(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: -)
أصول مذهب الشيعة الإمامية الإثني عشرية - عرض ونقد - القسم: العقيدة
الكتاب: أصول مذهب الشيعة الإمامية الإثني عشرية - عرض ونقد -
المؤلف: ناصر بن عبد الله بن علي القفاري
دار النشر: بدون
الطبعة: الأولى، 1414 هـ
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
(أصل هذا الكتاب رسالة علمية تقدم بها المؤلف لنيل درجة الدكتوراة من قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة - جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية - وقد أجيزت هذه الرسالة بمرتبة الشرف الأولى مع التوصية بطبعها وتبادلها بين الجامعات)
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দ্বাদশ ইমামি শিয়া মতবাদের মূলনীতি - উপস্থাপনা ও সমালোচনা - বিভাগ: আকিদা
গ্রন্থ: দ্বাদশ ইমামি শিয়া মতবাদের মূলনীতি - উপস্থাপনা ও সমালোচনা -
লেখক: নাসির বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী আল-কিফারি
প্রকাশনী: নেই
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণের অনুরূপ]
(এই গ্রন্থটির মূল উৎস হলো একটি গবেষণা অভিসন্দর্ভ (থিসিস), যা লেখক ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আকিদা ও সমকালীন মতবাদ বিভাগ থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের জন্য পেশ করেছিলেন। এই অভিসন্দর্ভটি প্রথম শ্রেণীর সম্মানের সাথে অনুমোদিত হয়েছে এবং এটি মুদ্রণ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিনিময়ের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।)
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ১)
ـ[أصول مذهب الشيعة الإمامية الإثني عشرية - عرض ونقد -]ـ
المؤلف: دكتور ناصر بن عبد الله بن علي القفاري
دار النشر: بدون
سنة الطبع: 1414 هـ
عدد الأجزاء: 3
الطبعة: الأولى
--------------------------------------------
ـ[দ্বাদশী ইমামি শিয়া মতবাদের মূলনীতিসমূহ - উপস্থাপনা ও সমালোচনা -]ـ
লেখক: ডক্টর নাসির বিন আব্দুল্লাহ বিন আলী আল-কুফারি
প্রকাশনী: নেই
মুদ্রণ বর্ষ: ১৪১৪ হিজরি
খণ্ড সংখ্যা: ৩
সংস্করণ: প্রথম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
أصل هذا الكتاب رسالة علمية تقدم بها المؤلف لنيل درجة الدكتوراة من قسم العقيدة والمذاهب المعاصرة - جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية - وقد أجيزت هذه الرسالة بمرتبة الشرف الأولى مع التوصية بطبعها وتبادلها بين الجامعات
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
এই গ্রন্থটির মূল হলো একটি গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভ, যা লেখক ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আক্বীদাহ ও সমকালীন মতবাদ বিভাগ থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে পেশ করেছিলেন। এই অভিসন্দর্ভটি প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ গৃহীত হয়েছে এবং এটি মুদ্রণ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মাঝে বিনিময়ের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ৫)
المقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
وبعد..
فإن من أصول الإسلام العظيمة الاعتصام بحبل الله جميعاً وعدم التفرق قال تعالى: {وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ} (1) وقال سبحانه: {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُواْ دِينَهُمْ وَكَانُواْ شِيَعًا لَّسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ} (2) .
وقد كان المسلمون على ما بعث الله به رسوله من الهدى ودين الحق الموافق لصحيح المنقول وصريح المعقول، فلما قتل عثمان رضي الله عنه وأرضاه - ووقعت الفتنة، فاقتتل المسلمون بصفين، مرقت المارقة (3) . التي قال فيها النبي صلى الله عليه وسلم: "تمرق مارق على حين فرقة من المسلمين، يقتلهم أولى الطائفتين بالحق" (4) وكان مروقها لما حكم الحكمان، وتفرق الناس على غير اتفاق.
ثم حدث بعد بدعة
--------------------------------------------
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর...
নিশ্চয় ইসলামের মহান মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো সম্মিলিতভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরা এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা সকলে মিলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না} (১)। তিনি আরও পবিত্র সত্তা বলেছেন: {নিশ্চয় যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই} (২)।
আর মুসলমানগণ হিদায়াত ও সত্য দ্বীনের সেই আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন এবং যা ছিল সহিহ বর্ণিত দলিল ও সুস্পষ্ট যুক্তির অনুকূল। অতঃপর যখন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন—নিহত হলেন এবং ফিতনা দেখা দিল, ফলে মুসলমানগণ সিফফিনের যুদ্ধে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করলেন, তখন ‘মারিকাহ’ (বিপথগামী দল) বের হলো (৩)। যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "মুসলমানদের মধ্যে বিভেদের সময় একটি দল বের হবে, যাদেরকে দুই দলের মধ্যে সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী দলটি হত্যা করবে" (৪)। তাদের এই বিদ্রোহ বা বের হওয়া ছিল যখন দুই সালিশ সিদ্ধান্ত প্রদান করেছিলেন এবং মানুষ ঐকমত্য ছাড়াই বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
এরপর নতুন বিদআতের উদ্ভব ঘটলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ৬)
الخوارج بدع التشيع (1) ، وتتابع خروج الفرق، كما أخبر بذلك المصطفى صلى الله عليه وسلم (2) . وقد خرج التشيع من الكوفة (3) ، ولذلك جاء في أخبار الشيعة بأنه لم يقبل دعوتهم من أمصار المسلمين إلا الكوفة (4) . ثم انتشر بعد ذلك في غيرها، كما خرج الإرجاء أيضاً من الكوفة، وظهر القدر، والاعتزال، والنسك الفاسد من البصرة، ظهر التجهم من ناحية خراسان.
وكان ظهور هذه البدع بحسب البعد عن "الدار النبوية" (5) . لأن البدعة لا تنمو وتنتشر إلا في ظل الجهل، وغيبة أهل العلم والإيمان، ولذلك قال بعض السلف: من سعادة الحدث والأعجمي أن يوفقهما الله للعالم من أهل السنة (6) ؛ وذلك لسرعة تأثرها هؤلاء بأعاصير الفتنة والبدعة لضعف قدرتهم على معرفة ضلالها، واكتشاف عوارها، ولذا فإن خير منهج لمقاومة البدعة، ودرء الفرقة، هو نشر السنة بين الناس، وبين ضلال الخارجين عنها، ولذلك نهض أئمة السنة بهذا الأمر، وبينوا حال أهل البدعة، وردوا شبهاتها، كما فعل الإمام أحمد في الرد على الزنادقة والجهمية، والإمام البخاري في الرد على الجهمية، وابن قتيبة في الرد على الجهمية والمشبهة، والدارمي في الرد على بشر المريسي وغيرهم.
ولا شك بأن بيان حال الفرق الخارجة عن الجماعة، والمجانبة للسنة ضروري لرفع الالتباس، وبيان الحق للناس، ونشر دين الله سبحانه، وإقامة الحجة على تلك الطوائف، ليهلك من هلك عن بينة، ويحيا من حيّ عن بينة، فإن الحق لا يكاد يخفى على أحد، وإنما يضلل هؤلاء أتباعهم بالشبهات والأقوال الموهمة، ولذلك فإن أتباع تلك الطوائف هم ما بين زنديق، أو جاهل، ومن الضروري تعليم الجاهل، وكشف حال الزنديق ليعرف ويحذر.
--------------------------------------------
খারিজিরা ও শিয়া মতবাদের বিদআত (১), এবং দলগুলোর একের পর এক আত্মপ্রকাশের ধারা চলতে থাকে, যেমনটি মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন (২)। আর শিয়া মতবাদ কুফা থেকে উদ্ভূত হয়েছে (৩), একারণেই শিয়াদের বর্ণনায় এসেছে যে, মুসলিমদের শহরগুলোর মধ্যে একমাত্র কুফা ব্যতীত অন্য কেউ তাদের দাওয়াত গ্রহণ করেনি (৪)। অতঃপর তা অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, যেমন ইরজা মতবাদও কুফা থেকে বের হয়েছিল। আর কদর, ইতিজাল (মুতাযিলা মতবাদ) এবং ভ্রান্ত বৈরাগ্যবাদ বসরার দিক থেকে প্রকাশ পেয়েছিল। জাহমিয়্যাহ মতবাদ প্রকাশ পেয়েছিল খুরাসানের দিক থেকে।
আর এই বিদআতগুলোর প্রকাশ ঘটেছিল "নবুয়তের কেন্দ্র" থেকে দূরত্বের অনুপাতে (৫)। কারণ মূর্খতা এবং ইলম ও ঈমানওয়ালাদের অনুপস্থিতিতেই কেবল বিদআত বৃদ্ধি পায় ও ছড়িয়ে পড়ে। একারণেই সলফদের কেউ কেউ বলেছেন: কোনো যুবক এবং কোনো অনারবের সৌভাগ্য হলো আল্লাহ যেন তাদের আহলে সুন্নাতের কোনো আলিমের সান্নিধ্য লাভের তাওফিক দেন (৬); আর তা এজন্য যে, এ ধরনের লোকেরা ফিতনা ও বিদআতের ঝড়ে দ্রুত প্রভাবিত হয়ে পড়ে, কারণ সেগুলোর পথভ্রষ্টতা চেনার এবং তাদের ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করার ক্ষমতা তাদের দুর্বল। ফলে বিদআত প্রতিরোধ এবং বিভেদ দূর করার সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো মানুষের মাঝে সুন্নাহ প্রচার করা এবং যারা সুন্নাহ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের পথভ্রষ্টতা স্পষ্ট করে দেওয়া। একারণেই আহলে সুন্নাতের ইমামগণ এই কাজে এগিয়ে এসেছেন এবং তারা বিদআতিদের অবস্থা স্পষ্ট করেছেন ও তাদের সংশয়গুলোর খণ্ডন করেছেন। যেমনটি ইমাম আহমাদ যিনদিক ও জাহমিয়্যাহদের খণ্ডন করতে গিয়ে করেছেন, ইমাম বুখারি জাহমিয়্যাহদের খণ্ডন করতে গিয়ে করেছেন, ইবনে কুতাইবাহ জাহমিয়্যাহ ও মুসাব্বিহাহদের খণ্ডন করতে গিয়ে করেছেন এবং আদ-দারিমি বিশর আল-মারিসি ও অন্যান্যদের খণ্ডন করতে গিয়ে করেছেন।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জামায়াত থেকে বিচ্ছিন্ন এবং সুন্নাহর বিরোধী দলগুলোর অবস্থা বর্ণনা করা বিভ্রান্তি দূর করতে, মানুষের সামনে হক স্পষ্ট করতে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দীন প্রচার করতে এবং ঐ সকল গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দলিল পেশ করার জন্য অপরিহার্য; যাতে যে ধ্বংস হওয়ার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় আর যে জীবিত থাকার সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে। প্রকৃতপক্ষে সত্য কারো কাছে অস্পষ্ট থাকে না, বরং তারা তাদের অনুসারীদের সংশয় ও বিভ্রান্তিকর কথার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট করে। একারণে ঐ গোষ্ঠীগুলোর অনুসারীরা হয় যিনদিক নতুবা মূর্খ। আর মূর্খকে শিক্ষা দেওয়া এবং যিনদিকের অবস্থা উন্মোচন করা জরুরি যাতে তাকে চেনা যায় এবং তার থেকে সতর্ক থাকা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ৭)
وبيان حال أئمة البدع المخالفة للكتاب والسنة واجب باتفاق المسلمين "حتى قيل لأحمد بن حنبل: الرجل يصوم ويصلي ويعتكف أحب إليك، أو يتكلم في أهل البدع؟
فقال: إذا قام وصلى واعتكف فإنما هو لنفسه، وإذا تكلم في أهل البدع فإنما هو للمسلمين، هذا أفضل.
فبين أن نفع هذا عام للمسلمين في دينهم من جنس الجهاد في سبيل الله، إذ تطهير سبيل الله ودينه ومنهاجه وشرعته، دفع بغي هؤلاء وعدوانهم على ذلك واجب باتفاق المسلمين، ولولا من يقيمه الله لدفع ضرر هؤلاء لفسد الدين، وكان فساده أعظم من فساد استيلاء العدو من أهل الحرب، فإن هؤلاء إذا استولوا لم يفسدوا القلوب وما فيها من الدين إلا تبعاً، وأما أولئك فهم يفسدون القلوب ابتداء" (1) .
وقد وجد العدو المتربص بالأمة في هذه الفرق الخارجة عن الجماعة، وسيلة لإيقاع الفتنة في الأمة، ولا يبعد أنه اليوم يريد أن يستثمر هذه المسألة لمواجهة بوادر البعث الإسلامي المتنامي في أرجاء المعمورة، والوقوف في وجه الصحوة الإسلامية التي امتدت إلى عقر داره، وهو يتخذ من تقارير مستشاريه - الذين يهتمون أبلغ الاهتمام بتاريخ تلك الطوائف وعقائدهم - منهجاً يحتذيه في علاقته مع المسلمين ودولهم.
ولذا نلحظ أنه يغذي بعض هذه الطوائف، ويهيئ الوسائل لوصولها لدفة الحكم والتوجيه.
ولا شك أن بيان الحق في أمر هذه الفرق فيه تفويت للفرصة أمام العدو لتوسيع رقعة الخلاف واستمراره؛ فإن ترك رؤوس زنادقة البدع يسعون لإضلال الناس، ويعملون على تكثير سوادهم، والتغرير بأتباعهم، ويدعون أن ما هم عليه هو الإسلام، هو من باب الصد عن دين الله وشرعه، حتى أن من أسباب خروج
--------------------------------------------
কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী বিদআতীদের ইমামদের অবস্থা স্পষ্ট করা মুসলমানদের সর্বসম্মতিক্রমে ওয়াজিব। এমনকি আহমাদ বিন হাম্বলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "একজন ব্যক্তি রোজা রাখে, নামাজ পড়ে ও ইতিকাফ করে—এটি আপনার কাছে অধিক প্রিয়, নাকি সে বিদআতীদের বিরুদ্ধে কথা বলবে?"
তিনি বললেন: "সে যখন নামাজ পড়ে ও ইতিকাফ করে, তখন তা কেবল তার নিজের জন্য। কিন্তু যখন সে বিদআতীদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তখন তা মুসলমানদের জন্য; আর এটিই উত্তম।"
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এর উপকারিতা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের মতো মুসলমানদের দ্বীনি বিষয়ে ব্যাপক। কেননা আল্লাহর পথ, তাঁর দ্বীন, কর্মপন্থা এবং শরীয়তকে পবিত্র রাখা এবং এদের সীমালঙ্ঘন ও আক্রমণ প্রতিহত করা মুসলমানদের ঐকমত্যে ওয়াজিব। আল্লাহ যদি এদের ক্ষতি দূর করার জন্য কাউকে নিয়োজিত না করতেন, তবে দ্বীন কলুষিত হয়ে পড়ত। আর দ্বীনের এই ক্ষতি যুদ্ধরত কাফের শত্রুদের দেশ দখলের ক্ষতির চেয়েও ভয়াবহ। কারণ তারা (শত্রুরা) যখন বিজয় লাভ করে, তখন তারা মানুষের অন্তর এবং অন্তরের দ্বীনকে কেবল আনুষঙ্গিকভাবে কলুষিত করে; কিন্তু এরা (বিদআতীরা) সরাসরি মানুষের অন্তরকে কলুষিত করে। (১)।
উম্মাহর বিরুদ্ধে ওত পেতে থাকা শত্রুরা জামাআত বহির্ভূত এই দলগুলোকে উম্মাহর মধ্যে ফিতনা সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে। এটা বিচিত্র নয় যে, আজ তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমবর্ধমান ইসলামী পুনর্জাগরণের প্রাথমিক লক্ষণগুলো মোকাবিলা করতে এবং তাদের নিজ ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত ইসলামী জাগরণের পথ রুদ্ধ করতে এই বিষয়টিকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে। তারা তাদের উপদেষ্টাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মুসলমানদের সাথে এবং মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কর্মপন্থা গ্রহণ করে—যে উপদেষ্টারা ওইসব দলগুলোর ইতিহাস ও আকীদার ব্যাপারে অত্যন্ত গভীর গুরুত্ব প্রদান করে থাকেন।
এই কারণে আমরা লক্ষ্য করি যে, তারা এই দলগুলোর কতককে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে এবং তাদের ক্ষমতার মসনদে ও নেতৃত্বের আসনে পৌঁছানোর পথ সুগম করে দিচ্ছে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দলগুলোর বিষয়ে সত্য স্পষ্ট করার মাধ্যমে শত্রুদের সামনে মতভেদের পরিধি বৃদ্ধি ও তা অব্যাহত রাখার সুযোগ নষ্ট করা হয়। কারণ বিদআতী যিনদীকদের নেতৃবৃন্দকে মানুষকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ দেওয়া, তাদের দল ভারী করার অবকাশ দেওয়া এবং অনুসারীদের প্রতারিত করতে দেওয়া—যারা দাবি করে যে তারা যে মতাদর্শে আছে সেটিই ইসলাম—আসলে আল্লাহর দ্বীন ও শরীয়ত থেকে মানুষকে বিমুখ করারই অন্তর্ভুক্ত। এমনকি বের হওয়ার অন্যতম কারণসমূহের মধ্যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ৮)
الملاحدة ظنهم أن الإسلام هو ما عليه فرق أهل البدعة، ورأوا أن ذلك فاسدٌ في العقل فكفروا بالدين أصلاً.
ومعظم الفرق التي خرجت عن الجماعة ضعف نشاطها اليوم، وفتر حماسها وتقلص أتباعها، وانكفأت على نفسها، وقلت منابذتها أهل السنة.
أما طائفة الشيعة فإن هجومها على أهل السنة، وتجريحها لرجالهم، وطعنها في مذهبهم، وسعيها لنشر التشيع بينهم يزداد يوماً بعد يوم.
ولعل طائفة الاثني عشرية هي أشد فرق الشيعة سعياً في هذا الباب لإضلال العباد إن لم تكن الفرقة الوحيدة التي تُكثر من التطاول على السنة، والكيد لها على الدوام مما لا تجده عند فرقة أخرى.
ولقد كانت صلتي بقضية الشيعة تعود إلى مرحلة "الماجستير"، حيث كان موضوعها "فكرة التقريب بين أهل السنة والشيعة" وبعد أن انتهيت من دراسة مسألة التقريب، رغبت أن أتجه في دراستي للدكتوراه إلى تحقيق بعض كتب التراث، وتقدمت إلى القسم بطلب الموافقة على تحقيق الجزء الأول "الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح" لشيخ الإسلام ابن تيمية، ولكن أشار عليّ بعض الأساتذة الفضلاء في القسم وخارجه بالاستمرار في دراسة قضية الشيعة؛ لأهميتها وضرورة دراستها دراسة علمية موضوعية.
وبعد الاستشارة والاستخارة عقدت العزم على أن أدرس العقائد الأساسية للمذهب الاثني عشري، وأنا على علم بأن الجهد الذي يتطلبه هذا الموضع يفوق الموضوع الأول كثيراً، لأنني - كما سيتبين - أمام دارسة دين بأكمله، لا كتاب شخص واحد.
وقد اخترت طائفة الاثني عشرية بالذات من بين طوائف الشيعة لعدة أسباب، منها:
أولاً: أن هذه الطائفة بمصادرها في التلقي وكتبها، وتراثها تمثل نحلة كبرى، حتى أنهم
নাস্তিকদের ধারণা হলো, ইসলাম বলতে কেবল বিদআতি দলসমূহের আকিদাকেই বোঝায়। আর তারা দেখেছে যে, সেই আকিদাগুলো বিচারবুদ্ধিতে অসার, যার ফলে তারা মূল দ্বীনকেই অস্বীকার করেছে।
আর জামাআত থেকে বিচ্যুত অধিকাংশ দলের তৎপরতা বর্তমানে দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাদের উদ্দীপনা স্তিমিত হয়েছে, অনুসারীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, তারা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে এবং আহলুস সুন্নাহর সাথে তাদের বিরোধিতাও কমে গেছে।
তবে শিয়া সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আহলুস সুন্নাহর ওপর তাদের আক্রমণ, তাদের ব্যক্তিবর্গের দোষারোপ, তাদের মতাদর্শের ওপর অপবাদ এবং সুন্নিদের মাঝে শিয়াতত্ত্ব প্রচারের প্রচেষ্টা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সম্ভবত শিয়াদের মধ্যে ইছনা আশারিয়া গোষ্ঠীটিই মানুষকে পথভ্রষ্ট করার এই পথে সবচেয়ে বেশি সচেষ্ট, যদি তারা একমাত্র দল না হয়ে থাকে যারা সুন্নাহর ওপর অনবরত আস্ফালন দেখায় এবং প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে, যা অন্য কোনো দলের মধ্যে এভাবে দেখা যায় না।
শিয়া বিষয়ের সাথে আমার সম্পৃক্ততা "মাস্টার্স" পর্যায় থেকে শুরু হয়, যার আলোচনার বিষয় ছিল "আহলুস সুন্নাহ ও শিয়াদের মধ্যে নৈকট্য বিধানের ধারণা"। ঐক্যের বিষয়টি অধ্যয়ন শেষ করার পর আমি আমার ডক্টরেট গবেষণায় ঐতিহ্যের কিছু গ্রন্থ সম্পাদনার দিকে মনোনিবেশ করতে চেয়েছিলাম। এ লক্ষ্যে আমি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘আল-জাওয়াবুস সহিহ লিমান বাদ্দালা দ্বীনাল মাসিহ’ গ্রন্থের প্রথম খণ্ডের সম্পাদনার অনুমতির জন্য বিভাগে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু বিভাগের এবং এর বাইরের কিছু বরেণ্য অধ্যাপক আমাকে শিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন; কারণ এর গুরুত্ব এবং এটিকে বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠভাবে অধ্যয়ন করার প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম।
পরামর্শ এবং ইস্তিখারার পর আমি ইছনা আশারিয়া মাযহাবের মৌলিক আকিদাগুলো অধ্যয়ন করার সংকল্প করি। আমি অবগত ছিলাম যে, এই বিষয়ে গবেষণার জন্য যে পরিমাণ পরিশ্রম প্রয়োজন তা প্রথম বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ—যেমনটি সামনে স্পষ্ট হবে—আমি একটি সম্পূর্ণ ধর্মব্যবস্থা অধ্যয়ন করতে যাচ্ছি, কোনো একক ব্যক্তির লেখা বই নয়।
আমি শিয়াদের বিভিন্ন উপদলের মধ্যে বিশেষভাবে ইছনা আশারিয়া গোষ্ঠীকে বেছে নিয়েছি কয়েকটি কারণে, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত: এই গোষ্ঠীটি তাদের জ্ঞানের উৎস, গ্রন্থাবলি এবং ঐতিহ্যের মাধ্যমে একটি বিশাল মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে, এমনকি তারা
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ৯)
يسمون مسائل اعتقادهم "دين الإمامية" (1) . لا مذهب الإمامية، وذلك لانفصالها عن دين الأمة، وبحسبك أن تعرف أن أحد مصادرها في الحديث عن الأئمة يبلغ مائة وعشرة مجلدات وهو "بحار الأنوار" لشيخهم المجلسي (ت1111هـ) .
ثانياً: اهتمام هذه الطائفة بنشر مذهبها والدعوة إليه، وعندها دعاة متفرغون ومنظمون، ولها في كل مكان (غالباً) خلية ونشاط، وتوجه جل اهتمامها في الدعوة لنحلتها في أوساط أهل السنة، ولا أظن أن طائفة من طائف البدع تبلغ شأو هذه الطائفة في العمل لنشر معتقدها والاهتمام بذلك.
هي اليوم تسعى جاهدة لنشر "مذهبها" في العالم الإسلامي، وتصدير ثروتها، وإقامة دولتها الكبرى بمختلف الوسائل.
وقد تشيع بسبب الجهود التي يبذلها شيوخ الاثني عشرية الكثيرُ من شباب المسلمين.. ومن يطالع كتاب "عنوان المجد في تاريخ البصرة ونجد" يهوله الأمر، حيث يجد قبائل بأكملها قد تشيعت.
وقد تحولت سفارات دولة الشيعة في إيران إلى مركز للدعوة إلى مذهبها في صفف الطلبة، والعاملين المسلمين في العالم. وهي تهتم بدعوة المسلمين أكثر من اهتمامها بدعوة الكافرين (2) .
ولاشك أن المسؤولية كبيرة في إيضاح الحقيقة أمام المسلمين. ولاسيما الذين دخلوا في سلك التشيع حباً لأهل البيت واعتقادهاً منهم أن هذا الطريق عين الحق، وطريق الصدق.
--------------------------------------------
তারা তাদের আকিদাগত বিষয়গুলোকে "ইমামিয়া ধর্ম" (১) বলে অভিহিত করে। একে "ইমামিয়া মাযহাব" বলে না; আর এটি হয়েছে উম্মাহর দ্বীন থেকে এর বিচ্ছিন্নতার কারণে। আপনার জন্য এটি জানাই যথেষ্ট যে, ইমামদের থেকে বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে তাদের অন্যতম একটি উৎসগ্রন্থ একশত দশ খণ্ডে সমাপ্ত, যা তাদের শায়খ আল-মাজলিসি (মৃত্যু: ১১১১ হিজরি) রচিত "বিহারুল আনওয়ার"।
দ্বিতীয়ত: এই দলটির তাদের মাযহাব প্রচার এবং এর দিকে দাওয়াত দেওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ। তাদের সুসংগঠিত এবং সার্বক্ষণিক দাঈ রয়েছে এবং প্রতিটি স্থানেই (সাধারণত) তাদের সক্রিয় সেল ও তৎপরতা বিদ্যমান। তারা তাদের এই মতবাদ প্রচারের অধিকাংশ মনোযোগ আহলুস সুন্নাহর পরিমণ্ডলে নিবদ্ধ করে। আমি মনে করি না যে, বিদআতি দলগুলোর মধ্যে অন্য কোনো দল তাদের আকিদা প্রচার এবং সেই বিষয়ে গুরুত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে এই দলটির সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে।
তারা বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে তাদের "মাযহাব" ছড়িয়ে দিতে, তাদের সম্পদ ও বিপ্লব রপ্তানি করতে এবং বিভিন্ন উপায়ে তাদের বৃহত্তর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসনা আশারিয়া শায়খদের প্রচেষ্টার কারণে অনেক মুসলিম যুবক শিয়া মতবাদ গ্রহণ করেছে। আর যে ব্যক্তি "উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি বসরা ওয়া নজদ" বইটি পাঠ করবে, সে বিষয়টি দেখে আতঙ্কিত হবে; কারণ সেখানে দেখা যায় যে পুরো গোত্রই শিয়া মতবাদে দীক্ষিত হয়েছে।
ইরানের শিয়া রাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো সারা বিশ্বের ছাত্র ও মুসলিম কর্মীদের মাঝে তাদের মাযহাবের দাওয়াত দেওয়ার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তারা কাফিরদের দাওয়াত দেওয়ার চেয়ে মুসলিমদের দাওয়াত দেওয়ার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে (২)।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুসলিমদের সামনে সত্য স্পষ্ট করার দায়িত্ব অনেক বড়। বিশেষ করে তাদের ক্ষেত্রে, যারা আহলে বায়তের প্রতি ভালোবাসার কারণে এবং এই পথটিই পরম সত্য ও সততার পথ মনে করে শিয়া মতবাদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثالثاً: أن هذه هي الطائفة الشيعية الكبرى في عالم اليوم، وقد احتوت معظم الفرق الشيعية التي وجدت على مسرح التاريخ، تمثل مصادرها في التلقي، خلاصة أفكار الاتجاهات الشيعية المختلفة ومستقرها التي ظهرت على امتداد الزمن، حتى قيل بأن لقب الشيعة إذا أطلق لا ينصر إلا إليها.
رابعاً: هذه الفرقة لها اهتمام دعائي في الدعوة للتقارب مع أهل السنة، وقد أقامت المراكز، وأرسلت الدعاة، وأنشأت الجمعيات التي ترفع شار الوحدة الإسلامية (1) .
خامساً: هذه الطائفة تكثر من القول بأن مذهبها لا يختلف عن مذهب أهل السنة، وأنها مظلومة ومفترى عليها، ولها اهتمام كبير بالدفاع عن مذهبها، ونشر الكتب والرسائل الكثيرة للدعاية له، وتتبع كتب أهل السنة ومحاولة الرد عليها، مما لا يوجد مثله عند طائفة أخرى.
سادساً: كثرة مهاجمة هذه الطائفة لأهل السنة، ولا سيما صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وطعنها في أمهات كتب المسلمين، عبر مؤلفاتهم التي يخرج سنوياً العشرات من الكتب.. كذلك مهاجمتها بعنف وضراوة لكل من يكتب عنها أو يتعرض لمذهبها بالنقد، تحت ستار أن هذه الكتابات تعيق التقريب، وتعرقل مساعي الوحدة الإسلامية، فانصرفت أكثر الأقلام عن الكتابة عنها.
سابعاً: استرعى انتباهي تضخم الخلاف حول حقيقة الاثني عشرية لدى الكتاب المعاصرين:
فمن فريق يرى أنهم كفرة، وأن غلهم تجاوز الحدود الإسلامية، كما في كتابات الأستاذ محب الدين الخطيب، وإحسان إلهي ظهير، وإبراهيم الجبهان (2) . وغيرهم.
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: এটি বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম শিয়া সম্প্রদায় এবং এটি ইতিহাসের মঞ্চে বিদ্যমান অধিকাংশ শিয়া উপদলকে নিজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের উৎসসমূহ সময়ের পরিক্রমায় আবির্ভূত বিভিন্ন শিয়া চিন্তাধারার নির্যাস ও চূড়ান্ত রূপকে প্রতিনিধিত্ব করে। এমনকি বলা হয়ে থাকে যে, 'শিয়া' উপাধিটি যখন সাধারণভাবে প্রয়োগ করা হয়, তখন সেটি কেবল তাদেরকেই বোঝায়।
চতুর্থত: এই উপদলটি আহলে সুন্নতের সাথে নৈকট্য তৈরির দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রচারণামূলক বিষয়ে বেশ আগ্রহী। তারা বিভিন্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে, দাঈদের প্রেরণ করেছে এবং এমন সব সমিতি গড়ে তুলেছে যা ইসলামী ঐক্যের স্লোগান তুলে ধরে (১)।
পঞ্চমত: এই সম্প্রদায়টি অধিক হারে এই দাবি করে থাকে যে, তাদের মাযহাব আহলে সুন্নতের মাযহাব থেকে ভিন্ন নয় এবং তারা মজলুম ও তাদের ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হয়েছে। তারা নিজেদের মাযহাবের প্রতিরক্ষা এবং এর প্রচারের জন্য প্রচুর বই ও পুস্তিকা প্রকাশ করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল। তারা আহলে সুন্নতের কিতাবসমূহ অনুসরণ করে এবং সেগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে, যার নজির অন্য কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে পাওয়া যায় না।
ষষ্ঠত: আহলে সুন্নতের ওপর, বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের ওপর এই সম্প্রদায়ের অত্যধিক আক্রমণ এবং মুসলমানদের মূল কিতাবসমূহের প্রতি তাদের কুৎসা রটনা; যা তাদের সেই সব রচনার মাধ্যমে করা হয় যার সংখ্যা প্রতি বছর দশ-দশটি বই ছাড়িয়ে যায়। একইভাবে, যে কেউ তাদের সম্পর্কে লিখেন বা তাদের মাযহাবের সমালোচনা করেন, তার ওপর তারা অত্যন্ত উগ্রতা ও কঠোরতার সাথে আক্রমণ চালায়। তারা এই অজুহাত দাঁড় করায় যে, এই ধরনের লেখাগুলো নৈকট্য লাভে বাধা দেয় এবং ইসলামী ঐক্যের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে। ফলে অধিকাংশ লেখকই তাদের সম্পর্কে লেখা থেকে বিরত রয়েছেন।
সপ্তমত: সমকালীন লেখকদের নিকট ইসনা আশারিয়া বা দ্বাদশী মতবাদের হাকীকত নিয়ে মতভেদের বিশালতা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে:
একদল মনে করেন যে তারা কাফের এবং তাদের বাড়াবাড়ি ইসলামের সীমা ছাড়িয়ে গেছে; যেমনটি উস্তাদ মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীব, ইহসান ইলাহী জহীর এবং ইব্রাহিম আল-জাবহান (২) ও অন্যান্যদের লেখায় পাওয়া যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ১১)
وفريق يرى أن الاثني عشرية طائفة معتدلة لم تجنح إلى الغلو الذي وقعت فيه الفرق الباطنية، مثل: كتابات النشار، وسليمان دنيا، ومصطفى الشكعة (1) . وغيرهم.
وفريق ثالث التبس عليه الأمر حتى ذهب يستفتي شيوخ الشيعة الاثني عشرية فيما كتبه عنهم إحسان إلهي ظهير، ومحب الدين الخطيب، كما تجد ذلك فيما كتبه البهنساوي في "السنة المفترى عليها".
ومن خلال هذه الاختلافات قد تضيع الحقيقة، أو تخفى على الكثير.
ولذلك فقد راعيت في هذه الرسالة - ولا سيما في باب الشيعة المعاصرين - الاستماع إلى أصوات الشيعة المدافعين عن مذهبهم والناقدين لما كتبه بعض أهل السنة عن معتقدهم، ومناقشة ذلك.
ولقد كتب أسلافنا عن الاثني عشرية، وهي التي يسمونها بالرافضة، وكان لمصنفاتهم أثرها، كما في كتابات أبي نعيم، وشيخ الإسلام ابن تيمية، المقدسي، والفيروزآبادي، وما في كتب الفرق والعقيدة، ولكن تلك الكتابات كانت قبل شيوع كتب الشيعة وانتشارها، وجملة منها يحمل صفة الرد على بعض مؤلفات الشيعة، ولا تدرس الطائفة بعقائدها وأفكارها بشكل شامل.
كما أن الاثني عشرية لمهارتها في التقية، قد خفي أمرها؛ حتى نجد في شرح صحيح مسلم القول بأن الإمامية لا تكفر الصحابة، وإنما ترى أنهم أخطأوا في تقديم أبي بكر (2) . ونرى شيخ الإسلام ابن تيمية على اهتمامه بالمذهب الرافضي ونقده، يقول: حدثني الثقات أن فيهم من يرى الحج إلى المشاهد أعظم من الحج إلى بيت الله (3) .
--------------------------------------------
একদল মনে করেন যে, ইসনা আশারিয়া (দ্বাদশী শিয়া) একটি মধ্যপন্থী দল, যারা বাতিনী ফিরকাগুলোর মতো চরমপন্থার (গুলু) দিকে ধাবিত হয়নি। যেমন—আন-নাশশার, সুলাইমান দুনিয়া ও মুস্তফা আশ-শাকআর (১) লেখালেখি এবং অন্যদের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যায়।
তৃতীয় একটি দল এই বিষয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়, এমনকি তারা ইহসান ইলাহী জাহির এবং মুহিব্বুদ্দীন আল-খাতিব তাদের সম্পর্কে যা লিখেছেন, সে বিষয়ে ইসনা আশারিয়া শিয়া শাইখদের কাছেই ফতোয়া বা ব্যাখ্যা চাইতে যায়; যেমনটি আপনি পাবেন আল-বাহনাসাওয়ীর "আস-সুন্নাহ আল-মুফতারা আলাইহা" গ্রন্থে।
আর এই মতপার্থক্যগুলোর কারণে সত্য হারিয়ে যেতে পারে অথবা অনেকের কাছে তা অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে।
এই কারণে আমি এই গবেষণাপত্রে—বিশেষ করে সমসাময়িক শিয়া সংক্রান্ত অধ্যায়ে—শিয়াদের নিজস্ব বক্তব্যগুলো শোনার দিকে গুরুত্ব দিয়েছি, যারা তাদের মাযহাবের প্রতিরক্ষা করে এবং তাদের আকিদা সম্পর্কে কিছু আহলে সুন্নাহর লেখকদের বক্তব্যের সমালোচনা করে; আর সে বিষয়গুলো নিয়ে আমি আলোচনা করেছি।
আমাদের পূর্বসূরিরা ইসনা আশারিয়া সম্পর্কে লিখেছেন, যাদেরকে তারা রাফেজি নামে অভিহিত করতেন। তাদের গ্রন্থগুলোর বিশেষ প্রভাব ছিল, যেমন—আবু নুআইম, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, আল-মাকদিসি এবং আল-ফাইরুযাবাদি-র রচনাবলী এবং ফিরকা ও আকিদার কিতাবসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে। তবে ওই লেখাগুলো ছিল শিয়াদের কিতাবসমূহ ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের পূর্বের। এগুলোর একটি বড় অংশ ছিল শিয়াদের কিছু গ্রন্থের খণ্ডন স্বরূপ, যেখানে এই দলটিকে তাদের সামগ্রিক আকিদা ও চিন্তাধারার আলোকে বিস্তারিতভাবে অধ্যয়ন করা হয়নি।
তদ্রূপ ইসনা আশারিয়াদের তাকিয়া অবলম্বনের দক্ষতার কারণে তাদের প্রকৃত অবস্থা অস্পষ্ট থেকে গেছে; এমনকি আমরা সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এমন বক্তব্যও পাই যে, ইমামিয়্যাহরা সাহাবীদের কাফের মনে করে না, বরং তারা কেবল এটাই মনে করে যে, তারা আবু বকরকে অগ্রগণ্য করে ভুল করেছেন (২)। আবার শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, রাফেজি মাযহাবের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব ও সমালোচনার সত্ত্বেও বলেন: বিশ্বস্ত ব্যক্তিরা আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যারা মাজারগুলোতে হজ করাকে আল্লাহর ঘরে হজ করার চেয়েও বড় মনে করে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ১২)
بينما هذه القضية تجدها اليوم مقررة في أمهات كتبهم في عشرات الروايات والعديد من الأبواب.
كما أن أهم كتاب عند الشيعة وهو "أصول الكافي" لا تجد له ذكراً عند الأشعري، أو ابن حزام، أو ابن تيمية، وهو اليوم الأصل الأول المعتمد عند الطائفة في حديثها عن الأئمة الذي هو أساس مذهبها.
وأيضاً فإن طبيعة هذا المذهب أنه يتطور من وقت لآخر، ويتغير من جيل لجيل، حتى أن الممقاني أكبر شيوخهم في هذا العصر يقول: إن ما يعتبر غلواً عند الشيعة الماضين أصبح اليوم من ضرورات المذهب (1) . هذه الطبيعة المتغيرة تقتضي التعرف على الوجه الحقيقي للاثني عشرية في عصرنا.
كما أن جل الردود التي تسود المصنفات التي كتبها الأئمة السابقون - رحمة الله عليهم أجمعين - هي على شبهات يثيرها الشيعة من كتب السنة نفسها؛ فيرد عليها أهل السنة مبينين أن تلك النصوص التي يتمسك بها الشيعة إما موضوعة، وإما ضعيفة، أو بعيدة عن استدلالهم الفاسد.
ولكن الشيعة لا تؤمن بكتب أهل السنة كلها أصلاً، وهي تثير هذه الشبهات إلى اليوم لتحقيق أمرين:
الأول: إشغال أهل السنة بهذه الشبهات، حتى لا يتفرغوا لنقد كتبهم، ونصوصهم، ورجال رواياتهم.
الثاني: إقناع الحائرين والمتشككين من أهل طائفتهم بدعوى أن ما هم عليه من شذوذ وهو موضع اتفاق بين السنة والشيعة.
ولكن كتب الشيعة اليم قد توفرت بشكل لم يعهد من قبل.. فينبغي أن تكون من أهم ركائز الدراسة والنقد؛ لأن الحجة على كل طائفة إنما تقام بما
--------------------------------------------
অথচ এই বিষয়টি বর্তমানে তাদের মূল গ্রন্থসমূহে কয়েক ডজন বর্ণনা এবং অনেকগুলো পরিচ্ছেদে প্রতিষ্ঠিত অবস্থায় পাওয়া যায়।
একইভাবে শিয়াদের নিকট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ 'উসুলুল কাফি'-এর কোনো উল্লেখ আপনি আশআরি, ইবনে হাজাম বা ইবনে তাইমিয়্যার নিকট পাবেন না। অথচ বর্তমানে এটি ইমামদের সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে এই সম্প্রদায়ের নিকট প্রধান নির্ভরযোগ্য মূল উৎস, যা তাদের মাজহাবের ভিত্তি।
এছাড়াও এই মাজহাবের প্রকৃতি হলো যে, এটি সময়ে সময়ে বিবর্তিত হয় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পরিবর্তিত হয়। এমনকি বর্তমান যুগে তাদের অন্যতম বড় শায়খ আল-মামাকানি বলেন: "অতীতের শিয়াদের কাছে যা অতিরঞ্জন (গুলু) হিসেবে গণ্য হতো, তা আজ মাজহাবের আবশ্যকীয় বিষয়ে (জরুরিয়াত) পরিণত হয়েছে (১)।" এই পরিবর্তনশীল প্রকৃতি বর্তমান যুগে ইসনা আশারিয়াদের প্রকৃত রূপ চেনার দাবি রাখে।
অনুরূপভাবে পূর্ববর্তী ইমামগণ — আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন — যেসব কিতাব রচনা করেছেন তাতে অধিকাংশ খণ্ডনই মূলত সুন্নিদের কিতাবসমূহ থেকে শিয়াদের উত্থাপিত সংশয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে। আহলুস সুন্নাহ সেগুলোর জবাব দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শিয়ারা যেসব দলিলের ওপর নির্ভর করে সেগুলো হয় জাল, অথবা দুর্বল, অথবা তাদের ভ্রান্ত যুক্তি থেকে অনেক দূরে।
কিন্তু শিয়ারা মূলত আহলুস সুন্নাহর সকল কিতাবের ওপর আদৌ বিশ্বাস রাখে না। তারা আজ পর্যন্ত এই সংশয়গুলো উত্থাপন করে মূলত দুটি বিষয় অর্জনের জন্য:
প্রথমত: আহলুস সুন্নাহকে এই সংশয়গুলোতে ব্যস্ত রাখা, যাতে তারা শিয়াদের কিতাবসমূহ, তাদের পাঠ্য এবং তাদের বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করার অবকাশ না পায়।
দ্বিতীয়ত: তাদের সম্প্রদায়ের দ্বিধাগ্রস্ত ও সন্দিহান ব্যক্তিদের এই দাবি করে আশ্বস্ত করা যে, তারা যে বিচ্যুতির ওপর রয়েছে তা সুন্নি ও শিয়াদের মধ্যে সর্বসম্মত বিষয়।
কিন্তু বর্তমানে শিয়াদের কিতাবসমূহ এমনভাবে সহজলভ্য হয়েছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তাই এগুলো অধ্যয়ন ও সমালোচনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত; কারণ যে কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দলিল মূলত প্রতিষ্ঠিত হয় তার মাধ্যমেই যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تصدقه وتؤمن به.
أما الكتابات المعاصرة من قبل أهل السنة عن الاثني عشرية فهي قليلة بالنسبة لما يكتبه الشيعة عن أهل السنة.
وهي بالنسبة للاثني عشرية لا تكفي، فمذهبهم قائم على مئات الكتب التي تخدم المذهب، وتدعو إليه، وتمثل فكره ووجهته، ودراستها ونقدها يحتاج لجهد أكبر، وعمل أوسع.
ولقد رأيت في هذه المؤلفات أنها أغفلت جوانب مهمة في دراسة الاثني عشرية؛ كعقيدتهم - مثلاً - في أصول الدين، وهو ما حاولت القيام بدراسته في الباب الثاني من هذه الرسالة.
كذلك معرفة آراء المعاصرين من الشيعة وتوجهاتهم، وصلتهم بالفرق القديمة، وكتبهم السابقة، وهو ما يتحدث عنه الباب الرابع.
والموضوع - حقيقة - كان من السعة والتشعب، بحيث يحتاج إلى دراسات جديدة ترتاد آفاقاً مازالت مجهولة في المذهب الاثني عشري، ولذلك نحوت في دراسة الموضوع منحاً علمياً تكشفت فيه معالم جديدة، لعل من أبرزها ما يلي:
أولاً: دراسة مذهب الاثني عشرية في أصول الدين وهي منطقة في معظم مسائلها مجهولة، لأن الشيعة يتسترون عليها، والباحثين من أهل السنة لم يطرقوها. وقد شكل ذلك باباً كاملاً في الرسالة هو الباب الثاني.
ثانياً: أماطت هذه الدراسة اللثام عن عقائد لم يطرقها أحد من قبل - حسب علمي - كعقيدة أن القرآن ليس حجة إلا بقيم، وأن جل القرآن نزل فيهم وفي أعدائهم، وعقيدة الظهور، والطينة (1) ، ودعوى تنزل كتب إلهية على الأئمة (2) .
--------------------------------------------
আপনি তাকে সত্য বলে মেনে নেন এবং তার ওপর ঈমান আনেন।
ইসনা আশারিয়া সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের সমসাময়িক লেখালেখি শিয়াদের দ্বারা আহলে সুন্নাত সম্পর্কে লিখিত রচনার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
আর ইসনা আশারিয়াদের ক্ষেত্রে এটি পর্যাপ্ত নয়; কেননা তাদের মাযহাব শত শত কিতাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা এই মতবাদের সেবা করে, এর দিকে আহ্বান জানায় এবং তাদের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে উপস্থাপন করে। এগুলোর পর্যালোচনা ও সমালোচনা করতে আরও অধিক প্রচেষ্টা এবং ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন।
আমি এই গ্রন্থগুলোতে লক্ষ্য করেছি যে, সেগুলো ইসনা আশারিয়া পর্যালোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক উপেক্ষা করেছে; যেমন—উদাহরণস্বরূপ, উসূলে দীন বা ধর্মের মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে তাদের আকীদা। আর এই গবেষণাপত্রের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি এই বিষয়টি পর্যালোচনার চেষ্টা করেছি।
অনুরূপভাবে, সমসাময়িক শিয়াদের মতামত ও গতিপ্রকৃতি এবং প্রাচীন দলগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ব্যাপারে অবগত হওয়া, যা নিয়ে চতুর্থ পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে।
বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে এতটাই বিস্তৃত ও শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত যে, এর জন্য এমন নতুন গবেষণার প্রয়োজন যা ইসনা আশারিয়া মাযহাবের সেই দিগন্তগুলো উন্মোচন করবে যা এখনও অজানা। তাই আমি বিষয়টি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে একটি তাত্ত্বিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, যাতে নতুন কিছু বৈশিষ্ট্য উন্মোচিত হয়েছে, যার মধ্যে সম্ভবত প্রধান হলো নিম্নরূপ:
প্রথমত: উসূলে দীনের ক্ষেত্রে ইসনা আশারিয়া মাযহাবের পর্যালোচনা। এটি এমন একটি ক্ষেত্র যার অধিকাংশ বিষয়ই অজানা রয়ে গেছে; কারণ শিয়ারা একে গোপন রাখে এবং আহলে সুন্নাতের গবেষকরাও তা স্পর্শ করেননি। এটি এই গবেষণাপত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচ্ছেদে রূপ নিয়েছে, যা হলো দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ।
দ্বিতীয়ত: এই গবেষণা এমন কিছু আকীদার রহস্য উন্মোচন করেছে যা আমার জানামতে ইতিপূর্বে কেউ আলোচনা করেনি। যেমন—এই আকীদা যে, কুরআন কেবল একজন 'কাইয়্যিম' (অভিভাবক) ছাড়া হুজ্জাত বা দলিল হতে পারে না, কুরআনের অধিকাংশ আয়াত তাদের ও তাদের শত্রুদের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যহুর (প্রকাশ হওয়া) সংক্রান্ত আকীদা, ত্বীনাহ (সৃষ্টিতত্ত্বের কাদা) (১) এবং ইমামদের ওপর আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার দাবি (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ১৪)
كما كشفت عن متى بدأت فرية التحريف في المذهب الاثني عشري، وأول كتاب سجلت فيه هذه الفرية، واكتشاف وضع هذا الكتاب ومتى وضع.
كذلك تم اكتشاف صلة شيخ الإسلام ابن تيمية ومنهاج السنة، بأكبر تحول في تقويم النصوص عندهم وتقسيمها إلى صحيح، وضعيف وموثق.
وحققت القول بوجود المهدي الذي يقوم عليه مذهب الاثني عشرية اليوم وعرض شهادات مهمة صادرة من أسرة الحسن العسكري، وأهل البيت والحسن العسكري نفسه، ومأخوذة من كتب الشيعة ذاتها.
وغير ذلك مما قد يجده الباحث في هذه الرسالة.
وإنني أذكر هذه المسائل حتى تتضح للقارئ مواضع الإضافة التي يمكن أن يفيد منها.. ذلك أنني حاولت أن أكتفي في المسائل المبحوثة بالإشارة أو الإتيان بنصوص جديدة، كما في مسألة تكفيرهم للشيخين، التي تجد النصوص التي تكشف تورط الشيعة فيها من خلال ما كتبه الشيخ موسى جار الله وإحسان إلهي ظهير، وغيرهما، فحاولت أن أقدم نصوصاً شيعية تعبر عن الشيخين برموز خاصة، ثم أوردت تفسيرها من كتب الاثني عشرية نفسها.
أما عن المنهج الذي حكم أسلوب معالجتي للموضوع، والجديد الذي يحتمل إضافته، فإن أبواب هذا البحث خير من يتحدث عنه، وإذا كان لابد من إشارات في هذا التقديم فأقول:
قد عمدت في بداية رحلتي مع الشيعة وكتبها ألا أنظر في المصادر الناقلة عنهم، وأن أتعامل مباشرة مع الكتاب الشيعي حتى لا يتوجه البحث وجهة أخرى.
যেমন এটি উন্মোচিত করেছে যে ইসনা আশারিয়া মাযহাবে তাহরিফ বা বিকৃতির অপবাদ কখন শুরু হয়েছিল এবং প্রথম কোন গ্রন্থে এই অপবাদ লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল, এছাড়া এই গ্রন্থটির জালিয়াতি ও তা কখন রচিত হয়েছে সেই রহস্যও উন্মোচন করেছে।
একইভাবে শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং মিনহাজুস সুন্নাহর সাথে তাদের পাঠ্যসমূহ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এবং সেগুলোকে সহিহ, যয়িফ ও মুওয়াসসাক হিসেবে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে যে বিশাল পরিবর্তন এসেছিল তার যোগসূত্র আবিষ্কৃত হয়েছে।
আমি মাহদির অস্তিত্বের দাবিটি যাচাই করেছি যার ওপর আজকের ইসনা আশারিয়া মাযহাব প্রতিষ্ঠিত এবং হাসান আল-আসকারির পরিবার, আহলে বাইত ও স্বয়ং হাসান আল-আসকারির পক্ষ থেকে আসা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যসমূহ উপস্থাপন করেছি, যা খোদ শিয়াদের কিতাবসমূহ থেকেই সংগৃহীত।
এ ছাড়াও গবেষক এই অভিসন্দর্ভে আরও অনেক বিষয় খুঁজে পাবেন।
আমি এই বিষয়গুলো উল্লেখ করছি যাতে পাঠকের কাছে নতুন সংযোজিত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয় যা থেকে তিনি উপকৃত হতে পারেন। কারণ আমি আলোচিত বিষয়গুলোতে কেবল ইঙ্গিত প্রদান অথবা নতুন পাঠ্য উপস্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার চেষ্টা করেছি। যেমন শায়খাইনকে কাফির বলার বিষয়টি, যে ক্ষেত্রে শিয়াদের সংশ্লিষ্টতা শায়খ মুসা জারুল্লাহ এবং ইহসান ইলাহি জহির ও অন্যদের লেখনীর মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে। এমতাবস্থায় আমি শিয়াদের এমন কিছু পাঠ্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি যেখানে তারা শায়খাইনকে বিশেষ প্রতীকের মাধ্যমে প্রকাশ করেছে, এরপর খোদ ইসনা আশারিয়াদের কিতাব থেকেই সেগুলোর ব্যাখ্যা তুলে ধরেছি।
আর বিষয়টি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমার অনুসৃত পদ্ধতি এবং যা কিছু নতুন সংযোজিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সে সম্পর্কে এই গবেষণার অধ্যায়গুলোই সবিস্তারে আলোচনা করে। তবে এই ভূমিকায় যদি কিছু ইঙ্গিত দেওয়ার প্রয়োজন হয় তবে আমি বলব:
শিয়া এবং তাদের কিতাবসমূহ নিয়ে আমার অধ্যয়নের শুরুতে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমি তাদের থেকে উদ্ধৃতি প্রদানকারী অন্য কোনো উৎসের সাহায্য নেব না, বরং সরাসরি শিয়াদের কিতাবগুলো থেকেই তথ্য গ্রহণ করব যাতে গবেষণাটি অন্য কোনো দিকে মোড় না নেয়।
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وحاولت - جهد الطاقة - أن أكون موضوعياً، ضمن الإطار الذي يتطلبه موضوع له صلة وثيقة بالعقدية كموضعي هذا.
والموضوعية الصادقة أن تنقل من كتبهم بأمانة، أن تختار المصادر المعتمدة عندهم، وأن تعدل في الحكم، وأن تحرص على الروايات الموثقة عندهم أو المستفيضة في مصادرهم - ما أمكن -.
أما إنكار ما أقف عليه من منكر، بيان فساده، فهذا ليس خروجاً عن الموضوعية، بل هو جزء من واجب كل مسلم، فمن يتعرض لكتاب الله سبحانه، ويدعي فيه نقصاً وتحريفاً، أو يقول بأن علياً هو الأول والآخر والظاهر الباطن، وأمثال هذه الكفريات الظاهرة، لا تملك إلا أن تصمه بما يستحقه، وأن تظهر فداحة جرمه، وشناعة معتقده، وإلا كان في الأمر خداع وتغرير بالقارئ المسلم.
ولذلك فإنني أعرض لعقائدهم بمنهج نقدي، وحينما أجد أن المسألة تحتاج إلى دراسة نقدية أكثر تفصيلاً أعقد لذلك مبحثاً مستقلاً، ولا ألتزم ذلك دائماً؛ لأن في جملة من العقائد ما يكفي لمعرفة حقيقتها بمجرد عرضها، ولهذا ذكر شيخ الإسلام ابن تيمية أن تصور المذهب الباطل يكفي في بيان فساده ولا يحتاج مع حسن التصور إلى دليل آخر، وإنما تقع الشبهة؛ لأن أكثر الناس لا يفهمون حقيقة قولهم وقصدهم لما فيه من الألفاظ المجملة المشتركة (1) .
ولذلك فإنني أحياناً أكتفي بمجرد تصوير حقيقة القول، والإشارة إلى بطلانه، ولا سيما في المسائل الجزئية، كما أنني في مسائل المذهب الكبار كمسألة النص أو الصحابة، أزيد على ذلك بنقد المقالة من خلال الكتاب والسنة، وأقوال أئمتهم، والأمور المعلومة، والمتفق عليها.
وأسلك بوجه عام في مناقشتهم منهج النقد الداخلي للنصوص؛ وذلك عن
--------------------------------------------
আমি আমার সাধ্যমতো বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছি, সেই কাঠামোর মধ্যে যা আমার এই বিষয়ের মতো আকিদাহর সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত কোনো বিষয়ের জন্য আবশ্যক।
আর প্রকৃত বস্তুনিষ্ঠতা হলো তাদের কিতাবসমূহ থেকে আমানতদারিতার সাথে উদ্ধৃত করা, তাদের নির্ভরযোগ্য উৎসগুলো নির্বাচন করা, বিচারে ইনসাফ করা এবং তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য বা তাদের উৎসগুলোতে প্রসিদ্ধ বর্ণনাসমূহ—যতটুকু সম্ভব—গ্রহণ করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা।
তবে আমি যেসব বর্জনীয় (মুনকার) বিষয় পেয়েছি সেগুলোকে অস্বীকার করা এবং সেগুলোর ভ্রান্তি বর্ণনা করা বস্তুনিষ্ঠতা থেকে বিচ্যুতি নয়, বরং এটি প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্যের অংশ। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর কিতাবকে লক্ষ্যবস্তু বানায় এবং তাতে অসম্পূর্ণতা ও বিকৃতির দাবি করে, অথবা বলে যে আলীই হলেন প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন, এবং এই জাতীয় প্রকাশ্য কুফরি বিষয়সমূহ—সেক্ষেত্রে তাকে তার প্রাপ্য বিশেষণে অভিহিত করা এবং তার অপরাধের ভয়াবহতা ও আকিদাহর জঘন্যতা ফুটিয়ে তোলা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না; অন্যথায় তা মুসলিম পাঠকের সাথে প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার শামিল হবে।
আর এ কারণেই আমি তাদের আকিদাহসমূহ একটি সমালোচনামূলক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করছি। যখন আমি দেখি যে কোনো বিষয়ে অধিকতর বিস্তারিত গবেষণামূলক পর্যালোচনার প্রয়োজন, তখন তার জন্য আমি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করি। তবে আমি সর্বদা এটি অনুসরণ করি না; কারণ অনেক আকিদাহ এমন আছে যেগুলোর স্বরূপ বোঝার জন্য কেবল সেগুলো উপস্থাপন করাই যথেষ্ট। এ কারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন যে, কোনো বাতিল মতবাদ কল্পনা করা বা তার স্বরূপ উপলব্ধি করাই তার অসারতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট এবং সঠিক উপলব্ধির পর আর কোনো দলিলের প্রয়োজন হয় না। মূলত সংশয় তখনই সৃষ্টি হয় যখন অধিকাংশ মানুষ তাদের বক্তব্যের প্রকৃত রূপ ও উদ্দেশ্য বুঝতে পারে না, কারণ তাতে সংক্ষিপ্ত ও দ্ব্যর্থবোধক শব্দাবলি বিদ্যমান থাকে (১)।
তাই কখনও কখনও আমি কেবল বক্তব্যের স্বরূপ তুলে ধরা এবং এর অসারতার দিকে ইঙ্গিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকি, বিশেষ করে আংশিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে। তেমনিভাবে মাযহাবের বড় বিষয়গুলো, যেমন নস (নির্ধারণী বাণী) বা সাহাবীগণের বিষয়ের ক্ষেত্রে আমি এর সাথে কুরআন-সুন্নাহ, তাদের ইমামদের বক্তব্য এবং সর্বজনবিদিত ও ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়গুলোর আলোকে সেই মতবাদের সমালোচনার সংযোজন করি।
আর সাধারণভাবে তাদের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে আমি ভাষ্যের অভ্যন্তরীণ সমালোচনা পদ্ধতি অনুসরণ করি; আর তা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ১৬)
طريق مقارنة هذه النصوص بعضها ببعض وبيان ما بينها من تناقض ومفارقات - ما أمن ذلك -.
كما أنني أحياناً أناقشهم على وفق منطقهم، وبمقتضى مقرراتهم وقواعدهم، وعلى ضوء رواياتهم، ولا يعني هذا الموافقة على تلك الأصول، وقبول تلك الروايات؛ وإنما هو منهج في النقد، لكشف حقيقة المذهب، وخروجه عن أصوله، وعمله ببعض رواياته وترك الآخر.
ثم إنني في عرضي لعقائدهم ألتزم النقل من مصادرهم المعتمدة، لكن لا أغفل في الغالب ما قالته المصادر الأخرى. ووضع الأمرين أمام القارئ مفيد جداً للموازنة والمقارنة، ومعرفة مدى اطلاع الأوائل على معتقد الشيعة، ومقدار التغير في المذهب الشيعي عبر القرون.
كما قمت بتخريج ما يرد في البحث من الأحاديث والآثار، والتعريف بالفرق والملل، وبيان المصطلحات، وكذلك الترجمة للأعلام الذين لهم دور في تأسيس بعض عقائد الشيعة، أو ما تدعو حاجة البحث لمعرفته. أما الترجمة لكل عَلَمٍ يرد فهذا يشغل القارئ عن الموضوع الأساسي، وهو موضوع مكانه كتب التاريخ التراجم، ولذلك فإني التزمت التعريف بكل فرقة ترد؛ لأن هذا هو الأقرب للتخصص والموضوع.
ولقد اكتنفت دراستي عدة صعوبات:
أولها: أن كتب الرواية عند الشيعة لا تحظى بفهرسة، وليس لها تنظيم معين، كما هو الحال في كتب أهل السنة (1) ، ولذلك فإن الأمر اقتضى مني قراءة طويلة في كتب حديثهم، حتى تصفحت البحار بكامل مجلداته، وأحياناً أقرأ رواية رواية، وقرأت أصول الكافي، وتصفحت وسائل الشيعة، وكانت الروايات التي أحتاج إليها تبلغ المئات في كل مسألة في الغالب.
--------------------------------------------
এই পাঠ্যগুলোকে একে অপরের সাথে তুলনা করার এবং তাদের মধ্যে বিদ্যমান বৈপরীত্য ও অসংগতিগুলো প্রকাশ করার পদ্ধতি - যেখানে তা সম্ভব হয়েছে।
অনুরূপভাবে, আমি মাঝে মাঝে তাদের যুক্তি অনুসারে, তাদের স্বীকৃত মূলনীতি ও নিয়মাবলি অনুযায়ী এবং তাদের বর্ণিত বর্ণনাগুলোর আলোকে তাদের সাথে আলোচনা করেছি। এর অর্থ এই নয় যে, আমি সেই মূলনীতিগুলোর সাথে একমত হয়েছি বা সেই বর্ণনাগুলো গ্রহণ করেছি; বরং এটি সমালোচনার একটি পদ্ধতি মাত্র, যার উদ্দেশ্য হলো মাযহাবের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করা এবং এটি কীভাবে তার নিজস্ব মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং কেন তারা কিছু বর্ণনা গ্রহণ করে অন্যগুলো বর্জন করেছে তা তুলে ধরা।
অতঃপর, আমি তাদের আকিদাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি, তবে অন্যান্য উৎসগুলোতে যা বলা হয়েছে তা থেকেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিমুখ হইনি। পাঠকের সামনে উভয় বিষয় তুলে ধরা ভারসাম্য রক্ষা ও তুলনামূলক পর্যালোচনার জন্য এবং শিয়া আকিদাহ সম্পর্কে পূর্ববর্তীদের অবগতির পরিধি ও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শিয়া মাযহাবে পরিবর্তনের মাত্রা জানার জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
আমি গবেষণায় উল্লিখিত হাদিস ও আসারগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি, বিভিন্ন দল ও মতাদর্শের পরিচয় দিয়েছি, পরিভাষাগুলো ব্যাখ্যা করেছি এবং সেই সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী আলোচনা করেছি যারা শিয়াদের কিছু আকিদাহ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন অথবা গবেষণার প্রয়োজনে যাদের সম্পর্কে জানা জরুরি। তবে উল্লিখিত প্রত্যেক ব্যক্তির জীবনী আলোচনা করা পাঠককে মূল বিষয় থেকে বিচ্যুত করবে, যা মূলত ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থের বিষয়। তাই আমি উল্লিখিত প্রতিটি দলের পরিচয় প্রদানে সচেষ্ট হয়েছি; কারণ এটিই এই বিশেষায়িত বিষয় ও প্রসঙ্গের সাথে অধিকতর সংগতিপূর্ণ।
আমার এই অধ্যয়নটি বেশ কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে:
প্রথমত: শিয়াদের বর্ণনাসংবলিত গ্রন্থগুলোতে কোনো নির্ঘণ্ট নেই এবং সেগুলোর কোনো নির্দিষ্ট বিন্যাসও নেই, যেমনটি আহলুস সুন্নাহর গ্রন্থসমূহে বিদ্যমান (১)। এই কারণে বিষয়টি তাদের হাদিসগ্রন্থগুলোতে দীর্ঘ সময়ব্যাপী পাঠের দাবি রাখে, এমনকি আমি বিহারুল আনওয়ার-এর সকল খণ্ড তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি, কখনও কখনও প্রতিটি বর্ণনা আলাদাভাবে পড়েছি। এছাড়া আমি উসুলুল কাফি পড়েছি এবং ওয়াসাইলুশ শিয়া পর্যালোচনা করেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রতিটি মাসআলায় আমার প্রয়োজনীয় বর্ণনার সংখ্যা শত শত পর্যন্ত পৌঁছে যেত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فلا تستطيع أن تكتب عن هذه المسألة حتى تستكمل قراءة هذه الأخبار.
وأرجع كثيراً إلى شروح الكافي كشرح جامع للمازندراني، لفهم وجهة نظر شيوخهم في الروايات.
ثانياً: رحلت في البحث عن الكتاب الشيعي إلى مصر، والعراق، والبحرين، والكويت، وباكستان، وحصلت من خلال ذلك على مصادر مهمة أفدت منها في أبواب هذا البحث وفصوله.
ثالثاً: طول المسافة الزمنية التي شملها البحث، والتي امتدت منذ نشأة الشيعة حتى اليوم، فأمامي عشرات الكتب الشيعية في مختلف العصور أمضيت وقتاً طويلاً في تتبعها، وملاحقة التطور العقدي للشيعة في امتدادها.
مصادر الرسالة:
وقد اعتمدت في دراستي عنهم على مصادرهم المعتبرة من كتب التفسير والحديث، والرجال، والعقائد، والفرق، والفقه، والأصول:
أ- ففي كتب التفسير رجعت إلى:
تفسير علي بن إبراهيم القمي، الذي قالوا عنه بأنه أصل أصول التفاسير عندهم (1) . ووثق رواياته شيخ مشايخهم في هذا العصر الذي يلقبونه "بالإمام الأكبر" وهو أبو القاسم الخوئي، فقال: "ولذا نحكم بوثاقة جميع مشايخ علي بن إبراهيم القمي الذي روى عنهم في تفسيره مع انتهاء السند إلى أحد المعصومين" (2) . والقمي عندهم ثقة في الحديث، ثبت معتمد (3) ، كان في عصر الإمام العسكري، وعاش إلى سنة (307هـ) (4) .
--------------------------------------------
আপনি এই বিষয়টি সম্পর্কে ততক্ষণ পর্যন্ত লিখতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি এই সংবাদসমূহ পাঠ করা সম্পন্ন করবেন।
আর আমি বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে তাদের শায়খদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য প্রায়ই আল-কাফী-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর দিকে ফিরে গিয়েছি, যেমন মাজান্দারানির 'শারহু জামে' গ্রন্থটি।
দ্বিতীয়ত: শিয়া কিতাবসমূহ অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে আমি মিসর, ইরাক, বাহরাইন, কুয়েত এবং পাকিস্তানে ভ্রমণ করেছি; এবং এর মাধ্যমে আমি গুরুত্বপূর্ণ কিছু উৎস লাভ করেছি যা এই গবেষণার বিভিন্ন অধ্যায় ও পরিচ্ছেদে আমাকে উপকৃত করেছে।
তৃতীয়ত: এই গবেষণার অন্তর্ভুক্ত দীর্ঘ সময়কাল, যা শিয়াদের উদ্ভব থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিস্তৃত; তাই বিভিন্ন যুগে রচিত শিয়াদের কয়েক ডজন কিতাব আমার সামনে ছিল, যেগুলোর অনুসরণ করতে এবং শিয়াদের আকিদাগত বিবর্তনের ধারা পর্যবেক্ষণ করতে আমি দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছি।
গবেষণাপত্রটির উৎসসমূহ:
আমি তাদের সম্পর্কে আমার এই গবেষণায় তাদের নির্ভরযোগ্য উৎসগুলোর ওপর নির্ভর করেছি, যার মধ্যে রয়েছে তাফসির, হাদিস, রিজাল (বর্ণনাকারী), আকিদা, ফিরকা (উপদল), ফিকহ এবং উসূল শাস্ত্রের কিতাবসমূহ:
ক- তাফসিরের কিতাবগুলোর মধ্যে আমি যেগুলোর শরণাপন্ন হয়েছি:
আলি ইবনে ইব্রাহিম আল-কুম্মীর তাফসির, যার সম্পর্কে তারা বলে যে এটি তাদের নিকট তাফসিরসমূহের মূল ভিত্তি (১)। এবং বর্তমান যুগে তাদের শ্রেষ্ঠ শায়খ, যাকে তারা "আল-ইমামুল আকবার" উপাধিতে ভূষিত করে, অর্থাৎ আবুল কাসিম আল-খুয়ি, এর বর্ণনাগুলোকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি বলেছেন: "এই কারণে আমরা আলি ইবনে ইব্রাহিম আল-কুম্মীর সকল শায়খদের নির্ভরযোগ্য হওয়ার ফয়সালা দিচ্ছি, যাদের থেকে তিনি তার তাফসিরে বর্ণনা করেছেন, যখন সেগুলোর সনদ কোনো মাসুম (নিষ্পাপ) ইমাম পর্যন্ত সমাপ্ত হয়" (২)। আর কুম্মি তাদের নিকট হাদিসের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত, সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য (৩); তিনি ইমাম আল-আসকারির যুগে ছিলেন এবং ৩০৭ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وكذلك تفسير العياشي الذي قال فيه شيخهم المعاصر - محمد حسين الطبطبائي: "أحسن كتاب ألف قديماً في بابه، وأوثق ما ورثناه من قدماء مشايخنا من كتب التفسير بالمأثور، فقد تلقاه علماء هذا الشأن منذ ألف عام إلى يومنا هذا من غير أن يذكر بقدح، أو يغمض فيه بطرف" (1) .
والعياشي هو محمد بن مسعود أبو النضر، عاش في أواخر القرن الثالث، وهو عندهم جليل القدر، واسع الأخبار، بصير بالروايات (2) .
وتفسير فرات بن إبراهيم بن فرات الكوفي، من شيوخهم في القرن الثالث وأوائل القرن الرابع (3) . وقد وثقه شيخهم المجلسي فقال: "أخبار تفسير فرات موافقة لما وصل إلينا من الأحاديث المعتبرة" (4) .
هذه أهم كتب التفسير القديمة الموجودة اليوم بين أيديهم (5) . وقد رجعت إليها في أثناء عرض عقيدتهم في القرآن وغيره، ولم أكتف بتوثيق المنقول منها، بل شفعت ذلك بما كتبه شيوخهم المتأخرون المعتمدون عندهم، مثل:
تفسير الصافي لشيخهم محمد محسن المعروف بالفيض الكاشاني، والذي يصفونه بـ "العلامة المحقق، المدقق، جليل القدر، عظيم الشأن" (6) .
والبرهان في تفسير القرآن لشيخهم هاشم بن سليمان البحراني (المتوفى سنة 1107 أو 1109هـ) وهو عندهم العلامة الثقة الثبت المحدث الخبير والناقد البصير (7) .
--------------------------------------------
তেমনি তাফসিরুল আইয়াশি, যে সম্পর্কে তাদের সমসাময়িক শাইখ মুহাম্মাদ হুসাইন আত-তাবাতাবায়ী বলেছেন: "এই বিষয়ে প্রাচীনকালে রচিত সর্বোত্তম কিতাব এবং আছার-ভিত্তিক (বর্ণনা-নির্ভর) তাফসিরের কিতাবসমূহের মধ্যে আমাদের প্রাচীন শাইখদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। এক হাজার বছর আগে থেকে আজ পর্যন্ত এই বিষয়ের আলেমগণ একে কোনো প্রকার সমালোচনা বা অবজ্ঞা ছাড়াই গ্রহণ করে আসছেন।" (১)।
আর আইয়াশি হলেন মুহাম্মাদ বিন মাসউদ আবু আন-নাদর, তিনি তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে বেঁচে ছিলেন। তাদের নিকট তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান, অনেক খবরের অধিকারী এবং বর্ণনাসমূহের ব্যাপারে গভীর দৃষ্টিসম্পন্ন (২)।
এবং ফুরাত বিন ইবরাহিম বিন ফুরাত আল-কুফির তাফসির, যিনি তৃতীয় শতাব্দী এবং চতুর্থ শতাব্দীর শুরুর দিকে তাদের শাইখদের একজন ছিলেন (৩)। তাদের শাইখ আল-মাজলিসি তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়ে বলেছেন: "তাফসির ফুরাত-এর বর্ণনাগুলো আমাদের কাছে পৌঁছানো নির্ভরযোগ্য হাদিসসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ" (৪)।
বর্তমানে তাদের নিকট বিদ্যমান এগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন তাফসির গ্রন্থ (৫)। কুরআন ও অন্যান্য বিষয়ে তাদের আকিদা বর্ণনার সময় আমি এগুলোর দিকে ফিরেছি (এগুলো থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি)। আমি কেবল তা থেকে উদ্ধৃত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করেই ক্ষান্ত হইনি, বরং সেটির সাথে তাদের পরবর্তী নির্ভরযোগ্য শাইখরা যা লিখেছেন তাও যুক্ত করেছি, যেমন:
তাদের শাইখ মুহাম্মাদ মুহসিন, যিনি আল-ফায়জ আল-কাশানি নামে পরিচিত, তার তাফসির আস-সাফি। তাকে তারা বর্ণনা করেন "আল্লামা মুহাক্কিক (গবেষক), মুদাক্কিক (সূক্ষ্মদর্শী), সুউচ্চ মর্যাদাবান এবং মহান শান-এর অধিকারী" হিসেবে (৬)।
এবং তাদের শাইখ হাশেম বিন সুলাইমান আল-বাহরানি (মৃত্যু ১১০৭ বা ১১০৯ হিজরি) এর আল-বুরহান ফি তাফসিরিল কুরআন। তিনি তাদের নিকট আল্লামা, বিশ্বস্ত, সুদৃঢ়, বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিস এবং তীক্ষ্ণদৃষ্টির সমালোচক (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ১৯)
* ومرآة الأنوار ومشكاة الأسرار، أو مقدمة البرهان لشيخهم أبي الحسن بن محمد العاملي الفتوني، تلميذ المجلسي صاحب البحار (ت 1140هـ) قال عنه صاحب لؤلؤة البحرين بأنه كان محققاً مدققاً (1) ، وقال عنه صاحب روضات الجنات: "من أعاظم فقهائنا المتأخرين" (2) ، ووصفه شيخهم النوري بالحجة وقال عن كتابه: "لم يعمل مثله" (3) . ومثل ذلك قال صاحب الذريعة (4) ، وغير ذلك من كتب التفسير عندهم التي رجعت إليها، وذكرتها تبعاً لما أشرت إليه ووثقته من كتبهم.
وأصحاب الكتب السابقة كلهم قالوا بتحريف القرآن، ولاشك أن من اعتقد ذلك فهو ليس من أهل القبلة، ولكني أنقل توثيقاتهم لشيوخهم.
ب- أما كتب حديثهم: (وهي رواياتهم عن الأئمة) فقد رجعت لمصادرهم المعتمدة عندهم وهي:
1- الكتب الأربعة: الكافي، والتهذيب، والاستبصار، ومن لا يحضره الفقيه، قال شيخهم المعاصر محمد صادق الصدر: "إن الشيعة (5) " (6) .
2- الكتب الأربعة المتأخرة وهي: الوافي، وبحار الأنوار، والوسائل، ومستدرك الوسائل، فتصبح مصادرهم الرئيسية ثمانية. قال عالمهم المعاصر محمد صالح الحائري: "وأما صحاح الإمامية فهي ثمانية، أربعة منها للمحمدين الثلاثة الأوائل، وثلاثة بعدها للمحمدين الثلاثة الأواخر، وثامنها لمحمد حسين المرحوم المعاصر النوري" (7) .
--------------------------------------------
এবং মিরআতুল আনওয়ার ওয়া মিশকাতুল আসরার, অথবা মুকাদ্দিমাতুল বুরহান, যা তাদের শায়খ আবুল হাসান বিন মুহাম্মদ আল-আমিলি আল-ফুতুনির রচনা, যিনি ‘বিহার’ গ্রন্থের প্রণেতা আল-মাজলিসির ছাত্র ছিলেন (মৃত্যু ১১৪০ হি.)। ‘লুলুয়াতুল বাহরাইন’-এর লেখক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি ছিলেন একজন গবেষক ও সূক্ষ্মদর্শী (১), এবং ‘রাওজাতুল জান্নাত’-এর লেখক তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি আমাদের পরবর্তী যুগের মহান ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত" (২), এবং তাদের শায়খ আন-নূরী তাঁকে ‘হুজ্জাত’ (প্রমাণ) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর কিতাব সম্পর্কে বলেছেন: "এর মতো কাজ আর হয়নি" (৩)। ‘আয-যারিয়া’-এর লেখকও অনুরূপ কথা বলেছেন (৪), এছাড়া তাদের আরও অনেক তাফসির গ্রন্থ রয়েছে যেগুলোর দিকে আমি রুজু করেছি এবং আমি যা ইঙ্গিত করেছি ও তাদের কিতাবসমূহ থেকে যা প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছি সে অনুযায়ী সেগুলো উল্লেখ করেছি।
পূর্বোক্ত কিতাবসমূহের লেখকগণ সবাই কুরআনের বিকৃতির (তাহরিফ) কথা বলেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তি এরূপ বিশ্বাস পোষণ করে সে আহলে কিবলার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে আমি তাদের শায়খদের ব্যাপারে তাদেরই দেওয়া নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণগুলো উদ্ধৃত করছি।
খ- তাদের হাদিস গ্রন্থসমূহ: (যা আইম্মায়ে কেরাম থেকে তাদের বর্ণিত বর্ণনা) আমি তাদের নিকট নির্ভরযোগ্য উৎসগুলোর দিকে রুজু করেছি, সেগুলো হলো:
১- কুতুবে আরবা’আ: আল-কাফি, আত-তাহজিব, আল-ইসতিবসার এবং মান লা ইয়াহদুরুহুল ফকিহ। তাদের সমসাময়িক শায়খ মুহাম্মদ সাদিক আস-সদর বলেছেন: "নিশ্চয়ই শিয়াগণ (৫)" (৬)।
২- পরবর্তী যুগের চারটি কিতাব হলো: আল-ওয়াফি, বিহারুল আনওয়ার, আল-ওয়াসায়েল এবং মুসতাদরাকুল ওয়াসায়েল। ফলে তাদের প্রধান উৎসগ্রন্থ দাঁড়ায় আটটি। তাদের সমসাময়িক আলেম মুহাম্মদ সালেহ আল-হায়েরি বলেছেন: "আর ইমামিয়াদের সহিহ গ্রন্থসমূহ হলো আটটি; এর মধ্যে চারটি হলো প্রথম তিন মুহাম্মদের, পরবর্তী তিনটি হলো শেষ তিন মুহাম্মদের এবং অষ্টমটি হলো সমসাময়িক মরহুম মুহাম্মদ হুসাইন আন-নূরীর" (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقد تحدثت عن هذه المصادر في فصل (عقيدتهم في السنة) .
وأكثر ما رجعت إليه من هذه المصدر الثمانية كتابان هما: "أصول الكافي"، و"بحار الأنوار"؛ وذلك لأنهما أكثر اهتماماً بمسائل الاعتقاد، ولأن الشيعة تعلق عليهما أهمية بالغة.
قال الصدر عن الكافي: "ويعتبر (الكافي) عند الشيعة أوثق الكتب الأربعة" (1) . وتبلغ أخباره (16199) ، ولو لم يقم صاحب الكافي بجمع الروايات عن الأئمة في كتابه لما بقي منها إلا النزر اليسير.
وقال: يحكى أن الكافي عرض على المهدي فقال: "كاف لشيعتنا" (2) .
هذا ما يقوله الصدر، وينسبه للشيعة عموماً، ولهذا قال محب الدين الخطيب: "إن الكافي عند الشيعة هو كصحيح البخاري عند المسلمين" (3) .
وقد يكون في كلام الخطيب هذا بعض التسامح؛ لأن غلوهم في الكافي أكثر، ألا ترى أنهم يقولون: إن الكافي ألّف إبان الصلة المباشرة بمهديهم وإنه عرض على "المعصوم" عندهم، فهو كما لو قال بعض أهل السنة: إنه صحيح البخاري تم عرضه على الرسول صلى الله عليه وسلم.. لأن الإمام عندهم كالنبي، ولذا قالوا: "كانت منابع اطلاعات الكليني قطعية الاعتبار، لأن باب العلم واستعلام حال تلك الكتب (4) . بواسطة سفراء القائم (5) . كان مفتوحاً عليه لكونهم معه في بلد واحد، بغداد" (6) .
--------------------------------------------
আমি এই উৎসগুলো সম্পর্কে (সুন্নাহর ব্যাপারে তাদের আকিদা) শীর্ষক পরিচ্ছেদে আলোচনা করেছি।
এই আটটি উৎসের মধ্যে আমি যে দুটি বইয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেছি সেগুলো হলো: ‘উসুলুল কাফি’ এবং ‘বিহারুল আনোয়ার’। কারণ, এই দুটি বই আকিদাগত বিষয়ে অধিক গুরুত্বারোপ করেছে এবং শিয়ারা এগুলোর ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করে থাকে।
আল-সদর কাফি সম্পর্কে বলেছেন: “শিয়াদের কাছে (কাফি) চার কিতাবের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কিতাব হিসেবে গণ্য” (১)। এর হাদিস বা বর্ণনার সংখ্যা হলো (১৬১৯৯) টি। কাফির রচয়িতা যদি তার কিতাবে ইমামদের থেকে এই বর্ণনাগুলো সংগ্রহ না করতেন, তবে তার অতি সামান্য অংশই অবশিষ্ট থাকত।
তিনি আরও বলেন: বর্ণিত আছে যে, কাফি (বইটি) মাহদির নিকট পেশ করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: “এটি আমাদের শিয়াদের জন্য যথেষ্ট (কাফি)” (২)।
এটি আল-সদর যা বলেছেন এবং একে সাধারণভাবে শিয়াদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। এই কারণেই মুহিব্বুদ্দিন আল-খাতিব বলেছেন: “শিয়াদের নিকট কাফির অবস্থান মুসলমানদের নিকট সহিহ বুখারির মতো” (৩)।
আল-খাতিবের এই বক্তব্যে কিছুটা শিথিলতা থাকতে পারে; কারণ কাফির ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি আরও অনেক বেশি। আপনি কি দেখছেন না যে তারা বলে: কাফি তাদের মাহদির সাথে সরাসরি যোগাযোগের যুগে রচিত হয়েছে এবং তা তাদের ‘মাসুম’ (নিষ্পাপ)-এর নিকট পেশ করা হয়েছিল? এটি ঠিক তেমন যেমন কোনো সুন্নি যদি বলত যে: সহিহ বুখারি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পেশ করা হয়েছে। কারণ ইমাম তাদের নিকট নবীর সমতুল্য। তাই তারা বলে: “কুলাইনির তথ্যের উৎসসমূহ ছিল অকাট্য প্রামাণিক, কারণ সেই কিতাবগুলোর অবস্থা জানার এবং জ্ঞানের দরজা (৪) আল-কায়েমের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে (৫) তার জন্য উন্মুক্ত ছিল, যেহেতু তারা তার সাথে একই শহর বাগদাদে অবস্থান করতেন” (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ২১)
أما البحار فقالوا بأنه: "المرجع الوحيد لتحقيق معارف المذهب" (1) . وعظموا من أمره، كما سيأتي من خلال صفحات هذه الرسالة (2) .
3- ورجعت إلى كتب شيوخهم المعتمدين عندهم، والتي يعدونها في الاعتبار والاعتماد كالكتب الأربعة، منها:
أ- كتاب سليم بن قيس، وهو أول كتاب ظهر للشيعة، كما يقول ابن النديم (3) ، وهو من أصولهم المعتبرة (4) ، ولنا وقفة مع هذا الكتاب ومؤلفه في أثناء الحديث عن فرية التحريف (5) .
ب- كتب شيخهم أبو جعفر محمد بن علي بن بابويه القمي (المتوفى سنة 381هـ) مثل: إكمال الدين، والتوحيد، وثواب الأعمال، وعيون أخبار الرضا، ومعاني الأخبار، والأمالي وغيرها، وكتبه كلها "لا تقصر في الاشتهار عن الكتب الأربعة التي عليها المدار في هذه الأعصار" (6) ، ولا يستثنى من ذلك إلا خمسة كتب لم أرجع إليها (7) .
ج- كتب شيخ الطائفة أبو جعفر محمد بن الحسن الطوسي (المتوفى سنة 460هـ) وهي مثل كتب ابن بابويه في الاعتبار والاشتهار عندهم إلا كتاب واحد (8) . وغيرها من كتب شيوخهم، والتي تكلف شيخهم المجلي بتوثيقها في الجزء الأول من بحاره (9) ، كما قد ألمحت ببعض توثيقاتهم لهذه
--------------------------------------------
'বিহার' (বিহারুল আনওয়ার) সম্পর্কে তারা বলেছে যে: "এটি মাযহাবের জ্ঞানসমূহ যাচাইয়ের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস" (১)। তারা এর গুরুত্বকে অনেক বড় করে দেখেছে, যেমনটি এই গবেষণাপত্রের পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে আসবে (২)।
৩- আমি তাদের নির্ভরযোগ্য শায়খদের কিতাবসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছি, যেগুলোকে তারা গ্রহণযোগ্যতা ও নির্ভরতার দিক থেকে সেই প্রসিদ্ধ চারটি কিতাবের (আল-কুতুবুল আরবা'আ) সমতুল্য মনে করে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ক- সুলাইম ইবনে কায়সের কিতাব; এটি শিয়াদের মধ্যে আত্মপ্রকাশকারী প্রথম কিতাব, যেমনটি ইবনুন নাদিম (৩) বলেছেন। এটি তাদের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মূল উৎস (৪)। এই কিতাব ও এর লেখকের বিষয়ে আমাদের একটি পর্যালোচনা আসবে 'তাহরিফের (বিকৃতি) অপবাদ' নিয়ে আলোচনার সময় (৫)।
খ- তাদের শায়খ আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে বাবওয়াইহ আল-কুম্মীর (মৃত্যু ৩৮১ হিজরি) কিতাবসমূহ; যেমন: ইকমালুদ্দিন, আত-তাওহিদ, সাওয়াবুল আমাল, উয়ুনু আখবারির রিদা, মা'আনিল আখবার, আল-আমালি এবং অন্যান্য। তার সকল কিতাবই "প্রসিদ্ধির দিক থেকে সেই চারটি কিতাবের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়, বর্তমান যুগে যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে সবকিছু পরিচালিত হয়" (৬)। এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি কিতাব ছাড়া অন্য সবগুলোর কাছেই আমি প্রত্যাবর্তন করেছি যেগুলোতে আমি দৃষ্টিপাত করিনি (৭)।
গ- 'শায়খুত তায়িফা' আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আত-তূসীর (মৃত্যু ৪৬০ হিজরি) কিতাবসমূহ। এগুলো গ্রহণযোগ্যতা ও প্রসিদ্ধির দিক থেকে ইবনে বাবওয়াইহ-এর কিতাবসমূহের মতোই, কেবল একটি কিতাব বাদে (৮)। এছাড়া তাদের শায়খদের অন্যান্য কিতাবসমূহ, যেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের ভার তাদের শায়খ আল-মাজলিসি তার 'বিহার' গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে গ্রহণ করেছেন (৯)। যেমনটি আমি তাদের কিছু নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের প্রতি ইঙ্গিত করেছি এই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ২২)
الكتب في أثناء البحث، وأذكر توثيق الكتاب الذي لا أنقل منه إلا مرة واحدة في موضع النص المنقول.
د- رجعت إلى كتب العقيدة المعتمدة عندهم مثل:
1- اعتقادات ابن بابويه.
2- وأوائل المقالات للمفيد، وتصحيح الاعتقاد له أيضاً.
3- ونهج المسترشدين لابن المطهر الحلي.
4- والاعتقاد للمجلسي صاحب البحار.
5- وعقائد الإمامية للمظفر (من المعاصرين) .
6- عقائد الإمامية الاثني عشرية للزنجاني (معاصر) وغيرها.
وفي عقائدهم التي تفردوا بها رجعت - بالإضافة لما مضى - إلى ما كتب عن هذه العقائد مستقلاً، ففي الغيبة - مثلاً - رجعت إلى كتاب الغيبة لشيخهم محمد بن إبراهيم النعماني، من شيوخهم في القرن الثالث، وقد قال المجلسي عن كتابه هذا: "وكتاب النعماني من أجلّ الكتب" (1) ، ثم نقل عن المفيد ما يتضمن الثناء عليه وتوثيقه (2) .
وكذلك كتاب الغيبة للطوسي، وإكمال الدين لابن بابويه وغيرها.
وفي اعتقادهم في الرجعة، رجعت إلى ما كتبه شيخهم الحر العاملي في الرجعة وهو "الإيقاظ من الهجعة بالبرهان على الرجعة" وهكذا.
هـوكذلك رجعت إلى ما كتبه بعض شيوخهم في المقالات والفرق، وهما "المقالات والفرق" لشيخهم سعد بن عبد الله الأشعري القمي المتوفى سنة (301هـ) ، و"فرق الشيعة" لشيخهم الحسن بن موسى النوبختي من شيوخهم في القرن الثالث. "وهما كتابان وصلا إلينا من بين كتب فرق الشيعة الضائعة" (3) .
--------------------------------------------
গবেষণার মাঝে কিতাবগুলো, আর আমি সেই কিতাবের উদ্ধৃতি উল্লেখ করব যেখান থেকে আমি উদ্ধৃত টেক্সটের স্থানে কেবল একবারই বর্ণনা করেছি।
ঘ- আমি তাদের নির্ভরযোগ্য আকীদা বিষয়ক কিতাবসমূহের দিকে ফিরেছি (রেফারেন্স নিয়েছি), যেমন:
১- ইবনে বাবুওয়াইহ-এর ইতিকাদাত।
২- মুফিদের আওয়াইলুল মাকালাত, এবং তার তাসহিহুল ইতিকাদ-ও।
৩- ইবনুল মুতাহহার আল-হিল্লীর নাহজুল মুস্তারশিদিন।
৪- বিহার (বিহারুল আনওয়ার) রচয়িতা মাজলিসীর আল-ইতিকাদ।
৫- মুজাফফরের (সমকালীনদের মধ্য থেকে) আকাইদুল ইমামিয়া।
৬- জানজানীর (সমকালীন) আকাইদুল ইমামিয়া আল-ইসনা আশারিয়া এবং অন্যান্য।
আর তাদের সেই সকল একক আকীদাসমূহের ক্ষেত্রে আমি—পূর্বোক্তগুলো ছাড়াও—এই সকল আকীদা সম্পর্কে স্বতন্ত্রভাবে যা লেখা হয়েছে সেগুলোর দিকে ফিরেছি। উদাহরণস্বরূপ, আল-গায়বাহ্ (অদৃশ্য হওয়া) প্রসঙ্গে আমি তাদের শায়খ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আন-নুমানীর কিতাব আল-গায়বাহ-র দিকে ফিরেছি, যিনি তৃতীয় শতাব্দীর তাদের শায়খদের একজন। মাজলিসী তার এই কিতাব সম্পর্কে বলেছেন: "নুমানীর কিতাবটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কিতাবগুলোর অন্যতম" (১), অতঃপর তিনি মুফিদ থেকে এমন কিছু উদ্ধৃত করেছেন যা তার প্রশংসা ও নির্ভরযোগ্যতাকে অন্তর্ভুক্ত করে (২)।
একইভাবে তুসীর কিতাব আল-গায়বাহ্, ইবনে বাবুওয়াইহ-এর ইকমালুদ দীন এবং অন্যান্য।
আর রাজাআহ (পুনরাবর্তন) সম্পর্কে তাদের বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আমি তাদের শায়খ আল-হুররুল আমিলী রাজাআহ সম্পর্কে যা লিখেছেন সেটির দিকে ফিরেছি, আর তা হলো "আল-ঈকাজ মিনাল হাজআহ বিল বুরহানি আলাল রাজাআহ" এবং এভাবে আরও।
ঙ- একইভাবে আমি তাদের কিছু শায়খ ফিরকা ও মাকালাত সম্পর্কে যা লিখেছেন সেগুলোর দিকে ফিরেছি, আর সেগুলো হলো ৩০১ হিজরীতে মৃত্যুবরণকারী তাদের শায়খ সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আشআরী আল-কুম্মীর "আল-মাকালাত ওয়াল ফিরাক", এবং তৃতীয় শতাব্দীর তাদের শায়খদের একজন হাসান বিন মুসা আন-নাওবাখতীর "ফিরাকুশ শিয়া"। "এই কিতাব দুটি শিয়া ফিরকাগুলোর হারিয়ে যাওয়া কিতাবগুলোর মধ্য থেকে আমাদের কাছে পৌঁছেছে" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ২৩)
و وفي كتب الرجال رجعت إلى مصادرهم المعتمدة في ذلك، ولاسيما كتبهم الأربعة؛ لأنهم يقولون: "أهم الكتب في هذا الموضوع من مؤلفات المتقدمين هي أربعة كتب، عليها المعول في هذا الباب وهي:
1- معرفة الناقلين عن الأئمة الصادقين لأبي عمرو محمد بن عمر بن عبد العزيز الكشي (من شيوخهم في القرن الرابع) الذي يعرف بـ "رجال الكشي".
2- كتاب الرجال لأبي العباس أحمد بن علي النجاشي المتوفى سنة (460هـ) المعروف بـ "رجال النجاشي".
3- كتاب الرجال لشيخ الطائفة أبي جعفر محمد بن الحسن بن علي الطوسي المتوفى سنة (460هـ) المعروف بـ "رجال الطوسي".
4- كتاب "الفهرسيت للشيخ الطوسي" (1) .
وقد أكثرت في النقل من رجال الكشي، لأنهم يعدونه أهم كتبهم في الرجال، وأقدمها، وأوثقها؛ فهو من تأليف الكشي وهو عندهم "ثقة بصير بالأخبار وبالرجال حسن الاعتقاد" (2) . ومن تهذيب واختصار شيخ الطائفة الطوسي.
ولذا قال شيخهم المصطفوي: "أقدم هذه الكتب: هو رجال الكشي الذي لخصه شيخ الطائفة.. فكفى لهذا لكتاب المنيف شرفاً واعتباراً" (3) .
والخلاصة: أنني لم أعمد إلا إلى كتبهم المعتمدة عندهم، في النقل والاقتباس لتصوير المذهب.
ولم أذكر من عقائدهم في هذه الرسالة إلا ما استفاضت أخبارهم به، وأقره شيوخهم.
--------------------------------------------
রিজাল (জীবনীগ্রন্থ) বিষয়ক গ্রন্থাদির ক্ষেত্রে আমি তাদের নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছি, বিশেষত তাদের প্রসিদ্ধ চারটি কিতাব; কারণ তারা বলে: "এই বিষয়ে পূর্ববর্তী লেখকদের রচনাবলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চারটি কিতাব, যার ওপর এ ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়। সেগুলো হলো:
১- আবু আমর মুহাম্মদ ইবনে ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ আল-কাশশি (চতুর্থ শতাব্দীর তাদের অন্যতম শায়খ) রচিত 'মা'রিফাতুন নাকিলিনা আনিল আইম্মাতিল সদ্দিকিন', যা 'রিজালুল কাশশি' নামে পরিচিত।
২- আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আলী আন-নাজাসি (মৃত্যু ৪৬০ হিজরি) রচিত 'কিতাবুর রিজাল', যা 'রিজালুন নাজাসি' নামে পরিচিত।
৩- শায়খুত তায়েফা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে আলী আত-তুসি (মৃত্যু ৪৬০ হিজরি) রচিত 'কিতাবুর রিজাল', যা 'রিজালুত তুসি' নামে পরিচিত।
৪- 'আল-ফিহরিস্ত লিশ-শায়খিত তুসি' (১)।
আমি 'রিজালুল কাশশি' থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের আধিক্য ঘটিয়েছি, কেননা তারা এটিকে রিজাল বিষয়ক তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য কিতাব বলে গণ্য করে; এটি আল-কাশশির সংকলন এবং তাদের নিকট তিনি "নির্ভরযোগ্য, সংবাদ ও রিজাল শাস্ত্রে দূরদর্শী এবং সঠিক আকিদার অধিকারী" (২)। আর এটি শায়খুত তায়েফা আত-তুসি কর্তৃক পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্তকৃত।
এজন্যই তাদের শায়খ আল-মুস্তফাভি বলেছেন: "এই কিতাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলো রিজালুল কাশশি, যা শায়খুত তায়েফা সংক্ষেপ করেছেন... এই মহান কিতাবটির সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতার জন্য এটাই যথেষ্ট" (৩)।
সারকথা হলো: তাদের মাযহাবের চিত্র ফুটিয়ে তুলতে উদ্ধৃতি ও চয়নের ক্ষেত্রে আমি কেবল তাদের নিকট নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের উপরেই নির্ভর করেছি।
আর আমি এই রিসালায় (প্রবন্ধে) তাদের আকিদাহ সমূহের মধ্য থেকে কেবল সেগুলোই উল্লেখ করেছি যা তাদের বর্ণনায় প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং তাদের শায়খগণ স্বীকৃতি দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد تكون الروايات من الكثرة فأشير إلى ذلك بذكر عدد الروايات وعناوين الأبواب في المسائل التي أتحدث عنها.
وأذكر ما أجد لهم من تصحيحات وحكم على الروايات بمقتضى مقاييسهم.
كل ذلك حتى لا يقال بأننا نتجه إلى بعض رواياتهم الشاذة، وأخبارهم الضعيفة التي لا تعبر عن حقيقة المذهب، فنأخذ بها.
واهتممت بالنقل "الحرفي" في الغالب رعاية للموضوعية، وضرورة الدقة في النقل والعزو، وهذا ما يفرضه المنهج العلمي في نقل كلام الخصوم.
কখনও বর্ণনাগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আমি যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি সেগুলোতে বর্ণনার সংখ্যা এবং অধ্যায়ের শিরোনাম উল্লেখ করার মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করি।
আর তাদের নিজস্ব মানদণ্ড অনুযায়ী বর্ণনাগুলোর ওপর তাদের করা সত্যায়ন এবং হুকুমসমূহ আমি উল্লেখ করি।
এসবই করা হয়েছে যাতে কেউ এ কথা বলতে না পারে যে, আমরা তাদের এমন কিছু শায (বিচ্ছিন্ন) বর্ণনা এবং দুর্বল খবরের দিকে ধাবিত হয়েছি যা তাদের মাযহাবের প্রকৃত রূপ প্রকাশ করে না, এবং আমরা সেগুলো গ্রহণ করছি।
বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষা এবং উদ্ধৃতি ও সূত্রায়নের ক্ষেত্রে যথাযথ সূক্ষ্মতার প্রয়োজনে আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে "আক্ষরিক" উদ্ধৃতির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছি; আর প্রতিপক্ষের বক্তব্য উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এটিই অপরিহার্য করে।
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ২৫)
خطة البحث:
يتكون هذا البحث من: تمهيد، وخمسة أبواب.
في التمهيد: التعريف بالشيعة، ونشأتها، وجذورها التاريخية، وفرقها، وألقاب الاثني عشرية، وفرقها.
أما الباب الأول: فموضوعه: اعتقادهم في مصادر الإسلام، وينتظم في ثلاثة فصول:
الفصل الأول: اعتقادهم في القرآن.
الفصل الثاني: اعتقادهم في السنة.
الفصل الثالث: اعتقادهم في الإجماع.
وفي الباب الثاني: درست اعتقادهم في أصول الدين في فصول أربعة:
الفصل الأول: اعتقادهم في توحيد الألوهية.
الفصل الثاني: اعتقادهم في توحيد الربوبية.
الفصل الثالث: اعتقادهم في توحيد الأسماء والصفات.
الفصل الرابع: اعتقادهم في الإيمان وأركانه.
أما الباب الثالث: فهو يتعلق بعقائدهم وأصولهم التي تفردوا بها.
ودرست فيه عقائدهم التالية:
1- الإمامية، وفيها عرضت لعقيدتهم في الصحابة، وأهل البيت، وحكام المسلمين، وقضاتهم، وعلمائهم، والأمصار الإسلامية وشعوبها، والفرق الإسلامية، والأمة.
2- العصمة.
3- التقية.
4- المهدية والغيبة.
5- الرجعة.
গবেষণা পরিকল্পনা:
এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা এবং পাঁচটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত।
ভূমিকায় রয়েছে: শিয়াদের পরিচয়, তাদের উদ্ভব, তাদের ঐতিহাসিক শিকড়, তাদের বিভিন্ন দল, দ্বাদশী শিয়াদের উপাধি এবং তাদের উপদলসমূহ।
প্রথম অধ্যায়: এর বিষয়বস্তু হলো ইসলামের উৎসসমূহের ব্যাপারে তাদের বিশ্বাস। এটি তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইজমা সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে: আমি দ্বীনের মূলনীতিসমূহের ব্যাপারে তাদের বিশ্বাস নিয়ে চারটি পরিচ্ছেদে আলোচনা করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত (নাম ও গুণাবলির একত্ব) সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ঈমান ও এর রোকনসমূহ সম্পর্কে তাদের বিশ্বাস।
তৃতীয় অধ্যায়: এটি তাদের সেইসব আকিদা ও মূলনীতি সংশ্লিষ্ট যেগুলোতে তারা স্বতন্ত্র।
এতে আমি তাদের নিম্নোক্ত আকিদাসমূহ আলোচনা করেছি:
১- ইমামত: এতে আমি সাহাবায়ে কেরাম, আহলে বাইত, মুসলিম শাসকবর্গ, তাদের বিচারক, উলামায়ে কেরাম, ইসলামি জনপদ ও তার জনগণ, বিভিন্ন ইসলামি দল এবং উম্মাহ সম্পর্কে তাদের আকিদা উপস্থাপন করেছি।
২- ইসমত (নিষ্পাপত্ব)।
৩- তাকিয়্যা।
৪- মাহদীয়্যা এবং গয়িবাত (অন্তর্ধান)।
৫- রাজ'আত (প্রত্যাবর্তন)।
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ২৬)
6- الظهور.
7- البداء.
8- الطينة.
أما الباب الرابع: فهو يتصل بالشيعة المعاصرين وصلتهم بأسلافهم، ويقع في أربعة فصول:
الفصل الأول: صلتهم بمصادرهم القديمة.
الفصل الثاني: صلتهم بفرقهم القديمة.
الفصل الثالث: الصلة العقدية بين القدامى والمعاصرين.
الفصل الرابع: دولة الآيات.
أما الباب الخامس: فهو يتعلق بالحكم عليهم، وأثرهم في العالم الإسلامي، ويتكون من فصلين:
الفصل الأول: الحكم عليهم.
الفصل الثاني: أثرهم في العالم الإسلامي.
ومن ثم الخاتمة؛ وفيها عرض لأهم النتائج التي توصل إليها البحث.
وفي ختام هذه المقدمة أدعو الله العلي القدير أن يغفر لشيخي وأستاذي الدكتور/ محمد رشاد سالم (1) ، وأن ينزل عليه الرحمة والرضوان، ويتغمده بواسع عفوه وغفرانه، ويسكنه فسيح جناته، فقد تابع الرسالة منذ مراحلها الأولى إلى
--------------------------------------------
৬- প্রকাশ (আল-জুহুর)।
৭- আল-বাদা।
৮- আত-ত্বীনাহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এটি সমকালীন শিয়া এবং তাদের পূর্বসূরিদের সাথে তাদের সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং এটি চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত:
প্রথম অধ্যায়: তাদের প্রাচীন উৎসসমূহের সাথে তাদের সম্পর্ক।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাদের প্রাচীন দলগুলোর সাথে তাদের সম্পর্ক।
তৃতীয় অধ্যায়: প্রাচীন ও সমকালীনদের মধ্যকার আকিদাগত সম্পর্ক।
চতুর্থ অধ্যায়: আয়াতুল্লাহদের রাষ্ট্র।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: এটি তাদের ওপর হুকুম আরোপ এবং মুসলিম বিশ্বে তাদের প্রভাবের সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং এটি দুটি অধ্যায়ে গঠিত:
প্রথম অধ্যায়: তাদের ওপর হুকুম।
দ্বিতীয় অধ্যায়: মুসলিম বিশ্বে তাদের প্রভাব।
অতঃপর উপসংহার; এতে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই ভূমিকার শেষে আমি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার শায়খ ও উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মদ রাশাদ সালিম (১)-কে ক্ষমা করে দেন, তাঁর ওপর রহমত ও সন্তুষ্টি বর্ষণ করেন, তাঁকে তাঁর প্রশস্ত ক্ষমা ও মার্জনার আবরণে ঢেকে নেন এবং তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকামে স্থান দান করেন; তিনি এই গবেষণাপত্রটি এর প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে... পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أن وصلت إلى مشارف النهاية، وأذن لي ببدء طبعها، ثم رحل عن هذه الدنيا رحمه الله رحمة واسعة - وقد أفدت من توجيهه وعلمه، وغمرني بفضله وخلقه.
وقد قضى رحمه الله حياته في العلم والجهاد، وابتلي بالسجن مرتين، وترك آثاراً عظيمة النفع، وكان رحمه الله يؤمل أن يقيم مع تلامذته في القسم ما يسميه "مكتبة أهل السنة" وتتولى التعاون في إخراج كتب التراث في العقيدة، والتأليف في اعتقاد أهل السنة، والرد على الفرق الخارجة عن الجماعة.
وأسأل الله سبحانه أن يجزيه على نيته وعمله خير الجزاء، وأن يحقق آماله في تلامذته ليواصلوا الطريق بعده.
وأتوجه بالشكر والتقدير والعرفان بالجميل إلى شيخي الأستاذ الدكتور/ سالم بن عبد الله الدخيل، الذي وافق على استكمال الإشراف على الرسالة، وراجع مرحلها، وتابع خطواتها الأخيرة، واطمأن على سيرها.
وكانت توجيهاته وآراؤه خير رافد ومعين.
وأتقدم بأزكى الشكر وأطيبه لكلية أصول الدين ممثلة في عميدها ومجلسها، ولقسم العقيدة رئيساً وأعضاءً لرعايتهم للبحث، ومتابعة خطواته فجزاهم الله خير الجزاء.
وأدعو الله سبحانه أن يجزي بالخير كل من قدّم لي مساعدة في هذه الرسالة.. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
والحمد لله أولاً وأخرًا.
যখন আমি সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালাম এবং তিনি আমাকে এটি মুদ্রণ শুরু করার অনুমতি দিলেন, তখন তিনি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন - আল্লাহ তাকে প্রশস্ত রহমত দান করুন। আমি তার নির্দেশনা ও জ্ঞান থেকে উপকৃত হয়েছি এবং তিনি তার অনুগ্রহ ও চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে আমাকে সিক্ত করেছেন।
তিনি, আল্লাহ তাকে রহমত করুন, তার জীবন জ্ঞান ও জিহাদের পথে অতিবাহিত করেছেন এবং দুইবার কারাবরণ করে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি অত্যন্ত কল্যাণকর বহু অবদান রেখে গেছেন। তিনি আশা পোষণ করতেন যে, বিভাগের ছাত্রদের সাথে নিয়ে তিনি এমন কিছু গড়ে তুলবেন যাকে তিনি "মাকতাবাতু আহলুস সুন্নাহ" নামে অভিহিত করতেন। এটি আকীদা বিষয়ক প্রাচীন শাস্ত্রীয় গ্রন্থসমূহ প্রকাশে, আহলুস সুন্নাহর বিশ্বাস অনুসারে গ্রন্থ রচনায় এবং জামায়াত থেকে বিচ্যুত দলগুলোর খণ্ডন করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাকে তার নিয়ত ও কর্মের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তার ছাত্রদের মাঝে তার সেই আশাগুলো পূরণ করেন, যাতে তারা তার পরে এই পথ চলা অব্যাহত রাখতে পারে।
আমি আমার শাইখ প্রফেসর ডক্টর সালিম বিন আব্দুল্লাহ আদ-দাখিলের প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও সকৃতজ্ঞ স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি, যিনি এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধান সম্পন্ন করতে সম্মত হয়েছিলেন, এর বিভিন্ন পর্যায়সমূহ পর্যালোচনা করেছেন, এর শেষ পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করেছেন এবং এর গতিপ্রকৃতি নিয়ে নিশ্চিন্ত হয়েছেন।
তার দিকনির্দেশনা ও মতামত ছিল সর্বোত্তম সহায়ক ও সাহায্যকারী।
আমি উসুলুদ্দীন অনুষদ, বিশেষত এর ডিন ও অনুষদীয় পরিষদ এবং আকীদা বিভাগের প্রধান ও সদস্যদের প্রতি আমার অশেষ ও পবিত্রতম শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি এই গবেষণার প্রতি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও এর পদক্ষেপসমূহ পর্যবেক্ষণের জন্য; আল্লাহ তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন সেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে কল্যাণের মাধ্যমে পুরস্কৃত করেন যারা আমাকে এই গবেষণাপত্র প্রস্তুত করতে সাহায্য করেছেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর প্রতি আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আদি ও অন্তে।
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تمهيد:ويشتمل على:
1- التعريف اللغوي للفظ الشيعة.
2- لفظ الشيعة في القرآن ومعناه.
3- لفظ الشيعة في السنة ومعناه.
4- لفظ الشيعة ومعناه في كتب الحديث عند الاثني عشرية.
5- لفظ الشيعة في التاريخ.
6- تعريف الشيعة في كتب الاثني عشرية.
7- تعريف الشيعة في كتب الإسماعيلية.
8- تعريف الشيعة في المصادر الأخرى.
9- التعريف المختار للشيعة.
10- نشأة الشيعة.
11- فرق الشيعة.
12- ألقاب الشيعة الإمامية الاثني عشرية.
13- فرق الاثني عشرية.
উপক্রমণিকা:এবং এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
১- শিয়া শব্দের শাব্দিক সংজ্ঞা।
২- কুরআনে শিয়া শব্দ এবং এর অর্থ।
৩- সুন্নাহতে শিয়া শব্দ এবং এর অর্থ।
৪- ইসনা আশারিয়াদের হাদীস গ্রন্থে শিয়া শব্দ এবং এর অর্থ।
৫- ইতিহাসে শিয়া শব্দ।
৬- ইসনা আশারিয়াদের কিতাবসমূহে শিয়ার সংজ্ঞা।
৭- ইসমাইলিয়াদের কিতাবসমূহে শিয়ার সংজ্ঞা।
৮- অন্যান্য উৎসসমূহে শিয়ার সংজ্ঞা।
৯- শিয়ার নির্বাচিত সংজ্ঞা।
১০- শিয়াদের উদ্ভব।
১১- শিয়াদের উপদলসমূহ।
১২- ইমামী ইসনা আশারিয়া শিয়াদের উপাধিগুলো।
১৩- ইসনা আশারিয়াদের উপদলসমূহ।
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ৩০)
تعريف الشيعةالتعريف اللغوي:
يقول ابن دريد (المتوفى سنة 321هـ) : "فلان من شيعة فلان أي: ممن يرى رأيه، وشيعت الرجل على الأمر تشييعاً إذا أعنته عليه، وشايعت الرجل على الأمر مشايعة وشياعاً إذا مالأته عليه" (1) .
وقال الأزهري (المتوفى سنة 370هـ) : "والشيعة أنصار الرجل وأتباعه وكل قوم اجتمعوا على أمرهم شيعة. والجماعة شيع وأشياع، والشيعة: قوم يهوون هوى عترة النبي محمد صلى الله عليه وسلم ويوالونهم.
وشيّعت النار تشييعاً إذا لقيت عليها ما تذكيها به، ويقال: شيعت فلاناً أي: خرجت معه لأودعه، ويقال: شيعنا شهر رمضان بست من شوال أي: أتبعناه بها.. وتقول العرب: آتيك غداً، أو شَيعَهُ أي: اليوم الذي يتبعه، والشيعة التي يتبع بعضهم بعضاً، والشيع الفرق الذي يتبع بعضهم بعضاً وليس كلهم متفقين" (2) .
وقال الجوهري (المتوفى سنة 40هـ) : "تشيّع الرجل أي: ادعى دعوى الشيعة، وكل قوم أمرهم واحد يتبع بعضهم رأي بعض فهم شِيَع قال ذو الرُّمة: استحدث الركب عن أشياعهم خبراً (3) .
يعني عن أصحابهم" (4) .
--------------------------------------------
শিয়াদের পরিচয়শাব্দিক সংজ্ঞা:
ইবন দুরিদ (মৃত ৩২১ হিজরি) বলেন: "অমুক ব্যক্তি অমুকের শিয়া, অর্থাৎ: যারা তার মতাদর্শ পোষণ করে। আমি কোনো কাজে ব্যক্তিকে 'তাশয়ী' করেছি যখন আমি তাকে সে কাজে সাহায্য করেছি। আর আমি কোনো বিষয়ে কোনো ব্যক্তির সাথে 'মাশায়াআ' করেছি যখন আমি তার সাথে একাত্ম হয়েছি।" (১)।
আল-আজহারি (মৃত ৩৭০ হিজরি) বলেন: "শিয়া হলো কোনো ব্যক্তির সাহায্যকারী ও অনুসারীগণ। আর যেকোনো জনসমষ্টি যারা কোনো বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয় তারাই শিয়া। এর বহুবচন হলো 'শিয়াতুন' ও 'আশইয়া'। আর শিয়া হলো এমন এক সম্প্রদায় যারা নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বংশধরদের ভালোবাসে এবং তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে।
আর আমি আগুনে 'তাশয়ী' করেছি যখন আমি তাতে এমন কিছু নিক্ষেপ করেছি যা তাকে প্রজ্জ্বলিত করে। বলা হয়: আমি অমুককে 'তাশয়ী' করেছি অর্থাৎ তাকে বিদায় জানাতে তার সাথে বের হয়েছি। আরও বলা হয়: আমরা রমজান মাসকে শওয়ালের ছয়টি রোজা দ্বারা 'তাশয়ী' করেছি অর্থাৎ আমরা সেগুলোকে রমজানের অনুগামী করেছি। আর আরবরা বলে: আমি তোমার কাছে আগামীকাল অথবা তার 'শিয়া' আসব অর্থাৎ তার পরবর্তী দিন। শিয়া হলো তারা যারা একে অপরকে অনুসরণ করে। আর 'শিয়াহ' হলো এমন সব দল যারা একে অপরকে অনুসরণ করে, যদিও তারা সবাই সব বিষয়ে একমত নয়।" (২)।
আল-জাওহারি (মৃত ৪০ হিজরি) বলেন: "কোনো ব্যক্তি 'তাশায়্যা'আ' করেছে অর্থাৎ সে শিয়াদের দাবি করেছে। আর যে কোনো গোষ্ঠী যাদের আদর্শ অভিন্ন এবং একে অপরের মত অনুসরণ করে তারাই হলো 'শিয়াহ'। কবি যুর রুম্মাহ বলেছেন: আরোহী দলটি তাদের 'আশইয়া'দের থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেছে (৩)।
অর্থাৎ তাদের সাথীদের থেকে।" (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقال ابن منظور (المتوفى سنة 711هـ) : "والشيعة أتباع الرجل وأنصاره، وجمعها شِيَعٌ، وأشياع جمع الجمع، وأصل الشيعة: الفرقة من الناس، ويقع على الواحد والاثنين والجمع والمذكور والمؤنث بلفظ واحد ومعنى واحد، وقد غلب هذا الاسم على من يتولى علياً وأهل بيته، حتى صار لهم اسماً خاصاً، فإذا قيل: فلان من الشيعة عرف أنه منهم، وفي مذهب الشيعة كذا أي: عندهم، وأصل ذلك من المشايعة وهي المتابعة والمطاوعة.
والشيعة: قوم يرون رأي غيرهم، وتشايع القوم صاروا شيعاً، وشيّع الرجل إذا ادعى دعوى الشّيعة، وشايعه شياعاً وشيّعه تابعه، ويقال: فلان يشايعه على ذلك أي: يقويه" (1) .
وقال الزبيدي (المتوفى سنة 1205هـ) : "كل من عاون إنساناً وتحزب له فهو له شيعة، وأصل الشيعة من المشايعة وهي المتابعة، وقيل: عين الشيعة واو من شوع قومه إذا جمعهم. وقد غلب هذا الاسم (الشيعة) على كل من يتولى علياً وأهل بيته.. وهم أمة لا يحصون، مبتدعة، وغلاتهم الإمامية المنتظرية يسبون الشيخين، وغلاة غلاتهم يكفرون الشيخين، ومنهم من يرتقي إلى الزندقة" (2) .
فالشيعة، والتشيع، والمشايعة في اللغة تدور حول معنى المتابعة، والمناصرة، والموافقة بالرأي، والاجتماع على الأمر، أو الممالأة عليه. ثم غلب هذا الاسم - كما يقوله صاحب اللسان، والقاموس، وتاج العروس - على كل من يتولى علياً وأهل بيته. وهذه الغلبة.. محل نظر؛ لأنه إذا تأمل الباحث في المعنى اللغوي للشيعة والذي يدل على المتابعة، والمناصرة، ثم نظر إلى أكثر فرق الشيعة التي غلب إطلاق هذا الاسم عليها يجد أنه لا يصح تسميتها بالشيعة من الناحية اللغوية؛ لأنها غير متابعة لأهل البيت على الحقيقة بل هي مخالفة لهم ومجافية لطريقتهم..
ولعل هذا ما لاحظه
--------------------------------------------
ইবন মঞ্জুর (মৃত্যু ৭১১ হিজরি) বলেছেন: "শিয়া অর্থ হলো কোনো ব্যক্তির অনুসারী ও সাহায্যকারী। এর বহুবচন হলো 'শিয়া' এবং বহুবচনের বহুবচন হলো 'আশয়া'। শিয়া শব্দের মূল অর্থ হলো মানুষের দল। এটি একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন এবং পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ—সকল ক্ষেত্রে একই শব্দ ও একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। এই নামটি প্রধানত তাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে যারা আলী এবং তাঁর আহলে বাইতের প্রতি আনুগত্য পোষণ করে, এমনকি এটি তাদের জন্য একটি বিশেষ নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং যখন বলা হয়, অমুক ব্যক্তি শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত, তখন বোঝা যায় যে তিনি তাদেরই একজন। আর শিয়াদের মাযহাবে এমনটি আছে—এর অর্থ হলো তাদের নিকট এমনটি আছে। এর মূল উৎস হলো 'মুশায়ায়াহ' থেকে, যার অর্থ হলো অনুসরণ ও আনুগত্য করা।
শিয়া: এমন এক সম্প্রদায় যারা অন্যদের মতাদর্শ গ্রহণ করে। আর 'তাশায়ায়াল কওমু' অর্থ হলো তারা দলে দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল। কোনো ব্যক্তি শিয়াদের দাবি করলে বলা হয় 'শায়্যায়াহুর রাজুলু'। 'শায়্যায়াহু' মানে সে তার অনুসরণ করল। বলা হয়: অমুক তাকে এ বিষয়ে 'ইউশায়িউহু' করছে, অর্থাৎ তাকে শক্তিশালী করছে।" (১)।
আর জুবাইদি (মৃত্যু ১২০৫ হিজরি) বলেছেন: "যে কেউ কোনো মানুষকে সাহায্য করে এবং তার দলভুক্ত হয়, সে-ই তার শিয়া। শিয়া শব্দের মূল হলো 'মুশায়ায়াহ' থেকে, যার অর্থ হলো অনুসরণ। বলা হয়েছে যে, শিয়া শব্দের মূল বর্ণ 'ওয়াও' থেকে এসেছে যা তার কওমকে একত্রিত করার অর্থ প্রকাশ করে। এই নামটি (শিয়া) প্রধানত তাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে যারা আলী ও তাঁর আহলে বাইতের প্রতি আনুগত্য পোষণ করে। তারা এক অগণিত জাতি, বিদআতি; তাদের চরমপন্থীরা হলো ইমামিয়্যাহ মুনতাযারিয়্যাহ যারা শায়খাইনকে গালি দেয় এবং অতি চরমপন্থীরা শায়খাইনকে কাফির বলে, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ যিন্দিক পর্যন্ত হয়ে যায়।" (২)।
সুতরাং আভিধানিক অর্থে শিয়া, তাশাইয়ু এবং মুশায়ায়াহ মূলত অনুসরণ, সহযোগিতা, মতাদর্শের মিল, কোনো বিষয়ে একজোট হওয়া বা কোনো কিছুর ওপর একমত হওয়াকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এরপর এই নামটি—যেমনটি লিসানুল আরব, কামুস এবং তাজুল আরুস-এর রচয়িতারা বলেছেন—আলী ও তাঁর আহলে বাইতের প্রতি আনুগত্য পোষণকারীদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে। তবে এই প্রাধান্য লাভের বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে; কারণ গবেষক যখন শিয়া শব্দের আভিধানিক অর্থের প্রতি দৃষ্টি দেন যা অনুসরণ ও সাহায্য করাকে বোঝায়, এবং তারপর সেই অধিকাংশ শিয়া উপদলগুলোর দিকে তাকান যাদের ওপর এই নামের প্রয়োগ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তখন তিনি দেখতে পান যে আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের শিয়া নামকরণ করা সঠিক নয়; কারণ তারা প্রকৃতপক্ষে আহলে বাইতের অনুসারী নয়, বরং তারা তাদের বিরোধী এবং তাদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত।
সম্ভবত এটিই তিনি লক্ষ্য করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসূলু মাযহাবিশ শীয়াতিল ইমামিয়াতিল ইছনা আশারিয়্যাহ - আরদুন ওয়া নাকদুন -
(পৃষ্ঠা: ৩২)
شريك بن عبد الله حينما سأله سائل: أيهما أفضل أبو بكر أو علي؟ فقال له: أبو بكر. فقال السائل: تقول هذا وأنت شيعي! فقال له: نعم من لم يقل هذا فليس شيعياً، الله لقد رقي هذه الأعواد علي، فقال: ألا إن خير هذه الأمة بعد نبيها أبو بكر، ثم عمر، فكيف نرد قوله، وكيف نكذبه؟ والله ما كان كذاباً (1) .
فالإمام شريك لاحظ أن غير المتابع لعلي لا يستحق اسم التشيع، لأن معنى التشيع وحقيقته المتابعة.. ولهذا آثر بعض الأئمة أن يطلق عليهم اسم الرافضة (2) .
وقد لجأ المتابعون لأهل البيت على الحقيقة، والذين كانوا يلقبون بالشيعة، لجأوا إلى ترك هذا اللقب لما غلب إطلاقه على أهل البدع المخالفين لأهل البيت، كما يشير صاحب التحفة الاثني عشرية إلى ذلك فيقول: إن الشيعة الأولى تركوا اسم الشيعة لما صار لقباً للروافض والإسماعيلية، ولقبوا أنفسهم بـ "أهل السنة والجماعة" (3) .
لفظ الشيعة في القرآن ومعناه:ومادة شيع وردت في كتاب الله العظيم في اثني عشر موضعاً (4) ، وقد أجمل ابن الجوزي (5) . معانيها بقوله: "وذكر أهل التفسير أن الشيع في القرآن على أربعة أوجه:
--------------------------------------------
শারীক ইবন আব্দুল্লাহকে যখন একজন প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করল: আবু বকর এবং আলীর মধ্যে কে বেশি উত্তম? তখন তিনি তাকে বললেন: আবু বকর। প্রশ্নকারী বলল: আপনি শিয়া হয়েও এ কথা বলছেন! তিনি তাকে বললেন: হ্যাঁ, যে ব্যক্তি এ কথা বলে না সে শিয়া নয়। আল্লাহর কসম, আলী এই মিম্বরের কাষ্ঠখণ্ডের ওপর আরোহণ করে বলেছিলেন: "জেনে রেখো, তাঁর নবীর পর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আবু বকর, তারপর উমর।" সুতরাং আমরা কীভাবে তাঁর কথা প্রত্যাখ্যান করি এবং কীভাবে তাঁকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করি? আল্লাহর কসম, তিনি কোনোদিন মিথ্যাবাদী ছিলেন না (১)।
সুতরাং ইমাম শারীক লক্ষ্য করেছেন যে, যে ব্যক্তি আলীর প্রকৃত অনুসারী নয় সে 'তাশায়িউ' (শিয়া হওয়া) নামের যোগ্য নয়, কারণ তাশায়িউ-এর অর্থ ও প্রকৃত রূপ হলো অনুসরণ করা। এই কারণেই কোনো কোনো ইমাম তাদের ওপর 'রাফেজা' নাম প্রয়োগ করা পছন্দ করেছেন (২)।
আর আহলে বাইতের প্রকৃত অনুসারীরা, যারা 'শিয়া' উপাধিতে ভূষিত ছিলেন, তাঁরা এই উপাধি বর্জন করার পথ বেছে নিয়েছিলেন যখন এই নামের প্রয়োগ আহলে বাইতের বিরোধী বিদআতিদের ওপর প্রবল হয়ে উঠল। যেমনটি 'তুহফায়ে ইসনা আশারিয়া'র লেখক ইঙ্গিত করে বলেন: প্রথম যুগের শিয়ারা 'শিয়া' নাম পরিত্যাগ করেছিলেন যখন এটি রাফেজি ও ইসমাইলিদের উপাধিতে পরিণত হয়েছিল, এবং তারা নিজেদেরকে "আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত" উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন (৩)।
কুরআনে 'শিয়া' শব্দ এবং এর অর্থ:আর 'শিয়া' (শিন-ইয়া-আইন) মূল শব্দটি মহান আল্লাহর কিতাবে বারোটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে (৪), এবং ইবনুল জাওযী (৫) এর অর্থসমূহ সংক্ষেপে এভাবে ব্যক্ত করেছেন: "মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেছেন যে, কুরআনে 'শিয়া' শব্দটি চারটি অর্থে এসেছে:
--------------------------------------------