(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: -)
إعراب القرآن العظيم المنسوب لزكريا الانصارى القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: إعراب القرآن العظيم
المؤلف: زكريا بن محمد بن أحمد بن زكريا الأنصاري، زين الدين أبو يحيى السنيكي (ت 926هـ)
دراسة وتحقيق: د. موسى على موسى مسعود
رسالة : ماجستير - جامعة القاهرة - كلية دار العلوم - قسم النحو والصرف والعروض
إشراف: د محمد علي حسنين صبرة
عام النشر: 1421 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 574
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জাকারিয়া আল-আনসারীর প্রতি সম্বন্ধিত (منسوب) ই’রাবুল কুরআনিল আজিম বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং তাফসিরের মূলনীতিসমূহ (أصول التفسير)
কিতাব: ই’রাবুল কুরআনিল আজিম
লেখক: জাকারিয়া বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন জাকারিয়া আল-আনসারী, যাইনুদ্দিন আবু ইয়াহইয়া আস-সুনাইকি (ওফাত ৯২৬ হিজরি)
গবেষণা ও যাচাইকরণ (تحقيق): ড. মুসা আলী মুসা মাসউদ
গবেষণাপত্র : মাস্টার্স - কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় - দারুল উলুম অনুষদ - নাহু, সরফ ও আরুজ বিভাগ
তত্ত্বাবধান: ড. মুহাম্মাদ আলী হাসনাইন সাবরা
প্রকাশকাল: ১৪২১ হিজরি - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭৪
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
بسم الله الرحمن الرحيم
الكتاب: إعراب القرآن العظيم
المؤلف: شيخ الإسلام / أبو يحيى زكريا الأنصاري
المتوفى 926
حققه وعلق عليه: د. موسى على موسى مسعود (رسالة ما جستير)
دار النشر: لا توجد
الطبعة الأولى: 1421 هـ - 2001 م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থ: ইরাবুল কুরআনিল আজিম
লেখক: শায়খুল ইসলাম / আবু ইয়াহইয়া জাকারিয়া আল-আনসারি
মৃত্যু ৯২৬ হিজরি
সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: ড. মুসা আলি মুসা মাসউদ (মাস্টার্স থিসিস)
প্রকাশনী: উল্লেখ নেই
প্রথম সংস্করণ: ১৪২১ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
سورة الفاتحةقوله: (بِسْم اللهِ) :
إنْ قيل: لِمَ حُذِفَت الألفُ هنا، وأثْبتَتْ في: (اقرأْ
باسم ربك "؟.
قيل: حذفت هنا؛ لكثرة الاستعمال.
فإن قيل: كيف أُضيفَ الاسمُ إلى الله، والله هو الاسم؟
قيل: الاسم لازم للمسمى، والتسمية غير الاسم.
وقيل: في الكلام حذف مضاف، تقديره: باسم مسمى الله.
والأصل في الله: الإله، فألْقِيَتْ حركة الهمزة على اللام المعرّفة، ثم سكنت وأدغمت في اللام الثانية، ثُمَّ فُخمَتْ إذا لم يكن قبلها كسرة، ورققت إذا كان قبلها كسرة.
والتفخيم في هذا الاسم من خواصّهِ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সূরা আল-ফাতিহাতাঁর উক্তি: (আল্লাহর নামে):
যদি প্রশ্ন করা হয়: এখানে কেন 'আলিফ' বিলুপ্ত (حذفت) করা হয়েছে, আর "আপনার রবের নামে পাঠ করুন" আয়াতে কেন তা বহাল (أثبتت) রাখা হয়েছে?
উত্তর দেওয়া হয়েছে: অধিক ব্যবহারের কারণে এখানে তা বিলুপ্ত (حذفت) করা হয়েছে।
যদি প্রশ্ন করা হয়: কীভাবে 'নাম' (اسم)-কে আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হলো, অথচ আল্লাহ তো নিজেই নাম?
উত্তর দেওয়া হয়েছে: নাম (اسم) নামী (مسمى)-এর জন্য অপরিহার্য, আর নামকরণ (تسمية) নাম থেকে ভিন্ন।
আরও বলা হয়েছে: বক্তব্যে একটি সম্বন্ধপদ (مضاف) উহ্য রয়েছে, যার অনুমিত রূপ হলো: আল্লাহর সত্তার (مسمى) নামে।
'আল্লাহ' শব্দের মূল হলো: 'আল-ইলাহ', অতঃপর হামজার হরকতটি নির্দিষ্টতাবোধক 'লাম'-এর ওপর অর্পণ করা হয়েছে, এরপর তা সাকিন করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় 'লাম'-এর সাথে সন্ধি বা ইদগাম (إدغام) করা হয়েছে। অতঃপর যদি তার পূর্বে 'কাসরা' (জের) না থাকে তবে তা মোটা বা তাফখিম (تفخيم) করে পড়তে হয়, আর যদি তার পূর্বে 'কাসরা' থাকে তবে তা পাতলা বা তারকিক (ترقيق) করে পড়তে হয়।
আর এই নামে মোটা বা তাফখিম (تفخيم) করাটি এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৬২)
قوله: (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) : صفتان مشتقتان من الرحمة. و (الرحمنُ " من أبنية المبالغة.
وفى " الرحيم " مبالغة أيضًا، إلا أن " فعلانا " أبلغ من " فعيل ".
وجرهما على الصفة، والعامل في الصفة هو العامل في الموصوف.
قوله: (الْحَمْدُ للهِ) : (الحمد) : مبتدأ. و (لله) : الخبر، واللام متعلقة: بحذوف، أي: واجب أو ثابت.
قوله: (رَبِّ) : مصدر ربّ يرُبُّ، ثم جعل صفة، كـ " عدل وخصم ".
قوله: (الْعَالَمِينَ) : واحدهُ: عالَم.
قوله: (مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ) : صفة، وقرئ: مَالِكِ.
فإن أريد به الحال أو الاستقبال فلا يتعرف فلا يصير صفة، وإن أريد به المضى تعرف وصار صفة.
قوله: (إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ) :(إياك " و (إياك) : مفعولان مقدمان
للاهتمام. وأصل " نَسْتَعِينُ" نَسْتَعْوِنُ، على وزن نَسْتَفْعِل، فاستُثْقِلَت الكسرة على الواو،، فنُقِلَتْ إلى العين، ثم قُلِبَتْ ياء، لسكونها وانكسار ما قبلها.
قوله: (اهْدِنَا الصِّرَاطَ) ، (اهدنا) : أمر، وهو مبنى عند البصريين، ومعرب بلام محذوفة عند الكوفيين.
و (اهد) : يتعدى إلى مفعولين.
قوله: (غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ) .
" غير " هنا: بدل من " الذين " أو من: الهاء والميم في: (عليهم ".
তাঁর উক্তি: (আর-রহমানির রাহিম): রহমত (رحمة) থেকে উদ্ভূত দুটি গুণবাচক শব্দ বা সিফাত (صفة)। আর "আর-রহমান" শব্দটি আতিশয্যবোধক শব্দরূপ (مبالغة) থেকে এসেছে।
এবং "আর-রাহিম" শব্দেও আতিশয্য (مبالغة) রয়েছে, তবে "ফালানু" শব্দরূপটি "ফায়িলুন" এর তুলনায় অধিক জোরালো (أبلغ)।
শব্দ দুটির মাজরুর হওয়া সিফাত (صفة) হওয়ার কারণে; আর সিফাত (صفة) এর আমিল (عامل) হলো তাই, যা মাওসুফ (موصوف) এর আমিল (عامل)।
তাঁর উক্তি: (আল-হামদুলিল্লাহি): (আল-হামদু) হলো মুবতাদা বা উদ্দেশ্য (مبتدأ)। আর (লিল্লাহি) হলো খবর বা বিধেয় (خبر), এবং 'লাম' অক্ষরটি একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, যার অর্থ: অবধারিত বা সাব্যস্ত।
তাঁর উক্তি: (রব্বি): এটি 'রব্বা-ইয়ারুব্বু' এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল (مصدر), অতঃপর একে সিফাত (صفة) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যেমন 'আদল' এবং 'খাসম' শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়।
তাঁর উক্তি: (আল-আলামিন): এর একবচন হলো: আলম।
তাঁর উক্তি: (মালিকি ইয়াওমিদ দ্বীন): এটি সিফাত (صفة) হিসেবে ব্যবহৃত, আর একে 'মালিকি' হিসেবেও পাঠ করা হয়েছে।
যদি এর দ্বারা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল উদ্দেশ্য হয়, তবে এটি নির্দিষ্ট বা মারেফা (معرفة) হয় না, ফলে তা সিফাত (صفة) হতে পারে না। কিন্তু যদি এর দ্বারা অতীতকাল উদ্দেশ্য হয়, তবে তা নির্দিষ্ট (معرفة) হয় এবং সিফাত (صفة) হিসেবে গণ্য হয়।
তাঁর উক্তি: (ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন):(ইয়্যাকা) এবং (ইয়্যাকা) শব্দ দুটি গুরুত্ব প্রদানের জন্য অগ্রবর্তী দুটি কর্মপদ বা মাফউল (مفعول به)। আর "নাস্তাঈন" এর মূল রূপ হলো "নাস্তাওয়িনু", যা "নাস্তাফইলু" এর ওজনে ছিল। এরপর 'ওয়াও' বর্ণের ওপর কাসরা ভারী হওয়ার কারণে তা 'আইন' বর্ণে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অতঃপর 'ওয়াও' বর্ণটি সাকিন হওয়ার কারণে এবং তার পূর্বের বর্ণে কাসরা থাকায় তাকে 'ইয়া' বর্ণে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
তাঁর উক্তি: (ইহদিনাস সিরাত), (ইহদিনা) শব্দটি একটি আম্র বা অনুজ্ঞা (أمر); এটি বসরাবাসীদের মতে মাবনি বা অপরিবর্তনীয় (مبنى), আর কুফাবাসীদের মতে এটি একটি উহ্য 'লাম' এর কারণে মু'রাব বা পরিবর্তনশীল (معرب)।
এবং (ইহদি) শব্দটি দুটি মাফউল বা কর্মপদ (مفعول به) গ্রহণ করে।
তাঁর উক্তি: (গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম)।
এখানে "গাইরি" শব্দটি "আল্লাযিনা" থেকে বদল (بدل) হিসেবে এসেছে অথবা (আলাইহিম) শব্দের মধ্যকার 'হা' এবং 'মিম' থেকে বদল (بدل) হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
وقيل: هو صفة.
فإن قيلَ: كيف يكون صفة وهو نكرة؛ لأن " غيرًا " لا يتعرف بالإضافة؟
فالجواب على ذلك من وجهين:
أحدهما: أن " غيرًا " إذا وقعت بين متضادين تعرفت، وهنا وقعت كذلك.
والثاني: أن " الذين " قريب من النكرة؛ لأنه لم يُقْصَدْ بهم ناس بأعيانهم
و" عليهم) : في محل رفع بـ " المغضوب "؛ لأنه اسم مفعول.
قوله: (ولا الضالينَ ":
(لا) : زائدة؛ للتأكيد عند البصريين.
وبمعنى:، (غير) عند الكوفيين.
وأما " آمِينَ " ْ فهى اسم فعل ومعناه: استجب اللهمَّ، والله أعلم.
এবং বলা হয়েছে: এটি একটি বিশেষণ (صفة)।
যদি প্রশ্ন করা হয়: এটি কীভাবে বিশেষণ (صفة) হতে পারে অথচ এটি অনির্দিষ্ট (نكرة); কারণ "গাইর" শব্দটি সম্বন্ধের (إضافة) মাধ্যমে নির্দিষ্ট (معرفة) হয় না?
এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
প্রথমত: "গাইর" শব্দটি যখন দুটি বিপরীতধর্মী শব্দের মাঝে আসে তখন তা নির্দিষ্ট (معرفة) হয়ে যায়; আর এখানে তা এভাবেই এসেছে।
দ্বিতীয়ত: "আল্লাজিনা" শব্দটি অনির্দিষ্টের (نكرة) কাছাকাছি; কেননা এর মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করা হয়নি।
এবং "আলাইহিম": এটি "মাগদুব" শব্দের কারণে রফ (رفع) এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে; কারণ এটি একটি কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول)।
তাঁর বাণী: (ওয়া লাদ-দ্বল্লিন) ":
(লা): বসরাবাসীদের মতে এটি তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য অতিরিক্ত (زائدة)।
এবং কুফাবাসীদের মতে এটি "গাইর" এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আর "আমিন" প্রসঙ্গে, এটি একটি ক্রিয়ামূলক বিশেষ্য (اسم فعل) এবং এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ! আপনি কবুল করুন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৬৪)
سورة البقرة
قوله: (الم) :موضعها جر؛ على القسم، وحرف القسم محذوف، وبقى
عمله، بعد الحذف؛ لأف مراد، فهو كاللفوظ به،، كما قالوا: (اللهِ لَتَفْعَلَنَّ " في لغة، مَنْ جرّ ".
وقيل: موضعها نصب، على تقدير حذف القسم، كما تقول: (اللهَ لأفْعَلَنَّ ".
أو الناصب فعل محذوف تقديره: (التزمت اللهَ، أي: اليمين، بالله.
وقيل: على أنه مفعول به تقديره: (اتلُ آلم "،.
قوله: (ذلكَ "؛ اسم إشارة؛ " ذا) : الاسم، والألف من جملة الاسم.
وقال الكوفيون: الذال وحدها هي الاسم، والألف زائدة؛ لتكثير
الكلمة.
ويجوز أن يكون " الم " مبتدأ. و (ذلك) : خبره.
و" الكتاب) : صفة اسم الإشارة، أو عطف بيان.
قوله: (لا رَيبَ فيهِ) : الجملة حالية، أي: ذلك الكتاب حقٍّا و (فيه) :
خبر " لا ".
قوله: (هُدًى) : مصدر في موضع الحال، أي في حال كونه هاديا، وألف " هدى " منقلبة عن ياء لقولهم: هديت، والهدي.
قوله: (الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ) : صفة " للمتقين "
وأصل " يُؤْمِنُونَ " يُأَأمنون - بهمزتين - والماضي منه: آمن، وأصله: أأمن، ووزنه:
সূরা আল-বাকারাতাঁর বাণী: (আলিফ-লাম-মীম):এর অবস্থান হলো ‘যার’; এটি শপথের ভিত্তিতে, আর এখানে শপথের অব্যয়টি উহ্য রয়েছে এবং উহ্য হওয়ার পরেও এর আমল বা ব্যাকরণগত প্রভাব অবশিষ্ট রয়েছে; যেহেতু এটিই উদ্দেশ্য, তাই এটি উচ্চারিত শব্দের মতোই গণ্য হবে। যেমন তারা বলেন: "আল্লাহি লা-তাফ’আলান্না", ঐসব লোকের ভাষায় যারা এখানে ‘যার’ প্রদান করেন।
কেউ কেউ বলেছেন: শপথের অব্যয় উহ্য ধরার ভিত্তিতে এর অবস্থান হলো ‘নাসব’, যেমন আপনি বলেন: "আল্লাহা লা-আফ’আলান্না"।
অথবা নাসব প্রদানকারী হলো একটি উহ্য ক্রিয়া যার সম্ভাব্য রূপ: "আমি আল্লাহকে আবশ্যক করে নিয়েছি", অর্থাৎ: আল্লাহর নামে শপথ।
আবার কেউ বলেছেন: এটি ‘মাফউল বিহি’ বা কর্ম হিসেবে রয়েছে যার সম্ভাব্য রূপ: "আলিফ-লাম-মীম তিলাওয়াত করো"।
তাঁর বাণী: (যালিকা); এটি ‘ইশারা’ বা ইঙ্গিতসূচক বিশেষ্য; ‘যা’ হলো মূল বিশেষ্য এবং আলিফটি সেই বিশেষ্যেরই অংশ।
কুফাবাসীরা বলেছেন: কেবল ‘যাল’ বর্ণটিই হলো বিশেষ্য, আর আলিফটি শব্দের কলেবর বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
এটিও জায়েয যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ ‘মুবতাদা’ হবে এবং ‘যালিকা’ তার ‘খবর’ হবে।
আর ‘আল-কিতাব’ শব্দটি ইশারা বা ইঙ্গিতসূচক বিশেষ্যের ‘সিফাত’ বা বিশেষণ, অথবা ‘আতফে বয়ান’।
তাঁর বাণী: (লা রায়বা ফীহি): এই বাক্যটি ‘হাল’ হিসেবে এসেছে, অর্থাৎ: এই কিতাবটি ধ্রুব সত্য। আর ‘ফীহি’ অংশটি ‘লা’-এর ‘খবর’।
তাঁর বাণী: (হুদাঁ): এটি একটি ‘মাসদার’ যা ‘হাল’-এর অবস্থানে রয়েছে, অর্থাৎ পথপ্রদর্শক হওয়া অবস্থায়। ‘হুদাঁ’ শব্দের আলিফটি ‘ইয়া’ থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে, যেহেতু তারা বলে: ‘হাদাইতু’ এবং ‘আল-হাদইউ’।
তাঁর বাণী: (আল্লাযীনা ইউ’মিনূনা): এটি মুত্তাকীদের জন্য ‘সিফাত’ বা বিশেষণ।
‘ইউ’মিনূনা’ শব্দের মূল রূপ ছিল ‘ইউ-আ-মিনূনা’—দুটি হামযাহ সহ। এর অতীতকাল হলো ‘আ-মানা’, যার মূল রূপ ছিল ‘আ’মানা’ এবং এর ‘ওযান’ বা ছাঁদ হলো:
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৬৫)
" أفعلَ "، فالأولى مزيدة، والثانية أصلية؛ لأنه من الأمن، ثم قُلِبَتِ الأصلية ألفًا، وإنما انقلبتْ ألفا؛ لوقوعها ساكنة بعد حرف مفتوح.
قوله: (وَيُقِيمُونَ) : أصله: (يُقْوِمُون "؛ استثقلت الكسرة على الواو، فنقلت إلى القاف قبلها، وقلبت الواو ياءً؛ لانكسار ما قبلها.
قوله: (وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ) أصله: (رزقناهموه) .
قلت: وهنا سؤال: لأن الضمِير المحذوف لا يخلو: إما أن يكون متصلاً،
أو منفصلاً؛ فإن كان منفصلا، فلا يجوز حذفه، وإن كان متصلا، اجتمع ضميرا غيبة.
قوله: (سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ. . .) : (الجملة خبر " إن ".
قوله،: (اشْتَرَوُا " أصله: اشْتَرَيَوا، فقلبت الياء واوا؛ لتحركها وانفتاح ما قبلها، ثم حذفت؛ لالتقاء الساكنين.
قوله: (استوْقَدَ "، بمعنى: أوقد - كاستجاب، بمعنى: أجاب.
"আফয়ালা (أفعل)", এখানে প্রথমটি অতিরিক্ত (مزيدة) এবং দ্বিতীয়টি মূল (أصلية); কারণ এটি 'আমন' (أمن) ধাতু থেকে নির্গত, এরপর মূল বর্ণটিকে আলিফে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এটি আলিফে রূপান্তরিত হওয়ার কারণ হলো ফাতহাযুক্ত অক্ষরের পরে তা সাকিন (ساكنة) অবস্থায় আসার ফলে।
তাঁর বাণী: (وَيُقِيمُونَ): এর মূল রূপ ছিল 'ইউক্বউইমূনা' (يُقْوِمُونَ); ওয়াও (و) বর্ণের ওপর কাসরাহ (كسرة) উচ্চারণ করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় তা পূর্ববর্তী ক্বাফ (ق) বর্ণে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ওয়াও বর্ণটিকে ইয়ায় (ياء) রূপান্তরিত করা হয়েছে, যেহেতু তার পূর্ববর্তী বর্ণটি কাসরাহযুক্ত।
তাঁর বাণী: (وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ), এর মূল রূপ ছিল 'রাযাক্বনামুহূ' (رزقناهموه)।
আমি বলছি: এখানে একটি প্রশ্ন রয়েছে: কেননা বিলুপ্ত (محذوف) সর্বনামটি (ضمير) দুই অবস্থার বাইরে নয়: হয় সেটি সংযুক্ত (متصل) হবে,
অথবা পৃথক (منفصل) হবে। যদি তা পৃথক (منفصل) হয়, তবে তা বিলুপ্ত (حذف) করা বৈধ নয়। আর যদি তা সংযুক্ত (متصل) হয়, তবে সেখানে নামপুরুষের (غيبة) দুটি সর্বনাম একত্রিত হয়ে যায়।
তাঁর বাণী: (سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ. . .): এই বাক্যটি হলো 'ইন্না' (إن)-এর খবর (خبر)।
তাঁর বাণী: (اشْتَرَوُا), এর মূল রূপ ছিল 'ইশতারাইয়াউ' (اشْتَرَيَوا), অতঃপর ইয়া বর্ণটি ওয়াও-তে রূপান্তরিত হয়েছে কারণ তা হরকতযুক্ত এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণটি ফাতহাযুক্ত। এরপর দুই সাকিন একত্রিত (التقاء الساكنين) হওয়ার কারণে তা বিলুপ্ত হয়েছে।
তাঁর বাণী: (استوْقَدَ), এটি 'আওক্বাদা' (أوقد)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে—যেমন 'ইসতাজাবা' (استجاب) শব্দটি 'আজাবা' (أجاب)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
كما قال:
وَداع دَعَا يَا مَنْ يجِيبُ إِلَى النَّدَى. . . فَلَمْ يَسْتَجْبِهُ عِندَ ذَاكَ مُجِيبُ
وكدا استقر،: بمعنى: أقر.
وقيل: استوقد لا يكون بمعنى أوقد، كما لا يكون استعلم بمعنى: أعلم.
قوله: (أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ) :يجوز في " أضاءت " أن يكون الفعل متعديًا، وأن يكون قاصرا.
تقول في تعديته: أضاءت الشمس البقعة، وأضاء القمر الدار.
ومنه قول الفرزدق:
أعِدْ نَظَرًا يَا عَبْدَ شَمْسِ لَعَلَّمَا. . . أضَاءَتْ لَكَ النَّارُ الْحِمَارَ الْمُقَيَّدَا
ويجوز أن تكون " ما " في محل رفع على الفاعلية، فتكون "ما" موصولة، ويعضده، قراءة من قرأ:
যেমন তিনি বলেছেন:
একজন আহ্বানকারী ডাক দিলেন, হে মহানুভবতার ডাকে সাড়াদানকারী... কিন্তু তখন কোনো উত্তরদাতা তাকে সাড়া দেয়নি।
অনুরূপভাবে ‘ইস্তাকাররা’ (استقر) অর্থ হলো ‘আকাররা’ (أقر) বা স্থির হওয়া।
বলা হয়েছে: ‘ইস্তাওকাদা’ (استوقد) শব্দটি ‘আওকাদা’ (أوقد) অর্থে ব্যবহৃত হয় না, যেমন ‘ইস্তাইলামা’ (استعلم) শব্দটি ‘আ’লামা’ (أعلم) অর্থে ব্যবহৃত হয় না।
তাঁর উক্তি: (যা তার চারপাশকে আলোকিত করেছে):‘আদাআত’ (أضاءت) ক্রিয়াটির ক্ষেত্রে সকর্মক (متعدي) হওয়া এবং অকর্মক (قاصر) হওয়া—উভয়টিই ব্যাকরণগতভাবে বৈধ।
সকর্মক হিসেবে এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে বলা যায়: সূর্য স্থানটিকে আলোকিত করেছে এবং চাঁদ ঘরটিকে আলোকিত করেছে।
এ প্রসঙ্গে কবি ফারাযদাকের উক্তি হলো:
হে আবদে শামস, পুনরায় দৃষ্টি দাও, সম্ভবত আগুন তোমার নিকট সেই আবদ্ধ গাধাটিকে স্পষ্ট করে তুলবে।
এটিও সম্ভব যে ‘মা’ (ما) শব্দটি কর্তৃকারক (فاعلية) হিসেবে ‘রাফা’ (رفع) অবস্থায় রয়েছে, এমতাবস্থায় ‘মা’ শব্দটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (موصولة) হিসেবে গণ্য হবে; আর যারা নিম্নোক্ত কিরাত পাঠ করেছেন তাদের পাঠ একে সমর্থন করে:
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৬৭)
(فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ) ، وأتى بالتاء؛ حملا على المعنى؛ لأن ما حول المستوقد بقاع وأماكن.
قوله: (ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ) : جواب " لما "، وقيل: هو محذوف؛ كما حذف في قوله: (فَلَمَّا ذَهَبُوا بِهِ) ، أي: فلما أضاءت ما حوله خمدتْ.
قوله: (صُمٌّ) ، جمع أصم.
يقال: أصم وصم وصمان.
وقياس " أفعل " إذا كان صفة أن يجمع على " فُعْل " و (أفاكل " كـ " أحمر يجمع على: حمر، وأحَامِر ".
قوله: (كَصَيِّبٍ) ، أصلها: صَيْوِب، على " فيعل "، فأبدلت الواو
ياء؛ لاجتماعهما، وأحد الحرفين ساكن وهو قياس مطرد تقدمت الواو
أو تأخرت. نحو: لويت عنقه ليا، وأصله لويا.
قوله: (كُلَّمَا أَضَاءَ) : ظرف والعامل فيه الجواب.
قوله: (ولو شَاءَ اللهُ لَذَهَب "، مفعول " شاء " محذوف، وحسُن حذفه؛ لأن الجواب يدل عليه، والتقدير: ولو شاء الله أن يذهب لذهب.
قوله: (وَقُودها " - بالفتح -: هو الحطب، وبالضم: الإيقاد، كالوَضُوءِ والوُضُوءِ.
فالوَضُوءُ - بالفتح -: الماء الذي يُتَوَضَّا به.
والوضُوء - بالضم -: المصدر، وهو فعل المتوضىء.
(যখন তা তার চারপাশকে আলোকিত করল) - "যখন তা তার চারপাশকে আলোকিত করল" (فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ), এখানে স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' (ت) বর্ণটি ব্যবহার করা হয়েছে অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে (حملا على المعنى); কারণ প্রজ্বলনকারীর চারপাশের যা কিছু রয়েছে তা মূলত বিভিন্ন স্থান ও জায়গাকে নির্দেশ করে।
তাঁর বাণী: (আল্লাহ তাদের নূর কেড়ে নিলেন) - "আল্লাহ তাদের নূর কেড়ে নিলেন" (ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ): এটি 'লাম্মা' (لما) এর জওয়াব (جواب)। কেউ কেউ বলেছেন: এটি এখানে উহ্য (محذوف) রয়েছে; যেমনটি (فَلَمَّا ذَهَبُوا بِهِ) আয়াতে উহ্য (محذوف) রাখা হয়েছে। অর্থাৎ: "যখন তা তার চারপাশকে আলোকিত করল, তখন তা নিভে গেল।"
তাঁর বাণী: (বধির) - "বধির" (صُمٌّ), এটি 'আসাম' (أصم) শব্দের বহুবচন (جمع)।
বলা হয়ে থাকে: আসাম (أصم), সুম্ম (صم) এবং সুম্মান (صمان)।
আর 'আফআলু' (أفعل) ওজনের শব্দ যখন গুণবাচক বিশেষণ (صفة) হয়, তখন নিয়ম অনুযায়ী তার বহুবচন (جمع) 'ফুল' (فُعْل) এবং 'আফাকিল' (أفاكل) ওজনে আসে। যেমন: 'আহমার' (أحمر) এর বহুবচন (جمع) হয়: 'হুমর' (حمر) এবং 'আহামির' (أحَامِر)।
তাঁর বাণী: (মুষলধারে বৃষ্টির মতো) - "মুষলধারে বৃষ্টির মতো" (كَصَيِّبٍ), এর মূল রূপ হলো: 'সাইউইব' (صَيْوِب), যা 'ফাইয়িল' (فيعل) ওজনে গঠিত। এখানে 'ওয়াও' (و) বর্ণটিকে 'ইয়া' (ي) বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে;
কারণ বর্ণ দুটি একত্রে এসেছে এবং তাদের একটি শান্ত বা সাকিন (ساكن), আর এটি একটি নিয়মিত ব্যাকরণিক নিয়ম, চাই 'ওয়াও' আগে আসুক বা পরে। যেমন: 'লাওয়াইতু উনুকাহু লাইয়্যান' (لويت عنقه ليا), এর মূল রূপ ছিল 'লাইয়্যান' (لويا)।
তাঁর বাণী: (যখনই তা আলোকিত করে) - "যখনই তা আলোকিত করে" (كُلَّমَا أَضَاءَ): এটি একটি ক্রিয়াবিশেষণ (ظرف) এবং এর আমিল (العامل) বা প্রভাবক হলো এর জওয়াব (جواب)।
তাঁর বাণী: "এবং আল্লাহ যদি চাইতেন তবে তিনি নিয়ে যেতেন" (ولو شَاءَ اللهُ لَذَهَب), এখানে 'শা-আ' (شاء) ক্রিয়ার কর্ম (مفعুল) উহ্য (محذوف) রয়েছে, আর এটি বিলুপ্ত হওয়া এখানে অধিকতর সাবলীল হয়েছে; কারণ জওয়াব (جواب) এর দিকে ইঙ্গিত করছে। এর সম্ভাব্য অর্থ হলো: "যদি আল্লাহ চাইতেন যে তিনি তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেবেন, তবে তিনি তা নিয়ে যেতেন।"
তাঁর বাণী: (জ্বালানি) - "জ্বালানি" (وَقُودها) - জবর বা ফাতহা যোগে: এর অর্থ হলো জ্বালানি কাঠ। আর পেশ বা দাম্মা যোগে (وُقُود) এর অর্থ হলো প্রজ্বলন ক্রিয়া। যেমন: 'ওয়াদূ' (الوَضُوءِ) এবং 'উদূ' (الوُضُوءِ)।
সুতরাং 'ওয়াদূ' (الوَضُوءُ) - জবর বা ফাতহা যোগে: এর অর্থ সেই পানি যা দিয়ে অজু করা হয়।
আর 'উদূ' (الوضُوء) - পেশ বা দাম্মা যোগে: এটি হলো মাসদার বা ক্রিয়ামূল (المصدر), যা মূলত অজুকারীর কাজকে নির্দেশ করে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৬৮)
قوله: (يَسْتَحْيِي) - بيائين -: لغة أهل الحجاز، ووزنه: (يستفعل "، ويتعدى بنفسه وبالحرف؛ يقال: استحييت منه، واستحييته، بمعنى.
وعينه ولامه: ياءان، من الحياء، وبياء واحدة: لغة تميم، ووزنه: (يستفع "، والمحذوفة هي الواو؛ لتطرفها.
قوله: (لِلْمَلَائِكةِ) :جمع: مَلَك، والتاء فيه لتأنيث الجمع.
وقيل: للمبالغة، كعلّامة وفهّامة.
واختلف في الملائكة في واحدها، وأصلها.
فقيل: واحدهم في الأصل: (مَأْلَك " على " مَفْعَل "؛ لأنه مشتق من " الألوكة "،
فالهمزة فاء الكلمة، ثم أخرت فجعلت اللام، فقالوا: (مَلأَك "، فوزنه الآن: (مَغفَل "
والجمع: ملائكة على " مَعَافِلة ".
وقيل: أصله: (لأك "، فعين الكلمة همزة، وعلى كلا القولين: ألقيت حركة الهمزة على اللام، وحذفت، فلما جمعت ردت فوزنه الآن: (مفاعلة ".
قوله: (يَا بَنِى " أصله: (بنو " على " فَعَلٌ " والذاهب منه واو عند قوم، وياء عند آخرين.
والألف عوض عن الذاهب.
قوله: (وأوفوا بِعَهْدِى " أصله: (أوْفيُوا "، استثقلت الضمة على الياء، فاعلت، إما بالنقل إلى الفاء، وإما بالحذف، وحذفت؛ لسكونها، وسكون ما بعدها.
يقال: وَفَى وَفِى بكذا، وأوْفَى، وَوَفَّى، بمعنى،
فإن قلت: أين "أوَفَى" في الفرآن؟
قيل: أخِذَ من قوله: (وَمَنْ أوْفَى بِعَهْدِهِ) ؛ لأن أفعل التفضيل لا يستعمل إلا من الثلاثى.
তাঁর বাণী: ইয়াসতাহয়ি (يَسْتَحْيِي) —দুটি ‘ইয়া’ (بيائين) যোগে—: এটি হিজাজবাসীদের ভাষা। এর ওজন হলো: ইয়াস্তাফইলু (يستفعل); এটি সরাসরি কর্মপদ গ্রহণ করে এবং হরফের মাধ্যমেও ব্যবহৃত হয়। বলা হয়: ‘আমি তার থেকে লজ্জা পেয়েছি’ (استحييت منه) এবং ‘আমি তাকে লজ্জা দিয়েছি’ (استحييته), যা একই অর্থ প্রকাশ করে।
এর ‘আইন’ (عين) এবং ‘লাম’ (لام) মূলবর্ণ হলো দুটি ‘ইয়া’, যা ‘আল-হায়া’ (الحياء) বা লজ্জা থেকে নির্গত। আর একটি ‘ইয়া’ যোগে ব্যবহার তামীম গোত্রের ভাষা; তখন এর ওজন হয়: ইয়াস্তাফউ (يستفع)। এখানে বিলুপ্ত বর্ণটি হলো ‘ওয়াও’ (الواو); যা শব্দের শেষে আসার কারণে বিলুপ্ত হয়েছে।
তাঁর বাণী: (ফেরেশতাদের জন্য):এটি ‘মালাক’ (ملك)-এর বহুবচন (جمع), এবং এতে যুক্ত ‘তা’ (تاء) বর্ণটি বহুবচনের স্ত্রীলিঙ্গ (تأنيث الجمع) নির্দেশক।
কেউ কেউ বলেছেন: এটি আধিক্য (مبالغة) প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন: আল্লামাহ (علّامة) এবং ফাহহামাহ (فهّامة)।
ফেরেশতাদের (الملائكة) একবচন এবং এর মূল বুৎপত্তি নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
বলা হয়েছে: মূলে তাদের একবচন হলো ‘মা’লাক’ (مألك), যা ‘মাফআল’ (مفعل) ওজনে গঠিত; কারণ এটি ‘আল-আলুকাহ’ (الألوكة) থেকে উদ্ভূত (مشتق)।
এক্ষেত্রে ‘হামজা’ (همزة) হলো শব্দের ‘ফা’ মূলবর্ণ (فاء الكلمة), অতঃপর সেটিকে শেষে নিয়ে ‘লাম’ (لام) মূলবর্ণের স্থানে বসানো হয়েছে। ফলে তারা বলে: ‘মালাক’ (ملأك); সুতরাং বর্তমানে এর ওজন হলো: ‘মাগফাল’ (مغفل)।
আর এর বহুবচন হলো ‘মালাইকাহ’ (ملائكة), যা ‘মাআফিলাহ’ (معافلة) ওজনে গঠিত।
আবার বলা হয়েছে: এর মূল হলো ‘লা-আ-কা’ (لأك), যেখানে শব্দের ‘আইন’ (عين) মূলবর্ণটি হলো ‘হামজা’। উভয় মতেই ‘হামজা’-এর হরকত বা স্বরধ্বনি ‘লাম’-এর ওপর প্রদান করা হয়েছে এবং হামজাটিকে বিলুপ্ত (حذف) করা হয়েছে। যখন এটিকে বহুবচন করা হয়, তখন সেটি পুনরায় ফিরে আসে; তাই বর্তমানে এর ওজন হলো: মুফায়ালাহ (مفاعلة)।
তাঁর বাণী: (হে বনী...): এর মূল হলো ‘বানু’ (بنو), যা ‘ফায়াল’ (فَعَلٌ) ওজনে গঠিত। একদলের মতে এখান থেকে ‘ওয়াও’ (واو) বিলুপ্ত হয়েছে, আবার অন্যদের মতে ‘ইয়া’ (ياء) বিলুপ্ত হয়েছে।
আর ‘আলিফ’ (ألف) বর্ণটি বিলুপ্ত বর্ণের স্থলাভিষিক্ত (عوض) হিসেবে এসেছে।
তাঁর বাণী: (এবং তোমরা আমার অঙ্গীকার পূর্ণ করো): এর মূল রূপ হলো ‘আওফিউ’ (أوْفيُوا)। ‘ইয়া’ বর্ণের ওপর ‘পেশ’ বা জম্মাহ (ضمة) উচ্চারণ কষ্টকর হওয়ায় সেটির রূপান্তর ঘটানো হয়েছে; হয় ‘ফা’ মূলবর্ণে স্বরধ্বনি স্থানান্তরের (نقل) মাধ্যমে অথবা বিলুপ্তির (حذف) মাধ্যমে। অতঃপর এটি সাকিন (سكون) হওয়ার কারণে এবং এর পরবর্তী বর্ণটিও সাকিন হওয়ার কারণে এটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বলা হয়: ‘ওয়াফা’ (وَفَى), ‘ওয়াফি বি-কাযা’ (وَفِى بكذا), ‘আওফা’ (أوْفَى) এবং ‘ওয়াফফা’ (وَفَّى) — সবগুলো একই অর্থবোধক।
যদি আপনি প্রশ্ন করেন: কুরআনে ‘আওফা’ (أوَفَى) ক্রিয়াপদটি কোথায় আছে?
উত্তরে বলা হবে: এটি তাঁর বাণী ‘এবং যে ব্যক্তি তার অঙ্গীকার পূর্ণ করে’ (وَمَنْ أوْفَى بِعَهْدِهِ) থেকে গৃহীত; কারণ আধিক্যবোধক বিশেষণ (أفعل التفضيل) কেবল তিন অক্ষরবিশিষ্ট (الثلاثى) মূল শব্দ থেকেই ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৬৯)
قوله (أول) وزنه (أفعل) ، وفاؤه وعينه واوان عند سيبويه.
ولم ينطق منه بـ "فعل"؛ لاعتلال الفاء والعين.
وتأنيثه: أولى، والأصل: وولى، فأبدلت الواو همزة لانضمامها ضما لازما.
وقال الكوفيون: أصله من: وأل يأل: إذا نجا.
فأصلها: أوألها، ثم خففت الهمزة بأن أبدلت واوا، ثم أدغمت الأولى فيها.
وهذا ليس بقياس بل القياس في مثل هذه الهمزة: أن تلقي حركتها على الساكن قبلها، وتحذف.
وقال بعضهم: هي من آل يئول، فأصل الكلمة "أَأْوَل"، ثم أخرت الهمزة الثانية فجعلت بعد الواو، ثم عمل فيها ما عمل في الوجه الذي قبلها، فوزنه الآن: "أعفل".
قوله: (وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ) : تخلطوا.
يقال: لبس - بفتح العين في الماضي، وكسرها في المضارع -، ولبست الثوب ألبسه - بالكسر في الماضي والفتح في المضارع -.
قوله: (وَتَكْتُمُوا) : يجوز أن يكون مجزوما داخلاً في حكم النهي، ويجوز أن يكون منصوبا بإضمار "أن" و "الواو"؛ للجمع كالتي في قولك: "لا تأكل السمك وتشرب اللبن".
তাঁর বক্তব্য (আউয়াল): এর ওজন হলো (আফআল); সিবওয়াইহ-এর মতে এর ফা-কালিমা এবং আইন-কালিমা উভয়টিই হলো 'ওয়াও'।
এর থেকে 'ফাআলা' ওজনে কোনো শব্দ উচ্চারিত হয়নি; এর ফা এবং আইন বর্ণে হরফে ইল্লত (দুর্বল বর্ণ) থাকার কারণে।
এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো: উলা; আর এর মূল রূপ ছিল: উওলা, অতঃপর ওয়াও বর্ণটিকে হামযাহ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে কারণ সেটি অপরিহার্য পেশ (যম্মা) যুক্ত ছিল।
কুফাবাসী ভাষাবিদগণ বলেছেন: এর মূল হলো 'ওয়াআলা ইয়াআলু' থেকে—যখন কেউ মুক্তি পায়।
সুতরাং এর আদি রূপ ছিল: আউয়ালাহা, এরপর হামযাহ বর্ণটিকে সহজ করার লক্ষ্যে সেটিকে ওয়াও দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, অতঃপর প্রথম বর্ণটিকে দ্বিতীয়টির মধ্যে সন্ধি (ইদগাম) করা হয়েছে।
এটি নিয়মসিদ্ধ (কিয়াস) নয়, বরং এই ধরনের হামযাহর ক্ষেত্রে ব্যাকরণগত নিয়ম হলো: এর হরকতকে পূর্ববর্তী সাকিন বর্ণের ওপর স্থানান্তর করা এবং হামযাহটিকে বিলুপ্ত করা।
তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি 'আলা ইয়াউলু' থেকে নির্গত, তাই শব্দটির মূল রূপ ছিল "আআউয়াল", এরপর দ্বিতীয় হামযাহটিকে পিছিয়ে ওয়াও-এর পরে নেওয়া হয়েছে এবং এতে পূর্ববর্তী পদ্ধতির অনুরূপ পরিবর্তন করা হয়েছে; ফলে বর্তমানে এর ওজন দাঁড়িয়েছে: "আফআল"।
তাঁর বাণী: (এবং তোমরা সত্যকে মিশ্রিত করো না): অর্থাৎ তোমরা সত্য-মিথ্যা গুলিয়ে ফেলো না।
বলা হয়: 'লাবাসা' — অতীতকালে আইন বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং বর্তমানকালে কাসরা (যের) যোগে — আর 'আমি পোশাক পরিধান করেছি' অর্থে 'লাবিসতু আস-সাওবা আলবাসুহু' — অতীতকালে কাসরা এবং বর্তমানকালে ফাতহা যোগে ব্যবহৃত হয়।
তাঁর বাণী: (এবং তোমরা গোপন করো না): এটি জজম (মাজযুম) যুক্ত হয়ে নিষেধের (নাহি) হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হওয়া বৈধ, আবার 'আন' এবং 'ওয়াও' উহ্য থাকার কারণে মানসুব হওয়াও বৈধ; যা একত্রীকরণের (একইসাথে দুটি কাজ করা) অর্থ প্রদান করে, যেমন আপনার এই উক্তিতে থাকে: "তুমি মাছ খেও না এবং (একই সাথে) দুধ পান করো না।"
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৭০)
وقوله:
لَا تَنْهَ عَنْ خُلُقِ. . .
قوله: (وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ ".
أصل " أقيموا " و (آتوا) : (أقِوْموا "؛ فاعل بالقلب بعد النقل، كما أعل الماضي بالقلب.
و (أَأْتيوا) : استثقلت الضمة على الياء فألقيت على التاء، بعد حذف حركتها، أو حذفت وضمت؛ لتصح الواو.
قوله: (مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ ".
أصله: (أهل،؛ فقلبت هاؤه همزة، ثم قلبت الهمزة
ألفا؛ كراهة اجتماع المثلين، كما فعل بـ " أأدم ".
وقيل: (أصله " أوْل ".
قوله: (وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَى أَرْبَعِينَ لَيْلَةً "
لم يقل " يوما "؛ لأن الشهور عدتها بالليالى.
قوله: (ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ "
أصله: (اوتخذا من " وخذ " كـ " وعد "، فأدغم الواو بعد قلبها
تاء في تاء الافتعال أي: ثم اتخذتم العجل إلها.
قوله: (نرَى اللهَ جَهْرَةَ "
أصل " نرى) : نَرأَى، فحذفت الهمزة بعد نقل حركتها إلى الراء.
এবং তাঁর বাণী:
তুমি এমন কোনো চরিত্রের নিন্দা করো না...
তাঁর বাণী: "এবং তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো।"
"আক্বিমু" এবং "আতু" এর মূল রূপ হলো: "আক্বউমু"; এটি হরকত স্থানান্তরের পর ক্বলব বা পরিবর্তনের মাধ্যমে ফায়েল হিসেবে গঠিত হয়েছে, যেমনটি অতীতকালীন ক্রিয়ায় পরিবর্তনের মাধ্যমে করা হয়েছে।
এবং "আঅ্তিউ" শব্দটিতে: ইয়া-এর ওপর পেশ (জম্মা) উচ্চারণ করা কষ্টসাধ্য হওয়ায় তা তা-এর ওপর প্রদান করা হয়েছে, সেটির পূর্ববর্তী হরকত বিলুপ্ত করার পর; অথবা তা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং পেশ যুক্ত করা হয়েছে যাতে ওয়াও বর্ণটি সঠিক থাকে।
তাঁর বাণী: "ফেরাউনের বংশধরদের পক্ষ থেকে।"
এর মূল হলো: "আহল"; অতঃপর এর "হা" বর্ণটিকে হামজায় রূপান্তর করা হয়েছে, অতঃপর সেই হামজাটিকে
আলিফে রূপান্তর করা হয়েছে; পরপর দুটি সমজাতীয় বর্ণের একত্র হওয়া অপছন্দনীয় হওয়ার কারণে, যেমনটি "আদম" শব্দের ক্ষেত্রে করা হয়েছে।
এবং বলা হয়েছে: এর মূল হলো "আওল"।
তাঁর বাণী: "এবং যখন আমি মুসার সাথে চল্লিশ রাতের অঙ্গীকার করেছিলাম"
এখানে "দিন" বলা হয়নি; কারণ মাসসমূহের গণনা রাতের হিসেবে করা হয়।
তাঁর বাণী: "অতঃপর তোমরা গ্রহণ করেছিলে"
এর মূল হলো: "উওতাখাযা", যা "ওয়াখাযা" থেকে উদ্ভূত যেমন "ওয়াআদা"। অতঃপর ওয়াও বর্ণটিকে তা-তে রূপান্তর করার পর
ইফতিআল ছাঁচের তা-এর সাথে ইদগাম বা সন্ধি করা হয়েছে। অর্থাৎ: অতঃপর তোমরা বাছুরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলে।
তাঁর বাণী: "আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখতে চাই"
"নারা" এর মূল হলো: "নারআ", অতঃপর হামজার হরকত রা-এর দিকে স্থানান্তরের পর হামজাটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
و " جهرة) : مصدر في موضع الحال، إما من الضمير في " نَرَى "، أي: معاينين، أو من الضمير في " قُلْتُم،، أي: قلتم ذلك مجاهرين.
وقيل: انتصابه على المصدر؛ لأنه نوع من الرؤية؛ كما تنتصب القرفصاء بفعل الجلوس.
قوله: (فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ) :
الصاعقة: فاعلة، بمعنى: مفعلة، وهي ما صعق.
قيل: نار وقعت من السماء.
وقيل: صيحة.
قوله: (وظَللنا عَلَيكمُ الْغَمَام) أي: بالغمام.
والغمام، قيل: جمع غمامة، والصحيح: أنه اسم جنس.
قوله: (وَقُولُوا حِطَّةٌ) : وحط عنا حطةً.
قوله: (خَطَايَكُم " أصله: خطائِى، والهمزة الأولى هي المنقلبة عن الياء فى
" خطيئة "، فأبدلت الهمزة الثانية ياء؛ لانكسار ما قبلها، وكراهة اجتماع
همزتين، ثم أبدلت من الكسرة فتحة، فانقلبت الياء ألفًا؛ لئلا يشبه الإضافة، ثم أبدلت من الهمزة ياء فصار: خطايا. هذا مذهب سيبويه.
ومذهب الخليل التحويل - نقلوا
এবং "জাহরাহ": এটি 'হাল' (অবস্থা) এর অবস্থানে ব্যবহৃত একটি 'মাসদার' (ক্রিয়ামূল); যা হয় "নারা" (আমরা দেখি) এর মধ্যকার সর্বনাম থেকে উদ্ভূত, অর্থাৎ: চাক্ষুষ দেখা অবস্থায়; অথবা "কুলতুম" (তোমরা বলেছিলে) এর মধ্যকার সর্বনাম থেকে উদ্ভূত, অর্থাৎ: তোমরা তা উচ্চৈঃস্বরে প্রকাশ্যভাবে ঘোষণা দিয়ে বলেছিলে।
বলা হয়েছে: এটি 'মাসদার' হিসেবে 'মানসুব' (নাসবযুক্ত) হয়েছে; কারণ এটি দর্শনেরই একটি প্রকার; যেমনটি উপবেশন ক্রিয়ার অনুষঙ্গে "কুরফাসায়ু" (উবু হয়ে বসা) শব্দটি 'মানসুব' হয়ে থাকে।
তাঁর বাণী: (অতঃপর তোমাদের বজ্রধ্বনি পাকড়াও করল):
'আস-সয়িকাহ': এটি 'ফা-য়িলাহ' ওজনে 'মুফ-য়িলাহ' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা দ্বারা ওই বিষয়কে বোঝানো হয় যা কাউকে সংজ্ঞাহীন করে দেয়।
বলা হয়েছে: এটি আকাশ থেকে পতিত আগুন।
আবার বলা হয়েছে: এটি একটি বিকট চিৎকার।
তাঁর বাণী: (আর আমি তোমাদের ওপর মেঘমালার ছায়া দান করলাম) অর্থাৎ: মেঘমালার মাধ্যমে।
'আল-ঘামাম' সম্পর্কে বলা হয়েছে: এটি 'ঘামামাহ' এর বহুবচন, তবে সঠিক মত হলো: এটি একটি 'ইসমে জিনস' (জাতিনির্দেশক বিশেষ্য)।
তাঁর বাণী: (এবং বলো, ক্ষমা চাই): অর্থাৎ আমাদের থেকে গুনাহসমূহ মোচন করে দিন।
তাঁর বাণী: (তোমাদের পাপসমূহ); এর মূলরূপ হলো: 'খতাইয়ি'। প্রথম 'হামযাহ'টি 'খতিয়াহ' শব্দের 'ইয়া' থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। অতঃপর দ্বিতীয় 'হামযাহ'টিকে 'ইয়া' তে রূপান্তর করা হয়েছে; কারণ তার পূর্ববর্তী বর্ণটি 'কাসরা' (জের) যুক্ত ছিল এবং দুটি 'হামযাহ' একত্রে আসার বিষয়টি শ্রুতিকটু। এরপর 'কাসরা'কে 'ফাতহা' (জবর) দ্বারা পরিবর্তন করা হয়, ফলে 'ইয়া' বর্ণটি 'আলিফ'-এ পরিণত হয়; যাতে এটি 'ইদাফাত' (সম্বন্ধ)-এর সদৃশ না হয়। অতঃপর 'হামযাহ' থেকে পুনরায় 'ইয়া'-তে পরিবর্তন করা হয়, ফলে শব্দটি 'খতায়া' তে রূপ নেয়। এটি সিবওয়াইহ-এর অভিমত।
আর আল-খালিলের মাযহাব হলো 'তাহউইল' (রূপান্তর)—তাঁরা এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৭২)
الهمزة الأولى إلى موضع، الثانية، وإنما فعلوا ذلك لتصير المكسورة طرفًا، فتنقلب ياء، ثم أبدلوا من كسرة الهمزة الأولى فتحة، فانقلبت الياء بعدها ألفا، فصارت الهمزة بين ألفين، فأبدلت منها ياء. فاستكرهوا اجتماع ثلاث ألفات ففيها على هذا خصص تغييرات.
تقديم اللام عن موضعها، وإبدال الكسرة فتحة، وإبدال الكسرة فتحة، وإبدال الهمزة الأخيرة ياء، ثم إبدالها ألفًا، ثم إبدال الهمزة التي هي لام ياء.
قوله: (فانْفَجَرَتْ " وقال في الأعراف: (فَانْبَجَسَتْ " والانبجاس: خروجه
قليلا، والانفجار: خروجه كثيرًا.
والجواب أن ذاك الابتداء، ثم تفجر في الثانية.
قوله: (كُلُوا وَاشْرَبُوا مِنْ رِزْقِ اللَّهِ) : هو على إرادة القول.
قوله نعالى: (وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا " عرفتم.
قوله: (خَاسِئِينَ) : الفعل منه " خسأ "، وهو مطاوع " خسأته "..
قوله: (أَتَتَّخِذُنَا هُزُوًا) :
يجوز أن يكون مفعولا ثانيًا على حذف مضاف، ويجوز أن يكون مصدرًا، أي مهزوءًا به.
قوله: (وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ "،: مفعول " شاء " محذوف أي: شاء هدايتنا.
قوله: (لَا شِيَةَ فِيهَا) : مثل عِدة، فلما حذفوا الواو من الفعل؛ لوقوعها بين واو وكسرة، حذفوها من المصدر، فوزنه: (عِلة "، والمعنى: الخلط، يقال: وشيت الثوب، إذا خلطت بعضه ببعض.
قوله: (فَادَّارَأْتُمْ "
أصله: تدارأتم، ووزنه: (تفاعلتم، ثم أرادوا التخفيف،
فقلبوا التاء دالا؛ لتصير من جنس الدال، التي هي فاء الكلمة، لئمكن الإدغام، فسكنت الأولى؛ لأجل الإدغام، فصار أول الكلمة ساكنا، فاجتلبت له همزة، الوصل.
প্রথম হামজাটিকে দ্বিতীয়টির স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। আর তারা এটি করেছে যাতে কাসরাযুক্ত (مكسورة) বর্ণটি শব্দপ্রান্তে চলে আসে এবং তা ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়। এরপর তারা প্রথম হামজার কাসরা (كسرة) পরিবর্তন করে ফাতাহ (فتحة) করে দেয়, ফলে তার পরের ইয়া-টি আলিফে রূপান্তরিত হয়। এভাবে হামজাটি দুটি আলিফের মাঝখানে পড়ে যায় এবং তার পরিবর্তে একটি ইয়া নিয়ে আসা হয়। তারা তিনটি আলিফের একত্র হওয়াকে অপছন্দ করত, তাই এই নিয়মানুযায়ী এতে নির্দিষ্ট পরিবর্তনসমূহ সাধিত হয়েছে।
'লাম' বর্ণটিকে তার স্থান থেকে এগিয়ে আনা, কাসরা (كسرة)-কে ফাতাহ (فتحة) দ্বারা পরিবর্তন করা, কাসরা (كسرة)-কে ফাতাহ (فتحة) দ্বারা পরিবর্তন করা, শেষ হামজাটিকে ইয়া-তে রূপান্তর করা, অতঃপর সেটিকে আলিফে রূপান্তর করা এবং সবশেষে 'লাম' (তৃতীয় মূলবর্ণ) হিসেবে থাকা হামজাটিকে ইয়া-তে রূপান্তর করা।
আল্লাহর বাণী: (فانْفَجَرَتْ - অতঃপর তা থেকে সজোরে ঝরনা প্রবাহিত হলো); আর সূরা আল-আরাফে তিনি বলেছেন: (فَانْبَجَسَتْ - অতঃপর তা থেকে চুইয়ে পানি বের হলো)। 'ইনবিজাস' বা নির্গমন (انبجاس) হলো সামান্য পরিমাণে বের হওয়া, আর 'ইনফিজার' বা প্রবল প্রবাহ (انفجار) হলো প্রচুর পরিমাণে বের হওয়া।
এর উত্তর হলো, সেটি ছিল প্রারম্ভিক অবস্থা, অতঃপর দ্বিতীয় পর্যায়ে তা প্রবলভাবে প্রবাহিত হয়েছিল।
আল্লাহর বাণী: (كُلُوا وَاشْرَبُوا مِنْ رِزْقِ اللَّهِ - তোমরা আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করো ও পান করো); এখানে 'বলা' (কওল) বিষয়টি উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
মহান আল্লাহর বাণী: (وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا - আর তোমরা নিশ্চয়ই তাদের অবগত আছ যারা সীমা লঙ্ঘন করেছিল); অর্থাৎ তোমরা তাদের চিনে নিয়েছ বা পরিচয় পেয়েছ।
আল্লাহর বাণী: (خَاسِئِينَ - লাঞ্ছিত অবস্থায়); এর ক্রিয়াপদ হলো 'খাসা-আ' (خسأ), আর এটি 'খাসা-তুহু' (خسأته) এর অনুগামী (مطاوع) রূপ।
আল্লাহর বাণী: (أَتَتَّخِذُنَا هُزُوًا - আপনি কি আমাদের সাথে উপহাস করছেন?);
এটি একটি সম্বন্ধপদ (مضاف) উজ্জ্ব থাকার ভিত্তিতে দ্বিতীয় কর্ম (مفعول) হওয়া বৈধ, আবার এটি ক্রিয়ামূল (مصدر) হওয়াও সম্ভব, অর্থাৎ 'উপহাসের পাত্র' হিসেবে।
আল্লাহর বাণী: (وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ - আর নিশ্চয়ই যদি আল্লাহ চান); এখানে 'শা-আ' (شاء) ক্রিয়ার কর্ম (مفعول) উজ্জ্ব রয়েছে, অর্থাৎ: যদি তিনি আমাদের হিদায়াত করা চান।
আল্লাহর বাণী: (لَا شِيَةَ فِيهَا - যাতে কোনো খুঁত নেই); এটি 'ইদাত' (عِدة) শব্দের মতো। যখন তারা ক্রিয়া থেকে 'ওয়াও' বিলোপ করেছে—যেহেতু তা ফাতাহ ও কাসরা (كسرة)-এর মাঝে পড়েছিল—তখন তারা ক্রিয়ামূল (مصدر) থেকেও সেটি বিলোপ করে দিয়েছে। এর ওজন (وزن) হলো: 'ইলা' (عِلة)। এর অর্থ হলো মিশ্রণ; বলা হয় 'আমি পোশাকে কারুকার্য করেছি' (وشيت الثوب), যখন আপনি এর এক অংশের সাথে অন্য অংশ মিশ্রিত করেন।
আল্লাহর বাণী: (فَাদَّارَأْتُمْ - অতঃপর তোমরা এ নিয়ে একে অপরের ওপর দোষারোপ করছিলে)
এর মূল রূপ হলো 'তাদারা-আতুম' (تدارأتم), এবং এর ওজন (وزن) হলো: 'তাফা-আলতুম' (تفاعلتم)। অতঃপর তারা সহজীকরণের (تخفيف) ইচ্ছা করল,
ফলে তারা 'তা' বর্ণটিকে 'দাল'-এ রূপান্তরিত করল; যাতে তা 'দাল' বর্ণের সমজাতীয় হয় যা শব্দটির প্রথম মূলবর্ণ (فاء الكلمة), যাতে সন্ধি বা একত্রীকরণ (إدغام) সম্ভব হয়। ফলে সন্ধির (إدغام) কারণে প্রথম বর্ণটি স্থির (ساكن) হয়ে গেল এবং শব্দের শুরুতে স্থির (ساكن) বর্ণ আসার কারণে একটি সংযোগকারী হামজা (همزة الوصل) নিয়ে আসা হলো।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৭৩)
قوله: (أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً) :
إن قيل: لم قيل: أشد قسوة وفعل القسوة مما يخرج منه أفعل التفضيل وفعل التعجب؟.
فيه جوابان: أحدهما: أنه أبين وأدل على فرط القسوة.
الثانى: أن لا يقصد معنى الأقسى، ولكن قصد وصف القسوة بالشدة، كأنه قيل: اشتدت قسوة الحجارة، وقلوبهم أشد قسوة.
ولم يقل هي أشد قسوة؛ لأن معناه وضح.
وقوله: (أَوْ أَشَدُّ) : هي كـ " أو " في قوله تعالى: (أَوْ كَصَيِّبٍ) ، وقد قالوا فيها هناك أربعة أوجه:
أحدها: أنها للشك، وهو راجع إلى الناظر في حال المنافقين، فلا يدرى أيشبههم بالمستوقد أو بأصحاب الصيب، كقوله: (إِلَى مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ) أي: يشك الرائى لهم في مقدار عددهم.
والثاني: أنها للتخيير، أي: شبهوهم بأي القبيلتين شئتم.
والثالث: أنها للإباحة.
والرابع: أنها للإبهام، أي: بعض الناس يشبههم بالمستوقد، وبعضهم بأصحاب الصيب.
قوله: (يَشَّقَّقُ) :
أصله: (يتشقق "، فقلبت التاء شينًا وأدغمت، في الشين.
তাঁর বাণী: (বা আরও কঠোর /أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً) :
যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন 'অধিকতর কঠোর' (أشد قسوة) বলা হলো? অথচ 'কঠোরতা' (القسوة) এমন একটি ক্রিয়া যা থেকে আধিক্যবোধক বিশেষ্য (أفعل التفضيل) এবং বিস্ময়সূচক ক্রিয়া (فعل التعجب) সরাসরি গঠিত হয় না?
এর দুটি উত্তর রয়েছে: প্রথমটি হলো, এটি কঠোরতার আধিক্যকে অধিকতর স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে এবং এর ওপর জোরালো প্রমাণ পেশ করে।
দ্বিতীয়টি হলো: এখানে 'সর্বাধিক কঠোর' (الأقسى) অর্থ উদ্দেশ্য নয়, বরং কঠোরতাকে তীব্রতার সাথে গুণান্বিত করাই উদ্দেশ্য। যেন বলা হয়েছে: পাথরের কঠোরতা তীব্র হয়েছে, আর তাদের অন্তরসমূহ কঠোরতায় আরও বেশি তীব্র।
আর তিনি 'এটি (অন্তর) কঠোরতায় আরও বেশি তীব্র' বলেননি; কারণ এর অর্থ সুষ্পষ্ট।
এবং তাঁর বাণী: (বা আরও কঠোর /أَوْ أَشَدُّ) : এখানে 'বা' (أو) শব্দটি মহান আল্লাহর বাণী 'অথবা মুষলধারে বৃষ্টির মতো' (أَوْ كَصَيِّبٍ)-এ ব্যবহৃত 'বা' (أو)-এর মতো। উলামায়ে কেরাম সেখানে এর চারটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
প্রথমটি: এটি সন্দেহের জন্য (للشك), যা মুনাফিকদের অবস্থা পর্যবেক্ষণকারীর দিকে ফিরে যায়। ফলে সে বুঝতে পারে না যে তাদের কি অগ্নি প্রজ্বলনকারীর সাথে তুলনা করা হবে নাকি মুষলধারে বৃষ্টিতে আক্রান্তদের সাথে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: '(এক লক্ষ) অথবা তার চেয়েও বেশি' (إِلَى مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ)। অর্থাৎ, যে তাদের দেখবে সে তাদের সংখ্যার পরিমাণ নিয়ে সন্দেহে পড়বে।
দ্বিতীয়টি: এটি পছন্দের স্বাধীনতার জন্য (للتخيير)। অর্থাৎ, আপনারা এই দুই দলের যার সাথে ইচ্ছা তাদের তুলনা করুন।
তৃতীয়টি: এটি বৈধতা প্রদানের জন্য (للإباحة)।
চতুর্থটি: এটি অস্পষ্ট রাখার জন্য (للإبهام)। অর্থাৎ, কিছু মানুষ তাদের অগ্নি প্রজ্বলনকারীর সাথে তুলনা করে, আর কিছু মানুষ তাদের মুষলধারে বৃষ্টিতে আক্রান্তদের সাথে তুলনা করে।
তাঁর বাণী: (বিদীর্ণ হয় /يَشَّقَّقُ) :
এর মূল রূপ ছিল: 'يتشقق'। এরপর 'তা' (ت) অক্ষরটিকে 'শিন' (ش) অক্ষরে রূপান্তরিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী 'শিন' বর্ণের সাথে সন্ধিযুক্ত (إدغام) করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৭৪)
قوله: (الأ أمَانِى) :
استثناء منقطع؛ لأنه ليس من جنس العلم.
وواحد الأمانى: أمنية، وأصلها: أمنُويَة، على وزن (أفعولَة) ، وما كان على هذا الوزن فإنه يجمع على أفاعيل، وأفاعل.
قوله: (مَنْ كَسَبَ سَيِّئَةً) :السيئة: وزنها: فَعيلة مثل سيد وهين -
قوله: (لَا تَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ ".
أي: قلنا لهم: لا تعبدون. ويقرأ بالياء، وفيه أربعة أوجه:
أحدها: أنه جواب قسم، دل عليه المعنى.
والثاني: أنَّ " أنْ " مرادة، تقديره: أخذنا ميثاق بنى إسرائيل على أن لا يَعْبدوا إلا الله، ونظيره:
ألَا أيهَذَا الزّاجِرِى أحْضُرا الوَغَى. . .
بالرفع، والتقدير: عن أنْ أحضرَ الوَغَى.
والثالث: أنه في موضع نصب على الحال.
الرابع: أن يكون لفظه لفظ الخبر ومعناه النهي.
তাঁর বাণী: (ব্যতিক্রম কেবল ভিত্তিহীন আকাঙ্ক্ষা):
এটি একটি বিযুক্ত ব্যতিক্রম (استثناء منقطع); কারণ এটি ইলম বা জ্ঞানের পর্যায়ভুক্ত নয়।
'আমানি' (الأماني) এর একবচন হলো 'উম্মানিয়্যাহ' (أمنية), যার মূল রূপ হলো 'উমনুওয়াহ' (أمنُويَة), যা 'উফউলাহ' (أفعولَة) ওজনের। আর এই ওজনে গঠিত শব্দগুলোর বহুবচন 'আফায়িল' (أفاعيل) এবং 'আফায়িল' (أفاعل) ছাঁচে হয়ে থাকে।
তাঁর বাণী: (যে ব্যক্তি মন্দ কাজ অর্জন করেছে):'আস-সাইয়্যিআহ' (السيئة): এর ওজন হলো 'ফায়িলাহ' (فَعيلة), যেমন 'সাইয়্যিদ' এবং 'হাইয়্যিন' -
তাঁর বাণী: (তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না)।
অর্থাৎ: আমরা তাদের বলেছিলাম: তোমরা ইবাদত করবে না। এটি 'ইয়া' যোগেও পাঠ করা হয়, এবং এতে চারটি বিশ্লেষণ রয়েছে:
প্রথমটি: এটি একটি শপথের উত্তর (جواب قسم), যার প্রতি অর্থই ইঙ্গিত প্রদান করে।
দ্বিতীয়টি: এখানে 'আন' (أنْ) শব্দটি উদ্দেশ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। এর উহ্য রূপ হলো: আমরা বনী ইসরাঈলের কাছ থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছি যে, তারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না। এর সদৃশ উদাহরণ হলো:
হে আমার সেই তিরস্কারকারী ব্যক্তি! আমি কি যুদ্ধে উপস্থিত হব...
পেশ বা রফ (رفع) সহকারে; আর এর উহ্য বিশ্লেষণ হলো: 'যুদ্ধে উপস্থিত হওয়া থেকে (বিরত রাখার ক্ষেত্রে)'।
তৃতীয়টি: এটি হাল (حال) হিসেবে নসব (نصب) এর স্থানে রয়েছে।
চতুর্থটি: এর শব্দগত রূপ খবর (خبر) বা সংবাদমূলক হলেও এর অর্থ হলো নহি (نهي) বা নিষেধ।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৭৫)
قوله: (وَذِى القُربى) :
معطوف على اليتامى، وأفرد (ذى) ؛ لإرادة الجنس،
وأصله " ذَوَىٌ؛ بدليل قولهم: (ذويان ".
قوله: (واليتَامَى " جمع يتيم، كنديم وندامى.
ولكن جمع " فعيل " على " فعالى " قليل.
قوله: (والمساكين " جمع مسكين، والميم في مسكين زائدة؛ لأنه من السكون.
قوله: (لَا تسَفِكونَ) :
الكلام فيه مثل: (لَا تَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ) .
قوله: (من دِيَارِكمْ) : الياء منقلبة عن واو؛ لأنه جمع " دار "، والألف في دار " واو " في الأصل؛ لأنه من: دار، يدور، وإنما قلبت ياء في الجمع؛ لانكسار ما قبلها.
فإن قيل: كيف صحت في (لِوَاذا) ؟
قيل: لأنها صحت في الفعل، فصحت في المصدر.
قوله: (إِلَّا خِزْيٌ) : بدل من جزاء.
قوله: (وَقَفَّيْنَا ".
يقال: قفوتُ أثرَهُ قفوًا؛ إذا اتبعته، وقفيت على أثره بفلان؛ إذا أتبعته إياه.
وقلبت الواو ياء؛ لوقوعها رابعة.
قوله: (عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ) :
قيل: (عِيسَى) : اسم أعجمى، فلا اشتقاق.
وقيل: مشتق من العَيْسِ، وهو بياض الإبل يخالطها شىء من الشقرة.
وقيل: من العِوْسِ، وهو السياسة، فقلبت الواو ياء؛ لانكسار ما قبلها.
واختلف في وزنه؛ فقال الكوفيون: وزنه (فعْلَى) ، وألفه للتأنيث، ولم يحكوا صرفه في النكرة.
তাঁর উক্তি: (নিকটাত্মীয়):
এটি 'ইয়াতামাহ' (এতিমদের) শব্দের ওপর অনুগামী (معطوف) হয়েছে, এবং জাতি (الجنس) বুঝানোর উদ্দেশ্যে 'যি' (ذى) শব্দটিকে একবচন (مفرد) হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
এর মূল শব্দ ছিল 'যাওয়াউন' (ذَوَىٌ); যার প্রমাণ হলো তাঁদের উক্তি: 'যাওয়ায়ানি' (ذويان)।
তাঁর উক্তি: (এবং এতিমগণ): এটি 'ইয়াতীম' শব্দের বহুবচন (جمع), যেমন 'নাদীম' থেকে 'নাদামা'।
তবে 'ফায়ীল' ওজনের শব্দের 'ফায়ালা' ওজনে বহুবচন (جمع) হওয়া বিরল।
তাঁর উক্তি: (এবং মিসকীনগণ): এটি 'মিসকীন' শব্দের বহুবচন (جمع), এবং 'মিসকীন' শব্দে 'মীম' বর্ণটি অতিরিক্ত (زائدة); কারণ এটি 'সুকূন' (স্থিরতা) ধাতু থেকে উৎপন্ন।
তাঁর উক্তি: (তোমরা রক্তপাত করবে না):
এ বিষয়ে আলোচনা "তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবে না" আয়াতাংশের আলোচনার মতোই।
তাঁর উক্তি: (তোমাদের ঘরবাড়ি হতে): এখানে 'ইয়া' বর্ণটি 'ওয়াও' থেকে পরিবর্তিত হয়েছে; কারণ এটি 'দার' শব্দের বহুবচন (جمع), এবং 'দার' শব্দের 'আলিফ' মূলত 'ওয়াও' ছিল; কারণ এটি 'দারা-ইয়াদুরু' থেকে নির্গত। বহুবচনে (جمع) এটি 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হয়েছে তার পূর্ববর্তী বর্ণে কাসরাহ বা জের থাকার কারণে।
যদি প্রশ্ন করা হয়: (লিওয়াযা) শব্দে কেন এটি অপরিবর্তিত বা শুদ্ধ (صحت) অবস্থায় রয়েছে?
উত্তরে বলা হয়: যেহেতু এটি ক্রিয়ামূলে (الفعل) অপরিবর্তিত ছিল, তাই এটি মূলক্রিয়াতেও (المصدر) অপরিবর্তিত রয়েছে।
তাঁর উক্তি: (অপমান ব্যতীত): এটি 'জাযাউ' শব্দের স্থলাভিষিক্ত (بدل)।
তাঁর উক্তি: (এবং আমি অনুগামী করেছি)।
বলা হয়ে থাকে: 'কফাতু আসরাহু কফওয়ান'; যখন আমি তার পদাঙ্ক অনুসরণ করি। আর 'কফ্ফাইতু আলা আসরিহি বি-ফুলানিন' অর্থ হলো: আমি তার পিছনে অমুককে পাঠিয়েছি।
এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হয়েছে; যেহেতু এটি শব্দমূলের চতুর্থ স্থানে অবস্থিত।
তাঁর উক্তি: (মারইয়াম-পুত্র ঈসা):
বলা হয়ে থাকে: (ঈসা) একটি অনারব নাম (اسم أعجمي), তাই এর কোনো বুৎপত্তি (اشتقاق) নেই।
আবার কেউ কেউ বলেন: এটি 'আল-আইসু' থেকে বুৎপন্ন (مشتق), যার অর্থ উটের শুভ্রতা যাতে কিছুটা লালচে ভাব মিশ্রিত থাকে।
অন্য মতে: এটি 'আল-আউসু' থেকে আগত, যার অর্থ হলো শাসনকার্য; এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হয়েছে তার পূর্ববর্তী বর্ণে কাসরাহ বা জের থাকার কারণে।
এর ওজন (وزن) নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কুফাবাসী ভাষাবিদগণ বলেন: এর ওজন (وزن) হলো 'ফু’লা' (فعْلَى), এবং এর আলিফটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক (التأنيث) করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। অনির্দিষ্ট (النكرة) অবস্থায় এর রূপান্তর (صرف) হওয়ার কথা তাঁরা উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৭৬)
وقال البصريون: وزنه (فعْلَى) ، وألفه للإلحاق. ولا تكون أصلا؛ لأنها من أحرف لا تكون الواو والياء أصلاً فيها.
وقالوا: لو كانت أصلًا لكان ينبغى أن لا ينصرف في النكرة، وقد سمع فيه الصرف.
و (مَرْيَم) : علم أعجمى لا اشتاق له.
وليس بمشتق؛ لأنه لو كان مشتقا لكان مشتقا من رام يريم، فيكون (مَرِيْم) بإسكان الياء، وقد جاء في الأعلام بفتح الياء، نحو: مزيَد، وهو على خلاف القياس.
قوله: (أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ) :
الهمزة للاستفهام جىء بها؛ للتوبيخ والتعجب من حالهم، كأنه قيل: آتيناهم ما آتيناهم، ففعلتم ما فعلتم، ودخلت الفاء للعطف على هذا المقدر.
و" كلما) : ظرف وقد تقدم.
قوله: (قُلُوبُنَا غُلْفٌ) :جمع: أغلف؛ كأحْمَر وحُمْر، ونظائره كثيرة.
قوله: (فَقَلِيلًا مَا يُؤْمِنُونَ ".
" قليلاً) : صفة لمصدر محذوف أي: فإيمانا قليلا،
و" ما) : زائدة.
وقيل: صفة لظرف، أي: - فزمانًا قليلا يؤمنون.
ولا يجوز أن تكون " ما " مصدرية؛ لأن " قليلاً " لا يبقى له ناصب.
وقيل: (ما) : نافية، أي: فما يؤمنون قليلًا ولا كثيرًا.
ومثله: (قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ) ، (قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ) .
قوله: (جَاءَهُمْ كتَاب "
جاء: يتعدى بنفسه وبحرف الجر، تقول: جئتُه، وجئت إليهِ.
বসরাবাসীরা (البصريون) বলেন: এর ওজন (وزن) হলো (فعْلَى), এবং এর আলিফটি সংযুক্তকরণের (إلحاق) জন্য। এটি মূল (أصل) হতে পারে না; কারণ এটি এমন সব বর্ণের অন্তর্ভুক্ত যেখানে 'ওয়াও' এবং 'ইয়া' মূল হিসেবে থাকে না।
তারা আরও বলেন: যদি এটি মূল (أصل) হতো, তবে অনির্দিষ্ট (نكرة) অবস্থায় এতে রূপান্তর (صرف) হওয়া নিষিদ্ধ হতো, অথচ এতে রূপান্তর শোনা গেছে।
এবং 'মারইয়াম' (مَرْيَم): এটি একটি অনারব নাম (علم أعجمي), যার কোনো বুৎপত্তি নেই।
এটি ব্যুৎপন্ন (مشتق) নয়; কারণ যদি এটি ব্যুৎপন্ন হতো, তবে তা 'রাম-ইয়ারিমু' থেকে হতো, ফলে এটি 'ইয়া'-এর সুকুনসহ 'মারিম' (مَرِيْم) হতো। অথচ নামসমূহের ক্ষেত্রে এটি 'ইয়া'-এর ফাতহা (যবর) সহকারে এসেছে, যেমন: 'মাযইয়াদ' (مزيَد), যা নিয়মের (قياس) পরিপন্থী।
আল্লাহর বাণী: (অতঃপর যখনই তোমাদের নিকট কোনো রাসূল এসেছে) (أَفَكُلَّমَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ):
এখানে 'হামযাহ' বর্ণটি জিজ্ঞাসার (استفهام) জন্য আনা হয়েছে; যা তাদের অবস্থার প্রতি তিরস্কার (توبيخ) এবং বিস্ময় (تعجب) প্রকাশের জন্য। যেন বলা হয়েছে: আমরা তাদের যা দেওয়ার তা দিয়েছি, কিন্তু তোমরা যা করার তা-ই করেছ। আর 'ফা' বর্ণটি এই উহ্য (مقدر) বিষয়ের সাথে অব্যয় হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
এবং "কুল্লামা" (كلما): এটি একটি কালবাচক অব্যয় (ظرف) যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে।
আল্লাহর বাণী: (আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত) (قُلُوبُنَا غُلْفٌ):এটি 'আগলাফ' (أغلف)-এর বহুবচন (جمع); যেমন 'আহমার' (أحمر) ও 'হুমর' (حمر), এবং এর অনুরূপ উদাহরণ অনেক।
আল্লাহর বাণী: (অতঃপর তারা অল্পই ঈমান আনে) (فَقَلِيلًا مَا يُؤْمِنُونَ):
'কালীলা' (قليلاً): এটি একটি উহ্য ক্রিয়ামূলের (مصدر) গুণবাচক শব্দ (صفة), অর্থাৎ: তারা খুব সামান্যই ঈমান আনে।
এবং 'মা' (ما) বর্ণটি অতিরিক্ত (زائدة)।
কেউ কেউ বলেছেন: এটি কালবাচক অব্যয়ের (ظرف) গুণবাচক শব্দ (صفة), অর্থাৎ - তারা অল্প সময়ের জন্যই ঈমান আনে।
এখানে 'মা'-কে (ما) ক্রিয়ামূলীয় (مصدرية) হিসেবে ধরা বৈধ নয়; কারণ সেক্ষেত্রে 'কালীলা' (قليلاً) শব্দের জন্য কোনো কর্মকারক নির্ধারক (ناصب) অবশিষ্ট থাকবে না।
আরও বলা হয়েছে: 'মা' (ما) হলো না-বোধক (نافية), অর্থাৎ: তারা অল্প বা বেশি কোনোভাবেই ঈমান আনে না।
এর অনুরূপ উদাহরণ হলো: (তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো) (قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ) এবং (তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করো) (قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ)।
আল্লাহর বাণী: (তাদের নিকট একটি কিতাব এসেছে) (جَاءَهُمْ كتَاب):
'জা-আ' (جاء): এটি সরাসরি এবং অব্যয়ের (حرف الجر) মাধ্যমে সকর্মক (يتعدى) হতে পারে। আপনি বলতে পারেন: 'জি’তুহু' (جئتُه) এবং 'জি’তু ইলাইহি' (جئت إليهِ)।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৭৭)
قوله: (أن يكفُرُوا ".
خبر مبتدأ محذوف، أي: الأمر أنْ يكفروا، وفيه أقوال أخَر.
قوله: (بَغيا) : مفعول له، وقيل: مصدر.
ومعنى بغيًا: حسدًا، أي: حسدًا لأنْ ينزل الله، أو: على أنْ ينزل الله من فضله الذي هو الوحى.
قوله: (وَمِنَ الذينَ أشْرَكوا) :معطوف على (الناس) .
قوله: (يَوَدُّ أحَدُهُمْ) : صفة لموصوف محذوف.
قوله: (أن يُعَمَّرَ) : فاعل (بِمُزَحْزِحِهِ) .
قوله: (مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ) :
جواب الشرط محذوف، أي: فليمتْ غيظا.
قوله: (أوَكُلمَا عَاهَدُوا عَهْدًا) :
الواو للعطف، وهو عطف على معنى الكلام المتقدم في قوله: (أَفَكُلَّمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ) ، وما بعده.
وقيل: هي " أوْ " التي لأحد الشيئين.
و" عَهْدًا) : قال أبو البقاء: (مصدر من غير لفظ الفعل أويجوز أن يكون - مفعولا به،، أي: أَعْطَوْا عَهْدًا، وهنا مفعول آخر محذوف أي: كلما عاهدوكم.
(نَبَذَ) عامل في (كأنهم لا يعلمون) .
তাঁর উক্তি: "যে তারা কুফরি করবে (أن يكفُرُوا)"।
এটি একটি উহ্য উদ্দেশ্য (مبتدأ)-এর বিধেয় (خبر), অর্থাৎ: বিষয়টি হলো এই যে তারা কুফরি করবে (الأمر أنْ يكفروا); আর এই বিষয়ে অন্যান্য অভিমতও রয়েছে।
তাঁর উক্তি: "সিঁমালঙ্ঘনবশত (بَغيا)": এটি মফউল লাহু (مفعول له), আবার কেউ বলেছেন: এটি মাসদার (مصدر)।
আর 'বাগইয়ান' (بَغيا) এর অর্থ হলো: বিদ্বেষবশত (حسدًا), অর্থাৎ: এই কারণে বিদ্বেষ যে আল্লাহ অবতীর্ণ করেন, অথবা: এই কারণে যে আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ থেকে যা অবতীর্ণ করেন—যা হলো ওহি (الوحى)।
তাঁর উক্তি: "এবং যারা শিরক করেছে (وَمِنَ الذينَ أشْرَكوا)":এটি "মানুষ (الناس)" শব্দটির সাথে সংযোজিত (معطوف)।
তাঁর উক্তি: "তাদের প্রত্যেকেই কামনা করে (يَوَدُّ أحَدُهُمْ)": এটি একটি উহ্য গুণান্বিত পদের (موصوف) গুণবাচক শব্দ (صفة)।
তাঁর উক্তি: "দীর্ঘায়ু লাভ করা (أن يُعَمَّرَ)": এটি "তাকে দূরে সরিয়ে দেয় (بِمُزَحْزِحِهِ)" এর কর্তা (فاعل)।
তাঁর উক্তি: "যে জিবরাঈলের শত্রু (مَنْ كَانَ عَدُوًّا لِجِبْرِيلَ)":
শর্তের উত্তর (جواب الشرط) এখানে উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ: তবে সে যেন ক্রোধে মারা যায় (فليمتْ غيظا)।
তাঁর উক্তি: "তবে কি যখনই তারা কোনো অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়েছে (أوَكُلمَا عَاهَدُوا عَهْدًا)":
'ওয়াও' (الواو) বর্ণটি এখানে সংযোগের (عطف) জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, আর এটি তাঁর বাণী: "তবে কি যখনই তোমাদের কাছে কোনো রাসূল এসেছে (أَفَكُلَّমَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ)" এবং এর পরবর্তী অংশের অর্থের সাথে সংযোজিত (عطف)।
কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো সেই 'আও' (أوْ) যা দুটির মধ্যে একটি নির্ধারণের জন্য আসে।
আর "অঙ্গীকার (عَهْدًا)": আবু আল-বাকা বলেছেন: (এটি এমন মাসদার (مصدر) যা ক্রিয়ার মূল শব্দ থেকে গঠিত নয়; অথবা এটি কর্মপদ (مفعول به) হওয়াও জায়েয, অর্থাৎ: তারা অঙ্গীকার প্রদান করেছে (أَعْطَوْا عَهْدًا)। আর এখানে আরেকটি কর্মপদ (مفعول) উহ্য রয়েছে, যার অর্থ: যখনই তারা তোমাদের সাথে অঙ্গীকার করেছে)।
"নিক্ষেপ করেছে (نَبَذَ)" শব্দটি "যেন তারা জানে না (كأنهم لا يعلمون)" অংশটির আমেল (عامل)।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৭৮)
(واتبعوا) : معطوف على (نبذ) .
قوله: (وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ) :
باعوا به، واللام جواب قسم محذوف.
"لَو كانوا يَعلَمُون) :
جواب " لو " محذوف أي: لو كانوا ينتفعون بعلمهم، لامتتعوا
من شراء السحر.
قوله: (وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ) :اللام جواب " لو "، ومثوبة: مبتدأ، (مِنْ عِنْدِ اللَّهِ) : صفة " خير) : خبر.
قوله: (مَا نَنْسَخْ) :
" ما) : مفعول " ننسخ "، على حد (أَيًّا مَا تَدْعُوا) ، و (مِنْ آيَة) : في موضع نصب على التمييز.
قوله: (أمْ تُرِيدُونَ) :
أصْل تريدون: تُرْودُون فنقلت حركة الواو إلى الراء، فسكنت الواو، وانكسر ما قبلها فقلبت ياءً.
قوله: (كمَا سُئِلَ مُوسَى) : نعت لمصدر محذوف، أي: سؤالا مثل سؤال.
قوله: (سَوَاءَ السبِيلِ) : ظرف.
قوله: (وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ "
" لَوْ) : مصدرية.
قوله: (وَمَا تُقَدموا ".
" مَا) : شرطية في موضع نصب بـ " تُقَدموا " و (منْ خَيْرٍ " مثل قوله: (مِنْ آيَةِ " في (مَا نَنْسَح) .
" تَجِدُوهُ) : أي تجدوا ثوابه، جواب الشرط.
قوله: (إِلا مَنْ كانَ هُودَا "
" مَنْ " في موضع رفع بـ " يدخل "؛ لأن الفعل مفرغ لما بعد " إلا ".
(واتبعوا) : (نبذ)-এর ওপর অনুবর্তী।
তাঁর কথা: (وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنْفُسَهُمْ) :
তারা এর বিনিময়ে বিক্রয় করেছে, এবং ‘লাম’ বর্ণটি একটি উহ্য শপথের উত্তর।
(لَو كانوا يَعلَمُون) :
‘লাও’-এর উত্তর এখানে উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ: যদি তারা তাদের জ্ঞান দ্বারা উপকৃত হতো, তবে তারা জাদু ক্রয় করা থেকে বিরত থাকত।
قوله: (وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ) :‘লাম’ হলো ‘লাও’-এর উত্তর, এবং ‘মাষুবাহ’ হলো উদ্দেশ্য, (مِنْ عِنْدِ اللَّهِ) হলো বিশেষণ এবং ‘খাইর’ হলো বিধেয়।
তাঁর কথা: (مَا نَنْسَخْ) :
‘মা’ হলো ‘নাসখ’-এর কর্ম, যা (أَيًّا مَا تَدْعُوا)-এর ব্যাকরণগত অবস্থার অনুরূপ, এবং (مِنْ آيَة) অংশটি পার্থক্যকারী হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে।
তাঁর কথা: (أمْ تُرِيدُونَ) :
‘তুরিদুনা’-এর মূল রূপ ছিল ‘তুরওয়িদুনা’; এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণের হরকত ‘রা’ বর্ণের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে, ফলে ‘ওয়াও’ সাকিন হয়ে গেছে এবং তার পূর্বের বর্ণে কাসরা থাকায় তা ‘ইয়া’-তে রূপান্তরিত হয়েছে।
তাঁর কথা: (كمَا سُئِلَ مُوسَى) : এটি একটি উহ্য ক্রিয়ামূলের বিশেষণ, অর্থাৎ: এমন জিজ্ঞাসা যেমন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।
তাঁর কথা: (سَوَاءَ السبِيلِ) : এটি একটি স্থান বা কালবাচক শব্দ।
তাঁর কথা: (وَدَّ كَثِيرٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُمْ)
‘লাও’ হলো মাসদারী বা ক্রিয়ামূলীয়।
তাঁর কথা: (وَمَا تُقَدموا)
‘মা’ হলো শর্তবাচক যা ‘তুক্বাদ্দিমু’-এর কারণে নসবের স্থানে রয়েছে এবং (منْ خَيْرٍ) অংশটি (মَا نَنْسَح)-এর মধ্যে বর্ণিত (مِنْ آيَةِ)-এর মতোই।
(تَجِدُوهُ) : অর্থাৎ তোমরা তার প্রতিদান পাবে, এটি শর্তের উত্তর।
তাঁর কথা: (إِلا مَنْ كانَ هُودَا)
‘মান’ শব্দটি ‘ইয়াদখুলু’-এর কারণে রফ-এর স্থানে রয়েছে; কারণ ক্রিয়াটি ‘ইল্লা’-এর পরবর্তী শব্দের আমল গ্রহণের জন্য মুক্ত রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৭৯)
قوله: (هُودا) : جمع: هائد.
قوله: (قل هَاتُوا) : فعل معتل اللام.
تقول في الماضي: هاتى يهاتى مهاتاة.
كـ: رامى يرامى مراماة، وأصله: هاتيوا وتقول للرجل: هات، مثل: رام، وللمرأة: هاتى.
قوله: (كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ) : أي: مثل ذلك.
قوله: (أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ) :
يجوز أن يكون في موضع نصب بدلا من " مساجد " بدل اشتمال، أو مفعول له. أي: كراهية أن يذكر.
قوله: (وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ".
هما موضع الشروق والغروب.
قوله: (تُولوَا) : مجزوم بـ " أيْنَ "، و (أيْنَ " منصوب بهذا الفعل.
قوله: (بَدِيعُ "، بمعنى: مبدع.
قوله: (كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ) :
قد ذكر ذلك عند قوله: (كذلك. . .) الأولى.
قوله: (يَتْلُونَهُ) : حال مقدرة؛ لأنهم لم يكونوا وقت إتيانه تالين له.
قوله: (حَق تلَاوَتِهِ) :" حق) : منصوب على المصدر؛ لأنها صفة للتلاوة في الأصل؛ لأن التقدير: تلاوة حقا، وإذا قدم وصف المصدر، وأضيف إلى المصدر، انتصب نصب المصدر.
তাঁর বাণী: (হূদান) : এটি 'হা-ইদ' এর বহুবচন।
তাঁর বাণী: (কুল হাতু) : এটি এমন একটি ক্রিয়া যার শেষ বর্ণটি দুর্বল (فعل معتل اللام)।
আপনি অতীতকালে বলবেন: হাতী-ইউহাতী-মুহাতাহ।
যেমন: রা-মা ইউরা-মী মুরা-মাহ। এর মূল রূপ ছিল: 'হা-তিউ'। আপনি পুরুষকে বলবেন: 'হাত', যেমন: 'রাম', আর নারীকে বলবেন: 'হাতী'।
তাঁর বাণী: (এভাবেই যারা জানত না তারা তাদের মতো কথা বলেছিল) : অর্থাৎ, সেটির মতোই।
তাঁর বাণী: (যেন সেখানে তাঁর নাম স্মরণ করা হয়) :
এটি 'মাসাজিদ' শব্দ থেকে 'বদল-ই-ইশতিমাল' বা অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থলাভিষিক্ত (بدل اشتمال) হিসেবে নাসাবযুক্ত (منصوب) অবস্থায় হওয়া সম্ভব, অথবা এটি কারণবাচক কর্ম (مفعول له) হিসেবে আসতে পারে। অর্থাৎ, তা স্মরণ করা না হওয়ার অপছন্দনীয়তা থেকে।
তাঁর বাণী: (পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই)।
এ দুটি হলো সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের স্থান।
তাঁর বাণী: (তোমরা মুখ ফিরাও) : এটি 'আইনা' দ্বারা জযমযুক্ত (مجزوم) হয়েছে, এবং 'আইনা' শব্দটি এই ক্রিয়া দ্বারা নাসাবযুক্ত (منصوب) হয়েছে।
তাঁর বাণী: (বদী') : এটি 'মুবদি'' বা উদ্ভাবক অর্থে ব্যবহৃত।
তাঁর বাণী: (এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরা বলেছিল) :
এটি প্রথম (এভাবেই...) এর আলোচনার নিকট উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর বাণী: (তারা তা পাঠ করে) : এটি একটি সম্ভাব্য অবস্থাজ্ঞাপক বাক্য বা হাল (حال مقدرة); কারণ তারা সেটি পাওয়ার সময় পাঠকারী ছিল না।
তাঁর বাণী: (তার যথাযথ পাঠ) :'হাক্ক' শব্দটি মাসদার (مصدر) হিসেবে নাসাবযুক্ত (منصوب) হয়েছে; কারণ এটি মূলত পাঠের গুণ বা সিফাত ছিল। কেননা এর মূল কাঠামো ছিল: 'তিলাওয়াতান হাক্কান'। যখন মাসদারের গুণকে আগে আনা হয় এবং মাসদারের দিকে সম্বন্ধ (ইদাফাত) করা হয়, তখন সেটি মাসদার হিসেবেই নাসাব গ্রহণ করে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৮০)
قوله: (وَمِنْ ذُرِّيَّتِي) :يتعلق بمحذوف أي: واجعل إمَاما، من ذريتى.
قوله: (مَثَابَةً) .
أصلها: مَثْوَبَةً، قيل: من ثاب يثوب: إذا رجع، فنقلت
حركة الواو إلى الثاء، فسكنت الواو، وانفتح ما قبلها، فقلبت ألفًا.
ثم قيل: الهاء للمبالغة كعلامة ونسابة؛ لكثرة من يثوب إليه، أي: يرجع.
وقيل للتأنيث.
أما إن أردت الموضع، فمثابة ومثابًا راجعان إلى هذا.
قوله: (وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى) :
يقرأ بلفظ الخبر، وبلفظ الأمر؛ فعلى لفظ الخبر: المعطوف عليه محذوف تقديره: فَثَابُوا، واتَخَذُوا.
وبلفظ الأمر: يجوز أن يكون مستأنفًا، ويجوز أن يكون معطوفًا على ناصب (وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ) ،، ويجوز أن يكون معطوفا على معنى (جَعَلْنَا الْبَيْتَ) ؛ كأنه قال: ثوبوا، واتخذوا.
قوله: (مُصَلى) : هو مفعول " اتَّخِذُوا "، ووزنه: (مفعَّل ".، " مُصَلَّى "، وهو مكان، ويجوز أن يكون مصدرًا، وفيه حذف مضاف، تقديره: مكان مصلى، أي: مكان صلاة، و (المقام) : موضع القيام.
قوله: (وعَهِدنا. . . " إلى " أَنْ طَهِّرَا) :
" عهدنا) : معطوف على جعلنا، و (أَنْ) يجوز أن تكون تفسيرية، ويجوز: بـ (أَنْ طَهِّرَا) .
قوله: (قَالَ وَمَنْ كَفَرَ) :
يحتمل أن تكون " مَنْ " شرطية في موضع رفع بالابتداء، وخبره وجوابه: (فَأمتّعُهُ) أي: ومن كفر فأنا أمتعه.
وقيل: الجواب محذوف تقديره: ومن كفر أرزقه، و (مَنْ " على هذا رفع بالابتداء.
وقال أبو البقاء: (ولا يجوز أن تكون منصوبة؛ لأن أداة الشرط لا يعمل فيها جوابها ".
তাঁর বাণী: (এবং আমার বংশধরদের থেকেও):এটি একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, অর্থাৎ: "এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকে ইমাম (নেতা) মনোনীত করুন।"
তাঁর বাণী: (প্রত্যাবর্তনস্থল/আশ্রয়স্থল)।
এর মূল রূপ হলো: মাছওয়াবাতান। বলা হয়: এটি 'ছাবা ইয়াছুবু' থেকে এসেছে—যখন কেউ ফিরে আসে। এখানে
'ওয়াও' বর্ণের স্বরচিহ্নটি 'ছা' বর্ণের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে, ফলে 'ওয়াও' সাকিন হয়ে গেছে এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণে ফাতহা (জবর) থাকায় তা আলিফে পরিবর্তিত হয়েছে।
এরপর বলা হয়েছে: এখানে 'হা' বর্ণটি আধিক্য বোঝাতে যুক্ত হয়েছে, যেমন 'আল্লামাহ' এবং 'নাসসাবাতুন' শব্দের ক্ষেত্রে হয়; কারণ সেখানে অধিক সংখ্যক মানুষ বারবার ফিরে আসে।
আবার বলা হয়েছে এটি স্ত্রীলিঙ্গ বোঝাতে যুক্ত হয়েছে।
তবে আপনি যদি স্থান বোঝাতে চান, তবে 'মাছাবাতান' এবং 'মাছাবান' উভয় শব্দই এই অর্থের দিকেই ফিরে যায়।
তাঁর বাণী: (এবং তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানোর জায়গাকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো):
এটি সংবাদবাচক বাক্য এবং নির্দেশবাচক বাক্য—উভয়ভাবে পড়া হয়। সংবাদবাচক পাঠ অনুযায়ী: এর অনুবর্তী অংশটি উহ্য থাকবে যার অনুমিত রূপ: "অতঃপর তারা ফিরে এল এবং গ্রহণ করল।"
আর নির্দেশবাচক পাঠ অনুযায়ী: এটি একটি নতুন বাক্য হিসেবে আরম্ভ হওয়া সম্ভব, আবার এটি 'আমরা ঘরকে বানালাম' বাক্যের কর্মের সাথে যুক্ত হওয়া সম্ভব, অথবা 'আমরা ঘরকে বানালাম' বাক্যের অর্থের সাথে যুক্ত হতে পারে; যেন তিনি বলেছেন: "তোমরা ফিরে এসো এবং গ্রহণ করো।"
তাঁর বাণী: (সালাতের স্থান): এটি 'গ্রহণ করো' ক্রিয়ার কর্ম, এবং এর ওজন বা গঠন হলো: 'মুফায়্যাল'। 'মুসাল্লা' একটি স্থানের নাম, আবার এটি ক্রিয়ামূল হওয়াও সম্ভব, সেক্ষেত্রে একটি সম্বন্ধপদ উহ্য থাকবে যার অনুমিত রূপ: সালাতের স্থান, অর্থাৎ সালাত আদায়ের জায়গা। আর 'মাকাম' অর্থ হলো দণ্ডায়মান হওয়ার স্থান।
তাঁর বাণী: (এবং আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম... 'যাতে তোমরা পবিত্র করো' পর্যন্ত):
'আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম' শব্দটি 'আমরা বানালাম' শব্দের সাথে যুক্ত, এবং এখানে 'যাতে' শব্দটি ব্যাখ্যামূলক হতে পারে, আবার এটি পরবর্তী শব্দের সাথে মিলে ক্রিয়ামূলের অর্থ প্রদান করতে পারে।
তাঁর বাণী: (তিনি বললেন, আর যে কুফরি করবে):
সম্ভাবনা রয়েছে যে 'যে' শব্দটি এখানে শর্তবাচক হিসেবে বাক্যের শুরুতে রফ-এর স্থানে রয়েছে, আর এর সংবাদ ও ফলাফল হলো: (অতঃপর আমি তাকে ভোগবিলাস করতে দেব) অর্থাৎ: যে কুফরি করবে আমি তাকে জীবনোপকরণ দান করব।
বলা হয়েছে: এখানে ফলাফলটি উহ্য রয়েছে যার অনুমিত রূপ: "যে কুফরি করবে আমি তাকেও রিজিক দেব", এবং এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী 'যে' শব্দটি বাক্যের শুরুতে রফ-এর অবস্থায় আছে।
আবু আল-বাকা বলেন: "এটি নসব বা কর্মের অবস্থায় হওয়া বৈধ নয়; কারণ শর্তবাচক অব্যয়ের ওপর তার পরবর্তী ফলাফল প্রভাব ফেলে না।"
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৮১)
وقيل: (مَنْ " بمعنى الذي، أو نكرة موصوفة، والتقدير: وأرزق من كفر، وحذف الفعل لدلالة الكلام عليه.
و" فَأُمَتِّعُهُ " عطف على الفعل المحذوف. ولا يجوز على هذا أن يكون "من"
مبتدأ، و (فَأُمَتِّعُهُ " الخبر؛ لأن " الذي " لا تدخل الفاء خبرها إلا بمعنى الشرط، والكفر لا يستحق به التمتع.
قوله: (قَلِيلًا) : نعت لمصدر محذوف.
قوله: (وَبِئْسَ الْمَصِيرُ) :
المخصوص محذوف أي: النار.
قوله: (وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ) :
حكاية حال ماضية.
(وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا) : أي: يقول: ربنا تقبل منا، ومفعول " تَقَبَّلْ " محذوف، أي: تقبل ما يقربنا إليك.
و" الْقَوَاعِد) : جمع: قاعدة، و (القَوَاعِدُ مِنَ النِّسَاءِ) : جمع: قاعد.
قوله: (وَمِن ذُريتِنَا) أي: واجعل من ذريتنا.
قوله: (وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا) : أصله: أرئنا، فحذفت الهمزة التي هي عين الكلمة، وصارت الراء متحركة بحركة الهمزة.
والجمهور على كسر الراء، وقرئ بإسكانها.
قوله: (اصْطَفَى) :الألف منقلبة عن واو، والواو إذا وقعت رابعة فصاعدا تقلب ياء.
এবং বলা হয়েছে: "যে" শব্দটি "যিনি" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অথবা এটি একটি বিশেষণযুক্ত অনির্দিষ্ট বিশেষ্য; আর এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: "এবং আমি তাকে জীবিকা দান করব যে কুফরি করেছে"। এখানে পূর্ববর্তী কথার ইঙ্গিতের কারণে ক্রিয়াটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
আর "অতঃপর আমি তাকে জীবনোপভোগের সুযোগ দেব" অংশটি উক্ত বিলুপ্ত ক্রিয়ার ওপর সংযোজিত হয়েছে। এমতাবস্থায় "যে" শব্দটিকে
উদ্দেশ্য এবং "অতঃপর আমি তাকে জীবনোপভোগের সুযোগ দেব" অংশটিকে বিধেয় হিসেবে গণ্য করা বৈধ হবে না; কারণ "যিনি" অর্থবোধক শব্দের বিধেয়ে 'ফা' যুক্ত হয় না যদি না তা শর্তের অর্থ প্রদান করে, আর কুফরির কারণে কেউ জীবনোপভোগের অধিকার লাভ করে না।
তাঁর বাণী: "সামান্য" শব্দটি একটি বিলুপ্ত ক্রিয়ামূলের বিশেষণ।
তাঁর বাণী: "এবং তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য":
এখানে নির্দিষ্ট বিষয়টি বিলুপ্ত রয়েছে, অর্থাৎ: জাহান্নাম।
তাঁর বাণী: "এবং যখন ইব্রাহিম ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিলেন":
এটি একটি অতীত অবস্থার বর্ণনা।
"এবং ইসমাইল; হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন": অর্থাৎ তিনি বলছিলেন: হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। আর "কবুল করুন" ক্রিয়ার কর্মপদটি এখানে বিলুপ্ত রয়েছে, যার অর্থ হলো: আপনি সেই আমল কবুল করুন যা আমাদেরকে আপনার নিকটবর্তী করে।
আর "ভিত্তিগুলো" শব্দটি 'কায়েদাহ' এর বহুবচন; আর "বার্ধক্যে উপনীত নারীগণ" শব্দবন্ধে এটি 'কায়েদ' এর বহুবচন।
তাঁর বাণী: "এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে" অর্থাৎ: এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য থেকে আপনি (এক অনুগত জাতি) তৈরি করুন।
তাঁর বাণী: "এবং আমাদেরকে আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলী দেখিয়ে দিন": এর মূল রূপ ছিল 'আরইনা', অতঃপর 'হামজাহ' বিলুপ্ত করা হয়েছে যা ছিল শব্দের দ্বিতীয় মূল বর্ণ, এবং 'রা' বর্ণটি হামজাহ-এর স্বরচিহ্ন গ্রহণ করেছে।
অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ (الجمهور) 'রা' বর্ণটিকে 'জের' দিয়ে পড়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, তবে এটি 'জযম' দিয়েও পাঠ করা হয়েছে।
তাঁর বাণী: "মনোনীত করেছেন":এখানে আলিফ বর্ণটি 'ওয়াও' থেকে পরিবর্তিত হয়ে এসেছে। আর 'ওয়াও' যখন চতুর্থ বা তার পরবর্তী অবস্থানে আসে, তখন তা 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৮২)
قوله: (إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ) :
إذ: بدل من " إذ " الأولى.
قوله: (إِلَهَا وَاحِدًا) : بدل من " إله " الأول.
قوله: (صِبْغَةَ اللهِ) :أى: دين الله، وانتصابه بفعل محذوف، أي: اتبعوا دين الله.
ةول: (وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ) :
جاء على الأصل، والقياس: جهة، مثل: عدة.
قوله: (لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ) :
اللام متعلقة بمحذوف تقديره: (فعلنا ".
قوله: (إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا) : استثناء منقطع.
قوله: (كَمَا أَرْسَلْنَا) :الكاف صفة لمصدر محذوف كأنه قال: ولعلكم تهتدون هداية كما أرسلنا.
قوله: (إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ) :
الألف مبدلة من واو؛ لأنه يقال في تثنيته: صفوان، وفى الكلام حذف، أي: إن طواف الصفا أو سعى الصفا.
والشعائر: جمع شعيرة، كـ: صحيفة وصحائف.
قوله: (أَنْ يَطَّوَّفَ) : أدغمت التاء في الطاء.
قوله: (وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا) :
" خيرًا) : مفعول به؛ لأنه لما حذف الحرف وصل الفعل، فأصله. فمن تطوع بخير، ويجوز أن يكون صفة لمصدر محذوف، أي: تطوعا خيرا.
قوله: (إلا الذِينَ تَابُوا) :
استثناء من الضمير في " يلعنهم ".
قوله: (وتصْرِيفِ الرياحِ) :
هذا المصدر مضاف إلى المفعول، ويجوز أن يكون مضافًا إلى الفاعل والمفعول محذوف، وتقديره: وتصريف الرياح السحاب وياء
" الريح " منقلبة عن واو؛ لأنه من راح، يروح، والجمع: أرواح.
قوله: (كَحُبِّ اللَّهِ "
أي: حبًا كحب الله.
তাঁর উক্তি: (ইয কালা লিবানিহি) :
ইয: এটি প্রথম "ইয" এর স্থলাভিষিক্ত বা বদল (بدل)।
তাঁর উক্তি: (ইলাহান ওয়াহিদান) : এটি প্রথম "ইলাহ" শব্দ থেকে বদল (بدل)।
তাঁর উক্তি: (সিবগাতাল্লাহ) :অর্থাৎ: আল্লাহর দ্বীন। এর নসব (Nasb) হয়েছে একটি উহ্য ক্রিয়াপদ (فعل محذوف) দ্বারা; অর্থাৎ: তোমরা আল্লাহর দ্বীন অনুসরণ করো।
তাঁর উক্তি: (ওয়া লিকুল্লিন উইজহাতুন) :
এটি মূল রূপ অনুযায়ী এসেছে। আর ভাষাতাত্ত্বিক নিয়ম বা কিয়াস (قياس) অনুযায়ী রূপটি হতো ‘জিহাহ’, যেমন: ‘ইদাহ’।
তাঁর উক্তি: (লিআল্লা ইয়াকুনা লিননাসি) :
এখানে 'লাম' বর্ণটি একটি উহ্য শব্দের সাথে সম্পৃক্ত (متعلق), যার আনুমানিক রূপ হলো: "আমরা করেছি"।
তাঁর উক্তি: (ইল্লাল্লাযিনা জালামু) : এটি একটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) ব্যতিক্রম।
তাঁর উক্তি: (কামা আরসালনা) :এখানে 'কাফ' বর্ণটি একটি উহ্য মাসদার (مصدر) বা ক্রিয়ামূলের বিশেষণ (صفة); যেন তিনি বলেছেন: "যাতে তোমরা এমন হিদায়াত প্রাপ্ত হও যেমনটি আমি প্রেরণ করেছি"।
তাঁর উক্তি: (ইন্নাদ সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ) :
এখানে ‘আলিফ’ বর্ণটি ‘ওয়াও’ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে; কারণ এর দ্বিবচনে ‘সাফাওয়ান’ বলা হয়। আর বাক্যে কিছু অংশ উহ্য (حذف) রয়েছে, অর্থাৎ: নিশ্চয়ই সাফার তাওয়াফ বা সাফার সাঈ।
আর ‘শাআইর’ হলো ‘শায়িরাহ’-এর বহুবচন, যেমন: ‘সাহীফাহ’ থেকে ‘সাহাইফ’।
তাঁর উক্তি: (আইঁ ইয়াত্তাওওয়াফা) : এখানে ‘তা’ বর্ণটিকে ‘ত’ বর্ণের মধ্যে সন্ধি বা ইদগাম (إدغام) করা হয়েছে।
তাঁর উক্তি: (ওয়া মান তাতাওওয়াআ খায়রান) :
‘খায়রান’: এটি কর্মপদ (مفعول به); কারণ যখন অব্যয়টি বিলুপ্ত হয়েছে তখন ক্রিয়াপদটি সরাসরি কর্মের সাথে যুক্ত হয়েছে। এর মূল রূপ ছিল: "যে ব্যক্তি কল্যাণের সাথে স্বেচ্ছায় কাজ করে"। এটি একটি উহ্য মাসদার (مصدر)-এর বিশেষণ (صفة) হওয়াও বৈধ, অর্থাৎ: "কল্যাণকর স্বেচ্ছামূলক কাজ"।
তাঁর উক্তি: (ইল্লাল্লাযিনা তাবু) :
এটি ‘ইয়ালআনাহুম’ ক্রিয়াপদের অন্তর্ভুক্ত সর্বনাম (ضمير) থেকে একটি ব্যতিক্রম।
তাঁর উক্তি: (ওয়া তাসরিফুর রিয়াহি) :
এই মাসদার (مصدر) বা ক্রিয়ামূলটি কর্মের (مفعول) দিকে সম্বন্ধযুক্ত বা মুদাফ (مضاف) হয়েছে। এটি কর্তার (فاعل) দিকে মুদাফ (مضاف) হওয়াও সম্ভব যেখানে কর্মটি উহ্য রয়েছে; এর আনুমানিক রূপ হলো: "বায়ুর মেঘমালাকে পরিচালিত করা"। আর ‘রিহ’ শব্দের ‘ইয়া’ বর্ণটি ‘ওয়াও’ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে; কারণ এটি ‘রাহা-ইয়ারূহু’ থেকে উদ্ভূত, আর এর বহুবচন হলো ‘আরওয়াহ’।
তাঁর উক্তি: (কাহুব্বিল্লাহ) :
অর্থাৎ: এমন ভালোবাসা যা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার ন্যায়।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৮৩)
قوله: (وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا) : قيل: يتعدى إلى مفعولين، و (الَّذِينَ ظَلَمُوا) : فاعل.
وجواب " لو " محذوف، أي: لرأوا مَضَرة اتخاذهم الأنداد، أو: لرأوا أمرًا عظيمًا.
ويقرأ بالتاء، وجواب: (لو " محذوف أيضا.
" يرى " وَلِىَ " لو "، والقاعدة: "أن" لو " يليها الماضي، فهو هنا على حكاية الحال، أو لأن خبر الله تعالى صدق.
" إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ "
" إذ) : وقعت هنا بمعنى المستقبل، ووضعها أن تدل على
الماضى، وجاز ذلك لما ذكر أن خبر الله عن المستقبل كالماضى، أو على حكاية الحال و (انَّ الْقُوَّةَ) معمول جواب " لو "، أي: لعلموا أن القوة.
قوله: (إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُوا) :
" إذ " هذه: بدل من الأولى.
قوله: (كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ) :
الكاف في محل الخبر، أي: الأمر كذلك، ويجوز أن يكون نعتًا لمصدر محذوف، أي: يريهم رؤية كذلك، أو: يحشرهم كذلك.
قوله: (كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا) :
أصل (كل) : (أأكل " بهمزتين الأولى همزة الوصل، والثانية فاء الكلمة، إلا أنهم حذفوا فاء الكلمة، فاستغنوا عن همزة الوصل؛ لتحرك ما بعدها. والحذف هنا ليس بقياس، ولم يأتِ إلا في: (خُذْ" و "مُرْ" و "كُلْ".
" حَلَالا) : يجوز أن تكون حالاً من " ما " وهي موصولة، ويجوز أن تكون صفة لمصدر محذوف.
قوله: (وأنْ تَقُولُوا) :
معطوف على " بِالسوء "، فيكون في موضع جر.
قوله: (مَا ألفَينا. . . أولَوْ كانَ آبَاوُهُم) :
ألف " أَلْفَيْنَا " منقلبة عن واو؛ لأن الألف مجهولة، وذلك قاعدتها، والهمزة للإنكار وجواب " لو " محذوف، دلَّ عليه " نَتَبِعُ "، والمعنى: أفكانوا يتبعونهم.
তাঁর বাণী: (وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا): বলা হয়েছে যে, এটি দুটি কর্মপদ (مفعولين) গ্রহণ করে এবং (الَّذِينَ ظَلَمُوا) অংশটি হলো কর্তা (فاعل)।
আর "যদি" (لو)-এর উত্তর (جواب) উহ্য (محذوف) রয়েছে, অর্থাৎ: তারা অবশ্যই তাদের অংশীদার সাব্যস্ত করার অপকারিতা দেখতে পেত, অথবা: তারা এক ভয়াবহ বিষয় প্রত্যক্ষ করত।
এটি 'তা' বর্ণযোগেও পঠিত হয়, এবং এক্ষেত্রেও "যদি" (لو)-এর উত্তর (جواب) উহ্য (محذوف) রয়েছে।
"দেখবে" (يرى) শব্দটি "যদি" (لو)-এর পরে এসেছে। নিয়ম হলো: "যদি" (لو)-এর পরে অতীতকাল (الماضي) আসে; এখানে এটি বর্তমান অবস্থার বর্ণনা (حكاية الحال) হিসেবে এসেছে অথবা একারণে যে, আল্লাহ তাআলার সংবাদ সত্য।
"যখন তারা আযাব দেখবে" (إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ)
"যখন" (إذ): এখানে ভবিষ্যৎ কালের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যদিও এর প্রকৃতি হলো অতীতকাল (الماضي) নির্দেশ করা। এটি বৈধ হয়েছে একারণে যে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আল্লাহর সংবাদ অতীতকালের মতোই নিশ্চিত, অথবা এটি বর্তমান অবস্থার বর্ণনা (حكاية الحال) হিসেবে এসেছে। আর (নিশ্চয়ই সমস্ত শক্তি) অংশটি "যদি" (لو)-এর উত্তরের (جواب) আমলকৃত পদ (معمول), অর্থাৎ: তারা অবশ্যই জানত যে সমস্ত শক্তি আল্লাহরই জন্য।
তাঁর বাণী: (إِذْ تَبَرَّأَ الَّذِينَ اتُّبِعُوا):
এই "যখন" (إذ) শব্দটি প্রথমটির স্থলাভিষিক্ত (بدل)।
তাঁর বাণী: (كَذَلِكَ يُرِيهِمُ اللَّهُ أَعْمَالَهُمْ):
'কাফ' অক্ষরটি সংবাদের (خبر) স্থলে রয়েছে, অর্থাৎ: বিষয়টি এরূপ। অথবা এটি একটি উহ্য (محذوف) ক্রিয়ামূলের (مصدر) বিশেষণ (نعت) হওয়াও সম্ভব, অর্থাৎ: তিনি তাদেরকে এরূপ প্রদর্শন করাবেন, অথবা: তাদেরকে এরূপ সমবেত করবেন।
তাঁর বাণী: (كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا):
'কুল' (كل) শব্দের মূল হলো 'আ'কুল' (أأكل), যাতে দুটি হামযা রয়েছে—প্রথমটি সংযোগকারী হামযা (همزة الوصل) এবং দ্বিতীয়টি শব্দের প্রথম মূলাক্ষর (فاء الكلمة)। তবে তারা শব্দের প্রথম মূলাক্ষরটি বিলুপ্ত করেছে, ফলে পরবর্তী অক্ষরটি সচল হওয়ায় সংযোগকারী হামযা (همزة الوصل)-এর আর প্রয়োজন থাকেনি। এখানে এই বিলুপ্তি নিয়মানুগ (قياس) নয়, এবং এটি কেবল 'খুয' (خُذْ), 'মুর' (مُرْ) এবং 'কুল' (كُلْ) শব্দত্রয়েই এসেছে।
'হালাল' (حَلَالًا): এটি 'মা' (ما) থেকে অবস্থা (حال) হওয়া সম্ভব—যা এখানে সংযোগকারী অব্যয় (موصولة)—আবার এটি কোনো উহ্য (محذوف) ক্রিয়ামূলের (مصدر) বিশেষণ (صفة) হওয়াও সম্ভব।
তাঁর বাণী: (وأنْ تَقُولُوا):
এটি 'মন্দ কাজ' (بِالسوء)-এর সাথে সংযোজিত (معطوف), তাই এটি নিম্নমুখী বিভক্তি (جر) অবস্থায় রয়েছে।
তাঁর বাণী: (مَا ألفَينا. . . أولَوْ كانَ آبَاوُهُم):
'আলফাইনা' (أَلْفَيْنَا) শব্দের আলিফটি 'ওয়াও' থেকে পরিবর্তিত হয়েছে; কারণ এই আলিফটি অজ্ঞাত (مجهولة) এবং এটাই এর নিয়ম। আর হামযাটি এখানে অস্বীকৃতি (الإنكار) প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে এবং "যদি" (لو)-এর উত্তর (جواب) উহ্য (محذوف) রয়েছে, যা 'অনুসরণ করা' (نَتَبِعُ) শব্দ দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়: তবুও কি তারা তাদের পিতৃপুরুষদের অনুসরণ করবে?
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৮৪)
قوله: (دعاءَ "
منصوب بـ " يَسمَعُ "، وفرغ له العامل قبل "إلا ".
قوله: (لحْمَ الخنْزِير) :
النون في "خنزير" أصل.
وقيل: زائدة، فيكون مأخوذًا من "الخَزَرِ".
قوله: (بَاغ) : حال. و "عَاد) : معطوف عليه.
قوله: (إلا النارَ) :
النار: مفعول يكون.
قوله: (ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ نَزَّلَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ) :
" ذلك) : مبتدأ، و (بِأَنَّ اللَّهَ) : الخبر، أي: ذلك العذاب مستحق، بأن الله نزل. ..
قوله: (لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا) :
يقرأ بالرفع.
ف " أَنْ تُوَلُّوا) : خبر، وبالنصب، على أن "البر" خبر مقدم، في "أنْ تُولُّوا) : اسمها، وقوى ذلك عند من قرأ به؛ لأنه أعرف من البر؛ إذ كان كالمضمر في أنه لا يوصف، والبر يوصف، ومن هنا قويت القراءة بالنصب في قوله تعالى: (فَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَنْ قَالُوا ".
قوله: (عَلَى حُبِّهِ) :
الهاء ضمير " المَالَ "، أو ضمير اسم الله وعلى هذا يكون المصدر
مضافا إلى المفعول.
و" ذَوِي الْقُرْبَى) : منصوب بـ " آتَى "، و، يجوز أن يكون منصوبًا بالمصدر؛ لأنه يتعدى إلى مفعول واحد، وقد استوفاه، ويجوز أن تكون (الهاء) ضمير " مَنْ " فعلى هذا يكون المصدر مضافا إلى الفاعل.
তাঁর বাণী: (দুআ) "
"ইয়াসমা'উ" দ্বারা মানসুব (منصوب) হয়েছে এবং "ইল্লা" এর আগে আমিল (عامل) এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তাঁর বাণী: (শুয়োরের মাংস) :
"খিনজির" শব্দে 'নুন' বর্ণটি মূল (أصل)।
এবং বলা হয়েছে: এটি অতিরিক্ত (زائدة), যা মূলত "খাযার" শব্দ থেকে গৃহীত।
তাঁর বাণী: (বা-গিন) : হাল (حال)। আর (আ-দিন) : তার প্রতি মা’তুফ (معطوف عليه)।
তাঁর বাণী: (আগুন ব্যতীত) :
আগুন: 'ইয়াকুনু' এর মাফউল (مفعول)।
তাঁর বাণী: (তা এই জন্য যে, আল্লাহ সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন) :
"যালিকা" : মুবতাদা (مبتدأ), এবং "বি-আন্নাল্লাহ" : খবর (الخبر), অর্থাৎ: সেই আজাব অবধারিত, যেহেতু আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন। ..
তাঁর বাণী: (তোমাদের মুখ ফেরানো পুণ্য নয়) :
এটি রফ' (الرفع) যোগে পঠিত হয়।
সেক্ষেত্রে "আন তুওয়াল্লু" : খবর (خبر)। আর নসব (النصب) যোগে পাঠ করলে "আল-বিররা" শব্দটি খবর মুকাদ্দাম (خبر مقدم) এবং "আন তুওয়াল্লু" : তার ইসিম (اسمها); যারা এই কিরাআত অনুযায়ী পাঠ করেন তাদের নিকট এটি শক্তিশালী; কারণ এটি 'আল-বির' অপেক্ষা অধিক সুনির্দিষ্ট বা মারেফা (معرفة); যেহেতু এটি প্রচ্ছন্ন বা দমীরের (مضمر) ন্যায় যা গুণান্বিত হয় না, যেখানে 'আল-বির' গুণান্বিত হয়। এখান থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের কওমের উত্তর এছাড়া আর কিছুই ছিল না যে তারা বলল..."-তে নসব (النصب) যোগে পাঠ করা শক্তিশালী হয়েছে।
তাঁর বাণী: (তাঁর প্রতি ভালোবাসার খাতিরে) :
'হা' যমীরটি "আল-মাল" (সম্পদ) এর দিকে ফিরেছে, অথবা তা মহান আল্লাহর নামের যমীর এবং এই ভিত্তিতে মাসদার (المصدر) শব্দটি মাফউল (مفعول) এর দিকে মুদাফ (مضاف) হয়েছে।
এবং "যাবিল কুরবা" (নিকটাত্মীয়গণ) : "আ-তা" দ্বারা মানসুব (منصوب) হয়েছে। এটি মাসদার (المصدر) দ্বারাও মানসুব (منصوب) হওয়া জায়েয; কারণ এটি একটি মাফউল (مفعول) এর দিকে ধাবিত হয় এবং তা এখানে পূর্ণ হয়েছে। আবার 'হা' যমীরটি "মান" এর দিকে ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে, এমতাবস্থায় মাসদার (المصدر) শব্দটি ফায়েল (فاعل) এর দিকে মুদাফ (مضاف) হবে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৮৫)
قوله: (كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ) :
العامل في " إذا " (كتب) ولا يجوز أن يكون العامل فيها لفظ الوصية؛ لأنها
مصدر، ولا يتقدم عليه مَعْمُولُه.
(إِنْ تَرَكَ خَيْرًا) : جوابه: (الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ) وحذف الفاء على حد قوله:
مَنْ يَفْعَلِ الْحَسَنَاتِ اللَّهُ يَشْكُرُهَا. . . . . . . . . . . . . . ء. . . . -
وقيل: ما تقدم من معنى الكلام؛ كما تقول: أنت ظالم إن فعلت.
قوله: (كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ) :
أى: كتْبًا كما كتب.
وقيل: صومًا كما كتب.
وقيل: حال من الصيام.
قوله: (أَيَّامًا مَعْدُودَاتٍ) :
منصوب بفعل مقدر، أي: صوموا أيامًا، فتكون ظرفا.
ويجوز أن ينتصب بـ " كُتبَ ".
قوله: (مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ)
(أخَرَ) : لا ينصرف للصفة والعدل.
وقيل: لأن الأصل في (فُعْلَى) وصفا أن تستعمل في الجمع بالألف واللام؛ كالكبرى والكبر، والصغرى والصغر.
তাঁর উক্তি: (তোমাদের কারও নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে ধন-সম্পদ রেখে যায়, তবে পিতা-মাতার জন্য অসিয়ত করা তোমাদের ওপর বিধিবদ্ধ করা হয়েছে):
"ইযা" (যখন) শব্দটিতে আমলকারী (ক্রিয়াশীল শব্দ) হলো "কুতিবা" (বিধিবদ্ধ করা হয়েছে)। আর "অসিয়ত" শব্দটি এখানে আমলকারী হওয়া জায়েজ নয়; কারণ এটি একটি
মাসদার (ক্রিয়ামূল), আর মাসদারের মামুল (পরিচালিত শব্দ) তার পূর্বে আসতে পারে না।
(যদি সে ধন-সম্পদ রেখে যায়): এর জওয়াব (উত্তর) হলো: (পিতা-মাতার জন্য অসিয়ত করা)। এখানে "ফা" বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে যেমনটি এই উক্তিতে রয়েছে:
যে ব্যক্তি সৎকর্মসমূহ সম্পাদন করে, আল্লাহ তার প্রতিদান দেন। . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . -
আবার বলা হয়েছে: জওয়াব হলো পূর্ববর্তী বাক্যের অর্থ; যেমন আপনি বলে থাকেন: তুমি যালিম হবে যদি তুমি এরূপ করো।
তাঁর উক্তি: (তোমাদের ওপর সিয়াম বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যেমন বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল):
অর্থাৎ: এমনভাবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যেমনটি আগে করা হয়েছিল।
আবার বলা হয়েছে: এমন এক রোযা যেমনটি বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল।
আরও বলা হয়েছে: এটি "সিয়াম" শব্দ থেকে হাল (অবস্থা) হিসেবে এসেছে।
তাঁর উক্তি: (নির্দিষ্ট কয়েক দিন):
এটি একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা মানসুব (নসবযুক্ত) হয়েছে, অর্থাৎ: তোমরা নির্দিষ্ট কয়েক দিন রোযা রাখো; এমতাবস্থায় এটি যরফ (ক্রিয়া সংগঠনের সময়) হবে।
আবার "কুতিবা" ক্রিয়া দ্বারাও এটি মানসুব হওয়া জায়েজ।
তাঁর উক্তি: (অন্যান্য দিনগুলো থেকে)
(উখার): শব্দটি সিফাত (গুণবাচক বৈশিষ্ট্য) এবং আদল (শব্দগত রূপান্তর)-এর কারণে গায়রে মুনসারিফ (অপরিবর্তনীয়)।
আরও বলা হয়েছে: কারণ সিফাত হিসেবে "ফু’লা" ওযনটি যখন ব্যবহৃত হয়, তখন মূল নিয়ম হলো তা আলিফ এবং লাম সহযোগে জমা (বহুবচন) রূপে ব্যবহৃত হওয়া; যেমন: আল-কুবরা থেকে আল-কুবার এবং আস-সুগরা থেকে আস-সুগার।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৮৬)
قوله: (وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ ".
أي: وعلى الذين لهم بالصيام طاقة إذا أفطروا فدية.
وقيل: معناه: وعلى الذين لا يطيقون لكبرهم، وحذف الباقي.
قوله: (طعَامُ مِسْكبنِ) : بدل، وطعام، بمعنى: الإطعام؛ كالعطاء بمعنى:
الإعطاء.
قوله: (شَهْرُ رَمَضَانَ) .
أي: هي شهر رمضان فهو خبر مبتدأ، وقيل: هو مبتدأ، وفى الخبر وجهان أحدهما: (الَّذِى أُنْزِلَ) .
والثاني: (فَمَنْ شَهِدَ) .
فإن قيل: إذا كان خبرًا، فكيف تدخل فيه الفاء؟ !
قيل: دخلت؛ لأنك وصفت الشهر بـ " الذي،، فدخلت كما تدخل في نفس " الذي "؛ كقوله تعالى: (قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ) .
فإن قيل: فأين الضمير العائد على المبتدأ في الجملة؟
قيل: وضع الظاهر موضعه تفخيمًا: كقوله:
لَا أرَى المَوْتَ يَسْبِقُ الْمَوْت شَىء:. . . . . . . . ..
قوله: (وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ) : معطوف على "اليُسْرَ".
قوله: (فَلْيَسْتَجِيبُوا "
بمعنى: فليجيبوا؛ كما تقول: قر واستقرّ بمعنى.
তাঁর বাণী: (আর যারা এটি পালনে সক্ষম)।
অর্থাৎ: আর যাদের রোজা রাখার সামর্থ্য রয়েছে, তারা যদি রোজা ভঙ্গ করে তবে তাদের ওপর ফিদয়া (বিনিময়) প্রদান করা আবশ্যক।
বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো: যারা বার্ধক্যের কারণে সামর্থ্য রাখে না; এখানে বাক্যের অবশিষ্ট অংশ উহ্য রাখা হয়েছে।
তাঁর বাণী: (একজন মিসকিনকে খাবার দান করা): এটি একটি বদল (بدل); আর 'তাআম' (খাদ্য) শব্দটি এখানে 'ইতআম' অর্থাৎ খাদ্যদান অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; যেমন 'আতা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়
'ইতা' বা প্রদানের অর্থে।
তাঁর বাণী: (রমজান মাস) .
অর্থাৎ: এটি হলো রমজান মাস; এমতাবস্থায় এটি একটি উহ্য উদ্দেশ্যের (مبتدأ) বিধেয় (خبر)। আবার বলা হয়েছে: এটি নিজেই একটি উদ্দেশ্য (مبتدأ); আর এর বিধেয় (خبر) হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে—প্রথমটি হলো: (যাতে অবতীর্ণ হয়েছে)।
এবং দ্বিতীয়টি হলো: (সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পায়)।
যদি প্রশ্ন করা হয়: এটি যদি বিধেয় (خبر) হয়, তবে এতে 'ফা' অক্ষরটি কীভাবে যুক্ত হলো?!
উত্তরে বলা হয়েছে: এটি যুক্ত হয়েছে কারণ আপনি মাসটিকে 'আল্লাজি' (যেটি) দ্বারা বিশেষায়িত করেছেন; সুতরাং এটি সেখানে সেভাবেই যুক্ত হয়েছে যেভাবে স্বয়ং 'আল্লাজি'-এর ক্ষেত্রে যুক্ত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, তোমরা যে মৃত্যু থেকে পলায়ন করছ, তা অবশ্যই তোমাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে)।
যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে বাক্যে উদ্দেশ্য (مبتدأ)-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম (ضمير) কোথায়?
উত্তরে বলা হয়েছে: মহিমা প্রকাশের (تفخيم) উদ্দেশ্যে সর্বনামের স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্য (ظاهر) স্থাপন করা হয়েছে; যেমন কবির ভাষায়:
আমি মৃত্যুকে এমন কিছু হিসেবে দেখি না যা মৃত্যুকে ছাড়িয়ে যেতে পারে...
তাঁর বাণী: (আর যাতে তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূর্ণ করতে পার): এটি 'সহজতা' (আল-ইউসর) শব্দের ওপর সংযোজিত (معطوف)।
তাঁর বাণী: (সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয়)
অর্থাৎ: যেন তারা উত্তর দেয়; যেমন একই অর্থে 'কাররা' এবং 'ইস্তাকাররা' শব্দ দুটি ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৮৭)
قوله: (لَيْلَةَ الصِّيَامِ) :ظرف لـ " أُحِلَّ "، ولا يجوز أن يكون ظرفا للرفث؛ لأنه مصدر فلا يتقدم عليه معموله.
قوله: (الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ) :" الرَّفَثُ " يتعدى بالباء وإنما عدى بـ " إلى "؛ لأنه بمعنى
الإفضاء، والهمزة في " نِسَائِكُم " مبدلة من واو، و (نساء،: جمع لا واحد له من لفظه، فواحده: امرأة.
قوله: (تَخْتَانُونَ ".
ألفه منقلبة عن واو؛ لأنه من: خان - يخون، وتقول في الجمع:
خونة.
قوله: (فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ) :
(الآنَ) : ظرف لـ (بَاشِرُوهُنَّ) .
قوله: (كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ) :
الكاف: صفة لمصدر محذوف، أي: بيانًا مثل هذا البيان.
قوله: (كَذَلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ ".
الكاف: مبتدأ. وجزاء: الخبر. والجزاء: مصدر مضاف إلى المفعول.
قوله: (فَمَا استيْسَرَ "، بمعنى: تيسر.
قوله: (يَبلُغَ الْهَدىُ مَحِله) :
المحل: يجوز أن يكون زمانًا ومكانًا.
قوله: (فَإِذَا أَمِنْتُمْ فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنَ الْهَدْيِ) .
(فَإِذَا أَمِنْتُمْ) : أي: الإحصار.
(فَمَنْ) : شرطية في موضع رفع بالابتداء.
(فَمَا اسْتَيْسَرَ) : الفاء: جواب " مَنْ "، و (مَنْ " وجوابها: جواب " إِذَا ". و (مَا) : في موضع رفع بالابتداء.
أى: فعليه ما استيسر. والعامل في " إذا " معنى الاستقرار؛ لأن التقدير: فعليه ما استيسر، أي: يستقر عليه الهدي كما في ذلك الوقت.
তাঁর কথা: (রোজা পালনের রাতে) :এটি "أُحِلَّ" (হালাল করা হয়েছে) এর জন্য কালবাচক অব্যয় (ظرف), এবং এটি "রফাছ" এর জন্য কালবাচক অব্যয় হওয়া বৈধ নয়; কারণ এটি একটি মূল শব্দ (مصدر), ফলে তার প্রভাবিত শব্দ (معمول) তার আগে আসতে পারে না।
তাঁর কথা: (তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস) :"আর-রফাছ" শব্দটি 'বা' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়, তবে এখানে এটি 'ইলা' যোগে ব্যবহৃত হয়েছে; কারণ এটি মিলন (الإفضاء) এর অর্থ প্রদান করছে। আর "نِسَائِكُم" শব্দের হামজাটি 'ওয়াও' থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। "نساء" শব্দটি এমন বহুবচন যার একবচন এর মূল শব্দ থেকে গঠিত নয়, এর একবচন হলো: "امرأة"।
তাঁর কথা: (তোমরা খিয়ানত করছিলে)।
এর আলিফটি 'ওয়াও' থেকে পরিবর্তিত হয়েছে; কারণ এটি: 'খনা-ইয়াখুনু' থেকে উৎপন্ন, আর বহুবচনে তোমরা বলবে: 'খওয়ানা' (خونة)।
তাঁর কথা: (সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো) :
(এখন) শব্দটি "তোমরা সহবাস করো" এর জন্য কালবাচক অব্যয় (ظرف)।
তাঁর কথা: (এভাবেই আল্লাহ তাঁর নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেন) :
'কাফ' বর্ণটি একটি উহ্য মূল শব্দের (مصدر) গুণবাচক শব্দ (صفة), অর্থাৎ: এমন বর্ণনা যা এই বর্ণনার মতো।
তাঁর কথা: (অনুরূপভাবে কাফিরদের প্রতিফল)।
'কাফ' বর্ণটি উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং "جزاء" হলো বিধেয় (خبر)। আর "الجزاء" হলো একটি মূল শব্দ (مصدر) যা কর্মের (مفعول) দিকে সম্বন্ধিত (مضاف)।
তাঁর কথা: (যা সহজলভ্য), অর্থাৎ: যা সহজ হয়েছে।
তাঁর কথা: (কুরবানির পশু তার নির্দিষ্ট স্থানে না পৌঁছানো পর্যন্ত) :
নির্দিষ্ট স্থান (المحل) শব্দটি সময় এবং স্থান উভয়টি হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
তাঁর কথা: (অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন যে ব্যক্তি হজের সাথে উমরাহ সম্পন্ন করে উপকৃত হতে চায়, সে যেন সহজলভ্য পশু কুরবানি করে)।
(অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে) : অর্থাৎ: হজ থেকে বাধাগ্রস্ত হওয়া (إحصار) থেকে।
(যে ব্যক্তি) : এটি একটি শর্তবাচক শব্দ (شرطية) যা প্রারম্ভিকতা (ابتداء) হিসেবে পেশযুক্ত অবস্থায় (رفع) রয়েছে।
(যা সহজলভ্য) : এখানে 'ফা' বর্ণটি 'মান' (যে) এর উত্তর (جواب), আর 'মান' ও তার উত্তর মিলে 'ইযা' (যখন) এর উত্তর (جواب) হয়েছে। আর 'মা' শব্দটি প্রারম্ভিকতা (ابتداء) হিসেবে পেশযুক্ত অবস্থায় (رفع) রয়েছে।
অর্থাৎ: তার ওপর ওয়াজিব যা সহজলভ্য। আর 'ইযা' এর ওপর আমলকারী (عامل) হলো স্থিরতার অর্থ; কারণ এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: তার ওপর যা সহজলভ্য তা স্থির হবে, অর্থাৎ: সেই সময়ের মতো তার ওপর কুরবানি নির্দিষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবুল কুরআনিল আজিম আল মানসুব লি যাকারিয়া আল আনসারি
(পৃষ্ঠা: ১৮৮)
قوله: (الْحَجُّ أَشْهُرٌ) :
الحج حج أَشْهُر.
قوله: (أن تَبتغُوا ".
أي: في أن تبتغوا.
قوله: (كمَا هَدَاكُمْ) : صفة لمصدر محذوف.
قوله: (أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا) :
يجوز في " أشد " أن يكون " مجرورًا؛ عطفا على " ذكركم "، أي: كذكر أو أشد، ولا ينصرف للوزن والوصف.
ويجوز أن يكون منصوبًا؛ عطفا على " آبَاءَكُمْ " و "ذِكْرًا) : تمييز.
قال بعض النحويين: وهو مشكل؛ لأن " أفعل " إذا أضيف إلى ما بعده من
النكرات كان من جنس ما قبله، تقول: ذكرك أشد ذكرٍ، ووجهك أحسن وجهٍ.
وإذا نُصب ما بعده كان ذلك غير الأول كقولك: زيد أفره عبدًا؛ فالفراهة للعبد لا لزيد، وفى الآية وقع هو الأول مع النصب!
قوله: (فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ) :
إن قيل: الأيام: واحدها: يوم، والمعدودات: واحدها: معدودة واليوم لا يوصف بمعدودة؛ لأن الصفة هنا مؤنثة والوصوف مذكر؟
فالجواب: أنه أجرى معدودات على لفظ أيام وقابل الجمع بالجمع مجازا، والأصل معدودة؛ كما قال تعالى: (لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ إِلَّا أَيَّامًا مَعْدُودَةً) .
قوله: (لِمَنِ اتقى) :
خبر مبتدأ، أي: جواز التعجيل والتأخير لمن اتقى.
قوله: (الخِصَام) :
جمع " خَصْم "؛ نحو كعب وكعاب ويجوز أن يكون مصدرا، وفى الكلام حذف مضاف، أي: أشد ذوى الخصام.
ويجوز أن يكون " الخصام " هنا مصدرا،: بمعنى: اسم الفاعل؛ كما يُوصف بالمصدر في قولك: رجل عدل، وخصم.
তাঁর বাণী: (হজ হলো কয়েকটি মাস) :
হজের সময়কাল হলো হজের মাসসমূহ।
তাঁর বাণী: (যাতে তোমরা অন্বেষণ করো) :
অর্থাৎ: যাতে তোমরা অন্বেষণ করো—এই উদ্দেশ্যে।
তাঁর বাণী: (যেভাবে তিনি তোমাদের পথপ্রদর্শন করেছেন) : এটি একটি উহ্য মাসদারের (ক্রিয়ামূল) সিফাত (বিশেষণ)।
তাঁর বাণী: (অথবা তার চেয়েও অধিক স্মরণ) :
"অশাদদু" শব্দটি মাজরুর হওয়া বৈধ; এটি "জিকরুকুম" শব্দের ওপর আতফ (সমন্বয়) হওয়ার কারণে। অর্থাৎ: স্মরণের ন্যায় অথবা তার চেয়েও অধিক স্মরণ। আর ওজন (শব্দগঠন) ও সিফাতের (গুণবাচকতা) কারণে শব্দটি গায়রুন মুনসারিফ (অপরিবর্তনশীল)।
আবার এটি মানসুব হওয়াও বৈধ; "আবায়াকুম" শব্দের ওপর আতফ হওয়ার কারণে। আর "জিকরান" শব্দটি তামিয (অস্পষ্টতা দূরকারী)।
জনৈক ব্যাকরণবিদ বলেছেন: এটি জটিল; কারণ "আফ'আলু" কাঠামোটি যখন তার পরবর্তী নাকেরা (অনির্দিষ্ট) শব্দের দিকে ইজাফাত (সম্বন্ধযুক্ত) হয়, তখন তা পূর্ববর্তী শব্দের সমগোত্রীয় হয়ে থাকে। যেমন আপনি বলেন: তোমার স্মরণ হলো অত্যন্ত জোরালো স্মরণ (অশাদদু জিকরিন), এবং তোমার চেহারা হলো সুন্দরতম চেহারা।
আর যখন এর পরবর্তী শব্দটি মানসুব হয়, তখন তা প্রথমটি থেকে ভিন্ন কিছু হয়। যেমন আপনার কথা: 'যায়েদ দাসের দিক থেকে অধিক চটপটে'; এখানে চটপটে গুণটি দাসের, যায়েদের নয়। কিন্তু আলোচ্য আয়াতে মানসুব হওয়া সত্ত্বেও এটি প্রথম বিষয়ের (ব্যক্তির নিজস্ব জিকিরের) সাথেই সংশ্লিষ্ট হয়েছে!
তাঁর বাণী: (নির্ধারিত দিনসমূহে) :
যদি প্রশ্ন করা হয়: 'আইয়্যাম' (দিনসমূহ) শব্দের একবচন হলো 'ইয়াউম' (দিন), আর 'মা'দুদাত' (নির্ধারিত) শব্দের একবচন হলো 'মা'দুদাহ'। এখানে 'ইয়াউম' (পুংলিঙ্গ) শব্দকে 'মা'দুদাহ' (স্ত্রীলিঙ্গ) দ্বারা গুণান্বিত করা যায় না; কারণ এখানে বিশেষণটি স্ত্রীলিঙ্গ আর বিশেষ্যটি পুংলিঙ্গ?
এর উত্তর হলো: এখানে 'আইয়্যাম' শব্দের বহুবচন রূপকে বিবেচনা করা হয়েছে এবং রূপকভাবে বহুবচনের বিপরীতে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে। মূলত এটি ছিল 'মা'দুদাহ'; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না সামান্য কয়েক দিন [মা'দুদাহ] ছাড়া)।
তাঁর বাণী: (যে তাকওয়া অবলম্বন করে তার জন্য) :
এটি মুবতাদার খবর; অর্থাৎ: হজের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা বা বিলম্বে সম্পন্ন করা উভয়ই ঐ ব্যক্তির জন্য বৈধ যে তাকওয়া অবলম্বন করে।
তাঁর বাণী: (আল-খিসাম) :
এটি 'খাসম' শব্দের বহুবচন; যেমন 'কা'ব' থেকে 'কি'আব'। এটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) হওয়াও বৈধ। বাক্যটিতে একটি মুদাফ (সম্বন্ধপদ) উহ্য রয়েছে, অর্থাৎ: সে চরম ঝগড়াকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
আবার এখানে 'খিসাম' শব্দটি মাসদার হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে যা ইসমুল ফায়িল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য)-এর অর্থ প্রদান করবে; যেভাবে কোনো বিশেষ্যকে মাসদার দ্বারা গুণান্বিত করা হয়। যেমন আপনার কথা: 'ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি' (রাজুলুন আদলুন) এবং 'ঝগড়াটে ব্যক্তি' (রাজুলুন খাসমুন)।