(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
رسالة الملائكة - ت الميمني - ط العلمية   (أبو العلاء المعري)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: رسالة الملائكة - نشرها الميمني كملحق في آخر كتابه (أبو العلاء وما إليه)

المؤلف: أحمد بن عبد الله بن سليمان بن محمد بن سليمان، أبو العلاء المعري، التنوخي (ت 449 هـ)

تحقيق: عبد العزيز الميمني [ت 1398 هـ]

دار النشر: دار الكتب العلمية - بيروت، لبنان

الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রিসালাতুল মালাইকা - তাহকীক: আল-মাইমানী - ইলমিয়্যাহ সংস্করণ   (আবু আল-আলা আল-মাআররি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: রিসালাতুল মালাইকা - আল-মাইমানী এটি তাঁর ‘আবু আল-আলা ওয়া মা ইলাইহি’ গ্রন্থের শেষে পরিশিষ্ট হিসেবে প্রকাশ করেছেন

লেখক: আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান, আবু আল-আলা আল-মাআররি, আত-তানুখি (মৃত্যু ৪৪৯ হিজরি)

তাহকীক: আব্দুল আজিজ আল-মাইমানী [মৃত্যু ১৩৯৮ হিজরি]

প্রকাশনী: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত, লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[رسالة الملائكة - نشرها الميمني كملحق في آخر كتابه (أبو العلاء وما إليه) ]ـ

المؤلف: أحمد بن عبد الله بن سليمان بن محمد بن سليمان، أبو العلاء المعري، التنوخي (المتوفى: 449هـ)

تحقيق: عبد العزيز الميمني

دار النشر: دار الكتب العلمية - بيروت / لبنان

الطبعة: الأولى، - 1424هـ - 2003 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ـ[রিসালাতুল মালাইকাহ — আল-মায়মানি তাঁর ‘আবু আল-আলা ওয়া মা ইলাইহি’ গ্রন্থের শেষে পরিশিষ্ট হিসেবে এটি প্রকাশ করেছেন]ـ

গ্রন্থকার: আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান, আবু আল-আলা আল-মাআরি, আত-তানুখি (মৃত্যু: ৪৪৯ হিজরি)

সম্পাদনা ও পাণ্ডুলিপি যাচাই: আব্দুল আজিজ আল-মায়মানি

প্রকাশনী: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়াহ - বৈরুত / লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
التعريف بالكتاب

--------------------------------------------

جاء في موقع الوراق، ما يلي:

 

أندر ما وصلنا من رسائل أبي العلاء. ذكرها جماعة من المستشرقين فيما كتبوه أو طبعوه من الآثار العربية، مثل (كولسبير) في شرح ديوان الحطيئة، ومرجليوث في (رسائل أبي العلاء) وكيير في (شعر الأعشى) وطبعت في مصر سنة 1910م. وطبعها الميمني كملحق في آخر كتابه (أبو العلاء وما إليه) سنة 1345هـ وطبعها الكيلاني مع رسالة الغفران ثلاث مرات، آخرها سنة 1938م وقام بطبعها كراتشكوفسكي سنة 1932م بعدما صرف في تحقيقها وضبطها عشرين عاماً كما قال محمد سليم الجندي، وفي مقدمة هذه الطبعات أن الرسالة في أجوبة مسائل صرفية، وافاه بها أبو فلان. ثم تبين لاحقاً أن الذي تحدث عنه المستشرقون، ونشره المحققون، وأتعب كراتشكوفسكي ما هو إلا مقدمة للرسالة، مستلة من كتاب (الأشباه والنظائر) للسيوطي. وأما الرسالة فكانت لا تزال قابعة في بيت من بيوتات دمشق، لا تسمع لها حفيفاً. فلما قتل مالك النسخة: المرحوم محمد بك المنيِّر الدمشقي، سنة 1943م ارتأى ورثته إهداء مكتبته إلى المكتبة الظاهرية في دمشق، فكانت المفاجأة التي ملأ دويها الدنيا. إذ عثر في بعض دشوت هذه الكتب على (رسالة الملائكة) وعليها تملكات بخط أحفاد محمد: أخي أبي العلاء. وفي مقدمتها أنها أجوبة مسائل وافاه بها أبو القاسم علي بن محمد بن همام. وهي (16) مسألة أجاب عنها أبو العلاء، وقدم أمام الأجوبة مقدمة: بحث فيها في أصول (21) مادة لغوية. وسبب تسميتها برسالة الملائكة أنه افتتحها بتفسير أسماء طائفة من الملائكة، وقد عمد لدفع السآمة من مواضيع الصرف إلى أن صور نفسه فيها وكأنه أشرف على الموت، فأراد أن يدفع عنه ملك الموت بما يشغله عنه، فجعل يلقي عليه أسئلة عن أصل كلمة (ملك) واشتقاقه، ثم صور نفسه وقد خرج إلى المحشر، فتصدى للبحث عن أسماء مسميات تكون في الجنة أو النار. وضمن لكلماته في اختراعه لتلك الأخيلة أن تنفذ إلى أعماق القلوب. وكان تاريخ كتابتها كما يقول أبو العلاء (حين صدق فجر اللمة وبلغ سن الأشياخ)
গ্রন্থ পরিচিতি

--------------------------------------------

আল-ওয়াররাক ওয়েবসাইটে নিম্নোক্ত তথ্যগুলো এসেছে:

 

এটি আবু আল-আলার পত্রসমূহের মধ্যে আমাদের নিকট পৌঁছানো দুর্লভতম একটি নিদর্শন। একদল প্রাচ্যবিদ তাদের রচিত বা মুদ্রিত আরবি নিদর্শনগুলোতে এর উল্লেখ করেছেন, যেমন— (কুলসবিয়ার) ‘ডিওয়ান আল-হুতাইআ’-এর ব্যাখ্যায়, মারগোলিউথ ‘আবু আল-আলার পত্রসমূহ’-তে এবং কেয়ার ‘আশা-এর কবিতা’-তে। এটি ১৯১০ সালে মিশরে মুদ্রিত হয়েছিল। মাইমানি এটি তার ‘আবু আল-আলা ওয়া মা ইলাইহি’ বইয়ের শেষে ১৩৪৫ হিজরিতে একটি পরিশিষ্ট হিসেবে মুদ্রণ করেন। আল-কিলানি এটি ‘রিসালাতুল গুফরান’-এর সাথে তিনবার মুদ্রণ করেছেন, যার সর্বশেষটি ছিল ১৯৩৮ সালে। ক্রাচকভস্কি ১৯৩২ সালে এটি মুদ্রণ করেন, যা তিনি দীর্ঘ বিশ বছর সময় ধরে এর সম্পাদনা ও পাঠ-নির্ণয় (ضبط) করার কাজে ব্যয় করার পর সম্পন্ন করেন; যেমনটি মুহাম্মদ সালিম আল-জুন্দি উল্লেখ করেছেন। এই মুদ্রণগুলোর ভূমিকায় বলা হয়েছে যে, এই পুস্তিকাটি রূপতত্ত্ব বিষয়ক কিছু প্রশ্নের উত্তর, যা আবু ফুলান নামক এক ব্যক্তি তার নিকট পেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে স্পষ্ট হয় যে, প্রাচ্যবিদরা যা নিয়ে আলোচনা করেছেন, গবেষকগণ যা প্রকাশ করেছেন এবং যা নিয়ে ক্রাচকভস্কি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তা মূলত সুয়ূতির ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর’ গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত এই পুস্তিকাটির একটি ভূমিকা মাত্র। অন্যদিকে, মূল পুস্তিকাটি তখনো দামেস্কের কোনো এক বাড়িতে লোকচক্ষুর অন্তরালে পড়ে ছিল, যার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। অতঃপর যখন এই পাণ্ডুলিপির মালিক মরহুম মুহাম্মদ বেগ আল-মুনাইয়ির আদ-দামেশকি ১৯৪৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার উত্তরাধিকারীগণ তার লাইব্রেরিটি দামেস্কের ‘জাহিরিয়া লাইব্রেরি’-তে দান করার সিদ্ধান্ত নেন। আর তখনই সেই বিস্ময়কর সংবাদটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ এই বইগুলোর স্তূপের মধ্যে ‘রিসালাতুল মালাইকা’ খুঁজে পাওয়া যায়, যাতে আবু আল-আলার ভাইয়ের নাতিদের হস্তাক্ষরে মালিকানা স্বত্ব লেখা ছিল। এর ভূমিকায় উল্লেখ আছে যে, এটি আবুল কাসিম আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাম্মামের পেশ করা ১৬টি প্রশ্নের উত্তর যা আবু আল-আলা প্রদান করেছেন। তিনি উত্তর প্রদানের পূর্বে একটি ভূমিকা দিয়েছেন, যেখানে তিনি ২১টি ভাষাগত বিষয়ের মূলনীতি (أصول) নিয়ে আলোচনা করেছেন। একে ‘রিসালাতুল মালাইকা’ নামকরণের কারণ হলো, তিনি এটি একদল ফেরেশতার নামের ব্যাখ্যা দিয়ে শুরু করেছেন। রূপতত্ত্বের নিরস বিষয়গুলো থেকে একঘেয়েমি দূর করার জন্য তিনি নিজেকে এমনভাবে চিত্রিত করেছেন যেন তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত এবং তিনি মৃত্যুর ফেরেশতাকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রেখে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাচ্ছেন। তাই তিনি তাকে ‘মালাক’ (ফেরেশতা) শব্দের মূল ও ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। এরপর তিনি নিজেকে হাশরের ময়দানে উপস্থিত হিসেবে চিত্রিত করেছেন এবং জান্নাত বা জাহান্নামে থাকবে এমন সত্তাগুলোর নাম নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। তিনি তার এই কাল্পনিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে কথাগুলোকে হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। আবু আল-আলার বর্ণনা অনুযায়ী এটি রচনার সময়কাল ছিল ‘যখন তার বার্ধক্য ঘনিয়ে এসেছিল এবং তিনি প্রবীণদের বয়সে পৌঁছেছিলেন’।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩৭)
قال أبو الفضل المؤيد بن الموفق الصاحبي في كتاب (المحكم البوالغ في شرح الكلم النوابغ) :

رسالة الملائكة ألفها أبو العلاء المعري على جواب مسائل تصريفية ألقاها إليه بعض الطلبة فأجاب عنها بهذا الطريق المشتمل على الفوائد الأنيقة، مع صورتها المستغربة الرشيقة:

 

رسالة الملائكة إملاء الشيخ الأمام أبي العلاء أحمد بن عبد الله ابن سليمان التنوخي المعري قدس الله رُوحَهُ
আবু আল-ফজল আল-মুয়াইয়াদ বিন আল-মুওয়াফফাক আল-সাহেবি 'আল-মুহকাম আল-বাওয়ালিগ ফি শারহিল কালিম আল-নাওয়াবিগ' গ্রন্থে বলেছেন:

'রিসালাতুল মালাইকা' আবু আল-আলা আল-মাআররি কিছু রূপতাত্ত্বিক (تصريفية) প্রশ্নের উত্তর হিসেবে রচনা করেছেন যা কিছু শিক্ষার্থী তাঁর নিকট পেশ করেছিল। তিনি এমন এক পন্থায় সেগুলোর উত্তর প্রদান করেছেন যা চমৎকার সব ফায়দায় ভরপুর এবং এর গঠনশৈলী অত্যন্ত বিস্ময়কর ও মার্জিত:

 

'রিসালাতুল মালাইকা' হলো শায়খ, ইমাম আবু আল-আলা আহমদ বিন আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান আল-তানুখি আল-মাআররি-এর শ্রুতিলিখন (إملاء)। আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩৭)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

وما توفيقي إلا بالله

قال أبو العلاء احمد بن عبد الله بن سليمان التنوخي الحمد لله رب العالمين وصلواته على سيدنا محمد وعترته المنتخبين، ديانة مولاي الشيخ أدام الله عزه وسلم جسده ونفسه تبعث من سمع بذكره على الشوق إلى حضرته فإذا اضيف اليها علمه وأدابه هم أن يطير بالمشتاق أربه وليس مولاي الشيخ بأول رائد ظعن إلى الإرض العازبة فوجدها من النبات قفراً ولا بآخر شائم ظن الخير بالسحابة فكانت من قطر صفراً وقد شهر بالفضل وسمه والمعرفة به اسمه جاءتني منه فوائد كأنها في الحسن بنات مخر فأنشأتُ متمثلا ببيت صخر:

لعمري لقد نبهت من كان نائما … وأسمعت من كانت له أذنان

إن الله يسمع من يشاء وما أنت بسمع من في القبور أولئك ينادون من كان بعيد. وكنت في غيسان الشبيبة أود أنني من أهل العلم فَشَجَنَتْي عنه شواجن غادرتني مثل الكرة وهي المحاجن فالآن مشيت رويداً وتركت عمراً للضارب وزيداً وما أوثر أن يزاد في صحيفتي خطأ في النحو فيخلد آمناً من المحو وإذا
‌‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমার তৌফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।

আবু আল-আলা আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সুলায়মান আত-তানূখী বলেন, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর মনোনীত পবিত্র বংশধরদের ওপর। আমার মুনিব শাইখের—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা দীর্ঘস্থায়ী করুন এবং তাঁর দেহ ও প্রাণকে সুস্থ রাখুন—ধর্মনিষ্ঠা এমন যে, যে কেউ তাঁর কথা শ্রবণ করে সে তাঁর সান্নিধ্য লাভের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। যখন সেই ধর্মনিষ্ঠার সাথে তাঁর জ্ঞান ও শিষ্টাচার যুক্ত হয়, তখন অনুরাগীর আকাঙ্ক্ষা তাকে যেন তাঁর পানে উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায়। আমার মুনিব শাইখ প্রথম সেই অভিযাত্রী নন যিনি কোনো নির্জন ভূমিতে গিয়ে তাকে উদ্ভিদহীন ধূ ধূ মরুভূমি হিসেবে পেয়েছেন, আর না তিনি সর্বশেষ সেই মেঘ-নিরীক্ষক যিনি মেঘ দেখে কল্যাণের আশা করেছিলেন কিন্তু তা ছিল বারিবিন্দুহীন। শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি এবং জ্ঞানের মাধ্যমে তাঁর নাম সুপ্রসিদ্ধ হয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে আমার নিকট এমন কিছু জ্ঞানগর্ভ বিষয় এসেছে যা সৌন্দর্যে যেন শুভ্র মেঘমালা; তাই আমি সাখরের কবিতার পঙক্তি উদ্ধৃত করে বলছি:

আমার জীবনের কসম! আপনি ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগ্রত করেছেন … এবং যার কর্ণ আছে তাকে শ্রবণ করিয়েছেন।

নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শ্রবণ করান, আর আপনি কবরবাসীদের শুনাতে পারবেন না। তারা সেই সব লোক যাদেরকে দূর থেকে আহ্বান করা হচ্ছে। আমি আমার যৌবনের প্রারম্ভে আকাঙ্ক্ষা করতাম যে আমি জ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্ত হব; কিন্তু নানা জাগতিক প্রতিবন্ধকতা আমাকে তা থেকে বিমুখ করেছে এবং আমাকে এমন এক গোলকের ন্যায় ছেড়ে দিয়েছে যা বাঁকা লাঠি দ্বারা তাড়িত হয়। এখন আমি ধীরপদে পথ চলছি এবং ব্যাকরণবিদদের প্রহারকারী ‘আমর’ ও ‘যায়েদ’কে ছেড়ে দিয়েছি। আমি এটি পসন্দ করি না যে আমার পাণ্ডুলিপিতে ব্যাকরণগত কোনো ভুল বৃদ্ধি পাক এবং তা সংশোধনের সুযোগ ব্যতিরেকে চিরস্থায়ী রূপ লাভ করুক। আর যদি...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩৮)
صدق فجر اللمّة فلا عذر لصاحبها في الكذب ومن لمعذب وصدق الشعر في المفرق يوجب صدق الانسان الفرق وكون الحالية بلا خُرصٍ أجملُ بها من التخرص وقيام النادبة بالمعاذب أحسن بالرجال من أقوال الكاذب وهو ادام الله الجمال به يلزمه البحث عن غوامض الأشياء لانه يُعتمد بسؤال رائح وغادٍ. وحاضر يرجو الفائدة وبادٍ فلا غرو إن كشف عن حقائق التصريف واحتج للنكرة وللتعريف وتكلم في همزة وإدغام وأزال الشبه من صدور الطغام فأما أنا فحلس البيت الَاّ اكن الميت فشبيه بالميت لو أعرضت الاغربة عن النعيب إعراضي عن الأدب والأديب لأصبحت لاتحسن نعيبا ولا يطيق هرمهُا زعيبا. ولما وافى شيخنا ابو القسم علي بن محمد بن همام بتلك المسائل الفيتها في اللذة كأنها الراح يستفز من سمعها المراح فكانت الصبهاء الجرجانية طرق بها عميد كفر بعد ميل الجوزاء وسقوط الغفر وكان علي يحياها جلب الينا الشمس واياها فلما جليت الهدي ذكرت ما قال الأسدي:

فقلت اصطحبها أو لغيري فاهدها … فما أنا بعد الشيب ويبك والخمر

تجاللت عنها في السنين التي مضت … فكيف التصابي بعدما كلا العمر

وما رغبتي في كوني كبعض الكروان تكلم في الخطب جرى والظليم يسمع ويرى فقال الأخنس أو الفرا اطرق كرا اطرق كرا ان النعام في القرى وحق لمثلي الا
চুলের লতীর শুভ্রতার সত্যতা (صدق) প্রকাশিত হয়েছে, সুতরাং এর অধিকারীর জন্য মিথ্যাচারের (كذب) আর কোনো ওজর নেই; আর যন্ত্রণাকাতর ব্যক্তির জন্য কে আছে? সিঁথির চুলের শুভ্রতা মানুষের জন্য সত্যবাদিতা (صدق) ও পার্থক্যের আবশ্যকতা তৈরি করে। অলঙ্কার পরিহিতা নারীর কানে দুল না থাকাটা মিথ্যাচার বা অনুমানের (تخرص) চেয়ে অধিকতর সুন্দর। বিলাপকারিণীর শোকগাথা গাওয়া পুরুষদের পক্ষে মিথ্যাবাদীর (كاذب) উক্তির চেয়ে উত্তম। আল্লাহ তাঁর সৌন্দর্য চিরস্থায়ী করুন; তাঁর জন্য বিষয়ের গূঢ় রহস্য অনুসন্ধান করা আবশ্যক, কারণ সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াতকারী এবং উপকারপ্রত্যাশী উপস্থিত ও মরুবাসী—সবার জিজ্ঞাসার জন্য তাঁর ওপরই নির্ভর করা হয়। সুতরাং তিনি যদি শব্দ রূপান্তরের (تصريف) হাকীকত উন্মোচন করেন, অনির্দিষ্ট (نكرة) ও নির্দিষ্ট (تعريف) বিষয়ের সপক্ষে দলিল পেশ করেন, হামযা (همزة) ও সন্ধি (إدغام) নিয়ে আলোচনা করেন এবং অজ্ঞদের অন্তর থেকে সংশয় দূর করেন, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আর আমি তো গৃহকোণে আবদ্ধ; যদি মৃত নাও হই, তবে মৃতের সদৃশ। যদি কাকেরা সাহিত্যের প্রতি আমার বিমুখতার ন্যায় তাদের ডাক থেকে বিমুখ হতো, তবে তারা আর সঠিকভাবে ডাকতে সক্ষম হতো না এবং তাদের বার্ধক্য সেই কর্কশ স্বর সহ্য করতে পারতো না। যখন আমাদের শায়খ আবুল কাসিম আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্মাম সেই মাসআলাগুলো নিয়ে উপস্থিত হলেন, আমি সেগুলোকে আনন্দের দিক থেকে বিশুদ্ধ শরাবের মতো পেলাম, যা শ্রবণকারীর মনে হর্ষ জাগিয়ে তোলে। তা ছিল জুরজানি সুরাবৎ, যা জাওযা নক্ষত্র হেলে পড়ার পর এবং গাফর নক্ষত্র অস্ত যাওয়ার পর কোনো এক জনপদ প্রধানের নিকট রাতের বেলা পৌঁছেছে। আলী এই মাসআলাগুলোকে পুনর্জীবিত করার মাধ্যমে যেন আমাদের কাছে সূর্য ও তার আলোকচ্ছটা নিয়ে এসেছেন। যখন হিদায়াত উদ্ভাসিত হলো, তখন আমার আসাদি-এর উক্তি মনে পড়ে গেল:

আমি বললাম, একে সঙ্গে রাখো অথবা অন্য কাউকে উপহার দাও … হায়! বার্ধক্যের পর তোমার জন্য আর মদ্যপানের অবকাশ কোথায়?

বিগত বছরগুলোতে আমি এসব থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি … আয়ু ফুরিয়ে যাওয়ার পর আর কীভাবে শৈশবসুলভ চপলতা সাজে?

আর আমার আকাঙ্ক্ষা এমন নয় যে আমি কোনো তিতির পাখির মতো হই, যে বাগ্মিতার সাথে কথা বলে অথচ উটপাখি তা দেখে ও শোনে। তখন আখরাস বা ফাররা বলেন: 'হে তিতির! মাথা নিচু করো, নিশ্চয়ই উটপাখি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে।' আর আমার মতো ব্যক্তির জন্য এটাই সংগত যে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩৯)
يسال فان سئل تعين عليه ألا يجيب فإن أجاب ففرض على السامع الا يسمع منه فان خالف باستماعة فريض إلا يكتب ما يقول فان كتبه فوا جب ألا ينظر فيه فان نظر فيه فقد خبط في عشواء وقد بلغت سن الاشياخ وما حار يبذي نفع من هذا الهذيان والطعن إلى الآخرة قريب أفتراني أدافع ملك النفوس فأقول أصل ملك مالك وإنما أخد من الألوكة وهي الرساله ثم قلب ويدلنا على ذلك قولهم الملائكة في الجمع لات الجموع ترد الأشياء إلى أصولها. وأنشده قول الشاعر:

فلست لأنسي ولكن لملاك … تنزل من جو المسماء يصوب

فيعجبه ما سمع فينطر في ساعة لاشتغاله بما قلت فاذا هم بالقبض قلت وزن ملك على هذا القول معل لأن الميم زائدة واذا كان الملك من ألألوكة فهو مقلوب من ألك إلى لأك والقاب في الهمزة وحروف العلة معروف عند أهل المقاييس فأما جذب وجبذ ولقم الطرق ولمقه فهو عند أهل اللغة قلب والنحويون لايرونه مقلوبا بل يرون اللفطين كل واحد منهما اصل في بابه فوزن الملائكة عد هذا معافلة لأنها مقلوبة عن مآلكة ومنه قالوا الكني إلى فللان قال الشاعر:

الكني إلى قومي السلام رسالة … بآية ما كانوا ضعافا ولا عزلا

وقال الأعشى في المألكة.
তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়; এবং যদি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তবে তার জন্য উত্তর না দেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। যদি সে উত্তর দেয়, তবে শ্রোতার ওপর তা না শোনা ফরজ হয়ে পড়ে। যদি সে শোনার মাধ্যমে এর বিরুদ্ধাচরণ করে, তবে সে যা বলে তা না লেখা সমীচীন। যদি সে তা লিখে ফেলে, তবে তাতে দৃষ্টিপাত না করা ওয়াজিব। আর যদি সে তাতে দৃষ্টিপাত করে, তবে সে অন্ধকারে লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়াচ্ছে। আমি শায়খদের (أشياخ) বয়সে উপনীত হয়েছি এবং এই প্রলাপ ও বিদ্রূপের কোনো উপকারিতা নেই; পরকাল অতি নিকটে। তুমি কি মনে করো আমি মালাকুল মাউতের মোকাবিলা করব? তাই আমি বলি: 'মালাক' এর মূল (أصل) হলো 'মালিক'। এটি 'আলুকাহ' থেকে গৃহীত হয়েছে যার অর্থ বার্তা (রিসালাহ), অতঃপর এতে রূপান্তর বা স্থানবদল (قلব) ঘটেছে। বহুবচনে 'মালাইকাহ' বলা আমাদের এই দিকেই পথপ্রদর্শক, কারণ বহুবচন শব্দসমূহকে তাদের মূলের (أصول) দিকে ফিরিয়ে নেয়। কবি যেমনটি গেয়েছেন:

তুমি কোনো মানুষ নও, বরং একজন ফেরেশতা … যা আকাশের উচ্চতা থেকে বর্ষিত হচ্ছে।

সে যা শোনে তাতে সে মুগ্ধ হয়, ফলে আমি যা বলেছি তাতে নিমগ্ন থাকার কারণে সে সময়ের দিকে লক্ষ্য করে। যখন সে প্রাণ সংহারের সংকল্প করে, তখন আমি বলি: এই মতানুযায়ী 'মালাক' শব্দের ওজন বা পরিমাপ ত্রুটিযুক্ত (معل), কারণ এতে 'মিম' অতিরিক্ত। আর 'মালাক' শব্দটি যদি 'আলুকাহ' থেকে উৎপন্ন হয়, তবে এটি 'আ-লা-কা' থেকে 'লা-আ-কা' তে শব্দান্তর বা স্থানবদল (قلب) হয়েছে। হামজা এবং দুর্বল বর্ণ (حروف العلة) সমূহের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ভাষাতাত্ত্বিক পরিমাপবিদদের নিকট সুপরিচিত। তবে 'জাযাবা' ও 'জাবাযা' এবং 'লাকামা' ও 'লামাকা' এর বিষয়টি ভাষাবিদগণের নিকট স্থানবদল (قلب) হিসেবে পরিচিত, কিন্তু ব্যাকরণবিদগণ একে স্থানবদল (قلب) হিসেবে গণ্য করেন না; বরং তারা এই উভয় শব্দের প্রত্যেকটিকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে মূল (أصل) হিসেবে বিবেচনা করেন। সেই হিসেবে 'মালাইকাহ' এর ওজন হবে 'মা'আফিলাহ', কারণ এটি 'মা'আলিকাহ' থেকে পরিবর্তিত বা স্থানবদল (قلب) হওয়া শব্দ। এ থেকেই তারা বলে থাকে: অমুকের কাছে আমার বার্তা পৌঁছে দাও। যেমন কবি বলেছেন:

আমার সম্প্রদায়ের কাছে আমার শান্তির বার্তা পৌঁছে দাও … এই নিদর্শনসহ যে, তারা দুর্বল বা অস্ত্রহীন ছিল না।

এবং আল-আ’শা 'মা’লাকাহ' (বার্তা) সম্পর্কে বলেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪০)
أبلغ يزيد بني شيبان مألكة … أبا ثبيت أما تنفك تاتكل

فكأنهم فروا في الملائكة من ابتدائهم بالهمزة ثم يجيئون بعدها بالألف فرأوا إن مجيء الألف أولا أخف كما فروا من شأي إلى شاء ومن نأي إلى ناء قال عمر بن أبي ربيعة:

بان الحمول فما شأونك نقرة … ولقد أراك تشاء بالأظعان

وأنشد أبو عبيدة:

أقول وقد ناءت بهم غربة النوى … نوى خيتعور لا تشط ديارُك

فيقول الملك من ابن أبي ربيعة وما أبو عبيدة وما هذه الأباطيل إن كان لك عمل صالح فأنت السعيد وإلا فاخسا وراءك فأقول أمهلني ساعة حتى أخبرك بوزن عزرائيل فأقيم الدليل على إن الهمزة زائدة فيه فيقول الملك هيهات ليس الأمر ألي إذا جاء أجلهم لا يستأخرون ساعة ولا يستقدمون. ام تراني اداري منكرا ونكيرا فأقول كيف جاء اسماكما عربيين منصرفين واسماء الملائكة أكثرها من الأعجمية مثل اسرافيل وجبريل وميكاييل فيقولان هات حجتك وخل الزخرف عنك فأقول
ইয়াজিদ বনী শায়বানকে এই বার্তা পৌঁছে দাও … হে আবু সুবাইত, তুমি কি বিবাদ করা থেকে ক্ষান্ত হবে না?

যেন তারা ফেরেশতাদের নামের ক্ষেত্রে শুরুতে হামজা (همزة) এবং পরবর্তীতে আলিফ (ألف) উচ্চারণ করা থেকে বাঁচতে চেয়েছে। তারা মনে করেছে যে শুরুতে আলিফ নিয়ে আসা অধিকতর সহজ, যেমনটি তারা 'শা-য়ি' থেকে 'শা-আ' এবং 'না-য়ি' থেকে 'না-আ' শব্দের ক্ষেত্রে করেছে। ওমর ইবনে আবি রাবিয়া বলেছেন:

যাত্রীরা বিদায় নিল, তারা তোমার পরোয়া করল না … আর আমি তোমাকে দেখছি যে তুমি উটবাহী শিবিকাসমূহ দেখে ব্যথিত হচ্ছ।

আবু উবায়দাহ আবৃত্তি করেছেন:

আমি বলছি যখন বিচ্ছেদের দূর পরবাস তাদের নিয়ে দূরে চলে গেল … খেতা’আওয়ারের সেই বিচ্ছেদ যেন তোমার আবাসভূমিকে দূরে সরিয়ে না দেয়।

অতঃপর ফেরেশতা বলবেন, "ইবনে আবি রাবিয়া কে? আর আবু উবায়দাহ কে? আর এই অসার কথাগুলোই বা কী? যদি তোমার নিকট কোনো সৎকর্ম থাকে তবেই তুমি সৌভাগ্যবান, অন্যথায় তুমি তুচ্ছ ও বিতাড়িত হয়ে পেছনে হটে যাও।" তখন আমি বলব, "আমাকে কিছুটা সময় দিন যাতে আমি আপনাকে 'আজরাইল' শব্দের ওজন (وزن) সম্পর্কে অবহিত করতে পারি এবং এই প্রমাণ (دليل) পেশ করতে পারি যে এতে হামজা (همزة) বর্ণটি অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবে এসেছে।" ফেরেশতা বলবেন, "অসম্ভব! বিষয়টি আমার ইখতিয়ারে নেই; 'যখন তাদের নির্দিষ্ট সময় আসে তখন তারা এক মুহূর্ত বিলম্ব করতে পারে না এবং অগ্রগামীও হতে পারে না'।" অথবা তুমি কি মনে করছ আমি মুনকার (منكر) ও নাকিরের (نكير) সাথে ছলনা করছি? আমি বলব, "আপনাদের নাম দুটি কেন আরবি ও রূপান্তরযোগ্য (منصرف) হলো? অথচ ফেরেশতাদের অধিকাংশ নাম অনারবি (أعجمية) যেমন ইসরাফিল, জিবরাইল ও মিকাইল।" তখন তারা বলবেন, "তোমার প্রমাণ (حجة) পেশ করো এবং বাগাড়ম্বর ত্যাগ করো।" তখন আমি বলব-
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪১)
متقربا إليهما قد كان ينبعي لكما إن تعرفا ما وزن ميكاييل وجبريل على اختلاف اللغات فيهما اذ كانا أخويكما في عبادة الله فلا يزيدهما ذلك على الاغلظة ولو علمت انهما يرغبان في مثل هذه العلل لا عددت لهما شيئا كثيرا من ذلك ولقت لهما ما تريان في وزن موسى كليم الله الذي سألتماه عن دينه وحجته فألان وأوضح فإن قالا موسى أسم أعجمي الا انه يوافق من العربية وزن مفعل وفعلى اما مفعل فإذا كان من ذوات الواو مثل أوسيت وأوريت فانك تقول موسى ومورى واذا كان من ذوات الهمزة فانك تخفف حتى تكون خالصة من مفعل تقول آنيت، العشاء فهو مؤنى فان خففت قلت مونى.

قال الحطيئة:

وآنيتُ العشاء إلى سُهَيل … أو الشعرى فطال بي الأناء

ويروى اكريت العشاء لمرقد حكى بعهم همز مؤسى اذا كان اسما وزعم النحويون إن ذلك لمجاورة الواو الضمة لأن الواو إذا كانت مضمومة ضما لغير أعراب وغير ما يشابه الأعراب جازان تحول همزة.

كما قالوا وقتت وأقتف … وحمائم ورق وأرق ووشحت

وأشحت قال الهذلي:

أبا معقل إن كنت أشحت حلة … أبا معقل فانظر بسهمك من ترمي

وقال حميد بن ثور:
তাদের নৈকট্য লাভের প্রচেষ্টায় তোমাদের জন্য উচিত ছিল মিকাইল ও জিবরিলের ওযন (وزن) সম্পর্কে জানা, বিভিন্ন ভাষায় তাদের নামের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও; যেহেতু তারা আল্লাহর ইবাদতে তোমাদের দুই ভাই। ফলে এর কারণে তাদের গুরুত্ব বা কাঠিন্য ছাড়া অন্য কিছু বৃদ্ধি পায় না। আর যদি আমি জানতাম যে তারা এই ধরণের ব্যাকরণগত কারণসমূহের (علل) প্রতি আগ্রহী, তবে আমি তাদের জন্য এ থেকে অনেক কিছু গণনা করতাম। আর আমি তাদের বলতাম—তোমরা আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী মূসা-এর ওযন (وزن) সম্পর্কে কী মনে করো? যাঁর দীন ও প্রমাণ সম্পর্কে তোমরা তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলে, অতঃপর তিনি তা সহজ ও স্পষ্ট করেছিলেন। যদি তারা বলে যে, মূসা একটি অনারব (أعجمي) নাম, তবে এটি আরবি ব্যাকরণ অনুযায়ী মুফআল (مفعل) এবং ফু'লা (فعلى) ওযনের (وزন) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর মুফআল (مفعل) ওযনের (وزন) ক্ষেত্রে এটি যদি ওয়াও বিশিষ্ট (ذوات الواو) ধাতু থেকে হয়, যেমন 'আউসাইতু' (أوسيت) এবং 'আউরাইতু' (أوريت), তবে তুমি বলবে 'মূসা' (موسى) এবং 'মূরা' (مورى)। আর যদি এটি হামযাহ্ বিশিষ্ট (ذوات الهمزة) ধাতু থেকে হয়, তবে তুমি তা সহজিকরণ (تخفيف) করবে যতক্ষণ না এটি মুফআল (مفعل) এর মূল রূপ থেকে মুক্ত হয়। যেমন তুমি বললে: আমি রাতের খাবার দেরিতে খেয়েছি (আনাইতু), সে ক্ষেত্রে শব্দটি হবে 'মু'নী' (مؤنى); অতঃপর যদি তুমি সহজিকরণ (تخفيف) করো তবে বলবে 'মুনী' (مونى)।

আল-হুতাইয়াহ বলেছেন:

আমি সুহাইল নক্ষত্র উদিত হওয়া পর্যন্ত রাতের খাবার বিলম্বিত করেছি … অথবা শু'রা নক্ষত্র পর্যন্ত, ফলে আমার অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হয়েছে।

বর্ণিত আছে যে, তাদের কেউ কেউ 'মূসা' (مؤسى) শব্দটিকে হামযাহ্ (همزة) যোগে উচ্চারণ করেছেন যখন তা নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ব্যাকরণবিদগণ (نحويون) মনে করেন যে, এটি হয়েছে পেশ (ضمة) বিশিষ্ট ওয়াও (واو)-এর সান্নিধ্যের কারণে। কারণ যখন ওয়াও (واو)-এর উপর ব্যাকরণগত পরিবর্তন (أعراب) বা তার সদৃশ কারণ ব্যতীতই পেশ (ضمة) থাকে, তখন তাকে হামযাহ্ (همزة)-তে রূপান্তর করা বৈধ।

যেমন তারা বলে থাকে: 'ওয়াক্কাতাত' (وقتت) ও 'আক্কাতাত' (أقتت) … এবং 'হামাইমু ওয়ারাকিন' (ورق) ও 'আরাকিন' (أرق), এবং 'ওয়াশশাহ্তু' (وشحت)

ও 'আশশাহ্তু' (أشحت)। হুদাইলি বলেছেন:

হে আবু মা'কাল, তুমি যদি চাদর পরিহিত (أشحت) হও … হে আবু মা'কাল, তবে লক্ষ্য করো তুমি তোমার তীর দ্বারা কাকে আঘাত করছো।

হামিদ বিন ছাওর বলেছেন:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪২)
وما هاج هذا الشوق إلا حمامة … دعت ساق حر ترحة وترنما

من الأرق حماء العلاطين باكرت … عسيب أشاء مطلع الشمس أسحما

وقد ذكر الفارسي هذا البيت مهموزأ.

أحب المؤقدين الي مؤسى … وحزرة لو أضاء لي الوقود

وعلى مجاورة الضمة جاز الهمز في سوق جمع ساق في قراءة من قرا كذلك ويجوز إن يكون على فعل مثل أسد فيمن ضم السين ثم همزت الواو ودخلها السكون بعد إن نذهب فيها حكم الهمز وإذا قيل موسى فُعلى فان جعل أصله الهمز وافق فعلى من ماس بين القوم إذا افسد بينهم قال الأفوه:

إما تري رأسي ازرى به … ماس زمان ذي انتكاس مؤوس

ويجوز إن يكون فعلى من ماس يميس فقلبت الياء واواً للضمة كما قالوا الكوسى وهي من الكيس ولو بنوا فعلى من قولهم هذا أعيش من هذا واغيظ منه لقالوا العوشى والغوظى فإذا سمعت ذلك منهما قلت لله أنتما لم اكن احسب إن الملائكة تنطق بمثل هذا الكلام ولا تعرف احكام العربية فأن غشي علي من الخيفة فأفقت وقد أشارا إلي بالإرزبة قلت تثبتا رحمكا الله كيف تصغران الإرزبة وتجمعانها جمع التكسير فأن قالا أريزبة بالتشديد قلت هذا وهم إنما ينبغيي إن اريزبة بالتخفيف وكذلك في جمع التكسير أرازب، بالتخفيف فان قالا كيف قالوا علابي فشددوا كما قال القريعي:
এই বিরহ-বেদনা এক কপোতী ব্যতীত আর কেউ সঞ্চার করেনি... যে শোক ও সুরের মূর্ছনায় 'সাকু হুর'-কে ডাকছিল।

অনিদ্রার কারণে যার ঘাড়ের দুই পাশ লালচে হয়ে গিয়েছিল, সে খুব ভোরে... উদীয়মান সূর্যের আলোয় একটি কালচে খেজুর শাখায় এসে বসল।

আল-ফারিসি এই কাব্যপঙ্ক্তিটি হামযাহ যোগে উল্লেখ করেছেন।

অগ্নিপ্রজ্বলনকারীদের মধ্যে আমার কাছে সবচাইতে প্রিয় হলো মুসা... এবং হাযরাহ, যদি তাদের প্রজ্বলিত অগ্নি আমার জন্য আলো ছড়াত।

'সাক' শব্দের বহুবচন 'সুক' পড়ার ক্ষেত্রে পেশ বা দ্বাম্মাহ-এর নৈকট্যের কারণে হামযাহ যোগে পড়া বৈধ হয়েছে তাদের জন্য যারা এভাবে তিলাওয়াত করেছেন। এটি 'ফুউল' ওজনের হওয়াও সম্ভব যেমন 'আসাদ' শব্দের ক্ষেত্রে; যারা সীন বর্ণে পেশ প্রদান করেন, অতঃপর ওয়াও-কে হামযাহ-তে রূপান্তরিত করেন এবং হামযাহ-এর হুকুম চলে যাওয়ার পর তাতে সুকুন যুক্ত হয়। আর যখন 'মুসা' শব্দটিকে 'ফু’লা' ওজনের ধরা হয় এবং এর মূলে হামযাহ গণ্য করা হয়, তবে তা 'মাসা' (লোকদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করা) থেকে আগত 'ফু’লা' ওজনের সাথে মিলে যায়। কবি আল-আফওয়াহ বলেছেন:

তুমি কি দেখছ না যে আমার মস্তক অবজ্ঞার শিকার হয়েছে... কালচক্রের বিপর্যয়ে যা বিপর্যস্ত ও কলুষিত।

এটি 'মাসা-য়ামিসু' থেকে 'ফু’লা' ওজন হওয়াও সম্ভব, যেখানে পেশ-এর কারণে 'ইয়া' বর্ণটি 'ওয়াও'-তে রূপান্তরিত হয়েছে, যেমন তারা 'আল-কুসা' বলে থাকে যা মূলত 'আল-কাইস' থেকে আগত। তারা যদি 'হাযা আইশু মিন হাযা' (এটি ওটির চেয়ে সচ্ছল) এবং 'আগয়াযু মিনহু' (অধিক ক্রোধ উদ্দীপক) বাক্য থেকে 'ফু’লা' ওজন গঠন করত, তবে তারা 'আল-উশা' এবং 'আল-গুযা' বলত। যখন আপনি তাদের নিকট থেকে তা শুনবেন, তখন বলবেন—তোমাদের উভয়ের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট! আমি কখনো ভাবিনি যে ফেরেশতারা এমন ভাষায় কথা বলবেন এবং আরবির নিয়মকানুন জানবেন না। অতঃপর ভয়ে আমি মূর্ছা গেলাম এবং জ্ঞান ফেরার পর দেখলাম তারা লোহার মুগুর দিয়ে আমার দিকে ইশারা করছেন। আমি বললাম—আপনারা শান্ত হোন, আল্লাহ আপনাদের প্রতি দয়া করুন! আপনারা কীভাবে 'ইরযাব্বাহ' শব্দটির ক্ষুদ্রার্থ রূপ এবং এর ভগ্ন বহুবচন গঠন করবেন? যদি তারা দ্বিত্ব বা তাসদীদ যোগে 'উরাইযিব্বাহ' বলে, তবে আমি বলব—এটি একটি ভুল ধারণা; বরং এটি তাসদীদ ছাড়া 'উরাইযিবাহ' হওয়া উচিত। একইভাবে ভগ্ন বহুবচনের ক্ষেত্রেও তাসদীদহীন 'আরাযিব' হবে। যদি তারা প্রশ্ন করে যে, তবে তারা 'আলাবি' শব্দে কেন তাসদীদ ব্যবহার করেছে যেমনটি আল-কুরাইয়ি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৩)
وذي نخوات طامح الطرف جاذبت … حبالى فلوى من علابيه مدي

قلت ليس الياء كغيرها من الحروف لأنها وان لحقها التشديد ففيها عنصرين اللين فان قالا أليس قد زعم صاحبكم عمرو بن عثمان المعروف بسيبويه إن الياء إذا شددت ذهب منها اللين وأجاز في القوافي حيا مع ظبي قلت قد زعم ذلك الا إن السماع من العرب لم يأت فيه نخو ما قال الا يكون شاذا قليلا فإذا عجبت مما قالاه أظهرا لي تهاةنا بما يعلمه بنو آدم وقالا لو جمع ما علمه أهل الالاض على اختلاف الازمنة اكل بلغ علم واحد من الملائكة يعدونه فيهم ليس بعالم فاسبح الله وامجده واقول قد صارت لي بكما وسيلة فوسعا لي في الجدف إن شئتما بالفاء وان شئتما بالثاء لان إحداهما تبدل من الأخرى كما قالوا مغاثير ومفافير وأثافي وافافي وثوم وفوم وكيف تقران رحمكما الله هذه الآية وفومها وعدسها وبصلها أبا لثا كما في مصحف عبد الله بن مسعود ام بالفاء كما في قراءة الناس وما الذي تحتار إن في تفسير الفوم أهو الحنطة كما قال أبو محجن:

قد كنت احسبنبي كأغنى واحد … قدم المدينة عن زراعة فوم

أم هو هذا الثوم الذي له رائحة كريهة والى ذلك ذهب الفراء وقد جاء في الشعر الفصيح قال الفرزدق:

من كل اغبر كالراقود حجزته … إذا تعشى عتيق التمر والثوم
এবং কতই না অহংকারী, উচ্চাভিলাষী ব্যক্তি যার সাথে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি … অতঃপর সে তার ঘাড়ের রগগুলো দীর্ঘ করে বাঁকিয়ে নিল।

আমি বললাম, 'ইয়া' বর্ণটি অন্যান্য বর্ণের মতো নয়। কারণ এতে তাশদিদ (تشديد) যুক্ত হলেও এর মধ্যে কোমলতার (لين) দুটি উপাদান বিদ্যমান থাকে। যদি তারা প্রশ্ন করে, "আপনাদের সঙ্গী সিবওয়াইহ হিসেবে পরিচিত আমর ইবনে উসমান কি দাবি করেননি যে, 'ইয়া' যখন তাশদিদযুক্ত হয় তখন তা থেকে কোমলতা (لين) চলে যায়? এবং তিনি কবিতার অন্ত্যমিলে 'ধাবি'-র সাথে 'হাইয়া'-কে বৈধ (جائز) সাব্যস্ত করেছেন।" আমি বললাম, তিনি তা দাবি করেছেন সত্য, তবে আরবদের নিকট হতে শ্রুত (سماع) ভাষাগত প্রয়োগে তাঁর কথার অনুরূপ কিছু পাওয়া যায় না, তা বিরল (شاذ) ও সামান্য হওয়া ছাড়া। অতঃপর আমি যখন তাদের উক্ত মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করলাম, তখন তারা বনী আদমের অর্জিত জ্ঞানের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করল এবং বলল, "যদি বিভিন্ন যুগে পৃথিবীর অধিবাসীদের অর্জিত সকল জ্ঞান একত্রিত করা হয়, তবে কি তা ফেরেশতাদের মধ্য হতে এমন একজনের জ্ঞানের সমান হবে, যাকে তারা আলেম (عالم) হিসেবে গণ্যই করে না?" অতঃপর আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি ও তাঁর মহিমা বর্ণনা করি এবং বলি, আপনাদের উভয়ের মাধ্যমে আমার একটি বিশেষ সংযোগ তৈরি হয়েছে; সুতরাং আপনারা আমার জন্য 'জাদাফ' শব্দটির প্রয়োগে প্রশস্ততা দান করুন—আপনারা চাইলে 'ফা' যোগে অথবা চাইলে 'ছা' যোগে তা বলতে পারেন। কারণ এদের একটি অন্যটি দ্বারা স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন আরবরা বলে থাকে: 'মাগাছির' ও 'মাগাফির', 'আছাফি' ও 'আফাফি', এবং 'ছুম' ও 'ফুম'। আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন, আপনারা এই আয়াতটি—"ওয়া ফুমিহা ওয়া আদাসিহা ওয়া বাসালিহা"—কীভাবে পাঠ করেন? আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের মুসহাফের ন্যায় 'ছা' যোগে, নাকি সাধারণ মানুষের পাঠরীতি (قراءة) অনুযায়ী 'ফা' যোগে? আর আপনারা 'ফুম'-এর ব্যাখ্যা (تفسير) করার ক্ষেত্রে কোনটিকে বেছে নেবেন? এটি কি গম, যেমনটি আবু মাহজান বলেছিলেন:

আমি নিজেকে সবচাইতে ধনাঢ্য ব্যক্তি মনে করতাম … যে ফুম চাষের উদ্দেশ্যে মদিনায় আগমন করেছে

নাকি এটি সেই রসুন (ছুম) যার দুর্গন্ধ রয়েছে? আল-ফাররা এই মতের দিকেই গিয়েছেন এবং বিশুদ্ধ (فصيح) কবিতায়ও এটি বর্ণিত হয়েছে। আল-ফারাজদাক বলেছেন:

ধূলিধূসরিত প্রতিটি পাত্রের ন্যায় যা সে আটকে রেখেছে … যখন সে পুরাতন খেজুর ও রসুন দিয়ে রাতের খাবার শেষ করে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৪)
فيقولان أو أحدهما انك لمتهدم الجول وإنما يوسع لك في ريمك عملك فأقول الله أنتما ما أفصحكما لقد سمعت في الحياة الدنيا إن الريم القبر. وسمعت قول الشاعر:

إذا مت فاعتادي القبور وسلمي … على الريم اسقيت السحاب الغواديا

فكيف تبنيان رحمكما الله من الريم مثل إبراهيم اتريان فيه رأي الخليل وسيبويه فلا تبنيان مثله من الأسماء العربية أم تذهبان إلى ما قاله سعيد بن مسعدة فتجيزان إن تبنيا من العربي مثل الأعجمي فيقولان تربا لك ولمن سميت أي علم في ولد آدم انهم للقوم الجاهلون وهل أتودد إلى مالك خازن النار فأقول رحمك الله ما أوحد الزبانية فأن بني آدم فيهم مختلفون بعضهم الزبانية لا واحمد لهم من لفظهم وإنما يجبرون مجرى السواسية أي القوم المستوين في الشر. قال الشاعر:

سواسية سود الوجوه كأنما … بطونهم من كثرة الزاد أوطب

ومنهم من يقول واحد الزبانية زبنية وقال آخرون واحدهم زَّبنُّي أو زُبْنيٌّ فيعبس لما سمع ويكفهر فأقول يا مال رحمك الله ما ترى في نون غسلين وما حقيقة هذا اللفظ أهو مصدر كما قال بعض الناس أم واحد أم جمع أعربت نونه تشبيها بنون مسكين كما اثبتوا نون قلين وسنين في الإضافة كما سحيم بن وثيل:
তখন তারা উভয় অথবা তাদের মধ্যে একজন বলবে, "নিশ্চয়ই তুমি দেয়াল ধ্বংসকারী; তোমার আমল কেবল তোমার রীমে (কবরে) প্রশস্ততা বৃদ্ধি করে।" তখন আমি বলি, "আল্লাহর শপথ! তোমরা দুজনেই কতই না প্রাঞ্জলভাষী! পার্থিব জীবনে আমি শুনেছিলাম যে ‘রীম’ মানে হলো কবর।" এবং আমি কবির উক্তি শুনেছি:

যদি আমি মারা যাই তবে কবরে যাতায়াত করো এবং সালাম দিও … রীমের প্রতি, তোমাকে যেন ভোরের মেঘমালা সিক্ত করে।

তবে তোমরা দুজন—আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করুন—কীভাবে ‘রীম’ থেকে ইব্রাহিমের মতো শব্দ গঠন করবে? তোমরা কি এতে আল-খালীল এবং সীবওয়াইহ-এর মত পোষণ করো যে, আরবি নামসমূহ থেকে তোমরা এর অনুরূপ গঠন করবে না? নাকি তোমরা সাঈদ ইবনে মাসআদাহ যা বলেছেন সেই মত গ্রহণ করবে এবং অনারব (الأعجمي) শব্দের ন্যায় আরবি শব্দ থেকে রূপান্তর করাকে বৈধ মনে করবে? তখন তারা উভয়ে বলবে, "তোমার এবং তুমি যাদের নাম নিয়েছ তাদের জন্য আক্ষেপ! আদম সন্তানদের মাঝে কিসের জ্ঞান আছে? তারা তো এক অজ্ঞ জাতি।" আমি কি জাহান্নামের রক্ষক মালিকের প্রিয়ভাজন হওয়ার চেষ্টা করব এবং বলব, "আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, ‘যাবানিয়াহ’-এর একবচন (واحد) কী?" কেননা আদম সন্তানরা এ বিষয়ে মতভেদ করেছে; তাদের কেউ কেউ বলে যে ‘যাবানিয়াহ’ শব্দের নিজ শব্দমূল থেকে কোনো একবচন (واحد) নেই, বরং তারা একে ‘সাওয়াসিয়াহ’-এর ধারায় গণ্য করে, যার অর্থ মন্দের দিক থেকে সমান একদল লোক। কবি বলেছেন:

সমপর্যায়ের কালো মুখমণ্ডল বিশিষ্ট, যেন … অতিরিক্ত খাদ্যের কারণে তাদের উদরগুলো চামড়ার মশকের মতো ফুলে আছে।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে যে ‘যাবানিয়াহ’-এর একবচন (واحد) হলো ‘যিবনিইয়াহ’; অন্যরা বলে তাদের একবচন (واحد) হলো ‘যাবান্নী’ অথবা ‘যুবনী’। এসব শুনে সে মুখ ভার করে এবং বিবর্ণ হয়ে যায়। তখন আমি বলি, "হে মালিক, আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন, ‘গিসলীন’-এর ‘নুন’ সম্পর্কে আপনার অভিমত কী এবং এই শব্দের প্রকৃত রূপ কী? এটি কি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر) যেমনটি কিছু লোক বলেছে, নাকি একবচন (واحد), নাকি বহুবচন (جمع)? যার ‘নুন’-টি ‘মিসকীন’ শব্দের ‘নুন’-এর সাথে সাদৃশ্য রেখে বিভক্তিযুক্ত হয়েছে, যেমনটি তারা ‘কালাইনি’ ও ‘সিনীন’ শব্দের ‘নুন’-কে সম্বন্ধপদের (الإضافة) ক্ষেত্রে বহাল রেখেছে, যেমনটি সুহাইম ইবনে ওয়াসীল করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৫)
وماذا يدري الشعراء مني … وقد جاوزت حد الأربعين

فأعرب النون وهل النون في جهنم زائدة أما سيبويه فلم يذكر في الابنية فعنلا وجهنم اسم أعجمي ولو حملناه على الاشتقاق لجاز إن يكون من الجهامة في الوجه أو من قولهم تجهمت الأمر إذا جعلنا النون الزائدة واعتقادنا زيادتها في هجنف وانه مثل هجف وكلاهما صفة للظليم قال الهذلي:

كان ملأتي على هجف … يعين مع العشية للرئال

وقال جران العود:

يشبها الرائي المشبه بيضة … غدا في الندى عنها الظليم الهجنف

وقال قوم يقال ركية جهنام اذا كانت بعيدة القعر فان كانت جهنم عربية فيجوز إن تكون من هذا وزعم قوم أنه يقال احمر جهنام إذا كان شديد الحمرة ولا يمتنع إن يكون اشتقاق جهنم منه فأما سقر فأن كان عربيا فهو مناسب لقولهم صقرته الشمس إذا آلمت دماغه يقال بالسين والصاد. قال ذو الرمة:
وماذا يدري الشعراء مني … وقد جاوزت حد الأربعين

অতঃপর তিনি ‘নুন’ বর্ণটিকে বিশ্লেষণ করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন যে, জাহান্নাম শব্দে ‘নুন’ বর্ণটি কি অতিরিক্ত? সিবাহওয়াইহ তো শব্দকাঠামোর বর্ণনায় ‘ফা‘নাল্লা’ ছাঁচটি উল্লেখ করেননি। জাহান্নাম একটি অনারব নাম। যদি আমরা একে ব্যুৎপত্তিগত অর্থের ওপর প্রয়োগ করি, তবে তা চেহারার কর্কশতা থেকে হতে পারে, অথবা তাদের প্রচলিত উক্তি ‘আমি বিষয়টি রূঢ়ভাবে গ্রহণ করেছি’ থেকে উদ্ভূত হতে পারে—যদি আমরা ‘নুন’ বর্ণটিকে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করি। আমাদের বিশ্বাস হলো, ‘হাজান্নাফ’ শব্দে এই বর্ণের অতিরিক্ততা বিদ্যমান এবং এটি ‘হাজাফ’-এর মতোই; আর এ দুটি শব্দই পুরুষ উটপাখির বিশেষণ। হুযালী বলেছেন:

আমার চাদরটি যেন ছিল এক দ্রুতগামী উটপাখির পিঠে … যা সন্ধ্যার সময় তার ছানাগুলোর দেখাশোনা করছিল

এবং জিরান আল-আউদ বলেছেন:

পর্যবেক্ষক সেই ডিমটির সাথে তুলনা করেন … যার কাছ থেকে পরদিন শিশিরভেজা সকালে দীর্ঘদেহী উটপাখিটি দূরে সরে গিয়েছিল

একদল লোক বলেছেন, যখন কোনো কূপ অত্যন্ত গভীর হয় তখন তাকে ‘জাহনাম’ বলা হয়। যদি ‘জাহান্নাম’ শব্দটি আরবি হয়ে থাকে, তবে তা এই অর্থ থেকেই আসা সম্ভব। আবার একদল দাবি করেন যে, যখন কোনো কিছু অতিমাত্রায় লাল হয় তখন তাকে ‘আহমার জাহনাম’ বলা হয়; সুতরাং জাহান্নাম শব্দটির ব্যুৎপত্তি এখান থেকে হওয়াও অসম্ভব নয়। আর ‘সাকার’ শব্দের ক্ষেত্রে বক্তব্য হলো, এটি যদি আরবি হয় তবে তা তাদের ‘সূর্য তাকে দগ্ধ করেছে’ উক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যা তখনই বলা হয় যখন সূর্যের প্রখরতা মস্তিষ্ককে ব্যথিত করে। শব্দটি ‘সিন’ এবং ‘সদ’ উভয় বর্ণ যোগেই বলা হয়ে থাকে। যু-রুম্মাহ বলেছেন:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৬)
إذا ذابت الشمس اتقى صقراتها … بأفنان مربوع الصريمة معبل

والسين والصاد يتعاقبان في الحرف اذا كان بعدهما قاف أو خاء أو غين أو طاء يقال سُقْتُ وصُقْتُ وسوَيقٌ وصويقٌ وبسط وبصط وسلغ الكبس وصلغ فيقول مالك ما أجهلك وأقل تمييز ما جلست ها هنا للتصريف وإنما جلست لعقاب الكفره القاسطين.

وهل أقول للسائق والشهيد اللذين ذكرا في الكتاب الكريم قوله وجاءت كل نفس معها سائق وشهيد ياصاح انظراني فيقولان لم تخاطبنا خطاب الواحد ونحن اثنان فأقول ألم تعلما إن ذلك جائز من الكلام وفي الكتاب العزيز وقال قرينه هذا ما لدي عتيد ألقيا في جهنم كل كفار عنيد فوحد القرين وثنى في الآخر كما قال الشاعر.

فان تزجراني يابن عفان أنزجر … وإن تدعاني أحم عرضا ممنعاً

وكما قال امرؤ القيس:

خليلي مرا بي على أم جندب … لأقضي حاجات الفؤاد المعذب

ألم ترياني كلما جئت طارقا … وجدت بها طيبا وان لم تطيب
যখন সূর্য প্রখর হয়, তখন সে তার তীব্র উত্তাপ থেকে রক্ষা পায় … সরিমা নামক স্থানের দীর্ঘাকার ও বিস্তৃত লতাগুল্মের ডালপালার মাধ্যমে।

সিন এবং সদ বর্ণ দুটি শব্দে একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয় যখন তাদের পরে কাফ, খা, গাইন অথবা ত বর্ণ আসে। যেমন বলা হয়—'সুকতু' এবং 'সুকতু', 'সাওয়ীক' এবং 'সাওয়ীক', 'বাস্ত' এবং 'বাস্ত', এবং মেষশাবকের ক্ষেত্রে 'সালাগ' ও 'সালাগ'। তখন মালেক বলবেন, "তুমি কতই না অজ্ঞ এবং তোমার বিচারবুদ্ধি কতই না কম! আমি এখানে ব্যাকরণিক রূপান্তরের জন্য বসিনি, বরং আমি এখানে বসেছি অবাধ্য ও বিদ্রোহী কাফেরদের শাস্তি দেওয়ার জন্য।"

আমি কি সেই চালক ও সাক্ষীর উদ্দেশ্যে বলব যাদের কথা পবিত্র কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে—"এবং প্রত্যেক ব্যক্তি উপস্থিত হবে, তার সাথে থাকবে একজন চালক ও একজন সাক্ষী"—হে আমার বন্ধু, তোমরা আমার জন্য অপেক্ষা করো! তখন তারা বলবে, "আপনি কেন আমাদের একবচনে সম্বোধন করছেন অথচ আমরা দুইজন?" তখন আমি বলব, "তোমরা কি জানো না যে কথাবার্তায় এটি ব্যাকরণসিদ্ধ? মহান কিতাবেও এসেছে: 'তার সঙ্গী বলবে, আমার কাছে যা ছিল তা প্রস্তুত। তোমরা উভয়ে নিক্ষেপ করো জাহান্নামে প্রত্যেক অবাধ্য কাফেরকে।' এখানে সঙ্গীকে একবচনে উল্লেখ করা হয়েছে এবং পরবর্তী অংশে দ্বিবচন ব্যবহার করা হয়েছে, যেমনটি কবি বলেছেন।"

হে আফফানের বংশধর, তোমরা যদি আমাকে নিবৃত্ত করো তবে আমি নিবৃত্ত হব … আর যদি তোমরা আমাকে আহ্বান করো, তবে আমি দুর্ভেদ্য সম্মান রক্ষা করব।

যেমনটি ইমরুল কায়েস বলেছেন:

হে আমার দুই বন্ধু, আমাকে নিয়ে চলো উম্মে জুনদুবের কাছে … যাতে আমি আমার এই যন্ত্রণাদগ্ধ হৃদয়ের প্রয়োজন মেটাতে পারি।

তোমরা কি দেখছ না যে, যখনই আমি রাতে আগন্তুক হিসেবে আসি … তার নিকট সুগন্ধ পাই, যদিও সে কোনো সুগন্ধি ব্যবহার করেনি।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৭)
هكذا أنشده الفراء. وبعضهم ينشد ألم ترياني.

فقلت لصاحبي لا تحبسانا … بنزع اصوله واجتز شيحا

فهذا كله يدل على إن الخروج من مخاطبة الواحد إلى الاثنين أو من مخاطبة الاثنين إلى الواحد سائغ عند الفصحاء وهل أجيء في جماعة من خمان الأدباء قصرت أعمالهم عن دخول الجنة والحقهم عفو الله فزحزحوا عن النار فنقف على باب الجنة فنقول يارضو لنا إليك حاجة ويقول بعضنا يا رضو فيضم الواو فيقول رضوان صلى الله عليه وسلم ما هذه المخاطبة التي ما خاطبني بها أحد قبلكم فنقول أنا كنا في الدار العاجلة نتكلم بكلام العرب وانهم يرخون الاسم الذي في آخره ألف ونون فيحذفونهما للترخيم. وللعرب في ذلك لغتان تختلف أحكامهما في القياس، قال أبو زُبيد:

يا عُثم أدركني فات ركّيتي … صلدت فأعيت إن تبض بمائها

فيقول رضوان ما حاجتكم فيقول بعضنا انا لم نصل إلى دخول الجنة لتقصير أعمالنا وأدركنا عفو الله عز وجل فنجونا من النار فبقينا بين الدارين ونحن نسألك إن تكون واسطتنا إلى أهل الجنة فانهم لا يستغنون عن مثلنا، وأنه قبيح بالعبد المؤمن إن ينال هذه النعم وهو إذا سبح لله لحن.

ولا يحسن بساكن الجنان إن يصيب من ثمارها في الخلود وهو لا يعرف حقائق تسميتها ولعل في الفردوس قوما لا يدرون أحروف كمثرى كلها أصلية أم بعضها زائد ولو قيل لهم ما وزن كمثرى على
আল-ফাররা এভাবেই আবৃত্তি করেছেন। আর তাদের কেউ কেউ আবৃত্তি করেন ‘আলাম তারায়ানি’ (তোমরা কি দুজন আমাকে দেখছ না?)।

অতঃপর আমি আমার সঙ্গীকে বললাম, তোমরা দুজন আমাদের আটকে রেখো না … এর শিকড় উপড়ে ফেলার মাধ্যমে এবং শিহ (এক প্রকার সুগন্ধি ঘাস) কেটে নাও।

এই সব কিছু একথারই প্রমাণ দেয় যে, একজনকে সম্বোধন করার পর দুজনকে সম্বোধন করা অথবা দুজনকে সম্বোধন করার পর একজনকে সম্বোধন করা বাগ্মী ব্যক্তিদের নিকট বৈধ। আমি কি এমন একদল সাধারণ সাহিত্যিকদের অন্তর্ভুক্ত হব যাদের আমল জান্নাতে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট ছিল না, কিন্তু আল্লাহর ক্ষমা তাদের শামিল হওয়ায় তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়েছে? অতঃপর আমরা জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে বলব: হে রাদ্বু (رضو), তোমার কাছে আমাদের একটি প্রয়োজন আছে। আমাদের কেউ বলবে ‘ইয়া রাদ্বু’ এবং সে ‘ওয়াও’ বর্ণে পেশ প্রদান করবে। তখন রিজওয়ান (আলাইহিস সালাম) বলবেন, এটি কেমন সম্বোধন যা ইতিপূর্বে কেউ আমার প্রতি করেনি? আমরা বলব, আমরা পার্থিব জীবনে আরবদের ভাষায় কথা বলতাম; আর তারা সেই সব নামকে সংক্ষেপ (ترخيم) করত যেগুলোর শেষে আলিফ ও নুন থাকত, ফলে তারা সংক্ষেপণের (ترخيم) উদ্দেশ্যে সে দুটি বর্ণ বিলুপ্ত করে দিত। এ বিষয়ে আরবদের নিকট দুটি উপভাষা রয়েছে যেগুলোর বিধান ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মে (قياس) ভিন্ন ভিন্ন। আবু জুবাইদ বলেছেন:

হে উথম (عثم), আমাকে সাহায্য করো, আমার কূপটি শুকিয়ে গেছে … এটি পাথুরে হয়ে গেছে এবং এক ফোঁটা পানি নির্গত করতেও অক্ষম হয়েছে।

তখন রিজওয়ান বলবেন, তোমাদের প্রয়োজন কী? আমাদের কেউ বলবে, আমাদের আমলের ত্রুটির কারণে আমরা জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত হইনি, তবে মহান আল্লাহর ক্ষমা লাভ করায় আমরা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়েছি। ফলে আমরা দুই আবাসের মধ্যবর্তী স্থানে রয়ে গেছি। আমরা তোমার কাছে আরজি পেশ করছি যেন তুমি জান্নাতবাসীদের নিকট আমাদের জন্য মধ্যস্থতাকারী হও, কেননা তারা আমাদের ন্যায় ব্যক্তিদের অভাব বোধ করবে না। আর একজন মুমিন বান্দার জন্য এটি অত্যন্ত দৃষ্টিকটু যে সে এসব নেয়ামত লাভ করবে অথচ সে যখন আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করবে তখন ব্যাকরণগত ভুল (لحن) করবে।

জান্নাতবাসীদের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে তারা জান্নাতের ফলমূল চিরকাল ভক্ষণ করবে অথচ সেগুলোর নামকরণের প্রকৃত তত্ত্ব জানবে না। সম্ভবত ফিরদাউসে এমন কিছু লোক থাকবে যারা জানে না যে ‘কুমাসরা’ (নাশপাতি) শব্দের সকল বর্ণ কি মূল (أصلية) নাকি কিছু বর্ণ অতিরিক্ত (زائدة)। আর যদি তাদের জিজ্ঞাসা করা হয় যে, ‘কুমাসরা’ শব্দের ওজন (وزن) কী...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৮)
مذهب أهل التصريف لم يعلموا ووزنه فعلى وهذأ بناء مستنكر لم يذكر سيبويه له نظيرا وإذا صح قولهم للواحدة كمثراة فألف كمثرى ليمت للتأنيث وزعم بعض أهل اللغة إن الكمثرة تداخل الشيء بعضه في بعض فان صح هذا فمنه اشتقاق الكمثرى.

وما يجمل بالرجل من الصالحين إن يصيب من سفرجل الجنة في النعيم وهو لا يدري كيف تصغيره وجمعه ولا يشعر أيجوز إن يشتق منه فعل أم لا، والأفعال لا تشتق من الخماسية لأنهم نقصوها عن مزية الأسماء فلم يبلغوا بها بنات الخمسة وليس في كلامهم مثل اسفرجل يسفرجل اسفرجالا.

وهذا السندس الذي يطؤه المؤمنون ويفترشونه كم فيهم من رجل لا يدري أوزنه فعُلُلٌ أم فنُعُلٌ والذي اعتقد فيه إن النون زائدة وأنه من السدوس وهو الطيلسان الأخضر قال العبدي

وداويتها حتى شتت حبشية … كان عليها سنُدسا وسُدوساً

ولا امنع إن يكون سندس فعللا ولكن الاشتقاق موجب ما ذكرت.

وشجرة طوبى كيف يستظل بها المتقون ويجتنونها آخر الأبد وفيهم كثير لا يعرفون أمن ذوات الواو هي أم من ذوات الياء والذي نذهب إليه إذا حملناه على الاشتقاق أنها من ذوات الياء وأنها طاب يطيب بدليل على إن طوبى من ذوات الياء لأننا إذا بنينا فعلا ونحوه من ذوات الواو وقلبناها إلى الياء فقلنا عيد، وقيل وهو من عاد يعود وقال يقول فان قال قائل فلعل قولهم طاب يطيب من ذوات الواو وجاء
শব্দরূপান্তরবিদদের (أهل التصريف) মাযহাব বা মতবাদ সম্পর্কে জানা যায় না এবং এর ওজন হলো ‘ফু’লা’ (فعلى); এটি একটি প্রত্যাখ্যাত (مستنكر) গঠন যার কোনো নজির সিবওয়াইহি উল্লেখ করেননি। যদি একবচনের ক্ষেত্রে তাদের ‘কুমছরাহ’ (كمثراة) বলা সঠিক হয়, তবে ‘কুমছরা’ (كمثرى) শব্দের আলিফটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক (تأنيث) হওয়ার জন্য। ভাষাবিদদের কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, ‘আল-কুমছরা’ (الكمثرة) অর্থ হলো কোনো জিনিসের একটির ভেতর অন্যটি ঢুকে যাওয়া; যদি এটি সঠিক হয় তবে ‘কুমছরা’ (كمثرى) শব্দটি এখান থেকেই ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) লাভ করেছে।

নেককার ব্যক্তিদের জন্য এটা শোভন নয় যে, তারা জান্নাতের নেয়ামতরাজির মধ্যে জান্নাতি সফেরজল (এক প্রকার ফল) ভক্ষণ করবেন অথচ জানবেন না যে এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ (تصغير) বা বহুবচন (جمعه) কেমন হয়, কিংবা এর থেকে কোনো ক্রিয়াপদ (فعل) গঠন করা যায় কি না সে সম্পর্কে তাদের কোনো বোধ থাকবে না। পঞ্চবর্ণবিশিষ্ট মূলশব্দ (الخماسية) থেকে ক্রিয়াপদ গঠিত হয় না; কারণ তারা (আরবরা) বিশেষ্যের যে মর্যাদা রয়েছে তা থেকে একে কমিয়ে দিয়েছে, ফলে তারা এগুলোকে পঞ্চবর্ণবিশিষ্ট শব্দের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাদের ভাষায় ‘আসফারজালা-ইয়াসফারজিলু-আসফারজালান’ এর মতো কোনো প্রয়োগ নেই।

আর এই সুন্দুস (রেশমি বস্ত্র) যা মুমিনরা পদদলিত করবে এবং বিছানা হিসেবে ব্যবহার করবে, তাদের মধ্যে এমন কত মানুষ আছে যারা জানে না এর ওজন কি ‘ফু’উলুল’ নাকি ‘ফুনু’উল’? এ ব্যাপারে আমার বিশ্বাস হলো এখানে ‘নুন’ বর্ণটি অতিরিক্ত (زائدة) এবং এটি ‘সাদূস’ (سدوس) শব্দ থেকে আগত, যার অর্থ হলো সবুজ চাদর। আল-আবদি বলেছেন:

আমি তার চিকিৎসা করেছি যতক্ষণ না সে হাবশী রমণীর ন্যায় শীত অতিবাহিত করল... যেন তার ওপর সুন্দুস ও সাদূস পরিহিত ছিল।

আমি ‘সুন্দুস’ শব্দটি ‘ফু’লালুন’ (فعللا) ওজনের হওয়ার সম্ভাবনাকে নাকচ করি না, তবে ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) আমার উল্লিখিত বিষয়টিকে আবশ্যক করে।

এবং তূবা বৃক্ষ, এর ছায়াতলে মুত্তাকিগণ কীভাবে অবস্থান করবেন এবং অনন্তকাল ধরে এর ফল আহরণ করবেন অথচ তাদের মধ্যে অনেকেই জানেন না যে এটি ওয়াও-বিশিষ্ট (ذوات الواو) নাকি ইয়া-বিশিষ্ট (ذوات الياء)? আমরা যখন ব্যুৎপত্তিগত (اشتقاق) দিক বিবেচনা করি, তখন আমাদের অভিমত হলো এটি ইয়া-বিশিষ্ট (ذوات الياء) মূলের অন্তর্ভুক্ত এবং এর উৎস হলো ‘ত্বাবা-ইয়াত্বীবু’ (طاب يطيب)। ‘তূবা’ শব্দটি যে ইয়া-বিশিষ্ট (ذوات الياء) তার প্রমাণ হলো, যখন আমরা ওয়াও-বিশিষ্ট (ذوات الواو) শব্দ থেকে কোনো শব্দ বা অনুরূপ কিছু গঠন করি এবং তাকে ইয়া-তে রূপান্তরিত করি, তখন আমরা বলি ‘ঈদ’ (عيد); বলা হয়ে থাকে এটি ‘আদা-ইয়াউদু’ (عاد يعود) থেকে আগত, যেমনটি ‘ক্বলা-ইয়াক্বুলু’ (قال يقول) এর ক্ষেত্রে হয়। এখন যদি কোনো বক্তা বলেন, সম্ভবত তাদের ‘ত্বাবা-ইয়াত্বীবু’ (طاب يطيب) বলাটি ওয়াও-বিশিষ্ট (ذوات الواو) মূল থেকে এসেছে এবং এটি...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪৯)
على مثال حسب يحسب وقد ذهب إلى ذلك قوم في تاه يتيه وهو من توهت قيل له يمنع من ذلك انهم قالوا طيبت الرجل بالطيب ولم يحك أحد طوبته والمطيبون أحياء من قريش احتلفوا وغمسوا أيديم في طيب فهدا يدلك على ان الطيب من ذوات الياء وكذلك قولهم هذا أطيب من هذا، فأما حكاية أهل اللغة انهم يقولون أوبة وطوبة فانما ذلك على معنى الإتباع كما يعتقد بعض الناس في قولهم حياك الله وبياك انه إتباع وأن اصل بياك بوَّاك اي بوّأك منزلا ترضاه فخفف الهمز فأما قولهم للأجر طوب فان كان عربياَ صحيحاً فيجوز إن يكون اشتقاقه من غير لفظ الطيب الا على رأي أبي الحسن سعيد بن مسعود فانه إذا بنى فُعْلاً من ذوات الياء مثل عاش يعيش وطاب يطيب فانه يقليه إلى الواو فيقول الطوب والعوش فأن كان الطوب الأجر اشتقاقه من الطيب فايما أريد به والله اعلم إن الموضع إذا بني به طابت الإقامة فيه ولعلنا لو سألنا من يرى طوبى في كل حين لم حذفت منها الألف واللام لم يحر جواباً وقد زعم سيبويه إن الفعلى التي تؤخذ من افعل منك لا تستعمل إلا بالألف واللام أو الإضافة، تقول هذا اصغر منك فإذا رددته إلى المؤنث قلت الصغرى ويقبح عنده إن تقول صغرى بغير إضافة ولا ألف ولام ولكن تقول هذه صغراك وصغرى بنانك قال سحيم:

এটি 'হাসিবা ইয়াহসাবূ' (حسب يحسب)-এর ওজনের দৃষ্টান্ত। একদল ভাষাবিদ 'তাহা ইয়াতিহূ' (تاه يتيه) শব্দটিকেও এই ওজনের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছেন, যা মূলত 'তাওয়াহ্তু' (توهت) থেকে আগত। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি করা ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ; কারণ আরবরা বলে থাকে 'আমি লোকটিকে সুগন্ধি দ্বারা সুবাসিত করেছি (طيبت الرجل بالطيب)'। অথচ কেউ 'তুবতুহু' (طوبته) [ওয়াও সহযোগে] শব্দটির ব্যবহার বর্ণনা করেনি। কুরাইশদের সেই জীবিত গোত্রগুলো যারা চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় সুগন্ধিতে হাত ডুবিয়েছিল, তাদেরকে 'মুতাইয়াবুন' বলা হয়। এটি নির্দেশ করে যে 'আত-তীব' (সুগন্ধি) শব্দটি মূলত 'ইয়া' (ياء) বর্ণ সংশ্লিষ্ট। একইভাবে তাদের বক্তব্য: 'এটি ওটির চেয়ে অধিক উত্তম (أطيب)'।

ভাষাবিদদের সেই বর্ণনা যেখানে তারা 'আওবাহ' এবং 'তূবাহ' শব্দদ্বয় ব্যবহার করেন, তা মূলত পূর্ববর্তী শব্দের অনুকরণ বা অনুপ্রাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমনটি অনেকে 'আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী ও আনন্দিত রাখুন (حياك الله وبياك)' বাক্যাংশ সম্পর্কে মনে করেন যে, এটি একটি অনুসারী শব্দ (إتباع)। মূলত 'বাইয়্যাকা' (بياك) শব্দটির মূল হলো 'বাউওয়াআকা' (بوّاك), যার অর্থ 'তিনি আপনাকে আপনার পছন্দনীয় একটি স্থানে আবাস দান করেছেন', পরবর্তীতে এখানে হামযাহ্ সহজীকরণ করা হয়েছে।

আর ইটের ক্ষেত্রে তাদের 'তূব' (طوب) পরিভাষার ব্যবহারটি যদি বিশুদ্ধ (صحيح) আরবি শব্দ হয়ে থাকে, তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে এর ব্যুৎপত্তি 'তীব' (طيب) শব্দ থেকে ভিন্ন কোনো মূল থেকে হয়েছে। তবে এটি আবুল হাসান সাঈদ ইবনে মাসউদের মতের পরিপন্থী। কারণ তিনি যখন 'আশা-ইয়াঈশু' (عاش يعيش) এবং 'তাবা-ইয়াতিবু' (طاب يطيب)-এর মতো 'ইয়া' (ياء) মূলবিশিষ্ট বর্ণ থেকে 'ফু'লুন' (فُعْلاً) ওজনে কোনো শব্দ গঠন করেন, তখন তিনি 'ইয়া'কে 'ওয়াও' দ্বারা পরিবর্তন করে ফেলেন এবং 'আত-তূব' ও 'আল-ঊশ' বলেন। সুতরাং ইটের অর্থবোধক 'তূব' শব্দটি যদি 'তীব' থেকে উদ্ভূত হয়, তবে তার উদ্দেশ্য—আল্লাহই ভালো জানেন—হয়তো এই যে, যখন এটি দ্বারা কোনো স্থান নির্মাণ করা হয়, তখন সেখানে অবস্থান করা আরামদায়ক বা উত্তম (طابت) হয়।

সম্ভবত আমরা যদি এমন কাউকে প্রশ্ন করি যে সর্বদা 'তূবা' (طوبى) শব্দটি দেখে, কেন এখান থেকে আলিফ এবং লাম বিলুপ্ত করা হয়েছে, তবে সে কোনো উত্তর দিতে পারবে না। সিবওয়াইহ্ দাবি করেছেন যে, 'আফয়ালু মিনকা' থেকে গঠিত 'ফু'লা' (فعلى) ওজনটি আলিফ-লাম অথবা ইযাফাত (إضافة) ব্যতীত ব্যবহৃত হয় না। যেমন আপনি বলেন 'এটি তোমার চেয়ে ছোট' (هذا اصغر منك), কিন্তু যখন একে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দে রূপান্তর করতে চান, তখন বলবেন 'আস-সুগরা' (الصغرى)। তার মতে, ইযাফাত (إضافة) বা আলিফ-লাম ব্যতীত শুধু 'সুগরা' বলা ব্যাকরণগতভাবে অশোভন। বরং বলতে হবে 'এটি তোমার কনিষ্ঠা' (هذه صغراك) অথবা 'তোমার আঙ্গুলের ছোটটি' (صغرى بنانك)। সুহাইম বলেন:

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫০)
ذهبن بمسواكي وغادرن مذهبا … من الصوغ في صغرى بنان شماليا

وقرا بعض القراء وقولوا للناس حسنى فعلى بغير تنوين وكذلك. قرا في الكهف إما إن تعذب وإما إن تتخذ فيهم حسنى بغير تنوين وزعم سعيد بن مسعدة إن ذلك خطأ لا يجوز وهو رأي أبي إسحاق الزجاج لان الحسنى عندهما وعند غيرهما من أهل البصرة يجب إن تكون بالألف واللام كما جاء في موضع آخر وكذب بالحسنى وكذلك اليسرى والعسرى لأنها أنثى افعل منك وزعم سيبوية إن أخرى معدولة عن الألف واللام ولا يمتنع إن تكون حسنى مثلها وفي الكتاب العزيز ومناة الثالثة الأخرى وفيه أيضاً آية اخرى لنريك من آياتنا الكبرى.

قال ابن أبي ربيعة.

وأخرى أتت من دون نعم ومثلها … نهى ذا النهى لو ترعوي أو تفكر

ولا يمتنع إن تعد ل حسنى عن الألف واللام كما عدلت أخرى وأفعل منك إذا حذفت من بقي على أرادتها نكرة أو عرف بالألف واللام ولا يجوز إن يجمع بين من وبين حرف التعريف.

والذين يشربون ماء الحيوان في النعيم المقيم هل يعلمون ما هذه الواو التي بعد الياء وهل هي منقلبة كما قال الخليل أم هي على الأصل كما يرى غيره من أهل العلم.

ومن هو مع الحور العين مخلد هل يدري ما معنى الحور ومن أي شيء اشتقت هذه اللفظة فان الناس يختلفون في الحور فيقول بعضهم هو البياض ومنه اشتقاق الحواري من الخبز والحواريين إذا أريد بهم القصارون والحواريات إذا عني بهن نساء الأمصار وقال قوم الحور في العين إن تكون كلها سوداء وذلك لا يكون في الأنس وإنما يكون في
তারা আমার মিসওয়াক নিয়ে গেছে এবং একটি স্বর্ণালংকারের পথ ছেড়ে গেছে … বাম হাতের ছোট আঙ্গুলের কারুকাজ থেকে।

কিছু কিরাত পাঠক (القراء) ‘وقولوا للناس حسنى’ (মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলো) পাঠ করেছেন ‘ফু’লা’ (فعلى) ওজনে তানউইন (تنوين) ব্যতীত। একইভাবে সূরা আল-কাহফে পাঠ করা হয়েছে: ‘إما إن تعذب وإما إن تتخذ فيهم حسنى’ তানউইন (تنوين) ব্যতীত। সাঈদ ইবনে মুসয়াদা দাবি করেছেন যে এটি ভুল এবং তা বৈধ নয়। এটি আবু ইসহাক আয-যাজ্জাজেরও মত; কারণ তাদের এবং বসরার অন্যান্য ভাষাবিদদের মতে ‘হুসনা’ শব্দটি আলিফ এবং লাম (ال) যুক্ত হওয়া আবশ্যক, যেমনটি অন্য স্থানে এসেছে: ‘وكذب بالحسنى’। একইভাবে ‘আল-ইউসরা’ এবং ‘আল-উসরা’; কারণ এটি ‘আফআলা মিনকা’ (افعل منك) এর স্ত্রীবাচক রূপ। সিবওয়াইহ দাবি করেছেন যে ‘উখরা’ (أخرى) শব্দটি আলিফ এবং লাম থেকে বিচ্যুত (معدولة) হয়েছে এবং ‘হুসনা’ (حسنى) শব্দটিও তদ্রূপ হওয়া অসম্ভব নয়। মহাগ্রন্থে এসেছে: ‘ومناة الثالثة الأخرى’ এবং এতে আরও আয়াত রয়েছে: ‘آية اخرى’ যা আমাদের মহান নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বর্ণিত ‘لنريك من آياتنا الكبرى’।

ইবনে আবি রাবিয়া বলেছেন:

এবং অন্যজন (উখরা) এসেছে ‘নাআম’ ব্যতিরেকে এবং তার সদৃশ … যা বুদ্ধিমানকে বিরত রাখে যদি সে শিক্ষা গ্রহণ করে বা চিন্তা করে।

‘হুসনা’ (حسنى) শব্দটিকে আলিফ এবং লাম থেকে বিচ্যুত (معدولة) করা অসম্ভব নয়, যেমনটি ‘উখরা’ এবং ‘আফআলা মিনকা’ (أفعل منك) এর ক্ষেত্রে বিচ্যুত করা হয়েছে। যখন ‘মিন’ (من) বিলুপ্ত করা হয়, তখন সেটি তার অর্থানুসারে অনির্দিষ্ট (نكرة) হিসেবে থাকে অথবা আলিফ এবং লাম দ্বারা নির্দিষ্ট (عرف) করা হয়। তবে ‘মিন’ এবং নির্দিষ্টকারী হরফের (حرف التعريف) সমন্বয় ঘটানো বৈধ নয়।

আর যারা চিরস্থায়ী নিআমতের মাঝে হায়াওয়ানের পানি (ماء الحيوان) পান করবেন, তারা কি জানেন ইয়ায়ের (ياء) পরে এই ওয়াও (واو) টি কী? এটি কি খলীল যেমনটি বলেছেন রূপান্তরিত (منقلبة), নাকি এটি মূল (الأصل) প্রকৃতির উপর বহাল, যেমনটি অন্যান্য আলিমগণ মনে করেন?

আর যে ব্যক্তি হুরুল ঈনের (الحور العين) সাথে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে, সে কি জানে ‘হুর’ (الحور) শব্দের অর্থ কী এবং এই শব্দটি কী থেকে উদ্ভূত হয়েছে? কেননা হুর-এর বিষয়ে মানুষের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন এটি হলো শুভ্রতা (البياض)। রুটির শুভ্রতা বুঝাতে ‘হাওয়ারি’ (الحواري) এবং ধোপাদের বুঝাতে ‘হাওয়ারিয়্যুন’ (الحواريين) এবং শহরবাসিনী নারীদের বুঝাতে ‘হাওয়ারিয়্যাত’ (الحواريات) শব্দগুলো এখান থেকেই উদ্ভূত। অন্য একদল লোক বলেন, চোখের ‘হুর’ (الحور) হলো চোখের মণি পুরোপুরি কালো হওয়া, আর এটি মানুষের ক্ষেত্রে হয় না, বরং এটি কেবল হয়...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫১)
الوحوش وقال آخرون الحور شدة سواد سواد العين في شدة بياض بياضها وقال بعض الحور سعة العين وعظم المقلة وهل يجوز أيها المتمتع بالحور العين إن يقال حير كما يقال حور فانهم ينشدون هذا البيت بالياء.

إلى السلف الماضي وآخر واقف … إلى ربرب حير حسان جاذره

فإذا صحت الرواية بالياء في هذا البيت قدح ذلك في قول من يقول: انهم قالوا الخير اتباعاً للعين كما قال الراجز.

هل تعرف الدار بأعلى ذي القور … قد درست غير رماد مكفور

مكتئب اللون مريح ممطور … أزمان عيناء سرور المسرور

حوراء عيناء من العين الحير وكيف يستجيز من فرشه من الإستبرق إن يمضي عليه ابد وهو لا يدري كيف يجمعه جمع التكسير ولا كيف يصغره والنحويون يقولون في جمعه أبارق وفي تصغيره أيبرق وكان أبو إسحاق الزجاج يزعم انه في الأصل مسمى بالفعل الماضي وذلك الفعل استفعل من البرق أو البرق وهذه دعوى من أبي
বন্যপ্রাণী; এবং অন্যরা বলেছেন 'হূর' (حور) হলো চোখের শুভ্রতার তীব্রতার মধ্যে কালোর চরম গাঢ়ত্ব। কেউ কেউ বলেছেন 'হূর' (حور) হলো চোখের প্রশস্ততা এবং অক্ষিগোলকের বিশালতা। হে হূরুল-ঈন দ্বারা নেয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তি! 'হূর' (حূর) যেভাবে বলা হয়, সেভাবে কি 'হীয়র' (حير) বলা বৈধ? কেননা তারা ইয়াই (ي) যোগে এই পঙক্তিটি পাঠ করেন:

অতীতের পূর্বসূরীদের দিকে এবং অন্যজন দাঁড়িয়ে আছেন … একদল বুনো গরুর দিকে যাদের হীয়র (حير) সুন্দর এবং যাদের শাবকগুলো চমৎকার।

যদি এই পঙক্তিতে ইয়াই (ي) যোগে বর্ণনাটি বিশুদ্ধ (صحت الرواية) হয়, তবে তা তাদের উক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে যারা বলেন যে: তারা 'আইন' (عين) শব্দের অনুবর্তিতায় 'হীয়র' (حير) বলেছিল, যেমনটি রাজেয বলেছিলেন—

তুমি কি টিলার চূড়ায় সেই আবাসস্থলকে চেনো? … যা বিস্মৃত ছাই ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

বিবর্ণ রঙের, আরামদায়ক ও সিক্ত … আয়তলোচনা সুন্দরীর সান্নিধ্যে আনন্দিত ব্যক্তির আনন্দের সময়গুলো।

আয়তলোচনা সুন্দরী মূলত 'হীয়র' (حير) চোখবিশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত। যার বিছানা ইস্তাবরাক (রেশম) দ্বারা নির্মিত, সে কীভাবে এটি সমীচীন মনে করে যে তার ওপর দিয়ে অনন্তকাল অতিবাহিত হবে অথচ সে জানে না কীভাবে এর ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير) করতে হয় এবং কীভাবে এর ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপ (تصغير) গঠন করতে হয়? ব্যাকরণবিদগণ এর বহুবচনে 'আবারিক' এবং ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপে 'উয়াইবারিক' বলেন। আবু ইসহাক আয-যাজ্জাজ দাবি করতেন যে, এটি মূলত অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) থেকে নাম রাখা হয়েছে, আর সেই ক্রিয়াটি হলো 'বারক' বা 'বারাক' থেকে 'ইস্তাফআলা' (استفعل) ছাঁচ। এটি আবু ইসহাকের একটি দাবি মাত্র।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫২)
إسحاق وإنما هو اسم أعجمي عرب وهو العبقري الذي عليه اتكاء المؤمنين إلى أي شيء نسب فأنا كنا نقول في الدار الأولى إن العرب كانت تقول عبقر بلاد تسكنها الجن وانهم إذا رأوا شيئاً جيداً قالوا عبقري كأنه من عمل الجن اذ كانت الأنس ى تقدر على مثله ثم كثر ذلك حتى قالوا سيد عبقري وظلم عبقري قال ذو الرمة:

حتى كأن جزون القف ألبسها … من وشي عبقر تجليل وتنجيد

وقال زهير:

بخيل عليها جنة عبقرية … جديرون يوماً إن ينالوا أو يستعلو

وان كان أهل الجنة عارفين بهذه الأشياء قد ألهمهم الله العلم بما يحتاجون إليه فلن يستغني عن معرفته الولدان المخلدون، فان ذلك لم يقع إليهم وأنا لنرضى بالقليل مما عندهم جزاء على تعليم الولدان فيبتسم إليهم رضوان ويقول لهبم إن أصحاب الجنة اليوم في شغل فاكهون هم وأزواجهم في ظللال على الأرائك متكئون. فانصرفوا رحمكم الله فقد أكثرتم الكلام فيما لا منفعة فيه وإنما كانت هذه الأشياء أباطيل زخرفت في الدار الفانية فذهبت مع الباطل فإذا رأوا جده في ذلك قالوا رحمك الله نحن نسألك إن تعرف بعض علمائنا الذين حصلوا في الجنة بأنا واقفون على الباب نريد إن نخاطبه في أمر فيقول رضوان من تؤثرون إن أعلم بمكانكم من أهل العلم الذين غفر الله لهم فيشتورون طويلاً ثم يقولون عرف بموقفنا هذا الخليل في أحمد القرهودي فيرسل إليه رضوان بعض أصحابه فيقول له على باب الجنة قوم قد أكثروا الكلام وانهم يريدون إن يخاطبوك فيشرف عليهم الخليل فيقول أنا الذي سألتم عنه فما الذي تريدون فيعرضون عليه مثل ما عرضوا على رضوان فيقول الخليل إن الله جلت قدرته جعل من يسكن الجنة ممن يتكلم بكلام العرب ناطقا بأفصح اللغات كما نطق بها يعرب بن قحطان أو معد بن عدنان وأبناؤه لصبه لا يدركهم الزلل ولا الريغ وإنما افتقر الناس في الدار الغرارة إلى علم اللغة والنحو لأن العربية
ইসহাক; প্রকৃতপক্ষে এটি একটি অনারব নাম (اسم أعجمي) যা আরবিকৃত (عرب) করা হয়েছে। আর এটিই সেই ‘আবকারি’ (বিস্ময়কর), যার ওপর মুমিনদের নির্ভরতা। একে কোন বিষয়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে? আমরা ইহকালে বলতাম যে, আরবরা বলত ‘আবকার’ হলো জিনদের বসবাসের একটি এলাকা। তারা যখন কোনো চমৎকার জিনিস দেখত, তখন তাকে ‘আবকারি’ বলত, যেন তা জিনদের কারুকাজ; কারণ মানুষের পক্ষে তখন এমন কিছু করা সম্ভব ছিল না। পরবর্তীতে এর ব্যবহার ব্যাপকতা লাভ করে, এমনকি তারা ‘শ্রেষ্ঠ নেতা’ (সায়্যিদুন আবকারি) এবং ‘তীব্র জুলুম’ (জুলমুন আবকারি) বলতে শুরু করে। যুর্ রুম্মাহ বলেছেন:

এমনকি মনে হচ্ছিল যেন ক্বফ পাহাড়ের পার্শ্বদেশগুলোকে আবকারের নকশা করা কারুকার্যমণ্ডিত চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে... যা সুসজ্জিত ও অলঙ্কৃত।

وقال زهير:

এমন অশ্বারোহীদের নিয়ে যাদের ওপর রয়েছে আবকার অঞ্চলের কারুকার্যময় বর্ম; তারা একদিন বিজয় লাভ করতে বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম।

আর জান্নাতবাসীগণ যদি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হন—আল্লাহ তাআলা তাদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান দান করেছেন—তবুও চিরঞ্জীব বালকদের এ সম্পর্কে জানার আবশ্যকতা শেষ হবে না। কারণ, এই জ্ঞান তাদের নিকট পৌঁছায়নি। আমরা তাদের নিকট থাকা সামান্য জ্ঞানেই সন্তুষ্ট থাকতাম, যা সেই বালকদের পাঠদানের প্রতিদান হিসেবে পাওয়া যেত। তখন রিদওয়ান তাদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসবেন এবং বলবেন: আজ জান্নাতবাসীরা আমোদ-প্রমোদে মগ্ন। তারা এবং তাদের স্ত্রীরা ছায়াতলে সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে আসীন। সুতরাং আপনারা ফিরে যান, আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন। আপনারা এমন বিষয়ে অনেক কথা বলেছেন যাতে কোনো উপকার নেই। আর এগুলো ছিল নশ্বর জগতের অলঙ্কৃত ভিত্তিহীন (أباطيل) বিষয় যা মিথ্যার সাথে বিলীন হয়ে গেছে। যখন তারা এ বিষয়ে তাঁর একাগ্রতা দেখবে, তখন বলবে: আল্লাহ আপনাকে রহম করুন, আমরা আপনার কাছে প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাদের সেই আলেমদের (علماء) কাউকে চিনিয়ে দেন যারা জান্নাতে স্থান পেয়েছেন; আমরা দরজায় দাঁড়িয়ে আছি এবং কোনো বিষয়ে তাঁর সাথে কথা বলতে চাই। তখন রিদওয়ান বলবেন: বিজ্ঞ আলেমদের (أهل العلم) মধ্যে কার অবস্থান সম্পর্কে আপনারা জানতে চান যাদের আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন? তারা দীর্ঘ সময় পরামর্শ করে বলবে: আমাদের এই অবস্থানের কথা খলিল ইবনে আহমদ আল-ফারাহিদিকে জানান। তখন রিদওয়ান তাঁর এক সঙ্গীকে তাঁর কাছে পাঠাবেন এবং বলবেন: জান্নাতের দরজায় একদল লোক এসেছে যারা অনেক কথা বলছে এবং তারা আপনার সাথে আলাপ করতে চায়। তখন খলিল তাদের দেখা দেবেন এবং বলবেন: আমিই সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে আপনারা জিজ্ঞাসা করেছেন, আপনারা কী চান? তখন তারা রিদওয়ানের কাছে যা পেশ করেছিল তার অনুরূপ বিষয় তাঁর কাছে পেশ করবে। খলিল বলবেন: আল্লাহ তাআলা—তাঁর ক্ষমতা মহিমান্বিত—জান্নাতবাসীদের মধ্যে যারা আরব্য রীতিতে কথা বলে, তাদের সবচেয়ে প্রাঞ্জল ভাষায় কথা বলার শক্তি দান করেছেন, যেমনটি ইয়ারুব ইবনে কাহতান বা মাদ ইবনে আদনান এবং তাঁদের বংশধরেরা বলতেন। তাঁদের কথায় কোনো পদস্খলন বা বিচ্যুতি ঘটে না। মূলত মানুষ এই প্রতারণার জগতে (দুনিয়াতে) কেবল ভাষা ও ব্যাকরণ শাস্ত্রের মুখাপেক্ষী ছিল, কারণ আরব্য ভাষা...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫৩)
الأولى أصابها تغيير. فأما الآن فقد رفع عن أهل الجنة كل الخطأ والوهم فاذهبوا راشدين إن شاء الله، فيذهبون وهم مخفقون مما طلبوه، تم أعود إلى ما كنت متكلماً فيه قبل ذكر الملائكة من أهدى البريرة إلى نعمان وأراق النطفة على الفرات وشرح القضية لأمير المؤمنين فقد أساء فيما فعل ودلني كلامه على أنه بحر يستجيش مني ثمدا وجبل يستضيف إلى صخوره حصى وغاضية، من النيران يجتلب إلى جمارها سقطا وحسب تهامة ما فيها من السمر وسؤال مولاي الشيخ كما قال الأول.

فهذي سيوف يا صدي بن مالك … كثير ولكن أين بالسيف ضارب

لا هيثم الليلة للمطي قضية ولا أبا حسن لها وشكاة فأين الحرث ابن كلدة وخيل لو كان لها فوارس والله المستعان عان ما تصفون. والواجب إن أقول لنفسي وراءك أوسع لك الصيف ضيعت اللبن ولا يكذب الرائد أهله لو كان معي ملء السقاء لسلكت في الأرض المقاء وسوف اذكر ظرفا مما أنا
প্রথমটিতে পরিবর্তন ঘটেছিল। তবে এখন জান্নাতবাসীদের থেকে সকল ভুল (خطأ) এবং বিভ্রম (وهم) দূর করে দেওয়া হয়েছে, সুতরাং আপনারা আল্লাহ চাহেন তো সঠিক পথপ্রাপ্ত (راشدين) হয়ে প্রস্থান করুন। অতঃপর তারা যা অন্বেষণ করেছিল তাতে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরে যায়। এরপর আমি ফেরেশতাদের আলোচনার পূর্বে যা নিয়ে কথা বলছিলাম সেদিকে ফিরে আসছি; অর্থাৎ কে নুমানকে দাসী উপহার দিয়েছিল, কে ফুরাত নদীতে বারিবিন্দু বিসর্জন দিয়েছিল এবং কে আমীরুল মুমিনীনের সামনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিল। সে যা করেছে তাতে মন্দ করেছে এবং তার বক্তব্য আমাকে এই নির্দেশ করে যে, সে যেন এক সমুদ্র যে আমার থেকে সামান্য জলরাশি যাচনা করছে এবং এমন এক পাহাড় যে তার পাথরের স্তূপে নুড়ি ও কঙ্কর যোগ করছে। সে যেন আগুনের এক শিখা যা তার অঙ্গারের জন্য স্ফুলিঙ্গ সংগ্রহ করে। তিহামা অঞ্চলের জন্য তথাকার বাবলা গাছই যথেষ্ট। আমার মওলা শাইখের প্রশ্নটি ঠিক তেমনই যেমনটি পূর্ববর্তীগণ বলেছিলেন।

হে সাদি বিন মালিক, এই তো সব তলোয়ার … অনেক, কিন্তু তলোয়ার চালনাকারী কোথায়?

আজ রাতে সওয়ারি উটগুলোর কোনো বিষয়ের জন্য না আছে কোনো হাইসাম, আর না আছে কোনো আবুল হাসান যে তাদের অভিযোগ শুনবে। হারিস ইবনুল কালদাহ কোথায়? আর এমন ঘোড়াগুলোই বা কোথায় যাদের বীর আরোহী থাকত? আপনারা যা বর্ণনা করছেন সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই সাহায্যস্থল। এখন আমার নিজের জন্য এটাই বলা সমীচীন যে— "পেছনে ফিরে চলো, তোমার জন্য তা-ই প্রশস্ত"; "তুমি গ্রীষ্মকালে দুধ নষ্ট করেছ"; এবং "পথপ্রদর্শক তার নিজ লোকদের সাথে মিথ্যা বলে না"। আমার নিকট যদি মশক পূর্ণ পানি থাকত তবে আমি বিস্তৃত ভূমিতে বিচরণ করতাম। আমি যা নিয়ে ব্যাপৃত রয়েছি তার কিছু অংশ আমি বর্ণনা করব।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫৪)
عليه غريت بي العامة من شب إلى دب يزعمون إني من أهل العلم وأنا منه خلو إلا ما شاء الله ومنزلتي إلى المجال أدنى منها إلى الرهط العلماء ولن أكون مثل الربداء أزعم في الإبل أنني طائر وفي الطير أنني بعير سائر والتمويه خلق ذميم ولكني ضب لا أحمل ولا أطير ولا ثمني في البيع خطير أقتنع بالحبلة والسحاء وأتعوذ من بني آدم في مساء وضحاء وإذا خلوت في بيتي تعللت وان فارقت مأواي ضللت وذكر ابن حبيب أنه يقال في المثل أحير، من ضب وذلك أنهه إذا خرج من ة يته فابعد لا يهتدي إن يرجع إليه وقد علم الله تعالت كلمته أنني لا أبتهج بأن أكون في الباطن استحق تثريباً وادعى في الظاهر أريباً ومثلي مثل البيعة الدامرة يجمع طوائف من المسيحية أنها تبرئ من الحمى أو من كذا وإنما هي جدر قائمة لا تفرق بين ملطس الهادم والمسيعة بيد الهاجري وسيان عندها صن الوبر وما تعتصر من ذكي الورد ولست بدعا ممن كذب عليه وادعى له ما ليس عنده وقد

এর কারণে সাধারণ মানুষ—বালক থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত—আমার ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে পড়েছে; তারা ধারণা করে যে আমি ইলমের অধিকারী (أهل العلم), অথচ আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত আমি তা থেকে সম্পূর্ণ রিক্ত। আলেমগণের (العلماء) জামাতের তুলনায় আমার অবস্থান সাধারণ মানুষের স্তরের অধিক নিকটবর্তী। আমি সেই উটপাখির মতো হব না যে উটদের মাঝে নিজেকে পাখি বলে দাবি করে, আবার পাখিদের মাঝে দাবি করে যে সে একজন পদব্রজে চলা উট। প্রতারণা একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় স্বভাব। বস্তুত আমি একটি ধোঁপ (ضب), যে বোঝা বহন করতে পারে না এবং উড়তেও পারে না; এমনকি কেনা-বেচার বাজারে যার কোনো গুরুত্ব বা উচ্চমূল্য নেই। আমি মরুভূমির সামান্য লতাগুল্মে সন্তুষ্ট থাকি এবং সকাল-সন্ধ্যায় মানবজাতির অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আমি যখন নিভৃতে নিজ গৃহে অবস্থান করি তখন স্বস্তি পাই, আর যখন নিজ আশ্রয়স্থল ত্যাগ করি তখন পথ হারিয়ে ফেলি। ইবন হাবিব উল্লেখ করেছেন যে প্রবাদে বলা হয়: 'ধোঁপের চেয়েও অধিক বিভ্রান্ত'; কারণ এটি যখন নিজ গর্ত থেকে বের হয়ে দূরে চলে যায়, তখন পুনরায় সেখানে ফিরে আসার পথ পায় না। সুমহান আল্লাহ অবগত আছেন যে, আমি অন্তরে ভর্ৎসনার যোগ্য হয়েও প্রকাশ্যে বুদ্ধিমান হিসেবে পরিচিত হওয়াতে আনন্দিত হই না। আমার দৃষ্টান্ত সেই জরাজীর্ণ গির্জার ন্যায়, যাকে কেন্দ্র করে খ্রিস্টানদের বিভিন্ন দল ধারণা করে যে এটি জ্বর বা অন্য রোগ থেকে মুক্তি দেয়; অথচ তা কেবল দণ্ডায়মান কিছু প্রাচীর মাত্র, যা ধ্বংসকারীর হাতুড়ি এবং রাজমিস্ত্রির কর্ণের মাঝে পার্থক্য করতে পারে না, আর যার নিকট পশুর পশমের দুর্গন্ধ এবং গোলাপের সুগন্ধি নির্যাস উভয়ই সমান। যাদের ব্যাপারে মিথ্যাচার (كذب) করা হয়েছে এবং যাদের নিকট যা নেই তা তাদের ওপর আরোপ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আমিই প্রথম নই।

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫৫)
ناديت بتكذيب القالة نداء خص وعم واعتذرت من التقصير إلى من هزل وجد واعترفت بالجهالة عند من نقص ومن ابر وقد حرم علي الكلام في هذه الأشياء لأني طلقتها طلاقا بائنا لا أملك فيه الرجعة وذلك أني وجدتها فوارك فقابلت فركها بالصلف والقيت المرامي إلى النازع وخليت الخطب لرقاة المنابر وكنت في عدان المهكة أحد إذا زاولت الأدب كأنني عار يعتم أو أقطع الكفين يتختم وينبغي له أدام الله تمكينه إن ذكرني عنده ذاكر إن يقول دهدرين سعد القين إنما ذلك أجهل من صعل الدو خال من الحلية كخلو البو ولو كنت في جن العمر كما قيل كنت قد أنسيت ونسيت لأن حديثي لا يجهل في لزوم عطني الضيق وانقطاعي عن المعاشر ذهاب السيق ولو أنني كما يظن لبلغت ما اخترت وبرزت للأعين فما استترت وهو يروي البيت السائر لزهير:

আমি অপবাদকারীদের রটনা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য বিশেষ ও সাধারণ সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি; আর যারা পরিহাস বা গুরুত্বের সাথে তা গ্রহণ করেছে, তাদের নিকট ত্রুটির জন্য ওজর পেশ করেছি। যারা আমার নিন্দা করেছে কিংবা যারা প্রশংসা করেছে, উভয়ের নিকট আমি নিজের অজ্ঞতা (جهالة) স্বীকার করেছি। এসব বিষয়ে কথা বলা এখন আমার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, কারণ আমি এগুলোকে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ (طلاق بائن) দান করেছি, যাতে আমার আর পুনরায় ফিরে আসার (رجعة) সুযোগ নেই। এর কারণ হলো, আমি এগুলোকে বিদ্বেষপরায়ণ হিসেবে পেয়েছি, তাই আমি তাদের বিমুখতাকে উপেক্ষার সাথে মোকাবিলা করেছি। আমি লক্ষ্যবস্তুসমূহ তীরন্দাজদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি এবং মিম্বরের আরোহীদের জন্য বক্তৃতার ময়দান খালি করে দিয়েছি। সাহিত্যের চর্চাকালে আমার অবস্থা এমন ছিল যে, মনে হতো যেন কোনো উলঙ্গ ব্যক্তি পাগড়ি পরছে অথবা কোনো হস্তহীন ব্যক্তি আংটি পরিধান করছে। আর আল্লাহ যার সক্ষমতাকে স্থায়ী করুন, তার সমীপে যদি কেউ আমার কথা উল্লেখ করে, তবে তার বলা উচিত: "সা'দ আল-কাইনের বৃথা শ্রম"; কেননা সে মরুভূমির উটপাখির চেয়েও বেশি অজ্ঞ এবং অলংকারহীন কৃত্রিম বাছুরের ন্যায় রিক্ত। আমি যদি বয়সের সেই সজীব সময়ে থাকতাম যেমনটি বলা হয়, তবে হয়তো আমি ভুলে যেতাম অথবা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হতো; কারণ আমার সংকীর্ণ অবস্থানে জীবনযাপন এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও নিঃস্বতার হাদিস কারো অজানা নয়। আর আমি যদি তেমন হতাম যেমনটি ধারণা করা হয়, তবে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতাম এবং জনসমক্ষে প্রকাশ পেতাম, আত্মগোপন করতাম না। আর তিনি জুহাইর-এর সেই প্রচলিত কবিতাটি বর্ণনা করেন:

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫৬)
والستر دون الفاحشات ولا … يلقاك دون الخير من ستر

وانما ينال الرتب في الآدب من يباشرها بنفسه ويفني الزمن بدرسه ويستعين الزهلق والشعاع المتألق لا هو العاجز ولا المحاجز

ولا جثامة في الرحل مثلي … ولا برم إذا أمسى نؤوم

ومثله لا يسال مثلي بل للامتحان والحبرة فان سكت جاز إن يسبق إلى الظن الحسن لان السكوت ستر يسبل على الجهول ومل أحب إن تفتري على الظنون كما افترت الألس في ذكرها أني في ذكرها أني من أهل العلم وأحلف بجروة الكذب وهي إذا كانت لي أعز سكان الراكدة علي لأن آزم صابة أو مقرة آثر لذي من إن أتكلم في هذه الصناعة كلمة وقد تكلفت الاجابة فان أخطات فمنبت الخطأ ومعدنه غاو تعرض لما لا يحسبه وان اصبت فلا أحمد على الإصابة رب دواء ينفع وصفه من ليس بآس وكلمة حكم تسمع من حليف وسواس ولا حول ولا قوة إلا بالله

 

تمت الرسالة بحمد الله وعونه. ولطفه وصونه. والحمد لله على أفضاله. وصلى الله على سيدنا محمد وصحبه وآله أجمعين.

--------------------------------------------

(*) قال مُعِدُّ الكتاب للشاملة: إلى هنا انتهى الجزء الذي نشره الميمني وهو مقدمة الرسالة فقط، ينظر التعريف بالكتاب في أول هذه النسخة الإلكترونية
অশ্লীলতা ব্যতিরেকে আবৃত থাকা এবং... কল্যাণের আগে কোনো পর্দা আপনার সাথে সাক্ষাৎ করে না।

বস্তুত শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তিই উচ্চমর্যাদা লাভ করে, যে নিজে তা চর্চা করে, তার পাঠে জীবন অতিবাহিত করে এবং প্রখর মেধা ও উজ্জ্বল আলোকচ্ছটার সাহায্য নেয়; সে অক্ষমও নয়, আবার প্রতিবন্ধকও নয়।

আর আমার মতো বাহনের উপর কেউ দীর্ঘস্থায়ী বা অলস নয়... আর এমন কেউ নয় যে সন্ধ্যা হলেই নিদ্রাতুর বা বিরক্ত হয়।

তার মতো কেউ আমার মতো কাউকে প্রশ্ন করে না, বরং তা পরীক্ষা বা অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য হয়। যদি আমি নীরব থাকি, তবে তা সুধারণার উদ্রেক করতে পারে, কারণ নীরবতা অজ্ঞ ব্যক্তির উপর একটি আবরণস্বরূপ। আমি চাই না যে, মানুষের মনে আমার সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি হোক, যেমনটি মানুষের জিহ্বা আমার সম্পর্কে রটিয়েছে যে আমি জ্ঞানতাত্ত্বিক পণ্ডিতদের (أهل العلم) অন্তর্ভুক্ত। আমি মিথ্যার কঠোরতা সম্পর্কে শপথ করে বলছি—যা আমার কাছে অত্যন্ত কষ্টদায়ক—আমার জন্য তিক্ত লতা বা বিষ আস্বাদন করা এই শাস্ত্রের (الصناعة) বিষয়ে কোনো একটি কথা বলার চেয়েও অধিক কাম্য। তথাপি আমি উত্তর প্রদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি; যদি আমি ভুল করি তবে সেই ভুলের উৎস ও খনি হলো এমন এক পথভ্রষ্ট ব্যক্তি যে এমন বিষয়ে নিজেকে জড়িয়েছে যা তার আয়ত্তে নেই। আর যদি আমি সঠিক হই, তবে সঠিক হওয়ার জন্য আমি প্রশংসার দাবিদার নই। কত ওষুধ আছে যার বর্ণনা এমন ব্যক্তি দেয় যে চিকিৎসক নয়, আর কত প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা এমন ব্যক্তির কাছ থেকে শোনা যায় যে বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।

 

আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর সাহায্যে এই পত্রটি সমাপ্ত হলো। তাঁর অনুগ্রহ ও সুরক্ষায়। তাঁর সকল দানের জন্য আল্লাহর প্রশংসা। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

(*) বইটির শামিলা সংস্করণের সংকলক বলেছেন: আল-মাইমানি কর্তৃক প্রকাশিত অংশটি এখানেই সমাপ্ত, যা কেবল এই পত্রের ভূমিকা মাত্র। এই ইলেকট্রনিক কপির শুরুতে বইটির পরিচিতি দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
إن أنشدت شاهدا من الشعر فيجوز إن يكون له أروى، وإن ذكرت قولا من اقوال المتقدمين فلعله به أعرف واعتمادي على تفضله في الصفح عن الزلل واغتفاره.

 

‌‌القول في إياك

أما موضع الكاف فهو عارف بما قال للناس فيه والذي اعتقده مذهب الخليل وان الكاف في موضع جر لآنا وجدنا هذه اللفظة لا تنفرد بنفسها في حال وانما هي مضافة إلى الظاهر أو المضمور وليست كافها مناسبة لكاف ذاك والنجاك ورويدك وأرأيتك لان هذه حروف تنفرد فيقال ذا ورويد والنجا وأرأيت ويقال إن في مصحف ابن مسعود كافا زائدة في الخط في كل أرأيت في القرآن مثل قوله عز وجل أرأيت الذي يكذب بالدين وقوله أرأيت إن كذب وتولى وهو يروي قول الهذلي

رويد علياء جد ما ثدي أمهم … الينا ولكن ودهم متماين

وقول الراجز:

إذا أخذت النهب فالجا النجا … أخشى عليك طالبا سفنجا

فانفراد هذه الأشياء دل على إن مجيىء الكاف بعدها إذا كانت غير واقعة موقع المعربات إنما هو للمخاطبة وأما وزن إيا فان المتقدمين الذين وضعوا أحكام التصريف وزنوا الأفعال والأسماء بالفاء والعين واللام فجعلوهن أصولا في الأوزان ولم يحتاجوا في الثلاثي إلى غيرهن فلما جازوا الثلثة رأوا إن يكرروا أإلام وكانوا في تكريرها مضطرين وذلك اصطلاح وقع بين أهل القياس لأنهم إذا قالوا وزن جمل فعل ووزن جذع فعل لم يحتاجوا إلى غير الحروف الثلاثة فإذا وزنوا جعفرا ونحوه ضاقت الثلاثة إن تسعه فلزمهم إن يجيئوا بحرف رابع فكرهوا إن يجعلوه فاء من الفعل أو عينا فيجيئوا ببناء مستنكر فأضافوا إلى اللام مثلها لأنه قد ورد مثل ذلك في الملحقة من الأسماء الأفعال كقولهم قردد وشملل في مشيته.

والذي عليه المتقدمون إلا يزنوا الحروف التي جاءت لمعنى ولا الأسماء المضمرة لأنها لا تشتق فيحكم عليها بالحذف والسلامة من الزوائد أو كونها من المزيدات ولو قال قائل ما وزن إن وهو الأمر من آن يؤون أي رفق في السير لقيل وزنه فل ولأصله أفعل لأنه من باب قتل يقتل ولكن الهمزة لما تحركت في يؤون بحركة الواو استغنوا عن ذلك دخول ألف الوصل إذ كانت تدخل لسكون ما بعدها وحذفت الواو لأنها ساكنة لقيتها لام الفعل بعد إن سكنها حكم الأمر ولو نطق بذلك على الأصل لقيل أوون بواوين الأولى منهما كانت همزة فجعلت واواً كراهة إن تلتقي همزتان كما فعل بالهمزة الثائية في قولك اوتمن لأن الواو والياء إذا كانتا بدلا من الهمزة خرجتا من حكم القلب ألا ترى انك إذا أمرت من أوى يأوي قلت إيو فلم تقلب وكذلك قالوا روية فجعلوا الهمزة واوا ومن قال رية في رؤية الزمه القياس إن يقول أو فيدغم وهذا النوع لم ينطق بمثله ولم يستعمل شيء منه على التمام.

ولو قال قائل ما وزن أنا من قولك أنا خير منك لم يجب إن يمثل له ذلك بالفعل إذ كانت هذه كلمة موضوعة بغير اشتقاق ولا يجوز إن يوزن إلا إن يكره على ذلك مجبر وكذلك أنت وهو وهي وما جرى مجراهن لما لم ينطق منهن بفعل وجب ألا يجرين مجرى زيد وعمر قال وضرب.

والناس في الاشتقاق فرقتان فطائفة تقول إن الأسماء والأفعال كلها مشتقة وطائفة تذهب إلى إن بعفض الأسماء مشتق وبعضها ليس بمشتق فأما الأفعال فيلزم أصحاب القياس اشتقاقها كلها من اسماء الفاعلين ومن المصادر واما الأسماء فبعضها مشقق من بعض ومن زعم ان الأسماء قبل الأفعال لزمه إلا يجعل اسما مشتقاً من فعل على إن أهل هذا الشأن يسامحون بالعبارة في ذلك.
আমি যদি কবিতার কোনো সাক্ষী (شاهد) আবৃত্তি করি, তবে সম্ভব হতে পারে যে তার অন্য কোনো উত্তম বর্ণনা (أروى) রয়েছে। আর যদি আমি পূর্বসূরিদের (المتقدمون) কোনো উক্তি উল্লেখ করি, তবে সম্ভবত তিনি সে সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত। আমি আমার স্খলন মার্জনা ও ক্ষমা করার ক্ষেত্রে তাঁর অনুগ্রহের ওপরই নির্ভরশীল।

 

‌‌'ইইয়াকা' (إياك) প্রসঙ্গে আলোচনা

'কাফ' (الكاف) এর অবস্থান সম্পর্কে তিনি মানুষের কাছে যা বলেছেন তা তিনি সম্যক অবগত। আমি খলিলের মাযহাব বা মতাদর্শের ওপর বিশ্বাস রাখি যে, 'কাফ' এখানে জর (جر) এর অবস্থানে রয়েছে। কারণ আমরা এই শব্দটি কোনো অবস্থাতেই পৃথকভাবে পাইনি, বরং এটি সর্বদা প্রকাশ্য বিশেষ্য (الظاهر) অথবা প্রচ্ছন্ন সর্বনামের (المضمر) সাথে সম্বন্ধযুক্ত (مضافة) হয়ে আসে। এর 'কাফ' বর্ণটি 'ذاك' (যাকা), 'النجاك' (আন-নাজাকা), 'رويدك' (রুওয়াইদাকা) এবং 'أرأيتك' (আ-রাআইতাকা) শব্দগুলোর 'কাফ'-এর মতো নয়। কারণ ঐ শব্দগুলো পৃথকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে, যেমন বলা হয়: 'ذا' (যা), 'رويد' (রুওয়াইদ), 'النجا' (আন-নাজা) এবং 'أرأيت' (আ-রাআইতা)। বর্ণিত আছে যে, ইবনে মাসউদের মুসহাফে কুরআনের প্রতিটি 'أرأيت' (আ-রাআইতা) শব্দের বানানে একটি অতিরিক্ত 'কাফ' ছিল, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: 'أرأيت الذي يكذب بالدين' এবং 'أرأيت إن كذب وتولى'। তিনি হুযালীর এই উক্তিটিও বর্ণনা (يروي) করেন:

রুওয়াইদা আলিয়া... (কবিতার চরণ)

এবং জনৈক রাজেয-এর উক্তি:

যখন তুমি গনীমত গ্রহণ করবে, তখন দ্রুত পলায়ন করো... (কবিতার চরণ)

এই শব্দগুলোর পৃথক ব্যবহার প্রমাণ করে যে, এগুলোর পরে 'কাফ' এর আগমন—যখন তা বিভক্তি গ্রহণকারী পদের স্থলাভিষিক্ত হয় না—কেবল সম্বোধনের (مخاطبة) জন্য হয়ে থাকে। আর 'ইইয়া' (إيا) এর ওজনের ক্ষেত্রে কথা হলো, রূপতত্ত্বের (تصريف) বিধান প্রণয়নকারী পূর্বসূরিগণ (المتقدمون) ক্রিয়া ও বিশেষ্যকে 'ফা' (فاء), 'আইন' (عين) এবং 'লাম' (لام) দ্বারা ওজন করেছেন। তারা ওজনের ক্ষেত্রে এগুলোকে মূল (أصول) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের (الثلاثي) ক্ষেত্রে তাদের এগুলো ছাড়া অন্য কিছুর প্রয়োজন হয়নি। যখন তারা তিন অক্ষরের অধিক শব্দে পৌঁছালেন, তখন তারা 'লাম' বর্ণের পুনরাবৃত্তি করা সমীচীন মনে করলেন। এই পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে তারা বাধ্য ছিলেন এবং এটি পরিমাপবিদদের (أهل القياس) মধ্যে একটি পরিভাষায় পরিণত হয়েছে। কারণ তারা যখন বলেন 'جمل' (জামাল) এর ওজন 'فعل' (ফাউল) এবং 'جذع' (জিজউ) এর ওজন 'فعل' (ফাউল), তখন এই তিন অক্ষরের বাইরে তাদের আর কোনো বর্ণের প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যখন তারা 'جعفر' (জা'ফার) ও অনুরূপ শব্দের ওজন করেন, তখন এই তিন অক্ষর তা ধারণ করতে সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে চতুর্থ একটি বর্ণ নিয়ে আসা তাদের জন্য আবশ্যক হয়ে যায়। তারা সেই চতুর্থ বর্ণটিকে ক্রিয়ার 'ফা' বা 'আইন' এর মতো করতে অপছন্দ করলেন পাছে কোনো শ্রুতিকটু শব্দের সৃষ্টি হয়। তাই তারা 'লাম' এর সাথে তার অনুরূপ একটি বর্ণ যুক্ত করলেন। কারণ বিশেষ্য ও ক্রিয়ার সাথে যুক্ত শব্দের (الملحقة) ক্ষেত্রে অনুরূপ উদাহরণ পাওয়া যায়, যেমন তাদের উক্তি: 'قردد' (কুরদুদ) এবং হাঁটার ক্ষেত্রে 'شملل' (শামলাল)।

পূর্বসূরিদের (المتقدمون) নীতি হলো, তারা অর্থ প্রকাশের জন্য আসা অব্যয় (الحروف) বা প্রচ্ছন্ন সর্বনামগুলোর (الأسماء المضمرة) ওজন করেন না। কারণ এগুলোর ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) হয় না যে, তার ওপর বিলুপ্তি (حذف), অতিরিক্ত বর্ণ (الزوائد) থেকে মুক্ত হওয়া বা অতিরিক্ততা (مزيدات) হওয়ার বিধান আরোপ করা যাবে। যদি কেউ প্রশ্ন করে, 'آن يئون' (আন ইয়াউন—অর্থাৎ ধীরগতিতে চলা) ক্রিয়া থেকে গঠিত আমর (امر) বা আদেশবাচক শব্দ 'إن' (ইন) এর ওজন কী? তবে বলা হবে তার ওজন 'فل' (ফুল), আর এর মূল (أصل) ছিল 'أفعل' (আফউল)। কারণ এটি 'قتل يقتل' (কাতলা ইয়াকতুলু) এর বাব থেকে এসেছে। কিন্তু 'يئون' (ইয়াউন) শব্দে 'ওয়াও' (واو) এর হরকতের কারণে 'হামযা' (همزة) যখন হরকতযুক্ত হলো, তখন তারা 'আলিফে অসল' (ألف الوصل) নিয়ে আসা থেকে নিস্পৃহ হলো; কেননা পরবর্তী বর্ণ সাকিন হওয়ার কারণে তা আনা হতো। আর 'ওয়াও' বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে কারণ সেটি সাকিন ছিল এবং আমরের বিধান অনুযায়ী সাকিন হওয়া 'লামুল ফিরল' (لام الفعل) এর সাথে তার মিলন ঘটেছিল। যদি এটি মূল (أصل) অনুযায়ী উচ্চারিত হতো, তবে বলা হতো 'أوون' (উউন)—দুটি 'ওয়াও' দিয়ে, যার প্রথমটি ছিল 'হামযা' এবং দুটি 'হামযা'র একত্র হওয়া অপছন্দনীয় হওয়ায় তাকে 'ওয়াও' করা হয়েছে; যেমনটি 'اوتمن' (উতুমি না) শব্দে দ্বিতীয় 'হামযার' ক্ষেত্রে করা হয়েছে। কারণ 'ওয়াও' এবং 'ইয়া' যখন 'হামযা'র স্থলাভিষিক্ত হয়, তখন তারা পরিবর্তনের (القلب) বিধান থেকে বেরিয়ে যায়। আপনি কি দেখেন না যে, যখন আপনি 'أوى يأوي' (আওয়া ইয়া'উই) থেকে আমর গঠন করেন তখন বলেন 'إيو' (ইওয়ু), সেখানে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। অনুরূপভাবে তারা 'روية' (রাউইয়্যাহ) বলেছে যেখানে 'হামযা'কে 'ওয়াও' করা হয়েছে। আর যারা 'رؤية' (রুইয়্যাহ) শব্দের ক্ষেত্রে 'رية' (রিয়্যাহ) বলে, ব্যাকরণিক নিয়ম (القياس) অনুযায়ী তাকে 'أو' (উউ) বলতে হবে অথবা ইদগাম (إدغام) করতে হবে। তবে এই ধরনের শব্দের উচ্চারণ বা পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার পরিলক্ষিত হয় না।

যদি কেউ প্রশ্ন করে, 'أنا خير منك' (আমি তোমার চেয়ে উত্তম) বাক্যে 'أنا' (আনা) এর ওজন কী? তবে তাকে ক্রিয়ার সাথে তুলনা করে উত্তর দেয়া আবশ্যক নয়। কারণ এটি ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) ছাড়াই গঠিত একটি শব্দ। বাধ্য না হলে এর ওজন করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে 'أنت' (আন্তা), 'هو' (হুয়া), 'هي' (হিয়া) এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর ক্ষেত্রেও একই বিধান; যেহেতু এগুলো থেকে কোনো ক্রিয়া উচ্চারিত হয় না, তাই এগুলো 'যায়েদ', 'আমর' এবং 'যরাবা' (ضرب) এর মতো পরিচালিত হবে না।

ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) সম্পর্কে মানুষ দুই দলে বিভক্ত। একদল বলে যে, সকল বিশেষ্য ও ক্রিয়াই ব্যুৎপন্ন (مشتق)। অন্যদল মনে করে যে, কিছু বিশেষ্য ব্যুৎপন্ন (مشتق) আর কিছু ব্যুৎপন্ন নয়। ক্রিয়ার ক্ষেত্রে পরিমাপবিদদের (أصحاب القياس) নিকট আবশ্যক হলো যে, সকল ক্রিয়াই কর্তা বা ইসম ফায়িল (اسماء الفاعلين) এবং ক্রিয়ামূল (المصادر) থেকে ব্যুৎপন্ন হতে হবে। আর বিশেষ্যের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ্য অন্য বিশেষ্য থেকে ব্যুৎপন্ন হয়। যারা মনে করেন যে বিশেষ্য ক্রিয়ার পূর্বে সৃষ্টি হয়েছে, তাদের নিকট কোনো বিশেষ্যকে ক্রিয়া থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتق) বলা আবশ্যক নয়; যদিও এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ এ বিষয়ে বর্ণনার ক্ষেত্রে উদারতা প্রদর্শন করে থাকেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
واختلف المتأخرون في اشتقاق الحروف فقال بعضهم الحروف لا تشتق وقال آخرون بل لها اشتقاق وانما ينبغي إن يطلق هذا على ما عدده منها ثلاثة أحرف فما زاد، فأما ما عدده حرفان أو هو حرف واحد لا ينفرد فلا يمكن في ذلك إلا إن يحكموا على الحرف بعد أخراجه من الباب فيقولون إذا سمينا الرجل بمن الخافضة ثم صغرناه فلا بد إن زيد فيه حرفا كما فعلنا بدم ويدٍ في التصغير فإذا قلنا في تحقير من بعد التسمية بها مني ومنين وجب إن يقال وزن من فع ووزن كم على هذا فع ووزن رب فعل فإذا خففت فوزنها، فع وأسماء الأضمار جرت عندهم مجرى الحروف المفردة في أنها لا توزن ولو فعلنا بأنا ما فعلنا بمن لجاز إن نقول وزنه فعل إلا إن ذلك خروج من الباب ومن قال مثل هذا في أنا لزمه إن يقول إن أنت وزنه فعت لأن التاء إنما دخلت للمخاطبة وقد يجوز إذا أخرجنا أنا من الباب إن يقال وزنها فعى لأن بعض العرب قد قال إن بسكون النون في معنى أنا وهذا ما لا يصح حتى يخرج الحرف من الباب كما إن قائلا إذا قال لك ما وزن قد في قولك قد قام فلان لم يصح إن شت فها له حتى تخرجها من الباب فيضطرك إلى زيادة فيها تصغير أو جمع فأما اسماه الأضمار فجنسان متصلة ومنفصلة فالتاء في ضربت ليس لمدع إن يدعي أنها فاء من الفعل ولا عين ولا لام ولا أنها أخذت من لفظ آخر فجعلت في هذا الموضع، وكذلك أنا وأنت ما داما في باب الاضمار فلا يجوز إن يحكم عليهما بوزن كما لا يحكم إن تاء المتكلم هي التاء التي تلحق المضارع من ذوات الأربعة لأنها مضمومة ولا إن تاء المخاطب هي التاء التي تلحق المضارع المفتوح الأول لأنها مفتوحة وكان واجبا في حكم القياس إن يكون المنفصل من المضمرات بمنزلة المتصل لأنهم توصلوا إلى انفصاله بأن جعلوا عدته اكثر من عدة المتصل وليس مواففقه قولهم أنا لفظ أني بأني وما كان نحوه بدليل على انه مشتق وكذلك قولهم أنت مشابه قولهم أنت من الأنيت وهو نحوه الطحير والضمير المنصوب جار مجرى المرفوع، فالكاف في ضربتك لا يجوز أن يحكم عليها بوزن ولا بأنها مأخوذة من شيء وإياك جاريية مجراها إلا أن إياك مركبة من شيئين والكاف في ضربتك حرف واحد يسكن في الوقف ويحرك في الوصل فإذا سكن فهو شيء واحد وإذا تحرك فهو شيئان حرف واحد وحركة واحد الشئين الذين ركبت منهما اياك هو الكاف وحكمها في بنيتها لا في موضعها حكم الكاف في ضربتك والشيء الآخر إيا وعددها أربعة احرف لان فيها تشديداً يحكم على الحرف بانه اثنان وقد خالفت المضمرات في الطول وذلك إنها لم تبلغ هذه العدة تقول هو فتجيىء بها على حرفين واللغة الفصحى تحريك الواو ومن العرب من، يسكن الواو كما قال النظار الأسدي:

كأنما هو حبشي ماثل … عار عليه من تلاد هدمان

ولما طال الشيء قرب من الاشتقاق اعني من هذه الحروف التي وضعت للاضمار ولا أمنع إن يشذ شيىء من ذلك فأما اياك فخلافهم قد وضح ومن زعم إن الكاف لا موضع لها كانت على قياس رأيه ابعد من الاشتقاق والوزن لأنها أشد تحققاً بالمضمرات اذ كان المضمر لم تجر عادته إن يضاف ومن زعم إن اياك مضافة فللسائل إن يسسأله عن اشتقاقها كما يسأله عن اشتقاق معزى ووزنها إذا قال معزاك والألفاظ تتقارب وتتفق في السمع وهي مختلفة في المعنى والوزن وليس ذلك في كل الألفاظ وانما هو في بعض دون بعض فإذا جرى الكلام في وزن ايا قال القائل يجوز أن يكون على فعلى وألفها للتأنيث أو فعلى وألفها للالحاق أو إفعل في وزن أصبع ثم يكون القياس مسلطاً بعد ذلك على اختيار أحد هذه الوجوه تسويته بينها في القوة.

فمن قال إن ايا فعلى وألفها للتأنيث فانها تحتمل نوعين من الاشتقاق إحداهما إن تكون من اوى إلى المنزل وتكون من قوولهم أويت له أي رققت فإذا كان من اويت إلى المنزل جاز إن يعنى بها النفس التي تأوي إلى الجسد وجاز إن بها الجثة التي تأوي إلى الجسد وجاز إن يعني بها الجثة التي تأوي نفس الانسان اليها وتكون من الباب الذي يسمى فيه الشيء بتسمية ما صاحبه أو جاوره كما يقال للاناء كاس وللخمر كاس وظعينة للهوج وظعينة للمرأة وكما سميت المرأة بيتاً لأنها في البيت تكون قال الشاعر:

هنيئاُ لأرباب البيوت بيونهم … وللعرب المسكين ما يتلمس
হরফসমূহের বুৎপত্তি (اشتقاق) নিয়ে পরবর্তীকালীন আলিমগণ (متأخرون) মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, হরফের কোনো বুৎপত্তি (اشتقاق) নেই। আবার অন্যেরা বলেছেন, বরং এগুলোর বুৎপত্তি (اشتقاق) রয়েছে। তবে এটি কেবল সেই সব শব্দের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত যার বর্ণসংখ্যা তিন বা ততোধিক। আর যার বর্ণসংখ্যা দুই অথবা যা একক বর্ণ হিসেবে পৃথকভাবে ব্যবহৃত হয় না, সে ক্ষেত্রে হরফটিকে তার মূল অধ্যায় থেকে বের করা ছাড়া কোনো হুকুম প্রদান সম্ভব নয়। তাঁরা বলেন: যদি আমরা কোনো ব্যক্তির নাম প্রদান করি অব্যয় 'মিন' (من) দ্বারা, এরপর সেটিকে ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে (تصغير) রূপান্তর করি, তবে অবশ্যই তাতে একটি বর্ণ বৃদ্ধি করতে হবে, যেমনটি আমরা ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ (تصغير) করার সময় 'দামুন' (রক্ত) এবং 'ইয়াদুন' (হাত) শব্দের ক্ষেত্রে করে থাকি। সুতরাং নামকরণের পর যদি আমরা 'মিন' শব্দটিকে ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে 'মুনাইয়্যিন' (مني) বা 'মুনাইনিন' (منين) বলি, তবে 'মিন'-এর ওজন (وزن) বলতে হবে 'ফি' (فع) এবং 'কাম' (كم)-এর ওজনও হবে 'ফি' (فع), আর 'রুব্বা' (رب)-এর ওজন হবে 'ফালু' (فعل)। আর যদি এটি লাঘব করা হয়, তবে এর ওজন (وزন) হবে 'ফি' (فع)। সর্বনামগুলো (إضمار) তাদের নিকট একক হরফের পর্যায়ভুক্ত হিসেবে গণ্য হওয়ায় এগুলোর ওজন (وزন) করা হয় না। যদি আমরা 'আনা' (أنا) শব্দের সাথে তেমনটি করতাম যা 'মিন'-এর সাথে করেছি, তবে এর ওজন (وزন) 'ফালুন' (فعل) বলা বৈধ হতো। তবে এটি মূল ব্যাকরণিক অধ্যায় থেকে বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি 'আনা' সম্পর্কে এমনটি বলবে, তাকে অবশ্যই বলতে হবে যে 'আনতা' (أنت)-এর ওজন (وزন) হলো 'ফাত্তা' (فعت); কারণ 'তা' বর্ণটি কেবল সম্বোধনের (مخاطبة) জন্য যুক্ত হয়েছে। যখন আমরা 'আনা'-কে তার মূল অধ্যায় থেকে বের করব, তখন এর ওজন (وزন) 'ফায়া' (فعى) বলা জায়েজ হতে পারে; কারণ কোনো কোনো আরব 'আনা' বুঝাতে নুন সাকিনসহ 'আন' (أن) ব্যবহার করেছেন। আর এটি ততক্ষণ শুদ্ধ হবে না ততক্ষণ না হরফটিকে তার অধ্যায় থেকে বের করা হয়। যেমন কেউ যদি আপনাকে জিজ্ঞাসা করে 'কাদ কামা ফুলানুন' বাক্যে 'কাদ' (قد)-এর ওজন (وزন) কী, তবে এর উত্তর দেওয়া ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না ততক্ষণ না আপনি একে তার অধ্যায় থেকে বের করবেন। এটি আপনাকে এতে ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ (تصغير) বা বহুবচন ব্যবহারের মাধ্যমে বর্ণ বৃদ্ধিতে বাধ্য করবে। সর্বনামগুলো (إضمار) দুই প্রকার: যুক্ত (متصلة) এবং বিযুক্ত (منفصلة)। 'দারাবতু' (ضربت) শব্দের 'তা' (تاء) সম্পর্কে কেউ দাবি করতে পারবে না যে এটি ক্রিয়ার 'ফা' (فاء) কালেমা, 'আইন' (عين) কালেমা বা 'লাম' (لام) কালেমা; অথবা এটি অন্য কোনো শব্দ থেকে গ্রহণ করে এই স্থানে বসানো হয়েছে। অনুরূপভাবে 'আনা' (أنا) এবং 'আনতা' (أنت) শব্দ দুটি যতক্ষণ সর্বনামের (إضمار) অধ্যায়ে থাকবে, ততক্ষণ এগুলোর ওপর কোনো ওজন (وزন) প্রয়োগ করা জায়েজ হবে না। যেমনটি হুকুম দেওয়া হয় না যে, উত্তম পুরুষের 'তা' (تاء المتكلم) হলো সেই একই 'তা' যা চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার শুরুতে যুক্ত হয় (কারণ এটি পেশযুক্ত), অথবা সম্বোধনের 'তা' (تاء المخاطব) হলো সেই 'তা' যা জবরযুক্ত বর্তমানকালীন ক্রিয়ার শুরুতে যুক্ত হয় (কারণ এটি জবরযুক্ত)। নিয়মানুগ অনুমানের (قياس) হুকুম অনুযায়ী বিযুক্ত সর্বনামগুলো (منفصلة) যুক্ত সর্বনামের (متصلة) পর্যায়ভুক্ত হওয়া আবশ্যক ছিল; কারণ তারা বিযুক্ত রূপের বর্ণসংখ্যা যুক্ত রূপের চেয়ে বেশি করার মাধ্যমেই এর বিযুক্তিকরণ ঘটিয়েছে। 'আনা' (أنا) শব্দের সাথে 'আনি' (أني) বা 'বি-আনি' শব্দের সাদৃশ্য এটি বুৎপত্তিগত (مشتق) হওয়ার প্রমাণ নয়। একইভাবে 'আনতা' (أنت) শব্দের সাথে 'আনিত' (أنيت) বা 'তাহার' (الطحير) শব্দের সাদৃশ্যও একই পর্যায়ের। আর কর্মকারকীয় সর্বনামগুলোও কর্তৃকারকীয় সর্বনামের অনুরূপ। যেমন 'দারাবতুকা' (ضربتك) শব্দের 'কাফ' (ك) বর্ণটির ওপর কোনো ওজনের (وزন) হুকুম দেওয়া জায়েজ নেই এবং এটি কোনো কিছু থেকে গৃহীত হয়েছে বলেও ধরা যাবে না। 'ইইয়্যাকা' (إياك) শব্দটিও একই পর্যায়ের, তবে পার্থক্য হলো 'ইইয়্যাকা' শব্দটি দুটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত। 'দারাবতুকা'র 'কাফ' একটি একক হরফ যা থামা বা ওয়াকফ করার সময় সাকিন (ساكن) হয় এবং মেলানোর সময় হরকতযুক্ত (متحرك) হয়। যখন এটি সাকিন (ساكن) হয় তখন এটি একটি একক বিষয়, আর যখন হরকতযুক্ত (متحرك) হয় তখন এটি দুটি বিষয়—একটি বর্ণ এবং একটি হরকত। 'ইইয়্যাকা' যে দুটি বিষয় নিয়ে গঠিত তার একটি হলো 'কাফ', যার গঠনগত বিধান (অবস্থানগত নয়) 'দারাবতুকা'র 'কাফ'-এর মতোই। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো 'ইইয়্যা' (إيا), যার বর্ণসংখ্যা হলো চারটি; কারণ এতে একটি তাশদিদ (تشديد) রয়েছে এবং তাশদিদযুক্ত বর্ণকে দুটি বর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি দৈর্ঘ্যের ক্ষেত্রে অন্যান্য সর্বনামের (إضمار) বিপরীত হয়েছে, কারণ অন্যগুলো এই সংখ্যা পর্যন্ত পৌঁছায় না। যেমন আপনি যখন 'হুওয়া' (هو) বলেন, তখন এটি দুটি বর্ণ নিয়ে গঠিত হয়। তবে বিশুদ্ধ ভাষা অনুযায়ী এর 'ওয়াও' বর্ণটি হরকতযুক্ত (متحرك) হয়। আরবদের মধ্যে কেউ কেউ একে সাকিন (ساكن) করে পড়েন, যেমন নাজ্জার আল-আসাদি বলেছেন:

কাইন্নামা হুওয়া হাবাশিয়্যুন মাসিলুন … আরুন আলাইহি মিন তালাদিন হাদমানু

যখন শব্দটি দীর্ঘ হলো, তখন এটি বুৎপত্তির (اشتقاق) নিকটবর্তী হলো; অর্থাৎ এই হরফগুলো যা সর্বনামের (إضمار) জন্য নির্ধারিত। আমি অস্বীকার করি না যে এগুলোর মধ্যে কিছু ব্যতিক্রম হতে পারে। তবে 'ইইয়্যাকা' (إياك) শব্দের ক্ষেত্রে আলিমগণের মতভেদ স্পষ্ট। যারা মনে করেন 'কাফ' বর্ণটির কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান নেই, তাদের মতানুসারে এটি বুৎপত্তি (اشتقاق) এবং ওজন (وزন) থেকে অনেক দূরে। কারণ এটি সর্বনামের (إضمار) সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত, আর সর্বনামের ক্ষেত্রে সাধারণত সম্বন্ধযুক্ত (ইজাফাত) হওয়ার নিয়ম নেই। আর যারা মনে করেন 'ইইয়্যাকা' শব্দটি সম্বন্ধযুক্ত (مضافة), তবে প্রশ্নকারী এর বুৎপত্তি (اشتقاق) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, যেমন তিনি 'মা'জা' (معزى) শব্দের বুৎপত্তি (اشتقاق) এবং 'মা'জাকা' (معزاك) বললে এর ওজন (وزন) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে থাকেন। শব্দগুলো শ্রুতির দিক থেকে পরস্পর নিকটবর্তী বা এক হতে পারে, কিন্তু অর্থ এবং ওজনের (وزন) দিক থেকে ভিন্ন হয়। এটি সব শব্দের ক্ষেত্রে নয়, বরং কেবল বিশেষ কিছু শব্দের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। সুতরাং যখন 'ইইয়্যা' (إيا) শব্দের ওজন (وزন) নিয়ে আলোচনা হয়, তখন কেউ বলতে পারেন যে এটি 'ফাল্লা' (فعلى) ওজনের হতে পারে এবং এর আলিফটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক (تأنيث) অথবা এটি 'ফাল্লা' (فعلى) ওজনের যেখানে আলিফটি ইলহাক বা সংযুক্তির জন্য এসেছে, অথবা এটি 'ইফআল' (إفعل) ওজনের যেমন 'আসবু' (অঙ্গুলি) শব্দের ওজন (وزন)। এরপর নিয়মানুগ অনুমানের (قياس) ভিত্তিতে এদের সক্ষমতা বা শক্তির সমতার বিচারে কোনো একটি মতকে বেছে নেওয়া হবে।

যারা বলেন যে 'ইইয়্যা' হলো 'ফাল্লা' (فعلى) ওজনের এবং এর আলিফটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক (تأنيث), তাদের মতে এটি দুই ধরনের বুৎপত্তি (اشتقاق) ধারণ করে। একটি হলো 'আওয়া ইলাল মানজিল' (আশ্রয়স্থলে ফেরা) থেকে, অন্যটি হলো তাদের কথা 'আওয়াইতু লাহু' (আমি তার প্রতি দয়া অনুভব করলাম) থেকে। যদি এটি 'আওয়াইতু ইলাল মানজিল' থেকে হয়, তবে এর দ্বারা সেই 'নাফস' বা আত্মাকে বোঝানো সম্ভব যা দেহের মধ্যে আশ্রয় নেয়, অথবা সেই দেহকে বোঝানো সম্ভব যেখানে আত্মা আশ্রয় নেয়। এটি সেই অধ্যায় থেকে হতে পারে যেখানে কোনো বস্তুকে তার সঙ্গী বা পার্শ্ববর্তী বস্তুর নামে নামকরণ করা হয়। যেমন পাত্রকে 'কাস' (পেয়ালা) বলা হয় এবং শরাবকেও 'কাস' বলা হয়। আবার বাহনকে 'স্ত্রীলোক' বলা হয় এবং স্ত্রীকে 'বাইতুন' (ঘর) বলা হয় যেহেতু তিনি ঘরে অবস্থান করেন। জনৈক কবি বলেছেন:

ধন্য গৃহস্বামীগণ তাদের গৃহের কল্যাণে … আর নিঃস্ব আরবদের জন্য রয়েছে কেবল অনুসন্ধান।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
فأصل إيا على هذا القول إويا فقلبت الواو ياء لسكونها وانكسار ما قبلها كما قلبت في قيل وعيد واد غمت في الياء التي بعدها ولو بنيت من طويت اسماً على مثال فعلى لقلت طيا وكذلك من غويتُ ورويت غياً ورياً ولا يمتنع إن تكون إيا في الأصل فعل فيكون أصلها أويا إلا انهم لما قلبوا الواو إلى الياء لسكونها اختاروا الكسرة وهذا على قياس قولهم قرونٌ لي في جميع قرن ألوى فيضمون اللام على الأصل ويكسرونها من أجل الياء كما إنك لو بنيت اسماً على فُعل من طويتُ لجاز إن تقول طُي الأصل وطي فتكسر.

وذكر المازني انك لو بنيت اسماً على فُعل من جاء يجيىء لقلت جيىء فان خففت الهمزة جاز لك إن تضم وتكسر فتقول جي وجي هذه على قياس قول الخليل وسيبويه فأما سعيد بن مسعدة فانه إذا بني اسماً على فُعل من ذوات الياء قلبها إلى الواو في الواحد دون الجمع فيقول في فعل من البيع به بوع ومعيشه عنده مفعلة لا غير وهي عند الخليل وسيبوية مفعلة ولا يمتنع إن تكون مفعلة وسعيد بن مسعدة يذهب إلى إنه لو بني من العيش مثل مفعلة لقال معوشة ومن ذهب إلى هذا الرأي أجاز إن تكون مؤونة مفعلة من الأين ومضوفة مفعلة من ضاف يضيف في قول الهذلي:

وكنت إذا جاري دعا لمضوفة … أشمرُ حتى ينصف الساق مئزري

فاما قول العجاج:

وقد نُرى إذ الحياة حيوإذ زمانُ الناس دغفلي فالحي الحياة والمعنى اذ الحياة حياة كما تقول إذ الناس ناس ويجوز إن يكون حي على فعلٍ أو على فُعل ثم كسرت الحاء لأجل الياء وكان الفراء يزعم إن الحي جمع حياة على حد قولهم خشبة وخشب وأكمة وأكم وساحة وسوح وكان يجيز الضم في الحاء كما قالوا قرون لي على الأصل ولي لأجل الياء.

والوجه الآخر في إشتقاق أيا إن يكون من همزة وياءين فيكون أصلها من أصل اية والآية العلامة والشخص، ويقال خرج القوم بآيتهم أي علامتهم وجماعتهم. قال البرج بن مسهر:

خرجنا من النقبين لا حي مثلنا … بآيتنا نزجي العتاق المطافلا

وذلك راجع إلى العلامة لأن جماعة الشيء هي التي بها حقيقته وقيل للشخص آية لأنه الذي يعلم به حقيقة الإنسان، وقالوا تأييت بالمكان مثل تمكثت والمعنى أني غادرت به علامة بنفسي وأظهرت فيه آيتي أي شخصي قال الكميت:

قف بالديار وقوف زائر … وتأي إنك غير صاغر

وقالوا تآييت الشيء إذا تعمدت آيته قال لبيد:

فتآيا بطرير مرهف … جفرة المحزم منه فسعل

فيكون معنى إياها هنا المعنى الأول معنى الشخص والحقيقة راجح إلى المعنى الأول فإذا قلت اياك أردت فالمعنى حقيقتك طلبت، لأن شخص الإنسان حقيقته ويجوز إذا قيل إن مركبة من همزة وياءين أن يكون اشتقاقها من أياة الشمس وأيائها وهو ضوءها فيراد باءيا النفس التي بها ضياء الجسد ومتى خلا منها ذهب حسنه ونضارته قال الاءيادي:

حلت عليه إياة الشمس أوراقا
এই অভিমত অনুযায়ী ‘ইইয়া’ শব্দের মূল রূপ ছিল ‘ইওয়্য’। ‘ওয়াও’ বর্ণটি সাকিন হওয়ার কারণে এবং তার পূর্বের বর্ণটি কাসরাযুক্ত (জের) হওয়ায় তাকে ‘ইয়া’ বর্ণে পরিবর্তন করা হয়েছে, যেমনটি ‘কীলা’ এবং ‘ঈদ’ শব্দের ক্ষেত্রে পরিবর্তন করা হয়। অতঃপর তাকে পরবর্তী ‘ইয়া’ বর্ণের সাথে সন্ধি বা ইদগাম করা হয়েছে। আপনি যদি ‘তওয়াইতু’ থেকে ‘ফু’লা’ ওজনে কোনো বিশেষ্য গঠন করতেন তবে তা ‘তওয়্যা’ হতো, তেমনি ‘গওয়াইতু’ ও ‘রওয়াইতু’ থেকে ‘গওয়্যা’ ও ‘রওয়্যা’ হতো। এটিও অসম্ভব নয় যে, ‘ইইয়া’ মূলত ‘ফু’আল’ ওজনে ছিল, ফলে এর মূল রূপ ছিল ‘উওয়্য’। তবে তারা যখন ‘ওয়াও’-কে সাকিন হওয়ার কারণে ‘ইয়া’-তে রূপান্তর করল, তখন তারা কাসরাকেই বেছে নিল। এটি তাদের ‘কুরুনুন লী’ বলার পদ্ধতির কিয়াস বা নিয়ম অনুযায়ী, যা ‘করনুন আলওয়া’-এর বহুবচন; সেখানে তারা মূল ভিত্তি অনুযায়ী ‘লাম’ বর্ণে যম্মাহ (পেশ) দেয় আবার ‘ইয়া’ বর্ণের কারণে কাসরা প্রদান করে। যেমন আপনি যদি ‘তওয়াইতু’ থেকে ‘ফু’ল’ ওজনে কোনো বিশেষ্য গঠন করেন, তবে মূলানুসারে ‘তুয়্য’ বলা যেমন বৈধ, তেমনি কাসরা দিয়ে ‘তিল’ বলাও সম্ভব।

আল-মাজিনী উল্লেখ করেছেন যে, আপনি যদি ‘জা-আ ইয়াজি-উ’ থেকে ‘ফু’ল’ ওজনে কোনো বিশেষ্য গঠন করতেন, তবে আপনি ‘জীয়্য’ বলতেন। যদি হামযাটিকে সহজ বা তখফীফ করা হয়, তবে যম্মাহ বা কাসরা উভয়ই পড়া আপনার জন্য বৈধ হবে; তখন আপনি ‘জুয়্য’ বা ‘জীয়্য’ বলতে পারেন। এটি খলীল ও সিবওয়াইহর নিয়ম অনুযায়ী। তবে সাঈদ ইবনে মাসআদাহর মতে, যখন তিনি ‘ইয়া’ সম্বলিত কোনো মূল ধাতু থেকে ‘ফু’ল’ ওজনে শব্দ গঠন করেন, তখন তিনি একবচনে সেটিকে ‘ওয়াও’ বর্ণে রূপান্তর করেন, তবে বহুবচনে নয়। তাই তিনি ‘বাই’ থেকে ‘ফু’ল’ ওজনে ‘বু’ বলতেন। তাঁর মতে ‘মা’ঈশাহ’ শব্দটি কেবল ‘মাফ’আলাহ’ ওজনেই হতে পারে; অথচ খলীল ও সিবওয়াইহর মতে এটি ‘মাফ’ইলাহ’ ওজনেও হতে পারে। সাঈদ ইবনে মাসআদাহ মনে করেন, যদি ‘আইশ’ থেকে ‘মাফ’আলাহ’র মতো শব্দ গঠন করা হতো, তবে তিনি ‘মা’উশাহ’ বলতেন। যারা এই মতটি গ্রহণ করেছেন, তারা ‘মাউনা’ শব্দটিকে ‘আইন’ থেকে ‘মাফ’আলাহ’ ওজনের এবং ‘মাদূফাহ’ শব্দটিকে ‘দা-ফা ইয়াদীফু’ থেকে ‘মাফ’আলাহ’ ওজনের মনে করা বৈধ বলেছেন, যা হুদায়লী কবির এই উক্তিতে পাওয়া যায়:

“যখন আমার প্রতিবেশী কোনো বিপদের কারণে ডাক দিত … তখন আমি দ্রুত প্রস্তুত হতাম, এমনকি আমার লুঙ্গি পায়ের নলা পর্যন্ত উঠে যেত।”

আর আল-আজ্জাজের এই উক্তি সম্পর্কে:

“আমরা দেখেছি যখন জীবন ছিল প্রকৃত জীবন এবং মানুষের সময় ছিল প্রাচুর্যময়।” এখানে ‘হায়্য’ অর্থ জীবন এবং এর তাৎপর্য হলো: যখন জীবন ছিল প্রকৃত জীবন, যেমন আপনি বলে থাকেন: যখন মানুষ ছিল প্রকৃত মানুষ। এটিও সম্ভব যে, ‘হায়্য’ শব্দটি ‘ফা’আল’ বা ‘ফু’আল’ ওজনে ছিল, এরপর ‘ইয়া’ বর্ণের কারণে ‘হা’ বর্ণে কাসরা দেওয়া হয়েছে। আল-ফাররা দাবি করতেন যে, ‘হায়্য’ শব্দটি ‘হায়াত’-এর বহুবচন; যেমন ‘খাশাবাহ’ থেকে ‘খাশাব’, ‘আকামাহ’ থেকে ‘আকাম’ এবং ‘সাহাহ’ থেকে ‘সূহ’ হয়ে থাকে। তিনি ‘হা’ বর্ণে যম্মাহ প্রদান করাও বৈধ মনে করতেন, যেমন তারা মূলানুসারে ‘কুরুনুন লু’ বলত এবং ‘ইয়া’ বর্ণের খাতিরে ‘লী’ বলত।

‘ইইয়া’ শব্দের ব্যুৎপত্তির দ্বিতীয় দিকটি হলো—এটি একটি হামযা এবং দুটি ‘ইয়া’ থেকে গঠিত, ফলে এর মূল হবে ‘আয়াত’ শব্দের মূলের মতো। ‘আয়াত’ অর্থ হলো চিহ্ন এবং সত্তা। বলা হয়, কাওম বা জাতি তাদের ‘আয়াত’ অর্থাৎ তাদের চিহ্ন ও দলবলসহ বের হয়েছে। বুর্জ ইবনে মুসহির বলেছেন:

“আমরা নাকীবাইন থেকে এমনভাবে বের হয়েছি যে আমাদের মতো কোনো গোত্র ছিল না … আমাদের চিহ্ন সম্বলিত হয়ে আমরা শ্রেষ্ঠ উষ্ট্রী ও শাবকদের হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম।”

এটি মূলত চিহ্নের অর্থের দিকেই ফিরে যায়, কারণ কোনো জিনিসের সমষ্টিই তার স্বরূপ প্রকাশ করে। কোনো ব্যক্তিকে ‘আয়াত’ বলা হয় কারণ তার মাধ্যমেই মানুষের প্রকৃত সত্তা চেনা যায়। তারা কোনো স্থানে অবস্থানের অর্থে ‘তাআইয়াইতু বিল মাকান’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে, যার অর্থ ‘আমি সেখানে অবস্থান করেছি’। এর সারমর্ম হলো, আমি সেখানে নিজের একটি চিহ্ন রেখে এসেছি এবং সেখানে আমার ‘আয়াত’ অর্থাৎ আমার সত্তাকে প্রকাশ করেছি। আল-কুমাইত বলেছেন:

“জনপদে এক দর্শনার্থীর মতো অবস্থান করো … এবং অপেক্ষা করো, নিশ্চয়ই তুমি তুচ্ছ নও।”

আর যখন কেউ কোনো কিছুর চিহ্নের সংকল্প করে, তখন তারা ‘তাতাইয়াইতুশ শাই’ বলে থাকে। লাবীদ বলেছেন:

“অতঃপর সে একটি ধারালো তীক্ষ্ণ অস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হলো … যা তার বক্ষপিঞ্জরের মধ্যভাগকে বিদীর্ণ করে দিল।”

সুতরাং এখানে ‘ইইয়াহা’ শব্দের অর্থ সেই প্রথম অর্থের দিকেই ধাবিত হয়, যা হলো সত্তা এবং বাস্তবতা। যখন বলা হয় ‘ইইয়াকা আরাদতু’, তখন এর অর্থ হয় ‘আমি তোমার সত্তাকেই উদ্দেশ্য করেছি’। কেননা মানুষের বাহ্যিক সত্তাই তার প্রকৃত পরিচয়। যদি বলা হয় এটি একটি হামযা ও দুটি ‘ইয়া’ দ্বারা গঠিত, তবে এর ব্যুৎপত্তি সূর্যের আলো বা প্রভা (আয়াতুশ শামস) থেকেও হওয়া সম্ভব। তখন ‘ইইয়া’ দ্বারা সেই রূহ বা আত্মাকে বোঝানো হবে যার মাধ্যমে শরীরে জ্যোতি বা প্রাণ সঞ্চারিত হয়, আর যখন তা শরীর থেকে চলে যায়, তখন শরীরের সৌন্দর্য ও সজীবতা হারিয়ে যায়। আল-আয়াদী বলেছেন:

“তার ওপর সূর্যের প্রখর আলো পড়ল যা তাকে বিবর্ণ করে দিল।”
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
أياة الشمس راجع إلى اشتقاق الآية لأن نور الشمس علامة لها ولا يحكم على أن إياة الشمس مأخوذ من همزة وواو وياء لأنها لو كانت كذلك وجب أن تصح الواو لعلة الياء إذا كانوا لا يجمعون بين علة العين واللام ولذلك قالوا قوي وروي فأصحوا الواو ولم يصحوها في خاف وبابه لأنهم وجدوا الياء معتلة في المضارع إذ قالوا يقوى ويروى فلو عللوا الواو لخرجوا عن القياس ولا تجعل اياة الشمس مأخوذاً من همزة وياء وواو لأنه مفقود في كلامهم الياء بهدها الواو فأما حيوة وحيوان فمن الشاذ ولا تحمل الأشياء على ماشذ، ولكن تُحمل على ما كثر ولا يمتنع في هذا الباب إن تكون إيا فعلى بالضم على ما تقدم ويقوي ذلك زعم سيبويه إن ضيزى فعلى بضم الفاء وانهم فروا إلى الكسرة لتصح الياء وكذلك قال بعضهم الضوقي في معنى الضوقي وقرأ مكوزة الأعرابي طيبى لهم وحسن مآب فإذا جعلت ألف إيا للالحاق لم يمتنع أن يدعى فيها الضم فتكون مثل بهمي لأن إذا صح قول العرب بهماة جعلت من الملحقات، ولم يثبت ذلك، وقال بعضهم البهمي واحد وجمع فالألف عنده للتأنيث لأن فعلى بناء غلب على المؤنث وليس بجار مجرى ارطاة وعلقاة لأن الإلحاق كثر في فعلى وحكى المازني انه سمع أبا عبيدة يقول ما اكذب النحويين يزعمون أن التأنيث لا يدخل على التأنيث وأنا سمعت رؤبة بن العجاج يقول علقاة يعني الواحدة من العلقى وهو ضرب من الشجر مر ينبت في الرمل، قال الشاعر يخاطب جمله:

فمت كمداً أو كل على غير شهوة … أفانين علقى مرة بأميل

الأميل رمل يتعقد ويستطيل فيكون أميالا وربما كان مسيرة يومين أو ثلاثة وليس ما ذهب أبو عبيدة إليه مبطلا مذهب النحويين لان من قال علقاة بالهاء جعل الألف لغير التأنيث فلا يلزمهم ما قال.

وإذا جعلت إيا على وزن اصبع وجب فيها من الاشتقاق ما وجب فيما قبلها إلا إن أحكامها مختلفة والقول الذي ذهب فيها أقوى لأنا إذا جعلناها على إفعل وجعلناها من أوى احتجنا إلى الجمع بين همزتين فتبدل، الثانية ياء وإذا أبدلت المهزة كان القياس ألا تدغم لأنهم قالوا في الأمر من أوى يأوي أبو فلم يدغموا وكذلك قال أكثر العرب روية لما خففوا رؤية فلم يدغموا وقد قال بعضهم رُيَّةٌ في رؤية ورؤية أيضاً فكسروا لأجل الياء فيكون اصل ايا إذا كانت على إفعل من أوى إئوى فجعلت الهمزة الثانية ياء بإجماع من العرب وأهل القياس ثم بقيت الياء المبدلة واواً لازمة وهما في كلمة واحدة فقلبت وان كان أصلها غير ذلك كما قلبوا في مصدر احواويت، فقالوا احوياء والأصل احويواء وكان يجب ألا تدغم هذه الياء كما لم تدغم الواو في سوير وبويع ولكن لما بنيت في المصدر وهو جار مجرى الأسماء كان القلب فيها أولى وقصد ذكر السيرا في أن قوما من النحويين لا يدغمون في مصدر احواويت لأجل العلة الماضية والقول الأول أكثر، ولو قال قائل في أفعل من أويت ايوي فلم يدغم لكان قد ذهب مذهبا، إلا أن النحويين ذكروا أنك إذا بنيت من أوى مثل إوزة قلت إياة فدل ذلك على انهم يرون إدغام الياء التي كانت همزة واوزة عندهم إفعلة واستدلوا على أن الهمزة زائدة بقولهم وز وإذا قيل إن إيا على مثال اصبع وأنها مأخوذة من همزة وياءين اجتمعت فيها الهمزتان أولا فجعلت الهمزة الثانية ياء وكان الإدغام واجباً لأن المثلين التقيا.

ولمدع إن يدعي إن ايا جائز إن يكون من الوأى من قولك فرس وأى وقد اختلفوا في معناه فقيل المجتمع الخلق المقتدرة وقيل هو الطويل وقال أصحاب الاشتقاق الوأى الذي إذا نظرت إليه ذلك على أنه قوي وشديد الجري كأنه مأخوذ من وأيت أي وعدت أي هو يعد الجري فيكون أصله ايأي وخففت الهمزة الثانية تخفيفاً لازماً كما خفقت في ذرية ونبي لان من كلامهم إن يتركوا الشيء الذي هو أصل في الكلمة فلا يستعملوه كما رفضوا همزة الخابية وهي من خبأت وكما قالوا يرى فلم يستعملوا همزة إلا عند ضرورة كما قال الشاعر:

لما استبد بهم شيحان مبتجج … بالبين عنك بهم يرآك شأنا

الشيحان المجد في الأمور شآن فعال من الشأن من قولك شأن شأنة إذا فعل فعلة وإنما يذكر مثل هذا لأنه يجوز إن يقال والذي مضى في أول الاشتقاق هو القياس.
সূর্যের কিরণ (إياة) শব্দটির উৎস হলো 'আয়াত' (آية) বা নিদর্শনের ব্যুৎপত্তি (اشتقاق); কেননা সূর্যের আলো তার অস্তিত্বের একটি নিদর্শন। সূর্যের কিরণ (ইইয়াহ) শব্দটি হামযাহ, ওয়াও এবং ইয়া থেকে গৃহীত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে না; কারণ যদি তা-ই হতো, তবে ইয়া-এর কারণে ওয়াও-কে অক্ষুণ্ণ রাখা আবশ্যক হতো, যেহেতু তারা (আরবগণ) একই শব্দের আইন (عين) এবং লাম (লাম) স্থলে দুটি দুর্বল বর্ণের একত্র সমাবেশ ঘটাতেন না। এই কারণেই তারা ‘কাউইয়া’ (قوي) এবং ‘রাউইয়া’ (روي) শব্দদ্বয়ে ওয়াও-কে অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। কিন্তু ‘খা-ফা’ (خاف) এবং এই জাতীয় শব্দে তারা ওয়াও-কে অক্ষুণ্ণ রাখেননি; কারণ তারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ায় (মুদারে) ইয়া-কে দুর্বল হিসেবে পেয়েছেন, যেমন তারা বলেন ‘ইয়াকওয়া’ (يقوى) এবং ‘ইয়ারওয়া’ (يروى)। সুতরাং তারা যদি এখানেও ওয়াও-কে দুর্বল গণ্য করতেন, তবে তা ব্যাকরণগত নিয়ম (قياس) বহির্ভূত হতো। আবার সূর্যের কিরণ (ইইয়াহ) শব্দটিকে হামযাহ, ইয়া এবং ওয়াও থেকে গৃহীত হিসেবে গণ্য করবেন না; কারণ তাদের ভাষায় ইয়া-এর পরে ওয়াও-এর ব্যবহার বিরল। আর ‘হাইওয়াহ’ (حيوة) এবং ‘হাইওয়ান’ (حيوان) শব্দ দুটি ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ) এর অন্তর্ভুক্ত; আর কোনো কিছুকে ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ) বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বিচার করা যায় না, বরং যা অধিক প্রচলিত তার ওপর ভিত্তি করেই বিচার করতে হয়। এই পরিচ্ছেদে ‘ইইয়া’ (إيا) শব্দটিকে পূর্বোক্ত আলোচনার ন্যায় পেশ (দম্মাহ) যোগে ‘ফু’লা’ (فعلى) ওজনে ধরা অসম্ভব নয়। সিবওয়াইহির এই দাবি বিষয়টিকে শক্তিশালী করে যে, ‘দীযা’ (ضيزى) শব্দটি মূলত ফা-বর্ণে পেশ যোগে ‘ফু’লা’ ওজনে ছিল এবং ইয়া-কে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য তারা কাসরাহ বা জেরের আশ্রয় নিয়েছে। একইভাবে কেউ কেউ ‘দুকা’ (الضوقى) শব্দের অর্থে ‘দিকা’ (الضوقى) শব্দটিও ব্যবহার করেছেন। আর মাকওয়ায আল-আ’রাবি ‘তুবা লাহুম’ (طيبى لهم) এবং ‘হুসনু মাআব’ পাঠ করেছেন। যদি আপনি ‘ইইয়া’ (إيا) এর আলিফকে সংযুক্তির (ইলহাক) জন্য ধরেন, তবে তাতে পেশ পড়ার দাবি করা অসম্ভব হবে না; ফলে তা ‘বুহমা’ (بههمي) শব্দের মতো হবে। কারণ যখন আরবদের ‘বুহমাহ’ (بهماة) শব্দটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়, তখন তাকে সংযুক্ত (মুলহাকাত) শব্দের অন্তর্ভুক্ত করা হয়; যদিও তা প্রমাণিত নয়। জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, ‘বুহমা’ (البهمي) একবচন এবং বহুবচন উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়; তাই তার মতে এখানকার আলিফটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক (তানিছ), কারণ ‘ফু’লা’ (فعلى) ওজনটি স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রেই বেশি ব্যবহৃত হয়। এটি ‘আরতাহ’ (ارطاة) বা ‘আলকাহ’ (علقاة) এর মতো নয়, কারণ ‘ফু’লা’ ওজনে সংযুক্তির আধিক্য রয়েছে। আল-মাযিনী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবু উবাইদাহকে বলতে শুনেছেন, "ব্যাকরণবিদগণ কতই না মিথ্যা বলেন! তারা দাবি করেন যে, স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্নের ওপর পুনরায় স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্ন যুক্ত হয় না; অথচ আমি রু'বাহ বিন আল-আজ্জাজকে ‘আলকাহ’ (علقاة) বলতে শুনেছি।" এখানে তিনি ‘আলকা’ (علقى) এর একক সত্তা বুঝিয়েছেন, যা বালুময় স্থানে জন্মানো এক প্রকার তিক্ত গাছ। জনৈক কবি তার উটকে সম্বোধন করে বলেছেন:

হতাশায় মৃত্যুবরণ করো অথবা অনিচ্ছাসত্ত্বেও ভক্ষণ করো … বালির টিলায় জন্মানো তিক্ত আলকা বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা।

‘আমীল’ (الأميل) বলতে এমন বালুকাভূমিকে বোঝায় যা জমাটবদ্ধ এবং দীর্ঘায়িত হয়, যা মাইলের পর মাইল বিস্তৃত থাকে; কখনও কখনও এটি দুই বা তিন দিনের পথ পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। আবু উবাইদাহ যে মত পোষণ করেছেন তা ব্যাকরণবিদদের মাযহাব বা মতবাদকে বাতিল করে দেয় না; কারণ যারা হা (هاء) যোগে ‘আলকাহ’ (علقاة) বলেন, তারা এখানকার আলিফকে স্ত্রীলিঙ্গবাচক ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন। ফলে আবু উবাইদাহ যা বলেছেন তা তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

যদি আপনি ‘ইইয়া’ (إيا) শব্দটিকে ‘ইসবাহ’ (اصبع) এর ওজনে ধরেন, তবে তার ব্যুৎপত্তিগত নিয়ম পূর্বের মতোই হবে, তবে তার বিধানগুলো (আহকাম) ভিন্ন হবে। তবে এক্ষেত্রে যে মতটি ব্যক্ত করা হয়েছে তা অধিক শক্তিশালী (أقوى); কারণ আমরা যদি একে ‘ইফআল’ (إفعل) ওজনে ধরি এবং ‘আওয়া’ (أوى) থেকে উদ্ভূত মানি, তবে আমাদের দুটি হামযাহকে একত্র করতে হবে। ফলে দ্বিতীয় হামযাহটি ইয়া দ্বারা পরিবর্তিত হবে। আর যখন হামযাহটি পরিবর্তিত হবে, তখন নিয়ম (قياس) অনুযায়ী তার সন্ধি বা বিলোপন (إدغام) না হওয়া উচিত। কারণ তারা ‘আওয়া-ইয়া’উয়ি’ (أوى يأوي) এর আমর বা আদেশসূচক ক্রিয়ায় ‘আইউ’ (أيو) বলেন এবং সেখানে তারা বিলোপন (إدغام) করেন না। একইভাবে অধিকাংশ আরব ‘রু’ইয়াহ’ (رؤية) শব্দটিকে সহজ করার সময় ‘রুইয়াহ’ (روية) বলতেন এবং বিলোপন (إدغام) করতেন না। তবে কেউ কেউ ‘রু’ইয়াহ’ (رؤية) এর ক্ষেত্রে ‘রুইয়্যাহ’ (رُيَّةٌ) এবং ‘রুয়্যাহ’ (رؤية) ও বলেছেন; এক্ষেত্রে তারা ইয়া-এর কারণে জের ব্যবহার করেছেন। সুতরাং ‘ইইয়া’ (إيا) শব্দটি যখন ‘আওয়া’ (أوى) থেকে ‘ইফআল’ (إفعل) ওজনে হয়, তখন তার মূল রূপ ছিল ‘ই’ওয়া’ (إئوى)। এরপর আরবদের ঐকমত্য (إجماع) এবং নিয়মনিষ্ঠ ভাষাবিদদের মতে দ্বিতীয় হামযাহটিকে ইয়া-তে রূপান্তর করা হয়েছে। এরপর পরিবর্তিত ইয়া-টি অপরিহার্যভাবে ওয়াও হিসেবে থেকে যায় এবং উভয়টি একই শব্দের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তাদের উল্টে দেওয়া হয় (কলব); যদিও তার মূল উৎস ভিন্ন ছিল। যেমন তারা ‘ইহওয়াইওয়াতু’ (احواويت) এর মাসদারে বা ক্রিয়ামূলে ‘ইহওয়াইয়া’ (احوياء) বলে থাকে, যার মূল ছিল ‘ইহওয়াইওয়াউ’ (احويواء)। নিয়ম অনুযায়ী এই ইয়া-টির বিলোপন (إدغام) না হওয়া উচিত ছিল, যেমন ‘সুওয়াইর’ (سوير) এবং ‘বুইয়া’ (بويع) শব্দে ওয়াও-এর বিলোপন হয়নি। কিন্তু যেহেতু এটি মাসদার বা ক্রিয়ামূলে গঠিত হয়েছে যা বিশেষ্য বা ইসমের ন্যায় কাজ করে, তাই এখানে অক্ষর পরিবর্তন (কলব) করাই ছিল উত্তম। সীরাফি উল্লেখ করেছেন যে, ব্যাকরণবিদদের এক দল ‘ইহওয়াইওয়াতু’ (احواويت) এর মাসদারে অতীত ইল্লাত বা ত্রুটির কারণে বিলোপন (إدغام) করেন না, তবে প্রথম মতটিই অধিক প্রচলিত। যদি কেউ ‘আওয়াইতু’ (أويت) থেকে ‘আফআল’ (أفعل) ওজনে ‘আইওয়াই’ (ايوي) বলে এবং বিলোপন (إدغام) না করে, তবে সেটিও একটি মত হতে পারে। তবে ব্যাকরণবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, আপনি যদি ‘আওয়া’ (أوى) থেকে ‘ইওয়াযযাহ’ (إوزة) এর মতো শব্দ গঠন করেন, তবে আপনি বলবেন ‘ইইয়াহ’ (إياة)। এটি প্রমাণ করে যে, তারা সেই ইয়া-টির বিলোপন (إدغام) করাকে সঙ্গত মনে করেন যা মূলত হামযাহ ছিল। তাদের মতে ‘ইওয়াযযাহ’ (اوزة) শব্দটি ‘ইফআল্লাহ’ (إفعلة) ওজনে। তারা হামযাহটি অতিরিক্ত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে ‘ওয়াযয’ (وز) শব্দটিকে পেশ করেন। আর যদি বলা হয় ‘ইইয়া’ শব্দটি ‘ইসবাহ’ (اصبع) এর ওজনে এবং এটি হামযাহ ও দুটি ইয়া থেকে গৃহীত, তবে শুরুতে দুটি হামযাহ একত্রিত হওয়ার কারণে দ্বিতীয় হামযাহটিকে ইয়া করা হয়েছে এবং দুটি সমজাতীয় বর্ণ একত্রিত হওয়ায় বিলোপন (إدغام) করা ওয়াজিব বা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

দাবিদার এ দাবিও করতে পারেন যে, ‘ইইয়া’ (إيا) শব্দটি ‘আল-ওয়া’ই’ (الوأى) থেকে আসা সম্ভব, যেমন বলা হয় ‘ফারাসুন ওয়া’ই’ (فرس وأى)। এর অর্থ নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেছেন ‘সুঠাম ও সুসংহত শারীরিক গঠন’, আবার কেউ বলেছেন ‘দীর্ঘকায়’। ব্যুৎপত্তিবিদগণ (أصحاب الاشتقاق) বলেন, ‘ওয়া’ই’ (الوأى) এমন অশ্বকে বলা হয় যা দেখলে মনে হয় এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দ্রুতগামী; যেন শব্দটি ‘ওয়া’ইতু’ (وأيت) অর্থাৎ ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি’ থেকে গৃহীত। অর্থাৎ সে যেন দৌড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। এমতাবস্থায় এর মূল রূপ হবে ‘আইআই’ (ايأي) এবং দ্বিতীয় হামযাহটিকে অপরিহার্যভাবে সহজ (তাখফিফ) করা হয়েছে, যেমন ‘যুররিইয়াহ’ (ذرية) এবং ‘নাবি’ (نبي) শব্দে করা হয়েছে। কারণ আরবদের রীতি হলো কোনো শব্দের মূল বর্ণকে বর্জন করা এবং তা ব্যবহার না করা; যেমন তারা ‘খাবিআহ’ (خابئة) শব্দের হামযাহ বর্জন করেছে যা মূলত ‘খাবা’তু’ (خبأت) থেকে এসেছে। আবার যেমন তারা ‘ইয়ারা’ (يرى) বলে থাকে এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া হামযাহ ব্যবহার করে না, যেমন কবি বলেছেন:

যখন তাদের ওপর বিচ্ছেদের কারণে আনন্দিত ও উদ্যমী কোনো ব্যক্তি চড়াও হলো … তখন সে তোমাকে তুচ্ছ জ্ঞান করল।

‘শীহান’ (الشيحان) অর্থ কোনো কাজে অত্যন্ত পরিশ্রমী। ‘শাআন’ (شآن) শব্দটি ‘শা’ন’ (الشأن) থেকে ‘ফা’আল’ (فعال) ওজনে এসেছে; যেমন বলা হয় ‘শাআনা শা’নাহ’ (شأن شأنة) যখন কেউ কোনো কাজ সম্পাদন করে। এই জাতীয় আলোচনা এজন্যই করা হয় কারণ এমনটা বলা সম্ভব, তবে ব্যুৎপত্তির শুরুতে যা আলোচিত হয়েছে সেটিই ব্যাকরণগত নিয়ম (قياس)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
وأما ما ذكره أبو عبد الله بن خالويه رحمه الله في إيا فقول يشبه أقوال النحويين إلا أنه يلزمه مثل ذاك في جميع ما ينطق به من الكلام لان القائل لو قال أمل أرطى راء ساكنة فلم يمكن النطق بها فأضافوا إليها طاء وزادوا في أولها الهمزة لسكونها وزادوا الألف في آخرها لبعد الصوت لكان مثل ما قيل في أيا وأصل النطق والله اعلم الهام سبق من الله سبحانه لأول الناطقين فقال القائل من العجم والعرب على حسب ما رُكب فيه وهو غير عالم بما نطق ولا منتقل في ذلك من رتبة إلى رتبة فكان القائل في أول البدء قام وجلس إنما هو كالغراب إذا نعب وكالفرس إذا صهل وإنما الفائدة فيما شرحه النحويون الدلالة على قدرة الله سبحانه لا أن ذلك وقع من العرب باعتماد، ومثل ذلك مثل الأعضاء التي يذكرالاطباء حالها في الشرح فتدل على قدرة من الله عظيمة والرجل يولد له الولد وهو جاهل بذلك كله وأما المطالبة بان تكون الهمزة إذا كان الامر على ما ذكره أبو عبد الله همزة وصل فلا تلزم بوجه لأنه ليس سكون الأول من الأصول علة لاجتلابهم ألف الوصل في كل السواكن باط قد يزيدون ألف الوصل تارة والف القطع اخرى والهمزة المقطوعة في الأسماء التي ليست جارية على الأفعال اكثر من همزة الوصل إذ كانت الهمزة الموصولة دخلت على أسماء معدودة وهمزة القطع لحقت أسماء لا يدركها العدد فافتنوا فيها بالحركات الضمة والفتحة والكسرة فقالوا في المضمومة أبلم واترج واسلوب وأسكوب فقالوا في المفتوحة أفكل وأيدع واحمر وأصفر والمكسورة نحو إصبع وإسنام وهو ضرب من الشجر فأوائل هذه الأسماء كلها إذا أخذ منه الأصلي ساكن وقد لحقها همزة القطع ولم يضنوا في ألف الوصل كافتنانهم في هذه الهمزة لأنها أمكن وأقوى وليس كل اسم سقط من آخره حرف أو من أوسطه تزاد فيه ألف الوصل ولم تجيء مضمومة في الأسماء غير المتمكنة على أن أهل اللغة حكى بعضهم أسم في اسم فان صح ذلك فهو شاذ وهذه الهمزات المقطوعات كلها زوائد منها ما يستدل على زيادته بالاشتقاق ومنها ما يحكم عليه بغلبة الباب مثل أفكل يحكم على همزته بالزيادة لأن العادة جرت بأن يجيء هذا الباب كله مزيدا في أوله ووضحت شواهد ذلك من الاشتقاق، فدل قولهم الحمرة والحمر على إن همزة أحمر زائد وحكموا على إن همزة افكل كذلك لأنهم الحقوه بالباب المطرد وان كانوا لم يقولوا الفكل ولا الفكل ولم يصرفوا منه الفعل فيقولوا فكل وجرى الإصلاح فيما سمع من كلامهم على أن الفات الوصل لا تدخل على الأسماء التي ليست جارية على الأفعال حتى تكون نواقص من أواخرها ولم يشذ ذلك فيها إلا في قولهم ايمن على رأي البصريين لأنه اسم لم يحذف من آخره شيء إلا انه قليل التمكن في بابه وهمزات القطع ليست كذاك لأنها تدخل على ذوات الثلاثة كثيرا فربما لم يكن في الاسم زائد غيرها وربما كان معها زيادة أخرى نحو قولهم إمليس وأملود وهاتان الهمزتان الزائدتان للقطع والوصل دخلتنا على الأسماء والأفعال الحروف.

فأما ألف القطع فإنها دخلت على الأسماء الموضوعة اكثر من دخولها على الأسماء الجارية على الفعل إذ كانت لا توجد في القسم الفاعل وإنما توجد في ضرب واحد من المصادر وهو مصدر افعل مثل الإكرام والإحسان وإما الأفعال فإنها دخلت فيها إذا أراد المخبر أن يخبر عن نفسه وعم بذلك جميع أصناف الفعل ثلاثية ورباعية وما كان منه بزيادة أو متعريا من الزيادة ودخلت في الحرب في مثل إن الخفيفة التي تجزم وأن التي تنصب الفعل وغيرهما من الحروف.

আবু আব্দুল্লাহ ইবনে খালওয়াইহ (রহিমাহুল্লাহ) 'আইয়্যা' (إيا) সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা ব্যাকরণবিদদের (النحويين) বক্তব্যের অনুরূপ; তবে ব্যাকরণবিদদের এই বক্তব্য অন্যান্য সমস্ত উচ্চারিত শব্দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক। কারণ, কোনো বক্তা যদি 'আরত' (أرطى) শব্দের 'রা' (راء) অক্ষরটিকে সুকুন (ساكنة) করে উচ্চারণ করতে চান, তবে তা উচ্চারণ করা সম্ভব হয় না; ফলে তারা এর সাথে 'তা' (طاء) যুক্ত করেন, এর শুরুতে সুকুন হওয়ার কারণে একটি হামজা (الهمزة) বৃদ্ধি করেন এবং আওয়াজ দীর্ঘ করার জন্য শেষে একটি আলিফ (الألف) যুক্ত করেন—এটি ঠিক 'আইয়্যা' (أيا) সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তারই সদৃশ। উচ্চারণের প্রকৃত রহস্য—আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আদি মানবকে দানকৃত ইলহাম (الهام), যা তিনি প্রথম কথা বলা ব্যক্তির অন্তরে ঢেলে দিয়েছিলেন। ফলে অনারব বা আরব বক্তারা তাদের মধ্যে যেভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে সেভাবেই কথা বলে থাকেন; অথচ তারা যা উচ্চারণ করছেন সে সম্পর্কে তারা অবগত নন এবং এক্ষেত্রে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে স্থানান্তরিতও হন না। সুতরাং সৃষ্টির শুরুতে কোনো ব্যক্তির 'কামা' (قام - সে দাঁড়ালো) বা 'জালাসা' (جلس - সে বসলো) বলাটা ছিল অনেকটা দাঁড়কাকের ডাক কিংবা ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনির মতো। ব্যাকরণবিদগণ যা ব্যাখ্যা করেছেন তার মূল উপযোগিতা হলো মহান আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ পেশ করা, বিষয়টি এমন নয় যে আরবগণ সজ্ঞানে বিচার-বিশ্লেষণ করে তা নির্ধারণ করেছেন। এর উদাহরণ হলো চিকিৎসাবিদগণ মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বর্ণনার সময় যে অবস্থা উল্লেখ করেন, যা আল্লাহর সুমহান কুদরতের প্রমাণ দেয়; অথচ একজন মানুষের সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় অথচ সে (পিতা) এর অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থাকে।

আর আবু আব্দুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী যখন বিষয়টি এমন হয়, তখন হামজাটি সংযোগকারী হামজা (همزة وصل) হওয়া আবশ্যক নয়। কারণ, মূল অক্ষরের প্রথমটি সুকুন (سكون) হওয়া সব সময় প্রতিটি সুকুনযুক্ত অক্ষরের শুরুতে সংযোগকারী আলিফ (ألف الوصل) নিয়ে আসার কারণ হতে পারে না। তারা কখনো সংযোগকারী আলিফ (ألف الوصل) বৃদ্ধি করেন, আবার কখনো বিচ্ছিন্নকারী আলিফ (ألف القطع) বৃদ্ধি করেন। আর যে সমস্ত বিশেষ্য (الأسماء) ক্রিয়ার (الأفعাল) ওজনে গঠিত নয়, সেগুলোতে বিচ্ছিন্নকারী হামজা (الهمزة المقطوعة) সংযোগকারী হামজার (همزة الوصل) তুলনায় অনেক বেশি। কারণ সংযোগকারী হামজা (همزة الوصل) কেবল নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ্যের (أسماء معدودة) শুরুতে আসে, পক্ষান্তরে বিচ্ছিন্নকারী হামজা (همزة القطع) অগণিত বিশেষ্যের (أسماء) শুরুতে যুক্ত হয়। তারা এতে বিভিন্ন হরকত যেমন—পেশ (الضمة), জবর (الفتحة) এবং জের (الكسرة) ব্যবহার করে বৈচিত্র্য এনেছেন। তারা পেশযুক্ত উচ্চারণের ক্ষেত্রে বলেছেন: আবলাম (أبلم), উতরুজ (اترج), উসলুব (اسلوب) এবং উসকুব (أسكوب)। জবরযুক্ত উচ্চারণের ক্ষেত্রে বলেছেন: আফকাল (أفكل), আইদা' (أيدع), আহমার (احمر) এবং আসফার (أصفر)। আর জেরযুক্ত উচ্চারণের ক্ষেত্রে বলেছেন: ইসবা' (إصبع) এবং ইসনাম (إسنام)—যা এক প্রকারের গাছ। এই সমস্ত বিশেষ্যের (الأسماء) শুরুতে যখন মূল অক্ষর নেওয়া হয় তখন তা সুকুন (ساكن) থাকে, আর এর শুরুতে বিচ্ছিন্নকারী হামজা (همزة القطع) যুক্ত হয়েছে। তারা সংযোগকারী আলিফের (ألف الوصل) ক্ষেত্রে এমন বৈচিত্র্য আনেননি যেমনটি এই হামজার ক্ষেত্রে এনেছেন; কারণ এটি অধিকতর শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান। এমন নয় যে, প্রতিটি বিশেষ্য (اسم) যার শেষ থেকে বা মধ্য থেকে কোনো অক্ষর বিলুপ্ত হয়েছে, তার শুরুতেই সংযোগকারী আলিফ (ألف الوصل) যুক্ত হবে। এমনকি অনির্দিষ্ট বিশেষ্যগুলোর (الأسماء غير المتمكنة) ক্ষেত্রেও এটি পেশযুক্ত হয়ে আসেনি। তবে কোনো কোনো ভাষাবিদ 'ইসম' (اسم) শব্দটিকে 'উসম' (أسم) হিসেবে বর্ণনা করেছেন; যদি তা সঠিক হয় তবে তা বিরল (شاذ)। এই বিচ্ছিন্নকারী হামজাগুলোর (الهمزات المقطوعات) সবগুলোই অতিরিক্ত (زوائد); যার কোনোটির অতিরিক্ত হওয়া শব্দমূলতত্ত্ব বা ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) দ্বারা প্রমাণিত হয়, আবার কোনোটির ক্ষেত্রে সেই শ্রেণির আধিক্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেমন 'আফকাল' (أفكل) শব্দের হামজাটিকে অতিরিক্ত (زيادة) ধরা হয়, কারণ এই শ্রেণির শব্দগুলোর শুরুতে সাধারণত অতিরিক্ত অক্ষর আসার রীতি রয়েছে, যা ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) দ্বারা স্পষ্ট হয়। যেমন তাদের 'হুমরাহ' (الحمرة) ও 'হুমর' (الحمر) বলা প্রমাণ করে যে 'আহমার' (أحمر) শব্দের হামজাটি অতিরিক্ত (زائد)। তারা 'আফকাল' (أفكل) শব্দের হামজাটিকেও অনুরূপ গণ্য করেছেন কারণ তারা একে নিয়মিত ধারার অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যদিও তারা 'ফকাল' বা 'ফাকল' ব্যবহার করেননি এবং এর থেকে কোনো ক্রিয়াও (الفعل) গঠন করেননি। প্রচলিত ভাষা থেকে যা শ্রুত হয়েছে তাতে দেখা যায় যে, যে সমস্ত বিশেষ্য (الأسماء) ক্রিয়ার (الأفعাল) ওজনে চলে না সেগুলোর শুরুতে সংযোগকারী আলিফ (ألف الوصل) আসে না, যদি না সেগুলোর শেষ থেকে কোনো অক্ষর বিলুপ্ত হয়ে অপূর্ণাঙ্গ থাকে। বসরাবাসীদের মতে 'আইমানু' (ايمن) শব্দটিতে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে, কারণ এটি এমন একটি বিশেষ্য (اسم) যার শেষ থেকে কিছুই বিলুপ্ত হয়নি, যদিও এটি তার নিজ অধ্যায়ে খুব একটা প্রচলিত নয়। কিন্তু বিচ্ছিন্নকারী হামজা (همزات القطع) এমন নয়; কারণ এগুলো প্রায়শই তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের শুরুতে আসে। কখনো বিশেষ্যটিতে (الاسم) হামজা ছাড়া আর কোনো অতিরিক্ত অক্ষর থাকে না, আবার কখনো এর সাথে অন্য অতিরিক্ত অক্ষরও থাকে, যেমন: ইমলিস (إمليس) এবং আমলুদ (أملود)। আর বিচ্ছিন্নকারী (القطع) ও সংযোগকারী (الوصل)—এই উভয় প্রকার অতিরিক্ত হামজাই বিশেষ্য (الأسماء), ক্রিয়া (الأفعাল) এবং অব্যয়ের (الحروف) মধ্যে প্রবেশ করে।

তবে বিচ্ছিন্নকারী আলিফ (ألف القطع) ক্রিয়াজাত বিশেষ্যের তুলনায় মৌলিক বিশেষ্যগুলোর (الأسماء الموضوعة) মধ্যে অধিক ব্যবহৃত হয়। কারণ এটি কর্তাবাচক বিশেষ্যে (اسم الفاعل) পাওয়া যায় না, বরং কেবল এক প্রকারের মূলধাতু বা ক্রিয়ামূলে (المصادر) পাওয়া যায়, আর তা হলো 'আফআলা' (افعل) এর মাসদার (مصدر), যেমন: ইকরম (الإكرام) এবং ইহসান (الإحسان)। আর ক্রিয়ার (الأفعাল) ক্ষেত্রে এটি তখনই যুক্ত হয় যখন বক্তা নিজের সম্পর্কে সংবাদ দেয় (উত্তম পুরুষ); আর এটি ক্রিয়ার সমস্ত প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে—চাই তা তিন অক্ষরবিশিষ্ট হোক, চার অক্ষরবিশিষ্ট হোক, অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত হোক কিংবা অতিরিক্ত অক্ষরহীন হোক। আর অব্যয়ের (الحروف) ক্ষেত্রেও এটি যুক্ত হয় যেমন: 'ইন' (إن) যা সুকুন প্রদান করে এবং 'আন্না' (أن) যা ক্রিয়াকে জবর প্রদান করে এবং অন্যান্য অব্যয়ের ক্ষেত্রেও।

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মালাইকাহ - তা. আল-মাইমানী - ত. আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
وأما همزة الوصل فدخلت على صنوف الكلام الثلاثة فأما الأسماء فكان دخولها في المصادر منها كثيرا وذلك أنها لحقت ثلاثة أصناف من أصناف من المصادر. فالصنف الأول مصدر ما أصله ثلاثة وهو ثمانية أبنية إلا أنه مزيد فيه وذلك انفعل وافتعل واستفعل وافعوْعل وافعوَّل وأفعنلى وافعل وأفعال وتاسع ملحق هو افعنلل وافعنلى ملحق أيضاً والصنف الثاني ما كان من بنات الأربعة وهو بنا آن افعلل مثل اقشعرو افعنلل مثل احر نجم، والصنف الثالث همزة وصل تلحق مصدر تفاعلت وتفعلت وتفعللت وما زيدت فيه هذه التاء وبعدها حرف يصلح أن يدغم فتقول تدحرج تدحرجا وتطير تطيراً وتثاقل تثاقلا فإذا أدغمت هذه التاء فيما بعدها لحقت همزة الوصل ضرورة، وفي الكتاب الزيز قالوا اطير نابك وبمن معك وقوله اثاقلتم إلى الأرض فإنما الأصل تطيرتا وتثاقلتم فإذا اردت أن تنطق بمصدر اطيرنا وبابه فلك فيه وجهان أحدهما أن تجيء به على لفظ التطير فتقول اطير إطرا واثاقل اثاقلا وكذلك حكي عن العرب أنها تقول اطوفتُ بالبيت اطوافا وأثاقلت اثقاقلاً والآخر أن تبنيه على التفعال لان من العرب ما يقول: تطيرت تطيارا أو تفرق القوم تفراقا وعلى هذا يروى بيت تأبط شراً:

طيف ابنة الحر إذ كنا نواصلها … ثم اجتنبت بها بعد التفراقو

وقال أبو زبيد الطائي:

فثار الزاجرون فزاد منم … تقراباً وصادفهُ ضبيس

فتقول على هذا في مصدر اطير واثاقل اطيار واثيفقال وان كان اثاقلت ليس على وزن اطيرت ولكنهما يتساويان في المصادر ووزن اثيقال اتفيعال ووزن اطيار اتفعال وأما الأفعال فإن ألف الوصل كثرت فيهن لأنها دخلت في الأمر بالثلاثية وهي أفعال هذه المصدر التي تقدم ذكرها، وأما الحروف فأن ألف الوصل لحقت لام التعريف لا ضير فقالوا الرجل والاحمر وإذا تحرك ما بعد ألف الوصل فسقوطها هو الوجه إلا انهم قالوا إذا القوا حركة الهمزه على لام التعريف الحمر فاثبتوا لما كانت الحركة ليست أصلا وانما هي منقولة من حرف إلى حرف وقد قال بعضهم لحمر فحذفوا الهمزتين همزة الوصل همزة القطع وعلى هذا تجمل قراءة أبي عمرو عاداً لولى إنما هي الأولى فلما حركت اللام بحركة الهمزة سقطت همزة الوصل وقولوا قالوا الآن جئت بالحق وما كان مثله يجوز فيه قالوا لان باظهار الواو وقالوا لان بحذفها فمن أثبتها كانت حجته انها حذفت لا لتقاء الساكنين فلما تحرك الساكن الذي حذفت للقائه وجب إن تثبت ومن حذفها فحجته أن الكلام بقي على حاله من قبل نقل حركة الهمزة إلى اللام ومن هذا الباب بيت أنشده الرماني:

وقد كنت تخفي حب سمراء حقبة … فبح لان منها بالذي أنت بائح

وقرأ بعض الاعراب هياك نعبد فهدا أبدل الهاء من الهمزة كما قالوا أما والله وهما والله وهرقت الماء وأرقت وأنشد الكسائي في كتابه في القرآن:

وأنت صواحبها فقلن هذا الذيمنح المودة غيرنا وجفانا يريد إذا الذي فجعل همزة الاستفهام هاء واحكام هياك في الاشتقاق والهمزة مثل أحكام إياك لان الهاء مبدلة من الهمزة إلا ان من قال ي إيا هي افعل لزمه ان يقول إذا ابدل الهمزة وزنها هفعل لان النحويين يمثلون حروف الزوائد على جهاتها فيقولون وزن عثمان فعلان فيزيدون الألف والنون لأنها زائدتان في عثمان وهفعل بناء مستنكر وقد ادعى بعض الناس ان قولهم في صفة الكلب هبلع على وزن وانه مشتق من البلع وليس يثبت مثل هذا.

ولوا زعم زاعم ان هياك بناء آخر وان الهاء غير مبدلة من الهمزة لجاز ان يكون اشتقاقه من الهوى الذي هو هدي النفس ومن الهواء الذي هو هواء الجو. لان الفعل من ذلك هَوي وهَوِىَ فان بني منه فعلى أو فعلى فانك تقول هيا وهيا ويجز ان تكسر الهاء لجوار الياء كما كسرتها في قولك حي بالمكان أي حي فيه ويجوز أن يكون قولهم هويت وهويت مأخوذاً من الهوة فيكون أصله من وواين إلا انهم كرهوا اجتماعهما اذ كانوا لا يقولون هووت وثقل عليهم في التثنية أن يقولوا هو وان فقلبوه إلى الياء وليس لقائل أن يكون هياك إذا كانت للمضمر من لفظ هو وهي لان ذينك وضعا للمرفوعات وليس تشديد من شددهما بحجة على هذا القول لان من العرب من يقال هوَّ وهيَّ فيشدد قال طرفة:

وكاين ترى من يلمعي محظرب … وليس له عند العزائم جول
আর সংযোগকারী হামজা (همزة الوصل) শব্দের তিনটি প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত হয়। বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ক্রিয়ামূলসমূহ (المصادر) -এ এর ব্যবহার অনেক বেশি দেখা যায় এবং এটি তিন ধরনের ক্রিয়ামূলের (মাসদার) সাথে যুক্ত হয়। প্রথম প্রকার হলো সেই মাসদার যার মূল অক্ষর তিনটি এবং যা আটটি গঠনে বিন্যস্ত, তবে এতে অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো: ইনফা’আলা (انفعل), ইফতা’আলা (افتعل), ইস্তাফ’আলা (استفعل), ইফ’আও’আলা (افعوْعل), ইফ’আউওয়ালা (افعوَّল), আফ’আনলা (أفعنلى), ইফ’আল্লা (افعل) এবং ইফ’আল্লা (أفعال)। এছাড়া নবম একটি রূপ যা এর সাথে সংযুক্ত হয় তা হলো ইফ’আনলাল্লা (افعنلل), এবং ইফ’আনলা (افعنلى)-ও এর সাথে যুক্ত হয়। দ্বিতীয় প্রকার হলো চার অক্ষরবিশিষ্ট মূল শব্দ থেকে গঠিত রূপ; যার গঠন দুটি— ইফ’আল্লাল্লা (افعلل) যেমন: ইকশা’আররা (اقشعر), এবং ইফ’আনলাল্লা (افعنلل) যেমন: ইহরানজামা (احرنجم)। তৃতীয় প্রকার হলো সেই সংযোগকারী হামজা (همزة الوصل) যা তাফা’আলা (তفاعلت), তাফা’আলা (تفعلت) এবং তাফা’লাল্লা (تفعللت) এর ক্রিয়ামূলে (মাসদারে) যুক্ত হয় এবং যে শব্দগুলোতে এই 'তা' বর্ণটি অতিরিক্ত হিসেবে আসে এবং এরপর এমন একটি বর্ণ থাকে যা সন্ধি বা ইদগাম (إدغام) করার উপযোগী। যেমন আপনি বলবেন— তাদাহরাজা তাদাহরুজান, তাতাইয়্যারনা তাতাইয়্যুরান এবং তাতাছাক্বালা তাতাছাক্বুলান। যখন এই 'তা' বর্ণটিকে পরবর্তী বর্ণের সাথে ইদগাম (إدغام) করা হয়, তখন নিয়ম অনুযায়ী অবশ্যই একটি সংযোগকারী হামজা (همزة الوصل) যুক্ত করতে হয়। মহাগ্রন্থে (আল-কুরআনে) এসেছে: "ইত্তাইয়্যারনা বিকা ওয়া বিমান মা’আকা" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "ইছছাক্বালতুম ইলাল আরদ্ব"। এর মূল রূপ ছিল মূলত 'তাতাইয়্যারনা' এবং 'তাতাছাক্বালতুম'। আপনি যখন 'ইত্তাইয়্যারনা' এবং এই জাতীয় শব্দের ক্রিয়ামূল (মাসদার) উচ্চারণ করতে চাইবেন, তখন আপনার সামনে দুটি পথ খোলা থাকে: একটি হলো একে 'তাতাইয়্যুর' শব্দের উচ্চারণে নিয়ে আসা; তখন আপনি বলবেন— ইত্তাইয়্যারা ইত্তিরান এবং ইছছাক্বালা ইছছিক্বালান। একইভাবে আরবদের থেকে বর্ণিত আছে যে তারা বলে: "ইত্তাওওয়াফতু বিল বাইতি ইত্তিওয়াফান" এবং "ইছছাক্বালতু ইছছিক্বালান"। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো একে 'তিফ’আল' (تفعال) ওজনে গঠন করা; কারণ আরবদের মধ্যে কেউ কেউ বলে: 'তাতাইয়্যারতু তিতইয়ারান' অথবা 'তাফাররাক্বাল ক্বাওমু তিফরাক্বান'। এই নিয়মেই তা’আববাতা শাররান-এর এই কবিতাটি বর্ণিত হয়েছে:

হুর-তনয়ার স্বপ্নচ্ছায়া যখন আমরা তার সান্নিধ্যে ছিলাম … অতঃপর বিচ্ছেদের (তিফরাক্ব) পর আমি তাকে পরিহার করেছি।

এবং আবু জুবাইদ আত-তাঈ বলেছেন:

অতঃপর বাধা দানকারীরা জেগে উঠল, যা তার দ্রুতগতিকে (তিকরাব) আরও বাড়িয়ে দিল … এবং দাবিস তার মুখোমুখি হলো।

এই নিয়ম অনুযায়ী আপনি 'ইত্তাইয়্যারা' এবং 'ইছছাক্বালা'-এর ক্রিয়ামূলে (মাসদারে) 'ইত্তিইয়ার' এবং 'ইছিইক্বাল' বলবেন। যদিও 'ইছছাক্বালতু' শব্দটি 'ইত্তাইয়্যারতু'-এর ওজনে নয়, তবুও ক্রিয়ামূলের (মাসদারের) ক্ষেত্রে তারা সমান। 'ইছিইক্বাল'-এর ওজন হলো 'ইতিফ’ঈয়াল' (اتفيعال) এবং 'ইত্তিইয়ার'-এর ওজন হলো 'ইতিফ’আল' (اتفعال)। আর ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে সংযোগকারী আলিফ (ألف الوصل) অনেক বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ার নির্দেশক রূপে (আম্‌র) এবং পূর্বে উল্লিখিত ক্রিয়ামূলগুলোর ক্রিয়ারূপে ব্যবহৃত হয়। আর অব্যয়ের (الحروف) ক্ষেত্রে সংযোগকারী আলিফ (ألف الوصل) নির্দিষ্টকরণকারী 'লাম' (লামুত তারিফ)-এর সাথে যুক্ত হয়; যেমন তারা বলে: আর-রাজুল এবং আল-আহমার। সংযোগকারী আলিফের পরের বর্ণটি যদি স্বরযুক্ত হয়, তবে আলিফটি বিলুপ্ত হওয়াটাই নিয়ম। তবে ভাষাবিদগণ বলেছেন, যখন তারা হামজার হরকতকে লামুত তারিফের ওপর অর্পণ করে 'আল-হুমার' বলে, তখন তারা আলিফটিকে বহাল রাখে; কারণ এই হরকতটি মূল নয় বরং এক বর্ণ থেকে অন্য বর্ণে স্থানান্তরিত। আবার কেউ কেউ 'লাহমার' বলেন, যেখানে তারা সংযোগকারী হামজা (همزة الوصل) এবং বিচ্ছেদকারী হামজা (همزة القطع) উভয়টিই বিলোপ করেন। এই নিয়মেই আবু আমর-এর কেরাআত "আদানিল লুলা" সুন্দরভাবে প্রযোজ্য হয়; যা মূলত ছিল 'আল-উলা'। যখন লাম বর্ণটি হামজার হরকত দ্বারা স্বরযুক্ত হলো, তখন সংযোগকারী হামজাটি বিলুপ্ত হয়ে গেল। এবং তাদের উক্তি: "ক্বালুল আনা জি’তা বিল হাক্ব"; এ জাতীয় ক্ষেত্রে 'ক্বালুল আনা' ওয়াও-এর উচ্চারণসহ এবং ওয়াও-এর বিলোপসহ—উভয়ভাবেই পাঠ করা বৈধ। যারা একে বহাল রেখেছেন তাদের যুক্তি হলো, এটি মূলত দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে বিলুপ্ত হয়েছিল; কিন্তু যখন সেই সাকিনযুক্ত বর্ণটি স্বরযুক্ত হলো যার কারণে এটি বিলুপ্ত হয়েছিল, তখন একে পুনরায় বহাল রাখা আবশ্যক হয়ে পড়ল। আর যারা একে বিলোপ করেছেন তাদের যুক্তি হলো, লামের দিকে হামজার হরকত স্থানান্তরের পূর্বের অবস্থায় বাক্যটি বিদ্যমান রয়েছে। এই অধ্যায় থেকেই আর-রুম্মানী একটি কবিতা পাঠ করেছেন:

দীর্ঘকাল তুমি সামরার প্রতি ভালোবাসা গোপন রেখেছিলে … এখন তা প্রকাশ করো যা তুমি প্রকাশ করতে চাচ্ছ।

কোনো কোনো বেদুইন "হাইয়্যাকা না’বুদু" পড়েছেন। এখানে হামজার পরিবর্তে 'হা' বর্ণটি স্থলাভিষিক্ত হয়েছে; যেমন তারা 'আমাল্লাহ'-এর বদলে 'হামাল্লাহ' বলে এবং 'আরাক্বতুল মা'-এর স্থলে 'হারাক্বতুল মা' বলে। আল-কিসায়ী কুরআনের ওপর তাঁর কিতাবে পাঠ করেছেন:

আর তুমি ও তার সঙ্গিনীরা; তারা বলল: এ কি সেই ব্যক্তি যে আমাদের বাদ দিয়ে অন্যকে ভালোবাসা দিয়েছে এবং আমাদের প্রতি রুক্ষতা দেখিয়েছে? এখানে তিনি 'ইযাল্লাজি' বুঝিয়েছেন, যেখানে প্রশ্নবোধক হামজাকে 'হা' করা হয়েছে। শব্দতাত্ত্বিক ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) ও হামজার ক্ষেত্রে 'হাইয়্যাকা'-এর বিধান 'ইয়্যাকা'-এর বিধানের মতোই; কারণ এখানে 'হা' বর্ণটি হামজার স্থলাভিষিক্ত মাত্র। তবে যারা বলেন যে 'ইয়্যাকা' হলো 'ইফ’আল' ওজনের, তাদের জন্য হামজা পরিবর্তনের পর এর ওজন 'হাফ’আল' (هفعل) বলা আবশ্যক হয়ে পড়ে। কারণ ব্যাকরণবিদগণ অতিরিক্ত বর্ণগুলোকে তাদের নিজ নিজ অবস্থানে রেখেই ওজনের উদাহরণ দেন। যেমন তারা বলেন 'উসমান'-এর ওজন হলো 'ফালান'; এখানে তারা আলিফ ও নুন অতিরিক্ত যোগ করেন কারণ তারা উসমান শব্দে অতিরিক্ত। কিন্তু 'হাফ’আল' (هفعل) একটি বর্জনীয় গঠন। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে কুকুরের গুণ বর্ণনায় তাদের ব্যবহৃত শব্দ 'হাবলা’উ' (هبلع) এই ওজনের এবং তা 'বাল’উ' থেকে উদ্ভূত; তবে এ জাতীয় দাবি প্রমাণিত নয়। যদি কেউ দাবি করে যে 'হাইয়্যাকা' একটি ভিন্ন গঠন এবং এখানকার 'হা' বর্ণটি হামজার স্থলাভিষিক্ত নয়, তবে এর ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) 'হাওয়া' তথা মনের প্রবৃত্তি থেকে অথবা 'হাওয়া' তথা আকাশের বায়ু থেকে হওয়া সম্ভব। কারণ এর ক্রিয়া হলো 'হাওয়া' বা 'হাওয়িয়া'। যদি তা থেকে 'ফা’লা' বা 'ফু’লা' ওজনে শব্দ গঠন করা হয়, তবে আপনি 'হাইয়া' এবং 'হাইয়া' বলবেন। 'ইয়া' বর্ণের নৈকট্যের কারণে 'হা' বর্ণটিতে কাসরা (জের) দেওয়াও বৈধ, যেমন আপনি 'হিয়্যা বিল মাকান' (এখানে হিয়া আছে) বলার সময় 'হা' বর্ণে কাসরা দেন। আবার এটিও সম্ভব যে তাদের উক্তি 'হাওয়াইতু' শব্দটি 'হুওয়াহ' থেকে গৃহীত, যার মূল ছিল দুটি 'ওয়াও'; কিন্তু তারা দুটি 'ওয়াও' এর একত্র হওয়াকে অপছন্দ করত বিধায় তারা 'হুওয়াতু' বলত না। দ্বিবচনের ক্ষেত্রে 'হুওয়ানি' বলা তাদের কাছে কষ্টকর মনে হতো, তাই তারা একে 'ইয়া' বর্ণে রূপান্তরিত করেছে। আর 'হাইয়্যাকা' যখন সর্বনাম (المضمر) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন কারো পক্ষে একে 'হুওয়া' বা 'হিয়া' থেকে উদ্ভূত বলা সংগত নয়; কারণ ওই দুটি শব্দ 'মারফু' বা পেশযুক্ত অবস্থার জন্য নির্ধারিত। আর যারা এই শব্দ দুটিকে তাশদীদ দিয়ে উচ্চারণ করেন, তাদের সেই তাশদীদ এই বক্তব্যের পক্ষে কোনো দলিল নয়; কারণ আরবদের মধ্যে কেউ কেউ 'হুওয়্যা' এবং 'হিয়্যা' তাশদীদসহ উচ্চারণ করেন। তারাফা বলেছেন:

তুমি এমন কতই না বুদ্ধিমান ও সুদৃঢ় ব্যক্তিকে দেখতে পাও … অথচ গুরুত্বপূর্ণ সংকল্পের সময় যার কোনো দৃঢ়তা থাকে না।