(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: -)
غاية المقصود فى الرد على النصارى واليهود القسم: العقيدة
الكتاب: غاية المقصود في الرد على النصارى واليهود
المؤلف: السموأل بن يحيى بن عباس المغربي (ت نحو 570هـ)
تحقيق ودراسة: د. إمام حنفي سيد عبد الله
الناشر: دار الآفاق العربية - القاهرة
الطبعة: الأولى 1427 هـ - 2006 م
عدد الصفحات: 108
أعده للشاملة: أبو إبراهيم حسانين
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الأول 1432
খ্রিস্টান ও ইহুদিদের খণ্ডনে চূড়ান্ত উদ্দেশ্য বিভাগ: আকিদাহ
কিতাব: খ্রিস্টান ও ইহুদিদের খণ্ডনে চূড়ান্ত উদ্দেশ্য
লেখক: সামাওয়াল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্বাস আল-মাগরিবী (মৃত্যু আনুমানিক ৫৭০ হিজরি)
সম্পাদনা ও গবেষণা: ড. ইমাম হানাফী সাইয়্যিদ আবদুল্লাহ
প্রকাশক: দারুল আ ফাক আল-আরাবিয়্যাহ - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৮
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: আবু ইবরাহিম হাস্সানাইন
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ـ[غاية المقصود في الرد على النصارى واليهود]ـ
المؤلف: السموأل بن يحيى بن عباس المغربي (المتوفى: نحو 570هـ)
تحقيق ودراسة: د. إمام حنفي سيد عبد الله
الناشر: دار الآفاق العربية - القاهرة
الطبعة: الأولى 1427 هـ - 2006 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
ـ[খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের খণ্ডনে চূড়ান্ত লক্ষ্য]ـ
লেখক: আস-সামাওয়াল বিন ইয়াহইয়া বিন আব্বাস আল-মাগরিবী (মৃত্যু: আনুমানিক ৫৭০ হিজরি)
সম্পাদনা ও গবেষণা: ড. ইমাম হানাফি সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ
প্রকাশক: দারুল আ ফাক আল-আরাবিয়্যাহ - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
أما بعد حمد الله على ما ألهم من الهداية وعصم عنه من الغواية،
والصلاة على محمد، خاتم النبيين، وعلى آله الطاهرين، فإن سبيل من فضل من العباد بالفطانة والرشاد أن يجد في البحث عن أحوال المعاد، والتأمل لما أخذه من الآباء والأجداد بعين الامتحان والانتقاد، فإن رآه فضيلة سمَا لإدراكها، وإن ألفها رزيلة نجا من أشراكها، ليحصى حقائبه بطانًا من الزاد، فإن هاتف الموت بالمرصاد، ولن تحمد العقبى مضيع في تحصين شرعه، وموزع مواقيته على ما ينقاد إليه بطبعه، ولن يظفر بضالة الحق إلا ناشدوها، ولن يبهرج الأباطيل على أنفسهم إلا مفسدوها.
الغرض الأقصى من إنشاء هذه الكلمة الرد على أهل اللجاج والعناد،
بأن نظهر ما يعتور كلمتهم من الفساد، على أن الأئمة - ضوعف ثوابهم - قد انتدبوا قبلي لذلك، وسلكوا في مناظرة اليهود أنواع المسالك، إلا أن أكثر ما نوظروا به يكادون لا يفقهونه، ولا يلتزمونه.
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
অতঃপর, আল্লাহ তাআলা যে হেদায়েত ইলহাম করেছেন এবং যে গোমরাহি হতে রক্ষা করেছেন, তার জন্য তাঁর স্তুতির পর,
এবং নবীগণের সমাপ্তিদানকারী মুহাম্মদ ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর দরুদ ও সালাম প্রেরণের পর; নিশ্চয়ই সেই সব বান্দাদের পথ, যাদেরকে বিচক্ষণতা ও সঠিক পথের দিশা দিয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে, তারা হলো পরকালীন অবস্থা অনুসন্ধানে সচেষ্ট হওয়া এবং বাপ-দাদাদের থেকে যা কিছু গ্রহণ করেছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমালোচনার দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করা। সুতরাং যদি সে একে গুণ হিসেবে পায় তবে তা অর্জনে সচেষ্ট হয়, আর যদি একে নিকৃষ্ট হিসেবে পায় তবে তার জাল থেকে মুক্তি লাভ করে; যাতে সে তার পাথেয়র থলেগুলো পূর্ণ করতে পারে, কারণ মৃত্যুর আহ্বানকারী ওত পেতে আছে। আর তার শেষ পরিণাম প্রশংসনীয় হবে না, যে নিজের শরিয়ত রক্ষায় অবহেলা করে এবং নিজের স্বভাবজাত প্রবৃত্তির অনুসরণে সময় অতিবাহিত করে। আর সত্যের হারানো সম্পদ কেবল তারাই খুঁজে পায় যারা তার অন্বেষণকারী, আর বাতিল বা মিথ্যাকে কেবল অনিষ্টকারীরাই নিজেদের কাছে চাকচিক্যময় করে তোলে।
এই কথাগুলো রচনার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো হঠকারী ও জেদি লোকদের প্রতিবাদ করা,
যাতে তাদের কথার মধ্যে বিদ্যমান অসারতা ও ভ্রষ্টতা প্রকাশ করা যায়; যদিও ইমামগণ—আল্লাহ তাদের পুরস্কার বহুগুণ বৃদ্ধি করুন—আমার পূর্বেই এই কাজে ব্রতী হয়েছেন এবং ইয়াহুদিদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছেন, কিন্তু তাদের সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যে পদ্ধতিতে বিতর্ক করা হয়েছে তারা তা অনুধাবন করতে পারে না এবং তা মেনেও নেয় না।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وقد جعل الله إلى إفحامهم طريقًا، مما يتداولونه في أيديهم من نص
توراتهم، وعماهم الله عنه عند تبديلهم، ليكون حجة عليهم موجودة فى
أيديهم.
إلزام اليهود الفسخ في الشرائعوهذا أول ما أبتدئ من إلزامهم النسخ من نصِّ كتابهم ومما تقتضيه أصولهم.
نقول لهم: هل كان قبل نزول التوراة شرعٌ أم لا؟
فإن جحدوا كذبوا بما نطق به الجزء الثاني من السفر الأول من التوراة، إذ شرع الله على نوح، عليه السلام، القصاص في القتلى ذلك قوله تعالى:
"شوفيخ ذام هاء إذام باء اذام دامو يشافيخ كى يصيلم ألوهيم عاساات
ها اذام " .. تفسيره: سافك.
دم الإنسان، فليحكم بسفك دمهِ، لأن الله خلق الآدمي بصورةٍ
شريفةٍ.
وما يشهد به الجزء الثاني من السفر الأول من التوراة، إذ شرع إبراهيم،
عليه السلام ختانة المولود في اليوم الثامن من ميلاده.
وهذه - وأمثالها - شرائع، لأن الشرع لا يخرج عن كونه أمرًا أو نهيًا من الله
لعباده، سواء نزل على لسان رسولٍ، أو كُتبَ في أسفار، أو ألواح أو غير ذلك.
فإذا أقروا بأن قد كان شرعٌ، قلنا لهم: ما تقولون في التوراة، هل أتت بزيادة على تلك الشرائع، أم لا؟
فإن لم تكن أتت بزيادةٍ، فقد صارت عبثًا،
আল্লাহ তাদের নিরুত্তর করার একটি পথ তৈরি করেছেন, যা তাদের হাতে থাকা তাওরাতের পাঠ থেকেই পাওয়া যায়; কিন্তু তারা যখন তাওরাত পরিবর্তন করেছিল, তখন আল্লাহ তাদেরকে এ থেকে অন্ধ করে দিয়েছিলেন, যাতে এটি তাদেরই হাতে থাকা একটি প্রমাণ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়।
শরীয়তসমূহে রহিতকরণের (নাসখ) বিষয়ে ইহুদিদের বাধ্য করাতাদের কিতাবের পাঠ থেকে এবং তাদের মূলনীতিসমূহের দাবি অনুযায়ী রহিতকরণের আবশ্যকতা প্রমাণে এটিই আমার প্রথম সূচনা।
আমরা তাদের বলি: তাওরাত নাজিলের আগে কি কোনো শরীয়ত ছিল কি না?
তারা যদি এটি অস্বীকার করে, তবে তারা তাওরাতের প্রথম সফরের দ্বিতীয় অংশে যা বলা হয়েছে তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে; কেননা আল্লাহ নূহ আলাইহিস সালামের ওপর হত্যার কিসাস (প্রতিশোধ) বিধান করেছিলেন, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী:
"যে মানুষের রক্তপাত করবে, তার রক্তও ঝরানো হবে; কারণ আল্লাহ মানুষকে এক সম্মানিত অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।" .. এর ব্যাখ্যা হলো: যে ব্যক্তি মানুষের রক্ত প্রবাহিত করবে, তার রক্ত প্রবাহিত করার ফয়সালা দেওয়া হবে, কেননা আল্লাহ মানুষকে এক সম্মানিত অবয়বে সৃষ্টি করেছেন।
তাওরাতের প্রথম সফরের দ্বিতীয় অংশ আরও সাক্ষ্য দেয় যে, ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের জন্য জন্মের অষ্টম দিনে নবজাতকের খতনা করার বিধান দেওয়া হয়েছিল।
এগুলো এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ হলো শরীয়ত; কেননা শরীয়ত আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি আদেশ বা নিষেধ ছাড়া আর কিছু নয়—তা কোনো রাসূলের জবানে অবতীর্ণ হোক, অথবা কিতাব আকারে লিখিত হোক, কিংবা ফলক বা অন্য কোনো মাধ্যমে হোক।
যদি তারা স্বীকার করে যে (তাওরাতের আগে) শরীয়ত ছিল, তবে আমরা তাদের বলি: তোমরা তাওরাত সম্পর্কে কী বলো? এটি কি সেই পূর্ববর্তী শরীয়তগুলোর ওপর কোনো নতুন সংযোজন নিয়ে এসেছে, নাকি আনেনি?
যদি এটি কোনো নতুন সংযোজন না এনে থাকে, তবে তা নিরর্থক হয়ে পড়ে,
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
إذ لا زيادة فيها، على ما تقدم، ولم تغن شيئًا، فلا يجوز أن تكون صادرةً عن الله، تعالى، فيلزمكم أن التوراة ليست من عند الله، وذلك كفر على مذهبكم!
وإن كانت التوراة أتت بزيادة، فهل في تلك الزيادة تحريم ما كان مباحًا، أم لا؟
فإن أنكروا ذلك، بطل قولهم من وجهين: -
- أحدهما: أن التوراة حرمت الأعمال الصناعية في يوم السبت، بعد أن
كان ذلك مباحًا، وهذا بعينه فهو النسخ.
- والثانى: أنه لا معنى للزيادة في الشرع، إلا تحريم ما تقدمت إباحته،
وإباحة ما تقدم تحريمه.
- فإن قالوا: إن الحكيم لا يحظرُ شيئًا، ثم يبيحه، لأن ذلك إن جاز مثله، كان كمن أمر بشىء وضده!
فالجواب: إن من أمر بشىءٍ وضدهِ في زمانين مختلفين، غير مناقضٍ بين أوامره
، وإنما يكون كذلك لو كان الأمران في وقت واحد.
فإن قالوا: إن التوراة حظرت أمورًا كانت مباحة من قبل ولم تأت بإباحة محظور.
والنسخ المكروه هو إباحة المحظور" لأن من أبيح له شىءً فامتنع عنه وحظره
على نفسه، فليس بمخالف، وإنما المخالفُ من منع عن شىءٍ فأتاه، لاستباحته المحظور.
فالجواب: من أحلَّ ما حظره الشرع في طبقة المحرم لما أحله الشرعُ، إذ كل
منهما قد خالف المشروع ولم يقرّ الكلمة على معاهدها.
যেহেতু এতে ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার অতিরিক্ত কিছু নেই এবং তা কোনো উপকারেও আসেনি, তাই এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হওয়া বৈধ নয়। ফলে আপনাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে তাওরাত আল্লাহর পক্ষ থেকে আসেনি, আর আপনাদের মতাদর্শ অনুযায়ী তা কুফর!
আর যদি তাওরাত কোনো অতিরিক্ত বিধান নিয়ে এসে থাকে, তবে সেই অতিরিক্ত বিধানের মধ্যে কি এমন কিছুর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যা পূর্বে বৈধ ছিল, নাকি নেই?
যদি তারা তা অস্বীকার করে, তবে তাদের বক্তব্য দুটি দিক থেকে অসার প্রমাণিত হবে: -
- প্রথমটি হলো: তাওরাত শনিবারের দিনে শিল্পজাত কাজসমূহকে হারাম করেছে, অথচ এর আগে
তা বৈধ ছিল; আর এটিই মূলত নসখ বা রহিতকরণ।
- দ্বিতীয়টি হলো: শরীয়তে অতিরিক্ত বিধানের আর কোনো অর্থ নেই, কেবল পূর্বে যা বৈধ ছিল তা হারাম করা,
এবং পূর্বে যা হারাম ছিল তা বৈধ করা ব্যতীত।
- যদি তারা বলে: প্রজ্ঞাবান সত্তা কোনো কিছু নিষিদ্ধ করার পর পুনরায় তা বৈধ করেন না, কারণ যদি অনুরূপ বিষয় জায়েজ হয়, তবে তা এমন ব্যক্তির মতো হবে যে কোনো কাজের নির্দেশ দেয় এবং তার বিপরীত কাজেরও নির্দেশ দেয়!
উত্তর হলো: যে ব্যক্তি দুটি ভিন্ন সময়ে কোনো কাজ এবং তার বিপরীত কাজের নির্দেশ দেয়, সে তার নির্দেশনাসমূহের মধ্যে কোনো স্ববিরোধিতা করে না
। আর এটি কেবল তখনই হতো যদি দুটি নির্দেশ একই সময়ে প্রদান করা হতো।
যদি তারা বলে: তাওরাত এমন কিছু বিষয়কে নিষিদ্ধ করেছে যা পূর্বে বৈধ ছিল, কিন্তু তা নিষিদ্ধ কোনো বিষয়কে বৈধ করার বিধান নিয়ে আসেনি।
আর অপছন্দনীয় নসখ হলো নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করা; কারণ যাকে কোনো কিছুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে অতঃপর সে তা থেকে বিরত থাকল এবং নিজের ওপর তা নিষিদ্ধ
করে নিল, সে বিরোধী বলে গণ্য হয় না। বরং বিরোধী সেই ব্যক্তি যে কোনো নিষিদ্ধ কাজ করল, নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ মনে করার কারণে।
উত্তর হলো: যে ব্যক্তি শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয়কে হালাল করে নিল, সে ওই ব্যক্তির সমপর্যায়ের যে শরীয়ত কর্তৃক হালালকৃত বিষয়কে হারাম করে নিল। কেননা তাদের
প্রত্যেকেই শরীয়তসম্মত বিধানের বিরোধিতা করেছে এবং শব্দসমূহকে তার নির্ধারিত অর্থে বহাল রাখেনি।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
فإذا جاز أن يأتي في شرع التوراة تحريم ما كان إبراهيم، عليه السلام
، ومن تقدمه على استباحته، فجائز أن تأتي شريعة أخرى بتحليل ما كان في التوراة محظورًا.
وأيضًا: فلا تخلو المحظورات من أن يكون تحريمها مفترضًا في كل الأزمنة، لأن
الله يكرهُ ذلك المحظور لعينه أو لا يكون كذلك، بل نهى عنه في بعض
الأزمنة.
فإن كان الله ينهى عن عمل الصناعات في يوم السبت، لعين السبت، فينبغى أن يكون هذا التحريم على إبراهيم ونوح وآدم أيضًا؛ لأن عين السبت كانت أيضًا موجودة في زمانه، وهى علةُ التحريم.
وإذا كان ذلك غير محرم على إبراهيم ومن تقدمه، فليس النهى عنه لعينه، أعني في جميع أوقات وجود عينه.
وإذًا لزمكم أن تحريم الأعمال الصناعية في يوم السبت ليس بمحرم في جميع
وجود أوقات السبت، فليس بممتنع أن ينسخ هذا التحريم في زمانٍ آخرَ،
وإذا ظهر قائمٌ بمعجزات الرسالة وأعلام النبوة في زمنٍ آخر بعد فترةٍ طويلة.
فجائز أن يأتي بنسخ كثير من أحكام الشريعة، سواء حظر مباحاتها، أو أباح محظوراتها، وكيف يجوز أن يحاج من جاء بالبينةِ البشرية أو باينها، ولا سيما أن الخصوم قد طالما تعبدوا بفرائض مباينة للعقول، كطهارة أنجاسهم برماد البقرة
সুতরাং তাওরাতের শরিয়তে যদি এমন কিছু হারাম করা জায়েজ হয়ে থাকে যা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)
এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের জন্য বৈধ ছিল, তবে তাওরাতের নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে অন্য কোনো শরিয়তে হালাল করাও জায়েজ।
তাছাড়া, নিষিদ্ধ বিষয়গুলো হয় এমন হবে যে সেগুলোর নিষেধাজ্ঞা সকল সময়ের জন্য অবধারিত—কারণ
আল্লাহ সেই নিষিদ্ধ বিষয়টিকে তার স্বীয় সত্তার কারণেই অপছন্দ করেন—অথবা বিষয়টি তেমন নয়, বরং তিনি কেবল কোনো কোনো
সময়ে তা থেকে নিষেধ করেছেন।
যদি আল্লাহ শনিবারের দিনে শিল্পকর্ম করাকে খোদ শনিবারের কারণেই নিষেধ করে থাকেন, তবে এই নিষেধাজ্ঞা ইব্রাহিম, নূহ এবং আদমের ওপরও কার্যকর থাকা উচিত ছিল; কারণ শনিবার তো তাঁদের সময়েও বিদ্যমান ছিল এবং এটিই ছিল সেই নিষেধাজ্ঞার কারণ (ইল্লত)।
আর যেহেতু এটি ইব্রাহিম এবং তাঁর পূর্ববর্তীদের জন্য হারাম ছিল না, তাই এই নিষেধাজ্ঞা তার স্বীয় সত্তার কারণে নয়, অর্থাৎ এর অস্তিত্বের সকল সময়ের জন্য নয়।
এমতাবস্থায় আপনাদের জন্য এটি মেনে নেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে যে, শনিবারের দিনে শিল্পকর্মের নিষেধাজ্ঞা শনিবারের সকল
সময়ের উপস্থিতিতে হারাম নয়। সুতরাং অন্য কোনো সময়ে এই নিষেধাজ্ঞা রহিত (মানসুখ) করা অসম্ভব নয়,
যখন দীর্ঘ সময় পর অন্য কোনো যুগে রিসালাতের মুজিজা ও নবুওয়তের নিদর্শনসমূহ নিয়ে কোনো প্রবক্তার আবির্ভাব ঘটে।
তখন শরিয়তের অনেক বিধান রহিত করা তাঁর জন্য জায়েজ, চাই তা বৈধ বিষয়কে নিষিদ্ধ করা হোক অথবা নিষিদ্ধ বিষয়কে হালাল করা। আর যে ব্যক্তি সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছেন বা তা স্পষ্ট করেছেন, তাঁর সাথে কীভাবে বিতর্ক করা চলে? বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষরা দীর্ঘকাল ধরে এমন সব বিধান পালন করে ইবাদত করে আসছে যা যুক্তিবহির্ভূত, যেমন গাভীর ভস্ম (ছাই) দিয়ে তাদের অপবিত্রতা দূর করা।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
التى كان الإمام الهاروني يحرقها قبيل أوان الحج، ونجاسة طاهرهم بذلك الرماد بعينه.
على أن الذي يروم تنزيله منزلة هذا أقرب كثيرًا إلى العقل، فإن الأفعال
والأوامر الإلهية منزهة عن الوقوف عند مقتضى العقول البشرية.
وإذا كانت التعبدات الشرعية غير عائدةٍ بنفع لله، عز وجل، ولا دافعةٍ عنه
ضررًا، لتنزهه، سبحانه، عن الانتفاع والتأذى بشىءٍ فما الذي يحيلُ أو يمنع
كونه تعالى، يأمرُ أمةً بشريعةٍ، ثم ينهى أمةً أخرى عنها، أو يُحرِّم محظورًا
على قوم، ويحله لأولادهم، ثم يحظره ثانيًا على من يجىء من بعده!
كيف يجوز للمتعبد أن يعارض الرسول في تحليله ما كان حرامًا على قوم،
ويستدل بذلك على كذبه بعد أن جاء بالبينة، وأوجب العقل تصديقه وتحكيمه، أليس هذا تحكمًا وضلالاً وعدولاً عن الحق.؟!
إفحام اليهود والنصارى بالحجة العقلية وإلزامهم الإسلام.
لا يسع عاقلاً أن يكذب نبيًا ذا دعوة شائعة، وكلمة قائمة، ويصدق غيره، لأنه لم ير أحدهما، ولا شاهد معجزاته، فإذا خصص أحدهما بالتصديق، والآخر بالتكذيب، فقد تعين عليه الملام والإزراء عقلاً.
ولنضرب لذلك مثالاً: وهو أنا إذا سألنا يهوديًا عن موسى، عليه السلام،
وهل رآه وعاين معجزاته؟ .. فهو بالضرورة يقرُّ بأنه لم يشاهد شيئًا من ذلك عيانًا.
فنقول له: بماذا عرفت نبوة موسى وصدقه
যা ইমাম হারুনী হজের মৌসুমের কিছুটা পূর্বে পুড়িয়ে ফেলতেন এবং সেই ছাইয়ের মাধ্যমে তাদের পবিত্রদের অপবিত্র হওয়া।
তবে যে বিষয়টিকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে চায় তা বিবেকের অনেক বেশি নিকটবর্তী; কেননা ঐশ্বরিক কার্যাবলি ও আদেশসমূহ মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তিক চাহিদার ওপর সীমাবদ্ধ হওয়া থেকে পবিত্র।
আর যেহেতু শরয়ি ইবাদতসমূহ মহান আল্লাহর কোনো উপকারে আসে না এবং তাঁর থেকে কোনো ক্ষতিও দূর করে না—কেননা পবিত্র সত্তা আল্লাহ কোনো কিছুর মাধ্যমে উপকৃত হওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে পবিত্র—সেহেতু আল্লাহ তাআলা কোনো এক জাতিকে একটি বিধান পালনের আদেশ দিবেন, অতঃপর অন্য জাতিকে তা থেকে নিষেধ করবেন, অথবা এক সম্প্রদায়ের জন্য কোনো কিছু হারাম করবেন এবং তাদের সন্তানদের জন্য তা হালাল করবেন, অতঃপর তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুনরায় তা নিষিদ্ধ করবেন—এতে অসম্ভব বা বাধা দেওয়ার মতো কী আছে!
কোনো ইবাদতকারীর জন্য এটি কীভাবে বৈধ হতে পারে যে, সে রাসুলের সেই বিষয়কে হালাল করার বিরোধিতা করবে যা অন্য এক সম্প্রদায়ের জন্য হারাম ছিল? এবং এর মাধ্যমে তাঁকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করার দলিল দিবে, অথচ তিনি সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছেন এবং বিবেক তাঁকে সত্য বলে মেনে নেওয়া ও তাঁর ফয়সালাকে গ্রহণ করাকে আবশ্যক করেছে। এটি কি স্বেচ্ছাচারিতা, পথভ্রষ্টতা এবং সত্য থেকে বিচ্যুতি নয়?!
বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের মাধ্যমে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের নিরুত্তর করা এবং তাদের ওপর ইসলামকে আবশ্যক করা।
কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির পক্ষে এমন একজন নবীকে অস্বীকার করা এবং অন্য কাউকে সত্য বলে মানা সম্ভব নয়, যাঁর দাওয়াত সুপরিচিত এবং যাঁর বাণী প্রতিষ্ঠিত; কারণ সে তাঁদের কাউকেই দেখেনি এবং তাঁদের মুজিজাসমূহও প্রত্যক্ষ করেনি। এমতাবস্থায় সে যদি একজনকে সত্য বলে গণ্য করার জন্য এবং অপরজনকে অস্বীকার করার জন্য নির্দিষ্ট করে নেয়, তবে বিবেকের বিচারে সে অবশ্যই নিন্দা ও অবজ্ঞার পাত্র হবে।
আমরা এর একটি উদাহরণ পেশ করি: তা হলো আমরা যদি কোনো ইহুদিকে মুসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি যে, সে কি তাঁকে দেখেছে এবং তাঁর মুজিজাসমূহ প্রত্যক্ষ করেছে? তবে সে আবশ্যিকভাবেই স্বীকার করবে যে, সে এর কিছুই স্বচক্ষে দেখেনি।
তখন আমরা তাকে বলব: তুমি মুসার নবুওয়াত ও তাঁর সত্যবাদিতা কিসের মাধ্যমে জানতে পারলে?
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
فإن قال: إن التواتر قد حقق ذلك، وشهادات الأمم بصحته دليل ثابت
فى العقل، كما قد ثبت عقلاً وجود بلاد وأنهار لم نشاهدها، وإنما تحققنا وجودها بتواتر الأنباء والأخبار.
قلنا: إن هذا التواتر موجود لمحمد وعيسى، عليهما السلام، كما هو
موجود لموسى عليه السلام. فيلزمك التصديق بهما.
وإن قال اليهودي: إن شهادة أبي عندي بنبوة موسى، هى سبب تصديقي
بنبوته.
قلنا له: ولمَ كان أبوك عندك صادقًا في ذلك معصومًا عن الكذب، وأنت ترى الكفار أيضا يعلمهم آباؤهم ما هو كفر عندك، إما تعصبًا من أحدهم لدينه وكراهيته لمباينة طائفته، ومفارقة قومه وعشيرته، وإما لأن أباه وأشياخه نقلوه إليه، فتلقفته منهم، معتقدًا فيه الهداية والنجاة!
فإذا كنت، يا هذا، ترى جميع المذاهب التي تكفرها قد أخذها أربابها
عن آبائهم، كأخذك مذهبك عن أبيك، وكنت عالمًا أن ما هم عليه
ضلال وجهلٌ. فيلزمك أن تبحث عما أخذته عن أبيك، خوفًا من أن تكون هذه حالته!
فإن قال: إن الذي أخذته عن أبى أصحُّ مما أخذه الناس عن آبائهم: لزمه أن يقيم البرهان على نبوة موسى، من غير تقليد لأبيه، لأنه قد ادعى صحة ذلك بغير تقليد.
যদি সে বলে: নিশ্চয়ই নিরবচ্ছিন্ন জনশ্রুতি (তাওয়াতুর) বিষয়টি সুনিশ্চিত করেছে, এবং এর সত্যতার স্বপক্ষে জাতিসমূহের সাক্ষ্য একটি সুসাব্যস্ত দলিল
বিবেকের নিকট, ঠিক যেমন বিবেকবুদ্ধির দ্বারা এমন সব দেশ ও নদের অস্তিত্ব প্রমাণিত যা আমরা স্বচক্ষে দেখিনি, বরং আমরা সেগুলোর অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছি সংবাদের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ ও খবরের মাধ্যমে।
আমরা বলি: নিশ্চয়ই এই নিরবচ্ছিন্ন জনশ্রুতি মুহাম্মাদ ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর ক্ষেত্রেও বিদ্যমান, যেমনটি
মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য বিদ্যমান। সুতরাং আপনার জন্য তাঁদের উভয়কে বিশ্বাস করা আবশ্যক।
আর যদি ইহুদি বলে: আমার নিকট আমার পিতার সাক্ষ্য যে মূসা নবী ছিলেন, তা-ই তাঁর নবুওয়াতকে আমার বিশ্বাস করার
কারণ।
আমরা তাকে বলি: আপনার নিকট আপনার পিতা এই বিষয়ে কেন সত্যবাদী এবং মিথ্যা থেকে সুরক্ষিত বিবেচিত হলেন? অথচ আপনি দেখছেন যে, কাফিরদেরকেও তাদের পিতৃপুরুষরা তা-ই শিক্ষা দেয় যা আপনার নিকট কুফর; হয় তাদের কারোর নিজের ধর্মের প্রতি অন্ধ গোঁড়ামি এবং নিজ গোষ্ঠী থেকে ভিন্ন হওয়া ও নিজ সম্প্রদায় ও আত্মীয়-স্বজনদের ত্যাগের প্রতি অনীহা থেকে, অথবা এ কারণে যে, তার পিতা ও শিক্ষকরা এটি তার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং সে তাদের থেকে তা গ্রহণ করেছে একেই হেদায়েত ও মুক্তি মনে করে!
সুতরাং হে ব্যক্তি, আপনি যখন দেখছেন যে, সেই সমস্ত মতবাদ যাদেরকে আপনি কাফির সাব্যস্ত করেন, সেগুলোর অনুসারীরা তা
তাদের পিতৃপুরুষদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছে—যেমনটি আপনি আপনার ধর্মাদর্শ আপনার পিতার কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন—এবং আপনি জানেন যে তারা যে অবস্থায় আছে তা
বিভ্রান্তি ও মূর্খতা; তখন আপনার জন্য আবশ্যক হলো আপনার পিতার কাছ থেকে যা গ্রহণ করেছেন তা নিয়ে অনুসন্ধান করা, এই ভয়ে যে আপনার পিতার অবস্থাও যেন তেমনই না হয়!
অতঃপর যদি সে বলে: আমি আমার পিতার কাছ থেকে যা গ্রহণ করেছি তা অন্য মানুষ তাদের পিতৃপুরুষদের কাছ থেকে যা গ্রহণ করেছে তার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ; তবে তার জন্য আবশ্যক হলো মূসার নবুওয়াতের ওপর দলিল উপস্থাপন করা, তার পিতার অন্ধ অনুকরণ ব্যতীত। কারণ সে তো অন্ধ অনুকরণ ছাড়াই এর বিশুদ্ধতা দাবি করেছে।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وإن زعم أن العلة في صحة ما نقله عن أبيه أن أباه يرجح على آباء الناس
بالصدق والمعرفة، كما تدعى اليهود في حق آبائها، لزمه أن يأتي بالدليل على أن أباه كان أعقل من سائر آباء الناس وأفضل، فإن هو ادعى ذلك كذب فيه، لأن من هذه صفته، يجب أن يستدل على فضائله بآثاره.
وقول اليهود باطل. بأنه ليس لهم من الآثار في العالم ما لغيرهم مثله، بل
على الحقيقة لا ذكر لهم بين الأمم الذين استخرجوا العلوم الدقيقة، ودونوها لمن يأتى بعدهم.
وجميع ما نسب إليهم من العلوم مما استفادوه، من علوم غيرهم لا يضاهى
بعض الفنون الحكمية التي استخرجها حكماء اليونان، والعلوم التى
استنبطها النبط.
وأما تصانيف المسلمين فيستحيل لكثرتها أن يقف أحدٌ من الناس على جميع ما
صنفوه في أحد الفنون العلمية، لسعته وكثرته. وإذا كان هذا موقعهم من الأمم، فقد بطل قولهم: إن آباءهم أعقل الناس وأفضلهم وأحكمهم ولهم أسوة بسائر آباء الناس المماثلين لهم من ولد سام بن نوح، عليهما السلام.
فإذا أقروا بتأسى آبائهم بآباء غيرهم، وعلموا بأن آباء غيرهم قد لقنوهم
الكفر. لزمهم أن شهادة الآباء لا يجوز أن تكون حجةً في صحة الدين، فلا يبقى لهم حجة بنبوة موسى، عليه السلام، إلا شهادة التواتر، وهذا التواتر موجود لعيسى ومحمد، كوجوده لموسى، عليهم السلام.
আর সে যদি দাবি করে যে, তার পিতার নিকট থেকে সে যা বর্ণনা করেছে তা সঠিক হওয়ার কারণ হলো, তার পিতা সত্যবাদিতা ও জ্ঞানের দিক থেকে অন্য মানুষের পিতাদের তুলনায় শ্রেষ্ঠ—যেমনটি ইহুদিরা তাদের পূর্বপুরুষদের ব্যাপারে দাবি করে—তবে তাকে প্রমাণ পেশ করতে হবে যে, তার পিতা সকল মানুষের পিতাদের চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান ও শ্রেষ্ঠ ছিলেন। আর সে যদি এমনটি দাবি করে, তবে সে মিথ্যা প্রতিপন্ন হবে; কারণ যার এই গুণাবলি থাকে, তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য তার কর্মকাণ্ডকে (আসার) দলীল হিসেবে উপস্থাপন করা আবশ্যক।
আর ইহুদিদের দাবি অসার। কেননা বিশ্বে অন্য জাতির মতো তাদের এমন কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান নেই। বরং বাস্তবিকভাবে সেই জাতিগুলোর মধ্যে তাদের কোনো নামনিশানা নেই যারা সূক্ষ্ম জ্ঞান-বিজ্ঞান উদ্ভাবন করেছেন এবং পরবর্তীদের জন্য তা লিপিবদ্ধ করে গেছেন।
তাদের দিকে যে সমস্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, সেগুলো তারা অন্যদের থেকে গ্রহণ করেছে; গ্রিক প্রজ্ঞাবানদের উদ্ভাবিত কোনো কোনো হিকমত বা শিল্পকলা কিংবা নবতীদের আবিষ্কৃত বিজ্ঞানের ক্ষুদ্র অংশের সাথেও সেগুলোর তুলনা হয় না।
আর মুসলিমদের রচনাবলির আধিক্য এমন পর্যায়ে যে, এর বিশালতা ও প্রাচুর্যের কারণে কোনো এক ব্যক্তির পক্ষে কেবল একটি জ্ঞানীয় শাখায় তাদের রচিত সকল কিতাব সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা অসম্ভব। জাতিসমূহের মাঝে তাদের অবস্থান যখন এই, তখন তাদের এ দাবি বাতিল হয়ে গেল যে, তাদের পূর্বপুরুষরা সকল মানুষের চেয়ে অধিক বুদ্ধিমান, শ্রেষ্ঠ এবং প্রজ্ঞাবান ছিলেন। বরং নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র সামের বংশোদ্ভূত অন্যান্য মানুষের মতোই তাদের পূর্বপুরুষগণও ছিলেন সাধারণ স্তরের।
তারা যদি স্বীকার করে নেয় যে, তাদের পূর্বপুরুষরা অন্যদের পূর্বপুরুষদের মতোই ছিল, এবং তারা যদি জানে যে অন্যদের পূর্বপুরুষরা তাদের কুফর শিখিয়েছে, তবে তাদের জন্য এটা মেনে নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে যে, কেবল পূর্বপুরুষদের সাক্ষ্য দ্বীনের সত্যতার বিষয়ে দলীল হতে পারে না। এমতাবস্থায় মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর নবুওয়াতের স্বপক্ষে 'তাওয়াতুর' (নিরবচ্ছিন্ন জনশ্রুতি) ব্যতিরেকে তাদের নিকট আর কোনো প্রমাণ অবশিষ্ট থাকে না। আর এই 'তাওয়াতুর' যেভাবে মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য বিদ্যমান, ঠিক তেমনিভাবে তা ঈসা ও মুহাম্মাদ (আলাইহিমুস সালাম)-এর জন্যও সাব্যস্ত।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وإذا كانوا قد آمنوا بموسى لشهادة التواتر بنبوته، فقد لزمهم التصديق بنبوة
المسيح والمصطفى، صلى الله عليهما وسلم.
وجه آخر في إثبات النسخ بأصولهانقول لهم: هل أنتم اليوم على ملة موسى، عليه السلام؟
فإن قالوا: نعم.
قلنا لهم: أليس في التوراة: "أن من قسَّ عظمًا، أو وطئ قبرًا، أو حضر
ميتًا عند موته، فإنه يصير من النجاسة في حالٍ لا مخرج له منها، إلا برماد البقرة التي كان الإمام الهاروني يحرقها؟!
فلا يمكنهم مخالفة ذلك، لأنه نص ما يتداولونه.
فيقول لهم: فهل أنتم اليوم على ذلك؟
فيقولون: لا نقدر عليه.
فيقول لهم: فلمَ جعلتم أن من لمس العظم والقبر والميت فهو طاهر يصلح
للصلاة وحمل المصحف، والذى في كتابكم بخلافه؟!
فإن قالوا: لأنا عدمنا أسباب الطهارة وهى رماد البقرة، والإمام المطهر
المستغفر.
قلنا: فهل ترون هذا الأمر مع عجزكم عن فعله مما تستغنون في الطهارة عنه، أم لا، فإن قالوا: نعم، قد نستغنى عنه. فقد أقروا بالنسخ لتلك الفريضة لحالٍ اقتضاها هذا الزمان.
তারা যদি মুসার নবুওয়তের বিষয়ে মুতাওয়াতির সাক্ষ্যের কারণে তাঁর ওপর ঈমান এনে থাকে, তবে তাদের জন্য সত্যায়ন করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে
মাসিহ ও মুস্তাফার নবুওয়তকে, তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
তার মূলনীতির ভিত্তিতে নসখ প্রমাণের আরেকটি দিকআমরা তাদের বলি: তোমরা কি আজ মুসা আলাইহিস সালামের মিল্লাতের ওপর আছ?
যদি তারা বলে: হ্যাঁ।
আমরা তাদের বলি: তাওরাতে কি এটি নেই যে: "যে ব্যক্তি হাড় স্পর্শ করবে, অথবা কবরের ওপর পা রাখবে, অথবা কারও মৃত্যুর সময়
উপস্থিত থাকবে, সে এমন নাপাক অবস্থায় পতিত হবে যা থেকে বের হওয়ার কোনো উপায় নেই, হারুনী ইমাম যে গাভীটি পোড়াতেন তার ছাই ব্যতীত?!"
তাদের পক্ষে এটি অস্বীকার করা সম্ভব নয়, কারণ এটি তাদের নিকট প্রচলিত পাঠেরই অংশ।
অতঃপর তাদের বলা হবে: তোমরা কি আজ এর ওপর আছ?
তারা বলবে: আমরা এটি করতে সক্ষম নই।
তখন তাদের বলা হবে: তবে কেন তোমরা হাড়, কবর ও মৃতদেহ স্পর্শকারীকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করলে যা সালাত আদায়ের
এবং কিতাব বহনের যোগ্য হয়, অথচ তোমাদের কিতাবে এর বিপরীতটি রয়েছে?!
যদি তারা বলে: যেহেতু আমাদের কাছে পবিত্রতা অর্জনের উপকরণের অভাব রয়েছে, আর তা হলো গাভীর ছাই এবং পবিত্রকারী ও
ক্ষমাপ্রার্থনাকারী ইমাম।
আমরা বলব: তোমরা কি এই বিষয়টি পালনে অক্ষম হওয়া সত্ত্বেও মনে করো যে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে তোমরা এর থেকে অব্যাহতি পেয়েছ, নাকি পাওনি? যদি তারা বলে: হ্যাঁ, আমরা তা থেকে অব্যাহতি পেয়েছি। তবে তারা এই সময়ের চাহিদাপ্রসূত কারণে উক্ত ফরয বিধানটি রহিত হওয়াকে স্বীকার করে নিল।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وإن قالوا: لا نستغنى في الطهارة عن ذلك الطهور.
فقد أقروا بأنهم الأنجاس أبدًا، ما داموا لا يقدرون على سبب الطهارة.
فنقول لهم: فإذا كنتم أنجاسًا، على رأيكم وأصولكم، فما بالكم تعتزلون
الحائض بعد انقطاع الحيض وارتفاعه سبعة أيامٍ اعتزالاً تفرطون فيه إلى حدِّ أن
أحدكم لو لمس ثوبه ثوبَ المرأة لاستنجستموه مع ثوبه.
فإن قالوا: لأن ذلك من أحكام التوراة.
قلنا: أليس في التوراة أن ذلك يراد به الطهارة؟
فإذا كانت الطهارة قد فاتتكم والنجاسة التي أنتم فيها هى على معتقدكم
لا ترتفع بالغسل كنجاسة الحيض، فهى لذلك أشدُّ من نجاسة الحيض.
ثم إنكم ترون أن الحائض طاهرة، إذا كانت من غير ملتكم، ولا تستنجسون
لامسها ولا الثوب الذي تلمسه، وتخصيص هذا الأمر - أعني نجاسة
الحيض - بطائفتكم، مما ليس في التوراة.
فهذا كله منكم نسخٌ أوتبديل.
فإن قالوا: إن هذا - وإن كان النص غير ناطقٍ به - فقد جاء في الفقه.
قلنا لهم: فما تقولون في فقهائكم، هل الذي اختلفوا فيه من مسائل
الخلاف والذهب - (على كثرتها - كان ثمرة اجتهاد واستدلال منقولاً) بعيته؟
فهم يقولون: إن جميع ما في كتب فقهنا نقله الفقهاء عن الأحبار عن الثقات من السلف عن يوشع بن نون عن موسى الكليم، عليهما السلام، عن الله تعالى.
আর যদি তারা বলে: পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা সেই পবিত্রকারী মাধ্যম ছাড়া অমুখাপেক্ষী হতে পারি না।
তবে তারা স্বীকার করে নিল যে তারা সর্বদা অপবিত্র, যতক্ষণ না তারা পবিত্রতার উপকরণের সামর্থ্য লাভ করে।
আমরা তাদের বলব: তোমাদের মত ও মূলনীতি অনুযায়ী যদি তোমরাই অপবিত্র হও, তবে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া এবং তা অতিক্রান্ত হওয়ার সাত দিন পর পর্যন্ত ঋতুবতী নারী থেকে কেন এমনভাবে পৃথক থাকো যে ক্ষেত্রে তোমরা বাড়াবাড়ি করো? এমনকি তোমাদের কেউ যদি তার কাপড় দিয়ে সেই নারীর কাপড় স্পর্শ করে, তবে তোমরা তাকে এবং তার কাপড়কে অপবিত্র গণ্য করো।
তারা যদি বলে: কারণ এটি তাওরাতের বিধানাবলির অন্তর্ভুক্ত।
আমরা বললাম: তাওরাতে কি নেই যে এর দ্বারা পবিত্রতা উদ্দেশ্য?
সুতরাং যখন পবিত্রতা তোমাদের থেকে হাতছাড়া হয়ে গেছে এবং তোমরা যে অপবিত্রতার মধ্যে আছ, তোমাদের বিশ্বাস অনুযায়ী তা ঋতুস্রাবের অপবিত্রতার মতো গোসলের মাধ্যমে দূর হয় না; ফলে এটি ঋতুস্রাবের অপবিত্রতার চেয়েও অধিক গুরুতর।
আবার তোমরা মনে করো যে ঋতুবতী নারী যদি তোমাদের আদর্শের বাইরের কেউ হয় তবে সে পবিত্র, আর তাকে স্পর্শকারীকে কিংবা সে যে কাপড় স্পর্শ করে তাকেও তোমরা অপবিত্র মনে করো না। আর এই বিষয়টি—অর্থাৎ ঋতুস্রাবের অপবিত্রতাকে—কেবল তোমাদের দলের সাথে নির্দিষ্ট করা এমন কিছু যা তাওরাতে নেই।
সুতরাং এই সবকিছুই তোমাদের পক্ষ থেকে রহিতকরণ অথবা পরিবর্তন।
তারা যদি বলে: এটি—যদিও মূল পাঠ এতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়নি—ফেকাহ শাস্ত্রে বর্ণিত হয়েছে।
আমরা তাদের বললাম: তোমাদের ফকীহদের সম্পর্কে তোমরা কী বলো? তারা যে সকল মতভেদপূর্ণ মাসআলা ও মাযহাব নিয়ে লিপ্ত—তার আধিক্য সত্ত্বেও—সেগুলো কি সরাসরি বর্ণিত ইজতিহাদ ও দলীল অনুসন্ধানের ফল?
তারা বলে: আমাদের ফেকাহর কিতাবসমূহে যা কিছু আছে, তা ফকীহগণ বড় পণ্ডিতদের থেকে, তারা নির্ভরযোগ্য পূর্বসূরিদের থেকে, তারা ইউশা ইবনে নুন থেকে, তিনি আল্লাহর সাথে আলাপকারী মুসা (আলাইহিমাস সালাম) থেকে এবং তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
فيلزمكم في هذا أن المسألة الواحدة التي اختلف فيها اثنان من فقهائكم،
يكون كل واحد منهما ينقل مذهبه فيها نقلاً مسندًا إلى الله، عز وجل، وفى
ذلك من الشناعة اللازمة لهم أن يجعلوا الله قد أمر في تلك المسألة بشىء
وخلافه، وهو النسخ الذي يدفعونه بعينه.
فإن قالوا: إن هذا الخلاف غير مستعمل، لأن الأولين كانوا بعد اختلافهم
فى المذهب في المسألة يرجعون بها إلى أصلٍ واحد، هو المقطوع به.
قلنا: إن رجوعهم بعد الاختلاف إلى الاتفاق على مذهبٍ واحدٍ، إما لأن
أحدهم رجع عما نقل، أو طعن في نقله، فيلزمه السقوط عن العدالة، ولا يجوز لكم أن تعاودوا الالتفات إلى نقله، وإما أن يكون الفقهاء اجتمعوا على نسخ أحد المذهبين، أو تكون رواية أحدهما ناسخة لرواية الآخر، وما من الفقهاء إلا من ألغى مذهبه في مسائل كثيرة، وهذا جنون ممن لا يقر بالنسخ، ولا يرى كلام أصحاب الخلاف اجتهادًا ونظرًا، بل نقلاً محضًا.
إلزام النسخ بوجه آخرنقول لهم: ما تقولون في صلواتكم وأصوامكم، هل هى التي فارقكم عليها
موسى صلى الله عليه؟
فإن قالوا: نعم.
এর ফলে তোমাদের ওপর এটি বাধ্যতামূলকভাবে বর্তায় যে, একটি একক মাসআলা যেটিতে তোমাদের দুইজন ফকিহ মতভেদ করেছেন,
তাঁদের প্রত্যেকের নিজ নিজ মাযহাব বা মতকে মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত বর্ণনার মাধ্যমে প্রকাশ করা, আর
এতে তাদের ওপর এমন জঘন্য বিষয় বর্তায় যে, তারা মহান আল্লাহকে এমন এক সত্তা হিসেবে সাব্যস্ত করছে যিনি সেই মাসআলায় কোনো একটি বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন
এবং তার বিপরীতটারও আদেশ দিয়েছেন; আর এটিই হলো সেই 'নাসখ' (রহিতকরণ) যা তারা সরাসরি অস্বীকার করে।
যদি তারা বলে: এই মতভেদ কার্যকর নয়, কারণ পূর্ববর্তীরা মতভেদের পর
উক্ত মাসআলার মাযহাব বা মতের ব্যাপারে একটি মূলনীতির দিকে ফিরে যেতেন, যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত।
আমরা বলি: মতভেদের পর তাদের একটি অভিন্ন মতের ওপর একমত হওয়ার বিষয়টি হয় একারণে যে,
হয় তাদের একজন যা বর্ণনা করেছিলেন তা থেকে ফিরে এসেছেন, অথবা নিজের বর্ণনার ত্রুটি প্রকাশ করেছেন; এমতাবস্থায় তার বিশ্বস্ততা ক্ষুণ্ণ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং তোমাদের জন্য পুনরায় তার বর্ণনার দিকে ফিরে তাকানো বৈধ থাকে না। অথবা ফকিহগণ দুই মতের কোনো একটিকে রহিত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, কিংবা একজনের বর্ণনা অন্যজনের বর্ণনাকে রহিতকারী হিসেবে গণ্য হয়েছে। ফকিহদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি অনেক মাসআলায় নিজের মাযহাব বা মতকে বাতিল করেননি। আর এটি তাদের পক্ষেই বলা পাগলামি যারা নাসখকে স্বীকার করে না এবং বিরোধীদের বক্তব্যকে ইজতিহাদ বা গবেষণা হিসেবে গণ্য করে না, বরং স্রেফ বর্ণনা হিসেবে মনে করে।
অন্যভাবে 'নাসখ' সাব্যস্ত করার প্রমাণআমরা তাদের বলব: তোমাদের নামাজ ও রোজার ব্যাপারে তোমাদের বক্তব্য কী? মুসা (আলাইহিস সালাম) কি তোমাদের নিকট থেকে বিদায় নেওয়ার সময় এগুলো এই অবস্থাতেই ছিল
যে অবস্থায় তিনি তোমাদের ছেড়ে গিয়েছিলেন?
যদি তারা বলে: হ্যাঁ।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
قلنا: فهل كان موسى وأمته يقولون في صلواتهم كما تقولون: "تقاع شوفار
كادول لخير وثينو وسانيس لقبو صينو وقبصينو باخد ميارباع كنفوث هاارض النوى قد شيحنا باروخ إثا ادناى مقبَّيص نذحى عمو يسرائيل ".
تفسيره: " اللهم اضرب ببوقٍ عظيم لعتقنا، واقبضنا جميعًا من أربعة
أقطار الأرض إلى قدسك، سبحانك يا جامع تشتيت قوم بنى إسرائيل ".
أم هل كانوا يقولون على عهد موسى عليه السلام، كما يقولون في كل
يوم: "هاشيب شوفطينوا كبار يشونا ويوعصينو لبتحلا وينى أث يروشا لايم عير قد شنحا يحيينوونا حمينو بنيا نماه ياروخ أثا اذوناى بوفى يرشالايم ".
تفسيره: " اردد حكامنا كالأولين، ومشيرينا كالابتداء، وابن
يروشليم قرية قدسك في أيامنا وأعزنا ببنائها، سبحانك يا بانى يروشليم ".
أم هذه فصول شاهدة بأنكم لفقتموها بعد زوال الدولة، وأما صوم إحراق
بيت المقدس، وصوم حصاره، وصوم كذليا الذي جعلتموها فرضًا،
هل كان موسى يصومها، أو أمر بها هو أو خليفته يوشع بن نون، أو صوم
صلب هامان، هل هذه الأمور مفترضة في التوراة أو زيدت لأسباب اقتضت
زيادتها في هذه الأعصار؟
আমরা বললাম: মূসা ও তাঁর উম্মত কি তাদের প্রার্থনাগুলোতে তেমনই বলতেন যেমনটি তোমরা বলো: "হে আল্লাহ, আমাদের মুক্তির জন্য একটি মহান শিঙায়
ফুঁ দিন, এবং পৃথিবীর চার প্রান্ত থেকে আমাদের সকলকে আপনার পবিত্র ধামে একত্রিত করুন; আপনি পবিত্র, হে বনী ইসরাঈল জাতির বিচ্ছিন্নদের একত্রিতকারী"।
এর ব্যাখ্যা: "হে আল্লাহ, আমাদের মুক্তির জন্য একটি বিশাল শিঙায় ফুঁ দিন, এবং আমাদের সকলকে পৃথিবীর চার
প্রান্ত থেকে আপনার পবিত্র ধামে একত্রিত করুন; আপনি পবিত্র, হে বনী ইসরাঈল জাতির বিচ্ছিন্নদের একত্রিতকারী"।
নাকি তারা মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর যুগে তেমনই বলতেন, যেমনটি তারা প্রতি
দিন বলে থাকে: "আমাদের বিচারকদের পূর্ববর্তীদের মতো এবং আমাদের পরামর্শদাতাদের সূচনালগ্নের মতো ফিরিয়ে দিন; আমাদের দিনগুলোতে আপনার পবিত্র নগরী জেরুজালেম পুনর্নির্মাণ করুন এবং এর নির্মাণের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করুন; আপনি পবিত্র, হে জেরুজালেমের নির্মাতা"।
এর ব্যাখ্যা: "আমাদের বিচারকদের পূর্ববর্তীদের মতো এবং আমাদের পরামর্শদাতাদের সূচনালগ্নের মতো ফিরিয়ে দিন; এবং
আমাদের দিনগুলোতে আপনার পবিত্র জনপদ জেরুজালেম নির্মাণ করুন এবং এর নির্মাণের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত করুন; আপনি পবিত্র, হে জেরুজালেমের নির্মাতা"।
নাকি এই অনুচ্ছেদগুলোই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, রাষ্ট্র বিলুপ্ত হওয়ার পর তোমরা এগুলো উদ্ভাবন করেছ? আর বায়তুল
মাকদিস দগ্ধ হওয়ার রোজা, তার অবরোধের রোজা এবং গাদালিয়াহর রোজা—যেগুলোকে তোমরা ফরজ করে নিয়েছ—
মূসা কি সেগুলো পালন করতেন? অথবা তিনি কিংবা তাঁর স্থলাভিষিক্ত ইউশা ইবনে নুন কি এগুলোর নির্দেশ দিয়েছিলেন? কিংবা
হামানকে শূলে চড়ানোর রোজা? এই বিষয়গুলো কি তাওরাতে বিধিবদ্ধ, নাকি এমন সব কারণে বৃদ্ধি করা হয়েছে যা বর্তমান
যুগে এগুলোর বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে?
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
فإن قالوا: وكيف يلزمنا النسخ بهذا الأمر؟
قلنا: لأن التوراة نطقت بهذه الآية: "لوتوسيفو على هدَّا بار أشير
أنوحى مصوى الجيم ولو تعرعو ممينو".
تفسيره: "لا تزيدوا على الأمر الذي أنا موصيكم به شيئًا، ولا تنقصوا منه
شيئًا، وإذا زدتم شيئًا من الفرائض، فقد نسختم تلك الآية".
إثبات النسخ على وجهٍ آخرنقول لهم: أليس عندكم أن الله اختار من بنى إسرائيل الأبكار، ليكونوا خواص فى الخدمة للأقداس؟
فيقولون: بلى.
فنقول لهم: أليس عندكم أيضًا أن موسى لما نزل من الجبل وبيده الألواح،
ووجد القوم عاكفين على العجل، ووقف بطرف المعسكر، ونادى: " من كان لله فليحضرنى". فانضم إليه بنوليوى، ولم ينضم إليه البكور، على أن مناداته، وإن كان لفظها يقتضى العموم، لم تكن إشارتها إلا إلى البكور، إذ هم خاصة الله يومئذ، دون أولاد لاوى، فلما خذله البكور. ونصرهُ أولاد ليوى قال الله لموسى: " وأ اقاح اث هلوتيم تاحت كل نحُو بنى يسراايل " .. تفسيره: "وقد أخذت اللاويين عوضاً عن كل بكر في بنى إسرائيل " ..
وفى عقيب نزول هذه
যদি তারা বলে: এই আদেশের মাধ্যমে নসখ (রহিতকরণ) আমাদের জন্য কীভাবে আবশ্যক হয়?
আমরা বলি: কারণ তাওরাত এই আয়াতের মাধ্যমে বলেছে: "লোতোসিফু আলা হাদদাবার আশের আনোহি মেসাভ্ভে আলহেম ভেলো তিগরেউ মিমেন্নু" ।
এর ব্যাখ্যা: "আমি তোমাদের যে বিষয়ে আদেশ দিচ্ছি তার সাথে তোমরা কোনো কিছু যোগ করো না এবং তা থেকে কোনো কিছু হ্রাস করো না। আর যখনই তোমরা ফরয বিধানে কোনো কিছু বৃদ্ধি করলে, তখনই তোমরা উক্ত আয়াতকে রহিত করলে।"
ভিন্নভাবে নসখ বা রহিতকরণ প্রমাণ করাআমরা তাদের বলি: তোমাদের নিকট কি এটি স্বীকৃত নয় যে, আল্লাহ বনী ইসরাঈলের মধ্য থেকে প্রথমজাতদের মনোনীত করেছিলেন, যাতে তারা পবিত্র বস্তুসমূহের খিদমতে বিশেষ দায়িত্বশীল হতে পারে?
তারা বলবে: হ্যাঁ।
তখন আমরা তাদের বলি: তোমাদের নিকট কি ইহাও স্বীকৃত নয় যে, মূসা যখন পাহাড় থেকে অবতীর্ণ হলেন এবং তাঁর হাতে ফলকসমূহ ছিল,
আর তিনি কওমকে গোবৎস পূজায় মগ্ন পেলেন, তখন তিনি শিবিরের এক প্রান্তে দাঁড়ালেন এবং উচ্চস্বরে ডাক দিলেন: "যে আল্লাহর পক্ষে আছে, সে যেন আমার নিকট আসে।" তখন বনী লেভীরা তাঁর সাথে যোগ দিল, কিন্তু প্রথমজাতরা তাঁর সাথে যোগ দিল না; যদিও তাঁর আহ্বানের শব্দাবলী ব্যাপকতার দাবি রাখে, কিন্তু এর ইঙ্গিত ছিল কেবল প্রথমজাতদের প্রতিই, কারণ লেভীর সন্তানদের পরিবর্তে তারাই ছিল সেই সময়ে আল্লাহর বিশেষ মনোনীত। অতঃপর যখন প্রথমজাতরা তাঁকে পরিত্যাগ করল এবং লেভীর সন্তানরা তাঁকে সাহায্য করল, তখন আল্লাহ মূসাকে বললেন: "ওয়া আকাহু ইতাল হিলোভিম তাহাতা কুল্লি নাহু বানি ইসরাঈল" .. এর ব্যাখ্যা: "আমি বনী ইসরাঈলের প্রত্যেক প্রথমজাত সন্তানের পরিবর্তে লেভীদের গ্রহণ করেছি।" ..
আর এটি অবতীর্ণ হওয়ার পর পরই...
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الآية، أليس أن الله عزل الأبكار عن ولاية الاختصاص، وأخذ أولاد ليوى عوضًا عنهم؟! فهم لا يقدرون على إنكار ذلك.
وهذا يلزمهم منه القول بالبداء أو النسخ.
إلزام نبوة المسيح، صلى الله عليه.
نقول لهم: أليس في التوراة التي في أيديكم: "لوياسور شبيط ميم ومحو فيق مبين زعلاو" .. تفسيره: لا يزول الملك من آل يهود، أو الراسم بين ظهرانيهم، إلى أن يأتي المسيح، فلا يقدرون على جحده.
فنقول لهم: أفما علمتم أنكم كنتم أصحاب دولة وملك إلى ظهور المسيح، ثم انقضى ملككم، فإن لم يكن لكم اليوم ملك، فقد لزمكم من التوراة أن المسيح قد أرسل.
وأيضا فإنا نقول: أليس منذ بعث المسيح، عليه السلام، استولت
ملوك الروم على اليهود وبيت المقدس، وانقضت دولتهم وتفرق شملهم؟! ولا يقدرون على جحد ذلك إلا بالبهتان.
ويلزمهم، على أصلهم الذي في التوراة أن عيسى ابن مريم هو المسيح الذى
كانوا ينتظرونه.
إلزامهم نبوته ونبوة المصطفى، عليهما السلام.
نقول لهم: ما تقولون في عيسى ابن مريم؟
আয়াতটি—আল্লাহ কি প্রথমজাতদের বিশেষ কর্তৃত্ব থেকে অপসারিত করেননি এবং তাদের পরিবর্তে লেভীর সন্তানদের গ্রহণ করেননি?! তারা তা অস্বীকার করতে পারবে না।
আর এটি তাদের জন্য 'বাদা' (আল্লাহর সংকল্পের পরিবর্তন) কিংবা 'নাসখ' (বিধান রহিতকরণ)-এর প্রবক্তা হওয়াকে অপরিহার্য করে দেয়।
মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর নবুওয়াত প্রমাণের আবশ্যকতা।
আমরা তাদের বলি: তোমাদের কাছে থাকা তাওরাতের মধ্যে কি এটি নেই: "লু ইয়াসুর শিবিত মিম ওয়া মাহূ ফীক মুবীন যা’লাউ"... এর ব্যাখ্যা হলো: ইয়াহুদা বংশ থেকে রাজত্ব বিলুপ্ত হবে না, অথবা তাদের মধ্যবর্তী শাসক অপসারিত হবে না, যতক্ষণ না মসীহ আগমন করেন; তারা এটি অস্বীকার করতে সক্ষম নয়।
অতঃপর আমরা তাদের বলি: তোমরা কি জানো না যে মসীহের আবির্ভাব পর্যন্ত তোমরা রাষ্ট্র ও রাজত্বের অধিকারী ছিলে, এরপর তোমাদের রাজত্ব বিলুপ্ত হয়ে গেছে? সুতরাং আজ যদি তোমাদের কোনো রাজত্ব না থাকে, তবে তাওরাতের ভাষ্য মতেই তোমাদের ওপর এটি মেনে নেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে যে মসীহ প্রেরিত হয়েছেন।
আমরা আরও বলি: মসীহ (আলাইহিস সালাম) প্রেরিত হওয়ার পর থেকে কি
রোমান সম্রাটগণ ইহুদি ও বাইতুল মাকদিসের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেনি এবং তাদের রাষ্ট্র কি বিলুপ্ত ও তাদের সংহতি কি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়নি?! চরম মিথ্যাচার ব্যতীত তারা এটি অস্বীকার করতে পারবে না।
আর তাওরাতের মূল পাঠ অনুযায়ী তাদের ওপর এটি মেনে নেওয়া আবশ্যক যে, ঈসা ইবনে মারইয়ামই হলেন সেই মসীহ যাঁর
জন্য তারা প্রতীক্ষমাণ ছিল।
তাদের ওপর তাঁর এবং মুস্তফা (আলাইহিমাস সালাম)-এর নবুওয়াত প্রমাণের আবশ্যকতা।
আমরা তাদের বলি: ঈসা ইবনে মারইয়াম সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী?
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
فيقولون: ولد يوسف النجار سفاحًا. كان قد عرف اسم الله الأعظم فسخر
به كثيرًا من الأشياء.
فيقول لهم: أليس عندكم في أصح نقلكم أن موسى، عليه السلام، قد أطلعه الله على الاسم المركب من اثنين وأربعين حرفًا، وبه شق البحر، وعمل المعجزات؟! .. فلا يقدرون على إنكار ذلك.
فنقول لهم: فإذا كان موسى أيضًا قد عمل المعجزات بأسماء الله تعالى
، فلمَ صدقتم نبوته، وكذبتم نبوة عيسى؟!
فيقولون: لأن الله تعالى علم موسى الأسماء، وعيسى لم يتعلمها من الوحى،
ولكنه تعلمها من حيطان بيت المقدس.
فنقول لهم: فإذا كان الأمرُ الذي يتوصلُ به إلى عمل المعجزات قد يصل إليه من لا يختصه الله به، ولا يزيد تعليمه إياه، فبأى شىء جاز تصديق موسى؟
فيقولون: لأنه أخذها عن ربه.
فنقول: وبأى شىء عرفتم أنه أخذها عن ربه؟
فيقولون: بما تواتر من أخبار أسلافنا.
وأيضا فإنا نلجئهم إلى نقل أسلافهم "
بأن نقول لهم: بماذا عرفتم نبوة موسى؟
فإن قالوا: بما عمله من المعجزات.
قلنا لهم: وهل فيكم من رأى هذه المعجزات؟
ليس هذا، لعمرى، طريقًا إلى تصديق النبوات، لأن هذا كان يلزم منه أن تكون معجزات الأنبياء، عليهم السلام،
তারা বলে: ইউসুফ নাজ্জার অবৈধভাবে জন্মগ্রহণ করেছে। সে আল্লাহর ইসমে আযম জানত এবং তা ব্যবহার করে
অনেক কিছুকে বশীভূত করেছিল।
তিনি তাদের বলেন: তোমাদের কাছে কি তোমাদের সবচেয়ে বিশুদ্ধ বর্ণনায় নেই যে, মুসা (আলাইহিস সালাম)-কে আল্লাহ বিয়াল্লিশটি অক্ষর বিশিষ্ট একটি নামের সন্ধান দিয়েছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি সমুদ্র বিদীর্ণ করেছিলেন এবং মুজিযা প্রকাশ করেছিলেন?! তখন তারা এটি অস্বীকার করতে সক্ষম হয় না।
তখন আমরা তাদের বলি: যদি মুসাও আল্লাহ তাআলার নামসমূহের মাধ্যমে মুজিযা প্রকাশ করে থাকেন
তবে কেন তোমরা তাঁর নবুওয়াতকে সত্য মনে করলে আর ঈসার নবুওয়াতকে অস্বীকার করলে?!
তারা বলে: কারণ আল্লাহ তাআলা মুসাকে সেই নামগুলো শিখিয়েছিলেন, আর ঈসা তা ওহীর মাধ্যমে শেখেননি,
বরং তিনি বায়তুল মাকদিসের দেয়াল থেকে তা শিখেছিলেন।
আমরা তাদের বলি: মুজিযা প্রকাশের যে মাধ্যম, তা যদি এমন ব্যক্তিও অর্জন করতে পারে যাকে আল্লাহ বিশেষভাবে নির্বাচন করেননি এবং তাকে তা সরাসরি শিক্ষা দেননি, তবে কোন প্রমাণের ভিত্তিতে মুসাকে সত্য বলে মেনে নেওয়া বৈধ হবে?
তারা বলে: কারণ তিনি তা তাঁর রবের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন।
আমরা বলি: তোমরা কীসের ভিত্তিতে জানলে যে তিনি তা তাঁর রবের কাছ থেকে নিয়েছিলেন?
তারা বলে: আমাদের পূর্বপুরুষদের মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্ন) সংবাদসমূহের মাধ্যমে।
এবং একইভাবে আমরা তাদের পূর্বপুরুষদের বর্ণনার প্রতি তাদের বাধ্য করি
এভাবে যে আমরা তাদের বলি: তোমরা মুসার নবুওয়াত কীসের ভিত্তিতে জেনেছিলে?
যদি তারা বলে: তিনি যেসব মুজিযা প্রকাশ করেছিলেন তার মাধ্যমে।
আমরা তাদের বলি: তোমাদের মধ্যে কি কেউ এই মুজিযাগুলো দেখেছে?
আমার জীবনের কসম, নবুওয়াতকে সত্য বলে স্বীকার করার এটি কোনো সঠিক পথ নয়, কারণ এর ফলে এটি আবশ্যিক হয়ে দাঁড়াবে যে নবীদের (আলাইহিমুস সালাম) মুজিযাগুলো...
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
باقيةً من بعدهم ليراها كل جيل وجيل، فيؤمنوا به، وليس ذلك
بواجب " لأنه إذا اشتهر النبي في عصر، وصحت نبوتُهُ في ذلك العصر
بالمعجزات التي ظهرت منه لأهل عصره، ووصل خبره إلى أهل عصرٍ آخر،
ووجب عليهم تصديق نبوته واتباعه، لأن المتواترات والمشهورات مما يجب قبولها فى العقل.
وموسى وعيسى ومحمد، صلوات الله عليهم وسلامه، في هذا الأمر
متساوون، ولعل تواتر الشهادات بنبوة موسى أضعف من تواتر الشهادات بنبوة عيسى ومحمدٍ عليهما السلام، لأن شهادة المسلمين والنصارى بنبوة موسى ليست إلا بسبب أن كتابيهما شهدا له بذلك، فتصديقهم بنبوة موسى فرع على تصديقهم بكتابتهم.
وأما معجزة القرآن فإنها، وإن كانت باقيةً، فتلك فضيلة زائدة لا تحتاج
إلى كونها سبب الإيمان. فأما من أعطى ذوق الفصاحة، فإن إيمانه بإعجاز القرآن إيمانُ من شاهد المعجزة، لا من اعتمد على الخبر، إلا أن هذه درجة
لم يرشح لها كل أحدٍ.
فإن قالوا: إن نبينا تشهد له جميع الأمم، فالتواتر به أقوى، فكيف تقولون إنه أضعف؟!
قلنا: وكأن إجماع شهادات الأمم صحيح لديكم؟!
তাদের পরে অবশিষ্ট রয়েছে যাতে প্রতিটি প্রজন্ম তা দেখতে পায় এবং এর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে এটি
আবশ্যক নয়। কারণ যখন কোনো নবী কোনো এক যুগে প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং সেই যুগে তাঁর নবুওয়াত সত্য বলে প্রমাণিত হয়
সেই যুগের মানুষের কাছে তাঁর থেকে প্রকাশিত মুজিজার মাধ্যমে, আর তাঁর সংবাদ অন্য কোনো যুগের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়,
তখন তাদের ওপর তাঁর নবুওয়াতকে সত্য বলে স্বীকার করা এবং তাঁর অনুসরণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে; কারণ মুতাওয়াতির এবং মশহুর বিষয়সমূহ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে গ্রহণ করা আবশ্যক।
আর মুসা, ঈসা ও মুহাম্মদ—তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—এই বিষয়ে
সমান। সম্ভবত মুসার নবুওয়াতের স্বপক্ষে সাক্ষ্যের বর্ণনা পরম্পরা (তাওয়াতুর), ঈসা ও মুহাম্মদ (আলাইহিমাস সালাম)-এর নবুওয়াতের সাক্ষ্যের তুলনায় দুর্বল। কারণ মুসার নবুওয়াতের ব্যাপারে মুসলিম ও নাসারাদের সাক্ষ্য দেওয়ার একমাত্র কারণ হলো তাদের কিতাবদ্বয় তাঁর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছে। ফলে মুসার নবুওয়াতের প্রতি তাদের বিশ্বাস তাদের কিতাবের প্রতি বিশ্বাসের একটি শাখা মাত্র।
আর কুরআনের মুজিজার বিষয়টি হলো, যদিও এটি অবশিষ্ট রয়েছে, তবে এটি একটি অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য যা ঈমানের কারণ হওয়ার জন্য
মুখাপেক্ষী নয়। যাকে বাচনভঙ্গির অলঙ্কার শাস্ত্রের রুচি দেওয়া হয়েছে, কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রতি তার ঈমান হলো সেই ব্যক্তির ঈমানের মতো যে স্বচক্ষে মুজিজা দেখেছে, সেই ব্যক্তির মতো নয় যে কেবল খবরের ওপর নির্ভর করে। তবে এটি এমন এক স্তর
যা সবার জন্য নির্ধারিত নয়।
যদি তারা বলে: আমাদের নবীর স্বপক্ষে সকল জাতি সাক্ষ্য দেয়, ফলে এক্ষেত্রে বর্ণনা পরম্পরা অধিক শক্তিশালী; এমতাবস্থায় আপনারা একে দুর্বল বলছেন কীভাবে?!
আমরা বলি: সব জাতির সাক্ষ্যের ঐক্যমত্য কি আপনাদের কাছে সঠিক বলে গণ্য?!
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
فإن قالوا: نعم.
قلنا: فإن الأمم الذين قبلتم شهاداتهم مجمعون على تكفيركم وتضليلكم،
فيلزمكم ذلك، لأن شهادتهم عندكم مقبولة!
فإن قالوا: لا نقبل شهادة أحدٍ .. لم يبق لهم تواتر إلا من طائفتهم، وهى أقل
الطوائف عددًا، فيصير تواترهم وشرعهم لذلك أضعف الشرائع.
ويلزمهم مما تقدم - أن كل من أظهر معجزاتٍ شهد بها التواتر مصدقٌ فى
مقالته، ويلزمهم - مِن ذلك - التصديق بنبوة المسيح والمصطفى، عليهما السلام.
فَصْل فيَما يَحْكُونَهُ عَنْ عيسى عليه السلام.
هم يزعمون أنه كان من العلماء لا من الأنبياء، وأنه كان يطببُ المرضى
بالأدوية، ويوهمهم أن الانتفاع إنما حصل لهم بدعائه، وأنه أبرأ جماعةً من
المرضى من أسقامهم في يوم السبت، فأنكرت عليه اليهود ذلك.
فقال لهم: أخبرونى عن الشاة من الغنم، وإذا وقعت في البئر يوم السبت أما
تنزلون إليها، وتحلون السبت لتخليصها؟
قالوا: بلى.
قال: فلمَ أحللتم السبت لتخليص الغنم، ولا تحلونها لتخليص الإنسان
الذى هو أكبر حرمةً من الغنم؟!
তারা যদি বলে: হ্যাঁ।
আমরা বলি: তবে তো ওই জাতিসমূহ যাদের সাক্ষ্য আপনারা গ্রহণ করেছেন, তারা আপনাদেরকে কাফির ও পথভ্রষ্ট আখ্যা দেওয়ার ব্যাপারে একমত,
আর এটি মেনে নেওয়া আপনাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে, কারণ আপনাদের নিকট তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য!
আর তারা যদি বলে: আমরা কারো সাক্ষ্য গ্রহণ করি না... তবে তাদের জন্য তাদের নিজস্ব দল ছাড়া কোনো অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা (তাওয়াতুর) অবশিষ্ট থাকে না, আর তারা হলো সবচেয়ে কম
সংখ্যাবিশিষ্ট দল, যার ফলে তাদের অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা এবং শরিয়ত হবে দুর্বলতম বিধান।
আর পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে এটি তাদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, যে ব্যক্তিই এমন সব মুজিজা প্রকাশ করেছেন যা অবিচ্ছিন্ন বর্ণনার মাধ্যমে প্রমাণিত, তিনি তাঁর
দাবিতে সত্যবাদী; আর এর মাধ্যমে তাদের জন্য মাসিহ এবং মুস্তফা আলাইহিমাস সালাম-এর নবুয়তকে সত্য বলে স্বীকার করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে তারা যা বর্ণনা করে সে সম্পর্কিত একটি পরিচ্ছেদতারা দাবি করে যে, তিনি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, নবীদের অন্তর্ভুক্ত নন; এবং তিনি রোগীদের চিকিৎসা করতেন
ওষুধের মাধ্যমে, আর তিনি তাদের মনে এই ধারণা তৈরি করতেন যে সুস্থতা কেবল তাঁর দোয়ার মাধ্যমেই হয়েছে। তিনি একদল
রোগীকে শনিবারের দিন তাদের ব্যাধি থেকে আরোগ্য দান করেন, ফলে ইয়াহুদিরা তাঁর এই কাজের বিরোধিতা করে।
তখন তিনি তাদের বললেন: আমাকে পালের একটি ভেড়া সম্পর্কে বলো, যদি তা শনিবার কুয়োর মধ্যে পড়ে যায়, তবে কি তোমরা
সেটিকে উদ্ধারের জন্য নিচে নামো না এবং সেটিকে উদ্ধারের জন্য শনিবারের বিধানকে শিথিল করো না?
তারা বলল: অবশ্যই।
তিনি বললেন: তবে কেন তোমরা ভেড়াকে বাঁচানোর জন্য শনিবারের বিধানকে শিথিল করো, অথচ মানুষের ক্ষেত্রে তা করো না
যার মর্যাদা ভেড়ার চেয়ে অনেক বেশি?!
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
فأفحمهم، ولم يؤمنوا.
وأيضًا، فإنهم يحكون عنه أنه كان مع قومٍ من تلاميذه في جبل ولم يحضرهم
الطعام، فأذن لهم في تناول الحشيش في يوم السبت.
فأنكرت عليه اليهودُ قطع الحشيش في يوم السبت.
فقال لهم: أرأيتم لو أن أحدكم، لو كان وحيدًا مع قومٍ على غير ملته، وأمروهُ بقطع النبات في يوم السبت وإلقائه لدوابهم، لا ليقصدوا بذلك كسر السبت
تجيزون له قطع النبات؟!
قالوا: بلى.
قال: فإن هؤلاء القوم أمرتهم بقطع النبات ليأكلوه لينقذوا به أنفسهم، لا
للطعن في أمر السبت.
كل ذلك ملاطفةً منه لعقولهم التي لا ينطبع فيها النسخ. ولئن كان ما يحكونه
من ذلك صحيحًا، فلعله كان في ابتداء ظهور أمر المسيح، عليه السلام.
ذكر الآيات والعلامات التي في التوراة الدالة على نبوة سيدنا محمد المصطفى صلى الله عليه وسلم -
إنهم لا يقدرون على أن يجحدوا هذه الآية من الجزء الثاني من السفر الخامس من التوراة.
ফলে তিনি তাদের নিরুত্তর করলেন, কিন্তু তারা ঈমান আনল না।
এছাড়া, তারা তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করে যে, তিনি এক পাহাড়ে তাঁর একদল শিষ্যের সাথে ছিলেন এবং তাদের নিকট খাবার উপস্থিত ছিল না,
ফলে তিনি তাদের শনিবারের দিনে তৃণলতা খাওয়ার অনুমতি দেন।
ইয়াহুদীরা শনিবারের দিনে তৃণলতা কাটার কারণে তাঁর ওপর আপত্তি জানাল।
তিনি তাদের বললেন: "তোমরা কি মনে করো, যদি তোমাদের কেউ তার ভিন্ন ধর্মাবলম্বী একদল লোকের সাথে একা থাকতো এবং তারা তাকে শনিবারের দিন গাছপালা কাটতে ও তা তাদের গবাদিপশুকে খাওয়াতে নির্দেশ দিত, যা দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য শনিবারের বিধান লঙ্ঘন করা নয়—
তবে কি তোমরা তাকে গাছপালা কাটার অনুমতি দিতে?"
তারা বলল: "হ্যাঁ।"
তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি এই লোকদের নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য গাছপালা কেটে খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছি, শনিবারের বিধানের ওপর
কটাক্ষ করার জন্য নয়।"
এ সবই ছিল তাদের বিবেকের প্রতি তাঁর কোমল আচরণ, যাদের অন্তরে রহিতকরণের বিষয়টি অঙ্কিত হয় না। আর তারা যা বর্ণনা করে
তা যদি সত্য হয়, তবে সম্ভবত তা ছিল মাসীহ আলাইহিস সালামের নবুওয়াত প্রকাশের শুরুর দিকে।
তাওরাতে বর্ণিত আমাদের সরদার মুহাম্মদ আল-মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের প্রমাণ ও নিদর্শনসমূহের আলোচনা -
তারা তাওরাতের পঞ্চম খণ্ডের দ্বিতীয় অংশ থেকে এই আয়াতটি অস্বীকার করতে সক্ষম হবে না।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
"نابى أقيم لا هيم مقارب أحيهم كاموخا ايلا وتشماعون "
…تفسيره: "نبيًا أقيم لهم من وسط إخوتهم مثلك به، فليؤمنوا".
وإنما أشار بهذا إلى أنهم يؤمنون بمحمد صلى الله عليه وسلم.
فإن قالوا: إنه قال، من وسط إخوتهم. وليس في عادة كتابنا أن يعنى
بقوله: "إخوتكم" إلا بني إسرائيل.
قلنا: بلى، قد جاء في التوراة "إخوتكم بنى العيص"، وذلك في الجزء الأول
من السفر الخامس، قوله:
"اتيم عوبز بقبول اخيحم بنى عيسووهيوشييم بسيعير".
تفسيره: " أنتم عابرون في تخم إخوتكم بنى العيص المقيمين في سيعير، إياكم أن تطيعُوا في شىء من أرضهم ".
فإذا كان بنو العيص إخوة لبنى إسرائيل، لأن العيص وإسرائيل ولدا إسحاق، فكذلك بنو إسماعيل إخوة لجميع ولد إبراهيم.
وإن قالوا: إن هذا القول إنما أشير به إلى شموائيل النبي، عليه السلام، لأنه قال: "من وسط إخوتهم مثلك ". وشموائيل كان مثل موسى" لأنه من أولاد ليوى يعنون من السبط الذي كان منه موسى، عليه السلام.
قلنا لهم: فإن كنتم صادقين، فأى حاجةٍ بكم إلى أن يوصيكم بالإيمان
بشموائيل، وأنتم تقولون: إن شموائيل لم يأتِ بزيادةٍ، لا بنسخ أشفق
"নবি আকিইম লাহেম মিক্কেরেভ আখিইহিম কামোখা ইলাইহ তিশমাউন"
…এর ব্যাখ্যা: "আমি তাদের জন্য তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মতো একজন নবী প্রেরণ করব, তারা যেন তাঁর প্রতি ঈমান আনে।"
এর মাধ্যমে তিনি মূলত এই ইঙ্গিত করেছেন যে, তারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনবে।
যদি তারা বলে: তিনি তো বলেছেন, 'তাদের ভাইদের মধ্য থেকে'। অথচ আমাদের কিতাবের পরিভাষায় 'তোমাদের ভাই' বলতে কেবল বনী ইসরাঈলকেই বোঝানো হয়।
আমরা বলব: অবশ্যই না, তাওরাতে এসেছে "তোমাদের ভাই বনী আইস", আর তা পঞ্চম খণ্ডের প্রথম অংশে; তাঁর বাণী:
"আত্তেম ওভেরিম বিগেভুল আখিইখেম বনী এসভ হাইয়োশভিম বি-সেইর"।
এর ব্যাখ্যা: "তোমরা সেইরে বসবাসকারী তোমাদের ভাই বনী আইসের সীমানা অতিক্রম করছ, খবরদার তোমরা যেন তাদের ভূমির কোনো কিছুই দখল না করো।"
সুতরাং বনী আইস যদি বনী ইসরাঈলের ভাই হয়—যেহেতু আইস ও ইসরাঈল উভয়েই ইসহাকের পুত্র—তবে একইভাবে বনী ইসমাইলও ইব্রাহিমের সকল সন্তানদের ভাই।
আর যদি তারা বলে: এই উক্তি দ্বারা মূলত নবী শামুয়েল (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, কারণ তিনি বলেছিলেন: "তাদের ভাইদের মধ্য থেকে তোমার মতো"। আর শামুয়েল ছিলেন মুসার মতো, কারণ তিনি লেবীর বংশধর ছিলেন, অর্থাৎ সেই গোত্রের যে গোত্র থেকে মুসা (আলাইহিস সালাম) এসেছিলেন।
আমরা তাদের বলব: যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তোমাদেরকে শামুয়েলের প্রতি ঈমান আনার অসিয়ত করার কী প্রয়োজন ছিল, অথচ তোমরা তো বলো যে শামুয়েল কোনো নতুন বিধান নিয়ে আসেননি, কোনো রহিতকরণও করেননি...
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
من أن لا تقبلوه، لأنه إنما أرسل ليقوى أيديكم على أهل فلسطين وليردكم إلى شرع التوراة، وبين صفته، فأنتم أسبق الناس إلى الإيمان به، لأنه إنما يخاف تكذيبكم، من ينسخ مذهبكم، ويغير أوضاع ديانتكم.
فالوصية بالإيمان به، مما لا يستغنى مثلكم عنه، ولذلك لم يكن بموسى حاجة
أن يوصيكم بالإيمان بنبوة أرميا وأشيعيا وغيرهما من الأنبياء.
وهذا دليل على أن التوراة أمرتهم، في هذا الفصل، بالإيمان بالمصطفى عليه السلام، واتباعه.
الإشارة إلى اسمه صلى الله عليه وسلم في التوراةقال الله، تعالى، في الجزء الثالث من السفر الأول من التوراة، مخاطبًا لإبراهيم الخليل، عليه السلام: "وأما في إسماعيل فقد قبلت دعاءك، ها قد باركت فيه،
وأثمرِّه وأكثرِّه جدًا جدًا".
ذلك قوله: "وليشماعيل شمعتيخا هنى بير اختى أوتووهر بيثى أوتو بمأ دماد".
فهذه الكلمة "بماذماد" إذا عددنا حساب حروفها بالجمل، كان اثنين وتسعين، وذلك عدد حساب حروف اسم محمد صلى الله عليه وسلم، فإنه أيضًا اثنان وتسعون.
وإنما جُعل ذلك في هذا الموضع ملغزا، لأنه لو صرح به، لبدلته اليهود، أو
أسقطته من التوراة، كما عملوا في غير ذلك.
فإن قالوا: إنه قد يوجد في التوراة عدة كلمات، مما يكون عدد حساب حروفه مساويًا لعدد حساب حروف اسم زيد وعمرو وخالد وبكر، فلا يلزم من ذلك أن يكون زيد وعمرو وخالد وبكر أنبياء.
যাতে আপনারা তাকে গ্রহণ না করেন এমনটি হওয়া উচিত নয়; কারণ তাকে প্রেরণ করা হয়েছে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আপনাদের শক্তি বৃদ্ধি করতে এবং আপনাদেরকে তাওরাতের বিধানের দিকে ফিরিয়ে নিতে। তিনি তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তাই তাঁর প্রতি ঈমান আনার ক্ষেত্রে আপনারাই মানুষের মধ্যে অগ্রগণ্য হওয়া উচিত। কারণ তিনি কেবল সেই ব্যক্তির দ্বারা আপনাদের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা করেন, যে আপনাদের ধর্মাদর্শকে রহিত করবে এবং আপনাদের ধর্মীয় বিধিব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে দেবে।
অতএব তাঁর প্রতি ঈমান আনার উপদেশ এমন একটি বিষয় যা থেকে আপনাদের মতো লোকদের বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়। এই কারণেই মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর এই প্রয়োজনীয়তা ছিল না যে
তিনি আপনাদেরকে ইয়ারমিয়াহ, ইশাইয়াহ এবং অন্যান্য নবীদের নবুওয়াতের প্রতি ঈমান আনার উপদেশ দেবেন।
আর এটি এই বিষয়ের দলীল যে, তাওরাত এই পরিচ্ছেদে তাদেরকে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান আনার এবং তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে।
তাওরাতে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নামের প্রতি ইঙ্গিতআল্লাহ তাআলা তাওরাতের প্রথম খণ্ডের তৃতীয় অংশে ইব্রাহীম খলীল (আলাইহিস সালাম)-কে সম্বোধন করে বলেছেন: "আর ইসমাইলের ব্যাপারে আমি তোমার প্রার্থনা কবুল করেছি, শোনো আমি তাকে বরকত দান করেছি,
এবং আমি তাকে ফলপ্রসূ করব ও তাকে অত্যধিক সংখ্যায় বৃদ্ধি করব।"
আর তা হলো তাঁর এই উক্তি: "ওয়া লি ইশমাইল শামাতিকা হিন্নি বিরাখতি ওতো ওহির বিথি ওতো বিমাদ মাদ।"
সুতরাং এই "বিমাদ মাদ" শব্দটির অক্ষরসমূহ যদি আমরা জুমাল পদ্ধতিতে গণনা করি, তবে তার মান হবে বিরানব্বই, যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামের অক্ষরসমূহের গাণিতিক মানের সমান; কেননা তাঁর নামের মানও বিরানব্বই।
আর এই বিষয়টি এখানে রহস্যময় বা সাংকেতিকভাবে রাখা হয়েছে, কারণ যদি তা স্পষ্টভাবে বলা হতো, তবে ইহুদিরা তা পরিবর্তন করে দিত অথবা
তাওরাত থেকে তা বাদ দিয়ে দিত, যেমনটি তারা অন্যান্য ক্ষেত্রে করেছে।
এখন যদি তারা বলে: তাওরাতে এমন অনেক শব্দ থাকতে পারে যার গাণিতিক মান যায়েদ, আমর, খালিদ ও বকরের নামের গাণিতিক মানের সমান, তাই বলে যায়েদ, আমর, খালিদ ও বকর নবী হওয়া আবশ্যক নয়।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
فالجواب: إن الأمر كما تقولون، لو كان لهذه الآية أسوة بغيرها من كلمات
التوراة، لكنا نحن نقيم البراهين والأدلة على أنه لا أسوة لهذه الكلمة بغيرها من سائر التوراة، وذلك أنه ليس في التوراة من الآيات ما حاز به إسماعيل الشرف كهذه الآية، لأنها وعد من الله لإبراهيم، بما يكون من شرف إسماعيل، وليس فى التوراة آية آخرى، مشتملة على شرفٍ لقبيلة زيد وعمرو وخالد وبكر.
ثم إنا نبين أنه ليس في هذه الآية كلمة تساوى "بمادماد" التي معناها "جدًا
جدًا"، وذلك أنها كلمة المبالغة من الله، سبحانه، فلا أسوة لها بشىءٍ من كلمات الآية المذكورة.
وإذا كانت هذه الآية أعظم الآيات مبالغة في حق إسماعيل وأولاده، وكانت
تلك الكلمة أعظم مبالغةً من باقى كلمات تلك الآية، فلا عجب أن تضمن
الإشارة إلى أجل أولاد إسماعيل شرفًا، وأعظمهم قدرًا، محمد صلى الله عليه وسلم.
وإذ بينا أنه ليس لهذه الكلمة أسوة بغيرها من كلمات هذه الآية، ولا لهذه الآية أسوة بغيرها من آيات التوراة، فقد بطل اعترافهم.
ذكر الوضع الذي أشير فيه إلى نبوة الكليم. والمسيح والمصطفى، عليهم السلام.
"واما راذوناى مسيناى اثكلى وريهور يقاربه مسيعيرا تجرى لانا استحى
بغبورتيه على طورا دفاران وعميّه ربوات قد يشين ".
تفسير، قال: "إن الله من سيناء تجلى، وأشرق نوره من سيعير، واطلع من
جبال فاران، ومعه ربوات المقدسين ".
উত্তর হলো: বিষয়টি তেমনই যেমনটি আপনারা বলছেন, যদি এই আয়াতের সাথে তাওরাতের অন্যান্য বাণীর কোনো সাদৃশ্য থাকত। তবে আমরা প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন করছি যে, তাওরাতের অন্য কোনো বাণীর সাথে এই বাণীর কোনো সাদৃশ্য নেই। কারণ, তাওরাতে এমন কোনো আয়াত নেই যার মাধ্যমে ইসমাইল এমন মর্যাদা লাভ করেছেন যা এই আয়াতের মাধ্যমে হয়েছে। কারণ এটি ইব্রাহিমের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল, যা ইসমাইলের মর্যাদা সম্পর্কে। তাওরাতে অন্য কোনো আয়াত নেই যা যায়েদ, আমর, খালিদ বা বকরের বংশের মর্যাদাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
অতঃপর আমরা বর্ণনা করছি যে, এই আয়াতে "বি-মাদ মাদ" এর সমতুল্য কোনো শব্দ নেই, যার অর্থ হলো "অত্যন্ত অত্যধিক"। কারণ এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অতিশয়তা বা চূড়ান্ত গুরুত্বজ্ঞাপক শব্দ, তাই উল্লিখিত আয়াতের অন্য কোনো শব্দের সাথে এর কোনো তুলনা হয় না।
আর যেহেতু এই আয়াতটি ইসমাইল ও তাঁর সন্তানদের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ববহ আয়াত, এবং সেই শব্দটি ওই আয়াতের অন্যান্য শব্দের চেয়েও অধিক গুরুত্ব বহন করে, তাই এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে এটি ইসমাইলের সন্তানদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং সম্মানের দিক থেকে মহানতম ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ইঙ্গিত অন্তর্ভুক্ত করবে।
যেহেতু আমরা স্পষ্ট করেছি যে, এই শব্দটির সাথে এই আয়াতের অন্য শব্দের কোনো তুলনা নেই, এবং এই আয়াতের সাথে তাওরাতের অন্য কোনো আয়াতেরও কোনো তুলনা নেই, তাই তাদের দাবি বাতিল হয়ে গেল।
সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ যাতে কালিম, মসীহ এবং মুস্তফা (তাঁদের সবার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নবুওয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
"আর আল্লাহ সিনাই থেকে এসেছেন এবং সায়ির থেকে তাদের জন্য উদিত হয়েছেন, তিনি ফারান পর্বত থেকে উজ্জ্বল হয়ে প্রকাশ পেয়েছেন এবং তাঁর সাথে দশ হাজার পবিত্র জন রয়েছেন।"
ব্যাখ্যা, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সিনাই থেকে প্রকাশিত হয়েছেন, তাঁর নূর সায়ির থেকে উদ্ভাসিত হয়েছে এবং তিনি ফারান পর্বতমালা থেকে আবির্ভূত হয়েছেন, এবং তাঁর সাথে রয়েছেন হাজার হাজার পবিত্র সত্তা।"
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وهم يعلمون أن جبل سيعير هو جبلُ الشراة الذي فيه بنو العيص الذين آمنوا
بعيسى، عليه السلام، بل في هذا الجبل كان مقام المسيح عليه السلام. وهم
يعلمون أن سيناء هو جبل الطور، لكنهم لا يعلمون أن جبل فاران هو جبل
مكة!
وفى الإشارة إلى هذه الأماكن الثلاثة التي كانت مقام نبوة هؤلاء الأنبياء، ما
يقتضى للعقلاء أن يبحثوا عن تأويله المؤدى إلى الأمر باتباع مقالتهم.
فأما الدليل الواضحُ من التوراة على أن جبل فاران هو جبل مكة، فهو
أن إسماعيل لما فارق أباه الخليل، عليهما السلام سكن إسماعيل في برِّية فاران، ونطقت التوراة بذلك في قوله: " وتقاح لو اموا شيامئا يرض مِصْرايم ".
تفسير: " وأقام في برية فاران، وأنكحته أمه امراةً من أرض مصر".
فقد ثبت من التوراة أن جبل فاران مسكنٌ لآل إسماعيل، وإذا كانت التوراة قد أشارت في الآية التى تقدم ذكرها إلى نبوة تنزل على جبل فاران.
لزم أن تلك النبوة على آل إسماعيل؛ لأنهم سكان فاران، وقد علم الناسُ قاطبة أن الشار إليه بالنبوة من ولد إسماعيل هو محمد صلى الله عليه وسلم، وأنه بعث من مكة التي كان فيها مقام إسماعيل.
فدل ذلك على جبال فاران هى جبال مكة، وأن التوراة أشارت في هذا الموضع إلى نبوة الصطفى، صلوات الله وسلامه عليه، وبشرت به، إلا أن اليهود، لجهلهم وضلالهم، لا يحسنون الجمع بين هاتين الآيتين، بل يسلمون
المقدمتين ويجحدون النتيجة، لفرط جهلهم.
তারা জানে যে সাঈর পাহাড় হলো শারাহ পাহাড় যাতে বনু ঈস বসবাস করত যারা ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর ঈমান এনেছিল;
বরং এই পাহাড়েই মাসীহ আলাইহিস সালামের অবস্থানস্থল ছিল। তারা
জানে যে সিনাই হলো তূর পাহাড়, কিন্তু তারা জানে না যে পারান পাহাড় হলো মক্কার
পাহাড়!
এই তিনটি স্থানের প্রতি ইশারার ক্ষেত্রে—যা এই নবীদের নবুয়তের অবস্থানস্থল ছিল—তা
বুদ্ধিমানদের জন্য এটি আবশ্যক করে তোলে যে তারা এর এমন ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করবে যা তাদের আদর্শ অনুসরণের নির্দেশের দিকে পরিচালিত করে।
আর তাওরাত থেকে পারান পাহাড় যে মক্কার পাহাড় তার সুস্পষ্ট দলিল হলো এই যে,
ইসমাইল যখন তাঁর পিতা খলিল আলাইহিমাস সালামের থেকে পৃথক হলেন, তখন ইসমাইল পারান মরুভূমিতে বসবাস করলেন; তাওরাত এ বিষয়ে তার এই বাণীতে বলেছে: "এবং তাঁর মা মিসর দেশ থেকে তাঁর জন্য একজন স্ত্রী গ্রহণ করলেন।"
ব্যাখ্যা: "তিনি পারান মরুভূমিতে অবস্থান করলেন এবং তাঁর মা মিসর দেশ থেকে এক নারীর সাথে তাঁর বিবাহ দিলেন।"
সুতরাং তাওরাত থেকে প্রমাণিত হলো যে পারান পাহাড় ইসমাইলের বংশধরদের বাসস্থান। আর তাওরাত যখন ইতিপূর্বে উল্লিখিত আয়াতে পারান পাহাড়ে অবতীর্ণ হওয়া নবুয়তের দিকে ইঙ্গিত করেছে,
তখন এটি আবশ্যক হয় যে, সেই নবুয়ত ইসমাইলের বংশধরদের ওপর হবে; কারণ তারা পারানের অধিবাসী। আর সমস্ত মানুষ নিশ্চিতভাবে জানে যে, ইসমাইলের বংশধরদের মধ্য থেকে যাঁর নবুয়তের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তিনি হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এবং তিনি মক্কা থেকে প্রেরিত হয়েছেন যেখানে ইসমাইলের অবস্থানস্থল ছিল।
সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে পারান পাহাড় হলো মক্কার পাহাড়, এবং তাওরাত এই স্থানে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের দিকে ইশারা করেছে এবং তাঁর সুসংবাদ দিয়েছে। কিন্তু ইয়াহুদিরা তাদের অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার কারণে এই দুই আয়াতের মধ্যে সমন্বয় করতে সক্ষম হয় না; বরং তারা
তাদের চরম অজ্ঞতার কারণে প্রাঙ্গণদ্বয় বা ভিত্তিগুলো স্বীকার করলেও ফলাফলকে অস্বীকার করে।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
وقد شهدت عليهم التوراة بالإفلاس من الفطنة والرأى، ذلك قوله تعالى:
"كى غووى أو باد عيصوت هيما واين باهيم تبونا".
تفسيره: "إنهم لشعب عادم الرأى، وليس فيهم فطانة".
فى إبطال ما يدعونه من معبة الله إياهم.
هم يزعمون أن الله، سبحانه وتعالى، يحبهم دون جميع الناس، ويحب طائفتهم وسلالتهم، وأن الأنبياء والصالحين لا يختارهم الله إلا منهم، ونحن نناظرهم على ذلك. فنقول ما قولكم في أيوب النبي، عليه السلام، أتقرون بنبوته؟
فيقولون: نعم.
فنقول لهم: هل هو من بنى إسرائيل؟
فيقولون: لا.
فنقول لهم: ما تقولون في جمهور بنى إسرائيل، أعني التسعة أسباط والنصف، الذين أغواهم يربعام بن نباط الذى خرج على ولد سليمان بن داود،
وصنع لهم الكبشين من الذهب، وعكف على عبادتهما جماعة من بنى إسرائيل
، وأهل جميع ولاية دار ملكهم الملقبة يومئذ بشومرون، إلى (أن) جرت الحرب بينهم وبين السبطين والنصف، الذين كانوا مؤمنين مع ولد سليمان في بيت المقدس، وقتل في معركة واحدة خمسمائة ألف إنسان، فما تقولون في أولئك
তওরাত তাদের বিচক্ষণতা ও বিচারবুদ্ধির দেউলিয়াত্ব সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছে, আর তা হলো মহান আল্লাহর এই বাণী:
"নিশ্চয়ই তারা এমন এক জাতি যাদের কোনো সঠিক পরামর্শ নেই এবং তাদের মধ্যে কোনো বোধশক্তি নেই"।
এর ব্যাখ্যা: "নিশ্চয়ই তারা বিচারবুদ্ধিহীন এক জাতি এবং তাদের মধ্যে কোনো প্রজ্ঞা নেই"।
আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি ভালোবাসার দাবির অসারতা প্রসঙ্গে।
তারা দাবি করে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সমস্ত মানুষের পরিবর্তে কেবল তাদেরই ভালোবাসেন এবং তাদের গোষ্ঠী ও বংশধরদেরই পছন্দ করেন; এমনকি নবী ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিদেরও আল্লাহ কেবল তাদের মধ্য থেকেই নির্বাচন করেন। আমরা এই বিষয়ে তাদের সাথে বিতর্ক করব। আমরা বলি, আইয়ুব নবী (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? তোমরা কি তাঁর নবুওয়ত স্বীকার করো?
তারা বলে: হ্যাঁ।
আমরা তাদের বলি: তিনি কি বনী ইসরাঈলের অন্তর্ভুক্ত?
তারা বলে: না।
তখন আমরা তাদের বলি: বনী ইসরাঈলের অধিকাংশের ব্যাপারে তোমাদের বক্তব্য কী—অর্থাৎ সেই সাড়ে নয়টি গোত্র যাদেরকে নুবাতের পুত্র ইয়ারোবিয়াম বিভ্রান্ত করেছিল, যে সুলায়মান ইবনে দাউদ-এর সন্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল?
সে তাদের জন্য দুটি স্বর্ণের বাছুর তৈরি করেছিল এবং বনী ইসরাঈলের একদল লোক সেগুলোর উপাসনায় লিপ্ত হয়েছিল
এবং তাদের তৎকালীন রাজ্যের সমগ্র শাসনব্যবস্থার অধিবাসীরা—যা সে সময় শুমরুন নামে অভিহিত ছিল—পর্যন্ত এই বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল। অবশেষে তাদের এবং সেই সাড়ে দুই গোত্রের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় যারা বায়তুল মাকদিসে সুলায়মানের সন্তানের সাথে মুমিন অবস্থায় ছিল। সেই একটি যুদ্ধেই পাঁচ লক্ষ মানুষ নিহত হয়েছিল। তবে ঐসব লোকদের সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী?
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
القتلى بأسرهم، وفى التسعة أسباط والنصف، هل كان الله يحبهم، لأنهم
إسر ائيلين؟! فيقولون: لا، لأنهم كفار.
فنقول لهم: أليس عندكم في التوراة، أنه لا فرق بين الدخيل في دينكم وبين
الصريح النسب منكم؟!
فيقولون: بلى، لأن التوراة ناطقة بهذا:
"كليركا اراح كاخيم بيهى لقتى اذوناى".
تفسيره: " إن الأجنبي والصريح النسب منكم سواء عند الله ".
"احاث وشفاط ايجاد بيهى لا خيم ولكريم هكار بثو خيم ".
تفسيره: "شريعة واحدة" وحكم واحد يكون لكم، وللغريب الساكن فيما
بينكم. فإذا اضطررناهم إلى الإقرار بأن الله لا يحب الظالمين منهم، ويحب المؤمنين من غير طائفتهم، ويتخذ أولياء وأنبياء من غير سلالتهم، فقد نفوا ما ادعوه من اختصاص محبة الله، سبحانه وتعالى، بطائفتهم من بين المخلوقين.
فصل في ذكر طرف من كفرهم وتبديلهم.
إن من سبيل ذوى التحصيل أن يتجنبوا الرذائل، وينفروا مما قبح فى
العقول السليمة، ورجح تزييفه، عند ذوي الأفهام المستقيمة.
ولهذه الطائفة من فنون الضلال والاختلال ما تنبو عن مثله العقول،
يخالفه المشروع والمعقول. وذلك أنهم مع ذهاب دولتهم وتفرق شملهم
নিহতদের সকলকে নিয়ে এবং সাড়ে নয়টি গোত্রের ব্যাপারে; আল্লাহ কি তাদের ভালোবাসতেন কারণ তারা
ইসরায়েলি ছিল?! তারা উত্তরে বলে: না, কারণ তারা কাফের ছিল।
আমরা তখন তাদের বলি: তোমাদের তাওরাতে কি নেই যে, তোমাদের ধর্মে নবাগত প্রবেশকারী এবং তোমাদের
বংশীয়দের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই?
তারা বলে: হ্যাঁ, কারণ তাওরাত এ কথা স্পষ্টভাবে বলে:
"কিলিরকা আরাহ কাখিম বিহি লাকতি আজুনাই"।
এর ব্যাখ্যা: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকে বিদেশী এবং বংশীয়রা আল্লাহর কাছে সমান।"
"আহাস ওয়া শাফাত ইজাদ বিহি লা খিম ওয়ালাক্রিম হাকার বাথু খিম"।
এর ব্যাখ্যা: "একই শরীয়ত" এবং একই বিধান তোমাদের জন্য এবং তোমাদের মাঝে বসবাসকারী
বিদেশীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। যখন আমরা তাদের এই স্বীকৃতি দিতে বাধ্য করি যে, আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে জালিমদের ভালোবাসেন না এবং তিনি তাদের দলভুক্ত নয় এমন মুমিনদের ভালোবাসেন এবং তাদের বংশের বাইরের লোকদের মধ্য থেকে বন্ধু ও নবী গ্রহণ করেন, তখন তারা সৃষ্টির মধ্য থেকে কেবল তাদের দলের প্রতিই আল্লাহর ভালোবাসা সুনির্দিষ্ট থাকার যে দাবি করেছিল, তা তারা নিজেরাই খণ্ডন করল।
তাদের কুফরী ও বিকৃতি বা পরিবর্তনের কিছু বর্ণনার পরিচ্ছেদ.
প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের পথ হলো মন্দ ও হীনতা পরিহার করা এবং সুস্থ বুদ্ধিতে যা কুৎসিত
ও অপছন্দনীয় এবং সঠিক বোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিকট যা মেকি ও বানোয়াট হিসেবে প্রমাণিত, তা থেকে দূরে থাকা।
আর এই গোষ্ঠীটির পথভ্রষ্টতা ও বিশৃঙ্খলার এমন সব ধরন রয়েছে যা সুস্থ বিবেক প্রত্যাখ্যান করে,
যা শরীয়ত ও যুক্তির পরিপন্থী। আর তা হলো, তাদের রাষ্ট্র বিলুপ্ত হওয়া এবং ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
وعملهم بالغصب الممدود عليهم، يقولون في كل يوم في صلاتهم: إنهم أبناء
الله وأحباؤه، وذلك قولهم في كل يوم في الصلاة.
"اهباث عولام اهبتا نوأذوناى الوهينو".
تفسيره: " محبة الدهر أحببتنا يا إلهنا".
" هشليتيو لتوراتيخا ".
تفسيره: " ارددنا يا أبانا إلى شريعتك ".
"ابينو ملكينو الوهينو".
تفسيره: " يا أبانا يا مالكنا يا إلهنا".
"اتا أذوناى ابينو كو الينو".
تفسيره: "أنت اللهم أبونا منقذنا".
وايت كل رود في بانخا واوينى غداثنحا لولام كسامويام ايجاد ميهم لو نوثار.
تفسيره: " وجميع الذين اقتصُّوا أثر بنيك، واعدًا جماعتك كلهم غطاهم
البحر واحد منهم لم يبق "؛ ويمثلون أنفسهم بعناقيد العنب، وسائر الأمم بالشوك المحيط بأعالى حيطان الكرم!
وهذا من قلة عقولهم، وفساد نظرهم، فإن المعتنى بمصالح الكرم، إنما يجعل
على أعالى حيطانه الشوك حفظًا، وحياطة للكرم ".
এবং তাদের কর্মধারা হলো তাদের ওপর বিস্তৃত ক্রোধের বশবর্তী হয়ে; তারা প্রতিদিন তাদের প্রার্থনায় বলে: নিশ্চয়ই তারা আল্লাহর
পুত্র এবং তাঁর প্রিয়জন। আর এটিই প্রতিদিনের প্রার্থনায় তাদের উক্তি।
"আহবাত ওলাম আহাবতানু আদোনাই ইলাহেইনু"।
এর ব্যাখ্যা: "হে আমাদের ইলাহ, আপনি আমাদের অনন্তকালের মহব্বতে ভালোবেসেছেন।"
"হাশীবেনু লিতোরাতিখা"।
এর ব্যাখ্যা: "হে আমাদের পিতা, আমাদের আপনার শরীয়তের দিকে ফিরিয়ে নিন।"
"আবিনু মালকেইনু ইলাহেইনু"।
এর ব্যাখ্যা: "হে আমাদের পিতা, হে আমাদের মালিক, হে আমাদের ইলাহ।"
"আতাহ আদোনাই আবিনু গোয়ালেনু"।
এর ব্যাখ্যা: "হে আল্লাহ, আপনি আমাদের পিতা ও আমাদের উদ্ধারকর্তা।"
ওয়াএত কল রোদফেই বানিখা ওয়াওইবে গাদাতুখা লোলাম কিস্সামো ইয়াম এহাদ মেহেম লো নোসার।
এর ব্যাখ্যা: "এবং যারা আপনার সন্তানদের পশ্চাদ্ধাবন করেছে এবং আপনার পুরো দলের সাথে শত্রুতা পোষণ করেছে, তাদের সকলকে সমুদ্র ঢেকে
দিয়েছে, তাদের একজনও অবশিষ্ট থাকেনি।" তারা নিজেদের আঙ্গুরের থোকার সাথে তুলনা করে, আর অবশিষ্ট অন্যান্য জাতিসমূহকে আঙ্গুর বাগানের প্রাচীরের উপরিভাগে বেষ্টিত কাঁটাসমূহ হিসেবে মনে করে!
আর এটি তাদের বুদ্ধির স্বল্পতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির বিকৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। কারণ, যে ব্যক্তি আঙ্গুর বাগানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী, সে তো বাগানের প্রাচীরের ওপর কাঁটা দেয়
কেবল বাগানটিকে রক্ষা এবং হেফাযত করার জন্যই।"
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
ولسنا نرى لليهود من بقية الأمم إلا الضرر والذل والصغار وذلك
مبطلٌ " لقولهم، وينتظرون قائمًا يأتيهم من آل داود النبي، إذا حرك شفتيه
بالدعاء مات جميع الأمم، ولا يبقى إلا اليهود، وأن هذا المنتظر بزعمهم هو المسيح الذى وعدوا به.
وقد كان الأنبياء، عليهم السلام، ضربوا لهم أمثالاً، أشاروا بها إلى جلالة دين المسيح عليه السلام، وخضوع الجبارين لأهل ملته، وإتيانه بالنسخ العظيم.
فمن ذلك قول إشيعيا في نبوءته:
"وعارزانت عم كبيش يحذا ويربضو شنيهم وفارا واذوب ترعينا وارباكبا
قارلوخل يتبين ".
تفسيره: " إن الذيب والكبش يرعيان جميعًا، ويربضان معًا، وأن البقرة والدب يرعيان جميعًا، وأن الأسد يأكل التبن كالبقرة".
فلم يفهموا من تلك الأمثال إلا صورها الحسية، دون معانيها العقلية، فقولوا عن الإيمان بالمسيح عند مبعثه، وأقاموا ينتظرون الأسد حتى يأكل التبن ويصبح حينئذ لهم علامة المسيح إ!
ويعتقدون أن هذا المنتظر حتى جاءهم يجمعهم بأسرهم إلى القدس، وتصير
لهم الدولة، ويخلو العالم من سواهم، ويجم الموت عن جنابهم المدد
الطويلة.
আমরা অন্য সকল উম্মতের মধ্যে ইহুদিদের জন্য ক্ষতি, লাঞ্ছনা এবং হীনতা ছাড়া আর কিছু দেখি না এবং এটি
তাদের দাবির অসারতা প্রমাণ করে; তারা এমন একজন নেতার প্রতীক্ষা করছে যিনি নবী দাউদের বংশধর থেকে আসবেন, যখন তিনি তাঁর ওষ্ঠদ্বয় নাড়াবেন
দোয়ার মাধ্যমে, তখন সকল জাতি মৃত্যুবরণ করবে এবং ইহুদিরা ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। আর তাদের ধারণা মতে, এই প্রতীক্ষিত ব্যক্তিই হলো সেই মসীহ যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল।
অথচ নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) তাদের জন্য এমন কিছু উপমা পেশ করেছিলেন, যার মাধ্যমে তাঁরা মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর দ্বীনের মহিমা, তাঁর মিল্লাতের অনুসারীদের নিকট স্বৈরাচারীদের নতি স্বীকার এবং তাঁর মহান রহিতকরণ (নাসখ) নিয়ে আসার প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন।
এর মধ্যে একটি হলো যিশাইয় এর ভবিষ্যদ্বাণীতে বর্ণিত উক্তি:
"নেকড়ে এবং মেষশাবক একত্রে বিচরণ করবে, তারা উভয়ই একত্রে শয়ন করবে, গাভী ও ভালুক একত্রে চরে বেড়াবে এবং সিংহ
গরুর ন্যায় খড় ভক্ষণ করবে।"
এর ব্যাখ্যা: "নিশ্চয়ই নেকড়ে এবং মেষশাবক একত্রে বিচরণ করবে ও একত্রে শয়ন করবে, গাভী ও ভালুক একত্রে চরে বেড়াবে এবং সিংহ গরুর ন্যায় খড় ভক্ষণ করবে।"
কিন্তু তারা এই উপমাগুলো থেকে কেবল বাহ্যিক রূপই বুঝেছে, এর বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থ অনুধাবন করেনি। ফলে মসীহের আগমনের সময় তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তারা সিংহের খড় ভক্ষণ করার অপেক্ষায় রয়ে যায়, যাতে সেটি তখন তাদের নিকট মসীহের আগমনের নিদর্শন হয়!
তারা বিশ্বাস করে যে, এই প্রতীক্ষিত ব্যক্তি আসা মাত্রই তাদের সকলকে জেরুজালেমে একত্রিত করবেন এবং রাষ্ট্র হবে
তাদেরই, আর পৃথিবী তারা ব্যতীত অন্যদের থেকে শূন্য হয়ে যাবে এবং দীর্ঘকাল তাদের নিকট থেকে মৃত্যু
স্থগিত থাকবে।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وسبيلهم أن لا يعدلوا عن تتبع الأسود في غاباتها، وطرح التبن بين أيديها،
ليعلموا وقت أكلها إياه!
وأيضاً، فإنهم في العشر الأول من الشهر الأول من كل سنة، يقولون فى
صلاتههم: "ألوهينو والوهى أبو ثينو ملوخ على كل يوشى تيبيل أرضيخا
ويوماركول أشير نشا مانا قواذوناى الوهى يسرائيل مالاخ وملخو توبكوك
ما شيا لا ".
تفسيره: " يا إلهنا وإله آبائنا املكْ على جميع الأرض، ليقول كل ذى قسمة، الله إله إسرائيل قد ملك، ومملكته في الكل متسلطة".
ويقولون في هذه الصلاة أيضًا: "وسيكون لله الملك، وفى ذلك اليوم يكون الله واحدًا".
ويعنون بذلك أنه لا يظهر أن الملك لله، إلا إذا صارت الدولة إلى
اليهود الذين هم أمته وصفوته، فأما مادامت الدولة لغير اليهود، فإن الله خامل الذكر عند الأمم، وأنه مطعون في ملكه، مشكوك في قدرته!!.
فهذا معنى قولهم: "اللهم املك على جميع الأرض "،
ومعنى قولهم: "وسيكون الملك لله ". وما ينخرط في هذا السلك قولهم:
"لا ما يومر وهلويثم إلى يا ألوهيهم ".
تفسيره: " لم يقول الأمم أين إلههم ".
وقولهم: " عورا لا مانيشان ادوناى هاقيصا مشنا شيخا".
تفسيره: " انتبه كم تنام يارب، استيقظ من رقدتك ".!
وهؤلاء إنما نطقوا بهذه الهذيانات والكفريات من شدة الضجر من الذل والعبودية والصغار، وانتظار فرج
এবং তাদের পন্থা হলো অরণ্যে সিংহদের অনুসরণ করা এবং তাদের সামনে খড় নিক্ষেপ করা থেকে বিরত না হওয়া,
যাতে তারা জানতে পারে কখন তারা তা ভক্ষণ করবে!
অধিকন্তু, তারা প্রতি বছরের প্রথম মাসের প্রথম দশ দিনে তাদের প্রার্থনায় বলে:
তাদের প্রার্থনায়: "এলোহিনু ভেলোহি আবু থিনু মেলোখ আলা কুল্লি ইউশি তিবিল আরদিকা
ভাইয়োমারকুল আশির নেশা মানা কুয়াদোনাই এলোহে ইয়াসরাঈল মালাখ ওয়ামালখু তুবকুক
মা শিয়া লা"।
এর ব্যাখ্যা: "হে আমাদের উপাস্য এবং আমাদের পিতৃপুরুষদের উপাস্য, সমগ্র পৃথিবীর উপর রাজত্ব করুন, যেন প্রতিটি সৃষ্টির অংশীদার বলতে পারে যে, ইসরায়েলের মাবুদ আল্লাহ রাজত্ব করেছেন এবং তাঁর রাজত্ব সবকিছুর উপর প্রবল।"
তারা এই প্রার্থনায় আরও বলে: "আর রাজত্ব হবে আল্লাহর জন্য, এবং সেদিন আল্লাহ হবেন এক ও অদ্বিতীয়।"
এর দ্বারা তারা বোঝাতে চায় যে, আল্লাহর রাজত্ব ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকাশ পায় না, যতক্ষণ না রাষ্ট্রক্ষমতা
ইহুদিদের নিকট আসে যারা তাঁর উম্মত ও মনোনীত গোষ্ঠী; কিন্তু যতক্ষণ রাষ্ট্রক্ষমতা অ-ইহুদিদের হাতে থাকে, ততক্ষণ জাতিসমূহের নিকট আল্লাহর কথা অখ্যাত থাকে এবং তাঁর রাজত্ব প্রশ্নবিদ্ধ ও তাঁর ক্ষমতা সন্দেহযুক্ত থাকে!!
সুতরাং এটিই তাদের এই উক্তির অর্থ: "হে আল্লাহ, সমগ্র পৃথিবীর ওপর রাজত্ব করুন",
এবং তাদের এই উক্তির অর্থ: "আর রাজত্ব হবে আল্লাহর জন্য।" এই ধারায় তাদের এই উক্তিটিও পড়ে:
"লা মা ইউমার ওয়াহালুয়িথিম ইলা ইয়া এলোহেইহেম"।।
এর ব্যাখ্যা: "জাতিসমূহ কেন বলবে যে, তাদের উপাস্য কোথায়?"
এবং তাদের উক্তি: "উরা লা মানিশান আদোনাই হাকিৎসা মিশনা শিখা"।।
এর ব্যাখ্যা: "হে প্রভু, আপনি কতক্ষণ ঘুমান, সচেতন হোন; আপনার নিদ্রা হতে জাগ্রত হোন!"!
আর তারা মূলত এই সমস্ত প্রলাপ ও কুফরি বাক্য উচ্চারণ করেছে অপমান, দাসত্ব ও লাঞ্ছনার তীব্র যন্ত্রণা এবং মুক্তির প্রতীক্ষার কারণে।
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
لا يزداد منهم إلا بعدًا، فأوقعهم ذلك في الطيش والضجر، وأخرجهم إلى نوع من التزندق والهذيان، الذي لا يستحسنه إلا عقولهم الركيكة! .. فتجرءوا على الله بهذه المناجاة القبيحة، كأنهم ينخون الله بذلك لينتخى لهم، ويحمى لنفسه، لأنهم إذا ناجوا ربهم بذلك، فكأنهم يخبرونه بأنه قد اختار الخمول لنفسه، وينخونه للنباهة واشتهار الصيت!
فترى أحدهم إذا تلا هذه الكلمات في الصلاة يقشعر جلده، ولا يشك في أن كلامه يقع عند الله بموقع عظيم، وأنه يؤثر في ربه، ويحركه بذلك، ويهزه وينخِّيه! .. وهؤلاء على الحقيقة ينبغى أن يرحم جهلهم وضعف عقولهم.
وأيضًا فإنه عندهم في توراتهم: أن موسى صعد الجبل مع مشايخ أمته، فأبصروا الله جهرة، وتحت رجليه كرسى منظره كمنظر البلور، ذلك قوله: "وتراوايث ألوهى هشفير وخعيصم هشاما يم لا طوهر".
ويزعمون أن اللوحين مكتوبان بأصبع الله! .. في قولهم: "بإصباع ألوهيتم ".
ويطول الكتاب إن عددنا ما عندهم من كفريات التجسيم، على أن
أحبارهم قد تهذبوا كثيرًا عن معتقد آبائهم، بما استفادوه من توحيد المسلمين، وأعربوا عن تفسير ما عندهم بما يدفع عنهم إنكار المسلمين عليهم، مما لا
تقتضيه الألفاظ التي فسروها ونقولها، وصاروا متى سُئلوا عما عندهم من هذه الفضائح، استتروا بالجحد والبهتان، خوفًا من فظيع ما يلزمهم من الشناعة.
ومن ذلك أنهم ينسبون إلى الله، تعالى، إلى الندم على ما يفعل، فمن ذلك
قولهم في التوراة التي بأيديهم: "ويناجم أذوناى كى عاسا اث مما اذام يا أرض
ويتعصب إل لبُّو ".
এটি তাদের নিকট থেকে কেবল দূরত্বই বৃদ্ধি করে, যা তাদের অস্থিরতা ও বিরক্তির মধ্যে নিমজ্জিত করেছে এবং তাদের এমন এক ধরনের ধর্মহীনতা ও প্রলাপের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা কেবল তাদের দুর্বল বিবেকই পছন্দ করে! .. তারা আল্লাহর প্রতি এই কদর্য কথোপকথনের মাধ্যমে দুঃসাহস দেখিয়েছে, যেন তারা এর মাধ্যমে আল্লাহকে প্ররোচিত করছে যাতে তিনি তাদের প্রতি সাড়া দেন এবং স্বীয় সম্মান রক্ষায় উদ্যোগী হন; কারণ তারা যখন তাদের রবের সাথে এভাবে কথা বলে, তখন তারা যেন তাঁকে সংবাদ দিচ্ছে যে, তিনি নিজের জন্য অখ্যাতি বা নিস্ক্রিয়তাকে বেছে নিয়েছেন এবং তারা তাঁকে খ্যাতি ও পরিচিতি লাভের জন্য প্ররোচিত করছে!
আপনি দেখবেন তাদের কেউ যখন সালাতে এই শব্দগুলো পাঠ করে, তখন তার শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায় এবং সে এতে কোনো সন্দেহ পোষণ করে না যে তার কথা আল্লাহর নিকট মহান মর্যাদায় আসীন হয়েছে এবং সে তার রবের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে, তাঁকে এর মাধ্যমে নাড়া দিচ্ছে, আন্দোলিত করছে এবং প্ররোচিত করছে! .. প্রকৃতপক্ষে এই ব্যক্তিদের অজ্ঞতা ও বিবেকের দুর্বলতার জন্য তাদের প্রতি করুণা হওয়া উচিত।
এছাড়া তাদের তাওরাতে রয়েছে: মূসা তাঁর উম্মতের প্রবীণদের নিয়ে পাহাড়ে আরোহণ করেছিলেন, অতঃপর তারা আল্লাহকে সরাসরি দেখেছিল এবং তাঁর পায়ের নিচে একটি আরশ (আসন) ছিল যার দৃশ্য স্ফটিকের মতো; এটিই তাদের বক্তব্য: "এবং তারা ইসরায়েলের আল্লাহকে দেখল, আর তাঁর পায়ের নিচে ছিল নীলকান্তমণির মতো স্বচ্ছ কারুকার্যময় কাজ।"
তারা দাবি করে যে, ফলকদ্বয় আল্লাহর আঙুল দিয়ে লেখা হয়েছে! .. তাদের বক্তব্য অনুযায়ী: "তোমাদের মাবুদের আঙুল দিয়ে"।
তাদের কাছে থাকা ‘তাজসীম’ (আল্লাহকে সৃষ্টির দেহের সাথে তুলনা করা) সংক্রান্ত কুফরি বিষয়গুলো গণনা করতে গেলে এই কিতাব দীর্ঘ হয়ে যাবে; তবে তাদের পণ্ডিতরা তাদের পূর্বপুরুষদের বিশ্বাস থেকে অনেকখানি মার্জিত হয়েছে, যা তারা মুসলিমদের তাওহিদ থেকে অর্জন করেছে। তারা তাদের নিকট থাকা বিষয়গুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছে যার মাধ্যমে তারা মুসলিমদের পক্ষ থেকে আসা আপত্তিগুলো প্রতিহত করতে পারে, অথচ তাদের ব্যাখ্যা করা ও বর্ণিত শব্দগুলো সেই অর্থ প্রদান করে না। এখন যখনই তাদের এই সকল কেলেঙ্কারি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তারা তাদের এই জঘন্য বিষয়গুলোর ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে অস্বীকার ও অপবাদের আশ্রয় নিয়ে আত্মগোপন করে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তারা মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা বা অনুতাপকে আরোপ করে। তাদের হাতে থাকা তাওরাতে তাদের সেই বক্তব্য হলো: "এবং আল্লাহ অনুতপ্ত হলেন যে তিনি পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তাঁর অন্তরে ব্যথিত হলেন।"
(খণ্ড: ১)
গায়াতুল মাকসূদ ফির রাদ্দি আলান নাসারা ওয়াল ইয়াহূদ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
تفسيره: " وندم الله على خلق البشر في الأرض وشق عليه ".
وقد أفرط المترجم في تعصبه وتحريفه الألفاظ عن موجب اللغة، وفسر:
" ويناخم أذوناى وثاب أذوناى تميمريه ".
يعنى: " وعاد الله في رأيه "! .. وهذا التأويل، وإن كان غير موافق
اللغة فهو أيضًا كفر، بل مناقض لا يدفعونه من البداء والنسخ.
وأما الدليل على أن تفسير: " ويتعصب إل لبوُّ" وشق عليه " فهو ما جاء فى
مخاطبة حواء، عليها السلام: بعصيب يتلدى بانيم "
تفسيره: " بمشقة تلدين الأولاد".
فقد تبين أن "العصيب " في اللسان العبراني هو "المشقة".
وهذه الآية عندهم في قصة قوم نوح، زعموا أن الله، تعالى، لما رأى فساد قوم نوح، وأن شرهم وكفرهم قد عظما، ندم على خلق البشر، وشق عليه! ..
ولا يعلمُ البله أن من يقول بهذه المقالة لزمه أن الله قبل أن يخلق البشر لم يكن
عالمًا بما سيكون من قوم نوح، وغير ذلك من النقص، تعالى الله عما
يكفرون!
وعندهم أيضا: أن الله، تعالى، قال لشموائيل النبي، عليه السلام: "نيحا
متى لي هملا حتى اث شا أولميلخ على يسرا ائل ".
تفسيره ": ندمت إذ وليت شاءول ملكًا على إسرائيل ".
وفي موضع آخر من سفر شموائيل: " وادناى نيخام كى هميلخ اث شا
أول على يسراائل ".
এর ব্যাখ্যা: "এবং আল্লাহ পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করার জন্য অনুতপ্ত হলেন এবং এটি তাঁর জন্য কষ্টকর হলো।"
আর অনুবাদক তার গোঁড়ামিতে এবং ভাষার দাবি অনুযায়ী শব্দগুলোকে বিকৃত করার ক্ষেত্রে চরম সীমা অতিক্রম করেছে, এবং সে ব্যাখ্যা করেছে:
"ভায়িন্নাখেম আদোনাই ভায়িতআতসেভ আদোনাই এল লিব্বো।"
অর্থাৎ: "এবং আল্লাহ তাঁর সিদ্ধান্তে ফিরে এলেন (মত পরিবর্তন করলেন)"! .. আর এই ব্যাখ্যা, যদিও তা ভাষার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, তদুপরি এটি কুফরি; বরং এটি 'বাদা' (নতুন জ্ঞানের উদয় হওয়া) এবং 'নাসখ' (রহিতকরণ)-এর সেই বৈপরীত্যের অন্তর্ভুক্ত যা তারা খণ্ডন করতে পারে না।
আর "ভায়িতআতসেভ এল লিব্বো" এর ব্যাখ্যা যে "এবং তাঁর জন্য কষ্টকর হলো" -এর স্বপক্ষে দলিল হলো যা হাওয়া (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি সম্বোধনে এসেছে: "বে-আৎসেভ তেলেদি বানিম"
এর অর্থ: "কষ্টের সাথে তুমি সন্তান প্রসব করবে।"
সুতরাং এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, হিব্রু ভাষায় "আৎসেভ" শব্দের অর্থ হলো "কষ্ট"।
আর এই আয়াতটি তাদের কাছে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর জাতির কাহিনীর বর্ণনায় রয়েছে; তারা দাবি করেছে যে আল্লাহ তাআলা যখন নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর জাতির বিপর্যয় দেখলেন এবং দেখলেন যে তাদের অনিষ্ট ও কুফরি প্রকট হয়ে উঠেছে, তখন তিনি মানুষ সৃষ্টির জন্য অনুতপ্ত হলেন এবং তা তাঁর জন্য কষ্টকর হলো! ..
অথচ নির্বোধরা জানে না যে, যে ব্যক্তি এই কথা বলে, তার জন্য এটি মেনে নেওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে যে—মানুষ সৃষ্টির পূর্বে নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর জাতির পক্ষ থেকে কী ঘটবে সে সম্পর্কে আল্লাহ অবগত ছিলেন না, এবং এ জাতীয় আরও অনেক ত্রুটি (তাঁর ওপর আরোপিত হয়); তারা যে কুফরি করে তা থেকে আল্লাহ পরম পবিত্র ও সুউচ্চ!
এবং তাদের কাছে আরও রয়েছে যে: আল্লাহ তাআলা নবী শামুয়েল (আলাইহিস সালাম)-কে বলেছিলেন: "নিহামতি কি হিমলাখতি ইথ শাউল লে-মেলেখ আল ইসরায়েল।"
এর অর্থ: "আমি অনুতপ্ত হয়েছি যেহেতু আমি শাউলকে ইসরায়েলের উপর রাজপদে অধিষ্ঠিত করেছি।"
আর শামুয়েল কিতাবের অন্য এক স্থানে রয়েছে: "ওয়া আদোনাই নিহাম কি হিমলিখ ইথ শাউল আল ইসরায়েল।"