(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: -)
الإعجاز البياني للقرآن ومسائل ابن الأزرق (عائشة عبد الرحمن بنت الشاطئ)
القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: الإعجاز البياني للقرآن ومسائل ابن الأزرق
المؤلف: عائشة محمد علي عبد الرحمن المعروفة ببنت الشاطئ (ت 1419هـ)
الناشر: دار المعارف
الطبعة: الثالثة
عدد الصفحات: 603
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কোরআনের আলঙ্কারিক অলৌকিকত্ব এবং ইবনুল আজরাকের মাসয়ালাসমূহ (আয়েশা আবদুর রহমান বিনতে শাতী)
বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং উসূলে তাফসীর
কিতাব: কোরআনের আলঙ্কারিক অলৌকিকত্ব এবং ইবনুল আজরাকের মাসয়ালাসমূহ
লেখক: আয়েশা মুহাম্মদ আলী আবদুর রহমান, যিনি বিনতে শাতী নামে পরিচিত (মৃত্যু ১৪১৯ হি.)
প্রকাশনী: দারুল মাআরিফ
সংস্করণ: তৃতীয়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬০৩
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ই জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيمالكتاب: الإعجاز البياني للقرآن ومسائل ابن الأزرقالمؤلف: د. عائشة عبد الرحمن (بنت الشاطئ)الناشر: دار المعارفالطبعة: الثالثةعدد الأجزاء: 1[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]جَزَى اللَّهُ كَاتِبَهُ وَمَنْ تَحَمَّلَ نَفَقَةَ الْكِتَابَةِ خَيرَ الجَزَاءِ وَأَوفَاهُ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।বই: কুরআনের আলঙ্কারিক অলৌকিকত্ব ও ইবনে আল-আযরাকের মাসআলাসমূহলেখক: ড. আয়েশা আবদুর রহমান (বিনতে আশ-শাতি)প্রকাশক: দারুল মাআরিফসংস্করণ: তৃতীয়খণ্ড সংখ্যা: ১[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]আল্লাহ এর লেখক এবং যিনি এর রচনার ব্যয়ভার বহন করেছেন তাদেরকে সর্বোত্তম ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৭)
الإهداءإلى شيخي الوالد، العالم العارف القدوة، الشيخ: عليّ عبد الرحمنإلى أستاذى الإمام: أمين الخولىفى قلوبنا وضمائرنا وعقولناوإلى تلاميذى الزملاء الأصدقاء:طلاب جامعة القرويينأهدى هذه الدراسة القرآنيةنقلا لرسالة العلم من جيل إلى جيلعائشة عبد الرحمن.
উৎসর্গআমার পিতৃতুল্য শায়খ, আলিম, আরিফ এবং আদর্শ ব্যক্তিত্ব, শায়খ: আলী আব্দুর রহমানের প্রতিআমার উস্তাদ আল-ইমাম: আমিন আল-খুলির প্রতিআমাদের হৃদয়ে, বিবেকে এবং চিন্তায়এবং আমার ছাত্র, সহকর্মী ও বন্ধুদের প্রতি:আল-কারাওয়্যিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দআমি এই কুরআনকেন্দ্রিক গবেষণাটি উৎসর্গ করছিএক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ইলমের পয়গাম পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেআয়েশা আব্দুর রহমান।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৯)
دليلالجزء الأول: الإعجاز البياني- مدخل: خطوات على الطريق.* المبحث الأول- المعجزة.- الجدل والتحدى، آيات المعاجزة.- وجوه الإعجاز والبيان القرآني.- البلاغيون والإعجاز.* المبحث الثاني: دراسة استقرائية.- فواتح السور، وسرُّ الحرف.- دلالات الألفاظ، وسر الكلمة.- الأسلوب وسر التعبير.* الجزء الثاني: مسائل ابن الأزرق- فى المطبوعات، والمخطوطات.- المسائل: نص ودراسة.- خاتمة.الفهارس.
নির্দেশিকাপ্রথম অংশ: ভাষাগত অলৌকিকতা- ভূমিকা: পথের কিছু পদক্ষেপ।* প্রথম পরিচ্ছেদ- মু’জিযা (অলৌকিক ঘটনা)।- বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ, মু’জিযার আয়াতসমূহ।- আল-কুরআনের অলৌকিকতার দিকসমূহ ও বর্ণনাশৈলী।- অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এবং অলৌকিকতা।* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আরোহী পদ্ধতিতে গবেষণা।- সূরার প্রারম্ভিক বর্ণসমূহ এবং অক্ষরের রহস্য।- শব্দের অর্থদ্যোতনা এবং শব্দের রহস্য।- বর্ণনাভঙ্গি এবং প্রকাশের রহস্য।* দ্বিতীয় অংশ: ইবনুল আজরাকের মাসআলাসমূহ- মুদ্রিত সংস্করণ ও পাণ্ডুলিপিসমূহে।- মাসআলাসমূহ: মূল পাঠ ও পর্যালোচনা।- উপসংহার।নির্ঘণ্টসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ১১)
فاتحة:ْلولا نسب لى فى الشيوخ عريق، لتهيبت التصدى لهذا الموضوع الدقيقالصعب الذى توارد عليه أئمة من علماء السلف أفنوا أعمارهم فى خدمةالقرآن الكريم، وقدموا إلى المكتبة الإسلامية ثمار جهودهم السخية الباذلة.ولولا ما أعلم من مكانة جليلة للمرأة المسلمة فى تاريخنا، لأحجمت عنالتقدم إلى هذا الميدان الجليل، إشفاقا من أن يُنكر مكاني فيه. . .مع الكتاب المعجزة عشت عمرى كله، وفي المدرسة القرآنية كانت تلمذتيالطويلة التي تولاها أبي فى مراحلها الأولى. وإليها انتهى تخصصى فى الدراسة- العليا التى وجهنى إليها أستاذى الإمام "أمين الخولى"، وظل لمدى ثلث قرنيقود خطاي على الطريق الشاق، ويحمينى من عثرة الرأى ومزالق التأويلوسطحية النظر، ويأخذني بضوابط منهجه الدقيق الصارم الذى لا يجيز لنا أننفسر كلمة من كلمات الله تعالى دون استقراء لمواضع ورودها بمختلف صيغها فى الكتاب المحكم، ولا أن نتناول موضوغا قرآنيا أوظاهرة من ظواهرهالأسلوبية، دون اسيعاب لنظائرها وتدبر سياقها الخاص فى الآية والسورة،وسياقها العام فى القرآن كله.***وقد شغلتني قضية الإعجار البياني دون أن أتجه إليها قصدا: فأثناء اشتغالىبالتفسير البياني والدراسات القرآنية، تجلى لي من أسراره الباهرة ما لفتنى إلىموقف العرب الأصلاء من المعجزة القرآنية فى عصر المبعث، ووجهنى إلىمحاولة منهجية في فهم عجزهم عن الإتيان بسورة من مثل هذا القرآن، وقدتحداهم أن يفعلوا، والعربية لغته ولغتهم، والبيان طوع ألسنتهم.وهم لا ريب قد أدركوا من أسرار إعجازه البياني، ما أياسهم من محاولة
ভূমিকা:যদি শাইখ ও মনীষীদের সাথে আমার সুদীর্ঘ ও গভীর যোগসূত্র না থাকত, তবে এই সূক্ষ্ম বিষয়টি মোকাবিলা করতে আমি দ্বিধাবোধ করতাম।এটি এমন এক কঠিন বিষয় যাতে সালাফ উলামায়ে কেরামের ইমামগণ নিয়োজিত ছিলেন, যাঁরা পবিত্র কুরআনের খিদমতে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং ইসলামি গ্রন্থাগারে তাঁদের অকৃপণ ও ত্যাগী প্রচেষ্টার ফলসমূহ উপঢৌকন দিয়েছেন।আর আমাদের ইতিহাসে মুসলিম নারীর যে গৌরবময় মর্যাদার কথা আমি জানি, তা যদি না থাকত, তবে আমি এই মহান ময়দানে অগ্রসর হতে কুণ্ঠিত হতাম, এই আশঙ্কায় যে—এখানে আমার অবস্থানকে হয়তো অস্বীকার করা হবে...এই মুজেযা স্বরূপ কিতাবের সাথেই আমি আমার সারা জীবন অতিবাহিত করেছি, আর কুরআনিক মাদরাসাতেই ছিল আমার দীর্ঘ ছাত্রজীবন, যার প্রাথমিক পর্যায়ে আমার পিতা আমাকে তত্ত্বাবধান করেছিলেন। এবং এখানেই উচ্চতর গবেষণায় আমার বিশেষত্বের সমাপ্তি ঘটে, যেদিকে আমার উস্তাদ ইমাম "আমীন আল-খুলি" আমাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।তিনি দীর্ঘ এক-তৃতীয়াংশ শতাব্দী ধরে এই বন্ধুর পথে আমার পদক্ষেপগুলোকে পরিচালিত করেছেন এবং আমাকে চিন্তাগত পদস্খলন, অপব্যাখ্যার পিচ্ছিল পথ ও অগভীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রক্ষা করেছেন।তিনি আমাকে তাঁর সেই সূক্ষ্ম ও কঠোর পদ্ধতির নিয়মনীতিতে আবদ্ধ রাখতেন, যা আমাদের জন্য মহান আল্লাহর কোনো বাণীর ব্যাখ্যা করা ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ করে না, যতক্ষণ না সুসংবদ্ধ কিতাবে (কুরআনে) বিভিন্নরূপে আসা শব্দটির প্রয়োগস্থলগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করা হয়।কিংবা কোনো কুরআনিক বিষয় বা এর বর্ণনাশৈলীর কোনো বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করাও ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ নয়, যতক্ষণ না এর সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলো অনুধাবন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আয়াত ও সূরার বিশেষ প্রেক্ষাপট ও পূর্ণ কুরআনের সাধারণ প্রেক্ষাপট নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করা হয়।***বর্ণনাশৈলীর অলৌকিকত্বের (আল-ইজায আল-বায়ানি) বিষয়টি আমাকে আবিষ্ট করে রেখেছিল, যদিও আমি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেদিকে ধাবিত হইনি: বর্ণনাশৈলী ভিত্তিক তাফসির ও কুরআনিক গবেষণায় মগ্ন থাকাকালীন এর চমৎকার সব রহস্য আমার নিকট প্রতিভাত হয়, যা রিসালাতের যুগে কুরআনের মুজেযার প্রতি খাঁটি আরবদের অবস্থানের দিকে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।এবং এটি আমাকে তাদের সেই অক্ষমতা বোঝার এক পদ্ধতিগত প্রচেষ্টার দিকে পরিচালিত করে—যাতে তারা এই কুরআনের মতো একটি সূরা নিয়ে আসতেও ব্যর্থ হয়েছিল; অথচ কুরআন তাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল, আর আরবি ভাষা ছিল কুরআনের ও তাদের নিজেদের ভাষা এবং বাগ্মিতা ও বর্ণনাশৈলী ছিল তাদের জিহ্বার অনুগত।নিঃসন্দেহে তারা এর বর্ণনাশৈলীর অলৌকিক রহস্যসমূহ এমনভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিল, যা তাদের যে কোনো প্রচেষ্টাকে হতাশায় পর্যবসিত করেছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ১২)
الإتيان بلفظ يقوم مقام اللفظ منه، أو أن يأتوا بآية على غير الوجه الذىجاءت به فى البيان المعجز. . .وهذا هو مجال المحاولة المتواضعة التى أقدمها اليوم فى فهم إعجاز البيانالقرآني، لا أجحد بها جهود السلف الصالح فى خدمة القرآن الكريم، تفسيرًاوإعرابًا وبلاغة وإعجازًا، وقد زودتنى بمعالم هادية على الطريق الذى سرت فيه من حيث انتهت خطواتهم. واثقة أن الأجيال بعدنا حين تبدأ من حيث انتهى بنا الجهد، سوف تجتلى من أسراره الباهرة ما تضيفه إلى عطاء السلفالصالح، رضى الله عنهم.الجزء الأول، في الإعجاز البياني، يجمع خلاصة مما لمحت من أسرارهالباهرة، فى دراساتي القرآنية المنشورة من قبل: وبحوث قدمتها إلىمؤتمرات: المستشرقين بالهند (سنة 1964) والأدباء العرب ببغداد (1965)وندوة علماء الإسلام بالمغرب (1968) وأسبوع القرآن بجامعة أم درمانالإسلامية (1968) ومحاضرات فى الدراسات القرآنية العليا بجامعة القرويين.وأما الجزء الثاني، فمحاولة تطبيقة لمنهج الدرس الاستقرائى للنصالقرآني، بدراسة نحو مائتى مسألة فى كلمات قرآنية، سأل فيها نافع بنالأزرق، عبدَ الله بن عباس رضى الله عنهما، وطلب إليه فى تفسير كل مسألة منها أن يأتي بشاهد له من كلام العرب.قدمتها فى الطبعة الأولى، ولم أكن وقفت على مخطوطات ثلاث للمسائل،بالخزانة الظاهرية بدمشق ودار الكتب المصرية، أتاحت لى فى هذه الطبعة
এমন শব্দ নিয়ে আসা যা এর শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয়, অথবা তারা কোনো আয়াতকে এমনভাবে নিয়ে আসবে যা এর মুজিজাপূর্ণ বর্ণনার পদ্ধতির ব্যতিক্রম...আর এটিই সেই বিনম্র প্রচেষ্টার ক্ষেত্র যা আমি আজ কুরআনের আলঙ্কারিক অলৌকিকতা উপলব্ধির ক্ষেত্রে পেশ করছি। এর মাধ্যমে আমি কুরআনুল কারীমের খিদমতে তাফসির, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র ও অলৌকিকতার ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের প্রচেষ্টাসমূহকে অস্বীকার করছি না, বরং তাদের পদক্ষেপ যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকে আমার যাত্রাপথে তারা আমাকে দিকনির্দেশনামূলক নিদর্শনাবলী দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আমাদের পরের প্রজন্ম যখন আমাদের প্রচেষ্টার সমাপ্তি থেকে শুরু করবে, তখন তারা এর উজ্জ্বল রহস্যসমূহ থেকে এমন কিছু উন্মোচন করবে যা সালাফে সালেহীনের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অবদানে নতুন কিছু যুক্ত করবে।প্রথম খণ্ডটি আলঙ্কারিক অলৌকিকতা বিষয়ক, যা আমার পূর্বে প্রকাশিত কুরআন বিষয়ক গবেষণাসমূহ এবং ভারতে প্রাচ্যবিদদের সম্মেলন (১৯৬৪ সাল), বাগদাদে আরব সাহিত্যিকদের সম্মেলন (১৯৬৫), মরক্কোতে ইসলামি পণ্ডিতদের সেমিনার (১৯৬৮), উম্মে দোরমান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন সপ্তাহ (১৯৬৮) এবং আল-কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর কুরআন গবেষণার লেকচারসমূহে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রসমূহ থেকে আমি যে উজ্জ্বল রহস্যগুলো প্রত্যক্ষ করেছি তার সারসংক্ষেপ সংকলন করে।আর দ্বিতীয় খণ্ডটি হলো কুরআনিক পাঠের আরোহী পদ্ধতির একটি প্রায়োগিক প্রচেষ্টা, যেখানে কুরআনের শব্দের প্রায় দুইশত মাসআলা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যে বিষয়গুলোতে নাফে ইবনে আল-আযরাক আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং প্রতিটি মাসআলার ব্যাখ্যায় তাঁর কাছে আরবদের কথা থেকে প্রমাণ পেশ করার অনুরোধ করেছিলেন।আমি এটি প্রথম সংস্করণে পেশ করেছিলাম, তখন এই মাসআলাগুলোর তিনটি পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে আমার জানা ছিল না, যা দামেস্কের যাহিরিয়া লাইব্রেরি এবং দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে সংরক্ষিত ছিল; সেগুলো এই সংস্করণে আমার জন্য (অধিকতর তথ্য লাভের) সুযোগ করে দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الجديدة أن أعود على بدء فأدرس المسائل بعد بضع عشرة سنة انقطعت فيهالخدمة القرآن، مزودة بما تعلمت وعلَّمت فى هذه المرحلة الأخيرة من عمرى، وما أشرفت عليه من رسائل فى علوم القرآن والحديث والعربية، لطلابالدراسات العليا بجامعات القرويين والأزهر وعين شمس وكلية البناتبالرياض، وما قرأت معهم من ذخائر مخطوطة ومطبوعة، أجدتْ عليَّ مزيدنضج وتثبت، وتواضع وتهيب.والله من وراء القصد، له سبحانه الفضل والمنة، ومنه التوفيق وبهالمستعان.
এই নতুন পর্যায়ে আমি পুনরায় প্রারম্ভিক অবস্থায় ফিরে গিয়ে বিষয়গুলো অধ্যয়ন করছি, দীর্ঘ পনেরো বছর বিরতির পর, যে সময়টি ব্যয়িত হয়েছেকুরআনের খিদমতে; আমার জীবনের এই সাম্প্রতিক পর্যায়ে আমি যা শিখেছি ও শিখিয়েছি এবং উলূমুল কুরআন, হাদীস ও আরবী বিষয়ে যেসব গবেষণাপত্র আমি তত্ত্বাবধান করেছি সেই সব শিক্ষার্থীদেরউচ্চতর গবেষণার জন্য যারা কারাওয়্যিন, আল-আজহার, আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয় ও রিয়াদের গার্লস কলেজেরঅধীনস্থ; আর তাদের সাথে আমি পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কিতাবসমূহের যে অমূল্য জ্ঞানভাণ্ডার পাঠ করেছি, তা আমাকে দান করেছে অধিকতরপরিপক্কতা ও দৃঢ়তা এবং বিনয় ও সতর্কতা।আল্লাহই মূল লক্ষ্য, সমস্ত অনুগ্রহ ও দান তাঁরই; তাওফীক তাঁরই পক্ষ থেকে আসে এবং তাঁর কাছেইসাহায্য চাওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الجزء الأولالإعجاز البياني- مدخل: خطوات على الطريق.- المبحث الأول: المعجزة- الجدل والتحدى- وجوه الإعجاز والبيان القرآني- علماء السلف والإعجاز البياني- المبحث الثاني: محاولة فى فهم الإعجاز البياني
প্রথম খণ্ডভাষাতাত্ত্বিক অলৌকিকতা- ভূমিকা: পথের দিকে কিছু পদক্ষেপ।- প্রথম পরিচ্ছেদ: মুজিজা- বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জ- কুরআনের আল-বয়ান ও অলৌকিকত্বের দিকসমূহ- সালাফ আলিমগণ ও ভাষাতাত্ত্বিক অলৌকিকতা- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ভাষাতাত্ত্বিক অলৌকিকতা অনুধাবনের একটি প্রচেষ্টা
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
من إعجاز القرآن أن يظل مشغلةالدارسين العلماء جيلا بعد جيل، ثميبقى أبدًا رحبَ المدى سخى المورد،كلما حسب جيل أنه بلغ منه الغاية،امتد الأفق بعيدًا وراء كل مطمح،عاليا يفوت طاقة الدارسين.
কুরআনের অলৌকিকত্বের অন্যতম দিক হলো এটি গবেষণার বিষয় হয়ে থাকাপ্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গবেষক আলেমদের নিকট, অতঃপরএটি চিরকাল দিগন্তপ্রসারী ও অফুরন্ত প্রস্রবণ হিসেবে বিদ্যমান থাকে,যখনই কোনো প্রজন্ম মনে করে যে তারা এর চরম সীমায় উপনীত হয়েছে,তখনই এর দিগন্ত সকল উচ্চাকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে বহুদূর প্রসারিত হয়,যা গবেষকদের সক্ষমতাকে অতিক্রমকারী এক উচ্চতায় বিরাজমান।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
من إعجاز القرآن أن يظل مشغلة الدارسين العلماء جيلا بعد جيل، ثميظل أبدًا رحب المدى سخى المورد كلما حسب جيل أنه بلغ منه الغاية، امتدالأفق بعيدًا وراء كل مطمح، عاليا يفوت طاقة الدارسين.فى القرن الثالث للهجرة، كانت البيئة الإسلامية تموج بأقوال فى الإعجازأخذت وضعا حادا فى صراع الفرق الإسلامية، فانتصر أعلام كل فرقة لرأيهم فيه وتصدوا لنقض أراء مخالفيهم.ولم تنفرد قضية الإعجاز فى أول الأمر بالبحث والنظر، وإنما عولجت معغيرها من القضايا التي نشط فيها الكلام وتجادلت الفرق، وبخاصة تلك التيتتصل بالنبوة والمعجزة، كالذى فى (تأويل مشكل القرآن) لابن قتيبة،و (مقالات الإسلاميين) لأبى الحسن الأشعرى، و (حجج النبوة، للجاحظ)و (الانتصار) لأبى الحسين الخياط الذى نقض كتب "ابن الراوندى"، ومنها(الزمرد) ، و (الدامغ) و (الفريد) فى نظم القرآن.أو تناولها المفسرون فى سياق التفسير كالذى فى (جامع البيان) للطبرىو (مجاز القرآن) لأبى عبيدة. . . .على أن القضية لم تبث أن استقلت بالتأليف المفرد: ففى القرن الثالثظهرت كتب فى الإعجاز تحمل فى الغالب عنوان (نظم القرآن) وللجاحظ(ت 255 هـ) كتاب بهذا الاسم لم يصل إلينا، وإن كان الجاحظ أشار إليه فى كتابه (الحجج) كما أشار إليه الباقلاني فى كتابه (إعجاز القرآن) .
কুরআনের অলৌকিকত্বের অন্যতম দিক হলো এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিদগ্ধ গবেষকদের জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা, এরপরএটি সর্বদা এক বিশাল দিগন্ত ও অঢেল উৎসের ন্যায় বিরাজমান থাকে; যখনই কোনো প্রজন্ম মনে করে যে তারা এর শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে, তখনই এরদিগন্ত প্রতিটি উচ্চাকাঙ্ক্ষার ঊর্ধ্বে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে এবং গবেষকদের সামর্থ্যের অতীত উচ্চতায় আরোহণ করে।হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে ইসলামী পরিবেশ কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ক বিভিন্ন বক্তব্যে মুখরিত ছিল, যা ইসলামী দলগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্বে এক তীব্র রূপ পরিগ্রহ করেছিল। ফলে প্রতিটি দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এ বিষয়ে তাদের নিজস্ব মতামতের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং তাদের বিরোধীদের মতামত খণ্ডন করতে সচেষ্ট হন।অলৌকিকত্বের বিষয়টি প্রথম দিকে একক ও স্বতন্ত্র গবেষণার বিষয় ছিল না, বরং এটি ইলমুল কালাম বা ধর্মতাত্ত্বিক বিতর্কের অন্যান্য বিষয়ের সাথে আলোচনা করা হতোযাতে বিভিন্ন দলগুলো তর্কে লিপ্ত ছিল। বিশেষ করে নবুওয়াত ও মোজেজা সংক্রান্ত বিষয়গুলোর সাথে এটি আলোচিত হতো,যেমনটি ইবনে কুতায়বার (তাউইলু মুশকিিলল কুরআন), আবুল হাসান আল-আশআরীর (মাকালাতুল ইসলামিয়্যীন), জাহিজের (হুজাজুন নুবুওয়াহ)এবং আবুল হুসাইন আল-খাইয়াতের (আল-ইনতিসার) গ্রন্থে দেখা যায়। আল-খাইয়াত তার গ্রন্থে ইবনুর রাওয়ান্দির কিতাবসমূহ খণ্ডন করেছেন, যার মধ্যে কুরআনের বিন্যাস বিষয়ক(আল-জুমুররুদ), (আদ-দামিগ) এবং (আল-ফারিদ) অন্তর্ভুক্ত ছিল।অথবা মুফাসসিরগণ তাফসীরের ধারাবাহিকতায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেমনটি তাবারীর (জামি'উল বায়ান)এবং আবু উবায়দাহর (মাজাযুল কুরআন) গ্রন্থে পাওয়া যায়। . . .তবে বিষয়টি স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে সংকলিত হতে বেশি দেরি করেনি: তৃতীয় শতাব্দীতে অলৌকিকত্ব বিষয়ে এমন কিছু গ্রন্থ প্রকাশিত হয়যেগুলোর শিরোনাম সাধারণত ছিল (নাযমুল কুরআন)। জাহিজের (মৃত্যু ২৫৫ হিজরি) এই নামে একটি গ্রন্থ ছিল যা আমাদের কাছে পৌঁছেনি,যদিও জাহিজ তার (আল-হুজাজ) গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন এবং বাকিল্লানীও তার (ই'জাযুল কুরআন) গ্রন্থে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ২০)
وألف " السجستاني: أبو بكر عبد الله " كتابه (نظم القرآن) في النصفالثاني من القرن الثالث وأوائل الرابع، وكذلك أبو زيد البلخى، أحمد بنسليمان ت (322) ومعاصره "أبو بكر أحمد بن على": ابن الإخشيد" (ت 326) وقد أشار إلى كتابه الخياط فى (الانتصار) والزمخشرى فى خطبة (الكشاف) .وفى أواخر القرن الثالث، ظهر أول كتاب - فيما نعلم - بعنوان (إعجازالقرآن، في نظمه وتأليفه) لأبي عبد الله بن يزيد الواسطى المعتزلى(ت 306 هـ) وقد ذكر حاجى خليفة فى (كشف الظنون) أن كتاب الواسطى فى إعجاز القرآن شرحه الشيخ عبد القاهر الجرجاني فى شرحين: الكبير وسماهالمعتضد، والشرح الصغير.وظن أعلام هذه الطبقة الأولى ممن كتبوا فى نظم القرآن وإعجازه، أنهماستوفوا الكلام فيه فلم يدعوا لمن بعدهم مجالا لجديد يقال.كتب الجاحظ فى (حجج النبوة) يقدم كتابه (نظم القرآن) إلى الفتح بن خاقان: ". . . فكتبت لك كتابًا أجهدت فيه نفسى وبلغت منه أقصى ما يمكن مثلى فى الاحتجاج للقرآن والرد على كل طعان. فلم أدع فيه مسألة لرافضى ولا لحديثى ولا لحشوى، ولا لكافر مبادٍ ولا لمنافق مقموع ولا لأصحاب النظام ولمن نجم بعد النظام ممن يزعم أن القرآن حق وليس تأليفه بحجة، وأنه تنزيل وليس ببرهان ولا دلالة.وشهد أبو الحسين الخياط لهذا الكتاب فقال فى (الانتصار) :ومن قرأ كتاب عمرو الجاحظ فى الرد على المشبهة وكتابه فى الأخبار
আস-সিজিস্তানি: আবু বকর আব্দুল্লাহ তৃতীয় শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ এবং চতুর্থ শতাব্দীর শুরুতে তার কিতাব (নাজমুল কুরআন) রচনা করেন।তেমনিভাবে আবু যাইদ আল-বালখি, আহমাদ বিন সুলাইমান (মৃ. ৩২২) এবং তার সমসাময়িক 'আবু বকর আহমাদ বিন আলী': ইবনুল ইখশিদ (মৃ. ৩২৬)-ও (লিখেছেন)। আল-খাইয়্যাত (আল-ইনতিসার) গ্রন্থে এবং আয-যামাখশারি (আল-কাশশাফ)-এর ভূমিকায় তার কিতাবের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।এবং তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগে -আমাদের জানা মতে- প্রথম কিতাব প্রকাশিত হয় যার শিরোনাম ছিল (ই'জাযুল কুরআন, ফি নাজমিহি ওয়া তালিফিহি), যার লেখক ছিলেন মুতাজিলা আবু আব্দুল্লাহ বিন ইয়াজিদ আল-ওয়াসিতি (মৃ. ৩০৬ হি.)। হাজি খলিফা (কাশফুজ জুনুন) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ই'জাযুল কুরআন বিষয়ক আল-ওয়াসিতির কিতাবটি শাইখ আব্দুল কাহির আল-জুরজানি দুটি শরহে (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) ব্যাখ্যা করেছেন: বড়টির নাম দিয়েছেন আল-মুতাদিদ, এবং অপরটি হলো ছোট শরহ।এবং নাজমুল কুরআন ও তার অলৌকিকতা নিয়ে যারা লিখেছেন, সেই প্রথম প্রজন্মের মনীষীগণ ধারণা করেছিলেন যে, তারা এ বিষয়ে আলোচনা পূর্ণ করেছেন, ফলে তারা তাদের পরবর্তীদের জন্য নতুন কিছু বলার অবকাশ রাখেননি।আল-জাহিজ (হুজাজুন নুবুওয়াহ) গ্রন্থে আল-ফাতহ বিন খাকানের কাছে তার (নাজমুল কুরআন) কিতাবটি পেশ করতে গিয়ে লিখেছেন: ". . . আমি আপনার জন্য এমন একটি কিতাব লিখেছি যাতে আমি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছি এবং কুরআনের স্বপক্ষে দলিল প্রদান ও প্রত্যেক নিন্দাকারীর প্রতিবাদে আমার মতো একজনের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব তার শেষ সীমায় পৌঁছেছি। তাতে আমি কোনো রাফিজি, কোনো হাদিসপন্থী, কোনো হাশউয়ি, কোনো প্রকাশ্য কাফির, কোনো দমিত মুনাফিক কিংবা আন্-নাজ্জাম-এর অনুসারী এবং আন্-নাজ্জাম-এর পর আবির্ভূত হওয়া এমন ব্যক্তিদের জন্য কোনো মাসআলা অবশিষ্ট রাখিনি—যারা ধারণা করে যে কুরআন সত্য কিন্তু এর বিন্যাস কোনো প্রমাণ নয়, এবং এটি অবতীর্ণ সত্য কিন্তু কোনো দলিল বা নির্দেশক নয়।"এবং আবু আল-হুসাইন আল-খাইয়্যাত এই কিতাবের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি (আল-ইনতিসার) গ্রন্থে বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি মুশাব্বিহাহ-দের খণ্ডনে আমর আল-জাহিজের কিতাব এবং সংবাদ বিষয়ক তার কিতাব পাঠ করেছে..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ২১)
وإثبات النبوات، وكتابه فى نظم القرآن، علم أن له فى الإسلام غناء عظيمًا لم يكن الله عز وجل ليضيعه عليه، ولا يُعرف كتاب فى الاحتجاج لنظم القرآن وعجيب تأليفه وأنه حجة لمحمد على نبوته غير كتاب الجاحظ.ونقل أبو حيان التوحيدى" فى (البصائر) قول أبى حامد القاضى "فىكتاب أبى زيد البلخى:"لم أر كتابا فى القرآن مثل كتاب لأبى زيد البلخى، وكان فاضلا يذهبإلى رأى الفلاسفة، لكنه يتكلم فى القرآن بكلام لطيف دقيق فى مواضع،وأخرج سرائره وسماه نظم القرآن، ولم يأت على جميع المعاني فيه".***وتلقى القرن الرابع هذا الجهد فلم يجد فيه مع ذلك ما يغنى، بل كان فىتقديره كما قال القاضى أبو بكر الباقلاني في (إعجاز القرآن) :لأوقد كان يجوز أن يقع ممن عمل الكتب النافعة فى معاني القرآن وتكلم فىفوائده من أهل صنعة العربية وغيرهم من أهل صناعة الكلام، أن يبسطواالقول فى الإبانة عن وجه معجزته والدلالة على مكانه، فهو أحق بكثيرمما صنفوا فيه من القول. . . فالحاجة إليه أمَس، والاشتغال به أوجَبُ."وقد قصَّر بعضهم فى هذه المسألة حتى تحول قوم منهم إلى مذاهب البراهمةفيها، ورأوا أن عجز أصحابهم عن نصرة هذه المعجزة يوجب أن لا مستنصرَفيها ولا وجه لها، حين رأوهم قد برعوا فى لطيف ما أبدعوا وانتهوا إلى الغايةفيما أحدثوا ووضعوا، ثم رأوا ما صنفوه فى هذا المعنى - إعجاز القرآن - غير كامل فى بابه ولا مستوفى فى وجهه، قد أخِل بتهذيب طرقه وأهمل ترتيب
এবং নবুওয়াত প্রমাণকরণ এবং 'নাযমুল কুরআন' (কুরআনের বিন্যাস) বিষয়ে তাঁর গ্রন্থ; এটি জানা যে, ইসলামে তাঁর এক মহান অবদান রয়েছে যা মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কখনো বৃথা যেতে দেবেন না। আর 'নাযমুল কুরআন' এবং এর অদ্ভুত রচনার পক্ষে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে এবং এটি যে মুহাম্মাদ (সা.)-এর নবুওয়াতের প্রমাণ—এ বিষয়ে জাহিজের কিতাব ছাড়া অন্য কোনো কিতাব জানা নেই।আবু হাইয়ান আত-তাওহিদী তাঁর 'আল-বাসাইর' গ্রন্থে আবু হামিদ আল-কাদীর উক্তিটি বর্ণনা করেছেন:আবু যায়েদ আল-বালখির কিতাব সম্পর্কে:"আমি কুরআনের বিষয়ে আবু যায়েদ আল-বালখির কিতাবের মতো কোনো কিতাব দেখিনি। তিনি একজন গুণী ব্যক্তি ছিলেন এবং দার্শনিকদেরমতাদর্শ অনুসরণ করতেন, তবে তিনি বিভিন্ন স্থানে কুরআনের বিষয়ে সূক্ষ্ম ও নিখুঁত আলোচনা করেছেন,এর রহস্যগুলো উন্মোচন করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'নাযমুল কুরআন', যদিও তিনি এর সমস্ত অর্থ অন্তর্ভুক্ত করতে পারেননি।"***চতুর্থ শতাব্দী এই প্রচেষ্টাকে গ্রহণ করেছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাতে পর্যাপ্ত কিছু খুঁজে পায়নি; বরং তাদের বিচারে এটি তেমনই ছিল যেমনটি কাজী আবু বকর আল-বাকিলানি তাঁর 'ইজাজুল কুরআন' গ্রন্থে বলেছেন:"যারা কুরআনের অর্থ ও এর উপকারিতা নিয়ে উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন—চাই তারা আরবি ভাষার পণ্ডিত হন কিংবা কালাম শাস্ত্রের অন্যান্য পণ্ডিত—তাদের জন্য এটি সমীচীন ছিল যে, তারা কুরআনের মুজিযার দিকগুলো স্পষ্টীকরণে এবং এর মর্যাদার বর্ণনায় আরও বিস্তারিত আলোচনা করবেন। কারণ, তারা যেসব বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তার চেয়ে এটি অনেক বেশি পাওনাদার। ... এর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত প্রবল এবং এতে আত্মনিয়োগ করা অধিকতর জরুরি।"তাদের কেউ কেউ এই বিষয়ে এতোটাই ত্রুটি করেছেন যে, তাদের একটি দল তো এ ব্যাপারে ব্রহ্মবাদীদের মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তারা মনে করেছে যে, তাদের সঙ্গীরা এই মুজিজাকে প্রমাণ করতে অক্ষম হওয়া মানেই হলো এর কোনো সাহায্যকারী নেই এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। এটি তখনই ঘটেছে যখন তারা দেখেছে যে তারা অন্যান্য নতুন বিষয়ে সূক্ষ্ম পারদর্শিতা দেখিয়েছে এবং তাদের উদ্ভাবিত বিষয়ে চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে; তারপর তারা দেখেছে যে 'ইজাজুল কুরআন' (কুরআনের অলৌকিকত্ব) নিয়ে তারা যা রচনা করেছে তা তার নিজ পরিমণ্ডলে পূর্ণাঙ্গ নয় এবং তার উদ্দেশ্য হাসিলে অপর্যাপ্ত। এর পদ্ধতিগুলোর সংস্কারে ত্রুটি রয়ে গেছে এবং বিন্যাসে অবহেলা করা হয়েছে..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ২২)
بيانه. "وقد يُعذرَ بعضهم فى تفريط يقع منه فيه وذهاب عنه، لأن هذا البابمما لا يمكن إحكامه إلا بعد التقدم في أمور شريفة المحل عظيمة المقدار دقيقةالمسلك لطيفة المأخذ. . ."وقد صنف الجاحظ فى نظم القرآن كتاباً لم يزد فيه على ما قاله المتكلمونقبله ولم يكشف عما يلتبس فى أكثر هذا المعنى".وكذلك قال أبو سليمان الخطابي (388 هـ) في مقدمة رسالته فىالإعجاز:"قد أكثر الناس الكلام فى هذا الباب قديما وحديثاً وذهبوا فيه كل مذهبمن القول. وما وجدناهم بعدُ صدروا عن رِيٍّ، وذلك لتعذر معرفة وجهالإعجاز فى القرآن ومعرفة الأمر فى الوقوف على كيفيته "وقدم هذا القرن الرابع رصيده، واختار عنوان (إعجاز القرآن) الذى كتبعلى رسائل من تصدوا للتأليف فيه من أعلام هذا القرن.ومن أشهر ما وصل إلينا من مصنفاتهم فى الإعجاز:(النكت في إعجاز القرآن) لأبي الحسن علي بن عيسى الرماني - ت 384 هـ(بيان إعجاز القرآن) للخطاب، أبي سليمان حمد بن محمد - ت 386 هـ(إعجاز القرآن) لأبي بكر الباقلاني - ت 403 هـومعها مجلد (إعجاز القرآن) من كتاب (المغنى: فى أبواب التوحيد والعدل)للقاضى عبد الجبار أبي الحسن المعتزلى " - ت 315 هـ.
তাঁর বর্ণনা। "তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে এতে কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি ঘটে থাকলে তা ক্ষমার যোগ্য হতে পারে, কারণ এই অধ্যায়টি এমনযা কেবল সুউচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন, বিশাল গুরুত্ববহ, সূক্ষ্মপথ এবং সূক্ষ্ম উৎসের বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন ব্যতীত আয়ত্ত করা সম্ভব নয়..."আল-জাহিজ কুরআনের বিন্যাস (নাজমুল কুরআন) বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন, কিন্তু এতে তিনি তাঁর পূর্ববর্তী কালামশাস্ত্রবিদগণযা বলেছেন তার চেয়ে বেশি কিছু যোগ করেননি এবং এই বিষয়ের অধিকাংশ অস্পষ্টতা উন্মোচন করেননি"।অনুরূপভাবে আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবি (৩৮৮ হি.) অলৌকিকতা (ইজায) বিষয়ক তাঁররিসালার ভূমিকায় বলেছেন:"অতীত ও বর্তমানে এই বিষয়ে মানুষ প্রচুর কথা বলেছে এবং তারা এ ব্যাপারে সম্ভাব্য সকল মতঅবলম্বন করেছে। কিন্তু তারপরেও আমরা তাদের পূর্ণ তৃপ্তির সাথে এ থেকে নিবৃত্ত হতে দেখিনি। আর তা হলো কুরআনেরঅলৌকিকত্বের স্বরূপ অনুধাবন এবং এর প্রকৃতি সম্পর্কে জানার কঠিন সাধ্যতার কারণে।"এই চতুর্থ শতাব্দী তার অবদান পেশ করেছে এবং (ইজাযুল কুরআন) শিরোনামটি বেছে নিয়েছে, যা এই শতাব্দীর সেই সকলবরেণ্য ব্যক্তিত্বদের রিসালাসমূহের ওপর লেখা হয়েছে যারা এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় এগিয়ে এসেছিলেন।অলৌকিকতা বিষয়ে তাঁদের রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে তার মধ্যে অধিক পরিচিত হলো:আবুুল হাসান আলি বিন ঈসা আর-রুমানি (মৃত ৩৮৪ হি.) রচিত (আন-নুকাত ফি ইজাযিল কুরআন)আল-খাত্তাবি, আবু সুলাইমান হামদ বিন মুহাম্মদ (মৃত ৩৮৬ হি.) রচিত (বায়ানু ইজাযিল কুরআন)আবু বকর আল-বাকিলানি (মৃত ৪০৩ হি.) রচিত (ইজাযুল কুরআন)এবং সেই সাথে কাজি আব্দুল জাব্বার আবুল হাসান আল-মুতাযিলি (মৃত ৩১৫ হি.) এর (আল-মুগনি: ফি আবওয়াবিত তাওহিদ ওয়াল আদল) কিতাবের (ইজাযুল কুরআন) খণ্ডটি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد نقلنا آنفاً من كلام الباقلاني فيمن سبقوه، ما ندرك معه كيف رأى أنموضوع إعجاز القرآن " قلَّ أنصاره واشتغل عنه أعوانه وأسلمه أهله، فصارعرضة لمن شاء أن يتعرض فيه، حتى عاد مثل الأمر الأول على ما خاضوا فيهعند ظهور أمره، فمن قائل قال إنه سحر وقائل يقول إنه شعر، وآخر يقولإنه أساطير الأولين، وقالوا: (لَوْ نَشَاءُ لَقُلْنَا مِثْلَ هَذَا) . إلى الوجوه التىحكى الله عز وجل عنهم أنهم قالوا فيه وتكلموا به، فصرفره إليه "وتجرد الباقلاني لتفصيل القول فى مسألة الإعجاز وفاء بما قصر عنه سلفه،ليجىء فى نظم القرآن، بما يكون مستفادا من كتاب خاصة، وموجها ما وصل إليه جهده، إلى الخاصة "من أهل صناعة العربية الذين وقفوا على جمل من محاسن الكلام ومتصرفاته ومذاهبه، وعرفوا جملة من طرق المتكلمين ونظروا فى شىء من أصول الدين.***وظن الباقلاني أنه أغلق الباب وقال فيه الكلمة الأخيرة، فجاء "عبد القاهرالجرجاني" فى القرن الخامس، وعرض السؤال فى قضية الإعجاز كأن لم يُعرض من قبل، وبدأ القولَ فيها كمن يرى الميدان خالياً ليس فيه دليل، بحيث احتاج إلى وضع كتاب (دلائل الإعجاز) ، مقدمة لفهمه بإدراك أسرار العربية، فاستفرغ طاقته فى عرض أسالييها ونحوها وملاحظها البلاغية من حيث هى الهادية إلى دلائل الإعجاز.ولم يبدأ فى كتابه حتى نظر فى كتب السلف فلم ير إلا شرًّا وتخليطا وأنكرتصدى كثير مهم لتفسير القرآن وتأويله وقد أعوزتهم آلة فهمه وإدراكإعجازه، وقال فيما قال:"ولو أن هؤلاء القوم إذ تركوا هذا الشأن تركوه جملة فلم يأخذوا أنفسهم
আমরা ইতিপূর্বে বাকিল্লানির বক্তব্য থেকে তাঁর পূর্বসূরিদের সম্পর্কে যা উদ্ধৃত করেছি, তা থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে তিনি কীভাবে দেখেছিলেন যেকুরআনের অলৌকিকত্বের (ইজাজ) বিষয়টি "এর সাহায্যকারী কমে গিয়েছে, এর সহায়তাকারীরা এটি থেকে বিমুখ হয়েছে এবং এর অনুসারীরা একে পরিত্যাগ করেছে; ফলে এটিএমন এক বিষয়ে পরিণত হয়েছে যেখানে যে কেউ হস্তক্ষেপ করতে চায়, সে তা করতে পারে। এমনকি এটি সেই আদি অবস্থার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে যে বিষয়ে তারা এরআবির্ভাবের সময় লিপ্ত হয়েছিল। কেউ বলেছিল এটি জাদু, কেউ বলেছিল এটি কবিতা, আবার অন্য কেউ বলেছিলএটি পূর্ববর্তীদের উপকথা। তারা বলেছিল: (আমরা চাইলে এর অনুরূপ বলতে পারতাম)। সেই সব দিক পর্যন্ত যামহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে তারা এটি সম্পর্কে বলেছিল এবং উচ্চারণ করেছিল, অতঃপর তিনি তাকে এর দিকে নিবিষ্ট করেছিলেন।"বাকিল্লানি অলৌকিকত্বের (ইজাজ) মাসআলায় বিস্তারিত আলোচনার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন সেই অভাব পূরণের লক্ষ্যে যা তার পূর্বসূরিদের মধ্যে ছিল,যাতে তিনি 'নযমুল কুরআন' বা কুরআনের বিন্যাস সম্পর্কে এমন কিছু উপস্থাপন করতে পারেন যা বিশেষভাবে একটি গ্রন্থ থেকে গ্রহণ করা যায়। তিনি তার শ্রমের ফসলকে নিবিষ্ট করেছিলেন বিশেষ ব্যক্তিদের দিকে "যারা আরবি ভাষার কারুশৈলীর পণ্ডিত, যারা বক্তব্যের সৌন্দর্য, এর নানাবিধ রূপ ও পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে অবগত এবং যারা মুতাকাল্লিমদের (ধর্মতত্ত্ববিদ) কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে জানেন ও দ্বীনের মূলনীতি (উসূলুদ্দীন) নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন।***বাকিল্লানি মনে করেছিলেন যে তিনি এ বিষয়ের দ্বার রুদ্ধ করে দিয়েছেন এবং শেষ কথাটি বলে ফেলেছেন। কিন্তু পঞ্চম শতাব্দীতে "আব্দুল কাহেরআল-জুবজানি" আসলেন এবং অলৌকিকত্বের বিষয়ে প্রশ্নটি এমনভাবে উত্থাপন করলেন যেন এটি ইতিপূর্বে কখনো উত্থাপিত হয়নি। তিনি এ বিষয়ে এমনভাবে আলোচনা শুরু করলেন যেন তিনি ময়দানকে প্রমাণহীন শূন্য দেখছেন, যার ফলে আরবি ভাষার রহস্য অনুধাবনের মাধ্যমে এটি বোঝার ভূমিকা স্বরূপ তাকে (দালাইলুল ইজাজ) নামক গ্রন্থটি রচনা করতে হয়েছিল। তিনি এর রীতিসমূহ, ব্যাকরণ এবং অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পর্যবেক্ষণগুলো উপস্থাপনে নিজের সর্বশক্তি ব্যয় করেছিলেন, যেহেতু এগুলোই হলো অলৌকিকত্বের প্রমাণের দিকনির্দেশক।তিনি তাঁর কিতাব শুরু করার আগে পূর্বসূরিদের কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করেছিলেন, সেখানে তিনি বিভ্রান্তি ও তালগোল পাকানো ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাননি। তিনিতাদের অনেকেরই কুরআনের তাফসির ও তাবিলের প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেহেতু তাদের নিকট এটি বোঝার এবং এর অলৌকিকত্ব উপলব্ধি করারপ্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব ছিল। তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে এটিও ছিল:"যদি এই কওম যখন এই বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছিল, তখন তারা এটি পুরোপুরি ছেড়ে দিত এবং নিজেদের উপর দায়িত্ব না নিত..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بالتقَوِّى فيه والتصرف فيما لم يعلموا منه، ولم يخوضوا فى التفسير ولم يتعاطواالتأويل، لكان البلاء واحداً ولكانوا إذا لم يبنوا لم يهدموا وإذا لم يصلحوا لميكونوا سببا للفساد. ولكنهم لم يفعلوا، فجلبوا من الداء ما أعيا الطبيب وحير اللبيب، وانتهى التخليط بما أتوه فيه إلى حدٍّ يُئس من تلافيه، فلم يبقللعارف الذى يكره الشغب إلا التعجب والسكوت. وما الآفة العظمىإلا واحدة وهى أن يجىء من الإنسان يجرى لفظه ويكثر من غير تحصيل، وأنيحسن البناء على غير أساس وأن يقول الشىء لم يقتله علماً. . ."ثم إنا وإن كنا فى زمان هو ما هو عليه من إحالة الأمور عن جهاتهاوتحويل الأشياء عن حالاتها ونقل النفوس عن طباعها وقلب الخلائق المحمودةإلى أضدادها، ودهر ليس للفضل وأهله لديه إلا الشر صرفاً والغيظ بحتاًوإلا ما يدهش معقولهم، حتى صار أعجز الناس رأيا عند الجميع من كانت لههمة أن يستفيد علماً أو يزداد فهما أو يكتسب فضلا. . ."فإن الإلْف من طباع الكريم، وإذا كان من حق الصديق عليك ولا سيماإذا تقادمت صحبته وصحَّت صداقته ألا تجفوه بأن تنكبك الأيام وتضجركالنوائب وتحرجك محن الزمان فتتناساه جملة وتطويه طيًّا، فالعلم الذى هوصديق لا يحول عن العهد ولا يدغل فى الود، وصاحب لا يصح عليه النكثوالغدر ولا يُظن به الخيانة والمكر، أولى منه بذلك وأجدر، وحقه عليكأكبر. . " 27وظن الجرجاني أنه قطع قول كل دارس وجاء فى بيان فوت نظم القرآنبما قصر عنه الأوائل والأواخر، وأتى به على وجه يؤخذ باليد ويُتناول منكتب ويُتصور فى النفس كتصور الأشكال، بين ما ادعيناه من الفصاحةالعجية فى القرآن" 70وأوجب على كل ذى عقل ودين أن ينظر فى الكتاب الذى وضعه فيه:
এতে শক্তিমত্তা প্রদর্শন এবং যে বিষয়ে তারা জানে না তাতে হস্তক্ষেপ করা, এবং যদি তারা এর তাফসিরে লিপ্ত না হতো এবং অপব্যাখ্যায় লিপ্ত না হতোতবে বিপদটি একমুখী হতো। আর তারা যদি নির্মাণ না করত তবে ধ্বংসও করত না, আর যদি সংশোধন না করত তবেফাসাদের কারণ হতো না। কিন্তু তারা তা করেনি, ফলে তারা এমন এক ব্যাধি নিয়ে এসেছে যা চিকিৎসককে ক্লান্ত করে দিয়েছে এবং বুদ্ধিমানকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করেছে। তারা যা ঘটিয়েছে তার ফলে বিশৃঙ্খলা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা সংশোধনের ব্যাপারে নিরাশ হতে হয়েছে। ফলেবিশৃঙ্খলা অপছন্দকারী আরিফের (জ্ঞানীর) বিস্ময় প্রকাশ ও নীরবতা পালন ছাড়া আর কিছুই করার অবশিষ্ট নেই। আর সবচেয়ে বড় বিপদটিএকটিই, আর তা হলো—মানুষের এমন শব্দ চয়ন করা এবং আধিক্য ঘটানো যাতে কোনো সারবস্তু নেই, এবংভিত্তিহীন কোনো কিছুর ওপর সুন্দর কাঠামো নির্মাণ করা এবং এমন বিষয়ে কথা বলা যা সে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অবগত হয়নি..."অতঃপর আমরা এমন এক যামানায় আছি যেখানে বিষয়াবলিকে তার সঠিক দিক থেকে বিচ্যুত করা হয়েছে,বস্তুসমূহকে তার স্বাভাবিক অবস্থা থেকে পরিবর্তিত করা হয়েছে, আত্মাকে তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রশংসনীয় স্বভাবসমূহকেতার বিপরীতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এমন এক যুগ যেখানে শ্রেষ্ঠত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ববানদের জন্য নিছক অনিষ্ট ও খাঁটি ক্রোধ ছাড়া আর কিছুই নেই,এবং এমন কিছু রয়েছে যা তাদের বুদ্ধিকে হতবিহ্বল করে দেয়। এমনকি সর্বসাধারণের নিকট সবচেয়ে অক্ষম ও দুর্বল মতের অধিকারী সেই ব্যক্তি সাব্যস্ত হয়েছে, যার মাঝেইলম থেকে উপকৃত হওয়া বা বোধশক্তি বৃদ্ধি করা অথবা মর্যাদা অর্জনের সামান্যতম আগ্রহ রয়েছে..."নিশ্চয়ই হৃদ্যতা ও মমতা হলো মহানুভব ব্যক্তির স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। তোমার ওপর তোমার বন্ধুর যে অধিকার রয়েছে—বিশেষতযদি সেই সাহচর্য দীর্ঘদিনের হয় এবং বন্ধুত্ব অকৃত্রিম হয়—তা হলো দিনের বিপর্যয় তোমাকে যেন তার প্রতি রুক্ষ না করে তোলে, কিংবাবিপদের বিরক্তি বা কালের পরীক্ষা তোমাকে অস্থির করে না তোলে, যার ফলে তুমি তাকে পুরোপুরি ভুলে যাবে বা সম্পূর্ণভাবে গুটিয়ে নেবে। অতএব ইলম বা জ্ঞান, যাএমন এক বন্ধু যে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না এবং বন্ধুত্বে কোনো কপটতা করে না, এমন এক সঙ্গী যার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গও প্রতারণা সাজে না এবং যার ব্যাপারে খিয়ানত বা চাতুরীর কল্পনাও করা যায় না, সে এর জন্য অধিক যোগ্য ও দাবিদার এবং তোমার ওপর তার অধিকারআরও বেশি..." ২৭জুরজানি ধারণা করেছেন যে, তিনি প্রত্যেক গবেষকের বক্তব্যকে রদ করে দিয়েছেন এবং কুরআনের বিন্যাসের অলৌকিকত্ব বর্ণনায়এমন কিছু উপস্থাপন করেছেন যাতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবাই অক্ষম ছিল। তিনি বিষয়টি এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যা হাতে ধরা যায় এবং গ্রন্থ থেকেগ্রহণ করা যায় এবং অন্তরে বিভিন্ন আকার-আকৃতির মতো কল্পনা করা যায়; যা আমরা কুরআনের সেইবিস্ময়কর প্রাঞ্জলতার দাবির মধ্যে স্পষ্ট করেছি। ৭০এবং তিনি প্রত্যেক বুদ্ধিমান ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির ওপর আবশ্যক করেছেন যেন তারা সেই কিতাবটি পাঠ করে যা তিনি এই বিষয়ে রচনা করেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
"فإن عَلِم أنه الطريق إلى البيان والكشف عن الحجة والبرهان، تبع الحقوأخذ به.وإن رأى أن له طريقا غيره أومأ لنا إليه ودلنا عليه، وهيهات ذلك!أو كما أضاف، الجرجاني متحدياً:إني أقول مقالا لست أخفيه. . . ولست أرهب خصماً إن بدا فيهما من سبيل إلى إثبات معجزة. . . فى النظم إلا بما أصبحت أبديهقولوا وأصغوا للبيان تروا. . . كالصبح منبلجا فى عين رائيهومع الدلائل، قدم الجرجاني (الرسالة الشافية) فى إعجاز القرآن - نشرتمع: ثلاث رسائل فى الإعجاز - وحسب أنه أتى فيها "بما يشفى من له طبعإذا قدحتَه أورى، وقلب إذا أريته رأى. . . فأما من لا يرى ما تريه ولا يهتدى للذى تهديه، فأنت معه كالنافخ فى الفحم من غير نار وكالملتمس الشم من أخشم.وكما لا يقيم الشعر فى نفس من لا ذوق له، لا يفهم هذا البابَ من لميؤتَ الآلة التى بها يفهم. إلا أنه إنما يكون البلاء أو ظن العادم لها أنه قدأوتيها، وأنه ممن يكمُل للحكم ويصح منه القضاء فجعل يخبط ويخلط ويقولالقولَ لو علم عِيه لاستحيا منه. . ."فليس الكلام إذن بمغن عنك ولا القول بنافع، ولا الحجة مسموعة، حتىتجد مَن فيه عون لك، ومن إذا أبى عليك أي ذاك طبعُه فردَّه إليك وفتحسمعه لك ورفع الحجاب بينه وبينك وأخذ به إلى حيث أنت، وصرت ناظرهإلى الجهة التى أليها أومأت، فاستبدل بالنفار أنساً وأراك من بعد الإباء قبولا.وبالله التوفيق".***فى القرن الخامس أيضاً، ظهر ابن حزم الظاهرى (ت 456 هـ) فتصدىللسلف ممن تكلموا فى إعجاز القرآن، واشتدت وطأته على القاضى الباقلاني
যতি তিনি জানতে পারেন যে এটাই হলো বক্তব্যের প্রাঞ্জলতা এবং যুক্তি ও প্রমাণের পথ, তবে তিনি সত্যের অনুসরণ করবেন এবংতা গ্রহণ করবেন।আর যদি তিনি মনে করেন যে এর অন্য কোনো পথ আছে, তবে তিনি যেন আমাদের সেদিকে ইঙ্গিত করেন এবং আমাদের পথপ্রদর্শন করেন; কিন্তু তা কতই না সুদূরপরাহত!অথবা যেভাবে জুরজানি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে যোগ করেছেন:আমি এমন এক কথা বলছি যা আমি গোপন করি না... আর এতে কোনো প্রতিপক্ষ উপস্থিত হলে আমি তাকে ভয় পাই নাশব্দবিন্যাসে অলৌকিকত্ব প্রমাণের অন্য কোনো পথ নেই... কেবল যা আমি প্রকাশ করতে শুরু করেছি তা ছাড়াতোমরা কথা বলো এবং বর্ণনার প্রতি কর্ণপাত করো, তবেই তোমরা একে দেখতে পাবে... যেমন একজন প্রত্যক্ষকারীর চোখে ভোরের আলো প্রস্ফুটিত হয়'দালাইলুল ইজাজ'-এর পাশাপাশি জুরজানি আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব বিষয়ে (আর-রিসালাতুশ শাফিয়া) পেশ করেছেন—যা প্রকাশিত হয়েছেএর সাথে: অলৌকিকত্ব বিষয়ক তিনটি পুস্তিকা—তিনি মনে করেন যে, এতে তিনি এমন কিছু নিয়ে এসেছেন "যা সেই ব্যক্তির জন্য নিরাময় স্বরূপ যার স্বভাব এমন যেতাকে নাড়া দিলে সে জ্বলে ওঠে, এবং যার অন্তর এমন যে তাকে দেখালে সে দেখতে পায়... কিন্তু যে ব্যক্তি আপনার দেখানো জিনিস দেখে না এবং আপনার নির্দেশিত পথে হেদায়েত পায় না, তার সাথে আপনার অবস্থা হলো আগুনের অস্তিত্বহীন কয়লায় ফুঁ দেওয়ার মতো এবং ঘ্রাণশক্তিহীন ব্যক্তির কাছে সুগন্ধি খোঁজার মতো।আর ঠিক যেভাবে রসবোধহীন ব্যক্তির অন্তরে কবিতা স্থান পায় না, তেমনি যে ব্যক্তিকে বোঝার মতো প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়নি সেও এই অধ্যায়টি বুঝবে না। তবে বিপদ তখনই ঘটে যখন ঐ উপকরণ বঞ্চিত ব্যক্তি ধারণা করে বসে যে তাকে তা দেওয়া হয়েছে,এবং সে বিচারের জন্য উপযুক্ত ও সঠিক ফয়সালা দানে সক্ষম; ফলে সে বিভ্রান্তিকর কাজ শুরু করে এবং তালগোল পাকিয়ে এমন কথা বলেযা সে নিজের অক্ষমতা জানলে লজ্জাবোধ করত..."সুতরাং কথা কোনো কাজে আসবে না এবং বক্তব্যও কোনো উপকারে আসবে না, আর যুক্তিও শ্রুত হবে না, যতক্ষণ নাআপনি এমন কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন যে আপনার সহায়ক হবে; এমন ব্যক্তি যে আপনার কথা অস্বীকার করলে—অর্থাৎ যদি সেটি তার স্বভাব হয়—তা আপনার কাছেই ফিরিয়ে দেবে এবং আপনার জন্য তার কান উন্মুক্ত করবেআপনার ও তার মাঝখানের পর্দা তুলে দেবে এবং আপনাকে আপনার গন্তব্য পর্যন্ত নিয়ে যাবে, আপনি তখন যে দিকে ইশারা করবেন সে দিকে সে তাকিয়ে থাকবে,ফলে বিমুখতার বদলে সখ্যতা তৈরি হবে এবং অনীহার পর সে আপনাকে কবুল করে নেবে। আর আল্লাহর মাধ্যমেই তৌফিক লাভ হয়।"***পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে ইবনে হাজম আল-জাহিরি (মৃত ৪৫৬ হি.) আবির্ভূত হন এবং আল-কুরআনের অলৌকিকত্ব নিয়ে যারা কথা বলতেন সেই সব পূর্বসূরিদের মোকাবিলা করেন, এবং বিচারক বাকিল্লানির ওপর তার কঠোরতা ছিল অত্যন্ত তীব্র।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فوصفه بالكفر أعظم الكفر، والهذيان المحض والحمق العتيق ونقل من كتابه(الانتصار) أقوالا من باب الدلالة على القرآن معجزة للنبى، صلى الله عليهوسلم، ما رآه من الكفر الصريح والكيد للإسلام، من هذا النذل المستخفالباقلاني.وجاء القرن السادس فلم ير فى فصل ابن حزم ما ينهي الصراع المذهبىبين المفسرين والمتكلمين في الإعجاز والنبوة، كما لم يجد فى شافيهّ الجرجانيما يشفى غليلا أو يروى ظمأ. ولا صح عنده أن عبد القاهر جاء بدلائلالإعجاز على نحو يؤخذ باليد أو بلغ منها ما قاله من (إقرار الأمور قراوهاووضع الأشياء فى مواضعها، وبيان ما يشكل وحل ما يتعقد والكشفعما يخفى، حتى يزداد السامع ثقة بالحجة واستظهارا على الشبهة واستبانةللدليل"،وتقدم ابن رشد الحفيد (ت 595 هـ) إلى الميدان فأنكر هذه الخصوماتالمذهبية التى أضرت بالإسلام أشد الضرر.وصرح بأن الأقاويل الشرعية المصرح بها في الكتاب العزيز للجميع، ثلاث خواص دلت على الإعجاز:إحداها أنه لا يوجد أتم إقناعاً وتصديقا للجميع منها.والثانية أنها تقبل النصرة بطبيعها إلى أن تنتهى إلى حد لا يقف على التأويل فيها - إن كانت مما فيه تأويل - إلا أهل البرهان.والثالثة أنها تتضمن التنبيه لأهل الحق على التأويل الحق.وهذا ليس يوجد لا فى مذاهب الأشعرية ولا في مذاهب المعتزلة أعنى أن تأويلاتهم لا تقبل النصرة ولا تتضمن التنبيه على الحقولا هى حق، ولهذا كثرت، البدع. ."". . . فعسى أن يكون ذلك مبدأ لمن يأتي بعد، فإن النفس مما تخلل هذهالشريعة من الأهواء الفاسدة والاعتقادات المحرفة، في غاية الحزن والتألم.وبخاصة ما عرض لها من ذلك من قِبَلِ مَن ينسب نفسه إلى الحكمة. فإن
তাকে তিনি চরম কুফরি, নিছক প্রলাপ এবং প্রাচীন মূর্খতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজা হিসেবে কুরআনের প্রমাণের অধ্যায় থেকে তিনি তার (আল-ইন্তিসার) গ্রন্থ থেকে এমন কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন, যা এই হীন ও তুচ্ছ জ্ঞানকারী বাকিল্লানির পক্ষ থেকে ইসলামের বিরুদ্ধে স্পষ্ট কুফরি ও ষড়যন্ত্র হিসেবে তিনি দেখেছিলেন।ষষ্ঠ শতাব্দী আগমন করল, কিন্তু ইবনে হাজমের লেখনীতে মুফাসসির ও মুতাকাল্লিমদের মধ্যে মুজিজা ও নবুওয়াত নিয়ে বিদ্যমান মাযহাবী দ্বন্দ্ব নিরসনের কোনো সমাধান দেখা গেল না। তেমনি জুরজানীর 'শাফী' গ্রন্থেও এমন কিছু পাওয়া গেল না যা মনের তৃষ্ণা মেটাতে পারে বা পিপাসা নিবারণ করতে পারে। তার কাছে এটিও সঠিক মনে হয়নি যে, আবদুল কাহের 'দালাইলুল ইজায'-এ এমনভাবে মুজিজার প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন যা হাতের মুঠোয় ধরা যায়, অথবা তিনি সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছেন যা তিনি বলেছিলেন: "বিষয়গুলোকে স্বস্থানে স্থির করা, বস্তুসমূহকে তাদের সঠিক স্থানে স্থাপন করা, অস্পষ্ট বিষয়কে ব্যাখ্যা করা, জটিলতা নিরসন করা এবং গোপন রহস্য উন্মোচন করা, যাতে শ্রোতার দলিলের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়, সংশয়ের বিরুদ্ধে শক্তি অর্জিত হয় এবং প্রমাণ সুস্পষ্ট হয়",অতপর ইবনে রুশদ আল-হাফিদ (মৃত ৫৯৫ হিজরী) ময়দানে অবতীর্ণ হলেন এবং এই মাযহাবী বিবাদগুলোকে অস্বীকার করলেন যা ইসলামের চরম ক্ষতি সাধন করেছিল।তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, সকলের জন্য মহাগ্রন্থে বর্ণিত শরয়ি বাণীসমূহের তিনটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা এর অলৌকিকত্বের প্রমাণ দেয়:প্রথমত, সকলের জন্য এর চেয়ে পূর্ণাঙ্গ অনুপ্রেরণাদায়ক ও বিশ্বাসযোগ্য আর কিছুই নেই।দ্বিতীয়ত, এগুলো প্রকৃতিগতভাবেই এমন সমর্থন লাভ করে যে, তা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যেখানে—যদি তাতে ব্যাখ্যার অবকাশ থাকে—তবে প্রমাণের অধিকারীরা ছাড়া অন্য কেউ এর ব্যাখ্যা অনুধাবন করতে পারে না।তৃতীয়ত, এগুলো সত্যপন্থীদের জন্য সঠিক ব্যাখ্যার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে।আর এটি আশআরী বা মুতাযিলী মাযহাবের মধ্যে পাওয়া যায় না; অর্থাৎ তাদের ব্যাখ্যাগুলো এমন কোনো সমর্থন লাভ করে না এবং সত্যের প্রতি কোনো ইঙ্গিতও দেয় না, এমনকি সেগুলো সত্যও নয়। আর একারণেই বিদআত বৃদ্ধি পেয়েছে। . ."". . . সম্ভবত এটি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি প্রারম্ভিকা হবে; কেননা এই শরীয়তের মধ্যে যে সমস্ত ভ্রান্ত প্রবৃত্তি ও বিকৃত আকিদা অনুপ্রবেশ করেছে, তাতে আত্মা চরম দুঃখ ও যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে যারা নিজেদেরকে হিকমত বা দর্শনের অনুসারী বলে দাবি করে, তাদের পক্ষ থেকে যা কিছু পেশ করা হয়েছে তার কারণে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الأذية من الصديق هى أشد"من الأذية من العدو. أعنى أن الحكمة هىصاحبة الشريعة والأخت الرضيعة، فالأذية ممن ينسب إليها أشد الأذية معما يقع بينهما من العداوة والبغضاء والمشاجرة. وهما المصطحبتان بالطبعوالمتحابتان بالجوهر والغريزة. وقد آذاها أيضا كثير من الأصدقاء الجهال ممنينسبون أنفسهم إليها، وهى الفِرق الموجودة فيها".وفى عصر أبي الوليد ابن رشد، قدم الإمام فخرالدين الرازى - محمد بنعمر، (ت 606 هـ) كتابه (نهاية الإيجاز فى دراية الإعجاز) يوجر به أنيستدرك ما فات غيره وإن عذب ما قالوه وبخاصة عبد القاهر الجرجاني، الذى قال فيه الرازى، فى مقدمة كتابه، إنه "أهمل فى رعاية ترتيب الأصولوالأبواب، وأطنب فى الكلام كل الإطناب. . ولما وفقنى الله لمطالعة كتابيه - دلائل الأعجاز، والشافية - التقطت منهما معاقد فوائدهما ومقاصد فرائدهما، وراعيت الترتيب مع التهذيب، والتحرير مع التقرير، وضبط أوابد الإجمالات فى كل باب بالتقسيمات اليقينية، وجمعت متفرقات الكلم فى الضوابط العقلية، مع الاجتاب عن الإطناب الممل، والاحتراز عن الاختصار المخل".وفي القرن السابع أيضاً، قدم ابن أبي الأصبع المصرى (ت 654) كتابه(بديع القرآن) .***ثم لم يمض غير قرن واحد، حتى كان الإمام يرحيى بن حمزة العلوى -(ت 749 هـ) يرى اليدان قفرأ خاليا، ولا ينقضى له عجب من حال علماء البيان وأهل البراعة فيه عن آخرهم، وهو أنهم أغفلوا بلاغة القرآن فىمصنفاتهم. . مع أن ما ذكروه من الأسرار المعنوية واللطائف البيانية من
বন্ধুর পক্ষ থেকে আসা কষ্ট শত্রুর পক্ষ থেকে আসা কষ্টের চেয়েও অধিক তীব্র। আমি বলতে চাচ্ছি যে, প্রজ্ঞা (হিকমত) হলোশরীয়তের সঙ্গিনী এবং তার দুগ্ধপোষ্য বোন। সুতরাং, যারা নিজেদেরকে প্রজ্ঞার সাথে সম্পর্কিত করে তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট সবচেয়ে বেদনাদায়ক, বিশেষ করেতাদের উভয়ের মধ্যে যে শত্রুতা, বিদ্বেষ ও বিবাদ সৃষ্টি হয় তার সাথে। অথচ তারা স্বভাবগতভাবেই পরস্পরের সহচরএবং তাদের সারবত্তা ও সহজাত প্রবৃত্তিতেই তারা পরস্পরকে ভালোবাসে। অনেক অজ্ঞ বন্ধুও একে কষ্ট দিয়েছে যারানিজেদেরকে এর সাথে সম্পর্কিত বলে দাবি করে, আর তারা হলো এর অভ্যন্তরে বিদ্যমান বিভিন্ন দলগুলো।"আবুল ওয়ালিদ ইবনে রুশদের যুগে, ইমাম ফখরুদ্দিন আল-রাজি - মুহাম্মদ বিনউমর (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি) তাঁর গ্রন্থ 'নিহায়াতুল ইজায ফি দিরায়াতিল ইজায' উপস্থাপন করেন। এর মাধ্যমে তিনি অন্যেরবাদ পড়া বিষয়গুলো সংশোধন করতে চেয়েছেন, যদিও তাদের কথাগুলো ছিল মনোজ্ঞ, বিশেষ করে আবদুল কাহের আল-জুরজানি। আল-রাজি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি "মূলনীতি ওঅধ্যায়গুলোর বিন্যাস রক্ষার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন এবং আলোচনাকে মাত্রাতিরিক্ত দীর্ঘায়িত করেছেন। যখন আল্লাহ আমাকে তাঁর দুটি গ্রন্থ—দালাইলুল ইজায এবং আশ-শাফিয়া—অধ্যয়ন করার তৌফিক দিলেন, তখন আমি সেই গ্রন্থদ্বয় থেকে সেগুলোর সারবত্তা ও অনন্য উদ্দেশ্যগুলো আহরণ করলাম। আমি বিন্যাসের সাথে পরিমার্জন এবং বর্ণনার সাথে লিখনশৈলীর সমন্বয় করেছি। প্রতিটি অধ্যায়ে অস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে সুনিশ্চিত বিভাজনের মাধ্যমে সুসংহত করেছি এবং বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রিতা ও ত্রুটিপূর্ণ সংক্ষিপ্তকরণ এড়িয়ে বিক্ষিপ্ত কথাগুলোকে যৌক্তিক নিয়মের অধীনে একত্রিত করেছি।"সপ্তম শতাব্দীতে ইবনে আবিল আসবা আল-মিসরিও (মৃত্যু ৬৫৪) তাঁর গ্রন্থ'বাদিউল কুরআন' উপস্থাপন করেন।***অতঃপর এক শতাব্দীকাল অতিক্রান্ত হতে না হতেই ইমাম ইয়াহইয়া বিন হামজাহ আল-আলাউই -(মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি) দেখলেন যে ময়দানটি শূন্য ও জনহীন পড়ে আছে। অলঙ্কারশাস্ত্রের পণ্ডিত এবং এতে পারদর্শী আলেমদের অবস্থা দেখে তাঁর বিস্ময়ের সীমা রইল না যে, তাঁরা সকলেই তাঁদেররচনাগুলোতে কুরআনের অলঙ্কারশাস্ত্রকে (বালাগাত) উপেক্ষা করেছেন। যদিও তাঁরা যেসব অর্থগত রহস্য এবং অলঙ্কারিক সূক্ষ্ম বিষয় আলোচনা করেছেন তা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
البديع وغيره، إنما هو بيان لطائف الإعجاز وإدراك دقائقه واستنهاض عجائبه.فكيف ساغ لهم تركها وأعرضوا عن ذكرها، وذكروا فى آخر مصنفاتهم ما هو بمعزل عنها،. ."ثم لو عذرنا من كان منهم ليس له حظ فى المباحث الكلامية ولا كانت لهقدم راسخة فى العلوم الإلهية، وهم الأكثر منهم، كالسكاكى وابن الأثيروماحب التبيان. . . فما بال من كان له فيها اليد الطولى كالرازى، فإنهأعرض عن ذلك فى كتابه المصنف فى علم البيان، فلم يتعرض لهذا المباحثولا شَم. منها رائحة، ولكنه ذكر فى صدر (كتاب النهاية) كلاما - قليلا فى وجه الإعجاز، لا ينقع من غلة ولا يشفى من علة ".وقدم ابن حمزة العلوى كتابه الموسوم بالطراز، المتضمن أسرار البلاغةوحقائق الإعجاز، لينقع الغلة ويشفى العلة.***ولكن القرن التالى، لم يجد فى الطراز أكثر مما وجده مصنفه فى تراثالسلف، وألقى البقاعى - برهان الدين بن عمر، ت 885 هـ - دلوه فى النبع السخى، فخرج بكتاب سماه (نظم الدرر) وصفه حاجى خليفة فى (كشف الظنون) فقال (إنه كتاب لم يسبقه إليه أحد. جمع فيه من أسرار القرآن ما تتحير فيه العقول، وأتقن فيه المناسبات، وأوضح المعاني المشكلات.وقال فى بيان فضله:هل رأيتم يا أولي التفسير مَن. . . صاغ تفسيرا كنظم الدررِدقً معنى جلَّ سبكاً لفظُه. . . فى وجوه الفكرمثل الغررولم يمهل الزمن البقاعى فى انتظار جواب ما سأل عنه، بل تصدى له منمعاصريه مَن خالفوه وجرحوه، حتى كادت تكون فتنة!
বাদি (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও অন্যান্য শাস্ত্রের উদ্দেশ্য হলো মূলত অলৌকিকত্বের (ই’জায) সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ বর্ণনা করা, এর গভীরতা অনুধাবন করা এবং এর বিস্ময়কর দিকগুলোকে জাগ্রত করা।তাহলে কীভাবে তাদের জন্য এগুলো পরিত্যাগ করা বৈধ হলো এবং তারা কেন এগুলো উল্লেখ করা থেকে বিমুখ হলেন? তারা তাদের রচনার শেষভাগে এমন সব বিষয় উল্লেখ করেছেন যা এগুলো থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। . .“অতঃপর আমরা যদি তাদের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তিদের ওজর কবুল করে নিই যাদের কালামশাস্ত্রীয় আলোচনায় কোনো অংশ ছিল না এবং যাদের ঐশী বিদ্যায় কোনোসুদৃঢ় পদচারণা (পা) ছিল না—আর তারাই সংখ্যায় অধিক, যেমন সাক্কাকী, ইবনুল আসীরএবং আত-তিবইয়ানের রচয়িতা... তবে আল-রাজীর মতো যাদের এক্ষেত্রে প্রশস্ত হাত (অগাধ পাণ্ডিত্য) ছিল, তাদের কী হলো? তিনিইলমুল বয়ান নিয়ে রচিত তাঁর গ্রন্থে এ থেকে বিমুখ হয়েছেন; তিনি এই আলোচনাগুলোর ধারেকাছেও যাননি,এমনকি এগুলোর ঘ্রাণও নেননি। বরং তিনি (কিতাবুন নিহায়া)-এর শুরুতে অলৌকিকত্বের (ই’জায) দিক নিয়ে সামান্য কিছু কথা বলেছেন, যা না মেটায় তৃষ্ণা, না সারায় রোগ।”আর ইবন হামজা আল-আলাউয়ী ‘আত-তিরাজ’ নামক তাঁর গ্রন্থটি পেশ করেছেন, যা অলঙ্কারশাস্ত্রের রহস্যএবং অলৌকিকত্বের প্রকৃত তত্ত্বসমূহকে ধারণ করে, যেন তা তৃষ্ণা নিবারণ করে এবং রোগ নিরাময় করে।***কিন্তু পরবর্তী শতাব্দী ‘আত-তিরাজ’ গ্রন্থে তার চেয়ে বেশি কিছু পায়নি যা এর রচয়িতা পূর্বসূরীদেরঐতিহ্যে খুঁজে পেয়েছিলেন। অতঃপর আল-বিক্বায়ী—বুরহানুদ্দীন বিন উমর, মৃত্যু ৮৮৫ হিজরী—এই সমৃদ্ধ উৎসে নিজের বালতি নিক্ষেপ করেন, এবং ‘নাজমুত দুরার’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেন। হাজী খলিফা ‘কাশফুয যুনুন’ গ্রন্থে এর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “এটি এমন এক কিতাব যা ইতিপূর্বে আর কেউ লেখেনি। এতে তিনি কুরআনের এমন সব রহস্য জমা করেছেন যা বুদ্ধি বা বিবেককে স্তম্ভিত করে দেয়, তিনি আয়াতসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ককে সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এবং জটিল অর্থসমূহ স্পষ্ট করেছেন।তিনি এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় বলেন:হে তাফসীরবিদগণ, আপনারা কি এমন কাউকে দেখেছেন... যিনি নাজমুত দুরারের মতো কোনো তাফসীর রচনা করেছেন?এর অর্থ অতীব সূক্ষ্ম, শব্দশৈলী অত্যন্ত মহান... চিন্তার জগতে তা উজ্জ্বল চিহ্নের মতো প্রতিভাত হয়।সময় আল-বিক্বায়ীকে তাঁর জিজ্ঞাসার উত্তর পাওয়ার অবকাশ দেয়নি, বরং তাঁরসমসাময়িকদের মধ্য থেকে যারা তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন এবং তাঁকে সমালোচনা করেছিলেন, তারা তাঁর মোকাবিলা করেন, এমনকি তা প্রায় ফিতনায় রূপ নেওয়ার উপক্রম হয়েছিল!
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقد حمل البقاعى ذلك منهم على داء الحسد، فقال فيما نقل حاجى خليفةفي الكشف:"إني بعدما توغلت فيه واستقامت لى مبانيه فوصلت إلى قريب من نصفه،فبالغ الفضلاء فى وصفه بحسن سبكه وغزارة معانيه وإحكام رصفه، دبَّ داءالحسد في جماعة أولى نكد ومكر، فصوبوا من سهام الشرور والأباطيل وأنواع الزور ما كثرت بسببه الوقائع وطال الأمر فى ذلك سنين وعَم الكرب"وفات البقاعى أن يدرك أن المجال يتسع لآراء مخالفيه، وأن أعلام السلفقالوا فى مصنفاتهم فى تفسير القرآن ونظمه وإعجازه، مثل ما قال فى كتابه(نظم الدرر) فلم يُسلَّم لأحد منهم أن يدعى القول الفصل فى الكتابالمعجز -.فى القرن الثامن، لخص "البدر الزركشى" الأقوال فى الإعجاز، فى النوعالثامن والثلاثين من كتابه (البرهان فى علوم القرآن) آل إليه الجلال السيوطىفى "فصل فى وجوه الإعجاز" من كتابه (الإتقان فى علوم القرآن) .وفى العصر الحديث، عقد "الشيخ محمد عبده" فى (تفسير الذكر الحكيم)فصلا "فى تحقيق وجوه الإعجاز بمنتهى الاختصار والإيجاز" مهد له بقوله:"وللباحثين فيه أقوال كُتبت فيها فصول وألفت فيها رسائل وكتب.وقد عقدت هذا الفصل لما علمت من شدة حاجة المسلمين أنفسهم إليها، دع أمر دعوة غيرهم أو الاحتجاج عليهم بها. . ."ولعمرى إن مسألة النظم والأسلوب لإحدى الكبر، وأعجب العجائب لمنفكر وأبصر. ولم يوفها أحد حقها على كثرة ما أبدأوا فيها وأعادوا".وجاء من بعده السيد مصطفى صادق الرافعى فنظر فى تراث المكتبةالقرآنية فلم يرَ فيه كله شيئاً ذا بال، بل وجد أن القوم من علمائنا رحمهمالله
আর আল-বিকায়ি তাদের সেই আচরণকে হিংসার ব্যাধি হিসেবে অভিহিত করেছেন। হাজি খলিফা 'আল-কাশফ' গ্রন্থে যা উদ্ধৃত করেছেন, তাতে তিনি বলেছেন:আর আল-বিকায়ি তাদের সেই আচরণকে হিংসার ব্যাধি হিসেবে অভিহিত করেছেন। হাজি খলিফা 'আল-কাশফ' গ্রন্থে যা উদ্ধৃত করেছেন, তাতে তিনি বলেছেন:"আমি যখন এতে গভীরভাবে নিমগ্ন হলাম এবং এর গঠনশৈলী আমার কাছে সুসংহত হলো, এমনকি আমি এর প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছে গেলাম; আর যখন গুণীজনরা এর চমৎকার রচনাশৈলী, অর্থের প্রাচুর্য এবং সুনিপুণ বিন্যাসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন, তখন একদল দুর্দশাগ্রস্ত ও মকরবাজ লোকের মধ্যে হিংসার ব্যাধি দানা বাঁধল। তারা মন্দ কাজ, বাতিল বিষয় এবং নানাবিধ মিথ্যার এমন সব বাণ নিক্ষেপ করল যার কারণে বহু অঘটন ঘটল, বিষয়টি বছরের পর বছর দীর্ঘায়িত হলো এবং ঘোর সংকট ছড়িয়ে পড়ল।"আর আল-বিকায়ি এটি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন যে, বিরোধীদের মতামতের জন্যও অবকাশ রয়েছে। সালাফে সালেহীনের বিশিষ্ট ইমামগণ কুরআনের তাফসির, এর শব্দবিন্যাস ও অলৌকিকত্ব সম্পর্কে তাদের কিতাবসমূহে তেমন কথাই বলেছেন যেমনটি তিনি তার 'নাজমুত দুরার' কিতাবে বলেছেন। অথচ তাদের কাউকেই এই মুজিজাপূর্ণ কিতাবের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অধিকারী বলে মেনে নেওয়া হয়নি।অষ্টম শতাব্দীতে 'বদরুদ্দীন আজ-যারকাশী' তাঁর 'আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন' কিতাবের আটত্রিশতম পরিচ্ছেদে অলৌকিকত্ব সংক্রান্ত মতামতসমূহ সংক্ষেপ করেছেন। যা পরবর্তীকালে জালালুদ্দীন আস-সুয়ুতী তাঁর 'আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন' কিতাবের 'অলৌকিকত্বের দিকসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে' গ্রহণ করেছেন।আধুনিক যুগে 'শায়খ মুহাম্মদ আবদুহ' তাঁর 'তাফসিরুয যিক্রিল হাকিম'-এ "অত্যন্ত সংক্ষেপ ও সারসংক্ষেপের সাথে অলৌকিকত্বের দিকসমূহের বিশ্লেষণ" শীর্ষক একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন, যার ভূমিকায় তিনি বলেছেন:"এ বিষয়ে গবেষকদের এমন অনেক বক্তব্য রয়েছে যার ওপর ভিত্তি করে বহু পরিচ্ছেদ রচিত হয়েছে এবং অনেক প্রবন্ধ ও গ্রন্থ লেখা হয়েছে। আমি এই পরিচ্ছেদটি রচনা করেছি কারণ আমি বুঝতে পেরেছি যে, মুসলিমদের নিজেদেরই এর অত্যন্ত প্রয়োজন; অন্যদের দাওয়াত দেওয়া কিংবা তাদের বিরুদ্ধে দলিল পেশ করার কথা তো বাদই দিলাম...""আমার জীবনের কসম, শব্দবিন্যাস ও শৈলীর বিষয়টি অন্যতম এক মহান বিষয় এবং চিন্তা ও পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য এক পরম বিস্ময়। অথচ এ বিষয়ে বারবার আলোচনা ও পর্যালোচনা হওয়া সত্ত্বেও কেউই এর প্রকৃত হক আদায় করতে পারেননি।"তাঁর পরে সাইয়িদ মুস্তফা সাদিক আর-রাফেয়ি আগমন করেন। তিনি কুরআন কেন্দ্রিক গ্রন্থাগারের ঐতিহ্যের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং সেখানে বিশেষ গুরুত্ববহ তেমন কিছুই দেখতে পেলেন না। বরং তিনি দেখতে পেলেন যে আমাদের আলেমগণ, আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন-
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قد أكثروا من الكلام فى إعجاز القرآن وجاءوا بقبائل من الرأى لونوا فيها مذاههم ألواناً مختلفات وغير مختلفات، بيد أنهم يمرون فى ذلك عُرضا على غير طريق، وويشتقون فى الكلام ههنا وههنا من كل ما تمترس به الألسنة فى اللدد والخصومة وما يأخذ بعضه على بعض من مذاهبهم ونحلهم، وليس وراء ذلك كله إلا ما تحصره هذه المقاييس من صناعة الحق - فسرها بهامشه فقال: كناية عن علماء الكلام، وفنهم يقوم على الجدل والمنطق! - وإلى أشكال من هذه التراكيب الكلامية، ثم فتنة متماحلة لا تقف عند غاية فى اللجاج والعسر.والرافعى لا يتحرج من القول بالظن فى مصنفات السلف: فهر يحكم علىكتاب الجاحظ، ولم يصل إلينا، بأنه لم يحاول فيه "أكثر من توكيد القول فىالفصاحة والكشف عنها على ما يفى بالابتداء فى هدا المعنى، إذ كان هو الذى ابتدأ التأليف فيه ولم تكن علوم البلاغة قد وضعت بعد.وقال فى كتاب الواسطى، ولم يصل إلينا كذلك:"ولا نظن الواسطى بنى إلا على ما ابتدأه الجاحظ، كما بنى عبد القاهر فىدلائل الإعجاز على الواسطى "ثم يشير إلى كتاب لابن سراقة فى إعجاز القرآن، ضاع فيما ضاع منتراثنا، فيحكم عليه قائلا:"على أن كتابه لوكان مما ينفع الناس لمكث فى الأرض"وتصدى الرافعى للموضوع الجليل، فتناوله أول الأمر مبحثاً من مباحثكتابه (تاريخ آداب العرب) ثم أفرده مستقلا ليكون كما قال: (كتابا بنفسه، تعم به المنفعة ويسهل على الناس تناوله" ونشره بعنوان (إعجاز القرآن)ولم يحتمل رحمه الله أن يختلف معاصروه فى كتابه، فيكون منهم منيراه فصل الخطاب وشهد له بأنه كأنه تنزيل من التنزيل، أو قبس من نور
তারা কুরআনের অলৌকিকত্ব (ইজাযুল কুরআন) সম্পর্কে প্রচুর আলোচনা করেছেন এবং নানা মতামতের দল নিয়ে এসেছেন, যাতে তারা তাদের মতবাদগুলোকে বিভিন্ন রঙে রঞ্জিত করেছেন। তবে তারা এক্ষেত্রে সঠিক পথ ছেড়ে আড়াআড়ি পথে চলেছেন। তারা এখানে-ওখানে এমন সব কথা টেনে এনেছেন যা কেবল বিবাদ ও ঝগড়ায় জিহ্বাকে শাণিত করে এবং যা তাদের বিভিন্ন মতবাদ ও ফেরকার পারস্পরিক রেষারেষি থেকে জন্ম নেয়। এসবের পেছনে 'হক-নির্মাণ শিল্প' (গ্রন্থের টীকায় এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে: এটি ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের একটি রূপক পরিভাষা, আর তাদের এই বিদ্যা বিতর্ক ও যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত) এবং এ জাতীয় কালামশাস্ত্রীয় জটিল বিন্যাস ছাড়া আর কিছুই নেই। এরপর রয়েছে এমন এক দীর্ঘস্থায়ী ফিতনা, যা হঠকারিতা ও কাঠিন্যের কোনো সীমায় গিয়ে থামে না।আর রাফেয়ী পূর্বসূরিদের (সালাফ) কিতাবসমূহ সম্পর্কে অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলতে দ্বিধাবোধ করেন না। তিনি জাহিযের কিতাব সম্পর্কে—যা আমাদের কাছে পৌঁছেনি—এই রায় দেন যে, তিনি এতে "সাবলীলতা (ফাসাহাত) সম্পর্কে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ এবং এই বিষয়ের প্রারম্ভিক ব্যাখ্যা প্রদানের অতিরিক্ত কোনো প্রচেষ্টা করেননি; যেহেতু তিনিই এই বিষয়ে লেখালেখি শুরু করেছিলেন এবং তখনও অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) সংকলিত হয়নি।"ওয়াসিতীর কিতাব সম্পর্কে তিনি বলেছেন—যা একইভাবে আমাদের নিকট পৌঁছেনি:"আমাদের ধারণা, ওয়াসিতী কেবল জাহিযের শুরু করা ভিত্তির ওপরই নির্মাণ করেছেন, যেমনটি আব্দুল কাহির তার 'দালাইলুল ইজায' কিতাবে ওয়াসিতীর ওপর ভিত্তি করে করেছেন।"অতঃপর তিনি ইবনে সারাকাহর 'ইজাযুল কুরআন' বিষয়ক একটি কিতাবের প্রতি ইঙ্গিত করেন, যা আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের সাথে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি সেটির ওপর এই মন্তব্য করেন:"তবে তার কিতাবটি যদি মানুষের উপকারে আসত, তবে তা পৃথিবীতে টিকে থাকত।"রাফেয়ী এই মহান বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি প্রথম দিকে এটিকে তার 'তারিখু আদাবিল আরব' (আরব সাহিত্যের ইতিহাস) কিতাবের একটি অধ্যায় হিসেবে আলোচনা করেন। এরপর তিনি এটিকে স্বতন্ত্র রূপ দেন যাতে এটি—তার ভাষায়— "নিজেই একটি কিতাব হয়, যার উপকারিতা ব্যাপক হয় এবং মানুষের জন্য এটি গ্রহণ করা সহজ হয়।" তিনি এটি 'ইজাযুল কুরআন' শিরোনামে প্রকাশ করেন।তিনি (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) সহ্য করতে পারতেন না যে, তার সমসাময়িকরা তার কিতাব সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করুক। তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা একে চূড়ান্ত মীমাংসা হিসেবে দেখতেন এবং সাক্ষ্য দিতেন যে, এটি যেন আসমানি কিতাবেরই কোনো অংশ অথবা নূরের একটি স্ফুলিঙ্গ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الذكر الحكيم) كما قال سعد زغلول، ومن يوجب "على كل مسلم عنده نسخة من القرآن أن تكون عنده نسخة من هذا الكتاب " كما قال الدكتور يعقوب صروف فى تقريظه للكتاب.ويكون منهم علماء شيوخ لا يحسنون الرأى فى الكتاب ولايتقبلوفه بمثلما تقبله به سعد زغلول ويعقوب صروف - وليسا من أصحاب الكلمة فى مثل هذا الموضوع - فيقف الرافعى منهم مثل الموقف الذى أنكره على السلف من "اللدد فى الخصومة والفتنة المتماحلة لا تقف عند غاية فى اللجاج والعسر"كتب فى مقدمة الطبعة الثالثة من (إعجاز القرآن) :"وأما بعد فهذه هى الطبعة الثالثة من نسخ كتابى تظهر اليوم، وإن فينامع فريق الطاعة فريق المعصية، ومع أهل اليقين عصبة الشك، ومع طائفةالحقيقة دعاة الشبهة، ومع جماعة الهداية أفراد الضلالة. يتخذون الحلم دُرْبةلإفساد الناس وتحليل عُقدهم الوثيقة وتوهين أخلاقهم الصالحة القوية*ويزعمون للعلم معنى إن يكن بعضه فى العلم فأكثره فى الجهل، وإن يكن لهصواب فله خطلأ يغمر صوابه وإن كان فيه ما يرجع إلى عقول العلماء ففيهكذلك مايرجع إلى عقولهم هم،، * وناهيك بها عقولا ضعيفة معتلة غلبعليها الكيد وأفسدها التقليد ونزع بها لؤم الطبع شر منزع، حتى استهلكهاما أوبقهم من فساد الخلق، وما يستهويهم من غوايات المدنية، فجاءونا فىأسماء العلماء ولكن بأفعال أهل الجهل، وكانوا فى العلم كالنبات الذى خبُثلا يخرج في الأرض الطيبة إلا خبيثا. . ."وإنك لن تجد سيماهم إلا فى أخلاقهم فتعرفهم بهذه الأخلاق، فستنكرهمجميعا، ولتعلمن عليهم كل سوء، ولترينهم حشو أجسامهم طينا وحماة، فىزعم كذبٍ يسمي لك الطين طيباً والحمأة مسكا! ولتجدن أحدهم وما فىالسفلة أسفل منه شهواتٍ ونزغاتٍ، وإنه مع ذلك لُيزوِّر لك ويلبس عليك"
প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ) যেমনটি সাদ যাগলুল বলেছেন, এবং যারা অবধারিত মনে করেন যে "প্রত্যেক মুসলিম যার কাছে কুরআনের একটি কপি রয়েছে, তার কাছে এই বইটিরও একটি কপি থাকা উচিত" যেমনটি ডক্টর ইয়াকুব সারুফ বইটির প্রশংসায় বলেছেন।এবং তাদের মধ্যে এমন আলিম ও শায়খগণ রয়েছেন যারা এই কিতাব সম্পর্কে ইতিবাচক মত পোষণ করেন না এবং এটিকে সেভাবে গ্রহণ করেন না যেভাবেসাদ যাগলুল এবং ইয়াকুব সারুফ গ্রহণ করেছিলেন—যদিও এই ধরণের বিষয়ে তারা নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ নন—ফলে রাফেয়ী তাদের বিরুদ্ধে এমন অবস্থান নেন যা তিনি পূর্ববর্তীদের (সালাফ) মধ্যে অপছন্দ করেছিলেন, যা হলো "তর্ক-বিতর্কে চরম হঠকারিতা এবং অন্তহীন ফিতনা যা একগুঁয়েমি ও কঠোরতার কোনো সীমানায় গিয়ে থামে না।"তিনি (ইজাজুল কুরআন) এর তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকায় লিখেছেন:"অতঃপর, এটি আমার বইয়ের কপির তৃতীয় সংস্করণ যা আজ প্রকাশিত হচ্ছে; এবং আমাদের মধ্যেঅনুগত দলের সাথে সাথে অবাধ্য দল রয়েছে, নিশ্চিত বিশ্বাসীদের সাথে সাথে সংশয়বাদীদের গোষ্ঠী রয়েছে, এবং সত্যনিষ্ঠ দলের সাথে সাথেসন্দেহ সৃষ্টিকারীরা রয়েছে, আর হেদায়েতপ্রাপ্ত জামাতের সাথে সাথে পথভ্রষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছে। তারা সহনশীলতাকে মানুষের মধ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করার,তাদের দৃঢ় বিশ্বাস শিথিল করার এবং তাদের শক্তিশালী ও সৎ চরিত্রকে দুর্বল করার একটি উপায় হিসেবে গ্রহণ করে।*তারা জ্ঞানের এমন এক অর্থ দাবি করে যে, যদি তার সামান্য অংশ জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে তার অধিকাংশ অজ্ঞতার শামিল; আর যদি তাতেসঠিক কিছু থাকেও, তবে তার ভুলগুলো সেই সঠিকতাকে গ্রাস করে ফেলে। আর যদি তাতে এমন কিছু থাকে যা আলেমদের বিবেকের অনুকূলে, তবে তাতেএমন কিছুও আছে যা একান্তই তাদের নিজস্ব বিবেকের ফসল। * আর সেই বিবেকগুলো কতই না দুর্বল ও রোগাক্রান্ত, যার ওপরষড়যন্ত্র বিজয়ী হয়েছে, অন্ধ অনুকরণ যাকে কলুষিত করেছে এবং স্বভাবের নীচতা তাকে নিকৃষ্টতম অবস্থানে নিয়ে গেছে; এমনকি তাদেরকে ধ্বংস করে ফেলেছেচরিত্রের সেই কলুষতা যা তাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে এবং আধুনিকতার সেই বিভ্রান্তি যা তাদের প্রলুব্ধ করে। তারা আমাদের সামনেআলিমদের পরিচয়ে আসে কিন্তু তাদের কর্ম অজ্ঞ লোকদের মতো। জ্ঞানের ক্ষেত্রে তারা সেই নিকৃষ্ট উদ্ভিদের মতো যাউর্বর জমিতেও নিকৃষ্ট ফসল ছাড়া আর কিছু উৎপন্ন করে না..."তুমি তাদের লক্ষণ কেবল তাদের আচরণের মাধ্যমেই খুঁজে পাবে এবং এই আচরণের দ্বারাই তাদের চিনতে পারবে। তুমি তাদের সবাইকে ঘৃণা করবে,তাদের সকল মন্দ দিক সম্পর্কে অবগত হবে এবং তুমি তাদের দেখবে যেন তাদের শরীরের ভেতরটা কাদা ও পচা মাটি দিয়ে ঠাসা; অথচমিথ্যা দাবির মাধ্যমে তারা কদাকে সুগন্ধি এবং পচা মাটিকে কস্তুরী বলে তোমার কাছে নাম দেয়! তুমি তাদের প্রত্যেককে এমন অবস্থায় পাবে যে,সবচেয়ে ইতর ব্যক্তির চেয়েও কামলিপ্সা ও কুমন্ত্রণায় তারা বেশি নিকৃষ্ট; এতদসত্ত্বেও সে তোমার সামনে সত্য গোপন করে এবং বিভ্রান্তি ছড়ায়।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فما فيه من لون عندك يعيبه إلا هو عنده تحت لون يزينه، ولا رذيلة تقبحهإلا هى فى معنى فضيلة تجمله. فخذ منه الكذب فى فلسفة المنفعة، والتسفلَفى شفاعة الغريزة، والوقاحة فى زعم الحرية، والخطأ فى علة الرأى، والإلحادفى حجة العلم، وفسادَ الطبيعة فى دعوى الرجوع إلى الطبيعة! وبالجملة، خذأفعالهم فسَمها غيرَ أسمائها وانحلها غير صفاتها، واكذِبْ بالألفاظ على المعانيوقل: علماء ومصلحون، وأنت تعنى ما شئت إلا حقيقة العلم والإصلاح."أيتها الحصاة! ما يسخر منك الساخر بأكثر من أن يجلوك على الناس فىعلبة جوهرة."وأنت أيها القارئ فلا يغرنك منهم من يلبس العمامة ويتسم بسمة الشرعثم يذهب أين ذهب وشعلة الجحيم العلمية تدور فى رأسه تهفو من هنا وهنا!"وَمَن تراه فى ثياب المعلم يتلبس بالنشء كما يتلبس الداء بعضو حيٍّلا يدع أبدا أن يغمز غمزة، ويبتلى بما فيه من ضعة وبلاء فلايصلح إلا علىإفساد الحياة، ولا يقوى إلا على إضعاف القوى، ولا يعيش إلا على غذاء من الموت، كان هذا المعلم أخزاه الله كان دودة فى قبر ثم نفخه الله إنسانا فيما يبلو به الخلقَ ويضرب الحياة به ضربة انحلال وبِلى وتعفن!"وَمن تراه سخِر به القدر أشد سخرية قط، فضغطه في قالب من قوالبالحياة المصنوعة فإذا هو فى تصاريف الدنيا كاتب مرشد متنصح، ينفث دخانقلبه الأسود ويعمل كما تعمل الأعاصير على إهداء الوجوه والأعين والأنفاسصحفاً منشرة من غبار الأرض، إن لم تكن مرضًا فأذى، وإن لم تكن أذىفضيق، وإن لم تكن ضيقا فلن تكون شيئا مما يساغ أو يقبل أو يحب."على إنك ترى أصحابنا العلماء لا يتحاملون على شىء، ما يتحاملون علىالقرآن الكريم. فهم يخصونه بمكاره العلم كله ويجفون عنه أشد جفاء، لكنهم وإياه فى غرورهم وأوهامهم لكالطيارات غرها أن تصعد فى الجو فمضت حاشدة فى حملة حربية إلى فلك الشمس. .
তোমার কাছে যা দোষযুক্ত রঙের মতো মনে হয়, তার কাছে তা-ই সুশোভিত রঙের আড়ালে থাকে; আর কোনো অশ্লীলতা তোমাকে কদর্য মনে করালেওতা তার কাছে অলংকৃত শ্রেষ্ঠত্বের অর্থ বহন করে। সুতরাং তুমি তার কাছ থেকে উপযোগবাদী দর্শনের নামে মিথ্যা গ্রহণ করো, প্রবৃত্তির মধ্যস্থতায়হীনতা, স্বাধীনতার দাবিতে নির্লজ্জতা, মতামতের ত্রুটিতে ভুল, বিজ্ঞানের যুক্তিতেনাস্তিকতা এবং প্রকৃতিতে ফেরার দাবিতে প্রকৃতির বিকৃতি গ্রহণ করো! সংক্ষেপে, তাদেরকাজগুলো নাও এবং সেগুলোর নাম বদলে দাও, সেগুলোকে ভিন্ন গুণে ভূষিত করো, আর অর্থের বিপরীতে শব্দ দিয়ে মিথ্যাচার করোএবং বলো: তারা আলেম ও সংস্কারক, অথচ তুমি ইলম ও সংস্কারের প্রকৃত অর্থ ছাড়া অন্য যা ইচ্ছে তা-ই বুঝাতে পারো।"হে কঙ্কর! কোনো বিদ্রূপকারীই তোমাকে এর চেয়ে বেশি বিদ্রূপ করতে পারে না যে, সে তোমাকে মানুষের কাছে একটিরত্নের বাক্সে উপস্থাপন করে।"আর হে পাঠক! তাদের মধ্যে যারা পাগড়ি পরে এবং শরীয়তের লেবাস গ্রহণ করে, কিন্তু যেখানেই যাক না কেন তার মাথায় বিজ্ঞানের লেবাসধারী জাহান্নামের শিখা ঘুরপাক খায় এবং এদিক-ওদিক দুলতে থাকে—তারা যেন তোমাকে প্রতারিত না করে!"আর যাকে তুমি শিক্ষকের পোশাকে নতুন প্রজন্মের ওপর সওয়ার হতে দেখবে—ঠিক যেভাবে কোনো রোগ জীবন্ত অঙ্গে সওয়ার হয়—সে কখনো বাঁকা ইশারা করতে ছাড়ে না এবং নিজের নীচতা ও মুসিবতে এমনভাবে লিপ্ত থাকে যে, সে জীবনকে কলুষিত করা ছাড়া আর কিছুই সংশোধন করতে পারে না,শক্তিকে দুর্বল করা ছাড়া আর কোনো শক্তি রাখে না এবং মৃত্যু ছাড়া আর কোনো খাদ্যে বেঁচে থাকে না। এই শিক্ষক—আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন—ছিল কবরের একটি কীট, অতঃপর আল্লাহ তাকে মানুষ হিসেবে ফুঁক দিয়ে বের করেছেন সৃষ্টিজগতকে পরীক্ষা করার জন্য এবং এর মাধ্যমে জীবনকে ধ্বংস, জীর্ণতা ও পচনের আঘাত হানার জন্য!"আর যাকে দেখবে যে ভাগ্য তার সাথে সবচেয়ে চরম পরিহাস করেছে, তাকে কৃত্রিম জীবনের কোনো এক ছাঁচেপিষে ফেলেছে—ফলে দুনিয়ার কাজকর্মে সে একজন লেখক, পথপ্রদর্শক ও উপদেশদাতা; সে তার কালো হৃদয়ের ধোঁয়াউদ্গীরণ করে এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো কাজ করে চেহারা, চোখ ও নিঃশ্বাসে মাটির ধুলোবালি ছড়ানো উন্মুক্তপাণ্ডুলিপি উপহার দিতে—যা যদি রোগ না হয় তবে কষ্ট, আর কষ্ট না হয়তবে সংকীর্ণতা, আর যদি সংকীর্ণতাও না হয় তবে তা এমন কিছু নয় যা রুচিকর, গ্রহণযোগ্য বা প্রিয় হতে পারে।"অথচ তুমি দেখবে আমাদের আলেম বন্ধুরা অন্য কোনো কিছুর ওপর এতটা আক্রমণাত্মক নয়, যতটা তারাকুরআন কারীমের ওপর। তারা একে বিজ্ঞানের সমস্ত অপছন্দনীয় বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দু বানায় এবং এর থেকে কঠোরভাবে বিমুখ থাকে। কিন্তু তাদের অহংকার ও মোহগ্রস্ততায় তারা এবং কুরআন যেন সেই বিমানের মতো, যা আকাশে উড়তে পেরে প্রতারিত হয়েছে এবং যুদ্ধের অভিযানে সূর্যের কক্ষপথের দিকে ধাবিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأعتذر عن هذه الإطالة فى نقل فقرات من مقدمة السيد الرافعى لكتابه(الإعجاز) فعباراته فيها تعكس صدى رأى علماء جيله فى هذا الكتاب، بقدرما تكشف لنا عن طريقته في النظر والتناول، ومنطقه فى البرهنة والاحتجاجوأسلويه فى المناقشة والجدل. .فبمثل هذا التدفق جرى قلمه فى موضوع الإعجاز. وبمثل هذه الطواعيةالخطابية صال وجال فى الميدان كمن يقول، كم ترك الأول للآخر!واستراح حيث ظن أنه ألقم الأوائل والآواخر حجراً، وقال: (فى غيرالجهات التى كتب فيها كل من قبله "!***ثم لم يلبث أن صار هو من الأول الذى ترك لنا ما ترك.لم تمض أعوام على ظهور كتابه فى الإعجاز، حتى بدا الميدان لمن بعده خالياأو يكاد، فرأى الدكتور عبد العليم أن ينشر فى الهند كتاب الباقلاني فى(إعجاز القرآن) فى الوقت الذى رأى فيه الزميل السيد أحمد صقر أن ينشرالكتاب نفسه فى مصر، لأنه فى تقديره "أعظم كتاب ألف فى الإعجاز إلىاليوم".وهو رأى لم يسلم به الدارسون من قدامى ومحدثين، وينقل الزميل فىمقدمته لإعجاز الباقلاني، أن بعض المتعصبين كرهوا نشر الكتاب،قال: "حدثى من أثق بصحة حديثه أن دارا للنشر والطبع استشارت كبيرا منهم فى طبع هذا الكتاب بتحقيقى، فكتب إليها بخط يده يقول: (أنا لا أنصح بطبع كتاب إعجاز القرآن للباقلاني، لأنه ليس أنفسَ كتاب فى موضوعه) .ولما لقيت كاتب هذا التقرير العجيب قذفت سامعتيه بهذا التحدى: دلنى على كتاب واحد فى إعجاز القرآن تربو قيمته على كتاب الباقلاني.فأبلس ولم يحر جوابا"قلت وأنا أقرأ هذا التعليق: رحم الله ابن حزم! ورحمنا الله إن كانت
সাইয়্যেদ আর-রাফেয়ি তাঁর কিতাবের ভূমিকা থেকে অনুচ্ছেদগুলো উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে এই দীর্ঘসূত্রতার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী(আল-ইজাজ)। কেননা সেখানে তাঁর শব্দগুলো এই কিতাব সম্পর্কে তাঁর প্রজন্মের আলেমদের মতামতের প্রতিধ্বনি ঘটায়, ঠিক ততটুকুইযতটুকু তা আমাদের নিকট তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও পর্যালোচনার পদ্ধতি প্রকাশ করে, এবং তাঁর দলিল ও যুক্তি উপস্থাপনের যৌক্তিকতাএবং আলোচনা ও বিতর্কের ক্ষেত্রে তাঁর শৈলীকেও উন্মোচন করে। .ইজাজ বিষয়ে তাঁর কলম এমন সাবলীল প্রবাহেই চলেছে। আর এমন বাগ্মিতার সাথেইতিনি এই ময়দানে বিচরণ করেছেন যেন কেউ বলছেন, পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না বাকি রেখে গেছেন!তিনি স্বস্তি অনুভব করলেন যেখানে তিনি ধারণা করেছিলেন যে, তিনি পূর্বাপর সকলকে নির্বাক করে দিয়েছেন এবং বললেন: (এমন সবদিক থেকে যা তাঁর পূর্ববর্তী কেউ লেখেননি!)"***অতঃপর তিনি নিজেও সেই পূর্ববর্তীদের অন্তর্ভুক্ত হতে দেরি করলেন না যারা আমাদের জন্য যা রেখে যাওয়ার তা রেখে গেছেন।তাঁর ইজাজ বিষয়ক কিতাবটি প্রকাশের পর কয়েক বছর অতিবাহিত হতে না হতেই পরবর্তীদের নিকট এই ময়দানটি প্রায় শূন্যবা এর কাছাকাছি মনে হতে লাগল। ফলে ডক্টর আব্দুল আলিম ভারতে বাকিল্লানির কিতাবটি(ইজাজুল কুরআন) প্রকাশ করা সমীচীন মনে করলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সহকর্মী সাইয়্যেদ আহমদ সাকর মিশরেএকই কিতাব প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। কারণ তাঁর মূল্যায়নে এটিই হলো "আজ পর্যন্ত ইজাজ বিষয়ে রচিতশ্রেষ্ঠতম গ্রন্থ"।এটি এমন এক অভিমত যা প্রাচীন ও আধুনিক কোনো গবেষকই বিনা শর্তে মেনে নেননি। সহকর্মী তাঁরবাকিল্লানির ইজাজ গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, কিছু গোঁড়া লোক কিতাবটি প্রকাশ করা অপছন্দ করেছিলেন,তিনি বলেন: "এমন এক ব্যক্তি আমাকে বলেছেন যার কথার সত্যতার ওপর আমি আস্থা রাখি যে, একটি প্রকাশনা ও মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান আমার সম্পাদিত এই কিতাবটি ছাপানোর বিষয়ে তাদের এক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির পরামর্শ চেয়েছিল। তখন তিনি নিজ হাতে লিখেছিলেন: (আমি বাকিল্লানির ইজাজুল কুরআন কিতাবটি ছাপানোর পরামর্শ দিচ্ছি না, কারণ এটি এই বিষয়ের সবচেয়ে মূল্যবান কিতাব নয়)।আর যখন আমি এই অদ্ভুত প্রতিবেদনের লেখকের সাথে দেখা করলাম, তখন তাঁর কানে এই চ্যালেঞ্জটি ছুড়ে দিলাম: আমাকে ইজাজুল কুরআনের এমন একটি কিতাব দেখান যার মূল্য বাকিল্লানির কিতাবের চেয়ে বেশি।ফলে তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন এবং কোনো উত্তর দিতে পারলেন না।"এই মন্তব্যটি পড়ার সময় আমি বললাম: আল্লাহ ইবনে হাজমের প্রতি রহম করুন! আর আমাদের প্রতিও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক যদি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
حياتنا عَقُمت، فليس لها أن تعرف من الإعجاز، غير ما قاله قائل منذ عشرةقرون!***ونبدأ نحن من حيث انتهى السلف، وتراثهم بين أيدينا علامات علىالطريق، لا نغض من قيمته ولا نحط من أقدار أهله، وإنما نرى فى كل منهمجهد عصر ومستوى بيئة، وحتمية تقدم وسنة حياة.ونمض ونترك للأجيال بعدنا ما نترك، والباب مفتوح أبداً ليس لأحد أنيدعى أنه أغلقه، والمجال رحب يتلقى كل حين جديدا لن يلبث أن يصير منالقديم، دون أن تسلم الحياة بأن أحدا قال الكلمة الأخيرة فيه.لقد قالها الجاحظ من قديم وهو يقدم كتابه (نظم القرآن) إلى الفتحابن خاقان، وقالها الباقلاني من بعده، والجرجاني وابن حزم والرازى والعلوىوالبقاعى. . . فما لبث الزمن أن نسخ ما قالوا.وكذلك قالها الرافعى فى كتابه الذى بدا لسعد زغلول كأنه تنزيل منالتنزيل " وأوجب يعقوب صروف "على كل مسلم عنده نسخة من القرآن، أن يقتنى نسخة منه ".فما مضت أعوام حتى جاء من لم ير كتابا ظهر فى الإعجاز بعد كتابالباقلاني من القرن الرابع للهجرة!فإن تكن الخصومة المذهية والفكرية فيما مضى، قد وضعت قضية الإعجازفى دوامة الصراع المذهبى والجدل الكلامى والعداوة الشخصية، فإنا نعود بعد هذا كله فنقول ما قلناه فى مستهل هذا المدخل:لعل من إعجاز القرآن أن تظل الأجيال تتوارد عليه جيلا بعد جيل، وهورحب المدى سخى المورد، كلما حسب جيل أنه بلغ منه مبلغاً، امتد الأفقبعيدا وراء كل مطمح وفوق كل طاقة. . .
আমাদের জীবন বন্ধ্যা হয়ে পড়েছে, ফলে দশ শতাব্দী আগে কেউ যা বলেছিলেন তার বাইরে মুজিজা (অলৌকিকত্ব) সম্পর্কে জানার আর কোনো উপায় আমাদের নেই!***আমরা সেখান থেকেই শুরু করব যেখান থেকে সালাফগণ শেষ করেছেন। তাঁদের ঐতিহ্য আমাদের সামনে পথের দিশারিহিসেবে বিদ্যমান। আমরা এর মূল্যকে খাটো করি না এবং তাঁদের মর্যাদাও হানি করি না। বরং আমরা তাঁদের প্রত্যেকের মাঝেসমকালীন প্রচেষ্টা, পরিবেশের মানদণ্ড, অগ্রগতির অনিবার্যতা এবং জীবনের চিরাচরিত নিয়ম দেখতে পাই।আমরা এগিয়ে যাব এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য যা রেখে যাওয়ার তা রেখে যাব। এই দুয়ার সর্বদা উন্মুক্ত, কেউ এটিবন্ধ করার দাবি করতে পারে না। এর ক্ষেত্র সুবিস্তৃত যা প্রতিনিয়ত নতুন কিছু গ্রহণ করে, যা অচিরেইপুরাতন হয়ে যায়; তবুও জীবন কখনো এই স্বীকৃতি দেয় না যে, কেউ এ বিষয়ে শেষ কথা বলে ফেলেছেন।প্রাচীনকালে জাহিজ যখন ফাতহ ইবনে খাকানের নিকট তাঁর গ্রন্থ (নাযমুল কুরআন) পেশ করছিলেন তখন তিনি এটি বলেছিলেন। তাঁর পরে বাকিলানি, জুরজানি, ইবনে হাযম, রাজি, আলাউয়িএবং বিকায়ি... সকলেই এটি বলেছিলেন। কিন্তু কাল পরিক্রমায় তাঁদের বক্তব্যগুলো রহিত হয়ে গেছে।একইভাবে রাফেয়ি তাঁর গ্রন্থে এটি বলেছিলেন, যা সাদ যাগলুলের কাছে মনে হয়েছিল যেন তা অবতীর্ণবাণীর মতোই এক বাণী; আর ইয়াকুব সরুফ প্রত্যেক সেই মুসলমানের ওপর এই গ্রন্থের একটি কপি সংগ্রহ করা আবশ্যক করে দিয়েছিলেন, যাঁর কাছে কুরআনের একটি কপি রয়েছে।কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই এমন এক সময় এল যখন হিজরি চতুর্থ শতাব্দীতে বাকিলানির কিতাবেরপর মুজিজা বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো কিতাব আর দেখা যায়নি!অতীতে মাযহাবগত ও বুদ্ধিভিত্তিক বিরোধ যদি মুজিজার বিষয়টিকেমাযহাবী লড়াই, কালাম শাস্ত্রের বিতর্ক এবং ব্যক্তিগত শত্রুতার আবর্তে ফেলে দিয়ে থাকে, তবে এই সবকিছুর পর আমরা পুনরায় সেই কথাই বলব যা এই ভূমিকার শুরুতে বলেছিলাম:সম্ভবত কুরআনের অন্যতম মুজিজা হলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম এর ওপর পর্যায়ক্রমে আসতে থাকবে, অথচ এটিসুপ্রশস্ত পরিধি ও অফুরন্ত উৎসের অধিকারী। যখনই কোনো প্রজন্ম মনে করে যে তারা এর নিগূঢ় রহস্যের একটি স্তরে পৌঁছেছে, অমনি এর দিগন্ত সকল আকাঙ্ক্ষার অতীত এবং সকল সামর্থ্যের ঊর্ধ্বে বহুদূর বিস্তৃত হয়ে যায়...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ومع إدراكي أن الإعجاز البياني للقرآن يفوت كل محاولة وجهد، أتقدم فىخشوع إلى الميدان الجليل فأضع إلى جانب محاولات السلف الصالح، ما هدىإليه عكوفى الطويل على تدبر كلمات الله، من وجهٍ فى هذا الإعجاز:(لَوْ أَنْزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُتَصَدِّعًا مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (21) .صدق الله العظيم
কুরআনের আলঙ্কারিক অলৌকিকত্ব যে কোনো প্রচেষ্টা ও শ্রমের অতীত — এটি উপলব্ধি করে আমি অগ্রসর হচ্ছিঅত্যন্ত বিনম্রচিত্তে এই মহান ময়দানে এবং সালাফে সালেহীন বা নেককার পূর্বসূরিদের প্রচেষ্টার পাশাপাশি আমি উপস্থাপন করছি যা পথ দেখিয়েছেসেদিকে মহান আল্লাহর বাণী নিয়ে আমার দীর্ঘকালীন একাগ্রতা ও গভীর অনুধাবন, যা এই অলৌকিকত্বেরই একটি বিশেষ দিক:(যদি আমি এই কুরআন কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি অবশ্যই তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতে। আর এই সকল উদাহরণ আমি মানুষের জন্য পেশ করি যেন তারা চিন্তা-ভাবনা করে) (২১)।মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المبحث الأول1 - المعجزة2 - قضية التحدى وآيات المعاجزة3 - وجوه الإعجاز والبيان القرآني4 - البلاغيون والإعجاز
প্রথম পরিচ্ছেদ1 - মুজিজা2 - চ্যালেঞ্জের বিষয়টি এবং মুজিজার আয়াতসমূহ3 - ই’জাযের (অলৌকিকত্বের) দিকসমূহ এবং কুরআনের বর্ণনাভঙ্গি4 - অলঙ্কারবিদগণ এবং ই’জায (অলৌকিকত্ব)
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
المعجزةمن فجر المبعث، فرض القرآن إعجازهعلى كل من سمعوه من العرب، علىتفاوت مراتبهم فى البلاغة، وقد تحيرالمشركون فى وصفه، وحرصرا على أنيصدوا العرب عن سماعه، عن يقينبأنه ما من عربى يخطئه أن يميز بين هذاالقرآن، وقول البشر.
মু'জিযারিসালাতের ঊষালগ্ন থেকেই কুরআন তার অলৌকিকত্বকে অনিবার্য করে তুলেছেসেই সকল আরবের ওপর যারা এটি শ্রবণ করেছে, অলঙ্কারশাস্ত্রে তাদেরস্তরের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও। আর মুশরিকরা এর স্বরূপ বর্ণনায়কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল এবং তারা আরবদেরকে এটি শ্রবণ করা থেকেবিরত রাখতে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিল, এই সুনিশ্চিত বিশ্বাস থেকেযে, এমন কোনো আরব নেই যার কাছে এই কুরআনএবং মানুষের বাণীর মধ্যকার পার্থক্য অস্পষ্ট থাকবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৪০)
قضية الإعجاز البياني بدأت تفرض وجودها على العرب من أول المبعث.فمنذ تلا المصطفى عليه الصلاة والسلام فى قومه ما تلقى من كلمات ربه،أدركت قريش ما لهذا البيان القرآني من إعجاز لا يملك أي عربي يجد حسَّلغته وذوقها الأصيل، سليقة وطبعًا، إلا أن يسلم بأنه ليس من قول البشر.من هنا كان حرص طواغيت الوثنية من قريش، على أن يحولوا بين العربوبين سماع هذا القرآن. فكانوا إذا دنا الموسم وآن وفود قبائل العربللحج، ترصدوا لها عند مداخل مكة، وأخذوا بسبل الناس لا يمر بهم أحدإلا حذروه من الإصغاء إلى ما جاء به "محمد بن عبد الله" من كلام قالوا إنهالسحر يفرق بين المرء وأبيه وأخيه، وبين المرء وزوجه وولده وعشيرته.وربما وصلت آيات منه إلى سمع أشدهم عداوة للإسلام، فألقى سلاحهمصدقا ومبايعًا، عن يقين بأن مثل هذه الآيات ليست من قول البشر.حدثوا أن عمر بن الخطاب خرج ذات مساء متوشحا سيفه يريد رسولالله صلى الله عليه وسلم، ورهطا من أصحابه، فى بيت عند الصفا سمعأنهم مجتمعون فيه، فلقيه فى الطريق من سأله:- أين تريد يا عمر،أجاب: أريد محمدًا هذا الصابئ الذى فرق أمر قريش وسفه أحلامهاوعاب دينها وسبَّ آلهتها، فأقتله.قال له محدثه:- غرْتك نفسك ياعمر! أترى بنى عبد مناف تاركيك تمشى على الأرضوقد قتلت محمدًا، أفلا ترجع إلى أهل بيتك فتقيم أمرهم،سأله عمر، وقد رابه ما سمع:
আল-কুরআনের অলঙ্কারিক অলৌকিকত্বের (ইজাযুল বায়ানি) বিষয়টি নবুওয়াতের শুরু থেকেই আরবদের ওপর নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে শুরু করে।যবে থেকে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রতিপালকের নিকট থেকে প্রাপ্ত বাণীসমূহ তাঁর কওমের সামনে তিলাওয়াত করলেন,কুরাইশগণ এই কুরআনিক বাচনভঙ্গির এমন এক অলৌকিকত্ব উপলব্ধি করেছিল যা কোনো আরবের পক্ষেই অস্বীকার করা সম্ভব ছিল না, যার মধ্যে স্বকীয় ভাষাগত বোধ ওতার আদি স্বাদ-চেতনা প্রকৃতিগতভাবে ও স্বভাবজাতভাবে বিদ্যমান ছিল; বরং সে এই কথা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হতো যে, এটি কোনো মানুষের কথা নয়।এ কারণেই কুরাইশের পৌত্তলিক খোদাদ্রোহীরা আরবদেরকে এই কুরআন শ্রবণ করা থেকে বিরত রাখতে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিল। ফলে যখন হজের মৌসুম ঘনিয়ে আসত এবং আরব গোত্রগুলোর আগমনের সময় হতো,হজের উদ্দেশ্যে, তখন তারা মক্কার প্রবেশপথগুলোতে ওঁত পেতে থাকত এবং মানুষের চলাচলের পথে অবস্থান নিত। যখনই কেউ তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত,তখনই তারা তাকে ‘মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহর’ আনীত কথাগুলো শোনা থেকে সতর্ক করত। তারা বলত যে, এটি হলোযাদু, যা মানুষের মধ্যে এবং তার পিতা, ভাই, স্ত্রী, সন্তান ও বংশের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেয়।কখনো কখনো এর কিছু আয়াত ইসলামের ঘোরতর শত্রুদের কানেও পৌঁছে যেত, তখন সে অস্ত্র সমর্পণ করতএবং ঈমান এনে আনুগত্যের বায়আত গ্রহণ করত যে, এই আয়াতগুলো কোনো মানুষের কথা হতে পারে না।বর্ণিত আছে যে, একদিন সন্ধ্যায় উমর ইবনুল খাত্তাব তরবারি লটকিয়ে আল্লাহর রাসুলের খোঁজে বের হলেন,(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর একদল সাহাবী সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন, তিনি শুনেছিলেন যেতাঁরা সেখানে সমবেত হয়েছেন। পথিমধ্যে তাঁর সাথে এক ব্যক্তির দেখা হলো, যে তাঁকে জিজ্ঞেস করল:- হে উমর, তুমি কোথায় যাচ্ছ?তিনি উত্তর দিলেন: আমি এই ধর্মত্যাগী মুহাম্মাদের কাছে যাচ্ছি, যে কুরাইশদের ঐক্য বিনষ্ট করেছে, তাদের জ্ঞানীদের নির্বোধ সাব্যস্ত করেছেতাদের ধর্মের নিন্দা করেছে এবং তাদের উপাস্যদের গালি দিয়েছে; তাকে আমি হত্যা করব।তাঁর সাথে কথা বলা ব্যক্তিটি বলল:- হে উমর! তুমি নিজের ব্যাপারে ধোঁকায় আছ। তুমি কি মনে করো যে, বনু আবদে মানাফ তোমাকে এই যমীনে বিচরণ করতে দেবেযখন তুমি মুহাম্মাদকে হত্যা করে ফেলবে? বরং তুমি তোমার নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যাও না কেন এবং তাদের ব্যাপারটি আগে সংশোধন করো না কেন?উমর বিস্মিত হয়ে ও সন্দিহান কণ্ঠে তাকে জিজ্ঞেস করলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাযুল বায়ানী লিল কুরআনি ওয়া মাসায়িলু ইবনিল আজরাক
(পৃষ্ঠা: ৪১)
- أي أهل بيتى تعنى،فأخبره أن صهره وابن عمه "سعيد بن زيد بن عمرو بن نفيل " قد أسلم.وكذلك أسلمت زوجه، أخت عمر "فاطمة بنت الخطاب ".فأخذ عمر طريقه إلى بيت صهره مستثار الغضب، يريد أن يقتله ويقتلزوجه فاطمة.فما كاد يدنو من الباب حتى سمع تلاوة خافتة لآيات من سرةطه، فدخل يلح فى طلب الصحيفة التى لمح أخته تخفيها عند دخوله. . .وانطلق من فوره إلى البيت الذى اجتمع فيه المصطفى صلى الله عليه وسلم بأصحابة، فبايعه.وأعز الله الإسلام بعمر، وقد كان من أشد قريش عداوة للإسلام.وفي حديث بيعة العقبة، أن الرسول صلى الله عليه وسلم ندب صاحبهمصعب بن عمير ليذهب مع أصحاب العقبة إلى يثرب، ليقرئهم القرآنويعلمهم الإسلام.فنزل هناك على أسعد بن زرارة الأنصارى الخزرجى.فحدث أن خرجا يومًا إلى حى بني عبد الأشهل على رجاء أن يسلم بعضالقوم. فلما سمع كبيرا الحى سعد بن معاذ، وأسيد بن حضير بمقدم مصعبوأسعد، ضاقا بهما وأنكرا موضعهما من الحى.قال سعد بن معاذ لصاحبه أسيد بن حضير:لا أباً لك! انطلق إلى هذين الرجلين فازجرهما وانههما عن أن يأتيا ديارنا.فإنه لولا أن أسد بن زرارة منى حيث علمتَ، كفيتك ذلك: هو ابن خالتىولا أجد عليه مقْدَما.والتقط أسيد بن حضير حربته ومضى إلى صاحبي رسول الله صلى الله عليه وسلم، فزجرهما متوعدا:- ماجاء بكما إلينا تسفهان ضعفاءنا،اعتزلانا إن كانت لكما بنفسيكما حاجة.قال له مصعب بن عمير:
আপনি আমার পরিবারের কোন সদস্যের কথা বলছেন?,অতঃপর তাকে জানানো হলো যে, তার ভগ্নিপতি এবং চাচাতো ভাই "সাঈদ ইবনে যায়েদ ইবনে আমর ইবনে নুফায়েল" ইসলাম গ্রহণ করেছেন।একইভাবে তাঁর স্ত্রী, ওমরের বোন "ফাতিমা বিনতে খাত্তাবও" ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।তখন ওমর অত্যন্ত রাগান্বিত হয়ে তাঁর ভগ্নিপতির বাড়ির দিকে রওনা হলেন, তিনি তাকে এবংতার স্ত্রী ফাতিমাকে হত্যা করতে চাইলেন।তিনি দরজার কাছাকাছি পৌঁছামাত্রই সূরাত্বা-হা-এর আয়াতের মৃদু তিলাওয়াত শুনতে পেলেন। অতঃপর তিনি প্রবেশ করে সেই সহীফাটি (পাণ্ডুলিপি) দেখার জন্য জেদ ধরলেন, যা তিনি ঘরে প্রবেশের সময় তার বোনকে লুকিয়ে ফেলতে দেখেছিলেন। . .এরপর তিনি তৎক্ষণাৎ সেই বাড়ির দিকে ছুটলেন যেখানে মনোনীত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সমবেত হয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে তাঁর হাতে আনুগত্যের শপথ (বাইআত) গ্রহণ করলেন।ওমরের মাধ্যমে আল্লাহ ইসলামকে শক্তিশালী করলেন, অথচ তিনি কুরাইশদের মধ্যে ইসলামের প্রতি সবচেয়ে কঠোর শত্রুদের একজন ছিলেন।বায়আতে আকাবার বর্ণনায় এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীমুসআব ইবনে উমায়েরকে আকাবায় অংশগ্রহণকারীদের সাথে ইয়াসরিবে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন, যাতে তিনি তাদের কুরআন পাঠ করে শোনানএবং তাদের ইসলাম শিক্ষা দেন।তিনি সেখানে আনসারী খাযরাজী গোত্রের আসআদ ইবনে যুরারাহর নিকট অবস্থান করলেন।ঘটনাচক্রে একদিন তারা বনু আবদিল আশহাল গোত্রের এলাকায় গেলেন এই আশায় যে, সেখানকার কিছু লোকইসলাম গ্রহণ করবে। যখন গোত্রের দুই নেতা সাদ ইবনে মুআয এবং উসাইদ ইবনে হুদাইর মুসআবএবং আসআদের আগমনের খবর শুনলেন, তখন তারা এতে অত্যন্ত বিরক্ত হলেন এবং তাদের সেই এলাকায় অবস্থান করাকে অপছন্দ করলেন।সাদ ইবনে মুআয তার সাথী উসাইদ ইবনে হুদাইরকে বললেন:তোমার মঙ্গল হোক! এই দুই ব্যক্তির কাছে যাও এবং তাদেরকে ধমক দিয়ে আমাদের এলাকায় আসতে নিষেধ করো।কারণ আসআদ ইবনে যুরারাহর সাথে আমার যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে তা তোমার জানা, অন্যথা আমিই তোমার হয়ে একাজটি করতাম; সে তো আমার খালাতো ভাইএবং আমি তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না।অতঃপর উসাইদ ইবনে হুদাইর তার বর্শাটি তুলে নিলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুই সাহাবীর দিকে অগ্রসর হলেন এবং ধমক দিয়ে শাসাতে লাগলেন:- তোমরা কেন আমাদের এখানে এসেছ আমাদের দুর্বলমনা লোকদের বিভ্রান্ত করতে?,যদি তোমাদের নিজেদের জীবনের মায়া থাকে তবে আমাদের থেকে দূরে থাকো।মুসআব ইবনে উমায়ের তাকে বললেন: