(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الموالاة والمعاداة في الشريعة الإسلامية القسم: العقيدة
الكتاب: الموالاة والمعاداة في الشريعة الإسلامية
المؤلف: محماس بن عبد الله بن محمد الجلعود
الناشر: دار اليقين للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 12 شعبان 1432
ইসলামি শরিয়তে আনুগত্য ও শত্রুতা (আল-মুওয়ালাত ওয়াল মুআদাত) বিভাগ: আকীদা
বই: ইসলামি শরিয়তে আনুগত্য ও শত্রুতা (আল-মুওয়ালাত ওয়াল মুআদাত)
লেখক: মিহমাস বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-জালউদ
প্রকাশক: দার আল-ইয়াকীন প্রকাশনী ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১২ শাবান ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الموالاة والمعاداة في الشريعة الإسلامية]ـ
المؤلف: محماس بن عبد الله بن محمد الجلعود
الناشر: دار اليقين للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1987 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
ـ[ইসলামি শরিয়তে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা]ـ
লেখক: মাহমাস বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-জালউদ
প্রকাশক: দার আল-ইয়াকীন প্রকাশনী ও বিতরণ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এতে পাদটীকা সংযোজন করা হয়েছে]
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب وجعله هاديًا ونذيرًا، ومرشدا لمن تمسك به واعتمد عليه في موالاته ومعاداته، فهو له سراجٌ منيرٌ، وأوجب فيه مقاطعة أهل الشرك ومن كان لهم مؤيدا ونصيرا.
والصلاة والسلام على أشرف خلقه وخيرة رسله محمد صلى الله عليه وسلم الذي مزق الله بمبعثه ظلام الكفر، وجعل من هديه مباينة الشرك والمشركين جملة وتفصيلاً.
وعلى آله وأصحابه الذين تحابوا في الله حبًّا أرغموا به أنوف الأعداء، وجاهدوا به الكفار والمنافقين جهادًا كبيرًا وتميزوا به عن أهل الضلال، فلم يرضوا منهم بأنصاف الحلول سبيلاً.
وبعد:
فإن قضية الموالاة والمعاداة في الشريعة الإسلامية قد أصبحت
من القضايا المهملة في حساب كثير ممن ينتمون إلى الإسلام في العصر
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দার উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং একে পথপ্রদর্শক ও সতর্ককারী বানিয়েছেন, আর যারা একে আঁকড়ে ধরে এবং তাদের বন্ধুত্ব ও শত্রুতায় এর ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য একে পথপ্রদর্শক করেছেন। সুতরাং এটি তাদের জন্য একটি উজ্জ্বল প্রদীপ। আর তিনি এতে শিরককারী এবং যারা তাদের সাহায্যকারী ও সহযোগী, তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করাকে আবশ্যক করেছেন।
আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও রাসূলগণের মনোনীত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যাঁর প্রেরণের মাধ্যমে আল্লাহ কুফরির অন্ধকার ছিন্নভিন্ন করেছেন এবং শিরক ও মুশরিকদের থেকে সামগ্রিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পৃথক থাকাকে তাঁর হিদায়াতের অংশ করেছেন।
এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এমন ভালোবাসায় একে অপরকে ভালোবেসেছেন যার মাধ্যমে তাঁরা শত্রুদের অহংকার চূর্ণ করেছেন, এবং তাঁরা এর মাধ্যমে কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে এক মহান জিহাদ করেছেন এবং ভ্রষ্ট লোকদের থেকে নিজেদের স্বতন্ত্র করেছেন; ফলে তাঁরা তাদের সাথে কোনো আপসকামিতার পথ গ্রহণ করতে সম্মত হননি।
অতঃপর:
ইসলামী শরিয়তে বন্ধুত্ব ও শত্রুতার বিষয়টি বর্তমান যুগে ইসলামের অনুসারী অনেকের হিসাব-নিকেশে একটি অবহেলিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الحاضر، ظنا منهم أن تلك القضية ليست من قضايا العقيدة والعبادة، لذلك وضعوا أيديهم بأيدي الكفار، ومنحوهم غاية الحب والمودة والمناصرة، ودافعوا عنهم باللسان والسنان، في الوقت الذي خذلوا فيه أهل الإيمان، وأذاقوهم ألوانا من العذاب.
وهناك دعوة يروِّج لها أعداء الإسلام، ويهذي بها المنافقون والمرتدون والساذجون من مدعي الإسلام، وتلك هي دعوة التقريب بين الأديان، أي بين الرسالات الثلاث: الإسلام، والنصرانية واليهودية، تحت شعار «الدين لله والوطن للجميع».
فقد أصدر مركز الدراسات والأبحاث الاقتصادية والاجتماعية التابع للجامعة التونسية كتاب الملتقى الإسلامي المسيحي وجاء في مقدمة هذا الكتاب الذي كتبه عبد الوهاب بوحدبية ما نصه لقد عقد هذا الملتقى الإسلامي المسيحي الذي دعونا إليه بقرطاج، والحمامات والقيروان في الفترة من 11 إلى 17 نوفمبر سنة (1974) وقد ساهم هذا اللقاء في بناء صرح التفاهم والإخاء بين الأديان (1).
ونحن نريد أن نذكر هؤلاء وأمثالهم بما قرره الله عز وجل في كتابه الكريم من أنه لا لقاء بين الحق والباطل أبدا، وأن أعداء التوحيد في كل زمان ومكان لا يتغيرون، ولا يلتقون مع الحق إلا عندما يذعنون له ويتخلصون من الباطل قال تعالى: (وَلَنْ تَرْضَى عَنْكَ الْيَهُودُ وَلا النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللهِ هُوَ الْهُدَى وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُمْ بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلا نَصِيرٍ) [البقرة: 120]
--------------------------------------------
বর্তমানের (লোকেরা), তাদের ধারণা যে এই বিষয়টি আকিদাহ ও ইবাদতের বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই তারা কাফিরদের হাতের সাথে হাত মিলিয়েছে এবং তাদের প্রতি চূড়ান্ত ভালোবাসা, হৃদ্যতা ও সহযোগিতা প্রদর্শন করেছে; তারা জিহ্বা ও অস্ত্রের মাধ্যমে তাদের পক্ষাবলম্বন করেছে, অথচ সেই একই সময়ে তারা মুমিনদের লাঞ্ছিত করেছে এবং তাদের নানা রঙের আজাব আস্বাদন করিয়েছে।
আর সেখানে একটি আহ্বান রয়েছে যার প্রচারণা চালাচ্ছে ইসলামের শত্রুরা, এবং যা নিয়ে প্রলাপ বকছে মুনাফিক, মুরতাদ ও ইসলাম দাবিদার সরলমনা লোকেরা; আর তা হলো ‘ধর্মসমূহের মধ্যে নৈকট্য’ তৈরির আহ্বান, অর্থাৎ তিনটি রিসালাত: ইসলাম, খ্রিস্টধর্ম ও ইহুদিধর্মের মধ্যে সমন্বয়, যার স্লোগান হলো ‘ধর্ম আল্লাহর জন্য আর স্বদেশ সবার জন্য’।
তিউনিসিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা ও অধ্যয়ন কেন্দ্র ‘ইসলামিক-খ্রিস্টান সম্মেলন’ নামক একটি বই প্রকাশ করেছে। আব্দুল ওয়াহহাব বুহদিবা কর্তৃক লিখিত এই বইটির ভূমিকায় যা এসেছে তার পাঠ নিম্নরূপ: “এই ইসলামিক-খ্রিস্টান সম্মেলনটি যা আমরা কার্টেজ, হাম্মামেত ও কাইরোয়ানে ১৯৭৪ সালের ১১ থেকে ১৭ই নভেম্বর পর্যন্ত আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিলাম, তা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সাক্ষাৎটি ধর্মগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও ভ্রাতৃত্বের সৌধ নির্মাণে অবদান রেখেছে” (১)।
আমরা এদেরকে এবং এদের অনুসারীদেরকে মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা নির্ধারণ করেছেন তা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, সত্য ও মিথ্যার মধ্যে কখনোই কোনো মিলন হতে পারে না। আর তাওহিদের শত্রুরা সব যুগে ও সব স্থানে অপরিবর্তিত থাকে; তারা সত্যের সাথে মিলিত হয় না যতক্ষণ না তারা এর সামনে আত্মসমর্পণ করে এবং মিথ্যা থেকে মুক্ত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: “আর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা কখনোই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না যতক্ষণ না আপনি তাদের মিল্লাত বা ধর্মের অনুসরণ করেন। আপনি বলুন, আল্লাহর হিদায়াতই হলো প্রকৃত হিদায়াত। আর আপনার কাছে জ্ঞান আসার পর যদি আপনি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করেন, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী থাকবে না।” [সূরা আল-বাকারাহ: ১২০]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
فقد اقتضت حكمة الله سبحانه وتعالى، أن يبتلي خيار هذه الأمة بشرارها، ومؤمنيها بفجارها، وعلماءها بجهالها، وهذه سنة الله التي قد خلت من قبل ولن تجد لسنة الله تبديلاً.
ولذلك فإن حاجة المسلمين ماسَّة في هذا العصر، إلى أن يعودوا إلى تحقيق الموالاة فيما بينهم، والمعاداة مع أعدائهم، حيث قد تداعت عليهم قوى الكفر والظلم والطغيان من كل حدب وصوب، وتنادى الجميع للقضاء على هذا الدين بوسائلهم المختلفة، ولن يقف في وجه هذه الحرب الصليبية اليهودية الوثنية، المتواطئة مع المرتدين والمنافقين، وسفهاء المسلمين، سوى اتحاد المسلمين وتلاحمهم صفًا واحدًا، كما قال تعالى: (إِنَّ اللهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصٌ) [الصف: 4].
وكما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم «مثل المؤمنين في توادهم وتلاحمهم، وتعاطفهم، مثل الجسد، إذا اشتكى منه عضو، تداعى له سائر الجسد بالسهر والحمى» (1).
ولا شك لديَّ في أن القيام بمهمة البحث في هذا الموضوع على وجه الدقة والكمال أمر يحتاج إلى قدرة لا أدعيها لنفسي ومران أفتقده ولكنها المحاولة، وحسبي منها أن أبذل ما في وسعي وطاقتي من جهد من أجل إبراز الصورة المثلى التي رسمها القرآن الكريم والهدي النبوي وتناولها علماء الإسلام والأعلام بالتوضيح والبيان فيما تفرق من مباحثهم ودراساتهم في هذا الموضوع.
فإن أحسنت فما توفيقي إلا بالله، وأشكره سبحانه وتعالى على ذلك،
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার হিকমত বা প্রজ্ঞা এটাই দাবি করেছে যে, তিনি এই উম্মতের উত্তম ব্যক্তিদের তাদের অধম ব্যক্তিদের দ্বারা, মুমিনদের পাপাচারীদের দ্বারা এবং আলেমদের মূর্খদের দ্বারা পরীক্ষা করবেন। এটিই আল্লাহর সেই চিরন্তন নিয়ম যা পূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে, আর আপনি আল্লাহর নিয়মে কোনো পরিবর্তন পাবেন না।
এ কারণে বর্তমান যুগে মুসলমানদের জন্য এই প্রয়োজন অত্যন্ত তীব্র হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তারা নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতা ও আনুগত্য এবং তাদের শত্রুদের সাথে শত্রুতা ও বিমুখতার স্বরূপ অর্জনে সচেষ্ট হবে। কেননা কুফর, জুলুম ও স্বৈরাচারের শক্তিগুলো প্রতিটি দিক থেকে তাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে এবং এই দ্বীনকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য তারা তাদের বিভিন্ন উপায়ে একে অপরকে আহ্বান করছে। মুরতাদ, মুনাফিক ও মুসলিমদের নির্বোধদের সাথে আঁতাতকারী এই ক্রুসেডার-ইয়াহুদি-পৌত্তলিক যুদ্ধের মোকাবিলায় মুসলমানদের ঐক্য এবং এক সারিতে সুসংহত হওয়া ছাড়া আর কিছুই রুখে দাঁড়াতে পারবে না, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: (নিশ্চয় আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, যেন তারা এক সীসাঢালা প্রাচীর) [আস-সাফ: ৪]।
এবং যেমন আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "পরস্পর সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও দয়া প্রদর্শনের ক্ষেত্রে মুমিনদের উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়; যখন দেহের কোনো অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন পুরো দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে তার ব্যথায় শরিক হয়" (১)।
আমার এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিষয়টি সূক্ষ্ম ও সার্থকভাবে গবেষণার দায়িত্ব পালন করা এমন একটি কাজ যার জন্য যে সক্ষমতা প্রয়োজন তা আমি নিজের জন্য দাবি করি না এবং যে অভিজ্ঞতার অভাব আমার রয়েছে; তবে এটি একটি প্রচেষ্টা মাত্র। আর আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, আমি পবিত্র কুরআন ও নববী হেদায়েতের আলোকে সেই আদর্শ রূপটি ফুটিয়ে তুলতে আমার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করি, যা ইসলামের বরেণ্য আলেমগণ তাঁদের বিভিন্ন আলোচনা ও গবেষণায় সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন।
যদি আমি ভালো কিছু করে থাকি তবে আমার সেই তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আর এর জন্য আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وإن أخطأت، أو قصرت فما تجاوزت قدري «كل ابن آدم خطاء وخير الخطائين التوابون» (1).
فأستغفر الله، وأتوب إليه، وحسبي أني كنت حريصًا أن لا يقع ذلك مني وأتوسل إليه في طلب عفوه وغفرانه، بحسن النية وقصد الثواب إنه هو الغفور الرحيم
المؤلف
محماس بن عبد الله بن محمد الجلعود
--------------------------------------------
আর যদি আমি ভুল করি বা কোনো ত্রুটি করি, তবে আমি আমার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করিনি; "আদমের সকল সন্তানই ভুলকারী, আর ভুলকারীদের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম যারা তওবা করে" (১)।
অতএব আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে তওবা করছি। আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আমার পক্ষ থেকে যেন এমন কোনো ভুল না ঘটে সে ব্যাপারে আমি সচেষ্ট ছিলাম। আমি তাঁর নিকট নেক নিয়ত ও সওয়াবের প্রত্যাশার মাধ্যমে তাঁর মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।
লেখক
মিহমাস বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-জালউদ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
التمهيدويتكون من أربعة مباحث:
المبحث الأول: المفهوم اللغوي للموالاة والتولي.
المبحث الثاني: المفهوم اللغوي للمعاداة.
المبحث الثالث: المفهوم الشرعي للموالاة والتولي والمعاداة.
المبحث الرابع: ارتباط عنوان الرسالة بالمعنى الاصطلاحي للشريعة الإسلامية.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকাএটি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুওয়ালাত এবং তাওয়াল্লির আভিধানিক অর্থ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মু’য়াদাতের আভিধানিক অর্থ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুওয়ালাত, তাওয়াল্লি এবং মু’য়াদাতের শরয়ী অর্থ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইসলামী শরীয়তের পারিভাষিক অর্থের সাথে গবেষণাপত্রের শিরোনামের সম্পৃক্ততা।
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الأول: المفهوم اللغوي للموالاة والتوليلم يرد في القرآن الكريم، ولا في كتب الصحاح لفظ موالاة وإنما روى الطبراني في الكبير، عن ابن عباس رضي الله عنهما «أوثق عرى الإيمان، الموالاة في الله والمعاداة في الله، والحب في الله، والبغض في الله» (1) اهـ.
والموالاة مصدر (والى) يوالي موالاة (2).
ولفظ الموالاة، أعم من التولي، حيث أن الموالاة هي المحبة (3).
بغض النظر عن درجة هذا الحب ومرتبته، فكل من أحببته وأعطيته،
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: মুওয়ালাত এবং তাওয়াল্লি-এর ভাষাগত ধারণাপবিত্র কুরআনে কিংবা সিহাহর (বিশুদ্ধ হাদীস) গ্রন্থসমূহে 'মুওয়ালাত' শব্দটি (এই শব্দরূপে) আসেনি। তবে তাবারানি তাঁর 'আল-কাবীর' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "ঈমানের সবচেয়ে মজবুত হাতল হলো—আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব করা, আল্লাহর জন্য শত্রুতা করা, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা।" (১) সমাপ্ত।
আর 'মুওয়ালাত' হলো (ওয়ালা) ইউওয়ালি-এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল (২)।
আর 'মুওয়ালাত' শব্দটি 'তাওয়াল্লি' শব্দের চেয়ে অধিক ব্যাপক, কারণ 'মুওয়ালাত' হলো ভালোবাসা (৩)।
এই ভালোবাসার স্তর ও পর্যায় যা-ই হোক না কেন; সুতরাং আপনি যাকে ভালোবাসলেন এবং যাকে প্রদান করলেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ابتداء من غير مكافأة فقد أوليته، وواليته، والمعنى أي أدنيته إلى نفسك (1).
والموالاة ضد المعاداة يقال: (والى بينهما ولاء) أي: تابع بينهما متابعة، وافعل هذه الأشياء على (الولاء) أي المتابعة (2) ،.
أما التولي: فهو تقديم كامل المحبة والنصرة للمتولىَّ بحيث يكون المتولَّي مع المتولَّى كالظل مع الجسم (3).
قال ابن الأعرابي (4): الموالاة أن يتشاجر اثنان فيدخل بينهما ثالث للصلح ويكون له في أحدهما هوى، فيواليه أو يحابيه على الآخر (5) اهـ.
ووالى فلان فلانًا، إذا أحبه وقربه وأدناه إليه (6).
ويقول الدكتور/ محمد نعيم ياسين: الموالاة مشتقة من الولاء وهو الدنو والقرب، والولاية، ضد العداوة، والولي عكس العدو (7) اهـ فالمؤمنون أولياء الرحمن، والكافرون أولياء الشيطان لقرب الفريق الأول من الله بطاعته وعبادته، وقرب الفريق الثاني من الشيطان بطاعته واتباعه وبعدهم عن الله بعصيانه ومخالفته (8).
--------------------------------------------
কোনো প্রতিদান ছাড়াই শুরু করা, তবে আপনি তাকে আপন করে নিয়েছেন এবং তার বন্ধু হয়েছেন; এর অর্থ হলো আপনি তাকে আপনার নিজের নিকটবর্তী করেছেন (১)।
মুয়ালাত হলো শত্রুতার বিপরীত। বলা হয়: (ওয়লা বাইনাহুমা ওয়ালা-আন) অর্থাৎ: তাদের মাঝে একে অপরের অনুগমন করা। আর এই কাজগুলো 'ওয়ালা' অর্থাৎ ধারাবাহিকতার সাথে সম্পন্ন করুন (২)।
আর তাওয়াল্লি হলো: যাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে তার প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা ও সাহায্য নিবেদন করা, যাতে বন্ধু ও যার সাথে বন্ধুত্ব করা হয়েছে তাদের সম্পর্ক দেহের সাথে ছায়ার মতো হয় (৩)।
ইবনুল আরাবি (৪) বলেন: মুয়ালাত হলো দুইজন বিবাদে লিপ্ত হওয়া এবং তৃতীয় কোনো ব্যক্তি তাদের মাঝে মীমাংসার জন্য প্রবেশ করা, তবে তাদের একজনের প্রতি তার ঝোঁক থাকে, ফলে সে তাকে সাহায্য করে বা অন্যের ওপর তাকে পক্ষপাতিত্ব দেখায় (৫) সমাপ্ত।
অমুক ব্যক্তি অমুককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে, এর অর্থ সে তাকে ভালোবাসে, কাছে রাখে এবং নিজের নিকটবর্তী করে (৬)।
ড. মুহাম্মদ নাঈম ইয়াসিন বলেন: মুয়ালাত শব্দটি 'ওয়ালা' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো নৈকট্য ও নিকটবর্তী হওয়া। আর 'উলাইয়াহ' শত্রুতার বিপরীত, এবং 'ওয়ালি' (বন্ধু) হলো 'আদু' (শত্রু)-এর বিপরীত (৭) সমাপ্ত। সুতরাং মুমিনগণ হলেন রহমানের বন্ধু এবং কাফিররা হলো শয়তানের বন্ধু; কারণ প্রথম দলটি আল্লাহর আনুগত্য ও ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর নিকটবর্তী হয়েছে, আর দ্বিতীয় দলটি শয়তানের আনুগত্য ও অনুসরণের মাধ্যমে তার নিকটবর্তী হয়েছে এবং নাফরমানি ও অবাধ্যতার মাধ্যমে আল্লাহ থেকে দূরে সরে গেছে (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
يقول الأزهري (1): للموالاة معنى آخر، سمعت العرب تقول: (والوا حواشي نعمكم عن جلتها) أي اعزلوا صغارها عن كبارها (2) اهـ والتولي، مصدر تولي أي اتخذه وليا (3).
فالتولي إذا بمعنى الاتخاذ والاتباع المطلق وهو يعني الانقطاع الكامل في نصرة المتبع وتقريبه وتأييده، و (التولية) مصدر (ولى) أي انصرف ذاهبًا (4).
فالتولي أخص من الموالاة، فكل (تولي) داخل في مفهوم الموالاة وليس كل موالاة داخلة في مفهوم التولي كما أسلفنا.
والتولي يرد بعدة معان:
منها النصرة كما في قوله تعالى: (إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللهُ عَنِ الَّذِينَ قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ وَظَاهَرُوا عَلَى إِخْرَاجِكُمْ أَنْ تَوَلَّوْهُمْ وَمَنْ يَتَوَلهُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ) [الممتحنة: 6] أي تنصروهم يعني أهل مكة، قال ذلك الفراء (5).
--------------------------------------------
আল-আযহারী (১) বলেন: মুওয়ালাত-এর আরেকটি অর্থ রয়েছে; আমি আরবদের বলতে শুনেছি: (তোমাদের গবাদিপশুর ছোটগুলোকে বড়গুলো থেকে আলাদা করো) অর্থাৎ ছোটগুলোকে বড়গুলো থেকে পৃথক করো (২)। সমাপ্ত। আর তাওয়াল্লি শব্দটি 'তাওয়াল্লা' এর ক্রিয়ামূল (মাসদার), যার অর্থ হলো তাকে বন্ধু বা অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করা (৩)।
সুতরাং তাওয়াল্লি যখন গ্রহণ করা এবং নিঃশর্ত অনুসরণের অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তার অর্থ দাঁড়ায়—যাকে অনুসরণ করা হচ্ছে তাকে সাহায্য করা, তার নিকটবর্তী হওয়া এবং তাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে আত্মনিয়োগ করা। আর 'তাওলিয়া' শব্দটি 'ওয়াল্লা' এর ক্রিয়ামূল, যার অর্থ হলো ফিরে যাওয়া বা প্রস্থান করা (৪)।
অতএব, তাওয়াল্লি শব্দটি মুওয়ালাত অপেক্ষা অধিকতর সুনির্দিষ্ট। সুতরাং প্রতিটি 'তাওয়াল্লি' মুওয়ালাত-এর ধারণার অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু প্রতিটি 'মুওয়ালাত' তাওয়াল্লি-এর ধারণার অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
আর তাওয়াল্লি শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
তার মধ্যে একটি হলো সাহায্য করা, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (আল্লাহ কেবল তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করতে তোমাদের নিষেধ করছেন, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদের বের করে দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, তারাই তো জালেম) [মুমতাহিনা: ৬]। অর্থাৎ তোমরা তাদের সাহায্য করবে—এখানে মক্কাবাসীদের বোঝানো হয়েছে; আল-ফাররা (৫) এটি বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تفسيرًا لمعنى قوله (أَنْ تَوَلَّوْهُمْ) وقال أبو منصور: جعل التولي ههنا بمعنى النصرة، من الولي والمولى وهو الناصر والمعين (1) اهـ.
وقال تعالى: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَوَلَّوْا قَوْمًا غَضِبَ اللهُ عَلَيْهِمْ) [الممتحنة: 13].
قال ابن عباس: أي لا توالوهم، ولا تناصحوهم (2).
ويأتي التولي بمعنى الإدبار والإعراض، قال تعالى: (وَلا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ) [هود: 52] أي تدبروا عما أدعوكم إليه (3) ويأتي بمعنى قام وبدأ، قال تعالى: (وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ) [النور: 11] أي قام بمعظم ذلك القول وبدأ فيه (4).
ومن استعمالات كلمة (تولى) بمعنى ذهب وانصرف، قول الله تعالى: (فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ) [القصص: 24] أي انصرف وذهب إليه (5).
وتأتي بمعنى اتبع، قال الله تعالى: (كُتِبَ عَلَيْهِ أَنَّهُ مَنْ تَوَلاهُ فَأَنَّهُ يُضِلُّهُ) [الحج: 4] وتأتي بمعنى استأخر وكن قريبا منه، قال تعالى: (اذْهَبْ
--------------------------------------------
(তাদের সাথে বন্ধুত্ব করা) কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আবু মানসুর বলেন: এখানে 'তাওয়াল্লি' (বন্ধুত্ব) শব্দটিকে সাহায্য করা অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে, যা 'ওয়ালি' এবং 'মাওলা' শব্দ থেকে এসেছে; আর এর অর্থ হলো সাহায্যকারী এবং সহযোগী। (১) সমাপ্ত।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: (হে মুমিনগণ, তোমরা সেই সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করো না যাদের প্রতি আল্লাহ রাগান্বিত হয়েছেন) [আল-মুমতাহিনা: ১৩]।
ইবনে আব্বাস বলেন: অর্থাৎ তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না এবং তাদের কল্যাণ কামনা করো না (২)।
'তাওয়াল্লি' কখনো পৃষ্ঠপ্রদর্শন করা এবং বিমুখ হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়; আল্লাহ তাআলা বলেন: (এবং তোমরা অপরাধী হিসেবে মুখ ফিরিয়ে নিও না) [হুদ: ৫২], অর্থাৎ আমি তোমাদের যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করছি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না (৩)। আর এটি কোনো কাজ পরিচালনা করা ও শুরু করা অর্থেও আসে; আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর তাদের মধ্যে যে এই অপবাদের বড় অংশটি পরিচালনা করেছে, তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি) [আন-নূর: ১১], অর্থাৎ যে সেই কথার অধিকাংশ প্রচার করেছে এবং তা শুরু করেছে (৪)।
'তাওয়াল্লা' শব্দটির অন্যতম ব্যবহার হলো চলে যাওয়া ও প্রস্থান করা; আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতঃপর তিনি তাদের উভয়ের পশুকে পানি পান করালেন এবং ছায়ার দিকে ফিরে গেলেন) [আল-কাসাস: ২৪], অর্থাৎ তিনি প্রস্থান করলেন এবং সেদিকে চলে গেলেন (৫)।
আর এটি অনুসরণ করা অর্থেও আসে; আল্লাহ তাআলা বলেন: (তার ব্যাপারে লিখে দেওয়া হয়েছে যে, যে ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে) [আল-হাজ্জ: ৪]। আবার এটি পিছিয়ে থাকা এবং কাছে থাকা অর্থেও আসে; আল্লাহ তাআলা বলেন: (যাও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بِكِتَابِي هَذَا فَأَلْقِهْ إِلَيْهِمْ ثُمَّ تَوَلَّ عَنْهُمْ) [النمل: 28] أي استأخر غير بعيد (1). أو كن قريبًا منهم (2).
وتأتي كلمة (تولى) بمعنى فوض واتخذ قال تعالى: (وَمَنْ يَتَوَلَّ اللهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللهِ هُمُ الْغَالِبُونَ) [المائدة: 56] أي: من فوض أمره إلى الله وامتثل أمر رسوله صلى الله عليه وسلم ووالى المسلمين على ذلك، فهو من حزب الله، وقيل: أي من يتخذ القيام بطاعة الله ونصرة رسوله والمؤمنين فهو من حزب الله (3)، وإن حزب الله لهم الغالبون.
وتأتي، بمعنى عصى ويعصي، قال تعالى: (وَمَنْ يَتَوَلَّ يُعَذِّبْهُ عَذَابًا أَلِيمًا) [الفتح: 17] أي يعصي الله ورسوله، فيتخلف عن قتال المشركين (4) وتأتي كلمة (تولى) بمعنى يطيع، قال تعالى: (إِنَّمَا سُلْطَانُهُ عَلَى الَّذِينَ يَتَوَلَّوْنَهُ وَالَّذِينَ هُمْ بِهِ مُشْرِكُونَ) [النحل: 100].
أي: يطيعونه ويشركونه بالله (5).
ولفظ (ولي) يأتي موافقا لمعنى الموالاة التي هي المحبة والنصرة، في بعض استعمالاته، وإن كان يستعمل في معان عديدة.
(الولي) اسم من أسماء الله تعالى، والولي هو الناصر، وقيل: المتولي لأمور العالم والخلائق القائم بها (6).
--------------------------------------------
(আমার এই পত্র নিয়ে যাও, অতঃপর তা তাদের কাছে নিক্ষেপ কর, তারপর তাদের থেকে সরে দাঁড়াও) [আন-নামল: ২৮] অর্থাৎ খুব দূরে নয় এমনভাবে সরে দাঁড়াও (১)। অথবা তাদের কাছাকাছি অবস্থান করো (২)।
এবং (তাওয়াল্লা) শব্দটি সোপর্দ করা ও গ্রহণ করা অর্থে আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, তবে নিশ্চয় আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে) [আল-মায়িদাহ: ৫৬] অর্থাৎ: যে ব্যক্তি নিজের বিষয়াদি আল্লাহর প্রতি সোপর্দ করে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ পালন করে আর সেই ভিত্তিতে মুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব বজায় রাখে, সে আল্লাহর দলের অন্তর্ভুক্ত। আবার বলা হয়েছে: অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনদের সাহায্যের দায়িত্ব গ্রহণ করে, সে আল্লাহর দলের অন্তর্ভুক্ত (৩); আর নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই বিজয়ী।
এবং এটি অবাধ্য হওয়া অর্থেও আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর যে ব্যক্তি বিমুখ হবে, তিনি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন) [আল-ফাতহ: ১৭] অর্থাৎ যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে, ফলে মুশরিকদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকবে (৪)। আবার (তাওয়াল্লা) শব্দটি আনুগত্য করা অর্থেও আসে। আল্লাহ তাআলা বলেন: (তার আধিপত্য তো কেবল তাদের ওপর যারা তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে এবং যারা তাঁর সাথে শিরক করে) [আন-নাহল: ১০০]।
অর্থাৎ: তারা তার আনুগত্য করে এবং তাকে আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করে (৫)।
আর (ওয়ালি) শব্দটি এর কিছু ব্যবহারে 'মুয়ালাত' বা বন্ধুত্বের অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, যার অর্থ ভালোবাসা ও সাহায্য করা, যদিও এটি আরও বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(আল-ওয়ালি) আল্লাহ তাআলার নামসমূহের একটি নাম। আর আল-ওয়ালি হলেন সাহায্যকারী। আবার বলা হয়েছে: তিনি বিশ্বজগৎ ও সৃষ্টিজীবের যাবতীয় বিষয় পরিচালনাকারী ও তা নির্বাহকারী (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ومن أسمائه عز وجل: الوالي، وهو المالك للأشياء جميعها المتصرف فيها (1).
قال ابن الأثير (2): وكأن الولاية تشعر بالتدبير والقدرة والفعل، وما لم يجتمع ذلك فيها لم ينطلق عليه اسم الوالي (3) اهـ.
ومن استعمالات (الولي) بمعنى الناصر (4) قول الله تعالى: (اللهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ) [البقرة: 257] فالولي فعيل بمعنى فاعل، قال الخطابي (5): الولي الناصر ينصر عباده المؤمنين (6) اهـ.
ويقال: تولاك الله، أي وليك الله، ويكون بمعنى نصرك الله (7).
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে একটি হলো: আল-ওয়ালী (অভিভাবক ও পরিচালক), আর তিনি হলেন সমস্ত বস্তুর মালিক এবং সেগুলোর ওপর পূর্ণ কর্তৃত্বশীল (১)।
ইবনুল আসীর (২) বলেন: মনে হয় ‘ওয়ালায়াহ’ (কর্তৃত্ব) বলতে ব্যবস্থাপনা, ক্ষমতা ও কর্ম সম্পাদনকে বোঝায়; আর যতক্ষণ পর্যন্ত এর মধ্যে এসব বিষয় একত্রিত না হয়, ততক্ষণ তাকে ‘ওয়ালী’ নাম প্রদান করা যায় না (৩) শেষ।
সাহায্যকারী অর্থে ‘আল-ওয়ালী’ শব্দের প্রয়োগের মধ্যে (৪) মহান আল্লাহর বাণী হলো: (আল্লাহ মুমিনদের অভিভাবক (সাহায্যকারী), তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন) [আল-বাকারা: ২৫৭]। এখানে ‘ওয়ালী’ শব্দটি ‘ফায়িল’ (কর্তা) অর্থে ‘ফায়ীল’ ছাঁচ। খাত্তাবী (৫) বলেন: আল-ওয়ালী হলেন সেই সাহায্যকারী যিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের সাহায্য করেন (৬) শেষ।
আর বলা হয়ে থাকে: ‘তাওয়াল্লাকাল্লাহ’, অর্থাৎ আল্লাহ আপনার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করুন, আর এটি ‘আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন’ অর্থ বহন করে (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ومنه قوله تعالى: (فَإِنَّ اللهَ هُوَ مَوْلاهُ وَجِبْرِيلُ وَصَالِحُ الْمُؤْمِنِينَ) [التحريم 4] أي، وليه وناصره عليهم (1).
وقال تعالى: (قُلْ لَنْ يُصِيبَنَا إِلا مَا كَتَبَ اللهُ لَنَا هُوَ مَوْلانَا وَعَلَى اللهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ) [التوبة: 51] فمعنى (مَوْلانَا) أي: ناصرنا (2)، وقال تعالى: (أَنْتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ) [يوسف: 101]، فقوله: (أَنْتَ وَلِيِّي) أي: ناصري (3)، وقال تعالى: (إِنَّ وَلِيِّيَ اللهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ) [الأعراف: 196] أي نصيري وظهيري (4).
وفي الحديث اللهم آت نفسي تقواها، وزكِّها أنت خير من زكّاها أنت وليها ومولاها (5).
والولي: الله عز وجل: أي الناصر والكافي، والولاءة والولي كلها مصادر ولي (6).
و (الولي) يطلق ويراد به القريب في النسب، قال تعالى: (فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ) [فصلت: 34] أي كأنه قريب شفيق (7).
و (المولى) يطلق ويراد به الناصر والمؤيد، قال تعالى: (ذَلِكَ بِأَنَّ اللهَ
--------------------------------------------
এবং এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই আল্লাহ হলেন তাঁর অভিভাবক এবং জিবরাঈল ও মুমিনদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ তারাও) [আত-তাহরীম: ৪] অর্থাৎ, তাদের বিরুদ্ধে তিনি তাঁর অভিভাবক ও সাহায্যকারী (১)।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: (বলুন, আল্লাহ আমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু আমাদের উপর আপতিত হবে না, তিনিই আমাদের অভিভাবক। আর আল্লাহর উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত) [আত-তাওবাহ: ৫১]। এখানে (আমাদের মাওলা) এর অর্থ হলো: আমাদের সাহায্যকারী (২)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: (দুনিয়া ও আখিরাতে আপনিই আমার অভিভাবক; আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন) [ইউসুফ: ১০১]। এখানে তাঁর বাণী: (আপনিই আমার ওয়ালী) এর অর্থ হলো: আমার সাহায্যকারী (৩)। এবং মহান আল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই আমার অভিভাবক হলেন আল্লাহ, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি নেককারদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন) [আল-আরাফ: ১৯৬] অর্থাৎ আমার সাহায্যকারী ও পৃষ্ঠপোষক (৪)।
এবং হাদীসে এসেছে: হে আল্লাহ! আপনি আমার আত্মাকে তার তাকওয়া দান করুন এবং একে পবিত্র করুন, আপনিই একে পবিত্র করার জন্য সর্বোত্তম, আপনিই এর অভিভাবক ও মাওলা (৫)।
আর 'আল-ওয়ালী' হলেন মহান আল্লাহ: অর্থাৎ সাহায্যকারী ও যথেষ্টকারী। আর 'আল-ওয়ালাআহ' ও 'আল-ওয়ালী' শব্দগুলো সবই 'ওয়ালী' ধাতুমূল থেকে আগত (৬)।
আর (আল-ওয়ালী) শব্দটি বংশীয় নিকটাত্মীয় বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: (ফলে যার সাথে তোমার শত্রুতা ছিল, সে যেন তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যাবে) [ফুসসিলাত: ৩৪] অর্থাৎ সে যেন একজন দয়ালু নিকটাত্মীয় (৭)।
আর (আল-মাওলা) শব্দটি সাহায্যকারী ও সমর্থনকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: (এটি এ কারণে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مَوْلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَأَنَّ الْكَافِرِينَ لا مَوْلَى لَهُمْ) [محمد: 11] أي أن الله ناصر وولي من آمن به، وأما الكافرون لا ناصر ولا ولي لهم (1).
وقال تعالى: (بَلِ اللهُ مَوْلاكُمْ وَهُوَ خَيْرُ النَّاصِرِينَ) [آلعمران: 150] أي وليكم وناصركم (2)، ويطلق لفظ (المولى) ويراد به القريب قال تعالى: (يَوْمَ لا يُغْنِي مَوْلًى عَنْ مَوْلًى شَيْئًا وَلا هُمْ يُنْصَرُونَ) [الدخان: 41] أي لا يدافع ابن عم عن ابن عم، ولا صاحب عن صاحبه (3).
ويطلق (المولى) ويراد به الحليف والمعين والنصير، وهو من انضم إليك فعز بعزك وامتنع بمنعتك، قال عامر الخصفي من بني خصفة:
هم المولى وإن جنفوا علينا
… وإنا من لقائهم لزور (4)
وكلمة (أولياء) جمع ولي، وتأتي بعدة معانٍ هي:
معنى النصرة أو الأنصار قال تعالى: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ) [الممتحنة: 1] أي أنصارًا (5)، قال تعالى: (وَالَّذِينَ كَفَرُوا بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ) [الأنفال: 73] أي: يتناصرون بدينهم ويتعاملون باعتقادهم (6).
--------------------------------------------
(যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের অভিভাবক, আর কাফিরদের কোনো অভিভাবক নেই) [মুহাম্মাদ: ১১] অর্থাৎ আল্লাহ হলেন তাদের সাহায্যকারী ও অভিভাবক যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, আর কাফিরদের কোনো সাহায্যকারী বা অভিভাবক নেই (১)।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: (বরং আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক এবং তিনি শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী) [আল-ইমরান: ১৫০] অর্থাৎ তোমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী (২), এবং 'মাওলা' শব্দটি নিকটাত্মীয় অর্থেও ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: (সেদিন কোনো আত্মীয় অপর কোনো আত্মীয়ের কোনো উপকারে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না) [আদ-দুখান: ৪১] অর্থাৎ কোনো চাচাতো ভাই অপর চাচাতো ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে প্রতিরোধ করবে না এবং কোনো বন্ধু তার বন্ধুর পক্ষ নেবে না (৩)।
এবং 'মাওলা' দ্বারা মিত্র, সাহায্যকারী ও সমর্থনকারীও বোঝানো হয়; সে এমন ব্যক্তি যে তোমার সাথে যুক্ত হয়েছে, ফলে তোমার সম্মানে সে সম্মানিত হয়েছে এবং তোমার শক্তির মাধ্যমে সে সুরক্ষিত হয়েছে। বনু খাসফাহ গোত্রের আমির আল-খাসফি বলেন:
তারাই অভিভাবক যদিও তারা আমাদের প্রতি অবিচার করে
… এবং আমরা তাদের সাক্ষাত হতে বিমুখ (৪)
আর 'আউলিয়া' শব্দটি 'ওয়ালি' এর বহুবচন, এবং এটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
সাহায্য বা সাহায্যকারী অর্থে। মহান আল্লাহ বলেন: (হে মুমিনগণ, তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না) [আল-মুমতাহিনা: ১] অর্থাৎ সাহায্যকারী হিসেবে (৫), মহান আল্লাহ বলেন: (আর যারা কুফরি করেছে তারা একে অপরের বন্ধু) [আল-আনফাল: ৭৩] অর্থাৎ: তারা তাদের দ্বীনের ভিত্তিতে একে অপরকে সাহায্য করে এবং তাদের আকিদার ভিত্তিতে একে অপরের সাথে লেনদেন করে (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال تعالى: (وَمَا كَانَ لَهُمْ مِنْ دُونِ اللهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ) [هود: 20] أي أنصار ينصرونهم، ويحولون بينهم وبين الله عز وجل (1) وتأتي كلمة (أولياء) بمعنى أنصار، قال تعالى: (وَلَوْ كَانُوا يُؤمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنزِلَ إلَيهِ مَا اتَّخَذُوهُم أَوْلِيَاءَ) [المائدة: 81] أي يؤاخونهم بالمودة ويستنصرونهم (2).
وترد كلمة (أولياء) بمعنى الخاصة والبطانة قال تعالى: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ) [النساء: 144] أي لا تجعلوا خاصتكم وبطانتكم منهم (3)، وقال تعالى: (الَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ أَيَبْتَغُونَ عِنْدَهُمُ الْعِزَّةَ فَإِنَّ الْعِزَّةَ للهِ جَمِيعًا) [النساء: 139] أي يتخذون الكافرين أعوانا وأنصارا (4) يتعززون بهم، ويستنصرون (5).
وتأتي كلمة (أولياء) بمعنى الاتحاد والتجانس، قال تعالى (وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ) [التوبة: 71] أي قلوبهم متحدة، في التواد والتحاب والتعاطف، غير ذلك من الأمور (6).
وتطلق كلمة (أولياء) ويراد بها الأصنام قال تعالى: (أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ فَاللهُ هُوَ الْوَلِيُّ وَهُوَ يُحْيِي الْمَوْتَى وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ) [الشورى آية: 9].
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর আল্লাহ ছাড়া তাদের কোনো সাহায্যকারী ছিল না) [হূদ: ২০] অর্থাৎ এমন সাহায্যকারী যারা তাদের সাহায্য করবে এবং তাদের ও মহান আল্লাহর মাঝে অন্তরায় হবে (১)। ‘আউলিয়া’ শব্দটি ‘সাহায্যকারী’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়, আল্লাহ তাআলা বলেন: (তারা যদি আল্লাহ, নবী এবং তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান আনত, তবে তারা তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না) [আল-মায়িদাহ: ৮১] অর্থাৎ তারা ভালোবাসার মাধ্যমে তাদের সাথে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করত এবং তাদের সাহায্য প্রার্থনা করত (২)।
‘আউলিয়া’ শব্দটি ‘ঘনিষ্ঠজন’ এবং ‘অন্তরঙ্গ বন্ধু’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়, আল্লাহ তাআলা বলেন: (হে মুমিনগণ! মুমিনদের পরিবর্তে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না) [আন-নিসা: ১৪৪] অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে তোমাদের ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ বন্ধু বানিও না (৩)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: (যারা মুমিনদের পরিবর্তে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারা কি তাদের কাছে সম্মান তালাশ করে? অথচ সমস্ত সম্মান তো আল্লাহরই) [আন-নিসা: ১৩৯] অর্থাৎ তারা কাফেরদেরকে সহযোগী ও সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করে (৪) যাদের মাধ্যমে তারা সম্মান পেতে চায় এবং সাহায্য কামনা করে (৫)।
‘আউলিয়া’ শব্দটি ‘ঐক্য’ এবং ‘সাজুয্য’ অর্থেও ব্যবহৃত হয়, আল্লাহ তাআলা বলেন: (আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু) [আত-তাওবাহ: ৭১] অর্থাৎ হৃদ্যতা, ভালোবাসা ও সহমর্মিতাসহ অন্যান্য বিষয়ে তাদের অন্তরসমূহ ঐক্যবদ্ধ (৬)।
‘আউলিয়া’ শব্দটি মূর্তিদের বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়, আল্লাহ তাআলা বলেন: (তবে কি তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যদেরকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে? অথচ আল্লাহই তো একমাত্র অভিভাবক এবং তিনিই মৃতদেরকে জীবিত করেন এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান) [আশ-শুরা আয়াত: ৯]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
يعني أصناما (1) وقال تعالى: (أَلا للهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللهِ زُلْفَى) [الزمر: 3] فمعنى (أولياء) أي أصناما (2)، و (الولاية) تقرأ بالفتح والكسر قال تعالى: (هُنَالِكَ الْوَلايَةُ للهِ الْحَقِّ) [الكهف: 44].
قال ابن السكيت (3): الولاية بالكسر السلطان والإمارة والملك، والولاية بالفتح النصرة، يقال هم على ولاية، أي مجتمعون في النصرة (4) اهـ.
وقال سيبويه (5): الولاية بالفتح المصدر، والولاية بالكسر الاسم،
--------------------------------------------
অর্থাৎ প্রতিমাসমূহ (১) এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (জেনে রেখো, আল্লাহর জন্যই বিশুদ্ধ আনুগত্য। আর যারা তাঁর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা বলে: আমরা তাদের ইবাদত করি না তবে কেবল এজন্য যে, তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দিবে।) [আয-যুমার: ৩] এখানে 'আউলিয়া' (অভিভাবক) শব্দের অর্থ হলো প্রতিমাসমূহ (২)। আর 'আল-ওয়ালায়াহ' শব্দটি ফাতহা (যবর) ও কাসরা (যের) উভয়ভাবে পড়া যায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (সেখানে কর্তৃত্ব কেবল সত্য আল্লাহর।) [আল-কাহফ: ৪৪]।
ইবনুল সিক্কীত (৩) বলেছেন: কাসরা যোগে 'উইলায়াহ' অর্থ হলো ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও রাজত্ব; আর ফাতহা যোগে 'ওয়ালায়াহ' অর্থ হলো সাহায্য। বলা হয় 'তারা ওয়ালায়াহর ওপর রয়েছে', অর্থাৎ তারা সাহায্য করার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ (৪)।
সিবওয়াইহ (৫) বলেছেন: ফাতহা যোগে 'ওয়ালায়াহ' হলো ক্রিয়ামূল (মাসদার), আর কাসরা যোগে 'উইলায়াহ' হলো বিশেষ্য (ইসম),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
مثل الإمارة والنقابة، لأنه اسم لما توليته وقمت به، فإذا أرادوا المصدر فتحوا وإذا أرادوا الاسم كسروا (1) اهـ.
وكان الكسائي (2) يفتحها ويذهب بها إلى النصرة (3)، وقال الفراء (4): سمعناها بالفتح وبالكسر في الولاية (5) وفي معنييهما جميعًا، وأنشد هذا البيت:
دعيهم فهم إلب على ولاية
… وحفر هموا أن يعلموا ذاك دائب (6).
و (الولاية) القرابة والتصرف، الحاصلة بالسبب أو النسب، و (الولاء) بالكسر لغة: المتابعة، والموالاة عند الفقهاء، متابعة غسل الأعضاء على سبيل التعاقب، بحيث لا يجف العضو الأول قبل غسل الذي بعده (7).
وقيل (الولاء) بالفتح النصرة والمحبة والتناصر، سواء كان ولاء عتاقة، أو ولاء موالاة (8).
--------------------------------------------
যেমন নেতৃত্ব এবং প্রতিনিধিত্ব, কারণ এটি এমন কিছুর নাম যা আপনি গ্রহণ করেছেন এবং সম্পাদন করেছেন। সুতরাং যখন তারা মাসদার (মূলধাতু) বুঝাতে চান তখন তারা ফাতহাহ (যবর) প্রদান করেন এবং যখন তারা বিশেষ্য বুঝাতে চান তখন কাসরাহ (যের) প্রদান করেন (১)। সমাপ্ত।
আল-কিসায়ী (২) এটিকে ফাতহাহ দিয়ে পড়তেন এবং একে সাহায্যের অর্থে গ্রহণ করতেন (৩)। আল-ফাররা (৪) বলেছেন: আমরা 'ওয়ালায়াহ' শব্দটিতে ফাতহাহ এবং কাসরাহ উভয়ই শুনেছি (৫) এবং উভয় অর্থেই তা প্রযোজ্য। তিনি এই পঙক্তিটি আবৃত্তি করেছেন:
তাদের ছেড়ে দাও, কারণ তারা এক বন্ধুত্বের ওপর একতাবদ্ধ … এবং তারা তা জানার জন্য নিরন্তর সচেষ্ট ছিল (৬)।
আর 'ওয়ালায়াহ' হলো আত্মীয়তা এবং কর্তৃত্ব, যা কোনো কারণ বা বংশসূত্রে অর্জিত হয়। আর কাসরাহসহ 'ওয়িলা' অভিধানে অনুগমন করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। ফকীহগণের নিকট 'মুওয়ালাত' হলো অঙ্গসমূহ ধৌত করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, যাতে পরবর্তী অঙ্গ ধোয়ার আগে পূর্ববর্তী অঙ্গটি শুকিয়ে না যায় (৭)।
বলা হয়েছে যে, ফাতহাহসহ 'ওয়ালা' অর্থ হলো সাহায্য, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা; চাই তা দাসমুক্তকরণজনিত বন্ধুত্ব (ওয়ালাউল আতিক্বাহ) হোক অথবা চুক্তিবদ্ধ বন্ধুত্ব (ওয়ালাউল মুওয়ালাত) হোক (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ومما تقدم نستنتج أنَّ معنى الموالاة والتولي في أغلب الأحايين هو المحبة، والمودة، والمتابعة، والقرابة، والنصرة.
وكل هذه المعاني القيمة، أراد الإسلام تحقيقها في واقع المسلمين وفي حياتهم العملية، وقد جسَّد (1) هذا المعنى حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم في أوضح صورة وأسمى عبارة، فقال فيما روي عنه: «ترى المؤمنين في تراحمهم وتوادهم وتعاطفهم كمثل الجسد، إذا اشتكى عضو تداعى له سائر جسده بالسهر والحمَّى» (2).
--------------------------------------------
পূর্বালোচিত আলোচনা থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে 'মুওয়ালাত' এবং 'তাওয়াল্লি'-র অর্থ হলো ভালোবাসা, হৃদ্যতা, অনুসরণ, আত্মীয়তা এবং সাহায্য।
ইসলাম এই সকল মূল্যবান ভাবধারাকে মুসলিমদের বাস্তব জীবনে এবং তাদের কর্মজীবনে বাস্তবায়িত করতে চেয়েছে। এই অর্থটিকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস অত্যন্ত স্পষ্ট অবয়বে এবং সর্বোত্তম বাচনিক শৈলীতে মূর্ত (১) করে তুলেছে। তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাতে তিনি বলেছেন: "মুমিনদের পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে তুমি তাদেরকে একটি দেহের ন্যায় দেখতে পাবে; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন শরীরের অবশিষ্টাংশ অনিদ্রা ও জ্বরের মাধ্যমে তার প্রতি সাড়া দেয়।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثاني: المفهوم اللغوي للمعاداةالمعاداة: مصدر عادى يعادي معاداة وعداء، والعداء مصدر عادى، أي خاصمه، وصار له عدوًّا، والعداوة: اسم بمعنى الخصومة، والمباعدة، والعدو، والعداوة، أخص من البغضاء، لأن كل عدو مبغض، وقد يبغض من ليس بعدو (1).
والعداوة: هي الشعور المتمكن في القلب في قصد الإضرار، وحب الانتقام (2).
والعدى: الأعداء الذين نقاتلهم، والعُدى، الأعداء الذين لا نقاتلهم (3).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শত্রুতার শাব্দিক ধারণামুআদাহ (শত্রুতা): এটি আদা-ইউ’আদি-মুআদাহ ও ইদা এর ক্রিয়ামূল। আর ইদা হলো আদা শব্দের ক্রিয়ামূল, যার অর্থ হলো বিবাদ করা এবং কারও শত্রু হওয়া। আদাওয়াহ: এটি একটি বিশেষ্য যা বিবাদ, দূরত্ব ও শত্রুতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। আদাওয়াহ শব্দটি বাগদাহ (বিদ্বেষ) অপেক্ষা অধিক সুনির্দিষ্ট; কারণ প্রত্যেক শত্রু বিদ্বেষ পোষণকারী হলেও অনেক সময় এমন ব্যক্তিকেও বিদ্বেষ করা হয় যে শত্রু নয় (১)।
আদাওয়াহ বা শত্রুতা হলো: ক্ষতি করার উদ্দেশ্য এবং প্রতিশোধ গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অন্তরে জেঁকে বসা এক অনুভূতি (২)।
আল-আদা: এমন শত্রু যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয়, আর আল-উদা: এমন শত্রু যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হয় না (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والعدو: ضد الولي، والجمع، أعداء، وجمع الجمع أعادي، قال سيبويه: (1) عدو، وصف، ولكنه ضارع الاسم (2) اهـ.
ويقال: عدو بين العداوة والمعاداة، وعادى بين الصيد معاداة وعداء، أي والى وتابع بينهما في طلق واحد (3).
والعدو: ضد الصديق، يطلق على الواحد والجمع والذكر والأنثى وقد يثنى ويجمع ويؤنث (4).
و (العِدي) المتباعدون، وأيضا الغرباء، والأجانب، ومنه قول حبيب (5) ابن مسلمة لما عزله عمر بن الخطاب رضي الله عنه عن حمص قال: رحم الله عمر ينزع قومه، ويبعث القوم العدي (6) اهـ.
و (العدوة) بالضم المكان المتباعد، وقيل حافة الوادي (7).
قال تعالى: (إِذْ أَنْتُمْ بِالْعُدْوَةِ الدُّنْيَا وَهُمْ بِالْعُدْوَةِ الْقُصْوَى) [الأنفال: 42].
--------------------------------------------
'আদুউ' (শত্রু): এটি 'ওয়ালী'-র (বন্ধু/অভিভাবক) বিপরীত। এর বহুবচন হলো 'আদা' এবং বহুবচনের বহুবচন হলো 'আদি'। সিবওয়াইহি (১) বলেছেন: 'আদুউ' একটি গুণবাচক শব্দ, তবে এটি বিশেষ্যের সদৃশ হয়েছে (২)। সমাপ্ত।
বলা হয়: শত্রুতা (আদাওয়াহ) ও বিবাদের (মুয়াদাহ) প্রেক্ষাপটে 'আদুউ' ব্যবহৃত হয়। আর শিকারের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্নভাবে একটির পর একটির পিছু নেওয়াকে 'আদা বাইনাস সইদ' বলা হয় (৩)।
'আদুউ' শব্দটি বন্ধুর (সদিক) বিপরীত। এটি একবচন, বহুবচন, পুরুষ ও স্ত্রী—সবার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। তবে কখনও কখনও এর দ্বিবচন, বহুবচন ও স্ত্রীলিঙ্গ রূপও ব্যবহার করা হয় (৪)।
আর 'আল-ইদি' অর্থ হলো যারা পরস্পর থেকে দূরে অবস্থানকারী, এছাড়া এটি দ্বারা বিদেশি এবং অপরিচিত ব্যক্তিদেরও বোঝানো হয়। এখান থেকেই হাবিব (৫) ইবনে মাসলামাহ-এর সেই উক্তিটি এসেছে, যা তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে হিমস থেকে বরখাস্ত করার পর বলেছিলেন: "আল্লাহ উমরের ওপর রহম করুন; তিনি আপন লোকদের সরিয়ে দেন এবং দূরবর্তী লোকদের পাঠিয়ে দেন" (৬)। সমাপ্ত।
আর 'আল-উদওয়াহ' (পেশযোগে) অর্থ হলো দূরবর্তী স্থান; আবার বলা হয়েছে এর অর্থ হলো উপত্যকার কিনারা (৭)।
আল্লাহ তাআলা বলেন: "যখন তোমরা ছিলে নিকটবর্তী কিনারায় এবং তারা ছিল দূরবর্তী কিনারায়" [আল-আনফাল: ৪২]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والعدوان، الظلم الصراح (1)، وقال الأصمعي (2): (العدوان) المكان الذي لا يطمئن من قعد عليه (3). اهـ.
والمعاداة بين رجلين، إذا طعنهما طعنتين متواليتين بسهم واحد، وأنشد الجوهري (4) لامرئ القيس:
فعادى عداء بين ثور ونعجة
… دراكا ولم ينضح بماء فيغسل (5).
و (العادي، العدو) قالت امرأة من العرب: أشمت رب العالمين عاديك أي عدوك (6).
والعدو، والعداوة، والأعداء، والعدوان، كلها ورد استعمالها في القرآن الكريم قال تعالى: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ) [الممتحنة:1] وقال تعالى: (وَأَلْقَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ) [المائدة: 64] وقال
--------------------------------------------
আর 'আল-উদওয়ান' হলো স্পষ্ট জুলুম বা অবিচার (১)। আসমায়ী (২) বলেন: (আল-উদওয়ান) হলো এমন জায়গা যেখানে উপবিষ্ট ব্যক্তি স্বস্তি পায় না (৩)। ইতি।
আর দুই ব্যক্তির মাঝে 'মুআদাত' হলো, যখন একটি তীর দিয়ে পর পর দুইবার আঘাত করা হয়। জাওহারী (৪) ইমরুল কায়েসের একটি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেছেন:
সে (ঘোড়াটি) একটি বুনো ষাঁড় ও একটি বুনো গাভীর মাঝে ক্রমাগত পর পর আঘাত হানল
… অবিরামভাবে, অথচ সে ঘামে সিক্ত হলো না যে তাকে ধৌত করতে হবে (৫)।
আর (আল-আদী, আল-আদুউ) সম্পর্কে জনৈক আরব নারী বলেছেন: বিশ্বজগতের প্রতিপালক তোমার শত্রুকে লাঞ্ছিত হওয়ার মাধ্যমে (অন্যদের) আনন্দিত হওয়ার সুযোগ দিন (৬)।
শত্রু (আদুউ), শত্রুতা (আদাওয়াহ), শত্রুবর্গ (আ'দা) এবং সীমা লঙ্ঘন বা শত্রুতা (উদওয়ান) — এ সবকটি শব্দের ব্যবহারই পবিত্র কুরআনে এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না" [আল-মুমতাহিনা: ১]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আর আমি তাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করে দিয়েছি" [আল-মায়িদা: ৬৪]। এবং তিনি বলেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
تعالى: (وَاللهُ أَعْلَمُ بِأَعْدَائِكُمْ وَكَفَى بِاللهِ وَلِيًّا وَكَفَى بِاللهِ نَصِيرًا) [الفرقان: 31] وقال تعالى: (وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ) [البقرة: 193] وقال تعالى: (فَإِنِ انْتَهَوْا فَلا عُدْوَانَ إِلا عَلَى الظَّالِمِينَ) [لقمان: 13] أي فلا قتال إلا على الذين لم ينتهوا من الظلم والشرك، وليس قتال المشركين ظلم، وإنما بقاؤهم على الشرك هو الظلم قال تعالى: (إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ) [النحل: 115].
والعداوة: اسم عام من العدو، وتعادى القوم، أي تباعدوا وعادى بعضهم بعضا من العداوة.
والعادي: المعتدي والمتجاوز حده كقوله تعالى: (غَيْرَ بَاغٍ وَلا عَادٍ) (1) أي غير متجاوز سدا لجوعة، أو غير عاد في المعصية طريق المحسنين، والمعاداة تأتي بمعنى الموالاة والمتابعة بين الأشياء، مثل تعادى القوم، مات بعضهم إثر بعض، في شهر واحد، أو في عام واحد، وتعادى القوم عليّ بنصرهم، أي تتابعوا وتوالوا (2).
فالمعاداة إذا تأتي في أغلب استعمالاتها، ويراد بها البغض والكراهية وحب الانتقام، عكس الموالاة تماما، التي هي تدل في أغلب استعمالاتها على المحبة والمودة والمتابعة والنصرة والقرابة.
ولذلك فالموالاة والمعاداة بهذا المعنى المتقدم، ضدان لا يجتمعان، فوجود أحدهما ينفي الآخر لزومًا في حق ذات معينة، قال الشاعر:
تحب عدوى، ثم تزعم أنني
… صديقك إنَّ الود عنك لعازب
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: (আর আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের সম্পর্কে অধিক অবগত। আর অভিভাবক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট এবং সাহায্যকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট) [আল-ফুরকান: ৩১] এবং মহান আল্লাহ বলেন: (আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য হতে শত্রু বানিয়েছি) [আল-বাকারা: ১৯৩] এবং মহান আল্লাহ বলেন: (অতঃপর তারা যদি বিরত হয়, তবে জালেমদের ছাড়া আর কারো ওপর কোনো আক্রমণ নেই) [লুকমান: ১৩] অর্থাৎ যারা জুলুম ও শিরক থেকে বিরত হয়নি তাদের ব্যতীত আর কারো সাথে যুদ্ধ নেই। আর মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করা কোনো জুলুম নয়, বরং তাদের শিরকের ওপর অটল থাকাই হলো জুলুম। মহান আল্লাহ বলেন: (নিশ্চয়ই শিরক হলো মহা জুলুম) [আন-নাহল: ১১৫]।
শত্রুতা (আল-আদাওয়াহ): এটি 'আদু' (শত্রু) শব্দ থেকে আগত একটি সাধারণ বিশেষ্য। 'তাআদাল কওম' অর্থ হলো তারা একে অপরের থেকে দূরে সরে গেল এবং শত্রুতার কারণে একে অপরের সাথে শত্রুতা পোষণ করল।
আর 'আল-আদি' হলো: সীমালঙ্ঘনকারী এবং নিজ সীমা অতিক্রমকারী, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (সীমালঙ্ঘনকারী বা অবাধ্য না হয়ে) (১) অর্থাৎ ক্ষুধার তাড়না মেটানোর সীমা অতিক্রম না করে, অথবা পাপাচারের মাধ্যমে সৎকর্মশীলদের পথ লঙ্ঘন না করে। আর 'আল-মুয়াদাত' (শত্রুতা) শব্দটির প্রয়োগ কোনো বিষয়ের ধারাবাহিকতা ও অনুবর্তিতার অর্থেও আসে, যেমন 'তাআদাল কওম' মানে হলো তারা একে অপরের পর মৃত্যুবরণ করল, এক মাসে বা এক বছরে। আর 'তাআদাল কওমু আলাইয়্যা বিনাসরিহিম' অর্থ হলো তারা আমাকে সাহায্য করার জন্য একে অপরের অনুগামী ও ধারাবাহিক হলো (২)।
সুতরাং শত্রুতা বা 'মুয়াদাত' এর অধিকাংশ ব্যবহারে বিদ্বেষ, ঘৃণা এবং প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে বোঝানো হয়, যা বন্ধুত্বের (মুয়ালাত) সম্পূর্ণ বিপরীত। বন্ধুত্ব শব্দটির অধিকাংশ ব্যবহারে ভালোবাসা, মায়া-মমতা, আনুগত্য, সাহায্য এবং ঘনিষ্ঠতাকে বোঝানো হয়।
সেহেতু উপরোক্ত অর্থে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা হলো এমন দুটি বিপরীত বিষয় যা একসাথে একত্রিত হতে পারে না। কোনো নির্দিষ্ট সত্তার ক্ষেত্রে একটির অস্তিত্ব অনিবার্যভাবে অন্যটিকে নাকচ করে দেয়। কবি বলেছেন:
তুমি আমার শত্রুকে ভালোবাসো, অতঃপর দাবি করো যে আমি
... তোমার বন্ধু; নিশ্চয়ই ভালোবাসা তোমার থেকে বিদায় নিয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الثالث: المفهوم الشرعي للموالاة والتولي والمعاداةلقد تحدث جمع من أفاضل العلماء عن المفهوم الشرعي للموالاة والتولي والمعاداة، بصيغ متعددة تختلف ألفاظها، وإن كان هناك توافق وتطابق في المعاني المقصودة بهذه الصيغ، وهذه التعاريف فهي كما يلي:
أولا: يعرف الشيخ عبد اللطيف (1) بن عبد الرحمن، الموالاة والمعاداة فيقول: أصل الموالاة: الحب، وأصل المعاداة، البغض، وينشأ عنهما من أعمال القلب والجوارح ما يدخل في حقيقة الموالاة.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মুওয়ালাত, তাওয়াল্লি এবং মুয়াদাতের শরয়ী ধারণাএকদল বিজ্ঞ আলেম মুওয়ালাত (বন্ধুত্ব), তাওয়াল্লি (অভিভাবকত্ব গ্রহণ) এবং মুয়াদাত (শত্রুতা)-এর শরয়ী ধারণা সম্পর্কে বিভিন্ন শব্দবিন্যাসে আলোচনা করেছেন, যার শব্দগুলো ভিন্ন ভিন্ন হলেও এই শব্দবিন্যাসগুলোর মাধ্যমে উদ্দীষ্ট অর্থের ক্ষেত্রে মিল ও সামঞ্জস্য রয়েছে। সেই সংজ্ঞাগুলো নিম্নরূপ:
প্রথমত: শায়খ আব্দুল লতিফ (১) বিন আব্দুর রহমান মুওয়ালাত ও মুয়াদাতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: মুওয়ালাতের মূল ভিত্তি হলো ভালোবাসা এবং মুয়াদাতের মূল ভিত্তি হলো ঘৃণা; আর এই দুটি থেকে অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের এমন সব আমল বা কাজ প্রকাশ পায় যা মুওয়ালাতের প্রকৃত হাকিকতের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والمعاداة، كالنصرة والأنس، والمعاونة والجهاد، والهجرة ونحو ذلك من الأعمال (1) اهـ.
ثانيا: يقول الشيخ عبد الله (2) بن عبد العزيز العنقري، أن الموالاة هي: الموافقة والمناصرة والمعاونة، والرضا بأفعال من يواليهم، وهذه هي الموالاة العامة، التي إذا صدرت من مسلم لكافر اعتبر صاحبها كافرا، أما مجرد الاجتماع مع الكفار، بدون إظهار تام للدين، مع كراهية كفرهم، فمعصية لا توجب الكفر (3) اهـ.
ثالثا: يقول الدكتور محمد نعيم ياسين: إن الموالاة، تعني، التقرب وإظهار الود بالأقوال والأفعال والنوايا، لمن يتخذه الإنسان وليا، فإن كان هذا التقرب وإظهار الود بالأقوال والأفعال والنوايا، مقصودا به الله ورسوله والمؤمنين، فهي الموالاة الشرعية الواجبة على كل مسلم، وإن كان المقصود بالتقرب وإظهار الود بالأقوال والأفعال والنوايا، هم الكفار، على اختلاف أجناسهم، فهي موالاة كفر ورده عن الإسلام، إذا صدرت ممن يدعي الإسلام، أما الكفار ومن في حكمهم من المرتدين والمنافقين، فبعضهم أولياء بعض، فلا يستغرب منهم ذلك (4) اهـ.
--------------------------------------------
এবং শত্রুতা করা; যেমন সাহায্য করা, ঘনিষ্ঠতা, সহযোগিতা করা, জিহাদ করা, হিজরত করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য আমলসমূহ (১) সমাপ্ত।
দ্বিতীয়ত: শায়খ আবদুল্লাহ (২) বিন আবদুল আজিজ আল-আনকারি বলেন, ‘মুয়ালাত’ (মিত্রতা) হলো: একমত হওয়া, সাহায্য করা, সহযোগিতা করা এবং যাদের সাথে মিত্রতা করা হচ্ছে তাদের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট থাকা। আর এটিই হলো সাধারণ মিত্রতা, যা যদি কোনো মুসলিম কোনো কাফিরের প্রতি প্রদর্শন করে, তবে সেই ব্যক্তিকে কাফির গণ্য করা হবে। তবে দ্বীনকে পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ না করে কাফিরদের সাথে নিছক একত্রিত হওয়া—তাদের কুফরিকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করার সাথে—তা একটি পাপাচার যা কুফরিকে অপরিহার্য করে না (৩) সমাপ্ত।
তৃতীয়ত: ডক্টর মুহাম্মদ নাঈম ইয়াসিন বলেন: ‘মুয়ালাত’ (মিত্রতা) মানে হলো—যাকে মানুষ বন্ধু বা অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে, কথা, কাজ ও নিয়তের মাধ্যমে তার নিকটবর্তী হওয়া এবং ভালোবাসা প্রকাশ করা। যদি কথা, কাজ ও নিয়তের মাধ্যমে এই নৈকট্য অর্জন এবং ভালোবাসা প্রকাশের উদ্দেশ্য হয় আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ, তবে তা হলো শরয়ি মিত্রতা যা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব। আর যদি কথা, কাজ ও নিয়তের মাধ্যমে এই নৈকট্য অর্জন এবং ভালোবাসা প্রকাশের উদ্দেশ্য হয় কাফিররা—তাদের শ্রেণী নির্বিশেষে—তবে তা হবে কুফরি মিত্রতা এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুতি (মুরতাদ হওয়া), যদি তা এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রকাশ পায় যে নিজেকে মুসলিম দাবি করে। আর কাফির ও তাদের সমপর্যায়ভুক্ত মুরতাদ ও মুনাফিকদের ক্ষেত্রে তারা একে অপরের বন্ধু; তাই তাদের পক্ষ থেকে এমন আচরণ আশ্চর্যের বিষয় নয় (৪) সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
رابعًا: يعرف مؤلفوا المعجم الوسيط، الموالاة الشرعية بأنها هي: أن يعاهد شخص شخصًا آخر على الالتزام نحوه بأمر من الأمور (1) اهـ.
خامسًا: ويعرف صاحب الموسوعة العربية (الولاية) التي بمعنى الموالاة بأنها سلطة مقررة لشخص تجعله قادرًا على القيام بأعمال قانونية تنفذ في حق الغير (2) اهـ.
سادسا: يقول سيد قطب (3) رحمه الله أن معنى (الولاية) التي ينهى الله الذي آمنوا أن تكون بينهم وبين اليهود والنصارى، هي ولاية التناصر والتحالف ولا تتعلق بمعنى اتباعهم في دينهم، فبعيد جدا أن يكون بين المسلمين من يميل إلى اتباع اليهود أو النصارى في الدين، وإنما الذي يخشى منه هو ولاء التحالف والتناصر، الذي كان يلتبس على المسلمين أمره في أول الدعوة الإسلامية، حتى
--------------------------------------------
চতুর্থত: আল-মুজামুল ওয়াসিত-এর রচয়িতাগণ শরয়ী আনুগত্যের (আল-মুওয়ালাত আশ-শরইয়াহ) সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন যে: তা হলো এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির সাথে কোনো বিষয়ে তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকার করা (১) সমাপ্ত।
পঞ্চমত: আল-মাওসুয়াতুল আরাবিয়্যাহ (আরবি বিশ্বকোষ)-এর লেখক 'ওয়ালাইয়াহ' (কর্তৃত্ব বা অভিভাবকত্ব)-কে যা আনুগত্য বা বন্ধুত্বের অর্থে ব্যবহৃত হয়, এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি কোনো ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত এমন এক ক্ষমতা যা তাকে অন্যের ব্যাপারে কার্যকর আইনগত কার্যাদি সম্পাদনে সক্ষম করে তোলে (২) সমাপ্ত।
ষষ্ঠত: সাইয়্যেদ কুতুব (৩) রাহিমাহুল্লাহ বলেন যে, আল্লাহ মুমিনদেরকে ইয়াহুদি ও নাসারাদের সাথে যে 'ওয়ালাইয়াহ' (বন্ধুত্ব বা মিত্রতা) রাখতে নিষেধ করেছেন, তা হলো পারস্পরিক সাহায্য এবং মৈত্রী বা জোটবদ্ধতার সম্পর্ক। এটি তাদের দ্বীন বা ধর্মের অনুসরণের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। কারণ মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ থাকা সুদূরপরাহত যে ইয়াহুদি বা নাসারাদের ধর্ম অনুসরণের দিকে ঝুঁকে পড়বে। বরং যে বিষয়ে আশঙ্কা করা হয় তা হলো জোটবদ্ধতা ও পারস্পরিক সাহায্যের আনুগত্য, যা ইসলামের দাওয়াতের প্রাথমিক যুগে মুসলমানদের নিকট অস্পষ্ট ছিল, যতক্ষণ না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
نهاهم الله عنه، وأمر بإبطاله، بعدما تبين عدم إمكان قيام الولاء والتحالف والتناصر بين المسلمين واليهود في المدينة المنورة.
إن المسلم ليس له ولاء ولا حلف إلا مع أخيه المسلم، إنَّ الإسلام يوجب على المسلم أن يقيم علاقاته بالناس جميعا على أساس الإسلام، فالولاء والعداء، لا يكونان في تصور المسلم وفي حركته على السواء إلا من خلال ما تقتضيه الشريعة الإسلامية (1) اهـ.
وبناءً على ذلك فقد قسم الشيخ حسن البنا (2) رحمه الله الناس إلى ستة أصناف هم كما يلي:
1 - مسلم مجاهد 2 - مسلم قاعد
3 - مسلم آثم 4 - كافر معاهد.
5 - كافر محايد 6 - كافر محارب (3).
--------------------------------------------
আল্লাহ তাদের তা থেকে নিষেধ করেছেন এবং এটি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন, যখন মদিনা মুনাওয়ারায় মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যে আনুগত্য, মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হওয়া অসম্ভব বলে স্পষ্ট হয়েছে।
একজন মুসলিমের তার মুসলিম ভাই ছাড়া অন্য কারো সাথে কোনো আনুগত্য বা মৈত্রী নেই। ইসলাম একজন মুসলিমের ওপর এটি আবশ্যক করে যে, সে সমস্ত মানুষের সাথে তার সম্পর্ক ইসলামের ভিত্তিতে গড়ে তুলবে। সুতরাং আনুগত্য ও শত্রুতা—একজন মুসলিমের চিন্তা ও কর্মে সমানভাবে কেবল ইসলামী শরিয়তের দাবি অনুযায়ীই হতে পারে (১) সমাপ্ত।
এরই ওপর ভিত্তি করে শায়খ হাসান আল-বান্না (২) রাহিমাহুল্লাহ মানুষকে ছয়টি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন, যা নিম্নরূপ:
১ - মুজাহিদ মুসলিম ২ - বসে থাকা (নিষ্ক্রিয়) মুসলিম
৩ - পাপী মুসলিম ৪ - চুক্তিবদ্ধ কাফির।
৫ - নিরপেক্ষ কাফির ৬ - যুদ্ধরত কাফির (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ومن ثم لا يمكن أن يقوم التناصر بين المسلم والكافر، إذ أنهما لا يمكن أن يتناصرا في مجال العقيدة، حيث ليس بينهما أساس مشترك يتناصران عليه (1).
وعلى ضوء هذه الأقسام، يتم وزن الأشخاص والهيئات، ويكون الولاء والعداء، حسبما حدده الشرع لكل نوع من هؤلاء.
ومما سبق بيانه يتضح لي، أن الاختلاف في تعريف الموالاة، هو اختلاف لفظي، مع تطابق المعاني المقصودة لكل منهم.
والحب والبغض، أو الولاء والعداء، صفات فطرية في النفس البشرية ولكن يؤاخذ الإنسان على متعلقاتهما، فإن وافق الحب والبغض أمر الله في ذلك أثيب الإنسان عليهما، وإن خالف الإنسان أمر الله في صفة الحب والبغض استحق العقاب على ذلك، وعلى هذا فإن الحب والبغض تابعان للتكليف الشرعي وداخلان تحت مفهوم الثواب والعقاب (2) لأن الحب والبغض يتبعهما ذوق وإرادة وعمل عند وجوب المحبوب أو المبغض، فمن اتبع ذلك بغير ما أنزل الله، فهو ممن اتبع هواه بغير هدى من الله، بل يقصد به الأمر إلى الشرك فيكون ممن اتخذ إلهه هواه (3).
الفرق بين الموالاة والتولي في المفهوم الشرعي
التولي: هو الدفاع عن الكفار، وإعانتهم بالمال والبدن والرأي، وهذا كفر صريح يخرج من الملة الإسلامية (4).
أما الموالاة الخاصة، فهي كبيرة من كبائر الذنوب وهي المصانعة.
--------------------------------------------
ফলে একজন মুসলিম এবং একজন কাফিরের মধ্যে পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়, কেননা তারা আকিদার ক্ষেত্রে একে অপরকে সাহায্য করতে পারে না, যেহেতু তাদের মধ্যে এমন কোনো অভিন্ন ভিত্তি নেই যার ওপর ভিত্তি করে তারা পরস্পরকে সাহায্য করবে (১)।
আর এই বিভাগগুলোর আলোকে ব্যক্তি ও সংস্থাসমূহকে মূল্যায়ন করা হবে এবং শরিয়ত এদের প্রত্যেকের জন্য যা নির্ধারণ করে দিয়েছে সে অনুযায়ী বন্ধুত্ব ও শত্রুতা নির্ধারিত হবে।
পূর্বের আলোচনা থেকে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, মুয়ালাত বা বন্ধুত্বের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যে মতভেদ রয়েছে তা কেবল শাব্দিক মতভেদ, যেখানে প্রত্যেকের উদ্দিষ্ট অর্থ অভিন্ন।
ভালোবাসা ও ঘৃণা অথবা বন্ধুত্ব ও শত্রুতা হলো মানুষের অন্তরের সহজাত প্রবৃত্তি। তবে মানুষ এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কারণে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হবে। সুতরাং ভালোবাসা ও ঘৃণা যদি এ বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশের অনুকূলে হয়, তবে মানুষ তার জন্য সওয়াব পাবে। আর যদি মানুষ ভালোবাসা ও ঘৃণার ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশের বিরোধিতা করে, তবে সে এর জন্য শাস্তির যোগ্য হবে। অতএব ভালোবাসা ও ঘৃণা শরিয়তের বিধানের অধীন এবং সওয়াব ও আজাবের ধারণার অন্তর্ভুক্ত (২)। কারণ ভালোবাসা ও ঘৃণার অনুসরণ করে রুচি, ইচ্ছা ও কর্মের উদ্রেক হয় যখন ভালোবাসার পাত্র বা ঘৃণার বস্তু উপস্থিত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর নাজিলকৃত বিধান ছাড়া অন্য কিছুর ভিত্তিতে এর অনুসরণ করল, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো হেদায়েত ছাড়াই তার প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। বরং এর মাধ্যমে শিরকের বিষয়টিই উদ্দেশ্য হয়, ফলে সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা নিজের প্রবৃত্তিকেই উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে (৩)।
শরিয়তের পরিভাষায় মুয়ালাত এবং তাওয়াল্লির মধ্যে পার্থক্য
তাওয়াল্লি: এটি হলো কাফিরদের পক্ষ নিয়ে প্রতিরক্ষা করা এবং তাদের অর্থ, শরীর ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করা। আর এটি স্পষ্ট কুফর যা ইসলামি আদর্শ থেকে বহিষ্কার করে দেয় (৪)।
আর বিশেষ মুয়ালাত হলো কবিরা গুনাহসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি বড় গুনাহ, আর তা হলো তোষামোদি করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والمداهنة للكفار، لغرض دنيوي، مع عدم إضمار نية الكفر والردة عن الإسلام (1) كما حصل من حاطب بن أبي بلتعة رضي الله عنه عندما كتب إلى قريش يخبرهم بمسير رسول الله صلى الله عليه وسلم فمثل هذا الفعل يعتبر كبيرة من كبائر الذنوب، بعد نزول الآيات بذلك قال تعالى: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ)
… إلى قوله (وَمَنْ يَفْعَلْهُ مِنْكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ) [الممتحنة: 1] أما حاطب فقد استثنى من ذلك لاعتبارات خاصة، مثل كونه من أهل بدر، وسبقه إلى الإسلام، وسلامة قصده، ولذلك فقد عفا الله عنه (2).
هذا رأي الشيخ عبد الله بن عبد اللطيف (3) وفي الفرق بين الموالاة والتولي ويوافقه على ذلك الشيخ سليمان (4) بن سحمان حيث يقول نظمًا:
--------------------------------------------
পার্থিব কোনো উদ্দেশ্যে কাফেরদের সাথে তোষামোদ করা, যেখানে অন্তরে কুফরি বা ইসলাম ত্যাগের কোনো সংকল্প থাকে না (১), যেমনটি হাতিব ইবনে আবি বালতায়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে ঘটেছিল যখন তিনি কুরাইশদের কাছে চিঠি লিখে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অভিযানের সংবাদ জানিয়ে দিয়েছিলেন। এ সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হওয়ার পর এই ধরনের কাজ কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: (হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না)
… আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত (তোমাদের মধ্যে যে কেউ এটি করবে, সে অবশ্যই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হবে) [আল-মুমতাহিনা: ১]। তবে হাতিবকে কিছু বিশেষ বিবেচনার কারণে এর থেকে ব্যতিক্রম ধরা হয়েছে, যেমন তার বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হওয়া, ইসলামের প্রাথমিক যুগে তার অগ্রগামী থাকা এবং তার উদ্দেশ্যের স্বচ্ছতা; আর একারণেই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন (২)।
এটি শাইখ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল লতিফের (৩) অভিমত যা 'মুওয়ালাত' (বন্ধুত্ব) এবং 'তাওয়াল্লি' (পক্ষাবলম্বন) এর মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে প্রদত্ত এবং শাইখ সুলাইমান (৪) বিন সাহমান এ বিষয়ে তার সাথে একমত পোষণ করেছেন, যেখানে তিনি কাব্যাকারে বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল মুওয়ালাতু ওয়াল মুয়াদাতু ফিশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأصل بلاء القوم حيث تورطوا
… هو الجهل في حكم الموالاة عن زلل
فما فرقوا بين التولي وحكمه
… وبين الموالاة التي هي في العمل
أخف ومنها ما يكفر فعله
… ومنها يكون دون ذلك في الخلل (1)
ويقول الشيخ عبد اللطيف (2) بن عبد الرحمن بن حسن: إن الموالاة تنقسم إلى قسمين.
أولا: موالاة مطلقة عامة، وهذه كفر صريح، وهي بهذه الصفة مرادفة لمعنى التولي، وعلى ذلك تحمل الأدلة الواردة في النهي الشديد عن موالاة الكفار، وأن من والاهم فقد كفر.
ثانيا: موالاة خاصة، وهي موالاة الكفار لغرض دنيوي مع سلامة الاعتقاد، وعدم إضمار نية الكفر والردة كما حصل من حاطب بن أبي بلتعة في إفشاء سر رسول الله صلى الله عليه وسلم في غزو مكة كما هو مذكور في سبب نزول سورة الممتحنة (3) اهـ.
ومثل كلام الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن في تقسيم الموالاة إلى
--------------------------------------------
তাদের বিপদের মূল কারণ যেখানে তারা লিপ্ত হয়েছে
… তা হলো বিচ্যুতির কারণে আনুগত্যের (মুওয়ালাত) বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতা
তারা তওয়াল্লি (মিত্রতা গ্রহণ) ও এর বিধান এবং আমলগত আনুগত্যের (মুওয়ালাত) মধ্যে পার্থক্য করেনি
… যা লঘু
আর তার মধ্যে কিছু এমন যার কাজ কুফরি সাব্যস্ত করে
… আবার কিছু এর চেয়ে কম ত্রুটিপূর্ণ (১)
শাইখ আব্দুল লতিফ (২) বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান বলেন: নিশ্চয়ই আনুগত্য (মুওয়ালাত) দুই ভাগে বিভক্ত।
প্রথমত: নিরঙ্কুশ সাধারণ আনুগত্য, আর এটি স্পষ্ট কুফরি। এই বৈশিষ্ট্যে এটি 'তওয়াল্লি' অর্থের সমার্থক। কাফিরদের আনুগত্য করার ব্যাপারে যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং যারা তাদের সাথে আনুগত্য প্রকাশ করে তারা কুফরি করেছে মর্মে যে দলীলসমূহ বর্ণিত হয়েছে, তা এর ওপরই প্রযোজ্য হবে।
দ্বিতীয়ত: বিশেষ আনুগত্য, আর তা হলো আকিদা ঠিক রেখে এবং কুফরি বা ধর্মত্যাগের (রিদদাহ) নিয়ত মনে পোষণ না করে দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্যে কাফিরদের সাথে আনুগত্য রাখা। যেমনটি হাতিব বিন আবি বালতাআ-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল মক্কা বিজয়ের অভিযানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গোপন তথ্য প্রকাশ করার মাধ্যমে, যা সূরা আল-মুমতাহিনা নাযিলের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়েছে (৩)। সমাপ্ত।
আনুগত্যের (মুওয়ালাত) বিভাজনের বিষয়ে শাইখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমানের কথার ন্যায়...
--------------------------------------------