(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: -)
مناظرات ابن تيمية لأهل الملل والنحل   (عبد العزيز بن محمد آل عبد اللطيف)

القسم: العقيدة


الكتاب: مناظرات ابن تيمية لأهل الملل والنحل

المؤلف:

جمع وتعليق: د. عبد العزيز بن محمد بن علي آل عبد اللطيف

الناشر: مطابع أضواء المنتدى

الطبعة: الأولى، 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 89

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের অনুসারীদের সাথে ইবনে তাইমিয়ার বিতর্কসমূহ   (আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল আবদুল লতিফ)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের অনুসারীদের সাথে ইবনে তাইমিয়ার বিতর্কসমূহ

লেখক:

সংকলন ও টীকা: ড. আবদুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল আবদুল লতিফ

প্রকাশক: আদওয়াউল মুনতাদা প্রেস

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৯

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: -)
مناظرات ابن تيمية لأهل الملل والنحل

 

جمع وتعليق

عبد العزيز بن محمد بن علي آل عبد اللطيف

أستاذ مساعد، قسم العقيدة، جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية

الرياض، المملكة العربية السعودية

 

ملخص البحث. يتحدث البحث في المقدمة: عن براعة ابن تيمية في المناظرات، وتقريره مشروعية المناظرات، وأن للمناظرات أحوالاً متنوعة.

ثم ساق الباحث أربع مناظرات لابن تيمية تجاه النصارى، في شركهم وتأليههم المسيح وقولهم بظهور اللاهوت في الناسوت.

ثم أتبع ذلك بمناظرات ابن تيمية لأهل الاتحاد ووحدة الوجود، والتي تتميّز بكثرتها وتنوّع مسائلها، وعثر الباحث على مناظرتين لابن تيمية مع القبوريين، إحداهما في شأن تعظيمهم الأحجار، والأخرى في غلوهم في قبور العبيديين، ثم أوجز الباحث مناظرات ابن تيمية للرفاعية نظراً لطولها وشهرتها، ثم أعقب ذلك بمناظرتين للرافضة في مسائل الإمامة، وأما مناظراته نفاة الصفات فقد وقف الباحث على أربع مناظرات، وتضمّنت الخاتمة أهم نتائج البحث..
বিভিন্ন ধর্ম ও উপদলের অনুসারীদের সাথে ইবনে তাইমিয়্যাহর বিতর্কসমূহ

 

সংকলন ও টীকা প্রদান

আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল আব্দুল লতিফ

সহকারী অধ্যাপক, আকিদাহ বিভাগ, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

 

গবেষণার সারসংক্ষেপ। গবেষণার ভূমিকায় আলোচনা করা হয়েছে: বিতর্ক শিল্পে ইবনে তাইমিয়্যাহর দক্ষতা, বিতর্কের বৈধতা সম্পর্কে তাঁর সিদ্ধান্ত এবং বিতর্কের বিভিন্ন অবস্থার বিবরণ।

এরপর গবেষক খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ইবনে তাইমিয়্যাহর চারটি বিতর্ক উপস্থাপন করেছেন, যা তাদের শিরক, মসিহকে উপাস্য বানানো এবং মানবসত্তায় ঈশ্বরত্বের প্রকাশ সম্পর্কে তাদের দাবির বিষয়ে।

এরপর তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহর বিতর্কগুলো উল্লেখ করেছেন যারা ইত্তিহাদ (স্রষ্টা ও সৃষ্টির মিলন) এবং ওয়াহদাতুল উজুদ (অস্তিত্বের এককত্ব)-এ বিশ্বাসী, যা এর আধিক্য ও বিষয়ের বৈচিত্র্য দ্বারা চিহ্নিত। গবেষক কবর পূজারিদের সাথে ইবনে তাইমিয়্যাহর দুটি বিতর্ক খুঁজে পেয়েছেন; একটি তাদের পাথরকে সম্মান করার বিষয়ে এবং অন্যটি ওবায়দীদের কবরের ক্ষেত্রে তাদের অতিরঞ্জনের বিষয়ে। এরপর গবেষক রিফায়িয়া সম্প্রদায়ের সাথে ইবনে তাইমিয়্যাহর বিতর্কগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন কারণ সেগুলো দীর্ঘ এবং সুপরিচিত। এরপর ইমামত সংক্রান্ত বিষয়ে রাফেজিদের সাথে দুটি বিতর্ক আলোচনা করা হয়েছে। আর আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারীদের সাথে তাঁর বিতর্কের ক্ষেত্রে গবেষক চারটি বিতর্ক চিহ্নিত করেছেন। উপসংহারে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تقديم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد: فلا يزال تراث ابن تيمية (1)

محل اهتمام الباحثين في مختلف الدراسات الإسلامية، فما أكثر الأبحاث والرسائل العلمية التي كتبتْ عن منهجية هذا الإمام في العلوم الشرعية، وجهوده العلمية، والعملية المتعددة، ومع ذلك فلا تزال جوانب مهمة في هذا الشأن - مجالاً رحباً للباحثين، ومن ذلك: مناظرات (2) ابن تيمية لأهل الملل والنحل، فهو موضوع لم يسبق بحثه، حسب اطلاعي، وأحسب أنه من الموضوعات المهمة، والجديرة بالبحث والدراسة، فهذه المناظرات مبثوتة في بطون

--------------------------------------------

(1) . هو أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام، ابن تيمية النميري الحراني، الإمام الفقيه، المجتهد، المحدث، الحافظ، المفسّر، الأصولي، الزاهد، شيخ الإسلام، وعلم الأعلام، أفتى ودرّس وهو دون العشرين، وله مئات التصانيف، توفي سنة 728هـ.

 

انظر: ذيل طبقات الحنابلة لابن رجب 2/387، والعقود الدرية لابن عبد الهادي، والجامع لسيرة ابن تيمية.

(2) . عرّف جمع من العلماء المناظرة فقالوا: هي النظر بالبصيرة من الجانبين في النسبة بين الشيئين إظهاراً للصواب. انظر الكليات للكفوي ص 849، منهج الجدل والمناظرة في تقرير مسائل الاعتقاد لعثمان علي حسن 1/30.
‌উপস্থাপনা

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আম্বিয়া ও রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরের ওপর।

অতঃপর: ইবনে তায়মিয়ার (১) জ্ঞানগত ঐতিহ্য ইসলামি গবেষণার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অদ্যাবধি গবেষকদের গভীর আগ্রহের বিষয় হয়ে আছে। শরয়ী বিজ্ঞানে এই ইমামের কর্মপদ্ধতি এবং তাঁর বহুমুখী জ্ঞানগত ও প্রায়োগিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে কতই না অধিক গবেষণা ও জ্ঞানগর্ভ অভিসন্দর্ভ রচিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও এই বিষয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক গবেষকদের জন্য এখনও এক প্রশস্ত ক্ষেত্র হয়ে আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো: বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের অনুসারীদের সাথে ইবনে তায়মিয়ার বিতর্কসমূহ (২)। আমার জানামতে এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে ইতিপূর্বে কোনো গবেষণা করা হয়নি। আমি মনে করি এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং গবেষণা ও পর্যালোচনার দাবি রাখে। এই বিতর্কসমূহ ছড়িয়ে আছে গ্রন্থসমূহের গহীনে...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে আব্দুস সালাম, ইবনে তায়মিয়াহ আন-নুমাইরি আল-হাররানি; ইমাম, ফকিহ, মুজতাহিদ, মুহাদ্দিস, হাফিজ, মুফাসসির, উসুলবিদ, যাহেদ, শাইখুল ইসলাম এবং বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তিনি বিশ বছরের কম বয়সেই ফতোয়া প্রদান ও পাঠদান শুরু করেন এবং তাঁর শত শত গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ৭২৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

 

দ্রষ্টব্য: ইবনে রজব কৃত 'যাইলু তবাকাতিল হানাবিলা' ২/৩৮৭, ইবনে আব্দুল হাদি কৃত 'আল-উকুুদুদ দুররিয়্যাহ' এবং 'আল-জামি' লি সিরাতি ইবনি তায়মিয়াহ'।

(২) একদল আলেম বিতর্কের (মুনাযারা) সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: সত্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে কোনো বিষয়ের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ থেকে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা। দ্রষ্টব্য: আল-কাফাউয়ি কৃত 'আল-কুল্লিয়্যাত', পৃষ্ঠা ৮৪৯; উসমান আলি হাসান কৃত 'মানহাজুল জাদালি ওয়াল মুনাযারাতি ফি তাকরিরি মাসাইলিল ই'তিকাদ' ১/৩০।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ৬)
كتب ورسائل شيخ الإسلام ابن تيمية، وكذا في كتب التاريخ والتراجم، فتحتاج إلى استخراج وترتيب، مع شيء من الدراسة والتعليق.

وإذا كان من المهم أن ينتفع بمناظرات الأئمة السابقين، وتجاربهم في مجادلة ومناظرة المخالفين، فإن مناظرات ابن تيمية لمخالفيه أكثر أهمية وأعظم نفعاً - كما سيظهر إن شاء الله تعالى -.

لا سيما مع هذا الانفتاح الهائل، والتواصل الدائم الذي يعيشه العالم الآن، فقد أظهر ذلك انتشاراً لمختلف العقائد والأفكار، وأوقع الكثير في المناظرات والمحاورات، فإبراز هذه المناظرات يعطي نماذج متميزة، وتطبيقات عملية محكمة في هذا المقام.

لقد قمت - ولله الحمد والمنة- باستقراء وتتبع مؤلفات شيخ الإسلام، واستخراج وجمع هذه المناظرات ثم تصنيفها، وقد تعذر ترتيب أكثرها حسب وقوعها لعدم تمكني من معرفة تاريخها، واخترت هذا العنوان "مناظرات ابن تيمية لأهل الملل والنحل " باعتبار أن الملل هي سائر الأديان، وأن النحل سائر طوائف أهل القبلة، كما استعمل ذلك شيخ الإسلام في غير موضع، كقوله: "وهذه الفرقة الناجية أهل السنة، وهم وسط في النحل، كما أن ملة الإسلام وسط في الملل " (1) .

فيتضمن البحث مناظرات ابن تيمية للنصارى، ومناظراته لطوائف

--------------------------------------------

(1) . مجموع الفتاوى 3/370، وانظر: مجموع الفتاوى 4/23، 24.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর গ্রন্থ ও পত্রাবলি এবং একইভাবে ইতিহাস ও জীবনী গ্রন্থসমূহে এগুলো ছড়িয়ে রয়েছে। তাই এগুলো আহরণ ও বিন্যাস করা প্রয়োজন, সাথে কিছু গবেষণা ও টীকা সংযোজন করা দরকার।

পূর্ববর্তী ইমামগণের বিতর্কসমূহ এবং বিরোধীদের সাথে যুক্তিতর্কের ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হওয়া যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়, তবে বিরোধীদের সাথে ইবনে তাইমিয়্যাহর বাহাসসমূহ আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিকতর উপকারী - আল্লাহ তায়ালা চাইলে তা অচিরেই স্পষ্ট হবে।

বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বের এই বিশাল উন্মুক্ততা এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের যুগে এটি বিভিন্ন আকিদা ও মতাদর্শের ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছে এবং অনেককেই বাহাস ও সংলাপে লিপ্ত করেছে। তাই এই বাহাসগুলোকে ফুটিয়ে তোলা এই ক্ষেত্রে অনন্য আদর্শ এবং সুদৃঢ় ব্যবহারিক প্রয়োগ উপহার দেবে।

আমি - সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই - শাইখুল ইসলামের রচনাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছি এবং এই বাহাসগুলোকে আহরণ ও সংকলন করে শ্রেণীবদ্ধ করেছি। অধিকাংশের সময়কাল জানা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো ঘটার ক্রম অনুসারে সাজানো সম্ভব হয়নি। আমি "ধর্ম ও মতাবলম্বীদের সাথে ইবনে তাইমিয়্যাহর বাহাসসমূহ" শিরোনামটি নির্বাচন করেছি। কারণ 'মিলাল' বলতে সকল ধর্ম এবং 'নিহাল' বলতে কিবলাপন্থী সকল দলকে বোঝায়, যেমনটি শাইখুল ইসলাম বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করেছেন। তাঁর উক্তি যেমন: "আর এই মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি হলো আহলুস সুন্নাহ, আর তারা বিভিন্ন দলের মাঝে মধ্যপন্থী, যেমন ইসলাম ধর্ম সকল ধর্মের মাঝে মধ্যপন্থী।" (১)।

এই গবেষণাটি খ্রিস্টানদের সাথে ইবনে তাইমিয়্যাহর বাহাস এবং বিভিন্ন দলের সাথে তাঁর বাহাসসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।

--------------------------------------------

(১). মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/৩৭০, এবং দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ৪/২৩, ২৪।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ৭)
متعددة من أهل القبلة، ومن ينتسب إلى الإسلام، كأهل الاتحاد ووحدة الوجود (1) ، والقبوريين، والأحمدية (2) ، والرافضة (3) ، ونفاة الصفات.

وما كان من هذه المناظرات مطولاً فقد أوردته مختصراً، كما في مناظرة ابن تيمية للأحمدية، ومناظرته بشأن العقيدة الواسطية.

وأسوق - بعد إيراد مناظرة كل طائفة - جملة من التحريرات والتقريرات المستفادة ومن كلام شيخ الإسلام، لما يتحقق فيها مالا يحصل في غيرها، من تجلية لتلك المناظرات واستكمالها، وبيان ملابسات وقوعها، وما تحويه من قواعد المناظرات وآدابها.

--------------------------------------------

(1) . أهل الاتحاد ووحدة الوجود القائلون: أن الله تعالى عين وجود الكائنات.

انظر: مجموع الفتاوى لابن تيمية 2/ 172، والكليات للكفوي ص 36.

(2) . الأحمدية: طريقة صوفية تنسب إلى أحمد الرفاعي (ت 512هـ) ، وتعرف بالطريقة الرفاعية، وتسمى أيضاً الطائفة البطائحية لأن الرفاعي سكن في قرى البطائح بالعراق، وهذه الطريقة لا تنفك عن محدثات متنوعة، كاتخاذ الخرقة والأذكار المحدثة، وخوارق شيطانية.

انظر: سير أعلام النبلاء 21/72، والطرق الصوفية للنجار ص 156.

(3) . الرافضة من أكبر طوائف الشيعة، وهم أرباب انحراف في الصفات، وشرك في توحيد العبادة، وغلو في الأئمة، وتضليل للصحابة رضي الله عنهم وزعموا أن الإمامة أهم منازل الدين.

انظر: مقالات الإسلاميين للأشعري 2/88، والملل والنحل للشهرستاني 2/162.
আহলে কিবলা এবং ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন দল, যেমন—আহলুল ইত্তিহাদ ও ওয়াহদাতুল উজুদ (১), কবুরিপন্থী, আহমাদিয়া (২), রাফেজি (৩) এবং আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারকারী।

এই বিতর্কগুলোর মধ্যে যেগুলো দীর্ঘ ছিল, আমি সেগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করেছি, যেমন—আহমাদিয়াদের সাথে ইবনে তাইমিয়্যাহর বিতর্ক এবং আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ বিষয়ক তাঁর বিতর্ক।

আমি প্রতিটি দলের বিতর্কের বর্ণনার পরে শাইখুল ইসলামের বক্তব্য থেকে অর্জিত একগুচ্ছ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরব; কারণ এর মাধ্যমে এমন কিছু অর্জিত হয় যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না—যেমন বিতর্কগুলোর স্পষ্টীকরণ, সেগুলোর পূর্ণতা দান, বিতর্কের প্রেক্ষাপট বর্ণনা এবং বিতর্কের নিয়মাবলি ও আদবসমূহ যা এতে বিদ্যমান রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) . আহলুল ইত্তিহাদ ও ওয়াহদাতুল উজুদ হলো তারা যারা বলে: মহান আল্লাহ মূলত সৃষ্টিজগতের অস্তিত্বের স্বরূপ।

দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমুউল ফাতাওয়া ২/১৭২, এবং আল-কাফাউয়ির আল-কুল্লিয়াত পৃষ্ঠা ৩৬।

(২) . আহমাদিয়া: এটি একটি সুফি তরীকা যা আহমদ আর-রিফায়ির (মৃত্যু ৫১২ হি.) দিকে নিসবত করা হয় এবং এটি রিফায়িয়া তরীকা হিসেবে পরিচিত। একে বাতায়িহিয়া দলও বলা হয়, কারণ রিফায়ি ইরাকের বাতায়িহ অঞ্চলের গ্রামগুলোতে বসবাস করতেন। এই তরীকাটি বিভিন্ন নব-উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) থেকে মুক্ত নয়, যেমন খিরকা (বিশেষ পোশাক) গ্রহণ, মনগড়া জিকির এবং শয়তানি অলৌকিক কর্মকাণ্ড।

দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ২১/৭২, এবং আন-নাজ্জারের আত-তুরুকুস সুফিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৫৬।

(৩) . রাফেজিরা শিয়াদের অন্যতম প্রধান উপদল। তারা আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে বিচ্যুতি, ইবাদতের তাওহিদে শিরক, ইমামদের ব্যাপারে অতিরঞ্জন এবং সাহাবিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পথভ্রষ্ট প্রতিপন্ন করার হোতা। তারা দাবি করে যে, ইমামত দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দেখুন: আল-আশআরির মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন ২/৮৮, এবং আশ-শাহরাস্তানির আল-মিলাল ওয়ান নিহাল ২/১৬২।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ৮)
ونشير في مطلع هذا البحث إلى ما تحلّى به شيخ الإسلام من براعة في المناظرات، وتقريره مشروعية المناظرات، وبيانه أحوالها، وذلك على النسق التالي:

أ) براعة ابن تيمية في المناظرات: تميّز شيخ الإسلام ابن تيمية بدراية فائقة في المناظرات، وقوة حجة، وسرعة بديهة، كما شهد بذلك الأئمة، حتى قال عنه ابن الزملكاني: (1) - " لا يُعرف أنه ناظر أحداً فانقطع معه " (2) .

وقال عنه الحافظ الذهبي (3) : - "ما رأيت أحداً أسرع انتزاعاً للآيات الدالة على المسألة التي يوردها منه، ولا أشد استحضاراً لمتون الأحاديث، وعزوها إلى الصحيح أو إلى المسند، أو إلى السنن منه، كأن الكتاب والسنن نصب عينيه، وعلى طرف لسانه، بعبارة رشيقة، وعين مفتوحة، وإفحام للمخالف " (4)

--------------------------------------------

(1) . هو محمد بن علي الأنصاري الشافعي، شيخ الشافعية بالشام، كان معجباً بابن تيمية، ثم تغير عليه، توفي سنة 727هـ.

انظر: البداية لابن كثير 14/131، وشذرات الذهب لابن العماد 6/78.

(2) . العقود الدرية ابن عبد الهادي ص 7، وانظر ص 67.

(3) . هو أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي، الإمام، الحافظ، المؤرخ، ولد سنة 673هـ، بدمشق، له رحلات في طلب العلم، وصاحب مؤلفات كثيرة، توفي بدمشق سنة 748هـ.

انظر: طبقات الشافعية 9/100، والبدر الطالع ص 2/110

(4) . ذيل تاريخ الإسلام للذهبي، نقلاً عن الجامع لسيرة شيخ الإٍسلام ابن تيمية ص 206.
এই গবেষণার শুরুতে আমরা শাইখুল ইসলামের বিতর্ক করার ক্ষেত্রে যে দক্ষতা ছিল, বিতর্কের বৈধতা সম্পর্কে তাঁর সিদ্ধান্ত এবং এর বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা তুলে ধরব, যা নিম্নরূপ:

ক) বিতর্ক করার ক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়ার দক্ষতা: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বিতর্কের ক্ষেত্রে সুনিপুণ জ্ঞান, প্রমাণের দৃঢ়তা এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের জন্য অনন্য ছিলেন, যেমনটি ইমামগণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। এমনকি ইবনে আয-যামলাকানি (১) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (২) - "এমন জানা নেই যে, তিনি কারো সাথে বিতর্ক করেছেন আর সেই ব্যক্তির কাছে তিনি থেমে গেছেন (পরাস্ত হয়েছেন)।"

হাফেজ আয-যাহাবি (৩) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: - "আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি তাঁর উত্থাপন করা মাসআলার স্বপক্ষে আয়াতসমূহ বের করে আনার ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন, কিংবা হাদিসের মূল পাঠ (মতন) উপস্থিত করার ক্ষেত্রে এবং তা সহিহ, মুসনাদ অথবা সুনান গ্রন্থসমূহের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে অধিক প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন। মনে হয় যেন কিতাব ও সুন্নাহ তাঁর চোখের সামনে এবং জিহ্বার ডগায় রয়েছে; যা তিনি মার্জিত ভাষায়, প্রখর দৃষ্টিতে এবং প্রতিপক্ষকে নিরুত্তর করার মাধ্যমে প্রকাশ করেন।" (৪)

--------------------------------------------

(১) . তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আলি আল-আনসারি আশ-শাফিয়ি, সিরিয়ার শাফিয়ি মাযহাবের শাইখ। তিনি ইবনে তাইমিয়ার প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তবে পরবর্তীতে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন হয়। তিনি ৭২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন: ইবনে কাসিরের আল-বিদায়া ১৪/১৩১ এবং ইবনুল ইমাদের শাযারাতুয যাহাব ৬/৭৮।

(২) . আল-উকুদুদ দুরিইয়্যাহ (ইবনে আব্দুল হাদি), পৃষ্ঠা ৭; এবং দেখুন পৃষ্ঠা ৬৭।

(৩) . তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উসমান আয-যাহাবি; ইমাম, হাফেজ ও ঐতিহাসিক। তিনি ৬৭৩ হিজরিতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। ইলম অর্জনের অন্বেষণে তিনি বহু সফর করেছেন এবং তিনি অসংখ্য গ্রন্থের রচয়িতা। ৭৪৮ হিজরিতে দামেস্কে তাঁর মৃত্যু হয়।

দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ ৯/১০০ এবং আল-বাদরুত তালি ২/১১০

(৪) . যাহাবির ‘যাইলু তারিখিল ইসলাম’, জামিউ সীরাতি শাইখিল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া, পৃষ্ঠা ২০৬ থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ৯)
وقال أيضاً: "لقد نصر السنة المحضة، والطريقة السلفية، واحتج لها ببراهين، ومقدمات وأمور لم يسبق إليها.. وقام عليه خلق من علماء مصر والشام، قياماً لا مزيد عليه، وبدّعوه، وناظروه، وكابروه، وهو ثابت لا يداهن ولا يحابي، بل يقول الحق المر الذي أداه إليه اجتهاده، وحدة ذهنه " (1) .

وقال ابن عبد الهادي (2) " ثم انفتح له بعد ذلك من الردّ على الفلاسفة والجهمية وسائر أهل الأهواء والبدع، وما لا يوصف ولا يعبر عنه، وجرى له من المناظرات العجيبة والمباحث الدقيقة، في كتبه وغير كتبه، مع أقرانه وغيرهم، في سائر أنواع العلوم ما تضيق العبارة عنه " (3) .

ب) مشروعية المناظرة وأهميتها عند ابن تيمية: قرر شيخ الإسلام مشروعية المناظرة وأهميتها، وبيّن أن ذلك حال السلف السابقين، فقال: "وأما جنس المناظرة بالحق فقد تكون واجبة تارة، ومستحبة أخرى". (4)

وقال في موطن آخر: " حضّ الله على المناظرة والمشاورة،

--------------------------------------------

(1) . العقود الدرية ص 82 = بتصرف يسير.

(2) . أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الهادي المقدسي الحنبلي، مقرئي، فقيه، أصولي، محدث، له مؤلفات، توفي بدمشق سنة 744هـ.

انظر: الدرر الكامنة 3/421، البدر الطالع 2/108.

(3) . العقود الدرية ص 67.

(4) . الدرء 7/174.
তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই তিনি বিশুদ্ধ সুন্নাহ এবং সালাফী পদ্ধতিকে বিজয়ী করেছেন। এর স্বপক্ষে তিনি এমন সব প্রমাণ, ভূমিকা ও বিষয়াদি উপস্থাপন করেছেন যা ইতিপূর্বে আর কেউ করেনি... মিশর ও শামের আলেমদের এক বিরাট অংশ তার বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে সোচ্চার হয়েছিলেন। তারা তাকে বিদআতী আখ্যা দিয়েছিলেন, তার সাথে তর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং তার বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন অবিচল; তিনি কোনো প্রকার তোষামোদ বা পক্ষপাতিত্ব করেননি। বরং তিনি সেই তিক্ত সত্যটিই বলতেন যা তার ইজতিহাদ এবং তীক্ষ্ণ মেধা তাকে প্রদান করেছিল।" (১) .

ইবনে আবদিল হাদী (২) বলেন, "অতঃপর তার জন্য দার্শনিক, জাহমিয়া এবং অন্যান্য প্রবৃত্তি পূজারি ও বিদআতীদের খণ্ডন করার এমন এক দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল যা বর্ণনা বা ব্যক্ত করার অতীত। তার কিতাবসমূহে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তার সমসাময়িক ও অন্যদের সাথে সকল প্রকার জ্ঞানে এমন সব বিস্ময়কর বিতর্ক এবং সূক্ষ্ম গবেষণা সংঘটিত হয়েছিল যা ভাষায় প্রকাশ করা দুঃসাধ্য।" (৩) .

খ) ইবনে তাইমিয়ার নিকট বিতর্কের বৈধতা ও গুরুত্ব: শায়খুল ইসলাম বিতর্কের বৈধতা ও গুরুত্ব সাব্যস্ত করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, এটিই ছিল পূর্বসূরি সালাফদের অবস্থা। তিনি বলেন: "আর সত্যের ভিত্তিতে বিতর্কের বিষয়টি কখনো ওয়াজিব (আবশ্যক) এবং কখনো মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) হয়ে থাকে।" (৪)

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বিতর্ক এবং পরামর্শের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন,

--------------------------------------------

(১) . আল-উকুদ আদ-দুরিইয়াহ, পৃষ্ঠা ৮২ = সামান্য পরিমার্জিত।

(২) . আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদী আল-মাকদিসি আল-হাম্বলী; ক্বারী, ফকিহ, উসূলবিদ, মুহাদ্দিস। তার বহু গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ৭৪৪ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ ৩/৪২১, আল-বাদরুত তালি ২/১০৮।

(৩) . আল-উকুদ আদ-দুরিইয়াহ, পৃষ্ঠা ৬৭।

(৪) . আদ-দার' ৭/১৭৪।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ১০)
لاستخراج الصواب في الدنيا والآخرة، حيث يقول لمن رضي دينهم: {وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ} (الشورى: 38) كما أمرهم بالمجادلة والمقاتلة، لمن عدل عن السبيل العادلة، حيث يقول آمراً وناهياً لنبيه والمؤمنين، لبيان ما يرضاه منه ومنهم: {وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} (النحل: 125) {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ} سورة العنكبوت (العنكبوت: 46) .

فكان أئمة الإسلام ممتثلين لأمر المليك العلاّم، ويجادلون أهل الأهواء المضلة، حتى يردّوهم إلى سواء الملة، كمجادلة ابن عباس رضي الله عنهما للخوارج المارقين، حتى رجع كثير منهم إلى ما خرج عنه من الدين، ومن في قلبه ريب يخالف اليقين " (1)

وذكر أن المناظرة المحمودة نوعان، ثم فصّل ذلك قائلاً: "وذلك لأن المناظر إما أن يكون عالماً بالحق، وإما أن يكون طالباً له، فمن كان عالماً بالحق فمناظرته المحمودة أن يبيّن لغيره الحجة التي تهديه إن كان مسترشداً طالباً للحق إذا تبيّن له، أو يقطعه ويكف عدوانه إن كان معانداً غير متبع للحق إذا تبيّن له..

وذلك لان المخالف بالمناظرة إذا ناظره العالم المبيّن للحجة، إما أن يكون ممن يفهم الحق ويقبله، وإما أن يكون ممن لا يقبله إذا فهمه، أو ليس

--------------------------------------------

(1) . تنبيه الرجل العاقل على تمويه الجدل الباطل 1/3، 4 = بتصرف يسير
দুনিয়া ও আখিরাতে সঠিক বিষয়টি বের করে আনার জন্য; যেখানে তিনি তাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যাদের দ্বীনের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট: "এবং তাদের কার্যাবলি নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়" (আশ-শূরা: ৩৮)। যেমন তিনি তাদের আদেশ করেছেন বিতর্ক ও যুদ্ধের জন্য তাদের বিরুদ্ধে যারা ইনসাফপূর্ণ পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। যেখানে তিনি তাঁর নবী এবং মুমিনদের আদেশ ও নিষেধ প্রদান করেছেন তাঁর এবং তাদের নিকট হতে যা পছন্দনীয় তা স্পষ্ট করার জন্য: "এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়" (আন-নাহল: ১২৫), "এবং তোমরা আহলে কিতাবের সাথে বিতর্ক করো না সর্বোত্তম পন্থা ছাড়া, তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করেছে তারা ব্যতীত" সূরা আল-আনকাবূত (আল-আনকাবূত: ৪৬)।

ইসলামের ইমামগণ সর্বজ্ঞানী অধিপতির আদেশ পালনকারী ছিলেন, এবং তারা ভ্রান্ত প্রবৃত্তিপূজারীদের সাথে বিতর্ক করতেন যাতে তাদের মিল্লাতের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা যায়। যেমন খারেজীদের সাথে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর বিতর্ক, যার ফলে তাদের মধ্য থেকে অনেকে দ্বীনের যে বিষয় থেকে বের হয়ে গিয়েছিল তাতে ফিরে এসেছিল এবং যার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাসের পরিপন্থী সংশয় ছিল (তা দূর হয়েছিল)। (১)

এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রশংসনীয় বিতর্ক দুই প্রকার, এরপর এর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে: "আর তা এজন্য যে, বিতর্ককারী হয় সত্য সম্পর্কে অবগত আলেম হবেন, অথবা সত্যের অন্বেষণকারী হবেন। যিনি সত্য সম্পর্কে অবগত আলেম, তার প্রশংসনীয় বিতর্ক হলো অন্যের নিকট এমন দলিল স্পষ্ট করা যা তাকে হেদায়েত করবে যদি সে পথপ্রদর্শনকামী ও সত্যের সন্ধানী হয় যখন তার নিকট সত্য স্পষ্ট হবে। অথবা তার যুক্তি খণ্ডন করা এবং তার শত্রুতা বন্ধ করা যদি সে হঠকারী হয় এবং সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও তার অনুসরণ না করে..."

কারণ বিতর্কের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ যখন দলীল বর্ণনাকারী আলেমের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তখন সে হয় এমন হবে যে সত্য বুঝতে পারে এবং তা গ্রহণ করে, অথবা এমন হবে যে বোঝার পরও তা গ্রহণ করে না, অথবা সে এমন যে...

--------------------------------------------

(১) তানবিহুর রাজুলিল আকিল আলা তামউইহিল জাদালিল বাতিল ১/৩, ৪ = সামান্য পরিমার্জনসহ।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ১১)
له غرض في فهمه، بل قصده مجرد الردّ له، فهذا إذا نوظر بالحجة انقطع وانكف شرّه عن الناس.

وإما أن يكون الحق قد التبس عليه، وأصل قصده الحق، لكن يصعب عليه معرفته لضعف علمه بأدلة الحق، مثل من يكون قليل العلم بالآثار النبوية الدالة على ما أخبر به من الحق، أو لضعف عقله، لكونه لا يمكن أن يفهم دقيق العلم، أو لا يفهمه إلا بعد عسر، أو قد سمع من حجج الباطل ما اعتقد موجبه، وظن أنه لا جواب عنه، فهذا إذا نوظر بالحجة أفاده ذلك، إما معرفة بالحق، وإما شكاً وتوقفاً في اعتقاده بالباطل، وبقيت همته على النظر في الحق وطلبه.." (1) .

وأكّد على الجمع بين جدال الكفار وقتالهم، وأنه لا منافاة في حقهم بين الجدال المأمور به، وبين القتال المأمور به (2) ، فكان مما قاله: "وأما مجاهدة الكفار باللسان، فما زال مشروعاً من أول الأمر إلى آخره، فإنه إذا شرع جهادهم باليد، فباللسان أولى، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم " جاهدوا المشركين بأيديكم وألسنتكم وأموالكم " (3) وكان ينصب لحسّان منبراً في مسجده، يجاهد فيه المشركين بلسانه جهاد هجو، وهذا كان بعد نزول

--------------------------------------------

(1) . الدرء 7/ 167، 168 = باختصار

(2) . انظر الجواب الصحيح 1/67

(3) . أخرجه أبو داود، ك الجهاد ح (2504، وأحمد 3/124، والحاكم 2/81، وصحح النووي إسناده في رياض الصالحين ح (1349) .
তার উদ্দেশ্য এটি বোঝা নয়, বরং তার উদ্দেশ্য স্রেফ এটিকে প্রত্যাখ্যান করা। তাই যখন দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে তার সাথে বিতর্ক করা হবে, তখন সে নিরুত্তর হয়ে যাবে এবং মানুষের প্রতি তার অনিষ্ট বন্ধ হয়ে যাবে।

অথবা এমন হতে পারে যে সত্য তার কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে, যদিও তার মূল উদ্দেশ্য ছিল সত্য জানা; কিন্তু সত্যের দলীলসমূহ সম্পর্কে জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে তা জানা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। যেমন ঐ ব্যক্তি যে সত্যের সংবাদ প্রদানকারী নববী বর্ণনা (আছার) সম্পর্কে অল্প জ্ঞান রাখে; অথবা তার বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতার কারণে, যেহেতু সূক্ষ্ম জ্ঞান বোঝা তার পক্ষে অসম্ভব কিংবা অনেক কষ্টের ব্যাপার। অথবা সে বাতিলপন্থীদের এমন সব যুক্তি শুনেছে যা সে অবধারিতভাবে সত্য বলে বিশ্বাস করে নিয়েছে এবং মনে করেছে যে এর কোনো উত্তর নেই। এমতাবস্থায় যদি দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে তার সাথে আলোচনা করা হয়, তবে তা তাকে উপকার দেবে; হয় সে সত্যকে চিনতে পারবে, নতুবা বাতিল বিশ্বাসের ব্যাপারে তার মনে সংশয় ও দ্বিধা তৈরি হবে এবং সত্য অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার প্রতি তার আগ্রহ অবশিষ্ট থাকবে।" (১) ।

আর তিনি কাফেরদের সাথে বিতর্ক এবং যুদ্ধের সমন্বয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং বলেছেন যে, তাদের ক্ষেত্রে নির্দেশিত বিতর্ক এবং নির্দেশিত যুদ্ধের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই (২)। তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে ছিল: "আর জিহবার মাধ্যমে কাফেরদের সাথে জিহাদ করা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সর্বদাই শরীয়তসম্মত ছিল। কেননা যদি হাত দ্বারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ বিধিবদ্ধ হয়, তবে জিহবার মাধ্যমে তা আরও বেশি বাঞ্ছনীয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'তোমরা তোমাদের হাত, জিহবা এবং সম্পদ দিয়ে মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করো' (৩)। আর তিনি হাসসানের জন্য তাঁর মসজিদে একটি মিম্বর স্থাপন করতেন, যেখানে তিনি ব্যঙ্গাত্মক পংক্তির মাধ্যমে জিহবা দ্বারা মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতেন। আর এটি অবতীর্ণ হওয়ার পর ছিল...

--------------------------------------------

(১) . দার’উত তাআরুদ ৭/১৬৭, ১৬৮ = সংক্ষেপে।

(২) . আল-জওয়াব আস-সাহীহ ১/৬৭ দেখুন।

(৩) . আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন, জিহাদ অধ্যায়, হাদিস নং ২৫০৪, এবং আহমাদ ৩/১২৪, হাকিম ২/৮১; ইমাম নববী রিয়াদুস সালিহীন-এ এর সনদকে সহীহ বলেছেন, হাদিস নং ১৩৪৯।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ১২)
آيات القتال، وأين منفعة الهجو من منفعة إقامة الدلائل والبراهين على حجة الإسلام، وإبطال حجج الكفار من المشركين وأهل الكتاب؟ (1) .

وعظّم شأن مناظرة المخالفين ودحض شبهاتهم فقال: " كل من لم يناظر أهل الإلحاد والبدع مناظرة تقطع دابرهم لم يكن أعطى الإسلام حقه، ولا وفى بموجب العلم والإيمان، ولا حصل بكلامه شفاء الصدور، وطمأنينة النفوس " (2)

خلاصة ما سبق أن المناظرة مشروعة (3) ، كما هو حال السلف الصالح، وقد تكون مناظرة الكفار ومجاهدتهم باللسان أولى من الجهاد باليد، كما أن القيام بها وإظهار الحجة فيها من حقوق الإسلام وموجباته، لا سيما إذا كان المناظر عالماً بالحق.

جـ) أحوال المناظرات عند ابن تيمية: بيّن شيخ الإسلام أن للمناظرات أحوالاً وأطواراً منها:

- " إن كان الإنسان في مقام دفع من يلزمه ويأمره ببدعة، ويدعوه

--------------------------------------------

(1) . الجواب الصحيح 1/74

(2) . الدرء 1/ 357، وانظر: التسعينية 1/ 232

(3) . ومما يحسن ذكره هاهنا أن نورد تقرير مشروعية المناظرة كما سطّره ابن القيم ضمن فوائد قصة وفد نجران بقوله: "جواز مجادلة أهل الكتاب ومناظرتهم، بل استحباب ذلك، بل وجوبه إذا ظهرت مصلحته من إسلام من يُرجى إسلامه منهم، وإقامة الحجة عليهم، ولا يهرب عن مجادلتهم إلا عاجز عن إقامة الحجة، فليولّ ذلك إلى أهله.." زاد المعاد 3/639.
যুদ্ধের আয়াতসমূহ; আর ইসলামের সপক্ষে প্রমাণ ও দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে মুশরিক ও আহলে কিতাব কাফেরদের যুক্তিগুলো বাতিল করার উপকারের তুলনায় নিন্দা বা বিদ্রূপ করার উপকার কোথায়? (১)।

তিনি বিরোধীদের সাথে বিতর্ক করা এবং তাদের সংশয়সমূহ খণ্ডন করার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি নাস্তিক ও বিদআতিদের সাথে এমনভাবে বিতর্ক করল না যা তাদের শেকড় উপড়ে ফেলে, সে ইসলামের হক আদায় করেনি, ইলম ও ঈমানের দাবি পূরণ করেনি এবং তার কথার মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তি ও নফসের স্থিরতা অর্জিত হয়নি।" (২)

পূর্বোক্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো এই যে, বিতর্ক করা বৈধ (৩), যেমনটি সালাফে সালেহীনের অবস্থা ছিল। কখনো কখনো কাফেরদের সাথে বিতর্ক করা এবং জবানের মাধ্যমে জিহাদ করা হাত দিয়ে জিহাদ করার চেয়েও অধিক উত্তম হতে পারে। একইভাবে এটি সম্পাদন করা এবং এতে সত্যের সপক্ষে দলিল প্রকাশ করা ইসলামের অধিকার ও দাবিগুলোর অন্তর্ভুক্ত, বিশেষ করে যদি বিতর্ককারী সত্য সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন।

গ) ইবনে তাইমিয়্যাহর নিকট বিতর্কের অবস্থাসমূহ: শায়খুল ইসলাম বর্ণনা করেছেন যে, বিতর্কের বিভিন্ন অবস্থা ও পর্যায় রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো:

- "যদি মানুষ এমন কাউকে প্রতিহত করার অবস্থানে থাকে যে তাকে কোনো বিদআতে লিপ্ত হতে বাধ্য করে বা আদেশ দেয় এবং তাকে সেই দিকে আহ্বান করে...

--------------------------------------------

(১) . আল-জাওয়াবুস সহীহ ১/৭৪

(২) . আদ-দারউ ১/৩৫৭, এবং দেখুন: আত-তিসয়িনিয়্যাহ ১/২৩২

(৩) . এখানে এটি উল্লেখ করা সমীচীন হবে যে, বিতর্কের বৈধতার বিষয়ে ইবনুল কাইয়্যিম নাজরানের প্রতিনিধি দলের ঘটনার শিক্ষা হিসেবে যা লিপিবদ্ধ করেছেন: "আহলে কিতাবদের সাথে তর্ক ও বিতর্ক করা বৈধ, বরং এটি মুস্তাহাব। এমনকি এটি ওয়াজিব হয়ে যায় যদি এর দ্বারা তাদের মধ্যে থেকে কারো ইসলাম গ্রহণের সম্ভাবনা থাকে অথবা তাদের ওপর দলিল কায়েম করার কোনো কল্যাণ পরিলক্ষিত হয়। দলিল উপস্থাপনে অক্ষম ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ তাদের সাথে তর্ক করা থেকে পালিয়ে বেড়ায় না, সুতরাং এই কাজ যেন এর যোগ্য ব্যক্তিদের ওপরই ন্যস্ত করা হয়..." যাদুল মা'আদ ৩/৬৩৯।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ১৩)
إليها، أمكن الاعتصام بالكتاب والسنة، وأن يقول لا أجيبك إلا إلى كتاب الله وسنة رسوله، بل هذا هو الواجب مطلقاً. " (1) .

- " وإما إذا كان الإنسان في مقام الدعوة لغيره والبيان له، وفي مقام النظر أيضاً، فعليه أن يعتصم أيضاً بالكتاب والسنة ويدعو إلى ذلك، وله أن يتكلم مع ذلك، ويبيّن الحق الذي جاء به الرسول بالأقيسة العقلية والأمثال المضروبة، فهذه طريقة الكتاب والسنة وسلف الأمة. " (2)

- " وإذا كان المتكلم في مقام الإجابة لمن عارضه بالعقل، وادعّى أن العقل يعارض النصوص، فإنه قد يحتاج إلى حل شبهته وبيان بطلانها، فإذا أخذ النافي يذكر ألفاظاً مجملة.. فهنا يستفصل السائل ويقول له: ماذا تريد بهذه الألفاظ المجملة؟ فإن أراد بها حقاً وباطلاً، قُبِل لحق ورُدّ الباطل. " (3)

وبيّن شيخ الإسلام أن من امتنع عن التكلم بالألفاظ المجملة نفياً واثباتاً في هذا المقام قد ينسب إلى العجز والانقطاع، وإن تكلم بها دون تفصيل، نسبوه إلى أنه أطلق تلك الألفاظ التي تحتمل حقاً وباطلاً (4) .

ولما قرر شيخ الإسلام مشروعية المناظرة وأحوالها، ذكر جملة من

--------------------------------------------

(1) . الدرء 1/234.

(2) . الدرء 1/ 235، 236.

(3) . الدرء 1/ 238.

(4) . انظر الدرء 1/ 229.
সেক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং এ কথা বলা সম্ভব যে, "আমি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ ব্যতীত তোমার অন্য কোনো কথার উত্তর দেব না", বরং এটিই নিরঙ্কুশভাবে ওয়াজিব বা আবশ্যক। (১)।

- "আর যখন কোনো ব্যক্তি অন্যকে দাওয়াত প্রদান ও তার নিকট বিষয়টি স্পষ্ট করার অবস্থানে থাকে, এবং গবেষণামূলক অবস্থানেও থাকে, তবে তার ওপরও আবশ্যক হলো কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং সেদিকেই দাওয়াত দেওয়া। এর পাশাপাশি সে কথা বলতে পারে এবং রাসূল যে সত্য নিয়ে এসেছেন তা বুদ্ধিভিত্তিক কিয়াস (যুক্তি) ও উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট করতে পারে। আর এটিই হলো কিতাব, সুন্নাহ এবং উম্মাহর সালাফদের পদ্ধতি।" (২)

- "আর যখন বক্তা এমন ব্যক্তিকে উত্তর দেওয়ার অবস্থানে থাকেন যিনি যুক্তির মাধ্যমে বিরোধিতা করেন এবং দাবি করেন যে বুদ্ধি নصوص (নস বা অকাট্য পাঠের) পরিপন্থী, তখন তার সংশয় নিরসন এবং তার অসারতা স্পষ্ট করার প্রয়োজন হতে পারে। সুতরাং অস্বীকারকারী যদি অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থবোধক শব্দাবলি উল্লেখ করতে শুরু করে... তবে এক্ষেত্রে প্রশ্নকারী বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাইবেন এবং তাকে বলবেন: 'এই অস্পষ্ট শব্দাবলি দ্বারা আপনি কী বুঝাতে চাচ্ছেন?' যদি এর দ্বারা তিনি সত্য ও মিথ্যা উভয়টিই উদ্দেশ্য করেন, তবে সত্যটুকু গ্রহণ করা হবে এবং মিথ্যাটুকু প্রত্যাখ্যান করা হবে।" (৩)

শায়খুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, যে ব্যক্তি এই অবস্থানে থেকে না-বোধক বা হ্যা-বোধক কোনো ক্ষেত্রেই অস্পষ্ট শব্দাবলি ব্যবহার থেকে বিরত থাকে, তাকে অক্ষমতা ও যুক্তিতে হেরে যাওয়ার সাথে সম্পৃক্ত করা হতে পারে। আর যদি সে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই তা বলে ফেলে, তবে তারা তাকে এমন অপবাদ দেবে যে সে এমন সব শব্দ প্রয়োগ করেছে যা সত্য ও মিথ্যা উভয়টিকেই ধারণ করে (৪)।

শায়খুল ইসলাম যখন মুনাজারা বা বিতর্কের বৈধতা ও এর অবস্থাসমূহ প্রতিষ্ঠিত করলেন, তখন তিনি একগুচ্ছ...

--------------------------------------------

(১). আদ-দারউ ১/২৩৪।

(২). আদ-দারউ ১/২৩৫, ২৩৬।

(৩). আদ-দারউ ১/২৩৮।

(৪). দেখুন: আদ-দারউ ১/২২৯।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ১৪)
الأحوال التي ينهى السلف فيها عن المناظرة فقال: " وقد ينهون عن المجادلة والمناظرة، إذا كان المناظر ضعيف العلم بالحجة وجواب الشبهة، فيُخاف عليه أن يفسده ذلك المضلّ، كما يُنهى الضعيف في المقاتلة أن يقاتل علجاً قوياً من علوج الكفار، فإن ذلك يضرّه ويضر المسلمين بلا منفعة، وقد ينهى عنه إذا كان المناظر معانداً يظهر له الحق فلا يقبله - وهو السوفسطائي - فإن الأمم كلهم متفقون على أن المناظرة إذا انتهت إلى مقدمات معروفة، بيّنة بنفسها، ضرورية، وجحدها الخصم كان سوفسطائياً، ولم يؤمر بمناظرته بعد ذلك، بل إن كان فاسد العقل داووه، وإن كان عاجزاً عن معرفة تركوه، وإن كان مستحقاً للعقاب عاقبوه مع القدرة " (1)

وبهذا يتبين أن المناظرة المشروعة لها أحوال، منها: إن كان في مقام دفع من يلزمه ببدعة فعليه أن لا يجيب إلا إلى نصوص الوحيين، كما في مناظرة الإمام أحمد للجهمية (2) .

وإن كان في مقام الدعوة لغيره، فعليه أن يعتصم بالكتاب والسنة، وما يبيّن ذلك من الأقيسة العقلية، كما نلحظ في مناظرة ابن تيمية لأهل الاتحاد ووحدة الوجود - كما سيأتي إن شاء الله - وإن كان في مقام الإجابة لمن عارضه بالعقل، فيحتاج إلى حلّ شبهته وبيان بطلانها، كما

--------------------------------------------

(1) . الدرء 7/173.

(2) . انظر الدرء 1/230.
সেসব অবস্থা যাতে সালাফগণ বিতর্ক করতে নিষেধ করেছেন, সে সম্পর্কে তিনি বলেন: "কখনো কখনো তারা বিতর্ক ও বাহাস থেকে নিষেধ করেন যখন বিতর্ককারী দলিল-প্রমাণ এবং সংশয়ের উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্বল জ্ঞানের অধিকারী হন। ফলে এই আশঙ্কা করা হয় যে, সেই পথভ্রষ্ট ব্যক্তি তাকে বিভ্রান্ত করে ফেলবে। যেমন যুদ্ধের ময়দানে কোনো দুর্বল ব্যক্তিকে কাফিরদের কোনো শক্তিশালী ও উদ্ধত যোদ্ধার সাথে লড়াই করতে নিষেধ করা হয়। কারণ এতে কোনো উপকার ছাড়াই তার নিজের এবং মুসলিমদের ক্ষতি হয়। আবার কখনো তা থেকে নিষেধ করা হয় যদি প্রতিপক্ষ হঠকারী হয়, যার কাছে সত্য স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সে তা গ্রহণ করে না—সে হলো সোফিস্ট (সফসতায়ী)। কেননা সকল জাতি এই বিষয়ে একমত যে, বিতর্ক যখন এমন সুপরিচিত, স্বতঃসিদ্ধ ও অকাট্য প্রাঙ্গণে পৌঁছায় যা প্রতিপক্ষ অস্বীকার করে, তবে সে সোফিস্টে পরিণত হয়। এরপর তার সাথে বিতর্কের নির্দেশ দেওয়া হয় না। বরং তার বুদ্ধি বিকৃত হলে তারা তার চিকিৎসা করতেন, আর যদি সে সত্য অনুধাবনে অক্ষম হতো তবে তাকে ছেড়ে দিতেন, আর যদি সে শাস্তির যোগ্য হতো তবে সক্ষমতা সাপেক্ষে তারা তাকে শাস্তি দিতেন।" (১)

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, শরয়ি বা অনুমোদিত বিতর্কের বিভিন্ন অবস্থা রয়েছে, যার মধ্যে: যদি এমন কাউকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে হয় যে তাকে বিদআতে বাধ্য করতে চায়, তবে তার উচিত ওহীদ্বয়ের (কুরআন ও সুন্নাহর) পাঠ বা নস ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে উত্তর না দেওয়া। যেমনটি ইমাম আহমাদ জাহমিয়াদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে করেছিলেন (২)।

আর যদি অন্যকে দাওয়াত দেওয়ার পর্যায়ে হয়, তবে তার উচিত কুরআন ও সুন্নাহ এবং যা একে স্পষ্ট করে এমন যৌক্তিক কিয়াসসমূহকে আঁকড়ে ধরা। যেমনটি আমরা ইবনে তাইমিয়্যাহর 'আহলুল ইত্তিহাদ' ও 'ওয়াহদাতুল উজুদ'-পন্থীদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করি—যা ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে—আর যদি এমন কাউকে উত্তর দেওয়ার পর্যায়ে হয় যে যুক্তির মাধ্যমে বিরোধিতা করে, তবে তার সংশয় নিরসন করা এবং এর অসারতা বর্ণনা করার প্রয়োজন হয়, যেমন...

--------------------------------------------

(১) . দারউ ৭/১৭৩।

(২) . দেখুন দারউ ১/২৩০।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ১৫)
فعل ابن تيمية في مناظرته لنفاة الرؤية - كما هو مبسوط في موضعه من هذا البحث -

وقد يُنهى عن المناظرة إن كان المناظر ضعيف العلم، أو كان معانداً مكابراً..

وسنورد مناظرات ابن تيمية لأهل الملل والنحل على النسق التالي:
ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহর) দর্শন অস্বীকারকারীদের সাথে তাঁর বিতর্কে যা করেছেন - যেমনটি এই গবেষণার সংশ্লিষ্ট স্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে -

এবং কখনো কখনো বিতর্ক থেকে নিষেধ করা হতে পারে যদি বিতর্ককারী জ্ঞানে দুর্বল হয়, অথবা সে যদি একগুঁয়ে ও অহঙ্কারী হয়...

আমরা বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের অনুসারীদের সাথে ইবনে তাইমিয়্যাহর বিতর্কগুলো নিম্নোক্ত বিন্যাসে উল্লেখ করব:
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌1 - مناظرات ابن تيمية للنصارى:

المناظرة الأولى: حكى شيخ الإسلام مناظرته للنصارى في القاهرة فقال: "لما قدمت القاهرة اجتمع بي بعض معظميهم من الرهبان، وناظرني في المسيح ودين النصارى، حتى بيّنت له فساد ذلك، وأجبته عما يدعيه من الحجة.

وكان من أواخر ما خاطبت به النصراني أن قلت له: أنتم مشركون، وبيّنت من شركهم ما هم عليه من العكوف على التماثيل والقبور، وعبادتها، والاستغاثة بها.

قال لي: نحن ما نشرك بهم ولا نعبد هم، وإنما نتوسل بهم، كما يفعل المسلمون إذا جاءوا إلى قبر الرجل الصالح، فيتعلقون بالشباك الذي عليه ونحو ذلك.

فقلت له: وهذا أيضاً من الشرك، ليس هذا من دين المسلمين، وإن فعله الجهال، فأقر أنه شرك، حتى إن قسيساً كان حاضراً في هذه المسألة، فلما سمعها قال: نعم، على هذا التقدير نحن مشركون " (1) .

المناظرة الثانية - وقال - أثناء حديثه عمن تلبّس بالشرك: - " وهؤلاء

--------------------------------------------

(1) . مجموع الفتاوى 27/ 461، 462 - باختصار
১ - খ্রিষ্টানদের সাথে ইবনে তাইমিয়্যাহর মুনাজারা (বিতর্কসমূহ):

প্রথম মুনাজারা: শাইখুল ইসলাম কায়রোতে খ্রিষ্টানদের সাথে তাঁর মুনাজারার কথা বর্ণনা করে বলেন: "যখন আমি কায়রোতে আসলাম, তাদের যাজকদের মধ্য থেকে কিছু সম্মানিত ব্যক্তি আমার সাথে সাক্ষাৎ করল এবং মসীহ ও খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কে আমার সাথে মুনাজারা করল। অবশেষে আমি তার কাছে সেই ধর্মের অসারতা স্পষ্ট করলাম এবং সে যেসব দলিলের দাবি করছিল তার উত্তর দিলাম।

সেই খ্রিষ্টানের সাথে আমার আলোচনার শেষের দিকে আমি তাকে বললাম: তোমরা মুশরিক। আর আমি তাদের শিরকের ধরন বর্ণনা করলাম যে, তারা কীভাবে মূর্তি ও কবরের সামনে পড়ে থাকে, সেগুলোর ইবাদত করে এবং সেগুলোর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে।

সে আমাকে বলল: আমরা তাদের সাথে শিরক করি না এবং তাদের ইবাদতও করি না। আমরা কেবল তাদের উসিলা গ্রহণ করি, যেমনটি মুসলমানরা করে থাকে যখন তারা কোনো নেককার ব্যক্তির কবরে আসে, তখন তারা কবরের বেষ্টনী আঁকড়ে ধরে এবং এই জাতীয় কাজ করে।

তখন আমি তাকে বললাম: এটিও শিরকের অন্তর্ভুক্ত, এটি মুসলমানদের দ্বীন নয়, যদিও মূর্খরা তা করে থাকে। তখন সে স্বীকার করল যে এটি শিরক। এমনকি এই বিষয়ে উপস্থিত একজন পাদ্রি যখন এটি শুনলেন, তখন তিনি বললেন: হ্যাঁ, এই বিবেচনায় আমরা মুশরিক।" (১)।

দ্বিতীয় মুনাজারা - এবং তিনি শিরকে লিপ্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে আলোচনা করার সময় বলেন: - "আর এরা...

--------------------------------------------

(১) . মাজমুউল ফাতাওয়া ২৭/ ৪৬১, ৪৬২ - সংক্ষেপে
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ১৭)
يجعلون الرسل والمشايخ يدبرون العالم بالخلق والرزق، وقضاء الحاجات وكشف الكربات، وهذا ليس من دين المسلمين، بل النصارى تقول هذا في المسيح وحده لشبهة الاتحاد والحلول، ولهذا لم يقولوا ذلك في إبراهيم وموسى وغيرهما من الرسل، مع أنهم في غاية الجهل في ذلك، فإن الآيات التي بعث بها موسى أعظم، ولو كان الحلول ممكناً لم يكن للمسيح خاصية توجب اختصاصه بذلك، بل موسى أحق بذلك، ولهذا خاطبتُ من خاطبتُ من علماء النصارى، وكنتُ أتنزّل معهم إلى أن أطالبهم بالفرق بين المسيح وغيره من جهة الإلهية، فلم يجدوا فرقاً، بل أبيّن لهم أن ما جاء به موسى من الآيات أعظم، فإن كان هذا حجة في دعوى الإلهية فهو أحق" (1) .

المناظرة الثالثة: ولما سجن شيخ الإسلام بمصر سنة 707هـ، حصلت له مناظرة مع رهبان النصارى كما أوردها تلميذه إبراهيم بن أحمد الغياني (2) قائلاً: " ولما كان الشيخ في قاعة الترسيم (3) ، دخل عنده ثلاثة رهبان من الصعيد، فناظرهم وأقام عليهم الحجة بأنهم كفار، وما هم على الدين الذي كان عليه إبراهيم والمسيح، فقالوا له: نحن نعمل مثل ما

--------------------------------------------

(1) . الرد على البكري ص 327، وانظر مجموع الفتاوى 15/ 228

(2) . لم أعثر له على ترجمة.

(3) . الترسيم نوع من الحبس انظر مجموع الفتاوى لابن تيمية 35 / 399، 15/136.
তারা রাসূলগণ ও মাশায়েখগণকে সৃষ্টি, রিযিক দান, প্রয়োজন পূরণ ও বিপদ দূর করার মাধ্যমে বিশ্ব পরিচালনা করেন বলে সাব্যস্ত করে। এটি মুসলিমদের ধর্ম নয়; বরং খ্রিস্টানরা কেবল মাসীহের ক্ষেত্রে এমনটি দাবি করে তাঁর মধ্যে ঐশ্বরিক মিলন (ইত্তিহাদ) ও অনুপ্রবেশের (হুলুল) সংশয়ের কারণে। এই কারণেই তারা ইবরাহীম, মূসা এবং অন্যান্য রাসূলদের ক্ষেত্রে এমনটি বলে না, যদিও এ বিষয়ে তারা চরম মূর্খতায় নিমজ্জিত। কারণ, মূসা যে সকল নিদর্শনাবলী নিয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন তা ছিল অধিক মহিমান্বিত। আর যদি ঐশ্বরিক অনুপ্রবেশ (হুলুল) সম্ভব হতোই, তবে মাসীহের এমন কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকত না যা তাঁকে এর জন্য নির্দিষ্ট করবে, বরং মূসা-ই এর জন্য অধিক উপযুক্ত হতেন। একারণেই আমি খ্রিস্টান আলেমদের যাদের সাথে আলোচনা করেছি, তাদের সাথে এ পর্যায়ে নেমে আসতাম যে, উপাস্য হওয়ার (ইলাহিয়্যাহ) দিক থেকে মাসীহ ও অন্যদের মধ্যে পার্থক্যের দাবি করতাম। কিন্তু তারা কোনো পার্থক্য খুঁজে পায়নি। বরং আমি তাদের নিকট স্পষ্ট করে দিতাম যে, মূসা যা নিয়ে এসেছেন তা অধিক মহান নিদর্শন। সুতরাং এটি যদি উপাস্য হওয়ার দাবির প্রমাণ হয়, তবে তিনিই এর জন্য অধিক হকদার। (১) .

তৃতীয় বিতর্ক: যখন শাইখুল ইসলাম ৭০৭ হিজরীতে মিশরে কারারুদ্ধ হন, তখন খ্রিস্টান পাদ্রীদের সাথে তাঁর একটি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়, যা তাঁর ছাত্র ইবরাহীম বিন আহমাদ আল-গিয়ানি (২) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "শাইখ যখন বন্দিশালায় (৩) ছিলেন, তখন উচ্চ মিশর থেকে তিনজন পাদ্রী তাঁর নিকট প্রবেশ করেন। তিনি তাদের সাথে বিতর্ক করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে দলিল দ্বারা প্রমাণ করেন যে তারা কাফির এবং তারা ইবরাহীম ও মাসীহ যে দ্বীনের ওপর ছিলেন, তারা তার ওপর নেই। তখন তারা তাঁকে বলল: 'আমরা তেমনটাই করি যেমন...

--------------------------------------------

(১) . আর-রাদ্দু আলাল বাকরি, পৃষ্ঠা ৩২৭; এবং দেখুন মাজমুউল ফাতাওয়া ১৫/২২৮

(২) . আমি তাঁর কোনো জীবনী বা পরিচয় খুঁজে পাইনি।

(৩) . তারসিম হলো এক প্রকার কারাবাস। দেখুন ইবনে তাইমিয়্যাহর মাজমুউল ফাতাওয়া ৩৫/৩৯৯, ১৫/১৩৬।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ১৮)
تعملون، أنتم تقولون بالسيدة نفيسة (1) ، ونحن نقول بالسيدة مريم، قد أجمعنا نحن وأنتم على أن المسيح ومريم أفضل من الحسين ومن نفيسة، وأنتم تستغيثون بالصالحين الذي قبلكم، ونحن كذلك.

فقال لهم: وإن من فعل ذلك ففيه شبه منكم، وهذا ما هو دين إبراهيم الذي كان عليه، فإن الدين الذي كان إبراهيم عليه أن لا نعبد إلا الله وحده، لا شريك له، ولا ندّ له، ولا صاحبة له، ولا ولد له، ولا نشرك معه ملكاً، ولا نبياً، ولا صالحاً، وإن الأمور التي لا يقدر عليها غير الله لا تطلب من غيره مثل تفريج الكربات، وغفران الذنوب.

والأنبياء - عليهم الصلاة والسلام - نؤمن بهم ونعظمهم، ونصدّقهم في جميع ما جاءوا به ونطيعهم كما قال نوح وصالح وهود وشعيب: أن اعبدوا الله واتقوه وأطيعون، فجعلوا العبادة والتقوى لله وحده، والطاعة لهم، فإن طاعتهم من طاعة الله، فلو كفر أحد بنبيّ من الأنبياء وآمن بالجميع ما نفعه إيمانه حتى يؤمن بذلك النبي.

--------------------------------------------

(1) . هي نفيسة بنت الحسن بن زيد بن الحسن بن علي بن أبي طالب رضي الله عنهما، وهي من الصالحات العابدات، كانت في المدينة ثم تحولت إلى مصر، وتوفيت بها سنة 208 هـ.

انظر سير أعلام النبلاء 10/106، البداية والنهاية 10/262، شذرات الذهب 2/21.
তোমরা যা করছ; তোমরা সাইয়্যেদা নাফিসা (১) সম্পর্কে বলছ, আর আমরা সাইয়্যেদা মারইয়াম সম্পর্কে বলছি। আমরা এবং তোমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, মাসীহ ও মারইয়াম হোসেন ও নাফিসার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছ, আর আমরাও তাই করি।

তিনি তাদের বললেন: যে ব্যক্তি এমনটি করবে, তার মধ্যে তোমাদের সাদৃশ্য রয়েছে। আর এটি ইব্রাহীম যে দ্বীনের ওপর ছিলেন তা নয়। কেননা ইব্রাহীম যে দ্বীনের ওপর ছিলেন তা হলো, আমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করব না, যাঁর কোনো অংশীদার নেই, কোনো সমকক্ষ নেই, কোনো সঙ্গিনী নেই এবং কোনো সন্তান নেই। আমরা তাঁর সাথে কোনো ফেরেশতা, নবী কিংবা কোনো নেককার ব্যক্তিকে শরিক করব না। আর যেসব বিষয় আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ সামর্থ্য রাখে না, তা অন্য কারও কাছে চাওয়া যাবে না; যেমন বিপদ দূর করা এবং গুনাহ ক্ষমা করা।

আর নবীগণ—তাঁদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—আমরা তাঁদের প্রতি ঈমান রাখি, তাঁদের সম্মান করি এবং তাঁরা যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সবকিছুর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করি এবং তাঁদের আনুগত্য করি; যেমনটি নূহ, সালিহ, হুদ এবং শুআইব বলেছিলেন: তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো। সুতরাং তাঁরা ইবাদত ও তাকওয়াকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং আনুগত্যকে তাঁদের জন্য নির্ধারণ করেছেন; কারণ তাঁদের আনুগত্য করা আল্লাহরই আনুগত্য করার শামিল। যদি কেউ নবীদের মধ্য থেকে কোনো এক নবীর প্রতি কুফরি করে এবং অবশিষ্ট সকলের প্রতি ঈমান আনে, তবে সেই নবীর প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত তার ঈমান তার কোনো উপকারে আসবে না।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন নাফিসা বিনতে হাসান বিন যায়িদ বিন হাসান বিন আলী বিন আবি তালিব (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন)। তিনি একজন পুণ্যবতী ও ইবাদতগুজার নারী ছিলেন। তিনি মদীনায় ছিলেন, অতঃপর মিশরে চলে যান এবং সেখানে ২০৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১০/১০৬, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১০/২৬২, শাযারাতুয যাহাব ২/২১।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ১৯)
فلما سمعوا ذلك منه قالوا: الدين الذي ذكرته خير من الدين الذي نحن وهؤلاء عليه" (1)

المناظرة الرابعة: وردّ على النصارى تشبيههم ظهور اللاهوت في الناسوت بظهور الروح في البدن، وأنه إذا كان البدن يتألم بما يصيب الروح من الألم، فيلزم النصارى أن يكون الناسوت لما صلب وتوجّع أن يكون أيضاً اللاهوت متوجعاً، ثم ساق هذه المناظرة:

"وقد خاطبت بهذا بعض النصارى، فقال لي: الروح بسيطة، أي لا يلحقها ألم، فقلت له: فما تقول في أرواح الكفار بعد الموت أمنعّمة، أو معذبة؟ فقال: هي في العذاب، فقلت: فعلم أن الروح المفارقة تنعم وتعذّب، فإذا شبهتم اللاهوت في الناسوت، بالروح في البدن، لزم أن تتألم إذا تألم الناسوت، كما تتألم الروح إذا تألم البدن.

فاعترف هو وغيره بلزوم بذلك (2) ".

وبالنظر في تلك المناظرات وما يجليها من تقريرات لشيخ الإسلام، نسوق الأمور التالية:

1 - لا يخفى الأثر السلبي لانحراف المنتسبين إلى الإسلام، وكيف احتج به النصارى هاهنا في تسويغ شركهم، فالنصارى يشركون المسيح

--------------------------------------------

(1) . الجامع لسيرة ابن تيمية ص 89، 90 = باختصار، وانظر مجموع الفتاوى 1/ 370، 371

(2) . الجواب الصحيح 2/ 172.
যখন তারা তাঁর কাছ থেকে এটি শুনলেন, তখন তারা বললেন: "আপনি যে ধর্মের কথা উল্লেখ করেছেন তা আমাদের এবং এদের বর্তমান ধর্মের চেয়ে উত্তম।" (১)

চতুর্থ মুনাযারা: তিনি খ্রিষ্টানদের সেই উপমার খণ্ডন করেছেন যেখানে তারা নাসুত (মানবত্ব)-এর মধ্যে লাহুত (ঈশ্বরত্ব)-এর প্রকাশকে শরীরের মধ্যে রুহ (আত্মা)-এর প্রকাশের সাথে তুলনা করে। তিনি যুক্তি দেন যে, শরীর যদি রুহের ব্যথার কারণে ব্যথিত হয়, তবে খ্রিষ্টানদের জন্য এটি অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে, নাসুতকে যখন ক্রুশবিদ্ধ করা হলো এবং সে যন্ত্রণাকাতর হলো, তখন যেন লাহুতও যন্ত্রণাকাতর হয়। এরপর তিনি এই বিতর্কটি উল্লেখ করেন:

"আমি এই বিষয়ে জনৈক খ্রিষ্টানের সাথে আলোচনা করেছিলাম, তখন সে আমাকে বলেছিল: ‘রুহ সরল সত্তা, অর্থাৎ এর কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না।’ আমি তাকে বললাম: ‘মৃত্যুর পর কাফেরদের রুহ সম্পর্কে আপনার মত কী, তারা কি সুখভোগ করে নাকি আজাব ভোগ করে?’ সে বলল: ‘তারা আজাবের মধ্যে থাকে।’ আমি বললাম: ‘তাহলে এটি প্রমাণিত হলো যে, শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন রুহও সুখ বা দুঃখ অনুভব করে। অতএব, আপনারা যখন শরীরের মধ্যে রুহের উপস্থিতির সাথে নাসুতের মধ্যে লাহুতের উপস্থিতির তুলনা করেন, তখন নাসুত ব্যথিত হলে লাহুতের ব্যথিত হওয়াও আবশ্যক হয়ে পড়ে, ঠিক যেমন শরীর ব্যথিত হলে রুহ ব্যথিত হয়।’

সে এবং অন্যান্যেরা এই অনিবার্য পরিণতির কথা স্বীকার করে নিল (২)।"

উক্ত মুনাযারাগুলো এবং শাইখুল ইসলামের ব্যাখ্যা থেকে যা ফুটে ওঠে, তা বিবেচনা করে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উপস্থাপন করছি:

১ - ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিচ্যুতির নেতিবাচক প্রভাব কারো অজানা নয়। খ্রিষ্টানরা এখানে কীভাবে নিজেদের শিরককে বৈধতা দেওয়ার জন্য সেই বিচ্যুতিকে দলিল হিসেবে ব্যবহার করেছে তা লক্ষণীয়। মূলত খ্রিষ্টানরা মসীহকে আল্লাহর অংশীদার সাব্যস্ত করে...

--------------------------------------------

(১) আল-জামি লি-সিরাতি ইবনি তাইমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৮৯, ৯০ (সংক্ষেপে); এবং দেখুন মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭০, ৩৭১

(২) আল-জাওয়াবুস সহিহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭২।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ২০)
ومريم، كما أن من المسلمين من يشرك الحسين رضي الله عنه ونفيسة.

ورحم الله ابن القيم (1) إذ يقول: " ولقد دعونا نحن وغيرنا كثيراً من أهل الكتاب إلى الإسلام، فأخبروا أن المانع لهم ما يرون عليه المنتسبين إلى الإسلام، ممن يعظّمهم الجهال من البدع والظلم والفجور والمكر والاحتيال، ونسبة ذلك إلى الشرع، ولمن جاء به، فساء ظنهم بالشرع وبمن جاء به.

فالله طليب قطّاع طريق الله وحسيبهم. " (2)

ومع هذا الانحراف في واقع المسلمين، إلا أن ابن تيمية كان صاحب استعلاء في إيمانه، ورسوخ في حجته، فقد أقام عليهم الحجة، فاعترفوا بشركهم، وصحة دين الإسلام، بل إن بعض النصارى أسلم على يد ابن تيمية وحسن إسلامه، كداود المتطبب (3) ، والذي صار من علماء أهل السنة، وصنّف كتاباً في الطب النبوي.

--------------------------------------------

(1) . هو الشيخ العلامة شمس الدين محمد بن أبي بكر بن أيوب الزرعي، برع في علوم متعددة، كان جريئ الجنان، واسع العلم، عارفاً بالخلاف، ومذهب السلف، له تصانيف كثيرة، توفي بدمشق سنة 751هـ.

انظر: البداية والنهاية 14/ 234، الدرر الكامنة 4/21.

(2) . إغاثة اللهفان 2/416.

(3) . هو داود بن أبي الفرج الدمشقي، أسلم على يد بن تيمية سنة 701هـ، وصنف كتاب الطب النبوي وحكى فيه نصوصاً عن أحمد، توفي داود سنة 737هـ.

انظر الجوهر المنضّد لابن عبد الهادي (ابن المبرد) ص 38.
এবং মরিয়ম, যেমন মুসলমানদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা আল-হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং নাফিসাকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করে।

আল্লাহ ইবনুল কাইয়্যিমের (১) ওপর রহম করুন, তিনি যখন বলেন: "নিশ্চয়ই আমরা এবং আমাদের ছাড়া আরও অনেকেই আহলে কিতাবদের অনেককে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিয়েছি; তখন তারা জানিয়েছে যে, তাদের (ইসলাম গ্রহণে) অন্তরায় হলো ইসলামের অনুসারী বলে পরিচিত ব্যক্তিদের মধ্যে তারা যা প্রত্যক্ষ করে—যাদেরকে মূর্খরা বড় করে দেখে—বিদআত, জুলুম, পাপাচার, চক্রান্ত ও প্রতারণা। আর এসব বিষয়কে শরীয়ত এবং যিনি শরীয়ত নিয়ে এসেছেন তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা। ফলে শরীয়ত এবং যিনি তা নিয়ে এসেছেন, উভয়ের প্রতি তাদের ধারণা খারাপ হয়ে গেছে।

সুতরাং আল্লাহই আল্লাহর পথের প্রতিবন্ধকদের অন্বেষণকারী এবং তাদের হিসাব গ্রহণকারী।" (২)

মুসলমানদের বাস্তবতায় এই বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও, ইবনে তায়মিয়্যাহ তাঁর ঈমানে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং তাঁর দলীল-প্রমাণে সুদৃঢ় ছিলেন। তিনি তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ফলে তারা তাদের শিরক এবং ইসলাম ধর্মের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছিল। এমনকি কোনো কোনো খ্রিস্টান ইবনে তায়মিয়্যাহর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং তাদের ইসলাম সুন্দর হয়েছিল; যেমন দাউদ আল-মুতাতাব্বিব (৩), যিনি আহলে সুন্নাতের উলামাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন এবং তিব্বে নববী (নববী চিকিৎসা) বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) . তিনি হলেন শাইখ আল্লামা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর ইবনে আইয়ুব আয-যারয়ি। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন, সাহসী হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন, ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন এবং ইখতিলাফ (মতভেদ) ও সালাফদের মাযহাব সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন। তাঁর বহু রচনা রয়েছে। তিনি ৭৫১ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১৪/২৩৪, আদ-দুরারুল কামিনাহ ৪/২১।

(২) . ইগাসাতুল লাহফান ২/৪১৬।

(৩) . তিনি হলেন দাউদ ইবনে আবি আল-ফারাজ আদ-দিমাশকি। তিনি ৭০১ হিজরিতে ইবনে তায়মিয়্যাহর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিব্বে নববী নিয়ে একটি বই রচনা করেন যাতে তিনি আহমাদ থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন। দাউদ ৭৩৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন: ইবনে আব্দুল হাদি (ইবনুল মুবাররাদ) রচিত আল-জাওহারুল মুনাসসাদ, পৃষ্ঠা ৩৮।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ২১)
2 - بيّن ابن تيمية من خلال مناظرته في السجن - مناقضة النصارى لدين الإسلام الذي بعث الله به جميع المرسلين، وقد عُني ابن تيمية في مواطن كثيرة بتقرير هذا الإسلام العام وهو عبادة الله تعالى وحده لا شريك له (1) .

ومن ذلك قوله: " والذي أنزله الله هو دين واحد اتفقت عليه الكتب والرسل، وهم متفقون في أصول الدين وقواعد الشريعة، وإن تنوّعوا في الشريعة والمنهاج.

- إلى إن قال- فإن المسلمين واليهود والنصارى متفقون على أن في الكتب الإلهية الأمر بعبادة الله وحده لا شريك له، وأنه أرسل إلى الخلق رسلاً من البشر، وأنه أوجب العدل وحرّم الظلم والفواحش والشرك، وأمثال ذلك من الشرائع الكلية (2) "

3 - لم يتردد شيخ الإسلام في الحكم على تلك الأعمال التي تلبّس بها من يدّعى الإسلام، فبيّن أن طلب الشفاعة شرك سواءً فعله نصراني أو من ينتسب إلى الإسلام (3) .

--------------------------------------------

(1) . انظر: الجواب الصحيح 1/ 11، 376، والتدمرية ص 168، اقتضاء الصراط المستقيم 2/ 831، مجموع الفتاوى 19/ 106.

(2) . الجواب الصحيح 1/ 376، 377 = باختصار

(3) . ومما يلحق بذلك ما حكاه ابن حزم من تحريف النصارى والإنجيل، واحتجاجهم على أهل الإسلام بمقالة الرافضة بتبديل القرآن.. فأجاب ابن حزم قائلاً: الروافض ليسوا من المسلمين، وأنها طائفة تجري مجرى اليهود والنصارى في الكذب والكفر. " الفصل 2/213.
২ - ইবনে তাইমিয়া কারাগারে তাঁর বিতর্কের মাধ্যমে—ইসলাম ধর্মের সাথে খ্রিস্টানদের বৈপরীত্য স্পষ্ট করেছেন, যে ইসলাম দিয়ে আল্লাহ সকল রাসূলকে প্রেরণ করেছেন। ইবনে তাইমিয়া বহু স্থানে এই সাধারণ ইসলাম তথা অংশীদারহীনভাবে একমাত্র মহান আল্লাহর ইবাদত করার বিষয়টি সাব্যস্ত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন (১)।

এরই ধারাবাহিকতায় তাঁর উক্তি: "আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা একটিই দ্বীন যার ওপর সমস্ত কিতাব ও রাসূলগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তাঁরা দ্বীনের মূলনীতি এবং শরীয়তের বুনিয়াদী বিধি-বিধানে একমত ছিলেন, যদিও তাঁদের শরীয়ত ও কর্মপদ্ধতিতে বৈচিত্র্য ছিল।

—পরবর্তীতে তিনি বলেছেন— মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা এই বিষয়ে একমত যে, ঐশী কিতাবসমূহে একমাত্র অংশীদারহীন আল্লাহর ইবাদতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর তিনি সৃষ্টির নিকট মানুষদের মধ্য থেকেই রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং তিনি ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং জুলুম, অশ্লীলতা, শিরক ও এ জাতীয় সার্বিক বিধানগুলোকে হারাম করেছেন (২)।"

৩ - ইসলাম দাবিদারদের মধ্যে লিপ্ত হওয়া ঐসব কার্যাবলীর বিধান দিতে শাইখুল ইসলাম কোনো দ্বিধা করেননি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সুপারিশ (শাফায়াত) প্রার্থনা করা শিরক; চাই তা কোনো খ্রিস্টান করুক অথবা ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত কেউ করুক (৩)।

--------------------------------------------

(১) . দেখুন: আল-জাওয়াবুস সহীহ ১/১১, ৩৭৬; আত-তাদমুরিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৬৮; ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ২/৮৩১; মাজমুউল ফাতাওয়া ১৯/১০৬।

(২) . আল-জাওয়াবুস সহীহ ১/৩৭৬, ৩৭৭ = সংক্ষেপে।

(৩) . এর সাথে সংশ্লিষ্ট হলো যা ইবনে হাজম খ্রিস্টানদের বিকৃতি ও ইঞ্জিল সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, এবং কুরআনের পরিবর্তনের বিষয়ে রাফেজিদের মতাদর্শ দিয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের যুক্তি প্রদান... ইবনে হাজম এর উত্তরে বলেন: "রাফেজিরা মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত নয়, এটি এমন এক গোষ্ঠী যারা মিথ্যাচার ও কুফরের ক্ষেত্রে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অনুগামী।" আল-ফাসল ২/২১৩।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ২২)
ونظير ذلك أنه لما ساق اعتراض بعضهم بأن الغلو والشرك والبدع في الرافضة موجودٌ في كثير من المنتسبين إلى السنة، أجاب قائلاً: "هذا كله مما نهى الله عنه ورسوله، وكل ما نهى الله عنه ورسوله فهو مذموم منهي عنه، سواءً كان فاعله منتسباً إلى السنة أو إلى التشيع.." (1) .

4 - فرّق ابن تيمية - اتباعاً للنصوص الشرعية - بين ما كان حقاً لله تعالى وحده كالعبادة والتقوى، وما كان حقاً لرسوله كالطاعة، فإن من يطع الرسول فقد أطاع الله، وقد قرر ذلك في مواضع كثيرة (2) .

ومن ذلك قوله: "والله سبحانه له حقوق لا يشركه فيها غيره، وللرسل حقوق لا يشركهم فيها غيرهم، وللمؤمنين بعضهم على بعض حقوق مشتركة، فالله تعالى مستحق أن نعبده ولا نشرك به شيئاً، وهذا أصل التوحيد الذي بعثت به الرسل.

ويدخل في ذلك أن لا نخاف إلا إياه، ولا نتقي إلا إياه، كما قال تعالى: {وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} (النور: 52) فعجل الطاعة لله وللرسول، وجعل الخشية والتقوى لله وحده " (3) .

--------------------------------------------

(1) . منهاج السنة النبوية 1/ 483

(2) . انظر: منهاج السنة النبوية 2/ 446، والتدمرية ص 199، واقتضاء الصراط المستقيم 2/ 826، مجموع الفتاوى 1/181، 10/36

(3) . اقتضاء الصراط المستقيم 2/825، 826 = باختصار
এরই অনুরূপ বিষয় হলো, যখন তিনি কারো কারো এই আপত্তি উদ্ধৃত করলেন যে, রাফেজিদের মধ্যে বিদ্যমান অতিরঞ্জন (গুলু), শিরক ও বিদআত সুন্নাহর অনুসারী বলে দাবিদার অনেকের মধ্যেও বিদ্যমান, তখন তিনি উত্তরে বললেন: "এসবই সেই সব বিষয় যা থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নিষেধ করেছেন। আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা কিছু থেকে নিষেধ করেছেন তা নিন্দনীয় ও নিষিদ্ধ, চাই তার কর্তব্যক্তি সুন্নাহর অনুসারী হোক বা শিয়া মতবাদের অনুসারী হোক..." (১)।

৪ - ইবনে তাইমিয়া—শরীয়তের দলীলসমূহের অনুসরণে—আল্লাহ তায়ালার একান্ত অধিকার (যেমন ইবাদত ও তাকওয়া) এবং তাঁর রাসূলের অধিকারের (যেমন আনুগত্য) মধ্যে পার্থক্য করেছেন। কেননা যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। তিনি অনেক স্থানে এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন (২)।

এর মধ্যে রয়েছে তাঁর এই উক্তি: "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এমন কিছু অধিকার রয়েছে যাতে অন্য কেউ তাঁর শরিক নয়। রাসূলগণের এমন কিছু অধিকার রয়েছে যাতে অন্য কেউ তাঁদের শরিক নয়। আর মুমিনদের একে অপরের ওপর কিছু সাধারণ অধিকার রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এই পাওনা রাখেন যে, আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করব এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না। আর এটিই হলো তাওহীদের মূল ভিত্তি, যা নিয়ে রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছিলেন।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো আমরা তাঁকে ছাড়া আর কাউকে ভয় করব না এবং তাঁকে ছাড়া আর কারও প্রতি তাকওয়া অবলম্বন করব না, যেমনটি আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে এবং আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই সফলকাম} (আন-নূর: ৫২)। এখানে তিনি আনুগত্যকে আল্লাহ ও রাসূলের জন্য একত্রে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ভীতি (খাশয়াত) ও তাকওয়াকে কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট করেছেন" (৩)।

--------------------------------------------

(১) . মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববীয়্যাহ ১/৪৮৩

(২) . দেখুন: মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববীয়্যাহ ২/৪৪৬, আত-তাদমুরিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৯৯, ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ২/৮২৬, মাজমুউল ফাতাওয়া ১/১৮১, ১০/৩৬

(৩) . ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ২/৮২৫, ৮২৬ = সংক্ষেপে
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ২৩)
5 - ذكر ابن تيمية: بعد إحدى المناظرات السابقة - أن " النصارى يفرحون بما يفعله أهل البدع والجهل من المسلمين مما يوافق دينهم، ويشابهونهم فيه، ويحبون أن يجعلوا رهبانهم مثل عبّاد المسلمين، وقسيسيهم مثل علماء المسلمين، فإن عقلاءهم لا ينكرون صحة دين الإسلام، بل يقولون: هذا طريق إلى الله، وهذا طريق إلى الله (1) . "

كما حذّر شيخ الإسلام وغلّظ من تسويغ اتباع النصرانية أو اليهودية، كما عليه أكثر اليهود والنصارى، والذين يرون دين المسلمين واليهود والنصارى بمنزلة المذاهب الأربعة في دين المسلمين، فتحدّث عن هذه المسألة في غير موضع (2) ، فقال: "ومعلوم بالاضطرار من دين المسلمين باتفاق جميع المسلمين أن من سوّغ غير دين الإسلام، أو اتباع شريعة غير شريعة محمد صلى الله عليه وسلم فهو كافر، وهو ككفر من آمن ببعض الكتاب، وكفر ببعض الكتاب " (3) .

6- أظهر شيخ الإٍسلام - في المناظرة الرابعة - تهافت قول النصارى في تشبيههم ظهور اللاهوت في الناسوت بظهور الروح في البدن، وما يلزمهم من التنقص لله عز وجل.

--------------------------------------------

(1) . مجموع فتاوى 17/ 462 = باختصار

(2) . انظر: الرد على المنطقيين ص 282، مجموع الفتاوى 17/ 463، 28/ 523.

(3) . مجموع الفتاوى 28/524
৫ - ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন: পূর্ববর্তী একটি বিতর্কের পর - যে "খ্রিস্টানরা মুসলিমদের মধ্যে বিদআতপন্থী ও মূর্খদের সেই সব কাজ দেখে আনন্দিত হয় যা তাদের ধর্মের সাথে মিলে যায় এবং যাতে তারা তাদের সদৃশ হয়। তারা তাদের সন্ন্যাসীদের মুসলিম ইবাদতগুজারদের মতো এবং তাদের পাদ্রিদের মুসলিম আলেমদের মতো গণ্য করতে পছন্দ করে। কারণ তাদের বুদ্ধিমানরা ইসলাম ধর্মের সত্যতাকে অস্বীকার করে না, বরং তারা বলে: এটিও আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর একটি পথ, আর ওটিও আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর একটি পথ (১)।"

অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম খ্রিস্টধর্ম বা ইহুদিধর্ম অনুসরণকে বৈধ সাব্যস্ত করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং কঠোরতা অবলম্বন করেছেন, যেমনটা অধিকাংশ ইহুদি ও খ্রিস্টান এবং যারা মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ধর্মকে মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত চারটি মাযহাবের মর্যাদায় দেখে থাকে। তিনি বিভিন্ন স্থানে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন (২), এবং বলেছেন: "সকল মুসলিমের ঐকমত্যে এবং ইসলামের দ্বীন থেকে অকাট্যভাবে জানা যায় যে, যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম অথবা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীয়ত ছাড়া অন্য কোনো শরীয়ত অনুসরণ করা বৈধ মনে করবে, সে কাফির। তার কুফরি সেই ব্যক্তির মতো যে কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করে এবং কিছু অংশ অস্বীকার করে (৩)।"

৬- শাইখুল ইসলাম - চতুর্থ বিতর্কে - খ্রিস্টানদের সেই বক্তব্যের অসারতা প্রকাশ করেছেন যেখানে তারা লাহুত (ঐশ্বরিক সত্তা) এর নাসুত (মানব সত্তা)-এর মধ্যে প্রকাশ পাওয়াকে দেহের মধ্যে আত্মার প্রকাশ পাওয়ার সাথে তুলনা করেছে এবং এর ফলে মহান আল্লাহর যে মর্যাদাহানি ঘটে তা তুলে ধরেছেন।

--------------------------------------------

(১) . মাজমুউল ফাতাওয়া ১৭/ ৪৬২ = সংক্ষেপিত

(২) . দেখুন: আর-রাদ্দু আলাল মানতিকিয়্যিন পৃ. ২৮২, মাজমুউল ফাতাওয়া ১৭/ ৪৬৩, ২৮/ ৫২৩।

(৩) . মাজমুউল ফাতাওয়া ২৮/৫২৪
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ২৪)
كما كشف ابن تيمية ذاك التناقض الصريح عند النصراني عند ما زعم أن الروح لا يلحقها ألم، مع أنه مقرّ بأن أرواح الكفار في ألم وعذاب، كما هو عند النصارى (1) .

وهذه المناظرة غيض من فيض في تناقض النصارى واضطرابهم.

ورحم الله ابن حزم (2)

إذ يقول في وصفهم: " ولولا أن الله تعالى وصف قولهم في كتابه إذ يقول: {لَّقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُواْ إِنَّ اللهَ ثَالِثُ ثَلَاثَةٍ} (سورة المائدة: 73) لما انطلق لسان مؤمن بحكاية هذا القول العظيم الشنيع.. وتالله لولا أننا شاهدنا النصارى، ما صدقنا أن في العالم عقلاً يسع هذا الجنون " (3) .

وقال ابن تيمية في هذا الشأن: " قال طائفة من العقلاء: إن عامة مقالات الناس يمكن تصورها إلا مقالة النصارى، وذلك أن الذين وضعوها لم يتصوروا ما قالوا، بل تكلموا بجهل، وجمعوا في كلامهم بين النقيضين، ولهذا قال بعضهم: لو اجتمع عشرة نصارى لتفرقوا عن أحد عشر قولاً (4) "

--------------------------------------------

(1) . انظر: اليوم الآخر بين اليهودية والمسيحية والإسلام لفرج الله عبد الباري ص 97

(2) . هو أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد الظاهري الأندلسي، فقيه حافظ، وأديب، وزير، صاحب التصانيف المشهورة، توفي سنة 456 هـ.

 

انظر: سير أعلام النبلاء 18/184، وشذرات الذهب 3/ 299.

(3) . الفصل 1/111، 112 = باختصار

(4) . الجواب الصحيح 2/ 155، وانظر: إغاثة اللهفان لابن القيم 2/ 400، 414
যেমন ইবনে তাইমিয়া খ্রিস্টানদের মাঝে বিদ্যমান সেই স্পষ্ট বৈপরীত্য উন্মোচন করেছেন যখন তারা দাবি করেছে যে আত্মা কোনো ব্যথা অনুভব করে না, অথচ তারা এটি স্বীকার করে যে কাফেরদের আত্মা ব্যথা ও যন্ত্রণার মধ্যে থাকে, যেমনটি খ্রিস্টানদের নিকট প্রচলিত (১)।

আর এই মুনাজারা বা বিতর্কটি খ্রিস্টানদের বৈপরীত্য এবং বিভ্রান্তির সাগরের একটি বিন্দু মাত্র।

এবং আল্লাহ ইবনে হাজম (২)-এর ওপর রহম করুন।

যখন তিনি তাদের বর্ণনায় বলেন: "আর যদি মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাদের উক্তি বর্ণনা না করতেন যখন তিনি বলেন: {নিশ্চয়ই তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে যে, আল্লাহ তিনজনের তৃতীয় জন} (সূরা আল-মায়িদাহ: ৭৩), তবে কোনো মুমিনের জিহ্বা এই জঘন্য ও গুরুতর উক্তিটি বর্ণনা করতে চলত না। আল্লাহর কসম! আমরা যদি খ্রিস্টানদের সচক্ষে না দেখতাম, তবে আমরা বিশ্বাসই করতাম না যে পৃথিবীতে এমন কোনো বিবেক থাকতে পারে যা এই উন্মাদনাকে ধারণ করে" (৩)।

এবং ইবনে তাইমিয়া এই বিষয়ে বলেছেন: "একদল বুদ্ধিমান লোক বলেছেন: মানুষের সাধারণ সকল বক্তব্যই কল্পনা বা উপলব্ধি করা সম্ভব, কেবল খ্রিস্টানদের বক্তব্য ছাড়া; আর এর কারণ হলো যারা এটি তৈরি করেছে তারা নিজেরা কী বলছে তা উপলব্ধি করতে পারেনি, বরং তারা মূর্খতাবশত কথা বলেছে এবং তাদের কথার মধ্যে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়কে একত্র করেছে। এই কারণেই তাদের কেউ কেউ বলেছেন: যদি দশজন খ্রিস্টান একত্র হয়, তবে তারা এগারোটি মত নিয়ে পৃথক হবে (৪)।"

--------------------------------------------

(১) . দেখুন: ফারাজুল্লাহ আব্দুল বারী রচিত 'আল-ইয়াওমুল আখির বাইনাল ইয়াহুদিয়্যাহ ওয়াল মাসিহিয়্যাহ ওয়াল ইসলাম', পৃষ্ঠা ৯৭।

(২) . তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ আজ-জাহিরি আল-আন্দালুসি; ফকিহ, হাফিজ, সাহিত্যিক ও উজির; বিখ্যাত বহু গ্রন্থের রচয়িতা, মৃত্যু ৪৫৬ হিজরি।

 

দেখুন: সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১৮/১৮৪, এবং শাজারাতুজ জাহাব ৩/২৯৯।

(৩) . আল-ফাসাল ১/১১১, ১১২ = সংক্ষেপে।

(৪) . আল-জওয়াবুস সহিহ ২/১৫৫, এবং দেখুন: ইবনুল কায়্যিম রচিত ইগাসাতুল লাহফান ২/৪০০, ৪১৪।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌2- مناظرات ابن تيمية لأهل الاتحاد ووحدة الوجود:

عني شيخ الإسلام بمناظرات أهل الاتحاد ووحدة الوجود عناية ظاهرة، كما امتحن وأوذي بسببهم، فحكى مناظراته المتعددة لهم، وأوردها مختصرة في مواطن، وبسطها في مواطن أخرى، وسنورد - بعد التتبع والاستقراء - جملة من تلك المناظرات كما صاغها شيخ الإسلام، وذلك على النحو الآتي:

أ) المناظرة الأولى: يقول شيخ الإسلام: "وقد كان عندنا بدمشق الشيخ المشهور الذي يقال له ابن هود، وكان من أعظم من رأيناه من هؤلاء الاتحادية زهداً ومعرفة، وكان أصحابه يعتقدون فيه أنه الله، وأنه - أعنى ابن هود (1) - هو المسيح بن مريم، ويقولون: إن أمه كان اسمها مريم، وكانت نصرانية، ويعتقدون أن قول النبي صلى الله عليه وسلم "ينزل فيكم ابن مريم " (2) هو هذا وأن روحانية عيسى تنزل عليه.

وقد ناظرني في ذلك من كان أفضل الناس إذ ذاك معرفة بالعلوم

--------------------------------------------

(1) . ابن هود هو حسن بن علي المغربي الأندلسي، متصوف فيلسوف، له صلة باليهود، صاحب شطح وذهول، هلك سنة 699هـ.

انظر، شذرات الذهب 5/446، والأعلام 2/203.

(2) . أخرجه البخاري ك الأنبياء ح (3448، ومسلم ك الإيمان ح (242) .
২- ইত্তিহাদ এবং ওয়াহদাতুল ওজুদপন্থীদের সাথে ইবনে তাইমিয়্যার বিতর্কসমূহ:

শাইখুল ইসলাম ইত্তিহাদ (স্রষ্টা ও সৃষ্টির অভিন্নতা) এবং ওয়াহদাতুল ওজুদ (সর্বেশ্বরবাদ) পন্থীদের সাথে বিতর্কের প্রতি সুস্পষ্ট গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের কারণে তিনি পরীক্ষিত ও নির্যাতিতও হয়েছেন। তিনি তাদের সাথে তার বহুমুখী বিতর্কের কথা বর্ণনা করেছেন; কোথাও সংক্ষেপে আবার কোথাও বিস্তারিতভাবে তা উল্লেখ করেছেন। অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর আমরা শাইখুল ইসলামের ভাষায় সেই বিতর্কগুলোর একটি অংশ নিম্নে উপস্থাপন করব:

ক) প্রথম বিতর্ক: শাইখুল ইসলাম বলেন: "দামেস্কে আমাদের নিকট ইবনে হুদ নামে পরিচিত একজন প্রসিদ্ধ শাইখ ছিলেন। এই ইত্তিহাদপন্থীদের মধ্যে আমরা যাদের দেখেছি, তাদের মধ্যে দুনিয়াবিমুখতা ও মারেফাতের দিক থেকে তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তার অনুসারীরা তার সম্পর্কে বিশ্বাস করত যে তিনি স্বয়ং আল্লাহ, এবং তিনি—অর্থাৎ ইবনে হুদ (১)—হলেন মসীহ ইবনে মারয়াম। তারা বলত: তার মায়ের নাম ছিল মারয়াম এবং তিনি খ্রিস্টান ছিলেন। তারা আরও বিশ্বাস করত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী 'তোমাদের মধ্যে মারয়াম তনয় অবতীর্ণ হবেন' (২) বলতে তাকেই বোঝানো হয়েছে এবং ঈসার রূহানিয়ত তার ওপর অবতীর্ণ হয়।"

আর এ বিষয়ে আমার সাথে এমন এক ব্যক্তি বিতর্ক করেছিলেন, যিনি সে সময় জ্ঞান-বিজ্ঞানের জানাশোনার দিক থেকে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হুদ হলেন হাসান বিন আলী আল-মাগরিবি আল-আন্দালুসি, একজন সুফি দার্শনিক, ইহুদিদের সাথে তার সম্পর্ক ছিল, তিনি শাতাহ (উদ্ভট কথাবার্তা) ও মোহগ্রস্ততার অধিকারী ছিলেন, ৬৯৯ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

দেখুন, শাজারাতুজ জাহাব ৫/৪৪৬ এবং আল-আ'লাম ২/২০৩।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, আম্বিয়া অধ্যায়, হাদিস নং ৩৪৪৮; এবং মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, হাদিস নং ২৪২।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ২৬)
الفلسفية وغيرها، مع دخوله في الزهد والتصوف، وجرى لهم في ذلك مخاطبات ومناظرات يطول ذكرها جرت بيني وبينهم، حتى بيّنت لهم فساد دعواهم بالأحاديث الصحيحة الواردة في نزول عيسى بن مريم، وأن ذلك الوصف لا ينطبق على هذا، وبيّنت فساد ما دخلوا فيه من القرمطة، حتى ظهرت مباهلتهم وحلفت لهم أن ما ينتظرونه من هذه لا يكون ولا يتم، وأن الله لا يتم أمر هذا الشيخ، فأبر الله تلك الأقسام، والحمد لله رب العالمين، هذا مع تعظيمهم لي بمعرفتي عندهم، وإلا فهم يعتقدون أن سائر الناس محجوبون جهال بحقيقتهم وغوامضهم، حتى قال لي شيخ مشهور من شيوخهم لما بيّنت له حقيقة قولهم، فأخذ يستحسن ويعظم معرفتي بقولهم، وقال: هؤلاء الفقهاء صم بكم عمي فهم لا يعقلون، فقلت له: هب أن الفقهاء كذلك أبالله أهذا القول موافق لدين الإسلام؟

وقال لي بعض من كان يصدق هؤلاء الاتحادية ثم رجع عن ذلك، فكان من أفضل الناس وأكابرهم، ما المانع من أن يظهر الله في صورة بشر؟ والنبي صلى الله عليه وسلم يقول في الدجال " إنه أعور (1) ، وإن ربكم ليس بأعور " فلولا جواز ظهوره في هذه الصورة لما احتاج إلى هذا في كلام له.. فبيّنت له امتناع ذلك من وجوه، وتكلمت معه في ذلك بكلام طال عهدي به، لستُ أضبطه الآن، حتى تبيّن له بطلان ذلك، وذكرتُ له أن هذا الحديث

--------------------------------------------

(1) . أخرجه البخاري ك الفتن ح (7127) ، ومسلم ك الإيمان ح (2933) .
দার্শনিক এবং অন্যান্য বিষয়, সেই সাথে তার যুহদ ও তাসাউউফে প্রবেশ; এই বিষয়ে তাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে যা বর্ণনা করা দীর্ঘসাধ্য এবং তা আমার ও তাদের মাঝে সংঘটিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আমি তাদের কাছে ঈসা ইবনে মারিয়ামের অবতরণ সংক্রান্ত সহীহ হাদীসসমূহের মাধ্যমে তাদের দাবির অসারতা প্রমাণ করলাম এবং দেখালাম যে, সেই বর্ণনাগুলো এই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আমি তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী কারমাতি মতবাদের ভ্রষ্টতাও স্পষ্ট করলাম। একপর্যায়ে তাদের পক্ষ থেকে মুবাহালার বিষয়টি সামনে এল এবং আমি তাদের উদ্দেশ্যে শপথ করে বললাম যে, তারা যা কিছুর প্রতীক্ষা করছে তা কখনো হবে না এবং সফলও হবে না; আর আল্লাহ এই শাইখের বিষয়টি পূর্ণ করবেন না। আল্লাহ আমার সেই শপথগুলো সত্যে পরিণত করেছেন, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। অথচ আমার জ্ঞান সম্পর্কে তাদের নিকট কদর থাকায় তারা আমাকে অনেক সম্মান করত; অন্যথায় তাদের বিশ্বাস হলো যে, সাধারণ মানুষ তাদের হাকীকত ও রহস্যময় বিষয়গুলো সম্পর্কে অজ্ঞ ও পর্দার অন্তরালে আবৃত। এমনকি তাদের জনৈক প্রসিদ্ধ শাইখ, যখন আমি তার কাছে তাদের মতবাদের প্রকৃত রূপ তুলে ধরলাম, তখন সে আমার জ্ঞানের প্রশংসা ও সমাদর করতে লাগল এবং বলল: 'এই ফকীহরা তো বধির, বোবা ও অন্ধ; তারা কিছুই বোঝে না।' আমি তাকে বললাম: 'ধরে নিলাম ফকীহরা এমনই, কিন্তু আল্লাহর কসম, আপনার এই কথা কি ইসলাম ধর্মের সাথে সংগতিপূর্ণ?'

এবং আমাকে এমন এক ব্যক্তি বলেছিলেন—যিনি আগে এই ইত্তিহাদী (সর্বেশ্বরবাদী) মতবাদে বিশ্বাস করতেন কিন্তু পরে তা থেকে ফিরে এসেছেন এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত শ্রেষ্ঠ ও পদমর্যাদাশীল ব্যক্তিদের একজন—যে, আল্লাহ মানুষের আকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করবেন তাতে বাধা কোথায়? অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাজ্জাল সম্পর্কে বলেছেন, "নিশ্চয়ই সে একচক্ষু বিশিষ্ট, আর তোমাদের প্রতিপালক একচক্ষু বিশিষ্ট নন।" যদি এই আকৃতিতে তাঁর প্রকাশ পাওয়া বৈধ বা সম্ভব হতো, তবে তিনি তাঁর বাণীতে এটি উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করতেন না...। তখন আমি বিভিন্ন দিক থেকে এর অসম্ভাব্যতা তার নিকট স্পষ্ট করলাম এবং তার সাথে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলো যা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় এখন হুবহু স্মরণে নেই, তবে শেষ পর্যন্ত তার নিকট এর অসারতা স্পষ্ট হয়েছিল। আমি তাকে আরও উল্লেখ করেছিলাম যে, এই হাদীসটি

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী, ফিতনা অধ্যায়, হাদীস নং ৭১২৭ এবং মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, হাদীস নং ২৯৩৩-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ২৭)
لا حجة فيه، والله سبحانه قد بيّن عبودية المسيح وكفر من ادعى فيه الإلهية (1) .

ب) المناظرة الثانية: وسطّر شيخ الإسلام مناظرة أخرى مع أهل وحدة الوجود فقال: "ولما اجتمع بي بعض حذّاقهم، وعنده أن هذا المذهب هو غاية التحقيق الذي ينتهي إليه الأكملون من الخلق، ولا يفهمه إلا خواصهم، وذكر أن الإحاطة هو الوجود المطلق. قلت له: فأنتم تثبتون أمركم على القوانين المنطقية، ومن المعروف في قوانين المنطق أن المطلق لا يوجد في الخارج مطلقاً، بل لا يوجد إلا معيناً، فلا يكون الوجود المطلق موجوداً في الخارج، فبُهت، ثم أخذ يفتش لعلّه يظفر بجواب، فقال: نستثني الوجود المطلق من الكليات، فقلت له: غُلبت، وضحكتُ لظهور فساد كلامه.

وذلك أن القانون المذكور لو فرّق فيه بين مطلق ومطلق لفسد القانون، ولأن هذا فرق بمجرد الدعوى والتحكم، ولأن ما في القانون صحيح في نفسه وإن لم يقولوه، وهو يعم كل مطلق (2) .

"وقال لي رجل من أعيانهم: بلغنا أنك ترد على الشيخ عبد الحق (3) ، نحن نقول إن الناس ما يفهمون كلامه، فإن كنت تشرحه

--------------------------------------------

(1) . السبعينية (بغية المرتاد) ص 520، 521 = باختصار

(2) . الصفدية 1/296.

(3) . وهو ابن سبعين.
এতে কোনো প্রমাণ নেই, এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মাসীহ-এর দাসত্ব এবং তাঁর মধ্যে যারা উপাস্য হওয়ার দাবি করে তাদের কুফরি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন (১)।

খ) দ্বিতীয় বিতর্ক: শায়খুল ইসলাম ওয়াহদাতুল উজুদ (অস্তিত্বের অদ্বৈতবাদ) পন্থীদের সাথে আরও একটি বিতর্কের কথা লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন: "যখন তাদের একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি আমার সাথে সাক্ষাত করলেন—যার কাছে এই মতবাদটিই ছিল পরম সত্যের সেই চরম অনুসন্ধান যাতে সৃষ্টির মধ্য থেকে কেবল পরিপূর্ণ ব্যক্তিবর্গই উপনীত হন এবং যা কেবল তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গই অনুধাবন করেন—এবং তিনি উল্লেখ করলেন যে, ‘পরিবেষ্টন’ (ইহাতা) হলো নিরঙ্কুশ অস্তিত্ব। আমি তাকে বললাম: তোমরা তো তোমাদের বিষয়টি যৌক্তিক নিয়মের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত করো, অথচ যুক্তিবিদ্যার নীতিমালায় এটি সুবিদিত যে, নিরঙ্কুশ কোনো বিষয় বাস্তব জগতে নিরঙ্কুশভাবে বিদ্যমান থাকে না; বরং তা কেবল নির্ধারিত রূপেই বিদ্যমান থাকে। সুতরাং নিরঙ্কুশ অস্তিত্ব বাস্তব জগতে বিদ্যমান হতে পারে না। তখন তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন এবং উত্তরের সন্ধানে ব্যস্ত হলেন যাতে সম্ভবত কোনো উত্তর খুঁজে পান। এরপর তিনি বললেন: আমরা নিরঙ্কুশ অস্তিত্বকে সার্বিক বিষয়াবলী (কুল্লিয়াত) থেকে ব্যতিক্রম ধরছি। আমি তাকে বললাম: আপনি পরাজিত হয়েছেন। এবং আমি তার কথার অসারতা স্পষ্ট হওয়ার কারণে হাসলাম।

আর এর কারণ হলো, উল্লিখিত নীতিমালায় যদি এক নিরঙ্কুশ এবং অন্য নিরঙ্কুশের মধ্যে পার্থক্য করা হতো, তবে সেই নীতিটিই নষ্ট হয়ে যেত। আর যেহেতু এটি কেবল নিছক দাবি ও খামখেয়ালিপূৰ্ণ পার্থক্য এবং যেহেতু নীতিমালায় যা আছে তা স্বতসিদ্ধভাবে সত্য যদিও তারা তা না বলুক, আর এটি প্রতিটি নিরঙ্কুশ বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য (২)।

"তাদের এক বিশিষ্ট ব্যক্তি আমাকে বললেন: আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনি শায়খ আব্দুল হকের (৩) প্রতিবাদ করছেন। আমরা বলি যে মানুষ তার কথা বোঝে না। সুতরাং আপনি যদি তা ব্যাখ্যা করতেন—

--------------------------------------------

(১) আস-সাবঈনিয়্যাহ (বুগইয়াতুল মুরতাদ), পৃষ্ঠা ৫২০, ৫২১ = সংক্ষেপে।

(২) আস-সাফাদিয়্যাহ ১/২৯৬।

(৩) তিনি হলেন ইবনে সাবঈন।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ২৮)
لنا وبيّن فساده قبلناه وإلا فلا.

فقلت له: نعم، أنا أبيّن لك مراده من كتبه كالبُد والإحاطة والفقرية (1) وغير ذلك.

فقال: عندنا الكتاب الخاص الذي يسمى "لوح الأصالة" وهو سر السر، وهو الذي نطلب بيانه، ولم أكن رأيته، فذهب وجاء به، ففسرته له حتى تبين مراده، وكتب أسئلة سألني عنها تكلمت فيها على أصل قولهم، وقول ابن عربي وابن سيناء ومن ضاهى هؤلاء، وبينت له أن أصل قولهم يرجع إلى الوجود المطلق، ثم بيّنت له أن المطلق لا يكون إلا في الأذهان لا في الأعيان، وكان له فضيلة، فلما تبيّن له ذلك أخذ يصنف في الرّد عليهم، وذهب إلى شيخ كبير منهم فقال له: بلغني أنك جرى بينك وبين فلان كلام، قال: نعم، قال: أي شيء قال لك؟ قال: فقال لي: آخر أمركم ينتهي إلى الوجود المطلق، قال: جيد، قال: بأي شيء يرد ذلك؟ قال: المطلق إنما هو في الأذهان لا في الأعيان، فقال: أخرب بيوتنا وقلع أصولنا " (2)

--------------------------------------------

(1) . كتاب البدُ وهو كتاب بد العارف لابن سبعين، وهو مطبوع بتحقيق د. جورج، كما حققه عبد الرحمن بدوي، والإحاطة إحدى رسائل ابن سبعين، وقد طُبعت ضمن رسائل ابن سبعين بتحقيق عبد الرحمن بدوي، والرسالة الفقرية ولوح الأصالة من رسائل ابن سبعين أيضاً.

انظر: النبوات لابن تيمية 1/ 399، الوحدة المطلقة عند ابن سبعين لمحمد ياسر شرف ص 35-38.

(2) . الصفدية 1/ 302، 303، وانظر: النبوات 1/ 398 - 401
...আমাদের কাছে এবং তার অসারতা স্পষ্ট করেন, তবে আমরা তা গ্রহণ করব, অন্যথায় নয়।

আমি তাকে বললাম: হ্যাঁ, আমি তার গ্রন্থসমূহ যেমন আল-বুদ, আল-ইহাতা, আল-ফাকরিয়্যাহ (১) ও অন্যান্য কিতাব থেকে আপনার কাছে তার উদ্দেশ্য বর্ণনা করছি।

সে বলল: আমাদের কাছে একটি বিশেষ কিতাব আছে যার নাম "লাওহুল আসালাহ", এটি হলো রহস্যের রহস্য, আর আমরা এটিরই ব্যাখ্যা চাইছি। আমি ইতিপূর্বে সেটি দেখিনি, তাই সে গিয়ে সেটি নিয়ে এল। আমি তার কাছে সেটি ব্যাখ্যা করলাম যাতে তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়। সে কিছু প্রশ্ন লিখল যা সে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, আমি সেখানে তাদের মতবাদের মূল ভিত্তি এবং ইবনে আরাবী, ইবনে সিনা ও তাদের সমমনাদের বক্তব্যের ওপর আলোচনা করলাম। আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম যে, তাদের বক্তব্যের মূল ভিত্তি "পরম অস্তিত্বের" দিকে ফিরে যায়। এরপর আমি তাকে স্পষ্ট করে দিলাম যে, "পরম" বা "অপেক্ষাতীত" বিষয়টি কেবল মানসপটেই সম্ভব, বাস্তব জগতে নয়। তার মেধা ও যোগ্যতা ছিল, ফলে যখন বিষয়টি তার কাছে স্পষ্ট হলো, তখন সে তাদের মতবাদ খণ্ডন করে গ্রন্থ রচনা করতে শুরু করল। সে তাদের এক বড় শাইখের কাছে গেল, তখন শাইখ তাকে বললেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আপনার ও অমুক ব্যক্তির মধ্যে কিছু আলোচনা হয়েছে। সে বলল: হ্যাঁ। শাইখ বললেন: সে আপনাকে কী বলেছে? সে বলল: সে আমাকে বলেছে যে, তোমাদের মূল বিষয়টি শেষ পর্যন্ত "পরম অস্তিত্বে" গিয়ে পৌঁছে। শাইখ বললেন: চমৎকার। এরপর শাইখ বললেন: সে কোন যুক্তিতে এটি খণ্ডন করে? সে বলল: (সে বলে) পরম বা নিরঙ্কুশ বিষয়টি কেবল মানসপটেই থাকে, বাস্তব জগতে নয়। তখন শাইখ বললেন: সে আমাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে এবং আমাদের শিকড় উপড়ে ফেলেছে। (২)

--------------------------------------------

(১) আল-বুদ কিতাবটি হলো ইবনে সাবয়িনের "বুদ আল-আরিফ", যা ডক্টর জর্জের তাহকীকে মুদ্রিত হয়েছে, যেমনটি আব্দুর রহমান বাদাওয়ীও তাহকীক করেছেন। আল-ইহাতা ইবনে সাবয়িনের একটি রিসালাহ, যা আব্দুর রহমান বাদাওয়ীর তাহকীকে ইবনে সাবয়িনের রিসালাহসমূহের মধ্যে মুদ্রিত হয়েছে। আর-রিসালাহ আল-ফাকরিয়্যাহ এবং লাওহুল আসালাহ-ও ইবনে সাবয়িনের রিসালাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

দেখুন: ইবনে তাইমিয়্যাহর আন-নুবুওয়াত ১/৩৯৯, মুহাম্মদ ইয়াসির শরাফ রচিত আল-ওয়াহদাতুল মুতলাক ইনদা ইবনে সাবয়িন, পৃষ্ঠা ৩৫-৩৮।

(২) আস-সাফাদিয়্যাহ ১/৩০২, ৩০৩; এবং দেখুন: আন-নুবুওয়াত ১/৩৯৮-৪০১।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأضاف شيخ الإسلام - في مصنف آخر - قائلاً: (1)

"وسألني هذا عما يحتجون به من الحديث مثل الحديث المذكور في العقل (2) ، ومثل حديث: كنتُ كنزاً لا أعرف فأحببتُ أن أعرف وغير ذلك؟ فكتبتُ جواباً مبسوطاً، وذكرتُ أنّ هذه الأحاديث موضوعة (3) "

جـ) المناظرة الثالثة: ومن مناظراته ومخاطباته لشيوخ تلك الطائفة ما حكاه قائلاً:

" وقد خاطبني مرة شيخ من هؤلاء، وكان ممن يظن أن الحلاّج (4)

قال: "أنا الحق " لكونه كان في هذا التوحيد، فقال: الفرق بين فرعون والحلاّج أن فرعون قال: {فَقَالَ أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى} (سورة النازعات: 24) وهو يشير إلى نفسه، وأما الحلاج فكان فانياً عن نفسه، والحق نطق على لسانه، فقلت له: أفصار الحق في قلب الحلاج ينطق على لسانه، كما ينطق الجني على لسان المصروع.

وهو سبحانه بائن عن قلب الحلاج وغيره من المخلوقات، فقلب الحلاج أو غيره كيف يسع ذات الحق؟ ثم الجنّي يدخل في جسد الإنسان، لا يكون الجني في قلبه فقط، فإن القلب كل ما قام به فإنما هو عرض من

--------------------------------------------

(1) . يعنى الحديث الموضوع: "أول ما خلق الله العقل.. الخ " وانظر تفصيل الكلام عن هذا الحديث في السبعينية ص 171 - 182، والصفدية 1/233.

(2) . النبوات 1/ 402.

(3) . هو الحسين بن منصور الحلاّج، نشأ بتستر وخالط الصوفية وزعم أن الله حل فيه، فأمر الخليفة المقتدر بصلبه وقتله سنة 309 هـ.

 

انظر: تاريخ بغداد 8/112-141، سير أعلام النبلاء 14/313 - 354.

(4)
শাইখুল ইসলাম - অন্য একটি গ্রন্থে - আরও বলেছেন: (১)

"আর এই ব্যক্তি আমাকে ঐ সকল হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যা দ্বারা তারা দলিল পেশ করে থাকে; যেমন আকল (বিবেক) সম্পর্কিত উল্লিখিত হাদিস (২) এবং সেই হাদিস: 'আমি ছিলাম একটি লুকায়িত ভাণ্ডার যা পরিচিত ছিল না, অতঃপর আমি পরিচিত হতে পছন্দ করলাম' ইত্যাদি? তখন আমি একটি বিস্তারিত উত্তর লিখেছি এবং উল্লেখ করেছি যে, এই হাদিসগুলো বানোয়াট (৩)।"

গ) তৃতীয় মুনাজারা (বিতর্ক): সেই দলের শায়খদের সাথে তাঁর বিতর্ক ও কথোপকথনের মধ্যে অন্যতম হলো যা তিনি বর্ণনা করেছেন এই বলে:

"একবার তাদের মধ্য হতে জনৈক শায়খ আমাকে সম্বোধন করেন, যিনি ধারণা করতেন যে হাল্লাজ (৪)

বলেছিলেন: 'আমিই সত্য', কারণ তিনি এই তাওহীদের (অদ্বৈতবাদের) স্তরে ছিলেন। তিনি বললেন: ফেরাউন ও হাল্লাজের মধ্যে পার্থক্য হলো, ফেরাউন বলেছিল: {অতঃপর সে বলল: আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিপালক} (সূরা আন-নাজিআত: ২৪) এবং সে নিজের প্রতি ইঙ্গিত করেছিল। পক্ষান্তরে হাল্লাজ নিজের আমিত্ব থেকে বিলীন (ফানা) হয়ে গিয়েছিলেন এবং সত্য (আল্লাহ) তাঁর জিহ্বা দিয়ে কথা বলছিলেন। আমি তাকে বললাম: তাহলে কি সত্য (আল্লাহ) হাল্লাজের অন্তরে প্রবেশ করেছেন এবং তাঁর জিহ্বা দিয়ে কথা বলছেন, যেমনভাবে জ্বিন মৃগী রোগীর জিহ্বা দিয়ে কথা বলে?

অথচ তিনি (আল্লাহ) সুবহানাহু হাল্লাজের অন্তর এবং অন্যান্য মাখলুক থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। সুতরাং হাল্লাজের অন্তর বা অন্য কারও অন্তর কীভাবে আল্লাহর সত্তাকে ধারণ করতে পারে? তাছাড়া, জ্বিন মানুষের দেহের ভেতর প্রবেশ করে, জ্বিন শুধুমাত্র তার অন্তরে থাকে না; আর অন্তরে যা কিছু বিদ্যমান থাকে তা হলো কেবল এক একটি গুনাগুণ যা...

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ বানোয়াট হাদিস: "আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো আকল (বিবেক)..." ইত্যাদি। এই হাদিস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন: আস-সাবয়িনিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৭১-১৮২ এবং আস-সাফাদিয়্যাহ ১/২৩৩।

(২) . আন-নুবুওয়াত ১/৪০২।

(৩) . তিনি হলেন হুসাইন ইবনে মানসুর আল-হাল্লাজ। তিনি তুস্তারে লালিত-পালিত হন এবং সুফিদের সাথে মেলামেশা করেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে আল্লাহ তাঁর মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছেন (হুলুল)। অতঃপর খলিফা আল-মুক্তাদির ৩০৯ হিজরিতে তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করার নির্দেশ দেন।

 

দেখুন: তারিখু বাগদাদ ৮/১১২-১৪১, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/৩১৩-৩৫৪।

(৪)
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ৩০)
الأعراض، ليس شيئاً موجوداً قائماً بنفسه..

وهؤلاء قد يدّعون أن ذات الحق قامت بقلبه فقط، فهذا يستحيل في حق المخلوق فكيف بالخالق جل جلاله؟ (1) .

د) المناظرة الرابعة: ودّون شيخ الإسلام مناظرة رابعة مع الاتحادية فقال: "وقد خاطبني مرة شيخ من شيوخ هؤلاء الضلال، لما قدم التتار آخر قدماتهم، وكنت أحرض الناس على جهادهم، فقال لي هذا الشيخ: أقاتل الله؟ فقلت له: هؤلاء التتار هم الله، وهم من شر الخلق؟ هؤلاء خارجون عن دين الله، وإن قدر أنهم كما يقولون فالذي يقاتلهم هو الله، ويكون الله يقاتل الله؟ وقول هذا الشيخ لازم هذا وأمثاله (2) ".

بالنظر إلى تلك المناظرات وملابسات وقوعها وما يلحق بها، تظهر الأمور الآتية:

1- اهتم شيخ الإسلام بمناظرة أهل وحدة الوجود، وقرر بطلان مذهبهم في عدة مصنفات، نظراً لعظم محنتهم، وتفاقم شأنهم، كما أوضحه بقوله:

"ولهذا لما وقعت محنة هؤلاء بمصر والشام، وأظهروا مذهب الجهمية الذي هو شعارهم في الظاهر، وكتموا مذهب الاتحادية الذي هو حقيقة تجهمهم، وأضلوا بعض ولاة الأمور حتى يرفعوا

--------------------------------------------

(1) . منهاج السنة النبوية 5/378، 379 = باختصار يسير

(2) . الرد على البكري ص 191، وانظر مجموع الفتاوى 2/309.
গুণাবলী বা আপতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ, যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অস্তিত্বশীল কোনো বিষয় নয়..

এবং তারা হয়তো দাবি করে যে, মহান সত্যের (আল্লাহর) সত্তা কেবল তার অন্তরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; অথচ এটি তো সৃষ্টির ক্ষেত্রেই অসম্ভব, তাহলে মহান স্রষ্টা—যাঁর মহিমা অতি উচ্চ—তাঁর ক্ষেত্রে কীভাবে সম্ভব হতে পারে? (১)।

ঘ) চতুর্থ বিতর্ক: শাইখুল ইসলাম ইত্তিহাদিয়্যাহ (সর্বেশ্বরবাদী) সম্প্রদায়ের সাথে একটি চতুর্থ বিতর্কের কথা লিপিবদ্ধ করে বলেন: "একবার এই পথভ্রষ্টদের একজন শাইখ আমাকে সম্বোধন করেছিলেন, যখন তাতাররা তাদের শেষ অভিযানে এসেছিল এবং আমি মানুষকে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করছিলাম। তখন সেই শাইখ আমাকে বললেন: আমি কি আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করব? তখন আমি তাকে বললাম: এই তাতাররা কি আল্লাহ, অথচ তারা সৃষ্টির মাঝে নিকৃষ্টতম? এরা তো আল্লাহর দ্বীন থেকে বহিষ্কৃত। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে বিষয়টি তেমনই যেমনটি তারা দাবি করে (যে সবকিছুই আল্লাহ), তবে যে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে সেও তো আল্লাহ; তাহলে কি আল্লাহ আল্লাহর সাথেই যুদ্ধ করছেন? এই শাইখের বক্তব্য এবং এই জাতীয় মতবাদের অপরিহার্য পরিণতি এমনই হয়ে থাকে (২)।"

এই বিতর্কসমূহ, সেগুলোর প্রেক্ষাপট এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করলে নিচের বিষয়গুলো ফুটে ওঠে:

১- শাইখুল ইসলাম ওয়াহদাতুল উজুদপন্থীদের (অদ্বৈতবাদী) সাথে বিতর্কের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং তাদের ফেতনার ভয়াবহতা ও তাদের প্রভাব বৃদ্ধির কারণে অনেকগুলো গ্রন্থে তাদের মতবাদের অসারতা সাব্যস্ত করেছেন, যা তিনি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন:

"এই কারণেই যখন মিশর ও সিরিয়ায় এদের ফেতনা ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তারা জাহমিয়া মতবাদ প্রকাশ করেছিল যা ছিল বাহ্যিকভাবে তাদের স্লোগান, আর তারা ইত্তিহাদিয়া মতবাদ গোপন রেখেছিল যা ছিল তাদের জাহমিয়্যাতের প্রকৃত রূপ; এবং তারা শাসনকর্তাদের কাউকে কাউকে বিভ্রান্ত করেছিল যাতে তারা মর্যাদা লাভ করতে পারে...

--------------------------------------------

(১) . মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ ৫/৩৭৮, ৩৭৯ = সামান্য সংক্ষেপিত।

(২) . আর-রাদ্দু আলাল বাকরি পৃষ্ঠা ১৯১, এবং দেখুন মাজমু' আল-ফাতাওয়া ২/৩০৯।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ৩১)
إخوانهم، ويهينوا من خالفهم، وصار كل من كان إلى الإسلام أقرب، أقصوه وعزلوه وخفضوه، وكل من كان عن الإسلام أبعد رفعوه، حتى رفعوا شخصاً كان نصرانياً وصّيروه بعد الإسلام سبعينياً" (1) فرفعوا درجته حتى جعلوا لا يصل إلى أحد رزق، ولا ولاية إلا بخطه، هنالك ابتلى المؤمنون وزلزلوا زلزالاً شديداً، حتى أزال الله كلمتهم عن المسلمين، وأذلهم بعد العز، وأهلك من أهلك منهم، وكشف أسرارهم وهتك أستارهم (2) .

وذكر شيخ الإسلام - في موضع آخر - أن ما جرى للمؤمنين مع أولئك الاتحادية هي أشهر المحن الواقعة في الإسلام (3) .

2- بيّن ابن تيمية شناعة كفرهم، وكشف عن زندقتهم - في مواطن كثيرة - فكان مما قاله: "وأما ما جاء به هؤلاء من الاتحاد العام، فما علمتُ أحداً سبقهم إليه إلا من أنكر وجود الصانع، مثل فرعون والقرامطة، وذلك أن حقيقة أمرهم أنهم يرون أن عين وجود الحق هو عين وجود الخلق، وأن وجود ذات الله خالق السموات والأرض، هي نفس وجود المخلوقات، فلا يتصور عندهم أن يكون الله تعالى خلق غيره، ولا أنه

--------------------------------------------

(1) . على طريقة ابن سبعين، وهو عبد الحق الرقوطي، اشتغل بالفلسفة فأصابه إلحاد، وجاور بغار حراء راجياً النبوة، هلك عام 669هـ انظر البداية والنهاية 13/61، وشذرات الذهب 5/ 329.

(2) . الصفدية 1/ 271، 272 = باختصار يسير

(3) . انظر السبعينية ص 527
...তাদের ভাইদের, এবং যারা তাদের বিরোধিতা করত তাদের লাঞ্ছিত করত। যারা ইসলামের যত বেশি নিকটবর্তী ছিল, তারা তাদের তত বেশি দূরে ঠেলে দিত, পদচ্যুত করত এবং অবনমিত করত। আর যারা ইসলাম থেকে যত বেশি দূরে ছিল, তারা তাদের তত বেশি উচ্চাসনে বসাত। এমনকি তারা এমন এক ব্যক্তিকে উচ্চমর্যাদা দান করেছিল যে পূর্বে খ্রিষ্টান ছিল এবং ইসলাম গ্রহণের পর 'সাবইনি' পন্থী হয়েছিল (১)। তারা তার মর্যাদা এত বৃদ্ধি করেছিল যে, তার স্বাক্ষর ব্যতীত কারো কাছে কোনো রিজিক বা প্রশাসনিক পদ পৌঁছাত না। সেখানে মুমিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিলেন এবং তীব্রভাবে প্রকম্পিত হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ মুসলমানদের ওপর থেকে তাদের কর্তৃত্ব অপসারণ করেন, সম্মানের পর তাদের লাঞ্ছিত করেন, তাদের মধ্যে যাদের ধ্বংস করার তাদের ধ্বংস করেন এবং তাদের গোপন রহস্য উন্মোচন ও পর্দা ফাঁস করে দেন (২)।

শায়খুল ইসলাম অন্য এক স্থানে উল্লেখ করেছেন যে, সেই ইত্তিহাদিয়াদের (সর্বেশ্বরবাদী) দ্বারা মুমিনদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল, তা ইসলামে সংঘটিত সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বিপদসমূহের অন্তর্ভুক্ত (৩)।

২- ইবনে তাইমিয়্যাহ তাদের কুফরির জঘন্যতা স্পষ্ট করেছেন এবং অনেক স্থানে তাদের ধর্মহীনতা ফাঁস করে দিয়েছেন। তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে রয়েছে: "আর এই লোকেরা যে 'সাধারণ ইত্তিহাদ' বা সর্বেশ্বরবাদের মতবাদ নিয়ে এসেছে, ফেরাউন ও কারামাতিদের মতো যারা স্রষ্টার অস্তিত্ব অস্বীকার করে তারা ব্যতীত অন্য কেউ তাদের আগে এই মতবাদ নিয়ে এসেছে বলে আমার জানা নেই। এর কারণ হলো তাদের প্রকৃত অবস্থা এই যে, তারা মনে করে হকের (আল্লাহর) অস্তিত্বই হলো সৃষ্টির অস্তিত্ব। আসমান ও জমিনের স্রষ্টা আল্লাহর সত্তাগত অস্তিত্বই হলো মাখলুকাতের অস্তিত্ব। ফলে তাদের নিকট এমনটি কল্পনাও করা যায় না যে, আল্লাহ তাআলা অন্য কিছু সৃষ্টি করেছেন, কিংবা তিনি..."

--------------------------------------------

(১) . ইবনে সাবইনের পথ অনুসারী; তিনি হলেন আব্দুল হক আল-রুকুতি। তিনি দর্শন নিয়ে চর্চা করতেন ফলে নাস্তিক্যবাদে আক্রান্ত হন। নবুওয়াতের আশায় হেরা গুহায় অবস্থান করেছিলেন। তিনি ৬৬৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/৬১, এবং শাযারাতুয যাহাব ৫/৩২৯।

(২) . আস-সাফাদিয়্যাহ ১/২৭১, ২৭২ = সামান্য সংক্ষেপিত।

(৩) . দেখুন: আস-সাবইনিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৫২৭।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ লি-আহলিল মিলাল ওয়ান নিহাল (পৃষ্ঠা: ৩২)
رب العالمين.. " (1) .

إلى أن قال: " وكنت أخاطب بكشف أمرهم لبعض الفضلاء الضالين، وأقول إن حقيقة أمرهم هو حقيقة قول فرعون، المنكر لوجود الخالق الصانع، حتى حدثني بعض عن كثير من كبرائهم أنهم يعترفون ويقولون نحن على قول فرعون. " (2) .

وقال في موضع آخر: " فإن هؤلاء حقيقة قولهم تعطيل الصانع، وأنه ليس وراء الأفلاك شيء، فلو عدمت السموات والأرض لما يكن ثمّ شيء موجود، ولهذا كان يصرح بذلك التلمساني، وهو كان أعرفهم بقولهم وأكملهم تحقيقاً له، ولهذا خرج إلى الإباحة والفجور، وكان لا يحرّم الفواحش ولا المنكرات، ولا الكفر والفسوق والعصيان.

وحدثني الثقة الذي رجع عنهم لما انكشفت له أسرارهم أنه قرأ عليه، "فصوص الحكم " لابن عربي، قال: فقلت له: هذا الكلام يخالف القرآن. فقال القرآن كله شرك، وإنما التوحيد في كلامنا (3) .

ومعلوم أن أصول الإيمان ثلاثة: الإيمان بالله ورسله واليوم الآخر، وهم ألحدوا في الأصول الثلاثة، أما الإيمان بالله فجعلوا وجود المخلوق هو وجود الخالق، وهذا غاية التعطيل، وأما الإيمان باليوم الآخر، فادعى

--------------------------------------------

(1) . مجموع الفتاوى 2/ 466

(2) . مجموع الفتاوى 2/ 468

(3) . انظر: مجموع الفتاوى 2/ 127
বিশ্বজগতের প্রতিপালক... (১) .

তিনি আরও বলেছেন: "আমি এই বিভ্রান্ত পন্ডিতদের কাছে তাদের আসল রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে সম্বোধন করতাম এবং বলতাম যে, তাদের প্রকৃত অবস্থা হলো ফেরাউনের কথার অনুরূপ, যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করেছিল। এমনকি তাদের বড়দের মধ্য থেকে কেউ কেউ আমাকে বলেছে যে তারা স্বীকার করে এবং বলে যে তারা ফেরাউনের মতবাদের ওপর রয়েছে।" (২) .

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: "নিশ্চয়ই এদের কথার সারমর্ম হলো সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা এবং আসমানসমূহের ওপারে কিছুই নেই বলে বিশ্বাস করা। ফলে যদি আসমান ও জমিন ধ্বংস হয়ে যায়, তবে সেখানে অস্তিত্বশীল কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এ কারণেই তিলিমসানি এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতেন, আর তিনি তাদের মতবাদ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত ছিলেন এবং তা নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতেন। একারণেই তিনি অবাধ যৌনাচার ও পাপাচারের দিকে ধাবিত হয়েছিলেন এবং অশ্লীলতা, অপকর্ম, কুফরি, ফাসিকি ও অবাধ্যতাকে হারাম গণ্য করতেন না।

এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, যিনি তাদের থেকে ফিরে এসেছেন যখন তাদের রহস্যগুলো তার কাছে উন্মোচিত হয়েছিল, তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে তিনি তার কাছে ইবনুল আরাবির 'ফুসুসুল হিকাম' পাঠ করেছিলেন। তিনি বলেন: আমি তাকে বললাম, এই কথাগুলো তো কুরআনের বিরোধী। তখন সে বলল, কুরআন পুরোটাই শিরক, আর তাওহিদ কেবল আমাদের কথার মধ্যেই রয়েছে (৩) .

এটা সর্বজনবিদিত যে ঈমানের মূল ভিত্তি তিনটি: আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর রাসুলগণের প্রতি ঈমান এবং পরকালের প্রতি ঈমান। আর তারা এই তিনটি ভিত্তির ক্ষেত্রেই ধর্মদ্রোহিতা করেছে। আল্লাহর প্রতি ঈমানের বিষয়ে তারা সৃষ্টির অস্তিত্বকেই স্রষ্টার অস্তিত্ব বানিয়ে ফেলেছে, যা চরম পর্যায়ের অস্বীকার (তা'তীল)। আর পরকালের প্রতি ঈমানের বিষয়ে সে দাবি করল...

--------------------------------------------

(১) . মাজমু আল-ফাতাওয়া ২/ ৪৬৬

(২) . মাজমু আল-ফাতাওয়া ২/ ৪৬৮

(৩) . দেখুন: মাজমু আল-ফাতাওয়া ২/ ১২৭