(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: -)
قاعدة عظيمة في الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: قاعدة عظيمة في الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

المحقق: سليمان بن صالح الغصن

الناشر: دار العاصمة - الرياض

الطبعة: الثانية 1418هـ / 1997م

عدد الصفحات: 143

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مقابل على المخطوط]

أعده للشاملة: محمد المنصور، جزاه الله خيرا

ملاحظات:

1- تمت مقابلة الكتاب كاملاً على نسخته الخطية المعتمدة في التحقيق.

2- تمت مقابلة بعض الكتاب (الصفحات من 55-65 و86-93) على نسخة خطية أخرى ناقصة.

3- الفروق بين النسخ مبينة في الهامش.

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও নিফাকপন্থীদের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে একটি মহান মূলনীতি   (ইবনে তাইমিয়া)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও নিফাকপন্থীদের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়ে একটি মহান মূলনীতি

লেখক: তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসিম বিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)

গবেষক: সুলাইমান বিন সালিহ আল-গুসন

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৮ হিজরি / ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৩

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ, এবং এটি পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে]

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মদ আল-মনসুর, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন

টীকা:

১- সম্পূর্ণ গ্রন্থটি তাহকিকের জন্য নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে.

২- গ্রন্থের কিছু অংশ (৫৫-৬৫ এবং ৮৬-৯৩ পৃষ্ঠা) অন্য একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে.

৩- পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যকার পার্থক্যসমূহ পাদটীকায় উল্লেখ করা হয়েছে.

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৪)
قاعدة عظيمة

في الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان

و (بين) (1) عبادات أهل الشرك والنفاق

 

تأليف

شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن تيمية

المتوفى سنة 728هـ رحمه الله تعالى

 

تحقيق

سليمان بن صالح الغصن

 

دار العاصمة

للنشر والتوزيع

--------------------------------------------

(1) سقطت من المطبوع، وهي ثابتة في عنوان الأصل.
একটি মহান মূলনীতি

ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত

এবং (১) শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদতের মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে

 

রচনা

শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ

মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন

 

তাহকীক

সুলাইমান ইবনে সালিহ আল-গুসন

 

দারুল আসিমাহ

প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য

--------------------------------------------

(১) এটি মুদ্রিত সংস্করণ থেকে বাদ পড়েছে, তবে মূল শিরোনামে এটি সাব্যস্ত আছে।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ১৫)
/2أ/ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

قال شيخ الإسلام تقي الدين أحمد بن تيمية رضي الله عنه:

الحمد لله نستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ونشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليمًا.
/২ক/ পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর দরুদ ও যথাযথ সালাম বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌«فصل»

في الفرق بين عبادات أهل الإسلام، والإيمان، والهدى، والتوحيد، والإخلاص، والعلم، والشرع، المتبعين للأنبياء والمرسلين، وبين عبادات أهل الشرك، والنفاق، والجهل، والضلال، والبدعة، من المشركين، ومن ضاهاهم، من مبتدعة أهل الملل.

فعبادات المسلمين مبنية على أصلين:

أحدهما: أنهم لا يعبدون إلا الله وحده لا شريك له.

والثاني: أنهم يعبدونه بما أمر وشرع لهم من الدين الذي بلغته رسله عنهُ.

فهم يعبدون اللهَ، لا يشركون به شيئًا، ويتقونه، ويطيعون رسله كما أمرتهم الأنبياءُ بذلك.

قال تعالى: {إِنَّا أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ أَنْ أَنْذِرْ قَوْمَكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَأْتِيَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ • قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُبِينٌ • أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ وَأَطِيعُونِ} [نوح: 1-3] .

وكذلك ذكر عن هود وصالحٍ وشعيبٍ أنهم قالوا لقومهم: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [هود: 50] .

وقال عن المسيح: {يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ} [المائدة: 72] ، وقال: {وَإِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ} [مريم: 36] .
‌«পরিচ্ছেদ»

ইসলাম, ঈমান, হেদায়াত, তাওহীদ, ইখলাস, ইলম এবং শরীয়ত ধারণকারী ও নবী-রাসূলগণের অনুসারীদের ইবাদত এবং মুশরিক ও অন্যান্য ধর্মের বিদআতিদের মধ্য থেকে যারা শিরক, নিফাক, মূর্খতা, পথভ্রষ্টতা ও বিদআতের অনুসারী, তাদের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্য প্রসঙ্গে।

মুসলিমদের ইবাদত দুটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত:

প্রথমটি: তারা এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করে না, যাঁর কোনো শরিক নেই।

দ্বিতীয়টি: তাঁর রাসূলগণ তাঁর পক্ষ থেকে যে দ্বীন পৌঁছে দিয়েছেন, সেই দ্বীন অনুযায়ী তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন ও শরীয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন সেভাবেই তারা তাঁর ইবাদত করে।

সুতরাং তারা আল্লাহর ইবাদত করে, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করে না, তাঁকে ভয় করে এবং তাঁর রাসূলগণের আনুগত্য করে, যেমনটি নবীগণ তাঁদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি নূহকে তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট পাঠিয়েছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমার সম্প্রদায়ের নিকট যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসার পূর্বেই তাদেরকে সতর্ক করো। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী। যেন তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো} [নূহ: ১-৩]।

তেমনিভাবে হূদ, সালেহ এবং শুআইব সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁরা তাঁদের সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই} [হূদ: ৫০]।

এবং তিনি মসীহ সম্পর্কে বলেন: {হে বনী ইসরাঈল! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, যিনি আমার রব ও তোমাদের রব। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করে, আল্লাহ তার ওপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে আগুন; আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই} [মায়িদাহ: ৭২], এবং তিনি বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব এবং তোমাদের রব, অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদত করো; এটিই সরল পথ} [মারইয়াম: ৩৬]।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ১৭)
/2ب/ وكل من الرسل يقول: {فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ} [الشعراء: 108] .

وقال عن أمة محمدٍ صلى الله عليه وسلم: {وَيَقُولُونَ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالرَّسُولِ وَأَطَعْنَا ثُمَّ يَتَوَلَّى فَرِيقٌ مِنْهُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَمَا أُولَئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ} [النور: 47] ، {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ • وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ} [النور: 51-52] فجعل الطاعة لله والرسول، وجعل الخشية والتقوى لله وحده.

وقال تعالى: {وَلَوْ أَنَّهُمْ رَضُوا مَا آتَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ سَيُؤْتِينَا اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَرَسُولُهُ إِنَّا إِلَى اللَّهِ رَاغِبُونَ} [التوبة: 59] فجعل الإيتاء لله ورسوله.

كما قال تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] إذ كان الحلال ما حلّله الله ورسوله، والحرام ما حرمه الله ورسوله، والدين ما شرعه الله ورسوله.

وجعل الحسب لله وحده، والرغبة إلى الله وحده، كما قال تعالى: {قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ} [الزمر: 38] ، وقال: {فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ} [التوبة: 129] ، وقال: {وَإِنْ يُرِيدُوا أَنْ يَخْدَعُوكَ فَإِنَّ حَسْبَكَ اللَّهُ} [الأنفال: 62] ، وقال: {الَّذِينَ قَالَ لَهُمُ النَّاسُ إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ
/২খ/ আর প্রত্যেক রাসূলই বলেন: "সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।" [আশ-শুআরা: ১০৮]।

এবং তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত সম্পর্কে বলেছেন: "তারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমরা আনুগত্য করেছি’; এরপর তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তারা মুমিন নয়।" [আন-নূর: ৪৭]। "মুমিনদের উক্তি তো এই যে, যখন তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম’। আর তারাই সফলকাম। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই কৃতকার্য।" [আন-নূর: ৫১-৫২]। সুতরাং তিনি আনুগত্যকে আল্লাহ ও রাসূলের জন্য সাব্যস্ত করেছেন, আর ভয় ও তাকওয়াকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যদি তারা সন্তুষ্ট হতো যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদেরকে দিয়েছেন এবং বলত, ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট; আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে আমাদের দেবেন এবং তাঁর রাসূলও; আমরা আল্লাহরই প্রতি অনুরক্ত’।" [আত-তাওবাহ: ৫৯]। সুতরাং তিনি প্রদান করাকে আল্লাহ ও রাসূলের জন্য সাব্যস্ত করেছেন।

যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" [আল-হাশর: ৭]। কেননা হালাল তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হালাল করেছেন, হারাম তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন এবং দ্বীন তা-ই যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বিধিবদ্ধ করেছেন।

আর তিনি পর্যাপ্ততা বা নির্ভরতা (হাসব) একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আকাঙ্ক্ষা বা অনুরাগ একমাত্র আল্লাহর দিকেই নির্দিষ্ট করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বলুন, ‘আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই ওপর নির্ভর করে’।" [আয-যুমার: ৩৮]। এবং তিনি বলেছেন: "অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে বলুন, ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তিনি মহা আরশের রব’।" [আত-তাওবাহ: ১২৯]। এবং তিনি বলেছেন: "আর যদি তারা আপনাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।" [আল-আনফাল: ৬২]। এবং তিনি বলেছেন: "যাদেরকে লোকেরা বলেছিল যে, ‘মানুষ তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো’। কিন্তু তা তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং তারা বলেছিল, ‘আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম...’"
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ১৮)
الْوَكِيلُ} [آل عمران: 173] .

فالله وحده هو حسب الرسول وجميع المؤمنين، كما قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ} [الأنفال: 64] أي: هو وحده يكفيك، ويكفي من اتبعك. هذا معنى الآية عند جماهير السلف والخلف.

وقوله: {وَمَنِ اتَّبَعَكَ} معطوف على محل الكاف وهو منصوب، كما تقول العرب: حسبك وزيدًا درهم.

وقال الشاعر:

.............................

فحسبك والضحاك سيف مهند

/3أ/ وهذا هو دين الإسلام الذي لايقبل الله دينًا غيره، لا من الأولين ولا الآخرين، وهو أن يعبد الله في كل وقتٍ بما أمر به في ذلك الوقت، فهو المعبود وحده دائمًا.

قال الله تعالى: {وَقَالَ اللَّهُ لَا تَتَّخِذُوا إِلَهَيْنِ اثْنَيْنِ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ • وَلَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَهُ الدِّينُ وَاصِبًا أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَتَّقُونَ} [النحل: 51-52] وواصبًا أي: دائمًا. هكذا قال جمهور المفسرين واللّغويين.

ثم قال: {أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَتَّقُونَ • وَمَا بِكُمْ مِنْ نِعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ ثُمَّ إِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فَإِلَيْهِ تَجْأَرُونَ • ثُمَّ إِذَا كَشَفَ الضُّرَّ عَنْكُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِنْكُمْ
কর্মবিধায়ক} [আল ইমরান: ১৭৩]।

সুতরাং আল্লাহ একাই রাসূল ও সকল মুমিনের জন্য যথেষ্ট, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে নবী, আপনার জন্য এবং মুমিনদের মধ্যে যারা আপনার অনুসরণ করেছে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট} [আল-আনফাল: ৬৪]। অর্থাৎ: তিনি একাই আপনার জন্য এবং আপনার অনুসারীদের জন্য যথেষ্ট। সালাফ (পূর্বসূরী) এবং খালাফ (উত্তরসূরী) উলামায়ে কেরামের অধিকাংশের নিকট আয়াতের অর্থ এটিই।

এবং আল্লাহর বাণী: {এবং যারা আপনার অনুসরণ করেছে} অংশটি 'কাফ' সর্বনামের স্থানের সাথে অন্বয়যুক্ত এবং তা নসবপ্রাপ্ত (মানসুব), যেমন আরবরা বলে থাকে: তোমার এবং জায়েদের জন্য একটি দিরহামই যথেষ্ট।

জনৈক কবি বলেছেন:

.............................

তোমার জন্য এবং দহ্হাকের জন্য একটি ধারালো তরবারিই যথেষ্ট।

/৩-ক/ আর এটিই হলো ইসলাম ধর্ম, যা ব্যতীত আল্লাহ অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করেন না, চাই তা পূর্ববর্তীদের পক্ষ থেকে হোক কিংবা পরবর্তীদের। আর তা হলো—প্রত্যেক সময়ে আল্লাহকে সেই পন্থায় ইবাদত করা যেভাবে তিনি সেই সময়ে আদেশ করেছেন; সুতরাং তিনি সর্বদা একমাত্র উপাস্য।

মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহ বলেছেন, তোমরা দুইজন ইলাহ গ্রহণ করো না; তিনিই তো একমাত্র ইলাহ। অতএব তোমরা কেবল আমাকেই ভয় করো। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই এবং আনুগত্য সর্বদা তাঁরই প্রাপ্য। তবে কি তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে?} [আন-নাহল: ৫১-৫২]। আর 'ওয়াসিবান' অর্থ: সর্বদা। অধিকাংশ মুফাসসির এবং ভাষাবিদগণ এরূপই বলেছেন।

অতঃপর তিনি বলেছেন: {তবে কি তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে? তোমাদের কাছে যেসব নেয়ামত রয়েছে তা আল্লাহরই পক্ষ থেকে। আবার যখন কোনো দুঃখ-কষ্ট তোমাদের স্পর্শ করে, তখন তোমরা তাঁরই কাছে আর্তনাদ করো। অতঃপর যখন তিনি তোমাদের থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেন, তখন তোমাদের একটি দল...}
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ১৯)
بِرَبِّهِمْ يُشْرِكُونَ • لِيَكْفُرُوا بِمَا آتَيْنَاهُمْ فَتَمَتَّعُوا فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ} [النحل: 52-55] .

لكن قد ت‌‌تنوع الشرائع كما كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي أولًا إلى البيت (1) المقدس، قبل الهجرة وبعد الهجرة بضعة عشر شهرًا، ثم حوّله الله، فأمره أن يصلي إلى الكعبة، فتنوعت الشريعة، وفي كلا الحالين الدين واحد، وهو دين الإسلام، عبادة الله وحده لا شريك له.

وفي الصحيحين عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إِنَّا مَعَاشِرَ الْأَنْبِيَاءِ دِينُنَا وَاحِدٌ، الْأَنْبِيَاءُ إِخْوَةٌ لِعَلَاّتٍ» يعني: دينهم واحد وإن تنوعت شرائعهم.

قال تعالى: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ} [الشورى: 13] .

وقال تعالى: {فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ • مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ • مِنَ الَّذِينَ /3ب/ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [الروم: 30-32] .

وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ • وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ • فَتَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ زُبُرًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} [المؤمنون: 51-53] .

--------------------------------------------

(1) غيرت في المطبوع إلى: (بيت) .
{তারা তাদের রবের সাথে শিরক করে • যাতে আমি তাদের যা দিয়েছি তা তারা অস্বীকার করে, সুতরাং তোমরা ভোগ করে নাও, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।} [আন-নাহল: ৫২-৫৫] ।

তবে শরিয়তসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের আগে এবং হিজরতের পরে দশাধিক মাস পর্যন্ত প্রথমে বাইতুল (১) মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করতেন, তারপর আল্লাহ তা পরিবর্তন করে দিলেন এবং তাঁকে কাবার দিকে মুখ করে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। ফলে শরিয়তে ভিন্নতা আসলো, তবে উভয় অবস্থায় দ্বীন এক, আর তা হলো ইসলাম ধর্ম—একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা যাঁর কোনো শরিক নেই।

সহীহাইন-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «আমরা নবী সমাজ, আমাদের দ্বীন এক; নবীরা হচ্ছেন বৈমাত্রেয় ভাই»; অর্থাৎ: তাঁদের দ্বীন এক, যদিও তাঁদের শরিয়তসমূহ ভিন্ন ভিন্ন।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই পথই নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা আমি ওহী করেছি আপনার প্রতি এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং এতে মতভেদ করো না। আপনি মুশরিকদের যেদিকে দাওয়াত দিচ্ছেন তা তাদের কাছে গুরুভার মনে হয়।} [আশ-শূরা: ১৩] ।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজেকে দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত রাখুন। এটিই আল্লাহর ফিতরাত (প্রকৃতি) যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। • তাঁর অভিমুখী হয়ে এবং তাঁকে ভয় করো, আর সালাত কায়েম করো এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। • তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা /৩খ/ নিজেদের দ্বীনকে খণ্ড-বিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে। প্রত্যেক দলই নিজেদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।} [আর-রূম: ৩০-৩২] ।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে রাসূলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো এবং সৎকর্ম করো; তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আমি সবিশেষ অবগত। • আর তোমাদের এই জাতি তো একই জাতি এবং আমিই তোমাদের রব, অতএব আমাকে ভয় করো। • কিন্তু তারা নিজেদের কাজকে নিজেদের মধ্যে বহু খণ্ডে বিভক্ত করেছে। প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।} [আল-মুমিনূন: ৫১-৫৩] ।

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে এটি পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে: (বাইত)।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ২০)
وكذلك قال في حق الأنبياء: {إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَا رَبُّكُمْ فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 92] والأمة قد فسروها بالملة والدّين، أي: ملتكم ودينكم واحد، كقوله تعالى: {بَلْ قَالُوا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُهْتَدُونَ • وَكَذَلِكَ مَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي قَرْيَةٍ مِنْ نَذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتْرَفُوهَا إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَى أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَى آثَارِهِمْ مُقْتَدُونَ} [الزخرف: 22-23] .

وإذا قيل: المراد به الناس، فالمعنى واحد، أي: ادعوا جميع الناس إلى عبادة الله وحده، كما (قال تعالى: {أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ} [الشورى: 13] ) (1) ، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] وقال تعالى: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ} [الزخرف: 45] ، وقال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] ، وقال تعالى: {يُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ بِالرُّوحِ مِنْ أَمْرِهِ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ أَنْ أَنْذِرُوا أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاتَّقُونِ} [النحل: 2] .

و‌‌كل الأنبياء كانوا على الإسلام، كما ذكر الله عن نوح أنه قال: {فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَمَا سَأَلْتُكُمْ مِنْ أَجْرٍ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ وَأُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [يونس: 72] .

/4أ/ وقال عن الخليل: {وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ • إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ • وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [البقرة: 130-132] .

--------------------------------------------

(1) ما بين القوسين سقط من المطبوع.
এবং একইভাবে তিনি নবীদের ব্যাপারে বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের এই উম্মত একই উম্মত এবং আমিই তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো" [আল-আম্বিয়া: ৯২]। আর উম্মত শব্দটির ব্যাখ্যা তাঁরা মিল্লাত ও দ্বীন দ্বারা করেছেন, অর্থাৎ: তোমাদের মিল্লাত ও দ্বীন এক; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "বরং তারা বলে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের (উম্মত) ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই হিদায়াতপ্রাপ্ত।" [আয-যুখরুফ: ২২] এবং "একইভাবে আপনার পূর্বে যখনই আমি কোনো জনপদে কোনো সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তখনই সেখানকার বিলাসপ্রিয়রা বলেছে, আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এক আদর্শের ওপর পেয়েছি এবং আমরা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছি।" [আয-যুখরুফ: ২৩]।

আর যদি বলা হয় যে এর দ্বারা মানুষ উদ্দেশ্য, তবে অর্থ একই থাকে, অর্থাৎ: সকল মানুষকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করা, যেমন (মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা দ্বীন কায়েম করো এবং তাতে বিভেদ করো না" [আশ-শুরা: ১৩]) (১), মহান আল্লাহ বলেন: "আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল পাঠাইনি যার প্রতি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।" [আল-আম্বিয়া: ২৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আপনার পূর্বে আমি যেসব রাসূল পাঠিয়েছিলাম তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নির্ধারণ করেছিলাম যাদের ইবাদত করা হবে?" [আয-যুখরুফ: ৪৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" [আন-নাহল: ৩৬]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার ওপর ইচ্ছা স্বীয় নির্দেশে রূহ সহ ফেরেশতাদের অবতীর্ণ করেন (এই মর্মে) যে, তোমরা সতর্ক করো যে আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় করো।" [আন-নাহল: ২]।

‌সকল নবীই ইসলামের ওপর ছিলেন, যেমন আল্লাহ নূহ সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছিলেন: "অতঃপর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাইনি; আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহর কাছে এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি।" [ইউনুস: ৭২]।

/৪ক/ এবং তিনি খলীল সম্পর্কে বলেছেন: "যে নিজেকে নির্বোধ বানিয়েছে সে ছাড়া আর কে ইবরাহীমের আদর্শ হতে বিমুখ হতে পারে? অবশ্যই আমি তাকে দুনিয়াতে মনোনীত করেছি এবং আখিরাতেও সে অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে। যখন তার রব তাকে বললেন, 'আত্মসমর্পণ করো', সে বলল, 'আমি সৃষ্টিজগতের রবের প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম।' আর ইবরাহীম ও ইয়াকূব তাদের সন্তানদেরকে এরই অসিয়ত করে গেছেন যে, হে আমার সন্তানগণ! নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন, সুতরাং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।" [আল-বাকারা: ১৩০-১৩২]।

--------------------------------------------

(১) বন্ধনীভুক্ত অংশটি মুদ্রিত সংস্করণ থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال إبراهيم وإسماعيل: {رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ} [البقرة: 128] .

وقال عن موسى: {يَا قَوْمِ إِنْ كُنْتُمْ آمَنْتُمْ بِاللَّهِ فَعَلَيْهِ تَوَكَّلُوا إِنْ كُنْتُمْ مُسْلِمِينَ} [يونس: 84] .

وقال تعالى عن السحرة الذين آمنوا بموسى إنهم قالوا: {رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ} [الأعراف: 126] .

وقال: {إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا} [المائدة: 44] .

وقال يوسف الصديق: {تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ} [يوسف: 101] .

وقالت بلقيس: {إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي وَأَسْلَمْتُ مَعَ سُلَيْمَانَ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [النمل: 44] .

وقال عن أتباع المسيح: {وَإِذْ أَوْحَيْتُ إِلَى الْحَوَارِيِّينَ أَنْ آمِنُوا بِي وَبِرَسُولِي قَالُوا آمَنَّا وَاشْهَدْ بِأَنَّنَا مُسْلِمُونَ} [المائدة: 111] .

وقال تعالى: {شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ • إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} [آل عمران: 18-19] .

قال قتادة في قوله تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} قال: شهادة أن لا إله إلا الله، والإقرار بما جاء من عند الله، وهو دين الله الذي شرع لنفسه، وبعث به رسله، ودل عليه أولياءه، ولا يقبل غيره، ولا يجزي إلا به.

وقد ذم في كتابه من شرع دينًا لم ينزله، أو حلل أو حرم بغير وحي من الله، فقال تعالى: {أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنْ بِهِ اللَّهُ} [الشورى: 21] .
এবং ইব্রাহিম ও ইসমাইল বলেছিলেন: “হে আমাদের রব! আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনার প্রতি অনুগত একটি উম্মত তৈরি করুন।” [আল-বাকারাহ: ১২৮] .

এবং মুসা সম্পর্কে তিনি বলেছেন: “হে আমার কওম! যদি তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো, তবে তাঁরই ওপর ভরসা করো যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো।” [ইউনুস: ৮৪] .

এবং মহান আল্লাহ সেই জাদুকরদের সম্পর্কে বলেছেন যারা মুসার প্রতি ঈমান এনেছিল যে তারা বলেছিল: “হে আমাদের রব! আমাদের ওপর ধৈর্য ঢেলে দিন এবং মুসলিম হিসেবে আমাদের মৃত্যু দান করুন।” [আল-আরাফ: ১২৬] .

এবং তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমি তাওরাত নাজিল করেছি, যাতে রয়েছে হিদায়াত ও আলো। এর মাধ্যমে সেই নবীরা—যারা আত্মসমর্পণ (ইসলাম কবুল) করেছিলেন—ইহুদিদের জন্য ফয়সালা দিতেন।” [আল-মায়িদাহ: ৪৪] .

এবং ইউসুফ সিদ্দিক বলেছিলেন: “আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন।” [ইউসুফ: ১০১] .

এবং বিলকিস বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি এবং আমি সুলায়মানের সাথে বিশ্বজগতের রব আল্লাহর সমীপে আত্মসমর্পণ করলাম।” [আন-নামল: ৪৪] .

এবং মাসীহ (ঈসা)-এর অনুসারীদের সম্পর্কে তিনি বলেছেন: “এবং যখন আমি হাওয়ারিদের প্রতি ওহি পাঠালাম যে, তোমরা আমার ওপর ও আমার রাসুলের ওপর ঈমান আনো; তারা বলেছিল, আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা মুসলিম।” [আল-মায়িদাহ: ১১১] .

এবং মহান আল্লাহ বলেন: “আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, আর ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীগণও (একই সাক্ষ্য দিচ্ছে)। তিনি ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই; তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম।” [আল ইমরান: ১৮-১৯] .

মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম”—এর ব্যাখ্যায় কাতাদাহ বলেন: তা হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু এসেছে তা স্বীকার করা। আর এটাই আল্লাহর দ্বীন যা তিনি নিজের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন, যা দিয়ে তিনি তাঁর রাসুলদের পাঠিয়েছেন এবং তাঁর বন্ধুদের এর দিকে পথপ্রদর্শন করেছেন। তিনি এটি ছাড়া অন্য কিছু কবুল করবেন না এবং এটি ছাড়া কাউকে প্রতিদান দেবেন না।

তিনি তাঁর কিতাবে সেই সব লোকদের নিন্দা করেছেন যারা এমন দ্বীন প্রবর্তন করেছে যা তিনি নাজিল করেননি, অথবা আল্লাহর ওহি ছাড়া কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম সাব্যস্ত করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: “তবে কি তাদের এমন সব অংশীদার আছে, যারা তাদের জন্য দ্বীনের এমন বিধান দিয়েছে যার অনুমতি আল্লাহ দেননি?” [আশ-শুরা: ২১] .
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ২২)
/4ب/ وذم المشركين على أنهم حرموا ما لم يحرمه، وأحلوا ما حرمه، وشرعوا دينًا لم ينزله، كما ذكر ذلك في سورة الأنعام والأعراف وغيرهما.

فقال تعالى: {وَإِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً قَالُوا وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِهَا قُلْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ • قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} [الأعراف: 28-29] .

وقال تعالى: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ • قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 32-33] .

وقد قال في أول السورة: {المص • كِتَابٌ أُنْزِلَ إِلَيْكَ فَلَا يَكُنْ فِي صَدْرِكَ حَرَجٌ مِنْهُ لِتُنْذِرَ بِهِ وَذِكْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ • اتَّبِعُوا مَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ} [الأعراف: 1-3] .
৪/খ এবং তিনি মুশরিকদের নিন্দা করেছেন এ কারণে যে, তারা এমন বিষয়কে হারাম করেছে যা তিনি হারাম করেননি, এবং তারা এমন বিষয়কে হালাল করেছে যা তিনি হারাম করেছেন, আর তারা এমন দ্বীন প্রবর্তন করেছে যা তিনি অবতীর্ণ করেননি; যেমনটি তিনি সূরা আল-আন‘আম, আল-আ‘রাফ এবং অন্যান্য সূরায় উল্লেখ করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর যখন তারা কোনো অশ্লীল কাজ করে, তখন তারা বলে: 'আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এভাবেই করতে দেখেছি এবং আল্লাহ আমাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন।' বলুন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ অশ্লীলতার নির্দেশ দেন না। তোমরা কি আল্লাহর বিরুদ্ধে এমন কথা বলছো যা তোমরা জানো না?' বলুন: 'আমার রব ন্যায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তোমরা প্রত্যেক সিজদার স্থানে তোমাদের মুখমণ্ডল সোজা রাখো এবং তাঁরই আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাকো।'" [আল-আ‘রাফ: ২৮-২৯]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "বলুন: 'আল্লাহর সেই সৌন্দর্যকে কে হারাম করেছে যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য বের করেছেন এবং পবিত্র রিযিকসমূহকে (কে হারাম করেছে)?' বলুন: 'পার্থিব জীবনে এগুলো মুমিনদের জন্য এবং কিয়ামতের দিন কেবল তাদেরই জন্য।' এভাবেই আমি জ্ঞানীদের জন্য আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি। বলুন: 'নিশ্চয়ই আমার রব হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ—তা প্রকাশ্য হোক বা গোপন—আর গুনাহ ও অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করা এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, আর আল্লাহর নামে এমন কথা বলা যা তোমরা জানো না।'" [আল-আ‘রাফ: ৩২-৩৩]।

তিনি সূরার শুরুতেই বলেছেন: "আলিফ-লাম-মীম-সা’দ। এটি একটি কিতাব যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে, সুতরাং এর কারণে আপনার মনে যেন কোনো সংকীর্ণতা না থাকে; যাতে আপনি এর মাধ্যমে সতর্ক করতে পারেন এবং এটি মুমিনদের জন্য এক উপদেশ। তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো।" [আল-আ‘রাফ: ১-৩]।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌«فصل»

وأما‌‌ دين أهل الشرك، ومبتدعة أهل الكتاب، فهو دين لم ينزل الله به سلطانًا، إما أن يدعوا مع الله غيره من المخلوقات، أو يقولوا (1) : إنما نعبدهم ليقربونا إلى الله زلفى، ويقولون: هؤلاء شفعاؤنا عند الله.

وإما أن يعبدوه بغير ما أمر وشرع، مما شرعه لهم شركاؤهم، أي الذين جعلوهم شركاء لله.

كما قال تعالى: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ /5أ/ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} [التوبة: 31] .

وقال تعالى: {مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ • وَلَا يَأْمُرَكُمْ أَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلَائِكَةَ وَالنَّبِيِّينَ أَرْبَابًا أَيَأْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 79-80] .

وقال تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنْكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا • أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا} [الإسراء: 56-57] . أي: الذين يدعوهم المشركون هم يبتغون إلى ربهم

--------------------------------------------

(1) في الأصل: (يقولون) ، والتصويب من المحقق.
«পরিচ্ছেদ»

আর মুশরিকদের ধর্ম এবং আহলে কিতাবদের বিদআতিদের ধর্মের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, এটি এমন এক ধর্ম যার সপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ নাজিল করেননি। হয় তারা আল্লাহর পাশাপাশি অন্য কোনো সৃষ্টিকে আহ্বান করে, অথবা তারা বলে (১): "আমরা তো তাদের ইবাদত কেবল এই জন্য করি যেন তারা আমাদের আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়", এবং তারা বলে: "এরা আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।"

আবার কখনো তারা আল্লাহর ইবাদত এমন পদ্ধতিতে করে যার আদেশ তিনি দেননি এবং যা তিনি বিধিবদ্ধ করেননি; বরং তাদের সেই শরীকরা (উপাস্যরা) তাদের জন্য তা প্রবর্তন করেছে যাদের তারা আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্ত করেছে।

যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহর পরিবর্তে তাদের পণ্ডিত ও সংসারত্যাগী ধর্মযাজকদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়াম-পুত্র মাসীহকেও। অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই। তারা যা শরীক করে তা থেকে তিনি অত্যন্ত পবিত্র।} [আত-তাওবাহ: ৩১]

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আল্লাহ কোনো মানুষকে কিতাব, প্রজ্ঞা ও নবুওয়াত দান করার পর তার জন্য এটা শোভা পায় না যে, সে মানুষকে বলবে—আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা আমার বান্দা হয়ে যাও; বরং সে বলবে—তোমরা রব্বানী (খাঁটি দ্বীনি আলিম) হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে। আর তিনি তোমাদের নির্দেশ দেন না যে, তোমরা ফেরেশতা ও নবীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করবে। তোমরা মুসলিম হওয়ার পর তিনি কি তোমাদের কুফরির নির্দেশ দেবেন?} [আলে ইমরান: ৭৯-৮০]

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {বলুন, আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের (উপাস্য) মনে করো তাদের আহ্বান করো; তারা তো তোমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা পরিবর্তন করারও শক্তি রাখে না। তারা যাদের আহ্বান করে তারা নিজেরাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের মাধ্যম সন্ধান করে—যে, তাদের মধ্যে কে কত বেশি নিকটবর্তী হতে পারে, আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় পায়। নিশ্চয়ই আপনার রবের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ।} [আল-ইসরা: ৫৬-৫৭]। অর্থাৎ: মুশরিকরা যাদের আহ্বান করে, তারা নিজেরাই তাদের রবের নৈকট্য প্রার্থনা করে...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: (তারা বলছে), আর সংশোধনটি গবেষক কর্তৃক করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ২৪)
الوسيلة.

قال ابن عباس ومجاهد: هم عيسى وأمه وعزير والملائكة والشمس والقمر والنجوم.

وقال ابن مسعود: كان ناسٌ من الإنس يعبدون نفرًا من الجن فأسلم الجنيون، ولم يعلم الإنس الذين كانوا يعبدونهم بإسلامهم فتمسكوا بعبادتهم فعيَّرهم الله.

وعلى كل قول ذم سبحانه من يدعوا مخلوقًا وذلك المخلوق يعبد الله؛ يتقرب (1) إليه، ويرجوه، ويخافه، فدخل في هذا جميع الملائكة، والأنبياء، والصالحون من الإنس والجن.

فإذا كان المخلوق المعظم المقرب عند الله لا يجوز أن يدعى، فالعصاة لله من شياطين الإنس /5ب/ والجن أولى ألا يدعوا، فقد تضمنت الآية ذم من يدعو غير الله مطلقًا.

وبين أن ذلك المدعو لا يملك كشف الضر عنه ولا تحويله من موضع إلى موضع، وقال تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ • وَلَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ} [سبأ: 22-23] فبين تعالى أن المخلوق ليس له ملك، ولا شرك في الملك، ولا هو معين لله، ولكن غاية ما عنده الشفاعة، والشفاعة لا تنفع إلا لمن أذن له.

وقال تعالى: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنْفَعُهُمْ وَيَقُولُونَ

--------------------------------------------

(1) غيرت في المطبوع إلى: (ويتقرب) .
আল-ওয়াসিলা (নৈকট্য লাভের মাধ্যম)।

ইবনে আব্বাস এবং মুজাহিদ বলেছেন: তারা হলেন ঈসা, তাঁর মাতা, উযাইর, ফেরেশতাকুল, সূর্য, চন্দ্র এবং নক্ষত্ররাজি।

ইবনে মাসউদ বলেছেন: মানুষের মধ্য থেকে কিছু লোক একদল জিনের উপাসনা করত, অতঃপর সেই জিনেরা ইসলাম গ্রহণ করে। কিন্তু যে মানুষগুলো তাদের উপাসনা করত তারা তাদের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে জানত না, ফলে তারা তাদের উপাসনাতেই অটল থাকে। তখন আল্লাহ তাদের নিন্দা করেন।

প্রত্যেক মতানুসারেই মহান আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে নিন্দা করেছেন যে কোনো সৃষ্টিকে আহ্বান করে, অথচ সেই সৃষ্টি নিজেই আল্লাহর ইবাদত করে; তাঁর নৈকট্য অন্বেষণ করে (১), তাঁর কাছে আশা পোষণ করে এবং তাঁকে ভয় পায়। এর মধ্যে সকল ফেরেশতা, নবী এবং মানুষ ও জিনের অন্তর্ভুক্ত নেককার ব্যক্তিরা শামিল।

সুতরাং আল্লাহর নিকট সম্মানিত এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত কোনো সৃষ্টিকেই যদি আহ্বান করা বৈধ না হয়, তবে মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে আল্লাহর অবাধ্য শয়তানদের আহ্বান না করা তো আরও বেশি সঙ্গত। অতএব, আয়াতটি সাধারণভাবে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে আহ্বানকারীর নিন্দাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সেই আহূত সত্তা তার থেকে কষ্ট দূর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন করারও ক্ষমতা রাখে না। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, ‘তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের উপাস্য মনে করতে তাদের আহ্বান করো; তারা আসমানসমূহ ও জমিনে অণু পরিমাণ কিছুর মালিক নয় এবং এ দুটিতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই এবং তাদের মধ্য থেকে আল্লাহর কোনো সাহায্যকারীও নেই। যার জন্য তিনি অনুমতি দেন, সে ব্যতীত তাঁর নিকট কোনো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না’} [সাবা: ২২-২৩]। সুতরাং আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট করেছেন যে, সৃষ্টির কোনো মালিকানা নেই, মালিকানায় কোনো অংশীদারিত্ব নেই এবং সে আল্লাহর কোনো সাহায্যকারীও নয়। বরং তার কাছে সর্বোচ্চ যা থাকতে পারে তা হলো সুপারিশ, আর সেই সুপারিশও কেবল তাঁর জন্যই ফলপ্রসূ হবে যাকে তিনি অনুমতি দেবেন।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তারা আল্লাহ ব্যতীত এমন কিছুর ইবাদত করে যা তাদের ক্ষতি করতে পারে না এবং তাদের উপকারও করতে পারে না, আর তারা বলে...

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে পরিবর্তন করে ‘এবং নৈকট্য অন্বেষণ করে’ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ২৫)
هَؤُلَاءِ شُفَعَاؤُنَا عِنْدَ اللَّهِ قُلْ أَتُنَبِّئُونَ اللَّهَ بِمَا لَا يَعْلَمُ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [يونس: 18] .

وقال تعالى: {وَأَنْذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْ يُحْشَرُوا إِلَى رَبِّهِمْ لَيْسَ لَهُمْ مِنْ دُونِهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ} [الأنعام: 51] .

وقال تعالى: {وَذَكِّرْ بِهِ أَنْ تُبْسَلَ نَفْسٌ بِمَا كَسَبَتْ لَيْسَ لَهَا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ} [الأنعام: 70] .

وقال تعالى: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا شَفِيعٍ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ} [السجدة: 4] .

وقال تعالى: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ} [يونس: 3] .

وقال تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ} [البقرة: 255] .

وقال: {وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ /6أ/ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى} [النجم: 26] .
"এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী।" বলুন, "তোমরা কি আল্লাহকে এমন সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি আসমানসমূহ ও জমিনে জানেন না? তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে।" [ইউনুস: ১৮]।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপনি এর মাধ্যমে তাদেরকে সতর্ক করুন যারা তাদের রবের নিকট সমবেত হওয়ার ভয় রাখে; তাদের জন্য তিনি ছাড়া কোনো অভিভাবক ও কোনো সুপারিশকারী নেই।" [আল-আন'আম: ৫১]।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপনি এর মাধ্যমে উপদেশ দিন যাতে কোনো ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য ধ্বংস না হয়, যখন আল্লাহ ছাড়া তার কোনো অভিভাবক ও সুপারিশকারী থাকবে না।" [আল-আন'আম: ৭০]।

মহান আল্লাহ বলেন: "আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ, জমিন ও এ দুটির মধ্যবর্তী সবকিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই। তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?" [আস-সাজদাহ: ৪]।

মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব; সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদত করো। তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?" [ইউনুস: ৩]।

মহান আল্লাহ বলেন: "কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?" [আল-বাকারা: ২৫৫]।

এবং তিনি বলেন: "আর আসমানসমূহে কত ফেরেশতা রয়েছে /৬ক/ যাদের সুপারিশ কোনো কাজে আসবে না, তবে আল্লাহর অনুমতির পর, যার জন্য তিনি ইচ্ছে করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন।" [আন-নাজম: ২৬]।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌«فصل»

و‌‌الضُّلَاّل يدعون إلى دين مجهول، ليس معهم به سلطان منزل من الله.

قال تعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 33] .

وقال تعالى: {وَيَجْعَلُونَ لِمَا لَا يَعْلَمُونَ نَصِيبًا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ تَاللَّهِ لَتُسْأَلُنَّ عَمَّا كُنْتُمْ تَفْتَرُونَ} [النحل: 56] .

وقال تعالى عن مؤمن آل فرعون: {وَيَا قَوْمِ مَا لِي أَدْعُوكُمْ إِلَى النَّجَاةِ وَتَدْعُونَنِي إِلَى النَّارِ • تَدْعُونَنِي لِأَكْفُرَ بِاللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَأَنَا أَدْعُوكُمْ إِلَى الْعَزِيزِ الْغَفَّارِ • لَا جَرَمَ أَنَّمَا تَدْعُونَنِي إِلَيْهِ لَيْسَ لَهُ دَعْوَةٌ فِي الدُّنْيَا وَلَا فِي الْآخِرَةِ وَأَنَّ مَرَدَّنَا إِلَى اللَّهِ وَأَنَّ الْمُسْرِفِينَ هُمْ أَصْحَابُ النَّارِ} [غافر: 41-43] .

وقال تعالى: {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَمَا لَيْسَ لَهُمْ بِهِ عِلْمٌ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ} [الحج: 71] والسلطان: هو الوحي المنزل من الله.

قال تعالى: {أَمْ أَنْزَلْنَا عَلَيْهِمْ سُلْطَانًا فَهُوَ يَتَكَلَّمُ بِمَا كَانُوا بِهِ يُشْرِكُونَ} [الروم: 35] وقال تعالى: {إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا أَنْتُمْ وَآبَاؤُكُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ بِهَا مِنْ سُلْطَانٍ} [النجم: 23] .

والدين الذي نزل به الوحي هو الدين الذي شرعه الله عز وجل، وأهل الضلال يتبعون دينًا ليس موافقًا للشرع المنزل، ولا لهم به علم، بل يتبعون
«পরিচ্ছেদ»

এবং পথভ্রষ্টরা এমন এক অজ্ঞাত দ্বীনের দিকে আহ্বান করে, যার পক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই।

মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, ‘নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, আর পাপ ও অন্যায় বিদ্রোহ এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, আর আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না।’} [আল-আরাফ: ৩৩]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তারা যে বিষয়ে জানে না, তার জন্য আমার দেওয়া রিযিক থেকে একটি অংশ নির্ধারণ করে। আল্লাহর কসম! তোমরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন করছ, সে সম্পর্কে তোমাদের অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।} [আন-নাহল: ৫৬]।

মহান আল্লাহ ফেরাউনের বংশের মুমিন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন: {হে আমার সম্প্রদায়, আমার কী হলো যে, আমি তোমাদেরকে মুক্তির দিকে ডাকছি, আর তোমরা আমাকে আগুনের দিকে ডাকছ! তোমরা আমাকে ডাকছ যেন আমি আল্লাহর সাথে কুফরি করি এবং তাঁর সাথে এমন কিছু শরিক করি যার কোনো জ্ঞান আমার নেই; অথচ আমি তোমাদেরকে ডাকছি মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীলের দিকে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে ডাকছ, দুনিয়া বা আখিরাতে তার কোনো আহ্বান (বা প্রার্থনা কবুলের অধিকার) নেই। আর আমাদের প্রত্যাবর্তন আল্লাহরই দিকে এবং সীমালঙ্ঘনকারীরাই আগুনের অধিবাসী।} [গাফির: ৪১-৪৩]।

মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুর ইবাদত করে যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং সে বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই। আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।} [আল-হাজ্জ: ৭১]। আর 'সুলতান' (প্রমাণ) হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী।

মহান আল্লাহ বলেন: {নাকি আমি তাদের নিকট কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেছি যা তাদের শিরক সম্পর্কে কথা বলে?} [আর-রুম: ৩৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {এগুলো তো কেবল কতগুলো নাম যা তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা রেখেছ; এগুলোর স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি।} [আন-নাজম: ২৩]।

যে দ্বীন ওহী নিয়ে এসেছে তা-ই হলো সেই দ্বীন যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বিধিবদ্ধ করেছেন। আর পথভ্রষ্টরা এমন এক দ্বীন অনুসরণ করে যা অবতীর্ণ শরীয়তের অনুকূল নয় এবং সে সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞানও নেই, বরং তারা অনুসরণ করে...
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ২৭)
أهواءهم وما يذوقونه ويجدونه في أنفسهم، بغير شرع ولا علم.

ولهذا كان‌‌ شيوخ أهل المعرفة يوصون باتباع الشرع والعلم، /6ب/ ويذمّون أهل العبادات الذين لا يتبعون الشرع والعلم، كما قال [تعالى] (1) : {وَيَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَمَا لَيْسَ لَهُمْ بِهِ عِلْمٌ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ نَصِيرٍ} [الحج: 71] .

ولهذا طالب الله أهل الضلال بالعلم والسلطان، فقال تعالى: {قُلْ آلذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنْثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنْثَيَيْنِ نَبِّئُونِي بِعِلْمٍ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} [الأنعام: 143] فبين أن الصادق يكون معه علم بما قاله، فمن لا علم عنده فهو مفتر للكذب على الله.

وقال تعالى: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ لَكُمْ مِنْ رِزْقٍ فَجَعَلْتُمْ مِنْهُ حَرَامًا وَحَلَالًا قُلْ آللَّهُ أَذِنَ لَكُمْ أَمْ عَلَى اللَّهِ تَفْتَرُونَ} [يونس: 59] .

وقال تعالى: {وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ} [النحل: 116] .

وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ • إِنَّمَا يَأْمُرُكُمْ بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَاءِ وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [البقرة: 168-169] .

وقال تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ} [النساء: 171] .

وقال: {فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَرِثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَذَا

--------------------------------------------

(1) إضافة من المحقق، وليست في الأصل.
তাদের খেয়াল-খুশি এবং যা তারা নিজেদের মাঝে অনুভব ও আস্বাদন করে, শরিয়ত ও জ্ঞান ব্যতিরেকে।

এই কারণেই মারেফাতপন্থী শায়খগণ শরিয়ত ও জ্ঞানের অনুসরণের অসিয়ত করতেন, /৬খ/ এবং তারা সেই সকল ইবাদতকারীদের নিন্দা করতেন যারা শরিয়ত ও জ্ঞানের অনুসরণ করে না, যেমন আল্লাহ [তাআলা] বলেছেন (১): "তারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুর ইবাদত করে যার স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো জ্ঞান নেই। আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।" [আল-হজ্জ: ৭১]।

এই কারণেই আল্লাহ পথভ্রষ্টদের কাছে জ্ঞান ও প্রমাণের দাবি করেছেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আপনি বলুন, তিনি কি নর দুটি হারাম করেছেন নাকি মাদী দুটি? নাকি মাদী দুটির গর্ভে যা আছে তা? তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে জ্ঞানসহ সংবাদ দাও।" [আল-আনআম: ১৪৩]। সুতরাং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সত্যবাদীর সাথে তার কথার সপক্ষে জ্ঞান থাকবে। অতএব যার কাছে কোনো জ্ঞান নেই, সে আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদকারী।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন: "বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে রিজিক আল্লাহ তোমাদের জন্য অবতীর্ণ করেছেন, অতঃপর তোমরা তার কিছু অংশ হারাম ও কিছু অংশ হালাল করেছ? বলুন, আল্লাহ কি তোমাদের অনুমতি দিয়েছেন নাকি তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করছ?" [ইউনুস: ৫৯]।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন: "তোমাদের জিহ্বা থেকে যে মিথ্যা বর্ণনা আসে সে সম্পর্কে বলো না যে—এটি হালাল এবং ওটি হারাম, যাতে তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করতে পারো। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে তারা সফলকাম হবে না।" [আন-নাহল: ১১৬]।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন: "হে মানবজাতি! জমিনে যা কিছু আছে তা থেকে হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো কেবল তোমাদের মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলতে বলে যা তোমরা জানো না।" [আল-বাকারা: ১৬৮-১৬৯]।

আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন: "হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর সম্পর্কে সত্য ছাড়া কিছু বলো না।" [আন-নিসা: ১৭১]।

তিনি বলেছেন: "অতঃপর তাদের পরে এমন এক অযোগ্য বংশধর তাদের স্থলাভিষিক্ত হলো যারা কিতাবের ওয়ারিশ হলো, তারা এই পার্থিব জগতের তুচ্ছ সামগ্রী গ্রহণ করে...

--------------------------------------------

(১) মুহাক্কিক কর্তৃক সংযোজিত, এটি মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ২৮)
الْأَدْنَى وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِنْ يَأْتِهِمْ عَرَضٌ مِثْلُهُ يَأْخُذُوهُ أَلَمْ يُؤْخَذْ عَلَيْهِمْ مِيثَاقُ الْكِتَابِ أَنْ لَا يَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ وَدَرَسُوا مَا فِيهِ وَالدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ • وَالَّذِينَ يُمَسِّكُونَ بِالْكِتَابِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُصْلِحِينَ} [الأعراف: 169-170] .

 

# # #
{এই তুচ্ছ দুনিয়ার (পার্থিব সামগ্রী) এবং তারা বলে, শীঘ্রই আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর যদি তাদের নিকট অনুরূপ কোনো তুচ্ছ সামগ্রী আসে, তবে তারা তা গ্রহণ করে। তাদের নিকট থেকে কি কিতাবের এই অঙ্গীকার নেওয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ছাড়া আর কিছু বলবে না? অথচ তারা তাতে যা আছে তা অধ্যয়ন করেছে। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালের আবাসই উত্তম; তবে কি তোমরা বুঝতে পারো না? আর যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং সালাত কায়েম করে, নিশ্চয়ই আমি সংশোধনকারীদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না।} [আল-আ’রাফ: ১৬৯-১৭০] ।

 

# # #
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ২৯)
/7أ/ ‌‌«فصل»

والذين يروون الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم نوعان: ثقات، وغير ثقات، وهؤلاء منهم من يتعمد الكذب، وأكثرهم لا يتعمدون الكذب، لكن يؤتى أحدهم من سوء حفظه، والعلماء تكلموا في هؤلاء، وهؤلاء؛ حفظًا للدين من الزيادة والنقصان.

وكذلك الذين تكلموا برأيهم، ونظرهم، وفهمهم، وذوقهم، ووجدهم، وكلامهم نوعان:

فما وافق فيه الرسول فهو حق، وما خالفه فهو خطأ، وأكثرهم لم يتعمد الخطأ، بل غلط، ومنهم يتعمد قول غير الحق، مع علمه بأنه غير الحق.
/৭অ/ ‌‌«পরিচ্ছেদ»

যারা নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনা করেন তারা দুই প্রকার: নির্ভরযোগ্য এবং অনির্ভরযোগ্য। এদের মধ্যে কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলে, তবে তাদের অধিকাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলে না; বরং তাদের কেউ কেউ স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে ত্রুটি করে থাকে। আলেমগণ দ্বীনকে হ্রাস-বৃদ্ধি থেকে রক্ষা করার জন্য এই উভয় শ্রেণি সম্পর্কেই আলোচনা করেছেন।

অনুরূপভাবে, যারা নিজেদের অভিমত, পর্যবেক্ষণ, উপলব্ধি, রুচি এবং আধ্যাত্মিক অনুভবের ভিত্তিতে কথা বলেন, তাদের কথাও দুই প্রকার:

এর মধ্যে যা রাসুলের আদর্শের অনুকূল তা সত্য, আর যা তাঁর পরিপন্থী তা ভুল। তাদের অধিকাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করেন না, বরং ভুল করে ফেলেন; আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ সত্য নয় জেনেও ইচ্ছাকৃতভাবে অসত্য কথা বলেন।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌«فصل»

وأفضل الخلق بعد الأنبياء، وأكملهم علمًا، ودينًا، واعتصامًا بحبل الله، واتباعًا لدين الإسلام الذي بعث الله به رسله، هم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فإن أمة محمد صلى الله عليه وسلم خير الأمم، وهم خير أمة محمد صلى الله عليه وسلم، كما ثبت في الصحاح من غير وجه عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «خَيْرُ الْقُرُونِ الْقَرْنُ الَّذِي بُعِثْتُ فِيهِمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ» .

وقد أخبر سبحانه أنه رضي عن السابقين الأولين، ورضي عن الذين اتبعوهم إذا اتبعوهم بإحسان.

فقال تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ /7ب/ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} [التوبة: 100] .

وهؤلاء السابقون هم الذين بايعوا تحت الشجرة، وهم الذين أنفقوا من [قبل] (1) ، وقاتلوا قبل الفتح، والفتح هو الحديبية، كما قال تعالى: {لَا يَسْتَوِي مِنْكُمْ مَنْ أَنْفَقَ مِنْ قَبْلِ الْفَتْحِ وَقَاتَلَ أُولَئِكَ أَعْظَمُ دَرَجَةً مِنَ

--------------------------------------------

(1) في الأصل: (بعد) ، والتصويب من المحقق.
‌«অনুচ্ছেদ»

নবীগণের পর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম এবং জ্ঞান, দ্বীন, আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলগণকে যে ইসলাম ধর্ম দিয়ে পাঠিয়েছেন তার অনুসরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ।

কেননা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত হলো শ্রেষ্ঠ জাতি, আর তাঁরা (সাহাবীগণ) হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিভিন্ন সূত্রে সহীহ হাদীসসমূহে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «সর্বোত্তম যুগ হলো সেই যুগ যাতে আমি প্রেরিত হয়েছি, অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগ, অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগ»।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি প্রথম পর্যায়ের অগ্রগামী ব্যক্তিদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে তাদের প্রতিও তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে /৭খ/ আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। এটিই মহা সাফল্য।} [সূরা আত-তাওবাহ: ১০০]।

আর এই অগ্রগামী ব্যক্তিরা হলেন তাঁরাই যারা বৃক্ষের নিচে বায়আত (শপথ) গ্রহণ করেছিলেন। আর তাঁরাই সেই সকল ব্যক্তি যারা ফাতহ (বিজয়)-এর পূর্বে ব্যয় করেছিলেন ও যুদ্ধ করেছিলেন। আর এখানে ফাতহ বা বিজয় বলতে হুদায়বিয়াকে বুঝানো হয়েছে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের পূর্বে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে তারা (পরবর্তীদের) সমান নয়। মর্যাদায় তারা শ্রেষ্ঠ তাদের চেয়ে যারা...}

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে ছিল: (পরে), এবং এটি সম্পাদকের পক্ষ থেকে সঠিক করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৩১)
الَّذِينَ أَنْفَقُوا مِنْ بَعْدُ وَقَاتَلُوا وَكُلًّا وَعَدَ اللَّهُ الْحُسْنَى} [الحديد: 10] .

وقد ثبت في صحيح مسلم عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لَا يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ بَايَعَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ» . وفي الصحيحين عن جابر قال: قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ: «أَنْتُمْ خَيْرُ أَهْلِ الأَرْضِ» وَكُنَّا أَلْفًا وَأَرْبَعَمِائَةٍ، وَلَوْ كُنْتُ أُبْصِرُ الْيَوْمَ لَأَرَيْتُكُمْ مَكَانَ الشَّجَرَةِ. وقد وعد الله هؤلاء ومن تبعهم بالحسنى.

وكانت طريقة أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم أنهم يعبدون الله وحده بما أمرهم به نبيهم؛ فالحلال عندهم ما حلله، والحرام ما حرمه، والدين ما شرعه، يصلون الصلوات الخمس كما أمر الله في مواقيتها جماعة في المساجد، ويصومون شهر رمضان، ويحجون البيت العتيق، ويؤدون الزكاة، ويأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر، ويجاهدون في سبيل الله، ويعبدون الله بسائر ما أمرهم به نبيهم، ولا يعبدون إلا الله، ولا يدعون غير الله، لا /8أ/ مما في السماء ولا مما في الأرض، لا (1) الملائكة، ولا الكواكب، ولا الأنبياء، ولا تماثيلهم، بل قد علموا أن هذا كله من الشرك الذي حرمه الله ورسوله.

ولا يدعون مخلوقًا، لا ملكًا، ولا جنيًّا، ولا بشرًا، لا نبيًا ولا غير نبي، لا عند قبره، ولا في مغيبه، لا (2) يستعينون إلا بالله، ولا يستنصرون إلا بالله، ولا يتوكلون إلا على الله، ولا يدعون مخلوقًا غائبًا، ولا ميتًا، ولا يستغيثون به، ولا يشكون إليه، ولا يطلبون منه مغفرة، ولا هدى، ولا نصرًا، بل يطلبون هذا كله

--------------------------------------------

(1) غيرت في المطبوع إلى: (ولا) .

(2) غيرت في المطبوع إلى: (ولا) .
যারা পরে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে; আল্লাহ তাদের প্রত্যেককেই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। [আল-হাদিদ: ১০] ।

সহীহ মুসলিমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: «গাছের নিচে যারা আনুগত্যের শপথ নিয়েছে, তাদের কেউ জাহান্নামে প্রবেশ করবে না»। এবং সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হুদায়বিয়ার দিনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছিলেন: «তোমরা হলে পৃথিবীর সর্বোত্তম অধিবাসী»। আর আমরা ছিলাম এক হাজার চারশ জন। (জাবির বলেন) যদি আজ আমি দেখতে পেতাম, তবে অবশ্যই তোমাদের সেই গাছের স্থানটি দেখিয়ে দিতাম। আল্লাহ তাদের এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে, তাদের প্রত্যেকের জন্যই কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের পদ্ধতি ছিল এই যে, তারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতেন সেভাবে যেভাবে তাঁদের নবী তাঁদের নির্দেশ দিয়েছেন; তাদের নিকট হালাল ছিল তা যা তিনি হালাল করেছেন, হারাম ছিল তা যা তিনি হারাম করেছেন, এবং দীন ছিল তা যা তিনি বিধিবদ্ধ করেছেন। তারা আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী মসজিদে জামাতের সাথে সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতেন, রমযান মাসে রোজা রাখতেন, প্রাচীন গৃহের (কাবা) হজ সম্পাদন করতেন, জাকাত প্রদান করতেন, সৎ কাজের আদেশ দিতেন ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করতেন এবং তাদের নবী যা কিছু নির্দেশ দিয়েছেন তার সবকিছুর মাধ্যমেই একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতেন। তারা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করতেন না, আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ডাকতেন না, চাই সে আসমানের কিছু হোক কিংবা জমিনের কিছু হোক—না /৮অ/ ফেরেশতাদের, না গ্রহ-নক্ষত্রদের, না নবীদের, আর না তাদের প্রতিকৃতিদের। বরং তারা জানতেন যে, এর সবই হলো শিরক যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন।

তারা কোনো সৃষ্টিকে ডাকতেন না—চাই সে ফেরেশতা হোক, জিন হোক বা মানুষ হোক; নবী হোক বা নবী ছাড়া অন্য কেউ হোক। কবরের কাছেও নয়, তাদের অনুপস্থিতিতেও নয়। তারা আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে সাহায্য চাইতেন না, আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে বিজয় প্রার্থনা করতেন না, আল্লাহ ছাড়া কারো ওপর ভরসা করতেন না। তারা কোনো অনুপস্থিত বা মৃত সৃষ্টির কাছে প্রার্থনা করতেন না, তাদের কাছে ফরিয়াদ জানাতেন না, তাদের কাছে অভিযোগ পেশ করতেন না, তাদের কাছে ক্ষমা, হিদায়াত বা বিজয় প্রার্থনা করতেন না; বরং তারা এ সবকিছুই প্রার্থনা করতেন

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে: (এবং না)।

(২) মুদ্রিত কপিতে পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে: (এবং না)।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৩২)
من الله.

ولا يفعلون كما يفعل النصارى فيستشفعون بالملائكة، أو الموتى من الأنبياء والصالحين، عند قبورهم أو غير قبورهم، ولا يقول أحد منهم: يا جبريل، يا ميكائيل، اشفع لي إلى الله، ولا يقول: يا إبراهيم، يا موسى، يا عيسى، اشفع لي إلى الله، كما يفعل النصارى، بل قد علموا أن الغائب لا يطلب منه شيء، والميت لا يُطلب منه شيء، وأن الملائكة لا يفعلون إلا ما أمرهم به ربهم، ولا يشفعون إلا لمن ارتضى، وكذلك الأنبياء والصالحين، ولكن يطلب من أحدهم في حياته الدعاء والشفاعة، كما كان الصحابة يطلبون من النبي صلى الله عليه وسلم ذلك، وكما يطلب الخلق منه الشفاعة يوم القيامة، صلى الله عليه وسلم تسليمًا.
আল্লাহর পক্ষ থেকে।

আর তারা খ্রিষ্টানদের মতো কাজ করে না যে, তারা তাদের কবরের নিকট হোক বা অন্য কোথাও হোক, ফেরেশতা অথবা নবী ও নেককারদের মধ্য হতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করে। এবং তাদের কেউ বলে না: হে জিবরাঈল, হে মিকাঈল, আল্লাহর নিকট আমার জন্য সুপারিশ করুন; আর তারা এটিও বলে না: হে ইবরাহীম, হে মূসা, হে ঈসা, আল্লাহর নিকট আমার জন্য সুপারিশ করুন, যেমনটি খ্রিষ্টানরা করে থাকে। বরং তারা জানে যে, যে অনুপস্থিত তার নিকট কিছু প্রার্থনা করা যায় না এবং যে মৃত তার নিকটও কিছু চাওয়া হয় না। আর ফেরেশতারা কেবল তা-ই করে যা তাদের প্রতিপালক তাদের নির্দেশ দেন এবং তারা কেবল তাদের জন্যই সুপারিশ করে যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট; নবী ও নেককারদের বিষয়টিও তদ্রূপ। তবে তাদের জীবদ্দশায় তাদের নিকট দোয়া ও সুপারিশ প্রার্থনা করা যায়, যেমন সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট তা চাইতেন এবং কিয়ামতের দিন সৃষ্টিজগত তাঁর নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করবে, তাঁর ওপর আল্লাহর অবারিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌«فصل»

وكانوا يصلون الصلوات الخمس خلف /8ب/ النبي صلى الله عليه وسلم وخلف غيره من الأئمة.

كان لكل دار من دور الأنصار مسجد، ولهم إمام يصلي بهم، إلا في الجمعة والأعياد، فإنهم كانوا يصلون ذلك خلف النبي صلى الله عليه وسلم. هؤلاء أهل المدينة، وكانت المدينة كبيرة ولا سور لها، وإنما هي أماكن متفرقة، كل قبيلة لهم حدائق، ومسجد، ومقبرة، ومساكن يتميزون بها عن القبيلة الأخرى.

واسم المدينة يتناول ذلك كله، لا يخرج عنها إلا الأعراب أهل العمود، كما قال تعالى: {وَمِمَّنْ حَوْلَكُمْ مِنَ الْأَعْرَابِ مُنَافِقُونَ وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ} [التوبة: 101] والذين يفلحون الأرض هم من أهل المدينة، وهم الأنصار، ويسمى مسكن القبيلة دارًا، ويراد بلفظ الدار: القبيلة نفسها.

وقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم باتخاذ المساجد في الدور، وأن تنظف، وتطيب.

وفي الحديث الصحيح: «الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْرٍ» وعير هو: الجبل الذي عند ذي الحليفة، ظهره كظهر العير وهو الحمار، وثور هو: جبل صغير بجنب أحد، وهذا غير جبل ثور الذي بمكة، وقد اشتبه ذلك على بعض العلماء، وقد سمى ذلك كله مدينة وقال: «إِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ
«পরিচ্ছেদ»

এবং তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে এবং অন্যান্য ইমামদের পেছনে /৮খ/ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতেন।

আনসারদের প্রতিটি মহল্লার (দার) জন্য একটি করে মসজিদ ছিল এবং তাদের একজন ইমাম ছিলেন যিনি তাদের নিয়ে সালাত পড়াতেন, তবে জুমুআ এবং দুই ঈদ ব্যতীত; কারণ তাঁরা এই সালাতগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে আদায় করতেন। এরা হলেন মদিনাবাসী। মদিনা শহরটি ছিল বিশাল এবং এর কোনো প্রাচীর ছিল না; বরং তা ছিল বিচ্ছিন্ন কতগুলো জনপদ। প্রতিটি গোত্রের নিজস্ব বাগান, মসজিদ, কবরস্থান এবং ঘরবাড়ি ছিল যার মাধ্যমে তারা অন্য গোত্র থেকে স্বতন্ত্র হতো।

মদিনা নামটি এই সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। যাযাবর তাঁতুবাসী ব্যতীত আর কেউই এর বাইরে ছিল না, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের চারপাশের মরুবাসীদের মধ্যে কিছু মুনাফিক রয়েছে এবং মদিনাবাসীদের মধ্যেও।" [আত-তাওবা: ১০১] আর যারা জমিতে চাষাবাদ করত তারা মদিনাবাসীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তারা ছিল আনসার। গোত্রের বসতিকে 'দার' বলা হতো এবং 'দার' শব্দ দ্বারা খোদ গোত্রকেও বোঝানো হতো।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহল্লাগুলোতে মসজিদ নির্মাণ করার এবং সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

সহিহ হাদিসে এসেছে: "মদিনা হলো আইর থেকে সাওর পর্যন্ত হারাম (পবিত্র এলাকা)।" আর আইর হলো যুল-হুলাইফার নিকটবর্তী সেই পাহাড়, যার পিঠ আইর অর্থাৎ গাধার পিঠের মতো। আর সাওর হলো উহুদ পাহাড়ের পার্শ্ববর্তী একটি ছোট পাহাড়; এটি মক্কায় অবস্থিত সাওর পাহাড় থেকে ভিন্ন। কোনো কোনো আলেম এ বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। তিনি এই পুরো এলাকাকেই মদিনা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি এর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে হারাম ঘোষণা করছি...
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৩৪)
لَابَتَيْهَا» .

واللابة: الأرض التي تركبها حجارة سود، وقال له الأعرابي: ما بين لابتيها أهل بيت أفقر منا. فما بين لابتيها: هو الحرم وهو من المدينة، /9أ/ وهو ما بين عير إلى ثور، وهو بريد في بريد.

وكانوا يصلون على النبي صلى الله عليه وسلم ويسلّمون عليه في صلاتهم، كما أمر الله ورسوله، فيقولون في التشهد: «السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ» ويصلون عليه كما علمهم، مثل أن يقولوا: «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» ، وقد روي: «كَمَا صَلَّيْتَ (1) عَلَى إِبْرَاهِيمَ» وقد روي: «عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ» .

--------------------------------------------

(1) أشار ناسخ الأصل في الهامش إلى أنها وردت في نسخة أخرى بلفظ: (باركت) . أقول: ولعلها الأصوب؛ إشارة إلى الرواية التي يذكر فيها لفظ الآل في الأول، ولفظ إبراهيم في الآخر. والله أعلم.
তার দুই প্রস্তরময় ভূমি।"

আর লাবা হলো: এমন ভূমি যা কালো পাথরে আবৃত। জনৈক বেদুইন তাঁকে বলেছিল: "এর দুই প্রস্তরময় ভূমির মাঝে আমাদের চেয়ে দরিদ্র কোনো পরিবার নেই।" সুতরাং এর দুই প্রস্তরময় ভূমির মধ্যবর্তী স্থান হলো: হারাম এলাকা এবং তা মদিনার অন্তর্ভুক্ত, /৯ক/ যা 'আইর' থেকে 'সাওর' পর্যন্ত বিস্তৃত, এবং এর আয়তন এক বারিদ গুণন এক বারিদ।

আর তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর তাঁদের নামাজে দরুদ ও সালাম পাঠ করতেন, যেভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল নির্দেশ দিয়েছেন। তারা তাশাহহুদে বলতেন: "হে নবী! আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত অবতীর্ণ হোক।" এবং তারা তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করতেন যেভাবে তিনি তাদের শিখিয়েছিলেন, যেমন তারা বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছিলেন; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর আপনি মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করুন, যেভাবে আপনি ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর বরকত নাযিল করেছিলেন; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।" আর বর্ণিত হয়েছে: "যেভাবে আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন (১) ইব্রাহিমের ওপর" এবং আরও বর্ণিত হয়েছে: "ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর।"

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপির লিপিকার পার্শ্বটীকায় ইঙ্গিত করেছেন যে, এটি অন্য একটি কপিতে 'আপনি বরকত নাযিল করেছেন' শব্দে এসেছে। আমি বলি: সম্ভবত এটিই অধিক সঠিক; সেই বর্ণনার প্রতি ইঙ্গিতস্বরূপ যাতে প্রথমে 'পরিবার' (আল) শব্দটির উল্লেখ রয়েছে এবং শেষে 'ইব্রাহিম' শব্দটির উল্লেখ রয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وقد ثبت عنه في الصحيح أنه قال: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ مَرَّةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا» ، وروي مثله في السلام: أنه من سلم عليه مرة، سلم الله عليه عشرًا. فهم إذا صلوا عليه وسلموا عليه، صلى الله عليهم وسلم عليهم.

ولم يكن هذا السلام في الصلاة مما يرد عليهم النبي صلى الله عليه وسلم فيه السلام، إنما كان ذلك إذا حيوه تحية يسمعها، فإذا سلموا عليه ردّ عليهم السلام، وأما سلام الصلاة فهو كالصلاة عليه، الله هو الذي يصلي عليهم بالمرة الواحدة عشرًا، ويسلم عليهم بالمرة الواحدة عشرًا.

ولمّا قبض الله نبيّه صلى الله عليه وسلم، كانوا على ما كانوا عليه في حياته، هم والتابعون يصلون خلف أبي بكر، وعمر، وعثمان، وعلي، في مسجده، وخلف /9ب/ غيرهم، لكن هؤلاء الأربعة أمّوا الناس في مسجده، فأبو بكر وعمر صليا بالنّاس حتّى ماتا، وعثمان صلى بالناس حتّى حصر، وعلي صلى بالناس مدة مقامه بالمدينة قبل أن يذهب إلى العراق، وهؤلاء الأربعة بويع لهم في مسجده، ولهذا قال (1) أحمد بن حنبل: كل بيعة كانت بالمدينة فهي خلافة نبوة.

وكان خلفاؤه الراشدون، هم ومن يصلي خلفهم في مسجده، يفعلون بعد موته كما كانوا يفعلون في حياته، يصلون الصلوات الخمس، وهم في الصلوات يصلون عليه، ويسلمون عليه، ويدعون الله تعالى في الصلاة

--------------------------------------------

(1) أضاف المحقق هنا كلمة: (الإمام) . وليست في الأصل.
এবং তাঁর থেকে সহীহ বর্ণনায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার সালাত পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার সালাত বর্ষণ করবেন।" সালামের ব্যাপারেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি তাঁর ওপর একবার সালাম পেশ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার সালাম বর্ষণ করবেন। সুতরাং যখন তারা তাঁর ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করে, তখন আল্লাহ তাদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করেন।

সালাতের (নামাজের) মধ্যকার এই সালাম এমন ছিল না যার উত্তর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিতেন; বরং এটি কেবল তখনই হতো যখন তারা তাঁকে এমনভাবে অভিবাদন জানাত যা তিনি শুনতে পেতেন। তখন যদি তারা তাঁকে সালাম দিত, তবে তিনি তাদের সালামের উত্তর দিতেন। আর সালাতের সালাম হলো তাঁর ওপর সালাত পাঠ করার মতোই; আল্লাহ-ই সেই সত্তা যিনি একবারের বিনিময়ে দশবার তাদের ওপর সালাত বর্ষণ করেন এবং একবারের বিনিময়ে দশবার তাদের ওপর সালাম বর্ষণ করেন।

যখন আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তুলে নিলেন, তখন সাহাবী ও তাবিঈগণ তাঁর জীবদ্দশার ন্যায় একই অবস্থায় অটল ছিলেন; তাঁরা তাঁর মসজিদে আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর পেছনে এবং /৯খ/ অন্যদের পেছনেও সালাত আদায় করতেন। তবে এই চারজন ব্যক্তিই তাঁর মসজিদে মানুষের ইমামতি করেছেন। আবু বকর ও উমর মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের ইমামতি করেছেন, উসমান অবরুদ্ধ হওয়া পর্যন্ত মানুষের ইমামতি করেছেন এবং আলী ইরাকে যাওয়ার পূর্বে মদীনায় অবস্থানকালে মানুষের ইমামতি করেছেন। এই চারজনের বায়আত তাঁর মসজিদেই সম্পন্ন হয়েছিল; এই কারণেই (১) আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: মদীনায় সংঘটিত প্রতিটি বায়আতই ছিল নবুওয়াতের খিলাফত।

তাঁর খুলাফায়ে রাশিদুন এবং যাঁরা তাঁর মসজিদে তাঁদের পেছনে সালাত আদায় করতেন, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর তেমনই করতেন যেমনটা তাঁর জীবদ্দশায় করতেন; তাঁরা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতেন এবং সালাতের মধ্যে তাঁরা তাঁর ওপর সালাত ও সালাম পাঠ করতেন এবং সালাতের মধ্যে আল্লাহ তাআলার নিকট দুআ করতেন।

--------------------------------------------

(১) মুহাক্কিক এখানে ‘আল-ইমাম’ শব্দটি যোগ করেছেন, যা মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وخارج الصلاة، وقد علموا أن ذلك يكفيهم، ويغنيهم عن غيره، مما لم يأمرهم به النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يشرعه لهم.

وكان صلى الله عليه وسلم لمّا مات قد دُفن في حجرة عائشة، وفيها كان مرضه، وكانت حُجَرُ أزواجه شرقي المسجد وقبلته، وهي متصلة بالمسجد، يخرج منها إلى المسجد، وقد ذكرها الله تعالى في قوله: {إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِنْ وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ} [الحجرات: 4] وهي بيوته وبيوت أزواجه، أضافها إليه في قوله: {لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ} [الأحزاب: 35] وإلى أزواجه في قوله: {وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ} [الأحزاب: 33] .

وفي الصحيحين عن عائشة رضي الله عنها: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ فِي مَرَضِهِ الذِّي لَمْ يَقُمْ مِنْهُ: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ» وفي طريق أخرى: «غَيْرَ أَنَّهُ خَشِيَ - أَوْ خُشِيَ -[أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا] (1) » .

قالت عائشة: /10أ/ «وَلَوْلَا ذَلِكَ لَأُبْرِزَ قَبْرُهُ وَلَكِنْ خَشِيَ أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا» وفي لفظ للبخاري: «غَيْرَ أَنِّي أَخْشَى أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا» .

وفي صحيح مسلم عن جندب بن عبد الله قال: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبْلَ أَنْ يَمُوتَ بِخَمْسٍ وَهُوَ يَقُولُ: «إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ أَنْ يَكُونَ لِي مِنْكُمْ خَلِيلٌ، فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ اتَّخَذَنِي خَلِيلًا كَمَا اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا مِنْ

--------------------------------------------

(1) ما بين المعكوفين لم يظهر في هامش مصورة الأصل، وهو إضافة من المحقق.
এবং সালাতের বাইরেও, তারা জানতেন যে এটিই তাদের জন্য যথেষ্ট এবং অন্য সব কিছু থেকে তাদের অমুখাপেক্ষী করে দেয়, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নির্দেশ দেননি এবং তাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ করেননি।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁকে আয়েশার হুজরায় দাফন করা হয়েছিল, এবং সেখানেই তাঁর অসুস্থতা ছিল। তাঁর স্ত্রীদের হুজরাগুলো ছিল মসজিদের পূর্ব দিকে এবং কিবলার দিকে, এবং সেগুলো মসজিদের সাথে সংযুক্ত ছিল, যেখান থেকে তিনি মসজিদের দিকে বের হতেন। আর আল্লাহ তাআলা তাঁর বাণীতে সেগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন: {নিশ্চয় যারা হুজরাসমূহের আড়াল থেকে আপনাকে ডাকছে, তাদের অধিকাংশেরই বিবেক নেই} [আল-হুজুরাত: ৪]। এগুলো ছিল তাঁর ঘর এবং তাঁর স্ত্রীদের ঘর; তিনি এগুলোকে নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন তাঁর বাণীতে: {তোমরা নবীর ঘরসমূহে প্রবেশ করো না} [আল-আহযাব: ৩৫] এবং তাঁর স্ত্রীদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন তাঁর বাণীতে: {এবং তোমরা তোমাদের ঘরসমূহে অবস্থান করো} [আল-আহযাব: ৩৩]।

এবং সহীহাইন-এ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সেই অসুস্থতার সময় যা থেকে তিনি আর আরোগ্য লাভ করেননি, বলেছিলেন: «আল্লাহ ইয়াহূদী ও নাসারাদের ওপর লানত করুন, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে» এবং অন্য সূত্রে রয়েছে: «তবে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন -অথবা আশঙ্কা করা হয়েছিল- [সেটিকে যেন মসজিদ হিসেবে গ্রহণ না করা হয়] (১)»।

আয়েশা বলেন: /১০ক/ «যদি তা না হতো তবে তাঁর কবরকে উন্মুক্ত রাখা হতো, কিন্তু তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে সেটিকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা হবে» এবং বুখারীর এক শব্দে রয়েছে: «তবে আমি আশঙ্কা করি যে সেটিকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করা হবে»।

এবং সহীহ মুসলিমে জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর ইন্তেকালের পাঁচ দিন আগে বলতে শুনেছি: «আমি আল্লাহর কাছে এ বিষয়ে দায়মুক্ত হচ্ছি যে তোমাদের মধ্য থেকে আমার কোনো খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) থাকুক। কেননা আল্লাহ আমাকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন যেমনিভাবে তিনি ইবরাহীমকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। আর আমি যদি গ্রহণ করতাম...

--------------------------------------------

(১) তৃতীয় বন্ধনীভুক্ত অংশটি মূল পাণ্ডুলিপির মার্জিনে দেখা যায়নি, এটি মুহাক্কিকের পক্ষ থেকে সংযোজন।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৩৭)
أُمَّتِي خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا، وَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ وَصَالِحِيهِمْ مَسَاجِدَ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ، إِنِّي (1) أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ» .

وفي الصحيحين عن عائشة وابن عباس قالا: لَمَّا نُزِلَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةً لَهُ عَلَى وَجْهِهِ، فَإِذَا اغْتَمَّ كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ، فَقَالَ وَهُوَ كَذَلِكَ: «لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ» . يُحَذِّرُ مَا فَعَلُوا (2) .

وفي الصحيحين عن أبي هريرة قال: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «قَاتَلَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ» . وفي رواية لمسلم: «لَعَنَ اللَّهُ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ» .

وفي المسند وصحيح أبي حاتم أنه قال: «إِنَّ مِنْ شِرَارِ النَّاسِ مَنْ تُدْرِكُهُمُ السَّاعَةُ وَهُمْ أَحْيَاءٌ، وَالَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْقُبُورَ مَسَاجِدَ» .

وفي موطأ مالك عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنًا يُعْبَدُ، اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى قَوْمٍ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ» .

--------------------------------------------

(1) غيرت في المطبوع إلى: (فإني) .

(2) غيرت في المطبوع إلى: (صنعوا) .
[আমার উম্মতের মধ্য থেকে কাউকে] যদি আমি অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম, তবে আমি আবু বকরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতাম। আর নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী যারা ছিল, তারা তাদের নবীগণ ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের কবরসমূহকে সিজদাগাহ হিসেবে গ্রহণ করত। সাবধান! তোমরা কবরসমূহকে সিজদাগাহ বানিও না। নিশ্চয়ই আমি (১) তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি।

এবং সহীহাইন-এ আয়েশা ও ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের সময় উপস্থিত হলো, তখন তিনি তাঁর একটি নকশা করা চাদর নিজের চেহারার ওপর দিতে লাগলেন। যখন তিনি অস্থির হয়ে উঠতেন, তখন তা তাঁর চেহারা থেকে সরিয়ে নিতেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেন: ‘ইহুদি ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর লানত (অভিশাপ), তারা তাদের নবীগণের কবরসমূহকে সিজদাগাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে।’ তারা যা করেছিল (২) সে সম্পর্কে তিনি সতর্ক করছিলেন।

এবং সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের ধ্বংস করুন, তারা তাদের নবীগণের কবরসমূহকে সিজদাগাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে।’ এবং মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: ‘আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের লানত করুন, তারা তাদের নবীগণের কবরসমূহকে সিজদাগাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে।’

এবং মুসনাদ ও সহীহ আবু হাতিম-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ‘নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট তারা, যাদের জীবিত থাকাবস্থায় কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং তারা, যারা কবরসমূহকে সিজদাগাহ হিসেবে গ্রহণ করে।’

এবং মুয়াত্তা মালিকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার কবরকে পূজা করা হয় এমন মূর্তিতে পরিণত করবেন না। আল্লাহর ক্রোধ সেই সম্প্রদায়ের ওপর চরম আকার ধারণ করেছে যারা তাদের নবীগণের কবরসমূহকে সিজদাগাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে।’

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে এটি পরিবর্তন করে ‘অতঃপর নিশ্চয়ই আমি’ করা হয়েছে।

(২) মুদ্রিত কপিতে এটি পরিবর্তন করে ‘যা তারা সম্পাদন করেছিল’ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وفي سنن أبي داود وغيره عن /10ب/ النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «لَا تَتَّخِذُوا قَبْرِي عِيدًا، وَصَلُّوا عَلَيَّ حَيْثُمَا كُنْتُمْ فِإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي» .

وفي سنن سعيد بن منصور أن عبد الله بن حسن بن حسن بن [علي بن] (1) أبي طالب - وهو أجل الشرفاء الحسنيين في زمن تابعي التابعين - أنه رأى رجلاً ينتاب قبر النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يَا هَذَا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا تَتَّخِذُوا قَبْرِي عِيدًا وَصَلُّوا عَلَيَّ حَيْثُمَا كُنْتُمْ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي» فَمَا أَنْتَ وَرَجُلٌ بِالْأَنْدَلُسِ مِنْهُ إِلَّا سَوَاءٌ.

--------------------------------------------

(1) إضافة من المحقق، وليست في الأصل.
সুনান আবু দাউদ ও অন্যান্য গ্রন্থে /১০বি/ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «তোমরা আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না এবং তোমরা যেখানেই থাকো না কেন আমার ওপর দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছায়»।

এবং সুনান সাঈদ ইবনে মানসুরে বর্ণিত হয়েছে যে, আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে হাসান ইবনে [আলী ইবনে] (১) আবু তালিব — যিনি তাবে-তাবেঈনদের যুগে হাসানি বংশের শ্রেষ্ঠ শরিফদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন — তিনি এক ব্যক্তিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের কাছে বারবার যাতায়াত করতে দেখে বললেন: হে ব্যক্তি, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না এবং তোমরা যেখানেই থাকো না কেন আমার ওপর দরুদ পাঠ করো, কেননা তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছায়», সুতরাং তুমি এবং আন্দালুসের কোনো ব্যক্তি এর ক্ষেত্রে সমান।

--------------------------------------------

(১) এটি সম্পাদকের পক্ষ থেকে সংযোজন, মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وفي سنن أبي داود وغيره عن أوس بن أوس الثقفي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «أَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فِإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ» فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ؟ - أَيْ بَلِيتَ - فَقَالَ: «إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ لُحُومَ الْأَنْبِياءِ» .

وفي النسائي وابن حبان وغيرهما عن ابن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً فِي الْأَرْضِ سَيَّاحِينَ يُبَلِّغُونِي عَنْ أُمَّتِي السَّلَامَ» .

فقد أخبر أن الصلاة والسلام عليه يصل إليه من البعيد والقريب بقوله صلى الله عليه وسلم: «صَلُّوا عَلَيَّ حَيْثُمَا كُنْتُمْ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي» وقوله: «لَا تَتَّخِذُوا قَبْرِي عِيدًا» ، وكذلك السلام يصل إليه من القريب والبعيد بقوله: «إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ /11/ يُبَلِّغُونِي عَنْ أُمَّتِي السَّلَامَ» فكل مسلم قال في صلاته: السلام عليك أيها النبي ورحمة [الله] (1) وبركاته؛ وصل ذلك إليه.

وكان أصحابه والتابعون لهم بإحسان يعلمون أن هذا السلام أفضل من السلام عليه عند قبره الذي يرد جوابه، فإن سلام التحية شرك فيه جميع المؤمنين (2) ، كما في الحديث: «مَا مِنْ رَجُلٍ يَمُرُّ بِقَبْرِ الرَّجُلِ كَانَ يَعْرِفُهُ فِي

--------------------------------------------

(1) إستدراك من المحقق، وليس في الأصل.

(2) غيرت في المطبوع إلى: (المسلمين) .
সুনান আবু দাউদ ও অন্যান্য কিতাবে আওস ইবনে আওস আস-সাকাফি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা জুমার দিনে এবং জুমার রাতে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়»। তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে আমাদের দরুদ আপনার কাছে পেশ করা হবে অথচ আপনি তো পচে-গলে যাবেন? - অর্থাৎ জীর্ণ হয়ে যাবেন - তখন তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন»।

নাসায়ি, ইবনে হিব্বান ও অন্যান্য কিতাবে ইবনে মাসউদ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু ফেরেশতা জমিনে বিচরণশীল রয়েছেন, তারা আমার উম্মতের পক্ষ থেকে আমার কাছে সালাম পৌঁছে দেন»।

তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর প্রতি প্রেরিত দরুদ ও সালাম দূর এবং নিকট থেকে তাঁর কাছে পৌঁছে যায়, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর মাধ্যমে: «তোমরা যেখানেই থাকো আমার ওপর দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে যায়» এবং তাঁর বাণী: «তোমরা আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না»। একইভাবে সালামও নিকট এবং দূর থেকে তাঁর কাছে পৌঁছে যায় তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: «নিশ্চয়ই আল্লাহর কিছু বিচরণশীল ফেরেশতা রয়েছেন /১১/ যারা আমার উম্মতের পক্ষ থেকে আমার কাছে সালাম পৌঁছে দেন»। সুতরাং প্রত্যেক মুসলিম যখন তার সালাতে বলে: হে নবী! আপনার ওপর শান্তি এবং আল্লাহর রহমত (১) ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক; তখন তা তাঁর কাছে পৌঁছে যায়।

তাঁর সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়িগণ জানতেন যে, এই সালাম তাঁর কবরের কাছে গিয়ে দেওয়া সালামের চেয়েও উত্তম যার উত্তর তিনি প্রদান করেন। কেননা অভিবাদনমূলক সালামে সকল মুমিনই অংশীদার (২), যেমনটি হাদিসে এসেছে: «কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে যায় যাকে সে চিনত...»

--------------------------------------------

(১) এটি মুহাক্কিকের পক্ষ থেকে সংযোজন, মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি নেই।

(২) মুদ্রিত সংস্করণে এটি পরিবর্তন করে (মুসলিমগণ) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৪০)
الدُّنْيَا فَيُسَلِّمُ عَلَيْهِ إِلَّا رَدَّ اللَّهُ عَلَيْهِ رُوحَهُ حَتَّى يَرُدَّ عليه السلام» .

وأمّا السلام إذا تعبد (1) به في الصلاة وغيرها فإن هذا السلام قد أمروا به في كل صلاة، وهذا السلام يسلم الله على العبد بكل مرة عشرًا، وذلك السلام هو صلى الله عليه وسلم يرد عليهم، كما كان يرد السلام على من سلّم عليه في حياته.

وكان الصحابة كلهم يسلمون عليه في كل صلاة، وإنما يأتيه من يأتيه منهم بعض الأوقات فيسلم عليه إذا أتاه، فذاك السلام في الصلاة أمر الله به في كل صلاة، بخلاف هذا، فإنه إنما يشرع عند لقائه، وأجر ذلك أعظم، فإن الله يسلم على العبد بالمرة الواحدة عشرًا، وهذا إنما يرد عليه الرسول.

وقد علّمهم أيضًا إذا دخلوا المسجد أن يقول الرجل: «بِسْمِ اللَّهِ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي، وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ» ، وإذا خرج أن يقول: «بِسْمِ اللَّهِ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي [ذُنُوبِي وَافْتَحْ لِي أَبْوَابَ فَضْلِكَ» .

وكثير من الناس اتخذوا قبور أنبيائهم] (2) /11ب/ أعيادًا، وأوثانًا، وأشركوا بها

--------------------------------------------

(1) كذا قرأها المحقق، والأظهر لي أنها: (تقيد) .

(2) زيادة من المحقق، وليست في الأصل.
...পৃথিবী, অতঃপর সে তাঁর ওপর সালাম পেশ করে, তবে আল্লাহ তাঁর রূহ ফিরিয়ে দেন যাতে তিনি তাকে সালামের উত্তর দিতে পারেন।

আর সালাতে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ইবাদত হিসেবে (১) যে সালাম প্রদান করা হয়, নিশ্চয়ই এই সালামের ব্যাপারে তাদের প্রতিটি সালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই সালামের কারণে আল্লাহ বান্দার ওপর প্রতিবার দশবার সালাম বর্ষণ করেন। আর সেই সালামের উত্তর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের প্রদান করেন, যেমনটি তিনি তাঁর জীবদ্দশায় তাঁকে সালাম প্রদানকারীর সালামের উত্তর দিতেন।

সাহাবীগণের সকলেই প্রতিটি সালাতে তাঁর ওপর সালাম পাঠাতেন। আর তাঁদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো কোনো সময় তাঁর নিকট আসতেন, তিনি যখন আসতেন তখন তাঁর ওপর সালাম পেশ করতেন। সুতরাং সালাতের সালামের বিষয়টি আল্লাহ প্রতিটি সালাতেই নির্দেশ দিয়েছেন, যা এই (সরাসরি সাক্ষাতের সালাম) থেকে ভিন্ন। কারণ এটি (সরাসরি সালাম) কেবল তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময়ই বিধিবদ্ধ, যদিও এর সওয়াব অনেক বেশি; তবে আল্লাহ (সালাতের সালামের ক্ষেত্রে) বান্দার ওপর একবারের পরিবর্তে দশবার সালাম বর্ষণ করেন, আর এই (সরাসরি সালাম) কেবল রাসূল তাকে উত্তর প্রদান করেন।

তিনি তাঁদের এটিও শিখিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তি যখন মসজিদে প্রবেশ করবে তখন সে যেন বলে: 'আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।' আর যখন সে বের হবে তখন বলবে: 'আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূলের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন [এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাসমূহ খুলে দিন'।]

এবং অনেক মানুষ তাদের নবীদের কবরসমূহকে (২) /১১বি/ উৎসবে এবং মূর্তিতে পরিণত করেছে এবং তারা এর মাধ্যমে শিরক করেছে।

--------------------------------------------

(১) গবেষক একে এভাবেই পড়েছেন, তবে আমার নিকট অধিকতর স্পষ্ট যে শব্দটি হবে: (তাকাইয়্যাদ)।

(২) গবেষকের পক্ষ থেকে বর্ধিতাংশ, যা মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৪১)
بعد موتهم، وإلا ففي حياتهم ما كانوا يمكنون أحدًا أن يشرك بهم ويتخذهم أربابًا.

فلهذا كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم والتابعون لهم بإحسان متبعين للتوحيد الذي بعث الله به رسوله، مجتنبين لما نهاهم عنه من الشرك وأسبابه، واتبعوا أمره في منع الناس من قبره، فصار الشرك به، وفهل المنكر عنده، ممتنعًا بعد موته، كما كان ممتنعًا في حياته.

وهذا من فضائله، وفضائل أمته، فإنه لا نبي بعده، وأمته لا تجتمع على ضلالة، ولو كان قبره بارزًا؛ لكان كثير من الجهال يريد أن يتخذه مسجدًا، ووثنًا، وعيدًا، كما فعل ذلك بقبر من ليس مثله، بل ينسب إليه، [تقربًا به] (1) ، أو طاعة له، لكن دفن في الحجرة محجوبًا عن الناس، فلم يقدر أحد (على) (2) أن يشرك به، ولا يتخذه وثنًا، ولا يفعل عند قبره منكرًا، فصار له خاصة لا يشركه فيها غيره، فيما يأمر (3) به، وينهى عنه، فإن مسجده أسس على التقوى، والسفر مشروع إليه، [و] (4) العبادة فيه فاضلة، وليس عند قبر غيره مسجد يسافر إليه، بل كثير من تلك المساجد بنيت لأجل القبور، وذلك حرام، وقد لعن النبي صلى الله عليه وسلم من فعل ذلك تحذيرًا لأمته.

وأما مسجده فهو مؤسس على التقوى، وهو أفضل المساجد بعد المسجد الحرام، وقيل: بل أفضلها مطلقًا، والصلاة فيه خير من ألف

--------------------------------------------

(1) رسم الكلمة لم يتبين للمحقق، وهكذا استظهرها.

(2) سقطت من المطبوع.

(3) في الأصل: (يؤمر) ، والتصويب من المحقق.

(4) زيادة من المحقق، وليست في الأصل.
তাদের মৃত্যুর পরে, অন্যথা তাদের জীবদ্দশায় তারা কাউকে তাদের সাথে শিরক করতে এবং তাদেরকে রব হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ দিতেন না।

এই কারণেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁরা সেই তাওহীদের অনুসারী ছিলেন যা নিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাদেরকে শিরক এবং এর কারণসমূহ থেকে যা নিষেধ করেছেন তা থেকে তাঁরা বিরত থাকতেন। তাঁরা তাঁর কবরের নিকট মানুষকে (শিরক করতে) বাধা দেওয়ার ব্যাপারে তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করেছেন। ফলে তাঁর সাথে শিরক করা এবং তাঁর কবরের নিকট গর্হিত কাজ করা তাঁর মৃত্যুর পরেও অসম্ভব হয়ে পড়ে, যেমনটা তাঁর জীবদ্দশাতেও অসম্ভব ছিল।

এটি তাঁর বিশেষ মর্যাদাসমূহ এবং তাঁর উম্মতের ফযীলতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই এবং তাঁর উম্মত পথভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না। যদি তাঁর কবর উন্মুক্ত থাকত, তবে বহু মূর্খ লোক সেটিকে মাসজিদ, প্রতিমা এবং উৎসবের স্থানে পরিণত করতে চাইত, যেমনটি করা হয়েছে এমন সব লোকের কবরের সাথে যারা তাঁর সমকক্ষ নয়, বরং যাদের তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, [তাঁর নৈকট্য লাভের আশায়] (১) অথবা তাঁর প্রতি আনুগত্যের কারণে। কিন্তু তাঁকে মানুষের দৃষ্টি থেকে আড়ালে হুজরার মধ্যে দাফন করা হয়েছে, ফলে কেউ তাঁর সাথে শিরক করার, তাঁকে প্রতিমা হিসেবে গ্রহণ করার কিংবা তাঁর কবরের কাছে কোনো গর্হিত কাজ করার সামর্থ্য রাখেনি। সুতরাং এটি তাঁর জন্য একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে যাতে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার নয়, সেই বিষয়ে যা তিনি আদেশ করেছেন এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন। নিশ্চয়ই তাঁর মাসজিদ তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্যে সফর করা শরীয়তসম্মত, আর সেখানে ইবাদত করা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। অন্য কারো কবরের পাশে এমন কোনো মাসজিদ নেই যার উদ্দেশ্যে সফর করা যায়, বরং সেই সব মাসজিদের অধিকাংশই কবরের জন্য নির্মিত হয়েছে, যা হারাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় উম্মতকে সতর্ক করার জন্য যারা এমনটি করে তাদের ওপর লানত করেছেন।

আর তাঁর মাসজিদ তো তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা মাসজিদুল হারামের পর সর্বোত্তম মাসজিদ। কারো মতে, এটিই শর্তহীনভাবে সর্বোত্তম। সেখানে সালাত আদায় করা এক হাজার সালাতের চেয়েও উত্তম

--------------------------------------------

(১) শব্দটির লিপিশৈলী মুহাক্কিকের নিকট স্পষ্ট ছিল না, তিনি এভাবেই তা অনুমান করেছেন।

(২) মুদ্রিত সংস্করণ থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) মূলে ছিল: (ইউমারু), মুহাক্কিক এটিকে সংশোধন করেছেন।

(৪) এটি মুহাক্কিকের পক্ষ থেকে সংযোজন, মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।
(খণ্ড: ১) কায়িদাতুন আজিমাতুন ফিল ফারকি বাইনা ইবাদাতি আহলিল ইসলামি ওয়াল ঈমানি ওয়া ইবাদাতি আহলিশ শিরকি ওয়ান নিফাক (পৃষ্ঠা: ৪২)
صلاة فيما سواه، والسفر إليه مشروع /12أ/ مستحب.

وأما النهي فإنه لا يمكن أن يفعل عند قبره شيء من المنكر، ولا يتمكن أحد من زيارة قبره، والوصول إليه، كما يتمكن من زيارة قبر غيره، والوصول إليه، حتى يفعل عنده ما يفعل.

وقد ثبت عنه في الصحيح أنه قال: «لَا تَجْلِسُوا عَلَى الْقُبُورِ، وَلَا تُصَلُّوا إِلَيْهَا» فنهاهم عن اتخاذ القبور مساجد كما تقدم، ونهاهم عن الصلاة إليها، فنهاهم أن يجعلوها مساجد، أو قبلة؛ وهذا لأن‌‌ أصل الشرك في بني آدم إنما كان من الشرك بأصحاب القبور، فإن أول الشرك كان في قوم نوح. قال ابن عباس: كان بين آدم ونوح عشرة قرون كلهم على الإسلام، وقد ثبت في الصحيح أنهم يقولون يوم القيامة (1) : «يَا نُوحُ أَنْتَ أَوَّلُ رَسُولٍ بَعَثَهُ اللَّهُ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ» .

ولهذا لم يذكر الله في القرآن رسولاً قبل نوح، ولا أمة أهلكها الله قبل أمته، وقد قال تعالى في قصته: {وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا • وَقَدْ أَضَلُّوا كَثِيرًا وَلَا تَزِدِ الظَّالِمِينَ إِلَّا ضَلَالًا} [نوح: 23-24] .

--------------------------------------------

(1) علق في هامش الأصل بقلم مغاير: (قف على هذه اللطيفة) .
অন্যান্য স্থানে সালাত এবং তার উদ্দেশ্যে সফর করা শরয়ি বিধানসম্মত /১২অ/ ও মুস্তাহাব।

আর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি হলো, তাঁর কবরের নিকটে কোনো প্রকার গর্হিত কাজ করা সম্ভব নয় এবং কেউ তাঁর কবরের যিয়ারত ও সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম নয়, যেভাবে অন্যের কবরের যিয়ারত ও সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়, যার ফলে সেখানে যা করার তা করা হয়।

আর সহীহ গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «তোমরা কবরের উপর বসো না এবং কবরের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করো না»। সুতরাং তিনি তাদের কবরকে মসজিদ হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং তিনি তাদের সেদিকে ফিরে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন; অর্থাৎ তিনি তাদের কবরকে মসজিদ বা কিবলা বানাতে নিষেধ করেছেন। এর কারণ হলো বনী আদমের মধ্যে শিরকের মূল উৎস ছিল মূলত কবরবাসীদের নিয়ে শিরক করা। কেননা প্রথম শিরক নূহের কওমের মধ্যেই সংঘটিত হয়েছিল। ইবনে আব্বাস বলেছেন: আদম ও নূহের মাঝে দশটি যুগ অতিবাহিত হয়েছে যারা সবাই ইসলামের ওপর ছিলেন। আর সহীহ গ্রন্থে প্রমাণিত হয়েছে যে কিয়ামতের দিন (১) তারা বলবে: «হে নূহ, আপনিই প্রথম রাসূল যাকে আল্লাহ পৃথিবীবাসীর নিকট প্রেরণ করেছেন»।

এই কারণেই আল্লাহ কুরআনে নূহের পূর্বে কোনো রাসূলের কথা উল্লেখ করেননি এবং তাঁর উম্মতের আগে কোনো উম্মতকে আল্লাহ ধ্বংস করেননি। মহান আল্লাহ তাঁর কাহিনী সম্পর্কে বলেছেন: {আর তারা বলেছিল: তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না এবং পরিত্যাগ করো না ওয়াদ্দ, সুওয়া‘, ইয়াগূস, ইয়া‘ঊক ও নাসরকে। আর তারা অনেককেই পথভ্রষ্ট করেছে। আর আপনি জালিমদের জন্য কেবল পথভ্রষ্টতাই বৃদ্ধি করুন} [নূহ: ২৩-২৪]।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় ভিন্ন কলমে মন্তব্য করা হয়েছে: (এই সূক্ষ্ম রহস্যটির দিকে লক্ষ্য করুন)।