(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: -)
رسائل فلسفية للرازي   (محمد بن زكريا الرازي)

القسم: علوم أخرى


الكتاب: رسائل فلسفية

المؤلف: أبو بكر، محمد بن زكريا الرازي (ت 313هـ)

تحقيق: لجنة إحياء التراث العربي في دار الآفاق الجديدة

الناشر: دار الآفاق الجديدة، بيروت

الطبعة: الخامسة، 1402 هـ - 1982 م

عدد الصفحات: 138

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আর-রাজির দার্শনিক পত্রাবলি   (মুহাম্মাদ ইবনে জাকারিয়া আর-রাজি)

বিভাগ: অন্যান্য বিজ্ঞান


বই: দার্শনিক পত্রাবলি

লেখক: আবু বকর, মুহাম্মাদ ইবনে জাকারিয়া আর-রাজি (মৃত্যু ৩১৩ হিজরি)

সম্পাদনা: দারুল আ ফাক আল-জাদিদাহ-এর আরবি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন কমিটি

প্রকাশক: দারুল আ ফাক আল-জাদিদাহ, বৈরুত

সংস্করণ: পঞ্চম, ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৮

[বইটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌كتاب الطب الروحاني

‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

قال محمد بن زكريا الرازي: أكمل الله للأمير السعادة وأتم علية النعمة. جرى بحضرة الأمير - أطال الله بقاءه - ذكر مقالة عملتُها في إصلاح الأخلاق سألنها بعض اخوتي بمدينة السلام أيام مُقامي بها، فأمر سيدي الأمير - أيده الله - بإنشاء كتاب يحتوي على جُمَل هذا المعنى بغاية الاختصار والإيجاز وأن أسمه بالطب الروحاني، فيكون قريناً للكتاب المنصوري الذي غرضه في الطب الجسماني وعديلاً له، لِما قدر-أدام إليه من عموم النفع وشموله للنفس والجسد. فانتهيتُ إلى ذلك وقدمته على سائر شغلي، والله أسأل التوفيق لِما يُرضي سيدي الأمير ويقرب إليه ويُدني منه.
আধ্যাত্মিক চিকিৎসা গ্রন্থ

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া আল-রাজি বলেন: আল্লাহ আমিরের জন্য সৌভাগ্য পূর্ণ করুন এবং তাঁর প্রতি নেয়ামত সম্পূর্ণ করুন। আমিরের উপস্থিতিতে—আল্লাহ তাঁর দীর্ঘায়ু করুন—চরিত্র সংশোধনের বিষয়ে আমার রচিত একটি প্রবন্ধের কথা আলোচিত হয়েছিল, যা মদিনাতুস সালামে (বাগদাদ) অবস্থানকালে আমার জনৈক ভাই আমার নিকট প্রার্থনা করেছিলেন। অতঃপর আমার নেতা আমির—আল্লাহ তাঁকে শক্তিশালী করুন—নির্দেশ প্রদান করেছেন এমন একটি গ্রন্থ রচনা করতে যা অত্যন্ত সংক্ষিপ্তসার ও সংক্ষেপের সাথে এই বিষয়ের মূল কথাগুলো ধারণ করবে এবং যার নামকরণ করা হবে 'আধ্যাত্মিক চিকিৎসা' নামে। যেন এটি শারীরিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য রচিত 'কিতাবুল মানসুরি'র সহচর ও সমতুল্য হতে পারে; কারণ তিনি—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা অটুট রাখুন—এর সাধারণ উপকারিতা এবং আত্মা ও শরীরের প্রতি এর ব্যাপকতা অনুধাবন করেছেন। সুতরাং আমি এই কার্যে মনোনিবেশ করেছি এবং আমার অন্য সকল কাজের ওপর একে প্রাধান্য দিয়েছি। আর আমি আল্লাহর নিকট সেই তাওফিক প্রার্থনা করছি যা আমার নেতা আমিরকে সন্তুষ্ট করবে এবং তাঁর নিকটবর্তী করবে।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقد فصلت هذا الكتاب عشرين فصلاً: الأول‌‌ في فضل العقل ومدحه الثاني‌‌ في قمع الهوى وردعه ‌‌وجملة من رأي أفلاطون الحكيم الثالث جملة قُدمت قبل ذكر عوارض النفس الرديئة على انفرادها الرابع في تعرف الرجل عيوب نفسة الخامس في دفع العشق والألف وجملة من الكلام في اللذة السادس في دفع العُجب السابع في دفع الحسد الثامن في دفع المفرط الضار من الغضب
আমি এই গ্রন্থটিকে বিশটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি: প্রথম‌‌ বুদ্ধির শ্রেষ্ঠত্ব ও তার প্রশংসায় দ্বিতীয়‌‌ কুপ্রবৃত্তি দমন ও তা প্রতিরোধে ‌‌এবং প্রজ্ঞাবান আফলাতুনের মতামতের সারাংশ তৃতীয়: নফসের মন্দ বৈশিষ্ট্যসমূহ আলাদাভাবে উল্লেখ করার পূর্বে উপস্থাপিত একটি সারসংক্ষেপ চতুর্থ: ব্যক্তির নিজের নফসের দোষত্রুটি চেনার বিষয়ে পঞ্চম: ইশ্ক ও আসক্তি দূর করা এবং স্বাদ বা তৃপ্তি প্রসঙ্গে কিছু আলোচনা ষষ্ঠ: আত্মমুগ্ধতা দূর করার বিষয়ে সপ্তম: হিংসা দূর করার বিষয়ে অষ্টম: ক্রোধের ক্ষতিকর আধিক্য দূর করার বিষয়ে
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ১৭)
التاسع في اطراح الكذب العاشر في اطراح البخل الحادي عشر في دفع الفضل الضار من الفكر والهم الثاني عشر في صرف الغم الثالث عشر في دفع الشَرَه الرابع عشر في دفع الانهماك في الشراب الخامس عشر في دفع الاستهتار بالجماع السادس عشر في دفع الولع والعبث والمذهب السابع عشر في مقدار الاكتساب والاقتناء والإنفاق الثامن عشر في المجاهدة والمكادحة على طلب الرُتَب والمنازل الدنيائية والفرق بين ما يُرى الهوى وبين ما يُرى العقل التاسع عشر في السيرة الفاضلة العشرون في الخوف من الموت

 

‌‌الفصل الأول

في فضل العقل ومدحه

أقول: إن البارئ عز اسمه إنما أعطانا العقل وحبانا به لننال ونبلغ به من المنافع العاجلة والآجلة غاية ما في جوهرِ مِثلنا نيلُه وبلوغه، وإنه أعظم نِعَم الله
নবম: মিথ্যা বর্জন সম্পর্কে। দশম: কৃপণতা বর্জন সম্পর্কে। একাদশ: চিন্তা ও উদ্বেগের ক্ষতিকর আধিক্য দূর করা সম্পর্কে। দ্বাদশ: দুঃখ বিমোচন সম্পর্কে। ত্রয়োদশ: লালসা দূর করা সম্পর্কে। চতুর্দশ: মদ্যপানে নিমগ্নতা দূর করা সম্পর্কে। পঞ্চদশ: সহবাসে বেপরোয়া ভাব দূর করা সম্পর্কে। ষোড়শ: আসক্তি, অনর্থক কাজ এবং সংকীর্ণ মতাদর্শ দূর করা সম্পর্কে। সপ্তদশ: উপার্জন, সঞ্চয় এবং ব্যয়ের পরিমাণ সম্পর্কে। অষ্টাদশ: পার্থিব মর্যাদা ও সোপান লাভের জন্য কঠোর সাধনা ও প্রচেষ্টা এবং প্রবৃত্তি যা দেখে আর বিবেক যা দেখে তার মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে। উনবিংশ: পুণ্যময় জীবনচরিত সম্পর্কে। বিংশ: মৃত্যুর ভয় সম্পর্কে।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

বিবেকের ফযিলত ও এর প্রশংসা প্রসঙ্গে

আমি বলছি: নিশ্চয়ই স্রষ্টা—যাঁঁর নাম মহিমান্বিত—আমাদেরকে বিবেক দান করেছেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের ধন্য করেছেন যাতে আমরা এর দ্বারা ইহকালীন ও পরকালীন এমন সব কল্যাণ ও চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি যা আমাদের মতো সৃষ্টির সত্তাগত সামর্থ্যের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব; আর এটি আল্লাহর মহানতম নেয়ামত।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ১৮)
عندنا وأنفع الأشياء لنا وأجدها علينا. فبالعقل فُضلنا على الحيوان غير الناطق حتى ملكناها وسُسناها وذللناها وصرفناها في الوجوه العائدةِ منافعُها علينا، وبالعقل أدركنا جميع ما يرفعنا ويُحسن ويطيب به عيشنا ونصل إلى بغيتنا ومرادنا. فأنا بالعقل أدركنا صناعة السُفُن واستعمالها حتى وصلنا بها إلى ما قطع وحال البحر دوننا ودونه، وبه نلنا الطب الذي فيه الكثير من مصالح أجسادنا وسائر الصناعات العائدة علينا النافعة لنا، وبه أدركنا الأمور الغامضة البعيدة منا الخفية المستورة عنا، وبه عرفنا شكل الأرض والفلك وعظم الشمس والقمر وسائر الكواكب وأبعادها وحركتها، وبه وصلنا إلى معرفة البارئ عز وجل الذي هو أعظم ما استدركنا وأنفع ما أصبنا. وبالجملة فإنه الشيء الذي لولاه كانت حالتنا حالة البهائم والأطفال والمجانين، والذي به نتصور أفعالنا العقلية قبل ظهورها للحس فنراها كأن قد أحسسناها ثم نتمثل بأفعالنا الحسية صورها فتظهر مطابقة لِما تمثلناه وتخيلناه منها. وإذا كان هذا مقداره ومحله وخطره وجلالته فحقيق علينا أن لا نحطّه عن رتبته ولا ننّزله عن درجته، ولا نجعله وهو الحاكم محكوماً عليه، ولا وهو الزمام مزموماً، ولا وهو المتبوع تابعاً، بل نرجع الأمور إليه ونعتبرها به ونعتمد فيها عليه، فنُمضيها على إمضائه ونوقفها على إيقافه، ولا نسّلط عليه الهوى الذي هو آفتهُ ومكدِّره

আমাদের নিকট অত্যন্ত মূল্যবান এবং আমাদের জন্য সবচেয়ে উপকারী ও ফলপ্রসূ বিষয়। বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমেই আমরা বাকশক্তিহীন প্রাণীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছি, যার ফলে আমরা তাদের মালিক হতে পেরেছি, তাদের পরিচালনা করতে পেরেছি, তাদের অনুগত করতে পেরেছি এবং এমন সব ক্ষেত্রে তাদের নিয়োগ করতে পেরেছি যেখান থেকে আমাদের জন্য উপকার বয়ে আনে। আর বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমেই আমরা এমন সবকিছু অনুধাবন করেছি যা আমাদের মর্যাদাকে সমুন্নত করে এবং যার দ্বারা আমাদের জীবন সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন হয় এবং আমরা আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জন করতে পারি। সুতরাং বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমেই আমরা জাহাজ নির্মাণের শিল্প এবং এর ব্যবহার সম্পর্কে অবগত হয়েছি, যার ফলে আমরা সেই সব স্থানে পৌঁছাতে পেরেছি যেখান থেকে সমুদ্র আমাদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। আর এরই মাধ্যমে আমরা চিকিৎসাশাস্ত্র আয়ত্ত করেছি যাতে আমাদের শরীরের জন্য প্রচুর কল্যাণ নিহিত রয়েছে, এবং এর মাধ্যমে অন্যান্য সকল শিল্পকলাও অর্জন করেছি যা আমাদের জন্য হিতকর ও উপকারী। এর মাধ্যমেই আমরা সেই সব জটিল, দূরবর্তী এবং প্রচ্ছন্ন বিষয়াদি উপলব্ধি করতে পেরেছি যা আমাদের নিকট থেকে লুকায়িত ছিল। এর মাধ্যমেই আমরা পৃথিবীর আকৃতি, আকাশমণ্ডল, সূর্য ও চন্দ্রের বিশালতা এবং অন্যান্য সমস্ত নক্ষত্ররাজি, তাদের দূরত্ব ও গতিবিধি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। আর এরই মাধ্যমে আমরা মহান স্রষ্টা আয্যা ওয়া জাল্লা-র পরিচয় লাভে সক্ষম হয়েছি, যা আমাদের অর্জিত বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আমাদের প্রাপ্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উপকারী। সারসংক্ষেপ হলো, এটি এমন একটি সম্পদ যা না থাকলে আমাদের অবস্থা হতো চতুষ্পদ জন্তু, শিশু এবং উন্মাদদের ন্যায়। আর এর মাধ্যমেই আমরা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজগুলো ইন্দ্রিয়গোচর হওয়ার আগেই কল্পনা করতে পারি, ফলে আমরা সেগুলোকে এমনভাবে দেখি যেন আমরা তা অনুভব করছি। এরপর আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কাজের মাধ্যমে সেই চিত্রগুলোকে বাস্তব রূপ দান করি, ফলে সেগুলো আমাদের কল্পনা ও ভাবনার সাথে হুবহু মিলে যায়। যখন বুদ্ধিবৃত্তির মাহাত্ম্য, গুরুত্ব, মর্যাদা ও গাম্ভীর্য এই পর্যায়ে, তখন আমাদের কর্তব্য হলো একে তার মর্যাদা থেকে নিচে নামিয়ে না দেওয়া এবং তার স্তরকে হীন না করা। একে শাসক হওয়া সত্ত্বেও শাসিত করা উচিত নয়, লাগাম হওয়া সত্ত্বেও একে বলগাবদ্ধ করা উচিত নয় এবং একে অনুসরণীয় হওয়া সত্ত্বেও অনুসারী বানানো সমীচীন নয়। বরং আমরা সমস্ত বিষয়কে এর দিকেই ফিরিয়ে দেব, একেই মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করব এবং সব বিষয়ে এর ওপরই নির্ভর করব। এর অনুমোদনেই আমরা কাজ সম্পাদন করব এবং এর নিষেধে আমরা বিরত থাকব। আর আমরা এর ওপর প্রবৃত্তিকে আধিপত্য বিস্তার করতে দেব না, যা এর জন্য আপদস্বরূপ এবং যা একে কলুষিত করে।

(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ১৯)
والحائد به عن سنَنَه ومحجّته وقصده واستقامته، والمانع من أن يصيب به العاقل رشده وما فيه عواقب أمره، بل نروضه ونذللهُ ونحمِله ونجبره على الوقوف عند أمره ونهيه. فإنّا إذا فعلنا ذلك صفا لنا غايةَ صفائه وأضاء لنا غايةَ إضاءته وبلغ بنا نهايةَ قَصْدِ بلوغنا به. وكنا سعداء بما وهب الله لنا منه ومنّ علينا به.
আর যা তাকে তার পথ, তার রাজপথ, তার লক্ষ্য ও তার ঋজুতা থেকে বিচ্যুতকারী, এবং যা বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে এর মাধ্যমে তার সঠিক দিশা ও বিষয়ের পরিণামসমূহ লাভে প্রতিবন্ধক; বরং আমরা একে বশ করব, একে অনুগত করব, একে পরিচালিত করব এবং আল্লাহর আদেশ ও নিষেধের সীমারেখায় অবস্থান করতে বাধ্য করব। কেননা আমরা যদি তা করি, তবে এটি আমাদের জন্য চরম স্বচ্ছতায় স্বচ্ছ হয়ে যাবে, আমাদের নিকট তার পূর্ণ দীপ্তিতে উদ্ভাসিত হবে এবং এর মাধ্যমে আমাদেরকে আমাদের গন্তব্যের শেষ সীমায় পৌঁছে দেবে। আর আল্লাহ আমাদের এর মধ্য থেকে যা দান করেছেন এবং আমাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন, তজ্জন্য আমরা সৌভাগ্যবান হব।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌الفصل الثاني

في قمع الهوى وردعه

وجملة من رأي أفلاطون الحكيم

أما على أثر ذلك فإنّا قائلون في الطب الروحاني الذي غايته إصلاح أخلاق النفس وموجزون غاية الإيجاز. والقصد والمبادرة إلى التعلق بالنكت والعيون والمعاني التي هي أصول جملة هذا الغرض كله. فنقول: إنا قد صدرنا وقدمنا من العقل والهوى ما رأينا أنه لجملة هذا الغرض كله بمنزلة المبدأ، ونحن متْبعوه من أصول هذا الشأن بأجْلها وأشرافها فنقول: إنّ أشرف الأصول وأجلها وأعونها على بلوغ غرض كتابنا هذا قمع الهوى ومخالفة ما يدعو إليه الطباع في أكثر الأحوال وتمرين النفس على ذلك وتدريجها إليه، فإن أول فضل الناس على البهائم هو هذا، أعنى ملكة الإرادة وإطلاق الفعل بعد الروية. وذلك أن البهائم غير المؤدبة واقفة عند ما يدعوها إليه الطباع عاملة به غير ممتنعة منه ولا مروَّية فيه. فإنك لا تجد بهيمةً غير مؤدبة تمسك عن أن تروث أو تتناول ما تتغذى به مع حضوره وحاجتها إليه، كما تجد الإنسان يترك ذلك ويقهر طباعه عليه لمعانٍ عقلية تدعوه إلى ذلك، بل تأتي منها ما يبعثها عليه الطباع غير ممتنعة منه ولا مختارة عليه. وهذا المقدار ونحوه من الفضل على البهيمة في زمّ الطبع هو لأكثر الناس وإن كان ذلك تأديبا وتعليما،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

প্রবৃত্তি দমন ও প্রতিরোধ প্রসঙ্গে

এবং দার্শনিক প্লেটোর কিছু অভিমত

অতঃপর, আমরা এখানে আধ্যাত্মিক চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করব যার উদ্দেশ্য হলো নফসের চারিত্রিক সংশোধন এবং আমরা তা অত্যন্ত সংক্ষেপে বর্ণনা করব। আমাদের লক্ষ্য হলো সেই সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ, সারনির্যাস ও অর্থগুলোর অবতারণা করা যা এই সামগ্রিক উদ্দেশ্যের মূল ভিত্তি। সুতরাং আমরা বলছি: ইতিপূর্বে আমরা আকল (বিবেক) ও হাওয়া (প্রবৃত্তি) সম্পর্কে এমন কিছু ভূমিকা পেশ করেছি যা এই সামগ্রিক উদ্দেশ্যের প্রারম্ভিক আলোচনার মর্যাদা রাখে। এখন আমরা এই শাস্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহান মূলনীতিগুলো একের পর এক বর্ণনা করব। আমরা বলছি: নিশ্চয়ই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ, মহান এবং আমাদের এই কিতাবের উদ্দেশ্য অর্জনে সর্বাধিক সহায়ক মূলনীতি হলো প্রবৃত্তি দমন করা এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বভাবজাত প্রবৃত্তি যা কিছুর দিকে আহ্বান করে তার বিরোধিতা করা, আর নফসকে এই অভ্যাসে অভ্যস্ত করা এবং পর্যায়ক্রমে তাকে সেদিকে ধাবিত করা। কেননা পশুদের ওপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের প্রথম সোপান হলো এটাই; অর্থাৎ ইচ্ছাশক্তি এবং গভীর চিন্তাভাবনার পর কর্মে লিপ্ত হওয়ার ক্ষমতা। কারণ, যে পশু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়, সে তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি যা চায় তার ওপরই স্থির থাকে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে; সে তা থেকে নিবৃত্ত হয় না এবং সে বিষয়ে কোনো চিন্তাভাবনাও করে না। আপনি কোনো অপ্রশিক্ষিত পশুকে দেখবেন না যে মলত্যাগ করা থেকে বিরত থাকছে কিংবা সামনে খাবার উপস্থিত থাকা ও ক্ষুধার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তা গ্রহণ করছে না; অথচ আপনি মানুষকে দেখবেন যে সে যৌক্তিক কারণে প্রবৃত্তি দমন করে তা বর্জন করছে। বরং পশু তা-ই করে যার দিকে স্বভাব তাকে তাড়িত করে, তা থেকে সে বিরত থাকে না এবং তার কোনো স্বাধীন নির্বাচন থাকে না। স্বভাবজাত প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে পশুর ওপর মানুষের এই পর্যায়ের শ্রেষ্ঠত্ব অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান, যদিও তা শাসন ও শিক্ষার মাধ্যমেই অর্জিত হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ২১)
إلا أنه عام وشامل وقريب واضح يعتاده الطفل وينشأُ عليه، ولا يحتاج إلى الكلام فيه، على أن في ذلك بين الأمم تفاضُلاً كثيراً وبوناً بعيداً. وأمّا البلوغ من هذه الفضيلة أقصى ما يتهيأ في طباع الإنسان فلا يكاد يكمله إلاّ الرجل الفيلسوف الفاضل. وبمقدار فضل العوامّ من الناس على البهائم في زمّ الطبع والملكة للهوى ينبغي أن يكون فضل هذا الرجل على العوامّ. ومن هاهنا نعلم أنّ مَن أراد أن يزين نفسة بهذه الزينة ويكمل لها هذه الفضيلة فقد رام أمراً صعباً شديداً ويحتاج أن يوطن نفسه على مجاهدة الهوى ومجادلته ومخالفته. ولأن بين الناس في طباعهم اختلافاً كثيراً وبوناً بعيداً صار يسهل أو يعسر على البعض دون البعض منهم اكتسابُ بعض الفضائل دون بعض واطراح بعض الرذائل دون بعض. وأنا مبتدئ بذكر كيفية اكتساب هذه الفضيلة - أعني قمع الهوى ومخالفته - إذ كانت أجلّ هذه الفضائل وأشرفها وكان محّلها من جملة هذا الغرض كلّه محلّ الاسطقس التالي للمبدأ.

فأقول: إنّ الهوى والطباع يدعوان أبداً إلى إتّباع اللذّات الحاضرة وإيثارها من غير فكر ولا رويّة في عاقبة ويحثّان عليه ويُعجلان إليه، وإن كان جالباً
তবে এটি সাধারণ, ব্যাপক, নিকটবর্তী এবং স্পষ্ট; শিশু এতে অভ্যস্ত হয় এবং এর ওপরই বেড়ে ওঠে, আর এ নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয় না। যদিও এ বিষয়ে জাতিসমূহের মধ্যে অনেক শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশাল ব্যবধান রয়েছে। আর এই গুণের ক্ষেত্রে মানুষের প্রকৃতিতে যতটুকু সম্ভব তার চরম সীমায় পৌঁছানো—একজন জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা পূর্ণ করতে পারে না। প্রবৃত্তিকে অবদমিত করার ক্ষেত্রে এবং প্রবৃত্তির তাড়নার ওপর আধিপত্য বিস্তারে সাধারণ মানুষের চতুষ্পদ জন্তুর ওপর যতটুকু শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে, সাধারণ মানুষের ওপর এই ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্বও ততটুকু হওয়া উচিত। এখান থেকেই আমরা জানতে পারি যে, যে ব্যক্তি নিজেকে এই অলঙ্কারে অলঙ্কৃত করতে এবং নিজের জন্য এই গুণটি পূর্ণ করতে চায়, সে একটি অত্যন্ত কঠিন ও গুরুতর বিষয়ের ইচ্ছা পোষণ করেছে। আর তার জন্য প্রয়োজন প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম, বিবাদ এবং তার বিরোধিতার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। যেহেতু মানুষের স্বভাবের মধ্যে অনেক পার্থক্য ও বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তাই কারো কারো জন্য নির্দিষ্ট কিছু গুণ অর্জন করা এবং নির্দিষ্ট কিছু মন্দ অভ্যাস ত্যাগ করা অন্যদের তুলনায় সহজ বা কঠিন হয়ে পড়ে। আর আমি এই গুণটি অর্জনের পদ্ধতি বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করছি—অর্থাৎ প্রবৃত্তিকে দমন ও তার বিরোধিতা করা—যেহেতু এটি এই গুণগুলোর মধ্যে মহান ও শ্রেষ্ঠ, এবং এই সামগ্রিক উদ্দেশ্যের মধ্যে এর স্থান হলো মূলনীতির ঠিক পরেই মৌলিক উপাদানের ন্যায়।

সুতরাং আমি বলছি: প্রবৃত্তি এবং প্রকৃতি সর্বদা উপস্থিত ভোগ-বিলাস অনুসরণ করতে এবং পরিণতির কথা চিন্তা ও বিবেচনা না করেই সেটিকে প্রাধান্য দিতে আহ্বান করে; তারা এর ওপর উৎসাহিত করে এবং এর দিকে ত্বরান্বিত করে, যদিও তা বয়ে আনে...
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ২২)
للألم من بعد ومانعاً من اللذّة ما هو أضعافٌ لِما تقدّم منها. وذلك أنهما لا يريان إلا حالتهما في الذي هما فيه لا غير، وليس بهما إلاّ إطّراح الألم المؤذي عنهما وقتَهما ذلك، كإثار الطفل الرَمِد حكَّ عينيه وأكلَ التمر واللعبَ في الشمس. ومن اجل ذلك يحقّ على العاقل أن يردعهما ويقمعهما ولا يُطلقهما إلاّ بعد التثبُّت والنظر فيما يُعقبانه ويمثّلَ ذلك ويزنَه ثم يتبعَ الأَرجح لئلاّ يألم من حيث ظنّ أنه يلّتذّ ويحسر من حيث ظنّ أنه يربح. فإن دخلت عليه من هذا التمثيل والموازنة شبهة لم يُطلق الشهوة لكن يقيم على ردعها ومنعها. وذلك أنه لا يأمن أن يكون في لإطلاقها من سوء العاقبة ما يكون إيلامه واحتمال مؤو نته أكثر من احتمال مؤونة الصبر على قمعها أضعافاً مضاعَفةً، فالحزم إذاً في منعها. وإن تكافأت عنده المؤونتان أقام أيضاً على ردعها، وذلك أنّ المرارة المتجرِّعة أهون وأيسر من المنتظَرة التي لابدّ من تجرُّعها على الأمر الأكثر. وليس يكتفي بهذا فقط بل ينبغي أن يقمع هواه في كثير من الأحوال - وإن لم ير لذلك عاقبةً مكروهةً - ليمرّن نفسه ويروضها على احتمال ذلك واعتياده فيكون ذلك عليها عند العواقب الرديئة أسهل، ولئلا تتمكن الشهوات منه وتتسلّط عليه. فإن لها من التمكّن في نفس الطبيعة والجبّلة ما لا يحتاج أن يُزاد فضل تمكّن فضل تمكنٍ بالعادة أيضاً فيصيرَ بحالٍ لا يمكن مقاومتُها بتّةً. وينبغي أن تعلم أن المؤثرين للشهوات المدمنين لها المنهمكين فيها يصيرون منها إلى حالة لا يلتذّونها ولا يستطيعون مع ذلك

...যা পরবর্তীতে যাতনার উদ্রেক করবে এবং লব্ধ উপভোগের চেয়ে বহুগুণ বেশি সুখলাভে অন্তরায় হবে। এর কারণ হলো, তারা (প্রবৃত্তি ও কামনা) সেই মুহূর্তের বর্তমান অবস্থা ব্যতীত অন্য কিছু দেখে না। তাদের লক্ষ্য কেবল সেই সময়ের কষ্টদায়ক যাতনাটুকু ঝেড়ে ফেলা; যেমনটি চোখ ওঠা রোগে আক্রান্ত শিশু তার চোখ চুলকানো, খেজুর খাওয়া এবং রোদে খেলাধুলা করাকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। একারণেই বিবেকবান ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো প্রবৃত্তিকে প্রতিহত ও দমন করা এবং পরিণতির বিষয়ে সুনিশ্চিত হওয়া ও চিন্তা-গবেষণা করা ব্যতীত একে মুক্ত না করা। তিনি বিষয়টিকে কল্পনা করবেন ও পরিমাপ করবেন, অতঃপর অধিকতর যুক্তিযুক্ত পথটি অনুসরণ করবেন; যাতে তিনি যেখান থেকে সুখের আশা করেছিলেন সেখান থেকে ব্যথিত না হন এবং যেখানে লাভের আশা করেছিলেন সেখানে আক্ষেপ না করেন। যদি এই তুলনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তার মনে কোনো সংশয় জাগে, তবে তিনি প্রবৃত্তিকে ছেড়ে দেবেন না, বরং একে প্রতিহত ও বাধা প্রদান করে যাবেন। কেননা, তিনি এতে নিরাপদ নন যে, প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার অশুভ পরিণতির যন্ত্রণা ও কষ্ট সহ্য করা, একে দমনের ধৈর্য ধারণের কষ্টের চেয়ে বহুগুণ বেশি হতে পারে। অতএব, বিচক্ষণতা একে বাধা প্রদানের মধ্যেই নিহিত। আর যদি উভয় কষ্ট তার নিকট সমান প্রতীয়মান হয়, তবে তখনও তিনি একে দমনে অটল থাকবেন। কেননা, বর্তমানে যে তিক্ততাটুকু পান করতে হচ্ছে তা সেই প্রতীক্ষিত তিক্ততার চেয়ে অধিকতর সহজ ও লঘু, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিবার্যভাবেই পান করতে হতো। কেবল এতটুকুতেই ক্ষান্ত হওয়া উচিত নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে তার কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা উচিত—যদিও তার কোনো মন্দ পরিণতি পরিলক্ষিত না হয়—যাতে তিনি নিজ আত্মাকে তা সহ্য করা এবং তাতে অভ্যস্ত হওয়ার প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা প্রদান করতে পারেন। ফলে মন্দ পরিণতির সময় তা সহ্য করা আত্মার জন্য সহজতর হবে এবং প্রবৃত্তিগুলো তার ওপর গেড়ে বসতে ও আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না। কারণ মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতি ও মজ্জার মাঝে প্রবৃত্তির শেকড় এতোটাই গভীর যে, অভ্যাসের মাধ্যমে একে অতিরিক্ত শক্তিশালী করার কোনো প্রয়োজন নেই। অন্যথায় এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হবে যখন একে প্রতিরোধ করা একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়বে। আপনার জেনে রাখা উচিত যে, যারা প্রবৃত্তিকে অগ্রাধিকার দেয়, এতে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং নিমজ্জিত থাকে, তাদের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তারা আর তা থেকে আনন্দ লাভ করে না, অথচ তা সত্ত্বেও তারা তা ত্যাগ করতে সক্ষম হয় না...

(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ২৩)
تركها فإنّ المدمنين لغشيان النساء وشرب الخمور والسماع - على أنها من أقوى الشهوات وأوكدها غرزاً في الطباع - لا يلتذونها التذاذَ غير المدمنين لها لأنها تصير عندهم بمنزلة حالةٍ عنده، أعني المألوفة المعتادة، ولا يتهيّأ لهم الإقلاع عنها لأنها قد صارَت عندهم بمنزلة الشيء الاضطراري في العيش لا بمنزلة ما هو فضل وتترُّفٌ. ويدخل عليهم من أجلها التقصير في دينهم ودنياهم حتى يُضطرّوا إلى استعمال صنوف الحِيَل واكتساب الأموال بالتغرير بالنفس وطرحها في المهالك، فإذا هم شقوا من حيث قدّروا السعادة واغتنّموا من حيث قدّروا الفرح وألموا من حيث قدروا اللذّة. وما أشبههم في هذا الموضع بالحاطب على نفسه الساعي في هلاكها، كالحيوان المخدوعة بما يُنصب لها في مصايدها، حتى إذا حصلت في المصيدة لم تنل ما خُدعت به ولا أطاقت التخلُّص ممّا وقعت فيه. وهذا المقدار من الشهوات مُقنع، وهو أن يُطلَق

তা পরিত্যাগ করা; কারণ যারা নারীসঙ্গ, মদ্যপান এবং গান শোনায় আসক্ত—যদিও এগুলো স্বভাবজাত প্রবৃত্তির মধ্যে সবচেয়ে প্রবল ও বদ্ধমূল লালসাগুলোর অন্তর্ভুক্ত—তারা সেগুলোর মাধ্যমে সেই স্বাদ আস্বাদন করতে পারে না যা অনাসক্ত ব্যক্তিরা লাভ করে। কারণ তাদের নিকট এগুলো এমন এক স্তরে পৌঁছে যায় যা নিতান্তই প্রাত্যহিক ও পরিচিত অভ্যাসের সমতুল্য। তাদের পক্ষে এগুলো বর্জন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, কেননা জীবনধারণের ক্ষেত্রে এগুলো তাদের নিকট কোনো অতিরিক্ত বিলাসিতা বা শখের পরিবর্তে একটি অপরিহার্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর এর কারণেই তাদের ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনযাত্রায় ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রবেশ করে, এমনকি তারা নানাবিধ ছলচাতুরী অবলম্বন করতে এবং নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে ও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অর্থ উপার্জন করতে বাধ্য হয়। ফলে তারা যেখান থেকে সুখের আশা করেছিল সেখান থেকেই দুর্ভাগ্যের শিকার হয়, যেখান থেকে আনন্দের প্রত্যাশা করেছিল সেখান থেকেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয় এবং যেখান থেকে তৃপ্তি লাভের কল্পনা করেছিল সেখান থেকেই যাতনা ভোগ করে। এই অবস্থায় তাদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মতো যে নিজের ধ্বংস সাধনে সচেষ্ট কাষ্ঠ সংগ্রাহক, অথবা সেই প্রবঞ্চিত পশুর মতো যাকে শিকার ধরার ফাঁদ পেতে প্রলুব্ধ করা হয়েছে; পরিশেষে যখন সে ফাঁদে আটকা পড়ে, তখন সে সেই বস্তুটিও পায় না যার দ্বারা তাকে প্রলোভন দেখানো হয়েছিল, আবার যে বিপদে সে নিপতিত হয়েছে তা থেকেও মুক্তি পাওয়ার সামর্থ্য তার থাকে না। কামনাবাসনার এই পরিমাণ বর্ণনাই যথেষ্ট, আর তা হলো একে অবাধ ছেড়ে দেওয়া...

(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ২৪)
منها ما عُلم أنّ عاقبتة لا تجلب ألَماً ولا ضَرَراً دنيائيٍّا موازياً للذّة المُصابة منها فضلاً عمّا تجلب ممّا يُوفى ويرجح على اللّذة التي أُصيبت في صدرها. وهذا يراه ويقول به ويوجب حمل النفس عليه مَن كان من الفلاسفة ل يرى أنّ للنفس وجوداً بذاتها، ويرى أنها تفسد بفساد الجسم الذي هي فيه. فأمّا مَن يرى أنّ للنفس أنيّةً وذاتاً مّا قائمة بنفسها وأنها تستعمل الجسم الذي لها بمنزلة الأداة والآلة وأنها لا تفسد بفساده فيرتقون من زمّ الطباع ومجاهدة الهوى ومخالفته إلى ما هو أكثر من هذا كثيراً جداً، ويرذلون ويستنقصون المنقادين له والمائلين معه تنقُّصاً شديداً ويحلّونهم محلّ البهائم، ويرون أنّ لهم - في اتّباع الهوى وإيثاره والميل مع اللذّات والحبّ لها والأسف على ما فات منها وإيلام الحيوان لبلوغها ونيلها - عواقبَ سوءٍ بعد مفارقة النفس للجسد يكثر ويطول لها ألمها وأسفها وحسرتها. وقد يستدل هؤلاء من نفس هيئة الإنسان على أنه لم يتهيّأ للشغل باللذّات والشهوات بل لاستعمال الفكر والرويّة من تقصيرة في ذلك عن الحيوان غير الناطق. وذلك أنّ البهيمة الواحدة تُصيب من لذّة المأكل والمنكح ما لا يصيبه ولا يقدر عليه عدد كثير من الناس. فأمّا حالها في سقوط الهّم والفكر عنها وهناءة عيشها وطيبها بذلك فحالة لا يصيب الإنسان ولا يقدر على مثالها بتّةً، وذلك أنها من هذا المعنى في الغاية والنهاية. فإنّا نرى البهيمة
এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা জানা গিয়েছে যে, এর পরিণাম এমন কোনো পার্থিব বেদনা বা ক্ষতি বয়ে আনে না যা তা থেকে অর্জিত তৃপ্তির সমতুল্য; বরং তা থেকে অর্জিত তৃপ্তির চেয়েও বেশি বা ভারী হতে পারে এমন কোনো ক্ষতি বয়ে আনা তো দূরের কথা। যেসব দার্শনিক মনে করেন যে আত্মার নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব নেই এবং যে দেহে সে অবস্থান করে তার বিনাশের সাথে আত্মারও বিনাশ ঘটে, তারা এই মত পোষণ করেন, এটিই বলেন এবং প্রবৃত্তিকে এর ওপর পরিচালিত করা আবশ্যক মনে করেন। পক্ষান্তরে, যারা মনে করেন যে আত্মার একটি নিজস্ব আমিত্ব ও সত্তা রয়েছে যা স্বয়ংসম্পূর্ণ, এবং এটি দেহকে একটি যন্ত্র বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং দেহের বিনাশে এটি বিনষ্ট হয় না; তারা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি দমন এবং নফসের খাহেশাতের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রে এর চেয়েও অনেক উচ্চতর স্তরে আরোহণ করেন। যারা প্রবৃত্তির অনুগামী ও তার প্রতি আসক্ত, তারা তাদের তীব্রভাবে ঘৃণা ও তুচ্ছজ্ঞান করেন এবং তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তুর স্তরে নামিয়ে দেন। তারা মনে করেন যে—প্রবৃত্তির অনুসরণ, তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, ভোগ-বিলাসের প্রতি ঝোঁক ও ভালোবাসা, না পাওয়া জিনিসের জন্য আক্ষেপ করা এবং লালসা চরিতার্থ করার জন্য প্রাণীকুলকে কষ্ট দেওয়ার কারণে—দেহ থেকে আত্মা বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাদের জন্য অত্যন্ত মন্দ পরিণাম রয়েছে, যার ফলে তাদের বেদনা, অনুশোচনা ও দীর্ঘস্থায়ী আক্ষেপ বৃদ্ধি পাবে। তারা মানুষের শারীরিক গঠন থেকেই এই প্রমাণ পেশ করেন যে, মানুষকে ভোগ-বিলাস ও কামনাবাসনায় মগ্ন থাকার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, বরং চিন্তা ও গবেষণায় আত্মনিয়োগ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে; কারণ এ জাতীয় ভোগ-বিলাসে মানুষ ইতর প্রাণীর তুলনায় অনেক পিছিয়ে। কারণ একটি পশু আহার ও মৈথুন থেকে যে পরিমাণ তৃপ্তি লাভ করে, বহু মানুষ মিলেও তা অর্জন করতে পারে না বা তার সামর্থ্য রাখে না। আর দুশ্চিন্তা ও ভাবনা থেকে মুক্ত থাকা এবং এর ফলে তাদের স্বাচ্ছন্দ্যময় ও প্রশান্ত জীবনযাপনের যে অবস্থা, তা কোনো মানুষ লাভ করতে পারে না এবং এর কোনো দৃষ্টান্তও স্থাপন করতে সক্ষম নয়। কেননা পশুরা এই দিক থেকে চরম ও চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। আমরা তো পশুকে দেখি যে...
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ২৫)
قد حضر وقت ذبحها وهي منهمكة مقبلة على مأكلها ومشربها. قالوا: فلو كانت إصابة الشهوات والميل مع دواعي

الطباع هو الأفضل لم يكن يُبخسُه الإنسان ويُعطاه ما هو أخس منه من الحيوان. وفي بخس الإنسان وهو أفضل الحيوان المائت حظَّه من هذه الأشياء وتوفر الحظ له من الروية والفكر ما يُعلم منه أن الأفضل له استعمال النطق وتزكيته لا الاستعباد والانقياد لدواعي الطباع قالوا: ولئن كان الفضل في إصابة اللذات والشهوات ليكونون من له الطباع المتهئ لذلك أفضل ممن ليس له ذلك، فإن كان كذلك فالثيران والحمير أفضل من الناس لا بل ومن الحيوان غير المائت كله ومن البارئ عز وجل إذ ليس بذى لذّة ولا شهوة قالوا: ولعل بعض الناس ممن لا رياضة له ولا يروِّى ولا يفكر في أمثال هذه المعاني لا يُسلِّم لنا أن البهائم تصيب من اللذّة أكثر مما يصيبه الناس. ويحتجّ علينا بمَلِكٍ ما ظفر بعدو منازع ثم جلس من وقته ذلك للهو واحتشد في إظهار جميع زينته وهيئته حتى بلغ من ذلك غاية ما يمكن الناس بلوغهُ، فيقول أين التذاذ البهيمة من التذاذ هذا وهل له عنده مقدار وله إليه نسبة؟ فليعلم قائل هذا أنّ كمال اللذّة ونقصانها ليس يكون بالإضافة من بعضها إلى بعض بل بالإضافة إلى مقدار الحاجة إليها. فإنّ مَن لا يُصلِح حاله إلاّ ألفُ دينار إن أُعطِيَ منها تسع مائة وتسعة وتسعين ديناراً لم يتم له صلاح حاله تلك. ومَن كان يُصلح حالَه الدينارُ الواحد يتم له صلاحُ حالته بإصابة ذلك الدينار الواحد، على أنّ الأوّل قد أُعطِيَ أضعاف هذا فلم يكمل له صلاح حالته. والبهيمة إذا تَوَفَّر عليها ما يدعوها إليه الطباع كمل وتمّ التذاذها بذلك، ولا يضرها ولا يؤلمها فوت ما وراء ذلك إذ كان لا يخطر لها ببال بتّةً. على أنّ للبهيمة فضل اللذّة أبداً على كل حال. وذلك أنه ليس أحد من الناس يقدر أن يبلغ كل أمانيه وشهواته، لأنّ نفسه لمّا كانت نفساً مفكرةً مروِّيةً متصوِّرةً للغائب عنه وكان في طباعها أن لا تكون لذي حال حالة إلاّ وتكون حالتها هي الأفضل، لا تخلو في حالة من الأحوال من التشوُّق والتطلُّع إلى ما لم تَحْوِه والخوف والإشفاق على ما قد حوته، فلا تزال لذلك في نقص من لذّتها وشهوتها. فإنّ إنساناً لو ملك نصف الأرض لنازعته نفسه إلى ما بقى منها وأشفقت وخافت من تفلُّت ما حصل له منها، ولو ملك الأرض بأسرها لتمنَّى دوام الصحة والخلود وتطلّعت نفسه إلى علم خبر جميع ما في السماوات والأرضين. ولقد بلغني عن بعض الملوك الكبار الأنفس أنه ذُكِرَ عنده ذات يوم الجنة وعظيم ما فيها من النعيم مع الخلود، فقال أمّا أنا فإنِّي أتنغص هذا النعيم وأستمره إذا فكرت بأنِّي منزَّل فيها منزلة المُفضَّل عليه المُحَسن إليه. فمتى يتم التذاذ هذا واغتباطه بما هو فيه، وهل المغتبط عند نفسه إلاّ البهائم ومن جرى مجراها؟ كما قال الشاعر: هو الأفضل لم يكن يُبخسُه الإنسان ويُعطاه ما هو أخس منه من الحيوان. وفي بخس الإنسان وهو أفضل الحيوان المائت حظَّه من هذه الأشياء وتوفر الحظ له من الروية والفكر ما يُعلم منه أن الأفضل له استعمال النطق وتزكيته لا الاستعباد والانقياد لدواعي الطباع قالوا: ولئن كان الفضل في إصابة اللذات والشهوات ليكونون من له الطباع المتهئ لذلك أفضل ممن ليس له ذلك، فإن كان كذلك فالثيران والحمير أفضل من الناس لا بل ومن الحيوان غير المائت كله ومن البارئ عز وجل إذ ليس بذى لذّة ولا شهوة قالوا: ولعل بعض الناس ممن لا رياضة له ولا يروِّى ولا يفكر في أمثال هذه المعاني لا يُسلِّم لنا أن البهائم تصيب من اللذّة أكثر مما يصيبه الناس. ويحتجّ علينا بمَلِكٍ ما ظفر بعدو منازع ثم جلس من وقته ذلك للهو واحتشد في إظهار جميع زينته وهيئته حتى بلغ من ذلك غاية ما يمكن الناس بلوغهُ، فيقول أين التذاذ البهيمة من التذاذ هذا وهل له عنده مقدار وله إليه نسبة؟ فليعلم قائل هذا أنّ كمال اللذّة ونقصانها ليس يكون بالإضافة من بعضها إلى بعض بل بالإضافة إلى مقدار الحاجة إليها. فإنّ مَن لا يُصلِح حاله إلاّ ألفُ دينار إن أُعطِيَ منها تسع مائة وتسعة وتسعين ديناراً لم يتم له صلاح حاله تلك. ومَن كان يُصلح حالَه الدينارُ الواحد يتم له صلاحُ حالته بإصابة ذلك
তার জবাইয়ের সময় উপস্থিত হয়েছে, অথচ সে তার পানাহারে মগ্ন ও নিবিষ্ট। তারা বলেন: যদি প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা এবং প্রকৃতির তাড়নার অনুগামী হওয়া সর্বোত্তম হতো, তবে মানুষকে তা থেকে বঞ্চিত করা হতো না এবং মানুষের চেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণীকে তা প্রদান করা হতো না।

মানুষ মরণশীল প্রাণীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও এই বিষয়গুলোর অংশ থেকে তাকে বঞ্চিত রাখা এবং তাকে চিন্তা ও গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ দান করার মাধ্যমেই জানা যায় যে, তার জন্য সর্বোত্তম হলো বুদ্ধিবৃত্তি ও বাকশক্তির ব্যবহার এবং তার পরিশুদ্ধি; প্রকৃতির তাড়নার কাছে দাসত্ব ও আনুগত্য স্বীকার করা নয়। তারা বলেন: যদি স্বাদ অন্বেষণ ও কামনা চরিতার্থ করার মধ্যেই শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত থাকতো, তবে যার প্রকৃতি এ জন্য প্রস্তুত সে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতো যার প্রকৃতি এমন নয়। আর যদি তা-ই হতো, তবে বলদ ও গাধা মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতো; বরং তা সমস্ত অমর প্রাণী এবং স্বয়ং স্রষ্টা (বারী) মহান ও পরাক্রমশালী অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ হতো, কেননা তাঁর কোনো স্বাদ বা কামনা নেই। তারা বলেন: সম্ভবত এমন কিছু মানুষ, যাদের কোনো আত্মিক সাধনা নেই এবং যারা এ জাতীয় গভীর অর্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, তারা আমাদের এই কথা মেনে নেবে না যে চতুষ্পদ জন্তুরা মানুষের চেয়ে অধিক স্বাদ লাভ করে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে এমন এক রাজার উদাহরণ পেশ করে যুক্তি দিতে পারে, যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শত্রুর ওপর বিজয় লাভ করার পর তৎক্ষণাৎ আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত হয়েছে এবং তার সমস্ত সাজসজ্জা ও জাঁকজমক প্রদর্শনে ব্রতী হয়েছে, এমনকি সে এর এমন এক চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাল যেখানে পৌঁছানো মানুষের পক্ষে সম্ভব; তখন সে বলে, এই রাজার স্বাদের তুলনায় চতুষ্পদ জন্তুর স্বাদের অবস্থান কোথায়? তার কাছে কি এর কোনো মূল্য বা তুলনা আছে? এই কথা যে বলে তার জানা উচিত যে, স্বাদের পূর্ণতা বা অপূর্ণতা একে অপরের সাথে তুলনার ভিত্তিতে হয় না, বরং এটি হয় প্রয়োজনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে। কেননা যার অবস্থার উন্নতি কেবল এক হাজার দিনারেই সম্ভব, তাকে যদি নয়শত নিরানব্বই দিনারও দেওয়া হয়, তবুও তার অবস্থার পূর্ণ সংস্কার হয় না। আর যার অবস্থার উন্নতি এক দিনারেই সম্ভব, সেই এক দিনার প্রাপ্তির মাধ্যমেই তার অবস্থার পূর্ণ সংস্কার হয়ে যায়, যদিও প্রথম ব্যক্তিকে এর বহুগুণ বেশি দেওয়া হয়েছে কিন্তু তার অবস্থার পূর্ণ উন্নতি ঘটেনি। চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে যখন তার প্রকৃতির চাহিদাগুলো পূরণ করা হয়, তখন তার স্বাদ গ্রহণ পূর্ণতা পায়; আর এর অতিরিক্ত বিষয়গুলো না পাওয়ায় তার কোনো ক্ষতি বা কষ্ট হয় না, কারণ সেগুলো কখনোই তার মনে উদিত হয় না। বরং চতুষ্পদ জন্তুর জন্য সব অবস্থাতেই সর্বদা স্বাদের আধিক্য থাকে। তার কারণ হলো, কোনো মানুষই তার সমস্ত আকাঙ্ক্ষা ও কামনা পূর্ণ করতে সক্ষম হয় না। কেননা তার আত্মা যখন চিন্তাশীল, গবেষক এবং অনুপস্থিত বিষয়কে কল্পনা করতে সক্ষম হয়, তখন তার প্রকৃতির ধর্মই হলো যে কোনো অবস্থাতেই সে তার চেয়ে উত্তম অবস্থার প্রত্যাশী হয়। সে কোনো অবস্থাতেই তার অধিকারে নেই এমন জিনিসের প্রতি আকাঙ্ক্ষা ও উৎসুক্য এবং যা তার অধিকারে আছে তা হারানোর ভয় ও উদ্বেগ থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। এই কারণেই তার স্বাদ ও কামনা অপূর্ণ থেকে যায়। কোনো মানুষ যদি অর্ধেক পৃথিবীর মালিক হয়, তবে তার আত্মা বাকি অর্ধেকের জন্য লড়াই করবে এবং যা পেয়েছে তা হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় তটস্থ থাকবে। আর যদি সে সমগ্র পৃথিবীর মালিক হয়ে যায়, তবে সে চিরস্থায়ী স্বাস্থ্য ও অমরত্ব কামনা করবে এবং আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার সমস্ত খবর জানার জন্য তার আত্মা ব্যাকুল হয়ে উঠবে। আমার কাছে উচ্চাভিলাষী এক বড় রাজার কথা পৌঁছেছে যে, তার সামনে একদিন জান্নাত এবং সেখানকার চিরস্থায়ী মহান নেয়ামতের কথা আলোচনা করা হয়েছিল। তখন সে বলেছিল: "আমি যখন চিন্তা করি যে সেখানে আমাকে এমন এক মর্যাদায় রাখা হবে যেখানে আমার ওপর অনুগ্রহ করা হয়েছে এবং আমার প্রতি দয়া করা হয়েছে, তখন আমি এই নেয়ামতকে তিক্ত ও বিস্বাদ মনে করি।" অতএব, এই ব্যক্তির স্বাদ গ্রহণ এবং যা সে প্রাপ্ত হয়েছে তাতে তৃপ্তি লাভ করা কীভাবে সম্ভব হতে পারে? তৃপ্ত তো কেবল চতুষ্পদ জন্তু এবং তাদের ন্যায় যারা আছে তারাই হতে পারে। যেমনটি কবি বলেছেন: যা সর্বোত্তম তা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হতো না এবং তার চেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণীকে তা প্রদান করা হতো না। মানুষ মরণশীল প্রাণীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও এই বিষয়গুলোর অংশ থেকে তাকে বঞ্চিত রাখা এবং তাকে চিন্তা ও গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ দান করার মাধ্যমেই জানা যায় যে, তার জন্য সর্বোত্তম হলো বুদ্ধিবৃত্তি ও বাকশক্তির ব্যবহার এবং তার পরিশুদ্ধি; প্রকৃতির তাড়নার কাছে দাসত্ব ও আনুগত্য স্বীকার করা নয়। তারা বলেন: যদি স্বাদ অন্বেষণ ও কামনা চরিতার্থ করার মধ্যেই শ্রেষ্ঠত্ব থাকতো, তবে যার প্রকৃতি এ জন্য প্রস্তুত সে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতো যার প্রকৃতি এমন নয়। আর যদি তা-ই হতো, তবে বলদ ও গাধা মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতো; বরং তা সমস্ত অমর প্রাণী এবং স্বয়ং স্রষ্টা (বারী) মহান ও পরাক্রমশালী অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ হতো, কেননা তাঁর কোনো স্বাদ বা কামনা নেই। তারা বলেন: সম্ভবত এমন কিছু মানুষ, যাদের কোনো আত্মিক সাধনা নেই এবং যারা এ জাতীয় গভীর অর্থ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, তারা আমাদের এই কথা মেনে নেবে না যে চতুষ্পদ জন্তুরা মানুষের চেয়ে অধিক স্বাদ লাভ করে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে এমন এক রাজার উদাহরণ পেশ করে যুক্তি দিতে পারে, যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শত্রুর ওপর বিজয় লাভ করার পর তৎক্ষণাৎ আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত হয়েছে এবং তার সমস্ত সাজসজ্জা ও জাঁকজমক প্রদর্শনে ব্রতী হয়েছে, এমনকি সে এর এমন এক চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছাল যেখানে পৌঁছানো মানুষের পক্ষে সম্ভব; তখন সে বলে, এই রাজার স্বাদের তুলনায় চতুষ্পদ জন্তুর স্বাদের অবস্থান কোথায়? তার কাছে কি এর কোনো মূল্য বা তুলনা আছে? এই কথা যে বলে তার জানা উচিত যে, স্বাদের পূর্ণতা বা অপূর্ণতা একে অপরের সাথে তুলনার ভিত্তিতে হয় না, বরং এটি হয় প্রয়োজনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে। কেননা যার অবস্থার উন্নতি কেবল এক হাজার দিনারেই সম্ভব, তাকে যদি নয়শত নিরানব্বই দিনারও দেওয়া হয়, তবুও তার অবস্থার পূর্ণ সংস্কার হয় না। আর যার অবস্থার উন্নতি এক দিনারেই সম্ভব, সেই এক দিনার প্রাপ্তির মাধ্যমেই তার অবস্থার পূর্ণ সংস্কার হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ২৬)
الدينار الواحد، على أنّ الأوّل قد أُعطِيَ أضعاف هذا فلم يكمل له صلاح حالته. والبهيمة إذا تَوَفَّر عليها ما يدعوها إليه الطباع كمل وتمّ التذاذها بذلك، ولا يضرها

ولا يؤلمها فوت ما وراء ذلك إذ كان لا يخطر لها ببال بتّةً. على أنّ للبهيمة فضل اللذّة أبداً على كل حال. وذلك أنه ليس أحد من الناس يقدر أن يبلغ كل أمانيه وشهواته، لأنّ نفسه لمّا كانت نفساً مفكرةً مروِّيةً متصوِّرةً للغائب عنه وكان في طباعها أن لا تكون لذي حال حالة إلاّ وتكون حالتها هي الأفضل، لا تخلو في حالة من الأحوال من التشوُّق والتطلُّع إلى ما لم تَحْوِه والخوف والإشفاق على ما قد حوته، فلا تزال لذلك في نقص من لذّتها وشهوتها. فإنّ إنساناً لو ملك نصف الأرض لنازعته نفسه إلى ما بقى منها وأشفقت وخافت من تفلُّت ما حصل له منها، ولو ملك الأرض بأسرها لتمنَّى دوام الصحة والخلود وتطلّعت نفسه إلى علم خبر جميع ما في السماوات والأرضين. ولقد بلغني عن بعض الملوك الكبار الأنفس أنه ذُكِرَ عنده ذات يوم الجنة وعظيم ما فيها من النعيم مع الخلود، فقال أمّا أنا فإنِّي أتنغص هذا النعيم وأستمره إذا فكرت بأنِّي منزَّل فيها منزلة المُفضَّل عليه المُحَسن إليه. فمتى يتم التذاذ هذا واغتباطه بما هو فيه، وهل المغتبط عند نفسه إلاّ البهائم ومن جرى مجراها؟ كما قال الشاعر:

وهل يَنْعَمَنْ إلاّ سعيد مخَّلد … قليل الهموم ما يبيت بأوجال

وهذه العصابة من المتفلسفة تترقَّى من زمّ الهوى ومخالفته بل من إهانته
একটি দিনার, যদিও প্রথম ব্যক্তিকে এর বহু গুণ দেওয়া হয়েছিল, তবুও তার অবস্থার সংশোধন পূর্ণ হয়নি। আর চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে, তার স্বভাব তাকে যার দিকে আহ্বান করে যখন তা তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বর্তমান থাকে, তখন তার তৃপ্তি ও স্বাদ আস্বাদন পূর্ণতা পায়; এবং এর বাইরে যা কিছু রয়ে গেছে তা না পাওয়া তাকে কোনো ক্ষতি করে না

বা কষ্ট দেয় না, কারণ তা কখনোই তার মনে উদিত হয় না। মূল কথা হলো, চতুষ্পদ জন্তু সর্বাবস্থায় আনন্দের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব রাখে। এর কারণ হলো, মানুষের মধ্যে কেউই তার সকল আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃত্তির পূর্ণতায় পৌঁছাতে সক্ষম নয়। কারণ তার নফস যেহেতু চিন্তাশীল, দূরদর্শী এবং অনুপস্থিত বিষয়কে কল্পনা করতে সক্ষম, আর তার প্রকৃতিতে এটি বিদ্যমান যে, কোনো অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তির কোনো অবস্থাই এমন হয় না যা সে লাভ করেছে কিন্তু তার চেয়েও উত্তম অবস্থার আকাঙ্ক্ষা তার জাগে না—তাই সে কোনো অবস্থাতেই যা সে লাভ করেনি তা পাওয়ার ব্যাকুলতা ও আকাঙ্ক্ষা এবং যা সে লাভ করেছে তা হারিয়ে যাওয়ার ভয় ও শঙ্কা থেকে মুক্ত থাকে না। ফলে সে কারণে সর্বদা তার আনন্দ ও কামনার মধ্যে অপূর্ণতা থেকে যায়। কোনো মানুষ যদি অর্ধেক পৃথিবীর মালিক হয়ে যায়, তবে তার নফস অবশিষ্ট অংশের জন্য তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হবে এবং যা তার হস্তগত হয়েছে তা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়ে শঙ্কিত থাকবে। আর যদি সে সমগ্র পৃথিবীর মালিক হয়ে যায়, তবে সে চিরস্থায়ী সুস্থতা ও অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা করবে এবং আসমান ও জমিনের যাবতীয় সংবাদ জানার জন্য তার নফস ব্যাকুল হয়ে উঠবে। মহৎপ্রাণ এক বাদশাহর ব্যাপারে আমার কাছে পৌঁছেছে যে, একদিন তাঁর নিকট জান্নাত এবং সেখানে অমরত্বের সাথে যে মহান নিয়ামতসমূহ রয়েছে তার কথা উল্লেখ করা হলো। তখন তিনি বললেন: "আমি তো এই নিয়ামতকেও তিক্ত ও বিস্বাদ মনে করব যখন আমি চিন্তা করব যে, সেখানে আমাকে রাখা হয়েছে এমন একজনের মর্যাদায় যার প্রতি অনুগ্রহ করা হয়েছে এবং যাকে দান করা হয়েছে।" এমতাবস্থায়, কীভাবে এই ব্যক্তির স্বাদ আস্বাদন এবং যা সে লাভ করেছে তা নিয়ে সন্তুষ্টি পূর্ণতা পেতে পারে? আর নিজের মনে প্রকৃত সন্তুষ্ট তো কেবল চতুষ্পদ জন্তু এবং যারা তাদের ন্যায় রয়েছে তারাই হতে পারে। যেমন কবি বলেছেন:

চিরস্থায়ী সুখী ব্যক্তি ব্যতীত আর কে নিয়ামত ভোগ করতে পারে … সামান্য দুশ্চিন্তার অধিকারী যে ভীতি নিয়ে রাত কাটায় না

আর দার্শনিকদের এই দলটি প্রবৃত্তির নিন্দা ও তার বিরোধিতা করা, এমনকি একে তুচ্ছজ্ঞান করার পর্যায় পর্যন্ত উন্নীত হয়।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ২৭)
وإماتته إلى أمر عظيم جداً، حتى إنها لا تنال من المأكل والمشرب إلاّ قوتاً وبُلغةً ولا تقتني مالاً ولا عقاراً ولا داراً. وربما أقدم الموغلِ منهم في هذا الرأي على اعتزال الناس والتخلَّي منهم ولزوم المواضع الغامرة. وبهذا ونحوه يحتجوّن لصحّة رأيهم من الأشياء الحاضرة المشاهدة. فأمّا ما يحتجون به له من أحوال النفس بعد مفارقتها للبدن فإنّ الكلام فيه يجاوز مقدار هذا الكتاب في شرفه وفي طوله وفي عرضه. أمّا في شرفه فإنه يُبحث فيه عن النفس ما هي ولِمَ هي مع الجسم ولِمَ تفارقه وما تكون حالها بعد مفارقته، وأما طوله فلأنّ كل واحد من هذه البحوث يحتاج في تعبيره وحكايته إلى أضعاف أضعاف ما في هذا الكتاب من الكلام، وأما في عرضه فلأنّ قصد هذه المباحث هو إلى صلاح حال النفس بعد مفارقتها للجسد وإن كان قد يعرض فيه باشتراك الكلام أكثر إصلاح الأخلاق. ولا بأس أن نحكي منه جملة وجيزة من غير أن نتلبس فيه باحتجاج لهم أو عليهم، ونقصد منه خاصةً للمعاني التي نظنّ أنها تُعين على بلوغ غرض كتابنا هذا وتقوِّى عليه.

فنقول: إنّ فلاطن شيخ الفلاسفة وعظيمها يرى أنّ الإنسان ثلاث أنفس يسمِّى إحداها النفس الناطقة والإلهّية والأخرى يسميّها النفس الغضّبية والحيوانية والأخرى النفس النباتية والنامية والشهوانية. ويرى أنّ النفسين الحيوانية والنباتية إنما كوّنتا من أجل
এবং একে দমন করা এক অত্যন্ত গুরুতর বিষয় পর্যন্ত পৌঁছেছে, এমনকি এটি আহার ও পানীয় থেকে কেবল জীবন ধারণের ন্যূনতম উপকরণ ব্যতীত আর কিছুই গ্রহণ করে না এবং কোনো সম্পদ, স্থাবর সম্পত্তি বা ঘরবাড়ি অর্জন করে না। সম্ভবত তাদের মধ্যে যারা এই মতবাদে গভীরভাবে নিমগ্ন, তারা লোকালয় ত্যাগ করা, মানুষের সংস্পর্শ থেকে বিযুক্ত হওয়া এবং নির্জন স্থানে অবস্থান করাকেই বেছে নেয়। এই এবং এই জাতীয় বর্তমান ও দৃশ্যমান বিষয়াদির মাধ্যমেই তারা তাদের মতামতের সত্যতার সপক্ষে দলিল পেশ করে। আর দেহ থেকে বিযুক্ত হওয়ার পর আত্মার অবস্থা সম্পর্কে তারা যে সকল যুক্তি প্রদান করে, সেই সংক্রান্ত আলোচনা এর মর্যাদা, দৈর্ঘ্য এবং বিস্তৃতির কারণে এই কিতাবের কলেবরকে ছাড়িয়ে যাবে। মর্যাদার দিক থেকে এই কারণে যে, এতে আত্মা কী, কেন তা দেহের সাথে অবস্থান করে, কেন তা দেহ ত্যাগ করে এবং বিচ্ছেদের পর তার অবস্থা কেমন হয়—তা নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়। দৈর্ঘ্যের দিক থেকে এই কারণে যে, এই গবেষণাসমূহের প্রতিটি বিষয় বর্ণনা ও উপস্থাপনের জন্য এই কিতাবে বিদ্যমান আলোচনার কয়েক গুণ বেশি আলোচনার প্রয়োজন। আর বিস্তৃতির দিক থেকে এই কারণে যে, এই সকল আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো দেহ ত্যাগের পর আত্মার অবস্থার সংশোধন, যদিও প্রসঙ্গের প্রাসঙ্গিকতায় এতে অধিকতর চরিত্র সংশোধনের বিষয়টিও আলোচিত হতে পারে। তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো বিতর্কে লিপ্ত না হয়ে আমরা এর একটি সংক্ষিপ্ত সার বর্ণনা করতে পারি। আমাদের বিশেষ উদ্দেশ্য হলো সেই সকল অর্থ প্রকাশ করা যা আমাদের ধারণা মতে এই কিতাবের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে এবং একে সুদৃঢ় করবে।

আমরা বলি: দার্শনিকদের গুরু ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আফলাতুন মনে করেন যে, মানুষের তিনটি আত্মা রয়েছে; তিনি এর একটিকে বাক-শক্তি সম্পন্ন (বিবেকবান) ও ঐশ্বরিক আত্মা হিসেবে অভিহিত করেন, অন্যটিকে ক্রোধপ্রবণ ও পাশবিক আত্মা বলেন এবং অপরটিকে উদ্ভিদধর্মী, বর্ধনশীল ও কামনাসক্ত আত্মা বলেন। তিনি মনে করেন যে, পাশবিক ও উদ্ভিদধর্মী আত্মা দুটি কেবল এই কারণে সৃষ্টি হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ২৮)
النفس الناطقة. أما النباتية فلتغدو الجسم الذي هو للنفس الناطقة بمنزلة آلة وأداة إذ ليس هو من جوهر باقٍ غير متحلِّل بل من جوهر سيّال متحلّل، وكان كل متحلّل لا يبقى إلاّ بأن يخلف فيه بدلاً ممّا تحلل منه. فأما الغضبية فلتستعين بها النفس الناطقة على قمع النفس الشهوانية ومنعها من أن تشغل النفس الناطقة بكثرة شهواتها عن استعمال نطقها الذي إذا استعملته كَمَلاً كان في ذلك تخلُّصها من الجسم المشتبكة به. وليس لهاتين النفسين - أعني النباتية والغضبيّة - عنده جوهر خاص يبقى بعد فساد الجسم كجوهر النفس الناطقة، بل إحداها وهي الغضبيّة هي جملة مزاج القلب والأخرى وهي الشهوانية هي جملة مزاج الكبد. وأما جملة مزاج الدماغ فإنها عنده أول آلة وأداة تستعملها النفس الناطقة. والأغتذاء والنمو والنشوء للإنسان من الكبد، والحرارة وحركة النبض من القلب. وأما الحس والحركة الإرادية والتخُّيل والفكر والذكر فمن الدماغ، لا على أنّ ذلك من خاصيّتّه ومزاجه بل من الجوهر الحال فيه المستعمل
বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন আত্মা। আর উদ্ভিজ্জ আত্মার কাজ হলো শরীরকে পুষ্টি জোগানো, যা বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন আত্মার নিকট যন্ত্র ও সরঞ্জামের সমতুল্য; কারণ শরীর কোনো অবিনশ্বর বা ক্ষয়হীন সারসত্তা নয়, বরং এটি একটি প্রবাহমান ও ক্ষয়শীল বস্তু। আর প্রতিটি ক্ষয়শীল বস্তুই কেবল তখনই টিকে থাকে, যখন তার ক্ষয়প্রাপ্ত অংশের বিপরীতে কোনো বিকল্প প্রতিস্থাপিত হয়। আর ক্রোধপ্রবণ আত্মার সাহায্যে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন আত্মা প্রবৃত্তিগত আত্মাকে দমন করে এবং তাকে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন আত্মাকে কামনার আধিক্যের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির প্রয়োগ থেকে বিচ্যুত করতে বাধা দেয়। যখন বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন আত্মা তার বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে পূর্ণরূপে প্রয়োগ করে, তখন এর মাধ্যমেই দেহ—যার সাথে সে জড়িয়ে আছে—তা থেকে তার মুক্তি ঘটে। তাঁর মতে, এই দুই আত্মার—অর্থাৎ উদ্ভিজ্জ ও ক্রোধপ্রবণ আত্মার—এমন কোনো বিশেষ সারসত্তা নেই যা শরীরের বিনাশের পর বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন আত্মার সারসত্তার ন্যায় অবশিষ্ট থাকে; বরং ক্রোধপ্রবণ আত্মা হলো হৃদপিণ্ডের সামগ্রিক মেজাজ এবং প্রবৃত্তিগত আত্মা হলো কলিজার সামগ্রিক মেজাজ। আর মস্তিষ্কের সামগ্রিক মেজাজ হলো তাঁর মতে বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন আত্মার ব্যবহৃত প্রথম যন্ত্র ও সরঞ্জাম। মানুষের পুষ্টি, বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটে কলিজা থেকে এবং উত্তাপ ও নাড়ির স্পন্দন আসে হৃদপিণ্ড থেকে। অন্যদিকে সংবেদন, স্বেচ্ছাধীন গতিবিধি, কল্পনা, চিন্তা ও স্মৃতি আসে মস্তিষ্ক থেকে; তবে এটি মস্তিষ্কের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বা মেজাজ থেকে নয়, বরং তাতে অবস্থানকারী ব্যবহারকারী সারসত্তা থেকে।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ২৯)
له على استعمال آلة وأداة، إلا أنه أقرب الآلات والأدوات إلى هذا الفاعل. ويرى أن يجتهد الإنسان بالطب الجسداني وهو الطب المعروف، والطبِّ الروحاني وهو الإقناع بالحجج والبراهين في تعديل أفعال هذه النفوس لئلا تقصِّر عمّا أُريد بها ولئلا تجاوزه. والتقصير في فعل النفس النباتية أن تغدو ولا تُنمى ولا تُنشئ بالكمية والكيفية المحتاجة إليها جملةُ الجسد. وإفراطها أن تتعدى ذلك وتجاوزه حتى يخصب الجسد فوق ما يحتاج إليه ويغرق في اللذّات والشهوات. وتقصير فعل النفس الغضبية أن لا يكون عندها من الحمية والأنفة والنجدة ما يمكِّنها أن تزمَّ وتقهر النفس الشهوانية في حال اشتهائها حتى تحول دونها ودون شهواتها، وإفراطه أن يكثر فيها الكِبر وحُبّ الغلبة حتى تروم قهر الناس وسائر الحيوان ولا يكون لها همّ إلا الاستعلاء والغلبة كالحالة التي كان عليها الاسكندر الملك. وتقصير فعل النفس الناطقة أن لا يخطر ببالها استغراب هذا العالم واستكباره والفكر فيه والتعجُّب منه والتطلُّع والتشّوُق إلى معرفة جميع ما فيه وخاصةً علم جسدها الذي هي فيه وهيئته وعاقبته بعد موته، فإنّ مَن لم يستكبر ويستغرب هذا العالم ولم يتعجب من هيئته ولم تتطّلع نفسه إلى معرفة جميع ما فيه ولم يهتمّ ويُعْنَ بتعرُّف ما تؤول إليه الحال بعد الموت فنصيبه من النطق نصيب البهائم لا بل الخُفاش والحيتان والخُشار التي لا تتفكّر ولا تتذكر البتة. وإفراطه أن يميل به ويستحوذ عليه الفكرُ في هذه الأشياء ونحوها حتى لا يمكن النفس الشهوانية أن تنال من الغذاء وما به يصلح الجسم من النوم
এটি যন্ত্র ও সরঞ্জামের ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল, তবে এটি এই কর্তার নিকটতম যন্ত্র ও সরঞ্জাম। তিনি মনে করেন যে, মানুষের উচিত শারীরিক চিকিৎসা—যা সুপরিচিত চিকিৎসা হিসেবে গণ্য—এবং আধ্যাত্মিক চিকিৎসা—যা দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে প্ররোচিত করা—উভয় ক্ষেত্রেই সচেষ্ট হওয়া, যাতে এই আত্মাসমূহের কার্যাবলীকে ভারসাম্যপূর্ণ করা যায়; যাতে তারা তাদের লক্ষ্য পালনে ত্রুটি না করে এবং তা অতিক্রমও না করে। উদ্ভিজ্জ আত্মার কার্যাবলীতে ত্রুটি হলো পুষ্টি গ্রহণ করা সত্ত্বেও বৃদ্ধি না পাওয়া এবং শরীরের সামগ্রিক প্রয়োজনের পরিমাণ ও গুণমান অনুযায়ী বিকাশ লাভ না করা। আর এর আধিক্য হলো সেই সীমা অতিক্রম করা, যার ফলে শরীর প্রয়োজনের অতিরিক্ত হৃষ্টপুষ্ট হয় এবং ভোগবিলাস ও কামনাবাসনায় নিমজ্জিত হয়। ক্রোধপ্রবণ আত্মার কর্মে ত্রুটি হলো তার মধ্যে এমন আত্মমর্যাদা, আভিজাত্য ও সাহসিকতা না থাকা যা তাকে কামনাসক্ত আত্মাকে তার লালসার সময় নিয়ন্ত্রণ ও পরাভূত করতে সক্ষম করে, যাতে সে তাকে তার কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখতে পারে। আর এর আধিক্য হলো তার মধ্যে অহংকার ও আধিপত্যের আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি পাওয়া, এমনকি সে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীকে পরাভূত করতে চায় এবং শ্রেষ্ঠত্ব ও বিজয় অর্জন ছাড়া তার আর কোনো লক্ষ্য থাকে না, যেমনটি রাজা আলেকজান্ডারের ক্ষেত্রে ছিল। বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন আত্মার কর্মে ত্রুটি হলো এই জগতের বিশালত্ব ও বিস্ময়কর দিকগুলো তার মনে উদিত না হওয়া, এটি নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা না করা, একে নিয়ে আশ্চর্যান্বিত না হওয়া এবং এর মধ্যকার সব কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা ও আগ্রহ না থাকা, বিশেষ করে যে দেহে সে অবস্থান করছে সেই দেহ সম্পর্কে জ্ঞান, এর অবয়ব এবং মৃত্যুর পর এর পরিণতি সম্পর্কে জানার চেষ্টা না করা। কারণ, যে ব্যক্তি এই জগতকে মহিমান্বিত মনে করে না, একে বিস্ময়কর ভাবে না, এর গঠন দেখে আশ্চর্যান্বিত হয় না এবং যার আত্মা এর মধ্যকার সব কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না, আর মৃত্যুর পর কী অবস্থা হবে তা নিয়ে গুরুত্ব দেয় না—তবে বিচারবুদ্ধির ক্ষেত্রে তার অংশ হলো চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং বাদুড়, মাছ কিংবা পোকামাকড়ের মতো, যারা আদৌ চিন্তা করে না এবং কোনো কিছুই স্মরণ রাখে না। আর এর আধিক্য হলো এই বিষয়গুলো ও এর অনুরূপ বিষয়াবলির চিন্তায় এমনভাবে ঝুঁকে পড়া এবং তা দ্বারা আচ্ছন্ন হওয়া যে, কামনাসক্ত আত্মা তার খাদ্য গ্রহণ এবং ঘুমের মতো শরীর সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো থেকে বঞ্চিত হয়।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৩০)
وغيره مقدارَ ما تحتاج إليه في بقاء مزاج الدماغ على حالة الصحّة، لكن يبحث ويتطلع ويجتهد غاية الجهد ويقدِّر بلوغ هذه المعاني والوصول إليها في زمان أقصر من الزمان الذي لا يمكن بلوغها إلاّ فيه، فيفسد حينئذ مزاج جملة الجسد حتى يقع في الوسواس السوداوي والملنخوليا ويفوته ما طلب من حيث قدّر سرعة الظفر به. ويرى أنّ المدّة التي جُعلت لبقاء هذا الجسد المتحلل الفاسد بالحال التي يمكن النفس الناطقة استعمالها فيما تحتاج إليه لصلاح أمرها بعد مفارقته - وهي المدّة التي منذ حين يولد الإنسان إلى أن يهرم ويذبل - مدةٌ يفي فيها كل أحد، ولو كان أبلد الناس بعد أن لا يضرب عن الفكر والنظر البتّة، بالتطلُّع على المعاني التي ذكرنا أنها تخصّ النفس الناطقة وبأن يرذل هذا الجسدَ والعالم الجسدانيّ البتّة ويشنأه ويبغضه، ويعلَمَ أنّ النفس الحسّاسة ما دامت متعلقة بشيء منه لم تزل في أحوال مؤذية مؤلمة من أجل تداول الكون والفساد إياه، ولا يكرهَ بل يشتاق إلى مفارقته والتخلُّص منه. ويرى أنه متى كانت مفارقة النفس الحساسة للجسد الذي هي فيه وقد اكتسبت هذه المعاني واعتقدتها صارت في عالمها ولم تشتق إلى التعلُّق بشيء من الجسم بعد ذلك البتّة، وبقيت بذاتها حيةً ناطقةً غير مائتة ولا آلمة مغتبطةَ بموضعها ومكانها. أمّا

الحيوية والنطق فلها من ذاتها، وأما بُعدها عن الألم فلبُعدها عن الكون والفساد، وأما اغتباطها بمكانها وعالمها فلتخلُّصها من مخالطة الجسم والكونِ في العالم الجسداني. وأنه متى كانت مفارقتها للجسد وهي لم تكتسب هذه المعاني ولم تعرف العالم الجسداني حقَّ معرفته بل كانت تشتاق
এবং অন্যান্য বিষয় ততটুকুই গ্রহণ করবে যা মস্তিষ্কের মেজাজকে সুস্থ অবস্থায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয়। তবে সে অনুসন্ধান করে, আকাঙ্ক্ষা করে এবং সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করে এবং ধারণা করে যে সে এই অর্থগুলো ও তার উপলব্ধিতে এমন এক সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে পারবে যা বাস্তবে সম্ভবপর সময়ের চেয়েও সংক্ষিপ্ত। এর ফলে তখন সম্পূর্ণ শরীরের মেজাজ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, এমনকি সে বিষাদগ্রস্ত কুমন্ত্রণা ও মেলানকোলিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং যা সে অন্বেষণ করছিল তা হারিয়ে ফেলে, কারণ সে তা দ্রুত অর্জনের সংকল্প করেছিল। সে মনে করে যে, এই ক্ষয়িষ্ণু ও নশ্বর দেহের টিকে থাকার জন্য যে সময়কাল নির্ধারিত হয়েছে—যাতে করে বাক্-সম্পন্ন আত্মা দেহ থেকে পৃথক হওয়ার পর নিজের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাজে একে ব্যবহার করতে পারে—আর তা হলো মানুষের জন্ম থেকে জরাগ্রস্ত ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া পর্যন্ত সময়কাল। এটি এমন এক সময় যা প্রত্যেকের জন্যই যথেষ্ট, এমনকি সে যদি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে স্থূলবুদ্ধি সম্পন্নও হয়, যদি না সে চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ থেকে একেবারেই বিরত থাকে। এর মাধ্যমে সে সেই গূঢ় অর্থসমূহ জানতে পারে যা আমরা উল্লেখ করেছি যে বাক্-সম্পন্ন আত্মার জন্য নির্দিষ্ট; এবং এর দ্বারা সে এই দেহ ও দৈহিক জগতকে সম্পূর্ণরূপে তুচ্ছ জ্ঞান করে এবং একে ঘৃণা ও অপছন্দ করতে শেখে। এবং সে জানতে পারে যে, সংবেদনশীল আত্মা যতক্ষণ এই দেহের কোনো কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে, ততক্ষণ সৃষ্টি ও ধ্বংসের আবর্তনের কারণে তা ক্ষতিকর ও যন্ত্রণাদায়ক অবস্থার মধ্যেই থাকে। ফলে সে বিচ্ছেদকে অপছন্দ করে না, বরং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ও মুক্তি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে। এবং সে লক্ষ্য করে যে, যখন সংবেদনশীল আত্মা তার অবস্থানরত দেহ থেকে পৃথক হয়—এমতাবস্থায় যে সে এই অর্থগুলো অর্জন করেছে এবং সেগুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে—তখন সে নিজ জগতে স্থানান্তরিত হয় এবং এরপর দেহের কোনো কিছুর সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য আর বিন্দুমাত্র আকাঙ্ক্ষা করে না। সে স্বকীয় সত্তায় জীবন্ত ও বাক্-সম্পন্ন অবস্থায় অবশিষ্ট থাকে, যার কোনো মৃত্যু নেই, কোনো বেদনা নেই এবং সে তার নিজ অবস্থান ও মাকাম নিয়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট থাকে। আমা

র জীবন ও বাক্-শক্তি তো তার নিজস্ব সত্তা থেকেই উৎসারিত; তার যন্ত্রণামুক্ত হওয়া হলো সৃষ্টি ও ধ্বংস থেকে দূরে থাকার কারণে; আর তার নিজ স্থান ও জগতের প্রতি সন্তুষ্টি হলো দেহের সংমিশ্রণ ও দৈহিক জগতের অবস্থান থেকে মুক্তি পাওয়ার কারণে। আর যখন দেহ থেকে তার বিচ্ছেদ ঘটে এমন অবস্থায় যে, সে এই অর্থগুলো অর্জন করেনি এবং দৈহিক জগতকে যথাযথভাবে চিনতে পারেনি, বরং সে আকাঙ্ক্ষা করছিল...
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৩১)
إليه وتحرص على الكون فيه لم تبرح مكانها ولم تزل متعلقة بشيء منه، ولم تزل - لتداول الكون والفساد للجسد الذي هي فيه - في آلام متصلة مترادفة وهموم جمّة مؤذية. فهذه جملةٌ من رأي فلاطن ومِن قبله سقراط المتخِّلي المتألِّه. وبعدُ فما من رأيٍ دنيائي قطُّ إلاّ ويُوجب شيئاً من زمّ الهوى والشهوات ولا يُطلق إهمالها وإمراجها، فزمُّ الهوى وردعه واجب في كل رأي وعند كل عاقل وفي كل دين. فليلاحظ العاقل هذه المعاني بعين عقله ويجعلها من همّه وباله. وإن هو لم يكتسب من هذا الكتاب أعلى الرُتَب والمنازل في هذا الباب فلا أقل من أن يتعلق ولو بأخس المنازل منه، وهو رأيُ مَن رأي زمَّ الهوى بمقدار ما لا يجلب
এর দিকে এবং এর মধ্যে থাকতে সে সচেষ্ট থাকে, নিজ স্থান ত্যাগ করে না এবং এর কোনো না কোনো বিষয়ের সাথে সর্বদা সম্পৃক্ত থাকে। আর সে যে দেহে অবস্থান করে তার সৃষ্টি ও ধ্বংসের আবর্তনের কারণে—সে নিরবচ্ছিন্ন ও ক্রমাগত যাতনা এবং অসংখ্য ক্ষতিকর দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকে। এটি হলো প্লেটো এবং তার পূর্ববর্তী পার্থিব বিরাগী ও ঐশী সাধনায় নিমগ্ন সক্রেটিসের মতামতের সারসংক্ষেপ। মোদ্দাকথা, জাগতিক এমন কোনো মতাদর্শ নেই যা প্রবৃত্তি ও লালসাকে কিছুটা হলেও অবদমন করাকে অপরিহার্য করে না এবং একে পুরোপুরি উপেক্ষা ও বল্গাহীন ছেড়ে দেওয়ার বৈধতা দেয় না। সুতরাং প্রবৃত্তিকে সংবরণ ও প্রতিরোধ করা প্রতিটি মতাদর্শে, প্রত্যেক জ্ঞানবান ব্যক্তির নিকট এবং প্রতিটি ধর্মে আবশ্যক। অতএব বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত তার বিচারবুদ্ধির দৃষ্টিতে এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং এগুলোকে তার চিন্তা ও ধ্যানের অন্তর্ভুক্ত করা। আর সে যদি এই কিতাব থেকে এই অধ্যায়ে সর্বোচ্চ পদমর্যাদা ও স্তরসমূহ অর্জন করতে না-ও পারে, তবে অন্তত এর সর্বনিম্ন স্তরের সাথে যেন সে নিজেকে যুক্ত রাখে। আর তা হলো সেই ব্যক্তির অভিমত যে প্রবৃত্তিকে সেই পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত মনে করে যা কোনো অকল্যাণ বয়ে আনে না...
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৩২)
ضرراً عاجلاً دنيائيّاً. فإنه وإن تجرع في صدور أموره من زمّ الهوى وقمعه مرارةً وبشاعةً فستُعقبه أردافها حلاوةً ولذاذةً يغتبط بها ويعظم بها سروره وارتياحه عندها، مع أنّ المؤونة في احتمال مغالبة الهوى وقمع الشهوات ستخف عليه بالاعتياد ولا سيّما إذا كان ذلك على تدريج بأن يعّود نفسه ويأخذها أولاً بمنع اليسير من الشهوات وتركِ بعض ما تهوى لِما يوجبه العقل والرأي، ثم يروم من ذلك ما هو أكثر حتى يصير ذلك فيه مقارناً للخُلق والعادة وتذلّ نفسه الشهوانية وتعتاد الانقياد للنفس الناطقة. ثم يزداد ذلك ويتأكد عند سروره بالعواقب العائدة عليه من زمّ هواه وانتفاعه برأيه وعقله وسياسة أموره بهما ومدح الناس له على ذلك واشتياقهم إلى مثل حاله. يوية والنطق فلها من ذاتها، وأما بُعدها عن الألم فلبُعدها عن الكون والفساد، وأما اغتباطها بمكانها وعالمها فلتخلُّصها من مخالطة الجسم والكونِ في العالم الجسداني. وأنه متى كانت مفارقتها للجسد وهي لم تكتسب هذه المعاني ولم تعرف العالم الجسداني حقَّ معرفته بل كانت تشتاق إليه وتحرص على الكون فيه لم تبرح مكانها ولم تزل متعلقة بشيء منه، ولم تزل - لتداول الكون والفساد للجسد الذي هي فيه - في آلام متصلة مترادفة وهموم جمّة مؤذية. فهذه جملةٌ من رأي فلاطن ومِن قبله سقراط المتخِّلي المتألِّه. وبعدُ فما من رأيٍ دنيائي قطُّ إلاّ ويُوجب شيئاً من زمّ الهوى والشهوات ولا يُطلق إهمالها وإمراجها، فزمُّ الهوى وردعه واجب في كل رأي وعند كل عاقل وفي كل دين. فليلاحظ العاقل هذه المعاني بعين عقله ويجعلها من همّه وباله. وإن هو لم يكتسب من هذا الكتاب أعلى الرُتَب والمنازل في هذا الباب فلا أقل من أن يتعلق ولو بأخس المنازل منه، وهو رأيُ مَن رأي زمَّ الهوى بمقدار ما لا يجلب ضرراً عاجلاً دنيائيّاً. فإنه وإن تجرع في صدور أموره من زمّ الهوى وقمعه مرارةً وبشاعةً فستُعقبه أردافها حلاوةً ولذاذةً يغتبط بها ويعظم بها سروره وارتياحه عندها، مع أنّ المؤونة في احتمال مغالبة الهوى وقمع الشهوات ستخف عليه بالاعتياد ولا سيّما إذا كان ذلك على تدريج بأن يعّود نفسه ويأخذها أولاً بمنع اليسير من الشهوات وتركِ بعض ما تهوى لِما يوجبه العقل والرأي، ثم يروم من ذلك ما هو أكثر حتى يصير ذلك فيه مقارناً للخُلق والعادة وتذلّ نفسه الشهوانية وتعتاد الانقياد للنفس الناطقة. ثم يزداد ذلك ويتأكد عند سروره بالعواقب العائدة عليه من زمّ هواه وانتفاعه برأيه وعقله وسياسة أموره بهما ومدح الناس له على ذلك واشتياقهم إلى مثل حاله.

 

‌‌الفصل الثالث

‌‌جملةٌ قُدّمت قبل ذكر عوارض النفس

‌‌الرديئة على انفرادها

أما وقد وطأنا لما يأتي بعدُ من كلامنا أُسَّه وذكرنا أعظم الأصول في ذلك مما فيه غنىً وعليه معونةٌ فإنا ذاكرون من عوارض النفس الرديّة والتلُّطف لإصلاحها ما يكون قياساً ومثالاً لِما لم نذكره منها. ونتحرى الإيجاز والاختصار
তাত্ক্ষণিক পার্থিব ক্ষতি। কেননা, কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা এবং তার লাগাম টেনে ধরার শুরুতে ব্যক্তি যদি তিক্ততা ও কদর্যতাও আস্বাদন করে, তবে এর পরিণাম তাকে এমন মিষ্টতা ও স্বাদ প্রদান করবে যা তাকে পরমানন্দিত করবে এবং তাতে তার আনন্দ ও প্রশান্তি বৃদ্ধি পাবে। অধিকন্তু, কুপ্রবৃত্তির সাথে লড়াই এবং কামনা-বাসনা দমনের ক্লেশ অভ্যাসের ফলে তার কাছে সহজ হয়ে যাবে; বিশেষ করে যদি তা ধাপে ধাপে হয়—যেমন প্রথমে সামান্য লালসা থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং বিবেক ও বুদ্ধির চাহিদানুযায়ী প্রিয় কিছু বিষয় বর্জন করার অভ্যাস করা। এরপর ক্রমান্বয়ে আরও বড় বিষয়ের সংকল্প করা, যতক্ষণ না তা তার স্বভাবে ও অভ্যাসে পরিণত হয় এবং তার কামনা-বাসনাসক্ত আত্মা বশীভূত হয় ও বিবেকবান আত্মার অনুগত হতে অভ্যস্ত হয়। এরপর এই বিষয়টি আরও বৃদ্ধি পায় ও সুদৃঢ় হয় যখন সে তার কুপ্রবৃত্তিকে লাগাম পরানোর শুভ পরিণাম দেখে আনন্দিত হয় এবং তার বুদ্ধি ও বিবেকের দ্বারা বিষয়াদি পরিচালনা করে উপকৃত হয়, আর লোকজন এই কারণে তার প্রশংসা করে এবং তার অবস্থার অনুরূপ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। জীবন ও বাকশক্তি তার সত্তাগত বিষয়; আর যাতনা থেকে তার দূরত্ব মূলত সৃষ্টি ও ধ্বংসের জগত থেকে তার দূরত্বের কারণে। আর নিজের স্থান ও জগত নিয়ে তার আনন্দ হলো দেহ এবং এই দৈহিক জগতের মিশ্রণ থেকে মুক্তি লাভের কারণে। আর যখন দেহের সাথে তার বিচ্ছেদ ঘটে অথচ সে এই উচ্চতর অর্থসমূহ অর্জন করেনি এবং জাগতিক জগত সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান লাভ করেনি, বরং সে এর প্রতি লালায়িত ছিল এবং এতে অবস্থান করতে আগ্রহী ছিল, তখন সে স্বস্থান ত্যাগ করে না এবং সর্বদাই এর কোনো না কোনো বিষয়ের সাথে লিপ্ত থাকে। আর দেহ যে সৃষ্টি ও ধ্বংসের আবর্তে বিদ্যমান, তাতে লিপ্ত থাকার কারণে সে নিরবচ্ছিন্ন ও একের পর এক যাতনা এবং অসংখ্য যন্ত্রণাদায়ক উদ্বেগের মধ্যে নিমজ্জিত থাকে। এটি হলো প্লেটো এবং তার পূর্ববর্তী বৈরাগী ও ঈশ্বরনিষ্ঠ সক্রেটিসের মতামতের সারসংক্ষেপ। মোটের ওপর, এমন কোনো পার্থিব মতাদর্শ নেই যা কুপ্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনাকে কিছুটা হলেও লাগাম পরানোর নির্দেশ দেয় না এবং এগুলোকে লাগামহীন ও অনিয়ন্ত্রিত ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি দেয় না। সুতরাং কুপ্রবৃত্তির লাগাম টানা এবং তা দমন করা প্রতিটি মতাদর্শে, প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তির কাছে এবং প্রতিটি ধর্মে আবশ্যক। অতএব বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিত তার বিবেকের দৃষ্টিতে এই অর্থগুলো পর্যবেক্ষণ করা এবং এগুলোকে তার চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা। সে যদি এই কিতাব থেকে এই অধ্যায়ের সর্বোচ্চ স্তর ও মর্যাদা অর্জন করতে না-ও পারে, তবে সর্বনিম্ন স্তরের সাথে যুক্ত থাকা থেকেও যেন বঞ্চিত না হয়; আর তা হলো সেই ব্যক্তির মতাদর্শ যে কুপ্রবৃত্তিকে অন্তত ততটুকু দমন করে যাতে কোনো তাৎক্ষণিক পার্থিব ক্ষতি না ঘটে। কেননা, কুপ্রবৃত্তিকে দমন করা এবং তার লাগাম টেনে ধরার শুরুতে ব্যক্তি যদি তিক্ততা ও কদর্যতাও আস্বাদন করে, তবে এর পরিণাম তাকে এমন মিষ্টতা ও স্বাদ প্রদান করবে যা তাকে পরমানন্দিত করবে এবং তাতে তার আনন্দ ও প্রশান্তি বৃদ্ধি পাবে। অধিকন্তু, কুপ্রবৃত্তির সাথে লড়াই এবং কামনা-বাসনা দমনের ক্লেশ অভ্যাসের ফলে তার কাছে সহজ হয়ে যাবে; বিশেষ করে যদি তা ধাপে ধাপে হয়—যেমন প্রথমে সামান্য লালসা থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং বিবেক ও বুদ্ধির চাহিদানুযায়ী প্রিয় কিছু বিষয় বর্জন করার অভ্যাস করা। এরপর ক্রমান্বয়ে আরও বড় বিষয়ের সংকল্প করা, যতক্ষণ না তা তার স্বভাবে ও অভ্যাসে পরিণত হয় এবং তার কামনা-বাসনাসক্ত আত্মা বশীভূত হয় ও বিবেকবান আত্মার অনুগত হতে অভ্যস্ত হয়। এরপর এই বিষয়টি আরও বৃদ্ধি পায় ও সুদৃঢ় হয় যখন সে তার কুপ্রবৃত্তিকে লাগাম পরানোর শুভ পরিণাম দেখে আনন্দিত হয় এবং তার বুদ্ধি ও বিবেকের দ্বারা বিষয়াদি পরিচালনা করে উপকৃত হয়, আর লোকজন এই কারণে তার প্রশংসা করে এবং তার অবস্থার অনুরূপ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

‌‌আত্মার মন্দ অবস্থাসমূহ স্বতন্ত্রভাবে

‌‌বর্ণনার পূর্বে একটি উপস্থাপনা

যেহেতু আমরা পরবর্তী আলোচনার ভিত্তি স্থাপন করেছি এবং এ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করেছি যাতে যথেষ্ট দিকনির্দেশনা ও সহায়তা রয়েছে, তাই এখন আমরা আত্মার মন্দ অবস্থাসমূহ এবং সেগুলো সংশোধনের সূক্ষ্ম উপায়সমূহ আলোচনা করব, যা অন্যান্য না বলা বিষয়ের জন্য একটি মানদণ্ড ও উদাহরণস্বরূপ হবে। এক্ষেত্রে আমরা সংক্ষিপ্তসার ও সংক্ষেপণের নীতি অনুসরণ করব।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ما أمكن في الكلام فيها، إذ قدّمنا السبب الأعظم والعلة الكبرى التي منها نستقي وعليها نبني جميع وجوه التلطُّف لإصلاح خُلق ما ردى. حتى أنه لو لم يُفَرد ولا واحدٌ منها بكلام يخصه بل أُغفِلَ ولم يُذكر بتّةً لكان في التحفُّظ والتمسُّك بالأصل الأول غني وكفاية لإصلاحها، وذلك أنّ جُلها مما يدعو إليه الهوى وتحمل عليه الشهوات، وفي زمّ هذين وحفظهما ما يمنع التمسُّك والتخلُّق بهما. إلاّ أنّا على كل حال ذاكرون من ذلك ما نرى أنّ ذكره أوجب وألزم وأعون على بلوغ غرض كتابنا هذا، وبالله نستعين.

 

‌‌الفصل الرابع

‌‌في تعرُّف الرجل عيوب نفسه

من أجل أنّ كل واحد منّا لا يمكنه منع الهوى محبةً منه لنفسه واستصواباً واستحساناً لأفعاله، وأن ينظر بعين العقل الخالصة المحضة إلى خلائقه وسيرته -لا يكاد يستبين ما فيه من المعايب والضرائب الذميمة، ومتى لم يستبين ذلك فيعرفه لم يُقلِع عنه إذ ليس يَشعُر به فضلاً عن أن يستقبحه ويعمل في الإقلاع
এগুলোর আলোচনায় যতটুকু সম্ভব হয়েছে, কারণ আমরা ইতিপূর্বে সেই মহান কারণ এবং সর্ববৃহৎ ভিত্তির কথা উল্লেখ করেছি যেখান থেকে আমরা পাথেয় সংগ্রহ করি এবং যার উপর ভিত্তি করে চারিত্রিক ত্রুটি সংশোধনের সমস্ত বিনম্র উপায়সমূহ গড়ে তুলি। এমনকি এগুলোর কোনো একটি সম্পর্কেও যদি স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা না করা হতো, বরং অবহেলা করা হতো এবং একেবারেই উল্লেখ না করা হতো, তবুও প্রথম মূলনীতির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তা আঁকড়ে ধরার মধ্যেই এগুলো সংশোধনের জন্য যথেষ্ট সংস্থান ও পূর্ণতা বিদ্যমান ছিল। কেননা এগুলোর অধিকাংশই এমন যা কুপ্রবৃত্তি আহ্বান করে এবং কামনা-বাসনা যার দিকে ধাবিত করে; আর এই দুটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং তা থেকে বেঁচে থাকার মধ্যেই এমন প্রতিকার রয়েছে যা এগুলোর প্রতি আসক্ত হওয়া এবং এগুলোকে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত করা থেকে বিরত রাখে। তা সত্ত্বেও আমরা এগুলোর মধ্য থেকে এমন বিষয়গুলো উল্লেখ করব যা আমাদের এই গ্রন্থের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অধিক আবশ্যক, প্রয়োজনীয় এবং সহায়ক বলে মনে করি। আর আমরা আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ

‌‌ব্যক্তির নিজ দোষ-ত্রুটি চিহ্নিত করা প্রসঙ্গে

যেহেতু আমাদের প্রত্যেকের পক্ষেই নিজ নফসের প্রতি ভালোবাসা এবং নিজের কাজসমূহকে সঠিক ও সুন্দর মনে করার কারণে কুপ্রবৃত্তিকে প্রতিহত করা সম্ভব হয় না, এবং সম্ভব হয় না নির্ভেজাল ও স্বচ্ছ বিবেকের দৃষ্টি দিয়ে স্বীয় চরিত্র ও জীবনপদ্ধতির দিকে তাকানো—তাই নিজের মধ্যে বিদ্যমান দোষ-ত্রুটি এবং নিন্দনীয় স্বভাবসমূহ প্রায় অস্পষ্টই থেকে যায়। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তা স্পষ্ট না হবে এবং সে তা জানতে না পারবে, ততক্ষণ সে তা পরিহার করবে না; কারণ সে তো তা অনুভবই করতে পারছে না, ফলে সেটাকে মন্দ মনে করা এবং তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করার তো প্রশ্নই আসে না।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
عنه - فينبغي أن يُسند الرجل أمره في هذا إلى رجل عاقل كثير اللزوم له والكون معه، ويسأله ويضرع إليه ويؤكِّد عليه أن يُخبره بكل ما يعرفه فيه من المعايب، ويُعلمه أن ذلك أحبُ الأشياء إليه وأوقعها عنده، وأنّ المنّة عليه منه تعظم في ذلك والشكر يكثر، ويسأله أن لا يستحييه في ذلك ولا يجامله، ويعلمه أنه متى تساهل وضجع في شيء منه فقد أساء إليه وغشه واستوجب عليه اللائمة عليه. فإذا أخذ الرجل المشرف يُخبره ويُعلمه ما فيه وما ظهر وبان له منه لم يُظهر له اغتماماً ولا استخزاءً، بل اظهر له سروراً بما يستمع وتشوُّقاً إلى ما لم يستمع منه. فإن رآه في حالٍ ما قد كتمه شيئاً استحياءً منه أو قصّر في العبارة عن تقبيح ذلك أو حسنها لامه على ذلك وأظهر له اغتماماً به، وأعلمه أنه لا يحب ذلك منه ولا يريد إلاّ التصريح وإعلامه ما يراه على وجهه. فإن وجده في حال أخرى قد

এ বিষয়ে ব্যক্তির উচিত তার বিষয়টি এমন একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তির ওপর ন্যস্ত করা, যে সর্বদা তার সাথে থাকে এবং সঙ্গ দেয়। সে তাকে অনুরোধ ও বিনতি করবে এবং এ বিষয়ে জোর দিবে যেন সে তার ভেতরকার যাবতীয় দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে তাকে অবহিত করে। তাকে জানিয়ে দিবে যে, এটিই তার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও কার্যকরী বিষয় এবং এতে তার পক্ষ থেকে অনুগ্রহ অত্যন্ত মহৎ ও কৃতজ্ঞতা অনেক বেশি হবে। সে তাকে এও অনুরোধ করবে যে, সে যেন এ ব্যাপারে তার সাথে কোনো লজ্জা বা লৌকিকতা না করে। তাকে জানিয়ে দিবে যে, যখনই সে এ ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা করবে বা কোনো কিছু এড়িয়ে যাবে, তখন সে মূলত তার অনিষ্ট করল ও তার সাথে প্রতারণা করল এবং নিজেকে তিরস্কারের সম্মুখীন করল। অতঃপর যখন সেই পর্যবেক্ষক ব্যক্তি তাকে তার ভেতরের বিষয়াবলি এবং যা কিছু তার কাছে প্রকাশ্য হয়েছে তা জানাতে শুরু করবে, তখন সে যেন কোনো দুঃখ বা হীনম্মন্যতা প্রকাশ না করে; বরং যা শুনছে তার জন্য আনন্দ এবং যা শোনেনি তার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবে। যদি সে তাকে এমন অবস্থায় পায় যে, সে লজ্জাবশত কোনো কিছু গোপন করেছে অথবা কোনো বিষয়ের মন্দ বা ভালো দিকটি বর্ণনা করতে গিয়ে ত্রুটি করেছে, তবে সে তাকে এ জন্য তিরস্কার করবে এবং বিরক্তি প্রকাশ করবে। তাকে জানিয়ে দিবে যে, সে এটি পছন্দ করে না এবং সে কেবল চায় সত্যের স্পষ্ট প্রকাশ ও যা দেখা যাচ্ছে তার যথার্থ বর্ণনা। এরপর যদি সে তাকে অন্য অবস্থায় পায় যে...

(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৫)
زاد وأسرف في تقبيح شيء رآه منه وتهجينه لم يغضبه ذلك بل حمده عليه وأظهر له بِشراً وسروراً بما رآه منه. وينبغي أن يجِّدد سؤال هذا المشرف عليه حالاً بعد حال. فإن الأخلاق والضرائب الرديّة قد تحدث بعد أن لم تكن. وينبغي أن يستخبر ويتحسس ما يقول فيه جيرانه ومعاملوه وإخوانه وبماذا يمدحونه وبماذا يعيبونه، فإن الرجل إذا سلك في هذا المعنى هذا المسلك لم يكد يخفى عليه شئ من عيوبه وإن قلّ وخفى. فإن اتّفق له ووقع عدوٌّ ومنازع مُحب لإظهار مساويه ومعايبه لم يستدرك من قَبله معرفة عيوبه، بل إظطُرَّ واُلجِئ إلى الإقلاع عنها، إن كان ممّن لنفسه مقدار وممّن يحب أن يكون خيراً فاضلاً. وقد كتب في هذا المعنى جالينوس كتاباً جعل رسمة "في الأخيار ينتفعون بأعدائهم"، فذكر فيه منافع صارت أليه من أجل عدوّ كان له. وكتب أيضاً "في تعرف الرجل عيوب نفسه" مقالةً قد ذكرنا نحن جوامعها وجملتها هنا. وفيما ذكرنا من هذا الباب كفاية وبلاغ، ومَن استعمله لم يزل كالقِدح مقوَّماً مثقَّفاً

 

‌‌الفصل الخامس

‌‌في العشق والإلف

‌‌وجملة الكلام في اللذّة

أمّا الرجال المذكورون الكبار الهمم والأنفس فإنهم يبعدون من هذه البليّة من نفس طبائعهم وغرائزهم. وذلك أنه لا شئ أشدّ على أمثال هؤلاء من
কেউ যদি তার মাঝে দেখা কোনো ত্রুটি অত্যন্ত কদর্যভাবে প্রকাশ করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করে, তবে এতে তার রাগান্বিত হওয়া উচিত নয়; বরং এজন্য তার প্রশংসা করা উচিত এবং সে যা দেখেছে তাতে তার প্রতি প্রফুল্লতা ও আনন্দ প্রকাশ করা উচিত। আর তার ওপর নিযুক্ত এই পর্যবেক্ষণকারী ব্যক্তিকে সময়ের ব্যবধানে বারবার জিজ্ঞাসা করা উচিত। কেননা কুচরিত্র ও মন্দ স্বভাবসমূহ পূর্বে বিদ্যমান না থাকলেও পরে নতুন করে সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া তার প্রতিবেশী, লেনদেনকারী এবং ভাইরা তার সম্পর্কে কী বলে এবং কিসের জন্য তার প্রশংসা করে আর কী কারণে দোষারোপ করে, সে বিষয়ে খবর নেওয়া ও অনুসন্ধান করা উচিত। কেননা কোনো ব্যক্তি যদি এই উদ্দেশ্যে এই পথ অনুসরণ করে, তবে তার কোনো দোষই তার নিকট গোপন থাকবে না, তা যত সামান্য বা সূক্ষ্মই হোক না কেন। যদি ঘটনাক্রমে এমন কোনো শত্রু বা প্রতিদ্বন্দ্বীর উদয় হয় যে তার মন্দ দিক ও ত্রুটিসমূহ প্রকাশ করতে পছন্দ করে, তবে কেবল সেই শত্রুর মাধ্যমেই সে নিজের দোষগুলো চিনতে পারবে না, বরং সে যদি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন হয় এবং কল্যাণময় ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হতে চায়, তবে সে সেই দোষগুলো বর্জন করতে বাধ্য হবে। গ্যালেন এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ লিখেছেন যার শিরোনাম দিয়েছেন "সৎ ব্যক্তিরা তাদের শত্রুদের দ্বারা উপকৃত হয়"। সেখানে তিনি তার নিজের এক শত্রুর কারণে প্রাপ্ত উপকারিতাগুলো বর্ণনা করেছেন। তিনি "ব্যক্তি কর্তৃক নিজের দোষসমূহ চেনা" সম্পর্কে একটি প্রবন্ধও রচনা করেছেন, যার সারসংক্ষেপ ও মূলকথা আমরা এখানে উল্লেখ করেছি। এই পরিচ্ছেদে আমরা যা আলোচনা করেছি তা যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত। যে ব্যক্তি এটি প্রয়োগ করবে, সে তীরের মতো ঋজু ও সুসংস্কৃত হতে থাকবে।

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ

‌‌প্রেম ও আসক্তি প্রসঙ্গে

‌‌এবং আনন্দ বা তৃপ্তি সম্পর্কে সামগ্রিক আলোচনা

উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও মহানুভব যে পুরুষদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তারা তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতি ও সহজাত প্রবৃত্তির কারণেই এই বিপদ থেকে দূরে থাকেন। কারণ তাদের মতো ব্যক্তিদের নিকট এর চেয়ে কঠিন আর কিছু নেই যে...
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৬)
التذلُّل والخضوع والاستكانة وإظهار الفاقة والحاجة واحتمال التجني والاستطالة. فهم إذا فكروا يلزم العُشاق من هذه المعاني نفروا منه وتصابروا وأزالوا الهوى عنه وإن بُلوا به، وكذلك الذين تلزمهم أشغال وهموم بليغة اضطرارية دنيائية أو دينية. فأما الخَنِثون من الرجال والغَزِلون والفُرّاغ والمُترفون والمؤثِرون للشهوات الذين لا يهمهم سواها ولا يريدون من الدنيا إلاّ إصابتها، ويرون فَوتها فَوتاً وأسفاً، وما لم يقدروا عليه منها حسرةً وشقاءً، فلا يكادون يتخلصون من هذه البلية لا سيما إن أكثروا النظر في قصص العُشاق ورواية الرقيق الغزِل من الشعر وسماع الشجي من الألحان والغناء. فلنقل الآن في الاحتراس من هذا العارض والتنبيه على مَخاتله ومكامنه بقدر ما يليق بغرض كتابنا هذا. ونقدِّم قبل ذلك كلاماً نافعاً مُعيناً على بلوغ غرض ما مرّ من هذا الكتاب وما يأتي بعده، وهو الكلام في اللذّة.

فنقول: إن اللذة ليست بشيء سوى إعادة ما أخرجه المؤذي عن حالته إلى حالته التي كان عليها. كرجل خرج من موضع كنين ظليل إلى صحراء ثم سار في شمس صيفية حتى مسّه الحر ثم عاد إلى مكانه ذلك، فإنه لا يزال يستلذ
বিনয়, বশ্যতা, হীনতা, নিঃস্বতা ও অভাব প্রকাশ করা এবং অপবাদ ও সীমালঙ্ঘন সহ্য করা। প্রেমিকদের ক্ষেত্রে যখন এই অর্থগুলো অনিবার্য হয়ে পড়ে, তখন তারা তা নিয়ে চিন্তা করলে তা থেকে বিমুখ হয়, ধৈর্য ধারণ করে এবং এর প্রতি আসক্তি দূর করে দেয়—যদিও তারা তাতে আক্রান্ত হয়। একইভাবে যারা গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য জাগতিক বা দ্বীনি কাজে ও চিন্তায় মগ্ন থাকে, তাদের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটে। কিন্তু পুরুষদের মধ্যে যারা পৌরুষহীন, কামুক, অলস, বিলাসপ্রিয় এবং প্রবৃত্তিকে প্রাধান্যদানকারী—যাদের প্রবৃত্তি ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা নেই এবং দুনিয়া থেকে কেবল তা হাসিল করাই যাদের লক্ষ্য; তারা প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে না পারাকে অপূরণীয় ক্ষতি ও অনুশোচনার কারণ মনে করে এবং যা অর্জন করতে পারে না তার জন্য আক্ষেপ ও দুর্ভাগ্যে নিপতিত হয়—তারা এই বিপদ থেকে খুব কমই মুক্তি পায়। বিশেষ করে যদি তারা প্রেমিকদের কাহিনী পাঠে, কোমল ও আবেগপূর্ণ প্রেমের কবিতা চর্চায় এবং বিষাদময় সুর ও গান শ্রবণে মগ্ন থাকে। সুতরাং, এখন আমরা এই আপদ থেকে সতর্কতা এবং এর প্রতারণা ও গুপ্তস্থান সম্পর্কে সচেতন করার বিষয়ে আমাদের এই কিতাবের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আলোচনা করব। এর আগে আমরা এমন কিছু উপকারী কথা পেশ করব যা এই কিতাবের বিগত এবং পরবর্তী বিষয়বস্তুর উদ্দেশ্য হাসিলে সহায়ক হবে, আর তা হলো 'সুখ' সম্পর্কিত আলোচনা।

আমরা বলি: কোনো কষ্টদায়ক বস্তু কোনো কিছুকে তার স্বাভাবিক অবস্থা থেকে বিচ্যুত করার পর তাকে পুনরায় পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই হলো 'সুখ'। যেমন জনৈক ব্যক্তি কোনো সুরক্ষিত ছায়াযুক্ত স্থান থেকে মরুভূমিতে বের হলো, অতঃপর গ্রীষ্মের প্রখর রোদে পথ চলল যতক্ষণ না উত্তাপ তাকে স্পর্শ করল; এরপর যখন সে পুনরায় তার সেই পূর্বের স্থানে ফিরে এল, তখন সে অনবরত সুখ অনুভব করতে থাকে।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ذلك المكان حتى يعود بدنهُ إلى حالته الأولى، ثم يفقد ذلك الاستلذاذ مع عَود بدنه إلى الحالة الأولى، وتكون شدّة التذاذه بهذا المكان بمقدار شدّة إبلاغ الحرّ إليه وسرعة هذا المكان في تبريده. وبهذا المعنى حدّ الفلاسفة الطبيعيون اللذّة، فإنّ حدّ اللّذة عندهم هو رجوع إلى الطبيعة. ولأن الأذى والخروج عن الطبيعة ربما حدث قليلاً في زمان طويل، ثم حدث بعقبه رجوع إلى الطبيعة دفعةً في زمان قصير صار في مثل هذه الحال يفوتنا الحسُّ بالمؤذي ويتضاعف بيان الإحساس بالرجوع إلى الطبيعة، فنسمي هذه الحال لذةً. ويظّن بها مَن لا رياضة له أنها حدثت من غير أذى تقدمها، ويتصورها مفردةً خالصةً بريةً من الأذى. وليست الحال على الحقيقة كذلك بل ليس يمكن أن تكون لذّة بتّةً إلا بمقدار ما تقدمها من أذى الخروج عن الطبيعة. فإنه بمقدار أذى الجوع
সেই স্থান পর্যন্ত, যতক্ষণ না তার শরীর তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। অতঃপর শরীরের পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তনের সাথে সাথে সে সেই আস্বাদন হারিয়ে ফেলে। এই স্থানের প্রতি তার আনন্দের তীব্রতা নির্ভর করে তার ওপর উত্তাপের প্রভাবের তীব্রতা এবং তাকে শীতল করার ক্ষেত্রে এই স্থানের ক্ষিপ্রতার পরিমাণের ওপর। এই অর্থেই প্রকৃতিবাদী দার্শনিকগণ আনন্দের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন; কেননা তাদের নিকট আনন্দের সংজ্ঞা হলো প্রকৃতির স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তন। যেহেতু কষ্ট এবং প্রকৃতি থেকে বিচ্যুতি সম্ভবত দীর্ঘ সময় ধরে অল্প অল্প করে ঘটে, আর তার অব্যবহিত পরেই স্বল্প সময়ে হঠাৎ করে প্রকৃতির দিকে প্রত্যাবর্তন ঘটে, তাই এহেন পরিস্থিতিতে কষ্টদায়ক বিষয়ের অনুভূতি আমাদের নিকট অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং প্রকৃতির দিকে প্রত্যাবর্তনের অনুভূতির প্রকাশ প্রবল হয়ে ওঠে; ফলে আমরা এই অবস্থাকে আনন্দ বলে অভিহিত করি। যাদের এই বিষয়ে গভীর চিন্তাভাবনা বা চর্চা নেই, তারা মনে করে যে এটি পূর্বে কোনো কষ্ট ব্যতিরেকেই সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা একে কষ্টমুক্ত এক স্বতন্ত্র ও বিশুদ্ধ অনুভূতি হিসেবে কল্পনা করে। অথচ বিষয়টি বাস্তবে তেমন নয়; বরং প্রকৃতি থেকে বিচ্যুতির ফলে পূর্বে অতিক্রান্ত কষ্টের পরিমাণ অনুসারেই কেবল আনন্দ হওয়া সম্ভব। কেননা ক্ষুধার কষ্টের পরিমাণ অনুযায়ী...
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৮)
والعطش يكون بالالتذاذ بالطعام والشراب، حتى إذا عاد الجائع والعطشان إلى حالته الأولى لم يكن شئ أبلغ من عذابه من إكراهه على تناولهما بعد أن كانا ألذّ الأشياء عنده وأحبها إليه. وكذلك الحال في سائر الملاذّ فإن هذا الحد بالجملة لازمٌ لها ومحتوٍ عليها، إلا أن منها ما نحتاج في تبيين ذلك منه إلى كلام أدقّ وألطف وأطول من هذا. وقد شرحنا هذا في مقالة كتبناها "في مائية اللذة"، وفي هذا المقدار الذي ذكرناه هاهنا كفاية لما نحتاج إليه. وأكثر المائلين مع اللذّة المنقادين لها هم الذين لم يعرفوها على الحقيقة ولم يتصوروا منها إلا الحالة الثانية، أعني التي من مبدأ انقضاء فعل المؤذي إلى استكمال الرجوع إلى الحالة الأولى. ومن أجل ذلك أحبوها وتمَّنوا أن لا يخلوا في حال منها، ولم يعلموا أنّ ذلك غير ممكن لأنها حالة لا تكون ولا تُعرَف إلا بعد تقدُّم الأولى لها.

وأقول أنّ اللذّة التي يتصوروها العُشاق وسائرُ مَن كلِفَ بشيء وأُغرمَ به - كالعُشاق للترؤُّس والتملُّك وسائرِ الأمور التي يفرط ويتمكن حبها من نفوس بعض الناس حتى لا يتمنوا إلا إصابتها ولا يروا العيش إلاّ مع نيلها - عند تصوُّرهم نيل مرادهم عظيمةٌ مجاوزة للمقدار جداً. وذلك أنهم إنما يتصورون إصابة المطلوب ونيله مع عظم ذلك في أنفسهم من غير أن يخطر ببالهم الحالةُ الأولى التي هي كالطريق والمسلك إلى نيل مطلوبهم. ولو فكروا ونظروا في وعورة هذا الطريق وخشونته وصعوبته ومخاطره ومهاويه ومهالكه لمرّ عليهم ما حلا وعظُم
ক্ষুধা ও পিপাসা নিবারণ হয় আহার ও পানের মাধ্যমে লব্ধ তৃপ্তির দ্বারা। এমনকি যখন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে, তখন তার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ও সুস্বাদু থাকা সেই আহার ও পান গ্রহণে তাকে বাধ্য করার চেয়ে বড় কোনো শাস্তি আর হয় না। অন্যান্য সমস্ত আনন্দের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই; এই সীমাটি সামগ্রিকভাবে সেগুলোর জন্য অপরিহার্য এবং তাতে বিদ্যমান। তবে এর মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা স্পষ্ট করার জন্য আরও সূক্ষ্ম, সূচারু এবং দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন। আমরা এটি "আনন্দের সারকথা" (ফী মা-ইইয়াতিল লাযযাহ) শীর্ষক প্রবন্ধে ব্যাখ্যা করেছি, আর এখানে যতটুকু উল্লেখ করা হয়েছে তা আমাদের প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট। আনন্দের প্রতি আসক্ত এবং তার বশীভূত অধিকাংশ লোকই এর প্রকৃত রূপ জানে না; তারা আনন্দের কেবল দ্বিতীয় অবস্থাটিই কল্পনা করে। অর্থাৎ, কষ্টদায়ক বিষয়ের প্রভাব সমাপ্ত হওয়ার শুরু থেকে পূর্বাবস্থায় পূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মধ্যবর্তী অবস্থা। এই কারণেই তারা একে ভালোবাসে এবং কামনা করে যেন তারা কোনো অবস্থাতেই তা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়। অথচ তারা জানে না যে এটি অসম্ভব; কারণ এই অবস্থাটির অস্তিত্ব বা পরিচয় প্রথম অবস্থাটির অতিবাহিত হওয়া ব্যতীত সম্ভব নয়।

আমি বলছি যে, প্রেমিকরা এবং কোনো বিষয়ের প্রতি অতিশয় অনুরক্ত ও আসক্ত ব্যক্তিরা—যেমন নেতৃত্ব, মালিকানা এবং অন্যান্য বিষয়ের প্রতি আসক্তরা, যাদের অন্তরে এগুলোর প্রতি ভালোবাসা এতটাই বদ্ধমূল হয়ে যায় যে তারা তা অর্জন করা ছাড়া আর কিছুই কামনা করে না এবং তা লাভ করা ব্যতীত জীবনকে অর্থহীন মনে করে—যখন তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনের কল্পনা করে, তখন তাদের সেই আনন্দ কল্পনাপ্রসূতভাবে অত্যন্ত বিশাল ও সীমাতীত হয়ে থাকে। এর কারণ হলো, তারা যখন তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ করার কথা কল্পনা করে, তখন তাদের মনে কেবল সেই অর্জনের বিশালতাই স্থান পায়; তাদের মনে সেই প্রথম অবস্থার কথা উদিত হয় না, যা তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের পথ ও পাথেয় স্বরূপ। যদি তারা এই পথের বন্ধুরতা, রুক্ষতা, কাঠিন্য, ঝুঁকি, গর্ত ও ধ্বংসাত্মক দিকগুলো নিয়ে চিন্তা করত ও দেখত, তবে তাদের নিকট সেই মিষ্টতা ও মাহাত্ম্য তিক্ততায় পর্যবসিত হতো।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৩৯)
ما صغر عندهم في جنب ما يحتاجون إلى مقاساته ومكادحته.

وإذ قد ذكرنا جملة مائية اللذّة وأوضحنا من أين غلط مَن تصُرها محضةً بريةً من الألم والأذى فإنا عائدون إلى كلامنا ومنبِّهون على مساوئ هذا العارض أعني العشق وخساسته.

فنقول: إن العُشّاق يجاوزون حدّ البهائم في عدم ملكة النفس وزمّ الهوى وفي الانقياد للشهوات. وذلك أنهم لم يرضوا أن يصيبوا هذه الشهوة، أعني لذّ الباه - على أنها من أسمج الشهوات وأقبحها عند النفس الناطقة التي هي الإنسان على الحقيقة - من أيّ موضع يمكن إصابتها منه، حتى أرادوها من موضع مّا بعينه فضمّوا شهوةً إلى شهوة وانقادوا وذّلوا للهوى ذلاً على ذلّ وازدادوا له عبوديةً إلى عبوديّة. والبهيمة لا تصير من هذا الباب إلى هذا الحدّ ولا تبلغه، ولكنها تصيب منه بقدر ما لها في الطبع مما تطرح به عنها ألم المؤذي المَّهيج لها عليه لا غير، ثم تصير إلى الراحة الكاملة منه. وهؤلاء لمّا لم يقتصروا على المقدار البهيمي من الانقياد للطباع، بل استعانوا بالعقل - الذي فضّلهم الله على البهائم وأعطاهم إيّاه ليروا مساوئ الهوى ويزمّوه ويملكوه - في التسلُّق على لطيف الشهوات وخفّيها والتحُّيز لها والتّفوق فيها، وجب عليهم وحقَّ لهم ألاّ يبلغوا منها إلى غاية ولا يصيروا منها إلى راحة، ولا يزالوا متأذّين بكثرة البواعث عليها ومتحسِّرين على كثرة الفائت منها غير مغتبطين ولا راضين - لنزوع أنفسهم عنها وتعلُّق أمانيهم بما فوقها وبما لا نهاية له منها - بما نالوه أيضاً وقدروا عليه منها.
তারা যা সহ্য করতে এবং যার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য হয়, তার তুলনায় এটি তাদের কাছে তুচ্ছ হয়ে পড়ে।

যেহেতু আমরা আনন্দের সারকথা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি এবং যারা একে ব্যথা ও কষ্ট থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও বিশুদ্ধ মনে করে তাদের ভুলের উৎস স্পষ্ট করেছি, তাই এখন আমরা আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে আসছি এবং এই আপতিত বিষয়ের—অর্থাৎ ইশক বা আসক্তির—মন্দ দিকসমূহ এবং এর হীনতা সম্পর্কে সতর্ক করছি।

আমরা বলি: আসক্ত প্রেমিকরা প্রবৃত্তি দমনে অক্ষমতা, নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং লালসার অনুসরণের ক্ষেত্রে চতুষ্পদ জন্তুর সীমাও অতিক্রম করে যায়। কারণ তারা এই লালসা চরিতার্থ করায় সন্তুষ্ট নয়—আমি বলতে চাচ্ছি যৌন সম্ভোগের কথা, যা প্রকৃত মানুষ অর্থাৎ বাকশক্তিসম্পন্ন আত্মার নিকট সবচেয়ে কদর্য ও কুরুচিপূর্ণ কামনা হওয়া সত্ত্বেও—যেকোনো উপায়ে তা অর্জনে তারা ক্ষান্ত হয় না। বরং তারা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের প্রতি আসক্ত হয়, ফলে তারা এক লালসার সাথে অন্য লালসাকে যুক্ত করে। এভাবে তারা কুপ্রবৃত্তির কাছে নতি স্বীকার করে এবং লাঞ্ছনার পর লাঞ্ছিত হতে থাকে এবং দাসত্বের ওপর দাসত্ব বৃদ্ধি করতে থাকে। অথচ পশু এই পর্যায়ে উপনীত হয় না এবং এই সীমায় পৌঁছায় না। সে কেবল তার স্বভাবজাত চাহিদা অনুযায়ী ততটুকুই গ্রহণ করে যার মাধ্যমে সে তার উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কষ্টদায়ক অনুভূতি দূর করতে পারে, এর বাইরে কিছু নয়। এরপর সে তা থেকে পূর্ণ স্বস্তি লাভ করে। কিন্তু এরা যখন স্বভাবজাত প্রবৃত্তির অনুসরণে পশুর মতো নির্দিষ্ট মাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বুদ্ধিবৃত্তির—যা আল্লাহ তাদের পশুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব হিসেবে দিয়েছেন এবং কুপ্রবৃত্তির মন্দ দিকসমূহ দেখে তা নিয়ন্ত্রণ ও দমন করার জন্য দান করেছেন—সহযোগিতা নিয়েছে সূক্ষ্ম ও প্রচ্ছন্ন লালসাসমূহ অর্জনে, সেগুলোর দিকে ধাবিত হতে এবং তাতে পারদর্শিতা লাভে; তখন তাদের জন্য এটাই অনিবার্য ও যুক্তিসঙ্গত হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তারা এর কোনো শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে পারবে না এবং কোনো স্বস্তিও লাভ করবে না। তারা সর্বদা এর উদ্দীপকগুলোর আধিক্যের কারণে যন্ত্রণাদগ্ধ হতে থাকে এবং যা কিছু হারিয়েছে তার জন্য আক্ষেপ করতে থাকে। তারা যা কিছু অর্জন করেছে বা যা কিছু লাভে সক্ষম হয়েছে তাতেও তারা আনন্দিত বা সন্তুষ্ট হতে পারে না; কারণ তাদের মন এ থেকে বিমুখ হয়ে তার চেয়েও ঊর্ধ্বে থাকা এবং অসীম কিছুর আকাঙ্ক্ষায় লিপ্ত হয়।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৪০)
ونقول أيضاً: إن العُشّاق مع طاعتهم للهوى وإيثارهم اللذّة وتعبدَّهم لها يحزنون من حيث يظنون أنهم يفرحون، ويألمون من حيث يظنون أنهم يلذّون. وذلك أنهم لا ينالون من ملاذهم شيئاً ولا يصلون إليه إلاّ بعد أن يمسّهم الهمّ والجهد ويأخذ منهم ويبلغ إليهم. وربما لم يزالوا من ذلك في كُرَب منُصِبة وغُصَصٍ متصلة من غير نيل مطلوبٍ بتّةً. والكثير منهم يصير لِدوام السهر والهم وفقد الغذاء إلى الجنون والوسواس وإلى الدِقّ والذبول. فإذا هم وقعوا من حِبال اللذة وشِباكها في الرديء والمكروه، وأدتّهم عواقبها إلى غاية الشقاء والتهلكة. وأمّا الذين ظنّوا أنهم ينالون لذّة العشق كَمَلاّ ويصيبونه مّمن ملكوه وقدروا عليه فقد غلطوا وأخطئوا خطاً بيّناً. وذلك أنّ اللذّة إنما تكون إذا نيلة بمقدار بلاغ ألم المؤذي الباعث عليها الداعي إليها، ومَن ملك شيئاً وقدر عليه ضعف فيه هذا الباعث الداعي وهدأ وسكن سريعاً. وقد قيل قولاً حقّاً صدقاً إنّ كل موجود مملوك وكل ممنوع مطلوب ونقول أيضا: إن مفارقة المحبوب أمر لا بد منه اضطرارا بالموت، وإن سلم من سائر حوادث الدنيا وعوارضها المبددة للشمل المفرقة بين الأحبة. وإذا كان لا بد من إساغة هذه الغصة وتجرع هذه المرارة فإن تقديمها والراحة منها أصلح من تأخيرها والانتظار لها، لأن ما لا بد من وقوعه متى قُدّم أُزِيحَ مؤونة الخوف منه مدة تأخيره. وأيضا فإن منع النفس من محبوبها قبل أن يستحكم حُبّه ويرسخ فيها ويستولي عليها أيسر وأسهل. وأيضا فإن العشق متى

এবং আমরা আরও বলি: প্রেমিকরা প্রবৃত্তির আনুগত্য, লালসাকে প্রাধান্য দেওয়া এবং এর দাসত্ব করা সত্ত্বেও প্রকৃতপক্ষে দুঃখই বরণ করে, অথচ তারা মনে করে যে তারা আনন্দিত হচ্ছে; এবং তারা যন্ত্রণাই ভোগ করে, অথচ তারা মনে করে যে তারা স্বাদ গ্রহণ করছে। আর তা এজন্য যে, তারা তাদের ভোগ্যবস্তু থেকে কোনো কিছুই লাভ করতে পারে না এবং তার কাছে পৌঁছাতে পারে না ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না দুশ্চিন্তা ও ক্লান্তি তাদের স্পর্শ করে, তাদের থেকে কিছু কেড়ে নেয় এবং তাদের গহীনে পৌঁছে যায়। আর অনেক সময় তারা কাম্যবস্তু মোটেই লাভ না করে দীর্ঘস্থায়ী কষ্ট ও নিরবচ্ছিন্ন মনোকষ্টের মধ্যে নিমজ্জিত থাকে। তাদের মধ্যে অনেকেই নিরন্তর রাত জাগরণ, দুশ্চিন্তা এবং খাদ্যের অভাবে উন্মাদনা, কুচিন্তা, যক্ষ্মা ও শীর্ণতার দিকে ধাবিত হয়। ফলে তারা লালসার রশি ও জালে আটকা পড়ে মন্দ ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের মধ্যে পতিত হয় এবং এর পরিণতি তাদেরকে চরম দুর্ভাগ্য ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। আর যারা মনে করে যে তারা প্রেমের স্বাদ পরিপূর্ণভাবে লাভ করবে এবং যাকে তারা জয় করেছে বা যার ওপর সামর্থ্য লাভ করেছে তার কাছ থেকে তা অর্জন করবে, তারা সুস্পষ্ট ভুল ও ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। কেননা স্বাদ কেবল তখনই অনুভূত হয় যখন তা উদ্দীপক যন্ত্রণাদায়ক তাড়নার সমপরিমাণে অর্জিত হয়; আর যখন কেউ কোনো কিছুর মালিক হয় এবং তার ওপর কর্তৃত্ব পায়, তখন সেই উদ্দীপক তাড়না দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দ্রুত স্তিমিত ও শান্ত হয়ে যায়। এটি একটি সত্য ও যথার্থ কথা বলা হয়েছে যে: "বিদ্যমান প্রতিটি বস্তুই তুচ্ছ, আর নিষিদ্ধ প্রতিটি বস্তুই কাম্য।" আমরা আরও বলি: প্রিয়জনের বিচ্ছেদ মৃত্যুর মাধ্যমে অনিবার্যভাবে ঘটবেই, যদি সে দুনিয়ার অন্যান্য আপদ-বিপদ এবং প্রেমিকদের বিচ্ছিন্নকারী ও মিলনকে ধূলিসাৎকারী দুর্ঘটনা থেকে বেঁচেও যায়। আর যেহেতু এই শোকের ঢোক গেলা এবং এই তিক্ততা আস্বাদন করা অনিবার্য, তাই তা বিলম্বিত করা এবং তার অপেক্ষায় থাকার চেয়ে তা এগিয়ে আনা এবং তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া অধিকতর শ্রেয়। কেননা যা ঘটা অনিবার্য, তা যদি আগেভাগে ঘটে যায়, তবে বিলম্বের সময়কাল জুড়ে যে ভয়ের বোঝা থাকে তা অপসারিত হয়। তদুপরি, অন্তরে ভালোবাসার শিকড় শক্ত হওয়ার, তা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার এবং আধিপত্য বিস্তার করার আগেই নফসকে তার প্রিয়বস্তু থেকে বিরত রাখা অনেক সহজ ও সাধ্যের অনুকূল। এছাড়া, প্রেম যখন...

(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৪১)
انضم إليه الإلف عسر النزوع عنه والخروج منه، فإن بلية الإلف ليست بدون بلية العشق، بل لو قال قائل إنه أوكد وأبلغ منه لم يكن مخطئا، ومتى قصرت مدة العشق وقل فيه لقاء المحبوب كان أحرى أن لا يخالطه ويعاونه الإلف. والواجب في حكم العقل من هذا الباب أيضا المبادرة في منع النفس وزمِّها عن العشق قبل وقوعها فيه، وفطمها منه إذا وقعت قبل استحكامه فيها. وهذه الحجة يقال إن فلاطن الحكيم احتج بها على تلميذ له بلى بحب جارية فأخل بمركزه من مجلس مدارس فلاطن. فأمر أن يطلب ويؤتى به، فلما مثل بين يديه قال أخبرني يا فلان هل تشك في انه

لا بد لك من مفارقة حبتك هذه يوما ما؟ قال ما أشك في ذلك. فقال له فلاطن فاجعل تلك المرارة المتجرعة في ذلك اليوم في هذا اليوم، قال ما أشك في ذلك. فقال له فلاطن فاجعل تلك المرارة المتجرعة في ذلك اليوم، وأزح ما بينهما من خوف المنتظر الباقي بحاله الذي لابدّ من مجيئه وصعوبة معالجة ذلك بعد الاستحكام وانضمام الإلف إليه وعَضْدِه له. فيقال إنّ التلميذ قال لفلاطن إنّ ما تقول أيها السيد الحكيم حقٌ، لكني أجدُ انتظاري له سلوةً بمرور الأيام عنّي أخفُّ عليَّ. فقال له فلاطن وكيف وثقت بسلوة الأيام ولم تَخَفْ إلفها، ولم أمنت أن تأتيك الحالة المفرِّقة قبل السلوة وبعد الاستحكام، فتشتدّ بك الغُصّة وتتضاعف عليك المرارة. فيقال إن ذلك الرجل سجد في تلك الساعة لفلاطن وشكره ودعا له وأثنى عليه، ولم يعاود شيئاً مما كان فيه ولم يَظهر منه حزن ولا شوق، ولم يزل بعد ذلك لازماً لمجالس فلاطن غيرَ مُخلٍّ بها بتّةً. ويقال إنّ
আসক্তি বা অভ্যস্ততা তার সাথে যুক্ত হয়ে তা থেকে সরে আসা বা বের হওয়াকে কঠিন করে তোলে। কারণ অভ্যস্ততার বিপদ প্রেমের বিপদের চেয়ে কম নয়, বরং কেউ যদি বলে যে এটি প্রেমের চেয়েও সুদৃঢ় ও গভীর, তবে সে ভুল করবে না। যখন প্রেমের স্থায়িত্বকাল কম হয় এবং প্রিয়জনের সাথে সাক্ষাৎও বিরল হয়, তখন এতে আসক্তি বা অভ্যস্ততা যুক্ত না হওয়াই বেশি স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে যুক্তির দাবি হলো—প্রেমে পতিত হওয়ার আগেই নফসকে তা থেকে নিবৃত্ত করা ও লাগাম টেনে ধরা এবং যদি প্রেমে পড়েই যায়, তবে তা বদ্ধমূল হওয়ার আগেই নফসকে তা থেকে বিচ্ছিন্ন করা। বর্ণিত আছে যে, বিজ্ঞ দার্শনিক প্লেটো তাঁর এক ছাত্রের ক্ষেত্রে এই যুক্তিটি দিয়েছিলেন, যে ছাত্রটি এক দাসীর প্রেমে পড়ে প্লেটোর পাঠদান মজলিসে নিজের অবস্থানে অবহেলা করতে শুরু করেছিল। তিনি তাকে খুঁজে বের করে নিয়ে আসার নির্দেশ দিলেন। যখন সে তাঁর সামনে উপস্থিত হলো, তিনি বললেন: "হে অমুক, আমাকে বলো, তোমার কি এতে কোনো সন্দেহ আছে যে

কোনো একদিন তোমার এই প্রিয়তমার সাথে বিচ্ছেদ ঘটবেই?" সে উত্তর দিল: "এতে আমার কোনো সন্দেহ নেই।" তখন প্লেটো তাকে বললেন: "তাহলে সেই দিনটিতে যে তিক্ততা তুমি পান করবে, তা আজই গ্রহণ করে নাও। আর এর মধ্যবর্তী সময়ের সেই আতঙ্ক দূর করো, যা অবধারিতভাবে আসার জন্য প্রতীক্ষমাণ এবং প্রেম বদ্ধমূল হওয়ার পর আসক্তি ও অভ্যস্ততার কারণে তা প্রতিকার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।" বলা হয় যে, ছাত্রটি প্লেটোকে বলল: "হে বিজ্ঞ মহোদয়, আপনি যা বলেছেন তা সত্য। কিন্তু আমি মনে করি সময়ের পরিক্রমায় প্রতীক্ষার যে সান্ত্বনা আমি পাব, তা আমার জন্য বেশি সহজ হবে।" তখন প্লেটো তাকে বললেন: "তুমি কীভাবে সময়ের সান্ত্বনার ওপর ভরসা করলে অথচ এর অভ্যস্ততাকে ভয় পেলে না? তুমি কীভাবে নিশ্চিত হলে যে সেই বিচ্ছেদকাল আসার আগে এবং প্রেম দৃঢ় হওয়ার পরে কোনো বিচ্ছেদদায়ক পরিস্থিতি তোমার সামনে আসবে না, যার ফলে তোমার দুঃখ আরও তীব্র হবে এবং তিক্ততা বহুগুণ বেড়ে যাবে?" বলা হয় যে, সেই মুহূর্তেই লোকটি প্লেটোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে অবনত হলো, তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল, তাঁর জন্য দোয়া করল এবং তাঁর প্রশংসা করল। এরপর সে তার আগের অবস্থায় আর ফিরে যায়নি এবং তার মধ্যে কোনো দুঃখ বা আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ পায়নি। এরপর থেকে সে সর্বদা প্লেটোর মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকত এবং কখনোই তাতে ত্রুটি করত না। বর্ণিত আছে যে—
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৪২)
فلاطن أقبل بعد فراغه من هذا الكلام على وجوه تلامذته فلامهم وعذلهم في تركهم وإطلاقهم هذا الرجلَ وصَرْفَ كل همّته إلى سائر أبواب الفلسفة قبل إصلاح نفسه الشهوانية وقمعها وتذليلها للنفس الناطقة.

ولأن قوماً رُوعْناً يعاندون ويناصبون الفلاسفة في هذا المعنى بكلام سخيف ركيك كسخافتهم وركاكتهم - وهؤلاء هم الموسومون بالظرف والأدب - فإنّا نذكر ما يأتون به في هذا المعنى ونقول فيه من بعده. إنّ هؤلاء القوم يقولون إنّ العشق إنما يعتاده الطبائعُ الرقيقة والأذهان اللطيفة، وإنه يدعو إلى النظافة واللباقة والزينة والهيئة. ويُشيعون هذا ونحوه من كلامهم بالغزل من الشعر البليغ في هذا المعنى، ويحتجّون بمن عشق من الأدباء والشعراء والسراة والرؤساء ويتخطونهم إلى الأنبياء. ونحن نقول: إنّ رقّة الطبع ولطافة الذهن وصفاءه يُعرَفان ويُعتبران بإشراف أصحابهما على الأمور الغامضة البعيدة والعلوم اللطيفة الدقيقة وتبيين الأشياء المشكلة الملتبسة واستخراج الصناعات المُجدِيَة النافعة.

ونحن نجد هذه الأمور مع الفلاسفة فقط، ونرى العشق لا يعتادهم ويعتاد اعتياداً كثيراً دائماً أجلاف الأعراب والأكراد والأعلاج والأنباط. ونجد أيضاً من الأمر العامّ الكلّي أنه ليست أمة من الأمم أرقّ فطنةً وأظهر حكمةً من اليونانيين، ونجد العشق في جملتهم أقلّ ممّا في جملة سائر الأمم. وهذا يوجِب ضدَّ ما ادّعوه، أعني أنه يوجب أن يكون العشق إنما يعتاد أصحابَ الطبائع الغليظة والأذهان البليدة، ومَن قلّ فكره ونظره ورويته بادر إلى الهجوم على ما دعته إليه نفسه
এই আলোচনার সমাপ্তি টেনে আফলাতুন তাঁর শিষ্যদের দিকে মনোনিবেশ করলেন। তিনি তাদের তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করলেন এই জন্য যে, তারা এই লোকটিকে ছেড়ে দিয়েছিল এবং তাকে অবাধ সুযোগ দিয়েছিল যাতে সে তার কামনালব্ধ প্রবৃত্তিকে সংশোধন করার এবং তাকে দমিত ও বিবেকবান আত্মার অনুগত করার আগেই তার যাবতীয় উদ্যম দর্শনের অন্যান্য শাখার পেছনে ব্যয় করে।

আর যেহেতু একদল নির্বোধ লোক তাদের নিজেদের মতো অসার ও দুর্বল যুক্তির মাধ্যমে এই বিষয়ে দার্শনিকদের বিরোধিতা ও শত্রুতা করে থাকে—যাদেরকে সাধারণত সুরুচিসম্পন্ন ও সাহিত্যবোদ্ধা বলে অভিহিত করা হয়—তাই তারা এ বিষয়ে যা বলে আমরা তা উল্লেখ করব এবং পরে তার উত্তর দেব। এই লোকেরা দাবি করে যে, আসক্তি বা 'ইশক' কেবল সুকুমার প্রকৃতি ও সূক্ষ্ম মেধার অধিকারীদেরই হয়ে থাকে এবং এটি পরিচ্ছন্নতা, চতুরতা, সৌন্দর্য ও সুরুচির দিকে আহ্বান করে। তারা এই জাতীয় কথা ও ভাবকে চমৎকার সব কাব্যগাথার মাধ্যমে প্রচার করে এবং সাহিত্যিক, কবি, অভিজাত ও নেতাদের মধ্যে যারা এই প্রেমে লিপ্ত হয়েছিলেন তাদের উদাহরণ হিসেবে পেশ করে, এমনকি তারা নবীদের বিষয় পর্যন্ত টেনে আনে। আমরা বলি: প্রকৃতির কোমলতা, মেধার সূক্ষ্মতা ও এর স্বচ্ছতা কেবল তখনই স্বীকৃত ও বিবেচিত হয় যখন তার অধিকারী ব্যক্তিরা জটিল ও গূঢ় বিষয়াবলি এবং সূক্ষ্ম ও গভীর জ্ঞান সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করে, অস্পষ্ট ও সন্দেহপূর্ণ বিষয়সমূহ স্পষ্ট করে এবং উপকারী ও ফলদায়ক শিল্পকলা উদ্ভাবন করে।

অথচ আমরা এই গুণগুলো কেবল দার্শনিকদের মধ্যেই খুঁজে পাই এবং আমরা দেখি যে, ইশক তাদের আবিষ্ট করে না। বরং এটি সর্বদা ও ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয় স্থূল স্বভাবের মরুবাসী আরব, কুর্দি, অসভ্য এবং অনারবদের মধ্যে। আমরা আরও দেখতে পাই যে, সামগ্রিক বিচারে গ্রিকদের চেয়ে অধিক তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান আর কোনো জাতি নেই, অথচ তাদের মধ্যে ইশকের প্রাদুর্ভাব অন্যান্য জাতির তুলনায় অনেক কম। এটি তাদের দাবির ঠিক বিপরীত বিষয়কেই সাব্যস্ত করে; অর্থাৎ এটি প্রমাণ করে যে, ইশক কেবল স্থূল প্রকৃতি ও স্থবির মেধার অধিকারী ব্যক্তিদেরই পেয়ে বসে। যার চিন্তা, দূরদর্শিতা ও বিবেচনা শক্তি কম, সে-ই দ্রুত নিজের প্রবৃত্তি তাকে যেদিকে আহ্বান করে সেদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) রাসাইল ফালসাফিয়্যাহ লির-রাযী (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ومالت إليه شهوته. وأمّا احتجاجهم بكثرة مَن عشق من الأدباء والشعراء والسراة والرؤساء فإنا نقول: إنّ السروَ والرياسة والشعر والفصاحة ليست ممّا لا يوجد أبداً إلاّ مع كمال العقل والحكمة، وإذا كان الأمر كذلك أمكن أن يكون العُشاق من هؤلاء من النقص في عقولهم وحكمتهم. وهؤلاء القوم لجهلهم ورعونتهم يحسبون أنّ العلم والحكمة إنما هو النحو والشعر والفصاحة والبلاغة، ولا يعلمون أنّ الحكماء لا يَعُدّون ولا واحداً من هذه حكمةً ولا الحاذق بها حكيماً، بل الحكم عندهم من عرف شروط البرهان وقوانينه واستدراك وبلغ من العلم الرياضي والطبيعي والعلم الإلهي مقدار ما في وسع الإنسان بلوغُه. ولقد شهدت ذات يوم رجلاً من متحذلقيهم عند بعض مشايخنا بمدينة السلام، وكان لهذا الشيخ مع فلسفته حظّ وافر من المعرفة بالنحو واللغة والشعر، وهو يجاريه وينشده ويبذخ ويشمخ في خلال ذلك بأنفه ويُطنب ويبالغ في مدح أهل صناعته ويرذل مَن سواهم، والشيخ في كل ذلك يحتمله معرفةً منه بجهله وعُجبه ويتبسّم إلى أن قال فيما قال: هذا والله العلم وما سواه ريح، فقال له الشيخ يا بنيّ هذا علم مَن لا علم له ويفرح به من لا عقل له. ثم أقبل عليّ وقال سل فتانا هذا عن شيء من مبادئ العلوم الاظطرارية، فإنه ممّن يرى أنّ مَن مهر في اللغة يمكنه الجواب عن جميع ما يُسئل عنه. فقلت خبَّرني عن العلوم أَظطرارية هي أم اصطلاحية؟ ولم أتمم التقسيم على تعمُّد، فبادر فقال العلوم كلها اصطلاحيه. وذلك أنه كان سمع أصحابنا يعيرون هذه العصابة أنّ علمهم
এবং তার প্রবৃত্তি সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। আর সাহিত্যিক, কবি, অভিজাত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যারা প্রেমে আসক্ত হয়েছেন, তাদের আধিক্য নিয়ে তাদের যে যুক্তি, সে প্রসঙ্গে আমরা বলি: আভিজাত্য, নেতৃত্ব, কবিত্ব এবং বাকপটুতা এমন কোনো বিষয় নয় যা কেবল পূর্ণ বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার সাথেই বিদ্যমান থাকে। বিষয়টি যখন এমনই, তখন এটা সম্ভব যে এদের মধ্যকার প্রেমিকদের বুদ্ধি ও প্রজ্ঞায় ঘাটতি রয়েছে। এই লোকেরা তাদের অজ্ঞতা ও মূর্খতার কারণে মনে করে যে, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা কেবল ব্যাকরণ, কাব্য, সাবলীলতা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের নাম। তারা জানে না যে, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা এর কোনোটিকেই প্রজ্ঞা হিসেবে গণ্য করেন না এবং এসব বিষয়ে পারদর্শীকে ‘হাকিম’ বা প্রজ্ঞাবান বলেন না। বরং তাদের নিকট প্রজ্ঞাবান তো সেই ব্যক্তি, যিনি প্রমাণের শর্তাবলী ও তার নিয়মকানুন জানেন এবং গাণিতিক, প্রাকৃতিক ও ঐশী বিদ্যায় মানুষের সাধ্যায়ত্ত জ্ঞান অর্জন করেছেন। আমি একদিন মদিনাতুস সালামে আমাদের এক শায়খের নিকট তাদের এক পন্ডিতম্মন্য ব্যক্তিকে দেখেছিলাম। সেই শায়খের দর্শনের পাশাপাশি ব্যাকরণ, ভাষা ও কাব্যেও অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। সেই ব্যক্তিটি শায়খের সাথে পাল্লা দিচ্ছিল, কবিতা আবৃত্তি করছিল এবং দম্ভ দেখাচ্ছিল। সে সময় সে অত্যন্ত গর্বভরে কথা বলছিল এবং নিজ শাস্ত্রের লোকদের প্রশংসায় অতিরঞ্জন করছিল এবং অন্যদের তুচ্ছ করছিল। শায়খ তার অজ্ঞতা ও আত্মগর্ব সম্পর্কে অবগত হয়ে এসব সহ্য করছিলেন এবং মৃদু হাসছিলেন। শেষ পর্যন্ত সে বলল: ‘আল্লাহর কসম, এটাই হলো জ্ঞান, আর বাকি সব তো বাতাস।’ তখন শায়খ তাকে বললেন: ‘হে বৎস, এটা তো তাদের জ্ঞান যাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং এতে তারাই আনন্দ পায় যাদের বুদ্ধি নেই।’ অতঃপর তিনি আমার দিকে ফিরে বললেন: ‘আমাদের এই যুবককে মৌলিক অকাট্য জ্ঞানসমূহ সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করো। কারণ সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা মনে করে যে, কেউ ভাষায় দক্ষ হলে তাকে যা-ই জিজ্ঞাসা করা হোক না কেন, সে উত্তর দিতে পারবে।’ তখন আমি বললাম: ‘আমাকে বিজ্ঞানসমূহ সম্পর্কে বলুন, সেগুলো কি অকাট্য নাকি পারিভাষিক?’ আমি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভাজনটি পূর্ণ করিনি। সে দ্রুত বলে উঠল: ‘সকল বিজ্ঞানই পারিভাষিক।’ এর কারণ হলো, সে আমাদের সাথীদের এই গোষ্ঠীকে এই বলে উপহাস করতে শুনেছিল যে তাদের জ্ঞান...