(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: -)
وسطية الإسلام وسماحته - محمد الصالح   (محمد بن أحمد الصالح)

القسم: كتب عامة


الكتاب: وسطية الإسلام وسماحته ودعوته للحوار

المؤلف: أ. د. محمد بن أحمد الصالح

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 48

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 67

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামের ভারসাম্য ও উদারতা - মুহাম্মাদ আস-সালিহ   (মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আস-সালিহ)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


গ্রন্থ: ইসলামের ভারসাম্য, উদারতা এবং সংলাপের প্রতি এর আহ্বান

গ্রন্থকার: প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আস-সালিহ

প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ধর্ম বিষয়ক (আওকাফ) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত সংস্করণ) : ৪৮

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم وسطية الإسلام وسماحته ودعوته للحوار تنفرد الأمة الإسلامية بميزة لم تكن لأمة من قبل، وهي خصيصة الوسطية التي ورد وصف الأمة بها في القرآن الكريم في قوله تعالى: {جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} (البقرة: من الآية143) .

ولفظة وسط وما شابهها من مشتقات أخرى كواسط، وأوسط، ووسيط، وواسطة ووساطة تطلق في اللغة العربية على معنيين: المعنى الأول بديهي وعام، يقصد به مجرد التوسط بين شيئين مطلقا معنوياً كان أو حسياً. كقولهم: فلان يقوم بدور الوسيط أو الوساطة بين خصمين، ويرى اللغويون أن الوسط بالسكون لا يراد به إلا مجرد التوسط بين أمرين، أما الوسط بالفتح فيراد به شيء أهم وأسمى من مجرد التوسط.

أما المعنى الثاني للفظ وسط فهو المعنى الخاص، حيث يراد به في لغة العرب الأعدل والأفضل والأحسن والأخير بسكون الخاء. ومن ذلك قولهم فلان وسط قومه أي: من أحسن القوم وأخير الناس. وقولهم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إنه كان من أوسط قومه نسباً وشرفاً أي: أنه من أخير الناس وأفضلهم وأعدلهم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية), এর উদারতা এবং সংলাপের প্রতি এর আহ্বান। ইসলামি উম্মাহ এমন এক অনন্য বৈশিষ্ট্যে বিশেষায়িত যা ইতিপূর্বে অন্য কোনো জাতির ছিল না; আর তা হলো মধ্যপন্থা (وسطية) হওয়ার বৈশিষ্ট্য, যার মাধ্যমে পবিত্র কুরআনে এই উম্মাহর পরিচয় দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালার বাণী: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسطًا) উম্মাহ হিসেবে গঠন করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন।" (সূরা আল-বাকারা: ১৪৩ নং আয়াতের অংশ)।

'ওয়াসাত' (وسط) শব্দ এবং এর থেকে উদ্ভূত অন্যান্য রূপ যেমন: ওয়াসিত, আওসাত, ওয়াসিত, ওয়াসিতাহ এবং ওয়াসাতাহ—আরবি ভাষায় দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। প্রথম অর্থটি স্বতঃসিদ্ধ ও সাধারণ, যার দ্বারা নিছক দুটি জিনিসের মাঝখানে থাকাকে বোঝায়, তা ভাবগত হোক বা বস্তুগত। যেমন বলা হয়: অমুক ব্যক্তি দুইজন বিবাদমান ব্যক্তির মধ্যে মধ্যস্থতাকারী (وسيط) বা মধ্যস্থতার (وساطة) ভূমিকা পালন করছে। ভাষাবিদগণ মনে করেন যে, 'সিন' বর্ণে সুকুনযুক্ত 'ওয়াসাত' (الوسط) শব্দ দ্বারা কেবল দুটি বিষয়ের মধ্যবর্তী অবস্থানই উদ্দেশ্য। তবে 'সিন' বর্ণে ফাতহাহযুক্ত 'ওয়াসাত' (الوسط) শব্দ দ্বারা সাধারণ মধ্যবর্তী অবস্থানের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চতর কিছু বোঝানো হয়।

আর 'ওয়াসাত' (وسط) শব্দের দ্বিতীয় অর্থটি হলো বিশেষ অর্থ; যেখানে আরবদের ভাষায় এর দ্বারা সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ (الأعدل), সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ (الأفضل), সবচেয়ে সুন্দর (الأحسن) এবং শ্রেষ্ঠ (الأخير) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। এরই উদাহরণ হলো তাদের উক্তি: "অমুক ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের মধ্যে মধ্যবর্তী (وسط) পর্যায়ের", অর্থাৎ সে ওই সম্প্রদায়ের সবচেয়ে উত্তম এবং মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তেমনিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে তাদের উক্তি যে, "তিনি বংশ ও আভিজাত্যের দিক থেকে তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে সবচেয়ে মধ্যবর্তী (أوسط) ছিলেন", অর্থাৎ তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম এবং সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ (الأعدل)।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ২)
قال الشاعر يمتدح الرسول صلى الله عليه وسلم:

يا أوسط الناس طرا في مفاخرهم … وأكرم الناس أما برة وأبا

ويفهم من هذا أن أوسط الشيء أفضله وخياره، كوسط المرعى فإنه خير من طرفيها، وكوسط الدابة للركوب فإنه خير من طرفيها لتمكن الراكب، ومنه الحديث «خيار الأمور أوساطها» ، وواسطة القلادة هي الدرة التي في وسطها، وهي أنفس خرزها، ويقال: فلان من أوسط قومه أي خيارهم، وفلان وسيط قومه أو وسيط في قومه إذا كان أوسطهم نسباً وأرفعهم مجداً.

قال العرجي:

كأني لم أكن فيهم وسيطاً … ولم تكن نسبتي في آل عمر

وفي حديث رقيقة: انظروا رجلاً وسيطاً أي حسيباً في قومه.

ومن ذلك أيضاً قول الشاعر زهير:

هم وسط يرضى الأنام بحكمهم … إذا نزلت إحدى الليالي بمعظم

أي هم عدل. وقول شاعر آخر: " وكن من الناس جميعا ووسطا " أي من أخيرهم. وقول ابن الرومي في رثاء ولده:

توخى حمام الموت أوسط صبيتي … فلله كيف اختار واسطة العقد

أي أفضل وأعز وأجمل أولاده.
কবি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রশংসা করে বলেছেন:

হে সকল মানুষের মাঝে তাদের গৌরবের বিষয়ে শ্রেষ্ঠ (أوسط) … এবং মাতা-পিতার দিক থেকে সবচেয়ে মহৎ ও নেককার।

এ থেকে বোঝা যায় যে, কোনো বস্তুর ‘আওসাত’ বলতে তার সর্বোত্তম ও উৎকৃষ্ট (خياره) অংশকে বোঝায়; যেমন চারণভূমির মধ্যবর্তী স্থান, যা তার দুই প্রান্তের চেয়ে উত্তম। আবার আরোহণের ক্ষেত্রে পশুর পিঠের মাঝখানটি তার দুই প্রান্তের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ তা আরোহীকে স্থির রাখতে সাহায্য করে। এ থেকেই হাদিসটি এসেছে: «সর্বোত্তম বিষয় হলো তার মধ্যপন্থাগুলো (أوساطها)»। কণ্ঠহারের ‘ওয়াসিতা’ হলো তার মাঝখানের মুক্তাটি, যা হারের দানাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ (أوسط) অর্থাৎ তাদের মধ্যে সর্বোত্তম (خياره)। আর অমুক ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের ‘ওয়াসিত’ (وسيط) বা তার সম্প্রদায়ের মাঝে ‘ওয়াসিত’ তখন বলা হয়, যখন সে বংশমর্যাদায় তাদের মধ্যে অধিকতর অভিজাত এবং সম্মানে সর্বোচ্চ হয়।

আল-আরজি বলেছেন:

যেন আমি তাদের মধ্যে উচ্চবংশীয় (وسيطاً) ছিলাম না … আর আমার বংশ পরিচয় উমরের পরিবারে ছিল না।

রুকাইক্বাহ-এর হাদিসে এসেছে: তোমরা একজন উচ্চবংশীয় (وسيطاً) ব্যক্তিকে অনুসন্ধান করো, অর্থাৎ তার সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন বংশমর্যাদাসম্পন্ন (حسيباً) ব্যক্তিকে।

অনুরূপভাবে কবি যুহাইরের উক্তি:

তারা হলো মধ্যপন্থী ও ন্যায়নিষ্ঠ (وسط), যাদের ফয়সালায় সৃষ্টিজগত সন্তুষ্ট থাকে … যখন কোনো রজনীতে মহা বিপদ আপতিত হয়।

অর্থাৎ তারা ন্যায়পরায়ণ (عدل)। অন্য এক কবির উক্তি: "তুমি সকল মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ (وسطا) হয়ে থাকো", অর্থাৎ তাদের মধ্যে সর্বোত্তম। ইবনে আল-রুমির উক্তি তার সন্তানের শোকগাঁথায়:

মৃত্যুর দূত আমার সন্তানদের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠজনকে (أوسط) লক্ষ্যস্থল বানিয়েছে … আল্লাহর শপথ! সে হারের মধ্যমণিটিকে কীভাবে বেছে নিল!

অর্থাৎ তার সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম, প্রিয় এবং সুন্দরতম।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ৩)
ومعنى هذا أن لفظ وسط في لغة العرب كما ذكرت سابقاً يعني الأعدل والجيد والأفضل لا مجرد التوسط بين أمرين، ويتضح هذا المفهوم أو هذا المعنى من الآيات القرآنية التي ورد فيها لفظ وسط وأوسط ووسطى وذلك في خمسة مواضع في القرآن الكريم.

قال تعالى: {فَوَسَطْنَ بِهِ جَمْعًا} (سورة العاديات، الآية:5) .

وقال تعالى: {فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ} (المائدة من الآية: 89) .

وقال تعالى: {قَالَ أَوْسَطُهُمْ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ لَوْلَا تُسَبِّحُونَ} (سورة القلم، الآية:28) .

وقال تعالى: {حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَى وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} (سورة البقرة، الآية:238) ، وهي أفضل أوقات الصلاة عند المفسرين.

وقيل في تفسير الصلاة الوسطى: إنها صلاة العصر لأنها بين صلاتي النهار وصلاتي الليل وقيل: الوسطى بمعنى الفضلى.
এর অর্থ হলো, আরবি ভাষায় ‘ওয়াসাত’ (وسط) শব্দটির অর্থ হলো—যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি—সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ (الأعدل), উত্তম (الجيد) এবং শ্রেষ্ঠ (الأفضل), কেবল দুটি জিনিসের মধ্যবর্তী অবস্থান নয়। এই ধারণা বা অর্থ সেই কুরআনের আয়াতগুলো থেকে স্পষ্ট হয় যেখানে ‘ওয়াসাত’ (وسط), ‘আওসাত’ (أوسط) এবং ‘উসতা’ (وسطى) শব্দগুলো বর্ণিত হয়েছে, আর তা পবিত্র কুরআনের পাঁচটি স্থানে এসেছে।

মহান আল্লাহ বলেন: “অতঃপর সে অবস্থায় তারা দলের মধ্যস্থলে (وسطن) ঢুকে পড়ে।” (সূরা আল-আদিয়াত, আয়াত: ৫) ।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: “এর কাফফারা হলো দশজন মিসকীনকে খাবার দান করা—তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনকে যা খাইয়ে থাকো তার মাঝারি (أوسط) মানের খাদ্য থেকে—অথবা তাদের পোশাক পরিধান করানো কিংবা একজন দাস মুক্ত করা।” (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৮৯ এর অংশ) ।

মহান আল্লাহ বলেন: “তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ (أوسطهم) ব্যক্তিটি বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, তোমরা কেন আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছ না?’” (সূরা আল-কালাম, আয়াত: ২৮) ।

মহান আল্লাহ বলেন: “তোমরা সকল সালাতের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে শ্রেষ্ঠ (الوسطى) সালাতের প্রতি; আর আল্লাহর সামনে বিনীতভাবে দণ্ডায়মান হও।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৩৮)। এটি মুফাসসিরগণের নিকট সালাতের শ্রেষ্ঠ সময়।

‘সালাতুল উসতা’ (الصلاة الوسطى) এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: এটি আসরের সালাত, কারণ এটি দিনের দুই সালাত ও রাতের দুই সালাতের মধ্যবর্তী। আবার বলা হয়েছে: ‘উসতা’ (الوسطى) শব্দটি শ্রেষ্ঠ (الفضلى) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وقال تعالى: {جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} (البقرة: من الآية:143) ، أي جعلناكم أعدل الناس وأخيرهم.

وقد وردت أحاديث كثيرة عن النبي صلى الله عليه وسلم يفهم منها أن المراد بالوسط في الآية: العدل والأعدل والخيار والأخير.

ومن هذه الأحاديث النبوية الشريفة ما رواه الإمام أحمد عن أبي سعيد الخدري أنه صلى الله عليه وسلم سئل عن الوسط في هذه الآية فقال: وسطا عدلاً.

ويقول ابن كثير في شرح هذه الآية والتي جاءت في سياق الكلام عن تحويل القبلة من القدس إلى الكعبة المشرفة: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} أي: إنما حولناكم إلى الكعبة واخترناها لكم لتكونوا خيار الأمم. إلى أن قال: والوسط هنا معناه: الخيار والعدل في الشهادة لأن جميع الرسل سينكرهم أقوامهم يوم القيامة فتأتي هذه الأمة الإسلامية فتشهد لأولئك الرسل بأنهم بلغوا رسالات ربهم طبقاً لما أخبرهم به رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم.
মহান আল্লাহ বলেন: "আমি তোমাদেরকে এভাবেই এক মধ্যপন্থী (وسطاً) জাতি হিসেবে তৈরি করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হতে পারো এবং রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী হতে পারেন" (সূরা আল-বাকারা: ১৪৩-এর অংশ); অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক ন্যায়পরায়ণ (أعدل) এবং সর্বোত্তম (أخير) জাতি হিসেবে নির্ধারণ করেছি।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যেখান থেকে বোঝা যায় যে, আয়াতে 'ওয়াসাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ন্যায়পরায়ণতা (العدل), সর্বাধিক ন্যায়পরায়ণ (الأعدل), শ্রেষ্ঠত্ব (الخيار) এবং সর্বোত্তম (الأخير)।

এই সম্মানিত হাদিসগুলোর মধ্যে ইমাম আহমাদ আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই আয়াতে বর্ণিত 'ওয়াসাত' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "ন্যায়পরায়ণ (عدلاً) মধ্যপন্থা।"

ইবনে কাসীর এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন—যা কুদস থেকে সম্মানিত কাবার দিকে কিবলা পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এসেছে: "এবং এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسطاً) জাতি বানিয়েছি" অর্থাৎ: আমি তোমাদের কিবলা কাবার দিকে পরিবর্তন করেছি এবং তা তোমাদের জন্য মনোনীত করেছি যাতে তোমরা শ্রেষ্ঠ জাতি (خيار الأمم) হতে পারো। এরপর তিনি বলেন: এখানে 'ওয়াসাত' এর অর্থ হলো—সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব (الخيار) এবং ন্যায়পরায়ণতা (العدل); কারণ কিয়ামতের দিন সকল রাসুলকে তাদের নিজ নিজ উম্মতরা অস্বীকার করবে, তখন এই মুসলিম উম্মাহ উপস্থিত হয়ে সেই রাসুলদের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে যে, তারা তাদের রবের রিসালাত যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন—যেভাবে রাসুলুল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অবহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ৫)
فعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «يُجَاءُ بِنُوحٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ بَلَّغْتَ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ يَا رَبِّ، فَتُسْأَلُ أُمَّتُهُ هَلْ بَلَّغَكُمْ؟ فَيَقُولُونَ مَا جَاءَنَا مِنْ نَذِيرٍ، فَيَقُولُ: مَنْ شُهُودُكَ؟ فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ وَأُمَّتُهُ، فَيُجَاءُ بِكُمْ فَتَشْهَدُونَ، ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا} ، قَالَ: عَدْلاً لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا» (1) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري، باب قوله تعالى: وكذلك جعلناكم أمة وسطا، رقم: 6803.
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «কিয়ামতের দিন নূহ (আলাইহিস সালাম)-কে উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তাঁকে বলা হবে: আপনি কি (আমার পয়গাম) পৌঁছে দিয়েছেন? তিনি বলবেন: হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক। তারপর তাঁর উম্মতকে জিজ্ঞেস করা হবে: তিনি কি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন? তারা বলবে: আমাদের কাছে কোনো সতর্ককারী আসেনি। তখন আল্লাহ বলবেন: আপনার সাক্ষী কে? তিনি বলবেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর উম্মত। অতঃপর তোমাদের আনা হবে এবং তোমরা সাক্ষ্য দেবে। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিলাওয়াত করলেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি}। তিনি বললেন: (মধ্যপন্থী অর্থ) ন্যায়পরায়ণ (عدلا), যাতে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হতে পারেন» (১) ।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন, পরিচ্ছেদ: আল্লাহর বাণী: 'এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি', হাদিস নম্বর: ৬৮০৩।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ৬)
الْوَسَط فِي كَلام الْعَرَب الْخِيَار، يَقُولُونَ: فُلان وَسَط فِي قَوْمه وَوَاسِط إِذَا أَرَادُوا الرَّفْع فِي حَسَبه، ومَعْنَى الْوَسَط فِي الآيَة الْجُزْء الَّذِي بَيْن الطَّرَفَيْنِ، وَالْمَعْنَى أَنَّهُمْ وَسَط لِتَوَسُّطِهِمْ فِي الدِّين فَلَمْ يَغْلُوا كَغُلُوِّ النَّصَارَى وَلَمْ يُقَصِّرُوا كَتَقْصِيرِ الْيَهُود، وَلَكِنَّهُمْ أَهْل وَسَط وَاعْتِدَال، فالوسط يجيء في المعاني المعقولة، كما يجيء في الأشياء الملموسة، ومن ذلك قول أعرابي للحسن: (علمني دينا وسوطا، لا ذاهبا فروطا ولا ساقطا سقوطا) فالوسوط هو المتوسط بين الفالي والتالي، ومن ذلك قول علي رضي الله عنه " خير الناس هذا النمط الأوسط، يلحق بهم التالي، ويرجع إليهم الفالي".

আরবি ভাষায় 'ওয়াসাত' (الوسط) বলতে শ্রেষ্ঠ বা উৎকৃষ্ট (الخيار) বোঝায়। তারা বলে থাকে: "অমুক ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের মধ্যে 'ওয়াসাত' (وسط) বা 'ওয়াসিত' (واسط)", যখন তারা তার বংশমর্যাদা ও সম্মান উচ্চকিত করতে চায়। পবিত্র কুরআনের আয়াতে 'ওয়াসাত' (الوسط) শব্দের অর্থ হলো দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অংশ। এর তাৎপর্য হলো, তারা দ্বীনের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (توسط) অবলম্বন করার কারণে 'ওয়াসাত' (وسط); তারা খ্রিস্টানদের মতো অতিরঞ্জন (غلو) করেনি এবং ইহুদিদের মতো চরম অবহেলা বা শিথিলতা (تقصير) প্রদর্শন করেনি। বরং তারা হলো মধ্যপন্থা (وسط) ও ভারসাম্যের (اعتدال) অনুসারী। সুতরাং 'ওয়াসাত' (الوسط) শব্দটির প্রয়োগ যেমন বুদ্ধিগ্রাহ্য বা বিমূর্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে হয়, তেমনি দৃশ্যমান বা মূর্ত বিষয়ের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে। এরই উদাহরণ হলো হাসান (বসরি)-এর প্রতি এক গ্রাম্য ব্যক্তির উক্তি: "আমাকে এমন এক মধ্যপন্থী (وسوطا) দ্বীন শিক্ষা দিন, যা অতিরঞ্জিত হয়ে সীমা লঙ্ঘনকারী হবে না এবং অবহেলার কারণে নিপতিতও হবে না।" মূলত 'ওয়াসুত' (الوسوط) হলো অত্যধিক অগ্রগামী এবং পশ্চাদপদ ব্যক্তির মধ্যবর্তী অবস্থা। একারণেই আলী (রা.) বলেছেন: "মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলো এই মধ্যমপন্থী (الأوسط) শ্রেণি, যাদের সাথে পশ্চাদপদ ব্যক্তিরা এসে মিলিত হয় এবং অগ্রগামীরা তাদের দিকেই ফিরে আসে।"

(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وقال ابن الأثير في شرح قوله: «خير الأمور أوسطها» : كل خصلة محمودة فلها طرفان مذمومان، فإن السخاء وسط بين البخل والتبذير، والشجاعة وسط بين الجبن والتهور، والإنسان مأمور أن يتجنب كل وصف مذموم، وتجنبه بالتعري منه، فكلما ازداد منه بعداً ازداد من الوسط قرباً، وأبعد الجهات والمقادير والمعاني من كل طرفين وسطهما، وهو غاية البعد منهما، فإذا كان في الوسط فقد بعد عن الأطراف المذمومة بتعدد الأماكن.
ইবনুল আসীর «উত্তম কাজ হলো তার মধ্যমপন্থা»—এই বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন: "প্রতিটি প্রশংসনীয় গুণেরই দুটি নিন্দনীয় প্রান্ত থাকে। যেমন—দানশীলতা হলো কৃপণতা ও অপব্যয়ের মধ্যবর্তী অবস্থা, আর বীরত্ব হলো ভীরুতা ও হঠকারিতার মধ্যবর্তী অবস্থা। মানুষকে প্রতিটি নিন্দনীয় বৈশিষ্ট্য পরিহার করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, আর তা বর্জন করা সম্ভব সেসব থেকে বিমুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। সুতরাং মানুষ তা থেকে যত দূরে সরবে, মধ্যপন্থার তত নিকটে আসবে। আর যে কোনো দুই প্রান্তের দিক, পরিমাণ ও তাৎপর্যের বিচারে মধ্যবর্তী স্থানটিই হলো সবচেয়ে দূরবর্তী; যা উভয় প্রান্ত থেকে চরম দূরত্বের নির্দেশক। অতএব, যখন কেউ মধ্যপন্থায় অবস্থান করে, তখন সে নানাবিধ অবস্থানের ব্যবধানে নিন্দনীয় প্রান্তসমূহ থেকে দূরে অবস্থান করে।"
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد وصف الله - تعالى - الأمة الإسلامية بأنها أمة وسط، وذم الإسلام التطرف والانحراف والخروج عن الجادة، وصور الله عز وجل غير المتمكن من دينه بصورة من هو على حرف قال تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَعْبُدُ اللَّهَ عَلَى حَرْفٍ فَإِنْ أَصَابَهُ خَيْرٌ اطْمَأَنَّ بِهِ وَإِنْ أَصَابَتْهُ فِتْنَةٌ انْقَلَبَ عَلَى وَجْهِهِ خَسِرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةَ ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ} (سورة الحج، الآية:11) ، أي على غير تمكن فهو على طرف من دينه غير متمكن منه، كما صور المتمكن المستقيم بصورة من هو على صراط سوي لا عوج فيه ولا أمت، ووصف دينه وشريعته بين غيرها بأنها هي هذا الصراط السوي إذ يقول سبحانه: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} (سورة الأنعام، الآية:153) ، بل وصف نفسه - جل شأنه - بأنه على صراط مستقيم، إذ يقول سبحانه: {إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (سورة هود، من الآية: 56) .

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে একটি মধ্যপন্থী (وسط) জাতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং ইসলাম উগ্রপন্থা, বিচ্যুতি ও সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়াকে নিন্দা করেছে। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল দ্বীনের ওপর অবিচল নয় এমন ব্যক্তিকে সেই ব্যক্তির রূপে চিত্রিত করেছেন যে প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে আছে; মহান আল্লাহ বলেন: {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদত করে প্রান্তসীমায় দাঁড়িয়ে; যদি সে কল্যাণের সম্মুখীন হয়, তবে তাতে তার চিত্ত প্রশান্ত হয়, আর যদি সে বিপদে পতিত হয়, তবে সে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই হারালো; এটাই তো সুস্পষ্ট ক্ষতি।} (সূরা আল-হজ্জ, আয়াত: ১১), অর্থাৎ দৃঢ়তা না থাকায় সে তার দ্বীনের এমন এক প্রান্তে অবস্থান করছে যেখানে সে অটল নয়। পক্ষান্তরে, তিনি অটল ও অবিচল (مستقيم) ব্যক্তিকে এমন এক সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত হিসেবে চিত্রিত করেছেন যাতে কোনো বক্রতা বা বন্ধুরতা নেই। তিনি স্বীয় দ্বীন ও শরীয়তকে অন্যান্য আদর্শের তুলনায় সেই সঠিক পথ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কেননা সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {আর এটিই আমার সরল (مستقيم) পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।} (সূরা আল-আন'আম, আয়াত: ১৫৩)। এমনকি মহিমান্বিত আল্লাহ স্বয়ং নিজেকে সরল (مستقيم) পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে বর্ণনা করেছেন; যেহেতু সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমার রব সরল (مستقيم) পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।} (সূরা হুদ, আয়াত: ৫৬-এর অংশবিশেষ)।

(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وفي كل ما تحدث عنه القرآن الكريم نجد الوسطية التي في معنى الكمال ظاهرة ظهوراً بيناً في الحديث عن الدنيا والآخرة - النعيم والعذاب - النفس والروح والجسد - السماوات والأرض الليل والنهار - والخوف والرجاء - والفكر والعمل - والحسنة والسيئة - والعدل والفضل - هذا في القرآن كله -.
পবিত্র কুরআন যা কিছু বিবৃত করেছে তার সর্বত্রই আমরা এমন এক মধ্যপন্থা প্রত্যক্ষ করি, যা পূর্ণতার অর্থে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত; আর তা দুনিয়া ও আখেরাত - নেয়ামত ও শাস্তি - নফস, রুহ ও দেহ - আসমানসমূহ ও জমিন রাত ও দিন - ভয় ও আশা - চিন্তা ও কর্ম - পুণ্য ও পাপ - এবং ন্যায়বিচার ও অনুগ্রহ সংক্রান্ত আলোচনার প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয় - পুরো কুরআনেই বিষয়টি এমন।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وفي آيات بعينها نجد تلك‌‌ الوسطية في العقيدة: قال تعالى: {يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ انْتَهُوا خَيْرًا لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلًا} (سورة النساء، الآية:171) .

والمراد عدم مجاوزة الحد في الدين ومن ذلك أمر عيسى عليه السلام، فنهى سبحانه عن حطه عن منزلته أو رفعه فوق قدره.
এবং নির্দিষ্ট কিছু আয়াতে আমরা সেই আকিদার (العقيدة) ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) দেখতে পাই: মহান আল্লাহ বলেন: {হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর ওপর সত্য ছাড়া কিছু বলো না। মারইয়াম পুত্র ঈসা মসীহ তো কেবল আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মারইয়ামের কাছে প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনো এবং বলো না যে, (আল্লাহ) তিনজন। বিরত হও, এতে তোমাদের কল্যাণ হবে। আল্লাহ তো কেবল এক ইলাহ; তাঁর সন্তান হওয়া থেকে তিনি অতীব পবিত্র। আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই; আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।} (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৭১)।

আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দ্বীনের ক্ষেত্রে সীমা (الحد) অতিক্রম না করা। ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর উপযুক্ত মর্যাদা থেকে নিচে নামানো কিংবা তাঁর প্রকৃত অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠানো থেকে নিষেধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ونجدها في التشريع: قال تعالى: {وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ بِهِ وَلَئِنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِلصَّابِرِينَ} (سورة النحل، آية:126) .

وهكذا تسير وسطية الكمال في النسق القرآني كله من أوله لآخره وفي أغراضه كلها حتى في صياغة نفس الإنسان المؤمن، فهو لا يركن إلى الأمن مطلقاً أو إلى الخوف بإطلاق، وقد نهى الله المسلم عن الفرح بالدنيا بقوله سبحانه: {إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ} (سورة القصص من الآية: 76) ، ونهاه أن يركن إلى اليأس أو القنوط في دنياه، بقوله تعالى: {وَلَا تَيْأَسُوا مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَيْئَسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ} (سورة يوسف من الآية: 87) .
আমরা এটি বিধান প্রণয়নের (التشريع) ক্ষেত্রেও দেখতে পাই। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর যদি তোমরা প্রতিবিধান করো, তবে ঠিক ততটুকুই করো যতটুকু তোমাদের প্রতি করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, তবে ধৈর্যশীলদের জন্য সেটিই অধিক উত্তম" (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৬)।

এভাবেই আল-কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর সামগ্রিক বিন্যাসে এবং এর সকল উদ্দেশ্যে পূর্ণতার মধ্যপন্থা (وسطية) বিদ্যমান থাকে, এমনকি মুমিন ব্যক্তির মনস্তত্ত্ব গঠনের ক্ষেত্রেও। ফলস্বরূপ, সে না নিরঙ্কুশ নির্ভয়তার ওপর নির্ভর করে, আর না চূড়ান্ত ভীতির ওপর। আল্লাহ তাআলা মুসলিমকে দুনিয়া নিয়ে দম্ভ করা থেকে নিষেধ করে ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ দম্ভকারীদের পছন্দ করেন না" (সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৭৬-এর অংশ)। তেমনিভাবে তিনি পার্থিব জীবনে চরম নিরাশা বা হতাশার ওপর নির্ভর করতেও নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই কাফির সম্প্রদায় ব্যতীত আর কেউ আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয় না" (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৭-এর অংশ)।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وهكذا كانت شعائر الإسلام وعباداته فهي تتوسط التكليف بمعناه العام فلا مشقة فيه ولا هوان في أمره، إن العبادات الإسلامية كلها من الصلاة والصوم والزكاة والحج تبدو للمكلف واجباً دينياً له أعظم الأهمية في دنياه وآخرته. وتبدو في أدائها إزاء هذا القدر العظيم من الأهمية قليلة المشقة والكلفة على النفس والجسد فتجتمع في العبادات عظمة التكليف في قيمته ويسره في أدائه.

وقد كانت حياة النبي صلى الله عليه وسلم وسيرته مثالاً في التطبيق القرآني الكامل، لقد نهى النبي صلى الله عليه وسلم أصحابه عن الغلو في العبادة حتى لا تصل إلى المشقة البالغة، وقال لأصحابه الذين أرادوا حرمان أنفسهم من طيبات الدنيا ظناً منهم أن ذلك يقربهم إلى الله: «أما والله إني لأخشاكم لله وأتقاكم له ولكني أصوم وأفطر وأصلي وأرقد وأتزوج النساء فمن رغب عن سنتي فليس مني» .
এভাবেই ইসলামের নিদর্শন ও ইবাদতসমূহ নির্ধারিত হয়েছে, যা সাধারণ অর্থে শরয়ি দায়িত্বের (التكليف) ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে; এতে কোনো চরম কষ্ট নেই, আবার এর গুরুত্বের বিষয়ে কোনো শিথিলতাও নেই। সালাত, সাওম, জাকাত ও হজ—সব ইসলামী ইবাদত একজন মুকাল্লাফের (المكلف) নিকট এমন এক দ্বীনি কর্তব্য হিসেবে প্রতীয়মান হয় যার গুরুত্ব তার দুনিয়া ও আখিরাতে অপরিসীম। এই বিশাল গুরুত্বের পাশাপাশি ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে তা মন ও শরীরের জন্য সামান্য কষ্টসাধ্য বলে মনে হয়। ফলে ইবাদতসমূহের মাঝে একদিকে যেমন এর ধর্মীয় মূল্যের মাহাত্ম্য রয়েছে, অন্যদিকে এটি পালনের সহজতাও বিদ্যমান।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ও সীরাত ছিল পূর্ণাঙ্গ কুরআনি প্রয়োগের এক বাস্তব উদাহরণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের ইবাদতের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন (الغلو) করতে নিষেধ করেছেন যাতে তা চরম কষ্টে রূপ না নেয়। তিনি সেই সকল সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন যারা দুনিয়ার পবিত্র ও উত্তম বস্তুসমূহ থেকে নিজেদের বঞ্চিত রাখতে চেয়েছিলেন এই ধারণায় যে, তা তাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করবে: “আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খোদাভীরু (أتقى); কিন্তু আমি সাওম পালন করি আবার বিরতিও দেই, সালাত আদায় করি আবার নিদ্রাও যাই এবং নারীদের বিবাহও করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর (سنة) প্রতি বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।”
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وهكذا بين لهم منهج القرآن الكريم في العبادة القائم على كمال الوسطية، وقد ورد في السنة النبوية أن الرسول صلى الله عليه وسلم رد صدقة رجل دفع بكل ماله إليه، وقال الرسول صلى الله عليه وسلم «ينطلق أحدكم فيخلع من ماله ثم يصير عيالاً على الناس» ، وعندما أراد سعد رضي الله عنه أن يوصي بماله كله أو نصفه فأجاز له صلى الله عليه وسلم أن يوصي بثلث ماله، وقال له: «الثلث والثلث كثير» .

وحين تزيد المشقة في العبادة كالصوم في وقت حر وحال حرب يبيح الرسول صلى الله عليه وسلم للمقاتل أن يفطر حتى لا تزداد مشقة التكليف؛ لأن في الإلزام به مشقة، ومن القواعد المقررة لدى الفقهاء قاعدة: المشقة تجلب التيسير، وأمثلتها ظاهرة في كثير من التكاليف والأحكام، ومن ذلك قصر الصلاة وجمعها للمسافر.
এভাবেই তিনি তাদের সম্মুখে ইবাদতের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের সেই কর্মপন্থা স্পষ্ট করেছেন যা পূর্ণাঙ্গ মধ্যপন্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক ব্যক্তির সদকা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যে তার সমস্ত সম্পদ তাঁর কাছে নিয়ে এসেছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন, "তোমাদের কেউ কেউ তার সমুদয় সম্পদ বিলিয়ে দেয়, অতঃপর সে মানুষের গলগ্রহ হয়ে পড়ে।" আর যখন সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার সমস্ত সম্পদ কিংবা অর্ধেক সম্পদ অসিয়ত করতে চেয়েছিলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ অসিয়ত করার অনুমতি দান করেন এবং বলেন: "এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক।"

আর যখন ইবাদতের ক্ষেত্রে কাঠিন্য বৃদ্ধি পায়—যেমন প্রচণ্ড উত্তাপে রোজা রাখা কিংবা যুদ্ধের অবস্থা—তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যোদ্ধাদের জন্য রোজা ভঙের অনুমতি প্রদান করেন যাতে বিধান পালনের কষ্ট বৃদ্ধি না পায়; কারণ এতে বাধ্যবাধকতা বজায় রাখা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ফকিহগণের নিকট একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতি হলো: "কষ্ট সহজীকরণকে আনয়ন করে"। এর উদাহরণ অনেক ধর্মীয় বিধান ও হুকুমের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট, যার অন্তর্ভুক্ত হলো মুসাফিরের জন্য নামাজ সংক্ষেপ করা ও দুই ওয়াক্তের নামাজ একত্র করা।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
عن «ابن عَبَّاسٍ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَدَاةَ الْعَقَبَةِ وَهُوَ عَلَى رَاحِلَتِهِ هَاتِ الْقُطْ لِي، فَلَقَطْتُ لَهُ حَصَيَاتٍ هُنَّ حَصَى الْخَذْفِ، فَلَمَّا وَضَعْتُهُنَّ فِي يَدِهِ، قَالَ: " بِأَمْثَالِ هَؤُلاءِ وَإِيَّاكُمْ وَالْغُلُوَّ فِي الدِّينِ فَإِنَّمَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ الْغُلُوُّ فِي الدِّينِ» (1) .

وحين تتوب امرأة أجرمت ذنباً ويقام عليها الحد، يمنع الرسول عليه الصلاة والسلام إيذاءها حتى باللسان ويقول لأصحابه كما في صحيح مسلم: «لَقَدْ تَابَتْ تَوْبَةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْنَ سَبْعِينَ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ لَوَسِعَتْهُمْ وَهَلْ وَجَدَتْ تَوْبَةً أَفْضَلَ مِنْ أَنْ جَادَتْ بِنَفْسِهَا لِلَّهِ تَعَالَى» ، فالذنب ولو كان عقابه القتل، لا يحجب مشاعر الرحمة.

--------------------------------------------

(1) أخرجه النسائي، باب التقاط الحصى، رقم: 3007، وابن ماجة، باب قدر حصى الرمي، رقم: 3020.
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আকাবার সকালে তাঁর সওয়ারিতে থাকা অবস্থায় আমাকে বললেন, "আমার জন্য কঙ্কর কুড়িয়ে দাও।" আমি তাঁর জন্য ছোট ছোট কঙ্কর কুড়িয়ে আনলাম। যখন আমি সেগুলো তাঁর হাতে রাখলাম, তখন তিনি বললেন: "এইরূপ কঙ্কর দিয়েই (পাথর নিক্ষেপ করো)। আর তোমরা দ্বীনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন বা বাড়াবাড়ি (الغلو) করা থেকে সতর্ক থাকো; কেননা তোমাদের পূর্ববর্তীগণ দ্বীনের ব্যাপারে এই অতিরঞ্জন (الغلو) করার কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে।" (১) .

আর যখন কোনো নারী কোনো অপরাধ করার পর তাওবা করে এবং তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড (الحد) প্রয়োগ করা হয়, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এমনকি জবান দ্বারাও তাকে কষ্ট দিতে বারণ করেন এবং তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, যেমনটি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে: "সে এমন এক তাওবা করেছে যা যদি মদিনার সত্তর জন অধিবাসীর মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হতো, তবে তা তাদের সকলের জন্য পর্যাপ্ত হতো। সে কি এর চেয়ে উত্তম কোনো তাওবা খুঁজে পেয়েছে যে, সে মহান আল্লাহর জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে?" সুতরাং পাপের শাস্তি যদিও মৃত্যুদণ্ড হয়, তা দয়া ও মায়ার অনুভূতিকে ঢেকে দেয় না।

--------------------------------------------

(১) এটি নাসাঈ উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه), কঙ্কর সংগ্রহ পরিচ্ছেদ (باب), নম্বর: ৩০০৭ এবং ইবনে মাজাহ, নিক্ষেপের কঙ্করের পরিমাপ পরিচ্ছেদ (باب), নম্বর: ৩০২০।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فوسطية الإسلام تظهر في كل تكاليفه ومنها العبادات فهي لم تشرع مشقة للناس أو تعذيباً لهم، بل هي تزكية للنفس وطهرة لها وشكراً لله وطاعة للخالق عز وجل وصلة بين العبد وربه، قال تعالى: {مَا يَفْعَلُ اللَّهُ بِعَذَابِكُمْ إِنْ شَكَرْتُمْ وَآمَنْتُمْ وَكَانَ اللَّهُ شَاكِرًا عَلِيمًا} (سورة النساء، الآية:147) ، قال الخازن في تفسيره (2 / 184) : " هذا استفهام تقرير معناه أنه - تعالى - لا يعذب الشاكر المؤمن فإن تعذيبه لا يزيد في ملكه وتركه عقوبته لا ينقص من سلطانه لأنه الغني الذي لا يحتاج إلى شيء من ذلك، فإن عاقب أحداً فإنما يعاقبه لأمر أوجبه العدل والحكمة، فإن قمتم بشكر نعمته وآمنتم به فقد أنقذتم أنفسكم من عذابه".

ইসলামের মধ্যপন্থা (وسطية) তার প্রতিটি বিধানের মধ্যেই পরিস্ফুট, যার অন্যতম হলো ইবাদতসমূহ। এগুলো মানুষের জন্য কষ্টদায়ক (مشقة) কিংবা শাস্তিস্বরূপ বিধিবদ্ধ করা হয়নি; বরং এগুলো হলো আত্মার পরিশুদ্ধি (تزكية) ও পবিত্রতা, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, মহান স্রষ্টার আনুগত্য এবং বান্দা ও তাঁর রবের মধ্যকার একটি সুদৃঢ় যোগসূত্র। মহান আল্লাহ বলেন: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো এবং ঈমান আনো, তবে আল্লাহ তোমাদের শাস্তি দিয়ে কী করবেন? আর আল্লাহ তো গুণগ্রাহী (شاكرًا), সর্বজ্ঞ (عليمًا)।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪৭)। আল-খাজিন তাঁর তাফসিরে (২/১৮৪) বলেছেন: "এটি একটি স্বীকৃতিমূলক প্রশ্ন (استفهام تقرير), যার অর্থ হলো—মহান আল্লাহ কৃতজ্ঞ মুমিনকে শাস্তি দেবেন না। কারণ তাকে শাস্তি দিলে তাঁর রাজত্ব বৃদ্ধি পায় না এবং তাকে শাস্তি না দিলে তাঁর কর্তৃত্বেও কোনো ঘাটতি হয় না; কেননা তিনি এমন অমুখাপেক্ষী (الغني) যাঁর এর কোনোটিরই প্রয়োজন নেই। তিনি যদি কাউকে শাস্তি প্রদান করেন, তবে তা কেবল ন্যায়বিচার (العدل) ও প্রজ্ঞার (الحكمة) দাবি অনুযায়ীই করেন। সুতরাং তোমরা যদি তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করো এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনো, তবে তোমরা নিজেদেরকে তাঁর আজাব থেকে রক্ষা করলে।"

(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وتأتي‌‌ أهمية موضوع وسطية الإسلام وسماحته في زمن يتعرض فيه الإسلام إلى هجمة منظمة وشرسة من قبل أعداء الإسلام، ومما زاد الطين بلة أن المسلمين أنفسهم مع الأسف في صراعات وخلافات مذهبية، فكل باسط ذراعيه يدعي أنه هو صاحب الحق، وكلً يرى نفسه الفاهم المدرك ومن عداه تائهاً.

في هذا الجو المشحون بالعداء والاعتداء، وفي هذا الخضم المتلاطم من النزاعات، ما أحوجنا إلى فهم ديننا كما أمرنا الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، فبالعلم وحده المؤسس على كتاب الله وسنة رسوله عليه الصلاة والسلام ومجالسة العلماء بالإضافة إلى تضافر مؤسسات التربية والتعليم والمؤسسات الدعوية والإعلامية، نستطيع أن نتجاوز المحن، وأن نتخلص من هذه الظواهر. وما أحوجنا أيضاً إلى فهم ديننا كما أمرنا الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، وما أحوجنا أيضاً إلى احتواء آراء بعضنا البعض، وشد أزر بعضنا بعضاً، لنكون جبهة واحدة أمام الهجمة الشرسة التي يتعرض لها الإسلام اليوم وأهله.
ইসলামের মধ্যপন্থা ও সহনশীলতার গুরুত্ব এমন এক সময়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে যখন ইসলাম তার শত্রুদের পক্ষ থেকে এক সুসংগঠিত ও হিংস্র আক্রমণের শিকার। আর অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটিয়ে খোদ মুসলিমরাই আজ মাযহাবী কোন্দল ও মতভেদে লিপ্ত; ফলে প্রত্যেকেই নিজেকে সত্যের একমাত্র ধারক বলে দাবি করছে এবং নিজেকেই সঠিক বোদ্ধা ও সমঝদার মনে করছে, আর অন্যদের ভাবছে পথহারা।

শত্রুতা ও আক্রোশপূর্ণ এই পরিবেশে এবং বিবাদের এই উত্তাল তরঙ্গের মাঝে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে দ্বীনকে বোঝার প্রয়োজনীয়তা আজ কতই না বেশি! কেবল আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে অর্জিত জ্ঞান, উলামায়ে কেরামের সাহচর্য এবং সেই সাথে শিক্ষা-দীক্ষা, দাওয়াত ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা এসকল বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে এবং এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পারি। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে দ্বীনকে বোঝার প্রয়োজনীয়তা যেমন আজ অনেক বেশি, তেমনি একে অপরের মতামতকে গ্রহণ করা এবং একে অপরের হাতকে শক্তিশালী করাও আজ অত্যন্ত জরুরি; যেন আমরা আজ ইসলাম ও এর অনুসারীদের ওপর ধেয়ে আসা হিংস্র আক্রমণের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রাচীর হিসেবে দণ্ডায়মান হতে পারি।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
لقد بذل الأعداء جهدهم في بث إشاعات ينشرونها وأباطيل يروجونها من خلال بعض النصوص التي منها قوله صلى الله عليه وسلم: «نصرت بالرعب مسيرة شهر» (1) . فهم يقولون: إن النبي صلى الله عليه وسلم ينشر دينه بالإرهاب، والاعتراف سيد الأدلة.

--------------------------------------------

(1) متفق عليه.
শত্রুরা নির্দিষ্ট কিছু পাঠ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ও মিথ্যা অপবাদ প্রচারের জন্য তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছে, যার মধ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীটি অন্তর্ভুক্ত: "এক মাসের দূরত্ব পর্যন্ত ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে" (১)। তারা বলে থাকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্ত্রাসের মাধ্যমে তাঁর ধর্ম প্রচার করেছেন এবং (তাদের মতে) স্বীকারোক্তিই হলো প্রমাণের প্রধান ভিত্তি।

--------------------------------------------

(১) ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وحق لنا أن نبذل جهدنا في إحقاق الحق وإزهاق الباطل ونفند حجج المبطلين، ونرد كيدهم إلى نحورهم، فهذه الكلمة منه صلى الله عليه وسلم أتت في سياق الحديث عن حرب دفاعية عن الحق، هجومية على الباطل لا عدوان فيها ولا إرهاب بعد هزيمة المسلمين في غزوة أحد التي استشهد فيها 70 صحابياً كان في القمة منهم أسد الإسلام حمزة بن عبد المطلب رضي الله عنه، نزلت هذه الآية: {سَنُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ بِمَا أَشْرَكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَمَأْوَاهُمُ النَّارُ وَبِئْسَ مَثْوَى الظَّالِمِينَ} (سورة آل عمران، الآية:151) ، وهزيمة أحد كانت في أعقاب خروج المشركين من مكة وشنهم الهجوم على الإسلام وأمته في المدينة، وقد استطاع المشركون إيقاع خسائر جسيمة بالمدافعين عن الدين، وموطنه الجديد مما ترك آثاراً سيئة في النفوس، فأراد الله أن يواسي جراحهم، ويجبر كسرهم ويراب الصدع الذي ألم بنفوسهم وأن يشعرهم أن الجولة القادمة ستكون لمصلحتهم وأنه سيقذف الرعب في قلوب المعتدين عندما يكررون هجومهم فماذا في ذلك من عيب؟ وجاءت كلمة الرعب مرة أخرى عندما غدر يهود بني النضير،

সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং মিথ্যাকে বিলুপ্ত করার লক্ষে আমাদের শ্রম উৎসর্গ করা, বাতিলপন্থীদের যুক্তি খণ্ডন করা এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেওয়া আমাদের জন্য অপরিহার্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীটি সত্যের স্বপক্ষে প্রতিরক্ষা এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেখানে কোনো অন্যায্য সীমালঙ্ঘন বা সন্ত্রাস ছিল না। এটি ছিল উহুদ যুদ্ধের বিপর্যয়ের পরবর্তী ঘটনা, যাতে ৭০ জন সাহাবী শাহাদাত বরণ করেছিলেন, যাদের মধ্যে অগ্রগণ্য ছিলেন ইসলামের সিংহ হামজা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। সে সময় এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়: "অচিরেই আমি কাফিরদের অন্তরে ভীতির (الرعب) সঞ্চার করব, যেহেতু তারা আল্লাহর সাথে শরিক করেছে যার সপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি; তাদের আবাস হবে অগ্নি এবং যালিমদের আবাসস্থল কতই না নিকৃষ্ট!" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫১)। উহুদ যুদ্ধের এই বিপর্যয় ঘটেছিল মক্কা থেকে মুশরিকদের অভিযানের ফলে, যারা মদীনার ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর ওপর আক্রমণ চালিয়েছিল। মুশরিকরা দ্বীনের রক্ষকদের ওপর এবং এর নবগঠিত আবাসস্থলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধনে সক্ষম হয়েছিল, যা মানুষের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ চাইলেন তাদের জখম উপশম করতে, তাদের শোকাতুর হৃদয়কে সান্ত্বনা দিতে এবং তাদের মানসিক বিপর্যস্ততা দূর করতে। তিনি তাদের এই মর্মে আশ্বস্ত করতে চাইলেন যে, পরবর্তী পর্যায়টি তাদের অনুকূলে থাকবে এবং যখনই আক্রমণকারীরা পুনরায় হামলার চেষ্টা করবে, তিনি তাদের অন্তরে ভীতির (الرعب) উদ্রেক করবেন। এতে দোষের কী আছে? এই 'ভীতি' (الرعب) শব্দটির অবতারণা পুনরায় হয়েছিল যখন বনু নাযির গোত্রের ইহুদিরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল।

(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ونقضوا عهدهم وتآمروا على قتل النبي صلى الله عليه وسلم فجرد حملة ليؤدبهم ولكن القوم دون قتال حل بهم الفزع وقرروا الجلاء عن المدينة، قال تعالى: {هُوَ الَّذِي أَخْرَجَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ دِيَارِهِمْ لِأَوَّلِ الْحَشْرِ مَا ظَنَنْتُمْ أَنْ يَخْرُجُوا وَظَنُّوا أَنَّهُمْ مَانِعَتُهُمْ حُصُونُهُمْ مِنَ اللَّهِ فَأَتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ حَيْثُ لَمْ يَحْتَسِبُوا وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ يُخْرِبُونَ بُيُوتَهُمْ بِأَيْدِيهِمْ وَأَيْدِي الْمُؤْمِنِينَ فَاعْتَبِرُوا يَاأُولِي الْأَبْصَارِ} (سورة الحشر، الآية:2) ، وآخر ذكر هذه الكلمة عندما التقى يهود بني قريضة مع الأحزاب التي أحاطت بالمدينة تبتغي دكها على من فيها وأعلنت حصارا ً رهيباً عليها وكان بنو قريظة قد أعطوا العهد من قبل على أن يعيشوا مع المسلمين في سلام شريف واعترف رئيسهم بأنه لم يجد من النبي صلى الله عليه وسلم إلا وفاء خيراً ومع ذلك فقد انتهز الفرصة التي سنحت وأعلن حرباً غادرة على النبي وصحبه وظن أنه سيقاسم المشركين الغنائم بعد الإجهاز على محمد وحزبه ولكن أمر الله كان أغلب حيث ألقى الرعب في قلوب

তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। ফলে তিনি তাদের সমুচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য এক অভিযান পরিচালনা করেন; কিন্তু কোনো লড়াই ছাড়াই সেই সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয় এবং তারা মদিনা থেকে নির্বাসিত হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। মহান আল্লাহ বলেন: "তিনিই সেই সত্তা, যিনি কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল তাদেরকে প্রথম সমাবেশের সময় তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। তোমরা কল্পনাও করোনি যে তারা বেরিয়ে যাবে; আর তারা মনে করেছিল যে তাদের দুর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহর হাত থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু আল্লাহ তাদের নিকট এমনভাবে উপস্থিত হলেন যা তারা কল্পনাও করেনি এবং তিনি তাদের অন্তরে আতঙ্ক নিক্ষেপ করলেন। তারা তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করছিল নিজেদের হাতে এবং মুমিনদের হাতে। অতএব হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিরা, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।" (সূরা আল-হাশর, আয়াত: ২)। এই শব্দটির সর্বশেষ উল্লেখ পাওয়া যায় যখন বনু কুরাইজা গোত্রের ইহুদিরা সেই সম্মিলিত বাহিনীর সাথে হাত মেলায় যারা মদিনাকে চারপাশ থেকে পরিবেষ্টন করেছিল এবং মদিনাবাসীদের সমূলে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে এক ভয়াবহ অবরোধ সৃষ্টি করেছিল। অথচ বনু কুরাইজা ইতিপূর্বে মুসলিমদের সাথে মর্যাদাপূর্ণ শান্তিতে বসবাস করার অঙ্গীকার করেছিল এবং তাদের প্রধানও স্বীকার করেছিল যে, সে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে কেবল বিশ্বস্ততা ও কল্যাণই লাভ করেছে। তা সত্ত্বেও সে মোক্ষম সুযোগের সদ্ব্যবহার করে নবী ও তাঁর সাহাবীদের বিরুদ্ধে এক বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধ ঘোষণা করল এবং ধারণা করল যে, মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীদের নির্মূল করার পর সে মুশরিকদের সাথে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন করে নেবে। কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্তই ছিল অমোঘ ও বিজয়ী, যখন তিনি অন্তরে আতঙ্ক নিক্ষেপ করলেন...

(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الأعداء فزلزل كيانهم قال تعالى: {وَأَنْزَلَ الَّذِينَ ظَاهَرُوهُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مِنْ صَيَاصِيهِمْ وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ فَرِيقًا تَقْتُلُونَ وَتَأْسِرُونَ فَرِيقًا} (سورة الأحزاب، الآية:26) .

وإذن فإذا وقعت حرب الآن بيننا وبين اليهود المعتدين في فلسطين حرب جادة يعلن فيها الإسلام وتتحد الكلمة ويتقدم جيوش محمد صلى الله عليه وسلم يطلبون إحدى الحسنيين إما النصر وإما الشهادة وفزع اليهود لهذا الزحف الجديد الواثق العنيد إذا حدث ذلك، وسرى الرعب في قلوب أعدائنا قيل إننا إرهابيون.

إن تحريف الكلام عن مواضعه شيء مألوف عن أعداء الإسلام لقد نصر الله نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم بالرعب كما قال، فهلا قيل نصره في أي قتال، إن أشرف قتال وقع على ظهر الأرض هو القتال الذي خاضه محمد صلى الله عليه وسلم وأوصى به أصحابه رضي الله عنهم.

وما يصدر عن الأعداء من الافتراء ووصم المسلمين بالإرهاب والعدوان إنما هو قول زائف لا يقوم على حجة ولا يسنده برهان.
শত্রুগণ, অতঃপর তিনি তাদের অস্তিত্বকে প্রকম্পিত করে দিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: "আর কিতাবীদের মধ্যে যারা তাদেরকে (শত্রুদের) সাহায্য করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দুর্গসমূহ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করলেন; তোমরা তাদের একদলকে হত্যা করছ এবং একদলকে বন্দী করছ।" (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২৬)।

সুতরাং, এখন যদি আমাদের এবং ফিলিস্তিনের আক্রমণকারী ইহুদিদের মধ্যে একটি প্রকৃত যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যাতে ইসলামকে ঘোষণা করা হবে, ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাহিনীসমূহ অগ্রসর হবে এই কামনায় যে, তারা দু’টি কল্যাণের যে কোনো একটি লাভ করবে—হয় বিজয় নতুবা শাহাদাত (شهادة); আর যদি এই নতুন, আত্মবিশ্বাসী ও অনমনীয় অগ্রযাত্রায় ইহুদিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং আমাদের শত্রুদের অন্তরে ত্রাসের সঞ্চার হয়, তখন বলা হয় যে আমরা সন্ত্রাসী।

নিশ্চয়ই শব্দের অর্থ বিকৃতি বা শব্দকে তার নির্দিষ্ট স্থান থেকে বিচ্যুত করা ইসলামের শত্রুদের একটি পরিচিত স্বভাব। আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ত্রাসের মাধ্যমে সাহায্য করেছেন যেমনটি তিনি বলেছেন; তবে কেন বলা হবে না যে তিনি তাঁকে সকল যুদ্ধে সাহায্য করেছেন? নিশ্চয়ই পৃথিবীর বুকে সংঘটিত সর্বশ্রেষ্ঠ লড়াই হলো সেই যুদ্ধ, যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিচালনা করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদের (رضي الله عنهم) যার অসিয়ত করেছেন।

শত্রুদের পক্ষ থেকে মুসলমানদের প্রতি যে অপবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের কলঙ্ক লেপন করা হয়, তা নিছক একটি অসার উক্তি যা কোনো দলিল (حجة) এর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং কোনো অকাট্য প্রমাণ (برهان) দ্বারাও তা সমর্থিত নয়।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ২১)
فالإسلام دين الحق ودين العدل ودين الإنصاف والمساواة وقد كتب الإحسان على كل شيء لأنه دين وسط لا إفراط ولا تفريط، قال تعالى: {جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} (سورة البقرة من الآية: 143) .

وإذا استعرضنا جانباً من حياة الرسول صلى الله عليه وسلم حول مفهوم الوسطية في عقيدتنا السمحة نجد أن أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله توضح بجلاء اهتمام النبي صلى الله عليه وسلم بشؤون الحياة، وفي الوقت نفسه اهتمامه بشؤون الدين الحنيف لأن أحكامه ومناهجه ومثله هي مقاييس العدل، وموازين الحق، ومعايير الفضيلة، وأنها في الوقت نفسه سبيل السعادة والاستقامة والأمن والرضا.
ইসলাম হলো সত্য, ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও সাম্যের ধর্ম। প্রতিটি বিষয়ের ওপর ইহসান (إحسان) বিধান করা হয়েছে, কারণ এটি একটি মধ্যপন্থী (وسط) ধর্ম; যেখানে কোনো বাড়াবাড়ি (إفراط) নেই এবং কোনো শিথিলতা (تفريط) নেই। মহান আল্লাহ বলেন: “আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسط) উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪৩)।

আমরা যদি আমাদের উদার আকিদাহর মধ্যপন্থা (وسطية) বিষয়ক ধারণার আলোকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনের কোনো একটি দিক পর্যালোচনা করি, তবে দেখতে পাই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ও কর্মসমূহ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জীবনের বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপকে ফুটিয়ে তোলে। একই সাথে বিশুদ্ধ দ্বীনের বিষয়ের প্রতিও তাঁর বিশেষ গুরুত্ব প্রকাশ পায়। কারণ এর বিধানসমূহ, কর্মপন্থা ও আদর্শসমূহ হলো ন্যায়বিচারের মানদণ্ড, সত্যের পরিমাপক এবং ফযিলতের মাপকাঠি। আর এগুলো একই সাথে সুখ, অবিচলতা (استقامة), নিরাপত্তা ও সন্তুষ্টির পথ।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ২২)
ومن معاني الوسطية التي يجب الاهتمام بها:‌‌ الوسطية في الدعوة والتي تتجسد في التيسير في الفتوى دون الخروج عن الدليل الشرعي أو مجاوزته، بل مراعاة حال السائل والمستفتي كما كان هديه صلى الله عليه وسلم، والتيسير في الدعوة إلى الله وهذا كله جزء من الرحمة التي شملت الإنسان والحيوان والنبات والجماد.

إن هذه الوسطية التي جعل الله المسلمين عليها حين تنزلت عليهم رحمته بهذا الدين هي التي جعلت المسلمين: {شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ} كما جاء في الآية، أي أن هذه الشريعة بما فيها من أحكام معتدلة وبما فيها من مبادئ قيمة ومثل عالية تتلاءم مع طبيعة الإنسان وما يجب أن يتحلى به ويسمو إليه، من شأنها أن تكون أمة خيرة متوسطة مستقيمة على الجادة لا انحراف لها في شيء من الأشياء على طرف، ولا التواء لها في أمر من الأمور عن الصراط السوي، فهي أمة لها طابع الاعتدال وقد مرنت عليه حتى أصبح ميزة من مزاياها، وأصبحت مؤهلة لأن تكون أمة القيادة للبشرية، وأن تكون أحكامها هي الفيصل حين يختلف الناس على الأحكام، ومبادئها ومثلها هي المبادئ والمثل التي يرجع لها حين يختلف الناس في المبادئ والمثل.
মধ্যপন্থা (الوسطية) এর যে অর্থগুলোর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা আবশ্যক, তার মধ্যে অন্যতম হলো:‌‌ দাওয়াতের (الدعوة) ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা (الوسطية) যা প্রতিফলিত হয় শরয়ি দলিল (الدليل الشرعي) এর গণ্ডি থেকে বের না হয়ে বা তা অতিক্রম না করে ফতোয়া (الفتوى) প্রদানের ক্ষেত্রে সহজীকরণের মাধ্যমে; বরং প্রশ্নকারী ও ফতোয়া (الفتوى) প্রার্থীর অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা, যেমনটি ছিল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদর্শ। তদ্রূপ আল্লাহর পথে দাওয়াতের (الدعوة) ক্ষেত্রে সহজীকরণ—এই সব কিছুই সেই রহমতের অংশ যা মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ও জড় জগতকে বেষ্টন করে আছে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে যে মধ্যপন্থার (الوسطية) ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন যখন এই দ্বীনের মাধ্যমে তাদের ওপর তাঁর রহমত নাযিল হয়েছিল, সেটিই মুসলিমদেরকে: "মানুষের ওপর সাক্ষী (شهداء على الناس)" হিসেবে নির্ধারণ করেছে যেমনটি আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ এই শরিয়ত (الشريعة) তার ভারসাম্যপূর্ণ বিধানসমূহ এবং এর মূল্যবান মূলনীতি ও সুউচ্চ আদর্শের মাধ্যমে—যা মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা দ্বারা সে গুণান্বিত হয় ও সমুন্নত হয়—এই উম্মতকে একটি শ্রেষ্ঠ, মধ্যপন্থী (الوسطية) এবং সত্য পথে সুপ্রতিষ্ঠিত জাতিতে পরিণত করে; যাদের কোনো বিষয়ে কোনো প্রকার বিচ্যুতি বা প্রান্তিকতা নেই এবং কোনো বিষয়েই সঠিক পথ (الصراط السوي) থেকে কোনো বক্রতা নেই। এটি এমন এক উম্মত যার বৈশিষ্ট্যই হলো ভারসাম্য (الاعتدال), এবং তারা এর ওপর এমনভাবে অভ্যস্ত হয়েছে যে এটি তাদের এক অনন্য বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। ফলে তারা মানবজাতির নেতৃত্বের যোগ্য উম্মত হিসেবে গড়ে উঠেছে; মানুষের মধ্যে যখন বিধান নিয়ে মতভেদ দেখা দেয় তখন তাদের বিধানই হয় চূড়ান্ত ফয়সালা (الفيصل), আর যখন মানুষের মধ্যে মূলনীতি ও আদর্শ নিয়ে মতভেদ দেখা দেয় তখন তাদের মূলনীতি ও আদর্শই হয় সেই মানদণ্ড যার দিকে ফিরে যেতে হয়।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
لقد ندبنا في هذا العالم لرسالة سامية شريفة، نحن فيها الموجهون والقادة والدعاة إلى المثل العليا والحماة لها.

قال تعالى: {وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (سورة آل عمران، الآية:104) .

وفي موضع آخر يقول سبحانه: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} (سورة التوبة، الآية:71) .

فالآية تذكر الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بين الصفات الثابتة للمؤمنين جميعاً، لا لفريق منهم دون فريق، فهم جميعاً متناصرون ومتضامنون في توطيد المعروف والخير، ومتعاونون على دفع المنكر والشر، وهم مقيمون للصلاة مؤتون للزكاة مطيعون لله ورسوله، لذا فهم جميعاً مستحقون لرحمة الله.
আমরা এই পৃথিবীতে এক মহান ও মহিমান্বিত বার্তার জন্য নিয়োজিত হয়েছি, যেখানে আমরা পথপ্রদর্শক, নেতা, উচ্চ আদর্শের দিকে আহ্বানকারী এবং তার রক্ষক।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ (معروف) দেবে ও অসৎকাজ (منكر) হতে নিষেধ করবে; আর তারাই হলো সফলকাম।" (সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১০৪)।

অন্য এক স্থানে মহান প্রতিপালক বলেন: "আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু, তারা সৎকাজের নির্দেশ (معروف) দেয় এবং অসৎকাজ (منكر) হতে নিষেধ করে, আর তারা সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে। তাদেরকেই আল্লাহ শীঘ্রই দয়া করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৭১)।

সুতরাং এই আয়াতটি সকল মুমিনের অবিচ্ছেদ্য গুণাবলির মধ্যে সৎকাজের নির্দেশ (معروف) ও অসৎকাজ (منكر) হতে নিষেধ করাকে উল্লেখ করেছে, যা কেবল কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য নয় বরং সকলের জন্য। তারা সকলেই সৎকাজ (معروف) ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় একে অপরের সাহায্যকারী ও সংহতি জ্ঞাপনকারী এবং অসৎকাজ (منكر) ও মন্দ প্রতিহত করতে একে অপরের সহযোগী। তারা সালাত কায়েমকারী, জাকাত প্রদানকারী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অনুগত; তাই তারা সকলেই আল্লাহর রহমত পাওয়ার যোগ্য।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
والإسلام ينظر إلى المؤمنين بوصفهم أمة متضامنة بجميع أفرادها على نصرة الحق، وجلب الخير، ودفع الشر، والوقوف صفاً في سبيل الإصلاح والإحسان.

وإن من واجب كل إنسان مسلم الدعوة إلى الله والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والوقوف في الصف الذي ينادي بإصلاح الناس فكراً وعملاً وسلوكاً.

إن وسطية هذه الأمة مستمدة من وسطية منهجها ونظامها، فهو منهج وسط لأمة وسط، منهج الاعتدال والتوازن، فلا إفراط ولا تفريط ولا غلو ولا تقصير.

والوسطية سمة بارزة لهذه الأمة في الزمان والمكان، في الاعتقاد والتشريع، والتكليف والعبادة، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، في الأخلاق والمعاملة، في كسب المال وإنفاقه، في مطالب النفس وشهواتها.

أمة وسط في الزمان ليكون كتابها مصدقاً ومهيمناً لما جاءت به الرسالات السماوية السالفة.

واختار الله - تعالى - مكان الرسالة وموقع قبلة الصلاة في المكان الوسط الذي يتسق مع وسطية الدعوة ويتناسب مع الرسالة العالمية الخالدة، وليشع النور من المركز إلى أرجاء المعمورة.
ইসলাম মুমিনদেরকে এমন এক জাতি হিসেবে গণ্য করে যার প্রতিটি সদস্য সত্যের পক্ষে কাজ করা, কল্যাণ বয়ে আনা, অনিষ্ট প্রতিহত করা এবং সংশোধন ও ইহসানের পথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকার ব্যাপারে পরস্পর দায়বদ্ধ।

আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎকাজ হতে নিষেধ (النهي عن المنكر) করা এবং চিন্তা, কর্ম ও আচরণের দিক থেকে মানুষের সংশোধনের আহ্বান জানায় এমন সারিতে অবস্থান করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক।

এই উম্মতের মধ্যপন্থা (وسطية) মূলত তাদের কর্মপন্থা ও ব্যবস্থার মধ্যপন্থা থেকেই উৎসারিত। এটি একটি মধ্যপন্থী জাতির জন্য ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিমিত কর্মপন্থা, যেখানে কোনো অতিরঞ্জন (إفراط), অবহেলা (تفريط), চরমপন্থা (غلو) কিংবা ত্রুটি (تقصير) নেই।

কাল ও স্থান, বিশ্বাস ও বিধান প্রণয়ন, ধর্মীয় দায়িত্ব ও ইবাদত, সৎকাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) ও অসৎকাজ হতে নিষেধ (النهي عن المنكر), চরিত্র ও লেনদেন, অর্থ উপার্জন ও ব্যয় এবং প্রবৃত্তির চাহিদা ও লালসা—সবক্ষেত্রেই মধ্যপন্থা (وسطية) এই উম্মতের একটি উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য।

সময়ের বিচারে এটি এক মধ্যপন্থী (وسط) জাতি, যেন তাদের কিতাব পূর্ববর্তী আসমানি বার্তাসমূহের সত্যায়নকারী ও তদারককারী (مهيمن) হয়।

আল্লাহ তাআলা রিসালাতের স্থান এবং কিবলার অবস্থানকে এমন এক মধ্যবর্তী স্থানে নির্বাচিত করেছেন যা দাওয়াতের মধ্যপন্থার (وسطية) সাথে সংগতিপূর্ণ এবং এই শাশ্বত বিশ্বজনীন বার্তার জন্য মানানসই; যাতে কেন্দ্র থেকে এই নূর বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
والإسلام وسط بين أقوام أسرفوا في الاعتقاد فصدقوا كل شيء، وآمنوا بغير برهان واستسلموا للخرافة، وأقوام ماديين ينكرون كل ما وراء الحس دون إنصات لصوت الفطرة ونداء العقل، فدعا الإسلام إلى الاعتقاد والإيمان بما قام عليه دليل قطعي وبرهان يقيني وما عدا ذلك فهي أوهام.

ইসলাম এমন এক মধ্যমপন্থা (وسط), যা ঐ সকল জাতির মাঝে বিরাজমান যারা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করে সবকিছুকেই সত্য বলে গ্রহণ করেছে, কোনো প্রমাণ (برهان) ব্যতিরেকেই বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং কুসংস্কারের (خرافة) নিকট আত্মসমর্পণ করেছে; আবার ঐ সকল বস্তুবাদী (ماديين) গোষ্ঠীর মাঝেও, যারা ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তির (فطرة) আওয়াজ এবং বিবেকের আহ্বানকে উপেক্ষা করে ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞানের বাইরের সবকিছুকেই অস্বীকার করে। ফলে ইসলাম কেবলমাত্র এমন বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস ও ঈমান আনার দাওয়াত দিয়েছে যা অকাট্য দলিল (دليل قطعي) এবং নিশ্চিত প্রমাণের (برهان يقيني) ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তা ব্যতীত অন্য সবকিছুই অলীক কল্পনা মাত্র।

(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
أهل السنة وسط في باب صفات الله بين المعطلة والمشبهة فأهل السنة يصفون ربهم سبحانه وتعالى بما وصف به نفسه وبما وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم من غير تحريف ولا تعطيل ومن غير تكييف ولا تمثيل، يثبتون ما أثبته الله لنفسه أو أثبته له رسوله صلى الله عليه وسلم وينفون عنه مماثلة المخلوقين وينزهونه عن أي نقص، قال تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (سورة الشورى، من الآية: 11) .

والمسلمون وسط في عقيدتهم في الأنبياء عليهم الصلاة والسلام، فهم لا يقولون في المسيح إنه الله أو ابن الله ولا ثالث ثلاثة ولا هم يكفرون به، بل يقولون عبد الله ورسوله وكلمته ألقاها إلى مريم عليه السلام.

أما الصحابة فقد كان منهج أهل السنة فيهم وسطا فلم يكفروا أحدًا منهم أو يفسقوه، ولم يغلوا في أحد منهم، ولم يروا العصمة لأحد منهم، بل هم بشر، يحبون الجميع ويوالون الجميع ويترضون عنهم ويكفون عما شجر بينهم.
আল্লাহর গুণাবলি (صفات) সংক্রান্ত বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ হলো গুণাবলি অস্বীকারকারী (معطلة) ও সাদৃশ্যদানকারীগণের (مشبهة) মধ্যে মধ্যপন্থা (وسط)। আহলুস সুন্নাহ তাঁদের মহান প্রতিপালকের গুণাবলি সেভাবেই বর্ণনা করেন যেভাবে তিনি স্বয়ং নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন এবং যেভাবে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা বর্ণনা করেছেন; কোনো প্রকার বিকৃতি (تحريف), অস্বীকার (تعطيل), স্বরূপ নির্ধারণ (تكييف) বা উদাহরণ প্রদান (تمثيل) ব্যতিরেকে। আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, তাঁরা তা সাব্যস্ত করেন এবং তাঁর থেকে সৃষ্টির সদৃশ হওয়াকে নাকচ করেন ও তাঁকে সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র ঘোষণা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} (সূরা আশ-শূরা, অংশবিশেষ, আয়াত: ১১)।

আর নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) প্রতি বিশ্বাসের আকিদা (عقيدة) পালনের ক্ষেত্রে মুসলিমগণ মধ্যপন্থী (وسط)। তাঁরা মসীহ সম্পর্কে এ কথা বলেন না যে, তিনি আল্লাহ বা আল্লাহর পুত্র কিংবা তিনের এক; আবার তাঁরা তাঁকে অস্বীকারও করেন না। বরং তাঁরা বলেন, তিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল এবং তাঁর সেই বাণী যা তিনি মারইয়ামের (আলাইহাস সালাম) কাছে পাঠিয়েছিলেন।

আর সাহাবীগণের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহর মানহাজ (منهج) হলো মধ্যপন্থা (وسط)। তাঁরা তাঁদের কাউকে কাফির সাব্যস্ত (تكفير) করেন না বা পাপাচারী সাব্যস্ত (تفسيق) করেন না, তাঁদের কারো ব্যাপারে অতিরঞ্জন (غلو) করেন না এবং তাঁদের কারো জন্য নিষ্পাপতা (عصمة) দাবি করেন না। বরং তাঁরা মানুষ ছিলেন; তাঁরা তাঁদের সকলকে ভালোবাসেন, সকলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন, তাঁদের সবার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির দোয়া করেন এবং তাঁদের মধ্যে সংঘটিত বিবাদ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করেন।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
أهل السنة وسط في مبحث الإيمان ومرتكب الكبيرة، فلم يقولوا: إن مرتكب الكبيرة مؤمن كامل الإيمان، ولم يقولوا: إنه كافر مخلد في النار، ولم يقولوا: إنه في منزلة بين المنزلتين، بل توسط أهل السنة في ذلك فقالوا: إنه مؤمن ناقص الإيمان، مؤمن بإيمانه، فاسق بكبيرته وهو تحت مشيئة الله إن شاء عفا عنه وإن شاء عذبه ولا يخلد في النار، بل يدخل الجنة.
আহলুস সুন্নাহ ঈমান ও কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী। তারা বলেন না যে, কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি পূর্ণ ঈমানদার; আবার তারা এও বলেন না যে, সে কাফের এবং জাহান্নামে চিরস্থায়ী; এবং তারা এও বলেন না যে, সে দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী কোনো অবস্থানে রয়েছে। বরং এ ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন; তারা বলেন: সে ত্রুটিপূর্ণ ঈমানবিশিষ্ট মুমিন—সে তার ঈমানের কারণে মুমিন, আর কবিরা গুনাহের কারণে পাপাচারী (فاسق)। সে আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন এবং চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন, তবে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না, বরং জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
الإسلام وسط في النظرة إلى الحياة وسط بين قوم غرقوا في الشهوات وعبّدوا أنفسهم للماديات وهذا شأن الماديين، وبين قوم رفضوا الحياة ورأوها شراً تجب مقاومته والفرار منه فحرموا أنفسهم وفرضوا عليها العزلة.
জীবনদর্শনের ক্ষেত্রে ইসলাম হলো একটি মধ্যপন্থা; এটি এমন এক জনগোষ্ঠীর মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখে যারা লালসা ও প্রবৃত্তির মোহে নিমজ্জিত হয়ে নিজেদের জড়বাদের দাসে পরিণত করেছে—যা জড়বাদীদেরই রীতি, এবং এমন এক গোষ্ঠীর মাঝে যারা জীবনকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একে এমন এক অকল্যাণ হিসেবে গণ্য করেছে যা প্রতিরোধ করা ও যা থেকে পলায়ন করা আবশ্যক, ফলে তারা নিজেদের বঞ্চিত করেছে এবং নিজেদের ওপর নির্জনবাস আরোপ করেছে।
(খণ্ড: ১) ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - মুহাম্মাদ আস-সালিহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فاهتم الإسلام بالحياتين وجمع بين الحسنيين وجعل الدنيا مزرعة الآخرة وأنكر على الغلاة تحريم الزينة والطيبات، وأنكر على الآخرين انهماكهم في الترف والشهوات، قال تعالى: {وَالَّذِينَ كَفَرُوا يَتَمَتَّعُونَ وَيَأْكُلُونَ كَمَا تَأْكُلُ الْأَنْعَامُ وَالنَّارُ مَثْوًى لَهُمْ} (سورة محمد من الآية:12) ، وقال جل شأنه: {يَابَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} (سورة الأعراف، الآيات:31-32) ، وقال تعالى: {وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا وَأَحْسِنْ كَمَا أَحْسَنَ اللَّهُ إِلَيْكَ وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ} (سورة القصص، الآية:77) .
ইসলাম উভয় জীবনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে এবং উভয় জগতের কল্যাণের মাঝে সমন্বয় সাধন করেছে। ইসলাম এই দুনিয়াকে পরকালের শস্যক্ষেত্র সাব্যস্ত করেছে এবং চরমপন্থীদের (الغلاة) পক্ষ থেকে সৌন্দর্য ও পবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম গণ্য করার বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করেছে; তেমনি অন্যদের বিলাসিতা ও কুপ্রবৃত্তিতে নিমজ্জিত হওয়ার বিষয়টিরও নিন্দা জানিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: “আর যারা কুফরি করে, তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় আহার করে; আর জাহান্নামই তাদের আবাস।” (সূরা মুহাম্মদ, আয়াত: ১২)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: “হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সাজসজ্জা গ্রহণ করো। আর আহার করো ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।” “বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিযিক উৎপন্ন করেছেন, তা কে হারাম করেছে? বলুন, এগুলো পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্য, আর কিয়ামতের দিনে হবে একান্তভাবে তাদেরই জন্য। এভাবেই আমরা জ্ঞানীদের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি।” (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩১-৩২)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তা দ্বারা পরকালের আবাস অনুসন্ধান করো এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না। আর তুমি অনুগ্রহ করো যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেয়ো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।” (সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৭৭)।