، فَقَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا صَنَعَ؟ لَقَدْ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ إِنْسَانٍ كَذَا وَكَذَا مِنَ الأَجْرِ» ، ثُمَّ أَدْنَانِي مِنْهُ، فَقَالَ: " إِذَا صَلَّيْتَ صَلاةَ الْغَدَاةِ، فَقُلْ قَبْلَ أَنْ تَكَلَّمَ:
«সেই সত্তার কসম যার হাতে আবু হুরায়রার প্রাণ,‌‌ আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহকাল ত্যাগ করা পর্যন্ত টানা তিন দিন গমের রুটি খেয়ে তৃপ্ত হননি।»

 

১০০৮ - আবু আল-হুসাইন আব্দুল বাকি ইবনে কানি' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনে গালিব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, খালিদ ইবনে ইয়াযিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি সা'সা'আ থেকে, তিনি নাহার আল-আবদি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ মানুষের ওপর অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন তাদের সর্বোত্তম সম্পদ হবে বকরি—অথবা তিনি বলেছেন: ভেড়া—যা নিয়ে সে পাহাড়ের চূড়ায় এবং বৃষ্টির স্থানে চলে যাবে, ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য সে নিজের দ্বীন নিয়ে পলায়ন করবে।"

 

১০০৯ - দা'লাজ ইবনে আহমাদ ইবনে দা'লাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুসা ইবনে হারুন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, নেককার শাইখ আবু সালিহ আল-হাকাম ইবনে মুসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সাদাকাহ ইবনে খালিদ আদ-দিমাশকি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনে হাসান থেকে, হারিস ইবনে মুসলিম আত-তামিমি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন:‌‌ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের একটি সেনাদলে পাঠিয়েছিলেন। যখন আমরা সেই কওমের ওপর আক্রমণ করলাম, আমি আমার ঘোড়ায় চড়ে আমার সাথীদের অগ্রভাগে চলে গেলাম। তখন নারী ও শিশুরা আর্তনাদ করতে করতে আমাদের সামনে এল। আমি তাদের বললাম: তোমরা কি তাদের থেকে সুরক্ষিত থাকতে চাও? তারা বলল: হ্যাঁ। আমি বললাম: তবে বলো: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। তারা তা বলল। এরপর আমার সাথীরা এসে আমাকে তিরস্কার করতে লাগল এবং বলল: আমরা তো গনিমতের মালের দোরগোড়ায় পৌঁছেছিলাম, কিন্তু আপনি আমাদের বঞ্চিত করলেন। এরপর আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ফিরে এলাম এবং তারা আমি যা করেছি তা তাঁকে জানাল। তখন তিনি বললেন: «তোমরা কি জানো সে কী করেছে? আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি মানুষের বিনিময়ে এত এত সওয়াব লিখে দিয়েছেন।» এরপর তিনি আমাকে তাঁর কাছে টেনে নিলেন এবং বললেন: "যখন তুমি ভোরের নামাজ আদায় করবে, তখন কথা বলার আগে বলো:"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ، فَإِنَّكَ إِنْ مِتَّ مِنْ يَوْمِكَ ذَلِكَ كَتَبَ اللَّهُ لَكَ بِهَا جِوَارًا مِنَ النَّارِ، وَإِذَا صَلَّيْتَ الْمَغْرِبَ، فَقُلْ قَبْلَ أَنْ تُكَلِّمَ أَحَدًا: اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ سَبْعَ مَرَّاتٍ، فَإِنَّكَ إِنْ مِتَّ مِنْ لَيْلَتِكَ كَتَبَ اللَّهُ لَكَ جِوَارًا مِنَ النَّارِ "

 

1010 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ الْحَسَنِ الْمُعَدَّلُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا الْهُذَيْلُ بْنُ بِلالٍ الْمَازِنِيُّ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، ثنا عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ الْمِصْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَا أَهْدَى مُسْلِمٌ لأَخِيهِ هَدِيَّةً أَفْضَلَ مِنْ كَلِمَةِ حِكْمَةٍ يَزِيدُهُ اللَّهُ بِهَا هُدًى، أَوْ يَرُدُّهُ بِهَا عَنْ أَذًى»

 

1011 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الآجُرِّيُّ، بِمَكَّةَ، ثنا جَعْفَرٌ الْفِرْيَابِيُّ، ثنا النُّفَيْلِيُّ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا مِسْكِينُ بْنُ بُكَيْرٍ، ثنا شُعْبَةُ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، يَقُولُ، وَذَكَرَ مَا فَتَحَ اللَّهُ عَلَى هَذِهِ الأُمَّةِ: لَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم،‌‌ يَلْتَوِي، مَا يَجِدُ مَا يَمْلأُ بَطْنَهُ مِنَ الدَّقَلِ، وَمَا تَرْضَوْنَ إِلا أَلْوَانَ الطَّعَامِ، وَأَلْوَانَ الثِّيَابِ "
"হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন" সাতবার বলুন; কেননা আপনি যদি সেই দিনে মৃত্যুবরণ করেন, তবে আল্লাহ আপনার জন্য এর বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা লিখে দেবেন। আর যখন আপনি মাগরিবের সালাত আদায় করবেন, তখন কারো সাথে কথা বলার আগে বলুন: "হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন" সাতবার; কেননা আপনি যদি সেই রাতে মৃত্যুবরণ করেন, তবে আল্লাহ আপনার জন্য জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা লিখে দেবেন।

 

১০১০ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল খালিক ইবনুল হাসান আল-মুআদ্দাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনু সুলাইমান থেকে, তিনি হুযাইল ইবনু বিলাল আল-মাযিনি থেকে, তিনি ইসমাঈল ইবনু আইয়াশ থেকে, তিনি উমারা ইবনু গাজিয়্যাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আবি জাফর আল-মিসরি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু আমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‌‌«কোনো মুসলিম তার ভাইয়ের জন্য হিকমতের বাণীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো উপহার প্রদান করেনি, যার মাধ্যমে আল্লাহ তার হিদায়াত বৃদ্ধি করেন অথবা তার মাধ্যমে তাকে কোনো অনিষ্ট থেকে ফিরিয়ে রাখেন।»

 

১০১১ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনু আব্দুল্লাহ আল-আজুরি মক্কায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি জাফর আল-ফিরইয়াবি থেকে, তিনি নুফায়লি আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ থেকে, তিনি মিসকিন ইবনু বুকাইর থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি সিমাক ইবনু হারব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নুমান ইবনু বাশিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি—আর তিনি এই উম্মতের জন্য আল্লাহ যা কিছু বিজয় দান করেছেন তা উল্লেখ করছিলেন—তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি ‌‌ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছটফট করতে, তিনি পেট ভরার মতো সাধারণ মানের খেজুরও পেতেন না; অথচ তোমরা বিভিন্ন পদের খাবার এবং বিভিন্ন পদের পোশাক ছাড়া সন্তুষ্ট হও না।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
1012 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ، ثنا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ، ثنا 3 سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ 3، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلانَ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ: ‌‌«الشَّهِيدُ لا يَجِدُ أَلَمَ الْقَتْلِ، إِلا كَمَا يَجِدُ أَلَمَ الْقَرْصَةِ»

 

1013 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ بِنْجَابٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الصَّفَّارُ، ثنا سُوَيْدٌ، ثنا عُبَيْدَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شِمْرِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، «إِنَّ‌‌ مُعَلِّمَ الْخَيْرِ تَسْتَغْفِرُ لَهُ دَوَابُّ الأَرْضِ، حَتَّى الْحُوتِ فِي الْبَحْرِ»
১০১২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন জাফর বিন হামদান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর বিন মুসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুর রহমান আল-মুকরি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আবি আইয়ুব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আজলান, আল-কাক্কা বিন হাকিম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «একজন শহীদ নিহত হওয়ার ব্যথা অনুভব করেন না, কেবল ততটুকুই অনুভব করেন যতটুকু তোমাদের কেউ একটি চিমটির ব্যথা অনুভব করে থাকে।»

 

১০১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন ইসহাক বিন বিঞ্জাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন আল-হাসান আস-সাফফার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদাহ, আল-আ'মাশ থেকে, তিনি শিমর বিন আতিয়্যাহ থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, «নিশ্চয়ই কল্যাণের শিক্ষকের জন্য জমিনের সকল প্রাণী ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি সমুদ্রের মাছও।»
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
1014 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ الْفَاكِهِيُّ، بِمَكَّةَ، ثنا أَبُو يَحْيَى عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي مَسَرَّةَ، ثنا الْمُقْرِئُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، ثنا مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، يَقُولُ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ يَخْطُبُ النَّاسَ بِمِصْرَ، يَقُولُ: ‌‌«مَا أَبْعَدَ هَدْيَكُمْ مِنْ هَدْيِ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم، أَمَّا هُوَ فَكَانَ أَزْهَدَ النَّاسِ فِي الدُّنْيَا، وَأَنْتُمْ أَرْغَبُ النَّاسِ فِيهَا» ، هَذَا حَدِيثٌ مَحْفُوظٌ، مِنْ حَدِيثِ مُوسَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ، وَهُوَ إِسْنَادٌ كُلُّهُمْ ثِقَاتٌ

 

1015 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ نَصْرِ بْنِ حُمَيْدٍ الْبَزَّازُ، ثنا زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى الْوَاسِطِيُّ، ثنا عَبَّادٌ، ثنا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: ‌‌«مَا أَخْرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رُكْبَتَيْهِ بَيْنَ يَدَيْ جَلِيسٍ لَهُ قَطُّ، وَلا تَنَاوَلَ يَدَ أَحَدٍ قَطُّ فَتَرَكَهَا حَتَّى يَكُونَ هُوَ يَدَعُهَا، وَمَا جَلَسَ إِلَى الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم أَحَدٌ قَطُّ فَقَامَ حَتَّى يَقُومَ، وَمَا وَجَدْتُ رِيحَ شَيْءٍ قَطُّ أَطْيَبَ مِنْ رِيحِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم»

 

1016 - أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ الْحَارِثِ، ثنا الْحَارِثُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا رَوْحٌ، ثنا هِشَامُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ سَلامٍ، عَنْ جَدِّهِ مَمْطُورٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَجُلا سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَا الإِيمَانُ؟ قَالَ: «إِذَا سَرَّتْكَ حَسَنَتُكَ، وَسَاءَتْكَ سَيِّئَتُكَ فَأَنْتَ مُؤْمِنٌ» ،
১০১৪ - আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-ফাকিহি মক্কায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু ইয়াহইয়া আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে আবি মাসাররাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-মুকরি আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াজিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুসা ইবনে আলি ইবনে রাবাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমর ইবনে আল-আসকে মিশরে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "তোমাদের পথনির্দেশ তোমাদের নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পথনির্দেশ থেকে কতই না দূরে! অথচ তিনি দুনিয়ার প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিরাগী ছিলেন, আর তোমরা এর প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।" এটি মুসা ইবনে আলি ইবনে রাবাহ-এর বর্ণিত একটি সংরক্ষিত হাদিস, এবং এর সনদের সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।

 

১০১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জিয়াদ আল-কাত্তান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে নাসর ইবনে হুমাইদ আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্বাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু হানিফা বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুনতাসির থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো তাঁর সাথে বসা কোনো ব্যক্তির সামনে নিজের হাঁটু প্রসারিত করেননি, এবং তিনি কখনো কারো হাত ধরলে তা ততক্ষণ ছাড়তেন না যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজে তা ছেড়ে দিত, আর রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কাছে বসা কোনো ব্যক্তি যতক্ষণ না নিজে উঠে দাঁড়াতেন ততক্ষণ তিনি উঠতেন না; আর আমি কখনো রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুঘ্রাণের চেয়ে অধিক চমৎকার কোনো সুঘ্রাণ পাইনি।"

 

১০১৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমদ হামজাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস ইবনুল ফজল ইবনুল হারিস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট রাওহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হিশাম ইবনে আবি আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে সালাম থেকে, তিনি তাঁর দাদা মামতুর থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন: ঈমান কী? তিনি বললেন: "যখন তোমার নেক আমল তোমাকে আনন্দিত করবে এবং তোমার মন্দ কাজ তোমাকে ব্যথিত করবে, তখন তুমি মুমিন।"
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
قَالَ: فَمَا الإِثْمُ؟ قَالَ: «إِذَا حَاكَ فِي نَفْسِكَ شَيْءٌ فَدَعْهُ»

 

1017 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ خُزَيْمَةَ، ثنا صَالِحُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّازِيُّ، ثنا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى الأَزْرَقُ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«فَضْلُ صَلاةِ أَحَدِكُمْ فِي جَمَاعَةٍ عَلَى صَلاةِ الرَّجُلِ وَحْدَهُ سَبْعًا وَعِشْرِينَ»

 

1018 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَجِ، ثنا الْوَاقِدِيُّ، ثنا عَاصِمُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي أَرْوَى الدَّوْسِيِّ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم جَالِسًا،‌‌ فَطَلَعَ أَبُو بَكْرٍ، وَعُمَرُ رضي الله عنهما، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَيَّدَنِي بِكُمَا»

 

1019 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ بِنْجَابٍ الطِّيبِيُّ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ الصَّفَّارُ أَبُو جَعْفَرٍ، ثنا سُوَيْدٌ، ثنا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ الْحَسَنِ الْهِلالِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هُبَيْرَةَ بْنِ يَرِيمَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ مُلْتَمِسًا، يَعْنِي لَيْلَةَ الْقَدْرِ، فَلْيَلْتَمِسْهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ
তিনি বললেন: তবে পাপ কী? তিনি বললেন: "যখন তোমার মনে কোনো কিছু খটকা সৃষ্টি করে, তখন তা বর্জন করো।"

 

১০১৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আহমাদ বিন আল-ফজল বিন আল-আব্বাস বিন খুজাইমাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আর-রাজি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্বাদ বিন মুসা আল-আজরাক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন উমর, নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারো জামাআতে সালাত আদায়ের শ্রেষ্ঠত্ব একাকী সালাত আদায়ের ওপর সাতাশ গুণ।"

 

১০১৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আশ-শাফিঈ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-ফারাজ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়াকিদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম বিন উমর, সুহাইল বিন আবি সালিহ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম বিন আল-হারিস আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু সালামাহ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু আরওয়া আদ-দাওসি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে তোমাদের দুজনের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন।"

 

১০১৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান বিন আহমাদ বিন ইসহাক বিন বিঞ্জাব আত-তিবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আহমাদ বিন আল-হাসান আস-সাফফার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুওয়াইদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল হামিদ বিন আল-হাসান আল-হিলালি, আবু ইসহাক থেকে, তিনি হুবাইরাহ বিন ইয়ারিম থেকে, তিনি আলী বিন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অনুসন্ধান করতে চায়—অর্থাৎ লাইলাতুল কদর—সে যেন তা অনুসন্ধান করে শেষ দশকে..."
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٣١)
رَمَضَانَ، فَإِنْ عَجَزْتُمْ، فَلا تُغْلَبُوا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ» ، قَالَ: وَكَانَ يُوقِظُ أَهْلَهُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ

 

1020 - أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، أنبا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ صَالِحٍ الْمَخْزُومِيُّ، عَنْ يَعْقُوبَ التَّمِيمِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ لِهِنْدِ بْنِ أَبِي هَالَةَ، وَكَانَ رَبِيبًا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: صِفْ لَنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَعَلَّكَ أَنْ تَكُونَ أَثْبَتَنَا بِهِ مَعْرِفَةً، قَالَ: ‌‌«كَانَ، بِأَبِي هُوَ وَأُمِّي، طَوِيلَ الصَّمْتِ، دَائِمَ الْفِكْرَةِ، مُتَوَاتِرَ الأَحْزَانِ، إِذَا تَكَلَّمَ تَكَلَّمَ بِجَوَامِعِ الْكَلامِ، لا فَضْلَ وَلا تَقْصِيرَ، وَإِذَا حَدَّثَ أَعَادَ، وَإِذَا وَعَظَ جَدَّ وَمَادَ، وَإِذَا خُولِفَ أَعْرَضَ وَأَشَاحَ، يَتَرَوَّحُ إِلَى حَدِيثِ أَصْحَابِهِ، يُعَظِّمُ النِّعْمَةَ وَإِنْ دَقَّتْ، وَلا يَذُمُّ ذَوَاقًا، وَيَبْسِمُ عِنْ مِثْلِ حَبِّ الْغَمَامِ، صلى الله عليه وسلم»

 

1021 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قَانِعٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ، ثنا دَاوُدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، ثنا سُوَيْدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«الْمُسْتَشَارُ مُؤْتَمَنٌ، وَالْمُسْلِمُ أَخُو الْمُسْلِمِ لا يَغْتَابُهُ، وَلا يَخُونُهُ»

 

1022 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ الصَّوَّافِ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا وَكِيعٌ، ثنا سُفْيَانُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ:
রমজান, যদি তোমরা অক্ষম হয়ে পড়ো, তবে শেষ সাত রাতের ব্যাপারে যেন পরাজিত না হও।" তিনি বলেন: এবং তিনি শেষ দশকে তাঁর পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন।

 

১০২০ - আবু মুহাম্মদ দাল্লাজ ইবনে আহমদ ইবনে দাল্লাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বিশর ইবনে মুসা আমাদের জানিয়েছেন, ইসমাইল ইবনে সালামাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে সালিহ আল-মাখজুমি আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব আত-তামিমি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (ইবনে আব্বাস) হিন্দ ইবনে আবি হালাকে বললেন—যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পালকপুত্র ছিলেন—আমাদের কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলি বর্ণনা করুন, সম্ভবত আপনিই তাঁর সম্পর্কে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সুদৃঢ় জ্ঞানের অধিকারী। তিনি বললেন: "আমার পিতা ও মাতা তাঁর জন্য উৎসর্গিত হোন, তিনি দীর্ঘ নীরবতা পালনকারী ছিলেন, সর্বদা চিন্তামগ্ন থাকতেন, নিরন্তর বিষণ্ণ থাকতেন (আল্লাহর ভয়ে), যখন কথা বলতেন তখন সারগর্ভ ও সংক্ষিপ্ত কথা বলতেন, যাতে কোনো বাহুল্য ছিল না এবং কোনো অসম্পূর্ণতাও ছিল না। তিনি যখন কথা বলতেন তখন তা পুনরাবৃত্তি করতেন, যখন উপদেশ দিতেন তখন অত্যন্ত গুরুত্ব ও দৃঢ়তার সাথে দিতেন। যখন তাঁর বিরোধিতা করা হতো তখন তিনি বিমুখ হতেন এবং নিজেকে সরিয়ে নিতেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের সাথে কথোপকথনে স্বস্তি বোধ করতেন। তিনি নেয়ামতকে মহান মনে করতেন যদিও তা অতি সামান্য হতো, খাবারের কোনো নিন্দা করতেন না। তিনি যখন মুচকি হাসতেন তখন তাঁর দাঁতগুলো শিলাবৃষ্টির দানার ন্যায় শুভ্র দেখাত, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।"

 

১০২১ - আবুল হোসেন আব্দুল বাকি ইবনে কানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে দাউদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবনে সুলাইমান আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুওয়াইদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে, তিনি ওমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যার নিকট পরামর্শ চাওয়া হয় সে আমানতদার, আর মুসলিম হলো মুসলিমের ভাই, সে তার গিবত করবে না এবং তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না।"

 

১০২২ - আবু আলী মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাসান ইবনুল সাওয়াফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, অকি আমাদের বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের বর্ণনা করেছেন যিয়াদ ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
"‌‌ جَاءَ مُشْرِكُو قُرَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، يُخَاصِمُونَهُ فِي الْقَدَرِ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ: {يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ} [القمر: 48] ، {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ} [القمر: 49] "

 

1023 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْخَالِقِ بْنُ الْحَسَنِ الْمُعَدِّلُ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ الْحَسَنِ الْحَرْبِيُّ، ثنا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، ثنا أَبُو قُدَامَةَ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«إِنَّ لِلْعَبْدِ الْمُؤْمِنِ فِي الْجَنَّةِ لَخَيْمَةً مِنْ لُؤْلُؤَةٍ طُولُهَا ثَلاثُونَ مِيلا، لِلْمُؤْمِنِ فِيهَا أَهْلُونَ يَطُوفُ عَلَيْهِنَّ لا يَرَى بَعْضُهُمْ بَعْضًا»

 

1024 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الآجُرِّيُّ، بِمَكَّةَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ، ثنا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، ثنا أَبُو الْيَمَانِ، عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ، عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مُرَّةَ الْجُهَنِيَّ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ‌‌ إِنْ شَهِدْتُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّكَ رَسُولُ اللَّهِ وَصَلَّيْتُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَأَدَّيْتُ الزَّكَاةَ وَصُمْتُ رَمَضَانَ وَقُمْتُهُ فَمَنْ أَنَا؟ قَالَ: «أَنْتَ مِنَ الصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ»

 

1025 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُمَحِيُّ، بِمَكَّةَ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، ثنا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ مَوْلَى الأَسْلَمِيِّينَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خُبَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
কুরাইশ মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে তাকদীর সম্পর্কে তাঁর সাথে ঝগড়া করতে লাগল। তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: {সেদিন তাদের জাহান্নামের আগুনে উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে নেওয়া হবে (এবং বলা হবে), সাক্বারের (জাহান্নামের) স্পর্শ আস্বাদন করো।} [সূরা আল-কামার: ৪৮], {নিশ্চয় আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।} [সূরা আল-কামার: ৪৯]

 

১০২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল খালিক বিন আল-হাসান আল-মুয়াদ্দিল, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আল-হাসান আল-হারবি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম আল-ফাদল বিন দুকাইন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুদামাহ, তিনি আবু ইমরান থেকে, তিনি আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ বিন কায়স থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জান্নাতে মুমিন বান্দার জন্য মুক্তার তৈরি একটি তাবু থাকবে যার দৈর্ঘ্য হবে ত্রিশ মাইল। তাতে মুমিনের পরিবারবর্গ থাকবে, সে তাদের নিকট যাতায়াত করবে, কিন্তু তারা একে অপরকে দেখতে পাবে না।»

 

১০২৪ - মক্কায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আল-আজুররি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আল-হাসান বিন আব্দুল জব্বার, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন মাইন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল ইয়ামান, তিনি শুআইব বিন আবু হামজাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আবু হুসাইন থেকে, তিনি ঈসা বিন তালহা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমর বিন মুররাহ আল-জুহানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কি অভিমত যদি আমি সাক্ষ্য দিই যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল, আর আমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করি, যাকাত প্রদান করি, রমজানের রোজা রাখি এবং রাতের ইবাদত সম্পন্ন করি, তবে আমি কাদের অন্তর্ভুক্ত হব? তিনি বললেন: «তুমি সিদ্দিক ও শহীদদের অন্তর্ভুক্ত।»

 

১০২৫ - মক্কায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুমাহি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল আজিজ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন বিন আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মা'ন বিন ঈসা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসলামীদের মুক্তদাস আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন আবু সালামাহ, তিনি মুয়াজ বিন আব্দুল্লাহ বিন খুবাইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
«لا بَأْسَ بِالْغِنَى لِمَنِ اتَّقَى، وَالصِّحَّةُ لِمَنِ اتَّقَى خَيْرٌ مِنَ الْغِنَى، وَطِيبُ النَّفْسِ مِنَ النَّعِيمِ»

 

1026 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، ثنا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ، ثنا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ:‌‌ انْشَقَّ الْقَمَرُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اشْهَدُوا، اشْهَدُوا» ، ثُمَّ قَرَأَ: " {اقْتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ} [القمر: 1] "

 

1027 - أَخْبَرَنَا دَعْلَجُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ دَعْلَجٍ، أنبا أَبُو مُسْلِمٍ الْكَجِّيُّ، ثنا مُسَدَّدٌ، ثنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، ثنا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ قَيْسٍ، حَدَّثَنِي عَدِيُّ بْنُ عُمَيْرَةَ الْكِنْدِيُّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: ‌‌«مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ مِنْكُمْ عَلَى عَمَلٍ، فَكَتَمَنَا مِخْيَطًا، فَمَا فَوْقَهُ فَإِنَّهُ غُلٌّ يَأْتِي بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ أَسْوَدُ، كَأَنِّي أَرَاهُ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اقْبَلْ عَنِّي عَمَلَكَ، قَالَ: «وَمَا بَدَا لَكَ» ، قَالَ: سَمِعْتُ الَّذِي قُلْتَ، قَالَ: " وَأَنَا أَقُولُ بِذَاكَ: مَنِ اسْتَعْمَلْنَاهُ عَلَى عَمَلٍ فَلْيَجِئْ بِقَلِيلِهِ، وَكَثِيرِهِ، فَمَا أُوتِيَ مِنْهُ أَخَذَ، وَمَا نُهِيَ عَنْهُ انْتَهَى "

 

1028 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ بِنْجَابٍ الطِّيبِيُّ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ
«যিনি তাকওয়া অবলম্বন করেন তার জন্য স্বচ্ছলতায় কোনো ক্ষতি নেই, আর মুত্তাকীর জন্য সুস্বাস্থ্য স্বচ্ছলতার চেয়েও উত্তম এবং মনের প্রফুল্লতা নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত।»

 

১০২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন জাফর বিন হামদান, বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইউনুস, বর্ণনা করেছেন বিশর বিন উমর আল-যাহরানি, বর্ণনা করেছেন সাঈদ, কাতাদাহ থেকে, আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:‌‌ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'তোমরা সাক্ষী থাকো, তোমরা সাক্ষী থাকো।' অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: " {কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছে} [সূরা আল-কামার: ১] "

 

১০২৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দাউলাজ বিন আহমাদ বিন দাউলাজ, আমাদের জানিয়েছেন আবু মুসলিম আল-কাজ্জি, বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ, বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন ইউনুস, বর্ণনা করেছেন ইসমাইল, কায়স থেকে, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আদি বিন উমাইরা আল-কিন্দি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‌‌‘তোমাদের মধ্যে যাকে আমরা কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান করি, আর সে আমাদের থেকে একটি সুঁই কিংবা তার চেয়ে বড় কিছু গোপন করে, তবে তা আত্মসাৎ হিসেবে গণ্য হবে যা সে কিয়ামতের দিন নিয়ে উপস্থিত হবে।’ তখন আনসারদের একজন কালো বর্ণের লোক দাঁড়িয়ে গেলেন, আমি যেন তাকে এখনও দেখতে পাচ্ছি। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার থেকে আপনার অর্পিত দায়িত্ব ফিরিয়ে নিন। তিনি বললেন: ‘তোমার কী হলো?’ তিনি বললেন: ‘আমি আপনার কথাগুলো শুনেছি।’ তিনি বললেন: "আর আমি এখনও সেই কথাই বলছি: যাকে আমরা কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান করব, সে যেন তার অল্প ও বেশি সবটুকুই নিয়ে আসে। অতঃপর তাকে যা প্রদান করা হবে তা সে গ্রহণ করবে আর যা থেকে তাকে নিষেধ করা হবে তা থেকে সে বিরত থাকবে।"

 

১০২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আহমাদ বিন ইসহাক বিন বিঞ্জাব আল-তিবি, বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْبُخَارِيُّ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ، ثنا أَبِي، ثنا عِيسَى، ثنا أَبُو حَمْزَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ حَفْصَةَ بِنْتَ عُمَرَ، قَالَتْ: مَا عَلَيْكَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، أَنْ تَلْبَسَ خَيْرًا مِنْ ثِيَابِكَ هَذِهِ، قَدْ أَوْسَعَ اللَّهُ مِنَ الرِّزْقِ، وَفَتَحَ عَلَيْكُمُ الأَرْضُ؟ فَقَالَ لَهَا عُمَرُ: " سَأُخَاصِمُكِ إِلَى نَفْسِكِ،‌‌ أَمَا تَعْلَمِينَ مَا كَانَ يَلْقَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؟ فَجَعَلَ يُذَكِّرُهَا بِأَشْيَاءَ مِنْ ثِيَابِهِ حَتَّى بَكَتْ، فَقَالَ: أَلَمْ أَقُلْ لَكِ إِنِّي وَاللَّهِ، لأُشَارِكُهُمَا فِي مِثْلِ عَيْشِهِمَا الشَّدِيدِ، لَعَلِّي أُدْرِكُ مَعَهُمَا عَيْشَهُمَا الرَّخِيَّ "

 

1029 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشَّافِعِيُّ، ثنا الْقَاسِمُ بْنُ أَحْمَدَ الْخَطَّابِيُّ، ثنا هَوْذَةُ بْنُ خَلِيفَةَ، ثنا إِسْرَائِيلُ بْنُ يُونُسَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، قَالَ:‌‌ مَنْ قَالَ: «لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، كَانَ لَهُ مِنَ الأَجْرِ مِثْلُ مَنْ أَعْتَقَ أَرْبَعَةَ أَنْفُسٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ»
...ইবনে আবদুল্লাহ আল-বুখারি, আমাকে অবহিত করেছেন উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ঈসা, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু হামজাহ, ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন যে, হাফসা বিনতে উমর (রা.) বলেছেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনার জন্য আপনার এই পোশাকের চেয়ে উত্তম কিছু পরিধান করতে বাধা কোথায়? আল্লাহ তো রিজিক প্রশস্ত করেছেন এবং আপনাদের জন্য দেশসমূহ বিজয় করে দিয়েছেন।" তখন উমর (রা.) তাঁকে বললেন: "আমি তোমার কাছেই তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করব; তুমি কি জানো না আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিসের সম্মুখীন হতেন? এরপর তিনি তাঁকে তাঁর পোশাকের নানা অবস্থা স্মরণ করিয়ে দিতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি কেঁদে ফেললেন। তখন তিনি বললেন: "আমি কি তোমাকে বলিনি যে, আল্লাহর কসম, আমি তাঁদের সেই কঠোর জীবনযাপনে অংশীদার হব, যাতে আমি তাঁদের সাথে তাঁদের সেই (পরকালীন) স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনে পৌঁছাতে পারি।"

 

১০২৯ - আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইব্রাহিম আশ-শাফিয়ি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন কাসিম ইবনে আহমদ আল-খাত্তাবি, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাওজাহ ইবনে খলিফাহ, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল ইবনে ইউনুস, আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি আমর ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি রাবি ইবনে খুসাইম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি বলবে: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সকল প্রশংসা একমাত্র তাঁরই জন্য, আর তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান', তার জন্য ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরদের থেকে চারজন মানুষকে মুক্ত করার সমপরিমাণ সওয়াব হবে।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٣٥)
الْجُزْءُ الأَوَّلُ مِنَ التَّاسِعَ عَشَرَ مِنْ أَمَالِي أَبِي الْقَاسِمِ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدِّلُ.

رِوَايَةُ الشَّيْخِ الْإِمَامِ الْحَافِظِ أَبِي طَاهِرٍ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السِّلَفِيِّ الأَصْبَهَانِيِّ، رضي الله عنه، عَنْ شُيُوخِهِ الْمَذْكُورِينَ فِيهِ، عَنْهُ كَمَا بَيَّنَ فِي بَاطِنِهِ.

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ رَبِّ يَسِّرْ بِرَحْمَتِكَ
আবুল কাসিম আব্দুল মালিক ইবন মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বিশরান আল-মুয়াদ্দিল-এর আমালির ঊনবিংশতম খণ্ডের প্রথম অংশ।

শায়খ ইমাম হাফিজ আবু তাহির আহমদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহিম আস-সিলাফি আল-আসফাহানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর বর্ণনা, এতে উল্লিখিত তাঁর শায়খদের সূত্রে, যেমনটি এর অভ্যন্তরে বর্ণনা করা হয়েছে।

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও কোনো শক্তি নেই। হে আমার প্রতিপালক, আপনার রহমতের মাধ্যমে সহজ করে দিন।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٣٧)
1030 - أَخْبَرَنَا الإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ السِّلَفِيُّ الأَصْبَهَانِيُّ ، رضي الله عنه، أنبا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَابِرِ بْنِ يَاسِينَ بْنِ مَحْمَوَيْهِ الْحِنَّائِيُّ أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، إِمْلاءً مِنْ لَفْظِهِ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ السَّادِسِ مِنْ ذِي الْقَعْدَةِ سَنَةَ سِتٍّ وَعِشْرِينَ وَأَرْبَعِ مِائَةٍ، أنبا أَبُو أَحْمَدَ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ الْفَضْلِ بْنِ الْحَارِثِ، ثنا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ، ثنا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا شَيْبَانُ النَّحْوِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدْعُو بِهَؤُلاءِ الْكَلِمَاتِ ‌‌«اللَّهُمَّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ النَّارِ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ» ، هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَه أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيّ وَمُسْلِمٌ فِي الصَّحِيحِ

 

1031 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ سَلْمَانَ الْفَقِيهُ النَّجَّادُ، ثنا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرِ بْنِ حَرْبٍ النَّسَائِيُّ، ثنا سُرَيْجُ بْنُ النُّعْمَانِ، ثنا سُهَيْلٌ أَخُو حَزْمٍ، حَدَّثَنِي ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ: " {هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ} [المدثر: 56] "،
১০৩০ - ইমাম হাফিজ আবু তাহির আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহিম আস-সিলাফি আল-আসাবাহানি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন জাবির বিন ইয়াসিন বিন মাহমাওয়াইহ আল-হিন্নায়ি এবং আবুল কাসিম আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান, হিজরি ৪২৬ সনের যিলকদ মাসের ছয় তারিখ শুক্রবার তাঁর মৌখিক শ্রুতলিপি থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু আহমাদ হামজা বিন মুহাম্মাদ বিন আব্বাস বিন ফজল বিন হারিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্বাস বিন মুহাম্মাদ আদ-দুরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাসান বিন মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, শাইবান আন-নাহবি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বাক্যগুলো দিয়ে দুআ করতেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসিহ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” এটি ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির থেকে আবু সালামাহর সূত্রে একটি সহীহ হাদীস, ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম তাদের ‘সহীহ’ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

১০৩১ - আবু বকর আহমাদ বিন সালমান আল-ফকীহ আন-নাজ্জাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আহমাদ বিন জুহাইর বিন হারব আন-নাসায়ী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুরাইজ বিন নুমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুহাইল আখু হাযম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সাবিত আল-বুনানি আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিককে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই আয়াতটি তিলাওয়াত করতে শুনেছি: “তিনিই তাকওয়ার যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমার অধিকারী” [আল-মুদ্দাসসির: ৫৬]।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٣٨)
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: قَالَ رَبُّكُمْ عز وجل: " أَنَا أَهْلٌ أَنْ أُتَّقَى أَنْ يُجْعَلَ مَعِيَ إِلَهٌ، فَمَنِ اتَّقَى أَنْ يَجْعَلَ مَعِيَ إِلَهًا فَهُوَ أَهْلٌ أَنْ أَغْفِرَ لَهُ، هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ ثَابِتٍ ، عَنْ أَنَسٍ، تَفَرَّدَ بِهِ سُهَيْلٌ، أَخُو حَزْمٍ الْقُطَعِيِّ

 

1032 - أَخْبَرَنَا أَبُو سَهْلٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زِيَادٍ الْقَطَّانُ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي كَثِيرٍ الْقَاضِي، ثنا مَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهيِمَ، ثنا هِشَامُ بْنُ حَسَّانٍ، وَالْحَسَنُ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: أَوْصَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِسَبْعٍ: ‌‌«أَوْصَانِي أَنْ أَنْظُرَ إِلَى مَنْ هُوَ دُونِي وَلا أَنْظُرَ إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقِي، وَأَوْصَانِي بِحُبِّ الْمَسَاكِينِ وَالدُّنُوِّ مِنْهُمْ، وَأَوْصَانِي أَنْ أَقُولَ الْحَقَّ وَإِنْ كَانَ مُرًّا، وَأَوْصَانِي أَنْ أَصِلَ رَحِمِي وَإِنْ أَدْبَرْتُ، وَأَوْصَانِي أَنْ لا أَخَافَ فِي اللَّهِ لَوْمَةِ لائِمٍ، وَأَوْصَانِي أَنْ لا أَسَلَ النَّاسَ شَيْئًا، وَأَوْصَانِي أَنْ أَسْتَكْثِرَ مِنْ قَوْلِ لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ، فَإِنَّهَا مِنْ كَنْزِ الْجَنَّةِ» ،
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের বরকতময় ও মহান রব বলেছেন: "আমিই এর যোগ্য যে আমাকে ভয় করা হবে যাতে আমার সাথে অন্য কোনো উপাস্য সাব্যস্ত করা না হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সাথে অন্য কোনো উপাস্য সাব্যস্ত করা থেকে বিরত থাকল, আমি তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার যোগ্য।" এটি সাবিত হতে বর্ণিত আনাস (রা.)-এর একটি গারীব হাদিস। হাজম আল-কুতাঈর ভাই সুহাইল এটি বর্ণনায় একক হয়েছেন।

 

১০৩২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাহল আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন যিয়াদ আল-কাত্তান, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ বিন আবি কাসির আল-কাদি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাক্কি বিন ইবরাহিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন হাসান এবং হাসান বিন দিনার, তারা মুহাম্মাদ বিন ওয়াসি থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন সামিত থেকে, তিনি আবু যার (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে সাতটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন: ‌‌«তিনি আমাকে অসিয়ত করেছেন যেন আমি আমার চেয়ে নিম্নস্তরের মানুষের দিকে তাকাই এবং আমার চেয়ে উচ্চস্তরের মানুষের দিকে না তাকাই। তিনি আমাকে অসিয়ত করেছেন অভাবী ও মিসকিনদের ভালোবাসতে এবং তাদের নিকটবর্তী হতে, তিনি আমাকে অসিয়ত করেছেন সত্য কথা বলতে যদিও তা তিক্ত হয়, তিনি আমাকে অসিয়ত করেছেন যেন আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখি যদিও তারা বিমুখ হয়, তিনি আমাকে অসিয়ত করেছেন যেন আল্লাহর ব্যাপারে আমি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় না করি, তিনি আমাকে অসিয়ত করেছেন যেন মানুষের কাছে কোনো কিছু যাচনা না করি, এবং তিনি আমাকে অসিয়ত করেছেন যেন আমি অধিক পরিমাণে 'লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো পরিবর্তন নেই এবং কোনো শক্তি নেই) পাঠ করি, কেননা তা জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের অন্তর্ভুক্ত»।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٣٩)
هَذَا حَدِيثٌ مَحْفُوظٌ مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ، وَهُوَ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ الْحَسَنِ بْنِ دِينَارٍ عَنْهُ

 

1033 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ أَحْمَدُ بْنُ الْفَضْلِ بْنِ الْعَبَّاسِ بْنِ خُزَيْمَةَ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ الدَّوْرَقِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْعَلافُ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَوَاءٍ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: "‌‌ مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ عَشْرًا، وَمَنْ قَالَهَا عَشْرَ مَرَّاتٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِهَا مِائَةً، وَمَنِ اسْتَغْفَرَ غَفَرَ اللَّهُ لَهُ، وَمَنْ أَعَانَ عَلَى خُصُومَةٍ بِظُلْمٍ أَوْ بِغَيْرِ عِلْمٍ لَمْ يَزَلْ فِي سَخَطِ اللَّهِ عز وجل حَتَّى يَنْزِعَ، وَمَنْ حَالَ بِشَفَاعَةٍ دُونَ حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ عز وجل فَقَدْ ضَادَّ اللَّهَ عز وجل، وَمَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ أَوْ دِرْهَمٌ قُضِيَ مِنْ حَسَنَاتِهِ، وَلَيْسَ ثَمَّ دِينَارٌ وَلا دِرْهَمٌ "، هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ، عَنْ نَافِعٍ، وَهُوَ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ عَنْهُ
এটি মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি'-এর সূত্রে বর্ণিত একটি সংরক্ষিত হাদিস, এবং তাঁর থেকে হাসান ইবনে দিনারের বর্ণনায় এটি একটি বিরল (গরীব) হাদিস।

 

১০৩৩ - আবু আলী আহমদ ইবনুল ফজল ইবনুল আব্বাস ইবনে খুজাইমা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আদ-দাওরাকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-আল্লাফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে সাওয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন আল-মুয়াল্লিম থেকে, তিনি মাতার আল-ওয়াররাক থেকে, তিনি নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "‌‌ যে ব্যক্তি বলবে: 'সুবহানাল্লাহ' (আল্লাহ অতি পবিত্র), আল্লাহ তার জন্য দশটি নেকি লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি এটি দশবার বলবে, আল্লাহ তার জন্য এর বিনিময়ে একশটি নেকি লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি জুলুমের মাধ্যমে অথবা না জেনে কোনো বিবাদে সহযোগিতা করবে, সে মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থাকবে যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করে। আর যে ব্যক্তি সুপারিশের মাধ্যমে আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডবিধিগুলোর (হুদুদ) কোনো একটির প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করবে, সে মহান আল্লাহর বিরোধিতা করল। আর যে ব্যক্তি এমতাবস্থায় মৃত্যুবরণ করল যে তার ওপর কোনো ঋণ বা দিরহামের দায় ছিল, তবে তা তার নেকি থেকে আদায় করা হবে; কারণ সেখানে (পরকালে) কোনো দিনার বা দিরহাম থাকবে না।" মাতার আল-ওয়াররাকের সূত্রে নাফি' থেকে বর্ণিত এটি একটি বিরল (গরীব) হাদিস, এবং তাঁর থেকে হুসাইন আল-মুয়াল্লিমের বর্ণনায় এটিও একটি বিরল হাদিস।
(খণ্ড: ১) আমালী ইবনে বিশরান - আল-জুযউস সানী (পৃষ্ঠা: ٤٠)
1034 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْبَاقِي بْنُ قَانِعٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ الْمَرْوَزِيُّ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ بِشْرٍ، ثنا مُقَاتِلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: ‌‌«مَنْ أَصْبَحَ وَهَمُّهُ غَيْرُ اللَّهِ عز وجل فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ، وَمَنْ لَمْ يَهْتَمَّ لِلْمُسْلِمِينَ فَلَيْسَ مِنْهُمْ» ، هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ.

وَهُوَ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيث مُقَاتِلِ بْنِ سُلَيْمَانَ عن حماد، إِسْحَاقُ بْنُ بِشْرٍ

 

1035 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّافِعِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْجَهْمِ السِّمَّرِيُّ، ثنا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ، ثنا الْحَجَّاجُ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ ذَكْوَانَ، عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبْسَةَ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقُلْتُ:‌‌ مَنْ تَبِعَكَ عَلَى هَذَا الأَمْرُ؟ فَقَالَ: «حَرٌّ وَعَبْدٌ» ، قَالَ: قُلْتُ: مَا الإِسْلامُ؟ قَالَ: «طَيِّبُ الْكَلامِ» ، قَالَ: قُلْتُ: مَا الإِيمَانُ؟ قَالَ: «الصَّبْرُ وَالسَّمَاحَةُ» ، قُلْتُ: أَيُّ الإِسْلامِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ» ،
১০৩৪ - আবুল হুসাইন আবদুল বাকি ইবনে কানি‘ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-মারওয়াযি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুকাতিল ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযিদ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: ‌‌«যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হলো এবং তার মূল চিন্তা ও লক্ষ্য আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী ব্যতীত অন্য কিছু হলো, তবে আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। আর যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিষয়ে চিন্তা বা ভ্রাতৃত্ববোধ পোষণ করে না, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়», এটি ইবরাহিম থেকে বর্ণিত হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমানের হাদিস হিসেবে একটি গরিব হাদিস।

আর এটি হাম্মাদ থেকে মুকাতিল ইবনে সুলাইমান ও ইসহাক ইবনে বিশরের সূত্রেও গরিব।

 

১০৩৫ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আশ-শাফি'য়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনুল জাহম আস-সিম্মারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়ালা ইবনে উবাইদ আত-তানাফিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনে দিনার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে যাকওয়ান থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আমর ইবনে আবাসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলাম এবং বললাম: ‌‌ এই দ্বীনের পথে আপনার অনুসরণ কে করেছে? তিনি বললেন: «একজন স্বাধীন ব্যক্তি এবং একজন ক্রীতদাস», তিনি বললেন: আমি বললাম: ইসলাম কী? তিনি বললেন: «উত্তম কথা বলা», তিনি বললেন: আমি বললাম: কী ঈমান? তিনি বললেন: «ধৈর্য এবং উদারতা», আমি বললাম: ইসলামের কোন কাজ সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে»,