القسم: النحو والصرف
الكتاب: رسالة الملائكة - نشرها الميمني كملحق في آخر كتابه (أبو العلاء وما إليه)
المؤلف: أحمد بن عبد الله بن سليمان بن محمد بن سليمان، أبو العلاء المعري، التنوخي (ت 449 هـ)
تحقيق: عبد العزيز الميمني [ت 1398 هـ]
دار النشر: دار الكتب العلمية - بيروت، لبنان
الطبعة: الأولى، 1424 هـ - 2003 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: রিসালাতুল মালাইকা - আল-মাইমানী এটি তাঁর ‘আবু আল-আলা ওয়া মা ইলাইহি’ গ্রন্থের শেষে পরিশিষ্ট হিসেবে প্রকাশ করেছেন
লেখক: আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান, আবু আল-আলা আল-মাআররি, আত-তানুখি (মৃত্যু ৪৪৯ হিজরি)
তাহকীক: আব্দুল আজিজ আল-মাইমানী [মৃত্যু ১৩৯৮ হিজরি]
প্রকাশনী: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত, লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি - ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
--------------------------------------------
--------------------------------------------
এটি 'হাসিবা ইয়াহসাবূ' (حسب يحسب)-এর ওজনের দৃষ্টান্ত। একদল ভাষাবিদ 'তাহা ইয়াতিহূ' (تاه يتيه) শব্দটিকেও এই ওজনের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছেন, যা মূলত 'তাওয়াহ্তু' (توهت) থেকে আগত। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি করা ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ; কারণ আরবরা বলে থাকে 'আমি লোকটিকে সুগন্ধি দ্বারা সুবাসিত করেছি (طيبت الرجل بالطيب)'। অথচ কেউ 'তুবতুহু' (طوبته) [ওয়াও সহযোগে] শব্দটির ব্যবহার বর্ণনা করেনি। কুরাইশদের সেই জীবিত গোত্রগুলো যারা চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় সুগন্ধিতে হাত ডুবিয়েছিল, তাদেরকে 'মুতাইয়াবুন' বলা হয়। এটি নির্দেশ করে যে 'আত-তীব' (সুগন্ধি) শব্দটি মূলত 'ইয়া' (ياء) বর্ণ সংশ্লিষ্ট। একইভাবে তাদের বক্তব্য: 'এটি ওটির চেয়ে অধিক উত্তম (أطيب)'।
ভাষাবিদদের সেই বর্ণনা যেখানে তারা 'আওবাহ' এবং 'তূবাহ' শব্দদ্বয় ব্যবহার করেন, তা মূলত পূর্ববর্তী শব্দের অনুকরণ বা অনুপ্রাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমনটি অনেকে 'আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী ও আনন্দিত রাখুন (حياك الله وبياك)' বাক্যাংশ সম্পর্কে মনে করেন যে, এটি একটি অনুসারী শব্দ (إتباع)। মূলত 'বাইয়্যাকা' (بياك) শব্দটির মূল হলো 'বাউওয়াআকা' (بوّاك), যার অর্থ 'তিনি আপনাকে আপনার পছন্দনীয় একটি স্থানে আবাস দান করেছেন', পরবর্তীতে এখানে হামযাহ্ সহজীকরণ করা হয়েছে।
আর ইটের ক্ষেত্রে তাদের 'তূব' (طوب) পরিভাষার ব্যবহারটি যদি বিশুদ্ধ (صحيح) আরবি শব্দ হয়ে থাকে, তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে এর ব্যুৎপত্তি 'তীব' (طيب) শব্দ থেকে ভিন্ন কোনো মূল থেকে হয়েছে। তবে এটি আবুল হাসান সাঈদ ইবনে মাসউদের মতের পরিপন্থী। কারণ তিনি যখন 'আশা-ইয়াঈশু' (عاش يعيش) এবং 'তাবা-ইয়াতিবু' (طاب يطيب)-এর মতো 'ইয়া' (ياء) মূলবিশিষ্ট বর্ণ থেকে 'ফু'লুন' (فُعْلاً) ওজনে কোনো শব্দ গঠন করেন, তখন তিনি 'ইয়া'কে 'ওয়াও' দ্বারা পরিবর্তন করে ফেলেন এবং 'আত-তূব' ও 'আল-ঊশ' বলেন। সুতরাং ইটের অর্থবোধক 'তূব' শব্দটি যদি 'তীব' থেকে উদ্ভূত হয়, তবে তার উদ্দেশ্য—আল্লাহই ভালো জানেন—হয়তো এই যে, যখন এটি দ্বারা কোনো স্থান নির্মাণ করা হয়, তখন সেখানে অবস্থান করা আরামদায়ক বা উত্তম (طابت) হয়।
সম্ভবত আমরা যদি এমন কাউকে প্রশ্ন করি যে সর্বদা 'তূবা' (طوبى) শব্দটি দেখে, কেন এখান থেকে আলিফ এবং লাম বিলুপ্ত করা হয়েছে, তবে সে কোনো উত্তর দিতে পারবে না। সিবওয়াইহ্ দাবি করেছেন যে, 'আফয়ালু মিনকা' থেকে গঠিত 'ফু'লা' (فعلى) ওজনটি আলিফ-লাম অথবা ইযাফাত (إضافة) ব্যতীত ব্যবহৃত হয় না। যেমন আপনি বলেন 'এটি তোমার চেয়ে ছোট' (هذا اصغر منك), কিন্তু যখন একে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দে রূপান্তর করতে চান, তখন বলবেন 'আস-সুগরা' (الصغرى)। তার মতে, ইযাফাত (إضافة) বা আলিফ-লাম ব্যতীত শুধু 'সুগরা' বলা ব্যাকরণগতভাবে অশোভন। বরং বলতে হবে 'এটি তোমার কনিষ্ঠা' (هذه صغراك) অথবা 'তোমার আঙ্গুলের ছোটটি' (صغرى بنانك)। সুহাইম বলেন:
এর কারণে সাধারণ মানুষ—বালক থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত—আমার ব্যাপারে বিভ্রান্তিতে পড়েছে; তারা ধারণা করে যে আমি ইলমের অধিকারী (أهل العلم), অথচ আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত আমি তা থেকে সম্পূর্ণ রিক্ত। আলেমগণের (العلماء) জামাতের তুলনায় আমার অবস্থান সাধারণ মানুষের স্তরের অধিক নিকটবর্তী। আমি সেই উটপাখির মতো হব না যে উটদের মাঝে নিজেকে পাখি বলে দাবি করে, আবার পাখিদের মাঝে দাবি করে যে সে একজন পদব্রজে চলা উট। প্রতারণা একটি অত্যন্ত নিন্দনীয় স্বভাব। বস্তুত আমি একটি ধোঁপ (ضب), যে বোঝা বহন করতে পারে না এবং উড়তেও পারে না; এমনকি কেনা-বেচার বাজারে যার কোনো গুরুত্ব বা উচ্চমূল্য নেই। আমি মরুভূমির সামান্য লতাগুল্মে সন্তুষ্ট থাকি এবং সকাল-সন্ধ্যায় মানবজাতির অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আমি যখন নিভৃতে নিজ গৃহে অবস্থান করি তখন স্বস্তি পাই, আর যখন নিজ আশ্রয়স্থল ত্যাগ করি তখন পথ হারিয়ে ফেলি। ইবন হাবিব উল্লেখ করেছেন যে প্রবাদে বলা হয়: 'ধোঁপের চেয়েও অধিক বিভ্রান্ত'; কারণ এটি যখন নিজ গর্ত থেকে বের হয়ে দূরে চলে যায়, তখন পুনরায় সেখানে ফিরে আসার পথ পায় না। সুমহান আল্লাহ অবগত আছেন যে, আমি অন্তরে ভর্ৎসনার যোগ্য হয়েও প্রকাশ্যে বুদ্ধিমান হিসেবে পরিচিত হওয়াতে আনন্দিত হই না। আমার দৃষ্টান্ত সেই জরাজীর্ণ গির্জার ন্যায়, যাকে কেন্দ্র করে খ্রিস্টানদের বিভিন্ন দল ধারণা করে যে এটি জ্বর বা অন্য রোগ থেকে মুক্তি দেয়; অথচ তা কেবল দণ্ডায়মান কিছু প্রাচীর মাত্র, যা ধ্বংসকারীর হাতুড়ি এবং রাজমিস্ত্রির কর্ণের মাঝে পার্থক্য করতে পারে না, আর যার নিকট পশুর পশমের দুর্গন্ধ এবং গোলাপের সুগন্ধি নির্যাস উভয়ই সমান। যাদের ব্যাপারে মিথ্যাচার (كذب) করা হয়েছে এবং যাদের নিকট যা নেই তা তাদের ওপর আরোপ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আমিই প্রথম নই।
আমি অপবাদকারীদের রটনা মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য বিশেষ ও সাধারণ সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি; আর যারা পরিহাস বা গুরুত্বের সাথে তা গ্রহণ করেছে, তাদের নিকট ত্রুটির জন্য ওজর পেশ করেছি। যারা আমার নিন্দা করেছে কিংবা যারা প্রশংসা করেছে, উভয়ের নিকট আমি নিজের অজ্ঞতা (جهالة) স্বীকার করেছি। এসব বিষয়ে কথা বলা এখন আমার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে গেছে, কারণ আমি এগুলোকে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ (طلاق بائن) দান করেছি, যাতে আমার আর পুনরায় ফিরে আসার (رجعة) সুযোগ নেই। এর কারণ হলো, আমি এগুলোকে বিদ্বেষপরায়ণ হিসেবে পেয়েছি, তাই আমি তাদের বিমুখতাকে উপেক্ষার সাথে মোকাবিলা করেছি। আমি লক্ষ্যবস্তুসমূহ তীরন্দাজদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি এবং মিম্বরের আরোহীদের জন্য বক্তৃতার ময়দান খালি করে দিয়েছি। সাহিত্যের চর্চাকালে আমার অবস্থা এমন ছিল যে, মনে হতো যেন কোনো উলঙ্গ ব্যক্তি পাগড়ি পরছে অথবা কোনো হস্তহীন ব্যক্তি আংটি পরিধান করছে। আর আল্লাহ যার সক্ষমতাকে স্থায়ী করুন, তার সমীপে যদি কেউ আমার কথা উল্লেখ করে, তবে তার বলা উচিত: "সা'দ আল-কাইনের বৃথা শ্রম"; কেননা সে মরুভূমির উটপাখির চেয়েও বেশি অজ্ঞ এবং অলংকারহীন কৃত্রিম বাছুরের ন্যায় রিক্ত। আমি যদি বয়সের সেই সজীব সময়ে থাকতাম যেমনটি বলা হয়, তবে হয়তো আমি ভুলে যেতাম অথবা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হতো; কারণ আমার সংকীর্ণ অবস্থানে জীবনযাপন এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও নিঃস্বতার হাদিস কারো অজানা নয়। আর আমি যদি তেমন হতাম যেমনটি ধারণা করা হয়, তবে আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতাম এবং জনসমক্ষে প্রকাশ পেতাম, আত্মগোপন করতাম না। আর তিনি জুহাইর-এর সেই প্রচলিত কবিতাটি বর্ণনা করেন:
--------------------------------------------
--------------------------------------------
আবু আব্দুল্লাহ ইবনে খালওয়াইহ (রহিমাহুল্লাহ) 'আইয়্যা' (إيا) সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন, তা ব্যাকরণবিদদের (النحويين) বক্তব্যের অনুরূপ; তবে ব্যাকরণবিদদের এই বক্তব্য অন্যান্য সমস্ত উচ্চারিত শব্দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক। কারণ, কোনো বক্তা যদি 'আরত' (أرطى) শব্দের 'রা' (راء) অক্ষরটিকে সুকুন (ساكنة) করে উচ্চারণ করতে চান, তবে তা উচ্চারণ করা সম্ভব হয় না; ফলে তারা এর সাথে 'তা' (طاء) যুক্ত করেন, এর শুরুতে সুকুন হওয়ার কারণে একটি হামজা (الهمزة) বৃদ্ধি করেন এবং আওয়াজ দীর্ঘ করার জন্য শেষে একটি আলিফ (الألف) যুক্ত করেন—এটি ঠিক 'আইয়্যা' (أيا) সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তারই সদৃশ। উচ্চারণের প্রকৃত রহস্য—আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আদি মানবকে দানকৃত ইলহাম (الهام), যা তিনি প্রথম কথা বলা ব্যক্তির অন্তরে ঢেলে দিয়েছিলেন। ফলে অনারব বা আরব বক্তারা তাদের মধ্যে যেভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে সেভাবেই কথা বলে থাকেন; অথচ তারা যা উচ্চারণ করছেন সে সম্পর্কে তারা অবগত নন এবং এক্ষেত্রে এক স্তর থেকে অন্য স্তরে স্থানান্তরিতও হন না। সুতরাং সৃষ্টির শুরুতে কোনো ব্যক্তির 'কামা' (قام - সে দাঁড়ালো) বা 'জালাসা' (جلس - সে বসলো) বলাটা ছিল অনেকটা দাঁড়কাকের ডাক কিংবা ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনির মতো। ব্যাকরণবিদগণ যা ব্যাখ্যা করেছেন তার মূল উপযোগিতা হলো মহান আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ পেশ করা, বিষয়টি এমন নয় যে আরবগণ সজ্ঞানে বিচার-বিশ্লেষণ করে তা নির্ধারণ করেছেন। এর উদাহরণ হলো চিকিৎসাবিদগণ মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বর্ণনার সময় যে অবস্থা উল্লেখ করেন, যা আল্লাহর সুমহান কুদরতের প্রমাণ দেয়; অথচ একজন মানুষের সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় অথচ সে (পিতা) এর অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ থাকে।
আর আবু আব্দুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী যখন বিষয়টি এমন হয়, তখন হামজাটি সংযোগকারী হামজা (همزة وصل) হওয়া আবশ্যক নয়। কারণ, মূল অক্ষরের প্রথমটি সুকুন (سكون) হওয়া সব সময় প্রতিটি সুকুনযুক্ত অক্ষরের শুরুতে সংযোগকারী আলিফ (ألف الوصل) নিয়ে আসার কারণ হতে পারে না। তারা কখনো সংযোগকারী আলিফ (ألف الوصل) বৃদ্ধি করেন, আবার কখনো বিচ্ছিন্নকারী আলিফ (ألف القطع) বৃদ্ধি করেন। আর যে সমস্ত বিশেষ্য (الأسماء) ক্রিয়ার (الأفعাল) ওজনে গঠিত নয়, সেগুলোতে বিচ্ছিন্নকারী হামজা (الهمزة المقطوعة) সংযোগকারী হামজার (همزة الوصل) তুলনায় অনেক বেশি। কারণ সংযোগকারী হামজা (همزة الوصل) কেবল নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ্যের (أسماء معدودة) শুরুতে আসে, পক্ষান্তরে বিচ্ছিন্নকারী হামজা (همزة القطع) অগণিত বিশেষ্যের (أسماء) শুরুতে যুক্ত হয়। তারা এতে বিভিন্ন হরকত যেমন—পেশ (الضمة), জবর (الفتحة) এবং জের (الكسرة) ব্যবহার করে বৈচিত্র্য এনেছেন। তারা পেশযুক্ত উচ্চারণের ক্ষেত্রে বলেছেন: আবলাম (أبلم), উতরুজ (اترج), উসলুব (اسلوب) এবং উসকুব (أسكوب)। জবরযুক্ত উচ্চারণের ক্ষেত্রে বলেছেন: আফকাল (أفكل), আইদা' (أيدع), আহমার (احمر) এবং আসফার (أصفر)। আর জেরযুক্ত উচ্চারণের ক্ষেত্রে বলেছেন: ইসবা' (إصبع) এবং ইসনাম (إسنام)—যা এক প্রকারের গাছ। এই সমস্ত বিশেষ্যের (الأسماء) শুরুতে যখন মূল অক্ষর নেওয়া হয় তখন তা সুকুন (ساكن) থাকে, আর এর শুরুতে বিচ্ছিন্নকারী হামজা (همزة القطع) যুক্ত হয়েছে। তারা সংযোগকারী আলিফের (ألف الوصل) ক্ষেত্রে এমন বৈচিত্র্য আনেননি যেমনটি এই হামজার ক্ষেত্রে এনেছেন; কারণ এটি অধিকতর শক্তিশালী ও সামর্থ্যবান। এমন নয় যে, প্রতিটি বিশেষ্য (اسم) যার শেষ থেকে বা মধ্য থেকে কোনো অক্ষর বিলুপ্ত হয়েছে, তার শুরুতেই সংযোগকারী আলিফ (ألف الوصل) যুক্ত হবে। এমনকি অনির্দিষ্ট বিশেষ্যগুলোর (الأسماء غير المتمكنة) ক্ষেত্রেও এটি পেশযুক্ত হয়ে আসেনি। তবে কোনো কোনো ভাষাবিদ 'ইসম' (اسم) শব্দটিকে 'উসম' (أسم) হিসেবে বর্ণনা করেছেন; যদি তা সঠিক হয় তবে তা বিরল (شاذ)। এই বিচ্ছিন্নকারী হামজাগুলোর (الهمزات المقطوعات) সবগুলোই অতিরিক্ত (زوائد); যার কোনোটির অতিরিক্ত হওয়া শব্দমূলতত্ত্ব বা ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) দ্বারা প্রমাণিত হয়, আবার কোনোটির ক্ষেত্রে সেই শ্রেণির আধিক্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেমন 'আফকাল' (أفكل) শব্দের হামজাটিকে অতিরিক্ত (زيادة) ধরা হয়, কারণ এই শ্রেণির শব্দগুলোর শুরুতে সাধারণত অতিরিক্ত অক্ষর আসার রীতি রয়েছে, যা ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) দ্বারা স্পষ্ট হয়। যেমন তাদের 'হুমরাহ' (الحمرة) ও 'হুমর' (الحمر) বলা প্রমাণ করে যে 'আহমার' (أحمر) শব্দের হামজাটি অতিরিক্ত (زائد)। তারা 'আফকাল' (أفكل) শব্দের হামজাটিকেও অনুরূপ গণ্য করেছেন কারণ তারা একে নিয়মিত ধারার অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যদিও তারা 'ফকাল' বা 'ফাকল' ব্যবহার করেননি এবং এর থেকে কোনো ক্রিয়াও (الفعل) গঠন করেননি। প্রচলিত ভাষা থেকে যা শ্রুত হয়েছে তাতে দেখা যায় যে, যে সমস্ত বিশেষ্য (الأسماء) ক্রিয়ার (الأفعাল) ওজনে চলে না সেগুলোর শুরুতে সংযোগকারী আলিফ (ألف الوصل) আসে না, যদি না সেগুলোর শেষ থেকে কোনো অক্ষর বিলুপ্ত হয়ে অপূর্ণাঙ্গ থাকে। বসরাবাসীদের মতে 'আইমানু' (ايمن) শব্দটিতে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে, কারণ এটি এমন একটি বিশেষ্য (اسم) যার শেষ থেকে কিছুই বিলুপ্ত হয়নি, যদিও এটি তার নিজ অধ্যায়ে খুব একটা প্রচলিত নয়। কিন্তু বিচ্ছিন্নকারী হামজা (همزات القطع) এমন নয়; কারণ এগুলো প্রায়শই তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের শুরুতে আসে। কখনো বিশেষ্যটিতে (الاسم) হামজা ছাড়া আর কোনো অতিরিক্ত অক্ষর থাকে না, আবার কখনো এর সাথে অন্য অতিরিক্ত অক্ষরও থাকে, যেমন: ইমলিস (إمليس) এবং আমলুদ (أملود)। আর বিচ্ছিন্নকারী (القطع) ও সংযোগকারী (الوصل)—এই উভয় প্রকার অতিরিক্ত হামজাই বিশেষ্য (الأسماء), ক্রিয়া (الأفعাল) এবং অব্যয়ের (الحروف) মধ্যে প্রবেশ করে।
তবে বিচ্ছিন্নকারী আলিফ (ألف القطع) ক্রিয়াজাত বিশেষ্যের তুলনায় মৌলিক বিশেষ্যগুলোর (الأسماء الموضوعة) মধ্যে অধিক ব্যবহৃত হয়। কারণ এটি কর্তাবাচক বিশেষ্যে (اسم الفاعل) পাওয়া যায় না, বরং কেবল এক প্রকারের মূলধাতু বা ক্রিয়ামূলে (المصادر) পাওয়া যায়, আর তা হলো 'আফআলা' (افعل) এর মাসদার (مصدر), যেমন: ইকরম (الإكرام) এবং ইহসান (الإحسان)। আর ক্রিয়ার (الأفعাল) ক্ষেত্রে এটি তখনই যুক্ত হয় যখন বক্তা নিজের সম্পর্কে সংবাদ দেয় (উত্তম পুরুষ); আর এটি ক্রিয়ার সমস্ত প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে—চাই তা তিন অক্ষরবিশিষ্ট হোক, চার অক্ষরবিশিষ্ট হোক, অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত হোক কিংবা অতিরিক্ত অক্ষরহীন হোক। আর অব্যয়ের (الحروف) ক্ষেত্রেও এটি যুক্ত হয় যেমন: 'ইন' (إن) যা সুকুন প্রদান করে এবং 'আন্না' (أن) যা ক্রিয়াকে জবর প্রদান করে এবং অন্যান্য অব্যয়ের ক্ষেত্রেও।