(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
البلاغة العربية (عبد الرحمن حبنكة الميداني)
القسم: البلاغة
الكتاب: البلاغة العربية
المؤلف: عبد الرحمن بن حسن حَبَنَّكَة الميداني الدمشقي (ت 1425هـ)
الناشر: دار القلم، دمشق، الدار الشامية، بيروت
الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1996 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-বালাগাহ আল-আরাবিয়াহ (আবদুর রহমান হাবান্নাকাহ আল-মাইদানি)
বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র
বই: আল-বালাগাহ আল-আরাবিয়াহ
লেখক: আবদুর রহমান বিন হাসান হাবান্নাকাহ আল-মাইদানি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ১৪২৫ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কলম, দামেস্ক, আদ-দারুশ শামিয়্যাহ, বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الكتاب الحمد لله ربّ العالمين الذي أتقن كلّ شيءٍ صنعاً، وفطر النفوس على حبّ الجمال، وزيّن ما خلَقَ بزيناتٍ روائعَ تميلُ إليها النفوس، وتأنَسُ بها وترتاح إليها، وهي تدلُّ عَلى إبداع خالقها وإرادته الحكيمة، في كلّ ما خلق من ظواهر وبواطن.هو الذي أنزل كتابَهُ القرآن معجزاً، وآيةً عظيمةً تدلُّ علَيْه، ومن إعجازه ما فيه من جمالٍ بيانيّ وبلاغةٍ رائعة لا ترقى إلى مِثْلها بلاغَةُ جميع البلغاء، ولا فصاحة جميعِ الفصحاء.والصلاة والسلام على رسُولِنا محمّدٍ خاتم النبيّين والمرسلين، وإمامهم، مَنْ خَصَّه الله بالدّينِ الخاتم، والكتاب الخاتم المعجز، فأنزلَهُ عليه مُتكَفِّلاً بحفظهِ مِنَ التغيير والتبديل والزيادة والنقصان، بقَصْدٍ أو نسيان، فهيّأ له من وسائلِ الحفظِ ما جَعَلهُ باقياً كما أنْزَلَهُ في السُّطُور والصُّدور وأدواتِ التسجيل الصوتي.وبعدُ:فخدمةً للقرآن كتاب الله المجيد، وحرصاً على إبراز بعض جوانب إعجازه البيانيّ، اجتهد علماء المسلمين بحثاً، وتَنْقِيباً واستخراجاً، حتَّى وَضَعُوا علوم البلاغة الثلاثة: "المعاني - والبيان - والبديع" وما يزال الباحثُون يَبْحَثُون
গ্রন্থের ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সৃষ্টিশৈলীতে প্রতিটি বিষয়কে নিপুণ করেছেন এবং মানবাত্মাকে সুন্দরের প্রতি অনুরাগী করে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টিজগতকে এমন চমৎকার সৌন্দর্য দ্বারা সুশোভিত করেছেন যার প্রতি মানুষের অন্তর ঝুঁকে পড়ে এবং যার সান্নিধ্যে সে স্বস্তি ও শান্তি লাভ করে। এ সৌন্দর্য তাঁর প্রতিটি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার সৃজনশীলতা ও প্রজ্ঞাময় ইচ্ছারই প্রমাণ দেয়।তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর কিতাব কুরআনকে মুজিজা এবং তাঁর অস্তিত্বের এক মহান নিদর্শন হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। কুরআনের অলৌকিকত্বের অন্যতম দিক হলো এর বর্ণনশৈলীর সৌন্দর্য এবং চমৎকার অলঙ্কারশাস্ত্র, যার সমপর্যায়ে কোনো বাগ্মীর অলঙ্কার কিংবা কোনো বাকপটু ব্যক্তির সাবলীলতা পৌঁছাতে পারে না।সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি নবী ও রাসূলগণের সিলমোহর এবং তাঁদের ইমাম। আল্লাহ তাঁকে চূড়ান্ত দীন এবং চূড়ান্ত মুজিজাপূর্ণ কিতাব দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন। তিনি তাঁর ওপর এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং একে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংযোজন বা বিয়োজন—তা ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত—সবকিছু থেকে হিফাজত করার দায়িত্ব নিয়েছেন। অতঃপর তিনি এর সংরক্ষণের জন্য এমন সব উপায় ও উপকরণ প্রস্তুত করেছেন যার ফলে এটি লিপি আকারে, মানুষের হৃদয়ে এবং শব্দ ধারণযন্ত্রে অবিকল সেভাবেই বিদ্যমান রয়েছে যেভাবে তা অবতীর্ণ হয়েছিল।অতঃপর:মহান আল্লাহর মহিমান্বিত কিতাব কুরআনের খিদমতের লক্ষে এবং এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় মুজিজার বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলার ঐকান্তিক আগ্রহে মুসলিম আলিমগণ নিরলস গবেষণা, অনুসন্ধান ও তত্ত্ব তালাশ করেছেন। শেষ পর্যন্ত তাঁরা অলঙ্কারশাস্ত্রের তিনটি শাখা সুসংবদ্ধ করেছেন: "আল-মাআনি, আল-বায়ান এবং আল-বাদি"। এবং গবেষকগণ আজও অনবরত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ويستَخْرِجون ويكْتَشِفُون مِن عناصر إعجاز القرآن البياني ما لم يكتشِفْهُ السّابقون.على أنّ كتاب الله عز وجل أوسَعُ من أن يُحْصِيَ كُلَّ عناصرِ إعجازه البياني الباحثون والمستخرجون والمكتشفون، مهما اجتهدوا ونقَّبُوا، لأنّ كثيراً من عناصر الجمالِ تُدْرَكُ بالحسّ الجماليّ ولا يُسْتطاعُ تحديدُها والتعبيرُ عنها ولا اكتشافُ عناصِرِها.وسيظهر في كلّ عَصْرٍ من جوانب إعجاز القرآن البياني روائع ما توصَّلَ السّابقون إلى اكْتشافها واستخراجها، فَهُو كتاب لا تفنى عجائبُهُ، ولا يَخْلَقُ عَلى كثْرةِ الرَّدّ، كَما جاء وصفُهُ في كلام الرسول صلى الله عليه وسلم.وقد فتح الله عليّ بجملة طرائف ولطائف هي من عناصر إعجاز القرآن البياني، أردتُ أن أضيفها إلَى علوم البلاغة التي استقرّت منذ قرون على هَيْكلٍ لم يَدْخُلْهُ من الإِضافات والتعديلات إلَاّ القليل، وبعضُ التطبيقات من الأمثلة.وفتح الله على غيري من الباحثين متناثرات تَتّصِل بموضوع إعجاز القرآن البياني، ويَحْسُنُ أن تُضافَ إلى علوم البلاغة، كظاهرة التصوير الفنّي الّتي اهتدى إليها المرحوم "سيّد قطب" وكالْبُحوث الطيّبة حول القصّة القرآنيّة الّتي نجدها لدى عدد من الباحثين المعاصرين.فعزمْتُ مستعيناً بالله العزيز الحميد الوهّاب أنْ أجْمَعَ ما انتهى إليه السّابقون من علوم البلاغة، محاولاً التذليلَ والانتقاءَ واستيعابَ الأمّهاتِ والْمُهِمّات، متجاوزاً التفصيلاتِ التي لا تُكسِبُ مَلَكَةَ تَذَوُّقِ الجمال البياني، والّتي دخلت في علوم البلاغة بتأثير الدراسات المنطِقيَّةِ والرّياضيّةِ العقليّة الصِّرْف، ومتجاوزاً الإِجراءات التي تُشبه التحليل الكيميائي في معامل الكيمياء، والتي تفقد النصّ روعته الجماليّة، كأنواعِ الاستعارات في الفعلِ والحرف وإجراءاتها، وأشباه ذلك.وأرجو أن أُوَفّق لتحقيق ما عزمْتُ عليه من تقريب علوم البلاغة وفُنُونِها
তারা আল-কুরআনের আলংকারিক অলৌকিকত্বের এমন সব উপাদান আহরণ ও উন্মোচন করেন যা পূর্ববর্তীরা করেননি।তবে মহান আল্লাহর কিতাব এতটাই বিস্তৃত যে, গবেষক, আহরণকারী ও উন্মোচনকারীগণ এর আলংকারিক অলৌকিকত্বের সকল উপাদান গণনা করতে সক্ষম নন, তারা যতই প্রচেষ্টা এবং অনুসন্ধান চালান না কেন। কারণ সৌন্দর্যের অনেক উপাদান কেবল সৌন্দর্যবোধের মাধ্যমেই অনুধাবন করা যায়, সেগুলোকে সুনির্দিষ্ট করা, প্রকাশ করা কিংবা সেগুলোর গাঠনিক উপাদান আবিষ্কার করা সম্ভব নয়।প্রতিটি যুগেই কুরআনের আলংকারিক অলৌকিকত্বের এমন সব চমৎকার দিক প্রকাশিত হবে যা পূর্ববর্তীরা আবিষ্কার বা আহরণ করতে পারেননি। কেননা এটি এমন এক কিতাব যার বিস্ময়কর বিষয়সমূহ শেষ হয় না এবং বারবার পাঠ করার ফলেও তা পুরোনো হয় না, যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে এর বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে।আল্লাহ তাআলা আমার নিকট কুরআনের আলংকারিক অলৌকিকত্বের অন্তর্ভুক্ত কিছু সূক্ষ্ম ও চমৎকার বিষয় উন্মোচিত করেছেন। আমি সেগুলোকে অলংকারশাস্ত্রের (বালাগাত) অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছি, যা কয়েক শতাব্দী ধরে এমন এক কাঠামোর ওপর স্থির হয়ে আছে যেখানে সামান্য কিছু সংযোজন, পরিমার্জন এবং উদাহরণমূলক প্রয়োগ ছাড়া নতুন তেমন কিছু যুক্ত হয়নি।আল্লাহ তাআলা আমার ন্যায় অন্যান্য গবেষকদের ওপরও কুরআনের আলংকারিক অলৌকিকত্ব বিষয়ক বিক্ষিপ্ত কিছু বিষয় উন্মোচিত করেছেন, যা অলংকারশাস্ত্রে যুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। যেমন মরহুম ‘সায়েদ কুতুব’ কর্তৃক উদ্ভাবিত শৈল্পিক চিত্রায়নের বিষয়টি এবং বেশ কিছু সমকালীন গবেষকদের নিকট প্রাপ্ত কুরআনের কাহিনীর ওপর উত্তম গবেষণাসমূহ।তাই আমি মহাপরাক্রমশালী, প্রশংসিত ও মহাদাতা আল্লাহর সাহায্য নিয়ে সংকল্প করেছি যে, অলংকারশাস্ত্রের বিষয়ে পূর্ববর্তীরা যে পর্যন্ত পৌঁছেছেন তা সংকলন করব; যেখানে বিষয়গুলোকে সহজবোধ্য করার, বাছাই করার এবং মূল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আয়ত্তে আনার চেষ্টা করব। এক্ষেত্রে আমি সেসব বিশদ বিবরণ এড়িয়ে গেছি যা আলংকারিক সৌন্দর্য আস্বাদনের যোগ্যতা তৈরি করে না এবং যা নিছক যুক্তিবিদ্যা ও গাণিতিক বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার প্রভাবে অলংকারশাস্ত্রে প্রবেশ করেছে। এছাড়া আমি এমন সব পদ্ধতিও বর্জন করেছি যা রাসায়নিক গবেষণাগারের বিশ্লেষণের মতো, যা কোনো পাঠ্যের নান্দনিক সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়; যেমন ক্রিয়া ও অব্যয়ের বিভিন্ন প্রকারের রূপক ও সেগুলোর প্রয়োগ এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ।আমি আশা করি যে, অলংকারশাস্ত্র ও এর শিল্পকলাসমূহকে সহজবোধ্য করার যে সংকল্প আমি করেছি, তা বাস্তবায়নে আমি সফল হব।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
للأجيال المعاصرة من ناطقي اللّغة العربية، بالأُسلوب الذي يُسَهِّلُ عليهم فَهْمَها، ويُيَسِّرُ لهم تَطْبيق قواعدها على الأمثلة من القرآن، وأقوال الرسول، وغيرهما من نَثْرِ وشِعْرِ البلغاء، ويُشجّعُهم على أن يقتدوا في بيانهم بالنماذج الرفيعة من النُّصوصِ البليغة، وأن يبتكروا أشياء بديعةً تهديهم إليها الفطرة الرّبّانيّة، بما أوْدع الله فيما خَلَقَ وفيما أنزل من جمال، وبما أودع فيهم من حِسٍّ جماليّ.وآخر دعوانا أن الحمد لله ربّ العالمين وصلَّى الله وسلم على سيّد البلغاء من الناس مُحمّدِ بن عبد الله وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسانٍ إلى يوم الدين.عبْدالرحمن حسن حَبَنَّكة الميْدانيمكة المكرمة فى 9/4/1414هـ25/9/1993م
আরবি ভাষাভাষী সমকালীন প্রজন্মের জন্য, এমন এক পদ্ধতিতে যা তাদের জন্য এর অনুধাবন সহজতর করে এবং কুরআনের উদাহরণ, রাসুলের বাণী এবং সাহিত্যিকদের গদ্য ও পদ্যের ওপর এর নিয়মাবলির প্রয়োগ সাবলীল করে; আর যা তাদের উৎসাহিত করে যাতে তারা তাদের বক্তব্যে অলঙ্কারপূর্ণ রচনার উচ্চতর আদর্শের অনুসরণ করে এবং এমন সব অভিনব বিষয় উদ্ভাবন করে যার দিকে তাদের ঐশ্বরিক স্বভাবজাত প্রবৃত্তি পথপ্রদর্শন করে—আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিতে এবং যা তিনি অবতীর্ণ করেছেন তাতে যে সৌন্দর্য নিহিত রেখেছেন এবং তাদের মধ্যে যে নান্দনিক চেতনা গচ্ছিত রেখেছেন তার মাধ্যমে।আমাদের শেষ আহ্বান এই যে, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বাকপটু মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও যারা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।আব্দুর রহমান হাসান হাবান্নাকা আল-মায়দানিমক্কা মুকাররমা, ৯/৪/১৪১৪ হিজরি২৫/৯/১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقدمات عامة
সাধারণ উপক্রমণিকাসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
(1) الغرض من دراسة علوم البلاغة والأدبالبلاغة بفنونها الثلاثة "المعاني - البيان - البديع" وسائر الفنون الأدبية التي نبَّه عليها أدباء العرب، وكذلك سائر المذاهب الأدبيّة المستوردة من الشعوب غير العربيّةِ ليست إلَاّ بحوثاً وتتبُّعاتٍ لاكتشاف عناصر الجمال الأدبيّ في الكلام، ومحاولات لتحديد معالمها، ووضع بعض قواعدها، دُون أن تستطيع كلُّ هذه البحوثِ والدّراساتِ جَمْع كلِّ عناصر الجمال الأدبِيّ في الكلام، أو استقصاءها، واكتشاف كلّ وجوهها.فالجمال كثيراً ما يتذوّقه الحسّ الظاهر والشعور الباطن، دون أن يستطيع الفكر تحديد كلّ العناصر التي امتلكت استحسانه وإعجابه، وإنْ عرف منها الشيء الكثير، واستطاع أن يُفْرِزَه ويُحَدّد معالمه.إنّ آفاق الجمال أوسع من أنْ تُحَدَّدَ أو تُحْصَرَ بأُطُرٍ مقاييس، ولكن يمكن اكْتشَافُ بَعْضِ عناصرِ الجمال، وكُلِّيَّاتِه العامّة، وطائفةٍ مِنْ ملامحه.والْغَرَضُ من عرض الباحثين لفنون البلاغة وعلومها، وللمذاهب الأدبيّة المختلفة، وللأمثلة الأدبيّة الراقية المقرونةِ بالتحليل الأدبي والبلاغي، تَرْبيةُ القدرة على الإِحساس بعناصر الجمال الأدبيِّ في الكلام الأدبيّ الرفيع، وتربية القدرة على فهم النصوص الجميلة الراقية، والقدرة على محاكاة بعضها في إنشاء الكلام، والقدرة على الإِبداع والابتكار لدى الذين يملكون في فطرهم الاستعداد لشيء من ذلك.
(১) অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাহিত্য চর্চার উদ্দেশ্যঅলঙ্কারশাস্ত্রের তিনটি শাখা "মা'আনী - বায়ান - বাদী'" এবং আরব সাহিত্যিকগণ যেসব সাহিত্যিক শিল্পের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, সেইসাথে অনারব জাতিসমূহের কাছ থেকে আগত অন্যান্য সাহিত্যিক মতবাদসমূহ মূলত কথাবার্তার মধ্যে বিদ্যমান সাহিত্যিক সৌন্দর্যের উপাদানসমূহ অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা ও গবেষণা মাত্র। এগুলো সেসবের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ এবং কিছু নিয়মাবলি প্রণয়নের প্রয়াস মাত্র। তবে এই সকল গবেষণা ও শিক্ষা কথাবার্তার মধ্যকার সকল সাহিত্যিক সৌন্দর্যের উপাদানকে একত্রিত করতে বা সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দিতে এবং এর সকল দিক উন্মোচন করতে সক্ষম নয়।সৌন্দর্য প্রায়শই বাহ্যিক ইন্দ্রিয় এবং অভ্যন্তরীণ অনুভূতি দ্বারা আস্বাদিত হয়, অথচ বুদ্ধি বা চিন্তা সেই সমস্ত উপাদানকে পুরোপুরি চিহ্নিত করতে পারে না যা তার প্রশংসা ও বিস্ময় অর্জন করেছে; যদিও সে এর অনেক কিছুই জানে এবং সেগুলোকে পৃথক করে তার বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়।নিশ্চয়ই সৌন্দর্যের দিগন্ত পরিমাপের কোনো কাঠামো দ্বারা নির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করার চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত। তবে সৌন্দর্যের কিছু উপাদান, এর সাধারণ মূলনীতিসমূহ এবং এর কতিপয় বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করা সম্ভব।গবেষকদের পক্ষ থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা ও এর জ্ঞানসমূহ, বিভিন্ন সাহিত্যিক মতবাদ এবং সাহিত্যিক ও আলঙ্কারিক বিশ্লেষণের সাথে উচ্চমানের সাহিত্যিক উদাহরণ উপস্থাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো উচ্চাঙ্গের সাহিত্যিক কথাবার্তার মধ্যে বিদ্যমান সাহিত্যিক সৌন্দর্যের উপাদানসমূহ অনুধাবন করার সক্ষমতা তৈরি করা। সেই সাথে সুন্দর ও উচ্চমানের পাঠ্যসমূহ বোঝার সক্ষমতা অর্জন করা, কথাবার্তা রচনার ক্ষেত্রে সেগুলোর কোনো কোনোটির অনুকরণ করার যোগ্যতা অর্জন করা এবং যাদের প্রকৃতিতে এই ধরনের সক্ষমতা রয়েছে তাদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটানো।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وليس الغرض من دراسة هذه الفنون والعلوم والمذاهب والنصوص، الجمودَ في قوالِبِ ما اسْتُخْرجَ من العناصر الجمالية، وما وُضع من قواعد، دون اكتساب الإِحساس المرهف بمواطن الجمال، لتقديم الأفكار، وصياغة الكلام صياغةً أدبيّة بليغة.فَمَع ضرورة التَّسلُّح بهذه الدراسة، والاطلاع الواسع على النصوص الأدبيّة الجميلة الراقية، ودراستها دراسةً تَحْلِيلِيَّةً تكشفُ من جوانب الجمال والإِبداع فيها على مقدار اسْتِطَاعَةِ الْمُحَلّل، لا يصِحُّ بحالٍ من الأحوال الجمود عندها دون محاولات الابتكار والإِبداع والتجديد، بشرط أَنْ يكون ذلك الابتكار قادراً على انتزاع إعجاب ذوي الإحساس المرهف، والذَّوْق الرَّفيع في إدراك الكلام الأدبيِّ الجميل البليغ.هذه الحقيقة لا بُدَّ من ملاحظتها دواماً لدى أيّةِ دراسَةٍ بلاغيّةٍ وأدبيّة، ولدى إنشاء أي نصٍّ أدبيّ جديد.ومن الخير دواماً لكّل كاتب أو مُنْشِىءٍ أو شاعرٍ أن يحْذَرَ منْ أنْ يضَعَ الصورة الأدبيَّةَ الّتِي دَرَسَها بلاغيّاً أو أدبيّاً، وينشِىءَ كلامَهُ على قَالَبِها، فإذا فَعل ذلِكَ أَفْسَدَ كلامه، وشوّه روح القاعدة البلاغيّة أو الأدبيّة، وإن التزم بصورتها.إنّ تربية الذوق والملكة البيانيّة، مع تلقائيّة الأداء التعبيريّ لدى إنشاء الكلام كتابةً أو ارتجالاً، عند منْ يَمْلك الاستعداد لأن يكون أديباً بليغاً، هي الكفيلة بتفجير الإِبداع المطلوب في الأدب، بشرط عدم الخروج عن ضوابط قواعد اللّغة وأصول البيان.ومن جيّد ما قرأت في التعريف بخير الكلام، قول "خالد بن صَفْوان" وهو من فصحاء العرب المشهورين، كان يجالس عُمَر بن عبد العزيز، وهشام بن عبد الملك، توفي نحو (133 هجرية) :
এই শিল্পকলা, বিজ্ঞান, মতবাদ এবং পাঠ্যসমূহ অধ্যয়নের উদ্দেশ্য কেবল এর নান্দনিক উপাদানসমূহ থেকে যা নিংড়ে নেওয়া হয়েছে এবং যেসব নিয়মাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলোর ছাঁচে স্থবির হয়ে থাকা নয়; বরং এর প্রকৃত লক্ষ্য হলো চিন্তাধারা উপস্থাপন এবং সাহিত্যিক ও প্রাঞ্জলভাবে বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের স্থানগুলো উপলব্ধি করার জন্য সূক্ষ্ম অনুভূতি অর্জন করা।সুতরাং এই অধ্যয়ন দ্বারা সুসজ্জিত হওয়া এবং পরিশীলিত ও উচ্চমানের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান আহরণ করার পাশাপাশি বিশ্লেষকের সক্ষমতা অনুযায়ী সেগুলোর সৌন্দর্য ও সৃজনশীলতার দিকগুলো উন্মোচনে বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি কোনোভাবেই উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও আধুনিকায়নের প্রচেষ্টা ছাড়া সেটিতেই স্থবির হয়ে থাকা সমীচীন নয়। তবে শর্ত হলো, সেই উদ্ভাবন যেন সূক্ষ্ম অনুভূতিসম্পন্ন এবং সুন্দর ও প্রাঞ্জল সাহিত্যিক বক্তব্য অনুধাবনে উচ্চ রুচিবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হয়।যেকোনো অলঙ্কারশাস্ত্র ও সাহিত্যবিষয়ক অধ্যয়ন এবং যেকোনো নতুন সাহিত্যকর্ম রচনার ক্ষেত্রে এই সত্যটি সর্বদা লক্ষ্য রাখা আবশ্যক।প্রত্যেক লেখক, রচয়িতা বা কবির জন্য সর্বদা এটিই কল্যাণকর যে, তিনি অলঙ্কারশাস্ত্র বা সাহিত্যতত্ত্বের আলোকে যে সাহিত্যিক চিত্রকল্প অধ্যয়ন করেছেন, তা সামনে রেখে হুবহু সেই ছাঁচে নিজের বক্তব্য তৈরি করা থেকে সতর্ক থাকবেন। কারণ যদি তিনি তেমনটি করেন, তবে তিনি তার বক্তব্যকে নষ্ট করবেন এবং অলঙ্কারশাস্ত্রীয় বা সাহিত্যিক নিয়মের বাহ্যিক রূপ অনুসরণ করলেও তার অন্তর্নিহিত প্রাণকে বিকৃত করবেন।একজন সম্ভাব্য প্রাঞ্জল সাহিত্যিকের জন্য রুচিবোধের বিকাশ এবং বর্ণনাশৈলীর দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি লিখনী বা উপস্থিত বক্তৃতার সময় স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশভঙ্গিই সাহিত্যে কাঙ্ক্ষিত সৃজনশীলতা উন্মোচনের নিশ্চয়তা প্রদান করে; তবে শর্ত হলো, ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মাবলি এবং বর্ণনাশৈলীর মূলনীতিসমূহ থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।উত্তম বক্তব্যের সংজ্ঞায় আমি যা পড়েছি তার মধ্যে অন্যতম চমৎকার হলো আরবের বিখ্যাত বাগ্মী ‘খালিদ বিন সাফওয়ান’-এর উক্তি। তিনি উমর বিন আব্দুল আজিজ এবং হিশাম বিন আব্দুল মালিকের সাহচর্য লাভ করেছিলেন এবং আনুমানিক ১৩৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন:
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
"خَيْرُ الكلام مَا طَرُفَتْ مَعَانيه، وشَرُفَتْ مَبَانِيه، والْتَذَّه آذان سَامِعِيه". عن لسان العرب في مادة "طرف".*** (2) نظرات تحليليّة حول الغرض من الكلام الغرض من الكلام التعبيرُ عمّا في الفكر ومشاعر النفس وأحاسيسها بألفاظٍ دالّةٍ على ما يريد المتكلّم التعبير عنه.والكلماتُ رموزٌ اصطلاحيَّةٌ في الأوضاع اللُّغويّةِ الأولى، وفي الاستعمالات اللاّحقة للأَوْضَاعِ اللّغويّة والناجمة عن اسْتِخْدام الناس لمختلف الأساليب والْحِيَلِ الكلامية الْقَائِمةِ على التوسُّع في دلالاتِ الألفاظ، والانتقال بِها منَ الْحسّيَّاتِ إلى ما وراءَها، حتّى العقليَّات المجرّدة.* فمن أمثلة ذلك الحسيّات:التّضَرُّعْ: كان بمعنى خَفْضِ رَأْس الرّضِيع من صغار البهائم كَحَمَلٍ أو عِجْلٍ أَوْ سَخْلَةٍ، ونحو ذلك، ليَرْضَعَ مِنْ ضَرْعِ أُمِّهِ، فصار في التوسُّع اللُّغَوِيّ بمعنَى الذُّلّ والانْكِسار، ونَزَلَت التعاليمُ الرَّبَّانِيَّةُ المبيِّنَةُ للصُّوَرِ الْمُثْلَى من دَرجاتِ العبادةِ لله تبارك وتعالى، فَعَلَّمَتْنَا أَنَّ أَمْثَلَ الْعِبَادَةِ لله عز وجل ما كانَ بتَضَرُّع له، أي: بذُلِّ وانْكِسَارٍ اسْتِجْدَاءً لِرَحْمَتِهِ وَحَنَانِهِ، ويُعَبَّرُ عن حالَةِ الذّلِّ والانكسارِ في النفس بالركوعِ والسُّجُودِ لله جلَّ وعَلَا.* ومن الأَمثلة في العقليّات:الحدّ - والْحُدود: فَأَصلُ الحدِّ في اللّغةِ الحاجزُ بَيْنَ شيئَيْنِ مادّيّيْنِ مُدْرَكَيْنِ بالْحِسِّ الظّاهر، كالأعلام والْفَوَاصِلِ الَّتِي تُوضع في نَحْو آخِرِ الأَرْضِ الَّتِي يملُكَها إِنْسَانٌ ما، لتُبَيِّنَ انْتِهاءَها وانْفِصَالهَا عَنْ غَيْرِها من ممتلَكَات الآخَرِينَ.
"উত্তম কথা তা-ই যার অর্থসমূহ অভিনব, যার গঠনশৈলী সুউচ্চ এবং যার শ্রোতাদের কর্ণ তা শ্রবণে তৃপ্তি পায়।" লিসানুল আরব-এর 'ত্বরফ' অধ্যায় হতে সংগৃহীত।*** (২) কথোপকথনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা কথোপকথনের উদ্দেশ্য হলো চিন্তা, মনের আবেগ এবং অনুভূতিকে এমন সব শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা, যা বক্তার অভিপ্রায়কে ব্যক্ত করে।প্রাথমিক ভাষাতাত্ত্বিক বিন্যাসের ক্ষেত্রে শব্দসমূহ হলো পারিভাষিক প্রতীক। আর ভাষাতাত্ত্বিক বিন্যাসের পরবর্তী ব্যবহারগুলো মানুষের বিভিন্ন বাকভঙ্গি ও কৌশলের প্রয়োগ থেকে উদ্ভূত, যা শব্দের অর্থের প্রসারণ এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় থেকে অতীন্দ্রিয় বিষয়, এমনকি বিমূর্ত বুদ্ধিবৃত্তিক ধারণায় রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।* ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের উদাহরণসমূহ:তাদ্বাররু (কাউতি-মিনতি): এর মূল অর্থ ছিল ভেড়া, বাছুর বা ছাগলছানার মতো গবাদি পশুর শাবকের মাথা নিচু করা, যাতে সে তার মায়ের ওলান থেকে দুধ পান করতে পারে। পরবর্তীতে ভাষাগত সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি দীনতা ও ম্রিয়মানতা অর্থে ব্যবহৃত হতে থাকে। অতঃপর মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার ইবাদতের বিভিন্ন স্তরের আদর্শ রূপ বর্ণনার জন্য ঐশী শিক্ষা অবতীর্ণ হয়েছে। তা আমাদের শিখিয়েছে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার সর্বোত্তম ইবাদত হলো তাঁর প্রতি তাদ্বাররু বা বিনয়াবনত হওয়া। অর্থাৎ, তাঁর দয়া ও করুণা ভিক্ষার তরে হীনতা ও ম্রিয়মানতা অবলম্বন করা। আর মনের এই বিনয় ও ম্রিয়মান অবস্থাকে মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর প্রতি রুকু এবং সিজদার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।* বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের উদাহরণসমূহ:হদ (সীমা) এবং হুদুদ (সীমানাসমূহ): আভিধানিক অর্থে হদ-এর মূল অর্থ হলো বাহ্যিক ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত দুটি বস্তুগত জিনিসের মধ্যবর্তী অন্তরায় বা বাধা। যেমন কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন ভূমির শেষ প্রান্তে স্থাপিত সীমানা-চিহ্ন বা বিভাজক, যা তার ভূমির সমাপ্তি এবং অন্যের মালিকানা থেকে এর পৃথক সত্তাকে ফুটিয়ে তোলে।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ثُمَّ صَارَ تَوَسُّعٌ في كلمة "الحدِّ" وجمعها "الحدود" فصارت تدلُّ على ما يفصل المعانِيَ الفكريَّةَ بعْضَها عن بعض، من بيانٍ جامعٍ لكُلِّ عَنَاصِرِ المحدود، مانعٍ من دُخولِ غَيْرِهِ فِيه.وبالحدودِ البيانيّة تُحْمَى المعاني من أنْ يتداخل بعضُهَا في بَعْضٍ، أو يختلط بَعْضُها ببعض.وتُسْتَخْدَمُ في الكلام الأشباهُ والنَّظَائِرُ، ودَلالَاتُ اللَّوازِم الكفريّةِ، لإِفْهَامِ الآخَرِينَ ما يُريدُ ذو الكلام التَّعْبِير عنْه، كمَا هو في ذهْنِهِ، أَوْ في مَشَاعِرِ نَفْسِهِ، أَوْ فِي إحْسَاسَاتِهِ الجَسَدِيّة، أو الوجْدَانِيَّةِ الباطنة.فلدَينا إذَنْ كلماتٌ مُفْرَدة، وجُمَلٌ مُرَكَّبَةٌ مِنْ كلماتٍ، وجَمِيعُها ذَواتٌ أَلْفَاظٍ وَذَوَاتُ دَلالاتٍ، وَأَلْفَاظُهَا ذَواتُ حُروفٍ مجتمعة تَنْطِقُ بِهَا الأدواتُ النَّاطِقَةُ، وهِيَ تُصْدُرُ بأصْواتٍ فَتَقْرَعُ آذان السامِعينَ بمختلِفِ أشْكالِهَا وصُوَرِها.وأصواتُ الحروفِ الَّتِي تُرَكَّبُ منْها الكلماتُ لها نَغَمَاتٌ وحُدودٌ مختلفات، فمنها ما يقْرَع السّمْعَ برِقَّةٍ ولينٍ فيستَحْلِيهِ، ومنْها ما يقرعُ السَّمْعَ بغلظةٍ وخُشُونَةٍ فَيَمُجُّهُ كَارهاً له، ومنْها ما ينْفِرُ منه السّمْعُ وتتقَزّزُ منْهُ النفس، سواءٌ أكان ذلك من الكلمة الواحدة مُفْرَدَةً، أمْ من اجْتِماع عدَّةِ كَلِماتٍ أحدثَ اجتماعُها ما لم يكُنْ عِنْدَ انْفرادِ كلِّ منها.وَكلُّ أمّةٍ تَضَع ما تَلَقَّتْ منْ كلمات أجدادها، وما تُضِيفُ من كلماتٍ تضَعُها لتُعَبِّر بها عن أفكارٍ ومشاعرَ وأحاسيسَ قامَتْ في أنفسها، مَوْضِعَ التجربة، لاختبارِ مدى لينِها وسُهولَةِ النُّطْقِ بها، أو مَدى التَّأْثيرِ النَّفْسِيّ لدى النطق بها في أنْفُسِ السَّامعين، ولاخْتبار مَدَى استحسان الأسماع لها، أو استقباحها، واستغلاظها، والنُّفْرَة منها، وتَقَزُّز النفس لدى سماعها.وخلال التجارب الطويلة تشيعُ غالباً الكلماتُ الَّتي تَوَاضَعَ مُعْظَمُ النَّاسِ على
এরপর "হদ্দ" (সীমা বা সংজ্ঞা) শব্দ এবং এর বহুবচন "হুদুদ"-এর ব্যবহারে প্রশস্ততা আসে। ফলে এটি এমন এক বিষয়কে নির্দেশ করতে শুরু করে যা বুদ্ধিভিত্তিক অর্থসমূহকে একে অপর থেকে পৃথক করে; অর্থাৎ সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সমস্ত উপাদানকে অন্তর্ভুক্তকারী এবং অন্য কিছুকে তাতে প্রবেশ করতে বাধাদানকারী এক পূর্ণাঙ্গ বর্ণনার মাধ্যমে।আর বর্ণনামূলক সংজ্ঞাসমূহের মাধ্যমে অর্থসমূহ একটির সঙ্গে অন্যটি একীভূত হওয়া বা একে অপরের সঙ্গে মিশে যাওয়া থেকে সুরক্ষিত থাকে।কথোপকথনে সদৃশ ও উপমাসমূহ এবং অনিবার্য কুফরি বা চিন্তাগত আবশ্যকীয়তার ইঙ্গিতসমূহ ব্যবহার করা হয়, যাতে বক্তা যা প্রকাশ করতে চাচ্ছেন তা অন্যদের বোঝানো যায়—ঠিক যেভাবে তা তার মস্তিষ্কে, মনের অনুভূতিতে অথবা তার শারীরিক বা অভ্যন্তরীণ আত্মিক সংবেদনায় বিদ্যমান রয়েছে।সুতরাং আমাদের কাছে রয়েছে একক শব্দ এবং শব্দ দ্বারা গঠিত যৌগিক বাক্য; যার সবকটিই শব্দরূপ ও অর্থবোধকতার অধিকারী। আর শব্দসমূহ হলো একত্রিত বর্ণ সমষ্টির রূপ যা কথা বলার অঙ্গসমূহের মাধ্যমে উচ্চারিত হয়। এগুলো ধ্বনি হিসেবে নির্গত হয় এবং শ্রবণকারীদের কর্ণে বিভিন্ন আকার ও অবয়বে করাঘাত করে।যেসব বর্ণের সমন্বয়ে শব্দ গঠিত হয়, তাদের ধ্বনিসমূহের রয়েছে বিভিন্ন সুর ও সীমা। তার মধ্যে কিছু শ্রবণেন্দ্রিয়কে কোমলতা ও স্নিগ্ধতার সাথে স্পর্শ করে, ফলে তা শ্রবণে মধুর লাগে। আবার কিছু শ্রবণেন্দ্রিয়কে কর্কশতা ও রুক্ষতার সাথে আঘাত করে, ফলে শ্রোতা তা অপছন্দ করে প্রত্যাখ্যান করে। আবার এমন কিছু আছে যা থেকে শ্রবণ বিমুখ হয় এবং মন বিতৃষ্ণ বোধ করে; তা একক শব্দের ক্ষেত্রে হোক অথবা একাধিক শব্দের মিলনের ফলে হোক, যা মিলিত হওয়ার কারণে এমন প্রভাব সৃষ্টি করে যা তাদের একক অবস্থায় ছিল না।প্রত্যেক জাতি তাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে প্রাপ্ত শব্দসমূহ এবং নতুন সংযোজিত শব্দাবলি—যা তারা নিজেদের মনে উদিত চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশের জন্য তৈরি করে—তা অভিজ্ঞতার স্তরে রাখে। এর উদ্দেশ্য হলো সেগুলো উচ্চারণে কতটা কোমল ও সহজ তা পরীক্ষা করা, অথবা উচ্চারণের সময় শ্রোতাদের মনে তার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব যাচাই করা; এবং শ্রবণেন্দ্রিয় সেগুলো পছন্দ করছে নাকি অপছন্দ করছে, কিংবা সেগুলো শ্রবণে কর্কশ ঠেকছে কি না, শব্দগুলো থেকে শ্রবণ বিমুখ হচ্ছে কি না এবং তা শ্রবণে মন বিতৃষ্ণ হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করা।দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর সাধারণত সেই শব্দগুলোই প্রচলিত হয় যেগুলোর ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ ঐকমত্য পোষণ করেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قبولها واسْتحْسَانِها، لأداءِ المعاني الَّتِي يُعبَّرُ بها عَنْهَا، مع ملاحظة الشُّعورِ بالتَّلاؤْم بينَ اللَّفظِ والمعنى في كثيرٍ من الكلمات، في المجتمع البشري الذي درجَتْ على ألسنة أفرادِه.وتُعْزَلُ في الغالب ِ الكلماتُ القاسية الصعبة، والكلماتُ المستقبحة المستغلظة، والتي تتقزّزُ مِنْها النفوس، إِلَاّ ما كانَ منها مقصوداً لِبَيَانِ قُبْحِ المعنَى، أو ما كان منها مقصوداً للشتائم، ونحو ذلك.ويَنتَقِي أصحابُ الأَذواقِ الرَّفيعَة منَ الكلمات أَلْيَنها في النُّطْقِ، وأحْلاها في الأسماع، أوْ أوفَقَهَا وأكْثَرها مُلاءَمَةً للمعاني الّتي تدلُّ عَلَيْهَا، ويخُصُّونَ بها أقوالهم ذوات الشأن، من خُطَبِ، ورسائل، ومقالات، وشِعْر، وقصّة وغير ذلك من موضوعات الكلام المحرّر المنتقى، الذي صار يُسَمَّى فيما بَعْدُ "أدباً" لأنَّه في الكلام يُشْبهُ أدبَ السلوك في الأعمال.وتظلُّ كلماتٌ مستقبحاتٌ شائعاتٌ، لدى من لهم هوىً في أن يستخدموا ألفاظاً قاسيةً خشنةً، تنفرُ منها الأسماع، إذْ يرَوْنَهَا نافعةً لهم في إزعاج الآخرين بها، أو لفت أنْظارِ الناس إليهم عن طريقها، كما يفعلون مثل ذلك في ألبستِهِمْ، وما يحملون من أسلحةٍ مستهجنة، وما يمارسون من حَرَكاتٍ وأعمال، إلى غير ذلك من أُمُورٍ يبتَعِدُ عَنْها الْمتأَدِّبُونَ من الناسِ بالآداب الحسنة، وذوو الأذواق الرفيعة، والسلوك الجميل الفاضِلِ بيْنَ الناس.وقد تتدخَّلُ عوامل أخرى في بقاء كلماتٍ صعبةٍ ثقيلةٍ في النُّطْقِ ضمْن الكلام الدارج المستعمل في اللّغة، وهذه العوامل يصْعُبُ تحديدها، وتبقَى هذهِ الكلماتُ حَيَّةً في الاستعمال بحُكْمِ الإِلْفِ والتقليدِ والمحافظة على المواريثِ اللُّغَويّة.ومن هذهِ العوامل تفاخُرُ الأُمَّةِ بقُدْرَةِ ألْسنَتِها على الانفرادِ بالنطق ببعض الحروف أو الكلمات، ومنها المحافظةُ على إحْدَى الصفاتِ القوميَّةِ للأُمَّة.
সেগুলোর গ্রহণ ও পছন্দনীয়তা, যার মাধ্যমে অর্থগুলো প্রকাশ করা হয়। সেই সঙ্গে অনেক শব্দের ক্ষেত্রে শব্দ ও অর্থের মধ্যে সামঞ্জস্য অনুধাবনের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়, যা মানব সমাজের ব্যক্তিদের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে এসেছে।সাধারণত কর্কশ ও কঠিন শব্দাবলি এবং কদর্য ও স্থূল শব্দসমূহ বর্জন করা হয়, যা থেকে মানুষের মন স্বভাবগতভাবেই দূরে থাকতে চায়; তবে যদি কোনো কুৎসিত অর্থ প্রকাশের উদ্দেশ্য থাকে অথবা গালিগালাজ বা এই জাতীয় কোনো বিষয়ের সংকল্প থাকে, তবে ভিন্ন কথা।রুচিশীল ব্যক্তিগণ উচ্চারণে অধিকতর সহজ, শ্রবণে অধিকতর শ্রুতিমধুর কিংবা অর্থের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দগুলো নির্বাচন করেন। তাঁরা তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যসমূহ যেমন—খুতবা, পত্রাবলি, প্রবন্ধ, কবিতা, গল্প ও পরিমার্জিত ও নির্বাচিত অন্যান্য বিষয়ের জন্য এই শব্দগুলো নির্দিষ্ট করে নেন। এই ধরনের পরিশীলিত কথাকেই পরবর্তীতে ‘আদব’ বা সাহিত্য হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে; কারণ কথা বা বাচনের ক্ষেত্রে এটি কর্মের শিষ্টাচারের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।কিছু কুৎসিত ও কদর্য শব্দ সেই সব লোকের কাছে প্রচলিত থেকে যায়, যাদের কর্কশ ও রুক্ষ শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে, যা শ্রবণে মানুষ বিমুখ হয়। কারণ তারা মনে করে যে, এগুলো অন্যদের বিরক্ত করতে অথবা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সহায়ক হবে। যেমনটি তারা তাদের পোশাক-আশাক, আপত্তিকর অস্ত্রশস্ত্র বহন এবং বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও কাজের মাধ্যমে করে থাকে। উন্নত শিষ্টাচারসম্পন্ন, মার্জিত রুচিবোধের অধিকারী এবং মানুষের মাঝে সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ আচরণের অনুসারী ব্যক্তিরা এই জাতীয় বিষয় থেকে দূরে থাকেন।ভাষায় প্রচলিত ও ব্যবহৃত কথাবার্তার মধ্যে উচ্চারণে কঠিন ও ভারী শব্দসমূহ টিকে থাকার পেছনে অন্য কিছু কারণও কাজ করতে পারে। এই কারণগুলো সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। অভ্যস্ততা, অনুকরণ এবং ভাষাগত ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদে এই শব্দগুলো ব্যবহারের মাঝে টিকে থাকে।এই কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো—কোনো জাতি তাদের রসনার সক্ষমতার ওপর গর্ব করে যে, তারা নির্দিষ্ট কিছু বর্ণ বা শব্দের স্বতন্ত্র উচ্চারণে সক্ষম। আরেকটি কারণ হলো জাতির জাতীয় বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্য হতে কোনো একটি বৈশিষ্ট্যকে অক্ষুণ্ণ রাখা।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وتَظَلُّ كلماتٌ يسْهُلُ نُطْقُها على النّاس بالتداولِ في تَعاملاتِهمُ اليوميّة، ولو لم تكُنْ راقيةَ النغمات في تركيب حروفها، ولا عذْبةً في الأَسماع، ولكنْ بقيتْ في التداوُلِ بتأثير العادة، والحاجة إلى تداوُلها اليوميّ في تَعَامُلاتِ النّاس.وهذه الكلماتُ يبتَعِدُ عَنْها أدباءُ الْقَومِ وشُعَراؤُهم وخُطباؤهم وكُتَّابُهم لدى إنشاء كلامهم المجوّدِ الْمُحَسَّنِ الذي يحرصُونَ على أنْ يكون له شأنٌ بينهم.فظهر بسبب ذلك صنف من الكلمات ضِمْنَ اللُّغَةِ الواحدة، يوصَفُ بأنّه فصيحٌ، وصنْفٌ آخَرُ يوصَفُ بأنَّهُ غيرُ فصِيح.ثُمَّ لدى تركيب الكلمات في الْجُمَلِ التي تدلُّ على المعاني الَّتِي يرادُ تعريفُ المخاطبين بها، قد ينشَأُ من التركيب قساوةٌ أو صعوبةٌ في النُّطقِ، أو استقباح واستغلاظٌ ونُفْرَةٌ منْهُ في الأسماع، فلا يكون الكلام في هيئته التركيبيَّةِ فصيحاً، على الرغم من فصاحة مفرداته قبل اجتماعها في هذه الهيئةِ التركيبيَّةِ الخاصّة.فظهر بسبب ذلك ما يُسَمَّى به الكلامُ المركّبُ فصِيحاً أَوْ غَيْرَ فصيح.لذلك نلاحظ أنَّ من يختار لكلامه مفرداتٍ فصحيةً، وينظمها في كلامه نظماً ملائماً فصيحاً، مع التزامه بضوابط قواعد اللّغة وأحكام أهل اللّسان النحويَّةِ والصرفية، فإنَّه يصِحُّ أنْ يُسَمَّى ناطقاً فصيحاً.فصارت الفصاحة بهذا التحليل وصفاً للكلمة، وللكلامِ، وللمتكلّم.* فيقال: كلمة فصيحة، ويُقَابلها: كلمة غير فصيحة.* ويقال: كلامٌ فَصيحٌ، ويُقابله كلامٌ غيْرُ فصيح.* ويقال: متكلّمٌ فصيح، ويُقابله: متكلّم غير فصيح.وتختلف الأمم في أوضاعها اللغويّة، وفي أساليب كلامها، وتعبيراتها، وفي أذواقها، ومَا يلين من الكلمات والحروف في ألسنتها، وما يصُعُب ولا يلين عليها،
মানুষের প্রাত্যহিক লেনদেনে ব্যবহারের ফলে এমন কিছু শব্দ থেকে যায় যা উচ্চারণ করা সহজ, যদিও সেগুলোর বর্ণবিন্যাসে কোনো উচ্চাঙ্গের সুর নেই কিংবা তা শ্রুতিমধুর নয়। তবে অভ্যাস এবং প্রাত্যহিক প্রয়োজনে মানুষের পারস্পরিক লেনদেনে ব্যবহারের প্রভাবে শব্দগুলো প্রচলিত থেকে যায়।কোনো জাতির সাহিত্যিক, কবি, বাগ্মী এবং লেখকরা তাদের পরিমার্জিত ও উন্নত বক্তব্য তৈরির সময় এই শব্দগুলো পরিহার করেন, যা তারা নিজেদের মধ্যে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন করতে সচেষ্ট থাকেন।এর ফলে একই ভাষার অভ্যন্তরে শব্দের এক প্রকার শ্রেণি প্রকাশ পায় যাকে 'ফাসীহ' (প্রাঞ্জল) হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং অন্য প্রকারকে 'গাইরে ফাসীহ' (অপ্রাঞ্জল) হিসেবে অভিহিত করা হয়।অতঃপর শ্রোতাদের উদ্দিষ্ট অর্থ বুঝানোর জন্য শব্দগুলোকে যখন বাক্যে বিন্যস্ত করা হয়, তখন সেই বিন্যাস থেকে উচ্চারণে কঠোরতা বা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, অথবা শ্রবণে কুৎসিত, কর্কশ বা বিরক্তিকর মনে হতে পারে। ফলে সেই বাক্যটি তার গাঠনিক রূপে প্রাঞ্জল হয় না, যদিও সেই বিশেষ গাঠনিক বিন্যাসে একত্রিত হওয়ার আগে তার একক শব্দগুলো প্রাঞ্জলই ছিল।এর ফলে যৌগিক বাক্য 'ফাসীহ' বা 'গাইরে ফাসীহ' নামে অভিহিত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পায়।এজন্য আমরা লক্ষ্য করি যে, যে ব্যক্তি তার বক্তব্যের জন্য প্রাঞ্জল শব্দাবলি চয়ন করেন এবং সেগুলোকে তার বাক্যে উপযুক্ত ও প্রাঞ্জল বিন্যাসে সাজান, পাশাপাশি ভাষার ব্যাকরণগত নিয়ম এবং ভাষাবিদদের নাহু ও সরফ সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলেন, তাকে 'ফাসীহ' বা প্রাঞ্জল বক্তা হিসেবে অভিহিত করা সঠিক হবে।সুতরাং এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে ফাসাহাত বা প্রাঞ্জলতা—শব্দ, বাক্য এবং বক্তার একটি বিশেষণে পরিণত হলো।* তাই বলা হয়: ফাসীহ শব্দ, এবং এর বিপরীতে: গাইরে ফাসীহ শব্দ।* এবং বলা হয়: ফাসীহ বাক্য, এবং এর বিপরীতে: গাইরে ফাসীহ বাক্য।* এবং বলা হয়: ফাসীহ বক্তা, এবং এর বিপরীতে: গাইরে ফাসীহ বক্তা।বিভিন্ন জাতি তাদের ভাষাগত কাঠামো, কথা বলার শৈলী, প্রকাশভঙ্গি, রুচি এবং তাদের জিহ্বায় কোন শব্দ ও বর্ণগুলো সহজ আর কোনগুলো কঠিন ও শ্রমসাধ্য—এসব ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وما هو مستنكر مستهجَنٌ في أسماعها، وما هو مألوفٌ محبَّبٌ أو مقْبولٌ لديها، وهذه ظواهر فطرة الله للناس، كما قال الله عز وجل في سورة (الروم/30 المصحف/84 نزول) :{وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السماوات والأرض واختلاف أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ إِنَّ فِي ذلك لآيَاتٍ لِّلْعَالَمِينَ} [الآية: 22] .***أمّا دلالات الألفاظ على المعاني المرادة، فتتعرّض لأحوال:(1) إمَّا أنْ تكون قاصرة الدلالة غير وافية بتأدية المعنى المراد.(2) وإمَّا أن تكون وافية الدلالة بشرط وجود مُسَاعِدٍ لها من عبقريّة المتلقّي أو ذكائه المتفوّق، فإن لم يكن المتلقّي كذلك كانتِ الدلالة قاصرةً بالنسبة إليه.(3) وإمَّا أنْ تكون وافية الدلالة لدى الإِنسان المتوسّط الذّكاء. فإن كان المتلقي دون ذلك كانت الدلالة قاصرةً بالنسبة إليه، وإنْ كان المتلقّي فوق ذلك رأى فيه زيادةً مُمِلَّة.(4) وإمَّا أن تكون وافية الدلالة لدى الإِنسان الذي هو دون متوسّط الذكاء. فإنْ كان المتلقّي فوق ذلك كان الكلام بالنسبة إليه مُمِلاًّ مطوّلاً، ولا سيما بالنسبة إلى متفوّق الذكاء.(5) وتتعرَّض أيضاً دلالاتُ الألفاظ على المعاني المرادة لأحْوالٍ أخرى، في الموضوعات التي يُراد توصيلُ مضامينها إلى المتلقي، أو إقناعه بها، إلى ما يقتضي البسط، أو التوسُّطَ بين الْبَسْطِ والإِيجاز، أو الإِيجاز.أو يقضتي الابتعاد عن التوجيه المباشر، بدرجةٍ أو أكْثَرَ بِحَسَبِ ذكاء المخاطَبِ أو المتلَقِّي، فَيُبْلِغُ إليه المعاني الَّتِي يريدُ تعريفَهُ بها إبلاغاً حسناً.
কোনটি তাদের শ্রবণে নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য এবং কোনটি তাদের কাছে পরিচিত, প্রিয় বা গ্রহণযোগ্য; এগুলো মানুষের জন্য আল্লাহর ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। যেমন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল সূরা আর-রূমে (৩০/মাসহাফ: ৮৪ নাজিল) বলেছেন:“আর তাঁর নিদর্শনাদির মধ্যে রয়েছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।” [আয়াত: ২২]।***আর কাঙ্ক্ষিত অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশক হওয়ার বিষয়টি কয়েকটি অবস্থার সম্মুখীন হয়:(১) হয়তো তা নির্দেশনার ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ হবে, যা কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রকাশে পর্যাপ্ত নয়।(২) অথবা তা নির্দেশনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত হবে এই শর্তে যে, গ্রাহকের অনন্য মেধা বা তার প্রখর বুদ্ধি তাকে সহায়তা করবে। যদি গ্রাহক এমন না হয়, তবে নির্দেশকটি তার কাছে অসম্পূর্ণ হিসেবে গণ্য হবে।(৩) অথবা তা মধ্যম বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে পর্যাপ্ত নির্দেশক হবে। যদি গ্রাহক তার চেয়ে কম বুদ্ধিসম্পন্ন হয় তবে তার জন্য তা অসম্পূর্ণ হবে, আর যদি গ্রাহক তার চেয়ে বেশি বুদ্ধিসম্পন্ন হয় তবে সে এতে বিরক্তিকর বাহুল্য দেখতে পাবে।(৪) অথবা তা এমন মানুষের জন্য পর্যাপ্ত হবে যে গড়পড়তা বুদ্ধির চেয়ে কম বুদ্ধিসম্পন্ন। যদি গ্রাহক তার চেয়ে বেশি বুদ্ধিসম্পন্ন হয়, তবে কথাটি তার কাছে বিরক্তিকর দীর্ঘ মনে হবে, বিশেষ করে প্রখর বুদ্ধিসম্পন্নদের ক্ষেত্রে।(৫) কাঙ্ক্ষিত অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশক হওয়ার বিষয়টি অন্যান্য অবস্থারও সম্মুখীন হয়। যেসব বিষয়ের মর্মার্থ গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো বা তাকে সে বিষয়ে আশ্বস্ত করার ইচ্ছা করা হয়, সেখানে বিষয়বস্তু কখনও বিস্তারিত বর্ণনা, কখনও বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্তের মাঝামাঝি অবস্থা, আবার কখনও সংক্ষিপ্তকরণের দাবি রাখে।অথবা সম্বোধিত ব্যক্তি বা গ্রাহকের বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী এক বা একাধিক মাত্রায় সরাসরি দিকনির্দেশনা থেকে দূরে থাকাকে আবশ্যক করে; ফলে তাকে সেই অর্থগুলো উত্তমভাবে পৌঁছে দেওয়া হয় যা তাকে অবগত করানোর ইচ্ছা করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فما يطابق حالَ المخاطب أو المتلقّي من الكلام مع فصاحة مفرادته، وفصاحة جُمَلِهِ المركَّبةِ هو الكلام البليغ.والمتكلّم الذي يكون كلامه من هذا القبيل يقال له: متكلّمٌ بليغ.ويرتقي الكلام البليغ بأساليبه في سُلَّمٍ ذي درجات متفاوتاتٍ فيكونُ بعضُه أبلغ من بعض، ضمْنَ الطبقة التي هو منها، والملائمة للْمُتَلَقِّي الذي يُراد إبلاغ المعاني المراد توصيلها إليه، مزيَّنةً بزيناتها التي تُعْجبُهُ وتُمْتِعُه، وتَهُزُّ مَشَاعِرَه، وتَسْتَأْثِرُ بجوانِب فكرِهِ ونفسه من الداخِلِ والخارجِ.فيختلف الإِعجابُ بالكلام من كلامٍ بليغٍ إلى كلامٍ بليغٍ آخَرَ، بحَسَبِ نِسْبَهِ ما فيه من مرضياتٍ للفكر والمشاعِرِ والأحاسيس.وهنا تبرز بلاغةُ الكلام، ومستوياتُ درجات هذه البلاغَةِ صعوداً ونزولاً.ولا يكون الكلامُ بليغاً في اللِّسَانِ العربيّ لدى علماء البلاغة، ما لم يكن مع تأثيره في المخاطب بِهِ تأثيراً بالغاً، كلاماً فصيحاً في مفرداته وجمله.*** (3) أسس البلاغة العالية والأدب الرفيع وشرحها في ثلاثة فصول باستطاعة الباحث المتفكر اكتشاف أنّ مقادير الارتقاء في درجات سلّم البلاغة العالية والأدب الرفيع في اللّسان العربي تعتمد على نصيب الكلام من عناصر الأسس الثلاثة التالية:الأساس الأول: الجمالُ المؤثر في النفس الإِنسانية، المفطورة على الميل إلى الأشياء الجميلة، وحُبّها، والارتياح لها، والتأثّر بها، والانفعال السّارّ بمؤثراتها.
শব্দাবলির প্রাঞ্জলতা এবং বাক্যগুলোর গাঠনিক প্রাঞ্জলতার সাথে কথার যা কিছু সম্বোধিত ব্যক্তি বা শ্রোতার অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাই হলো অলঙ্কারপূর্ণ কথা।আর যে বক্তার কথা এই পর্যায়ের হয়, তাকে অলঙ্কারবিদ বক্তা বলা হয়।অলঙ্কারপূর্ণ কথা তার বিভিন্ন শৈলী বা বাচনভঙ্গির মাধ্যমে একটি সোপানের ন্যায় বিভিন্ন স্তরে আরোহণ করে, ফলে একই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরেও কোনো কথা অন্য কথার চেয়ে অধিকতর অলঙ্কারপূর্ণ হয়ে থাকে। এটি সেই শ্রোতার উপযোগী হয় যার নিকট উদ্দীষ্ট অর্থসমূহ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য থাকে। এই কথা এমন সব সৌন্দর্যে সুশোভিত থাকে যা শ্রোতাকে মুগ্ধ ও আনন্দিত করে, তার অনুভূতিকে আলোড়িত করে এবং তার চিন্তা ও সত্তার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দিকগুলোকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।ফলে কথার প্রতি মুগ্ধতা এক অলঙ্কারপূর্ণ কথা থেকে অন্য অলঙ্কারপূর্ণ কথায় ভিন্ন হয়, তাতে বিদ্যমান চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির পরিতৃপ্তির মাত্রার অনুপাতে।এখানেই কথার অলঙ্কারিতা এবং এই অলঙ্কারিতার চড়াই-উতরাইয়ের বিভিন্ন স্তর সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণের মতে আরবি ভাষায় কোনো কথা ততক্ষণ পর্যন্ত অলঙ্কারপূর্ণ বলে গণ্য হবে না, যতক্ষণ না তা শ্রোতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলার সাথে সাথে তার শব্দ ও বাক্যগঠনে প্রাঞ্জল না হয়।*** (৩) উচ্চতর অলঙ্কারশাস্ত্র ও উচ্চাঙ্গ সাহিত্যের ভিত্তি এবং তিনটি পরিচ্ছেদে তার ব্যাখ্যা একজন চিন্তাশীল গবেষকের পক্ষে এটি উদঘাটন করা সম্ভব যে, আরবি ভাষায় উচ্চতর অলঙ্কারশাস্ত্র ও উচ্চাঙ্গ সাহিত্যের সোপানে আরোহণের মাত্রাগুলো মূলত নিচের তিনটি মৌলিক উপাদানে উক্ত কথার অংশের ওপর নির্ভর করে:প্রথম ভিত্তি: মানবাত্মায় প্রভাব বিস্তারকারী সৌন্দর্য; মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিই হলো সুন্দর জিনিসের প্রতি অনুরাগী হওয়া, তা ভালোবাসা, তাতে প্রশান্তি লাভ করা, তার দ্বারা প্রভাবিত হওয়া এবং তার প্রভাবে আনন্দদায়ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الأساس الثاني: كون الكلام في مفرداته وجُمَلِهِ فصيحاً وفْقَ ضوابط وقواعد ومنهج اللّسان العربي، ولا يخلو هذا الأساس من مؤثرات جماليّة أيضاً.الأساس الثالث: كون الكلام بليغاً، أي: مطابقاً لمقتضَى حال المخاطب به فرداً كان أو جماعة، وبالغاً التأثير المرجوَّ في نفسه، ولا يخلو هذا أيضاً من مؤثراتٍ جمالية.ولشرح هذه الأسس الثلاثة يتطلَّبُ الْبَحْثُ المتأنيِّ عقْدَ ثلاثةَ فصول:الفصل الأول: الجمال في الكلام.الفصل الثاني: الفصاحة.الفصل الثالث: البلاغة.***
দ্বিতীয় ভিত্তি: শব্দাবলি ও বাক্যের ক্ষেত্রে কথাটি আরবি ভাষার মানদণ্ড, নিয়মাবলি ও পদ্ধতির আলোকে সাবলীল ও প্রাঞ্জল হওয়া; আর এই ভিত্তিটিও নান্দনিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।তৃতীয় ভিত্তি: কথাটি বাগ্মিতাপূর্ণ হওয়া, অর্থাৎ: সম্বোধিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অবস্থার চাহিদার সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া এবং তার মনে কাঙ্ক্ষিত প্রভাব সৃষ্টি করা; এটিও নান্দনিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।আর এই তিনটি ভিত্তির ব্যাখ্যা করার জন্য নিবিড় গবেষণার আলোকে তিনটি অধ্যায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন:প্রথম অধ্যায়: কথায় সৌন্দর্য।দ্বিতীয় অধ্যায়: ভাষার সাবলীলতা ও প্রাঞ্জলতা।তৃতীয় অধ্যায়: বাগ্মিতা।***
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
أسس البلاغة العالية والأدب الرفيع وشرحهاالفصل الأول: الجمال في الكلام (1) حبُّ الجمالحبُّ الجمال فطرةٌ في النفس الإِنسانية، فهي بقوة فطرية قاسرة تميل إليه، وتنجذب نحوه، وليس بمستطاع النفوس أنْ تغيِّر فطرها التي فطرها البارىء المصوِّر عليها.والجمال شيء يصعب تحديده، ولكن باستطاعة النفوس أنْ تحسّ به وتتذوّقه متى أدركته، وعندئذٍ تميل إليه وتَنْجَذِب نحوه، وتأنس به، وترتاح إليه، وتَسْعَدُ بالاستمتاع بلذّة إحساس المشاعر به ولو تخيُّلاً، ويتفاوت النّاس في قدراتهم على تذوُّق الجمال والإِحساس بدقائقه كشأن تفاوتهم في سائر قدراتهم المادّية والمعنوية: مثل القوى الجسمية، وقدرات الذكاء، وقوى الإِبصار والسمع والشمّ والذوق واللّمس.والجمال يكون في كل المجالات التي تدركها الحواس الظاهرة والباطنة،
উচ্চাঙ্গের অলঙ্কারশাস্ত্র ও উন্নত সাহিত্যের মূলভিত্তি এবং এর ব্যাখ্যাপ্রথম পরিচ্ছেদ: বাক্যে সৌন্দর্য (১) সৌন্দর্যের প্রতি ভালোবাসাসৌন্দর্যের প্রতি ভালোবাসা মানবাত্মার এক সহজাত প্রবৃত্তি। তাই আত্মা এক অমোঘ স্বাভাবিক শক্তির প্রভাবে এর দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। স্রষ্টা ও রূপদানকারী মহান আল্লাহ আত্মাসমূহকে যে স্বভাবের ওপর সৃষ্টি করেছেন, তা পরিবর্তন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।সৌন্দর্য এমন একটি বিষয় যার সংজ্ঞা নিরূপণ করা কঠিন; কিন্তু আত্মা যখনই তা উপলব্ধি করে, তখনই তা অনুভব করতে ও এর স্বাদ আস্বাদন করতে সক্ষম হয়। এমতাবস্থায় আত্মা এর প্রতি ঝুঁকে পড়ে, এর প্রতি আকৃষ্ট হয়, এর সাথে সখ্যতা লাভ করে, এতে প্রশান্তি পায় এবং এমনকি কল্পনার মাধ্যমে হলেও অনুভূতির স্তরে এর স্বাদ উপভোগ করে আনন্দিত হয়। সৌন্দর্য আস্বাদন এবং এর সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ অনুভবের ক্ষেত্রে মানুষের সক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে, ঠিক যেমন তাদের অন্যান্য বস্তুগত ও আত্মিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে পার্থক্য বিদ্যমান; যেমন—শারীরিক শক্তি, বুদ্ধিবৃত্তি এবং দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, স্বাদ ও স্পর্শেন্দ্রিয়ের ক্ষমতা।সৌন্দর্য এমন প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিদ্যমান যা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ইন্দ্রিয়সমূহ দ্বারা উপলব্ধি করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
حتى مجالات الأفكار، والتخيّلات، والوجدانيّات، والطباع، والأخلاق، وأنواع السلوك الإِرادي النفسي والظاهر.ففي ساحة المرئيات تشاهد الأبصار مرئيات جميلة تتفاوت فيما تحظى به من نسب الجمال تفاوتاً كبيراً، وتشاهد مرئيات قبيحة تتفاوت فيما لديها من نسب القبح تفاوتاً كبيراً وتشاهد وسطاً فاتراً لا يجذب بجمال، ولا ينفِّر بقبحٍ. وفي ساحة الأصوات يسمع السامعون أصواتاً جميلة تتفاوت فيما تحظى به من نسب الجمال تفاوتاً كبيراً، ويسمعون أصواتاً قبيحة تتفاوت فيما لديها من نسب القبح تفاوتاً كبيراً، وتسمع أصواتاً فاترة لا تجذب بجمال ولا تُنَفِّر بقبحٍ.ونظير ذلك في ساحة الروائح، وفي ساحة الطعوم، وفي ساحة الملموسات التي فيها ناعم وخشن، وصلب وليّن، وقاسٍ وَلَدْن، وحارٌّ وبارد.وفي المشاعر الوجدانيّة ندرك أنَّ لدينا مشاعر وجدانية جميلة لذيذة، كمشاعر الحبّ، ومشاعر الإحساس بفعل الخير، ومشاعر الأبُوَّة والأمومة، والشعور بطمأنينة القلب، وبالأمن. وندرك أنَّ لدينا مشاعر وجدانية قبيحة نتألّم بها، كالشعور بالذّلة والصّغَار، وكالحقد، والحسد، وكالشعور بالخوف والقلق. وندرك أنّ لدينا مشاعر وجدانيّة فاترة لا تُحدِث لذّة نفسية ولا تُحدِث ألماً، كمشاعر الانتماء إلى أسرة مغمورة ليس لها مجد يُحدث في النفس لذّة الافتخار، وليس لها فضائح وقبائح تُحْدِث في النّفس ألم الصَّغار.وفي الساحة الفكرية نُدرك أفكاراً جميلة حلوة، وأفكاراً قبيحة مرّة، وأفكاراً فاترة لا تُحْدِث انفعال استحسان ولا انفعال استقباح. إنّ الفكرة الذكيّة المبتكرة فكرة جميلة، وإنّ الفكرة الغبيّة المستنكرة فكرة قبيحة، وإنّ الفكرة العاديّة المكرّرة دون غرض فنِّي أدبي فكرة فاترة تمرُّ دون أنْ تثير أي انفعال، وكذلك الفكرة الغامضة التي لا يستطيع من تُعرض عليه أنْ يُدركها. ويمرُّ في أذهاننا شريط أفكار
এমনকি চিন্তা-চেতনা, কল্পনাপ্রসূত বিষয়াবলি, আবেগ-অনুভূতি, স্বভাব-প্রকৃতি, নৈতিকতা এবং মনস্তাত্ত্বিক ও প্রকাশ্য স্বেচ্ছাধীন আচরণের ক্ষেত্রসমূহ পর্যন্ত।সুতরাং দৃশ্যমান বিষয়াবলির ক্ষেত্রে দৃষ্টিসমূহ এমন সুন্দর দৃশ্য দেখতে পায় যেগুলোর সৌন্দর্যের মাত্রার মধ্যে ব্যাপক তফাৎ রয়েছে। আবার এমন কুৎসিত দৃশ্যও দেখতে পায় যেগুলোর কুৎসিত হওয়ার মাত্রার মধ্যেও ব্যাপক তফাৎ রয়েছে। তদুপরি এমন এক মধ্যম স্তরের দৃশ্যও দেখতে পায় যা নিস্পৃহ, যা না সৌন্দর্যের দ্বারা আকর্ষণ করে, আর না কুৎসিত হওয়ার কারণে বিকর্ষণ করে।এবং শব্দের জগতে শ্রোতারা এমন সুন্দর শব্দ শুনতে পায় যেগুলোর সৌন্দর্যের মাত্রায় ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। তারা এমন কদর্য শব্দও শুনতে পায় যেগুলোর কদর্যতার মাত্রায়ও ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। এছাড়া তারা এমন নিস্পৃহ শব্দও শুনে থাকে যা সৌন্দর্যের দ্বারা আকর্ষণ করে না এবং কদর্যতার দ্বারা বিকর্ষণও করে না।অনুরূপ বিষয় সুগন্ধি, স্বাদ এবং স্পর্শযোগ্য বিষয়াবলির ক্ষেত্রেও বিদ্যমান, যার মধ্যে রয়েছে মসৃণ ও খসখসে, শক্ত ও নরম, কঠোর ও নমনীয় এবং গরম ও ঠান্ডা।এবং আন্তরিক অনুভূতিসমূহের ক্ষেত্রে আমরা উপলব্ধি করি যে, আমাদের মাঝে কিছু সুন্দর ও আনন্দদায়ক অনুভূতি রয়েছে, যেমন—ভালবাসার অনুভূতি, সৎকাজ করার অনুভূতি, পিতৃত্ব ও মাতৃত্বের অনুভূতি এবং হৃদয়ের প্রশান্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি। আমরা আরও উপলব্ধি করি যে, আমাদের মাঝে কিছু কদর্য অনুভূতি রয়েছে যা দ্বারা আমরা কষ্ট পাই, যেমন—লাঞ্ছনা ও তুচ্ছতার অনুভূতি, বিদ্বেষ, হিংসা এবং ভয় ও উদ্বেগের অনুভূতি। আমরা আরও উপলব্ধি করি যে, আমাদের মাঝে কিছু নিস্পৃহ অনুভূতি রয়েছে যা কোনো মানসিক আনন্দ দেয় না এবং কোনো কষ্টের উদ্রেকও করে না, যেমন—এমন এক অখ্যাত পরিবারের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অনুভূতি যার এমন কোনো গৌরব নেই যা মনে গর্বের আনন্দ দেয়, আবার যার এমন কোনো কেলেঙ্কারি বা মন্দ দিকও নেই যা মনে হীনম্মন্যতার যাতনা সৃষ্টি করে।এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে আমরা কিছু সুন্দর ও সুমিষ্ট চিন্তা, কিছু কুৎসিত ও তিক্ত চিন্তা এবং কিছু নিস্পৃহ চিন্তা উপলব্ধি করি যা পছন্দনীয় বা অপছন্দনীয় কোনো প্রতিক্রিয়াই সৃষ্টি করে না। নিশ্চয়ই বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ও উদ্ভাবনী চিন্তা হলো সুন্দর চিন্তা, আর নির্বুদ্ধিতাসম্পন্ন ও নিন্দনীয় চিন্তা হলো কুৎসিত চিন্তা। অন্যদিকে শৈল্পিক বা সাহিত্যিক উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে সাধারণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক চিন্তা হলো নিস্পৃহ চিন্তা, যা কোনো উদ্দীপনা সৃষ্টি না করেই অতিক্রান্ত হয়। ঠিক তেমনিভাবে অস্পষ্ট চিন্তা যা যার কাছে পেশ করা হয় সে তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় না। আর আমাদের মনে চিন্তার এক দৃশ্যপট অতিক্রান্ত হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
طويل فلا يُحدث فينا أيّ انفعال من لذّة أو ألم، إنّها أفكار فاترة، وربّ فكرة تمرّ فتثير إعجاباً وانفعالاً عظيماً نحوها، وقد تمرُّ فكرة فتتقزّز النفس منها وتصرفها بسرعة وتتجاوزها.وفي ساحة التخيّل تمرُّ أخيلة جميلة حلوة لذيذة، وتَمرُّ أخيلة قبيحة كريهة، وتمرُّ أخيلة في شريط طويل، فلا تُحدث أيّ انفعال.وفي ساحة التعبير البياني عن الأفكار والمطالب والتخيّلات والمشاعر النفسيّة والوجدانيّة تُوجَد تعبيرات بديعة جميلة جذّابة، تتملّك المشاعر، وتؤثِّر في القلوب، وتتفاوت فيما بينها بما تحظَى به من نِسَب الجمال تفاوتاً كبيراً. وتوجد تعبيرات قبيحةٌ منفِّرة، وهذه تتفاوت فيما بينها بما فيها من نِسَب القبح تفاوتاً كبيراً، وتُوجَد تعبيرات فاترة تمرُّ دون أنْ تُحدث في النفوس أيّ انفعال محبوب أو مكروه.***(2) مجالات الجمالمن المعلوم لدى ذواقي الجمال أنّ الزينة من الجمال، وأنَّ كثيراً من المقاصد والمطالب إذا قُدِّمت إلينا مغلّفة بزيناتها أو مقرونة بزيناتِها كنّا أكثر قبولاً لها، وانسجاماً معها، لأنَّ جمال الزينة قد جذبنا إليها، وأقنع عواطفنا وانفعالاتنا بقبولها، ولنحظَى بلذّة الاستمتاع بالجمال، فتتحقّق من وراء ذلك المقاصد الأساسيّة والمطالب.وهذه الحقيقة تشمل الأفكار، فإذا قُدّمت بعض الأفكار المقصودة وما اشتملت عليه من مطالبِ اعتقادٍ أو عمل ممتزجةً أو مقرونة بزينات جميلة فكرية أو لفظية كانت النفوس أكثر انجذاباً إليها، وقبولاً لها، ثمّ تمسكاً بها أو عملاً بما طلب فيها.
এটি দীর্ঘ, তাই এটি আমাদের মধ্যে আনন্দ বা বেদনার কোনো আবেগ সৃষ্টি করে না। এগুলো নিস্তেজ চিন্তাভাবনা; কখনও কোনো চিন্তা অতিক্রান্ত হওয়ার সময় সেটির প্রতি গভীর বিস্ময় ও আবেগ জাগ্রত করে, আবার কখনও এমন কোনো চিন্তা আসে যা থেকে আত্মা সংকুচিত হয় এবং দ্রুত তা সরিয়ে দেয় ও অতিক্রম করে যায়।কল্পনার জগতে কিছু সুন্দর, মিষ্টি ও মনোরম কল্পনা অতিক্রান্ত হয়, আবার কিছু কুৎসিত ও ঘৃণ্য কল্পনাও আসে। আবার দীর্ঘ ধারায় এমন কিছু কল্পনাও আসে যা কোনো আবেগ সৃষ্টি করে না।চিন্তা, উদ্দেশ্য, কল্পনা এবং মানসিক ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির আলঙ্কারিক অভিব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন কিছু চমৎকার, সুন্দর ও আকর্ষণীয় প্রকাশভঙ্গি রয়েছে যা আবেগকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং হৃদয়ে প্রভাব বিস্তার করে। সৌন্দর্যের মাত্রার ভিত্তিতে এগুলোর মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। আবার কিছু কুৎসিত ও বিকর্ষণকারী প্রকাশভঙ্গিও রয়েছে, যেগুলোর কুৎসিত হওয়ার মাত্রার মধ্যেও বড় ধরনের তারতম্য বিদ্যমান। এছাড়া কিছু নিস্তেজ প্রকাশভঙ্গিও আছে যা মনে কোনো প্রিয় বা অপ্রিয় আবেগ সৃষ্টি না করেই পার হয়ে যায়।***(২) সৌন্দর্যের ক্ষেত্রসমূহসৌন্দর্যবোদ্ধাদের কাছে এটি সুপরিচিত যে, অলঙ্করণ সৌন্দর্যেরই অন্তর্ভুক্ত। অনেক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যখন আমাদের সামনে তার সাজসজ্জায় আবৃত হয়ে বা অলঙ্করণসহ উপস্থাপিত হয়, তখন আমরা সেগুলো গ্রহণ করতে এবং সেগুলোর সাথে একাত্ম হতে বেশি আগ্রহী হই। কারণ অলঙ্করণের সৌন্দর্য আমাদের সেদিকে আকৃষ্ট করে এবং আমাদের আবেগ ও অনুভূতিকে তা গ্রহণে প্ররোচিত করে। এতে আমরা সৌন্দর্য উপভোগের স্বাদ লাভ করি এবং এর মাধ্যমেই মৌলিক উদ্দেশ্য ও দাবিগুলো বাস্তবায়িত হয়।এই সত্যটি চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সুতরাং যখন নির্দিষ্ট কোনো চিন্তা এবং তার অন্তর্ভুক্ত বিশ্বাসগত বা কর্মগত দাবিগুলো বুদ্ধিদীপ্ত বা ভাষাগত সুন্দর অলঙ্করণের সাথে মিশ্রিত বা যুক্ত হয়ে উপস্থাপিত হয়, তখন আত্মা সেগুলোর প্রতি অধিক আকৃষ্ট হয়, সহজে গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে সেগুলো দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে কিংবা তাতে যা চাওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী আমল করে।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إنَّ شأن الأفكار كشأن المآكل والمشارب والأدوية، وسائر المطالب والحاجات، فمنها ما هو حلو بطبعه، ومنها ما هو حامض، ومنها ما هو مرّ، ومنها ما هو ليّن، ومنها ما هو قاس، ومنها ما هو ناعم، ومنها ما هو خشن، ومنها ما هو مُهَوِّع مثيرٌ للغثيان، ومنها ما هو محرّك للشهوة مثير لِلُّعاب.حتى الطيِّبات من المآكل والمشارب وغيرها يزيدها حسناً وجمالاً وتطريةً وتحريكاً لشهوات النفوس نَحْوَها إذا قُدّمت في أطباق جميلة نفيسة، وعلى مائدة جميلة أنيقة، وفي أيدٍ نظيفة رشيقة حلوة لِخَدَم مكتملي الأناقة حِسَان، وفي مكان منظّم مليء بالأشياء الحسَنة الجميلة، من منظور ومسموع ومشموم وملموس ونحو ذلك.فالفكرة المرّة قد تحتاج غلافاً حلواً جميلاً يزيِّنها حتى يبتلعها مَنْ توجّه له.والفكرة الشديدة الحموضة قد تحتاج مخالطاً يعدِّل حموضتها حتى يستسيغها من توجّه له.والفكرة القاسية بطبعها قد تحتاج أسلوباً يليِّنها ويعدِّل قساوتها.والفكرة الخشنة بطبعها قد تحتاج أسلوباً ناعماً يغلِّفها ويهوِّن ابتلاعها.وكما أنَّ الحسِّيّات الجسدية يحتاج كثير منها إلى ما يجمّله ويحسِّنه ويزيِّنه للنفوس حتى تستسيغه، كذلك الأفكار التي نريد تقديمها إلى الآخرين قد يحتاج كثير منها إلى ما يجمِّله ويحسِّنه ويزيِّنه للنفوس حتى تستسيغه، وهذا التجميل والتزيين والتحسين هو من عناصر الأدب الرفيع لا محالة.ولكنْ ليس من الضروري لكلّ فكرة مقصودة بالذّات أنْ تُصنَع لها مزِّينات جماليّة لا يكون الكلام ذا أدب رفيع إلَاّ بها. فكثير من الأفكار جمالُها ذاتِيّ، وإذا قُدِّمت مجرّدة من كل الزينات والأصباغ والألوان في أحوال ملائمة لهذا التقديم كانت أرفع أدباً، وكانت النفوس أكثر تقبُّلاً واستساغةً لها، فهي تزدردها او ترتشفها بشهوة بالغة.
চিন্তাধারার বিষয়টি খাদ্যদ্রব্য, পানীয়, ঔষধ এবং অন্যান্য সকল চাহিদা ও প্রয়োজনের অনুরূপ। সেগুলোর মধ্যে কোনটি প্রাকৃতিকভাবেই মিষ্টি, কোনটি টক, কোনটি তিক্ত, কোনটি নরম, কোনটি শক্ত, কোনটি মসৃণ, কোনটি রুক্ষ, কোনটি বমনোদ্রেককারী এবং কোনটি প্রবৃত্তি ও রুচি জাগ্রতকারী।এমনকি পবিত্র ও উৎকৃষ্ট পানাহার ইত্যাদি সামগ্রীগুলোর সৌন্দর্য, লাবণ্য এবং সেগুলোর প্রতি মনের আকাঙ্ক্ষা আরও বৃদ্ধি পায় যখন তা চমৎকার ও মূল্যবান পাত্রে, সুসজ্জিত দস্তরখানে এবং সুবিন্যস্ত ও সুদর্শন খাদেমদের দ্বারা এমন এক সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরিবেশন করা হয় যা দৃশ্যমান বস্তু, শ্রবণযোগ্য ধ্বনি, সুগন্ধ এবং স্পর্শের মতো যাবতীয় সৌন্দর্যমণ্ডিত উপকরণে পরিপূর্ণ থাকে।অতএব, তিক্ত চিন্তাধারার জন্য একটি মিষ্টি ও সুন্দর আবরণের প্রয়োজন হতে পারে যা একে সুশোভিত করবে, যেন উদ্দিষ্ট ব্যক্তি তা গ্রহণ করতে পারে।আবার অতিশয় অম্ল বা টক চিন্তাধারার জন্য এমন কিছু মিশ্রণের প্রয়োজন হতে পারে যা এর অম্লতাকে ভারসাম্যপূর্ণ করবে, যেন উদ্দিষ্ট ব্যক্তি তা সহজে গ্রহণ করতে পারে।স্বীয় প্রকৃতিতে কঠোর চিন্তাধারার জন্য এমন এক শৈলী প্রয়োজন হতে পারে যা একে কোমল করবে এবং এর কঠোরতাকে প্রশমিত করবে।আবার প্রকৃতিগতভাবে রুক্ষ চিন্তাধারার জন্য এমন এক মসৃণ শৈলী বা পদ্ধতির প্রয়োজন হতে পারে যা একে আবৃত করবে এবং তা গ্রহণ করা সহজতর করে তুলবে।যেভাবে বহু শারীরিক ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে মানুষের কাছে তা আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য শোভাবর্ধন ও সৌন্দর্যমণ্ডিতকরণের প্রয়োজন হয়, তেমনিভাবে অন্যদের কাছে আমরা যে সব চিন্তাধারা উপস্থাপন করতে চাই, সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রেও সৌন্দর্য ও শোভাবর্ধনের প্রয়োজন হতে পারে। আর এই সৌন্দর্যমণ্ডিতকরণ ও শোভাবর্ধন নিঃসন্দেহে উচ্চমার্গের সাহিত্যের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ।তবে প্রতিটি লক্ষ্যভুক্ত চিন্তার জন্যই এমন কৃত্রিম আলঙ্কারিক সৌন্দর্য সৃষ্টি করা অপরিহার্য নয় যে, তা ব্যতীত বক্তব্যটি উচ্চমার্গের সাহিত্য হবে না। কেননা অনেক চিন্তার সৌন্দর্য তার স্বকীয়তাতেই বিদ্যমান। আর যদি সেই চিন্তাধারাগুলোকে উপযুক্ত পরিবেশে সব ধরনের সাজসজ্জা ও রঙ ব্যতিরেকে নিরাভরণ অবস্থায় উপস্থাপন করা হয়, তবে তা সাহিত্যের বিচারে অধিকতর উচ্চমানসম্পন্ন হয় এবং মানুষের মন তা অধিকতর গ্রহণ ও আস্বাদন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে; ফলে তারা তা অত্যন্ত আকাঙ্ক্ষার সাথে গ্রহণ করে বা পান করে।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وهذا نظير تقديم سيِّد المائدة العظيم لضيفه العزيز قطعة مقشّرة من الفاكهة، أو قطعة منتقاة من أطيب اللحم، مجرّدة من أيَّة زينات موافقة أو مغلّفة لها.وقد يكون من رفيع الأدب تقديم الفكرة المرّة من غير تغليف ولا تحلية لتقديمها لمن يحسن إذاقته مرارتها، كأنْ يكون عدوّاً مجاهراً بعداوته مواجهاً بشتائمه، وفي بعض الحالات التربويّة نلاحظ أنّه كما يحسن الضرب يحسن ما هو نظيره من الكلام.***(3) حول تعريف الجمالوالجمال في الوجود مع إدراك النّاس له وإحساسهم بكثير من صوره، دقيق العناصر متشابكها فهو شيء يصعب جدّاً تحديده، ويَصْعب قِياسُه، ولا تنحصر ألوانه.وبما أنّ الأدب لون من الجمال، فهو إذن تنطبق عليه قواعد الجمال العامّة.إنّ من الجمال أحياناً أنْ تتصنّع الحسناء، ومن الجمال أحياناً أنْ لا تتصنّع، بل أنْ تظهر على طبيعتها. ومن الجمال أحياناً أنْ تلبس الثياب الجميلة الساترة لكثير من مفاتن جسمها بطرائق خاصّة، ومِنَ الجمال أحياناً أنْ تلمح بعض مفاتن جسمها إلماحاً ثمّ تسترها، ومن الجمال أحياناً أنْ تتعرى على طبيعتها من غير ابتذال ثمّ تعود إلى سواترها.ومِنْ أبدَعِ صُوَرِ الجمال التنويع فيه والتنقلّ من لون إلى لون آخر منه، أمّا الثبات والتكرار للصورة الواحدة في كل الأوقات فهو مُمِلٌّ للنفوس مهما كانت هذه الصورة جميلة.
এটি অনেকটা দস্তরখানের মহান মেজবান কর্তৃক তাঁর প্রিয় মেহমানকে ফলের একটি খোসা ছাড়ানো অংশ, অথবা সর্বোত্তম গোশতের একটি বাছাইকৃত টুকরো পেশ করার মতো, যা কোনো অতিরিক্ত সজ্জা বা আবরণে আবৃত নয়।আবার কখনো কখনো কোনো তিক্ত ধারণা কোনো আবরণ বা মিষ্টতা ছাড়াই পেশ করা উচ্চাঙ্গের শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এমন ব্যক্তির কাছে, যাকে এর তিক্ততা আস্বাদন করানোই শ্রেয়; যেমন সে যদি এমন কোনো শত্রু হয় যে প্রকাশ্যে শত্রুতা পোষণ করে এবং গালিগালাজ করে। কিছু শিক্ষামূলক ক্ষেত্রে আমরা লক্ষ্য করি যে, যেভাবে প্রহার করা সমীচীন হয়, ঠিক তেমনি তার সমপর্যায়ের বাক্য প্রয়োগ করাও সমীচীন হয়।***(৩) সৌন্দর্যের সংজ্ঞা প্রসঙ্গেঅস্তিত্বের মাঝে বিদ্যমান সৌন্দর্য—যদিও মানুষ তা উপলব্ধি করে এবং এর বহু রূপ অনুভব করে—এর উপাদানগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও পরস্পরের সাথে জড়িত। তাই একে সংজ্ঞায়িত করা অত্যন্ত কঠিন, এর পরিমাপ করাও দুরূহ এবং এর বৈচিত্র্য সীমাহীন।যেহেতু সাহিত্য সৌন্দর্যেরই একটি রূপ, তাই সৌন্দর্যের সাধারণ নিয়মাবলী এর ওপরও প্রযোজ্য হয়।কখনো কখনো সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে রূপসীর কৃত্রিম সাজসজ্জার মাধ্যমে, আবার কখনো সৌন্দর্য নিহিত থাকে কোনো কৃত্রিমতা ছাড়াই নিজের স্বভাবজাত রূপে প্রকাশ পাওয়ার মাঝে। কখনো সৌন্দর্য হলো বিশেষ পন্থায় শরীরের লাবণ্য ঢেকে রাখা সুন্দর পোশাক পরিধান করা, কখনো সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটে শরীরের সৌন্দর্যের সামান্য আভাস দিয়ে পুনরায় তা ঢেকে রাখার মধ্যে, আবার কখনো সৌন্দর্য হলো অশালীনতামুক্ত থেকে স্বভাবজাত উন্মুক্ত অবস্থায় থাকা এবং এরপর পুনরায় আবরণে ফিরে আসা।সৌন্দর্যের অন্যতম চমৎকার রূপ হলো এতে বৈচিত্র্য আনয়ন এবং এক রূপ থেকে অন্য রূপে বিচরণ করা। পক্ষান্তরে, সব সময়ের জন্য একই রূপের ওপর স্থির থাকা এবং তার পুনরাবৃত্তি করা মানুষের মনের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সেই রূপটি যত সুন্দরই হোক না কেন।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
باستثناء تكرار المقاطع في بعض ألوان صُوَر الجمال، كشجرة الورد على رأس كل زاوية عند منعطف الطريق، أو على رأس كلّ مسافة، لتكون بمثابة الدلالة.وكذلك حال الأفكار وأساليب عرضها الأدبي، ومثل شجرة الورد المتكرّرة على رأس كل مسافة أو على الزوايا، آية: {فَبِأَيِّ آلاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ} [الآية: 13] في سورة الرحمن عروس القرآن. لكنّها صورة قدّمت لوناً من ألوان الجمال الأدبي ومثالاً من أمثلته، قلَّما يوجد في سائر القرآن نظير مطابق لها، بل فيه ألوان أخرى.ومع وجود قسم من الجمال لا يختلف اثنان في استحسانه، وقدر من القبح لا يختلف اثنان في استهجانه، فكم توجد أوساط مشتبهات تختلف فيها أذواق النّاس، وتختلف وجهات أنظارهم إليها.فما يستحسنه بعض النَّاس منها قد لا يراه غيرهم حسناً، وما يستقبحه بعض النّاس منها قد لا يراه غيرهم قبيحاً، وتتدخّل النظرات الذاتيّة الشخصية في قسم المشتبهات بشكل واسع، ويصعب فيها تحديد النظرة الموضوعية.ويخضع الأدب لهذا القانون العام.فقد يُرْضِي كلام ممدوحاً مغروراً بنفسه بحبّ المديح، فيراه أدباً رفيعاً مستحسناً، لكنّه في الوقت نفسه يُسْخِط حاسداً له، فيراه تزلّفاً تافهاً، وأسلوباً في المدح سخيفاً مستهجناً، ويسمعه فريق ثالث فلا يرى فيه ما يحرّك النفس بإعجاب ولا ما يحرِّك النَّفس بتقزّز واستجان.وقد تُرْضِي تعبيرات حبِّ معشوقة، فتراها أدباً رفيعاً مستحسناً، فتحفظها وترويها بإعجاب، لكن هذه التعبيرات قد أسخطت في الوقت نفسه أترابها، فرأينها تعبيرات سخيفةً مبتذلة. ثمّ يسمعها حياديّون فلا يرون فيها رأيَ المعشوقة المعجَبَة، ولا رأي أترابها الساخطات، بل يرون فيها أدباً عادّياً.
সৌন্দর্যের রূপের কিছু বৈচিত্র্যে অনুচ্ছেদগুলোর পুনরাবৃত্তি ছাড়া, যেমন রাস্তার মোড়ের প্রতিটি কোণে বা প্রতিটি নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা গোলাপ গাছ, যা দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে।তেমনিভাবে চিন্তাধারা এবং তা উপস্থাপনের সাহিত্যিক পদ্ধতির অবস্থাও একই। প্রতিটি দূরত্বে বা কোণে কোণে পুনরাবৃত্ত হওয়া গোলাপ গাছের মতোই হলো কুরআনের কনে হিসেবে পরিচিত সূরা আর-রহমানের এই আয়াতটি: "অতএব তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?" [আয়াত: ১৩]। তবে এটি এমন একটি চিত্র যা সাহিত্যিক সৌন্দর্যের একটি রূপ এবং এর উদাহরণগুলোর মধ্যে একটি পেশ করেছে, যা সমগ্র কুরআনে হুবহু আর কোথাও পাওয়া যায় না, বরং তাতে অন্যান্য বৈচিত্র্য রয়েছে।সৌন্দর্যের এমন একটি অংশ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও যার প্রশংসার ক্ষেত্রে দুইজন মানুষও দ্বিমত পোষণ করে না এবং কদর্যতার এমন এক মাত্রা থাকা সত্ত্বেও যার নিন্দার ক্ষেত্রে দুইজন মানুষও ভিন্ন মত রাখে না, তবুও কত এমন অস্পষ্ট ও মধ্যবর্তী বিষয় রয়েছে যেগুলোতে মানুষের রুচি ভিন্ন হয় এবং সেগুলোর প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পার্থক্য দেখা দেয়।সেগুলোর মধ্য থেকে যা কিছু কেউ কেউ পছন্দ করে, অন্যরা হয়তো তাকে সুন্দর হিসেবে দেখে না; আবার কেউ কেউ যা অপছন্দ করে, অন্যরা হয়তো তাকে কুৎসিত মনে করে না। এই অস্পষ্ট বা সন্দেহযুক্ত অংশে ব্যক্তিগত আত্মকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে প্রবেশ করে এবং এতে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।সাহিত্যও এই সাধারণ নিয়মের অনুগামী।প্রশংসাপ্রিয় কোনো আত্মমগ্ন প্রশংসিত ব্যক্তিকে কোনো কথা সন্তুষ্ট করতে পারে, তখন সে একে উচ্চাঙ্গের ও প্রশংসনীয় সাহিত্য মনে করে; কিন্তু একই সময়ে তা তার কোনো হিংসুক ব্যক্তিকে ক্ষুব্ধ করে, ফলে সে একে তুচ্ছ চাটুকারিতা এবং প্রশংসার একটি অসার ও নিন্দনীয় পদ্ধতি হিসেবে দেখে। আবার তৃতীয় এক পক্ষ তা শোনে, কিন্তু তারা তাতে এমন কিছু পায় না যা বিস্ময়ে আত্মাকে আলোড়িত করে, কিংবা যা ঘৃণা ও নিন্দায় মনকে নাড়া দেয়।আবার প্রেমের অভিব্যক্তি কোনো প্রেয়সীকে সন্তুষ্ট করতে পারে, ফলে সে একে চমৎকার ও উচ্চাঙ্গের সাহিত্য মনে করে এবং মুগ্ধতার সাথে তা মুখস্থ করে ও বর্ণনা করে; কিন্তু এই অভিব্যক্তিগুলোই একই সাথে তার সমবয়সীদের ক্ষুব্ধ করতে পারে, তারা একে অসার ও স্থূল অভিব্যক্তি হিসেবে দেখে। অতঃপর নিরপেক্ষ ব্যক্তিরা যখন তা শোনে, তখন তারা সেই মুগ্ধ প্রেয়সীর মতোও দেখে না, আবার সেই ক্ষুব্ধ সমবয়সীদের মতোও দেখে না; বরং তারা একে একটি সাধারণ মানের সাহিত্য হিসেবে বিবেচনা করে।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وهكذا تختلف وجهات أنظار النّاس إلى هذه الأوساط المشتبهات، التي لم يتمحّص فيها الجمال، ولمْ يتمحّض فيها القبح، وتتدخّل عوامل نفسيّة في الاستحسان، أو في عدم الاستحسان، وربّما تتدخّل عوامل أخرى تّتصل بمدى القدرة على الإِحساس بالجمال، أو بمَدَى الخبرة بفنونه وألوانه وأشكاله ونسبته، أو بمَدَى دقّة الملاحظة التي قد تَقَعُ على النّقص فتقف عنده، وتجسّمه حتى يملأ الساحة، أو تَقَعُ على لمحة جماليّة فتقف عندها مُعَجْبَةً وتعظّمها، ويتدخّل الوهم في مدّها حتى تملأ كل الساحة. وهكذا.***(4) عوامل اختلاف نظرات الناس إلى الجماللدى تحليل العوامل التي تجعل النّاس يختلفون في نظراتهم الجماليّة إلى الأشياء اختلافاً كبيراً، حتى إنَّ الشيء الواحد قد يستحسنه فريق، وقد يستقبحه فريق آخر، ويجعله فاتراً واقفاً على الحياد فريق ثالث، والمستحسنون له قد يتفاوتون في درجة استحسانه، والمستقبحون له قد يتفاوتون في درجة استقباحه. لدى هذا التحليل نلاحظ العوامل التالية:العامل الأول: التلاؤم أو عدم التلاؤم بين أجهزة الإِحساس في الإِنسان والأشياء التي يُدْرِكها ويُحِسّ بها.والأمزجة والأذواق البشريّة تختلف في هذا اختلافاً فطريّاً لا يُنْكَر، وبسبب هذا العامل قد تختلف أحكامهم في هذا المجال.العامل الثاني: تدخُّل أهواء أو مصالح شخصيّة مرافقة.وبسبب هذه الأهواء أو المصالح تختلف وجهة نظر أصحابها عن وجهات أنظار الآخرين الذي ليس لهم أمثال هذه الأهواء أو المصالح.
এভাবেই এই অস্পষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হয়ে থাকে, যেগুলোতে সৌন্দর্য পুরোপুরি পরিস্ফুট হয়নি আবার কুশ্রীতাও পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। এক্ষেত্রে পছন্দের বা অপছন্দের পেছনে মনস্তাত্ত্বিক উপাদানগুলো ভূমিকা রাখে। আবার সম্ভবত সৌন্দর্য অনুভব করার সক্ষমতা, কিংবা সৌন্দর্যের শিল্পকলা, বর্ণ, আকার ও অনুপাত সম্পর্কে অভিজ্ঞতার গভীরতা, অথবা পর্যবেক্ষণের সূক্ষ্মতা অন্য কারণ হিসেবে কাজ করে। পর্যবেক্ষণের এই সূক্ষ্মতা কখনো কোনো ত্রুটির ওপর নিবদ্ধ হয় এবং সেখানেই থমকে যায় এবং তাকে বিশাল করে উপস্থাপন করে, এমনকি তা পুরো ক্ষেত্রটিকেই আচ্ছন্ন করে ফেলে; আবার কখনো কোনো সৌন্দর্যমণ্ডিত দিকের ওপর নিবদ্ধ হয় এবং বিস্ময় নিয়ে সেখানে থমকে দাঁড়ায় ও তাকে মহিমান্বিত করে তোলে এবং কল্পনাশক্তি একে বিস্তৃত করে পুরো ক্ষেত্রটিকে পূর্ণ করে দেয়। বিষয়টি এমনই।***(৪) সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণসমূহযেসব কারণে মানুষের মাঝে বস্তুর প্রতি সৌন্দর্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাপক পার্থক্যের সৃষ্টি হয় সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এমনকি একটি বস্তুকে কোনো এক পক্ষ সুন্দর মনে করতে পারে, আবার অন্য এক পক্ষ তাকে কুশ্রী ভাবতে পারে, আর তৃতীয় এক পক্ষ একে সাধারণ মনে করে নিরপেক্ষ থাকতে পারে। আবার যারা একে সুন্দর মনে করছে তাদের পছন্দের মাত্রায় ভিন্নতা থাকতে পারে এবং যারা একে কুশ্রী ভাবছে তাদের অপছন্দের মাত্রাতেও ভিন্নতা থাকতে পারে। এই বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে আমরা নিম্নোক্ত কারণগুলো লক্ষ্য করি:প্রথম কারণ: মানুষের ইন্দ্রিয়সমূহ এবং সে যা উপলব্ধি ও অনুভব করে সেই বস্তুসমূহের মধ্যকার সামঞ্জস্য বা অসামঞ্জস্য।মানুষের স্বভাবজাত মেজাজ ও রুচি এক্ষেত্রে ভিন্ন হয়ে থাকে যা অনস্বীকার্য। এই উপাদানের কারণে এই ক্ষেত্রে তাদের বিচার-বিবেচনায় ভিন্নতা দেখা দিতে পারে।দ্বিতীয় কারণ: সংশ্লিষ্ট প্রবৃত্তি বা ব্যক্তিগত স্বার্থের হস্তক্ষেপ।এই প্রবৃত্তি বা স্বার্থের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দৃষ্টিভঙ্গি অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলাদা হয়ে থাকে যাদের মধ্যে এ জাতীয় প্রবৃত্তি বা স্বার্থ নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
العامل الثالث: حكم العادة والإِلف، فكثير منَ النّاس إذا اعتادوا لوناً من ألوان الجمال آثروه تلقائياً على غيره، وحَكَمُوا بأنّه أحسن وأجمل، وربّما لم يكن كذلك في حقيقة الأمر.العامل الرابع: مؤثِّرات البيئة، فقد تتواضع بيئة ما على استحسان لون جمالي، وربّما كان عاديّاً جدّاً وابتدائياً من سلّم الارتقاء الجمالي، إلَاّ أنّ تأثير البيئة يجعل الناشئين فيها يقتبسون منها الأذواق الجماليّة، فيتأثّرون بأحكامها الناقصة، أو أحكامها التي لا تَنِمُّ عن ذوق رفيع، وكذلك البيئات الراقية تمنح الناشئين فيها أذواقاً رفيعة، والبيئات تتفاوت تفاوتاً كبيراً في هذا المجال.العامل الخامس: مدى القدرة على تصيّد نقاط الجمال والإغضاء عمّا سواها، وجعله أرضية لا تثير الانتباه. وقد يكون العكس، فتكون القدرة النقدية ذاتَ إحساس مفرط تجاه تصيّد نقاط النقص أو القبح فقط، أمّا سواها فتُغضي عنه، وتجعله أرضيّة غَيْرَ مُثِيرة للانتباه.وبسبب هذا العامل بشَطْرَيْهِ وتفاوت نسبة كل منهما في النَّاس تظهر أحكام متباينة أو متخالفة.العامل السادس: سعة التجارب وضيقها في اكتساب ذوق الإِحساس بالجمال، وتفاوت نسبه.فذو الخبرات الطويلة الباحثة والناقدة يكون أقدر على تذوُّق الجَمال، وإدْراك درجاته المتفاوتات، من الإِنسان العاديّ غير ذي الخبرة، أو السائر في طريق البحث والنقد، ولم تكتمل بَعْدُ لديه القدرة على تَذوُّق الفروق الجمالية.
তৃতীয় কারণ: অভ্যাস ও অভ্যস্ততার প্রভাব; অনেক মানুষ যখন সৌন্দর্যের কোনো একটি রূপের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য সবকিছুর চেয়ে সেটিকে প্রাধান্য দেয় এবং সিদ্ধান্ত দেয় যে এটিই সর্বোত্তম ও সর্বাধিক সুন্দর, অথচ প্রকৃত বিচারে বিষয়টি হয়তো তেমন নয়।চতুর্থ কারণ: পরিবেশগত প্রভাব; কোনো কোনো পরিবেশ সৌন্দর্যের কোনো একটি রূপকে পছন্দ করার ক্ষেত্রে একমত হতে পারে, যা সৌন্দর্যের বিবর্তন ধারায় হয়তো অত্যন্ত সাধারণ এবং প্রাথমিক স্তরের। কিন্তু পরিবেশের প্রভাব সেখানে বেড়ে ওঠা নবীনদের মধ্যে সেই সৌন্দর্যবোধের রুচি সঞ্চারিত করে, ফলে তারা সেই পরিবেশের অসম্পূর্ণ বিচারবোধ বা নিম্নমানের রুচি দ্বারা প্রভাবিত হয়। একইভাবে, উন্নত পরিবেশ সেখানে বেড়ে ওঠা নবীনদের উন্নত রুচি দান করে। আর এই ক্ষেত্রে পরিবেশসমূহের মাঝে ব্যাপক তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।পঞ্চম কারণ: সৌন্দর্যের বিন্দুগুলো খুঁজে বের করার এবং অন্য সবকিছু উপেক্ষা করে সেটিকে অলক্ষিত পটভূমি হিসেবে গণ্য করার সক্ষমতা। আবার এর বিপরীতটিও হতে পারে, যেখানে সমালোচনামূলক সক্ষমতা কেবল ত্রুটি বা কুৎসিত দিকগুলো খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়, আর অন্য বিষয়গুলো উপেক্ষা করে এবং সেগুলোকে দৃষ্টি আকর্ষণ না করার মতো সাধারণ পটভূমি হিসেবে রেখে দেয়।এই উপাদানের উভয় দিক এবং মানুষের মধ্যে এর অনুপাতের ভিন্নতার কারণে বৈচিত্র্যময় বা বিপরীতধর্মী সিদ্ধান্ত প্রকাশ পায়।ষষ্ঠ কারণ: সৌন্দর্যবোধের রুচি অর্জনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার ব্যাপকতা ও সীমাবদ্ধতা এবং এর মাত্রার ভিন্নতা।দীর্ঘ অনুসন্ধানমূলক ও সমালোচনামূলক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি সাধারণ অনভিজ্ঞ মানুষ কিংবা গবেষণা ও সমালোচনার পথে কেবল যাত্রা শুরু করা ব্যক্তির তুলনায় সৌন্দর্য আস্বাদন করতে এবং এর বিভিন্ন স্তর উপলব্ধি করতে অধিকতর সক্ষম হন, যার মাঝে সৌন্দর্যগত সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো অনুধাবনের সক্ষমতা এখনো পূর্ণতা পায়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(5) عناصر الكمال والجمال الأدبيلا بُدَّ أوّلاً من توافر الأركان الأساسية للكلام البليغ، وهي:(1) مطابقته لمقتضى حال المخاطب به.(2) التزامه بقواعد اللّغة وضوابطها في مفرداتها وتراكيب جملها.(3) خلُوّه من التعقيد اللّفظي، والتعقيد المعنوي.وبعد توافر هذه الأركان الأساسيّة توجد عناصر كثيرة تُكْسِبُ الكلام ارتقاءً أدبيّاً وتُعْطيه جمالاً وإبداعاً، ورونقاً وحياةً، وقدرةً على التأثير والهيمنة على النفوس والأفكار والقلوب.وبمقدار ما يُمْكِنُ أن يجتمع في الكلام من هذه العناصر، متلائمةً غير متنافرة، متوائمة غير متشاكسة، مُتَحابّة غير متباغضة، مطابقةً لمقتضى حال المخاطب، يكون تسامي الكلام في سلّم الكمال الأدبيّ الرفيع، الّذي يحتلُّ قمّته لدى التحليل المِْجْهَريّ الدقيق كلام الله المعجز، ثمّ يأتي من دونه كلامُ الناس، مع المسافات الشاسعات بينه وبين قمّة كلام الناس.وكما نقتبس عناصر الجمال والكمال من لوحات الطبيعة التي خلقها الله، فنعمل الأعمال الفنيّة الرفيعة بمحاكاة الفنون المختلفة فيها ضمن قدراتنا البشريّة، ونتتلمذ على الأمثلة الجمالية الكمالية التي تقدّمها لنا، فنكتسب منها الذوق، وفنون الصنعة الرائعة، بأشكالها وألوانها وأنغامها وملامسها وأنظمتها وحركتها وحياتها وعواطفها ولذّاتها وآلامها وذكرياتها وتحسّراتها وآمالها ومخاوفها، إلى سائر الظواهر الطبيعية في كل جامد متحركّ ونام وحيّ.كذلك يقتبس أهل البصيرة عناصر الجمال والكمال الأدبي من اللّوحات
(৫) সাহিত্যিক পূর্ণতা ও সৌন্দর্যের উপাদানসমূহপ্রথমেই সাবলীল ও অলঙ্কারপূর্ণ বক্তব্যের মৌলিক স্তম্ভগুলোর উপস্থিতি আবশ্যক, আর সেগুলো হলো:(১) সম্বোধিত ব্যক্তির অবস্থার চাহিদার সাথে বক্তব্যের সামঞ্জস্যতা।(২) শব্দ চয়ন এবং বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে ভাষার নিয়ম ও নীতিমালার অনুসরণ।(৩) শব্দগত জটিলতা এবং অর্থগত জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা।এই মৌলিক স্তম্ভগুলোর উপস্থিতির পর আরও অনেক উপাদান রয়েছে যা বক্তব্যকে সাহিত্যিক উচ্চতা দান করে এবং তাকে সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা, সজীবতা ও প্রাণশক্তি প্রদান করে। পাশাপাশি তা মানুষের নফস, চিন্তা ও হৃদয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার ও আধিপত্য বিস্তারের সক্ষমতা জোগায়।বক্তব্যের মধ্যে এই উপাদানগুলো যতটা সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে (বিচ্ছিন্ন না হয়ে), সুবিন্যস্তভাবে (পরস্পর বিরোধী না হয়ে), সংহতিপূর্ণভাবে (বিদ্বেষপূর্ণ না হয়ে) এবং শ্রোতার অবস্থার চাহিদামত একত্রিত হবে, সাহিত্যিক পূর্ণতার উচ্চ শিখরে বক্তব্য ততটাই উন্নীত হবে। সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যায় যে, এই শিখরের সর্বোচ্চ চূড়ায় রয়েছে আল্লাহর অলৌকিক বাণী; এরপর মানুষের বক্তব্যের স্থান, যদিও আল্লাহর বাণীর সাথে মানুষের শ্রেষ্ঠ বক্তব্যের মাঝে দুস্তর ব্যবধান বিদ্যমান।এবং যেভাবে আমরা আল্লাহর সৃষ্টি করা প্রকৃতির দৃশ্যপট থেকে সৌন্দর্য ও পূর্ণতার উপাদানগুলো গ্রহণ করি, তারপর আমাদের মানবিক সক্ষমতার সীমানায় থেকে তার বিভিন্ন শৈল্পিক রূপ অনুসরণের মাধ্যমে উচ্চমানের শিল্পকর্ম তৈরি করি; যেভাবে আমরা প্রকৃতির প্রদর্শিত সৌন্দর্য ও পূর্ণতার উদাহরণগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি এবং এর রূপ, রঙ, সুর, স্পর্শ, শৃঙ্খলা, গতি, জীবন, আবেগ, স্বাদ, বেদনা, স্মৃতি, দীর্ঘশ্বাস, আশা ও ভয়—সহ স্থবির, গতিশীল, ক্রমবর্ধমান ও জীবন্ত প্রতিটি প্রাকৃতিক প্রপঞ্চ থেকে রুচিবোধ ও চমৎকার নির্মাণশৈলী অর্জন করি;ঠিক তেমনিভাবে প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা সাহিত্যিক সৌন্দর্য ও পূর্ণতার উপাদানগুলো সেই সব দৃশ্যপট থেকে গ্রহণ করেন...
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
البيانيّة البديعة المنزّلة من لَدُنْ حكيم عليم، والتي نتدبّر ما نتدبّر منها في كتاب الله المجيد على مقدار قدراتنا البشريّة.وهذا التدبّر الواعي يحتاج إلى بصيرة نفّاذة لمّاحة، وصبر طويل، ومعالجات متكرّرات، ومعرفة بما توصّل إليه المتدبَّرون السابقون، وبحث مستمر لاستنباطات جديدة، ثم تكون أنصبه الباحثين بعد كل ذلك على مقدار مواهبهم، لا على مقدار البحر المحيط الذي يغترفون منه، ويغوصون في أعماقه، ليستخرجوا من روائعه وبدائعه.الكلام ولفظ المعنى:ومن الْبَدَهِيّاَت الأساسيّة أنّ الكلام ذا الدلالة اللّغوية إنّما هو لفظ ومعنى.* أمّا اللفظ، فينحلّ إلى قسمين:1- مفرد.2- مركب.أمّا المفرد في المنظار الأدبي، فيمكن أنْ نقسِّمه إلى أربعة أقسام:القسم الأول: اللّيّن السهل، وتتفاوت في ذوق الأديب درجات هذا القسم، فمن هُلاميّ رجراج، مثل الكلمات الخفيفة التي يستطيع الأطفال الصغار المبتدئون بالنطق أن ينطقوا بها صحيحة سليمة، وهي غالباً تتألّف من الحروف الشفويّة والصوتية، ثم الحروف اللّثويّة والصوتيّة، مثل: "بابا - ماما - دادا - لولو" وتتدرّج النسبة ارتقاء، مع المحافظة على صفة اللّين والسهولة، ولكن بالنسبة إلى نطق الكبار العادّيين، مثل: "نَسْمَة - بَسْمَة - رَنَا - دَنَا - وَهَى - وَشَى" ومن السهل اللّين في القرآن قول الله تعالى في سورة (الرحمن 55) :{الرحمان * عَلَّمَ القرآن * خَلَقَ الإنسان * عَلَّمَهُ البيان * الشمس والقمر بِحُسْبَانٍ * والنجم والشجر يَسْجُدَانِ} [الآيات: 1 - 6]
প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ চমৎকার অলঙ্কারপূর্ণ বর্ণনা, যার মধ্য থেকে মহান আল্লাহর কিতাবে আমরা আমাদের মানবীয় সক্ষমতা অনুযায়ী চিন্তা-গবেষণা করি।আর এই সচেতন চিন্তা-গবেষণার জন্য প্রয়োজন তীক্ষ্ণ ও গভীর দূরদৃষ্টি, দীর্ঘ ধৈর্য, পুনঃপুনঃ প্রচেষ্টা, পূর্ববর্তী গবেষকগণ যা অর্জন করেছেন সে সম্পর্কে জ্ঞান এবং নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবনের জন্য নিরন্তর গবেষণা। এরপর গবেষকদের প্রাপ্ত অংশ নির্ধারিত হবে তাদের মেধা ও যোগ্যতার পরিমাণ অনুযায়ী, সেই সুগভীর মহাসমুদ্রের বিশালতা অনুযায়ী নয় যেখান থেকে তারা আহরণ করেন এবং যার অতল গভীরে তারা ডুব দেন এর চমৎকার ও অদ্ভুত বিষয়গুলো বের করে আনার জন্য।কালাম (বাক্য) এবং অর্থের বহিঃপ্রকাশ:মৌলিক স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো যে, ভাষাগত অর্থবোধক বাক্য মূলত শব্দ ও অর্থের সমষ্টি।* আর শব্দ দুই ভাগে বিভক্ত:১- একক শব্দ।২- যৌগিক শব্দ।সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে একক শব্দকে আমরা চার ভাগে বিভক্ত করতে পারি:প্রথম ভাগ: কোমল ও সহজ। সাহিত্যিকের রুচিবোধ অনুযায়ী এই ভাগের স্তরগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল শব্দ রয়েছে, যেমন সেই হালকা শব্দগুলো যা কথা বলা শুরু করা ছোট শিশুরা সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে। এগুলো সাধারণত ওষ্ঠ্যবর্ণ ও স্বরবর্ণ এবং পরবর্তীতে দন্তমূলীয় বর্ণ ও স্বরবর্ণের সমন্বয়ে গঠিত হয়। যেমন: "বাবা - মামা - দাদা - লুলু"। শব্দের এই সহজ ও কোমল গুণটি বজায় রেখেই এর মান ক্রমশ উন্নত হতে থাকে, তবে তা সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চারণের সাপেক্ষে। যেমন: "নাসমাহ - বাসমাহ - রানা - দানা - ওয়াহা - ওয়াশা"। কুরআনে বর্ণিত সহজ ও কোমল শব্দের একটি উদাহরণ হলো সূরা আর-রাহমানে (৫৫) মহান আল্লাহর বাণী:{পরম দয়াময়। তিনি কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাকে ভাব প্রকাশ করতে শিখিয়েছেন। সূর্য ও চন্দ্র নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী চলে। আর লতাপাতা ও বৃক্ষরাজি সিজদা করে।} [আয়াত: ১ - ৬]
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
القسم الثاني: القويّ الجزل، وتتفاوت في ذوق الفصيح ذي الحسِّ المرهف درجات هذا القسم.ومن أمثلة القوي الجزل المفردات التالية من سورة (الشمس 91) :"ضُحاها - جَلاّها - يَغْشاها - طَحَاها - بِطَغْواها - إذا انْبَعَثَ أشْقَاها - فَعَقَروها - فَدَمْدَم عليهم - عُقْباها".القسم الثالث: الحُوشِيُّ الغريب، وتتفاوت درجات هذا القسم. والحوشي الغريب ما قلّ في العرب استعماله، لثقله على الألسنة، حتى يكاد بعضه يُهمل في الاستعمال عند معظم العرب، مثل المفردات التالية:الْحَنْطَبَة: بمعنى الشجاعة.والْحَيْزَبُون، والشَّهْرَبَة: بمعنى المرأة العجوز.طَخَا الليل: بمعنى أظلم.تَطَشَّى المريض: بمعنى برىء.النُّقَاخ: وهو الضرب على الرأس بشيء صلب.الْهَبَيَّخَة: وهي الجارية باللّغة الحِمْيَرِيَّة.الْهَبَيَّخُ: وهو الرجل الأحمق، والوادي العظيم، والنهر العظيم.الْقُدْمُوس والْقُدْمُوسَة: وهي الصخرة العظيمة.الْعَقَنْفَسُ والْعَفَنْقَس: هو السيِّىء الخلق.القسم الرابع: الصعب الجموح، وتتفاوت درجات هذا القسم. ومن الصعب الجموح ماهو حوشي غريب، ولكن ليس كل صعب جموح كذلك، فقد لانت في ألسنة العرب كلمات صعاب، وبقيت مستعملة دارجة بيْن أُدبائهم إلَاّ أنّها صعبة على الألسنة لها جُموح ونفور، مثل الكلمات التالية:غَضَنْفر: من أسماء الأسد.
দ্বিতীয় বিভাগ: শক্তিশালী ও ওজস্বী। সূক্ষ্ম অনুভূতিসম্পন্ন সাবলীল ব্যক্তির রুচিভেদে এই বিভাগের স্তরগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে।শক্তিশালী ও ওজস্বী শব্দের উদাহরণ হলো সূরা আশ-শামস (৯১) থেকে সংগৃহীত নিম্নোক্ত শব্দাবলি:"তার পূর্বাহ্নের সূর্যকিরণ - যখন সে তাকে প্রদীপ্ত করে - যখন সে তাকে আচ্ছাদিত করে - যখন তিনি তাকে বিস্তৃত করেন - তার অবাধ্যতার কারণে - যখন তার চরম হতভাগা ব্যক্তিটি তৎপর হয়েছিল - অতঃপর তারা তার পা কাটল (তাকে বধ করল) - এরপর তিনি তাদের ওপর ধ্বংস চাপিয়ে দিলেন - এর পরিণাম।"তৃতীয় বিভাগ: বিরল ও অপরিচিত (আল-হুশি আল-গারিব)। এই বিভাগের স্তরগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে। আল-হুশি আল-গারিব হলো সেসব শব্দ যা আরবদের ব্যবহারে বিরল, জিহ্বার ওপর সেগুলোর ভারী ভাবের কারণে। এমনকি এসবের কিছু শব্দ অধিকাংশ আরবের ব্যবহারে প্রায় পরিত্যক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যেমন নিচের শব্দাবলি:আল-হানতাবাহ: এর অর্থ হলো সাহসিকতা।আল-হাইজাবুন এবং আশ-শাহরাবাহ: এর অর্থ হলো বৃদ্ধা নারী।তাখা আল-লাইল: এর অর্থ হলো রাত অন্ধকার হওয়া।তাতাশশা আল-মারিদ: এর অর্থ হলো অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্য লাভ করা।আন-নুকাখ: এটি হলো কোনো শক্ত বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করা।আল-হাবাইয়্যাখাহ: হিময়ারি ভাষায় এর অর্থ হলো তরুণী বা দাসী।আল-হাবাইয়্যাখ: এর অর্থ হলো নির্বোধ ব্যক্তি, বিশাল উপত্যকা এবং সুবৃহৎ নদী।আল-কুদমুস এবং আল-কুদমুসাহ: এর অর্থ হলো বিশাল পাথর।আল-আকানফাস এবং আল-আফানফাস: এর অর্থ হলো দুশ্চরিত্র ব্যক্তি।চতুর্থ বিভাগ: দুরূহ ও অবাধ্য (আস-সাব আল-জামুহ)। এই বিভাগের স্তরগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে। দুরূহ ও অবাধ্যের অন্তর্ভুক্ত কিছু শব্দ বিরল ও অপরিচিত (হুশি ও গারিব), তবে সব দুরূহ ও অবাধ্য শব্দ এমন নয়। অনেক সময় আরবদের রসনায় কিছু কঠিন শব্দ সহজ হয়ে গেছে এবং তাদের সাহিত্যিকদের নিকট সেগুলো প্রচলিত ও ব্যবহৃত থেকেছে। তবে সেগুলো উচ্চারণে কঠিন এবং সেগুলোর মধ্যে এক প্রকার অবাধ্যতা ও শ্রুতিকটুতা রয়ে গেছে, যেমন নিচের শব্দটি:গাদামফার: এটি সিংহের নামগুলোর মধ্যে একটি।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مُسْتَشْزِر: أي مفتول.عَقْعَقٌ: اسم لطير.والأديب رفيع الأدب، مرهف الحسّ في ذوق الكلمات، يختار في كلامه من القسمين الأوّلين:* اللّين السهل.* والقوي الجزل.ويضع ما يختار في موضعه مراعياً حال المخاطب وما يسرُّه من المفردات، وما يلائم ذوقه، ولغة قومه.ويحسن به أنْ يختار لبعض الموضوعات مفرداتٍ ذاتَ جَرْس موسيقي وإيقاعٍ رشيق.ويختار أيضاً من الكلمات ما يلائم المعنى من لين وسهولة أو قوّة وجزالة.ويختار أيضاً من الكلمات ما هو أليق بالمناسبة، وبالموضوع العام للكلام، وأكثر ملاءمة لهما.ويبتعد عن الحوشي الغريب، إلَاّ في مجال التعليم، أو لنُكَتِ أدبيّة خاصّة.ويجعل الصعب الجموح مقصوراً على مواطن خاصّة تستدعي النُكتةُ الأدبيّة اختيار بعض منها، مثل كلمة: (ضِيزَى) في وصف القسمة الجائزة غير العادلة، لما لهذه الكلمة بحروفها وصيغتها من إيحاءات تلائم التشنيع على القسمة الجائرة.والدُّعاة إلى اللهِ مطالبون بالتزام هذا المنهج الأدبي في دعوتهم.***وأمّا المركب في المنظار الأدبي: فَلَه تقسيمات من ثلاث جهات:1- جهة السبك.
মুস্তাশযির: অর্থাৎ পাকানো বা মোচড়ানো।আক’আক: একটি পাখির নাম।উচ্চমানের সাহিত্যবোধসম্পন্ন এবং শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম রুচিবোধের অধিকারী সাহিত্যিক তাঁর বক্তব্যে প্রথম দুই প্রকার থেকে শব্দ নির্বাচন করেন:* কোমল ও সহজ।* এবং শক্তিশালী ও সাবলীল।তিনি তাঁর নির্বাচিত শব্দগুলোকে যথাস্থানে স্থাপন করেন, যেখানে শ্রোতার অবস্থা, তাঁর পছন্দনীয় শব্দাবলি, তাঁর রুচি এবং তাঁর জাতির ভাষার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়।কিছু বিষয়ের জন্য সংগীতময় ঝংকার ও সাবলীল ছন্দযুক্ত শব্দাবলি নির্বাচন করা তাঁর জন্য উত্তম।তিনি এমন শব্দও নির্বাচন করেন যা অর্থের সাথে কোমলতা ও সহজবোধ্যতা কিংবা শক্তি ও সাবলীলতার দিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ।এছাড়া তিনি পরিস্থিতি এবং বক্তব্যের মূল বিষয়ের জন্য অধিকতর উপযুক্ত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শব্দাবলি চয়ন করেন।তিনি অপ্রচলিত ও অদ্ভুত শব্দ পরিহার করেন, তবে শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে কিংবা বিশেষ কোনো সাহিত্যিক রহস্য প্রকাশের জন্য তা ভিন্ন কথা।তিনি কঠিন ও দুর্বোধ্য শব্দগুলোকে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রের জন্য সীমাবদ্ধ রাখেন, যেখানে সাহিত্যিক নিগূঢ় রহস্যের খাতিরে সেগুলো নির্বাচন করার প্রয়োজন পড়ে। যেমন: অন্যায় ও অসংগত বণ্টনের বর্ণনায় 'দ্বীযা' শব্দটি; কেননা এই শব্দটির অক্ষর ও গঠনকাঠামোর মধ্যে এমন ব্যঞ্জনা রয়েছে যা অসংগত বণ্টনের বীভৎসতার সাথে মানানসই।আল্লাহর পথের দাঈদের জন্য তাঁদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই সাহিত্যিক পদ্ধতি অনুসরণ করা আবশ্যক।***আর সাহিত্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে যৌগিক বাক্য বা মুরক্কাবের তিনটি দিক থেকে বিভাজন রয়েছে:১- গঠনশৈলীর দিক থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
2- جهة الكثافة.3- جهة تواصل الجمل بأدوات الربط أو تفاصلها.أوّلاًَ- فمن جهة السبك:ينقسم اللّفظ المركّب إلى أربعة أقسام:القسم الأوّل: المتلائم المتناسق، المتوائم السهل حَسَنُ السّبك.القسم الثاني: المتنافر الصعب العَسِر النطق.القسم الثالث: سيِّىء السَّبك ضعيف الإِنشاء.القسم الرابع: معقَّد الترابط صعب الفهم.والأديب البليغ رفيع الذوق، ذو الحسّ المرهف، المتمرّس بصناعة القول الرفيع، يحاول أنْ يكون كلامه سليماً من أنْ يكون سيِّىء السبك، ضعيف الإِنشاء، ومن أنْ يكون معقّد الترابط صعب الفهم.ويتحرّى أنْ يكون كلامه من القسم الأوّل (المتلائم المتناسق المتوائم السهل حَسَن السبك) .ويبتعد جَهْدَ مستطاعه عمّا هو متنافرٌ صعب عَسر النطق، ويُولِي عناية للعناصر الجماليّة التالية:(1) صياغة الجملة صياغة فنّية سَهْلَة الفهم، لا توقع فكر المخاطب بارتباك في ربط مفردات الجملة، ولا تُكَلِّفه مشقّة، حتى يفهم المراد منها.(2) رصْف الجمل رصْفاً يثير الاستحسان والإِعجاب لدى المخاطب. وقد يحتاج هذا إلى التفنُّن في الجُمل، ما بين متوازنات طولاً وقصراً أحياناً، ـ وبين طويلة ومثل نصفها أو ثلثها أحياناً أخرى، وبين ترك التوازن ليذهب الكلام منساباً. وقد يحسن التكرير في بعض هذه العمليّات.
২- ঘনত্বের দিক।৩- সংযোজক অব্যয়ের মাধ্যমে বাক্যসমূহের সংযোগ বা বিচ্ছেদের দিক।প্রথমত- ভাষাশৈলী বা বুননের দিক থেকে:যৌগিক বাক্য চার প্রকারের হয়ে থাকে:প্রথম প্রকার: সুসামঞ্জস্যপূর্ণ, সুবিন্যস্ত, সংগতিপূর্ণ, সাবলীল এবং উন্নত বুননশৈলীসম্পন্ন।দ্বিতীয় প্রকার: শ্রুতিকটু, কঠিন এবং উচ্চারণে আয়াসসাধ্য।তৃতীয় প্রকার: নিম্নমানের ভাষাশৈলী এবং দুর্বল রচনারীতি।চতুর্থ প্রকার: জটিল সংযোগ ও অনুধাবনে কঠিন।উন্নত রুচিশীল, সূক্ষ্ম অনুভূতিসম্পন্ন এবং উচ্চাঙ্গের বাক্য নির্মাণে পারদর্শী বাগ্মী সাহিত্যিক সর্বদা সচেষ্ট থাকেন যেন তার বক্তব্য নিম্নমানের ভাষাশৈলী, দুর্বল রচনারীতি এবং জটিল সংযোগ ও দুর্বোধ্যতা থেকে মুক্ত থাকে।তিনি সচেষ্ট থাকেন যেন তার কথা প্রথম প্রকারের (সুসামঞ্জস্যপূর্ণ, সুবিন্যস্ত, সংগতিপূর্ণ, সাবলীল এবং উন্নত বুননশৈলীসম্পন্ন) অন্তর্ভুক্ত হয়।তিনি সাধ্যমতো শ্রুতিকটু এবং কঠিন ও দুরূহ উচ্চারণ থেকে দূরে থাকেন এবং নিম্নোক্ত নান্দনিক উপাদানসমূহের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন:(১) বাক্যকে শিল্পসম্মতভাবে এমন সাবলীল ও সহজবোধ্যরূপে গঠন করা, যা শ্রোতার চিন্তাজগতকে বাক্যের শব্দাবলির বিন্যাস নিয়ে কোনো বিভ্রান্তিতে না ফেলে এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থ অনুধাবনে তাকে কোনো কষ্টের সম্মুখীন না করে।(২) বাক্যগুলোকে এমন সুনিপুণভাবে সজ্জিত করা যা শ্রোতার মনে প্রশংসা ও বিস্ময় জাগায়। এর জন্য বাক্যের বিন্যাসে বৈচিত্র্য আনয়নের প্রয়োজন হতে পারে; কখনও দৈর্ঘ্যে ও হ্রস্বতায় ভারসাম্য রক্ষা করার মাধ্যমে, আবার কখনও দীর্ঘ বাক্যের পাশে তার অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ দৈর্ঘ্যের বাক্য ব্যবহারের মাধ্যমে, আবার কখনও ভারসাম্য বর্জন করে সাবলীল গতিতে বক্তব্যকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে। এসব প্রক্রিয়ার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি করাও শৈল্পিক হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ولا ضابط لمَواطن الجمال فيها إِلَاّ الحسّ المرهف الذوّاق للجمال الأدبي.(3) وقد يَجْمُلُ بعض السجع غير المتكلَّف ولا المتصنَّع، بشرط عدم الالتزام به في كل الكلام.(4) المحسِّنات البديعية اللّفظية التي تأتي مناسبة محبّبة غير متكلّفة ولا متصنّعة.(5) فنون الشعر الذي له تأثير في أساليبه وموسيقاه على مشاعر كثير من النّاس.ورجال الدّعوة إلى الله مطالبون بالعناية بهذه العناصر الجمالية الأدبيّة في دعوتهم، إذا خَطبوا، أو حاضروا، أو تحدّثوا، أو كتبوا، أو نظّموا شعراً، أو ألّفوا مؤلفات علميّة، أو توجيهيّة، أو أدبيّة. وأنْ يُسَخِّروا أدبهم في خدمة الدّعوة إلى الله.ثانياً - ومن جهة الكثافة:ينقسم الكلام إلى ثلاث مراتب، تُعرف عند علماء البلاغة بالإيجاز، والمساواة، والإِطناب، كما سيأتي بيانها إن شاء الله في علم المعاني.ولكلّ من هذه المراتب درجات متفاوتات.وأشرح الكثافة في بناء الكلام وأشرح مستوياتها في تحليل أدبي فكري، فأقول:تخضع التعبيرات الكلاميّة عن المراد لنِسَب متفاوتة من الكثافة.فمِنَ الكلام ما هو شديد الكثافة، وقد تشتدّ فيه حتّى يكون بمثابة قطعة من الصخر، لا تُعرف عناصرها حتى تُكسر وتُطحن، وتُفرَّق الأجزاء عن بعضها، وتحلّل بوسائط.
এতে সৌন্দর্যের স্থানগুলো নির্ধারণ করার কোনো মাপকাঠি নেই, কেবল সাহিত্যিক সৌন্দর্যের রসগ্রাহী সূক্ষ্ম অনুভূতি ছাড়া।(৩) কিছু অনায়াসলব্ধ ও কৃত্রিমতাহীন অন্ত্যমিল সুন্দর হতে পারে, যদি শর্ত থাকে যে পুরো বক্তব্যের মধ্যে তা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা না থাকে।(৪) শাব্দিক অলংকারসমূহ যা উপযুক্ত, প্রীতিকর এবং কৃত্রিমতা ও আড়ম্বরহীনভাবে উপস্থাপিত হয়।(৫) কবিতার শিল্পকলা, যার শৈলী ও সুর অনেক মানুষের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলে।আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদানকারীদের জন্য আবশ্যক হলো তাদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে এই সাহিত্যিক সৌন্দর্যমণ্ডিত উপাদানগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া; যখন তারা খুতবা প্রদান করেন, বক্তৃতা দেন, কথা বলেন, লিখেন, কবিতা রচনা করেন অথবা বৈজ্ঞানিক, দিকনির্দেশনামূলক কিংবা সাহিত্যিক কোনো গ্রন্থ রচনা করেন। আর তারা যেন তাদের সাহিত্যকে আল্লাহর পথে দাওয়াতের সেবায় নিয়োজিত করেন।দ্বিতীয়ত - নিবিড়তার দিক থেকে:বক্তব্য তিন স্তরে বিভক্ত, যা অলংকারশাস্ত্রবিদদের নিকট সংক্ষেপণ, সমতা এবং সম্প্রসারণ নামে পরিচিত, যেমনটি ইনশাআল্লাহ 'ইলমুল মাআনি'-তে বিস্তারিত আলোচিত হবে।আর এই স্তরগুলোর প্রত্যেকেরই ভিন্ন ভিন্ন পর্যায় রয়েছে।আমি বক্তব্যের কাঠামোর মধ্যে এর নিবিড়তা এবং একটি সাহিত্যিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্লেষণে এর স্তরগুলো ব্যাখ্যা করছি, সুতরাং আমি বলি:কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বাচনিক অভিব্যক্তিগুলো নিবিড়তার বিভিন্ন মাত্রার অধীন।বক্তব্যের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা অত্যন্ত নিবিড়, এমনকি তা কখনো এতোটাই ঘনীভূত হয় যে একটি পাথরের টুকরোর মতো মনে হয়; যার উপাদানগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত চেনা যায় না যতক্ষণ না তা চূর্ণবিচূর্ণ ও গুঁড়ো করা হয় এবং এর অংশগুলোকে একে অপরের থেকে পৃথক করে বিভিন্ন উপায়ে বিশ্লেষণ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وبعض متون العلم المكثّفة المختصرة هي من هذا القبيل، وقلّما يسلم التكثيف الشديد في الكلام من الإِخلال في الدلالة على المراد.وفهم المكثّف من الكلام يحتاج إلى ملكات ذهنيّة عالية، أو إلى تدريب ممارسة طويلة، وتعلّم على أيدي أهل العلم.وتخفّ الكثافة ببسط الكلام وتمديده، ويتدرّج ذلك في سلَّم كثير الدرجات، ولكنْ ليس لدينا ميزان نزن به كثافة الكلام، شبيه بميزان الكثافة الذي توزن به السوائل، فالمرجع في تحديد الكثافة أذواق العلماء والأُدباء، وملاحظة سهولة استساغة الكلام من قبل العامّة أو عدم ذلك.وباستطاعتنا أنْ نقسِّم مستويات الكثافة في الكلام إلى ثلاث مراتب، ولكلِّ من هذه المراتب الثلاث درجات متفاوتات.المرتبة الأولى:هي مرتبة الكلام الموجز المختصر. ولهذه المرتبة عدّة درجات ما بين شديد الكثافة، أي شديد الإِيجاز والاختصار حتى مستوى الرمزيّة، وما بين كثافة يتحمّل الإِنسان العادي فهمها ولكن بشيء من الممارسة والتدرّب والتأمّل.وعنوان هذه المرتبة عند علماء البلاغة: (الإِيجاز) . وتستخدم هذه المرتبة لدى اختبارات الذكاء، ولدى مخاطبة الأذكياء وكبار القوم وأمرائهم، بشرط أنْ يكون المخاطب بها قادراً على فهم المراد ولو بتأمُّل يسير، وبالنسبة إلى أحوال هؤلاء تداول الأُدباء قديماً عبارة (البلاغة الإِيجاز) .وتستخدم هذه المرتبة في الخلاصات العلمية التي يعدّها طلاّب العلم للحفظ، وتَذَكُّرِ المسائل العلمية بها.المرتبة الثانية:هي مرتبة الكلام الذي هو متوسط البسط، وضابطه فيما أرى أن يكون لكلّ
বিজ্ঞানের কিছু নিবিড় ও সংক্ষিপ্ত মূলপাঠ (মতন) এই পর্যায়ভুক্ত। আর বক্তব্যের অতিমাত্রায় সংক্ষিপ্তকরণ উদ্দিষ্ট অর্থের নির্দেশনার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত থেকে খুব কমই মুক্ত থাকে।ঘনবদ্ধ বা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য বোঝার জন্য উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা, অথবা দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও অনুশীলন এবং আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার প্রয়োজন হয়।বক্তব্যের সম্প্রসারণ ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এর নিবিড়তা হ্রাস পায়। এটি বহু ধাপবিশিষ্ট একটি সিঁড়িতে ক্রমান্বয়ে আবর্তিত হয়। তবে আমাদের কাছে বক্তব্যের নিবিড়তা পরিমাপ করার জন্য এমন কোনো তুলাদণ্ড নেই, যা তরল পদার্থের ঘনত্ব মাপার তুলাদণ্ডের সদৃশ। সুতরাং নিবিড়তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানদণ্ড হলো আলেম ও সাহিত্যিকদের রুচি এবং সাধারণ মানুষের কাছে সেই বক্তব্য সহজবোধ্য হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা।আমরা বক্তব্যের নিবিড়তার স্তরগুলোকে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করতে পারি এবং এই তিনটি পর্যায়ের প্রত্যেকটির ভিন্ন ভিন্ন স্তর রয়েছে।প্রথম পর্যায়:এটি হলো সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ বক্তব্যের পর্যায়। এই পর্যায়ের বেশ কিছু স্তর রয়েছে; যার ব্যাপ্তি অতিমাত্রার নিবিড়তা—অর্থাৎ রূপক বা সাংকেতিক পর্যায় পর্যন্ত চরম সংক্ষিপ্তকরণ—থেকে শুরু করে এমন নিবিড়তা পর্যন্ত যা সাধারণ মানুষ বুঝতে সক্ষম, তবে তা কিছুটা অনুশীলন, প্রশিক্ষণ ও গভীর চিন্তার দাবি রাখে।অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের নিকট এই পর্যায়ের শিরোনাম হলো: (ইজায বা সংক্ষেপণ)। এই পর্যায়টি বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষা এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তি, জাতির গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতৃবর্গের সাথে কথোপকথনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; তবে শর্ত হলো সম্বোধিত ব্যক্তিকে উদ্দিষ্ট অর্থ বুঝতে সক্ষম হতে হবে, যদিও তা সামান্য চিন্তার মাধ্যমে হয়। এঁদের অবস্থার প্রেক্ষিতেই প্রাচীন সাহিত্যিকগণ "সংক্ষিপ্ততাই হলো প্রাঞ্জলতা" পরিভাষাটি ব্যবহার করতেন।এই পর্যায়টি সেই সমস্ত বৈজ্ঞানিক সারসংক্ষেপের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা ইলম অন্বেষণকারীরা মুখস্থ করার জন্য এবং এর মাধ্যমে জ্ঞানগত মাসআলাগুলো স্মরণে রাখার জন্য তৈরি করে থাকেন।দ্বিতীয় পর্যায়:এটি হলো সেই বক্তব্যের পর্যায় যা মধ্যম পর্যায়ের বিস্তারিত; আর আমার মতে এর মানদণ্ড হলো যে, প্রতিটি...
(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাতুল আরাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فكرة يراد الدلالة عليها لفظ يدل عليها، أو صيغة تدلُّ عليها، أو تركيب خاصٌّ يدل عليها، بشرط أن يكون المخاطب عارفاً بذلك ويفهمه دون كدٍّ ذهنيّ، ودون حاجة إلى تأمّل طويل.وقد يبدو أنّ هذه المرتبة ليس فيها درجات متفاوتات، إلَاّ أنّني أرى خلاف ذلك، فلها فيما أرى درجات، وتختلف هذه الدرجات وتتفاوت، باختلاف أحوال المخاطبين وتفاوتهم في قدراتهم على الفهم، واستيعاب دلالات الكلام، وفي معرفة دلالات الصِّيَغ والتراكيب، وفي التمرّس بمتابعة فهم المعاني من الكلام.فمتوسّط البسط من الكلام بالنسبة إلى المبتدىء ليس هو كذلك بالنسبة إلى الذي تقدّم أشواطاً في معرفة دلالات الكلام وفهمها. وكبار القرّاء لهم متوسط يناسبهم، والأذكياء لهم متوسط يناسبهم، والأطفال لهم متوسط يناسبهم.فيدخل في تحديد نسبة التوسّط اعتبار حال المخاطب.وعنوان هذه المرتبة عند علماء البلاغة (المساواة) ولكن ربّما كان تحديدي لها يختلف مع تحديد علماء البلاغة.ويحسن استخدام هذه المرتبة في معظم الأحوال، ولا سيّما لدى كتابة صكوك العقود والمعاهدات، وكتابة المواد القانونيّة، وكتابة متون العلوم، والتعريف بالمبادىء في نصوص معدّة للحفظ والتداول بين النّاس، ومن ذلك كثير من أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم، مثل قوله:"اجتنبوا السبع الموبقات".قالوا: يا رسول الله وما هنّ؟.قال: "الشرك بالله، والسحر، وقتل النّفس التي حرّم الله إلَاّ بالحق، وأكل الربا، وأكل مال اليتيم، والتولّي يوم الزحف، وقَذْف المُحْصنات المؤمنات الغافلات". رواه البخاري ومسلم عن أبي هريرةالمرتبة الثالثة:
একটি ধারণা যা ব্যক্ত করার উদ্দেশ্যে এমন কোনো শব্দ, রূপ বা বিশেষ বাক্যরীতি ব্যবহার করা হয় যা তা নির্দেশ করে, শর্ত হলো সম্বোধিত ব্যক্তি যেন তা সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং কোনো প্রকার মানসিক পরিশ্রম বা দীর্ঘ চিন্তাভাবনার প্রয়োজন ছাড়াই তা বুঝতে পারেন।আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে এই স্তরে কোনো ভিন্ন ভিন্ন পর্যায় নেই, তবে আমি এর বিপরীতটিই মনে করি। আমার দৃষ্টিতে এর বিভিন্ন স্তর রয়েছে এবং এই স্তরগুলো সম্বোধিত ব্যক্তির অবস্থা, তাদের বোঝার সক্ষমতা, বাক্যের মর্মার্থ অনুধাবনের যোগ্যতা, শব্দরূপ ও বাক্যরীতির অর্থের জ্ঞান এবং কথা থেকে অর্থ উদ্ধারের অনুশীলনের পার্থক্যের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়।সুতরাং একজন প্রারম্ভিক শিক্ষার্থীর জন্য বর্ণনার যে ভারসাম্যপূর্ণ বিস্তৃতি, তা এমন একজনের জন্য এক নয় যিনি বাক্যের অর্থ ও মর্মার্থ উপলব্ধিতে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছেন। বিজ্ঞ পাঠকদের জন্য তাদের উপযোগী একটি ভারসাম্য রয়েছে, বুদ্ধিমানদের জন্য তাদের উপযোগী এবং শিশুদের জন্য তাদের উপযোগী ভারসাম্য রয়েছে।তাই ভারসাম্য বা মধ্যমপন্থা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সম্বোধিত ব্যক্তির অবস্থার বিবেচনা অন্তর্ভুক্ত হয়।অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের নিকট এই স্তরের শিরোনাম হলো (আল-মুসাওয়াত বা সমতা), তবে সম্ভবত আমার দেওয়া সংজ্ঞা অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের সংজ্ঞার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই স্তরটি ব্যবহার করা উত্তম, বিশেষ করে চুক্তিনামা ও সন্ধিপত্র প্রণয়ন, আইনি ধারা লিখন, বিজ্ঞানের মূল পাঠ্য (মুতুন) রচনা এবং মানুষের মাঝে মুখস্থ করা ও প্রচারের জন্য প্রস্তুতকৃত মূলনীতিগুলোর বর্ণনায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনেক হাদিসও এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন তাঁর এই বাণী:"তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকো।"তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, সেগুলো কী কী?তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শিরক করা, জাদু, আল্লাহ যে জীবনকে হারাম করেছেন ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া তা হত্যা করা, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সচ্চরিত্রা উদাসীন মুমিন নারীদের ওপর অপবাদ দেওয়া।" আবু হুরায়রা থেকে বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।তৃতীয় স্তর: