(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: -)
القواعد للحصني القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: القواعد
المؤلف: أبو بكر بن محمد بن عبد المؤمن المعروف بـ «تقي الدين الحصني» (ت 829 هـ)
دراسة وتحقيق: د. عبد الرحمن بن عبد الله الشعلان، د. جبريل بن محمد بن حسن البصيلي
أصل التحقيق: رسالتا ماجستير للمحققَيْن
الناشر: مكتبة الرشد للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م
عدد الأجزاء: 4
أعده للشاملة: رابطة النساخ، تنفيذ (مركز النخب العلمية)، وبرعاية (أوقاف عبد الله بن تركي الضحيان الخيرية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 20 صفر 1440
আল-কাওয়াইদ লিল-হুসনি বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী নীতিমালা
কিতাব: আল-কাওয়াইদ
লেখক: আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুমিন, যিনি «তাকিউদ্দীন আল-হুসনি» নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৮২৯ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-শালান, ড. জিবরীল বিন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-বুসাইলী
সম্পাদনার উৎস: সম্পাদকদ্বয়ের দুটি মাস্টার্স গবেষণাপত্র
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ প্রকাশনী ও পরিবেশনী, রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছে: রাবিতাতুন নুসসাখ, বাস্তবায়নে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ), এবং পৃষ্ঠপোষকতায় (আওকাফ আব্দুল্লাহ বিন তুর্কি আল-দুহাইয়ান চ্যারিটেবল ট্রাস্ট)
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২০ সফর ১৪৪০
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب القواعد
تأليف
أبي بكر بن محمد بن عبد المؤمن
المعروف بـ «تقي الدين الحصني» (المتوفى سنة 829 هـ)
دراسة وتحقيق
د. عبد الرحمن بن عبد الله الشعلان
[الجزء الأول]
আল-কাওয়ায়েদ গ্রন্থ
রচনায়
আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুমিন
'তাকিউদ্দীন আল-হিসনি' নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮২৯ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা
ডক্টর আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আশ-শালান
[প্রথম খণ্ড]
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
جَمِيع الحُقوق مَحفوظة
الطبعة الأولى
1418 هـ - 1997 م
(ح) مكتبة الرشد، 1415 هـ
فهرسة مكتبة الْملك فَهد الوطنية
تَقِيّ الدّين الحصني، أَبُو بكر بن مُحَمَّد
كتاب الْقَوَاعِد/ تَحْقِيق عبد الرَّحْمَن بن عبد الله الشعلان، جِبْرِيل مُحَمَّد البصيلي.
… ص؛
… سم
ردمك × - 035 - 01 - 9960 (مَجْمُوعَة)
7 - 031 - 01 - 9960 (ج 1)
1 - الْقَوَاعِد الْفِقْهِيَّة
أ - الشعلان، عبد الرَّحْمَن بن عبد الله (مُحَقّق)
ب - البصيلي، جِبْرِيل بن مُحَمَّد (مُحَقّق)
ج - العنوان
ديوي 251.6
… 1258/ 15
رقم الْإِيدَاع: 1258/ 15
ردمك: × - 035 - 01 - 9960 (مَجْمُوعَة)
7 - 031 - 01 - 9960 (ج 1)
مكتبة الرشد للنشر والتوزيع
المملكه الْعَرَبيَّة السعودية - الرياض - طَرِيق الْحجاز
ص. ب: 17522 الرياض: 11494 هَاتِف: 4583712
تلكس: 405798 فاكس ملي: 4573381
فرع القصيم بريده حَيّ الصَّفْرَاء - طَرِيق الْمَدِينَة
ص. ب: 2376 هَاتِف: 3242214 - فاكس ملى: 3241358
فرع الْمَدِينَة المنورة - شَارِع أبي ذَر الْغِفَارِيّ - هَاتِف: 5472664/ 05
شركَة الرياض للنشر والتوزيع
ص. ب: 33620 - الرياض: 11458 - هَاتف: 4594779
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল স্বত্ব সংরক্ষিত
প্রথম সংস্করণ
১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
(হা) মাকতাবাতুর রুশদ, ১৪১৫ হিজরি
বাদশাহ ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগিং
তকিউদ্দীন আল-হিসনি, আবু বকর বিন মুহাম্মদ
কিতাবুল কাওয়ায়িদ/ সম্পাদনা: আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আশ-শালান, জিবরীল মুহাম্মদ আল-বুসাইলি।
… পৃষ্ঠা;
… সেমি
আইএসবিএন x - ০৩৫ - ০১ - ৯৯৬০ (সমগ্র)
৭ - ০৩১ - ০১ - ৯৯৬০ (১ম খণ্ড)
১ - আল-কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়্যাহ (ফিকহি মূলনীতি)
ক - আশ-শালান, আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ (সম্পাদক)
খ - আল-বুসাইলি, জিবরীল বিন মুহাম্মদ (সম্পাদক)
গ - শিরোনাম
ডিউই ২৫১.৬
… ১২৫৮/ ১৫
জমাদান নম্বর: ১২৫৮/ ১৫
আইএসবিএন: x - ০৩৫ - ০১ - ৯৯৬০ (সমগ্র)
৭ - ০৩১ - ০১ - ৯৯৬০ (১ম খণ্ড)
মাকতাবাতুর রুশদ প্রকাশনা ও বিতরণ
সৌদি আরব রাজতন্ত্র - রিয়াদ - হিজাজ রোড
পি.ও. বক্স: ১৭৫২২ রিয়াদ: ১১৪৯৪ ফোন: ৪৫৮৩৭১২
টেলেক্স: ৪০৫৭৯৮ ফ্যাক্স মিলি: ৪৫৭৩৩৮১
কাসিম শাখা, বুরাইদাহ, আস-সাফরা এলাকা - মদিনা রোড
পি.ও. বক্স: ২৩৭৬ ফোন: ৩২৪২২১৪ - ফ্যাক্স মিলি: ৩২৪১৩৫৮
মদিনা মুনাওয়ারা শাখা - আবু যার আল-গিফারি সড়ক - ফোন: ০৫/ ৫৪৭২৬৬৪
রিয়াদ প্রকাশনা ও বিতরণ কোম্পানি
পি.ও. বক্স: ৩৩৬২০ - রিয়াদ: ১১৪৫৮ - ফোন: ৪৫৯৪৭৭৯
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديمالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد:
فهذا هو كتاب القواعد للإِمام تقي الدين الحصني المتوفى سنة 829 هـ، دفعني أنا وزميلي الأخ الكريم الدكتور/ جبريل بن محمد البصيلي للعمل على طبعه وإخراجه لطلبة العلم قلة المطبوع من كتب القواعد الفقهية، وقلة المحقق من هذا القليل.
وتتبين أهمية هذا الكتاب إِذا علم أنه مأخوذ من كتاب المجموع المذهب في قواعد المذهب لصلاح الدين العلائي المتوفى سنة 761 هـ، وكتاب المجموع المذهب من أجل ما كتب في القواعد الفقهية في المذهب الشافعي، إِن لم يكن أجلها على الإطلاق.
وأصل هذه الطبعة رسالتا ماجستير تقدم بهما المحققان للحصول على درجة الماجستير من قسم أصول الفقة بكلية الشريعة بالرياض، وقد نوقشت الرسالتان في الشهر الثامن من عام 1405 هـ، وكان في النية السعي لطباعة الكتاب منذ ذلك التاريخ، لكنه استجد في الأمر ما أوقف هذه النية، ألا وهو العثور على نسخة ثانية من الكتاب بعد مناقشة الرسالتين، وكنا في الأصل قد أخرجنا نص الكتاب من النسخة الوحيدة في ظننا، وهي نسخة المؤلف.
ملابسات العثور على النسخة الثانية:لما كنت بصدد البحث عن نسخ الكتاب نقبت في فهارس المكتبات العالمية، ولم أقف على نسخة أخرى، لذلك قمت بإِخراج نص الكتاب من النسخة الوحيدة في
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সকল সঙ্গীর ওপর।
অতঃপর:
এটি ইমাম তাকিউদ্দীন আল-হিসনি (মৃত্যু ৮২৯ হিজরী) রচিত 'আল-কাওয়ায়েদ' গ্রন্থ। ফিকহী মূলনীতি (কাওয়ায়েদ ফিকহিয়া) বিষয়ক মুদ্রিত গ্রন্থের স্বল্পতা এবং এই সামান্য সংখ্যকের মধ্যে সম্পাদিত গ্রন্থের অভাব আমাকে এবং আমার সহকর্মী শ্রদ্ধেয় ভাই ডক্টর জিবরীল ইবনে মুহাম্মাদ আল-বুসাইলীকে জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীদের জন্য এটি মুদ্রণ ও প্রকাশের কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে।
এই গ্রন্থটির গুরুত্ব তখনই স্পষ্ট হয় যখন জানা যায় যে, এটি সালাহুদ্দীন আল-আলাই (মৃত্যু ৭৬১ হিজরী) রচিত 'আল-মাজমু' আল-মুদহ্বাব ফী কাওয়ায়েদিল মাজহাব' গ্রন্থ থেকে গৃহীত। আর 'আল-মাজমু' আল-মুদহ্বাব' গ্রন্থটি শাফেয়ী মাজহাবের ফিকহী মূলনীতি বিষয়ে রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, বরং এটিই সম্ভবত এই বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ।
এই সংস্করণটির মূল ভিত্তি হলো দুই গবেষকের উপস্থাপিত দু’টি মাস্টার্স থিসিস, যা তাঁরা রিয়াদের কুল্লিয়াতুশ শারীয়াহ-এর উসূলে ফিকহ বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশ করেছিলেন। গবেষণা পত্র দুটির মৌখিক পরীক্ষা ১৪০৫ হিজরীর অষ্টম মাসে অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় থেকেই বইটি ছাপানোর প্রচেষ্টা করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু এমন এক পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে যা এই ইচ্ছাকে স্থগিত করে দেয়; আর তা হলো গবেষণা পত্রের আলোচনার পর গ্রন্থটির দ্বিতীয় একটি পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাওয়া। মূলত আমরা কিতাবটির পাঠ বিন্যাস করেছিলাম আমাদের জানামতে একমাত্র পাণ্ডুলিপিটি থেকে, যা ছিল লেখকের স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপি।
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি খুঁজে পাওয়ার প্রেক্ষাপট:যখন আমি কিতাবটির পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধান করছিলাম, তখন আমি বিশ্ববিখ্যাত পাঠাগারগুলোর ক্যাটালগগুলোতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালাই, কিন্তু অন্য কোনো পাণ্ডুলিপির সন্ধান পাইনি। তাই আমি একমাত্র পাণ্ডুলিপি থেকেই কিতাবের পাঠ উদ্ধার করি...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ৪)
ظني، وكان ذلك منتهي علمي في ذلك الحين.
ولما بدأت الكتابة في حياة مؤلف الكتاب العلمية، ووصلت للمبحث المتعلق بمؤلفاته، جمعت أسماء مؤلفاته من عدد من مصادر ترجمته، وكان من ضمن المصادر التي راجعتها كتاب تاريخ الأدب العربي وذيله لكارل بروكلمان، وقد ذكر بروكلمان من مؤلفات الحصني كتابًا عنوانه (الفوائد في الفقه على مذهب الإمام الشافعي)، وأن له نسخة في مكتبة جامعة هايدلبرج. لكني لاحظت أن بروكلمان قد تفرد بذكر هذا الكتاب، حيث إِني لم أجد أحدًا ممن ترجم للحصني ذكر له كتابًا بهذا الاسم، فاسترعى هذا الأمر انتباهي، وجعلني أتطلع لمعرفة حقيقة الأمر.
وقد وقع في نفسي أن هذا الكتاب ربما كان نسخة أخرى من كتاب القواعد الذى أحققه، وذلك أن كلمة القواعد ربما تصحفت على بعض الناس إِلى الفوائد، ولكن التحقق يحتاج إِلى الاطلاع على النسخة نفسها، وهي في بلد بعيد عني، وأنا في آخر مراحل البحث، إِذ إِن الدراسة عن المؤلف يكتبها الباحث في آخر مدة البحث، وإن كانت من حيث موقعها تقع في أول البحث.
وبعد تقديم الرسالة للقسم لازال في نفسي الحرص على التحقق من تلك النسخة، فراسلت المكتبة المذكورة لطلب صورة من تلك النسخة، فرد مديرها بأن لا مانع من ذلك، ولكن لا بد من إِرسال القيمة أولاً، ففعلت ذلك، وبعد مدة وصلتني صورة من النسخة مصورة على ميكرو فيلم.
ولم يكن بحوزتي جهاز خاص لقراءة الأفلام، ولكن نظرًا لشغفي باستجلاء حقيقة الأمر، قمت بالنظر في ورقة العنوان بمكبر عادي، وإذا بي أجد أن أول كلمة من العنوان هي (القواعد) وليست (الفوائد) بعد ذلك انتقلت لأول نص المخطوطة، وقرأت أوله وإذا بي أجزم جزمًا أنها نسخة أخرى من كتاب القواعد الذي حققته من نسخة واحدة.
আমার ধারণা, আর সে সময় আমার জ্ঞানের পরিধি ছিল এতটুকুই।
যখন আমি গ্রন্থকারের ইলমি জীবন নিয়ে লেখা শুরু করলাম এবং তাঁর রচনাবলি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে পৌঁছালাম, তখন তাঁর জীবনী বিষয়ক বিভিন্ন উৎস থেকে তাঁর গ্রন্থসমূহের নাম সংগ্রহ করলাম। আমার পর্যালোচিত উৎসগুলোর মধ্যে কার্ল ব্রোকলম্যানের ‘তারিখুল আদাবিল আরবি’ (আরবি সাহিত্যের ইতিহাস) এবং এর পরিশিষ্টটিও ছিল। ব্রোকলম্যান আল-হিসনির রচনাবলির মধ্যে ‘আল-ফাওয়ায়িদ ফিল ফিকহি আলা মাজহিবিল ইমামিশ শাফিয়ি’ শিরোনামের একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। কিন্তু আমি লক্ষ্য করলাম যে, ব্রোকলম্যান একাই এই গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করেছেন; আল-হিসনির জীবনী লেখকদের মধ্যে অন্য কাউকে আমি এই নামে কোনো গ্রন্থের কথা উল্লেখ করতে দেখিনি। এই বিষয়টি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল এবং এর প্রকৃত রহস্য জানার ব্যাপারে আমাকে আগ্রহী করে তুলল।
আমার মনে এক প্রকার সংশয় তৈরি হলো যে, সম্ভবত এই গ্রন্থটি ‘আল-কাওয়াইদ’ গ্রন্থের অন্য একটি পাণ্ডুলিপি, যা আমি বর্তমানে সম্পাদন (তাহকিক) করছি। কারণ ‘আল-কাওয়াইদ’ শব্দটি হয়তো কারো কারো কাছে ‘আল-ফাওয়ায়িদ’ হিসেবে ভুলভাবে পঠিত হয়েছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য পাণ্ডুলিপিটি সরাসরি দেখার প্রয়োজন ছিল, যা আমার থেকে অনেক দূরের একটি দেশে অবস্থিত। তখন আমি গবেষণার শেষ পর্যায়ে ছিলাম; কারণ গ্রন্থকার সম্পর্কে আলোচনা সাধারণত গবেষণার শেষ সময়েই লেখা হয়, যদিও অবস্থানের দিক থেকে তা গবেষণাপত্রের শুরুতে থাকে।
বিভাগে থিসিস জমা দেওয়ার পরও সেই পাণ্ডুলিপিটি যাচাই করার প্রবল ইচ্ছা আমার মনে বিদ্যমান ছিল। তাই আমি উক্ত লাইব্রেরিতে পাণ্ডুলিপিটির একটি কপির জন্য যোগাযোগ করলাম। লাইব্রেরির পরিচালক জানালেন যে, এতে কোনো বাধা নেই, তবে আগে এর মূল্য পরিশোধ করতে হবে। আমি তাই করলাম এবং কিছুকাল পর মাইক্রোফিল্মে ধারণকৃত পাণ্ডুলিপিটির একটি কপি আমার কাছে পৌঁছাল।
ফিল্ম পড়ার জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্র আমার কাছে ছিল না, কিন্তু সত্য উদঘাটনের প্রবল আগ্রহের কারণে আমি একটি সাধারণ আতশি কাঁচ দিয়ে শিরোনামের পাতাটির ওপর দৃষ্টিপাত করলাম। হঠাৎ আমি দেখতে পেলাম যে, শিরোনামের প্রথম শব্দটি ছিল ‘আল-কাওয়াইদ’, ‘আল-ফাওয়ায়িদ’ নয়। এরপর আমি পাণ্ডুলিপিটির মূল পাঠের শুরুর দিকে নজর দিলাম এবং তা পাঠ করার পর আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হলাম যে, এটি ‘আল-কাওয়াইদ’ গ্রন্থের অন্য একটি পাণ্ডুলিপি, যা আমি ইতিপূর্বে মাত্র একটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে সম্পাদন করেছিলাম।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ৫)
مدى الحاجة للنسخة الأخرى في تقويم نص الكتاب:ذكرت فيما سبق أنني أخرجت نص الكتاب أول الأمر اعتمادًا على نسخة واحدة هي نسخة المؤلف، وكنت عازمًا مع زميلي على طبع الكتاب، فلما عثرت على النسخة الثانية حصل عندى تردد، هل أخرج الكتاب كما هو دون نظر في النسخة الثانية باعتبار أنني اعتمدت على نسخة المؤلف، أو أقارن النص الذى توصلت إِليه بالنسخة الثانية؟
وهذه مسألة تحتاج إِلى الاسترشاد بأهل الخبرة في هذا الشأن، لذلك أطلعت على آراء عدد من المؤلفين في مناهج تحقيق المخطوطات فوجدتهم شبه مجمعين على أنه لا حاجة لنسخة أخرى مع وجود نسخة المؤلف السالمة من الخرم والتلف.
قال الدكتور/ مصطفى جواد:
"فإِن وجد المخطوط الذى كتبه المؤلف بنفسه بتأليفة واحدة ونشرة واحدة، وكان سالمًا من الخرم والنقصان أو بعض التلف كالرطوبة، فالاستناد في التحقيق إِليه والاعتماد في النشر عليه، وإِلا وجب حشد جميع النسخ
… " (1).
وقال عبد السلام هارون:
"بديهي أن وجود نسخة المؤلف - وهو أمر نادر، ولا سيما في كتب القرون الأربعة الأولى - لا يحوجنا إِلى مجهود إِلا بالقدر الذي نتمكن به من حسن قراءة النص" (2).
--------------------------------------------
গ্রন্থের পাঠ সংশোধনে অন্য পাণ্ডুলিপির প্রয়োজনীয়তা:আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, আমি প্রাথমিকভাবে গ্রন্থের মূল পাঠ প্রস্তুত করেছি একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে, যা হলো খোদ লেখকের পাণ্ডুলিপি। আমি আমার সহকর্মীর সাথে বইটি মুদ্রণ করার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। কিন্তু যখন আমি দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি খুঁজে পেলাম, তখন আমার মনে দ্বিধা তৈরি হলো: আমি কি দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি বিবেচনা না করেই বইটি যেভাবে আছে সেভাবেই প্রকাশ করব—যেহেতু আমি লেখকের পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি—নাকি আমি যে পাঠটি প্রস্তুত করেছি তা দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করব?
এটি এমন একটি বিষয় যাতে এই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নির্দেশনার প্রয়োজন। এজন্য আমি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার পদ্ধতি বিষয়ে বেশ কয়েকজন লেখকের মতামতের প্রতি লক্ষ্য করেছি। আমি তাদের প্রায় একমত পেয়েছি যে, যদি লেখকের পাণ্ডুলিপি ত্রুটি ও ক্ষতি থেকে মুক্ত অবস্থায় বিদ্যমান থাকে, তবে অন্য কোনো পাণ্ডুলিপির প্রয়োজন নেই।
ডক্টর মুস্তফা জাওয়াদ বলেছেন:
"যদি লেখকের নিজ হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায় যা একক রচনা ও একক সংস্করণের, এবং যা কোনো প্রকার কর্তন, ঘাটতি বা আর্দ্রতার মতো ক্ষতি থেকে মুক্ত থাকে, তবে সম্পাদনার ক্ষেত্রে সেটির ওপরই নির্ভর করতে হবে এবং প্রকাশের ক্ষেত্রে সেটির ওপরই ভরসা করতে হবে। অন্যথায় সকল পাণ্ডুলিপি একত্রিত করা আবশ্যক
... " (১)।
আবদুস সালাম হারুন বলেছেন:
"এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, লেখকের পাণ্ডুলিপির উপস্থিতি—যা অত্যন্ত বিরল বিষয়, বিশেষ করে প্রথম চার শতাব্দীর বইগুলোর ক্ষেত্রে—আমাদেরকে পাঠটি সঠিকভাবে পড়ার সক্ষমতা অর্জনের অতিরিক্ত কোনো শ্রমের মুখাপেক্ষী করে না" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ৬)
والنص الذى نقلته عن الدكتور/ مصطفى جواد يتبين منه أن نسخة المؤلف إِذا كان فيها خرم أو نقصان أو تلف فإِنه يحتاج حينئذ إلى نسخة أو نسخ أخرى لسد ذلك الخلل، فهذه حالة يحتاج فيها إِلى النسخ الأخرى مع وجود نسخة المؤلف.
وقد صرح بدلك مطاع الطرابيشي، فقال:
"وقد يسأل سائل: ما جدوى الفرع مع وجود الأصل؟ وما فائدة النسخ الضعيفة إِلى جانب النسخ القيمة؟
الحق أنه لا يجوز اطراح النسخ مهما كانت الأسباب، فقد يحتفظ الفرع بما بَلِيَ من الأصل أو ضاع منه" (1).
فيتبين مما سبق أنه إِذا كانت نسخة المؤلف سليمة من النقص والخرم والتلف فإِنه لا حاجة لنسخة أخرى، وإن كان هناك نقص أو تلف فإِنه يحتاج لنسخة أخرى لسد ذلك.
وبالنسبة لنسخة المؤلف التي أخرجت نص الكتاب منها أول الأمر فهي نسخة واضحة الخط، وكاملة، وليس فيها تلف إِلا في جزء يسير من ورقة واحدة، أصاب أطراف الأسطر فقط، فكان من حقي تبعًا لما سبق أن استغنى عن النسخة الأخرى، إِلا في سد مواضع التلف.
ولكن إِن كان لي أن أبدى رأيًا في الموضوع فإِني أقول: إِن نسخة المؤلف عمدة بلا شك، لكن يلاحظ أن نسخة المؤلف ربما كان فيها خلل في مواضع كثيرة، كما لو كان الكتاب عبارة عن اختصارٍ لكتاب آخر، وأثناء عملية الاختصار حذف المؤلف عبارات لا يستقيم المعنى بدونها، أو عبر عن بعض كلام صاحب الأصل بعبارات من
--------------------------------------------
ডক্টর মোস্তফা জাওয়াদ থেকে আমি যে পাঠটি উদ্ধৃত করেছি, তা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, লেখকের পাণ্ডুলিপিতে যদি কোনো ছিদ্র, অপূর্ণতা বা ক্ষয়ক্ষতি থাকে, তবে সেই ত্রুটি পূরণের জন্য তখন অন্য একটি বা একাধিক পাণ্ডুলিপির প্রয়োজন হয়। সুতরাং এটি এমন একটি পরিস্থিতি যেখানে লেখকের পাণ্ডুলিপি থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য পাণ্ডুলিপির প্রয়োজন পড়ে।
মুতা আল-তারাবিসি এটি স্পষ্ট করে বলেছেন:
"কোনো প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করতে পারেন: মূল পাণ্ডুলিপির উপস্থিতিতে শাখার (অনুলিপির) উপযোগিতা কী? আর মূল্যবান পাণ্ডুলিপির পাশাপাশি দুর্বল পাণ্ডুলিপিগুলোরই বা কী প্রয়োজন?
সত্য কথা হলো, কারণ যাই হোক না কেন পাণ্ডুলিপিগুলো বর্জন করা জায়েজ নয়; কেননা মূল পাণ্ডুলিপির যে অংশটুকু জরাজীর্ণ হয়ে গেছে বা হারিয়ে গেছে, শাখা (অনুলিপি) হয়তো তা সংরক্ষণ করে রেখেছে" (১)।
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, লেখকের পাণ্ডুলিপি যদি অপূর্ণতা, ছিদ্র ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে মুক্ত থাকে, তবে অন্য কোনো পাণ্ডুলিপির প্রয়োজন নেই। আর যদি সেখানে কোনো অপূর্ণতা বা ক্ষয়ক্ষতি থাকে, তবে তা পূরণের জন্য অন্য পাণ্ডুলিপির প্রয়োজন হবে।
লেখকের সেই পাণ্ডুলিপিটির ব্যাপারে যা থেকে আমি প্রথমত বইটির পাঠ্য উদ্ধার করেছি, সেটি স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লিখিত এবং পূর্ণাঙ্গ। সেখানে একটি পাতার সামান্য অংশ ব্যতীত কোনো ক্ষয়ক্ষতি নেই, যা কেবল লাইনের প্রান্তভাগগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সুতরাং পূর্বোক্ত নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পূরণ করা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে আমার জন্য অন্যান্য পাণ্ডুলিপি থেকে অমুখাপেক্ষী থাকা সংগত ছিল।
তবে এ বিষয়ে যদি আমাকে কোনো মতামত দিতে হয়, তাহলে আমি বলব: লেখকের পাণ্ডুলিপি নিঃসন্দেহে প্রধান ভিত্তি, কিন্তু লক্ষ্যণীয় যে, লেখকের পাণ্ডুলিপিতেও অনেক জায়গায় ত্রুটি থাকতে পারে। যেমন বইটি যদি অন্য কোনো বইয়ের সংক্ষেপিত রূপ হয়, তবে সংক্ষেপ করার প্রক্রিয়ার সময় লেখক হয়তো এমন কিছু বাক্য বাদ দিয়েছেন যা ছাড়া অর্থ সঠিক হয় না, অথবা মূল লেখকের কিছু কথা এমন শব্দে ব্যক্ত করেছেন যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ৭)
عنده لا يستقيم بها المعنى، ونحو ذلك.
وفي مثل هذا النوع من المؤلفات نجد أن النسخ يمكن أن تصنف إِلى صنفين:
الصنف الأول: نسخة يكون ناسخها عالمًا أو طالب علم، بحيث يعرف النصوص التي فيها سقط أو خلل أو نحو ذلك، ويكون عنده اطلاع على المصدر أو المصادر التي استقى منها الكتاب، فيسهم الناسخ في سد النقص أو إِصلاح الخلل، أو نحو ذلك، ويكون هذا في الغالب في حواشي النسخة، ولا شك أن نسخة بهذه المثابة تكون نسخة مهمة، ولا بد من الاعتماد عليها مع وجود نسخة المؤلف.
الصنف الثاني: نسخة يكون ناسخها مجرد ناسخ، وليس عنده دراية بالعلم، بحيث إِنه يوافق نسخة المؤلف في كل سقط أو خلل، ويزيد على ذلك قدرًا آخر أثناء عملية النقل، فلا شك أن هذه النسخة لا يكون لها قيمة كبيرة.
والكتاب الذي حققته بناء على نسخة المؤلف وجدت في نسخة المؤلف خللاً في مواضع عدة، وذلك لأنه مختصر من كتاب المجموع المذهب للعلائي، وأثناء عملية الاختصار حصل ما سَبَّبَ وجود خلل في النص، لذلك كان من الواجب عليَّ معرفة حال النسخة الأخرى، أهِيَ من الصنف الأول فتكون نسخة مهمة، أم هي من الصنف الثاني وحينئذ لا يكون لها قيمة كبيرة.
وحتى أتعرف على حال النسخة الأخرى من كتاب القواعد قمت بمقابلتها على نسخة المؤلف في القدر الذي حققته، وقام زميلي بمثل ذلك في القدر الذى حققه، فخرجنا بنتيجة واضحة، وهي أن ناسخها مجرد ناسخ، وليس طالب علم، لذلك وافقت نسخته نسخة المؤلف في معظم ما فيها من نقص، وفي كل ما فيها من خطأ أو تكرار، بل زادت عليها بوجود قدر آخر من الأخطاء والتصحيفات والسقط الذي حصل أثناء عملية النقل، لذلك لم نر لهذه النسخة قيمة كبيرة، فلم ننبه على ما فيها إِلا
তার নিকট এর মাধ্যমে অর্থটি সঠিক থাকে না এবং এই জাতীয়।
এবং এই ধরনের রচনার ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে পাণ্ডুলিপিগুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করা সম্ভব:
প্রথম প্রকার: এমন পাণ্ডুলিপি যার অনুলিপিকারক একজন আলেম বা ইলম অন্বেষণকারী, যার ফলে তিনি সেই পাঠ্যগুলো সম্পর্কে অবগত থাকেন যেগুলোতে কোনো অংশ বাদ পড়েছে বা ত্রুটি রয়েছে অথবা এই জাতীয় কিছু। সেই সাথে গ্রন্থটি যে উৎস বা উৎসসমূহ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে সে সম্পর্কেও তার জানাশোনা থাকে। ফলে অনুলিপিকারক সেই অপূর্ণতা পূরণে বা ত্রুটি সংশোধনে অবদান রাখেন। এটি সাধারণত পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় হয়ে থাকে। নিঃসন্দেহে এই পর্যায়ের একটি পাণ্ডুলিপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং লেখকের মূল পাণ্ডুলিপির উপস্থিতিতেও এর ওপর নির্ভর করা আবশ্যক।
দ্বিতীয় প্রকার: এমন পাণ্ডুলিপি যার অনুলিপিকারক কেবলই একজন নকলনবিশ এবং ইলম সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান নেই। ফলে তিনি লেখকের পাণ্ডুলিপির প্রতিটি বিচ্যুতি বা ত্রুটির ক্ষেত্রে হুবহু অনুকরণ করেন এবং অনুলিপি করার সময় আরও কিছু নতুন ভুল বৃদ্ধি করেন। নিঃসন্দেহে এই পাণ্ডুলিপির কোনো বিশেষ মূল্য নেই।
লেখকের পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে আমি যে গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছি, তাতে আমি বেশ কিছু স্থানে ত্রুটি পেয়েছি। কারণ এটি আল-আলাইয়্যি রচিত 'আল-মাজমু আল-মুদাহহাব' গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত রূপ। এই সংক্ষিপ্তকরণের সময় এমন কিছু ঘটেছে যা মূল পাঠে ত্রুটি সৃষ্টির কারণ হয়েছে। তাই আমার জন্য অন্য পাণ্ডুলিপিটির অবস্থা জানা জরুরি ছিল—তা কি প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য হবে, নাকি সেটি দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গুরুত্বহীন হিসেবে বিবেচিত হবে?
'আল-কাওয়াইদ' গ্রন্থের অন্য পাণ্ডুলিপিটির অবস্থা জানতে আমি যে অংশটি সম্পাদনা করেছি, তা লেখকের পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি। আমার সহকর্মীও তার সম্পাদিত অংশের ক্ষেত্রে অনুরূপ করেছেন। আমরা একটি স্পষ্ট ফলাফলে উপনীত হয়েছি, আর তা হলো—এর অনুলিপিকারক কেবলই একজন নকলনবিশ ছিলেন এবং কোনো ইলম অন্বেষণকারী ছিলেন না। ফলে তার পাণ্ডুলিপিটি লেখকের পাণ্ডুলিপির অধিকাংশ অপূর্ণতা এবং সমস্ত ভুল ও পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে হুবহু মিলে গেছে; বরং অনুলিপি করার সময় এতে আরও নতুন কিছু ভুল, বিকৃতি ও বিচ্যুতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমরা এই পাণ্ডুলিপির তেমন কোনো মূল্য দেখিনি, ফলে এতে যা রয়েছে তা উল্লেখ করিনি কেবল...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ৮)
في مواضع قليلة، وأهملنا التنبيه على أشياء كثيرة، وقد ذكرت ما يخصني من ذلك في الفصل المخصص لبيان عملي في تحقيق الكتاب.
الاستفادة من توجيهات لجنة المناقشة:تقديرًا للجهد الكبير الذى بذله المناقشان للرسالة - وهما الدكتور/ يعقوب بن عبد الوهاب الباحسين والدكتور/ نشأت إِبراهيم الدريني - وحرصًا على الوصول بهذا العمل إِلى مستوى جيد من الصحة، قمت بالاستماع إِلى تسجيل مناقشة الرسالة بأناة وتؤده، واستفدت مما ذكره المناقشان، فقمت بإِصلاح ومراجعة لمعظم المواضع التي نبها عليها، فجزاهما الله عني خير الجزاء.
المقدار الذي حقق كل واحد من المحققين:قمت بتحقيق الجزأين الأول والثاني من الكتاب، ويشملان من أول الكتاب إِلى قبيل نهاية ورقة (81 / ب) من نسخة المؤلف، وقام زميلي بتحقيق الجزأين الثالث والرابع من الكتاب، ويشملان من المكان الذى وقفت عنده إِلى آخر الكتاب.
وتقسيم الكتاب إِلى هذه الأجزاء الأربعة هو تقسيم اصطلحنا عليه، وليس من عمل المؤلف.
منهج إخراج الكتاب:العمل كما ذكرت عبارة عن رسالتَي ماجستير، ولم نزد على ما ذكرناه في الماجستير إِلا التنبيه في بعض المواضع على ما في النسخة الأخرى.
وأما الحذف فقد رأى زميلي/ جبريل البصيلي أن يحذف من رسالته القسم الدراسي اكتفاء بما ذكرته في رسالتي، ورأى كذلك أن يحذف تراجم العلماء الذين وردت تراجمهم في رسالتي؛ لأن الترجمة لهم فيما بعد تكرار وإِطالة لا داعي لهما.
অল্প কিছু স্থানে, এবং আমরা অনেক বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা এড়িয়ে গিয়েছি। এই সংক্রান্ত আমার নিজের যে অংশ, তা আমি বইটির তাহকিক (সম্পাদনা) পদ্ধতির বর্ণনার জন্য নির্ধারিত অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি।
পরীক্ষক কমিটির নির্দেশনাবলী থেকে উপকৃত হওয়া:থিসিসটির দুই পরীক্ষক—ডক্টর ইয়াকুব বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল-বাহুসাইন এবং ডক্টর নাশআত ইব্রাহিম আদ-দাইরিনি—যে বিশাল প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন তার মূল্যায়নস্বরূপ এবং এই কাজটিকে শুদ্ধতার একটি সন্তোষজনক স্তরে পৌঁছে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষায়, আমি অত্যন্ত ধৈর্য ও ধীরস্থিরভাবে থিসিসের মৌখিক পরীক্ষার রেকর্ডিং শুনেছি। আমি পরীক্ষকদ্বয়ের উল্লেখিত বিষয়গুলো থেকে উপকৃত হয়েছি এবং তাঁরা যেসব স্থানে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন, তার অধিকাংশ আমি সংশোধন ও পুনঃনিরীক্ষণ করেছি। আল্লাহ তাঁদেরকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
প্রত্যেক মুহাক্কিক যতটুকু অংশ সম্পাদনা করেছেন:আমি বইটির প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড সম্পাদনা করেছি, যা বইটির শুরু থেকে লেখকের পাণ্ডুলিপির (৮১ / খ) পৃষ্ঠার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। আর আমার সহকর্মী বইটির তৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ড সম্পাদনা করেছেন, যা আমি যেখানে শেষ করেছি সেখান থেকে বইটির শেষ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত।
বইটিকে এই চারটি খণ্ডে বিভক্ত করা আমাদের নির্ধারিত একটি বিন্যাস মাত্র, এটি লেখকের মূল কাজ নয়।
বইটি প্রকাশের পদ্ধতি:যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি, এই কাজটি মূলত দুটি মাস্টার্স থিসিস। মাস্টার্স থিসিসে আমরা যা উল্লেখ করেছি, তার বাইরে আমরা অন্য পাণ্ডুলিপিতে থাকা কিছু বিষয়ের প্রতি অল্প কিছু স্থানে দৃষ্টি আকর্ষণ করা ছাড়া আর কিছুই যোগ করিনি।
বর্জনের বিষয়ে আমার সহকর্মী জিবরীল আল-বুসাইলি মনে করেছেন যে, তিনি তাঁর থিসিস থেকে গবেষণামূলক অংশটি বাদ দেবেন, কারণ আমার থিসিসে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা-ই যথেষ্ট। তিনি একইভাবে সেই সব আলেমদের জীবনীও বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যাদের জীবনী আমার থিসিসে এসেছে; কারণ পরবর্তীতে পুনরায় তাঁদের জীবনী উল্লেখ করা অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এবং দীর্ঘসূত্রতা মাত্র।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ৯)
وفي ختام هذا التقديم: أسأل الله تعالى أن ينفع بهذا الكتاب، وأن ينفع بالتعليقات التي كتبتها، والتي كتبها زميلي، وأن يجعل ما بذلناه من العلم الذى ينتفع به، فلا ينقطع بذلك عملنا إنه قريب مجيب.
د/ عبد الرحمن بن عبد الله الشعلان
5/ 3/ 1415 هـ
* * *
এই ভূমিকার সমাপ্তিলগ্নে: আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাব দ্বারা উপকার করেন এবং আমি যে টীকা লিখেছি ও আমার সহকর্মী যা লিখেছেন তার মাধ্যমেও ফায়দা দান করেন; আর আমরা যে জ্ঞান ব্যয় করেছি তাকে যেন তিনি এমন উপকারী জ্ঞানে পরিণত করেন যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, যাতে এর দ্বারা আমাদের আমল বিচ্ছিন্ন না হয়; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে, প্রার্থনা কবুলকারী।
ড. আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আশ-শা'লান
৫/ ৩/ ১৪১৫ হিজরি
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ১১)
المقَدِّمَةإِن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إِله إِلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
أما بعد:
فإِني أحمد الله سبحانه وتعالى على أن وفقني لدراسة العلم الشرعي الذي هو أفضل العلوم.
ومن المعلوم أن العلم الشرعي أنواع: ولما للأصول من شرف على الفروع فقد كان ميلي دائمًا إِلى أصول الفقه، وقد حرصت منذ دراستي في الكلية على أن تكون بحوثي السنوية في أصول الفقه.
ولما أنهيت الدراسة المنهجية الخاصة بمرحلة الماجستير، وتأهلت لتسجيل رسالة الماجستير، كنت أرغب في البحث في موضوع من موضوعات أصول الفقه؛ إِلا أنني رأيت من خلال فهارس الموضوعات المسجلة أن موضوعات أصول الفقه كلها أو جلها سبق أن بُحِثَت، فاتجهت لعلم قريب من علم أصول الفقه، ألا وهو علم قواعد الفقه، وهو علم لا يزال اهتمام الباحثين به محدودًا.
ولما أردت القراءة في هذا الفن رأيت المطبوع من كتبه قليلاً، مع أن هناك كتبًا مخطوطة في نفس الفن موجودة في عدد من مكتبات المخطوطات؛ فرأيت أن المشاركة بتحقيق واحدة من هذه المخطوطات أولى من الاشتغال بموضوع من موضوعات قواعد الفقه.
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
অতঃপর:
আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রশংসা করছি যে, তিনি আমাকে শরয়ি জ্ঞান অর্জনের তাওফিক দান করেছেন, যা সকল জ্ঞানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
এটা সুবিদিত যে শরয়ি জ্ঞান বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে; তবে শাখা-প্রশাখার ওপর মূলনীতির শ্রেষ্ঠত্ব থাকার কারণে সর্বদা উসুলুল ফিকহের (ফিকহের মূলনীতি) প্রতি আমার বিশেষ ঝোঁক ছিল। আমি কলেজে অধ্যয়নকাল থেকেই সচেষ্ট ছিলাম যেন আমার বার্ষিক গবেষণাপত্রগুলো উসুলুল ফিকহের ওপরই রচিত হয়।
যখন আমি স্নাতকোত্তর পর্যায়ের নির্ধারিত পাঠ্যক্রম সমাপ্ত করলাম এবং থিসিস নিবন্ধনের যোগ্যতা অর্জন করলাম, তখন আমি উসুলুল ফিকহের কোনো একটি বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী ছিলাম। কিন্তু নিবন্ধিত বিষয়গুলোর সূচিপত্র পর্যালোচনা করে আমি দেখলাম যে, উসুলুল ফিকহের প্রায় সকল বা অধিকাংশ বিষয়েই ইতিপূর্বে গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। ফলে আমি উসুলুল ফিকহের নিকটবর্তী একটি শাস্ত্রের দিকে ধাবিত হলাম, আর তা হলো কাওয়ায়িদুল ফিকহ (ফিকহি মূলনীতিসমূহ); এটি এমন একটি শাস্ত্র যার প্রতি গবেষকদের মনোযোগ এখনও সীমিত রয়ে গেছে।
যখন আমি এই শাস্ত্রে অধ্যয়ন করতে চাইলাম, তখন দেখলাম যে এর ওপর মুদ্রিত গ্রন্থের সংখ্যা খুবই নগণ্য, যদিও বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগারে এই শাস্ত্রের ওপর বেশ কিছু পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে। তাই আমি মনে করলাম যে, কাওয়ায়িদুল ফিকহের কোনো একটি বিষয়ে আলোচনার চেয়ে এই পাণ্ডুলিপিগুলোর কোনো একটির সম্পাদনা ও গবেষণার (তাহকিক) কাজে অংশগ্রহণ করা অধিকতর শ্রেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ১২)
فبدأت البحث في فهارس المخطوطات، ووجدت فيها عددًا من كتب قواعد الفقه؛ وكلما هممت بتسجيل واحد منها علمت أنه قد حقق في إِحدى الجامعات، حتى وفقني الله سبحانه وتعالى لكتاب لم يسبق أن حقق، ألا وهو (كتاب القواعد) للإِمام أبي بكر بن محمد بن عبد المؤمن المعروف بتقي الدين الحِصْني المتوفى سنة 829 هـ.
ثم تقدمت لقسم أصول الفقه بجزء من الكتاب، لتحقيقه ودراسته فتم تسجيل الموضوع بحمد الله.
وهذا الكتاب تظهر أهمية تحقيقه فيما يلي:
1 - المشاركة في إِخراج كتاب من كتب قواعد الفقه، التي لم يطبع منها إِلا القليل.
2 - أنه مختصر لكتاب (المجموع المُذْهَب في قواعد الَمذْهَب) لصلاح الدين العلائي المتوفى سنة 761 هـ؛ وقد أثنى عدد من العلماء على المجموع المذهب، وهو بحق كتاب شامل لعدد من القواعد الهامة والمسائل النافعة.
3 - أنه اشتمل على شرح القواعد الفقهية الخمس الكبرى، والتي ذكر بعض العلماء: أن مسائل الفقه ترجع إِليها.
4 - أنه اشتمل على عدد من قواعد ومباحث أصول الفقه، مع تخريج الفروع عليها.
5 - أنه اشتمل على عدد من قواعد الفقه، مع بيان بعض صورها المندرجة فيها.
ولما تم تسجيل الكتاب، وحصرت مصادره ومراجعه، بدأت بجمع المطبوع منها، وما أمكن من المخطوط.
فصورت صورة من المجموع المذهب؛ لأنه أصل هذا الكتاب، واستعنت بها في تصحيح الكتاب، وكشف غوامضه، وإكمال نواقصه، كما حصلت على نسخة مخطوطة من الأشباه والنظائر لابن الوكيل المتوفى سنة 716 هـ، لأن هذا الكتاب -
আমি পাণ্ডুলিপি সূচিপত্রগুলোতে অনুসন্ধান শুরু করলাম এবং সেখানে ফিকহের মূলনীতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ খুঁজে পেলাম; যখনই আমি সেগুলোর কোনো একটি নিবন্ধনের সংকল্প করতাম, তখনই জানতে পারতাম যে সেটি কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিপূর্বে সম্পাদিত হয়েছে। অবশেষে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাকে এমন একটি গ্রন্থ লাভ করার তৌফিক দান করলেন যা ইতিপূর্বে সম্পাদিত হয়নি; আর তা হলো ইমাম আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মুমিন—যিনি তাকীউদ্দিন আল-হিসনি (মৃত্যু ৮২৯ হিজরি) নামে পরিচিত—তাঁর রচিত ‘কিতাবুল কাওয়ায়েদ’।
অতঃপর আমি গ্রন্থটির একটি অংশ সম্পাদনা ও পর্যালোচনার জন্য উসুলুল ফিকহ বিভাগে পেশ করলাম এবং আল্লাহর প্রশংসায় বিষয়টি নিবন্ধিত হলো।
এই গ্রন্থটি সম্পাদনার গুরুত্ব নিম্নোক্ত বিষয়াবলির মাধ্যমে প্রকাশ পায়:
১ - ফিকহের মূলনীতি বিষয়ক গ্রন্থাবলি প্রকাশের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করা, যেগুলোর মধ্য থেকে খুব অল্প সংখ্যকই এ পর্যন্ত মুদ্রিত হয়েছে।
২ - এটি সালাহউদ্দিন আল-আলাই (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি) রচিত ‘আল-মাজমু আল-মুজাহহাব ফি কাওয়ায়েদিল মাজহাব’ গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ; অনেক আলেম এই ‘মাজমু আল-মুজাহহাব’ গ্রন্থের প্রশংসা করেছেন এবং এটি প্রকৃতপক্ষে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি ও উপকারী মাসআলার সংকলিত একটি গ্রন্থ।
৩ - এতে ফিকহের পাঁচটি প্রধান মূলনীতির ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যে সম্পর্কে কোনো কোনো আলেম উল্লেখ করেছেন যে, ফিকহের যাবতীয় মাসআলা এই নীতিগুলোর দিকেই ফিরে আসে।
৪ - এটি উসুলুল ফিকহের বেশ কিছু মূলনীতি ও আলোচনার সমাবেশ ঘটিয়েছে, সাথে সেই মূলনীতিগুলোর ওপর ভিত্তি করে উপ-শাখা মাসআলা উদ্ভাবন প্রদর্শন করেছে।
৫ - এটি ফিকহের বেশ কিছু মূলনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং সেই মূলনীতিগুলোর অধীনে আসা বিভিন্ন সুরত বর্ণনা করেছে।
যখন গ্রন্থটি নিবন্ধিত হলো এবং এর উৎস ও তথ্যসূত্রগুলো চিহ্নিত করা হলো, তখন আমি সেগুলোর মুদ্রিত সংস্করণ এবং যতটা সম্ভব পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করা শুরু করলাম।
আমি ‘আল-মাজমু আল-মুজাহহাব’-এর একটি অনুলিপি সংগ্রহ করলাম; কারণ এটিই এই গ্রন্থের মূল উৎস। গ্রন্থটি সংশোধন করতে, এর অস্পষ্টতা দূর করতে এবং এর অসম্পূর্ণতাগুলো পূরণ করতে আমি এর সাহায্য নিয়েছি। এছাড়াও আমি ইবনুল ওয়াকিল (মৃত্যু ৭১৬ হিজরি) রচিত ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর’ গ্রন্থের একটি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছি, কারণ এই গ্রন্থটি -
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أعني أشباه ابن الوكيل - هو الأصل لكثيرٍ من المسائل والمباحث الواردة في المجموع المذهب.
وجمعت معظم المطبوع من مصادر الفقه الشافعي المتقدمة على المؤلف، كالأم لمحمد بن إِدريس الشافعي المتوفى سنة 204 هـ، ومختصر المزني لأبي إِبراهيم إِسماعيل ابن يحيى المزني المتوفى سنة 264 هـ، والمهذب والتنبيه للشيخ أبي إِسحاق الشيرازى المتوفى سنة 476 هـ، والوجيز لأبي حامد الغزالي المتوفى سنة 505 هـ، وحلية العلماء لسيف الدين أبي بكر بن محمد الشاشي القفال المتوفى سنة 507 هـ، وفتح العزيز شرح الوجيز لأبي القاسم الرافعي المتوفى سنة 623 هـ، وروضة الطالبين - وهو مختصر لفتح العزيز - والمجموع ومنهاج الطالبين للإِمام النووى المتوفى سنة 676 هـ، والغاية القصوى في دراية الفتوى لعبد الله بن عمر البيضاوى المتوفى سنة 685 هـ.
ولما بدأت فى التحقيق واجهتني عدة صعوبات منها:
1 - أن الفروع التي تذكر مع القواعد ترد في بعض الأحيان مختصرة اختصارًا كبيرًا، بحيث يكون فهمها صعبًا أو مستحيلاً، مما يضطرني إِلى الرجوع إِلى تلك الفروع في مصادرها الفقهية.
2 - أن الفروع الفقهية التي يُمَثَّل بها للقاعدة تكون في الغالب كثيرة، وترد من أبواب متعددة، وهذا جعلني كثير التنقل في المصادر والمراجع، وأخذ مني كثيرًا من الجهد والوقت.
فمثلاً: حين يرد فرع من باب الصلاة أجده في الجزء الأول من روضة الطالبين، وحين يرد بعده فرع من باب الإِجارة أجده في الجزء الخامس من الروضة، وحين يرد بعدهما فرع من باب الأيمان أجده في الجزء الحادى عشر من الروضة، وهكذا.
3 - أن بعض الفروع ترد، وحين أبحث عنها في مظانها لا أجدها، وربما عثرت
অর্থাৎ ইবনে আল-ওয়াকিলের 'আশবাহ'—এটি 'আল-মাজমু আল-মুদহ্বাব' গ্রন্থে বর্ণিত অনেক মাসয়ালা ও আলোচনার মূল উৎস।
আর আমি লেখকের পূর্ববর্তী শাফেয়ী ফিকহ শাস্ত্রের অধিকাংশ মুদ্রিত মূল গ্রন্থগুলো সংগ্রহ করেছি, যেমন: ২০৪ হিজরিতে ইন্তেকালকারী মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ীর 'আল-উম্ম', ২৬৪ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু ইবরাহিম ইসমাইল ইবনে ইয়াহইয়া আল-মুজানীর 'মুখতাসার আল-মুজানী', ৪৭৬ হিজরিতে ইন্তেকালকারী শেখ আবু ইসহাক আশ-শিরাজীর 'আল-মুহাদ্বাব' ও 'আত-তানবীহ', ৫০৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু হামিদ আল-গাজালীর 'আল-ওয়াজিজ', ৫০৭ হিজরিতে ইন্তেকালকারী সাইফুদ্দীন আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাশী আল-কাফফালের 'হিলয়াতুল উলামা', ৬২৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু কাসিম আর-রাফেয়ীর 'ফাতহুল আজিজ শারহুল ওয়াজিজ', এবং ইমাম নববীর (মৃত্যু ৬৭৬ হি.) 'রাওদাতুত তালিবীন'—যা 'ফাতহুল আজিজ'-এর সংক্ষিপ্ত রূপ—'আল-মাজমু' ও 'মিনহাজুত তালিবীন', এবং ৬৮৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর আল-বায়দ্বাবীর 'আল-গায়াতুল কুসওয়া ফী দিরায়াতিল ফাতওয়া'।
যখন আমি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (তাহকীক) কাজ শুরু করলাম, তখন আমি বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হই, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - নীতিমালার (কাওয়াইদ) সাথে উল্লিখিত শাখাগত মাসয়ালাগুলো (ফুরু) কখনো কখনো অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে আসে, যার ফলে সেগুলো বোঝা কঠিন বা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটি আমাকে সেই মাসয়ালাগুলোর মূল ফিকহী উৎসগুলোতে ফিরে যেতে বাধ্য করে।
২ - যে ফিকহী শাখাগুলো উদাহরণের জন্য পেশ করা হয়, সেগুলো সাধারণত অনেক বেশি থাকে এবং বিভিন্ন অধ্যায় থেকে আসে। এর ফলে আমাকে বারবার উৎস ও রেফারেন্সগুলোতে যাতায়াত করতে হয়েছে, যা আমার অনেক শ্রম ও সময় কেড়ে নিয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ: যখন সালাত অধ্যায়ের একটি মাসয়ালা আসে, তখন আমি সেটি 'রাওদাতুত তালিবীন'-এর প্রথম খণ্ডে পাই; এরপর যখন ইজারা অধ্যায়ের একটি মাসয়ালা আসে, তখন আমি সেটি 'রাওদা'-র পঞ্চম খণ্ডে পাই; আর যখন সেগুলোর পরে কসম অধ্যায়ের একটি মাসয়ালা আসে, তখন সেটি আমি 'রাওদা'-র একাদশ খণ্ডে পাই, আর এভাবেই চলতে থাকে।
৩ - কিছু মাসয়ালা এমনভাবে আসে যে, যখন আমি সেগুলো সম্ভাব্য স্থানে খুঁজি, তখন খুঁজে পাই না; আবার হয়তো খুঁজে পেয়েছি...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عليها بعد ذلك بطريق الصدفة في غير مظانها.
4 - أني كنت أعمل في بعض الأحيان في ثلاثة فنون في أوقات متقاربة، وهي فن أصول الفقه وقواعد الفقه والفقه، وفي هذا شيء من تشتيت الذهن.
5 - أن كثيرًا من فروع الكتاب مأخوذة في الأصل من فتح العزيز للرافعي، وهذا الكتاب لم يطبع منه إِلا إلى منتصف الإِجارة، وباقيه مخطوط في عدة أجزاء.
وحتى المطبوع منه لم يخدم خدمة تذكر من ناحية الفهرسة، مما اضطرني في كثير من الأحيان إِلى البحث عن المسألة في مختصره (روضه الطالبين) فإِنه مخدوم من جهة الفهرسة خدمة لا بأس بها، ثم أبحث عنها في فتح العزيز.
6 - أن كثيرًا من مصادر الفقه الشافعي المهمة، والتي استُقِيَ منها الكتاب لا تزال مخطوطة، وموجودة في عدد من مكتبات العالم؛ ولم يكن بإِمكاني تصويرها، وجعلها عندى؛ نظرًا لأَن كثيرًا منها مكون من عدد من الأجزاء؛ هذا من جهة. ومن جهة أخرى فإِن هناك عقبات نظامية في التصوير في بعض البلدان.
وفي سبيل الاطلاع على تلك المخطوطات، وتوثيق النصوص المنقولة منها، سافرت في رحلة علمية (1) إِلى كل من: مصر والمغرب وتركيا، وزرت خلالها كلاً من:
1 - معهد المخطوطات العربية بالقاهرة.
2 - دار الكتب المصرية بالقاهرة.
3 - المكتبة الأزهرية بالقاهرة.
4 - الخزانة العامة بالرباط.
5 - الخزانة الملكية بالرباط.
--------------------------------------------
তার ওপর পরবর্তীতে ঘটনাক্রমে এমন স্থানে (পেয়েছি) যেখানে তা পাওয়ার কথা ছিল না।
৪ - আমি মাঝেমধ্যে কাছাকাছি সময়ে তিনটি শাস্ত্রে কাজ করছিলাম, সেগুলো হলো: উসুলুল ফিকহ, কাওয়ায়েদুল ফিকহ এবং ফিকহ; আর এতে মনোযোগ কিছুটা বিক্ষিপ্ত হওয়ার বিষয় রয়েছে।
৫ - বইটির অনেক শাখাগত মাসয়ালা মূলত রাফিয়ি-র 'ফাতহুল আজিজ' থেকে নেওয়া হয়েছে, আর এই বইটির কেবল 'ইজারা' (ভাড়া/শ্রম) অধ্যায়ের অর্ধেক পর্যন্ত মুদ্রিত হয়েছে, এবং এর অবশিষ্টাংশ বেশ কয়েকটি খণ্ডে পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে।
এমনকি এর যে অংশটুকু মুদ্রিত হয়েছে, সেটির নির্ঘণ্টের (ইনডেক্সিং) কাজ উল্লেখ করার মতো নয়। ফলে আমি অনেক সময় মাসয়ালাটি এর সংক্ষেপিত রূপ 'রাওদাতুত তালিবিন'-এ খুঁজতে বাধ্য হয়েছি, কারণ এর নির্ঘণ্টের কাজ মোটামুটি ভালো হয়েছে; এরপর আমি তা 'ফাতহুল আজিজ'-এ খুঁজেছি।
৬ - শাফিয়ি ফিকহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা থেকে এই বইটি সংকলিত হয়েছে, সেগুলো এখনো পাণ্ডুলিপি অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে বিদ্যমান। সেগুলোর অনুলিপি করা এবং নিজের কাছে রাখা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না; কারণ একদিকে এগুলোর অনেকগুলোই একাধিক খণ্ড নিয়ে গঠিত, আর অন্যদিকে কিছু দেশে অনুলিপি করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
সেই পাণ্ডুলিপিগুলো দেখার এবং সেখান থেকে উদ্ধৃত পাঠ্যগুলো যাচাই করার উদ্দেশ্যে আমি মিশর, মরক্কো এবং তুরস্কে একটি বৈজ্ঞানিক সফরে (১) গিয়েছিলাম এবং সে সময় নিম্নোক্ত স্থানগুলো পরিদর্শন করেছি:
১ - কায়রোতে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক ম্যানুস্ক্রিপ্টস।
২ - কায়রোতে অবস্থিত মিসরীয় জাতীয় গ্রন্থাগার (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ)।
৩ - কায়রোর আল-আজহার লাইব্রেরি।
৪ - রাবাতের আল-খিজানাহ আল-আম্মাহ (পাবলিক লাইব্রেরি)।
৫ - রাবাতের আল-খিজানাহ আল-মালিকিয়্যাহ (রয়্যাল লাইব্রেরি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
6 - خزانة القرويين بفاس.
7 - المكتبة السليمانية باستامبول.
ولم أقتصر في سبيل الاطلاع على المخطوطات على المكتبات المتقدمة، بل استفدت كثيرًا من قسم المخطوطات التابع لجامعة الإِمام محمد بن سعود الإِسلامية.
وكانت الأجزاء التي وَثقتُ منها من فتح العزيز كلها منه. كما استفدت من قسم المخطوطات التابع لجامعة الملك سعود بالرياض، وقسم المخطوطات التابع للجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، ومكتبة عارف حكمت بالمدينة المنورة.
ويمكن للقارئ الاطلاع على أسماء تلك المخطوطات في فهرس المصادر والمراجع المخطوطة.
هذا: وقد جعلت هذه الرسالة قسمين:
القسم الأول: القسم الدراسي:
ويشمل خمسة أبواب هي:
الباب الأول: دراسة عن علم قواعد الفقه.
الباب الثاني: دراسة عن المؤلف (الحصني) وكتابه (كتاب القواعد).
الباب الثالث: دراسة عن صاحب الأصل (العلائي) وكتابه (المجموع المذهب).
الباب الرابع: معلومات عن نسختي كتاب القواعد المخطوطتين ووصف لهما.
ومعلومات عن النسخة المخطوطة التي استفدت منها من المجموع المذهب، ووصف لها.
৬ - ফাসের আল-কারাউইয়িন গ্রন্থাগার।
৭ - ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া গ্রন্থাগার।
পাণ্ডুলিপিগুলো দেখার প্রচেষ্টায় আমি শুধু পূর্বোক্ত গ্রন্থাগারগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগ থেকেও অনেক উপকৃত হয়েছি।
'ফাতহুল আজিজ'-এর যেসব খণ্ড থেকে আমি তথ্য যাচাই করেছি, সেগুলো সবই সেখান থেকে প্রাপ্ত। এছাড়াও আমি রিয়াদের কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগ, মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি বিভাগ এবং মদিনা মুনাওয়ারার আরিফ হিকমত গ্রন্থাগার থেকে উপকৃত হয়েছি।
পাঠক পাণ্ডুলিপি উৎস ও তথ্যসূত্র সমূহের সূচিপত্রে সেইসব পাণ্ডুলিপির নামগুলো দেখে নিতে পারেন।
অতঃপর: আমি এই গবেষণাপত্রটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অংশ: গবেষণা ও পরিচিতি মূলক অংশ:
এতে পাঁচটি অধ্যায় রয়েছে, সেগুলো হলো:
প্রথম অধ্যায়: ফিকহী মূলনীতি শাস্ত্র (কাওয়াইদুল ফিকহ) সংক্রান্ত আলোচনা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: লেখক (আল-হিসনি) এবং তাঁর গ্রন্থ (কিতাবুল কাওয়াইদ) সম্পর্কে আলোচনা।
তৃতীয় অধ্যায়: মূল রচয়িতা (আল-আলাই) এবং তাঁর গ্রন্থ (আল-মাজমু আল-মুজহ্যাব) সম্পর্কে আলোচনা।
চতুর্থ অধ্যায়: 'কিতাবুল কাওয়াইদ'-এর পাণ্ডুলিপির দু’টি অনুলিপি সংক্রান্ত তথ্য ও তাদের বিবরণ।
এবং 'আল-মাজমু আল-মুজহ্যাব'-এর যে পাণ্ডুলিপি থেকে আমি উপকৃত হয়েছি সে সম্পর্কে তথ্য ও তার বিবরণ।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الباب الخامس: منهجي وعملي في التحقيق (1).
القسم الثاني: القسم التحقيقي:
ويشمل تحقيق الجزء الذي تقدمت به إِلى القسم، وهو من أول الكتاب إِلى قبيل نهاية ورقة (181 /ب).
وقد ذكرت منهجي وعملي في التحقيق بالتفصيل في الباب الخامس من القسم الدراسي، فليراجع هناك.
وأخيرًا: هذا جهدي؛ ويعلم الله وحده أنه نتاج عمل متواصل خلال ثلاث سنوات، سوى ما يقطعه من أمر لا بد منه. وقد بذلت كل ما أمكنني بذله في تصحيح نص الكتاب وخدمته من جميع النواحي؛ فما كان فيه من صواب وكمال فبتوفيق من الله وحده، وله الحمد والمنة. وما كان فيه من خطأ أو نقص فمني ومن الشيطان، ولا حول ولا قوة إِلا بالله.
وفي نهاية المطاف: أتقدم بالشكر الجزيل لجامعتنا، جامعة الإِمام محمد بن سعود الإسلامية، ممثلة في كلية الشريعة، التي أتاح لي المسؤولون فيها هذه الفرصة، وأعانوني وشجعوني بكل ما يستطيعون، فلهم مني خالص الدعاء بالأجر والثواب.
كما أخص بجزيل شكري أستاذي المشرف على هذه الرسالة الأستاذ الدكتور: الطيب خضري السيد سالم (2)، الذي فتح لي قلبه قبل بيته، ولم يبخل علىّ بشيء من
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সম্পাদনায় আমার পদ্ধতি ও কর্মতৎপরতা (১)।
দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদন অংশ:
এতে সেই অংশের সম্পাদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা আমি বিভাগের নিকট পেশ করেছি; আর তা হলো গ্রন্থের শুরু থেকে (১৮১/খ) নং পৃষ্ঠার শেষভাগ পর্যন্ত।
আমি গবেষণামূলক অংশের পঞ্চম পরিচ্ছেদে সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার পদ্ধতি ও কর্মতৎপরতা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি, সুতরাং সেখানে তা দেখে নেয়া যেতে পারে।
পরিশেষে: এটি আমার প্রচেষ্টা; আল্লাহ একাই জানেন যে, এটি অনিবার্য বিষয়সমূহ ব্যতীত দীর্ঘ তিন বছরের নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের ফসল। আমি এই গ্রন্থের মূল পাঠ সংশোধন ও সকল দিক থেকে এর খিদমতে আমার সাধ্যমতো সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি; এতে যা কিছু সঠিক ও নিখুঁত হয়েছে তা একমাত্র আল্লাহর তাওফিকেই হয়েছে, সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা তাঁরই প্রাপ্য। আর এতে যা কিছু ভুল বা ত্রুটি রয়েছে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।
সবশেষে: আমি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি, বিশেষ করে শরিয়াহ অনুষদকে, যার দায়িত্বশীলগণ আমাকে এই সুযোগ করে দিয়েছেন এবং তাদের সাধ্যমতো সাহায্য ও উৎসাহিত করেছেন। তাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে প্রতিদান ও সওয়াবের অন্তহীন দুআ রইল।
একইভাবে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমার এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক উস্তাদ প্রফেসর ডক্টর: তৈয়ব খোদরি আস-সাইয়্যেদ সালেম (২)-কে, যিনি তাঁর গৃহের পূর্বে তাঁর হৃদয়কে আমার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং কোনো কিছুতেই আমার প্রতি কার্পণ্য করেননি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقته، وكان راعيًا لهذا العمل من أوله إلى آخره.
كما أشكر كل من أسد اِليّ عونًا في هذا العمل، سواء كان ذلك بإِعارة كتاب مخطوط أو مطبوع، أو حل مسألة مشكلة، أو نحو ذلك.
وفي الختام: أسأل الله تعالى: أن يجعل أعمالنا خالصة لوجهه الكريم، وأن يجعلها في موازين أعمالنا يوم نلقاه، اِنه وليّ ذلك والقادر عليه، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
عبد الرحمن بن عبد الله الشعلان
তাঁর সময়, এবং তিনি এই কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
একইভাবে আমি তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এই কাজে আমাকে সহায়তা করেছেন, তা কোনো পাণ্ডুলিপি বা মুদ্রিত বই ধারের মাধ্যমে হোক, অথবা কোনো জটিল বিষয়ের সমাধানের মাধ্যমে হোক, কিংবা অনুরূপ অন্য কিছুর মাধ্যমে হোক।
পরিশেষে: আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি: তিনি যেন আমাদের আমলসমূহকে তাঁর সুমহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং তাঁর সাথে আমাদের সাক্ষাতের দিনে এগুলোকে আমাদের আমলের পাল্লায় স্থান দেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আর আমাদের সর্বশেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ আশ-শআলান
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أولاً: القسم الدراسي
ويشمل الأبواب التالية:
الباب الأول: دراسة عن علم قواعد الفقه.
الباب الثاني: دراسة عن المؤلف (الحِصْني) وكتابه (كتاب القواعد).
الباب الثالث: دراسة عن صاحب الأصل (العلائي) وكتابه (المجموع المذهب).
الباب الرابع: معلومات عن نسختي الكتاب المخطوطة، ووصف لها.
ومعلومات عن النسخة المخطوطة التي استفدت منها من المجموع المذهب، ووصف لها.
الباب الخامس: منهجي وعملي في التحقيق.
প্রথমত: গবেষণামূলক অংশ
এতে নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: ফিকহি মূলনীতি (কাওয়াইদুল ফিকহ) শাস্ত্র সংক্রান্ত আলোচনা।
দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থকার (আল-হিসনি) এবং তাঁর গ্রন্থ (কিতাবুল কাওয়াইদ) সংক্রান্ত আলোচনা।
তৃতীয় অধ্যায়: মূল গ্রন্থের লেখক (আল-আলাঈ) এবং তাঁর গ্রন্থ (আল-মাজমু আল-মুহাযযাব) সংক্রান্ত আলোচনা।
চতুর্থ অধ্যায়: গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপি দুটির বিবরণ ও সেগুলোর বর্ণনা।
এবং আল-মাজমু আল-মুহাযযাব-এর যে পাণ্ডুলিপিটি থেকে আমি উপকৃত হয়েছি তার বিবরণ ও বর্ণনা।
পঞ্চম অধ্যায়: তাহকিক বা সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার কর্মপদ্ধতি ও কাজ।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ২০)
الباب الأول دراسة عن علم قواعد الفقهوتشمل الفصول التالية:
الفصل الأول: تعريف القاعدة لغة، واصطلاحًا، والفرق بين القاعدة والضابط، والفرق بين القواعد الأصولية والقواعد الفقهية.
الفصل الثاني: تعريف الأشباه والنظائر لغة، واصطلاحًا، وبيان العلاقة بين قواعد الفقه والأشباه والنظائر.
الفصل الثالث: أقسام القواعد الفقهية.
الفصل الرابع: استمداد القواعد الفقهية، وصياغتها.
الفصل الخامس: أهمية علم قواعد الفقه وفائدته.
الفصل السادس: نشأة القواعد الفقهية وتطورها.
الفصل السابع: مناهج المؤلفين في القواعد الفقهية.
الفصل الثامن: المؤلفات في علم قواعد الفقه، فى المذاهب الأربعة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিকহী মূলনীতি শাস্ত্র সম্পর্কিত গবেষণাএটি নিম্নলিখিত অধ্যায়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অধ্যায়: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মূলনীতির (কায়েদা) সংজ্ঞা, কায়েদা ও দাবিত (নিয়ম)-এর মধ্যে পার্থক্য এবং উসূলী মূলনীতি ও ফিকহী মূলনীতির মধ্যে পার্থক্য।
দ্বিতীয় অধ্যায়: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর-এর সংজ্ঞা এবং ফিকহী মূলনীতি ও আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর-এর মধ্যকার সম্পর্কের বর্ণনা।
তৃতীয় অধ্যায়: ফিকহী মূলনীতির প্রকারভেদ।
চতুর্থ অধ্যায়: ফিকহী মূলনীতির উৎস এবং এর বিন্যাস পদ্ধতি।
পঞ্চম অধ্যায়: ফিকহী মূলনীতি শাস্ত্রের গুরুত্ব ও এর প্রয়োজনীয়তা।
ষষ্ঠ অধ্যায়: ফিকহী মূলনীতির উদ্ভব ও ক্রমবিকাশ।
সপ্তম অধ্যায়: ফিকহী মূলনীতি রচনায় লেখকদের অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ।
অষ্টম অধ্যায়: চার মাযহাবের ফিকহী মূলনীতি শাস্ত্রের গ্রন্থাবলি।
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفصل الأول تعريف القاعدة لغة، واصطلاحًا، والفرق بين القاعدة الفقهية والضابط، والفرق بين القواعد الأصولية والفقهية
القاعدة في اللغة: (1)
هي الأساس، فقاعدة كل شيء هي أساسه، فمن ذلك قواعد البيت وهي أسسه؛ قال تعالى: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ} [البقرة: 127].
ومن ذلك قواعد الهودج، وهي خشبات أربع معترضة في أسفله تركب عيدان الهودج فيها.
ومن ذلك قواعد السحاب؛ قال أبو عبيد: "قواعد السحاب أصولها المعترضة في آفاق السماء شبهت بقواعد البناء" (2).
وكل ما تقدم من الأمور الحسية، إِلا أن القاعدة استعملت في الأمور المعنوية؛ ومن ذلك قواعد العلوم.
القاعدة في الاصطلاح:الاصطلاح الذي أريده هو اصطلاح الفقهاء، وقد اختلفوا في تعريفها، وفيما يلي
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে কায়দাহ-এর সংজ্ঞা, ফিকহি কায়দাহ ও দ্বাবিত-এর মধ্যে পার্থক্য এবং উসুলি ও ফিকহি কায়দাহসমূহের মধ্যে পার্থক্যআভিধানিক অর্থে কায়দাহ: (১)এটি হলো ভিত্তি, কোনো কিছুর কায়দাহ বলতে তার ভিত্তিকেই বোঝায়। এর উদাহরণ হলো ঘরের কায়দাহসমূহ অর্থাৎ তার ভিত্তি; আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল ঘরের ভিত্তিগুলো (আল-কাওয়াইদ) উত্তোলন করছিলেন।" [আল-বাকারা: ১২৭]।
এর অন্য উদাহরণ হলো হাওদাজের কায়দাহসমূহ; আর তা হলো এর নিচের অংশে আড়াআড়িভাবে থাকা চারটি কাঠ যাতে হাওদাজের দণ্ডগুলো স্থাপন করা হয়।
এর আরও উদাহরণ হলো মেঘের কায়দাহসমূহ; আবু উবাইদ বলেন: "মেঘের কায়দাহ হলো আকাশের দিগন্তে মেঘের সেই মূল অংশ যা আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে, একে দালানের ভিত্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে" (২)।
উপরে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় সম্পর্কিত। তবে কায়দাহ শব্দটি বিমূর্ত বা তাত্ত্বিক বিষয়েও ব্যবহৃত হয়; এর একটি উদাহরণ হলো বিভিন্ন বিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহ (কাওয়াইদুল উলুম)।
পারিভাষিক অর্থে কায়দাহ:আমি এখানে ফকিহদের পরিভাষা উদ্দেশ্য করেছি। এর সংজ্ঞা নির্ধারণে তাঁরা মতভেদ করেছেন, যা নিচে বর্ণিত হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ২২)
سأذكر بعض التعريفات:عرّفها تاج الدين ابن السبكي المتوفى سنة 771 هـ بقوله: "القاعدة: الأمر الكلي الذي ينطبق عليه جزئيات كثيرة تفهم أحكامها منها" (1).
وعرفها المقَّرِي المتوفى سنة 758 هـ بقوله: "ونعني بالقاعدة كلَ كُلّي هو أخص من الأصول وسائر المعاني العقلية العامة وأعم من العقود وجملة الضوابط الفقهية الخاصة" (2).
وعرفها الحموي المتوفى سنة 1098 هـ بقوله: "هي عند الفقهاء حكم أكثريّ لا كلي، ينطبق على أكثر جزئياته، لتعرف أحكامها منه" (3).
وعرفها صاحب التحقيق الباهر المتوفى سنة 1224 هـ بقوله: "وعند الفقهاء: قضية أكثرية تنطبق على أكثر جزئيات موضوعها" (4).
وبإِلقاء نظرة عامة على التعريفات المتقدمة؛ نجد أن التعريفين الأولين يشتركان في اعتبار كون القاعدة كلية، ونجد أن التعريفين الأخيرين يشتركان في كون القاعدة أكثرية.
والظاهر أن الباعث لمن يعرفها بأنها أكثرية هو: أن كثيرًا من قواعد الفقه لها صور مستثناة منها، ولا ينطبق عليها حكمها، ويلحظ هذا الأمر من يطالع كتب قواعد الفقه.
--------------------------------------------
আমি কিছু সংজ্ঞা উল্লেখ করব:৭৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী তাজউদ্দীন ইবনে আস-সুবকী এর সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেছেন: "কায়েদাহ বা নীতি হলো: এমন এক সামগ্রিক বিষয় যা অনেক আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়, যেগুলোর বিধান এর থেকেই বোঝা যায়" (১)।
৭৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল-মাক্কারি এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "কায়েদাহ দ্বারা আমরা এমন প্রতিটি সামগ্রিক বিষয়কে বুঝি যা উসুল (মূলনীতি) এবং অন্যান্য সাধারণ বুদ্ধিভিত্তিক অর্থসমূহের চেয়ে সুনির্দিষ্ট, আর আকদ (চুক্তি) ও সমস্ত বিশেষ ফিকহি বিধিনিষেধের (দাওয়াবিত) চেয়ে ব্যাপক" (২)।
১০৯৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল-হামাভী এর সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেছেন: "ফকিহদের নিকট এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (আকসারি) বিধান, সামগ্রিক (কুল্লি) নয়; যা এর অধিকাংশ আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয় যাতে সেগুলোর বিধান এর থেকে জানা যায়" (৩)।
১২২৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ‘আত-তাহকীকুল বাহির’ গ্রন্থের লেখক এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "ফকিহদের নিকট: এটি একটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিষয় যা তার আলোচ্য বিষয়ের অধিকাংশ আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়" (৪)।
উপরিউক্ত সংজ্ঞাসমূহের ওপর একটি সাধারণ দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাই যে, প্রথম দুটি সংজ্ঞা নীতি বা কায়েদাহ-কে ‘সামগ্রিক’ (কুল্লি) বিবেচনা করার ক্ষেত্রে একমত এবং শেষের দুটি সংজ্ঞা নীতি বা কায়েদাহ-কে ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য’ (আকসারি) হওয়ার ক্ষেত্রে একমত।
স্পষ্টত যারা একে ‘অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য’ (আকসারি) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন তাদের উদ্দেশ্য হলো: ফিকহের অনেক নীতিরই এমন কিছু ব্যতিক্রমী রূপ রয়েছে যেগুলোর ওপর সেই নীতির বিধান প্রযোজ্য হয় না; যারা ফিকহি মূলনীতির (কাওয়াইদুল ফিকহ) বইপত্র অধ্যয়ন করেন তারা বিষয়টি লক্ষ্য করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ولعل تعريفها بأنها كلية أنسب لما يلي:
الأمر الأول: أن شأن القواعد أن تكون كلية (1).
الأمر الثاني: ذكره صاحب التحقيق الباهر بقوله: "أن الفرعَ المُخْرجَ عنها بدليل عند الفقهاء؛ إِما أن يدخل تحت قاعدة أخرى، أو لا. وعلى كل فهي كلية بالنسبة إِلى غير ذلك الفرع المخرج؛ فكما أن الدليل أخرج الفرع عنها، كذلك خصصها بما وراءه" (2).
الأمر الثالث: ذكره الشاطبي بقوله: "وأيضًا بالجزئيات المتخلفة قد يكون تخلفها لِحِكَمٍ خارجة عن مقتضى الكلي فلا تكون فى داخلة تحته أصلاً" (3).
وبإِلقاء نظرة فاحصة على التعريفات المتقدمة نجد أنها - باستثناء تعريف المقَّرِي - يمكن أن تنْقَدَ من وجهين:
الأول: أنها ليس فيها ما يُشْعِرُ بعلاقتها بالفقه، فهي على هذا تصلح تعريفا للقاعدة في أي فن.
الثاني: أنها غير مانعة من دخول الضابط.
لذا فإِن تعريف المقري هو أسلمها.
ولو أردت أن أضع للقاعدة الفقهية تعريفًا سليمًا من الانتقادين السابقين، ومشابهاً لتعريف ابن السبكي والتفتازاني لأمكن أن أقول:
القاعدة: هي حكم كلي فقهي ينطبق على جزئيات كثيرة من أكثر من باب.
--------------------------------------------
সম্ভবত একে একটি সামগ্রিক নীতি (কুল্লিয়্যাহ) হিসেবে সংজ্ঞায়িত করাই নিম্নোক্ত কারণগুলোর প্রেক্ষিতে অধিকতর সমীচীন:
প্রথম বিষয়: নিয়ম বা নীতিমালার (ক্বাওয়ায়িদ) বৈশিষ্ট্যই হলো তা সামগ্রিক হওয়া (১)।
দ্বিতীয় বিষয়: 'আত-তাহক্বীক্ব আল-বাহির' গ্রন্থের লেখক তা এভাবে উল্লেখ করেছেন: "ফুক্বাহায়ে কিরামের নিকট কোনো দলিলের ভিত্তিতে যে শাখা-মাসআলাটি (ফার‘) মূল নীতি থেকে বের হয়ে যায়, তা হয় অন্য কোনো মূল নীতির অন্তর্ভুক্ত হবে, নতুবা হবে না। তবে সর্বাবস্থায় সেই বিশেষ মাসআলাটি ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে নীতিটি সামগ্রিকই থাকে। ঠিক যেভাবে দলিল সেই শাখা-মাসআলাটিকে নীতিটি থেকে বের করে দিয়েছে, তেমনিভাবে এটি সেই মাসআলাটি ব্যতীত অবশিষ্টাংশের জন্য নীতিটিকে নির্দিষ্ট (খাস) করে দিয়েছে" (২)।
তৃতীয় বিষয়: ইমাম শাত্বিবী এটি এভাবে উল্লেখ করেছেন: "তদুপরি, ব্যতিক্রমী আংশিক বিষয়গুলো (জুযইয়্যাত) যে নীতি থেকে বিচ্যুত হয়, তা অনেক সময় সেই সামগ্রিক নীতির (কুল্লী) চাহিদার বহির্ভূত কোনো হিকমতের কারণে হয়ে থাকে। ফলে সেগুলো আদতেই সেই নীতির অন্তর্ভুক্ত থাকে না" (৩)।
পূর্বোক্ত সংজ্ঞাসমূহের প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাই যে—ইমাম আল-মাক্বরীর সংজ্ঞা ব্যতীত—অন্যান্য সংজ্ঞাকে দুটি দিক থেকে সমালোচনা করা যেতে পারে:
প্রথমত: সেগুলোতে এমন কিছু নেই যা ফিক্বহের সাথে তাদের সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়; ফলে সেগুলো যেকোনো শাস্ত্রের মূলনীতির (ক্বাইদাহ) সংজ্ঞা হিসেবে প্রযোজ্য হতে পারে।
দ্বিতীয়ত: সেগুলো 'দ্বাবিত্ব' (বিশেষ বিষয়ের নীতি) এর অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে প্রতিরোধ করে না।
তাই ইমাম আল-মাক্বরীর প্রদানকৃত সংজ্ঞাই হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও ত্রুটিমুক্ত।
আমি যদি ফিক্বহী মূলনীতির (ক্বাইদাহ ফিক্বহিয়্যাহ) জন্য এমন একটি সংজ্ঞা প্রদান করতে চাই যা পূর্বোক্ত দুটি সমালোচনা থেকে মুক্ত এবং ইবনুস সুবকী ও তাফতাযানীর সংজ্ঞার সদৃশ, তবে আমি বলতে পারি:
মূলনীতি (ক্বাইদাহ): এটি এমন একটি সামগ্রিক ফিক্বহী বিধান যা একাধিক অধ্যায়ের বহু আংশিক বিষয়ের (জুযইয়্যাত) ওপর প্রযোজ্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فقولي: فقهي. يُخْرِج القواعد في الفنون الأخرى.
وقولي: جزئيات كثيرة من أكثر من باب. يُخْرِج الضابط، فإِنه يشمل الجزئيات من باب واحد فقط.
ما تشترك فيه القاعدة والضابط، وما يفترقان فيه:تشترك القاعدة والضابط في أن كلا منهما ينطق على عدد من الجزئيات الفقهية.
ويفترقان في أن الضابط يشمل الجزئيات من باب واحد على حين أن القاعدة تشمل جزئيات من أكثر من باب (1). والظاهر أن المتقدمين لم يكونوا يشددون في التفريق بينهما، ولذا نجد تاج الدين ابن السبكي بعد أن ذكر تعريف القاعدة يقول: (2) "ومنها: ما لا يختص بباب كقولنا: اليقين لا يرفع بالشك. ومنها: ما يختص كقولنا: كل كفارة سببها معصية فهي على الفور.
والغالب فيما اختص بباب وقصد به نظم صور متشابهة أن يسمى ضابطًا" (3).
--------------------------------------------
আমার উক্তি: "ফেকহী" (আইনগত)। এটি অন্যান্য শাস্ত্রের নীতিমালাগুলোকে বাদ দেয়।
এবং আমার উক্তি: "একাধিক অধ্যায় থেকে অসংখ্য শাখা-প্রশাখা"। এটি 'দাবিত' (মানদণ্ড)-কে বাদ দেয়, কারণ তা কেবল একটি অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে।
কায়েদা (মূলনীতি) এবং দাবিত (মানদণ্ড) যে বিষয়গুলোতে সদৃশ এবং যে বিষয়গুলোতে ভিন্ন:কায়েদা এবং দাবিত এই বিষয়ে সদৃশ যে, তাদের উভয়ই একাধিক ফিকহী শাখা-প্রশাখার ওপর প্রযোজ্য হয়।
আর তারা এই বিষয়ে ভিন্ন যে, দাবিত কেবল একটি অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে কায়েদা একাধিক অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে (১)। দৃশ্যত পূর্ববর্তীগণ এই দুটির মধ্যে পার্থক্যের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করতেন না, তাই আমরা দেখি তাজউদ্দীন ইবনে সুবকী কায়েদার সংজ্ঞা প্রদানের পর বলেন: (২) "তন্মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে খাস নয়, যেমন আমাদের কথা: নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না। আবার এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে খাস, যেমন আমাদের কথা: প্রতিটি কাফফারা যার কারণ হলো গুনাহ, তা অবিলম্বে আদায় করা আবশ্যক।
আর যা কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে খাস এবং যা দ্বারা সদৃশ বিষয়গুলোকে সুশৃঙ্খল করা উদ্দেশ্য হয়, তাকে সাধারণত 'দাবিত' বলা হয়" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الفرق بين القواعد الأصولية والقواعد الفقهية:يمكن التفريق بينهما من الوجوه التالية:
1 - من جهة الاستمداد؛ فعلم الأصول مستمد من ثلاثة أشياء، هي: علم الكلام والعربية وتصور الأحكام (1). أما القواعد الفقهية فإِنها مستمدة من الأدلة الشرعية، أو المسائل الفرعية المتشابهة وأحكامها.
2 - من جهة متعلَّقِهما، فالقواعد الأصولية متعلقة بالأدلة الشرعية. أما القواعد الفقهية فهي متعلقة بأفعال المكلفين.
فمثال القاعدة الأصولية: الأمر يقتضي الوجوب. فهذه القاعدة متعلقة بكل دليل في الشريعة فيه أمر.
ومثال القاعدة الفقهية: اليقين لا يزال بالشك. فهذه القاعدة متعلقة بكل فعل من أفعال المكلف تيقنه أو تيقن عدمه ثم شك في العكس.
3 - من جهة المستفيد منها؛ فالقاعدة الأصولية يستفيد منها المجتهد خاصة، حيث يستعملها عند استنباط الأحكام الشرعية الفرعية من أدلتها. أما القاعدة الفقهية فيمكن أن يستفيد منها الفقيه والمتعلم؛ حيث إِن كل قاعدة تشتمل على حكم كلي لعدد من
--------------------------------------------
উসূলী কায়েদা এবং ফিকহী কায়েদার মধ্যকার পার্থক্য:নিম্নোক্ত দিকগুলো থেকে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করা যেতে পারে:
১ - গ্রহণের উৎসের (ইস্তিমদাদ) দিক থেকে; উসূল শাস্ত্র তিনটি বিষয় থেকে আহরিত, সেগুলো হলো: ইলমুল কালাম, আরবী ভাষা এবং আহকামের বা বিধানের ধারণা (১)। অন্যদিকে ফিকহী কায়েদাগুলো শরয়ি দলীল অথবা সদৃশ উপশাখাভুক্ত মাসআলা ও সেগুলোর বিধান থেকে সংগৃহীত।
২ - সংশ্লিষ্ট বিষয়ের (মুতাআল্লাক) দিক থেকে; উসূলী কায়েদাগুলো শরয়ি দলীলসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর ফিকহী কায়েদাগুলো মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট।
উসূলী কায়েদার উদাহরণ: নির্দেশ বাধ্যবাধকতা (ওয়াজিব হওয়া) দাবি করে। এই কায়েদাটি শরীয়তের প্রতিটি দলীলের সাথে সংশ্লিষ্ট যাতে কোনো নির্দেশ রয়েছে।
ফিকহী কায়েদার উদাহরণ: নিশ্চয়তা সন্দেহের মাধ্যমে দূরীভূত হয় না। এই কায়েদাটি মুকাল্লাফের প্রতিটি কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট যে বিষয়ে সে নিশ্চিত ছিল অথবা না হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল, অতঃপর এর বিপরীতে তার সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
৩ - এর দ্বারা উপকৃত ব্যক্তির দিক থেকে; উসূলী কায়েদা থেকে বিশেষভাবে মুজতাহিদ উপকৃত হন, যেখানে তিনি শরয়ি দলীলসমূহ থেকে উপশাখাভুক্ত শরয়ি বিধানসমূহ উদ্ঘাটন করার সময় এগুলো ব্যবহার করেন। অন্যদিকে ফিকহী কায়েদা থেকে ফকীহ এবং শিক্ষার্থী উভয়ই উপকৃত হতে পারেন; কেননা প্রতিটি কায়েদাই নির্দিষ্ট সংখ্যক বিষয়ের সাধারণ বিধান অন্তর্ভুক্ত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المسائل فالرجوع إِليها أيسر من الرجوع إِلى حكم كل مسألة على حدة (1).
4 - من جهة توقف كل منهما على الأخرى في استنتاجها، فالقاعدة الأصولية لا يتوقف استنتاجها والتعرف عليها على قاعدة فقهية، بخلاف العكس، فإن القاعدة الفقهية يتوقف استنتاجها على القاعدة الأصولية (2).
* * *
--------------------------------------------
মাসআলাসমূহ, ফলে এগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা প্রতিটি মাসআলার বিধানের দিকে পৃথকভাবে প্রত্যাবর্তন করার চেয়ে সহজতর (১)।
৪ - মাসআলা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর নির্ভরতার দিক থেকে; উসূলি নীতিমালার উদ্ভাবন এবং তা অনুধাবন করা কোনো ফিকহি নীতিমালার ওপর নির্ভর করে না, তবে এর বিপরীত বিষয়টি ভিন্ন, কেননা ফিকহি নীতিমালার উদ্ভাবন উসূলি নীতিমালার ওপর নির্ভর করে (২)।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الثاني تعريف الأشباه والنظائر لغة، واصطلاحًا، وبيان العلاقة بين قواعد الفقه والأشباه والنظائرالأشباه والنظائر لغة:
الأشباه: جمعٌ، مفرده: شِبْه وشَبَه وشَبِيْه، وهو المثل (1).
وقال ابن فارس (2): "الشين والباء والهاء: أصل واحد يدل على تشابه الشيء وتشاكله لونًا ووصفًا".
هذا: والمشابهة كما تكون في الصفات الذاتية؛ فإِنها تكون في الصفات المعنوية (3).
والنظائر: جمعٌ، مفرده: نظيرة، وهي المثل. وقال ابن منظور (4)، عن النظيرة: "وهي: المثل والشبه في الأشكال والأخلاق والأفعال والأقوال".
والنظيرةٌ مؤنثٌ، مذكرُه: نظيرٌ، وجمع النظير: نظراء (5).
وقال ابن فارس: (6) "النون والظاء والراء: أصل صحيح يرجع فروعه إِلى معنى
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর-এর সংজ্ঞা, এবং ফিকহী কাওয়াইদ ও আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর-এর মধ্যকার সম্পর্কের বর্ণনাআভিধানিক অর্থে আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর:
আল-আশবাহ: এটি বহুবচন, এর একবচন হলো: শিবহ্, শাবাহ্ এবং শাবীয়; যার অর্থ হলো সদৃশ বা অনুরূপ (১)।
ইবনে ফারিস (২) বলেছেন: "শীন, বা এবং হা: এটি এমন একটি মূল শব্দ যা কোনো বস্তুর বর্ণ ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্য থাকাকে নির্দেশ করে।"
উল্লেখ্য যে: সাদৃশ্য যেমন সত্তাগত গুণাবলীতে হয়, তেমনি তা অর্থগত গুণাবলীর ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে (৩)।
আর আল-নাজাইর: এটি বহুবচন, এর একবচন হলো: নাযীরাহ্; যার অর্থ হলো সদৃশ। ইবনে মনজুর (৪) নাযীরাহ্ সম্পর্কে বলেছেন: "এটি হলো আকৃতি, চরিত্র, কর্ম এবং বক্তব্যের ক্ষেত্রে উদাহরণ ও সাদৃশ্য।"
নাযীরাহ্ শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ, এর পুংলিঙ্গ রূপ হলো: নাযীর; আর নাযীর-এর বহুবচন হলো: নুজারা (৫)।
ইবনে ফারিস (৬) বলেছেন: "নূন, যা এবং রা: এটি একটি বিশুদ্ধ মূল শব্দ যার শাখা-প্রশাখাগুলো এমন এক অর্থের দিকে ফিরে যায় যা—"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
واحد، وهو تأمل الشيء ومعاينته، ثم يستعار ويتسع فيه
… ...
… . وهذا نظير هذا، من هذا القياس، أى أنه إِذا نظر إِليه وإلى نظيره كانا سواء".
فعلى القول: بأن معنى الكلمتين -الأشباه والنظائر- واحدٌ -وهو الأمثال- تكون الكلمات من باب المترادف، ويكون عطف النظائر على الأشباه من باب عطف التفسير.
وعلى القول: بأن معنى الأشباه: الأمثال. ومعنى النظائر: الأمثال في كل شيء أو في معظم الأشياء، كما يفهم من كلام ابن منظور، تكون الكلمتان من قبيل العام والخاص، ويكون عطف النظائر على الأشباه من باب عطف الخاص على العام (1).
الأشباه والنظائر اصطلاحًا:عرفها الحسيني (2) بقوله: "المراد بها: المسائل التي يشبه بعضها بعضًا مع اختلافها في الحكم لأمور خفية أدركها الفقهاء بدقة أنظارهم".
وبذلك عرّفها الشيخ عبد الغني النابلسي (3)، وبنحو ذلك عرفها التاجي (4).
والظاهر: أن ذلك تعريف لعلم الفروق بين الفروع، ومما يدل على ذلك ما يلي:
1 - قول الحسيني بعد ذكره للتعريف السابق: "وقد صنفوا لبيانها كتبًا، كفروق المحبوبي والكرابيسي" (5).
--------------------------------------------
একই, আর তা হলো কোনো বস্তুকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা ও প্রত্যক্ষ করা, অতঃপর তা রূপকার্থে ব্যবহৃত হয় এবং এর পরিধি বিস্তৃত হয়
… ...
… । আর এটি সেটির সদৃশ, এই অনুমানের ভিত্তিতে, অর্থাৎ যখন সেটির দিকে এবং তার সদৃশের দিকে তাকানো হয়, তখন তারা সমান হয়।"
সুতরাং এই অভিমত অনুযায়ী যে, শব্দ দুটির (আল-আশবাহ ও আন-নাযায়ির) অর্থ অভিন্ন—আর তা হলো 'সদৃশসমূহ'—তখন শব্দগুলো সমার্থক শব্দের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং 'আল-আশবাহ'-এর ওপর 'আন-নাযায়ির'-এর সংযোজন ব্যাখ্যামূলক সংযোজন হিসেবে গণ্য হবে।
আর এই অভিমত অনুযায়ী যে, 'আশবাহ' অর্থ হলো সদৃশসমূহ, আর 'নাযায়ির' অর্থ হলো সব বিষয়ে বা অধিকাংশ বিষয়ে সদৃশ হওয়া—যেমনটি ইবনে মানজুরের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়—তখন শব্দ দুটি সাধারণ ও বিশেষের পর্যায়ভুক্ত হবে এবং সাধারণের ওপর বিশেষের সংযোজন হিসেবে গণ্য হবে (১)।
পারিভাষিক অর্থে আল-আশবাহ ও আন-নাযায়ির:আল-হুসাইনি (২) এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ সকল মাসআলা, যেগুলোর একটি অপরটির সদৃশ হওয়া সত্ত্বেও সূক্ষ্ম কোনো কারণে সেগুলোর হুকুম বা বিধানে ভিন্নতা রয়েছে, যা ফকিহগণ তাদের গভীর দূরদৃষ্টির মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন।"
অনুরূপভাবে শায়খ আব্দুল গনি আন-নাবলুসি (৩) এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এবং আত-তাজিও (৪) প্রায় একই রকম সংজ্ঞা দিয়েছেন।
প্রকাশ্য বিষয় এই যে, এটি হলো ফিকহের শাখাগত বিষয়গুলোর মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণকারী বিদ্যার (ইলমুল ফুরুক) সংজ্ঞা, আর নিচের বিষয়গুলো এর প্রমাণ বহন করে:
১ - পূর্বোক্ত সংজ্ঞা প্রদানের পর আল-হুসাইনির উক্তি: "আর তারা এগুলো স্পষ্ট করার জন্য বিভিন্ন কিতাব রচনা করেছেন, যেমন আল-মাহবুবি ও আল-কারাবিসির ফুরুক বিষয়ক গ্রন্থসমূহ" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
2 - قول السيوطي (1): "وفي قوله: (فاعمد إِلى أحبها إِلى الله وأشبهها بالحق) إِشارة إِلى أن من النظائر ما يخالف نظائره في الحكم لمدرك خاص به، وهو الفن المسمى بالفروق، الذى يذكر فيه الفرق بين النظائر المتحدة تصويرًا ومعنى، المختلفة حكمًا وعلة".
ومن واقع النظر في كتب الأشباه والنظائر أرى أن التعريف المناسب للاشباه والنظائر هو:
المسائل التي يشبه بعضها بعضًا من ناحية التصوير، وحكمها واحد.
العلاقة بين قواعد الفقه والأشباه والنظائر:إذا أخذنا في تعريف الأشباه والنظائر بتعريف الحسيني فإِنه لا علاقة بين قواعد الفقه والأشباه والنظائر.
وإذ أخذنا بالتعريف الذي ذكرته فإِن العلاقة بين قواعد الفقه والأشباه والنظائر من وجهين:
الأول: عند وضع القاعدة الفقهية التي لم تؤخذ من نص شرعي؛ فإِن القاعدة مستمدة من الأشباه والنظائر.
الثاني: بعد وضع القاعدة الفقهية، وفي تلك الحالة تعتبر الأشباه والنظائر هي مجال تطبيق القاعدة.
هذا: وما عرضت له من بيان العلاقة إِنما هو بالنظر إِلى تعريفهما. أما بالنظر إِلى واقع المؤلفات في علم القواعد، فإِننا نجد أن العلماء أحيانًا يطلقون على علم القواعد علم الأشباه والنظائر ولا يشددون في التفريق بينهما.
--------------------------------------------
২ - সুয়ূতী-র উক্তি (১): "এবং তাঁর কথা: (অতঃপর সেগুলোর মধ্যে যা আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয় এবং হকের অধিক সদৃশ সেটির প্রতি মনোনিবেশ করো) এর মধ্যে ইশারা রয়েছে যে, সদৃশ বিষয়গুলোর (নাজাইর) মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা তার সমজাতীয় বিষয়গুলো থেকে বিধানের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয় কোনো বিশেষ নিরিখের কারণে। আর এটিই হলো সেই বিদ্যা যাকে 'আল-ফুরুক' (পার্থক্যসমূহ) বলা হয়, যেখানে এমন সব সদৃশ বিষয়ের মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা করা হয় যা চিত্রায়ন ও অর্থের দিক থেকে এক হলেও বিধান ও কারণের (ইল্লত) দিক থেকে ভিন্ন।"
আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর (সাদৃশ্য ও সদৃশ বিষয়সমূহ) বিষয়ক গ্রন্থগুলো পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি মনে করি যে, আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইরের উপযুক্ত সংজ্ঞা হলো:
এমন সব মাসআলা যা বাহ্যিক চিত্রায়নের দিক থেকে একে অপরের সদৃশ এবং সেগুলোর বিধান অভিন্ন।
ফিকহি নীতিমালা এবং আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইরের মধ্যকার সম্পর্ক:আমরা যদি আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইরের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে হুসাইনীর সংজ্ঞাটি গ্রহণ করি, তবে ফিকহি নীতিমালা এবং আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইরের মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকে না।
আর যদি আমার উল্লিখিত সংজ্ঞাটি গ্রহণ করি, তবে ফিকহি নীতিমালা এবং আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইরের মধ্যকার সম্পর্ক দুই দিক থেকে:
প্রথমত: যখন এমন কোনো ফিকহি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় যা কোনো শরয়ি টেক্সট (নস) থেকে গৃহীত নয়; তখন সেই নীতিমালাটি আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর থেকেই আহরিত হয়।
দ্বিতীয়ত: ফিকহি নীতিমালা প্রণয়নের পর; সেই অবস্থায় আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইরকে উক্ত নীতিমালার প্রয়োগক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এটি হলো সম্পর্কের স্পষ্টীকরণ যা তাদের সংজ্ঞার আলোকে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে নীতিমালা শাস্ত্রের (ইলমুল কাওয়াইদ) গ্রন্থরাজির বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই যে, আলেমগণ কখনো কখনো নীতিমালা শাস্ত্রকে 'আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর' শাস্ত্র বলে অভিহিত করেন এবং এই দুইয়ের পার্থক্যের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الفصل الثالث أقسام القواعد الفقهيةيمكن أن تقسم القواعد من عدة وجوه.
فمن ناحية شمولها يمكن أن تقسم إِلى الأقسام التالية:
1 - القواعد التي تشمل مسائل كثيرة من أبواب متعددة؛ كالقواعد الخمس وهي: الأمور بمقاصدها، واليقين لا يزال بالشك! والمشقة تجلب التيسير، والضرر يزال، والعادة محكمة. وكقاعدة: الاجتهاد لا ينقض بالاجتهاد.
2 - القواعد التي تشمل مسائل كثيرة، إِلا أنها أقل من سابقتها، كقاعدة (1): الإِيثار في القرب مكروه، وفي غيرها محبوب وقاعدة: إِذا اجتمع أمران من جنس واحد ولم يختلف مقصودهما دخل أحدهما في الآخر غالبًا. وقاعدةَ: الواجب لا يترك إِلا لواجب.
3 - القواعد التي تشمل مسائل قليلة؛ كقاعدة (2): الدفع أقوى من الرفع. وقاعدة: الرضا بالشيء رضا بما يتولد منه. وقاعدة: ما أوجب أعظم الأمرين بخصوصه لا يوجب أهونهما بعمومه.
ومن ناحية الاتفاق عليها وعكسه يمكن أن تقسم إِلى الأقسام التالية:
1 - قواعد متفق عليها بين المذاهب، كالقواعد الخمس.
2 - قواعد متفق عليها في المذهب؛ كالقواعد الأربعين التي ذكرها السيوطي في
--------------------------------------------
তৃতীয় অধ্যায়: ফিকহী মূলনীতিসমূহের প্রকারভেদমূলনীতিসমূহকে বেশ কয়েকটি দিক থেকে বিভক্ত করা যেতে পারে।
ব্যাপকতার দিক থেকে সেগুলোকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যায়:
১ - এমন সব মূলনীতি যা বিভিন্ন অধ্যায়ের অনেক মাসয়ালাকে অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন পাঁচটি মৌলিক মূলনীতি, সেগুলো হলো: প্রতিটি কাজ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল; নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না; কষ্ট সহজসাধ্যতা বয়ে আনে; ক্ষতি দূর করা হবে এবং প্রচলিত প্রথা ফয়সালাকারী হিসেবে গণ্য। তেমনি একটি মূলনীতি হলো: ইজতিহাদ অপর ইজতিহাদের দ্বারা বাতিল হয় না।
২ - এমন সব মূলনীতি যা অনেক মাসয়ালাকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তা পূর্বোক্তগুলোর চেয়ে কম, যেমন মূলনীতি (১): ইবাদতের ক্ষেত্রে অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া অপছন্দনীয় (মাকরূহ), আর অন্যান্য ক্ষেত্রে তা পছন্দনীয়। এবং মূলনীতি: যখন একই জাতীয় দুটি বিষয় একত্রিত হয় এবং তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন না হয়, তখন সাধারণত একটি অন্যটির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এবং মূলনীতি: কোনো ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় বিষয় অন্য কোনো ওয়াজিব ছাড়া বর্জন করা যাবে না।
৩ - এমন সব মূলনীতি যা অল্প কিছু মাসয়ালাকে অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন মূলনীতি (২): প্রতিরোধ করা প্রতিকার করার চেয়ে অধিক শক্তিশালী। এবং মূলনীতি: কোনো বিষয়ের প্রতি সন্তুষ্টি মানে তা থেকে যা উদ্ভূত হয় তার প্রতিও সন্তুষ্টি। এবং মূলনীতি: যা নির্দিষ্টভাবে দুটি বিষয়ের মধ্যে বড়টিকে আবশ্যক করে, তা সাধারণভাবে সেগুলোর ছোটটিকে আবশ্যক করে না।
ঐকমত্য এবং এর বিপরীত দিক থেকে সেগুলোকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ করা যেতে পারে:
১ - মাযহাবসমূহের মধ্যে সর্বসম্মত মূলনীতিসমূহ, যেমন পাঁচটি মৌলিক মূলনীতি।
২ - মাযহাবের অভ্যন্তরে সর্বসম্মত মূলনীতিসমূহ; যেমন সেই চল্লিশটি মূলনীতি যা সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওয়াইদু লিল হুসনি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الكتاب الثاني من كتابه: الأشباه والنظائر.
3 - قواعد مختلف فيها في المذهب، كالقواعد العشرين التي ذكرها السيوطي في الكتاب الثالث من كتابه: الأشباه والنظائر، وهذا القسم من القواعد - غالبًا - يرد بصيغة لاستفهام (1).
ومن ناحية كونها أصلية أو تابعة يمكن أن تقسم إِلى ما يلي:
1 - قواعد أصلية، وهي التي لا تكون تابعة لقاعدة أخرى، وقد يسمى هذا النوع: القواعد الكلية؛ قال الحسيني (2) - عند قول ابن نجيم (القواعد الكلية) -: "المراد بالقواعد الكلية: القواعد التي لم تدخل قاعدة منها تحت قاعدة أخرى، وإن خرج منها بعض الأفراد" (3).
ومثال هذا القسم: القواعد الخمس، والقواعد الأربعون التي ذكرها السيوطي في الكتاب الثاني من كتابه: الأشباه والنظائر.
وفي الجملة فإِن غالب القواعد من هذا القسم.
2 - قواعد تابعة، وهي التي تكون تابعة لقاعدة أخرى، وتكون تبعيتها من أحد وجهين.
الأول: أن تكون متفرعة من قاعد أكبر منها، مثال ذلك القواعد التالية:
أ - الأصل بقاء ما كان عليه.
--------------------------------------------
তাঁর বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ড: আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর।
৩ - মাযহাবের মধ্যে মতভেদপূর্ণ মূলনীতিসমূহ, যেমন সুয়ূতী তাঁর আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডে যে ২০টি মূলনীতির কথা উল্লেখ করেছেন। এই শ্রেণির মূলনীতিগুলো সাধারণত প্রশ্নবোধক বাক্যের আকারে আসে (১)।
এগুলো মৌলিক হওয়া বা অন্য কোনোটির অনুগামী হওয়ার দিক থেকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যেতে পারে:
১ - মৌলিক মূলনীতিসমূহ: এগুলো এমন যা অন্য কোনো মূলনীতির অনুগামী হয় না। এই প্রকারকে কখনও 'সার্বিক মূলনীতি' বলা হয়। হুসাইনী (২) ইবনে নুজাইমের উক্তি 'সার্বিক মূলনীতি' সম্পর্কে বলেন: "সার্বিক মূলনীতি বলতে এমন মূলনীতি বোঝায়, যার কোনো একটিও অন্য কোনো মূলনীতির অধীনে পড়ে না, যদিও এর থেকে কিছু একক বিষয় বাইরে থাকতে পারে" (৩)।
এই শ্রেণির উদাহরণ হলো: পাঁচটি মূলনীতি এবং সুয়ূতী তাঁর আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে যে ৪০টি মূলনীতির কথা উল্লেখ করেছেন।
মোটের উপর, অধিকাংশ মূলনীতিই এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
২ - অনুগামী মূলনীতিসমূহ: এগুলো এমন যা অন্য কোনো মূলনীতির অনুগামী হয়। এর অনুগামী হওয়ার বিষয়টি দুইভাবে হতে পারে।
প্রথমত: এটি তার চেয়ে বড় কোনো মূলনীতি থেকে শাখা হিসেবে নির্গত হওয়া। এর উদাহরণ হলো নিম্নোক্ত মূলনীতিসমূহ:
ক - কোনো বিষয় যে অবস্থায় ছিল, তার উপর বহাল থাকাই হলো মূল নীতি।
--------------------------------------------