(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: -)
وسطية الإسلام وسماحته - وهبة الزحيلي القسم: كتب عامة
الكتاب: وسطية الإسلام وسماحته
المؤلف: د وهبة بن مصطفى الزحيلي [ت 1436 هـ]
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد الصفحات (الكتاب الورقي): 39
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামের ভারসাম্য ও উদারতা - ওয়াহবা আল-জুহায়লি বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
গ্রন্থ: ইসলামের ভারসাম্য ও উদারতা
লেখক: ড. ওয়াহবা বিন মুস্তফা আল-জুহায়লি [মৃত্যু ১৪৩৬ হিজরি]
প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত গ্রন্থ): ৩৯
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ১)
وسطية الإسلام وسماحته إعداد
أد. وهبة بن مصطفى الزحيلي
جامعة دمشق - كلية الشريعة
بسم الله الرحمن الرحيم تقديم الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام على خاتم الأنبياء والمرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين. . وبعد:
إن مقوِّمات رسالة الإسلام الخالدة إلى يوم القيامة القائمة على النزعة العالمية والخلود والخاتمية تتطلب المنهج الرصين والحكيم والنابع من منطق العقل الحصيف أو العقلانية، والحكمة، والاعتدال، والسماحة والتوازن، ومسايرة الفطرة الإنسانية، والواقع المعيشي، ومراعاة اختلاف الأمزجة والميول والنزعات والرغائب، وإقرار الأمن والسلام، والحرص على تطبيق العدل والمساواة والحرية، وصون الكرامة الإنسانية، وكل ما من شأنه الحفاظ على حقوق الإنسان، والإشادة بالبناء العقدي الراسخ والبعد عن كل عوامل الهدم والضعف والأساطير والخرافات.
ইসলামের মধ্যপন্থা ও উদারতা - প্রণয়নে
প্রফেসর ড. ওয়াহবাহ ইবনে মুস্তফা আল-জুহাইলি
দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয় - শরিয়াহ অনুষদ
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। ভূমিকা: সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী ও রাসূলগণের প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর প্রতি। অতঃপর:
কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের শাশ্বত বার্তার মূল উপাদানসমূহ, যা বিশ্বজনীনতা, চিরস্থায়ীত্ব এবং পরিসমাপ্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত—তা একটি সুসংহত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ কর্মপন্থা দাবি করে। এটি বিচক্ষণ মেধা বা যৌক্তিকতা, প্রজ্ঞা, পরিমিতিবোধ, উদারতা ও ভারসাম্য থেকে উৎসারিত। এটি মানব প্রকৃতি ও প্রাত্যহিক বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ এবং মানুষের বিচিত্র রুচি, ঝোঁক, প্রবণতা ও আকাঙ্ক্ষাকে বিবেচনায় রাখে। এটি নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার, সাম্য ও স্বাধীনতা প্রয়োগে সচেষ্ট থাকে। এটি মানুষের মর্যাদা সুরক্ষা এবং মানবাধিকার সংরক্ষণের অনুকূল প্রতিটি বিষয়ের হেফাজত করে। অধিকন্তু, এটি সুদৃঢ় আকিদাগত কাঠামোর প্রশংসা করে এবং যাবতীয় ধ্বংসাত্মক উপাদান, দুর্বলতা, উপকথা ও কুসংস্কার থেকে বিমুখ থাকে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ২)
والوصول إلى تحقيق هذه الغايات السامية يتطلب إدراك مفاهيم الإسلام في علاقته مع الأفراد والشعوب والأمم والدول على حد سواء، حتى لا تهتز الثقة بشريعة الوحي الإلهي المتمثلة في القرآن الكريم والسنة النبوية الثابتة، ويلمس كل إنسان أن المصلحة الحقيقية والتماس النجاح أو النجاة، والاطمئنان والراحة النفسية تتجسد كلها في الخطاب الإلهي التشريعي العقدي والتعبدي والتعاملي والأخلاقي والسلوكي والاقتصادي والإنساني، والفقه الحضاري القويم القائم على التجرد والموضوعية والتعادل في التبادل، والاستقرار والشمول، والواقعية المنسجمة مع المثل العليا القائمة على محبة الخير والإحسان، والتضحية والإيثار، والأخوة الإنسانية، والاعتقاد الحق، وترسيخ معالم المدنية والتحضر، وتوفير الشعور بالطمأنينة والإحساس بالسعادة الغامرة في عالم الدنيا والآخرة، ولا سيما في عصرنا الحاضر حيث يتعرض الإسلام وأهله لتحديات خطيرة، واتهامات مغرضة، وافتراءات وأباطيل في مظلة ما سموه مكافحة الإرهاب والعنف والتطرف، والإسلام منه براء.
وهذا يتطلب إلقاء الضوء على أصول الإسلام الثلاثة في العلاقات الاجتماعية المحلية والدولية وهي:
এই সুমহান লক্ষ্যসমূহ অর্জনে পৌঁছানোর জন্য ব্যক্তি, জাতি, গোষ্ঠী এবং রাষ্ট্র—উভয়ের সাথেই ইসলামের সম্পর্কের ধারণাগুলো অনুধাবন করা আবশ্যক, যাতে পবিত্র কুরআন এবং প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত (ثابتة) সুন্নাহর মধ্য দিয়ে প্রকাশিত ঐশী প্রত্যাদেশের শরীয়তের প্রতি আস্থা বিচলিত না হয়। এর ফলে প্রতিটি মানুষ অনুভব করতে পারবে যে, প্রকৃত কল্যাণ, সাফল্য বা মুক্তি অন্বেষণ এবং মানসিক প্রশান্তি ও স্বস্তি মূলত ঐশী বিধানের আকিদাহগত, ইবাদত সংক্রান্ত, লেনদেন বিষয়ক, নৈতিক, আচরণিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক দিকগুলোর মাঝে মূর্ত হয়ে ওঠে। সেই সাথে ফুটে ওঠে সেই সঠিক তামাদ্দুনিক ফিকহ বা সভ্যতার প্রজ্ঞা, যা নিরাসক্তি, বস্তুনিষ্ঠতা, বিনিময়ে ভারসাম্য, স্থিতিশীলতা ও ব্যাপকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত; এবং এমন এক বাস্তববাদিতা যা কল্যাণ ও ইহসানের ভালোবাসা, ত্যাগ ও পরার্থপরতা, মানবিক ভ্রাতৃত্ব, সত্য বিশ্বাস, নগরায়ন ও সভ্যতার বৈশিষ্ট্যসমূহ সুদৃঢ়করণ এবং দুনিয়া ও আখেরাতে পরম সুখ ও প্রশান্তি নিশ্চিতকরণের মতো উচ্চতর আদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বিশেষ করে আমাদের বর্তমান যুগে এটি আরও বেশি প্রয়োজন, যেখানে ইসলাম ও এর অনুসারীরা তথাকথিত সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও চরমপন্থা দমনের আড়ালে গুরুতর চ্যালেঞ্জ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এবং মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপবাদের সম্মুখীন হচ্ছে, অথচ ইসলাম এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
আর এটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামের তিনটি মূলনীতির (أصول) ওপর আলোকপাত করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে, যা হলো:
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ৩)
* وسطية الإسلام.
* وسماحة الإسلام.
* ودعوته للحوار البنَّاء.
وكل ما نريد تحقيقه هو إعلاء كلمة الحق والعدل، وصون حقوق المستضعفين، وقمع الظلم والتسلط، ومقاومة الانحراف وتشويه المفاهيم، بالإصغاء لنداء الوجدان والضمير، والعقل والحكمة، والعدالة المجردة، دون تعصب ولا تشتت، ولا إخفاء لمقاصد خبيثة، أو تبييت لنيات وبواعث نفعية، ولا اعتماد على منطق القهر، والقوة العسكرية، ومحاولة إخضاع الشعوب المستضعفة، وتسخيرها أو تركيعها لهيمنة النفوذ الخطير للصهيونية العالمية.
والله يقول الحق وهو يهدي السبيل.
ইসলামের মধ্যপন্থা।
ইসলামের উদারতা ও সহনশীলতা।
এবং গঠনমূলক সংলাপের প্রতি এর আহ্বান।
আমাদের অর্জিতব্য লক্ষ্য কেবল সত্য ও ন্যায়ের বাণীকে সমুন্নত করা, মজলুম ও অধিকারবঞ্চিতদের অধিকার সংরক্ষণ করা, অন্যায় ও স্বৈরশাসনকে দমন করা এবং বিবেক-চেতনা, যুক্তি-প্রজ্ঞা ও নিরপেক্ষ ন্যায়বিচারের ডাক শুনে বিচ্যুতি ও ধারণার বিকৃতি প্রতিরোধ করা; যা হতে হবে কোনো প্রকার গোঁড়ামি, বিচ্ছিন্নতা, কু-অভিসন্ধি গোপন করা বা সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার অশুভ উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে। আমরা দমন-পীড়ন ও সামরিক শক্তির যুক্তিতে বিশ্বাস করি না এবং দুর্বল জাতিগুলোকে পদানত করা, তাদের শোষণ করা কিংবা বিশ্ব জায়নবাদের বিপজ্জনক প্রভাব ও আধিপত্যের সামনে তাদের হাঁটু গেড়ে বসাতে বাধ্য করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হই না।
আর আল্লাহ সত্য বলেন এবং তিনিই সরল পথ প্রদর্শন করেন।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ৪)
وسطية الإسلام مفهومها، منشؤها، آفاقها، مبناها، أبعادها في ميدان الفقه الحضاري والعلاقات المتبادلة بين المسلمين وغيرهم.
مفهوم الوسطية ومنشؤهاالوسطية في اللغة بمعنى التوسيط وهو أن يجعل الشيء في الوسط، والوسط: اسم لما بين طرفي الشيء، وهو المعتدل، أو ما بين الجيد والرديء كما جاء في الصحاح للجوهري، وأوسط الشيء: أفضله وخياره، وأعدله، كما جاء في القاموس المحيط.
ইসলামের মধ্যপন্থা (الوسطية) এর ধারণা, উৎস, দিগন্ত, ভিত্তি এবং সভ্যতামূলক ফিকহ ও মুসলিম-অমুসলিমদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর ব্যাপ্তি।
মধ্যপন্থা (الوسطية)-র ধারণা ও এর উৎসআভিধানিক অর্থে মধ্যপন্থা (الوسطية) বলতে মধ্যস্থকরণ (التوسيط)-কে বোঝায়, আর তা হলো কোনো বস্তুকে মাঝখানে রাখা। আর 'মধ্য' (الوسط) হলো কোনো জিনিসের দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী অংশের নাম, যা ভারসাম্যপূর্ণ (المعتدل) অথবা উৎকৃষ্ট (الجيد) ও নিকৃষ্টের (الرديء) মাঝামাঝি; যেমনটি জওহরীর আস-সিহাহ গ্রন্থে এসেছে। কোনো জিনিসের মধ্যভাগ (أوسط) হলো তার শ্রেষ্ঠ (الأفضل), সর্বোত্তম (الخيار) এবং অধিক ন্যায়নিষ্ঠ (الأعدل) অংশ; যেমনটি আল-কামুস আল-মুহিত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ৫)
ومنه جاء استعمال هذا اللفظ في القرآن الكريم في قوله تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} ( [البقرة: 143] . أوضح الطبري (1) هذا التشبيه بقوله: كما هديناكم أيها المؤمنون بمحمد عليه السلام وبما جاءكم به من عند الله، فخصصناكم بالتوفيق لقبلة إبراهيم وملته، وفضلناكم بذلك على من سواكم من أهل الملل، كذلك خصصناكم، ففضلناكم على غيركم من أهل الأديان بأن جعلناكم أمة وسطاً. والوسط في كلام العرب: الخيار. ثم قال: وأنا أرى أن الوسط في هذا الموضع هو الوسط الذي بمعنى الجزء الذي هو بين الطرفين، ووصفهم بأنهم وسط لتوسطهم في الدين، فلا هم أهل غلو فيه غلو النصارى الذين غلوا بالترهب وقيلهم (قولهم) في عيسى ما قالوا فيه، ولا هم أهل تقصير فيه تقصير اليهود الذين بدَّلوا كتاب الله وقتلوا أنبياءهم، وكذبوا على ربهم، وكفروا به، ولكنهم - أي المسلمين- أهل توسط واعتدال فيه، فوصفهم الله بذلك، إذ كان أحب الأمور إلى الله أوسطها. والخيار من الناس: عدولهم.
--------------------------------------------
আল-কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতে মহান আল্লাহর বাণীতে এই শব্দের ব্যবহার সেই অর্থেই এসেছে: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسط) জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির উপর সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের উপর সাক্ষী হন} [আল-বাকারা: ১৪৩]। ইমাম তাবারী (১) এই উপমাটি এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন: "হে মুমিনগণ! মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাধ্যমে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার মাধ্যমে আমি যেভাবে তোমাদের হেদায়াত দান করেছি, অতঃপর ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর কিবলা ও আদর্শের অনুসরণের তাওফিক দিয়ে তোমাদের বিশিষ্ট করেছি এবং এর মাধ্যমে তোমাদের অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি; ঠিক তেমনিভাবে আমি তোমাদের বিশিষ্ট করেছি এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি তোমাদের এক মধ্যপন্থী (وسط) জাতি বানানোর মাধ্যমে।" আর আরবদের ভাষায় 'ওয়াসাত' অর্থ হলো সর্বোত্তম। এরপর তিনি বলেন: "আমি মনে করি যে, এই স্থানে 'ওয়াসাত' বলতে সেই মধ্যবর্তী অংশকে বোঝানো হয়েছে যা দুই প্রান্তের মাঝখানে অবস্থিত। তাদেরকে মধ্যপন্থী (وسط) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যমপন্থা অবলম্বনের কারণে। তারা খ্রিষ্টানদের মতো দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি (غلو) করার লোক নয়, যারা বৈরাগ্যবাদ এবং ঈসা (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে অতিরঞ্জন করেছিল। আবার তারা ইহুদিদের মতো দ্বীনের ব্যাপারে শিথিলতা (تقصير) করার লোকও নয়, যারা আল্লাহর কিতাব পরিবর্তন করেছিল, তাদের নবীদের হত্যা করেছিল, তাদের রবের প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল এবং তাঁকে অস্বীকার করেছিল। বরং তারা—অর্থাৎ মুসলিমরা—দ্বীনের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা ও ভারসাম্য অবলম্বনকারী। তাই আল্লাহ তাদেরকে সেই গুণেই ভূষিত করেছেন, যেহেতু আল্লাহর নিকট সবচাইতে প্রিয় বিষয় হলো মধ্যমপন্থা। আর মানুষের মধ্যে যারা সর্বোত্তম, তারা হলো ন্যায়পরায়ণ (عدول)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقال في الكشاف (1) : ومثل ذلك الجعل العجيب جعلناكم " أمة وسطاً " أي خياراً، وهي صفة بالاسم الذي هو وسط الشيء. وقيل: للخيار: وسط لأن الأطراف يتسارع إليها الخلل، والأوساط محمية محوطة.
وقال الرازي (2) : الوسط: هو العدل في قول جماعة بدليل الآية والخبر والشعر والنقل والمعنى، أما الآية فهي {قَالَ أَوْسَطُهُمْ} [القلم: 28] ، والخبر: ما رواه القفال عن الثوري عن أبي سعيد الخدري عن النبي صلى الله عليه وسلم: «أمة وسطاً» قال: عدلاً) وما رواه ابن السمعاني عن علي مرفوعاً: « (خير الأمور أوسطها) أو (أوساطها) » وفي رواية ابن عباس عند الديلمي مرفوعاً: «خير الأمور أوسطها» (3) . والشعر قول زهير:
هم وسط يرضى الأنام بحكمهم
… إذا نزلت إحدى الليالي العظائم
والنقل كما قال الجوهري في الصحاح: (أمة وسطاً) أي عدلاً، والمعنى: أن المتوسط في الأخلاق يكون بعيداً عن طرفي الإفراط والتفريط، فكان معتدلاً فاضلاً.
وأكد القرطبي تفسير الوسط بأنه العدل.
--------------------------------------------
আল-কাশশাফ (১)-এ বলা হয়েছে: আর সেই চমৎকার সৃষ্টির ন্যায় আমরা তোমাদেরকে ‘উম্মাতে ওয়াসাত’ (মধ্যপন্থী জাতি) বানিয়েছি, অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ (خياراً); এটি এমন একটি গুণবাচক শব্দ যা কোনো বস্তুর মধ্যভাগ (وسط) নির্দেশকারী বিশেষ্য দ্বারা গঠিত। আরও বলা হয়েছে: শ্রেষ্ঠকে মধ্যবর্তী (وسط) বলা হয় কারণ প্রান্তসমূহ দ্রুত ত্রুটিযুক্ত হয়, আর মধ্যভাগ সংরক্ষিত ও পরিবেষ্টিত থাকে।
আর রাযী (২) বলেছেন: একদল আলিমের মতে ‘ওয়াসাত’ অর্থ হলো ন্যায়পরায়ণ (العدل), যার প্রমাণ হলো কুরআন, হাদিস (الخبر), কবিতা, আভিধানিক বর্ণনা এবং অর্থগত যুক্তি। কুরআনের দলিল হলো: {قَالَ أَوْسَطُهُمْ} [ক্বলম: ২৮] (তাদের মধ্যকার সর্বোত্তম ব্যক্তিটি বলল), আর হাদিসের (الخبر) দলিল: যা কাফফাল সুফিয়ান সাওরী থেকে, তিনি আবু সাঈদ খুদরী থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: “উম্মাতে ওয়াসাত” সম্পর্কে তিনি বলেছেন: “ন্যায়পরায়ণ (عدلاً)।” ইবনে সাম’আনী আলী (রা.) থেকে মারফু (مرفوعاً) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: “সর্বোত্তম কাজ হলো তার মধ্যমপন্থা (أوسطها) বা (أوساطها)।” দাইলামীর নিকট ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি মারফু (مرفوعاً) রেওয়ায়েতে আছে: “সর্বোত্তম কাজ হলো তার মধ্যমপন্থা” (৩)। আর কবিতার প্রমাণ হলো যুহাইরের উক্তি:
তাঁরা এমন ন্যায়পরায়ণ (وسط) যাঁদের বিচারে সৃষ্টিজগত সন্তুষ্ট থাকে... যখন বড় কোনো বিপদ বা সংকট নেমে আসে।
আভিধানিক বর্ণনা সম্পর্কে যেমনটি জাওহারী তার ‘সিহাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: (أمة وسطاً) তথা ন্যায়পরায়ণ (عدلاً); আর অর্থগত যুক্তি হলো: চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে যিনি মধ্যমপন্থা অবলম্বন করেন তিনি বাড়াবাড়ি (الإفراط) ও ছাড়াছাড়ি (التفريط) নামক দুই প্রান্ত থেকে দূরে থাকেন, ফলে তিনি ভারসাম্যপূর্ণ (معتدلاً) ও গুণবান (فاضلاً) হয়ে থাকেন।
আর কুরতুবী ‘ওয়াসাত’-এর ব্যাখ্যা ন্যায়পরায়ণ (العدل) হিসেবেই সুনিশ্চিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ৭)
فثبت أن الأمة الإسلامية متصفة بالعدالة، مما جعلها أهلاً لأداء الشهادة على الأمم الأخرى بأن رسلهم بلّغوهم رسالات ربهم، ورسولنا شاهد علينا بأنه بلغنا الرسالة، وأدى الأمانة.
كما ثبت عند القائلين بتفسير الوسط من كل شيء خياره: أن الأمة الإسلامية معتدلة متوسطة في رسالتها وشريعتها، ومبادئها وقيمها، تلتزم الصراط السوي، وتلتزم منهج الاعتدال، وتتجه بإخلاص منقطع النظير لإصلاح الأمم والشعوب والأفراد بما يحقق لهم السعادة والنجاة، ويكفل لهم عز الدنيا، والفلاح في الآخرة، على أساس الجمع بين المثل العليا والواقع المشاهد، وهذا المعنى هو الأنسب لبحثنا.
ثم إن اتصاف الأمة الإسلامية بالعدالة والخيرية يؤهلها لأن تكون أمة القيادة والتوجيه، لالتزامها شرف الكلمة والإحسان والعدل، والتوازن والاعتدال، ولصواب عقيدتها، وإحكام نظامها وشريعتها ومنهجها، بل موقعها في الأرض وتاريخها ومناخها، ولكون مكة المكرمة في مركز وسط الكرة الأرضية للعالم أجمع، فهي أمة الخير، وتملك ناصية الميزان، ورأيها المعتمد على وحي الله - تعالى - هو الرأي السديد في معالجة جميع القضايا والشؤون.
সুতরাং এটি প্রমাণিত যে, মুসলিম উম্মাহ ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) গুণে গুণান্বিত, যা তাদেরকে অন্যান্য জাতিসমূহের ওপর এই সাক্ষ্য প্রদানের যোগ্য করে তুলেছে যে, তাদের রাসূলগণ তাদের কাছে তাদের প্রতিপালকের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন; আর আমাদের রাসূল আমাদের ওপর সাক্ষী যে, তিনি আমাদের কাছে রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমানত আদায় করেছেন।
অনুরূপভাবে, যারা 'ওয়াসাত' (وسط) এর ব্যাখ্যায় কোনো বস্তুর শ্রেষ্ঠ বা উত্তম (خياره) অংশকে গ্রহণ করেন, তাদের নিকট এটি প্রমাণিত যে: মুসলিম উম্মাহ তাদের রিসালাত ও শরিয়ত, মূলনীতি ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী। তারা সঠিক পথে অবিচল থাকে, মধ্যপন্থার নীতি অনুসরণ করে এবং জাতি, গোষ্ঠী ও ব্যক্তিবর্গের সংশোধনের লক্ষ্যে অতুলনীয় নিষ্ঠার সাথে কাজ করে, যা তাদের জন্য সুখ ও মুক্তি নিশ্চিত করে এবং ইহকালীন মর্যাদা ও পরকালীন সাফল্য নিশ্চিত করে। এটি উচ্চ আদর্শ ও দৃশ্যমান বাস্তবতার সমন্বয়ের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয় এবং এই অর্থটিই আমাদের গবেষণার জন্য অধিকতর উপযুক্ত।
অতঃপর, মুসলিম উম্মাহর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) এবং শ্রেষ্ঠত্বের (خيرية) গুণে গুণান্বিত হওয়া তাদের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার জাতি হওয়ার যোগ্য করে তোলে। কারণ তারা সত্যের মর্যাদা, ইহসান, ন্যায়বিচার, ভারসাম্য ও মধ্যপন্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তদুপরি তাদের আক্বিদা (عقيدة) সঠিক এবং তাদের ব্যবস্থা, শরিয়ত ও কর্মপন্থা সুদৃঢ়। এমনকি পৃথিবীতে তাদের ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস ও আবহাওয়া এবং পবিত্র মক্কা সমগ্র বিশ্বের কেন্দ্রস্থলে হওয়ার কারণে এটি একটি কল্যাণময় জাতি এবং ভারসাম্যের মানদণ্ড তাদেরই অধিকারে। মহান আল্লাহর ওহির (وحي) ওপর ভিত্তি করে তাদের সুচিন্তিত সিদ্ধান্তই সকল সমস্যা ও বিষয়াবলি সমাধানের ক্ষেত্রে সঠিক সমাধান।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ৮)
آفاق الوسطيةللوسطية آفاق عديدة تجعل الحياة البشرية مزدانة بأوصاف الحق والخير والاعتدال أو الاتزان في معالجة مشكلات الحياة، ومظاهر الوسطية أو آفاقها ما يأتي:
1 - مسايرة أوضاع الفطرة الإنسانية:
إن أساس مسايرة أوضاع الفطرة الإنسانية أو مراعاتها هو وسطية الشريعة الإسلامية في أحكامها الاعتقادية، والمنهجية والعملية، والخلقية، وممارسة العبادات بما يلائم طبيعة الإنسان وإمكاناته المزدوجة الجامعة بين حق الجسم وحق النفس أو الروح، ويحفظ التوازن دون إلحاق جور أو ضرر أو كبت أو إرهاق لجانب على جانب آخر، حتى وصف الإسلام بأنه " دين الفطرة " كما جاء في قوله تعالى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} [الروم: 30] .
2- الإقرار بوجود النزعات والميول البشرية:
মধ্যপন্থার (الوسطية) দিগন্তসমূহমধ্যপন্থার (الوسطية) বহুবিধ দিগন্ত রয়েছে যা মানবজীবনকে সত্য, কল্যাণ এবং পরিমিতিবোধ (الاعتدال) অথবা জীবনের সমস্যাবলি সমাধানের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের ভূষণে সুশোভিত করে। মধ্যপন্থার (الوسطية) স্বরূপ বা দিগন্তসমূহ নিম্নরূপ:
১ - মানবীয় স্বভাবজাত প্রকৃতির (الفطرة) পরিস্থিতির সাথে সংগতি বিধান করা:
মানবীয় স্বভাবজাত প্রকৃতির (الفطرة) অবস্থার সাথে সংগতি বিধান বা তা রক্ষা করার মূল ভিত্তি হলো ইসলামি শরিয়তের মধ্যপন্থা (الوسطية), যা এর আকিদাগত (الاعتقادية), পদ্ধতিগত (المنهجية), আমলগত (العملية) ও নৈতিক (الخلقية) বিধিবিধানের মধ্যে বিদ্যমান। এটি মানুষের প্রকৃতি এবং তার দৈহিক ও আত্মিক অধিকারের সমন্বয়কারী দ্বিমুখী সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইবাদত পালনের পথ নির্দেশ করে। এটি এক দিকের ওপর অন্য দিকের প্রতি কোনো অবিচার, ক্ষতি, অবদমন বা ক্লান্তি চাপিয়ে না দিয়ে ভারসাম্য রক্ষা করে। এমনকি ইসলামকে "স্বভাবজাত ধর্ম" (دين الفطرة) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে এসেছে: {কাজেই আপনি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখুন; এটিই আল্লাহর স্বভাবজাত প্রকৃতি (الفطرة), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।} [সুরা আর-রুম: ৩০]।
২- মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি ও ঝোঁকের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি প্রদান:
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ৯)
لا ينكر إنسان وجود الواقع النفسي والميول والعواطف والغرائز التي خلقها الله في البشر، وهذا يحتاج إلى الإشباع بالطرق السوية، دون الوقوع في الجوع والنهم أو التحرق والمعاناة، فمن تمتع باللذات المشروعة أو المباحة كان هادئ النفس مرتاح الضمير، ومن كابد الصراعات النفسية ولم يستجب لنداء الذات، كان قلقًا ومعذّبًا، ومن أسرف في اللذات والمشاعر وقع فريسة المرض والاضطراب والقلق.
মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা, প্রবণতা, আবেগ এবং সহজাত প্রবৃত্তি—যা আল্লাহ মানুষের মাঝে সৃষ্টি করেছেন—তা কোনো মানুষই অস্বীকার করতে পারে না। এগুলোকে স্বাভাবিক পন্থায় তৃপ্ত করা প্রয়োজন, অনাহারে থাকা ও অতৃপ্ত লালসা কিংবা দহন ও যন্ত্রণার মধ্যে নিপতিত হওয়া ব্যতিরেকে। সুতরাং, যে ব্যক্তি শরীয়তসম্মত কিংবা বৈধ আনন্দ উপভোগ করে, সে প্রশান্তচিত্ত ও স্বস্তিদায়ক বিবেকের অধিকারী হয়। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় এবং নিজের সত্তার আহ্বানে সাড়া দেয় না, সে উদ্বিগ্ন ও যন্ত্রণাকাতর হয়। আর যে ব্যক্তি আনন্দ ও আবেগের আতিশয্যে সীমালঙ্ঘন করে, সে রোগব্যাধি, অস্থিরতা ও উদ্বেগের শিকারে পরিণত হয়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ১০)
لذا أباح الإسلام الزينة والتمتع بالطيبات، وحرَّم الفواحش، ورغّب في الزواج، فقال الله تعالى: {يَابَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ} {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ} . . . . [الأعراف: 31 - 33] ففي هذه الآيات إباحة الزينة وتناول الطيبات وتحريم الفواحش.
وقال سبحانه: {وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ} [النور: 32] وهو ترغيب شديد في الزواج والتزويج لكل من لا زوج له، لما فيه من الخير والعفة، وبقاء النوع الإنساني بإنجاب الذرية.
তাই ইসলাম সাজসজ্জা অবলম্বন ও পবিত্র বস্তুসমূহ উপভোগ করা বৈধ করেছে, অশ্লীলতাকে হারাম করেছে এবং বিবাহের প্রতি উৎসাহিত করেছে। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {হে বনী আদম! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সাজসজ্জা গ্রহণ করো এবং পানাহার করো, তবে অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।} {বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে সাজসজ্জা ও পবিত্র রিজিকসমূহ উৎপন্ন করেছেন, তা কে হারাম করেছে? বলুন, এগুলি পার্থিব জীবনে মুমিনদের জন্য এবং কিয়ামতের দিন তা একান্তই তাদের জন্য। এভাবেই আমি জ্ঞানবান সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি।} {বলুন, আমার প্রতিপালক কেবল প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীল কাজসমূহ হারাম করেছেন...} [আল-আরাফ: ৩১-৩৩]। সুতরাং এই আয়াতসমূহে সাজসজ্জা গ্রহণ ও পবিত্র বস্তুসমূহ ভক্ষণ বৈধ হওয়া এবং অশ্লীলতা হারাম হওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আরও ইরশাদ করেছেন: {আর তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিতদের এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ, তাদের বিবাহের ব্যবস্থা করো।} [আন-নূর: ৩২]। এটি যার জীবনসঙ্গী নেই, তার নিজের বিবাহ এবং অন্যদের বিবাহের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ব্যাপারে এক জোরালো উৎসাহ; কারণ এর মধ্যে নিহিত রয়েছে কল্যাণ ও চারিত্রিক পবিত্রতা এবং সন্তান-সন্ততি লাভের মাধ্যমে মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষা করা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ১১)
وقد نهى الإسلام عن الترهُّب فلا رهبانية في الإسلام، وندَّد برهبانية بعض النصارى، فقال الله تعالى: {وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا فَآتَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ وَكَثِيرٌ مِنْهُمْ فَاسِقُونَ} [الحديد: 27] .
ويمتاز الإسلام بأنه جمع في الترغيب بين العمل للدنيا والعمل للآخرة لتتحقق المصلحتان، وتتوافر المنفعتان، ولإكمال رسالة الدنيا وجعلها جسراً للآخرة، لأن متطلبات الحياة الدنيوية كثيرة، وتعمير الدنيا وتقدمها وتحضرها من مقاصد الخلق الإلهي، وذلك مثل الاستعداد بالإيمان والعمل الصالح للآخرة دار الخلود. قال الله تعالى في قصة قارون: {وَابْتَغِ فِيمَا آتَاكَ اللَّهُ الدَّارَ الْآخِرَةَ وَلَا تَنْسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا} [القصص: 77] .
3- ضرورات بناء قاعدة الإيمان أو العقيدة:
ইসলাম বৈরাগ্য (ترهُّب) থেকে নিষেধ করেছে, সুতরাং ইসলামে কোনো বৈরাগ্যবাদ (رهبانية) নেই। ইসলাম কতিপয় খ্রিষ্টানদের বৈরাগ্যবাদের (رهبانية) নিন্দা করেছে; আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর বৈরাগ্যবাদ (رهبانية)—যা তারা নিজেরা উদ্ভাবন করেছে, আমি তাদের ওপর তা লিখে দেইনি; কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্বেষায় তারা এটি করেছিল, কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি। অতঃপর তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল আমি তাদের পুরস্কার দিয়েছিলাম, আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী (فاسقون)} [আল-হাদিদ: ২৭] ।
ইসলামের বিশেষত্ব হলো, এটি উৎসাহদানের (الترغيب) ক্ষেত্রে দুনিয়ার কাজ ও আখিরাতের কাজের মধ্যে সমন্বয় করেছে যাতে উভয় উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয় এবং উভয় উপকারিতা অর্জিত হয়। আর দুনিয়ার মিশন পূর্ণ করতে একে আখিরাতের জন্য সেতু হিসেবে সাব্যস্ত করেছে; কেননা পার্থিব জীবনের চাহিদা অনেক, আর দুনিয়া আবাদ করা, এর অগ্রগতি ও সভ্যতা বিনির্মাণ ঐশ্বরিক সৃষ্টির অন্যতম উদ্দেশ্য। আর তা হলো চিরস্থায়ী আবাস আখিরাতের জন্য ঈমান ও সৎকর্মের (العمل الصالح) মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণের ন্যায়। কারুনের কাহিনীতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন তা দিয়ে পরকাল অনুসন্ধান করো এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না} [আল-কাসাস: ৭৭] ।
৩- ঈমান বা আকিদার (العقيدة) ভিত্তি নির্মাণের আবশ্যকতা:
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ১২)
الإيمان الصحيح منطلق كل عمل مثمر، وقاعدة قبول الأعمال الصالحة. وأصول الإيمان الستة: " الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر والقدر خيره وشره " تتآزر مع بعضها لتحقيق بناء شخصية المؤمن، وتكامل الذات، والتوصل إلى الغايات السامية والنفعية، في عالم الدنيا والآخرة.
وقمة الإيمان: توحيد الله وتعظيمه، لأنه الخالق الرازق والمهيمن على شئون الكون، ومرجع الحساب والثواب والعقاب في الآخرة، مما يزرع في النفس إجلال الذات الإلهية ووجوب إرضاء الله وطاعته، والخوف من مخالفة أوامره ونواهيه، وكذا محبته وشكره وعبادته.
وتعمل بقية عناصر الإيمان على تزويد الإنسان بطاقات اليقين والهيبة ودفعه إلى العمل الصالح في الدين والدنيا والآخرة.
وعقيدة الإيمان في شريعة الإسلام بسيطة غير معقدة، وسهلة الفهم، وتتقبلها العقول بسرعة، وتريح النفس، وتحقق لها الطمأنينة وتجنّبها القلق والاضطراب، وتعينها على تجاوز مشكلات الحياة وتقلّباتها، بما فيها من خير وشر، وعزّ وذل، وغنى وفقر، وصحة ومرض، وقوة وضعف، ومتعة أو لذة وحرمان، وسلام أو أمان وحرب وخوف، وغير ذلك من ظواهر الحياة الاجتماعية والإنسانية.
সঠিক (صحيح) ঈমান প্রতিটি ফলপ্রসূ কাজের প্রারম্ভবিন্দু এবং নেক আমল কবুল হওয়ার মূল ভিত্তি। ঈমানের ছয়টি মূল স্তম্ভ: "আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি বিশ্বাস" — এই বিষয়গুলো মুমিনের ব্যক্তিত্ব গঠন, আত্মিক পূর্ণতা অর্জন এবং ইহকাল ও পরকালে মহৎ ও কল্যাণকর লক্ষ্যগুলো অর্জনে পরস্পরকে সহায়তা করে।
ঈমানের সর্বোচ্চ শিখর হলো আল্লাহর তাওহীদ এবং তাঁর মহিমা ঘোষণা করা; কেননা তিনিই স্রষ্টা, রিযিকদাতা এবং মহাবিশ্বের সকল বিষয়ের নিয়ন্ত্রক। পরকালে হিসাব-নিকাশ, সওয়াব ও শাস্তির প্রত্যাবর্তনস্থলও তিনিই। এটি মানুষের মনে মহান ঐশী সত্তার প্রতি শ্রদ্ধা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর আনুগত্যের আবশ্যকতা এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ লঙ্ঘনের ভীতি জাগিয়ে তোলে; সেই সাথে তাঁর প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের স্পৃহা তৈরি করে।
ঈমানের অবশিষ্ট উপাদানগুলো মানুষকে দৃঢ় বিশ্বাসের শক্তি ও প্রভাব দান করে এবং তাকে দ্বীন, দুনিয়া ও আখেরাতের সৎকাজে উদ্বুদ্ধ করে।
ইসলামি শরীআতে ঈমানি আকিদা অত্যন্ত সহজ ও জটিলতামুক্ত এবং সহজেই বোধগম্য। মানুষের বিচারবুদ্ধি একে দ্রুত গ্রহণ করে এবং তা আত্মাকে প্রশান্তি দেয়, স্থিরতা দান করে এবং উদ্বেগ ও অস্থিরতা থেকে দূরে রাখে। এটি জীবনের উত্থান-পতন ও সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে; যার মধ্যে রয়েছে ভালো ও মন্দ, সম্মান ও অপমান, সচ্ছলতা ও দারিদ্র্য, সুস্থতা ও অসুস্থতা, শক্তি ও দুর্বলতা, আনন্দ ও বঞ্চনা, শান্তি ও নিরাপত্তা কিংবা যুদ্ধ ও ভীতি এবং সামাজিক ও মানবিক জীবনের অন্যান্য সকল পরিস্থিতি।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومن يُحْرَم أصول الإيمان هذه يتعرض لكثير من الهزات والأزمات، فيقدم على الانتحار أحياناً، أو يتعرض للقلق والاضطراب، والوقوع فريسة الأهواء والجهالة والغموض، والعمل دون هدف نبيل، أو الوصول لغاية شريفة أو مطلب معسول، ويكون أشبه بالهائم في الأرض، لا يدري فهم حقائق البدء والمسيرة والانتهاء.
فيكون الإيمان بحسب أصول الإسلام طريق إسعاد وإنقاذ ونجاة وفلاح وعمران وبناء، وسمعة عالية وأثر عميق في التاريخ، وكل ذلك بفضل بساطة العقيدة الإسلامية ووسطية مفاهيمها ومداركها وغاياتها.
ومن أهم مظاهر عقيدتنا ووسطيتها: تقرير حرية الإنسان في اختيار أفعاله ومسئوليته عن أعماله، في مظلة من القيود أو النواميس الكونية بحيث لا يستطيع اختراقها كالحياة والموت، والإقامة والارتحال، والقوة والضعف، والعز والذل، وكلٌّ ميسَّر لما خلق له، في نطاق المشيئة والإرادة الإلهية.
فليس الإنسان مجبوراً ظاهراً وباطناً، ولا خالقاً لأفعاله، من غير تدخل خلق الله وإيجاده، لقوله تعالى: {وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ} [الصافات: 96] .
যারা ঈমানের এই মূলনীতিসমূহ (أصول الإيمان) থেকে বঞ্চিত হয়, তারা বহুবিধ অস্থিরতা ও সংকটের সম্মুখীন হয়; ফলে তারা কখনো আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়, অথবা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় নিপতিত হয় এবং প্রবৃত্তি, অজ্ঞতা ও অস্পষ্টতার শিকারে পরিণত হয়। তারা কোনো মহৎ উদ্দেশ্য কিংবা কোনো সম্মানজনক লক্ষ্য বা কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো ছাড়াই কর্মে লিপ্ত থাকে এবং পৃথিবীতে এমন এক লক্ষ্যহীন বিচরণকারীর মতো হয়ে যায়, যে সৃষ্টির সূচনা, জীবনের পরিক্রমা এবং পরিণতির প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় না।
সুতরাং ইসলামের মূলনীতি অনুযায়ী ঈমান হলো সুখ, মুক্তি, নাজাত, সফলতা, আবাদ এবং নির্মাণের পথ, যা ইতিহাসে সুউচ্চ মর্যাদা ও গভীর প্রভাব বিস্তার করে। আর এসবই সম্ভব হয়েছে ইসলামি আকীদার সারল্য এবং এর ধারণা, উপলব্ধি ও লক্ষ্যসমূহের মধ্যপন্থা (وسطية)-র বদৌলতে।
আমাদের আকীদা ও এর মধ্যপন্থা (وسطية)-র অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো: মানুষের নিজ কর্ম চয়ন করার স্বাধীনতা এবং তার কাজের জন্য তার দায়বদ্ধতাকে সাব্যস্ত করা; যা মূলত মহাজাগতিক সীমাবদ্ধতা বা প্রাকৃতিক নিয়মের ছত্রছায়ায় থাকে যা সে কোনোভাবেই অতিক্রম করতে পারে না—যেমন জীবন ও মৃত্যু, অবস্থান ও প্রস্থান, শক্তি ও দুর্বলতা এবং সম্মান ও লাঞ্ছনা। আর প্রত্যেকেই সে কাজের জন্যই সহজ সুযোগ পায় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যা মহান আল্লাহর ইচ্ছা (المشيئة) ও অভিপ্রায়ের আওতাভুক্ত।
সুতরাং মানুষ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে বাধ্য (مجبور) নয়, আবার সে আল্লাহর সৃষ্টি ও অস্তিত্ব দান ব্যতিরেকে নিজ কর্মের স্রষ্টাও নয়। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো তা-ও সৃষ্টি করেছেন} [আস-সাফফাত: ৯৬]।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والإنسان فاعل مختار ضمن ظروف وأحوال محيطة به، فهو في شأنه وسط، وهو حر في حدود النظام الكوني العام، وما مثله إلا كمثل من يعيش في حديقة غنّاء واسعة يتمتع بكل ما فيها من خيرات ونعم وثمار وظلال، ويتجنب ما قد يكون فيها من مخاطر ومضار، ولكنه لا يستطيع تجاوز سور الحديقة.
ويوضح ذلك مثال آخر فيما يفعله الإنسان فهو مباشر للفعل بإرادته وحريته، والله يهيئ له أسباب المباشرة، ويحقق له نتائج العمل، وينسب الله له فضيلة هذا العمل، ويمنحه القوة والعون على فعله، وله الثواب في الطاعة، وعليه العقاب في المعصية أو المخالفة، وهذا معنى قول الله تعالى: {وَمَا رَمَيْتَ إِذْ رَمَيْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ رَمَى} [الأنفال: 17] ، وقوله عز وجل: {وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} [آل عمران: 126] ، وقوله سبحانه: {إِنْ يَنْصُرْكُمُ اللَّهُ فَلَا غَالِبَ لَكُمْ وَإِنْ يَخْذُلْكُمْ فَمَنْ ذَا الَّذِي يَنْصُرُكُمْ مِنْ بَعْدِهِ} [آل عمران: 160] .
وندرك حينئذ معنى العمل وفائدة الدعاء وطلب التوفيق من الله تعالى.
মানুষ তার চারপাশের পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে একজন স্বাধীন ও ইচ্ছাসম্পন্ন কর্তা, তাই তার বিষয়টি মধ্যমপন্থা বা ভারসাম্যপূর্ণ। সে মহাজাগতিক সাধারণ নিয়মের সীমানার মধ্যে স্বাধীন। তার উদাহরণ হলো এমন এক ব্যক্তির ন্যায়, যে একটি সুবিস্তৃত ও সুশোভিত উদ্যানে বসবাস করে এবং সেখানকার যাবতীয় কল্যাণ, নেয়ামত, ফলমূল ও ছায়া উপভোগ করে। সে সেখানে থাকা সম্ভাব্য বিপদ ও অনিষ্ট এড়িয়ে চলে, কিন্তু সে উদ্যানের প্রাচীর অতিক্রম করতে সক্ষম নয়।
মানুষের কার্যাবলীর ক্ষেত্রে অন্য একটি উদাহরণ বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে; মানুষ তার নিজস্ব ইচ্ছা ও স্বাধীনতার মাধ্যমে সরাসরি কাজ সম্পাদন করে, আর আল্লাহ তার জন্য সেই কাজ সম্পাদনের উপায়-উপকরণ প্রস্তুত করে দেন এবং কাজের ফলাফল বাস্তবায়ন করেন। আল্লাহ এই কাজের কৃতিত্ব মানুষের প্রতিই আরোপ করেন এবং তাকে কাজ করার শক্তি ও সাহায্য দান করেন। আনুগত্যের জন্য তার জন্য রয়েছে পুরস্কার এবং অবাধ্যতা বা লঙ্ঘনের জন্য রয়েছে শাস্তি। মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থ এটিই: "আর আপনি যখন নিক্ষেপ করেছিলেন, তখন আপনি নিক্ষেপ করেননি, বরং আল্লাহই নিক্ষেপ করেছিলেন" [আল-আনফাল: ১৭]। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার বাণী: "আর সাহায্য তো কেবল মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে" [আল-ইমরান: ১২৬]। মহান আল্লাহর বাণী: "যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন তবে তোমাদের ওপর বিজয়ী হওয়ার কেউ নেই; আর যদি তিনি তোমাদের পরিত্যাগ করেন, তবে তাঁর পরে কে আছে যে তোমাদের সাহায্য করবে?" [আল-ইমরান: ১৬০]।
তখনই আমরা কর্মের তাৎপর্য এবং মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা ও তাওফিক কামনার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وندرك أيضاً سر العمل وجدواه في الدنيا التي هي دار امتحان واختبار، ثم نهاية العمر أو الموت، وتحمل مسؤولية التكاليف الإلهية، والحساب عليها في الآخرة، وفي ذلك خير للفرد والجماعة، وكل ذلك مرتبط بحكمة إلهية عميقة ودقيقة، وإلا كان الوجود في الدنيا نقمة أو عبثاً أو ضياعاً، والله تعالى منزّه عن العبث، وعن الوجود الإنساني من غير هدف، وهذا ما قرره القرآن الكريم في آية: {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ} [المؤمنون: 115] .
4- تشريع العبادات:
আমরা এই পার্থিব জীবনে কর্মের রহস্য ও এর সার্থকতাও উপলব্ধি করতে পারি, যা মূলত পরীক্ষা ও যাচাইয়ের ক্ষেত্র; অতঃপর জীবনের সমাপ্তি বা মৃত্যু, ঐশী বিধানসমূহের দায়বদ্ধতা গ্রহণ এবং পরকালে সেগুলোর হিসাব প্রদান। এর মধ্যে ব্যক্তি ও সমষ্টির জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে এবং এই সব কিছুই এক গভীর ও সূক্ষ্ম ঐশী প্রজ্ঞার সাথে সম্পৃক্ত। অন্যথায় পৃথিবীতে অস্তিত্ব লাভ করা কেবল একটি অভিশাপ, নিরর্থকতা বা অপচয় বলে গণ্য হতো; অথচ মহান আল্লাহ নিরর্থকতা এবং লক্ষ্যহীন মানব অস্তিত্ব সৃষ্টি করা থেকে পবিত্র। আর পবিত্র কুরআন এই বিষয়টিই একটি আয়াতে সুনিশ্চিত করেছে: {তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে নিরর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না?} [আল-মুমিনুন: ১১৫] ।
৪- ইবাদতের বিধান প্রণয়ন:
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تتميز العبادات المفروضة ونوافلها في الإسلام من طهارة وصلاة وصيام وحج وزكاة ونحوها باليسر والسماحة، وقلة التكاليف، وسهولة الممارسة، والبعد عن التشدد والغلو والتنطع، وكون المشقة فيها معتادة، فضلاً عن فوائدها الجمة، وآثارها التهذيبية والاجتماعية، والتعبير بها عن عبودية الإنسان لله الخالق، فإن لله - تعالى - حقوقاً على عباده، بل إن الغاية الأصلية من الخَلْق الإلهي للبشرية هي عبادة الرب تبارك وتعالى كما قال سبحانه: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] .
ইসলামে পবিত্রতা, সালাত, সিয়াম, হজ, জাকাত ও অনুরূপ ফরয (আবশ্যিক) ইবাদতসমূহ এবং সেগুলোর নফল (অতিরিক্ত) কার্যাবলি সহজবোধ্যতা ও উদারতা, স্বল্প শ্রমসাধ্যতা, পালনে সহজসাধ্যতা এবং কঠোরতা, চরমপন্থা ও বাড়াবাড়ি থেকে দূরবর্তী হওয়ার বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত। এগুলোতে বিদ্যমান পরিশ্রম অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সহনীয় পর্যায়ের। এছাড়া এগুলোর রয়েছে সুপ্রচুর উপকারিতা এবং আত্মশুদ্ধিমূলক ও সামাজিক প্রভাব। এগুলোর মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি মানুষের দাসত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। নিশ্চয়ই বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর অধিকার রয়েছে; বরং মানবজাতি সৃষ্টির ঐশ্বরিক মূল লক্ষ্যই হলো বরকতময় ও সুমহান রবের ইবাদত করা, যেমনটি তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: “আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” [সূরা আয-যারিয়াত: ৫৬]
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إن الطهارة أول الأسس في حماية البيئة والنفس والتحرز عن المؤذيات والمضارّ. والصلاة بفرائضها الخمس: صلة بين العبد وربه، وتذكير بالواجبات والمسؤوليات واحترام قيمة الوقت وتهذيب النفس. والصوم: صحة وعافية، وتدريب على الصبر، وقوة الإرادة، وشحذ العزيمة، والترفع عن الماديات والتشبه بالملأ الأعلى من الملائكة، وانتصار على الأهواء والشهوات والمغريات. والزكاة لتحقيق التكافل الاجتماعي، والتعاون والتراحم، وعلاج ظواهر البؤس والفقر والعوز أو الحاجة، وتطهير المال وصونه من الضياع والسرقة. والحج يحقق منافع كثيرة أولها جمع المسلمين على قدم المساواة وتوحيد الله ووحدة الاتجاه والالتفاف حول مركز واحد وهو الكعبة المشرفة، وتربية الأخلاق بالاغتراب والسفر والاحتكاك بالآخرين.
وهذه نقاط مضيئة ومثمرة لبناء الفرد والجماعة، والأمة والدولة، وتلك وسطية بنَّاءة أو إيجابية، وتربية ناجعة على الدوام، لا تقتصر على فترة زمنية سرعان ما يتناسى الإنسان آثارها ومراميها.
5- استقرار نظام الأسرة:
পবিত্রতা (طهارة) হলো পরিবেশ ও নফস সুরক্ষা এবং ক্ষতিকর ও অনিষ্টকর বিষয় থেকে বেঁচে থাকার মূল ভিত্তিগুলোর মধ্যে প্রথম। আর পাঁচ ওয়াক্ত ফরজসহ নামাজ (صلاة) হলো বান্দা ও তার রবের মাঝে এক নিবিড় যোগসূত্র (صلة), এবং এটি কর্তব্য ও দায়িত্বসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়া, সময়ের মূল্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নফসের পরিশুদ্ধি ঘটায়। আর রোজা (صوم) হলো স্বাস্থ্য ও কল্যাণ, ধৈর্যের (صبر) প্রশিক্ষণ, ইচ্ছাশক্তির দৃঢ়তা, সংকল্পের প্রখরতা, পার্থিব ভোগবিলাস থেকে ঊর্ধ্বে ওঠা এবং মালাইকাদের (ملائكة) উচ্চতর জগতের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ এবং প্রবৃত্তি ও লালসার বিরুদ্ধে বিজয় লাভ। আর জাকাত (زكاة) সামাজিক সংহতি অর্জন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও দয়া এবং দুর্দশা, দারিদ্র্য ও অভাবের প্রতিকার এবং সম্পদ পবিত্রকরণ (تطهير) ও একে হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া থেকে রক্ষা করার মাধ্যম। আর হজ (حج) অনেক কল্যাণ সাধন করে, যার মধ্যে প্রধান হলো মুসলমানদেরকে সাম্যের ভিত্তিতে একত্রিত করা এবং আল্লাহর তাওহিদ (توحيد) ও অভিন্ন লক্ষ্য এবং একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্র তথা কাবা শরিফকে ঘিরে আবর্তিত হওয়া; সেই সাথে প্রবাস, সফর এবং অন্যের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে উন্নত চরিত্রের অনুশীলন করা।
আর এগুলো ব্যক্তি, সমাজ, উম্মাহ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য উজ্জ্বল ও ফলপ্রসূ দিক। এটি একটি গঠনমূলক বা ইতিবাচক মধ্যপন্থা (وسطية) এবং চিরস্থায়ী কার্যকর শিক্ষা, যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় যে মানুষ দ্রুত এর প্রভাব ও উদ্দেশ্য ভুলে যাবে।
৫- পারিবারিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা:
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يحرص الإسلام على بناء الأسرة القوية المتماسكة الجادة المتعاونة لكونها الخلية الأولى للمجتمع، فالآباء والأجداد والأولاد والأحفاد يعملون كأنهم في معسكر تدريب فعَّال لتحقيق الكفاية الإنتاجية الذاتية، ورفد المجتمع ببناة الجيل الصاعد، وبقاء النوع الإنساني، وانطلاق هذه المؤسسة الصغيرة نحو تحقيق آفاق الحياة المنضبطة والسخية والقوية في آن واحد.
ونظام الأسرة المسلمة القائم على التعاون والتراحم والتسلح بقيم الأخلاق الفاضلة بدءاً من الزواج حتى انتهاء الرابطة الزوجية بالطلاق الاضطراري أو الموت: نظام وسطي معتدل، يضم بين أجنحته إذا التزمت آداب الإسلام وروعيت ضوابط أحكامه وشرائعه كلَّ ما يحقق الخير والتقدم والسعادة، لقيامه على قواعد العدل والمساواة والحرية المنظمة، والضرورة أو الحاجة أو الحالات الاستثنائية التي لولاها لأصبحت الحياة الزوجية جحيماً لا يطاق.
ইসলাম একটি শক্তিশালী, সংহতিপূর্ণ, নিষ্ঠাবান এবং সহযোগী পরিবার গঠনের ব্যাপারে সচেষ্ট, কারণ এটি সমাজের প্রাথমিক একক। ফলে পিতা, পিতামহ, সন্তান এবং পৌত্র-প্রপৌত্রগণ যেন এক কার্যকর প্রশিক্ষণ শিবিরে কাজ করেন যাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ উৎপাদনশীল সক্ষমতা অর্জিত হয়, উদীয়মান প্রজন্মের নির্মাতাদের মাধ্যমে সমাজকে সমৃদ্ধ করা যায়, মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষা পায় এবং এই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একই সাথে সুশৃঙ্খল, উদার ও শক্তিশালী জীবনের দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
মুসলিম পারিবারিক ব্যবস্থা—যা সহযোগিতা, পারস্পরিক দয়া এবং উত্তম নৈতিক মূল্যবোধে সুসজ্জিত হওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং যা বিবাহের সূচনা থেকে নিয়ে অনিবার্য তালাক কিংবা মৃত্যুর মাধ্যমে দাম্পত্য সম্পর্কের সমাপ্তি পর্যন্ত বিস্তৃত—তা একটি মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা। যদি ইসলামের আদবসমূহ পরিপালন করা হয় এবং এর বিধিবিধান ও শরিয়তের নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়, তবে এই ব্যবস্থাটি তার আশ্রয়ে কল্যাণ, প্রগতি এবং সুখ অর্জনের যাবতীয় অনুষঙ্গকে ধারণ করে। কারণ এটি ন্যায়বিচার, সমতা এবং সুশৃঙ্খল স্বাধীনতার মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এছাড়াও এতে রয়েছে বিশেষ আবশ্যকতা, প্রয়োজন কিংবা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির বিধান, যা না থাকলে দাম্পত্য জীবন এক অসহনীয় নরকে পরিণত হতো।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويشير لكل هذا بإيجاز قول الله تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} [الروم: 21] وقوله سبحانه: {وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا} [النساء: 19] وما المعروف إلا التوسط في المعاملة بحسب العرف والعادة الصحيحة، وضمن موازين الشرع.
আল্লাহ তায়ালার এই বাণীটি এই সবকিছুকে সংক্ষেপে নির্দেশ করে: {আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে} [রুম: ২১] এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে (المعروف) জীবন অতিবাহিত করো। অতঃপর তোমরা যদি তাদেরকে অপছন্দ করো, তবে হয়তো তোমরা এমন কিছু অপছন্দ করছো যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ নিহিত রেখেছেন} [নিসা: ১৯]। আর সদ্ভাব (المعروف) বলতে প্রচলিত রীতি ও সঠিক (الصحيحة) প্রথা অনুযায়ী এবং শরীয়তের মানদণ্ডের মধ্যে থেকে আচরণের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা ছাড়া আর কিছুই নয়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ২০)
وهذا يجعل الزواج من سنن الفطرة، ونظام الاجتماع والتمدن، وأنه مظهر إيجابي فعال للتعاون والعناية المشتركة والنفع المتبادل، ومصدر للسعادة والهناء والاستقرار، مع مراعاة الواقع المرير أحياناً للتخلص من زيجة تصبح خطراً أو باعثة على الفساد والشر والضرر والأذى، وذلك مع الحرص الشديد بقدر الإمكان على دوام هذه الرابطة والبعد عن هدمها، لذا سماها الإسلام بالميثاق الغليظ أي الشديد المؤكد الصلة أو العلاقة ووجوب الوفاء بالحقوق والواجبات فيها، في قوله تعالى: {وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ} (1) {وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنْكُمْ مِيثَاقًا غَلِيظًا} [النساء: 21] .
6- تكامل نظام المسؤولية المدنية والجنائية:
المسؤولية عنوان التكريم الإنساني، لأن إهمال الإنسان وتعطيل قواه أمارة على الإهمال والتخلي والنبذ، والتقصير في القيام بالمسؤولية دليل على عدم المبالاة، وتحدي نظام المجتمع، والتجرد من الإنسانية.
--------------------------------------------
এটি বিবাহকে স্বভাবজাত সুন্নাত, সামাজিক ও নাগরিক জীবন ব্যবস্থার অংশ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা, যৌথ যত্ন ও পারস্পরিক উপকারের একটি ইতিবাচক ও কার্যকর বহিঃপ্রকাশ এবং সুখ, প্রশান্তি ও স্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে গণ্য করে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এমন তিক্ত বাস্তবতাকে বিবেচনায় রাখা হয় যাতে এমন বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে মুক্তি পাওয়া যায় যা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে অথবা ফাসাদ, অকল্যাণ, ক্ষতি ও কষ্টের কারণ হয়। অবশ্য সাধ্যমতো এই বন্ধন টিকিয়ে রাখতে এবং তা ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকতে অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তাই ইসলাম একে সুদৃঢ় অঙ্গীকার অর্থাৎ অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুনিশ্চিত সম্পর্ক এবং এতে পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য পালনের আবশ্যকতা হিসেবে অভিহিত করেছে। মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা তা কীভাবে গ্রহণ করবে (১) অথচ তোমরা একে অপরের সাথে একান্তে মিলিত হয়েছ এবং তারা তোমাদের থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে} [সূরা আন-নিসা: ২১]।
৬- দেওয়ানি ও ফৌজদারি দায়বদ্ধতা ব্যবস্থার পূর্ণতা:
দায়বদ্ধতা হলো মানুষের সম্মান ও মর্যাদার স্মারক; কেননা মানুষকে উপেক্ষা করা এবং তার কর্মক্ষমতাকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা অবহেলা, বর্জন ও ত্যাগের লক্ষণ। আর দায়িত্ব পালনে ত্রুটি করা উদাসীনতা, সামাজিক ব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ এবং মানবতাবর্জিত আচরণের প্রমাণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ২১)
وعماد المسؤوليات الدنيوية هو النظام المدني بتنظيم العقود والتصرفات والأنشطة الاقتصادية من إنتاج واستثمار وادخار وتوزيع، وتوجيه كل الأنشطة الصناعية والتجارية والخدمات نحو ما يحقق المصلحة العامة أو العليا للأمة.
وأساس المعاملات في الإسلام: هو الحرية الاقتصادية المنظمة، والعدالة والمساواة وأداء الحقوق وتنفيذ الالتزامات، لقول الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ} [المائدة: 1] والابتعاد عن إلحاق الجور والظلم والمساس بحقوق الآخرين أو أكل أموال الناس بالباطل، لقوله سبحانه: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ} [النساء: 29] والأصل في العقود كالبيع والإيجار وكذا الشروط هو الإباحة، إلا ما صادم مقتضى العقد أو النص الشرعي، أو القواعد العامة كالربا والغرر والقمار والغش.
পার্থিব দায়বদ্ধতার মূল ভিত্তি হলো দেওয়ানি ব্যবস্থা, যা চুক্তি, আচরণ এবং উৎপাদন, বিনিয়োগ, সঞ্চয় ও বন্টনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এছাড়া সমস্ত শিল্প, বাণিজ্যিক এবং সেবা কার্যক্রমকে উম্মাহর জনস্বার্থ বা সর্বোচ্চ কল্যাণের দিকে পরিচালিত করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
ইসলামে লেনদেনের ভিত্তি হলো: সুশৃঙ্খল অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সমতা, অধিকার আদায় এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন; যেমন মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করো} [আল-মায়িদাহ: ১]। এছাড়া অন্যায়, জুলুম, অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা কিংবা অবৈধভাবে মানুষের ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করা থেকে বিরত থাকা; আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে তোমাদের পরস্পর সম্মতিক্রমে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা} [আন-নিসা: ২৯]। ক্রয়-বিক্রয় ও ইজারার মতো চুক্তি এবং শর্তাবলীর ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো বৈধতা (إباحة), যতক্ষণ না তা চুক্তির অপরিহার্য দাবি কিংবা শরয়ী ভাষ্য (نص شرعي) অথবা সাধারণ নীতিমালা যেমন— সুদ (ربا), অনিশ্চয়তা (غرر), জুয়া (قمار) ও প্রতারণার (غش) সাথে সাংঘর্ষিক হয়।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ২২)
وجعل المعاملات قائمة أو مبنية على أساس التعادل في التبادل دون تقصير أو إهمال أو إكراه، أو تدليس أو غش أو غبن ونحو ذلك من مفسدات العقود: دليل واضح على الوسطية والتوفيق بين الواقع، وآفاق المستقبل، وحماية المجتمع من التنازع والاختلاف، لأن الاختلاف أو التنازع في المعاملة يؤدي إلى الوهن والضعف في الأمة وزرع الأحقاد والارتباك، وهزّ الثقة بين المتعاملين، لذا قال الله تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَنَازَعُوا فَتَفْشَلُوا وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} [الأنفال: 46] .
وهذا دليل الوسطية والاعتدال، لتحقيق مصلحة الأمة والدولة والأفراد.
লেনদেনসমূহকে বিনিময় ক্ষেত্রে সমতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত বা বিন্যস্ত করা; যেখানে থাকবে না কোনো ত্রুটি (تقصير), অবহেলা (إهمال), জবরদস্তি (إكراه), প্রতারণা (تدليس), জালিয়াতি (غش) কিংবা ঠকবাজি (غبن) এবং এ জাতীয় চুক্তি বিনষ্টকারী (مفسدات العقود) বিষয়সমূহ—তা মধ্যপন্থা (الوسطية) এবং বাস্তবতার সাথে ভবিষ্যতের সম্ভাবনার মেলবন্ধন এবং সমাজকে বিবাদ ও অনৈক্য থেকে রক্ষার এক সুস্পষ্ট প্রমাণ। কেননা লেনদেনের ক্ষেত্রে অনৈক্য বা বিবাদ উম্মাহর মধ্যে হীনম্মন্যতা (الوهن) ও দুর্বলতা (الضعف) তৈরি করে, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি বপন করে এবং লেনদেনকারীদের পারস্পরিক আস্থা নাড়িয়ে দেয়। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না, নতুবা তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিলুপ্ত হবে; আর ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন} [আনফাল: ৪৬] ।
আর এটি উম্মাহ, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির জনকল্যাণ (مصلحة) অর্জনের নিমিত্তে মধ্যপন্থা (الوسطية) ও ভারসাম্যের (الاعتدال) প্রমাণ।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وكذلك المسؤولية الجنائية من أجل حفظ الأمن والحفاظ على نظام التدين، والأرواح أو الأنفس، والعقول، والأنساب أو الأعراض، والأموال، فَيُعَاقَبُ الزناة واللصوص ورماة العفيفات بالفاحشة والمحاربون والسكارى بالعقوبات الزاجرة أو الرادعة المناسبة لشدة الجريمة وخطورتها، كما يعاقب القتلة أو سفاكو الدماء والمفسدون والمخربون على أساس من العدل والمماثلة أو المساواة، لإطفاء حزازات النفوس ومنع عادة الأخذ بالثأر. يشير إلى ذلك قول الله تعالى: {وَلَكُمْ فِي الْقِصَاصِ حَيَاةٌ يَاأُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 179] ويكون العفو عن جرائم الحدود قبل رفعها إلى القضاء، وكذا بعد الادعاء أمام القضاء في القصاص مجاناً أو إلى الدية هو الأفضل والأقرب إلى رضوان الله، لقوله تعالى في العفو عن الدية: {إِلَّا أَنْ يَصَّدَّقُوا} (أو " إلا أن يتصدقوا " [النساء: 92] أي يتصدق أهله على القاتل، وسمي العفو عن الدية صدقة حثاً عليها، وفي حديث الشيخين: «كل معروف صدقة» .
একইভাবে নিরাপত্তা রক্ষা এবং দ্বীনি ব্যবস্থা, জীবন বা প্রাণ, মেধা, বংশমর্যাদা বা সম্মান এবং সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ফৌজদারি দায়বদ্ধতা নির্ধারিত হয়েছে। ফলে ব্যভিচারী, চোর, সতী-সাধ্বী নারীদের প্রতি অশ্লীল অপবাদ আরোপকারী, যুদ্ধ ঘোষণাকারী এবং মদ্যপায়ীদের অপরাধের তীব্রতা ও ভয়াবহতার নিরিখে যথোপযুক্ত কঠোর বা প্রতিরোধমূলক শাস্তির মাধ্যমে দণ্ডিত করা হয়। তেমনিভাবে ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে হত্যাকারী বা রক্তপাতকারী এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ও ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের দণ্ডিত করা হয়, যাতে অন্তরের ক্ষোভ প্রশমিত হয় এবং প্রতিশোধ গ্রহণের প্রথা রহিত হয়। মহান আল্লাহর এই বাণী সেই দিকেই ইঙ্গিত করে: {হে বুদ্ধিমানগণ, কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।} [আল-বাকারাহ: ১৭৯]। হুদুদ সংক্রান্ত অপরাধগুলো বিচার বিভাগে পেশ করার আগে ক্ষমা করে দেওয়া, এবং একইভাবে কিসাসের ক্ষেত্রে আদালতে দাবি উত্থাপনের পর বিনিময়হীনভাবে কিংবা দিয়তের বিনিময়ে ক্ষমা করে দেওয়া উত্তম এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির অধিক নিকটবর্তী। দিয়ত ক্ষমা করার বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী: {তবে যদি তারা সদকা হিসেবে (ক্ষমা) করে দেয়।} [আন-নিসা: ৯২]। অর্থাৎ নিহতের পরিবার হত্যাকারীকে সদকা করে (ক্ষমা করে)। দিয়ত মওকুফ করার প্রতি উৎসাহিত করার জন্য একে ‘সদকা’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। এবং শায়খায়ন বর্ণিত হাদিসে আছে: «প্রত্যেকটি নেক কাজই সদকা»।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وهذا التخيير بين عقوبة القصاص والدية والعفو مما تميزت به شريعتنا للدلالة على الوسطية والاعتدال، فقد شرع القصاص وحده في الديانة اليهودية، والعفو وحده في الديانة المسيحية، ثم جاء النظام الإسلامي جامعاً بين المزايا كلها، لإبقاء صنائع المعروف والمودة والفضيلة، وتقليل تطبيق العقوبة، وجعله هو الشائع بين الناس.
7- اعتبار تأثير البواعث والنيات:
قال الله تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ} . . [البينة: 5] .
وقد ثبت في السنة النبوية المشهورة فيما أخرجه الشيخان " البخاري ومسلم " عن عمر (أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: «إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى» ومنه استنبطت قاعدة المعاملات: "الأمور بمقاصدها ". واعتبر الباعث السيئ في بيوع الآجال وزواج التحليل وبيع العنب لعاصره خمراً، وبيع السلاح في الفتنة ونحو ذلك سبباً عند جمهور العلماء لإفساد العقود وتحريمها، فيكون أساس الأعمال وتحقيق الثوابت هو النية الطيبة والإخلاص في العمل.
কিصاص (القصاص) দণ্ড, দিয়াহ (الدية) এবং ক্ষমার মধ্যে এই যে নির্বাচনের সুযোগ, তা আমাদের শরিয়তের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য যা মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যকে নির্দেশ করে। ইহুদি ধর্মে কেবল কিصاص (القصاص) বিধান ছিল এবং খ্রিস্টধর্মে কেবল ক্ষমা ছিল। অতঃপর ইসলামি ব্যবস্থা এ সকল গুণাবলির সমন্বয়ে এসেছে, যাতে করে সদাচরণ, হৃদ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বের ধারা অব্যাহত থাকে এবং দণ্ডবিধি প্রয়োগের হার হ্রাস পায় ও মানুষের মাঝে ক্ষমা ও আপসের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
৭- প্রেষণা ও নিয়তের প্রভাব বিবেচনা করা:
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন: "তাদেরকে এছাড়া আর কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে, তারা খাঁটিভাবে একনিষ্ঠ হয়ে কেবল আল্লাহর ইবাদত করবে।" [আল-বাইয়িনাহ: ৫]।
আর প্রসিদ্ধ (المشهورة) নববীয় সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত যা শাইখাইন "বুখারি ও মুসলিম" উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন তাতে প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে।" আর এখান থেকেই লেনদেনের মূলনীতি উদ্ভূত হয়েছে: "কার্যাবলি উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল।" জমহুর (جمهور) আলেমদের নিকট—বাকিতে বিক্রয়, হালালা বিবাহ, মদ তৈরির উদ্দেশ্যে আঙুর বিক্রয় এবং ফিতনার সময় অস্ত্র বিক্রয় ইত্যাদির ক্ষেত্রে অসৎ প্রেষণা থাকা চুক্তি বাতিল ও তা হারাম হওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য। সুতরাং আমলের ভিত্তি এবং প্রতিদান প্রাপ্তির মূল হলো সৎ নিয়ত এবং কাজে একনিষ্ঠতা।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وإعمال هذه الأصول في الحياة العملية يحقق التوازن والاعتدال والتوسط في الأمور، ويمنع التحايل على شرع الله وقواعده الكلية، ويجنّب من الوصول إلى غايات غير مشروعة، لمصادمتها مقاصد الشريعة، وهو ما يعرف بمبدأ " سد الذرائع ".
وذلك لأن الشريعة تحرص على نقاء الظاهر والباطن، وتطارد الانحراف بذرائع وأسباب ووسائل مشبوهة أو مصادمة لأصل التشريع وغاياته الرشيدة، وتجعل الإخلاص والنقاء هو محور العمل، كما أن النتائج المتحققة غير المشروعة تعد دليلاً على سوء النية، وخبث الباعث أو الدافع. ومن المعلوم أن مقاومة الفساد مطلب أساسي في شرعة الله تعالى، فإذا انتشر وباء الفساد، قضى على الإيجابيات ومناهج الإصلاح وصادر الدعوة إلى الخير والفضيلة، وذلك يوجب مراعاة هذه الاعتبارات الذاتية، وتفعيل منهج الوسطية.
8- ترسيخ مجالات العلاقات الدولية:
বাস্তব জীবনে এই মূলনীতিসমূহের (الأصول) প্রয়োগ বিষয়াধিতে ভারসাম্য, পরিমিতিবোধ ও মধ্যপন্থা নিশ্চিত করে এবং আল্লাহর বিধান ও এর সামগ্রিক নীতিমালার (القواعد الكلية) ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছলচাতুরীর পথ রুদ্ধ করে। এটি শরিয়তের উদ্দেশ্যের (مقاصد الشريعة) সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে কোনো অবৈধ লক্ষ্যে পৌঁছানোকে প্রতিহত করে, যা 'অনিষ্টের পথ রুদ্ধকরণ' (سد الذرائع) নীতি হিসেবে পরিচিত।
কারণ শরিয়ত বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিকের বিশুদ্ধতা রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট এবং এটি বিচ্যুতিকে এমন সব সন্দেহজনক অছিলা, কারণ ও উপায়ের মাধ্যমে নির্মূল করে যা বিধিবিন্যাসের মূল ভিত্তি ও এর সঠিক লক্ষ্যসমূহের সাথে সাংঘর্ষিক। এটি নিষ্ঠাকে (الإخلاص) ও বিশুদ্ধতাকে কর্মের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে। একইভাবে, অর্জিত অবৈধ ফলাফলসমূহ অসৎ উদ্দেশ্য এবং মন্দ প্রেরণা বা উদ্দীপকের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি সর্বজনবিদিত যে, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা মহান আল্লাহর বিধানে একটি মৌলিক দাবি। সুতরাং দুর্নীতির মহামারি যদি ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা ইতিবাচক দিকসমূহ ও সংস্কারের পথগুলোকে ধ্বংস করে দেয় এবং কল্যাণ ও পুণ্যের দিকে আহ্বানকে বাধাগ্রস্ত করে। আর তা এই ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া এবং মধ্যপন্থা (الوسطية) সক্রিয় করাকে আবশ্যক করে।
৮- আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রসমূহ সুসংহতকরণ:
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الإسلام مستمد من السلام، فالله هو السلام، والجنة هي دار السلام، وتحية الإسلام السلام، وتحية الله والملائكة لأهل الجنة هي السلام: {سَلَامٌ عَلَيْكُمْ بِمَا صَبَرْتُمْ فَنِعْمَ عُقْبَى الدَّارِ} [الرعد: 24] والمسلمون مطالبون بتعميم السلام، ومحاربة الإرهاب غير المشروع لقوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً} [البقرة: 208] ؛ وقوله سبحانه: {وَإِنْ جَنَحُوا لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا وَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ} [الأنفال: 61] وقوله عز وجل: {وَلَا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلَامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا} [النساء: 94] .
والأصل " القاعدة العامة " في علاقات المسلمين بغيرهم هو السلم لا الحرب، والباعث على القتال هو العدوان، وإقرار الحرب مع النهي عن الاعتداء إنما هو للضرورة ودفع العدوان ومقاومة الغاصبين والمحتلين وطردهم من ديار المسلمين والمستضعفين والمظلومين، لقوله تعالى: {وَقَاتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ} [البقرة: 190] .
ইসলাম শব্দটি ‘সালাম’ বা শান্তি থেকে উদ্ভূত, কেননা আল্লাহ হলেন ‘আস-সালাম’, জান্নাত হলো ‘দারুস সালাম’ (শান্তির আবাস), ইসলামের অভিবাদন হলো ‘সালাম’, এবং জান্নাতবাসীদের প্রতি আল্লাহ ও ফেরেশতাদের অভিবাদনও হলো ‘সালাম’: {তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আর পরকালের এই পরিণাম কতই না চমৎকার!} [রা’দ: ২৪]। আর মুসলমানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শান্তির প্রসার ঘটাতে এবং অবৈধ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! তোমরা পরিপূর্ণভাবে শান্তিতে প্রবেশ করো} [বাকারা: ২০৮]; এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তারা শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে আপনিও শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করুন} [আনফাল: ৬১]; এবং পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {আর যে তোমাদের নিকট সালাম পেশ করে, তাকে বলো না যে, তুমি মুমিন নও} [নিসা: ৯৪] ।
অন্যদের সাথে মুসলমানদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূলনীতি (الأصل) তথা "সাধারণ নিয়ম" (القاعدة العامة) হলো শান্তি, যুদ্ধ নয়। যুদ্ধের মূল কারণ হলো শত্রুতা বা সীমালঙ্ঘন। সীমালঙ্ঘন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি যুদ্ধের বৈধতা কেবল বিশেষ প্রয়োজনে, শত্রুতা প্রতিহত করতে, জবরদখলকারী ও দখলদারদের প্রতিরোধ করতে এবং মুসলিম জনপদ ও দুর্বল ও মজলুমদের থেকে তাদের বিতাড়িত করার জন্য। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তোমরাও আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো, কিন্তু সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না} [বাকারা: ১৯০] ।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وحينئذ يكون لزاماً التفرقة بين الإرهاب بالمعنى المطلق أو المفهوم الغربي الشامل لحق المقاومة أو الدفاع، وبين الجهاد المشروع أو المقاومة للمحتلين لطرد الأعداء والغاصبين، فالمعنى الأول فيه خلط بين المفاهيم وتسويغ تسلط الظلمة والمستكبرين على المستضعفين، والمعنى الثاني حق وعدل وشرف وكرامة بل واجب.
فالإرهاب المحظور: هو كل اعتداء على الآخرين، أو عمل عنيف وراءه دافع سياسي، أيا كانت وسيلته. فهو عمل غير مشروع في دوافعه ومناهجه وأساليبه وغاياته. وهذا يشمل وقائع الإرهاب المحلي في بعض البلاد العربية ولا سيما في مكة المكرمة والرياض، لأنه إفساد وتخريب وتدمير، فيجب ملاحقة مثل هؤلاء الإرهابيين وتخليص الوطن من شرهم.
أما المقاومة أو الدفاع عن الحقوق والبلاد والأوطان فهي مشروعة، بل واجبة، لطرد الظلمة والمعتدين والمتسلطين على الضعفاء واسترداد الحقوق المغتصبة، مثلما يفعل الغربيون في العراق والصهاينة في فلسطين المحتلة.
এমন পরিস্থিতিতে, সন্ত্রাসবাদকে তার নিরঙ্কুশ অর্থে অথবা প্রতিরোধের অধিকার ও আত্মরক্ষাকে অন্তর্ভুক্তকারী পশ্চিমা ধারণার সাথে, শত্রু ও জবরদখলকারীদের বিতাড়িত করার লক্ষ্যে পরিচালিত বৈধ জিহাদ কিংবা দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মধ্যে পার্থক্য করা অপরিহার্য। প্রথম ধারণাটির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংজ্ঞার মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে এবং এটি দুর্বলদের ওপর জালিম ও দাম্ভিকদের আধিপত্যকে বৈধতা দেয়। আর দ্বিতীয় ধারণাটি হলো সত্য, ন্যায়বিচার, সম্মান ও মর্যাদার পরিচায়ক, বরং এটি একটি অবশ্যপালনীয় কর্তব্য।
সুতরাং, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদ হলো অন্যের ওপর যেকোনো প্রকার আক্রমণ কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো সহিংস কাজ, এর পদ্ধতি যাই হোক না কেন। এটি এর লক্ষ্য, কর্মপন্থা, মাধ্যম ও উদ্দেশ্যের বিচারে একটি অবৈধ কাজ। এর মধ্যে কিছু আরব দেশে, বিশেষ করে মক্কা মুকাররমা ও রিয়াদে সংঘটিত স্থানীয় সন্ত্রাসবাদের ঘটনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত; কারণ এটি বিপর্যয়, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ ধরনের সন্ত্রাসীদের পাকড়াও করা এবং তাদের অনিষ্ট থেকে দেশকে মুক্ত করা আবশ্যক।
অন্যদিকে, অধিকার, ভূখণ্ড ও মাতৃভূমি রক্ষার জন্য প্রতিরোধ কিংবা আত্মরক্ষা বৈধ, বরং জালিম, আক্রমণকারী এবং দুর্বলদের ওপর আধিপত্য বিস্তারকারীদের বিতাড়িত করার জন্য এবং লুণ্ঠিত অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য তা একটি অবশ্যপালনীয় দায়িত্ব; যেমনটি ইরাকে পশ্চিমাদের এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনে জায়নবাদীদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে করা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأساس هذه التفرقة قول الله تعالى: {لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} {إِنَّمَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ قَاتَلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَأَخْرَجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ وَظَاهَرُوا عَلَى إِخْرَاجِكُمْ أَنْ تَوَلَّوْهُمْ وَمَنْ يَتَوَلَّهُمْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} [الممتحنة: 8 - 9] .
إن نداء الإسلام في الأسرة الدولية واضح المعالم لقيامه على مبدأ التعاون والتفاهم، والتزام شرعة الحق والعدل، كما جاء تحديده وبيان منهجه في القرآن الكريم: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} [الحجرات: 13] .
وهذا مَعْلَم آخر مهم جداً في تقرير وسطية الإسلام واعتداله ولا سيما في ظروفنا المعاصرة.
9- إحكام النظام الاقتصادي:
আর এই পার্থক্যের ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের সাথে সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে নিষেধ করেন না, যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।} {আল্লাহ কেবল তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন যারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করে দেওয়ার কাজে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তারাই তো জালেম।} [আল-মুমতাহিনা: ৮ - ৯] ।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসলামের আহ্বান সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; কারণ এটি সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমঝোতার মূলনীতি এবং সত্য ও ন্যায়ের বিধান অনুসরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যেমনটি পবিত্র কুরআনে এর পরিচয় ও কর্মপদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে: {হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পারো। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকি। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।} [আল-হুজুরাত: ১৩] ।
আর ইসলামের মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে আমাদের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে।
৯- অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সুদৃঢ়করণ:
(খণ্ড: ১)
ওয়াসাতিয়্যাতুল ইসলাম ওয়া সামাহাতুহু - ওয়াহবাহ আজ-জুহাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إن معالم النظام الاقتصادي الإسلامي القائم على أساس التوازن والاعتدال والوسطية بين النظامين الرأسمالي والاشتراكي بارزة وواضحة ومشهورة.
فهو العدل الوسط بين النظامين المذكورين، فنظامنا يقوم على أساس الحرية الاقتصادية، للحديث النبوي: «دعوا الناس يرزق الله بعضهم من بعض» (1) فلكل فرد حق الكسب الحر، ما لم يصادم الشرع كتجارة الخمور والمخدرات والخنازير وصناعة الأوثان، أو يلحق ضرراً بالأمة والمجتمع كالمراقص والملاهي، لأن " دفع المضار مقدم على جلب المصالح " و " درء المفاسد مقدم على جلب المصالح " و " يتحمل الضرر الخاص لدفع الضرر العام ".
--------------------------------------------
ভারসাম্য, পরিমিতিবোধ এবং পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাঝে মধ্যপন্থা (الوسطية) অবলম্বনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যসমূহ অত্যন্ত সুষ্পষ্ট, উজ্জ্বল ও সুবিদিত।
এটি উল্লিখিত দুই ব্যবস্থার মাঝে একটি ন্যায়সঙ্গত মধ্যপন্থা (العدل الوسط)। আমাদের এই ব্যবস্থা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত; কারণ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: «মানুষকে তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দাও, আল্লাহ তাদের একজনের মাধ্যমে অন্যজনকে রিজিক দান করেন» (১)। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীনভাবে উপার্জনের অধিকার রয়েছে, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়—যেমন মদ, মাদকদ্রব্য ও শূকরের ব্যবসা এবং মূর্তিনির্মাণ—অথবা উম্মাহ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়—যেমন নাচের আসর ও অনর্থক বিনোদনকেন্দ্র। কেননা, "ক্ষতি নিরসন করা (دفع المضار) কল্যাণ অর্জনের চেয়ে অগ্রগণ্য", "অকল্যাণ দূর করা (درء المفاسد) কল্যাণ হাসিলের চেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত" এবং "সামষ্টিক ক্ষতি রোধে ব্যক্তিগত ক্ষতি মেনে নেওয়া হয় (يتحمل الضرر الخاص لدفع الضرر العام)"।
--------------------------------------------