(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
مقتل علي لابن أبي الدنيا القسم: كتب السنة
الكتاب: مقتل أمير المؤمنين علي بن أبي طالب عليه السلام
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281 هـ)
المحقق: إبراهيم صالح [ت 1443 هـ]
الناشر: دار البشائر - دمشق
الطبعة: الأولى 1422 هـ - 2001
عدد الصفحات: 108
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত মাকতালু আলী বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
কিতাব: আমীরুল মু'মিনীন আলী বিন আবি তালিব আলাইহিস সালামের শাহাদাত
লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়েস আল-বাগদাদী আল-উমাবী আল-কুরাশী, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)
গবেষক: ইবরাহিম সালিহ [মৃত্যু ১৪৪৩ হিজরি]
প্রকাশক: দারুল বাশায়ের - দামেস্ক
সংস্করণ: প্রথম ১৪২২ হিজরি - ২০০১
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৮
[গ্রন্থের সংখ্যাবিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
نوادر الرسائل (17)
كتاب
مقتل أمير المؤمنين
علي بن أبي طالب
عليه السلام
تأليف
أبي بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان
المعروف بابن أبي الدنيا
المتوفى سنة 281هـ
رواية الحسين بن صفوان البرذعي
عني بتحقيقه إبراهيم صالح
دار البشائر
للطباعة والنشر والتوزيع
الطبعة الأولى
1422هـ - 2001
দুর্লভ পত্রাবলি (১৭)
কিতাব
আমিরুল মুমিনিন
আলী ইবনে আবি তালিব
তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক-এর শাহাদাতনামা
গ্রন্থনায়
আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান
যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত
মৃত্যু: ২৮১ হিজরি
বর্ণনায়: হুসাইন ইবনে সাফওয়ান আল-বারযাঈ
তাহকীক ও সম্পাদনায়: ইব্রাহিম সালেহ
দারুল বাশাএর
মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য
প্রথম সংস্করণ
১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
[فضائله، ومقتله، رضي الله عنه]1- أخبرنا أبو بكر محمد بن شجاع أنبأنا أبو عمرو بن مندة أنبأنا الحسن بن محمد بن أحمد أنبأنا أحمد بن محمد بن عمر أنبأنا أبو بكر بن أبي الدنيا أنبأنا محمد بن سعد قال علي بن أبي طالب بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي ويكنى أبا الحسن وأمه فاطمة بنت أسد بن هاشم بن عبد مناف بن قصي قتل يرحمه الله بالكوفة صبيحة ليلة الجمعة لسبع عشرة ليلة خلت من شهر رمضان سنة أربعين وهو ابن ثلاث وستين ويقال بضع وخمسين ودفن بالكوفة عند مسجد الجماعة في قصر الإمارة والذي ولي قتله عبد الرحمن بن ملجم المرادي وقد روى عن أبي بكر الصديق.
[তাঁর মর্যাদা ও শাহাদাত, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন]১- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে শুজা, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু আমর ইবনে মানদাহ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উমর, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে সাদ, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবি তালিব ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে কুসাই। তাঁর উপনাম ছিল আবুল হাসান এবং তাঁর মা ছিলেন ফাতিমা বিনতে আসাদ ইবনে হাশিম ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে কুসাই। তিনি—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—চল্লিশ হিজরি সনের রমজান মাসের সতেরো তারিখ শুক্রবার ভোরে কুফায় শহীদ হন। তখন তাঁর বয়স ছিল তেষট্টি বছর, মতান্তরে পঞ্চাশের কোঠায়। তাঁকে কুফায় জামে মসজিদের নিকটবর্তী ইমারত প্রাসাদে দাফন করা হয়। তাঁর হত্যাকারী ছিল আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম আল-মুরাদি। তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
2-.. .... … أنبأنا أبو بكر بن أبي الدنيا أنبأنا عباس بن هشام عن أبيه قال بويع علي بن أبي طالب بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بالمدينة يوم الجمعة حين قتل عثمان لاثنتي عشرة ليلة بقيت من ذي الحجة فاستقبل المحرم سنة ست وثلاثين قال غير عباس وكانت بيعته في دار عمرو بن محصن ⦗ص: 24⦘ الأنصاري ثم أحد بني مبذول يوم الجمعة ثم بويع بيعة العامة من الغد يوم السبت في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم ويكنى أبا الحسن.
২-.. .... … আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবন আবিদ দুনিয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাস ইবন হিশাম, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মদিনায় জুমার দিনে আলী ইবন আবি তালিব ইবন আবদিল মুত্তালিব ইবন হাশিম ইবন আবদ মানাফের নিকট বায়আত গ্রহণ করা হয়, যখন উসমান (রা.) নিহত হলেন এবং জিলহজ মাসের বারো রাত অবশিষ্ট ছিল। অতঃপর ছত্রিশ হিজরি সনের মুহাররম মাস শুরু হলো। আব্বাস ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারী বলেন, জুমার দিনে আনসারি সাহাবি এবং বনু মাবজুলের সদস্য আমর ইবন মুহসিনের ঘরে তাঁর বায়আত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ অতঃপর পরদিন শনিবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে সর্বসাধারণের বায়আত অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর উপনাম ছিল আবুল হাসান।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
3- أنبأنا أبو علي بن صفوان أنبأنا ابن أبي الدنيا حدثني شريح بن يونس أنبأنا هشيم عن إسماعيل بن سالم عن عمار الحضرمي عن زاذان أبي عمر أن رجلا حدث عليا بحديث فقال ما أراك إلا قد كذبتني قال لم أفعل قال أدعو عليك إن كنت كذبت قال ادع فدعا فما برح حتى عمي.
৩- আবু আলী ইবনে সাফওয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল আবিদ দুনইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, শুরাইহ ইবনে ইউনুস আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে সালিম থেকে, তিনি আম্মার আল-হাদরামি থেকে, তিনি জাযান আবু ওমর থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি আলীর নিকট একটি হাদিস বর্ণনা করল। তখন তিনি বললেন, "আমি তো দেখছি তুমি আমার নিকট মিথ্যা বলেছ।" সে বলল, "আমি তা করিনি।" তিনি বললেন, "যদি তুমি মিথ্যা বলে থাকো, তবে আমি তোমার বিরুদ্ধে বদদোয়া করব।" সে বলল, "আপনি বদদোয়া করুন।" অতঃপর তিনি বদদোয়া করলেন এবং সে ওই স্থান ত্যাগ করার আগেই অন্ধ হয়ে গেল।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
4- قال وأنبأنا ابن أبي الدنيا أنبأنا خلف بن سالم أنبأنا محمد بن بشر عن أبي مكين قال مررت أنا وخالي أبو أمية على دار في محل حي من مراد فقال ترى هذه الدار قلت نعم قال فإن عليا مر عليها وهم يبنونها فسقطت عليه قطعة فشجته فدعا الله أن لا يكمل بناؤها قال فما وضعت عليها لبنة قال فكنت تمر عليها لا تشبه الدور.
৪- তিনি বলেন এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, খালাফ বিন সালিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন বিশর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মাকীন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এবং আমার মামা আবু উমাইয়া মুরাদ গোত্রের একটি মহল্লার একটি ঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তিনি বললেন: তুমি কি এই ঘরটি দেখতে পাচ্ছ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আলী এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তারা এটি নির্মাণ করছিল, তখন একটি টুকরো তার ওপর পড়ে তার মাথা ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। ফলে তিনি আল্লাহর নিকট দুআ করলেন যেন এর নির্মাণ সম্পন্ন না হয়। তিনি বলেন: এরপর থেকে এর ওপর আর কোনো ইট রাখা হয়নি। তিনি বলেন: আপনি যখন এর পাশ দিয়ে যেতেন তখন এটি অন্যান্য ঘরের মতো মনে হতো না।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
5- قال وحدثنا ابن أبي الدنيا حدثني عبد الله بن يونس بن بكير الشيباني عن أبيه عن عبد الغفار بن القاسم الأنصاري عن أبي نمير الشيباني قال ⦗ص: 25⦘ شهدت الجمل مع مولاي فما رأيت يوما قط أكثر ساعدا نادرا وقدما نادرة من يومئذ ولا مررت بدار الوليد قط إلا ذكرت يوم الجمل قال فحدثني الحكم بن عتيبة أن عليا دعا يوم الجمل فقال اللهم خذ بأيديهم وأقدامهم.
৫- তিনি বলেন এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস ইবনে বুকাইর আশ-শায়বানি আমার নিকট তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল গাফফার ইবনে আল-কাসিম আল-আনসারি থেকে, তিনি আবু নুমাইর আশ-শায়বানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ আমি আমার মনিবের সাথে জিমাল (উটের) যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম। সেদিনকার মতো বিচ্ছিন্ন বাহু এবং বিচ্ছিন্ন পা আমি আর কখনো অধিক দেখিনি। আর আমি যখনই ওয়ালিদের গৃহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি, তখনই আমার জিমাল যুদ্ধের কথা মনে পড়ে যেত। তিনি বলেন, আল-হাকাম ইবনে উতাইবা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আলী জিমাল যুদ্ধের দিন দুআ করেছিলেন এবং বলেছিলেন: হে আল্লাহ! আপনি তাদের হাত ও পাগুলো পাকড়াও করুন।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
6-.. .... .... … أنبأنا أبو علي بن صفوان قال أنبأنا أبو بكر بن أبي الدنيا أنبأنا علي بن الجعد أخبرني عمرو بن شمر حدثني إسماعيل السدي قال سمعت أبا أراكة قال صليت مع علي بن أبي طالب صلاة الفجر فلما انفتل عن يمينه مكث كأن عليه كآبة حتى إذا كانت الشمس على حائط المسجد قيد رمح قال وحائط المسجد أقصر مما هو الآن ثم قلب يده فقال والله لقد رأيت أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم فما أرى اليوم شيئا يشبههم لقد كانوا يصبحون شعثا غبرا بين أعينهم أمثال ركب المعزى قد باتوا لله سجدا وقياما يتلون كتاب الله يراوحون بين جباههم وأقدامهم فإذا أصبحوا فذكروا الله مادوا كما تميد الشجر في يوم الريح وهملت أعينهم حتى تبل ثيابهم والله لكأن القوم باتوا غافلين ثم نهض فما رئي بعد ذلك مفترا يضحك حتى ضربه ابن ملجم عدو الله الفاسق.
৬-.. .... .... … আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন সাফওয়ান, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন আবিদ দুনিয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন আল-জাদ, আমাকে জানিয়েছেন আমর বিন শিমর, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইসমাইল আস-সুদ্দী, তিনি বলেন, আমি আবু আরাকাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আলী বিন আবি তালিবের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। অতঃপর যখন তিনি তাঁর ডান দিক ফিরে বসলেন, তখন তিনি এমনভাবে অবস্থান করলেন যেন তাঁর ওপর বিষণ্ণতা ছেয়ে আছে। যতক্ষণ না সূর্য মসজিদের দেয়ালের ওপর এক বল্লম পরিমাণ উঁচুতে উঠল। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, আর মসজিদের দেয়াল বর্তমানের চেয়ে নিচু ছিল। এরপর তিনি তাঁর হাত উল্টালেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের দেখেছি, কিন্তু আজ আমি এমন কিছু দেখি না যা তাঁদের সদৃশ। তাঁরা ভোরে উপনীত হতেন এলোমেলো চুলে ও ধূলিমলিন অবস্থায়, তাঁদের দুই চোখের মাঝে ছাগলের হাঁটুর মতো (চিহ্ন) ছিল। তাঁরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত কাটিয়ে দিতেন, আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করতেন এবং তাঁদের কপাল ও পায়ের ওপর পালাবদল করতেন। অতঃপর যখন সকাল হতো এবং তাঁরা আল্লাহর জিকির করতেন, তখন তাঁরা এমনভাবে দুলতেন যেভাবে প্রবল বাতাসের দিনে গাছ দোলে। আর তাঁদের চোখ থেকে অশ্রু বিগলিত হতো এমনকি তাঁদের পরিধেয় বস্ত্র ভিজে যেত। আল্লাহর কসম, মনে হচ্ছে যেন এই কওম গাফেল অবস্থায় রাত কাটিয়েছে। এরপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন। এরপর থেকে তাঁকে আর কখনো প্রাণখুলে হাসতে দেখা যায়নি, যতক্ষণ না আল্লাহর শত্রু ফাসেক ইবনে মুলজিম তাঁকে আঘাত করল।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
7-.. .... ....
… أنبأنا أبو علي بن صفوان أنبأنا أبو بكر بن أبي الدنيا أنبأنا
⦗ص: 26⦘ يوسف بن موسى أنبأنا جرير عن حمزة الزيات قال قال علي بن أبي طالب
ولا تفش سرك إلا إليك
… فإن لكل نصيح نصيحا
فإني رأيت غواة الرجال
… لا يتركون أديما صحيحا
৭-.. .... ....
… আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইবন সাফওয়ান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবন আবিদ দুনিয়া, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ ইউসুফ ইবন মুসা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারীর, হামযাহ আয-যাইয়্যাত থেকে, তিনি বলেন, আলী ইবন আবি তালিব বলেছেন:
তোমার গোপন রহস্য নিজের কাছে ছাড়া কারো নিকট প্রকাশ করো না
… কারণ প্রত্যেক হিতৈষীরই একজন হিতৈষী থাকে
নিশ্চয়ই আমি পথভ্রষ্ট ব্যক্তিদের দেখেছি
… তারা কোনো চামড়াকেই অক্ষত রাখে না
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
8- أنبأنا أبو علي بن صفوان أنبأنا أبو بكر بن أبي الدنيا حدثني عيسى بن عبد الله مولى بني تميم عن شيخ من بني هاشم قال رأيت رجلا بالشام قد اسود نصف وجهه وهو يغطيه فسألته عن سبب ذلك فقال نعم قد جعلت لله علي أن لا يسألني أحد عن ذلك إلا أخبرته كنت شديد الوقيعة في علي بن أبي طالب كثير الذكر له بالمكروه فبينا أنا ذات ليلة نائم أتاني آت في منامي فقال أنت صاحب الوقيعة في علي وضرب شق وجهي فأصبحت وشق وجهي أسود كما ترى.
৮- আবু আলী বিন সাফওয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর বিন আবিদ দুনইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, বনী তামীমের আযাদকৃত দাস ঈসা বিন আব্দুল্লাহ আমার কাছে জনৈক হাশেমী বৃদ্ধের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শাম দেশে এক ব্যক্তিকে দেখলাম যার চেহারার অর্ধেক অংশ কালো হয়ে গিয়েছে এবং সে তা ঢেকে রাখছে। আমি তাকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল: হ্যাঁ, আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজের ওপর এটি আবশ্যক করে নিয়েছি যে, কেউ আমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আমি অবশ্যই তাকে তা অবহিত করব। আমি আলী বিন আবি তালিবের অত্যন্ত কটু সমালোচক ছিলাম এবং অধিক পরিমাণে তার সম্পর্কে মন্দ আলোচনা করতাম। এমতাবস্থায় এক রাতে আমি নিদ্রিত ছিলাম, স্বপ্নে জনৈক আগন্তুক আমার নিকট আসলেন এবং বললেন: "তুমিই কি আলীর কুৎসা রটনাকারী?" এরপর তিনি আমার চেহারার এক পার্শ্বে আঘাত করলেন। ফলে আমি যখন সকালে উপনীত হলাম, দেখা গেল আমার চেহারার এক পার্শ্ব কালো হয়ে গিয়েছে যেমনটি আপনি দেখছেন।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
9-.. .... .... .... أنبأنا أبو علي بن صفوان أنبأنا أبو بكر بن أبي الدنبا حدثني عبد الرحمن بن صالح أنبأنا عمرو بن هاشم الجنبي عن أبي ⦗ص: 27⦘ جناب عن أبي عون الثقفي عن أبي عبد الرحمن السلمي قال لي الحسن بن علي قال أبي علي إن رسول الله صلى الله عليه وسلم سنح لي الليلة في منامي فقلت يا رسول الله ما لقيت من أمتك من الأود واللدد قال ادع عليهم قلت اللهم أبدلني بهم من هو خير منهم وأبدلهم بي من هو شر مني.
9-.. .... .... .... আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী বিন সাফওয়ান, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন আবি আদ-দুনিয়া থেকে, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান বিন সালিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর বিন হাশিম আল-জানবি, আবু ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ জানাব থেকে, তিনি আবু আওন আস-সাকাফি থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামি থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: হাসান বিন আলী আমাকে বলেছেন, আমার পিতা আলী বলেছেন যে—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আজ রাতে স্বপ্নে আমার নিকট আবির্ভূত হলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উম্মতের পক্ষ থেকে আমি কতই না বক্রতা ও শত্রুতার সম্মুখীন হয়েছি! তিনি বললেন: তাদের বিরুদ্ধে দুআ করো। আমি বললাম: হে আল্লাহ! আপনি তাদের পরিবর্তে আমাকে তাদের চেয়ে উত্তম সঙ্গী দান করুন এবং আমার পরিবর্তে তাদের জন্য এমন একজনকে নিযুক্ত করুন যে আমার চেয়েও নিকৃষ্ট।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
10-.. .... .... .... .... .. أنبأنا عمر بن الحسن قال أنبأنا ابن أبي الدنيا أخبرني العباس بن هشام عن أبيه قال كانت خلافة علي أربع سنين وثمانية أشهر وثلاثة وعشرين يوما.
10-.. .... .... .... .... .. ওমর ইবনে হাসান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইবন আবিদ দুনিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্বাস ইবনে হিশাম আমাকে তাঁর পিতার সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলীর খিলাফতকাল ছিল চার বছর, আট মাস এবং তেইশ দিন।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
11-.. .... .... .... .... … أنبأنا الحسن بن كثير عن أبيه وكان أدرك عليا قال خرج علي إلى صلاة الفجر فاستقبله الوز يصحن في وجهه فجعلنا نطردهن عنه فقال دعوهن فإنهن نوائح.
১১-.. .... .... .... .... … আল-হাসান ইবনে কাসীর তাঁর পিতার নিকট থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যিনি আলীর (রা.) সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন; তিনি বলেন, আলী (রা.) ফজরের সালাতের উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন রাজহাঁসগুলো তাঁর সামনে এসে তাঁর মুখের সামনে চিৎকার করতে লাগল। আমরা সেগুলোকে তাঁর নিকট থেকে তাড়িয়ে দিতে লাগলাম, তখন তিনি বললেন: ওগুলোকে ছেড়ে দাও, কারণ এগুলো বিলাপকারী।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
12- حدثنا الحسين نا عبد الله نا محمد بن عمرو بن الحكم نا ⦗ص: 28⦘ الضحاك بن شهر نا خارجة عن حصين عن هلال بن يساف قال كان علي بن أبي طالب يخرج إلى صلاة الفجر فيقول الصلاة الصلاة فبينا هو كذلك إذ ابتدره رجلان فضربه أحدهما ضربة بالسيف فسبقه ابن النباح راجعا وأخذ الآخر فقالوا ما نرى به بأسا فقال لقد سقيته السم شهرين ولو قسمتها بين العرب لأفنتهم وجعل النساء يبكين عليه وجعل آخرون يقولون ليس عليه بأس فقال ابن ملجم لعنه الله أفعلي تبكون.
১২- আমাদের কাছে আল-হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন আমর বিন আল-হাকাম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে ⦗পৃষ্ঠা: ২৮⦘ আদ-দাহহাক বিন শাহর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের কাছে খারিজাহ বর্ণনা করেছেন হুসাইন থেকে, তিনি হিলাল বিন ইয়াসাফ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী বিন আবি তালিব ফজরের সালাতের জন্য বের হতেন এবং বলতেন, "সালাত, সালাত"। তিনি যখন এই অবস্থায় ছিলেন, তখন হঠাৎ দুজন লোক তাঁর দিকে দ্রুত ধাবিত হলো এবং তাদের একজন তলোয়ার দিয়ে তাঁকে আঘাত করল। ইবনুন নাব্বাহ দ্রুত পালিয়ে গেল এবং অপরজনকে পাকড়াও করা হলো। তারা (উপস্থিত লোকেরা) বলল, "আমরা তাঁর কোনো গুরুতর ক্ষতি দেখছি না।" তখন সে (আঘাতকারী) বলল, "আমি তলোয়ারটিকে দুই মাস ধরে বিষ পান করিয়েছি (বিষাক্ত করেছি); যদি এই বিষ আরবদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হতো, তবে তা তাদের সবাইকে ধ্বংস করে দিত।" মহিলারা তাঁর জন্য কাঁদতে লাগল এবং অন্যরা বলতে লাগল, "তাঁর কোনো সমস্যা নেই।" তখন ইবনে মুলজাম (আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর বর্ষিত হোক) বলল, "তোমরা কি আলীর জন্য কাঁদছ?"
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
13- حدثنا الحسين نا عبد الله نا يوسف بن موسى نا عبيد الله بن ⦗ص: 29⦘ موسى قال أخبرنا الحسن بن دينار عن الحسن قال سهر علي عليه السلام في تلك الليلة فقال إني مقتول لو قد أصبحت قال فجاءه مؤذنه بالصلاة فقام فمشى قليلا ثم رجع فقالت له ابنته مر جعدة يصلي بالناس قال لا مفر من الأجل ثم قام فخرج فمر على صاحبه وقد سهر ليله ينتظره قد غلبته عينه فضربه برجله وقال الصلاة فقام فلما رأى عليا ضربه قال الحسن أنى علم هذا.
১৩- হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইউসুফ ইবনে মুসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উবায়দুল্লাহ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ মুসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, হাসান ইবনে দীনার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান থেকে, তিনি বলেন: আলী (আলাইহিস সালাম) সেই রাতে বিনিদ্র ছিলেন, অতঃপর তিনি বললেন, "সকাল হলে আমি অবশ্যই নিহত হবো।" তিনি বলেন, অতঃপর সালাতের জন্য তাঁর মুয়াজ্জিন তাঁর নিকট আসলেন। তিনি দাঁড়ালেন এবং সামান্য পথ হাঁটলেন, তারপর ফিরে আসলেন। তখন তাঁর কন্যা তাঁকে বললেন, "আপনি জা'দাহ-কে লোকেদের নিয়ে সালাত আদায়ের নির্দেশ দিন।" তিনি বললেন, "নির্ধারিত সময় (মৃত্যু) থেকে পলায়নের কোনো উপায় নেই।" অতঃপর তিনি উঠে বেরিয়ে গেলেন এবং তাঁর সেই সঙ্গীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যে সারা রাত তাঁর অপেক্ষায় জেগে ছিল, কিন্তু তখন তার চোখ ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। তিনি তাকে নিজের পা দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেন, "সালাত!" সে উঠে দাঁড়াল এবং যখন সে আলীকে দেখল, তখন তাঁকে আঘাত করল। হাসান বলেন, "সে বিষয়টি কীভাবে জানল?"
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
14- حدثنا الحسين نا عبد الله قال حدثني عبد الله بن يونس بن بكير قال حدثني أبي نا علي بن أبي فاطمة الغنوي قال حدثني شيخ من بني حنظلة قال
⦗ص: 30⦘ لما كانت الليلة التي أصيب فيها علي رحمه الله أتاه ابن النباح حين طلع الفجر يؤذنه بالصلاة وهو مضطجع متثاقل فقال الثانية يؤذنه بالصلاة فسكت فجاءه الثالثة فقام علي يمشي بين الحسن والحسين وهو يقول
شد حيازيمك للموت
… فإن الموت آتيك
ولا تجزع من الموت
… إذا حل بواديك
فلما بلغ باب الصغير قال لهما مكانكما ودخل فشد عليه عبد الرحمن بن ملجم فضربه فخرجت أم كلثوم بنت علي فجعلت تقول ما لي ولصلاة الغداة قتل زوجي أمير المؤمنين صلاة الغداة وقتل أبي صلاة الغداة.
১৪- হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ইউনুস ইবনে বুকাইর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আবি ফাতিমা আল-গানাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, বনু হানজালা গোত্রের একজন শায়খ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন:
⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ যে রাতে আলী (রাহিমাহুল্লাহ) আক্রান্ত হয়েছিলেন, ফজর উদিত হওয়ার সময় ইবনে আন-নাব্বাহ তাঁর নিকট এসে সালাতের সংবাদ দিচ্ছিলেন। তখন তিনি শায়িত ও কিছুটা ক্লান্ত অবস্থায় ছিলেন। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার তাকে সালাতের সংবাদ দিলেন, তিনি চুপ থাকলেন। যখন তিনি তৃতীয়বার আসলেন, তখন আলী হাসান ও হুসাইনের মাঝখানে হাঁটতে হাঁটতে দাঁড়ালেন এবং বলছিলেন—
মৃত্যুর জন্য তোমার কোমর শক্ত করে বাঁধো
… কারণ মৃত্যু তোমার নিকট নিশ্চিতভাবে আগমনকারী।
আর মৃত্যু নিয়ে আতঙ্কিত হয়ো না
… যখন তা তোমার উপত্যকায় (তোমার নিকট) অবতরণ করবে।
অতঃপর যখন তিনি ছোট দরজার (বাব আস-সাগীর) নিকট পৌঁছালেন, তখন তিনি তাঁদের দুজনকে বললেন, "তোমরা তোমাদের স্থানে অবস্থান করো।" এরপর তিনি প্রবেশ করলেন, তখন আব্দুর রহমান ইবনে মুলজাম তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে আঘাত করল। এরপর আলীর কন্যা উম্মে কুলসুম বের হয়ে এসে বলতে লাগলেন, "ফজরের সালাতের সাথে আমার কিসের শত্রুতা! ফজরের সালাতেই আমার স্বামী আমীরুল মুমিনীন নিহত হয়েছিলেন এবং ফজরের সালাতেই আমার পিতাকে হত্যা করা হলো।"
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
15- حدثنا الحسين نا عبد الله قال حدثني أبي رحمه الله عن هشام بن محمد قال حدثني رجل من النخع عن صالح بن ميثم عن عمران بن ميثم عن أبيه أن عليا خرج فكبر في الصلاة ثم قرأ من سورة الأنبياء إحدى عشرة آية ثم ضربه ابن ملجم من الصف على قرنه فشد ⦗ص: 31⦘ عليه الناس وأخذوه وانتزعوا السيف من يده وهم قيام في الصلاة وركع علي ثم سجد فنظرت إليه ينقل رأسه من الدم إذا سجد من مكان إلى مكان ثم قام في الثانية فقام فخفف القراءة ثم جلس فتشهد ثم سلم وأسند ظهره إلى حائط المسجد.
১৫- আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) হিশাম বিন মুহাম্মদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, নাখআ গোত্রের এক ব্যক্তি সালিহ বিন মাইসাম থেকে, তিনি ইমরান বিন মাইসাম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আলী (রাযি.) বের হলেন এবং সালাতে তাকবীর প্রদান করলেন, এরপর সূরা আল-আম্বিয়া থেকে এগারোটি আয়াত পাঠ করলেন। অতঃপর ইবনে মুলজাম কাতার থেকে তাঁর মাথার এক পাশে আঘাত করল। তখন ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ লোকেরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে পাকড়াও করল এবং তারা সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায়ই তাঁর হাত থেকে তলোয়ারটি কেড়ে নিল। আলী (রাযি.) রুকু করলেন, এরপর সিজদা করলেন। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম, সিজদা করার সময় রক্তের কারণে তিনি তাঁর মাথা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরাচ্ছিলেন। এরপর তিনি দ্বিতীয় রাকআতে দাঁড়ালেন এবং কিরাত সংক্ষিপ্ত করলেন। এরপর তিনি বসলেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করলেন, তারপর সালাম ফেরালেন এবং মসজিদের দেয়ালের সাথে নিজের পিঠ ঠেকিয়ে হেলান দিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣١)
16- حدثا الحسين نا عبد الله قال حدثني أبي عن هشام بن محمد قال حدثني عمر بن عبد الرحمن بن نفيع بن جعدة بن هبيرة أنه لما ضرب ابن ملجم عليا عليه السلام وهو في الصلاة تأخر فدفع في ظهر جعدة بن هبيرة فصلى بالناس ثم قال علي علي بالرجل فأتي فقال أي عدو الله ألم أحسن إليك وأصنع وأصنع قال بلى قال ما حملك على ما صنعت قال شحذت سيفي أربعين يوما ثم دعوت الله أن أقتل به شر خلقه فقال علي ما أراك إلا مقتولا به وما أرك إلا شر خلقه فقتل ابن ملجم بذاك السيف.
১৬- হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা হিশাম ইবনে মুহাম্মাদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে নুফাই ইবনে জা'দাহ ইবনে হুবাইরা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন ইবনে মুলজাম আলী (আলাইহিস সালাম)-কে আঘাত করল এমতাবস্থায় যে তিনি সালাতরত ছিলেন, তখন তিনি পিছিয়ে গেলেন এবং জা'দাহ ইবনে হুবাইরাকে পিঠের দিক থেকে (ইমামতির জন্য সামনে) ঠেলে দিলেন। অতঃপর তিনি (জা'দাহ) লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এরপর আলী বললেন, লোকটিকে আমার নিকট নিয়ে এসো। তাকে নিয়ে আসা হলে তিনি বললেন, হে আল্লাহর শত্রু! আমি কি তোমার প্রতি সদাচরণ করিনি এবং তোমার জন্য অনেক কিছু করিনি? সে বলল, অবশ্যই করেছেন। তিনি বললেন, তবে কিসে তোমাকে এই কাজে উদ্বুদ্ধ করল যা তুমি করেছ? সে বলল, আমি চল্লিশ দিন ধরে আমার এই তরবারি শাণিত করেছি, অতঃপর আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেছি যেন আমি এর দ্বারা তাঁর সৃষ্টির নিকৃষ্টতম ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারি। তখন আলী বললেন, আমি দেখছি যে তুমিই এর দ্বারা নিহত হবে এবং আমি তোমাকেই তাঁর সৃষ্টির নিকৃষ্টতম মনে করছি। অতঃপর ইবনে মুলজামকে সেই তরবারি দিয়েই হত্যা করা হলো।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣١)
17- نا الحسين قال نا عبد الله قال نا سعيد بن يحيى الأموي ⦗ص: 32⦘ قال نا عبد الله بن سعيد عن زياد بن عبد الله عن المجالد بن سعيد قال جاء ابن بجرة الأشجعي وابن ملجم معهما سيفان فجلسا بالباب فلما خرج علي رضي الله عنه نادى بالصلاة وابتدره الرجلان فضرباه فأخطأ أحدهما فأصاب الحائط وأصاب الآخر وخرجا هاربين فخرج ابن بجرة من ناحية كندة وخرج ابن ملجم من ناحية السوق فأدرك فأخذ فأتي به علي رضي الله عنه فقال احبسوه.
১৭- হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ ইবন ইয়াহইয়া আল-উমায়্যি ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ যিয়াদ ইবন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি মুজালিদ ইবন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবন বাজরা আল-আশজায়ি এবং ইবন মুলজিম এল, তাদের সাথে দুটি তলোয়ার ছিল। তারা দরজায় বসে থাকল। যখন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বের হয়ে সালাতের জন্য আহবান করলেন, তখন লোক দুটি দ্রুত তার দিকে এগিয়ে এসে তাকে আঘাত করল। তাদের একজনের আঘাত লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে দেয়ালে লাগল এবং অপরজনের আঘাত (তার দেহে) লাগল। তারা পালিয়ে বের হয়ে গেল; ইবন বাজরা কিনদাহর দিক দিয়ে এবং ইবন মুলজিম বাজারের দিক দিয়ে বের হলো। এরপর তাকে (ইবন মুলজিমকে) পাকড়াও করা হলো এবং আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট নিয়ে আসা হলো। তখন তিনি বললেন: তাকে বন্দী করো।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
18- حدثا الحسين بن صفوان البرذعي قال نا عبد الله بن أبي الدنيا قال حدثنا سعيد بن يحيى الأموي قال حدثنا عبد الله بن سعيد عن زياد بن عبد الله عن عوانة بن الحكم أن ثلاثة تبايعوا على قتل علي ومعاوية وعمرو بن العاص ⦗ص: 33⦘ فخرج إلى عمرو بن العاص وآخر إلى معاوية يقال له البرك بن عبد الله رجل من بني تميم من بني سعد ثم من بني صريم وآخر إلى علي وهو ابن ملجم فجاء ابن ملجم إلى الكوفة فخطب قطام وكانت من بني التيم وكانت ترى رأي المحكمة فقالت لا والله لا أتزوجك إلا على ثلاثة آلاف وقتل علي فأعطاها ذلك وبنى بها.
১৮- হুসাইন ইবনে সাফওয়ান আল-বারযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আবিদ দুনিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-উমাবী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যিয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আউয়ানা ইবনুল হাকাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনজন ব্যক্তি আলী, মুয়াবিয়া এবং আমর ইবনুল আসকে হত্যা করার জন্য পরস্পর শপথ গ্রহণ করল। ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ অতঃপর একজন আমর ইবনুল আসের উদ্দেশ্যে এবং অপরজন মুয়াবিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করল; যাকে বারাক ইবনে আবদুল্লাহ বলা হতো, সে ছিল বনু তামীম গোত্রের বনু সাদ এবং বনু সারিম শাখার এক ব্যক্তি। আর অন্যজন আলীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করল, সে ছিল ইবনে মুলজিম। অতঃপর ইবনে মুলজিম কুফায় এসে কাতাম নামক এক নারীর কাছে বিবাহের প্রস্তাব দিল। সে বনু তায়িম গোত্রের ছিল এবং সে ‘মুহাক্কিমা’ (খারেজি) মতাদর্শ পোষণ করত। সে বলল, "না, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে বিবাহ করব না যতক্ষণ না তিন হাজার (দিরহাম) এবং আলীর হত্যার শর্ত পূরণ করা হবে।" সে তাকে তা প্রদান করল এবং তাকে নিয়ে বাসর করল।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
19- حدثنا الحسين بن صفوان البرذعي قال نا عبد الله بن أبي الدنيا قال حدثنا سعيد بن يحيى قال نا عبد الله بن سعيد الأموي عن زياد بن عبد الله البكائي عن عوانة بن الحكم الكلبي قال فحدثني مزاحم بن زفر التيمي عن وجيه أن ابن ملجم كان يجلس في قومه من صلاة الغداة إلى ارتفاع النهار والقوم يهضبون وهو لا يتكلم بكلمة وبلغني أنه كان يوما جالسا في السوق متقلدا السيف فمرت به جنازة فيها المسلمون والقسيسون فقال ويلكم ما هذا ⦗ص: 34⦘ قالوا أبجر بن جابر أبو حجار العجلي وابنه سيد بكر بن وائل فاتبعه المسلمون لمكان ابنه وتبعه النصارى لنصرانيته فقال ابن ملجم أما والله لولا أني أستبقي نفسي لأمر هو أعظم من هذا أجرا عند الله لاستعرضته بالسيف.
১৯- আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান আল-বারযাঈ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন আবিদ দুনিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন সাঈদ আল-উমাবী যিয়াদ বিন আবদুল্লাহ আল-বাক্কায়ী থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আওয়ানাহ বিন আল-হাকাম আল-কালবী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মুযাহিম বিন যুফার আত-তাইমী ওয়াজীহ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে মুলজাম ফজরের সালাত থেকে শুরু করে বেলা চড়া পর্যন্ত তার সম্প্রদায়ের লোকদের মাঝে বসে থাকত। লোকজন কথাবার্তায় মগ্ন থাকত, অথচ সে একটি শব্দও উচ্চারণ করত না। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, একদিন সে তরবারি ঝোলানো অবস্থায় বাজারে বসে ছিল। তখন একটি জানাযা সেখান দিয়ে অতিক্রান্ত হলো যেখানে মুসলিম এবং খ্রিষ্টান যাজক উভয়ই ছিল। সে বলল, "তোমাদের দুর্ভোগ হোক, এটা কী?" ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ তারা বলল, "তিনি হলেন আবজার বিন জাবির আবু হাজার আল-ইজলী, আর তার পুত্র বকর বিন ওয়ায়েল গোত্রের নেতা। তার পুত্রের মর্যাদার কারণে মুসলিমরা জানাযার অনুসরণ করছে, আর খ্রিষ্টানরা জানাযার অনুসরণ করছে তার খ্রিষ্টধর্মের কারণে।" তখন ইবনে মুলজাম বলল, "আল্লাহর কসম! আমি যদি নিজেকে এমন এক বিষয়ের জন্য বাঁচিয়ে না রাখতাম যা আল্লাহর নিকট এর চেয়েও মহান প্রতিদানের কাজ, তবে আমি অবশ্যই একে তরবারি দ্বারা আঘাত করতাম।"
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
20- حدثا الحسين قال حدثنا عبد الله قال حدثنا سعيد بن يحيى قال حدثنا عبد الله بن سعيد قال حدثنا زياد بن عبد الله عن عوانة أن قطام قالت لابن ملجم قد فرغت فافرغ فخرج ابن ملجم حتى أتى المسجد وضربت قطام قبتها في المسجد وألبسته السلاح وخرج علي يقول الصلاة الصلاة أيها الناس فضربه ابن ملجم على جبهته بالسيف فأصاب السيف الحائط فثلم فيه ثم ألقى السيف وقال للناس اتقوا السيف فإنه مسموم وزعموا أنه كان سمه شهرا وأخذ ابن ملجم ودخل علي منزله.
২০- হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ বিন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যিয়াদ বিন আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওয়ানা থেকে যে, কাতাম ইবনে মুলজামকে বলেছিল, "আমি অবসর হয়েছি, সুতরাং তুমিও (তোমার কাজ) সমাপ্ত করো।" তখন ইবনে মুলজাম বের হয়ে মসজিদে এল। কাতাম মসজিদের ভেতর নিজের তাঁবু খাটাল এবং তাকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করল। আলী (রা.) এই বলে বের হলেন, "হে লোকসকল! সালাত, সালাত।" তখন ইবনে মুলজাম তাঁর কপালে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করল। তলোয়ারটি দেয়ালে গিয়ে লাগল এবং তাতে গর্ত সৃষ্টি করল। অতঃপর সে তলোয়ারটি ফেলে দিল এবং লোকদের বলল, "তলোয়ারটি থেকে সাবধান থাকো, কারণ এটি বিষাক্ত।" তারা ধারণা করেন যে, তলোয়ারটি এক মাস ধরে বিষাক্ত করা হয়েছিল। এরপর ইবনে মুলজাম ধরা পড়ল এবং আলী (রা.) তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
21- حدثنا الحسين نا عبد الله قال حدثني أبي رحمه الله عن هشام بن محمد قال حدثني رجل من النخع عن صالح بن ميثم قال بينا علي بن أبي طالب قبل تلك الليلة بليلة يوقظ الناس للفجر إذ أتاه ابن ملجم بصحيفة ملفوفة يدعوه فيها أو ينابذه ففتحها علي فلم ينظر فيها فأمسكها حتى صلى ثم فتحها فإذا فيها أدعوك إلى التوبة من الشرك وأنابذك وإن الله لا يهدي كيد الخائنين فقال علي من صاحب هذه الصحيفة فلم يكلمه أحد فبصق عليها فمحاه ثم رمى به وقال عليه لعنة الله.
২১- হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বলেছেন, তিনি বলেন যে আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) হিশাম বিন মুহাম্মাদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি নাখ’ গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে এবং তিনি সালিহ বিন মাইসাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সেই রাতের এক রাত পূর্বে আলী বিন আবি তালিব যখন লোকদের ফজরের জন্য জাগিয়ে দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় ইবনে মুলজাম একটি জড়ানো লিপি নিয়ে তাঁর নিকট আসল, যার মাধ্যমে সে তাঁকে আহ্বান করছিল অথবা তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিচ্ছিল। আলী সেটি খুললেন কিন্তু তাতে দৃষ্টিপাত করলেন না। তিনি সালাত আদায় করা পর্যন্ত সেটি রেখে দিলেন। অতঃপর তিনি সেটি খুললেন এবং দেখলেন তাতে লেখা আছে: "আমি আপনাকে শিরক থেকে তওবা করার আহ্বান জানাচ্ছি এবং আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছি; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ খিয়ানতকারীদের ষড়যন্ত্রকে সফল করেন না।" তখন আলী বললেন, "এই লিপির লেখক কে?" কিন্তু কেউ তাঁর সাথে কথা বলল না। তখন তিনি সেটির উপর থুথু নিক্ষেপ করলেন এবং তা মুছে দিলেন, অতঃপর সেটি ফেলে দিলেন এবং বললেন, "তার ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক।"
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
22- حدثنا الحسين بن صفوان البرذعي نا عبد الله نا أبي رحمه الله عن هشام بن محمد أن أبا عبد الله الجعفي حدثهم عن جابر عن أبي جعفر محمد بن علي بن حسين قال ⦗ص: 36⦘ لما أراد الله تبارك وتعالى إكرام علي بهلاك ابن ملجم ظل ابن ملجم في مسجد لبني أسد حتى إذا جنه الليل صار إلى دار من دور كندة وقبل ذلك بجمعة ما قام علي على المنبر فقال إنه قضي فيما قضي على لسان النبي عليه السلام الأمي لا يبغضك مؤمن ولا يحبك كافر وقد خاب من حمل إثما وافترى أما إني رأيت في ليلتي هذه في منامي أن شيطانا ضريني ضربة فخضب لحيتي من رأسي بدم عبيط فما ساءني ذلك واعلم يا علي أنك مقتول إن شاء الله فماذا ينتظر أشقاها أن يخضب هذه من هذا ثم أمر يده اليمنى على لحيته ثم على رأسه ثم نزل عن المنبر فلما كانت الليلة التي أصيب فيها خرج يريد صلاة العشاء تصايحت الوز حوله فقال يشيهن صوائحا ونساء نوائحا قال وتحينه الفاسق حتى إذا كانت الساعة التي يخرج فيها أقبل حتى قام في جنح الباب وخرج أمير المؤمنين فضربه ضربة وكان محمد بن الحنفية قريبا منه فأخذه ووثب الناس إلى ابن ملجم ليقتلوه فقال لهم مهلا لا يهاجن ما بقيت فإن عشت اقتصصت من الرجل أو وهبت لله وإن أمت فالنفس بالنفس.
২২- হুসাইন ইবনু সাফওয়ান আল-বারযাঈ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) হিশাম ইবনু মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু আবদুল্লাহ আল-জু'ফী তাঁদের নিকট জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনু আলী ইবনু হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ যখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইবনু মুলজামের ধ্বংসের মাধ্যমে আলীকে সম্মানিত করার ইচ্ছা করলেন, তখন ইবনু মুলজাম বনু আসাদ গোত্রের এক মসজিদে অবস্থান করছিল। যখন রাত তাকে আচ্ছন্ন করল, তখন সে কিন্দা গোত্রের ঘরসমূহের একটির দিকে চলে গেল। এর এক জুমুআ আগে আলী মিম্বারের ওপর দাঁড়িয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: উম্মী নবী আলাইহিস সালামের জবানে যা ফয়সালা করা হয়েছে তার মধ্যে এটিও যে, কোনো মুমিন তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না এবং কোনো কাফির তোমাকে ভালোবাসবে না। আর যে ব্যক্তি পাপ বহন করেছে এবং মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে সে নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হয়েছে। শোনো, আমি আজ রাতে স্বপ্নে দেখেছি যে, এক শয়তান আমাকে একটি আঘাত করেছে, ফলে আমার মাথার তাজা রক্তে আমার দাড়ি রঞ্জিত হয়ে গেছে, কিন্তু এটি আমাকে ব্যথিত করেনি। আর জেনে রেখো হে আলী, তুমি ইনশাআল্লাহ নিহত হবে। তবে সেই পরম হতভাগা ব্যক্তিটি কিসের প্রতীক্ষা করছে যে সে এটাকে (দাড়িকে) এটা (রক্ত) দ্বারা রঞ্জিত করবে? অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাতটি তাঁর দাড়ির ওপর এবং তারপর তাঁর মাথার ওপর বুলালেন এবং মিম্বার থেকে নেমে আসলেন। অতঃপর যে রাতে তিনি আক্রান্ত হলেন, তিনি যখন এশার সালাতের উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন তাঁর চারপাশে রাজহাঁসগুলো চিৎকার করতে লাগল। তখন তিনি বললেন: এগুলো চিৎকারকারী এবং বিলাপকারী নারীদের মতো। বর্ণনাকারী বলেন: সেই ফাসিক ব্যক্তিটি ওত পেতে ছিল, অবশেষে যখন তাঁর বের হওয়ার সময় হলো, সে এগিয়ে এসে দরজার আড়ালে দাঁড়াল। আমীরুল মুমিনীন যখন বের হলেন, তখন সে তাঁকে একটি আঘাত করল। মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ তাঁর নিকটেই ছিলেন, তিনি তাকে ধরে ফেললেন এবং মানুষ ইবনু মুলজামের দিকে তাকে হত্যা করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ল। তখন তিনি তাদের বললেন: থামো, যতক্ষণ আমি বেঁচে আছি তাকে উত্তেজিত কোরো না। যদি আমি বেঁচে থাকি তবে আমি এই লোকটির থেকে কিসাস নেব অথবা আল্লাহর জন্য ক্ষমা করে দেব। আর যদি আমি মারা যাই, তবে প্রাণের বদলে প্রাণ।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
23- حدثنا الحسين نا عبد الله قال حدثني عبد الله بن ⦗ص: 37⦘ يونس بن بكير قال حدثني أبي عن عبد الغفار بن القاسم الأنصاري قال سمعت غير واحد يذكر أن ابن ملجم بات عند الأشعث بن قيس فلما أسحر جعل يقول له أصبحت وكان حجر مؤذنهم فخرج حجر وأذن فلم يكن أسرع من أن سمع الواعية فجعل حجر ينادي فوق المنارة قتله الأعور وكان الرجل أعور وكان علي يسميه عرف النار.
২৩- আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বলেছেন, আবদুল্লাহ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘ ইউনুস বিন বুকাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল গাফফার বিন আল-কাসিম আল-আনসারী থেকে, তিনি বলেন, আমি একাধিক ব্যক্তিকে এটি উল্লেখ করতে শুনেছি যে, ইবনে মুলজাম আল-আশআদ বিন কায়েসের নিকট রাত কাটিয়েছিল। যখন ভোর হলো (সাহুর সময় হলো), তখন সে তাকে বলতে লাগল, "আপনার সকাল হয়েছে"। হুজর ছিলেন তাদের মুয়াজ্জিন। অতঃপর হুজর বের হলেন এবং আযান দিলেন। আযানের সাথে সাথেই কান্নার রোল শোনা গেল। তখন হুজর মিনারার উপর থেকে উচ্চৈঃস্বরে বলতে লাগলেন, "তাকে একচক্ষুবিশিষ্ট লোকটি হত্যা করেছে।" আর সেই লোকটি ছিল একচক্ষুবিশিষ্ট। আলী তাকে 'জাহান্নামের শিখা' (আরাফুন নার) বলে ডাকতেন।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
24- حدثنا الحسين نا عبد الله قال حدثني أبي عن هشام بن محمد نا عوانة بن الحكم أن حجر بن عدي لما انصرف الناس من صلاة الغداة من مسجد الأشعث وكان حجر بن عدي إمامهم فلما سلم قال الناس ضرب أمير المؤمنين الليلة فنظر حجر إلى الأشعث فقال ألم أر ابن ملجم معك وأنت تناجيه تقول له فضحك الصبح والله لو أعلم ذلك حقا لضربت أكثرك شعرا فقال إنك شيخ قد خرفت قال وبعث الأشعث إليه قيس بن الأشعث صبيحة ضرب ⦗ص: 38⦘ علي قال أي بني أنظرت كيف أصبح أمير المؤمنين فذهب فنظر ثم رجع إليه فقال يا أبه رأيت عينه داخليتين في رأسه فقال الأشعث عيني دميغ ورب الكعبة.
২৪- হুসাইন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বলেছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমার কাছে হিশাম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আওয়ানাহ ইবনুল হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হুজর ইবনে আদি—যখন লোকেরা আশআসের মসজিদ থেকে ফজরের সালাত শেষে ফিরে আসছিল এবং হুজর ইবনে আদি তাদের ইমাম ছিলেন—সালাম ফেরানোর পর লোকেরা বলল, আজ রাতে আমিরুল মুমিনীন আক্রান্ত হয়েছেন। তখন হুজর আশআসের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি কি ইবনে মুলজামকে তোমার সাথে দেখিনি যখন তুমি তার সাথে নিভৃতে কথা বলছিলে এবং তাকে বলছিলে যে সকাল হয়ে গেছে? আল্লাহর কসম, যদি আমি এটি নিশ্চিতভাবে জানতে পারতাম তবে আমি তোমার শরীরের সবচেয়ে পশমযুক্ত স্থানে আঘাত করতাম। সে বলল, তুমি এক বৃদ্ধ লোক যে ভীমরতিতে ধরেছে। বর্ণনাকারী বলেন, আলী আক্রান্ত হওয়ার সকালে আশআস তার কাছে কায়স ইবনে আশআসকে পাঠালেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ এবং বললেন, হে আমার পুত্র, দেখে আসো আমিরুল মুমিনীন আজ সকালে কেমন আছেন। সে গেল এবং দেখল, অতঃপর তার কাছে ফিরে এসে বলল, হে পিতা, আমি তাঁর চোখ দুটিকে তাঁর মাথার ভেতরে ঢুকে যেতে দেখেছি। আশআস বলল, কাবার রবের কসম, এ তো মগজ বিদীর্ণ হওয়া ব্যক্তির চোখ।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
25- حدثا الحسين نا عبد الله قال حدثني عبد الله بن يونس بن بكير قال حدثني أبي عن محمد بن ربيعة قال حدثني نافع بن عقبة المنبهي قال خرجت من أهلي في السحر فانتهيت إلى باب المسجد باب كندة فإذا رجل خارج من المسجد مخترط سيفه فطرحت طيلساني في وجهه ثم أخذته فانتزعت السيف من يده ثم قدته كما يقاد الجمل فأدخلته المسجد فسمعت الضوضاء والناس يقولون قتل أمير المؤمنين فجئت به فقلت هو ذا أخذته خارجا من المسجد مخترطا سيفه فأدخل على علي فقال احتبسوه فإن أمت من جرحتي هذه فهو في أيديكم نفس بنفس فاقتلوه وإن أعش وأبرأ أر فيه رأيي.
২৫- হুসাইন আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ইউনুস ইবনে বুকাইর আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে রাবিআ থেকে, তিনি নাফে ইবনে উকবা আল-মুনাবিহি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি শেষ রাতে আমার পরিবার থেকে বের হলাম এবং মসজিদের কিনদাহ নামক দরজায় পৌঁছলাম। তখন হঠাৎ দেখলাম এক ব্যক্তি উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে মসজিদ থেকে বের হচ্ছে। আমি আমার চাদরটি তার মুখের ওপর ছুঁড়ে মারলাম, তারপর তাকে পাকড়াও করলাম এবং তার হাত থেকে তলোয়ারটি ছিনিয়ে নিলাম। এরপর আমি তাকে উটের ন্যায় টেনে নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করালাম। তখন আমি মানুষের সোরগোল শুনতে পেলাম, তারা বলছিল, "আমীরুল মুমিনীন নিহত হয়েছেন!" আমি তাকে নিয়ে আসলাম এবং বললাম, "এই সেই ব্যক্তি, আমি তাকে উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় পাকড়াও করেছি।" এরপর তাকে আলীর নিকট উপস্থিত করা হলো। তিনি বললেন, "তাকে আটকে রাখো। যদি আমি আমার এই জখমের কারণে মারা যাই, তবে সে তোমাদের হাতে ন্যস্ত, প্রাণের বদলে প্রাণ হিসেবে তাকে হত্যা করো। আর যদি আমি বেঁচে যাই এবং সুস্থ হয়ে উঠি, তবে তার ব্যাপারে আমি আমার সিদ্ধান্ত নেব।"
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
26- حدثا الحسين نا عبد الله قال حدثني أبي رحمه الله عن ⦗ص: 39⦘ هشام بن محمد قال حدثني رجل من النخع قال حدثني صالح بن ميثم عن أبيه قال نظرت إلى الناس حين انصرفوا من الفجر ينهشون ابن ملجم بأنيابهم ويثبون عليه وثبا كأنهم السباع ويقولون يا عدو الله ما صنعت أهلكت الأمة وقتلت خير الناس وإنه لساكت ما ينطق.
২৬- হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) ⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ হিশাম ইবনে মুহাম্মদ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, নাখ’ গোত্রের এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সালিহ ইবনে মাইসাম তাঁর পিতা থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি লোকদের দিকে তাকালাম যখন তারা ফজরের সালাত শেষে ফিরে আসছিল, তারা ইবনে মুলজামকে তাদের দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ফেলছিল এবং তার ওপর হিংস্র পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছিল। তারা বলছিল, "হে আল্লাহর শত্রু! তুমি কী করেছ? তুমি উম্মতকে ধ্বংস করেছ এবং শ্রেষ্ঠ মানুষকে হত্যা করেছ।" আর সে ছিল নীরব, কোনো কথা বলছিল না।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
27- حدثنا الحسين نا عبد الله قال حدثنا سعيد بن يحيى نا عبد الله بن سعيد عن زياد بن عبد الله قال قال محمد بن إسحاق أقبل ابن ملجم المرادي من الشام حتى ضرب عليا فقالت أم كلثوم بنت علي لابن ملجم يا عدو الله قتلت أمير المؤمنين قال لم أقتل إلا أباك قالت أما والله إني لأرجو أن لا يكون به بأس قال أفعلي تبكين إذا ثم قال لها والله لقد سممته شهرا فإن أخلفني فأبعده الله وأسحقه.
২৭- হুসাইন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বলেছেন: ইবনে মুলজাম আল-মুরাদি শাম থেকে আগমন করল এবং আলীকে আঘাত করল। তখন আলীর কন্যা উম্মে কুলসুম ইবনে মুলজামকে বললেন, হে আল্লাহর শত্রু! তুমি কি আমিরুল মুমিনীনকে হত্যা করলে? সে বলল, আমি কেবল তোমার পিতাকেই হত্যা করেছি। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি আশা করি এতে তাঁর কোনো ক্ষতি হবে না। সে বলল, তবে কি তুমি কাঁদছ? এরপর সে তাকে বলল, আল্লাহর কসম, আমি এক মাস ধরে এতে বিষ প্রয়োগ করেছি। সুতরাং যদি এটি আমার উদ্দেশ্য সাধনে ব্যর্থ হয়, তবে আল্লাহ তাঁকে দূর করে দিন এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিন।
(খণ্ড: ১)
মাকতালু আলী লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
28- حدثنا الحسين نا عبد الله قال وأخبرني العباس بن هشام بن ⦗ص: 40⦘ محمد عن أبيه عن أبي المقوم يحيى بن ثعلبة الأنصاري عن عبد الملك بن عمير قال لما أدخل ابن ملجم على علي رحمه الله صبيحة ضربه وعنده ابنته أم كلثوم تبكي عند رأسه فلما نظرت إلى ابن ملجم سكتت ثم قالت يا عدوا لله والله ما على أمير المؤمنين بأس فقال أما والله لقد شحذت السيف وأنكرت الحيف ونفيت الوجل وحثثت العجل وضربته ضربة لو كانت بربيعة ومضر لأتت عليهم فعلي إذا تبكين.
২৮- হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বলেছেন এবং আল-আব্বাস ইবনে হিশাম ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ মুহাম্মদ তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি আবু আল-মুকাউউইম ইয়াহইয়া ইবনে সালাবা আল-আনসারী থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমায়ের থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলীকে (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আঘাত করার দিন সকালে যখন ইবনে মুলজামকে তাঁর সামনে আনা হলো, তখন তাঁর কন্যা উম্মু কুলসুম তাঁর শিয়রে বসে কাঁদছিলেন। যখন তিনি ইবনে মুলজামের দিকে তাকালেন, তখন তিনি চুপ হলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহর শত্রু! আল্লাহর শপথ, আমীরুল মুমিনীনের কোনো ক্ষতি হবে না।" তখন সে বলল: "শোনো, আল্লাহর শপথ! আমি তলোয়ারটি ধার দিয়েছিলাম, দ্বিধা ঝেড়ে ফেলেছিলাম, ভয় দূর করেছিলাম এবং ক্ষিপ্রতা অবলম্বন করেছিলাম। আমি তাঁকে এমন এক আঘাত করেছি যা যদি রাবিয়া ও মুদার গোত্রের ওপর পড়ত তবে তাদের সবাইকে ধ্বংস করে দিত। সুতরাং এখন তুমি কাঁদছ কেন?"