(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: -)
بيع المرابحة للآمر بالشراء القسم: مسائل فقهية
الكتاب: بيع المرابحة للآمر بالشراء - دراسة تطبيقية في ضوء تجربة شركة بيت المال الفلسطيني العربي
المؤلف: حسام الدين بن موسى محمد بن عفانة
الناشر: طُبع على نفقة شركة بيت المال الفلسطيني العربي
الطبعة: الأولى، 1996 م
عدد الصفحات: 137
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 شوّال 1432
ক্রয় আদেশের ভিত্তিতে মুরাবাহা বিক্রয় বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ক্রয় আদেশের ভিত্তিতে মুরাবাহা বিক্রয় - ফিলিস্তিনি আরব বাইতুল মাল কোম্পানির অভিজ্ঞতার আলোকে একটি প্রায়োগিক অধ্যয়ন
লেখক: হুসামুদ্দিন বিন মুসা মুহাম্মদ বিন আফানা
প্রকাশক: ফিলিস্তিনি আরব বাইতুল মাল কোম্পানির অর্থায়নে মুদ্রিত
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ শাওয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: -)
بيع المرابحة للآمر بالشراء
هذا الكتاب دراسة تطبيقية لبيع المرابحة للآمر بالشراء المتعارف عليه في البنوك الإسلامية على ضوء تجربة شركة بيت المال الفلسطيني العربي وهي أول شركة في فلسطين تتعامل وفق أحكام الشريعة الإسلامية وقد درس المؤلف أقوال العلماء المعاصرين في بيع المرابحة وأدلتهم وأجاب على شبهات المانعين له ووضح أسس تطبيقه في شركة بيت المال الفلسطيني العربي.
ক্রয়াদেশ প্রদানকারীর অনুকূলে মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয়
এই বইটি ফিলিস্তিনি আরবি বাইতুল মাল কোম্পানির অভিজ্ঞতার আলোকে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে প্রচলিত ‘ক্রয়াদেশ প্রদানকারীর অনুকূলে মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয়’-এর ওপর একটি প্রায়োগিক গবেষণা। এটি ফিলিস্তিনের প্রথম কোম্পানি যা ইসলামি শরিয়ার বিধান অনুযায়ী লেনদেন পরিচালনা করে। লেখক মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে সমসাময়িক আলেমদের অভিমত ও তাঁদের দলিলসমূহ আলোচনা করেছেন, এটি নিষিদ্ধকারীদের সংশয়সমূহের জবাব প্রদান করেছেন এবং ফিলিস্তিনি আরবি বাইতুল মাল কোম্পানিতে এটি প্রয়োগের মূলনীতিসমূহ স্পষ্ট করেছেন।
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ৪)
سورة البقرة {مدنية}
الآيات {275 - 279}
بسم الله الرحمن الرحيم
وأحَلَّ الله البَيعَ وَحَرَّمَ الرّبا فَمَن جَآءَهُ مَوِعظَةُُ مِن رَّبِهِ فَانتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلى الله وَمَن عَادَ فأُوْلَئكَ أَصحَابُ النَّارِ هُم فِيهَا خَالِدُونَ * يَمحَقُ اللهُ الرِبا وَيُربي الصَّدقات والله لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثَيمٍ * إنَّ الَّذينَ أمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ وَأَقَامُواْ الصَّلاةَ وَأَتَوُاْ الزَّكاةَ لَهُم أَجرُهُم عِندَ رَبِهِم وَلَا خَوفُ عَلَيِهم وَلَا هُم يَحزَنُونَ * يَأَيُّها الذين أَمَنُواْ اتَّقُواْ الله وَذَرُواْ مَا بَقِيَ مِنَ الرِبا إن كُنتُم مُّؤمِنِينَ* فَإن لَّم تَفعَلُواْ فَأَذَنُواْ بِحَرِبٍ مِنَ الله وَرَسُولهِ وَإِن تُبتُم فَلَكُم رُؤوسُ أَموالِكُم لَا تَظلِمُونَ وَلَا تُظلَمُونَ *
صدق الله العظيم
সূরা আল-বাকারাহ {মাদানি}
আয়াতসমূহ {২৭৫ - ২৭৯}
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
আর আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। অতঃপর যার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, তবে অতীতে যা অতিবাহিত হয়েছে তা তারই এবং তার বিষয়টি আল্লাহর নিকট সোপর্দ। আর যারা পুনরায় (সুদ) গ্রহণ করবে, তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। * আল্লাহ সুদকে বিলুপ্ত করেন এবং দান-সদকাকে প্রবৃদ্ধি দান করেন। আর আল্লাহ কোনো অকৃতজ্ঞ পাপিষ্ঠকে পছন্দ করেন না। * নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, সালাত কায়েম করেছে এবং জাকাত প্রদান করেছে, তাদের প্রতিদান তাদের রবের নিকট রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না। * হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের বকেয়া অংশ বর্জন করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। * অতঃপর তোমরা যদি তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও। আর যদি তোমরা তওবা করো, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না। *
মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ৫)
تقديمبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد.
يعتبر تأسس شركة بيت المال الفلسطيني العربي عملاً رائداً قام به مجموعة من رجال الاعمال لدعم عجلة الاقتصاد الفلسطيني وذلك للإستثمار وفق أحكام الشريعة الإسلامية السمحة من أجل النهوض بالاقتصاد مع المحافظة على الأسس الاجتماعية والدينية وبشكل خاص الابتعاد عن الربا. إن الهدف الرئيس لشركة بيت المال الفلسطيني العربي هو الاستثمار بطريق الحلال وفق الأسس والمبادىء التي أقرتها الشريعة الإسلامية ولترسيخ التصور الاقتصادي الإسلامي وللتخلص من الربا الذي يعتبر السمة الغالبة على النظام الاقتصادي العالمي.
ونحن في شركة بيت المال الفلسطيني العربي قررنا أن نكون المبادرين في التخلص من الربا والتعامل بالعقود الصحيحة وفق الشروط والضوابط التي وضعها الفقهاء والعلماء. ومن هذه العقود {بيع المرابحة للآمر بالشراء} الذي أقرته مجامع علمية متخصصة وأصبح من أهم وسائل الاستثمار في المصارف والشركات الإسلامية.
ومن أجل توضيح هذا العقد بصورة جلية ولدفع الشبهات التي أثيرت عليه قام د. حسام الدين عفانة رئيس هيئة الرقابة الشرعية لشركة بيت المال الفلسطيني العربي بإعداد هذه الدراسة واستعرض فيها أراء العلماء في هذا العقد والأسس التي إعتمد عليها وبين كيفية تعامل الشركة بهذا العقد بجلاء ووضوح.
وإن نشر هذه الدراسة يعد إسهاماً من شركة بيت المال لنشر الدراسات والبحوث التي تدعم مسيرة الإقتصاد الإسلامي.
ونسأل الله العظيم أن يوفقنا لخدمة هذا الشعب وأن نكون دائماً المبادرين في دفع عجلة الإقتصاد الفلسطيني إلى الأمام والله ولي التوفيق.
د. محمد صرصور
مدير عام شركة بيت المال الفلسطيني العربي
উপস্থাপনাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.), তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
আরব ফিলিস্তিনি বাইতুল মাল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা এক অগ্রণী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত, যা একদল ব্যবসায়ী ফিলিস্তিনি অর্থনীতির চাকা সচল করার লক্ষ্যে গ্রহণ করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো—মহান ইসলামি শরীয়াহর উদার বিধান অনুযায়ী বিনিয়োগের মাধ্যমে সামাজিক ও ধর্মীয় ভিত্তি বজায় রাখা এবং বিশেষভাবে সুদ থেকে দূরে থেকে অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটানো। আরব ফিলিস্তিনি বাইতুল মাল কোম্পানির প্রধান লক্ষ্য হলো ইসলামি শরীয়াহ কর্তৃক অনুমোদিত মূলনীতি ও আদর্শ অনুযায়ী হালাল উপায়ে বিনিয়োগ করা, ইসলামি অর্থনৈতিক দর্শনকে সুদৃঢ় করা এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রভাবশালী বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিদ্যমান সুদ থেকে মুক্তি লাভ করা।
আমরা আরব ফিলিস্তিনি বাইতুল মাল কোম্পানির পক্ষ থেকে সুদ বর্জন এবং ফকিহ ও আলেমগণের নির্ধারিত শর্ত ও নীতিমালা অনুযায়ী সঠিক (صحيح) চুক্তির মাধ্যমে লেনদেন করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সকল চুক্তির মধ্যে রয়েছে {ক্রয় আদেশের বিপরীতে মুরাবাহা বিক্রয়}, যা বিশেষায়িত ইলমি মজলিসসমূহ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে এবং বর্তমানে ইসলামি ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
এই চুক্তিটিকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে এবং এর ওপর উত্থাপিত সংশয়সমূহ নিরসনের লক্ষে আরব ফিলিস্তিনি বাইতুল মাল কোম্পানির শরীয়াহ বোর্ড-এর প্রধান ড. হুসামুদ্দিন আফানা এই গবেষণাটি তৈরি করেছেন। এতে তিনি এই চুক্তির বিষয়ে আলেমদের মতামত এবং এর ভিত্তিগুলো পর্যালোচনা করেছেন এবং কোম্পানি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও স্পষ্টভাবে কীভাবে এই চুক্তির মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করে তা বর্ণনা করেছেন।
এই গবেষণাটি প্রকাশ করা মূলত ইসলামি অর্থনীতির পথচলাকে ত্বরান্বিত করার লক্ষে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রবন্ধ প্রচারের ক্ষেত্রে বাইতুল মাল কোম্পানির একটি অবদান।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই জাতির সেবা করার তৌফিক দান করেন এবং আমরা যেন সর্বদা ফিলিস্তিনি অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী হতে পারি। আল্লাহই তৌফিকদানকারী।
ড. মুহাম্মাদ সারসুর
মহাপরিচালক, আরব ফিলিস্তিনি বাইতুল মাল কোম্পানি
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ৬)
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل الله فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون}
{يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبثَّ منهما رجالاً كثيراً ونساءً واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبا}
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولاً سديداً يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزا عظيماً}.
وبعد .... يقول الله تعالى في محكم كتابه: {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وذروا ما بقي من الربا إن كنتم مؤمنين فإن لم تفعلوا فأذنوا بحرب من الله ورسوله وإن تبتم فلكم رؤوس أموالكم لا تظلمون ولا تظلمون}. وثبت عن الرسول صلى الله عليه وسلم أنه قال: {لعن الله آكل الربا ومؤكله وكاتبه وشاهديه وقال هم سواء} رواه مسلم.
ومما لا شك فيه أن الربا هو السمة الغالبة على النظام الاقتصادي العالمي ومما يؤسف له أن الأمة الإسلامية قد غرقت في بحور الربا وإن من قوارب النجاة من هذه البحور المصارف والشركات الإسلامية التي تعتبر من مظاهر الصحوة الإسلامية المباركة والتي قدمت الإسلام ليحل المشكلات التي تواجه العالم الإسلامي ومنها المشكلة الاقتصادية وعلى وجه الخصوص مشكلة الربا فالواجب على الأمة أن تطوع الحياة للإسلام وتجعله المصدر الأول والأخير لحل كافة المعضلات.
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।”
“হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর সদা পর্যবেক্ষণকারী।”
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাফল লাভ করল।”
অতপর... মহান আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট (محكم) কিতাবে বলেন: “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। তবে তোমরা যদি তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও। আর যদি তোমরা তাওবা করো, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই থাকবে; তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপরও জুলুম করা হবে না।” আর রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “আল্লাহ লানত করেছেন সুদখোর, সুদের দাতা, সুদের লেখক ও তার দুই সাক্ষীর ওপর এবং তিনি বলেছেন তারা সবাই সমান।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুদই বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে মুসলিম উম্মাহ সুদের অতল সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়েছে। আর এই সমুদ্র থেকে মুক্তির অন্যতম নৌকা হলো ইসলামি ব্যাংক ও কোম্পানিগুলো, যা বরকতময় ইসলামি জাগরণের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে গণ্য। এগুলো মুসলিম বিশ্বের সামনে আসা বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সমস্যা এবং সুনির্দিষ্টভাবে সুদের সমস্যা সমাধানের জন্য ইসলামকে উপস্থাপন করেছে। অতএব, উম্মাহর ওপর কর্তব্য হলো জীবনকে ইসলামের অনুগামী করা এবং সকল সংকট নিরসনে ইসলামকে প্রথম ও চূড়ান্ত উৎস হিসেবে গ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقد بدأت المصارف والشركات الإسلامية مسيرتها منذ عهد قريب في طريق عقباته كثيرة ومصاعبه ليست قليلة وقد حاول العلماء المعاصرون إيجاد سبل لاستثمار الأموال بطرق مشروعة تقوم على أساس صحيح من نظام المعاملات في الإسلام. ومن هذه الطرق ما اصطلح على تسميته (بيع المرابحة للآمر بالشراء) وأخذوا في تأصيل هذا العقد وفق الأصول الشرعية وما أن بدأت المصارف الإسلامية بتطبيق هذا البيع حتى نشأ نقاش علمي عميق في مدى شرعية هذا النوع من المعاملات وعقدت الندوات والمؤتمرات وقدمت البحوث وألفت الكتب مما أثرى المكتبة الإسلامية في هذا الباب الذي كانت تفتقر إليه. وقد كان المؤلفون والباحثون بين مؤيد ومدافع عن هذا العقد وبين معارض له باعتباره يتنافى مع أصول العقود الصحيحة وقد أخذت معظم المصارف الإسلامية وكذلك الشركات الإسلامية بهذا العقد وتعاملت به وفق شروط وضوابط محددة بناء على رأي العلماء الذين أجازوه وكان من ضمن هذه الشركات التي أخذت به وتعاملت به (شركة بيت المال الفلسطيني العربي).
وهي أول شركة تنشأ في فلسطين تتعامل وفق أحكام الشريعة الإسلامية وقد رغبت في المساهمة في دراسة بيع المرابحة للآمر بالشراء من الناحيتين النظرية والعملية التطبيقية فكانت هذه الد راسة المشتملة على الجانب النظري من حيث التعريف ببيع المرابحة وحكمه عند الفقهاء المتقدمين ثم التعريف ببيع المرابحة للآمر بالشراء واختلاف الفقهاء المعاصرين فيه وبيان أدلتهم مع بيان القول الراجح في المسألة.
নিকট অতীতে ইসলামী ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পথচলা শুরু করেছে এমন এক পথে যার প্রতিবন্ধকতা অনেক এবং অসুবিধাগুলোও সামান্য নয়। সমকালীন আলেমগণ ইসলামের লেনদেন ব্যবস্থার সঠিক (صحيح) ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত বৈধ উপায়ে অর্থ বিনিয়োগের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন। এই পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি হলো যাকে পরিভাষায় ‘ক্রয়ের আদেশদাতার নিকট মুরাবাহা বিক্রি’ (بيع المرابحة للآمر بالشراء) বলা হয় এবং তাঁরা শরয়ি মূলনীতির (الأصول الشرعية) আলোকে এই চুক্তির আইনি ভিত্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেন। যখনই ইসলামী ব্যাংকগুলো এই বিক্রয় পদ্ধতিটি প্রয়োগ করতে শুরু করল, তখনই এই ধরনের লেনদেনের শরয়ি বৈধতার সীমা নিয়ে একটি গভীর পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা জন্ম নিল। এ বিষয়ে সেমিনার ও সম্মেলন আয়োজিত হলো, গবেষণা পত্র উপস্থাপিত হলো এবং কিতাবসমূহ রচিত হলো; যা এই বিষয়ে ইসলামী পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করেছে যার অভাব আগে অনুভূত হচ্ছিল। লেখক ও গবেষকগণ এই চুক্তির সমর্থক ও রক্ষাকারী এবং এর বিরোধিতাকারীদের মাঝে বিভক্ত ছিলেন; বিরোধিতাকারীদের দৃষ্টিতে এটি সঠিক (صحيحة) চুক্তির মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। অধিকাংশ ইসলামী ব্যাংক এবং ইসলামী কোম্পানিগুলো সেইসব আলেমদের মতামতের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে এই চুক্তিটি গ্রহণ করেছে ও এর মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করেছে যারা এটিকে জায়েজ (أجازوه) বলেছেন। যারা এই পদ্ধতিটি গ্রহণ ও পরিচালনা করেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো ‘ফিলিস্তিনি আরব বায়তুল মাল কোম্পানি’।
এটি ফিলিস্তিনে প্রতিষ্ঠিত প্রথম কোম্পানি যা ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী লেনদেন করে। এই কোম্পানিটি তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক উভয় দিক থেকে ‘ক্রয়ের আদেশদাতার নিকট মুরাবাহা বিক্রি’ (بيع المرابحة للآمر بالشراء) গবেষণায় অবদান রাখার ইচ্ছা পোষণ করেছে। ফলশ্রুতিতে এই গবেষণাটি প্রস্তুত হয়েছে যা তাত্ত্বিক দিকের অন্তর্ভুক্ত করে: মুরাবাহা বিক্রির সংজ্ঞা ও পূর্ববর্তী ফকিহগণের নিকট এর বিধান (حكمه), অতঃপর ক্রয়ের আদেশদাতার নিকট মুরাবাহা বিক্রির পরিচয় এবং এ বিষয়ে সমকালীন ফকিহগণের মতপার্থক্য ও তাদের দলিলের বর্ণনা এবং বিষয়টির ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য মতের (القول الراجح) বিশ্লেষণ।
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأما الجانب العملي فتحدثت فيه عن نشأة شركة بيت المال وأهدافها ونشاطاتها الاستثمارية وكيفية تعاملها ببيع المرابحة للآمر بالشراء والخطوات المتبعة في ذلك وتعرضت للشبهات التي أثيرت حول تطبيق بيع المرابحة للآمر بالشراء وأجبت عليها. وبما أن تجربة شركة بيت المال جديدة والأحوال في بلادنا صعبة من نواحٍ كثيرة فهي تحتاج إلى التسديد والتوجيه باستمرار وهذا الواجب ملقى على عاتق هيئة الرقابة الشرعية للشركة التي تبذل جهودا طيبة في هذا المجال وتلقى توجيهاتها من قبل العاملين في الشركة والقائمين عليها آذاناً صاغية وتنفيذا حسناً وكل ذلك خدمة للمسلمين الذين يبحثون عن الربح الحلال وتأكيداً لاثبات منهج الإسلام ومقدرته الفائقة على وضع الحلول لكل المشكلات التي تواجه الناس في ظل الاحتكام لشرع الله.
وأخيراً فإنني قد استفدت كثيراً من جهود من سبقني في الكتابة في هذا الموضوع فجزاهم الله خيراً كما وأشكر الأخوة القائمين على شركة بيت المال لما قدموه من مساعدة من أجل اتمام هذه الدراسة ونشرها فجزاهم الله خيرا الجزاء.
هذا وإن ما قدمته في هذه الدراسة هو جهد البشر الذي يسري عليه الخطا والنقصان وهما أمران من طبيعة الإنسان ورحم الله إمرءاًَ أهدى إلي أخطائي.
وصلى الله وسلم وبارك على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
كتبه د. حسام الدين عفانة
أبوديس- القدس
صباح يوم الخميس الحادي عشر من شهر رجب 1417
وفق الحادي والعشرين من شهر تشرين الثاني 1996
ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে আমি ‘বায়তুল মাল’ কোম্পানির প্রতিষ্ঠা, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, এর বিনিয়োগ কার্যক্রম এবং ‘বায়ু আল-মুরাবাহা লিল আমির বিশ-শিরা’ (ক্রয়াদেশ প্রদানকারীর কাছে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রয়) এর মাধ্যমে লেনদেনের পদ্ধতি ও অনুসৃত পদক্ষেপসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়া ‘বায়ু আল-মুরাবাহা লিল আমির বিশ-শিরা’ প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সংশয় উত্থাপিত হয়েছে, আমি সেগুলোর আলোচনা করেছি এবং সেগুলোর উত্তর দিয়েছি। যেহেতু বায়তুল মাল কোম্পানির অভিজ্ঞতাটি নতুন এবং আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট অনেক দিক থেকেই প্রতিকূল, তাই এর জন্য নিয়মিত সংশোধন ও নির্দেশনার প্রয়োজন। এই দায়িত্বটি কোম্পানির ‘শরয়ি পর্যবেক্ষণ কমিটি’র ওপর ন্যস্ত, যারা এই ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোম্পানির কর্মকর্তা ও পরিচালকদের পক্ষ থেকে তাঁদের নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনা হয় এবং সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়। এই সবকিছুর উদ্দেশ্য হলো হালাল মুনাফা প্রত্যাশী মুসলিমদের সেবা করা এবং আল্লাহর বিধানের অধীনে মানুষের সকল সমস্যার সমাধান প্রদানে ইসলামের জীবনব্যবস্থা ও এর অতুলনীয় সক্ষমতার প্রমাণ সুনিশ্চিত করা।
পরিশেষে, এই বিষয়ে আমার পূর্বে যাঁরা লিখেছেন, তাঁদের গবেষণা থেকে আমি বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছি, আল্লাহ তাঁদের উত্তম প্রতিদান দিন। এছাড়া এই গবেষণাটি সম্পন্ন ও প্রকাশের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য আমি বায়তুল মাল কোম্পানির দায়িত্বশীল ভাইদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি; আল্লাহ তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
তবে এই গবেষণায় আমি যা পেশ করেছি, তা মানুষের প্রচেষ্টামাত্র, যার মধ্যে ভুলভ্রান্তি ও অপূর্ণতা থাকা স্বাভাবিক; কারণ এ দু’টি মানুষের সহজাত প্রকৃতি। আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যিনি আমার ভুলগুলো আমার কাছে উপহার হিসেবে পেশ করবেন (ধরিয়ে দেবেন)।
আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।
লিখেছেন: ড. হুসামুদ্দীন আফানা
আবু দিস - কুদস (জেরুজালেম)
১১ই রজব, ১৪১৭ হিজরি, বৃহস্পতিবার সকাল
২১শে নভেম্বর, ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের সাথে সংগতিপূর্ণ
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ৯)
تمهيد ويشمل:
أولاً: تعريف البيع لغة واصطلاحاً.
ثانياً: تعريف بيع المرابحة
… وبيان حكمه.
উপক্রমণিকা এবং এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
প্রথমত: আভিধানিক (لغة) ও পারিভাষিক (اصطلاحاً) অর্থে ক্রয়-বিক্রয়ের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয়ত: মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয়ের সংজ্ঞা
… এবং এর বিধান (حكم) বর্ণনা।
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ১১)
نعرف البيع في اللغة والاصطلاح ثم نعرف بيع المرابحة المعروف عند الفقهاء المتقدمين ونبين حكمه:
أولاً: تعريف البيع:أ- البيع لغة هو مقابلة شيء بشيء أو هو مطلق المبادلة وهو من أسماء الاضداد أي التي تطلق على الشيء وعلى ضده مثل الشراء كما في قوله تعالى
… {وشروه بثمن بخس} (1) أي باعوه (2).
ب- وفي إصطلاح الفقهاء عرفوه بتعريفات كثيرة منها مبادلة المال المتقوم بالمال المتقوم تمليكا وتملكاً أو هو مقابلة مال بمال على وجه مخصوص (3) وقيل غير ذلك.
وينقسم البيع إلى أربعة أقسام:-
الأول: بيع المقايضة: وهو بيع العين بالعين كبيع الثوب بالحنطة.
الثاني: البيع المطلق: وهو بيع العين بالدين كبيع الثوب بالدنانير.
الثالث: الصرف: وهو بيع الدين بالدين كبيع الدنانير بالدراهم.
الرابع: السلم: وهو بيع الدين بالعين كبيع الزيتون بالدراهم.
--------------------------------------------
আমরা আভিধানিক (لغة) এবং পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে বিক্রয় (البيع) সংজ্ঞায়িত করব, অতঃপর পূর্ববর্তী ফকিহগণের (الفقهاء) নিকট পরিচিত মুরাবাহা বিক্রয় (بيع المرابحة) সংজ্ঞায়িত করব এবং এর বিধান (حكم) বর্ণনা করব:
প্রথমত: বিক্রয়ের (البيع) সংজ্ঞা:ক- আভিধানিক (لغة) অর্থে বিক্রয় (البيع) হলো এক বস্তুর বিনিময়ে অন্য বস্তু প্রদান করা অথবা এটি সাধারণ বিনিময় (مبادلة)। এটি বিপরীতার্থক শব্দাবলির (أسماء الأضداد) অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ যা কোনো বিষয় এবং তার বিপরীত উভয়ের জন্যই ব্যবহৃত হয়, যেমন 'ক্রয়' (الشراء); যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে এসেছে
… {এবং তারা তাকে স্বল্প মূল্যে বিক্রয় (شروه) করে দিল} (১) অর্থাৎ তারা তাকে বিক্রি করেছিল (২)।
খ- ফকিহগণের (الفقهاء) পরিভাষায় (اصطلاح), তাঁরা একে অনেকভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে: মালিকানা প্রদান ও গ্রহণের উদ্দেশ্যে এক মূল্যবান সম্পদের বিনিময়ে অপর মূল্যবান সম্পদের বিনিময় অথবা এটি বিশেষ পন্থায় মালের বিনিময়ে মালের আদান-প্রদান (৩); এছাড়া অন্য আরও সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
বিক্রয় (البيع) চার ভাগে বিভক্ত:-
প্রথম: দ্রব্য বিনিময় বিক্রয় (بيع المقايضة): এটি হলো পণ্য বা দ্রব্যের (العين) বিনিময়ে পণ্যের (العين) বিক্রয়, যেমন গমের বিনিময়ে কাপড় বিক্রয় করা।
দ্বিতীয়: সাধারণ বিক্রয় (البيع المطلق): এটি হলো ঋণের বা মুদ্রার (الدين) বিনিময়ে পণ্যের (العين) বিক্রয়, যেমন দিনারের বিনিময়ে কাপড় বিক্রয় করা।
তৃতীয়: মুদ্রা বিনিময় (الصرف): এটি হলো ঋণের (الدين) বিনিময়ে ঋণের (الدين) বিক্রয়, যেমন দিরহামের বিনিময়ে দিনার বিক্রয় করা।
চতুর্থ: অগ্রিম বিক্রয় (السلم): এটি হলো পণ্যের (العিন) বিনিময়ে ঋণের বা মুদ্রার (الدين) বিক্রয়, যেমন দিরহামের বিনিময়ে জলপাই বিক্রয় করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ১২)
ويقسم البيع المطلق بالنظر إلى الثمن إلى أربعة أقسام هي:-
1 - بيع المرابحة وهو مبادلة المبيع بمثل الثمن الأول وزيادة ربح معين.
2 - بيع التوليه وهو المبادلة بمثل الثمن الأول من غير زيادة ولا نقصان.
3 - بيع الوضيعة وهو المبادلة بمثل الثمن الأول مع نقصان شيء منه.
4 - بيع المساومة وهو مبادلة المبيع بما يتراضى العاقدان (1).
ثانياً: تعريف بيع المرابحة:
أ- كلمة المرابحة في اللغة مأخوذة من كلمة ربح وتعني النماء في التجر وربح في تجارته يربح ربحا وتربحا أي إستشف .... وهذا بيع مربح إذا كان يربح فيه والعرب تقول: - ربحت تجارته إذا ربح صاحبها فيها. وتجارة رابحة: يربح فيها .. وأربحته على سلعته أي أعطيته ربحاً
… وبعت الشيء مرابحة ويقال بعته السلعة مرابحة على كل عشرة د راهم درهم وكذلك اشتريته مرابحة (2).
--------------------------------------------
মূল্যের বিবেচনায় সাধারণ বিক্রয়কে (البيع المطلق) চার ভাগে ভাগ করা হয়, সেগুলো হলো:-
১ - মুরাবাহা (بيع المرابحة) বিক্রয়: এটি হলো বিক্রয়কৃত বস্তুকে তার প্রাথমিক মূল্যের সমপরিমাণ এবং সেই সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফা বৃদ্ধিতে বিনিময় করা।
২ - তাওলিইয়াহ (بيع التولية) বিক্রয়: এটি হলো কোনো প্রকার বৃদ্ধি বা হ্রাস ছাড়াই প্রাথমিক মূল্যের সমপরিমাণে বিনিময় করা।
৩ - ওয়াদিয়াহ (بيع الوضيعة) বিক্রয়: এটি হলো প্রাথমিক মূল্য থেকে কিছু অংশ কমিয়ে বিনিময় করা।
৪ - মুসাওয়ামাহ (بيع المساومة) বিক্রয়: এটি হলো বিক্রয়কৃত বস্তুকে এমন মূল্যে বিনিময় করা যাতে চুক্তিবদ্ধ উভয় পক্ষই সম্মত হয় (১)।
দ্বিতীয়ত: মুরাবাহা (بيع المرابحة) বিক্রয়ের সংজ্ঞা:
ক- ভাষাগতভাবে মুরাবাহা (المرابحة) শব্দটি: এটি 'রিবহ' (ربح) শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি বা বৃদ্ধি। কেউ তার ব্যবসায় লাভ করলে বলা হয় 'রাবিহা ফি তিজারাতিহি' (ربح في تجارته), অর্থাৎ সে মুনাফা অর্জন করেছে। এটি একটি লাভজনক বিক্রয় (بيع مربح) যখন এতে লাভ থাকে। আরবরা বলে থাকে: 'রাবিহাত তিজারাতুহু' (ربحت تجارته) যখন তার মালিক ব্যবসায় লাভবান হন। 'তিজারাতুন রাবিহা' (تجارة رابحة) মানে এমন ব্যবসা যাতে মুনাফা হয়। 'আরবাহতুহু আলা সিলআতিহি' (أربحته على سلعته) এর অর্থ হলো— আমি তাকে তার পণ্যের ওপর মুনাফা প্রদান করেছি... এবং 'আমি বস্তুটি মুরাবাহা (مرابحة) পদ্ধতিতে বিক্রয় করেছি' বলা হয়। এটি এভাবেও বলা হয় যে, আমি তাকে পণ্যটি প্রতি দশ দিরহামে এক দিরহাম মুনাফার ভিত্তিতে মুরাবাহা (مرابحة) পদ্ধতিতে বিক্রয় করেছি, আর একইভাবে মুরাবাহা ভিত্তিতে ক্রয় করার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ب- وأما المرابحة اصطلاحاً فقد عرفها الفقهاء بتعريفات كثيرة منها:-
- قال الامام المرغيناني الحنفي (المرابحة نقل ما ملكه بالعقد الأول بالثمن الأول مع زيادة ربح) (1)
- وعرفها صاحب ملتقى الأبحر الحنفي بقوله (المرابحة بيع ما شراه بما شراه وزيادة) (2).
- وعرفها صاحب تنوير الأبصار الحنفي بقوله (بيع ما ملكه بما قام عليه وبفضل) (3).
- وعرفها الشيخ خليل المالكي بقوله (المرابحة وهي بيع ما اشترى بثمنه وربح علم) (4).
- وعرفها ابن رشد المالكي بقوله (هي أن يذكر البائع للمشتري الثمن الذي اشترى به السلعة ويشترط عليه ربحاً ما للدينار أو الدرهم) (5).
-وعرفها ابن جزي المالكي بقوله (فأما المرابحة فهو أن يعرف صاحب السلعة المشتري بكم اشتراها ويأخذ منه ربحاً إما على الجملة مثل ان يقول اشتريتها بعشرة وتربحني د يناراً أو دينارين وإما على التفصيل وهو أن يقول تربحني درهما لكل دينار أو غير ذلك) (6).
- وعرفها الشيخ أبو اسحق الشيرازي الشافعي بقوله (ان يبين رأس المال وقدر الربح بأن يقول ثمنها مئة وقد بعتكها برأس مالها وربح درهم في كل عشرة) (7).
--------------------------------------------
খ- পারিভাষিক অর্থে মুরাবাহা (المرابحة) ফকিহগণ এর অনেকগুলো সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, যার মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:-
- ইমাম মারগিনানি আল-হানাফি বলেছেন: (মুরাবাহা (المرابحة) হলো প্রথম চুক্তির (عقد) মাধ্যমে মালিকানা লাভকৃত বস্তু প্রথম মূল্যে অতিরিক্ত মুনাফাসহ (ربح) হস্তান্তর করা) (১)
- এবং হানাফি মাজহাবের 'মুলতাকিল আবহুর' গ্রন্থের লেখক এর সংজ্ঞায় বলেছেন: (মুরাবাহা (المرابحة) হলো কোনো বস্তু যে মূল্যে ক্রয় করা হয়েছে সেই মূল্যে এবং অতিরিক্ত লাভে (زيادة) বিক্রয় করা) (২)।
- এবং হানাফি মাজহাবের 'তানভিরুল আবসার' গ্রন্থের লেখক এর সংজ্ঞায় বলেছেন: (মালিকানাধীন বস্তু তার ক্রয়মূল্যের সাথে অতিরিক্ত বৃদ্ধিসহ (بفضل) বিক্রয় করা) (৩)।
- এবং শেখ খলিল আল-মালিকি এর সংজ্ঞায় বলেছেন: (মুরাবাহা (المرابحة) হলো ক্রয়কৃত বস্তু তার মূল্যে এবং জানা বা নির্দিষ্ট মুনাফায় (ربح) বিক্রয় করা) (৪)।
- এবং ইবনে রুশদ আল-মালিকি এর সংজ্ঞায় বলেছেন: (এটি হলো বিক্রেতা ক্রেতার কাছে পণ্যটির ক্রয়মূল্য উল্লেখ করবেন এবং তার ওপর প্রতি দিনার বা দিরহামের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ মুনাফার (ربحاً) শর্তারোপ করবেন) (৫)।
-এবং ইবনে জুযাই আল-মালিকি এর সংজ্ঞায় বলেছেন: (মুরাবাহা (المرابحة) হলো পণ্যের মালিক ক্রেতাকে অবহিত করবেন যে তিনি পণ্যটি কত দিয়ে ক্রয় করেছেন এবং তার কাছ থেকে মুনাফা (ربحاً) গ্রহণ করবেন; এটি হয় সামগ্রিকভাবে হবে, যেমন তিনি বলবেন: আমি এটি দশ দিয়ে কিনেছি এবং আপনি আমাকে এক বা দুই দিনার মুনাফা দেবেন; অথবা এটি বিস্তারিতভাবে হবে, যেমন তিনি বলবেন: আপনি আমাকে প্রতি দিনারের বিপরীতে এক দিরহাম মুনাফা দেবেন অথবা অন্য কিছু) (৬)।
- এবং শেখ আবু ইসহাক আল-শিরাজি আল-শাফিঈ এর সংজ্ঞায় বলেছেন: (মূলধন (رأس المال) এবং মুনাফার (الربح) পরিমাণ স্পষ্ট করা, যেমন তিনি বলবেন: এর মূল্য একশত এবং আমি আপনার কাছে এটি এর মূলধন এবং প্রতি দশে এক দিরহাম মুনাফায় বিক্রয় করছি) (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- وعرفها الشيخ الماوردي الشافعي بقوله (واما بيع المرابحة فصورته أن يقول أبيعك هذا الثوب مرابحة على أن الشراء مئة درهم وأربح في كل عشرة واحد) (1).
- وعرفها الشيخ ابن قدامة المقدسي الحنبلي بقوله (البيع برأس المال وربح معلوم) (2).
- وعرفها صاحب حدائق الأزهار الزيدي بقوله (نقل المبيع بالثمن الأول وزيادة) (3).
وخلاصة القول في تعريف بيع المرابحة أنه يقوم على أساس معرفة الثمن الأول وزيادة ربح عليه حيث إن المرابحة من بيوع الأمانة فينبغي أن يكون الثمن الأول معلوماً وأن يكون الربح معلوماً أيضا. وبناء عليه يكون تعريف بيع المرابحةهو: - بيع بمثل الثمن الأول وزيادة ربح معلوم متفق عليه بين المتعاقدين. (4).
--------------------------------------------
- শায়খ আল-মাওয়ার্দি আশ-শাফিয়ী মুরাবাহাকে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন, "(আর মুরাবাহা বিক্রয় হচ্ছে, এর স্বরূপ হলো বিক্রেতা বলবে— আমি তোমার কাছে এই কাপড়টি মুরাবাহা হিসেবে বিক্রি করছি এই শর্তে যে, এর ক্রয়মূল্য একশ দিরহাম এবং প্রতি দশ দিরহামে আমি এক দিরহাম লাভ গ্রহণ করব)" (১)।
- শায়খ ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি আল-হাম্বলি এটি সংজ্ঞায়িত করেছেন এই বলে, "(মূলধন এবং সুনির্দিষ্ট লাভের বিনিময়ে বিক্রয় করা)" (২)।
- হাদায়িকুল আজহার-এর যায়দি লেখক এটি সংজ্ঞায়িত করেছেন এই বলে, "(পণ্যটি আদি মূল্যে এবং অতিরিক্ত মুনাফায় হস্তান্তর করা)" (৩)।
মুরাবাহা বিক্রয়ের সংজ্ঞার সারসংক্ষেপ হলো— এটি আদি মূল্য অবগত হওয়া এবং তার ওপর অতিরিক্ত মুনাফা নির্ধারণের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়; যেহেতু মুরাবাহা আমানত ভিত্তিক বিক্রয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাই আদি মূল্য সুনির্দিষ্ট থাকা উচিত এবং লাভটিও সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক। এর ওপর ভিত্তি করে মুরাবাহা বিক্রয়ের সংজ্ঞা হলো: আদি মূল্যের সমপরিমাণে এবং চুক্তিবদ্ধ পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সম্মতিক্রমে নির্ধারিত নির্দিষ্ট মুনাফায় বিক্রয় করা। (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ج- حكم المرابحة:يرى جمهور الفقهاء أن بيع المرابحة من البيوع الجائزة شرعاً ولا كراهة فيه.
قال الماوردي (وأما بيع المرابحة فصورته أن يقول أبيعك هذا الثوب مرابحة على أن الشراء مئة درهم وأربح في كل عشرة واحد فهذا بيع جائز لا يكره .. والدليل على جوازه عموم قوله تعالى: (وأحل الله البيع وحرم الربا) ولان الثمن في بيع المرابحة معلوم كما أنه في بيع المساومة معلوم إذ لا فرق بين قوله بعتك هذا الثوب بمئة وعشرة وبين قوله بعتك بمئة وربح كل عشرة واحد وان كلا الثمنين مئة وعشرة وأن اختلفت العبارتان كما لا فرق بين قوله بعتك هذا الثوب بتسعين وبين قوله بمئة الا عشرة في أن كلا الثمنين تسعون وأن اختلفت العبارتان ولا وجه لما ذكر من جهالة الثمن لأن مبلغه وان كان مجهولاً حال العقد فقد عقداه بما يصير الثمن به معلوماً بعد العقد وذلك لا يمنع من صحة العقد. كما لو باعه صبرة طعام كل قفيز بدرهم صح البيع وان كان مبلغ الثمن مجهولاً وقت العقد لانهما عقداه بما يصير الثمن به معلوماً بعد العقد
… ) (1).
وقال الشوكاني (هذا بيع أذن الله سبحانه به بقوله (تجارة عن تراض) وبقوله (أحل الله البيع وحرم الربا) وهذا يشمل كل بيع كائنا ما كان إذا لم يصحبه مانع شرعي أو يفقد فيه التراضي) (2).
--------------------------------------------
গ- মুরাবাহার বিধান:অধিকাংশ ফকিহ (جمهور الفقهاء) মনে করেন যে, মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয় শরয়িভাবে বৈধ (جائز) বিক্রয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এতে কোনো অপছন্দনীয়তা (كراهة) নেই।
আল-মাওয়ার্দি বলেন, (আর মুরাবাহা বিক্রয়ের স্বরূপ হলো এই যে, বিক্রেতা বলবে: আমি তোমার কাছে এই কাপড়টি মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রি করছি এই শর্তে যে, এর ক্রয়মূল্য একশ দিরহাম এবং আমি প্রতি দশ দিরহামে এক দিরহাম লাভ করব। সুতরাং এটি একটি বৈধ (جائز) বিক্রয় যা অপছন্দনীয় (يكره) নয়... আর এর বৈধতার (جواز) প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণীর ব্যাপকতা: (আল্লাহ তাআলা ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন এবং সুদ (الربا) হারাম করেছেন)। আর একারণে যে, মুরাবাহা বিক্রয়ে মূল্য সুনির্ধারিত (معلوم), যেমনটি মুসাওয়ামাহ (দরাদরি) বিক্রয়ে মূল্য সুনির্ধারিত (معلوم) থাকে। কেননা, তার এই কথা—'আমি তোমার কাছে এই কাপড়টি একশ দশ দিরহামে বিক্রি করলাম' এবং তার এই কথা—'আমি তোমার কাছে একশ দিরহামে বিক্রি করলাম এবং প্রতি দশ দিরহামে এক দিরহাম লাভ'—এ দুটির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই; যদিও শব্দদ্বয় ভিন্ন, কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই মূল্য একশ দশ দিরহাম। যেমন তার এই কথা—'আমি তোমার কাছে এই কাপড়টি নব্বই দিরহামে বিক্রি করলাম' এবং তার এই কথা—'একশ থেকে দশ কম (নব্বই) দিরহামে'—এ দুটির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই মূল্য নব্বই; যদিও শব্দদ্বয় ভিন্ন। আর মূল্যের অনিশ্চয়তা (جهالة) সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই; কারণ মূল্যের পরিমাণ চুক্তিকালীন (حال العقد) অজ্ঞাত (مجهول) থাকলেও তারা এমনভাবে চুক্তিটি (عقد) সম্পাদন করেছেন যার মাধ্যমে চুক্তির পর মূল্য সুনির্ধারিত (معلوم) হয়ে যায়। আর এটি চুক্তির (عقد) বিশুদ্ধতাকে (صحة) বাধাগ্রস্ত করে না। যেমন কেউ যদি স্তূপীকৃত খাদ্যের প্রতিটি 'কাফিজ' এক দিরহাম হিসেবে বিক্রি করে, তবে বিক্রয়টি সঠিক (صح) হবে, যদিও চুক্তিকালীন (وقت العقد) মূল্যের মোট পরিমাণ অজ্ঞাত (مجهول) ছিল; কারণ তারা এমনভাবে চুক্তিটি (عقد) সম্পাদন করেছেন যার ফলে চুক্তির পর মূল্য সুনির্ধারিত (معلوم) হয়ে যায়
… ) (১)।
আশ-শাওকানি বলেন, (এটি এমন এক বিক্রয় যার অনুমতি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে দিয়েছেন: (পারস্পরিক সম্মতির (تراض) ভিত্তিতে ব্যবসা (تجارة)) এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: (আল্লাহ তাআলা ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন এবং সুদ (الربا) হারাম করেছেন)। এটি এমন প্রতিটি বিক্রয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা-ই হোক না কেন, যদি তার সাথে কোনো শরয়ি বাধা (مانع شرعي) যুক্ত না হয় অথবা তাতে পারস্পরিক সম্মতির (تراض) অভাব না ঘটে) (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ويدل على جواز بيع المرابحة ما ورد في الحديث عن ابن عمر قال سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم أي الكسب أفضل؟ قال: عمل الرجل بيده وكل بيع مبرور) (1).
ويدل على ذلك أيضاً ما ورد في الحديث عن أبي سعيد الخدري ان الرسول عليه الصلاة والسلام قال (
… انما البيع عن تراض) (2).
فهذه العمومات من كتاب الله وسنة الرسول صلى الله عليه وسلم تدل على جواز بيع المرابحة كما ان الحاجة تدعو لتعامل الناس بالمرابحة قال المرغيناني (والحاجة ماسة إلى هذا النوع من البيع لان الغبي الذي لا يهتدي في التجارة يحتاج إلى ان يعتمد فعل الذكي المهتدي وتطيب نفسه بمثل ما اشترى وزيادة ربح
… ) (3).
--------------------------------------------
মুরাবাহা বিক্রয়ের বৈধতার প্রমাণ হলো হাদিসে ইবনে ওমর (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন ধরনের উপার্জন সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: "ব্যক্তির নিজ হাতের কাজ এবং প্রত্যেক কবুলযোগ্য (مبرور) বিক্রয়।" (১)।
এর সপক্ষে আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটিও প্রমাণ দেয় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: (
… নিশ্চয়ই ক্রয়-বিক্রয় হতে হবে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে) (২)।
আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর এই সাধারণ দলিলসমূহ মুরাবাহা বিক্রয়ের বৈধতা নির্দেশ করে। তদুপরি, মানুষের প্রয়োজনেও মুরাবাহা পদ্ধতির লেনদেন আবশ্যক হয়ে পড়ে। আল-মারগিনানি বলেন: (এই ধরনের বিক্রয়ের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম, কারণ এমন অনভিজ্ঞ ব্যক্তি যে ব্যবসায়িক কলাকৌশল বোঝে না, তার একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাজের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয়। সে যে মূল্যে ক্রয় করেছে এবং তার সাথে অতিরিক্ত লাভ যোগ করে পণ্য ক্রয় করে তার মন তুষ্ট হয়
… ) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الأول:بيع المرابحة للآمر بالشراء وحكمهوفيه مبحثان:
المبحث الأول:
تعريف بيع المرابحة للآمر بالشراء وصوره
المبحث الثاني:
خلاف العلماء المعاصرين في حكم بيع المرابحة للآمر بالشراء وأدلتهم وبيان الراجح
প্রথম পরিচ্ছেদ:ক্রয়াদেশদাতার জন্য মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয় এবং এর বিধান (حكم)এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ:
ক্রয়াদেশদাতার জন্য মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয়ের সংজ্ঞা এবং এর পদ্ধতিসমূহ
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ:
ক্রয়াদেশদাতার জন্য মুরাবাহা ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান (حكم) সম্পর্কে সমকালীন আলেমগণের মতভেদ, তাঁদের দলিলসমূহ এবং অগ্রগণ্য (الراجح) মতের বর্ণনা
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الأول:تعريف بيع المرابحة للآمر بالشراء وصوره.
أولاً: نشأة إصطلاح بيع المرابحة للآمر بالشراء:بيع المرابحة للآمر بالشراء اصطلاح حديث ظهر منذ فترة وجيزة وأول من استعمله بهذا الشكل هو د. سامي حمود في رسالته الدكتوراه بعنوان (تطوير الأعمال المصرفية بما يتفق مع الشريعة الإسلامية) المقدمة إلى جامعة القاهرة - كلية الحقوق وقد نوقشت رسالته في 30/ 6/1976.
ويقول د. سامي حمود عن ذلك (وقد كان بيع المرابحة للآمر بالشراء بصورته المعروفة حاليا في التعامل المصرفي كشفاً وفق الله إليه الباحث أثناء اعداده لرسالة الدكتوراه في الفترة الواقعة بين 1973 - 1976 حيث تم التوصل إلى هذا العنوان الاصطلاحي بتوجيه من الأستاذ الشيخ العلامة محمد فرج السنهوري رحمه الله تعالى حيث كان استاذ مادة الفقه الإسلامي المقارن للدراسات العليا بكلية الحقوق بجامعة القاهرة) (1).
وقد شاع استعمال هذا الاصطلاح لدى البنوك الإسلامية والشركات التي تتعامل وفق أحكام الشريعة الإسلامية وصارت هذه المعاملة من أكثر ما تتعامل به البنوك الإسلامية.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ:ক্রয়াদেশদাতার জন্য মুরাবাহা বিক্রয়ের সংজ্ঞা ও এর পদ্ধতিসমূহ.
প্রথমত: ক্রয়াদেশদাতার জন্য মুরাবাহা বিক্রয় পরিভাষাটির উদ্ভব:ক্রয়াদেশদাতার জন্য মুরাবাহা বিক্রয় একটি আধুনিক পরিভাষা যা অল্পকাল আগে আবির্ভূত হয়েছে। সর্বপ্রথম এই পরিভাষাটি ড. সামি হামুদ তাঁর পিএইচডি গবেষণাপত্রে এই রূপে ব্যবহার করেন, যার শিরোনাম ছিল (ইসলামি শরিয়াহর সাথে সংগতিপূর্ণ ব্যাংকিং কার্যক্রমের উন্নয়ন)। এটি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে উপস্থাপিত হয়েছিল এবং ৩০/০৬/১৯৭৬ তারিখে তাঁর এই গবেষণাপত্রটি পর্যালোচিত হয়।
ড. সামি হামুদ এ সম্পর্কে বলেন, (বর্তমানে ব্যাংকিং লেনদেনে পরিচিত রূপে ক্রয়াদেশদাতার জন্য মুরাবাহা বিক্রয় পদ্ধতিটি ছিল একটি উদ্ভাবন, যার প্রতি ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে পিএইচডি গবেষণাপত্র প্রস্তুতকালে আল্লাহ তাআলা এই গবেষককে পথপ্রদর্শন করেছিলেন। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে উচ্চতর গবেষণার তুলনামূলক ইসলামি ফিকহ বিষয়ের অধ্যাপক উস্তাদ শেখ আল্লামা মুহাম্মদ ফারাজ আল-সানহুরি রহিমাহুল্লাহ-এর নির্দেশনায় এই পরিভাষাগত শিরোনামে উপনীত হওয়া সম্ভব হয়েছে।) (১)।
ইসলামি ব্যাংক এবং ইসলামি শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত কোম্পানিগুলোর নিকট এই পরিভাষাটির ব্যবহার ব্যাপকতা লাভ করেছে এবং বর্তমানে এই লেনদেনটি ইসলামি ব্যাংকগুলোর সর্বাধিক প্রচলিত লেনদেনে পরিণত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ২০)
والحقيقة ان هذا الاصطلاح (بيع المرابحة للآمر بالشراء) إصطلاح حديث ولا شك ولكن حقيقته كانت معروفة عند الفقهاء المتقدمين وإن اختلفت التسمية فقد ذكره محمد بن الحسن الشيباني صاحب أبي حنيفة وذكره الامام مالك في الموطأ والامام الشافعي في الام كما سيأتي ذلك عنهم (1).
ثانياً: تعريف بيع المرابحة للآمر بالشراء.
عرفه العلماء المعاصرون بعدة تعريفات منها:-
1 - عرفه د. سامي حمود بقوله (أن يتقدم العميل إلى المصرف طالباً منه شراء السلعة المطلوبة بالوصف الذي يحدده العميل وعلى أساس الوعد منه بشراء تلك السلعة فعلاً مرابحة بالنسبة التي يتفقان عليها ويدفع الثمن مقسطاً حسب امكانياته) (2).
2 - وجاء تعريف بيع المرابحة للآمر بالشراء في قانون البنك الإسلامي الأردني بما يلي: (قيام البنك بتنفيذ طلب المتعاقد معه على أساس شراء الأول ما يطلبه الثاني بالنقد الذي يدفعه البنك - كليا أو جزيئاً - وذلك في مقابل التزام الطالب بشراء ما أمر به وحسب الربح المتفق عليه عند الإبتداء) (3).
--------------------------------------------
প্রকৃতপক্ষে এই পরিভাষাটি—ক্রয় আদেশদাতার জন্য মুরাবাহা বিক্রয় (بيع المرابحة للآمر بالشراء)—একটি আধুনিক পরিভাষা তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এর মূল বাস্তবতা পূর্ববর্তী ফকিহগণের নিকট পরিচিত ছিল, যদিও নামকরণের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। ইমাম আবু হানিফার সহচর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শাইবানি এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম মালিক মুওয়াত্তা গ্রন্থে ও ইমাম শাফেয়ী আল-উম্ম গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, যেমনটি সামনে তাদের থেকে বিস্তারিত আসবে (১)।
দ্বিতীয়ত: ক্রয় আদেশদাতার জন্য মুরাবাহা বিক্রয়ের (بيع المرابحة للآمر بالشراء) সংজ্ঞা.
সমসাময়িক আলেমগণ এর বেশ কিছু সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:-
১ - ড. সামি হাম্মুদ এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: (গ্রাহক ব্যাংকের নিকট আবেদন করবে এই মর্মে যে, ব্যাংক যেন গ্রাহকের নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি ক্রয় করে এবং এই ভিত্তির ওপর যে, গ্রাহক সেই পণ্যটি প্রকৃতপক্ষেই ক্রয় করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে—যা উভয়ের নির্ধারিত লভ্যাংশের ভিত্তিতে হবে—এবং সে তার সামর্থ্য অনুযায়ী কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করবে) (২)।
২ - জর্ডান ইসলামিক ব্যাংকের আইনে ক্রয় আদেশদাতার জন্য মুরাবাহা বিক্রয়ের (بيع المرابحة للآمر بالشراء) সংজ্ঞা নিম্নরূপ দেওয়া হয়েছে: (ব্যাংক তার সাথে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তির অনুরোধ কার্যকর করবে এই ভিত্তিতে যে, ব্যাংক প্রথম পক্ষ হিসেবে দ্বিতীয় পক্ষের চাহিদাকৃত পণ্যটি নগদ মূল্যে—পুরো বা আংশিক—ক্রয় করবে; এর বিনিময়ে আবেদনকারী তার আদেশকৃত পণ্যটি ক্রয় করার বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করবে এবং শুরুতে উভয়ের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত মুনাফা প্রদান করবে) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ২১)
3 - وعرفه د. يونس المصري بقوله (أن يتقدم الراغب في شراء سلعة إلى المصرف لأنه لا يملك المال الكافي لسداد ثمنها نقداً ولأن البائع لا يبيعها له إلى أجل إما لعدم مزاولته للبيوع المؤجلة أو لعدم معرفته بالمشتري أو لحاجته إلى المال النقدي فيشتريها المصرف بثمن نقدي ويبيعها إلى عميله بثمن مؤجل أعلى) (1).
4 - وعرفه د. محمد سليمان الاشقر بقوله (يتفق البنك والعميل على أن يقوم البنك بشراء البضاعة .. ويلتزم العميل أن يشتريها من البنك بعد ذلك ويلتزم البنك بأن يبيعها له وذلك بسعر عاجل أو بسعر آجل تحدد نسبة الزيادة فيه على سعر الشراء مسبقاً) (2).
5 - وعرفه الباحث أحمد ملحم بقوله (طلب شراء للحصول على مبيع موصوف مقدم من عميل إلى مصرف يقابله قبول من المصرف ووعد من الطرفين الأول بالشراء والثاني بالبيع بثمن وربح يتفق عليها مسبقاً) (3).
--------------------------------------------
৩ - ড. ইউনুস আল-মাসরি একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন (পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী কোনো ব্যক্তি ব্যাংকের নিকট আবেদন করেন কারণ নগদ মূল্যে তা পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তার কাছে নেই এবং বিক্রেতাও তার কাছে বাকিতে পণ্যটি বিক্রয় করতে রাজি নন—হয় তিনি বাকিতে বিক্রয়ের লেনদেনে অভ্যস্ত নন অথবা তিনি ক্রেতাকে চেনেন না কিংবা তার নগদ অর্থের প্রয়োজন। এমতাবস্থায় ব্যাংক পণ্যটি নগদ মূল্যে ক্রয় করে এবং তার গ্রাহকের নিকট উচ্চতর বাকিতে বিক্রয়ের মূল্যে তা বিক্রয় করে) (১)।
৪ - ড. মুহাম্মদ সুলাইমান আল-আশকার একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন (ব্যাংক এবং গ্রাহক এই মর্মে একমত হন যে ব্যাংক পণ্যটি ক্রয় করবে... এবং গ্রাহক এরপর ব্যাংকের নিকট থেকে তা ক্রয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন এবং ব্যাংকও তার নিকট তা বিক্রয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়; এটি নগদ মূল্যে কিংবা বাকিতে বিক্রয়ের মূল্যে হতে পারে, যেখানে ক্রয়মূল্যের ওপর অতিরিক্ত লভ্যাংশের হার পূর্বেই নির্ধারিত থাকে) (২)।
৫ - গবেষক আহমদ মিলহাম একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন (গ্রাহকের পক্ষ থেকে ব্যাংকের নিকট কোনো সুনির্দিষ্ট গুণাগুণসম্পন্ন পণ্য লাভের উদ্দেশ্যে ক্রয়ের আবেদন, যার বিপরীতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রহণ বা সম্মতি থাকে এবং উভয় পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি থাকে—প্রথম পক্ষ থেকে ক্রয়ের এবং দ্বিতীয় পক্ষ থেকে বিক্রয়ের, যা পূর্বনির্ধারিত মূল্য ও লভ্যাংশের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়) (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ২২)
وغير ذلك من التعريفات الكثيرة وكلها تدور على الأسس التالية:-
أولاً: إن بيع المرابحة للآمر بالشراء ثلاثي الأطراف أي أنه يوجد عندنا ثلاثة متعاقدين.
الأول: الآمر بالشراء.
الثاني: المصرف الإسلامي.
الثالث: البائع.
وهذا الأمر يختلف فيه بيع المرابحة للآمر بالشراء عن المرابحة المعروفة عند الفقهاء المتقدمين حيث إن المرابحة المعروفة عند الفقهاء المتقدمين ثنائية الأطراف.
ثانيا: إن بيع المرابحة للآمر بالشراء يتم باتمام الخطوات التالية:-
أ- طلب من العميل يقدمه للمصرف الإسلامي لشراء سلعة موصوفة.
ب- قبول من المصرف لشراء السلعة الموصوفة.
ج- وعد من العميل لشراء السلعة الموصوفة من المصرف بعد تملك المصرف لها.
د- وعد من المصرف ببيع السلعة الموصوفة للعميل وقد يكون الوعد لازماً أو غير لازم كما سيأتي بيانه.
هـ- شراء المصرف للسلعة الموصوفة نقداًَ.
وبيع المصرف للسلعة الموصوفة للعميل بأجل مع زيادة ربح متفق عليها بين المصرف والعميل.
এবং এ জাতীয় আরও অনেক সংজ্ঞা রয়েছে, যার সবকটিই নিম্নোক্ত মূলনীতিসমূহের ওপর আবর্তিত হয়:-
প্রথমত: ক্রয়াদেশদাতার অনুকূলে মুরাবাহা বিক্রয় প্রক্রিয়াটি ত্রিপক্ষীয়; অর্থাৎ এখানে আমাদের সামনে তিনজন চুক্তিকারী পক্ষ বিদ্যমান থাকে।
প্রথম: ক্রয়াদেশদাতা।
দ্বিতীয়: ইসলামি ব্যাংক।
তৃতীয়: বিক্রেতা।
আর এই বিষয়টিই ক্রয়াদেশদাতার অনুকূলে মুরাবাহা বিক্রয়কে প্রাচীন ফকিহগণের নিকট পরিচিত মুরাবাহা থেকে পৃথক করে; কারণ প্রাচীন ফকিহগণের নিকট পরিচিত মুরাবাহা ছিল দ্বিপক্ষীয়।
দ্বিতীয়ত: ক্রয়াদেশদাতার অনুকূলে মুরাবাহা বিক্রয় নিম্নোক্ত ধাপসমূহ সম্পন্ন করার মাধ্যমে সম্পাদিত হয়:-
ক- সুনির্দিষ্ট গুণাগুণসম্পন্ন কোনো পণ্য ক্রয়ের জন্য গ্রাহকের পক্ষ থেকে ইসলামি ব্যাংকের নিকট পেশকৃত একটি আবেদন।
খ- উক্ত সুনির্দিষ্ট পণ্যটি ক্রয়ের ব্যাপারে ব্যাংকের পক্ষ থেকে সম্মতি।
গ- ব্যাংক পণ্যটির মালিকানা অর্জনের পর গ্রাহকের পক্ষ থেকে ব্যাংক থেকে উক্ত পণ্যটি ক্রয় করার একটি প্রতিশ্রুতি।
ঘ- গ্রাহকের নিকট পণ্যটি বিক্রয় করার ব্যাপারে ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি; আর এই প্রতিশ্রুতি আবশ্যিক বা অনাবশ্যিক হতে পারে, যা সামনে বর্ণিত হবে।
ঙ- ব্যাংকের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পণ্যটি নগদে ক্রয় করা।
এবং ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে সমঝোতাকৃত মুনাফা বৃদ্ধিসহ গ্রাহকের নিকট উক্ত সুনির্দিষ্ট পণ্যটি বাকিতে বিক্রয় করা।
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ثالثا: إن بيع المرابحة للآمر بالشراء عند إجالة النظر فيه يتكون مما يلي:-
1 - وعد بالشراء من العميل للمصرف ووعد بالبيع من المصرف للعميل وتسمى هذه العملية مواعدة وتوقع المصارف الإسلامية مع عملائها على ما يسمى وعد بالشراء.
2 - يشتري المصرف السلعة من البائع ويوقع على عقد بيع بين المصرف والبائع.
3 - عقد بيع بين الآمر بالشراء والمصرف الإسلامي بعد تملك المصرف للسلعة الموصوفة بناء على طلب العميل.
رابعاً: صور تعامل المصارف الإسلامية مع بيع المرابحة للآمر بالشراء.
بعد البحث والتقصي وجد أن المصارف الإسلامية تتعامل بثلاث صور لبيع المرابحة للآمر بالشراء:
الصورة الأولى وهي الأكثر تداولاً والأشهر استعمالا بين المصارف الإسلامية وقد صورها لنا الدكتور يوسف القرضاوي تصويراً مبسطاً بصورة واقعية عملية فقال (ذهب زيد من الناس إلى المصرف الإسلامي وقال له: أنا صاحب مستشفى لعلاج أمراض القلب، وأريد شراء أجهزة حديثة متطورة لإجراء العمليات الجراحية القلبية، من الشركة الفلانية بألمانيا أو الولايات المتحدة. وليس معي الآن ثمنها، أو معي جزء منه ولا أريد أن ألجا إلى البنوك الربوية لأستلف عن طريقها ما أريد وأدفع الفائدة المقررة المحرمة. فهل يستطيع المصرف الأسلامي أن يساعدني في هذا الأمر دون أن أتورط في الربا؟ هل يستطيع المصرف أن يشتري لي ما أريد بربح معقول على أن أدفع له
তৃতীয়ত: ক্রয়াদেশ দাতার নিকট মুরাবাহা (بيع المرابحة للآمر بالشراء) বিক্রয় পদ্ধতিটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর সমন্বয়ে গঠিত বলে প্রতীয়মান হয়:-
1 - গ্রাহকের পক্ষ থেকে ব্যাংকের প্রতি ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি (وعد بالشراء) এবং ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকের প্রতি বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি (وعد بالبيع), আর এই প্রক্রিয়াটিকে পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি (مواعدة) বলা হয়। ইসলামি ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের সাথে যা সম্পাদন করে তাকে ক্রয় প্রতিশ্রুতি (وعد بالشراء) বলা হয়।
2 - ব্যাংক বিক্রেতার নিকট থেকে পণ্যটি ক্রয় করে এবং ব্যাংক ও বিক্রেতার মধ্যে একটি বিক্রয় চুক্তিতে (عقد بيع) স্বাক্ষর করে।
3 - গ্রাহকের চাহিদার ভিত্তিতে বর্ণিত পণ্যটির মালিকানা ব্যাংক লাভ করার পর ক্রয়াদেশ দাতা ও ইসলামি ব্যাংকের মধ্যে সম্পাদিত বিক্রয় চুক্তি (عقد بيع)।
চতুর্থত: ক্রয়াদেশ দাতার নিকট মুরাবাহা বিক্রয় পদ্ধতিতে ইসলামি ব্যাংকসমূহের লেনদেনের রূপসমূহ。
অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর দেখা গেছে যে, ইসলামি ব্যাংকগুলো ক্রয়াদেশ দাতার নিকট মুরাবাহা (بيع المرابحة للآمر بالشراء) বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তিনটি পদ্ধতিতে লেনদেন করে থাকে:
প্রথম পদ্ধতি: এটি ইসলামি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ। ড. ইউসুফ আল-কারজাভি একে বাস্তবসম্মত ও সহজভাবে চিত্রায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, (ধরা যাক জায়েদ নামক এক ব্যক্তি ইসলামি ব্যাংকে গিয়ে বললেন: আমি হৃদরোগ চিকিৎসার একটি হাসপাতালের মালিক। আমি জার্মানি বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অমুক কোম্পানি থেকে হৃদরোগের অস্ত্রোপচারের জন্য আধুনিক ও উন্নত যন্ত্রপাতি কিনতে চাই। বর্তমানে আমার কাছে এর পূর্ণ মূল্য নেই অথবা মূল্যের একটি অংশ আছে। আমি সুদি ব্যাংকগুলোর আশ্রয় নিতে চাই না যাতে তাদের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে আমি নিষিদ্ধ নির্ধারিত সুদ (فائدة) প্রদান করি। তবে কি ইসলামি ব্যাংক সুদে (ربا) লিপ্ত হওয়া ছাড়াই আমাকে এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারে? ব্যাংক কি আমার জন্য কাঙ্ক্ষিত পণ্যটি যুক্তিসঙ্গত লাভে ক্রয় করতে পারে, যার বিনিময়ে আমি তাকে মূল্য পরিশোধ করব...)
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الثمن بعد مدة محددة، فأستفيد بتشغيل مشفاي، ويستفيد بتشغيل ماله، ويستفيد المجتمع من وراء ذلك التعاون؟ قال مسئول المصرف: نعم يستطيع المصرف أن يشتري لك هذه الأجهزة بالمواصفات التي تحددها، ومن الجهة التي تعينها، على أن تربحه فيها مقداراً معيناً أو نسبة معينة وتدفع في الأجل المحدد ولكن البيع لا ينعقد إلا بعد أن يشتري المصرف الأجهزة المذكورة ويحوزها بالفعل بنفسه أو عن طريق وكيله حتى يكون البيع لما ملكه بالفعل. فكل ما بين المصرف وبينك الآن تواعد على البيع بعد تملك السلعة وحيازتها. قال العميل: المصرف إذن هو المسئول عن شراء الأجهزة المطلوبة ودفع ثمنها ونقلها وشحنها وتحمل مخاطرها، فإذا هلكت هلكت على ضمانه وتحت مسئوليته، وإذا ظهر فيها عيب بعد تسلمها يتحمل تبعة الرد بالعيب. كما هو مقرر شرعاً. قال المسئول: نعم بكل تأكيد. ولكن الذي يخشاه المصرف أن يحقق رغبتك ويجيبك إلى طلبك بشراء الأجهزة المطلوبة، فإذا تم شراؤها وإحضارها، أخلفت وعدك معه. وهنا قد لا يجد المصرف من يشتري هذه السلعة منه لندرة من يحتاج إليها، أو قد لا يبيعها إلا بعد مدة طويلة، وفي هذا تعطيل للمال، وإضرار بالمساهمين والمستثمرين الذين إئتمنوا إدارة المصرف على حسن تثميرها لأموالهم.
قال العميل صاحب المستشفى: إن المسلم إذا أوعد لم يخلف، وأنا مستعد أن أكتب على نفسي تعهداً بشراء الأجهزة بعد حضورها بالثمن المتفق عليه، الذي هو ثمن الشراء مع المصاريف والربح المسمى مقداراً أو نسبة كما أني مستعد لتحمل نتيجة النكول عن وعدي. ولكن ما يضمن لي ألا يرجع
নির্দিষ্ট মেয়াদের পর মূল্য পরিশোধের মাধ্যমে আমি আমার হাসপাতাল পরিচালনার দ্বারা উপকৃত হব, সে তার অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভবান হবে এবং এই সহযোগিতার ফলে কি সমাজ উপকৃত হবে? ব্যাংক কর্মকর্তা বললেন: হ্যাঁ, ব্যাংক আপনার নির্ধারিত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এবং আপনার নির্দেশিত পক্ষ থেকে আপনার জন্য এই সরঞ্জামগুলো ক্রয় করতে পারে; তবে শর্ত হলো আপনি তাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বা নির্দিষ্ট হারে মুনাফা প্রদান করবেন এবং নির্ধারিত সময়ে তা পরিশোধ করবেন। তবে ক্রয়-বিক্রয় ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর হবে না যতক্ষণ না ব্যাংক উক্ত সরঞ্জামগুলো ক্রয় করবে এবং বাস্তবে নিজে অথবা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে তা হস্তগত করবে, যাতে করে প্রকৃতপক্ষে নিজের মালিকানাধীন পণ্যই বিক্রয় করা হয়। সুতরাং বর্তমানে ব্যাংক এবং আপনার মাঝে যা হচ্ছে তা পণ্যটির মালিকানা ও দখল লাভের পর বিক্রয় করার একটি পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি মাত্র। গ্রাহক বললেন: তাহলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয় করা, সেগুলোর মূল্য পরিশোধ করা, সেগুলো পরিবহন ও জাহাজে প্রেরণ করা এবং এর যাবতীয় ঝুঁকি বহন করার দায়িত্ব ব্যাংকেরই। সুতরাং যদি সেগুলো বিনষ্ট হয়, তবে তা ব্যাংকের জামানত ও দায়বদ্ধতার অধীনেই বিনষ্ট হবে; আর যদি সরঞ্জামগুলো গ্রহণের পর কোনো ত্রুটি প্রকাশ পায়, তবে ত্রুটির কারণে তা ফেরত দেওয়ার দায়ভার ব্যাংকই বহন করবে, যেমনটি শরয়ি বিধানে সুনির্ধারিত। কর্মকর্তা বললেন: হ্যাঁ, অবশ্যই। তবে ব্যাংক যা আশঙ্কা করছে তা হলো, ব্যাংক আপনার ইচ্ছা পূরণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের আপনার আবেদনে সাড়া দেওয়ার পর যখন সেগুলো ক্রয় করে আনা হবে, তখন আপনি হয়তো আপনার ওয়াদা ভঙ্গ করবেন। এমতাবস্থায় ব্যাংক হয়তো এই পণ্যটি কেনার মতো কাউকে খুঁজে পাবে না, কারণ এর প্রয়োজনীয়তা খুবই বিরল, অথবা দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার আগে এটি বিক্রি করা সম্ভব হবে না। এতে মূলধনের স্থবিরতা দেখা দেবে এবং সেই অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হবে যারা তাদের অর্থ সঠিকভাবে বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা রেখেছেন।
হাসপাতালের মালিক গ্রাহকটি বললেন: একজন মুসলিম যখন ওয়াদা করে, তখন সে তা ভঙ্গ করে না। সরঞ্জামগুলো আসার পর ক্রয়মূল্য, আনুষঙ্গিক খরচ এবং নির্ধারিত পরিমাণ বা হার অনুযায়ী মুনাফাসহ সম্মত মূল্যে সেগুলো ক্রয় করার বিষয়ে আমি একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দিতে প্রস্তুত। সেই সাথে আমি আমার প্রতিশ্রুতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার পরিণাম বহন করতেও প্রস্তুত। কিন্তু আমাকে কী নিশ্চয়তা দেয় যে ব্যাংক তার অবস্থান থেকে ফিরে যাবে না...
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المصرف عن وعده إذا ظهر له عميل يعطيه أكثر، أو غلت السلعة المطلوبة في السوق غلاءً بينا؟
قال المسئول: المصرف أيضاً ملتزم بوعده. ومستعد لكتابة تعهد بهذا وتحمل نتيجة أي نكون منه.
قال العميل: اتفقنا.
قال المسئول: إذن نستطيع أن نوقع بيننا على هذا، في صورة طلب رغبة ووعد منك بشراء المطلوب، ووعد من المصرف بالبيع، فإذا تملك المصرف السلعة وحازها وقعنا عقداً آخر بالبيع على أساس الاتفاق السابق) (1).
وهذه الصورة تقوم على أساس أن الوعد ملزم للطرفين المتعاقدين العميل والمصرف وسيأتي تفصيل الخلاف بين العلماء في مدى إلزامية الوعد.
قال د. يوسف القرضاوي معلقاً على الصورة السابقة: (وهذه الصورة إذا حللناها إلى عناصرها الأولية نجدها مركبة من وعدين: وعد بالشراء من العميل الذي يطلق عليه: الآمر بالشراء. ووعد من المصرف بالبيع بطريق المرابحة (أي بزيادة ربح معين المقدار أو النسبة على الثمن الأول أو الثمن والكلفة). وهذا هو المقصود بكلمة المرابحة هنا.
وقد اختار المصرف والعميل كلاهما الإلتزام بالوعد وتحمل نتائج النكول عنه كما تتضمن الصورة: أن الثمن الذي اتفق عليه بين المصرف والعميل ثمن مؤجل والغالب أن يراعى في تقدير الثمن مدة الأجل كما يفعل ذلك كل من يبيع بالأجل (2).
--------------------------------------------
ব্যাংক কি তার প্রতিশ্রুতি থেকে ফিরে আসতে পারে যদি এমন কোনো গ্রাহক পরিলক্ষিত হয় যে তাকে অধিক মূল্য দেবে, অথবা বাজারে কাঙ্ক্ষিত পণ্যের দাম স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পায়?
দায়িত্বশীল ব্যক্তি বললেন: ব্যাংকও তার প্রতিশ্রুতি পালনে দায়বদ্ধ। ব্যাংক এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামা প্রদান করতে এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের (نكول) যেকোনো পরিণাম মেনে নিতে প্রস্তুত।
গ্রাহক বললেন: আমরা একমত।
দায়িত্বশীল ব্যক্তি বললেন: তাহলে আমরা এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে স্বাক্ষর করতে পারি—আপনার পক্ষ থেকে পণ্যটি ক্রয়ের আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতির আকারে, আর ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতির আকারে। অতঃপর যখন ব্যাংক পণ্যটির মালিকানা লাভ করবে এবং তা হস্তগত করবে, তখন আমরা পূর্বের চুক্তির ভিত্তিতে বিক্রয়ের অন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করব (১)।
আর এই চিত্রটি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, প্রতিশ্রুতি উভয় পক্ষ অর্থাৎ গ্রাহক এবং ব্যাংক—উভয়ের জন্যই বাধ্যতামূলক। প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাধ্যতামূলক হবে সে বিষয়ে আলেমদের মতবিরোধের বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে।
ড. ইউসুফ আল-কারজাভি পূর্বোক্ত চিত্রটির ব্যাখ্যায় বলেন: (এই চিত্রটিকে যদি আমরা এর প্রাথমিক উপাদানসমূহে বিশ্লেষণ করি, তবে আমরা একে দুটি প্রতিশ্রুতির সমন্বয়ে গঠিত পাই: গ্রাহকের পক্ষ থেকে ক্রয়ের প্রতিশ্রুতি, যাকে 'ক্রয়ের আদেশদাতা' বলা হয়; এবং ব্যাংকের পক্ষ থেকে মুরাবাহা পদ্ধতিতে বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি (অর্থাৎ মূল মূল্য অথবা ক্রয়মূল্য ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণ বা নির্দিষ্ট হারে মুনাফা যোগ করা)। এখানে মুরাবাহা শব্দ দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য।
ব্যাংক এবং গ্রাহক উভয়েই প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধ থাকা এবং তা থেকে বিচ্যুতি বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের (نكول) পরিণাম বহনের বিষয়টি গ্রহণ করেছেন। যেমন এই পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যে: ব্যাংক ও গ্রাহকের মধ্যে যে মূল্য নির্ধারিত হয়েছে তা বিলম্বিত (مؤجل) মূল্য। সাধারণত মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সময়ের মেয়াদ বিবেচনা করা হয়, যেমনটি প্রতিটি বিলম্বিত (مؤجل) মূল্যে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الصورة الثانية: وهي شبيهة بالصورة الأولى: إلا أنها تقوم على أساس عدم الالزام بالوعد لأي من المتعاقدين العميل أو المصرف (1).
الصورة الثالثة: وهي مثل الصورتين السابقتين إلا أنها تقوم على أساس الإلزام بالوعد لأحد الفريقين العمل أو المصرف (2).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পদ্ধতি: এটি প্রথম পদ্ধতির অনুরূপ, তবে এটি চুক্তিবদ্ধ পক্ষদ্বয়—গ্রাহক বা ব্যাংক—কারো জন্যই প্রতিশ্রুতি রক্ষা বাধ্যতামূলক নয় (عدم الالزام بالوعد) এই ভিত্তির ওপর পরিচালিত (১)।
তৃতীয় পদ্ধতি: এটি পূর্ববর্তী পদ্ধতিদ্বয়ের মতোই, তবে এটি যেকোনো এক পক্ষ—গ্রাহক বা ব্যাংক—এর জন্য প্রতিশ্রুতি রক্ষা বাধ্যতামূলক (الإلزام بالوعد) হওয়ার ভিত্তির ওপর পরিচালিত (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الثاني:خلاف العلماء المعاصرين في حكم بيع المرابحة للآمر بالشراءاختلف العلماء المعاصرون في هذه المسألة اختلافاً كبيراً فمنهم من يرى جواز هذا العقد ومنهم من يرى أن هذا العقد باطل ويحرم التعامل به ولكل من الفريقين وجهته وسنستعرض أدلة الفريقين باختصار ونصل إلى القول الراجح إن شاء الله بعد دراسة أدلة الفريقين والردود عليها:
المطلب الأول:
القائلون بجواز بيع المرابحة للآمر بالشراء مع كون الوعد ملزماً للمتعاقدين قال بهذا الرأي جماعة من فقهاء العصر منهم:
1 - د. سامي حمود في كتابه تطوير الأعمال المصرفية بما يتفق والشريعة الإسلامية (1).
2 - د. يوسف القرضاوي في كتابه بيع المرابحة للأمر بالشراء كما تجريه المصارف الإسلامية (2).
3 - د. علي أحمد السالوس في بحثه بعنوان المرابحة للآمر بالشراء نظرات في التطبيق العملي (3).
4 - د. الصديق محمد الأمين الضرير في بحثه بعنوان المرابحة للآمر بالشراء (4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:ক্রয় আদেশদাতার নিকট মুরাবাহা (المرابحة) বিক্রয়ের বিধান সম্পর্কে সমসাময়িক আলেমদের মতভেদসমসাময়িক আলেমগণ এই বিষয়ে ব্যাপক মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই চুক্তিটিকে বৈধ মনে করেন, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে এই চুক্তিটি বাতিল (باطل) এবং এর মাধ্যমে লেনদেন করা হারাম। উভয় পক্ষেরই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আমরা সংক্ষেপে উভয় পক্ষের দলিলসমূহ পর্যালোচনা করব এবং উভয় পক্ষের দলিল ও সেগুলোর খণ্ডন পর্যালোচনার পর ইনশাআল্লাহ আমরা অগ্রগণ্য (الراجح) মতটিতে উপনীত হব:
প্রথম অনুচ্ছেদ:
উভয় পক্ষের জন্য ওয়াদা বা অঙ্গীকারকে বাধ্যতামূলক বিবেচনা করে ক্রয় আদেশদাতার নিকট মুরাবাহা (المرابحة) বিক্রয় বৈধ হওয়ার প্রবক্তাগণ। বর্তমান যুগের একদল ফকিহ এই মত পোষণ করেছেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
১ - ড. সামি হামুদ, তার ‘তাতউয়ীরুল আমালিল মাসরিফিয়্যাহ বিমা ইয়াত্তাফিকু ওয়াশ শারীয়াতিল ইসলামিয়্যাহ’ (ইসলামি শরিয়তের সাথে সংগতি রেখে ব্যাংকিং কার্যক্রমের উন্নয়ন) গ্রন্থে (১)।
২ - ড. ইউসুফ আল-কারজাভি, তার ‘বাইউল মুরাবাহা লিল আমির বিশ শিরা কামা তুজরিহিল মাসারিফুল ইসলামিয়্যাহ’ (ইসলামি ব্যাংকগুলো যেভাবে ক্রয় আদেশদাতার নিকট মুরাবাহা বিক্রয় পরিচালনা করে) গ্রন্থে (২)।
৩ - ড. আলী আহমদ আস-সালুস, তার ‘আল-মুরাবাহা লিল আমির বিশ শিরা: নাজারাত ফিল তাতবীকিল আমালি’ (ক্রয় আদেশদাতার নিকট মুরাবাহা বিক্রয়: ব্যবহারিক প্রয়োগের ওপর একটি দৃষ্টিপাত) শীর্ষক গবেষণাপত্রে (৩)।
৪ - ড. সিদ্দিক মুহাম্মদ আল-আমিন আদ-দরীর, তার ‘আল-মুরাবাহা লিল আমির বিশ শিরা’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
5 - د. إبراهيم فاضل الدبو في بحثه بعنوان المرابحة للآمر بالشراء دراسة مقارنة (1).
6 - الشيخ محمد علي التسخيري في بحثه بعنوان نظرة إلى عقد المرابحة للآمر بالشراء (2).
7 - الشيخ محمد عبده عمر في بحثه بعنوان المرابحة في الاصطلاح الشرعي (3).
8 - د. عبد الستار أبو غدة في بحثه بعنوان أسلوب المرابحة والجوانب الشرعية التطبيقية في المصارف الإسلامية (4).
9 - د. محمد بدوي في مقال له في مجلة المسلم المعاصر (5).
10 - الشيخ عبد الحميد السائح في كتابه الفتاوى (6).
11 - د. محمد عمر شابرا في كتابه (نحو نظام نقدي عادل) (7).
وغير هؤلاء كثير.
وقد احتج هذا الفريق من أهل العلم بأدلة كثيرة أذكر أهمها:
الأول: الأصل في المعاملات الإباحة:" إن الأصل في المعاملات والعقود الإذن والإباحة إلا ما جاء نص صحيح الثبوت صريح الدلالة يمنعه ويحرمه فيوقف عنده ولا أقول هنا ما قاله البعض من ضرورة نص قطعي الثبوت قطعي الدلالة ففي الأحكام الفرعية العملية يكفينا النص الصحيح الصريح.
--------------------------------------------
৫ - ড. ইব্রাহিম ফাদিল আদ-দাব্বু তার 'ক্রয়ের আদেশের ক্ষেত্রে মুরাবাহা: একটি তুলনামূলক অধ্যয়ন' শীর্ষক গবেষণায় (১)।
৬ - শেখ মুহাম্মদ আলী আত-তাসখিরি তার 'ক্রয়ের আদেশের ক্ষেত্রে মুরাবাহা চুক্তির ওপর একটি দৃষ্টিপাত' শীর্ষক গবেষণায় (২)।
৭ - শেখ মুহাম্মদ আবদু ওমর তার 'শরয়ী পরিভাষায় মুরাবাহা' শীর্ষক গবেষণায় (৩)।
৮ - ড. আবদুস সাত্তার আবু গুদ্দাহ তার 'ইসলামী ব্যাংকগুলোতে মুরাবাহা পদ্ধতি এবং প্রয়োগিক শরয়ী দিকসমূহ' শীর্ষক গবেষণায় (৪)।
৯ - ড. মুহাম্মদ বাদাওয়ি আল-মুসলিম আল-মুয়াসির সাময়িকীতে প্রকাশিত তাঁর একটি নিবন্ধে (৫)।
১০ - শেখ আব্দুল হামিদ আস-সাইহ তার ফাতাওয়া গ্রন্থে (৬)।
১১ - ড. মুহাম্মদ উমর ছাপরা তার 'নাহওয়া নিজামুন নকদি আদিল' (একটি ইনসাফপূর্ণ মুদ্রা ব্যবস্থার দিকে) গ্রন্থে (৭)।
এবং তাঁরা ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন।
আলেমদের এই দলটি অনেকগুলো দলিলের মাধ্যমে যুক্তি পেশ করেছেন, যার মধ্যে প্রধানগুলো আমি উল্লেখ করছি:
প্রথম: লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো বৈধতা:"নিশ্চয়ই লেনদেন এবং চুক্তির ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো অনুমতি ও বৈধতা, যতক্ষণ না এমন কোনো বর্ণনা আসে যা প্রমাণিতভাবে সহিহ (صحيح الثبوت) এবং অর্থের দিক থেকে সুস্পষ্ট (صريح الدلالة), যা একে বাধা দেয় বা হারাম করে। সুতরাং সেই নিষেধাজ্ঞার সীমানাতেই থেমে যেতে হবে। আমি এখানে সেটি বলছি না যা কেউ কেউ বলেন যে, দলিলটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত (قطعي الثبوت) এবং নিশ্চিত অর্থের (قطعي الدلالة) হওয়া আবশ্যক; বরং আমলি ফিকহি বিধানের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য সহিহ (صحيح) ও সুস্পষ্ট বর্ণনা বা টেক্সটই যথেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وهذا بخلاف العبادات التي تقرر: أن الأصل فيها المنع حتى يجيء نص من الشارع لئلا يشرع الناس في الدين ما لم يأذن به الله. فإذا كان الأساس الأول للدين ألا يعبد إلا الله فإن الأساس الثاني ألا يعبد الله إلا بما شرع. وهذه التفرقة أساسية ومهمة فلا يجوز أن يقال لعالم: أين الدليل على إباحة هذا العقد أو هذه المعاملة؟ إذ الدليل ليس على المبيح لأنه جاء على الأصل وإنما الدليل على المحرم والدليل المحرم يجب أن يكون نصاً لا شبهة فيه كما هو اتجاه السلف الذين نقل عنهم شيخ الإسلام ابن تيمية أنهم ما كانوا يطلقون الحرام إلا على ما علم تحريمه جزماً" (1).
" ومما ينبغي تأكيده هنا: أن الاتجاه التشريعي في القرآن والسنة هو الميل إلى تقليل المحرمات وتضييق دائرتها تخفيفاً على المكلفين ولهذا كرهت كثرة الأسئلة في زمن الوحي لما قد يؤدي إليه من كثرة التكليفات وهو ما يشير إليه قوله تعالى: {يا أيها الذين آمنوا لا تسألوا عن أشياء إن تبدلكم تسؤكم وإن تسألوا عنها حين ينزل القرآن تبد لكم عفا الله عنها والله غفور حليم} (المائدة: 101).
وقوله عليه الصلاة والسلام: {ذروني ما تركتكم فإنما هلك من كان قبلكم بكثرة أسئلتهم واختلافهم على أنبيائهم} وقوله: {إن أعظم المسلمين على المسلمين جرماً من سأل عن شيء لم يحرم على المسلمين فحرم من أجل مسألته}. فلا ينبغي أن نخالف هذا الاتجاه القرآني والنبوي بتكثير المحرمات وتوسيع دائرة الممنوعات) (2).
--------------------------------------------
এটি ইবাদতসমূহের বিপরীত, যার ক্ষেত্রে এটি নির্ধারিত যে: ইবাদতের ক্ষেত্রে মূলনীতি (الأصل) হলো নিষিদ্ধতা (المنع), যতক্ষণ না শরীয়তদাতার পক্ষ থেকে কোনো অকাট্য বর্ণনা (نص) আসে; যাতে মানুষ দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো বিধান প্রবর্তন না করে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি। সুতরাং দ্বীনের প্রথম ভিত্তি যদি হয় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করা, তবে দ্বিতীয় ভিত্তি হলো আল্লাহর ইবাদত কেবল তাঁর প্রবর্তিত বিধান অনুযায়ীই করা। এই পার্থক্যটি মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো আলেমকে এ কথা বলা বৈধ নয় যে: 'এই চুক্তি বা এই লেনদেন বৈধ হওয়ার দলিল কোথায়?' কারণ দলিল প্রদান করা বৈধকারীর দায়িত্ব নয়, যেহেতু তিনি মূলনীতির (الأصل) ওপরই অটল আছেন; বরং দলিল প্রদানের দায়ভার হারামকারীর ওপর। আর হারাম সাব্যস্তকারী দলিলটি অবশ্যই একটি সংশয়মুক্ত অকাট্য বর্ণনা (نص) হতে হবে, যেমনটি ছিল সালাফদের (السلف) কর্মপন্থা। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তারা কোনো কিছুকে হারাম (الحرام) বলে আখ্যায়িত করতেন না যতক্ষণ না তার নিষিদ্ধতা নিশ্চিতভাবে (جزماً) প্রমাণিত হতো। (১)
"এবং এখানে যা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো: কুরআন ও সুন্নাহর আইনপ্রণয়নগত ধারা হলো হারামকৃত বিষয়ের সংখ্যা হ্রাস করা এবং এর গণ্ডিকে সংকুচিত করা যাতে বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) জন্য তা সহজসাধ্য হয়। এই কারণেই ওহী অবতরণের যুগে অধিক প্রশ্ন করা অপছন্দ করা হতো, পাছে তা অর্পিত দায়িত্ব (التكليفات) বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মহান আল্লাহর এই বাণী সেদিকেই ইঙ্গিত করে: {হে মুমিনগণ, তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের নিকট প্রকাশ করা হলে তোমাদের ব্যথিত করবে। আর যদি কুরআন নাজিল হওয়ার সময় তোমরা সে সম্পর্কে প্রশ্ন করো, তবে তা তোমাদের নিকট প্রকাশ করা হবে। আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন এবং আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও সহনশীল} (আল-মায়েদাহ: ১০১)।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: {আমি তোমাদের যা (প্রশ্ন করা থেকে) বিরত রেখেছি, তোমরা সেভাবেই আমাকে ছেড়ে দাও। তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ধ্বংস হয়েছে তাদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের নবীদের সাথে মতভেদ করার কারণে।} এবং তাঁর বাণী: {মুসলিমদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বড় অপরাধী যে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করেছে যা হারাম ছিল না, অতঃপর তার প্রশ্নের কারণেই তা মুসলিমদের ওপর হারাম করা হয়েছে।} সুতরাং হারামের সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং নিষিদ্ধ বিষয়ের পরিধি বিস্তৃত করার মাধ্যমে আমাদের এই কুরআন ও নববী ধারার বিরোধিতা করা উচিত নয়।" (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الثاني: عموم النصوص من كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم الدالة على حل جميع أنواع البيع إلا ما استثناه الدليل الخاص.
قال د. يوسف القرضاوي: (إن البيع خاصة جاء في حله نص صريح من كتاب الله تعالى يرد به على اليهود الذين زعموا أن الربا كالبيع أو البيع كالربا لا فرق بينهما. (ذلك بأنهم قالوا إنما البيع مثل الربا وأحل الله البيع وحرم الربا). (البقرة 275) فهذه الجملة القرآنية (وأحل الله البيع) تفيد حل كل أنواع البيع سواء كان عيناً بعين (المقايضة) أم ثمناً بثمن (الصرف) أو ثمنا بعين (السلم) أو عينا بثمن (هو البيع المطلق). وسواء كان حالاً أم مؤجلاً نافذاً أو موقوفاً. وسواء كان بيعا بطريق المساومة أم بطريق الأمانة وهو يشمل: المرابحة (وهو البيع بزيادة على الثمن الأول) والتولية (وهو البيع بالثمن الأول) والوضيعة (وهو البيع بأنقص من الثمن الأول)، أو بطريق المزايدة.
فهذه كلها وغيرها حلال لأنها من البيع الذي أحله الله تعالى: ولا يحرم من البيوع إلا ما حرمه الله ورسوله بنص محكم لا شبهة فيه.
وأنقل هنا كلمة قوية لأبن حزم في "محلاه" برغم تضييقه في "العقود والشروط" قال في المسألة 1501: (والتواعد في بيع الذهب بالذهب أو بالفضة: وفي بيع الفضة بالفضة وفي سائر الأصناف الأربعة بعضها ببعض جائز تبايعا بعد ذلك أو لم يتبايعا لأن التواعد ليس بيعاً وكذلك المساومة أيضا جائزة تبايعا أو لم يتبايعا لأنه لم يأت نهي عن شيء من ذلك وكل ما حرم
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলার কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর সাধারণ নসসমূহ (النصوص), যা সকল প্রকার ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়ার নির্দেশ দেয়, কেবল সেই ক্ষেত্রগুলো ব্যতীত যেগুলোকে বিশেষ দলীল দ্বারা স্বতন্ত্র করা হয়েছে।.
ড. ইউসুফ আল-কারজাভী বলেন: (ক্রয়-বিক্রয় বিশেষত এমন একটি বিষয় যার বৈধতার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার কিতাব থেকে সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص صريح) এসেছে, যার মাধ্যমে সেই ইহুদিদের জবাব দেওয়া হয়েছে যারা দাবি করেছিল যে, সুদ ক্রয়-বিক্রয়ের মতো অথবা ক্রয়-বিক্রয় সুদের মতো—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। (তা এই কারণে যে, তারা বলেছিল ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের মতোই, অথচ আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন)। (আল-বাকারা: ২৭৫)। সুতরাং কুরআনের এই বাক্যটি (আর আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন) সকল প্রকার ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতার অর্থ প্রকাশ করে, চাই তা পণ্যের বিনিময়ে পণ্য অর্থাৎ পণ্যবিনিময় (المقايضة) হোক, অথবা মূল্যের বিনিময়ে মূল্য অর্থাৎ মুদ্রা বিনিময় (الصرف) হোক, অথবা অগ্রিম মূল্যের বিনিময়ে পণ্য অর্থাৎ অগ্রিম ক্রয় (السلم) হোক, কিংবা পণ্যের বিনিময়ে মূল্য অর্থাৎ সাধারণ বিক্রয় (البيع المطلق) হোক। আর তা নগদ (حالاً) হোক কিংবা বাকী (مؤجلاً), কার্যকর (نافذاً) হোক অথবা স্থগিত (موقوفاً)। এবং চাই তা দরাদরি (المساومة) পদ্ধতির বিক্রয় হোক কিংবা আমানত (الأمانة) পদ্ধতির বিক্রয় হোক; আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: লাভে বিক্রয় (المرابحة) (যা প্রথম মূল্যের ওপর অতিরিক্ত লাভে বিক্রয়), ক্রয়মূল্যে বিক্রয় (التولية) (যা প্রথম মূল্যের সমান দামে বিক্রয়) এবং লোকসানে বিক্রয় (الوضيعة) (যা প্রথম মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রয়), অথবা নিলাম (المزايدة) পদ্ধতির বিক্রয়।
এই সবকটি এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিক্রয় হালাল, কারণ এগুলো সেই ক্রয়-বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাআলা হালাল করেছেন। আর ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্য থেকে কেবল তা-ই হারাম হবে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো সুদৃঢ় বর্ণনা (نص محكم) দ্বারা হারাম করেছেন, যাতে কোনো সংশয় নেই।
আমি এখানে ইবনে হাজমের আল-মুহাল্লা থেকে একটি জোরালো বক্তব্য উদ্ধৃত করছি, যদিও তিনি চুক্তি ও শর্তাবলী (العقود والشروط) এর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন; তিনি ১৫০১ নং মাসআলায় বলেন: (সোনার বিনিময়ে সোনা বা রুপার বিক্রয় এবং রুপার বিনিময়ে রুপার বিক্রয় এবং অবশিষ্ট চারটি শ্রেণির একটির বিনিময়ে অন্যটির বিক্রয়ের ক্ষেত্রে পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি প্রদান (التواعد) জায়েজ, পরবর্তীতে তারা ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করুক বা না করুক; কারণ পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি প্রদান কোনো ক্রয়-বিক্রয় নয়। অনুরূপভাবে দরাদরি (المساومة) করাও জায়েজ, তারা ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করুক বা না করুক; কারণ এর কোনোটির ব্যাপারেই কোনো নিষেধাজ্ঞা আসেনি। আর যা কিছু হারাম করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
علينا فقد فصل باسمه قال تعالى: (وقد فصل لكم ما حرم عليكم) (الأنعام 119) فكل ما لم يفصل لنا تحريمه فهو حلال بنص القرآن إذ ليس في الدين إلا فرض أو حرام أو حلال فالفرض مأمور به في القرآن والسنة والحرام مفصل باسمه في القرآن والسنة وما عدا هذين فليس فرضا ولا حراماً فهو بالضرورة حلال إذ ليس هنالك قسم رابع.
وهذا الذي قاله ابن حزم - في حل ما لم يفصل لنا تحريمه من البيوع - مقرر في جميع المذاهب.
فعند المالكية نجد العلامة ابن رشد الجد في كتابه "المقدمات" يقول:
"البيوع الجائزة هي التي لم يحظرها الشرع ولا ورد فيها نهي لأن الله تعالى أباح البيع لعباده وأذن لهم فيه في غير ما آية من كتابه. من ذلك قوله تعالى: (وأحل الله البيع وحرم الربا)
… ولفظ البيع عام لأن الإسم المفرد إذا دخل عليه الألف واللام صار من ألفاظ العموم .. واللفظ العام إذا ورد يحمل على عمومه إلا أن يأتي ما يخصه فإن خص منه شيء بقي ما بعد المخصوص على عمومه أيضاً. فيندرج تحت قوله تعالى: (وأحل الله البيع) كل بيع إلا ما خص منه بالدليل
… فبقي ما عداها على أصل الإباحة".
وعند الحنفية - نجد صاحب الهداية يقول في باب المرابحة والتولية: نقل ما ملكه بالعقد الأول بالثمن الأول من غير زيادة ربح. قال: والبيعان جائزان لاستجماع شرائط الجواز والحاجة ماسة إلى هذا النوع من البيع لأن الغبي الذي لا يهتدي في التجارة يحتاج إلى أن يعتمد فعل الذكي المهتدي وتطيب نفسه
আমাদের জন্য তিনি নামসহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "অথচ তিনি তোমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যা তিনি তোমাদের ওপর হারাম করেছেন" (আল-আনআম ১১৯)। সুতরাং যেসবের হারাম হওয়া আমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়নি, কুরআনের বর্ণনার ভিত্তিতে তা হালাল (حلال)। কেননা দ্বীনের মধ্যে ফরজ (فرض), হারাম (حرام) অথবা হালাল (حلال) ব্যতীত আর কিছু নেই। সুতরাং ফরজ (فرض) হলো সেই বিষয় যার নির্দেশ কুরআন ও সুন্নাহতে দেওয়া হয়েছে, আর হারাম (حرام) হলো যা নামসহ কুরআন ও সুন্নাহতে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। এই দুটি ছাড়া যা কিছু আছে তা ফরজও নয়, হারামও নয়; ফলে তা অনিবার্যভাবে হালাল (حلال), যেহেতু সেখানে চতুর্থ কোনো বিভাগ নেই।
ইবনে হাজম যে সব কেনাবেচার হারাম হওয়া বিস্তারিত বর্ণিত হয়নি সেগুলোর বৈধতা সম্পর্কে যা বলেছেন, তা সকল মাজহাবে স্বীকৃত বা নির্ধারিত।
মালিকি মাজহাবের ক্ষেত্রে আমরা আল্লামা ইবনে রুশদ আল-জাদ্দকে তাঁর আল-মুকাদ্দিমাত গ্রন্থে বলতে দেখি:
"বৈধ কেনাবেচা হলো সেগুলো যা শরিয়ত নিষিদ্ধ করেনি এবং যেগুলোর ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা আসেনি। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের একাধিক আয়াতে তাঁর বান্দাদের জন্য কেনাবেচাকে অনুমতি দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: 'আর আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন'
… এবং কেনাবেচা শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক (عام), কারণ একবচন শব্দের শুরুতে যখন আলিফ-লাম যুক্ত হয় তখন তা ব্যাপক অর্থবোধক (عام) শব্দের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর ব্যাপক অর্থবোধক (عام) শব্দ যখন ব্যবহৃত হয় তখন তাকে তার ব্যাপকতার ওপরই প্রয়োগ করা হয়, যতক্ষণ না তাকে নির্দিষ্ট (خاص) করার মতো কিছু আসে। সুতরাং যদি তা থেকে কোনো কিছু নির্দিষ্ট (خاص) করা হয়, তবে নির্দিষ্টকৃত অংশ ছাড়া অবশিষ্টটুকু তার পূর্বের ব্যাপকতার ওপরই বহাল থাকে। অতএব, মহান আল্লাহর বাণী 'আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল করেছেন'-এর অধীনে প্রতিটি কেনাবেচাই অন্তর্ভুক্ত হবে, কেবল দলিল (دليل) দ্বারা যা নির্দিষ্ট (خاص) করা হয়েছে তা ব্যতীত
… ফলে এগুলি বাদে বাকি সব মূল বৈধতার (أصل الإباحة) ওপরই বহাল থাকবে।"
হানাফি মাজহাবের ক্ষেত্রে—আমরা হিদায়া গ্রন্থকারকে মুরাবাহাহ ও তাওলিইয়াহ অধ্যায়ে বলতে দেখি: প্রথম চুক্তিতে যে সম্পদের মালিকানা লাভ করা হয়েছে, তা কোনো অতিরিক্ত লাভ ছাড়াই প্রথম মূল্যে হস্তান্তর করা। তিনি বলেন: এই উভয় প্রকার কেনাবেচাই বৈধ (جائز), কারণ এখানে বৈধতার সকল শর্ত বিদ্যমান রয়েছে এবং এ ধরনের কেনাবেচার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এমন অদক্ষ ব্যক্তি যে ব্যবসায়িক কলাকৌশল বোঝে না, তাকে একজন বুদ্ধিমান ও দক্ষ ব্যক্তির কর্মের ওপর নির্ভর করতে হয় এবং এতে তার মন আশ্বস্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بمثل ما اشترى وبزيادة ربح فوجب القول بجوازهما ولهذا كان مبناهما على الأمانة .. إلخ.
وهنا يعلق محقق الحنفية الكمال بن الهمام على استدلال صاحب الهداية فيقول: ولا يخفى أنه لا يحتاج إلى دليل خاص لجوازها بعد الدليل المثبت لجواز البيع مطلقاً بما تراضيا عليه بعد أن لا يخل بما علم شرطاً للصحة بل دليل شرعية البيع مطلقاً بشروطه المعلومة هو دليل جوازها
… ".
وقال الإمام الشافعي في كتابه "الأم" تفريعا على قول الله (وأحل الله البيع):
فأصل البيوع كلها مباح إذا كانت برضا المتبايعين الجائزي الأمر (أي التصرف) فيما تبايعا إلا ما نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم منها. وما كان في معنى ما نهى عنه رسول الله صلى الله عليه وسلم محرم بإذنه يداخل في المعنى المنهي عنه. وما فارق ذلك أبحناه بما وصفنا من إباحة البيع في كتاب الله تعالى".
وهذا أظهر الأقوال وأصحها في معنى الآية كما ذكر النووي فلفظ البيع في الآية لفظ عموم يتناول كل بيع ويقتضي إباحة جميعها إلا ما خصه الدليل واستدل لذلك صاحب الحاوي (الماوردي) بأن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن بيوع كانوا يعتادونها ولم يبين الجائز فدل على أن الآية الكريمة تناولت إباحة جميع البيوع إلا ما خص منها وبين صلى الله عليه وسلم المخصوص.
وعند الحنابلة نجد شيخ الإسلام ابن تيمية يؤكد: "أن عامة ما نهى عنه الكتاب والسنة من المعاملات يعود إلى تحقيق
যে মূল্যে ক্রয় করা হয়েছে তার সমপরিমাণ এবং অতিরিক্ত মুনাফাসহ (বিক্রয়); সুতরাং এ দুটির বৈধতা (جواز) আবশ্যক (واجب) হওয়া অপরিহার্য এবং একারণেই এগুলোর ভিত্তি হলো বিশ্বস্ততার ওপর... ইত্যাদি।
এখানে হানাফি গবেষক (محقق) কামাল ইবনুল হুমাম 'হিদায়া'র লেখকের দলীল উপস্থাপনের (استدلال) ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "এটি অস্পষ্ট নয় যে, ক্রয়-বিক্রয়ের বিশুদ্ধতার (صحة) জন্য নির্ধারিত শর্তাবলি বিঘ্নিত না করে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে সাধারণভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতা প্রমাণের জন্য যে দলীল (دليل) বিদ্যমান রয়েছে, এরপর এর বৈধতার (جواز) জন্য কোনো বিশেষ দলীলের (دليل خاص) প্রয়োজন নেই। বরং সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের শারয়ি বৈধতার দলীলই হলো এর বৈধতার (جواز) দলীল..."।
ইমাম শাফেঈ তাঁর 'আল-উম্ম' কিতাবে আল্লাহর বাণী "আর আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন"-এর শাখা হিসেবে বলেছেন:
"মূলত সকল ক্রয়-বিক্রয়ই মুবাহ (مباح), যদি তা উভয় পক্ষের সম্মতিতে হয় যাদের ক্রয়-বিক্রয়কৃত বিষয়ে লেনদেনের যোগ্যতা (تصرف) আছে; কেবল সেসব ব্যতীত যা থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন। আর যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিষেধের সমার্থবোধক, তা তাঁর অনুমতিক্রমেই নিষিদ্ধ (محرم), যা মূলত নিষিদ্ধ বিষয়ের (منهي عنه) অন্তর্ভুক্ত। এর বাইরে যা কিছু আছে, আমরা সেগুলোকে আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতার (إباحة) সাধারণ বর্ণনার ভিত্তিতে বৈধ মনে করি।"
ইমাম নববী যেমনটি উল্লেখ করেছেন, আয়াতের অর্থের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট ও বিশুদ্ধতম (أصح) অভিমত। কেননা আয়াতে 'আল-বাই' (ক্রয়-বিক্রয়) শব্দটি সাধারণ (عموم) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যা প্রতিটি ক্রয়-বিক্রয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং দলীল (دليل) দ্বারা নির্দিষ্ট হওয়া বিষয়গুলো ব্যতীত সবকিছুর বৈধতা (إباحة) দাবি করে। 'আল-হাবি'-র লেখক (মাওয়ার্দি) এর সপক্ষে দলীল দিয়েছেন যে, নবী (সা.) এমন কিছু ক্রয়-বিক্রয় পদ্ধতি নিষেধ করেছেন যাতে তারা অভ্যস্ত ছিল কিন্তু বৈধ (جائز) বিষয়গুলো আলাদা করে বর্ণনা করেননি; এটি প্রমাণ করে যে এই আয়াতটি সকল প্রকার ক্রয়-বিক্রয়ের বৈধতাকে (إباحة) শামিল করে, কেবল নবী (সা.) যা নির্দিষ্ট (مخصوص) করে দিয়েছেন তা ব্যতীত।
হাম্বলিদের নিকট আমরা দেখি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ জোর দিয়ে বলেছেন: "কুরআন ও সুন্নাহতে লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণত যা কিছু নিষেধ করা হয়েছে, তা মূলত বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যেই...
(খণ্ড: ১)
বাইউল মুরাবাহাহ লিল আমিরি বিশ শিরা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
العدل والنهي عن الظلم دقه وجله مثل أكل المال بالباطل وجنسه من الربا والميسر. .
ثم يقول: والأصل في هذا أنه لا يحرم على الناس من المعاملات التي يحتاجون إليها إلا ما دل الكتاب والسنة على تحريمه كما لا يشرع لهم من العبادات التي يتقربون بها إلى الله ما دل الكتاب والسنة على شرعه، إذ الدين ما شرعه الله والحرام ما حرمه الله بخلاف الذين ذمهم الله حيث حرموا من دين الله ما لم يحرمه الله وأشركوا به ما لم ينزل به سلطانا وشرعوا لهم من الدين ما لم يأذن به الله" (1).
الثالث: النصوص الواردة عن بعض الفقهاء في إجازة هذا العقد وأهم هذه النصوص ما يلي:
1 - إن أهم نص اعتمد عليه هؤلاء العلماء هو ما قاله الإمام الشافعي في الأم حيث إن د. سامي حمود اشار إلى نص الإمام الشافعي لهذه المسألة فقال: (وقد كانت هذه الصورة من صور الوساطة التي يستطيع المصرف اللاربوي أن يقوم فيها بأعمال الإئتمان التجاري بكل أنواعه منافساً - بكل قوة- سائر البنوك الربوية محل تفكير مشوب بالتخوف إلى ان اطمأنت النفس بوجود هذا النوع من أنواع التعاقد مذكورا نصا على وجه التقريب في كتاب الأم للإمام الشافعي حيث يقول رحمه الله في ذلك: "وإذا أرى الرجل الرجل السلعة فقال: اشتر هذه وأربحك فيها كذا فاشتراها الرجل فالشراء جائز والذي قال أربحك فيها
--------------------------------------------
ন্যায়বিচার এবং অন্যায়ের (ظلم) নিষেধাজ্ঞা, তার সূক্ষ্ম ও স্থূল সকল প্রকারেই, যেমন অন্যায়ভাবে সম্পদ ভোগ করা এবং সুদ (ربا) ও জুয়ার (ميسر) ন্যায় এর বিভিন্ন ধরণ। .
অতঃপর তিনি বলেন: এই বিষয়ে মূলনীতি (أصل) হলো এই যে, মানুষের প্রয়োজনীয় লেনদেনের (معاملات) মধ্যে কোনো কিছুই তাদের জন্য হারাম (حرام) করা হবে না, যতক্ষণ না কিতাব ও সুন্নাহ তা হারাম করার ওপর দলিল (دليل) প্রদান করে। ঠিক তেমনিভাবে, তাদের জন্য সেই সব ইবাদত (عبادات) বিধিবদ্ধ (مشروع) করা হবে না যার মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে, যতক্ষণ না কিতাব ও সুন্নাহ তা প্রবর্তনের ওপর দলিল প্রদান করে। কেননা দ্বীন হলো তা-ই যা আল্লাহ বিধিবদ্ধ করেছেন এবং হারাম হলো তা-ই যা আল্লাহ হারাম করেছেন। এটি তাদের বিপরীত যাদের আল্লাহ নিন্দা করেছেন, কারণ তারা আল্লাহর দ্বীন থেকে এমন কিছু হারাম করেছিল যা আল্লাহ হারাম করেননি এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছু অংশীদার করেছিল যার স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ (سلطان) অবতীর্ণ করেননি এবং তারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন কিছু প্রবর্তন করেছিল যার অনুমতি আল্লাহ দেননি (১)।
তৃতীয়: এই চুক্তি (عقد) বৈধকরণের বিষয়ে কয়েকজন ফকিহ (فقهاء) থেকে বর্ণিত সংশ্লিষ্ট পাঠ্যসমূহ (نصوص) এবং এই পাঠ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিম্নরূপ:
১ - এই আলেমগণ যে প্রধান পাঠ্যের (نص) ওপর নির্ভর করেছেন তা হলো ইমাম শাফেয়ি কিতাবুল আম গ্রন্থে যা বলেছেন। ড. সামি হাম্মুদ ইমাম শাফেয়ির এই মাসআলা (مسألة) সংক্রান্ত পাঠ্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: (মধ্যস্থতার এই রূপটি, যার মাধ্যমে একটি সুদমুক্ত ব্যাংক সকল প্রকার বাণিজ্যিক ঋণের কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম এবং যা অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে অন্যান্য সুদভিত্তিক ব্যাংকগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে—তা ভীতিমিশ্রিত চিন্তার বিষয় ছিল, যতক্ষণ না ইমাম শাফেয়ির কিতাবুল আম গ্রন্থে এই ধরণের চুক্তির (تعاقد) অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রায় স্পষ্টভাবে উল্লিখিত থাকায় মন আশ্বস্ত হয়েছে। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) সে সম্পর্কে বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো পণ্য (سلعة) দেখিয়ে বলে: এটি কিনুন এবং আমি আপনাকে এতে এত এত লাভ (ربح) দেব, অতঃপর ব্যক্তিটি তা ক্রয় করে, তবে সেই ক্রয় বৈধ (جائز)। আর যিনি বলেছিলেন যে আমি আপনাকে লাভ দেব..."
--------------------------------------------