(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: -)
مناقب الأسد الغالب علي بن أبي طالب لابن الجزري القسم: كتب السنة
الكتاب: مناقب الأسد الغالب مُمزق الكتائب ومُظهر العجائب ليث بن غالب أمير المؤمنين أبي الحسن علي بن أبي طالب رضي الله عنه
المؤلف: شمس الدين أبو الخير ابن الجزري، محمد بن محمد بن يوسف (ت 833هـ)
المحقق: طارق الطنطاوي
الناشر: مكتبة القرآن
الطبعة: الأولى 1994
عدد الصفحات: 90
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনুল জাজারি রচিত আসাদুল গালিব আলি ইবনে আবি তালিবের গুণাবলি বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আসাদুল গালিব, সেনাদলকে ছিন্নভিন্নকারী ও বিস্ময়কর বিষয়াবলির প্রকাশকারী, লাইস বিন গালিব, আমিরুল মুমিনীন আবুল হাসান আলি ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর গুণাবলি
লেখক: শামসুদ্দিন আবুল খায়ের ইবনুল জাজারি, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ (মৃত্যু ৮৩৩ হিজরি)
সম্পাদক: তারিক আত-তান্তাভি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল কুরআন
সংস্করণ: প্রথম ১৯৯৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯০
[কিতাবটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা-র জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাগিয়াল খায়ের আকবিল
শামেলা-য় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: -)
مناقب الأسد الغالب
مُمزق الكتائب ومُظهر العجائب
ليث بن غالب أمير المؤمنين أبي الحسن
علي بن أبي طالب رضي الله عنه
للعلامة شمس الدين محمد بن الجزرى
المتوفى 833هـ
تحقيق
طارق الطنطاوي
مكتبة القرآن
الطبعة الأولى
1994
আসাদুল গালিবের (বিজয়ী সিংহের) গুণাবলি
সেনাদল বিধ্বস্তকারী এবং বিস্ময়কর ঘটনাবলির প্রকাশকারী
লাইস বিন গালিব, আমিরুল মুমিনিন আবুল হাসান
আলি ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)
আল্লামা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনুল জাজারী রচিত
মৃত্যু ৮৩৩ হিজরি
তাহকিক (সম্পাদনা)
তারিক আল-তান্তাভী
মাকতাবাতুল কুরআন
প্রথম সংস্করণ
১৯৯৪
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ١١)
بسم الله الرحمن الرحيم((رب يسر ولا تعسر يا كريم))
قال شيخنا الإمام العالم العلامة شيخ القراء والمحدثين قاضي القضاة شمس الدين محمد أبو الخير بن محمد بن محمد الجزري الدمشقي أبقاه الله للمسلمين: الحمد لله على أن هدانا لدين الإسلام ووفقنا لسنة نبيه عليه أفضل الصلاة والسلام وحبانا بمحبة أهل بيته الكرام وصحابته نجوم الهدى الأعلام عليه أفضل صلاة وأكمل سلام إلى يوم القيامة ندخرها أمانا للفزع الأكبر في هول ذلك المقام وبعد فهذه أحاديث مسندة مما تواتر وصح وحسن من أسنى مناقب الأسد الغالب مفرق الكتائب ومظهر العجائب ليث بن غالب أمير المؤمنين أبي الحسن علي بن أبي طالب كرم الله وجهه ورضي الله عنه وأرضاه أوردتها بمسلسلات من حديثه وبمتصلات من روايته وتحديثه وبأعلى إسناد صحيح إليه من القران والصحبة والخرقة التي اعتمد فيها أهل الرواية عليه نسأل الله تعالى أن يثيبنا على ذلك ويقربنا به لديه.
1- أخبرنا جماعة من شيوخنا الثقات منهم القاضي عز الدين أبو عبد الله محمد بن موسى بن سليمان الأنصاري رحمه الله فيما شافهنا به بدار الحديث الأشرفية داخل دمشق المحروسة عن الشيخ الإمام أبي الحسن علي بن أحمد بن عبد الواحد المقدسي قال أخبرنا الإمام أبو الفتوح أسعد بن محمود العجلي في كتابه أنا أبو القاسم إسماعيل بن محمد الحافظ أنا أبو بكر أحمد بن علي بن عبد الله الشيرازي أنا محمد بن عبد الله الحافظ قال سمعت القاضي أبا الحسن علي بن الحسن الجراحي يقول سمعت أبا حامد محمد بن هارون الحضرمي يقول سمعت محمد بن منصور الطوسي يقول سمعت أحمد بن حنبل يقول ما جاء لأحد من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم من الفضائل ما جاء لعلي بن أبي طالب رضي الله عنه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।((হে রব! সহজ করে দিন, কঠিন করবেন না, হে পরম দয়ালু))
আমাদের শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, আল্লামা, কারী ও মুহাদ্দিসগণের শায়খ, কাযীউল কুযাত (প্রধান বিচারপতি) শামসুদ্দীন মুহাম্মদ আবুল খায়ের ইবন মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ আল-জাযারি আদ-দিমাশকি—আল্লাহ তাঁকে মুসলিমদের জন্য দীর্ঘজীবী করুন—বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইসলামের পথে পরিচালিত করেছেন এবং তাঁর নবীর সুন্নতের তাওফিক দান করেছেন—তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। তিনি আমাদের তাঁর সম্মানিত আহলে বাইত এবং হেদায়াতের উজ্জ্বল নক্ষত্রস্বরূপ সাহাবীগণের ভালোবাসার নিআমত দান করেছেন। কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম, যা আমরা সেই কঠিন স্থানের মহা ভীতি থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে সঞ্চয় করে রাখছি। অতঃপর, এগুলো হলো মুসনাদ হাদীসসমূহ, যা মুতাওয়াতির, সহীহ এবং হাসান পর্যায়ের; যা বিজয়ী সিংহ, সৈন্যবাহিনী তছনছকারী, বিস্ময়কর গুণাবলির আধার, লাইস বিন গালিব, আমীরুল মুমিনীন আবুল হাসান আলী ইবন আবি তালিব—আল্লাহ তাঁর চেহারাকে সম্মানিত করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন—তাঁর সুমহান মর্যাদা ও গুণাবলি সম্পর্কিত। আমি এগুলো বর্ণনা করেছি তাঁর মুসালসাল হাদীসসমূহ থেকে এবং তাঁর রেওয়ায়েত ও বর্ণনার মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) ধারায়। তাঁর প্রতি কুরআনের উচ্চতর সহীহ সনদ, সাহচর্য এবং খিরকার (সুফি পোশাকের তরীকা) মাধ্যমে যা রেওয়ায়েত বিশেষজ্ঞরা তাঁর ওপর নির্ভর করেছেন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এর সওয়াব দান করেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য দান করেন।
১- আমাদের একদল নির্ভরযোগ্য শায়খ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন কাযী ইযযুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন মুসা ইবন সুলাইমান আল-আনসারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি), সুরক্ষিত দামেস্কের অভ্যন্তরে দারুল হাদীস আল-আশরাফিয়্যাহ-তে আমাদের সাথে মৌখিক কথোপকথনের মাধ্যমে। তিনি ইমাম আবু হাসান আলী ইবন আহমদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি থেকে, তিনি বলেছেন: ইমাম আবুল ফুতুহ আসআদ ইবন মাহমুদ আল-ইজলি তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবুল কাসিম ইসমাইল ইবন মুহাম্মদ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু বকর আহমদ ইবন আলী ইবন আব্দুল্লাহ আশ-শিরাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মুহাম্মদ ইবন আব্দুল্লাহ আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি কাযী আবুল হাসান আলী ইবন হাসান আল-জাররাহীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবন হারুন আল-হাদরামিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবন মানসুর আত-তুসিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমাদ ইবন হাম্বলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে কারো জন্য এত অধিক ফযীলত ও মর্যাদা বর্ণিত হয়নি, যা আলী ইবন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ١٢)
2- أخبرنا أبو حفص عمر بن الحسن المراغي فيما شافهني به عن أبي الفتح يوسف بن يعقوب الشيباني أنا أبو اليمن زيد بن الحسن الكندي أنا أبو منصور القزاز أنا الإمام أبو بكر بن ثابت الحافظ أنا محمد بن عمر بن بكير أنا أبو عمر يحيى بن عمر الأخباري ثنا أبو جعفر أحمد بن محمد الضبعي ثنا الأشج حدثنا العلاء بن سالم عن يزيد بن أبي زياد عن عبد الرحمن بن أبي ليلى قال سمعت عليا رضي الله عنه بالرحبة ينشد الناس من سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «من كنت مولاه فعلي مولاه، اللهم وال من والاه وعاد من عاداه» فقام إثنا عشر بدريا فشهدوا أنهم سمعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ذلك.
هذا حديث حسن صحيح من وجوه كثيرة تواتر عن أمير المؤمنين علي وهو يتواتر أيضا عن النبي صلى الله عليه وسلم رواه الجم الغفير عن الجم الغفير ولا عبرة بمن حاول تضعيفه ممن لا اطلاع له في هذا العلم فقد ورد مرفوعا عن أبي بكر الصديق وعمر بن الخطاب وطلحة بن عبيد الله والزبير بن العوام وسعد بن أبي وقاص وعبد الرحمن بن عوف والعباس بن عبد المطلب وزيد بن أرقم والبراء بن عازب وبريدة بن الحصيب وأبي هريرة وأبي سعيد الخدري وجابر بن عبد الله وعبد الله بن عباس وحبشي بن جنادة وعبد الله بن مسعود وعمران بن حصين وعبد الله بن عمر وعمار بن ياسر وأبي ذر الغفاري وسلمان الفارسي وأسعد بن زرارة وخزيمة بن ثابت وأبي أيوب الأنصاري وسهل بن حنيف وحذيفة بن اليمان وسمرة بن جندب وزيد بن ثابت وأنس بن مالك وغيرهم من الصحابة رضوان الله عليهم وصح عن جماعة منهم من يحصل القطع بخبرهم وثبت أيضا أن هذا القول كان منه صلى الله عليه وسلم يوم غدير خم وذلك في
২- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর বিন আল-হাসান আল-মারগী, তিনি সরাসরি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-ফাতহ ইউসুফ বিন ইয়াকুব আশ-শাইবানী থেকে, তিনি আবু আল-ইয়ামান যায়েদ বিন আল-হাসান আল-কিন্দী থেকে, তিনি আবু মনসুর আল-কাযযায থেকে, তিনি ইমাম আবু বকর বিন সাবিত আল-হাফিয থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন উমর বিন বুকাইর থেকে, তিনি আবু উমর ইয়াহইয়া বিন উমর আল-আখবারী থেকে, তিনি আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ আদ-দাবিঈ থেকে, তিনি আল-আশাজ্জ থেকে, তিনি আল-আলা বিন সালিম থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন আবি যিয়াদ থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবি লায়লা থেকে। তিনি বলেন: আমি আলীকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাহবাহ প্রাঙ্গণে লোকদের কসম দিয়ে বলতে শুনেছি, "কে আছেন যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: ‘আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা। হে আল্লাহ, যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে আপনি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন, আর যে তার সাথে শত্রুতা করে আপনি তার সাথে শত্রুতা করুন’?" তখন বারোজন বদরী সাহাবী দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলেন যে, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা বলতে শুনেছেন।
এই হাদীসটি অনেক দিক থেকেই হাসান সহীহ, এটি আমিরুল মুমিনীন আলী থেকে মুতাওয়াতির হিসেবে বর্ণিত, এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও মুতাওয়াতির। এটি এক বিশাল জামাত অপর এক বিশাল জামাত থেকে বর্ণনা করেছেন। যারা এই শাস্ত্র সম্পর্কে অবগত নয় এবং হাদীসটিকে যয়ীফ বা দুর্বল প্রমাণ করার চেষ্টা করে, তাদের কথায় কোনো গুরুত্ব নেই। কারণ এটি মারফূ’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে আবু বকর আস-সিদ্দীক, উমর বিন আল-খাত্তাব, তালহা বিন উবাইদুল্লাহ, যুবায়ের বিন আল-আওয়াম, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, আবদুর রহমান বিন আউফ, আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব, যায়েদ বিন আরকাম, বারা বিন আযিব, বুরাইদাহ বিন আল-হুসাইব, আবু হুরায়রা, আবু সাঈদ আল-খুদরী, জাবির বিন আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস, হুবশী বিন জুনাবাহ, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, ইমরান বিন হুসাইন, আব্দুল্লাহ বিন উমর, আম্মার বিন ইয়াসির, আবু যার আল-গিফারী, সালমান আল-ফারসী, আসআদ বিন যুরারাহ, খুযাইমাহ বিন সাবিত, আবু আইয়ুব আল-আনসারী, সাহল বিন হুনাইফ, হুযাইফা বিন আল-ইয়ামান, সামুরা বিন জুনদুব, যায়েদ বিন সাবিত, আনাস বিন মালিক এবং অন্যান্য সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে। তাঁদের মধ্য থেকে এমন এক দলের বর্ণনা থেকে হাদীসটি সহীহ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে যাদের সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিতরূপে প্রমাণিত হয়। এটিও সুসাব্যস্ত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীটি ছিল গাদীর খুমের দিনে, আর তা ছিল...
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ١٣)
خطبة خطبها النبي صلى الله عليه وسلم في حقه ذلك اليوم وهو الثاني عشر من ذي الحجة سنة إحدى عشر لما رجع النبي صلى الله عليه وسلم من حجة الوداع ولذلك سبب سنذكره قريبا والله أعلم.
3- كما أخبرنا شيخنا أبو عمر محمد بن أحمد بن قدامة المقدسي قراءة عليه أخبرنا الإمام فخر الدين علي بن أحمد المقدسي أنا أبو علي حنبل بن عبد الله الرصافي أخبرنا أبو القاسم الشيباني أنا أبو علي بن المذهب أنا أحمد بن جعفر ثنا عبد الله بن الإمام أحمد ثنا علي بن حكيم الأودي أنا شريك عن أبي إسحاق عن سعيد بن وهب وعن زيد بن يثيع قالا أنشد علي رضي الله عنه الناس في الرحبة: من سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول يوم غدير خم؟ قال فقام من قبل سعيد ستة ومن قبل زيد ستة فشهدوا أنهم سمعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لعلي يوم غدير خم: أليس الله أولى بالمؤمنين؟ قالوا بلى قال: اللهم من كنت مولاه فعلي مولاه اللهم وال من والاه وعاد من عاداه.
4- وبه قال حدثنا علي بن حكيم أنا شريك عن أبي إسحاق عن عمرو ذي مر بمثل حديث أبي إسحاق يعني عن سعيد وزيد وزاد فيه: وانصر من نصره واخذل نم خذله. هكذا رويناه في مسند الإمام أحمد من حديث ابنه وألطف طريق وقع بهذا الحديث وأغربه.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই দিন তাঁর [আলীর] অধিকার সম্পর্কে একটি ভাষণ প্রদান করেছিলেন। সেই দিনটি ছিল হিজরি এগারো সনের জিলহজ মাসের বারো তারিখ, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ থেকে ফিরেছিলেন। এর একটি কারণ রয়েছে যা আমরা শীঘ্রই উল্লেখ করব, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
৩- যেমনটি আমাদের নিকট আমাদের শাইখ আবু উমর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি বর্ণনা করেছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন, ইমাম ফখরুদ্দীন আলী বিন আহমদ আল-মাকদিসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আলী হানবাল বিন আবদুল্লাহ আল-রুসাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল কাসিম আল-শায়বানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আলী বিন আল-মুহাজ্জাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আহমদ বিন জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আলী বিন হাকিম আল-আউদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, শারিক আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাঈদ বিন ওয়াহাব এবং যায়েদ বিন ইয়াসি' থেকে বর্ণনা করেন, তারা উভয়ে বলেন: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাহবায় (প্রাঙ্গণে) লোকজনকে শপথ দিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনাদের মধ্যে কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গাদীর খুমের দিন কিছু বলতে শুনেছেন?" তারা বলেন, তখন সাঈদের পক্ষ থেকে ছয়জন এবং যায়েদের পক্ষ থেকে ছয়জন উঠে দাঁড়ালেন। তারা সাক্ষ্য দিলেন যে, তারা গাদীর খুমের দিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে আলীর উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছেন: "আল্লাহ কি মুমিনদের নিকট তাদের নিজেদের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী (হকদার) নন?" তারা বললেন, "অবশ্যই।" তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! আমি যার অভিভাবক, আলীও তার অভিভাবক। হে আল্লাহ! আপনি তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন যে তাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, আর তার সাথে শত্রুতা পোষণ করুন যে তার সাথে শত্রুতা পোষণ করে।"
৪- উক্ত সনদেই তিনি বলেন, আলী বিন হাকিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যে, শারিক আবু ইসহাক থেকে, তিনি আমর যি মুর্র থেকে আবু ইসহাকের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন—অর্থাৎ সাঈদ ও যায়েদের সূত্রে—এবং তাতে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "এবং আপনি তাকে সাহায্য করুন যে তাকে সাহায্য করে, আর তাকে অপদস্থ করুন যে তাকে অপদস্থ করে।" এভাবেই আমরা এটি ইমাম আহমদের মুসনাদে তাঁর পুত্রের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছি, যা এই হাদীসের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত সবচেয়ে চমৎকার ও বিরলতম সূত্র।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ١٤)
5- كما حدثنا به شيخا خاتمة الحفاظ أبو بكر محمد بن عبد الله بن المحب المقدسي مشافهة أخبرتنا الشيخة أم محمد زينب ابنة أحمد بن عبد الرحيم المقدسية عن أبي المظفر محمد بن فتيان بن المنى أخبرنا أبو موسى محمد بن أبي بكر الحافظ أنا ابن عمة والدي القاضي أبو القاسم عبد الواحد بن محمد بن عبد الواحد المديني بقراءتي عليه أنا ظفر بن راعي العلوي باستراباذ أنا والدي وأبو أحمد بن مطرف المطرفي قالا حدثنا أبو سعيد الإدريسي إجازة فيما أخرجه في تاريخ استراباذ حدثني محمد بن محمد بن الحسن أبو العباس الرشيدي من ولد هارون الرشيد بسمرقند وما كتبناه إلا عنه ثنا أبو الحسن محمد بن جعفر الحلواني ثنا علي بن محمد بن جعفر الأهوازي مولى الرشيد ثنا بكر بن أحمد البصري حدثتنا فاطمة بنت علي بن موسى الرضى [حدثتني فاطة وزينب وأم كلثوم بنات موسى بن جعفر قلن حدثتنا فاطمة بنت جعفر بن محمد الصادق قالت حدثتني فاطمة بنت محمد بن علي حدثتني فاطمة بنت علي] .. . حدثتني فاطمة وسكينة ابنتا الحسين بن علي عن أم كلثوم بنت فاطمة بنت النبي صلى الله عليه وسلم ورضي عنها قالت أنسيتم قول رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم غدير خم: من كنت مولاه فعلي مولاه وقوله صلى الله عليه وسلم أنت مني بمنزلة هارون من موسى عليهما السلام.
هكذا أخرجه الحافظ الكبير أبو موسى المديني في كتابه المسلسل بالأسماء وقال وهذا الحديث مسلسل من وجه آخر وهو أن كل واحدة من الفواطم
৫- যেমনটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাদের শাইখ, হাফেজদের সমাপ্তকারী আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মুহিব আল-মাকদিসি মৌখিকভাবে; আমাদের জানিয়েছেন শাইখা উম্মু মুহাম্মদ যায়নাব বিনতে আহমাদ বিন আব্দুর রহিম আল-মাকদিসিয়া; তিনি বর্ণনা করেছেন আবু আল-মুজাফ্ফার মুহাম্মদ বিন ফিতইয়ান বিন আল-মুনা থেকে; আমাদের জানিয়েছেন হাফেজ আবু মুসা মুহাম্মদ বিন আবু বকর; তিনি বলেন: আমার পিতার ফুফাতো ভাই কাজী আবু আল-কাসিম আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাদিনি আমাকে জানিয়েছেন যখন আমি তাঁর নিকট পাঠ করছিলাম; তিনি বলেন: আমাকে জানিয়েছেন জাফর বিন রাঈ আল-আলাভি ইস্তরাবাদে; তিনি বলেন: আমাকে জানিয়েছেন আমার পিতা এবং আবু আহমদ বিন মুতাররিফ আল-মুতাররিফি, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সাঈদ আল-ইদ্রিসি ‘তারিখে ইস্তরাবাদ’ গ্রন্থে তাঁর সংকলিত বর্ণনার ইজাজত প্রদানের মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন হারুনুর রশিদের বংশধর আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-রশিদি সমরকন্দে, আর আমরা এটি কেবল তাঁর মাধ্যমেই লিখেছি; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন জাফর আল-হুলওয়ানি; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন রশিদের মুক্তদাস আলী বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-আহওয়াজি; তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন বকর বিন আহমদ আল-বাসরি; তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফাতিমা বিনতে আলী বিন মুসা আল-রিদা [তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন জাফরের কন্যারা—ফাতিমা, যায়নাব ও উম্মু কুলসুম; তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফাতিমা বিনতে জাফর বিন মুহাম্মদ আল-সাদিক; তিনি বলেন: আমাকে জানিয়েছেন ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ বিন আলী; তিনি বলেন: আমাকে জানিয়েছেন ফাতিমা বিনতে আলী] ... আমাকে জানিয়েছেন ফাতিমা ও সাকিনা—তাঁরা হুসাইন বিন আলীর দুই কন্যা—উম্মু কুলসুম বিনতে ফাতিমা বিনতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছিলেন: তোমরা কি গাদীরে খুমের দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী ভুলে গেছো: “আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা”? এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই কথা: “তুমি আমার নিকট হারুনের মর্যাদায় সিক্ত, যেমনটি ছিল মুসার নিকট (তাঁদের উভয়ের ওপর সালাম বর্ষিত হোক)”।
এভাবেই মহান হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনি তাঁর ‘আল-মুসালসাল বিল আসমা’ কিতাবে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি অন্য আরেকটি দিক থেকেও মুসালসাল (পরম্পরাযুক্ত), আর তা হলো এর প্রত্যেক ফাতিমা...
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ١٥)
6- أخبرنا ابن أبي عمر أنا ابن البخاري أنا حنبل أنا ابن الحصين أنا ابن المذهب أنا ابن مالك أنا عبد الله بن أحمد حدثني أبي ثنا أبو أحمد الزبيري ثنا عبد الله بن حبيب بن أبي ثابت عن حمزة بن عبد الله عن أبيه [عن عبد الله بن عمر] عن سعد قال لما خرج النبي صلى الله عليه وسلم إلى تبوك خلف عليا فقال أتخلفني فقال: أما ترضى أن تكون مني بمنزلة هارون من موسى غير أنه لا نبي بعدي.
৬- ইবনে আবি উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল বুখারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল মাযহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আহমাদ আয-যুবাইরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে হাবিব ইবনে আবি সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হামযাহ ইবনে আবদুল্লাহ হতে, তিনি তার পিতা হতে, [তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর হতে], তিনি সা’দ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবুকের উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন তিনি আলীকে পেছনে রেখে গেলেন। তখন তিনি (আলী) বললেন: আপনি কি আমাকে পেছনে রেখে যাচ্ছেন? তিনি বললেন: “তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার নিকট তদ্রূপ হও যেমন মুসার নিকট হারুন ছিলেন? তবে পার্থক্য এই যে, আমার পরে আর কোনো নবী নেই।”
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ١٦)
7- وبه إلى أحمد ثنا أبو سعيد مولى بني هاشم ثنا سيلمان بن بلال ثنا الجعيد بن عبد الرحمن عن عائشة بنت سعد عن أبيها أن عليا خرج مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى جاء ثنية الوداع وعلي يبكي يقول تخلفني مع الخوالف فقال أو ما ترضى أن تكون مني بمنزلة هارون من موسى إلا النبوة. متفق على صحته بمعناه من حديث سعد بن أبي وقاص.
قال الحافظ ابن عساكر وقد روى هذا الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم جماعة من الصحابة منهم عمر، علي، ابن عباس وعبد الله بن جعفر ومعاوية وجابر بن عبد الله وجابر بن سمرة وأبو سعيد والبراء بن عازب وزيد بن أرقم وزيد بن أبي أوفى ونبيط بن شريط وحبشي بن جنادة ومالك بن الحويرث وأنس بن مالك وأبو الطفيل وأم سلمة وأسماء بنت عميس وفاطمة بنت حمزة ثم ذكر طرقها كلها بأسانيده في تاريخ دمشق رحمه الله.
8- وأخبرنا شيخنا صلاح بن أحمد الإمام قراءة عليه أنا علي بن أحمد سماعا أخبرنا أبو علي البغدادي أنا هبة الله بن الحصين أنا الحسن بن محمد أنا أبو بكر القطيعي ثنا عبد الله بن أحمد بن محمد حدثني أبي ثنا ابن نمير ثنا الأعمش عن عدي بن ثابت عن زر بن حبيش قال قال علي رضي الله عنه والله إنه لمما عهد إلي رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه لا يبغضني إلا منافق ولا يحبني إلا مؤمن.
৭- এবং তাঁরই সূত্রে আহমাদ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনু হাশিমের মুক্ত দাস আবু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সুলাইমান বিন বিলাল হতে, তিনি জুআইদ বিন আব্দুর রহমান হতে, তিনি আয়েশা বিনতে সা'দ হতে এবং তিনি তাঁর পিতা (সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হলেন এবং তাঁরা ছানিয়াতুল ওয়াদা পর্যন্ত পৌঁছালেন। এমতাবস্থায় আলী কাঁদছিলেন এবং বলছিলেন, "আপনি কি আমাকে পেছনে থাকা লোকদের সাথে রেখে যাচ্ছেন?" তখন তিনি (নবীজী) বললেন, "তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি আমার নিকট ঠিক সেই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত যেমন হারুন ছিলেন মূসার নিকট, কেবল নবুওয়াত ব্যতীত?" সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত হাদীসটি অর্থের দিক থেকে এর বিশুদ্ধতার বিষয়ে সর্বসম্মত।
হাফেজ ইবনে আসাকির রহিমাহুল্লাহ বলেন, এই হাদীসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একদল সাহাবী বর্ণনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উমর, আলী, ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ বিন জাফর, মুয়াবিয়া, জাবির বিন আব্দুল্লাহ, জাবির বিন সামুরা, আবু সাঈদ, বারা বিন আযিব, যায়েদ বিন আরকাম, যায়েদ বিন আবি আওফা, নবিত বিন শুরাইত, হাবাশি বিন জুনাদা, মালিক বিন হুওয়াইরিস, আনাস বিন মালিক, আবু তুফায়েল, উম্মে সালামা, আসমা বিনতে উমাইস এবং ফাতিমা বিনতে হামজা। অতঃপর তিনি তাঁর 'তারিখে দিমাশক' গ্রন্থে তাঁর নিজস্ব সনদসহ এর সকল সূত্র উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।
৮- এবং আমাদের নিকট আমাদের শাইখ সালাহ বিন আহমাদ আল-ইমাম তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আলী বিন আহমাদ হতে শ্রবণের মাধ্যমে আমি সংবাদ পেয়েছি, তিনি বলেন, আবু আলী আল-বাগদাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, হেবাতুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর আল-কাতিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা (আহমাদ বিন হাম্বল) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে নুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আ'মাশ হতে, তিনি আদী বিন সাবিত হতে এবং তিনি যির বিন হুবাইশ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, "আল্লাহর শপথ! এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে কৃত অঙ্গীকারের অন্তর্ভুক্ত যে, মুনাফিক ব্যতীত অন্য কেউ আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না এবং মুমিন ব্যতীত অন্য কেউ আমাকে ভালোবাসবে না।"
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ١٧)
هذا حديث صحيح أخرجه مسلم في كتاب الإيمان من صحيحه عن أبي بكر بن أبي شيبة عن وكيع وأبي معاوية عن يحيى بن يحيى عن أبي معاوية كلاهم عن الأعمش ولفظه والذي فلق الحبة وبرأ النسمة إنه لعهد النبي الأمي إلي أنه لا يحبني إلا مؤمن ولا يبغضني إلا منافق.
ورواه أيضا الترمذي والنسائي وابن ماجه في سننهم، وقال الترمذي حديث حسن صحيح، ورواه ابن ماجه أيضا عن علي بن محمد عن عبد الله بن نمير فوقع لنا موافقة عالية وبدلا عاليا لشيوخ مسلم وأصحاب السنن ولله الحمد.
9- وأخبرنا شيخنا رحلة الآفاق أبو حفص عمر بن الحسن الحلبي بقراءتي عليه غير مرة أنا أبو الحسن علي بن أحمد السعدي أنا أبو حفص عمر بن محمد البغدادي أنا أبو الفتح عبد الملك بن أبي القاسم الهروي أنا أبو عامر الأزدي أنا أبو محمد الجراحي أنا أبو العباس محمد بن أحمد المحبوبي أنا أبو عيسى محمد بن عيس الحافظ ثنا واصل بن عبد الأعلى ثنا محمد بن فضيل عن عبد الله بن عبد الرحمن أبي نصر عن المساور الحميري عن أمه قالت دخلت علي أم سلمة رضي الله عنها فسمعتها تقول كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لا يحب عليا منافق ولا يبغضه مؤمن.
رواه الترمذي في جامعه وقال حسن غريب من هذا الوجه.
এটি একটি সহিহ হাদিস যা ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের ঈমান অধ্যায়ে আবু বকর বিন আবি শায়বাহ থেকে, তিনি ওয়াকি এবং আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু মুয়াবিয়া থেকে, তাঁরা সকলেই আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন। হাদিসের শব্দগুলো হলো: "সেই সত্তার কসম যিনি দানা বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন, উম্মী নবী আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, মুমিন ব্যতীত কেউ আমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ব্যতীত কেউ আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না।"
তিরমিজি, নাসায়ি এবং ইবনে মাজাহ-ও তাঁদের সুনান গ্রন্থসমূহে এটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন, এটি একটি হাসান সহিহ হাদিস। ইবনে মাজাহ এটি আলী বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন নুমাইর থেকে বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে আমাদের জন্য মুসলিমের শায়খগণ এবং সুনান প্রণেতাদের উচ্চতর সমান্তরাল সনদ ও উচ্চতর বিকল্প সনদ অর্জিত হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
৯- আমাদের শায়খ, দেশ-দেশান্তরে ভ্রমণকারী আবু হাফস উমর বিন আল-হাসান আল-হালাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যখন আমি তাঁর নিকট একাধিকবার পাঠ করেছি। তিনি বলেন, আমাদের আবু আল-হাসান আলী বিন আহমদ আস-সাদি সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ আল-বাগদাদী সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আবুল ফাতহ আব্দুল মালিক বিন আবুল কাসিম আল-হারাউয়ি সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আবু আমির আল-আযদি সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আবু মুহাম্মদ আল-জাররাহি সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আবুল আব্বাস মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাহবুবি সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের হাফিজ আবু ইসা মুহাম্মদ বিন ইসা সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে ওয়াসিল বিন আব্দুল আলা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন ফুদাইল বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবু নাসর থেকে, তিনি মুসাওয়ির আল-হিময়ারি থেকে, তিনি তাঁর মা থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর মা বলেন: আমি উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-র নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে বলতে শুনলাম যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতেন: "কোনো মুনাফিক আলীকে ভালোবাসবে না এবং কোনো মুমিন তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না।"
তিরমিজি তাঁর জামে গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এই সূত্রে হাদিসটি হাসান গারিব।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ١٨)
10- وأخبرنا ابن يزيد قراءة مني عليه أنا علي بن أحمد أنا ابن طبرزد أنا أبو الفتح الكروخي أخبرنا أبو بكر الفورجي أنا عبد الجبار المروزي أنا محمد بن أحمد بن محبوب أنا ابن سورة الحافظ حدثنا قتيبة ثنا جعفر بن سليمان عن أبي هارون عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: إنا كنا لنعرف المنافقين نحن معشر الأنصار ببغضهم علي بن أبي طالب رضي الله عنه. رواه الترمذي وقال حديث غريب قال وقد روي هذا الحديث عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي سعيد ورواه الحاكم في صحيحه عن أبي ذر ولفظه: ما كنا نعرف المنافقين إلا بتكذيبهم الله ورسوله والتخلف عن الصلاة والبغض لعلي بن أبي طالب.
وقال صحيح على شرط مسلم ولم يخرجاه.
১০- এবং ইবনে ইয়াজিদ তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আলী ইবনে আহমদ আমাদের জানিয়েছেন; ইবনে তাবারযাদ আমাদের জানিয়েছেন; আবুল ফাতহ আল-কুরুখী আমাদের জানিয়েছেন; আবু বকর আল-ফাওরাজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আবদুল জাব্বার আল-মারওয়াযী আমাদের জানিয়েছেন; মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মাহবূব আমাদের জানিয়েছেন; হাফেজ ইবনে সূরা আমাদের জানিয়েছেন; কুতায়বা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন; জাফর ইবনে সুলায়মান আবু হারুন থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আনসার সম্প্রদায় আলী ইবনে আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি তাদের বিদ্বেষের মাধ্যমেই মুনাফিকদের চিনতাম। এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি একটি গারিব হাদীস। তিনি বলেন, এই হাদীসটি আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর হাকেম এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো: আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা, সালাতে অনুপস্থিত থাকা এবং আলী ইবনে আবু তালিবের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা ছাড়া মুনাফিকদের চিনতাম না।
তিনি (হাকেম) বলেছেন, এটি মুসলিমের শর্তানুসারে সহীহ, কিন্তু তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ١٩)
11- أخبرنا الإمام العلامة شيخ الإسلام أبو العباس أحمد بن الحسن الحنبلي القاضي في جماعة من آخرين مشافهة عن الإمام القاضي سليمان بن حمزة الدمشقي أنا محمد بن فتيان البغدادي في كتابه أنا الإمام أبو موسى محمد بن أبي بكر الحافظ أنا أبو سعد محمد بن الهيثم أنا أبو علي الطهراني ثنا أحمد بن موسى ثنا علي بن الحسين بن محمد الكاتب ثنا أحمد بن الحسن الخزاز ثنا أبي ثنا حصين بن مخارق عن زيد بن عطاء بن السائب عن أبيه عن الوليد بن عبادة بن الصامت عن أبيه عبادة بن الصامت رضي الله عنه قال كنا نبور أولادنا بحب علي بن أبي طالب فإذا رأينا أحدهم لا يحب علي بن أبي طالب علمنا أنه ليس منا وأنه لغير رشده.
قوله لِغَيْرِ رِشْدِهِ هو بكسر الراء وإسكان الشين المعجمة، أي: ولد زنا وهذا مشهور من قبل وإلى اليوم، معروف أنه ما يبغض عليا رضي الله عنه إلا ولد زنا وروينا ذلك أيضا عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه ولفظه كنا معشر الأنصار نبور أولادنا بحبهم عليا رضي الله عنه فإذا ولد فينا مولود فلم يحبه عرفنا أنه ليس منا.
قوله: نبور بالنون والباء الموحدة وبالراء أي نختبر ونمتحن.
১১- ইমাম, আল্লামা, শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস আহমাদ বিন হাসান আল-হাম্বলী আল-কাজী একদল ব্যক্তির সাথে সরাসরি মৌখিকভাবে আমাদের জানিয়েছেন ইমাম কাজী সুলায়মান বিন হামজা আদ-দিমাশকি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন ফিতইয়ান আল-বাগদাদি থেকে তাঁর কিতাবে, তিনি ইমাম আবু মুসা মুহাম্মাদ বিন আবি বকর আল-হাফিজ থেকে, তিনি আবু সাদ মুহাম্মাদ বিন আল-হাইসাম থেকে, তিনি আবু আলী আত-তিহরানি থেকে, তিনি আহমাদ বিন মুসা থেকে, তিনি আলী বিন হুসাইন বিন মুহাম্মাদ আল-কাতিব থেকে, তিনি আহমাদ বিন হাসান আল-খাজ্জায থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি হুসাইন বিন মুখারিক থেকে, তিনি যাইদ বিন আতা বিন আস-সাইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ওয়ালিদ বিন উবাদাহ বিন আস-সামিত থেকে, তিনি তাঁর পিতা উবাদাহ বিন আস-সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা আলী বিন আবি তালিবের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের পরীক্ষা করতাম। যখন আমরা দেখতাম যে তাদের কেউ আলী বিন আবি তালিবকে ভালোবাসে না, তখন আমরা জানতাম যে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সে বৈধ বংশজাত নয়।"
তাঁর উক্তি 'লি-গাইরি রিশদিহি' শব্দটি 'রা' বর্ণে কাসরা (ই-কার) এবং 'শিন' বর্ণে সুকুন যোগে গঠিত, যার অর্থ হলো: ব্যভিচারের সন্তান। এটি অতীতকাল থেকে আজ অবধি সুপ্রসিদ্ধ যে, জারজ বা ব্যভিচারের সন্তান ব্যতীত অন্য কেউ আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ঘৃণা করে না। আমরা এটি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণনা করেছি, যার শব্দমালা হলো: "আমরা আনসার সম্প্রদায় আলীর প্রতি তাদের ভালোবাসার মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের পরীক্ষা করতাম। যখন আমাদের মাঝে কোনো সন্তান জন্ম নিত এবং সে তাঁকে ভালোবাসত না, তখন আমরা বুঝে নিতাম যে সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
তাঁর উক্তি: 'নাবুর' শব্দটি 'নুন', এক নুকতাহ বিশিষ্ট 'বা' এবং 'রা' যোগে গঠিত, যার অর্থ হলো আমরা যাচাই করতাম এবং পরীক্ষা নিতাম।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
12- وأخبرنا الحافظ أبو بكر بن المحب شيخنا مشافهة غير مرة أخبرتنا أم محمد ابنة الكمال أحمد بمنزلها بسفح قاسيون قالت أخبرنا أبو المظفر ابن المنى في كتابه أنا محمد بن أبي بكر الحافظ أنا أبو سعد محمد بن الهيثم بن محمد أنا أبو يعلى الطهراني ثنا أحمد بن موسى ثنا محمد بن أحمد بن علي ثنا إسحاق بن محمد بن الحسن الأبنوسي سمعت مسروق بن المرزبان يقول سمعت شريك بن عبد الله يقول إذا رأيت الرجل لا يحب علي بن أبي طالب فاعلم أن أصله يهودي.
شريك هذا أحد الأعلام من أئمة الإسلام توفي في سنة سبع وسبعين ومئة.
13- وأخبرنا الصلاح بن أحمد الإمام أنا الفخر بن أحمد أنا حنبل أنا هبة الله أنا أبو علي أنا ابن جعفر ثنا عبد الله حدثني أبي أحمد بن محمد ثنا يحيى بن أبي بكير ثنا إسرائيل عن أبي إسحاق عن أبي عبد الله الجدلي قال دخلت على أم سلمة فقالت لي أيسب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيكم؟ قلت معاذ الله أو سبحان الله أو كلمة نحوها قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من سب عليا فقد سبني.
كذا رواه الإمام أحمد ورواه أبو يعلى الموصلي عن عبد الله بن موسى عن عيسى بن عبد الرحمن البجلي
১২- আমাদের শায়খ হাফেজ আবু বকর বিন আল-মুহিব্ব আমাদের নিকট একাধিকবার মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে মুহাম্মদ বিনতে আল-কামাল আহমদ কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত তাঁর নিজ বাসভবনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল মুজাফফর ইবনুল মুনা তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-হাফেজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু সা’দ মুহাম্মদ বিন আল-হাইসাম বিন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ইয়ালা আত-তিহরানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-আবনূসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মাসরূক বিন আল-মারযুবানকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি শারীক বিন আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে দেখবে যে সে আলী বিন আবি তালিবকে ভালোবাসে না, তখন জেনে রেখো যে তার বংশমূল ইহুদি।"
এই শারীক ইসলামের ইমামদের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তিনি ১৭৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
১৩- আস-সালাহ বিন আহমদ আল-ইমাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-ফখর বিন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাম্বল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিবাতুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আহমদ বিন মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আবু বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসরাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-জাদালি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি উম্মে সালামাহর নিকট প্রবেশ করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: "তোমাদের মধ্যে কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেওয়া হয়?" আমি বললাম: "আল্লাহর কাছে পানাহ চাই" অথবা "সুবহানাল্লাহ" অথবা এই জাতীয় কোনো শব্দ। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "যে ব্যক্তি আলীকে গালি দিল, সে মূলত আমাকেই গালি দিল।"
ইমাম আহমদ এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি এটি আবদুল্লাহ বিন মুসা থেকে, তিনি ঈসা বিন আবদুর রহমান আল-বাজালি সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٢١)
من بجيلة من سليم عن السدي عن أبي عبد الله الجدلي قال قالت لي أم سلمة أيسب رسول الله صلى الله عليه وسلم فيكم على المنابر؟ قال قلت وأنى ذلك؟ قالت أليس يسب علي ومن أحبه وأشهد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يحبه.
14- وقد روي من غير وجه عن أم سلمة وورد أيضا من حديثها وحديث أبي سعيد وجابر أنه صلى الله عليه وسلم قال لعلي كذب من زعم أنه يحبني ويبغضك.
15- أخبرنا عمر بن أميلة شيخنا أخبرنا أبو الفخر بن أحمد أنا عمر بن محمد الداقزني أنا أبو الفتح الهروي أنا محمود بن القاسم أنا ابن خراج أنا ابن محبوب أنا عيسى الحافظ ثنا يوسف بن موسى القطان ثنا علي بن قادم ثنا علي بن صالح بن حيي عن حكيم بن جبير عن جميع بن عمير التيمي عن ابن عمر رضي الله عنهما قال آخى رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أصحابه فجاء علي تدمع عيناه فقال يا رسول الله آخيت بين أصحابك ولم تؤاخ بيني وبين أحد فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم أنت أخي في الدنيا والآخرة.
رواه الترمذي في الجامع وقال حسن غريب ورواه الحاكم في صحيحه فقال:
বাজিলা গোত্রীয় সালিম থেকে, তিনি সুদ্দী থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-জাদালি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উম্মু সালামাহ আমাকে বললেন, "তোমাদের মাঝে মিম্বরগুলোতে কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি দেওয়া হয়?" তিনি বলেন, আমি বললাম, "তা কীভাবে সম্ভব?" তিনি বললেন, "আলী এবং তাকে যারা ভালোবাসে তাদেরকে কি গালি দেওয়া হয় না? অথচ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ভালোবাসতেন।"
১৪- এটি উম্মু সালামাহ থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও উম্মু সালামাহ, আবু সাঈদ এবং জাবির (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলীকে বলেছিলেন: "সে ব্যক্তি মিথ্যা বলেছে যে দাবি করে সে আমাকে ভালোবাসে অথচ তোমাকে ঘৃণা করে।"
১৫- আমাদের শাইখ উমর ইবনে উমাইলা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু ফখর ইবনে আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দাকজানি আমাদের জানিয়েছেন, আবু ফাতহ আল-হারাউই আমাদের জানিয়েছেন, মাহমুদ ইবনুল কাসিম আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে খাররাজ আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে মাহবুব আমাদের জানিয়েছেন, ইসা আল-হাফিজ আমাদের জানিয়েছেন, ইউসুফ ইবনে মুসা আল-কাত্তান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আলি ইবনে কادم আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আলি ইবনে সালিহ ইবনে হাইয়ি হাকিম ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি জামি ইবনে উমাইর আত-তাইমি থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করলেন। তখন আলী অশ্রুসিক্ত নয়নে আসলেন এবং বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার সাহাবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছেন, কিন্তু আমার ও অন্য কারো মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেননি।" তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "তুমি দুনিয়া ও আখেরাতে আমার ভাই।"
তিরমিজি এটি 'জামে' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান গরিব। হাকীম এটি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে বর্ণনা করে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
16- حدثنا أبو بكر بن محمد بن عبد الله المفيد ثنا الحسين بن جعفر القرشي ثنا العلاء بن عمرو الحنفي ثنا أيوب بن مدرك عن مكحول عن أبي أمامة قال لما آخى رسول الله صلى الله عليه وسلم بين الناس آخى بينه وبين علي. قال الحاكم لم نكتبه من حديث مكحول إلا من هذا الوجه فكأن المشايخ يعجبهم هذا الحديث لكونه من رواية أهل الشام. انتهى.
وورد من حديث أنس، وعمر أنه صلى الله عليه وسلم قال له: أنت أخي في الدنيا والآخرة.
وكذلك جاء حديث المؤاخاة عن ابن عباس، وزيد بن أبي أوفى وجابر بن عبد الله وأبي ذر وعامر بن ربيعة ومخدوج بن زيد الذهلي وجاء أيضاً عن علي من غير وجه وإن كانت كلها ضعيفة لكن بهذه المتابعات والشواهد يقوى بعضها ببعض والله أعلم.
17- أخبرنا أحمد بن محمد بن الحسين البنا مشافهة غير مرة عن علي بن أحمد المقدسي أنا أبو الفتوح الأصبهاني في كتابه فيها أنا إسماعيل بن محمد الطلحي الحافظ أنا أبو بكر بن خلف أنا أبو عبد الله الحافظ أنا أبو العباس المحبوبي ثنا محمد بن معاذ ثنا أبو حفص عمرو بن الحسن الراسبي ثنا أبو عوانة عن أبي بشر عن سعيد بن جبير عن عائشة رضي الله عنها
১৬- আবু বকর ইবন মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহ আল-মুফিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-হুসাইন ইবন জাফর আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-আলা ইবন আমর আল-হানাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আইয়ুব ইবন মুদরিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাকহুল থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করলেন, তখন তিনি নিজের এবং আলীর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করলেন। আল-হাকিম বলেন: আমরা মাকহুলের হাদিস থেকে কেবল এই সূত্রেই এটি লিখেছি। মনে হচ্ছে শায়খগণ এই হাদিসটিকে পছন্দ করতেন কারণ এটি শামবাসীদের বর্ণনা থেকে এসেছে। সমাপ্ত।
আনাস এবং উমর থেকে বর্ণিত হাদিসেও এসেছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "তুমি দুনিয়া ও আখিরাতে আমার ভাই।"
একইভাবে ভ্রাতৃত্বের হাদিসটি ইবন আব্বাস, যায়িদ ইবন আবি আওফা, জাবির ইবন আবদুল্লাহ, আবু যার, আমির ইবন রাবিআ এবং মাখদুজ ইবন যায়িদ আদ-দুহলি থেকেও বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া এটি আলীর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। যদিও এই সব কটি সূত্রই দুর্বল, তবে এই মুতাবাআত ও শাওয়াহিদের (সমর্থনমূলক ও সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা) মাধ্যমে একে অপরের দ্বারা শক্তিশালী হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
১৭- আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-হুসাইন আল-বান্না মৌখিকভাবে একাধিকবার আলী ইবন আহমাদ আল-মাকদিসি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল ফুতুহ আল-আসবাহানি তার কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাফিজ ইসমাইল ইবন মুহাম্মাদ আত-তালহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর ইবন খালাফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্বাস আল-মাহবুবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবন মুআজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাফস আমর ইবন আল-হাসান আর-রাসিবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বিশর থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে, তিনি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
أن النبي صلى الله عليه وسلم قال أنا سيد ولد آدم وعلي سيد العرب.
أخرجه الحاكم في المستدرك وقال صحيح الإسناد ولم يخرجاه.
وله شاهد من حديث عروة عن عائشة.
18- حدثنا أبو بكر محمد بن جعفر القاري حدثنا أحمد بن عبيد بن ناصح ثنا الحسين بن علوان عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ادعوا لي سيد العرب فقلت يا رسول الله ألست سيد العرب فقال أنا سيد ولد آدم وعلي سيد العرب.
قال وله شاهد ثالث من حديث جابر:
19- حدثناه أبو عبد الله محمد بن أحمد بن موسى القاضي الخازن من أصل كتابه ثنا إبراهيم بن مالك الزعفراني ثنا سهل بن عثمان العسكري ثنا المسيب بن شريك ثنا عمر بن موسى الوجيهى عن أبي الزبير عن جابر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ادعوا لي سيد العرب فقالت عائشة ألست سيد العرب يا رسول الله قال أنا سيد ولد آدم وعلي سيد العرب.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন যে, আমি আদম সন্তানদের সর্দার এবং আলী আরবদের সর্দার।
আল-হাকিম এটি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এর সনদ সহীহ, তবে তারা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।
উরওয়াহ এর সূত্রে আয়েশা হতে বর্ণিত হাদীসে এর একটি সাক্ষী (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে।
১৮- আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-ক্বারি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে উবাইদ ইবনে নাসিহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে আলওয়ান হিশাম ইবনে উরওয়াহ হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "আমার নিকট আরবদের সর্দারকে ডাকো।" আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আরবদের সর্দার নন?" তিনি বললেন, "আমি আদম সন্তানদের সর্দার এবং আলী আরবদের সর্দার।"
তিনি বলেন, জাবিরের হাদীস হতে এর একটি তৃতীয় সাক্ষী রয়েছে:
১৯- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুসা আল-ক্বাদি আল-খাজিন তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি হতে আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে মালিক আজ-জাফরানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাহল ইবনে উসমান আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুসাইয়্যাব ইবনে শারিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে মুসা আল-ওয়াজিহি আবু যুবায়ের হতে এবং তিনি জাবির হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "আমার নিকট আরবদের সর্দারকে ডাকো।" তখন আয়েশা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আরবদের সর্দার নন?" তিনি বললেন, "আমি আদম সন্তানদের সর্দার এবং আলী আরবদের সর্দার।"
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
20- أخبرنا ابن قدامة أنا ابن عبد الواحد أنا حنبل أنا ابن الحصين أنا أبو علي أنا أبو بكر ثنا أحمد بن عبد الله بن محمد حدثني أبي حدثنا محمد بن جعفر ثنا عوف عن ميمون عن زيد بن أرقم قال كان لنفر من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم أبواب شارعة في المسجد قال فقال يوما سدوا هذه الأبواب إلا باب علي قال فتكلم في ذلك أناس فقام رسول الله صلى الله عليه وسلم فحمد الله وأثنى عليه ثم قال أما بعد فإني أَمَرْتُ بسد هذه الأبواب غير باب علي فقال قائلكم وإني والله ما سددت بابا ولا فتحته ولكني أُمِرْتُ بشيء فاتبعته.
حديث حسن وقد رواه أبو الأشهب عن عوف بن ميمون عن البراء بن عازب وروى عن ابن عباس في حديث طويل وورد أيضا من حديث سعيد ولا ينافي ما ثبت في صحيح البخاري من أمره صلى الله عليه وسلم في مرض موته بسد الأبواب إلا باب أبي بكر الصديق لأن هذا كان في حال حياته صلى الله عليه وسلم لاحتياج فاطمة رضي الله عنها إلى المرور من بيتها إلى بيت أبيها فجعل هذا رفقا بها وسترا وغيرة عليها وأما بعد وفاته فلما زالت هذه العلة احتيج إلى فتح باب الصديق لأجل خروجه إلى المسجد ليصلي بالمسلمين إذ كان هو الخليفة بعده ورفقا به أيضا وإشارة إلى أنه القائم بعده
ولذلك قال صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي سيأتي:
২০- ইবনে কুদামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ থেকে, তিনি হাম্বল থেকে, তিনি ইবনে আল-হুসাইন থেকে, তিনি আবু আলী থেকে, তিনি আবু বকর থেকে; তারা বলেন: আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আউফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাইমুন থেকে, তিনি যইদ ইবনে আরকাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবীর মসজিদের দিকে সরাসরি যাতায়াতের দরজা ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, একদিন তিনি বললেন: আলীর দরজা ছাড়া এই সমস্ত দরজাগুলো বন্ধ করে দাও। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কিছু লোক কথা তুলল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, অতঃপর বললেন: হামদ ও সালাতের পর, আমি আলীর দরজা ব্যতীত এই দরজাগুলো বন্ধ করার আদেশ দিয়েছি। তোমাদের কেউ কেউ এ নিয়ে কথা বলেছ। আল্লাহর কসম, আমি নিজের পক্ষ থেকে কোনো দরজা বন্ধ করিনি এবং কোনোটি খুলেও রাখিনি, বরং আমাকে একটি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং আমি কেবল তারই অনুসরণ করেছি।
এটি একটি হাসান হাদীস। আবু আল-আশহাব একে আউফ ইবনে মাইমুন সূত্রে বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি ইবনে আব্বাস থেকে একটি দীর্ঘ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে এবং সাঈদের হাদীস থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে। সহীহ বুখারীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অন্তিম রোগের সময়ে আবু বকর সিদ্দীকের দরজা ব্যতীত সকল দরজা বন্ধ করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তার সাথে এই বর্ণনার কোনো বিরোধ নেই। কারণ, এই ঘটনাটি ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায়, ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহার তাঁর ঘর থেকে পিতার ঘরে যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তার কারণে। এটি ছিল তাঁর প্রতি অনুকম্পা, তাঁর আব্রু রক্ষা এবং তাঁর প্রতি বিশেষ মর্যাদাবোধের কারণে। কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পর যখন সেই কারণটি আর অবশিষ্ট থাকল না, তখন সিদ্দীকের দরজা খোলার প্রয়োজন দেখা দিল যাতে তিনি মসজিদে বের হয়ে মুসলমানদের সালাত পরিচালনা করতে পারেন। যেহেতু তিনিই ছিলেন তাঁর পরবর্তী খলীফা; আর এটি ছিল তাঁর প্রতি সদয় আচরণ এবং একটি ইঙ্গিত যে, তিনিই তাঁর পরবর্তী স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন।
সেজন্যই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে আগত হাদীসটিতে বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
21- أخبرنا عمر بن الحسين قراءة مني عليه أنا علي بن أحمد أنا عمر بن محمد أنا أبو الفتح أنا ابن القاسم أنا الجراحي أنا المحبوني أنا أبو عيسى الحافظ ثنا علي بن المنذر ثنا ابن فضيل عن سالم بن أبي حفصة عن عطية عن أبي سعيد قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لعلي يا علي لا يحل لأحد يجنب في هذا المسجد غيري وغيرك.
قال علي بن المنذر قلت لضرار بن صرد ما معنى هذا الحديث قال لا يحل لأحد يستطرقه جنبا غيري وغيرك.
22- قال الترمذي حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه وقد سمع محمد بن إسماعيل -يعني البخاري- مني هذا الحديث قلت رواه الحافظ بن عساكر من طريق كثير النواء عن عطية عن أبي سعيد ثم روى من طريق أبي نعيم ثنا عبد الملك بن أبي عيينة عن أبي الخطاب عمر الهجري عن مخدوج عن جسرة بنت دجاجة قالت أخبرتني أم سلمة
২১- উমর ইবনুল হুসাইন তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উমর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল ফাতহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল কাসেম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-জাররাহি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মাহবুনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ঈসা আল-হাফিয আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনুল মুনযির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ফুদাইল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সালিম ইবনে আবি হাফসাহ হতে, তিনি আতিয়্যাহ হতে, তিনি আবু সাঈদ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীকে বললেন: হে আলী, আমি এবং আপনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় এই মসজিদে অবস্থান করা বৈধ নয়।
আলী ইবনুল মুনযির বলেন, আমি দিরার ইবনে সুরদকে বললাম, এই হাদীসের অর্থ কী? তিনি বললেন: আমি এবং আপনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য জানাবাত অবস্থায় এই মসজিদকে পথ হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ নয়।
২২- তিরমিযী বলেছেন: এই হাদীসটি হাসান গরীব, আমরা এটি কেবল এই সূত্রেই অবগত হয়েছি। আর মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল —অর্থাৎ বুখারী— আমার নিকট থেকে এই হাদীসটি শুনেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: হাফিয ইবনে আসাকির এটি কাসীর আন-নাওয়া-এর সূত্রে আতিয়্যাহ হতে, তিনি আবু সাঈদ হতে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি আবু নুআইমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল মালিক ইবনে আবি উয়াইনাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল খাত্তাব উমর আল-হিজরি হতে, তিনি মাখদুজ হতে, তিনি জাসরাহ বিনতে দাজাজাহ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উম্মু সালামাহ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
قالت خرج النبي صلى الله عليه وسلم في مرضه حتى انتهى إلى صرحة المسجد فنادى بأعلى صوته لا يحل المسجد للجنب ولا للحائض إلا لمحمد وأزواجه وعلي وفاطمة بنت محمد.
ثم رواه من حديث أبي رافع نحوه وفي إسناده غرابة.
23- أخبرنا أبو عبد الله محمد بن عبد الله الصفوي قراءة عليه بجامع دمشق أنا الإمام أبو الحسين علي بن الشيخ الإمام محمد وأبو عبد الله محمد بن أبي العز بن مشرف الأنصاري سماعا قالا أنا أبو عبد الله الحسين بن المبارك الزبيدي أنا أبو الوقت عبد الأول بن شعيب السجزي أنا أبو الحسن بن عبد الرحمن الدراوردي أنا أبو محمد عبد الله بن أحمد بن حمويه أخبرنا أبو عبد الله محمد بن يوسف بن مطر الفربري ثنا الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل الجعفي ثنا قتيبة بن سعيد ثنا عبد العزيز عن أبي حازم عن سهل بن سعيد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأعطين الراية غدا رجلا يفتح الله على يديه يحب الله ورسوله ويحبه الله ورسوله. قال فبات الناس يذكرون ليلتهم أيهم يعطاها فلما أصبح الناس غدوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم كلهم يرجوا أنا يعطاها فقال: أين علي بن أبي طالب؟ فقالوا يشكو عينيه يا رسول الله قال: فأرسلوا إليه فأتوني به. فلما جاء بصق في عينيه ودعا له فبرأ حتى كأنه لم يكن له وجع فأعطاه الراية.
الحديث متفق على صحته وهدا الحديث هو الصحيح في حديث إعطاء الراية لعلي رضي الله عنه وما ورد مخالفا فهو موضوع كما نص عليه علماء الحديث رضي الله عنهم.
তিনি বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুস্থতাকালীন সময়ে বের হলেন এবং মসজিদের চত্বর পর্যন্ত পৌঁছালেন। অতঃপর তিনি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করলেন যে, অপবিত্র ব্যক্তি এবং ঋতুবতী নারীর জন্য মসজিদে অবস্থান বৈধ নয়; কেবল মুহাম্মদ, তাঁর স্ত্রীগণ, আলী এবং মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা ব্যতীত।
অতঃপর তিনি আবু রাফে-এর হাদীস থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে গারাবাহ (অস্বাভাবিকতা) রয়েছে।
২৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আস-সাফাউয়ি, দামেস্কের জামে মসজিদে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবুল হুসাইন আলী বিন শাইখ ইমাম মুহাম্মদ এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবিল ইজ্জ বিন মুশারিফ আল-আনসারী শ্রবণের মাধ্যমে। তাঁরা উভয়ে বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-মুবারক আজ-জুবাইদী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন শুআইব আস-সিজজি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান বিন আব্দুর রহমান আদ-দারাওয়ারদী। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হামুওয়াইহ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মাতার আল-ফিরাবরী। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-জু'ফী। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কুতাইবা বিন সাঈদ। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ, আবু হাজিম থেকে, তিনি সাহল বিন সা'দ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আগামীকাল আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে পতাকা প্রদান করব, যার হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন; সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন।" বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা সারারাত এই আলোচনায় কাটাল যে, তাদের মধ্যে কাকে এটি প্রদান করা হবে। যখন ভোর হলো, তারা সকলেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলেন, প্রত্যেকেই আশা করছিলেন যে তাকেই এটি দেওয়া হবে। তিনি বললেন, "আলী ইবনে আবি তালিব কোথায়?" তারা বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! সে চোখের ব্যথায় ভুগছে।" তিনি বললেন, "তাকে খবর দাও এবং আমার নিকট নিয়ে এসো।" যখন সে এল, তিনি তার চোখে থুথু দিলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন। ফলে সে এমনভাবে সুস্থ হয়ে গেল যেন তার কোনো ব্যথাই ছিল না। অতঃপর তিনি তাকে পতাকা দান করলেন।
এই হাদীসটির বিশুদ্ধতার ওপর সকলে একমত। আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে পতাকা প্রদানের ব্যাপারে এই হাদীসটিই সহীহ। এর পরিপন্থী যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা বানোয়াট, যেমনটি হাদীস বিশারদগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
24- أخبرنا محمد بن أحمد قراءة عليه أنا علي بن أحمد أنا حنبل بن عبد الله أنا أبو القاسم الشيباني أنا ابن المذهب أنا ابن مالك أنا عبد الله بن أحمد حدثني أبي ثنا وكيع عن ابن أبي ليلى عن المنهال عن عبد الرحمن بن أبي ليلى قال كان أبي يسمر مع علي رضي الله عنه وكان يلبس ثياب الصيف في الشتاء وثياب الشتاء في الصيف فقيل له لو سألته قال فسألته فقال إن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث إلي وأنا أرمد العين يوم خيبر فقلت يا رسول الله إني أرمد العين فتفل في عيني وقال اللهم أذهب عنه الحر والبرد. فما وجدت حرا لا بردا منذ يومئذ وقال لأعطين الراية رجلا يحب الله ورسوله ويحبه الله ورسوله ليس بفرار. فتشرف لها أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فأعطانيها.
رواه ابن ماجه في سننه عن عثمان بن أبي شيبة عن وكيع فوقع لنا بدلا عاليا ولله الحمد. قوله فتشرف لها أي تطلع وتعرض.
25- وأخبرنا غير واحد من الثقات مشافهة عن أحمد بن هبة الله الدمشقي وغيره قال أنبأنا أبو روح عبد المعز بن محمد الهروي قال أنا زاهر بن طاهر قال أنا أبو سعد بن عبد الرحمن قال أنا أبو عمر ومحمد بن أحمد الحيري يقال ثنا أبو يعلى الموصلي ثنا زهير ثنا جرير عن مغيرة عن أم موسى قالت سمعت عليا رضي الله عنه يقول ما رمدت ولا صدعت منذ مسح رسول الله صلى الله عليه وسلم وجهي وتفل في عيني يوم خيبر وأعطاني الراية.
২৪- আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ বর্ণনা করেছেন তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী ইবন আহমাদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হানবাল ইবন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আল-শায়বানি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবন আল-মুযাহহাব, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবন মালিক, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ, তিনি বলেন আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ওয়াকি থেকে, তিনি ইবন আবি লায়লা থেকে, তিনি আল-মিনহাল থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন আবি লায়লা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে রাত কাটাতেন। আলী শীতকালে গ্রীষ্মের কাপড় এবং গ্রীষ্মকালে শীতের কাপড় পরিধান করতেন। তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার কথা বলা হলে তিনি বললেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন, খায়বারের যুদ্ধের দিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে ডেকে পাঠালেন এমতাবস্থায় যে আমার চোখে ব্যথা ছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার চোখে ব্যথা। তখন তিনি আমার চোখে থুথু দিলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! তার থেকে গরম ও শীতের কষ্ট দূর করে দিন।" এরপর থেকে আজ পর্যন্ত আমি গরম বা শীত অনুভব করিনি। তিনি আরও বলেছিলেন: "আমি অবশ্যই এমন এক ব্যক্তির হাতে ঝাণ্ডা প্রদান করব, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন; সে পলায়নকারী নয়।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ এর প্রত্যাশায় উন্মুখ হয়ে ছিলেন, অতঃপর তিনি তা আমাকেই প্রদান করলেন।
ইবন মাজাহ তাঁর সুনানে উসমান ইবন আবি শায়বাহ থেকে, তিনি ওয়াকি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের 'বাদাল' (বিকল্প সনদ) হিসেবে গণ্য হয়েছে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। তাঁর উক্তি "ফাতাশাররাফা লাহা" অর্থ হলো—উন্মুখ হওয়া এবং নিজেকে তুলে ধরা।
২৫- এবং আমাদের কাছে একাধিক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি সরাসরি আহমদ ইবন হিবাতুল্লাহ আল-দিমাশকি এবং অন্যদের থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু রাওহ আবদুল মুয়িয ইবন মুহাম্মাদ আল-হারাওয়ি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যাহির ইবন তাহির, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাদ ইবন আবদুর রহমান, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ আল-হায়রি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি, তিনি যুহায়র থেকে, তিনি জারীর থেকে, তিনি মুগিরা থেকে, তিনি উম্মে মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি—খায়বারের দিন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার মুখমণ্ডল মুছে দেওয়ার এবং চোখে থুথু দেওয়ার পর থেকে আমার আর কখনো চোখের ব্যথা বা মাথাব্যথা হয়নি এবং তিনি আমাকে ঝাণ্ডা প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
26- أخبرتنا الشيخة أم محمد ست العرب ابنة محمد بن علي بن أحمد المقدسية فيما شافهتني به قالت أخبرنا جدي المذكور عن أبي سعيد الصفار أنا أبو القاسم الشحامي أنا أبو بكر الحافظ أنا أبو عبد الله بن البيع الحافظ أنا الحسن بن محمد بن إسحاق الإسفرائيني ثنا أبو الحسن محمد بن أحمد بن البراء ثنا علي بن عبد الله بن جعفر المديني حدثني أبي أخبرني سهيل بن أبي صالح عن أبيه عن أبي هريرة قال قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه لقد أعطى علي بن أبي طالب رضي الله عنه ثلاث خصال لأن يكون فِيَّ خصلة منهن أحب إلي من أن أعطى حمر النعم قيل وما هن يا أمير المؤمنين قال فاطمة بنت محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم وسكناة بالمسجد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم يحل له فيه ما يحل له والراية يوم خيبر.
أخرجه الحاكم في صحيحه وقال صحيح الإسناد ولم يخرجاه.
27- أخبرنا أبو العباس أحمد بن الطحان المقري شيخنا مشافهة عن محمد بن محمد الشيرازي أخبرنا محمود بن إبراهيم بن منده الحافظ في
২৬- শায়খা উম্মু মুহাম্মদ সিত্তুল আরব বিনতে মুহাম্মদ বিন আলী বিন আহমদ আল-মাকদিসিয়্যাহ আমাদের নিকট মৌখিকভাবে যা ব্যক্ত করেছেন তাতে তিনি জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার উল্লিখিত দাদা সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আস-সাফফার থেকে, তিনি আবুল কাসিম আশ-শাহহামি থেকে, তিনি আবু বকর আল-হাফিয থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-বাইয়্যি আল-হাফিয থেকে, তিনি হাসান বিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক আল-ইসফারায়িনি থেকে, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-বাররা থেকে, তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর আল-মাদিনি থেকে, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে সুহাইল বিন আবি সালিহ সংবাদ দিয়েছেন তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আলী বিন আবি তালিবকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এমন তিনটি বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে, যার মধ্য থেকে একটি বৈশিষ্ট্যও যদি আমার থাকত, তবে তা আমার নিকট উৎকৃষ্ট লাল উটরাজি পাওয়ার চেয়েও অধিক প্রিয় হতো। জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আমিরুল মুমিনিন! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা ফাতিমার সাথে বিবাহ, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মসজিদে তাঁর বসবাস যেখানে তাঁর (রাসূলের) জন্য যা বৈধ ছিল তার (আলীর) জন্যও তা বৈধ ছিল, এবং খায়বারের দিনের (বিজয়ী) পতাকা লাভ।
হাকিম এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর সনদ সহিহ, তবে তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।
২৭- আমাদের শায়খ আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আত-তাহহান আল-মুকরি আমাদের নিকট মৌখিকভাবে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আশ-শিরাজি থেকে, তিনি আমাদের জানিয়েছেন হাফিয মাহমুদ বিন ইব্রাহিম বিন মানদাহ থেকে...
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
كتابه من أصبهان أنا محمد بن أبي بكر الحافظ أخبرنا الشيخ أبو سعد محمد بن الهيثم بن محمد أنا أبو الحسين بن أبي القاسم ثنا أحمد بن موسى ثنا أحمد بن محمد بن السري الكوفي حدثنا الحسين بن جعفر الكوفي ثنا الحسين بن جعفر القرشي ثنا جندل بن والق ثنا محمد بن عمر الكاسي عن جعفر بن محمد عن أبيه عن علي بن الحسين عن فاطمة الصغرى عن الحسين بن علي رضي الله عنهما عن فاطمة بنت محمد صلى الله عليه وسلم ورضي عنها قالت خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال إن الله عز وجل باهى بكم فغفر لكم عامة وغفر لعلي خاصة وإني رسول الله إليكم غير هائب لقومي ولا محاب لقرابتي هذا جبريل عليه السلام يخبرني أن السعيد كل السعيد حق السعيد من أحب عليا في حياتي وبعد وفاتي.
حديث غريب رواه لحافظ أبو موسى المديني في كتابه حجة ذوي الضلالة بهذا الإسناد وهذا اللفظ.
28- أخبرتنا الشيخة أم محمد زينب بنت القاسم العجمية فيما شافهتنا به عن أبي الحسن بن أحمد السعدي أخبرنا الإمام أبو الفتوح العجلي في كتابه أخبرنا الإمام أبو القاسم التيمي أخبرنا أبو بكر بن خلف أنا محمد بن عبد الله الحافظ حدثني أبو قتيبة سالم بن الفضل الآدمي بمكة حدثنا محمد بن عثمان بن أبي شيبة ثنا عمي أبو بكر ثنا علي بن ثابت الدهان ثنا الحكم بن عبد الملك عن الحارث بن حصين عن أبي صادق عن ربيعة بن ناجد عن علي رضي الله عنه قال دعاني رسول الله صلى الله عليه وسلم
ইসফাহান থেকে প্রেরিত তাঁর পত্রে রয়েছে: আমি মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-হাফিজ বলছি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবু সা’দ মুহাম্মদ বিন আল-হাইসাম বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন আবু আল-কাসিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুসা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাররি আল-কুফি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন জাফর আল-কুফি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন বিন জাফর আল-কুরাইশি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জানদাল বিন ওয়ালিক, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উমর আল-কাসি, তিনি জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী বিন আল-হুসাইন থেকে, তিনি ফাতিমা আস-সুগরা থেকে, তিনি হুসাইন বিন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাদের নিয়ে গর্ব করেছেন, ফলে তিনি তোমাদের সকলকে সাধারণভাবে এবং আলীকে বিশেষভাবে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল, আমি আমার কওমকে ভয় করি না এবং আমার আত্মীয়-স্বজনের প্রতি পক্ষপাতিত্বও করি না। এই যে জিবরীল (আলাইহিস সালাম), তিনি আমাকে সংবাদ দিচ্ছেন যে, পরম সৌভাগ্যবান, প্রকৃত সৌভাগ্যবান এবং যথার্থ সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে আমার জীবদ্দশায় এবং আমার মৃত্যুর পর আলীকে ভালোবাসল।”
এটি একটি গরীব (বিরল) হাদীস, হাফিজ আবু মুসা আল-মাদিনি তাঁর 'হুজ্জাতু যাউয়ি আদ-দালালাহ' গ্রন্থে এই সনদ ও শব্দেই এটি বর্ণনা করেছেন।
২৮- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখা উম্মু মুহাম্মদ যাইনাব বিনতে আল-কাসিম আল-আজামিয়্যাহ, যা তিনি সরাসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-হাসান বিন আহমদ আস-সা’দি থেকে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আল-ফুতুহ আল-আজ্জালি তাঁর কিতাবে, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আল-কাসিম আত-তাইমি, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন খালাফ, তিনি বলেন আমাকে সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাফিজ, তিনি বলেন মক্কায় আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু কুতায়বা সালিম বিন আল-ফদল আল-আদামি, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন উসমান বিন আবু শাইবা, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমার চাচা আবু বকর, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আলী বিন সাবিত আদ-দাহহান, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-হাকাম বিন আব্দুল মালিক, তিনি আল-হারিস বিন হুসাইন থেকে, তিনি আবু সাদিক থেকে, তিনি রাবিআ বিন নাজীদ থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন...
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
فقال يا علي إن فيك من عيسى مثلا؛ أبغضته اليهود حتى بهتوا أمه وأحبته النصارى بها حتى أنزلته بالمنزلة التي ليس بها. قال فقال علي رضي الله عنه إنه يهلك فِيَّ محب مطر يقرظني بما ليس في ومبغض مفتر يحمله شنآني على أن يبهتني ألا وإني لست بنبي ولا يوحى إلي ولكني أعمل بكتاب الله وبسنة نبيه صلى الله عليه وسلم ما استطعت له فما أمرتكم من طاعة الله فحق عليكم طاعتي فيما أحببتم أو كرهتم وما أمرتكم بمصعية الله أنا أو غيري فلا طاعة لأحد في معصية الله إنما الطاعة في المعروف.
حديث حسن رواه الحاكم في صحيحه وقال صحيح الإسناد ولم يخرجاه.
29- أخبرنا الحسن بن أحمد بن هلال قراءة عليه عن علي بن أحمد بن
অতঃপর তিনি বললেন, হে আলী! নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে ঈসার একটি দৃষ্টান্ত রয়েছে; ইয়াহুদীরা তাঁকে ঘৃণা করেছিল এমনকি তারা তাঁর মায়ের প্রতি অপবাদ আরোপ করেছিল, আর খ্রিস্টানরা তাঁকে এমনভাবে ভালোবেসেছিল যে তারা তাঁকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিল যা তাঁর জন্য নয়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমার ব্যাপারে দুই শ্রেণির মানুষ ধ্বংস হবে: এমন চরমপন্থী প্রেমিক যে আমার মধ্যে নেই এমন গুণ দিয়ে আমার প্রশংসা করবে এবং এমন মিথ্যাবাদী বিদ্বেষী যাকে আমার প্রতি ঘৃণা আমার প্রতি অপবাদ আরোপে প্ররোচিত করবে। জেনে রেখো, আমি কোনো নবী নই এবং আমার কাছে ওহীও অবতীর্ণ হয় না। তবে আমি আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ অনুযায়ী সাধ্যমতো আমল করি। সুতরাং আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের বিষয়ে যা আদেশ করি, তাতে আমার কথা মান্য করা তোমাদের জন্য আবশ্যক, চাই তোমরা তা পছন্দ করো বা অপছন্দ করো। আর আমি অথবা অন্য কেউ যদি আল্লাহর অবাধ্যতার কোনো আদেশ দিই, তবে আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো আনুগত্য নেই; আনুগত্য কেবল সৎকাজের ক্ষেত্রেই।
এটি একটি হাসান হাদিস যা ইমাম হাকেম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন এর সনদ সহীহ, তবে তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।
২৯- হাসান ইবন আহমাদ ইবন হিলাল আমাদের নিকট পাঠের মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবন আহমাদ ইবন... থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٣١)
عبد الواحد أنا أحمد بن أحمد بن محمد بن محمد في كتابه من أصبهان أنا الحسن بن أحمد بن الحسين المقري أنا أحمد بن عبد الله بن أحمد الحافظ ثنا أبو أحمد بن أحمد الجرجاني أنا الحسن بن سفيان أنا عبد الحميد بن بحر أنا شريك عن سلمة بن كهيل عن الصنابحي عن علي رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا دار الحكمة وعلي بابها.
رواه الترمذي في جماعة عن إسماعيل بن موسى ثنا محمد بن رومي ثنا شريك عن سلمة بن كهيل عن سويد بن غفلة عن الصنابحي عن علي وقال حديث غريب ورواه بعضهم عن شريك ولم يذكروا فيه عن الصنابحي قال ولا نعرف هذا الحديث عن واحد من الثقات عن شريك وفي الباب عن ابن عباس. انتهى.
قلت: ورواه بعضهم عن شريك عن سلمة ولم يذكروا فيه عن سويد وروى الأصبع بن نباته والحارث عن علي نحوه ورواه الحاكم من طريق مجاهد عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم ولفظه أنا مدينة العلم وعلي بابها فمن أراد العلم فليأتها من بابها. وقال الحاكم صحيح الإسناد ولم يخرجاه قلت ورواه أيضا من حديث جابر بن عبد الله ولفظه أنا مدينة العلم وعلي بابها فمن أراد العلم فليأت الباب. وقال ابن عدي وهذا الحديث يعرف بأبي الصلت الهروي عن أبي معاوية سرقه منه أحمد بن سلمة ومعه جماعة من الضعفاء.
আব্দুল ওয়াহিদ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ তাঁর আসবাহান থেকে প্রেরিত কিতাবে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আল-হুসাইন আল-মুকারি, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-হাফিজ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আহমদ ইবনে আহমদ আল-জুরজানি, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন হাসান ইবনে সুফিয়ান, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল হামিদ ইবনে বাহর, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন শারিক, সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি আস-সুনাবিহি থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি প্রজ্ঞার গৃহ আর আলী তার প্রবেশদ্বার।"
ইমাম তিরমিজি এটি একদল বর্ণনাকারীর সূত্রে ইসমাইল ইবনে মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি বলেন, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে রুমি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন শারিক, সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি সুয়াইদ ইবনে গাফলাহ থেকে, তিনি আস-সুনাবিহি থেকে, তিনি আলী থেকে। তিনি (তিরমিজি) বলেছেন যে এটি একটি গরীব হাদীস। তাদের কেউ কেউ এটি শারিক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে আস-সুনাবিহির উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, শারিকের সূত্রে কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে আমরা এই হাদীসটি চিনি না। এই বিষয়ে ইবনে আব্বাস থেকেও বর্ণনা রয়েছে। সমাপ্ত।
আমি বলছি: তাদের কেউ কেউ এটি শারিক থেকে, তিনি সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে সুয়াইদকে উল্লেখ করেননি। আসবাগ ইবনে নুবাতাহ এবং আল-হারিস আলী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর হাকিম এটি মুজাহিদের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দ হলো: "আমি জ্ঞানের নগরী আর আলী তার প্রবেশদ্বার; সুতরাং যে জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে যেন তার প্রবেশদ্বার দিয়েই আসে।" হাকিম বলেছেন এর সনদ সহীহ, তবে তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। আমি বলছি, এটি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর হাদীস থেকেও বর্ণিত হয়েছে যার শব্দ হলো: "আমি জ্ঞানের নগরী আর আলী তার প্রবেশদ্বার; সুতরাং যে জ্ঞান চায়, সে যেন প্রবেশদ্বার দিয়ে আসে।" ইবনে আদি বলেন, এই হাদীসটি আবু মুয়াবিয়ার সূত্রে আবুস সালত আল-হারাউয়ির মাধ্যমে পরিচিত, যা তাঁর থেকে আহমাদ ইবনে সালামাহ এবং তাঁর সাথে একদল দুর্বল বর্ণনাকারী চুরি করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
30- أخبرنا أبو علي بن هلال سماعا أنبأنا أبو الحسن بن البخاري أنا القاضي أبو المكارم الأصبهاني في كتابه أنا أبو علي الحداد أنا أبو نعيم الحافظ أنا أبو أحمد الغطريفي حدثني أبو الحسين بن أبي مقاتل أنا محمد بن عبيد بن عتبة أنا محمد بن علي الوهبي الكوفي أخبرنا أحمد بن عمران بن سلمة وكان ثقة عدلا مرضيا أنا سفيان الثوري عن منصور عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله قال كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم فسئل عن علي صلى الله عليه وسلم فقال قسمت الحكمة عشرة أجزاء فأعطى علي تسعة أجزاء والناس جزءا واحد.
كذا رواه الحافظ أبو نعيم في الحلية وهو منكر مركب على سفيان والله أعلم.
31- وأخبرنا الحسن بن أحمد بن علي بن أحمد أنا محمد بن أحمد اللبان كتابة أنا الحسن بن أحمد المقري أنا أحمد بن عبد الله الحافظ ثنا عبد الله بن جعفر بن الهيثم أنا جعفر بن محمد الصايغ أنا قبيصة بن عقبة أنا سفيان عن حبيب بن أبي ثابت عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال قال عمر رضي الله عنه علي أقضانا وأبي أقرؤنا.
32- وأخرج الحاكم في صحيحه من حديث ابن مسعود كنا نتحدث أن أقضى أهل المدينة علي بن أبي طالب وقال صحيح ولم يخرجاه.
৩০- আমাদের কাছে আবু আলী বিন হিলাল শ্রবণের মাধ্যমে খবর দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবুল হাসান বিন আল-বুখারী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, কাযী আবুল মাকারিম আল-আসফাহানি তাঁর কিতাবে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আলী আল-হাদ্দাদ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু নুআইম আল-হাফিজ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আহমদ আল-ঘাতরীফী আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আবুল হুসাইন বিন আবি মুকাতিল আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন উতবাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন আলী আল-ওয়াহবী আল-কুফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন ইমরান বিন সালামাহ আমাদের জানিয়েছেন—যিনি নির্ভরযোগ্য, ন্যায়পরায়ণ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন—তিনি সুফিয়ান সাওরী থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁকে আলী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি বললেন: প্রজ্ঞাকে দশটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে; আলীকে নয়টি অংশ দেওয়া হয়েছে আর অন্য সকল মানুষকে দেওয়া হয়েছে এক অংশ।
হাফিজ আবু নুআইম ‘আল-হিলয়াহ’ গ্রন্থে এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন। এটি সুফিয়ানের নামে আরোপিত একটি মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনা। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
৩১- আর আমাদের কাছে আল-হাসান বিন আহমদ বিন আলী বিন আহমদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-লাব্বান লিখিতভাবে আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-হাসান বিন আহমদ আল-মুকরী আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমদ বিন আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আল-হাইসাম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, জাফর বিন মুহাম্মদ আস-সায়েগ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, কাবিযাহ বিন উকবাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি হাবিব বিন আবি সাবিত থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আলী আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক এবং উবাই আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্বারী।
৩২- আর ইমাম হাকেম তাঁর সহীহ গ্রন্থে ইবনে মাসউদের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমরা বলাবলি করতাম যে মদিনাবাসীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক হলেন আলী বিন আবি তালিব। তিনি বলেছেন এটি সহীহ, তবে তারা দুজন (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
33- أخبرنا الحسن بن أحمد قراءة عليه أنا علي بن أحمد إجازة إن لم يكن سماعا قال كتب إلينا القاضي أبو المكارم الأصبهاني منها أنا الحسن بن أحمد المقري أخبره قال ثنا أبو نعيم الحافظ حدثنا نذير بن جناح القاضي أنا إسحاق بن محمد بن مروان أنا أبي أنا عباس بن عبيد الله أنا غالب بن عثمان الهمداني أبو مالك عن عبيدة عن شقيق عن عبد الله بن مسعود قال إن القرآن أنزل على سبعة أحرف ما منها حرف إلا له ظهر وبطن وإن علي بن أبي طالب عنده منه علم الظاهر والباطن.
34- قرئ على الشيخ أبي علي بن هبل الصالحي بجامع دمشق وأنا أسمع عن أبي الحسن بن البخاري أخبرنا أحمد بن محمد القاضي في كتابه أنا أبو علي الحداد أنا أحمد بن عبد الله الحافظ حدثنا سليمان بن أحمد أنا عبد الله بن وهيب أنا محمد بن أبي السري أنا عبد الرزاق أنا النعمان بن أبي شيبة الجندي عن سفيان الثوري عن أبي إسحاق عن زيد بن يثيع عن حذيفة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن تستخلفوا عليا وما أراكم فاعلين تجدوه هاديا مهديا يحملكم على المحجة البيضاء.
حديث حسن الإسناد رجاله موثقون.
35- وقد رواه أيضا إبراهيم بن هراسة عن الثوري به ورواه شريك عن أبي اليقظان عن أبي وائل عن حذيفة قال قالوا يا رسول الله ألا تستخلف علينا قال إن تولوا عليا تجدوه هاديا مهديا يسلك بكم الطريق المستقيم.
وهذا بعض حديث.
৩৩- আমাদের নিকট হাসান ইবনে আহমদ এটি পাঠ করে শুনিয়েছেন, আলী ইবনে আহমদ ইজাযাহ (অনুমতি) সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে, তিনি বলেন: কাজী আবু আল-মাকারিম আল-আসবাহানি আমাদের নিকট লিখেছেন, হাসান ইবনে আহমদ আল-মুকারি তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু নুআইম আল-হাফিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাযীর ইবনে জানাহ আল-কাজী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস ইবনে উবায়দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, গালিব ইবনে উসমান আল-হামদানি আবু মালিক বর্ণনা করেছেন উবাইদাহ থেকে, তিনি শাকিক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই কুরআন সাতটি পদ্ধতিতে (হরফ) অবতীর্ণ হয়েছে। এর প্রতিটি পদ্ধতিরই একটি বহিঃপ্রকাশ এবং একটি অন্তর্নিহিত রহস্য রয়েছে। আর আলী ইবনে আবু তালিবের কাছে এর প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়ের জ্ঞান রয়েছে।
৩৪- দামেস্কের জামে মসজিদে শেখ আবু আলী ইবনে হুবাল আল-সালেহীর নিকট এটি পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করেছি। তিনি আবু আল-হাসান ইবনে আল-বুখারী থেকে, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কাজী তার কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী আল-হাদ্দাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সুলায়মান ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহীব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবি আল-সারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, নুমান ইবনে আবি শায়বাহ আল-জুনদি সুফিয়ান সওরী থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি যায়দ ইবনে ইয়ুসাই থেকে, তিনি হুজায়ফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যদি তোমরা আলীকে খলিফা নিযুক্ত করো—যদিও আমি মনে করি না যে তোমরা তা করবে—তবে তোমরা তাকে একজন সুপথপ্রদর্শক ও সঠিক পথপ্রাপ্ত হিসেবে পাবে, যে তোমাদের শ্বেত-শুভ্র উজ্জ্বল পথের ওপর পরিচালিত করবে।”
হাদিসটির সনদ হাসান এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
৩৫- ইব্রাহিম ইবনে হারাসাহ-ও এটি সওরী থেকে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া শারীক এটি আবু আল-ইয়াকজান থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি হুজায়ফা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদের ওপর কাউকে স্থলাভিষিক্ত (খলিফা) করবেন না? তিনি বললেন, “যদি তোমরা আলীকে দায়িত্ব অর্পণ করো, তবে তাকে একজন সুপথপ্রদর্শক ও সঠিক পথপ্রাপ্ত হিসেবে পাবে, যে তোমাদের সরল পথে পরিচালিত করবে।”
এটি হাদিসের একটি অংশ।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
36- أخبرنا به على التمام شيخنا العلامة أبو بكر محمد بن أحمد بن محمد الشريشي مشافهة عن الإمام أبي جعفر أحمد بن إبراهيم بن الزبير أنا أبو الحسن الغافقي إجازة أنا عبد الله بن محمد الحجري أنا محمد بن الحسين الحافظ ثنا أبو علي الصدفي أنا عبد الله بن محمد بن إسماعيل أنا أبو عمر الطلمنكي إجازة أنا أحمد بن محمد بن مفرج ثنا محمد بن أيوب بن الصموت ثنا أبو بكر أحمد بن عمرو الحافظ ثنا عبد الله بن وضاح الكوفي ثنا يحيى بن اليمان ثنا إسرائيل عن أبي اليقظان عن أبي اليقظان عن أبي وائل عن حذيفة قال قالوا يا رسول الله ألا تستخلف علينا قال إني إن أستخلف عليكم فتعصون خليفتي ينزل عليكم العذاب قالوا ألا تستخلف أبا بكر قال إن تستخلفوه تجدوه ضعيفا في بدنه قويا في أمر الله قالوا ألا تستخلف عمر قال إن تستخلفوه تجدوه قويا في بدنه قويا في أمر الله قالوا ألا تستخلف عليا قال إن تستخلفوه ولن تفعلوا يسلك بكم الطريق المستقيم وتجدوه هاديا مهديا.
رواه البزار وقال لا نعلمه روي عن حذيفة إلا بهذا الإسناد وأبو اليقظان اسمه عثمان بن عمير قلت أبو اليقظان هذا روى له أبو داود والترمذي وابن ماجه وقد ضعفوه وقالوا كان شيعيا ولكن روى عنه مثل شعبة وغيره من الكتاب ومع ذلك فلم ينفرد به فقد رواه سفيان الثوري عن أبي إسحاق السبيعي عن زيد بن يثيع كما تقدم.
37- أخبرنا الحافظ الكبير أبو الفضل عبد الرحيم بن الحسين فيما شافهني به عن الخطيب أبي الفتح محمد بن محمد المصري أنا أبو الحسن علي بن أحمد القسطلاني إجازة عن يوسف بن عبد الله الشاطبي في كتابه من المغرب أنا عبد الرحمن بن عتاب حدثني أبي أنبأنا سلمان بن خلف أنا ابن مفرج أنا ابن الصموت ثنا أبو بكر أحمد بن عمرو الحافظ ثنا حفص بن عمر
৩৬- আমাদের নিকট এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন আমাদের শাইখ আল্লামা আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আশ-শুরাইশি মৌখিকভাবে, তিনি ইমাম আবু জাফর আহমাদ বিন ইবরাহিম বিন আয-যুবাইর থেকে, তিনি আবু আল-হাসান আল-গাফিকি থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত (ইজাজত) হয়ে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-হাজরি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আল-হাফিয থেকে, আবু আলি আস-সাদাফি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল থেকে, আবু উমর আত-তালামনাকি অনুমতিপ্রাপ্ত (ইজাজত) হয়ে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুফাররিজ থেকে, মুহাম্মাদ বিন আইয়ুব বিন আস-সাম্মুত আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু বকর আহমাদ বিন আমর আল-হাফিয আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন ওয়াদদাহ আল-কুফি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন আল-ইয়ামান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসরাঈল আবু আল-ইয়াকযান থেকে, তিনি আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি হুযাইফা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদের জন্য কাউকে উত্তরাধিকারী (খলীফা) নিযুক্ত করবেন না? তিনি বললেন: আমি যদি তোমাদের জন্য কাউকে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করি আর তোমরা আমার সেই উত্তরাধিকারীর অবাধ্যতা করো, তবে তোমাদের উপর আযাব অবতীর্ণ হবে। তারা বললেন, আপনি কি আবু বকরকে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করবেন না? তিনি বললেন: যদি তোমরা তাঁকে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করো, তবে তাঁকে তাঁর শরীরে দুর্বল কিন্তু আল্লাহর নির্দেশের ক্ষেত্রে শক্তিশালী পাবে। তারা বললেন, আপনি কি উমরকে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করবেন না? তিনি বললেন: যদি তোমরা তাঁকে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করো, তবে তাঁকে শরীরে শক্তিশালী এবং আল্লাহর নির্দেশের ক্ষেত্রেও শক্তিশালী পাবে। তারা বললেন, আপনি কি আলীকে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করবেন না? তিনি বললেন: যদি তোমরা তাঁকে উত্তরাধিকারী নিযুক্ত করো—আর তোমরা তা করবে না—তবে তিনি তোমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন এবং তোমরা তাঁকে সুপথপ্রাপ্ত ও পথপ্রদর্শক হিসেবে পাবে।
আল-বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমরা জানি না যে এটি হুযাইফা থেকে এই সনদ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর আবু আল-ইয়াকযানের নাম উসমান বিন উমাইর। আমি বলছি, এই আবু আল-ইয়াকযান থেকে আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন। মুহাদ্দিসগণ তাঁকে দুর্বল বলেছেন এবং বলেছেন যে তিনি শিয়া ছিলেন। তবে তাঁর থেকে শু’বার মতো ব্যক্তিবর্গ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি এটি বর্ণনায় একক নন, বরং সুফিয়ান আস-সাওরী এটি আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে এবং তিনি যাইদ বিন ইয়াসাই' থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।
৩৭- হাফিযুল কাবীর আবু আল-ফাযল আব্দুর রাহীম বিন আল-হুসাইন আমাদেরকে হাদীস শুনিয়েছেন যা তিনি আমাকে সরাসরি মৌখিকভাবে বর্ণনা করেছেন খতীব আবু আল-ফাতহ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-মিসরি থেকে, তিনি আবু আল-হাসান আলী বিন আহমাদ আল-কাসতালানী থেকে অনুমতিপ্রাপ্ত (ইজাজত) হয়ে, তিনি ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাতিবি থেকে মরক্কো (মাগরিব) থেকে পাঠানো তাঁর লিখিত পত্রে, তিনি আব্দুর রহমান বিন আত্তাব থেকে, তিনি বলেন আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সালমান বিন খালাফ আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে মুফাররিজ আমাদের জানিয়েছেন, ইবনে আস-সাম্মুত আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর আহমাদ বিন আমর আল-হাফিয আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, হাফস বিন উমর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
الربالي ثنا زيد بن الحباب ثنا فضيل بن مرزوق ثنا أبو إسحاق عن زيد ابن يثيع عن علي رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن تولوا أبا بكر تجدوه زاهدا في الدنيا راغبا في الآخرة وإن تولى عمر تجدوه قويا أمينا لا تأخذه في الله لومة لائم وإن تولوا عليا تجدوه هاديا مهديا يأخذ بكم الصراط المستقيم ولن تفعلوا.
رواه البزار في مسنده وقال لا نعلمه يروى إلا بهذا الإسناد قلت وهو إسناد صحيح رجاله كلهم ثقات على شرط مسلم إلا زيد بن يثيع فقد روى له أصحاب السنن وذكره ابن حبان في الثقات.
38- وأخبرناه أعلى من هذا بدرجات أبو عمر بن قدامة أنا شيخنا السعدي أبو الحسن أنا فرج أنا هبة الله أنا الحسن بن المذهب أنا القطيعي ثنا عبد الله ابن الإمام أحمد حدثني أبي ثنا أسود بن عامر حدثنا عبد الحميد بن أبي جعفر يعني الفراء عن إسرائيل عن أبي إسحاق عن زيد بن يثيع عن علي قال قيل يا رسول الله من يؤمر بعدك قال إن تؤمروا أبا بكر تجدوه زاهدا في الدنيا راغبا في الآخرة وإن تؤمروا عمر تجدوه قويا لا تأخذه في الله لومة لائم
রিবালী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, যায়িদ বিন আল-হুবাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ফুযাইল বিন মারযুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যায়িদ বিন ইউসায়ি‘ থেকে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যদি তোমরা আবু বকরকে দায়িত্ব প্রদান করো, তবে তাকে দুনিয়াবিমুখ ও আখিরাতমুখী পাবে। আর যদি উমরকে দায়িত্ব প্রদান করো, তবে তাকে শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত পাবে, আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে সে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করবে না। আর যদি আলীকে দায়িত্ব প্রদান করো, তবে তাকে পাবে পথপ্রদর্শক ও সঠিক পথপ্রাপ্ত, সে তোমাদেরকে সরল পথের (সিরাতুল মুস্তাকিম) দিকে নিয়ে যাবে; কিন্তু তোমরা তা করবে না।”
আল-বাযযার এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই সনদ ব্যতীত অন্য কোনো সনদে এটি বর্ণিত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। আমি বলছি, এটি একটি সহীহ সনদ এবং এর সকল বর্ণনাকারী ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), কেবল যায়িদ বিন ইউসায়ি‘ ব্যতীত; তবে সুনান গ্রন্থকারগণ তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
৩৮- এবং এর চেয়ে কয়েক স্তর উচ্চতর সনদে আবু উমর বিন কুদামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আমাদের শায়খ আস-সা’দী আবুল হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ফারাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হিবাতুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাসান বিন আল-মুযাহহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-কাতিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইমাম আহমদের পুত্র আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আসওয়াদ বিন আমির আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল হামিদ বিন আবি জাফর অর্থাৎ আল-ফাররা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি যায়িদ বিন ইউসায়ি‘ থেকে এবং তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পরে কাকে আমির নিযুক্ত করা হবে? তিনি বললেন: “যদি তোমরা আবু বকরকে আমির নিযুক্ত করো, তবে তাকে দুনিয়াবিমুখ ও আখিরাতমুখী পাবে। আর যদি উমরকে আমির নিযুক্ত করো, তবে তাকে শক্তিশালী পাবে, আল্লাহর পথে সে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করবে না।”
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
وإن تؤمروا عليا ولا أراكم فاعلين تجددوه هاديا مهديا يأخذ بكم الصراط المستقيم.
كذا رواه الإمام أحمد في مسنده.
39- وأخبرنا الثقات من شيوخنا ومنهم أبو العباس بن أحمد بن عبد الكريم إذنا أن عبد الخالق بن علوان أخبرهم أنا ابن قدامة الإمام أنا ابن البطي أنا مالك بن أحمد ثنا أبو الحسين بن بشران أنا أبو الفضل بن خزيمة ثنا عبد الله بن روح ثنا شبابة ثنا أبو بكر الهذلي عن الحسن قال لما قدم علي رضي الله عنه البصرة قام إليه ابن الكواء وقيس بن عبادة فقالا ألا تخبرنا عن مسيرك هذا الذي سرت فيه يضرب الناس بعضهم ببعض أعهد من رسول الله صلى الله عليه وسلم فحدثنا فأنت الموثوق المأمون فقال أما أن يكون عندي عهد من النبي الله صلى الله عليه وسلم في ذلك فلا والله إن كنت أول من صدق به لا أكون أول من كذب عليه ولو كان عندي منه عهد ما تركت أخا بني تيم ابن مرة وعمر بن الخطاب يتوثبان على منبر ولقاتلتهما بيدي ولو لم أجد إلا بردي هذا ولكن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يقتل قتلا ولم يمت فجأة مكث في مرضه أياما وليالي يأتيه المؤذن فيؤذنه بالصلاة فيأمر أبا بكر فيصلي بالناس وهو صلى الله عليه وسلم يرى مكاني ولقد أرادت امرأة من نسائه أن تصرفه عن أبي بكر فأبى وغضب وقال أنتن صواحب يوسف مروا أبا بكر يصلي بالناس فلما قبض نظرنا في أمورنا فاخترنا لدنيانا من رضيه رسول الله صلى الله عليه وسلم لديننا وكانت الصلاة رأس الإسلام وقوامه فبايعنا أبا بكر وكان لذلك أهلا ولم يختلف عليه منا اثنان ولم يشهد بعضنا على بعض ولم يقطع منه البراء فأديت إلى أبي بكر حقه وعرفت له طاعته وغزوت معه في جنوده وكنت آخذ منه إذا أعطاني وأغزوا إذا أغزاني وأضرب بين يديه الحدود بسوطي فلما قبض ولاها عمر، فأخذها بسنة
আর যদি তোমরা আলীকে নেতা নিযুক্ত করো—যদিও আমি তোমাদের তা করতে দেখছি না—তবে তোমরা তাকে একজন সঠিক পথপ্রদর্শক ও সঠিক পথপ্রাপ্ত হিসেবে পাবে, যে তোমাদের সরল সঠিক পথে নিয়ে যাবে।
ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
৩৯- আমাদের নির্ভরযোগ্য উস্তাদগণ আমাদের অবহিত করেছেন, তাঁদের মধ্যে আবুল আব্বাস বিন আহমাদ বিন আব্দুল কারিম অনুমতিক্রমে জানিয়েছেন যে, আব্দুল খালিক বিন আলওয়ান তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন: ইমাম ইবনে কুদামা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: ইবনুল বাত্তি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: মালিক বিন আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আল-হুসাইন বিন বিশরান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু আল-ফদল বিন খুজাইমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আব্দুল্লাহ বিন রুহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: শাবাবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবু বকর আল-হুযালী হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বসরায় আসলেন, তখন ইবনুল কাওয়া এবং কায়স বিন উবাদাহ তাঁর নিকট দাঁড়িয়ে বললেন, "আপনি কি আমাদের আপনার এই সফর সম্পর্কে জানাবেন না যাতে মানুষ একে অপরকে আঘাত করছে? এটি কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ অঙ্গীকার বা নির্দেশ? আপনি আমাদের নিকট বর্ণনা করুন, কেননা আপনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।" তখন তিনি বললেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আমার নিকট কোনো বিশেষ অঙ্গীকার থাকার ব্যাপারে আল্লাহর কসম, তা নেই। আমি যদি তাঁর ওপর প্রথম বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে থাকি, তবে আমিই তাঁর ওপর প্রথম মিথ্যা আরোপকারী হব না। যদি তাঁর পক্ষ থেকে আমার নিকট কোনো অঙ্গীকার থাকত, তবে আমি বনু তায়ম ইবনে মুররার ভাই (আবু বকর) এবং উমর ইবনুল খাত্তাবকে মিম্বরে আরোহণ করতে দিতাম না। আমি নিজের হাতে তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতাম, এমনকি যদি আমি আমার এই চাদরটি ছাড়া আর কিছুই না পেতাম তবুও। কিন্তু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিহত হননি এবং হঠাৎ মৃত্যুবরণও করেননি। তিনি তাঁর অসুস্থতায় বেশ কিছু দিন ও রাত অতিবাহিত করেছিলেন। মুয়াযযিন তাঁর নিকট আসতেন এবং তাঁকে সালাতের সংবাদ দিতেন, আর তিনি আবু বকরকে নির্দেশ দিতেন যেন তিনি মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করেন। অথচ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার অবস্থান দেখছিলেন। তাঁর জনৈক স্ত্রী তাঁকে আবু বকরের দিক থেকে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং রাগান্বিত হয়ে বলেন, 'তোমরা ইউসুফের সঙ্গিনীদের মতো! আবু বকরকে নির্দেশ দাও যেন সে মানুষকে নিয়ে সালাত আদায় করে।' অতঃপর যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, আমরা আমাদের বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করলাম এবং আমাদের দুনিয়াবি বিষয়ের জন্য সেই ব্যক্তিকে পছন্দ করে নিলাম যাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের দ্বীনের জন্য পছন্দ করেছিলেন। আর সালাত ছিল ইসলামের প্রধান বিষয় ও স্তম্ভ। ফলে আমরা আবু বকরের হাতে বায়আত গ্রহণ করলাম এবং তিনি এর যোগ্যই ছিলেন। আমাদের মধ্য থেকে দুইজন ব্যক্তিও তাঁর ব্যাপারে দ্বিমত করেনি, আমাদের কেউ কারো বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়নি এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়নি। ফলে আমি আবু বকরের প্রাপ্য হক আদায় করেছি, তাঁর আনুগত্যের আবশ্যকতা স্বীকার করেছি, তাঁর সেনাবাহিনীর সাথে হয়ে যুদ্ধ করেছি, তিনি যখন আমাকে দান করতেন আমি তা গ্রহণ করতাম, তিনি যখন আমাকে যুদ্ধে পাঠাতেন আমি যুদ্ধ করতাম এবং আমি তাঁর সামনে নিজের চাবুক দিয়ে শরয়ী দণ্ডসমূহ কার্যকর করতাম। অতঃপর যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, তিনি এর দায়িত্ব উমরকে প্রদান করলেন এবং তিনি তা সুন্নাহ অনুযায়ী গ্রহণ করলেন।"
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
صاحبه وما يعرف من أمره فبايعنا عمر لم يختلف عليه منا اثنان فأديت إليه حقه وعرفت له طاعته وغزوت معه في جنوده وكنت آخذ إذا أعطاني وأغزو إذا أغزاني وأضرب بين يديه الحدود بسوطي فلما قبض تذكرت في نفسي قرابتي وسابقتي وفضلي وأنا أظن ألا يعدل بي ولكن خشي أن لا يعمل الخليفة بعده شيئا إلا لحقه في قبره فأخرج منها نفسه وولده ولو كانت محاباة منه لآثر بها ولده فبرئ منها إلى رهط أنا أحدهم فلما اجتمع الرهط تذكرت في نفسي قرابتي وسابقتي وفضلي وأنا أظن أنا لا يعدلوا بي فأخذ عبد الرحمن مواثيقنا أن نسمع ونطيع لمن ولاه أمرنا ثم أخذ بيد ابن عفان فضرب بيده أي بايعه فنظرت في أمري فإذا طاعتي قد سبقت بيعتي وإذا ميثاقي قد أخذ لغيري فبابيعنا عثمان فأديت إليه حقه وعرفت له طاعته وغزوت معه في جيوشه وكنت آخذ إذا أعطاني وأغزو إذا أغزاني وأضرب بين يديه الحدود بسوطي فلما أصيب نظرت في أمري فإذا الخليفتان اللذان أخذاها بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم بالصلاة قد مضيا وهذا الذي قد أخذ ميثاقي قد أصيب فبايعني أهل الحرمين وأهل هذين المصرين.
هذا إسناد جيد وإن كان فيه أبو بكر الهذلي وقد ضعف فقد رواه الإمام الحجة إسحاق بن راهويه في مسنده فقال:
40- حدثنا عبدة بن سليمان ثنا أبو العلاء سالم المرادي سمعت الحسن فذكر نحوه وزاد فيه فوثب فيها من ليس مثلي ولا قرابته كقرابتي ولا علمه كعلمي ولا سابقته كسابقتي وكنت أحق بها منه قالا له فأخبرنا عن قتالك هذين الرجلين يعنيان طلحة والزبير فقال بايعاني بالمدينة وخالفاني بالبصرة ولو أن رجلا ممن بايع أبا بكر أو عمر خلعه لقاتلناه أيضا.
وقد رواه أيضا عن سالم يعني ابن عبيد الطنافسي وروى نحوه عن
তাঁর সঙ্গী এবং তাঁর বিষয়ে যা পরিচিত ছিল (সে অনুযায়ী)। অতঃপর আমরা উমরের নিকট বাইআত গ্রহণ করলাম, আমাদের মধ্যে দু’জন ব্যক্তিও তাঁর বিষয়ে মতভেদ করেনি। আমি তাঁর প্রাপ্য হক আদায় করেছি, তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেছি এবং তাঁর বাহিনীর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। তিনি যখন আমাকে প্রদান করতেন আমি তা গ্রহণ করতাম, তিনি যখন আমাকে যুদ্ধে প্রেরণ করতেন আমি যুদ্ধে যেতাম এবং তাঁর সামনে আমি আমার চাবুক দ্বারা দণ্ডবিধি কার্যকর করতাম। অতঃপর যখন তাঁর ইন্তেকাল হলো, আমি মনে মনে আমার আত্মীয়তা, আমার অগ্রগণ্যতা এবং আমার শ্রেষ্ঠত্বের কথা চিন্তা করলাম এবং আমি ধারণা করলাম যে আমাকে বাদ দেওয়া হবে না। কিন্তু তিনি (উমর) আশঙ্কা করেছিলেন যে, তাঁর পরবর্তী খলিফা কোনো কাজ করলে তার দায় যেন তাঁর কবরে তাঁর ওপর আপতিত না হয়, তাই তিনি নিজেকে এবং তাঁর সন্তানকে এ থেকে সরিয়ে নিলেন। যদি তাঁর পক্ষ থেকে কোনো স্বজনপ্রীতি থাকত, তবে তিনি তাঁর সন্তানকে অগ্রাধিকার দিতেন। সুতরাং তিনি এই দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করে একটি দলের ওপর ন্যস্ত করলেন যাদের একজন আমি ছিলাম। যখন সেই দলটি একত্রিত হলো, আমি মনে মনে আমার আত্মীয়তা, আমার অগ্রগণ্যতা এবং আমার শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্মরণ করলাম এবং ধারণা করলাম যে তাঁরা আমাকে বাদ দেবেন না। অতঃপর আবদুর রহমান আমাদের থেকে এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, তিনি যাঁর ওপর আমাদের দায়িত্ব অর্পণ করবেন আমরা তাঁর কথা শুনব ও আনুগত্য করব। এরপর তিনি ইবনে আফফানের হাত ধরলেন এবং তাঁর হাতে হাত মারলেন অর্থাৎ তাঁর বাইআত গ্রহণ করলেন। তখন আমি আমার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখলাম যে, আমার আনুগত্য (অঙ্গীকারের কারণে) আমার বাইআতের পূর্বেই সাব্যস্ত হয়ে গেছে এবং আমার প্রতিশ্রুতি অন্যের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে আমরা উসমানের বাইআত গ্রহণ করলাম। আমি তাঁর প্রাপ্য হক আদায় করেছি, তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেছি এবং তাঁর সেনাবাহিনীতে থেকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। তিনি যখন আমাকে প্রদান করতেন আমি তা গ্রহণ করতাম, তিনি যখন আমাকে যুদ্ধে পাঠাতেন আমি যুদ্ধে যেতাম এবং তাঁর সামনে আমি আমার চাবুক দ্বারা দণ্ডবিধি কার্যকর করতাম। অতঃপর যখন তিনি শাহাদাতবরণ করলেন, তখন আমি নিজের বিষয়টি নিয়ে ভাবলাম। দেখলাম যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে সালাতের মাধ্যমে (খিলাফত) পরিচালনাকারী দুইজন গত হয়েছেন এবং যাঁর জন্য আমার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছিল তিনিও শহীদ হয়েছেন। তখন দুই হারামের অধিবাসী এবং এই দুই জনপদের অধিবাসীগণ আমার নিকট বাইআত গ্রহণ করলেন।
এই সনদটি উত্তম, যদিও এতে আবু বকর আল-হুযালী রয়েছেন এবং তাঁকে দুর্বল বলা হয়েছে। তবে ইমাম হুজ্জাহ ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
৪০- আবদাহ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু আল-আলা সালিম আল-মুরাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমি হাসানকে বলতে শুনেছি, অতঃপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেন এবং তাতে আরও বর্ধিত করেন: “এতে এমন এক ব্যক্তি ঝাপিয়ে পড়লেন যিনি আমার সমতুল্য নন, না তাঁর আত্মীয়তা আমার মতো, না তাঁর জ্ঞান আমার মতো, আর না তাঁর অগ্রগণ্যতা আমার অগ্রগণ্যতার মতো; অথচ আমিই তাঁর চেয়ে এর (খিলাফতের) অধিক হকদার ছিলাম।” তাঁরা তাঁকে বললেন, আপনি এই দুই ব্যক্তির সাথে আপনার যুদ্ধের বিষয়ে আমাদের জানান—তাঁরা তালহা ও যুবাইরকে উদ্দেশ্য করেছিলেন। তিনি বললেন: তাঁরা মদিনায় আমার নিকট বাইআত হয়েছিলেন এবং বসরায় গিয়ে আমার বিরোধিতা করেছেন। যদি আবু বকর বা উমরের নিকট বাইআত গ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি তাঁদের পদচ্যুত করত, তবে আমরা অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করতাম।
এটি সালিম অর্থাৎ ইবনে উবাইদ আত-তানাফিসি থেকেও বর্ণিত হয়েছে এবং অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মানাকিবুল আসাদিল গালিব আলী বিন আবি তালিব লি ইবনিল জাযারি
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
الجريري عن أبي نضرة العبدي عن أبي نضرة العبدي أن رجلا قام إلى علي رضي الله عنه يوم صفين فسأهله وساق الحديث بطوله.
وهذه كلها طرق يقوي بعضها بعضا والنفس تركن إلى صحتها والله تعالى أعلم ومما يشهد لذلك ما رويناه في سنن أبي داود قال:
41- حدثنا إسماعيل بن إبراهيم الهذلي ثنا ابن علية عن يونس عن الحسن عن قيس بن عباد قال قلت لعلي أخبرنا عن مسيرك هذا أعهد عهده إليك رسول الله صلى الله عليه وسلم أم رأي رأيته قال ما عهد إلي رسول الله صلى الله عليه وسلم بشيء ولكن رأي رأيته.
وهذا إسناد صحيح لا شك فيه فرضي الله عنه وأرضاه لم يأل فيما قال عن الحق ومحض الصدق وهذا هو المظنون به رضوان الله عليه.
قلت فهذا نزر من بحر وقل من كثر بالنسبة إلى مناقبه الجليلة ومحاسنه الجميلة ولو ذهبنا لاستقصاء ذلك بحقه لطال الكلام بالنسبة إلى هذا المقام ولكن نرجو من الله تعالى أن ييسر إفراد ذلك بكتاب يستوعب فيه ما بلغنا من ذلك والله الموفق للصواب.
ومما روينا من الأحاديث المسلسلات عنه رضي الله عنه.
42- صافحت الشيخ الإمام العالم الزاهد أبا محمد محمد بن محمد بن محمد بن محمد بن محمد النسائي الجمالي رحمه الله وهو صافح الشيخ الإمام المحدث أبا محمد محمد بن مسعود الكازروني قال صافحت أبا الخير محمد بن علي بن محمد الأصفهاني الموازيني وقال صافحت علي بن محمد بن
জুরেইরি আবু নাদারা আল-আবদি থেকে বর্ণনা করেন যে, সিফফিনের যুদ্ধে এক ব্যক্তি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট দাঁড়িয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন এবং তিনি দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
এই সকল সূত্রই একে অপরকে শক্তিশালী করে এবং মন এগুলোর বিশুদ্ধতার প্রতি আশ্বস্ত হয়। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। আর এর সপক্ষে আমরা যা সুনানে আবু দাউদে বর্ণনা করেছি তা সাক্ষ্য দেয়, তিনি বলেছেন:
৪১- আমাদের নিকট ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম আল-হুজালি বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে উলাইয়্যাহ থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি কাইস ইবনে উবাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আলীকে বললাম, আপনার এই যাত্রা সম্পর্কে আমাদের জানান, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি এ বিষয়ে আপনার সাথে কোনো অঙ্গীকার করেছিলেন, নাকি এটি আপনার নিজস্ব অভিমত? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার সাথে কোনো বিষয়ে অঙ্গীকার করেননি, বরং এটি আমার নিজস্ব একটি অভিমত।
এই সনদটি সহীহ (বিশুদ্ধ), এতে কোনো সন্দেহ নেই। আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করুন। তিনি যা বলেছেন তাতে সত্য ও বিশুদ্ধতা বজায় রাখতে কোনো ত্রুটি করেননি এবং তাঁর সম্পর্কে এটিই সুধারণা, তাঁর ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টি বর্ষিত হোক।
আমি বলছি, তাঁর সুমহান গুণাবলি এবং সুন্দর বৈশিষ্ট্যসমূহের তুলনায় এটি সমুদ্রের মাঝে এক বিন্দুর মতো এবং আধিক্যের তুলনায় অতি সামান্য। আমরা যদি যথাযথভাবে এর পূর্ণ বিবরণ দিতে চাইতাম, তবে এই প্রসঙ্গের তুলনায় আলোচনা অনেক দীর্ঘ হয়ে যেত। তবে আমরা আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি যেন আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্বতন্ত্র কিতাব প্রণয়ন করা সহজ করে দেন। আল্লাহই সঠিক পথের তাওফিকদাতা।
তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আমরা মুসালসাল হাদীসসমূহের মধ্যে যা বর্ণনা করেছি।৪২- আমি শায়খ, ইমাম, আলিম, যাহেদ আবু মুহাম্মদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আন-নাসায়ী আল-জামালি (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে মুসাফাহা করেছি। তিনি শায়খ, ইমাম, মুহাদ্দিস আবু মুহাম্মদ মুহাম্মদ বিন মাসউদ আল-কাযরুনির সাথে মুসাফাহা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-আসফাহানি আল-মাওয়াযিনির সাথে মুসাফাহা করেছি। তিনি বলেছেন, আমি আলী বিন মুহাম্মদ বিন...