(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أحاديث معلة ظاهرها الصحة القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: أحاديث معلة ظاهرها الصحة
المؤلف: أبي عبدالرحمن مقبل بن هادي الوادعي
الناشر: دار الآثار للنشر والتوزيع
الطبعة: الثانية، 1421 هـ - 2000 م
طبعة جديدة ومنقحة ومفهرسة
ومزيدة بأكثر من مائة حديث عن الطبعة السابقة
عدد الصفحات: 487
تنبيه: قال المؤلف (ص 414): «إذا ذكرنا حديثًا في هذا الكتاب؛ لا يعني أنه ضعيف من جميع الطرق، ولكنْ يعني أنه مُعَلّ من هذه الطريق، وهذا شأن كتب العلل … ».
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ত্রুটিযুক্ত হাদীসসমূহ যার বাহ্যিক দিক সহীহ বিভাগ: হাদীসের ত্রুটিসমূহ এবং প্রশ্নাবলী
কিতাব: ত্রুটিযুক্ত হাদীসসমূহ যার বাহ্যিক দিক সহীহ
লেখক: আবু আবদির রহমান মুগবিল বিন হাদী আল-ওয়াদিঈ
প্রকাশক: দারুল আসার পাবলিকেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ
নতুন, পরিমার্জিত এবং সূচিপত্র সংবলিত সংস্করণ
পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় একশরও বেশি হাদীস বর্ধিত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮৭
সতর্কবার্তা: লেখক বলেছেন (পৃষ্ঠা ৪১৪): «যখন আমরা এই কিতাবে কোনো হাদীস উল্লেখ করি; তার অর্থ এই নয় যে সেটি সকল সূত্র থেকেই দুর্বল, বরং এর অর্থ হলো এই নির্দিষ্ট সূত্রে এটি ত্রুটিযুক্ত (মু'আল্লাল), আর এটিই ইল্লাত বিষয়ক গ্রন্থসমূহের নিয়ম … »।
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: -)
أحاديث معلة ظاهرها الصحةطبعة جديدة ومنقحة ومفهرسة
ومزيدة بأكثر من مائة حديث عن الطبعة السابقة
تأليف
أبي عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي
دار الآثار
1421هـ _ 2000م
বাহ্যত সহীহ মনে হওয়া ত্রুটিযুক্ত হাদিসসমূহনতুন, পরিমার্জিত ও নির্ঘণ্টযুক্ত সংস্করণ
পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় একশ’রও বেশি হাদিস বর্ধিত
রচনায়
আবু আব্দুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিঈ
দারুল আসার
১৪২১ হিজরি _ ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه كما يحب ربنا ويرضى، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد: فإني أحمد الله الذي وفقني وأعانني على تأليف "أحديث معلة ظاهرها الصحة"، وقد يسر الله دراستها في دار الحديث بدماج مع طلبة العلم، وفيهم الحفاظ الكبار، والباحثون الأخيار، فكانت الفوائد تتدفق حتى ضُمَّ بحمد الله إلى الكتاب زيادة على مائة حديث، أغلب تلك الزيادات من بحثي وتنقيبي عنها، ومنها من إخواننا في الله جزاهم الله خيراً.
ثم طلب مني الأخ الفاضل سعيد بن عمر حبيشان الحضرمي صاحب (مكتبة الآثار) بصنعاء أن يعيد طبع الكتاب فأذنت له بذلك، والكتاب بحمد الله قد اشتمل على فوائد تشد لها الرحال، وستمر بم إن شاء الله إذ لا داعي لذكرها في المقدمة، فذكرها في المقدمة من باب تحصيل حاصل.
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যে প্রশংসা প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময়; ঠিক যেমনটি আমাদের রব ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।
অতঃপর: আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি আমাকে "বাহ্যিকভাবে সহিহ মনে হওয়া ত্রুটিযুক্ত হাদিসসমূহ" গ্রন্থটি রচনায় তাওফিক ও সাহায্য দান করেছেন। আল্লাহ তায়ালা দাম্মাজের দারুল হাদিসে ইলম অন্বেষণকারীদের সাথে এটি অধ্যয়ন করা সহজ করে দিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে বড় বড় হাফেজ এবং উত্তম গবেষকগণ উপস্থিত ছিলেন। ফলে জ্ঞানগর্ভ উপকারিতা এমনভাবে আসছিল যে, আল্লাহর প্রশংসায় এই বইটিতে একশটিরও বেশি হাদিস অতিরিক্ত যুক্ত করা হয়েছে। এই অতিরিক্তগুলোর অধিকাংশই আমার নিজস্ব গবেষণা ও অনুসন্ধানের ফসল এবং কিছু আল্লাহর পথে আমাদের ভাইদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
এরপর সানআর 'মাকতাবাতুল আসার'-এর স্বত্বাধিকারী সম্মানিত ভাই সাঈদ বিন উমর হুবাইশান আল-হাদরামি আমার কাছে বইটি পুনর্মুদ্রণের অনুরোধ করেন, ফলে আমি তাকে তার অনুমতি দিই। আল্লাহর প্রশংসায় এই বইটি এমন সব তাত্ত্বিক উপকারিতা ধারণ করে আছে যার অন্বেষণে দীর্ঘ সফর করা সার্থক। ইনশাআল্লাহ আপনারা পাঠকালে তা লাভ করবেন, কারণ ভূমিকায় সেগুলো সবিস্তারে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই; আর ভূমিকায় তা উল্লেখ করা হবে পুনরুক্তিমাত্র।
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثم إن بعض إخواننا في الله انتقد خمسة أحاديث قد أجبنا بحمد الله على اعتراضاته بجواب إجمالي عند الأحاديث التي انتقدها، وبجواب تفصيلي ضم فوائد تشد لها الرحال في " غارة الفصل على المعتدين على كتاب العلل " وهو مطبوع بحمد الله.
هذا وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
أبو عبد الرحمن مقبل بن هادي الوادعي
অতঃপর আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদের কোনো এক ভাই পাঁচটি হাদিসের সমালোচনা করেছেন। আমরা আল্লাহর প্রশংসায় তাঁর সেই আপত্তিগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত জবাব সেই হাদিসগুলোর নিকটেই প্রদান করেছি যেগুলোর তিনি সমালোচনা করেছেন। এছাড়া একটি বিস্তারিত জবাবও দিয়েছি যাতে এমন সব জ্ঞানগর্ভ বিষয় ও উপকারিতা রয়েছে যার জন্য দূর-দূরান্তে সফর করা সার্থক; যা "গারাতে আল-ফাসল আলাল মুতাদিনা আলা কিতাবিল ইলাল" গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে এবং আল্লাহর প্রশংসায় তা মুদ্রিত হয়েছে।
আর আমাদের সর্বশেষ প্রার্থনা হলো—সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আবু আবদুর রহমান মুকবিল বিন হাদি আল-ওয়াদিই
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
تقديم [أحمد بن أبي العينين]إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ)
(يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا)
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا)
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمدٍ صلى الله عليه وعلى آله وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
وبعد
فقد ثبت عن نبينا صلى الله عليه وعلى آله وسلم أنه قال: ((لا يأتي زمان إلا والذي بعده شر منه)) ، فهذا دليل على تغير الناس في آخر الزمان وتغير أحوالهم،
উপস্থাপনা [আহমাদ বিন আবি আল-আয়নাইন]নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।)
(হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।)
(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।)
অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ; প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
এরপর
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ((এমন কোনো সময় আসবে না যার পরবর্তী সময়টি তার চেয়ে নিকৃষ্ট হবে না)), সুতরাং এটি শেষ জামানায় মানুষের পরিবর্তন এবং তাদের অবস্থার পরিবর্তনের একটি দলিল,
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
روى البخاري في "صحيحه" عن مرداس السلمي رضي الله عنه قال
: قال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم (يذهب الصالحون الأول فالأول ويبقى حفالة كحفالة الشعير أو التمر لا يباليهم الله بالة) قال البخاري يقال حفالة وحثالة، أي انهما بمعنى واحد.
وفي "الصحيحين" من حديث أبي موسى وعبد الله بن مسعود رضي الله عنمها قالا قال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم " إِنَّ بَيْنَ يَدَىِ السَّاعَةِ أَيَّامًا يُرْفَعُ فِيهَا الْعِلْمُ وَيَنْزِلُ فِيهَا الْجَهْلُ وَيَكْثُرُ فِيهَا الْهَرْجُ وَالْهَرْجُ الْقَتْلُ ".
وفي "الصحيحين" من حديث عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ- يَقُولُ " إِنَّ اللَّهَ لَا يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ النَّاسِ وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ حَتَّى إِذَا لَمْ يَتْرُكْ عَالِمًا اتَّخَذَ النَّاسُ رُءُوسًا جُهَّالاً فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا ".
وفي "الصحيحين" ايضاً عن حُذَيْفَةَ قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وعلى آله وسلم- حَدِيثَيْنِ قَدْ رَأَيْتُ أَحَدَهُمَا وَأَنَا أَنْتَظِرُ الآخَرَ حَدَّثَنَا " أَنَّ الأَمَانَةَ نَزَلَتْ فِى جِذْرِ قُلُوبِ الرِّجَالِ ثُمَّ نَزَلَ الْقُرْآنُ فَعَلِمُوا مِنَ الْقُرْآنِ وَعَلِمُوا مِنَ السُّنَّةِ ". ثُمَّ حَدَّثَنَا عَنْ رَفْعِ الأَمَانَةِ قَالَ " يَنَامُ الرَّجُلُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ الأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ فَيَظَلُّ أَثَرُهَا مِثْلَ الْوَكْتِ ثُمَّ يَنَامُ النَّوْمَةَ فَتُقْبَضُ الأَمَانَةُ مِنْ قَلْبِهِ فَيَظَلُّ أَثَرُهَا مِثْلَ الْمَجْلِ كَجَمْرٍ دَحْرَجْتَهُ عَلَى رِجْلِكَ فَنَفِطَ فَتَرَاهُ مُنْتَبِرًا وَلَيْسَ فِيهِ شَىْءٌ - ثُمَّ أَخَذَ حَصًى فَدَحْرَجَهُ عَلَى رِجْلِهِ - فَيُصْبِحُ النَّاسُ يَتَبَايَعُونَ لَا يَكَادُ أَحَدٌ يُؤَدِّى الأَمَانَةَ حَتَّى يُقَالَ إِنَّ فِى بَنِى فُلَانٍ رَجُلاً أَمِينًا. حَتَّى يُقَالَ لِلرَّجُلِ مَا أَجْلَدَهُ مَا أَظْرَفَهُ مَا أَعْقَلَهُ وَمَا فِى قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ ". وَلَقَدْ أَتَى عَلَىَّ زَمَانٌ وَمَا أُبَالِى أَيَّكُمْ بَايَعْتُ لَئِنْ كَانَ مُسْلِمًا لَيَرُدَّنَّهُ عَلَىَّ دِينُهُ وَلَئِنْ كَانَ نَصْرَانِيًّا أَوْ يَهُودِيًّا لَيَرُدَّنَّهُ عَلَىَّ سَاعِيهِ وَأَمَّا الْيَوْمَ فَمَا كُنْتُ لأُبَايِعَ مِنْكُمْ إِلَاّ فُلَانًا وَفُلَانًا.
ففي هذه الأحاديث بيان أن العلماء العاملين يقلون في آخر الزمان، وأن
ইমাম বুখারী তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে মিরদাস আস-সুলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন
: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "নেককার লোকেরা একের পর এক চলে যাবেন এবং অবশিষ্ট থাকবে যব বা খেজুরের তুষের মতো নিকৃষ্ট কিছু লোক, আল্লাহ যাদের কোনো পরোয়া করবেন না।" বুখারী বলেন, একে হাফালাহ এবং হুসালাহ বলা হয়, অর্থাৎ উভয়টির অর্থ একই।
এবং 'সহীহাইন'-এ আবু মুসা এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তাঁরা বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই কিয়ামতের প্রাক্কালে এমন কিছু দিন আসবে যখন ইলম উঠিয়ে নেওয়া হবে, মূর্খতা নেমে আসবে এবং 'হারজ' বৃদ্ধি পাবে। আর 'হারজ' হলো হত্যাকাণ্ড।"
এবং 'সহীহাইন'-এ আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, "নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের মধ্য থেকে সরাসরি ইলম ছিনিয়ে নিয়ে তা উঠিয়ে নেবেন না, বরং আলেমদের তুলে নেওয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠিয়ে নেবেন। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। তাদের কাছে মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করা হবে, আর তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।"
এবং 'সহীহাইন'-এ হুযাইফাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে দুটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। আমি তার একটির বাস্তবায়ন দেখেছি এবং অপরটির অপেক্ষা করছি। তিনি আমাদের বর্ণনা করেছেন যে, "আমানত মানুষের হৃদয়ের মূলে অবতীর্ণ হয়েছিল, তারপর কুরআন অবতীর্ণ হলো, ফলে তারা কুরআন থেকে শিখল এবং সুন্নাহ থেকে শিখল।" তারপর তিনি আমাদের আমানত উঠে যাওয়া সম্পর্কে বললেন, "মানুষ একবার ঘুমাবে, তখন তার অন্তর থেকে আমানত তুলে নেওয়া হবে, ফলে তার চিহ্ন একটি বিন্দুর মতো থেকে যাবে। তারপর সে আবার ঘুমাবে, তখন আবার আমানত তুলে নেওয়া হবে এবং তার চিহ্নটি ফোস্কার মতো থেকে যাবে; যেমন একটি জ্বলন্ত কয়লা তুমি তোমার পায়ের ওপর গড়িয়ে দিলে এবং তা ফুলে উঠল, তুমি তাকে ফোলা দেখবে কিন্তু তার ভেতরে কিছু থাকবে না।" এরপর তিনি একটি নুড়ি পাথর নিলেন এবং তা নিজের পায়ের ওপর গড়িয়ে দিলেন। "অতঃপর মানুষ কেনাবেচা করবে কিন্তু কেউই আমানত রক্ষা করতে পারবে না। এমনকি বলা হবে যে, অমুক গোত্রে একজন আমানতদার লোক আছে। এমনকি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হবে যে, সে কতই না শক্তিশালী, কতই না চতুর এবং কতই না বুদ্ধিমান! অথচ তার অন্তরে একটি সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান থাকবে না।" হুযাইফাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "আমার ওপর এমন এক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে যখন আমি তোমাদের মধ্যে কার সাথে লেনদেন করছি তা নিয়ে পরোয়া করতাম না। যদি সে মুসলিম হতো তবে তার দ্বীন তাকে আমার হক ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করত, আর যদি সে খ্রিষ্টান বা ইহুদি হতো তবে তার শাসক বা কর্মাধ্যক্ষ তাকে আমার হক ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করত। কিন্তু আজ আমি অমুক অমুক ছাড়া আর কারো সাথে লেনদেন করতে পারি না।"
এই হাদিসগুলোতে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, শেষ জামানায় আমলকারী আলেমগণ কমে যাবেন এবং...
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الرجل ربما تراه يعجبك كلامه وسمته، وما في قلبه حبة خردل من إيمان، نسأل الله ان يجعلنا من الصادقين، وأن يرزقنا العلم النافع. ومن هولاء العلماء الذين لا نزكيهم على الله عزوجل، شيخنا مقبل بن هادي حفظه الله، فهو ممن نحسبه جمع بين العلم والعمل، فمن الناحية العلمية لا أكون مبالغاً إذا قلت: إنه ممن يحب علم الحديث أكثر من أهله وماله.
كثير من الناس إذا رأى محققاً من المحققين قد أكثر من التخريجات للحديث وأرقا الصفحات وأرقام الحاديث، اغتر بذلك وظن أن ذلك المحقق من أكابر العلماء، ولكن كثرة التخريج وإن كانت مفيدة وتدل على علم إلا أنها وحدها لا تكفي، العلم الحقيقي ما حواه الصدر، وبعض المحققين علمه في أوراقه التي يكتبها، فربما إذا قابل هؤلاء إسناد فيه أبو إسحاق السبيعي، أو الأعمش أو زهير بن معاوية، ذهب ينظر ترجمته، لأن علمه هو الرجوع للكتب في كل شيئ، أما شيخنا حفظه الله فهو حريص على معرفة حال الرواة، فلان أثبت الناس في فلان، وفلان أخص من فلان من غيره، وقد عرفنا من صحبته أنه يشتهي ذلك ويستمتع به أشد من اشتهائه الطعام والشراب، وهذا هو العلم الحقيقي، فإنه إذا كان في إسناد اختلاف فذهب يرجح بين الرواة فإنه يقضي بينهم، فهو كأنه يعيش وسطهم، فهذا عندما يتكلم بكلمة في مثل هذه المواطن يكون لها وزنها، أما من كان مبلغ علمه هو الرجوع إلى الكتب وليست عنده ملكة للتمييز بين الرواة، فإنه إما يتحير، وإما يسلك مسلك أصحاب الرياضيات، فيقول: ثلاثة خالفوا واحداً، إذن الثلاثة على صواب والواحد مخطئ، فالمسألة ليست مسألة رياضيات بحتة، والعدد وإن
একজন মানুষ এমন হতে পারে যাকে দেখলে হয়তো তার কথা ও চালচলন আপনার ভালো লাগবে, অথচ তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান নেই। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আমাদের উপকারী জ্ঞান দান করেন। আর সেই সকল আলেমদের মধ্যে একজন—যাদের পবিত্রতার বিষয়ে আমরা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সমীপে কাউকে নিশ্চিত করে বলি না—হলেন আমাদের শাইখ মুকবিল ইবনে হাদি (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন)। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যাকে আমরা ইলম ও আমলের সমন্বয়কারী বলে মনে করি। ইলমী দিক থেকে আমি অতিরঞ্জিত করছি না যদি বলি: তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি হাদীস শাস্ত্রকে তার পরিবার ও সম্পদের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন।
অনেক মানুষ যখন কোনো গবেষককে দেখেন যে তিনি হাদীসের অনেক তাখরীজ (উৎস অনুসন্ধান) করেছেন এবং পৃষ্ঠা ও হাদীসের নম্বর দিয়ে ভরিয়ে ফেলেছেন, তখন তারা এতে ধোঁকায় পড়ে যান এবং মনে করেন যে সেই গবেষক বড় মাপের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু অধিক পরিমাণে তাখরীজ করা যদিও উপকারী এবং ইলমের প্রমাণ দেয়, তবে তা একাই যথেষ্ট নয়। প্রকৃত ইলম তা-ই যা অন্তর ধারণ করে। আর কিছু গবেষকের ইলম থাকে কেবল তাদের লিখিত কাগজপত্রের মধ্যেই। হয়তো এমন হয় যে, যখন তাদের সামনে আবু ইসহাক আস-সুবাইয়ি, অথবা আমাশ অথবা যুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া সম্বলিত কোনো সনদ আসে, তখন তারা তাদের জীবনী দেখতে যান; কারণ তাদের ইলম হলো সবকিছুর জন্য কিতাবের মুখাপেক্ষী হওয়া। পক্ষান্তরে আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) বর্ণনাকারীদের অবস্থা জানার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী; যেমন অমুক ব্যক্তি অমুকের বর্ণনায় সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য, অথবা অমুক ব্যক্তি অন্যের তুলনায় অমুকের ব্যাপারে বিশেষ পারদর্শী। তাঁর সান্নিধ্যে থেকে আমরা জেনেছি যে, তিনি এতে এমন স্বাদ ও আনন্দ পান যা তাঁর পানাহারের আকাঙ্ক্ষার চেয়েও বেশি তীব্র। আর এটাই হলো প্রকৃত ইলম। কেননা যখন কোনো সনদে মতভেদ দেখা দেয় এবং তিনি বর্ণনাকারীদের মধ্যে প্রাধান্য নিরূপণ করতে যান, তখন তিনি তাদের মাঝে বিচারকের ভূমিকা পালন করেন—যেন তিনি তাদের মাঝেই বসবাস করছেন। ফলে যখন তিনি এই ধরনের স্থানে কোনো কথা বলেন, তখন তার বিশেষ ওজন থাকে। পক্ষান্তরে যার ইলমের দৌড় কেবল কিতাব দেখা পর্যন্ত এবং যার বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য করার মতো কোনো দক্ষতা (মাল্যাকা) নেই, সে হয় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে, নতুবা গণিতবিদদের পথ অনুসরণ করে। সে বলে: তিনজন একজনের বিরোধিতা করেছে, সুতরাং ওই তিনজনই সঠিক এবং ওই একজন ভুল। অথচ বিষয়টি কেবল খাঁটি গণিতের বিষয় নয়, এবং সংখ্যা যদিও...
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
كان له دوره في الترجيح إلا أنه ليس العامل الوحيد للترجيح، فلننظر إلى حديث أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم (كان يقبل الهدية ويثيب عليها) الحديث أخرجه البخاري من طريق عيسى بن يونس، عن هشام بن عروة عن أبه عن عائشة، وقال عقبه: لم يذكر وقيع ومحاضر عن هشام عن أبيه عن عائشة، أي أنهما روياه مرسلاً عن عروة، وسئل أبو داود عنه فقال: تفرد بوصله عيسى بن يونس، وهو عند الناس مرسل،. وقال أحمد: كان عيسى بن يونس يسند حديث الهدية والناس يرسلونه. وقال نحو ذلك ابن معين.
ومع هذا فإن البخاري أخرج الطريق الموصولة، والقصد ليس بيان الراجح من القولين، وإنما بيان أن البخاري رحمه الله إنما رجّح الطريق الموصولة لعلة غير العدد، وإنما قضى بذلك لملكته التي تكونت عنده من معرفة أحوال الرجال.
ومن راجع ردود الحافظ ابن حجر على الدارقطني وغيره فيما انتقدوه على البخاري، تبين له ذلك، انظر مثلا إجابته عن الحديث الأول من الأحاديث المنتقدة في مقدمة "الفتح" وفي أثناء إجابته يقول: ويتأيد ذلك بأن الإسماعيلي لما أخرج هذا الحديث في "مستخرجه" على الصحيح من طريق يحيى بن سعيد القطان عن زهير، استدل بذلك على أن هذا مما لم يدلس فيه أبو إسحاق، قال: لأن يحيى بن سعيد لا يرضى أن يأخذ عن زهير ما ليس بسماع لشيخه، وكأنه عرف هذا بالاستقراء من حال يحيى والله أعلم. اهـ
الغرض من هذا هو بيان أن معرفة أحوال الرجال موسعة لا غنى لمحدث عنها، بل هي أساس علم الحديث، ومن عرف شيخنا أو جالسه علم حرصه الشديد على ذلك، قل أن تجد مثله في هذا الشأن، وبعض المحققين
এটি প্রাধান্য দান বা অগ্রাধিকারের (তারজীহ) ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখলেও এটিই তারজীহ করার একমাত্র উপাদান নয়। লক্ষ্য করুন সেই হাদিসের দিকে যাতে বলা হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) উপহার গ্রহণ করতেন এবং এর বিনিময় প্রদান করতেন। ইমাম বুখারি হাদিসটি ঈসা ইবনে ইউনুসের সূত্রে হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি এরপর বলেছেন: ওয়াকি এবং মুহাযির—হিশাম থেকে, তার পিতা থেকে, আয়েশা (রা.) থেকে (মাউসুল হিসেবে) উল্লেখ করেননি। অর্থাৎ তারা দুজন এটি উরওয়া থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: ঈসা ইবনে ইউনুস এককভাবে এটি মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আর অন্য লোকদের নিকট এটি মুরসাল। আহমদ বলেন: ঈসা ইবনে ইউনুস উপহারের হাদিসটি মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করতেন আর অন্য লোকেরা এটিকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করতেন। ইবনে মাঈনও অনুরূপ কথা বলেছেন।
তা সত্ত্বেও ইমাম বুখারি মুত্তাসিল বা মাউসুল সূত্রটিই গ্রহণ করেছেন। উদ্দেশ্য দুই মতের মধ্যে কোনটি সঠিক তা প্রকাশ করা নয়, বরং এটি বোঝানো যে, ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) কেবল সংখ্যাধিক্য নয়, বরং অন্য কোনো সূক্ষ্ম কারণের (ইল্লত) ভিত্তিতে মুত্তাসিল সূত্রটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি মূলত তাঁর সেই সহজাত প্রজ্ঞা বা বিশেষ যোগ্যতার (মালাকাহ) ভিত্তিতে এটি নির্ধারণ করেছেন, যা রাবিদের অবস্থা বা জীবনী বিস্তারিত জানার মাধ্যমে তাঁর মাঝে গড়ে উঠেছিল।
যে ব্যক্তি ইমাম বুখারির ওপর ইমাম দারাকুতনি ও অন্যদের করা সমালোচনার প্রেক্ষিতে হাফেজ ইবনে হাজারের জবাবগুলো পর্যালোচনা করবে, তার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, ‘ফাতহুল বারি’র মুকাদ্দিমায় সমালোচিত হাদিসগুলোর প্রথম হাদিসটির ব্যাপারে তাঁর উত্তরটি দেখুন। উত্তরের এক পর্যায়ে তিনি বলেন: এটি এই মর্মে সমর্থিত হয় যে, ইমাম ইসমাইলি যখন তাঁর ‘মুস্তাখরাজ’ গ্রন্থে সহিহ সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানের মাধ্যমে যুহাইর থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তখন তিনি এটি দিয়ে প্রমাণ পেশ করেছেন যে, এটি এমন একটি হাদিস যাতে আবু ইসহাক তাদলীস করেননি। তিনি বলেন: কারণ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ যুহাইরের নিকট থেকে এমন কোনো হাদিস গ্রহণে সন্তুষ্ট হতেন না যা তাঁর উস্তাদের শ্রবণকৃত (সামা') নয়। সম্ভবত তিনি ইয়াহইয়ার অবস্থা গভীরভাবে পর্যালোচনার (ইস্তিকরা) মাধ্যমে এটি বুঝতে পেরেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন। সমাপ্ত।
এর উদ্দেশ্য হলো এটি বর্ণনা করা যে, বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান অত্যন্ত ব্যাপক, যা ছাড়া কোনো মুহাদ্দিসের গত্যন্তর নেই। বরং এটিই হাদিস শাস্ত্রের মূল ভিত্তি। যে ব্যক্তি আমাদের শায়খকে চেনেন বা তাঁর সাথে বসেছেন, তিনি এই বিষয়ে তাঁর তীব্র আগ্রহ সম্পর্কে অবগত। এই ক্ষেত্রে তাঁর মতো ব্যক্তি খুব কমই পাওয়া যায়। আর কিছু গবেষক...
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المعاصرين تجد أحدهم يحقق ويدون ويثبت في أوراقه: هذا حديث صحيح وهذا ضعيف، أما ما يتعلق في ذاكرته من ذلك فقليل، ومن هو أحسن حالاً من يتذكر أن هذا الحديث ضعيف أو صحيح، أما شيخنا مقبل حفظه الله فإذا سئل عن حديث ضعيف فغالباً يذكر سبب الضعف، فيه فلان وهو ضعيف، أو متروك أو هو من طريق فلان، يرويه عن فلان، ولم يسمع منه، وهكذا غالباً يبين سبب الضعف، ولا شك أن السامع ينتفع من هذا أكثر، وأن هذا أثبت حجة وأكثر نشراً للعلم، نسأل الله عزوجل أن يزكي فينا هذا الجانب.
وبعض الناس يقول: إن الشيخ لا يهتم بالجانب الفقهي، وأقول: إن الشيخ يحذو في هذا الجانب حذو البخاري وغيره من أهل الحديث الذين عمدتهم في مسائل الأحكام هو حديث رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فإن البخاري رحمه الله كتابه كتاب فقه بحديث رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فهو يترجم للمسألة ثم يتبعها بحديث رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم الذي هو دليل المسألة، ولذلك فهو يكرر الحديث الواحد في أكثر من موضع حسب استدلاله به، وشيخنا يسير على هذه الطريقة ويلزم نفسه بها، فقلما يسأل عن مسألة إلا أجاب بحديث رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فهل من ذلك من بأس؟؟ مع أنه يرجع أيضاً إلى كتب الفقه لمعرفة أقوال أهل العلم كلما احتاج إلى ذلك، وبعض العاملين في التحقيق في زماننا جل همه التحقيق فقط وليس له دور يذكر في الدعوة إلى الله تعالى، بل إن بعضهم ربما لا يكون له دور بالكلية، وأما شيخنا حفظه الله فهو حريص أشد الحرص على الدعوة إلى الله، ويحض طلبته على ذلك ويشجعهم / وكثيراً ما كان يجعل أحد طلبته يخطب الجمعة وهو جالس تشجيعاً لهم.
وهو يحض الطلبة على الذهاب للدعوة إلى الله في القرى والمدن، وفي ذات
বর্তমান সমসাময়িকদের মধ্যে আপনি এমন কাউকে পাবেন যিনি তার কাগজে নথিবদ্ধ ও সাব্যস্ত করছেন যে: এটি সহিহ হাদিস এবং এটি জয়িফ হাদিস। কিন্তু এই বিষয়ে তার স্মৃতিতে যা সংরক্ষিত থাকে তা অত্যন্ত সামান্য। তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় রয়েছেন তিনি, যিনি কেবল এটি মনে রাখতে পারেন যে হাদিসটি জয়িফ নাকি সহিহ। তবে আমাদের শাইখ মুকবিল (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন), তাকে যখন কোনো জয়িফ হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি সাধারণত তার দুর্বলতার কারণ উল্লেখ করেন; যেমন—এতে অমুক ব্যক্তি রয়েছেন যিনি দুর্বল, অথবা পরিত্যক্ত, অথবা এটি অমুকের সূত্রে বর্ণিত যা তিনি অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন অথচ তার থেকে সরাসরি শুনেননি। এভাবে তিনি সাধারণত দুর্বলতার কারণ স্পষ্ট করেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে শ্রবণকারী এর দ্বারা অধিক উপকৃত হন এবং এটি অধিকতর শক্তিশালী দলিল ও ইলম প্রচারের জন্য অধিক সহায়ক। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের মাঝে এই দিকটিকে পরিশুদ্ধ করেন।
কেউ কেউ বলেন যে, শাইখ ফিকহি বিষয়ে গুরুত্ব দেন না। আমি বলি: শাইখ এই ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি এবং আহলে হাদিসের অন্যান্য ইমামদের পথ অনুসরণ করেন, বিধান সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে যাদের প্রধান ভিত্তি হলো আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস। কেননা ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের আলোকে রচিত একটি ফিকহ গ্রন্থ। তিনি কোনো মাসআলার শিরোনাম নির্ধারণ করেন এবং এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস উল্লেখ করেন যা ওই মাসআলার দলিল। এই কারণেই তিনি একটি হাদিসকে তার দলিল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী একাধিক স্থানে উল্লেখ করেন। আমাদের শাইখও এই পদ্ধতিতেই চলেন এবং নিজেকে এর ওপর দায়বদ্ধ রাখেন। খুব কমই এমন হয় যে তাকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে আর তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিস দ্বারা উত্তর দেননি। এতে কি কোনো দোষ আছে? তা সত্ত্বেও প্রয়োজন অনুযায়ী আলেমদের মতামত জানার জন্য তিনি ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহের দিকেও প্রত্যাবর্তন করেন। বর্তমান যুগে গবেষণার কাজে নিয়োজিত কিছু ব্যক্তির মূল লক্ষ্য কেবল গবেষণাই, আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা নেই; বরং তাদের কারো কারো হয়তো কোনো ভূমিকাই নেই। কিন্তু আমাদের শাইখ (আল্লাহ তাকে হিফাজত করুন) আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত আগ্রহী এবং তিনি তার ছাত্রদের এই কাজে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেন। তিনি অনেক সময় তার ছাত্রদের অনুপ্রাণিত করার জন্য নিজে বসে থেকে তাদের কাউকে জুমার খুতবা দিতে বলতেন।
এবং তিনি ছাত্রদের গ্রাম ও শহরগুলোতে আল্লাহর দিকে দাওয়াতের জন্য যাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন, এবং একই সাথে...
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
مرة طلب من أحد الأخوة المجتهدين في تحصيل العلم أن يذهب للدعوة إلى الله فرفض فاعتزل الدرس من ساعتها وبقي يوماً أو يومين لا يحضر للدروس حتى رجع ذلك الأخ عن رأيه وذهب للدعوة.
وهو مع طلبته لا يحملهم على رأيه، بل لا يغضب إذا خالفه بعضهم عن اجتهاد وإن كان مظهراً في ذلك أنه يرجح رأي غيره من أهل العلم الذين هم أقرانه، فهو لا يحب لطلبته أن يكونوا مقلدين له، بل دائماً يحضهم على الجد والإجتهاد في العلم والعمل، حتى إنه كثيراً ما كان يصرح بأنه يحب أن يرى طلبته أفضل منه، ويظهر ذلك في سلوكه لمن عايشه، وهو مع ذلك محب لمشائخه، مبجل من غير تقليد، فهو إذا خالف الشيخ العلامة الألباني في مسألة لا يصرح باسمه كما يعرف ذلك كل من يطلع على كتابات شيخنا، فهو يبين ما يراه حقاً من غير أن يظهر نفسه ناقداً لشيخه.
وهو إذا رأى طالب علم بصدق فهو يساعده بكل ما يستطيع حتى إن استطاع أن يخلع له ثيابه التي يلبسها لفعل ذلك، ولا يدخر شيئاً عن طالب علم، صادق حريص على العلم، والتعليم هو شغله، أما الدنيا فلا يلتفت إليها، كتبه التي يكتبها لا يأخذ من ورائها ديناراً ولا درهماً، إذا اتاه أحد بشيء لإنفاقه في الدعوة لا يدخل بيته وإنما يوضع في صندوق يقوم عليه أحد طلبة العلم لينفق منه على طلبة العلم والدعوة إلى الله، وبيته كما هو من أول أمره باللبن ونفقته في بيته مثل النفقه على طلبة العلم، بل ربما تكون أحيانً أقل.
وقد يأخذ عليه بعضهم أنه شديد على مخالفه، فنقول: إنه يشتد على من يريد صرف الناس عن العلم والتعليم، ويشغلهم بالسياسات وهو مع ذلك لا يحب إيذاء أحد ولا هدم شيء فيه منفعة للإسلام، فهو مع ما كان يظهر بينه
একদা তিনি ইলম অর্জনে অত্যন্ত পরিশ্রমী এক ভাইকে আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তখন তিনি সেই মুহূর্ত থেকেই পাঠদান বর্জন করলেন এবং একদিন বা দুই দিন পাঠে উপস্থিত হলেন না, যতক্ষণ না সেই ভাই নিজের মত পরিবর্তন করে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে বের হলেন।
তিনি তাঁর ছাত্রদের ওপর নিজের অভিমত চাপিয়ে দিতেন না, বরং তাদের কেউ যদি ইজতিহাদের ভিত্তিতে তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করত, তবে তিনি রাগান্বিত হতেন না; যদিও এক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িক অন্যান্য আলিমদের মতকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করতেন। তিনি পছন্দ করতেন না যে তাঁর ছাত্ররা তাঁর অন্ধ অনুসারী হোক, বরং তিনি সর্বদা তাদের ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে কঠোর পরিশ্রম ও ইজতিহাদ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। এমনকি তিনি প্রায়ই স্পষ্টভাবে বলতেন যে, তিনি তাঁর ছাত্রদেরকে নিজের চেয়েও শ্রেষ্ঠ হিসেবে দেখতে ভালোবাসেন, যা তাঁর সাথে যারা বসবাস করেছেন তাদের কাছে তাঁর আচরণে প্রকাশ পেত। তদুপরি তিনি তাঁর উস্তাদদের প্রতি অত্যন্ত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পোষণ করতেন, তবে তা অন্ধ অনুকরণের মাধ্যমে ছিল না। তিনি যদি কোনো মাসআলায় শাইখ আল্লামা আলবানী (রহ.)-এর সাথে দ্বিমত পোষণ করতেন, তবে তিনি তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতেন না, যেমনটি আমাদের শাইখের রচনাবলি পাঠকারী মাত্রই অবগত আছেন। তিনি যা সত্য বলে মনে করতেন তা-ই বর্ণনা করতেন, নিজেকে তাঁর উস্তাদের সমালোচক হিসেবে জাহির না করেই।
তিনি যখন কোনো সত্যনিষ্ঠ ইলম অন্বেষী ছাত্রকে দেখতেন, তখন সাধ্যমতো তাকে সাহায্য করতেন; এমনকি যদি নিজের পরিহিত বস্ত্র খুলে দিয়েও তা করা সম্ভব হতো, তবে তিনি তাই করতেন। তিনি একজন সত্যনিষ্ঠ ও ইলম অর্জনে আগ্রহী ছাত্রের জন্য কোনো কিছুই জমা রাখতেন না। শিক্ষকতাই ছিল তাঁর মূল কাজ, আর দুনিয়ার প্রতি তিনি মোটেই ভ্রুক্ষেপ করতেন না। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি থেকে তিনি কোনো দিনার বা দিরহাম গ্রহণ করতেন না। যদি কেউ দাওয়াতের কাজে ব্যয়ের জন্য তাঁর কাছে কিছু নিয়ে আসত, তবে তা তিনি নিজ ঘরে প্রবেশ করাতেন না; বরং তা একটি সিন্দুকে রাখা হতো যার দায়িত্বে থাকতেন জনৈক ছাত্র, যাতে তা অন্যান্য তালিবে ইলম ও দাওয়াতের কাজে ব্যয় করা যায়। তাঁর ঘরটি প্রথম অবস্থার মতোই কাঁচা ইটের তৈরি ছিল এবং তাঁর গৃহস্থালি ব্যয় তালিবে ইলমদের ব্যয়ের সমতুল্য ছিল, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে তার চেয়েও কম হতো।
কেউ কেউ তাঁর ওপর অভিযোগ তুলতে পারেন যে, তিনি তাঁর বিরোধীদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। এর উত্তরে আমরা বলব: তিনি কেবল তাদের প্রতিই কঠোর হতেন যারা মানুষকে ইলম ও তালীম থেকে বিমুখ করতে চাইত এবং তাদেরকে রাজনীতিতে ব্যস্ত রাখত। এতৎসত্ত্বেও তিনি কাউকে কষ্ট দেওয়া কিংবা ইসলামের জন্য উপকারী এমন কোনো কিছু ধ্বংস করা পছন্দ করতেন না। তাঁর মাঝে যা প্রকাশ পেত, তা হলো...
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بين جماعة الإخوان المسلمين من جفوة، إلا أنه دائماً كان يعرض القضاء على المعاهد العلمية التي يسيطر عليه الإخوان، لما يرى فيها من نفع للإسلام أكثر من مدارس التربية والتعليم.
وهذا وإنني ذكرت ما مضى ليس رغبة في مدح الشيخ، فأن أعلم أنه لا يحب ذلك بل يكرهه، ولكن ذكرت ذلك لما أرى فيه من المنفعة لطالب العلم وذلك ليتخلقوا بالخصال الطيبة الموجودة في أهل العلم، والشخص الحريص على ما ينفعه يحاول أن يستفيد من أهل الخير فكل خصلة طيبة في شخص يحرص على أن يتصف بهذه الصفة (وَفِي ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ) وفي "الصحيحين" عن عبد الله بن مسعود قال: قال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم (لا حسد إلا في اثنتين رجل آتاه الله مالا فسلط على هلكته في الحق ورجل آتاه الله الحكمة فهو يقضي بها ويعلمها) .
وبعض الناس إذا سمع أخبار السلف الصالح لم يحرك فيه ذلك رغبة التأسي بهم وكأنهم خلق آخر غيرنا، وأما من كان في عصرنا ويعيش بيننا وهم يتأسون بالسلف الصالح فهم حافز لغيرهم على التأسي بسلفنا، ونرجو من الله عزوجل أن يأخذ بأيدينا ونواصينا للخير حتى نكون أهلاً لميراث جنة الفردوس في مقعد صدق عند مليك مقتدر، إنه ولي ذلك والقادر عليه، كما نسأله سبحانه أن يمد في عمر شيخنا، وأن ينفع به الإسلام والمسلمين، كما نسأله سبحانه أن يغفر لنا ما قدمنا، وما أخرنا، وما أسرننا، وما أعلنا، وما هو أعلم به منا، وآخر دعوانا ا، الحمد لله رب العالمين.
كتبه
أبو عبد الله أحمد بن إبراهيم بن أبي العينين
মুসলিম ব্রাদারহুড (জামায়াতুল ইخوانুল মুসলিমীন)-এর সাথে দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও, তিনি সর্বদা তাদের নিয়ন্ত্রিত ইলমি ইন্সটিটিউটগুলোতে বিচারকার্যের বিষয়গুলো পেশ করার প্রস্তাব দিতেন। কারণ তিনি মনে করতেন, সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় ইসলামের জন্য এগুলোতে অধিকতর কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
আমি ইতিপূর্বে যা কিছু উল্লেখ করেছি, তা শাইখের প্রশংসা করার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়; কারণ আমি জানি যে তিনি এটি পছন্দ করেন না বরং অপছন্দ করেন। তবে আমি এটি উল্লেখ করেছি ইলম অন্বেষণকারীদের উপকারের কথা চিন্তা করে, যাতে তারা ইলমের অধিকারীদের মাঝে বিদ্যমান উত্তম গুণাবলিগুলো নিজেদের মধ্যে ধারণ করতে পারে। যে ব্যক্তি নিজের উপকারের ব্যাপারে আগ্রহী, সে নেককার ব্যক্তিদের থেকে উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করে। সুতরাং কারো মধ্যে কোনো ভালো গুণ দেখলে সে নিজে সেই গুণটি অর্জনে সচেষ্ট হয়। (এবং এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক)। ‘সহীহাইন’ (বুখারী ও মুসলিম)-এ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো সাথে ঈর্ষা (হাসাদ) করা যায় না; সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়েছেন এবং তাকে হকের পথে তা ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন, আর সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ হিকমত (জ্ঞান) দান করেছেন এবং সে তা দ্বারা ফয়সালা করে ও শিক্ষা দেয়।”
কিছু মানুষ এমন আছে যারা সালফে সালেহীনদের (পূর্বসূরি নেককারদের) কথা শুনলে তাদের অনুসরণ করার কোনো আকাঙ্ক্ষা তাদের মধ্যে জাগে না, যেন তারা আমাদের থেকে ভিন্ন কোনো সৃষ্টি। পক্ষান্তরে যারা আমাদের এই যুগে বর্তমান এবং আমাদের মাঝেই বসবাস করছেন এবং তারা সালফে সালেহীনদের অনুসরণ করছেন, তারা অন্যদের জন্য আমাদের পূর্বসূরিদের আদর্শ অনুসরণে প্রেরণা স্বরূপ। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের হাত এবং কপালকে কল্যাণের দিকে পরিচালিত করেন, যাতে আমরা এক সর্বশক্তিমান অধিপতির নিকট সত্যের আসনে জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী হওয়ার যোগ্য হতে পারি। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান। তেমনিভাবে আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের শাইখের হায়াত দীর্ঘ করেন এবং তাঁর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন। আরও প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ক্ষমা করেন আমরা যা পূর্বে করেছি, যা পরে করেছি, যা গোপনে করেছি, যা প্রকাশ্যে করেছি এবং যা তিনি আমাদের চেয়েও ভালো জানেন। আমাদের শেষ নিবেদন হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
লিখেছেন
আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন আবিল আইনাইন
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المقدمة الحمد لله حمداً مباركاً فيه، كما يحب ربنا ويرضى، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
أما بعد: فإني في بحث "الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين" كانت تمر بي أحاديث ظاهرها الصحة، فأجدها في كتاب آخر معلة، وربما يطلع عليها باحث من الإخوة الباحثين، ففيظن أنها مما يلزمني إخراجه، فأفردت لها دفتراً حتى اجتمع لديَّ نحو أربعمائة حديث، فرأيت إخراجها حتى يتم الانتفاع بها كما تم بـ"الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين"، اسأل الله أن ينفع بها وأن يجعل العمل خالصاً لوجهه الكريم.
وغالب هذه الفوائد من كتب أهل العلم كما ستراها إن شاء الله، فليس لي إلا الجمع والحمد لله الذي وفقني لذلك.
ভূমিকা সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন বরকতময় প্রশংসা যা আমাদের প্রতিপালক ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর: "আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস-সাহীহাইন" (দুই সহীহ গ্রন্থে নেই এমন সহীহ মুসনাদ হাদীস) বিষয়ক গবেষণার সময় আমার সামনে এমন কিছু হাদীস আসত যেগুলোর বাহ্যিক দিক সহীহ বলে মনে হতো, কিন্তু অন্য কিতাবে আমি সেগুলোকে ত্রুটিযুক্ত পেতাম। সম্ভবত গবেষক ভাইদের মধ্য থেকে কোনো গবেষক এগুলো দেখবেন এবং মনে করবেন যে, এগুলো বের করা আমার জন্য আবশ্যক ছিল। তাই আমি এগুলোর জন্য একটি পৃথক নোটবুক তৈরি করি এবং এভাবে আমার কাছে প্রায় চারশ হাদীস জমা হয়। ফলে আমি এগুলো প্রকাশ করা সমীচীন মনে করলাম যাতে এর দ্বারা উপকার লাভ করা যায়, ঠিক যেভাবে "আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস-সাহীহাইন" দ্বারা উপকার সাধিত হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা উপকার দান করেন এবং এই আমলটিকে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।
ইনশাআল্লাহ আপনি দেখতে পাবেন যে, এই উপকারি বিষয়গুলোর অধিকাংশ ইলমের অধিকারীদের কিতাবসমূহ থেকে সংগৃহীত। আমার কাজ কেবল সংকলন করা। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে এর তাওফীক দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
معنى العلة قال ابن الصلاح في "المقدمة" فالحديث المعلل هو: الحديث الذي اطلع فيه على علة تقدح في صحته مع أن ظاهرة السلامة منها.
قال الحافظ في "النكت" (ج2ص710 بتحقيق الشيخ الفاضل ربيع بن هادي حفظه الله) قلت: وهذا تحرير لكلام الحاكم في "علوم الحديث" فإنه قال: وإنما يعلل الحديث من أوجه ليس للجرح فيها مدخل، فإن حديث المجروح ساقط واه وعلة الحديث تكثر في أحاديث الثقات أن يحدثوا بحديث له علة فتخفى عليهم علته، والحجة فيه عندنا العلم والفهم والمعرفة.
متى يسمى الحديث معلولاً:
فعلى هذا لا يسمى الحديث المنقطع مثلا معلولاً، ولا الحديث الذي راويه مجهول معلولاً أو ضعيف وإنما يسمى معلولاً إذ آل أمره إلى شيء من ذلك مع كونه ظاهر السلامة من ذلك.
وفي هذا رد على من زعم أن المعلول يشمل كل مردود.
وإذا تقرر هذا فالسبيل إلى معرفة سلامة الحديث من العلة كما نقله المصنف عن الخطيب أن يجمع طرقه، فإن اتفقت رواته واستووا ظهرت سلامته.
وإن اختلفوا أمكن ظهور العلة، فمدار التعليل في الحقيقة على بيان الاختلاف وسأوضحه في النوع الذي بعد هذا إن شاء الله تعالى وهذا الفن أغمض أنواع الحديث وأدقها مسلكاً، ولا يقوم به إلا من منحه الله تعالى فهما غايصاً وإطلاعاً حاوياً وإدراكاً لمراتب الرواة ومعرفة ثاقبة، ولهذا لم يتكلم
ইলাত বা ত্রুটির অর্থ ইবনে আস-সালাহ "আল-মুকাদ্দিমাহ" গ্রন্থে বলেন: মুআল্লাল হাদিস হলো সেই হাদিস যাতে এমন কোনো ত্রুটির সন্ধান পাওয়া যায় যা তার বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ণ করে, যদিও বাহ্যিকভাবে তা ত্রুটিমুক্ত মনে হয়।
আল-হাফিজ (ইবনে হাজার) "আন-নুকাত" (শায়খ ফাদিল রাবী বিন হাদী হাফিজাহুল্লাহর তাহকীককৃত ২য় খণ্ড, ৭১০ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে বলেছেন: আমি বলছি, এটি "উলূমুল হাদিস" গ্রন্থে আল-হাকিমের বক্তব্যেরই একটি পরিমার্জিত রূপ। তিনি বলেছিলেন: হাদিসে 'ইলাত' বা ত্রুটি কেবল সেই দিকগুলো থেকে অন্বেষণ করা হয় যেখানে বর্ণনাকারীর ব্যক্তিগত অযোগ্যতা বা দোষারোপের (জারাহ) কোনো সুযোগ নেই। কারণ, দোষী বা অভিযুক্ত বর্ণনাকারীর হাদিস তো এমনিতেই পরিত্যক্ত ও অত্যন্ত দুর্বল। হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের হাদিসেই বেশি দেখা যায়; তারা এমন হাদিস বর্ণনা করেন যার মধ্যে ত্রুটি বিদ্যমান থাকে কিন্তু সেই ত্রুটি তাদের দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়। আর এ ক্ষেত্রে আমাদের নিকট দলিল বা মানদণ্ড হলো গভীর ইলম, প্রজ্ঞা ও চাক্ষুষ পরিচিতি।
কখন হাদিসকে 'মা'লুল' বলা হয়:
এই বর্ণনা অনুযায়ী, উদাহরণস্বরূপ 'মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন সূত্রযুক্ত) হাদিসকে 'মা'লুল' বলা হবে না, আর যে হাদিসের বর্ণনাকারী অজ্ঞাত (মাজহুল) তাকেও 'মা'লুল' বা দুর্বল বলা হবে না। বরং একে তখনই 'মা'লুল' বলা হবে যখন এর প্রকৃত অবস্থা এই ধরনের কোনো দুর্বলতার দিকে ধাবিত হয়, অথচ বাহ্যিকভাবে তা এই দোষ থেকে মুক্ত মনে হয়।
আর এর মাধ্যমেই সেই সব ব্যক্তির মত খণ্ডন হয়ে যায় যারা দাবি করেন যে, 'মা'লুল' শব্দটির পরিধি সকল প্রকার প্রত্যাখ্যাত হাদিসকে শামিল করে।
যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন হাদিসটি ত্রুটিমুক্ত কি না তা জানার উপায় হলো—যেমনটি লেখক আল-খাতিব আল-বাগদাদী থেকে উদ্ধৃত করেছেন—হাদিসের সকল সূত্র একত্র করা। যদি এর বর্ণনাকারীগণ ঐকমত্য পোষণ করেন এবং বর্ণনায় অভিন্নতা বজায় রাখেন, তবে তার বিশুদ্ধতা প্রকাশ পায়।
কিন্তু যদি তারা বর্ণনায় ভিন্নতা দেখান, তবে সেখানে ত্রুটি ধরা পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। সুতরাং 'তা'লিল' বা ত্রুটি অন্বেষণের মূল ভিত্তি হলো বর্ণনার মধ্যকার পার্থক্যসমূহ স্পষ্ট করা, যা আমি ইনশাআল্লাহ এর পরের অধ্যায়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব। আর হাদিস শাস্ত্রের এই শাখাটি অত্যন্ত দুরূহ এবং এর পথ অত্যন্ত সূক্ষ্ম। এটি কেবল তারাই সম্পাদন করতে পারেন যাদের আল্লাহ তাআলা সুগভীর অন্তর্দৃষ্টি, ব্যাপক জ্ঞান এবং বর্ণনাকারীদের মর্যাদাক্রম সম্পর্কে প্রখর জানাশোনা দান করেছেন। আর এই কারণেই তিনি কথা বলেননি...
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فيه إلا أفراد أئمة هذا الشأن وحذاقهم وإليهم المرجع في ذلك لما جعل الله فيهم من معرفة ذلك، والاطلاع على غوامضه دون غيرهم ممن لم يمارس ذلك.
وقد تقصر عبارة المعلِّل منهم، فلا يفصح بما استقر في نفسه من ترجيح إحدى الروايتين على الأخرى كما في نقد الصيرفي سواء، فمتى وجدنا حديثا قد حكم إمام من الأئمة المرجوع إليهم - بتعليله - فالأولى إتباعه في ذلك كما نتبعه في تصحيح الحديث إذا صححه.
وهذا الشافعي مع إمامته يحيل القول على أئمة الحديث في كتبه فيقول: "وفيه حديث لا يثبته أهل العلم بالحديث".
وهذا حيث لا يوجد مخالف منهم لذلك المعلل، وحيث يصرِّح بإثبات العلة فأما إن وجدغيره صححه فينبغي حينئذ توجه النظر إلى
الترجيح بين كلاميهما.
وكذلك إذا أشار المعلل إلى العلة إشارة ولم يتبين منه ترجيح لإحدى الروايتين، فإن ذلك يحتاج إلى الترجيح والله أعلم.
الترجيح
قال الحافظ في "النكت" (ج2ص712 بتحقيق الشيخ الفاضل ربيع بن هادي حفظه الله) : قال الحافظ العلائي بعد أن ذكر ما هذا ملخصه: "فأما إذا كان رجال الإسنادين متكافئين في الحفظ أو العدد أو كان من أسنده أو رفعه دون من أرسله أو وقفه في شيء من ذلك مع أن كلهم ثقات محتج بهم فههنا مجال النظر واختلاف أئمة الحديث والفقهاء.
এতে কেবল এই শাস্ত্রের বিশেষ ইমামগণ এবং দক্ষ পণ্ডিতগণই প্রবেশ করতে পারেন। আল্লাহ তাদের মধ্যে এই শাস্ত্রের জ্ঞান এবং এর সূক্ষ্ম রহস্যগুলো সম্পর্কে যে অবগতি দান করেছেন, তার কারণে তারাই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষ; অন্যদের ক্ষেত্রে এমনটি নয় যারা এই বিষয়ে চর্চা করেননি।
কখনও কখনও ত্রুটি বর্ণনাকারী (মুআল্লিল) ইমামগণের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত হতে পারে, যার ফলে দুই বর্ণনার মধ্যে একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অন্তরে যে বিষয়টি স্থির হয়েছে তা তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে পারেন না—ঠিক যেমন মুদ্রা বিশেষজ্ঞের সমালোচনার মতো। সুতরাং, যখনই আমরা এমন কোনো হাদিস পাব যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ইমামগণের মধ্য হতে কোনো একজন ইমাম ত্রুটিপূর্ণ (মুআল্লাল) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন, তবে এক্ষেত্রে তার অনুসরণ করাই উত্তম; ঠিক যেমনটি আমরা করি যখন তিনি কোনো হাদিসকে সহিহ বলেন তখন তার অনুসরণ করার ক্ষেত্রে।
ইমাম শাফিঈ (রহ.) তার সুউচ্চ ইমামত সত্ত্বেও তার কিতাবসমূহে হাদিসের ইমামদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতেন এবং বলতেন: "এই বিষয়ে এমন একটি হাদিস রয়েছে যা হাদিস বিশারদগণ সাব্যস্ত করেন না।"
এটি তখনই প্রযোজ্য যখন সেই ত্রুটি বর্ণনাকারীর (মুআল্লিল) কোনো বিরোধী পাওয়া না যায় এবং যেখানে তিনি ত্রুটি সাব্যস্ত করার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেন। তবে যদি অন্য কেউ সেটিকে সহিহ বলেন, তবে এমতাবস্থায় তাদের উভয়ের বক্তব্যের মধ্যে কোনটি
প্রাধান্যযোগ্য সেদিকে লক্ষ্য করা আবশ্যক।
একইভাবে, যখন ত্রুটি বর্ণনাকারী কোনো ত্রুটির দিকে কেবল ইঙ্গিত করেন এবং দুই বর্ণনার মধ্যে কোনোটিকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি তার থেকে স্পষ্ট না হয়, তখন সেখানেও প্রাধান্য (তারজিহ) নিরূপণের প্রয়োজন পড়ে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
প্রাধান্য নিরূপণ (তারজিহ)
হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আন-নুকাাত' গ্রন্থে (২য় খণ্ড, ৭১২ পৃষ্ঠা, শাইখ ফাদিল রাবি ইবনে হাদি হাফিজাহুল্লাহর তাহকিককৃত) বলেছেন: হাফেজ আলাইয়ি (রহ.) সারসংক্ষেপ উল্লেখ করার পর বলেছেন: "তবে যখন উভয় সনদের বর্ণনাকারীগণ মুখস্থশক্তি বা সংখ্যার দিক থেকে সমান পর্যায়ের হন, অথবা যিনি হাদিসটি মুসনাদ বা মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি যদি এমন ব্যক্তির তুলনায় (গুণের দিক থেকে) নিচে হন যিনি সেটিকে মুরসাল বা মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন—অথচ তারা সকলেই নির্ভরযোগ্য এবং দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য—তবে এখানেই গবেষণার অবকাশ রয়েছে এবং এটিই হাদিস বিশারদ ও ফকিহগণের মতপার্থক্যের ক্ষেত্র।"
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فالذي يسلكه كثير من أهل الحديث بل غالبهم جعل ذلك علة مانعة من الحكم بصحة الحديث مطلقا، فيرجعون إلى الترجيح لإحدى الروايتين على الأخرى، فمتى اعتضدت إحدى الطريقين بشيء من وجوه الترجيح حكموا لها وإلا توقفوا (1) عن الحديث وعللوه بذلك، ووجوه الترجيح كثيرة لا تنحصر ولا ضابط لها بالنسبة إلى جميع الأحاديث، بل كل حديث يقوم به ترجيح خاص، وإنما ينهض بذلك الممارس الفطن الذي أكثر من الطرق والروايات ولهذا لم يحكم المتقدمون في هذا المقام بحكم كلي يشمل القاعدة بل يختلف نظرهم بحسب ما يقوم عندهم في كل حديث بمفرده -والله أعلم.
قال الحافظ في "النكت على ابن الصلاح" (ج2ص715 بتحقيق الشيخ الفاضل ربيع بن هادي حفظه الله) : قال العلائي: "وهذا كله إذا كان الإسناد واحداً من حيث المخرج غير مختلف في الحالات، أما إذا اختلف في الوصل والإرسال كأن يروي بعضهم عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة رضي الله عنه حديثا مرفوعاً فيرويه بعضهم عن الزهري، عن أبي سلمة رضي الله عنه عن النبي - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ - مرسلاً.
أو يرويه بعضهم عن الأعمش، عن أبي صالح، عن أبي هريرة رضي الله عنه حديثاً مرفوعاً، فيرويه بعضهم، عن الأعمش، عن أبي صالح عن أبي سعيد رضي الله عنه موقوفاً.
ففي مثل هذه الصيغة يَضعُفُ تعليل أحدهما بالآخر؛ لكون كل منهما
--------------------------------------------
অনেক হাদিস বিশারদ, বরং তাদের অধিকাংশই একে এমন একটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য করেন যা হাদিসটিকে সাধারণভাবে সহিহ হিসেবে রায় দিতে বাধা দেয়। ফলে তারা একটি বর্ণনাকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার পদ্ধতির দিকে ফিরে যান। যখনই দুই সূত্রের কোনো একটি প্রাধান্য দেওয়ার কোনো মাধ্যমে শক্তিশালী হয়, তখন তারা সেটির পক্ষেই রায় দেন, অন্যথায় তারা হাদিসটির ব্যাপারে বিরত থাকেন (১) এবং এর মাধ্যমে হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেন। প্রাধান্য দেওয়ার পদ্ধতিগুলো অনেক, যা অগণিত এবং সকল হাদিসের ক্ষেত্রে এর কোনো সাধারণ নীতিমালা নেই; বরং প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ প্রাধান্য দেওয়ার কারণ বিদ্যমান থাকে। কেবল সেই বিচক্ষণ গবেষকই এটি সম্পন্ন করতে পারেন যিনি অধিক পরিমাণ সূত্র ও বর্ণনা নিয়ে নিরন্তর কাজ করেছেন। এই কারণেই পূর্ববর্তী বিশেষজ্ঞগণ এই ক্ষেত্রে এমন কোনো সামগ্রিক রায় দেননি যা সকল মূলনীতির ওপর প্রযোজ্য হয়, বরং প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে তাদের নিকট যা প্রকাশ পায়, সে অনুযায়ী তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন হয়—আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
হাফেজ ইবনে হাজার 'আন-নুয়াকাত আলা ইবনিস সালাহ' গ্রন্থে (২য় খণ্ড, ৭১৫ পৃষ্ঠা, শেখ ফাযেল রবি বিন হাদি হাফিজাহুল্লাহর তাহকিককৃত) বলেন: আল-আলাঈ বলেছেন, "এই সবই তখন প্রযোজ্য যখন সনদটি এর মূল সূত্রের দিক থেকে অভিন্ন হয় এবং অবস্থার কোনো পরিবর্তন না ঘটে। কিন্তু যখন সনদটি সংযুক্ত হওয়া এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়, যেমন কেউ বর্ণনা করল জুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একটি মারফু হাদিস হিসেবে, আবার কেউ তা বর্ণনা করল জুহরি থেকে, তিনি আবু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে মুরসাল হিসেবে।
অথবা কেউ বর্ণনা করল আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মারফু হাদিস হিসেবে, আবার কেউ তা বর্ণনা করল আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মাওকুফ হিসেবে।
এই ধরণের পদ্ধতিতে একটির মাধ্যমে অন্যটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা দুর্বল হয়ে পড়ে; কারণ তাদের প্রতিটিই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
إسناداً برأسه، ولقوة احتمال كونهما إسنادين عند الزهري أو عند الأعمش كل واحد منهما على وجه.
قلت (1) : وإنما يقوى هذا إذا أتى بهما الراوي جميعا في وقت واحد وحينئذ ينتفي التعليل، وشرط هذا كله التساوي في الحفظ أو العدد. فأما إذا كان راوي الوصل أو الرفع مرجوحاً، فلا، تقرر غير مرة - والله أعلم -.
أمثلة للعلة القادحةمنها تكافؤ الطرق، قال الدارقطني في "التتبع" ص (176) : وأخرجا جميعًا حديث يحيى بن سعيد القطان، عَن عُبيد الله، عَن سعيد المقبري، عَن أبيه، عَن أبي هريرة: قصة المسيء صلاته وقول النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: (ارجع فصل فإنك لم تصل) .
قال: وقد خالف يحيى أصحاب عُبيد الله كلهم منهم أبو أسامة وعبد الله بن نمير وعيسى بن يونس وغيرهم ورووه، عَن عُبيد الله، عَن سعيد، عَن أبي هريرة، فلم يذكروا أباه، ورواه معتمر، عَن عُبيد الله، عَن سعيد، مُرْسَلاً، عَن النبي صلى الله عليه وآله وسلم، ويحيى حافظ ويشبه أن يكون عُبيد الله حدث به على الوجهين. والله أعلم.
وأخرجا أيضًا حديث يحيى القطان، عَن عُبيد الله، عَن سعيد، عَن أبيه، عَن أبي هريرة: قيل يا رسول الله من أكرم.
وقد خالف خالف يحيى جماعة منهم أبو أسامة وابن نمير وعبد ة ومعتمر ومحمد بن بشر وغيرهم فرووه، عَن عُبيد الله، عَن سعيد، عَن أبي هريرة، وأخرج
--------------------------------------------
...একটি স্বতন্ত্র সনদ হিসেবে, এবং সম্ভবত এই দুটিই যুহরী অথবা আমাশের নিকট স্বতন্ত্র দুটি সনদ হিসেবে বিদ্যমান ছিল, যার প্রতিটিই একেকটি পদ্ধতিতে বর্ণিত।
আমি (১) বলছি: এটি তখনই শক্তিশালী হয় যখন বর্ণনাকারী একই সাথে উভয়টি বর্ণনা করেন এবং তখন 'তালিল' (ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করা) নাকচ হয়ে যায়। আর এই সবকিছুর শর্ত হলো হেফজ (স্মৃতিশক্তি) বা সংখ্যায় সমতা থাকা। কিন্তু যদি 'ওয়াসল' (সংযুক্ত করা) বা 'রাফ' (উন্নত করা) এর বর্ণনাকারী মারজুহ (দুর্বলতর) হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না, যা ইতিপূর্বে একাধিকবার নির্ধারিত হয়েছে—আল্লাহই ভালো জানেন।
ক্ষতিকারক ইল্লাত (ত্রুটি)-এর উদাহরণসমূহতার মধ্যে একটি হলো বিভিন্ন সূত্রের সমতা। আদ-দারাকুতনী 'আত-তাতাব্বু' (পৃ. ১৭৬)-এ বলেন: তারা (বুখারি ও মুসলিম) উভয়েই ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তানের হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, যা উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: সালাতে ভুলকারী ব্যক্তির ঘটনা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণী: (তুমি ফিরে গিয়ে পুনরায় সালাত আদায় করো, কেননা তুমি সালাত আদায় করোনি)।
তিনি বলেন: ইয়াহইয়া উবাইদুল্লাহর সকল সাথীদের বিরোধিতা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু উসামা, আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, ঈসা ইবনে ইউনুস এবং অন্যান্যরা। তারা উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা (সনদে) তার পিতার উল্লেখ করেননি। মুতামির এটি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি সাঈদ থেকে মুরসাল হিসেবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া একজন হাফিজ (স্তরের মুখস্থকারী), আর সম্ভাবনা আছে যে উবাইদুল্লাহ এটি উভয় পদ্ধতিতেই বর্ণনা করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।
তারা উভয়ে ইয়াহইয়া আল-কাত্তানের হাদিসটিও বর্ণনা করেছেন, যা উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, হে আল্লাহর রাসূল, সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি কে?
ইয়াহইয়া একদল বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আবু উসামা, ইবনে নুমাইর, আবদাহ, মুতামির, মুহাম্মদ ইবনে বিশর এবং অন্যান্যরা। তারা এটি উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
البخاري الوجهين جميعًا وأخرج مسلم حديث يحيى دون من خالفه. اهـ
وبعض إخواننا من طلبة العلم حفظهم الله إذا سألته عن العلة غير القادحة قال: إبدال ثقة بثقة، نعم، هذه علة غير قادحة، ولكنها مجرد مثال، فإذا وجدت في الحديث علة قادحة ثم أزيلت وسلم الحديث من العلة يقال: فيه علة غير قادحة.
وذلك كعنعنة المدلس الذي تضر عنعنته ثم جاء من طريق تنتهي إلى ذلك الملس وفيها التصريح بسماعه، والإرسال والوصل، ثم ترجح الوصل، والوقف والرفع ثم ترجح الرفع، وهكذا بقية العلل القادحة التي تطرأ على الحديث وتعرف بجمع الطرق كما قال علي بن المديني رحمه الله: "الباب إذا لم تجمع طرقه، لم يتبين خطؤه".
فائدة في معنى نفي الحفاظ المتابعات قال الحافظ في "النكت على ابن الصلاح" (ج2ص721 بتحقيق الشيخ الفاضل ربيع بن هادي حفظه الله) :
ولما أخرج الترمذي حديث ابن جريج المبدأ بذكره في "كتاب الدعوات" من جامعه عن أبي عبيدة بن أبي السفر، عن حجاج قال: هذا حديث حسن صحيح غريب لا نعرفه من حديث سهيل إلا من هذا الوجه"انتهى.
وهو متعقب أيضاً، وقد عرفناه من حديث سهيل من غير هذا الوجه فرويناه في الخلعيات مخرجاً من أفراد الدارقطني من طريق الواقدي ثنا عاصم ابن عمر وسليمان بن بلال كلاهما عن سهيل به.
ورويناه في كتاب " الذكر " لجعفر الفريابي قال: ثنا هشام بن عمار: ثنا
বুখারী উভয় প্রকারই বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম ইয়াহইয়ার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যারা তার বিরোধিতা করেছেন তাদের ব্যতিরেকে। (সমাপ্ত)
আমাদের ইলম অন্বেষণকারী ভাইদের মধ্যে কেউ কেউ (আল্লাহ তাদের হিফাযত করুন), যখন আপনি তাকে অ-ক্ষতিকর ত্রুটি (ইল্লাত গাইরে কাদিহাহ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন, তখন তিনি বলেন: একজন বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর স্থলে অন্য একজন বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীকে স্থলাভিষিক্ত করা। হ্যাঁ, এটি একটি অ-ক্ষতিকর ত্রুটি, তবে এটি কেবল একটি উদাহরণ মাত্র। সুতরাং যদি হাদীসে কোনো ক্ষতিকর ত্রুটি পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে তা দূর করা হয় ও হাদীসটি ত্রুটিমুক্ত হয়, তখন বলা হয়: এতে অ-ক্ষতিকর ত্রুটি রয়েছে।
আর তা যেমন সেই মুদাল্লিসের 'আনআনা' (عنعنة), যার 'আনআনা' ক্ষতিকর, অতঃপর এমন একটি সূত্র পাওয়া গেল যা সেই মুদাল্লিস পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং তাতে সরাসরি শ্রবণ করার (সামা') সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ইরসাল ও ওয়াসল-এর ক্ষেত্রে যেখানে ওয়াসল হওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং ওয়াকফ ও রাফ'-এর ক্ষেত্রে যেখানে রাফ' হওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। হাদীসে আপতিত অন্যান্য ক্ষতিকর ত্রুটিগুলোও এমনই, যা হাদীসের সকল সূত্র একত্রিত করার মাধ্যমে জানা যায়, যেমনটি আলী ইবনুল মাদীনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "একটি বিষয়ের সকল সূত্র যদি একত্রিত করা না হয়, তবে তার ভুল সুস্পষ্ট হয় না।"
হাফিযগণের মুতাবাহাত বা সমর্থনকারী বর্ণনা অস্বীকার করার অর্থের ক্ষেত্রে একটি ফায়দা হাফিয (ইবনু হাজার) 'আন-নুকাতে আলা ইবনুস সালাহ' গ্রন্থে বলেছেন (সম্মানিত শায়খ রবী বিন হাদী হাফিযাহুল্লাহর তাহকীককৃত ২য় খণ্ড, ৭২১ পৃষ্ঠা):
যখন ইমাম তিরমিযী তার 'জামি' গ্রন্থের 'কিতাবুদ দাওয়াত'-এ ইতিপূর্বে উল্লিখিত ইবনু জুরাইজের হাদীসটি আবু উবাইদাহ বিন আবিস সাফার থেকে, তিনি হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এই হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব, সুহাইলের হাদীস থেকে আমরা এটি এই সূত্র ছাড়া জানি না।" (সমাপ্ত)
এটিও পর্যালোচনার দাবি রাখে। আমরা সুহাইলের হাদীস থেকে এটি অন্য সূত্রেও জানতে পেরেছি। আমরা এটি 'আল-খুলইয়্যাত' গ্রন্থে আদ-দারাকুতনীর 'আফরাদ' থেকে সংকলিত ওয়াকিদীর সূত্রে বর্ণনা করেছি; আসিম ইবনু উমর ও সুলাইমান বিন বিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়েই সুহাইল থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং আমরা এটি জাফর আল-ফিরয়াবীর 'কিতাবুজ জিকর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছি; তিনি বলেছেন: হিশাম বিন আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
إسماعيل بن عياش. ثنا سهيل.
ورويناه في "الدعاء" للطبراني من طريق ابن وهب قال: حدثني محمد بن أبي حميد عن سهيل.
فهؤلاء أربعة رووه عن سهيل من غير الوجه الذي أخرجه الترمذي فلعله إنما نفى أن يكون يعرفه من طريق قوية، لأن الطرق المذكورة لا يخلو واحد منها من مقال.
أما الأولى: فالواقدي متروك الحديث.
وأما الثانية: فإسماعيل بن عياش مضعف في غير روايته عن الشاميين ولو صرح بالتحديث.
وأما الثالثة: فمحمد بن أبي حميد وإن كان مدنيا، لكنه ضعيف أيضاً.
وقد سبق الترمذي أبو حاتم إلى ما حكم به من تفرد تلك الطريق عن سهيل، فقال: فيما حكاه ابنه عنه في "العلل": (لا أعلم روى هذا الحديث عن النبي - صلى الله عليه وعلى آله وسلم - في شيء من طرق أبي هريرة رضي الله عنه. قال: وأما رواية إسماعيل بن عياش، فما أدري ما هي؟، إنما روى عنه إسماعيل أحاديث يسيرة) .
فكأن أبا حاتم استبعد أن يكون إسماعيل حدث به، لأن هشام بن عمار تغير في آخر عمره، فلعله رأى أن هذا مما خلط فيه، ولكن أورد ابن أبي حاتم عى إطلاق أبيه طريق سعيد المقبري عن أبي هريرة التي قدمناها، ثم اعتذر عنه بقوله: كأنه لم يصحح رواية عبد الرحمن بن أبي عمرو عن المقبري.
وهذا يدلك على أنهم قد يطلقون النفي، ويقصدون به نفي الطرق الصحيحة، فلا ينبغي أن يورد على إطلاقهم معذلك الطرق الضعيفة والله
ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ। তিনি বলেন: আমাদের কাছে সুহাইল বর্ণনা করেছেন।
এবং আমরা তাবারানির "আদ-দুআ" গ্রন্থে ইবনে ওয়াহাব-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবি হুমাইদ আমার কাছে সুহাইল থেকে বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং এই চারজন সুহাইল থেকে এটি এমন সূত্রে বর্ণনা করেছেন যা তিরমিযী কর্তৃক বর্ণিত সূত্রের বাইরে। সম্ভবত তিনি এটি কোনো শক্তিশালী সূত্রে জানার কথা অস্বীকার করেছেন, কারণ উল্লেখিত সূত্রগুলোর একটিও সমালোচনা থেকে মুক্ত নয়।
প্রথমটি হলো: ওয়াকিদী হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত।
দ্বিতীয়টি হলো: ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ শামী রাবীদের ব্যতীত অন্যদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল গণ্য হন, এমনকি যদি তিনি সরাসরি শ্রবণ করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখও করেন।
তৃতীয়টি হলো: মুহাম্মাদ ইবনে আবি হুমাইদ মদিনার অধিবাসী হওয়া সত্ত্বেও তিনিও দুর্বল।
সুহাইল থেকে সেই সূত্রের একাকীত্বের ব্যাপারে ইমাম তিরমিযীর পূর্বেই আবু হাতিম এই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যেমনটি তাঁর পুত্র "আল-ইলাল" গ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন: (আমি জানি না যে এই হাদিসটি আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর কোনো সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: আর ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ-এর বর্ণনার ব্যাপারে আমি জানি না সেটি কী? ইসমাঈল তাঁর থেকে মাত্র সামান্য কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন)।
সুতরাং মনে হচ্ছে আবু হাতিম এটিকে সুদূরপরাহত মনে করেছেন যে ইসমাঈল এটি বর্ণনা করেছেন, কারণ হিশাম ইবনে আম্মার তাঁর জীবনের শেষ দিকে বার্ধক্যজনিত বিভ্রান্তিতে পড়েছিলেন। সম্ভবত তিনি মনে করেছেন যে এটি সেই সংমিশ্রিত বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। তবে ইবনে আবু হাতিম তাঁর পিতার এই সাধারণ মন্তব্যের বিপরীতে সাঈদ আল-মাকবুরি-এর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত সেই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যা আমরা আগে পেশ করেছি। এরপর তিনি তাঁর পিতার পক্ষ থেকে ওজর পেশ করে বলেছেন: সম্ভবত তিনি মাকবুরি থেকে আব্দুর রহমান ইবনে আবি আমরের বর্ণনাটিকে সহিহ মনে করেননি।
আর এটি আপনাকে নির্দেশ করে যে, তাঁরা অনেক সময় সাধারণভাবে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন এবং এর মাধ্যমে সহিহ সূত্রগুলোর অস্বীকৃতি উদ্দেশ্য থাকে। সুতরাং তাঁদের এই সাধারণ অস্বীকৃতির সাথে দুর্বল সূত্রগুলোকে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الموفق.
قال أبو عبد الرحمن: وربما صرحوا بذلك، قال الدارقطني رحمه الله في "الإلزامات" ص (98) :
وانفرد البخاري بحديث سنين أبي جميلة ولم يرو عنه غير الزهري من وجه يصح مثله.
وانفرد البخاري بحديث شيبة بن عثمان ولم يرو عنه غير أبي وائل من وجه يصح مثله، فهذا حديث الثوري والشيباني، عَن واصل، عَن أبي وائل.
وانفرد مسلم بحديث الأغر المزني ولم يروه عنه غير أبي بردة بن أبي موسى من وجه يصح مثله.
وانفرد مسلم بحديث أبي رفاعة العدوي، ولم يرو عنه غير حميد بن هلال العدوي من وجه يصح مثله.
وانفرد مسلم برافع بن عمرو الغفاري أخي الحكم بن عمرو ولم يرو غير عنه عبد الله بن الصامت من وجه يصح مثله.
وانفرد مسلم بحديث ربيعة بن كعب الأسلمي، ولم يرو عنه غير أبي سلمة بن عبد الرحمن من وجه يصح مثله.
وانفرد البخاري بحديث أبي عبس بن جبر: (من اغبرت قدماه في سبيل الله) من رواية عباية بن رفاعة، ولم يرو عنه من وجه يصح مثله غيره.
আল্লাহই তাওফিকদাতা।
আবু আব্দুর রহমান বলেন: সম্ভবত তারা তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। আদ-দারাকুতনি (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-ইলজামত’ (পৃ. ৯৮)-এ বলেছেন:
ইমাম বুখারি এককভাবে সুনাইন আবু জামিলাহর হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে যুহরি ব্যতীত অন্য কেউ অনুরূপ সহিহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেননি।
ইমাম বুখারি এককভাবে শাইবাহ ইবনে উসমানের হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু ওয়ািল ছাড়া আর কেউ তার থেকে অনুরূপ সহিহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেননি; এটি সাওরি ও শাইবানির হাদিস, ওয়াসিল থেকে, তিনি আবু ওয়ািল থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মুসলিম এককভাবে আল-আগ্হার আল-মুজানির হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আবু বুরদাহ ইবনে আবি মুসা ছাড়া আর কেউ অনুরূপ সহিহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেননি।
ইমাম মুসলিম এককভাবে আবু রিফায়া আল-আদাউয়ির হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে হুমাইদ ইবনে হিলাল আল-আদাউয়ি ছাড়া আর কেউ অনুরূপ সহিহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেননি।
ইমাম মুসলিম আল-হাকাম ইবনে আমরের ভাই রাফি ইবনে আমর আল-গিফারির হাদিস বর্ণনায় একক ছিলেন এবং তার থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে আস-সামিত ছাড়া আর কেউ অনুরূপ সহিহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেননি।
ইমাম মুসলিম এককভাবে রাবিয়া ইবনে কাব আল-আসলামির হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে আবু সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান ছাড়া আর কেউ অনুরূপ সহিহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেননি।
ইমাম বুখারি এককভাবে আবু আবস ইবনে জাবরের হাদিসটি বর্ণনা করেছেন: (আল্লাহর রাস্তায় যার পা দুটি ধুলোবালিযুক্ত হয়), এটি আবায়া ইবনে রিফায়ার বর্ণনা থেকে এবং তিনি ছাড়া আর কেউ তার থেকে অনুরূপ সহিহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
تنبيه مهمقد يكون الحديث معلاً من طريق، وصحيحاً من طريق أخرى، أو من طُرُقٍ.
قال الدارقطني رحمه الله في "التتبع" ص (375) : وأخرج مسلم، عَن المقدمي، عَن حماد، عَن أيوب، عَن نافع، عَن ابن عمر أن عمر قبل الحجر. قال: وقد إختلف فيه على أيوب وعلى حماد بن زيد وقد وصله مسدد والحوضي، عَن حماد. وخالفهم سليمان وأبو الربيع وعارم فأرسلوه، عَن حماد. قال بن علية، عَن أيوب نبئت أن عمر ليس فيه نافع، ولكن عمر وهو صحيح من حديث سويد بن غفلة وعابس بن ربيعة وابن سرجس، عَن عمر.
وقال ص (379) وأخرج البخاري حديث عمران بن حطان، عَن ابن عمر، عَن عمر في لبس الحرير، وعمران متروك لسوء اعتقاده وخبث رأيه والحديث ثابت من وجوه، عَن عمر، عَن عبد الله مولى أسماء وغيره، عَن ابن عمر، عَن عمر. اهـ
فعلى لا يجوز لطالب علم أن يحكم على الحديث بالضعف بمجرد أن يراه في كتب العلل، فربما يكون صحيحاً من طريق أخرى، أو صحيحاً عن صحابي آخر، بل ربما يكون الحديث في "مجمع الزوائد" بسند ضعيف وهو في "الصحيحين" عن صحابي آخر.
ولا يحكم على الحديث بالضعف المطلق إلا حافظ كبير كالإمام أحمد وعلي بن المديني، والبخاري، ومسلم، وأبي زرعة، وأبي حاتم الرازيين، ومن
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতাএকটি হাদিস এক সূত্রে ত্রুটিযুক্ত (মুআল্লাল) হতে পারে, কিন্তু অন্য একটি সূত্রে বা একাধিক সূত্রে সেটি সহিহ হতে পারে।
ইমাম দারাকুতনী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আত-তাতাব্বু' গ্রন্থের ৩৭৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: ইমাম মুসলিম মুকাদ্দামী হতে, তিনি হাম্মাদ হতে, তিনি আইয়ুব হতে, তিনি নাফে' হতে, তিনি ইবনে উমর হতে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রা.) হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করেছেন। তিনি বলেছেন: এই বর্ণনার ক্ষেত্রে আইয়ুব এবং হাম্মাদ ইবনে যাইদের উপর মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে। মুসাদ্দাদ এবং হাওযী একে হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করার সময় সংযুক্ত (মাওসুল) করেছেন। কিন্তু সুলাইমান, আবু রাবী' এবং আরিম তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং তারা হাম্মাদ থেকে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে উলাইয়্যাহ আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমাকে জানানো হয়েছে উমরের এই বর্ণনায় নাফে' নেই, বরং সরাসরি উমর; অথচ হাদিসটি সুয়াইদ ইবনে গাফালাহ, আবিস ইবনে রাবিআহ এবং ইবনে সারজিস-এর সূত্রে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়ে সহিহ সাব্যস্ত হয়েছে।
তিনি ৩৭৯ পৃষ্ঠায় আরও বলেছেন: ইমাম বুখারী রেশমি কাপড় পরিধান করা প্রসঙ্গে ইমরান ইবনে হিত্তান থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমরান তার ভ্রান্ত আকিদা এবং নিকৃষ্ট মতাদর্শের কারণে পরিত্যক্ত (মাতরুক); তবে হাদিসটি আসমার মুক্তদাস আবদুল্লাহ এবং অন্যদের সূত্রে ইবনে উমর ও উমর (রা.) থেকে বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রমাণিত। (সমাপ্ত)
অতএব, কোনো তালিবে ইলমের (জ্ঞানান্বেষী) জন্য কেবল ইল্লাল (ত্রুটি বিষয়ক) গ্রন্থগুলোতে দেখেই কোনো হাদিসকে দুর্বল (যয়িফ) বলে হুকুম দেওয়া বৈধ নয়। কারণ হতে পারে তা অন্য কোনো সূত্রে সহিহ, অথবা অন্য কোনো সাহাবীর সূত্রে সহিহ। এমনকি এমনও হতে পারে যে, কোনো হাদিস 'মাজমাউয যাওয়াইদ' গ্রন্থে দুর্বল সনদে রয়েছে, অথচ সেটিই অন্য কোনো সাহাবীর সূত্রে 'সহিহাইন' (বুখারী ও মুসলিম)-এ বিদ্যমান।
আর কোনো বড় হাফেয (হাদিস বিশারদ) ব্যতীত কেউ হাদিসের ওপর নিরঙ্কুশ দুর্বলতার (যয়িফ মুতলাক) হুকুম লাগাতে পারে না; যেমন ইমাম আহমাদ, আলী ইবনুল মাদিনী, বুখারী, মুসলিম, আবু যুরআহ ও আবু হাতিম আর-রাযী এবং যারা তাদের সমপর্যায়ের।
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كان في مضمارهم كالدارقطني وبقية حفاظ الحديث المتبحرين في هذا الفن، ومن العلماء المبرزين في هذا الفن الحافظ ابن حجر رحمه الله فإني وجدت في كتابه "النكت على كتاب ابن الصلاح " في المعلِّ وفي المضطرب تعقبات له تشد لها الرحال، فجزاه الله عن الإسلام وعن علم الحديث بخصوصه خيراً.
ولسنا بحمد الله ممن يتحجر واسعاً، وال ممن يهضم الناس جهودهم، فالباحث في هذا الزمن الذي أعطاه الله إمكانية البحث ويسَّر له الكتب التي أصبحت متوفرة في هذا الزمن وجمعت ولم تكن مجموعة من قبل، له أن يقول: قد بحثت فلم أجد لفلان متابعاً، فعلى هذا فالحديث شاذ أو مرسل. والله أعلم.
كلمة شكر ودعاء روى أبو داود في "سننه" عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: (لا يشكر الله من لا يشكر الناس) .
فأسأل الله أن يجزي أخانا حسين بن محمد مناع خيراً على قيامه بكتابة "أحاديث معلة ظاهرها الصحة" على الآلة الكاتبة، ثم ترتيبه إياها على المسانيد مع مشاركة أخيه في الله صالح بن صالح مناع فجزاهما الله خيراً.
وأسأل الله أن يجزي أخانا الهمام محمد بن قائد الحجري على مراجعته الكتاب وإبداء ملاحظاته القيمة، فأسأل الله أن يبارك فيه وفي علمه ويجزيه خيراً، وأن يعيذه من الحزبية المساخة ومن فتنة المحيا والممات. إنه على كل شيء قدير.
তাদের কর্মক্ষেত্রে তিনি ছিলেন দারা কুতনী এবং এই শাস্ত্রের অন্যান্য প্রাজ্ঞ হাদিস বিশারদদের মতো। এই শাস্ত্রের বিশিষ্ট আলেমদের মধ্যে রয়েছেন হাফেজ ইবনে হাজার (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন)। আমি তার 'আন-নুকাাত আলা কিতাবি ইবনুস সালাহ' গ্রন্থে 'মুআল্লাল' (ত্রুটিযুক্ত) এবং 'মুদতারিব' (অস্থির) হাদিস সম্পর্কে এমন কিছু পর্যালোচনা পেয়েছি যার জন্য জ্ঞানান্বেষণে দীর্ঘ সফর করা সার্থক। আল্লাহ তাকে ইসলামের পক্ষ থেকে এবং বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আল্লাহর প্রশংসায় আমরা সংকীর্ণমনা নই যে প্রশস্ত বিষয়কে সংকীর্ণ করব, আর আমরা এমনও নই যারা মানুষের পরিশ্রমকে অবমূল্যায়ন করে। এই যুগের একজন গবেষক, যাকে আল্লাহ গবেষণার সুযোগ দিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ সহজলভ্য করে দিয়েছেন যা এই সময়ে সহজলভ্য হয়েছে এবং ইতিপূর্বে এভাবে একত্রিত ছিল না, তিনি বলতে পারেন: "আমি অনুসন্ধান করেছি কিন্তু অমুকের কোনো মুতাবী (সমর্থনকারী বর্ণনাকারী) পাইনি, সুতরাং সেই অনুযায়ী হাদিসটি শাজ (বিচ্ছিন্ন) অথবা মুরসাল (বিচ্ছিন্ন সূত্রবিশিষ্ট)।" আর আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও দোয়া আবু দাউদ তার 'সুনান'-এ আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।"
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের ভাই হুসাইন বিন মুহাম্মদ মান্না-কে 'আহাদিসু মুআল্লালাহ যাহিরুহাস সিহহাহ' (ত্রুটিযুক্ত হাদিস যা আপাতদৃষ্টিতে সহিহ মনে হয়) গ্রন্থটি টাইপরাইটারে কম্পোজ করার জন্য এবং এরপর তার দ্বীনি ভাই সালেহ বিন সালেহ মান্না-এর সহযোগিতায় সেগুলোকে মুসনাদ অনুযায়ী বিন্যস্ত করার জন্য উত্তম প্রতিদান দান করেন। আল্লাহ তাদের উভয়কে উত্তম প্রতিদান দিন।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের উদ্যমী ভাই মুহাম্মদ বিন কাইদ আল-হাজরি-কে এই কিতাবটি পুনঃনিরীক্ষণ এবং তার মূল্যবান পর্যবেক্ষণ প্রদানের জন্য উত্তম প্রতিদান দান করেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তার মধ্যে ও তার ইলমের মধ্যে বরকত দান করেন এবং তাকে উত্তম প্রতিদান দেন। আর আল্লাহ যেন তাকে ধ্বংসাত্মক দলাদলি এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
مسند أبي اللحم
1-قال الإمام النسائي رحمه الله (ج3 ص158) : أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عُمَيْرٍ مَوْلَى آبِي اللَّحْمِ عَنْ آبِي اللَّحْمِ أَنَّهُ رَأَى رَسُول اللهْْْ صلى الله عليه وعلى آله وسلم عِنْدَ أَحْجَارِ الزَّيْتِ يَسْتَسْقِي ، وَهُوَ مُقْنِعٌ بِكَفَّيْهِ يَدْعُو.
هذا حديث ظاهره الصحة ، ولكن الحافظ في "تهذيب التهذيب"قال في ترجمة يزيد بن عبد الله بن أسامة بن الهاد: روى عن عمير مولى آبى اللحم والصحيح أن بينهما محمد بن إبراهيم التيمي.
মুসনাদে আবি আল-লাহম ১-ইমাম নাসাঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৩য় খণ্ড, ১৫৮ পৃষ্ঠা): কুতাইবাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, লাইস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন ইয়াজিদ থেকে, তিনি সাঈদ বিন আবি হিলাল থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবি আল-লাহমের মুক্ত দাস উমায়ের থেকে এবং তিনি আবি আল-লাহম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে আহজার আল-জাইত নামক স্থানে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে দেখেছেন, এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর দুই হাতের তালু প্রসারিত করে দুআ করছিলেন।
এই হাদীসটি বাহ্যিকভাবে বিশুদ্ধ, কিন্তু হাফিজ (ইবনে হাজার) 'তাহজিবুত তাহজিব' গ্রন্থে ইয়াজিদ বিন আবদুল্লাহ বিন উসামাহ বিন আল-হাদ এর জীবনীতে বলেছেন: তিনি আবি আল-লাহমের মুক্ত দাস উমায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে সঠিক বিষয় হলো এই যে তাদের উভয়ের মাঝখানে মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আত-তাইমি রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مسند أبى بن كعب رضي الله عنه
2-قال الإمام أبو عبد الله بن ماجه رحمه الله (ج1 ص52
3) حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ مَنْصُورٍ أَنْبَأَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ عَطَاءٍ الْعِجْلِيُّ عَنْ ابْنِ عَوْنٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ وَإِنَّمَا وَجْهُنَا وَاحِدٌ فَلَمَّا قُبِضَ نَظَرْنَا هَكَذَا وَهَكَذَا.
هذا الحديث إذا نظرت إلى رجاله وجدته قابل للتحسين، ولكن في جامع التحصيل وفى "مصباح الزجاجة" أن الحسن لم يسمع من أبى بن كعب، وإنما سمعه من عتي بن ضمرة السعدي عن أبى.
3- قال أبو يعلى الموصلي رحمه الله (ج8ص145) : حدثنا ابو كريب حدثنا معاوية بن هشام عن عمران بن أبي أنس المكي عن ابن أبي ملكية: عن عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم لأصحابه تدرون أزنى الزنا عند الله؟ قالوا: الله ورسوله أعلم قال: (فإن أزنى الزنا عند الله استحلال عرض امرئ مسلم ـ ثم قرأ: (والذين يؤذون المؤمنين والمؤمنات بغير ما اكتسبوا)
هذا الحديث كنت حكمت عليه في "الصحيح المسند مما ليس في الصحيحين" (ج2ص 471) بالصحة، ظاناً أن عمران بن أبي أنس هو القرشي، حتى أفادنا الشيخ الفاضل عبد الرقيب الإبي بأن الصحيح أنه عمران بن أنس المكي وهو ضعيف، وأحالنا على
উবাই ইবনে কাব রাযিয়াল্লাহু আনহুর মুসনাদ২-ইমাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মাজাহ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫২
৩) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে মানসুর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা আল-ইজলি, ইবনে আউন থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে ছিলাম এবং আমাদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন। অতঃপর যখন তাঁর ওফাত হলো, তখন আমরা এদিকে-ওদিকে তাকাতে লাগলাম।
এই হাদিসটির বর্ণনাকারীদের দিকে তাকালে আপনি একে 'হাসান' (উত্তম) পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার যোগ্য পাবেন। কিন্তু 'জামেউত তাহসিল' এবং 'মিসবাহুজ জুজাজাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাসান (বসরী) উবাই ইবনে কাব থেকে সরাসরি শোনেননি; বরং তিনি এটি উবাই থেকে আতি ইবনে দামরাহ আস-সাদি-এর মাধ্যমে শুনেছেন।
৩- আবু ইয়ালা আল-মাউসিলি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন (খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৪৫): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরায়ব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে হিশাম, ইমরান ইবনে আবি আনাস আল-মাক্কি থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে বললেন, "তোমরা কি জানো আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম ব্যভিচার কোনটি?" তাঁরা বললেন, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম ব্যভিচার হলো কোনো মুসলিম ব্যক্তির মান-সম্মান লুণ্ঠন করা।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: (এবং যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্ট দেয় এমন কোনো অপরাধ ছাড়াই যা তারা করেনি...)
এই হাদিসটিকে আমি 'আস-সহীহুল মুসনাদ মিম্মা লাইসা ফিস সহীহাইন' গ্রন্থে (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৭১) সহীহ হওয়ার হুকুম দিয়েছিলাম, এই ধারণা করে যে ইমরান ইবনে আবি আনাস হলেন কুরাশী। পরবর্তীতে শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল রাকিব আল-ইব্বি আমাদের অবহিত করেন যে সঠিক তথ্য হলো তিনি ইমরান ইবনে আনাস আল-মাক্কি এবং তিনি যয়ীফ (দুর্বল), আর তিনি আমাদের হাওয়ালা দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
"شعب الإيمان " للبيهقي (ج5ص298) رقم حديث (6711) فوجدنا في "شعب الإيمان": عن ابن (1) سلام عن يحيى بن واضح سمع عمران. قال البخاري لا يُتَابَعُ عليه، ورواه عبد العزيز بن رفيع، عن ابن أبي مليكة، عن عبد الله بن الراهب عن كعب من قوله وهو أصح. اهـ
--------------------------------------------
বাইহাক্বী রচিত "শুয়াবুল ঈমান" (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৯৮), হাদিস নম্বর (৬৭১১)। আমরা "শুয়াবুল ঈমান"-এ পেয়েছি: ইবনে (১) সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াদিহ থেকে, তিনি ইমরান থেকে শুনেছেন। বুখারী বলেছেন, এর কোনো সমর্থক বর্ণনা নেই। এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ ইবনে রাফি, ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে রাহেব থেকে, তিনি কাব-এর বক্তব্য হিসেবে; আর এটিই অধিকতর সঠিক। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مسند أسامة بن زيد رضي الله عنهما
4- قال الإمام النسائي -
(5/219) : أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ قَالَ حَدَّثَنَا عَطَاءٌ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ دَخَلَ هُوَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ الْبَيْتَ فَأَمَرَ بِلَالًا فَأَجَافَ الْبَابَ وَالْبَيْتُ إِذْ ذَاكَ عَلَى سِتَّةِ أَعْمِدَةٍ فَمَضَى حَتَّى إِذَا كَانَ بَيْنَ الْأُسْطُوَانَتَيْنِ اللَّتَيْنِ تَلِيَانِ بَابَ الْكَعْبَةِ جَلَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَسَأَلَهُ وَاسْتَغْفَرَهُ ثُمَّ قَامَ حَتَّى أَتَى مَا اسْتَقْبَلَ مِنْ دُبُرِ الْكَعْبَةِ فَوَضَعَ وَجْهَهُ وَخَدَّهُ عَلَيْهِ وَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَسَأَلَهُ وَاسْتَغْفَرَهُ ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى كُلِّ رُكْنٍ مِنْ أَرْكَانِ الْكَعْبَةِ فَاسْتَقْبَلَهُ بِالتَّكْبِيرِ وَالتَّهْلِيلِ وَالتَّسْبِيحِ وَالثَّنَاءِ عَلَى اللَّهِ وَالْمَسْأَلَةِ وَالِاسْتِغْفَارِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ مُسْتَقْبِلَ وَجْهِ الْكَعْبَةِ ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ هَذِهِ الْقِبْلَةُ هَذِهِ الْقِبْلَةُ.
هذا حديث إذا نظرت إلى رجاله وجدتهم رجال الصحيح ، ولكن في جامع التحصيل عن أبي زرعة أن عطاء بن أبي رباح لم يسمع من أسامة بن زيد ، وفي تهذيب التهذيب عن أبي حاتم أن عطاء لم يسمع من أسامة بن زيد ، والذي أسقطه عطاء هنا هو ابن عباس ،كما في صحيح مسلم ، وفي النسائي أيضا (ج5 ص 220) .
5- وقال الإمام البزار رحمه الله (ج7ص65) : حدثنا عَمْرو بن علي، أخبرنا
উসামা ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মুসনাদ৪- ইমাম নাসায়ী -
(৫/২১৯) বর্ণনা করেছেন: ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবদুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আতা আমাদের নিকট উসামা ইবনে যায়েদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম কা’বা ঘরে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি দরজা বন্ধ করে দিলেন। সেই সময় কা’বা ঘরটি ছয়টি পিলারের ওপর ছিল। তিনি সামনে এগিয়ে গেলেন, এমনকি যখন তিনি কা’বার দরজার নিকটবর্তী দুটি পিলারের মাঝখানে পৌঁছালেন, তখন তিনি বসলেন। অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা ও ক্ষমা চাইলেন। অতঃপর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে কা’বার পেছনের দেয়ালের দিকে আসলেন এবং সেখানে নিজের মুখমন্ডল ও গাল রাখলেন। এরপর আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা ও ক্ষমা চাইলেন। অতঃপর তিনি কা’বার প্রতিটি কোণের দিকে গেলেন এবং তাকবীর, তাহলীল, তাসবীহ, আল্লাহর প্রশংসা, প্রার্থনা ও ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে সেগুলোর সম্মুখীন হলেন। এরপর তিনি বের হয়ে কা’বার সম্মুখভাগের দিকে মুখ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি ফিরে বললেন, "এটিই কিবলা, এটিই কিবলা।"
এটি এমন একটি হাদীস যার বর্ণনাকারীদের যাচাই করলে দেখা যায় যে তারা সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। তবে 'জামেউত তাহসীল' গ্রন্থে আবু যুরআ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আতা ইবনে আবি রাবাহ উসামা ইবনে যায়েদ থেকে সরাসরি শোনেননি। 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থে আবু হাতিম থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, আতা উসামা ইবনে যায়েদ থেকে শোনেননি। আর আতা এখানে যার নাম উহ্য রেখেছেন তিনি হলেন ইবনে আব্বাস, যেমনটি সহীহ মুসলিমে এবং নাসায়ীতেও (৫ম খণ্ড, ২২০ পৃষ্ঠা) বর্ণিত হয়েছে।
৫- এবং ইমাম বাযযার রহ. বলেন (৭ম খণ্ড, ৬৫ পৃষ্ঠা): আমর ইবনে আলী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
معاذ بن هشام، أخبرنا همام عن قتادة عن عزرة عن الشعبي قال أخبرني أسامة بن زيد أنه كان رديف النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم من جمع فما رفعت يديها عادية حتى رمى الجمرة.
قال البزار رحمه الله تعالى: ولا نعلم روى الشعبي عن أسامة غير هذا الحديث ولا رواه عن الشعبي إلا عزرة وعزرة هذا هو عزرة بن عبد الرحمن روى عنه قتادة وداود بن أبي هند وغيرهما. أهـ
قال أبو عبد الرحمن: الحديث ظاهره الحسن، ولكن ابن أبى حاتم فى "العلل" (ج1ص2
70) قال سألت أبى عن حديث رواه همام عن قتادة عن عزرة عن الشعبي أن الفضل بن العباس حدثه وأن أسامة بن زيد حدثه أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم كان يلبى حتى رمى جمرة العقبة، هل سمع الشعبي منهما؟ فقال أبوه: لا يحتمل، وينبغي أن يكون بينهما أحد، ولكن كذا حدث به همام، فلا أدرى ما هذا الأمر؟. اهـ
6-قال أبو داود الطيالسي رحمه الله تعالى كما في "المسند" (ص88) : حدثنا شعبة وهمام، عن قتادة، عن عزرة، عن الشعبي، قال: حدثني أسامة بن زيد، أنه " أفاض مع رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ من عرفة فلم ترفع راحلته يدا غادية حتى أتى المزدلفة ".
قال أبو عبد الرحمن: الحديث ظاهره الصحة، ولكن ابن أبى حاتم ذكر في "العلل" (ج1ص277-288) أنه سأل أباه عن هذا الحديث فقال أبوه: هذان الحديثان خطأ، الشعبي لم يسمع من أسامة شيئا فيما أعلم. اهـ
وأما التصريح بالسماع هنا فيحتمل أن يكون غلطا من الناسخين أو الطابعين أو وهما من بعض الرواة، وعلى كل فقول الحافظ مقدم على نسخة ليست مسموعة لنا، والله أعلم.
7-قال الترمذي رحمه الله تعالى (ج4 ص380بتحقيق إبراهيم عطوة) :
মুআয ইবনে হিশাম, হাম্মাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আযরাহ থেকে, তিনি শাবী থেকে, তিনি বলেন: আমাকে উসামাহ ইবনে যায়েদ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি জাম’ (মুযদালিফাহ) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পেছনে আরোহী ছিলেন, সওয়ারিটি তার পা দুটি দ্রুত বেগে ওঠায়নি যতক্ষণ না তিনি জামারায় পাথর নিক্ষেপ করেছেন।
ইমাম বাযযার (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেন: আমাদের জানা মতে শাবী উসামাহ থেকে এই হাদিসটি ছাড়া আর কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি, আর শাবী থেকে আযরাহ ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি। এই আযরাহ হলেন আযরাহ ইবনে আবদুর রহমান, যার থেকে কাতাদাহ এবং দাউদ ইবনে আবি হিন্দসহ আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন। (সমাপ্ত)
আবু আবদুর রহমান বলেন: হাদিসটি বাহ্যিকভাবে হাসান, কিন্তু ইবনে আবি হাতিম তার "আল-ইলাল" গ্রন্থে (১ম খণ্ড, ২৭
০ পৃষ্ঠা) বলেছেন: আমি আমার পিতাকে হাম্মাম কর্তৃক কাতাদাহ থেকে, তিনি আযরাহ থেকে, তিনি শাবী থেকে বর্ণিত একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি যে, ফাদল ইবনুল আব্বাস এবং উসামাহ ইবনে যায়েদ তাকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতেন। শাবী কি তাদের উভয়ের থেকে হাদিস শুনেছেন? তখন তার পিতা বললেন: এটি সম্ভব নয়, তাদের উভয়ের মাঝে অন্য কেউ থাকা উচিত, তবে হাম্মাম এভাবেই বর্ণনা করেছেন, আমি জানি না এর রহস্য কী? (সমাপ্ত)
৬-আবু দাউদ তায়ালিসি (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) তার "মুসনাদ" গ্রন্থে (৮৮ পৃষ্ঠা) যেমনটি বলেছেন: শু'বাহ এবং হাম্মাম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আযরাহ থেকে, তিনি শাবী থেকে, তিনি বলেন: উসামাহ ইবনে যায়েদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাথে আরাফাহ থেকে ফিরেছেন, এমতাবস্থায় সওয়ারিটি মুযদালিফায় পৌঁছানো পর্যন্ত দ্রুত বেগে পা ওঠায়নি।
আবু আবদুর রহমান বলেন: হাদিসটি বাহ্যিকভাবে সহিহ, কিন্তু ইবনে আবি হাতিম "আল-ইলাল" গ্রন্থে (১ম খণ্ড, ২৭৭-২৮৮ পৃষ্ঠা) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তার পিতাকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তখন তার পিতা বললেন: এই দুটি হাদিসই ভুল; আমার জানামতে শাবী উসামাহ থেকে কিছুই শোনেননি। (সমাপ্ত)
আর এখানে সরাসরি শোনার (সামা') যে স্পষ্ট উক্তি রয়েছে, তা সম্ভবত পাণ্ডুলিপি অনুলিপিকারীদের বা মুদ্রণকারীদের ভুল হতে পারে অথবা কোনো বর্ণনাকারীর বিভ্রম হতে পারে। যা-ই হোক, হাফিযের (ইমাম আবু হাতিম) বক্তব্য এমন কোনো কপির উপর অগ্রগণ্য যা আমাদের কাছে শ্রুত নয়, আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
৭-ইমাম তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) বলেছেন (ইব্রাহিম আতওয়াহর তাহকিককৃত ৪র্থ খণ্ড, ৩৮০ পৃষ্ঠা):
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ بِمَكَّةَ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ قَالَا حَدَّثَنَا الْأَحْوَصُ بْنُ جَوَّابٍ عَنْ سُعَيْرِ بْنِ الْخِمْسِ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ مَنْ صُنِعَ إِلَيْهِ مَعْرُوفٌ فَقَالَ لِفَاعِلِهِ جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا فَقَدْ أَبْلَغَ فِي الثَّنَاءِ.
قَالَ أَبُو عِيسَى: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ جَيِّدٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ، وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ بِمِثْلِهِ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا فَلَمْ يَعْرِفْهُ.
هذا الحديث إذا نظرت إلى سنده وجدتهم ما بين ثقة وصدوق، فظاهره الحسن، ولكن ابن أبى حاتم يقول في "العلل" (ج2ص350) سمعت أبى يقول: هذا حديث منكر بهذا الإسناد.
হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী মক্কায় এবং ইবরাহীম ইবনু সাঈদ আল-জাওহারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আল-আহওয়াস ইবনু জওয়াব আমাদের কাছে সুআইর ইবনুল খিমস থেকে, তিনি সুলাইমান আত-তাইমী থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদী থেকে এবং তিনি উসামা ইবনু যায়িদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যার প্রতি কোনো অনুগ্রহ করা হলো, সে যদি তার উপকারকারীকে বলে ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’ (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন), তবে সে প্রশংসার পূর্ণ হক আদায় করল।”
আবু ঈসা বলেন: এই হাদীসটি হাসান জাইয়িদ গারীব। উসামা ইবনু যায়িদের বর্ণিত হাদীস হিসেবে কেবল এই সূত্রেই আমরা এটি অবগত হয়েছি। আবু হুরায়রা থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আমি মুহাম্মদকে (ইমাম বুখারী) এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু তিনি এটি চিনতে পারেননি।
এই হাদীসটির সনদের দিকে তাকালে আপনি তাদের নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদীদের স্তরের অন্তর্ভুক্ত পাবেন, তাই বাহ্যিকভাবে এটি হাসান; কিন্তু ইবনু আবি হাতিম ‘আল-ইলাল’ গ্রন্থে (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৫০) বলেছেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, এই সনদে এই হাদীসটি মুনকার (অস্বীকৃত)।
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مسند أسامة بن عمير رضي الله عنه
8-قال الإمام أبو عبد الله الحاكم رحمه الله (ج4ص2
92) : حدثنا علي بن عيسى، ثنا أحمد بن نجدة القرشي، ثنا سعيد بن منصور، ثنا محمد بن حمران، ثنا خالد الحذاء، عن أبي تميمة، عن أبي المليح بن أسامة، عن أبيه، رضي الله عنه، قال: كنت رديف رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم فعثر بعيرنا فقلت: تعس الشيطان، فقال لي النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ: " لا تقل تعس الشيطان، فإنه يستعظم حتى يكون مثل البيت ويقوى، ولكن قل بسم الله، فإذا قلت: بسم الله تصاغر حتى يصير مثل الذباب "0
الحديث معروف عن أبى المليح عن رديف النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ غير مسمى، حتى قال الإمام المزي في "تحفة الأشراف": رواه جماعة عن خالد، لم يقولوا: عن أبيه، قالوا عن رجل.
وقال الإمام النسائي في عمل "اليوم والليلة" (ص374) بعد أن ذكره من طريق عبد الله بن المبارك، عن خالد الحذاء، عن أبى تميمة، عن أبى المليح، عن رديف رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ثم ذكره من طريق محمد بن حمران، عن خالد، عن أن أبى تميمة عن أبى المليح، عن أبيه. قال: الصواب عندنا حديث عبد الله بن المبارك وهذا عندي خطأ.
9- قال الحاكم رحمه الله (ج4ص292) : حدثنا علي بن حمشاذ العدل، ثنا أبو المثنى، ثنا مسدد، ثنا يزيد بن زريع، ثنا خالد الحذاء، عن أبي تميمة،
উসামা ইবনে উমায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসনাদ৮-ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৪র্থ খণ্ড, ২৯২ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে ঈসা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে নাজদাহ আল-কুরাশী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনে মানসুর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে হুমরান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ আল-হাজ্জা, আবু তামীমাহ থেকে, তিনি আবু আল-মালিহ ইবনে উসামা থেকে, তিনি তাঁর পিতা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে আরোহী ছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের উটটি হোঁচট খেল। তখন আমি বললাম: শয়তান ধ্বংস হোক। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন: "তুমি 'শয়তান ধ্বংস হোক' বলো না, কেননা এতে সে নিজেকে এতো বড় মনে করে যে শেষ পর্যন্ত ঘরের মতো বিশাল হয়ে যায় এবং শক্তিশালী হয়। বরং তুমি বলো 'বিসমিল্লাহ' (আল্লাহর নামে)। কারণ যখন তুমি 'বিসমিল্লাহ' বলবে, তখন সে সংকুচিত হতে হতে মাছির মতো হয়ে যায়।"
এই হাদিসটি আবু আল-মালিহ থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে আরোহী জনৈক নামহীন ব্যক্তির সূত্রে প্রসিদ্ধ। এমনকি ইমাম আল-মিযযী 'তুহফাতুল আশরাফ'-এ বলেছেন: একদল বর্ণনাকারী এটি খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা ‘তাঁর পিতা থেকে’ বলেননি, বরং বলেছেন ‘এক ব্যক্তি থেকে’।
ইমাম আন-নাসায়ী 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (পৃষ্ঠা ৩৭৪)-এ এটি আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের সূত্রে, খালিদ আল-হাজ্জা, আবু তামীমাহ ও আবু আল-মালিহ হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে আরোহী ব্যক্তি থেকে উল্লেখ করার পর পুনরায় মুহাম্মাদ ইবনে হুমরানের সূত্রে, খালিদ, আবু তামীমাহ ও আবু আল-মালিহ হয়ে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের হাদিসটিই সঠিক এবং এটি আমার নিকট ভুল।
৯- আল-হাকিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (৪র্থ খণ্ড, ২৯২ পৃষ্ঠা): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে হিমশায আল-আদল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-মুসান্না, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াযীদ ইবনে যুরাই, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ আল-হাজ্জা, আবু তামীমাহ থেকে,
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عن رديف رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم أنه عثرت به دابته فقال: تعس الشيطان فقال رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ: لا تقل تعس الشيطان فإنك إن قلت تعس الشيطان تعاظم وقال بقوتي صرعته وإذا قيل بسم الله خنس حتى يصير مثل الذباب) .
هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه.
أبو تميمة هو طريف بن مجالد لم يذكر أنه سمعه من ردف رسول الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ وقد جاء في "سنن أبي داود" و "عمل اليوم والليلة" من طريق عبد الله بن المبارك، عن خالد الحذاء، عن أبي تميمة، عن ابي المليح، عن ردف النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ. فعلم أن في رواية الحاكم رحمه الله سقطاً وهو أبو المليح والله أعلم.
والحديث أخرجه أحمد (ج5ص59) من حديث عاصم بن سليمان الأحول، كما جاء مصرحاً به في "المسند" (ج5ص71) وهو في هذا الموضع عن أبي تميمة عن رديف النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم رجل عن ردف النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم فَتُؤُكِّد من السقط، والحمد لله.
10-قال الإمام أحمد رحمه الله (ج5ص74) : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ وَابْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ بْنِ أُسَامَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ جُلُودِ السِّبَاعِ.
ثم قال ص (75) : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ جُلُودِ السِّبَاعِ.
الحديث أخرجه أبو داود (ج11ص194) ، وأخرجه الترمذي (ج5ص467) ثم قال: ولا نعلم أحدا قال (عن أبى المليح عن أبيه) غير سعيد بن أبى عروبة، ثم قال: حدثنا محمد بن بشار، حدثنا محمد بن جعفر، عن شعبة عن يزيد الرشك، عن أبى المليح، عن النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وعلى آله وَسَلَّمَ أنه نهى عن جلود السباع ، وهذا أصح.
زاد الحافظ المزي في"تحفة الأشراف" عازيا له إلى الترمذي: وعن ابن بشار عن
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পেছনে আরোহী এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত যে, তাঁর বাহনটি হোঁচট খেল, তখন তিনি বললেন: "শয়তান ধ্বংস হোক"। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "শয়তান ধ্বংস হোক—একথা বলো না। কারণ, তুমি যদি 'শয়তান ধ্বংস হোক' বলো, তবে সে অহংকারে ফুলে ফেঁপে বিশাল হয়ে যায় এবং বলে, 'আমি আমার শক্তিবলে তাকে কুপোকাত করেছি'। আর যখন 'বিসমিল্লাহ' (আল্লাহর নামে) বলা হয়, তখন সে সংকুচিত হয়ে মাছির মতো হয়ে যায়।"
এই হাদিসটির সনদ সহিহ, তবে তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।
আবু তামিমা হলেন তারিফ ইবনে মুজালিদ। তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পেছনে আরোহী ব্যক্তির কাছ থেকে এটি সরাসরি শুনেছেন বলে উল্লেখ করেননি। তবে এটি "সুনানে আবু দাউদ" এবং "আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ"-তে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি খালিদ আল-হাজ্জা থেকে, তিনি আবু তামিমা থেকে, তিনি আবু মালিহ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পেছনে আরোহী ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন। এতে বোঝা যায় যে, ইমাম হাকিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনায় একজন বর্ণনাকারী বাদ পড়েছেন, আর তিনি হলেন আবু মালিহ। আল্লাহই ভালো জানেন।
হাদিসটি ইমাম আহমাদ (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫৯) আসিম ইবনে সুলাইমান আল-আহওয়ালের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। যেমনটি স্পষ্টভাবে "আল-মুসনাদ" (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৭১)-এ এসেছে এবং এই স্থানে এটি আবু তামিমা থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পেছনে আরোহী ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এতে সেই বর্ণনাকারী বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেল। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।
১০-ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৭৪): আমাদের কাছে ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ এবং ইবনে জাফর, তারা বলেন আমাদের কাছে সাঈদ বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু মালিহ ইবনে উসামাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।
অতঃপর তিনি ৭৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু মালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।
হাদিসটি আবু দাউদ (খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ১৯৪) এবং তিরমিজি (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৬৭) বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ ছাড়া আর কাউকে 'আবু মালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে'—এভাবে বলতে আমরা জানি না। এরপর তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে বাশার বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাফর থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি ইয়াজিদ আর-রিশক থেকে, তিনি আবু মালিহ থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। আর এটিই অধিকতর সঠিক।
হাফিজ আল-মিজ্জি 'তুহফাতুল আশরাফ'-এ তিরমিজির দিকে সম্পৃক্ত করে আরও বর্ধিত করেছেন: এবং ইবনে বাশার থেকে...
(খণ্ড: ১)
আহাদীছু মুআল্লাতুন জাহিরুহাস সিহাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
معاذ بن هشام عن أبيه عن قتادة عن أبى المليح أنه كره جلود السباع. أهـ
فسعيد بن أبى عروبة يعتبر شاذا، لأنه خالف من هو أرجح منه، والله أعلم.
والحديث ذكره الإمام الترمذي في "العلل" (ج2ص741) بعد أن ذكره من حديث سعيد بن أبى عروبة متصلا، قال: سألت محمدا يعنى البخاري، فقال: سعيد بن أبى عروبة روى عن قتادة، عن أبى المليح، عن أبيه عن النبي صلى الله عليه وَعَلَى آلِهِ وسلم ، وروى هشام عن قتادة عن أبى المليح فقال: نهى عن جلود السباع، ولم يعرض محمد في هذا بشئ أيهما أصح.
قال أبو عيسى: وروى شعبة هذا الحديث عن يزيد الرشك، عن أبى المليح، أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم نهى عن جلود السباع، ولم يذكر فيه عن أبيه. أهـ
11-قال الطبراني (ج1ص191) : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بن يَحْيَى الْقَزَّازُ، حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ الْحَوْضِيُّ، وَهَانِي بن يَحْيَى، قَالا: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَجُلا أَعْتَقَ شِقْصًا مِنْ مَمْلُوكٍ، فَأَجَازَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ عِتْقَهُ، وَقَالَ: لَيْسَ لِلَّهِ شَرِيكٌ. هذا إسناد قوى كما قال الحافظ في "الفتح" (ج5ص159) .
وأخرجه أحمد (ج5ص759) من طريق عبد الله بن بكر السهمي، ثنا سعيد، عن قتادة به موصولا، ثم قال: ثنا بهز، عن همام، قال: حديث الشقص في العبد مرسل. وأخرجه أبو داود (4970) موصولا، فقال: أخبرنا محمد بن المثنى، قال: ثنا أبو الوليد، قال: ثنا همام، قال: ثنا قتادة. وأخبرنا محمد بن معمر، قال: ثنا حبان، قال: ثنا همام به، ثم رواه (4971) فقال أخبرنا المؤمل بن هشام، قال: ثنا إسماعيل، عن سعيد، عن قتادة، عن أبى المليح به مرسلا. وقال (4972) : أخبرنا محمد بن المثنى، قال: حدثنى أبو عامر، قال: ثنا هشام، عن قتادة، عن أبى المليح به مرسلا.
وأخرجه النسائي في "الكبرى" (3933) فقال: حدثنا أبو الوليد الطيالسى، قال: ثنا
মুয়াজ ইবনে হিশাম তার পিতা থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি হিংস্র পশুর চামড়া অপছন্দ করতেন। সমাপ্ত।
সুতরাং সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ-এর বর্ণনাটি শায (বিচ্ছিন্ন) হিসেবে গণ্য হবে, কারণ তিনি তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিরোধিতা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
ইমাম তিরমিযী হাদীসটি 'আল-ইলাল' গ্রন্থে (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৪১) উল্লেখ করেছেন, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ-এর সূত্রে এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: আমি মুহাম্মাদকে (অর্থাৎ ইমাম বুখারীকে) এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে হিশাম কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী) এই দুই বর্ণনার মধ্যে কোনটি অধিক সঠিক সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।
আবু ঈসা (তিরমিযী) বলেন: শু’বা এই হাদীসটি ইয়াযিদ আর-রিশক থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম হিংস্র পশুর চামড়া ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন; এবং এতে তিনি ‘তার পিতা থেকে’ কথাটি উল্লেখ করেননি। সমাপ্ত।
১১-আত-তাবারানী বলেন (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯১): মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-কাযযায আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু উমর আল-হাওযী এবং হানি ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: হাম্মাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি তার গোলামের একটি অংশকে মুক্ত করে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তার সেই মুক্তিদানকে অনুমোদন করলেন এবং বললেন: "আল্লাহর কোনো শরীক নেই।" এই সনদটি শক্তিশালী, যেমনটি হাফিজ (ইবনে হাজার) 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৫৯) বলেছেন।
ইমাম আহমাদ এটি (খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৭৫৯) আব্দুল্লাহ ইবনে বকর আস-সাহমী-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কাতাদাহ থেকে মুত্তাসিল (সংযুক্ত) হিসেবে। এরপর তিনি বলেন: বাহয আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাম্মাম থেকে, তিনি বলেন: দাসের অংশ মুক্তির হাদীসটি মুরসাল। আবু দাউদ এটি (৪৯৭০) মুত্তাসিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্মাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: কাতাদাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন। মুহাম্মাদ ইবনে মা’মার আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাব্বান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাম্মাম আমাদের এটি শুনিয়েছেন। এরপর তিনি এটি (৪৯৭১) বর্ণনা করেছেন এভাবে: মুয়াম্মাল ইবনে হিশাম আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাঈল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি (৪৯৭২) আরও বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আমাদের খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আমির আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আবুল মালিহ থেকে এটি মুরসাল হিসেবে।
আন-নাসাঈ এটি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (৩৯৩৩) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন...