(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
سلم أخلاق النبوة (محمود محمد غريب)
القسم: كتب عامة
الكتاب: سُلَّمُ أَخْلاقِ النُّبُوَّةِ
المؤلف: محمود محمد غريب
الناشر: دار القلم للتراث - القاهرة
الطبعة: الثانية، 1419 هـ - 1998 م
عدد الصفحات: 177
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ (মাহমুদ মুহাম্মদ গারিব)
বিভাগ: সাধারণ কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
লেখক: মাহমুদ মুহাম্মদ গারিব
প্রকাশক: দারুল কালাম লিত-তুরাস - কায়রো
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৭
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِالكتاب: سُلَّم أَخْلاقِ النُّبُوَّة (دراسة قرآنية)المؤلف: العلامة الشيخ / محمود غريب(أسلم على يدي المؤلف خمسةٌ من علماء أوربا في فترة السبعينيات)الناشر: دار القلم للتراث - القاهرةالطبعة: الثانية - 1419 هـ - 1998 م[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেগ্রন্থ: সুল্লাম আখলাকিন নুবুওয়াহ (একটি কুরআনিক গবেষণা)লেখক: আল্লামা শায়খ মাহমুদ গারিব(সত্তরের দশকে ইউরোপের পাঁচজন আলেম লেখকের হাতে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন)প্রকাশক: দারুল কালাম লিত-তুরাস - কায়রোসংস্করণ: দ্বিতীয় - ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]আল্লাহ তাআলা এর লেখককে এবং যিনি এর অনুলিখনের ব্যয়ভার বহন করেছেন তাকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيمافتتاحيةالحمد لله وكفى، وسلام على عباده الذين اصطفى، وسلام على النبي المصطفى.ثم أما بعد. . .فكلنا في خدمة النبي صلى الله عليه وسلم وسنته هذا مفتاح السلسلة التي عزمت على كتابتها، وبدأت في ذلك منذ أكثر من أربعة أعوام.بعد أن انتهيت من طبع "سورة الواقعة ومنهجها في العقائد"وهذه السلسلة ليست كتاباً أقدمه للقراء الكرام مبوباً كما تعود الكتاب … ولكنها مجموعة من الدراسات غلب على ظني حاجة الشاب المسلم إليها … ونسبت كل صفحة منها إلى مصادرها، حتى أساعد الدارس للرجوع إليها. وليتعرف القارئ غير الدارس على المكتبة الإسلامية وما فيها من كنوز … واخترت هذا الشعار "كلنا في خدمة النبي وسنته" صلى الله عليه وسلم حتى يعلم كل مسلم.أن كل من يبذل جهداً لخدمة أي قضية من قضايا الإسلام - كتاباً أو سنة أو حسن فقه، فهو في خدمة النبي صلى الله عليه وسلم وسنته.أي قضية بهذا العموم، وهذا الإطلاق. مدرس التفسير في خدمة النبي.سواء دارس التفسير الموضوعي أو التفسير الموضعي. لأن النبي صلى الله عليه وسلم هو أول من قام ببيان معاني القرآن الكريم بعد التفسير القرآني للقرآن.. ولهذا الموضوع كتاب خاص في هذه السلسلة - إن شاء الله -.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, এবং মনোনীত নবী (সা.)-এর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।অতঃপর...আমরা সকলেই নবী (সা.) এবং তাঁর সুন্নাহর (سنة) সেবায় নিয়োজিত—এটিই সেই সিরিজের মূলমন্ত্র যা আমি লেখার সংকল্প করেছি এবং চার বছরেরও বেশি সময় আগে এর কাজ শুরু করেছি।'সুরা আল-ওয়াকিয়াহ এবং আকিদাহ বিষয়ে এর কর্মপদ্ধতি' মুদ্রণ সম্পন্ন করার পর।এই সিরিজটি পাঠকদের নিকট উপস্থাপিত এমন কোনো বই নয় যা প্রচলিত বইয়ের মতো অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাসে সাজানো হয়েছে … বরং এটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধের একটি সংকলন, যা মুসলিম যুবকদের জন্য প্রয়োজন বলে আমার প্রবল ধারণা হয়েছে … আমি এর প্রতিটি পৃষ্ঠাকে তার মূল উৎসের দিকে নিসবত (نسبة) করেছি, যাতে গবেষকগণ সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন। আর সাধারণ পাঠক যেন ইসলামি কুতুবখানা এবং এর মধ্যকার অমূল্য জ্ঞানভাণ্ডার সম্পর্কে পরিচিত হতে পারেন … আমি এই স্লোগানটি বেছে নিয়েছি—"আমরা সকলেই নবী (সা.) এবং তাঁর সুন্নাহর সেবায় নিয়োজিত"—যাতে প্রত্যেক মুসলিম জানতে পারে।যে ব্যক্তি ইসলামের যেকোনো বিষয়ের সেবায় শ্রম ব্যয় করবেন—তা কুরআন হোক, সুন্নাহ (سنة) হোক বা উত্তম ফিকহ (فقه) হোক—তিনি মূলত নবী (সা.) এবং তাঁর সুন্নাহর সেবায় নিয়োজিত।যেকোনো বিষয়, এমন সাধারণ এবং ব্যাপক অর্থে। তাফসিরের (تفسير) শিক্ষকও নবীর সেবায় নিয়োজিত।চাই তিনি বিষয়ভিত্তিক তাফসির (تفسير موضوعي) বা স্থানভিত্তিক তাফসিরের (تفسير موضعي) গবেষক হন। কারণ স্বয়ং কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের তাফসিরের পর নবী (সা.)-ই প্রথম পবিত্র কুরআনের অর্থ বর্ণনার কাজ সম্পাদন করেছেন... এবং ইনশাআল্লাহ, এই সিরিজের অধীনে এই বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ থাকবে।
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وفي السلسلة دراسة للتفسير ومناهج المفسرين في أهم الموضوعات.تفسير الظاهرية والباطنية. ثم منهج التدبر، ثم بيان خطر الطوائف المنحرفة على التفسير … ثم أفردت دراسة عن محيى الدين بن عربي، جمعتها بصعوبة كبيرة من خلال كتبه - غفر الله له.* مدرس الفقه: -مدرس الفقه سواء فقه المذاهب، أو فقه الحديث، خادم للسنة. لأن استخراج الأحكام الفقهية من القرآن ومن السنة عمل كبير يحتاج إلى عقول عالمة، عالمة بأصول الفقه وأصول الحديث - دراية ورواية.وهما علمان انفرد بهما دينكم.وقد اخترت للسلسلة موضوعاً واحداً وهو"الطلاق البدعى"إن الطلاق السني هو أبغض الحلال عند الله، فكيف إذا كان الطلاق بدعياً؟ إن الطلاق البدعي شرعه الشيطان.مربي الأمةومن يربي المسلمين على أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم ويحاول أن يتعرف على منهج النبي في التربية، فالتربية هي معجزته الثانية بعد القرآن. من يحاول أن يفعل هذا فهو خادم للنبي صلى الله عليه وسلم وسنته.إن نظريتي التي انتهيت إليها في كتابي "تربية القرآن يا ولدي"تؤكد أن كل إنسان فيه خير … كل إنسان بهذا العموم فيه خير.وإذا رزقه الله من يربي (خميرة) الخير التي بداخله فسوف يربو الخير، ويزيد فيه. وهذا هو دور "الخباز" في المعجنات.وهو أيضاً دور المربي مع البشر …ولم يخل إنسان من خير وشر {وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ} (سورة البلد)
এই ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহে তাফসির এবং মুফাসসিরগণের মানহাজ (পদ্ধতি) নিয়ে আলোচনা রয়েছে।জাহিরিয়া ও বাতিনিয়াদের তাফসির। অতঃপর তাদাব্বুর (চিন্তাগবেষণা)-এর মানহাজ, এরপর তাফসিরের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত ফিরকাগুলোর বিপদের বিবরণ … অতঃপর মুহিউদ্দিন ইবন আরবি সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র গবেষণা পেশ করেছি, যা তাঁর কিতাবসমূহ থেকে অনেক কষ্টের সাথে সংগ্রহ করেছি - আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।* ফিকহ শিক্ষক: -ফিকহ শিক্ষক, চাই তিনি মাজহাবি ফিকহ বা হাদিসের ফিকহ পড়ান না কেন, তিনি সুন্নাহর একজন খাদেম। কারণ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে ফিকহি আহকাম (বিধিবিধান) ইস্তিমবাত (নিষ্কাশন) করা একটি বিশাল কাজ, যার জন্য প্রাজ্ঞ মেধা প্রয়োজন; যা উসুলুল ফিকহ এবং হাদিসের মূলনীতি (أصول الحديث) - দিরায়াহ (دراية) ও রিওয়ায়াহ (رواية) সম্পর্কে গভীরভাবে পরিজ্ঞাত।আর এ দুটি এমন ইলম (জ্ঞান), যা কেবল আপনাদের এই দ্বীনেরই অনন্য বৈশিষ্ট্য।আর আমি এই ধারাবাহিকের জন্য একটি বিষয় নির্বাচন করেছি এবং তা হলো—"বিদ্আতি তালাক"নিশ্চয়ই সুন্নাহসম্মত তালাক আল্লাহর নিকট হালাল বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে অপ্রিয়, তাহলে তালাকটি যদি বিদ্আতি হয় তবে তা কেমন হবে? নিশ্চয়ই বিদ্আতি তালাক শয়তান প্রবর্তন করেছে।উম্মাহর মুরব্বি (তত্ত্বাবধায়ক)আর যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আখলাকের (চরিত্র) ওপর মুসলমানদের গড়ে তোলেন এবং তারবিয়াতের (দীক্ষা) ক্ষেত্রে নবীর মানহাজ বা পদ্ধতি জানার চেষ্টা করেন, তবে এই তারবিয়াতই হলো কুরআনের পর তাঁর দ্বিতীয় মুজিজা। যিনি এমনটা করার চেষ্টা করেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সুন্নাহর একজন খাদেম।আমার "তারবিয়াতুল কুরআন ইয়া ওয়ালাদি" কিতাবে আমি যে তত্ত্বে উপনীত হয়েছি, তা—নিশ্চিত করে যে প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে … সাধারণভাবে প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কল্যাণ বিদ্যমান।আর আল্লাহ যদি তাকে এমন কাউকে দান করেন যে তার ভেতরের কল্যাণের (خميرة - বীজ) পরিচর্যা করে, তবে সেই কল্যাণ বৃদ্ধি পাবে এবং বিকশিত হবে। আর এটিই হলো পিঠা বা রুটি তৈরিতে "রুটি প্রস্তুতকারকের" ভূমিকা।মানুষের ক্ষেত্রেও মুরব্বির ভূমিকা ঠিক অনুরূপ …আর কোনো মানুষই ভালো ও মন্দ থেকে মুক্ত নয়— "আর আমি তাকে দুটি পথ প্রদর্শন করেছি" (সূরা আল-বালাদ)
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المدافع عن السنةومن يحاول تحصين هذا الدين من الخرافات والبدع فهو خادم للنبي صلى الله عليه وسلم وسنته … ولكن … ما هي البدع التي حرمها النبي صلى الله عليه وسلم وحذر منها؟وما حكم اللفظ العام في القرآن والسنة إذا جاء معه لفظ يخصصه؟وما هي البدع الضلالة التي لا ترضي الله ورسوله؟ أو البدع الحقيقية والإضافية؟ دراستنا الطويلة في المعاهد والجامعات الإسلامية.هل درسها النبي للسلف الصالح؟هل قال النبي صلى الله عليه وسلم "الرحمن" مبتدأ "وعلم القرآن" جملة سدَّت مَسدَّ الخبر؟ هل دراستنا بدعة وضلالة، لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يدرسها لأصحابه؟هل قراءة القرآن على روح الميت ضلالة؟دراسة جادة للذين لم يحمضوا "أفلام" عقولهم. فهي تقبل الحق من أي مصدر. ولو كان من محمود غريب.أما الذين حمضوا "أفلامهم" فصعب أن تقبل عقولهم فكرة جديدة أو رأياً جديداً. * مربي المسلماتومن عاش يربي النساء على شرع الله فهو في خدمة النبي صلى الله عليه وسلم وسنته.حجاب المرأة - الذي شرعه الله - فريضة. لأنه عفة ووقاية وتكريم لها.ولكن شيئاً يهمني كثيراً انشغل عنه جموع المربين المسلمين أو أكثرهم.النبي صلى الله عليه وسلم فرض الحجاب على السيدة مارية القبطية - أم إبراهيم - ففرحت بذلك لأن النبي صلى الله عليه وسلم رفعها بهذا إلى مقام نسائه الحرائر، أمهات المؤمنين. فالحجاب تشريف للمرأة ورفعة لها.
সুন্নাহর প্রতিরক্ষাআর যে ব্যক্তি এই দ্বীনকে কুসংস্কার এবং নতুন উদ্ভাবিত বিষয় (بدعة) থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে, সে নবী (সা.) এবং তাঁর সুন্নাহর সেবক … কিন্তু … সেই সকল নতুন উদ্ভাবিত বিষয় (بدعة) কী কী যা নবী (সা.) হারাম করেছেন এবং যা থেকে সতর্ক করেছেন?এবং কুরআন ও সুন্নাহর সাধারণ শব্দের (لفظ عام) হুকুম কী, যখন তার সাথে এমন শব্দ আসে যা তাকে নির্দিষ্ট (تخصيص) করে?এবং সেই সকল পথভ্রষ্টকারী নতুন উদ্ভাবিত বিষয় (بدعة ضلالة) কোনগুলো যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সন্তুষ্ট করে না? অথবা মূলগত নতুন উদ্ভাবিত বিষয় (بدعة حقيقية) ও অতিরিক্ত নতুন উদ্ভাবিত বিষয় (بدعة إضافية) কী? ইসলামি ইনস্টিটিউট এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আমাদের দীর্ঘকালীন পড়াশোনা।নবী (সা.) কি এগুলো সৎ পূর্বসূরিদের (سلف صالح) শিখিয়েছিলেন?নবী (সা.) কি বলেছিলেন যে "আর-রহমান" হলো উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং "আল্লামাল কুরআন" হলো এমন একটি বাক্য যা বিধেয় (خبر)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে? আমাদের এই পড়াশোনা কি নতুন উদ্ভাবিত বিষয় (بدعة) ও পথভ্রষ্টতা (ضلالة), কারণ নবী (সা.) তাঁর সাহাবীদের (صحابي) তা পড়াননি?মৃত ব্যক্তির রুহের ওপর কুরআন পাঠ করা কি পথভ্রষ্টতা (ضلالة)?এটি তাদের জন্য একটি গুরুত্বপুর্ণ গবেষণা যারা তাদের চিন্তার "ফিল্ম" নেতিবাচকভাবে প্রক্রিয়াজাত করেনি। ফলে তা যেকোনো উৎস থেকেই হক গ্রহণ করে। এমনকি তা যদি মাহমুদ গরিবের পক্ষ থেকেও হয়।পক্ষান্তরে যারা তাদের "ফিল্ম" প্রক্রিয়াজাত করে ফেলেছে, তাদের জন্য কোনো নতুন ধারণা বা নতুন মত গ্রহণ করা কঠিন। *মুসলিম নারীদের পথপ্রদর্শকআর যে ব্যক্তি নারীদের আল্লাহর বিধান অনুযায়ী গড়ে তোলার জন্য জীবন অতিবাহিত করে, সে মূলত নবী (সা.) এবং তাঁর সুন্নাহর সেবায় নিয়োজিত।নারীর হিজাব—যা আল্লাহ প্রবর্তন করেছেন—একটি ফরজ (فريضة) বিধান। কারণ এটি তার জন্য পবিত্রতা, সুরক্ষা এবং সম্মান।তবে একটি বিষয় আমাকে অত্যন্ত ভাবিয়ে তোলে, যা থেকে অধিকাংশ মুসলিম শিক্ষক বা তাদের বড় অংশ বিমুখ হয়ে আছে।নবী (সা.) সায়্যিদা মারিয়া কিবতিয়া—ইব্রাহিমের মাতা—এর ওপর হিজাব আবশ্যক করেছিলেন, এতে তিনি আনন্দিত হয়েছিলেন; কারণ নবী (সা.) এর মাধ্যমে তাঁকে তাঁর স্বাধীন (حر) স্ত্রীগণ তথা উম্মাহাতুল মুমিনিনের মর্যাদায় উন্নীত করেছিলেন। সুতরাং হিজাব নারীর জন্য এক অনন্য সম্মান ও উচ্চমর্যাদা।
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولكن شيئاً أراه أكبر من الحجاب، وهو تربيته لعقل المرأة، تربية جعلتهن يخترن الله ورسوله عندما رفض الله طلبهن، مع أنه طلب عادل، بمقياس البشر، وخيرهن بين الحياة الشديدة في بيت النبي صلى الله عليه وسلم، وبين أن يطلقهن ويسرحهن سراحاً جميلاً {القصة في سورة الأحزاب من 28 إلى آية 34 منها} فهل منا من ينشغل بما تحت الحجاب من مخ؟إن تربية المرأة إسلاميا لا تقل أبداً عن قضية حجابها … وسوف تناقش السلسلة قضية جادة تتعلق بموضوع غطاء وجه المرأة، لم أعرف أحداً كتب في هذا الموضوع الذي عالجته حتى أستفيد ممن سبقني.إن غطاء وجه المرأة "عادة" طيبة في بعض البلاد. يحمي الشاب المسلم من فتنة جمال المرأة … ولكن … هل الإسلام للرجال فقط؟ ومن يحمي قلب المرأة من جمال وجه الشاب؟سوف أناقش هذه القضية في رسالة "كيف تمم النبي صلى الله عليه وسلم مكارم الأخلاق؟ ".هذا مفتاح لبعض ما عالجته السلسلة.وبقيت أمور كثيرة سوف يلتقي بها القارئ الكريم.واللَّهَ نسأل التوفيق والنفع بها.محمود غريبسلطنة عمان - صلالةص. ب: 593 الرمز البريدي 211تليفون: 295179
কিন্তু আমি হিজাবের চেয়েও বড় কিছু দেখতে পাচ্ছি, আর তা হলো নারীর মেধার লালন ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ। এমন এক লালন যা তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল যখন আল্লাহ তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন—যদিও মানুষের মাপকাঠিতে তা ছিল একটি ন্যায়সঙ্গত দাবি। তাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে কঠোর জীবনযাপন এবং সম্মানের সাথে বিদায় হওয়ার (তালাক) মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল {ঘটনাটি সূরা আল-আহযাব-এর ২৮ থেকে ৩৪ নম্বর আয়াতে বর্ণিত আছে}। তবে আমাদের মধ্যে কেউ কি হিজাবের নিচে থাকা সেই মেধা বা মস্তিষ্ক নিয়ে ভাবেন?নারীর ইসলামি লালন-পালন ও শিক্ষা কোনোভাবেই তার হিজাবের বিষয়ের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় … এবং এই ধারাবাহিক আলোচনাটি নারীর মুখমণ্ডল আবৃত করার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। আমি এমন কাউকে জানি না যিনি এই বিষয়টি নিয়ে এমনভাবে লিখেছেন যেভাবে আমি এটি উপস্থাপন করেছি, যাতে আমি আমার পূর্ববর্তীদের থেকে উপকৃত হতে পারতাম।নারীর মুখমণ্ডল আবৃত করা কিছু দেশে একটি উত্তম "রীতি" (عادة)। এটি মুসলিম যুবককে নারীর সৌন্দর্যের ফিতনা (فتنة) থেকে রক্ষা করে … কিন্তু … ইসলাম কি কেবল পুরুষদের জন্য? আর যুবকের সুশ্রী চেহারার সৌন্দর্য থেকে নারীর অন্তরকে কে রক্ষা করবে?আমি এই বিষয়টি "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে সর্বোত্তম চারিত্রিক গুণাবলি পূর্ণতা দান করেছেন?" নামক পুস্তিকায় আলোচনা করব।এই সিরিজের আলোচিত বিষয়গুলোর জন্য এটি একটি চাবিকাঠি স্বরূপ।আরও অনেক বিষয় রয়ে গেছে যা সম্মানিত পাঠক সামনে জানতে পারবেন।আমরা আল্লাহর নিকট এর তাওফিক (توفيق) এবং এর মাধ্যমে উপযোগিতা প্রার্থনা করছি।মাহমুদ গরিবওমান সালতানাত - সালালাহডাক বক্স: ৫৯৩, পোস্টাল কোড: ২১১টেলিফোন: ২৯৫১৭৯
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
مقاصد الرسالة وحجم كل مقصدالله أكبر. فلا يرسل نبيه إلا لأمر كبير.ونبينا نبي خاتم، استغنت به الدنيا عن نبي بعده. لأنها قد وصلت بدعوته إلى مرحلة الرشد.وقرآننا (فرقان يفرق بين الحق والباطل. في الإلهيات. والنبوات. والتشريع. والأخلاق) "الظلال".قرآننا: انتقالة بين طفولة الفكر البشري، ومرحلة النضج.فهو كمن حصل على شهادة "الدكتوراه. فأصبح لا يحتاج إلى من يشرف على دراسته. فهو يستطيع أن يدرس وحده.فهل يرسل الله الأكبر. نبيه الخاتم صلى الله عليه وسلم الذي استغنت الدنيا بدعوته عن النبوات الجديدة، ويرسله بكتاب هو الفرقان.هل سيرسل الله هذا النور، من أجل شعبة من التحسينات فقط.إنها جزء من السنة له حجمه في المقاصد، ودوره في التربية، لا يجادل في ذلك أحد.لقد قسَّم الإمامُ الغزالي أعمالنا إلى درجات ثلاث.قسمها بهذا الترتيب، الذي يدل على "فقه الأولويات".الضروريات. والحاجيات. والتحسينات.ويجب توزيع الاهتمام في الدعوة على هذا الترتيب.إن الدعوة إلى أصول الاعتقاد "الضروريات" مقدم على كل شيء.لقول النبي صلى الله عليه وسلم الإسلام بضع وسبعون شعبة، أعلاها لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق. والحياء شعبة من الإيمان (البخاري ومسلم) .
রিসালাতের উদ্দেশ্যসমূহ এবং প্রতিটি উদ্দেশ্যের ব্যাপ্তিআল্লাহ মহান। তিনি কোনো মহান বিষয় ব্যতীত তাঁর নবিকে প্রেরণ করেন না।আমাদের নবি হলেন সর্বশেষ (خاتم) নবি, যাঁর মাধ্যমে বিশ্ব তাঁর পরবর্তী কোনো নবির প্রয়োজনীয়তা থেকে বিমুখ হয়েছে। কারণ বিশ্ব তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে পরিপক্কতার স্তরে উপনীত হয়েছে।আমাদের কুরআন হলো (ফুরকান যা সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য নিরূপণকারী; ইলাহিয়্যাত, নবুওয়াত, শরিয়ত প্রণয়ন এবং আখলাকের ক্ষেত্রে) "জিল্যাল"।আমাদের কুরআন: মানবীয় চিন্তাধারার শৈশব এবং পরিপক্কতার স্তরের মাঝে এক সন্ধিক্ষণ।এটি অনেকটা এমন ব্যক্তির মতো যে "পিএইচডি" ডিগ্রি অর্জন করেছে; ফলে তার পড়ালেখার জন্য কোনো তত্ত্বাবধায়কের আর প্রয়োজন নেই। সে নিজেই অধ্যয়ন করতে সক্ষম।অতএব, আল্লাহ মহান কি তাঁর সর্বশেষ (خاتم) নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে—যাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে বিশ্ব নতুন নবুওয়াতের আবশ্যকতা থেকে মুক্ত হয়েছে—এমন এক কিতাব দিয়ে পাঠিয়েছেন যা ফুরকান?আল্লাহ কি এই নূর কেবল কতিপয় উত্তম বিষয়াদি (تحسينات)-এর জন্য পাঠিয়েছেন?এটি সুন্নাহর (السنة) এমন একটি অংশ মাকাসিদের (مقاصد) ক্ষেত্রে যার গুরুত্ব এবং তারবিয়াতের ক্ষেত্রে যার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে, এ বিষয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না।ইমাম গাজালি আমাদের কার্যাবলিকে তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছেন।তিনি এগুলোকে এই ক্রমে বিন্যস্ত করেছেন, যা "অগ্রাধিকারের ফিকহ" (فقه الأولويات)-এর প্রতি নির্দেশ করে।অপরিহার্য বিষয়সমূহ (الضروريات), প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ (الحاجيات) এবং উত্তম বিষয়সমূহ (التحسينات)।দাওয়াতের ক্ষেত্রে মনোযোগের বিষয়টিকে অবশ্যই এই ক্রম অনুযায়ী বণ্টন করতে হবে।নিশ্চয়ই আকিদার মৌলিক বিষয়সমূহের (أصول الاعتقاد) তথা "অপরিহার্য বিষয়সমূহ" (الضروريات)-এর প্রতি দাওয়াত প্রদান অন্য সবকিছুর ওপর অগ্রগণ্য।কেননা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইসলামের সত্তরটিরও বেশি শাখা (شعبة) রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা। আর লজ্জা হলো ঈমানের একটি শাখা (شعبة)" (বুখারি ও মুসলিম)।
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فلا ينشغل الدعاة "بالتحسينات" عن الضروريات. وشعر أهداب العين يفوق كثيرا شعر الرأس، وكلاهما شعر، وكلاهما من خلق الله.لست أدري. هل هذا التركيز الذي أشاهده في هذه الأيام في بعض بلاد محمد صلى الله عليه وسلم والذي يقلقني كثيراً، هل هو استثمار للمجال الآمن؟ أو جهل بالقضايا الكبيرة، أو ضعف في البصيرة لما جاء به النبي صلى الله عليه وسلم؟قرأت في سير أعلام النبلاء جـ 3 صـ 69 حديث مسيلمة الكذاب مع عمرو بن العاص رضي الله عنه يقول مسيلمة:لقد بعث محمد للأمور الجسيمة. وبعثت في محقرات الأمور.هذا رأي مسيلمة الكذاب. فما بال بعضنا يهبط "عملياً" عن هذا الرأي؟لقد سبق أن حدد الاستعمار المقاصد التي جاء النبي صلى الله عليه وسلم من أجلها. حددها في كتب التلاميذ بقولهم: - أي المستعمرين.جاء النبي صلى الله عليه وسلم فوجد الناس يعبدون الأصنام، ويئدون البنات، ويشربون الخمر، وهم يعنون بهذا أن الدعوة قد استئنفت مقاصدها.فاليوم. لا أصنام. ولا وأد للبنات، وقد أدرك الناس خطورة الخمر فاجتنبوها. فالإسلام - في رأيهم قد أدى رسالته.وهذا كلام حق، يراد به باطل. يريدون بذلك أن الإسلام قد استنفد مقاصده.فليعش المسلمون ذكراه.أما قرآن يحكم هذه الأمة، ويجمع كلمتها ويوحد "خزينتها"حتى يقول عمر بن الخطاب لعمرو بن العاص رضي الله عنهيا ابن العاص.. أتحيا ويموت من بجوار أمير المؤمنين؟ !!"في عام اشتد فيه الجفاف بالجزيرة".فيرد عليه والي مصر:والله يا أمير المؤمنين لأرسلن إليك إبلاً محملة،أولها عندك وآخرها عندي.
দ্বীন প্রচারকগণ যেন ‘পরিপূরক’ (تحسينات) বিষয়াবলি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে ‘অপরিহার্য’ (ضروريات) বিষয়গুলোকে উপেক্ষা না করেন। চোখের পাপড়ির চুল মাথার চুলের চেয়ে অনেক বেশি সৌন্দর্যমণ্ডিত, অথচ উভয়ই চুল এবং উভয়ই আল্লাহর সৃষ্টি।আমি জানি না। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিছু ভূখণ্ডে বর্তমানে আমি যে একাগ্রতা লক্ষ্য করছি এবং যা আমাকে গভীরভাবে চিন্তিত করে, তা কি কোনো নিরাপদ ক্ষেত্রের যথাযথ ব্যবহার? নাকি বৃহৎ বিষয়াবলি সম্পর্কে অজ্ঞতা, অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন সে সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) দুর্বলতা?আমি সিয়ারু আলামিন নুবালা-এর ৩য় খণ্ড, ৬৯ পৃষ্ঠায় মিথ্যুক (كذاب) মুসায়লিমার সাথে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুর একটি কথোপকথনের বর্ণনা পড়েছি, যেখানে মুসায়লিমা বলছিল:মুহাম্মদ তো মহান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলির জন্য প্রেরিত হয়েছেন। আর আমি প্রেরিত হয়েছি তুচ্ছ ও নগণ্য বিষয়াবলির জন্য।এটি ছিল মিথ্যুক (كذاب) মুসায়লিমার অভিমত। তবে আমাদের অনেকের কী হলো যে আমরা ‘বাস্তবে’ এই চিন্তাধারার চেয়েও নিচে নেমে যাচ্ছি?ইতোপূর্বে উপনিবেশবাদ (استعمار) সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) নির্ধারণ করে দিয়েছে, যেগুলোর জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবির্ভূত হয়েছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ে এই বলে তা নির্ধারণ করেছে—অর্থাৎ সেই উপনিবেশবাদীরা:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আবির্ভূত হন, তখন তিনি দেখেন যে মানুষ মূর্তিপূজা করছে, কন্যাসন্তানদের জীবন্ত দাফন করছে এবং মদ্যপান করছে; আর এর মাধ্যমে তারা (উপনিবেশবাদীরা) বোঝাতে চায় যে, ইসলামের দাওয়াহ তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) পূর্ণ করে ফেলেছে।সুতরাং আজ আর মূর্তিপূজা নেই, কন্যাসন্তানকে জীবন্ত দাফন করা হয় না এবং মানুষ মদ্যপানের ভয়াবহতা উপলব্ধি করে তা বর্জন করেছে। ফলে তাদের মতে—ইসলাম তার পয়গাম (رسالة) পৌঁছে দিয়েছে।এটি একটি সত্য কথা, যার মাধ্যমে মূলত একটি অসার উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা এর মাধ্যমে বোঝাতে চায় যে, ইসলাম তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد) নিঃশেষ করে ফেলেছে।অতএব, মুসলমানরা যেন কেবল তার স্মৃতি নিয়েই বেঁচে থাকে।কিন্তু সেই কুরআন কি আছে যা এই উম্মাহর শাসন পরিচালনা করবে, তাদের ঐক্যবদ্ধ করবে এবং তাদের ‘রাষ্ট্রীয় কোষাগার’ সুসংহত করবে?এমনকি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন—হে ইবনুল আস! তুমি কি সুখে জীবন অতিবাহিত করবে আর আমিরুল মুমিনিনের প্রতিবেশীরা অনাহারে মৃত্যুবরণ করবে? !!“এটি সেই বছরের ঘটনা, যখন আরব উপদ্বীপে তীব্র খরা দেখা দিয়েছিল।”তখন মিশরের গভর্নর (والي) তাকে উত্তর দিয়েছিলেন:আল্লাহর কসম, হে আমিরুল মুমিনিন! আমি আপনার নিকট পণ্যবোঝাই এমন এক উষ্ট্রীবহর পাঠাব—যার প্রথমটি পৌঁছাবে আপনার কাছে আর শেষটি থাকবে আমার কাছে।
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أما أن يكون الغاية من إرسال النبي صلى الله عليه وسلم تكوين جيش تحركه صرخة امرأة "وامعتصماه" فهذا شيء يجب أن يُنسى، هذا ما أراده المستعمر. وما خطط له.وأضربُ لهذا الأمر مثلاً:في حادث سيارة أصيب شاب وجيه المنظر، حلو الملامح، وعندما نقل إلى المستشفى ورآه الممرضات سارعن إلى تنظيف وجهه، وتصفيف شعره، وإعادة رباط عنقه. بينما النزيف الداخلي يوشك أن يمزق أوصاله.!!حتى جاء الطبيب.وفي طفولتي دخلت محلاً به مرايا متعددة.بعضها يكبر الرأي ويصغر الجسد، وبعضها يكبر الأذن وهكذا.ليضحك كل من يدخل من الأطفال، وربما غير الأطفال.والآن وقد انتهت طفولتي، أيقنت أن بعض الذين يعملون في حقل الدعوة مصابون بهذه المرايا.يرى أمورا شكلية صغيرة فيظنها كبيرة خطيرة.فيشغل الناس عن أمور - يعلم الله - أنها كبيرة. ويعلم هو - أيضا.سوف نعلم في باب {وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ} أن الأمر بالمعروف يأخذ حكم المأمور به. والنهي عن المنكر كذلك. فمن دعا إلى فريضة فدعوته لها فريضة.أما من دعا إلى نافلة فحكم الدعوة نافلة.ومن عبادة الهوى أن ننشغل بالنوافل عن الفرائض.أنا لا أصرف الناس - وخصوصاً الدعاة عن بيان حكم الله في كل شيء بينه القرآن الكريم، أو بينه النبي صلى الله عليه وسلم فالقرآن تكلم عن أدب الجلوس في المجالس {11 سورة المجادلة} والنبي صلى الله عليه وسلم تكلم عن غسل اليدين بعد الأكل. بشرط أن نعطي كل شيء حجمه، ولا تخدعنا المرائي الكاذبة. وسوف يأتي أن النبي صلى الله عليه وسلم تكلم عن تربية المسلم على الأكل مما يليه، والأكل باليمنى، وتسمية الله على الطعام، وهو في الوقت نفسه يربي ملائكة البشر، ومؤدبي الجبابرة وحكام الدنيا. وقيادات جيوش الحق، التي قهرت الظلام والظلم.
নবী (সা.)-কে প্রেরণের উদ্দেশ্য যদি কেবল কোনো এক নারীর ‘ওয়া মুতাসিমাহ’ চিৎকারে একটি সেনাবাহিনী পরিচালনা করা হয়, তবে এমন বিষয় ভুলে যাওয়া উচিত; এটিই ছিল ঔপনিবেশিক শক্তির ইচ্ছা এবং তাদের পরিকল্পনা।আমি এ বিষয়ে একটি উদাহরণ দিচ্ছি:একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় একজন সুদর্শন ও সৌম্য চেহারার এক যুবক আহত হলো। তাকে যখন হাসপাতালে নেওয়া হলো এবং নার্সরা তাকে দেখল, তখন তারা দ্রুত তার মুখমণ্ডল পরিষ্কার করতে, চুল আঁচড়ে দিতে এবং টাই ঠিক করে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। অথচ অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ তখন তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার উপক্রম করছিল!!অবশেষে চিকিৎসক এলেন।আমার শৈশবে আমি এমন একটি দোকানে প্রবেশ করেছিলাম যেখানে অনেকগুলো আয়না ছিল।কোনো কোনো আয়না মাথা বড় ও শরীর ছোট দেখাত, কোনোটি কান বড় করে দেখাত—এভাবেই সব।যাতে সেখানে প্রবেশকারী সকল শিশু এবং সম্ভবত বড়রাও হাসাহাসি করে।এখন যখন আমার শৈশব শেষ হয়েছে, আমি নিশ্চিত হয়েছি যে দাওয়াতি ময়দানে কর্মরত একদল লোক এই আয়নাগুলোর ব্যাধিতে আক্রান্ত।তারা বাহ্যিক ছোটখাটো বিষয়গুলোকে দেখে বড় ও গুরুতর মনে করে।ফলে তারা মানুষকে এমন সব বিষয়ে ব্যস্ত করে ফেলে—যা আল্লাহ জানেন—অনেক বড় ও গুরুত্বপূর্ণ; এমনকি সেই ব্যক্তি নিজেও তা জানে।আমরা ‘সৎ কাজের আদেশ দাও’ অধ্যায়ে জানতে পারব যে, সৎ কাজের আদেশ (الأمر بالمعروف) দেওয়ার বিধান সেই আদিষ্ট বিষয়ের বিধান অনুযায়ীই নির্ধারিত হয়। অসৎ কাজের নিষেধ (النهي عن المنكر) করার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো ফরজ (فريضة) কাজের দিকে আহ্বান করে, তার সেই আহ্বানও একটি ফরজ (فريضة)।আর যে ব্যক্তি কোনো নফল (نافلة) কাজের দিকে আহ্বান করে, সেই আহ্বানের বিধানও নফল (نافلة)।আর প্রবৃত্তির পূজার অন্যতম লক্ষণ হলো ফরজ (الفرائض) কাজ ছেড়ে নফল (النوافل) বিষয়াদি নিয়ে মগ্ন থাকা।আমি মানুষকে—বিশেষ করে দায়ীদের—আল্লাহর বিধান বর্ণনা করা থেকে বিমুখ করছি না, যা পবিত্র কুরআন বা নবী (সা.) বর্ণনা করেছেন। কারণ কুরআন মজলিসে বসার আদব {সূরা আল-মুজাদালাহ: ১১} নিয়ে আলোচনা করেছে এবং নবী (সা.) খাওয়ার পর হাত ধোয়া সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তবে শর্ত হলো, আমরা যেন প্রতিটি বিষয়কে তার সঠিক গুরুত্ব প্রদান করি এবং কোনো মিথ্যা দৃশ্য যেন আমাদের প্রতারিত না করে। সামনে আমরা দেখতে পাব যে, নবী (সা.) একজন মুসলিমকে তার সামনের অংশ থেকে আহার করা, ডান হাতে খাওয়া এবং খাবারের শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া শিক্ষা দিয়েছেন; অথচ একই সময়ে তিনি মানবজাতির মাঝে ফেরেশতাসমূহ, প্রতাপশালী শাসকদের শিক্ষক, দুনিয়ার শাসক এবং সত্যের বাহিনীর এমন সব সেনাপতিদের গড়ে তুলছিলেন, যারা অন্ধকার ও জুলুমকে পরাজিত করেছিল।
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
إن رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أبعاد المسافة بين لا إله إلا الله، وبين إماطَة الأذى عن الطريق "الإسلام بضع وسبعون أو ستون شعبة، أعلاها لا إله إلا الله. وأدناها إماطة الأذى عن الطريق والحياء شعبة من الإيمان. البخاري ومسلم باب الإيمان.ومن حُسْن فقه المسلم أن يعرف أين مكانه من الإسلام.أن ينظم عبادته على قانون "فقه الأولويات" والدعاة كذلك. وهم أولى.كثيراً ما طُفت في بلاد محمد صلى الله عليه وسلم أنادي في الشباب: على كل شاب أن يرسم سبعين مربعاً صغيراً، ويكتب في كل وحدة من المربعات اسم شعبة من الإسلام، وعليه أن يبدأ بالأهم.عليه أن يبدأ بالعقائد. لما للعقائد من أثر وطمأنينة في النفس، ورقابة على التصرفات. وعليه أن يحذر من تقديم نافلة على فريضة. فهذه من عبادة الهوى التي نهينا عنها - كما قلت -.إن الحديث عن الأكل بالأصابع، إذا سبق الحديث عن أكل الربا، أو شغل الناس عنه، فهذا دليل على عمى البصيرة.وتكرار حج التطوع، وتكرار العمرة في كل عام، وحمل الذين لم يفرض الله عليهم الحج لفقرهم، حملهم إلى أداء هذه الفريضة، مع شح في خدمة دورات تحفيظ القرآن الكريم، وتكوين مكتبات عامة في المساجد، وإرسال النابغين من الطلاب في أي تخصص ليواصلوا تعليمهم، كل هذا عمل يدل على الجهل بفقه الأولويات. ومثلهم كمثل من يبني مسجداً فاخراً، يزين فيه الجدران، ويبخل عن جلب محفظ للقرآن، وعالم يبين الإسلام الحق للناس. فهم يكرمون الحجارة فقط. فيسألوها القبول!!.
নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণের মধ্যকার দূরত্বের ব্যাপ্তি বর্ণনা করেছেন: "ইসলামের সত্তর বা ষাটের অধিক শাখা (شعبة) রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা, আর লজ্জাশীলতা হলো ঈমানের একটি শাখা (شعبة)।" বুখারি ও মুসলিম, ঈমান অধ্যায়।একজন মুসলমানের ফিকহ (فقه) বা প্রজ্ঞার উৎকর্ষতা হলো সে ইসলামে তার অবস্থান সম্পর্কে অবগত হবে।তাকে তার ইবাদতসমূহকে 'অগ্রাধিকারের ফিকহ' (فقه الأولويات) বা বিন্যাসতত্ত্বের নিয়মে সুশৃঙ্খল করতে হবে এবং দায়ীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য; বরং তাদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেশসমূহে ভ্রমণকালে আমি প্রায়ই তরুণদের নিকট আহ্বান জানিয়েছি: প্রত্যেক তরুণের উচিত সত্তরটি ছোট বর্গক্ষেত্র আঁকা এবং প্রতিটি ঘরে ইসলামের একটি করে শাখা (شعبة)-র নাম লেখা, আর তাকে অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে শুরু করতে হবে।তাকে আকাইদ (عقائد) বা বিশ্বাসমালা থেকে শুরু করতে হবে। কারণ আত্মার ওপর বিশ্বাসের প্রভাব ও প্রশান্তি অপরিসীম এবং এটি আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। তাকে নফল (نافلة) ইবাদতকে ফরজ (فريضة) ইবাদতের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা এটি প্রবৃত্তির পূজার অন্তর্ভুক্ত যা থেকে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে—যেমনটি আমি বলেছি।নিশ্চয়ই আঙ্গুল দিয়ে খাবার খাওয়ার আলোচনা যদি সুদ (ربا) খাওয়ার আলোচনার আগে স্থান পায় অথবা মানুষকে সুদ থেকে বিমুখ করে রাখে, তবে তা দূরদর্শিতার অন্ধত্বের প্রমাণ।নফল হজের পুনরাবৃত্তি, প্রতি বছর ওমরাহ করা এবং দারিদ্র্যের কারণে আল্লাহ যাদের ওপর হজ ফরজ (فريضة) করেননি তাদের হজে নিয়ে যাওয়া—অথচ সেই সাথে পবিত্র কুরআন হিফজ করার কোর্সসমূহের সেবায় কার্পণ্য করা, মসজিদে গণগ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা না করা এবং যেকোনো বিষয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠাতে অবহেলা করা—এই সবকিছুই অগ্রাধিকারের ফিকহ (فقه الأولويات) সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক। তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো যে একটি জাঁকজমকপূর্ণ মসজিদ নির্মাণ করে এবং তার দেয়ালসমূহ সুসজ্জিত করে, কিন্তু একজন কুরআন শিক্ষক ও একজন বিজ্ঞ আলেম—যিনি মানুষের কাছে প্রকৃত ইসলাম তুলে ধরবেন—তাদের নিয়োগ দিতে কার্পণ্য করে। তারা কেবল পাথরকেই সম্মান করে। অতঃপর তারা সেই পাথরের কাছেই কবুলিয়ত প্রার্থনা করে!!
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الرسالة الأولى من هذه السلسلة سلم أخلاق النبوة دراسة قرآنيةحول المراحل الأخلاقية الأربعالأولى: ما قبل (اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ)الثانية: القرآن يتسامى بالنبي صلى الله عليه وسلم أخلاقياالثالثة: ذاب النبي صلى الله عليه وسلم في الوحيالرابعة: نختتم دراستنا لهذا السُّلَّمبدور النبي في إتمام مكارم الأخلاق.كل نبي أصلحته الأخلاق، وأهلته للنبوة.أما نبينا محمد فأصلح قانون الأخلاقمحمود غريب
এই ধারাবাহিকের প্রথম রিসালাহ: নবুওয়াতের চারিত্রিক সোপান, একটি কুরআন ভিত্তিক গবেষণাচারটি চারিত্রিক পর্যায় প্রসঙ্গেপ্রথম: (পড়ো তোমার রবের নামে) অবতীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী পর্যায়দ্বিতীয়: কুরআন মাজিদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে চারিত্রিক দিক থেকে অনন্য উচ্চতায় উন্নীত করেছেতৃতীয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওহির মাঝে বিলীন হয়ে গিয়েছিলেনচতুর্থ: আমরা এই সোপানের আলোচনা সমাপ্ত করবউত্তম চরিত্রের পূর্ণতা বিধানে নবীর ভূমিকা পর্যালোচনার মাধ্যমে।প্রত্যেক নবীকে উন্নত চরিত্র মার্জিত করেছে এবং নবুওয়াতের জন্য যোগ্য করে তুলেছে।পক্ষান্তরে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চরিত্রের বিধানকেই সংশোধন করেছেন।মাহমুদ গারিব
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تقديم: بقلم الأديب حديوي حلاوةإمام وخطيب مسجد معالي الوزير الشنفري - بصلالةبسم الله الرحمن الرحيموالصلاة والسلام على سيدنا رسول الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم.. وبعد …· فإن الحديث عن رسول الله طيب وجميل.. عظيم ونفيس.. بلسم ودواء.. غذاء وشفاء.. نور وأنوار..· حديث حبيب إلى كل نفس.. خفيف على كل سمع.. رقيق على كل قلب.. لا ينتهي له مدى.. ولا يبيد له ثمر.. ولا يغيض له ماء.. ولا ينضب له معين.. لأنه حديث عن العظيم محمد صلى الله عليه وسلم الذي فتح الله به على الإنسانية فتحاً جديداً عرفت على أضوائه طريق الهدى والرشاد.. وأعطاه الله من أنعمه ما أهله لحمل رسالته إلى الناس أجمعين..فجمع الشمل بحكمته.. ورأب الصدع برحمته.. وملك القلوب بسماحته.. وعطر الوجود بسيرته.. وملأ الأعين بنضارته.. وناجى الأرواح بموعظته.. وخاطب الضمائر بحنانه.. وتسرب إلى خبايا الضلوع بأخلاقه..· منه شع النور.. وعنه انبثق العرفان.. وبرحمته انتشر الإسلام.. وبهديه ترعرعت شجرة الإيمان..· إلى حديثه أضغى المكدود.. وبكلامه تداوى المكلوم.. وفي رياضه استراح العاني.. وفي ظله رقد المظلوم..فسَرتْ دعوته في القلوب والنفوس كما يسري الماء في الأرض التي شققها الظمأ..
উপস্থাপনা: সাহিত্যিক হাদিওয়ী হালাওয়াহ-এর লেখনীতেইমাম ও খতিব, মাআলী আল-ওয়াজির আল-শানফারি মসজিদ - সালালাহপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।আমাদের নেতা আল্লাহর রাসুলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক.. অতঃপর …· নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের হাদিস অত্যন্ত পবিত্র ও সুন্দর.. মহান ও অমূল্য.. সুধা ও ঔষধ.. খোরাক ও আরোগ্য.. নূর ও আলোকবর্তিকা..· এই হাদিস প্রতিটি প্রাণের কাছে প্রিয়.. প্রতিটি কর্ণের কাছে শ্রুতিমধুর.. প্রতিটি হৃদয়ের কাছে কোমল.. এর কোনো সীমা নেই.. এর ফল কখনো নিঃশেষ হয় না.. এর বারিধারা কখনো হ্রাস পায় না.. এবং এর উৎস কখনো শুকিয়ে যায় না.. কারণ এটি সেই মহান মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কিত আলোচনা, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ মানবতার জন্য এক নতুন বিজয়ের দ্বার উন্মোচন করেছেন, যাঁর আলোকচ্ছটায় মানবজাতি হেদায়েত ও সঠিক পথের দিশা পেয়েছে.. এবং আল্লাহ তাঁকে তাঁর এমনসব নিয়ামত দান করেছেন যা তাঁকে সমস্ত মানুষের কাছে তাঁর রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার যোগ্য করে তুলেছে..ফলে তিনি তাঁর প্রজ্ঞা দিয়ে বিচ্ছিন্নতাকে দূর করে ঐক্য গড়েছেন.. তাঁর রহমত দিয়ে ফাটল মেরামত করেছেন.. তাঁর মহানুভবতা দিয়ে হৃদয় জয় করেছেন.. তাঁর সীরাত দিয়ে অস্তিত্বকে সুরভিত করেছেন.. তাঁর লাবণ্য দিয়ে দৃষ্টি জুড়িয়েছেন.. তাঁর নসিহত দিয়ে আত্মাসমূহকে আন্দোলিত করেছেন.. তাঁর মমতা দিয়ে বিবেককে সম্বোধন করেছেন.. এবং তাঁর সুমহান চরিত্রের মাধ্যমে পাঁজরের নিভৃত কোণে স্থান করে নিয়েছেন..· তাঁর থেকেই নূর বিচ্ছুরিত হয়েছে.. তাঁর থেকেই জ্ঞান ও প্রজ্ঞা উৎসারিত হয়েছে.. তাঁর রহমতেই ইসলাম প্রসারিত হয়েছে.. এবং তাঁর হেদায়েতেই ঈমানের বৃক্ষ পল্লবিত হয়েছে..· তাঁর হাদিসের প্রতি শ্রান্ত ব্যক্তি কর্ণপাত করেছে.. তাঁর বাণীর মাধ্যমে ব্যথিত ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করেছে.. তাঁর নন্দনকাননে কষ্টক্লিষ্ট মানুষ প্রশান্তি পেয়েছে.. এবং তাঁর ছায়াতলে মজলুম ব্যক্তি আশ্রয় নিয়েছে..অতঃপর তাঁর দাওয়াত অন্তর ও আত্মার মাঝে এমনভাবে সঞ্চারিত হয়েছে যেমন তৃষ্ণার্ত ও ফেটে যাওয়া শুষ্ক জমিনে পানি প্রবাহিত হয়..
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأماتها العطش..!ما سئم الناس له صوتاً.. ولا ملوا له نغماً.. ولا استثقلوا له كلماً..!· فصنع أمة قائمة على الزهد والورع.. أحياها من الموات.. وجمعها من الشتات.. وهداها من الضلالة.. وعلمها من الجهالة.. وكشف عنها حجاب الغمة.. وأماط عنها لثام الظلمة.. وقومها على الحق.. وردعها عن الغىِّ.. وكفها عن الباطل.. وأضاء لها مشاعل الخير.. ووصل بها إلى اليقين.. وهدادها إلى الصراط المستقم..· وكان بحق روضة فينانة زانتها يد الخالق بالأزاهير الندية.. ونقل عنها النسيم أطيب نفحاتها الزكية.. لكل من نأت به الديار.. أو شط به المزار.. أو حاربته جيوش الدهر.. أو طحنته رحى الحياة.. أو لفحته قسوة الدنيا..!· فحمل الكل.. وآزر الحق.. ونطق بالصدق.. وحكم بالعدل.. ونادى بالحب.. وتجمل بالصبر.. ودعا إلى العفو.. وبشَّر بالخير.. وفاض بالرحمة.. وتحلى بالأمانة.. وأعلن المساواة.. ونصر المظلوم.. ورعى اليتيم.. وآوى المسكين.. ورحم ابن السبيل.. ودعا الناس إلى القرب من الله، والعيش في رحابه في الدنيا لينالوا الرضوان في الآخرة..!· وسيظل تاريخ هذا النبي العظيم محمد صلى الله عليه وسلم خالداً خلود الأبد.. باقياً بقاء الدهر.. مدوياً في الآذن.. مضيئاً كالصبح.. ساطعاً كالشمس.. منيراً كالقمر.. يتحدى الفناء.. ويغالب الأيام.. ويحارب الطغيان.. ويقضي على الفساد..!* * ** لقد كان عليه الصلاة والسلام المعلم الذي ترتقي إليه البشرية في سموها وتقدمها.. والمؤدب الذي أيقظ في المسلمين الوعي بالذات والمجتمع.. ودعا إلى الأخلاق الفاضلة.. وحث على التخلق بالآداب العظيمة والصفات الحسنة..
এবং পিপাসা তাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দিয়েছিল..!মানুষ কোনোদিন তাঁর কণ্ঠে ক্লান্তবোধ করেনি.. তাঁর সুরে বিরক্ত হয়নি.. এবং তাঁর কথাকে ভারি মনে করেনি..!· তিনি দুনিয়াবিমুখতা (الزهد) ও আল্লাহভীতির (الورع) ওপর ভিত্তি করে এক উম্মাহ গঠন করেছেন.. তিনি তাদের মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে পুনর্জীবিত করেছেন.. অনৈক্য থেকে একত্রিত করেছেন.. পথভ্রষ্টতা থেকে সুপথ দেখিয়েছেন.. অজ্ঞতা থেকে সুশিক্ষিত করেছেন.. তাদের উপর থেকে বিষণ্ণতার আবরণ উন্মোচন করেছেন.. অন্ধকারের পর্দা অপসারণ করেছেন.. তাদের সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন.. বিভ্রান্তি থেকে বিরত রেখেছেন.. এবং বাতিল থেকে রক্ষা করেছেন.. তাদের জন্য কল্যাণের মশাল প্রজ্বলিত করেছেন.. তাদের পৌঁছে দিয়েছেন নিশ্চিত বিশ্বাসের (اليقين) স্তরে.. এবং তাদের সিরাতুল মুস্তাকিম বা সরল পথের (الصراط المستقيم) দিশা দিয়েছেন..· তিনি যথার্থই ছিলেন এক সুশোভিত কানন, যাকে মহান স্রষ্টা সতেজ পুষ্পরাজি দিয়ে সজ্জিত করেছেন.. আর স্নিগ্ধ বাতাস তার পবিত্র ও সর্বোত্তম সুবাস বয়ে নিয়ে গেছে.. তাদের সবার নিকট, যাদের ঘরবাড়ি ছিল দূরে.. কিংবা যাদের গন্তব্য ছিল সুদূরপ্রসারী.. অথবা কালের প্রতিকূলতা যাদের ব্যতিব্যস্ত করেছিল.. কিংবা জীবনের যাঁতাকল যাদের পিষ্ট করেছিল.. অথবা দুনিয়ার কঠোরতা যাদের দগ্ধ করেছিল..!· তিনি সকলের দায়িত্বভার বহন করেছেন.. সত্যকে সমর্থন করেছেন.. সত্য কথা বলেছেন.. ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করেছেন.. ভালোবাসার আহ্বান জানিয়েছেন.. ধৈর্য বা সবরের (الصبر) মাধ্যমে নিজেকে অলঙ্কৃত করেছেন.. ক্ষমার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন.. কল্যাণের সুসংবাদ দিয়েছেন.. রহমত বা করুণায় প্লাবিত হয়েছেন.. আমানতদারিতার ভূষণে ভূষিত হয়েছেন.. সাম্য ঘোষণা করেছেন.. মজলুমকে সাহায্য করেছেন.. এতিমের লালন-পালন করেছেন.. অভাবী বা মিসকিনদের আশ্রয় দিয়েছেন.. মুসাফিরের প্রতি দয়া করেছেন.. এবং মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন ও দুনিয়াতে তাঁর সান্নিধ্যে জীবন যাপনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি (الرضوان) লাভ করতে পারে..!· এই মহান নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইতিহাস অনন্তকাল অমর হয়ে থাকবে.. মহাকালের পরিক্রমায় তা অক্ষয় থাকবে.. কানে প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে.. ভোরের মতো দীপ্তিমান.. সূর্যের মতো প্রখর.. চন্দ্রের মতো আলোকময় হয়ে থাকবে.. যা বিলুপ্তিকেও চ্যালেঞ্জ করবে.. সময়ের ওপর জয়লাভ করবে.. জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করবে.. এবং সকল বিপর্যয় বা ফাসাদ নির্মূল করবে..!* * ** নিশ্চয়ই তিনি (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) ছিলেন এমন এক শিক্ষক, যাঁর আদর্শের স্তরে মানবতা তার শ্রেষ্ঠত্ব ও অগ্রগতির জন্য উন্নীত হয়.. তিনি ছিলেন সেই নীতিশিক্ষক, যিনি মুসলিমদের মাঝে আত্মসচেতনতা ও সামাজিক বোধ জাগ্রত করেছেন.. তিনি উত্তম চরিত্রের দিকে আহ্বান করেছেন.. এবং মহান শিষ্টাচার বা আদব ও সুন্দর গুণাবলী অর্জনে উৎসাহিত করেছেন..
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فرسالته دعوة إلى الأخلاق. لأنه بعث متمماً لها:"إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق"وقال له ربه:"وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ" أي فوق الخلق العظيم..وسئل صلى الله عليه وسلم عن أكثر ما يدخل الجنة..؟قال: "تقوى الله وحسن الخلق"وقال عليه السلام لمعاذ بن جبل:"يا معاذ أتبع السيئة الحسنة تمحها، وخالق الناس بخلق حسن"* * *** وهذا الكتاب النفيس "سُلَّمُ أخلاق النبوة" يميط اللثام.. ويكشف النقاب.. ويرفع الستار.. عن بعض من أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم تُغير للمسلم حياته الدينية والسلوكية والأخلاقية والتربوية.. فيها آيات بينات.. ودلائل واضحات على السمو والكمال.. والطهر والجلال.. والحياء والعفاف.. والصدق والإخلاص..!** ولا غُرو.. فمؤلفه أستاذنا الموقر الشيخ محمود غريب.. خطيب ندىُّ الصوت.. بليغ الأسلوب.. عذب الحديث.. واسع الأفق.. ثاقب الفهم.. طلق اللسان.. عميق النظرة.. فخم العبارة.. دقيق التصوير.. بسيط الكلمة.. صادق الإنسانية.. دمث الخلق.. شفيق الجوهر.. سليم الفطرة..ينقب عن الحكمة ويتفانى في تمجيدها.. ويعشق الفضيلة ويشدو بمحاسنها.. يميل إلى دراسة الحياة وفهمها عن طريق خيال الأديب.. ورهافة الشاعر.. وتمهل الفيلسوف.. وفكر الداعية.. وحكمة المجرب.. وحنكة الواعظ.. وذكاء الخطيب..!
তাঁর রিসালাত হলো নৈতিকতার দাওয়াত। কারণ তিনি তা পূর্ণ করার জন্যই প্রেরিত হয়েছেন:"আমি কেবল উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি"এবং তাঁর প্রতিপালক তাঁকে বলেছেন:"আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত" অর্থাৎ মহান চরিত্রের ঊর্ধ্বে..রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন জিনিসটি মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে?তিনি বললেন: "আল্লাহর ভীতি এবং উত্তম চরিত্র"এবং তিনি আলাইহিস সালাম মুয়াজ ইবনে জাবালকে বললেন:"হে মুয়াজ! মন্দের পরপরই নেক আমল করো, তা মন্দকে মিটিয়ে দেবে এবং মানুষের সাথে উত্তম আচরণের মাধ্যমে মেলামেশা করো"* * *** এবং এই মূল্যবান গ্রন্থ "সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ" রহস্যের যবনিকা উন্মোচন করে.. আবরণ সরিয়ে দেয়.. এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে যা একজন মুসলমানের ধর্মীয়, আচরণগত, চারিত্রিক ও শিক্ষামূলক জীবনকে বদলে দেয়.. এতে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ.. শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতার উজ্জ্বল প্রমাণ.. পবিত্রতা ও গাম্ভীর্য.. লজ্জা ও সতীত্ব.. এবং সত্যবাদিতা ও একনিষ্ঠতা..!** এবং এতে বিস্ময়ের কিছু নেই.. কারণ এর লেখক আমাদের শ্রদ্ধেয় উস্তাদ শায়খ মাহমুদ গারিব.. তিনি সুমধুর কণ্ঠের খতিব.. বাগ্মী শৈলীসম্পন্ন.. মিষ্টভাষী.. সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন.. প্রখর ধীশক্তিমান.. সাবলীলভাষী.. গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন.. গাম্ভীর্যপূর্ণ অভিব্যক্তিসম্পন্ন.. নিখুঁত রূপকার.. সহজবোধ্য শব্দের কারিগর.. অকৃত্রিম মানবতাবাদী.. কোমল স্বভাবের.. দয়ার্দ্র হৃদয়ের এবং নির্মল স্বভাবের অধিকারী..তিনি প্রজ্ঞা অনুসন্ধান করেন এবং তা সমুন্নত রাখতে নিজেকে বিলিয়ে দেন.. তিনি মহৎ গুণাবলিকে ভালোবাসেন এবং এর সৌন্দর্যের জয়গান করেন.. তিনি জীবনকে একজন সাহিত্যিকের কল্পনা, কবির সংবেদনশীলতা, দার্শনিকের ধীরস্থিরতা, দাঈর চিন্তা, অভিজ্ঞ ব্যক্তির প্রজ্ঞা, উপদেষ্টার বিজ্ঞতা এবং একজন খতিবের বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে অনুধাবন ও উপলব্ধি করতে পছন্দ করেন..!
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يتخذ الأدب سميراً.. ويسمع الشعر منشداً.. ويشرب العلم رحيقاً.. ويلبس البيان ثوباً..· له أسلوب في الحوار حكيم.. ومنهج في الكلام قويم.. وحديث على السمع جميل.. يتقن النسج.. ويجهد البيان في الوصف.. والفكر في التنسيق.. والذوق في اختيار الكلمات.. لتقصيه الدقيق.. وغوصه العميق.. وتمييزه الدقيق.. فيجلى غوامض الأفئدة.. ويسير غور الضمائر.. ويحسن الذوق في البيان..!* * *· ومما لا يعرفه القارئ العزيز عن الداعية الكبير الشيخ محمود غريب أنه بدأ حياته صانعاً للمفاتيح واستطاع بكفاحه وصبره أن يجمع بين الدراسة بالأزهر الشريف.. وصناعة المفاتيح. سبعة عشر عاماً.. فجادت قرائح الشعراء بوصفه كأول صانع يحصل على الشهادة العالية من الأزهر.. وكأس الأزهر في الخطبة 1966 م.· يقول شاعر الشرقية "عبد الله محسن":محمود غريب موهبة. . . من عند الرب الفتاحيعطيك الهدى بموعظة. . . ويتيه بصنعه مفتاح· وقال عنه شيخ الأزهر الشيخ حسن مأمون حين سلمه كأس الخطابة عام 1966 م: "إذا خَرَّج الأزهر في كل عام خطيباً واحداً مثل محمود غريب فقد أدى الأزهر رسالته".· وقال عنه الدكتور عبد الحليم محمود شيخ الأزهر:"إن الله رزق محمود غريب أن يفهم أكثر مما يقرأ"
তিনি সাহিত্যকে তাঁর সহচর করেন.. আবৃত্তি হিসেবে কবিতা শোনেন.. জ্ঞানের সুধা পান করেন.. এবং প্রাঞ্জল ভাষাকে পরিধেয় পোশাক হিসেবে পরিধান করেন..· সংলাপে তাঁর রয়েছে এক প্রজ্ঞাপূর্ণ শৈলী.. তাঁর বক্তব্যের পদ্ধতি (منهج) অত্যন্ত সুদৃঢ়.. শ্রবণে তাঁর আলাপ অতি মনোরম.. তিনি শব্দবুননে দক্ষ.. বর্ণনায় প্রাঞ্জলতার প্রয়োগে অক্লান্ত.. বিন্যাসে চিন্তাশীল.. শব্দ চয়নে রুচিশীল.. তাঁর সূক্ষ্ম অনুসন্ধিৎসা.. গভীর নিমজ্জন.. এবং নিপুণ পার্থক্যের (تمييز) কারণে.. তিনি অন্তরের রহস্যসমূহ উন্মোচন করেন.. বিবেকের গভীরতায় বিচরণ করেন.. এবং বর্ণনায় উন্নত রুচির বহিঃপ্রকাশ ঘটান..!* * *· মহান দাঈ শায়খ মাহমুদ গারিব সম্পর্কে প্রিয় পাঠক যা জানেন না তা হলো, তিনি তাঁর জীবন শুরু করেছিলেন একজন চাবি প্রস্তুতকারক হিসেবে এবং নিজের সংগ্রাম ও ধৈর্যের মাধ্যমে আল-আজহার আল-শরিফে পড়াশোনা ও চাবি তৈরির পেশার মাঝে সমন্বয় করতে সক্ষম হন। টানা সতেরো বছর.. কবিদের সৃজনশীল প্রতিভা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে এই বর্ণনায় যে, তিনি প্রথম চাবি প্রস্তুতকারক যিনি আল-আজহার থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং ১৯৬৬ সালে বক্তৃতায় আল-আজহার কাপ লাভ করেছেন।· আশ-শারকিয়্যাহর কবি 'আবদুল্লাহ মুহসিন' বলেন:মাহমুদ গারিব এক অনন্য প্রতিভা... মহাবিজয়ী প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দানউপদেশের মাধ্যমে তিনি তোমাকে হিদায়াত দান করেন... আর স্বহস্তে নির্মিত চাবি নিয়ে গর্ব করেন· আল-আজহারের শায়খ, শায়খ হাসান মামুন ১৯৬৬ সালে বক্তৃতার কাপ প্রদানের সময় তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: "আল-আজহার যদি প্রতি বছর মাহমুদ গারিবের মতো মাত্র একজন সুবক্তা তৈরি করতে পারে, তবে আল-আজহার তার মিশন পূর্ণ করেছে।"· আল-আজহারের শায়খ ড. আবদুল হালিম মাহমুদ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:"নিশ্চয়ই আল্লাহ মাহমুদ গারিবকে যা পড়েন তার চেয়ে বেশি বোঝার তাওফিক দান করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد صور الدكتور صابر عبد الدايم يونس مراحل حياة الكاتب، والصناعات التي عمل بها، وما حصل عليه وهو صانع من سبق علمي فقال في قصيدة طويلة:محمود عهدي بالإله يمدكم. . . في كل آونة بكل رباحفاهنأ فإن الدهر ينطق باسماً. . . إن السعادة رهن كل كفاحفخزائن الأرزاق قد فتحها. . . بالعلم ثم بصنعه المفتاحوصنعت أقفاصاً لكل مغرد. . . ما قيدت حرية الصداحغنَّت بلابلها فكان غناؤها. . . وصفا لأخلاق لكم وسماحوجماعة الخطباء كنت عميدها. . . كالبدر يشرق بالسنا اللماحكم من قلوب أنت فوق عروشها. . . متمكن كالنور بالمصباحكأس الخطابة نلته عن عالم الإسلا … م ذا من أعذب الأقداحما فيه خمرّ، إنما فيه التقى. . . ممزوج بالنور السني الضاحيمُهجُ المنابر صفّقت لقدومكم. . . وتمايلت كالمنتشي بالراح** نسأل الله العلي القدير رب العرش العظيم أن يكون هذا الكتاب في ميزان حسنات الشيخ الجليل.وجزاه الله عن المسلمين خير جزاء..*********قال المؤلف:** عندما قرأت رسالة الأديب الكبير حديوي حلاوة - شكر الله له.تذكرت قول السلف: إن صدق مادحوك فالفضل لمن منحك، وليس لمن مدحك. ورجوت الله أن يجعلني خيراً مما يظنون. وكانت هذه الكلمات تُنير لي الطريق وأنا أعمل صانعا للمفاتيح، وطالباً بالأزهر الشريف شكر الله لأصحابها.* * *
ডক্টর সাবের আব্দুল দায়েম ইউনুস লেখকের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়, তিনি যে সকল পেশায় কাজ করেছেন এবং কারিগর হিসেবে তিনি যে বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ অর্জন করেছেন, তা একটি দীর্ঘ কবিতায় চিত্রিত করেছেন; তিনি বলেছেন:মাহমুদ! আল্লাহর প্রতি আমার বিশ্বাস, তিনি আপনাকে প্রতিটি মুহূর্তে সকল প্রকার কল্যাণ দ্বারা সাহায্য করবেন। . . অতএব আনন্দিত হোন, কারণ মহাকাল হাস্যোজ্জ্বল মুখে কথা বলছে। . . প্রকৃতপক্ষে সৌভাগ্য প্রতিটি সংগ্রামের ওপর নির্ভরশীল।জীবিকার ভাণ্ডারসমূহ তিনি জ্ঞানের মাধ্যমে উন্মোচন করেছেন। . . অতঃপর তাঁর নিপুণ হাতের চাবিকাঠি তা খুলে দিয়েছে।আপনি প্রতিটি গায়কের জন্য খাঁচা তৈরি করেছেন। . . যা সুকণ্ঠী গায়কের স্বাধীনতাকে শৃঙ্খলিত করেনি।তার বুলবুলিগুলো গান গেয়েছে, আর তাদের সেই সংগীত ছিল। . . আপনাদের নৈতিকতা ও উদারতার বর্ণনা।আপনি ছিলেন বাগ্মী সমাজের প্রধান। . . উজ্জ্বল জ্যোতির বিকিরণকারী পূর্ণিমার চাঁদের মতো।কত হৃদয়ের সিংহাসনে আপনি আসীন। . . প্রদীপের আলোর মতো সেখানে সুদৃঢ়ভাবে অধিষ্ঠিত।ইসলামি বিশ্বের পক্ষ থেকে আপনি বাগ্মিতার যে সুধা লাভ করেছেন … তা অত্যন্ত সুপেয় পানপাত্রের অন্যতম।তাতে কোনো মদ নেই, বরং তাতে আছে খোদাভীতি (تقوى)। . . যা উজ্জ্বল প্রদীপ্ত নূরের সাথে মিশ্রিত।মিম্বরের প্রাণসমূহ আপনাদের আগমনে আনন্দধ্বনি করেছে। . . এবং শরাব পানে মত্ত ব্যক্তির ন্যায় দুলে উঠেছে।** আমরা মহান আরশের অধিপতি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এই বইটি সম্মানিত শাইখের নেক আমলের পাল্লায় জমা হয়।আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের পক্ষ থেকে তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।*********লেখক বলেছেন:** যখন আমি বিশিষ্ট সাহিত্যিক হাদিওয়ী হালাওয়া—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন—এর পত্রটি পড়লাম।তখন পূর্বসূরিগণের (سلف) উক্তিটি আমার স্মরণে এলো: "যদি তোমার প্রশংসাকারীরা সত্যবাদী হয়, তবে এর শ্রেষ্ঠত্ব তার জন্য যিনি তোমাকে এটি দান করেছেন, তার জন্য নয় যে তোমার প্রশংসা করেছে।" আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি, তিনি যেন আমাকে তাদের ধারণার চেয়েও উত্তম করেন। আমি যখন চাবি তৈরির কারিগর হিসেবে কাজ করতাম এবং আল-আজহার শরীফের ছাত্র ছিলাম, তখন এই কথাগুলো আমার পথকে আলোকিত করত। আল্লাহ এর প্রবক্তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।* * *
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيممقدمةبسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله وكفى. وسلام على عباده الذين اصطفى.وسلام على النبي المصطفى.أما بعد..فهذه دراسة قرآنية لموضوع "سُلّم أخلاق الُّنُبوَّةِ" وقد حاولت أن أتجنب في هذه الدراسة المنهج الفلسفي.فقد امتلأت المكتبة بما كتبه المرحوم الدكتور/ محمد عبد الله دراز باللغة الفرنسية، وهو كتاب "دستور الأخلاق القرآنية" والذي جمع بين المنهج الفلسفي الشرقي والغربي ومنهج القرآن.ونقله للعربية الدكتور عبد الصبور شاهين..كما لم أسهب في جمع القصص الأخلاقي للنبي صلى الله عليه وسلمفقد سبقني إليه الدكتور/ أحمد الحوفي في بحث واف.ومن قبله كتب كثيرة متفرقة.أما جانب الدراسة القرآنية فلا ينتهي مددها، ولا تنفد عجائبها.وقد قدمت لدراستي القرآنية ببعض مما لا تتم المنفعة إلا به.وأتركُ القارئ الكريم يعيش مع هذه الدراسة القرآنية.* * *
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।ভূমিকাপরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট। শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দাদের ওপর যাঁদের তিনি মনোনীত করেছেন।এবং শান্তি বর্ষিত হোক মনোনীত নবীর ওপর।অতঃপর...এটি "নবুওয়তের নৈতিকতার সোপান" বিষয়ের ওপর একটি কুরআনকেন্দ্রিক গবেষণা। আমি এই গবেষণায় দার্শনিক পদ্ধতি পরিহার করার চেষ্টা করেছি।মরহুম ডক্টর মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ দারাজ ফরাসি ভাষায় যা লিখেছেন তার দ্বারা লাইব্রেরি সমৃদ্ধ হয়েছে; আর সেটি হলো "কুরআনের নৈতিক বিধান" নামক গ্রন্থ, যেখানে তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দার্শনিক পদ্ধতির সাথে কুরআনের পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়েছেন।আর এটি আরবিতে ভাষান্তর করেছেন ডক্টর আব্দুস সবুর শাহিন।তদ্রূপ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নৈতিকতাসম্পর্কিত ঘটনাবলি সংকলনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা অবলম্বন করিনি।কেননা আমার পূর্বে ডক্টর আহমদ আল-হূফী একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণায় এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।এবং তাঁর আগেও এ বিষয়ে বিক্ষিপ্তভাবে অনেক বই লেখা হয়েছে।তবে কুরআনকেন্দ্রিক গবেষণার পরিধি কখনো শেষ হয় না এবং এর বিস্ময়কর দিকগুলোও নিঃশেষ হওয়ার নয়।আর আমি আমার এই কুরআনকেন্দ্রিক গবেষণার ভূমিকারূপে এমন কিছু বিষয় উপস্থাপন করেছি যা ছাড়া প্রকৃত উপকার লাভ সম্ভব নয়।পরিশেষে আমি সম্মানিত পাঠককে এই কুরআনকেন্দ্রিক গবেষণার সাথে অভিনিবিষ্ট হওয়ার জন্য ছেড়ে দিচ্ছি।* * *
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
- مالك بن نبي ورأيه في العصمة.- خديجة - أم المؤمنين رضي الله عنها ومنهجها في الاستدلال.- هرقل - عظيم الروم ومنهجه في الاستدلال.- قريش - رفضت التصديق، ولم تكذب الصادق.- معجزة النبي صلى الله عليه وسلم الأولى هي القرآن.- ومعجزته الثانية هي تربية الأمة.- دولة الحب - كيف بناها النبي صلى الله عليه وسلم.- المطالب الصعبة يتحملها النبي وآل بيته.- الواقع العملي وليس الشعارات الكبيرة.- وفي هذا المقطع من الرسالة.- سر المعجزة عند مليك مقتدر.- ساعة مع الدكتور / لينو. أينو. لينا ثورى.- قانون نجاح الداعي.* * *
মালেক বিন নবী এবং নিষ্পাপতা (عصمة) বিষয়ে তাঁর অভিমত।- খাদিজা — উম্মুল মুমিনীন (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এবং তাঁর দলিল উপস্থাপনের (استدلال) পদ্ধতি (منهج)।- হেরাক্লিয়াস — রোম সম্রাট এবং তাঁর দলিল উপস্থাপনের (استدلال) পদ্ধতি (منهج)।- কুরাইশ — তারা সত্যতা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, কিন্তু সত্যবাদীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেনি।- নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রথম মুজিজা হলো আল-কুরআন।- এবং তাঁর দ্বিতীয় মুজিজা হলো উম্মাহর গঠন ও পরিশোধন (تربية)।- ভালোবাসার রাষ্ট্র — নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কীভাবে তা গড়ে তুলেছিলেন।- কঠিন দায়ভার নবী এবং তাঁর পরিবারবর্গ (آل بيت) বহন করেন।- বাস্তব প্রয়োগ, নিছক বড় বড় স্লোগান নয়।- এবং বার্তার এই অংশে।- মহা ক্ষমতাধর অধিপতির নিকট মুজিজার রহস্য।- ডক্টর লিনো এইনো লিনা থোরির সাথে এক ঘণ্টা।- দাঈর (داعي) সফলতার মূলনীতি।* * *
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
* أخلاق النبوات عند مالك بن نبيوجدت في قراءتي كلاماً موجزاً وقيماً للأستاذ العبقري مالك بن نبي - والذي أود أن يعرف شبابنا عنه الكثير، فهو من المفكرين القلائل.قال في مقام مقارنته بين النبوة الصادقة وبين أدعياء النبوة:"إن النبوة الحق تتميز بأمور ثلاثة.أولاً: صفة القهر النفسي الذي يُقَصَّى جميع العوامل الأخرى للذات بإلزام النبي - أي نبي - في النهاية بسلوك معين ودائم."فالنبوة سلوك قهري".ثانياً: حكم فذّ على أحداث المستقبل، يمليه نوع من القهر، الذي ليس له أي أساس من المنطق - يعني ليس نتائج تتولدّ من مقدمات منطقية -.ثالثاً: استمرار مظاهر السلوك النبوي، وتماثلها الظاهر والخفي عند جميع الأنبياء. هذه الصفات المميزة لا يمكن أن تلقى ببساطة تفسيراً نفسياً إلا تحكم النبوة في عقل وسلوك النبي. فتصبح النبوة كل شيء في النبي - أي نبي عليهم السلام انتهى ومعلوم من كلامه أن النبي يتصرف تصرفا قهريا في السلوك، وفي تفسير المستقبل تفسيراً لا يمكن أن يكون النبي قد استنتجه من مقدمات منطقية. ، أي مقدمات منطقية تؤكد أن جيش الروم الذي لم يعلم النبي عنه أي شيء سينتصر يوم ينتصر جيش الإسلام في موقعة بدر. {وَيَوْمَئِذٍ يَفْرَحُ الْمُؤْمِنُونَ (4) بِنَصْرِ اللَّهِ} ."الظاهرة القرآنية. مالك بن نبي".فمالك بن نبي جعل التصرف السلوكي للنبي تصرفا قهريا.وإن كان لي موقف من هذا الرأي ناقشته عام 1976 م في كتابي"حتى لا نخطئ فهم القرآن/ الجزء الثالث"والذي أرتاحُ له أن السلوك القهري للنبي - أي نبي ربما يقلل من دور الأسوة بهذا النبي - ويصرف المادحين لسلوكه عن حلبة الثناء، ما دام السلوك قهرياً، وما دامت
মালেক বিন নবীর দর্শনে নবুওয়াতের নীতিশৈলীআমি আমার পাঠে অসাধারণ প্রতিভাধর মনীষী মালেক বিন নবীর একটি সংক্ষিপ্ত ও মূল্যবান বক্তব্য পেয়েছি—যাঁকে নিয়ে আমি চাই আমাদের যুবসমাজ অনেক কিছু জানুক, কারণ তিনি বিরল চিন্তাবিদদের অন্যতম।তিনি সত্য নবুওয়াত এবং নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদারদের মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে বলেছেন:"নিশ্চয়ই সত্য নবুওয়াত তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়।প্রথমত: মনস্তাত্ত্বিক অনিবার্যতার বৈশিষ্ট্য, যা সত্তার অন্য সকল উপাদানকে অপসারিত করে নবীকে—যেকোনো নবীকে—শেষ পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী আচরণের প্রতি দায়বদ্ধ করে।"সুতরাং নবুওয়াত হলো একটি অনিবার্য আচরণ"।দ্বিতীয়ত: ভবিষ্যতের ঘটনাবলির ওপর এক অনন্য সিদ্ধান্ত, যা এক প্রকার অনিবার্যতার দ্বারা নির্দেশিত হয়, যার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই—অর্থাৎ এটি এমন কোনো ফলাফল নয় যা যৌক্তিক ভূমিকা বা প্রস্তাবনা থেকে উদ্ভূত হয়।তৃতীয়ত: নববী আচরণের বহিঃপ্রকাশের ধারাবাহিকতা এবং সকল নবীর ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সাদৃশ্য। এই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত গুণাবলিকে নবীর বুদ্ধি ও আচরণের ওপর নবুওয়াতের আধিপত্য ছাড়া কেবল মনস্তাত্ত্বিকভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। ফলে নবুওয়াতই নবীর—যেকোনো নবী (আলাইহিমুস সালাম)—সবকিছু হয়ে ওঠে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তাঁর বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, নবী তাঁর আচরণে অনিবার্যভাবে পরিচালিত হন এবং ভবিষ্যতের এমন ব্যাখ্যা প্রদান করেন যা নবীর পক্ষে কোনো যৌক্তিক ভূমিকা থেকে অনুমান করা সম্ভব ছিল না। অর্থাৎ এমন কোনো যৌক্তিক ভূমিকা যা নিশ্চিত করে যে, রোমান বাহিনী—যাদের সম্পর্কে নবী কিছুই জানতেন না—তারা সেদিন বিজয়ী হবে যেদিন বদরের যুদ্ধে ইসলামের বাহিনী বিজয় লাভ করবে। {আর সেদিন মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে}।"আল-জাহিরা আল-কুরানিয়্যাহ। মালেক বিন নবী।"সুতরাং মালেক বিন নবী নবীর আচরণগত কর্মকাণ্ডকে একটি অনিবার্য আচরণ হিসেবে গণ্য করেছেন।যদিও এই মতামতের ব্যাপারে আমার একটি অবস্থান রয়েছে যা আমি ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে আমার গ্রন্থ"হাত্তা লা নাখতিউ ফাহমাল কুরআন / তৃতীয় খণ্ড"-এ আলোচনা করেছি।আমি যে বিষয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি তা হলো, নবীর—যেকোনো নবীর—আচরণ যদি অনিবার্য বা বাধ্যবাধকতামূলক হয়, তবে তা সম্ভবত সেই নবীর আদর্শ হওয়ার ভূমিকাকে সংকুচিত করে দেয় এবং তাঁর আচরণের প্রশংসাকারীদের প্রশংসার অঙ্গন থেকে সরিয়ে দেয়; যতক্ষণ আচরণটি অনিবার্য হয় এবং যতক্ষণ...
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
العصمة مانعة من القدرة على فعل ما لا ينبغي.إن يوسف عليه السلام امتنع وصرف الله همَّه، وهو قادر على غير ذلك. من هنا كان أُسوةً لكل عافٍّ إلى يوم القيامة.* * *أخلاقه صلى الله عليه وسلم دليل على نبوتهبعد أن عرفنا تصور العلامة مالك بن نبي لأخلاق النبوات.نأتي إلى أخلاقه صلى الله عليه وسلم من جانب الاستدلال بها على صدق نبوته.والحق أن أول من صاغ دليلاً عقليا على صدق نبوته صلى الله عليه وسلم هي السيدة خديجة رضي الله عنها وصاغت دليلها من أخلاقه صلى الله عليه وسلم قبل "اقرأ" فقد عاشرته قبل "اقرأ" خمسة عشر عاماً، وهي مدة - في الحياة الزوجية تعني إدراك الحقيقة - غالباً -.واستدل أيضا بأخلاق النبي على نبوته "هرقل" عظيم الروم. -كما جاء في حواره مع أبي سفيان بن حرب.وإلى شيء من التفصيل.* * ** خديجة رضي الله عنها ومنهجها في الاستدلالعندما عاد النبي صلى الله عليه وسلم من غار حراء بعد أن جاءه جبريل عليه السلام وقال: اقرأ … القصة.دخل على خديجة ترجف بوادره، فقال زمليني فزملته.حتى ذهب عنه الروع، فقال: يا خديجة مالي؟ وأخبرها الخبر،وقال: "لقد خشيت علىّ أو على نفسي فقالت: كلا.فوالله لا يخزيك الله أبداً.إنك لتصل الرحم، وتصدق الحديث، وتحمل الكلّ، وتكسب المعدوم، وتقري الضيف، وتعين على نوائب الحق."
নিষ্পাপত্ব (عصمة) হলো এমন এক অন্তরায়, যা অশোভন কোনো কাজ করার সামর্থ্যকে বাধা প্রদান করে।নিশ্চয়ই ইউসুফ আলাইহিস সালাম বিরত ছিলেন এবং আল্লাহ তাঁর সংকল্পকে সরিয়ে নিয়েছিলেন, অথচ তিনি এর বিপরীতে সক্ষম ছিলেন। এখান থেকেই তিনি কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক পবিত্রতা অবলম্বনকারীর জন্য এক অনন্য আদর্শে পরিণত হয়েছেন।* * *তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুমহান চরিত্র তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণআল্লামা মালিক বিন নবী-এর নবুওয়াতের নৈতিকতা সংক্রান্ত ধারণা (تصور) জানার পর।এখন আমরা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের সত্যতার ওপর তাঁর সুমহান চরিত্রের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের (استدلال) বিষয়টি আলোচনা করব।আর সত্য এই যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের সত্যতার ওপর প্রথম যিনি একটি যৌক্তিক দলিল প্রণয়ন করেছিলেন, তিনি হলেন সায়্যিদাহ খাদিজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা। তিনি "ইকরা" (পড়ো) নাযিল হওয়ার পূর্বেই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চরিত্র থেকে এই দলিলটি সাজিয়েছিলেন; কেননা তিনি ওহী আসার আগে দীর্ঘ পনেরো বছর তাঁর সঙ্গে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করেছিলেন—আর দাম্পত্য জীবনে এই দীর্ঘ সময় সাধারণত প্রকৃত সত্য অনুধাবনের জন্য যথেষ্ট।রোম সম্রাট "হেরাক্লিয়াস"ও নবীর নবুওয়াতের ওপর তাঁর চরিত্রের মাধ্যমে প্রমাণ গ্রহণ (استدل) করেছিলেন। -যেমনটি আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের সাথে তাঁর কথোপকথনে বর্ণিত হয়েছে।এ বিষয়ে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।* * ** খাদিজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং তাঁর প্রমাণ উপস্থাপনের (استدلال) পদ্ধতিযখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরা গুহা থেকে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে আসার পর ফিরে আসলেন এবং বললেন: পড়ো ... (ঘটনাটি)।তিনি খাদিজাহর নিকট এমন অবস্থায় প্রবেশ করলেন যে তাঁর ঘাড়ের মাংস কাঁপছিল, তিনি বললেন: "আমাকে বস্ত্রাবৃত করো", অতঃপর তিনি তাঁকে বস্ত্রাবৃত করলেন।যতক্ষণ না তাঁর ভয় দূর হলো। এরপর তিনি বললেন: "হে খাদিজাহ, আমার কী হলো?" এবং তিনি তাঁকে পুরো ঘটনা জানালেন,এবং বললেন: "আমি আমার নিজের ওপর আশঙ্কা করছি।" তিনি (খাদিজাহ) বললেন: "কখনো না।আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না।নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, কথাবার্তায় সত্যবাদিতা (تصدق الحديث) বজায় রাখেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্য পথে আসা বিপদ-আপদে সাহায্য করেন।"
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فالسيدة خديجة صاغت من أخلاقه صلى الله عليه وسلمدليلاً على أن الله لن يخزيَه أبداً.وامتداد القصة - في الصحيح - تأتي بشارة "ورقة بن نوفل"وكان عالماً بالكتب السابقة، يكتب بالعبرانية، فأخبر الرسول صلى الله عليه وسلم ببعض ما سيعاني، قياساً على معاناة الأنبياء السابقين،فقال: هذا الناموس الذي أنزل على موسى.وفي البخاري "الذي نزله الله على موسى" يا ليتني فيها جذعاً. ليتني أكون حياً إذ يخرجك قومك.قال: أو مخرجي هم؟قال: نعم، لم يأت أحدٌ قومه بمثل ما جئت به إلا عُودىَ وأُوذى.وإن يدركني يومك أنصرك نصراً مؤزراً "وفيات مشاهر الأعلام الذهبي جـ 1 صـ 118"المهم عندي هو استدلال خديجة بأخلاقه صلى الله عليه وسلم على نبوته. وقد صدَّق ورقة نبوءتها بمعلومات عامة لأن كبر السن، والمفاجأة، ورهبة الشعور بأنه يجلس أمام نبي، حالت بينه وبين مراجعة ما قرأ ليستدل على نبوة محمد - كما فعل الحبر والراهب بحيرى - من قبل.ومعلوم أن التوراة والإنجيل مصدران وافيان بالدلائل على نبوة محمد صلى الله عليه وسلم.وبعد:فالدور العظيم الذي أدّته أمّ المؤمنين السيدة خديجة رضي الله عنها يفسّر سرَّ اختيار الله لها زوجةً للنبي صلى الله عليه وسلم مع أنها تكبره بخمسة عشر عاما.أولاً: استدلت بأخلاق النبي صلى الله عليه وسلم على نبوتّه.وهذا سَبْقٌ عقلي كبير.ثانيا: جعلت مالها تحت تصرف النبي صلى الله عليه وسلم في خدمة دعوته. حتى يمكن أن أقول: لا يستطيع مُؤرّخ مُنصف أن يكتب تاريخ الدعوة الإسلامية، وأسباب نجاحها، بمعزل عن مال السيدة خديجة، ومال عثمان بن عفان رضي الله عنهما -
সায়্যিদা খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্র থেকেএই মর্মে একটি প্রমাণ (دليل) উপস্থাপন করেছিলেন যে, আল্লাহ তাঁকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না।আর এই ঘটনার ধারাবাহিকতায়—সহিহ (صحيح) বর্ণনায়—ওয়ারাকা ইবনে নাওফলের সুসংবাদ আসে।তিনি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন এবং হিব্রু ভাষায় লিখতেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভবিষ্যতে যে কষ্টের সম্মুখীন হবেন সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেছিলেন, যা ছিল পূর্ববর্তী নবীদের কষ্টের সাথে একটি তুলনা (قياس)।তিনি বললেন: “ইনি হলেন সেই বার্তাবাহক (الناموس), যাকে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট পাঠানো হয়েছিল।”বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে: “যাকে আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর অবতীর্ণ করেছিলেন। হায়! আমি যদি সেই সময় শক্তিশালী যুবক থাকতাম! আমি যদি সেদিন বেঁচে থাকতাম যখন আপনার কওম আপনাকে দেশান্তর করবে।”তিনি (নবী) বললেন: “তারা কি সত্যিই আমাকে বের করে দেবে?”তিনি বললেন: “হ্যাঁ, আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার অনুরূপ কিছু নিয়ে অতীতে যে ব্যক্তিই এসেছেন, তাঁর সাথে শত্রুতা করা হয়েছে এবং তাঁকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে।আপনার সেই সংকটকাল যদি আমি পাই, তবে আমি আপনাকে বলিষ্ঠ সাহায্য করব।”ওয়াফায়াতুল মাশাহিরিল আলাম, আয-যাহাবি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১৮।আমার নিকট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর নবুয়তের ওপর খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র প্রমাণ গ্রহণ (استدلال)। ওয়ারাকা সাধারণ তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর এই উপলব্ধিকে সত্যায়ন করেছিলেন; কারণ বার্ধক্য, আকস্মিকতা এবং একজন নবীর সামনে উপস্থিত থাকার সস্ম্রম ও ভীতি তাঁকে তাঁর অধীত জ্ঞান পর্যালোচনার মাধ্যমে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুয়ত প্রমাণ (استدلال) করার সুযোগ দেয়নি—যেমনটি ইতিপূর্বে বিজ্ঞ পণ্ডিত ও পাদ্রি বাহিরা করেছিলেন।এটি সুবিদিত যে, তাওরাত ও ইঞ্জিল হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়তের প্রমাণাদি সম্বলিত পর্যাপ্ত দুটি উৎস (مصدران)।অতঃপর:উম্মুল মুমিনীন সায়্যিদা খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) যে মহতী ভূমিকা পালন করেছেন, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী হিসেবে তাঁকে নির্বাচন করার পেছনের খোদায়ী রহস্য ব্যাখ্যা করে, যদিও তিনি তাঁর চেয়ে পনের বছরের বড় ছিলেন।প্রথমত: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর নবুয়তের ওপর প্রমাণ গ্রহণ (استدلال) করেছিলেন।এটি ছিল এক অনন্য বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগামিতা।দ্বিতীয়ত: তিনি তাঁর সমস্ত সম্পদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দ্বীন প্রচারের কাজে উৎসর্গ করেছিলেন। এমনকি আমি বলতে পারি: কোনো নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক সায়্যিদা খাদিজা এবং উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সম্পদকে আলাদা রেখে ইসলামি দাওয়াতের ইতিহাস এবং এর সফলতার কারণসমূহ বর্ণনা করতে সক্ষম হবেন না।
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وللمال دور كبير في نجاح الدعوات.ثالثا: ما قامت به السيدة خديجة من عرض الرسول صلى الله عليه وسلم على ورقة بن نوفل وأعتبر هذا العرض سبقا حضاريا كبيرا.لأنّ البيئة التي عاشت فيها خديجة كانت لا تعرف ولا تعترف بالملّة النصرانّية، ولا بنبيها السيد المسيح عليه السلام.يدلنا على ذلك قولهم عن النصرانية "الملة الآخرة" كما حكى القرآن عنهم {مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي الْمِلَّةِ الْآخِرَةِ} (7 سورة ص){الْمِلَّةِ الْآخِرَةِ}لا يعرفون عنها شيئاً، حتى اسمها، أو هكذا يدّعون.وكانوا يُفضّلون حجارتهم على السيد المسيح.{وَلَمَّا ضُرِبَ ابْنُ مَرْيَمَ مَثَلًا إِذَا قَوْمُكَ مِنْهُ يَصِدُّونَ (57) وَقَالُوا أَآلِهَتُنَا خَيْرٌ أَمْ هُوَ} ؟هذا رأي قريش في المسيحيّة ونبيّها.فخديجة رضي الله عنها تعدت الحواجز،وحاولت الانتفاع برأي ورقة بن نوفل، لما عنده من علم.فمجرد العرض سبق حضاري.رابعا: حكى فضيلة الشيخ محمد متولي الشعراوي في حوار له مع الأستاذ أحمد زين حـ 5 صـ 66. حكى أن السيدة خديجة امتحنت الملك الذي ينزل على النبي صلى الله عليه وسلم بالوحي.سألت النبي: هل تراه عندما ينزل عليك؟قال لها: نعم.
দাওয়াত (دعوة) বা প্রচারকার্যের সফলতায় সম্পদের এক বিশাল ভূমিকা রয়েছে।তৃতীয়ত: সায়্যিদা খাদিজা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে ওয়ারাাকা ইবনে নওফলের নিকট নিয়ে যাওয়ার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন, আমি সেটিকে একটি বিশাল সভ্যতাগত অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করি।কারণ খাদিজা (রা.) যে পরিবেশে বসবাস করতেন, তারা খ্রিষ্টীয় ধর্মাদর্শ (الملة النصرانية) সম্পর্কে জানত না এবং তা স্বীকারও করত না, আর না তারা তাদের নবী সায়্যিদুনা মাসীহ (আ.)-কে স্বীকার করত।খ্রিষ্টধর্ম সম্পর্কে তাদের উক্তি "সর্বশেষ ধর্মাদর্শ (الملة الآخرة)" আমাদের সেদিকেই ইঙ্গিত দেয়, যেমনটি কুরআন তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছে: "আমরা সর্বশেষ ধর্মাদর্শে (الملة الآخرة) এমন কথা শুনিনি।" (সূরা সোয়াদ: ৭){সর্বশেষ ধর্মাদর্শ (الملة الآخرة)}তারা এ সম্পর্কে কিছুই জানত না, এমনকি এর নামও নয়, অথবা তারা এমনই দাবি করত।এবং তারা সায়্যিদুনা মাসীহ (আ.)-এর তুলনায় তাদের পাথরগুলোকে (মূর্তি) প্রাধান্য দিত।"যখনই ইবনে মারইয়ামের উদাহরণ পেশ করা হয়, তখনই তোমার কওম শোরগোল শুরু করে দেয় এবং বলে: আমাদের উপাস্যরা শ্রেষ্ঠ, নাকি তিনি?"খ্রিষ্টধর্ম এবং তাদের নবী সম্পর্কে এটিই ছিল কুরাইশদের ধারণা।কিন্তু খাদিজা (রা.) সকল বাধা অতিক্রম করেছিলেন,এবং তিনি ওয়ারাাকা ইবনে নওফলের জ্ঞানের কারণে তার মতামতের দ্বারা উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।সুতরাং, কেবল এই প্রস্তাব পেশ করাই ছিল একটি সভ্যতাগত অগ্রগতি।চতুর্থত: ফজিলাতুশ শাইখ মুহাম্মদ মুতাওয়াল্লি আশ-শা’রাবি উস্তাদ আহমদ যাইন-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৬৬) বর্ণনা করেছেন যে, সায়্যিদা খাদিজা (রা.) সেই ফেরেশতাকে (الملك) পরীক্ষা করেছিলেন যিনি নবী (সা.)-এর নিকট ওহী (الوحي) নিয়ে আসতেন।তিনি নবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: যখন তিনি আপনার নিকট অবতরণ করেন, তখন কি আপনি তাকে দেখতে পান?তিনি তাকে উত্তর দিলেন: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قالت أعلمني عندما تراه.فلما نزل عليه الوحي أعلمها صلى الله عليه وسلم فضمت النبي صلى الله عليه وسلم إلى حجرها. وسألته: هل تراه؟. قال نعم.فكشفت السيدة خديجة عن خمارها، فغاب الوحي. فأيقنت أنه ملك.يقول الشيخ الشعراوي: إن الشيطان وقح لا يختفي من هذه المناظر.ولو كل النساء كمثل هذي. . . لفُضِّلت النساء على الرجالِفما التأنيثُ في اسم الشمسِ عيبا. . . ولا التذكير فخراً للهلالِوإذا كانت خديجة هي أول من استدل بأخلاق النبي صلى الله عليه وسلم على نبوته. فلنعش مع هرقل - عظيم الروم، ومنهجه في الاستدلال.* * *
তিনি বললেন, যখন আপনি তাঁকে দেখতে পাবেন তখন আমাকে অবহিত করবেন।অতঃপর যখন তাঁর ওপর ওহি (وحي) অবতীর্ণ হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে জানালেন। তখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নিজের কোলে টেনে নিলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।অতঃপর সায়্যিদা খাদিজা তাঁর মাথার ওড়না সরিয়ে ফেললেন, ফলে ওহি (وحي) অদৃশ্য হয়ে গেল। তখন তিনি দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত হলেন যে তিনি একজন ফেরেশতা (ملك)।শায়খ শারাউয়ি বলেন: নিশ্চয়ই শয়তান নির্লজ্জ, সে এই জাতীয় দৃশ্য দেখে অন্তরাল হয় না।যদি সকল নারী এই মহিলার সদৃশ হতো... তবে অবশ্যই নারীদের পুরুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করা হতো।কেননা সূর্যের নামের ক্ষেত্রে স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া কোনো দোষ নয়... আর চন্দ্রের নামের ক্ষেত্রে পুংলিঙ্গ হওয়া কোনো গৌরবের বিষয় নয়।যদি খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াত (نبوة)-এর সপক্ষে তাঁর মহান চরিত্র দ্বারা দলিল পেশকারী প্রথম ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তবে আসুন আমরা রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস এবং তাঁর প্রমাণিক বিশ্লেষণের (استدلال) পদ্ধতিটি পর্যালোচনা করি।* * *
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
هرقل - عظيم الروم -استدل بأخلاق النبي صلى الله عليه وسلم على نبوته.جاء في صحيح البخاري كتاب بدء الوحي، الحوار الكامل الذي دار بين أبي سفيان وهرقل.وقد بين هذا الحوار أن هرقل استدل بأخلاق النبي صلى الله عليه وسلم على صدق نبوته.وهذا نصُّ البخاري رحمه الله:حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ أَبَا سُفْيَانَ بْنَ حَرْبٍ أَخْبَرَهُأَنَّ هِرَقْلَ أَرْسَلَ إِلَيْهِ فِي رَكْبٍ مِنْ قُرَيْشٍ وَكَانُوا تِجَارًا بِالشَّأْمِ فِي الْمُدَّةِ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَادَّ فِيهَا أَبَا سُفْيَانَ وَكُفَّارَ قُرَيْشٍ فَأَتَوْهُ وَهُمْ بِإِيلِيَاءَ فَدَعَاهُمْ فِي مَجْلِسِهِ وَحَوْلَهُ عُظَمَاءُ الرُّومِ ثُمَّ دَعَاهُمْ وَدَعَا بِتَرْجُمَانِهِ فَقَالَ أَيُّكُمْ أَقْرَبُ نَسَبًا بِهَذَا الرَّجُلِ الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّهُ نَبِيٌّ فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ فَقُلْتُ أَنَا أَقْرَبُهُمْ نَسَبًا فَقَالَ أَدْنُوهُ مِنِّي وَقَرِّبُوا أَصْحَابَهُ فَاجْعَلُوهُمْ عِنْدَ ظَهْرِهِ ثُمَّ قَالَ لِتَرْجُمَانِهِ قُلْ لَهُمْ إِنِّي سَائِلٌ هَذَا عَنْ هَذَا الرَّجُلِ فَإِنْ كَذَبَنِي فَكَذِّبُوهُ فَوَاللَّهِ لَوْلَا الْحَيَاءُ مِنْ أَنْ يَأْثِرُوا عَلَيَّ كَذِبًا لَكَذَبْتُ عَنْهُ ثُمَّ كَانَ أَوَّلَ مَا سَأَلَنِي عَنْهُ أَنْ قَالَ كَيْفَ نَسَبُهُ فِيكُمْ قُلْتُ هُوَ فِينَا ذُو نَسَبٍ قَالَ فَهَلْ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ مِنْكُمْ أَحَدٌ قَطُّ قَبْلَهُ قُلْتُ لَا قَالَ فَهَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ قُلْتُ لَا قَالَ فَأَشْرَافُ النَّاسِ يَتَّبِعُونَهُ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ فَقُلْتُ بَلْ ضُعَفَاؤُهُمْ قَالَ أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ قُلْتُ بَلْ يَزِيدُونَ قَالَ فَهَلْ يَرْتَدُّ أَحَدٌ مِنْهُمْ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ قُلْتُ لَا قَالَ فَهَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ قُلْتُ لَا قَالَ فَهَلْ يَغْدِرُ قُلْتُ لَا وَنَحْنُ مِنْهُ فِي مُدَّةٍ لَا نَدْرِي مَا هُوَ فَاعِلٌ فِيهَا قَالَ وَلَمْ تُمْكِنِّي كَلِمَةٌ أُدْخِلُ فِيهَا شَيْئًا غَيْرُ هَذِهِ الْكَلِمَةِ قَالَ فَهَلْ قَاتَلْتُمُوهُ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ فَكَيْفَ كَانَ قِتَالُكُمْ إِيَّاهُ قُلْتُ الْحَرْبُ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ سِجَالٌ يَنَالُ مِنَّا وَنَنَالُ مِنْهُ قَالَ مَاذَا يَأْمُرُكُمْ قُلْتُ يَقُولُ اعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَاتْرُكُوا مَا يَقُولُ آبَاؤُكُمْ وَيَأْمُرُنَا بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ وَالصِّلَةِ فَقَالَ لِلتَّرْجُمَانِ قُلْ لَهُ سَأَلْتُكَ عَنْ نَسَبِهِ فَذَكَرْتَ أَنَّهُ فِيكُمْ ذُو نَسَبٍ فَكَذَلِكَ الرُّسُلُ تُبْعَثُ فِي نَسَبِ قَوْمِهَا وَسَأَلْتُكَ هَلْ قَالَ أَحَدٌ مِنْكُمْ هَذَا الْقَوْلَ فَذَكَرْتَ أَنْ لَا فَقُلْتُ لَوْ كَانَ أَحَدٌ قَالَ هَذَا الْقَوْلَ قَبْلَهُ لَقُلْتُ رَجُلٌ يَأْتَسِي بِقَوْلٍ قِيلَ قَبْلَهُ وَسَأَلْتُكَ هَلْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ فَذَكَرْتَ أَنْ لَا قُلْتُ فَلَوْ كَانَ مِنْ آبَائِهِ مِنْ مَلِكٍ قُلْتُ رَجُلٌ يَطْلُبُ مُلْكَ أَبِيهِ وَسَأَلْتُكَ هَلْ كُنْتُمْ تَتَّهِمُونَهُ بِالْكَذِبِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ مَا قَالَ فَذَكَرْتَ أَنْ لَا فَقَدْ أَعْرِفُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِيَذَرَ الْكَذِبَ عَلَى النَّاسِ وَيَكْذِبَ عَلَى اللَّهِ وَسَأَلْتُكَ أَشْرَافُ النَّاسِ اتَّبَعُوهُ أَمْ ضُعَفَاؤُهُمْ فَذَكَرْتَ أَنَّ ضُعَفَاءَهُمْ اتَّبَعُوهُ وَهُمْ أَتْبَاعُ الرُّسُلِ وَسَأَلْتُكَ أَيَزِيدُونَ أَمْ يَنْقُصُونَ فَذَكَرْتَ أَنَّهُمْ يَزِيدُونَ وَكَذَلِكَ أَمْرُ الْإِيمَانِ حَتَّى يَتِمَّ وَسَأَلْتُكَ أَيَرْتَدُّ أَحَدٌ سَخْطَةً لِدِينِهِ بَعْدَ أَنْ يَدْخُلَ فِيهِ فَذَكَرْتَ أَنْ لَا وَكَذَلِكَ الْإِيمَانُ حِينَ تُخَالِطُ بَشَاشَتُهُ الْقُلُوبَ وَسَأَلْتُكَ هَلْ يَغْدِرُ فَذَكَرْتَ أَنْ لَا وَكَذَلِكَ الرُّسُلُ لَا تَغْدِرُ وَسَأَلْتُكَ بِمَا يَأْمُرُكُمْ فَذَكَرْتَ أَنَّهُ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلَا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَيَنْهَاكُمْ عَنْ عِبَادَةِ الْأَوْثَانِ وَيَأْمُرُكُمْ بِالصَّلَاةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ فَإِنْ كَانَ مَا تَقُولُ حَقًّا فَسَيَمْلِكُ مَوْضِعَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ وَقَدْ كُنْتُ أَعْلَمُ أَنَّهُ خَارِجٌ لَمْ أَكُنْ أَظُنُّ أَنَّهُ مِنْكُمْ فَلَوْ أَنِّي أَعْلَمُ أَنِّي أَخْلُصُ إِلَيْهِ لَتَجَشَّمْتُ لِقَاءَهُ وَلَوْ كُنْتُ عِنْدَهُ لَغَسَلْتُ عَنْ قَدَمِهِ".قَالَ أَبُو سُفْيَانَ فَلَمَّا قَالَ مَا قَالَ وَفَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ الْكِتَابِ كَثُرَ عِنْدَهُ الصَّخَبُ وَارْتَفَعَتْ الْأَصْوَاتُ وَأُخْرِجْنَا فَقُلْتُ لِأَصْحَابِي حِينَ أُخْرِجْنَا لَقَدْ أَمِرَ أَمْرُ ابْنِ أَبِي كَبْشَةَ إِنَّهُ يَخَافُهُ مَلِكُ بَنِي الْأَصْفَرِ فَمَا زِلْتُ مُوقِنًا أَنَّهُ سَيَظْهَرُ حَتَّى أَدْخَلَ اللَّهُ عَلَيَّ الْإِسْلَامَ".ولم يكتف هرقل بهذه الكلمة عن النبي صلى الله عليه وسلم بعد أن استدل بأخلاق النبي صلى الله عليه وسلم على
হেরাক্লিয়াস—রোমের সম্রাট—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুমহান চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণ পেশ করেছেন।সহিহ বুখারি-র কিতাব বাদউল ওহি-তে আবু সুফিয়ান ও হেরাক্লিয়াসের মধ্যে সংঘটিত পূর্ণাঙ্গ কথোপকথনটি বর্ণিত হয়েছে।আর এই কথোপকথনটি স্পষ্ট করে যে, হেরাক্লিয়াস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর নবুওয়াতের সত্যতার প্রমাণ গ্রহণ করেছিলেন।ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণিত মূল পাঠ (نص) নিচে দেওয়া হলো:আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حَدَّثَنَا) আবুল ইয়ামান হাকাম ইবনে নাফি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أَخْبَرَنَا) শুআইব, তিনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أَخْبَرَنِي) উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব তাঁকে জানিয়েছেনযে, হেরাক্লিয়াস কুরাইশদের একটি কাফেলার সাথে থাকাকালীন তাঁর (আবু সুফিয়ানের) নিকট লোক পাঠালেন। তাঁরা তখন সিরিয়ায় ব্যবসা উপলক্ষে অবস্থান করছিলেন। এটি ছিল সেই সময় যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু সুফিয়ান ও কুরাইশ কাফিরদের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদের সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ ছিলেন। তাঁরা ইলিয়া নামক স্থানে হেরাক্লিয়াসের নিকট আসলেন। তিনি তাঁদের তাঁর রাজসভায় ডাকলেন, যেখানে রোমের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা তাঁর চারপাশ ঘিরে ছিল। অতঃপর তিনি তাঁদের আহ্বান করলেন এবং তাঁর দোভাষীকে ডাকলেন। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "যিনি নিজেকে নবী বলে দাবি করছেন, বংশীয়ভাবে তোমাদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী কে?" আবু সুফিয়ান বললেন, আমি বললাম, "আমিই বংশীয়ভাবে তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী।" তিনি বললেন, "তাঁকে আমার নিকটবর্তী করো এবং তাঁর সঙ্গীদেরও কাছে আনো এবং তাঁদেরকে তাঁর পেছনে দাঁড় করাও।" অতঃপর তিনি তাঁর দোভাষীকে বললেন, "তাঁদের বলো, আমি এই লোকটিকে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করব; যদি সে আমার কাছে মিথ্যা বলে, তবে তোমরা যেন তাঁকে মিথ্যাবাদী হিসেবে ধরিয়ে দাও।" (আবু সুফিয়ান বলেন) আল্লাহর শপথ! যদি আমার এই লজ্জা না থাকত যে তারা আমার নামে মিথ্যা রটাবে, তবে আমি অবশ্যই তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলতাম। এরপর তিনি আমাকে প্রথম যে প্রশ্নটি করলেন তা হলো, "তোমাদের মাঝে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন?" আমি বললাম, "তিনি আমাদের মাঝে অত্যন্ত উচ্চবংশীয়।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তাঁর আগে তোমাদের মধ্যে আর কেউ কি কখনও এই কথা বলেছে?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন, "তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কি কোনো বাদশাহ ছিলেন?" আমি বললাম, "না।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "সমাজের প্রভাবশালী মানুষেরা তাঁর অনুসরণ করে নাকি দুর্বল (ضعفاء) মানুষেরা?" আমি বললাম, "বরং দুর্বলরাই (ضعفاء) তাঁর অনুসরণ করে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তাদের সংখ্যা কি বাড়ছে নাকি কমছে?" আমি বললাম, "বরং তা বাড়ছে।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তাদের কেউ কি তাঁর দ্বীনে প্রবেশ করার পর সেই দ্বীনের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে ধর্মত্যাগ করে?" আমি বললাম, "না।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তাঁর এই দাবির আগে তোমরা কি কখনও তাঁকে মিথ্যাচারের অপবাদ দিয়েছ?" আমি বললাম, "না।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তিনি কি কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করেন?" আমি বললাম, "না, তবে আমরা তাঁর সাথে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের সন্ধিতে আছি, জানি না তিনি এতে কী করবেন।" (আবু সুফিয়ান বলেন) এই কথাটি ছাড়া অন্য কোনো কথা যোগ করার সুযোগ আমার হয়নি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তোমরা কি তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছ?" আমি বললাম, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "তোমাদের সাথে তাঁর যুদ্ধের ফলাফল কেমন হয়?" আমি বললাম, "আমাদের ও তাঁর মধ্যে যুদ্ধের জয়-পরাজয় বালতির ন্যায় উঠানামা করে। তিনি আমাদের পরাজিত করেন আবার আমরাও তাঁকে পরাজিত করি।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তিনি তোমাদের কী আদেশ দেন?" আমি বললাম, "তিনি বলেন: তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না, আর তোমাদের পূর্বপুরুষেরা যা বলত তা বর্জন করো। তিনি আমাদের নামাজ, জাকাত, সত্যবাদিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার আদেশ দেন।" অতঃপর তিনি দোভাষীকে বললেন, তাঁকে বলো: আমি তোমাকে তাঁর বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি, তুমি বলেছ তিনি তোমাদের মধ্যে উচ্চবংশীয়। রাসূলগণ এভাবেই তাঁদের জাতির উচ্চবংশেই প্রেরিত হন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তোমাদের মধ্যে আর কেউ কি এই কথা আগে বলেছে? তুমি বলেছ, না। আমি ভেবেছি, যদি আগে কেউ এই কথা বলত, তবে আমি বলতাম যে তিনি এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর পূর্বের কোনো কথার অনুকরণ করছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কি কোনো বাদশাহ ছিলেন? তুমি বলেছ, না। আমি ভেবেছি, যদি তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কোনো বাদশাহ থাকতেন, তবে আমি বলতাম তিনি তাঁর পিতার রাজত্ব পুনরুদ্ধার করতে চাইছেন। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, এই দাবি করার আগে তোমরা কি তাঁকে মিথ্যাচারের অপবাদ দিয়েছ? তুমি বলেছ, না। এ থেকে আমি বুঝতে পেরেছি যে, যিনি মানুষের সাথে মিথ্যা বলেন না, তিনি আল্লাহর ব্যাপারেও কখনও মিথ্যা বলতে পারেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, সমাজের প্রভাবশালীরা তাঁর অনুসরণ করে না কি দুর্বলরা (ضعفاء)? তুমি বলেছ যে দুর্বলরাই (ضعفاء) তাঁর অনুসরণ করে; আর এরাই হলেন রাসূলগণের অনুসারী। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি যে তারা বাড়ছে না কি কমছে? তুমি বলেছ যে তারা বাড়ছে; আর ইমানের বিষয়টি পূর্ণতা পাওয়া পর্যন্ত এমনই হয়ে থাকে। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, কেউ কি তাঁর দ্বীনে প্রবেশের পর বিতৃষ্ণ হয়ে ধর্মত্যাগ করে? তুমি বলেছ, না; ইমান যখন অন্তরের প্রশান্তির সাথে মিশে যায়, তখন এমনই হয়। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি কি বিশ্বাসঘাতকতা করেন? তুমি বলেছ, না; আর রাসূলগণ এমনই হন, তাঁরা কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করেন না। আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি, তিনি তোমাদের কিসের আদেশ দেন? তুমি বলেছ যে তিনি তোমাদের এক আল্লাহর ইবাদত করতে ও তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করতে আদেশ দেন, মূর্তিপূজা থেকে নিষেধ করেন এবং তোমাদের নামাজ, সত্যবাদিতা ও চারিত্রিক পবিত্রতার আদেশ দেন। তুমি যা বলছ তা যদি সত্য হয়, তবে অচিরেই তিনি আমার এই দুই পায়ের নিচের ভূমির অধিপতি হবেন। আমি জানতাম যে তাঁর আবির্ভাব ঘটবে, কিন্তু তিনি যে তোমাদের মধ্য থেকে হবেন তা ভাবিনি। আমি যদি জানতাম যে আমি তাঁর নিকট পৌঁছাতে পারব, তবে তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য আমি যে কোনো কষ্ট সহ্য করতাম। আর আমি যদি তাঁর কাছে থাকতাম, তবে অবশ্যই তাঁর পা ধুইয়ে দিতাম।আবু সুফিয়ান বলেন, তিনি যখন তাঁর কথা শেষ করলেন এবং পত্রটি পাঠ শেষ হলো, তখন তাঁর নিকট শোরগোল ও উচ্চবাচ্য শুরু হলো, আর আমাদের বের করে দেওয়া হলো। যখন আমাদের বের করে দেওয়া হলো, তখন আমি আমার সঙ্গীদের বললাম, "আবু কাবশার পুত্রের বিষয় তো অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, এমনকি রোমানদের বাদশাহও তাঁকে ভয় পাচ্ছেন।" এরপর থেকে আমি এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করতে থাকলাম যে অচিরেই তিনি বিজয়ী হবেন, এমনকি আল্লাহ তাআলা আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফিক দান করলেন।নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর সত্যতার প্রমাণ পাওয়ার পর হেরাক্লিয়াস কেবল এই কথা বলেই ক্ষান্ত হননি...
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
صدق دعوته … ولكنه اختبر قومه ليقيس رد الفعل لو أعلن إيمانه بالنبي الجديد. فقال: يَا مَعْشَرَ الرُّومِ هَلْ لَكُمْ فِي الْفَلَاحِ وَالرُّشْدِ وَأَنْ يَثْبُتَ مُلْكُكُمْ فَتُبَايِعُوا هَذَا النَّبِيَّ فَحَاصُوا حَيْصَةَ حُمُرِ الْوَحْشِ إِلَى الْأَبْوَابِ فَوَجَدُوهَا قَدْ غُلِّقَتْ فَلَمَّا رَأَى هِرَقْلُ نَفْرَتَهُمْ وَأَيِسَ مِنْ الْإِيمَانِ قَالَ رُدُّوهُمْ عَلَيَّ وَقَالَ إِنِّي قُلْتُ مَقَالَتِي آنِفًا أَخْتَبِرُ بِهَا شِدَّتَكُمْ عَلَى دِينِكُمْ فَقَدْ رَأَيْتُ فَسَجَدُوا لَهُ وَرَضُوا عَنْهُ فَكَانَ ذَلِكَ آخِرَ شَأْنِ هِرَقْلَ".وقد أرسل النبي صلى الله عليه وسلم رسالة إلى هرقل يدعوه إلى الإسلام وجاء في كتاب "منشئات السلاطين" هذا الردّ. بالجزء الأول لفريدون بك استنبول.* رد قيصر الروم على النبي صلى الله عليه وسلمأرسل النبي إليه رسالة طلب منه أن يدخل الإسلام، فإذا لم يفعل، فلا يحل بين الفلاحين وبين الإسلام، أن يدخلوا فيه، وأن يعطوا الجزية إن أبوا.فرد امبراطور الروم على النبي صلى الله عليه وسلمإلى أحمد رسول الله الذي بشّر به عيسى. إنّي جاءني كتابك مع رسولك، وإنّي أشهد أنك رسول الله. نجدك عندنا في الإنجيل، بشّرنا بك عيسى بن مريم.وإنّي دعوت الروم إلى أن يؤمنوا بك فأبوا. ولو أطاعوني لكان خيراً لهم. ولوددت أني عندك فأخدمك، وأغسل عن قدميك.والله أعلم بما مات عليه هرقل.وهكذا عرفنا أن أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم هي أول دليل على نبوته. كما أوجزنا منهج أن المؤمنين خديجة رضي الله عنها ومنهج هرقل عظيم الروم.وما زال العقل السليم في كل عصر يستدل بخُلق النبي صلى الله عليه وسلم على صدق نبوته. كاستدلاله بنبوته على عظم أخلاقه.
তাঁর দাওয়াতের সত্যতা … কিন্তু তিনি তাঁর কওমকে (সম্প্রদায়কে) পরীক্ষা করেছিলেন এই প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করার জন্য যে, যদি তিনি এই নতুন নবীর ওপর তাঁর ঈমান আনার কথা ঘোষণা করেন তবে কী ঘটে। তখন তিনি বললেন: "হে রোমবাসী! তোমাদের কি কল্যাণ ও সঠিক পথের দিশা এবং তোমাদের রাজত্ব অটুট রাখার কোনো আগ্রহ আছে? তবে তোমরা এই নবীর নিকট বায়আত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করো।" একথা শুনে তারা বন্য গাধার ন্যায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দরজার দিকে ছুটল, কিন্তু তারা দেখল যে দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যখন হিরাক্লিয়াস তাদের এই অনীহা ও বিতৃষ্ণা প্রত্যক্ষ করলেন এবং তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হলেন, তখন তিনি বললেন: "ওদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনো।" এরপর তিনি বললেন: "আমি এইমাত্র যা বলেছিলাম, তা মূলত তোমাদের দ্বীনের ওপর তোমরা কতটুকু অবিচল তা পরীক্ষা করার জন্যই বলেছিলাম। এখন আমি তা প্রত্যক্ষ করলাম।" তখন তারা তাঁকে সিজদাহ করল এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হলো। হিরাক্লিয়াসের সর্বশেষ অবস্থা এটাই ছিল।নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হিরাক্লিয়াসের নিকট ইসলামের দাওয়াত দিয়ে একটি পত্র প্রেরণ করেছিলেন এবং 'মুনশাআত আস-সালাতিন' কিতাবে এই উত্তরটি বর্ণিত হয়েছে। এটি ইস্তাম্বুলের ফারিদুন বে-এর সংকলিত প্রথম খণ্ডে রয়েছে।* নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট রোম সম্রাটের উত্তরনবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে একটি পত্র পাঠিয়েছিলেন যাতে তাঁকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। তিনি যদি তা না করেন, তবে তিনি যেন সাধারণ প্রজাদের ইসলাম গ্রহণের পথে অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ান যাতে তারা ইসলামে প্রবেশ করতে পারে, আর যদি তারা অস্বীকার করে তবে যেন জিজিয়া প্রদান করে।অতঃপর রোম সম্রাট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উত্তর দিলেন:আহমদের প্রতি, যিনি আল্লাহর রাসূল এবং যাঁর সুসংবাদ ঈসা দিয়েছিলেন। আপনার দূতের মাধ্যমে আপনার পত্র আমার কাছে পৌঁছেছে এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর রাসূল। আমরা আপনার কথা আমাদের কাছে বিদ্যমান ইনজিলে পাই; মারইয়াম-পুত্র ঈসা আমাদের আপনার সুসংবাদ দিয়েছিলেন।আমি রোমবাসীদের আপনার ওপর ঈমান আনার আহ্বান জানিয়েছিলাম, কিন্তু তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। যদি তারা আমার আনুগত্য করত তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। আমার একান্ত আকাঙ্ক্ষা ছিল যে আমি যদি আপনার সান্নিধ্যে থাকতাম তবে আপনার সেবা করতাম এবং আপনার পদযুগল ধৌত করে দিতাম।আর হিরাক্লিয়াস কোন অবস্থার ওপর মৃত্যুবরণ করেছিলেন, সে সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।এভাবেই আমরা জানতে পারলাম যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চরিত্রই তাঁর নবুওয়াতের প্রথম প্রমাণ। যেমনটি আমরা মুমিন জননী খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এবং রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের অনুসৃত দৃষ্টিভঙ্গি সংক্ষেপে আলোচনা করেছি।আর যুগে যুগে সুস্থ বিবেক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের সত্যতার স্বপক্ষে তাঁর চরিত্রকেই দলিল হিসেবে গ্রহণ করে; যেমনটি তাঁর নবুওয়াতের প্রমাণ থেকে তাঁর চরিত্রের মহানুভবতা প্রমাণিত হয়।
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وكل عاقل يسأل: لحساب من كان يعمل محمد صلى الله عليه وسلم؟!!هذا الرجل العظيم، الذي جاء الحياة فأعطى كثيراً ولم يأخذ.جعل غُرْمَ الإسلام عليه، وعلى آل بيته، فلما شرع الله الصدقة، ثم فرض الزكاة. حرَّمها على نفسه، وعلى آل بيته.وقال: نحن آل محمد لا نأكل الصدقة.لقد أخذ تمرة من يد الحسين وهو طفل، وألقاها على التمر، لأنها من تمر الصدقة. لحساب من كل يعمل صلى الله عليه وسلم؟!!إن الدارس لسيرته يرى أن أقرب الناس إليه، وأعرفهم به،هم أكثر الناس يقينا بدعوته، أكثرهم تضحية في سبيلها، بالنفس والنفيس.فلحساب من كل يعمل هذا النبي الكريم؟!!* * ** رفض التصديق، وليس تكذيب الصادق.إذ كانت السيدة خديجة رضي الله عنها قد احتجت بأخلاقه صلى الله عليه وسلم على صدق نبوتّه.فإن الذين كفروا به لم يطعنوا في أخلاقه، ولم يشكّوا فيها.فعندما حاول النبي صلى الله عليه وسلم، أن يستثمر ثقتهم في ماضيه الأخلاقي، ويستثمرها في إقناعها برسالته. سألهم:"أرأيتم لو أخبرتكم أن خيلاً بسفح هذا الجبل أكنتم تصدقوني؟ "قالوا: نعم. أنت عندنا غير متّهم. وهذه شهادة جماعية بأخلاقه صلى الله عليه وسلم.فعندما أراد أن ينتقل منها إلى انتزاع شهادة بنبوته، صدمهم في مألوفهم وموروثهم. "فلم يكن ما بالقوم أنهم لا يصدقون محمداً، ولا أنهم ينكرون فيه الشرف.
প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিই প্রশ্ন করেন: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কার স্বার্থে কাজ করতেন?!!এই মহান ব্যক্তিত্ব, যিনি পৃথিবীতে আগমন করে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন কিন্তু প্রতিদানে কিছুই গ্রহণ করেননি।তিনি ইসলামের যাবতীয় দায়ভার নিজের এবং নিজের আহলে বাইতের ওপর অর্পণ করেছিলেন; ফলে আল্লাহ তাআলা যখন দান-সদকা (صدقة) বিধিবদ্ধ করলেন এবং এরপর জাকাত (زكاة) ফরজ (فرض) করলেন, তখন তিনি তা নিজের এবং নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য হারাম (حرام) করে দিলেন।এবং তিনি বলেছিলেন: "আমরা মুহাম্মদের পরিবার, আমরা সদকা (صدقة) ভক্ষণ করি না।"তিনি এমনকি শিশু হোসাইনের হাত থেকে একটি খেজুর কেড়ে নিয়ে তা সদকার খেজুরের স্তূপের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন, কারণ তা ছিল সদকার (صدقة) খেজুর। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কার স্বার্থে কাজ করতেন?!!তাঁর সীরাত (سيرة) অধ্যয়নকারী ব্যক্তিমাত্রই দেখতে পান যে, তাঁর নিকটতম এবং তাঁকে সবচেয়ে ভালোভাবে জানতেন যারা,তারাই ছিলেন তাঁর দাওয়াতের (دعوة) প্রতি সর্বাধিক সুদৃঢ় বিশ্বাসী (يقين) এবং তাঁর পথে জীবন ও অতি মূল্যবান সম্পদ উৎসর্গ করার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য।তবে এই মহান নবী কার স্বার্থে কাজ করতেন?!!* * ** সত্যয়ন (تصديق) প্রত্যাখ্যান করা, সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা নয়।যেহেতু হযরত খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাঁর মহান চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর নবুওয়াতের (نبوة) সত্যতার পক্ষে দলিল পেশ করেছিলেন।তাই যারা তাঁর প্রতি কুফরি (كفر) করেছিল, তারাও তাঁর চরিত্রের কোনো ত্রুটি ধরেনি এবং এ ব্যাপারে কোনো সংশয়ও পোষণ করেনি।অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাঁর নৈতিক চরিত্রের প্রতি তাঁদের এই আস্থাকে কাজে লাগিয়ে রিসালাতের (رسالة) বিষয়ে তাঁদের আশ্বস্ত করতে চাইলেন, তখন তিনি তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন:"তোমাদের কী অভিমত, যদি আমি তোমাদের সংবাদ দিই যে এই পাহাড়ের পাদদেশে একদল অশ্বারোহী বাহিনী রয়েছে, তবে কি তোমরা আমাকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস (تصديق) করবে?"তারা বলেছিল: "হ্যাঁ, আপনি আমাদের নিকট কখনও অভিযুক্ত (غير متهم) নন।" আর এটি ছিল তাঁর চরিত্রের ওপর তাঁদের একটি সামষ্টিক সাক্ষ্য (شهادة)।অতঃপর তিনি যখন এই ঘোষণা থেকে তাঁর নবুওয়াতের (نبوة) সাক্ষ্য (شهادة) আদায়ের দিকে অগ্রসর হতে চাইলেন, তখন তা তাঁদের চিরাচরিত প্রথা ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বিশ্বাসের মূলে আঘাত করল। "মূলত বিষয়টি এমন ছিল না যে তারা মুহাম্মদকে বিশ্বাস (تصديق) করত না, কিংবা তাঁর মধ্যে থাকা মর্যাদা ও আভিজাত্যকে তারা অস্বীকার করত।"
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والأمانة، وإنما كان بهم أنهم ينفرون من التصديق، كما ينفر المرء من خبر صادق يسوء الإنسان فيما يحب - أي من فقد مال مثلاً، أو فيمن يُحبّ كمصيبة في الأهل، وهو مفتوح العينين، ناظراً إلى صدق ما يلقى إليه من خبر" (عبقرية محمد صـ 33 للعقاد) فهم يرفضون التصديق، ولا يكذبون الصادق.وقد أشار القرآن الكريم إلى هذا. {قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُ لَيَحْزُنُكَ الَّذِي يَقُولُونَ فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ} (33 الأنعام) فالاستدلال بأخلاق النبي صلى الله عليه وسلم على نبوته لا ينقص من قدره موقف أعدائه منه، مع ثقتهم في كمال أخلاقه.* * *
এবং বিশ্বস্ততা (الأمانة), মূলত তাদের বিষয়টি ছিল এই যে, তারা সত্য অনুসরণে অনীহা প্রকাশ করত, ঠিক যেমন একজন ব্যক্তি এমন কোনো সত্য সংবাদ (خبر صادق) থেকে বিমুখ হয় যা তার প্রিয় কোনো বিষয়ে তাকে ব্যথিত করে—উদাহরণস্বরূপ সম্পদ হারানো, অথবা আপনজনদের ক্ষেত্রে কোনো বিপদ আসা, অথচ সে তার কাছে আসা সংবাদের সত্যতা সজাগ দৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ করছিল (আক্কাদ রচিত আবকারিয়াতু মুহাম্মাদ, পৃষ্ঠা ৩৩)। সুতরাং তারা সত্য গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাত, কিন্তু সত্যবাদীকে (صادق) মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করত না।পবিত্র কুরআন এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছে: {আমরা অবশ্যই জানি যে, তারা যা বলে তা আপনাকে নিশ্চয়ই ব্যথিত করে। আসলে তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলছে না, বরং জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করছে।} (সূরা আল-আন’আম: ৩৩)। অতএব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুউচ্চ চরিত্রের মাধ্যমে তাঁর নবুওয়াতের সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে শত্রুদের বিরূপ অবস্থান তাঁর মর্যাদাকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করে না, যেখানে তারা তাঁর চরিত্রের পূর্ণতার বিষয়ে পূর্ণ নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) পোষণ করত।* * *
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
معجزتان للنبي صلى الله عليه وسلم -بدأت بالنبي صلى الله عليه وسلم مرحلة جديدة من المعجزات، وختمت به. لأنه لا نبي بعده. أعنى هنا جانب المعجزات العقلية.فمعلوم أن المجزات الماديَّة "كأعواد الكبريت" تشتعل مرة واحدة فقط.فلا ينتفع بها إلا من شاهدها.وكثير هؤلاء الذين شاهدوا المعجزات المادية ولم يؤمنوا بها.{وَمَا مَنَعَنَا أَنْ نُرْسِلَ بِالْآيَاتِ إِلَّا أَنْ كَذَّبَ بِهَا الْأَوَّلُونَ وَآتَيْنَا ثَمُودَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً فَظَلَمُوا بِهَا} (59 سورة الإسراء) أما معجزة القرآن فمعجزة عقلية. تخاطب العقل كلما وجد.دامت لدينا ففاقت كل معجزة. . . من النبيين إذ جاءت ولم تدموعندما طلب المشركون من النبي صلى الله عليه وسلممعجزة تدل على نبوته، قال تعالى: {أَوَلَمْ يَكْفِهِمْ أَنَّا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ يُتْلَى عَلَيْهِمْ} (51 سورة العنكوت) وجانب الإعجاز في القرآن أفردت له جزءاً كبيراً في كتابى "سورة الواقعة ومنهجها في العقائد" وجزءا من كتابى "حتى لا تخطئ فهم القرآن الجزء الثالث"وحسبك هذا الإيجاز هنا.- القرآن إذا تكلّم عن الماضي، صدّقه التاريخ.- وإذا تحدّث عن الحاضر - يوم نزول الوحي - صدّقته نتائج الأحداث.- وإذا تحدّث عن المستقبل، صدّقته الليالي والأيام.- وإذا تحدّث عن الكون، صدّقه العلم الحديث.- وإذا تحدّث عما وراء الكون صدقته الكتب السماوية السابقة"النبأ العظيم للدكتور/ محمد عبد الله دراز"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুটি মুজিজা (معجزتان)-নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে মুজিজার (المعجزات) একটি নতুন পর্যায় শুরু হয়েছে এবং তাঁর মাধ্যমেই তা সমাপ্ত হয়েছে। কারণ তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। আমি এখানে বুদ্ধিবৃত্তিক মুজিজার (المعجزات العقلية) দিকটি বোঝাতে চাচ্ছি।এটি সুবিদিত যে, বস্তুগত মুজিজাগুলো (المعجزات المادية) "দিয়াশলাইয়ের কাঠির" মতো যা কেবল একবারই প্রজ্বলিত হয়।তাই যারা তা প্রত্যক্ষ করেছে তারা ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে উপকৃত হতে পারে না।এমন অনেকেই আছেন যারা বস্তুগত মুজিজাগুলো (المعجزات المادية) প্রত্যক্ষ করেছেন কিন্তু তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেননি।{পূর্ববর্তীরা নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছিল বলেই আমি নিদর্শন পাঠানো বন্ধ রেখেছি। আমি সামুদ জাতিকে উষ্ট্রী দিয়েছিলাম স্পষ্ট নিদর্শনস্বরূপ (مبصرة), কিন্তু তারা তার ওপর জুলুম করেছিল} (সুরা আল-ইসরা: ৫৯)। পক্ষান্তরে কুরআনের মুজিজা (معجزة) হলো একটি বুদ্ধিবৃত্তিক মুজিজা (معجزة عقلية)। এটি যেখানেই বুদ্ধিবৃত্তির অস্তিত্ব থাকে, তাকেই সম্বোধন করে।তা আমাদের কাছে চিরস্থায়ী হয়েছে এবং অন্য নবীদের সকল মুজিজাকে (معجزة) ছাড়িয়ে গেছে... যা এসেছিল কিন্তু স্থায়ী হয়নি।যখন মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছেএমন একটি মুজিজা (معجزة) চাইল যা তাঁর নবুওয়াতের (نبوة) প্রমাণ দেয়, তখন মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের জন্য কি এটা যথেষ্ট নয় যে, আমি আপনার কাছে কিতাব নাজিল করেছি যা তাদের কাছে তিলাওয়াত করা হয়?} (সুরা আল-আনকাবুত: ৫১)। কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) দিকটি আমি আমার ‘সুরা আল-ওয়াকিয়াহ ওয়া মানহাজুহা ফিল আকাইদ’ গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং আমার ‘হাত্তা লা তুখতিআ ফাহমাল কুরআন’ (তৃতীয় খণ্ড) বইটির একটি অংশেও তা স্থান পেয়েছে।এখানে আপনার জন্য এই সংক্ষিপ্তসারই যথেষ্ট।- কুরআন যখন অতীত সম্পর্কে কথা বলে, ইতিহাস তাকে সত্যয়ন করে।- যখন বর্তমান সম্পর্কে -অহি নাজিলের দিনগুলোতে- কথা বলে, ঘটনার ফলাফল তাকে সত্যয়ন করে।- যখন ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কথা বলে, দিন ও রাতের আবর্তন তাকে সত্যয়ন করে।- যখন মহাবিশ্ব সম্পর্কে কথা বলে, আধুনিক বিজ্ঞান তাকে সত্যয়ন করে।- আর যখন মহাবিশ্বের অতীন্দ্রিয় বিষয় সম্পর্কে কথা বলে, পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলো তাকে সত্যয়ন করে।"ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দাররাজ-এর 'আন-নাবাউল আজিম' থেকে সংগৃহীত"
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فالقرآن هو معجزة النبي الأولى صلى الله عليه وسلم.احتوى على الإعجاز اللغوي.والإعجاز التشريعي.والإعجاز العلمي. من غير مبالغة في إخضاع النصّ الكريم، للنظريات العلمية.إن معجزة القرآن العلمية أوجزتها في سطر واحد، في قولي:"إن العلم الحديث قد استطاع أن يُخطّئ كلّ تفسير قاله العلماء في العهود السابقة. سواء كان هذا التفسير عن الكون أو عن الإنسان.ومعجزة القرآن العلمية هي ثبوت تفسيره للكون والإنسان ثبوتاً جعل العلم الحديث يقف أمام القرآن وقوف التلميذ الصغير أما الفيلسوف العملاق."هذه لمحة عن المعجزة الأولى للنبي صلى الله عليه وسلمفماذا عن المعجزة الثانية؟* المعجزة الثانيةمعجزة النبي صلى الله عليه وسلم هي تربية الأمة.كيف استطاع رجل واحد أن يربِّي أمَّة كاملة؟أمّة ألِفَت الجاهلية بتقادم العهد.فمنذ دعوة الخليل إبراهيم وولده إسماعيل لم يرسل الله نبياً بعدهما لهذه الأمة. فالعهد بالنبوات بعيد. فموسى عليه السلام قال لقومه {لِمَ تُؤْذُونَنِي وَقَدْ تَعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ} (5 سورة الصف)وعيسى عليه السلام قال بعثت إلى خراف بني إسرائيل الضالة {وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ لِمَ تُؤْذُونَنِي وَقَدْ تَعْلَمُونَ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ} (6 سورة الصف)بقيت هذه الأمة، وقد طال انتظارها لنبي، ومضت قرون طوال،حتى ألفوا الباطل.
সুতরাং কুরআন হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রথম মুজিজা।এতে রয়েছে ভাষাগত অলৌকিকতা।এবং বিধানিক অলৌকিকতা।এবং বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা; তবে পবিত্র মূল পাঠকে বৈজ্ঞানিক তত্ত্বসমূহের অনুগামী করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অতিরঞ্জন ব্যতিরেকে।কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা আমি এক লাইনে সংক্ষেপে এভাবে বলেছি:"আধুনিক বিজ্ঞান পূর্ববর্তী যুগসমূহের আলেমদের ব্যক্ত করা সকল ব্যাখ্যাকে ভুল প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। চাই সেই ব্যাখ্যা মহাবিশ্ব সম্পর্কে হোক কিংবা মানুষ সম্পর্কে।আর কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকতা হলো মহাবিশ্ব ও মানুষ সম্পর্কে এর ব্যাখ্যার এমন এক সুদৃঢ়তা, যা আধুনিক বিজ্ঞানকে কুরআনের সামনে একজন বিশালকার দার্শনিকের সম্মুখে ক্ষুদ্র এক শিষ্যের ন্যায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।"এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রথম মুজিজা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত।তাহলে দ্বিতীয় মুজিজাটি কী?* দ্বিতীয় মুজিজানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুজিজা হলো উম্মাহকে গড়ে তোলা।একজন মানুষ কীভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ উম্মাহকে গড়ে তুলতে সক্ষম হলেন?এমন এক উম্মাহ যারা দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হওয়ার ফলে জাহেলিয়াতের সাথে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল।কেননা খলিল ইবরাহিম ও তাঁর পুত্র ইসমাইলের দাওয়াতের পর থেকে আল্লাহ এই উম্মাহর নিকট আর কোনো নবী প্রেরণ করেননি। ফলে নবুওয়াতের সেই যুগ অনেক প্রাচীন হয়ে গিয়েছিল। মুসা আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে বলেছিলেন, {হে আমার কওম! তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছ, অথচ তোমরা জানো যে আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর প্রেরিত রাসূল?} (সূরা আস-সাফ: ৫)আর ঈসা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, আমি বনী ইসরাঈলের পথভ্রষ্ট মেষদের নিকট প্রেরিত হয়েছি। {এবং যখন মুসা তার সম্প্রদায়কে বলেছিল: হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আমাকে কেন কষ্ট দিচ্ছ, অথচ তোমরা জান যে আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসূল?} (সূরা আস-সাফ: ৬)এই উম্মাহ এভাবেই রয়ে গিয়েছিল, নবীর জন্য তাদের প্রতীক্ষা দীর্ঘ হয়েছিল এবং দীর্ঘ শতাব্দীকাল অতিবাহিত হয়েছিল,শেষ পর্যন্ত তারা বাতিলের সাথেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
(খণ্ড: ১)
সুল্লামু আখলাকিন নুবুওয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بتقادم العهد {بَلْ هُوَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أَتَاهُمْ مِنْ نَذِيرٍ مِنْ قَبْلِكَ} (3 سورة السجدة){لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أُنْذِرَ آبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُونَ} (6 سورة يس)جاء النبي صلى الله عليه وسلمجاء النبي ليحوِّلَ هذه الأمة من {قَوْمًا لُدًّا} أي ألدّاء في الخصوم.إلى {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} (110 سورة آل عمران)إن تحقيق هذا المطلب الكبير يحتاج جهداً شاقاً، وبصيرة نافذة، ومنهجاً فائقاً.بعد مدد الله - سبحانه - فكيف يقوى رجل واحد على عبء تغيير أمة؟الله المستعان {إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا} (5 سورة المزمل)والمسألة: مدد من الله. وقوّة بصيرة للأمور.وقوة تركيز على ما يدعو إليه.فهو يعيش لما يدعو إليه، يمتلك كلّ فرصة ليوجّهها لخدمة دعوته.أرأيت إلى الشاة الميّتة، يراها ملقاة على القمامة،فيحاول أن يتّخذ من هذه "الصورة" مجالاً لتربية أمته، ووعظها.أترون هذه هيّنة على أصحابها؟قالوا: من هوانها عليهم ألقوا بها على القمامة.قال: إن الدنيا أهون عند الله من هذه الشاة على أهلها "مسلم الزهد" أ. هـ..فلا تغرنّكم إن أقبلت عليكم، ولا تيأسوا إن أدبرت.ولا تظنوها مقياس رِضَى الله وسخطه، فهي هيِّنة عليه.وعندما توشك الشمس أن تغيب.
দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হওয়ার পর {বরং এটি তোমার পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্য, যাতে তুমি এমন এক কওমকে সতর্ক করো যাদের কাছে তোমার আগে কোনো সতর্ককারী আসেনি} (সুরা আস-সাজদাহ: ৩){যাতে তুমি এমন এক কওমকে সতর্ক করো যাদের পিতৃপুরুষদের সতর্ক করা হয়নি, ফলে তারা গাফেল বা উদাসীন} (সুরা ইয়াসিন: ৬)নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন।নবী এসেছিলেন এই উম্মতকে {ঝগড়াটে সম্প্রদায় (قَوْمًا لُدًّا)} অর্থাৎ যারা বিবাদে অত্যন্ত কঠোর—তাদের অবস্থা থেকে পরিবর্তন করতে।উন্নীত করতে {তোমরা হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের আবির্ভাব ঘটানো হয়েছে} (সুরা আলে ইমরান: ১১০)-এর স্তরে।নিশ্চয়ই এই মহান লক্ষ্য অর্জন অত্যন্ত কঠোর প্রচেষ্টা, তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি এবং একটি উৎকৃষ্ট কর্মপদ্ধতি দাবি করে।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাহায্যের পর; একজন মানুষ একা কীভাবে একটি উম্মতকে পরিবর্তনের গুরুভার বহনে সক্ষম হতে পারেন?আল্লাহই সাহায্যকারী। {নিশ্চয়ই আমি তোমার ওপর এক গুরুভার বাণী অবতীর্ণ করতে যাচ্ছি} (সুরা আল-মুযযাম্মিল: ৫)আর বিষয়টি হলো: আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য এবং বিষয়ের গভীর অন্তর্দৃষ্টির শক্তি।আর যা কিছুর প্রতি তিনি দাওয়াত দেন, তার ওপর গভীর একাগ্রতার শক্তি।তিনি সেই আদর্শের জন্যই বেঁচে থাকেন যার দিকে তিনি মানুষকে আহ্বান করেন। তিনি প্রতিটি সুযোগকে তার দাওয়াতের খেদমতে নিয়োজিত করার সামর্থ্য রাখেন।আপনি কি সেই মৃত বকরির কথা ভেবেছেন, যা আবর্জনার স্তূপে পড়ে থাকতে তিনি দেখেছিলেন?অতঃপর তিনি এই "দৃশ্যকে" তার উম্মতের তারবিয়াত বা লালন-পালন এবং নসিহত প্রদানের একটি ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রয়াস পেয়েছিলেন।তোমরা কি মনে করো এটি তার মালিকের কাছে অতি তুচ্ছ ছিল?তারা বলল: তাদের কাছে এর তুচ্ছতার কারণেই তারা একে আবর্জনায় ফেলে দিয়েছিল।তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে দুনিয়া তার মালিকের নিকট এই বকরিটির চেয়েও বেশি তুচ্ছ। সহিহ মুসলিম, কিতাবুজ জুহদ। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।সুতরাং এটি যদি তোমাদের অনুকূলে আসে, তবে তা যেন তোমাদের প্রতারিত না করে; আর যদি তা বিমুখ হয়, তবে তোমরা নিরাশ হয়ো না।আর দুনিয়াকে আল্লাহর সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির মাপকাঠি মনে করো না, কেননা তা তাঁর কাছে অত্যন্ত তুচ্ছ।আর যখন সূর্য প্রায় অস্তগামী হয়।