(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: -)
الرصف لما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم من الفعل والوصف القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الرصف لما روي عن النبي - صلى الله عليه وسلم - من الفعل والوصف ويليه شرح الغريب
المؤلف: محمد بن محمد بن عبد الله العاقولي (733 - 797 هـ)
الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1994 م
عدد الأجزاء: 2
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 19 صفر 1440
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর কর্ম ও গুণাবলি বিষয়ক সুবিন্যস্ত গ্রন্থ বিভাগ: সীরাত-উন-নবী (নবীজির জীবনী)
গ্রন্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর কর্ম ও গুণাবলি বিষয়ক সুবিন্যস্ত গ্রন্থ এবং এরপর রয়েছে কঠিন শব্দসমূহের ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ আল-আকুলি (৭৩৩ - ৭৯৭ হিজরি)
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতিতে: রাবিতাতুন নুসসাখ، বাস্তবায়নে (মারকাজুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ)، এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আওকাফ আবদুল্লাহ বিন তুর্কি আদ-দুহায়িয়ান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ সফর ১৪৪০ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: -)
الرصف لما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم من الفعل والوصف
ويليه
شرح الغريب
تأليف
العلامة محمد بن محمد بن عبد الله العاقولي
(733 هـ - 797 هـ)
[الجزء الأول]
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলি ও গুণাবলি সংক্রান্ত বর্ণিত বিষয়াবলির বিন্যাস
এবং এর সাথে রয়েছে
অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যা
রচনায়
আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আকুলি
(৭৩৩ হিজরি - ৭৯৭ হিজরি)
[প্রথম খণ্ড]
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৩)
الرَّصْفُ لِما رُويَ عَنِ النّبِيّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الفِعْلَ وَالوَصْفِ
[1]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর কর্ম ও বৈশিষ্ট্যসমূহের সুবিন্যস্ত সংকলন
[১]
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৪)
حُقُوقُ الطَّبْعِ مَحْفُوظَةُ لِمُؤَسَّسَةِ الرِّسَالَةِ وَلا يَحقّ لأيّ جهَةٍ أَن تَطبَعَ أَو تُعطِي حَقّ الطّبْعَ لِأحَدٍ سَوَاء كانَتْ مُؤسَّسَةً رَسْميَّةً أَو أفرَادًا
الطَّبْعَةُ الأولى
1414 هـ - 1994 م
مؤسسة الرسَالَة للطباعة والنشر والتوزيع
بَيْروت - شَارِع سوريَا - بنَاية صَمَدي وَصَالحَة
هَاتف: 603243 - 815112 - صَ. بَ: 7460 - بَرقيًا: بيُوشرَان
সর্বস্বত্ব রিসালাহ ফাউন্ডেশন কর্তৃক সংরক্ষিত। কোনো পক্ষেরই এটি মুদ্রণ করার অথবা কোনো দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তি নির্বিশেষে কাউকে মুদ্রণস্বত্ব প্রদানের অধিকার নেই।
প্রথম সংস্করণ
১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ
বৈরুত - সিরিয়া স্ট্রিট - সামাদি ও সালহা ভবন
ফোন: ৬০৩২৪৩ - ৮১৫১১২ - পি.ও. বক্স: ৭৪৬০ - টেলিগ্রাম: বিউশরান
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةالحمد لله تعالى على عظيم نعمه، والشكر له سبحانه على عميم فضله، والصلاة والسلام كثيرًا على محمد خاتم الأنبياء والرُّسل، الذي أرسله ربُّ العالمين إلى النّاس رحمةً، فقال تعالى فيه: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} وبعد: فأودُّ أن أقدِّم كلمةً موجزةً لتعريف القارئ على القصد من اختياري هذا الكتاب ونشره، وعدم ذكر أسماء العلماء المحققين الذين قاموا بتحقيق نصه، وتخريج أحاديثه، والتدقيق فيها، والتعليق عليها، حتى خرج بجهدهم المشكور بهذه الصورة التى نترك الحكم فيها للقارئ، وندعو الله لهم بخير الجزاء، وأن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم.
أما السبب الذي حدا بي إلى اختيار كتاب "الرصف" من بين كتب السيرة العطرة، فلكونه قد جمع فيه مؤلفه رحمه الله تعالى ما أمكن له الجمع من السنة القولية والفعلية، نقلًا عن الكتب الصحاح، من غير تطويل مُمِلّ، أو اختصار مُخِلٍّ، الأمرُ الذي قل أن يوجد له نظير فى موضوعه فى المكتبات فى حدود اطلاعي.
ولقد كان لأحد الكتاب - وهو باحث محقق - ولاطلاعه على مكتبة (الفاتح) فى استانبول، فضل التعريف بالكتاب، والإشارة إليه في إحدى المجلات الإسلامية.
كما أن لنسخة الشيخ الطاهر بن عاشور التي سمح - جزاه الله خيرًا - بأخذ صورة عنها من مكتبته، فائدة كبيرة بمقارنتها مع نسخة استانبول، واعتمادها في الطبع لكونها مصححة ومضبوطة، والخطأ فيها قليل، وقد أثبت عليها إجازة المؤلف، أو خطه.
ভূমিকামহান আল্লাহর সুমহান নিআমতসমূহের জন্য সকল প্রশংসা এবং তাঁর ব্যাপক অনুগ্রহের জন্য তাঁরই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক শেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যাকে রাব্বুল আলামীন মানুষের প্রতি রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন: "আমি তো আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।" অতঃপর: আমি এই গ্রন্থটি নির্বাচন ও প্রকাশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পাঠককে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দিতে চাই। সেই সাথে ঐ সকল গবেষক আলিমদের নাম উল্লেখ না করার কারণও জানাতে চাই, যারা এর মূল পাঠ্য তাহকীক করেছেন, হাদীসসমূহের তাখরীজ করেছেন এবং সেগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় টীকা প্রদান করেছেন। তাঁদের প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার ফলেই কিতাবটি এই রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে, যার বিচারের ভার আমি পাঠকের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। আমি আল্লাহর কাছে তাঁদের জন্য উত্তম প্রতিদান কামনা করছি এবং প্রার্থনা করছি তিনি যেন এই আমলটিকে একান্তভাবে তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।
সীরাতের অগণিত সুগন্ধিযুক্ত কিতাবসমূহের মধ্য থেকে "আর-রাসফ" কিতাবটি বেছে নেওয়ার কারণ হলো, এর লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এতে সাধ্যানুযায়ী নবীজির বাচনিক ও প্রায়োগিক সুন্নাহর সমাবেশ ঘটিয়েছেন। এটি তিনি সহীহ গ্রন্থসমূহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যাতে নেই কোনো বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রতা কিংবা কোনো ত্রুটিপূর্ণ সংক্ষিপ্তকরণ। আমার জানামতে গ্রন্থাগারগুলোতে এই বিষয়ের ওপর এর সমতুল্য কিতাব খুব কমই রয়েছে।
একজন লেখক—যিনি একজন গবেষক মুহাক্কিক—ইস্তাম্বুলের 'আল-ফাতিহ' লাইব্রেরিতে তাঁর অধ্যয়নের সুবাদে কিতাবটির পরিচয় তুলে ধরা এবং একটি ইসলামি সাময়িকীতে এর প্রতি ইঙ্গিত করার কৃতিত্বের অধিকারী।
তেমনিভাবে শেখ তাহের বিন আশুরের কপিটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যা তিনি তাঁর ব্যক্তিগত লাইব্রেরি থেকে অনুলিপি সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছেন—আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। ইস্তাম্বুলের কপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং ছাপার কাজে একেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে; কারণ এটি অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও সুসংবদ্ধ এবং এতে ভুলের পরিমাণ খুবই সামান্য। এতে লেখকের ইজাযত অথবা তাঁর নিজ হাতের লেখা সংরক্ষিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومما زادني قناعة ورضى بهذا الكتاب فيما بعد، أن قرأت مقالًا منشورًا في إحدى المجلات الثقافية بعنوان: إحياء تراث السيرة، لأحد الكتاب أيضًا، وله اطلاع واسع بالمخطوطات العربية، وهذا نص ما نقلته من مقالته:
وهذا الكتاب جامع، جاء في آخره: كتب على يد الفقير إلى الله تعالى إسماعيل بن موسى بن علي الجرجاني، ولم يذكر تاريخ كتابته: كان المؤلف مدرس المستنصرية ببغداد كأبيه وجده، ودرَّس أيضًا بالنظامية كأبيه، وكان عالم بغداد، ورئيس العلماء بالمشرق.
وهناك سير عديدة أخرى لا مجال لتعدادها الآن، وبينها ما يوافق مختلف الرغبات، بين مختصر ومتوسط ومفصل، وليس لنا إلا أن ندعو في هذا السبيل إلى أمر يصرف الناس عن النزعات الضالة والمضلة، وأن يميلوا إلى معرفة خير من خدم البشر في الإصلاح والتقوى، وفي الدعوة إلى السلوك المرضي.
وأملنا من المؤسسات الإسلامية في مختلف الأرجاء، الالتفات إلى أمر جليل، وهو إحياء تراث سيرة الرسول عليه الصلاة والسلام، لتكون قدوة في الإِصلاح، وطريقًا في النهج الحق، ووسيلة لتهذيب الخلق الإسلامي السامي في الفلاح وخير العمل، فإن النفوس في أكثر قد شذت عن الغرض، وصرفت عن المطلوب، وصارت على سِيَر غير محمودة، ولا مرضية، وليس لنا إلا أن نهتم بتحقيق هذه السيرة الجليلة تحقيقًا علميًا، يتيسَّر لكل أحدٍ اقتناؤها، حتى ترجع النفوس عن غيّها، ولنعيد ذكريات الرسول عليه الصلاة والسلام في حياته الخاصة والعامة، ولنجعلها قدوة للعمل المشترك لخير الإنسانية.
وأما عن إغفال ذكر المحققين، فمهما كان من سبب، فلا أظن أنه سيشفع لي، لما للمحققين من الحق أن ينسب إليهم ما يقومون به من ضبط وتحقيق وتخريج، كذلك للقارئ حق آخر، وهو الاطلاع على من خدموا في هذا الكتاب السنة المطهرة، وإذا لم يكن العذر مقبولًا على كل حال في هذا عند كثير من الناس، فلا أقل من تبيان الداعي إلى ذلك، وهو أن يبقى هذا العمل خالصًا لله تعالى، وليس فيه مَظِنَّة لشُهْرَةٍ، أو انتفاع بدعاية، والله ولي التوفيق.
النّاشر
পরবর্তীতে এই কিতাবটি সম্পর্কে আমার সন্তুষ্টি ও বিশ্বাস আরও বেড়ে যায় যখন আমি একটি সাংস্কৃতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত 'সিরাত ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ' শিরোনামে জনৈক লেখকের একটি প্রবন্ধ পড়ি। পাণ্ডুলিপি বিষয়ে তাঁর ব্যাপক জানাশোনা রয়েছে। তাঁর প্রবন্ধ থেকে আমি যা উদ্ধৃত করেছি তা নিম্নরূপ:
এই কিতাবটি একটি সংকলন গ্রন্থ। এর শেষে বর্ণিত হয়েছে: এটি মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা ইসমাইল ইবনে মুসা ইবনে আলি আল-জোরজানির হাতে লিখিত। এর রচনার তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। লেখক তাঁর পিতা ও পিতামহের মতো বাগদাদের আল-মুস্তানসিরিয়া মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন এবং তাঁর পিতার মতো নিজামিয়া মাদরাসাতেও শিক্ষকতা করেছেন। তিনি বাগদাদের শীর্ষ আলেম এবং প্রাচ্যের আলেমদের প্রধান ছিলেন।
এছাড়াও আরও অনেক সিরাতগ্রন্থ রয়েছে যা এখানে গণনা করার সুযোগ নেই। সেগুলোর মধ্যে সংক্ষিপ্ত, মধ্যম ও বিস্তারিত বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থ রয়েছে যা বিভিন্ন রুচির মানুষের অনুকূল। এই পথে আমাদের কেবল এই আহ্বান জানানোর আছে যে, মানুষ যেন ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর প্রবণতাগুলো ত্যাগ করে এবং সংশোধন ও তাকওয়া এবং পছন্দনীয় আচরণের দাওয়াত প্রদানের ক্ষেত্রে যিনি মানবতার শ্রেষ্ঠ সেবা করেছেন, তাঁর সম্পর্কে জানার প্রতি আগ্রহী হয়।
বিভিন্ন প্রান্তের ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলো—তারা যেন একটি মহান বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিরাত ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ; যাতে তা সংশোধনের ক্ষেত্রে আদর্শ, সত্য পথের পাথেয় এবং কল্যাণ ও নেক আমলের ক্ষেত্রে উন্নত ইসলামি চরিত্র গঠনের মাধ্যম হতে পারে। কেননা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের মন লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে এবং উদ্দেশ্য থেকে বিমুখ হয়ে এমন এক জীবনপদ্ধতি গ্রহণ করেছে যা প্রশংসনীয় বা সন্তোষজনক নয়। এই মহান সিরাতগ্রন্থটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যথাযথভাবে সম্পাদনা করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই, যেন এটি সংগ্রহ করা প্রত্যেকের জন্য সহজ হয় এবং মানুষ তাদের বিভ্রান্তি থেকে ফিরে আসে। এর মাধ্যমে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনের স্মৃতিসমূহ ফিরিয়ে আনতে পারি এবং একে মানবতার কল্যাণে সম্মিলিত কাজের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।
আর গবেষক বা সম্পাদকদের নাম উল্লেখ না করার বিষয়টি সম্পর্কে বলতে গেলে—কারণ যাই হোক না কেন—আমি মনে করি না যে তা আমার জন্য ওজর হিসেবে যথেষ্ট হবে। কেননা গ্রন্থটি বিন্যস্ত করা, সম্পাদনা করা এবং তথ্যসূত্র যাচাই (তাখরিজ) করার ক্ষেত্রে গবেষকদের পূর্ণ অধিকার রয়েছে যে তাদের এই শ্রমকে তাদের নামে অভিহিত করা হোক। একইভাবে পাঠকেরও একটি অধিকার রয়েছে—আর তা হলো পবিত্র সুন্নাহর খিদমতে যারা এই কিতাবটির পেছনে কাজ করেছেন তাদের সম্পর্কে জানা। যদি এ ক্ষেত্রে এই ওজরটি অনেকের কাছে সর্বাবস্থায় গ্রহণযোগ্য না-ও হয়, তবে এর পেছনের মূল কারণটি অন্তত স্পষ্ট করা প্রয়োজন; আর তা হলো এই কাজটিকে কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ রাখা, যেন এতে কোনো প্রকার খ্যাতি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা বা প্রচারণার মাধ্যমে পার্থিব লাভের সম্ভাবনা না থাকে। আল্লাহই তাওফিক দাতা।
প্রকাশক
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة المؤلفهو أبو المكارم غياث الدين محمد بن صدر الدين محمد بن محي الدين عبد الله بن أبي الفضل محمد بن علي بن حماد بن ثابت الواسطي ثم البغدادي الشافعي المعروف بابن العاقولي.
ولد ببغداد سنة 733 هـ ونشأ بها، وسمع من والده وجماعة، وأجاز له جماعة.
قال ابن قاضي شهبة في طبقاته: صدر العراق، ومدرس بغداد، وعالمها، ورئيس العلماء بالمشرق.
وقال الحافظ شهاب الدين بن حِجي: كان مدرس المستنصرية ببغداد كأبيه وجده، ودرس أيضًا بالنظامية كأبيه، ودرس هو بغيرهما، وكان هو وأبوه وجده كبراء بغداد، وانتهت إليه الرياسة بها في مشيخة العلم والتدريس، وصار المشار إليه، والمعوّل عليه، تهرع القضاة والوزراء إلى بابه، والسلطان يخافه، وكان بارعًا في الحديث والمعاني والبيان.
وقال الحافظ برهان الدين الحلبي: كان إمامًا علامة، متبحرًا في العلوم، غاية في الذكاء، مشارًا إليه، وكان دخله كل سنة زيادة على مائة ألف درهم، وكلها ينفقها.
وقال السيوطي في "بغية الوعاة": برع في الفقه والأدب والعربية والمعاني والبيان، وشارك في الفنون، وانتهت إليه رياسة المذهب هناك، سمع من السراج القزويني،
লেখকের জীবনীতিনি হলেন আবু আল-মাকারিম গিয়াসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন সদরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মুহিউদ্দিন আবদুল্লাহ বিন আবিল ফজল মুহাম্মদ বিন আলি বিন হাম্মাদ বিন সাবিত আল-ওয়াসিতি, অতঃপর আল-বাগদাদি আশ-শাফিয়ি, যিনি ইবনুল আকুলি নামে পরিচিত।
তিনি ৭৩৩ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি তার পিতা ও একদল বিদ্বানের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং একদল বিদ্বান তাকে অনুমতি (ইজাজত) প্রদান করেছেন।
ইবনে কাজি শুহবা তার ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে বলেন: তিনি ছিলেন ইরাকের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব, বাগদাদের মুদাররিস ও বিজ্ঞ আলেম এবং প্রাচ্যের আলেম সমাজের প্রধান।
হাফেজ শিহাবুদ্দিন বিন হিজ্জি বলেন: তিনি তার পিতা ও পিতামহের মতো বাগদাদের মুস্তানসিরিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। এছাড়াও পিতার মতো নিজামিয়া মাদরাসায় এবং অন্যান্য স্থানেও তিনি পাঠদান করেছেন। তিনি এবং তার পিতা ও পিতামহ ছিলেন বাগদাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সেখানকার ইলমি মাশায়েখ ও শিক্ষকতার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব তার ওপর এসেই সমাপ্ত হয়। তিনি সবার লক্ষ্যস্থল ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিতে পরিণত হন; বিচারক ও মন্ত্রীগণ তার দরবারে ছুটে আসতেন এবং সুলতান তাকে ভয় পেতেন। তিনি হাদিস, মাআনি ও বায়ান শাস্ত্রে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন।
হাফেজ বুরহানুদ্দিন আল-হালাবি বলেন: তিনি ছিলেন একজন ইমাম ও বিজ্ঞ পণ্ডিত, বিভিন্ন শাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী, তুখোড় বুদ্ধিমান ও প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। প্রতি বছর তার আয় ছিল এক লক্ষ দিরহামের বেশি এবং এর পুরোটাই তিনি ব্যয় করতেন।
সুয়ুতি ‘বুগইয়াতুল উয়াত’ গ্রন্থে বলেন: তিনি ফিকহ, সাহিত্য, আরবি ভাষা, মাআনি ও বায়ান শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন এবং অন্যান্য বিবিধ শাস্ত্রেও তার পদচারণা ছিল। সেখানে মাযহাবের নেতৃত্বের দায়িত্ব তার ওপরই সমাপ্ত হয়েছিল। তিনি সিরাজ আল-কাজউইনি থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৮)
وأجاز له الميدومي وغيره، وكان عند أهل بلده شيخ الحديث في الدنيا، وكان فهمًا جيدًا مفرط الكرم، ديِّنًا، حسن الشكل والأخلاق، حدث بمكة والمدينة والشام، وصنف "شرح المصابيح"، و"شرح منهاج البيضاوي"، و"الغاية القصوى"، وغيرها.
وقال ابن حجر: ولما دخل تيمورلنك هرب منها مع السلطان أحمد بن أويس فنهبت أمواله وسبيت حريمه.
قال ابن قاضي شهبة: ولما رجع السلطان إلى بغداد رجع معه فأقام دون خمسة أشهر في بغداد.
توفي رحمه الله في بغداد سنة 797 هـ. وقال السيوطي: 798 هـ ودفن بالقرب من معروف الكرخي بوصية منه.
আল-মায়দুমি এবং অন্যান্যরা তাঁকে ইজাযত প্রদান করেছেন। তাঁর দেশবাসীর নিকট তিনি ছিলেন তৎকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শায়খুল হাদিস। তিনি অত্যন্ত মেধাবী, অতিশয় দানশীল, ধর্মপ্রাণ এবং সুন্দর অবয়ব ও চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি মক্কা, মদিনা ও শাম দেশে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ‘শারহুল মাসাবিহ’, ‘শারহু মিনহাজিল বায়দাউয়ি’, ‘আল-গায়াতুল কুসওয়া’ সহ আরও অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন।
ইবনে হাজার বলেন: তিমুর লং যখন প্রবেশ করল, তখন তিনি সুলতান আহমদ ইবনে উওয়াইসের সাথে সেখান থেকে পলায়ন করেন। এতে তাঁর সম্পদ লুণ্ঠিত হয় এবং তাঁর পরিবার-পরিজন বন্দি হন।
ইবনে কাজি শুহবা বলেন: সুলতান যখন বাগদাদে ফিরে এলেন, তিনিও তাঁর সাথে ফিরে এলেন এবং সেখানে পাঁচ মাসেরও কম সময় অবস্থান করেন।
তিনি ৭৯৭ হিজরি সনে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। আস-সুয়ূতি বলেন: ৭৯৮ হিজরি। তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী তাঁকে মারুফ আল-কারখির কবরের নিকট দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৯)
راموز الصفحة الأولى من نسخة الطاهر بن عاشور
আত-তাহির বিন আশুর-এর সংস্করণের প্রথম পৃষ্ঠার সংকেত।
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ১১)
راموز الصفحة الأخيرة من نسخة الطاهر بن عاشور
আল-তহির বিন আশুর-এর অনুলিপির শেষ পৃষ্ঠার সমাপ্তি সংকেত
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
راموز الصفحة الأولى من النسخة الاستنبولية
ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার সংকেত
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
راموز الصفحة الأخيرة من النسخة الاستنبولية
ইস্তাম্বুলীয় পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পৃষ্ঠার সংকেত।
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
وما توفيقي إلا بالله
الحمد لله الذي بعث محمدًا صلى الله عليه وسلم رحمةً للأنام، ونعمةً أغنت عن مُنْهَلِّ الغمام، ونورًا أخجل نَوْرَ الزهر، وأخرج الأمة من الظلام، وشاهدًا على الأمم بتبليغ الأحكام، ومبشِّرًا بما أعدّهُ الله تعالى في دار السلام، ونذيرًا أنذرهم يوم الآزفة إِذِ القُلُوبُ لدى الحَنَاجِر من دَهَشِ الاصطِلام، وداعيًا إلى الله بإذنه وإلى مأدُبةِ الإِكرام، وسراجًا منيرًا سالمًا من القَتَامِ.
أحمده والتوفيقُ لحمدِه مِنْ أعظم نِعَمِه الجِسام، وأشكره شكرًا يتكفَّلُ بالمزيد من إمداد الإِنعام.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له إلهًا وجَبَ في بَدَاهَةِ العقول تنزُّهُه عن سِمَة الحَدَث والانفصَامِ، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله نبيًا اختاره للدَّعوة العامة قبل وجود الخاصِّ والعامِّ، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه مشرِّبي هامِ الطَّغامِ (1) غِرار الصوارمِ والأبطال في لُجَجِ الاصطِدامِ، صلاةً دائمةً باقيةً مَا اقترنَ اسمُه باسمِه في الأَذان والإقامة والخُطَبِ وشهادة الإِسلام، وسلَّم تسليمًا كثيرًا.
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আর আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর সাহায্যেই।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন; এমন এক নিয়ামত হিসেবে যা বর্ষণমুখর মেঘমালার বৃষ্টির চেয়েও অধিক অভাবমুক্তকারী; এমন এক নূর যা পুষ্পের শোভাকে লজ্জিত করে; যিনি উম্মতকে অন্ধকার থেকে বের করে এনেছেন; শরিয়তের বিধানাবলি পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সকল উম্মতের ওপর সাক্ষী হিসেবে, এবং শান্তির নিবাসে (জান্নাতে) মহান আল্লাহ যা প্রস্তুত রেখেছেন তার সুসংবাদদাতা হিসেবে, আর আসন্ন সেই মহাপ্রলয়ের দিবসের সতর্ককারী হিসেবে যখন ত্রাসে ও আতঙ্কে হূদপিণ্ডগুলো কণ্ঠনালীর কাছে চলে আসবে; আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে ও তাঁর মহাসম্মানের দস্তরখানের দিকে আহ্বানকারী হিসেবে এবং অন্ধকারমুক্ত এক সমুজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে।
আমি তাঁর প্রশংসা করছি, আর তাঁর প্রশংসার তাওফিক লাভ করা তাঁর সুমহান নিয়ামতসমূহেরই অন্যতম; এবং আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এমন এক কৃতজ্ঞতা যা অধিকতর নিয়ামত লাভের নিশ্চয়তা প্রদান করে।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি এমন এক ইলাহ যাঁর সত্তা নশ্বরতা ও বিভাজনের চিহ্ন থেকে পবিত্র হওয়া বুদ্ধি বিবেকের বিচারে অনিবার্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; এমন এক নবী যাকে তিনি সাধারণ ও বিশেষের অস্তিত্বের পূর্বেই বিশ্বজনীন দাওয়াতের জন্য মনোনীত করেছেন। আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সেই সাহাবীগণের ওপর—যাঁরা যুদ্ধের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ধারালো তরবারির আঘাতে পাপাচারী কাফেরদের মস্তক দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন; এমন রহমত যা চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর, যতক্ষণ পর্যন্ত আযান, ইকামত, খুতবা ও ইসলামের শাহাদাত বা সাক্ষ্যবাণীতে আল্লাহর নামের সাথে তাঁর নাম যুক্ত থাকবে। আর তিনি তাঁদের ওপর অজস্র সালাম বর্ষণ করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أما بعد، فهذا كتابٌ مختصَرٌ جامعٌ لكثيرٍ من أوصاف رسول الله صلى الله عليه وسلم وأفعاله، وجُملٍ من أقواله، حملنا على تأليفه أنّا مكلَّفون بالإِيمان به صلى الله عليه وسلم، وذلك يقتضي معرفته ليصادف تصديقُنا محلَّه، وكمال التّعريف يحصل بذكر الاسم والنَّسبِ والوصفِ والأفعالِ والأقوالِ.
أما الاسم، فلأنّه السِّمة الدَّالّة على مسمَّاه متى ما أطلق فُهِم منه، قال الله تعالى: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم: 65].
وأما النَّسبُ، فلأنَّ الله تعالى قسم بني آدم إلى ما قسمهم إليه من الشعوب والقبائل لذلك، فقال تعالى: {وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا} [الحجرات: 13].
وأما الصّفات، فلأنَّها تُزيْلُ ما يبقى من الجهالة بعد التَّعريف بالاسم والنَّسب، وتجعل المنعوت كالحاضر، فإذا كانت صفاتُه جميلةً حقّقت محبّته في سُويداء القلب.
وأما الأفعال، فلأنّها شواهِدُ الرِّجال، ولهذا كان العالم معرِّفًا للخالق تعالى.
وأما الأقوال، فلأنّها المعرِّف الواضح لعلم القائل وكماله، ولهذا قيل: "المَرْءُ مَخْبوءٌ تحتَ لِسَانِه" وعامة الكتب النَّقلِيَّة موضوعة لضبطها.
أما الأفعال، فلم نرَ من اعتنى بجمعها مفصّلةً قبل كتابنا هذا، وإنّما تُذْكَرُ في أثناء الأقوال، وذلك لأن القول عندهم أدلُّ من الفعل، وهو كذلك إلا أن لفعل القائل زيادة تأكيد ليست للقول وحده خصوصًا، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما رواه البخارى ومسلم رحمهما الله عن عائشة رضي الله عنها:
অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বহু গুণাবলি, কার্যাবলি এবং তাঁর বাণীর সমষ্টিকে শামিল করে। এটি সংকলন করতে আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে এই যে, আমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনতে আদিষ্ট। আর এটি তাঁর সম্পর্কে জানা দাবি করে, যাতে আমাদের বিশ্বাস যথাযথ স্থানে নিপতিত হয়। আর পূর্ণ পরিচয় লাভ হয় নাম, বংশপরিচয়, গুণাবলি, কার্যাবলি ও বক্তব্যের বর্ণনার মাধ্যমে।
নামের বিষয় হলো, কারণ এটি এমন এক নিদর্শন যা নামধারী ব্যক্তিকে নির্দেশ করে; যখনই তা উচ্চারণ করা হয়, তখনই তা থেকে তাকেই বোঝা যায়। মহান আল্লাহ বলেন: "আপনি কি তাঁর সমজাতীয় কাউকে জানেন?" [মারইয়াম: ৬৫]।
আর বংশপরিচয়ের বিষয় হলো, কারণ আল্লাহ তাআলা আদম সন্তানকে সে কারণেই বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার।" [আল-হুজুরাত: ১৩]।
আর গুণাবলির বিষয় হলো, কারণ এটি নাম ও বংশপরিচয়ের মাধ্যমে পরিচিতি লাভের পর অবশিষ্ট অজ্ঞতা দূর করে এবং গুণান্বিত ব্যক্তিকে উপস্থিত ব্যক্তির ন্যায় করে তোলে। সুতরাং যদি তাঁর গুণাবলি সুন্দর হয়, তবে তা হৃদয়ের গভীরে তাঁর ভালোবাসা সুপ্রতিষ্ঠিত করে।
আর কার্যাবলির বিষয় হলো, কারণ তা হলো ব্যক্তিদের চারিত্রিক সাক্ষ্য; আর এ কারণেই সৃষ্টিজগত মহান স্রষ্টার পরিচয় প্রদানকারী।
আর বক্তব্যের বিষয় হলো, কারণ তা বক্তার জ্ঞান ও পূর্ণতার স্পষ্ট পরিচয় প্রদানকারী। এ কারণেই বলা হয়েছে: "মানুষ তার জিহ্বার নিচে লুকায়িত।" আর বর্ণনাভিত্তিক অধিকাংশ কিতাবই সেগুলো সংরক্ষণের জন্য রচিত হয়েছে।
কার্যাবলির ক্ষেত্রে আমরা এই কিতাবটির পূর্বে কাউকে বিস্তারিতভাবে তা সংকলনে গুরুত্ব দিতে দেখিনি। বরং সেগুলো বক্তব্যের মাঝেই উল্লেখ করা হতো। কারণ তাদের নিকট কাজ অপেক্ষা কথা অধিক নির্দেশক। আর বিষয়টি তেমনই, তবে বক্তার কাজের মধ্যে এমন অতিরিক্ত নিশ্চয়তা রয়েছে যা কেবল কথার মধ্যে নেই। বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন সে সম্পর্কে ইমাম বুখারী ও মুসলিম (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
"ما بَالُ أقْوامٍ يتَنَزَّهون عَنِ الشَّيءِ أَصْنَعُهُ، فَوَالله إنِّي لَأعلَمُهُم بالله، وأشَدُّهُم له خَشيَةً" (1).
واعتمدنا من كتب السُّنَن الجامعة ما جمعه الشيخ العلامة الثِّقة مجدُ الدِّين مباركُ بنُ الأَثِير الجزري (2) في كتابه "جامع الأصُول" (3) ونقلنا منه غالبَ ما عَزَوناه إلى أصوله. وكتاب "الجمع بين الصحيحين" تأليف الشيخ ضياء الدين أبي حفص عمر بن بدر بن سعيد الموصلي (4)، وكِتاب سنن أبي عبد الله محمد بن يزيد المعروف بابن ماجه (5) ، ومن كتب الأوصاف: كتاب "دلائل النبوة" تأليف الإِمام المجتهد أبي بكر البيهقي (6)، وكتاب "الشفا" تأليف
--------------------------------------------
"সেই সম্প্রদায়ের কী হলো যারা এমন কাজ থেকে বিরত থাকে যা আমি করি? আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই আমি তাদের চেয়ে আল্লাহ সম্পর্কে অধিক অবগত এবং তাদের মধ্যে তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি" (১)।
আমরা নির্ভরযোগ্য সংকলিত সুনান গ্রন্থসমূহ থেকে শাইখ, আল্লামা, বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব মাজদুদ্দিন মুবারক ইবনুল আসির আল-জাযারি (২) তাঁর ‘জামেউল উসুল’ (৩) গ্রন্থে যা কিছু সংগ্রহ করেছেন তার ওপর নির্ভর করেছি এবং আমরা যে সব হাদিসকে তার মূল উৎসের দিকে সম্পৃক্ত করেছি তার অধিকাংশ এই গ্রন্থ থেকেই গ্রহণ করেছি। এবং শাইখ জিয়াউদ্দিন আবু হাফস উমর বিন বদর বিন সাঈদ আল-মাওসিলি (৪) কর্তৃক রচিত ‘আল-জামউ বাইনাস সহিহাইন’ কিতাব, এবং ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ, যিনি ইবনে মাজাহ (৫) নামে পরিচিত তাঁর ‘সুনান’ কিতাব। আর সিরাত ও গুণাবলি বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে: ইমাম মুজতাহিদ আবু বকর আল-বায়হাকি (৬) রচিত ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ কিতাব এবং ‘আশ-শিফা’ কিতাব যার লেখক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ২০)
القاضي السعيد عياض بن موسى اليحصبي (1)، وكتاب "النعت" تأليف أبي عبد الله محمد بن علي بن الحسن الحكيم الترمذي (2)، وكتاب "الطبقات" تأليف أبي عبد الله محمد بن سعد بن منيع (3) كاتب الواقدي.
وهذه الكتب هي الأصول المعتمد عليها عند علماء هذا الشأن المتلقّاة بالقبول، وطرق روايتنا لها بينة في كتاب مشيختنا المسمى بـ "الدّراية في معرفة الرواية" ورتَّبنا كتابنا هذا على سبعة عشر فصلًا.
--------------------------------------------
বিচারপতি সাঈদ ইয়ায ইবন মূসা আল-ইয়াহসুবি (১), এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন আলী ইবন হাসান আল-হাকিম আত-তিরমিযী (২) রচিত "আন-না'ত" কিতাব, এবং আল-ওয়াকিদির লেখক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন সা'দ ইবন মানী' (৩) রচিত "আত-তাবাকাত" কিতাব।
এই কিতাবসমূহ হলো এই বিষয়ের আলেমদের কাছে নির্ভরযোগ্য মূল উৎস যা সর্বজনগৃহীত, এবং এগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের বর্ণনার সূত্রসমূহ আমাদের মাশায়েখদের "আদ-দিরায়াহ ফী মা'রিফাতিল রিওয়ায়াহ" নামক কিতাবে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। আমরা আমাদের এই কিতাবটি সতেরোটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفصل الأول: في ذكر أسمائه الشريفة، ونسبه، وأحواله، وما يتعلق بذلك، وبالنبوة، والهجرة
الفصل الثاني: في ذكر أوصافه وأخلاقه
الفصل الثالث: في ذكر لباسه وألوان ثيابه
الفصل الرابع: في الزينة وما يتعلق بها
الفصل الخامس: في ذكر الكراع وآلة الحرب
الفصل السادس: في ذكر إبله وماشيته
الفصل السابع: في ذكر مواليه وخدمه ورسله ومؤذِّنيه
الفصل الثامن: في ذكر مساكنه ومسجده الشريف، وذكر المدينة المنورة الشريفة
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্মানিত নামসমূহ, বংশপরিচয়, তাঁর অবস্থাসমূহ এবং এই সংক্রান্ত বিষয়াদি এবং নবুওয়াত ও হিজরত প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর গুণাবলি ও চরিত্র বর্ণনা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর পোশাক এবং তাঁর পরিধেয় বস্ত্রের রঙসমূহ বর্ণনা প্রসঙ্গে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সাজসজ্জা এবং এই সংক্রান্ত বিষয়াদি প্রসঙ্গে।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গবাদি পশু এবং যুদ্ধাস্ত্র বর্ণনা প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর উট ও গবাদি পশু বর্ণনা প্রসঙ্গে।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর মুক্তদাস, সেবক, দূত ও মুয়াজ্জিনগণ বর্ণনা প্রসঙ্গে।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর আবাসস্থল, তাঁর সম্মানিত মসজিদ এবং বরকতময় মদিনা মুনাওয়ারা বর্ণনা প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ২২)
الفصل التاسع: في ذكر العبادات
الفصل العاشر: في ذكر المعاملات وما يجري معها
الفصل الحادي عشر: في ذكر المناكحات والزوجات
الفصل الثاني عشر: في الجنايات والحدود وأحكامها
الفصل الثالث عشر: في ذكر الأطعمة والصيد والذبائح وما يتعلق بذلك
الفصل الرابع عشر: في الطب والرق
الفصل الخامس عشر: في ذكر الأدب
الفصل السادس عشر: في ذكر ما يكون بعده من الفتن وإخباره بالمغيبات
নবম পরিচ্ছেদ: ইবাদত প্রসঙ্গে
দশম পরিচ্ছেদ: লেনদেন এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি প্রসঙ্গে
একাদশ পরিচ্ছেদ: বিবাহ ও স্ত্রীদের প্রসঙ্গে
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: অপরাধ, দণ্ডবিধি এবং এ সংক্রান্ত বিধানাবলি প্রসঙ্গে
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: খাদ্যদ্রব্য, শিকার, জবেহকৃত পশুপাখি এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি প্রসঙ্গে
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: চিকিৎসা ও দাসত্ব প্রসঙ্গে
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: আদব বা শিষ্টাচার প্রসঙ্গে
ষোড়শ পরিচ্ছেদ: পরবর্তী সময়ে ঘটিতব্য ফিতনাসমূহ এবং অদৃশ্যের সংবাদ দান প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الفصل السابع عشر: في ذكر مرضه صلى الله عليه وسلم ووفاته وأحواله الشريفة بعد الموت
وأردفنا الفصول بشرح ما عساه يشكل من ألفاظها، وأسماء بعض الرواة نقلًا من كتاب "نهاية الغريب" للشيخ مجد الدين المبارك بن الأثير، وكتاب "الصحاح" للجوهري (1) وكتاب "الاستيعاب" للشيخ الحافظ أبي عمر بن عبد البرّ المغربي (2).
ورسمناه بـ "الرصف لما نقل عن النبيّ صلى الله عليه وسلم من الفعل والوصف" وإلى الله تعالى الرغبة في النفع به، وإعادة بركته على مؤلفه، والمشتغل به، والمسلمين أجمعين.
وبالله تعالى العون والعصمة، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
--------------------------------------------
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসুস্থতা, মৃত্যু এবং মৃত্যু-পরবর্তী তাঁর মহিমান্বিত অবস্থাসমূহ বর্ণনায়
এবং আমরা এই পরিচ্ছেদগুলোকে এমন সব শব্দের ব্যাখ্যার সাথে যুক্ত করেছি যা অস্পষ্ট হতে পারে, এবং কিছু বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেছি; যা শায়খ মাজদুদ্দিন আল-মুবারক ইবনুল আসীরের 'নিহায়াতুল গারিব', জাওহারীর 'আস-সিহাহ' (১) এবং শায়খ হাফেজ আবু উমর ইবনে আব্দুল বার আল-মাগরিভীর 'আল-ইসতিআব' (২) গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত।
আর আমরা এর নামকরণ করেছি "আর-রাসফ লিমা নুকিলা আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনাল ফি'লি ওয়াল ওয়াসফ" (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম ও গুণাবলি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার সুবিন্যস্ত সংকলন)। আল্লাহর কাছেই আমরা এর মাধ্যমে উপকার সাধন, এর বরকত এর লেখক, এর পাঠক এবং সকল মুসলিমের ওপর প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করছি।
আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য ও সুরক্ষা প্রার্থনা করি; তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفصل الأول: في ذكر أسمائه الشريفة ونسبه1 - عن جُبير بن مُطْعِم قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لي خمسة أسماء: أنا مُحَمَّد، وأنا أَحمَدُ، وأَنَا المَاحِي الذي يَمْحُو الله بي الكُفْرَ، وأَنَا الحَاشِرُ الَّذي يُحْشَرُ النَّاس على قدمَيَّ، وأنا العَاقِبُ الذي ليسَ بَعْدَهُ نبِيٌّ" أخرجه البخاري ومسلم (1).
ولرسول الله صلى الله عليه وسلم أسماء كثيرة، قال الشيخ النواوي: قال الإمام الحافظ القاضي أبو بكر بن العربي المالكي (2) في كتابه: " [عارضة] الأحوذي" (3) في شرح الترمذي. قال بعض الصوفية: لله تعالى ألف اسم، وللنبي صلى الله عليه وسلم ألف اسم،
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্মানিত নামসমূহ ও বংশপরিচয় প্রসঙ্গে১ - জুবাইর ইবনে মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "আমার পাঁচটি নাম রয়েছে: আমি মুহাম্মদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহীর (বিদূরণকারী), যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে মিটিয়ে দেন। আমি আল-হাশির (একত্রকারী), যার পায়ের কাছে মানুষকে হাশরের ময়দানে একত্রিত করা হবে। এবং আমি আল-আকিব (সর্বশেষ আগমনকারী), যার পরে কোনো নবী নেই।" এটি ইমাম বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)।
এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অনেক নাম রয়েছে। শায়খ আন-নওয়াবী বলেন: ইমাম হাফিজ কাযী আবু বকর ইবনুল আরাবী আল-মালিকী (২) তিরমিযীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাঁর ‘আরিদাতুল আহওয়াযী’ (৩) কিতাবে বলেছেন: কোনো কোনো সূফী বলেছেন, মহান আল্লাহর এক হাজার নাম রয়েছে এবং নবী (সা.)-এরও এক হাজার নাম রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فأما أسماء الله تعالى، فهذا العدد حقير فيها، وأما أسماء النبي صلى الله عليه وسلم، فلم أُحصِها إلا من جهة الورود الظّاهر بصيغة الأسماء البينة فوعيت (1) منها أربعة وستين اسمًا، ثم ذكرها مفصّلة مشروحة، فاستوعب وأجاد، ثم قال: وله وراء هذه الأسماء. وقد ذكر الشيخ شرف الدين الطيبي (2) في كتابه "الكاشف" وغيره أيضًا هذه الأسماء، وهي:
محمد، وأحمد، ومحمود، والماحي، والحاشر، والعاقب، والمُقَفَّي، ونبي الرحمة، ونبي الملاحم، والشَّاهِدُ، والمبشِّرُ، والنذير، والضحوك، والمتوكِّل، والفاتح، والأمين، والمصطفى، والخاتم، والرَّسول، والنَّبيُّ، والأمِّيُّ، والقيِّم، ونبي التوبة، والقاسمُ، والعبدُ، وعبد الله، والمزَّمِّلُ، والمدَّثِّرُ، والشَّفيعُ، والشَّافع، والمشفَّع، والحبيب، والخطيبُ، والحيي، والخليل، والدَّاعي، والسراج المنير، وحريصٌ عليكم، ورؤوفٌ رحيم، والطيب، وذو العزم، والصاحب، والصالح، والسيد، والقائد، والإِمام، والحِرز، والنور، والأزهرُ، والأجودُ، والشَّكورُ، والحق المبين، والكريم، والعظيم، والجبَّار، والخبير، والولي، والمقدَّس، وطه، ويس.
وبعضها لم يذكره الطيبي، وذكره القاضي عياض (3).
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটি অতি নগণ্য। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামসমূহ আমি কেবল সুস্পষ্ট নাম হিসেবে বর্ণিত হওয়ার দিক থেকেই গণনা করেছি। ফলে আমি এর মধ্য থেকে চৌষট্টিটি নাম আয়ত্ত করেছি। এরপর তিনি সেগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ উল্লেখ করেছেন, যাতে তিনি পূর্ণতা দিয়েছেন এবং চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন: এই নামগুলোর বাইরেও তাঁর আরও নাম রয়েছে। আর শাইখ শারফুদ্দীন আত-তিবি তাঁর 'আল-কাশিফ' গ্রন্থে এবং অন্যান্যরাও এই নামগুলো উল্লেখ করেছেন, আর সেগুলো হলো:
মুহাম্মাদ, আহমাদ, মাহমুদ, আল-মাহি, আল-হাশির, আল-আকিব, আল-মুকাফফি, দয়ার নবী, মহাযুদ্ধের নবী, সাক্ষী, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, সহাস্য, তাওয়াক্কুলকারী, বিজয়ী, আমীন (বিশ্বস্ত), মুস্তফা (মনোনীত), সর্বশেষ, রাসূল, নবী, উম্মি, সুপ্রতিষ্ঠিত, তাওবার নবী, কাসিম (বণ্টনকারী), বান্দা, আব্দুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা), মুয্যাম্মিল, মুদ্দাসসির, সুপারিশকারী, সুপারিশকারী (শাফি'), সুপারিশ কবুলকৃত, হাবীব (প্রিয়তম), খতীব (বক্তা), লজ্জাশীল, খলীল (বন্ধু), আহ্বানকারী, উজ্জ্বল প্রদীপ, তোমাদের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী, মমতাময় ও দয়ালু, পবিত্র ও উত্তম, দৃঢ় সংকল্পের অধিকারী, সাথী, সৎকর্মশীল, সরদার, নেতা, ইমাম, আশ্রয়স্থল, নূর, উজ্জ্বলতম, সর্বোত্তম দাতা, অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, সুস্পষ্ট সত্য, সম্মানিত ও উদার, মহান, প্রবল পরাক্রমশালী, পরিজ্ঞাত, অভিভাবক, পবিত্র, ত্বহা এবং ইয়াসিন।
এর মধ্যে কিছু নাম তিবি উল্লেখ করেননি, কিন্তু কাযী ইয়ায উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ذكر نسب رسول الله صلى الله عليه وسلم واصطفائهقال البخاري في ترجمة باب مبعث النبي صلى الله عليه وسلم (1): هو محمدُ بنِ عبدِ الله بنِ عبْدِ المُطَّلبِ بنِ هَاشِم بنِ عَبدِ مَنَاف بنِ قُصيِّ بن كلاب بنِ مُرَّة بنِ كَعبٍ بنِ لؤيِّ بنِ غَالِبِ بنِ فِهْرِ بنِ مَالِكِ بنِ النَّضْرِ بنِ كِنانَةَ [بنِ خزيمة] بنِ مُدْرِكَةَ بنِ إلياس بنِ مضر بنِ نِزار بنِ معدِّ بنِ عدنانَ.
قال الشيخ النواوي: إلى هنا إجماع الأمة، أما بعده إلى آدم، فمختلف فيه أشد الاختلاف، قال العلماء: ولا يصح فيه شيء يعتمد.
وقُصَي، بضم القاف، ولُؤي، بالهمز وتركه، وإلياس بهمزة وصل، وقيل: همزة قطع.
2 - عن أبي هريرة قال: قالَ رسُول الله صلى الله عليه وسلم "بُعثْتُ مِنْ خَيْرِ بنِي آدَمَ قَرْنًا فَقَرْنًا حتّى كُنْتُ مِنَ القَرنِ الَّذي كُنْتُ مِنْهُ" أخرجه البخاري (2).
3 - عن واثِلَةَ بنِ الأسْقَعِ قالَ: سمعْتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولُ: "إنَّ
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরিচয় এবং তাঁর মনোনয়নের বর্ণনাইমাম বুখারি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তি (১) অধ্যায়ের শিরোনামে বলেন: তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আব্দু মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন আন-নাদর বিন কিনানাহ [বিন খুজাইমাহ] বিন মুদরিকাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিজার বিন মাদ বিন আদনান।
শাইখ আন-নওয়াবি বলেন: এই পর্যন্ত উম্মতের ঐক্যমত রয়েছে, তবে এরপর থেকে আদম পর্যন্ত বংশলতিকার বিষয়ে ব্যাপক মতপার্থক্য আছে। উলামায়ে কিরাম বলেন: এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো সহিহ বর্ণনা নেই।
'কুসাই' শব্দটি 'ক্বফ' হরফে পেশ দিয়ে উচ্চারিত হয়, 'লুয়াই' শব্দটি হামযাহ সহ অথবা হামযাহ ছাড়া উভয়ভাবেই পড়া যায়, আর 'ইলিয়াস' শব্দটি হামযাহ-এ-ওয়াসল (সংযোজক হামযাহ) দিয়ে, তবে কেউ কেউ বলেছেন এটি হামযাহ-এ-কাতয়ি (বিচ্ছেদক হামযাহ)।
২ - আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমি আদম সন্তানের সর্বোত্তম প্রজন্মের পর প্রজন্ম থেকে প্রেরিত হয়েছি, এমনকি পরিশেষে আমি সেই প্রজন্মে উপনীত হয়েছি যাতে আমি রয়েছি।" ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
৩ - ওয়াসিলাহ বিন আল-আসকা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الله اصطفى كِنَانَةَ منْ وَلَدِ إسْماعِيلَ، واصطَفَى قُرَيْشًا مِن كِنانَةَ، واصطفَى مِن قُريشٍ بَني هَاشِمٍ، واصطَفانِي مِنْ بَنِي هَاشِمٍ" أخرجه مسلم والترمذي (1).
4 - عن المطلب بن أبي وَدَاعَةَ قَال: جاءَ العبّاسُ إلى رَسول الله صلى الله عليه وسلم وكأنَّه سَمِعَ شيْئًا، فقامَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم على المِنْبَر، فقال: "من أنا؟ قالوا: أنت رسولُ الله، قالَ أنا محمَّد بنُ عَبْدِ الله بنِ عَبْدِ المُطَّلِبِ: إنَّ الله خَلَقَ الخَلْقَ فجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِم ثُمَّ جَعَلَهُم فِرقَتَيْنِ (2) فجَعَلَنِي فِي خَيْرِهم فِرْقَةً، ثُمَّ جَعَلَهُم قَبَائِلَ فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِم قَبِيْلَةً، ثم جَعَلَهُم بيُوتًا، فَجَعَلَنِي في خَيْرِهِم بَيْتًا وخَيْرِهِم نَفْسًا" أخرجه الترمذي (3).
5 - عن عبد الله بن عمر قال: كُنا جلُوسًا ذاتَ يومٍ بفِناءِ رسول الله صلى الله عليه وسلم، إذ مرَّت امرأةٌ من بناتِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم فقال أبو سفيان: ما مثل محمَّدٍ فِى بني هاشم إلا مثلُ الرَّيحانة في وَسَطِ النتن، فسمعتْ ذلك المرأةُ، فأبلغت رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فخرج - قال الراوي: أحسبه قال - مغضبًا، فصَعِد المنبر فقال: "ما بال أقوامٍ تبلغني عن أقوامٍ، إن الله عز وجل خَلَقَ سماوات سبعًا فاختار العلياءَ، وأسْكَنَ سَمَاواتِهِ مَنْ شَاءَ مِن خَلْقِهِ، ثمَّ اختَارَ مِنْ خَلْقِهِ، فاخْتَارَ بَنِي آدَمٍ، واختار من بني آدم العرب، واختَارَ من العرَبِ مُضَر، واختار من مُضَرَ قُرَيشًا،
--------------------------------------------
আল্লাহ ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।" এটি মুসলিম এবং তিরমিযী বর্ণনা করেছেন (১)।
৪ - আল-মুত্তালিব ইবনে আবি ওয়াদাআ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, যেন তিনি কোনো কিছু শুনেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেন: "আমি কে?" তারা বলল: "আপনি আল্লাহর রাসূল।" তিনি বললেন: "আমি আবদুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদ, যিনি আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র। আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে তাদের উত্তম অংশে রেখেছেন, তারপর তিনি তাদের দুটি দলে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের উত্তম দলে রেখেছেন। এরপর তিনি তাদের বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম গোত্রে রেখেছেন। তারপর তিনি তাদের বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে তাদের সর্বোত্তম পরিবার ও সর্বোত্তম সত্তা হিসেবে মনোনীত করেছেন।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন (৩)।
৫ - আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আঙ্গিনায় বসে ছিলাম, এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যাদের মধ্য থেকে একজন নারী পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন আবু সুফিয়ান বলল: "বনু হাশিমের মধ্যে মুহাম্মাদের দৃষ্টান্ত হলো দুর্গন্ধের মাঝে সুগন্ধি ফুলের মতো।" ওই নারী তা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত অবস্থায় বের হলেন এবং মিম্বারে আরোহণ করে বললেন: "লোকদের কী হয়েছে যে তাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে এমন কথা পৌঁছায়? আল্লাহ তাআলা সাতটি আকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং উচ্চতাকে বেছে নিয়েছেন, আর তাঁর আকাশসমূহে তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে চেয়েছেন তাকে বসবাস করিয়েছেন। এরপর তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে নির্বাচন করেছেন, অতঃপর আদম সন্তানকে বেছে নিয়েছেন, আদম সন্তানদের মধ্য থেকে আরবদের বেছে নিয়েছেন, আরবদের মধ্য থেকে মুদারকে বেছে নিয়েছেন এবং মুদার থেকে কুরাইশকে বেছে নিয়েছেন..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
واختار من قريش بني هاشمٍ، واختارني من بني هاشم، فَلَم أزَل خِيارًا من خِيار، فَمَن أحبَّ العَرَبَ فَبِحُبِّي أحبَّهم، ومن أبغَضَ العَرَبَ فبِبُغضي أبغَضَهُم" أخرجه البيهقي في كتاب "مناقب الشافعي" (1).
6 - عن سلمان قَالَ: قَالَ لِي رسُوْلُ الله صلى الله عليه وسلم: [يَا سَلْمانُ] "لا تُبْغِضْنِي فَتُفَارِقَ دِيْنَكَ" قلتُ: يا رسولَ الله كَيْفَ أُبغِضُكَ وبِكَ هَدَانِي الله؟ ! قالَ: "تُبغِضُ العَرَبَ فَتُبغِضُنِي" أخرجه الترمذي (2).
7 - عن عثمان رضي الله عنه أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "مَنْ غَشَّ العَرَبَ لَمْ يَدْخُلْ فِي شَفَاعَتِي ولم تَنَلْهُ مَوَدَّتي" أخرجه الترمذي (3).
--------------------------------------------
"...এবং তিনি কুরাইশদের মধ্য থেকে বনু হাশিমকে নির্বাচন করেছেন, আর আমাকে বনু হাশিম থেকে নির্বাচন করেছেন। আমি সর্বদা উত্তমদের মধ্য হতে উত্তম হিসেবেই গণ্য হয়েছি। সুতরাং যে ব্যক্তি আরবদের ভালোবাসল, সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসল, আর যে ব্যক্তি আরবদের ঘৃণা করল, সে আমার প্রতি ঘৃণার কারণেই তাদের ঘৃণা করল।" ইমাম বায়হাকি তার 'মানাকিবুশ শাফিঈ' কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
৬ - সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছেন: [হে সালমান!] "তুমি আমাকে ঘৃণা করো না, অন্যথায় তুমি তোমার দ্বীন থেকে বিচ্যুত হবে।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কীভাবে আপনাকে ঘৃণা করব অথচ আপনার মাধ্যমেই আল্লাহ আমাকে হেদায়াত দান করেছেন?! তিনি বললেন: "তুমি আরবদের ঘৃণা করবে, ফলে তুমি আমাকেই ঘৃণা করলে।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন (২)।
৭ - উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আরবদের সাথে প্রতারণা করবে, সে আমার শাফায়াতের (সুপারিশের) অন্তর্ভুক্ত হবে না এবং আমার ভালোবাসা লাভ করতে পারবে না।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقالت عائشة في قوله تعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ} [آل عمران: 164] هذه للعرب خاصة (1).
عن مجاهد في قوله تعالى: {وَإِنَّهُ لَذِكْرٌ لَكَ وَلِقَوْمِكَ} [الزخرف: 44] (قال): يُقَالُ مِمَّنِ الرَّجُلُ؟ فَيُقَال: مِنَ العَرَبِ، فَيُقَال: من أيِّ العَرَبِ؟ فَيُقَالُ: مِنْ قرَيْش (2).
8 - عن أبي هريرة أن سُبيعة بنت أبي لهب جاءت إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقالت: يا رسولَ الله إنَّ النَّاس يَصِيْحُونَ بِي يقُولُونَ: إنِّي ابْنَةُ حَطَبِ النَّار، فقامَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم وهو مُغْضَبٌ شَدِيْدُ الغضَبِ، فقالَ: "ما بال أقْوامٍ يُؤْذُونَنِي في قَرَابتي، مَن آذَى قَرَابَتِي فَقَد آذانِي، ومَن آذانِي فقد آذى الله عز وجل" أخرجه البيهقي في "المناقب" (3).
ذكر تزوج عبد الله بن عبد المطلب والد رسول الله صلى الله عليه وسلم آمنة بنت وهب والدة رسول الله صلى الله عليه وسلم -
9 - عن محمَّد بن علي بن الحسين رضي الله عنهم قال: كانت آمنة بنت وهب بن عبد مناف [بن زهرة بن كلاب] في حجر عمها وهيب بن عبد مناف بن زهرة،
--------------------------------------------
আয়েশা (রা.) আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন} [আল-ইমরান: ১৬৪] এটি বিশেষভাবে আরবদের জন্য। (১)
মুজাহিদ (রহ.) থেকে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে বর্ণিত: {আর নিশ্চয়ই এটি আপনার জন্য এবং আপনার কওমের জন্য এক মহাসম্মান} [যুখরুফ: ৪৪] (তিনি বলেন): জিজ্ঞাসা করা হবে, এই লোকটি কাদের অন্তর্ভুক্ত? তখন বলা হবে: আরবদের অন্তর্ভুক্ত। এরপর জিজ্ঞাসা করা হবে: আরবদের কোন শাখার? তখন বলা হবে: কুরাইশ বংশের। (২)
৮ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আবু লাহাবের কন্যা সুবাইআ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! মানুষ আমাকে উচ্চস্বরে কটু কথা বলে যে, আমি জাহান্নামের জ্বালানি কাঠের কন্যা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন: "লোকদের কী হলো যে তারা আমার নিকটাত্মীয়দের ব্যাপারে আমাকে কষ্ট দিচ্ছে? যে আমার নিকটাত্মীয়কে কষ্ট দিল সে আমাকেই কষ্ট দিল, আর যে আমাকে কষ্ট দিল সে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-কে কষ্ট দিল।" বায়হাকি এটি 'আল-মানাকিব'-এ বর্ণনা করেছেন। (৩)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতা আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতা আমিনা বিনতে ওয়াহবের বিবাহের আলোচনা -
৯ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমিনা বিনতে ওয়াহাব বিন আবদে মানাফ [বিন জুহরা বিন কিলাব] তাঁর চাচা উহাইব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরার তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فمشى إليه عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بابنه عبد الله بن عبد المطَّلِب أبي رسول الله صلى الله عليه وسلم، فخطب عليه آمنة بنت وهب، فزوَّجها عبد الله بن عبد المطلب، وخطب إليه عبد المطلب بن هاشم في مجلسه ذلك ابنته هالة بنت وهيب على نفسه، فزوجه إياها، فكان تزوجُ عبد المطلب بن هاشم وتزويج (1) عبد الله بن عبد المطلب في مجلس واحد، فولَدَت هالة بنت وهيب لعبد المطلب حمزة بن عبد المطلب، فأرضعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وحمزة ثويبَةُ جارية أبي لهب، فكان حمزة عمَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم وأخاه من الرضاعة. أخرجه محمّد بن سعد (2).
ذكر حمل آمنة برسول الله صلى الله عليه وسلم ومولده10 - عن يزيد بن عبد الله بن زمعة عن عمته قالت: كنَّا نسمع أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما حملت به آمنة بنت وهب كانت تقول: إنّي ما شَعرْتُ أني حملتُ به، ولا وجَدتُ له ثِقلًا [كما تجد النساء] إلا أني أنكرت رفع حيضتي، وربما كانت ترفعني وتعود، وأتاني آت وأنا بين النّائم واليقظان، فقال: هل شعرتِ أنكِ حَمَلْتِ، فكأنِّي أقول: ما أدري، فقال: إنّكِ قد حمِلتِ بسَيِّد هَذِهِ الأمة ونبيّها، وذلك يوم الاثنين. أخرجه ابن سعد (3).
وقال: والمعروف عند أهل العلم أنه لم تلد آمنة بنت وهب، ولا عبد الله بن عبد المطّلب غير رسول الله صلى الله عليه وسلم.
11 - قال ابن عبد البر: قال الزبير: حملت به أمُّه صلى الله عليه وسلم أيام التشريق في شِعبِ أبي طالب عند الجمرة الوسطى، وولد رسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة في الدار
--------------------------------------------
অতঃপর আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে কুসাই তাঁর পুত্র এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে নিয়ে চললেন। তিনি তাঁর (আবদুল্লাহর) জন্য আমিনা বিনতে ওহবকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হলো। সেই একই মজলিসে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ওহিবের কন্যা হালা বিনতে ওহিবকে নিজের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এবং ওহিব তাঁর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করলেন। এভাবে একই মজলিসে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিমের বিবাহ এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের বিবাহ (১) সম্পন্ন হয়েছিল। হালা বিনতে ওহিব আবদুল মুত্তালিবের জন্য হামজাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে জন্ম দেন। আবু লাহাবের দাসী সুওয়াইবাহ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং হামজাহকে দুধ পান করিয়েছিলেন। ফলে হামজাহ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা এবং তাঁর দুগ্ধভাই। এটি মুহাম্মদ ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন (২)।
আমিনার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গর্ভে ধারণ এবং তাঁর জন্মের বর্ণনা১০ - ইয়াজিদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জামআহ তাঁর ফুফু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা শুনতাম যে, আমিনা বিনতে ওহব যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গর্ভে ধারণ করেন, তখন তিনি বলতেন: আমি বুঝতেই পারিনি যে আমি গর্ভধারণ করেছি, এমনকি [অন্যান্য মহিলারা যেমন অনুভব করে] তেমন কোনো ভারবোধও করিনি; শুধু এটুকুই যে আমি ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া দেখে বিষয়টি ভিন্নতর মনে করি। কখনো কখনো তা বন্ধ হয়ে যেত আবার ফিরে আসত। এমতাবস্থায় আমি যখন তন্দ্রা ও জাগ্রত অবস্থার মাঝামাঝি ছিলাম, তখন এক আগন্তুক আমার নিকট এসে বললেন: আপনি কি অনুভব করেছেন যে আপনি গর্ভধারণ করেছেন? আমি যেন বললাম: আমি জানি না। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আপনি এই উম্মতের নেতা ও নবীর গর্ভধারণ করেছেন। আর সেটি ছিল সোমবার দিন। এটি ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন (৩)।
তিনি বলেন: আলেমগণের নিকট এটিই সুপরিচিত যে, আমিনা বিনতে ওহব এবং আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত আর কোনো সন্তান জন্মায়নি।
১১ - ইবনে আবদিল বার বলেন: যুবাইর বলেছেন: তাঁর মা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাশরিকের দিনগুলোতে জামরাতুল উসতার নিকটে আবু তালিবের গিরিপথে তাঁকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় যে ঘরে জন্মগ্রহণ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
التي تدعى لمحمد بن يوسف أخي الحجاج، وذلك يوم الاثنين لاثنتي عشرة ليلة خلت من شهر رمضان. قال وقيل: بل يوم الاثنين في شهر ربيع الأول لليلتين خلتا منه، وقيل: لثمان خلت منه. وقيل: إنه أول اثنين من ربيع الأول، وقيل: لاثنتي عشرة ليلة خلت منه عام الفيل، قال: ولا خلاف أنه ولد عام الفيل. قال: "وعن ابن عباس أنه قال: ولد رسولُ الله صلى الله عليه وسلم يوم الفيل، وهذا يُحتمل أن يكون أراد اليوم الذي حَبَس الله فيه الفيل عن وطء الحرم. قال: وقيل بعد قدوم الفيل بشهر، وقيل: بأربعين يومًا، قال: وكان مقدم الفيل لثلاث عشرة ليلة بقيت من المحرم. قال: وقيل: إنه كان يوم الأحد وولد بعد ذلك بخمسين يومًا، يوم الاثنين لثمان خلت من شهر ربيع الأول، وذلك يوم عشرين من نيسان.
12 - عن ابن عباس أن آمنة بنت وهب قالت: لقد علقتُ به، تعني رسول الله صلى الله عليه وسلم، فما وجدتُ له مشقّةً حتى وضعتُه، فلما فصل مني، خَرَجَ معهُ نورٌ أضاء له ما بين المشرقِ والمغربِ، ثم وقع [على] الأرض معتمدًا على يديه، ثم أخذ قبضةً من تراب فقبضها ورفع رأسه إلى السماء. أخرجه ابن سعد (1).
13 - عن ابن عباس عن أبيه العباس بن عبد المطلب قال: وُلد النبي صلى الله عليه وسلم مختونًا مسرورًا، قال: وأعجَبَ ذلكَ عبد المطَّلب، وحَظِي عنده، وقال: ليكونَنَّ لابني هذا شأنٌ، فكان له شأنٌ. أخرجه ابن سعد (2).
14 - قال الشيخ النواوي: وولد رسول الله صلى الله عليه وسلم عام الفيل، وقيل: بعده بثلاثين سنة. قال الحاكم أبو أحمد (3): وقيل: بعده بأربعين سنة، وقيل:
--------------------------------------------
যা হাজ্জাজের ভাই মুহাম্মাদ বিন ইউসুফের প্রতি সম্বন্ধিত করা হয়, আর তা ছিল রমজান মাসের বারো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিনে। তিনি বলেন, আবার বলা হয়েছে: বরং রবিউল আউয়াল মাসের দুই রাত অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিনে। আবার বলা হয়েছে: আট রাত অতিবাহিত হওয়ার পর। আরও বলা হয়েছে: এটি রবিউল আউয়ালের প্রথম সোমবার। আরও বলা হয়েছে: হস্তিবর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের বারো রাত অতিবাহিত হওয়ার পর। তিনি বলেন: হস্তিবর্ষে তাঁর জন্ম হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। তিনি বলেন: "ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষের দিনে জন্মগ্রহণ করেছেন, আর এর দ্বারা সম্ভবত তিনি সেই দিনটি বুঝিয়েছেন যেদিন আল্লাহ হারামে হাতির প্রবেশ ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন: বলা হয়ে থাকে হাতির আগমনের এক মাস পর, আবার বলা হয়েছে চল্লিশ দিন পর। তিনি বলেন: আর হাতির আগমন ঘটেছিল মহররম মাসের তেরো দিন অবশিষ্ট থাকতে। তিনি বলেন: আরও বলা হয়েছে যে, এটি ছিল রবিবার দিন এবং এর পঞ্চাশ দিন পর সোমবার দিনে রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ তিনি জন্মগ্রহণ করেন, যা ছিল এপ্রিল মাসের বিশ তারিখ।
12 - ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে আমিনা বিনতে ওয়াহাব বলেছেন: আমি তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গর্ভধারণ করেছি, আর আমি তাঁকে ভূমিষ্ঠ করা পর্যন্ত কোনো কষ্ট অনুভব করিনি। অতঃপর তিনি যখন আমার থেকে আলাদা হলেন, তখন তাঁর সাথে এমন এক নূর বের হলো যা পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝখানকে আলোকিত করে দিল। এরপর তিনি তাঁর দুই হাতের উপর ভর দিয়ে জমিনের উপর পড়লেন, তারপর এক মুষ্টি মাটি নিয়ে তা মুষ্টিবদ্ধ করলেন এবং আকাশের দিকে মাথা উত্তোলন করলেন। ইবনে সাদ এটি বর্ণনা করেছেন (১)।
13 - ইবনে আব্বাস থেকে তাঁর পিতা আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খতনা করা ও নাভি কাটা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন: আব্দুল মুত্তালিব এতে বিস্মিত হলেন এবং তাঁর কাছে তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান হলেন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমার এই সন্তানের এক বিশাল শান (মর্যাদা) থাকবে; আর তাঁর শান ও মর্যাদা তেমনই হয়েছিল। ইবনে সাদ এটি বর্ণনা করেছেন (২)।
14 - শায়খ নাবাওয়ী বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন: এর ত্রিশ বছর পর। আল-হাকিম আবু আহমদ (৩) বলেছেন: কেউ কেউ বলেছেন: এর চল্লিশ বছর পর, আরও বলা হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بعده بعشر سنين، رواه الحافظ أبو قاسم ابن عساكر (1) "في تاريخ دمشق" والصحيح المشهور أنه عام الفيل (2).
ونقل إبراهيم بن المنذر الحزامي شيخ البخاري (3) وخليفة بن خياط (4) وآخرون الإِجماع عليه.
وأرضعته صلى الله عليه وسلم ثُوَيبة - بضم المثلثة - مولاة أبي لهب أيامًا ثم أرضعته حليمة بنت أبي ذؤيب عبد الله بن الحارث السعدية، وروي عنها أنها قالت: كان يَشِبُّ في اليوم شبابَ الصَّبيِّ في شهر.
ونشأ صلى الله عليه وسلم يتيمًا يكفُلُهُ جَدُّهُ عبد المُطَّلِب ثمَّ عَمُّهُ أبو طالب
--------------------------------------------
তার দশ বছর পরে; হাফেজ আবু কাসেম ইবনে আসাকির (১) এটি তাঁর "তারিখে দামেশক" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তবে প্রসিদ্ধ ও সঠিক অভিমত হলো যে, তা হস্তীবাহিনীর বছরে (২) সংঘটিত হয়েছিল।
বুখারীর উস্তাদ ইব্রাহিম ইবনে আল-মুনজির আল-হিযামি (৩), খলিফা ইবনে খাইয়াত (৪) এবং আরও অনেকে এ বিষয়ে ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আবু লাহাবের মুক্তদাসী সুওয়াইবা—'ছা' বর্ণের পেশ যোগে—কয়েক দিন স্তন্যপান করিয়েছেন। অতঃপর তাঁকে হালিমাহ বিনতে আবি জুয়াইব আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস আস-সাদিয়া স্তন্যপান করান। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: তিনি (নবীজী) একদিনে এক মাসের শিশুর ন্যায় বেড়ে উঠতেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এতিম হিসেবে বেড়ে ওঠেন; প্রথমে তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব এবং পরে তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাসফু লিমা রুবিয়া আনিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা মিনাল ফি’লি ওয়াল ওয়াসফি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ذكر وفاة عبد الله وآمنة وضم عبد المطلب رسول الله صلى الله عليه وسلم إليه ووصيته به إلى أبي طالب15 - قال ابن عبد البر: ومات أبوه عبد الله بن عبد المطلب وأمه حامل به، قال وقيل: توفي أبوه بالمدينة والنبي صلى الله عليه وسلم ابن ثمانية وعشرين شهرًا، وقبره بالمدينة في دار من دور بني النجار، وكان خرج إلى المدينة يمتار تمرًا، وقيل: بل خرج به إلى أخواله زائرًا وهو ابن سبعة أشهر، وقيل: بل توفي أبوه وهو ابن شهرين، وكَفَلَهُ جَدُّهُ عبد المطَّلب، قال: وفي رواية: مات أبوه وأمُّهُ وكَفَلَهُ جَدُّهُ عبد المطَّلب، قال وتوفِّيت أمه بالإِبواء بين مكة والمدينة وهو ابن ست سنين، وقيل: سبع سنين، وقيل ثمان سنين.
وتوفي جده عبد المطلب بعد ذلك بسنة وأحد عشر شهرًا سنة تسع من أول عام الفيل، وقيل: بل توفي جده وهو ابن ثلاث سنين، وأوصى به إلى أبى طالب فصار في حجر عمه أبي طالب حتى بلغ خمس عشرة سنة، وكان أبو طالب شقيق أبيه (1).
16 - عن عبد الله بن عباس قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم مع أمه آمنة بنت وهب، فلما بلغ ستَّ سنين خرجت به إلى أخواله بني عدي بن النجار بالمدينة تزورهُم [به] ومعه أم أيمن تحضنه، وهم على بعيرين، فنزلت به في دار النابغة، فأقامت [به] عندهم شهرًا، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم يذكر أمورًا كانت في مُقامه ذلك، لما نظر إلى أطُم بني عدي بن النجار عرفه، وقال: كنت ألاعب أنيسة جارية من الأنصار على هذا الأُطم [وكنت] مع غلمان من أخوالي نطيِّر
--------------------------------------------
আবদুল্লাহ ও আমিনার ইন্তেকাল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আবদুল মুত্তালিবের নিজের কাছে গ্রহণ করা ও তাঁর সম্পর্কে আবু তালিবের কাছে তাঁর ওসিয়ত করার আলোচনা১৫ - ইবন আবদুল বার বলেন: তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবন আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর মা তাঁর গর্ভবতী ছিলেন। তিনি বলেন, আরও বলা হয়েছে: তাঁর পিতা মদিনায় ইন্তেকাল করেন যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আটাশ মাস বয়সী ছিলেন; তাঁর কবর মদিনায় বনু নাজ্জারের ঘরসমূহের একটিতে অবস্থিত। তিনি খেজুর সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মদিনায় গিয়েছিলেন। আবার বলা হয়েছে: বরং তাঁকে নিয়ে তাঁর মামাদের কাছে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন যখন তাঁর বয়স ছিল সাত মাস। আরও বলা হয়েছে: বরং তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর বয়স ছিল দুই মাস, এবং তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বলেন: এক বর্ণনায় রয়েছে: তাঁর পিতা ও মাতা মারা যান এবং তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব তাঁর দায়িত্ব নেন। তিনি বলেন, তাঁর মা মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী আল-আবওয়া নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর বয়স ছিল ছয় বছর; বলা হয়েছে: সাত বছর; আবার বলা হয়েছে: আট বছর।
এবং তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব এর এক বছর এগারো মাস পর হস্তীবর্ষের সূচনালগ্ন থেকে নবম বছরে ইন্তেকাল করেন। বলা হয়েছে: বরং তাঁর দাদা ইন্তেকাল করেন যখন তাঁর বয়স ছিল তিন বছর। এবং তিনি (আবদুল মুত্তালিব) তাঁর সম্পর্কে আবু তালিবকে ওসিয়ত করেন, ফলে তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে থাকেন যতক্ষণ না তিনি পনেরো বছর বয়সে পদার্পণ করেন। আর আবু তালিব ছিলেন তাঁর পিতার সহোদর ভাই (১)।
১৬ - আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মা আমিনা বিনতে ওয়াহবের সাথে ছিলেন। যখন তাঁর বয়স ছয় বছর হলো, তখন তাঁর মা তাঁকে নিয়ে মদিনায় তাঁর মামাদের বংশ বনু আদি ইবন নাজ্জারের কাছে তাঁদের সাথে দেখা করতে বের হলেন; তাঁর সাথে উম্মে আয়মান ছিলেন যিনি তাঁকে দেখাশোনা করতেন, আর তাঁরা দুটি উটের ওপর সওয়ার ছিলেন। তিনি তাঁকে নিয়ে নাবিগার ঘরে অবস্থান করলেন এবং সেখানে তাঁদের কাছে এক মাস অতিবাহিত করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেই অবস্থানের সময়ের কিছু বিষয় স্মরণ করতেন; যখন তিনি বনু আদি ইবন নাজ্জারের দুর্গের দিকে তাকাতেন, তখন তিনি তা চিনতে পারতেন এবং বলতেন: আমি এই দুর্গের ওপর আনসারদের এক মেয়ে আনিসার সাথে খেলা করতাম এবং আমার মামাতো ভাইদের সাথে আমরা পাখি উড়াতাম
--------------------------------------------