(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: -)
صحيح البخاري - ط التأصيل القسم: كتب السنة
الكتاب: صحيح البخاري
(الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله - صلى الله عليه وسلم - وسننه وأيامه)
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة الجعفي البخاري (ت 256 هـ)
طبعة: مراجعة ومصححة على النسخة السلطانية، مع رفع الالتباس عن رموزها
الناشر: دار التأصيل - القاهرة
الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م
عدد الأجزاء: 10 (9 والفهارس)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 3 ربيع الآخر 1445
সহীহ আল-বুখারী - আত-তাসীল সংস্করণ বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: সহীহ আল-বুখারী
(রাসূলুল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর কার্যাবলি, তাঁর সুন্নাতসমূহ এবং দিনসমূহ হতে সংকলিত নির্ভরযোগ্য সংক্ষিপ্ত ধারাবাহিক সংকলন)
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুগীরা আল-জু’ফী আল-বুখারী (মৃত্যু ২৫৬ হিজরী)
সংস্করণ: সুলতানিয়া পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে পর্যালোচিত ও সংশোধিত, এবং এর সংকেতসমূহের অস্পষ্টতা দূরীকৃত
প্রকাশক: দার আত-তাসীল - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৩৩ হিজরী - ২০১২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১০ (৯ খণ্ড এবং নির্ঘণ্ট)
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩ রবিউস সানি ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ১)
دِيوَان الحَدِيثِ النَّبويّ
(1) صَحِيحُ البُخَارِي
وَهُو: الجامِعُ المُسْنَد الصَحِيحُ
المخْتَصر مِن أمُور رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَسُنَنِهِ وأيَّامِهِ
للإمام أبي عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة الجعفي البخاري
المتوفى سنة 256 هجرية
طبعة مراجعة ومصححة على النسخة السلطانية
مع رفع الالتباس عن رموزها
مَركَز البُحُوثِ وتَقْنِيَةِ المَعْلُومَاتِ
دَارُ التَّأْصِيل
দিওয়ানুল হাদিস আন-নববী
(১) সহীহ আল-বুখারী
এবং এটি হলো: আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহীহ
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কার্যাবলি, তাঁর সুন্নাত এবং তাঁর জীবনকালের ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত সংকলন
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনুল মুগীরা আল-জু'ফী আল-বুখারীর রচিত
মৃত্যু: ২৫৬ হিজরী
সুলতানিয়া পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী পর্যালোচিত এবং সংশোধিত সংস্করণ
এর সংকেতসমূহের অস্পষ্টতা দূরীকরণ সহকারে
গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র
দারুত তাসীল
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المقدّمة إن الحمد للَّه نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهد اللَّه فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى اللَّه عليه وآله وصحبه وسلم.
أما بعد:
فإن اللَّه تعالى أرسل رسوله المجتبى ونبيه المصطفى محمدًا صلى الله عليه وسلم؛ ليكون للعالمين بشيرًا ونذيرًا، وللثقلين هاديًا وسراجًا منيرًا، فيخرجهم بكتاب اللَّه العظيم وآيات ذكره الحكيم من دياجير الجاهلية إلى نور الإسلام، فشرح اللَّه به صدور أهل الإلحاد والضلال، ولم يكن أمامهم إلا التسليم لنور الإسلام وهدى القرآن.
والسنة النبوية المطهرة - على صاحبها أفضل الصلاة والتسليم - هي الشارحة والمبينة لمراد اللَّه تبارك وتعالى في قرآنه؛ حيث قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ}
(1)، فلا عجب إذن أن يعتني المسلمون بحديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، ويبذلوا غاية جهودهم في جمعه وحفظه، ولقد هيأ اللَّه تعالى للسنة النبوية المشرفة حفاظًا عارفين، وجهابذة عالمين، يذودون عنها تحريف الغالين وانتحال المبطلين.
--------------------------------------------
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর মনোনীত রাসূল ও নির্বাচিত নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন; যেন তিনি বিশ্ববাসীর জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হন, এবং জিন ও ইনসানের জন্য হিদায়াতকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ স্বরূপ হন। ফলে তিনি তাদেরকে আল্লাহর মহান কিতাব ও তাঁর প্রজ্ঞাপূর্ণ যিকিরের আয়াতসমূহের মাধ্যমে জাহিলিয়াতের অন্ধকার থেকে ইসলামের আলোর দিকে বের করে আনেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে নাস্তিক্যবাদ ও গোমরাহির অনুসারীদের বক্ষসমূহ উন্মোচিত করেছেন, আর তাদের সামনে ইসলামের আলো ও কুরআনের হিদায়াতের প্রতি আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না।
আর পবিত্র সুন্নাহ—যার অধিকারীর প্রতি সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—তা হচ্ছে মহান আল্লাহর কুরআনে তাঁর উদ্দেশ্যসমূহের ব্যাখ্যাকারী ও বর্ণনাকারী; যেখানে মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের কাছে তা স্পষ্ট করে বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে}
(১)। সুতরাং মুসলিমগণ যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীসের প্রতি গুরুত্বারোপ করবেন এবং তা সংগ্রহ ও সংরক্ষণে তাঁদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করবেন, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সম্মানিত সুন্নাহর জন্য প্রাজ্ঞ হাফেয ও বিজ্ঞ পণ্ডিতদের নিয়োজিত করেছেন, যারা বাড়াবাড়িকারীদের বিকৃতি এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ থেকে একে রক্ষা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن هؤلاء الأئمة الأعلام: الإمام أبو عبد اللَّه محمد بن إسماعيل البخاري، فقد كان رحمه الله زين هذه الأمة؛ فهو أستاذ الأستاذين، وسيد المحدثين، وطبيب الحديث في علله، والحامل للواء علم الحديث كما وصفه بذلك الكثير من العلماء، ويأتي نقل عباراتهم مفصلة في ثنايا ترجمته.
أما بخصوص كتابه "الصحيح" فيكفيه شرفًا وفخرًا اتفاق علماء الأمة على أنه أصح الكتب بعد كتاب اللَّه تعالى، ومعه أو يليه كتاب الإمام مسلم بن الحجاج رحمه الله، وإجماعهم على تسميته "الصحيح".
قال الإمام أبو العباس القرطبي رحمه الله في كتابه "المفهم" (1/ 99 - 100): "وأما انعقاد الإجماع على تسميتهما بالصحيحين فلا شك فيه، بل قد صار ذكر الصحيح علمًا لهما، وإن كان غيرهما بعدهما قد جمع الصحيح واشترط الصحة، كأبي بكر الإسماعيلي الجرجاني، وأبي الشيخ بن حيان الأصبهاني، وأبي بكر البرقاني، والحاكم أبي عبد اللَّه، وأبي ذر الهروي، وغيرهم، لكن الإمامان أحرزا قصب السباق، ولقب كتاباهما بالصحيحين بالاتفاق". اهـ.
وقال الحافظ المزي في "تهذيب الكمال" (1/ 147): "وأما السنة فإن اللَّه تعالى وفق لها حفاظًا عارفين، وجهابذة عالمين، وصيارفة ناقدين، ينفون عنها تحريف الغالين، وانتحال المبطلين، وتأويل الجاهلين، فتنوعوا في تصنيفها، وتفننوا في تدوينها على أنحاء كثيرة، وضروب عديدة؛ حرصًا على حفظها، وخوفًا من إضاعتها.
وكان من أحسنها تصنيفًا وأجودها تأليفًا وأكثرها صوابًا وأقلها خطأً وأعمها نفعًا وأعودها فائدة وأعظمها بركة وأيسرها مئونة، وأحسنها قبولًا عند
এই সুপ্রসিদ্ধ ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত হলেন: ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি ছিলেন এই উম্মতের অলংকার। তিনি উস্তাদদের উস্তাদ, মুহাদ্দিসগণের সরদার, হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং হাদিস শাস্ত্রের পতাকাবাহী, যেমনটি অনেক আলেম তাঁকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর জীবনী আলোচনার মাঝে তাঁদের এই সকল উক্তির বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।
আর তাঁর "সহীহ" গ্রন্থের ব্যাপারে তাঁর জন্য এই সম্মান ও গৌরবই যথেষ্ট যে, উম্মতের আলেমগণ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে আল্লাহর কিতাবের পর এটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ কিতাব। এর সাথে অথবা এর পরেই রয়েছে ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব। আর তাঁরা একে "সহীহ" নামে অভিহিত করার ব্যাপারে ইজমা বা ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
ইমাম আবুল আব্বাস আল-কুরতুবী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-মুফহিম' (১/ ৯৯-১০০) গ্রন্থে বলেছেন: "এই দুই কিতাবকে 'সহীহাইন' নামে ডাকার ক্ষেত্রে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। বরং 'সহীহ' শব্দটি এই দুটির জন্যই বিশেষ সংজ্ঞায় পরিণত হয়েছে। যদিও তাঁদের পরে অন্যরাও সহীহ হাদিস সংকলন করেছেন এবং তাতে বিশুদ্ধতার শর্তারোপ করেছেন, যেমন আবু বকর আল-ইসমাঈলী আল-জুরজানী, আবুশ শাইখ ইবনে হাইয়ান আল-আসবাহানী, আবু বকর আল-বারকানী, হাকেম আবু আব্দুল্লাহ, আবু যর আল-হারাভী এবং অন্যান্যরা। তবে এই দুই ইমাম প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন এবং তাঁদের কিতাব দুটি সর্বসম্মতিক্রমে 'সহীহাইন' উপাধিতে ভূষিত হয়েছে।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
হাফেজ আল-মিযযী 'তাহযীবুল কামাল' (১/ ১৪৭) গ্রন্থে বলেছেন: "সুন্নাহর ব্যাপারে মহান আল্লাহ এমন কিছু বিজ্ঞ হাফেজ, প্রাজ্ঞ আলেম এবং সূক্ষ্মদর্শী সমালোচককে তাওফিক দান করেছেন, যাঁরা সুন্নাহ থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন। তাঁরা সুন্নাহ সংরক্ষণের ব্যাকুলতায় এবং তা হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে ও নানা পদ্ধতিতে তা বিন্যাস ও সংকলন করার ক্ষেত্রে পাণ্ডিত্য প্রদর্শন করেছেন।
আর সেগুলোর মধ্যে যা বিন্যাসের দিক থেকে সবচেয়ে চমৎকার, রচনার দিক থেকে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট, শুদ্ধতার দিক থেকে সর্বাধিক, ভুলের দিক থেকে সর্বনিম্ন, উপকারের দিক থেকে সবচেয়ে ব্যাপক, কল্যাণের দিক থেকে অধিক ফলপ্রসূ, বরকতের দিক থেকে সবচেয়ে মহান, পরিশ্রমের দিক থেকে সহজসাধ্য এবং গ্রহণের দিক থেকে সবচেয়ে উত্তম...
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الموافق والمخالف، وأجلها موقعًا عند الخاصة والعامة؛ صحيح أبي عبد اللَّه محمد بن إسماعيل البخاري". اهـ.
فلا غرو أن يعتني المسلمون بهذا الكتاب عناية فائقة، تجلت في بروز العديد من الطبعات المختلفة، ورغم ما بذل من الجهود التي بُذلت في طبعاته المتعددة المنتشرة في بلدان مختلفة على مدار عشرات السنين، لم يحظ الكتاب بطبعة تعبر عن الواقع العلمي للكتاب برواياته المختلفة، مع الحفاظ على معالم أهم وأصح رواياته وهي رواية أبي ذر الهروي.
ومن هنا رأت دار التأصيل إعادة إصدار هذا السفر الجليل على أوثق وأدق رواياته، وهي رواية أبي ذر الهروي، وهذا لم نسبق إليه بعون اللَّه فيما نعلم فقامت بتتبع أهم النسخ الخطية لرواية أبي ذر في بلدان العالم المختلفة وقد وُفِّقنا بحمد اللَّه تعالى للحصول على سبع نسخ خطية، متفاوتة في الوثاقة والإتقان، والتمام والنقصان منها نسخة ابن سعادة التي اعتمدناها أصلا للعمل، وذلك فيما توفر منها، أما الجزء الذي لم يتوفر منها فقد اعتمدنا فيه على فرعها نسخة ميارة.
وقد قمنا بالعمل عليه وتحقيقه وفق منهج علمي وتحت إشراف كوكبة من أهل العلم على رأسهم فضيلة العلامة الدكتور/ أحمد معبد عبد الكريم أستاذ الحديث وعلومه بجامعة الأزهر.
نسأل اللَّه سبحانه وتعالى العون على إتمامه وإخراجه، وأن تقر به أعين أهل العلم وطلبته.
অনুকূল ও প্রতিকূল [সকলের কাছেই], এবং বিশিষ্ট ও সাধারণ [উভয় শ্রেণির] নিকট যার স্থান সুউচ্চ; [তা হলো] সহীহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী।" সমাপ্ত।
সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, মুসলমানগণ এই কিতাবটির প্রতি অত্যন্ত গভীর যত্ন নিয়েছেন, যা এর অসংখ্য বিভিন্ন মুদ্রণের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। দশকের পর দশক ধরে বিভিন্ন দেশে এর বহুমুখী মুদ্রণের ক্ষেত্রে অনেক প্রচেষ্টা ব্যয় করা সত্ত্বেও, কিতাবটির বিভিন্ন রেওয়ায়াত (বর্ণনা) সহ এর বৈজ্ঞানিক বাস্তবতাকে তুলে ধরে এমন কোনো সংস্করণ কিতাবটি পায়নি, যেখানে এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সহীহ রেওয়ায়াত অর্থাৎ আবু যার আল-হারাউয়ীর রেওয়ায়াতের বৈশিষ্ট্যগুলো সংরক্ষিত থাকে।
এই কারণে, দারুত তাসহীল এই মহান গ্রন্থটিকে এর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল রেওয়ায়াত অর্থাৎ আবু যার আল-হারাউয়ীর রেওয়ায়াতের ভিত্তিতে পুনরায় প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আল্লাহর সাহায্যে আমাদের জানামতে এর আগে কেউ এই কাজ করেনি। সংস্থাটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবু যারের রেওয়ায়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপিগুলো অনুসন্ধান করেছে। আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসায় সাতটি পাণ্ডুলিপি লাভে সক্ষম হয়েছি, যেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা, নিপুণতা, পূর্ণতা এবং অপূর্ণতায় ভিন্নতা রয়েছে। এর মধ্যে ইবনে সাআদার পাণ্ডুলিপিটিকে আমরা কাজের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, যতটুকু তা উপলব্ধ হয়েছে। আর যতটুকু অংশ উপলব্ধ হয়নি, সেক্ষেত্রে আমরা এর শাখা হিসেবে মায়ারাহ্ পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি।
আমরা একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসারে এবং একদল আলেমদের তত্ত্বাবধানে এর কাজ ও তাহকীক (গবেষণা) সম্পন্ন করেছি, যাদের অগ্রভাগে রয়েছেন শ্রদ্ধেয় আল্লামা ডক্টর আহমদ মাবাদ আব্দুল কারিম, যিনি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রের অধ্যাপক।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট এটি সম্পন্ন ও প্রকাশের জন্য সাহায্য প্রার্থনা করছি, এবং কামনা করি এর মাধ্যমে আলেম ও তালিবে ইলমদের চক্ষু শীতল হোক।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ولما كانت الطبعة السلطانية من أحسن الطبعات التي صدرت لصحيح البخاري، وهي التي أمر السلطان عبد الحميد رحمه الله بطباعتها سنة 1311 هـ، بعناية ستة عشر عالمًا، على رأسهم فضيلة شيخ الأزهر الشيخ/ حسونة النواوي رحمه الله، وقد اعتمدوا في إعداد هذه الطبعة على أوثق وأدق فروع "النسخة اليونينية"، وهي من أجل ما انتسخ من الروايات في تاريخ المسلمين؛ وذلك نظرًا لتمتعها بمميزات لا تتوافر لغيرها، منها:
1 - كون المعتني بها إمامًا حافظًا، وهو أبو الحسين علي بن محمد اليونيني رحمه الله، الذي وصف بالحفظ والمعرفة الكثيرة للمتون والأسانيد.
2 - جمعها للروايات المعتمدة من الصحيح، وتمييز بعضها عن بعض.
3 - اعتناء اليونيني رحمه الله بضبط الكتاب ومقابلته على الأصول المعتمدة للروايات، وكثرة ممارسته لهذا الأصل.
وغير ذلك من المميزات التي فصلنا الحديث عنها في مقدمة التحقيق.
بيد أن هذا الجهد العلمي العظيم لم يخل من بعض الملحوظات التي أعاقت الاستفادة التامة من هذه الطبعة المباركة، ويتلخص أهمها في استعمال الترميز عوضًا عن أسماء أصحاب الروايات والنسخ، دون الإشارة للمنهجية المتبعة في ترتيب هذه الرموز، وكذا علامات الضبط والتصحيح، والتي ملأت أرجاء الطبعة، فضلًا عن غياب التعريف ببعض الرموز المستخدمة في الصلب والحواشي؛ مما قلل من فرص الانتفاع الكامل بهذه الطبعة.
ومن هنا رأت دار التأصيل - تيسيرًا على الباحثين وطلبة العلم - إعادة إصدار هذه الطبعة - وهي التي بين يديك - بعد إجراء بعض التعديلات
যেহেতু সুলতানি সংস্করণটি সহীহ বুখারীর প্রকাশিত সংস্করণগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত, আর এটি সেই সংস্করণ যা সুলতান আব্দুল হামিদ (রহিমাহুল্লাহ) ১৩১১ হিজরীতে মুদ্রণের আদেশ দিয়েছিলেন, যা আল-আজহারের সম্মানিত শাইখ, শাইখ হাসুনা আন-নাওয়াবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর নেতৃত্বে ষোলোজন আলিমের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছিল। তারা এই সংস্করণটি তৈরির ক্ষেত্রে "ইউনিনীয় পাণ্ডুলিপির" সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও সূক্ষ্ম শাখাগুলোর ওপর নির্ভর করেছিলেন, যা মুসলিম ইতিহাসে প্রতিলিপিকৃত বর্ণনাগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতর; আর এটি এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়ার কারণে যা অন্যগুলোতে পাওয়া যায় না, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - এর তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন একজন হাফিয ইমাম, আর তিনি হলেন আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ আল-ইউনিনী (রহিমাহুল্লাহ), যাকে মতন (মূল পাঠ) ও আসনাদ (বর্ণনাসূত্র) মুখস্থ রাখা এবং এ বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
২ - সহীহ গ্রন্থের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাগুলোকে এতে একত্রিত করা এবং একে অন্যের থেকে পৃথক করে চিহ্নিত করা।
৩ - গ্রন্থটি নির্ভুলভাবে সংকলন করা এবং বর্ণনার নির্ভরযোগ্য মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তা মিলিয়ে দেখার ব্যাপারে আল-ইউনিনী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বিশেষ যত্ন এবং এই মূল কপির ওপর তাঁর দীর্ঘদিনের নিরবচ্ছিন্ন কাজ।
এ ছাড়াও আরও অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা আমরা তাহকীক (সম্পাদনা) ভূমিকার বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
তবে এই মহান ইলমী প্রচেষ্টা কিছু সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত ছিল না, যা এই বরকতময় সংস্করণটি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে উপকৃত হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান বিষয়গুলো হলো বর্ণনাকারী ও পাণ্ডুলিপির মালিকদের নামের পরিবর্তে সংকেত চিহ্নের ব্যবহার, অথচ এই সংকেতগুলো সাজানোর ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতির কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। একইভাবে হরকত ও সংশোধনী চিহ্নসমূহ, যা পুরো সংস্করণ জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে, এছাড়া মূল পাঠ ও টীকায় ব্যবহৃত কিছু সংকেতের সংজ্ঞার অনুপস্থিতি; যা এই সংস্করণটি থেকে পূর্ণ সুফল পাওয়ার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছিল।
এ কারণেই গবেষক ও তালিবে ইলমদের সুবিধার্থে দারুত তাসীল এই সংস্করণটি—যা এখন আপনার হাতের সামনে বিদ্যমান—কিছু পরিমার্জন ও সংস্কারের পর পুনরায় প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الفنية عليها، وذلك برد هذه الرموز إلى ما يقابلها من أسماء، والكشف عن بعض أصحاب الرموز المستعملة؛ مثل: (ق، صع) وغيرهما مما كان خافيًا معرفته على كثير من المتخصصين، سواء ما كان في الصلب أو الحواشي، دون الإخلال بالسياق أو المضمون، وسواء كان التعديل بالحذف أو الإضافة.
واللَّه نسأل أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، وأن يمنح كل من ساهم فيه التوفيق والقبول، إنه نعم المولى ونعم المجيب، والحمد للَّه رب العالمين.
* * *
এর উপর কারিগরি কাজ, আর তা হলো এই প্রতীকগুলোকে সেগুলোর সংশ্লিষ্ট নামের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যবহৃত কিছু প্রতীকের অধিকারীদের পরিচয় উন্মোচন করা; যেমন: (ক্বাফ, সোয়াদ-আইন) এবং এ জাতীয় আরও যা অনেক বিশেষজ্ঞের কাছেও অস্পষ্ট ছিল, চাই তা মূল পাঠে হোক বা পার্শ্বটীকায়, মূল প্রেক্ষাপট বা বিষয়বস্তুর কোনো রূপ ব্যত্যয় না ঘটিয়ে, আর এই পরিমার্জন বর্জন বা সংযোজন—উভয় পদ্ধতিতেই করা হয়েছে।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে নিছক তাঁর মহান চেহারার জন্য নিবেদিত করেন এবং এতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে তাওফিক ও কবুলিয়ত দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম উত্তরদাতা। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
* * *
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ترجمة الإمام البخاري
اسمه ونسبه:هو: أبو عبد اللَّه محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبه، البخاري مولدًا وموطنًا، الجعفي نسبًا.
وكان أجداده فُرسًا على دين المجوس، على أن التاريخ لم يحفظ لنا من أجداد البخاري أبعد من جده الثالث "بَرْدِزْبَه"، فهو رأس أسرته فيما نعلم، وقد كان بردزبه هذا فارسي الأصل، عاش ومات مجوسي الدين.
وأول من أسلم من أجداد البخاري هو "المغيرة بن بردزبه"، وكان إسلامه على يد اليمان الجعفي والي بخارى آنذاك؛ فانتمى إليه بالولاء، وانتقل الولاء في أولاده، وأصبح الجعفي نسبًا له ولأسرة البخاري
(1).
أما "إبراهيم بن المغيرة" الجد الأول للبخاري، فلا نعلم شيئًا من أخباره غير انتسابه للمغيرة.
وأما والد البخاري "إسماعيل بن إبراهيم"، فقد كانت حياته مطلع النباهة لهذه الأسرة؛ حيث غير منهج آبائه في الحياة، وشارك في الحياة العلمية باختيار أهم جوانبها في عصره، وهي: دراسة حديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وتدريسه.
كان والد البخاري رحمه الله تقيًّا عالمًا محدثًا، اشتهر بين الناس بحسن سلوكه وورعه وسمته.
--------------------------------------------
ইমাম বুখারীর জীবনীতাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তিনি হলেন: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল মুগীরাহ ইবনে বারদিযবাহ। তিনি জন্ম ও বাসস্থানের দিক থেকে বুখারী এবং বংশীয় সম্পর্কের দিক থেকে জু’ফী।
তাঁর পূর্বপুরুষগণ পারস্যদেশীয় এবং মজুসী (অগ্নিউপাসক) ধর্মাবলম্বী ছিলেন। তবে ইতিহাস আমাদের কাছে বুখারীর তৃতীয় ঊর্ধ্বতন পিতামহ "বারদিযবাহ"-এর ঊর্ধ্বের কোনো পূর্বপুরুষের নাম সংরক্ষণ করেনি। আমাদের জানামতে তিনিই এই পরিবারের আদি পুরুষ। এই বারদিযবাহ ছিলেন পারস্য বংশোদ্ভূত; তিনি মজুসী ধর্মাবলম্বী হিসেবেই জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন।
বুখারীর পূর্বপুরুষদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি ইসলাম গ্রহণ করেন তিনি হলেন "মুগীরাহ ইবনে বারদিযবাহ"। বুখারার তৎকালীন গভর্নর ইয়ামান আল-জু’ফীর হাতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ফলে তিনি তাঁর সাথে 'ওয়ালা' (মিত্রতা ও আনুগত্যের সম্পর্ক) সূত্রে আবদ্ধ হন এবং এই 'ওয়ালা' সম্পর্কটি তাঁর সন্তানদের মধ্যেও স্থানান্তরিত হয়। এভাবেই "জু’ফী" নিসবতটি (উপাধি) তাঁর এবং বুখারীর পরিবারের বংশীয় পরিচয়ে পরিণত হয়
(১)।
বুখারীর পিতামহ "ইব্রাহিম ইবনুল মুগীরাহ" সম্পর্কে মুগীরাহর সাথে তাঁর বংশীয় যোগসূত্র ছাড়া আমরা আর কোনো তথ্য জানি না।
আর বুখারীর পিতা "ইসমাঈল ইবনে ইব্রাহিম"-এর জীবনকাল ছিল এই পরিবারের জন্য সুখ্যাতি ও শ্রেষ্ঠত্বের সূচনালগ্ন; কেননা তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের জীবনধারা পরিবর্তন করেছিলেন এবং সমকালীন ইলমী জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকে পদচারণা করেন, আর তা হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস চর্চা ও পাঠদান।
বুখারীর পিতা রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন একজন মুত্তাকী আলেম ও মুহাদ্দিস। তিনি মানুষের মাঝে তাঁর উত্তম আচরণ, পরহেযগারী এবং গাম্ভীর্যের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
رحل إلى العلماء وأهل الحديث، فحدث عنهم وأخذ منهم، روى سماعًا عن "مالك بن أنس"، و"حماد بن زيد"، وصحب "عبد اللَّه بن المبارك"، كما ذكر ذلك ولده في كتابه "التاريخ الكبير"
(1)، وابن حبان في كتابه "الثقات"
(2).
وروى عنه العراقيون؛ منهم: أحمد بن حفص، وأحمد بن جعفر، ونصر بن الحسين، وغيرهم.
ويكفي هذا الوالد شرفًا وفخرًا أن اللَّه أجزل مكافأته وعطاءه على فضله وعفته، فرزقه ولدًا هو "الإمام البخاري"، فقد كان والدا البخاري من الصلاح والتقوى بمكانة عالية، كما سيأتي قريبًا.
المولد والنشأة:ولد محمد بن إسماعيل البخاري بعد صلاة الجمعة، في الثالث عشر من شهر شوال عام أربعة وتسعين ومائة للهجرة.
وكانت ولادته بمدينة بخارى من خراسان، موطن آبائه وأجداده، وهي مدينة كبيرة من بلاد التركستان، وقد فتحها المسلمون بعد منتصف القرن الأول للهجرة، وهي مركز علمي هام، وحاضرة من حواضر الإسلام.
استقبل البخاري حياته وسط أسرة ثرية متدينة فاضلة؛ فقد حكي عن والده أنه قال عند موته: لا أعلم من مالي درهما من حرام، ولا درهما من شبهة. وهذا مما لا شك فيه كان له أكبر الأثر في المكانة التي وصل إليها الإمام البخاري، غير أن المنية لم تمهل والده، حيث توفي وابنه محمد طفل، فكفلته أمه ورعته من بعده.
--------------------------------------------
তিনি আলেম ও মুহাদ্দিসগণের নিকট সফর করেছেন, তাঁদের নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন। তিনি 'মালিক ইবন আনাস' এবং 'হাম্মাদ ইবন যায়িদ'-এর নিকট সরাসরি শুনে বর্ণনা করেছেন এবং 'আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক'-এর সাহচর্য লাভ করেছেন, যেমনটি তাঁর পুত্র তাঁর গ্রন্থ 'আত-তারিখুল কবির'
(১)-এ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর 'আস-সিকাত'
(২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
ইরাকবাসীরা তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আহমাদ ইবন হাফস, আহমাদ ইবন জাফর, নাসর ইবনুল হুসাইন এবং আরও অনেকে।
এই পিতার জন্য সম্মান ও গৌরব হিসেবে এটিই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাঁর মর্যাদা ও পবিত্রতার কারণে তাঁকে প্রচুর প্রতিদান ও অনুগ্রহ দান করেছেন; আর তাঁকে 'ইমাম বুখারি'-র মতো এক পুত্র সন্তান দান করেছেন। বুখারির পিতামাতা উচ্চ পর্যায়ের নেককার ও মুত্তাকি ছিলেন, যা শীঘ্রই সামনে আসবে।
জন্ম ও শৈশব:মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল বুখারি হিজরি একশত চুরানব্বই সালের শাওয়াল মাসের তেরো তারিখ জুমার সালাতের পর জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর জন্ম হয়েছিল খোরাসানের বুখারা শহরে, যা তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস। এটি তুর্কিস্তানের একটি বড় শহর। হিজরি প্রথম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের পর মুসলিমরা এটি জয় করেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইলমি কেন্দ্র এবং ইসলামের অন্যতম প্রধান নগরী।
বুখারি এক সম্পদশালী, ধর্মপ্রাণ ও মহৎ পরিবারের মাঝে জীবন শুরু করেন। তাঁর পিতা সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি মৃত্যুকালে বলেছিলেন: "আমি আমার উপার্জিত সম্পদের মধ্যে এক দিরহাম হারাম কিংবা এক দিরহাম সন্দেহযুক্ত মাল আছে বলে জানি না।" নিঃসন্দেহে ইমাম বুখারি যে সুউচ্চ মর্যাদায় পৌঁছেছেন, তাতে এর অনেক বড় প্রভাব ছিল। তবে মৃত্যু তাঁর পিতাকে সময় দেয়নি; তাঁর পুত্র মুহাম্মদ তখন শিশু, এমতাবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। অতঃপর তাঁর মাতা তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর দেখাশোনা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وكانت امرأة تقية صالحة لا تقل تقى وورعًا عن والده، حتى عدها المؤرخون من ذوي الكرامة والولاية.
قال الحافظ: "روى غنجار في "تاريخ بخارى"، واللالكائي في "شرح السنة" في باب كرامات الأولياء، أن محمد بن إسماعيل البخاري ذهبت عيناه في صغره، فدعت أمه اللَّه كثيرًا حتى رأت الخليل إبراهيم صلى الله عليه وسلم في المنام فقال لها: "يا هذه قد رد اللَّه على ابنك بصره بكثرة دعائك". قال: فأصبح وقد رد اللَّه عليه بصره"
(1).
وقد روى هذه الحكاية أيضًا الإمام السبكي في "طبقاته"
(2)، والذهبي في "سير النبلاء"
(3)، و"تاريخ الإسلام"
(4).
في كنف هذه الأسرة الكريمة نشأ البخاري، وفي رعاية هذه الأم الفاضلة أخذ يختلف إلى الكتاب، يحفظ القرآن وأمهات الكتب المعروفة في زمانه، حتى إذا بلغ العاشرة من عمره، بدأ في حفظ الحديث، والاختلاف إلى الشيوخ والعلماء، وملازمة حلقات الدروس، وعند ذلك أخذت ميوله تظهر، ومداركه تتفتح.
فعن أبي جعفر محمد بن أبي حاتم
(5) أنه قال: "قلت للبخاري: كيف كان بدء أمرك؟ فقال: ألهمت حفظ الحديث في المكتب ولي عشر سنوات أو أقل، ثم خرجت من المكتب بعد العشر، فجعلت أختلف إلى الداخلي".
--------------------------------------------
তিনি ছিলেন একজন মুত্তাকী ও নেককার নারী, যিনি তাকওয়া ও পরহেযগারির দিক থেকে তাঁর পিতার চেয়ে কোনো অংশেই কম ছিলেন না। এমনকি ইতিহাসবিদগণ তাঁকে কারামত ও বেলায়েতসম্পন্নদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "গুঞ্জোর 'তারিখে বুখারা'য় এবং লালকায়ি 'শারহুস সুন্নাহ'র আউলিয়াদের কারামত অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী শৈশবে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন তাঁর মা আল্লাহর কাছে প্রচুর দোয়া করেন, এমনকি তিনি স্বপ্নে খলীলুল্লাহ ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখেন। তিনি তাঁকে বললেন: 'হে নারী! তোমার অধিক দোয়ার বরকতে আল্লাহ তোমার পুত্রের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন।' তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর সকাল হলে দেখা গেল আল্লাহ তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন"
(১)।
ইমাম সুবকী তাঁর 'ত্বাবাকাত'-এ
(২) এবং আয-যাহাবী তাঁর 'সিয়ারু আ'লামিন নুবালা'
(৩) ও 'তারিখুল ইসলাম'-এ
(৪) এই কাহিনীটি বর্ণনা করেছেন।
এই মহৎ পরিবারের ছায়াতলে বুখারী লালিত-পালিত হন এবং এই মহীয়সী মায়ের তত্ত্বাবধানে তিনি মক্তবে যাতায়াত শুরু করেন। তিনি কুরআন এবং তাঁর যুগে প্রসিদ্ধ মৌলিক কিতাবসমূহ মুখস্থ করেন। যখন তাঁর বয়স দশ বছর পূর্ণ হয়, তখন তিনি হাদিস মুখস্থ করতে শুরু করেন এবং শায়খ ও আলেমদের মজলিসে যাতায়াত ও পাঠদানের হালকাগুলোতে নিয়মিত উপস্থিত হতে থাকেন। সেই সময়েই তাঁর ঝোঁক প্রকাশ পেতে শুরু করে এবং তাঁর প্রজ্ঞা বিকশিত হতে থাকে।
আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম
(৫) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "আমি বুখারীকে বললাম: আপনার ইলম অর্জনের সূচনা কীভাবে হয়েছিল? তিনি বললেন: যখন আমি মক্তবে ছিলাম, তখন আমার হৃদয়ে হাদিস মুখস্থ করার অনুপ্রেরণা জাগে; তখন আমার বয়স ছিল দশ বছর বা তার কম। দশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর আমি মক্তব থেকে বের হয়ে আদ-দাখিলির মজলিসে যাতায়াত শুরু করি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وهنا يسجل التاريخ خبرًا ينم عن نضجه المبكر؛ فقال فيما يروي عن نفسه: "فجعلت أختلف إلى الداخلي - وهو من أهل الحديث في عهده - فقال يومًا فيما كان يقرأ للناس: عن سفيان، عن أبي الزبير، عن إبراهيم. فقلت: إن أبا الزبير لم يرو عن إبراهيم، فانتهرني، فقلت له: ارجع إلى الأصل إن كان عندك، فدخل فنظر فيه ثم خرج فقال لي: كيف هو يا غلام؟ قلت: هو الزبير بن عدي، عن إبراهيم، فأخذ القلم منه وأصلح كتابه به وقال: صدقت"
(1). وقد حدث بعض أصحاب البخاري أنهم سألوه: "ابن كم كان إذ ذاك؟ فقال: ابن إحدى عشرة سنة"
(2).
ثم تتابعت مراحل نضج البخاري وتقدمه العلمي، فتابع دراسته وتعلمه بهمة ونشاط، حتى إذا بلغ السادسة عشرة من عمره، حفظ كتب ابن المبارك ووكيع، وغيرهم من أهل الرأي.
وفي هذه السن المبكرة بدأت مرحلة جديدة من حياة البخاري؛ إذ خرج لأول مرة من بخارى راحلًا إلى الحج وطلب الحديث، صحبة والدته وأخيه أحمد، حتى إذا انتهت مناسك الحج رجعت أمه صحبة أخيه أحمد إلى بلدها بخارى، بينما تخلف البخاري لطلب الحديث والأخذ عن الشيوخ، وكانت سنه إذ ذاك ست عشرة سنة، أي حوالي سنة عشر ومائتين للهجرة.
ومن هذا التاريخ تبتدئ مرحلة جديدة في حياة البخاري، وهي مرحلة الاتصال بالعالم الخارجي، وبداية الرحلة لطلب الحديث، والاتصال بالعلماء والشيوخ.
--------------------------------------------
এখানে ইতিহাস এমন একটি সংবাদ লিপিবদ্ধ করেছে যা তাঁর শৈশবকালীন পরিপক্কতার পরিচয় দেয়। তিনি নিজের সম্পর্কে বর্ণিত এক ঘটনায় বলেন: "আমি আদ-দাখিলীর নিকট যাতায়াত করতাম—যিনি তাঁর সময়ের একজন মুহাদ্দিস ছিলেন—একদিন তিনি লোকজনের সামনে পাঠদানকালে বললেন: সুফিয়ান থেকে, তিনি আবুয যুবায়ের থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে। আমি বললাম: আবুয যুবায়ের তো ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেননি। তখন তিনি আমাকে ধমক দিলেন। আমি তাকে বললাম: আপনার নিকট যদি মূল পাণ্ডুলিপি থাকে তবে তা মিলিয়ে দেখুন। তখন তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং তাতে দেখলেন, অতঃপর বেরিয়ে এসে আমাকে বললেন: হে বালক, সেটি সঠিক কী হবে? আমি বললাম: সেটি হবে যুবায়ের ইবনে আদি থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে। তখন তিনি তাঁর নিকট থেকে কলম নিলেন এবং তার মাধ্যমে নিজের কিতাব সংশোধন করলেন ও বললেন: তুমি সত্য বলেছ"
(১)। বুখারীর জনৈক সাথী বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "সে সময় আপনার বয়স কত ছিল? তিনি বললেন: এগারো বছর"
(২)。
অতঃপর বুখারীর পরিপক্কতা ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অগ্রগতির ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে এবং তিনি অত্যন্ত উদ্যম ও তৎপরতার সাথে তাঁর অধ্যয়ন ও শিক্ষাগ্রহণ চালিয়ে যান। এমনকি যখন তিনি ষোল বছর বয়সে পদার্পণ করেন, তখন তিনি ইবনুল মুবারক ও ওয়াকি-এর কিতাবসমূহ এবং আহলে রায়ের অন্যান্যদের কিতাবসমূহ মুখস্থ করে ফেলেন।
এই অল্প বয়সেই বুখারীর জীবনে একটি নতুন পর্যায় শুরু হয়; যখন তিনি হজ পালন এবং হাদিস অন্বেষণের উদ্দেশ্যে তাঁর মাতা ও ভ্রাতা আহমদের সাথে প্রথমবারের মতো বুখারা থেকে সফরের উদ্দেশ্যে বের হন। যখন হজের কার্যাদি সমাপ্ত হলো, তখন তাঁর মাতা তাঁর ভাই আহমদের সাথে নিজ শহর বুখারায় ফিরে গেলেন, পক্ষান্তরে বুখারী হাদিস অন্বেষণ এবং শায়খদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য সেখানে রয়ে গেলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ষোল বছর, অর্থাৎ আনুমানিক ২১০ হিজরি সাল।
আর এই সময় থেকেই বুখারীর জীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়, আর তা হলো বহির্জগতের সাথে সংযোগ স্থাপন, হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সফরের সূচনা এবং আলিম ও শায়খদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وفي ذلك يقول البخاري: "خرجت مع أمي وأخي أحمد إلى مكة، فلما حججت رجع بها أخي، وتخلفت في طلب الحديث"
(1).
صفة البخاري الخِلقية:ذكر الإمام السبكي في "طبقات الشافعية الكبرى"، قال: "قال ابن عدي: سمعت الحسن بن الحسين البَزَّار يقول: رأيْت البخاري شيخًا نحيفًا ليس بالطويل ولا بالقصير"
(2).
كما كان قليل الأكل جدًّا، يتزهد فيه ويتقشف مكتفيًا بالخبز، معرضًا عن الإدام حتى مرض من كثرة تقشفه، وقد روى الحافظ في "مقدمة الفتح" قول البخاري: "لم أَأْتدم منذ أربعين سنة"
(3).
وكان عزيز النفس عفيف اليد، يتجمل، ولا يريق ماء وجهه، حتى في أشد حالات العسر.
وكان مرهف الحس، نبيل الشعور، عفيف اللسان، قال: "ما اغتبت أحدًا قط منذ علمت أن الغيبة حرام"
(4). وكان كريم الطبع، سخي اليد محسنًا، قال: "كنت أستغل في كل شهر خمسمائة درهم، فأنفقها في الطلب، وما عند اللَّه خير وأبقى"
(5). كما كان متعبدًا زاهدًا قانتًا، يملأ نهاره بالدرس والتعليم، وليله بالعبادة والتهجد، وكان ورده القرآن.
--------------------------------------------
এ প্রসঙ্গে ইমাম বুখারী বলেন: "আমি আমার মা ও ভাই আহমদের সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হই। যখন আমি হজ সম্পন্ন করলাম, তখন আমার ভাই তাঁকে (মাকে) নিয়ে ফিরে গেলেন এবং আমি হাদীস অন্বেষণের উদ্দেশ্যে থেকে গেলাম"
(১).
বুখারীর শারীরিক গঠন ও অবয়ব:ইমাম সুবকী "তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ আল-কুবরা"-তে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "ইবনে আদী বলেছেন: আমি হাসান ইবনুল হুসাইন আল-বাযযারকে বলতে শুনেছি: আমি বুখারীকে একজন শীর্ণকায় বৃদ্ধ হিসেবে দেখেছি, যিনি খুব দীর্ঘকায়ও ছিলেন না আবার বেঁটেও ছিলেন না"
(২).
এছাড়াও তিনি খুবই অল্প আহার করতেন, এ বিষয়ে তিনি অনাগ্রহী ছিলেন এবং রুটি খেয়েই তুষ্ট থেকে কৃচ্ছ্রসাধন করতেন। তিনি তরকারির প্রতি বিমুখ ছিলেন, এমনকি তাঁর মাত্রাতিরিক্ত কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাফেজ (ইবনে হাজার) "মুকাদ্দিমাতুল ফাতহ"-এ বুখারীর উক্তি বর্ণনা করেছেন: "আমি গত চল্লিশ বছর যাবৎ কোনো তরকারি দিয়ে আহার করিনি"
(৩).
তিনি ছিলেন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও সংযমী, সর্বদা পরিপাটি থাকতেন এবং চরম অভাবের সময়েও কারো কাছে হাত পেতে নিজের সম্মানহানি করতেন না।
তিনি ছিলেন কোমল অনুভূতির অধিকারী, উন্নত হৃদয়ের অধিকারী এবং পবিত্র জিহ্বার অধিকারী। তিনি বলেন: "যখন থেকে আমি জেনেছি যে গীবত করা হারাম, তারপর থেকে আমি কখনো কারো গীবত করিনি"
(৪)। তিনি ছিলেন দানশীল স্বভাবের, মুক্তহস্ত ও পরোপকারী। তিনি বলেন: "আমি প্রতি মাসে পাঁচশ দিরহাম আয় করতাম, যা আমি (ইলম) অন্বেষণের পথে ব্যয় করতাম। আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তা-ই উত্তম এবং চিরস্থায়ী"
(৫)। এছাড়াও তিনি ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতগুজার, দুনিয়াবিমুখ ও একান্ত অনুগত। তিনি তাঁর দিনগুলো পাঠদান ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে এবং রাতগুলো ইবাদত ও তাহাজ্জুদের মাধ্যমে পূর্ণ করতেন, আর তাঁর নিয়মিত আমল ছিল কুরআন তিলাওয়াত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
رحلاته العلمية:تعددت رحلات البخاري العلمية؛ للأخذ عن الشيوخ، والرواية عن المحدثين، والاختلاف إلى حلقات الدرس، حيث ابتدأت برحلته إلى الحج صحبة والدته وأخيه، وكان ذلك سنة عشر ومائتين للهجرة، وسنه لا تتجاوز ست عشرة سنة، وما كاد يفرغ من حجه والاتصال بعلماء مكة ومحدثيها، حتى رحل إلى المدينة المنورة للأخذ عن علمائها.
ولقد آثر البخاري أن يجعل الحرمين الشريفين طليعة رحلاته العلمية للتحصيل والرواية؛ حيث أقام بها ستة أعوام، حتى إذا استوفى حظه من الرواية والسماع انطلق في سياحته العلمية متنقلًا عبر الأقاليم والأقطار.
"روى سهل بن السَّري عن البخاري قال: دخلت إلى الشام ومصر والجزيرة مرتين، وإلى البصرة أربع مرات، وأقمت بالحجاز ستة أعوام، ولا أحصي كم مرة دخلت إلى الكوفة وبغداد مع المحدثين"
(1).
ثم تتابعت رحلات البخاري وسفره في سبيل الحديث والرواية، حتى شملت أغلب الحواضر العلمية في وقته، واستغرقت معظم حياته، كل ذلك يجالس العلماء ويتلقى عنهم، ويجمع الحديث ويرويه، ويعقد مجالس التحديث والمناقشة، ويتعرض للامتحان والكيد، فيخرج سالمًا منتصرًا على الكائدين والمتربصين.
روى محمد بن أبي حاتم قال: سمعت البخاري يقول: "دخلت بغداد آخر ثماني مرات، كل ذلك أجالس أحمد بن حنبل، فقال لي آخر ما ودعته: يا أبا عبد اللَّه، تترك العلم والناس وتصير إلى خراسان"
(2).
--------------------------------------------
তাঁর জ্ঞানগত সফরসমূহ:ইমাম বুখারীর জ্ঞানগত সফরসমূহ ছিল বহুমুখী; শায়খদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন, মুহাদ্দিসদের নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা এবং পাঠচক্রগুলোতে উপস্থিত হওয়ার উদ্দেশ্যে। এ সফর শুরু হয়েছিল তাঁর মা ও ভাইয়ের সাথে হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে সফরের মাধ্যমে, যা ছিল হিজরী ২১০ সালে, এবং তখন তাঁর বয়স ১৬ বছরের বেশি ছিল না। হজ্জ সম্পাদন এবং মক্কার আলিম ও মুহাদ্দিসদের সান্নিধ্য লাভ করার পরপরই তিনি মদীনা মুনাওয়ারার আলিমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে সেখানে সফর করেন।
ইমাম বুখারী জ্ঞানার্জন ও হাদীস বর্ণনার জন্য তাঁর জ্ঞানগত সফরগুলোর সূচনালগ্নে দুই পবিত্র হারামকে (মক্কা ও মদীনা) অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন; সেখানে তিনি ছয় বছর অবস্থান করেন। অতঃপর যখন তিনি হাদীস বর্ণনা ও শ্রবণে তাঁর প্রাপ্তি পূর্ণ করলেন, তখন তিনি বিভিন্ন অঞ্চল ও জনপদ ভ্রমণের মাধ্যমে তাঁর জ্ঞানগত সফর শুরু করেন।
"সাহল বিন আস-সারী ইমাম বুখারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাম, মিশর এবং জাজিরায় দুইবার গিয়েছি; বসরায় চারবার গিয়েছি; হিজাজে ছয় বছর অবস্থান করেছি এবং আমি গণনা করতে পারব না কতবার মুহাদ্দিসদের সাথে কুফা ও বাগদাদে প্রবেশ করেছি।"
(১)এরপর হাদীস ও বর্ণনার উদ্দেশ্যে ইমাম বুখারীর সফর ও ভ্রমণ ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে, যা তৎকালীন সময়ের অধিকাংশ জ্ঞানকেন্দ্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল এবং তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছিল। এ পুরোটা সময় তিনি আলিমদের মজলিসে বসতেন ও তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা নিতেন, হাদীস সংগ্রহ ও বর্ণনা করতেন, হাদীস পাঠ ও আলোচনার মজলিস পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষা ও ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হতেন; অতঃপর তিনি ষড়যন্ত্রকারী ও ওত পেতে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরাপদ ও বিজয়ী হয়ে বেরিয়ে আসতেন।
মুহাম্মদ বিন আবী হাতিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বুখারীকে বলতে শুনেছি: "আমি শেষ আটবার বাগদাদে প্রবেশ করেছি, যার প্রত্যেকবারই আমি আহমাদ বিন হাম্বলের সাথে মজলিসে বসেছি। শেষবার যখন আমি তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি কি ইলম এবং মানুষকে ছেড়ে খোরাসানে চলে যাবেন?"
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
والأقطار والأقاليم التي رحل إليها البخاري، وحدث فيها وزارها هي:
مكة والمدينة، وبغداد وواسط، والبصرة والكوفة، ودمشق وحمص، وقيسارية وعسقلان، وخراسان، ونيسابور ومرو، وهراة وبخارى، ومصر، وغيرها.
ثناء العلماء عليه:قال الإمام الترمذي رحمه الله صاحب "السنن" وتلميذ البخاري وخريجه: "لم أر أحدًا بالعراق ولا بخراسان في معنى العلل والتاريخ ومعرفة الأسانيد أعلم من محمد بن إسماعيل".
وقال محمد بن أبي حاتم: "سمعت محمود بن النضر أبا سهل الشافعي يقول: دخلت البصرة والشام والحجاز والكوفة، ورأيت علماءها كلها، فكلما جرى ذكر محمد بن إسماعيل فضلوه على أنفسهم".
وقال حاتم بن مالك الوراق: "سمعت علماء مكة يقولون: محمد بن إسماعيل إمامنا، وفقيهنا، وفقيه خراسان".
وقال خلف بن محمد: "سمعت أبا عمرو أحمد بن نصر الخفاف يقول: حدثنا محمد بن إسماعيل البخاري التقي النقي العالم الذي لم أر مثله".
وقال أبو أحمد الحاكم: "كان البخاري أحد الأئمة في معرفة الحديث وجمعه، ولو قلت: إني لم أر تصنيف أحد يشبه تصنيفه في المبالغة والحسن؛ لرجوت أن أكون صادقًا".
وقال الترمذي: "كان محمد بن إسماعيل عند عبد اللَّه بن منير، فلما قام من عنده قال له: يا أبا عبد اللَّه، جعلك اللَّه زين هذه الأمة". قال الترمذي: "استجيب له فيه".
যে সকল অঞ্চল ও ভূখণ্ডে ইমাম বুখারী সফর করেছেন, হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং যা তিনি পরিদর্শন করেছেন সেগুলো হলো:
মক্কা ও মদীনা, বাগদাদ ও ওয়াসিত, বসরা ও কুফা, দামেস্ক ও হিমস, কায়সারিয়া ও আসকালান, খোরাসান, নিশাপুর ও মার্ভ, হেরাত ও বুখারা, মিসর এবং অন্যান্য স্থান।
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:ইমাম তিরমিযী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), যিনি "সুনান"-এর রচয়িতা এবং ইমাম বুখারীর ছাত্র ও তাঁর নিকট হতে শিক্ষা সমাপ্তকারী, তিনি বলেছেন: "আমি ইরাক কিংবা খোরাসানে ইল্লাল (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি), ইতিহাস এবং সনদ বিষয়ক জ্ঞানে মুহাম্মদ বিন ইসমাঈলের চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে দেখিনি।"
মুহাম্মদ বিন আবু হাতিম বলেন: "আমি মাহমুদ বিন নজর আবু সাহল আশ-শাফেঈকে বলতে শুনেছি: 'আমি বসরা, শাম, হিজাজ ও কুফায় গিয়েছি এবং সেখানকার সকল আলেমকে দেখেছি; যখনই মুহাম্মদ বিন ইসমাঈলের প্রসঙ্গ আসত, তাঁরা তাঁকে নিজেদের ওপর প্রাধান্য দিতেন।'"
হাতিম বিন মালিক আল-ওয়াররাক বলেন: "আমি মক্কার আলেমদের বলতে শুনেছি: 'মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আমাদের ইমাম, আমাদের ফকীহ এবং খোরাসানের ফকীহ।'"
খালাফ বিন মুহাম্মদ বলেন: "আমি আবু আমর আহমদ বিন নাসর আল-খাফফাফকে বলতে শুনেছি: 'আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-বুখারী, যিনি মুত্তাকী, পবিত্র ও এমন একজন আলেম যাঁর সমতুল্য আমি কাউকে দেখিনি।'"
আবু আহমদ আল-হাকিম বলেন: "বুখারী ছিলেন হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান ও তা সংগ্রহের ক্ষেত্রে অন্যতম ইমাম। আর আমি যদি বলি যে, গবেষণার গভীরতা ও সৌন্দর্যের দিক থেকে তাঁর রচনার সদৃশ আর কারো রচনা আমি দেখিনি, তবে আমি আশা করি যে আমি সত্যবাদী হিসেবে গণ্য হব।"
তিরমিযী বলেন: "মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল যখন আব্দুল্লাহ বিন মুনিরের কাছে ছিলেন এবং সেখান থেকে উঠে আসছিলেন, তখন আব্দুল্লাহ বিন মুনির তাঁকে বললেন: 'হে আবু আব্দুল্লাহ, আল্লাহ আপনাকে এই উম্মতের শোভা বা সৌন্দর্য স্বরূপ বানিয়ে দিন।' তিরমিযী বলেন: 'তাঁর ব্যাপারে এই দুআ কবুল হয়েছে।'"
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وقال حاشد بن إسماعيل: "سمعت أحمد بن حنبل يقول: لم يجئنا من خراسان مثل محمد بن إسماعيل".
وقال أبو حاتم الرازي: "محمد بن إسماعيل أعلم من دخل العراق".
وقال أبو عبد اللَّه الحاكم: "محمد بن إسماعيل البخاري إمام أهل الحديث".
وقال أبو بكر محمد بن إسحاق بن خزيمة: "ما رأيت تحت أديم السماء أعلم بحديث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وأحفظ له من محمد بن إسماعيل"
(1).
وقال الحاكم: "سمعت محمد بن يعقوب الحافظ يقول: سمعت أبي يقول: رأيت مسلم بن الحجاج بين يدي البخاري يسأله سؤال الصبي".
وقال أحمد بن حمدون القصار: "سمعت مسلم بن الحجاج وجاء إلى البخاري فقال: دعني أقبل رجليك يا أستاذ الأستاذين، وسيد المحدثين، وطبيب الحديث في علله".
وقال إبراهيم الخواص: "رأيت أبا زرعة كالصبي جالسًا بين يدي محمد بن إسماعيل، يسأله عن علل الحديث".
وقال الإمام أبو العباس القرطبي: "وهو العلم المشهور، والحامل لواء علم الحديث المنشور، صاحب "التاريخ" و"الصحيح"، المرجوع إليه في علم التعديل والتجريح، أحد حفاظ الإسلام، ومن حفظ اللَّه به حديث رسوله عليه الصلاة والسلام".
--------------------------------------------
হাশেদ ইবনে ইসমাইল বলেন: "আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: খোরাসান থেকে আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের মতো আর কেউ আসেনি।"
আবু হাতিম আর-রাজি বলেন: "মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইরাকে প্রবেশকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।"
আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: "মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি হলেন আহলে হাদিসের ইমাম।"
আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমাহ বলেন: "আমি আসমানের নিচে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের চেয়ে অধিক জ্ঞানী এবং তা অধিক মুখস্থকারী আর কাউকে দেখিনি"
(১)।
আল-হাকিম বলেন: "আমি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-হাফেজকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: আমি মুসলিম ইবনে হাজ্জাজকে বুখারির সামনে একজন বালকের মতো প্রশ্ন করতে দেখেছি।"
আহমাদ ইবনে হামদুন আল-কাসসার বলেন: "আমি মুসলিম ইবনে হাজ্জাজকে বুখারির কাছে আসতে দেখেছি, তখন তিনি বললেন: 'হে উস্তাদদের উস্তাদ, মুহাদ্দিসদের নেতা এবং হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ের চিকিৎসক, আমাকে আপনার পা চুম্বন করতে দিন'।"
ইবরাহিম আল-খাওয়াস বলেন: "আমি আবু জুরআকে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের সামনে একজন বালকের মতো বসে থাকতে দেখেছি, তিনি তাকে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিলেন।"
ইমাম আবুল আব্বাস আল-কুরতুবি বলেন: "তিনি এক সুপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব, সুপ্রতিষ্ঠিত ইলমে হাদিসের পতাকাবাহী, 'তারিখ' ও 'সহিহ' গ্রন্থের রচয়িতা, জারহ ও তাদিল (হাদিস বিশারদদের সমালোচনা ও প্রশংসা) বিদ্যায় যাঁর শরণাপন্ন হওয়া হয়, ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাফেজ এবং মহান আল্লাহ যাঁর মাধ্যমে তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক) হাদিসকে সংরক্ষণ করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
"شهد له أئمة عصره بالإمامة في حفظ الحديث ونقله، وشهدت له تراجم كتابه بفهمه وفقهه"
(1).
وقال الإمام النووي: "واعلم أن وصف البخاري رحمه الله بارتفاع المحل والتقدم في هذا العلم على الأماثل والأقران متفق عليه فيما تأخر وتقدم من الأزمان، ويكفي في فضله أن معظم من أثنى عليه ونشر مناقبه شيوخه الأعلام المبرزون، والحذاق المتقنون"
(2).
وقال الحافظ المزي: "إمام هذا الشأن، والمقتدى به فيه، والمعول على كتابه بين أهل الإسلام"
(3).
وقال الحافظ ابن ناصر الدين الدمشقي: "تخرج به أرباب الدراية، وانتفع به أهل الرواية، وكان فرد زمانه، حافظًا للسانه، ورعًا في جميع شأنه، هذا مع علمه الغزير، وإتقانه الكثير، وشدة عنايته بالأخبار، وجودة حفظه للسنن والآثار، ومعرفته بالتاريخ وأيام الناس ونقدهم، مع حفظ أوقاته وساعاته، والعبادة الدائمة إلى مماته"
(4).
وقال أيضًا: "ولقد كان كبير الشأن، جليل القدر، عديم النظير، لم ير أحد شكله، ولم يخلف بعده مثله"
(5).
--------------------------------------------
"তাঁর সমসাময়িক ইমামগণ হাদীস হিফাযত ও বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর ইমামতের সাক্ষ্য দিয়েছেন, এবং তাঁর কিতাবের অনুচ্ছেদসমূহের বিন্যাস তাঁর প্রজ্ঞা ও ফিকহী জ্ঞানের সাক্ষ্য বহন করে"
(১).
ইমাম নববী (রহ.) বলেন: "জেনে রাখুন যে, ইমাম বুখারী (রহ.)-এর সুউচ্চ মর্যাদা এবং এই শাস্ত্রে সমসাময়িক ও সমপর্যায়ীয় ব্যক্তিদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি পূর্বাপর সকল যুগে সর্বসম্মত। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, যারা তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর গুণাবলি প্রচার করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন তাঁর বিশিষ্ট ও প্রথিতযশা শিক্ষকবৃন্দ এবং অতি নিপুণ ও সুদক্ষ পণ্ডিতগণ"
(২).
হাফেজ আল-মিযযী বলেন: "তিনি এই শাস্ত্রের ইমাম, এক্ষেত্রে তিনি অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব এবং মুসলিম উম্মাহর নিকট তাঁর কিতাবই প্রধান নির্ভরযোগ্য বিষয়"
(৩).
হাফেজ ইবনে নাসিরুদ্দীন আদ-দিমাশকী বলেন: "তাঁর মাধ্যমে সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিতগণ তৈরি হয়েছেন এবং বর্ণনা শাস্ত্রের অধিকারীরা তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, নিজ জিহ্বার হিফাযতকারী এবং তাঁর সকল বিষয়ে অত্যন্ত পরহেযগার। এর সাথে ছিল তাঁর অগাধ জ্ঞান, প্রখর নির্ভুলতা, হাদীসের প্রতি গভীর মনোযোগ, সুন্নাহ ও আসার (সাহাবীদের বাণী) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে অনন্য দক্ষতা, এবং ইতিহাস ও মানুষের অবস্থা ও তাদের সমালোচনা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। সাথে সাথে তিনি তাঁর সময়ের প্রতিটি মুহূর্তের গুরুত্ব দিতেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সর্বদা ইবাদতে মগ্ন থাকতেন"
(৪).
তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয়ই তিনি সুউচ্চ শান ও সুমহান মর্যাদার অধিকারী এবং অতুলনীয় ছিলেন। কেউ তাঁর মতো কাউকে দেখেনি এবং তাঁর পরে তাঁর সমকক্ষ কেউ আসেনি"
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وقال الحافظ ابن حجر: "جبل الحفظ، وإمام الدنيا في فقه الحديث"
(1).
وقال الحافظ السخاوي: "ومن تأمل اختياراته الفقهية في "جامعه" علم أنه كان مجتهدًا، موفقًا، مسددًا، وإن كان كثير الموافقة للشافعي"
(2).
شيوخ البخاري:رحل البخاري كثيرًا، وطوف بالأمصار والأقاليم والحواضر العلمية، فلقي أغلب المحدثين في زمانه، وأخذ عن الأئمة والشيوخ المشهورين في عصره، فاتسعت مداركه، وكثرت روايته للحديث، وكان ينتقي شيوخه، ويتحرى في اختيارهم، واضعًا لنفسه خطة ونهجًا في ذلك؛ حتى لا يأخذ إلا عن الثقات.
قال الإمام النووي: "وروينا من جهات عن جعفر بن محمد القطان قال: سمعت البخاري - رحمه الله تعالى - يقول: كتبت عن ألف ثقة من العلماء وزيادة، وليس عندي حديث لا أذكر إسناده"
(3).
وليس معنى ذلك أن اختياره لشيوخه، وتثبته في الأخذ عنهم، جعله قليل الشيوخ، بل على العكس من ذلك فقد أكثر من الأخذ من الشيوخ والرواية عنهم، حتى تجاوزوا الألف.
قال البخاري: "كتبت عن ألف وثمانين نفسًا، ليس فيهم إلا صاحب حديث"
(4).
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "তিনি হিফজ (মুখস্থবিদ্যা) এর পর্বত এবং হাদিসের ফিকহ শাস্ত্রে দুনিয়ার ইমাম।"
(১).
হাফেজ সাখাভী বলেন: "যে ব্যক্তি তার 'জামে' গ্রন্থে তার ফিকহি পছন্দসমূহ নিয়ে চিন্তা করবে, সে বুঝতে পারবে যে তিনি একজন মুজতাহিদ ছিলেন এবং সঠিক পথের তাওফিকপ্রাপ্ত ছিলেন, যদিও তিনি অনেক ক্ষেত্রে ইমাম শাফেয়ীর সাথে ঐকমত্য পোষণ করতেন।"
(২).
বুখারীর উস্তাদগণ:বুখারী প্রচুর সফর করেছেন এবং বিভিন্ন শহর, অঞ্চল ও ইলমি কেন্দ্রগুলোতে পরিভ্রমণ করেছেন। তিনি তার সময়ের অধিকাংশ মুহাদ্দিসের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সমসাময়িক যুগের প্রসিদ্ধ ইমাম ও শাইখদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। ফলে তার জ্ঞান পরিধি বিস্তৃত হয়েছে এবং হাদিসের বর্ণনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি তার উস্তাদদের নির্বাচন করতেন এবং তাদের বাছাই করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন, এ বিষয়ে তিনি নিজের জন্য একটি পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছিলেন; যাতে তিনি কেবল নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বর্ণনাকারীদের নিকট থেকেই হাদিস গ্রহণ করেন।
ইমাম নববী বলেন: "আমরা বিভিন্ন সূত্রে জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-কাত্তান থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেন: আমি বুখারী -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- কে বলতে শুনেছি: আমি এক হাজারেরও বেশি নির্ভরযোগ্য আলেম থেকে হাদিস লিখেছি, এবং আমার কাছে এমন কোনো হাদিস নেই যার সনদ আমার স্মরণে নেই।"
(৩).
এর অর্থ এই নয় যে, উস্তাদ নির্বাচনে তার সতর্কতা এবং তাদের কাছ থেকে গ্রহণের ক্ষেত্রে তার যাচাই-বাছাই তাকে কম সংখ্যক উস্তাদের অধিকারী করেছিল। বরং এর উল্টোটিই সত্য, তিনি বিপুল সংখ্যক উস্তাদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ ও বর্ণনা করেছেন, এমনকি তাদের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
বুখারী বলেন: "আমি এক হাজার আশি জন ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস লিখেছি, যাদের প্রত্যেকেই ছিলেন হাদিস বিশারদ।"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
ويقول أيضًا عنهم: "لقيت أكثر من ألف رجل من أهل الحجاز والعراق والشام ومصر وخراسان
… فما رأيت واحدًا منهم يختلف في هذه الأشياء: أن الدين قول وعمل، وأن القرآن كلام اللَّه"
(1).
ولم يكن البخاري يروي كل ما يأخذه أو يسمعه من الشيوخ، بل كان يتحرى ويدقق فيما يأخذ ويدع، ويؤكد ذلك ما روي عنه عندما سئل عن خبر حديث، فيما روى عنه محمد بن أبي حاتم قال: سمعته يقول: "يا أبا فلان، تراني أدلس؟! تركت أنا عشرة آلاف حديث لرجل فيه نظر، وتركت مثلها أو أكثر منها لغيره لي فيه نظر"
(2).
وإذا كان البخاري نفسه ذكر أن الشيوخ الذين أخذ عنهم وسمع منهم تعدوا ألف نفس، فقد بلغوا بذلك كثرة يصعب معها استيعابهم وحصرهم، ونؤثر هنا أن نكتفي بالإشارة إلى الصفوة المختارة منهم الذين أثروا في تكوينه العلمي، وأكثر هو من الأخذ عنهم والرواية لهم.
ففي العهد الأول لطلبه الحديث، أي قبل رحلته للحج، نجد من شيوخه الأولين:
الداخلي، ومحمد بن سلام البيكندي، ومحمد بن يوسف البيكندي، وعبد اللَّه المسندي الجعفي، وهارون بن الأشعث.
وممن أخد عنهم بمكة المكرمة:
أبو بكر عبد اللَّه بن الزبير الحميدي، وأبو الوليد أحمد بن محمد الأزرقي، وعبد اللَّه بن يزيد المقرئ، وإسماعيل بن سالم الصائغ.
--------------------------------------------
তিনি তাদের সম্পর্কে আরও বলেন: "আমি হিজাজ, ইরাক, সিরিয়া, মিশর এবং খোরাসানের এক হাজারেরও বেশি লোকের সাথে সাক্ষাৎ করেছি
… আমি তাদের একজনকে এই বিষয়গুলোতে ভিন্নমত পোষণ করতে দেখিনি যে: নিশ্চয়ই দ্বীন হচ্ছে কথা ও কাজ, এবং কুরআন আল্লাহর বাণী"
(১)।
বুখারী শায়খদের কাছ থেকে যা গ্রহণ করতেন বা শুনতেন তার সবকিছুই বর্ণনা করতেন না, বরং তিনি যা গ্রহণ করতেন এবং যা বর্জন করতেন সে বিষয়ে অনুসন্ধান ও সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই করতেন। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত একটি ঘটনা এটি নিশ্চিত করে যখন তাঁকে একটি হাদীসের সংবাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, যা মুহাম্মাদ ইবনে আবি হাতিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "হে অমুকের পিতা, তুমি কি আমাকে তাদলীস করতে দেখছো?! আমি এমন এক ব্যক্তির দশ হাজার হাদীস বর্জন করেছি যার ব্যাপারে আপত্তি ছিল, এবং অন্যজনেরও সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি বর্জন করেছি যার ব্যাপারে আমার আপত্তি ছিল"
(২)।
যেহেতু বুখারী নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যাদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং শ্রবণ করেছেন সেই শায়খদের সংখ্যা এক হাজার অতিক্রম করেছে, ফলে তাদের সংখ্যা এত বেশি যে তাদের সকলকে আয়ত্ত করা এবং তালিকাভুক্ত করা কঠিন। তাই আমরা এখানে তাদের মধ্য থেকে কেবল নির্বাচিত সেরাদের উল্লেখ করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকাকে পছন্দ করছি যারা তাঁর ইলমি গঠনে প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং যাদের কাছ থেকে তিনি অধিক জ্ঞান অর্জন ও বর্ণনা করেছেন।
হাদীস অন্বেষণের প্রথম যুগে, অর্থাৎ তাঁর হজ্জের সফরের আগে, তাঁর প্রাথমিক শায়খদের মধ্যে আমরা পাই:
আদ-দাখিলী, মুহাম্মাদ ইবনে সালাম আল-বাইকান্দী, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আল-বাইকান্দী, আবদুল্লাহ আল-মুসনাদী আল-জু’ফী এবং হারুন ইবনুল আশ’আস।
আর মক্কা মুকাররমায় তিনি যাদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:
আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আয-যুবাইর আল-হুমাইদী, আবুল ওয়ালীদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-আযরাকী, আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আল-মুক্রী এবং ইসমাইল ইবনে সালিম আস-সায়িগ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وأخذ بالمدينة المنورة عن:
عبد العزيز بن عبد اللَّه الأويسي، وإبراهيم المنذري، ومطرف بن عبد اللَّه أبي مصعب، ويحيى بن قزعة.
وأخذ بالشام عن:
محمد بن يوسف الفريابي، وآدم بن أبي إياس، وأبي اليمان الحكم بن نافع، وحيوة بن شريح.
وأخذ بنيسابور عن:
يحيى بن يحيى التميمي، وإسحاق بن إبراهيم الحنظلي، وهو: ابن راهويه، ومحمد بن يحيى الذهلي.
وأخذ ببغداد عن:
أحمد بن حنبل، ويحيى بن معين، وعلي بن المديني، وأبي مسلم بن عبد الرحمن ابن أبي يونس، وشريح بن النعمان، وعفان بن مسلم الصفار، ومحمد بن عيسى الطباع، وغيرهم.
وأخذ بمصر عن:
أحمد بن صالح المصري، وسعيد بن كثير بن عفير، ويحيى بن عبد اللَّه بن بكير، وأصبغ بن الفرج، وعبد اللَّه بن صالح المصري، وغيرهم.
ونظرًا لكثرة شيوخ البخاري وتعددهم؛ لاختلاف أمصارهم وجهاتهم، فقد حصرهم المحدثون في طبقات خمس:
• الطبقة الأولى: من حدثه عن التابعين:
এবং তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় যাদের থেকে (ইলম) গ্রহণ করেছেন:
আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-উয়াইসি, ইব্রাহিম আল-মুনজিরি, মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ আবু মুসআব এবং ইয়াহইয়া বিন কাযাআ।
এবং তিনি শামে যাদের থেকে (ইলম) গ্রহণ করেছেন:
মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরিয়াবি, আদম বিন আবি ইয়াস, আবুল ইয়ামান আল-হাকাম বিন নাফি এবং হাইওয়াহ বিন শুরাইহ।
এবং তিনি নিশাপুরে যাদের থেকে (ইলম) গ্রহণ করেছেন:
ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আত-তামিমি, ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-হানজালি—আর তিনি হলেন ইবনে রাহওয়াইহ—এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আজ-যুহলি।
এবং তিনি বাগদাদে যাদের থেকে (ইলম) গ্রহণ করেছেন:
আহমাদ বিন হাম্বল, ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আলী বিন আল-মাদিনি, আবু মুসলিম বিন আব্দুর রহমান ইবনে আবি ইউনুস, শুরাইহ বিন আন-নুমান, আফফান বিন মুসলিম আস-সাফফার, মুহাম্মদ বিন ঈসা আত-তাব্বা এবং অন্যান্য।
এবং তিনি মিশরে যাদের থেকে (ইলম) গ্রহণ করেছেন:
আহমাদ বিন সালিহ আল-মিসরি, সাঈদ বিন কাসির বিন উফাইর, ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন বুকাইর, আসবাগ বিন আল-ফারাজ, আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আল-মিসরি এবং অন্যান্য।
ইমাম বুখারীর শাইখদের আধিক্য ও নানামুখী হওয়ার কারণে—তাদের শহর ও অঞ্চলের ভিন্নতার দরুন—মুহাদ্দিসগণ তাঁদেরকে পাঁচটি স্তরে বিভক্ত করেছেন:
• প্রথম স্তর: যাঁরা তাঁর নিকট তাবিঈদের থেকে বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
منهم: محمد بن عبد اللَّه الأنصاري، ومكي بن إبراهيم، وأبو عاصم النبيل. وهؤلاء هم أصحاب الثلاثيات.
• الطبقة الثانية: قوم حدثوا عن أتباع التابعين، عن التابعين:
منهم: أبو مسهر عبد الأعلى بن مسهر، وآدم بن أبي إياس، وأيوب بن سليمان، وغيرهم. وهؤلاء هم أصحاب رباعيات البخاري.
• الطبقة الثالثة: قوم حدثوا عن تبع أتباع التابعين؛ الذين أدرك زمانهم، وأمكنه لقيهم:
منهم: سليمان بن حرب، وقتيبة بن سعيد، وعلي بن المديني، ويحيى بن معين، وأحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، وعثمان بن أبي شيبة
… إلخ.
• الطبقة الرابعة: رفقاؤه في الطلب، ومن هو في عداد طبقته ممن سمع قبله قليلًا، وقد حدث عنهم عن مشايخه:
منهم: أبو حاتم الرازي، ومحمد بن يحيى الذهلي، وعبد بن حميد، وأحمد بن النضر.
• الطبقة الخامسة: قوم في عداد طلبته؛ حيث حدث عنهم وهم أصغر منه في السن والإسناد، وقد سمع منهم للفائدة:
منهم: عبد اللَّه بن حماد الآملي، وعبد اللَّه بن أبي العاص الخوارزمي، وحسين بن محمد القباني.
وفائدة هذا التقسيم لطبقات شيوخ البخاري على هذا النحو، هو عدم وقوع الإبهام والالتباس - لمن لا معرفة له - إذا حدث البخاري بالإسناد عاليًا تارة،
তাদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আনসারী, মাক্কী বিন ইবরাহিম এবং আবু আসিম আন-নাবীল। আর তারাই হলেন সুলাসিয়াত (তিন স্তরের বর্ণনা) -এর অধিকারী।
• দ্বিতীয় স্তর: এমন এক দল যারা তাবে-তাবেঈন থেকে এবং তারা তাবেঈন থেকে বর্ণনা করেছেন:
তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু মুশহির আব্দুল আ'লা বিন মুশহির, আদম বিন আবি ইয়াস, আইয়ুব বিন সুলাইমান এবং অন্যান্যরা। আর তারা হলেন বুখারীর রুবাইয়্যাত (চার স্তরের বর্ণনা) -এর অধিকারী।
• তৃতীয় স্তর: এমন এক দল যারা তাবে-তাবেঈনদের অনুসারীদের থেকে বর্ণনা করেছেন; যাদের সময় তিনি পেয়েছেন এবং যাদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ সম্ভব হয়েছে:
তাদের মধ্যে রয়েছেন: সুলাইমান বিন হারব, কুতায়বা বিন সাঈদ, আলী ইবনুল মাদীনী, ইয়াহইয়া বিন মাঈন, আহমাদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, উসমান বিন আবি শায়বাহ
… ইত্যাদি।
• চতুর্থ স্তর: ইলম অন্বেষণে তাঁর সহপাঠীবৃন্দ এবং যারা তাঁর স্তরের অন্তর্ভুক্ত যারা তাঁর সামান্য আগে শুনেছেন, এবং তিনি তাঁদের থেকে তাঁর শিক্ষকদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন:
তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু হাতিম আর-রাযী, মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আদ-যুহলী, আব্দ বিন হুমাইদ এবং আহমাদ বিন আন-নাদর।
• পঞ্চম স্তর: এমন এক দল যারা মূলত তাঁর ছাত্র হিসেবে গণ্য; তিনি তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন অথচ তাঁরা বয়সে এবং সনদে তাঁর চেয়ে ছোট ছিলেন, এবং তিনি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে তাঁদের থেকে শ্রবণ করেছেন:
তাদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ বিন হাম্মাদ আল-আমিলী, আব্দুল্লাহ বিন আবিল আস আল-খাওয়ারিজমী এবং হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-কাব্বানী।
ইমাম বুখারীর শিক্ষকদের স্তরের এই বিভাজনের উপকারিতা হলো—যাদের এ বিষয়ে জ্ঞান নেই—তাদের জন্য অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হওয়া, যখন বুখারী কোনো সময় উচ্চ সনদে হাদিস বর্ণনা করেন,
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
ونازلًا تارة أخرى، وحتى لا يظن أن الإسناد العالي قد حذف منه، أو أن الإسناد النازل قد زيد فيه.
على أن هناك من شيوخ البخاري الكثر المتعددين حسب الأقاليم والأمصار؛ شيوخًا قد ظهر أثرهم الجليل في تكوينه الفكري والعلمي، وأثروا في منهجه الحديثي، وكانت صلته بهم قوية شديدة مكينة، وهم شيوخه الخمسة:
علي بن المديني (161 - 234 هـ)، وهو من أكثر الأئمة الذين تأثر بهم البخاري، حتى إنه قال: "ما استصغرت نفسي عند أحد إلا عند علي بن المديني، وربما كنت أغرب عليه"
(1).
وأحمد بن حنبل (164 - 241 هـ).
وإسحاق بن راهويه (161 - 238 هـ).
ويحيى بن معين (158 - 233 هـ).
وأبو نعيم الفضل بن دكين (130 - 219 هـ).
تلاميذ البخاري:وقف البخاري حياته كلها للعلم، وقصرها على طلب الحديث وتعليمه، فما وني لحظة عن ذلك، ولا أشرك في طلبه والسعي له شيئًا من عرض الدنيا ومتاعها، وما رئي فيما وراء نومه القليل إلا وهو على حال من ثلاث: إما جالسًا إلى شيخ يسمع منه ويتلقى عنه، أو متصدرًا للحديث على الملتفين حوله من الطلاب، أو منقطعًا إلى القلم والقرطاس يقيد شوارد ما جمع.
--------------------------------------------
এবং কখনো নিচু স্তরের সনদ; যাতে কেউ মনে না করে যে উচ্চ স্তরের সনদ থেকে কিছু বাদ দেওয়া হয়েছে, অথবা নিচু স্তরের সনদে কিছু বৃদ্ধি করা হয়েছে।
যদিও অঞ্চল ও জনপদ ভেদে বুখারীর অসংখ্য শিক্ষক ছিলেন; তবে এমন কিছু শিক্ষক ছিলেন যাদের মহান প্রভাব তাঁর চিন্তাগত ও জ্ঞানতাত্ত্বিক গঠনে স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়, এবং তাঁরা তাঁর হাদিসতত্ত্বের পদ্ধতিতে প্রভাব ফেলেছিলেন। তাঁদের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর, সুদৃঢ় ও মজবুত। তাঁরা হলেন তাঁর প্রধান পাঁচজন শিক্ষক:
আলী ইবনে আল-মাদিনী (১৬১ - ২৩৪ হিজরি), তিনি এমন ইমামদের অন্তর্ভুক্ত যাদের দ্বারা বুখারী সর্বাধিক প্রভাবিত হয়েছিলেন। এমনকি তিনি বলেছিলেন: "আলী ইবনে আল-মাদিনী ব্যতীত অন্য কারো সামনে নিজেকে আমি ছোট মনে করিনি, আর কখনো কখনো আমি তাঁর কাছে এমন হাদিস বর্ণনা করতাম যা তাঁর জানা ছিল না"
(১)।
এবং আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪ - ২৪১ হিজরি)।
এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইহ (১৬১ - ২৩৮ হিজরি)।
এবং ইয়াহইয়া বিন মাঈন (১৫৮ - ২৩৩ হিজরি)।
এবং আবু নুআইম আল-ফাদল বিন দুকাইন (১৩০ - ২১৯ হিজরি)।
বুখারীর ছাত্রবৃন্দ:বুখারী তাঁর পুরো জীবন ইলমের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন এবং তা হাদিস অন্বেষণ ও পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। তিনি এক মুহূর্তের জন্যও এতে অলসতা করেননি এবং এর অন্বেষণ ও প্রচেষ্টায় দুনিয়ার কোনো সুযোগ-সুবিধা বা ভোগবিলাসকে অংশীদার করেননি। তাঁর যৎসামান্য নিদ্রা ব্যতীত তাঁকে সর্বদা তিনটি অবস্থার কোনো একটিতেই দেখা যেত: হয় তিনি কোনো শিক্ষকের সামনে বসে তাঁর থেকে হাদিস শুনছেন ও গ্রহণ করছেন, অথবা তাঁকে ঘিরে থাকা ছাত্রদের নিকট হাদিস বর্ণনা করছেন, নতুবা কলম ও কাগজের সাথে একান্তে নিমগ্ন থেকে তাঁর সংগ্রহ করা বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলো লিখে রাখছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وهو بهذا الجهد الكبير والعمل المتواصل قد ملأ حياته علمًا وتعليمًا، وكتابة وتأليفًا، مما أفاد منه وانتفع به خلق كثيرون لا يحصون عددًا، ولا يحدون وفرة، سواء في حله أو ترحاله، ولا نكون مبالغين إذا اعتبرنا كل واحد ممن لقيهم البخاري أو اتصل بهم واحدًا من تلاميذه، حتى من بعض شيوخه، وهو في ذلك يقول: "ما قدمت على شيخ إلا كان انتفاعه بي أكثر من انتفاعي به"
(1).
وقد أدرك هذا الامتياز والتفوق أساتذته الكبار، وقدروه، ومنهم الحميدي نفسه؛ حيث يقول البخاري عنه: "دخلت على الحميدي وأنا ابن ثمان عشرة سنة، فإذا بينه وبين آخر اختلاف في حديث، فلما بصر بي قال: جاء من يفصل بيننا، فعرضا علي الخصومة، فقضيت للحميدي، وكان الحق معه"
(2).
ولعل قصته مع شيخه الداخلي وهو في بدء أمره، واعتراف الداخلي بخطئه للبخاري؛ أكبر دليل على ما ذهبنا إليه من تفوق البخاري، حتى بالنسبة إلى شيوخه، ولم يكد يشتهر بين الناس بسعة حفظه، وسيلان ذهنه، وتثبته، وإتقانه، وعلو باعه في الرواية والدراية، حتى أقبل الناس وطلاب الحديث - والعلماء منهم خاصة - يسعون إليه، ويتحلقون حوله؛ طلبًا للرواية عنه والسماع، "فكان أهل المعرفة يعدون خلفه في طلب الحديث وهو شاب، حتى يغلبوه على نفسه ويجلسوه في بعض الطريق، فيجتمع عليه ألوف ممن يكتب عنه، وكان شابًّا لم يخرج وجهه"
(3).
--------------------------------------------
তিনি এই বিশাল প্রচেষ্টা এবং নিরন্তর কর্মতৎপরতার মাধ্যমে তাঁর জীবনকে জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদান এবং লিখন ও সংকলন দ্বারা পূর্ণ করেছেন, যার দ্বারা অসংখ্য সৃষ্টি উপকৃত হয়েছে এবং লাভবান হয়েছে, যাদের সংখ্যা গণনা করা যায় না এবং যাদের প্রাচুর্যও সীমিত নয়, চাই তিনি স্বস্থানে অবস্থানকালে হোক বা ভ্রমণে। আমরা অতিরঞ্জন করব না যদি আমরা ইমাম বুখারীর সাথে সাক্ষাৎকারী বা যোগাযোগকারী প্রত্যেককে তাঁর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করি, এমনকি তাঁর শিক্ষকদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ এর অন্তর্ভুক্ত। এই বিষয়ে তিনি বলেন: "আমি এমন কোনো শাইখের নিকট উপস্থিত হইনি যার কাছে আমার উপকৃত হওয়ার চেয়ে আমার দ্বারা তাঁর উপকৃত হওয়া বেশি ছিল না"
(১)।
তাঁর মহান উস্তাদগণও এই অনন্য বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করেছিলেন এবং তাঁর কদর করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে খোদ হুমাইদীও ছিলেন; তাঁর সম্পর্কে বুখারী বলেন: "আমি আঠারো বছর বয়সে হুমাইদীর নিকট প্রবেশ করলাম। এমতাবস্থায় দেখলাম যে, তাঁর এবং অন্য একজনের মধ্যে একটি হাদীস নিয়ে মতবিরোধ চলছে। যখন তিনি আমাকে দেখলেন, তখন বললেন: এমন ব্যক্তি এসেছে যে আমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবে। এরপর তারা আমার কাছে তাদের বিরোধটি পেশ করলেন এবং আমি হুমাইদীর পক্ষে রায় দিলাম, আর সত্য তাঁর সাথেই ছিল"
(২)।
সম্ভবত তাঁর সূচনালগ্নে তাঁর উস্তাদ দাখিলীর সাথে ঘটা ঘটনাটি এবং বুখারীর নিকট দাখিলীর নিজ ভুল স্বীকার করাই ইমাম বুখারীর শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ, এমনকি তাঁর উস্তাদদের তুলনায়ও। মানুষের মাঝে তাঁর মুখস্থ শক্তির ব্যাপকতা, মেধার প্রখরতা, নির্ভরযোগ্যতা, নিখুঁত হওয়া এবং রেওয়ায়েত ও দেরায়েতের ক্ষেত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার কথা ছড়িয়ে পড়তে না পড়তেই মানুষ এবং হাদীসের ছাত্ররা—বিশেষ করে আলেম সমাজ—তাঁর দিকে ধাবিত হতে থাকেন এবং তাঁর কাছ থেকে বর্ণনা গ্রহণ ও শ্রবণের উদ্দেশ্যে তাঁর চারদিকে জমায়েত হতে থাকেন। "জ্ঞানী ব্যক্তিরা হাদীস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তাঁর পেছনে ছুটতেন এমতাবস্থায় যে তিনি তখন যুবক ছিলেন। এমনকি তারা তাঁকে অনুরোধ করে বাধ্য করতেন এবং রাস্তার কোনো এক স্থানে বসিয়ে দিতেন। তখন হাজার হাজার মানুষ তাঁর চারপাশে সমবেত হতো যারা তাঁর কাছ থেকে লিখে নিত। তিনি তখন এমন এক যুবক ছিলেন যার চেহারায় তখনও দাঁড়ি-গোঁফ গজায়নি"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
لذلك لا يمكننا أن نحصر كل تلاميذه؛ لكثرتهم وتنوعهم، ونكتفي هنا بالإشارة إلى بعضهم، ومنهم شيوخه وأقرانه وحفاظ عصره.
فممن روى عنه أو أخذ منه من شيوخه:
عبد اللَّه المسندي، وعبد اللَّه بن منير، ومحمد بن خلف بن قتيبة، وغيرهم.
ومن أقرانه:
أبو حاتم وأبو زرعة الرازيان، وأبو بكر بن أبي عاصم، ومحمد بن عبد اللَّه بن الجنيد النيسابوري، وإسحاق بن أحمد بن زيرك الفارسي، ومحمد بن قتيبة البخاري، وإبراهيم بن إسحاق الحربي، وغيرهم.
وممن أخذ عنه من كبار الحفاظ:
مسلم بن الحجاج، وأبو بكر بن إسحاق بن خزيمة، وأبو عبد الرحمن النسائي، وأبو الفضل أحمد بن سلمة، وأبو عيسى الترمذي، وأبو بكر بن أبي الدنيا، وحسين بن محمد القباني، وسهل بن شاذويه البخاري، ويعقوب بن يوسف بن الأخرم، وجعفر بن محمد النيسابوري، وأبو القاسم البغوي، وأبو محمد بن حامد، والحسين بن إسماعيل المحاملي البغدادي، وغيرهم.
ويكفي البخاري شرفًا وفخرًا أن يكون هؤلاء الأئمة والحفاظ من تلاميذه، والآخذين عنه، والراوين له، مما يغني عن ذكر الآلاف من الذين تتلمذوا عليه وسمعوا منه، حتى بلغ من سمعوا منه "الصحيح" وحده أكثر من تسعين ألفًا، كما روي عن الفربري.
সেকারণে তাঁর সকল ছাত্রকে সীমাবদ্ধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়; তাদের আধিক্য এবং বৈচিত্র্যের কারণে। আমরা এখানে তাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যককে উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব, যাদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর উস্তাদগণ, সমসাময়িকগণ এবং তাঁর যুগের হাফেজগণ।
তাঁর যে সকল উস্তাদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন বা গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:
আবদুল্লাহ আল-মুসনাদী, আবদুল্লাহ ইবনে মুনির, মুহাম্মাদ ইবনে খালাফ ইবনে কুতায়বাহ এবং অন্যান্যরা।
তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে রয়েছেন:
আবু হাতেম ও আবু যুরআহ আর-রাযীদ্বয়, আবু বকর ইবনে আবি আসিম, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-জুনাইদ আন-নিশাপুরী, ইসহাক ইবনে আহমাদ ইবনে যিরাক আল-ফারিসি, মুহাম্মাদ ইবনে কুতায়বাহ আল-বুখারি, ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক আল-হারবি এবং অন্যান্যরা।
বড় বড় হাফেজদের মধ্যে যারা তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেছেন:
মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ, আবু বকর ইবনে ইসহাক ইবনে খুযাইমাহ, আবু আবদুর রহমান আন-নাসাঈ, আবু ফাদল আহমাদ ইবনে সালামাহ, আবু ঈসা আত-তিরমিযী, আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া, হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাব্বানি, সাহল ইবনে শাযওয়াইহ আল-বুখারি, ইয়াকুব ইবনে ইউসুফ ইবনুল আখরাম, জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আন-নিশাপুরী, আবুল কাসিম আল-বাগাভী, আবু মুহাম্মাদ ইবনে হামিদ, আল-হুসাইন ইবনে ইসমাঈল আল-মাহামিলি আল-বাগদাদি এবং অন্যান্যরা।
ইমাম বুখারির জন্য সম্মান ও গৌরবের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, এই সকল বরেণ্য ইমাম ও হাফেজগণ তাঁর ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণকারী ও বর্ণনাকারী ছিলেন। এটি সেই হাজার হাজার মানুষের নাম উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে যারা তাঁর নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। এমনকি ফিরাবরি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, শুধুমাত্র তাঁর "সহীহ" গ্রন্থটি নব্বই হাজারেরও বেশি লোক সরাসরি তাঁর মুখ থেকে শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
آثار البخاري:لقد ظهر نبوغ البخاري مبكرًا؛ فقد حفظ القرآن الكريم وهو دون التسع، وبدأ في حفظ الحديث الشريف وهو ابن عشر سنين، ثم أخذ في الرواية، وحفظ أغلب أمهات كتب الحديث وهو ابن إحدى عشرة سنة، فلا عجب أن نراه يبدأ التأليف وهو دون الثامنة عشرة من عمره، كما ذكر ذلك بنفسه.
روى محمد بن أبي حاتم عنه أنه قال: "لما طعنت في ثماني عشرة صنفت كتاب "قضايا الصحابة والتابعين"، ثم صنفت "التاريخ" في المدينة عند قبر النبي صلى الله عليه وسلم، وكنت أكتبه في الليالي المقمرة، وقل اسم في "التاريخ" إلا وله عندي قصة، إلا أني كرهت أن يطول الكتاب"
(1)وقد هيأه للتأليف والكتابة وأعانه عليها ذكاؤه الحاد، وحفظه الواسع النادر، وذهنه السيال المتوقد، ومعرفته العميقة الواسعة بأحوال الرجال: من تعديل وتجريح، والأسانيد: من صحيح وسقيم.
وقد ذكر الإمام السبكي في "طبقاته" قصة البخاري مع سليم بن مجاهد بن يعيش الخديمنكني، والتي تنبئ عن سعة حفظه، حتى بلغت سبعين ألف حديث، فكان جواب البخاري: "نعم وأكثر، ولا أجيئك بحديث عن الصحابة أو التابعين إلا عرفت مولد أكثرهم، ووفاتهم، ومساكنهم، ولست أروي حديثًا من حديث الصحابة أو التابعين إلا ولي في ذلك أصل أحفظه حفظًا عن كتاب اللَّه، أو سنة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم"
(2).
--------------------------------------------
ইমাম বুখারীর রচনাবলী:ইমাম বুখারীর প্রতিভা খুব অল্প বয়সেই প্রকাশ পেয়েছিল; তিনি নয় বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেছিলেন এবং দশ বছর বয়সে হাদিস মুখস্থ করা শুরু করেন। এরপর তিনি হাদিস বর্ণনা শুরু করেন এবং এগারো বছর বয়সে হাদিসের অধিকাংশ মৌলিক গ্রন্থ মুখস্থ করে ফেলেন। তাই আশ্চর্যের কিছু নেই যে, তিনি আঠারো বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গ্রন্থ রচনা শুরু করেন, যেমনটি তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন।
মুহাম্মাদ ইবনে আবি হাতিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "যখন আমি আঠারো বছরে পদার্পণ করলাম, তখন 'কাদায়া আস-সাহাবা ওয়াত-তাবিয়ীন' (সাহাবী ও তাবেয়ীদের ফয়সালাসমূহ) নামক গ্রন্থটি রচনা করলাম। এরপর মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের পাশে বসে 'আত-তারিখ' (ইতিহাস) গ্রন্থটি রচনা করি। আমি তা জোছনা আলোকিত রাতে লিখতাম। 'আত-তারিখ' গ্রন্থে এমন খুব কম নামই আছে যার সম্পর্কে আমার কাছে কোনো না কোনো ঘটনা সংরক্ষিত নেই; তবে আমি গ্রন্থটি দীর্ঘায়িত করা অপছন্দ করেছি।"
(১)তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তা, বিরল ও বিস্তৃত মুখস্থশক্তি, অত্যন্ত ক্ষুরধার ও প্রদীপ্ত ধীশক্তি এবং রাবীদের অবস্থা—তা’দীল (প্রশংসা) ও জারহ (সমালোচনা)—এবং সহীহ ও যয়ীফ সনদসমূহ সম্পর্কে তাঁর গভীর ও বিস্তৃত জ্ঞান তাঁকে গ্রন্থ রচনা ও লিখনের উপযোগী করে তুলেছিল এবং তাকে সহায়তা করেছিল।
ইমাম সুবকী তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে সুলাইম ইবনে মুজাহিদ ইবনে ইয়াঈশ আল-খাদিমিনকানির সাথে ইমাম বুখারীর একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর মুখস্থশক্তির ব্যাপকতা সম্পর্কে জানান দেয়, এমনকি তা সত্তর হাজার হাদিস পর্যন্ত পৌঁছেছিল। উত্তরে ইমাম বুখারী বলেছিলেন: "হ্যাঁ, বরং আরও বেশি। আমি তোমার কাছে সাহাবী বা তাবেয়ীদের থেকে এমন কোনো হাদিস নিয়ে আসি না যাদের অধিকাংশের জন্ম, মৃত্যু এবং বাসস্থান সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর আমি সাহাবী বা তাবেয়ীদের থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করি না যার স্বপক্ষে আল্লাহর কিতাব বা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে আমার মুখস্থ কোনো ভিত্তি নেই।"
(২).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
كما يؤكد ذلك قصته مع علماء بغداد ومع السمرقنديين؛ روى الحافظ ابن عدي قال: "سمعت عدة مشايخ ببغداد يقولون: إن محمد بن إسماعيل البخاري قدم بغداد، فسمع به أصحاب الحديث، فاجتمعوا وأرادوا امتحان حفظه، فعمدوا إلى مائة حديث، فقلبوا متونها وأسانيدها، وجعلوا متن هذا الإسناد لإسناد آخر، وإسناد هذا الحديث لمتن آخر، ودفعوها إلى عشرة أنفس، لكل رجل عشرة أحاديث، وأمروهم إذا حضروا المجلس أن يلقوا ذلك على البخاري، وأخذوا عليه الموعد للمجلس، فحضر وحضر جماعة من الغرباء من أهل خراسان وغيرهم من البغداديين، فلما اطمأن المجلس بأهله، انتدب رجل من العشرة، فسأله عن حديث من تلك الأحاديث، فقال البخاري: لا أعرفه. فما زال يلقي عليه واحدًا واحدًا حتى فرغ، والبخاري يقول: لا أعرفه. وكان من العلماء ممن حضر المجلس يلتفت بعضهم إلى بعض ويقولون: فهم الرجل، ومن كان لم يدر القصة يقضي على البخاري بالعجز والتقصير، وقلة الحفظ.
ثم انتدب رجل من العشرة أيضا، فسأله عن حديث من تلك الأحاديث المقلوبة، فقال: لا أعرفه. فلم يزل يلقي عليه واحدًا واحدًا، والبخاري يقول: لا أعرفه.
وهكذا حتى فرغوا كلهم من إلقاء تلك الأحاديث المقلوبة، والبخاري لا يزيدهم على قوله: لا أعرفه.
فلما علم أنهم قد فرغوا، التفت إلى الأول فقال: أما حديثك الأول، فقلت: كذا، وصوابه: كذا، وحديثك الثاني: كذا، وصوابه: كذا، والثالث، والرابع، على التوالي حتى أتى على تمام العشرة، فرد كل متن إلى إسناده، وكل
যেমনটি বাগদাদের আলেমগণ এবং সমরকন্দীদের সাথে তাঁর ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিশ্চিত করে; হাফিজ ইবনে আদী বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "আমি বাগদাদের কয়েকজন শায়খকে বলতে শুনেছি যে: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী যখন বাগদাদে আগমন করলেন, তখন হাদিস বিশারদগণ তাঁর আগমনের কথা শুনলেন। তাঁরা একত্রিত হলেন এবং তাঁর মুখস্থ শক্তি পরীক্ষা করতে চাইলেন। তাঁরা একশত হাদিস গ্রহণ করে সেগুলোর মতন (মূল পাঠ) ও সনদসমূহ (বর্ণনাধারা) উলটপালট করে দিলেন। তাঁরা এক সনদের মতন অন্য সনদে এবং এক হাদিসের সনদ অন্য মতনের সাথে জুড়ে দিলেন। এরপর সেগুলো দশজন ব্যক্তির হাতে অর্পণ করলেন, প্রত্যেক ব্যক্তির ভাগে দশটি করে হাদিস পড়ল। তাঁরা তাঁদের নির্দেশ দিলেন যে, যখন তাঁরা মজলিসে উপস্থিত হবেন তখন যেন বুখারীর নিকট সেগুলো পেশ করেন। তাঁরা মজলিসের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করলেন। তিনি উপস্থিত হলেন এবং খোরাসানের একদল আগন্তুকসহ বাগদাদের অন্যান্য অধিবাসীগণও সেখানে উপস্থিত হলেন। যখন মজলিস লোকে লোকারণ্য হয়ে সুশৃঙ্খল হলো, তখন সেই দশজনের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সেই হাদিসগুলোর একটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। বুখারী বললেন: আমি এটি জানি না। এরপর তিনি একে একে তাঁর সামনে হাদিসগুলো পেশ করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি শেষ করলেন, আর বুখারী বলছিলেন: আমি এটি জানি না। মজলিসে উপস্থিত আলেমদের মধ্যে যারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন, তাঁরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন: এই ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আর যারা বিষয়টি জানতেন না, তাঁরা বুখারীর অক্ষমতা, সীমাবদ্ধতা এবং মুখস্থ শক্তির স্বল্পতার রায় দিচ্ছিলেন।
এরপর সেই দশজনের মধ্য থেকে আরেকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সেই উলটপালট করা হাদিসগুলোর একটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আমি এটি জানি না। তিনি একে একে তাঁর সামনে হাদিসগুলো পেশ করতে থাকলেন এবং বুখারী বলতে থাকলেন: আমি এটি জানি না।
এভাবেই তাঁরা সবাই সেই উলটপালট করা হাদিসগুলো পেশ করা শেষ করলেন, আর বুখারী 'আমি এটি জানি না' বলা ছাড়া আর কিছুই বাড়ালেন না।
যখন তিনি বুঝতে পারলেন যে তাঁরা শেষ করেছেন, তখন তিনি প্রথম ব্যক্তির দিকে ফিরে বললেন: তোমার প্রথম হাদিসটি সম্পর্কে তুমি বলেছিলে এমন, কিন্তু তার সঠিক রূপ হলো এমন। তোমার দ্বিতীয় হাদিসটি বলেছিলে এমন, যার সঠিক রূপ হলো এমন। এরপর তৃতীয়, চতুর্থ—এভাবে ধারাবাহিকভাবে দশটি হাদিস পূর্ণ করলেন। তিনি প্রতিটি মতনকে তার সঠিক সনদে ফিরিয়ে দিলেন এবং প্রতিটি...
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
إسناد إلى متنه، وفعل مع الآخرين مثل ذلك، فأقر الناس له بالحفظ، وأذعنوا له بالفضل"
(1).
وقد عقب الحافظ ابن حجر على هذه القصة بقوله: "هنا يخضع للبخاري، فما العجب من رده الخطأ إلى الصواب؛ فإنه كان حافظًا، بل العجب من حفظه للخطأ على ترتيب ما ألقوه عليه من مرة واحدة"
(2).
هذه العوامل والمزايا ساعدت كلها على وفرة إنتاج البخاري، وكثرة آثاره العلمية، فبدأ التأليف وهو لا يزال شابًّا يافعًا إثر خروجه إلى الحج، وسنه لا تتعدى ثمان عشرة سنة، فأخرج للناس كتابيه الأولين "قضايا الصحابة والتابعين"، و"التاريخ"، كما حدث بذلك عن نفسه.
وقد عد الحافظ ابن حجر كتب البخاري فبلغت واحدًا وعشرين كتابًا، ونبه إلى الموجود منها عنده، وما روى منها بالسماع، أو بالإجازة.
على أننا نجد للبخاري مؤلفات أخرى، غير ما ذكر الحافظ ابن حجر، اختلفت بين مطبوع ومخطوط، وبين موجود وضائع حتى الآن لا يعرف له أثر.
وتلك المؤلفات والكتب هي:
1 - "الجامع الصحيح": وسنتناوله بالتفصيل فيما بعد.
2 - "الأدب المفرد": يرويه عنه أحمد بن محمد بن الجليل - بالجيم - البزار، له طبعة مشروحة باسم: "فضل اللَّه الصمد في توضيح الأدب المفرد" لمؤلفه
--------------------------------------------
সনদকে তার মূল পাঠের সাথে যুক্ত করলেন এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করলেন। ফলে মানুষ তার মুখস্থ শক্তির স্বীকৃতি দিল এবং তার শ্রেষ্ঠত্বের কাছে নতি স্বীকার করল"
(১).
হাফেজ ইবনে হাজার এই ঘটনার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "এখানে বুখারীর সামনে মস্তক অবনত করতে হয়। ভুলকে সঠিকের দিকে ফিরিয়ে আনার মাঝে বিস্ময়ের কিছু নেই; কারণ তিনি ছিলেন একজন হাফেজ (সুসংরক্ষিত স্মৃতিশক্তির অধিকারী)। বরং বিস্ময়কর বিষয় হলো, তারা যেভাবে ক্রমানুসারে তার কাছে ভুলগুলো পেশ করেছিল, মাত্র একবার শুনেই সেই ভুলগুলো তার মুখস্থ করে রাখা"
(২).
এই সকল উপাদান ও বৈশিষ্ট্য বুখারীর প্রচুর ইলমি কাজ এবং অসংখ্য জ্ঞানগর্ভ নিদর্শন সৃষ্টিতে সহায়ক হয়েছিল। তিনি হজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর অত্যন্ত অল্প বয়সে লেখালেখি শুরু করেন, যখন তার বয়স আঠারো বছরও অতিক্রম করেনি। তিনি মানুষের জন্য তার প্রথম দুটি গ্রন্থ "কাদায়াস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন" এবং "আত-তারিখ" প্রকাশ করেন, যেমনটি তিনি নিজেই নিজের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।
হাফেজ ইবনে হাজার বুখারীর গ্রন্থসমূহ গণনা করেছেন, যা সংখ্যায় একুশটি পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি তার কাছে থাকা বিদ্যমান গ্রন্থসমূহ এবং যা তিনি শ্রবণের মাধ্যমে অথবা অনুমতির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, সেগুলোর প্রতি নির্দেশ করেছেন।
তা সত্ত্বেও, আমরা হাফেজ ইবনে হাজারের উল্লেখ করা গ্রন্থগুলো ছাড়াও বুখারীর অন্যান্য রচনা খুঁজে পাই, যেগুলোর মধ্যে কোনোটি মুদ্রিত এবং কোনোটি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে, আবার কোনোটি বর্তমানে বিদ্যমান এবং কোনোটি এমনভাবে হারিয়ে গেছে যার কোনো চিহ্ন এখন পর্যন্ত জানা নেই।
সেই সব রচনা ও গ্রন্থসমূহ হলো:
১ - "আল-জামি আস-সহীহ": এটি নিয়ে আমরা পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করব।
২ - "আল-আদাবুল মুফরাদ": এটি তার থেকে আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-জালীল—'জীম' দিয়ে—আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন। এর একটি ব্যাখ্যাসহ সংস্করণ রয়েছে যার নাম: "ফাদলুল্লাহিস সামাদ ফি তাওদীহিল আল-আদাবিল মুফরাদ", এর লেখকের—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৫১)
فضل اللَّه الجيلاني من علماء الهند، في جزأين، المطبعة السلفية، القاهرة، سنة 1378 هـ.
3 - "التاريخ الكبير": يرويه عنه أبو أحمد محمد بن سليمان بن فارس، وأبو الحسن محمد بن سهل الواسطي - وهي الرواية المتداولة بين أيدي الناس الآن - وغيرهما.
وهو كتاب يتعلق بتاريخ الرواة من عصر الصحابة إلى زمانه، رتبه على حروف المعجم، وبدأه بذكر المحمدين، وهو ثاني كتب البخاري في التأليف، عنيت بطبعه جمعية دائرة المعارف العثمانية في الهند سنة 1361 هـ، و 1362 هـ، في أربع مجلدات، تشتمل على ثمانية أجزاء، والمطبوع من رواية ابن سهل.
4 - "التاريخ الأوسط": يرويه عنه عبد اللَّه بن أحمد بن عبد السلام الخفاف، وعبد اللَّه بن محمد بن عبد الرحمن الأشقر، وأبو محمد زنجويه بن محمد النيسابوري، وقد طبع أخيرًا من قبل مؤسسة الرشد.
5 - "رفع اليدين في الصلاة": يرويه عنه محمود بن إسحاق الخزاعي، تحت عنوان: "قرة العينين برفع اليدين في الصلاة" وطبعت الطبعة الأولى بكلكتا، الهند سنة 1256 هـ. وقد طبع أكثر من مرة ومن أجودها ما طبع بدار ابن حزم 1416 هـ بعناية بدر بن عبد اللَّه البدر.
6 - "القراءة خلف الإمام": يرويه أيضًا محمود بن إسحاق الخزاعي، طبع تحت عنوان: "خير الكلام في القراءة خلف الإمام" وطبعت الطبعة الأولى بدلهي، الهند سنة 1256 هـ.
7 - "خلق أفعال العباد": يرويه عنه يوسف بن ريحان بن عبد الصمد، والفربري
ফজলুল্লাহ আল-জিলানি, যিনি ভারতের একজন আলিম ছিলেন, এটি দুই খণ্ডে সালাফিয়্যাহ প্রেস, কায়রো থেকে ১৩৭৮ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে।
৩ - "আত-তারিখুল কাবির": এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন ফারিস এবং আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন সাহল আল-ওয়াসিতি—আর এটিই বর্তমানে মানুষের কাছে প্রচলিত বর্ণনা—এবং আরও অনেকে।
এটি বর্ণনাকারীদের ইতিহাস বিষয়ক একটি গ্রন্থ যা সাহাবীদের যুগ থেকে তাঁর সময়কাল পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি এটি বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজিয়েছেন এবং 'মুহাম্মদ' নামধারীদের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছেন। এটি সংকলনের দিক থেকে ইমাম বুখারীর দ্বিতীয় গ্রন্থ। ভারতের জামিয়াতু দায়িরাতিল মাআরিফ আল-উসমানিয়া ১৩৬১ হিজরি ও ১৩৬২ হিজরিতে এটি চার জিলদে মুদ্রণ করার দায়িত্ব গ্রহণ করে, যা আটটি খণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। মুদ্রিত সংস্করণটি ইবনে সাহলের বর্ণনা থেকে গৃহীত।
৪ - "আত-তারিখুল আওসাত": এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আব্দুস সালাম আল-খাফফাফ, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-আশকার এবং আবু মুহাম্মদ জানজুয়াহ বিন মুহাম্মদ আন-নিসাবুরি। এটি সম্প্রতি মুআসসাসাতুর রুশদ থেকে মুদ্রিত হয়েছে।
৫ - "রাফউল ইয়াদাইন ফিস সালাহ": এটি তাঁর থেকে মাহমুদ বিন ইসহাক আল-খুজায়ি বর্ণনা করেছেন "কুররাতুল আইনাইন বি রাফউল ইয়াদাইন ফিস সালাহ" শিরোনামে। এর প্রথম সংস্করণ ভারতের কলকাতায় ১২৫৬ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছিল। এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে এবং এর মধ্যে সর্বোত্তম সংস্করণটি ১৪১৬ হিজরিতে বদর বিন আব্দুল্লাহ আল-বদরের তত্ত্বাবধানে দার ইবনে হাজম থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
৬ - "আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম": এটিও মাহমুদ বিন ইসহাক আল-খুজায়ি বর্ণনা করেছেন। এটি "খাইরুল কালাম ফিল কিরাআতি খালফাল ইমাম" শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর প্রথম সংস্করণ ভারতের দিল্লিতে ১২৫৬ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে।
৭ - "খালকু আফআলিল ইবাদ": এটি তাঁর থেকে ইউসুফ বিন রাইহান বিন আব্দুস সামাদ এবং আল-ফারাবরি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৫২)
أيضًا، طبع بمطبعة النهضة الحديثة بمكة المكرمة سنة 1378 هـ بعناية عبد الحق الهاشمي، كما طبعت الطبعة الأولى بدلهي، الهند سنة 1306 هـ.
8 - "كتاب الضعفاء": يرويه عنه أبو بشر محمد بن أحمد بن حماد الدولابي، وآدم بن موسى الحواري، وغيرهم، وقد رتبه على حروف المعجم، طبعت الطبعة الأولى باللَّه آباد، الهند، سنة 1325 هـ.
9 - كتاب "الكنى": وهو كتاب أرخ فيه البخاري للرواة الذين لم يعرف من أسمائهم إلا الكنية، ولم يشتهروا إلا بها، وقد رتبه على حروف المعجم، طبعت الطبعة الأولى بحيدر آباد، الهند، سنة 1360 هـ.
10 - "المسند الكبير": ذكره القاسمي في كتابه: "حياة البخاري" (ص 28).
11 - "التفسير الكبير": ذكر الفربري أنه كان مع البخاري وهو يؤلفه في أثناء إقامته "بفربر"، وتوجد منه نسخة خطية في الجزائر، ونسخة أخرى في مكتبة باريس، كما ذكر بروكلمان
(1).
12 - كتاب "الأشربة": ذكره الدارقطني في كتاب "المؤتلف والمختلف"
(2)، كما يقول ابن حجر
(3).
14 - كتاب "أسامي الصحابة": ذكره أبو القاسم بن منده، ونقل منه في كتابه "المعرفة"، وذكر أنه يرويه من طريق ابن فارس سماعًا عن البخاري، كما نقل منه أبو القاسم البغوي الكثير في كتابه "معجم الصحابة"
(4).
--------------------------------------------
একইভাবে, এটি ১৩৭৮ হিজরিতে মক্কা মুকাররামায় আন-নাহদাহ আল-হাদিসাহ প্রেস থেকে আবদুল হক হাশেমির তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছে, আর এর প্রথম সংস্করণ ভারতের দিল্লিতে ১৩০৬ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।
৮ - "কিতাবুদ দুয়াফা" (দুর্বল বর্ণনাকারীদের গ্রন্থ): এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আবু বিশর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্মাদ আদ-দুলাবি, আদম ইবনে মুসা আল-হাওয়ারি এবং অন্যান্যরা। তিনি এটিকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন। এর প্রথম সংস্করণ ভারতের এলাহাবাদে ১৩২৫ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।
৯ - "কিতাবুল কুনা" (উপনামের গ্রন্থ): এটি এমন একটি গ্রন্থ যেখানে ইমাম বুখারি সেই সকল বর্ণনাকারীদের জীবনী লিপিবদ্ধ করেছেন যাদের নাম জানা নেই বরং কেবল উপনাম (কুনিয়াত) পরিচিত এবং তারা তাতেই প্রসিদ্ধ। তিনি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন। এর প্রথম সংস্করণ ভারতের হায়দ্রাবাদে ১৩৬০ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে।
১০ - "আল-মুসনাদ আল-কাবির": কাসিমি তাঁর "হায়াতুল বুখারি" (পৃষ্ঠা ২৮) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
১১ - "আত-তাফসির আল-কাবির": আল-ফিরারি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম বুখারি যখন "ফিরবর"-এ অবস্থানকালীন এটি সংকলন করছিলেন, তখন তিনি তাঁর সাথেই ছিলেন। এর একটি পাণ্ডুলিপি আলজেরিয়ায় এবং অন্য একটি পাণ্ডুলিপি প্যারিস লাইব্রেরিতে বিদ্যমান রয়েছে, যেমনটি ব্রোকলম্যান উল্লেখ করেছেন
(১)।
১২ - "কিতাবুল আশরিবা" (পানীয় সম্পর্কিত গ্রন্থ): দারাকুতনি এটি "আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ"
(২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ইবনে হাজার
(৩) বলেছেন।
১৪ - "কিতাবু আসামিস সাহাবা" (সাহাবায়ে কেরামের নামের গ্রন্থ): আবু কাসিম ইবনে মানদাহ এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর "আল-মারিফাহ" গ্রন্থে এখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি ইবনে ফারিসের সূত্রে সরাসরি ইমাম বুখারির নিকট থেকে শ্রবণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে আবু কাসিম আল-বাগাওয়ি তাঁর "মু'জামুস সাহাবা"
(৪) গ্রন্থে এখান থেকে অনেক উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
15 - كتاب "الوحدان": وهو من ليس له إلا حديث واحد من الصحابة، وقد نقل عنه ابن منده في كتابه "المعرفة"
(1).
16 - كتاب "المبسوط": ذكره الخليلي في كتابه "الإرشاد"
(2)، كما ذكر أن مهيب بن سليم رواه عن البخاري.
17 - كتاب "العلل": ذكره أبو القاسم بن منده، كما ذكره الكتاني في "الرسالة المستطرفة"
(3).
18 - كتاب "الفوائد": ذكره الترمذي في أثناء كتابه "المناقب" من كتاب "الجامع"
(4).
19 - كتاب "قضايا الصحابة والتابعين": وهو أول كتاب ألفه البخاري.
20 - كتاب "السنن في الفقه": ذكره النديم في "الفهرست"
(5).
21 - كتاب "الضعفاء الكبير": يرويه ابن عدي في كتابه "الكامل" من طريق محمد بن عبد اللَّه بن الجنيد عنه، وقيل: إن له نسخة خطية محفوظة في مكتبة "باتنا".
على أن آثار الإمام البخاري لا تقتصر على الذين سمعوا منه وأخذوا عنه، ولا على الكتب والآثار التي خلفها لنا وحفلت بها المكتبة الإسلامية، بل إن
--------------------------------------------
১৫ - কিতাব "আল-উহদান": এটি এমন সাহাবীদের সম্পর্কে যাদের কেবল একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, এবং ইবনে মানদাহ তাঁর "আল-মা'রিফাহ" গ্রন্থে এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন
(১).
১৬ - কিতাব "আল-মাবসুত": আল-খালিলাহি তাঁর "আল-ইরশাদ" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন
(২), যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন যে মুহিব ইবনে সালিম এটি বুখারী থেকে বর্ণনা করেছেন।
১৭ - কিতাব "আল-ইলাল": আবু আল-কাসিম ইবনে মানদাহ এটি উল্লেখ করেছেন, যেমনটি কাতানি "আল-রিসালাহ আল-মুস্তাতরাফাহ" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন
(৩).
১৮ - কিতাব "আল-ফাওয়াইদ": তিরমিযী তাঁর "আল-জামি" গ্রন্থের "আল-মানাকিব" অধ্যায়ের মধ্যে এটি উল্লেখ করেছেন
(৪).
১৯ - কিতাব "কাদায়া আস-সাহাবাহ ওয়াত-তাবেয়ীন": এটিই বুখারীর সংকলিত প্রথম গ্রন্থ।
২০ - কিতাব "আস-সুনান ফিল ফিকহ": আন-নাদিম "আল-ফিহরিস্ট" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন
(৫).
২১ - কিতাব "আদ-দুয়াফা আল-কাবীর": ইবনে আদি তাঁর "আল-কামিল" গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-জুনাইদ-এর সূত্রে এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং বলা হয়ে থাকে যে, "পাটনা" লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে।
বস্তুত ইমাম বুখারীর অবদানসমূহ কেবল তাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয় যারা তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, আর না কেবল সেই সকল গ্রন্থ ও নিদর্শনের মধ্যে যা তিনি আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন এবং যা দ্বারা ইসলামি গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ হয়েছে, বরং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহুল বুখারী - ত. আত-তাসীল
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
آثاره باقية متصلة، تتجسد في مدرسة البخاري المتكونة من الذين تتلمذوا عليه، من خلال كتبه وآثاره، وخاصة "الجامع الصحيح"، الذي ظل منذ إخراجه للناس يستقطب اهتمام العلماء والمحدثين، وعنه تخرج أجيال وأجيال من العلماء وطلبة العلم، وفسح أمامهم المجال للدراسة والبحث والاستقصاء، فكان سببًا لعطاء علمي عظيم، تمثل في مئات الكتب التي ألفت حول "الصحيح"، تعليقًا واستدراكًا، وإضافة وشرحًا، حتى يمكن القول بأن أي كتاب بعد كتاب اللَّه لم يلق من العناية والاهتمام مثل "الجامع الصحيح"، منذ تصنيفه إلى الآن، مما تزخر به الخزانات والمكتبات من الكتب المؤلفة حوله، ويكفي أن نعلم أن شروحه فقط نَيَّفَت على اثنين وثمانين شرحًا، كما أورد صاحب "كشف الظنون"
(1).
على أن أهم شروح صحيح البخاري المتداولة هي:
1 - "أعلام الحديث" للإمام الخطابي (388 هـ) طبع مركز إحياء التراث بجامعة أم القرى، مكة المكرمة 1409 هـ، تحقيق: الدكتور/ محمد بن سعد بن عبد الرحمن آل سعود.
2 - "شرح صحيح البخاري" لابن بطال (449 هـ) طبع مكتبة الرشد، الرياض 1420 هـ، تحقيق: أبي تميم ياسر بن إبراهيم.
3 - "بهجة النفوس" لابن أبي جمرة الأندلسي (699 هـ) طبع دار الكتب العلمية، بيروت.
--------------------------------------------
তাঁর অবদানসমূহ আজও নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যমান, যা বুখারী ঘরানা বা মাদরাসার মাধ্যমে মূর্ত হয়ে আছে; যারা তাঁর নিকট সরাসরি শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাদের মাধ্যমে এবং তাঁর গ্রন্থ ও নিদর্শনাদির মাধ্যমে, বিশেষ করে "আল-জামি আস-সহীহ", যা মানুষের নিকট প্রকাশের পর থেকেই আলিম ও মুহাদ্দিসগণের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। এখান থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আলিম ও জ্ঞানান্বেষী তৈরি হয়েছেন এবং এটি তাদের সামনে অধ্যয়ন, গবেষণা ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের পথ প্রশস্ত করে দিয়েছে। ফলে এটি এক বিশাল ইলমি অবদানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা "সহীহ" গ্রন্থকে কেন্দ্র করে রচিত শত শত বইয়ের মাঝে ফুটে উঠেছে; যার মধ্যে রয়েছে টীকা, সম্পূরক সংযোজন, পরিশিষ্ট এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এমনকি এ কথা বলা যায় যে, আল্লাহর কিতাবের পর অন্য কোনো কিতাব এর সংকলনকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত "আল-জামি আস-সহীহ"-এর মতো এত যত্ন ও গুরুত্ব লাভ করেনি; যার প্রমাণ স্বরূপ আর্কাইভ ও লাইব্রেরিগুলো একে কেন্দ্র করে রচিত গ্রন্থে পরিপূর্ণ। কেবল এটি জানাই যথেষ্ট যে, এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোই বিরাশিটিরও বেশি, যেমনটি "কাশফুজ জুনুন"
(১) এর লেখক উল্লেখ করেছেন।
সহীহ বুখারীর প্রচলিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - ইমাম খাত্তাবী (৩৮৮ হি.) রচিত "আলামুল হাদীস", উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুরাথ পুনরুজ্জীবন কেন্দ্র থেকে মুদ্রিত, মক্কা মুকাররমা ১৪০৯ হি., সম্পাদনা: ড. মুহাম্মদ বিন সা’দ বিন আব্দুর রহমান আল সাউদ।
২ - ইবনে বাত্তাল (৪৪৯ হি.) রচিত "শারহু সহীহিল বুখারী", মাকতাবাতুর রুশদ থেকে মুদ্রিত, রিয়াদ ১৪২০ হি., সম্পাদনা: আবু তামীম ইয়াসির বিন ইবরাহিম।
৩ - ইবনে আবু জামরা আল-আন্দালুসী (৬৯৯ হি.) রচিত "বাহজাতুন নুফুস", দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত, বৈরুত।
--------------------------------------------