(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: -)
الإيمان - أبو عبيد - ط مسلم   (أبو عبيد القاسم بن سلام)

القسم: العقيدة


الكتاب: كتاب في الإيمان ومعالمه وسننه واستكماله ودرجاته

المؤلف: أبو عبيد القاسم بن سلام الهروي (ت 224 هـ)

المحقق: ربيع بن أحمد البيطار

الناشر: دار الإمام مسلم - المدينة المنورة

الطبعة: الأولى، 1432 هـ - 2011 م

عدد الصفحات: 113

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1445

আল-ঈমান - আবু উবাইদ - মুসলিম সংস্করণ   (আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম)

বিভাগ: আকিদা


গ্রন্থ: ঈমান, এর বৈশিষ্ট্যসমূহ, সুন্নতসমূহ, এর পূর্ণতা এবং এর স্তরসমূহ বিষয়ক গ্রন্থ

লেখক: আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম আল-হারাউয়ি (মৃত্যু ২২৪ হিজরি)

মুহাক্কিক: রবি বিন আহমদ আল-বাইতার

প্রকাশক: দারুল ইমাম মুসলিম - মদিনা মুনাওয়ারা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৩

[গ্রন্থটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مُقَدِّمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].

أما بعد فان أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

لا يخفى على العاقل البصير أهمية دراسة مباحث الإيمان، والوقوف فيها على الحق مدعَّمًا بالدليل الصحيح من الكتاب والسنة، وأقوال سلف الأمة، وأئمة أهل العلم الراسخين.

فإن الإيمان بالله سبحانه أساس سعادة العبد، وعليه مدار نجاته وفلاحه في دنياه وآخرته، فحاجة الإنسان إليه فوق كل حاجة وضرورته إليه فوق كل ضرورة.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [আন নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল} [আল আহযাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হেদায়েত। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

একজন বুদ্ধিমান ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির কাছে ঈমানের বিষয়াদি নিয়ে অধ্যয়ন করার গুরুত্ব এবং কিতাব ও সুন্নাহর সঠিক দলিল ও উম্মাহর সালাফ এবং সুপ্রতিষ্ঠিত আলেমদের বক্তব্যের আলোকে সত্যের ওপর অটল থাকার বিষয়টি গোপন নয়।

কেননা মহান আল্লাহর ওপর ঈমানই হলো বান্দার সৌভাগ্যের মূল ভিত্তি। দুনিয়া ও আখেরাতে তার মুক্তি ও সফলতা এরই ওপর আবর্তিত হয়। তাই মানুষের কাছে এর প্রয়োজনীয়তা অন্য সকল প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে এবং এর অপরিহার্যতা অন্য যেকোনো অপরিহার্য বিষয়ের চেয়েও বেশি।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৬)
فحريٌّ بأمر هذا وصفه، وخير هذا نعته أن تصرف في العناية به الأعمار وتنفق فيه الأوقات.

وباب مباحث الإيمان زلت فيه أقدام وضلت فيه أفهام، وما ذاك إلا للبعد عن هدي السلف فيه، وانتهاج طرق مبتدعة في تقريره وتأصيله، لذا يتعين على طلاب العلم العناية به والاهتمام به وتأصيله وتقعيده على وفق الكتاب والسنة وفهم سلف الأمة.

فـ (مباحث الإيمان) هي أولى المسائل التي حصل فيها النزاع والتفرق في الأمة، وما تبع ذلك من سفكٍ للدماء، وظهورٍ للبدع والمحدثات.

وذلك أن أول تفرق حصل هو خروج الخوارج الذين ضلوا في هذا الباب، فخرجوا على الأمة وكفروا أهل القبلة بالكبائر.

بل قد جعل النبي صلى الله عليه وسلم خروج الخوارج أصل التفرق في الأمة، ولولاه لما حصل تفرق.

فقد روى الإمام أحمد(1) من حديث أبي بكرة رضي الله عنه أن نبي الله صلى الله عليه وسلم مر برجلٍ ساجدٍ وهو ينطلق إلى الصلاة، فقضى الصلاة ورجع عليه وهو ساجد، فقام النبي صلى الله عليه وسلم فقال: "من يقتل هذا"؟ فقام رجل فحسر عن يديه، فاخترط سيفه وهزَّه ثم قال: يا نبي الله، بأبي أنت وأمي، كيف أقتل رجلًا ساجدًا يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدًا عبده ورسوله؟ ثم قال: "من يقتل

--------------------------------------------

(1) (34/ 76) (20431)، قال الألباني: "هذا إسناد صحيح على شرط مسلم" الصحيحة (4295).

সুতরাং এমন বর্ণনাবিশিষ্ট বিষয় এবং এমন গুণসম্পন্ন কল্যাণ এই যোগ্য যে, এর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে জীবন অতিবাহিত করা হবে এবং এতে সময় ব্যয় করা হবে।

আর ঈমান বিষয়ক আলোচনার অধ্যায়টি এমন যেখানে বহু পদস্খলন ঘটেছে এবং অনেক বিচারবুদ্ধি বিভ্রান্ত হয়েছে; আর তা কেবল এই বিষয়ে সালাফদের হিদায়াত থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে এবং এর প্রতিপাদন ও মূল ভিত্তি নির্ধারণে বিদআতী পথ অনুসরণের কারণে। তাই ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য আবশ্যক হলো এর প্রতি যত্নবান হওয়া, গুরুত্ব প্রদান করা এবং কিতাব, সুন্নাহ ও উম্মতের সালাফদের বুঝ অনুযায়ী এর মূলনীতি ও ভিত্তি স্থাপন করা।

কেননা (ঈমান বিষয়ক আলোচনা) হলো প্রথম সেই মাসআলা যা নিয়ে উম্মতের মধ্যে বিবাদ ও বিভক্তি তৈরি হয়েছে এবং এর ফলশ্রুতিতে রক্তপাত ঘটেছে এবং বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয়াদির প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।

আর তা এজন্য যে, সর্বপ্রথম যে বিভক্তিটি ঘটেছিল তা ছিল খারেজীদের বিদ্রোহ, যারা এই অধ্যায়ে পথভ্রষ্ট হয়েছিল; ফলে তারা উম্মতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং কবিরা গুনাহের কারণে কিবলা অনুসারীদের কাফের বলেছিল।

বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খারেজীদের বিদ্রোহকেই উম্মতের মধ্যে বিভক্তির মূল হিসেবে গণ্য করেছেন; আর তা না হলে কোনো বিভক্তি সৃষ্টি হতো না।

নিশ্চয়ই ইমাম আহমাদ(১) আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের দিকে যাওয়ার সময় সিজদারত এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তিনি সালাত শেষ করে ফিরে এসে দেখলেন লোকটি তখনও সিজদাবস্থায় আছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে বললেন: “কে একে হত্যা করবে?” তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে তার দুই হাত থেকে কাপড় সরালেন, এরপর নিজের তলোয়ার বের করে তা নাড়ালেন এবং বললেন: হে আল্লাহর নবী, আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা উৎসর্গ হোক, আমি কীভাবে এমন একজন সিজদারত ব্যক্তিকে হত্যা করব যে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল? এরপর তিনি বললেন: “কে হত্যা

--------------------------------------------

(১) (৩৪/ ৭৬) (২০৪৩১), আলবানী বলেছেন: “এই সনদটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ” আস-সহীহাহ (৪২৯৫)।

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৭)
هذا"؟ فقام رجل فقال: أنا، فحسر عن ذراعيه واخترط سيفه وهزَّه حتى أُرعدت يده فقال: يا نبي الله، كيف أقتل رجلًا ساجدًا يشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدًا عبده ورسوله؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "والذي نفس محمد بيده، لو قتلتموه لكان أول فتنة وآخرها".

وفي لفظٍ له(1) من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه: فقال صلى الله عليه وسلم: "إن هذا وأصحابه يقرؤون القرآن لا يجاوز تراقيهم، يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية ثم لا يعودون فيه حتى يعود السهم في فُوقه(2)، فاقتلوهم، هم شر البرية".

فهذا الحديث يظهر عظم الجهل بالدين عمومًا، وبهذا الباب على وجه الخصوص.

ومما يبين أهمية هذا الباب أن تحقيق الإيمان والوصول إلى كماله موقوف على معرفته وضبطه.

وقد اعتنى أهل العلم قديمًا وحديثًا بهذا الباب فكثرت فيه تصانيفهم وتنوعت، فمنها ما هو في ضمن كتاب، ومنها ما هو مفرد.

ومن الكتب المفردة: كتاب الإيمان لأبي عبيد القاسم بن سلام رحمه الله، هذا الكتاب الذي بين أيدينا، وهو كتاب عظيم النفع جليل القدر، وهو عمدة في بابه، ولا يستغني عنه دارس.

--------------------------------------------

(1) (17/ 187) (11118)، وحسنه الألباني، الصحيحة (5/ 659).

(2) فوق السهم: موضع الوتر منه. انظر: غريب الحديث للمصنف (5/ 97).

এটি কে?" তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, "আমি," এরপর তিনি তাঁর দুই বাহু উন্মুক্ত করলেন এবং তলোয়ার কোষমুক্ত করে তা এমনভাবে দোলালেন যে তাঁর হাত কাঁপতে লাগল। অতঃপর তিনি বললেন, "হে আল্লাহর নবী! আমি কীভাবে এমন একজন ব্যক্তিকে হত্যা করব যে সিজদাবনত অবস্থায় সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল?" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, যদি তোমরা তাকে হত্যা করতে তবে এটিই হতো প্রথম ফিতনা এবং শেষ ফিতনা।"

এবং আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত তাঁর একটি পাঠে রয়েছে(১): রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি এবং তার সঙ্গীরা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায়। অতঃপর তারা তাতে আর ফিরে আসবে না যতক্ষণ না তীর তার ধনুকের ছিলার স্থানে ফিরে আসে(২)। সুতরাং তোমরা তাদের হত্যা করো, তারা সৃষ্টির মাঝে নিকৃষ্টতম।"

এই হাদীসটি সাধারণভাবে দ্বীন সম্পর্কে এবং বিশেষভাবে এই অধ্যায় সম্পর্কে অজ্ঞতার ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে।

এই অধ্যায়ের গুরুত্ব যা স্পষ্ট করে তা হলো, ঈমানকে সুদৃঢ় করা এবং এর পূর্ণতা লাভ করা একে জানা ও আয়ত্ত করার ওপর নির্ভরশীল।

প্রাচীন ও বর্তমান যুগের আলেমগণ এই অধ্যায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, ফলে এতে তাঁদের গ্রন্থ রচনার সংখ্যা অনেক এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ। তার কোনোটি কোনো বৃহৎ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত, আবার কোনোটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ।

আর স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সাল্লাম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবুল ঈমান। এই বইটিই এখন আমাদের সামনে রয়েছে, এটি অত্যন্ত উপকারী এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন একটি কিতাব। এটি এই বিষয়ের ওপর একটি প্রধান নির্ভরযোগ্য ভিত্তি এবং কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষেই এটি অনিয়মিত করা সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

(১) (১৭/ ১৮৭) (১১১১৮), আলবানী একে হাসান বলেছেন, আস-সহীহাহ (৫/ ৬৫৯)।

(২) তীরের ফুক: তীরের যে স্থানে ধনুকের ছিলা রাখা হয়। দেখুন: লেখকের 'গারীবুল হাদীস' (৫/ ৯৭)।

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৮)
ومما ينبئ عن أهميته ومكانته:

* مكانة مصنفه؛ فهو من أئمة أهل زمانه حفظًا وفهمًا، وتحقيقًا وتفننًا وسعة اطلاع.

* تقدمه الزمني؛ فوفاته كانت في الربع الأول من القرن الثالث.

* المنهج الفريد الذي سار عليه مؤلفه فيه، وسيأتي الكلام عليه.

* استفادة أهل العلم من الكتاب ونقلهم عنه، كابن نصر وشيخ الإسلام والحافظ ابن حجر رحم الله الجميع.
যা এর গুরুত্ব ও মর্যাদাকে ব্যক্ত করে:

* এর সংকলকের মর্যাদা; তিনি হিফজ ও অনুধাবন এবং তাহকীক, বহুমুখী পাণ্ডিত্য ও জ্ঞানের ব্যাপকতায় তাঁর সমসাময়িক ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

* এর কালগত অগ্রগামিতা; কেননা তাঁর ইন্তেকাল ছিল তৃতীয় শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশে।

* এতে এর লেখক যে অনন্য পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যার আলোচনা সামনে আসবে।

* আলেমগণের এই কিতাব থেকে উপকৃত হওয়া এবং এটি থেকে তাঁদের উদ্ধৃতি প্রদান করা; যেমন ইবনে নাসর, শায়খুল ইসলাম এবং হাফেজ ইবনে হাজার—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৯)
اسم الكتاب:

‌‌اسم الكتاب كما جاء على طُرَّة المخطوط: "كتاب في الإيمان ومعالمه وسننه واستكماله ودرجاته".

وقد اشتهر باسم: "الإيمان" فقط، وكذا سماه ابن الحطاب والحافظ - رحمهما الله -(1).

فلعل ذلك كان على سبيل الاختصار.

 

‌‌توثيق نسبته إلى مؤلفه:

لا شك في نسبة كتاب الإيمان لأبي عبيد رحمه الله، ويؤيد ذلك أمور:

* نسبة الكتاب له في المخطوط، سواء ما جاء في طُرَّته، أو في أثنائه، فقد ورد اسم أبي عبيد رحمه الله في أثنائه أكثر من أربعين مرة، في رؤوس الأسانيد وفي غيرها.

* نقل أهل العلم منه مع نسبته إليه، كابن نصر وشيخ الإسلام والحافظ ابن حجر.

* رواية الكتاب بالسند المتصل إلى المؤلف، إضافة إلى وقوعه في مسموعات بعض أهل العلم كالحافظ ابن حجر(2)، وابن الحطاب - رحمهما الله -(3).

--------------------------------------------

(1) انظر: مشيخة ابن الحطاب (220)، المعجم المفهرس (1/ 59)، الفتح (1/ 103).

(2) انظر: المعجم المفهرس (1/ 59).

(3) انظر: مشيخة ابن الحطاب (220).

কিতাবের নাম:

‌‌কিতাবের নাম যেমনটি পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে এসেছে: "ঈমান, এর নিদর্শনসমূহ, সুন্নাতসমূহ, এর পূর্ণতা এবং স্তরসমূহ বিষয়ক গ্রন্থ"।

এটি কেবল "ঈমান" নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, এবং ইবনুল হাত্তাব ও হাফেজ (ইবনে হাজার) - আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন - একে এই নামেই অভিহিত করেছেন(১)।

সম্ভবত এটি সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

 

‌‌লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের নির্ভরযোগ্যতা:

আবু উবাইদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি ঈমান গ্রন্থটির সম্বন্ধের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, এবং নিচের বিষয়গুলো তা সমর্থন করে:

* পাণ্ডুলিপিতে লেখকের প্রতি কিতাবটির সম্বন্ধ নিশ্চিত করা হয়েছে, চাই তা প্রচ্ছদে হোক বা কিতাবের মাঝখানে; কিতাবের ভেতরে সনদের শুরুতে এবং অন্যান্য স্থানে চল্লিশবারেরও বেশি আবু উবাইদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নাম এসেছে।

* আলেমগণ লেখকের প্রতি সম্বন্ধ করেই এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, যেমন ইবনে নাসর, শাইখুল ইসলাম এবং হাফেজ ইবনে হাজার।

* লেখকের পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদে কিতাবটির বর্ণনা বিদ্যমান থাকা, পাশাপাশি হাফেজ ইবনে হাজার(২) এবং ইবনুল হাত্তাব - আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন - এর মতো কিছু বিদগ্ধ আলেমের শ্রুত গ্রন্থের তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত থাকা(৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাশয়াখাতু ইবনিল হাত্তাব (২২০), আল-মু’জাম আল-মুফাহরাস (১/ ৫৯), আল-ফাতহ (১/ ১০৩)।

(২) দেখুন: আল-মু’জাম আল-মুফাহরাস (১/ ৫৯)।

(৩) দেখুন: মাশয়াখাতু ইবনিল হাত্তাব (২২০)।

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌موضوع الكتاب:

كتاب أبي عبيد رحمه الله يبحث في مسائل الإيمان كما يظهر من عنوانه، وقد اشتمل على ثمانية أبواب وملحق.

* الباب الأول: "باب نعت الإيمان في استكماله ودرجاته": عرَّف فيه الإيمان الشرعي وذكر خلاف المرجئة، ورجحان مذهب أهل السنة بالدليل، وتكلم من خلاله عن نزول الإيمان متفرقًا كالقرآن، وتدرج التشريع.

* الباب الثاني: "باب الاستثناء في الإيمان": ذكر فيه مذهب أهل السنة في الاستثناء في الإيمان، وعبارات السلف في ذلك، ورد على المرجئة قولهم بأن إيمانهم كإيمان الملائكة.

* الباب الثالث: "باب الزيادة في الإيمان والانتقاص منه": ذكر فيه مذهب أهل السنة وأدلتهم، وذكر تأويلات المخالفين ورد عليها.

* الباب الرابع: "باب تسمية الإيمان بالقول دون العمل": رد فيه على المرجئة في إخراجهم العمل من الإيمان.

* الباب الخامس: "باب من جعل الإيمان المعرفة بالقلب وإن لم يكن عمل": خصصه للرد على الجهمية.

* الباب السادس: "باب ذكر ما عابت به العلماء من جعل الإيمان قولًا بلا عمل، وما نهوا عنه من مجالستهم": ذكر فيه نقولًا عن السلف والأئمة في ذمهم لمذهب المرجئة، وتحذيرهم منه.
গ্রন্থের বিষয়বস্তু:

আবু উবাইদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর গ্রন্থটি ঈমানের মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা করে, যেমনটি এর শিরোনাম থেকে প্রতীয়মান হয়। এটি আটটি অধ্যায় ও একটি পরিশিষ্টের সমন্বয়ে গঠিত।

* প্রথম অধ্যায়: "ঈমানের পূর্ণতা ও এর স্তরসমূহের বর্ণনা": এতে তিনি শরয়ী ঈমানের সংজ্ঞা দিয়েছেন এবং মুরজিয়াদের বিরোধিতার কথা উল্লেখ করেছেন, দলিলের মাধ্যমে আহলুস সুন্নাহর মাযহাবের প্রাধান্য বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি কুরআনের মতো ঈমানও পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ হওয়া এবং শরয়ি বিধানের ক্রমধারা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

* দ্বিতীয় অধ্যায়: "ঈমানের ক্ষেত্রে ইস্তিসনা (ইনশাআল্লাহ বলা) সংক্রান্ত অধ্যায়": এতে তিনি ঈমানের ক্ষেত্রে ইস্তিসনা সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহর মাযহাব এবং এ বিষয়ে সালাফদের বক্তব্যসমূহ উল্লেখ করেছেন। সেইসাথে মুরজিয়াদের এই দাবির খণ্ডন করেছেন যে, তাদের ঈমান ফেরেশতাদের ঈমানের মতো।

* তৃতীয় অধ্যায়: "ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়": এতে তিনি আহলুস সুন্নাহর মাযহাব ও তাদের দলিলসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং বিরোধীদের অপব্যাখ্যাগুলো উল্লেখ করে তার উত্তর দিয়েছেন।

* চতুর্থ অধ্যায়: "আমল ব্যতীত শুধু কথাকে ঈমান বলা সংক্রান্ত অধ্যায়": এতে তিনি ঈমান থেকে আমলকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে মুরজিয়াদের খণ্ডন করেছেন।

* পঞ্চম অধ্যায়: "যারা আমল না থাকলেও কেবল অন্তরের পরিচিতি বা জ্ঞানকে ঈমান সাব্যস্ত করে তাদের অধ্যায়": এটি তিনি জাহমিয়াদের খণ্ডন করার জন্য নির্ধারণ করেছেন।

* ষষ্ঠ অধ্যায়: "আমলহীনভাবে ঈমানকে কেবল মৌখিক কথা হিসেবে গণ্য করাকে উলামায়ে কেরাম যে দোষারোপ করেছেন এবং তাদের মজলিসে বসা থেকে যে নিষেধ করেছেন তার বর্ণনা": এতে তিনি মুরজিয়া মাযহাবের নিন্দায় এবং এ থেকে সতর্ক করার বিষয়ে সালাফ ও ইমামদের থেকে উদ্ধৃতিসমূহ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১১)
* الباب السابع: "باب الخروج من الإيمان بالمعاصي": ذكر فيه بعض النصوص التي فيها إطلاق الكفر أو الشرك أو نفي الإيمان أو البراءة من النبي صلى الله عليه وسلم على بعض الذنوب، وذكر تأويلات المخالفين لها وردَّها، وبيَّن الصواب فيها بالدليل، ورَدَّ الشبه.

* الباب الثامن: "باب ذكر الذنوب التي تلحق بالكبائر بلا خروج من الإيمان": ذكر فيه بعض النصوص التي فيها تشبيه ذنب بآخر أعظم منه، وبين المراد بها، ورد على المخالف، وهو آخر أبواب الكتاب.

وأما الملحق: فذكر فيه خمس فرق مخالفة لأهل السنة في باب الإيمان، وهم: الجهمية، والمعتزلة، والإباضية، والصفرية، والفضلية، وذكر دليل بعضهم، وأحال في الرد على الأربعة الأول على ما تقدم في الكتاب، وخصص الجهمية بالرد زيادةً في التشنيع عليهم.
* সপ্তম অধ্যায়: "পাপের কারণে ঈমান থেকে বের হওয়া বিষয়ক অধ্যায়": এতে তিনি এমন কিছু দলিল উল্লেখ করেছেন যাতে নির্দিষ্ট কিছু পাপের ক্ষেত্রে কুফর বা শিরক আরোপ, ঈমান অস্বীকার বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে দায়মুক্তির ঘোষণা এসেছে। তিনি এ বিষয়ে বিরোধীদের অপব্যাখ্যাগুলো উল্লেখ করে তা খণ্ডন করেছেন এবং দলিলের মাধ্যমে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন ও সংশয়গুলো নিরসন করেছেন।

* অষ্টম অধ্যায়: "ঈমান থেকে বিচ্যুত না হয়ে কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য হওয়া পাপসমূহের বর্ণনা বিষয়ক অধ্যায়": এতে তিনি এমন কিছু দলিল উল্লেখ করেছেন যেখানে কোনো পাপকে তার চেয়েও বড় অন্য কোনো পাপের সাথে তুলনা করা হয়েছে, এগুলোর উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন এবং বিরোধীদের জবাব দিয়েছেন। এটিই কিতাবের সর্বশেষ অধ্যায়।

আর পরিশিষ্টের ক্ষেত্রে: এতে তিনি ঈমানের বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর বিরোধী পাঁচটি ফেরকার কথা উল্লেখ করেছেন, তারা হলো: জাহমিয়্যাহ, মুতাজিলা, ইবাদিয়্যাহ, সুফরিয়্যাহ এবং ফাদলিয়্যাহ। তিনি তাদের কারো কারো দলিল উল্লেখ করেছেন এবং প্রথম চারটির খণ্ডনের ক্ষেত্রে কিতাবে পূর্বে যা আলোচিত হয়েছে তার প্রতি নির্দেশ করেছেন, আর জাহমিয়্যাহদের কঠোর নিন্দা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে তাদের খণ্ডনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌منهج المؤلف:

الناظر في تصانيف أهل العلم يجد أن لكل زمان طريقة في التصنيف تميزه - في الجملة - عن غيره.

وكانت طريقة التصنيف في الزمن الذي عاش فيه أبو عبيد رحمه الله تعتمد على سرد الأحاديث والآثار في الباب مجردة، كصنيع العدني وابن أبي شيبة في كتابيهما في الإيمان، وكذا ابن منده رحم الله الجميع.

إلا أن أبا عبيد قد اختط لنفسه منهجًا سابقًا لزمانه، أصبح المنهج المعتمد في التأليف لدى أهل العلم فيما بعد.

ومن أبرز سمات هذا المنهج:

1) الإكثار من الشرح والتعليق والتعقب والنقد، وعدم الاقتصار على سوق الأدلة والأقوال.

2) بناء هيكل البحث على الشرح والبيان، وجعل النصوص للاستدلال، ولذا فإنه لا يسوق الأسانيد في كثير من الأحيان، بل كثيرًا ما يقتصر على إيراد المتن فقط بدون ذكر الصحابي، هذا مع سياقه أحيانًا للأسانيد كما هي العادة وقتئذٍ.

3) تنويع الأدلة، فلم يقتصر رحمه الله على الأدلة النقلية - مع كونها هي العمدة -، بل ذكر كذلك أدلة عقلية، وأكثر بشكل ملحوظ من أدلة اللغة والاحتجاج بكلام العرب ولغاتها، وهو إمام في هذا الباب.

4) الاستطراد في الرد على المخالفين؛ سواء ما كان منثورًا في أثناء الأبواب - ولم يخلُ منها باب -، أو ما كان في أبواب مستقلة، وهي
লেখকের পদ্ধতি:

আলেমগণের রচনাবলির দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, প্রতিটি যুগের রচনার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে যা তাকে—সাধারণভাবে—অন্যান্য যুগ থেকে পৃথক করে।

আবু উবাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) যে যুগে বাস করতেন, সেই সময়ে রচনার পদ্ধতিটি ছিল সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের অধীনে হাদিস ও আসারসমূহ (পূর্বসূরীদের বাণী) কেবল বর্ণনা করার ওপর নির্ভরশীল। যেমনটি আল-আদানি ও ইবনে আবি শাইবা তাদের ঈমান বিষয়ক গ্রন্থদ্বয়ে এবং ইবনে মানদাহ (আল্লাহ তাদের সবার প্রতি রহম করুন) করেছেন।

তবে আবু উবাইদ নিজের জন্য এমন এক পদ্ধতি বেছে নিয়েছিলেন যা ছিল তাঁর সময়ের চেয়ে অগ্রগামী; পরবর্তীতে আলেমদের নিকট এটিই রচনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে পরিগণিত হয়।

এই পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো:

১) ব্যাখ্যা, টিকা প্রদান, পর্যালোচনা ও সমালোচনার আধিক্য এবং শুধুমাত্র দলিল ও উক্তিগুলো বর্ণনা করার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকা।

২) গবেষণার কাঠামোকে ব্যাখ্যা ও বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা এবং মূল পাঠসমূহকে দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা। এ কারণে তিনি অনেক সময় সনদসমূহ (বর্ণনাসূত্র) উল্লেখ করেন না, বরং প্রায়ই সাহাবীর নাম উল্লেখ না করে কেবল মতন বা মূল পাঠ তুলে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। তবে সেই সময়ের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কোনো কোনো সময় তিনি সনদও উল্লেখ করেছেন।

৩) দলিলের বৈচিত্র্যকরণ; তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) কেবল শ্রুতিনির্ভর (নকলি) দলিলের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি—যদিও তা-ই প্রধান ভিত্তি—বরং তিনি যৌক্তিক দলিলও উল্লেখ করেছেন। এছাড়া তিনি ভাষাগত দলিল এবং আরবদের কালাম ও ভাষাশৈলী দ্বারা প্রমাণের আধিক্য ঘটিয়েছেন যা বিশেষভাবে লক্ষণীয়, আর তিনি এই শাস্ত্রে একজন ইমাম।

৪) বিরোধীদের খণ্ডন করার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনা করা; চাই তা বিভিন্ন অধ্যায়ের মাঝে ছড়িয়ে থাকুক—আর এমন কোনো অধ্যায় নেই যা এ থেকে মুক্ত—অথবা স্বতন্ত্র কোনো অধ্যায়ে বর্ণিত হোক। আর তা হলো-
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৩)
الأبواب: الرابع والخامس والسادس.

وقد لخص رحمه الله في آخر الكتاب منهجه الذي سار عليه فقال:

"كتبنا هذا الكتاب على مبلغ علمنا، وما انتهى إلينا من الكتابِ وآثارِ النَّبي صلى الله عليه وسلم، والعلماءِ بعده، وما عليه لغاتُ العرب ومذاهبُها، وعلى الله التَّوكل، وهو المستعان"(1).

--------------------------------------------

(1) انظر: ص (109).

পরিচ্ছেদসমূহ: চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) কিতাবটির শেষে তাঁর অনুসৃত মানহাজ বা পদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করে বলেছেন:

"আমরা এই কিতাবটি আমাদের ইলমের পরিধি অনুযায়ী এবং আল্লাহর কিতাব, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আছার ও তাঁর পরবর্তী আলেমগণের থেকে যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে তার ভিত্তিতে, এবং আরবের ভাষা ও তাদের বাচনভঙ্গি যা নির্দেশ করে তার ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছি; আর আল্লাহর ওপরই ভরসা, এবং তিনিই সাহায্যস্থল।"(১).

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পৃষ্ঠা (১০৯)।

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌ترجمة موجزة للإمام أبي عبيد رحمه الله -

‌‌اسمه ونسبه ومولده:

هو الإمام، الحافظ، المجتهد، البحر، ذو الفنون، أبو عبيد القاسم بن سلَّام - بتشديد اللام - بن عبد الله الهروي الأزدي بالولاء، الخراساني البغدادي صاحب المصنفات.

كان أبوه سلام مملوكًا روميًّا لرجل هروي، وكان يتولى الأزد.

ولد رحمه الله سنة سبع وخمسين ومائة بهراة.

وكان رحمه الله يخضب بالحناء؛ أحمر الرأس واللحية، وكان مهيبًا وقورًا.

 

‌‌شيوخه:

أخذ أبو عبيد عن خلق من أهل العلم، فسمع من:

إسماعيل بن جعفر، وشريك بن عبد الله، وهشيم، وإسماعيل بن عياش، وسفيان بن عيينة، وأبي بكر بن عياش، وعبد الله بن المبارك، وسعيد بن عبد الرحمن الجمحي، وعبيد الله الأشجعي، وغندر، وحفص بن غياث، ووكيع، وعبد الله بن إدريس، وعباد بن عباد، ومروان بن معاوية، وعباد بن العوام، وجرير بن عبد الحميد، وأبا معاوية الضرير، ويحيى القطان، وإسحاق الأزرق، وابن مهدي، ويزيد بن هارون، وخلق كثير.

وقرأ القرآن على: أبي الحسن الكسائي، وإسماعيل بن جعفر، وشجاع بن أبي نصر البلخي.
ইমাম আবু উবাইদ রাহিমাহুল্লাহ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী-

তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:

তিনি হলেন ইমাম, হাফিজ, মুজতাহিদ, ইলমের সমুদ্র, বহুমাত্রিক পণ্ডিত, আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম —‘লাম’ অক্ষরে তাশদিদ সহকারে— বিন আব্দুল্লাহ আল-হারাউই আল-আজদি (ওয়ালা-এর সূত্রে), খুরাসানি আল-বাগদাদি এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

তাঁর পিতা সাল্লাম ছিলেন হিরাতের এক ব্যক্তির রোমান দাস, এবং তিনি আজদ গোত্রের অনুগত ছিলেন।

তিনি রাহিমাহুল্লাহ একশত সাতান্ন হিজরি সনে হিরাতে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি রাহিমাহুল্লাহ চুলে মেহেদি ব্যবহার করতেন; ফলে তাঁর মাথা ও দাড়ি লাল বর্ণের ছিল। তিনি অত্যন্ত গম্ভীর ও মর্যাদাবান ছিলেন।

 

তাঁর শিক্ষকগণ:

আবু উবাইদ অসংখ্য উলামায়ে কেরামের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি শ্রবণ করেছেন:

ইসমাঈল বিন জাফর, শারিক বিন আব্দুল্লাহ, হুশাইম, ইসমাঈল বিন আইয়াশ, সুফিয়ান বিন উইয়াইনাহ, আবু বকর বিন আইয়াশ, আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক, সাঈদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুমাহি, উবায়দুল্লাহ আল-আশজায়ি, গুন্দার, হাফস বিন গিয়াস, ওয়াকি, আব্দুল্লাহ বিন ইদরিস, আব্বাদ বিন আব্বাদ, মারওয়ান বিন মুয়াবিয়া, আব্বাদ বিন আল-আওয়াম, জারির বিন আব্দুল হামিদ, আবু মুয়াবিয়া আদ-দারির, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, ইসহাক আল-আজরাক, ইবনে মাহদি, ইয়াজিদ বিন হারুন এবং আরও অনেকের নিকট থেকে।

তিনি কুরআন তিলাওয়াত করেছেন: আবুল হাসান আল-কিসায়ি, ইসমাঈল বিন জাফর এবং শুজা বিন আবি নাসর আল-বালখির নিকট।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وسمع الحروف من طائفة.

وأخذ اللغة عن: أبي عبيدة، وأبي زيد، وجماعة.

 

‌‌تلاميذه:

تلقى العلم عن أبي عبيد عدد كبير من التلاميذ، فروى عنه:

سعيد بن أبي مريم المصري - وهو من شيوخه -، وعباس بن عبد العظيم العنبري، وعباس بن محمد الدوري، وعبد الله بن عبد الرحمن الدارمي، ومحمد بن إسحاق الصاغاني، والحارث بن أبي أسامة، وعلي بن عبد العزيز البغوي، وأبو بكر ابن أبي الدنيا، وأحمد بن يوسف التغلبي، ومحمد بن يحيى بن سليمان المروزي، وعبد الله بن جعفر العسكري راوي هذا الكتاب، وغيرهم.

 

‌‌مكانته العلمية وثناء العلماء عليه:

تبوء أبو عبيد مكانة علمية عليَّة، وأثنى عليه أهل العلم من معاصريه وممن بعدهم، ومن ذلك:

قال إسحاق بن راهويه رحمه الله: "أبو عبيد أوسعنا علمًا، وأكثرنا أدبًا، وأجمعنا جمعًا، إنا نحتاج إليه، ولا يحتاج إلينا".

وقال رحمه الله: "إن الله لا يستحيي من الحق: أبو عبيد أعلم مني، ومن ابن حنبل، والشافعي".

وقال الإمام أحمد رحمه الله: "أبو عبيد ممن يزداد كل يوم خيرًا"، وقال: "أبو عبيد أستاذ".

وقال أبو داود رحمه الله: "ثقة مأمون".
তিনি একদল আলেম থেকে কেরাআতসমূহ শুনেছেন।

এবং তিনি আবু উবায়দা, আবু যায়িদ এবং একদল ভাষাবিদ থেকে ভাষা শিক্ষা করেছেন।

 

‌‌তাঁর ছাত্রগণ:

আবু উবায়দ থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র ইলম অর্জন করেছেন, তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তারা হলেন:

সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম আল-মিসরি—যিনি তাঁর শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত—, আব্বাস ইবনে আব্দুল আযিম আল-আনবারি, আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আদ-দুরি, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দারিমি, মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাগানি, আল-হারিস ইবনে আবি উসামা, আলী ইবনে আব্দুল আযিয আল-বাগাওয়ি, আবু বকর ইবনে আবিদ দুনিয়া, আহমাদ ইবনে ইউসুফ আত-তাগলিবি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান আল-মারওয়াযি, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর আল-আসকারি—যিনি এই কিতাবের বর্ণনাকারী—এবং অন্যান্যরা।

 

‌‌তাঁর ইলমি মাকাম এবং তাঁর ব্যাপারে আলেমদের প্রশংসা:

আবু উবায়দ এক সুউচ্চ ইলমি মাকাম লাভ করেছিলেন এবং তাঁর সমসাময়িক ও পরবর্তীকালের আলেমগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আবু উবায়দ আমাদের মাঝে ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে প্রশস্ত, শিষ্টাচারের দিক থেকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ এবং সংকলনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি সংগ্রাহক। নিশ্চয়ই আমরা তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী, অথচ তিনি আমাদের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।"

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য প্রকাশে সংকুচিত হন না: আবু উবায়দ আমার চেয়ে, ইবনে হাম্বল এবং শাফিঈর চেয়েও বড় আলেম।"

ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আবু উবায়দ সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা প্রতিদিন কল্যাণে বৃদ্ধি পায়।" তিনি আরও বলেন: "আবু উবায়দ একজন উস্তাদ।"

আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত।"
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقال الدارقطني رحمه الله: "ثقة إمام جبل".

وقال ابن حبان رحمه الله: "كان أحد أئمة الدنيا، صاحب حديث وفقه ودين وورع ومعرفة بالأدب وأيام الناس، ممن جمع وصنف واختار وذب عن الحديث ونصره، وقمع من خالفه وحاد عنه"(1).

وقال شيخ الإسلام رحمه الله: "الإمام المجمع على إمامته وفضله"(2).

وقال ابن القيم رحمه الله: "وكان جبلًا نفخ فيه الروح علمًا وجلالةً ونبلًا وأدبًا"(3).

 

‌‌وفاته:

توفي رحمه الله سنة أربع وعشرين ومائتين بمكة - وقيل بالمدينة -، وله سبع وستون سنة، رحمه الله تعالى، وجزاه عن الإسلام وأهله خير الجزاء(4).

--------------------------------------------

(1) الثقات (9/ 17).

(2) منهاج السنة (8/ 543).

(3) إعلام الموقعين (1/ 48).

(4) انظر: تاريخ بغداد (14/ 392)، وفيات الأعيان (4/ 60)، الوافي بالوفيات (24/ 91)، طبقات الشافعية الكبرى (2/ 153)، تهذيب الكمال (23/ 354)، سير أعلام النبلاء (10/ 490).

এবং আদ-দারাকুতনী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত, ইমাম ও পর্বতসম।"

এবং ইবন হিব্বান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তিনি ছিলেন দুনিয়ার ইমামগণের অন্যতম, হাদিস, ফিকহ, দ্বীনদারিতা, তাকওয়া এবং সাহিত্য ও মানুষের ইতিহাস সম্পর্কে বিজ্ঞ। তিনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাঁরা হাদিস সংকলন করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন, নির্বাচন করেছেন এবং হাদিসের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেছেন ও একে সাহায্য করেছেন এবং যারা এর বিরোধিতা করেছে ও বিচ্যুত হয়েছে, তাদের দমিত করেছেন"(১).

এবং শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এমন ইমাম যাঁর ইমামত এবং শ্রেষ্ঠত্বের ওপর ঐকমত্য রয়েছে"(২).

এবং ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তিনি ছিলেন এক পাহাড়ের মতো, যাঁর ভেতরে ইলম, মহিমা, আভিজাত্য ও সাহিত্যের প্রাণ সঞ্চার করা হয়েছিল"(৩).

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ২২৪ হিজরি সনে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন—কারো মতে মদীনায়—। সে সময় তাঁর বয়স ছিল সাতষট্টি বছর। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন(৪).

--------------------------------------------

(১) আস-সিকাত (৯/ ১৭)।

(২) মিনহাজুস সুন্নাহ (৮/ ৫৪৩)।

(৩) ইলামুল মুয়াক্কিয়ীন (১/ ৪৮)।

(৪) দেখুন: তারিকু বাগদাদ (১৪/ ৩৯২), ওয়াফায়াতুল আ’ইয়ান (৪/ ৬০), আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত (২৪/ ৯১), তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাতিল কুবরা (২/ ১৫৩), তাহজিবুল কামাল (২৩/ ৩৫৪), সিয়ারু আ’লামিন নুবালা (১০/ ৪৯০)।

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌منهج التحقيق:

سرت في عملي في كتاب أبي عبيد رحمه الله على منهج أجمله في النقاط الآتية:

1) قابلت النص على الأصل المخطوط، واستظهرت ما أشكل علي قراءته لخلل في التصوير، أو استغلاق في الخط من مطبوعة الشيخ الألباني رحمه الله.

2) أثبت في المتن صواب ما جزمت بخطئه، وما لم أجزم بخطئه أو لم أتوصل فيه للصواب فقد أثبته في المتن كما هو، ونبهت في الحاشية على ذلك.

3) خرجت الأحاديث والآثار التي أوردها أبو عبيد رحمه الله؛ فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بعزوه، وإن كان في غيرهما فإني أعزوه إلى مظانه مع الكلام عليه حسب الإمكان. وصدرت التخريج بالحكم على إسناد أبي عبيد إن كان ساقه بإسناد. ووضعت أحكام الشيخ على الأحاديث والآثار ما أمكن، سواء من مطبوعته للكتاب، أو من كتبه الأخرى(1).

4) أثبت الفروق بين الأصل والمطبوع(2).

5) علَّقت على بعض المواضع التي رأيت أنها تحتاج إلى تعليق.

--------------------------------------------

(1) وحيث أطلقت لفظ: "الشيخ" فإني أريد به الشيخ الألباني رحمه الله.

(2) اعتمدت في ذلك على طبعة المكتب الإسلامي، الطبعة الثانية، 1403 هـ، وأما طبعة المعارف فهي صورة عنها مع أخطاء قليلة.

সম্পাদনা পদ্ধতি:

আবু উবাইদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবে আমার সম্পাদিত কাজের ক্ষেত্রে আমি একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যা নিমোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে বর্ণনা করছি:

১) আমি মূল পাঠটিকে মূল পাণ্ডুলিপির (ম্যানুস্ক্রিপ্ট) সাথে মিলিয়ে দেখেছি; আর ছবির ত্রুটি বা লিপির অস্পষ্টতার কারণে যা পড়তে আমার সমস্যা হয়েছে, তা শেখ আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মুদ্রিত সংস্করণ থেকে স্পষ্ট করে নিয়েছি।

২) যেসব ক্ষেত্রে আমি ভুলের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি, সেখানে মূল পাঠে (মতন) সঠিকটি সাব্যস্ত করেছি। আর যেগুলোর ভুলের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত হতে পারিনি কিংবা সঠিক পাঠে পৌঁছাতে পারিনি, তা মূল পাঠে যেমন আছে তেমনই রেখে দিয়েছি এবং টীকায় সে বিষয়ে সজাগ করে দিয়েছি।

৩) আবু উবাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) যেসব হাদিস ও আসার উল্লেখ করেছেন, আমি সেগুলোর তাখরিজ করেছি। হাদিসটি যদি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে কেবল সেটির উদ্ধৃতি দেওয়াই যথেষ্ট মনে করেছি। আর যদি তা অন্য কোনো কিতাবে থাকে, তবে যথাসম্ভব পর্যালোচনাসহ সেটির সম্ভাব্য উৎসসমূহের উদ্ধৃতি দিয়েছি। আবু উবাইদ যদি কোনো হাদিস সনদসহ বর্ণনা করে থাকেন, তবে তাখরিজের শুরুতে তাঁর সনদের ওপর হুকুম (মান নির্ধারণ) বর্ণনা করেছি। এছাড়া হাদিস ও আসারের ওপর শেখের হুকুমগুলো যথাসম্ভব উল্লেখ করেছি, চাই তা তাঁর সম্পাদিত এই কিতাব থেকে হোক কিংবা তাঁর অন্য কোনো কিতাব থেকে(১)।

৪) পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপির মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যগুলো সাব্যস্ত করেছি(২)।

৫) যেসব স্থানে টীকা দেওয়া প্রয়োজন মনে করেছি, সেখানে টীকা যুক্ত করেছি।

--------------------------------------------

(১) যেখানে আমি কেবল "শেখ" শব্দটি ব্যবহার করেছি, সেখানে আমার উদ্দেশ্য হলো শেখ আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ)।

(২) এ ক্ষেত্রে আমি আল-মাকতাব আল-ইসলামি প্রকাশিত দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪০৩ হিজরির ওপর নির্ভর করেছি। আর আল-মাআরিফ সংস্করণটি মূলত এরই একটি প্রতিচ্ছবি, তবে তাতে সামান্য কিছু ভুল রয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৮)
6) عرفت بما رأيت أنه يحتاج إلى تعريف، وشرحت الكلمات الغريبة.

7) ضبطت ما قد يُشكل من الكلمات.

8) صنعت فهارس فنية للكتاب، لتسهيل الاستفادة منه.

وأشير إلى أن المصنف رحمه الله يورد الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم بلفظ: "صلى الله عليه" فقط في أكثر المواطن، فقمت بإكمالها دون الإشارة إلى ذلك.
6) আমি যা যা পরিচয়ের প্রয়োজন মনে করেছি তার পরিচয় দিয়েছি এবং অপরিচিত শব্দগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছি।

7) যেসব শব্দের উচ্চারণে অস্পষ্টতা দেখা দিতে পারে আমি সেগুলো যথাযথভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছি।

8) গ্রন্থটি থেকে উপকৃত হওয়া সহজতর করার লক্ষ্যে আমি এর জন্য নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।

আমি এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত দিচ্ছি যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) অধিকাংশ ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরূদ পাঠের বেলায় কেবল "সাল্লাল্লাহু আলাইহি" শব্দ ব্যবহার করেছেন, তাই আমি পৃথক কোনো উল্লেখ ছাড়াই তা পূর্ণ করে দিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌وصف النسخة الخطية:

اعتمدت في تحقيق الكتاب على النسخة الخطية الوحيدة، وهي نسخة الظاهرية المحفوظة تحت: مجموع (116) (ق 134 - 156).

وتقع في (22) لوحة، في كل لوحة صفحتان، متوسط عدد الأسطر في كل صفحة: (19) سطرًا، ومتوسط عدد الكلمات في كل سطر: (10) كلمات.

وهي نسخة قديمة؛ ذكر ناسخها أنه فرغ من نسخها في شوال سنة ثمان وثمانين وأربع مائة، يعني بعد وفاة المؤلف بـ: (264) سنة.

وهي منسوخة من نسخة الشيخ العفيف ومقابلة بها، كما يدل على ذلك علامات المقابلة التي فيها، ونص الناسخ على مقابلتها بها في خاتمتها، وفي أثنائها في اللوحة (12/ أ).

وعلى النسخة سماع الشيخ العفيف أبي محمد عثمان بن أبي نصر.

وعليها قيدا تملك:

الأول باسم: محمد بن عبد العزيز المسكي الشافعي رضي الله عنه.

والثاني باسم: يوسف بن عبد الهادي.

وعليها قيد وقف باسم الشيخ علي الموصلي.

وهذه النسخة - مع كونها قديمةً - غير جيدة، لأمور عدة:

أولها: رداءة خطها.

ثانيها: كثرة الأخطاء فيها.

ثالثها: وجود سقط في بعض المواضع منها.
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:

গ্রন্থটির সম্পাদনায় আমি একমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা ‘যাহিরিয়্যাহ’ লাইব্রেরিতে ‘মাজমু ১১৬’ (পত্র ১৩৪-১৫৬) শিরোনামে সংরক্ষিত রয়েছে।

এটি ২২টি পত্রে বিন্যস্ত, প্রতিটি পত্রে রয়েছে দুটি করে পৃষ্ঠা। প্রতি পৃষ্ঠায় গড় লাইনের সংখ্যা ১৯টি এবং প্রতি লাইনে গড় শব্দের সংখ্যা ১০টি।

এটি একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি; এর লিপিকার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি চারশ অষ্টাশি হিজরির শাওয়াল মাসে এটি লিখে শেষ করেছেন। অর্থাৎ, লেখকের মৃত্যুর ২৬৪ বছর পর।

এটি শায়খ আল-আফীফের পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে এবং তাঁর কপির সঙ্গে এটি মিলিয়ে দেখা হয়েছে। পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান যাচাইকরণের চিহ্নসমূহ এর প্রমাণ দেয়। লিপিকার পাণ্ডুলিপির শেষে এবং পাঠের মধ্যবর্তী স্থানে (১২/ক পত্রে) তাঁর কপির সঙ্গে মিলিয়ে দেখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

এই পাণ্ডুলিপিতে শায়খ আল-আফীফ আবু মুহাম্মাদ উসমান বিন আবি নাসরের শ্রুতলিখন সংক্রান্ত টীকা রয়েছে।

এতে মালিকানা সংক্রান্ত দুটি নোট রয়েছে:

প্রথমটি মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-মিসকী আশ-শাফিয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর নামে।

দ্বিতীয়টি ইউসুফ বিন আব্দুল হাদি-র নামে।

এতে শায়খ আলী আল-মাওসিলির নামে একটি ওয়াকফনামাও রয়েছে।

এই পাণ্ডুলিপিটি প্রাচীন হওয়া সত্ত্বেও বেশ কিছু কারণে ভালো মানের নয়:

প্রথমত: এর হস্তাক্ষর অত্যন্ত নিম্নমানের।

দ্বিতীয়ত: এতে ভুলের আধিক্য রয়েছে।

তৃতীয়ত: বিভিন্ন স্থানে পাঠের কিছু অংশ বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২০)
رابعها: أن فيها إشكالًا من ناحية تاريخ نسخها، ففي أولها يذكر الراوي عن ابن أبي نصر أنه - أي ابن أبي نصر - أخبر بها في صفر سنة عشرين وأربع مائة، وفي خاتمتها يجعل الناسخ تاريخ نسخها شوال سنة ثمان وثمانين وأربع مائة، أي بعد سماعها بثمان وستين سنة.

وهذا يدل على أن ناسخها ليس هو من سمعها من ابن أبي نصر، وبخاصة إذا علمنا أنها رويت من طريق شيخين عنه - كما وقع في إسناد ابن حجر - وكل منهما قد توفي قبل هذا التاريخ بمدة.

ولو فرض أن الذي سمعها منه غيرهما، وأنه عاش إلى هذا التاريخ؛ فيبعد أن يسمعها ثم ينسخها بعد ثمان وستين سنة.

إلا إن يكون الناسخ لم يدرك ابن نصر أصلًا، وإنما وقعت له نسخة أحد تلاميذه - سواء سمعها من هذا التلميذ أم لا - فنسخها بإسنادها دون أن يذكر اسم التلميذ في أولها، وثبوت هذا يفسر وقوع الخلل فيها.

وعلى أي تقدير، ففي النسخة إشكال ظاهر.

وقد وقع فيها تقديم وتأخير في اللوحة (14)، فدخلت تتمة باب "تسمية الإيمان بالقول دون العمل" في أثناء الباب التالي: "باب من جعل الإيمانَ المعرفةَ بالقلب وإن لم يكن عملٌ".

وقد بيَّن الناسخ وجه الصواب قولًا فقال: "تمام هذا الباب [أي باب من جعل الإيمانَ المعرفةَ بالقلب … ] من ثالث سطر من الكراسة، والإلحاق
চতুর্থত: এর অনুলিপি তৈরির তারিখের দিক থেকে এতে একটি সমস্যা রয়েছে। এর শুরুতে বর্ণনাকারী ইবনে আবু নাসর থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি - অর্থাৎ ইবনে আবু নাসর - এটি চারশত বিশ হিজরির সফর মাসে ব্যক্ত করেছিলেন। আর এর শেষে অনুলিপিকারক এর অনুলিপি তৈরির তারিখ উল্লেখ করেছেন চারশত অষ্টাশি হিজরির শাওয়াল মাস, অর্থাৎ এটি শোনার আটষট্টি বছর পর।

এটি নির্দেশ করে যে, এর অনুলিপিকারক সেই ব্যক্তি নন যিনি এটি ইবনে আবু নাসরের নিকট থেকে শুনেছিলেন। বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে, এটি তাঁর থেকে দুইজন শাইখের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে - যেমনটি ইবনে হাজারের সনদে এসেছে - এবং তাঁদের প্রত্যেকেই এই তারিখের বেশ কিছুকাল পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন।

আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, যিনি এটি তাঁর নিকট থেকে শুনেছেন তিনি এই দুইজন ছাড়া অন্য কেউ এবং তিনি এই তারিখ পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন; তবুও এটি শোনার আটষট্টি বছর পর অনুলিপি করার বিষয়টি সুদূরপরাহত।

তবে এমন হতে পারে যে, অনুলিপিকারক ইবনে নাসরকে আদৌ পাননি, বরং তিনি তাঁর কোনো এক ছাত্রের অনুলিপি হাতে পেয়েছিলেন - চাই তিনি সেই ছাত্রের নিকট থেকে শুনে থাকুন বা না থাকুন - অতঃপর তিনি শুরুতে সেই ছাত্রের নাম উল্লেখ না করেই এর সনদসহ অনুলিপি করেছেন। আর এই বিষয়টি প্রমাণিত হওয়া এতে বিদ্যমান ত্রুটির কারণ ব্যাখ্যা করে।

যেভাবেই ধরা হোক না কেন, এই পাণ্ডুলিপিতে একটি স্পষ্ট সমস্যা রয়েছে।

এর ১৪ নম্বর পৃষ্ঠায় অগ্র-পশ্চাৎ ঘটেছে, ফলে "আমল ব্যতীত কেবল মৌখিক স্বীকৃতির নাম ঈমান রাখা" পরিচ্ছেদের অবশিষ্টাংশ পরবর্তী পরিচ্ছেদ: "যারা ঈমানকে কেবল অন্তরের পরিচয় হিসেবে গণ্য করে যদিও কোনো আমল না থাকে" এর মাঝখানে ঢুকে পড়েছে।

অনুলিপিকারক সঠিক বিষয়টি বর্ণনা করে বলেছেন: "এই পরিচ্ছেদের সমাপ্তি [অর্থাৎ যারা ঈমানকে অন্তরের পরিচয় হিসেবে গণ্য করে … ] পুস্তিকার তৃতীয় লাইন থেকে শুরু, এবং সংযুক্তি
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২১)
في الجوانب من الكراسة الأخرى. السطور الفوقانية(1) تمامه [كذا] الإلحاق في الجوانب".

ثم بينه فعلًا بأن فصل بالخط الكلام عن بعضه، فلم يبق فيها إشكال، ولله الحمد.

هذا وأسأل الله أن يتقبل هذا العمل، وأن يجعله نافعًا مباركًا، إنه خير مسؤول، والحمد لله أولًا وآخرًا.

ربيع بن أحمد البيطار

المدينة النبوية

rabie 1401@gmail.com

26 جمادى ثان 1432 هـ

--------------------------------------------

(1) هكذا استظهرت هذه الكلمة، ورسمها في الأصل: "الفقوانية".

অন্যান্য পুস্তিকার পার্শ্বে। উপরের লাইনগুলো(১) এর পূর্ণতা [এভাবেই] পার্শ্বের সংযোজনীতে রয়েছে।

এরপর তিনি বাস্তবিকভাবে কথাগুলোকে রেখা টেনে পরস্পর থেকে পৃথক করার মাধ্যমে তা স্পষ্ট করেছেন, ফলে এতে আর কোনো অস্পষ্টতা অবশিষ্ট থাকেনি, এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর।

পরিশেষে আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে কবুল করেন এবং এটিকে উপকারী ও বরকতময় করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা। আর শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

রবি বিন আহমদ আল-বাইতার

মদিনা আল-মুনাওয়ারা

rabie 1401@gmail.com

২৬ জুমাদাস সানি ১৪৩২ হিজরি

--------------------------------------------

(১) আমি এভাবেই শব্দটি অনুধাবন করেছি, আর মূল পাণ্ডুলিপিতে এর লিখনরূপ ছিল: 'আল-ফুকওয়ানিয়্যাহ'।

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২২)
نماذج من النسخة الخطية:

صورة طرَّة النسخة
পাণ্ডুলিপির কিছু নমুনা:

পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদ পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৩)
صورة اللوحة الأولى
প্রথম ফলকের চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৪)
صورة اللوحة (14) التي وقع فيها التقديم والتأخير
পাণ্ডুলিপির চিত্র (১৪), যেখানে বিন্যাসে অগ্র-পশ্চাৎ ঘটেছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৫)
صورة اللوحة الأخيرة
সর্বশেষ ফলকের চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

توكلت على الله

 

‌‌باب نعت الإيمان في استكماله ودرجاته

أخبرنا الشيخ أبو محمد؛ عبد الرحمن بن عثمان بن معروف - أعني ابن أبي نصر(1) - في داره بدمشق، في صفر سنة عشرين وأربع مائة، قال: حدثنا أبو يعقوب إسحاق بن [إبراهيم الأذرعي(2)، قال: حدثنا أبو محمد عبد الله

--------------------------------------------

(1) هو الشيخ، الإمام، المعدل، الرئيس، مسند الشام، أبو محمد، عبد الرحمن بن أبي نصر عثمان بن القاسم بن معروف بن حبيب التميمي الدمشقي الملقب: بالشيخ العفيف.

ولد في شهر رمضان من سنة سبع وعشرين وثلاثمائة، وتوفي يوم الأربعاء، الثاني من جمادى الآخرة - بعد الظهر - من سنة عشرين وأربعمائة.

قال تلميذه عبد العزيز الكتاني: لم ألْقَ شيخًا مثله؛ زهدًا وورعًا وعبادةً ورئاسةً، وكان ثقةً عدلًا مأمونًا رضًا. انظر: تاريخ دمشق (35/ 101)، سير أعلام النبلاء (17/ 366).

وعلى هذا يكون ابن أبي نصر قد روى هذا الكتاب قبل وفاته بأربعة أشهر أو أقل.

(2) هو الإمام المحدث، الرباني، القدوة، أبو يعقوب إسحاق بن إبراهيم بن هاشم النهدي الأذرعي، شيخ دمشق.

توفي يوم النحر سنة أربع وأربعين وثلاث مائة، وهو ابن نيِّف وتسعين سنة.

قال أبو الحسين الرازي: "كان من جلة أهل دمشق، وعبادها وعلمائها".

وقال ابن عساكر: "أحد الثقات من عباد الله الصالحين". انظر: تاريخ دمشق (8/ 166)، سير أعلام النبلاء (15/ 478).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম

 

‌‌ঈমানের পূর্ণতা ও এর স্তরসমূহের বর্ণনা বিষয়ক অধ্যায়

শায়খ আবু মুহাম্মদ; আবদুর রহমান বিন উসমান বিন মারুফ - অর্থাৎ ইবনে আবি নাসর(১) - চারশ বিশ হিজরি সালের সফর মাসে দামেস্কে তাঁর নিজ বাসভবনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু ইয়াকুব ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-আজরুয়ি(২) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, ন্যায়নিষ্ঠ, প্রধান ব্যক্তিত্ব, শামের মুসনিদ, আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আবি নাসর উসমান বিন আল-কাসিম বিন মারুফ বিন হাবিব আত-তামিমি আদ-দিমাশকি; তাঁর উপাধি: আশ-শায়খ আল-আফিফ।

তিনি ৩২৭ হিজরি সালের রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪২০ হিজরি সালের ২রা জমাদিউল আখিরাত, বুধবার জোহরের নামাজের পর ইন্তেকাল করেন।

তাঁর ছাত্র আবদুল আজিজ আল-কাত্তানি বলেন: যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা), পরহেজগারিতা, ইবাদত ও নেতৃত্বের দিক থেকে আমি তাঁর মতো কোনো শায়খের দেখা পাইনি; তিনি নির্ভরযোগ্য, ন্যায়পরায়ণ, বিশ্বস্ত ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তি ছিলেন। দেখুন: তারিখ দিমাশক (৩৫/১০১), সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৭/৩৬৬)।

এর ভিত্তিতে প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে আবি নাসর তাঁর মৃত্যুর চার মাস বা তারও কম সময় আগে এই কিতাবটি বর্ণনা করেছেন।

(২) তিনি হলেন ইমাম, মুহাদ্দিস, রাব্বানি, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, আবু ইয়াকুব ইসহাক বিন ইবরাহিম বিন হাশিম আন-নাহদি আল-আজরুয়ি, দামেস্কের শায়খ।

তিনি ৩৪৪ হিজরি সালের ঈদুল আজহার দিন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল নব্বই বছরের কিছু বেশি।

আবু আল-হুসাইন আর-রাজি বলেন: "তিনি দামেস্কের গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইবাদতকারী ও আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।"

ইবনে আসাকির বলেন: "আল্লাহর নেক বান্দাদের মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি।" দেখুন: তারিখ দিমাশক (৮/১৬৬), সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৫/৪৭৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৮)
ابن جعفر بن](*) أحمد بن بحر(1) العسكري - صاحب أبي عبيد القاسم بن سلَّام - هذه الرسالة وأنا أسمع.

قال أبو عبيد:

أما بعد، فإنك كنت تسألني عن الإيمان، واختلاف الأمة في استكماله، وزيادته ونقصه، وتذكر أنك أحببت معرفة ما عليه أهل السُّنة من ذلك، وما الحجة على من فارقهم فيه؟(2).

فإن هذا - رحمك الله - خطْبٌ قد تكلم فيه السلف من(3) صدر هذه الأمة وتابعيها، ومن بعدهم إلى يومنا هذا، وقد كتبت إليك بما انتهى إليَّ علمُه من ذلك مشروحًا مُخَلَّصًا، وبالله التوفيق.

--------------------------------------------

(*) ساقط من المطبوع.

(1) في الأصل: "يحيى"، والتصويب من ترجمة المصنف في تاريخ دمشق (49/ 59)، وتهذيب الكمال (23/ 356)، ولم أقف له على ترجمة.

(2) وهذا الرجل الذي سأل أبا عبيد هو: أبو صالح رجاء بن عبد الله الصاغاني، وقد روي الكتاب من طريقه كما عند ابن الحطاب في مشيخته (220)، وبهذا يكون لـ "كتاب الإيمان" روايتان.

ولعل هذا يفسر الاختلاف الواقع في العبارات بين ما في الكتاب هنا، وبين ما ينقله عنه شيخ الإسلام وابن نصر - كما سيأتي -، وتكون النسخة التي من رواية الصاغاني هي التي وقعت لهما.

وإن كان يضعفه عدم وجود ما نقله الحافظ من الكتاب - كما سيأتي أيضًا -، مع كونه وقع له من طريق هذه النسخة نفسه، والله أعلم.

(3) في المطبوع: "في".
[ইবনে জাফর বিন](*) আহমাদ বিন বাহর(১) আল-আসকারি - আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লামের সঙ্গী - এই রিসালাটি পাঠ করেছেন আর আমি তা শুনছিলাম।

আবু উবাইদ বলেন:

অতঃপর, আপনি আমাকে ঈমান, এবং এর পূর্ণতা ও হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে উম্মাহর মতভেদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এবং আপনি উল্লেখ করেছিলেন যে আপনি এ বিষয়ে আহলে সুন্নাতের অবস্থান এবং যারা তাদের বিরোধিতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি জানতে আগ্রহী।(২)।

নিশ্চয়ই এটি—আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন—এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা নিয়ে এই উম্মাহর অগ্রবর্তী সালাফ, তাবিঈ এবং তাদের পরবর্তীগণ আজ অবধি আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে আমার নিকট যতটুকু জ্ঞান পৌঁছেছে আমি তা আপনার কাছে বিস্তারিত ও পরিচ্ছন্নভাবে লিখে পাঠিয়েছি। আল্লাহর তৌফিকই কাম্য।

--------------------------------------------

(*) মুদ্রিত সংস্করণ থেকে বাদ পড়েছে।

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ইয়াহইয়া", তবে সংশোধনটি 'তারিখে দামেস্ক' (৪৯/ ৫৯) এবং 'তহজীবুল কামাল' (২৩/ ৩৫৬) গ্রন্থে বর্ণিত গ্রন্থকারের জীবনী থেকে নেওয়া হয়েছে। আমি তার (পৃথক) কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।

(২) আর যে ব্যক্তি আবু উবাইদকে প্রশ্ন করেছিলেন তিনি হলেন: আবু সালেহ রাজা বিন আব্দুল্লাহ আস-সাগানি। ইবনুল হাত্তাব তার 'মাশইয়াখাহ' (২২০) গ্রন্থে যেভাবে বর্ণনা করেছেন, এই কিতাবটি তার মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে। এর মাধ্যমে 'কিতাবুল ঈমান'-এর দুটি বর্ণনা (রেওয়ায়েত) পাওয়া যায়।

সম্ভবত এটিই বর্তমান কিতাবের পাঠ্য এবং শায়খুল ইসলাম ও ইবনে নাসর যা উদ্ধৃত করেছেন তার মধ্যকার শব্দের পার্থক্যের কারণ ব্যাখ্যা করে—যেমনটি সামনে আসবে—এবং সাগানির বর্ণনা থেকে প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিটিই সম্ভবত তাদের হস্তগত হয়েছিল।

যদিও হাফেজ (ইবনে হাজার) এই কিতাব থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা বর্তমান কপিতে না পাওয়া বিষয়টিকে দুর্বল করে দেয়—যেমনটি সামনে আসবে—তা সত্ত্বেও এটি তার কাছে এই পাণ্ডুলিপির মাধ্যমেই পৌঁছেছিল। আল্লাহই সর্বজ্ঞাত।

(৩) মুদ্রিত সংস্করণে আছে: "মধ্যে"।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ২৯)
اعلم - رحمك الله - أن أهل العلم والعناية بالدين افترقوا في هذا الأمر فرقتين(1)، فقالت إحداهما: الإيمان بالإخلاص لله بالقلوب، وشهادة الألسنة، وعمل الجوارح، وقالت الفرقة الأخرى: بل الإيمان بالقلوب والألسنة، فأما الأعمال فإنما(2) هي تقوى وبر، وليست من الإيمان.

وإنا نظرنا في اختلاف الطائفتين، فوجدنا الكتاب والسُّنة يصدقان الطائفة التي جعلت الإيمان بالنية والقول والعمل جميعًا، وينفيان ما قالت الأخرى.

والأصل الذي هو حجَّتنا في ذلك: اتباعُ ما نطق به القرآن، فإن الله تعالى ذكره علوًّا كبيرًا قال في مُحكم كتابه: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59].

--------------------------------------------

(1) يلاحظ إدخال المصنف مرجئةَ الفقهاء في زمرة أهل العلم والعناية بالدين، وهذا من إنصافه رحمه الله، فإن منهم علماء وفقهاء، فأول من قال به: حماد بن أبي سليمان، وتلقاه عنه أبو حنيفة - رحمهما الله -، وهما من أهل العلم، ولا شك في بطلان مذهبهم وفساده إلا أن لهم حججًا شرعية بسببها اشتبه الأمر عليهم.

قال شيخ الإسلام رحمه الله: "وهذه الشبهة التي أوقعتهم مع علم كثير منهم وعبادته وحسن إسلامه وإيمانه، ولهذا دخل في إرجاء الفقهاء جماعة هم عند الأمة أهل علم ودين، ولهذا لم يكفر أحد من السلف أحدًا من مرجئة الفقهاء، بل جعلوا هذا من بدع الأقوال والأفعال، لا من بدع العقائد". الفتاوى (7/ 394)، وانظر: (7/ 194) منه، وانظر كذلك ما يأتي ص (77).

(2) في الأصل: "فإنها"، والتصويب من المطبوع.
জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন—নিশ্চয়ই ইলম এবং দ্বীনের প্রতি যত্নশীল ব্যক্তিগণ এই বিষয়ে দুটি দলে বিভক্ত হয়েছেন(১)। তাদের এক দল বলেছে: ঈমান হলো অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা, জিহ্বা দিয়ে সাক্ষ্য প্রদান এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল। আর অন্য দলটি বলেছে: বরং ঈমান হলো অন্তর ও জিহ্বার নাম; আর আমলসমূহ তো কেবল তাকওয়া এবং নেক কাজ, যা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

আমরা যখন এই দুই দলের মতপার্থক্য নিয়ে পর্যালোচনা করলাম, তখন আমরা কুরআন ও সুন্নাহকে সেই দলের সত্যয়নকারী হিসেবে পেলাম যারা ঈমানকে নিয়ত, কথা এবং আমল—এই সবকিছুর সমষ্টি হিসেবে সাব্যস্ত করেছে; এবং কুরআন ও সুন্নাহ অন্য দলের বক্তব্যকে নাকচ করে দিচ্ছে।

আর এই ক্ষেত্রে আমাদের দলীল হিসেবে যে মূলনীতি রয়েছে তা হলো: কুরআনের বাণীর অনুসরণ। কেননা আল্লাহ তাআলা—তাঁর স্মরণ অতি উচ্চ—তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে বলেছেন: "অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।" [নিসা: ৫৯]।

--------------------------------------------

(১) লক্ষণীয় যে, গ্রন্থকার ফুকাহায়ে মুরজিয়াদের ইলম এবং দ্বীনের প্রতি যত্নশীল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি তাঁর—আল্লাহ তাঁকে রহম করুন—ইনসাফের বহিঃপ্রকাশ। কারণ তাদের মধ্যে আলেম ও ফকীহগণ ছিলেন। এই মতের প্রবক্তাদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হলেন হাম্মাদ ইবনে আবু সুলাইমান এবং তাঁর নিকট থেকে এটি আবু হানিফা গ্রহণ করেছেন—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন—আর তাঁরা উভয়ই ছিলেন ইলমের অধিকারী। তাঁদের মাযহাব বাতিল ও ভ্রান্ত হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে তাঁদের কিছু শরয়ী দলিল ছিল যার কারণে বিষয়টি তাঁদের কাছে অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

শাইখুল ইসলাম—আল্লাহ তাঁকে রহম করুন—বলেছেন: "এই সংশয়টি তাদের অনেকের অগাধ জ্ঞান, ইবাদত এবং উত্তম ইসলাম ও ঈমান থাকা সত্ত্বেও তাদের এতে নিপতিত করেছে। একারণেই ফুকাহায়ে মুরজিয়াদের মধ্যে এমন একদল লোক অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন যারা উম্মতের নিকট ইলম ও দ্বীনের অধিকারী হিসেবে পরিচিত। এ কারণে সালাফদের মধ্যে কেউই ফুকাহায়ে মুরজিয়াদের কাউকে কাফের বলেননি, বরং তারা একে কথা ও কাজের বিদআত হিসেবে গণ্য করেছেন, আকিদাগত বিদআত হিসেবে নয়।" আল-ফাতাওয়া (৭/৩৯৪), এবং দেখুন: (৭/১৯৪), আরও দেখুন সামনে পৃষ্ঠা ৭৭।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: "নিশ্চয়ই তা", আর মুদ্রিত কপি হতে সংশোধন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩০)
وإنا ردَدْنا الأمر إلى ما ابتعث الله عليه رسوله صلى الله عليه وسلم وأنزل به كتابه؛ فوجدناه قد جعل بدء الإيمان: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأقام النَّبي صلى الله عليه وسلم على ذلك(1) بمكة بعد النبوة عشر سنين، أو بضع عشرة سنة(2)؛ يدعو إلى هذه الشهادة خاصة، وليس الإيمان المفترض على العباد يومئذٍ سواها، فمن أجاب إليها كان مؤمنًا، لا يلزمه اسم في الدين غيره، وليس يجب عليهم زكاة، ولا صيام، ولا غير ذلك من شرائع الدين.

وإنما كان هذا التخفيف عن الناس يومئذ فيما يرويه العلماء: رحمةً من الله لعباده وترفُّقًا(3) بهم، لأنهم كانوا حديث عهد بالجاهلية(4) وجفائها، ولو حَمَّلهم الفرائض كلها معًا نفرت منه قلوبهم، وثقلت على أبدانهم، فجعل ذلك الإقرار بالألسُن وحدها هو الإيمان المفترض على الناس يومئذٍ، فكانوا على ذلك إقامتهم بمكة كلها، وبضعة عشر شهرًا بالمدينة بعد(5) الهجرة.

فلما أثاب الناس إلى الإسلام، وحسنت(6) فيه رغبتُهم، زادهم الله في إيمانهم أن صرَف الصلاة إلى الكعبة بعد أن كانت إلى بيت المقدس، فقال:

--------------------------------------------

(1) "على ذلك" ساقطة من المطبوع.

(2) في الأصل: "بضع عشر سنة".

(3) في المطبوع: "ورفقًا".

(4) في المطبوع: "بجاهلية".

(5) في المطبوع: "وبعد".

(6) في الأصل: "حسنت" بدون الواو، والتصويب من المطبوع.
আর আমরা বিষয়টি সেদিকেই ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, যার ওপর আল্লাহ তাঁর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠিয়েছেন এবং যার সাথে তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন; ফলে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি ঈমানের সূচনা নির্ধারণ করেছেন এ সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় নবুওয়াত লাভের পর দশ বছর বা দশের কিছু বেশি বছর এর ওপরই(১) অবস্থান করেন; তিনি বিশেষভাবে কেবল এই সাক্ষ্যের দিকেই দাওয়াত দিতেন। আর সেই সময় বান্দাদের ওপর এই সাক্ষ্য প্রদান ছাড়া অন্য কোনো ঈমান ফরয ছিল না। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে সাড়া দিত, সে মুমিন হিসেবে গণ্য হতো; দ্বীনের ক্ষেত্রে তার ওপর এটি ছাড়া অন্য কোনো নাম অবধারিত হতো না। আর তখন তাদের ওপর যাকাত, রোযা কিংবা দ্বীনের অন্যান্য বিধিবিধান ওয়াজিব ছিল না।

আলেমগণ যা বর্ণনা করেন সে অনুযায়ী মানুষের ওপর তখন এই শিথিলতা ছিল মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি রহমত এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতাস্বরূপ(৩); কারণ তারা তখনো জাহেলিয়াত(৪) ও এর কঠোরতার নিকটবর্তী সময়ের লোক ছিল। আর তিনি যদি তখন সব ফরয বিধান একসাথে তাদের ওপর চাপিয়ে দিতেন, তবে তাদের অন্তরসমূহ তা থেকে বিমুখ হতো এবং তাদের শরীরের ওপর তা ভারী হয়ে পড়ত। তাই তিনি কেবলমাত্র যবান দ্বারা এই মৌখিক স্বীকৃতিকেই সেই সময় মানুষের ওপর ফরয ঈমান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। তারা মক্কায় অবস্থানকালীন পুরো সময় এবং হিজরতের পর(৫) মদীনায় দশের অধিক মাস পর্যন্ত এই অবস্থার ওপরই ছিলেন।

অতঃপর যখন মানুষ ইসলামের দিকে ফিরে এলো এবং এতে তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেল(৬), তখন আল্লাহ তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দিলেন এভাবে যে, তিনি সালাতের অভিমুখ বায়তুল মাকদিসের পরিবর্তে কাবার দিকে ফিরিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) "এর ওপর" অংশটুকু মুদ্রিত কপিতে নেই।

(২) মূলে রয়েছে: "দশ ও কয়েক বছর"।

(৩) মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "এবং কোমলতাস্বরূপ"।

(৪) মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "জাহেলিয়াতের সাথে"।

(৫) মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "এবং পরে"।

(৬) মূলে "উত্তম হয়েছে" শব্দটি ‘ওয়াও’ বর্ণ ছাড়াই রয়েছে; সংশোধনটি মুদ্রিত কপি থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩১)
{قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُ مَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ} [البقرة: 144].

ثم خاطبهم وهم بالمدينة باسم الإيمان المتقدِّم لهم في كل ما أمرهم به، أو نهاهم عنه؛ فقال في الأمر: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا} [الحج: 77]، و {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ} [المائدة: 6]، وقال في النهي: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً} [آل عمران: 130]، و {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ} [المائدة: 95]، وعلى هذا كل مخاطبةٍ كانت لهم فيها أمر أو نهي(1) بعد الهجرة.

وإنما سماهم بهذا الاسم بالإقرار(2) وحده؛ إذ لم يكن هناك فرض غيره، فلما نزلت الشرائع بعد هذا وجبت عليهم وجوب الأول سواء لا فرق بينهما، لأنهما(3) جميعًا من عند الله، وبأمره وبإيجابه. فلو أنهم عند تحويل القبلة إلى الكعبة أَبَوا أن يصلوا إليها، وتمسَّكوا بذلك الإيمان الذي لزمهم اسمه، والقبلة التي كانوا عليها؛ لم يكن ذلك مغنيًا عنهم شيئًا، ولكان فيه نقضٌ لإقرارهم، لأن الطاعة الأولى ليست بأحقّ باسم الإيمان من الطاعة الثانية، فلما أجابوا الله ورسوله إلى قبول الصلاة كإجابتهم إلى الإقرار؛ صارا جميعًا معًا هما يومئذٍ الإيمان، إذ أُضيفت الصلاة إلى الإقرار.

--------------------------------------------

(1) في الأصل: "نها"، وهو خطأ.

(2) في الأصل: "الإقرار"، والتصويب من المطبوع.

(3) في المطبوع: "بينها" و"لأنها" على الإفراد والمراد بالتثنية: الإقرار والشرائع.
{নিশ্চয়ই আমি আপনার মুখমণ্ডলের আকাশের দিকে বারবার তাকানো লক্ষ্য করি। সুতরাং আমি অবশ্যই আপনাকে এমন কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। অতএব আপনি আপনার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফিরান। আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের মুখমণ্ডল সেদিকেই ফিরাও।} [আল-বাকারাহ: ১৪৪]।

অতঃপর তিনি তাদের সাথে মদীনায় থাকাকালীন সেই ঈমান নামের সম্বোধনে সম্বোধন করেছেন যা তাদের জন্য পূর্বেই সাব্যস্ত হয়েছিল, যা কিছু তিনি তাদের আদেশ করেছেন বা যা থেকে নিষেধ করেছেন তার প্রতিটি ক্ষেত্রে; আদেশের ব্যাপারে তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা রুকু করো এবং সেজদা করো} [আল-হজ্জ: ৭৭], এবং {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো} [আল-মায়িদাহ: ৬], আর নিষেধের ব্যাপারে তিনি বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেও না} [আল-ইমরান: ১৩০], এবং {হে মুমিনগণ, তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারকে হত্যা করো না} [আল-মায়িদাহ: ৯৫], আর হিজরতের পর তাদের প্রতি প্রতিটি সম্বোধন—যাতে আদেশ বা নিষেধ ছিল—এই ধারায় ছিল(১)।

আর তিনি তাদেরকে এই নামে অভিহিত করেছিলেন কেবল স্বীকৃতির কারণে; কারণ তখন এটি ছাড়া অন্য কোনো ফরজ ছিল না। অতঃপর যখন এর পরে শরিয়তের বিধানসমূহ অবতীর্ণ হলো, তখন সেগুলো তাদের ওপর প্রথমটির মতোই সমানভাবে আবশ্যক হয়ে গেল, যে দুইয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ উভয়ই(৩) আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁরই আদেশ ও অপরিহার্য বিধানে সাব্যস্ত। সুতরাং কিবলা কাবার দিকে পরিবর্তনের সময় যদি তারা সেদিকে সালাত আদায় করতে অস্বীকার করত এবং সেই ঈমানকেই আঁকড়ে ধরে থাকতো যার নাম তাদের জন্য অবধারিত হয়েছিল এবং সেই কিবলার ওপরই অবিচল থাকতো যার ওপর তারা ছিল; তবে তা তাদের কোনো উপকারে আসত না এবং তা হতো তাদের স্বীকৃতির পরিপন্থী। কেননা প্রথম আনুগত্যটি ঈমান নাম পাওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় আনুগত্যটির চেয়ে অধিক হকদার নয়। অতঃপর যখন তারা আল্লাহর ও তাঁর রাসুলের ডাকে সাড়া দিয়ে সালাত কবুল করে নিল, যেমন তারা স্বীকৃতির ডাকে সাড়া দিয়েছিল; তখন সেই দিন থেকে এই উভয়ই একত্রে ঈমান হিসেবে গণ্য হলো, যেহেতু সালাতকে স্বীকৃতির সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে: "নাহা", যা একটি ভুল।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে: "আল-ইকরার", এবং সংশোধনীটি মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে।

(৩) মুদ্রিত সংস্করণে: "বিনহা" ও "লিয়ান্নাহা" একবচন হিসেবে এসেছে, তবে দ্বিবচন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: স্বীকৃতি ও শরিয়তের বিধানসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩২)
والشهيد على أن الصلاة من الإيمان قول الله عز وجل: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ} [البقرة: 143]، وإنما نزلت في الذين تُوُفُّوا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم على الصلاة إلى بيت المقدس، فسُئل رسول الله صلى الله عليه وسلم فنزلت هذه الآية(1)، فأي شاهد يلتمس على أن الصلاة من الإيمان بعد هذه الآية؟

فلبثوا بذلك بُرْهة من دهرهم، فلما أن داروا إلى الصلاة مسارعةً، وانشرحت لها صدورهم، أنزل الله فرْض الزكاة في إيمانهم إلى ما قبلها، فقال: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [البقرة: 43]، وقال: {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} [التوبة: 103]، فلو أنهم ممتنعون من الزكاة عند الإقرار، وأعطَوه ذلك بالألسنة وأقاموا الصلاة، غير أنهم ممتنعون من الزكاة كان ذلك مزيلًا لما قبله، وناقضًا للإقرار، والصلاة، كما كان إباءُ(2) الصلاة قبل ذلك ناقضًا لما تقدَّم من الإقرار.

والمصدِّق لهذا جهادُ أبي بكر الصديق - رحمة الله عليه - بالمهاجرين والأنصار على منع العرب الزكاة كجهاد رسول الله صلى الله عليه وسلم أهلَ الشِّرك سواء، لا فرق بينها في سفك الدماء، وسبي الذُّرية، واغتنام المال، فإنما كانوا مانعين لها غير جاحدين بها.

ثم كذلك كانت شرائع الإسلام كلها؛ كلما نزلت شريعةٌ صارت مضافةً إلى

--------------------------------------------

(1) كما روى ذلك البخاري (1/ 17) (40) عن البراء رضي الله عنه.

(2) في الأصل: "إيتاء"، والصواب ما أثبته.
সালাত যে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, তার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ এমন নন যে তোমাদের ঈমানকে নষ্ট করে দেবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম দয়ালু ও অতি দয়াময়} [আল-বাকারা: ১৪৩]। আর এটি কেবল সেই সকল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যারা বায়তুল মাকদিসের দিকে ফিরে সালাত আদায় করা অবস্থায় ইন্তেকাল করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়(১)। অতএব, এই আয়াতের পর সালাত যে ঈমানের অংশ, তার আর কী প্রমাণ অন্বেষণ করা যেতে পারে?

অতঃপর তারা তাদের সময়ের একটি দীর্ঘ কাল এভাবে অতিবাহিত করলেন। এরপর যখন তারা দ্রুততার সাথে সালাতের দিকে ফিরে আসলেন এবং এ বিষয়ে তাদের অন্তরসমূহ প্রশস্ত হলো, তখন আল্লাহ তাদের ঈমানের পূর্ববর্তী বিধিবিধানের সাথে যাকাতকেও ফরয হিসেবে অবতীর্ণ করলেন। তিনি বললেন: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত দাও} [আল-বাকারা: ৪৩]। এবং তিনি বললেন: {তাদের ধনসম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন} [আত-তাওবাহ: ১০৩]। সুতরাং, তারা যদি মৌখিক স্বীকৃতির সময় যাকাত প্রদানে বিরত থাকতো এবং মুখে তা স্বীকার করতো ও সালাত কায়েম করতো, কিন্তু যাকাত প্রদান না করতো, তবে তা পূর্ববর্তী সবকিছুকে নস্যাৎকারী এবং মৌখিক স্বীকৃতি ও সালাতকে ভঙ্গকারী বলে গণ্য হতো; ঠিক যেমনটি এর আগে সালাত অস্বীকার করা(২) তার পূর্ববর্তী মৌখিক স্বীকৃতির ভঙ্গকারী ছিল।

আর এর সত্যতার প্রমাণ হলো আরবদের যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে মুহাজির ও আনসারদের নিয়ে আবু বকর সিদ্দিক - রহমাতুল্লাহি আলাইহি - এর জিহাদ, যা মুশরিকদের বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জিহাদের মতোই ছিল। রক্তপাত, পরিবার-পরিজনকে বন্দী করা এবং সম্পদ গণিমত হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে এ দুয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য ছিল না; অথচ তারা যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল মাত্র, কিন্তু একে অস্বীকার (অবিশ্বাস) করেনি।

অতঃপর ইসলামের সকল বিধিবিধানও তদ্রূপ ছিল; যখনই কোনো বিধান অবতীর্ণ হতো, তখন তা যুক্ত হতো...

--------------------------------------------

(১) যেমনটি ইমাম বুখারী (১/ ১৭) (৪০) বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) মূলে রয়েছে: "প্রদান করা", তবে আমি যা স্থির করেছি সেটিই সঠিক।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ما قبلها لاحقةً بها(1)، ويشملها جميعًا اسمُ الإيمان؛ فيقال لأهله: مؤمنون(2).

وهذا هو الموضع الذي غلط فيه من ذهب إلى أن الإيمان بالقول(3)؛ لما سمعوا تسميةَ الله إيَّاهم مؤمنين؛ أوجبوا لهم الإيمان كلَّه بكماله(4).

كما غلطوا في تأويل حديث النَّبي صلى الله عليه وسلم حين سئل عن الإيمان ما هو؟ فقال: "أن تؤمن بالله وكذا وكذا"(5)(6).

--------------------------------------------

(1) في الأصل: "به".

(2) انظر: الإبانة (2/ 628 - 631)؛ فقد ذكر ابن بطة رحمه الله آثارًا عن عدد من السلف: عن ابن عباس، وعثمان بن حنيف وسفيان بن عيينة في معنى ما ذكره المصنف، وبوَّب لها بقوله: "معرفة الإيمان وكيف نزل به الفرقان، وترتيب الفرائض، وأن الإيمان قول وعمل".

وكذا فعل الآجري رحمه الله في الشريعة (3/ 552 - 559) فقد ذكر نحو ما ذكره المصنف من تدرج شرائع الإيمان، ثم ذكر أثري ابن عباس وسفيان ردًا على احتجاج المرجئة بأحاديث الكف عمن قال: (لا إله إلا الله) على إخراج العمل عن مسمى الإيمان.

وقد أشار الحافظ في الفتح (1/ 103 - 104) إلى كلام لأبي عبيد غير موجود في هذه النسخة، فقد قال بعد ذكر أثر سفيان بن عيينة: "وتبعه أبو عبيد في كتاب الإيمان له فذكر نحوه وزاد: أن بعض المخالفين لما أُلزم بذلك أجاب بأن الإيمان ليس هو مجموع الدين؛ إنما الدين ثلاثة أجزاء: الإيمان جزء، والأعمال جزآن، لأنها فرائض ونوافل. وتعقبه أبو عبيد بأنه خلاف ظاهر القرآن".

(3) أي: والاعتقاد دون العمل.

(4) انظر: تعظيم قدر الصلاة (1/ 392)، الفتاوى (7/ 194 - 198).

(5) مثل سؤال جبريل النبي صلى الله عليه وسلم عن ذلك، كما أخرجه البخاري (1/ 15) (50)، ومسلم (1/ 39) (9)، من حديث أبي هريرة رضي الله عنه، ومسلم (1/ 36) (8) من حديث عمر رضي الله عنه.

(6) انظر: الفتاوى (7/ 87).
তার পূর্ববর্তীগুলো সেটির সাথে সম্পৃক্ত হয়(১), এবং এই সমস্ত কিছুকেই ‘ঈমান’ নামটি অন্তর্ভুক্ত করে; ফলে এর অধিকারীদেরকে বলা হয়: মুমিন(২)।

আর এটাই সেই স্থান যেখানে তারা ভুল করেছে যারা মনে করে যে ঈমান হলো কেবল মৌখিক স্বীকৃতির নাম(৩); যখন তারা আল্লাহ কর্তৃক তাদেরকে মুমিন হিসেবে নামকরণ করতে শুনেছে, তখন তারা তাদের জন্য পরিপূর্ণ ঈমানকে তার পূর্ণাঙ্গতাসহ আবশ্যক করে দিয়েছে(৪)।

ঠিক যেমন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের ব্যাখ্যায় ভুল করেছে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ঈমান কী? তখন তিনি বলেছিলেন: "তুমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে এবং এই এই বিষয়ের প্রতি"(৫)(৬)।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "به"।

(২) দেখুন: আল-ইবানাহ (২/ ৬২৮ - ৬৩১); ইমাম ইবনে বাত্তাহ (রহ.) এখানে কতিপয় সালাফ থেকে বেশ কিছু বর্ণনা উল্লেখ করেছেন: ইবনে আব্বাস, উসমান বিন হুনাইফ এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ থেকে লেখক যা উল্লেখ করেছেন তার সমার্থবোধক বর্ণনা। তিনি এর জন্য পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন এই বলে: "ঈমানের পরিচয় এবং কীভাবে কুরআন এর মাধ্যমে নাযিল হয়েছে, ফরযসমূহের বিন্যাস এবং ঈমান যে কথা ও কাজের নাম।"

অনুরূপ কাজ করেছেন ইমাম আজুররী (রহ.) ‘আশ-শারী’য়াহ’ গ্রন্থে (৩/ ৫৫২ - ৫৫৯); তিনি ঈমানের বিধানসমূহের ক্রমিক ধারা সম্পর্কে লেখক যা উল্লেখ করেছেন তার অনুরূপ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি ইবনে আব্বাস ও সুফিয়ানের দুটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন মুরজিয়াদের সেই যুক্তির প্রতিবাদে, যারা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠকারীদের থেকে হাত গুটিয়ে রাখার হাদীসগুলো দিয়ে ঈমানের সংজ্ঞা থেকে আমলকে বাদ দেওয়ার পক্ষে দলীল পেশ করে।

হাফেজ (ইবনে হাজার) ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে (১/ ১০৩ - ১০৪) আবু উবাইদের এমন এক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা এই পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান নেই। তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনাহর বর্ণনা উল্লেখ করার পর বলেছেন: "আবু উবাইদ তার ঈমান বিষয়ক গ্রন্থে তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং অনুরূপ বিষয় উল্লেখ করেছেন এবং অতিরিক্ত যোগ করেছেন যে: কিছু বিরোধী পক্ষকে যখন এ বিষয়ে বাধ্য করা হলো, তখন তারা উত্তর দিল যে, ঈমান দ্বীনের সমষ্টি নয়; বরং দ্বীন তিনটি অংশ: ঈমান একটি অংশ, আর আমল দুটি অংশ, কারণ আমলগুলো হলো ফরয ও নফল। আবু উবাইদ এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, এটি কুরআনের প্রকাশ্য অর্থের পরিপন্থী।"

(৩) অর্থাৎ: আমল ব্যতীত বিশ্বাস।

(৪) দেখুন: তা’জিমু কদরিস সালাত (১/ ৩৯২), আল-ফাতাওয়া (৭/ ১৯৪ - ১৯৮)।

(৫) যেমন জিবরাঈল (আ.)-এর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা, যা বুখারী (১/ ১৫) (৫০) এবং মুসলিম (১/ ৩৯) (৯) আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং মুসলিম (১/ ৩৬) (৮) উমর (রা.)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৬) দেখুন: আল-ফাতাওয়া (৭/ ৮৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. মুসলিম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وحين سأله الذي عليه رقبةٌ مؤمنةٌ عن عتق العجمية؟ فأمر بعتقها، وسمَّاها مؤمنة(1)(2).

وإنما هذا على ما أعلمتك من دخولهم في الإيمان، ومن قبولهم وتصديقهم بما نزل منه، وإنما كان ينزل متفرقًا كنزول القرآن. والشاهد لما نقول والدليل عليه كتاب الله تبارك وتعالى، وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.

فمن الكتاب قوله: {وَإِذَا مَا أُنْزِلَتْ سُورَةٌ فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَهُمْ يَسْتَبْشِرُونَ} [التوبة: 124].

وقوله: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} [الأنفال: 2] في مواضع من القرآن مثل هذا.

أفلست ترى أن الله تبارك وتعالى لم ينزل عليهم الإيمانَ جملةً، كما لم ينزل القرآنَ جملةً؟

فهذه الحجَّة من الكتاب، فلو كان الإيمان مكمَّلًا بذلك الإقرار ما كان للزيادة إذًا معنى، ولا لذكرها موضع.

وأما الحجَّة من السنة: فالآثار(3) المتواترة في هذا المعنى من زيادات قواعد

--------------------------------------------

(1) كما في حديث أبي هريرة رضي الله عنه، أخرجه ابن خزيمة في التوحيد (1/ 283) (182 - 185)، وأخرج نحوه مسلم (1/ 381) (537) من حديث معاوية بن الحكم السلمي رضي الله عنه.

(2) انظر: السنة للخلال (3/ 574)، السنة لعبد الله (1/ 384)، الفتاوى (7/ 209 و 256 و 416).

(3) في المطبوع: "والآثار".
যখন তাঁর কাছে জনৈক ব্যক্তি যার ওপর একজন মুমিন দাস মুক্ত করার দায়ভার ছিল, জনৈক অনারব দাসীকে মুক্ত করার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করল, তখন তিনি তাকে মুক্ত করার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে মুমিন হিসেবে অভিহিত করলেন(১)(২).

এটি আমি আপনাকে যা অবগত করেছি তদানুসারেই, অর্থাৎ তাদের ঈমানে প্রবেশ করা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নাজিল হয়েছে তা গ্রহণ ও সত্যায়ন করার ভিত্তিতে। আর এটি (ঈমানের বিধানসমূহ) কুরআনের অবতরণের ন্যায় পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল। আমরা যা বলছি তার স্বপক্ষে সাক্ষ্য ও প্রমাণ হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার কিতাব এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ।

কিতাব থেকে তাঁর বাণী: {আর যখনই কোনো সূরা নাজিল করা হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘এটি তোমাদের মধ্যে কার ঈমান বৃদ্ধি করল?’ সুতরাং যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়} [আত-তাওবাহ: ১২৪]।

এবং তাঁর বাণী: {মুমিন তো তারাই, যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে ওঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপর ভরসা করে} [আল-আনফাল: ২]। কুরআনের এ জাতীয় আরও বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে।

আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাদের ওপর ঈমানকে একবারে নাজিল করেননি, যেমনটি তিনি কুরআনকেও একবারে নাজিল করেননি?

এটি হলো কিতাব থেকে দলিল। ঈমান যদি কেবল সেই স্বীকৃতির মাধ্যমেই পূর্ণাঙ্গ হতো, তবে ঈমান বৃদ্ধির কোনো অর্থ থাকত না এবং তা উল্লেখ করারও কোনো অবকাশ থাকত না।

আর সুন্নাহ থেকে দলিল হলো: মৌলিক বিধানসমূহ বৃদ্ধির বিষয়ে এই অর্থে বর্ণিত মুতাওয়াতির আসারসমূহ(৩)

--------------------------------------------

(১) যেমনটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে এসেছে, যা ইবনু খুযায়মাহ 'আত-তাওহীদ' (১/২৮৩) (১৮২ - ১৮৫)-এ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম (১/৩৮১) (৫৩৭) মুআবিয়া ইবনুল হাকাম আস-সুলামী রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

(২) দেখুন: আল-খলাল প্রণীত আস-সুন্নাহ (৩/৫৭৪), আবদুল্লাহ প্রণীত আস-সুন্নাহ (১/৩৮৪), আল-ফাতাওয়া (৭/২০৯, ২৫৬ ও ৪১৬)।

(৩) মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: "এবং আসারসমূহ"।