(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: -)
تهذيب التهذيب - ط دبي   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تهذيب التهذيب

المؤلف: ابن حجر أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن حجر العسقلاتي الشافعي (ت 852 هـ)

أصل التحقيق: (15) رسالة ماجستير، كلية الحديث الشريف بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، 1431 هـ

الناشر: جمعية دار البر - الإمارات العربية المتحدة، دبي

الطبعة: الثانية، 1443 هـ - 2021 م

عدد الأجزاء: 15 بالإضافة لجزء المقدمة

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 ربيع الأول 1445

তাহজীবুত তাহজীব - দুবাই সংস্করণ   (ইবনে হাজার আল-আসকালানি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: তাহজীবুত তাহজীব

লেখক: ইবনে হাজার আবু আল-ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাজার আল-আসকালানি আশ-শাফিঈ (ওফাত ৮৫২ হিজরি)

মূল তাহকিক: (১৫)টি মাস্টার্স থিসিস, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস অনুষদ, ১৪৩১ হিজরি

প্রকাশক: জামিয়াত দার আল-বির - সংযুক্ত আরব আমিরাত, দুবাই

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ভূমিকা খণ্ডসহ মোট ১৫ খণ্ড

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌لائحة أسماء المحققين

 

الجزء المحقق من إلى
1 عامر علي عوض شبير أحمد بن إبرَاهيم بن خَالد الموصليِّ (1) الأسور بن سريع التَّمِيميِّ السَّعْدِيِّ رضي الله عنه
2 حمزة علي إبراهيم سكويا الأسوَد بن سَعيد الهَمْدانيِّ (545) حجَّاج بن أرطاة
3 أحمد بن يوسف صَلاح الدِّين القضيبي حَجَّاج بن تميم الجزَرِيّ (1183) خالد بن كثير العَبْديِّ
4 فيصَل بن محمَّد بن حمود العيَافي القحطاني خَالد بن أبي كريمة (1760) سَعيد بن أبي رَاشد - ويُقال: ابن رَاشد
5 حسن يروعيموي الكالولي سَعيد بن أبي راشد (2416) صَالح بن درهم الباهليِّ
6 خالد بن عبد الله بن علي الكندري صالح بن دينار الجُعفِيِّ (2980) عبد اللَّه بن عبد الرحمن بن أزهر
7 سيِّد بُرقان الهَاشِمي الخَلُوري عبد الله بن عبَد الرحمن بن أبي بكر الصديق (3587) عبد الرحمن بن مغراء
8 محمَّد بن نعمان جَاد الربِّ عبد الرحمن بن مغيث (4216) عثمان بن يَمان بن هارون
9 جهَاد أحمَد محمُود مخطوب رحمه الله عثمان الشَّحَّام العدوِيِّ (4768) عمر بن يونس بن القاسم الحنفِيِّ
10 خالد محفوظ الرحمن زين الله عمرو بن أبان بن عثمان الأموِيِّ (5249) قدامة بن محمَّد بن قدامة الأشجعِيِّ
11 مبارك بن محمّد أخباش قدامة بن موسى بن عمر (5828) محمد بن عبد الجبار القرشي
12 عبد الناصر بن محمد بن سلّام المغربي محمد بن عبد الجبار بن مِهران (6434) مُطْعِم بن المِقدَام
13 فيراز زيد حسين المطلب بن ربيعة (7118) هشام بن عبد الملك الباهلي
14 فراز الحق بن نجم الحق هشام بن عُبيد الله الرَّازِيِّ (7750) يونس بن خبَّاب
15 محمَّد هيكل بن علي باشراحيل يونس بن راشد الجزرِيِّ (8424) آخر الكتاب (9308)
গবেষক ও সম্পাদকগণের নামের তালিকা

 

খণ্ড গবেষক ও সম্পাদক হতে পর্যন্ত
১ আমির আলি আওয়াদ শুবাইর আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে খালিদ আল-মাওসিলি (১) আসওয়াদ ইবনে সারি আত-তামিমি আস-সাদি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)
২ হামজা আলি ইব্রাহিম সাকুয়া আসওয়াদ ইবনে সাঈদ আল-হামদানি (৫৪৫) হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ
৩ আহমদ ইবনে ইউসুফ সালাহুদ্দিন আল-কুদ্বাইবি হাজ্জাজ ইবনে তামিম আল-জাজারি (১১৮৩) খালিদ ইবনে কাসির আল-আবদি
৪ ফয়সাল ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামুদ আল-আইয়াফি আল-কাহতানি খালিদ ইবনে আবি কারিমা (১৭৬০) সাঈদ ইবনে আবি রাশিদ - এবং বলা হয়: ইবনে রাশিদ
৫ হাসান ইয়ারুয়াইমুয়ি আল-কালুলি সাঈদ ইবনে আবি রাশিদ (২৪১৬) সালেহ ইবনে দিরহাম আল-বাহিলি
৬ খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আলি আল-কুনদুরি সালেহ ইবনে দিনার আল-জুফি (২৯৮০) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আজহার
৭ সাইয়্যিদ বুরকান আল-হাশেমি আল-খালুরি আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকর আস-সিদ্দিক (৩৫৮৭) আব্দুর রহমান ইবনে মাগরা
৮ মুহাম্মদ ইবনে নুমান জাদ আল-রাব্ব আব্দুর রহমান ইবনে মুগিস (৪২১৬) উসমান ইবনে ইয়ামান ইবনে হারুন
৯ জিহাদ আহমদ মাহমুদ মাখতুব (রাহিমাহুল্লাহ) উসমান আশ-শাহহাম আল-আদাউয়ি (৪৭৬৮) উমর ইবনে ইউনুস ইবনে কাসিম আল-হানাফি
১০ খালিদ মাহফুজুর রহমান জাইনুল্লাহ আমর ইবনে আবান ইবনে উসমান আল-উমাউয়ি (৫২৪৯) কুদামা ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আল-আশজায়ি
১১ মুবারক ইবনে মুহাম্মদ আখবাশ কুদামা ইবনে মুসা ইবনে উমর (৫৮২৮) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল জাব্বার আল-কুরাশি
১২ আব্দুল নাসির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সাল্লাম আল-মাগরিবি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল জাব্বার ইবনে মিহরান (৬৪৩৪) মুতিম ইবনে আল-মিকদাম
১৩ ফিরাজ জাইদ হুসাইন আল-মুততালিব ইবনে রাবিআহ (৭১১৮) হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক আল-বাহিলি
১৪ ফারাজ আল-হাক ইবনে নাজমু আল-হাক হিশাম ইবনে উবাইদুল্লাহ আর-রাজি (৭৭৫০) ইউনুস ইবনে খাব্বাব
১৫ মুহাম্মদ হাইকাল ইবনে আলি বাশারাহিল ইউনুস ইবনে রাশিদ আল-জাজারি (৮৪২৪) গ্রন্থের শেষ পর্যন্ত (৯৩০৮)
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

تحرصُ جمعيةُ دارِ البرِّ في دبي؛ بدولة الإماراتِ العربيةِ المتحدةِ على خدمةِ الحديث والسنة النبوية، إذْ الحديث وسيلة لكل علم شرعي، وهو الطريق إلى معرفة ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه من اعتقادات وأحكام وأخلاق، وغير ذلك، ولا نجاة للأمة ولا فلاح مهما اشتدّ اختلاف الزمان والمكان، إلا بسلوك هذه الطريق، كما أن السُّنة مِثْلُ القرآن الكريم في التشريع وإفادة الأحكام، وهي أيضًا شارِحَةٌ للقرآن، مُبيِّنةٌ له، تُفَصِّلُ مُجْمَله، وتُقيِّدُ مُطلَقَهُ، وتُخصِّصُ عمومه.

ومِنْ أجل هذا اختص الله تعالى الأُمَّةَ الإسلامية بخصوصية كبرى؛ إلا وهِيَ حِفظُ الحديث النبوي، ذلك بأن السُّنَّةَ مِنَ الذِكْرِ الذي وعد الله بحفظه، وقد اشتكى رجل من وجود الأحاديث الموضوعة، فقال له ابن المبارك: تَعِيشُ لها الجهابِدَةُ، تكتشفُها وتُحذِّرُ منها، ثم قرأ قوله تعالى {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9].

نَعَمْ؛ حَفِظَ الله الحديث بِأَنْ قيَّضَ له مئات الألوف من الجَهَابِذَة مِنْ الرُّواةِ والمُحَدِّثين والنُّقَّاد، فلم يألوا جهدًا في حفظه غضًّا طرِيًّا مدى العصور والأزمان، وعلى مَرِّ القرون والأجيال.

وفي ذلك يقول الحافظ أبو حاتم الرازي رحمه الله: "لم يكن في أمة من الأمم منذ خلق الله آدم أُمَناءَ يحفظون آثار الرُّسُل إلا في هذه الأمة".

ويوضح الحافظ محمد بن حاتم بن المظفر اختصاص هذه الأمة بعلماء الحديث، فيقول: " إن الله أكرم هذه الأمة وشرَّفَها وفضَّلَها بالإسناد، وليس لأحدٍ مِنْ الأُمَم كلِّها، قديمهم وحديثهم إسنادٌ، وإِنَّما هِيَ صُحفٌ في أيديهم،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের ‘দার আল-বির সোসাইটি’ হাদিস ও সুন্নাহর খিদমতে সচেষ্ট; কেননা হাদিস প্রতিটি শরয়ি ইলমের মাধ্যম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যে আকিদা, বিধান, আখলাক ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর ছিলেন, তা জানার পথ হলো এই হাদিস। সময় ও স্থানের ভিন্নতা যতই তীব্র হোক না কেন, উম্মতের জন্য এই পথ অনুসরণ করা ছাড়া কোনো মুক্তি বা সফলতা নেই। তদ্রূপ সুন্নাহ বিধান প্রণয়ন ও বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের মতোই, আর তা কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানকারী ও বর্ণনাকারীও বটে; যা এর সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেয়, এর নিঃশর্ত বিষয়গুলোকে শর্তযুক্ত করে এবং এর সাধারণ বিষয়গুলোকে বিশেষায়িত করে।

আর এ কারণেই মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন; আর তা হলো নববী হাদিসের সংরক্ষণ। কারণ সুন্নাহ হলো সেই ‘জিকির’-এর অন্তর্ভুক্ত যা সংরক্ষণের ওয়াদা মহান আল্লাহ দিয়েছেন। এক ব্যক্তি জাল হাদিসের অস্তিত্ব সম্পর্কে অভিযোগ করলে ইবনুল মুবারক তাকে বলেছিলেন: “এগুলোর জন্য সুনিপুণ বিশেষজ্ঞরা বেঁচে আছেন, তাঁরা এগুলো উদ্ঘাটন করবেন এবং এ বিষয়ে সতর্ক করবেন।” অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আমি জিকির নাযিল করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক।} [হিজর: ৯]।

হ্যাঁ; আল্লাহ লক্ষ লক্ষ সুনিপুণ বর্ণনাকারী, মুহাদ্দিস ও সমালোচককে নিয়োজিত করার মাধ্যমে হাদিসকে সংরক্ষণ করেছেন। ফলে তাঁরা যুগ-যুগান্তর এবং শতাব্দী ও প্রজন্ম ধরে একে অবিকৃত ও সতেজ অবস্থায় সংরক্ষণে কোনো ত্রুটি করেননি।

এ বিষয়ে হাফেজ আবু হাতিম আল-রাজি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: “আল্লাহ যখন থেকে আদমকে সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে এই উম্মত ছাড়া আর কোনো জাতির মধ্যে এমন আমানতদার বা বিশ্বস্ত লোক ছিল না যারা রাসুলদের নিদর্শনাবলি সংরক্ষণ করে।”

হাফেজ মুহাম্মদ বিন হাতিম বিন আল-মুজাফফর হাদিস বিশারদদের মাধ্যমে এই উম্মতের এই বিশেষত্বের কথা বর্ণনা করে বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতকে ‘ইসনাদ’ (সনদ পরম্পরা) দ্বারা সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। অতীত বা বর্তমানের অন্য কোনো জাতির কাছেই কোনো সনদ নেই; বরং তাদের হাতে রয়েছে কেবল কিছু পাণ্ডুলিপি মাত্র,”
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٦)
وقد خَلَطُوا بِكُتُبِهم أخبارهم، وليس عندهم تمييز وهذه الأُمَّةُ إِنما تَنُصُّ الحديث مِنَ الثِّقَةِ المَعروف في زمانه المشهور بالصِّدقِ والأمانة، عن مثله حتى تتناهى أخبارُهم، ثُم يبحثون أشَدَّ البحث حتى يعرفوا الأحفظ فالأحفظ، والأضبط فالأضبط، والأطوَلَ مُجالسة لِمَنْ فَوْقَهُ ممن كان أقلَّ مُجالسة، ثم يَكتُبون الحديث من عشرين وجهًا وأكثر حتى يُهذِّبُوهُ مِنَ الغَلَطِ والزَّلَل، ويضْبِطوا حُروفَه ويَعُدُّوهُ عَدَّا، فهذا مِنْ أعظم نعم الله تعالى على هذه الأمة".

هذا؛ وعُلومُ الحديث التي خدمته بقوة، وميزت بين صحيحه وحسنه، وضعيفه وموضوعه، كثيرةٌ ومتنوعة، تَصِلُ إلى نحو خمسينَ عِلْمًا، مِنْها ما يتعلقُ بِرُواةِ الحديث وبيان أحوالهم ومَدَى أهلِيَّتهم؛ وهُوَ: ما يُعرَفُ بِعلْمِ الرِّجال، أو عِلْمِ الجرح والتعديل، ومِنْ أعظم كُتُب هذا العلم وأهمِّها وأكثرها فائدةً: كتاب الحافظِ الكبير شَيخ الإسلام الإمام أبي الفَضْل أحمد بن علي، المعروف بابنُ حَجَرْ العسقلاني، (ت: 852 هـ)، الذي بين أيدينا، والمشهور باسم: "تهذيب التهذيب".

وقد مَكَثَ في دِرَاسَةِ هذا الكتاب وتَحْقيقه - خَمْسُ سنواتٍ - ثلةٌ من العلماء والباحثين، بَلَغُوا خمسة عشر، وذلك في كُلِّيَّةِ الحديث الشريف في الجامعة الإسلامية، بِبَلَدِ الحديث والسُّنة: المدينة المنورة، وحَصَّلُوا به على درجة العالمية.

وإذ تتشرفُ جمعيةُ دارِ البرِّ بأنْ تُقدِّمَ للعلماء والباحثين في السنة النبوية وعلومها الشريفة هذا الكتاب، فإنَّها تُعْلِنُ عن إفساح المجال للباحثين المُتَخصِّصين في العلوم الشرعية كافة؛ لِنَشْرِ رسائلهم الجامعية وبحوثهم المُحَكَّمَة، كما تدعو الجمعية أهل الخير لدعم هذا المشروع العلمي، والإسهام في نشر العلوم الإسلامية الصحيحة، والمحافظة على هذا الإرث العظيم، والحمد لله رب العالمين.

 

خلفان خليفه المزروعي

رئيس مجلس إدارة جمعية دار البر

دبي - دولة الإمارات العربية المتحدة
তারা তাদের কিতাবসমূহের সাথে তাদের সংবাদ ও কাহিনীগুলো মিশিয়ে ফেলেছে এবং তাদের নিকট (সঠিক-বেঠিক) পার্থক্য করার কোনো মানদণ্ড নেই। আর এই উম্মত কেবল সেই বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর মাধ্যমেই হাদিস বর্ণনা করে, যিনি নিজ যুগে সত্যবাদিতা ও আমানতদারিতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তারা অনুরূপ বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করে যতক্ষণ না তাদের বর্ণনাগুলো শেষ প্রান্তে পৌঁছায়। অতঃপর তারা অত্যন্ত কঠোরভাবে অনুসন্ধান চালায় যাতে তারা জানতে পারে কে সবচেয়ে বেশি মুখস্থকারী, কে সবচেয়ে সূক্ষ্ম সংকলক এবং কে তার উস্তাদদের সাথে বেশি সময় অতিবাহিত করেছেন ওই ব্যক্তির তুলনায় যার সাহচর্য কম ছিল। এরপর তারা একটি হাদিস বিশ বা তার অধিক সূত্র থেকে লিখে থাকে যাতে তারা একে ভুল ও বিচ্যুতি থেকে পরিচ্ছন্ন করতে পারে এবং এর প্রতিটি বর্ণকে সূক্ষ্মভাবে সংরক্ষণ করে ও তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গণনা করে। এটি এই উম্মতের প্রতি মহান আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত।

এই হচ্ছে হাদিসের জ্ঞানসমূহ যা একে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে সেবা করেছে এবং এর সহিহ, হাসান, জয়িফ ও জাল বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছে। এই জ্ঞানসমূহ অনেক ও বৈচিত্র্যময়, যা প্রায় পঞ্চাশটি শাখায় উপনীত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু রয়েছে যা হাদিসের বর্ণনাকারীদের সাথে সম্পর্কিত এবং তাদের অবস্থা ও যোগ্যতার বর্ণনা প্রদান করে; একে 'ইলমুর রিজাল' বা 'জারহ ও তাদিল' (সমালোচনা ও গুণাগুণ বিশ্লেষণ বিদ্যা) বলা হয়। এই শাস্ত্রের অন্যতম মহান, গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বাধিক উপকারী কিতাব হলো: মহান হাফেজ, শায়খুল ইসলাম ইমাম আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী, যিনি ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু: ৮৫২ হিজরি) নামে পরিচিত, তাঁর কিতাব যা আমাদের সামনে রয়েছে এবং 'তাহজিবুত তাহজিব' নামে সমধিক পরিচিত।

এই কিতাবটি অধ্যয়ন এবং এর সম্পাদনার (তাহকিক) কাজে পাঁচ বছর সময় ব্যয় করেছেন ১৫ জন আলেম ও গবেষকের একটি দল। এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে হাদিস ও সুন্নাহর শহর মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস অনুষদে এবং এর মাধ্যমে তারা আলামিয়্যাহ (ডক্টরেট) ডিগ্রি লাভ করেছেন।

যেহেতু দারুল বির সোসাইটি হাদিসে নববী ও এর সম্মানজনক জ্ঞানসমূহের গবেষক ও আলেমদের নিকট এই কিতাবটি পেশ করার গৌরব অর্জন করছে, তাই তারা শরিয়াহ বিজ্ঞানের সকল বিশেষায়িত গবেষকদের জন্য তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের থিসিস এবং তাত্ত্বিক গবেষণাগুলো প্রকাশের পথ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিচ্ছে। একইভাবে সোসাইটি এই জ্ঞানতাত্ত্বিক প্রকল্পকে সমর্থন করার জন্য এবং সঠিক ইসলামি জ্ঞান প্রচার ও এই মহান উত্তরাধিকার সংরক্ষণে অবদান রাখার জন্য দানশীল ব্যক্তিদের আহ্বান জানাচ্ছে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

খালফান খলিফা আল-মাজরুই

চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ, দারুল বির সোসাইটি

দুবাই - সংযুক্ত আরব আমিরাত
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم

إنَّ الحمدَ لله، نَحمدُه ونَستعينُه ونَستغفرُه، ونعوذُ بالله من شُرُور أنفسِنا ومن سيئاتِ أعمالنا، مَنْ يهدِهِ الله فلا مُضِلَّ له، ومن يُضْلِلْ فلا هادي له، وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحده لا شريكَ له، وأشهدُ أنَّ محمدًا عبدُه ورسولُه، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]، {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1]، {يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70 - 71]، أما بعد:

فإنّ أصدقَ الحديث كلامُ الله، وأحسنَ الهدي هديُ محمد صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمور مُحدثاتُها، وكلَّ محدثةٍ بدعة وكلَّ بدعةٍ ضلالة وكلَّ ضلالةٍ في النار، وبعدُ:

فإن علم الرجال والجرح والتعديل ذو شأنٍ من علوم الحديث النبويّ - عظيمٍ، ومكانٍ فيه رفيعٍ، فبه حمى اللهُ مقامَ السُّنة، وصانها من كلِّ شائبةٍ دخيلة، وقد هيَّأ تبارك وتعالى لهذا العلم أئمّةً جهابذةً، أُولي علم وحِلْم، وحفظ وفهم، وورع وديانة، نذروا أنفسهم لله عز وجل ونُصرة دينه، ولم يخافوا في الله لومة لائم، فتتبعوا أحوال الرواة، وبيّنوا من حفظ ممن لم يحفظ، ومن صدق في خبره ممّن كذب.

روى ابن عساكر في "تاريخه"(1) أنَّ هارون الرشيد أخذ ذات يومٍ زِنْديقًا،

--------------------------------------------

(1) (7/ 127).

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২], {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রব্বকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর মাধ্যমে তোমরা একে অপরের নিকট নিজ নিজ হক দাবি করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (বিচ্ছিন্ন করা) থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক} [আন-নিসা: ১], {তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল} [আল-আহযাব: ৭০ - ৭১], অতঃপর:

নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দীনের ভেতর নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। অতঃপর:

নিশ্চয়ই 'ইলমুর রিজাল' (বর্ণনাকারীদের জীবনবৃত্তান্ত) এবং 'জারহ ও তাদীল' (দোষ-গুণ যাচাই বিদ্যা) নববী হাদিস শাস্ত্রের ইলমসমূহের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী। এর মাধ্যমেই আল্লাহ সুন্নাহর মর্যাদা রক্ষা করেছেন এবং একে সকল প্রকার বহিরাগত অনুপ্রবেশ থেকে সুরক্ষিত রেখেছেন। মহান আল্লাহ এই ইলমের জন্য এমন একদল প্রাজ্ঞ ইমামকে মনোনীত করেছেন, যারা ছিলেন ইলম ও সহনশীলতা, মুখস্থশক্তি ও প্রজ্ঞা এবং তাকওয়া ও ধর্মপরায়ণতার অধিকারী। তাঁরা নিজেদেরকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁর দীনের সাহায্যের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। আল্লাহর দীনের ব্যাপারে তাঁরা কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করেননি। তাঁরা বর্ণনাকারীদের অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, কার মুখস্থশক্তি যথাযথ ছিল আর কার ছিল না, এবং কে তাঁর বর্ণনায় সত্যবাদী ছিল আর কে ছিল মিথ্যাবাদী।

ইবনে আসাকির তাঁর "তারিখ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে,(১) হারুনুর রশিদ একদিন একজন জিন্দিককে (ধর্মদ্রোহী) পাকড়াও করলেন,

--------------------------------------------

(১) (৭/ ১২৭)।

(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٨)
فأمر بضرب عنقه، فقال له الزِّنديقُ: لِمَ تضرب عنقي يا أمير المؤمنين؟ قال: أُرِيحُ العبادَ منك، قال: فأين أنت من ألف حديثٍ وضعتُها على رسول الله صلى الله عليه وسلم، كلّها ما فيها حرفٌ نَطَقَ به رسول الله؟ صلى الله عليه وسلم قال: فأين أنت يا عدوَّ الله من أبي إسحاق الفَزَاريّ وعبد الله بن المبارك ينخلانها، فيُخرِجانها حرفًا حرفًا.

وقد دوّن علماء الحديث دواوين كثيرةً تُعنى برواة الحديث وبيان حالهم، تفننوا في تصنيفها، وتنوعت أغراضهم فيها: فمنهم من أفرد الثقات بالتصنيف، ومنهم من أفرد المجروحين، ومنهم من جمع بين الثقات والمجروحين، ومنهم من اعتنى برواة بلدٍ مُعيَّن، ومنهم من اعتنى بخدمة رجال كتب معينة.

ومن هذه المصنِّفات التي اعتنت برجال كتبٍ مُعيَّنة: كتاب "تهذيب التهذيب" للحافظ الكبير أحمد بن علي بن حَجَر العسقلانيّ (ت 852 هـ) رحمه الله، هذا الكتاب الجليل الذي يُعد من أهمّ كتب الرجال والجرح والتعديل؛ فقد حوى أهمَّ ما تضمنته ثلاثُ موسوعاتٍ في علم التراجم، هي: كتاب "الكمال في أسماء الرجال" للحافظ عبد الغني المقدسي، وكتاب "تهذيب الكمال" للحافظ المزي، وكتاب "إكمال تهذيب الكمال" للعلامة مُغلطاي، مع مزيدٍ من الإضافات المهمة والتنبيهات النفيسة من الحافظ ابن حجر رحمهم الله جميعًا -.

ولأهمية هذا الكتاب العظيم "تهذيب التهذيب" قُمْنا بدراسته وتحقيقه في خمس عشرة رسالة علمية قُدِّمت في كلية الحديث الشريف والدراسات الإسلامية بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، عام (1431 هـ)؛ للحصول على درجة العالمية (الماجستير).

ومكثنا في دراسته وتحقيقه خمسَ سنواتٍ، وأشرف على عملنا نُخبة من أساتذة الكلية؛ وهم: شيخنا الفاضل الدكتور إبراهيم بن محمد نور بن سيف، وشيخنا الفاضل الدكتور عبد الباري بن حماد الأنصاري، وشيخنا الفاضل الدكتور مصلح بن جزاء الحارثي، وشيخنا الفاضل الدكتور صالح بن غالب العواجي.
তখন তিনি তার গর্দান উড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। সেই যিনদীক তাকে বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি কেন আমার গর্দান উড়িয়ে দিচ্ছেন?" তিনি বললেন: "বান্দাদেরকে তোমার অনিষ্ট থেকে মুক্তি দিতে।" সে বলল: "তাহলে সেই এক হাজার হাদিসের কী হবে যা আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নামে জাল করেছি, যেগুলোর একটি অক্ষরও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উচ্চারণ করেননি?" তিনি বললেন: "হে আল্লাহর শত্রু, আবু ইসহাক আল-ফাযারি এবং আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের ব্যাপারে তোমার কী ধারণা? তারা এগুলোকে এমনভাবে চালনি দিয়ে ছাঁকবেন যে, তা থেকে প্রতিটি অক্ষর আলাদা করে বের করে ফেলবেন।"

হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ হাদিসের বর্ণনাকারী এবং তাদের অবস্থা বর্ণনার ক্ষেত্রে বহু গ্রন্থ সংকলন করেছেন। তারা এগুলো শ্রেণিবিন্যাসে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন এবং এতে তাদের উদ্দেশ্যও ছিল নানামুখী: তাদের মধ্যে কেউ কেউ কেবল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, কেউ কেউ কেবল বিতর্কিত বর্ণনাকারীদের নিয়ে কাজ করেছেন, কেউ আবার নির্ভরযোগ্য ও বিতর্কিত উভয় ধরনের বর্ণনাকারীদের একত্রে সংকলন করেছেন। কেউ নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের বর্ণনাকারীদের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, আবার কেউ নির্দিষ্ট কোনো কিতাবের বর্ণনাকারীদের নিয়ে কাজ করার প্রতি মনোনিবেশ করেছেন।

নির্দিষ্ট কিতাবের বর্ণনাকারীদের নিয়ে রচিত এই সংকলনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হাফেজ আল-কাবীর আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রহ.-এর রচিত 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থটি। এই মহান কিতাবটি বর্ণনাকারী এবং 'জারহ ও তাদীল' (সমালোচনা ও গুণগান) শাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিতাব হিসেবে বিবেচিত। এটি জীবনী শাস্ত্রের তিনটি বিশ্বকোষের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুকে ধারণ করেছে, সেগুলো হলো: হাফেজ আবদুল গনি আল-মাকদিসি-এর 'আল-কামাল ফি আসমায়ির রিজাল', হাফেজ আল-মিযযি-এর 'তাহযীবুল কামাল' এবং আল্লামা মুগলতাই-এর 'ইকমালু তাহযীবিল কামাল'। এর সাথে হাফেজ ইবনে হাজার রহ.-এর পক্ষ থেকে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন ও মূল্যবান সতর্কবার্তা যুক্ত করা হয়েছে—আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহম করুন।

'তাহযীবুত তাহযীব' নামক এই মহান কিতাবটির গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুল্লিয়াতুল হাদিস আশ-শরিফ ওয়া আদ-দিরাসাতুল ইসলামিয়া (হাদিস শরিফ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ)-তে ১৪৩১ হিজরি সালে মাস্টার্স (আল-আলামিয়্যাহ) ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে পনেরোটি গবেষণাপত্রের মাধ্যমে এর অধ্যয়ন ও তাহকিক সম্পন্ন করেছি।

এর অধ্যয়ন ও তাহকিকের কাজে আমরা পাঁচ বছর সময় অতিবাহিত করেছি এবং অনুষদের একদল বিজ্ঞ অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে আমাদের এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তারা হলেন: আমাদের শ্রদ্ধেয় শাইখ ড. ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ নূর বিন সাইফ, শ্রদ্ধেয় শাইখ ড. আবদুল বারি বিন হাম্মাদ আল-আনসারি, শ্রদ্ধেয় শাইখ ড. মুসলিহ বিন জাযা আল-হারিসি এবং শ্রদ্ধেয় শাইখ ড. সালেহ বিন গালিব আল-আওয়াজি।
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٩)
و‌‌توضيح تقسيم الكتاب على الخمس عشرة رسالة كالتالي:

 

الرقم القسم المحقَّق اسم المحقِّق اسم المشرف
1 من بداية الكتاب إلى نهاية ترجمة الأسود بن سريع التميمي السعدي عامر علي عوض شبير عبد الباري بن حماد الأنصاري
2 من ترجمة الأسود بن سعيد الهمداني، إلى نهاية ترجمة حجاج بن أرطاة حمزة علي إبراهيم د. صالح بن غالب العواجي
3 من ترجمة حجاج بن تميم الجزري، إلى نهاية ترجمة خالد بن كثير الهمداني أحمد يوسف محمود صلاح الدين د. مصلح بن جزاء الحارثي
4 من ترجمة خالد بن أبي كريمة الأصبهاني، إلى نهاية ترجمة سعيد بن أبي راشد ويقال: ابن راشد فيصل محمد حمود القحطاني د. مصلح بن جزاء الحارثي
5 من ترجمة سعيد بن أبي راشد عن النبي صلى الله عليه وسلم إلى نهاية ترجمة صالح بن درهم الباهلي حسن يرو عيموي الكالولي د. عبد الباري بن حماد الأنصاري
6 من ترجمة صالح بن دينار الجعفي، إلى نهاية ترجمة عبد الله بن عبد الرحمن بن أزهر خالد عبد الله علي محمد د. مصلح بن جزاء الحارثي
এবং‌‌পনেরটি অভিসন্দর্ভে কিতাবটির বিভাজনের ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:

 

নম্বর সম্পাদিত অংশ গবেষকের নাম তত্ত্বাবধায়কের নাম
১ কিতাবের শুরু হতে আসওয়াদ বিন সারী' আত-তামিমী আস-সা'দীর জীবনীর শেষ পর্যন্ত আমের আলী আওয়াদ শুবাইর আব্দুল বারী বিন হাম্মাদ আল-আনসারী
২ আসওয়াদ বিন সাঈদ আল-হামদানীর জীবনী হতে হাজ্জাজ বিন আরতাহ-এর জীবনীর শেষ পর্যন্ত হামযাহ আলী ইবরাহিম ড. সালিহ বিন গালিব আল-আওয়াজী
৩ হাজ্জাজ বিন তামীম আল-জাযারীর জীবনী হতে খালিদ বিন কাসীর আল-হামদানীর জীবনীর শেষ পর্যন্ত আহমদ ইউসুফ মাহমুদ সালাহ উদ্দীন ড. মুসলিহ বিন জাযা আল-হারিসী
৪ খালিদ বিন আবী কারীমা আল-আসবাহানীর জীবনী হতে সাঈদ বিন আবী রাশিদ (যাকে ইবনে রাশিদও বলা হয়)-এর জীবনীর শেষ পর্যন্ত ফয়সাল মুহাম্মদ হাম্মুদ আল-কাহত্বানী ড. মুসলিহ বিন জাযা আল-হারিসী
৫ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত সাঈদ বিন আবী রাশিদের জীবনী হতে সালিহ বিন দিরহাম আল-বাহিলীর জীবনীর শেষ পর্যন্ত হাসান ইয়ারো আইমাউয়ী আল-কালোলী ড. আব্দুল বারী বিন হাম্মাদ আল-আনসারী
৬ সালিহ বিন দীনার আল-জু'ফীর জীবনী হতে আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আযহারের জীবনীর শেষ পর্যন্ত খালিদ আব্দুল্লাহ আলী মুহাম্মদ ড. মুসলিহ বিন জাযা আল-হারিসী
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ١٠)
الرقم القسم المحقَّق . اسم المحقِّق اسم المشرف
7 من ترجمة عبد الله بن عبد الحمن بن أبي بكر الصديق، إلى نهاية ترجمة عبد الرحمن بن مغراء سيد برقان الهاشمي د. صالح بن غالب العواجي
8 من ترجمة عبد الرحمن بن مغيث، إلى نهاية ترجمة عثمان بن يمان بن هارون محمد جاد الرب صالح بن غالب العواجي
9 من ترجمة عثمان الشحام العدوي، إلى نهاية ترجمة آخر من اسمه عمر جهاد أحمد محمود مخطوب رحمه الله د. عبد الباري بن حماد الأنصاري
10 من ترجمة من اسمه عمرو، إلى نهاية قدامة بن محمد بن قدامة خالد محفوظ الرحمن زين الله د. صالح بن غالب العواجي
11 من ترجمة قدامة بن موسى بن عمر، إلى نهاية ترجمة محمد بن عبد الجبار القرشي مبارك أخباش د. عبد الباري بن حماد الأنصاري
12 من ترجمة محمد بن عبد الجبار بن مهران إلى نهاية ترجمة مطعم بن المقدام عبد الناصر بن محمد بن سَلَام المغربي د. إبراهيم بن محمد نور بن سيف
13 من ترجمة المطلب بن ربيعة، إلى نهاية ترجمة هشام بن عبد الملك الباهلي فيراز زيد حسين د. مصلح بن جزاء الحارثي
ক্রমিক নং সম্পাদিত অংশ সম্পাদকের নাম তত্ত্বাবধায়কের নাম
৭ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আবি বকর আস-সিদ্দিক-এর জীবনী থেকে আবদুর রহমান বিন মাগরা-এর জীবনীর সমাপ্তি পর্যন্ত সাইয়্যেদ বুরকান আল-হাশেমি ড. সালিহ বিন গালিব আল-আওয়াজি
৮ আবদুর রহমান বিন মুগিস-এর জীবনী থেকে উসমান বিন ইয়ামান বিন হারুন-এর জীবনীর সমাপ্তি পর্যন্ত মুহাম্মদ জাদ আল-রাব্ব সালিহ বিন গালিব আল-আওয়াজি
৯ উসমান আশ-শাহহাম আল-আদাউয়ি-এর জীবনী থেকে উমর নামধারী শেষ ব্যক্তির জীবনীর সমাপ্তি পর্যন্ত জিহাদ আহমাদ মাহমুদ মাখতুব (রাহিমাহুল্লাহ) ড. আবদুল বারী বিন হাম্মাদ আল-আনসারি
১০ আমর নামধারী ব্যক্তিদের জীবনী থেকে কুদামাহ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামাহ-এর জীবনীর সমাপ্তি পর্যন্ত খালিদ মাহফুজুর রহমান জাইনুল্লাহ ড. সালিহ বিন গালিব আল-আওয়াজি
১১ কুদামাহ বিন মুসা বিন উমর-এর জীবনী থেকে মুহাম্মদ বিন আবদুল জাব্বার আল-কুরাশি-এর জীবনীর সমাপ্তি পর্যন্ত মুবারক আখবাশ ড. আবদুল বারী বিন হাম্মাদ আল-আনসari
১২ মুহাম্মদ বিন আবদুল জাব্বার বিন মেহরান-এর জীবনী থেকে মুতয়িম বিন আল-মিকদাম-এর জীবনীর সমাপ্তি পর্যন্ত আবদুন নাসির বিন মুহাম্মদ বিন সালাম আল-মাগরিবি ড. ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ নূর বিন সাইফ
১৩ আল-মুত্তালিব বিন রবিআহ-এর জীবনী থেকে হিশাম বিন আবদুল মালিক আল-বাহিলি-এর জীবনীর সমাপ্তি পর্যন্ত ফিরাজ জায়েদ হুসাইন ড. মুসলিহ বিন জাযা আল-হারিসি
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ١١)
الرقم القسم المحقَّق . اسم المحقِّق اسم المشرف
14 من ترجمة هشام بن عبيد الله الرازي، إلى نهاية ترجمة يونس بن خباب فراز الحق بن نجم الحق د. إبراهيم بن محمد نور بن سيف
15 من ترجمة يونس بن راشد الجزري، إلى نهاية الكتاب محمد هيكل د إبراهيم بن محمد نور بن سيف

 

وقد نوقشت هذه الرسائل من قِبَل عددٍ من الأساتذة المتخصِّصين في هذا المجال، وأُجِيزت - والله الحمدُ والمِنَّة - جميعًا.

ثم قُمْنا بمراجعة الكتاب وتجهيزه للطباعة، راجين من الله تبارك وتعالى التوفيق والسَّداد، وسائلينه عز وجل أن يرزقنا فيه إخلاص القصد وصلاح النية، وأن يجعله ذُخرًا لنا يوم نلقاه، إنه سميعٌ مُجيبٌ.

 

*‌‌ قصور طبعات (تهذيب التهذيب) السابقة:

رغم أهمية هذا الكتاب إلا أنَّ جميع طبعاته السابقة لم تُولِيه العنايةَ الكافية، والخدمةَ المناسبة؛ ففي جميع طبعاته قصورٌ؛ يرجع في مجمله إلى ثلاثة جوانب:

1 - الجانب الأول: عدم مقابلته على عدة أصولٍ خطّيةٍ معتمدةٍ؛ ومن هنا وقع في طبعاته من النقصان والتصحيف والسقط الشيءُ الكثير.

2 - والجانب الثاني: عدم توثيقِ نُقُوله في الغالب الأعم.

3 - والجانب الثالث: عدم التعليقِ عليه؛ بما يخدمُ، نصوصه، ويخرِّجُ أحاديثَه، ويحرِّرُ مادتَه.

وفيما يلي نُورِدُ نماذج لبعض النقصان والتصحيف والسقط الواقع في الطبعة الهندية؛ لكونها الأصل الذي اعتمدته الطبعات التالية لها:
ক্রমিক সম্পাদিত অংশ সম্পাদকের নাম তত্ত্বাবধায়কের নাম
১৪ হিশাম বিন উবায়দুল্লাহ আর-রাযীর জীবনী হতে ইউনুস বিন খাব্বাবের জীবনীর শেষ পর্যন্ত ফারাযুল হক বিন নাজমুল হক ড. ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ নূর বিন সাইফ
১৫ ইউনুস বিন রাশিদ আল-জাযারীর জীবনী হতে গ্রন্থের শেষ পর্যন্ত মুহাম্মাদ হাইকাল ড. ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ নূর বিন সাইফ

 

এই গবেষণাপত্রগুলো এই বিষয়ের একদল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকের মাধ্যমে পর্যালোচিত হয়েছে এবং—আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে—সবকটিই অনুমোদিত হয়েছে।

এরপর আমরা গ্রন্থটি পুনঃনিরীক্ষণ করেছি এবং মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করেছি। আমরা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার কাছে তাওফিক ও সঠিক পথের প্রত্যাশা করি, এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই কাজে নিয়তের ইখলাস ও বিশুদ্ধতা দান করেন এবং যেদিন আমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করব সেদিন যেন একে আমাদের জন্য পাথেয় হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও উত্তরদানকারী।

 

*‌‌ 'তাহযীবুত তাহযীব'-এর পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর ত্রুটিসমূহ:

এই গ্রন্থের গুরুত্ব সত্ত্বেও এর পূর্ববর্তী কোনো সংস্করণই এতে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেয়নি এবং যথাযথ সেবা প্রদান করেনি। ফলে এর সকল সংস্করণেই কিছু ত্রুটি রয়ে গেছে, যা মূলত তিনটি দিকের সাথে সম্পর্কিত:

১ - প্রথম দিক: এটি একাধিক নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়নি; ফলে এর সংস্করণগুলোতে অনেক ঘাটতি, লিপিপদপ্রমাদ ও শব্দ চ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।

২ - দ্বিতীয় দিক: অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর উদ্ধৃতিগুলোর উৎস সত্যায়ন করা হয়নি।

৩ - তৃতীয় দিক: এর ওপর এমন কোনো টীকা প্রদান করা হয়নি যা এর মূল পাঠকে সমৃদ্ধ করবে, হাদিসগুলোর সূত্র নির্দেশ করবে এবং এর বিষয়বস্তুকে সুসংহত করবে।

নিচে আমরা ইন্ডিয়ান সংস্করণে বিদ্যমান কিছু ঘাটতি, লিপিপদপ্রমাদ ও শব্দ চ্যুতির নমুনা পেশ করছি; কারণ এটিই ছিল সেই মূল ভিত্তি যার ওপর পরবর্তী সংস্করণগুলো নির্ভর করেছে:
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ١٢)
•‌‌ أولًا: أمثلةٌ من الزيادات التي زادها المؤلِّفُ في نسخته ولا توجد في طبعات الكتاب:

جاء في نسخة المؤلِّف رحمه الله زيادات كثيرةٌ لم تقع في أيٍّ من طبعات الكتاب، وهذه الزيادات منها ما هو تراجم كاملة، ومنها ما هو جملٌ كثيرةٌ، ومنها ما هو عبارةٌ، عبارة، ومنها ما هو كلمة.

ويصل مجموع المواضع التي جاءت فيها هذه الزيادات؛ سواء كانت تراجم كاملة، أم عبارات وكلمات زائدة إلى: أكثر من (1300) موضع.

منها تراجم كاملة يصل مجموعها إلى: أكثر من (200) ترجمة.

وأما العبارات والكلمات الزائدة: فنافت عن (1100).

ومن أمثلة التراجم الكاملة التي لا توجد في طبعات الكتاب:

1 - قول الحافظ في الترجمة (289): (تمييز: إبراهيم بن أبي يحيى، آخر. روى عن: مخلد بن الأسود، وجعفر بن محمّد الصادق، وغيرهما.

روى عنه: ابن أبي مسرّة، وأحمد بن عيسى المصريّ، وقتيبة بن سعيد، وغيرهم.

قال الحاكم أبو أحمد في "الكُنَى": إبراهيم بن أبي يحيى المكي، التميمي، وليس هو المدنيّ، هذا ابن اليسع بن أسعد، وكنيةُ والده أبو يحيى، ولَقَبُه أبو حية.

قال البخاريُّ في "التاريخ": إبراهيم بن أبي حية، أبو إسماعيل، المكّيّ، منكرُ الحديثِ، عن هشام بن عروة، واسمُ أبي حية اليسعُ) اهـ.

2 - وهذه ترجمةٌ ثانيةٌ لا توجد في طبعات الكتاب؛ قال الحافظ في الترجمة (358): (إسحاق بن إبراهيم بن عبّاد، الدَّبَري - بفتحِ المهملةِ والموحدةِ، بعدها راءٌ غيرُ منقوطةٍ، أبو يعقوب، الصّنعانيّ.
প্রথমত: লেখক তাঁর নিজস্ব কপিতে যে সব অতিরিক্ত তথ্য যোগ করেছেন, যা বইটির মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে পাওয়া যায় না সেগুলোর উদাহরণ:

লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) কপিতে প্রচুর পরিমাণে অতিরিক্ত অংশ এসেছে যা বইটির কোনো মুদ্রিত সংস্করণে স্থান পায়নি। এই অতিরিক্ত অংশগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে পূর্ণাঙ্গ জীবনী, কিছু দীর্ঘ বাক্য, কিছু ছোট বাক্যাংশ এবং কিছু একক শব্দ।

এই অতিরিক্ত অংশগুলো যে সব স্থানে এসেছে তার মোট সংখ্যা—চাই তা পূর্ণাঙ্গ জীবনী হোক কিংবা অতিরিক্ত বাক্যাংশ বা শব্দ—১৩০০-এরও বেশি স্থানে পৌঁছেছে।

এর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জীবনীর মোট সংখ্যা ২০০-এর অধিক।

আর অতিরিক্ত বাক্যাংশ ও শব্দগুলোর সংখ্যা ১১০০ ছাড়িয়ে গেছে।

বইটির মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে নেই এমন পূর্ণাঙ্গ জীবনীগুলোর কিছু উদাহরণ:

১ - জীবনী নং (২৮৯)-এ হাফিজের উক্তি: (পার্থক্যকারী: ইব্রাহিম বিন আবি ইয়াহইয়া, অন্য একজন। তিনি মাখলাদ বিন আসওয়াদ, জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সাদিক এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: ইবন আবি মাসাররাহ, আহমদ বিন ঈসা আল-মিসরি, কুতাইবা বিন সাঈদ এবং অন্যান্যরা।

হাকিম আবু আহমদ তাঁর 'আল-কুনা' গ্রন্থে বলেছেন: ইব্রাহিম বিন আবি ইয়াহইয়া আল-মাক্কি, আত-তামিমি; তিনি মাদানি (মদিনার ইব্রাহিম) নন। তিনি হলেন ইয়াসা বিন আসআদ-এর পুত্র, তাঁর পিতার উপনাম (কুনিয়াত) হলো আবু ইয়াহইয়া এবং উপাধি (লকব) হলো আবু হাইয়্যাহ।

বুখারি 'আত-তারিখ'-এ বলেছেন: ইব্রাহিম বিন আবি হাইয়্যাহ, আবু ইসমাইল, মক্কি, মুনকারুল হাদিস, হিশাম বিন উরওয়া থেকে বর্ণনা করেন এবং আবু হাইয়্যাহর নাম হলো ইয়াসা।) সমাপ্ত।

২ - এটি দ্বিতীয় আরেকটি জীবনী যা বইটির মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে পাওয়া যায় না; হাফিজ জীবনী নং (৩৫৮)-এ বলেছেন: (ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন আব্বাদ, আদ-দাবারি —দাল ও বা বর্ণের উপরে ফাতহা (যবর) সহকারে, এরপর নুকতাহীন রা বর্ণ—আবু ইয়াকুব, আস-সানআনি।
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ١٣)
روى عن: عبد الرّزّاق - باعتناء والده إبراهيم بن عباد به ..

وكان مولده - على ما ذَكَرَ الخليليُّ - سنةَ خمسٍ وتسعين ومائة.

فسَمِعَ مصنّفات عبد الرّزّاق وهو صغيرٌ، ثمّ عُمِّرَ حتّى صار مِن آخرِ أصحابِه.

روى عنه: أبو عوانة في "صحيحه"، وخيثمةُ بنُ سليمان، ومحمّدُ بنُ عبد الله النقوي - بالنونِ والقافِ -، ومحمّدُ بنُ محمّد بن حمزة، وإسحاقُ بنُ موسى الرّمليّ، ومحمّدُ بنُ أحمد بن الحسن الأهوازيّ، وأبو سعيد بنُ الأعرابي، والطّبرانيُّ - وهو آخرُ مَن روى عنه -.

ذَكَرَه أبو أحمد بنُ عَدِيّ في "الكامل"، فقال: استُصغر في عبد الرّزّاق، أحضره أبوه عنده وهو صغيرٌ جدًّا، فكانَ يقول: قرأنا على عبد الرّزّاق"، أي قرأَ غيرُه، وحَدَّثَ عنه بأحاديث منكرة.

وقال الحاكمُ: سألتُ الدّارقطنيَّ عن الدَّبَري؛ أَيَدخلُ في الصحيح؟ فقال: إي والله، هو صدوقٌ، ما رأيتُ فيه خلافًا، ولكنّه لمْ يكنْ مِن أهل هذا الشأنِ.

ماتَ سنةَ خمسٍ وثمانين ومائتين، وقِيلَ: سنة أربعٍ، وقيل: سنة سبعٍ.

قلتُ: لم يخرج عنه أحدٌ مِن الأئمّةِ السّتّةِ.

إلّا أنّي رأيتُه في كتاب "الزَّهْرِةِ" بخَطِّ الحافظِ أبي العبّاس بن الظاهري، وعَلَّمَ له (م)، وقال: روى عنه (م) خمسة أحاديث، وأَرَّخَ وفاته كما تقدّم أوّلًا.

وكَتَبَ ابن الظاهري في الهامش: "هذا وهمٌ إنّما روى مسلمٌ عن ابن راهُويه"، انتهى.

وكانَ قَدَّمَ أنّ مُسلمًا روى عن ابن راهُويه اثنين وسبعين حديثًا، فعلى هذا يكونُ عددُ ما أخرجَ مسلمٌ عن ابن راهويه سبعةً وسبعين حديثًا.

ولَعَلَّ الخمسةَ كان فيها: "حدّثنا إسحاق عن عبد الرّزّاق"، فتَوَهَّمَ صاحبُ "الزَّهْرةِ" أنّه الدَّبَري؛ لأنّ أبا عوانة في "مُستخرجِه على مسلم" يقول: "أخبرنا
তিনি বর্ণনা করেছেন: আবদুর রাজ্জাক থেকে - তাঁর পিতা ইব্রাহিম ইবনে আব্বাদের বিশেষ তত্ত্বাবধানে...

আল-খলীলীর বর্ণনা মতে, তাঁর জন্ম ছিল একশত পঁচানব্বই হিজরি সনে।

তিনি অল্প বয়সেই আবদুর রাজ্জাকের সংকলনগুলো শ্রবণ করেন, তারপর দীর্ঘায়ু লাভ করেন এমনকি তিনি তাঁর (আবদুর রাজ্জাকের) সর্বশেষ সাথীদের অন্তর্ভুক্ত হন।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আবু আওয়ানা তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে, খাইসামাহ ইবনে সুলাইমান, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আন-নাকভী - নুন এবং কাফ সহযোগে -, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হামজা, ইসহাক ইবনে মুসা আর-রামলি, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাসান আল-আহওয়াজি, আবু সাঈদ ইবনুল আরাবি এবং তাবারানি - আর তিনিই তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে সর্বশেষ ব্যক্তি।

আবু আহমদ ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আবদুর রাজ্জাকের নিকট পাঠের সময় তাঁর বয়স অত্যন্ত কম ছিল। তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর নিকট উপস্থিত করেছিলেন যখন তিনি নিতান্তই শিশু ছিলেন। ফলে তিনি বলতেন: "আমরা আবদুর রাজ্জাকের নিকট পাঠ করেছি", অর্থাৎ অন্য কেউ পাঠ করত (আর তিনি শুনতেন)। তিনি তাঁর পক্ষ থেকে কিছু মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আল-হাকিম বলেন: আমি দারা কুতনীকে আদ-দাবারি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম; তিনি কি সহীহ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত হবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তিনি সত্যবাদী, তাঁর ব্যাপারে আমি কোনো মতভেদ দেখিনি। কিন্তু তিনি এই শাস্ত্রের (হাদিস শাস্ত্রের) বিশেষজ্ঞ ছিলেন না।

তিনি দুইশত পঁচাশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। কেউ বলেছেন: চুরাশি সালে, আবার কেউ বলেছেন: সাতাশি সালে।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: কুতুবে সিত্তাহ বা ছয়জন ইমামের কেউ তাঁর থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি।

তবে আমি হাফেজ আবুল আব্বাস ইবনুজ জাহিরীর হস্তলিপিতে 'আয-যাহরাহ' কিতাবে তাঁকে দেখেছি। তিনি তাঁর জন্য (মীম) চিহ্ন দিয়েছেন এবং বলেছেন: (ইমাম) মুসলিম তাঁর থেকে পাঁচটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর মৃত্যুর তারিখ আগে উল্লিখিত তারিখের মতোই দিয়েছেন।

ইবনুজ জাহিরী হাশিয়ায় (টীকা) লিখেছেন: "এটি একটি বিভ্রম (ওয়াহম), বরং মুসলিম ইবনে রাহুওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেছেন।" সমাপ্ত।

তিনি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছিলেন যে, ইমাম মুসলিম ইবনে রাহুওয়াইহ থেকে বাহাত্তরটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। সে অনুযায়ী, ইমাম মুসলিম ইবনে রাহুওয়াইহ থেকে যে পরিমাণ হাদিস বর্ণনা করেছেন তার সংখ্যা হবে সাতাত্তরটি।

সম্ভবত সেই পাঁচটি হাদিসে এমন ছিল: "ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক থেকে", ফলে 'আয-যাহরাহ' কিতাবের লেখক বিভ্রান্ত হয়ে ধারণা করেছেন যে তিনি আদ-দাবারি; কারণ আবু আওয়ানা তাঁর 'মুস্তাখরাজ আলা মুসলিম' গ্রন্থে বলেন: "আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন..."
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ١٤)
إسحاق عن عبد الرّزّاق" ويُريدُ الدَّبَري؛ لأنّه لمْ يُدرك ابنَ راهويه، ولا غيرَه - ممّن يُسمَّى إسحاق ويَروي عن عبد الرّزّاق -؛ إِلَّا الدَّبَري.

وقال مسلمةُ: كانَ لا بأسَ به.

وكانَ العُقيليُّ يُصحِّحُ روايتَه، وأَدخلَه في "الصحيح" الذّي أَلَّفَه.

وقد ذَكَرَ ابن الصلاحِ في "علومِ الحديثِ" في نوع المختلطين أنّ أحمدَ بنَ حنبل ذَكَرَ أنّ عبد الرّزّاق عمي في آخرِ عمرِه، فكانَ يُلقَّن فيَتَلَقَّن، فسماعُ مَنْ سَمِعَ منه بعدما عمي لا شيء.

قال: فعلى هذا يُحمل قول عبّاس بن عبد العظيم في عبد الرّزّاق - يعني الذّي سيأتي في ترجمته.

قال ابن الصلاحِ: وقد وجدتُ فيما رُوِيَ عن الطّبرانيّ عن إسحاق الدَّبَري عن عبد الرّزّاق أحاديث استنكرتُها جدًّا، فأحلتُ أمرها على ذلك؛ فإنّ سماعَ الدَّبَري منه متأخِّرٌ جِدًّا، قال إبراهيم الحربيّ: مات عبد الرّزّاق وللدَّبَري ستّ أو سبع سنين.

وفي "الميزان" أنّ في مروّياتِ ابن خير كتاب "خطأ الدَّبَري على عبد الرّزّاق في مصنّفاتِ عبد الرزاق" لابنِ مُفَرِّج) اهـ.

3 - وهذه ترجمةٌ ثالثةٌ لا توجد كذلك في الطبعات؛ قال الحافظ الترجمة (3693): (تمييز: عبد الله بن غالِب.

روى عن: طلحة بن عبيد الله، وسَعيد بن زيد.

روى عنه: هِلال بن يساف و أبو إسحاق السَّبيعيُّ.

قال العجليُّ: كوفيٌّ تابعيٌّ ثقة.

وقال ابن حبان في التابعين من "كتاب الثقات": عبد الله بن غالب، وليس بالحُدَّاني، روى عن رجلٍ من الصحابة، روى عنه أبو إسحاق.
"আবদুর রাজ্জাক থেকে ইসহাক" বলতে আদ-দাবারীকে বুঝানো হয়েছে; কারণ তিনি ইবনে রাহওয়াইহ বা অন্য কাউকে পাননি—যাদের নাম ইসহাক এবং যারা আবদুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেন—একমাত্র আদ-দাবারী ছাড়া।

মাসলামাহ বলেছেন: তিনি মন্দ ছিলেন না (লা বাসা বিহি)।

আল-উকায়লী তাঁর বর্ণনাকে সহীহ বলতেন এবং তিনি তা তাঁর রচিত "আস-সহীহ"-তে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

ইবনুস সালাহ "উলূমুল হাদীস"-এ স্মৃতিভ্রম হওয়া বর্ণনাকারীদের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, আহমাদ ইবনে হাম্বল বর্ণনা করেছেন যে আবদুর রাজ্জাক তাঁর শেষ বয়সে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, তখন তাকে পাঠ (তালকিন) করিয়ে দেওয়া হতো এবং তিনি তা গ্রহণ করতেন। সুতরাং তিনি অন্ধ হওয়ার পর যারা তাঁর থেকে শুনেছেন তাদের সেই শ্রবণ ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক সম্পর্কে আব্বাস ইবনে আবদুল আযীমের বক্তব্যকেও এর ওপরই প্রয়োগ করা হবে—অর্থাৎ যা তাঁর জীবনীতে সামনে আসবে।

ইবনুস সালাহ বলেছেন: আমি তাবারানী সূত্রে ইসহাক আদ-দাবারী হতে এবং তিনি আবদুর রাজ্জাক হতে বর্ণিত এমন কিছু হাদীস পেয়েছি যা আমি অত্যন্ত আপত্তিকর (মুনকার) মনে করেছি, তাই আমি এর কারণ ওই পরিস্থিতির (অন্ধত্ব বা স্মৃতিভ্রম) ওপরই আরোপ করেছি; কেননা আদ-দাবারীর শ্রবণ ছিল অত্যন্ত শেষ সময়ের। ইবরাহীম আল-হারবী বলেছেন: আবদুর রাজ্জাক যখন মারা যান, তখন আদ-দাবারীর বয়স ছিল মাত্র ছয় বা সাত বছর।

এবং "আল-মিযান"-এ রয়েছে যে, ইবনে খাইরের সংগ্রহে ইবনে মুফাররিজ-এর "আবদুর রাজ্জাকের মুসান্নাফ গ্রন্থাবলীতে আবদুর রাজ্জাকের বিপরীতে আদ-দাবারীর ভুলসমূহ" নামক কিতাবটি রয়েছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

৩ - আর এটি একটি তৃতীয় জীবনী যা একইভাবে মুদ্রিত কপিগুলোতে পাওয়া যায় না; হাফেজ ইবনে হাজার জীবনী নং (৩৬৯৩)-এ বলেছেন: (তামীজ বা পার্থক্যকরণ: আবদুল্লাহ ইবনে গালিব।

তিনি বর্ণনা করেছেন: তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ এবং সাঈদ ইবনে যায়েদ থেকে।

তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: হিলাল ইবনে ইয়াসাফ এবং আবু ইসহাক আস-সাবিঈ।

আল-ইজলী বলেছেন: তিনি একজন কূফী তাবিঈ এবং নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।

ইবনে হিব্বান তাঁর "কিতাবুথ থিকাত"-এর তাবিঈদের অংশে বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে গালিব, তিনি আল-হুদ্দানী নন, তিনি একজন সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁর থেকে আবু ইসহাক বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ١٥)
ذكرتُه للتمييز لابن حبان أومأ إلى أنه ربما التبس به، لكن طبقة هذا أقدم من طبقة الحُدَّاني) اهـ -.

4 - وهذه رابعةٌ لا توجد في الطبعات أيضًا؛ قال الحافظ في الترجمة (3793): (تمييز: عبد الله بن مسلم بن يَسار، بَصريٌّ.

روى عن: أبيه قوله في صفة سجود التلاوة.

روى عنه: عبد الله بن عَون، وكَهْمَس بن الحسن وغيرهما.

ذكره الخطيب في "المتفق"، وذكر آخرين ممن لا يلتبس بهؤلاء) اهـ.

5 - وهذه ترجمةٌ خامسةٌ لا توجد في طبعات الكتاب؛ قال الحافظ في الترجمة (3961): (تمييز: عبد الحميد بن المُنْذِر بن أبي أُسَيد مالك بن ربيعة السَّاعِديُّ.

روى عن أبيه عن جدَّته أُمِّ حُميد قالت: قلتُ: يا رسول الله يمنعنا أزواجُنا أن نصلِّي معك الحديث، وفيه: "صلاتُكنَّ في بيوتِكنَّ أفضل"، روى عنه ابن لهيعة، أخرجه ابن أبي شيبة والطبراني من طريقه، وأُمّ حُميد المذكورة هي أم حُمَيد الساعديّة امرأة أبي حُمَيد، وشاهد الحديث بمعناه عند أحمد وابن حِبَّان من طريق عبد الله بن سُوَيد، عن عمته أُمِّ حُميد امرأة أبي حُمَيد.

وقال ابن حزم في "المحلّى": عبد الحميد بن المُنْذِر هذا مجهول) اهـ.

6 - وهذه ترجمةٌ سادسةٌ لا توجد في الطبعات؛ قال الحافظ في الترجمة (5467): (عُمير بنُ الحُمَام - بضم المهملة مخففًا - ابن الجُموح بن زيد بن كعب الأنصاري السُّلمي.

صحابي شهد بدرًا.

حكى عنه أنس كلامَه يوم بدر قبل أن يُسْتَشْهَد فأخرج مسلم، وأحمد، وغيرهما، من طريق سليمان بن المغيرة عن ثابت عن أنس قال: "بعث
আমি এটি ইবনে হিব্বানের 'আত-তাময়িজ' গ্রন্থে পার্থক্য করার জন্য উল্লেখ করেছি, তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে সম্ভবত তার সাথে বিভ্রান্তি ঘটতে পারে, তবে এর স্তর আল-হুদ্দানি-এর স্তরের চেয়েও প্রাচীন।) সমাপ্ত। -.

৪ - এটি চতুর্থ জীবনী যা মুদ্রিত সংস্করণগুলোতেও পাওয়া যায় না; হাফেজ (ইবনে হাজার) ৩৭৯৩ নং জীবনীতে বলেছেন: (পার্থক্যকারী: আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে ইয়াসার, বসরি।

তিনি তার পিতার সূত্রে তিলাওয়াতের সিজদাহর পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে বর্ণনা করেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আওন, কাহমাস ইবনুল হাসান এবং আরও অনেকে।

আল-খতিব একে 'আল-মুত্তাফিক' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এমন অন্যদেরও উল্লেখ করেছেন যাদের সাথে এদের বিভ্রান্তি ঘটে না।) সমাপ্ত।

৫ - এটি পঞ্চম জীবনী যা কিতাবটির মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে পাওয়া যায় না; হাফেজ ৩৯৬১ নং জীবনীতে বলেছেন: (পার্থক্যকারী: আব্দুল হামিদ ইবনুল মুনজির ইবনে আবি উসাইদ মালিক ইবনে রাবিআহ আস-সাঈদি।

তিনি তার পিতার সূত্রে তার দাদি উম্মে হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের স্বামীরা আপনার সাথে সালাত আদায় করতে আমাদের বাধা দেয়... (পুরো হাদিসটি), আর এতে রয়েছে: "তোমাদের ঘরে সালাত আদায় করাই উত্তম।" তার থেকে ইবনে লাহিয়াহ বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি শাইবাহ এবং তাবারানি তার সূত্রে এটি উদ্ধৃত করেছেন। আর উল্লিখিত উম্মে হুমাইদ হলেন আবু হুমাইদের স্ত্রী উম্মে হুমাইদ আস-সাঈদিয়্যাহ। আর হাদিসটির সমার্থবোধক সাক্ষী আহমাদ এবং ইবনে হিব্বানের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে সুওয়াইদের সূত্রে তার ফুফু আবু হুমাইদের স্ত্রী উম্মে হুমাইদ থেকে বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে হাজম 'আল-মুহাল্লা' গ্রন্থে বলেছেন: এই আব্দুল হামিদ ইবনুল মুনজির অজ্ঞাত (মাজহুল)।) সমাপ্ত।

৬ - এটি ষষ্ঠ জীবনী যা মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে পাওয়া যায় না; হাফেজ ৫৪৬৭ নং জীবনীতে বলেছেন: (উমাইর ইবনুল হুমাম - পেশ যোগে এবং তাসদিদ বিহীন - ইবনুল জুমুহ ইবনে যাইদ ইবনে কাব আল-আনসারি আস-সুলামি।

তিনি একজন সাহাবী যিনি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

আনাস (রা.) তার শাহাদাত বরণের পূর্বে বদরের দিনের তার কথাগুলো বর্ণনা করেছেন। ফলে মুসলিম, আহমাদ এবং আরও অনেকে সুলাইমান ইবনুল মুগিরাহ-এর সূত্রে সাবেত থেকে তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "পাঠালেন...
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ١٦)
رسول الله صلى الله عليه وسلم بُسَيْسَة عينًا "فذكر قصة بدر وفيها: فقال عمير بنُ الحمام: يا رسول الله، جَنَّة عرضُها السموات والأرض؟ قال: "نعم"، قال: بَخٍ بَخٍ الحديث" وفيه فقال: "أنت مِنْ أهلها، فقال: لَئِن حَييت حتى أكُلَ تَمْراتي هذه إنها لحياة طويلة، فرمى بما كان معه، ثم قاتلهم حتى قتل".

وقد ذكر محمد بنُ إسحاق في "السيرة النبوية" هذه القصة، وزاد في آخرها: إنه قتل وهو يقول:

ركَضا إلى الله بِغيرِ زادٍ … إلا التُّقى وعَمَلِ المعاد

والصبر في الله على الجهاد) اهـ.

7 - وهذه ترجمةٌ سابعةٌ لا توجد في طبعات الكتاب أيضًا؛ قال الحافظ في الترجمة (5545): (العلاء بن عمرو الحنفي.

قال المزي: ذكر له - يعني صاحب الكمال - ترجمة، ولم يرو له أحد منهم فلم أكتبها لذلك.

قال الحافظ عبد الغني فيه: أبو محمد الحنفي، روى عن: عَبْثر بن القاسم، ومحمد بن صبيح بن السَّمّاك، ويحيى بن يمان، ويحيى بن أبي زائدة وعبد الرحيم بن سليمان وأحمد بن بشير، ورِفاعة بن إياس، وأبي المُحَيّاه، روى عنه: أبو زرعة وأبو حاتم، وقال: ما رأينا إلا خيرًا.

قلت: ترجم له الذهبي في "الميزان"، وقال فيه: كوفي متروك، روى عن: أبي إسحاق الفزاري، والثوري.

قال ابن حبان: لا يجوز الاحتجاج به بحال.

وقال عبد الله بن عمر بن أبان: سمعت أنا، والعلاء بن عمرو من رجل حديثًا عن سعيد بن مسلمة، فسئل العلاء بحضرتي عنه، فقال: هو سعيد بن مسلمة.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুসাইসাকে গোয়েন্দা হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি বদরের ঘটনা বর্ণনা করেন এবং তাতে রয়েছে: উমায়ের ইবনুল হুমাম বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এমন জান্নাত যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিন সমান? তিনি বললেন: "হ্যাঁ", উমায়ের বললেন: চমৎকার, চমৎকার। হাদীসের বাকি অংশে আছে, রাসূল বললেন: "তুমি জান্নাতীদের অন্তর্ভুক্ত", তখন উমায়ের বললেন: আমি যদি আমার এই খেজুরগুলো খাওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকি তবে তা হবে এক দীর্ঘ জীবন। অতঃপর তিনি তাঁর কাছে যা ছিল (খেজুর) তা ছুড়ে ফেলে দিলেন এবং শহীদ হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক 'আস-সিরাত আন-নাবাবিয়্যাহ' গ্রন্থে এই ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন এবং এর শেষে যোগ করেছেন যে, তিনি শহীদ হওয়ার সময় এই কবিতা আবৃত্তি করছিলেন:

আল্লাহর পানে দ্রুত ধাবিত হচ্ছি কোনো পাথেয় ব্যতিরেকে … তাকওয়া এবং পরকালের আমল ব্যতীত

এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে জিহাদে ধৈর্য ধারণ।) উদ্ধৃতি শেষ।

৭ - এটি হলো সপ্তম জীবনী যা এই গ্রন্থের মুদ্রিত সংস্করণগুলোতে পাওয়া যায় না; হাফেজ ইবনে হাজার এই জীবনী সম্পর্কে (৫৫৪৫) বলেন: (আল-আলা ইবনে আমর আল-হানাফী।

আল-মিযযী বলেছেন: আল-কামাল গ্রন্থের লেখক তাঁর একটি জীবনী উল্লেখ করেছেন, কিন্তু কুতুবে সিত্তাহর সংকলকদের কেউ তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা করেননি, তাই আমি তা লিখিনি।

হাফেজ আব্দুল গনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আবু মুহাম্মদ আল-হানাফী। তিনি আবসার ইবনুল কাসিম, মুহাম্মদ ইবনে সাবিহ ইবনে আস-সাম্মাক, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামান, ইয়াহইয়া ইবনে আবি যায়িদাহ, আব্দুর রহিম ইবনে সুলাইমান, আহমাদ ইবনে বাশির, রিফাআহ ইবনে ইয়াস এবং আবু মুহাইয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আবু যুরআহ এবং আবু হাতিম বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: আমরা তাঁর মধ্যে কল্যাণ ছাড়া আর কিছুই দেখিনি।

আমি (ইবনে হাজার) বলছি: যাহাবী 'আল-মিজান' গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: তিনি কুফাবাসী, মাতরূক (পরিত্যক্ত)। তিনি আবু ইসহাক আল-ফাজারি এবং সাওরি থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হিব্বান বলেছেন: কোনো অবস্থাতেই তাঁকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ নয়।

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ইবনে আবান বলেছেন: আমি এবং আল-আলা ইবনে আমর এক ব্যক্তির নিকট থেকে সাঈদ ইবনে মাসলামার সূত্রে একটি হাদীস শুনেছিলাম। এরপর আমার উপস্থিতিতে আল-আলাকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: তিনি হলেন সাঈদ ইবনে মাসলামা।
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ١٧)
وذكر له العقيلي في الضعفاء حديث ابن عباس رفعه: "أحبوا العرب لثلاث الحديث". وقال: منكر لا أصل له.

وقال الذهبي: هذا موضوع.

قال أبو حاتم: هو كذب.

وساق الذهبي له حديث ابن عمر في نزول جبريل، فيه: خَلَّلَ عباءةً على صدره فقال: قل له: "أنت راضٍ عني في فقرك؟ " الحديث. قال: وهو كذبٌ. انتهى.

فيقال أبو بكر.

وقد ذكره ابن حبان أيضًا في "الثقات"، وقال: روى عن عبد الله بن إدريس، وقال: ربما خالف.

وقال الأزدي: يكتب حديثه.

وقال أبو العرب في "الضعفاء": قال النسائي ضعيف.

ونقل الحاكم في "تاريخه" عن صالح جزرة أنه قال: لا بأس به.

قلت: وأخرج حديثه في "مستدركه").

هذا نزرٌ يسيرٌ من التراجم الكاملة التي جاءت في نسخة المؤلِّف ولا توجد في أي طبعةٍ من طبعات الكتاب.

وهناك زياداتٌ أخرى كثيرةٌ جاءت في نسخة المؤلِّف أثناء التراجم ولا توجد في أي طبعة من طبعات الكتاب؛ ومن أمثلة ذلك:

1 - ما جاء في ترجمة أحمد بن صالح المصري (51)؛ حيث جاءت زيادةٌ في نسخة الحافظ ليست في المطبوع؛ وهي قوله: (وقرأتُ في كتاب "الضُّعفاءِ" لأبي العرب ما نَصُّه: قال أبو الطاهر المديني: وكان من أهلِ المعرفةِ بمصر: أبو جعفر أحمدُ بنُ صالح الأسديّ، كوفيٌّ، ليس يُساوي شيئًا.
আল-উকাইলি 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে তার সম্পর্কে ইবনে আব্বাসের একটি মারফু হাদিস উল্লেখ করেছেন: "তোমরা তিন কারণে আরবদের ভালোবাসো..."। এবং তিনি বলেছেন: এটি মুনকার (অস্বীকৃত), এর কোনো ভিত্তি নেই।

আয-যাহাবি বলেছেন: এটি বানোয়াট।

আবু হাতিম বলেছেন: এটি মিথ্যা।

আয-যাহাবি তার সম্পর্কে জিবরীল (আ.)-এর অবতরণ বিষয়ে ইবনে উমরের একটি হাদিস উদ্ধৃত করেছেন, যাতে রয়েছে: তিনি তাঁর বুকের ওপর একটি জুব্বা ভাঁজ করলেন এবং বললেন: তাঁকে বলো: "তুমি কি তোমার এই দারিদ্র্যে আমার প্রতি সন্তুষ্ট?"। তিনি (যাহাবি) বলেছেন: এটি মিথ্যা। সমাপ্ত।

অতঃপর বলা হয় আবু বকর।

ইবনে হিব্বানও তাঁকে 'আত-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরিস থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তিনি বলেছেন: সম্ভবত তিনি বিরোধিতা করতেন।

আল-আযদি বলেছেন: তাঁর হাদিস লিখে রাখা যায়।

আবু আল-আরব 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে বলেছেন: আন-নাসায়ি বলেছেন তিনি দুর্বল।

আল-হাকিম তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে সালিহ জাযারাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই।

আমি বলছি: তিনি তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থেও তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন।

এগুলো হলো লেখকের পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান পূর্ণাঙ্গ জীবনীগুলোর সামান্য কিছু অংশ, যা এই গ্রন্থের কোনো মুদ্রিত সংস্করণেই পাওয়া যায় না।

এছাড়া লেখকের পাণ্ডুলিপিতে জীবনীগুলোর মধ্যে আরও অনেক অতিরিক্ত অংশ রয়েছে যা গ্রন্থের কোনো মুদ্রিত সংস্করণে নেই; তার কিছু উদাহরণ হলো:

1 - আহমদ ইবনে সালিহ আল-মিসরির (৫১) জীবনীতে যা এসেছে; সেখানে হাফিজের পাণ্ডুলিপিতে একটি অতিরিক্ত অংশ রয়েছে যা মুদ্রিত সংস্করণে নেই; আর তা হলো তাঁর উক্তি: (আমি আবু আল-আরব রচিত 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে পড়েছি যার মূল পাঠ হলো: আবু তাহির আল-মাদিনি বলেছেন: আর তিনি মিসরের বিজ্ঞজনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন: আবু জাফর আহমদ ইবনে সালিহ আল-আসাদি, কুফি, তিনি কোনো কিছুর যোগ্য নন।
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ١٨)
وهذا غير ابن الطبري؛ فإنّه لم ينسب أسديًّا ولا كوفيًّا، وقد ذَكَرَه ابن يونس في تاريخ مصر، فقال: كان صالح - والد أحمد - جُنديًّا مِن أهلِ "طبرستان" مِن العجم، فوُلِدَ له أحمد بمصر).

2 - كما زاد الحافظ في ترجمة إبراهيم بن عبد الرحمن بن يزيد بن أميّة (219) مما ليس في المطبوع: (يُقال له: الأشعري.

ووَقَعَ للمزيِّ في "الأطرافِ" في نَسَبه تردُّد، فقال:

إبراهيمُ بنُ عبد الرحمن، عن نافعٍ يُقال: إنّه ابن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، ويُقالُ: إنّه ابن يزيد بن أمية - حديث القول في التوديع:

(ت): عن أحمد بن عبيد الله، عن سلم بن قتيبة، عنه به.

وكأنه تَرَدَّدَ فيه قبل أن يجزمَ في "التّهذيب" بَنَسَبِه المذكور.

وقد نُسِبَ بما جَزَمَ به = في أصل التّرمذي في أكثر النسخ، وهو المعتمَدُ.

وقد أخرجَ البخاريُّ هذا الحديثَ في "التّاريخِ" مِن الوجهِ الذي أخرجَه التّرمذيُّ، فقال: إبراهيم بن عبد الرحمن).

3 - وجاء في ترجمة إبراهيم بن ميمون الصائغ (279) أيضًا زائدًا على ما في المطبوع: (وقال الخطيبُ في "الموضحِ": هو أبو إسحاق الصائغ الذي روى عنه عيسى بن عبيد - شيخ عبدان.

وهو أبو هند الصِّدِّيق الذي روى عنه أبو خالد الدّالاني.

مالك ثمّ ساق الحديثَ مِن رواية حميد بن الربيع، عن بن إسماعيل، عن عبد السلام بن حرب عن يزيد بن عبد الرحمن وهو الدّالاني -، عن إبراهيم الصائغ.

ومِن طريقِ عبد السلام بن حرب، عن يزيد بن عبد الرحمن، عن أبي هند الصِّدِّيق؛ بالحديث المذكور.
ইনি ইবনে তাবারী নন; কেননা তাঁকে আসাদী কিংবা কুফী হিসেবে সম্বন্ধ করা হয়নি। ইবনে ইউনুস 'তারিখে মিসর'-এ তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: সালেহ —আহমদের পিতা— ছিলেন অনারব 'তাবারিস্তান' অঞ্চলের একজন সৈনিক। সেখানেই তাঁর পুত্র আহমদ মিসরে জন্মগ্রহণ করেন।

২ - একইভাবে হাফেজ (ইবনে হাজার) ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে উমাইয়া (২১৯)-এর জীবনীতে যা মুদ্রিত সংস্করণে নেই তা বৃদ্ধি করেছেন: (তাঁকে আশআরী বলা হয়।

মিযযী তাঁর 'আল-আতরাফ' গ্রন্থে তাঁর বংশপরিচয় সম্পর্কে দ্বিধায় পড়েছেন এবং বলেছেন:

ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান, নাফে' থেকে বর্ণিত, বলা হয়: তিনি হলেন ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হারিস ইবনে হিশাম, আবার বলা হয়: তিনি হলেন ইবনে ইয়াজিদ ইবনে উমাইয়া — বিদায় নেওয়ার সময়ের দুআ সম্পর্কিত হাদিস:

(তিরমিজি): আহমদ ইবনে উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি সালাম ইবনে কুতাইবা থেকে, তিনি তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

মনে হচ্ছে তিনি 'তাহজিব' গ্রন্থে উল্লিখিত বংশপরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে এটি নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন।

আর তিরমিজির মূল পাণ্ডুলিপির অধিকাংশ নুসখায় তাঁকে সেই বংশনামেই সম্বন্ধ করা হয়েছে যা তিনি নিশ্চিত করেছেন, এবং এটিই নির্ভরযোগ্য।

ইমাম বুখারীও 'আত-তারিখ' গ্রন্থে এই হাদিসটি সেই সূত্রেই বর্ণনা করেছেন যে সূত্রে তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান।

৩ - ইব্রাহিম ইবনে মাইমুন আস-সায়িগ (২৭৯)-এর জীবনীতেও মুদ্রিত সংস্করণের অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে: (খতিব 'আল-মুদিহ' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি হলেন আবু ইসহাক আস-সায়িগ, যাঁর থেকে ঈসা ইবনে উবায়েদ —আবদানের উস্তাদ— বর্ণনা করেছেন।

তিনিই হলেন আবু হিন্দ আস-সিদ্দিক, যাঁর থেকে আবু খালিদ আদ-দালানি বর্ণনা করেছেন।

মালিক... এরপর তিনি হুমাইদ ইবনুর রাবি‘-এর বর্ণনা থেকে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন, তিনি ইবনে ইসমাইল থেকে, তিনি আবদুস সালাম ইবনে হারব থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবনে আবদুর রহমান —যিনি আদ-দালানি— থেকে, তিনি ইব্রাহিম আস-সায়িগ থেকে।

এবং আবদুস সালাম ইবনে হারব-এর সূত্রে, ইয়াজিদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হিন্দ আস-সিদ্দিক থেকে; উল্লিখিত হাদিসটি।
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ١٩)
قال الخطيبُ: كنيةُ إبراهيم الصائغ - وهو مروزيّ -: أبو إسحاق، ولا أعلمه كُني أبا هند إلّا في هذه الرواية، وأمّا وصفُه بالصِّدِّيقِ فلعلّ الرّاوي عنه نَسَبه لما كانَ عليه مِن الصّلاحِ والفضلِ والوَرَعِ والزَّهْدِ، مع ما خُتِمَ له مِن الشّهادةِ؛ فإنّ أبا مسلم قَتَلَه بسببِ الأمرِ بالمعروفِ في سنةِ ثلاثين، وقيل: إحدى، وقيلَ: سنة أربعٍ وثلاثين، واللهُ أعلمُ).

4 - وزاد في ترجمة إسماعيل بن جرير بن عبد الله (468) وليس ما زاده في المطبوع: (قلتُ: أَخرجَ حديثَه أبو داود؛ عن مُسَدَّد، عن عبد الله بن داود الخُريبيّ، عن عبد العزيز، به

وكَذَا أَخرجَه الحاكمُ مِن طريقِ مُسَدَّد.

وخَالَفَ الخُريبي: أبو ضَمْرَة أنسُ بنُ عياض وعبدةُ بنُ سليمان، وأبو نُعيم؛ فقالوا: "عن عبد العزيز، عن يحيى بن إسماعيل بن جرير".

فكأنّ "يحيى" سَقَطَ ذِكْرُه على بعضِ رواتِه، فصارَ الحديثُ عن والدِه.

ولمْ أَجِدْ له ذِكْرًا إلّا في هذه الروايةِ، لا في تواريخِ خ"، ولا "كتاب ابن أبي حاتم"، ولا "الثقات" لابن حبان، ولا "الضُّعفاء" له، ولا "الثقات" لابن خلفون، ولا "الكامل لابن عَدِيّ ولا "ذيله" للنباتي، ولا "الثقات" للعجلي، ولا "الصِّلة" لمسلمة، ولا "الضُّعفاء" لأبي العرب، ولا للدَّارقطنيّ، ولا ابن شاهين ولا "التمييز" للنَّسائي، ولا غيرها.

وقد وافق الخُريبي على قوله "إسماعيل": عيسى بنُ يونس، لكن خالفه في نسبه، فقال: "إسماعيل بن محمّد بن سعد"، وهذه الرِّوايةُ أَشدُّ غَلَطًا من الأُولى.

ورواه يحيى بنُ حمزة، ووكيعٌ، فلم يَذْكُرَا بين عبد العزيز وقَزَعَة أحدًا.

وهذا الاضطراب فيه من عبد العزيز؛ فإنّ في حِفْظه شيئًا - كما سيأتي - وقد استوعبتُ حال هذا في "نُكَتِ الأطرافِ".
আল-খতিব বলেন: ইব্রাহিম আস-সাইগ —যিনি মারউ-এর অধিবাসী— তাঁর কুনিয়াত হলো আবু ইসহাক। আর এই বর্ণনা ব্যতীত অন্য কোথাও তাঁকে 'আবু হিন্দ' কুনিয়াত দেওয়া হয়েছে বলে আমি জানি না। আর তাঁর 'সিদ্দিক' উপাধির ব্যাপারে কথা হলো, সম্ভবত তাঁর থেকে বর্ণনাকারী রাবি তাঁর মধ্যে বিদ্যমান সংশোধন, ফযিলত, পরহেজগারি ও যুহদ এবং সেই সঙ্গে তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হওয়া জীবনের কারণে তাঁকে এই নিসবত (সম্বোধন) করেছেন। কেননা আবু মুসলিম তাঁকে সৎ কাজের আদেশের কারণে ১৩০ হিজরিতে হত্যা করেছিল, মতান্তরে ১৩১ হিজরিতে, আবার মতান্তরে ১৩৪ হিজরিতে; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

৪ - এবং তিনি ইসমাইল বিন জারির বিন আব্দুল্লাহর (৪৬৮) জীবনীতে আরও কিছু যোগ করেছেন, যা মুদ্রিত সংস্করণে নেই: (আমি বলছি: তাঁর হাদিস আবু দাউদ সংকলন করেছেন; মুসাদ্দাদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দাউদ আল-খুরাইবি থেকে, তিনি আব্দুল আজিজ থেকে, এটি বর্ণনা করেছেন...

এবং একইভাবে আল-হাকিম মুসাদ্দাদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর আল-খুরাইবির বিরোধিতা করেছেন আবু দামরা আনাস বিন ইয়াদ, আবদাহ বিন সুলাইমান এবং আবু নুয়াইম; তাঁরা বলেছেন: "আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইসমাইল বিন জারির থেকে।"

সুতরাং মনে হচ্ছে কোনো কোনো বর্ণনাকারীর কাছে "ইয়াহইয়া"-এর উল্লেখ বাদ পড়ে গেছে, ফলে হাদিসটি সরাসরি তাঁর পিতার সূত্রে হয়ে গেছে।

আমি এই বর্ণনাটি ছাড়া অন্য কোথাও তাঁর উল্লেখ পাইনি, এমনকি বুখারির ইতিহাস গ্রন্থসমূহে, ইবনে আবি হাতিমের কিতাব, ইবনে হিব্বানের "আস-সিকাত", তাঁর "আদ-দুয়াফা", ইবনে খালফুন-এর "আস-সিকাত", ইবনে আদীর "আল-কামিল" কিংবা আন-নাবাতীর "যাইল", আল-ইজলির "আস-সিকাত", মাসলামার "আস-সিলাহ", আবু আল-আরবের "আদ-দুয়াফা", আদ-দারাকুতনি, ইবনে শাহিন, নাসাঈর "আত-তাময়িজ" কিংবা অন্য কোনো কিতাবেও না।

আল-খুরাইবির "ইসমাইল" বলার ক্ষেত্রে ঈসা বিন ইউনুস একমত পোষণ করেছেন, তবে তিনি তাঁর বংশপরিচয়ের ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করে বলেছেন: "ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন সাদ"। আর এই বর্ণনাটি প্রথমটির চেয়েও বড় ভুল।

ইয়াহইয়া বিন হামজাহ এবং ওয়াকি এটি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা আব্দুল আজিজ এবং কাযাআ-এর মাঝে কাউকেই উল্লেখ করেননি।

আর এই অস্থিরতা (ইদতিরাব) আব্দুল আজিজের পক্ষ থেকে; কারণ তাঁর স্মৃতিশক্তিতে কিছু দুর্বলতা রয়েছে —যেমনটি সামনে আসবে— এবং আমি "নুকাতেল আতরাফ" গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٢٠)
والذّي يُحتاجُ إليه هنا حال إسماعيل على تقدير أن تكون روايةُ الخُريبيِّ ومن وافقه هي المحفوظة، وكذا حال وَلَدِه يحيى بن إسماعيل، وهي رواية الأكثر.

وقد قلتُ: إِنِّي لم أجد له ذِكْرًا إلّا في هذا الحديث.

وأمّا يحيى فذكره ابن حبّان في "الثقات" بروايته عن قَزَعَة، وبرواية عبد العزيز عنه.

وذَكَرَ البخاريُّ أنه من أهل الكوفة، وأنه روى أيضًا عن الشعبيّ، وروى عنه هُشيم.

وسيأتي ذِكْرُه في حرف الحاء المهملة.

فيغلب على الظَّنِّ أنّه ليست له رواية، وإنما الرواية).

5 - وقال في ترجمة عبد الحميد بن المنذر بن الجارُود العَبْدِيُّ البصريُّ (3960) زيادةً على ما في المطبوع: "قلت: وقع في صلاة الضُّحى مِن "صحيح البخاري" مِن طريق شعبة عن أنس بن سيرين: سمعت أنس بن مالك يحدِّث: قال رجلٌ من الأنصار الحديث في قصة الذي صنع الطعام للنبي صلى الله عليه وسلم فصلّى في بيته ركعتين قال: فقال فلان بن فلان الجارود لأنس: أكان يصلّي الضُّحى؟ الحديث.

وزعم أنَّه عبد الحميد هذا انتهى ويحتمل أنَّه أخوه الحَكَم وكان من أجواد أهل البصرة، وله يقول الشاعر في أبيات:

يا حَكَمَ بن المنذِر بن الجارُود … سُرادِقُ المجد عليك ممدود).

6 - كما زاد في ترجمة عِمْرانُ بنُ مُسْلِم بن رِياح الثَّقفي الكوفي (5453) مما ليس في المطبوع: (وهو) تصحيف من ابن حبان، ومقتضى ما عند البخاري وابن أبي حاتم أنه ابن مَعْقِل - بفتح أوله وسكون المهملة بعدها قاف، وهو تابعي مشهور، وأبوه صحابي مشهور وأما ابن مُغَفَّل - بالمعجمة والفاء الثقيلة - فهو صحابي مشهور أيضا لكن اسم جدِّه عبد نهم، كما مضى في ترجمتيهما، فعلى هذا كان حق ابن حبان أن يذكره في أتباع التابعين).
এবং এখানে যা প্রয়োজন তা হলো ইসমাইলের অবস্থা, যদি খুরাইবী এবং তাঁর সাথে একমত পোষণকারীদের বর্ণনাটি সংরক্ষিত হিসেবে ধরা হয়। তেমনিভাবে তাঁর পুত্র ইয়াহইয়া ইবনে ইসমাইলের অবস্থাও, যা অধিকাংশের বর্ণনা।

আমি বলেছি: আমি এই হাদিসটি ছাড়া তাঁর কোনো উল্লেখ পাইনি।

আর ইয়াহইয়ার ব্যাপারে কথা হলো, ইবনে হিব্বান তাঁকে 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি কাযাআ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন।

বুখারি উল্লেখ করেছেন যে তিনি কুফার অধিবাসী ছিলেন এবং তিনি শাবি থেকেও বর্ণনা করেছেন, আর তাঁর থেকে হুশাইম বর্ণনা করেছেন।

অচিরেই নুক্তাবিহীন 'হা' বর্ণে তাঁর উল্লেখ আসবে।

প্রবল ধারণা এই যে, তাঁর কোনো বর্ণনা নেই, বরং বর্ণনাটি তো।)

৫ - এবং তিনি আব্দুল হামিদ ইবনুল মুনযির ইবনুল জারুদ আল-আবদি আল-বাসরি (৩৯৬০) এর জীবনীতে মুদ্রিত কপির অতিরিক্ত হিসেবে বলেছেন: "আমি বলছি: সহিহ বুখারির 'চাশতের নামাজ' অধ্যায়ে শু'বা থেকে আনাস ইবনে সিরিনের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: আমি আনাস ইবনে মালিককে বলতে শুনেছি: আনসারদের এক ব্যক্তি হাদিসটি বর্ণনা করেছেন সেই ব্যক্তির ঘটনায় যিনি নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য খাবার তৈরি করেছিলেন, অতঃপর তিনি তাঁর বাড়িতে দুই রাকাত নামাজ পড়েন। তিনি বলেন: তখন অমুক ইবনে অমুক আল-জারুদ আনাসকে জিজ্ঞাসা করলেন: তিনি কি চাশতের নামাজ পড়তেন? হাদিসটি।

তিনি দাবি করেছেন যে তিনি এই আব্দুল হামিদ—উদ্ধৃতি সমাপ্ত। তবে সম্ভাবনা আছে যে তিনি তাঁর ভাই হাকাম, যিনি বসরার দানশীল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে কবি কিছু চরণে বলেছেন:

হে হাকাম ইবনুল মুনযির ইবনুল জারুদ... মর্যাদার শামিয়ানা তোমার ওপর প্রসারিত।)

৬ - যেমন তিনি ইমরান ইবনে মুসলিম ইবনে রিয়াহ আস-সাকাফি আল-কুফি (৫৪৫৩) এর জীবনীতে যা মুদ্রিত কপিতে নেই তাতে অতিরিক্ত হিসেবে বলেছেন: (এটি) ইবনে হিব্বানের পক্ষ থেকে একটি শব্দবিভ্রাট, এবং বুখারি ও ইবনে আবি হাতিমের নিকট যা রয়েছে তার দাবি হলো তিনি হলেন ইবনে মাকিল—প্রথম বর্ণে ফাতহা এবং নুক্তাবিহীন বর্ণের সুকুন এরপর ক্বফ। তিনি একজন প্রসিদ্ধ তাবেয়ি এবং তাঁর পিতা একজন প্রসিদ্ধ সাহাবি। আর ইবনে মুগাফফাল—নুক্তাযুক্ত বর্ণ এবং তাশদীদযুক্ত ফা সহ—তিনিও একজন প্রসিদ্ধ সাহাবি, তবে তাঁর দাদার নাম হলো আবদুনাহম, যা তাঁদের দুইজনের জীবনীতে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং সেই হিসেবে ইবনে হিব্বানের উচিত ছিল তাঁকে তাবে-তাবেয়িদের স্তরে উল্লেখ করা)।
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٢١)
‌‌ثانيًا: أمثلةٌ من التصحيف الواقع في الطبعة الهندية:

المثال صاحب الترجمة الطبعة الهندية الأصل (نُسخة المؤلِّف)
1 أحمد بن إبراهيم بن فيل الأسدي (الترجمة رقم 2) وذكر من عفنه وورعه (1/ 10) وذكر من عفته وورعه (1/ ق 2 / ب)
2 أحمد بن حرب بن محمد البخاري (الترجمة رقم (27) روى عنه: سعيد بن ذاكر، والفتح بن ذاكر، والفتح بن الحسن؛ النجاريان (1/ 23) روى عنه: سعيد بن ذاكر، والفتح بن الحسن؛ البخاريان (1/ ق 6/أ)
3 أحمد بن عبيد الله بشر السَّليمي (الترجمة رقم 83) وابن قتيبة مسلم بن قتيبة (1/ 60) وأبي قتيبة سلْم بن قتيبة (1/ ق 13/أ)
4 لاحق بن حُمَيْد بن سَعيد (الترجمة رقم 7955) روى عن: وسلمة بن كهيل (11/ 171) روى عن: .. وبشير بن نهيك (3/ ق 211 / ب)
5 هشام بن يوسف السُّلَمِي (الترجمة رقم 7760) قال عثمان الدارمي عن ابن معين: ثقة (11/ 58) قال عثمان الدارمي عن ابن معين: لا أعرفه (3/ 193/ب)
6 يحيى بن أيّوب الغافِقِي (الترجمة رقم 7977) كان يحيى بن أيوب من وجوهِ أهلِ البصرة (11/ 187) كان يحيى بن أيوب من وجوه أهل مصر (1/ ق 13/أ)
7 يزيد بن أبي مَنْصُور الأَزْدِي (الترجمة رقم 8296) وكان قد ولي شأن الحجاج يومًا واحدًا (11/ 363) وكان قد وَلي مَيْسَان للْحَجَّاج يومًا واحدًا (3/ ق 240/أ)
‌দ্বিতীয়ত: ভারতীয় মুদ্রণে বিদ্যমান লিখন-প্রমাদের (তাশহিফ) কিছু উদাহরণ:

উদাহরণ জীবনীকার/ব্যক্তির নাম ভারতীয় মুদ্রণ মূল পাঠ (লেখকের পাণ্ডুলিপি)
১ আহমদ বিন ইবরাহিম বিন ফিল আল-আসাদি (জীবনী নং ২) এবং তিনি তাঁর পচন ও খোদাভীতির কথা উল্লেখ করেছেন (১/ ১০) এবং তিনি তাঁর চারিত্রিক পবিত্রতা ও খোদাভীতির কথা উল্লেখ করেছেন (১/ পাতা ২/ খ)
২ আহমদ বিন হারব বিন মুহাম্মদ আল-বুখারি (জীবনী নং ২৭) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: সাঈদ বিন জাকির, ফাতহ বিন জাকির এবং ফাতহ বিন হাসান; আন-নাজ্জারিয়্যান (১/ ২৩) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: সাঈদ বিন জাকির এবং ফাতহ বিন হাসান; আল-বুখারিইয়্যান (১/ পাতা ৬/ ক)
৩ আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ বিশর আস-সুলাইমি (জীবনী নং ৮৩) এবং ইবনে কুতাইবা মুসলিম বিন কুতাইবা (১/ ৬০) এবং আবু কুতাইবা সালম বিন কুতাইবা (১/ পাতা ১৩/ ক)
৪ লাহিক বিন হুমাইদ বিন সাঈদ (জীবনী নং ৭৯৫৫) তিনি বর্ণনা করেছেন: এবং সালামাহ বিন কুহাইল থেকে (১১/ ১৭১) তিনি বর্ণনা করেছেন: .. এবং বশির বিন নাহিক থেকে (৩/ পাতা ২১১/ খ)
৫ হিশাম বিন ইউসুফ আস-সুলামি (জীবনী নং ৭৭৬০) উসমান আদ-দারিমি ইবনে মায়িন থেকে বর্ণনা করেছেন: নির্ভরযোগ্য (১১/ ৫৮) উসমান আদ-দারিমি ইবনে মায়িন থেকে বর্ণনা করেছেন: আমি তাকে চিনি না (৩/ ১৯৩/ খ)
৬ ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আল-গাফিকি (জীবনী নং ৭৯৭৭) ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব ছিলেন বসরার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একজন (১১/ ১৮৭) ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব ছিলেন মিসরের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একজন (১/ পাতা ১৩/ ক)
৭ ইয়াজিদ বিন আবি মানসুর আল-আজদি (জীবনী নং ৮২৯৬) তিনি একদিনের জন্য হাজ্জাজের বিষয়াবলী দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন (১১/ ৩৬৩) তিনি হাজ্জাজের পক্ষ থেকে একদিনের জন্য মাইসান অঞ্চলের দায়িত্ব পালন করেন (৩/ পাতা ২৪০/ ক)
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٢٢)
المثال صاحب الترجمة الطبعة الهندية الأصل (نُسخة المؤلِّف)
8 يزيد ذُو مِصْرَ المَقْرَي (الترجمة رقم (8313) ولعله كان يزيد بن خالد فصحفت أداءه الكتبة (11/ 375) ولعلَّه كان يزيد أبو خالد، فتَصَحَّفَت أداة الكنية (3/ ق 241 / ب)

 

•‌‌ ثالثا: أمثلةٌ من السقط الواقع في الطبعة الهندية:

المثال صاحب الترجمة الطبعة الهندية الأصل (نسخة المؤلّف)
1 أحمد بن خالد بن موسى الحمصي (الترجمة رقم (33) رُمز له (4) (1/ 27) رمز له (ر 4) (1/ ق 6 / ب)
2 أحمد بن سعيد بن صخر الدارمي (الترجمة رقم 42) وعظمه حجاج الشاعر (1/ 32) وعظمه حجاج بنُ الشاعر (1/ق 7/ ب)
3 إسحاق بن راشد الجزري (الترجمة رقم 381) وقال عبد الله بن أحمد: سئل أبي عن أبي إسحاق بن راشد (1/ 230) وقال عبد الله بن أحمد: سئل أبي وأنا أسمع عن أبي إسحاق بن راشد (1/ 43 / ب)
4 يحيى بن أبي زكرياء الغسَّاني (الترجمة رقم 8022) وقال أبو حاتم ليس بالمشهور (11/ 211) وقال أبو حاتم: شيخٌ ليس بالمشهور (3/ ق 217 / ب)
5 يحيى بن أيّوب الغافِقِي (الترجمة رقم 7977) ولا أرى في حديثه إذا روى عن ثقةٍ حديثًا منكرًا (11/ 187) ولا أرى في حديثه إذا روى عن ثقةٍ أو روى عنه ثقةٌ حديثًا منكرًا (3/ ق 214 / أ)
উদাহরণ জীবনী সংবলিত ব্যক্তি ভারতীয় সংস্করণ মূল (লেখকের অনুলিপি)
৮ ইয়াজিদ যু মিসর আল-মাকরায়ি (জীবনী নং ৮৩১৩) সম্ভবত তিনি ইয়াজিদ বিন খালিদ ছিলেন, ফলে লেখকরা তার নামটি ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন (১১/ ৩৭৫) সম্ভবত তিনি ইয়াজিদ আবু খালিদ ছিলেন, যার ফলে উপনামের শব্দটিতে লিখনপ্রমাদ ঘটেছে (৩/ ফলিও ২৪১ / বি)

 

•‌‌ তৃতীয়ত: ভারতীয় সংস্করণে বিদ্যমান বিলুপ্তির (বাদ পড়া অংশের) উদাহরণসমূহ:

উদাহরণ জীবনী সংবলিত ব্যক্তি ভারতীয় সংস্করণ মূল (লেখকের অনুলিপি)
১ আহমদ বিন খালিদ বিন মুসা আল-হিমসি (জীবনী নং ৩৩) তার জন্য সংকেত দেয়া হয়েছে (৪) (১/ ২৭) তার জন্য সংকেত দেয়া হয়েছে (র ৪) (১/ ফলিও ৬ / বি)
২ আহমদ বিন সাঈদ বিন সাখর আদ-দারিমি (জীবনী নং ৪২) এবং কবি হাজ্জাজ তাকে সম্মান করতেন (১/ ৩২) এবং হাজ্জাজ বিন আশ-শা’ইর তাকে সম্মান করতেন (১/ ফলিও ৭/ বি)
৩ ইসহাক বিন রাশিদ আল-জাজারি (জীবনী নং ৩৮১) আবদুল্লাহ বিন আহমদ বলেন: আমার পিতাকে আবু ইসহাক বিন রাশিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল (১/ ২৩০) আবদুল্লাহ বিন আহমদ বলেন: আমার পিতাকে আবু ইসহাক বিন রাশিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং আমি তা শুনছিলাম (১/ ৪৩ / বি)
৪ ইয়াহইয়া বিন আবু জাকারিয়া আল-গাসসানি (জীবনী নং ৮০২২) আবু হাতিম বলেন: তিনি প্রসিদ্ধ নন (১১/ ২১১) আবু হাতিম বলেন: তিনি একজন শায়খ, যিনি প্রসিদ্ধ নন (৩/ ফলিও ২১৭ / বি)
৫ ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আল-গাফিকি (জীবনী নং ৭৯৭৭) যখন তিনি কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তখন আমি তার হাদিসে কোনো মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস দেখি না (১১/ ১৮৭) যখন তিনি কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন অথবা যখন তার থেকে কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বর্ণনা করেন, তখন আমি তার হাদিসে কোনো মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস দেখি না (৩/ ফলিও ২১৪ / এ)
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٢٣)
المثال صاحب الترجمة الطبعة الهندية الأصل (نسخة المؤلّف)
7 اليَسَعْ بن المغيرة المَخْزُومي (الترجمة رقم 8321) الزبير بن سعيد بن نوفل (11/ 378) الزبير بن سعيد، وسعيد بن عون (3/ ق 242/أ)
7 يوسف القُرَشِي الأُمَوِي (الترجمة رقم 8418) رُمز له (س) (11/ 432) رُمز له (س، ق) (3/ ق 250 / ب)

*‌‌ عملنا في كتاب (تهذيب التهذيب):

ولأجل ما ذُكِرَ من قصور طبعات الكتاب كان دَيْنًا على هذه الأُمة أن تُعيدَ تحقيقَ الكتاب، وتُخرجَ نصَّه كما أراده مؤلِّفُه؛ ضبطًا وخدمةً.

ولذا تركَّز عملنا في تحقيقه على الأمور التالية:

1 - مقابلة الكتاب على أصوله الخطية المعتمدة.

وقد منَّ الله تعالى علينا بالعثور على نسخة المؤلِّف نفسِه كاملةً، وأربع نسخٍ لتلاميذ المؤلِّف ومقروءة عليه.

2 - توثيق نُقُوله؛ بعزوها إلى مصادرها الأصلية ما أمكن.

3 - التعليق عليه؛ بما يخدمُ، نصوصه، ويخرِّجُ أحاديثَه، ويحرِّرُ مادته.

4 - استدراك جملة وافرة من أقوال النُّقَّاد في الرواة؛ لم يذكرها مؤلِّفُ الكتاب أثبتناها نهايةَ كل ترجمة في هامش التحقيق.

وقد قدَّمنا بين يدي التحقيق بدراسة تتعلق بالكتاب ومؤلِّفه في فصلَيْنِ؛ وفق الخِطَّة التالية:

الفصل الأول: ترجمة موجزة للحافظ ابن حجر رحمه الله؛ وفيه تسعة مباحث:

المبحث الأول: اسمه ونسبه ونسبته وكنيته ولقبه.

المبحث الثاني: مولده.
উদাহরণ জীবনীভুক্ত ব্যক্তি ভারতীয় সংস্করণ মূল পাণ্ডুলিপি (লেখকের অনুলিপি)
৭ আল-ইয়াসা ইবনে আল-মুগিরা আল-মাখজুমি (জীবনী নং ৮৩২১) আজ-জুবাইর ইবনে সাঈদ ইবনে নাওফাল (১১/৩৭৮) আজ-জুবাইর ইবনে সাঈদ এবং সাঈদ ইবনে আউন (৩/ পাতা ২৪২/ক)
৭ ইউসুফ আল-কুরাশি আল-উমায়ি (জীবনী নং ৮৪১৮) তার জন্য (সিন) সংকেত দেওয়া হয়েছে (১১/৪৩২) তার জন্য (সিন, ক্বাফ) সংকেত দেওয়া হয়েছে (৩/ পাতা ২৫০/খ)

*‌‌তাহজিবুত তাহজিব কিতাবে আমাদের সম্পাদিত কাজ:

কিতাবটির মুদ্রিত সংস্করণসমূহের যে সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই উম্মতের ওপর এটি একটি ঋণ ছিল যে, কিতাবটি নতুন করে তাহকিক করা এবং এর পাঠ্যলিপিকে লেখকের অভিপ্রায় অনুযায়ী যথাযথ ও সুবিন্যস্তভাবে উপস্থাপন করা।

তাই এর তাহকিকের ক্ষেত্রে আমাদের কাজ নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের ওপর নিবদ্ধ ছিল:

১ - কিতাবটিকে এর নির্ভরযোগ্য মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখা।

আর মহান আল্লাহ আমাদের ওপর এই অনুগ্রহ করেছেন যে, আমরা খোদ লেখকের নিজের হাতের পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি এবং লেখকের ছাত্রদের অনুলিখিত ও তাঁর কাছে পঠিত চারটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পেয়েছি।

২ - উদ্ধৃতিসমূহের প্রামাণিকতা যাচাই করা; যতটা সম্ভব সেগুলোকে মূল উৎসগ্রন্থের দিকে নির্দেশ করার মাধ্যমে।

৩ - কিতাবটির ওপর টীকা প্রদান করা; যা এর পাঠ্যলিপিকে সমৃদ্ধ করে, এর হাদিসগুলোর উৎস নির্দেশ করে এবং এর বিষয়বস্তুকে সুসংহত করে।

৪ - বর্ণনাকারীদের বিষয়ে সমালোচকদের এক বিশাল সংখ্যক উক্তি সংযোজন করা; যা কিতাবের লেখক উল্লেখ করেননি, সেগুলো আমরা প্রতিটি জীবনীর শেষে তাহকিকের পাদটীকায় সাব্যস্ত করেছি।

আমরা তাহকিকের শুরুতে কিতাব এবং এর লেখক সংশ্লিষ্ট একটি গবেষণামূলক আলোচনা দুটি অধ্যায়ে পেশ করেছি; যা নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিন্যস্ত:

প্রথম অধ্যায়: হাফেজ ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী; এতে নয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, নিসবত, কুনিয়াত ও লকব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম।
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٢٤)
المبحث الثالث: نشأته العلمية ورحلاته.

المبحث الرابع: أشهر شيوخه.

المبحث الخامس: أشهر تلاميذه

المبحث السادس: وظائفه.

المبحث السابع: مكانته العلمية، وثناء العلماء عليه.

المبحث الثامن: مؤلِّفاته.

المبحث التاسع: وفاته.

الفصل الثاني: دراسة كتاب "تهذيب التهذيب"؛ وفيه ثمانية مباحث:

المبحث الأول: تحقيق اسم الكتاب، وتوثيق نسبته إلى المؤلِّف.

المبحث الثاني: موضوع الكتاب، والغرض من تأليفه.

المبحث الثالث: أهمية الكتاب، ومميّزاته، وثناء العلماء عليه.

المبحث الرابع: منهج المؤلِّف في الكتاب، والرموز التي استعملها فيه.

المبحث الخامس: أصول كتاب "تهذيب التهذيب".

المبحث السادس: موارد المؤلِّف في كتابه.

المبحث السابع: أهم الدراسات السابقة حول الكتاب.

المبحث الثامن: وصف النسخ الخطية المعتمدة في تحقيق الكتاب، ونماذج مُصوَّرة منها.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি শিক্ষা-দীক্ষা ও সফরসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ উস্তাদগণ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রগণ।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর কর্মজীবন।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি আলেমদের প্রশংসা।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।

নবম পরিচ্ছেদ: তাঁর ইন্তেকাল।

দ্বিতীয় অধ্যায়: "তহজীবুত তহজীব" গ্রন্থের পর্যালোচনা; এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের নাম নিশ্চিতকরণ এবং লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের প্রামাণিকতা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বিষয়বস্তু এবং এটি রচনার উদ্দেশ্য।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের গুরুত্ব, বৈশিষ্ট্য এবং এর প্রতি আলেমদের প্রশংসা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের পদ্ধতি এবং এতে ব্যবহৃত সংকেতসমূহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: "তহজীবুত তহজীব" গ্রন্থের মূল উৎসসমূহ।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের তথ্যের উৎসসমূহ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটি নিয়ে পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাসমূহ।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটির তাহকিকে (সম্পাদনায়) নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ এবং সেগুলোর সচিত্র নমুনা।
(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌الفصل الأول ترجمة موجزة للحافظ ابن حجر رحمة الله

وفيه تسعة مباحث:

 

‌‌المبحث الأول: اسمه ونسبه ونسبته وكُنيته ولقبه:

هو الحافظُ الكبيرُ، والعالمُ النِّحريرُ، المحدِّثُ المحقِّقُ، والفقيهُ المدقِّقُ، وحيدُ زمانِه، وفريدً مكانِه الشيخُ العلّامةُ، والحَبْرُ الفهامةُ، قاضي قضاة مصرِه، وريحانة أهل عصره:

أحمد بن علي بن محمد بن محّمد بن علي بن محمود بن أحمد.

يُكنى أبا الفضل.

ويُلقَّب شهاب الدِّين.

وهو كناني القبيلة، عَسْقَلانيُّ(1) الأصل، مصريُّ المولد والمنشأ.

يُعرفُ بابن حَجَر - بفتحتين -، وقد اختُلف في حقيقته: أهو لقبٌ أم أسمٌ؟

--------------------------------------------

(1) عَسْقَلان: مدينةٌ بالشام من أعمال فلسطين، على ساحل البحر بين غزّة وبيت جبرين، يُقالُ لها عروس الشام، وعندما حاصرها الصليبيون أمر صلاح الدين بتخريبها حتى لا يمتلكها الفرنجة، عامرةً، فخربت تمامًا، ونقلت حجارتها، ولم يبق منها شيءٌ، وتقع خرائبها بالقرب من المجدل شمال غزة. انظر: "معجم البلدان" (4/ 122) لياقوت الحموي، "ومعجم بلدان فلسطين" (ص 533 - 534) لمحمد بن محمد شُرَّاب.

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাফেজ ইবনে হাজার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

এতে নয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয়, সম্পৃক্ততা, উপনাম (কুনিয়াত) ও উপাধি (লকব):

তিনি হলেন মহান হাফেজ, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত, গবেষক মুহাদ্দিস, সূক্ষ্মদর্শী ফকিহ, নিজ জামানার অদ্বিতীয় ও আপন কালের অনন্য ব্যক্তিত্ব, আল্লামা শাইখ, সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী মহাজ্ঞানী, তাঁর সময়ের মিশরের প্রধান বিচারপতি এবং সমসাময়িকদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব:

আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমদ।

তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) হলো আবুল ফজল।

তাঁর উপাধি (লকব) হলো শিহাবুদ্দীন।

তিনি কিনানি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, বংশীয়ভাবে আসকালানি, এবং জন্ম ও বেড়ে ওঠার দিক থেকে মিশরি।

তিনি ইবনে হাজার —উভয় বর্ণে জবরসহ— নামে পরিচিত। এর প্রকৃত রূপ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে: এটি কি কোনো উপাধি নাকি নাম?

--------------------------------------------

(১) আসকালান: এটি শামের একটি শহর যা ফিলিস্তিনের অন্তর্ভুক্ত, সমুদ্র উপকূলে গাজা ও বাইত জিবরিনের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। একে শামের কনে বলা হয়। যখন ক্রুসেডাররা এটি অবরোধ করেছিল, তখন সালাহউদ্দীন এটি ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন ইউরোপীয়রা এটি আবাদি অবস্থায় দখল করতে না পারে। ফলে এটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায় এবং এর পাথরগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে এর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। এর ধ্বংসাবশেষ গাজার উত্তরে মাজদালের নিকটে অবস্থিত। দেখুন: ইয়াকুত আল-হামাভি রচিত "মুজামুল বুলদান" (৪/১২২) এবং মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ শাররাব রচিত "মুজামু বুলদানি ফিলিস্তিন" (পৃ. ৫৩৩-৫৩৪)।

(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٢٦)
فقيل: هو لقبٌ لأحمد جَدِّه الأعلى في نَسَبِه.

وقيلَ: بل هو اسمٌ لوالد أحمد الجَدّ الأعلى في نَسَبِه.

وفي ذلك نَظَمَ صاحبُ الترجمة في جوابٍ له قائلًا:

مَنْ أحمدُ بنُ عليٍّ بن محمّدِ … بن محمّدِ بن عليْ الكِناني المحْتِدِ

ولجدِّ جدِّ أبيه أحمدَ لقّبوا … حَجَرًا، وقيل: بل اسم والد أحمدِ(1)

 

‌‌المبحث الثاني: مولده:

وُلِدَ الحافظ ابن حَجَر في الثاني والعشرين من شهر شعبان، سنة ثلاثٍ وسبعين وسبعمائة (773 هـ)، في منزلهم بقرب شاطئ النِّيل بمصر(2).

 

‌‌المبحث الثالث: نشأتُه العلمية ورحلاتُه:

لم يتجاوز الحافظ ابن حجر رحمه لله الأربع من سِنِي عُمره حتّى مات أبوه، وكانت أُمُّه قد وافاها الأجلُ قبل ذلك وهو طفلٌ، فنشأ يتيمًا في كَنَفِ أحد أوصيائه، وهو زكيُّ الدين أبو بكر بن علي الخَرُّوبي(3)، الذّي أولاه عنايتَه حتّى مات وصاحبُ الترجمة في سِنِّ المراهَقَة.

وكان صاحبُ الترجمةِ في غاية من العِفَّةِ والصِّيانة، بحيث لم تُعرف له صبوةٌ، بل اتجه منذ نُعومة أظفاره إلى الكُتَّاب، فدخلها وله من العُمر خمسُ سنين، كما رُزِقَ في صغره سُرعةً في الحفظ، بحيث كان يحفظ كُلَّ يومٍ نصفَ

--------------------------------------------

(1) انظر: "رفع الإصر عن قضاة مصر" (ص (62)، والجواهر والدُّرَر في ترجمة شيخ الإسلام ابن حَجَر" (1/ 101 - 106).

(2) انظر: "رفع الإصر" (ص (62)، و"الجواهر والدُّرَر" (1/ 104 - 105).

(3) هو زكي الدين أبو بكر بن علي بن محمد بن علي الخروبي التاجر، توفي سنة سبعٍ وثمانين وسبعمائة (787 هـ). انظر ترجمته في "الدرر الكامنة" (1/ 450 - 451).

বলা হয়েছে: এটি তাঁর বংশপরম্পরার ঊর্ধ্বতন দাদা আহমদের উপাধি।

আরও বলা হয়েছে: বরং এটি বংশপরম্পরার ঊর্ধ্বতন দাদা আহমদের পিতার নাম।

এ বিষয়ে যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে তিনি তাঁর একটি জবাবে পঙক্তি রচনা করে বলেছেন:

যিনি আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ ... বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-কিনানি বংশোদ্ভূত।

এবং তাঁর পিতার প্রপিতামহ আহমদের উপাধি ছিল ... 'হাজার', আর কেউ বলেছেন: বরং এটি আহমদের পিতার নাম।(১)

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জন্ম:

হাফেজ ইবনে হাজার ৭৭৩ হিজরি সনের ২২শে শাবান মিশরে নীল নদের তীরের নিকটবর্তী তাঁদের বাসগৃহে জন্মগ্রহণ করেন।(২)

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত বেড়ে ওঠা ও সফরসমূহ:

হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর বয়স চার বছর পার হওয়ার আগেই তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। আর তাঁর মা তারও আগে তিনি যখন শিশু ছিলেন তখনই মৃত্যুবরণ করেন। ফলে তিনি তাঁর অন্যতম অভিভাবক জাকিউদ্দীন আবু বকর বিন আলী আল-খাররুবির তত্ত্বাবধানে এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন।(৩) তিনি (খাররুবি) তাঁর প্রতি পূর্ণ যত্নশীল ছিলেন, অবশেষে জীবনীকার যখন কৈশোরে পদার্পণ করেন তখন তিনিও মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনীকার অত্যন্ত পবিত্র ও মার্জিত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন, এমনকি তাঁর মধ্যে কোনো প্রকার চারিত্রিক বিচ্যুতি লক্ষ্য করা যায়নি। বরং শৈশব থেকেই তিনি মক্তবমুখী হন এবং পাঁচ বছর বয়সে সেখানে প্রবেশ করেন। শৈশবেই তাঁকে প্রখর মুখস্থশক্তি দান করা হয়েছিল, ফলে তিনি প্রতিদিন অর্ধেক...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "রাফউল ইসর আন কুদাতিল মিসর" (পৃ. ৬২), এবং "আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার ফি তারজামাতি শায়খিল ইসলাম ইবনু হাজার" (১/ ১০১ - ১০৬)।

(২) দেখুন: "রাফউল ইসর" (পৃ. ৬২), এবং "আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার" (১/ ১০৪ - ১০৫)।

(৩) তিনি হলেন জাকিউদ্দীন আবু বকর বিন আলী بن মুহাম্মাদ বিন আলী আল-খাররুবি আত-তাজির (ব্যবসায়ী), তিনি ৭৮৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: "আদ-দুরারুল কামিনাহ" (১/ ৪৫০ - ৪৫১)।

(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٢٧)
حزبٍ، بل بلغ من أمره أنّه حفظ سورة مريم في يومٍ واحدٍ، ولم يكن حفظُه بالدَّرس(1) على طريقة الأطفال، بل كان حفظُه على طريقة الأذكياء تأمُّلًا(2).

وأكمل حفظَ القرآن على صدر الدين محمّد بن محمّد السَّفْطي المقرئ(3) وهو ابن تسعٍ.

ثمّ حجّ به وَصِيُّه الزكيُّ الخَرُّوبي سنة أربع وثمانين (784 هـ)، فجاورَ بمكّة مُدَّةً، وصلَّى بالناس التراويح حين أكمل اثنتي عشرة سنة.

وفي أثناء مجاورته بمكّة لَقِيَ عددًا من شيوخها، كالشيخ عفيف الدين عبد الله بن محمّد النَّشَاوِري ثمّ المكّيّ(4)، وهو أوّلُ شيخ سَمِعَ عليه الحديثَ، حيثُ اتَّفَقَ له سماعُ غالب "صحيح الإمام البخاريّ" بقراءةِ غيرهِ دون قصدٍ ولا طلبٍ.

كما بَحَثَ في سنة خمسٍ وثمانين (785 هـ) على القاضي جمال الدين محمّد بن عبد الله بن ظَهيرة المكّيّ(5) في كتاب "عُمدة الأحكام" للحافظ عبد الغني المقدسيّ، فكان ابن ظَهيرة أوّلَ شيخ بحث عليه في علم الحديث، ثمّ أوّل شيخٍ سمع الحديثَ بقراءته بعد ذلك في مصر(6).

--------------------------------------------

(1) الدَّرس: مِن التِّلاوة بالكتابة والتِّكرار. انظر: "تاج العروس" (16/ 69).

(2) التأمُّل: هو استعمال الفكر، وتدبُّر الشَّيء وإعادة النظر فيه مَرَّةً بعد أخرى؛ ليتحقَّقه.

انظر: "الكُلِّيَّات" لأبي البقاء الكَفوي (ص) (287، و "التوقيف على مُهمَّات التّعاريف" للمناوي (ص (89).

(3) هو صدر الدين محمد بن محمد بن محمد بن عبد الرزاق السَّفطي المصري الشافعيّ، مات سنة ثمانٍ وثمانمائة (808 هـ). انظر ترجمتَه في: "المجمع المؤسِّس" (3/ 218 - 219).

(4) ستأتي ترجمتُه - بمشيئة الله تعالى - في المبحث التالي.

(5) هو جمال الدين محمد بن عبد الله بن ظَهيرة المخزومي، مات سنة سبع عشرة وثمانمائة (817 هـ). انظر ترجمته في: المجمع المؤسِّس" (3/ 314 - 316).

(6) ومعنى بحث عليه: قرأ عليه قراءة بحث ومُدارسة، وليس قراءة سرد.

পারার; বরং তার অবস্থা এমন স্তরে পৌঁছেছিল যে, তিনি মাত্র একদিনে সূরা মারইয়াম মুখস্থ করেছিলেন। তার এই মুখস্থ করা শিশুদের পদ্ধতির মতো লিখে ও পাঠের পুনরাবৃত্তির(১) মাধ্যমে ছিল না, বরং তা ছিল মেধাবীদের পদ্ধতির মতো গভীর চিন্তাভাবনা ও মনোযোগের(২) মাধ্যমে।

আর তিনি নয় বছর বয়সে মুকরি সদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আস-সাফতী(৩)-এর নিকট কুরআন মুখস্থ সম্পন্ন করেন।

এরপর সাতশ চুরাশি (৭৮৪ হিজরী) সালে তার নিষ্ঠাবান অভিভাবক আল-খাররূবী তাকে নিয়ে হজ সম্পাদন করেন। তিনি মক্কায় কিছুকাল অবস্থান করেন এবং যখন তার বয়স বারো বছর পূর্ণ হলো, তখন তিনি মানুষের ইমামতি করে তারাবিহ সালাত আদায় করান।

মক্কায় অবস্থানের সময় তিনি সেখানকার বেশ কয়েকজন শায়খের সাথে সাক্ষাৎ করেন, যেমন শায়খ আফীফুদ্দীন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আন-নাশা ওয়ারী অতঃপর আল-মাক্কী(৪)। তিনি ছিলেন প্রথম শায়খ যাঁর নিকট তিনি হাদীস শ্রবণ করেছিলেন; যেখানে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য বা অন্বেষণ ছাড়াই অন্য একজনের পাঠ করার মাধ্যমে ইমাম বুখারীর "সহীহ" গ্রন্থের অধিকাংশ শোনার সুযোগ তাঁর ঘটেছিল।

একইভাবে তিনি সাতশ পঁচাশি (৭৮৫ হিজরী) সালে হাফেয আব্দুল গণী আল-মাকদিসীর "উমদাতুল আহকাম" গ্রন্থটি ক্বাযী জামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন যাহীরা আল-মাক্কী(৫)-এর নিকট পর্যালোচনা করেন। ইবনে যাহীরা ছিলেন ইলমে হাদীসের প্রথম শায়খ যাঁর নিকট তিনি পর্যালোচনা করেছিলেন, এবং পরবর্তীতে মিশরে যাঁর পাঠে তিনি হাদীস শ্রবণ করেছিলেন এমন প্রথম শায়খ(৬)।

--------------------------------------------

(১) আদ-দারস: লিখে লিখে পাঠ করা এবং বারবার পুনরাবৃত্তি করা। দেখুন: "তাজুল আরূস" (১৬/ ৬৯)।

(২) আত-তাম্মুল: এটি হলো চিন্তাশক্তিকে ব্যবহার করা, কোনো বিষয় নিয়ে গভীরভাবে ভাবা এবং বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য বারবার পর্যবেক্ষণ করা।

দেখুন: আবুল বাকা আল-কাফাউয়ীর "আল-কুল্লিয়াত" (পৃষ্ঠা ২৮৭), এবং আল-মুনাউয়ীর "আত-তাওকীফ আলা মুহিম্মাতিত তা’রীফাত" (পৃষ্ঠা ৮৯)।

(৩) তিনি হলেন সদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল রাজ্জাক আস-সাফতী আল-মিসরী আশ-শাফেয়ী, তিনি আটশ আট (৮০৮ হিজরী) সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: "আল-মাজমাউল মুয়াসসিস" (৩/ ২১৮-২১৯)।

(৪) আল্লাহ তাআলা চাইলে পরবর্তী পরিচ্ছেদে তাঁর জীবনী আসবে।

(৫) তিনি হলেন জামালুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন যাহীরা আল-মাখযূমী, তিনি আটশ সতেরো (৮১৭ হিজরী) সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: "আল-মাজমাউল মুয়াসসিস" (৩/ ৩১৪-৩১৬)।

(৬) ‘তার নিকট বাহাস করেছেন’ বা পর্যালোচনা করেছেন এর অর্থ হলো: তিনি তাঁর নিকট গবেষণামূলক এবং পর্যালোচনামূলক পাঠ পড়েছেন, কেবল দ্রুত পঠন (সারদ) করেননি।

(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وفي سنة ستٍّ وثمانين (786 هـ) رجع صاحبُ الترجمةِ مع وصيِّه إلى مصر - محلِّ إقامته -، واشتغل بحفظ عددٍ من مُختصرات العلوم، فحَفِظَ منها: "العُمدة"، و "الحاوي الصغير"، و "مُختصر ابن الحاجب الأصليّ"، و"مُلحة الحريريّ"، وغير ذلك، وعَرَضها -كما هي العادةُ آنذاك- على جماعةٍ من أئمة عصره، وكتبوا خُطوطهم له بذلك.

وقد أصابه بعد موت وصيِّه الخروبي سنة سبعٍ وثمانين (787 هـ) فتورٌ عن الاشتغال بطلب العلم بُرهةً من الزَّمن؛ إذ لم يكن له من يحثُّه، إلّا أنّ هذه الفترة لا تعني تركه التحصيل بالكُلِّية، بل اشتغل بطلب ما غلب على العادةِ طلبُه من أصلٍ وفرعٍ ولغةٍ ونحوِها.

وما أنِ استكمل سبع عشرة سنة حتّى عادت المياهُ إلى مجاريها، ولازم العلّامةَ شمس الدين محمّد بن علي بن القطّان المصريّ(1) -أحدَ أوصيائه-، فحضر درَسه في الفقه وأصولِه والعربيةِ والحِساب وغيرِها، وقرأ عليه شيئًا كثيرًا من "الحاوي الصغير"، وأجازه.

وبإشارة أحد الخَيِّرين حُبِّبَ إليه النظرُ في التواريخ وأيام النّاس، فعَلِقَ بذهنه الصَّافي شيءٌ كثيرٌ من أحوال الرُّواةِ، كما نَظَرَ في فُنون الأدب من أثناء سنة اثنتينِ وتسعين (792 هـ)، فتولّع بذلك حتّى كان لا يسمع شِعرًا إلّا ويستحضر من أين أخذه الناظمُ، وما زال يُتبعه خاطره حتّى فاق فيه وساد، وطارح الأُدباء، وقال الشِّعر الرائق، والنَّثر الفائق.

وكان أوّل ما طلب بنفسِه في سنة ثلاثٍ وتسعين (793 هـ)، لكنّه لم يُكثر من الطَّلَبِ إلا في سنة ستٍّ وتسعين (796 هـ)، فوَقْتَها واصلَ الغُدُوَّ والرَّواح إلى المشايخِ بالبواكر والعشايا وحَبَّبَ الله تبارك وتعالى إليه فَنَّ الحديث

--------------------------------------------

(1) هو شمس الدين محمد بن علي بن محمد بن عيسى السمنودي المعروف بابن القطان، مات سنة ثلاث عشرة وثمانمائة (813 هـ). انظر ترجمته في: المصدر السابق (2/ 329 - 331).

৭৮৬ হিজরি সালে জীবনীকার তাঁর অভিভাবকের সাথে তাঁর আবাসনস্থল মিসরে ফিরে আসেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের বেশ কিছু সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ (মুখতাসার) মুখস্থ করতে শুরু করেন। তন্মধ্যে তিনি ‘আল-উমদাহ’, ‘আল-হাভি আস-সাগির’, ‘মুখতাসার ইবনুল হাজিব আল-আসলি’, ‘মুলহাতুল হারিরি’ ইত্যাদি মুখস্থ করেন। তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী তিনি তাঁর সময়ের একদল ইমামের কাছে সেগুলো পেশ করেন এবং তাঁরা তাঁর স্বপক্ষে প্রত্যায়নপত্র লিখে দেন।

৭৮৭ হিজরি সালে তাঁর অভিভাবক আল-খারুবির মৃত্যুর পর কিছুকাল ইলম অর্জনে তাঁর মধ্যে কিছুটা শৈথিল্য দেখা দেয়; কারণ তখন তাঁকে উৎসাহিত করার মতো কেউ ছিল না। তবে এই সময়ের অর্থ এই নয় যে তিনি পুরোপুরি জ্ঞানার্জন ছেড়ে দিয়েছিলেন, বরং তিনি সে সময়ে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ইলমের মূলনীতি (উসুল), শাখা জ্ঞান (ফুরু), ভাষা ও ব্যাকরণ ইত্যাদি অধ্যয়নে লিপ্ত ছিলেন।

তাঁর বয়স সতেরো বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথেই সবকিছু স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসে। তিনি তাঁর অন্যতম অভিভাবক আল্লামা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনুল কাত্তান আল-মিসরির সান্নিধ্য গ্রহণ করেন এবং ফিকহ, উসুলে ফিকহ, আরবি ভাষা, গণিতসহ অন্যান্য বিষয়ে তাঁর পাঠদানে উপস্থিত হন। তিনি তাঁর কাছে ‘আল-হাভি আস-সাগির’-এর একটি বিরাট অংশ পাঠ করেন এবং উস্তাদ তাঁকে ইজাজত প্রদান করেন।

একজন নেককার ব্যক্তির ইশারায় তাঁর মনে ইতিহাস ও মানুষের জীবনচরিত পর্যালোচনার প্রতি আগ্রহ জন্মে। ফলে তাঁর স্বচ্ছ মস্তিস্কে বর্ণনাকারীদের (রাবি) জীবনবৃত্তান্ত সম্পর্কে অনেক তথ্য গেঁথে যায়। এছাড়া তিনি ৭৯২ হিজরি সাল থেকে সাহিত্যকলার চর্চাও শুরু করেন এবং এতে এমনভাবে মজে যান যে, কোনো কবিতা শুনলেই তিনি বুঝতে পারতেন কবি এটি কোথা থেকে গ্রহণ করেছেন। তিনি সর্বদা এতে নিমগ্ন থাকতেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত এই শাস্ত্রেও তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও নেতৃত্ব লাভ করেন। তিনি সমকালীন সাহিত্যিকদের সাথে সাহিত্য আলোচনায় লিপ্ত হতেন এবং চমৎকার সব কবিতা ও উন্নত মানের গদ্য রচনা করতেন।

৭৯৩ হিজরি সাল থেকে তিনি স্বউদ্যোগে ইলম অন্বেষণ শুরু করেন, তবে ৭৯৬ হিজরি সালের আগে তিনি ব্যাপকভাবে জ্ঞানার্জনে লিপ্ত হননি। সে সময়ে তিনি সকাল-সন্ধ্যায় নিয়মিত শায়খদের দরবারে যাতায়াত শুরু করেন এবং মহান আল্লাহ তাঁর অন্তরে হাদিস শাস্ত্রের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আস-সামানুদি, যিনি ইবনুল কাত্তান নামে পরিচিত। তিনি ৮১৩ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন তাঁর জীবনী: প্রাগুক্ত সূত্র (২/ ৩২৯ - ৩৩১)।

(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٢٩)
النَّبَوِيَّ، فأقبل عليه بكُلِّيَّتِه، واجتمع بحافظ عصره زين الدين أبي الفضل عبد الرحيم بن الحُسين العراقي(1) الذي لازمه عشرة أعوام، وانتفع بملازمتِه أيّما انتفاع، فقرأ عليه "الألفية" و "شرحها" بحثًا، ثمّ قرأ عليه نُكتَه على "علوم الحديث لابن الصلاح" المسماة بـ: "التقييد والإيضاح"، وهو أوّلُ شيخٍ أَذِنَ له بالتدريس في علوم الحديث، وكان إذنُه له في سنة سبعٍ وتسعين (797 هـ).

واستمر رحمه الله بسماع الحديث وقراءتِه على مُسِندي مصر مُشمِّرًا عن ساعد الجِدِّ، فلم تنسلخ سنة ستٍّ وتسعين (796 هـ) حتّى اتّسعت معارفُه فيه.

مع هذا اشتغاله بغيرِه من العلوم كالفقه وأُصوله، حيث تفقه بالعلّامة برهان الدين إبراهيم بن موسى الأبناسي(2)، والعلّامة سراج الدين عُمر بن علي بن الملقِّن والعلّامة سراج الدين عُمر بن رسلان البُلقيني(3)، وهو أوّل من أذِنَ له في الإفتاء.

كما لازمَ العلّامة عز الدين محمّد بن أبي بكر بن جماعة(4) في غالبِ العلوم التي كان يُقرئها من سنة تسعين (790 هـ) إلى أن مات في سنة تسع عشرة (819 هـ).

وممّا زاد من رسوخ قدمه في العلم: كثرةُ رحلاتِه داخل مصر وخارجها، ولُقيُّه عددًا جَمًّا أوعية العلم، وتخرُّجه بهم، مُؤتمًّا في ذلك بأسلافِه الصالحين من أئمة الحديث - رضوان اللهِ عليهم -، الذين كانوا يطوفون البلدان في تحصيل العلم بعد أخذهم عن عُلماء بلدانهم، وهكذا الحافظُ

--------------------------------------------

(1) ستأتي ترجمتُه - إن شاء الله تعالى - في المبحث التالي.

(2) هو برهان الدين إبراهيم بن موسى بن أيوب الأبناسي الشافعي، توفّي سنة اثنتين وثمانمائة (802 هـ). انظر ترجمته في: "المجمع المؤسِّس" (1/ 244 - 249).

(3) ستأتي ترجمتُهما - إن شاء الله تعالى - في المبحث التالي.

(4) ستأتي ترجمتُه - إن شاء الله تعالى - في المبحث التالي.

(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর প্রতি), তিনি পূর্ণ মনোযোগের সাথে তাতে নিমগ্ন হলেন এবং তাঁর যুগের হাফেজ যয়নুদ্দীন আবুল ফযল আব্দুর রহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি(১)-এর সান্নিধ্য লাভ করেন, যাঁর সাথে তিনি দশ বছর অতিবাহিত করেন এবং এই দীর্ঘ সান্নিধ্য থেকে প্রচুর উপকৃত হন। তিনি তাঁর নিকট 'আল-আলফিয়্যাহ' এবং এর 'শারহ' (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) গবেষণাধর্মী পাঠ সমাপ্ত করেন। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট ইবনুস সালাহ-এর 'উলূমুল হাদীস'-এর ওপর তাঁর রচিত টীকাগ্রন্থ 'আত-তাকয়ীদ ওয়াল ইযাহ' পাঠ করেন। তিনিই প্রথম শায়খ, যিনি তাঁকে হাদীসশাস্ত্রে অধ্যাপনা করার অনুমতি প্রদান করেছিলেন; আর এই অনুমতির ঘটনাটি ছিল সাতশত সাতানব্বই (৭৯৭ হিজরি) সনে।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের সাথে মিসরের হাদীস বর্ণনাকারীদের (মুসনিদ) নিকট হাদীস শ্রবণ ও পাঠ অব্যাহত রাখেন। সাতশত ছিয়ানব্বই (৭৯৬ হিজরি) সন অতিবাহিত হওয়ার পূর্বেই হাদীসশাস্ত্রে তাঁর জ্ঞান অত্যন্ত সুপ্রশস্ত হয়ে ওঠে।

এর পাশাপাশি তিনি ফিকহ ও উসূলে ফিকহের মতো অন্যান্য বিদ্যায়ও ব্যাপৃত ছিলেন। তিনি আল্লামা বুরহানুদ্দীন ইব্রাহিম বিন মূসা আল-আবনাসী(২), আল্লামা সিরাজুদ্দীন উমর বিন আলী বিন আল-মুলাক্কিন এবং আল্লামা সিরাজুদ্দীন উমর বিন রাসলান আল-বুলকিনী(৩)-এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। আল-বুলকিনীই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি তাঁকে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দান করেন।

অনুরূপভাবে তিনি আল্লামা ইযযুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন জামাআহ(৪)-এর নিকট সাতশত নব্বই (৭৯০ হিজরি) সন থেকে শুরু করে আটশত উনিশ (৮১৯ হিজরি) সনে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত পঠিত অধিকাংশ বিদ্যায় তাঁর সান্নিধ্য অবলম্বন করেন।

ইলম বা জ্ঞানে তাঁর সুগভীর পাণ্ডিত্য অর্জনের অন্যতম কারণ ছিল মিসরের অভ্যন্তরে ও বাইরে তাঁর অধিক হারে সফর এবং অসংখ্য প্রাজ্ঞ আলেমের সাথে সাক্ষাৎ ও তাঁদের নিকট জ্ঞান অর্জন করা। এ ক্ষেত্রে তিনি হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের মধ্য থেকে তাঁর পুণ্যবান পূর্বসূরিদের (সালাফ)—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, যাঁরা নিজ দেশের আলেমদের নিকট জ্ঞান অর্জনের পর দেশ-বিদেশে পরিভ্রমণ করতেন। আর এই হাফেজও তেমনি ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তী পরিচ্ছেদে তাঁর জীবনী আলোচিত হবে।

(২) তিনি হলেন বুরহানুদ্দীন ইব্রাহিম বিন মূসা বিন আইয়ুব আল-আবনাসী আশ-শাফেয়ী, তিনি আটশত দুই (৮০২ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: "আল-মুজামুল মুয়াসসিস" (১/ ২৪৪ - ২৪৯)।

(৩) ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তী পরিচ্ছেদে তাঁদের উভয়ের জীবনী আলোচিত হবে।

(৪) ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তী পরিচ্ছেদে তাঁর জীবনী আলোচিত হবে।

(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٣٠)
ابن حجر، كانت أوّلُ رحلاته في سنة ثلاثٍ وتسعين (793 هـ)، إلى قُوْص(1) وغيرِها من بلاد الصَّعيد، فأخذ عن ابن السراج(2) قاضي الصَّعيد وغيرِه، ثم رحل في أواخر سنة سبعٍ وتسعين (797 هـ) إلى الإسكندرية، فأخذ مُسِندها التاج محمّد بن أحمد بن عبد الرزّاق الشافعي(3).

وفي سنة تسعٍ وتسعين (799 هـ) رحل إلى أرض الحجاز من البحر، فلَقِيَ في طريقه بالطُّور العلّامة نجم الدين محمد بن أبي بكر المعروف بالمرجاني(4).

ثمّ توجّه إلى اليمن، فوصلها سنة ثمانمائة (800 هـ)، وتنقل في مُدنِها ينهل من مَعين عِلْم شيوخِها، فدخل تَعِز وعَدَن والمهْجَم(5) وغيرها، كما اجتمع في زَبيد ووادي الحُصَيْب(6) بشيخ اللُّغويّين العلّامة مجد الدين محمّد بن يعقوب الفيروزآبادي(7)، وقرأ عليه أشياء.

--------------------------------------------

(1) مدينةٌ كبيرةٌ في صعيد مصر، تقع شرقي النيل. انظر: "معجم البلدان" (4/ 413).

(2) لم أقف على ترجمته.

(3) هو تاج الدين محمد بن أحمد بن عبد الرّزّاق بن عبد العزيز الإسكندرانيّ الشافعيّ، مات سنة ثمان وتسعين وسبعمائة (798 هـ). انظر ترجمته في: "المجمع المؤسِّس (2/ 492 - 493).

(4) هو نجم الدين محمد بن أبي بكر بن علي بن يوسف المصريّ ثم المكيّ المعروف بالمرجاني، توفّي سنة سبعٍ وعشرين وثمانمائة. (827 هـ). انظر ترجمته في: المصدر السابق (297/ 3 - 298).

(5) بلدٌ من أعمال زَبيد، باليمن بينها وبين زَبِيد ثلاثة أيام وعدادها اليوم في قرى بني محمد من مديرية المِغْلاف شرقي مدينة الزيدية. انظر: "معجم البلدان" (5/ 229)، و"معجم البلدان والقبائل اليمنية" (2/ 1671) لإبراهيم بن أحمد المقحفي.

(6) مُصَغَّرٌ؛ هو: اسم الوادي الذي منه زَبِيد باليمن. انظر: "معجم البلدان" (2/ 266) لياقوت، و"تاج العروس" (11/ 390 - 391).

(7) ستأتي ترجمتُه - بمشيئة الله تعالى - في المبحث التالي.

ইবনে হাজার; তাঁর প্রথম সফর ছিল সাতশত তিরানব্বই (৭৯৩ হি.) সালে, কূস(১) এবং ঊর্ধ্ব মিসরের অন্যান্য অঞ্চলের দিকে। সেখানে তিনি ঊর্ধ্ব মিসরের বিচারক ইবনে আস-সাররাজ(২) ও অন্যদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। অতঃপর সাতশত সাতানব্বই (৭৯৭ হি.) সালের শেষভাগে তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং সেখানকার বিশিষ্ট হাদিস বিশারদ তাজ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুর রাজ্জাক আশ-শাফিয়ী(৩)-এর নিকট হতে পাঠ গ্রহণ করেন।

এবং সাতশত নিরানব্বই (৭৯৯ হি.) সালে তিনি সমুদ্রপথে হিজাজ ভূমির অভিমুখে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে তূর নামক স্থানে তিনি আল্লামা নাজমুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যিনি আল-মারজানি(৪) নামে পরিচিত।

অতঃপর তিনি ইয়েমেনের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং আটশত (৮০০ হি.) সালে সেখানে পৌঁছান। তিনি এর বিভিন্ন শহরে বিচরণ করে সেখানকার শায়খদের ইলমের ঝরনাধারা হতে জ্ঞান সুধা পান করেন। তিনি তায়িজ, এডেন ও মাহজাম(৫) সহ অন্যান্য শহরে প্রবেশ করেন। তেমনিভাবে তিনি জাবিদ এবং ওয়াদি আল-হুসাইব(৬) নামক স্থানে ভাষাবিদদের প্রধান আল্লামা মাজদুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদী(৭)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর নিকট বেশ কিছু বিষয় পাঠ করেন।

--------------------------------------------

(১) ঊর্ধ্ব মিসরের একটি বড় শহর, যা নীল নদের পূর্ব তীরে অবস্থিত। দেখুন: "মুজামুল বুলদান" (৪/৪১৩)।

(২) আমি তাঁর জীবনী সম্পর্কে অবগত হতে পারিনি।

(৩) তিনি হলেন তাজ উদ্দিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল আজিজ আল-ইস্কান্দরানি আশ-শাফিয়ী, তিনি সাতশত আটানব্বই (৭৯৮ হি.) সালে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: "আল-মুজামুল মুয়াসসিস" (২/৪৯২ - ৪৯৩)।

(৪) তিনি হলেন নাজমুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আলি বিন ইউসুফ আল-মিসরি অতঃপর আল-মাক্কি, যিনি আল-মারজানি নামে পরিচিত। তিনি আটশত সাতাশ (৮২৭ হি.) সালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (৩/২৯৭ - ২৯৮)।

(৫) এটি ইয়েমেনের জাবিদ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত একটি এলাকা; এর এবং জাবিদের মধ্যবর্তী দূরত্ব তিন দিনের পথ। বর্তমানে এটি জাইদিয়া শহরের পূর্বে আল-মিগলাফ প্রশাসনিক অঞ্চলের বনু মুহাম্মদ গ্রামের অন্তর্ভুক্ত। দেখুন: "মুজামুল বুলদান" (৫/২২৯) এবং ইব্রাহিম বিন আহমদ আল-মাকহাফি রচিত "মুজামুল বুলদান ওয়াল কাবাইল আল-ইয়ামানিয়্যাহ" (২/১৬৭১)।

(৬) ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ; এটি ইয়েমেনের সেই উপত্যকার নাম যেখানে জাবিদ অবস্থিত। দেখুন: ইয়াকুতের "মুজামুল বুলদান" (২/২৬৬) এবং "তাজুল আরূস" (১১/৩৯০ - ৩৯১)।

(৭) মহান আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তী পরিচ্ছেদে তাঁর জীবনী আসবে।

(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٣١)
ثمّ واصل سفرَه إلى مكّة، فحجّ في سنة ثمانمائة (800 هـ)، وهذه هي حجّةُ الإسلام، ولما رجع من هذه الحَجَّة إلى بلده في سنة إحدى وثمانمائة (801 هـ) جَدَّ في استكمال ما بقي عليه من مسموع القاهرة ومصر.

ثم سافر إلى اليمن مرّةً ثانيةً، وحمل عمّن لقيهم هناك، وحملوا عنه، ثمّ رحل إلى جُدَّة، وقرأ بها على أبي المعالي عبد الرحمن بن حيدر الشِّيرازي(1) أحاديثَ عشرة انتقاها من "أربعين الحاكم"، ثمّ رجع إلى بلده، وأقام بها.

ثمّ حجّ بعد هذا عدّة مرّاتٍ ولقي في مكّة ومِنى والمدينة النبوية جمعًا من العُلماء، منهم: العلّامة ابن ظَهيرة الَّذي تقدّم ذكرُه، والعلّامة أبو بكر الحُسين المراغي(2)، وست الكُل ابنة الزين القسطلاني(3).

وظَلَّ رحمه الله على هذا المنوال؛ يطوف في البلدان ويتردّد إلى بلدِه، وفي سنة اثنتينِ وثمانمائة (802 هـ) خرج من القاهرة قاصِدًا بلاد الشام، وصَحِبَه في هذه المرّة التقيُّ محمّد بن أحمد بن علي الفاسيّ المكّيّ الحافظ (ت 832 هـ)، فسمع بغَزّة ونابلس والرَّملة وبيت المقدس والخليل ودمشق والصالحية وحمص وحماة وغيرها من البلادِ والقُرى على أُممٍ كثيرةٍ.

وكان رحمه الله رحل قصدًا إلى بيت المقدس ليأخذ عن الشِّهاب أبي الخير أحمد بن الحافظ الصلاح أبي سعيد خليل بن كيكلدي العلائي (ت 802 هـ)؛

--------------------------------------------

(1) هو أبو المعالي عبد الرحمن بن حيدر بن علي بن أبي بكر الشيرازي الأصل ثم الدّمشقيّ، مات سنة سبع عشرة وثمانمائة. (817 هـ). انظر ترجمتَه في: "المجمع المؤسِّس" (3/ 148 - 149).

(2) هو زين الدين أبو بكر بن الحُسين بن عُمر بن محمد المراغي المصري الشافعيّ، نزيل المدينة النبوية، مات سنة ست عشرة وثمانمائة (816 هـ). انظر ترجمتَه في: المصدر السابق (1/ 538 - 549).

(3) هي ستُّ الكُل بنت الزين أحمد بن محمد القسطلاني المكيّ، ماتت سنة ثلاثٍ وثمانمائة (803 هـ). انظر ترجمتَها في: المصدر السابق (1/ 616 - 617).

অতঃপর তিনি মক্কার অভিমুখে তাঁর সফর অব্যাহত রাখেন এবং আটশ (৮০০ হি.) হিজরি সনে হজ সম্পাদন করেন। আর এটিই ছিল তাঁর ফরয হজ (হাজ্জাতুল ইসলাম)। যখন তিনি এই হজ থেকে আটশ এক (৮০১ হি.) হিজরি সনে নিজের শহরে ফিরে আসেন, তখন তিনি কায়রো ও মিশরের অবশিষ্ট শ্রবণকৃত (হাদিস) বিষয়গুলো সম্পন্ন করার জন্য সচেষ্ট হন।

এরপর তিনি দ্বিতীয়বার ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং সেখানে যাদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল, তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ করেন এবং তাঁরাও তাঁর থেকে গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি জেদ্দায় গমন করেন এবং সেখানে আবুল মাআলি আব্দুর রহমান বিন হায়দার আশ-শিরাজির(১) নিকট 'আরবাঈন আল-হাকিম' থেকে চয়নকৃত দশটি হাদিস পাঠ করেন। এরপর তিনি নিজ শহরে ফিরে আসেন এবং সেখানেই অবস্থান করেন।

এরপর তিনি আরও কয়েকবার হজ করেন এবং মক্কা, মিনা ও মদিনা মুনাওয়ারায় একদল ওলামার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আল্লামা ইবনে জুহায়রা যাঁর কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লামা আবু বকর আল-হুসাইন আল-মারাগি(২) এবং সিত্তুল কুল বিনতে আয-যাইন আল-কাসতালানি(৩)।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি এভাবেই দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করতে থাকেন এবং নিজ শহরে যাতায়াত করতে থাকেন। আটশ দুই (৮০২ হি.) হিজরি সনে তিনি সিরিয়া (বিলাদুশ শাম) অঞ্চলের উদ্দেশ্যে কায়রো থেকে বের হন। এই সফরে হাফিজ তাকি মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলি আল-ফাসি আল-মাক্কি (ওফাত ৮৩২ হি.) তাঁর সঙ্গী ছিলেন। তিনি গাজা, নাবলুস, রামলা, বাইতুল মাকদিস, খলিল, দামেস্ক, সালিহিয়া, হিমস, হামাত এবং অন্যান্য দেশ ও জনপদে অসংখ্য লোকের নিকট হাদিস শ্রবণ করেন।

আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি বিশেষ উদ্দেশ্যে বাইতুল মাকদিসের দিকে সফর করেছিলেন শিহাব আবুল খায়ের আহমদ বিন আল-হাফিজ আস-সালাহ আবু সাঈদ খলিল বিন কাইকালদি আল-আলাই (ওফাত ৮০২ হি.)-এর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবুল মাআলি আব্দুর রহমান বিন হায়দার বিন আলি বিন আবু বকর, মূলে শিরাজী এবং পরবর্তীতে দামেশকী। তিনি আটশ সতের (৮১৭ হি.) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: "আল-মুজাম আল-মুয়াসসিস" (৩/ ১৪৮ - ১৪৯)।

(২) তিনি হলেন যাইনুদ্দিন আবু বকর বিন আল-হুসাইন বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-মারাগি আল-মিসরি আশ-শাফেয়ি, যিনি মদিনা মুনাওয়ারায় বসবাস করতেন। তিনি আটশ ষোলো (৮১৬ হি.) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৫৩৮ - ৫৪৯)।

(৩) তিনি হলেন সিত্তুল কুল বিনতে আয-যাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কাসতালানি আল-মাক্কি। তিনি আটশ তিন (৮০৩ হি.) হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৬১৬ - ৬১৭)।

(খণ্ড: ১) তাহজীবুত তাহজীব - ত. দুবাই (পৃষ্ঠা: ٣٢)
وذلك لظهور سماعِه "سُنن ابن ماجه على الحَجَّار، إلّا أنّ أَجَلَه كان أسبق، حيث بلغته وفاتُه وهو بالرّملة، فعرّج عن القدس إلى دمشق، ولم يدخل بيت المقدس إلّا بعد انتهاء أربه من دمشق؛ لكونها بعد وفاة ابن العلائي أهمّ.

وكانت إقامته بدمشق مائة يوم ومسموعه في تلك المدّة نحو ألف جزء حديثيّ، ومن الكتب الكبار: "المعجم الأوسط للطبرانيّ، و "معرفة الصحابة" لابن مَنْده، وأكثر "مُسْند أبي يعلى"، وغير ذلك.

وكان الله قد عزم وهو بدمشق على التوجُّه إلى حلب ليأخذ بها عن خاتمة المسنِدين عُمر بن أبيدغمش النصيبيّ الحلبيّ (ت 801 هـ)، فبلغته وفاتُه، فتخلّف عن قصدها، ثمّ يسّر الله عز وجل له بعد دهرٍ - وذلك في سنة ستٍّ وثلاثين وثمانمائة (836 هـ) - السفر إلى حلب؛ حينما توجّه السلطانُ الأشرف برسباي إلى آمد لدفع أذى التركمان الذين تغلّبوا على بلاد آمد وماردين وغيرها بعد اللَّنكية(1)؛ لما كثر من إفسادهم ونهب أموال الرَّعايا، وقطع الطرق على القوافل، وغير ذلك ممّا اشتهر.

ولما أشرف صاحبُ الترجمة مع رفاقه على حلب تلقّاهم أهلُها بالترحيب، وكان من جملتهم: العلّامة محب الدين محمد بن محمد بن محمد الحنفيّ المعروف بابن الشِّحْنة (ت 815 هـ)، فسلّم عليه وهنَّأه بالسلامة، وسأله صاحبُ الترجمة عن الشيخ الحافظ محدِّث البلاد الحلبية برهان الدين سبط ابن العجمي(2)، فذكر له أنه بخيرٍ، فقال له: (لم أشدَّ الرَّحل، ولا استبحتُ القَصْر؛ إلّا لِلُقيه).

--------------------------------------------

(1) نسبة إلى تيمورلنك بن طرغاي الحفظاي الأعرج؛ زعيم ابتدأ ملكه لما انقرضت دولة بني جنكيز خان وكان طاغيةً سفَّاحًا؛ يقتل المسلمين، ويترك الكافرين. انظر ترجمتَه في: "الضوء اللامع" (46/ 3 - 50)

(2) هو برهان الدين إبراهيم بن محمد بن خليل الطرابلسيّ ثم الحلبي، سبط ابن العجمي،

এটি ছিল হাজ্জারের নিকট তাঁর ‘সুনান ইবনে মাজাহ’ শ্রভণের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কারণে, তবে তাঁর (হাজ্জারের) মৃত্যু আগে হয়ে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় তিনি যখন রামলায় ছিলেন, তখন তাঁর কাছে তাঁর (হাজ্জারের) মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছে। ফলে তিনি জেরুজালেম থেকে মুখ ফিরিয়ে দামেস্কের দিকে যাত্রা করেন। আর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করেননি যতক্ষণ না দামেস্কে তাঁর উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে; কারণ ইবনুল আলাঈর মৃত্যুর পর দামেস্কই ছিল তাঁর কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

দামেস্কে তাঁর অবস্থান ছিল একশত দিন এবং উক্ত সময়ে তাঁর শ্রুত বিষয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার হাদিস-খণ্ড। আর বড় গ্রন্থসমূহের মধ্যে ছিল: তাবারানি কৃত ‘আল-মুজাম আল-আওসাত’, ইবনে মানদাহ কৃত ‘মা’রিফাতুস সাহাবাহ’, ‘মুসনাদে আবু ইয়ালা’র অধিকাংশ অংশ এবং এ জাতীয় আরও অনেক কিছু।

তিনি যখন দামেস্কে ছিলেন, তখন মহান আল্লাহ তাঁর মনে সংকল্প সৃষ্টি করেন যে তিনি আলেপ্পোর দিকে যাত্রা করবেন, যাতে সেখানে মুসনিদগণের শেষ ব্যক্তি উমর ইবনে আবিদগমাশ আন-নাসিবি আল-হালাবি (মৃত্যু ৮০১ হিজরি) থেকে হাদিস গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু তাঁর (উমরের) মৃত্যুর খবর তাঁর কাছে পৌঁছালে তিনি সেখানে যাওয়ার সংকল্প থেকে বিরত থাকেন। অতঃপর দীর্ঘকাল পর—অর্থাৎ আটশ ছত্রিশ (৮৩৬) হিজরি সালে—মহান আল্লাহ তাঁর জন্য আলেপ্পো সফরের ব্যবস্থা সহজ করে দেন; যখন সুলতান আল-আশরাফ বার্সবে আমিদের দিকে রওনা হন সেই তুর্কিমানদের উপদ্রব দমনের জন্য, যারা লঙ্কিয়া(1) বাহিনীর পরে আমিদ, মারদিন ও অন্যান্য শহর জয় করে প্রভাব বিস্তার করেছিল। কারণ তাদের বিপর্যয়, প্রজাদের সম্পদ লুণ্ঠন, কাফেলাগুলোর পথ অবরোধ এবং এ জাতীয় আরও অন্যান্য অপকর্ম অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল যা সর্বজনবিদিত ছিল।

যখন এই জীবনীগ্রন্থের আলোচ্য ব্যক্তি তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে আলেপ্পোর সন্নিকটে পৌঁছালেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা তাঁদেরকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন: আল্লামা মুহিব্বুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-হানাফি, যিনি ইবনুশ শিহনা (মৃত্যু ৮১৫ হিজরি) নামে পরিচিত। তিনি তাঁকে সালাম দিলেন এবং তাঁর নিরাপদ আগমনের জন্য অভিনন্দন জানালেন। অতঃপর আলোচ্য ব্যক্তি তাঁকে আলেপ্পো ভূখণ্ডের শায়খ, হাফেজ ও মুহাদ্দিস বুরহানুদ্দীন সিবত ইবনুল আজামি(2) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি জানালেন যে তিনি ভালো আছেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন: “আমি কেবল তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যেই সফরের প্রস্তুতি নিয়েছি এবং (মুসাফির হিসেবে) সালাত সংক্ষেপ করার সুযোগ গ্রহণ করেছি।”

--------------------------------------------

(1) এটি তৈমুর লং ইবনে তারগাই আল-হাফজাই আল-আরাজ-এর দিকে সম্পৃক্ত; তিনি ছিলেন এমন একজন নেতা যার রাজত্ব শুরু হয়েছিল যখন চেঙ্গিস খানের বংশধরদের শাসনের অবসান ঘটে। তিনি ছিলেন একজন রক্তপিপাসু স্বৈরশাসক; তিনি মুসলিমদের হত্যা করতেন এবং কাফেরদের ছেড়ে দিতেন। দেখুন তাঁর জীবনী: ‘আদ-দউ আল-লামি’ (৩/৪৬-৫০)।

(2) তিনি হলেন বুরহানুদ্দীন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খলিল আত-তারাবুলুসি, অতঃপর আল-হালাবি, সিবত ইবনুল আজামি।