(খণ্ড: ১)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: -)
موقف ابن تيمية من الأشاعرة القسم: العقيدة
الكتاب: موقف ابن تيمية من الأشاعرة
تأليف: عبد الرحمن بن صالح بن صالح المحمود
الناشر: مكتبة الرشد - الرياض
الطبعة: الأولى، 1415 هـ / 1995 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আশআরিদের ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়ার অবস্থান বিভাগ: আকীদা
কিতাব: আশআরিদের ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়ার অবস্থান
রচনা: আব্দুর রহমান বিন সালেহ বিন সালেহ আল-মাহমুদ
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৫ হি. / ১৯৯৫ খ্রি.
[কিতাবটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٢)
ـ[موقف ابن تيمية من الأشاعرة]ـ
تأليف: عبد الرحمن بن صالح بن صالح المحمود
الطبعة: الأولى
سنة النشر: 1415 هـ / 1995 م
الناشر: مكتبة الرشد - الرياض
--------------------------------------------
[আশায়েরা সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়ার অবস্থান]
রচনা: আব্দুর রহমান বিন সালিহ বিন সালিহ আল-মাহমুদ
সংস্করণ: প্রথম
প্রকাশকাল: ১৪১৫ হিজরী / ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
أصل هذا الكتاب رسالة دكتوراة تقدم بها المؤلف إلى كلية أصول الدين بجامعة الإمام بن سعود الإسلامية - قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة - وتكونت لجنة المناقشة من:
* الدكتور سالم بن عبد الله الدخيل:مشرفاً
* معالي الشيخ ناصر بن حمد الراشد: عضواً
* فضيلة الشيخ عبد الله بن محمد الغنيمان: عضواً
وذلك بتاريخ 19/5/1409 هـ. وقد نالت الدرجة العالمية الدكتوراة مع مرتبة الشرف الأولى.
এই গ্রন্থটির মূল হলো একটি ডক্টরাল থিসিস যা লেখক ইমাম বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দীন অনুষদের আক্বিদা ও সমকালীন মতবাদ বিভাগে পেশ করেছিলেন। এর মূল্যায়ন কমিটি নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত ছিল:
* ড. সালিম বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাখিল: তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে
* মাননীয় শায়খ নাসির বিন হামাদ আর-রাশিদ: সদস্য হিসেবে
* ফজিলাতুশ শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-গুনাইমান: সদস্য হিসেবে
এটি ১৯/৫/১৪০৯ হিজরি তারিখে সম্পন্ন হয় এবং থিসিসটি প্রথম শ্রেণির সম্মানের সাথে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করে।
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله. وبعد:
فلا شك أن العالم الإسلامي مع بداية هذا القرن- الخامس عشر الهجري - وقبله بقليل، يمر بمرحلة مهمة من تاريخ المسلمين المعاصر، وقد تمثلت هذه المرحلة بشكل واضح في العودة إلى الإسلام والثقة به عقيدة وشريعة، وذلك في خضم العقائد والفلسفات والأنظمة والقوانين السائدة في العالم. ولا شك أن هذه العودة- والصحوة- تبهج وتسر قلب كل مؤمن، وتملؤه فخرا واعتزازا بهذا الدين، الذي حاربه أعداؤه بكل الوسائل والأساليب، ولكن {يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} (الصف:8) .
ولما كان شعار كل مسلم وكل داعية العودة إلى الكتاب والسنة،- وهو ما يتفق على إعلانه الجميع- إلا أن الأمر حين ينتقل إلى التطبيق العملي والتربية المنهجية وتحديد المصادر المفسرة والشارحة لهذين المصدرين- المسلمين- يأخذ أشكالا وسمات متعددة، وكثيرا ما تكون متعارضة، وفي النهاية يتخذ كل واحد منها شكل طائفة أو فرقة أو مذهب فكري محدد. والعجيب أن كلا منهم يدعي أن أصول مذهبه قائمة على الكتاب والسنة، ومن ثم فمن لم يلتزم بأصوله فهو ضال مبتدع.
وهذه المشكلة لا تختص بعصرنا هذا، بل هي مشكلة قديمة نشأت منذ ظهور الفرق والطوائف في أواخر عهد الصحابة- رضي الله عنهم أجمعين- وإلى عهود التابعين ومن جاء بعدهم.
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। অতঃপর:
নিঃসন্দেহে মুসলিম বিশ্ব এই শতাব্দীর শুরুতে—পঞ্চদশ হিজরি শতাব্দী—এবং এর কিছুকাল পূর্ব থেকে সমসাময়িক মুসলিম ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। বিশ্বে প্রচলিত বিভিন্ন আকিদা, দর্শন, ব্যবস্থা ও আইনের ভিড়ে এই পর্যায়টি ইসলামে প্রত্যাবর্তন এবং আকিদা ও শরিয়ত হিসেবে এর ওপর আস্থার মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। নিঃসন্দেহে এই প্রত্যাবর্তন ও জাগরণ প্রত্যেক মুমিনের অন্তরকে আনন্দিত ও প্রফুল্ল করে এবং তাকে এই দ্বীনের প্রতি গর্ব ও মর্যাদাবোধে পরিপূর্ণ করে দেয়, যে দ্বীনের বিরুদ্ধে এর শত্রুরা সর্বপ্রকার উপায় ও পন্থা অবলম্বন করে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু "তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, অথচ আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করবেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে" (আস-সাফ: ৮)।
যেহেতু প্রতিটি মুসলিম ও প্রতিটি আহ্বায়কের স্লোগান হলো কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন—যা ঘোষণা করার ব্যাপারে সকলেই একমত—তবে বিষয়টি যখন বাস্তব প্রয়োগ, পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ এবং এই দুই মুসলিম উম্মাহর মূল উৎসের ব্যাখ্যাকারী ও বিশ্লেষণকারী উৎসসমূহ নির্ধারণের পর্যায়ে আসে, তখন তা বিভিন্ন রূপ ও বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা পরস্পরবিরোধী হয়ে থাকে। পরিশেষে এগুলোর প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট দল, উপদল বা নির্দিষ্ট চিন্তাধারার রূপ পরিগ্রহ করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের প্রত্যেকেই দাবি করে যে তাদের মতাদর্শের মূলনীতি কিতাব ও সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত, ফলে যারা তাদের মূলনীতি অনুসরণ করে না, তারা পথভ্রষ্ট ও বিদআতি।
আর এই সমস্যাটি কেবল আমাদের এই যুগের জন্য নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি একটি প্রাচীন সমস্যা যা সাহাবায়ে কেরামের—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—যুগের শেষভাগ থেকে ফিরকা ও দলসমূহের আবির্ভাবের সময় হতে শুরু করে তাবেয়ি ও তাঁদের পরবর্তী যুগসমূহ পর্যন্ত চলে আসছে।
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
وفي العصر الحاضر نشأت إضافة إلى الفرق والطوائف القديمة- تيارات فكرية متعددة، ومذاهب وفلسفات متباينة، ومن ثم أصبح تحديد المنطلق والمنهج والأصول أكثر إلحاحا وأشد حاجة من ذي قبل، خاصة مع كثرة التدليس والتلبيس، ومحاولة إخضاع الأصول والنصوص الإسلامية لتوافق كثيرا من النظريات والمذاهب السائدة أو التى يريد لها أعداء الاسلام أن تسود.
وأخطر ما يواجه مسيرة المسلمين اليوم- إذا صرف النظر عن التيارات الإلحادية الصريحة، والمذاهب الباطنية، وما شابهها مما هو صريح في إلحاده وبعده عن حقيقة الإسلام- تياران كبيران:
أحدها: تيار القوميين والعلمانيين، الذين لا يرفضون الإسلام صراحة، ولكنهم يجعلونه ضمن دائرة خاصة لا يتعداها، وذلك بجعله جزءا من التراث- كما يسمونهـ بحيث يشمل كل الفلسفات والأفكار والتقاليد والمناهج والنظم- سواء وجدت قبل الإسلام أو بعده، وسواء كانت موافقة لأصول الإسلام أو مخالفة، ما دام يدخل ضمن دائرة تراث هذه الأمة التي ينتسبون إليها. وهؤلاء ينظرون إلى الاسلام نظرة إكبار وإعزاز لا لأنه دين الله الذي لا يقبل من أحد سواه، وبه النجاة من عذابه يوم القيامة، وإنما لأنه أحد معطيات تراث الأمة القومي. ومن هؤلاء من يريد حصر الإسلام في جانب ضيق من حياة الإنسان، بحيث يبقى ضمن نطاق محدود من إقامة الشعائر التعبدية، والأحوال الشخصية، والالتزام الفردي بأخلاقياته ومحاسن آدبه، أما نواحي الحياة المختلفة فالأمر فيها متروك للأمة أن تستفيد من النظم والقوانين المختلفة، ومناهج التربية المتعددة، من الشرق أو الغرب ولو كانت مخالفة للاسلام وهذا ما يتبناه العلمانيون وأضرابهم.
وهذا التيار غالبا ما يحمل أفراده أفكارا وفلسفات غريبة وفاسدة لها تصورها الخاص ومنطلقاته العقدية التي تغلب جانب العقل وتعلي من شأنه، وغالبا ما تكون لها جذور فلسفية أو كلامية سابقة تنطلق منها، أو تستفيد من آثارها وكتبها.
والذي يميز هؤلاء عداؤهم للسلف أهل السنة والجماعة، ومن يدعو إلى العودة إلى عقيدتهم ومنهجهم، ووصمهم لهم بعبارات الاحتقار والازدراء وقلة
বর্তমান যুগে প্রাচীন দল ও উপদলসমূহের পাশাপাশি বহুবিধ বুদ্ধিবৃত্তিক ধারা এবং ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ ও দর্শনের উদ্ভব হয়েছে। ফলশ্রুতিতে, যাত্রাবিন্দু, কর্মপন্থা এবং মূলনীতিসমূহ নির্ধারণ করা আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি ও অতীব প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে; বিশেষ করে প্রতারণা ও বিভ্রান্তির আধিক্য এবং ইসলামের মূলনীতি ও দলিলসমূহকে প্রচলিত বহু তত্ত্ব ও মতবাদের অনুগত করার প্রচেষ্টার কারণে, যা ইসলামের শত্রুরা আধিপত্য বিস্তার করাতে চায়।
বর্তমান সময়ে মুসলিমদের অগ্রযাত্রার সামনে যা সবচেয়ে বিপজ্জনক—যদি প্রকাশ্য নাস্তিক্যবাদী ধারা, বাতেনি মতবাদ এবং এজাতীয় বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয় যা স্পষ্ট নাস্তিকতা ও ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরবর্তী—তা হলো দুটি বড় ধারা:
এর একটি হলো: জাতীয়তাবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ধারা। এরা ইসলামকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে না, তবে তারা একে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেয় যা সে অতিক্রম করতে পারে না। আর তা হলো তারা ইসলামকে তাদের ভাষায় 'ঐতিহ্যের' একটি অংশ হিসেবে গণ্য করে—যাতে সকল দর্শন, চিন্তা, প্রথা, পদ্ধতি ও ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকে—তা ইসলামের আগের হোক বা পরের, এবং ইসলামের মূলনীতির অনুকূল হোক বা প্রতিকূল—যতক্ষণ তা এই উম্মতের ঐতিহ্যের গণ্ডিতে প্রবেশ করছে যাদের সাথে তারা নিজেদের সম্পৃক্ত করে। এরা ইসলামের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে তাকায় এই কারণে নয় যে এটি আল্লাহর দীন যা ছাড়া অন্য কিছু কারো নিকট থেকে কবুল করা হবে না এবং যার মাধ্যমেই কিয়ামতের দিন তাঁর আজাব থেকে মুক্তি মিলবে; বরং এই কারণে যে এটি উম্মতের জাতীয় ঐতিহ্যের অন্যতম একটি উপাদান। এদের মধ্যে কেউ কেউ মানুষের জীবনের একটি সংকীর্ণ পরিসরে ইসলামকে সীমাবদ্ধ করতে চায়, যাতে তা ইবাদতের রসম-রেওয়াজ, ব্যক্তিগত অবস্থা এবং ব্যক্তিগতভাবে নৈতিকতা ও শিষ্টাচার পালনের একটি সীমিত গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকে। আর জীবনের অন্যান্য বিভিন্ন দিকের ক্ষেত্রে বিষয়টি উম্মতের ইচ্ছাধীন রাখা হয়েছে যাতে তারা প্রাচ্য বা প্রতীচ্যের বিভিন্ন ব্যবস্থা, আইন ও শিক্ষা পদ্ধতি থেকে উপকৃত হতে পারে, যদিও তা ইসলামের বিরোধী হয়। এটিই ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও তাদের সমমনাদের অনুসৃত পথ।
এই ধারার ব্যক্তিরা প্রায়ই বিজাতীয় ও ভ্রান্ত চিন্তা ও দর্শন লালন করে, যার রয়েছে নিজস্ব ধ্যান-ধারণা এবং আকিদাগত যাত্রাবিন্দু। এগুলো বিবেকের দিকটিকে প্রাধান্য দেয় এবং এর মর্যাদাকে উচ্চে তুলে ধরে। প্রায়ই এগুলোর পূর্ববর্তী কোনো দার্শনিক বা কালামশাস্ত্রীয় ভিত্তি থাকে যেখান থেকে এর উদ্ভব ঘটে অথবা সেগুলোর প্রভাব ও কিতাবাদি থেকে তারা উপকৃত হয়।
যা এদেরকে আলাদা করে চিহ্নিত করে তা হলো সালাফে সালেহীন ও আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের প্রতি তাদের শত্রুতা এবং যারা তাঁদের আকিদা ও মানহাজের দিকে ফিরে আসার দাওয়াত দেয় তাদের প্রতি বিদ্বেষ। তারা এদেরকে অবজ্ঞা, তুচ্ছতাচ্ছিল্য এবং জ্ঞানের স্বল্পতার তকমা দিয়ে থাকে।
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
الفهم والعقل، والتخلف والتعقيد.
والتيار الثاني: تيار أهل البدع من أهل الاعتزال والكلام والتصوف، وهم امتداد واضح وقوي لمن سبقهم من هذه الطوائف! وغيرها، ويقومون بجهود عظيمة في الدعوة إلى مذاهبهم، ونشر كتبهم، وإقناع الناس ممن حولهم، أو يسمع كلامهم بأن ما عندهم هو الحق وأن هذا اعتقاد كبار الشيوخ سلفا وخلفا. ويغضون من شأن الدعاة إلى مذهب السلف ويرمونهم بشتى التهم التى تنفر الناس منهم.
وأخطر ما يمثل هذا التيار: الأشعرية والصوفية، حيث إن لهما امتدادا عريضا في أماكن مختلفة من العالم الإسلامي، وساعد على ذلك أمور من أهمها:
1- تبني كثير من الجامعات والمراجع العلمية للمذهب الأشعري- أو الماتريدي - على أنه المذهب الحق الذي يجب أن يكون ضمن مناهج التعليم.
2- استمرار تبني هذا المذهب من خلال دروس المشايخ- في بعض البلاد منذ قرون مضت، وربطه في الغالب بالمذاهب الفقهية المشهورة، بحيث أصبح أمرا معهودا، وطريقة مسلمة (1) .
3- وفرة الكتب والمراجع المخطوطة والمطبوعة التى تخدم هذا المذهب، والتي نشرت وطبعت بتحقيق وبدون تحقيق.
4- الترابط- أو الامتزاج- الذي وقع بين المذهب الصوفي والأشعري، مما جعل الطرق الصوفية المختلفة تجعل العقيدة الأشعرية عقيدتها المفضلة. والتصوف وطرقه منتشر في غالب بلاد العالم الاسلامي، ولهم أنشطة واضحة ومتعددة.
ولكن هذه التيارات بإمكاناتها الكبيرة وجهودها المتواصلة يقابلها تيار قوي، منتشر في أنحاء العالم الإسلامي يتبنى عقيدة السلف ومنهجهم في الاستدلال،
--------------------------------------------
উপলব্ধি ও বুদ্ধি, এবং পশ্চাৎপদতা ও জটিলতা।
এবং দ্বিতীয় ধারা: মুতাযিলা, ইলমুল কালাম এবং তাসাউউফপন্থীদের মধ্য থেকে বিদআতীদের ধারা। তারা তাদের পূর্ববর্তী এই ফিরকাগুলো এবং অন্যদের একটি স্পষ্ট ও শক্তিশালী সম্প্রসারণ। তারা তাদের মাযহাবের দাওয়াত প্রদান, তাদের কিতাবসমূহ প্রচার এবং তাদের আশেপাশের মানুষ অথবা যারা তাদের কথা শুনে তাদের এই বিষয়ে আশ্বস্ত করতে বিশাল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যে, তাদের কাছে যা আছে সেটিই সত্য এবং এটিই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বড় বড় শায়খদের আকিদা। তারা সালাফদের মাযহাবের দিকে আহ্বানকারীদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে এবং তাদের ওপর নানা ধরণের অপবাদ আরোপ করে, যা মানুষকে তাদের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
এই ধারার সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রতিনিধিত্ব করছে: আশআরিয়া এবং সুফিবাদ, কারণ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তাদের ব্যাপক বিস্তার রয়েছে। এর পেছনে কতগুলো বিষয় সাহায্য করেছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
১- অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইলমি তথ্যসূত্রে আশআরি মাযহাব—অথবা মাতুরিদি মাযহাবকে—একটি সত্য মাযহাব হিসেবে গ্রহণ করা যা শিক্ষা কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক।
২- কয়েক শতাব্দী ধরে কিছু দেশে শায়খদের পাঠদানের মাধ্যমে এই মাযহাব গ্রহণ করার ধারা অব্যাহত থাকা এবং এটিকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ ফিকহি মাযহাবগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট করে ফেলা, যার ফলে এটি একটি পরিচিত বিষয় এবং স্বীকৃত পদ্ধতিতে (১) পরিণত হয়েছে।
৩- এই মাযহাবের খিদমত করে এমন পাণ্ডুলিপি এবং মুদ্রিত বই ও তথ্যসূত্রের প্রাচুর্য, যা তাহকিকসহ এবং তাহকিক ছাড়াই প্রকাশিত ও মুদ্রিত হয়েছে।
৪- সুফি এবং আশআরি মাযহাবের মধ্যে যে যোগসূত্র—বা সংমিশ্রণ—ঘটেছে, যার ফলে বিভিন্ন সুফি ত্বরিকা আশআরি আকিদাকে তাদের পছন্দনীয় আকিদায় পরিণত করেছে। মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশে তাসাউউফ এবং এর ত্বরিকাগুলো ছড়িয়ে আছে এবং তাদের স্পষ্ট ও বহুমুখী কার্যক্রম রয়েছে।
কিন্তু এই ধারাগুলোর বিশাল সক্ষমতা এবং নিরন্তর প্রচেষ্টার বিপরীতে একটি শক্তিশালী ধারা বিদ্যমান, যা মুসলিম বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে এবং সালাফদের আকিদা ও দলীল পেশ করার ক্ষেত্রে তাদের মানহাজকে গ্রহণ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
ويدعو إلى العودة إلى ما كان عليه الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه، ولديه ثقة مطلقة بأنه لا عزة للمسلمين ولا رفعة ولا مكانة ولا نجاة من عذاب الله إلا بالرجوع إلى هذا الدين عقيدة وشريعة ومنهاج حياة، ويقومون بما يجب عليهم من الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر والرد على أهل الانحراف والإلحاد سواء من أصحاب الأفكار الغربية المستوردة، أو من أهل البدع والكلام والأهواء، كما يقومون بجهود مشكورة في الدعوة إلى مذهب السلف بالوسائل المختلفة، ونشر الكتب التي تخدم هذا المذهب وتوضحه، وتحقيق ما كان مخطوطا منها، والقيام بالدراسات المختلفة التي تختص بدراسة مسائل أو جوانب محددة تبين فيها وجه الحق وترد على أهل الباطل.
وقد كان للأقسام الشرعية في جامعات هذه البلاد جهود مشكورة في هذا المجال، خاصة في البحوث التي يقوم بها الدارسون للحصول على الدرجات العلمية والتي تشمل تحقيق الخطوطات، ودراسة الموضوعات. ونسأل الله تعالى أن ييارك في هذه الجهود وأن يرزقنا جميعا الإخلاص في الأقوال والأعمال.
ولما كنت قد حصلت على درجة الماجستير من قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة في كلية أصول الدين بالرياض، رغبت في تسجيل بحث آخر للدكتوراه، فهداني الله إلى اختيار موضوع "موقف ابن تيمية من الأشاعرة"، وترجع أهمية هذا الموضوع إلى عدة أمور منها:
1- أن هناك خلطا في تحديد مذهب السلف، أهل السنة والجماعة، ومجمل اعتقادهم الذي يميزهم عن غيرهم من أهل البدع والأهواء. ومن المعلوم أن مذهب الأشاعرة قد اشتهر بين كثير من الناس على أنه هو مذهب أهل السنة والجماعة، وأن اعتقادهم يمثل اعتقاد السلف، ومن المؤسف أن هذا المفهوم سائد إلى الآن في كثير من البلاد الإسلامية (1) .
ومن أبرز العلماء الذين عملوا- بشكل قوي ومركز وشامل- على بيان
--------------------------------------------
এবং এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর ছিলেন, তার দিকে ফিরে যাওয়ার দাওয়াত দেয়। আর এটি পূর্ণ বিশ্বাস রাখে যে, আকিদাহ, শরিয়ত ও জীবনবিধান হিসেবে এই দ্বীনের দিকে প্রত্যাবর্তন ছাড়া মুসলমানদের কোনো সম্মান, উচ্চমর্যাদা, অবস্থান কিংবা আল্লাহর আজাব থেকে মুক্তি নেই। এবং তারা সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের যে দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পিত তা পালন করে, এবং বিচ্যুতি ও নাস্তিকতার অনুসারীদের রদ (খণ্ডন) করে—চাই তারা আমদানিকৃত পাশ্চাত্য চিন্তাধারার অনুসারী হোক কিংবা বিদআত, কালামশাস্ত্র ও প্রবৃত্তির অনুসারী হোক। একইভাবে তারা বিভিন্ন উপায়ে সালাফে সালেহীনের মাযহাবের দাওয়াত প্রদান, এই মাযহাবের সেবা ও স্পষ্টীকরণে সহায়ক বইসমূহ প্রকাশ করা, পাণ্ডুলিপিগুলো তাহকীক করা এবং নির্দিষ্ট মাসআলা বা দিকগুলো নিয়ে বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজ করার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে সত্যের দিকটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে এবং বাতিলপন্থীদের খণ্ডন করা হয়।
এই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শারঈ বিভাগগুলো এই ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালিয়েছে, বিশেষ করে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে গবেষকদের করা গবেষণার মাধ্যমে, যার মধ্যে পাণ্ডুলিপি তাহকীক এবং বিষয়ভিত্তিক গবেষণা অন্তর্ভুক্ত। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই প্রচেষ্টাসমূহে বরকত দান করেন এবং আমাদের সকলকে কথা ও কাজে ইখলাস নসিব করেন।
যেহেতু আমি রিয়াদের কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দীন (ধর্মতত্ত্ব অনুষদ)-এর আকিদাহ ও সমকালীন মতবাদ বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছি, তাই আমি পিএইচডির জন্য অন্য একটি গবেষণা নিবন্ধ নিবন্ধিত করতে ইচ্ছুক ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আমাকে "আশআরিদের ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়্যাহর অবস্থান" বিষয়টি বেছে নেওয়ার তাওফিক দান করেন। এই বিষয়টির গুরুত্বের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১- সালাফে সালেহীন তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব এবং তাদের সামগ্রিক আকিদাহ নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি বিভ্রান্তি রয়ে গেছে, যা তাদেরকে বিদআত ও প্রবৃত্তিপূজারীদের থেকে পৃথক করে। আর এটি সুবিদিত যে, অনেক মানুষের কাছে আশআরি মাযহাবই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং তাদের আকিদাহকেই সালাফদের আকিদাহ মনে করা হয়। পরিতাপের বিষয় হলো, এই ধারণাটি এখনো অনেক মুসলিম দেশে প্রচলিত রয়েছে (১)।
আর সেই সকল প্রখ্যাত আলেমদের মধ্যে যারা অত্যন্ত শক্তিশালী, সুসংহত ও ব্যাপকভাবে বর্ণনা করার কাজ করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
الحق في ذلك وتمييز مذهب السلف عما يدعيه هؤلاء: شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى- (1) -.
2- أن مذهب الأشاعرة قد انتشر في العالم الإسلامي، قبل ابن تيمية (2) ، وقد حدثت له عدة تطورات قربته كثيرا من المعتزلة والفلاسفة والمتصوفة، ولم يأت عهد ابن تيمية إلا وقد بلغ أوجه في التطور والانتشار بعد الجهود الكبيرة التي قام بها علماء كبار من هذا المذهب كالغزالي والرازي وغيرهما، فلما جاء شيخ الإسلام ابن تيمية بعد ذلك ممثلا لمذهب السلف ومدافعا عنه ورادا على هؤلاء، تميز عهده بأمرين:-
أحدهما: بروزه على أنه أول من تصدى بقوة للمذهب الأشعري- خاصة بعد تطوره الأخير- ولذلك يقول المقريزي- بعد عرضه لنشأة المذهب الأشعري وانتشاره على يد بعض العلماء والسلاطين: " فكان هذا هو السبب في اشتهار مذهب الأشعري وانتشاره في أمصار الاسلام، بحيث نسي غيره من المذاهب وجهل، حتى لم يبق اليوم مذهب يخالفه إلا أن يكون مذهب الحنابلة- أتباع الامام أبي عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل- رضي الله عنه، فإنهم كانوا على ما كان عليه السلف لا يرون تأويل ما ورد من الصفات- إلى أن كان بعد السبعمائة من سني الهجرة اشتهر بدمشق وأعمالها تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام ابن تيمية الحراني، فتصدى للانتصار لمذهب السلف، وبالغ في الرد على مذهب الأشاعرة، وصدع بالنكير عليهم وعلى الرافضة وعلى الصوفية (3) . ولا شك أنه كانت لعلماء السلف في كل زمن جهود مشكورة في الدفاع عن عقيدة السلف والرد على خصومها،
--------------------------------------------
এই বিষয়ে সত্য এবং সালাফদের মাযহাবকে এই ব্যক্তিদের দাবি থেকে পৃথককারী হলেন: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ -রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা- (১) -।
২- আশআরী মাযহাব ইবনে তাইমিয়্যার (২) পূর্বেই ইসলামি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং এতে বেশ কিছু পরিবর্তন ঘটেছিল যা একে মুতাজিলা, দার্শনিক ও সুফীদের অনেক নিকটে নিয়ে গিয়েছিল। ইবনে তাইমিয়্যার যুগ আসার আগেই গাযালী, রাযী এবং এই মাযহাবের অন্যান্য বড় বড় আলেমদের ব্যাপক প্রচেষ্টায় এটি তার বিকাশ ও প্রসারের শিখরে পৌঁছে গিয়েছিল। এরপর যখন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ সালাফদের মাযহাবের প্রতিনিধি, তার রক্ষক এবং এদের প্রতিবাদকারী হিসেবে আবির্ভূত হলেন, তখন তার যুগটি দুটি বৈশিষ্ট্য দ্বারা স্বতন্ত্র হয়ে উঠল:-
প্রথমত: প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আশআরী মাযহাবের—বিশেষ করে এর শেষ পর্যায়ের বিকাশের পর—কঠোরভাবে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে তার আত্মপ্রকাশ। এজন্য মাকরিজি—কিছু আলেম ও সুলতানদের মাধ্যমে আশআরী মাযহাবের উদ্ভব ও প্রসারের বর্ণনা দেওয়ার পর—বলেন: "ইসলামি নগরীগুলোতে আশআরী মাযহাবের প্রসিদ্ধি ও প্রসারের কারণ ছিল এটিই, যার ফলে অন্যান্য মাযহাব বিস্মৃত ও অজ্ঞাত হয়ে যায়। এমনকি আজ এমন কোনো মাযহাব অবশিষ্ট নেই যা এর বিরোধিতা করে, কেবল ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর অনুসারী হাম্বলি মাযহাব ছাড়া। কেননা তারা সালাফদের আদর্শের ওপর অটল ছিলেন এবং বর্ণিত গুণাবলির অপব্যাখ্যা (তাবিল) করতেন না—হিজরি সাতশত সালের পর দামেস্ক ও তার আশপাশের অঞ্চলে তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহ হাররানি প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি সালাফদের মাযহাবকে বিজয়ী করতে সচেষ্ট হন, আশআরী মাযহাবের খণ্ডনে চরম তৎপরতা দেখান এবং তাদের বিরুদ্ধে, রাফেজিদের বিরুদ্ধে ও সুফীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন (৩)। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রত্যেক যুগে সালাফী আলেমদের সালাফদের আকিদা রক্ষা এবং বিরোধীদের খণ্ডনে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ছিল,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ولكن ما قام به شيخ الإسلام كان من القوة والتأثير بحيث أصبح يمثل مرحلة بارزة من مراحل كل من مذهب الأشاعرة ومذهب السلف أيضا.
والثاني: أن مجيئه في وقت متأخر- حيث ولد سنة 661 هـ وتوفي سنة 728 هـ- وفر له وسائل الاطلاع على ما انتهى إليه هؤلاء الأشاعرة في شرح مذهبهم، والاستدلال له والرد على خصومه، ومن ثم تميزت ردود شيخ الإسلام ومناقشاته لهم بالقوة والعمق والشمول، وكشف خبايا هذا المذهب وتناقضاته، وتسجيل اعترافات شيوخه وردود بعضهم على بعض. ولا شك ان هذه الأمور لها أثر كبير في بيان فساد أقوال الخصوم وتهافت أدلتهم.
ومذهب الأشاعرة لا يزال موجودا ومنتشرا- معتمدا على الأصول التي انتهى إليها المذهب الأشعري قبيل عهد ابن تيمية- ولم يحدث له تطور آخر، وإنما بقى معتمدا على من سبقه، ومن ثم فالرد عليه وبيان ما فيه من مخالفة لمذهب السلف لابد أن يكون معتمدا على ما كتبه شيخ الإسلام ابن تيمية. وهذا واقع الحال، فقلما يتصدى أحد للرد على المعتزلة أو الأشاعرة أو المتصوفة أو الرافضة أو غيرهم إلا ويكون جل اعتماده في ذلك- بعد الكتاب والسنة وأقوال السلف- على ردود ومناقشات هذا الإمام العظيم.
3- أن شيخ الإسلام ابن تيمية كان صاحب منهج واضح ومحدد، سار فيه على وتيرة واحدة في جميع كتبه، لم تتغير طريقته، ولم تتناقض أقواله، مع كثرة كتبه، وطولها، وتشعب مسائلها، كا أن قناعته بمذهب السلف، وأن الحق كل الحق فيه، وأن ما عداه من الآراء والأقوال المبتدعة إما ضلال أو انحراف، أو في مذهب السلف ما يغني عنه تمام الغنى- لم تتغير أو تضعف. ولذلك كانت هناك أهمية خاصة لما كتبه في بيان عقيدة السلف والمنهج الصحيح في تقريرها، وكذلك ما كتبه في الرد على مخالفي عقيدة أهل السنة والجماعة والمنهج الصحيح لذلك.
4- وأخيرا فمما يلاحظ أن ردود شيخ الإسلام على كثير من الطوائف التي كانت أشد انحرافا من الأشاعرة، كالفلاسفة، وغلاة الصوفية، والمعتزلة،
কিন্তু শাইখুল ইসলাম যা উপস্থাপন করেছেন তা এতোটাই শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ছিল যে, তা আশআরি মাযহাব ও সালাফদের মাযহাব—উভয় ক্ষেত্রেই এক উল্লেখযোগ্য পর্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করতে শুরু করেছে।
দ্বিতীয়ত: তাঁর পরবর্তী সময়ে আগমন—যেহেতু তিনি ৬৬১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন—তাঁকে সেইসব উপায়-উপকরণ সরবরাহ করেছিল যার মাধ্যমে তিনি আশআরিদের তাদের মাযহাবের ব্যাখ্যা, তার সপক্ষে দলিল প্রদান এবং বিরোধীদের খণ্ডন করার চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে অবগত হতে পেরেছিলেন। ফলে শাইখুল ইসলামের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি প্রদত্ত উত্তর ও আলোচনাগুলো শক্তি, গভীরতা ও ব্যাপকতায় স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছে এবং এই মাযহাবের গোপন বিষয় ও অসংগতিগুলো উন্মোচন করেছে, আর তাদের শাইখদের স্বীকারোক্তি এবং একে অপরের প্রতি প্রদত্ত উত্তরগুলো নথিভুক্ত করেছে। নিঃসন্দেহে বিরোধীদের বক্তব্যের অসারতা এবং তাদের দলিলের দুর্বলতা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে।
আশআরি মাযহাব এখনও বিদ্যমান এবং বিস্তৃত—যা ইবনে তাইমিয়্যাহর যুগের ঠিক পূর্বের আশআরি মাযহাবের নির্ধারিত মূলনীতির ওপর নির্ভরশীল—এবং এতে আর কোনো নতুন বিবর্তন ঘটেনি, বরং এটি তার পূর্বসূরিদের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে আছে। তাই এর খণ্ডন করা এবং সালাফদের মাযহাবের সাথে এর যে বৈপরীত্য রয়েছে তা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ যা লিখেছেন তার ওপর নির্ভর করা অপরিহার্য। আর বাস্তব অবস্থা এটাই যে, খুব কম মানুষই মুতাজিলা, আশআরি, সুফি, রাফেজি বা অন্যদের খণ্ডন করার জন্য দাঁড়ান যাদের মূল নির্ভরতা—কুরআন, সুন্নাহ ও সালাফদের বাণীর পর—এই মহান ইমামের উত্তর ও আলোচনার ওপর হয় না।
৩- শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ একটি স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট মানহাজের অধিকারী ছিলেন, যা তিনি তাঁর সকল কিতাবে একইভাবে অনুসরণ করেছেন। তাঁর অসংখ্য কিতাব, সেগুলোর দীর্ঘতা এবং মাসআলাগুলোর শাখা-প্রশাখা থাকা সত্ত্বেও তাঁর পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়নি এবং তাঁর বক্তব্যের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়নি। তেমনিভাবে সালাফদের মাযহাবের প্রতি তাঁর যে দৃঢ় বিশ্বাস ছিল—যে সত্য এবং পূর্ণ সত্য কেবল এর মধ্যেই নিহিত এবং এর বাইরে যত নব উদ্ভাবিত মতামত ও বক্তব্য রয়েছে তা হয় গোমরাহি নতুবা বিচ্যুতি, অথবা সালাফদের মাযহাবের মধ্যেই এমন বিষয় রয়েছে যা সেগুলো থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী করে দেয়—তা কখনও পরিবর্তিত বা দুর্বল হয়নি। আর একারণেই সালাফদের আকিদাহ বর্ণনা এবং তা সাব্যস্ত করার সঠিক মানহাজ সম্পর্কে তিনি যা লিখেছেন তার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে; একইভাবে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহর বিরোধীদের খণ্ডনে এবং তার সঠিক মানহাজ বর্ণনায় তিনি যা লিখেছেন তারও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
৪- পরিশেষে এটি লক্ষ্যণীয় যে, শাইখুল ইসলামের খণ্ডন সেই সকল দল-উপদলের প্রতিও ছিল যারা আশআরিদের চেয়েও বেশি বিচ্যুত ছিল, যেমন: দার্শনিক, চরমপন্থী সুফি ও মুতাজিলা;
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
والجهمية، وغيرهم- لم تكن مقصودة لذاتها، لأن أصحابها كانوا قلة وكان المجتمع الاسلامى رافضا لها ولأفكارها، فلما تغلغلت آراء وأقوال هذه الطوائف عن طريق إدخالها في المذهب الأشعري، وتبني بعض أعلام الأشاعرة لها، صار خطرها يتهدد عامة المسلمين الذين كانوا يثقون في كثير من هؤلاء الشيوخ لأنهم علماء الأمة وفقهاؤها وقضاتها. فلما رأى شيخ الإسلام ذلك شمر للرد عليهم جميعا وعرض لفساد الأصول التى ترجع إليها هذه الأقوال وزيفها، وأطال في نقضها. وما كان شيخ الإسلام ليشغل نفسه بالرد على الفلاسفة مثلا لولا أن كثيرا من أصولهم صارت جزءا من كتب أهل الكلام، يعتمدون عليها، ويشرحونها في كتببهم، ويبنون عليها كثيرا من أدلتهم، حتى أصبحت هذه الأصول هي الأصل، وما جاء به الكتاب والسنة وأقوال السلف فرعأ لا حجة فيه ولاقيمة له إلا في حدود ضيقة.
فهذه الأمور وغيرها تبين أهمية بحث موقف! ابن تيمية من الأشاعرة، ولا شك أن البحوث حول كل من ابن تيمية وجهوده العلمية المختلفة (1) ، وحول الأشاعرة وأعلامهم وعقائدهم (2) - كثيرة جدا، كما أن لعلمائنا الأفاضل
--------------------------------------------
এবং জাহমিয়া ও অন্যদের মতাদর্শগুলো স্বতন্ত্রভাবে লক্ষ্যবস্তু ছিল না, কারণ তাদের অনুসারীরা সংখ্যায় অল্প ছিল এবং ইসলামি সমাজ তাদের ও তাদের চিন্তাধারার প্রতি বিমুখ ছিল। কিন্তু যখন এই দলগুলোর মতামত ও বক্তব্য আশআরি মাজহাবের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে অনুপ্রবেশ করল এবং আশআরিদের কিছু বরেণ্য আলেম তা গ্রহণ করলেন, তখন এর বিপদ সাধারণ মুসলিমদের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াল, যারা এই শাইখদের অনেকের ওপর আস্থা রাখতেন; কারণ তাঁরা ছিলেন উম্মতের আলেম, ফকিহ এবং বিচারক। শাইখুল ইসলাম যখন তা দেখলেন, তখন তিনি তাদের সবার জবাব দেওয়ার জন্য কোমর বেঁধে নামলেন এবং যেসব মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে এই বক্তব্যগুলো উপস্থাপিত হয়েছিল, সেগুলোর অসারতা ও ভ্রান্তি উন্মোচন করলেন এবং সেগুলো খণ্ডনে দীর্ঘ আলোচনা করলেন। শাইখুল ইসলাম হয়তো দার্শনিকদের জবাব দিতে নিজেকে নিয়োজিত করতেন না, যদি না তাদের অনেক মূলনীতি ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের বইয়ের অংশ হয়ে যেত—যাদের ওপর তারা নির্ভর করতেন, তাদের বইগুলোতে ব্যাখ্যা করতেন এবং তাদের অনেক দলিলের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতেন—এমনকি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে এই মূলনীতিগুলোই মূলে পরিণত হয়েছিল, আর কিতাব, সুন্নাহ ও সালাফদের বক্তব্য এমন এক শাখায় পরিণত হয়েছিল যার কোনো দলিল বা গুরুত্ব ছিল না, কেবল সংকীর্ণ পরিসর ছাড়া।
এই বিষয়গুলো এবং অন্যান্য দিকগুলো আশআরিদের প্রতি ইবনে তাইমিয়্যাহর অবস্থানের গবেষণার গুরুত্ব স্পষ্ট করে দেয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর বিভিন্ন ইলমি প্রচেষ্টা (১), এবং আশআরি, তাঁদের বরেণ্য ব্যক্তিগণ ও তাঁদের আকিদা (২) সংক্রান্ত গবেষণা অত্যন্ত ব্যাপক। পাশাপাশি আমাদের সম্মানিত আলেমদের...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
ردود متنوعة على الأشاعرة وبيان ما خالفوا فيه مذهب السلف (1) .
وهذا البحث الذي أقدمه اليوم- على ضعف مني وقلة حصيلة وقصر باع إنما هو محاولة لبيان الحق في هذه المسألة العظيمة من خلال ما كتبه شيخ الاسلام ابن تيمية-رحمه الله تعالى--.
وقد اشتملت خطة البحث- بعد المقدمة العامة- على تمهيد وبابين وخاتمة.
أما التمهيد: فقد كان بعنوان: السلف ومنهجهم في العقيدة، وقد اشتمل على التعريف بالسلف وأهل السنة والجماعة، ثم بيان نشأة التسمية بهذا الاسم، ثم شرح منهجهم في العقيدة والاستدلال لها. وقد جاء هذا التمهيد مفصلا بعض الشيء لأن كلا من الأشاعرة وابن تيمية ينسب مذهبه إلى مذهب السلف، فكان لابد من ذكر مذهب السلف من مصادره ليتبين عند المقارنة من الذى كان سائرا على مذهب السلف ومن الذي انحرف عنه.
وأما الباب الأول: فكان موضوعه: ابن تيمية والأشاعرة، وقد اشتمل على عدة فصول:
الفصل الأول: عن حياة ابن تيمية، وقد اشتمل على مبحثين:
المبحث الأول: عصر ابن تيمية وقد عُرضت فيه لبعض القضايا والأحداث التي حفل بها هذا العصر المليء بالاضطرابات، مثل الغزو الصليبي للعالم الإسلامي، وظهور التتار وسقوط الخلافة العباسية في بغداد، وقيام دولة المماليك،
--------------------------------------------
আশআরীদের খণ্ডনে বিবিধ জবাব এবং তারা যে সকল বিষয়ে সালাফদের মাযহাবের বিরোধিতা করেছে তার বর্ণনা (১) ।
আমি আজ যে গবেষণাটি পেশ করছি—আমার দুর্বলতা, স্বল্প জ্ঞান এবং সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও—তা মূলত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন)-এর লেখার আলোকে এই মহান বিষয়ে সত্য স্পষ্ট করার একটি প্রচেষ্টা।
সাধারণ ভূমিকার পর গবেষণার পরিকল্পনাটি একটি প্রারম্ভিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।
প্রারম্ভিকাটি ছিল ‘সালাফ এবং আকিদাহ বিষয়ে তাঁদের মানহাজ’ শিরোনামে। এতে সালাফ এবং আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়, এই নামে নামকরণের প্রেক্ষাপট এবং আকিদাহ ও তার স্বপক্ষে দলীল গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁদের মানহাজের ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই প্রারম্ভিকাটি কিছুটা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, কারণ আশআরী এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ—উভয় পক্ষই নিজেদের মাযহাবকে সালাফদের মাযহাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন। তাই মূল উৎসসমূহ থেকে সালাফদের মাযহাব উল্লেখ করা আবশ্যক ছিল, যাতে তুলনামূলক আলোচনার সময় এটি স্পষ্ট হয় যে, কে সালাফদের মাযহাবের ওপর অবিচল ছিলেন এবং কে তা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন।
প্রথম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু হলো: ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং আশআরীগণ। এটি কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনীর ওপর, যা দুটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইবনে তাইমিয়্যাহর যুগ। এতে এই যুগে সংঘটিত কিছু ঘটনা ও ইস্যু উপস্থাপন করা হয়েছে যা অস্থিরতায় পরিপূর্ণ ছিল; যেমন—মুসলিম বিশ্বে ক্রুসেডারদের আক্রমণ, তাতারীদের উত্থান ও বাগদাদে আব্বাসীয় খিলাফতের পতন এবং মামলুক সালতানাতের প্রতিষ্ঠা,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ودور الباطنيين والرافضة، إضافة إلى الجوانب العلمية والعقدية. وقد فصل القول في المبحث بعض الشيء لأمرين أحدهما: أنه عصر مليء بالأحداث الجسام فهو كثير الشبه بعصرنا، ومن ثم فلا يكفي الاختصار والعرض السريع. والثاني: أن تفصيل بعض المسائل أغنى عن ذكرها عند الحديث عن مواقف ابن تيمية تجاه أحداث عصره.
المبحث الثاني: في ترجمة شيخ الإسلام ابن تيمية، وذلك بتوضيح الجوانب المعهودة في التراجم مثل اسمه ونشأته، وشيوخه، وجهاده وربطه العلم بالعمل، ودوره في مقاومة التتار والرافضة، ثم بيان منزلته ومكانته، وما جرى له من محن على يد أعدائه في الشام ومصر، وقد فصل القول في ذلك مع التركيز على بيان الدور الإيجابي في هذه المحن كلها. ثم ذكر تلاميذه والمتأثرين به، ورسائله وكتبه مع التركيز على بيان ما ألفه منها في الرد على الأشاعرة، ثم ذكر وفاته رحمه الله.
الفصل الثاني: في منهج ابن تيميه في تقرير عقيدة السلف والرد على خصومها، وقد شمل ذلك البحث منهجه في المعرفة والاستدلال، وبيان العقيدة والاستدلال لها، والرد على الخصوم، وما تميز به شيخ الاسلام من الأمانة العلمية.
الفصل الثالث: عن حياة أبي الحسن الأشعري وعقيدته، واشتمل هذا الفصل إضافة إلى ترجمة الأشعري وحياته وشيوخه وتلاميذه ومؤلفاته بحث مسألة الأطوار التي مر بها في حياته العقدية وهل كانت طورين أو ثلاثة، وهل كان رجوعه في الإبانة إلى مذهب السلف رجوعاً كاملا أو بقيت عليه بقايا من أقوال أهل الكلام، ثم عرض لعقيدته وآرائه.
الفصل الرابع: وموضوعه: نشأة الأشعرية وعقيدتهم، وقد اشتمل هذا الفصل على عدة مباحث، منها شيوخ الأشاعرة وأسلافهم الكلابية، مع الترجمة لأبرز أعلامهم. ومبحث الماتريدية وعلاقتهم بالأشاعرة، ثم مبحث نشأة المذهب الأشعري وأسباب اتنشاره. وأخيرا وبشكل مختصر عقيدة الأشاعرة.
الفصل الخامس: وموضوعه: تطور مذهب الأشاعرة وأشهر رجالهم
এবং বাতেনী ও রাফেযীদের ভূমিকা, এর পাশাপাশি জ্ঞানতাত্ত্বিক ও আকিদাগত দিকসমূহ। এই পরিচ্ছেদে আলোচনা কিছুটা বিস্তারিত করা হয়েছে দুটি কারণে। প্রথমত: এটি এমন এক যুগ যা বড় বড় ঘটনায় পরিপূর্ণ এবং আমাদের বর্তমান যুগের সাথে এর অনেক সাদৃশ্য রয়েছে, ফলে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা বা দ্রুত পর্যালোচনা যথেষ্ট নয়। দ্বিতীয়ত: কিছু বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা ইবনে তাইমিয়্যার সমসাময়িক ঘটনাবলির প্রতি তাঁর অবস্থানের বর্ণনার সময় পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার জীবনী প্রসঙ্গে। এতে জীবনীগ্রন্থের পরিচিত দিকগুলো স্পষ্ট করা হয়েছে, যেমন তাঁর নাম, বেড়ে ওঠা, শিক্ষকবৃন্দ, জিহাদ এবং জ্ঞানের সাথে কর্মের সমন্বয়। তাতার ও রাফেযীদের প্রতিরোধে তাঁর ভূমিকা, অতঃপর তাঁর মর্যাদা ও অবস্থান এবং সিরিয়া ও মিশরে শত্রুদের হাতে তিনি যেসব পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিলেন তার বর্ণনা। এসকল পরীক্ষায় তাঁর ইতিবাচক ভূমিকার বর্ণনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এরপর তাঁর ছাত্রবৃন্দ ও তাঁর দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিবর্গ, তাঁর পত্রাবলি ও কিতাবসমূহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—বিশেষ করে আশআরীদের খণ্ডনে তিনি যা রচনা করেছেন তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে তাঁর মৃত্যু (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: সালাফদের আকিদা প্রতিষ্ঠা এবং এর বিরোধীদের খণ্ডনে ইবনে তাইমিয়্যার মানহাজ বা পদ্ধতি। এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জ্ঞানতত্ত্ব ও দলীল উপস্থাপনে তাঁর পদ্ধতি, আকিদা বর্ণনা ও তার স্বপক্ষে দলীল প্রদান, বিরোধীদের খণ্ডন এবং জ্ঞানতাত্ত্বিক আমানতদারিতার ক্ষেত্রে শাইখুল ইসলামের অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ।
তৃতীয় অধ্যায়: আবুল হাসান আল-আশআরীর জীবন ও আকিদা প্রসঙ্গে। এই অধ্যায়ে আল-আশআরীর জীবনী, তাঁর জীবনকাল, শিক্ষকবৃন্দ, ছাত্রবৃন্দ ও রচনাবলির পাশাপাশি তাঁর আকিদাগত জীবনের স্তরসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যে, তা কি দুই স্তরের ছিল নাকি তিন স্তরের? এবং 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থে সালাফদের মাযহাবের দিকে তাঁর প্রত্যাবর্তন কি পূর্ণাঙ্গ ছিল, নাকি তাঁর মাঝে ইলমুল কালামের প্রবক্তাদের বক্তব্যের কিছু অবশিষ্টাংশ রয়ে গিয়েছিল? এরপর তাঁর আকিদা ও অভিমতসমূহ তুলে ধরা হয়েছে।
চতুর্থ অধ্যায়: এর বিষয়বস্তু হলো আশআরী মতবাদের উদ্ভব ও তাদের আকিদা। এই অধ্যায়টি বেশ কয়েকটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত, যার মধ্যে রয়েছে আশআরীদের শাইখগণ ও তাদের পূর্বসূরি কুল্লাবিয়াহ সম্প্রদায় এবং তাদের প্রথিতযশা ব্যক্তিদের জীবনী। আরও রয়েছে মাতুরিদিয়াহ এবং আশআরীদের সাথে তাদের সম্পর্কের আলোচনা। এরপর আশআরী মাযহাবের উদ্ভব ও এর প্রসারের কারণসমূহ। পরিশেষে সংক্ষেপে আশআরীদের আকিদা।
পঞ্চম অধ্যায়: এর বিষয়বস্তু হলো আশআরী মাযহাবের বিবর্তন ও তাদের প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গ।
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
إلى عهد ابن تيمية، وفي هذا الفصل عرض لما حدث لمذهب الأشاعرة من تطور على يد أبرز رجاله، سواء بالميل إلى التأويل وأقوال المعتزلة، أو الامتزاج بالتصوف، أو الخوض في علوم الفلاسفة وإدخال آرائهم وأصولهم لتصبح جزءا من كتب الأشاعرة الكلامية. وقد ترجم في هذا الفصل لأبرز أعلام الأشاعرة- مع عرض مركز لأثر كل علم في تطور المذهب الأشعري، وهؤلاء الأعلام هم: أبو الحسن على بن مهدي الطبري، والباقلاني، وابن فورك، والبغدادي، والبيهقي، والقشيرى، والجويني، والغزالي، وابن تومرت، وأبو بكر بن العربي، والشهرستاني، وابن عساكر، والفخر الرازي، والآمدي، والعز بن عبد السلام، والبيضاوي، وأبو عمر السكوني، وصفي الدين الهندي، وعضد الدين الإيجي، وبدر الدين بن جماعة، وهؤلاء الخمسة كانوا معاصرين لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمهم الله جميعا- ولم يكن الحديث عن هؤلاء من حيث التركيز والإطالة على وتيرة واحدة، بل منهم من أطيل الكلام حوله كالباقلاني، وابن فورك، والبيهقي، والجويني، والغزالي، والرازي، والباقون بين التوسط والاختصار، وذلك حسب أهمية العلم وكثرة مؤلفاته العقدية، ودوره في تطوير مذهب الأشا عرة.
أما الباب الثاني: فموضوعه: موقف ابن تيمية من الأشاعرة، وقد اشتمل على ثلاثة فصول:-
الفصل الأول: في عرض ابن تيمية لجوانب الأشاعرة الإيجابية، واعترافه بما عندهم من حق، وهذا جزء من منهجه العام في الرد على الخصوم- والذي وضح في الفصل الثاني من الباب السابق-، وشيخ الاسلام وهو يرد على الأشاعرة وأعلامهم ردودا طويلة لم يمنعه ذلك من الاعتراف بجوانبهم الإيجابية في الرد على الفلاسفة، والباطنية، والمعتزلة والنصارى وغيرهم، وهو يدل على صفة العدل والانصاف مع خصومه، حتى وهم يمتحنونه، ويكونون سببا في سجنه وإيذائه.
الفصل الثاني: في منهج ابن تيمية العام في الرد على الأشاعرة، وهذا الفصل من أهم فصول الرسالة، وفيه عرض للقضايا العامة التي ناقش فيها شيخ
ইবনে তাইমিয়্যাহর যুগ পর্যন্ত। এই পরিচ্ছেদে আশআরি মাযহাবের প্রধান ব্যক্তিত্বদের হাতে এর যে বিবর্তন ঘটেছে তা উপস্থাপন করা হয়েছে; তা ব্যাখ্যামূলক প্রবণতা (তাবিল) ও মুতাজিলাদের মতামতের দিকে ঝুঁকে পড়ার মাধ্যমেই হোক, অথবা সুফিবাদে মিশে যাওয়ার মাধ্যমে, কিংবা দার্শনিকদের বিদ্যায় নিমগ্ন হওয়া এবং তাদের মতামত ও মূলনীতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে হোক, যাতে সেগুলো আশআরি কালামশাস্ত্রীয় গ্রন্থগুলোর অংশ হয়ে ওঠে। এই পরিচ্ছেদে আশআরিগণের প্রখ্যাত আলেমদের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে—সাথে আশআরি মাযহাবের বিবর্তনে প্রত্যেক আলেমের প্রভাবের একটি কেন্দ্রীভূত উপস্থাপনা রয়েছে। এই বরেণ্য ব্যক্তিরা হলেন: আবুল হাসান আলী বিন মাহদী আত-তাবারী, আল-বাকিলানি, ইবনে ফুরাক, আল-বাগদাদী, আল-বায়হাকী, আল-কুশায়রী, আল-জুওয়াইনী, আল-গাযালী, ইবনে তুমারত, আবু বকর ইবনে আল-আরাবী, আশ-শাহরাস্তানি, ইবনে আসাকির, ফখর আল-রাযী, আল-আমিদী, ইজ্জ বিন আবদুস সালাম, আল-বায়দ্বাবী, আবু উমর আস-সাকুনী, সফি উদ্দিন আল-হিন্দি, আদুদ আল-দিন আল-ঈজী এবং বদর আল-দিন ইবনে জামাআহ। এই শেষোক্ত পাঁচজন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সমসাময়িক ছিলেন—আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহম করুন। এই ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে আলোচনা গুরুত্ব ও দৈর্ঘ্যের বিচারে একই ধাঁচের ছিল না; বরং তাদের মধ্যে কারো আলোচনা দীর্ঘায়িত করা হয়েছে যেমন আল-বাকিলানি, ইবনে ফুরাক, আল-বায়হাকী, আল-জুওয়াইনী, আল-গাযালী এবং আল-রাযী। বাকিদের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা বা সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করা হয়েছে, যা নির্ভর করেছে তাদের ইলমী গুরুত্ব, আকিদাবিষয়ক রচনার আধিক্য এবং আশআরি মাযহাবের বিকাশে তাদের ভূমিকার ওপর।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এর বিষয়বস্তু হলো আশআরিদের প্রতি ইবনে তাইমিয়্যাহর অবস্থান। এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:-
প্রথম পরিচ্ছেদ: আশআরিদের ইতিবাচক দিকগুলো ইবনে তাইমিয়্যাহর পক্ষ থেকে তুলে ধরা এবং তাদের কাছে যে সত্য বিদ্যমান তা স্বীকার করে নেওয়া। এটি প্রতিপক্ষকে খণ্ডন করার ক্ষেত্রে তাঁর সাধারণ পদ্ধতির অংশ—যা পূর্ববর্তী অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে স্পষ্ট করা হয়েছে। শায়খুল ইসলাম আশআরি ও তাদের প্রথিতযশা আলেমদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ খণ্ডনমূলক বক্তব্য প্রদান করলেও দার্শনিক, বাতেনি সম্প্রদায়, মুতাজিলা, খ্রিস্টান এবং অন্যদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে তাদের ইতিবাচক ভূমিকা স্বীকার করতে তা তাঁকে বাধা দেয়নি। এটি তাঁর প্রতিপক্ষের সাথে ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতার পরিচয় দেয়, এমনকি যখন তারা তাঁকে পরীক্ষায় ফেলছিল এবং তাঁর কারাবরণ ও কষ্টের কারণ হচ্ছিল।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আশআরিদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়্যাহর সাধারণ পদ্ধতি। এই পরিচ্ছেদটি গবেষণাপত্রটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, এতে শায়খ যেসব সাধারণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন তার উপস্থাপনা রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الإسلام الأشاعرة، والتي لا تختص بباب معين من أبواب العقيدة، مثل مسألة أن الكتاب والسنة فيهما ما يغني عما ابتدعه هؤلاء، وحجية خبر الآحاد في العقيدة، وعلم الكلام المذموم، وكون مذهب السلف أعلم وأحكم وأسلم، وجهل الأشاعرة بمذهب السلف، وإرجاع أقوالهم إلى أصولها الاعتزالية والكلامية، وأنه لا تعارض بين العقل والنقل، والرد على متأخري الأشاعرة بأقوال شيوخهم، وتناقض الأشاعرة وما وقع فيه أعلامهم من الحيرة والشك، ثم رجوع بعضهم إلى الحق. ثم بيان تسلط الملاحدة من الفلاسفة والقرامطة عليهم لضعف ردودهم عليهم وأخذهم بأصول أهل الكلام الباطل. وكل مسألة من هذه المسائل يذكر لها شيخ الإسلام أمثلة متعددة.
الفصل الثالث: وموضوعه: ردود شيخ الإسلام ابن تيمية عليهم تفصيلا، ويشمل عدة مباحث:
المبحث الأول: ردوده عليهم في مسألة توحيد الألوهية والربوبية، ويدخل في هذا المبحث بعض المسائل مثل مسألة أول واجب على المكلف، ومفهوم التوحيد عند الأشاعرة، وبيان خطئهم وتقصيرهم في مسألة توحيد الربوبية، وإغفالهم لتوحيد الالوهية.
المبحث الثاني: في الأسماء والصفات، وقد احتوى هذا المبحث على مسائل كثيرة جدا تتعلق بأسماء الله، والصفات التي أثبتها الأشاعرة، والصفات التى نفوها، وكيف رد عليهم شيخ الإسلام طويلا، وخاصة في المسائل الكبرى كمسألة العلو والاستواء، والصفات الفعلية، كالنزول والمجيء والغضب والرضا، والصفات الخبرية، وغيرها.
المبحث الثالث: في القضاء والقدر، وبعض المسائل المتعلقة به، وردوده عليهم في ذلك.
المبحث الرابع: في الإيمان، وميلهم إلى الإرجاء وردوده على أقوالهم.
المبحث الخامس: وفيه عرض لبعض المسائل المتفرقة التي خالف فيها الأشاعرة مذهب أهل السنة.
আশআরিদের ইসলাম সম্পর্কে, যা আকিদার কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। যেমন—এই মাসআলা যে, কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে এমন বিষয় রয়েছে যা এই লোকদের উদ্ভাবিত বিদআত থেকে বিমুখ করার জন্য যথেষ্ট। আকিদার ক্ষেত্রে খবরে ওয়াহিদের প্রামাণিকতা, নিন্দিত ইলমুল কালাম, এবং সালাফদের মাজহাব অধিকতর জ্ঞানগর্ভ, প্রজ্ঞাপূর্ণ ও নিরাপদ হওয়ার বিষয়টি। সালাফদের মাজহাব সম্পর্কে আশআরিদের অজ্ঞতা এবং তাদের বক্তব্যসমূহকে তাদের মুতাজিলা ও কালামী মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে নেওয়া। বিবেক ও শ্রুতির (আকল ও নাকল) মধ্যে কোনো বিরোধ নেই—এই বিষয়টি। পরবর্তী যুগের আশআরিদের ওপর তাদেরই শায়খদের বক্তব্যের মাধ্যমে খণ্ডন। আশআরিদের স্ববিরোধিতা এবং তাদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যে বিভ্রান্তি ও সন্দেহে পতিত হয়েছিলেন তা, অতঃপর তাদের কারো কারো সত্যের পথে ফিরে আসা। এরপর দার্শনিক ও কারামিতাহদের মতো নাস্তিকদের তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তারের বর্ণনা, যার কারণ ছিল তাদের দুর্বল খণ্ডন এবং বাতিল ইলমুল কালামের মূলনীতি গ্রহণ করা। এই মাসআলাগুলোর প্রত্যেকটির জন্য শাইখুল ইসলাম বহু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এর বিষয়বস্তু হলো তাদের ওপর শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যার বিস্তারিত খণ্ডন, এবং এটি বেশ কিছু আলোচনার অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম আলোচনা: তাওহিদে উলুহিয়্যাহ ও রুবুবিয়্যাহর মাসআলায় তাদের ওপর তার খণ্ডন। এই আলোচনার অধীনে কিছু মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যেমন—মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি)-এর ওপর প্রথম ওয়াজিব কী সেই মাসআলা, আশআরিদের নিকট তাওহিদের ধারণা, তাওহিদে রুবুবিয়্যাহর মাসআলায় তাদের ভুল ও ত্রুটির বর্ণনা এবং তাওহিদে উলুহিয়্যাহর প্রতি তাদের অবহেলার বিষয়টি।
দ্বিতীয় আলোচনা: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি (আসমা ওয়া সিফাত) প্রসঙ্গে। এই আলোচনাটি আল্লাহর নামসমূহ সম্পর্কিত অনেক মাসআলা এবং আশআরিরা যেসব গুণাবলি সাব্যস্ত করেছে ও যেসব গুণাবলি তারা অস্বীকার করেছে তা অন্তর্ভুক্ত করেছে। শাইখুল ইসলাম কীভাবে তাদের ওপর দীর্ঘ খণ্ডন করেছেন, বিশেষ করে বড় বড় মাসআলাগুলোতে যেমন—উচ্চতা ও আরশের উপর উঠার মাসআলা, এবং ক্রিয়াগত গুণাবলি যেমন—নেমে আসা, আসা, রাগ ও সন্তুষ্টি, এবং সংবাদগত গুণাবলি ও অন্যান্য বিষয়াবলি।
তৃতীয় আলোচনা: ভাগ্য ও নিয়তি (কজা ও কদর) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু মাসআলা এবং এ বিষয়ে তাদের ওপর তার খণ্ডন প্রসঙ্গে।
চতুর্থ আলোচনা: ঈমান প্রসঙ্গে, এবং ইরজার প্রতি তাদের ঝোঁক ও তাদের বক্তব্যের ওপর তার খণ্ডন।
পঞ্চম আলোচনা: এতে এমন কিছু বিক্ষিপ্ত মাসআলা উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে আশআরিরা আহলুস সুন্নাহর মাজহাবের বিরোধিতা করেছে।
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
أما الخاتمة ففيها عرض مختصر لأهم نتائج البحث.
وقد ذيلت الرسالة بالفهارس المهمة: كفهرس الآيات، والأحاديث، والأعلام المترجم لهم، والفرق والطوائف، والمصادر، والموضوعات.
وفي الختام أسأل الله أن يجزل المثوبة لكل من أعانني على استكمال هذا البحث، وأخص بذلك الدكتور سالم بن عبد الله الدخيل المشرف على هذه الرسالة، الذي قرأ جميع فصولها ومباحثها، والذي كان لتوجيهاته وملاحظاته الدقيقة أكبر الأثر.
كما أسأل اللة أن يجزل المثوبة لكل الإخوة الذين زودوني ببعض المصادر- أو مخطوطة ومطبوعة- وأخص منهم الدكتور/ ناصر العمر- وكيل الكلية للدراسات العليا سابقا- والأخ/ أحمد الحربي، والأخ/ محمد الخميس.
وفي الختام أسأل الله أن يغفر لنا خطايانا وتقصيرنا، وأن يلهمنا الصواب، ويعيذنا من فتنة القول وفتنة العمل. إنه ولي ذلك والقادر عليه. والله أعلم وصلى اللة على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم.
وكتبه/ عبد الرحمن بن صالح المحمود
الرياض- كلية أصول الدين
ص- ب 17999
الرمز 11494
উপসংহারে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা রয়েছে।
আর এই অভিসন্দর্ভটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ঘণ্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে: যেমন আয়াত, হাদিস, জীবনী সংবলিত ব্যক্তিবর্গ, দল ও উপদলসমূহ, উৎস এবং বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট।
পরিশেষে, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে যারা আমাকে সাহায্য করেছেন তাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আমি বিশেষভাবে ড. সালেম বিন আবদুল্লাহ আদ-দাখিলের কথা উল্লেখ করছি, যিনি এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তিনি এর সমস্ত অধ্যায় ও পরিচ্ছেদগুলো পাঠ করেছেন এবং তাঁর দিকনির্দেশনা ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
একইভাবে আমি আল্লাহর নিকট সেই সকল ভাইদের জন্য উত্তম প্রতিদান কামনা করছি যারা আমাকে বিভিন্ন উৎস—পাণ্ডুলিপি কিংবা মুদ্রিত গ্রন্থ—সরবরাহ করেছেন; তাঁদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ড. নাসের আল-উমর—যিনি ইতিপূর্বে অনুষদের উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-ডিন ছিলেন—এবং ভাই আহমদ আল-হারবী ও ভাই মুহাম্মদ আল-খামীস।
পরিশেষে, আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ভুল-ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতাগুলো ক্ষমা করে দেন, আমাদের সঠিক পথের দিশা দান করেন এবং কথার ফেতনা ও কাজের ফেতনা থেকে আমাদের আশ্রয় দেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বক্ষমতাবান। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন/ আবদুর রহমান বিন সালেহ আল-মাহমুদ
রিয়াদ— উসুলুদ দ্বীন অনুষদ
পোস্ট বক্স ১৭৯৯৯
কোড ১১৪৯৪
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
تمهيد: السلف ومنهجهم لب العقيدةأولا: التعريف بالسلف، أهل السنة والجماعة.
ثانيا: نشأة التسمية بأهل السنة والجماعة.
ثالثا: منهج السلف في العقيدة.
প্রারম্ভিকা: সালাফ এবং তাঁদের মানহাজ আক্বীদার মূলবিন্দুপ্রথমত: সালাফ তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচিতি।
দ্বিতীয়ত: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত নামকরণের উদ্ভব।
তৃতীয়ত: আক্বীদার ক্ষেত্রে সালাফদের মানহাজ।
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
تمهيد
لما كان موضوع الرسالة يتعلق بشيخ الإسلام ابن تيمية-رحمه الله وموقفه من الأشاعرة، وشيخ الإسلام يمثل في موقفه هذا مذهب السلف رحمهم الله كان من المهم التمهيد ببيان التعريف بالسلف وهل لهم أسماء أخرى عرفوا بها، وكيف تميزوا عن الطوائف والفرق الأخرى؟ ، ثم لابد من بيان منهجهم في العقيدة وضرورة هذا المنهج لكل مسلم يبحث عن الحق، ويرجو الفوز برضوان الله والنجاة من عذابه يوم القيامة.
ومسألة الالتزام بمذهب السلف ليست مسألة اختيارية، من شاء سلكها ومن شاء سلك غيرها، بل هى مسألة تتعلق بالإيمان بالله وبما جاء به كتابه وسنة رسولهـ صلى الله عليه وسلم واتباعهما قولا وعملا، وهذا مما لا يختلف فيه أحد ممن ينتسب إلى الإسلام ولذا تجد الفرق المنحرفة- على اختلاف فيما بينها- كل واحدة تزعم أنها تسير على ما سار عليه الرسول- صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وتحتج على أقوالها بالنصوص، وحينما تعدد رجالاتها السابقين تذكر في الطبقة الأولى منهم الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه وهي مع ذلك منحرفة انحرافا بينا، فهى تصادم النصوص، وأحيانا ترفض الاحتجاج ببعضها
… وغالبا ترفض فهنم الصحابة للنصوص وتفسيرهم لها.
ولذا فلابد للباحث المسلم أن ينطلق في بحثه من منطلقين:
أحدهما: الثقة المطلقة بمذهب السلف، أهل السنة والجماعة، وأن يكون عنده يقين في ذلك لا يتزعزع أبدا.
والآخر: تحديد المقصود بالسلف، من هم؟، وما منهجهم، حتى يسلك طريقتهم على بصيرة، ولا يتخبط في سيره بين المناهج الأخرى.
ولما كان المنطلق الأول مما لا يختلف! حوله أحد ولو بشكل مجمل، فإننا في هذا التمهيد نعرض للمنطلق الثافي من خلال المباحث التالية:
ভূমিকা
যেহেতু এই অভিসন্দর্ভের বিষয়টি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এবং আশআরিদের প্রতি তাঁর অবস্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর শায়খুল ইসলাম তাঁর এই অবস্থানের মাধ্যমে সালাফদের (রহিমাহুমুল্লাহ) মাযহাবেরই প্রতিনিধিত্ব করেন, তাই সালাফদের পরিচয় এবং তাঁদের কি অন্য কোনো নাম রয়েছে যার মাধ্যমে তাঁরা পরিচিত, আর কীভাবে তাঁরা অন্যান্য দল ও উপদল থেকে স্বতন্ত্র—এসব আলোচনার মাধ্যমে ভূমিকা পেশ করা গুরুত্বপূর্ণ। এরপর আকিদাহর ক্ষেত্রে তাঁদের মানহাজ (পদ্ধতি) এবং সত্য অনুসন্ধানকারী ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও কিয়ামতের দিন তাঁর আজাব থেকে মুক্তিপ্রত্যাশী প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এই মানহাজের আবশ্যকতা বর্ণনা করা অপরিহার্য।
আর সালাফদের মাযহাব আঁকড়ে ধরার বিষয়টি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয় যে, যে চাইবে তা অনুসরণ করবে আর যে চাইবে অন্য পথ ধরবে। বরং এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর মাধ্যমে যা এসেছে সেটির প্রতি এবং কথা ও কাজে সে দুইটির অনুসরণের সাথে সংশ্লিষ্ট। ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই। এ কারণেই আপনি দেখবেন যে বিভ্রান্ত দলগুলো—তাদের নিজেদের মধ্যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও—প্রত্যেকেই দাবি করে যে তারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ যে পথের ওপর ছিলেন সেই পথেই চলছে এবং তারা তাদের মতামতের স্বপক্ষে অকাট্য দলীলসমূহ (নصوص) পেশ করে। আর যখন তারা তাদের পূর্বসূরি মনীষীদের তালিকা দেয়, তখন তারা প্রথম স্তরে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণের নাম উল্লেখ করে, অথচ তা সত্ত্বেও তারা সুস্পষ্টভাবে বিভ্রান্ত; কারণ তারা অকাট্য দলীলসমূহের (নصوص) বিরোধিতা করে এবং কখনো কখনো কিছু দলীলের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করা প্রত্যাখ্যান করে
… আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা দলীলগুলোর ব্যাপারে সাহাবীগণের বুঝ এবং তাঁদের করা ব্যাখ্যাকে প্রত্যাখ্যান করে।
সেজন্য একজন মুসলিম গবেষকের জন্য তাঁর গবেষণায় দুটি ভিত্তি থেকে অগ্রসর হওয়া আবশ্যক:
প্রথমটি: সালাফ তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাবের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা এবং এ বিষয়ে এমন এক দৃঢ় বিশ্বাস থাকা যা কখনো বিচলিত হবে না।
দ্বিতীয়টি: 'সালাফ' দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা নির্ধারণ করা; তাঁরা কারা? এবং তাঁদের মানহাজ বা কর্মপন্থা কী? যাতে করে দূরদর্শিতার সাথে তাঁদের পথ অনুসরণ করা যায় এবং অন্যান্য মানহাজ বা মতাদর্শের ভিড়ে চলার পথে বিভ্রান্ত হতে না হয়।
যেহেতু প্রথম ভিত্তিটির ব্যাপারে সামগ্রিকভাবে হলেও কারো কোনো দ্বিমত নেই, তাই আমরা এই ভূমিকায় নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলোর মাধ্যমে দ্বিতীয় ভিত্তিটি তুলে ধরব:
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
المبحث الأول: التعريف بالسلف، وأهل السنة والجماعة، وأهل الحديث.
المبحث الثاني: من المقصودون بالسلف، ونشأة التسمية بأهل السنة والجماعة؟.
المبحث الثالث: منهج السنف، أهل السنة والجماعة في العقيدة.
প্রথম পরিচ্ছেদ: সালাফ, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত এবং আহলুল হাদীসের পরিচিতি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সালাফ দ্বারা কাদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে এবং ‘আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত’ নামকরণের উদ্ভব কীভাবে?
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আকীদার ক্ষেত্রে সালাফ তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মানহাজ।
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
المبحث الأول: التعريف بالسلف، وأهل السنة والجماعة وأهل الحديثأولا: السلف:
قال ابن فارس: " سلف ": السين واللام والفاء أصل يدل على تقدم وسبق، من ذلك السلف الذين مضوا، والقوم السلاف: المتقدمون (1) .
هذا هو أصل هذه الكلمة لغويا، ولذا قال في العباب الزاخر: " وسلف يسلف سلفا- بالتحريك- مثال طلب يطلب طلبا أي: مضى قال الله تعالى: {فَلَهُ مَا سَلَفَ} [البقرة: 275] ، والقوم السلاف: المتقدمون، وسلف الرجل: آباؤه المتقدمون، والجمع أسلاف وسلاف " (2) ، ثم نقل عن أبي عبيد الهروي معاني السلف ومنها: القرض، والسلم، ثم قال: " وللسلف معنيان آخران: أحدهما كل عمل صالح قدمه العبد أو فرط فرط له، والسلف من تقدمك من آبائك وذوي قرابتك " (3) ، وهذان المعنيان ذكرهما أهل غريب الحديث، ففي مشارق الأنوار: "والسلف: كل عمل صاع تقدم للعبد، ومنه قوله في الدعاء للطفل:"اجعله لنا فرطا وسلفا " (4) أي خيرا متقدما نجده في الآخرة، والسلف أيضا: من تقدمك من آبائك وقرابتك (5) ، ومثله في النهاية، ومجمع بحار الأنوار (6) ،
ويشهد للمعنى الأخير: من تقدمك من آبائك وقرابتك،
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সালাফ, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং আহলুল হাদিসের পরিচয়প্রথমত: সালাফ:
ইবনে ফারিস বলেছেন: "সালাফ": সিন, লাম এবং ফা বর্ণত্রয় এমন একটি মূল নীতি নির্দেশ করে যা অগ্রগামিতা এবং পূর্ববর্তী হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সালাফ যারা গত হয়েছেন, আর 'সুলাফ' সম্প্রদায় হলো যারা অগ্রগামী (১)।
এটিই এই শব্দের ভাষাগত মূল উৎস। এ কারণেই 'আল-উবাব আল-যাখির' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "সালাফা ইয়াসলুফু সালাফান—হরকতসহ—যেমন তালাবা ইয়াতলুবু ত্বলাবান, অর্থাৎ অতিবাহিত হওয়া। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতীতে যা হয়েছে তা তারই} [আল-বাকারা: ২৭৫]। আর 'সুলাফ' সম্প্রদায় হলো যারা অগ্রগামী। কোনো ব্যক্তির সালাফ হলো তার সেই পিতৃপুরুষগণ যারা আগে গত হয়েছেন। এর বহুবচন হলো আসলাফ এবং সুলাফ" (২)। এরপর তিনি আবু উবাইদ আল-হারাউয়ী থেকে সালাফ-এর বিভিন্ন অর্থ বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: ঋণ এবং অগ্রিম ক্রয়-বিক্রয় (সালাম)। এরপর তিনি বলেন: "সালাফ-এর আরও দুটি অর্থ রয়েছে: একটি হলো বান্দার অগ্রিম পাঠানো প্রতিটি সৎকর্ম বা যা তার আগে গত হয়েছে। অন্যটি হলো তোমার পিতৃপুরুষ এবং নিকটাত্মীয়দের মধ্যে যারা তোমার আগে গত হয়েছেন" (৩)। এই দুটি অর্থই 'গারীবুল হাদিস' বিশারদগণ উল্লেখ করেছেন। যেমন 'মাশারিকুল আনওয়ার' গ্রন্থে এসেছে: "সালাফ: বান্দার অগ্রিম পাঠানো প্রতিটি সৎকর্ম। এ থেকেই শিশুর জানাযার দোয়ায় বলা হয়েছে: 'তাকে আমাদের জন্য অগ্রবর্তী পুরস্কার ও অগ্রগামী সালাফ হিসেবে কবুল করুন' (৪)। অর্থাৎ এমন অগ্রিম কল্যাণ যা আমরা পরকালে পাব। সালাফ অর্থ আরও হলো: তোমার পিতৃপুরুষ এবং আত্মীয়দের মধ্যে যারা তোমার আগে গত হয়েছেন" (৫)। 'আন-নিহায়াহ' এবং 'মাজমা বিহারুল আনওয়ার' গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে (৬)।
আর শেষোক্ত অর্থের সপক্ষে—অর্থাৎ তোমার পিতৃপুরুষ ও আত্মীয়দের মধ্যে যারা তোমার আগে গত হয়েছেন—দলিল হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
حديث فاطمة- رضي الله عنها أن النبي-صلى الله عليه وسلم قال لها "
… ولا أراني إلا قد حضر أجلي وأنك أول أهلي لحوقا بى، ونعم السلف أنا لك" (1) ،أي المتقدم.وكذا لما ماتت ابنته قال:"الحقي بسلفنا الصالح الخير، عثمان بن مظعون" (2) ومنه الدعاء لأهل القبور: " أنتم سلفنا ونحن بالأثر " (3) . أي: المتقدمون.
ونستخلص من هذا أن من معاني السلف: التقدم والسبق سواء كان بالعمل الصاع، أو من تقدم من الآباء وذوي القرابة وغيرهم، ومن هذا المعنى سمي الصدر الأول من التابعين السلف الصالح (4) .
ولما حدث الافتراق ونشأت البدع بدأ يتحدد مصطلح السلف في عرف المتأخرين بأنهم الصحابة والتابعون لهم بإحسان. وسيأتي مزيد إيضاح ومناقشة لهذا بعد التعريف بالمصطلحات المرادفة لمصطلح: " السلف "، مثل: أهل السنة، والجماعة، وأهل الحديث، والأثر، لأن هذه المصطلحات اشتهرت وكثر استعمالها، وخاصة في مجال أصول العقائد.
ثانيا: أهل السنة:
السنة لغة: السيرة والطريقة، قال ابن فارس: " سن ": السين والنون أصل واحد مطرد، وهو جريان الشىء واطراده في سهولة، والأصل قولهم: سننت الماء على وجهي أسنه سنا، إذا أرسلت إرسالا....، ومما اشتق منه السنة، وهى السيرة، وسنة رسول الله عليه السلام سيرته (5) ، فالسنة هي الطريقة،
--------------------------------------------
ফাতিমা-রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হাদীস যে, নবী-সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "
... আমি মনে করি আমার অন্তিম সময় উপস্থিত হয়েছে এবং আমার পরিবারবর্গের মধ্যে তুমিই সর্বপ্রথম আমার সাথে মিলিত হবে, আর তোমার জন্য আমি কতই না উত্তম অগ্রগামী (সালাফ)।" (১) অর্থাৎ অগ্রবর্তী। অনুরূপভাবে যখন তাঁর কন্যা ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি বললেন: "আমাদের উত্তম নেককার পূর্বসূরী (সালাফ) উসমান ইবনে মাজউন-এর সাথে গিয়ে মিলিত হও।" (২) এবং এখান থেকেই কবরবাসীদের জন্য দুআ এসেছে: "আপনারা আমাদের অগ্রগামী (সালাফ) এবং আমরা আপনাদের পদাঙ্ক অনুসরণকারী।" (৩)। অর্থাৎ: যারা অগ্রে চলে গেছেন।
এখান থেকে আমরা এই সারাংশ বের করতে পারি যে, 'সালাফ' শব্দের অর্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: অগ্রগামিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব, চাই তা সৎকর্মের মাধ্যমে হোক অথবা পিতা-পিতামহ ও আত্মীয়স্বজন বা অন্যদের মধ্যে যারা অগ্রে গত হয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে হোক। এই অর্থ থেকেই (সাহাবী ও) তাবিঈদের প্রথম প্রজন্মকে 'সালাফে সালেহীন' বা নেককার পূর্বসূরী (৪) নামে নামকরণ করা হয়েছে।
আর যখন উম্মতের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলো এবং বিদআতের উদ্ভব ঘটল, তখন পরবর্তী আলিমদের পরিভাষায় 'সালাফ' শব্দটি নির্দিষ্ট হতে শুরু করল। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন (তাবিঈগণ)। 'সালাফ' শব্দের সমার্থক পরিভাষা যেমন: আহলুস সুন্নাহ, ওয়াল জামাআত, আহলুল হাদীস এবং আল-আসার এর পরিচয় প্রদানের পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও আলোচনা আসবে। কারণ এই পরিভাষাগুলো অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং এগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে আকিদার মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে।
দ্বিতীয়ত: আহলুস সুন্নাহ:
সুন্নাহ-এর আভিধানিক অর্থ: জীবনপদ্ধতি ও পথ। ইবনে ফারিস বলেন: "সিন" (س) এবং "নুন" (ن) একটি মূল ধাতু থেকে আগত যা অপরিবর্তনীয়, আর তা হলো কোনো কিছুর সহজ ও সাবলীলভাবে প্রবহমান হওয়া। এর মূল হলো আরবদের উক্তি: "আমি আমার চেহারার ওপর পানি প্রবাহিত করলাম", যখন পানি ঢালা হয়... আর এটি থেকেই 'সুন্নাহ' শব্দটি গৃহীত হয়েছে, যার অর্থ হলো জীবনধারা। আর রাসূলুল্লাহ আলাইহিস সালামের সুন্নাহ হলো তাঁর জীবনপদ্ধতি (৫)। সুতরাং সুন্নাহ হলো পথ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
محمودة كانت أو مذمومة، وهي مأخوذة من السنن وهو الطريق (1) ، ومنه الحديث: " من سن في الاسلام سنة حسنة، فله أجرها، وأجر من عمل بها بعده، من غير أن ينقص من أجورهم شىء، ومن سن في الاسلام سنة سيئة كان عليه وزرها، ووزر من عمل بها من بعده، من غير أن ينقص من أوزارهم شىء " (2) ، يقول ابن الأثير: " وقد تكرر في الحديث ذكر " السنة " وما تصرف منها، والأصل فيها الطريقة والسيرة (3) ، وفي الحديث: " لتتبعن سنن من كان قبلكم " (4) ، أي طريقهم، وقولهم: " هي السنة " (5) أى الطريقة التي سنها النبي عليه الصلاة والسلام وأمر بها (6) ، ولذلك صار لفظ السنة يطلق على ما كان محمودا فيقال: فلان من أهل السنة، معناه، من أهل الطريقة المستقيمة المحمودة (7) .
أما السنة في الاصطلاح فلها عدة إطلاقات:
أ) ففى اصطلاح المحدثين: عرفها ابن حجر بأنها: " ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم من أقواله وأفعاله وتقريره وما هم بفعله " (8) ، وعرفها البعض بأنها: " كل ما أثر عن النبي- صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير، أو صفة خلقية أو خلقية، أو سيرة، سواء كان ذلك قبل البعثة أو بعدها " (9) ،
--------------------------------------------
প্রশংসনীয় হোক বা নিন্দনীয়; আর এটি 'সুনান' শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো পথ (১), আর এ থেকেই হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতি প্রবর্তন করবে, তার জন্য তার প্রতিদান রয়েছে এবং তার পরবর্তী যারা এটি অনুযায়ী আমল করবে তাদেরও প্রতিদান রয়েছে, এতে তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতি প্রবর্তন করবে, তার ওপর তার গুনাহের বোঝা রয়েছে এবং তার পরবর্তী যারা এটি অনুযায়ী আমল করবে তাদেরও গুনাহের বোঝা রয়েছে, এতে তাদের গুনাহের বোঝা থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না" (২)। ইবনুল আসির বলেন: "হাদিসে 'সুন্নাহ' এবং এ থেকে উদ্ভূত শব্দাবলির ব্যবহার বারবার এসেছে। মূলত এর মূল অর্থ হলো পথ ও জীবনপদ্ধতি (৩)। হাদিসে এসেছে: "অবশ্যই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করবে" (৪), অর্থাৎ তাদের রাস্তা। আর তাঁদের (সাহাবীগণের) কথা: "এটিই সুন্নাহ" (৫) অর্থাৎ সেই পদ্ধতি যা নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম প্রবর্তন করেছেন এবং যার নির্দেশ দিয়েছেন (৬)। এই কারণেই সুন্নাহ শব্দটি প্রশংসনীয় বিষয়ের ওপর প্রয়োগ হতে শুরু করে, ফলে বলা হয়: অমুক ব্যক্তি আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, যার অর্থ হলো—তিনি সঠিক ও প্রশংসনীয় পথের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত (৭)।
পরিভাষায় সুন্নাহর কয়েকটি প্রয়োগ রয়েছে:
ক) মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায়: ইবনে হাজার একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর কথা, কাজ, মৌন সম্মতি এবং কোনো কাজ করার সংকল্প" (৮)। কেউ কেউ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রতিটি কথা, কাজ, মৌন সম্মতি, শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কিংবা জীবনী, চাই তা নবুওয়াত লাভের আগে হোক বা পরে" (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
فهي بهذا مرادفة للحديث.
ب) وفي اصطلاح علماء أصول الفقه يطلق لفظ السنة على ما جاء منقولا عن النبي صلى الله عليه وسلم على الخصوص، مما لم ينص عليه في الكتاب العزيز، بل إن ما نص عليه من جهته عليه الصلاة والسلام، كان بيانا لما في الكتاب أولا " (1) ، فهي مختصة بما صدر عن النبي- صلى الله عليه وسلم من غير القرآن مما يصلح أن يكون دليلا شرعيا (2) .
ج-) وفي اصطلاح الفقهاء فهي: ما ثبت عن النبى- صلى الله عليه وسلم ولم يكن من باب الفرض ولا الواجب (3) . فهى مرادفة للمندوب.
د) وقد تطلق السنة على كل ما دل عليه دليل شرعي، سواء كان ذلك في الكتاب العزيز أو مأثورا عن النبى- صلى الله عليه وسلم، أو اجتهد فيه الصحابة كجمع المصحف، وتدوين الدواوين
… (4) ، ودخول ما اجتهد فيه الصحابة يدل عليه حديث: " عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين " (5) ، وقول على في الخمر: " جلد النبي-صلى الله عليه وسلم أربعين، وجلد أبو بكر أربعين، وجلد عمر ثمانين، وكل سنة " (6) .
هـ) كما تطلق السنة في مقابل البدعة، " فيقال: فلان على سنة، إذا عمل على وفق ما عمل عليه السلام، كان ذلك مما نص عليه الكتاب أو لا " (7) .
--------------------------------------------
তাই এই অর্থে এটি হাদিসের সমার্থক।
খ) উসূলুল ফিকহবিদদের পরিভাষায় 'সুন্নাহ' শব্দটি বিশেষভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এমন সব বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়, যা মহান কিতাবে (কুরআনে) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি। বরং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তা ছিল মূলত কিতাবে যা রয়েছে এরই ব্যাখ্যা। সুতরাং এটি কুরআন ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রকাশিত এমন বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট যা শরয়ী দলিল হওয়ার যোগ্য।
গ) ফকীহগণের পরিভাষায় সুন্নাহ হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত এবং যা ফরয কিংবা ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং এটি মানদুব (পছন্দনীয় কাজ)-এর সমার্থক।
ঘ) কখনও কখনও সুন্নাহ শব্দটি এমন সব বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয় যা কোনো শরয়ী দলিল দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, চাই তা মহান কিতাবে (কুরআন) হোক অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হোক, কিংবা সাহাবীগণ যাতে ইজতিহাদ করেছেন; যেমন— মাসহাফ (কুরআন) সংকলন এবং রাষ্ট্রীয় দপ্তরসমূহ গঠন করা
…। সাহাবীগণের ইজতিহাদ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়: "তোমরা আমার সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো"। আর মদ্যপান সম্পর্কে আলীর (রা.) উক্তি: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন, আবু বকর চল্লিশটি বেত্রাঘাত করেছেন এবং উমর আশিটি বেত্রাঘাত করেছেন; আর এর প্রতিটিই সুন্নাহ।"
ঙ) এছাড়া সুন্নাহ শব্দটি বিদআতের বিপরীতেও ব্যবহৃত হয়। "বলা হয়: অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর রয়েছেন, যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা করেছেন সে অনুযায়ী আমল করেন, চাই তা কিতাবে বর্ণিত হোক বা না হোক।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
هذه أهم إطلاقات السنة عند العلماء (1) ، والذي يهمنا هنا اصطلاح " السنة " حينما يقال: " أهل السنة " في مجال العقائد، خاصة لما حدث الافتراق في الأمة الإسلامية. يقول ابن رجب: " وعن سفيان الثوري قال: " استوصوا بأهل السنة خيرا فإنهم غرباء " (2) ، ومراد هؤلاء الأئمة بالسنة طريقة النبي صلى الله عليه وسلم التي كان عليها هو وأصحابه، السالمة من الشبهات والشهوات، ولهذا كان الفضيل بن عياض يقول: " أهل السنة من عرف ما يدخل في بطنه من حلال " (3) ، وذلك لأن أكل الحلال من أعظم خصال السنة التى كان عليها النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضى الله عنهم. ثم صار في عرف كثير من العلماء المتأخرين من أهل الحديث وغيرهم: السنة عبارة عما سلم من الشبهات في الاعتقادات خاصة في مسائل الإيمان بالله، وملائكته، وكتبه، ورسله، واليوم الآخر، وكذلك في مسائل القدر، وفضائل الصحابة، وصنفوا في هذا العلم تصانيف وسموها كتب السنة، وإنما خصوا هذا العلم باسم السنة لأن خطره عظيم، والمخالف فيه على شفا هلكة، وأما السنة الكاملة فهي الطريقة السالمة من الشبهات والشهوات " (4) .
وهذا الذي ذكره ابن رجب-رحمه الله استقر عليه مصطلح أهل السنة، ولذلك لما وصل السمعافي في الأنساب إلى ذكر من نسب إلى السنة فقيل: " السني " قال: " السني: بضم السين المهملة، وتشديد النون المكسورة، هذه النسبة إلى السنة التي هي ضد البدعة، ولما كثر أهل البدع
--------------------------------------------
এগুলো উলামায়ে কেরামের নিকট সুন্নাহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োগ (১), এবং আমাদের নিকট এখানে যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো "সুন্নাহ" এর পারিভাষিক অর্থ যখন আকীদার ক্ষেত্রে "আহলে সুন্নাত" বলা হয়, বিশেষ করে যখন ইসলামি উম্মাহর মাঝে বিভক্তি দেখা দিল। ইবনে রজব বলেন: "সুফিয়ান সওরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: 'তোমরা আহলে সুন্নাতের সাথে কল্যাণের অসিয়ত গ্রহণ করো, কারণ তারা হলো আগন্তুক' (২)। এই ইমামদের নিকট সুন্নাহ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ যে পদ্ধতির ওপর ছিলেন, যা সংশয় ও কুপ্রবৃত্তি থেকে মুক্ত। এ কারণেই ফুযাইল ইবনে ইয়ায বলতেন: 'আহলে সুন্নাত তারাই, যারা চিনে যে তাদের পেটে কী হালাল প্রবেশ করছে' (৩)। আর এটি এজন্য যে, হালাল ভক্ষণ করা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সুন্নাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য ছিল। পরবর্তীতে অনেক মুতাআখখিরীন (পরবর্তী) হাদীস বিশারদ ও অন্যদের পরিভাষায়: সুন্নাহ হলো বিশেষভাবে বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সংশয় থেকে মুক্ত থাকা, বিশেষ করে আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালের মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে; তেমনিভাবে তকদীরের মাসআলা ও সাহাবীদের মর্যাদার ক্ষেত্রেও। তাঁরা এই ইলম সম্পর্কে বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সেগুলোর নাম দিয়েছেন সুন্নাহর কিতাব। তাঁরা এই ইলমকে সুন্নাহ নামে সুনির্দিষ্ট করেছেন কারণ এর ঝুঁকি অনেক বেশি, আর এর বিরোধিতাকারী ধ্বংসের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকে। আর পরিপূর্ণ সুন্নাহ হলো সেই পথ যা সংশয় ও কুপ্রবৃত্তি থেকে মুক্ত (৪)।"
ইবনে রজব (রাহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন, সেটির ওপরই আহলে সুন্নাত পরিভাষাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এজন্যই সামআনী যখন 'আল-আনসাব' গ্রন্থে সুন্নাহর দিকে নিসবত বা সম্বন্ধযুক্তদের আলোচনায় পৌঁছালেন এবং যখন বলা হলো "সুন্নী", তখন তিনি বলেন: "সুন্নী: সীনের ওপর পেশ এবং নূনের নিচে কাসরা ও তাশদীদ সহকারে, এটি সুন্নাহর দিকে একটি সম্বন্ধ—যা বিদআতের বিপরীত। আর যখন বিদআতিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
خصوا بها جماعة بهذا الانتساب" (1) ، ولما سأل عمر بن عبد العزيز رجل عن القدر أجابه بجواب طويل أوله: " أما بعد، أوصيك بتقوى الله والاقتصاد في أمره (2) ، واتباع سنة نبيه صلى الله عليه وسلم، وترك ما أحدث المحدثون بعد ما جرت به سنته، وكفوا مؤنته، فعليك بلزوم السنة، فإنها لك- بإذن اللهـ عصمة
… " (3) . فأمرهـ وهو يجيبه عن موضوع القدر وما أحدث فيه أهل البدع- بلزوم السنة وأن فيها وحدها العصمة من الانحراف.
ثا لثا: الجما عة:
يقال: " أهل السنة والجماعة "، وقد ورد الأمر بلزوم الجماعة في عدة أحاديث، منها ما رواه ابن عمر- رضي الله عنهما أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه خطب بالجابية (4) ، فقال: قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مقامي فيكم فقال: " استوصوا بأصحابي خيرا، ثم الذين يلونهم، ثم الذين يلونهم، ثم يفشو الكذب، حتى إن الرجل ليبتدىء بالشهادة قبل أن يسألها، فمن أراد منكم بحبحة (5) الجنة فليلزم الجماعة، فإن الشيطان مع الواحد وهو من الإثنين أبعد000" (6) ، وفي بعض روايات حديث الافتراق أن الفرقة الناجية: الجماعة (7) ، وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " الصلاة المكتوبة إلى الصلاة المكتوبة التي بعدها كفارة
--------------------------------------------
তারা এই সম্পর্কের মাধ্যমে একটি দলকে বিশেষায়িত করেছেন" (১), এবং যখন জনৈক ব্যক্তি উমর বিন আব্দুল আজিজকে তাকদীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তিনি তাকে একটি দীর্ঘ উত্তর দিলেন যার শুরু ছিল: "অতঃপর, আমি তোমাকে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন, তাঁর নির্দেশের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন (২), তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাতের অনুসরণ এবং সুন্নাত জারি হওয়ার পর নব উদ্ভাবকরা যা উদ্ভাবন করেছে তা বর্জন করার উপদেশ দিচ্ছি, যেগুলোর ভার তারা নিজেরাই বহন করেছে। সুতরাং তোমার জন্য সুন্নাত আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য, কেননা এটি আল্লাহর ইচ্ছায় তোমার জন্য সুরক্ষা..." (৩)। সুতরাং তিনি তাকে তাকদীরের বিষয় এবং বিদআতিরা এতে যা উদ্ভাবন করেছে সে সম্পর্কে উত্তর দেওয়ার সময় সুন্নাত আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, কেবল এতেই বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষা রয়েছে।
তৃতীয়ত: আল-জামাআহ (দল):
বলা হয়: "আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ", এবং জামাআহ বা দলকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ বেশ কিছু হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো যা ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জাবিয়ায় (৪) খুতবা দিয়েছিলেন, সেখানে তিনি বলেছিলেন: আমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়েছিলেন যেমনটি আমি তোমাদের মাঝে দাঁড়িয়েছি, এরপর তিনি বললেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের ব্যাপারে কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ করো, তারপর তাদের পরবর্তীদের, তারপর তাদের পরবর্তীদের। এরপর মিথ্যার প্রসার ঘটবে, এমনকি জনৈক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করার আগেই সাক্ষ্য দিতে উদ্যত হবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে জান্নাতের প্রশস্ততা (৫) চায়, সে যেন জামাআহ বা দলকে আঁকড়ে ধরে। কেননা শয়তান একজনের সাথে থাকে, কিন্তু সে দুইজনের থেকে অধিক দূরে থাকে..." (৬)। ফিরকা বা বিভক্তি বিষয়ক হাদীসের কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে যে, মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি হলো: আল-জামাআহ (৭)। আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এক ফরয নামায থেকে তার পরবর্তী ফরয নামায পর্যন্ত সময়টুকু গুনাহের কাফফারা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
لما بينهما، قال: والجمعة إلى الجمعة، والشهر إلى الشهر- يعني رمضان إلى رمضان كفارة لما بينهما- قال: ثم قال بعد ذلك: إلا من ثلاث- قال: فعرفت أن ذلك الأمر حدث- إلا من الاشراك بالله، ونكث الصفقة، وترك السنة، قال: أما نكث الصفقة أن تبايع رجلا ثم تخالف إليه تقاتله بسيفك، وأما ترك السنة فالخروج من الجماعة " (1) ،
وعن ابن عباس- رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (من رأى من أميره شيئا فليصبر، فإنه من فارق الجماعة شبرا فمات إلا مات ميتة جاهلية" (2) ، وغيرها من الأحاديث التي وردت بالأمر بلزوم الجماعة، والنهي عن الخروج عليها.
وقد اختلف العلماء في المقصود بالجماعة على أقوال أهمها:
أ- أن الجماعة هم الصحابة دون من بعدهم، " فإنهم الذين أقاموا عماد الدين، وأرسوا أوتاده، وهم الذين لا يجتمعون على ضلالة أبدا " (3) ، وهذا القول مروى عن عمر بن عبد العزيز-رحمه الله فمما روى عنه
--------------------------------------------
তাদের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য, তিনি বলেন: এবং এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত, এক মাস থেকে অপর মাস পর্যন্ত—অর্থাৎ রমজান থেকে রমজান পর্যন্ত—তা তাদের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা (পাপমোচনকারী)। তিনি বলেন: এরপর তিনি এর পরে বললেন: কিন্তু তিনটি বিষয় ছাড়া—তিনি বলেন: আমি বুঝতে পারলাম যে এটি নতুন কোনো বিষয় ঘটেছে—আল্লাহর সাথে শিরক করা, অঙ্গীকার বা চুক্তি ভঙ্গ করা এবং সুন্নাহ পরিত্যাগ করা ছাড়া। তিনি বললেন: চুক্তি ভঙ্গ করার অর্থ হলো, তুমি কোনো ব্যক্তির কাছে বায়আত হবে এরপর তার বিরোধিতা করবে এবং তার বিরুদ্ধে তোমার তরবারি দিয়ে যুদ্ধ করবে। আর সুন্নাহ পরিত্যাগ করার অর্থ হলো জামাত (মুসলিম দল) থেকে বের হয়ে যাওয়া (১)।
এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার আমিরের (নেতার) পক্ষ থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তবে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা যে ব্যক্তি জামাত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হবে এবং মারা যাবে, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করবে" (২)। এছাড়াও আরও অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যাতে জামাতবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জামাত থেকে বের হয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
জামাত বলতে কী বোঝায় সে সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম বিভিন্ন মত দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রধানগুলো হলো:
ক- জামাত বলতে কেবল সাহাবায়ে কেরামকে বোঝায়, পরবর্তী কাউকে নয়। "কেননা তাঁরাই দ্বীনের স্তম্ভ স্থাপন করেছেন এবং এর খুঁটিগুলো মজবুত করেছেন। আর তাঁরাই সেই দল যারা কখনো ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবেন না" (৩)। এই মতটি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
أنه قال: (سن رسول الله صلى الله عليه وسلم وولاة الأمر من بعده سننا، الأخذ بها تصديق بكتاب الله، واستكمال لطاعة الله، وقوة على دين الله، من عمل بها مهتدى، ومن استنصر بها منصور، ومن خالفها اتبع غير سبيل المؤمنين، وولاه الله ما تولى وصلاه جهنم وساءت مصيرا" (1) ، قال مالك: (فأعجبني عزم عمر على ذلك" (2) ، فعلى هذا القول فلفظ الجماعة مطاب للرواية الأخرى لحديث الافتراق حيث قال: (وتفترق أمتي على ثلاث وسبعبن ملة كلهم في النار الا ملة واحدة قالوا: ومن هي يارسول الله؟، قال: ما أنا عليه وأصحابي" (3) ،
والصحابة لهم خصوصيات كثيرة، فهم الذين شاهدوا التنزيل،- وسمعوا من الرسول، فلهم من العلم والفضل، والاقتداء ما ليس لغيرهم ممن جاء بعدهم.
2- وقيل: إن الجماعة هم أهل الحديث، أو أهل العلم (4) المجتهدون " لأن الله جعلهم حجة على الخلق، والناس تبع لهم في أمر الدين" (5) ،
--------------------------------------------
তিনি বলেছেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরের উলুল আমরগণ (কর্তৃত্বশীলগণ) কিছু সুন্নাহ (পদ্ধতি) নির্ধারণ করেছেন, যা গ্রহণ করা আল্লাহর কিতাবকে সত্যয়ন করা, আল্লাহর আনুগত্য পূর্ণ করা এবং আল্লাহর দ্বীনের ওপর শক্তিশালী হওয়া। যে ব্যক্তি তা অনুসরণ করে আমল করবে সে হিদায়াতপ্রাপ্ত, যে তা থেকে সাহায্য প্রার্থনা করবে সে সাহায্যপ্রাপ্ত, আর যে এর বিরোধিতা করবে সে মুমিনদের পথ ছাড়া ভিন্ন পথ অনুসরণ করবে। আল্লাহ তাকে সেদিকেই পরিচালিত করবেন যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য) (১)। ইমাম মালিক বলেছেন: (উমারের এই দৃঢ় সংকল্প আমাকে মুগ্ধ করেছে) (২)। এই বক্তব্য অনুযায়ী 'জামায়াত' শব্দটি দল-উপদলে বিভক্ত হওয়ার হাদীসের অন্য বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তিনি বলেছেন: (এবং আমার উম্মত তিয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, তাদের একটি দল ছাড়া বাকি সবাই জাহান্নামী। তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল, তারা কারা? তিনি বললেন: আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি) (৩),
এবং সাহাবীদের অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, কারণ তারাই ওহী নাযিল হতে দেখেছেন এবং রাসূলের কাছ থেকে সরাসরি শুনেছেন। তাই তাঁদের এমন জ্ঞান, মর্যাদা এবং অনুসরণের যোগ্যতা রয়েছে যা তাঁদের পরবর্তী অন্যদের নেই।
২- এবং বলা হয়েছে: নিশ্চয়ই জামায়াত হলো আহলুল হাদীস অথবা মুজতাহিদ আহলুল ইলম (৪), "কেননা আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টির ওপর হুজ্জাত (দলীল) বানিয়েছেন এবং দ্বীনের বিষয়ে মানুষ তাদের অনুসারী" (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وهذا رأى الإمام البخاري قال: " باب {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطاً} [البقرة:143] ، وما أمر النبي صلى الله عليه وسلم بلزوم الجماعة، وهم أهل العلم " (1) ، وهو رأى الإمام أحمد-رحمه الله، فإنه قال عن الجماعة: " إن لم يكونوا أصحاب الحديث فلا أدري من هم (2) ؟ "، وهو رأي الترمذي الذي قال: " وتفسر الجماعة عند أهل العلم: هم أهل الفقه والعلم والحديث " (3) ، وهو رأي ابن المبارك وعلي بن المديني، وأحمد بن سنان الذي قال: " هم أهل العلم وأصحاب الآثار" (4) .
فعلى هذا القول فالجماعة هم أهل السنة العالمون المجتهدون، فيخرج منهم المبتدعة، كا يخرج العامة المقلدة لأن الغالب فيهم أنهم تبع للعلماء.
3- وقيل: إن الجماعة هم السواد الأعظم، وعليه رواية الافتراق التي أخبر النبي صلى الله عليه وسلم فيها أن الفرقة الناجية هم السواد الأعظم (5) ، قال في النهاية: " عليكم بالسواد الأعظم (6) : أى جملة الناس ومعظمهم، الذين يجتمعون على طاعة السلطان وسلوك النهج القويم " (7) ، يقول عبد اللة مسعود رضي الله عنه في إحدى خطبه: "يا أيها الناس عليكم بالطاعة والجماعة، فإنهما السبيل في الأصل الى جبل الله الذى أمر به، وإن ما تكرهون في الجماعة خير مما تحبون في الفرقة " (8) ، ويقول أبو غالب رحمه الله:
--------------------------------------------
এটি ইমাম বুখারীর মত, তিনি বলেছেন: "পরিচ্ছেদ: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি} [আল-বাকারা: ১৪৩], এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামাআতের সাথে থাকার যে নির্দেশ দিয়েছেন, আর তারা হলেন আহলুল ইলম (ইলমের অধিকারীগণ)" (১)। এটি ইমাম আহমাদেরও—আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন—মত, কেননা তিনি জামাআত সম্পর্কে বলেছেন: "যদি তারা আসহাবুল হাদীস (হাদীসের অনুসারীগণ) না হয়, তবে তারা কারা তা আমি জানি না (২)?" এটি তিরমিযীরও মত, যিনি বলেছেন: "আহলুল ইলমদের নিকট জামাআতের ব্যাখ্যা হলো: তারা হলেন ফিকহ, ইলম ও হাদীসের অনুসারীগণ" (৩)। এটি ইবনুল মুবারক, আলী ইবনুল মাদীনী এবং আহমাদ বিন সিনানেরও মত, যিনি বলেছেন: "তারা হলেন আহলুল ইলম ও আসহাবুল আসার (সুন্নাহর অনুসারীগণ)" (৪)।
এই বক্তব্য অনুযায়ী, জামাআত হলেন আহলুস সুন্নাহর আলিম ও মুজতাহিদগণ। ফলে বিদআতীগণ তাদের থেকে বহির্ভূত হবে, যেমনটি সাধারণ অনুসারীরাও (মুকাল্লিদ) বহির্ভূত হবে, কারণ তাদের অধিকাংশের ক্ষেত্রে তারা আলিমদের অনুসারী মাত্র।
৩- এবং বলা হয়েছে যে: জামাআত হলো সাওয়াদুল আজম (বৃহত্তর জনগোষ্ঠী), আর বিভক্তি সংক্রান্ত বর্ণনাটিও এর ওপর ভিত্তি করে যাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, মুক্তিপ্রাপ্ত দল হলো সাওয়াদুল আজম (৫)। 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "তোমরা সাওয়াদুল আজমকে আঁকড়ে ধরো (৬): অর্থাৎ মানুষের সেই সমষ্টি ও তাদের অধিকাংশ, যারা শাসকের আনুগত্য ও সঠিক পথে চলার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়" (৭)। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর একটি ভাষণে বলেন: "হে লোকসকল, তোমরা আনুগত্য ও জামাআতকে আঁকড়ে ধরো, কারণ এই দুটিই মূলত আল্লাহর সেই রজ্জুর পথ যার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন। আর তোমরা জামাআতের মধ্যে যা অপছন্দ করো, তা বিচ্ছিন্ন থেকে যা পছন্দ করো তার চেয়ে উত্তম" (৮)। আবু গালিব—আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন—বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
" إن السواد الأعظم هم الناجون من الفرق، فما كانوا عليه من أمر دينهم فهو الحق، ومن خالفهم مات ميتة جاهلية سواء خالفهم في شىء من الشريعة أو في إمامهم وسلطانهم فهو مخالف! للحق " (1) ، ويقول أبو مسعود الأنصاري رضي الله عنه حين خرج ونزل في طريق القادسية وقال له أصحابه: اعهد إلينا، فإن الناس قد وقعوا في الفتنة فلا ندري أنلقاك بعد اليوم أم لا. فقال: " اتقوا الله واصبروا حتى يستريح بر أو يستراح من فاجر، وعليكم بالجماعة فإن الله لا يجمع أمته على الضلالة " (2) ، يقول الشاطبي معقبا: فعلى هذا القول يدخل في الجماعة مجتهدو الأمة وعلماؤها، وأهل الشريعة العاملون بها، ومن سواهم داخلون في حكمهم لأنهم تابعون لهم ومقتدون بهم، فكل من خرج عن جماعتهم فهم الذين شذوا وهم نهبة الشيطان، ويدخل في هؤلاء جميع أهل البدع؟ لأنهم مخالفون لمن تقدم من الأمة، لم يدخلوا في سوادهم بحال " (3) . ويقول الآجري: " فمن أراد الله تعالى به خيرا فتح له باب الدعاء، والتجأ إلى مولاه الكريم وخاف على دينه، وحفظ لسانه، وعرف زمانه، ولزم الحجة الواضحة السواد الأعظم
… " (4) .
4- وقيل: إن الجماعة هم جماعة أهل الإسلام إذا أجمعوا على أمر من أمور الشرع سواء في أمور الأحكام أو المعتقدات، يقول الكرماني: " يلزم على المكلف متابعة حكم الجماعة والاعتصام به، وهو اتفاق المجتهدين من الأمة في عصر على أمر ديني (5) فهذا القول يفسر الجماعة بأهل الإجماع، ولذا فهو قريب من القول الثاني.
5- إن الجماعة: هم جماعة المسلمين إذا اجتمعوا على أمير، وهذا رأي الطبري الذي ذكر الأقوال السابقة، ثم قال: " والصواب أن المراد من الخبر
--------------------------------------------
"নিশ্চয়ই সাওয়াদে আজম (বৃহত্তম জনসমষ্টি) হলো ফেরকাসমূহ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল। তারা তাদের দ্বীনি বিষয়ের যে অবস্থায় রয়েছে তাই হক (সত্য)। আর যে তাদের বিরোধিতা করবে, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করবে; চাই সে শরীয়তের কোনো বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করুক কিংবা তাদের ইমাম ও সুলতানের বিষয়ে, সে সত্যের বিরোধিতাকারী!" (১) , এবং আবু মাসউদ আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন তিনি বের হলেন এবং কাদিসিয়ার পথে অবতরণ করলেন, তখন তাঁর সাথীরা তাঁকে বললেন: 'আমাদের কোনো উপদেশ দিন, কেননা মানুষ ফেতনায় নিপতিত হয়েছে এবং আমরা জানি না আজকের পর আপনার সাথে আর দেখা হবে কি না।' তিনি বললেন: "তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধরো, যতক্ষণ না কোনো নেককার ব্যক্তি আরাম পায় অথবা কোনো পাপাচারী থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আর তোমরা জামায়াতকে আঁকড়ে ধরো, কারণ আল্লাহ তাঁর উম্মতকে পথভ্রষ্টতার ওপর একত্রিত করবেন না" (২) , শাতবি মন্তব্য করে বলেন: "এই উক্তি অনুযায়ী উম্মতের মুজতাহিদগণ ও আলেমগণ এবং শরীয়তের ওপর আমলকারী ব্যক্তিবর্গ জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর তারা ছাড়া অন্যরাও তাদের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবেন, কারণ তারা তাদের অনুসারী ও অনুকরণকারী। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের জামায়াত থেকে বের হয়ে যাবে, সে-ই বিচ্ছিন্ন হবে এবং সে শয়তানের শিকার হবে। আর এদের মধ্যে সকল বিদআতিরা অন্তর্ভুক্ত হবে? কারণ তারা উম্মতের পূর্ববর্তীদের বিরোধী, তারা কোনো অবস্থাতেই তাদের বড় দলের (সাওয়াদ) অন্তর্ভুক্ত নয়" (৩) । আজুরি বলেন: "আল্লাহ তাআলা যার মঙ্গল চান, তার জন্য দোয়ার দরজা খুলে দেন। সে তার মহান রবের কাছে আশ্রয় নেয়, নিজের দ্বীনের ব্যাপারে ভীত থাকে, তার জিহ্বাকে হেফাজত করে, নিজের সময়কে চেনে এবং সুস্পষ্ট প্রমাণ ও সাওয়াদে আজমকে আঁকড়ে ধরে
… " (৪) ।
৪- বলা হয়েছে: নিশ্চয়ই জামায়াত হলো আহলে ইসলামের সেই জামায়াত, যখন তারা শরীয়তের কোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়, চাই তা বিধানগত বিষয়ে হোক বা বিশ্বাসগত বিষয়ে। কিরমানি বলেন: "মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান পালনযোগ্য ব্যক্তি)-এর ওপর জামায়াতের হুকুম অনুসরণ করা এবং তা আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। আর তা হলো কোনো এক যুগে উম্মতের মুজতাহিদগণের কোনো ধর্মীয় বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করা (৫)।" এই উক্তিটি জামায়াতকে ইজমা বা ঐক্যমত পোষণকারীদের দ্বারা ব্যাখ্যা করে, তাই এটি দ্বিতীয় মতের কাছাকাছি।
৫- নিশ্চয়ই জামায়াত হলো: মুসলিমদের এমন জামায়াত যখন তারা একজন আমীরের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়। এটি তাবারির অভিমত যিনি পূর্ববর্তী মতগুলো উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: "সঠিক হলো এই যে, হাদিসের উদ্দেশ্য হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
لزوم الجماعة الذين لط طاعة من اجتمعوا على تأميره، فمن نكث بيعته خرج عن الجماعة" (1) ، ولذا أمر النبي صلى الله عليه وسلم بلزومه، ونهى عن الخروج عليه، وفراق الأمة فيما أجمعوا عليه من تأميره وتقديمه عليهم (2) .
هذه أهم الأقوال في الجماعة وحاصلها أن الجماعة ترجع إلى أمرين:
أحدهما: أن الجماعة هم الذين اجتمعوا على أمير على مقتضى الشرع، فيجب لزوم هذه الجماعة، ويحرم الخرو! عليها وعلى أميرها.
الثاني: أن الجماعة ما عليه أهل السنة من الاتباع وترك الابتداع، وهو المذهب الحق الواجب اتباعه والسير على منهاجه، وهذا معنى تفسير الجماعة بالصحابة، أو أهل العلم والحديث، أو الاجماع، أو السواد الأعظم، فهي كلها ترجع إلى معنى واحد هو: ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، فيجب الاتباع حينئذ ولو كان المتمسك بهذا قليلا، ولهذا قال عبد الله ابن مسعود رضي الله عنه إنما الجماعة ما وافق طاعة الله وإن كنت وحدك " (3) ، وروى عنه أنه قال: " إنما الجماعة ما وافق الحق وإن كنت وحدك " (4) ، يقول أبو شامة: " حيث جاء الأمر بلزوم الجماعة فالمراد به لزوم الحق وأتباعه، وإن كان المتمسك بالحق قليلا والمخالف كثيرا، لأن الحق الذي كانت عليه الجماعة الأولى من النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابهـ رضي الله عنهم ولا تنظر إلى كثرة أهل الباطل بعدهم " (5) ، ويقول شيخ الإسلام ابن تيمية: " ثم من طريقة أهل السنة والجماعة اتباع آثار رسول الله صلى الله عليه وسلم باطنا وظاهرا، واتباع السابقين الأولين من المهاجرين والأنصار، واتباع وصية رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث قال: " عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي، تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ،
--------------------------------------------
সেই জামাআতের সাথে থাকা আবশ্যক যাদের আনুগত্য করা তাদের ওপর ওয়াজিব যারা তাকে নেতা (আমীর) হিসেবে নিয়োগ করার ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি তার বায়আত (আনুগত্যের অঙ্গীকার) ভঙ্গ করল, সে জামাআত থেকে বের হয়ে গেল (১); আর এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামাআতের সাথে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে এবং উম্মত যাকে নেতা নির্বাচিত ও অগ্রগণ্য করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে নিষেধ করেছেন (২)।
জামাআত সম্পর্কে এগুলোই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এবং এর সারকথা হলো জামাআত দুটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়:
এক: জামাআত হলো তারা যারা শরীয়তের দাবি অনুযায়ী একজন আমীরের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সুতরাং এই জামাআতের সাথে থাকা ওয়াজিব এবং এই জামাআত ও তার আমীরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম।
দুই: জামাআত হলো আহলে সুন্নাত যা অনুসরণ (ইত্তিবা) এবং বিদআত বর্জনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটিই সেই সত্য মাযহাব যার অনুসরণ করা এবং যার মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর চলা ওয়াজিব। জামাআতের ব্যাখ্যায় সাহাবীগণ, ইলম ও হাদীস বিশারদগণ, ইজমা (ঐক্যমত) কিংবা সাওয়াদে আযম (বিরাট জনসমষ্টি) বলতে এটাই উদ্দেশ্য। এগুলোর সবকিছুর মূল কথা একটিই, আর তা হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর ছিলেন। এমতাবস্থায় সত্যের ওপর অটল ব্যক্তি সংখ্যায় অল্প হলেও তার অনুসরণ করা ওয়াজিব। আর এই কারণেই আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "জামাআত হচ্ছে তা-ই যা আল্লাহর আনুগত্যের অনুকূল হয়, যদিও আপনি একাকী হন" (৩)। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, "জামাআত হচ্ছে তা-ই যা সত্যের অনুকূল হয়, যদিও আপনি একাকী হন" (৪)। আবু শামা বলেন: "যেখানে জামাআতের সাথে থাকার নির্দেশ এসেছে, সেখানে উদ্দেশ্য হলো সত্য এবং সত্যের অনুসারীদের সাথে থাকা; যদিও সত্যের ওপর অটল ব্যক্তি সংখ্যায় অল্প হয় এবং বিরোধীরা সংখ্যায় অনেক হয়। কারণ সত্য হলো তা-ই যার ওপর প্রথম জামাআত তথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তাদের পরে বাতিলপন্থীদের আধিক্যের দিকে তাকাবেন না" (৫)। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "অতঃপর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম তরীকা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আসারের (সুন্নাহর) বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে অনুসরণ করা, এবং মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে প্রথম অগ্রবর্তীদের অনুসরণ করা, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসিয়ত অনুসরণ করা যেখানে তিনি বলেছেন: 'তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরো। একে শক্তভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة " (1) ، ويعلمون أن أصدق الكلام كلام الله، وخير الهدى هدى محمد صلى الله عليه وسلم ويوثرون كلام الله على كلام غيره من كلام أصناف الناس، ويقدمون هدي محمد صلى الله عليه وسلم على هدى كل أحد، وبهذا سموا أهل الكتاب والسنة، وسموا أهل الجماعة؛ لأن الجماعة هي الاجتماع وضدها الفرقة، وان كان لفظ الجماعة قد صار اسما لنفس القوم المجتمعين، و" الإجماع " هو الأصل الثالث الذي يعتمد عليه في العلم والدين، وهم يزنون بهذه الأصول الثلاثة جميع ما عليه الناس من أقوال وأعمال باطنة وظاهرة مما له تعلق بالدين " (2) . ولهذا نجد أحيانا بعض العلماء يفسرون الجماعة بأشخاص تمثل فيهم المنهج الحق والاتباع، فعبد الله ابن المبارك لما سئل عن الجماعة قال: " أبو بكر وعمر، فقيل له: قد مات أبو بكر وعمر، قال: ففلان وفلان، قيل له: قد مات فلان وفلان، قال ابن المبارك: أبو حمزة السكري جماعة " (3) . فأراد ابن المبارك أن يفسر الجماعة بمن اجتمعت فيه صفات الاتباع الكامل للكتاب والسنة.
رابعا: أهل الحديث
تقدم في القول الثاني من الأقوال في المقصود بالجماعة: أنهم أهل الحديث، وأن هذا قال به جماعة من أهل العلم كالبخاري والإمام أحمد، والترمذي، وابن المبارك، وابن المديني، وأحمد بن سنان، وغيرهم. ولذلك صار عند كثير من العلماء أن الفرقة الناجية والتي يجب السير على منهاجها هم أهل الحديث. ولذلك فسنعرف بهم هنا:
الحديث في اللغة ضد القديم (4) ، وفي الاصطلاح: عرفه بعضهم بأنه:
--------------------------------------------
"তোমরা নতুন আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নতুন বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা" (১)। এবং তারা জানে যে, সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর বাণী এবং সর্বোত্তম হিদায়াত হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিদায়াত। তারা আল্লাহর বাণীকে মানুষের বিভিন্ন শ্রেণীর কথার ওপর প্রাধান্য দেয় এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিদায়াতকে অন্য সকলের হিদায়াতের ওপর অগ্রগণ্য মনে করে। একারণেই তাদের আহলে কিতাব ও সুন্নাহ বলা হয় এবং তাদের আহলে জামাআত বলা হয়; কেননা জামাআত হলো ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং এর বিপরীত হলো বিচ্ছিন্নতা। যদিও জামাআত শব্দটি ঐ সকল ঐক্যবদ্ধ জনসমষ্টির নাম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। আর "ইজমা" হলো তৃতীয় মূলনীতি যা ইলম ও দ্বীনের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য। তারা মানুষের যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজ যা দ্বীনের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেগুলোকে এই তিনটি মূলনীতির মাধ্যমে পরিমাপ করে (২)। এ কারণে আমরা কখনো কখনো দেখি যে, কতিপয় আলেম এমন ব্যক্তিদের দ্বারা জামাআতের ব্যাখ্যা দিয়েছেন যাদের মধ্যে সঠিক মানহাজ ও অনুসরণের প্রতিফলন ঘটেছে। আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে যখন জামাআত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন তিনি বললেন: "আবু বকর ও উমর।" তাঁকে বলা হলো: আবু বকর ও উমর তো মারা গেছেন। তিনি বললেন: "অমুক এবং অমুক।" তাঁকে বলা হলো: অমুক এবং অমুকও তো মারা গেছেন। ইবনুল মুবারক তখন বললেন: "আবু হামযা আস-সুককারী-ই একটি জামাআত" (৩)। ইবনুল মুবারক এখানে জামাআতের ব্যাখ্যা ঐ ব্যক্তির মাধ্যমে দিতে চেয়েছেন যার মধ্যে কিতাব ও সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণের গুণাবলি একত্রিত হয়েছে।
চতুর্থত: আহলে হাদীস
জামাআতের উদ্দেশ্য কী সে সম্পর্কিত মতামতের দ্বিতীয় বর্ণনায় ইতঃপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, তারা হলেন আহলে হাদীস। বুখারী, ইমাম আহমাদ, তিরমিযী, ইবনুল মুবারক, ইবনুল মাদীনী, আহমাদ বিন সিনান এবং অন্যান্য একদল আলেম এই মত পোষণ করেছেন। এ কারণে অনেক আলেমের নিকট এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, মুক্তিপ্রাপ্ত দল (ফিরকা নাজিয়া) এবং যাদের মানহাজ অনুসরণ করা ওয়াজিব তারা হলেন আহলে হাদীস। তাই আমরা এখানে তাদের পরিচয় তুলে ধরব:
অভিধানে 'হাদীস' শব্দটি 'কাদীম' বা পুরাতনের বিপরীত (৪), আর পারিভাষিক অর্থে কেউ কেউ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে:
--------------------------------------------