(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أطواق الحمامة في حمل الصحابة على السلامة القسم: العقيدة
الكتاب: أَطْوَاقُ الحمَامَة في حَمل الصَّحابةِ عَلى السَّلامة
المؤلف: أبو إدريس يحيى بن حمزة بن علي بن إبراهيم، الزيدي الحسيني العلويّ الطالبي الملقب بالمؤيد باللَّه (ت 745هـ)
حققها وعني بنشرها: مصطفى البغدادي
عدد الصفحات: 51
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
(تنبيه):المؤلف زيدي، ومع أنه يدافع عن الصحابة لكن فيه افتراض الوصية لعلي - رضي الله عنه- وأشياء من هذا القبيل، فوجب التنبيه
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو القعدة 1432
সাহাবীদের নিরাপত্তার পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে ঘুঘুর কণ্ঠহার বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: সাহাবীদের নিরাপত্তার পথে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে ঘুঘুর কণ্ঠহার
লেখক: আবু ইদ্রিস ইয়াহিয়া বিন হামজাহ বিন আলী বিন ইবরাহিম، আয-যাইদি আল-হুসাইনি আল-আলাওয়ী আত-তালিবী, আল-মুআইয়াদ বিল্লাহ উপাধিতে ভূষিত (মৃত্যু ৭৪৫ হিজরী)
সম্পাদনা ও প্রকাশনায়: মুস্তফা আল-বাগদাদী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
(সতর্কীকরণ): লেখক যাইদি মতাবলম্বী، যদিও তিনি সাহাবীদের পক্ষাবলম্বন করে আলোচনা করেছেন, তবে এতে আলীর - আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন - জন্য খেলাফতের অসীয়ত বা অনুরূপ বিষয়ের ধারণা রয়েছে، তাই বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করা আবশ্যক
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ যিলকদ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أَطْوَاقُ الحمَامَة في حَمل الصَّحابةِ عَلى السَّلامة
সাহাবীগণকে ত্রুটিমুক্ত ও নিরাপদ সাব্যস্ত করার বর্ণনায় কপোত-কণ্ঠহার
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
- بسم الله الرحمن الرحيم -
وبه ثقتي
مسألة: المختار سلامة أحوال الصحابة رضي الله عنهم من الكفر والفسق، لما ورد من الثناء عليهم من الله ورسوله ومن جهة المؤمنين وسائر الأئمة من أولاده رضي الله عنهم. ونحن نورد ذلك على رتب ثلاث:
- দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে -
এবং তাঁর ওপরই আমার ভরসা
মাসআলা: সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অবস্থা কুফর ও ফিসক থেকে মুক্ত থাকাই হলো মনোনীত সিদ্ধান্ত; যেহেতু আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে এবং মুমিনগণ ও তাঁর বংশধরদের মধ্য হতে অপরাপর ইমামগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পক্ষ হতে তাঁদের প্রশংসা বর্ণিত হয়েছে। আমরা বিষয়টি তিনটি স্তরে উপস্থাপন করছি:
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المرتبة الأولى: مما كان من جهة الرسول صلى الله عليه وآله وسلم، وهي أمور خمسة:
أولها قوله صلى الله عليه وآله وسلم: «احفظوني في أصحابي، فإن أحدكم لو ينفق ملء الأرض ذهبا ما بلغ مد أحدهم ولا نصيفه».
وثانيها قوله صلى الله عليه وآله وسلم: «لو كنت متخذا خليلا لاتخذت أبا بكر خليلا».
وثالثها قوله صلى الله عليه وآله وسلم في أبي بكر رضي الله عنه: «دعوا لي أخي وصاحبي الذي صدقني حين كذبني الناس».
প্রথম স্তর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো পাঁচটি বিষয়:
প্রথমটি হলো তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "তোমরা আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আমার সম্মান রক্ষা করো; কেননা তোমাদের কেউ যদি পৃথিবী পূর্ণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবে তা তাদের কারো এক 'মুদ' (এক অঞ্জলি) বা তার অর্ধেকের সমান হবে না।"
দ্বিতীয়টি হলো তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "আমি যদি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আবু বকরকেই অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম।"
তৃতীয়টি হলো আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "তোমরা আমার জন্য আমার ভাই ও সঙ্গীকে ছেড়ে দাও; কারণ মানুষ যখন আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, তখন তিনি আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ورابعها قوله صلى الله عليه وآله وسلم: «أبو بكر وعمر سيدا كهول أهل الجنة».
وخامسها أنه أمر عند إقبال أبي بكر أن يُبشر بالجنة، وأمر أيضا أن يبشر عمر بالجنة.
فهذه الأخبار كلها دالة على سلامة حالهما وبشارتهما بالجنة. وغيرها من الأخبار التي يكثر عددها في تزكية أحوالهم وصحة أديانهم.
المرتبة الثانية: ما كان من جهة أمير المؤمنين رضي الله عنه. وذلك على وجهين إجمالي وتفصيلي.
أما الإجمال، فما كان من المناصرة والمعاضدة لأبي بكر في أيام قتال أهل الردة وغيرها، ثم ما كان منه في أيام عمر من المشورة
এবং চতুর্থটি হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "আবু বকর ও উমর জান্নাতের প্রৌঢ়দের সরদার।"
এবং পঞ্চমটি হলো, আবু বকরের আগমনের সময় তাঁকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন এবং উমরকেও জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
সুতরাং এই সংবাদসমূহ সবই তাঁদের উভয়ের অবস্থার বিশুদ্ধতা এবং তাঁদের জান্নাতের সুসংবাদের প্রমাণ বহন করে। এ ছাড়াও আরও বহু সংবাদ রয়েছে যা তাঁদের অবস্থার পবিত্রতা এবং তাঁদের দ্বীনের সঠিকতা প্রমাণ করে।
দ্বিতীয় স্তর: যা আমিরুল মুমিনীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর তা দুইভাবে বিভক্ত: সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত।
সংক্ষিপ্ত বর্ণনা হলো, মুরতাদদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দিনগুলোতে এবং অন্যান্য সময়ে আবু বকরের প্রতি সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান, অতঃপর উমরের যুগে তাঁর পক্ষ থেকে পরামর্শ প্রদান।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والإعانة والخروج معهم وأخذ نصيبه من الفيء. وقد قيل إن محمد ابن الحنفية ما كانت أمه إلا سبية من بني حنيفة من أهل الردة،
এবং সহায়তা করা, তাদের সাথে অভিযানে বের হওয়া এবং ফায় থেকে নিজের অংশ গ্রহণ করা। আর বলা হয়ে থাকে যে, মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর মা মুরতাদ হওয়া বনু হানিফা গোত্রের একজন যুদ্ধবন্দিনী ব্যতীত অন্য কেউ ছিলেন না,
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
استولدها أمير المؤمنين فجاءت بمحمد. وما كان من تعظيمه لهم وإكبارهم ومعاملته لهم بالمودة والمناصرة والموالاة. ولم يعاملهم معاملة أهل الردة ولا معاملة الفساق أصلا. وهذا أمر ظاهر لا يخفى على مسلم. فهذا على وجه الجملة.
আমিরুল মুমিনীন তাঁর মাধ্যমে সন্তান লাভ করেন এবং তিনি মুহাম্মদকে জন্ম দেন। তাঁদের প্রতি তাঁর যে সম্মান প্রদর্শন ও মর্যাদা দান এবং তাঁদের সাথে হৃদ্যতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের যে আচরণ ছিল (তা সুবিদিত)। তিনি তাঁদের সাথে ধর্মত্যাগীদের ন্যায় কিংবা পাপাচারীদের ন্যায় মোটেও আচরণ করেননি। এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয় যা কোনো মুসলিমের নিকট অস্পষ্ট নয়। এটি হলো সামগ্রিক ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما وجه التفصيل:أولها ما روى سويد بن غفلة أنه قال: مررت بقوم ينتقصون أبا بكر وعمر، فدخلت على أمير المؤمنين فحكيت له ذلك وقلت: لولا أنهم يرون أنك تضمر لهم شيئا مثل الذي أعلنوا به ما اجترؤوا على ذلك. فقال رضي الله عنه: أعوذ بالله أن أضمر لهما شيئا إلا الجميل الحسن، أخوا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وصاحباه ووزيراه، ثم نهض باكيا واتكأ على يدي وخرج وصعد المنبر وجلس ثم خطب وقال: ما بال قوم يذكرون سيدي قريش بما أنا عنه منزه، والذي فلق الحبة وبرأ النسمة إنه لا يحبهما إلا مؤمن ولا يبغضهما إلا فاجر، صحبا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم على الوفاء والصدق.
বিস্তারিত বিবরণের দিকটি হলো:প্রথমত, সুওয়াইদ বিন গাফলাহ থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: আমি এমন এক সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যারা আবু বকর ও উমরের অবজ্ঞা করছিল। তখন আমি আমীরুল মুমিনীনের কাছে প্রবেশ করে তাঁকে বিষয়টি জানালাম এবং বললাম: তারা যদি এটি মনে না করত যে আপনিও তাঁদের ব্যাপারে মনে মনে এমন কিছু পোষণ করেন যা তারা প্রকাশ্যে ব্যক্ত করছে, তবে তারা এমন দুঃসাহস দেখাত না। তখন তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বললেন: আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যে আমি তাঁদের ব্যাপারে সুন্দর ও উত্তম বিষয় ছাড়া অন্য কিছু মনে পোষণ করব; তাঁরা আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) দুই ভাই, দুই সহচর এবং দুই মন্ত্রী। এরপর তিনি কাঁদতে কাঁদতে উঠে দাঁড়ালেন এবং আমার হাতের ওপর ভর দিয়ে বের হলেন। তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং বসলেন, তারপর খুতবা প্রদান করলেন এবং বললেন: সেই লোকদের কী হয়েছে যারা কুরাইশদের দুই নেতাকে এমন বিষয়ে উল্লেখ করছে যা থেকে আমি মুক্ত? সেই সত্তার কসম, যিনি দানা বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন, মুমিন ছাড়া কেউ তাঁদের ভালোবাসবে না এবং পাপিষ্ঠ ছাড়া কেউ তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না। তাঁরা আল্লাহর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক) সাথে আনুগত্য ও সত্যনিষ্ঠার সাথে সাহচর্য প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ثم أطال في مدحهما وتهدد من يعود إلى الوقيعة فيهما، ثم قال في آخر الخطبة: خير هذه الأمة بعد نبيها أبو بكر وعمر، والله أعلم بالخير أين هو - يشير بذلك إلى نفسه.
وثانيها ما رواه جعفر بن محمد الصادق عن جده أن رجلا من قريش جاء إلى أمير المؤمنين رضي الله عنه فقال: أسمعك تقول: اللهم أصلحنا بما أصلحت به الخلفاء الراشدين، من هم؟ قال: حبيباي أبو بكر وعمر وإماما الهدى وشيخا الإسلام ورجلا قريش والمقتدى بهما بعد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم، من اقتدى بهما عصم ومن اهتدى بهما هدي إلى صراط مستقيم.
وثالثها أن سئل رضي الله عنه عن عمر فقال: رجل ناصح الله فنصحه، وسئل عن أبي بكر فقال: كان أواها منيبا.
এরপর তিনি তাঁদের প্রশংসায় দীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করলেন এবং যারা পুনরায় তাঁদের কুৎসা রটনায় লিপ্ত হবে তাদের সাবধান করে দিলেন। অতঃপর খুতবার শেষভাগে বললেন: তাঁর নবীর পর এই উম্মতের সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবু বকর ও উমর। আর আল্লাহই ভালো জানেন কল্যাণ কোথায় আছে - এর মাধ্যমে তিনি নিজের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন।
দ্বিতীয়টি হলো যা জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিক তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি আমিরুল মুমিনীন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট এসে বললেন: আমি আপনাকে বলতে শুনি: "হে আল্লাহ! আপনি খুলাফায়ে রাশিদীনের মাধ্যমে যেভাবে সংস্কার করেছেন, আমাদেরও সেভাবে সংশোধন করে দিন।" তাঁরা কারা? তিনি বললেন: আমার দুই প্রিয় বন্ধু আবু বকর ও উমর, হিদায়াতের দুই ইমাম, ইসলামের দুই শায়খ, কুরাইশের দুই শ্রেষ্ঠ পুরুষ এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর অনুসরণীয় দুই ব্যক্তিত্ব। যে তাঁদের অনুসরণ করবে সে রক্ষা পাবে, আর যে তাঁদের দ্বারা হিদায়াত প্রার্থনা করবে সে সরল পথের দিশা পাবে।
তৃতীয়টি হলো, তাঁকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উমর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ ছিলেন, ফলে আল্লাহও তাঁকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন। আর আবু বকর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: তিনি ছিলেন অত্যন্ত কোমল হৃদয় ও আল্লাহ-অভিমুখী।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ورابعها ما رواه جعفر بن محمد عن آبائه أنه لما قُتل عمر وكفن وحنط دخل عليه أمير المؤمنين رضي الله عنه فقال: ما على وجه الأرض أحد أحب أن ألقى الله بصحيفته من هذا المسجى، وكان قد سُجي بثوب.
وخامسها قوله رضي الله عنه: خير هذه الأمة بعد نبيها أبو بكر وعمر، ولو شئت لقلت الثالث، يشير إلى نفسه.
চতুর্থত, জাফর ইবন মুহাম্মদ তাঁর পিতৃপুরুষদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, যখন উমর (রা.) শহীদ হলেন এবং তাঁকে কাফন পরানো ও সুগন্ধি মাখানো হলো, তখন আমিরুল মুমিনিন (আলী) রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে প্রবেশ করে বললেন: “পৃথিবীর পৃষ্ঠে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার আমলনামা নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা আমার নিকট এই বস্ত্রাবৃত ব্যক্তির আমলনামার চেয়ে অধিক প্রিয়।” আর তাঁকে তখন একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল।
পঞ্চমত, তাঁর (আলী রা.) উক্তি: “এই উম্মতের নবীর পর তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর ও উমর। আর আমি চাইলে তৃতীয় ব্যক্তির নামও বলতে পারতাম,” তিনি এর দ্বারা নিজেকেই ইঙ্গিত করছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وسادسها أنه لم حضرته الوفاة قالوا: ألا توصي يا أمير المؤمنين؟ قال: ما أوصى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فأوصي، ولكن إن أراد الله بالناس خيرا فسيجمعهم على خيرهم [كما جمعهم على خيرهم] بعد نبيهم أبو بكر.
فهذه الوجوه كلها وغيرها دالة على تحسين الظن من جهته بهم.
نعم، أما ما كان في صدره رضي الله عنه من الوحشة والازورار من أجل استبدادهم بأمر كان هو أولى به وأحق لقربه من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم واختصاصه بما لم يختص به أحد من الخليقة فهذا أمر لا ينكر ولا يمكن دفعه، لكن لم يمنعه ذلك من الموالاة والذكر الجميل وحسن السيرة معهم وجميل الحديث في حقهم للروايات التي ذكرناها عنهم.
ষষ্ঠত, যখন তাঁর অন্তিম সময় উপস্থিত হলো, তখন তারা বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি কি কোনো অসিয়ত করবেন না?" তিনি বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম অসিয়ত করেননি যে আমি অসিয়ত করব। তবে আল্লাহ যদি মানুষের কল্যাণ চান, তবে তিনি অচিরেই তাদেরকে তাদের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ তাঁর ওপর ঐক্যবদ্ধ করবেন [যেমন তিনি তাঁদের নবীর পরে তাঁদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আবু বকরের ওপর তাঁদেরকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন]।"
সুতরাং এই সকল দিক এবং অন্যান্য বিষয়সমূহ তাঁদের প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে সুধারণা পোষণ করারই প্রমাণ বহন করে।
হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে নৈকট্য এবং সৃষ্টির অন্য কারোর যা নেই এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হওয়ার কারণে যে বিষয়ের জন্য তিনি অধিক যোগ্য ও হকদার ছিলেন, তাতে তাঁদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের ফলে তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অন্তরে যে মনঃকষ্ট ও বিমুখতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা অনস্বীকার্য এবং তা খণ্ডন করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই বিষয়টি তাঁদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তাঁদের প্রশংসা করা, তাঁদের সাথে উত্তম আচরণ এবং তাঁদের সম্পর্কে সম্মানজনক আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধক হয়নি; যেমনটি আমরা তাঁদের সম্পর্কে বর্ণিত বর্ণনাগুলোতে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المرتبة الثالثة: هو ما كان من جهة أولاده رضي الله عنهم من الثناء الجميل والذكر الحسن. ونحن ننقل الروايات التي نقلها العلماء عنهم على الصحة، وجملتها تسع.
الأولى حال الحسن والحسين رضي الله عنهما. والمنقول من حالهما كحال أمير المؤمنين رضي الله عنه في الموالاة وإظهار القول الجميل. ولم يرو أحد من [أهل] النقل عنهما طعنا ولا لعنا ولا فسقا ولا كفرا ولا شينا، بل السيرة الحسنة.
ولقد روي أن عمر رضي الله عنه لما وضع الديوان وفرض لكل من المهاجرين والأنصار رضي الله عنهم نصيبا في بيت المال وفرض للحسن والحسين رضي الله عنهما ألوفا من بيت المال، ثم فرض لعبد الله بن عمر أقل من نصيبهما، فأتى إلى أبيه فقال: لم فرضت نصيبي دون حقهما؟ فقال له عمر: ائتني بجد مثل جدهما وبأب مثل أبيهما وبأم مثل أمهما وبعم مثل عمهما، فسكت عبد الله وانصرف. فدل ما ذكره على تعظيم كل أحد منهم لصاحبه واعترافه بحقه.
তৃতীয় স্তর: এটি হলো তাঁর সন্তানদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পক্ষ থেকে বর্ণিত সুন্দর প্রশংসা ও উত্তম আলোচনা। আমরা সেই বর্ণনাগুলোই উদ্ধৃত করছি যা উলামায়ে কেরাম তাঁদের থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এ সংক্রান্ত বর্ণনা মোট নয়টি।
প্রথমত: হাসান ও হোসাইন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর অবস্থা। তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা আনুগত্য প্রদর্শন ও উত্তম বাক্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আমিরুল মুমিনিন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর অবস্থার মতোই। বর্ণনাকারীদের কেউ তাঁদের থেকে কোনো নিন্দা, অভিশাপ, ফাসেক সাব্যস্ত করা, কুফরি কিংবা কলঙ্ক বর্ণনা করেননি; বরং কেবল তাঁদের উত্তম জীবনচরিতই বর্ণিত হয়েছে।
বর্ণিত আছে যে, উমর (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) যখন রাষ্ট্রীয় দপ্তর (দেওয়ান) প্রতিষ্ঠা করেন এবং মুহাজির ও আনসারদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) প্রত্যেকের জন্য বায়তুল মাল থেকে একটি অংশ নির্ধারণ করেন, তখন তিনি হাসান ও হোসাইন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর জন্য বায়তুল মাল থেকে হাজার হাজার (মুদ্রা) বরাদ্দ করেন। অতঃপর তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমরের জন্য তাঁদের অংশের চেয়ে কম বরাদ্দ করেন। তখন আবদুল্লাহ তাঁর পিতার কাছে এসে বললেন, "আপনি কেন আমার অংশ তাঁদের হকের চেয়ে কম নির্ধারণ করলেন?" উমর তাঁকে বললেন, "তুমি আমার কাছে তাঁদের নানার মতো একজন নানা, তাঁদের পিতার মতো একজন পিতা, তাঁদের মায়ের মতো একজন মা এবং তাঁদের চাচার মতো একজন চাচা নিয়ে এসো।" তখন আবদুল্লাহ নিরুত্তর হলেন এবং ফিরে গেলেন। সুতরাং এই ঘটনাটি তাঁদের একে অপরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং পরস্পরের অধিকারের স্বীকৃতির প্রমাণ বহন করে।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
و
الرواية الثانية ما كان من علي بن الحسين رضي الله عنهم. والمعلوم من حاله الذكر الحسن في حقهما والمحبة والمودة. وقد روى عنه زيد بن علي رضي الله عنه أنه قال: كذب من ادعى أن أبي كان تبرأ من الشيخين. ثم قال للرواي الذي روى عن أبيه: يا راوي، إن أبي كان يحميني من كل شر وآفة حتى اللقمة الحارة، أفترى أن إسلامك ودينك لا يتم إلا بالتبري منهما وأهملني من غير تعريف ذلك إياي، لا تكذب على أبي.
الرواية الثالثة حال زيد بن علي رضي الله عنه. والمعلوم من حاله أنه كان شديد المحبة لهما والموالاة وأنه كان ينهى عن سبهما ويعاقب عليه.
روي
এবং
দ্বিতীয় বর্ণনা যা আলী ইবনুল হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত। তাঁর সম্পর্কে যা সুবিদিত তা হলো তাঁদের উভয়ের (আবু বকর ও উমর) ব্যাপারে সুখ্যাতি, মহব্বত ও হৃদ্যতা পোষণ। যায়েদ ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "সেই ব্যক্তি মিথ্যা বলেছে যে দাবি করেছে যে আমার পিতা শায়খাইন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।" অতঃপর তিনি তাঁর পিতার বরাতে বর্ণনাকারীকে বললেন: "হে বর্ণনাকারী, আমার পিতা আমাকে প্রতিটি অনিষ্ট ও আপদ থেকে রক্ষা করতেন, এমনকি অত্যন্ত গরম লোকমা থেকেও। তুমি কি মনে করো যে তোমার ইসলাম ও দ্বীন তাঁদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা ব্যতীত পূর্ণ হবে না, অথচ তিনি এ বিষয়টি আমাকে না জানিয়ে অবহেলা করেছেন? আমার পিতার ওপর মিথ্যা আরোপ করো না।"
তৃতীয় বর্ণনা যায়েদ ইবনে আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অবস্থা। তাঁর সম্পর্কে এটি সুবিদিত যে তিনি তাঁদের উভয়ের প্রতি অত্যন্ত মহব্বত ও আনুগত্য পোষণ করতেন এবং তিনি তাঁদের গালি দিতে নিষেধ করতেন ও এর ওপর শাস্তি প্রদান করতেন।
বর্ণিত হয়েছে যে,
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
أنه لما بايعه أهل الكوفة ثم دعاهم إلى نصرته قالوا: إنا لا نبايعك ولا ننصرك حتى تتبرأ من الصحابة، فقال: كيف أتبرأ منهما وهما صهرا جدي ووزيراه -لأن عائشة وحفصة كانتا تحت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم زوجتيه، ويعني بالوزيرين لأن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «هما وزيراي» - فلما أنكر
যখন কুফাবাসীগণ তাঁর নিকট আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করল এবং তিনি তাঁদেরকে তাঁর সাহায্যার্থে আহ্বান জানালেন, তখন তাঁরা বলল: “আমরা আপনার নিকট বাইয়াত হব না এবং আপনাকে সাহায্য করব না যতক্ষণ না আপনি সাহাবীগণ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন।” তখন তিনি বললেন: “আমি কীভাবে তাঁদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করব অথচ তাঁরা উভয়েই আমার পিতামহের বৈবাহিক আত্মীয় এবং তাঁর দুই উজির?” —কেননা আয়েশা ও হাফসা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের অধীনে তাঁর দুই পত্নী ছিলেন, আর ‘দুই উজির’ দ্বারা তিনি এটিই বুঝিয়েছেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: “তাঁরা আমার দুই উজির।”— অতঃপর যখন তিনি এটি প্রত্যাখ্যান করলেন
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
التبرؤ منهما رفضوه، فمن أجل ذلك سُمّوا روافض.
وروي عن زيد رضي الله عنه أنه كان يترحم عليهما. وروي أيضا أنه قال: كان أبي علي بن أبي طالب كرم الله وجهه منزلته من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم منزلة هارون من موسى عليهما السلام والصلاة إذ قال له: {وأصلح ولا تتبع سبيل المفسدين} فألزق كلكله [بالأرض] ما رأى صلاحا، فلما رأى الفساد بسط يده وشهر سيفه ودعا إلى ربه، وتبين أنه كان خليفة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم كما أن هارون خليفة موسى.
তারা তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, আর এই কারণেই তাদের রাফেযী নামকরণ করা হয়েছে।
আর যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি তাদের উভয়ের জন্য রহমতের দোয়া করতেন। আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমার পিতা আলী ইবনে আবি তালিব কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু-এর মর্যাদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট হারুনের মর্যাদা মুসার নিকট যেমন ছিল তেমন (তাঁদের উভয়ের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক), যখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: {এবং তুমি সংশোধন করো এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করো না}। অতঃপর যতক্ষণ তিনি কল্যাণ বা সংস্কার দেখতে পেয়েছেন ততক্ষণ তিনি নিজের বুক [জমিনের সাথে] লেপ্টে রেখেছিলেন, কিন্তু যখন তিনি ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা দেখলেন তখন তিনি নিজের হাত প্রসারিত করলেন এবং নিজের তলোয়ার কোষমুক্ত করলেন ও তাঁর রবের দিকে আহ্বান জানালেন। আর এটি স্পষ্ট হয়ে গেল যে তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের খলীফা ছিলেন যেমন হারুন ছিলেন মুসার খলীফা।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وإنما توقف لأن ما كان من القوم كان شرعا وصلاحا، وأنه لما رأى الفساد لم يتوقف بل أنكر وشهر سيفه كما فعل في أهل الجمل والنهروان وصفين.
هذا كله كلام زيد بن علي رضي الله عنهم، كما حكاه الشيخ العالم أحمد بن [أبي] الحسن الكني.
الرواية الرابعة عن عبد الله بن الحسن وأولاده محمد بن
তিনি মূলত এই কারণে বিরত হয়েছিলেন যে, সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যা ঘটেছিল তা ছিল শরয়ি বিধানসম্মত ও কল্যাণকর। আর যখন তিনি ফাসাদ বা বিপর্যয় দেখতে পেলেন, তখন তিনি আর বিরত থাকেননি বরং তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নিজ তরবারি উন্মুক্ত করেছেন, যেভাবে তিনি উষ্ট্রের যুদ্ধ, নাহরাওয়ান এবং সিফফিনের অধিবাসীদের ক্ষেত্রে করেছিলেন।
এই সবটুকুই জায়েদ বিন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বক্তব্য, যেমনটি বিজ্ঞ শাইখ আহমদ বিন [আবি] হাসান আল-কুননি বর্ণনা করেছেন।
চতুর্থ বর্ণনা আবদুল্লাহ বিন হাসান এবং তাঁর সন্তান মুহাম্মাদ বিন
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
عبد الله النفس الزكية وأخويه إبراهيم ويحيى ابني عبد الله أنهم كانوا لا يتبرؤون بل يسيرون فيهما سيرة آبائهم، ولم يظهر منهم تكفير ولا تفسيق ولا لعن.
وناهيك بهذا، فإن هؤلاء الأئمة قال بإمامتهم أكابر المعتزلة ورؤسائهم كعمرو بن عبيد وبشير الرحال
আবদুল্লাহ আন-নাফস আজ-জাকিয়্যাহ এবং তাঁর দুই ভাই ইব্রাহিম ও ইয়াহিয়া—আবদুল্লাহর এই তিন পুত্র—তাঁদের অবস্থা ছিল এই যে, তাঁরা সম্পর্ক ছিন্ন করতেন না, বরং তাঁদের ক্ষেত্রে নিজ পিতৃপুরুষদের অনুসৃত নীতি অনুসরণ করতেন; এবং তাঁদের পক্ষ থেকে কাউকে কাফির ঘোষণা করা, পাপাচারী আখ্যা দেওয়া কিংবা অভিশাপ দেওয়ার কোনো বিষয় প্রকাশ পায়নি।
আর এ বিষয়ে এটিই যথেষ্ট যে, মুতাজিলা সম্প্রদায়ের মহান মনীষী ও নেতৃবৃন্দ, যেমন আমর ইবনে উবাইদ এবং বাশির আর-রাহহাল, এই ইমামগণের ইমামত বা নেতৃত্বের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
والجاحظ وغيرهم ممن كان في عصرهم. ولو ظهر من هؤلاء إكفار وتفسيق للصحابة لم يقل هؤلاء بإمامتهم لاعتقادهم لأمانة الصحابة رضي الله عنهم وإعظامهم أمرهم. وهكذا القول في معتزلة بغداد، فإنهم يفتخرون بإمامة الزيدية، فلو كان هؤلاء الأئمة يعتقدون فسق الصحابة لم يتابعوهم ولا قالوا بإمامتهم.
الرواية الخامسة عن جعفر بن محمد رضي الله عنهما. فإنه كان شديد المحبة لهما. وقد روي أنه لما سئل عن أبي بكر فقال: ما أقول في رجل أولدني
এবং জাহিজ ও তাঁদের সমসাময়িক অন্যান্যেরাও। যদি তাঁদের পক্ষ থেকে সাহাবায়ে কেরামকে কাফির সাব্যস্ত করা বা ফাসেক সাব্যস্ত করার বিষয়টি প্রকাশ পেত, তবে তাঁরা তাঁদের ইমামত (নেতৃত্ব) স্বীকার করতেন না; কারণ তাঁরা সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর আমানতদারিতার প্রতি বিশ্বাস রাখতেন এবং তাঁদের মর্যাদাকে অনেক উচ্চে স্থান দিতেন। বাগদাদের মুতাজিলাদের ব্যাপারেও একই কথা; কেননা তাঁরা জাইদিয়া ইমামদের ইমামত নিয়ে গর্ব করেন। সুতরাং যদি এই ইমামগণ সাহাবায়ে কেরামকে ফাসেক মনে করতেন, তবে তাঁরা তাঁদের অনুসরণ করতেন না এবং তাঁদের ইমামতকেও স্বীকৃতি দিতেন না।
পঞ্চম বর্ণনা জাফর ইবনে মুহাম্মদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই তিনি তাঁদের দুজনের প্রতি অত্যন্ত ভালোবাসা পোষণ করতেন। বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তাঁকে আবু বকর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তখন তিনি বললেন: "আমি এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলব যিনি আমাকে জন্ম দিয়েছেন?"
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
مرتين. يعني أن أمه أم فروة بنت القاسم بن محمد بن أبي بكر، وأمها أيضا هي بنت عبد الرحمن بن أبي بكر. فلهذا قال: ولدني مرتين. وقد روى عنه الخلق الكثير أنه كان يترحم عليهما، هكذا ذكره الشيخ أبو القاسم البستي.
الرواية السادسة عن القاسم بن إبراهيم رضي الله عنهما. وقد روي عنه أنه لما سئل عنهما قال: {تلك أمة قد خلت لها ما كسبت ولكم ما كسبتم} وهذا يدل على ترك الطعن واللعن ووكول أمرهم إلى الله، وهذه هي السلامة.
وقد روي عنه أيضا أنه كان ينكر إيذاءهما ويسخط ولا يرضى بقول الرافضة فيفرط، وهو تصريح بتحريم الأذية والسب.
দুইবার। অর্থাৎ তাঁর মা উম্মু ফারওয়া বিনতে কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর, এবং তাঁর মা-ও ছিলেন আব্দুর রহমান বিন আবু বকরের কন্যা। এ কারণেই তিনি বলেছিলেন: তিনি আমাকে দুইবার জন্ম দিয়েছেন। অসংখ্য মানুষ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁদের উভয়ের জন্য রহমতের দোয়া করতেন; শেখ আবুল কাসিম আল-বুস্তি এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন।
ষষ্ঠ বর্ণনা কাসিম বিন ইব্রাহিম (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, যখন তাঁকে তাঁদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: {তারা ছিল এক উম্মত যারা গত হয়ে গেছে; তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্য এবং তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্য।} আর এটি নিন্দা ও অভিশাপ প্রদান বর্জন করার এবং তাঁদের বিষয়টি আল্লাহর ওপর ন্যস্ত করার প্রতি নির্দেশ করে, আর এটাই হলো নিরাপত্তা।
তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁদের কষ্ট দেওয়াকে প্রত্যাখ্যান করতেন এবং এতে ক্রোধান্বিত হতেন; তিনি রাফেজিদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতেন না যা সীমালঙ্ঘনমূলক, আর এটি কষ্ট দেওয়া এবং গালিগালাজ করা হারাম হওয়ার এক সুস্পষ্ট ঘোষণা।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الرواية السابعة عن الناصر للحق الحسن بن علي رضي الله عنهما. روى الصاحب الكافي إسماعيل بن عباد أنه قال: أنا عندي بخط الناصر للحق الترحم علهيما.
وعن القاضي أبي بكر -وكان منصوبا من جهة السيد المؤيد بالله، استقضاه على بعض النواحي- قال: سمعت عن الشيخ حسين [الصوفي] وكان له نيف وسبعون سنة يقول: سمعت نيفا وسبعين شخصا ممن حضر مجلس الناصر للحق قالوا: أملى الإمام الناصر للحق شيئا عن الشيخين أبي بكر وعمر ثم قال: رضي الله عنهما، فكفّ المستملي أن يكتب رضي الله عنهما، وكان الإمام ينظر إليه فزجره
সপ্তম বর্ণনা আন-নাসির লিল-হক আল-হাসান বিন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত। আস-সাহিব আল-কাফি ইসমাইল বিন আব্বাদ বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আমার কাছে আন-নাসির লিল-হকের নিজ হাতের লেখায় তাঁদের উভয়ের জন্য রহমতের দোয়া বিদ্যমান।
এবং কাযী আবু বকর থেকে বর্ণিত—যিনি আস-সাইয়্যিদ আল-মুআইয়্যিদ বিল্লাহ কর্তৃক নিযুক্ত ছিলেন এবং তিনি তাঁকে কিছু অঞ্চলের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন—তিনি বলেন: আমি শেখ হুসাইন [আস-সুফি]-এর নিকট শুনেছি—তাঁর বয়স সত্তর বছরের কিছু বেশি ছিল—তিনি বলছিলেন: আমি আন-নাসির লিল-হকের মজলিসে উপস্থিত সত্তর জনেরও বেশি ব্যক্তির নিকট শুনেছি, তাঁরা বলেছেন: ইমাম আন-নাসির লিল-হক শাইখাইন আবু বকর ও উমর সম্পর্কে কিছু কথা শ্রুতলিপি দিচ্ছিলেন, অতঃপর তিনি বললেন: রাযিয়াল্লাহু আনহুমা। তখন শ্রুতলিপি লেখক 'রাযিয়াল্লাহু আনহুমা' লিখতে বিরত থাকলেন; ইমাম তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং তিনি তাঁকে ধমক দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وقال له: لم لا تكتب رضي الله عنهما، فإن هذا العلم لم يورث إلا عنهما وعن أمثالهما.
وعن الشيخ أحمد بن أبي الحسن الكني أن الموجود في كتاب الإمامة للناصر الحق في آخر باب من أبوابها قال فيه: ولم أصف ما وصفت من اعتراضهم بما اعترضوا إرادة لدفع فضل أبي بكر رضي الله عنه عما خصه الله به من بعد علي بن أبي طالب رضي الله عنهم، وإني لعارف بحقه وصحبته لرسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وتقدم إسلامه على من أسلم بعده وإني لمحب له، والحمد لله وحده.
وهذا كله كلامه بألفاظه. فمن كان هذا كلامه في أيام ولايته وولاية بني عمه كالحسن بن زيد ومحمد بن زيد من غير تقية وخوف، كيف يقال إن مذهبه في حقهم التفسيق والإكفار.
আর তিনি তাকে বললেন: আপনি কেন 'আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন' লিখছেন না? কারণ এই জ্ঞান তো কেবল তাদের দুই জন এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের থেকেই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছে।
আর শায়খ আহমদ বিন আবি হাসান আল-কান্নি থেকে বর্ণিত যে, নাসির আল-হাক্ক-এর 'কিতাবুল ইমামাহ' গ্রন্থের সর্বশেষ অধ্যায়ে যা পাওয়া যায়, তাতে তিনি বলেছেন: আমি তাদের আপত্তিসমূহ সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছি, তা আলী বিন আবি তালিব (আল্লাহ তাদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর পর আবু বকর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-কে আল্লাহ যে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছেন, তা অস্বীকার করার জন্য বর্ণনা করিনি। আর আমি অবশ্যই তাঁর অধিকার, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর সাহচর্য এবং তাঁর পরে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের ওপর তাঁর ইসলাম গ্রহণের অগ্রগণ্যতা সম্পর্কে অবগত। আর আমি অবশ্যই তাঁকে ভালোবাসি; এবং সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য।
আর এই সবই তাঁর হুবহু বক্তব্য। সুতরাং যাঁর বক্তব্য তাঁর নিজের এবং তাঁর চাচাতো ভাই হাসান বিন যায়েদ ও মুহাম্মদ বিন যায়েদের শাসনকালে কোনো প্রকার তাকিয়া বা ভয়ভীতি ছাড়াই এমন ছিল, তাঁদের ব্যাপারে তাঁর মাযহাব পাপাচারী সাব্যস্ত করা বা কাফের ঘোষণা করা ছিল—এমন কথা কীভাবে বলা যেতে পারে?
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
الرواية الثامنة عن السيد المؤيد بالله. قال الشيخ أبو سعيد: سمعت القاضي يوسف: سمعت المؤيد بالله يقول في وقت: الحمد لله، أزداد كل يوم لهما حبا. وكان في أول عمره وعنفوان شبابه متوقفا ثم ترحم عليهما في آخر عمره، وكان يجتهد في الدعاء إلى فضلهما ويأمر بذلك ويجتهد في كشف ذلك لأصحابنا من الزيدية ويظهر لهم هذه الحالة، وكان يفضلهما ويمنع الناس من القول السيء فيهما.
وروى عنه الكني في جوابه الهوسميات: أنه ذكر أن الخلاف في الإمامة وإن كان قطعيا فإنه لا يوجب كفرا ولا فسقا، ولهذا فإن أمير المؤمنين لم يكفر ولم يفسق من تخلف عن القول بإمامته والدخول فيها، كسعد بن أبي وقاص
অষ্টম বর্ণনা সায়্যিদ আল-মুয়াইয়িদ বিল্লাহ থেকে বর্ণিত। শায়খ আবু সাঈদ বলেন: আমি কাজী ইউসুফকে বলতে শুনেছি: আমি মুয়াইয়িদ বিল্লাহকে এক সময় বলতে শুনেছি: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, প্রতিদিন তাঁদের প্রতি আমার ভালোবাসা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি তাঁর জীবনের শুরুতে এবং যৌবনের প্রারম্ভে এই বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন ছিলেন, অতঃপর জীবনের শেষ ভাগে তাঁদের জন্য রহমতের দোয়া করতেন। তিনি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রচারের ক্ষেত্রে সচেষ্ট ছিলেন এবং এর নির্দেশ দিতেন। আমাদের জাইদিয়া মতাবলম্বী সাথীদের নিকট বিষয়টি স্পষ্ট করতে তিনি কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং তাঁদের কাছে এই অবস্থাটি প্রকাশ করতেন। তিনি তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন এবং তাঁদের সম্পর্কে মন্দ কথা বলা থেকে মানুষকে বারণ করতেন।
আল-কুন্নি তাঁর ‘আল-হাওসামিয়াত’ এর উত্তরে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে: তিনি উল্লেখ করেছেন, ইমামতের বিষয়ে মতপার্থক্য যদিও অকাট্য (কাতঈ), তবুও তা কুফর বা ফিসক (পাপাচার) আবশ্যক করে না। এই কারণেই আমীরুল মুমিনীন তাঁদের কাফির বা ফাসেক সাব্যস্ত করেননি যারা তাঁর ইমামত স্বীকার করতে ও তাতে অন্তর্ভুক্ত হতে বিরত ছিলেন, যেমন সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
ومحمد بن مسلمة وعبد الله بن عمر وغيرهم. وهكذا في سائر أئمة أهل البيت فإنهم لا يرون الخلاف في إمامته كفرا ولا فسقا، وإن كانت أدلتها قاطعة. هذا ملخص ما حكاه عن المؤيد بالله الشيخ الكني في الهوسميات.
এবং মুহাম্মদ বিন মাসলামা, আবদুল্লাহ বিন উমর এবং অন্যান্যরা। একইভাবে আহলে বাইতের অন্যান্য সকল ইমামগণের ক্ষেত্রেও (একই বিষয় প্রযোজ্য); কেননা তাঁরা তাঁর ইমামতের ব্যাপারে বিরোধিতাকে কুফর বা ফাসিকি হিসেবে গণ্য করেন না, যদিও এর স্বপক্ষে প্রমাণসমূহ অকাট্য। এটি শায়খ আল-কানি কর্তৃক ‘আল-হাওসামিয়াত’ গ্রন্থে আল-মুয়াইয়িদ বিল্লাহ থেকে বর্ণিত বক্তব্যের সারসংক্ষেপ।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
الرواية التاسعة عن الموفق بالله أبي عبد الله الحسين بن إسماعيل الجرجاني أنه قال: فإن قيل فما حكم من خالف هذه النصوص الدالة على أمير المؤمنين، هل يكفر أو يفسق؟ قيل إنه يكون مخطئا غير كافر ولا فاسق، ولذلك كان يوليهم أمير المؤمنين الذكر الجميل ويثني عليهم، ولو كان فاسقا لما كان ذلك. فإن قيل هلا فسقوا لأنهم مخطئون فيما يتعلق خطؤه بالفروج والأموال؟ قيل إن من خطّأه بطريق التأويل لم يكن كافرا ولا فاسقا.
فهذا محصول كلامه مؤذن بأنهم ليسوا كفارا ولا فساقا لمخالفتهم هذه النصوص فيما يتعلق بالشريعة.
فهذا ما أردنا ذكره مما أورده الشيخ العالم أحمد بن الحسن الكني في كشف الغلطات ومن غيره، وإنما أوردناه لغرضين:
নবম বর্ণনা আল-মুওয়াফফাক বিল্লাহ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-জুরজানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যদি প্রশ্ন করা হয় যে, আমিরুল মুমিনিনের প্রতি নির্দেশকারী এই দলিলসমূহের যারা বিরোধিতা করে তাদের বিধান কী? তারা কি কাফির হবে নাকি ফাসিক? বলা হয়েছে যে, সে ভুলকারী হিসেবে গণ্য হবে, কিন্তু কাফির বা ফাসিক হবে না। আর এ কারণেই আমিরুল মুমিনিন তাদের সম্পর্কে সুন্দর আলোচনা করতেন এবং তাদের প্রশংসা করতেন; যদি তারা ফাসিক হতো তবে তিনি তা করতেন না। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, তারা কেন ফাসিক হবে না যেহেতু তারা লজ্জাস্থান ও ধন-সম্পদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভুল করেছে? বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ব্যাখ্যার (তাবিল) পথে ভুল করে, সে কাফির বা ফাসিক হয় না।
সুতরাং তার বক্তব্যের নির্যাস এই ঘোষণা দেয় যে, শরিয়ত সংশ্লিষ্ট এই দলিলগুলোর বিরোধিতা করার কারণে তারা কাফির বা ফাসিক নন।
শাইখ আলিম আহমাদ ইবনুল হাসান আল-কান্নি তার ‘কাশফুল গালাতাত’ ও অন্যান্য গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, তা থেকে আমরা এই অংশটুকু উল্লেখ করতে চেয়েছি। আমরা এটি কেবল দুটি উদ্দেশ্যে উদ্ধৃত করেছি:
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
أحدهما أن تعلم أن أمير المؤمنين وأكابر أولاده من أهل البيت رضي الله عنهم وأفاضلهم ليسوا بقائلين بكفر أحد من الصحابة ولا فسقه مع مخالفتهم لهذه النصوص القاطعة، وأن مخالفتهم لا تقطع موالاتهم ولا تبطلها كما ترجمناه.
وثانيهما أن يكون الناظر على ثقة من أمره وبصيرة في دينه في ترك الإقدام على تكفير من لا دليل على تفكيره وتفسيق من لا دليل على تفسيقه، فإن الخطأ في مثل هذا عظيم. قال المؤيد بالله: ولو قيل لأحد من مدعي التفسيق والإكفار في حقهما: أدِّ نصا صريحا من جهة أئمتنا أنهم يتبرؤون من الشيخين تصريحا، لم يمكنه ذلك أصلا.
فأما ما روي عن الهادي أمير المؤمنين يحيى بن الحسين في كتاب
প্রথমটি হলো আপনার জানা উচিত যে, আমীরুল মুমিনীন এবং তাঁর সন্তানদের মধ্যে আহলে বাইতের বড়রা ও তাঁদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) সাহাবীগণের কাউকেই কাফির বা ফাসেক বলেন না, যদিও তাঁরা এই অকাট্য দলীলসমূহের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের এই বিরোধিতা তাঁদের প্রতি আনুগত্য বা ভালোবাসাকে ছিন্ন করে না এবং তা বাতিলও করে দেয় না, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি।
দ্বিতীয়টি হলো—গবেষক যেন নিজ বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাসী হন এবং স্বীয় দ্বীনের ব্যাপারে প্রজ্ঞাবান হন এমন ব্যক্তিকে কাফির বলা থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে যার তাকফিরের (কাফির সাব্যস্ত করার) কোনো প্রমাণ নেই, এবং এমন ব্যক্তিকে ফাসেক বলা থেকে যার তাফসিকের (পাপী সাব্যস্ত করার) কোনো প্রমাণ নেই। কেননা, এই জাতীয় বিষয়ে ভুল করা অত্যন্ত গুরুতর। আল-মুআইয়্যাদ বিল্লাহ বলেন: "যদি তাঁদের দুজনের শানে তাকফির ও তাফসিকের দাবিদার কাউকে বলা হয়—আমাদের ইমামদের পক্ষ থেকে এমন একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য পেশ করো যে তাঁরা স্পষ্টভাবে শায়খাইন (আবু বকর ও উমর) থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন—তবে তার পক্ষে তা করা মোটেও সম্ভব হবে না।"
আর আল-হাদী আমীরুল মুমিনীন ইয়াহইয়া বিন আল-হুসাইন থেকে কিতাবে যা বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
الأحكام من أنه قال: من أنكر النص على أمير المؤمنين علي بن أبي طالب فقد كذب على الله وعلى رسوله، ومن كذب على الله ورسوله فقد كفر بالله ورسوله؛ وما روي عن أبي العباس أحمد بن إبراهيم الحسني من الأخبار التي رواها في كتاب المصابيح مما يدل على الفسق ويشعر به؛ وما روي عن السيد أبي طالب يحيى بن الحسين في المسألة التي أملاهما، وهو أن الخروج على الإمام فسق؛
আল-আহকাম গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিবের স্বপক্ষে সুস্পষ্ট ভাষ্য (নস) অস্বীকার করল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যা আরোপ করল; আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর মিথ্যা আরোপ করল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরি করল। এবং আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-হাসানি কর্তৃক ‘কিতাব আল-মাসাবিহ’-এ বর্ণিত সেই সকল সংবাদ যা পাপাচার (ফিসক) নির্দেশ করে এবং তা ব্যক্ত করে; এবং আস-সাইয়্যিদ আবু তালিব ইয়াহইয়া ইবনুল হুসাইন থেকে সেই মাসআলায় যা বর্ণিত হয়েছে যা তিনি তাঁদের দুজনকে শ্রুতিলিপি দিয়েছিলেন, আর তা হলো এই যে, ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা একটি পাপাচার (ফিসক);
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
فما ذكرنا من الروايات يجب حمله على ما يطابق ما حكيناه عن أمير المؤمنين والأفاضل من الأئمة من ولده لئلا يؤدي إلى تعارض أقوالهم فيما طريقه القطع من المسائل.
فنقول: أما ما روي عن الهادي أمير المؤمنين فهو محمول على من أنكر أن يكون رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: «من كنت مولاه فعلي مولاه»
আমরা যে সকল বর্ণনা উল্লেখ করেছি, সেগুলোকে অবশ্যই আমিরুল মুমিনীন এবং তাঁর বংশধরগণের মধ্য হতে মর্যাদাবান ইমামদের থেকে আমরা যা বর্ণনা করেছি তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে হবে, যাতে নিশ্চিত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে তাঁদের উক্তিগুলোর মধ্যে কোনো প্রকার বৈপরীত্য তৈরি না হয়।
অতএব আমরা বলি: হেদায়াতকারী আমিরুল মুমিনীনের পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর এই উক্তিকে অস্বীকার করেছে যে: «আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা»।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
وقوله: «أنت مني بمنزلة هارون من موسى». وإنما وجب حمل كلام يحيى على ما ذكرناه لأمرين:
أما الأول فلأن ظاهر كلامه يوجب إكفارهم وردتهم، ولم يؤثر عن يحيى شيء من هذا ولا عن غيره من أكابر أهل البيت أصلا.
وأما الثاني فلأن كتاب الأحكام مشحون بالاحتجاج برواية القوم وأقضيتهم وأحكامهم والرجوع إليهم في أمور الحوادث؛ ولو كانوا كفارا أو فساقا لكان لا معنى للاحتجاج بأقوالهم وأقضيتهم.
وأما ما روي عن أبي العباس الحسني رحمه الله من الأخبار التي نقلها، فكلها أحادية لا يمكن إثبات الكفر والفسق بشيء منها إجماعا.
এবং তাঁর বাণী: "তুমি আমার নিকট হারূনের মুসার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার মর্যাদায়।" আর ইয়াহইয়ার বক্তব্যকে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার ওপর ন্যস্ত করা মূলত দুটি কারণে আবশ্যক:
প্রথমত, কারণ তাঁর বক্তব্যের বাহ্যিক দিক তাদের কাফির সাব্যস্ত করা ও ধর্মত্যাগী হওয়ার দাবি রাখে, অথচ ইয়াহইয়া থেকে কিংবা আহলে বাইতের অন্য কোনো মহান ব্যক্তিত্ব থেকে এ ধরনের কোনো কিছুই আদতে বর্ণিত হয়নি।
দ্বিতীয়ত, কারণ কিতাবুল আহকাম সেই জনগোষ্ঠীর বর্ণনা, ফয়সালা ও বিধানাবলী দ্বারা দলিল পেশ করা এবং উদ্ভূত সমস্যাবলীতে তাদের দিকে প্রত্যাবর্তনের বিবরণে পরিপূর্ণ; তারা যদি কাফির বা ফাসিক হতো, তবে তাদের বক্তব্য ও ফয়সালা দ্বারা দলিল পেশ করার কোনো সার্থকতা থাকত না।
আর আবুল আব্বাস আল-হাসানী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত যে সকল সংবাদ তিনি উদ্ধৃত করেছেন, তার সবগুলোই একক সূত্রে বর্ণিত সংবাদ (আহাদ), যা দ্বারা সর্বসম্মতভাবে (ইজমা অনুযায়ী) কুফর ও ফিসক সাব্যস্ত করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وأما ما روي عن السيد أبي طالب، وهو أن الخروج على إمام الحق يكون بغيا وفسقا، فهذا صحيح. لكنا نقول لم يكن من أبي بكر وعمر رضي الله عنهما خروج على أمير المؤمنين أصلا حتى يلزم فسقهما أو بغيهما، إنما كان قياما بتكاليف كان من حق أمير المؤمنين أن يكون قائما بها وأحق بالتصرف فيها، فلما كف عن القيام بها لعذر كان له في ذلك وقام بها أبو بكر بحضرة جماعة من الصحابة لم يكن فعل أبي بكر خروجا على إمام الحق كما ذكرناه، فلهذا لم يكن فسقا.
على أن الكنّي قد ذكر أن كلامه في المسألة إنما كان في أول عمره وعنفوان شبابه حين كان إماميا، فأما بعد أن صار زيديا محققا في الأصول فلا يظن به أنه قائل بذلك ومعتقِد له.
ويؤيد ما ذكرناه من التأويل لكلامه هو أن شرح التحرير مشحون بذكر الاستدلال والرواية عن الشيخين في الأخبار والأقضية
আর সাইয়্যেদ আবু তালিব থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, ন্যায়নিষ্ঠ ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হলো সীমালঙ্ঘন ও পাপাচার, তা সঠিক। তবে আমরা বলি যে, আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে আমিরুল মুমিনিনের বিরুদ্ধে আদতে কোনো বিদ্রোহ সংঘটিত হয়নি যে কারণে তাঁদের পাপাচার বা সীমালঙ্ঘন আবশ্যক হবে। বরং তা ছিল কেবল এমন কিছু দায়িত্ব আঞ্জাম দেওয়া যা পালন করা আমিরুল মুমিনিনেরই কর্তব্য ছিল এবং সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন সর্বাধিক যোগ্য। সুতরাং যখন তিনি কোনো ওজরের কারণে তা পালন করা থেকে বিরত থাকলেন এবং একদল সাহাবীর উপস্থিতিতে আবু বকর তা সম্পাদন করলেন, তখন আবু বকরের এই কাজ ন্যায়নিষ্ঠ ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ছিল না যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি, আর এই কারণেই তা পাপাচারও ছিল না।
তাছাড়া, কুন্নি উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য ছিল কেবল তাঁর জীবনের শুরুতে ও যৌবনের প্রারম্ভে যখন তিনি ইমামি ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি উসূলে (ধর্মতত্ত্বে) একজন মুহাক্কিক যাইদি হলেন, তখন তাঁর সম্পর্কে এমন ধারণা করা যায় না যে তিনি ওই মতের প্রবক্তা বা সেটির বিশ্বাসী।
তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে আমাদের উল্লিখিত ব্যাখ্যাকে যা শক্তিশালী করে তা হলো, শরহুত তাহরির গ্রন্থটি বিভিন্ন বর্ণনা ও বিচারিক ফয়সালার ক্ষেত্রে শায়খাইন (আবু বকর ও উমর) থেকে দলিল গ্রহণ ও বর্ণনায় পরিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
আতওয়াকুল হামামাহ ফী হামলিস সাহাবাহ আলাস সালামাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
والأحكام، ولو كانا فاسقين عنده لم يكن للاحتجاج بأقوالهما وأقضيتهما وجه.
فتحصل من مجموع ذلك ما ذكرناه، وأن كلام هؤلاء الأئمة مطابق وموافق لما نقلناه عن سائر الأئمة وأكابرهم بالقول بسلامة أحوال الصحابة عن الكفر والفسق. وهذا مقصودنا.
تنبيه: فإن اعترفت بما نقلناه من أن أحدا من أهل البيت لم ينقل عنه كفر ولا فسق، فاعلم أنهم بعد ذلك فريقان:
الأول: مصرحون بالترحم والترضية عليهم. وهذا هو المشهور عن أمير المؤمنين كما حكيناه وعن زيد بن علي وجعفر الصادق والناصر للحق والسيد المؤيد بالله، فإن هؤلاء كلهم مصرحون بالترضية والترحم والموالاة.
وهذا هو المختار عندنا. وقد دللنا عليه وذكرنا أن إسلامهم مقطوع به لا محالة، وعروض ما عرض من الخطإ في مخالفة النصوص ليس فيه إلا الخطأ لا غير، وأما كونه كفرا أو فسقا فلم تدل عليه دلالة شرعية، فلهذا أبطل القول به. فهذا الذي نختاره ونرضاه مذهبا ونحب أن نلقى الله تعالى ونحن عليه.
এবং বিধানাবলি, আর যদি তারা তার নিকট ফাসিক হতেন তবে তাদের কথা ও ফয়সালা দ্বারা দলিল পেশ করার কোনো অবকাশ থাকত না।
সুতরাং এই সবকিছু থেকে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই প্রমাণিত হলো। আর এই ইমামদের বক্তব্য অন্যান্য ইমাম ও তাদের বড়দের থেকে আমাদের বর্ণিত সেই বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও একমত, যেখানে বলা হয়েছে যে সাহাবায়ে কিরামের অবস্থা কুফর ও ফাসিকি থেকে মুক্ত। আর এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।
সতর্কবার্তা: আমরা যা বর্ণনা করেছি তা যদি আপনি স্বীকার করে নেন যে, আহলে বাইতের কারো পক্ষ থেকেই কুফর বা ফাসিকির কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না, তবে জেনে রাখুন যে এরপর তারা দুই দলে বিভক্ত:
প্রথম দল: যারা তাদের জন্য রহমত ও সন্তুষ্টির দোয়া করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন। এটিই আমিরুল মুমিনীন থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ মত, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আর যায়িদ বিন আলী, জাফর আস-সাদিক, আন-নাসির লিল-হাক্ক এবং আস-সাইয়্যিদ আল-মুআইয়্যাদ বিল্লাহ থেকেও এমনটিই বর্ণিত। কেননা তারা সবাই তাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ, রহমতের দোয়া এবং বন্ধুত্বের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।
আর এটিই আমাদের নিকট মনোনীত মত। আমরা এর সপক্ষে দলিল দিয়েছি এবং উল্লেখ করেছি যে তাদের ইসলাম সন্দেহাতীতভাবে নিশ্চিত। আর নুসূসের বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে যে ভুলগুলো প্রকাশ পেয়েছে, তাতে ভুল ছাড়া আর কিছুই নেই। আর এটি কুফর বা ফাসিকি হওয়ার ব্যাপারে কোনো শরয়ি দলিল নেই, তাই এ সংক্রান্ত মতটি বাতিল করা হয়েছে। সুতরাং এটিই আমরা মাযহাব হিসেবে গ্রহণ করেছি ও পছন্দ করেছি এবং আমরা এই বিশ্বাসের উপরই মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাই।