(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب الولاة وكتاب القضاة - ط العلمية القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: «الوُلاة» و «القُضاة»
المؤلف: أبو عمر محمد بن يوسف بن يعقوب الكندي، المتوفى بعد سنة 353 هـ[كذا على غلاف المطبوع ولم يذكر مستنده]
[تنبيه: «الوُلاة» كتاب مستقل للمؤلف، ينتهي بنهاية ص 215
ويليه: «كتاب القُضاة» انتهى فيه إلى سنة 246 هـ بنهاية ص 339
ويليه: «ذيل» لأبي الحسن أحمد بن عبد الرحمن بن برد (ت 379 هـ) بلغ به سنة 366 هـ، من ص 340 إلى 354
ويليه: «ذيل تالٍ» لمجهول، ابتدأه من سنة 347 حتى 424 هـ، من ص 355 إلى ص 359]
تحقيق: محمد حسن محمد حسن إسماعيل - وأحمد فريد المزيدي
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الصفحات: 359
تنبيه: هذه الطبعة لا تعدو أن تكون إعادة صَفّ لتحقيق (رفن كست) المطبوع في بيروت عام 1908 م بتعليقاتها وذيولها، وهي منشورة أيضا بالمكتبة الشاملة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কিতাবুল উলাত ওয়া কিতাবুল কুদাত - ইলমিয়্যাহ সংস্করণ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: «আল-উলাত» এবং «আল-কুদাত»
লেখক: আবু উমর মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কিন্দি, মৃত্যু ৩৫৩ হিজরির পর [মুদ্রিত কভারের ওপর এভাবেই আছে এবং এর কোনো প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি]
[সতর্কবার্তা: «আল-উলাত» লেখকের একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ, যা ২১৫ পৃষ্ঠার শেষে সমাপ্ত হয়েছে
এরপর: «কিতাবুল কুদাত» এতে তিনি ২৪৬ হিজরি পর্যন্ত আলোচনা করেছেন যা ৩৩৯ পৃষ্ঠার শেষে সমাপ্ত হয়েছে
এরপর: আবুল হাসান আহমদ বিন আব্দুর রহমান বিন বারদ (মৃত্যু ৩৭৯ হি.)-এর লিখিত একটি «পরিশিষ্ট» যা তিনি ৩৬৬ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন, ৩৪০ থেকে ৩৫৪ পৃষ্ঠা পর্যন্ত
এরপর: একজন অজ্ঞাত লেখকের «পরবর্তী পরিশিষ্ট», তিনি এটি ৩৪৭ হিজরি থেকে শুরু করে ৪২৪ হিজরি পর্যন্ত নিয়ে গেছেন, ৩৫৫ থেকে ৩৫৯ পৃষ্ঠা পর্যন্ত]
সম্পাদনা: মুহাম্মদ হাসান মুহাম্মদ হাসান ইসমাইল - এবং আহমদ ফারিদ আল-মাজিদি
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হি. - ২০০৩ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৯
সতর্কবার্তা: এই সংস্করণটি ১৯০৮ সালে বৈরুতে মুদ্রিত (রিফেন গেস্ট)-এর সম্পাদিত সংস্করণের পুনর্মুদ্রণ বা নতুন টাইপ সেট ব্যতীত আর কিছু নয়, যাতে এর পাদটীকা এবং পরিশিষ্টগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এবং এটি মাকতাবাতুশ শামিলাতেও প্রকাশিত হয়েছে
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে মিল রাখা হয়েছে]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه العون والعصمة
قَالَ أَبُو عُمَر: هذا كتاب تسمية وُلاة مِصر، ومَن ولِيَ الصلاة، ومَن ولِيَ الحرب والشُّرطة منذ فُتحت إلى زماننا هذا، ومَن جُمِع لَهُ الصلاة والخَراج عَلَى اسم اللَّه وعونه وصلَّى اللَّه عَلَى محمد وآله
أَبُو عبد الله عمرو بْن العاصِ بْن وائل بْن هِشام بْن سَعِيد بن سَهم بْن عمرو بْن هُصيص بْن كعب بْن لُؤَيّ بْن غالب بْن فِهْر بْن مالك، وأُمّه النابغة بِنْت خُزَيم من عَنَزَةحَدَّثَنِي السَّكَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ السَّكَنِ التُّجِيبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ أَبِي نَاجِيَةَ الْمَهْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي زِيَادُ بْنُ يُونُسَ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، أَنَّ خَالِدَ بْنَ يَزِيدَ، وَعُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي جَعْفَرٍ حَدَّثَاهُ، عَمَّنْ أَدْرَكَا مِنْ مَشَايِخِهِمَا، وَرُبَّما قَالَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
তাঁরই নিকট সাহায্য ও সুরক্ষা প্রার্থনা করছি।
আবু ওমর বলেন: এটি মিশরের গভর্নরদের নামাবলি এবং বিজয়ের সূচনা থেকে আমাদের এই সময় পর্যন্ত যারা সালাত (ইমামত), যুদ্ধ ও পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন এবং আল্লাহর নামে ও তাঁরই সাহায্যে যাদের ওপর সালাত ও রাজস্ব (খারাজ) আদায়ের দায়িত্ব একত্রিত করা হয়েছিল, তাদের বিবরণ। আল্লাহ মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
আবু আব্দুল্লাহ আমর ইবনুল আস ইবনে ওয়াইল ইবনে হিশাম ইবনে সাঈদ ইবনে সাহম ইবনে আমর ইবনে হুসাইস ইবনে কাব ইবনে লুওয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক; এবং তাঁর মাতা ছিলেন আনজাহ গোত্রের নাবিগা বিনতে খুজায়ম।আস-সাকান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আস-সাকান আত-তুজিবি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ ইবনে আবি নাজিয়্যাহ আল-মাহরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যিয়াদ ইবনে ইউনুস আল-হাদরামি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, খালিদ ইবনে ইয়াযিদ ও উবাইদুল্লাহ ইবনে আবি জাফর তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁদের সেই সকল শায়খদের সূত্রে যাঁদের সাক্ষাত তাঁরা লাভ করেছেন; এবং কখনও তিনি বলতেন...
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
خَالِدٌ: كَانَ حَنَشُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: كَانَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ تَاجِرًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَكَانَ يَخْتَلِفُ بِتِجَارَتِهِ إِلَى مِصْرَ وَهِيَ: الأَدَمُ وَالْعِطْرُ، فَقَدِمَ مَرَّةً مِنْ ذَلِكَ، فَأَتَى الإِسْكَنْدَرِيَّةَ، فَوَافَقَ عِيدًا لَهُمْ يَجْتَمِعُونَ فِيهِ وَيَلْعَبُونَ، فَإِذَا هَمُّوا بِالانْصِرَافِ، اجْتَمَعَ أَبْنَاءُ الْمُلُوكِ وَأَحْضَرُوا كُرَةً لَهُمْ مِمَّا عَمِلَهَا حُكَمَاؤُهُمْ، فَتَرَامَوْا بِهَا بَيْنَهُمْ وَكَانَ مِنْ شَأْنِهَا الْمُتَعَارَفِ عِنْدَهُمْ مَنْ وَقَعَتْ فِي حِجْرِهِ مَلِكَ الإِسْكَنْدَرِيَّةَ، أَوْ قَالُوا: مَلِكَ مِصْرَ، فَجَعَلُوا يَتَرَامَوْنَ بِهَا، وَعَمْرٌو فِي النَّظَّارَةِ، فَسَقَطَتِ الْكُرَةُ فِي حِجْرِهِ، فَعَجِبُوا لِذَلِكَ، وَقَالُوا: مَا كَذَّبَتْنَا هَذِهِ الْكُرَةُ قَطُّ إِلَّا هَذِهِ الْمَرَّةَ وَأَنَّى لِهَذَا الأَعْرَابِيِّ يَمْلِكُ الإِسْكَنْدَرِيَّةَ هَذَا وَاللَّهِ لا يَكُونُ.
ثُمَّ ضَرَبَ الدَّهْرُ حَتَّى فَتَحَ الْمُسْلِمَونَ الشَّامَ، فَخَلا عَمْرٌو بِأَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، فَاسْتَأْذَنَهُ فِي الْمُضِيِّ إِلَى مِصْرَ، وَقَالَ: إِنِّي عَالِمٌ بِهَا وَبِطُرُقِهَا وَهِيَ أَقَلُّ شَيْءٍ مَنْعَةً وَأَكْثَرُ أَمْوَالا.
فَكَرِهَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ الإِقْدَامَ عَلَى مَنْ فِيهَا مِنْ جُمُوعِ الرُّومِ، وَجَعَلَ عَمْرٌو يُهَوِّنُ أَمْرَهَا، وَقَدْ أَمَرَ أَصْحَابَهُ أَنْ يَتَسَلَّلُوا بِاللَّيْلِ، ثُمَّ أَتْبَعَهُمْ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ: كُنْ قَرِيبًا مِنِّي حَتَّى أَسْتَخِيرَ اللَّهَ.
وَذَلِكَ فِي سَنَةِ تِسْعَ عَشْرَةَ
وَأَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ أُسَامَةُ التُّجِيبِيُّ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيَّ مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ أَبِي نَاجِيَةَ بِذَلِكَ.
وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خَلَفِ بْنِ قُدَيْدٍ الأَزْدِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ كَانَ بِفَلَسْطِينَ عَلَى رَبْعٍ مِنْ أَرْبَاعِهَا، فَتَقَدَّمَ بِأَصْحَابِهِ إِلَى مِصْرَ، فَكُتِبَ إِلَى عُمَرَ فِيهِ وَكَانَ سَارَ بِغَيْرِ إِذْنٍ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بِكِتَابٍ أَتَاهُ وَهُوَ أَمَامَ الْعَرِيشِ، فَحَبَسَ الْكِتَابَ وَلَمْ يَقْرَأْهُ حَتَّى بَلَغَ الْعَرِيشَ فَقَرَأَهُ، فَإِذَا فِيهِ: مِنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ إِلَى الْعَاصِ بْنِ الْعَاصِ، أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ سِرْتَ وَمَنْ مَعَكَ إِلَى مِصْرَ وَبِهَا جُمُوعُ الرُّومِ، وَإِنَّمَا مَعَكَ نَفَرٌ يَسِيرٌ، وَلَعَمْرِي لَوْ كَانَ ثُكْلَ أُمِّكِ مَا تَقَدَّمْتَ، فَإِذَا جَاءَكَ كِتَابِي هَذَا، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ بَلَغْتَ مِصْرَ فَارْجِعْ.
فَقَالَ عَمْرٌو: الْحَمْدُ لِلَّهِ، أَيَّةُ أَرْضٍ هَذِهِ؟ قَالُوا: مِنْ مِصْرَ.
فَتَقَدَّمَ إِلَى الْفَرَمَا وَبِهَا جُمُوعُ الرُّومِ، فَقَاتَلَهُمْ، فَهَزَمَهُمْ.
وَذَكَرَ ابْنُ لَهِيعَةَ، وَاللَّيْثُ، وَابْنُ عُفَيْرٍ أَنَّ عَمْرًا سَارَ مِنَ الْفَرَمَا فَلَقِيَهُ الرُّومُ بِبُلْبَيْسَ،
খালিদ হতে বর্ণিত: হানাশ ইবনে আবদুল্লাহ বলতেন: আমর ইবনুল আস জাহেলিয়াত যুগে একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি চামড়া ও সুগন্ধি নিয়ে ব্যবসা উপলক্ষে মিশরে যাতায়াত করতেন। একবার তিনি এই ব্যবসার কাজে গিয়ে আলেকজান্দ্রিয়ায় পৌঁছান। তখন সেখানে তাদের একটি উৎসব চলছিল যাতে তারা একত্রিত হয়ে খেলাধুলা করছিল। যখন তারা বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন রাজপুত্ররা একত্রিত হয়ে তাদের জ্ঞানীদের তৈরি একটি গোলক নিয়ে এল। তারা সেটি নিজেদের মধ্যে ছুড়ে খেলত। তাদের মাঝে প্রচলিত প্রথা ছিল যে, যার কোলে সেটি পড়বে সে-ই আলেকজান্দ্রিয়ার অধিপতি হবে—অথবা তারা বলত: মিশরের অধিপতি হবে। তারা সেটি ছুড়তে লাগল এবং আমর দর্শকদের মাঝে ছিলেন। হঠাৎ গোলকটি তাঁর কোলে এসে পড়ল। তারা এতে বিস্মিত হলো এবং বলল: "এই গোলকটি এই একবার ছাড়া আমাদের সাথে কখনও মিথ্যা বলেনি। এই বেদুঈন কীভাবে আলেকজান্দ্রিয়ার মালিক হবে? আল্লাহর কসম, এটা হতে পারে না।"
অতঃপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো এবং মুসলিমরা শাম জয় করল। তখন আমর আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে নির্জনে সাক্ষাৎ করলেন এবং মিশরে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনি বললেন: "আমি মিশর এবং এর পথঘাট সম্পর্কে অবগত আছি। এটি প্রতিরক্ষার দিক থেকে অত্যন্ত দুর্বল এবং সম্পদের দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।"
আমিরুল মুমিনীন সেখানে বিদ্যমান রোমানদের বিশাল বাহিনীর মোকাবিলা করার বিষয়টিকে অপছন্দ করলেন। কিন্তু আমর বিষয়টিকে সহজভাবে উপস্থাপন করতে লাগলেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের রাতের আঁধারে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিলেন এবং নিজেও তাদের অনুসরণ করলেন। তখন আমিরুল মুমিনীন তাঁর নিকট বার্তা পাঠালেন: "আমার কাছাকাছি অবস্থান করো যতক্ষণ না আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করি।"
আর এটি ছিল উনিশ হিজরি সনের ঘটনা।
আবু সালামাহ উসামাহ আত-তুজীবী আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে দাউদ ইবনে আবি নাজিয়াহ আমাকে লিখে এ বিষয়ে জানিয়েছেন।
আলী ইবনুল হাসান ইবনে খালাফ ইবনে কুদাইদ আল-আযদি আমার নিকট উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ আল-আনসারী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়াহ আমাকে ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমর ইবনুল আস ফিলিস্তিনের এক চতুর্থাংশের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে মিশরের দিকে অগ্রসর হলেন। এ বিষয়ে উমরের নিকট পত্র লেখা হলো যে, তিনি অনুমতি ব্যতিরেকে রওনা হয়েছেন। উমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর নিকট একটি পত্র লিখলেন যা তাঁর কাছে পৌঁছাল যখন তিনি আল-আরিশের সম্মুখে ছিলেন। তিনি পত্রটি রেখে দিলেন এবং আল-আরিশ না পৌঁছানো পর্যন্ত তা পাঠ করলেন না। সেখানে পৌঁছে তিনি এটি পাঠ করলেন। তাতে লেখা ছিল: "উমর ইবনুল খাত্তাবের পক্ষ থেকে আস-এর পুত্র আমরের প্রতি। অতঃপর, আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে তুমি ও তোমার সঙ্গীরা মিশরের দিকে রওনা হয়েছ, অথচ সেখানে রোমানদের বিশাল বাহিনী রয়েছে এবং তোমার সাথে রয়েছে মাত্র সামান্য কিছু লোক। আমার জীবনের কসম, যদি তোমার ধ্বংসের সম্ভাবনা থাকত তবে তুমি অগ্রসর হতে না। যখন আমার এই পত্র তোমার নিকট পৌঁছাবে, যদি তুমি তখনও মিশরে প্রবেশ না করে থাকো, তবে ফিরে এসো।"
তখন আমর বললেন: "আলহামদুলিল্লাহ, এটি কোন ভূমি?" তারা বলল: "মিশরের অন্তর্ভুক্ত।"
অতঃপর তিনি আল-ফারামা অভিমুখে অগ্রসর হলেন। সেখানে রোমানদের বিশাল বাহিনী ছিল। তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন এবং তাদের পরাজিত করলেন।
ইবনে লাহিয়াহ, লাইস এবং ইবনে উফাইর উল্লেখ করেছেন যে, আমর আল-ফারামা থেকে যাত্রা করলেন এবং বিলবাইস নামক স্থানে রোমানরা তাঁর মুখোমুখি হলো।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
فَقَاتَلُوهُ، فَهَزَمَهُمْ وَمَضَى حَتَّى بَلَغَ أُمَّ دُنَيْنَ، فَقَاتَلُوهُ بِهَا قِتَالًا شَدِيدًا، وَكَتَبَ إِلَى عُمَرَ يَسْتَمِدُّهُ، ثُمَّ أَتَى إِلَى الْحِصْنِ، فَنَزَلَ عَلَيْهِ فَحَاصَرَهُ، وَأَمِيرُ الْحِصْنِ يَوْمَئِذٍ الْمَنْدَقُورُ الَّذِي يُقَالُ لَهُ: الأَعْرَجُ. . . . . . عَلَيْهِ مِنْ قِبَلِ الْمُقَوْقِسِ بْنِ قَرقبَ الْيُونَانِيِّ، وَالْمُقَوْقِسُ إِذْ ذَاكَ فِي طَاعَةِ هِرَقْلَ ثُمَّ قَدِمَ عَلَيْهِ الزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ فِي الْمَدَدِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زَبَّانَ بْنِ حَبِيبٍ الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ قَدِمَ مِصْرَ بِثَلاثَةِ آلافٍ وَخَمْسِمِائَةٍ ثُلُثُهُمْ غَافِقٌ، ثُمَّ مُدَّ بِالزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ فِي اثْنَيْ عَشَرَ أَلْفًا
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنِ اللَّيْثِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: أَقَامَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ مُحَاصِرُ الْحِصْنِ إِلَى أَنْ فَتَحَهُ سَبْعَةَ أَشْهُرٍ
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي مُعَاوِيَةَ التُّجِيبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي خَلَفُ بْنُ رَبِيعَةَ الْحَضْرَمِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، قَالَ: فُتِحَتْ مِصْرُ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ مُسْتَهَلَّ الْمُحَرَّمِ سَنَةَ عِشْرِينَ
وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنُ قُدَيْدٍ، وَأَبُو سَلَمَةَ، قَالا: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، قَالَ: كَانَ عِدَّةُ الْجَيْشِ الَّذِي مَعَ عَمْرٍو الَّذِينَ افْتَتَحُوا مِصْرَ خَمْسَةَ عَشَرَ أَلْفًا وَخَمْسَمِائَةٍ
وَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ مِقْلاصٍ كَانَ الَّذِينَ جَرَتْ سِهَامُهُمْ فِي الْحِصْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ اثْنَيْ عَشَرَ أَلْفًا وَثَلاثَ مِائَةٍ بَعْدَ مَنْ أُصِيبَ مِنْهُمْ فِي الْحِصَارِ بِالْقَتْلِ وَالْمَوْتِ، وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ، عَنْ أَشْيَاخِهِ لَمَّا حَازَ الْمُسْلِمُونَ الْحِصْنَ بِمَا فِيهِ: أَجْمَعَ عَمْرٌو عَلَى الْمَسِيرِ إِلَى الإِسْكَنْدَرِيَّةِ، فَسَارَ إِلَيْهَا فِي رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ عِشْرِينَ، وأمر بِفُسْطَاطِهِ أن يُقَوَّضَ، فَإِذَا بِيَمَامَةٍ قَدْ بَاضَتْ فِي أَعْلاهُ، فَقَالَ: لَقَدْ تَحَرَّمَتْ بِجِوَارِنَا أَقِرُّوا الْفُسْطَاطَ حَتَّى تَنْقُفَ وَتَطِيرَ فِرَاخُهَا، فَأَقَرُّوا الْفُسْطَاطَ، وَوَكَّلَ بِهِ أن لا يُهَاجَ حَتَّى تَسْتَقِلَّ فِرَاخُهَا، فَلِذَلِكَ سُمِّيَتِ الْفُسْطَاطُ فُسْطَاطًا.
وَحَاصَرَ عَمْرٌو الإِسْكَنْدَرِيَّةَ ثَلاثَةَ أَشْهُرٍ ثُمَّ فَتَحَهَا عَنْوَةً وَهُوَ الْفَتْحُ الأَوَّلُ، وَيُقَالُ: بَلْ
অতঃপর তারা তাঁর সাথে যুদ্ধ করল, কিন্তু তিনি তাদের পরাজিত করলেন এবং এগিয়ে চললেন যতক্ষণ না উম্মু দুনাইন পৌঁছালেন। সেখানে তারা তাঁর সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধ করল। তিনি উমরের নিকট সাহায্য চেয়ে চিঠি লিখলেন। এরপর তিনি দুর্গের নিকট আসলেন এবং সেখানে অবতরণ করে সেটি অবরোধ করলেন। সে সময় দুর্গের অধিপতি ছিল মানদাকুর, যাকে আল-আরাজ (খোড়া) বলা হতো। সে গ্রিক বংশোদ্ভূত মুকাউকিস বিন কারকাবের পক্ষ থেকে নিযুক্ত ছিল। মুকাউকিস তখন হিরাক্লিয়াসের অনুগত ছিল। এরপর জুবাইর ইবনুল আওয়াম সাহায্য নিয়ে তাঁর নিকট আসলেন।
মুহাম্মাদ ইবনে জাব্বান ইবনে হাবিব আল-হাদরামি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হারিস ইবনে মিসকিন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে যে, আমর ইবনুল আস তিন হাজার পাঁচশ সৈন্য নিয়ে মিসরে এসেছিলেন, যাদের এক-তৃতীয়াংশ ছিল গাফিক গোত্রের। এরপর বারো হাজার সৈন্যসহ জুবাইর ইবনুল আওয়ামের মাধ্যমে তাঁকে সাহায্য পাঠানো হয়।
আব্দুল মালিক ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি বলেন: আমর ইবনুল আস দুর্গটি বিজয় করা পর্যন্ত সাত মাস সেটি অবরোধ করে রেখেছিলেন।
ইয়াহইয়া ইবনে আবি মুআবিয়াহ আত-তুজিবি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালাফ ইবনে রাবিয়াহ আল-হাদরামি আমার নিকট তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: হিজরি ২০ সনের মহরম মাসের শুরুতে জুমার দিনে মিসর বিজয় হয়েছিল।
আলী ইবনুল হাসান ইবনে কুদাইদ এবং আবু সালামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সলিহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমর (রাযি.)-এর সাথে যে সেনাবাহিনী মিসর বিজয় করেছিল, তাদের সংখ্যা ছিল পনেরো হাজার পাঁচশ।
আব্দুর রহমান ইবনে সাইদ ইবনে মিকলাস বলেন: অবরোধ চলাকালে যারা নিহত বা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের বাদে দুর্গের গণিমতের অংশে শরীক হওয়া মুসলমানদের সংখ্যা ছিল বারো হাজার তিনশ। সাইদ ইবনে উফাইর তাঁর শিক্ষকদের সূত্রে বলেন: যখন মুসলমানরা দুর্গের সবকিছু হস্তগত করল, তখন আমর (রাযি.) আলেকজান্দ্রিয়ার দিকে যাত্রার সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি হিজরি ২০ সনের রবিউল আউয়াল মাসে সেখানে যাত্রা শুরু করেন। তিনি তাঁর তাঁবু গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। দেখা গেল, একটি কবুতর তাঁবুর উপরে ডিম পেড়েছে। তখন তিনি বললেন: "এটি আমাদের প্রতিবেশী হয়ে আশ্রয় নিয়েছে। তাঁবুটি তেমনি রেখে দাও যতক্ষণ না ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় এবং বাচ্চাগুলো উড়তে শেখে।" ফলে তারা তাঁবুটি রেখে দিল এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজনকে নিযুক্ত করা হলো যেন বাচ্চাগুলো স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত কেউ সেটিকে বিরক্ত না করে। এই কারণেই ফুস্তাত নগরীর নাম 'ফুস্তাত' (তাঁবু) রাখা হয়েছিল।
আমর (রাযি.) তিন মাস আলেকজান্দ্রিয়া অবরোধ করে রাখেন, এরপর তিনি তা জোরপূর্বক জয় করেন এবং এটিই ছিল প্রথম বিজয়। বলা হয় যে, বরং...
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
فَتَحَهَا مُسْتَهَلَّ سَنَةِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ، ثُمَّ سَارَ عَمْرٌو إِلَى أَنْطَابُلُسَ وَهِيَ بَرْقَةُ، فَافْتَتَحَهَا فِي آخِرَ سَنَةِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ، ثُمَّ مَضَى مِنْهَا إِلَى أَطْرَابُلُسَ، فَافْتَتَحَهَا عَنْوَةً سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَعِشْرِينَ.
وَقَالَ اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ فِي تَارِيخِهِ: فَتَحَهَا سَنَةَ ثَلاثٍ وَعِشْرِينَ.
قَالَ: وَقَدِمَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَدْمَتَيْنِ.
قَالَ ابْنُ عُفَيْرٍ: اسْتَخْلَفَ فِي إِحْدَاهُمَا زَكَرِيَّاءَ بْنَ جَهْمٍ الْعَبْدَرِيَّ، وَفِي الْقَدْمَةِ الثَّانِيَةِ ابْنَهُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو، وَتُوُفِّيَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرُ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ ثَلاثٍ وَعِشْرِينَ، وَبَايَعَ الْمُسْلِمُونَ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رضي الله عنه، فَوَفَدَ عَلَيْهِ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ، فَسَأَلَهُ عَزْلَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ الْعَامِرِيِّ عَنْ صَعِيدِ مِصْرَ، وَكَانَ عُمَرُ وَلَّاهُ الصَّعِيدَ قَبْلَ مَوْتِهِ، فَامْتَنَعَ عُثْمَانُ مِنْ ذَلِكَ وَعَقَدَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ عَلَى مِصْرَ كُلِّهَا، فَكَانَتْ وِلايَةُ عَمْرٍو عَلَى مِصْرَ صَلاتُهَا وَخَرَاجُهَا مُنْذُ افْتَتَحَهَا إِلَى أن صُرِفَ عَنْهَا أَرْبَعَ سِنِينَ وَأَشْهُرٍ، فَكَانَ عَلَى شُرَطَهِ فِي وِلايَتِهِ هَذِهِ كُلِّهَا خَارِجَةُ بْنُ حُذَافَةَ بْنِ غَانِمِ بْنِ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُوَيْجِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ فِي قَوْلِ الأَشْيَاخِ، إِلَّا أن سَعِيدَ بْنَ عُفَيْرٍ، قَالَ: دَخَلَ عَمْرٌو مِصْرَ وَعَلَى شُرْطَتِهِ زَكَرِيَّاءُ بْنُ جَهْمِ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَبْدِ بْنِ شُرَحْبِيلَ بْنِ هَاشِمِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ عَبْدِ الدَّارِ.
قَالَ: ثُمَّ عَزَلَهُ وَجَعَلَ مَكَانَهُ خَارِجَةَ بْنَ حُذَافَةَ.
তিনি (আমর ইবনুল আস) একুশ হিজরির শুরুতে এটি (মিশর) বিজয় করেন। অতঃপর আমর আনতাবুলুস অভিমুখে যাত্রা করেন—যা মূলত বারকা—এবং একুশ হিজরির শেষভাগে তা জয় করেন। এরপর তিনি সেখান থেকে আত্রাবুলুস অভিমুখে গমন করেন এবং বাইশ হিজরিতে তা বলপ্রয়োগে জয় করেন।
লাইস ইবনে সাদ তাঁর ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন: তিনি তেইশ হিজরিতে এটি জয় করেছেন।
তিনি বলেন: আমর ইবনুল আস উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট দুইবার এসেছিলেন।
ইবনে উফাইর বলেন: তিনি তাঁর সফরদ্বয়ের একটিতে জাকারিয়া ইবনে জাহম আল-আবদারিকে এবং দ্বিতীয় সফরে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে আমরকে স্থলাভিষিক্ত করেন। আমীরুল মুমিনীন উমর তেইশ হিজরির জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন এবং মুসলিমগণ আমীরুল মুমিনীন উসমান ইবনে আফফান (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর হাতে বায়াত গ্রহণ করেন। অতঃপর আমর ইবনুল আস তাঁর নিকট উপস্থিত হন এবং আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারহ আল-আমিরিকে উচ্চ মিশর (সাঈদ মিসর) থেকে অপসারিত করার অনুরোধ জানান। উমর তাঁর মৃত্যুর পূর্বে তাঁকে উচ্চ মিশরের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। উসমান তা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারহকে সমগ্র মিশরের দায়িত্ব প্রদান করেন। বিজয় লাভের পর থেকে দায়িত্ব থেকে অপসারিত হওয়া পর্যন্ত মিশরে আমরের শাসনকাল ছিল চার বছর কয়েক মাস, যার মধ্যে নামাযের ইমামতি এবং রাজস্ব আদায়—উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল। অধিকাংশ প্রবীণদের মতে, তাঁর এই পুরো শাসনকাল জুড়ে পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন খারিজা ইবনে হুজাফা ইবনে গানিম ইবনে আমির ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উইজ ইবনে আদি ইবনে কাব। তবে সাঈদ ইবনে উফাইর বলেন: আমর যখন মিশরে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর পুলিশ প্রধান ছিলেন জাকারিয়া ইবনে জাহম ইবনে কাইস ইবনে আবদ ইবনে শুরাহবিল ইবনে হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে আবদ আদ-দার।
তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাঁকে বরখাস্ত করেন এবং তাঁর স্থলে খারিজা ইবনে হুজাফাকে নিযুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ولاية عبد الله بْن سعد بْن أَبي سَرْح الحُسام بْن الحارث بْن حُبيب بْن جَذِيمة بْن نصر بْن مالك بْن حِسْل بْن عامر بْن لُؤَيّ بْن غالب، وأمّه مهانة بِنْت جَابِر من الأشعريّينثمّ وليَها عبد الله بْن سعد من قِبَل أَمير المؤمنين عُثمان.
حَدَّثَنَا الْحَسَن بْن محمد المدينيّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يحيى بْن عبد الله بْن بُكير، عَن الليث بْن سعد: " أَنَّ عُثمان لما وليَ أمر هذه الأمة وعمرو بْن العاصِ عَلَى مِصر كلَّها إِلَّا الصعيد، فإن عُمَر بْن الْخَطَّاب ولّى الصعيد عبد الله بْن سعد فطمِع. . . . . . . عمرو. . . . لِمَا رأَى من لِين عثمان أن يرُدّ عمرو بْن العاص لُمحارَبة منويل، ومعرفته بحربهم، وطول ممارسته لهُ، فردّهُ واليًا عَلَى الإسكندريَّة، فحارب الرُّوم حتى افتتحها، وعبد اللَّه بْن سعد مُقيم بالفُسطاط عَلَى ولايته حتى فُتحت الإسكندريَّة الفتح الثاني عَنوةً سنة خمس وعشرين، ثمّ جُمع لعبد اللَّه بن سعد أمر مِصر كله صلاتها وخراجها، فجعل عَلَى شُرْطته هِشام بن كِنانة بْن عُمَر بْن الحُصين بْن ربيعة بْن الحارث بْن حُبَيب بْن جَذيمة بن نصر بْن مالك بْن حِسل بْن عامر بْن لُؤَيّ، ومكث عبد الله بْن سعد عليها أميرًا وِلاية عثمان كلها، محمودًا فِي وِلايته، وغزا ثلاث غزوات كلها لها شأن وذِكر، فغزا إِفريقيَّة سنة سبع وعشرين وقتل ملكهم جُرجير، فيقال: أنَّ الَّذِي قتله مُعاوية بْن حُدَيج، وصار سلَبه إِلَيْهِ "
আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ ইবনে আবি সারহ আল-হুসাম ইবনুল হারিস ইবনে খুবাইব ইবনে জাযিমা ইবনে নাসর ইবনে মালিক ইবনে হিসল ইবনে আমির ইবনে লুয়াই ইবনে গালিবের শাসনকাল, এবং তাঁর মাতা ছিলেন আশয়ারি গোত্রের মাহানা বিনতে জাবির।এরপর আমিরুল মুমিনীন উসমানের পক্ষ থেকে আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ এর শাসনভার গ্রহণ করেন।
হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-মাদিনী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট লাইস ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন: "যখন উসমান এই উম্মতের শাসনের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন আমর ইবনে আস ঊর্ধ্ব-মিসর ব্যতীত সমগ্র মিসরের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন; কেননা উমর ইবনুল খাত্তাব আবদুল্লাহ ইবনে সা'দকে ঊর্ধ্ব-মিসরের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। ফলে তিনি লালায়িত হন... আমর... উসমানের কোমলতা দেখে (উসমান চাইলেন) যেন মনুয়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমর ইবনে আসকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়, কারণ রোমানদের সাথে যুদ্ধ বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘকালের সংশ্লিষ্টতা ছিল। অতঃপর তিনি তাঁকে আলেকজান্দ্রিয়ার গভর্নর হিসেবে পুনরায় প্রেরণ করেন এবং তিনি রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তা বিজয় করেন। আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ ফাসতাত-এ তাঁর শাসনকার্য পরিচালনা করছিলেন যতক্ষণ না পঁচিশ হিজরি সনে আলেকজান্দ্রিয়া দ্বিতীয়বার বলপূর্বক বিজিত হয়। এরপর আবদুল্লাহ ইবনে সা'দের অধীনে মিসরের সালাত (ইমামত) এবং রাজস্ব (খরাজ) সংক্রান্ত সকল বিষয় একত্রিত করা হয়। তিনি তাঁর পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে হিশাম ইবনে কিনানা ইবনে উমর ইবনুল হুসাইন ইবনে রাবীয়া ইবনুল হারিস ইবনে খুবাইব ইবনে জাযিমা ইবনে নাসর ইবনে মালিক ইবনে হিসল ইবনে আমির ইবনে লুয়াইকে নিযুক্ত করেন। আবদুল্লাহ ইবনে সা'দ উসমানের খিলাফতের পুরো সময়কাল সেখানে আমীর হিসেবে অবস্থান করেন এবং তাঁর শাসন আমল ছিল প্রশংসিত। তিনি তিনটি যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেন যার প্রতিটিই ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য। তিনি সাতাশ হিজরি সনে ইফ্রিকিয়া (আফ্রিকা) অভিযান করেন এবং তাদের রাজা জর্জিরকে হত্যা করেন। বলা হয় যে, তাঁকে মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ হত্যা করেছিলেন এবং তাঁর রণলব্ধ সম্পদ তাঁর হস্তগত হয়েছিল।"
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وحَدَّثَنِي ابن قُدَيد، عَنْ عبد الله بْن سَعِيد، عَنْ أبيه، قَالَ: حَدَّثَنِي ابن لَهِيعة، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الأَسود، عَنْ أَبِي أُوَيس مولاهم، قَالَ: " غزونا مَعَ عبد الله بن سعد إِفريقيَّة فِي خلافة عثمان سنة سبع وعشرين، فبلغ سهم الفارس ثلاثة آلاف دينار، والراجل ألف دينار.
وغزا عبد الله بْن سعد غزوة الأساود حتى بلغ دُمقُلة وذلك فِي سنة إحدى وثلاثين، فقاتلهم قتالًا شديدًا وأُصيب يومئذٍ عين مُعاوية بْن حُدَيج، وعين أَبِي سهم بْن أَبْرَهَة بْن الصبَّاح، وعين حُيويل بْن ناشرة، فهادنهم عبد الله بن سعد، فقال شاعرهم:
لَمْ تَرَ عَيْنِي مِثْلَ يَوْمِ دُمْقُلَهْ
… وَالْخَيْلُ تَعْدُو بِالدُّرُوعِ مُثْقَلَهْ
"
فحَدَّثَنِي ابن قُدَيد، عَنْ عبيد الله بْن سَعِيد، عَنْ أبيه، عَن ابن لَهِيعة، عَنْ يزيد بْن أَبِي حَبيب، أنَّهُ قَالَ: لَيْسَ بين أهل مِصر والأَساود عهد، إِنَّما كانت هُدنة أَمان بعضنا من بعض، نُعطيهم شيئًا من قمح وعدَس ويعطونا رقيقًا
قَالَ ابن لَهِيعة: لا بأْس بما يُشترى من رقيقهم منهم ومن غيرهم.
قَالَ ابن لَهِيعة: وسمعتُ يزيد بْن أَبِي حَبيب، يَقُولُ: كَانَ أَبِي من سَيْ دُمْقُلة، وغزا عبد الله بْن سعد أيضًا ذا الصواري فِي سنة أربع وثلاثين، فلقِيَهم قُسْطَنْطين بْن هِرقُل فِي أَلف مركب، ويقال: فِي سبع مائة، والمُسلِمون فِي مائتي مركب أَو نحوها، فهزم اللَّه الرُّوم، وإنما سُمّيت غزوة ذي الصواري لكَثرة صواري المراكب واجتماعها.
وأمر عبد الله بْن سعد فِي إمرته بتحويل مُصلَّى عمرو بْن العاصِ، كَانَ يقابل اليحموم، فحوَّله إلى موضِعه اليوم المعروف بالمصلَّى القديم.
حَدَّثَنَا ابْنُ قُدَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْحَكَمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَانِئُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، وَرَاشِدُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ حُسَيْنِ بْنِ سَقِيٍّ،
ইবনে কুদাইদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়াহ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল আসওয়াদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাদের মুক্তদাস আবু উওয়াইস থেকে, তিনি বলেন: "আমরা উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে সাতাশ হিজরি সালে আব্দুল্লাহ ইবনে সাআদের সাথে আফ্রিকা অভিযানে গিয়েছিলাম। তখন অশ্বারোহীর অংশ ছিল তিন হাজার দিনার এবং পদাতিকের অংশ ছিল এক হাজার দিনার।"
এবং আব্দুল্লাহ ইবনে সাআদ আসওয়াদদের (নুবিয়া) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এমনকি তিনি দুমকুলা (ডঙ্গোলা) পর্যন্ত পৌঁছে যান এবং তা ছিল একত্রিশ হিজরি সালে। তিনি তাদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধ করেন এবং সেদিন মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজের চোখ, আবু সাহম ইবনে আবরাহা ইবনে সাবাহর চোখ এবং হুয়াইওয়িল ইবনে নাশিরার চোখ জখম হয়। ফলে আব্দুল্লাহ ইবনে সাআদ তাদের সাথে সন্ধি করেন। তখন তাদের কবি বলেছিলেন:
আমার চোখ দুমকুলার দিনের মতো আর দেখেনি
… যেখানে ঘোড়াগুলো বর্মের ভারে নুয়ে পড়ে দ্রুত চলছিল।
অতঃপর ইবনে কুদাইদ আমাকে বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবু হাবিব থেকে যে, তিনি বলেছেন: মিসরবাসী ও আসওয়াদদের মধ্যে কোনো (স্থায়ী) চুক্তি ছিল না, বরং তা ছিল একে অপরের থেকে নিরাপত্তা লাভের একটি যুদ্ধবিরতি মাত্র। আমরা তাদের কিছু গম ও মসুর ডাল দিতাম এবং তারা আমাদের দাস প্রদান করত।
ইবনে লাহিয়াহ বলেন: তাদের কাছ থেকে বা অন্যদের কাছ থেকে তাদের দাস কেনায় কোনো অসুবিধা নেই।
ইবনে লাহিয়াহ বলেন: আমি ইয়াজিদ ইবনে আবু হাবিবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমার পিতা দুমকুলার যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এবং আব্দুল্লাহ ইবনে সাআদ চৌত্রিশ হিজরি সালে 'যাতুস সাওয়ারি' যুদ্ধও পরিচালনা করেন। সেখানে হিরাক্লিয়াসের পুত্র কনস্ট্যান্টাইন এক হাজার জাহাজে করে তাদের মুখোমুখি হন, মতান্তরে সাতশ জাহাজে; আর মুসলিমরা ছিলেন প্রায় দুইশ জাহাজে। অতঃপর আল্লাহ রোমানদের পরাজিত করেন। মূলত জাহাজের মাস্তুলের আধিক্য ও সমাবেশের কারণেই একে ‘গাযওয়া যাতুস সাওয়ারি’ (মাস্তুলের যুদ্ধ) বলা হয়।
এবং আব্দুল্লাহ ইবনে সাআদ তাঁর শাসনকালে আমর ইবনে আসের নামাজের স্থান (মুসাল্লা) স্থানান্তরের নির্দেশ দেন, যা ইয়াহমুমের বিপরীতে ছিল। তিনি তা বর্তমানের ‘পুরাতন মুসাল্লা’ হিসেবে পরিচিত স্থানে স্থানান্তরিত করেন।
ইবনে কুদাইদ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হানি ইবনে মুতাওয়াক্কিল আমাদের বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়াহ থেকে, এবং রাশিদ ইবনে সাআদ হাসান ইবনে সাওবান থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে সাকি থেকে, সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ لَمَّا قَدِمَ مِصْرَ، وَأَهْلُ مِصْرَ قَدِ اتَّخَذُوا مُصَلًّى بِحِذَاءِ سَاقِيَةِ أَبِي عَوْنٍ الَّتِي عِنْدَ الْمُعَسْكَرِ، فَقَالَ: مَا لَهُمْ وَضَعُوا مُصَلَّاهُمْ فِي الْجَبَلِ الْمَقْرُوفِ الْمَلْعُونِ وَتَرَكُوا الْجَبَلَ الْمُقَدَّسِ.
قَالَ الْحَسَنُ بْنُ ثَوْبَانَ: فَقَدَّمُوا مُصَلَّاهُمْ إِلَى مَوْضِعِهِ الَّذِي هُوَ بِهِ الْيَوْمَ
ووفد عبد الله بْن سعد إلى أمير المؤمنين عثمان حِين تكلم الناس بالطعن عَلَى عثمان، واستخلف عَلَى مِصر عُقبة بْن عامر الجُهَنيّ في قول الليث، وغيره، وقال يزيد بْن أَبِي حبيب: استخلف عليها السائب بْن هِشام بْن كِنانة العامريّ، وجعل عَلَى خراجها سُلَيْمَان بْن عُمَر التُّجيبيّ، وكانت وفادته فِي وجوه الجُند فِي رجب سنة خمس وثلاثين.
انتزاء محمد بْن أَبِي حُذيفة بْن عُتْبة بْن ربيعة بْن عَبْد شمس بْن عَبْد منَافثمَّ انتزى محمد بْن أَبِي حُذيفة فِي شوَّال سنة خمس وثلاثين عَلَى عُقبة بْن عامر خليفة عبد الله بْن سعد، فأَخرجه من الفُسطاط، ودعا إلى خلع عثمان، وحرّض عَلَيْهِ بكلّ شيء يقدِر عَلَيْهِ، وأَسعر البلاد.
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَدِينِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ الْحَارِثِ الْحَضْرَمِيِّ، أَنَّ ابْنَ أَبِي حُذَيْفَةَ كَانَ يَكْتُبُ الْكُتُبَ عَلَى أَلْسِنَةِ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ يَأْخُذُ الرَّوَاحِلَ فَيُضَمِّرُهَا، ثُمَّ يَأْخُذُ الرِّجَالَ الَّذِينَ يُرِيدُ أَنْ يَبْعَثَ لِذَلِكَ مَعَهُمْ فَيَجْعَلُهُمْ عَلَى ظُهُورِ الْبُيُوتِ، فَيَسْتَقْبِلُونَ بِوُجُوهِهِمُ الشَّمْسَ لِتُلَوِّحَهُمْ تَلْوِيحَ الْمُسَافِرِ، ثُمَّ يَأْمُرُهُمْ أَنْ يَخْرُجُوا إِلَى طَرِيقِ الْمَدِينَةِ بِمِصْرَ، ثُمَّ يُرْسِلُونَ رُسُلًا يُخْبِرُونَ بِهِمُ
তার পিতা থেকে বর্ণিত যে, যখন তিনি মিশরে আসলেন, তখন মিশরের লোকেরা মুয়াসকার (সৈনিক ক্যাম্প)-এর কাছে অবস্থিত আবু আউনের পানিসেচনের যন্ত্রের (সাকিয়াহ) পাশে একটি সালাতের স্থান (মুসল্লা) তৈরি করেছিল। তিনি বললেন: "তাদের কী হয়েছে যে তারা অপবিত্র অভিশপ্ত পাহাড়ের ওপর তাদের সালাতের স্থান স্থাপন করেছে এবং পবিত্র পাহাড়টি ত্যাগ করেছে?"
হাসান ইবনে সাওবান বলেন: অতঃপর তারা তাদের সালাতের স্থানটিকে বর্তমান অবস্থানে সরিয়ে নিয়ে আসে।
আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ আমিরুল মুমিনীন উসমানের কাছে প্রতিনিধি হিসেবে গমন করলেন যখন মানুষ উসমানের সমালোচনা ও নিন্দা করতে শুরু করেছিল। লাইস এবং অন্যদের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি উকবা ইবনে আমির আল-জুহানিকে মিশরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন। ইয়াজিদ ইবনে আবু হাবিব বলেন: তিনি আস-সাইব ইবনে হিশাম ইবনে কিনানা আল-আমিরিকে সেখানে স্থলাভিষিক্ত করেন এবং সুলাইমান ইবনে উমর আত-তুজিবিকে সেখানকার রাজস্ব (খারাজ) আদায়ের দায়িত্ব অর্পণ করেন। সৈন্যদলের প্রধানদের সাথে তাঁর এই প্রতিনিধি হিসেবে গমন ছিল পঁয়ত্রিশ হিজরীর রজব মাসে।
মুহাম্মদ ইবনে আবি হুজাইফা ইবনে উতবা ইবনে রবিয়া ইবনে আব্দ শামস ইবনে আব্দ মানাফের বিদ্রোহঅতঃপর পঁয়ত্রিশ হিজরীর শাওয়াল মাসে মুহাম্মদ ইবনে আবি হুজাইফা আব্দুল্লাহ ইবনে সাদের স্থলাভিষিক্ত উকবা ইবনে আমিরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তিনি তাঁকে ফুসতাত থেকে বের করে দেন এবং উসমানকে (খিলাফত থেকে) অপসারণের ডাক দেন। তিনি তাঁর সাধ্যমতো সব উপায়ে উসমানের বিরুদ্ধে জনগণকে প্ররোচিত করেন এবং দেশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেন।
হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-মাদিনী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল কারীম ইবনে হারিস আল-হাদরামী থেকে যে, ইবনে আবি হুজাইফা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের নামে (মিথ্যা) চিঠি লিখতেন। এরপর তিনি সওয়ারি পশু নিতেন এবং সেগুলোকে (দীর্ঘ সফরের উপযোগী করতে) কৃশ করে তুলতেন। অতঃপর যে লোকগুলোকে তিনি এই উদ্দেশ্যে পাঠাতে চাইতেন, তাদের নিয়ে ঘরের ছাদে রাখতেন; তারা রোদে নিজেদের চেহারা দগ্ধ করত যাতে তাদের চেহারা মুসাফিরের চেহারার মতো দেখায়। এরপর তিনি তাদের মিশরের মদীনা অভিমুখী রাস্তায় বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন। অতঃপর তারা সংবাদবাহক পাঠিয়ে তাদের আগমনের খবর দিত।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
النَّاسَ لِيَلْقَوْهُمْ، وَقَدْ أَمَرَهُمْ إِذَا لَقِيَهُمُ النَّاسُ، أَنْ يَقُولُوا: لَيْسَ عِنْدَنَا خَبَرٌ، الْخَبَرُ فِي الْكُتُبِ.
ثُمَّ يَخْرُجُ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حُذَيْفَةَ وَالنَّاسُ كَأَنَّهُ يَتَلَقَّى رُسُلَ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ عليه السلام، فَإِذَا لَقُوهُمْ، قَالُوا: لا خَبَرَ عِنْدَنَا عَلَيْكُمْ بِالْمَسْجِدِ.
فَيَقْرَأُ عَلَيْهِمْ كُتُبَ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ، فَيَجْتَمِعُ النَّاسُ فِي الْمَسْجِدِ اجْتِمَاعًا لَيْسَ فِيهِ تَقْصِيرٌ، ثُمَّ يَقُومُ الْقَارِئُ بِالْكِتَابِ، فَيَقُولُ: إِنَّا لَنَشْكُو إِلَى اللَّهِ وَإِلَيْكُمْ مَا عُمِلَ فِي الْإِسْلَامِ وَمَا صُنِعَ فِي الْإِسْلَامِ، فَيَقُومُ أُولَئِكَ الشُّيُوخُ مِنْ نَوَاحِي الْمَسْجِدِ بِالْبُكَاءِ، ثُمَّ يَقُولُ، ثُمَّ يَنْزِلُ عَنِ الْمِنْبَرِ وَيَنْفُرُ النَّاسُ بِمَا قُرِئَ عَلَيْهِمْ.
فَلَمَّا رَأَتْ ذَلِكَ شِيعَةُ عُثْمَانَ اعْتَزَلُوا مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي حُذَيْفَةَ وَبَارَزُوهُ، وَهُمْ مُعَاوِيَةُ بْنُ حُدَيْجٍ، وَخَارِجَةُ بْنُ حُذَافَةَ، وَبُسْرُ بْنُ أَبِي أَرْطَاةَ، وَمَسْلَمَةُ بْنُ مُخَلَّدٍ الأَنْصَارِيُّ، وَعَمْرُو بْنُ قَحْزَمٍ الْخَوْلانِيُّ، وَمُقَسِّمُ بْنُ بُجْرَةَ، وَسَعْدُ بْنُ مَالِكٍ الأَزْدِيُّ، وَخَالِدُ بْنُ ثَابِتٍ الْفَهْمِيُّ فِي جَمْعٍ كَثِيرٍ لَيْسَ لَهْمُ مِنَ الذِّكْرِ مَا لِهَؤُلاءِ، وَبَعَثُوا سَلَمَةَ بْنَ مَخْزَمَةَ التُّجِيبِيَّ، ثُمَّ أَحَدَ بَنِي زُمَيْلَةَ إِلَى عُثْمَانَ لِيُخْبِرَهُ بِأَمْرِهِمْ وَبِصَنِيعِ ابْنِ أَبِي حُذَيْفَةَ "
حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَادٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ لَقِيطٍ، قَالَ: سَمِعْتُ سَلَمَةَ بْنَ مَخْزَمَةَ، قَالَ: " لَمَّا انْتَزَى ابْنُ أَبِي حُذَيْفَةَ بِمِصْرَ بِخَلْعِ عُثْمَانَ دَعَا النَّاسَ إِلَى أُعْطِيَاتِهِمْ، قَالَ: فَأَبَيْتُ أَنْ آخُذَ مِنْهُ.
فَقُدِّرَ لِي أَنِّي رَكِبْتُ إِلَى عُثْمَانَ، فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، إِنَّ ابْنَ أَبِي حُذَيْفَةَ إِمَامُ ضَلالَةٍ كَمَا قَدْ عَلِمْتَ، وَأَنَّهُ انْتَزَى عَلَيْهِ بِمِصْرَ فَدَعَانَا إِلَى أُعْطِيَاتِنَا، فَأَبَيْتُ
মানুষ যেন তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে, আর তিনি তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যখন মানুষেরা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তারা যেন বলে: আমাদের কাছে কোনো খবর নেই, খবর চিঠিপত্রগুলোতে রয়েছে।
অতঃপর মুহাম্মদ ইবনে আবি হুজায়ফা এবং লোকজন এমনভাবে বের হতেন যেন তিনি নবী (আলাইহিস সালাম)-এর স্ত্রীদের প্রতিনিধিদের গ্রহণ করছেন। যখন তারা তাদের সাথে দেখা করত, তখন তারা বলত: আমাদের কাছে কোনো সংবাদ নেই, আপনারা মসজিদে যান।
অতঃপর তিনি তাদের সামনে নবীর পত্নীগণের পত্রসমূহ পাঠ করতেন। ফলে মসজিদে মানুষ সমবেত হতো এমন এক সমাবেশ যার মাঝে কোনো ত্রুটি ছিল না। তারপর পাঠক কিতাব (পত্র) নিয়ে দাঁড়াতেন এবং বলতেন: আমরা আল্লাহর কাছে এবং আপনাদের কাছে ইসলামের মধ্যে যা করা হয়েছে এবং ইসলামের সাথে যা আচরণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে অভিযোগ করছি। তখন মসজিদের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেই প্রবীণ ব্যক্তিরা কান্নায় ভেঙে পড়তেন। অতঃপর তিনি কথা বলতেন, তারপর মিম্বর থেকে নেমে আসতেন এবং মানুষ তাদের সামনে যা পাঠ করা হয়েছে তা নিয়ে ছড়িয়ে পড়ত।
যখন উসমানের পক্ষাবলম্বনকারীরা এটি দেখল, তারা মুহাম্মদ ইবনে আবি হুজায়ফাকে ত্যাগ করল এবং তার বিরুদ্ধাচরণ করল। তারা হলেন মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ, খারিজা ইবনে হুজাফা, বুসর ইবনে আবি আরতাহ, মাসলামা ইবনে মুখাল্লাদ আল-আনসারী, আমর ইবনে কাহজাম আল-খাওলানী, মুকাসসিম ইবনে বুজরাহ, সাদ ইবনে মালিক আল-আজদি এবং খালিদ ইবনে সাবিত আল-ফাহমি—এক বিশাল দলের সাথে যাদের খ্যাতি এদের মতো ছিল না। তারা সালামা ইবনে মাখজামা আত-তুজিবিকে, অতঃপর বনু জুমাইলার এক ব্যক্তিকে উসমানের কাছে পাঠাল যাতে তাদের অবস্থা এবং ইবনে আবি হুজায়ফার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাকে জানানো যায়।
আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে সাওয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়াহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি রাবিয়াহ ইবনে লাকিত থেকে, তিনি বলেন: আমি সালামা ইবনে মাখজামাকে বলতে শুনেছি যে: "যখন ইবনে আবি হুজায়ফা উসমানকে অপসারণের উদ্দেশ্যে মিশরে আধিপত্য বিস্তার করল, তখন সে লোকজনকে তাদের ভাতা গ্রহণ করার জন্য ডাকল।" তিনি বলেন: "আমি তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করলাম।"
তারপর আমার জন্য নির্ধারিত হলো যে আমি উসমানের অভিমুখে সওয়ার হয়ে গেলাম। আমি বললাম: হে আমিরুল মুমিনীন! নিশ্চয়ই ইবনে আবি হুজায়ফা একজন ভ্রষ্টতার ইমাম, যেমনটি আপনি জানেন। সে মিশরে তার (আপনার) বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং আমাদের ভাতার জন্য আহ্বান করেছে, কিন্তু আমি অস্বীকার করেছি।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
أَنْ آخُذَ مِنْهُ.
قَالَ: قَدْ عَجَزْتَ إِنَّمَا هُوَ حَقُّكَ.
وَبَعَثَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ عُثْمَانُ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ إِلَيْهِمْ لِيُصْلِحَ أَمْرَهُمْ "
فَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ بْنِ جَرِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَاسِينُ بْنُ عَبْدِ الأَحَدِ بْنِ اللَّيْثِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، " أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي حُذَيْفَةَ لَمَّا انْتَزَى عَلَى عُثْمَانَ، بَعَثَ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ إِلَى أَهْلِ مِصْرَ يُعْطِيهِمْ مَا سَأَلُوا، فَبَلَغَ ذَلِكَ ابْنَ أَبِي حُذَيْفَةَ فَخَطَبَهُمْ، ثُمّ قَالَ: أَلا إِنَّ الْكَذَّابِ كَذَا وَكَذَا قَدْ بَعَثَ إِلَيْكُمْ سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ لِيُقِلَّ جَمَاعَتَكُمْ، وَيُشَتِّتَ كَلِمَتَكُمْ، وَيُوقِعَ التَّخَاذُلَ فِيكُمْ، فَانْفِرُوا إِلَيْهِ.
فَخَرَجَ إِلَيْهِ مِنْهُمْ بِمِائَةٍ أَوْ نَحْوِهَا، فَلَقُوهُ بِمَرْحَلَةِ بَنِي سَعْدٍ وَقَدْ ضَرَبَ فُسْطَاطَهُ وَهُوَ قَائِلٌ، فَقَلَبُوا عَلَيْهِ فُسْطَاطَهُ وَشَجُّوْهُ وَسَبُّوهُ، فَرَكِبَ رَاحِلَتَهُ وَعَادَ رَاحِلًا مِنْ حَيْثُ جَاءَ، وَقَالَ لَهُمْ: ضَرَبَكُمُ اللَّهُ بِالذُّلِّ وَالْفُرْقَةِ وَشَتَّتَ أَمْرَكُمْ بَأْسَكُمْ بَيْنَكُمْ وَلا أَرْضَاكُمْ بِأَمِيرٍ أَرْضَاهُ عَنْكُمْ "
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْحَضْرَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُمَيْرَةَ الْجُذَامِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، قَالَ: " انْتَزَى مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حُذَيْفَةَ عَلَى الإِمَارَةَ، فَأَمَّرَ عَلَى مِصْرَ وَتَابَعَهُ أَهْلُ مِصْرَ طُرًّا إِلَّا أَنْ يَكُونَ عِصَابَةً، مِنْهُمْ: مُعَاوِيَةُ بْنُ حُدَيْجٍ، وَبُسْرُ بْنُ أَبِي أَرْطَاةَ "
وحَدَّثَنِي ابن قُدَيد، عَنْ عُبَيْد اللَّه بْن سَعِيد، عَنْ أبيه، عَن ابن لَهِيعة، عَنْ يزيد بْن حَبيب، قَالَ: " وأَقبل عبد الله بْن سعد، حتى إذا بلغ جِسر القُلْزُم وجد بِهِ خيلًا لابن أَبِي حُذَيفة، فمنعوه أن يدخل، فقال: ويلكم، دَعُوني أدخل عَلَى جُندي فأُعلمهم بما جئت بِهِ، فإنّي قد جئتهم بخير.
فأَبَوا أن يدعوه، فقال: والله لَوددتُ أَنّي دخلت عليهم فأَعلمتهم بما جئتُ بِهِ ثمَّ مِتُّ.
فانصرف إلى عَسقَلان وكرِه أن يرجع إلى عثمان، فقُتل عثمان وهو بعسقلان ثمَّ مات بها، وأجمع محمد بْن أَبِي حُذيفة عَلَى بعث جيش إلى عثمان "
فحَدَّثَنِي محمد بْن مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أحمد بْن يحيى بْن عُميرة، قَالَ: حَدَّثَنَا عبد الله بْن يوسف، عَن ابن لَهِيعة، عَنْ يزيد بْن أَبِي حَبيب، " أنَّ محمد بْن أَبِي حُذَيفة، قَالَ: من يشترط فِي هذا
যে আমি তার থেকে নেব।
তিনি বললেন: তুমি অক্ষম হয়েছ, নিশ্চয়ই এটি তোমার হক (অধিকার)।
আমীরুল মুমিনীন উসমান তাদের কাছে সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাসকে পাঠালেন যেন তাদের বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
মুহাম্মদ ইবন আবদিল ওয়ারিস ইবন জারীর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াসীন ইবন আবদিল আহাদ ইবনুল লাইস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবন আবি হাবীব থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন মুহাম্মদ ইবন আবি হুযায়ফা উসমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন, তখন তিনি (উসমান) সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাসকে মিশরবাসীদের কাছে পাঠালেন তারা যা চেয়েছিল তা দেওয়ার জন্য। এ খবর ইবন আবি হুযায়ফার কাছে পৌঁছালে তিনি তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: "সাবধান! সেই চরম মিথ্যাবাদী তোমাদের কাছে সাদ ইবন মালিককে পাঠিয়েছে তোমাদের ঐক্যকে সংকুচিত করতে, তোমাদের সংহতি বিনষ্ট করতে এবং তোমাদের মধ্যে পরাজয়বোধ সৃষ্টি করতে। সুতরাং তোমরা তার মোকাবেলায় বেরিয়ে পড়।"
তাদের মধ্য থেকে প্রায় একশত বা তার কাছাকাছি লোক তার উদ্দেশ্যে বের হলো। তারা বনী সাদ নামক স্থানে তার দেখা পেল যখন তিনি তার তাঁবু খাটিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তারা তার তাঁবুটি উল্টে দিল, তাকে আহত করল এবং তাকে গালিগালাজ করল। ফলে তিনি তার সওয়ারিতে আরোহণ করলেন এবং যেখান থেকে এসেছিলেন সেদিকেই ফিরে গেলেন। আর তিনি তাদের বললেন: "আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা ও বিভক্তি চাপিয়ে দিন, তোমাদের মধ্যকার লড়াইয়ের মাধ্যমে তোমাদের বিষয়গুলো ছিন্নভিন্ন করুন এবং এমন কোনো আমীরকে তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট না করুন যাকে আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সন্তুষ্ট করেছেন।"
মুহাম্মদ ইবন মুসা আল-হাদরামি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন উমাইরা আল-জুযামি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ ইবন লাহীআ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবন আবি হাবীব থেকে বর্ণনা করেন: "মুহাম্মদ ইবন আবি হুযায়ফা শাসনক্ষমতা দখল করলেন এবং নিজেকে মিশরের আমির নিযুক্ত করলেন। মিশরবাসীরা সকলে তাকে অনুসরণ করল তবে একটি ক্ষুদ্র দল ব্যতীত, যাদের মধ্যে ছিলেন: মুয়াবিয়া ইবন হুদাইজ এবং বুসর ইবন আবি আরতাহ।"
ইবন কুদাইদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবন সাঈদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবন লাহীআ থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবন হাবীব থেকে বর্ণনা করেন: "আবদুল্লাহ ইবন সাদ এগিয়ে আসলেন, এমনকি যখন তিনি কুলজুম সেতুতে পৌঁছালেন, তখন সেখানে ইবন আবি হুযায়ফার অশ্বারোহী বাহিনী দেখতে পেলেন। তারা তাকে প্রবেশ করতে বাধা দিল। তিনি বললেন: তোমাদের ধ্বংস হোক! আমাকে আমার সৈন্যদের কাছে যেতে দাও যাতে আমি যা নিয়ে এসেছি সে সম্পর্কে তাদের জানাতে পারি, কারণ আমি তাদের জন্য কল্যাণ নিয়ে এসেছি।"
তারা তাকে যেতে দিতে অস্বীকার করল। তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই কামনা করতাম যদি আমি তাদের কাছে প্রবেশ করতে পারতাম এবং যা নিয়ে এসেছি তা তাদের জানাতে পারতাম, তারপর মৃত্যুবরণ করতাম।"
তিনি আসকালানের দিকে ফিরে গেলেন এবং উসমানের কাছে ফিরে যাওয়া অপছন্দ করলেন। তিনি আসকালানে থাকাবস্থায় উসমান নিহত হলেন, পরে তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। মুহাম্মদ ইবন আবি হুযায়ফা উসমানের বিরুদ্ধে সৈন্য পাঠানোর বিষয়ে একমত হলেন।
মুহাম্মদ ইবন মুসা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন উমাইরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ ইবন লাহীআ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবন আবি হাবীব থেকে বর্ণনা করেন যে, "মুহাম্মদ ইবন আবি হুযায়ফা বললেন: কে এতে অংশগ্রহণ করার শর্ত করবে..."
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
البعث؟ فكثُر عَلَيْهِ من يشترط، فقال: إِنَّما يكفينا منكم ستمائة رجُل.
فاشترط من أهل مِصر ستمائة رجُل عَلَى كل مائة منهم رئيس، وعلى جماعتهم عبد الرحمن بْن عُدَيس البَلَويّ، وهم: كِنانة بْن بِشر بْن سَلَمان التُّجِيبيّ، وعُروة بْن شُتيم الليثي، وأبو عمرو بْن بُذيل بْن ورقاء الخُزاعي، وسودان بْن أَبِي رُومان الأَصبحيّ، ودِرع بْن يشكُر اليافعيّ، قَالَ يزيد بْن أَبِي حَبيب: وسُجن رجال من أهل مِصر فِي دورهم، منهم: بُسر بْن أَبِي أَرطاة، ومُعاوية بْن حُديج، فبعث ابن أَبِي حُذيفة إلى مُعاوية بْن حُدَيج وهو أَرمل ليكُرهه عَلَى البيعة، فلمَّا رأَى ذَلكَ كِنانة بْن بِشر وكان رأس الشيعة الأُولى، دفع عَنْ مُعاوية بْن حُديج ما كِره، ثمَّ قُتل عثمان رحمه الله، وكان قتله فِي ذي الحجة سنة خمس وثلاثين، ثمَّ أنّ الركب انصرفوا إلى مِصر، فلمَّا دخلوا الفُسطاط ارتجز مرتجزهم:
حُذْهَا إِلَيْكَ وَاحْذَرَن أَبَا حَسَنْ
إنَّا نُمِر الحَرْبَ إِمْرَارَ الرَّسَنْ
بِالسَّيْفِ كَيْ نُخْمِدَ نِيرَانَ الفِتَنْ
قَالَ يزيد بْن أَبِي حَبيب: فلمَّا دخلوا المسجد صاحوا: إِنَّا لسنا قتَلة عثمان ولكن اللَّه قتله.
فلمَّا رأَى ذَلكَ شيعة عثمان، قاموا وعقدوا لُمعاوية بْن حُديج عليهم وبايعوه، فكان أوَّل من بايع عَلَى الطلب بدم عثمان وفيهم يحيى بْن يَعمَر الرُّعينيّ، ثمَّ العبليّ، فسار بهم مُعاوية بْن حُديج إلى الصعيد، فبعث إليهم بْن أَبِي حُذيفة خيلًا، فالتقوا بدِقناش من كُورة البَهْنَسي، فهزم أصحاب ابن أَبِي حُذيفة، ومضى مُعاوية بْن حُديج حتى بلغ
প্রেরণ? তখন তাঁর কাছে শর্তারোপকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্য থেকে আমাদের জন্য মাত্র ছয়শত লোকই যথেষ্ট।"
অতঃপর মিসরবাসীদের মধ্য থেকে ছয়শত লোককে শর্তযুক্ত করা হলো, যাদের প্রতি একশত জনের ওপর একজন করে প্রধান ছিলেন এবং তাদের সম্পূর্ণ দলের নেতৃত্বে ছিলেন আবদুর রহমান ইবনে উদাইস আল-বালাউয়ী। তারা হলেন: কিনানা ইবনে বিশর ইবনে সালমান আত-তুজিবি, উরওয়াহ ইবনে শুতাইম আল-লাইসি, আবু আমর ইবনে বুদাইল ইবনে ওয়ারকা আল-খুজায়ি, সুদান ইবনে আবি রুমান আল-আসবাহি এবং দির’ ইবনে ইয়াশকুর আল-ইয়াফি। ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব বলেন: মিসরবাসীদের মধ্য থেকে কিছু লোককে তাদের নিজ গৃহে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন: বুসর ইবনে আবি আরতাহ এবং মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ। অতঃপর ইবনে আবি হুজাইফা মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজের নিকট লোক পাঠালেন—যখন তিনি ছিলেন বিপত্নীক—যাতে তাঁকে আনুগত্যের শপথ (বায়আত) নিতে বাধ্য করা যায়। যখন কিনানা ইবনে বিশর—যিনি প্রথম বিদ্রোহী দলের প্রধান ছিলেন—তা দেখলেন, তখন তিনি মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজের ওপর থেকে সেই জবরদস্তি দূর করলেন যা তিনি অপছন্দ করছিলেন। এরপর উসমান (রাহিমাহুল্লাহ) নিহত হলেন; তাঁর এই শাহাদাতের ঘটনাটি ঘটেছিল পঁয়ত্রিশ হিজরি সনের জিলহজ মাসে। এরপর সেই আরোহী দলটি মিসরের দিকে ফিরে গেল। যখন তারা ফুস্তাতে প্রবেশ করল, তখন তাদের কবিতা আবৃত্তিকারী ছন্দময় স্বরে বলে উঠল:
এটি তোমার নিজের জন্য গ্রহণ করো এবং হে আবুল হাসান (আলী)! তুমি সতর্ক থেকো
নিশ্চয়ই আমরা যুদ্ধের রশিকে পাকিয়ে মজবুত করি
তলোয়ারের আঘাতে যাতে আমরা ফিতনার আগুন নিভিয়ে দিতে পারি
ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব বলেন: যখন তারা মসজিদে প্রবেশ করল, তখন তারা চিৎকার করে বলতে লাগল: "আমরা উসমানের হত্যাকারী নই, বরং আল্লাহই তাঁকে হত্যা করেছেন।"
যখন উসমানের পক্ষাবলম্বনকারীরা এটি দেখল, তখন তারা রুখে দাঁড়াল এবং মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজকে তাদের নেতা নিযুক্ত করে তাঁর নিকট আনুগত্যের শপথ নিল। উসমানের রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণের দাবিতে তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যার নিকট বায়আত সম্পন্ন হয়েছিল। তাদের মধ্যে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর আল-রুআইনি এবং পরবর্তীতে আল-আবালিও ছিলেন। এরপর মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ তাদেরকে নিয়ে উচ্চভূমির (সা’য়িদ) দিকে অগ্রসর হলেন। তখন ইবনে আবি হুজাইফা তাদের বিরুদ্ধে অশ্বারোহী বাহিনী প্রেরণ করলেন। অতঃপর বাহনাসি অঞ্চলের দিকনাশে তাদের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হলো এবং ইবনে আবি হুজাইফার সঙ্গীরা পরাজিত হলো। আর মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ চলতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি পৌঁছালেন...
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
بَرقة، ثمّ رجع إلى الإسكندريَّة، ثمّ إن ابن أَبِي حُذيفة أمر بجيش آخر عليهم قيس بْن حَرْمَل اللَخْميّ وفيهم ابن الجُثما البَلَويّ، فاقتتلوا بخَرِبتا أوَّل يوم من شهر رمضان سنة ستّ وثلاثين، فقُتل قيس بْن حَرمَل، وابن جُثما وأصحابهما، وسار مُعاوية بن أَبِي سُفيان إلى مصر، فنزل سَلْمَنت من كُورة عين شمس فِي شوَّال سنة ست وثلاثين، فخرج إِلَيْهِ ابن أَبِي حُذيفة، وأهل مِصر ليمنعوا مُعاوية وأصحابه أن يدخلوها، فبعث إِلَيْهِ مُعاوية: إِنَّا لا نُريد قتال أحد إنَّما جئنا نسأَل القوَد بدم عثمان، ادفعوا إلينا قاتليه عبد الرحمن بن عُدَيس، وكِنانة بْن بِشر، وهما رأسا القوم.
فامتنع ابن أَبِي حُذيفة، وقال: لو طلبت منَّا جديًا رطب السُّرّة بعثمان ما دفعناه إليك.
فقال مُعاوية بْن أَبِي سُفيان لابن أَبِي حُذيفة: اجعل بيننا وبينكم رَهنًا فلا يكون بيننا وبينكم حرب.
فقال ابن أَبِي حُذيفة: فإني أرضى بذلك.
فاستخلف ابن أَبِي حُذيفة عَلَى مِصر الحكم بْن الصَّلت بْن مَخزَمة بْن المطّلب بْن عَبْد مَناف، وخرج فِي الرهن هُوَ، وابن عُدَيس، وكِنانة بْن بِشر، وأبو شمس بْن أَبَرهة الصبَّاح، وغيرهم من قتَلة عثمان، فلمَّا بلغوا لُدّ سجنهم مُعاوية بها وسار إلى دِمَشق فهربوا من السِّجن، إلَّا أَبُو شمس بْن أَبَرهة، فقال: لا أدخله أسيرًا وأخرج منهُ آبقًا.
وتبِعهم صاحب فِلَسطين فقتلهم، فأَتبع عبد الرحمن بْن عُديس رجُل من الفُرس، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ: اتَّقِ اللَّهَ فِي دَمِي فَإِنِّي بَايَعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَحْتَ الشَّجَرَةِ.
فَقَالَ لَهُ: الشَّجَرُ فِي الصَّحَرَاءِ كَثِيرٌ.
وَقَتَلَهُ "
وأخبرني ابن قُدَيد، عَنْ يحيى بْن عثمان بْن صالح، عَن ابن عُفير، عَن الليث، قَالَ: قَالَ محمد بْن أَبِي حُذيفة فِي الليلة التي قُتل فِي صباحها: هذه الليلة التي قُتل فِي صباحها عثمان، فإن يكن القِصاص لعثمان، فسنُقتَل فِي غد ".
فقُتل فِي الغد، وكان قتل: ابن أَبِي حُذيفة، وابن عُديس، وكِنانة بْن بِشر، ومن كَانَ معهم فِي الرهن فِي ذي الحجة سنة ستّ وثلاثين
বারকা, এরপর তিনি ইসকান্দারিয়া অভিমুখে প্রত্যাবর্তন করলেন। অতঃপর ইবনে আবি হুজাইফা কাইস ইবনে হারমাল আল-লাখমির নেতৃত্বে আরেকটি বাহিনী প্রেরণের নির্দেশ দিলেন, যাদের মধ্যে ইবনুল জুসামা আল-বালাবিও ছিলেন। তারা ছত্রিশ হিজরি সনের রমজান মাসের প্রথম দিনে খারিবতা নামক স্থানে যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। এতে কাইস ইবনে হারমাল, ইবনে জুসামা এবং তাদের সঙ্গীরা নিহত হলেন। মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান মিশরের দিকে যাত্রা করলেন এবং ছত্রিশ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে আইন শামস অঞ্চলের সালমান্ত নামক স্থানে শিবির স্থাপন করলেন। তখন ইবনে আবি হুজাইফা এবং মিশরের অধিবাসীরা মুয়াবিয়া ও তার সঙ্গীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার জন্য বের হলেন। মুয়াবিয়া তার কাছে বার্তা পাঠালেন: "আমরা কারো সাথে যুদ্ধ করতে চাই না। আমরা কেবল উসমানের রক্তের কিসাস (প্রতিশোধ) দাবি করতে এসেছি। তার হত্যাকারী আব্দুর রহমান ইবনে উদাইস এবং কিনানা ইবনে বিশরকে আমাদের হাতে সমর্পণ করো, কারণ তারাই এই দলের হোতা।"
ইবনে আবি হুজাইফা তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন: "উসমানের বিনিময়ে তোমরা যদি আমাদের কাছে সদ্যজাত একটি ছাগলছানাও চাইতে, তবে আমরা তা তোমাদের হাতে তুলে দিতাম না।"
তখন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান ইবনে আবি হুজাইফাকে বললেন: "আমাদের এবং তোমাদের মাঝে কিছু জিম্মি নির্ধারণ করো, যাতে আমাদের মাঝে কোনো যুদ্ধ না হয়।"
ইবনে আবি হুজাইফা বললেন: "আমি এতে সম্মত।"
অতঃপর ইবনে আবি হুজাইফা মিশরের শাসনভার হাকাম ইবনে সালত ইবনে মাখজামা ইবনে মুত্তালিব ইবনে আবদ মানাফের হাতে ন্যস্ত করলেন। তিনি নিজে এবং ইবনে উদাইস, কিনানা ইবনে বিশর, আবু শামস ইবনে আবরাহা আস-সাব্বাহ এবং উসমানের হত্যাকারীদের মধ্যে আরও কয়েকজন জিম্মি হিসেবে বের হলেন। যখন তারা লুদ্দ নামক স্থানে পৌঁছালেন, মুয়াবিয়া তাদের সেখানে বন্দি করলেন এবং নিজে দামেস্কের দিকে চলে গেলেন। অতঃপর তারা কারাগার থেকে পালিয়ে গেলেন, কেবল আবু শামস ইবনে আবরাহা ব্যতীত। তিনি বললেন: "আমি এখানে বন্দি হিসেবে প্রবেশ করেছি, পলাতক হয়ে বের হবো না।"
ফিলিস্তিনের শাসনকর্তা তাদের পিছু নিলেন এবং তাদের হত্যা করলেন। আব্দুর রহমান ইবনে উদাইসকে পারস্যের এক ব্যক্তি তাড়া করল। আব্দুর রহমান তাকে বললেন: "আমার রক্তের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, কারণ আমি গাছের নিচে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেছি।"
সে তাকে উত্তর দিল: "মরুভূমিতে তো গাছের অভাব নেই!"
এবং সে তাকে হত্যা করল।
ইবনে কুদাইদ আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সালিহ থেকে, তিনি ইবনে উফাইর থেকে এবং তিনি লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন, লাইস বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবি হুজাইফা যে ভোরে নিহত হয়েছিলেন, সেই রাতে বলেছিলেন: "এটি সেই রাত যার ভোরে উসমান নিহত হয়েছিলেন। সুতরাং যদি উসমানের হত্যার কিসাস গ্রহণ করা হয়, তবে আমরা আগামীকাল নিশ্চিতভাবেই নিহত হবো।"
অতঃপর পরদিন তিনি নিহত হলেন। ইবনে আবি হুজাইফা, ইবনে উদাইস, কিনানা ইবনে বিশর এবং জিম্মিদের মধ্যে যারা তাদের সাথে ছিলেন, তাদের সকলের এই হত্যাকাণ্ড ছত্রিশ হিজরি সনের জিলহজ মাসে সংঘটিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
ولاية قيس بْن سعد بْن عُبادة بْن دُليم بْن حارثة بْن أَبِي حَزِيمة بن ثَعلبة بْن طرَيف بْن الخَزْرَج بْن ساعده بْن كَعب بْن الخَزْرَجثمَّ ولِيَها قيس بْن سعد بْن عُبادة الأنصاريُّ من قِبَل أمير المؤمنين عليّ بْن أَبِي طَالِب رضي الله عنه لمَّا بلغه مُصاب ابن أَبِي حُذيفة بعثه عليها وجمع لَهُ الصلوة والخراج، فدخلها مستهلّ شهر ربيع الأوَّل سنة سبع وثلاثين، فجعل عَلَى شُرطته السائب بْن هِشام بْن كِنانة، فاستمال قيس بْن سعد الخارجية بخَرِبْتا، وبعث إليهم أعطياتهم، ووفد عَلَيْهِ وفدهم، فأكرمهم وأَحسن إليهم.
فحَدَّثَنِي محمد مُوسَى الحَضْرَميّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أحمد بْن يحيى بْن عُميرة، قَالَ: حَدَّثَنَا عبد الله بْن يوسف، عَن ابن لَهِيعة، عَنْ يونُس بْن يزيد، عَن ابن شِهاب، قَالَ: " كانت مِصر من جيش عليّ فأمَّر عليها قيس بْن سعد، وكان من ذوي الرأي والبأس إلَّا ما غلب عَلَيْهِ من أمر الفِتنة، فكان مُعاوية، وعمرو جاهدين أن يُخرجاه من مِصر، فتغلَّب عَلَى أمرها وكان قد امتنع منهما بالدَّهاء والمكايدة، فلم يقدِرا عَلَى أن يلِجا مِصر حتَّى كاد مُعاوية قيسًا من قِبَل عليّ، فكان مُعاوية يحدّث رِجالًا من ذوي الرأي من قُريش، فيقول: ما ابتدعتُ من مكايدة قطّ أعجب إليَّ من مكايدةٍ كدت بها قيس بْن سعد حِين امتنع مني قيس، قلتُ لأهل الشام لا تسبُّوا قيسًا ولا تدعوا إلى غزوه، فإنَّ قيسًا لنا شيعة تأْتينا كُتُبه ونصيحته، أَلا ترون ماذا يفعل بإخوانكم النازلين عنده بخَرِبْتا، يُجري
কায়েস ইবনে সাদ ইবনে উবাদা ইবনে দুলাইম ইবনে হারিসা ইবনে আবি হাজিমা ইবনে সালাবা ইবনে তুরিফ ইবনে খাযরাজ ইবনে সায়েদা ইবনে কাব ইবনে খাযরাজের শাসনকালঅতঃপর আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট যখন ইবনে আবি হুজাইফার শাহাদাতের সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি কায়েস ইবনে সাদ ইবনে উবাদা আনসারিকে সেখানে (মিসরে) প্রেরণ করেন এবং তার হাতে সালাত পরিচালনা ও খরাজ (রাজস্ব) সংগ্রহের দায়িত্ব ন্যস্ত করেন। তিনি সাইত্রিশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে সেখানে প্রবেশ করেন। তিনি সায়েব ইবনে হিশাম ইবনে কিনানাকে তার পুলিশ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেন। কায়েস ইবনে সাদ খারিবতায় অবস্থানরত বিমুখ দলটির মন জয় করেন এবং তাদের নিকট তাদের বরাদ্দকৃত ভাতা পাঠিয়ে দেন। যখন তাদের প্রতিনিধি দল তার কাছে আসল, তিনি তাদের সম্মান প্রদান করেন এবং তাদের প্রতি সদাচারণ করেন।
মুহাম্মদ মুসা আল-হাদরামি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমাইরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আমাদের কাছে ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মিসর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি কায়েস ইবনে সাদকে সেখানকার আমির নিযুক্ত করেছিলেন। কায়েস অত্যন্ত বিচক্ষণ ও সাহসী ব্যক্তি ছিলেন, তবে ফিতনার বিষয়টি তার ওপর প্রবল হয়েছিল। মুয়াবিয়া ও আমর তাকে মিসর থেকে বিতাড়িত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি মিসরের শাসনব্যবস্থায় জয়ী হয়ে ছিলেন এবং নিজের চতুরতা ও রণকৌশলের মাধ্যমে তাদের প্রতিহত করেছিলেন। ফলে তারা মিসরে প্রবেশ করার কোনো সুযোগ পাচ্ছিলেন না, যতক্ষণ না মুয়াবিয়া আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ থেকে কায়েসের বিরুদ্ধে এক কৌশল অবলম্বন করলেন। মুয়াবিয়া কুরাইশদের বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কাছে বলতেন: 'আমি কায়েস ইবনে সাদের বিরুদ্ধে যে কৌশলটি অবলম্বন করেছি—যখন কায়েস আমাকে প্রতিহত করছিল—তার চেয়ে বিস্ময়কর কোনো কৌশল আমি কখনো উদ্ভাবন করিনি। আমি সিরিয়াবাসীদের বলেছিলাম যে, তোমরা কায়েসকে গালি দিও না এবং তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ডাক দিও না; কারণ কায়েস আমাদেরই সমর্থক, তার পত্র ও সদুপদেশ আমাদের কাছে আসে। তোমরা কি দেখছো না যে, সে খারিবতায় অবস্থানরত তোমাদের ভাইদের সাথে কী আচরণ করছে? সে তাদের প্রাপ্য...' "
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
عليهم أعطياتهم وأرزاقهم، ويؤمّن سربهم، ويُحسن إلى كل راكبٍ يأْتيه منهم.
قَالَ مُعاوية: وطفِقت اكتب بذلك إلى شيعتي من أهل العراق.
فسمع بذلك جواسيس علي بالعراق، فانهاه إِلَيْهِ محمد بْن أَبِي بَكْر الصدّيق، وعبد اللَّه بْن جَعْفَر، فأَتهم قيسًا، فبعث إِلَيْهِ يأمره بقتال أهل خَرِبتا وبخَرِبْتا يومئذٍ عشرة آلاف، فأَبى قيس أن يقاتلهم، وكتب إلى عليّ: أنَّهم وجوه أهل مِصر وأشرافهم وأهل الحِفاظ، وقد رضوا بأن أُوّمن سَربهم وأُجري عليهم أعطياتهم وأرزاقهم، وقد علِمتُ أن هواهم مَعَ مُعاوية، فلستُ مكايدهم بأمر أهون من الَّذِي أفعل بهم وهم أُسود العرَب، منهم: بُسر بْن أَبِي أَرطاة، ومَسلَمة بْن مُخلّد، ومُعاوية بْن حُديج، فأَبى عَلَيْهِ إِلّا قتالهم، فأَبى قيس أن يقاتلهم وكتب إلى عليّ: إن كنت تُتهمني، فاعزِلني وابعث غيري.
فبعث الأشتر "
حَدَّثَنَا حَسَنٌ الْمَدِينِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: لَمَّا ثَقُلَ مَكَانُ قَيْسٍ عَلَى مُعَاوِيَةَ كَتَبَ إِلَى بَعْضِ بَنِي أُمَيَّةَ بِالْمَدِينَةِ: " أَنْ جَزَى اللَّهُ قَيْسَ بْنَ سَعْدٍ خَيْرًا، فَإِنَّهُ قَدْ كَفّ عَنْ إِخْوَانِنَا مِنْ أَهْلِ مِصْرَ الَّذِينَ قَاتَلُوا فِي دَمِ عُثْمَانَ وَاكْتُمُوا ذَلِكَ، فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَعْزِلَهُ عَلِيٌّ إِنْ بَلَغَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ شِيعَتِنَا.
حتَّى بَلَغَ عَلَيًّا، فَقَالَ مَنْ مَعَهُ مِنْ رُؤَسَاءِ أَهْلِ الْعِرَاقِ، وَأَهْلِ الْمَدِينَةِ: بَدَّلَ قَيْسٌ وَتَحَوَّلَ.
فَقَالَ عَلِيٌّ: وَيْحَكُمْ إِنَّهُ لَمْ يَفْعَلْ فَدَعُونِي.
قَالُوا: لَتَعْزِلَنَّهُ فَإِنَّهُ قَدْ بَدَّلَ.
فَلَمْ يَزَالُوا بِهِ، حَتَّى كَتَبَ إِلَيْهِ: إِنِّي قَدِ احْتَجْتُ إِلَى قُرْبِكَ، فَاسْتَخْلِفْ عَلَى عَمَلِكَ وَاقْدم.
فَلَمَّا قَرَأَ الْكِتَابَ، قَالَ: هَذَا مِنْ مَكْرِ مُعَاوِيَةَ، وَلَوْلا الْكَذِبُ لَكدتُّ بمُعَاوِيَةَ مَكْرًا يَدْخُلُ عَلَيْهِ بَيْتَهُ "
حَدَّثَنَا أَبُو الْعُلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْجَرَّاحُ بْنُ مُلَيْحٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو رَافِعٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: لَوْلا أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «الْمَكْرُ وَالْخَدِيعَةُ فِي النَّارِ».
لَكُنْتُ مِنْ أَمْكَرِ النَّاسِ.
فَوَلِيَهَا قَيْسُ بْنُ سَعْدٍ إِلَى أَنْ عُزِلَ عَنْهَا أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَخَمْسَةَ أَيَّامٍ صُرِفَ لِخَمْسٍ خَلَوْنَ مِنْ رَجَبٍ سَنَةَ سَبْعٍ وَثَلاثِينَ
তাদের অনুদান এবং জীবিকা প্রদান করেন, তাদের পথ নিরাপদ করেন এবং তাদের মধ্য থেকে আগত প্রত্যেক আরোহীর সাথে সদয় আচরণ করেন।
মুয়াবিয়া বলেন: আমি ইরাকবাসী আমার সমর্থকদের কাছে এ বিষয়ে লিখতে শুরু করলাম।
ইরাকে আলীর গোয়েন্দারা এ খবর শুনতে পেল। মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিক এবং আবদুল্লাহ ইবনে জাফর তাকে বিষয়টি অবহিত করলেন। ফলে তিনি কায়েসকে অভিযুক্ত করলেন এবং তাকে খারিবতা-বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন। সে সময় খারিবতায় দশ হাজার লোক ছিল। কিন্তু কায়েস তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করলেন এবং আলীর কাছে লিখলেন: তারা মিশরের বিশিষ্ট ব্যক্তি, অভিজাত এবং আমানতদার লোক। আমি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব এবং তাদের অনুদান ও জীবিকা চালু রাখব—এতে তারা সন্তুষ্ট হয়েছে। আমি জানি যে তাদের ঝোঁক মুয়াবিয়ার দিকে, তবে আমি তাদের সাথে এমন কোনো কৌশলী আচরণ করতে চাই না যা বর্তমানে তাদের সাথে করছি তার চেয়ে সহজ হয়; অথচ তারা আরবের সিংহ। তাদের মধ্যে রয়েছেন: বুসর ইবনে আবি আরতাহ, মাসলামাহ ইবনে মুখাল্লাদ এবং মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ। কিন্তু আলী তাদের সাথে যুদ্ধ করা ছাড়া অন্য কিছু মানতে অস্বীকার করলেন। কায়েসও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাইলেন না এবং আলীর কাছে লিখলেন: আপনি যদি আমাকে অভিযুক্ত করেন, তবে আমাকে বরখাস্ত করুন এবং অন্য কাউকে পাঠান।
অতঃপর তিনি আশতারকে পাঠালেন।
হাসান আল-মাদিনী আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের বর্ণনা করেছেন, লাইস থেকে, তিনি আবদুল কারীম ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন মুয়াবিয়ার কাছে কায়েসের অবস্থান অসহনীয় হয়ে উঠল, তখন তিনি মদিনার বনু উমাইয়াদের কাউকে লিখলেন: "আল্লাহ কায়েস ইবনে সা’দকে উত্তম প্রতিদান দিন, কারণ তিনি আমাদের মিশরীয় ভাইদের থেকে বিরত থেকেছেন যারা উসমানের রক্তের (প্রতিশোধের) দাবিতে লড়ছিল। তোমরা বিষয়টি গোপন রেখো, কারণ আমার ভয় হয় যে, আলী যদি তার ও আমাদের সমর্থকদের মধ্যকার সম্পর্কের খবর জানতে পারেন তবে তাকে বরখাস্ত করবেন।"
পরিশেষে খবরটি আলীর কাছে পৌঁছাল। তার সাথে থাকা ইরাক ও মদিনার নেতারা বললেন: কায়েস বদলে গেছেন এবং পক্ষ ত্যাগ করেছেন।
আলী বললেন: তোমাদের দুর্ভোগ হোক! তিনি এমনটি করেননি, সুতরাং আমাকে আমার সিদ্ধান্তে থাকতে দাও।
তারা বলল: আপনাকে অবশ্যই তাকে বরখাস্ত করতে হবে, কারণ তিনি নিশ্চিতভাবে বদলে গেছেন।
তারা তাকে পিড়াপিড়ি করতে থাকল, যতক্ষণ না তিনি কায়েসের কাছে লিখলেন: আমার তোমাকে কাছে প্রয়োজন, তাই তোমার কাজের জন্য একজন স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করো এবং চলে এসো।
যখন তিনি চিঠিটি পড়লেন, বললেন: এটি মুয়াবিয়ার একটি কৌশল। যদি মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া দোষণীয় না হতো, তবে আমি মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে এমন এক কৌশল অবলম্বন করতাম যা তার ঘরে ঢুকে তাকে পাকড়াও করত।
আবুল উলা আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-জাররাহ ইবনে মুলিহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু রাফে আমাদের কায়েস ইবনে সা’দ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে না শুনতাম যে: "প্রতারণা ও চাতুর্য জাহান্নামে যাবে।"
তবে আমি হতাম মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কৌশলী।
কায়েস ইবনে সা’দ বরখাস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত চার মাস পাঁচ দিন এই দায়িত্বে ছিলেন। সাইত্রিশ হিজরি সনের রজব মাসের পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الأشتَر مالك بْن الحارث بْن عَبْد يغُوث بْن مَسلَمة بْن ربيعة بْن الحارث بْن جَذيِمة بْن سعيد بْن مالك بْن النَّخَع بْن عمرو بْن عُلَة بْن جَلد بْن مَذْحِجثمَّ ولِيَها الأشتر مالك بْن الحارث النَّخَعيّ من قِبَل أمير المؤمنين عليّ، فسار إليها حتى نزل القُلزُم مستهلّ رجب سنة سبع وثلاثين
فحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ الْحَسَن بْن قُديد، قَالَ: حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ الْهَيْثَمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي خَالِد بْنُ نِزَارٍ، عَنْ سُفيان بْن عُيينة، عَنْ مُجالِد، عَن الشَّعبيّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ: كُنْتُ إِذَا أَرَدْتُ أَنْ لا يَمْنَعَنِي عَلِيٌّ شَيْئًا، قُلْتُ: بِحَقِّ جَعْفَرٍ.
فَقُلْتُ لَهُ: أَسْأَلُكَ بِحَقِّ جَعْفَرٍ أَلَّا بَعَثْتَ الأَشْتَرَ إِلَى مِصْرَ، فَإِنْ ظَفَرْتَ فَهُوَ الَّذِي تُحِبُّ وَإِلَّا اسْتَرَحْتَ مِنْهُ.
قَالَ سُفيانُ: وَكَانَ قَدْ ثَقُلَ عَلَيْهِ وَأَبْغَضَهُ وَقَلاهُ.
قَالَ: فَوَلَّاهُ وَبَعَثَهُ وَبَعَثَ مَعَهُ طَيْرَيْنِ لِي مِنَ الْعَرَبِ، فَلَمَّا قَدِمَ قُلْزُمَ مِصْرَ لُقِيَ بِهَا بِمَا يُلْقَى بِهِ الْعُمَّالُ هُنَالِكَ، فَشَرِبَ شَرْبَةَ عَسَلٍ، فَمَاتَ، فَلَمَّا قَدِمَ طَيْرَايَ أَخْبَرَنِي.
فَدَخَلْتُ عَلَى عَلِيٍّ، فَأَخْبَرْتُهُ، فَقَالَ: لِلْيَدَيْنِ وَلِلْفَمِ.
قَالَ سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ قَالَ لَمَّا بَلَغَهُ مَوْتُهُ: «إِنَّ لِلَّهِ جُنُودًا مِنَ الْعَسَلِ»
حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَدِينِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: وَبَعَثَ عَلِيٌّ مَالِكًا الأَشْتَرَ عَلَى مِصْرَ، فَلَمَّا قَدِمَ الْقَلْزُمَ، شَرِبَ شَرْبَةً مِنْ عَسَلٍ، فَمَاتَ.
فَبَلَغَ ذَلكَ مُعَاوِيَةَ، وَعَمْرًا، فَقَالَ عَمْرٌو «إِنَّ لِلَّهِ جُنُودًا مِنْ عَسَلٍ»
আল-আশতার মালিক ইবনুল হারিস ইবনু আবদ ইয়াগুস ইবনু মাসলামাহ ইবনু রাবি'আ ইবনুল হারিস ইবনু জাযিমা ইবনু সাঈদ ইবনু মালিক ইবনু আন-নখ' ইবনু আমর ইবনু উলা ইবনু জালদ ইবনু মাযহিজঅতঃপর আমিরুল মুমিনীন আলীর পক্ষ থেকে আল-আশতার মালিক ইবনুল হারিস আন-নখ'ঈ এর শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি সেদিকে যাত্রা করেন এবং সাইত্রিশ হিজরি সনের রজব মাসের শুরুতে কুলজুম নামক স্থানে অবতরণ করেন।
আলী ইবনুল হাসান ইবনু কুদাইদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন ইবনু সাঈদ ইবনুল হাইসাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনু নিযার আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনু উয়াইনা থেকে, তিনি মুজালিদ থেকে, তিনি শা'বী থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যখন চাইতাম যে আলী আমাকে কোনো কিছু দিতে অস্বীকার না করুক, তখন আমি বলতাম: জাফরের হকের উসিলায়।
অতঃপর আমি তাঁকে বললাম: আমি আপনাকে জাফরের হকের উসিলায় বলছি যে, আপনি আল-আশতারকে মিশরে পাঠান; যদি আপনি জয়ী হন, তবে সেটিই হবে যা আপনি পছন্দ করেন, অন্যথায় আপনি তাঁর থেকে নিষ্কৃতি পাবেন।
সুফিয়ান বলেন: তিনি (আশতার) তাঁর (আলী) নিকট ভারী হয়ে উঠেছিলেন এবং তিনি তাঁকে অপছন্দ ও ত্যাগ করেছিলেন।
তিনি বলেন: অতঃপর তিনি তাঁকে দায়িত্ব অর্পণ করলেন এবং পাঠালেন। তাঁর সাথে আমার দুইজন আরবীয় বার্তাবাহককেও পাঠালেন। যখন তিনি মিশরের কুলজুমে পৌঁছালেন, তখন সেখানে কর্মকর্তাদের যেভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয় তাঁর সাথেও সেভাবে সাক্ষাৎ করা হলো। অতঃপর তিনি এক ঢোক মধু পান করলেন এবং মৃত্যুবরণ করলেন। যখন আমার দুই বার্তাবাহক ফিরে এল, তখন তারা আমাকে সংবাদটি দিল।
আমি আলীর নিকট প্রবেশ করে তাঁকে সংবাদটি জানালাম। তিনি বললেন: আক্ষেপ দুই হাত ও মুখের জন্য।
সুফিয়ান আমর ইবনু দীনার থেকে বর্ণনা করেন যে, আমর ইবনুল আস যখন তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পেলেন তখন বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর মধুর তৈরি কিছু বাহিনী রয়েছে।"
হাসান ইবনু মুহাম্মদ আল-মাদিনী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল কারীম ইবনুল হারিস থেকে, তিনি বলেন: আলী মালিক আল-আশতারকে মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করে পাঠালেন। যখন তিনি কুলজুমে পৌঁছালেন, তখন এক ঢোক মধু পান করলেন এবং মৃত্যুবরণ করলেন।
এই সংবাদ মুয়াবিয়া ও আমরের নিকট পৌঁছালে আমর বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর মধুর তৈরি কিছু বাহিনী রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الحَضْرَميّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْن عُميرة، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُوسُفَ، عَن ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، قَالَ: بَعَثَ عَلِيٌّ مَالِكَ الأَشْتَرِ أَمِيرًا عَلَى مِصْرَ، فَسَارَ يُرِيدُ مِصْرَ حَتَّى نَزَلَ جِسْرَ القَلْزُمِ، فَصَلَّى حِينَ نَزَلَ مِنْ رَاحِلَتِهِ وَدَعَا اللَّهَ إِنْ كَانَ فِِي دُخُولِهِ مِِْصَر خَيْرًا أَنْ يُدْخِلَهُ إيَّاهَا وَإلَّا لَمْ يَقْضِ لَهُ بِدُخُولِهَا.
فَشَرِبَ شَرْبَةً مِنْ عَسَلٍ، فَمَاتَ، فَبَلَغَ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ مَوْتُهُ، فَقَالَ: «إِنَّ لِلَّهِ جُنُودًا مِنَ الْعَسَلِ»
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَاِلمُ بْنُ جُنَادَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مُجَالِدٍ، عَن الشَّعبيّ، قَالَ: لمَّا بَلَغَ عَلِيًّا رضي الله عنه مَوْتُ الأَشْتَرِ، قَالَ: «لِلْيَدَيْنِ وَلِلْفَمِ»
حَدَّثَنَا مُوسَى بْن حَسَنِ بْنِ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ مُزَاحِمٍ، قَالَ: وَفِي حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ حُديجٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَلَقَمة بْن قَيْسٍ، قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى عَلِيٍّ فِي نَفَرٍ مِنَ النَّخَعِ حِينَ هَلَكَ الأَشْتَرُ، فَلَمَّا رَآنِي، قَالَ: «لِلَّهِ مَالِكٌ، لَوْ كَانَ جَبَلًا لَكَانَ مِنْ جَبَلِ فِندًا، وَلَوْ كَانَ مِنْ حَجَرٍ لَكَانَ صَلْدًا مِثْلَ مَالِكٍ، فَلْتَبْكِ الْبَوَاكِي، فَهَلْ مَوْجُودٌ كَمَالِكٍ.
فَوَاللَّهِ مَا زَالَ مُتَلَهِّفًا عَلَيْهِ وَمُتَأَسِّفًا حَتَّى رَأَيْنَا أَنَّهُ الْمُصب دُونَنَا».
وَقَالَتْ سَلْمَى أُمُّ الأَسوَدِ بْنِ الأَسْوَدِ النَّخَعِيِّ تُرْثِي مَالِكًا:
نَبَا بِي مَضْجَعي وَنَبَا وِسَادِي
… وَعَيْني مَا تَهُمُّ إِلّي رُقَادِي
كَأَنَّ اللَّيْلَ أَوثِقَ جَانِبَاهُ
… وَأَوْسَطُهُ بِأَمْرَاسٍ شدَادِ
أَبَعْدَ الأَشتَرِ النَّخَعيِّ تَرْجُو
… مُكَاثَرَةً وَيَقْطَعُ بَطْنَ وَادِ
أكَرُّ إِذَا الْفَوَرِسُ مُحْجِمَاتٍ
… وَأَضَربُ حِينَ تَخْتَلِفُ الْهَوادِي
فَقَالَ الْمُثَنَّى يُرْثِيهِ:
أَلَا مَا لِضَوْءِ الصُّبْحِ أَسْوَدُ حَالِكُ
… وَمَا لِلرَّوَاسِي زَعْزَعَتْهَا الدكَّادِكُ
وَمَا لِهمُومِ النَّفْسِ شَتَّى شُئُونُهَا
… تَظَلُّ تُنَاجِيهَا النُّجُومُ الشَّوَابِكُ
عَلَى مَالِكٍ فَلْيَبْكِ ذُو اللَّيْثِ مُعْوِلًا
… إِذَا ذُكِرَتْ فِي الْفَيْلَقَيْنِ الْمعَارِكُ
إِذَا ابْتَدَرَ الْخُطَى وَانْتَدَبْ الْمَلا
… وَكَانَ غَيَّاثَ الْقَوْمِ نَصْرُ مواشِكُ
মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-হাদরামি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমাইরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী মালিক আল-আশতারকে মিশরের আমির হিসেবে প্রেরণ করলেন। তিনি মিশরের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন এবং কুলজুমের সেতুতে অবতরণ করলেন। যখন তিনি তার বাহন থেকে নামলেন, তখন সালাত আদায় করলেন এবং আল্লাহর কাছে দুআ করলেন যে, যদি তার মিশরে প্রবেশের মধ্যে কল্যাণ থাকে তবে তিনি যেন তাকে সেখানে প্রবেশ করান, অন্যথায় যেন তিনি তার জন্য সেখানে প্রবেশ করা নির্ধারণ না করেন।
অতঃপর তিনি এক ঢোক মধু পান করলেন এবং ইন্তেকাল করলেন। আমর ইবনুল আসের কাছে তার মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছালে তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই মধুর মধ্যেও আল্লাহর কিছু সৈন্য রয়েছে»
আলী ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালিম ইবনে জুনাদা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে বশীর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে মুজালিদ থেকে, তিনি শা'বি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আলীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) কাছে আল-আশতারের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: «দুই হাত ও মুখের জন্য (হায় আফসোস)»
মুসা ইবনে হাসান ইবনে মুসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবি বুরদাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাসর ইবনে মুজাহিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে সাঈদের বর্ণিত হাদিসে ফুদাইল ইবনে হুদাইজ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি আলকামা ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মালিক আল-আশতার যখন মারা গেলেন, তখন আমি নাখা' গোত্রের একদল লোকের সাথে আলীর কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি যখন আমাকে দেখলেন, তখন বললেন: «মালিক আল্লাহর জন্যই! সে যদি পাহাড় হতো তবে এক বিশাল স্বতন্ত্র শৃঙ্গ হতো, আর যদি পাথর হতো তবে মালিকের মতোই সুদৃঢ় হতো। ক্রন্দনকারীরা যেন মালিকের জন্যই কাঁদে; মালিকের মতো কি আর কেউ আছে?
আল্লাহর কসম, তিনি তার জন্য অনবরত আক্ষেপ ও শোক করতে থাকলেন, এমনকি আমাদের মনে হলো যে আমাদের বাদ দিয়ে তিনিই মূল বিপদে আক্রান্ত ব্যক্তি।»
আসওয়াদ ইবনুল আসওয়াদ আন-নাখাঈর মা সালমা মালিকের শোকগাথা গেয়ে বলেছেন:
আমার শয্যা আমাকে বিস্বাদ করেছে এবং বালিশ আমাকে দূরে ঠেলেছে
… আর আমার চোখ ঘুমের দিকে যাওয়ার কোনো ইচ্ছেই করছে না
মনে হচ্ছে যেন রাতের দুই প্রান্তকে বেঁধে ফেলা হয়েছে
… আর তার মধ্যভাগকে মজবুত রশি দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে
নাখাঈ গোত্রের আল-আশতারের পর কি তুমি অধিক সৈন্যের আশা করো?
… অথচ সে তো উপত্যকার বুক চিরে চলে গেছে
সে তখন আক্রমণ করত যখন অশ্বারোহীরা পিছু হটত
… আর সে আঘাত করত যখন উটের হাওদাগুলো বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত
আল-মুসান্না তার শোকগাথা গেয়ে বললেন:
হায়! প্রভাতের আলোর কী হলো যে তা ঘোর নিকষ কালো হয়ে গেল?
… আর সুউচ্চ পাহাড়গুলোরই বা কী হলো যে প্রকম্পনে তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল?
প্রাণের উদ্বেগগুলোরই বা কী হলো যে তার নানা রূপ?
… উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি যেন সর্বদা তার সাথে গোপন কথা বলে যাচ্ছে
মালিকের বিরহে বিলাপকারীর উচিত উচ্চস্বরে কাঁদা
… যখন দুই বিশাল বাহিনীর যুদ্ধসমূহের কথা স্মরণ করা হবে
যখন সে দ্রুত পদক্ষেপে এগিয়ে যেত এবং জনতাকে আহ্বান করত
… তখন তার দ্রুত বিজয়ই ছিল কওমের জন্য ত্রাণকর্তা স্বরূপ।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
إِذَا ابتَدَرَتْ يَوْمًا قَبَائِلُ مَذْحِجٍ
… وَنُودِي بِهَا أَيْنَ الْمُظَفَّرُ مَالِكُ
فَلَهْفَي عَلَيْهِ حِينَ تَخْتَلِفُ الْقَنَا
… وَيَرْعَشُ لِلْمَوْتِ الرِّجَالُ الصَّعَالِكُ
وَلَهْفَي عَلَى يَوْمَ دَبَّ لَهُ الرَّدَى
… وَذِيفَ لَهُ سُمٌّ مِنَ المْوتِ حَانِكُ
فَلَوْ بَارَزُوهُ يَوْمَ يَبْغُونَ هُلْكَهُ
… لَكَانُوا بِإِذْنِ اللهِ مَيْتٌ وَهَالِكُ
وَلَو مَارَسُوهُ مَارَسُوا لَيْثَ غَابَةٍ
… لَهُ كَالَّتِي لا تَرْقُدُ اللَّيْلَ فَاتِكُ
فَقُلْ لابْنِ هِنْدٍ لَوْ مَنَيت بِمَالِكٍ
… وَفِي كَفِّهِ مَاضِي الضَّرِيبَةِ بَاتِكُ
لَأَلْفَيْتَ هِنْدًا تَشْتَكي عَلَنَ الرَّدَى
… تَنُوحُ وَتَحْبُوهَا النِّسَاءُ الْعَوَاتِكُ.
وَاسْتَخْلَفَ الأَشْتَرُ عَلَى مِصْرَ حَمامَ بْنَ عَامِرٍ اللَّخْمِيَّ أَبَا الأَكْدَرِ بْنَ حَمامٍ، وَكَانَ الأَكْدَرُ، وَأَبُوهُ مِن شِيعَةِ عَلِيٍّ، وَحَضر الدَّار جَمِيعًا
محمد بْن أَبِي بَكْر الصدّيق بنُ عبد الله بْن عثمان بْن عامر بْن عمرو بْن كَعْب بْن سعد بْن تَيْم بْن مُرَّة بْن كَعْب بْن لُؤَيّ بْن غالبثمَّ ولِيَها محمد بْن أَبِي بَكْر الصِّدّيق من قِبَل أمير المؤمنين عليّ، وجمع لَهُ صلاتها وخَراجها، فدخلها للنصف من شهر رمضان سنة سبع وثلاثين، فجعل عَلَى شُرطته عبد الله بْن أَبِي حَرْمَلة البَلَويّ، فذكر بعض أشياخ مصر: أن قيسًا لقِيَ محمد بْن أَبِي بَكْر، فقال لَهُ: إِنهُ لا يمنعني نُصحي لك، ولأَمير المؤمنين عزله إياي، ولقد عزلني من غير وهن
যেকোনো একদিন যখন মাজহিজ গোত্রসমূহ দ্রুত ধাবিত হবে
… এবং তাদের মাঝে এই বলে আহ্বান জানানো হবে যে, বিজয়ী মালিক কোথায়?
তার প্রতি আমার আক্ষেপ সেই সময়ের জন্য যখন বর্শাসমূহ পরস্পরের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়
… এবং মৃত্যুর ভয়ে হীনবল ব্যক্তিরা প্রকম্পিত হতে থাকে।
আমার আক্ষেপ সেই দিনের জন্য যখন মৃত্যু তার দিকে ধীর পায়ে অগ্রসর হয়েছিল
… এবং তার জন্য মৃত্যুর এক তীব্র বিষ মিশ্রিত করা হয়েছিল।
তারা যদি সেই দিনে তার সাথে দ্বৈরথ সমরে অবতীর্ণ হতো যেদিন তারা তার ধ্বংস কামনা করেছিল
… তবে আল্লাহর ইচ্ছায় তারা নিজেরাই মৃত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হতো।
তারা যদি তার মোকাবিলা করত, তবে তারা বনের এক সিংহেরই মোকাবিলা করত
… যার রয়েছে এমন বিধ্বংসী আক্রমণ যা রাতে ঘুমানোর সুযোগ দেয় না।
অতএব হিন্দের পুত্রকে বলো, যদি তুমি মালিকের পরীক্ষার সম্মুখীন হতে
… আর তার হাতে থাকত শাণিত ও ছেদনকারী তরবারি—
তবে তুমি হিন্দকে প্রকাশ্য মৃত্যুর আহাজারি করতে দেখতে
… সে বিলাপ করত এবং অভিজাত মহিলারা তার চারপাশে এসে জড়ো হতো।
আল-আশতার মিশরে হাম্মাম বিন আমির আল-লাখমি আবুল আকদার বিন হাম্মামকে নিজের স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেন। আকদার এবং তার পিতা উভয়েই আলীর অনুসারী ছিলেন এবং তারা উভয়েই গৃহের অবরোধের ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন।
মুহাম্মদ বিন আবি বকর সিদ্দিক বিন আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন আমির বিন আমর বিন কাব বিন সাদ বিন তাইম বিন মুররা বিন কাব বিন লুআই বিন গালিবঅতঃপর আমীরুল মুমিনীন আলীর পক্ষ থেকে মুহাম্মদ বিন আবি বকর সিদ্দিক সেখানকার শাসনভার গ্রহণ করেন। আলী তার জন্য সালাত ও খরাজ (রাজস্ব) আদায়ের দায়িত্ব একত্রিত করে দেন। তিনি সাঁইত্রিশ হিজরি সনের রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে সেখানে প্রবেশ করেন। তিনি আব্দুল্লাহ বিন আবি হারমালা আল-বালাভিকে তার পুলিশ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেন। মিশরের জনৈক প্রবীণ ব্যক্তি বর্ণনা করেন যে: কায়েস বিন সাদ যখন মুহাম্মদ বিন আবি বকরের সাথে সাক্ষাৎ করেন, তখন তিনি তাকে বলেছিলেন: "আমীরুল মুমিনীন আমাকে বরখাস্ত করেছেন বলে আমি তোমাকে নসিহত করা থেকে বিরত থাকব না। আর তিনি আমাকে কোনো দুর্বলতার কারণে বরখাস্ত করেননি।"
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
ولا عجز، فاحفَظ عني ما أوصيك بِهِ يدُمْ صَلاح حالك: دع مُعاوية بْن حُديج، ومَسْلَمة بْن مُخلَّد، وبُسر بْن أَبِي أرطاة، ومن ضوى إليهم عَلَى ما هُمْ عَلَيْهِ تكشِفهم عَنْ رأيهم، فإِن أتَوك ولم يفعلوا، فاقبَلهم، وإن تخلَّفوا عليك، فلا تطلبهم، وانظر هذا الحيّ من مَضَر، فأنت أولى بهم منّي، فأَلِنْ لهم جَناحك، وقرّب عليهم مكانك، وارفع عَنْهُمْ حِجابك، وانظر هذا الحيّ من مُدْلِج، فدَعهم وما غلبوا عَلَيْهِ يكْفوا عنك شأْنهم، وأَنزل الناس من بعد عَلَى قدر منازلهم، وإن استطعت أن تعود المرضَى وتشهَد الجنائز فافعل، فإِنَّ هذه لا ينقصك ولن تفعل إِنَّك والله ما علِمت لتظهِر الخُيَلاء، وتَحِبُّ الرّياسة، وتُسارع إلى ما هُوَ ساقطٌ عنك والله مُوّفقك.
فعمِل محمد بِخلاف ما أوصاه قيس، فكتب إلى ابن حُدَيج، والخارجة معه يدعوهم إلى بيعته، فلم يُحيوه، فبعث بأبي عمرو بْن بُذَيل بْن ورقاء الخُزَاعيّ إلى دور الخارجة، فهدمها، ونهب أموالهم، وسجن ذراريهم، فبلغهم ذَلكَ، فنصبوا لَهُ الحرب وهمّوا بالنهوض إِلَيْهِ، فلمَّا علِم أنّه لا قوّة لَهُ بهم أمسك عَنْهُمْ.
حَدَّثَنَا الْحَسَن بْن محمد المَدِينيّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يحيى بْن عبد الله بْن بُكير، عَن الليث، عَنْ عَبْد الكريم بْن الحارث، قَالَ: «فصالحهم محمد عَلَى أن يُسيّرهم إلى مُعاوية، وأن ينصب لهم جِسرًا بنَقْيُوس يجوزون عَلَيْهِ ولا يدخلوا الفُسطاط، ففعلوا ولِحقوا بِمُعاوية»
وحَدَّثَنِي محمد بْن مُوسَى الحضْرَميّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أحمد بْن يحيى بْن عُمَيرة، قَالَ: حَدَّثَنَا عبد الله بْن يوسف، قَالَ: حَدَّثَنَا عبد الله بْن لَهِيعة، عَنْ يزيد بْن أَبِي حَبيب، قَالَ: «فبعث إلى ابن حُدَيج حُجْر بْن عَدي الكِنديّ بأَمانة، وبعث محمد بْن أَبِي بَكْر قيس بْن سَلامة التُّجيبيّ من بني فَهم بْن أداة، فصنع لهم جِسرًا بنَقْيُوس، فجاز منه ابن حَدَيج وأَصحابه، فلحِقوا بمُعاوية»
وحَدَّثَنَا حَسَنٌ الْمَدِينيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عَبْد الْكَرِيمِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: " ولمَّا أَجْمَعَ عَلِيٌّ، وَمُعَاوِيَةُ عَلَى الْحكَمَيْنِ، أَغْفَلَ عَلِيٌّ أَنْ يَشْتَرِطَ
এবং কোনো অক্ষমতা প্রদর্শন কোরো না। আমি তোমাকে যা অসিয়ত করছি তা আমার থেকে মনে রেখো, তবেই তোমার অবস্থার কল্যাণ স্থায়ী হবে: মুআবিয়া ইবন হুদাইজ, মাসলামা ইবন মুখাল্লাদ এবং বুসর ইবন আবি আরতাহ এবং যারা তাদের সাথে যোগ দিয়েছে, তাদের যে অবস্থায় আছে সেভাবেই ছেড়ে দাও যতক্ষণ না তুমি তাদের মনোভাব উন্মোচন করতে পারো। যদি তারা তোমার কাছে আসে এবং (বিরোধিতা) না করে, তবে তাদের গ্রহণ করো। আর যদি তারা তোমার থেকে পিছিয়ে থাকে, তবে তাদের পিছু ধাওয়া কোরো না। আর মাদারের এই গোত্রটির প্রতি দৃষ্টি দিয়ো, তাদের ক্ষেত্রে তুমি আমার চেয়ে অধিক হকদার; তাদের প্রতি তোমার দয়ার ডানা অবনমিত করো, তোমার অবস্থানকে তাদের নিকটবর্তী করো এবং তাদের থেকে তোমার পর্দা সরিয়ে দাও। আর মুদলেজ গোত্রের এই জনপদের প্রতি লক্ষ্য রেখো, তারা যা কিছুর ওপর বিজয়ী হয়েছে তাতে তাদের ছেড়ে দাও, তারা তাদের বিষয়ে তোমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। এরপর মানুষকে তাদের মর্যাদা অনুযায়ী স্থান দিয়ো। যদি পারো তবে অসুস্থদের দেখতে যেয়ো এবং জানাজায় উপস্থিত থেকো, তবে তা করো। কেননা এতে তোমার মর্যাদা কমবে না। আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে যতটুকু জানি, তুমি দম্ভ প্রকাশের জন্য তা করো না, নেতৃত্বও পছন্দ করো না এবং যা তোমার ওপর অর্পিত হয়নি তার প্রতি তুমি দ্রুত ধাবিত হও না। আল্লাহ তোমার তাওফিকদাতা।
অতঃপর মুহাম্মদ (ইবন আবি বকর) কায়স তাকে যা অসিয়ত করেছিলেন তার বিপরীতে কাজ করলেন। তিনি ইবন হুদাইজ এবং তার সাথে যারা বেরিয়ে গিয়েছিল তাদের কাছে চিঠি লিখে নিজ আনুগত্যের বাইআত গ্রহণের আহ্বান জানালেন। কিন্তু তারা তাতে সাড়া দিল না। ফলে তিনি আবু আমর ইবন বুদাইল ইবন ওয়ারকা আল-খুজায়িকে সেই বিদ্রোহীদের ঘরবাড়িগুলোর দিকে পাঠালেন; তিনি সেগুলো ধ্বংস করলেন, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করলেন এবং তাদের সন্তানদের বন্দি করলেন। তাদের কাছে এই সংবাদ পৌঁছালে তারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিল এবং তার দিকে অগ্রসর হওয়ার সংকল্প করল। যখন মুহাম্মদ বুঝতে পারলেন যে তাদের মোকাবিলা করার মতো শক্তি তার নেই, তখন তিনি তাদের থেকে নিবৃত্ত হলেন।
আল-হাসান ইবন মুহাম্মদ আল-মাদিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন বুকাইর লাইস থেকে এবং তিনি আবদুল কারিম ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "অতঃপর মুহাম্মদ তাদের সাথে এই মর্মে সন্ধি করলেন যে, তিনি তাদের মুআবিয়ার কাছে পাঠিয়ে দেবেন এবং তাদের জন্য নাকইউসে একটি সেতু নির্মাণ করে দেবেন যা দিয়ে তারা পার হয়ে যাবে এবং ফুসতাত শহরে প্রবেশ করবে না। তারা তাই করল এবং মুআবিয়ার সাথে গিয়ে মিলিত হলো।"
মুহাম্মদ ইবন মুসা আল-হাদরামি আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আহমদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন উমাইরা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবন ইউসুফ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবন লাহিয়াহ ইয়াজিদ ইবন আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "অতঃপর তিনি (মুহাম্মদ ইবন আবি বকর) ইবন হুদাইজের কাছে হুজর ইবন আদি আল-কিন্দিকে নিরাপত্তা দিয়ে পাঠালেন। আর মুহাম্মদ ইবন আবি বকর বনু ফাহম ইবন আদাহ গোত্রের কায়স ইবন সালামাহ আত-তুজিবিকে পাঠালেন এবং তিনি তাদের জন্য নাকইউসে একটি সেতু তৈরি করে দিলেন। ইবন হুদাইজ ও তার সাথীরা সেটি দিয়ে পার হয়ে গেলেন এবং মুআবিয়ার সাথে গিয়ে যোগ দিলেন।"
হাসান আল-মাদিনি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবন আবদুল্লাহ ইবন বুকাইর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: লাইস আবদুল কারিম ইবনুল হারিস থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন আলী ও মুআবিয়া উভয় সালিশের বিষয়ে একমত হলেন, তখন আলী এই শর্ত করতে অবহেলা করলেন যে..."
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
عَلَى مُعَاوِيَةَ أَنْ لا يُقَاتِلَ أَهْلَ مِصْرَ، فَلَمَّا انْصَرَفَ عَلِيٌّ إِلَى الْعِرَاقِ بَعَثَ مُعَاوِيَةُ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ فِي جُيُوشٍ إِلَى أَهْلِ الشَّامِ وَإِلَى مِصْرَ، فَاقْتَتَلُوا قِتَالًا شَدِيدًا، فَقَالَ عَمْرٌو: وَشَهِدْتُ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ زَحْفًا بُرَاكَاءً فَلَمْ أَرَ يَوْمًا مِثْلَ الْمُسَنَّاةِ، ثُمَّ انْهَزَمَ أَهْلُ مِصْرَ، فَدَخَلَ عَمْرٌو بِأَهْلِ الشَّامِ الْفُسْطَاطَ وَتَغَيَّبَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ فِي غَافِقٍ، فَأَوَاهُ رَجُلٌ مِنْهُمْ، فَأَقْبَلَ مُعَاوِيَةُ بْنُ حُدَيجٍ فِي رَهْطٍ مِمَّن يُعِينُهُ عَلَى مَنْ كَانَ مَشَى فِي عُثْمَانَ، فَطَلَبَ ابْن أَبِي بَكْرٍ، فَوَجَدْتُ أُخْتَ الرَّجُلِ الْغَافِقِيِّ الَّذِي كَانَ أَوَاهُ كَانَتْ ضَعِيفَةَ الْعَقْلِ، فَقَالَتْ: أَيُّ شَيْءٍ تَلْتَمِسُونَ ابْنَ أَبِي بَكْرٍ أَدُلُّكُمْ عَلَيْهِ وَلا تَقْتُلُونَ أَخِي.
فَدَلَّتْهُمْ عَلَيْهِ، فَقَالَ: احْفَظُونِي فِي أَبِي بَكْرٍ.
فَقَالَ مُعَاوِيَةُ بْنُ حُدَيْجٍ: قَتَلْتَ مِنْ قَوْمِي ثَمَانِينَ رَجُلًا فِي عُثْمَانَ وَأَتْرُكَكَ وَأَنْتَ صَاحِبُهُ.
فَقَتَلَهُ ثمَّ جَعَلَهُ فِي جِيْفَةِ حِمَارٍ مَيِّتٍ، فَأَحْرَقَهُ بِالنَّارِ "
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ مُوسَى الْحَضْرَميُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عُمَيْرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، عَن ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، قَالَ: " بَعَثَ مُعَاوِيَةُ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ فِي سَنَةِ ثَمَانٍ وَثَلاثِينَ إِلَى مِصْرَ وَمَعَهُ أَهلُ دِمَشْقَ، عَلَيْهِمْ يَزِيدُ بْنُ أَسَد البَجَليُّ، وَعَلَى أَهْلِ فِلَسْطِينَ رَجُلٌ مِنْ خَثْعَمٍ، وَمُعَاوِيَةُ بْنُ حُدَيْجٍ عَلَى الْخَارِجَةِ، وَأَبُو الأَعَورِ السُّلَميُّ عَلَى أَهْلِ الأُرْدُنِّ، فَسَارُوا حَتَّى قَدِمُوا مِصْرَ، فَاقْتَتَلُوا بِالْمُسنَّاةِ، وَعَلَى أَهْلِ مِصْرَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، فَهُزِمَ أَهْلُ مِصْرَ بَعْدَ قَتْلٍ شَدِيدٍ فِي الْفَرِيقَيْنِ جَمِيعًا، قَالَ عَمْرٌو: وَشَهِدْتُ أَرْبَعَةً وَعِشْرِينَ زَحْفًا فَلَمْ أَرَ يَوْمًا كَيَوْمِ المُسَنَّاةِ وَلَمْ أَرَ الأَبْطَالَ إلَّا يَوْمَئِذٍ، فَلَمَّا هُزِمَ أَهْلُ مِصْرَ تَغَيَّبَ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، فَأُخبِرَ مُعَاوِيَةُ بْنُ حُدَيجٍ بِمَكَانِهِ، فَمَشَى إِلَيْهِ، فَقَتَلَهُ، وَقَالَ: يُقْتَلُ كِنَانَةُ بْنُ بِشْرٍ، وَيُتْرَكُ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْر، وَإِنَّمَا أَمْرُهُمَا وَاحِدٌ.
ثُمَّ أَمَرَ بِهِ مُعَاوِيَةُ بْنُ حُدَيجٍ فَجُرَّ، فَمُرَّ بِهِ عَلَى دَارِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ لِمَا يَعْلَمُ مِنْ كَرَاهِيَتِهِ لِقَتْلِهِ، ثُمَّ أَمَرَ بِهِ بِجَادٌ التُّجِيبِيُّ، فَأَحْرَقَهُ فِي جَيْفَةِ حِمَارٍ "
وحَدَّثَنَا ابْنُ قُدَيْدٍ، عَنْ عُبَيْد اللَّه بْن سَعِيد، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " كَانَ صَاحِبَ أَمْرِ النَّاسِ يَوْمَ المُسنَّاة قَيْسُ بْنُ عَدِيِّ بْنِ خَيْمَةَ اللَّخْميّ مِنْ رَاشِدَةَ، فَلَمَّا انْهَزَمَ أَهْلُ مِصْرَ عَادُوا بِالْحِصْنِ، فَدَخَلُوا فِيهِ وَجَعَلُوا أَمْرَهُمْ إِلَى قَيْسٍ وَأَغْلَقُوا الْحِصْنَ، فَقِيلَ لَهْمُ: إِنَّ هَؤُلاءِ قَدِ اسْتَقْتَلُوا وَلَنْ تَصِلَ إِلَيْهِمْ حَتَّى يَنْكُوا مَنْ مَعَكَ، فَأَعْطَاهُمْ عَمْرٌو مَا أَحَبُّوا، فَخَرَجُوا عَلَى صُلحٍ "
মুয়াবিয়া মিশরের অধিবাসীদের সাথে যুদ্ধ করবেন না—এই শর্তে। যখন আলী ইরাকে ফিরে গেলেন, তখন মুয়াবিয়া সিরিয়া ও মিশরের অধিবাসীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীসহ আমর ইবনুল আসকে পাঠালেন। তারা প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। আমর বললেন: "আমি আঠারোটি আক্রমণ বা যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছি, কিন্তু আল-মুসান্নাহর দিনের মতো কোনো দিন দেখিনি।" অতঃপর মিশরের অধিবাসীরা পরাজিত হলো এবং আমর সিরিয়ার লোকদের নিয়ে ফুসতাতে প্রবেশ করলেন। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর গাফিকের একটি স্থানে আত্মগোপন করলেন এবং তাদের একজন তাকে আশ্রয় দিল। মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ একদল লোক নিয়ে উপস্থিত হলেন যারা উসমানের বিরুদ্ধে যারা অগ্রসর হয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে তাকে সহযোগিতা করছিল। তিনি ইবনে আবু বকরকে খুঁজলেন। তখন তিনি সেই গাফিকী লোকটির বোনকে পেলেন যে তাকে আশ্রয় দিয়েছিল; সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিল। সে বলল: "তোমরা ইবনে আবু বকরকে কেন খুঁজছ? আমি তার সন্ধান দিয়ে দেব যদি তোমরা আমার ভাইকে হত্যা না করো।"
অতঃপর সে তাদের তার সন্ধান দিল। তিনি (মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর) বললেন: "আবু বকরের খাতিরে আমাকে রক্ষা করো।"
মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ বললেন: "উসমানের ঘটনার কারণে তুমি আমার গোত্রের আশি জন লোককে হত্যা করেছ, আর আমি তোমাকে ছেড়ে দেব অথচ তুমি তাদের প্রধান সাথী?"
অতঃপর তিনি তাকে হত্যা করলেন এবং তাকে একটি মৃত গাধার মরদেহের ভেতর রেখে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন।
মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ মুসা আল-হাদরামি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমাইরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে লাহিয়াহ থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মুয়াবিয়া আটত্রিশ হিজরি সালে আমর ইবনুল আসকে মিশরে পাঠান। তার সাথে ছিল দামেস্কের অধিবাসীরা যাদের নেতৃত্বে ছিলেন ইয়াজিদ ইবনে আসাদ আল-বাজালী, ফিলিস্তিনের অধিবাসীদের নেতৃত্বে ছিল খাশআম গোত্রের এক ব্যক্তি, বহিরাগতদের নেতৃত্বে ছিল মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ এবং জর্ডানের অধিবাসীদের নেতৃত্বে ছিল আবু আল-আওয়ার আস-সুলামী। তারা যাত্রা করে মিশরে পৌঁছলেন। তারা আল-মুসান্নাহ নামক স্থানে যুদ্ধ করলেন। মিশরের অধিবাসীদের নেতৃত্বে ছিলেন মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর। উভয় পক্ষে ব্যাপক হতাহতের পর মিশরের অধিবাসীরা পরাজিত হলো। আমর বললেন: 'আমি চব্বিশটি আক্রমণ প্রত্যক্ষ করেছি কিন্তু আল-মুসান্নাহর দিনের মতো আর কোনো দিন দেখিনি এবং সেদিন ছাড়া প্রকৃত বীরদের দেখিনি।' যখন মিশরের অধিবাসীরা পরাজিত হলো, তখন মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর আত্মগোপন করলেন। মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজকে তার অবস্থান সম্পর্কে জানানো হলো। তিনি তার দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাকে হত্যা করলেন। তিনি বললেন: 'কিনানাহ ইবনে বিশরকে হত্যা করা হবে আর মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকরকে ছেড়ে দেওয়া হবে? অথচ তাদের দুজনের ব্যাপারটি তো একই (উসমানের হত্যার ক্ষেত্রে)।'"
এরপর মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ তাকে টেনে নেওয়ার আদেশ দিলেন। তাকে আমর ইবনুল আসের বাড়ির সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো, কারণ তিনি জানতেন যে আমর তাকে হত্যা করা অপছন্দ করতেন। এরপর বিজাদ আত-তুজিবি তাকে একটি গাধার মরদেহের ভেতরে রেখে পুড়িয়ে ফেলার আদেশ দেন।
ইবনে কুদাইদ ওবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল-মুসান্নাহর যুদ্ধের দিন জনগণের সেনাপতি ছিলেন রাশিদাহ গোত্রের কায়স ইবনে আদি ইবনে খাইমাহ আল-লাখমি। যখন মিশরের অধিবাসীরা পরাজিত হলো, তারা দুর্গে ফিরে গেল এবং সেখানে প্রবেশ করে কায়সের ওপর তাদের দায়িত্ব অর্পণ করল এবং দুর্গের দরজা বন্ধ করে দিল। তখন তাদের (সিরীয়দের) বলা হলো: 'এরা জীবন দিতে প্রস্তুত হয়ে লড়ছে এবং তোমরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারবে না যতক্ষণ না তারা তোমাদের সাথীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করবে।' ফলে আমর তাদের পছন্দমতো প্রস্তাব দিলেন এবং তারা সন্ধির ভিত্তিতে বের হয়ে এল।"
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
حَدَّثَنِي أَبُو سلَمة أُسامة التُّجِيبيّ، قَالَ: حَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَبِي زَيْدٍ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ يَحْيَى بْنِ وَزِيرٍ، عَنْ إِسْحَاق بْن الفُرات، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، قَالَ: " بَعَثَ مُعَاوِيَةُ بْنُ حُدَيْجٍ بِسُلَيْمٍ مَوْلاه إِلَى الْمَدِينَةِ بَشِيرًا بِقَتْلِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ وَمَعَهُ قَمِيصُ ابْنِ أَبِي بَكْرٍ، فَدَخَلَ بِهِ دَارَ عُثْمَانَ، وَاجْتَمَعَ آلُ عُثْمَانَ مِنْ رِجَالٍ وَنِسَاءٍ وَأَظْهَرُوا السُّرُورَ بِقَتْلِهِ وَأَمَرَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ ابْنَةُ أَبِي سُفْيَانَ بِكَبْشٍ، فَشُوِيَ وَبَعَثَتْ بِهِ إِلَى عَائِشَةَ، فَقَالَتْ: هَكَذَا شُوِيَ أَخُوكَ.
قَالَ «فَلَمْ تَأْكُلْ عَائِشَةُ شِوَاءً حَتَّى لَحِقَتْ بِاللَّهِ»
حَدَّثَنِي مُوسَى بْن حَسَنِ بْنِ مُوسَى، قَالَ: حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي نَصْرُ بْنُ مُزَاحِمٍ، عَنْ أَبِي مِخْنَف، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْد الْمَلِكِ بْنُ نَوْفَلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «مَا أَكَلَتْ عَائِشَةُ شِوَاءً بَعْدَ مُحَمَّدٍ حَتَّى لَحِقَتْ بِاللَّهِ»
حَدَّثَنِي مُوسَى بْن حسن، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلة بْن يحيى، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ رِشدين، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيد بْن يزيد القِتْبانيّ، عَن الحارث بْن يزيد الحضرَميّ، قَالَ: حدَّثتني أُمّي هِند بِنْت شمس الحضرميَّة: «أَنها رأَت نائلة امرأةَ عثمان تقبّل رِجل مُعاوية بْن حُدَيج، وتقول» بك أدركتُ ثأري من ابن الخثعَميَّة ".
تعني: محمد بْن أَبِي بَكْر
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا هُشيم، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَحْيَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، «أَنَّ أَسْمَاءَ ابْنَةَ عُمَيْسٍ لمَّا جَاءَهَا خَبَرُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهُ قُتِلَ وَأُحْرِقَ بِالنَّارِ فِي جَيْفَةِ حِمَارٍ، قَامَتْ إِلَى مَسْجِدِهَا فَجَلَسَتْ فِيهِ وَكَظَمَتِ الْغَيْظَ حَتَّى نَشَحَتْ ثَدْيَهَا دَمًا».
وَكَانَتْ وَقْعَةُ الْمُسَنَّاةِ فِي صَفَرٍ سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَلاثِينَ، فَكَانَتْ وِلايَةُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَلَيْهَا خَمْسَةَ أَشْهُرٍ، وَكَانَ مَقْتَلُهُ بِهَا لأَرْبَعَ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ صَفَرٍ سَنَةَ ثَمَانٍ وَثَلاثِينَ
ولاية عمرو بْن العاصِ الثانية
ثمَّ ولِيَها عمرو بْن العاص ولايته الثانيةعليها من قِبَل مُعاوية استقبل بِولايته شهر ربيع الأوَّل سنة ثمان وثلاثين، وجعل إِلَيْهِ الصلاة والخراج جميعًا، وكانت مِصر جُعلَت لَهُ طُعمةً بعد عطاء جندها النَّفَقة عَلَى مصلحتها، فجعل عمرو عَلَى شُرطته خارجة بْن حُذافة بْن غانم العَدَويّ، ثمَّ خرج عمرو للحكومة واستخلف عَلَى مِصر ابنه عبد الله بْن
আবু সালামাহ উসামাহ আত-তুজীবি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যায়িদ ইবনে আবি যায়িদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াযীর থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আল-ফুরাত থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবি হাবীব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ তাঁর মুক্তদাস সুলাইমকে মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকরের হত্যার সুসংবাদ দিয়ে মদিনায় পাঠান এবং তাঁর সাথে ইবনে আবি বকরের জামাটি ছিল। সে সেটি নিয়ে উসমানের ঘরে প্রবেশ করল। উসমানের পরিবারের পুরুষ ও মহিলারা সেখানে সমবেত হলেন এবং তাঁর মৃত্যুতে আনন্দ প্রকাশ করলেন। আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবীবা একটি ভেড়া জবাই করার নির্দেশ দিলেন, সেটি ভাজা করা হলো এবং তিনি তা আয়েশার কাছে পাঠিয়ে বললেন: 'এভাবেই তোমার ভাইকে ভাজা হয়েছে'।"
তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, "অতঃপর আয়েশা আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়া পর্যন্ত আর কখনও ভাজা মাংস ভক্ষণ করেননি।"
মুসা ইবনে হাসান ইবনে মুসা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারুন ইবনে আবি বুরদাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাসর ইবনে মুযাহিম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মিখনাফ থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে নাওফাল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মুহাম্মাদের (ইবনে আবি বকর) পর আয়েশা আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়া পর্যন্ত আর কখনও ভাজা মাংস খাননি।"
মুসা ইবনে হাসান আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন রুশদিন থেকে, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে ইয়াযীদ আল-কিতবানি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হারিস ইবনে ইয়াযীদ আল-হাদরামি থেকে, তিনি বলেন: আমার মা হিন্দ বিনতে শামস আল-হাদরামিয়্যাহ আমাকে বর্ণনা করেছেন: "তিনি উসমানের স্ত্রী নায়িলাকে মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজের পা চুম্বন করতে দেখেছিলেন এবং তিনি (নায়িলা) বলছিলেন: 'তোমার মাধ্যমেই আমি খাসআমিয়্যাহ মহিলার পুত্রের থেকে আমার প্রতিশোধ গ্রহণ করেছি'।"
অর্থাৎ: মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর
আলী ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাউয়ি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন যে, "যখন আসমা বিনতে উমাইসের কাছে মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকরের সংবাদ এল যে, তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং গাধার মৃতদেহের ভেতরে রেখে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তিনি তাঁর নামাজের স্থানে গিয়ে বসলেন এবং নিজের ক্ষোভ ও শোককে এমনভাবে সংবরণ করলেন যে তাঁর স্তন থেকে রক্ত নির্গত হতে লাগল।"
আল-মুসান্নাহর যুদ্ধ আটত্রিশ হিজরির সফর মাসে সংঘটিত হয়েছিল। মিশরে মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকরের শাসনকাল ছিল পাঁচ মাস। আর তিনি আটত্রিশ হিজরির চৌদ্দই সফর সেখানে নিহত হন।
আমর ইবনে আল-আসের দ্বিতীয় শাসনকাল
অতঃপর আমর ইবনে আল-আস তাঁর দ্বিতীয় শাসনভার গ্রহণ করেনমুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে তিনি আটত্রিশ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে তাঁর শাসনভার শুরু করেন। তিনি নামাজ এবং রাজস্ব উভয় বিষয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। সেনাবাহিনীর ভাতা ও জনকল্যাণমূলক কাজের ব্যয়নির্বাহের পর মিশরকে তাঁর জন্য বিশেষ পারিতোষিক হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। আমর তাঁর পুলিশ প্রধান হিসেবে খারিজাহ ইবনে হুযাফাহ ইবনে গানিম আল-আদাবিকে নিযুক্ত করেন। অতঃপর আমর সালিশির উদ্দেশ্যে বের হন এবং মিশরে তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনে...-কে স্থলাভিষিক্ত করেন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
عمرو، ويقال: استخلف خارجة بن حُذَافة، ورجع عمرو إلى مِصر فأقام بها وتعاقد بنو مُلْجَم عبد الرحمن، وقيس ويزيد عَلَى قتل علي، ومُعاوية، وعمرو، وتواعدوا لليلة من شهر رمضان سنة أربعين، فمضى كلّ واحد منهم إلى صاحبه، وكان يزيد هُوَ صاحب عمرو وعرضت لعمرو تِلْكَ الليلة عِلَّة منعته من حضور المسجد فصلَّى خارجة بالناس، فشدّ عَلَيْهِ يزيد فضربه حتى قتله، فدُخِل بِهِ عَلَى عمرو، فقال لَهُ: أَنا والله ما أردتُّ غيرك يا عمرو.
قَالَ عمرو: ولكن اللَّه أراد خارجة.
فجعل عمرو عَلَى شُرطته بعد مقتل خارجة زكريَّا بْن جَهم بْن قيس العَبْدَريّ، وعقد عمرو بْن العاصِ لشَرِيك بْن سُمَيّ الغُطَيفيّ عَلَى غزو لَواتة من البَرْبَر، فغزاهم شَريك فِي سنة أربعين، فصالحهم ثمَّ انتقضوا بعد ذَلكَ عَلَى عمرو بْن العاصِ، فبعث إليهم عُقْبة بْن نافع بْن عَبْد القيس الفِهريّ فِي سنة إحدى وأربعين، فغزاهم.
فحَدَّثَنِي عليّ بْن قُدَيد، عَنْ عُبَيْد اللَّه بْن سَعِيد بْن عُفَير، عَنْ أبيه، عَن ابن لَهِيعة، عَنْ هُبيرة، قَالَ: " كانت لَواتة قد صولحوا، فكانوا عَلَى صُولحوا حتى نقضوا زمَن مُعاوية، فغزاهم عُقبة بْن نافع، فتنحّوا ناحية أَطْرابُلُس، فقاتلهم عُقْبة حتى هزمهم، فسألوه أن يصالحهم ويعاهدهم، فأَبى عليهم، وقال: " إنه لَيْسَ لمشركٍ عهد عندنا، إنَّ اللَّه عز وجل يقول فِي كتابه: {كَيْفَ يَكُونُ لِلْمُشْرِكِينَ عَهْدٌ} [التوبة: 7]، ولكن أُبايعكم عَلَى أنكَّم توفوني وذابتي إن شئنا أقررنا وإن شئنا بعناكم «.
وعقد عمرو لعُقْبة بْن نافع عَلَى غزو هَوّارة، ولشَريك بْن سُمَي عَلَى غزو لِبْدة، فغَزَواهما فِي سنة ثلاث وأربعين، فقفلا، وعمرو شديد الدَّنَف فِي مرَض موته»
حَدَّثَنَا حَسَنٌ الْمَدِينِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَكِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ شَمَاسَةَ حَدَّثَهُ: أَنَّهُ لَمَّا حَضَرَتْ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ
আমর; এবং বলা হয় যে, তিনি খারিজাহ ইবনে হুজাফাকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন এবং আমর মিশরে ফিরে গিয়ে সেখানে অবস্থান করেন। ইবনে মুলজিম (আবদুর রহমান), কায়স এবং ইয়াজিদ—আলী, মুয়াবিয়া এবং আমরকে হত্যার ব্যাপারে পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হন। তারা চল্লিশ হিজরি সনের রমজান মাসের একটি রাতের সময় নির্ধারণ করেন। এরপর তাদের প্রত্যেকেই তার নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে যাত্রা করেন। ইয়াজিদ ছিলেন আমরের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তি। কিন্তু সেই রাতে আমরের এমন এক শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় যা তাকে মসজিদে উপস্থিত হতে বাধা প্রদান করে। ফলে খারিজাহ লোকজনকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তখন ইয়াজিদ তাঁর ওপর আক্রমণ করে আঘাতের মাধ্যমে তাঁকে হত্যা করেন। এরপর তাঁকে আমরের নিকট নিয়ে আসা হলে তিনি আমরের উদ্দেশ্যে বললেন: "আল্লাহর কসম, হে আমর! আমি আপনি ছাড়া অন্য কাউকে হত্যা করতে চাইনি।"
আমর বললেন: "কিন্তু আল্লাহ চেয়েছিলেন খারিজাহকে।"
খারিজার হত্যাকাণ্ডের পর আমর তাঁর পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে জাকারিয়া ইবনে জাহম ইবনে কায়স আল-আবদারিকে নিযুক্ত করেন। আমর ইবনুল আস বার্বারদের লাওয়াতাহ গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে শারিক ইবনে সুমাই আল-গুতাফিকে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। শারিক চল্লিশ হিজরিতে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তাদের সাথে সন্ধি করেন। পরবর্তীতে তারা আমর ইবনুল আসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলে তিনি একচল্লিশ হিজরিতে ওকবা ইবনে নাফে ইবনে আবদিল কায়স আল-ফিহরিকে তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন এবং তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।
আলী ইবনে কুদাইদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে উফাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবনে লাহিয়াহ থেকে, তিনি হুবাইরাহ থেকে। তিনি বলেন: "লাওয়াতাহ গোত্রের সাথে সন্ধি করা হয়েছিল এবং মুয়াবিয়ার শাসনামলে চুক্তি ভঙ্গ করার পূর্ব পর্যন্ত তারা সন্ধির ওপর অটল ছিল। ওকবা ইবনে নাফে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলে তারা ত্রিপোলির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সরে যায়। ওকবা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তাদের পরাজিত করেন। তারা তাঁর নিকট সন্ধি ও চুক্তির আবেদন জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন: 'আমাদের নিকট মুশরিকদের জন্য কোনো চুক্তি নেই। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন: {মুশরিকদের জন্য চুক্তি কীভাবে বলবৎ থাকতে পারে?} [আত-তাওবা: ৭]। তবে আমি তোমাদের সাথে এই শর্তে আনুগত্যের অঙ্গীকার নিচ্ছি যে, তোমরা আমাকে এবং আমার পশুপালকে পূর্ণতা দেবে; আমরা চাইলে তোমাদের বহাল রাখব অথবা চাইলে তোমাদের বিক্রয় করে দেব'।"
আমর ইবনুল আস হাওয়ারাহ অভিযানের জন্য ওকবা ইবনে নাফেকে এবং লিবদাহ অভিযানের জন্য শারিক ইবনে সুমাইকে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। তাঁরা তেতাল্লিশ হিজরিতে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং বিজয় শেষে ফিরে আসেন। সে সময় আমর তাঁর মৃত্যুশয্যায় কঠিন যন্ত্রণায় ভুগছিলেন।
হাসান আল-মাদিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুকাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়াহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে শামাসাহ থেকে; তিনি বর্ণনা করেন যে, যখন আমর ইবনুল আসের অন্তিম সময় উপস্থিত হলো...
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
الْوُفَاةُ بَكَى، فَقَالَ لَهُ ابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو: " لِمَ تَبْكِي، أَجَزَعًا مِنَ الْمَوْتِ؟ فَقَالَ: لا وَاللَّهِ، وَلَكِنْ مِمَّا بَعْدَهُ.
فَقَالَ لَهُ: قَدْ كُنْتَ عَلَى خَيْرٍ.
فَجَعَلَ يُذَكِّرُهُ صُحْبَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفُتُوحَهُ الشَّامَ، فَقَالَ عَمْرٌو: تَرَكْتَ أَفْضَلَ مِنْ ذَلِكَ كُلِّهِ شَهَادَةَ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهَ "
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ قُدَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَكَمِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبو زُرْعَةَ وَهْبُ اللَّهِ بْنُ رَاشِدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُس، عَن ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، أَنَّ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ قَالَ حِينَ حَضَرَتْهُ الْوَفَاةُ: " أَي بُنَيَّ، إِذَا مُتُّ فَكَفِّنِّي فِي ثَلاثَةِ أَثْوَابٍ أَزِّرْنِي فِي أَحَدِهِمْ، ثُمَّ شُقُّوا لِي الأَرْضَ شَقًّا، وَسُنُّوا عَلَيَّ التُّرَابَ سَنًّا، فَإِنّي مُخَاصَم، قَالَ: اللَّهُمَّ إِنَّكَ أَمَرْتَ بِأُمُورٍ وَنَهَيْتَ عَنْ أُمُورٍ، فَتَرَكْنَا كَثِيرًا مِمَّا أَمَرْتَ بِهِ، وَوَقَعْنَا فِي كَثِيرٍ مِمَّا نَهَيْتَ عَنْهُ، اللَّهُمَّ لا إِلَهَ إلَّا أَنْتَ ".
فَلَمْ يَزَلْ يُرَدِّدُهَا حَتَّى قُضِيَ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي قَعْنَب بْن الْمُحَرزِ، قَالَ: حَدَّثَنَا وَهب بْن جَرير، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ، عَنْ أَبِي نَوفَل، عَنْ أَبِي عَقرب، قَالَ: لمَّا جُدَّ بِعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَضَعَ يَدَهُ مَوْضِعَ الأَغْلالِ مِنْ رَقَبَتِهِ، وَقَالَ: «اللَّهُمَّ أَمَرْتَنَا فَتَرَكْنَا، وَنَهَيْتَنَا فَرَكِبْنَا، وَلا يَسَعُنَا إِلَّا مَغْفِرَتُكَ».
فَكَانَتْ تِلْكَ هِجِّيرَاهُ حَتَّى مَاتَ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ مِسْكِينٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ سَعِيدٍ الْهَمَذَانِيّ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي حَرْمَلةُ بْنُ عِمْرَانَ، أَنَّ أَبَا فِرَاسٍ حَدَّثَهُ: «أَنَّ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِِ تُوُفِّيَ لَيْلَةَ الفِطْرِ، فَغَسَّلَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، ثمَّ أَخْرَجَهُ حِينَ صَلَّى الصُّبْحَ فَوَضَعَهُ بِالْمُصَلَّى ثُمَّ جَلَسَ حَتَّى إِذَا رَأَى النَّاسَ قَدِ انْقَطَعُوا مِنَ الطُّرُقِ الرِّجَالَ وَالنِّسَاءَ قَامَ فَصَلَّى عَلَيْهِ، وَلَمْ يَبْقَ أَحَدٌ شَهِدَ الْعِيدَ إِلَّا صلَّى عَلَيْهِ، ثُمَّ صلَّى الْعِيدَ بِالنَّاسِ، وَكَانَ أَبُوهُ اسْتَخْلَفَهُ»
حَدَّثَنَا ابن قُدَيد، قَالَ: حَدَّثَنَا يحيى بْن عثمان بْن صالح، قَالَ: حَدَّثَنِي نُعَيم بن حَمَّاد، عَن ابن المبارَك، عَنْ حَرمَلة بْن عِمران، عَنْ أَبِي فِراس، قَالَ: «مات عمرو بْن العاص، ولم يترك إلَّا سبعة دنانير، وكانت وفاة عمرو ليلة الفِطر سنة ثلاث وأربعين واستخلف ابنه عبد الله عَلَى صلاتها وخراجها»
মৃত্যুর সময় তিনি (আমর ইবনুল আস) কাঁদলেন। তখন তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে আমর তাঁকে বললেন: "আপনি কেন কাঁদছেন? মৃত্যুর ভয়ে কি আতঙ্কিত?" তিনি বললেন: "না, আল্লাহর কসম; বরং মৃত্যুর পরবর্তী বিষয়সমূহের ভয়ে।"
তখন তিনি (আবদুল্লাহ) তাঁকে বললেন: "আপনি তো কল্যাণের ওপর ছিলেন।"
এরপর তিনি তাঁকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য এবং তাঁর শাম বিজয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে লাগলেন। তখন আমর বললেন: "তুমি এর সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ বিষয়টি অর্থাৎ 'আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই'—এই সাক্ষ্য দেওয়ার কথা বাদ দিয়েছ।"
আলী ইবনে কুদাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু যুরআ ওয়াহবুল্লাহ ইবনে রাশিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইউনুস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আমর ইবনুল আস তাঁর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে বললেন: "হে বৎস! আমি যখন মারা যাব, তখন আমাকে তিনটি কাপড়ে কাফন দিয়ো এবং তার একটি দিয়ে আমাকে তহবন্দ পরিয়ে দিয়ো। অতঃপর আমার জন্য যমীনে গভীর গর্ত খনন করো এবং আমার ওপর ধীরে ধীরে মাটি বিছিয়ে দিয়ো। কেননা আমার সাথে বিতর্ক করা হবে।" তিনি আরও বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমাদের অনেক বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন এবং অনেক বিষয়ে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আপনি যা আদেশ করেছেন তার অনেক কিছু আমরা ছেড়ে দিয়েছি এবং যা নিষেধ করেছেন তার অনেক কিছুর মধ্যে আমরা লিপ্ত হয়েছি। হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।"
মৃত্যু পর্যন্ত তিনি অবিরাম এটিই পাঠ করতে থাকলেন।
আলী ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কা'নব ইবনুল মুহরিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়াহব ইবনে জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসওয়াদ ইবনে শাইবান আমাদের নিকট আবু নাওফাল থেকে এবং তিনি আবু আকরাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আমর ইবনুল আসের অন্তিম সময় ঘনিয়ে এল, তখন তিনি তাঁর হাতটি তাঁর ঘাড়ের সেই স্থানে রাখলেন যেখানে বেড়ি পরানো হয় এবং বললেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমাদের আদেশ দিয়েছেন কিন্তু আমরা তা বর্জন করেছি, আপনি আমাদের নিষেধ করেছেন কিন্তু আমরা তাতে লিপ্ত হয়েছি। আপনার ক্ষমা ছাড়া আমাদের আর কোনো আশ্রয় নেই।"
মৃত্যু পর্যন্ত এটিই ছিল তাঁর নিরন্তর যিকির।
আহমাদ ইবনুল হারিস ইবনে মিসকীন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে সাঈদ আল-হামাদানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হারমালা ইবনে ইমরান আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু ফিরাস তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন: "আমর ইবনুল আস ঈদুল ফিতরের রাতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে আমর তাঁকে গোসল করান। অতঃপর ফজরের নামায আদায় করার পর তাঁকে জানাযার স্থানে নিয়ে এসে রাখেন। এরপর তিনি বসে রইলেন। যখন তিনি দেখলেন যে রাস্তাঘাট থেকে নারী-পুরুষের আসা বন্ধ হয়েছে, তখন তিনি দাঁড়িয়ে জানাযার নামায পড়ালেন। যারা ঈদের নামাযে উপস্থিত হয়েছিলেন তাদের সকলেই তাঁর জানাযার নামাযে শরিক হলেন। অতঃপর তিনি লোকদের নিয়ে ঈদের নামায পড়ালেন। মূলত তাঁর পিতাই তাঁকে স্থলাভিষিক্ত করে গিয়েছিলেন।"
ইবনে কুদাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে উসমান ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নুআইম ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট ইবনুল মুবারাক থেকে, তিনি হারমালা ইবনে ইমরান থেকে এবং তিনি আবু ফিরাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমর ইবনুল আস যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি মাত্র সাতটি দিনার রেখে গিয়েছিলেন। আমরের মৃত্যু হয়েছিল তেতাল্লিশ হিজরি সালের ঈদুল ফিতরের রাতে এবং তিনি তাঁর পুত্র আবদুল্লাহকে নামাযের ইমামতি ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বে স্থলাভিষিক্ত করে গিয়েছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
عُتْبَة بْن أَبِي سُفيان بْن حَرْب بْن أُمَيَّة بْن عَبْد شمس بْن عَبْد مَناف بْن قُصَيّ بْن كِلاب بْن مُرَّة بْن كَعب بن لُؤَيّ بْن غالبثمَّ ولِيَها عُتبة بْن أَبي سُفيان من قِبَل أخيه مُعاوية عَلَى صلاتها، فقدِمها فِي ذي القعدة سنة ثلاث وأربعين وجعل عَلَى شُرطَته زكريَّا بْن جهم وأقام بها أَشهُرًا، ثمَّ وفد عَلَى أخيه بوفد من أشراف أَهل مِصر، واستخلف عَلَى مِصر عبد الله بْن قيس بْن الحارث بْن عَيَّاش بْن ضُبيع التُّجِيبيّ أحد بني زُمَيلة، وكانت أُمُّه أخت أَبي الأَعور السُّلَميّ، وكانت فِيهِ شِدَّة عَلَى بعض أهل مِصر، فكرِهوا وِلايته عليهم وامتنعوا منها، فبلغ ذَلكَ عُتبة، فرجع إلى مِصر، فحدثنا بموت بْن المزرع.
قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ سَهْلُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْعُتْبِيّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: اسْتَخْلَفَ عُتْبَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ ابْنَ أُخْتٍ لأَبِي الأَعْوَرِ السُّلَمِيَّ عَلَى أَهْلِ مِصْرَ، وَكَانَتْ لَهُ شِدَّةٌ عَلَى بَعْضِ أَهْلِ مِصْرَ، فَامْتَنَعُوا عَلَيْهِ، فَكَتَبَ إِلَى عُتْبَةَ فَقَدِمَهَا، فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ وَرَقِيَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَقَالَ: يَا أَهْلَ مِصْرَ، قَدْ كُنْتُم تَعْذِرُونَ بِبَعْضِ الْمَنْعِ مِنْكُمْ لِبَعْضِ الْجَوْرِ عَلَيْكُمْ، وَقَدْ وَلِيَكُمْ مَنْ إِنْ قَالَ فَعَلْ، فَإِنْ أَبَيْتُمْ دَرَأَكُمْ بِيَدِهِ، فَإِنْ أَبْيَتْمُ دَرَأَكُمْ بِسَيْفِهِ، ثُمَّ جَاءَ فِي الآخِرِ مَا أُدْرِكَ فِي الأَوَّلِ: إِنَّ الْبَيْعَةَ شَائِعَةٌ لَنَا، عَلَيْكُمُ السَّمْعُ وَلَكُمْ عَلَيْنَا الْعَدْلُ، وَأَيُّنَا غَدَرَ فَلا ذِمَّةَ لَهُ عِنْدَ صَاحِبِهِ، فَنَادَاهُ الْمِصْرِيُّونَ مِنْ جَنَبَاتِ الْمَسْجِدِ: سَمْعًا سَمْعًا.
فَنَادَاهُمْ: عَدْلًا عَدْلًا.
ثُمَّ نَزَلَ "
حَدَّثَنِي عَمِّي الْحُسَيْنُ بْنُ يَعْقُوبَ التُّجِيبيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ وَزِيرٍ، قَالَ:
উতবাহ বিন আবি সুফিয়ান বিন হারব বিন উমাইয়া বিন আবদ শামস বিন আবদ মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিবঅতঃপর তাঁর ভাই মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে উতবাহ বিন আবি সুফিয়ান মিসরের সালাত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব লাভ করেন। তিনি তেতাল্লিশ হিজরি সনের জিলকদ মাসে সেখানে আগমন করেন এবং জাকারিয়া বিন জাহম-কে তাঁর পুলিশ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেন। তিনি সেখানে কয়েক মাস অবস্থান করেন, অতঃপর মিসরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে তাঁর ভাইয়ের নিকট যান। তিনি মিসরের দায়িত্ব দিয়ে যান বনু জুমাইলা গোত্রের আব্দুল্লাহ বিন কাইস বিন আল-হারিস বিন আইয়াশ বিন দুবাই আল-তুজিবি-কে। তার মা ছিলেন আবু আল-আওয়ার আস-সুলামির বোন। মিসরের কিছু লোকের প্রতি তার কঠোরতা ছিল, ফলে তারা তার শাসন অপছন্দ করে এবং তা থেকে বিরত থাকে। এই সংবাদ উতবাহর কাছে পৌঁছালে তিনি মিসরে ফিরে আসেন। বাউত বিন আল-মাযরা আমাদের নিকট এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন: আবু হাতিম সাহল বিন মুহাম্মদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-উতবি তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের জানিয়েছেন যে, তিনি বলেন: উতবাহ বিন আবি সুফিয়ান আবু আল-আওয়ার আস-সুলামির এক ভাগ্নেকে মিসরের জনগণের ওপর স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। মিসরের কিছু লোকের ওপর তার কঠোরতা ছিল, তাই তারা তার অবাধ্য হলো। সে উতবাহর কাছে চিঠি লিখলে তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি মসজিদে প্রবেশ করে মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: "হে মিসরবাসী! তোমাদের প্রতি কিছু অন্যায়ের কারণে তোমাদের পক্ষ থেকে কিছু অবাধ্যতাকে ওজর হিসেবে গ্রহণ করা যেত। কিন্তু এখন তোমাদের ওপর এমন ব্যক্তি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছে যে যা বলে তা করে। তোমরা যদি অস্বীকার করো তবে সে তার হাত দিয়ে তোমাদের প্রতিরোধ করবে, আর যদি তোমরা অবাধ্যতা করো তবে সে তার তলোয়ার দিয়ে তোমাদের দমন করবে। অতঃপর শেষে যা এসেছে তা শুরুতেও ছিল: আমাদের প্রতি আনুগত্য বা বায়আত সবার জন্য প্রযোজ্য; তোমাদের দায়িত্ব হলো শোনা ও আনুগত্য করা এবং আমাদের দায়িত্ব হলো তোমাদের প্রতি ন্যায়বিচার করা। আমাদের মধ্যে যে কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করবে, তার জন্য অপরের কাছে কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।" তখন মিসরীয়রা মসজিদের চারপাশ থেকে তাকে ডেকে বলল: "শুনলাম এবং মেনে নিলাম।"
তিনি তাদের ডেকে বললেন: "ন্যায়বিচার হবে, ন্যায়বিচার হবে।"
অতঃপর তিনি নেমে এলেন।
আমার চাচা আল-হুসাইন বিন ইয়াকুব আল-তুজিবি আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন উযাইর আমাকে বলেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
حَدَّثَنِي عَبْد الْعَزِيزِ بْنُ أَبي مَيْسَرَةَ الْحَضْرَمِيُّ، عَنْ أَبيه، قَالَ: " لمَّا وَفَدَ عُتْبَةُ عَلَى مُعَاوِيَةَ فِي وُجُوهِ الْجُنْدِ، اسْتَخْلَفَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ التُّجِيبِيَّ مِنْ بَنِي زُمَيْلَةَ عَلَى الْجُنْدِ، وَقَدِمَ عُتْبَةُ عَلَى مُعَاوِيَةَ فَسَأَلَ عَنْهُ الْوَفْدَ، فَقَالَ: مَا تَقُولُونَ فِي أَمِيرِكُمْ؟ فَقَالَ أَبُو عُبَادَةَ صل بْن عَوفٍ المَعَافِرِيّ أَحَد بَنِي خُلَيْفٍ: «يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، حُوتُ بَحْرٍ وَوغْلُ بَرٍّ وَلَّيْتَنِي الصَّلاةَ وَزَوَيْتَ عَنِّي الْخَرَاجَ، فَأَكْرَهُ أَنْ أَظْهَرَ لَهُمْ فَيَسْأَلُونِي عَلَيْهَا» وَعَقَدَ عُتْبَةُ لِعَلْقَمَةَ بْنِ يَزِيدَ الْغُطَيْفِيّ عَلَى الإِسْكَنْدَرِيَّةِ فِي اثَنْيِ عَشَرَ أَلْفًا مِنْ أَهْلِ الدِّيوَانِ يَكُونُونَ بِهَا رَابِطَةً، فَكَتَبَ عَلْقَمَةُ يَشْكِي قِلَّةَ مَنْ مَعَهُ مِنَ الْجُنْدِ، وَأَنَّهُ يَتَخَوَّفُ عَلَى نَفْسِهِ وَعَلَيْهِمْ، فَخَرَجَ عُتْبَةُ إِلَى الإِسْكَنْدَرِيَّةِ مُرَابِطًا فِي ذِي الْحِجَّة سَنَةَ أَرْبَعٍ وَأَرْبَعِينَ، فَابْتَنَى دَارَ الإِمَارَةِ الَّتِي فِي الْحِصْنِ الْقَدِيمِ، وَتُوُفِّيَ بِهَا، وَدُفِنَ بِمنيَة الزُّجَاجِ، وَاسْتَخْلَفَ عَلَى مِصْرَ عُقْبةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيّ، فَكَانَتْ وِلايَتُهُ عَلَيْهَا سَنَةً وَشَهْرًا "
عُقْبة بْن عامر بْن عَبس بْن غنم بْن عديّ بْن عمرو بْن رَفاعة بْن مودوعة بْن عديّ بْن غَنْم بْن الربعة بْن رَشْدان بْن قيس بْن جُهينة، يُكنَى: أَبا عَبس، وأَبا خفافثمَّ وليها عُقبة بْن عامر من قِبَل مُعاوية وجمع لَهُ صلاتها وخراجها، فجعل عَلَى
আব্দুল আজিজ বিন আবি মায়সারা আল-হাদরামি তাঁর পিতার সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন উতবা সেনাবাহিনীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে মুয়াবিয়ার কাছে প্রতিনিধি হিসেবে গেলেন, তখন তিনি বনু জুমাইলা গোত্রের আব্দুল্লাহ বিন কাইস আত-তুজিবিকে সেনাবাহিনীর ওপর স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করলেন। উতবা মুয়াবিয়ার কাছে পৌঁছালে তিনি প্রতিনিধি দলের কাছে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: তোমাদের আমীর সম্পর্কে তোমাদের মতামত কী? তখন বনু খুলাইফ গোত্রের আবু উবাদা সিল বিন আউফ আল-মাআফিরি বললেন: 'হে আমিরুল মুমিনিন, তিনি সমুদ্রের মৎস্য ও স্থলের নিপুণ প্রাণীর মতো। আপনি আমাকে সালাতের দায়িত্ব দিয়েছেন কিন্তু খেরাজ (রাজস্ব আদায়) থেকে আমাকে দূরে রেখেছেন, তাই আমি তাদের সামনে উপস্থিত হতে অপছন্দ করি পাছে তারা আমাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করে।' আর উতবা আলকামা বিন ইয়াজিদ আল-গুতোয়াইফিকে বারো হাজার তালিকাভুক্ত সৈন্যসহ আলেকজান্দ্রিয়ার দায়িত্বে নিযুক্ত করেন যাতে তারা সেখানে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকে। এরপর আলকামা তাঁর সাথে থাকা সৈন্যের স্বল্পতার অভিযোগ করে চিঠি লিখলেন এবং জানালেন যে তিনি নিজের ও তাদের ব্যাপারে শঙ্কা বোধ করছেন। ফলে উতবা চুয়াল্লিশ হিজরি সালের জিলহজ মাসে সীমান্তরক্ষী হিসেবে আলেকজান্দ্রিয়ায় গমন করেন। তিনি সেখানে পুরাতন দুর্গের ভেতরে দারুল ইমারা (প্রশাসনিক ভবন) নির্মাণ করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে মুনিয়াতুজ জাজাজে দাফন করা হয়। তিনি মিশরের জন্য উকবা বিন আমির আল-জুহানিকে স্থলাভিষিক্ত করে যান। তাঁর শাসনের স্থায়িত্ব ছিল এক বছর এক মাস।"
উকবা বিন আমির বিন আবস বিন গানাম বিন আদি বিন আমর বিন রিফাআ বিন মাওদুআ বিন আদি বিন গানাম বিন আর-রাবা বিন রাশদান বিন কাইস বিন জুহাইনা। তাঁর উপনাম: আবু আবস এবং আবু খাফাফ।এরপর মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে উকবা বিন আমির এর শাসনভার গ্রহণ করেন এবং তাঁর অধীনে সালাত ও খেরাজ উভয় দায়িত্ব একত্রিত করা হয়। এরপর তিনি...
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
شُرطته، وكان عُقبة قارئًا فقيهًا مُفرِضًا شاعرًا لَهُ الهِجرة والصُّحبة والسابقة.
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ هَاشِمِ بْنِ مُرْثَدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا دُحَيْمٌ، قَالَ: أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ الْغَازِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَكَانَ صَاحِبَ بَغْلَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الشَّهْبَاءِ الَّتِي يَقُودُهَا فِي الأَسْفَارِ، وَقَالَ: قُدْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَلَى رَاحِلَتِهِ رَتْوَةً مِنَ اللَّيْلِ، وَأَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: أَنِخْ.
فَأَنَخْتُ فَنَزَلَ عَنْ رَاحِلَتِهِ، ثُمَّ قَالَ: ارْكَبْ يَا عُقْبَةُ.
فَقُلْتُ: سُبْحَانَ اللَّهِ، أَعَلَى مَرْكَبِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَعَلَى رَاحِلَتِكَ فَأَمَرَنِي، فَقَالَ: ارْكَبْ.
فَقُلْتُ أَيْضًا مِثْلَ ذَلِكَ، وَرَدَدْتُ ذَلِكَ مِرَارًا حَتَّى خِفْتُ أَنْ أَعْصِيَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَرَكِبْتُ رَاحِلَتَهُ وَرَحْلَهُ، ثُمَّ زَجَرَ النَّاقَةَ فَقَامَتْ، ثُمَّ قَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ وَفَدَ مَسْلَمَةَ بْنَ مُخَلَّدٍ الأَنْصَارِيَّ عَلَى مُعَاوِيَةَ، فَوَلَّاهُ مِصْرَ وَأَمَرُه أَنْ يَكْتُمَ ذَلِكَ عَلَى عُقْبَةَ "
فحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ قُدَيْدٍ، عَنْ عُبَيْد اللَّه بْن سَعِيد، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي رِشدِين، عَن الحجَّاج بْن شدَّاد، عَنْ أَبي صَالِحٍ الْغِفَارِيِّ: " أَنَّ مُعِاوَيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ أَمَّرَ مَسْلَمَةَ بْنِ مُخَلَّدٍ عَلَى مِصْرَ وَنَزَعَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، وَقَالَ لَمَسْلَمَةَ: لا تُعْلِمْ بِهَذَا أَحَدًا.
وَأَرْسَلَ إِلَى عُقْبَةَ فَجَعَلَهُ عَلَى الْبَحْرِ، أَمَرَهُ أَنْ يَسِيرَ إِلَى رُودِسَ، فَقَدِمَ مَسْلَمَةُ وَلَمْ يُعْلِمْ بِإِمْرَتِهِ وَخَرَجَ مَعَهُ إِلَى إِسْكَنْدَرِيَّةَ، فَلَمَّا تَوَجَّهَ سَائِرًا اسْتَوَى مَسْلَمَةُ عَلَى سَرِيرِ إِمْرَتِهِ، فَبَلَغَ ذَلكَ عُقْبَةَ، فَقَالَ: أَخُلْعَانًا وَغُرْبَةً، وَكَانَ صَرَفَ عُقْبَة عَنْهَا لِعَشْرٍ بَقَيْنَ مِنْ شَهْرِ رَبِيعٍ الأَوَّلِ سَنَةَ سَبْعٍ وَأَرْبَعِينَ، فَكَانَتْ وِلايَتُهُ عَلَيْهَا سَنَتَيْنِ وَثَلاثَةَ أَشْهُرٍ "
তাঁর পুলিশ বাহিনী; আর উকবাহ ছিলেন একজন ক্বারী, ফকীহ, ফারায়েজ শাস্ত্রবিদ এবং কবি। তাঁর হিজরত, সাহচর্য এবং ইসলামে অগ্রবর্তিতার মর্যাদা ছিল।
সাঈদ বিন হাশিম বিন মুরসিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দুহাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওয়ালীদ বিন মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হিশাম বিন গাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ বিন ইয়াজিদ বিন জাবির থেকে, তিনি কাসিম বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি উকবাহ বিন আমের থেকে বর্ণনা করেন—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই ধূসর রঙের খচ্চরটির দেখাশোনাকারী ছিলেন যা তিনি সফরসমূহে পরিচালনা করতেন। তিনি বলেন: আমি রাতের এক প্রহরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সওয়ারীতে থাকা অবস্থায় পরিচালনা করছিলাম, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: পশুটি বসাও।
আমি তা বসালাম এবং তিনি তাঁর সওয়ারী থেকে নামলেন। এরপর তিনি বললেন: হে উকবাহ, আরোহণ করো।
আমি বললাম: সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহর রাসূল, আপনার সওয়ারীর উপরে এবং আপনার পশুর উপরে আমি আরোহণ করব? তখন তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়ে বললেন: আরোহণ করো।
আমি আবারও অনুরূপ কথা বললাম এবং কয়েকবার তা পুনরাবৃত্তি করলাম, এমনকি আমি এই আশঙ্কা করলাম যে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবাধ্য হয়ে যাব। তাই আমি তাঁর সওয়ারী ও পালের গদিতে আরোহণ করলাম। এরপর তিনি উটটিকে তাড়া দিলেন এবং সেটি দাঁড়িয়ে গেল। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে টেনে নিয়ে চললেন। পরবর্তীতে মাসলামাহ বিন মুখাল্লাদ আল-আনসারী মুয়াবিয়ার নিকট প্রতিনিধি হয়ে আসলেন, তখন তিনি তাঁকে মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করলেন এবং তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি বিষয়টি উকবাহর কাছে গোপন রাখেন।
আলী বিন কুদাইদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি বলেন: রুশদিন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ বিন শাদ্দাদ থেকে, তিনি আবু সালিহ আল-গিফারী থেকে: মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান মাসলামাহ বিন মুখাল্লাদকে মিশরের শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন এবং উকবাহ বিন আমেরকে অপসারণ করলেন। তিনি মাসলামাহকে বললেন: এই বিষয়ে কাউকে কিছু জানিও না।
তিনি উকবাহর নিকট বার্তা পাঠালেন এবং তাঁকে নৌবাহিনীর দায়িত্বে নিযুক্ত করলেন; তাঁকে নির্দেশ দিলেন রোদসের দিকে যাত্রা করতে। মাসলামাহ আসলেন কিন্তু তিনি নিজের শাসনভারের কথা কাউকে জানালেন না এবং তাঁর সাথে আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত বের হলেন। যখন উকবাহ যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন, মাসলামাহ তাঁর শাসনের আসনের ওপর উঠলেন। এই সংবাদ যখন উকবাহর কাছে পৌঁছাল, তিনি বললেন: একদিকে পদচ্যুতি আর অন্যদিকে নির্বাসন! সাতচল্লিশ হিজরী সালের রবিউল আউয়াল মাসের দশ দিন বাকি থাকতে উকবাহকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে তাঁর শাসনকাল ছিল দুই বছর তিন মাস।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
مَسْلَمة بْن مُخلَّد بْن صامت بْن نِيار بْن لَوذان بْن عَبْد وُدّ بْن زَبد بْن ثَعْلَبَة بْن الخَزْرَج بْن ساعدة بْن كعْب بْن الخْزرَج بْن حارثةثمَّ ولِيها مَسْلَمة بْن مُخلَّد الأَنصاريّ من قِبَل مُعاوية وجمع لَهُ الصلاة والخراج والمَغرِب، فجعل عَلَى شُرطته السائب بْن هِشام بْن كِنانة العامريّ إلى سنة تسع وأربعين، ثمَّ صرفه وجعل مكانه عابس بْن سَعِيد المُراديّ، ثمَّ الغُطَيفيّ، وانتصبت وَلاؤه وغزواته فِي البرّ والبحر، وفي إمرته نزلت الرُّوم البُرُّلس فِي سنة ثلاث وخمسين، واستُشهد يومئذٍ وَرْدان مولى عمرو بْن العاصِ، وعايذ بْن ثعلبة البَلَويّ، وأَبو رُقَّية عمرو بْن قيس اللَخْميّ فِي جمعٍ من الناس كثير.
وأَمر مَسْلَمة بالزيادة فِي المسجد الجامع، فهدم ما كَانَ عمرو بناد فِي سنة ثلاث وخمسين.
وفيها أَمر مَسلمة بابتناء منار المساجد كلّها ودفع ذَلكَ عَنْ خَولان، وتُجِيب، وأَمر المؤَذّنين أن يكون أَذانهم فِي الليل فِي وقت واحد، فكان مؤَذّنو المسجد الجامع يؤذنون للفجر، فإذا فرغوا من أَذانهم أَذَّن كل مؤَذّن فِي الفُسطاط فِي وقت واحد، الأَمر عَلَى ذَلكَ إلى دخول المُسوِّدة.
ثمَّ صرف مَسْلَمة عابسَ بْن سَعِيد عَن الشُّرَط وولَّاه البحر، فغزا أسطادنه وردّ السائب بْن هِشام عَلَى شُرَطه، فكان عَلَى الشُّرَط إلى سنة سبع وخمسين، فعزل السائب
মাসলামা ইবনে মুখাল্লাদ ইবনে সামিত ইবনে নিয়ার ইবনে লাওজান ইবনে আবদ উদ ইবনে জাবাদ ইবনে সালাবা ইবনে খাজরাজ ইবনে সাইদা ইবনে কা'ব ইবনে খাজরাজ ইবনে হারিসাঅতঃপর মুয়াবিয়ার পক্ষ থেকে মাসলামা ইবনে মুখাল্লাদ আল-আনসারী মিশরের শাসনভার গ্রহণ করেন এবং তার অধীনে সালাত, খরাজ ও মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) অঞ্চলের দায়িত্ব একত্রিত করা হয়। তিনি উনপঞ্চাশ হিজরি সাল পর্যন্ত আস-সাইব ইবনে হিশাম ইবনে কিনানা আল-আমিরীকে তাঁর পুলিশ বাহিনীর (শুরাতা) প্রধান নিযুক্ত করেন। এরপর তাঁকে অপসারণ করে তাঁর স্থলে আবিস ইবনে সাঈদ আল-মুরাদীকে এবং পরবর্তীতে আল-গুতাইফীকে নিযুক্ত করেন। স্থল ও সমুদ্রে তাঁর শাসন ও যুদ্ধাভিযানসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর শাসনামলে তেপ্পান্ন হিজরি সালে রোমানরা বুরুল্লাসে অবতরণ করে। সেই দিন আমর ইবনুল আসের মুক্তদাস ওয়ারদান, আইদ ইবনে সালাবা আল-বালাউয়ী এবং আবু রুকাইয়া আমর ইবনে কাইস আল-লাখমীসহ বিপুল সংখ্যক লোক শহীদ হন।
মাসলামা জামে মসজিদের আয়তন বৃদ্ধির নির্দেশ প্রদান করেন; ফলে তেপ্পান্ন হিজরি সালে আমর যা নির্মাণ করেছিলেন তা ভেঙে ফেলা হয়।
সেই বছরই মাসলামা সমস্ত মসজিদের মিনার নির্মাণের নির্দেশ দেন এবং খাওলান ও তুজিব গোত্রের ওপর এর দায়িত্ব অর্পণ করেন। তিনি মুয়াজ্জিনদের নির্দেশ দেন যেন রাতে তাঁদের আজান একই সময়ে হয়। ফলে জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনগণ ফজরের আজান দিতেন এবং তাঁরা আজান শেষ করলে ফুসতাতের সকল মুয়াজ্জিন একই সময়ে আজান দিতেন। মুসাওয়িদা (আব্বাসীয়দের) আগমনের পূর্ব পর্যন্ত বিষয়টি এভাবেই প্রচলিত ছিল।
অতঃপর মাসলামা আবিস ইবনে সাঈদকে পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নৌবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত করেন, ফলে তিনি 'আসতাদানা' আক্রমণ করেন। তিনি পুনরায় আস-সাইব ইবনে হিশামকে পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে ফিরিয়ে আনেন এবং তিনি সাতান্ন হিজরি সাল পর্যন্ত সেই পদে বহাল ছিলেন। অতঃপর সাইবকে বরখাস্ত করা হয়।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
وردّ عابسًا، وخرج مَسْلَمة إلى الإسكندرية سنة ستّين، واستخلف عابس بْن سَعِيد عَلَى الفُسطاط، وتُوفي مُعاوية فِي رجب سنة ستّين، واستخلف يزيد بْن مُعاوية، فأقرَّ مسْلَمة بْن مُخلَّد عَلَى مِصر صلاتها وخَراجها ومسلمة يومئذ بالإسكندريَّة، فكتب إلى عابس بأخذ البيعة ليزيد، فبايعه الجُند إِلَّا عبد الله بْن عمرو بْن العاصِ، فدعا عابس بالنار ليُحرق عَلَيْهِ، فلمَّا رَأَى ذَلكَ عبد الله بْن عمرو بايع ليزيد، وقدم مَسْلَمة من الإسكندريَّة، فجمع لعابس مَعَ الشُّرَط القضاء وذلك فِي أوَّل سنة إحدى وستّين.
حَدَّثَنَا عليّ بْن سَعِيد، قَالَ: يا ابْن أَبِي عُمَر، قَالَ: أخبرنا سُفيان بْن عُيَينة، عَنْ إبراهيم بْن مَيْسَرَة، قَالَ: سَمِعْتُ مجاهِدًا، يَقُولُ: «صلَّيت خلف مَسْلَمة بْن مُخلَّد، فقرأَ بسُورة البقرة، فما ترك أَلفًا ولا واوًا»
حَدَّثَنِي ابْنُ قُدَيْدٍ، عَنْ عُبَيْد اللَّه بْن سَعِيد بْن أَبِيهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، عَن الْحَارِثِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: «كَانَ مَسْلَمة بْن مُخلَّد يُصَلِّي بِنَا فَيَقُومُ فِي الظُّهْرِ فَرُبَّمَا قَرَأَ الرَّجُلُ الْبَقَرَةَ».
وتُوُفِّيَ مَسْلَمةُ بْنُ مُخلَّد وَهُوَ وَالٍ عَلَيْهَا لِخَمْسٍ بَقَيْنَ مِنْ رَجَبٍ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَسِتِّينَ، كَانَتْ وِلايَتُهُ عَلَيْهَا خَمْسَ عَشْرَةَ سَنَةً وَأَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ، وَاسْتُخْلِفَ عَابِسُ بْنُ سَعِيد عَلَيْهَا
سَعِيد بْن يزيد بْن عَلْقَمة بْن يزيد بْن عَوف الأَزْدي، ثمَّ الفِهْريّ من أهل فِلَسطينثمَّ ولِيها سَعِيد بْن يزيد الأَزْديّ عَلَى صلاتها، فقدِمها لمستهل شهر رمضان سنة اثنتين وستّين، فأقرّ عابسًا عَلَى الشُّرَط
فحَدَّثَنِي ابن قُدَيد، عَنْ عُبَيْد اللَّه بْن سَعِيد بْن عُفَير، عَنْ أبيه، عَن الليث، قَالَ: لما قدِم سَعِيد بْن يزيد واليًا عَلَى جُند مِصر تلقَّاه عمرو بْن قَحْزَم الخَوْلانيّ، فقال: «يغفِر اللَّه لأمير المؤمنين، أَما كَانَ فينا مائة شاب كلّهم مِثلك يولي علينا أحدهم»
এবং তিনি আবিসকে ফেরত পাঠালেন, আর মাসলামাহ ষাট হিজরি সনে আলেকজান্দ্রিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং ফুসতাতে আবিস ইবনে সাঈদকে তার স্থলাভিষিক্ত করলেন। মুয়াবিয়া ষাট হিজরি সনের রজব মাসে ইন্তেকাল করেন এবং ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া তার স্থলাভিষিক্ত হন। ফলে তিনি মাসলামাহ ইবনে মুখাল্লাদকে মিশরের সালাত ও রাজস্বের দায়িত্বে বহাল রাখেন; মাসলামাহ তখন আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থান করছিলেন। তিনি আবিসের কাছে ইয়াজিদের জন্য আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণের নির্দেশ লিখে পাঠালেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস ব্যতীত পুরো সৈন্যবাহিনী তার কাছে বাইয়াত গ্রহণ করল। তখন আবিস তাকে পুড়িয়ে ফেলার জন্য আগুন আনার নির্দেশ দিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর যখন তা দেখলেন, তখন তিনি ইয়াজিদের প্রতি আনুগত্যের শপথ নিলেন। অতঃপর মাসলামাহ আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ফিরে আসলেন এবং আবিসের জন্য পুলিশ বাহিনীর প্রধানের পদের পাশাপাশি বিচারকের দায়িত্বও একত্রিত করলেন; এটি ছিল একষট্টি হিজরি সনের শুরুর দিকের ঘটনা।
আলী ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হে ইবনে আবু উমর, সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না আমাদের ইব্রাহিম ইবনে মায়সারা থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে বলতে শুনেছি: «আমি মাসলামাহ ইবনে মুখাল্লাদের পেছনে সালাত আদায় করেছি, তিনি সূরা আল-বাকারা পাঠ করেছিলেন এবং তিনি একটি আলিফ বা ওয়াও বর্ণও বাদ দেননি (অর্থাৎ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পাঠ করেছেন)»
ইবনে কুদাইদ ওবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে তার পিতার সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়া আল-হারিস ইবনে ইয়াজিদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «মাসলামাহ ইবনে মুখাল্লাদ আমাদের ইমামতি করে সালাত আদায় করতেন, তিনি জোহরের সালাতে এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন যে (সেই সময়ে) কোনো ব্যক্তি সূরা বাকারা পাঠ করে ফেলতে পারত»
মাসলামাহ ইবনে মুখাল্লাদ ৬২ হিজরি সনের রজব মাস শেষ হওয়ার পাঁচ দিন বাকি থাকতে মিশরের গভর্নর থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। সেখানে তার শাসনকাল ছিল পনের বছর চার মাস। অতঃপর আবিস ইবনে সাঈদকে সেখানে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
সাঈদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আলকামা ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আউফ আল-আজদি, অতঃপর আল-ফিহরি, তিনি ফিলিস্তিনের অধিবাসী ছিলেনএরপর সাঈদ ইবনে ইয়াজিদ আল-আজদি মিশরের সালাতের (গভর্নর) দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তিনি ৬২ হিজরি সনের রমজান মাসের শুরুতে সেখানে আগমন করেন এবং আবিসকে পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে বহাল রাখেন।
ইবনে কুদাইদ ওবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে উফায়র ও তার পিতার সূত্রে লায়স থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে ইয়াজিদ যখন মিশরের সৈন্যবাহিনীর গভর্নর হিসেবে আসলেন, তখন আমর ইবনে কাহজাম আল-খাওলানি তার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন: «আল্লাহ আমিরুল মুমিনীনকে ক্ষমা করুন, আমাদের মাঝে কি আপনার মতো একশ জন যুবক ছিল না যে তাদের একজনকে আমাদের ওপর গভর্নর নিযুক্ত করা হলো?»
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
ولم تزل أَهل مِصر عَلَى الشَّنْآن لَهُ والإِعراض عَنْهُ والتكبّر عَلَيْهِ حتَّى تُوفي يزيد بْن مُعاوية سنة أربع وستين، ودعا ابن الزُّبير إلى نفسه، فقامت الخوارج الذين بمصر فِي أمره وأظهروا دعوته، وكانوا يحسبونه عَلَى مذهبهم، ووفدوا منم وفدًا إِلَيْهِ، وسأَلوه أَن يبعث إليهم بأمير يقومون معه ويؤَازرونه، فكان كُرَيب بْن أبرَهَة بْن الصبّاح، وغيره من أشراف أهل مصر، يقولون: ماذا نرى من العَجَب أنْ هذه طائفة مكُتتمة تأمر فينا وتنهى ونحن لا نستطيع أن نردّ أمرهم، ولحِق بابن الزُّبير ناس من أهل مِصر، منهم: أَبُو عُبيدة، وعِياض ابنا عُقْبَة بْن نافع بْن عَبْد قيس الفِهْريّ، وأبو بَكْر بْن القاسم بْن قيس العُذري، وحيَّان بْن الأَعين الحَضْرَميّ، وحجوة بْن الأسود الصَّدَقيّ، وبعث ابن الزُّبَير إليها بعبد الرَّحْمَن بْن جَحْدَم الفِهْريّ فقدِمها فِي طائفة من الخواج، فوثبوا عَلَى سَعِيد بْن يزيد، فاعتزلهم، فكانت ولاية سَعِيد عليها سنتين إلَّا شهرًا
عبد الرحمن بْن عُتْبة بْن إِياس بْن الحارث بْن عَبْد أَسَد بْن جَحْدَم بْن عمرو بْن عائش بْن ضرب بْن الحارث بْن فِهْرثمَّ وليها عبد الرحمن بْن عُتْبة بْن جَحدَم من قِبَل عبد الله بْن الزُّبَير دخلها فِي شعبان سنة أربع وستّين، فأقرّ عابس بْن سَعِيد عَلَى الشُّرَط والقضاء، وقدِم ابن جَحدَم يجمع كثير من الخوارج الذين كانوا مَعَ ابن الزُّبَير بمكَّة من أهل مِصر وغيرهم، فيهم: حَوْشَب بْن يزيد، وأَبو الورد حُجر بن عمرو، وغيرهم، فأَظهروا التحكيم ودعوا إِلَيْهِ، فاستعظم الجُند ذَلكَ، وبايعه الناس عَلَى غِلّ فِي قلوب ناس من شيعة بْن أُميَّة، منهم: كُرَيب بْن أَبْرَهة الأَصبَحيّ، ومُقسم بْن بَجَرة التُّجيبيّ، وزِياد بْن حناطة التُّجيبي، وعابس بْن سَعِيد، وغيرهم، وكانت شيعته من أهل مِصر دعوه إليها وهم فِي العَلانية مَعَ ابن جَحْدَم، وسار مَرْوان إلى مِصر ومعه: خَالِد بْن يزيد بْن مُعاوية، وعمرو بْن سَعِيد، وعبد الرَّحْمَن بْن الحكَم، وزُفَر بْن
মিসরবাসী তার প্রতি বিদ্বেষ ও বিমুখতা এবং তার প্রতি অহংকার পোষণ অব্যাহত রাখে, যতক্ষণ না চৌষট্টি হিজরি সনে ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ইবনুল জুবাইর নিজের জন্য (খিলাফতের) আহ্বান জানান। তখন মিসরে অবস্থানরত খারেজিরা তার পক্ষে দাঁড়াল এবং তার দাওয়াত প্রকাশ করল। তারা তাকে নিজেদের মতাদর্শের অনুসারী মনে করত। তারা তার কাছে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাল এবং তাদের কাছে একজন আমির প্রেরণের অনুরোধ জানাল, যার সাথে তারা অবস্থান করবে এবং যাকে তারা সহায়তা করবে। তখন কুরাইব ইবনে আবরাহা ইবনে আস-সাবাহ এবং মিসরবাসীদের অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলতেন, "আমরা কেমন এক বিস্ময়কর বিষয় দেখছি যে, এই গোপন দলটি আমাদের মাঝে আদেশ ও নিষেধ প্রদান করছে অথচ আমরা তাদের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করতে পারছি না।" মিসরের একদল লোক ইবনুল জুবাইরের সাথে যোগ দেন, তাদের মধ্যে ছিলেন: আবু উবাইদাহ এবং ইয়াদ—উকবাহ ইবনে নাফি ইবনে আবদ কাইস আল-ফিহরির দুই পুত্র, আবু বকর ইবনে আল-কাসিম ইবনে কাইস আল-উজরি, হাইয়ান ইবনে আল-আয়ান আল-হাদরামি এবং হাজওয়াহ ইবনে আল-আসওয়াদ আস-সাদাফি। এরপর ইবনুল জুবাইর সেখানে আবদুর রহমান ইবনে জাহদাম আল-ফিহরিকে পাঠালেন। তিনি একদল খারেজি নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। তারা সাইদ ইবনে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল, ফলে তিনি তাদের থেকে পৃথক হয়ে গেলেন। সেখানে সাইদের শাসনকাল ছিল এক মাস কম দুই বছর।
আবদুর রহমান ইবনে উতবাহ ইবনে ইয়াস ইবনে আল-হারিস ইবনে আবদ আসাদ ইবনে জাহদাম ইবনে আমর ইবনে আইশ ইবনে দারব ইবনে আল-হারিস ইবনে ফিহরঅতঃপর আবদুল্লাহ ইবনুল জুবাইরের পক্ষ থেকে আবদুর রহমান ইবনে উতবাহ ইবনে জাহদাম সেখানে শাসনভার গ্রহণ করেন। তিনি চৌষট্টি হিজরির শাবান মাসে সেখানে প্রবেশ করেন। তিনি আবিস ইবনে সাইদকে পুলিশ ও বিচার বিভাগের দায়িত্বে বহাল রাখেন। ইবনে জাহদাম মক্কায় ইবনুল জুবাইরের সাথে থাকা মিসরীয় ও অন্যান্য অঞ্চলের অনেক খারেজিকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে ছিলেন: হাওশাব ইবনে ইয়াজিদ, আবু আল-ওয়ারদ হুজর ইবনে আমর এবং অন্যান্যরা। তারা 'তাহকিম' (আল্লাহ ছাড়া কোনো ফয়সালা নেই—এই স্লোগান) প্রকাশ করল এবং এর দিকে আহ্বান জানাল। সৈন্যরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করল। মানুষ তার কাছে বায়াত গ্রহণ করল, তবে বনু উমাইয়ার সমর্থকদের অন্তরে বিদ্বেষ বিদ্যমান ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন: কুরাইব ইবনে আবরাহা আল-আসবাহি, মিকসাম ইবনে বাজরাহ আত-তুজিবি, জিয়াদ ইবনে হানাতাহ আত-তুজিবি, আবিস ইবনে সাইদ এবং অন্যান্যরা। মিসরীয়দের মধ্যে যারা বনু উমাইয়ার সমর্থক ছিল, তারা তাকে (মারওয়ানকে) আসার জন্য আহ্বান জানায়, যদিও তারা প্রকাশ্যে ইবনে জাহদামের সাথেই ছিল। এরপর মারওয়ান মিসরের দিকে যাত্রা করলেন এবং তার সাথে ছিলেন: খালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মুআবিয়া, আমর ইবনে সাইদ, আবদুর রহমান ইবনে আল-হাকাম এবং জুফার ইবনে...
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
الحارث، وحسَّان بْن بَحْدَل، ومالك بْن هُبَيرة السَّكونيّ فِي أشراف كثير، وبعث ابنه عَبْد العزيز فِي جيش إلى أيلة ورجا ان يدخل مصر من تلك الناحية وأجمع ابن جَحْدَم عَلَى حربه ومنعه، فأشار عَلَيْهِ الجُند بحفر خَنْدَق يخندق بِهِ عَلَى الفُسطاط، فأَمر بحفره، فحُفر فِي شهر واحد.
قَالَ ابن أَبي زَمزَمة الحشنيّ:
وما الجِدُّ إِلَّا مِثْلُ جِدِّ ابْنِ جَحْدَمٍ
… وَمَا العَزْمُ إِلَّا عَزْمُهُ يَوْمَ خَنْدَقِ
ثَلَاثُونَ أَلْفًا هُمْ أثَارُوا تُرَابَهُ
… وَخَدُّوهُ فِي شَهْرٍ حَدِيثُ مُصَدَّقِ
وهو الخَندق الَّذِي فِي مقْبُرة الفُسطاط اليوم.
وبعث ابن جَحْدَم بمراكب فِي البحر ليخالف إلى عِيال أهل الشام عليها إلا كدر بْن حَمام اللَخْميّ، وقطع بعثًا فِي البر استعمل عليهم السائب ابن هِشام بْن كِنانة العامريّ، وبعث بجيش آخر عليهم زُهَير بْن قَيس البَلَويّ إلى أَيْلة ليمنع عَبْد العزيز من المسير إليها، فأَمَّا جيش السائب بْن هِشام فإِنَّ رَوْح بْن زِنْباع أخبر مَروان أَنَّ السائب لَهُ ابن مُسترضِع بِفلَسطين، فأخذه مَرْوان، فلمَّا التقوا ابرز إِلَيْهِ الصبيّ، فقال: أَتعرِف هذا يا سائب؟ قَالَ: هذا ابني.
قَالَ: نعم فوالله لئن لم ترجع عَودك عَلَى بَدْئك لَأَرْمِيَنَّك برأسه فرجع السائب بجيشه ذَلكَ ولم يُقاتل، فسُمّي جيشه جيش الكرَّارين، وأَمَّا المراكب فنزل عليها عاصف، فغرَّقها وغرِق بعضها، ونجا أميرها إلا كدر، وعاد إلى الفُسطاط.
وأمَّا زُهَير بْن قيس فلقي عَبْد العزيز بْن مَرْوَان ببُصاق وهي سطح عقَبة أَيْلة، فقاتله فانهزم زُهَير ومن معه، قَالَ زُهَير لعبد العزيز:
مَنَعْتَ بُصَاقًا والبِطَاحَ فَلَمْ تُرَمْ
… بِطَاحُكَ لَمَّا أَنْ حَميتَ ذِمَارَكا
قَسَرتَ الأُلَى وَلَّوا عَن الأَمرِ بَعْدَما
… أرادوا عَلَيْهِ فَاعْلَمَنَّ اقْتِسَارَكَ
হারিস, হাসান ইবনে বাহদাল এবং মালিক ইবনে হুবায়রা আস-সাকুনি বহু সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের সাথে ছিলেন। তিনি (মারওয়ান) তার পুত্র আব্দুল আজিজকে একটি সেনাবাহিনী সহ আইলার দিকে প্রেরণ করেন এবং আশা করেন যে তিনি সেই দিক থেকে মিশরে প্রবেশ করবেন। ইবনে জাহদাম তার সাথে যুদ্ধ করা এবং তাকে প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সৈন্যরা তাকে ফাসতাতে একটি পরিখা খনন করার পরামর্শ দিল যাতে তা দিয়ে ফাসতাতকে রক্ষা করা যায়। তিনি তা খননের নির্দেশ দিলেন এবং এক মাসের মধ্যে তা খনন করা হলো।
ইবনে আবি জামজামা আল-হুশানি বলেন:
ইবনে জাহদামের প্রচেষ্টার মতো আর কোনো প্রচেষ্টা নেই
… আর পরিখার দিনের সংকল্পের মতো আর কোনো সংকল্প নেই।
ত্রিশ হাজার মানুষ এর মাটি খনন করেছিলেন
… আর তারা এক মাসেই তা সম্পন্ন করেছেন, এটি একটি সত্য সংবাদ।
এটি সেই পরিখা যা আজ ফাসতাতের কবরস্থানে অবস্থিত।
ইবনে জাহদাম সমুদ্রপথে কিছু জাহাজ পাঠালেন যাতে এর মাধ্যমে সিরিয়াবাসীদের পরিবার-পরিজনের ওপর আক্রমণ করা যায়, যার দায়িত্বে ছিলেন আকাদের ইবনে হাম্মাম আল-লাখমি। তিনি স্থলপথে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন এবং তাদের ওপর আল-সাইব ইবনে হিশাম ইবনে কিনানা আল-আমিরিকে নিযুক্ত করেন। তিনি আইলার দিকে জুহায়র ইবনে কায়স আল-বালাউয়ির নেতৃত্বে অন্য একটি বাহিনী প্রেরণ করেন যাতে আব্দুল আজিজকে সেখানে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া যায়। আল-সাইব ইবনে হিশামের বাহিনীর ব্যাপারে রুহ ইবনে জিনবা’ মারওয়ানকে সংবাদ দিলেন যে, ফিলিস্তিনে আল-সাইবের একটি দুগ্ধপোষ্য সন্তান রয়েছে। মারওয়ান তাকে নিয়ে নিলেন। যখন উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলো, তিনি শিশুটিকে সামনে নিয়ে আসলেন এবং বললেন: "হে সাইব, তুমি কি একে চেনো?" তিনি বললেন: "এটি আমার পুত্র।"
তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! যদি তুমি যে পথে এসেছ সে পথেই ফিরে না যাও, তবে আমি তোমার কাছে এর মাথা ছুঁড়ে মারব।" তখন সাইব তার সেনাবাহিনী নিয়ে ফিরে গেলেন এবং যুদ্ধ করলেন না। তাই তার বাহিনীকে ‘আল-কাররিন’ (প্রত্যানুবর্তনকারী বাহিনী) বলা হয়। আর জাহাজের ওপর তুফান আঘাত হানল, ফলে তা ডুবে গেল এবং কিছু বিধ্বস্ত হলো। এর সেনাপতি আকাদের রক্ষা পেলেন এবং ফাসতাতে ফিরে এলেন।
আর জুহায়র ইবনে কায়স বুসাকে আব্দুল আজিজ ইবনে মারওয়ানের মুখোমুখি হলেন, যা আইলার গিরিপথের সমতল এলাকা। তিনি তার সাথে যুদ্ধ করলেন এবং জুহায়র ও তার সঙ্গীরা পরাজিত হলেন। জুহায়র আব্দুল আজিজকে বললেন:
আপনি বুসাক এবং এর সমভূমিকে রক্ষা করেছেন, তাই আপনার সমভূমি আক্রান্ত হতে পারেনি যখন আপনি আপনার সম্মান ও দায়িত্ব রক্ষা করেছেন।
… আপনি তাদের পরাজিত করেছেন যারা পিঠ প্রদর্শন করে পালিয়ে গেছে, যদিও তারা লড়াই করার ইচ্ছা করেছিল; সুতরাং আপনার এই বিজয়কে অবগতিতে রাখুন।
(খণ্ড: ১)
কিতাবুল উলাতি ওয়া কিতাবুল কুদাতি - ত্বাবআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
وسار مروان حتى نزل عين شمس، فخرج ابن جَحْدَم فِي أهل مِصر، فتحاربوا يومًا أو يومين، ثمَّ رجعوا إلى خَندَقهم فصُفُّوا عَلَيْهِ، فكانت تِلْكَ الأيَّام تُسمَّى أيَّام الخَنْدَق والتراويح لأن أهل مِصر كانوا يُقاتلون نُوَبًا يخرج هَؤُلّاءِ، ثمَّ يرجِعون ثمَّ يخرج غيرهم، واستحرّ القتل فِي المعَافر فقُتِل جمع منهم وقُتل كثير من أهل القبائل من أهل مصر، وقُتِل من أهل الشام أيضًا جمع كثير، قَالَ عبد الرحمن بْن الحَكَم:
أَلَا هَلْ أَتَاهَا عَلَى نَأْيِهَا
… نِبَاءُ التَّرَاوِيحِ وَالْخَنْدَقِ
بَلَغْنَا بِفَيْلَق يَغْشَى الظِّرَابَ
… بَعِيدَ السُّمُوّ لِمَنْ يَرْتَقي
وَجَاشَتْ لنا الأرضُ منْ نحْوِهِمْ
… بِحَي تُجِيبَ وَمِنْ غَافِقِ
وأَحْيَاءِ مَذْحِجَ والأَشْعَريِنَ
… وَحميَرَ كاللهب المحْرِقِ
وسَدَّت مَعَافِرُ أفْقَ البِلَادِ
… بِمرْعِدِ جَيْشٍ لها مُبْرِقِ
وَنَادَى الكُفاةُ أَلا فَابْرِزُوا
… فَحَتَّامَ حَتَّى وَلا نَلْتَقي
فَلَوْ كُنْتِ رَمْلَةُ شَاهَدْتِهِ
… تَمنَّيْتِ أَنَّكِ لَمْ تُخْلَقي
ثمَّ إنَّ كُرَيب بْن أَبْرَهة، وعابِس بْن سَعِيد، وزِياد بْن حناطة، وعبد الرَّحْمَن بْن موهَب المعَافري قاموا فِي الصُّلْح بين أهل مِصر وبين مَرْوان عَلَى أن لا يكشفِ ابن جحْدَم عَلَى أمر جرى عَلَى يديه ويدفع إِلَيْهِ مالًا وكِسوةً، فأجاب مَروان إلى ذَلكَ، وكتب لهم بيده كتابًا يُؤمّنهم عَلَى جميع ما أَحدثوه، ودخلها مَروان لغرَّة جمادى الأولى سنة خمس وستّين، فكانت مُدَّة مُقام ابن جَحْدَم واليًا عليها من يوم دخلها إلى دخول مَرْوان تسعة أَشهر، ونزل مَروان دار الفُلْفُل التي فِي قِبلة مسجد الجامع اليوم، وقال: إنَّه لا ينبغي لخليفة أن يكون ببلَد لَيْسَ لَهُ فيها دار.
فأَمر بالدار البيضاء، فبُنيت لَهُ ووضع العطاء، فبايعه الناس إِلَّا نفَر من المَعافر، قَالُوا: لا نخلع بيعة ابن الزُّبير.
حَدَّثَنِي ابن قُدَيد، قَالَ: حَدَّثَنَا يحيى بْن عثمان، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبو صالح، عَن الليث بْن
মারওয়ান যাত্রা করলেন এবং আইন শামস পর্যন্ত পৌঁছালেন। তখন ইবনে জাহদাম মিসরের অধিবাসীদের সাথে নিয়ে বেরিয়ে এলেন। তারা একদিন বা দুই দিন যুদ্ধ করলেন, অতঃপর তারা তাদের পরিখায় ফিরে গেলেন এবং সেখানে সারিবদ্ধ হলেন। সেই দিনগুলোকে 'খন্দক ও তারাবিহ' এর দিন বলা হতো, কারণ মিসরীয়রা পালাক্রমে যুদ্ধ করত; একদল বের হতো, তারপর ফিরে আসত এবং এরপর অন্য দল বের হতো। মাআফির গোত্রের মধ্যে প্রচণ্ড হত্যাকাণ্ড চলল, ফলে তাদের একদল নিহত হলো এবং মিসরের বিভিন্ন গোত্রের বহু লোক মারা গেল। শামের অধিবাসীদের মধ্য থেকেও এক বিরাট দল নিহত হলো। আবদুর রহমান ইবনুল হাকাম বললেন:
হায়! তার কাছে কি পৌঁছেছে তার দূরত্বের মাঝেও
… তারাবিহ ও খন্দকের খবর?
আমরা এক বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছেছি যা পাহাড়গুলোকে ঢেকে ফেলে
… যারা আরোহণ করতে চায় তাদের জন্য যা সুউচ্চ মর্যাদার।
তাদের দিক থেকে জমিন আমাদের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠল
… তুজিব ও গাফিক গোত্রকে সাথে নিয়ে।
এবং মাজহিজ, আশআরি
… ও হিমইয়ার গোত্রগুলো যেন দহনকারী অগ্নিশিখা।
আর মাআফির গোত্র দেশের দিগন্তকে রুদ্ধ করে দিয়েছিল
… তাদের মেঘের গর্জনের মতো শব্দকারী ও বিদ্যুৎ চমকানো বাহিনীর মাধ্যমে।
সাহসীরা আহ্বান জানিয়ে বলল, "বেরিয়ে এসো
… আর কতকাল এভাবে আমাদের দেখা হবে না?"
হে রামলা! তুমি যদি তা প্রত্যক্ষ করতে
… তবে কামনা করতে যেন তোমার জন্মই না হতো।
অতঃপর কুরাইব ইবনে আবরাহা, আবিস ইবনে সাঈদ, জিয়াদ ইবনে হানাতাহ এবং আবদুর রহমান ইবনে মাওহাব আল-মাআফিরি মিসরবাসী এবং মারওয়ানের মধ্যে সন্ধি স্থাপনে উদ্যোগী হলেন। এই শর্তে যে, ইবনে জাহদামের হাতে পরিচালিত কোনো বিষয়ের জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে না এবং তাকে অর্থ ও পোশাক প্রদান করা হবে। মারওয়ান এতে সম্মত হলেন এবং স্বহস্তে তাদের জন্য একটি অঙ্গীকারনামা লিখে দিলেন, যাতে তাদের কৃতকর্মের জন্য অভয় প্রদান করা হলো। মারওয়ান পয়ষট্টি হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসের শুরুতে সেখানে প্রবেশ করেন। ইবনে জাহদামের সেখানে প্রবেশ করার দিন থেকে মারওয়ানের প্রবেশ পর্যন্ত তার গভর্নর হিসেবে অবস্থানকাল ছিল নয় মাস। মারওয়ান 'দারুল ফুলফুল'-এ অবস্থান নিলেন যা বর্তমানে জামে মসজিদের কিবলার দিকে অবস্থিত। তিনি বললেন: "কোনো খলিফার জন্য এমন কোনো জনপদে থাকা সংগত নয় যেখানে তার নিজস্ব কোনো গৃহ নেই।"
অতঃপর তিনি 'দারুল বায়দা' (শ্বেত ভবন) নির্মাণের নির্দেশ দিলেন, যা তার জন্য তৈরি করা হলো। তিনি অনুদান বণ্টন করলেন এবং মাআফির গোত্রের অল্প কয়েকজন লোক ছাড়া বাকি সবাই তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করল। তারা বলল: "আমরা ইবনে যোবাইরের বাইয়াত ত্যাগ করব না।"
ইবনে কুদাইদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু সালিহ আমাদের নিকট লাইস ইবনে... থেকে বর্ণনা করেছেন।