(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
مسألة التقريب بين أهل السنة والشيعة   (ناصر القفاري)

القسم: العقيدة


الكتاب: مسألة التقريب بين أهل السنة والشيعة

المؤلف: ناصر بن عبد الله بن علي القفاري

دار النشر: دار طيبة للنشر والتوزيع

الطبعة: الثالثة، 1428 هـ

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের মাঝে নিকটবর্তী করার মাসআলা   (নাসির আল-কিফারি)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের মাঝে নিকটবর্তী করার মাসআলা

লেখক: নাসির বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী আল-কিফারি

প্রকাশনা সংস্থা: দার তাইয়্যেবাহ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪২৮ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ১)
ـ[مسألةُ التّقريب بين أهْل السُّنة والشّيعَة]ـ

المؤلف: د. ناصر بن عبد الله بن علي القفاري

الناشر: دار طيبة للنشر والتوزيع

عدد الأجزاء: 2

الطبعة: الثالثة، 1428 هـ

--------------------------------------------

[الكتاب موافق للمطبوع، ومذيل بالحواشي]

-أعده للشاملة: أسامة بن الزهراء؛ فريق عمل الشاملة -
[আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের মধ্যে নৈকট্য বিধানের বিষয়টি]

লেখক: ড. নাসির বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী আল-কিফারি

প্রকাশক: দার তাইয়্যেবা প্রকাশনা ও বিতরণ

খণ্ড সংখ্যা: ২

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪২৮ হিজরী

--------------------------------------------

[বইটি মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং পাদটীকা সংবলিত]

-শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: উসামা বিন আয-যাহরা; শামেলা কর্মীবৃন্দ -
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌هذا الكتاب - في الأصل - رسالة علمية تقدَّم بها المؤلف لنيل درجة الماجستير، وأجيزت بتقدير ممتاز، وقد سجلت بتاريخ 6/7/1398هـ فلا أثر للأحداث التي جرت على الساحة فيما بعد لاختياره. وقد آثر مؤلفه أن ينشره كما كتبه في حينه من غير تعديل، وهذا ليس تنصلاً من الآراء التي يُضمِنها أو تضمنها سطوره ولكنه تقرير لأمر واقع. كما أنه تأخر في نشره حتى لا تكون مادته وسيلة لتأييد الطغاة، ولا يفسر ما جاء فيه بأنه يجري في ركب السلاطين.
এই গ্রন্থটি - মূলত - একটি গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ যা লেখক তাঁর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশ করেছিলেন এবং এটি 'মুমতাজ' (চমৎকার) মানসহ গৃহীত হয়েছে। এটি ৬/৭/১৩৯৮ হিজরি তারিখে নিবন্ধিত হয়েছিল, তাই এটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে সংঘটিত ঘটনাবলির কোনো প্রভাব নেই। লেখক এটিকে সেই সময়ে যেভাবে লিখেছিলেন সেভাবেই কোনো প্রকার পরিবর্তন ছাড়াই প্রকাশ করা পছন্দ করেছেন; এটি এতে অন্তর্ভুক্ত মতাদর্শ থেকে সরে আসা নয়, বরং বাস্তব অবস্থার বর্ণনা মাত্র। এছাড়া তিনি এর প্রকাশে বিলম্ব করেছেন যেন এর বিষয়বস্তু স্বৈরাচারীদের সমর্থনের হাতিয়ার না হয় এবং এতে যা আলোচিত হয়েছে তা যেন শাসকদের অনুগামী হওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা না হয়।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:

فإن قضية التأليف بين فصائل الأمة، والسعي في إصلاح ذات بينها وجمع شملها على الحق والهدى، ورأب صدعها، والتقريب بين فئاتها المتنازعة من أعظم أصول الإسلام العظيمة، ومن أفضل أبواب الخير والجهاد في سبيل الله.

والأمة لم تؤت من ثغرة مثل ما أُتيت من جانب فرقتها وتنازعها، والصرع بينها. ولقد كان الأعداء هم الذين يؤججون هذا الصراع، ويحصدون نتائجه، والمسلمون لا يحصدون سوى الخيبة والفشل.. إذْ لم يستطع الأعداء أن يحققوا ما يريدون من تبديد الأمة، وتشتيت شملها؛ إلا بعد أن غرسوا فسائل الفتنة والخلاف بينها، وبعد أن أوجدوا أسباب الصراع والنزاع في صفوفها. ولقد كانت محاولاتهم قديمة بدأت في عهد الدولة الإسلامية الأولى بمحاولة التفريق بين الأوس والخزرج بإثارة النعرات القومية، وبعث الأحقاد التاريخية. ولكن محاولاتهم باءت بالفشل؛ فما كان للأمة أن تختلف وفيها رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ولقد رأى الأعداء أن كيد الإسلام - كما يقول الإمام ابن حزم -
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সহচরদের ওপর। অতঃপর:

উম্মাহর বিভিন্ন উপদলের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা, তাদের মধ্যকার পারস্পরিক বিবাদ মিমাংসার চেষ্টা করা, সত্য ও হেদায়েতের ওপর তাদের একত্রিত করা, তাদের মধ্যকার ফাটল মেরামত করা এবং বিবদমান গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে নৈকট্য সৃষ্টি করা ইসলামের মহান মূলনীতিসমূহের অন্যতম এবং এটি কল্যাণ ও আল্লাহর পথে জিহাদের শ্রেষ্ঠতম মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

এই উম্মাহ বিভেদ, বিবাদ এবং পারস্পরিক সংঘাতের মতো অন্য কোনো ছিদ্রপথ দিয়ে এত বেশি আক্রান্ত হয়নি। শত্রুরাই সর্বদা এই সংঘাত উসকে দিয়েছে এবং এর সুফল ভোগ করেছে, অথচ মুসলমানরা ব্যর্থতা ও নিরাশা ছাড়া আর কিছুই পায়নি.. কেননা উম্মাহকে ধ্বংস করা এবং তাদের ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করার বিষয়ে শত্রুরা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে সক্ষম হয়নি যতক্ষণ না তারা তাদের মধ্যে ফিতনা ও মতভেদের বীজ রোপণ করেছে এবং তাদের কাতারগুলোর মধ্যে সংঘাত ও বিবাদের কারণসমূহ সৃষ্টি করেছে। তাদের এই প্রচেষ্টা অনেক পুরনো, যা প্রথম ইসলামী রাষ্ট্রের যুগে জাতীয়তাবাদী স্লোগান উসকে দিয়ে এবং ঐতিহাসিক বিদ্বেষ জাগ্রত করে আউস ও খাজরাজ গোত্রদ্বয়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল; কারণ যতক্ষণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মাহর মাঝে বিদ্যমান ছিলেন, ততক্ষণ তাদের পক্ষে মতভেদ করা সম্ভব ছিল না।

শত্রুরা লক্ষ্য করেছিল যে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা—যেমনটি ইমাম ইবনে হাযম বলেন—
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬)
على الحيلة أنجع؛ لأنهم راموا كيد الإسلام بالمحاربة في أوقات شتى، وفي كل ذلك يظهر الله سبحانه وتعالى الحق، فرأوا أن كيده عن طريق التخطيط والاحتيال والتآمر أجدى؛ فأظهر قوم منهم الإسلام، واستمالوا أهل التشيع بإظهار محبة أهل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم واستشناع ظلم علي رضي الله عنه (في زعمهم) ثم سلكوا بهم مسالك شتى حتى أخرجوهم عن الإسلام (1) .

فخرجت كثير من الطوائف التي تتسمى بالإسلام وليس لها من الإسلام نصيب، ونادت بآراء وعقائد غريبة عن الإسلام وبعيدة عن كتاب الله وسنّة رسوله صلى الله عليه وسلم. ولقد كان لظهور هذه الأفكار والعقائد والطوائف آثار بعيدة المدى في تفريق الأُمة، وإضعاف شأنها، لأنه (إذا ترك الناس بعض ما أنزل الله، وقعت بينهم العداوة والبغضاء؛ إذ لم يبق هنا حق جامع يشتركون فيه؛ بل (تَقَطَّعُوا أَمْرَهُمْ بَيْنَهُمْ زُبُرًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ) (2)) (3) . وحقق الأعداء ما يريدون، وجنوا ثمرة تآمرهم ضد المسلمين.

وكان أنكى صراع وأطول نزاع.. وأخطر اختلاف: ما حصل بين أهل السنّة والشيعة.. فلقد شهد التاريخ أحداثاً دامية تمثلت في الصراع العنيف الذي دار بين الطائفتين، واستمر قائماً … يزداد أو يخف على اختلاف المراحل التاريخية.. وإلى يومنا هذا، يشتد الصراع ويزداد لهيبه، ويبدو أن الأعداء يريدون أن يستثمروا الخلاف بين أهل السنّة والشيعة، بتوسيع نطاقه، وتأجيج حدته ليحققوا مكاسب أكبر.

--------------------------------------------

(1) انظر «الفصل» : (2/108 - 109) .

(2) المؤمنون: آية 53.

(3) «مجموع الفتاوى» لشيخ الإسلام ابن تيمية: (13/ 227) .
প্রবঞ্চনার আশ্রয় গ্রহণ ছিল অধিক কার্যকর; কারণ তারা বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধের মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করেছিল এবং সেই সব ক্ষেত্রেই মহান আল্লাহ সত্যকে বিজয়ী করেছেন। ফলে তারা দেখল যে, পরিকল্পনা, প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে চক্রান্ত করাই অধিক ফলপ্রসূ। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে একদল লোক বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন এবং আলীর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রতি (তাদের দাবি অনুযায়ী) অন্যায়ের নিন্দা জানিয়ে শিয়া মতাবলম্বীদের আকৃষ্ট করল। এরপর তারা তাদের বিভিন্ন পথে পরিচালিত করল, এমনকি শেষ পর্যন্ত তাদের ইসলাম থেকে বের করে দিল (১)।

ফলে এমন অনেক দলের উদ্ভব ঘটল যারা নিজেদের ইসলামের নামে পরিচয় দিলেও ইসলামের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তারা এমন সব মতবাদ ও আকিদাহর দিকে আহ্বান জানায় যা ইসলামের জন্য অপরিচিত এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকে বহু দূরে। এই সকল চিন্তা-চেতনা, আকিদাহ ও দল-উপদলের উদ্ভব উম্মাহর বিভক্তি এবং এর শক্তি দুর্বল করার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। কারণ (যখন মানুষ আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তার একাংশ বর্জন করে, তখন তাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়; যেহেতু তখন তাদের মাঝে এমন কোনো সর্বজনীন সত্য অবশিষ্ট থাকে না যাতে তারা একমত হতে পারে; বরং তারা (নিজেদের বিষয়গুলোকে নিজেদের মধ্যে বহুধা বিভক্ত করে ফেলেছে, প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত) (২)) (৩)। আর শত্রুরা যা চেয়েছিল তা অর্জন করল এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্রের ফসল সংগ্রহ করল।

সবচেয়ে কষ্টদায়ক সংগ্রাম, দীর্ঘতম বিবাদ এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক মতপার্থক্য ছিল তাই যা আহলে সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। ইতিহাস এমন সব রক্তক্ষয়ী ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে যা এই দুই দলের মধ্যে সংঘটিত তীব্র সংগ্রামের রূপ পরিগ্রহ করেছিল এবং তা অব্যাহত ছিল … ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে তা বৃদ্ধি পেয়েছে বা হ্রাস পেয়েছে। আজ পর্যন্ত এই সংঘাত তীব্রতর হচ্ছে এবং এর শিখা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনে হচ্ছে শত্রুরা আহলে সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্যের এই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে এর পরিধি বিস্তৃত করতে এবং এর তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়ে বড় ধরনের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন ‘আল-ফাসল’: (২/১০৮ - ১০৯)।

(২) আল-মুমিনুন: আয়াত ৫৩।

(৩) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’: (১৩/২২৭)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وقد عرف الأعداء أن فرصتهم لتحقيق مطامعهم وآمالهم الدموية لا تواتيهم إلاّ في جوٍّ تخيم عليه كآبة الفرقة، وتتطاول فيه ألسنة لهيب التصارع، لذلك دأبوا على مواصلة إمداد نيران النزاع بوقود الفتن. وإذا كانت محاولات التأليف بين الفرقاء قد نشطت من قديم فهي الأخرى لم تسلم من كيد الأعداء؛ إذ نجد أن مسألة التقريب والتأليف والوحدة استُغلت لإعطاء الباطل صفة الشرعية.. ومنح الدخيل من الأفكار صفة الأصيل، لتبقى بذور الفتنة وأُسس الخلاف بين الأُمة لتشتعل في أي لحظة يراد لها.

ولا شك أن الإسلام قد رسم للأُمة طريق وحدتها، قال تعالى: (وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا … ) (1) ، فهو اعتصام بحبل الله واجتماع على هدى الله … وما حصلت الفرقة إلا بالبعد عن هذا "المنهج".

وقد بيّن القرآن الكريم المنهج الذي يلجأ إليه المسلمون عند التنازع والاختلاف، قال تعالى: (فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ) (2) ، (قال العلماء: إلى كتاب الله وإلى نبيّه صلى الله عليه وسلم، فإن قبض فإلى سنّته) (3) .

وإن نشب صراع وقامت معارك فالله يقول: (وَإِنْ طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا فَإِنْ بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَى فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّى تَفِيءَ إِلَى أَمْرِ اللَّهِ) (4) .

لكن هذا "المنهج" خاص بالمسلمين الذين يهتدون بهدى الله، أما من يتسمى بالإسلام وهو ضد الإسلام فإنه يجب كشفه لتعرف الأمة

--------------------------------------------

(1) آل عمران: آية 103.

(2) النساء: آية 59.

(3) «التمهيد» لابن عبد البر: (4/264) .

(4) الحجرات: آية 9.
শত্রুরা জানে যে তাদের রক্তাক্ত লালসা ও আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার সুযোগ কেবল তখনই আসে যখন অনৈক্যের বিষণ্ণতা ছেয়ে থাকে এবং দ্বন্দ্ব-সংঘাতের লেলিহান শিখা বিস্তার লাভ করে। তাই তারা বিবাদের আগুনে ফিতনার ইন্ধন যোগাতে নিরন্তর সচেষ্ট থাকে। বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও ঐক্যের প্রচেষ্টা প্রাচীনকাল থেকেই সক্রিয় থাকলেও সেগুলোও শত্রুদের ষড়যন্ত্র থেকে রেহাই পায়নি। কারণ আমরা দেখতে পাই যে, নৈকট্য, সমঝোতা ও ঐক্যের বিষয়টিকে বাতিল বা মিথ্যাকে বৈধতার রূপ দিতে ব্যবহার করা হয়েছে... এবং অনুপ্রবেশকারী চিন্তাধারাকে মৌলিক চিন্তাধারার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, যাতে উম্মাহর মধ্যে ফিতনার বীজ ও মতভেদের ভিত্তিগুলো অবশিষ্ট থাকে এবং যেকোনো মুহূর্তে সেগুলোকে প্রজ্বলিত করা যায়।

নিঃসন্দেহে ইসলাম উম্মাহর জন্য ঐক্যের পথ এঁকে দিয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: (তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না...) (১)। সুতরাং এটি হলো আল্লাহর রশিকে আঁকড়ে ধরা এবং আল্লাহর হিদায়াতের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া... আর এই "মানহাজ" বা পদ্ধতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণেই অনৈক্য সৃষ্টি হয়েছে।

বিরোধ ও মতভেদের সময় মুসলিমরা যে পদ্ধতির আশ্রয় নেবে, পবিত্র কুরআন তা বর্ণনা করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: (যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও) (২)। (উলামায়ে কেরাম বলেছেন: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে; আর তাঁর ওফাতের পর তাঁর সুন্নাহর দিকে) (৩)।

যদি কোনো সংঘাত সৃষ্টি হয় এবং যুদ্ধ বিগ্রহ শুরু হয়, তবে আল্লাহ তাআলা বলেন: (যদি মুমিনদের দুই দল পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও। অতঃপর যদি তাদের এক দল অন্য দলের ওপর সীমালঙ্ঘন করে, তবে তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে) (৪)।

কিন্তু এই "মানহাজ" কেবল সেইসব মুসলিমদের জন্য যারা আল্লাহর হিদায়াত অনুযায়ী চলে। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি নিজেকে মুসলিম দাবি করে অথচ সে ইসলামেরই বিরোধী, তাকে অবশ্যই উন্মোচন করতে হবে যাতে উম্মাহ তা জানতে পারে।

--------------------------------------------

(১) আল ইমরান: আয়াত ১০৩।

(২) আন নিসা: আয়াত ৫৯।

(৩) ইবনে আব্দুল বার রচিত ‘আত-তামহীদ’: (৪/২৬৪)।

(৪) আল হুজুরাত: আয়াত ৯।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৮)
عداوته، ولا يجدي معه سلوك هذا السبيل.

وفي هذا العصر قامت محاولات كثيرة للتقريب بين أهل السّنة والشيعة، كمحاولة جماعة التقريب بين المذاهب الإسلامية في القاهرة وغيرها. وهذه المحاولات مبنيّة على: (أنه لا خلاف بين أهل السنّة والشيعة في شيء من أصول الإيمان، أو أركان الإسلام أو ما عُلم من الدين بالضرورة) (1) ؛ وإنما هو خلاف في بعض المسائل الفلسفية والآراء الكلاميّة التي لا صلة لها بأصول العقيدة (2) ، أو لا خلاف بينهم أصلاً إلا في بعض مسائل الفروع (3) ، والصراع والخلاف بينهما إنما صنعته الأوهام نتيجة العزلة الطويلة بين الطائفتين (4) ، وأخذ العدو يؤيد هذا الخلاف ويؤججه، والواقع أنه لا اختلاف بين الطائفتين عند الدراسة والتحقيق: (فمن الممكن أن يتقارب المسلمون فيعلموا أن هناك فرقاً بين العقيدة التي يجب الإيمان بها، وبين المعارف الفكرية التي تختلف فيها الآراء دون أن تمس العقيدة، ويومئذ يهون الأمر فنجتمع على ما نجمع عليه، وإذا اختلفنا لم يكن خلافنا إلا كما يختلف أهل المذاهب الفقهية دون خصام ولا اتهام ودون توجس واسترابة وسوء ظن مما يجعلنا متقاطعين في معاملاتنا ومصاهراتنا وثقافاتنا) (5) ، (والقطيعة بين المسلمين أوجدت

--------------------------------------------

(1) دعوة التقريب من خلال رسالة الإسلام: ص 7.

(2) انظر فتوى شلتوت في ملحق الوثائق.

(3) محمد حسين آل كاشف الغطاء، «رسالة الإسلام» ، السنة الأولى، العدد الأول: (ص 22 - 23) .

(4) مقدمة كتاب «الدعوة الإسلامية إلى وحدة أهل السنّة والإمامية» لمحمد جواد مغنية (والكتاب للخنيزي) .

(5) رسالة الإسلام «مجلة دار التقريب» السنة الأولى، العدد الأول، 1368 هـ، مجلد 1 ص 93 (صوت التقريب) .
তার শত্রুতা, এবং তার সাথে এই পথ অবলম্বন করা কোনো কাজে আসে না।

বর্তমান যুগে আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের মধ্যে নৈকট্য তৈরির অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, যেমন কায়রো ও অন্যান্য স্থানে ইসলামি মাযহাবসমূহের মধ্যে নৈকট্য বিধানকারী দলের প্রচেষ্টা। এই প্রচেষ্টাগুলো এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে: (ঈমানের মূলনীতিসমূহ, ইসলামের রুকনসমূহ অথবা দ্বীনের অকাট্য ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহের কোনো কিছুতেই আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই) (১); বরং এটি কেবল কিছু দার্শনিক মাসয়ালা এবং কালামশাস্ত্রীয় মতামতের বিরোধ, যার সাথে আকিদার মূলনীতির কোনো সম্পর্ক নেই (২), অথবা তাদের মধ্যে শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত কিছু মাসয়ালা ছাড়া আদৌ কোনো বিরোধ নেই (৩)। এই দুই দলের মধ্যকার সংঘাত ও বিরোধ মূলত দীর্ঘকালীন বিচ্ছিন্নতার ফলে সৃষ্ট অমূলক ধারণার ফসল (৪), এবং শত্রুরা এই বিরোধকে সমর্থন ও উস্কে দিতে শুরু করেছে। বাস্তবতা হলো, বিচার-বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের সময় এই দুই দলের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই: (মুসলমানদের পক্ষে কাছাকাছি আসা সম্ভব এবং তারা জানতে পারবে যে, যে আকিদার ওপর ঈমান আনা আবশ্যক তার সাথে এমন কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের পার্থক্য রয়েছে যাতে আকিদাকে স্পর্শ না করেই মতভিন্নতা হতে পারে। সেদিন বিষয়টি সহজ হয়ে যাবে এবং আমরা যে বিষয়গুলোতে একমত হতে পারি সেগুলোতে ঐক্যবদ্ধ হব। আর যদি আমরা মতভেদ করিও, তবে আমাদের সেই মতভেদ কেবল ফিকহী মাযহাবের ইমামদের মতভেদের মতোই হবে—যেখানে কোনো বিবাদ বা অভিযোগ থাকবে না এবং কোনো আশঙ্কা, সংশয় বা কুধারণা থাকবে না, যা আমাদের লেনদেন, বৈবাহিক সম্পর্ক ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেয়) (৫), (এবং মুসলমানদের মধ্যকার বিচ্ছিন্নতা তৈরি করেছে...

--------------------------------------------

(১) দাওয়াতুত তাকরিব মিন খিলালি রিসালাতিল ইসলাম: পৃ. ৭।

(২) দলিলের পরিশিষ্টে শালতুত-এর ফতোয়া দেখুন।

(৩) মুহাম্মদ হুসাইন আল কাশিফুল গীতা, 'রিসালাতুল ইসলাম', প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যা: (পৃ. ২২ - ২৩)।

(৪) মুহাম্মদ জাওয়াদ মুগনিয়াহ রচিত 'আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ইলা ওয়াহদাতি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল ইমামিয়্যাহ' গ্রন্থের ভূমিকা (বইটি খুনায়যীর)।

(৫) রিসালাতুল ইসলাম 'মাজাল্লাতু দারিত তাকরিব' প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যা, ১৩৬৮ হিজরি, ১ম খণ্ড পৃ. ৯৩ (সাওতুত তাকরিব)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
حجباً كثيفة لا بد لرفعها من دعوة تنظم الجهود، ودعاة مخلصين يبذلون غاية الجهد لتعريف كل طائفة بما عند غيرها..) (1) .

وبناء على هذا "الحكم" - بأنه لا خلاف بين الفريقين - طالب الشيعة باعتبار مذهبهم مذهباً خامساً، وأصدر شلتوت "فتواه" بجواز التعبد بالمذهب الجعفري (2) ، ونَشَر الشيعة في ديار السنّة بعض كتبهم الفقهية، ودعا بعض المنتسبين للسنّة برجوع السنّة إلى كتب الشيعة في الحديث كما يرجعون إلى صحيح البخاري وغيره من كتب السنّة، كما قام بعضهم بتحقيق بعض كتب الشيعة في ديار السنّة ونشرها. وقيل وفُعل الكثير في هذا الباب مما يطول وصفه وتسجيله. ولم يحصل شيء من ذلك في ديار الشيعة، وكأن التقصير في مسألة التقريب هو من جانب السنّة.

وكان لا بد من دراسة "مسألة التقريب" دراسة علمية موضوعية توضح الرؤية وتبيّن الطريق.. ليكون التقريب - إن أمكن - على بيّنة ومنهج واضح.. وسبيل راشد.. فإن دعوى عدم وجود خلاف إنما هي أمل يرجوه كل مسلم، ويستبشر بحصوله كل مؤمن، وهؤلاء الدعاة للتقريب يزفون لنا البشرى بأنه لا وجود للخلاف الأساسي أصلاً.

وما قاله علماء الفرق، وأئمة العقيدة والدين.. هو مجرد وهم من الأوهام.

وكما أن الاجتماع والتآلف إنما هو كسب عظيم ونجاح كبير للأمة في حاضرها ومستقبلها، فإن دعوى عدم وجود خلاف أساسي على الرغم من وجوده أمر خطير، لأن هذه "فتوى" وحكم على الضلال

--------------------------------------------

(1) محمد تقي القمي في مقدمته لكتاب «بين السنّة والشيعة» للدكتور سليمان دنيا.

(2) انظرها في ملحق الوثائق.
ঘন পর্দা, যা অপসারণের জন্য এমন এক আহ্বানের প্রয়োজন যা প্রচেষ্টাসমূহকে সুসংগঠিত করবে এবং এমন একদল নিষ্ঠাবান দায়ীর প্রয়োজন যারা প্রতিটি দলকে অন্য দলের নিকট কী রয়েছে তা পরিচিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাবেন।) (১) ।

এই "সিদ্ধান্তের" ওপর ভিত্তি করে—যেহেতু দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই—শিয়ারা তাদের মাযহাবকে পঞ্চম মাযহাব হিসেবে গণ্য করার দাবি জানায়। আর শালতুত জাফরি মাযহাব অনুযায়ী ইবাদত করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে তার "ফতোয়া" প্রদান করেন (২)। শিয়ারা সুন্নিদের ভূখণ্ডে তাদের কিছু ফিকহ শাস্ত্রের কিতাব প্রচার করে এবং সুন্নিদের সাথে সম্পৃক্ত কিছু ব্যক্তি সুন্নিদেরকে হাদিসের ক্ষেত্রে শিয়াদের কিতাবসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করার আহ্বান জানায়, যেভাবে তারা সহিহ বুখারি ও সুন্নিদের অন্যান্য কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। একইভাবে তাদের কেউ কেউ সুন্নি ভূখণ্ডে শিয়াদের কিছু কিতাব সম্পাদনা ও প্রকাশ করে। এই বিষয়ে এমন অনেক কিছু বলা ও করা হয়েছে যা বর্ণনা এবং লিপিবদ্ধ করা দীর্ঘসাধ্য। তবে শিয়াদের ভূখণ্ডে এর কিছুই ঘটেনি, যেন নিকটবর্তী হওয়ার (তাকরিব) ক্ষেত্রে বিচ্যুতি কেবল সুন্নিদের পক্ষ থেকেই ছিল।

এমতাবস্থায় "নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়টি" (তাকরিব) বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অধ্যয়ন করা অপরিহার্য ছিল, যা দৃষ্টিভঙ্গিকে স্পষ্ট করবে এবং পথ বাতলে দেবে। যাতে এই নৈকট্য—যদি সম্ভব হয়—তা যেন সুস্পষ্ট প্রমাণ, স্পষ্ট মানহাজ এবং সঠিক পথের ওপর ভিত্তি করে হয়। কেননা কোনো বিরোধ না থাকার দাবিটি মূলত এমন একটি প্রত্যাশা যা প্রত্যেক মুসলিম কামনা করেন এবং প্রত্যেক মুমিন এর অর্জনে আনন্দিত হন। আর নৈকট্যের এই আহ্বানকারীরা আমাদের এই সুসংবাদ দিচ্ছেন যে, আদতে কোনো মৌলিক বিরোধের অস্তিত্বই নেই।

আর বিভিন্ন ফেরকার আলিমগণ এবং আকিদা ও দ্বীনের ইমামগণ যা বলেছেন... তা কেবল নিছক কিছু কল্পনা মাত্র।

একইভাবে ঐক্য ও সম্প্রীতি উম্মাহর বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য যেমন একটি বিরাট অর্জন ও বড় সাফল্য, তেমনি বিরোধ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কোনো মৌলিক বিরোধ নেই বলে দাবি করা অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়; কারণ এটি একটি "ফতোয়া" এবং ভ্রষ্টতার ওপর দেওয়া একটি সিদ্ধান্ত।

--------------------------------------------

(১) ডক্টর সুলাইমান দুনিয়ার লেখা "সুন্নাহ ও শিয়াদের মাঝে" গ্রন্থের ভূমিকায় মুহাম্মদ তাকি আল-কুমি।

(২) এটি দলিলপত্রের পরিশিষ্টে দেখুন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
والباطل بالإسلام. وهذا باب من أبواب الصد عن دين الله وشرعه؛ لأن أصحاب ذلك الضلال إذا ظنوا أن ما هم عليه من باطل هو الإسلام، ثم رأوا ذلك فاسداً في العقل، شكوا في الإسلام كله.. وذهبوا يبحثون عن «مذاهب وعقائد» أُخرى.. ومن هنا فلا بد أن يكون هذا الحكم قائماً على بيّنة.. لأن التستر على الخلاف لا يؤدي إلى إزالته، بل يؤدي لاستمراره واستفحاله.. ومحاولة المريض إيهام نفسه بالسلامة تجرُّه إلى مدرجة الهلكة، ودس الرؤوس في الرمال تعامياً عن الحقيقة خير من مواجهتها مهما كانت صعبة مرة.. والدين النصيحة، لذا كان خير الطرق معرفة "واقع الأمر" و"حقيقة المشكلة" والبحث عن الحل لذلك.

إنه من الضروري أن تتكاتف جهود الباحثين المخلصين لكشف أسباب الخلاف وأُصوله، وإماطة اللثام عن الباطل الذي حاول المغرضون التلبيس به على الناس، ورفع الستار عن الأعداء.. الذين يزرعون الخلاف ويبغون في الأمة الفرقة والفشل.

لهذا سأحاول في هذه "الدراسة":

التعرف على أُصول الخلاف وأُسسه، ورأي دعاة التقريب في ذلك. وبعد ذلك سأعرض لمحاولات التقريب، والجهود المبذولة لرفع الخلاف مع التقويم لها، ثم أُبيّن هل هناك طريق ناجح لحل الخلاف.

وقد بدأْت الدراسة لـ "مسألة التقريب" بالتعريف بأهل السنّة وبالشيعة، وبيان أُسس الخلاف بينهما ومظاهره، وهذا أمر أساسي في بحث "مسألة التقريب"، فالحكم على الشيء فرع عن تصوره، وكيف نحكم في مسألة التقريب ما لم نعرف السنّة والشيعة؟ وهل نستطيع أن نصل إلى معرفة حقيقية لإمكانية التقريب أو عدمه قبل دراسة أُصول الخلاف بين الاتجاهين؟

فدراسة ذلك ركن أساسي في بحث "مسألة التقريب"، لهذا جعلت ذلك في بابين:

الباب الأول: أهل السنّة ويشمل: التعريف بأهل السنّة ومصادرهم
এবং বাতিলের মাধ্যমে ইসলামকে। আর এটি আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর শরিয়ত থেকে মানুষকে বিমুখ করার অন্যতম একটি পথ; কারণ ওই বিভ্রান্তির অনুসারীরা যদি মনে করে যে তারা যে বাতিলের ওপর আছে সেটিই ইসলাম, আর পরে যদি তারা দেখে যে তা যুক্তির বিচারে অসার, তবে তারা গোটা ইসলাম সম্পর্কেই সংশয়ে পড়ে যায় এবং তারা অন্য কোনো «মতবাদ ও আকিদা» খুঁজতে শুরু করে। এখান থেকেই এই সিদ্ধান্তটি প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া জরুরি; কারণ মতপার্থক্য গোপন রাখা একে দূর করে না, বরং এর স্থায়িত্ব ও বিস্তার ঘটায়। একজন অসুস্থ ব্যক্তি নিজেকে সুস্থ ভাবার মাধ্যমে নিজেকে ধ্বংসের দিকেই টেনে নিয়ে যায়। বাস্তবতাকে এড়িয়ে বালিতে মুখ গুঁজে রাখার চেয়ে সত্য যতই কঠিন ও তিক্ত হোক না কেন, তার মুখোমুখি হওয়া উত্তম। দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা, তাই সর্বোত্তম পথ হলো "বিষয়ের বাস্তবতা" ও "সমস্যার প্রকৃত রূপ" জানা এবং এর সমাধানের উপায় অনুসন্ধান করা।

নিষ্ঠাবান গবেষকদের জন্য এটি অপরিহার্য যে, তারা মতপার্থক্য ও এর মূল কারণগুলো উন্মোচনে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাবেন এবং কুচক্রী মহল যে বাতিলকে মানুষের কাছে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা করেছে, তা থেকে পর্দা সরিয়ে দেবেন এবং সেই শত্রুদের মুখোশ উন্মোচন করবেন যারা উম্মাহর মধ্যে বিবাদ ও ব্যর্থতা ছড়াতে চায়।

এ কারণে আমি এই "গবেষণায়" চেষ্টা করব:

মতপার্থক্যের মূলনীতি ও এর ভিত্তিগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে এবং এ বিষয়ে ঐক্যকামীদের মতামত জানতে। এরপর আমি ঐক্যের প্রচেষ্টাগুলো এবং মতপার্থক্য দূর করতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো মূল্যায়নসহ উপস্থাপন করব। সবশেষে আমি বর্ণনা করব যে, মতপার্থক্য নিরসনে কোনো সফল পথ আছে কি না।

আমি "ঐক্যের মাসআলা" বা বিষয়ের আলোচনা শুরু করেছি আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের পরিচয় এবং তাদের মধ্যকার মতপার্থক্যের ভিত্তি ও বহিঃপ্রকাশ বর্ণনার মাধ্যমে। এটি "ঐক্যের মাসআলা" পর্যালোচনার একটি মৌলিক বিষয়। কারণ কোনো বিষয় সম্পর্কে বিধান দেওয়া হলো সেই বিষয়ের সম্যক ধারণা লাভের অনুগামী। আহলে সুন্নাত ও শিয়াদের সম্পর্কে না জেনে আমরা ঐক্যের বিষয়ে কীভাবে ফয়সালা দেব? আর দুই পন্থার মধ্যকার মতপার্থক্যের মূল ভিত্তিগুলো অধ্যয়ন করার পূর্বে আমরা কি ঐক্যের সম্ভাবনা বা অসম্ভবতা সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞানে পৌঁছাতে পারি?

সুতরাং এটি অধ্যয়ন করা "ঐক্যের মাসআলা" পর্যালোচনার একটি মৌলিক স্তম্ভ। একারণে আমি বিষয়টিকে দুটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: আহলে সুন্নাত; যা অন্তর্ভুক্ত করে: আহলে সুন্নাতের পরিচয় এবং তাদের উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
في تلقي العقيدة، ومجمل عقائدهم التي خالفتها الشيعة؛ أدرس ذلك من خلال كتب أهل السنّة.

وقد يقول قائل: إذا كانت الشيعة تحتاج إلى تعريف.. فهل يحتاج أهل السنّة إلى ذلك؟ وهل من المناسب جعل المتمسك بالحق مساوياً للمخالف المنشق، وجعل "السنّة" معادلة للنزعات التي انشقت عنها؟

وأقول: إن مثل هذا القول قد يقوله "شيعي" أيضاً، فالشيعة يزعمون لأنفسهم أن مذهبهم هو الحق.. وقضية التعريف بالطائفتين، وبيان أُصول الخلاف بينهما لا تعني المعادلة والمساواة بحال، فلكلٍّ وجهة ولكلٍّ عقيدة.. والسنّة بحاجة إلى من يعرف بعقيدتها وبنشرها.. ولا سيما في هذا الزمن الذي استحكمت فيه غربة السنّة واستفحل الكيد لها.

وقد يكون هذا التعريف ليس لأهل السنّة، بل للشيعة الذين يقرؤون عن صورة لأهل السنّة مغايرة للحقيقة.

وقد يكون الحكم بأنه لا خلاف بين السنّة والشيعة بناء على "تصوير خاطئ" لأهل السنّة في كتب الشيعة، فكان لا بد من بيان الحقيقة ولو على سبيل الإيجاز.

وفي الباب الثاني: درست الشيعة؛ بالتعريف بهم، وبيان نشأتهم وأصول فرقهم. ثم خصصت أُصول فرقهم المعاصرة "الإسماعيلية، والزيدية، والاثني عشرية" بالدراسة والتقويم، لأن كل طائفة من هذه الطوائف نادى بعض أتباعها بالتقريب.

وانتهيت إلى اعتماد "الاثني عشرية الرافضة" بالدراسة التفصيلية لأنها استوعبت بمصادرها الثمانية في الحديث معظم آراء فرق الشيعة. كما سيأتي تفصيل ذلك. فضلاً عن أنها تمثل غالبية الشيعة حتى قيل أن
আকিদাহ গ্রহণ এবং তাদের আকিদাহর সামগ্রিক বিষয়সমূহ—যা শিয়ারা বিরোধিতা করেছে—তা আমি আহলে সুন্নাতের কিতাবসমূহের মাধ্যমে অধ্যয়ন করি।

কেউ হয়তো বলতে পারেন: যদি শিয়াদের পরিচয়ের প্রয়োজন থাকে, তবে আহলে সুন্নাতের কি তার প্রয়োজন আছে? আর সত্যের ওপর অটল ব্যক্তিকে কি বিচ্ছিন্ন বিরোধীর সমান করা, কিংবা ‘সুন্নাত’কে তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া প্রবণতাসমূহের সমান্তরাল করা কি সংগত?

আমি বলব: এ ধরনের কথা একজন ‘শিয়া’ও বলতে পারে, কারণ শিয়ারাও নিজেদের পক্ষ থেকে দাবি করে যে তাদের মাযহাবই সত্য। আর উভয় দল সম্পর্কে পরিচয় প্রদান এবং তাদের মধ্যকার বিরোধের মূলনীতিসমূহ স্পষ্ট করার অর্থ কোনোভাবেই সমতা বা সমান্তরাল করা নয়; কেননা প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও আকিদাহ রয়েছে। আর সুন্নাহর আকিদাহর পরিচয় প্রদান এবং তা প্রচারের জন্য লোকের প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষ করে এই যুগে, যখন সুন্নাহর একাকীত্ব ঘনীভূত হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছে।

আর এই পরিচয় হয়তো আহলে সুন্নাতের জন্য নয়, বরং ওই সকল শিয়াদের জন্য যারা আহলে সুন্নাতের এমন চিত্র সম্পর্কে পড়ে থাকে যা বাস্তবতার বিপরীত।

সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই—এমন রায় সম্ভবত শিয়াদের কিতাবসমূহে আহলে সুন্নাত সম্পর্কে দেওয়া ‘ভুল চিত্রায়নের’ ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকতে পারে; তাই সংক্ষেপে হলেও সত্য বিষয় স্পষ্ট করা আবশ্যক ছিল।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে: আমি শিয়াদের নিয়ে আলোচনা করেছি—তাদের পরিচয়, উদ্ভব এবং তাদের উপদলসমূহের মূলনীতি বর্ণনার মাধ্যমে। অতঃপর তাদের সমকালীন উপদলসমূহ ‘ইসমাইলিয়া, যায়দিয়া এবং ইমামীয়া দ্বাদশপন্থী’দের মূলনীতিসমূহ অধ্যয়ন ও মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট করেছি; কারণ এই দলগুলোর প্রত্যেকটিরই কিছু অনুসারী ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে।

পরিশেষে আমি ‘রাফেজি ইমামীয়া দ্বাদশপন্থী’দের বিস্তারিত অধ্যয়নের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি, কারণ তাদের হাদীসের আটটি মূল উৎস শিয়াদের অধিকাংশ উপদলের মতামতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে—যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসছে। এর পাশাপাশি তারা শিয়াদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতিনিধিত্ব করে, এমনকি বলা হয়ে থাকে যে...
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
مصطلح "الشيعة"، إذا أُطلق فلا ينصرف إلا إليهم.. وأنها هي الفئة التي نشطت في الدعوة للتقريب، وبثت دعاتها ونشرت كتبها، وأقامت بعض المراكز لهذا الغرض.

فدرست عقيدة "الرافضة" في أصول الإسلام المتفق عليها بين المسلمين: الكتاب، والسنّة، والإجماع. ثم عقائدها الأخرى التي خالفت فيها أهل السنّة، وهي: الإمامة، والعصمة، والتقية، والرجعة، والغيبة، والبداء، واعتقادهم في الصحابة.

ثم في نهاية هذين البابين بينت "النتيجة" لدراستنا لأهل السنّة والشيعة وذلك بالحكم على "مسألة التقريب"، ولم أتوقف عند هذه "النتيجة" بل عقدت باباً كاملاً لآراء دعاة التقريب في أصول الخلاف التي عرضت لها فيما يتصل بمذهب الشيعة، وفيما يتصل بمذهب أهل السنّة. وناقشت ذلك كله، وذلك لنرى هل تغير شيء من أصول الخلاف وأُسسه من خلال دعوة التقريب، بحيث أصبح لا يوجد خلاف بين الفريقين إلا في بعض مسائل الفروع؟ أم أن الأمر غير ذلك؟

لهذا اعتمدت في هذا الباب على آراء المعاصرين كما اعتمدت فيما قبل ذلك - في الغالب - على أحاديثهم عن "معصوميهم" وأقوال علمائهم السابقين.

وفي الباب الرابع: تحدثت في الفصل الأول عن أهم المحاولات القديمة والمعاصرة للتقريب، وقدمت تقويماً موجزاً عن تلك المحاولات، على ضوء الدراسة السابقة.

ثم في الفصل الثاني عقدت مبحثاً بعنوان: "هل من طريق للتقريب؟ " عرضنا وناقشت فيه أهم الأقوال، والطرق المتصورة لتحقيق التقريب وإزالة الخلاف، ثم بينت "الرأي المختار" في ذلك.
"শিয়াহ" শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি কেবল তাদের দিকেই নির্দেশ করে... এবং এটি সেই গোষ্ঠী যারা ঐক্যের আহ্বানে তৎপর ছিল, তাদের দাঈদের প্রেরণ করেছিল, তাদের বইপত্র প্রচার করেছিল এবং এই উদ্দেশ্যে কিছু কেন্দ্র স্থাপন করেছিল।

তাই আমি মুসলিমদের মধ্যে সর্বসম্মত ইসলামের মূলনীতিসমূহে—অর্থাৎ কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং ইজমা’র ক্ষেত্রে—"রাফেজি"দের আকিদা অধ্যয়ন করেছি। এরপর তাদের অন্যান্য আকিদাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি যেগুলোতে তারা আহলে সুন্নাহর বিরোধিতা করেছে, আর সেগুলো হলো: ইমামত, ইসমাহ (নিষ্পাপতা), তাকিয়া, রাজ'আহ, গাইবাত (অদৃশ্য থাকা), বাদা এবং সাহাবীদের সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস।

অতঃপর এই দুই অধ্যায়ের শেষে আমি আহলে সুন্নাহ ও শিয়াদের নিয়ে আমাদের গবেষণার "ফলাফল" বর্ণনা করেছি, এবং তা ছিল "ঐক্যের মাসআলা" বা বিষয়ের ওপর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। আমি কেবল এই "ফলাফলের" ওপর থেমে থাকিনি, বরং শিয়া মাযহাব এবং আহলে সুন্নাহর মাযহাব সংক্রান্ত বিরোধের মূলনীতিগুলোর বিষয়ে ঐক্যের আহ্বানকারীদের মতামতের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় বরাদ্দ করেছি। আমি এই সবকিছু নিয়ে আলোচনা করেছি যেন দেখা যায় যে, এই ঐক্যের আহ্বানের মাধ্যমে বিরোধের কোনো মূলনীতি বা ভিত্তি পরিবর্তিত হয়েছে কি না, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে কেবল কিছু শাখা-প্রশাখাগত মাসআলা ছাড়া আর কোনো বিরোধ অবশিষ্ট নেই? নাকি বিষয়টি অন্যরকম?

এই কারণে আমি এই অধ্যায়ে সমকালীনদের মতামতের ওপর নির্ভর করেছি, যেমনটি এর আগে আমি—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—তাদের "নিষ্পাপদের" বর্ণিত হাদিস এবং তাদের পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছিলাম।

আর চতুর্থ অধ্যায়ে: আমি প্রথম পরিচ্ছেদে ঐক্যের জন্য প্রাচীন ও সমকালীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এবং পূর্ববর্তী গবেষণার আলোকে সেই প্রচেষ্টাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন পেশ করেছি।

এরপর দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি "ঐক্যের কি কোনো পথ আছে?" শিরোনামে একটি অনুচ্ছেদ লিখেছি; সেখানে আমরা ঐক্য অর্জন এবং বিরোধ নিরসনের প্রধান বক্তব্য ও সম্ভাব্য পথগুলো তুলে ধরেছি ও আলোচনা করেছি। অতঃপর এ বিষয়ে "গৃহীত মত" স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وفي بداية دراستي تلمست ما أمكنني من وسائل للوصول إلى المصادر الأصيلة للموضوع، والتعرف على حقائقه من أصولها. ولقد لاقيت صعوبات فيما يتصل بالوصول إلى مراجع الشيعة وكتبها المعتبرة، فكان عليَّ أن أسافر لهذا الغرض وغيره. فسافرت إلى مصر حيث "دار التقريب" وتمكنت - بواسطة فضيلة الشيخ عبد العزيز عيسى وزير الأزهر سابقاً، ومدير مجلة دار التقريب "دراسة الإسلام" ـ من دخول دار التقريب التي كانت موصدة الأبواب، ولا أثر لأي نشاط فيها - إبّان زيارتي لها - وقد أفدت من مكتبتها. ولبثت أتردد عليها أياماً. كما أهدى إليَّ فضيلة الشيخ بعض منشورات الدار مثل "قصة التقريب" و"معالم التقريب" و"دعوة التقريب" كما أعارني كافة مجلدات رسالة الإسلام "مجلة دار التقريب" البالغة ستة عشر مجلداً، وقد أفدت من ذلك في الحديث عن محاولة دار التقريب وتقويمها - فجزى الله عني الشيخ خيراً -.

كما حاولت أن ألتقي ببعض شيوخ مصر الذين عايشوا حركة التقريب سواء كانوا مؤيدين أو معارضين، فكما التقيت بالشيخ عبد العزيز عيسى مدير مجلة دار التقريب زرت الشيخ محمد حسنين مخلوف - مفتي مصر سابقاً - وهو من المعارضين. وقد أملى عليّ رأيه في ذلك. كما زرت مكتبة الشيخ محب الدين الخطيب الذي كان رحمه الله الوجه المعارض بشدة لهذه القضية واطلعت على ما في مكتبته من كتب الشيعة.

كما زرت "الأزهر" و"مجمع البحوث الإسلامية" للإفادة منهما فيما يتصل بموضوعي.

وسافرت إلى الكويت، وزرت بعض الجمعيات الشيعية هناك، وكان
আমার অধ্যয়নের শুরুতে আমি এই বিষয়ের মৌলিক উৎসসমূহে পৌঁছানোর এবং এর প্রকৃত সত্যকে তার মূল ভিত্তি থেকে উদ্ঘাটন করার জন্য সম্ভাব্য সকল উপায় অন্বেষণ করেছি। শিয়াদের নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র এবং তাদের প্রামাণ্য গ্রন্থাবলীতে প্রবেশাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে আমি নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম। ফলে এই উদ্দেশ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনে আমাকে সফর করতে হয়েছিল। আমি মিসর সফর করি যেখানে 'দারুত তাকরীব' অবস্থিত। আল-আযহারের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং 'দারুত তাকরীব' প্রতিষ্ঠানের সাময়িকী 'রিসালাতুল ইসলাম' (ইসলামের বার্তা)-এর পরিচালক ফযীলাতুশ শাইখ আব্দুল আযীয ঈসার মাধ্যমে আমি 'دار التقريب' (দারুত তাকরীব)-এ প্রবেশ করতে সক্ষম হই, যা আমার পরিদর্শনের সময় তালাবদ্ধ ছিল এবং সেখানে কোনো কার্যক্রমের চিহ্ন ছিল না। আমি এর লাইব্রেরি থেকে উপকৃত হয়েছি এবং সেখানে কয়েক দিন যাতায়াত করেছি। তদুপরি, শাইখ আমাকে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রকাশনা উপহার দিয়েছেন, যেমন 'কিসসাতুত তাকরীব', 'মাআলিমুত তাকরীব' এবং 'দাওয়াতুত তাকরীব'। এছাড়াও তিনি আমাকে 'রিসালাতুল ইসলাম' (দারুত তাকরীবের সাময়িকী)-এর ষোলোটি খণ্ডের সবগুলোই ধার দিয়েছিলেন। 'দারুত তাকরীব'-এর প্রচেষ্টা এবং তার মূল্যায়ন সংক্রান্ত পর্যালোচনায় আমি সেগুলো থেকে উপকৃত হয়েছি—আল্লাহ শাইখকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি মিসরের সেই সকল আলেমদের সাথেও সাক্ষাতের প্রয়াস পেয়েছি যারা 'তাকরীব' আন্দোলনের সমসাময়িক ছিলেন, তারা এর সমর্থক হোন কিংবা বিরোধী। আমি যেমন 'দারুত তাকরীব' সাময়িকীর পরিচালক শাইখ আব্দুল আযীয ঈসার সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তেমনি মিসরের প্রাক্তন মুফতি শাইখ মুহাম্মাদ হাসনাইন মাখলুফ-এর সাথেও দেখা করেছি—যিনি ছিলেন এই আন্দোলনের অন্যতম বিরোধী। তিনি এ বিষয়ে তাঁর অভিমত আমাকে প্রদান করেছেন। এছাড়াও আমি শাইখ মুহিব্বুদ্দীন আল-খাতীব-এর লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছি, যিনি ছিলেন এই বিষয়ের ঘোর বিরোধী (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। তাঁর সংগ্রহে থাকা শিয়াদের গ্রন্থসমূহ আমি পর্যবেক্ষণ করেছি।

আমার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনে উপকৃত হওয়ার লক্ষ্যে আমি 'আল-আযহার' এবং 'মাজমাউল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ' (ইসলামী গবেষণা একাডেমি) পরিদর্শন করেছি।

আমি কুয়েত সফর করেছি এবং সেখানে শিয়াদের কিছু সমিতি পরিদর্শন করেছি, সেখানে...
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
لي جلسة طويلة مع مجموعة كبيرة من أعضائها وأهدوا إليّ بعض نشراتهم في هذا المجال، كما زرت بعض مكتبات المساجد الخاصة بالشيعة في الكويت، وكما حصلت على ما يوزعونه من كتب للدعاية لمذهبهم.

ومن الكويت اتجهت إلى العراق، وهناك أفدت كثيراً حيث حصلت واطلعت على طائفة من كتب الشيعة المعتمدة، أمثال كتب: الكليني، والقمي، والحر العاملي، والمجلسي وغيرهم. كما حصلت على صورة من النسخة الخطيّة لكتاب «فصل الخطاب في تحريف كتاب رب الأرباب» ، وتوفر لدي هناك طائفة من كتابات شيوخ الشيعة ومراجعها المعاصرين، أمدتني بمعلومات مهمة فيما يتصل بالباب الثالث وهو "آراء دعاة التقريب في أسس الخلاف"، كما حصلت على مجموعة من النسخ الخطيّة المصورة لعلماء أهل السنّة مثل: «التحفة الاثني عشرية» - الأصل، وهو في أكثر من ألف صفحة - و «السيوف المشرقة» و «نقض عقائد الشيعة» و «كشف غياهب الظلمات» وغيرها.

كما زرت أماكن تعبُّد الشيعة في "الكاظمية" و"النجف" وغيرهما.

وزرت مكتبة شيخ الشيعة الخالصي الذي يتزعم الدعوة للوحدة الإسلامية والتقيت ببعض أولاده، وأهدوا إليّ نشرات أبيهم في هذا الموضوع.

ومن العراق سافرت إلى باكستان والتقيت ببعض علماء السنّة المعنيّين بقضية الشيعة في كراتشي، ولاهور، وفيصل آباد. وأخص منهم بالذكر والشكر العلامة محمد عبد الستار (1) الذي فتح لي مكتبته

--------------------------------------------

(1) المشهور بصاحب تونسوي، وقد ألف مجموعة من الرسائل في الرد على الشيعة من خلال كتبها باللغة الأردية مثل: «رسالة شان صديق أكبر» ، و «شان فاروق أعظم» وغيرهما.
তাদের একটি বড় সদস্যদলের সাথে আমার এক দীর্ঘ বৈঠক হয়েছিল এবং তারা আমাকে এই বিষয়ে তাদের কিছু প্রচারপত্র উপহার দিয়েছিল। এছাড়া আমি কুয়েতে শিয়াদের বিশেষ কিছু মসজিদ-লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছি এবং তাদের মাযহাবের প্রচারের উদ্দেশ্যে তারা যেসব বই বিতরণ করে, সেগুলোও সংগ্রহ করেছি।

কুয়েত থেকে আমি ইরাক অভিমুখে যাত্রা করি এবং সেখানে আমি অনেক উপকৃত হই। সেখানে আমি শিয়াদের বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য কিতাব সংগ্রহ ও অধ্যয়ন করার সুযোগ পাই, যেমন: আল-কুলাইনি, আল-কুম্মি, আল-হুর আল-আমিলি এবং আল-মাজলিসি ও অন্যান্যদের কিতাবসমূহ। এছাড়া আমি ‘ফাসলুল খিতাব ফি তাহরিফি কিতাবি রাব্বিল আরবাব’ কিতাবটির হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির একটি অনুলিপি সংগ্রহ করেছি। সেখানে আমার নিকট সমকালীন শিয়া শাইখ ও তাদের ধর্মীয় মারজা-দের একগুচ্ছ লেখা সহজলভ্য হয়, যা আমাকে তৃতীয় অধ্যায় তথা "ঐক্য প্রচেষ্টার প্রবক্তাদের মতামত ও বিরোধের মূলনীতি" সংক্রান্ত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। পাশাপাশি আমি আহলুস সুন্নাহর আলেমদের বেশ কিছু চিত্রায়িত পাণ্ডুলিপিও সংগ্রহ করেছি, যেমন: ‘আত-তুহফাতুল ইসনা আশারিয়া’—মূল সংস্করণ, যা এক হাজার পৃষ্ঠারও বেশি—এবং ‘আস-সুয়ুফুল মুশরিকাহ’, ‘নাক্বদু আকাইদিশ শিয়া’, ‘কাশফু গায়াহিবুয যুলুমাত’ ইত্যাদি।

আমি ‘কাযিমিয়া’, ‘নাজাফ’ এবং অন্যান্য স্থানে শিয়াদের উপাসনালয়গুলোও পরিদর্শন করেছি।

আমি শিয়া শাইখ আল-খালিসির লাইব্রেরি পরিদর্শন করেছি, যিনি ইসলামি ঐক্যের আহ্বানের নেতৃত্ব দেন। আমি তার কয়েকজন সন্তানের সাথেও সাক্ষাৎ করেছি এবং তারা আমাকে এই বিষয়ে তাদের পিতার লেখা কিছু প্রচারপত্র উপহার দিয়েছেন।

ইরাক থেকে আমি পাকিস্তানে সফর করি এবং করাচি, লাহোর ও ফয়সালাবাদে শিয়া ইস্যু নিয়ে কাজ করা আহলুস সুন্নাহর কয়েকজন আলেমের সাথে সাক্ষাৎ করি। তাদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে আল্লামা মুহাম্মদ আবদুস সাত্তারের (১) কথা উল্লেখ করছি এবং তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যিনি আমার জন্য তার লাইব্রেরি উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি ‘সাহেবে তুনসাভি’ নামে প্রসিদ্ধ। তিনি শিয়াদের কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি দিয়ে উর্দূ ভাষায় তাদের খণ্ডনে বেশ কিছু পুস্তিকা রচনা করেছেন। যেমন: ‘রিসালা শানে সিদ্দিকে আকবর’, ‘শানে ফারুকে আযম’ ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الخاصة بالشيعة، وأطلعني على الفهرس الخاص الذي وضعه لها والمتضمن لركائز الغلو عند الشيعة - والرد عليها من خلال كتبهم، كما أهدى إليّ رسائله في الرد على الشيعة فجزاه الله خيراً -.

هذه لمحة عما قمت به في محاولة استكمال المادة العلمية لهذا الموضوع الخطير.

أما الدراسة التحليلية للمصادر فإن ضيق المجال، وتضخم البحث واتساع شعبه، يحول دون استعراضه. وحسبي أن أقول: إنني درست الشيعة من خلال مصادرهم الخاصة بهم والمعتبرة عندهم، وذلك من أجل الوصول إلى تصور سليم عنهم، وفق منهج عادل غير متحامل عليهم ولا متعصب لغيرهم، وهذا هو مقتضى العدل والإنصاف.

والمسلم مأمور بالتزام العدل حتى مع طوائف الكفر وإن وجد في نفسه ما وجد (وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى) (1) كما أن هذا هو ما يفرضه "المنهج العلمي" وأداء الأمانة على وجهها..

وقد أخذ سلفنا الصالح بمبدأ العدل مع طوائف البدع وغيرها. يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: (أهل السنّة يستعملون معهم - يعني الروافض - العدل والإنصاف ولا يظلمونهم، فإن الظلم حرام مطلقاً، بل أهل السنّة لكل طائفة من هؤلاء - يعني طوائف البدع - خير من بعضهم لبعض، بل هم للرافضة خير وأعدل من بعض الرافضة لبعض. وهذا ما يعترفون هم به، ويقولون: أنتم تنصفوننا ما لا ينصف

--------------------------------------------

(1) المائدة: آية 8.
শিয়াদের জন্য বিশেষায়িত, এবং তিনি আমাকে এর জন্য তার তৈরিকৃত বিশেষ নির্ঘণ্ট দেখিয়েছেন, যাতে শিয়াদের মাঝে অতিরঞ্জনের মূল ভিত্তিগুলো এবং তাদের কিতাবসমূহের আলোকেই সেগুলোর খণ্ডন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আমাকে শিয়াদের খণ্ডনে তার লিখিত গবেষণাপত্রগুলো উপহার দিয়েছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

এই বিপজ্জনক বিষয়ের ইলমী উপাদানসমূহ পূর্ণ করার প্রচেষ্টায় আমি যা করেছি, এটি তারই একটি সারসংক্ষেপ।

আর উৎসগ্রন্থসমূহের বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনার ক্ষেত্রে পরিসরের সীমাবদ্ধতা, গবেষণার কলেবর বৃদ্ধি এবং এর শাখা-প্রশাখার ব্যাপকতা তা বিস্তারিত উপস্থাপনে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার জন্য এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে: আমি শিয়াদের সম্পর্কে তাদের নিজস্ব ও নির্ভরযোগ্য উৎসগ্রন্থগুলোর মাধ্যমেই অধ্যয়ন করেছি, যাতে তাদের সম্পর্কে একটি সঠিক ধারণায় পৌঁছানো যায়। এটি করা হয়েছে একটি ন্যায়নিষ্ঠ পদ্ধতির ভিত্তিতে, যা তাদের প্রতি বিদ্বেষমুক্ত এবং অন্য কারো প্রতি অন্ধ পক্ষপাতহীন। আর এটিই হলো ন্যায়বিচার ও ইনসাফের দাবি।

একজন মুসলিম কুফরি দলগুলোর সাথেও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে আদিষ্ট, যদিও সে মনে ঘৃণা অনুভব করে (আর কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে এমনভাবে প্ররোচিত না করে যে তোমরা ইনসাফ করবে না। তোমরা ইনসাফ করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী) (১)। তদুপরি এটিই হলো "বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি" এবং যথাযথভাবে আমানত আদায়ের দাবি।

আমাদের সালাফে সালেহীন বিদআতি ও অন্যান্য দলগুলোর সাথে ন্যায়বিচারের নীতি অবলম্বন করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আহলুস সুন্নাহ তাদের সাথে —অর্থাৎ রাফেজিদের সাথে— ন্যায়বিচার ও ইনসাফ করেন এবং তাদের প্রতি জুলুম করেন না; কেননা জুলুম সর্বাবস্থায় হারাম। বরং আহলুস সুন্নাহ এই প্রতিটি দলের জন্য —অর্থাৎ বিদআতি দলগুলোর জন্য— তাদের নিজেদের একে অপরের চেয়েও উত্তম। এমনকি তারা রাফেজিদের জন্য কিছু রাফেজির একে অপরের প্রতি আচরণের চেয়েও উত্তম ও অধিক ন্যায়নিষ্ঠ। এটি তারা নিজেরাও স্বীকার করে এবং বলে: আপনারা আমাদের প্রতি এমন ইনসাফ করেন যা...)

--------------------------------------------

(১) আল-মায়িদাহ: আয়াত ৮।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
بعضنا بعضاً) (1) ، وهذا ما تعترف به بعض كتب الشيعة المعتمدة عندهم، جاء في «الكافي» أن أحد الشيعة ـ ويسمى عبد الله بن كيسان - قال لإمامهم: (إني.. نشأت في أرض فارس، وإنني أخالط الناس في التجارات وغير ذلك فأُخالط الرجل فأرى له حسن السمت، وحسن الخلق، وكثرة أمانة، ثم أفتشه فأتبينه عن عداوتكم - يعني أنه من أهل السنّة - وأخالط الرجل فأرى منه سوء الخلق، وقلة أمانة، وزعارة (2) ، ثم أفتشه فأتبينه عن ولايتكم..) (3) - يعني من الشيعة -.

ولقد قمت بدراسة للشيعة من خلال كتبها الأساسية، ولم أستق من كتاب لهم إلا وقدمت بين يديه توثيقاً له من كتب الشيعة نفسها، كما أنني أذكر - إن وجدت - ما يراه شيوخهم في «الحديث» الذي يروونه عن معصوميهم؛ ما يرون فيه من الصحة أو الضعف بناءً على مقاييسهم الخاصة بهم في ذلك، وإن كان بعض شيوخهم يوثق كل ما ورد في كتبهم الأربعة عن معصوميهم وهم الذين يسمون بالإخباريين، ولكن كثرة الشيعة وهم الأصوليون لا يعتقدون في صحتها كلها.

والحقيقة أن مسلك التصحيح والتضعيف في كتب الشيعة غير يسير في الغالب، فأنت إذا أردت أن تصحح حديثاً لهم بناءً على دراسة سنده من خلال كتب الرجال عندهم كرجال الكشي، أو تنقيح المقال للممقاني؛ ترى أن فيها ما هو غير مكتمل السند!، وفيها ما لا سند له

--------------------------------------------

(1) «منهاج السنّة» : (3/39) .

(2) الزعارة: سوء الخلق، وفي بعض النسخ: (الدعارة. وهو الفساد والفسوق والخبث) . عن هامش «الكافي» : (2/4) .

(3)
আমাদের এক অংশ অন্য অংশকে) (১), এবং এটি এমন কিছু যা শিয়াদের কাছে নির্ভরযোগ্য তাদের কিছু কিতাবও স্বীকার করে। 'আল-কাফি'-তে এসেছে যে জনৈক শিয়া—যার নাম আব্দুল্লাহ বিন কায়সান—তাদের ইমামকে বলেছিলেন: (আমি... পারস্য ভূমিতে বেড়ে উঠেছি। আমি ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে মানুষের সাথে মেলামেশা করি। আমি কোনো ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করি এবং তার মধ্যে উত্তম স্বভাব, উত্তম চরিত্র ও অধিক বিশ্বস্ততা দেখতে পাই; অতঃপর আমি তার সম্পর্কে অনুসন্ধান করি এবং জানতে পারি যে সে আপনাদের শত্রু—অর্থাৎ সে আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত—আবার কোনো ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করি এবং তার মধ্যে দুশ্চরিত্র, বিশ্বস্ততার অভাব ও তিক্ত স্বভাব (২) দেখতে পাই; অতঃপর তার সম্পর্কে অনুসন্ধান করি এবং তাকে আপনাদের অনুসারী হিসেবে পাই...) (৩)—অর্থাৎ শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত।

আর আমি শিয়াদের মৌলিক কিতাবসমূহের মাধ্যমে তাদের সম্পর্কে একটি গবেষণা সম্পন্ন করেছি। আমি তাদের কোনো কিতাব থেকে তথ্য গ্রহণ করিনি তার আগে সেই কিতাবটি খোদ শিয়াদের কিতাবসমূহ থেকেই প্রামাণিক হওয়ার বিষয়টি পেশ করা ব্যতীত। পাশাপাশি আমি উল্লেখ করছি—যদি পাওয়া যায়—তাদের মা’সুমদের (নিষ্পাপ গণ্য ব্যক্তিদের) থেকে বর্ণিত তাদের 'হাদিস' সম্পর্কে তাদের শায়খদের দৃষ্টিভঙ্গি; সেটি সহিহ (বিশুদ্ধ) না জইফ (দুর্বল) হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব মানদণ্ডের ভিত্তিতে তারা কী মনে করেন, তাও উল্লেখ করেছি। যদিও তাদের কিছু শায়খ তাদের মা’সুমদের থেকে তাদের চারটি মৌলিক কিতাবে বর্ণিত সব কিছুকেই নির্ভরযোগ্য মনে করেন এবং তারা 'আখবারী' নামে পরিচিত; তবে শিয়াদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যারা 'উসুলি' নামে পরিচিত, তারা এগুলোর সব কিছু সহিহ হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করেন না।

প্রকৃতপক্ষে, শিয়াদের কিতাবসমূহে হাদিস সহিহ বা জইফ নির্ধারণের পথটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সহজ নয়। তাই আপনি যদি তাদের কোনো হাদিসকে তাদের রিজাল শাস্ত্রের কিতাব যেমন 'রিজালুল কাশশি' অথবা মামাকানির 'তানকিহুল মাকাল'-এর আলোকে এর সনদের ওপর ভিত্তি করে সহিহ করতে চান; তবে দেখবেন যে সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার সনদ অসম্পূর্ণ! এবং এমন কিছু রয়েছে যার কোনো সনদই নেই।

--------------------------------------------

(১) 'মিনহাজুস সুন্নাহ': (৩/৩৯)।

(২) আয-যা’আরাহ: দুশ্চরিত্র। কিছু পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (আদ-দা’আরাহ; যা হলো ফাসাদ, পাপাচার ও নিকৃষ্টতা)। 'আল-কাফি'-র টীকা হতে: (২/৪)।

(৩)
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
مطلقاً! مثل كتاب «الاحتجاج» ، ومع ذلك هو مقبول وموثق عندهم، وتجد أن منها ما ينقل من كتب لهم معظمها غير موجود ويكتفى بالقول بأن الكتب التي نقل عنها معتبرة عندهم، ومن كتبهم التي سلكت هذا المسلك «البحار» للمجلسي، و «الوسائل» للحر العاملي، وغيرهما.

لهذا اتبعت أُسلوب صحة الحديث في نظرهم إِن وجدت ذلك، أو توثيق الكتاب عندهم، أو بيان أن هذه الروايات متواترة عندهم ببيان عدد أحاديثها ورواياتها في كتبهم وما أُلف بصددها.

كل هذه الطرق استعملناها لتوثيق ما ننقل عنهم، ولعل في سلوكنا لهذا المنهج استجابة لما يطلبون وتحقيقاً لما يرغبون، يقول أحد أعلامهم المعاصرين ـ ويلقبونه بـ «حجة الإسلام» ـ: و «..نصيحتنا لهم - أي لأهل السنّة - ألاّ يكتبوا عن الشيعة بعد اليوم إلا ما يأخذونه عن الشيعة أنفسهم، وليس لهم أن يستقوا أخبارهم من منابع الأغيار الذين كذبوا على الشيعة جهدهم وألصقوا بها من الشنائع ما الله به عليم» (1) .

وإن كان بعض المفكرين قد أخذ بهذه النصيحة وكتب عن الشيعة من خلال كتبهم المعتبرة، ونقد بعض آرائهم نقداً عقليّاً نزيهاً مستنداً إلى نصوصهم المعتمدة، ومع ذلك لم يسلم من غضبهم ونقدهم، وكاد يدفع حياته ثمناً لذلك (2) ، هذا وإنني بسلوكي للمنهج السالف الذكر قد لا أُغفل في عرضي مادة الشيعة "وجهة النظر الأخرى" عنهم، ولكن بعد أن أذكر أولاً ما في كتب الشيعة المعتمدة كما قد أفعل ذلك بالنسبة

--------------------------------------------

(1) من مقدمة كتاب «تحت راية الحق» في الرد على الجزء الأول من «فجر الإسلام» : ص 13، والمقدمة لمرتضي آل يس الكاظمي والكتاب لعبد الله السبيتي، وانظر أيضاً: محمد جواد مغنية «الشيعة في الميزان» : ص 14.

(2) وهو أحمد أمين، وقد ذكر ذلك في كتابه «حياتي» : (ص 229 - 230) .
একদমই তাই! যেমন 'আল-ইহতিজাজ' গ্রন্থটি; তা সত্ত্বেও এটি তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য। আপনি দেখতে পাবেন যে, এর অনেক কিছুই এমন সব কিতাব থেকে উদ্ধৃত যা বর্তমানে বিলুপ্ত, আর কেবল এটুকু বলাই যথেষ্ট মনে করা হয় যে, যে কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃতি নেওয়া হয়েছে সেগুলো তাদের নিকট নির্ভরযোগ্য। তাদের যেসব কিতাব এই পথ অনুসরণ করেছে, তার মধ্যে মজলিসির 'আল-বিহার' এবং হুররুল আমিলির 'আল-ওয়াসায়িল' ও অন্যান্য গ্রন্থ অন্যতম।

এ কারণে আমি তাদের দৃষ্টিতে হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি যদি তা পেয়ে থাকি, অথবা তাদের নিকট কিতাবটির নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করেছি, কিংবা তাদের কিতাবসমূহে বর্ণিত হাদিস ও বর্ণনার সংখ্যা উল্লেখ করে এবং এ বিষয়ে যা কিছু রচিত হয়েছে তা বর্ণনার মাধ্যমে এই বর্ণনাগুলো যে তাদের নিকট মুতাওয়াতির তা স্পষ্ট করেছি।

তাদের থেকে আমরা যা কিছু উদ্ধৃত করছি তার প্রামাণিকতা নিশ্চিত করতে আমরা এই সকল পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। সম্ভবত এই পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে তাদের দাবির প্রতি সাড়া দেওয়া হয়েছে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। তাদের সমকালীন বিশিষ্টজনদের একজন—যাঁকে তারা 'হুজ্জাতুল ইসলাম' উপাধিতে ভূষিত করে—বলেন: "..তাদের প্রতি—অর্থাৎ আহলে সুন্নাতের প্রতি—আমাদের উপদেশ হলো, তারা যেন আজ থেকে শিয়াদের সম্পর্কে এমন কিছু না লেখে যা তারা স্বয়ং শিয়াদের থেকে গ্রহণ করেনি। তাদের জন্য এটি সমীচীন নয় যে, তারা অন্যদের উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে যারা তাদের সাধ্যমতো শিয়াদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে এবং তাদের প্রতি এমন সব জঘন্য অপবাদ আরোপ করেছে যার খবর কেবল আল্লাহই জানেন।" (১) ।

যদিও কোনো কোনো চিন্তাবিদ এই উপদেশ গ্রহণ করেছেন এবং শিয়াদের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের আলোকে তাদের সম্পর্কে লিখেছেন এবং তাদের নির্ভরযোগ্য পাঠ্যসমূহের ওপর ভিত্তি করে তাদের কিছু মতামতের নিরপেক্ষ বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনা করেছেন, তবুও তিনি তাদের ক্রোধ ও সমালোচনা থেকে রেহাই পাননি এবং এর বিনিময়ে প্রায় নিজের জীবন দিতে বসেছিলেন (২) । উপরোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করার ক্ষেত্রে শিয়াদের বিষয়ে আলোচনার সময় আমি তাদের সম্পর্কে "ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি" তুলে ধরতে অবহেলা করব না, তবে তা করব শিয়াদের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে যা আছে তা প্রথমে উল্লেখ করার পর, যেমনটি আমি হয়তো...

--------------------------------------------

(১) 'তাহতা রায়াতিল হাক্ক' কিতাবের ভূমিকা থেকে, যা 'ফাজরুল ইসলাম'-এর প্রথম খণ্ডের জবাবে লেখা: পৃষ্ঠা ১৩। ভূমিকাটি মুরতাজা আল ইয়াসীন আল-কাজিমির এবং কিতাবটি আবদুল্লাহ আল-সুবাইতির। আরও দেখুন: মুহাম্মদ জাওয়াদ মুগনিয়া, 'আশ-শিয়া ফিল মিজান': পৃষ্ঠা ১৪।

(২) তিনি হলেন আহমদ আমিন, এবং তিনি এটি তাঁর 'হায়াতি' কিতাবে উল্লেখ করেছেন: (পৃষ্ঠা ২২৯ - ২৩০) ।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
لمادة السنّة، وأظنني بهذا لا أخرج عن المنهج المطلوب.

وقضية التقريب لم أر من كتب عنها بمثل هذا المنهج، ولم أجد من درسها دراسة تحليلية تلتمس وجه الصواب فيها من خلال عرض أصول الفريقين وبطريقة موضوعية بعيدة عن التحيز والانفعال.. والكتابات في هذا الموضوع إما كتب تدعو للتقريب بطريقة عاطفية وأُسلوب معتمد على الجهل أو التجاهل للحقائق القائمة، مثل كتاب «بين السنّة والشيعة» للدكتور سليمان دنيا و «الإسلام بين السنّة والشيعة» لهاشم الدفترادار، ومحمد علي الزعبي.

وإما كتب تتحدث عما في كتب الشيعة من كفر وضلال مثل «الخطوط العريضة» لمحب الدين الخطيب، و «الوشيعة» للشيخ موسى جار الله، و «السنّة والشيعة» لإحسان إلهي ظهير، و «تبديد الظلام» للأستاذ إبراهيم الجبهان.

أما الدراسة العلمية والموضوعية المتكاملة لهذه المسألة فلم أجد في المكتبة الإسلامية شيئاً منها.

لذا جاءت كتابتي في هذا الموضوع بداية، وكل بداية لا بد فيها من قصور.. ولا سيما في هذا الموضوع الخطير، الذي يتطلب جهوداً جماعية ومدة زمنية طويلة.

ولقد حاولت قدر الإمكان.. أن أسلك المنهج الذي آمل أن يكون منهجاً عادلاً وسليماً.. في نقاش هذه القضية.. ذلك المنهج الذي وضع أيدينا على نقاط مهمة، وكشف لنا عن حقائق خطيرة في مسألة التقريب، لا سيما أن في هذا البحث قضايا جديدة لم تدرس من قبل، مثل: عرض
সুন্নাহর বিষয়ের জন্য, এবং আমি মনে করি এর মাধ্যমে আমি কাঙ্ক্ষিত পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত হচ্ছি না।

আর এই ঐক্যের (তাক্বরীব) বিষয়টি নিয়ে আমি কাউকে এই পদ্ধতির মতো করে লিখতে দেখিনি, এবং এমন কাউকে পাইনি যিনি উভয় পক্ষের মূলনীতিসমূহ উপস্থাপনের মাধ্যমে এবং পক্ষপাতিত্ব ও আবেগ বর্জিত এক বস্তুনিষ্ঠ উপায়ে এর সঠিক দিকটি অন্বেষণ করে একটি বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন করেছেন। এই বিষয়ে লেখাগুলো হয় এমন সব বই যা আবেগপ্রসূত উপায়ে এবং বিদ্যমান সত্যের প্রতি অজ্ঞতা অথবা তা উপেক্ষা করার ওপর ভিত্তি করে ঐক্যের ডাক দেয়, যেমন ডক্টর সুলাইমান দুনইয়ার ‘বাইনাস সুন্নাহ ওয়াশ শিয়া’ এবং হাশিম আদ-দাফতারাদ্দার ও মুহাম্মদ আলী আল-জু’বির ‘আল-ইসলাম বাইনাস সুন্নাহ ওয়াশ শিয়া’।

অথবা এমন সব বই যা শিয়াদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান কুফুর ও ভ্রষ্টতা নিয়ে আলোচনা করে, যেমন মুহিব্বুদ্দীন আল-খতিবের ‘আল-খুতুতুল আরীদ্বাহ’, শাইখ মুসা জারুল্লাহর ‘আল-ওয়াশিয়াহ’, ইহসান ইলাহী জাহিরের ‘আস-সুন্নাহ ওয়াশ শিয়া’ এবং উস্তাদ ইব্রাহিম আল-জাবহানের ‘তাবদীদুজ জুলাম’।

তবে এই বিষয়ের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ ইলমী ও বস্তুনিষ্ঠ অধ্যয়ন আমি ইসলামি লাইব্রেরিতে খুঁজে পাইনি।

তাই এই বিষয়ে আমার এই লেখাটি একটি সূচনা মাত্র, আর প্রতিটি সূচনার ক্ষেত্রেই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা অনিবার্য... বিশেষ করে এই গুরুতর বিষয়ে, যার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি এমন একটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে যা এই বিষয়টি আলোচনার ক্ষেত্রে একটি ন্যায়সংগত ও সঠিক পদ্ধতি হবে বলে আমি আশা করি... যে পদ্ধতিটি আমাদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেছে এবং ঐক্যের প্রশ্নে আমাদের কাছে বিপজ্জনক সত্যগুলো উন্মোচিত করেছে, বিশেষ করে এই গবেষণায় এমন কিছু নতুন বিষয় রয়েছে যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়নি, যেমন: উপস্থাপন
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
"آراء دعاة التقريب في مسائل الخلاف ومناقشتها" ذلك الذي أخذ من هذه الرسالة الباب الثالث، وكذلك محاولات التقريب وتقويمها في القديم والحديث، وكذلك دراسة الآراء والطرق المتصورة لحل الخلاف، تلك التي لم تنل العناية قبل ذلك. وكانت الدراسة منصبة في هذه المسألة (الأخيرة) على رد شبه الشيعة واستدلالها من كتب السنّة، وكذلك في مبحث عقائد الشيعة عرضنا لمسائل جديدة مثل تصحيح أحاديثهم حسب مقاييسهم الخاصة بهم، ومحاولة حصر الأحاديث الواردة في كل قضية وعقيدة من عقائدهم وما ألف فيها - ما وجدت إلى ذلك سبيلاً - ثم دراسة مسألة السند عند الشيعة، ومتى وضع، والسبب في وضعه، وكشف ما زيد على بعض كتب الشيعة من أحاديث وأبواب، ودراسة أول كتاب ألفه الشيعة، واحتوى على جملة كبيرة من عقائدهم وهو كتاب «سليم بن قيس الهلالي» إلى غير ذلك من المسائل. ولقد تطلب كل ذلك قراءة طويلة في كتب الشيعة.

نسأل الله سبحانه أن يسدد أعمالنا وأقوالنا وأن يهدينا سواء السبيل.

وختاماً أشكر الله سبحانه على ما هيأ لي من خير ويسر لي من أُمور.

"وإنني" لأشكر كل من مدّ لي يد المساعدة في هذا البحث وأدعو الله عز وجل أن يثيبهم ويجزيهم كل خير.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
"মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়গুলোতে ঐক্যের প্রবক্তাদের অভিমত এবং তার আলোচনা" - এটি এই গবেষণাপত্রের তৃতীয় অধ্যায়ে স্থান পেয়েছে। একই সাথে প্রাচীন ও আধুনিককালে ঐক্যের প্রচেষ্টা ও তার মূল্যায়ন, এবং মতপার্থক্য নিরসনের সম্ভাব্য মতামত ও পদ্ধতিসমূহ নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে, যা ইতিপূর্বে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এই (শেষোক্ত) বিষয়ে গবেষণার আলোকপাত করা হয়েছে শিয়াদের সংশয় নিরসন এবং সুন্নিদের কিতাব থেকে তাদের দেওয়া দলীলসমূহের জবাব প্রদানের ওপর। অনুরূপভাবে শিয়াদের আকিদা সংক্রান্ত আলোচনায় আমরা কিছু নতুন বিষয় উপস্থাপন করেছি, যেমন তাদের নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী তাদের হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা যাচাই করা এবং তাদের প্রতিটি আকিদা ও বিষয়ে বর্ণিত হাদিসগুলো এবং এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহকে সীমাবদ্ধ করার (তালিকা করার) চেষ্টা করা হয়েছে - যতটুকু সম্ভব হয়েছে। এরপর শিয়াদের নিকট সনদ সংক্রান্ত বিষয়টির ওপর গবেষণা করা হয়েছে যে, কখন এটি প্রবর্তিত হয়েছে এবং এর কারণ কী ছিল। এবং শিয়াদের কিছু কিতাবে পরবর্তীতে সংযোজিত হাদিস ও পরিচ্ছেদসমূহ উন্মোচন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিয়াদের সংকলিত প্রথম গ্রন্থ 'সুলাইম ইবনে কায়স আল-হিলালী'র কিতাবটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, এছাড়াও আরও অন্যান্য বিষয় রয়েছে। আর এসবের জন্য শিয়াদের কিতাবসমূহ দীর্ঘ সময় ধরে অধ্যয়ন করার প্রয়োজন হয়েছে।

আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কর্ম ও বাক্যসমূহকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করেন।

পরিশেষে, আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি যে তিনি আমার জন্য কল্যাণের ব্যবস্থা করেছেন এবং আমার কাজগুলোকে সহজ করে দিয়েছেন।

এবং আমি তাদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এই গবেষণায় আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি তিনি যেন তাদের উত্তম প্রতিদান দান করেন।

আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الباب الأول: أهل السنة والجماعة

 

الفصل الأول: التعريف بأهل السنة والجماعة.

الفصل الثاني: مصادرهم في تلقي العقيدة (أصولهم في الاعتقاد) .

الفصل الثالث: مجمل لأهم عقائدهم التي شذت عنها (الشيعة) .
প্রথম অধ্যায়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আকীদা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের উৎসসমূহ (বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তাদের মূলনীতিসমূহ)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাদের গুরুত্বপূর্ণ আকীদাসমূহের সংক্ষিপ্ত সার যা থেকে (শিয়াগণ) বিচ্যুত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الأول: التعريف بأهل السنة والجماعة

‌‌(أ) التعريف بالسنّة:

السُّنَّة بالضم وفتح النون المشددة في اللغة: الطريقة، والسنة: السيرة حميدة كانت أم ذميمة، والجمع سُنن (1) . ومنه قوله (: «من سنَّ في الإسلام سنَّة حسنة فعمل بها بعده كتب له مثل أجر من عمل بها ولا ينقص من أجورهم شيء، ومن سنَّ في الإسلام سنَّة سيئة.. الحديث» (2) .

وتطلق السنَّة ويراد بها: الطريقة المحمودة، فقد جاء في اللسان: (السنة: الطريقة المحمودة المستقيمة؛ ولذلك قيل فلان من أهل السنة معناه: من أهل الطريقة المستقيمة المحمودة) (3) .

والسنة في الشرع تطلق على عدة معان:

تطلق على سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم، يقول ابن

--------------------------------------------

(1) انظر: «المصباح المنير» مادة سن: (1/312) .

(2) رواه مسلم في كتاب العلم، باب (من سن سنّة حسنة أو سيئة) : (8/61) .

(3) «لسان العرب» مادة سن: (17/90) .
প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয়

(ক) সুন্নাহর পরিচয়:

ভাষাগতভাবে সুন্নাহ (সিন বর্ণে পেশ এবং দ্বিত্ব নুন বর্ণে জবরসহ): পথ বা পদ্ধতি। আর সুন্নাহ হলো জীবনপদ্ধতি, তা প্রশংসনীয় হোক বা মন্দ। এর বহুবচন হলো সুনান (১)। এ থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতি চালু করল এবং এরপর সে অনুযায়ী আমল করা হলো, তার জন্য সে আমলকারীর অনুরূপ সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তাদের সওয়াব থেকে সামান্যতমও হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতি চালু করল... (হাদীস)" (২)।

সুন্নাহ শব্দটি প্রশংসিত পদ্ধতির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে এসেছে: (সুন্নাহ: প্রশংসিত ও সঠিক পথ; এজন্যই বলা হয় অমুক ব্যক্তি আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত, যার অর্থ: সে সঠিক ও প্রশংসিত পথের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত) (৩)।

শরীয়তের পরিভাষায় সুন্নাহ কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বা জীবনপদ্ধতির ওপর প্রয়োগ করা হয়। ইবনে

--------------------------------------------

(১) দেখুন: 'আল-মিসবাহুল মুনীর', মূলশব্দ: সিন: (১/৩১২)।

(২) ইমাম মুসলিম এটি কিতাবুল ইলম-এ বর্ণনা করেছেন, অধ্যায়: (যে ব্যক্তি কোনো ভালো বা মন্দ পদ্ধতি চালু করে): (৮/৬১)।

(৩) 'লিসানুল আরব', মূলশব্দ: সিন: (১৭/৯০)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فارس (1) : (وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وسيرته) (2) .

وتطلق في اصطلاح المحدثين على (ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم من أقواله وأفعاله وتقريره وما همَّ بفعله) (3) .

وللسنّة عند الأصوليين اصطلاح (4) ، وعند الفقهاء اصطلاح … (5) .

ومرد هذا الاختلاف في الاصطلاح إلى اختلاف الأغراض والتخصصات التي تعني بها كل فئة من أهل العلم.

ولا يعنينا تتبع جميع تلك الاصطلاحات، إنما يعنينا أن نعرف بمصطلح «السنة» أو «أهل السنة» كدلالة على اتجاه معين في الاعتقاد.

يقول ابن رجب (6) رحمه الله: (السنة: طريقة النبي صلى الله عليه وسلم التي كان عليها هو وأصحابه السالمة من الشبهات والشهوات،

--------------------------------------------

(1) أحمد بن فارس بن زكريا القزويني الرازي أبو الحسين، من أئمة اللغة والأدب، له تصانيف، منها: «مقاييس اللغة» ، و «جامع التأويل في تفسير القرآن» ، كان مولده سنة 329هـ، وتوفي سنة 395هـ. انظر «وفيات الأعيان» لابن خلكان: (1/118، 119) .

(2) «معجم مقاييس اللغة» مادة سن: (3/61) ، «مختار الصحاح» : ص 317.

(3) ابن حجر: «فتح الباري» : (13/245) ، الجزائري: «توجيه النظر» : ص 3.

(4) انظر: الفتوحي «مختصر التحرير» : ص 30، الشوكاني: «إرشاد الفحول» : ص 33.

(5) انظر: «تهذيب الأسماء واللغات» للنووي: قسم 2 جـ1 ص 156، «شرح الكوكب المنير» : (ص 125، 126) .

(6) هو عبد الرحمن بن أحمد بن رجب السلامي البغدادي ثم الدمشقي أبو الفرج زين الدين، حافظ للحديث من كبار العلماء، ولد في بغداد سنة 706هـ، وتوفي في دمشق سنة 795هـ، ومن آثاره «القواعد الفقهية» و «ذيل طبقات الحنابلة» : انظر: ابن حجر «الدرر الكامنة» : (2/428، 429) ، «الإعلام» : (3/67) .
ফারেস (১) : (এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত ও তাঁর জীবনী) (২)।

আর মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় এটি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর কথা, কাজ, অনুমোদন এবং তিনি যা করার সংকল্প করেছিলেন—এসবের যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর) প্রয়োগ করা হয় (৩)।

আর উসুলবিদদের নিকট সুন্নাতের একটি পরিভাষা রয়েছে (৪), এবং ফকিহদের নিকট একটি পরিভাষা রয়েছে … (৫)।

পরিভাষার এই পার্থক্যের কারণ হলো সেই উদ্দেশ্য ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রগুলোর ভিন্নতা, যার প্রতি আলেমদের প্রতিটি শ্রেণি গুরুত্বারোপ করেছেন।

আমাদের উদ্দেশ্য এই সমস্ত পরিভাষাগুলো বিস্তারিত অনুসন্ধান করা নয়, বরং আমাদের উদ্দেশ্য হলো আকিদাহ বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট আদর্শের নির্দেশক হিসেবে «সুন্নাত» বা «আহলুস সুন্নাহ» পরিভাষাটি সম্পর্কে জানা।

ইবনে রজব (৬) রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন: (সুন্নাত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই পদ্ধতি যার ওপর তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ অটল ছিলেন, যা সংশয় ও কুপ্রবৃত্তি থেকে মুক্ত,

--------------------------------------------

(১) আহমাদ বিন ফারেস বিন জাকারিয়া আল-কাজভিনি আর-রাজি আবুল হুসাইন, ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম ইমাম, তাঁর অনেক রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: «মাকায়িসুল লুগাহ» এবং «জামেউত তাবিল ফি তাফসিরিল কুরআন»। তাঁর জন্ম ৩২৯ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৩৯৫ হিজরিতে। দেখুন ইবনে খাল্লিকান রচিত «ওয়াফায়াতুল আইয়ান»: (১/১১৮, ১১৯)।

(২) «মুজামু মাকায়িসিল লুগাহ» মাদ্দাহ সুন্নাহ: (৩/৬১), «মুখতারুস সিহাহ»: পৃষ্ঠা ৩১৭।

(৩) ইবনে হাজার: «ফাতহুল বারি»: (১৩/২৪৫), আল-জাযায়েরি: «তাওজিহুন নাজার»: পৃষ্ঠা ৩।

(৪) দেখুন: আল-ফুতুহি «মুখতাসারুত তাহরির»: পৃষ্ঠা ৩০, আশ-শাওকানি: «ইরশাদুল ফুহুল»: পৃষ্ঠা ৩৩।

(৫) দেখুন: আন-নববী রচিত «তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত»: খণ্ড ২, ভাগ ১, পৃষ্ঠা ১৫৬, «শারহুল কাওকাবিল মুনির»: (পৃষ্ঠা ১২৫, ১২৬)।

(৬) তিনি হলেন আবদুর রহমান বিন আহমাদ বিন রজব আস-সালামি আল-বাগদাদি অতঃপর আদ-দিমাশকি আবুল ফারাজ জয়নুদ্দিন, তিনি একজন হাফিজুল হাদিস এবং প্রখ্যাত আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ৭০৬ হিজরিতে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭৯৫ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে «আল-কাওয়ায়িদুল ফিকহিয়্যাহ» এবং «যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ»। দেখুন: ইবনে হাজার রচিত «আদ-দুরারুল কামিনাহ»: (২/৪২৮, ৪২৯), «আল-আলাম»: (৩/৬৭)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ثم صار معنى السنة في عرف كثير من العلماء المتأخرين (1) من أهل الحديث وغيرهم: عبارة عما سلم من الشبهات في الاعتقادات خاصة في مسائل الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وكذلك في مسائل القدر وفضائل الصحابة، وصنفوا في هذا العلم تصانيف وسموها كتب السنة (2) ، وإنما خصوا هذا العلم باسم السنة لأن خطره عظيم، والمخالف فيه على شفا هلكة) (3) .

وكذا قال الألوسي (4) رحمه الله: (السنة في الأصل تقع على ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وما سنه أو أمر به من أصول الدين وفروعه حتى الهَدْي والسمت، ثم خصت في بعض الإطلاقات بما كان عليه أهل السنة من إثبات الأسماء والصفات خلافاً للجهمية المعطلة النفاة، وخصت بإثبات القدر ونفي الجبر خلافاً للقدرية النفاة وللقدرية الجبرية العصاة.

وتطلق - أيضاً - على ما كان عليه السلف الصالح في مسائل الإمامة والتفضيل، والكف عما شجر بين أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) يلاحظ أن تخصيص مفهوم السنّة في أصول الاعتقاد بدأ في عصر متقدم؛ فالإمام ابن أبي عاصم (المتوفى سنة 287هـ) يعرف السنة بمسائل العقيدة، انظر: «السنة» لابن أبي عاصم: (2/645، 647) .

(2) سيأتي - إن شاء الله - ذكره لهذه الكتب في مبحث مصادر أهل السنّة.

(3) ابن رجب: «كشف الكربة» : (ص 11، 12) .

(4) هو علامة العراق في زمنه، أبو المعالي محمود شكري بن عبد الله بن شهاب الدين محمود الألوسي الحسيني، مؤرخ وعالم بالدين والأدب، ومن الدعاة إلى الإصلاح. ولد في رصافة بغداد عام 1273هـ، وتوفي ببغداد عام 1342هـ. له 52 مصنفاً بين كتاب ورسالة، منها: «بلوغ الأرب في أحوال العرب» ، و «المسك الأذفر» ، و «غاية الأماني» وغيرها. انظر: «أعلام العراق» : (ص 86 - 241) ، «الأعلام» : (8/49، 50) .
এরপর পরবর্তী অনেক আলিম (১), আহলে হাদিস এবং অন্যদের পরিভাষায় 'সুন্নাহ'র অর্থ হলো: বিশেষভাবে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালের প্রতি ঈমানের মাসআলাসমূহ সহ আকিদাগত বিষয়ে যা কিছু সংশয় থেকে মুক্ত, তার একটি প্রকাশ। অনুরূপভাবে তাকদীরের মাসআলাসমূহ এবং সাহাবায়ে কেরামের ফজিলতের ক্ষেত্রেও। আর তাঁরা এই ইলমের বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সেগুলোর নামকরণ করেছেন 'সুন্নাহর কিতাব' (২)। মূলত তাঁরা এই ইলমকে 'সুন্নাহ' নামে বিশেষায়িত করেছেন কারণ এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি, আর এতে বিরোধিতাকারী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে (৩)।

অনুরূপভাবে আলূসী (৪) রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: (সুন্নাহ মূলগতভাবে সেই পথকে বোঝায় যার ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন এবং দ্বীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় তিনি যা প্রবর্তন করেছেন বা করার নির্দেশ দিয়েছেন, এমনকি চালচলন ও আচরণের ক্ষেত্রেও। অতঃপর কিছু প্রয়োগে একে 'আহলুস সুন্নাহ' যে পথের ওপর ছিলেন তার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে—যেমন জাহমিয়া, যারা আল্লাহর গুণাবলিকে অস্বীকার ও বাতিল করে, তাদের বিপরীতে আল্লাহর নাম ও গুণাবলির সাব্যস্তকরণ। আর একে তাকদীর সাব্যস্ত করা এবং জবর (বাধ্যবাধকতা) অস্বীকার করার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে—কাদরিয়া যারা অস্বীকারকারী এবং অবাধ্য জবরিয়া-কাদরিয়াদের বিপরীতে।

এছাড়াও এটি ইমামত (নেতৃত্ব) এবং শ্রেষ্ঠত্বের মাসআলাসমূহে সালাফে সালেহীন যে পথের ওপর ছিলেন, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সংঘটিত বিরোধের ক্ষেত্রে নীরবতা অবলম্বনের অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

--------------------------------------------

(১) লক্ষ্যণীয় যে, আকিদার মূলনীতিতে সুন্নাহর ধারণাকে নির্দিষ্ট করার বিষয়টি অনেক পূর্বেই শুরু হয়েছিল; ইমাম ইবনে আবি আসিম (মৃত্যু ২৮৭ হিজরি) আকিদার মাসআলাগুলোকেই সুন্নাহ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। দেখুন: ইবনে আবি আসিম রচিত 'আস-সুন্নাহ': (২/৬৪৫, ৬৪৭)।

(২) ইনশাআল্লাহ, আহলুস সুন্নাহর উৎস সংক্রান্ত আলোচনায় এই কিতাবগুলোর কথা সামনে আসবে।

(৩) ইবনে রজব: 'কাশফুল কুরবাহ': (পৃষ্ঠা ১১, ১২)।

(৪) তিনি তাঁর সময়ের ইরাকের আল্লামা, আবু আল-মাআলি মাহমুদ শুকরি বিন আবদুল্লাহ বিন শিহাবুদ্দিন মাহমুদ আল-আলূসী আল-হুসাইনী। তিনি একজন ইতিহাসবিদ, ধর্মীয় ও সাহিত্যিক পণ্ডিত এবং সংস্কারবাদী দাঈদের একজন। তিনি ১২৭৩ হিজরিতে বাগদাদের রুসাফায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৪২ হিজরিতে বাগদাদেই মৃত্যুবরণ করেন। ছোট-বড় কিতাব ও রিসালা মিলিয়ে তাঁর ৫২টি রচনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: 'বুলুগুল আরাব ফি আহওয়ালিল আরব', 'আল-মিসকুল আদফার', 'গায়াতুল আমানী' ইত্যাদি। দেখুন: 'আলামুল ইরাক': (পৃষ্ঠা ৮৬ - ২৪১), 'আল-আলাম': (৮/৪৯, ৫০)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وهذا من إطلاق الاسم على بعض مسمياته؛ لأنهم يريدون بمثل هذا الإطلاق التنبيه على أن المسمى ركن أعظم وشرط أكبر كقوله (: «الحج عرفة» (1) أو لأنه الوصف الفارق بينهم وبين غيرهم، لذلك سمى العلماء كتبهم في هذه الأصول كتب السنة) (2) .

وأهل السنة: هم المتبعون للسنة المتمسكون بها، وهم: الصحابة ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين. يقول ابن حزم (3) : (وأهل السنة.. أهل الحق، ومن عداهم فأهل البدعة (4) ؛ فإنهم الصحابة (ومن سلك نهجهم من خيار التابعين - رحمة الله عليهم -، ثم أصحاب الحديث ومن اتبعهم من الفقهاء جيلاً فجيلاً إلى يومنا هذا، ومن اقتدى بهم من العوام في شرق الأرض وغربها - رحمة الله عليهم-) (5) .

والسبب في تسميتهم بأهل السنة هو كما يقول شيخ الإسلام ابن تيمية (6) : (وإنما سموا أهل السنة لاتباعهم سنته () (7) .

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود في كتاب (رقم 1949) ، والترمذي في كتاب تفسير القرآن (رقم 2979) وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح، ورواه ابن ماجه في المناسك (رقم 3015) .

(2) الألوسي: «غاية الأماني» : (1/428) .

(3) أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الظاهري، عالم الأندلس في عصره، فقيه أديب أصولي محدث، حافظ متكلم، ولد بقرطبة سنة 384هـ أو 383هـ، وتوفي في الأندلس سنة 456هـ، ومن جملة مؤلفاته: «المحلى» و «الفصل» وغيرهما. انظر: المقري: «نفح الطيب» : (2/283 - 289) ، وانظر: «الأعلام» : (5/59) .

(4) يقول ابن تيمية: البدعة في الدين هي ما لم يشرعه الله ورسوله.. انظر: «الفتاوى» : (4/107، 108) ، وانظر في موضوع البدعة: «الباعث على إنكار البدع والحوادث» لأبي شامة، «الاعتصام» للشاطبي، «البدعة تحديدها وموقف الإسلام» للدكتور عزت عطية.

(5) «الفصل» : (2/107) ، وانظر: ابن الجوزي: «تلبيس إبليس» : ص 16.

(6) أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن الخضر بن محمد بن الخضر بن علي بن عبد الله ابن تيمية الحراني ثم الدمشقي، قال الذهبي: كان من بحور العلم ومن الأذكياء المعدودين، اثني عليه الموافق والمخالف، وسارت في تصانيفه الركبان، لعلها ثلاثمائة مجلد، ومن مؤلفاته: «مجموعة فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية» في 37 مجلد، وغيرها كان مولده بحران سنة 661هـ، وتوفي سنة 728هـ. انظر: الذهبي: «تذكرة الحفاظ» : (4/1496 - 1498) ، ابن كثير: «البداية والنهاية» : (14/132 - 141) .

(7) المنتقى ص 189.
আর এটি হলো কোনো নামের এক বা একাধিক অংশের ওপর উক্ত নামটি প্রয়োগ করার অন্তর্ভুক্ত; কারণ এ ধরণের প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁরা এটি বুঝিয়ে দিতে চান যে, উক্ত নামকরণকৃত বিষয়টি একটি সুমহান রুকন (স্তম্ভ) এবং প্রধান শর্ত। যেমন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "হজ হলো আরাফাহ" (১), অথবা এ কারণে যে এটিই হলো তাদের এবং অন্যদের মধ্যে পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য। এজন্যই উলামায়ে কেরাম এই উসূল বা মূলনীতি বিষয়ক গ্রন্থগুলোর নামকরণ করেছেন ‘সুন্নাহর কিতাব’ (২)।

আর আহলে সুন্নাত হলেন তারা, যারা সুন্নাহর অনুসরণ করেন এবং একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকেন; তাঁরা হলেন: সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন। ইবনে হাযম (৩) বলেন: (আহলে সুন্নাতই হলেন সত্যের অনুসারী, আর তারা ব্যতীত বাকি সবাই বিদআতী (৪); তাঁরা হলেন সাহাবীগণ এবং যারা তাঁদের পথে চলেছেন এমন শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীগণ—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন—অতঃপর আসহাবে হাদীস এবং তাঁদের অনুসারী ফকীহগণ, যারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত রয়েছেন, আর পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের যেসব সাধারণ মানুষ তাঁদের অনুসরণ করেছেন—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) (৫)।

তাদেরকে আহলে সুন্নাত নাম দেওয়ার কারণ সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (৬) বলেন: (তাঁদেরকে কেবল আহলে সুন্নাত নামকরণ করা হয়েছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করার কারণে) (৭)।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ (কিতাব নং ১৯৪৯) এবং তিরমিযী তাফসীরুল কুরআন অধ্যায়ে (কিতাব নং ২৯৭৯) বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান সহীহ। এছাড়া ইবনে মাজাহ মানাসিক অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন (হাদীস নং ৩০১৫)।

(২) আল-আলুসী: ‘গায়াতুল আমানী’: (১/৪২৮)।

(৩) আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন হাযম আল-জাহিরী, তিনি তাঁর যুগের আন্দালুসের প্রখ্যাত আলিম, ফকীহ, সাহিত্যিক, উসূলবিদ, মুহাদ্দিস, হাফিয এবং মুতাকাল্লিম ছিলেন। তিনি ৩৮৪ হিজরী অথবা ৩৮৩ হিজরীতে কর্ডোভায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৫৬ হিজরীতে আন্দালুসে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: ‘আল-মুহাল্লা’ এবং ‘আল-ফাসল’ ইত্যাদি। দেখুন: আল-মাক্বরী: ‘নাফহুত তীব’: (২/২৮৩ - ২৮৯), আরও দেখুন: ‘আল-আলাম’: (৫/৫৯)।

(৪) ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: দ্বীনের মধ্যে বিদআত হলো এমন বিষয় যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল শরীয়তসম্মত করেননি। দেখুন: ‘আল-ফাতাওয়া’: (৪/১০৭, ১০৮)। বিদআতের বিষয়ে আরও দেখুন: আবু শামা রচিত ‘আল-বাইস আলা ইনকারিল বিদা ওয়াল হাওয়াদিস’, শাতিবী রচিত ‘আল-ইতিসাম’, এবং ড. ইজ্জত আতিয়্যাহ রচিত ‘আল-বিদআতু তাহদীদুহা ওয়া মাওকিফুল ইসলাম’।

(৫) ‘আল-ফাসল’: (২/১০৭), আরও দেখুন: ইবনুল জাওযী: ‘তালবীসু ইবলিস’: পৃষ্ঠা ১৬।

(৬) আহমদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-খিদর বিন মুহাম্মদ বিন আল-খিদর বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী পরবর্তীতে আদ-দামেশকী। আয-যাহাবী বলেন: তিনি ছিলেন ইলমের সমুদ্র এবং প্রখ্যাত মেধাবীদের একজন। তাঁর সাথে একমত পোষণকারী এবং বিরোধিতাকারী সকলেই তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলী বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে, যার পরিমাণ সম্ভবত তিনশ খণ্ড হবে। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে ‘মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ’ ৩৭ খণ্ডে অন্যতম। তিনি ৬৬১ হিজরীতে হাররানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আয-যাহাবী: ‘তাজকিরাতুল হুফফায’: (৪/১৪৯৬ - ১৪৯৮), ইবনে কাসীর: ‘আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’: (১৪/১৩২ - ১৪১)।

(৭) আল-মুনতাকা, পৃষ্ঠা ১৮৯।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وكذلك يرجع أبو المظفر الإسفراييني (1) سبب تسميتهم بأهل السنة إلى: اتباعهم لسنة الرسول صلى الله عليه وسلم، فيقول: (وليس في فرق الأمة أكثر متابعة لأخبار الرسول صلى الله عليه وسلم، وأكثر تبعاً لسنته من هؤلاء؛ ولهذا سُمّوا بأهل السنة.

ثم قال لما سئل الرسول صلى الله عليه وسلم عن الفرقة الناجية قال: «ما أنا عليه وأصحابي» (2) . وهذه الصفة تقررت لأهل السنة، لأنهم ينقلون الأخبار والآثار عن الرسول صلى الله عليه وسلم والصحابة (، ولا يدخل في تلك الجملة من يطعن في الصحابة من الخوارج والروافض) (3) .

--------------------------------------------

(1) أبو المظفر شهفور بن طاهر بن محمد الإسفراييني، الإمام الأصولي الفقيه المفسر، له تصانيف، منها: «التفسير الكبير» و «التبصير في الدين» ، توفي عام 471هـ، انظر: «طبقات الشافعية» : (5/11) ، «الأعلام» : (3/260) .

(2) هذا جزء من حديث رواه الترمذي عن عبد الله بن عمرو بن العاص في كتاب الإيمان، باب ما جاء في افتراق هذه الأمة: (7/297 رقم 2643) ، وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب، وفي بعض نسخ الترمذي: حديث غريب. قال الصدر المناوي: وفيه عبد الرحمن بن زياد الأفريقي؛ قال الذهبي: ضعفوه. «فيض القدير» : (5/347) . قال المباركفوري: (فتحسين الترمذي له لاعتضاده بأحاديث الباب) . «تحفة الأحوذي» : (7/400) ، ورواه الحاكم في «مستدركه» وذكر أن هذا الحديث روي عن عبد الله بن عمرو بن العاص بإسناد تفرد به عبد الرحمن بن زياد الأفريقي فلا تقوم به الحجة، ووافقه الذهبي. انظر: «المستدرك» : (1/128، 129) .

(3) الإسفراييني: «التبصير في الدين» : ص 167.
তেমনিভাবে আবু মুজাফফর আল-ইসফরাইনি (১) তাদের আহলে সুন্নাত নামকরণের কারণকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণের দিকে ফিরিয়েছেন। তিনি বলেন: (আর উম্মতের দলগুলোর মধ্যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস ও সংবাদসমূহের অধিক অনুসরণকারী এবং তাঁর সুন্নাহর অধিক অনুসারী এদের চেয়ে আর কেউ নেই; আর এই কারণেই তাদের আহলে সুন্নাত নামকরণ করা হয়েছে।

অতঃপর তিনি বলেন, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুক্তিপ্রাপ্ত দল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছিলেন: "আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর আছি (তার ওপর যারা থাকবে)।" (২)। আর এই বৈশিষ্ট্যটি আহলে সুন্নাতের জন্য সাব্যস্ত হয়েছে, কারণ তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণের থেকে হাদীস ও আসার বর্ণনা করেন (আর সেই দলের অন্তর্ভুক্ত এমন কেউ হবে না যারা সাহাবীগণের সমালোচনা করে, যেমন খারিজি ও রাফেজিরা) (৩)।

--------------------------------------------

(১) আবু মুজাফফর শাহফুর ইবনে তাহের ইবনে মুহাম্মদ আল-ইসফরাইনি, ইমাম, উসুলবিদ, ফকীহ ও মুফাসসির। তাঁর বেশ কিছু রচনাবলি রয়েছে, তন্মধ্যে: "আত-তাফসীর আল-কাবীর" এবং "আত-তাবসীর ফিদ-দীন"। তিনি ৪৭১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: "তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ": (৫/১১), "আল-আলাম": (৩/২৬০)।

(২) এটি একটি হাদিসের অংশ যা তিরমিযী আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস থেকে কিতাবুল ঈমান, এই উম্মতের বিভক্তি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: (৭/২৯৭ নম্বর ২৬৪৩)। তিরমিযী বলেছেন: এই হাদিসটি হাসান গারীব, এবং তিরমিযীর কিছু পাণ্ডুলিপিতে একে "হাদিসুন গারীব" বলা হয়েছে। আস-সদর আল-মুনাউয়ী বলেছেন: এর সনদে আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ আল-আফ্রিকী রয়েছেন; আয-যাহাবি বলেছেন: মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল বলেছেন। 'ফায়দুল কাদীর': (৫/৩৪৭)। আল-মুবারকপুরী বলেছেন: (তিরমিযী কর্তৃক একে হাসান বলা হয়েছে এই অধ্যায়ের অন্যান্য হাদিসের সমর্থনের কারণে)। 'তুহফাতুল আহওয়াযী': (৭/৪০০)। ইমাম হাকেম তাঁর 'মুস্তাদরাক'-এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এই হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস থেকে এমন এক সনদে বর্ণিত হয়েছে যাতে আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ আল-আফ্রিকী একক হয়ে গেছেন, ফলে এর দ্বারা দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না; আয-যাহাবিও তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। দেখুন: 'আল-মুস্তাদরাক': (১/১২৮, ১২৯)।

(৩) আল-ইসফরাইনি: "আত-তাবসীর ফিদ-দীন": পৃষ্ঠা ১৬৭।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
(ب) ويطلق على أهل السنة: الجماعة (1) :

فيقال: أهل السنة والجماعة، وقد ورد تفسير الجماعة في بعض الأحاديث بأنها: جماعة المسلمين التي هي على مثل ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه؛ ففي حديث حذيفة بن اليمان (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: « … تلزم جماعة المسلمين وإمامهم … الحديث» (2) فبيّن أن المراد بالجماعة: جماعة المسلمين (3) . وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: قال رسول (الله حينما سئل عن الفرقة الناجية من هي؟ قال: «ما أنا عليه وأصحابي» (4) . وقد ورد عن ابن مسعود

--------------------------------------------

(1) الجماعة في اللغة: قال عنها صاحب المحكم: (الجماعة، والجميع والمجمع والمجمعة كالجمع، وقد يستعملون ذلك في غير الناس حتى قالوا: جماعة الشجر وجماعة النبات، والجمع وجمعه جمع: المجتمعون) . «المحكم» لابن سيدة: جـ1 مادة جمع.

والجمع كالمنع تأليف: المفرق. «تاج العروس» : جـ5 مادة جمع. والجيم والميم والعين أصل واحد يدل على تضام الشيء. «معجم مقاييس اللغة» : جـ1 مادة جمع، وجامعت الرجل على الأمر مجامعة وجماعاً إذا مالأته عليه، والجمعة مشتقة من اجتماع الناس فيها للصلاة، ونادوا الصلاة جامعة: أي اجتمعوا لها، وفلاة مجمعة: يجتمع فيه القوم، ولا يفترقون خوف الضلال. «جمهرة اللغة» لابن دريد: جـ2 مادة جمع.

(2) رواه البخاري: (8/93) ، مسلم: (6/20) .

(3) وعلى هذا التعريف للجماعة اقتصرت (دائرة المعارف الإسلامية) ونبهت إلى ملاحظة التفريق بين (الإجماع) الذي يعني اتفاق فقهاء الإسلام في عصر من العصور.. وبين (الجماعة) التي هي جماعة المسلمين المخالفة للمارقين والخارجين. انظر: «دائرة المعارف الإسلامية» : (7/94) .

(4) تقدم تخريج هذا الحديث ص 27 من هذه الرسالة.

وقد قال الشاطبي عن هذا الحديث: (فأجاب (بأن الفرقة الناجية من اتصف بأوصافه عليه الصلاة والسلام وأوصاف أصحابه، وكان ذلك معلوماً عندهم غير خفي فاكتفوا به، وربما يحتاج إلى تفسيره بالنسبة إلى من بعد تلك الأزمان. وحاصل الأمر أن الصحابة كانوا مقتدين به، مهتدين بهديه، وقد جاء مدحهم في القرآن الكريم، وأثنى عليهم متبوعهم محمد (، وإنما خُلقه (القرآن.. فالقرآن إنما هو المتبوع على الحقيقة، وجاءت السنّة مبينة له، فالمتبع للسنّة متبع للقرآن، والصحابة كانوا أولى الناس بذلك، فكل من اقتدى بهم فهو من الفرقة الناجية.. وهو معنى قوله عليه الصلاة والسلام: «ما أنا عليه وأصحابي» . فالكتاب والسنة هما الطريق المستقيم، وما سواهما من الإجماع وغيره فناشئ عنهما، هذا هو الوصف الذي كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، وهو معنى ما جاء في الرواية الأخرى من قوله: «وهي الجماعة» ، لأن الجماعة في وقت الإخبار كانوا على ذلك الوصف) «الاعتصام» : (2/252) .
(খ) আহলুস সুন্নাহকে ‘আল-জামা‘আত’ও (১) বলা হয়:

সুতরাং বলা হয়ে থাকে: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত। কিছু হাদিসে জামা‘আতের ব্যাখ্যা এভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি হলো মুসলিমদের সেই দল যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবায়ে কিরাম যে আদর্শের ওপর ছিলেন, তার ওপর অটল থাকে। হুজায়ফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «...তুমি মুসলিমদের জামা‘আত ও তাদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে... হাদিস» (২)। এখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, জামা‘আত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মুসলিমদের জামা‘আত (৩)। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন মুক্তিপ্রাপ্ত দল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে তারা কারা? তিনি বললেন: «আমি এবং আমার সাহাবায়ে কিরাম আজ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি» (৪)। ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) আভিধানিক অর্থে জামা‘আত: ‘আল-মুহকাম’ গ্রন্থের লেখক এ সম্পর্কে বলেছেন: (জামা‘আত, জামি‘, মাজমা‘ এবং মাজমা‘আহ শব্দগুলো ‘জাম্‘উ’ শব্দের মতোই। তারা এগুলো মানুষ ছাড়াও অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে, এমনকি তারা বলে: বৃক্ষরাজি বা উদ্ভিদের জামা‘আত। আর ‘জাম্‘উ’ এর বহুবচন হলো ‘জুমূ‘’, যার অর্থ: একত্রিত ব্যক্তিবর্গ)। ইবনে সিদাহর ‘আল-মুহকাম’: খণ্ড ১, শব্দমূল: জ-ম-আ।

আর ‘জাম্‘উ’ শব্দটি ‘মান্‘উ’ এর ওজনে, যার অর্থ: পৃথক জিনিসকে একত্রিত করা। ‘তাজুল আরুস’: খণ্ড ৫, শব্দমূল: জ-ম-আ। জিম, মিম এবং আইন—এই তিনটি বর্ণ একটি মূল ধাতু যা কোনো জিনিসের একত্রিত হওয়াকে নির্দেশ করে। ‘মু‘জাম মাকায়িসুল লুগাহ’: খণ্ড ১, শব্দমূল: জ-ম-আ। আমি কোনো বিষয়ে কোনো ব্যক্তির সাথে ‘জামাতু’ (একমত হওয়া) ক্রিয়াটি তখনই ব্যবহার করি যখন আমি তাকে ঐ বিষয়ে সহযোগিতা করি। আর ‘জুমুআ’ শব্দটি জুমার দিনে নামাজের জন্য মানুষের একত্রিত হওয়া থেকে উদ্ভূত। তারা যখন ‘আস-সালাতু জামিআহ’ বলে ডাক দেয়, তার অর্থ হলো: নামাজের জন্য একত্রিত হও। আর ‘ফালাতুন মাজমাআহ’ হলো সেই প্রান্তর যেখানে কাফেলা একত্রিত হয় এবং পথ হারানোর ভয়ে বিচ্ছিন্ন হয় না। ইবনে দুরাইদের ‘জামহারাতুল লুগাহ’: খণ্ড ২, শব্দমূল: জ-ম-আ।

(২) এটি ইমাম বুখারি: (৮/৯৩) ও ইমাম মুসলিম: (৬/২০) বর্ণনা করেছেন।

(৩) জামা‘আতের এই সংজ্ঞার ওপরই ‘দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ’ (ইসলামি বিশ্বকোষ) সীমাবদ্ধ থেকেছে এবং তারা ‘ইজমা‘’—যা কোনো এক যুগের ইসলামি ফকিহগণের ঐকমত্যকে বোঝায়—এবং ‘জামা‘আত’—যা ধর্মত্যাগী ও বিদ্রোহী খারেজিদের বিপরীতে মুসলিমদের মূল ধারা—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যের প্রতি সজাগ করেছে। দেখুন: ‘দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ’: (৭/৯৪)।

(৪) এই রিসালার ২৭ পৃষ্ঠায় এই হাদিসের তাহরিজ (উৎস বর্ণনা) করা হয়েছে।

ইমাম শাত্বিবি এই হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি উত্তর দিলেন যে, মুক্তিপ্রাপ্ত দল হলো তারা যারা তাঁর (রাসূলুল্লাহর) এবং তাঁর সাহাবায়ে কিরামের গুণাবলিতে গুণান্বিত হবে। বিষয়টি তাদের নিকট সুপরিচিত ও স্পষ্ট ছিল বিধায় তারা এটুকুতেই সন্তুষ্ট থেকেছেন। হয়তো পরবর্তী যুগের মানুষের জন্য এর ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতে পারে। সারকথা হলো, সাহাবায়ে কিরাম তাঁর অনুসরণকারী এবং তাঁর হেদায়েতের মাধ্যমে পরিচালিত ছিলেন। পবিত্র কুরআনে তাঁদের প্রশংসা করা হয়েছে এবং তাঁদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের গুণগান গেয়েছেন। আর তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন... সুতরাং কুরআনই হলো মূলত প্রকৃত অনুসৃত বিষয়, আর সুন্নাহ এসেছে তার ব্যাখ্যা হিসেবে। তাই যিনি সুন্নাহর অনুসারী, তিনি মূলত কুরআনেরই অনুসারী। আর সাহাবায়ে কিরাম এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য ছিলেন। সুতরাং যারা তাঁদের অনুসরণ করবে, তারাই মুক্তিপ্রাপ্ত দলের অন্তর্ভুক্ত... এটিই তাঁর (রাসূলুল্লাহর) বাণীর মর্মার্থ: «আমি এবং আমার সাহাবায়ে কিরাম যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি»। অতএব কিতাব ও সুন্নাহ হলো সরল পথ, আর ইজমা‘ ও অন্যান্য বিষয় যা আছে তা এই দুটি থেকেই উৎসারিত। এটিই সেই আদর্শ যার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবায়ে কিরাম ছিলেন। অন্য বর্ণনায় বর্ণিত তাঁর বাণী «আর এটিই হলো জামা‘আত»-এর অর্থও এটাই। কারণ সংবাদ প্রদানের সময় জামা‘আত সেই গুণের ওপরই প্রতিষ্ঠিত ছিল)। ‘আল-ইতিসাম’: (২/২৫২)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
(موقوفاً تفسير لمفهوم الجماعة حيث قال: « … الجماعة ما وافق الحق وإن كنت وحدك» (1) . ويأخذ أبو شامة (2) بهذا التفسير ويؤكده، فيقول: (حيث جاء الأمر بلزوم الجماعة، فالمراد به لزوم الحق واتباعه، وإن كان المتمسك بالحق قليلاً، والمخالف له كثيراً، لأن الحق هو الذي كانت عليه الجماعة الأولى من عهد النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، ولا نظرة إلى كثرة أهل الباطل بعدهم) (3) .

فالجماعة - هنا - تعني موافقة الحق.

ومن الملاحظ أن (لفظ السنة في كلام السلف يتناول السنة في العبادات وفي الاعتقادات) (4) ، ثم خص بقضايا العقيدة ولا سيما المسائل

--------------------------------------------

(1) رواه اللالكائي بسنده عن ابن مسعود في كتاب السنّة، باب سياق ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم في الحث على اتباع الجماعة والسواد الأعظم. انظر: اللالكائي: «كاشف الغمة في اعتقاد أهل السنّة» : ص 9 (مخطوط) ، وانظر: «الباعث على إنكار البدع والحوادث» لأبي شامة: ص 22، و «إغاثة اللهفان» لابن القيم: (1/70) .

(2) عبد الرحمن بن إسماعيل بن إبراهيم المقدسي الدمشقي أبو القاسم شهاب الدين المعروف بأبي شامة، محدث حافظ مؤرخ مفسر فقيه أصولي متكلم مقرئ نحوي، ولد بدمشق سنة 599هـ، وبها منشأه ووفاته سنة 665هـ، ومن آثاره: كتاب «الروضتين في أخبار الدولتين» ، و «الباعث على إنكار البدع والحوادث» وغيرهما. انظر: ابن كثير: «البداية» : (13/250) ، «شذرات الذهب» : (5/318) ، «الأعلام» : (4/70) .

(3) أبو شامة: «الباعث» : ص 22.

(4) ابن تيمية: «الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر» بتحقيق: صلاح الدين المنجد: ص 77.
মওকুফ হিসেবে জামায়াতের ধারণার একটি ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন: « … জামায়াত হলো তা-ই যা সত্যের অনুকূল, যদিও তুমি একাকী হও» (১)। আবু শামাহ (২) এই ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করেছেন এবং তা সমর্থন করে বলেন: (যেখানে জামায়াতবদ্ধ থাকার নির্দেশ এসেছে, সেখানে উদ্দেশ্য হলো সত্যের ওপর অবিচল থাকা এবং তার অনুসরণ করা, যদিও সত্য ধারণকারী সংখ্যায় কম হয় এবং তার বিরোধিতাকারীরা সংখ্যায় অনেক হয়। কারণ সত্য হলো তা-ই যার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের যুগের প্রথম জামায়াত প্রতিষ্ঠিত ছিল। তাদের পরবর্তী বাতিলপন্থীদের আধিক্যের দিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হবে না) (৩)।

সুতরাং জামায়াত—এখানে—সত্যের সাথে মিল রাখাকেই বোঝায়।

এটি লক্ষ্যণীয় যে (সালাফদের বক্তব্যে সুন্নাহ শব্দটি ইবাদাত ও আকীদা উভয় বিষয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে) (৪), অতঃপর এটি বিশেষভাবে আকীদার বিষয়াবলি, বিশেষত সেই সকল মাসআলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হয়ে যায়

--------------------------------------------

(১) আল-লালকায়ী তার সনদে ইবনে মাসউদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন কিতাবুস সুন্নাহ-তে, জামায়াত ও বড় দলের (সাওয়াদুল আজম) অনুসরণে উৎসাহিত করার বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সেই অধ্যায়ে। দেখুন: আল-লালকায়ী: «কাশিফুল গুম্মাহ ফি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ»: পৃ. ৯ (পাণ্ডুলিপি), এবং দেখুন: আবু শামাহ-এর «আল-বাইস আলা ইনকারিল বিদা ওয়াল হাওয়াদ্দিস»: পৃ. ২২, এবং ইবনুল কাইয়্যিমের «ইগাছাতুল লাহফান»: (১/৭০)।

(২) আবদুর রহমান বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আল-মাকদিসি আদ-দিমাশকি আবু আল-কাসিম শিহাবুদ্দিন, যিনি আবু শামাহ নামে পরিচিত; তিনি একজন মুহাদ্দিস, হাফেজ, ঐতিহাসিক, মুফাসসির, ফকিহ, উসুলবিদ, মুতাকাল্লিম, ক্বারী ও ব্যাকরণবিদ। তিনি ৫৯৯ হিজরিতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই লালিত-পালিত হন ও ৬৬৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: «আর-রওদাতাইন ফি আখবারিদ দাওলাতাইন», «আল-বাইস আলা ইনকারিল বিদা ওয়াল হাওয়াদ্দিস» এবং অন্যান্য। দেখুন: ইবনে কাসির: «আল-বিদায়া»: (১৩/২৫০), «শাজারাতুজ জাহাব»: (৫/৩১৮), «আল-আ’লাম»: (৪/৭০)।

(৩) আবু শামাহ: «আল-বাইস»: পৃ. ২২।

(৪) ইবনে তাইমিয়্যাহ: «আল-আমর বিল মা’রুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার», তাহকীক: সালাহউদ্দীন আল-মুনজিদ: পৃ. ৭৭।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
التي خالف فيها أهل البدع كما سبق. كذلك نجد لفظ الجماعة يعني: حسب ما جاء عن ابن مسعود - موافقة الحق على وجه العموم، ثم نراه يخصص بمسائل العقيدة التي انحرف عنها المبتدعة؛ فنجد الإمام أبا حنيفة يعرف الجماعة على هذا الوجه؛ فيقول رحمه الله: (الجماعة: أن تفضل أبا بكر وعمر، وعليّاً، وعثمان (1) ، ولا تنتقص أحداً من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا تكفر الناس بالذنوب وتصلي على من يقول لا إله إلا الله وخلف من قال: لا إله إلا الله، وتمسح على الخفين..) (2) . ونجد فيما بين أيدينا من مصادر عدة تعاريف للجماعة تعرف بها من خلال بعض مبادئها وأصولها، فكما عرف أبو حنيفة الجماعة ببعض أصولها نجد شيخ الإسلام ابن تيمية يجعل الالتزام بمصادر أهل السنة في التلقي هو الفيصل بين أهل السنة والجماعة ومن عداهم، فيقول: (فمن قال بالكتاب والسنّة والإجماع كان من أهل السنّة والجماعة) (3) ويقول: (لأن الجماعة هي الاجتماع وضدها الفرقة … وهم يزنون بهذه الأصول الثلاثة جميع ما عليه الناس من أقوال وأعمال.. مما له تعلق بالدين) (4) .

--------------------------------------------

(1) قال شارح الطحاوية: (روي عن أبي حنيفة تقديم علي على عثمان، ولكن ظاهر مذهبه تقديم عثمان على علي، وعلى هذا عامة أهل السنّة) «شرح الطحاوية» : ص 486، وانظر: الخطابي: «معالم السنن» : (4/302، 303) ، ملا علي القاري: «شرح الفقه الأكبر» : ص 119.

وقال ابن تيمية: (وهذه المسألة - مسألة عثمان وعلي - ليست من الأصول التي يضلل المخالف فيها) «الفتاوى» : (3/153) .

(2) ابن عبد البر: «الانتقاء» : ص 163، 164.

(3) «الفتاوى» : (3/346) .

(4) المصدر السابق: (3/157) .
যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী বিদআতিগণ এর বিরোধিতা করেছে। অনুরূপভাবে আমরা পাই যে, 'জামাআত' শব্দের অর্থ হলো—ইবনে মাসউদ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে সে অনুযায়ী—সার্বিকভাবে হকের সাথে একমত হওয়া। অতপর আমরা দেখি যে, একে আকিদার এমন মাসআলাগুলোর সাথে নির্দিষ্ট করা হচ্ছে যা থেকে বিদআতিরা বিচ্যুত হয়েছে; তাই আমরা ইমাম আবু হানিফাকে দেখি তিনি জামাআতের পরিচয় এভাবে দিচ্ছেন; তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ("জামাআত হলো: তুমি আবু বকর, উমর, আলী ও উসমানকে (১) শ্রেষ্ঠত্ব দান করবে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের কাউকেও তুচ্ছজ্ঞান করবে না, আর গুনাহের কারণে মানুষকে কাফির বলবে না এবং যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে তার জানাজা পড়বে ও যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে তার পিছনে সালাত আদায় করবে এবং চামড়ার মোজার উপর মাসেহ করবে..") (২)। আমাদের হাতে থাকা উৎসগুলোতে আমরা জামাআতের এমন বেশ কিছু সংজ্ঞা পাই যেখানে এর কিছু মূলনীতি ও আদর্শের মাধ্যমে এর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। আবু হানিফা যেমন জামাআতের পরিচয় এর কিছু মূলনীতির মাধ্যমে দিয়েছেন, তেমনি আমরা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে দেখি যে তিনি জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর উৎসগুলোর প্রতি অবিচল থাকাকেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এবং অন্যদের মাঝে পার্থক্যকারী মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন: ("সুতরাং যে ব্যক্তি কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমার কথা বলে, সে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত") (৩) এবং তিনি বলেন: ("কেননা জামাআত হলো ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং এর বিপরীত হলো বিচ্ছিন্নতা … তারা এই তিনটি মূলনীতির মাধ্যমেই দ্বীন সংশ্লিষ্ট মানুষের সকল কথা ও কাজকে পরিমাপ করে থাকেন") (৪)।

--------------------------------------------

(১) শারহুত তাহাবিয়্যাহ এর লেখক বলেন: (আবু হানিফা থেকে উসমানের আগে আলীকে প্রাধান্য দেওয়ার বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে তার মাযহাবের প্রকাশ্য মত হলো আলীর আগে উসমানকে প্রাধান্য দেওয়া এবং এর উপরেই সাধারণ আহলুস সুন্নাহ প্রতিষ্ঠিত) «শারহুত তাহাবিয়্যাহ» : পৃষ্ঠা ৪৮৬, এবং দেখুন: আল-খাত্তাবি: «মাআলিমুস সুনান» : (৪/৩০২, ৩০৩) , মোল্লা আলী কারী: «শারহুল ফিকহুল আকবার» : পৃষ্ঠা ১১৯।

এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: (আর এই মাসআলাটি—অর্থাৎ উসমান ও আলীর মাসআলাটি—এমন কোনো মূলনীতি নয় যার কারণে বিরোধিতাকারীকে গোমরাহ বা পথভ্রষ্ট বলা হবে) «আল-ফাতাওয়া» : (৩/১৫৩)।

(২) ইবনে আব্দুল বার: «আল-ইনতিকা» : পৃষ্ঠা ১৬৩, ১৬৪।

(৩) «আল-ফাতাওয়া» : (৩/৩৪৬)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস: (৩/১৫৭)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ولما كان من "أصول أهل السنة والجماعة لزوم الجماعة وترك قتال الأئمة.. بخلاف أهل الأهواء الذين يرون القتال للأئمة من أصول دينهم" (1) . نجد من يفسر الجماعة بأنها جماعة المسلمين إذا اجتمعوا على أمير (2) . وبهذا المعنى روى الطبري بسنده أن عمرو بن حريث سأل سعيد بن زيد قال: «فمتى بويع أبو بكر؟ قال: يوم مات رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ كرهوا أن يبقوا بعض يوم وليسوا في جماعة» (3) .

ومن أصول أهل السنّة الاعتصام بحبل الله جميعاً، وعدم التفرق والتنازع، وفي المعنى روى البخاري عن عليٍّ (قال: «اقضوا كما كنتم تقضون، فإني أكره الاختلاف حتى يكون الناس جماعة» (4) .

قال ابن حجر (5) : قوله «فإني أكره الاختلاف» أي: الذي يؤدي إلى النزاع. قال ابن التين: يعني مخالفة أبي بكر وعمر، وقال غيره: المراد المخالفة التي تؤدي إلى النزاع والفتنة، ويؤيده قوله بعد ذلك «حتى يكون الناس جماعة» (6) .

وبهذا المعنى سمي العام الذي تنازل فيه الحسن لمعاوية - رضي الله

--------------------------------------------

(1) ابن تيمية: «الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر» : ص 20.

(2) الشاطبي: «الاعتصام» : (2/264) ، وانظر: الخطابي: «معالم السنن» : (4/311) .

(3) «تاريخ الطبري» : (2/447) .

(4) «صحيح البخاري» مع «فتح الباري» : (7/71) .

(5) أحمد بن علي بن محمد الكناني العسقلاني، أبو الفضل شهاب الدين، ابن حجر، حافظ الإسلام في عصره.. وتصانيفه كثيرة جليلة منها «فتح الباري في شرح صحيح البخاري» ، و «لسان الميزان» ، و «تهذيب التهذيب» وغيرها. توفي سنة 852هـ وكان مولده سنة 773هـ. انظر «الضوء اللامع» : (2/36) ، «البدر الطالع» : (1/87) ، «الأعلام» : (1/173) .

(6) «فتح الباري» : (7/73) .
যেহেতু "আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অন্যতম মূলনীতি হলো জামাআতকে আঁকড়ে ধরা এবং শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করা পরিহার করা... সেই প্রবৃত্তি পূজারীদের বিপরীতে যারা শাসকদের বিরুদ্ধে লড়াই করাকে তাদের দ্বীনের অন্যতম মূলনীতি মনে করে" (১)। আমরা এমন কাউকে পাই যারা জামাআতকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, এটি মুসলিমদের সেই দল যখন তারা কোনো আমীরের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয় (২)। এই অর্থেই তাবারী তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন যে, আমর ইবনে হুরাইছ সাঈদ ইবনে যায়িদকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "কখন আবু বকরের হাতে আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণ করা হয়েছিল? তিনি বললেন: যেদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেন; তারা অপছন্দ করেছিলেন যে দিনের কিছু অংশও তারা এমন অবস্থায় অতিবাহিত করবেন যখন তারা কোনো জামাআতে (ঐক্যে) নেই" (৩)।

আর আহলে সুন্নাতের অন্যতম মূলনীতি হলো সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরা এবং পরস্পর বিচ্ছিন্নতা ও বিবাদ পরিহার করা। এই অর্থে বুখারী আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "তোমরা আগে যেভাবে ফয়সালা করতে সেভাবেই করো, কেননা আমি মতবিরোধ অপছন্দ করি যতক্ষণ না মানুষ একটি জামাআতে (ঐক্যবদ্ধ) হয়" (৪)।

ইবনে হাজার (৫) বলেন: তাঁর উক্তি "কেননা আমি মতবিরোধ অপছন্দ করি" অর্থাৎ: যা বিবাদের দিকে ধাবিত করে। ইবনুত্তীন বলেন: এর অর্থ হলো আবু বকর ও উমরের বিরোধিতা করা। অন্যগণ বলেন: এর উদ্দেশ্য হলো সেই বিরোধিতা যা বিবাদ ও ফিতনার দিকে ধাবিত করে; আর তাঁর পরবর্তী উক্তি "যতক্ষণ না মানুষ একটি জামাআতে (ঐক্যবদ্ধ) হয়" একেই সমর্থন করে (৬)।

আর এই অর্থেই সেই বছরটিকে নামকরণ করা হয়েছিল যাতে হাসান মুয়াবিয়ার নিকট ক্ষমতা অর্পণ করেছিলেন - আল্লাহ সন্তুষ্ট হন...

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়া: "আল-আমর বিল মা'রুফ ওয়ান নাহইউ আনিল মুনকার": পৃ. ২০।

(২) আশ-শাতিবী: "আল-ইতিসাম": (২/২৬৪), এবং দেখুন: আল-খাত্তাবী: "মাআলিমুস সুনান": (৪/৩১১)।

(৩) "তারিখে তাবারী": (২/৪৪৭)।

(৪) "সহীহ বুখারী" সাথে "ফাতহুল বারী": (৭/৭১)।

(৫) আহমদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-কিনানী আল-আসকালানী, আবুল ফজল শিহাবুদ্দীন, ইবনে হাজার, তাঁর যুগের হাফিযুল ইসলাম... তাঁর বহু সুমহান গ্রন্থ রয়েছে যার মধ্যে "সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারী", "লিসানুল মিজান", "তাহযীবুত তাহযীব" অন্যতম। তিনি ৮৫২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর জন্ম ছিল ৭৭৩ হিজরিতে। দেখুন "আদ-দাউল্লামি'": (২/৩৬), "আল-বদরুত তালি'": (১/৮৭), "আল-আলাম": (১/১৭৩)।

(৬) "ফাতহুল বারী": (৭/৭৩)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
عنهما - عام "الجماعة"، قال ابن بطال (1) سلم الحسن لمعاوية الأمر وبايعه على إقامة كتاب الله وسنة نبيه ودخل معاوية الكوفة وبايعه الناس، فسميت سنة الجماعة لاجتماع الناس وانقطاع الحرب (2) .

أما‌‌ سبب تسمية أهل السنّة بالجماعة، فيرى عبد القاهر البغدادي (3) رحمه الله أن "أهل السنّة لا يكفر بعضهم بعضاً، وليس بينهم خلاف يوجب التبرؤ والتكفير، فهم إذاً أهل الجماعة القائمون بالحق والله تعالى يحفظ الحق وأهله، فلا يقعون في تنابذ وتناقض، وليس فريق من فرق المخالفين إلا وفيهم تكفير بعضهم لبعض وتبرؤ بعضهم من بعض كالخوارج والروافض والقدرية؛ حتى اجتمع سبعة منهم في مجلس واحد فافترقوا عن تكفير بعضهم بعضاً.." (4) .

ويقول ابن تيمية - كما مر -: (وسموا أهل الجماعة لأن الجماعة هي الاجتماع، وضدها الفرقة، وإن كان لفظ الجماعة قد صار اسماً لنفس القوم المجتمعين؛ و"الإجماع" هو الأصل الثالث الذي يعتمد عليه في العلم والدين. وهم يزنون بهذه الأصول الثلاثة - يعني الكتاب والسنّة

--------------------------------------------

(1) أبو الحسن علي بن خلف بن عبد الملك بن بطال البكري القرطبي المالكي محدث فقيه، توفي سنة 449هـ، من آثاره: «شرح الجامع الصحيح للبخاري» في عدة أسفار، و «الاعتصام في الحديث» . ابن بشكوال: «الصلة» : ص 414، «معجم المؤلفين» : (7/87) .

(2) «فتح الباري» : (13/63) ، وانظر: «تاريخ خليفة بن خياط» : ص 203، الخطابي: «معالم السنن» : (4/311) .

(3) عبد القاهر بن طاهر بن محمد بن عبد الله البغدادي التميمي الإسفراييني أبو منصور، كان صدر الإسلام في عصره يدرس في سبعة عشر فنّاً، توفي في إسفرائين سنة 429هـ، ومن آثاره: «أصول الدين» و «الفرق بين الفرق» ، انظر: السبكي: «طبقات الشافعية» : (5/136 - 145) ، القفطي: «إنباه الرواة» : (2/185، 186) ، السيوطي: «بغية الوعاة» : (2/105) .

(4) البغدادي: «الفرق بين الفرق» : ص 361.
তাঁদের উভয় থেকে (বর্ণিত) - "জামাআত" (ঐক্য) এর বছর; ইবনে বাত্তাল (১) বলেন, হাসান মুআবিয়ার কাছে শাসনভার অর্পণ করেন এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ কায়েম করার শর্তে তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেন। মুআবিয়া কুফায় প্রবেশ করেন এবং মানুষ তাঁর আনুগত্যের শপথ নেয়। মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটার কারণে একে "জামাআতের বছর" বলা হয় (২)।

আর আহলে সুন্নাতকে "জামাআত" নামে নামকরণের কারণ সম্পর্কে আব্দুল কাহের আল-বাগদাদী (৩) রহিমাহুল্লাহ মনে করেন যে, "আহলে সুন্নাত একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করে না এবং তাদের মধ্যে এমন কোনো মতভেদ নেই যা সম্পর্কচ্ছেদ ও কাফির সাব্যস্ত করাকে অনিবার্য করে। সুতরাং তারা হলো হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত জামাআত (ঐক্যবদ্ধ দল) এবং আল্লাহ তাআলা সত্য ও সত্যের অনুসারীদের হেফাজত করেন; তাই তারা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ ও স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হয় না। বিপথগামী দলগুলোর প্রতিটি দলের মধ্যেই একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করা এবং একে অপরের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রবণতা রয়েছে, যেমন খারিজি, রাফিজি এবং কাদারিয়া; এমনকি তাদের সাতজন ব্যক্তি এক মজলিসে বসলে তারা একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত..." (৪)।

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন—যেমন ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে—: "তাদেরকে আহলে জামাআত বলা হয় কারণ জামাআত হলো ঐক্যবদ্ধ হওয়া, যার বিপরীত হলো বিচ্ছিন্নতা; যদিও জামাআত শব্দটি ওই জনসমষ্টির নাম হয়ে গিয়েছে যারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আর 'ইজমা' হলো তৃতীয় মূলনীতি যার ওপর ইলম ও দ্বীনের ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়। তারা এই তিনটি মূলনীতির সাহায্যে মানদণ্ড নিরূপণ করে—অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহ...

--------------------------------------------

(১) আবু হাসান আলী বিন খালাফ বিন আব্দুল মালিক বিন বাত্তাল আল-বাকরি আল-কুরতুবি আল-মালিকি, একজন মুহাদ্দিস ও ফকিহ, ৪৪৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে: কয়েক খণ্ডে সমাপ্ত ‘শারহুল জামিইস সহিহ লিল বুখারি’ এবং ‘আল-ইতিসাম ফিল হাদিস’। ইবনে বাশকুওয়াল: ‘আস-সিলাহ’: পৃষ্ঠা ৪১৪, ‘মুজামুল মুআল্লিফিন’: (৭/৮৭)।

(২) ‘ফাতহুল বারী’: (১৩/৬৩), এবং দেখুন: ‘তারিখে খলিফা বিন খইয়াত’: পৃষ্ঠা ২০৩, খাত্তাবি: ‘মাআলিমুস সুনান’: (৪/৩১১)।

(৩) আব্দুল কাহের বিন তাহের বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদী আত-তামিমি আল-ইসফারায়িনি আবু মনসুর; তিনি তাঁর যুগের ইসলামের এক অগ্রগণ্য ব্যক্তি ছিলেন এবং সতেরোটি বিষয়ে পাঠদান করতেন। ৪২৯ হিজরিতে ইসফারায়িনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘উসুলুদ দ্বীন’ এবং ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’। দেখুন: সুবকি: ‘তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ’: (৫/১৩৬-১৪৫), কিফতি: ‘ইনবাহুর রুওয়াত’: (২/১৮৫, ১৮৬), সুয়ূতি: ‘বুগয়াতুল উআত’: (২/১০৫)।

(৪) বাগদাদী: ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’: পৃষ্ঠা ৩৬১।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুত তাকরীব বাইনা আহলিস সুন্নাতি ওয়াশ শীয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
والإجماع - جميع ما عليه الناس من أقوال وأعمال … مما له تعلق بالدين) (1) .

فابن تيمية - هنا - يلحظ في التسمية بالجماعة معنى الاجتماع، وعدم الفرقة، وأن الإجماع أصل من أصول أهل السنّة، وأنهم اجتمعوا على كتاب الله وسنّة رسوله صلى الله عليه وسلم، وما أجمع عليه السلف الصالح، وبهذه الأصول يزنون ما عليه الناس.

وملخص القول:

أن الجماعة تعني الحق من الاعتقاد أو أصحاب الاعتقاد الحق، وقد يعبر عن معنى الجماعة بأصل من أصولها (2) ؛ - كما رأينا - فهي بهذا توافق السنة، وعلى هذا يمكن أن يقال: أن لفظ السنّة والجماعة إذا افترقا اجتمعا في المعنى، وإذا اجتمعا افترقا؛ فإذا افترقا بأن ذكر أحدهما فقط دخل فيه الآخر، وصار معناهما واحداً، ولهذا كثيراً ما يستخدم لفظ «أهل السنة» فقط ويؤدي الدلالة والتعريف للفظين. أما إذا ذكرا معاً افترقا وصار لكل واحد منهما معنى يخصه، يفسر ذلك

--------------------------------------------

(1) «الفتاوى» : (3/157) .

(2) في «الاعتصام» للشاطبي وردت خمسة أقوال في معنى الجماعة الواردة في بعض الأحاديث وهي لا تخرج في الغالب عن عموم ما سبق. يقول: اختلف الناس في معنى الجماعة.. على خمسة أقوال:

1- أنها السواد الأعظم.

2- أنها جماعة العلماء المجتهدين.

3- أن الجماعة هم الصحابة على الخصوص.

4- أن الجماعة هي جماعة أهل الإسلام إذا اجتمعوا على أمر.

5- أن الجماعة جماعة المسلمين إذا اجتمعوا على أمير.

وبيّن بعد كل قول من هذه الأقوال من قال به، وأوضح خروج أهل البدع عن مدلول كل قول من هذه الأقوال. انظر: «الاعتصام» : (2/260 - 265) .
এবং ইজমা - দ্বীনের সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষের যাবতীয় কথা ও কর্মের সমষ্টি … (১)।

ইবনে তাইমিয়া - এখানে - 'জামাআত' নামকরণের মধ্যে ঐক্য এবং অনৈক্য পরিহারের অর্থ লক্ষ্য করেছেন। আর ইজমা হলো আহলে সুন্নাহর মূলনীতিসমূহের অন্যতম একটি মূলনীতি। তারা আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীন যে বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এই মূলনীতিগুলোর মাধ্যমেই তারা মানুষের অবস্থা পরিমাপ করেন।

কথার সারসংক্ষেপ হলো:

জামাআত বলতে সঠিক আকিদা বা সঠিক আকিদার অনুসারীদের বোঝায়। কখনও কখনও জামাআতের অর্থ তার কোনো একটি মূলনীতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় (২); - যেমনটি আমরা দেখেছি - এইভাবে এটি সুন্নাহর সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। এ ভিত্তিতে বলা যেতে পারে যে: সুন্নাহ ও জামাআত শব্দ দুটি যখন আলাদাভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তারা একই অর্থ প্রকাশ করে; আর যখন তারা একত্রে ব্যবহৃত হয়, তখন তাদের অর্থ ভিন্ন হয়। যখন তারা আলাদাভাবে ব্যবহৃত হয় অর্থাৎ কেবল একটির উল্লেখ করা হয়, তখন অপরটি তার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং তাদের অর্থ অভিন্ন হয়ে যায়। এজন্যই প্রায়শই কেবল 'আহলে সুন্নাহ' শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং এটি উভয় শব্দের অর্থ ও পরিচিতি বহন করে। তবে যখন তারা একত্রে উল্লিখিত হয়, তখন তারা ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে এবং তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব অর্থ থাকে, যা ব্যাখ্যা করে...

--------------------------------------------

(১) «ফাতাওয়া» : (৩/১৫৭) ।

(২) শাতিবীর «আল-ইতিসাম»-এ কিছু হাদিসে বর্ণিত 'জামাআত' শব্দের অর্থ সম্পর্কে পাঁচটি মত উল্লেখ করা হয়েছে এবং সেগুলো সাধারণত পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার বাইরে নয়। তিনি বলেন: জামাআতের অর্থ নিয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে.. পাঁচটি মতের ওপর:

১- এটি হলো সওয়াদে আযম (বৃহত্তর জনসমষ্টি)।

২- এটি হলো মুজতাহিদ আলেমদের জামাআত।

৩- জামাআত বলতে বিশেষভাবে সাহাবায়ে কেরামকে বোঝায়।

৪- জামাআত হলো আহলে ইসলামের জামাআত যখন তারা কোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়।

৫- জামাআত হলো মুসলমানদের জামাআত যখন তারা কোনো আমিরের অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়।

তিনি এই প্রতিটি মতের পরে তা কে বলেছেন তা বর্ণনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে কীভাবে বিদআতিরা এই প্রতিটি মতের মর্মার্থ থেকে বিচ্যুত। দেখুন: «আল-ইতিসাম» : (২/২৬০ - ২৬৫) ।