(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: -)
فضل قيام الليل والتهجد للآجري القسم: كتب السنة
الكتاب: فضل قيام الليل والتهجد
المؤلف: أبو بكر محمد بن الحسين بن عبد الله الآجُرِّيُّ البغدادي (ت 360هـ)
المحقق: عبد اللطيف بن محمد الجيلاني الآسفي
الناشر: دار الخضيري - المدينة المنورة
الطبعة: الأولى 1417هـ- 1997م
عدد الصفحات: 153
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433
আল-আজুররীর কিয়ামুল লাইল ও তাহাজ্জুদের মর্যাদা বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
বই: কিয়ামুল লাইল ও তাহাজ্জুদের মর্যাদা
গ্রন্থকার: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আজুররী আল-বাগদাদী (মৃত্যু: ৩৬০ হিজরি)
মুহাক্কিক: আব্দুল লতিফ ইবনে মুহাম্মাদ আল-জিলানী আল-আসিফী
প্রকাশক: দার আল-খুদাইরি - মদিনা মুনাওয়ারা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৩
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: ইয়া বাঘিয়াল খাইর আকবিল
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب فضل قيام الليل والتهجد
تأليف
الإمام أبي بكر محمد بن الحسين الآجري
(ت 360هـ)
دراسة وتحقيق وتخريج
عبد اللطيف بن محمد الجيلاني الآسفي
دار الخضيري
المدينة المنورة
1417هـ- 1997م
কিয়ামুল লাইল ও তাহাজ্জুদের ফযীলত বিষয়ক গ্রন্থ
রচনায়
ইমাম আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুররী
(মৃত্যু ৩৬০ হিজরী)
গবেষণা, সম্পাদনা ও তাখরীজ
আব্দুল লতীফ ইবনে মুহাম্মাদ আল-জীলানী আল-আসিফী
দারুল খুদাইরী
মদীনা মুনাওয়ারা
১৪১৭ হিজরী- ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
حدثنا أبوداود قال: حدثنا الحافظ أبوعمرو المقري قال: حدثنا أبوالقاسم سَلَمَةُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سَلَمَةَ الأستجي. وحدثنا أيضاً أبوعمرو قَالَ: حَدَّثَنَا [ .... عَبْدُ اللَّهِ .... ] حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بن عبد الله الآجري رحمه الله تعالى قَالَ: الْمَحْمُودُ اللَّهُ تَعَالَى فِي كُلِّ حَالٍ وَالْمُصْطَفَى مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم وَعَلَى آلِهِ أَجْمَعِينَ وَبِاللَّهِ أَسْتَعِينُ:
كِتَابُ قِيَامِ اللَّيْلِاعْلَمُوا رَحِمَنَا اللَّهُ وَإِيَّاكُمْ أَنَّ اللَّهَ عز وجل أَثْنَى عَلَى الْمُتَهَجِّدِينَ فِي اللَّيْلِ فَأَحْسَنَ عَلَيْهِمُ الثَّنَاءَ وَوَعَدَهُمْ أَحْسَنَ مَا يَكُونُ مِنَ الْمَوْعِدِ الْجَمِيلِ وَرَغَّبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَى قِيَامِ اللَّيْلِ وَحَثَّ أُمَّتَهُ عَلَيْهِ وَهَكَذَا الْعُلَمَاءُ رَغَّبُوا فِيهِ وَحَثُّوا عَلَى قِيَامِهِ ونَبُلَ عِنْدَ جَمِيعِ الْمُسْلِمِينَ مَنْ
আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হাফিজ আবু আমর আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবুল কাসিম সালামাহ ইবনে সাঈদ ইবনে সালামাহ আল-আস্তাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এবং আবু আমর আমাদের নিকট আরও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন [ .... আবদুল্লাহ .... ], আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনুল হোসেন ইবনে আবদুল্লাহ আল-আজররি (রহমাতুল্লাহি তাআলা), তিনি বলেছেন: সকল অবস্থায় আল্লাহ তাআলাই প্রশংসিত, আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মনোনীত এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর (দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক), আর আল্লাহর নিকটই আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি:
কিয়ামুল লাইল (রাতের সালাত) অধ্যায়আপনারা জেনে রাখুন, আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের প্রতি রহম করুন যে, আল্লাহ মহা মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী রাতে তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের প্রশংসা করেছেন এবং তাদের প্রতি অতি উত্তম প্রশংসা বর্ষণ করেছেন। তিনি তাদের অত্যন্ত সুন্দর ও উত্তম পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সালাত আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন এবং তাঁর উম্মতকে এর প্রতি তাকিদ দিয়েছেন। অনুরূপভাবে উলামায়ে কেরামও এর প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং এটি পালনের তাকিদ দিয়েছেন। আর সকল মুসলমানের নিকট সেই ব্যক্তিই মর্যাদাবান যে
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
كَانَ لَهُ حَظٌّ فِي قِيَامٍ، فَنَحْنُ نُبَيِّنُ لإِخْوَانِنَا مَا فِيهِ مِنَ الْفَضْلِ الْعَظِيمِ وَالْحَظِّ الْجَزِيلِ لِيَكُونَ الرَّاغِبُ فِي قِيَامِ اللَّيْلِ عَلَى بَصِيرَةٍ مِنْ أَمْرِهِ يُتَاجِرُ مَوْلاهُ الْكَرِيمَ بِعِلْمٍ وَيُحْسِنُ الْخِدْمَةَ لِلْمَوْلَى رَجَاءَ الْقُرْبَةِ مِنْهُ
فَأَمَّا مَا وَصَفَ اللَّهُ عز وجل بِهِ الْمُتَّقِينَ مِنْ أَخْلاقِهِمُ الشَّرِيفَةِ فِي الدُّنْيَا الَّتِي أَعْقَبَتْهُمْ عِنْدَ اللَّهِ عز وجل شَرَفَ الْمَنَازِلِ فِي دَارِ السَّلامِ فَأَثْنَى عَلَيْهِمْ بِمَا تَفَضَّلَ بِهِ عَلَيْهِمْ وَوَفَّقَهُمْ لَهُ فَلَهُ الْحَمْدُ عَلَى ذَلِكَ
قَالَ اللَّهُ عز وجل: {إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ. آخِذِينَ مَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُحْسِنِينَ. كَانُوا قَلِيلا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ. وَبِالأَسْحَارِ هم يستغفرون} فَوَصَفَهُمْ جلَّ ذِكْرُهُ بِقِلَّةِ النَّوْمِ أَنَّهُمْ أَكْثَرُ لَيْلِهِمْ قِيَامًا إِلَى السَّحَرِ ثُمَّ أَخَذُوا عِنْدَ السَّحَرِ فِي الاسْتِغْفَارِ لِمَا سَلَفَ مِنْهُمْ مِمَّا لا يُرْضِيهِ وَإِشْفَاقًا مِنْهُمْ عَلَى أَعْمَالِهِمُ الصَّالِحَةِ أَلا تُرْضِيهِ
أَفَتَرى الْكَرِيمَ لا يُجِيبُهُمْ بَلْ يُجِيبُهُمْ وَهُوَ أَكْرَمُ مِنْ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ فِيمَا وَصَفَ بِهِ عِبَادَهُ مِنَ الأَخْلاقِ الَّتِي شَرَّفَهُمْ بِهَا فَقَالَ:
যাদের রাতের সালাতে (কিয়াম) অংশ ছিল, আমরা আমাদের ভাইদের কাছে তাতে বিদ্যমান সুমহান ফযীলত ও প্রচুর অংশ সম্পর্কে বর্ণনা করছি, যাতে তাহাজ্জুদের সালাত আদায়ে আগ্রহী ব্যক্তি তার বিষয়টি সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভ করতে পারে, প্রজ্ঞার সাথে তার মহান মনিবের সাথে লেনদেন করতে পারে এবং তাঁর নৈকট্য লাভের আশায় মনিবের খিদমতকে সুন্দরভাবে আঞ্জাম দিতে পারে।
মহান আল্লাহ মুত্তাকীদের দুনিয়ার যে সুউচ্চ চরিত্র সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, যা আল্লাহর নিকট 'দারুস সালাম'-এ তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে; আল্লাহ তাদের সেই সকল গুণের প্রশংসা করেছেন যা তিনি অনুগ্রহ করে তাদের দান করেছেন এবং যার তাওফীক দিয়েছেন; সুতরাং এর জন্য তাঁরই সকল প্রশংসা।
মহান আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা জান্নাতসমূহ ও ঝরনাধারায় থাকবে। তারা তাদের প্রতিপালক যা দেবেন তা গ্রহণ করবে। নিশ্চয়ই তারা এর পূর্বে সৎকর্মপরায়ণ ছিল। তারা রাতের সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত।" আল্লাহ তাআলা তাদের অল্প ঘুমের বর্ণনা দিয়েছেন যে, তারা তাদের রাতের অধিকাংশ সময় সেহরি পর্যন্ত কিয়াম বা ইবাদতে দাঁড়িয়ে অতিবাহিত করত, অতঃপর সেহরির সময় তারা তাদের অতীত হয়ে যাওয়া এমন সব কাজের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা শুরু করত যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে না, এবং তাদের নেক আমলগুলো আল্লাহ কবুল করবেন কি না সেই আশঙ্কায় বা ভয়ে থাকতো।
আপনি কি মনে করেন সেই মহান দাতা তাদের ডাকে সাড়া দেবেন না? বরং তিনি অবশ্যই তাদের ডাকে সাড়া দেন এবং তিনি এর চেয়েও অনেক বেশি মহানুভব। অতঃপর তিনি তাঁর বান্দাদের সেই সকল চরিত্র সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যা দিয়ে তিনি তাদের সম্মানিত করেছেন এবং বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
{وَعِبَادُ الرَّحْمَنِ الَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى الأَرْضِ هَوْنًا. وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلامًا. وَالَّذِينَ يَبِيتُونَ لِرَبِّهِمْ سجدا وقياما}
فَوَصَفَهُمْ جلَّ ذِكْرُهُ أَنَّهُمْ فِي مَبِيتِهِمْ فِي لَيْلِهِمْ لَيْسَ هُمْ كَغَيْرِهِمْ مِنْ سَائِرِ النَّاسِ وَذَلِكَ أَنَّ أَكْثَرَ الْخَلْقِ يَتَلَذَّذُونَ بِالنَّوْمِ وَهَؤُلاءِ اسْتَأْثَرُوا الْخِدْمَةَ لِمَوْلاهُمُ الْكَرِيمِ ثُمَّ وَصَفَهُمْ جَلَّ ذِكْرُهُ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ فَقَالَ: {تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَن الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وطمعا ومما رزقناهم ينفقون}
وَقَالَ اللَّهُ عز وجل: {أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وقائما يحذر الآخرة ويرجوا رَحْمَةَ رَبِّهِ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ إنما يتذكر أولوا الألباب}
{আর দয়াময় (রহমান)-এর বান্দা তারাই, যারা জমিনে নম্রভাবে চলাফেরা করে। এবং যখন অজ্ঞরা তাদের সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, 'সালাম'। আর যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সেজদাবনত ও দণ্ডায়মান হয়ে রাত অতিবাহিত করে।}
অতঃপর আল্লাহ—তাঁর উল্লেখ মহান হোক—তাদের এই বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন যে, তারা তাদের রাত যাপনের ক্ষেত্রে অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো নয়। আর তা এজন্য যে, অধিকাংশ সৃষ্টিই ঘুমের স্বাদ গ্রহণ করে, কিন্তু তারা তাদের সম্মানিত রবের খিদমতকে (ইবাদতকে) প্রাধান্য দিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ—তাঁর উল্লেখ মহান হোক—অন্যত্র তাদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা থাকে, তারা তাদের রবকে ডাকেন ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদের যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।}
এবং আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেছেন: {যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে প্রহরে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, পরকালকে ভয় করে এবং তার রবের রহমতের আশা করে (সে কি তার সমান যে তা করে না)? বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান? কেবল বুদ্ধিমানরাই উপদেশ গ্রহণ করে।}
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ تَدَبَّرُوا رَحِمَكُمُ اللَّهُ مَا تَسْمَعُونَ مِنْ مَوْلاكُمُ الْكَرِيمِ كَيْفَ يُخْبِرُ بِكَثْرَةِ سُجُودِهِمْ وَطُولِ قِيَامِهِمْ وَحُسْنِ خِدْمَتِهِمْ، ثُمَّ أَخْبَرَ عَنْهُمْ بَعْدَ هَذَا الكدِّ الشَّدِيدِ أَنَّهُمْ عَلَى حَذَرٍ مِمَّا حَذَّرَهُمْ مِنْ عَظِيمِ شَأْنِ الآخِرَةِ وَشِدَّةِ أَهْوَالِهَا، وَأَنَّ الْغَالِبَ عَلَى قُلُوبِهِمْ شِدَّةُ الْخَوْفِ وَالْوَجَلُ مَعَ الْمُسَارَعَةِ فِيمَا يُرْضِيهِ، وَكَذَلِكَ وَصَفَهُمْ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ مِنْ كِتَابِهِ فَقَالَ عز وجل: {إِنَّ الَّذِينَ هُمْ مِنْ خَشْيَةِ رَبِّهِمْ مشفقون. والذين هم بآبات رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ. وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لا يُشْرِكُونَ. وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ. أُولَئِكَ يُسَارِعُونَ فِي الخيرات وهم لها سابقون} وَقَالَ عز وجل: {لَيْسُوا سَوَاءً مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ أُمَّةٌ قَائِمَةٌ يَتْلُونَ آيَاتِ اللَّهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وهم يسجدون} فَأَخْبَرَ عز وجل عَنْ تِلاوَتِهِمْ لِلْقُرْآنِ فِي اللَّيْلِ تَارَةً قِيَامًا وَتَارَةً للَّهِ سُجَّدًا.
মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন বলেন, আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন, আপনারা আপনাদের মহান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা শুনছেন তা নিয়ে চিন্তা করুন—কীভাবে তিনি তাদের সেজদার আধিক্য, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা এবং চমৎকার আনুগত্য সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন। অতঃপর তিনি এই কঠোর পরিশ্রমের পরেও তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, পরকালের মহান অবস্থা এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে তিনি তাদের যা সতর্ক করেছেন, সে বিষয়ে তারা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রয়েছে; এবং তাদের অন্তরের ওপর প্রবল হয়ে আছে তীব্র ভয় ও কম্পন, আর সেই সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে তারা দ্রুত ধাবিত হয়। এভাবেই মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের অন্য এক স্থানে তাদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: {নিশ্চয়ই যারা তাদের রবের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। এবং যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে। এবং যারা তাদের রবের সাথে কোনো শরিক করে না। এবং যারা দান করার সময় এই অবস্থায় দান করে যে, তাদের অন্তর এই ভয়ে কম্পিত থাকে যে, তারা তাদের রবের কাছে প্রত্যাবর্তন করবে। তারাই মূলত কল্যাণের কাজে দ্রুত ধাবিত হয় এবং তারাই এতে অগ্রগামী।} মহান আল্লাহ আরো বলেন: {তারা সবাই সমান নয়; আহলে কিতাবদের মধ্যে একনিষ্ঠ একদল রয়েছে যারা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তারা রাতের বেলায় আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং তারা সেজদায় অবনত হয়।} সুতরাং মহান আল্লাহ তাদের রাতের বেলা কুরআন তিলাওয়াত সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন—কখনও দাঁড়িয়ে আবার কখনও আল্লাহর জন্য সেজদাবনত অবস্থায়।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ فِيمَا وَصَفَ بِهِ أَهْلَ التَّهَجُّدِ فِي اللَّيْلِ فَقَالَ:
قَدْ حَمَّلُوا اللَّيْلَ أَبْدَانًا مُذَلَّلَةً
… ... وَأَنْفُسُنَا لا دَنِيَّاتٌ وَلا دُونْ
وَرَاوَحُوا بَيْنَ أقدام لهم صبر
… وأوجه عفروا مِنْهَا الْعَرَانِينْ
يَتْلُونُ فِي مُحْكَمِ الْفُرْقَانِ أَمْنَتَهُ
… وَتَارَةً سُجَّدًا لِلَّهِ يَبْكُونْ
تُمْرِي قَوَارِعُ فِي الْقُرْآنِ أَعْيُنَهُمْ
… مَرْيَ الْمُرَايِي أَكُفَّ الْمُسْتَدِيرِينْ
⦗ص: 78⦘وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ أَيْضًا:
إِذَا مَا اللَّيْلُ أَظْلَمَ كَابَدُوهُ
… ... فَيُسْفِرُ عَنْهُمْ وَهُمْ رُكُوعُ
أَطَارَ الْخَوْفُ نَوْمَهُمُ فَقَامُوا
… ... وَأَهْلُ الأَمْنِ فِي الدُّنْيَا هُجُوعُ
1 - حَدَّثَنَا بِهَذَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَبَّاسِ الطَّيَالِسِيُّ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ شَقِيقٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، وَذَكَرَ هَذِهِ الأَبْيَاتَ.
আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রাতের তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের বর্ণনায় বলেছেন:
তারা রাতকে নতিস্বীকারকারী দেহের ভারে সঁপে দিয়েছে
… ... এবং আমাদের নফসসমূহ হীন নয় এবং তুচ্ছও নয়
তারা তাদের ধৈর্যশীল পদযুগলের ওপর একের পর এক ভর দিয়েছে
… এবং এমন মুখমণ্ডল যার নাসিকাগ্রসমূহ তারা ধূলিধূসরিত করেছে
তারা সুদৃঢ় ফুরকানের আমানত তিলাওয়াত করে
… এবং কখনো আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ক্রন্দন করে
কুরআনের ভীতিপ্রদ আয়াতগুলো তাদের চক্ষু থেকে অশ্রু নিংড়ে আনে
… যেভাবে দোহনকারী হস্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে দুগ্ধ নিংড়ে বের করে আনে
⦗পৃষ্ঠা: ৭৮⦘ইবনুল মুবারক আরও বলেছেন:
যখন রাত অন্ধকারাচ্ছন্ন হয় তখন তারা তার কষ্ট সহ্য করে
… ... অতঃপর তাদের নিকট ভোর হয় এমতাবস্থায় যে তারা রুকুতে রত থাকে
ভয় তাদের নিদ্রা উড়িয়ে দিয়েছে ফলে তারা দাঁড়িয়ে ইবাদত করে
… ... অথচ দুনিয়াতে যারা নিরাপদ বোধ করে তারা গভীর ঘুমে মগ্ন
১ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস আত-তায়ালিসি আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে শাকিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক এই কবিতাগুলো উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
2 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ يَحْيَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَاعِدٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ أَخْبَرَنَا مُبَارَكُ بْنُ فَضَالَةَ عَنِ الْحَسَنِ فِي قَوْلِ اللَّهِ عز وجل: {كَانُوا قَلِيلا مِنَ الليل ما يهجعون} قَالَ قَلِيلٌ مِنَ اللَّيْلِ مَا ينامون: {وبالأسحار ⦗ص: 80⦘ هم يستغفرون} قَالَ مَدُّوا الصَّلاةَ إِلَى الأَسْحَارِ ثُمَّ أَخَذُوا فِي الأَسْحَارِ بِالاسْتِغْفَارِ.
২ - আমাদের কাছে আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়িদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আল-হুসাইন ইবনুল হাসান আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে মুবারক ইবনে ফাদালা হাসান (বাসরী) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন: {তারা রাতের সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত}। তিনি বলেন: তারা রাতের সামান্য অংশই ঘুমাতো। {আর শেষ রাতে ⦗পৃষ্ঠা: ৮০⦘ তারা ক্ষমা প্রার্থনা করত}। তিনি বলেন: তারা সালাতকে শেষ রাত পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করত, অতঃপর শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনায় আত্মনিয়োগ করত।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৮১)
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَثِّ عَلَى قِيَامِ اللَّيْلِ وَرَغَّبَ فِيهِ أُمَّتَهُ وَأَخْبَرَ أَنَّهُ لا صَلاةَ بَعْدَ صَلاةِ الْفَرِيضَةِ أَفْضَلُ مِنْ قِيَامِ اللَّيْلِ:
3 - حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الْحُلْوَانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحِمَّانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ
⦗ص: 82⦘ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم (ح) قَالَ الْحُلْوَانِيُّ وَحَدَّثَنَا الْحِمَّانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَفْضَلُ الصَّلاةِ بَعْدَ الصَّلاةِ الْمَفْرُوضَةِ صَلاةُ اللَّيْلِ.
মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে রাতের সালাত আদায়ের উৎসাহ প্রদানের বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি এতে তাঁর উম্মতকে আগ্রহী করেছেন ও সংবাদ দিয়েছেন যে, ফরজ সালাতের পর রাতের সালাতের চেয়ে উত্তম আর কোনো সালাত নেই:
৩ - আবু জাফর আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া বিন আব্দুল হামিদ আল-হিমমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে
⦗পৃষ্ঠা: ৮২⦘ তিনি মুহাম্মদ বিন আল-মুনতাশির থেকে, তিনি হুমায়দ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। (হ) আল-হুলওয়ানি বলেন এবং আমাদের নিকট আল-হিমমানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বিশর থেকে, তিনি হুমায়দ বিন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: "ফরজ সালাতের পর শ্রেষ্ঠ সালাত হলো রাতের সালাত।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصوفي قال حدثنا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ رَبِيعَةَ بن يزيد ⦗ص: 84⦘ عن أبي إِدْرِيسَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ فَإِنَّهُ دَأْبُ الصَّالِحِينَ قَبْلَكُمْ وَقُرْبَةٌ إِلَى اللَّهِ عز وجل وَمَكْفَرَةٌ لِلسَّيِّئَاتِ وَمَبْرَأَةٌ مِنَ الإِثْمِ وَمَنْهَاةٌ عَنِ الإِثْمِ.
৪ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সুফী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি রাবিয়া ইবনে ইয়াযিদ থেকে ⦗পৃষ্ঠা: ৮৪⦘ তিনি আবু ইদরিস থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা রাতের সালাত (কিয়ামুল লাইল) নিয়মিত আদায় করো; কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককার লোকদের রীতি, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, গুনাহ মোচনকারী এবং পাপাচার থেকে মুক্তিদানকারী ও নিবৃত্তকারী।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
5 - وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رُزَيْقٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ ⦗ص: 87⦘ سُلَيْمَانَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ أَبِي الْعَلاءِ الْعَنَزِيِّ عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ عَنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ فَإِنَّهُ دَأْبُ الصَّالِحِينَ قَبْلَكُمْ وَهُوَ قُرْبٌ مِنَ اللَّهِ عز وجل وَتَكْفِيرٌ لِلسَّيِّئَاتِ وَمَنْهَاةٌ عَنِ الإِثْمِ وَمَطْرَدَةٌ لِلدَّاءِ عَنِ الْجَسَدِ.
৫ - আমাদের নিকট আবু বকর বিন আবি দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইয়াজিদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রুজায়িক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ওয়ালিদ বিন মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৮৭⦘ সুলাইমান আমাশ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু আল-আলা আল-আনাযি থেকে, তিনি সালমান আল-ফারিসি থেকে এবং তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: তোমরা অবশ্যই রাতের সালাত (কিয়ামুল লাইল) আদায় করবে; কেননা তা তোমাদের পূর্ববর্তী নেককার লোকদের অভ্যাস ছিল। এটি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, পাপমোচনকারী, গুনাহ থেকে নিবৃত্তকারী এবং শরীর থেকে রোগ বিতাড়নকারী।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
6 - حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ يُوسُفَ الشِّكْلِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ الصُّغْدِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ مُوسَى قَالَ حَدَّثَنَا شَرِيكُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ الأَعْمَشِ ⦗ص: 89⦘ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ كَثُرَتْ صَلاتُهُ بِاللَّيْلِ حَسُنَ وَجْهُهُ بِالنَّهَارِ.
৬ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল ফজল আল-আব্বাস ইবনে ইউসুফ আশ-শিকলি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব ইবনে সুলাইমান আস-সুগদি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাবিত ইবনে মুসা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন শারিক ইবনে আব্দুল্লাহ, আল-আমাশ থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৮৯⦘ আবু সুফিয়ান থেকে, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তির রাতে সালাত আদায় অধিক হয়, দিনে তার চেহারা সুন্দর হয়।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৯২)
7 - وَحَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الشِّكْلِيُّ أَيْضًا قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُوَفَّقٍ [ .. .. ] مَا بَالُ أَهْلِ اللَّيْلِ حِسَانُ الْوُجُوهِ قَالَ: لأَنَّهُمْ قَرُبُوا مِنَ اللَّهِ عز وجل فَكَسَاهُمْ مِنْ نُورِهِ.
৭ - এবং আবুল ফজল আশ-শিকলিও আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনে মুওয়াফফাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন [ .. .. ] রাত জাগরণকারীদের (ইবাদতকারীদের) অবস্থা কী যে তাদের চেহারাগুলো এত সুন্দর? তিনি বললেন: কারণ তারা মহান আল্লাহর নিকটবর্তী হয়েছে, ফলে তিনি তাদেরকে তাঁর নূর দ্বারা আচ্ছাদিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৯২)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ قَالَ حَدَّثَنَا ⦗ص: 93⦘ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبَّادٍ أَخُو حَمْدُونِ بْنِ عَبَّادٍ الْفَرْغَانِيُّ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ قَالَ حَدَّثَنَا شَيْخٌ مِنَ الْبَصْرِيِّينَ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ قِيلَ لِلْحَسَنِ: مَا بَالُ الْمُتَهَجِّدِينَ أَحْسَنُ النَّاسِ وُجُوهًا؟ قَالَ: لأَنَّهُمْ خَلَوْا بِالرَّحْمَنِ فَأَلْبَسَهُمْ نُورًا مِنْ نُورِهِ.
৮ - আমাদের নিকট আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাখলাদ আল-আত্তার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৯৩⦘ আব্দুল আজিজ বিন আব্বাদ, যিনি হামদুন বিন আব্বাদ আল-ফারগানীর ভাই; মুহাম্মদ বিন আব্দুল হামিদ বলেন, আমাদের নিকট বসরার অধিবাসীদের মধ্য থেকে জনৈক শায়খ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাইল বিন মুসলিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল-হাসানকে বলা হলো: তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের বিষয়টি কী যে, তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চেহারার অধিকারী? তিনি বললেন: কারণ তারা রহমানের সাথে নির্জনে নিভৃতে অবস্থান করেছে, তাই তিনি তাদেরকে তাঁর নিজস্ব নূর থেকে নূর দ্বারা আচ্ছাদিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
9 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو كُرْيَبٍ ⦗ص: 94⦘ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ الْهَمْدَانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ وَأَبِي الْكَنُودِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ يَضْحَكُ اللَّهُ عز وجل إِلَى رَجُلَيْنِ رَجُلٌ قَامَ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ وَأَهْلُهُ نِيَامًا فَتَطَهَّرَ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي فَيَضْحَكُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَرَجُلٌ لَقِيَ الْعَدُوَّ فَانْهَزَمَ أَصْحَابُهُ وَثَبَتَ حَتَّى رَزَقَهُ اللَّهُ عز وجل الشَّهَادَةَ.
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর জাফর ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু কুরায়ব ⦗পৃষ্ঠা: ৯৪⦘ মুহাম্মদ ইবনুল আলা আল-হামদানি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আদম, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসরাঈল, আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু উবায়দাহ ও আবু আল-কানুদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী দুইজন ব্যক্তির প্রতি হাসেন; এক ব্যক্তি যে রাতের গভীরে জেগে ওঠে যখন তার পরিবার পরিজন ঘুমন্ত থাকে, অতঃপর সে পবিত্রতা অর্জন করে এবং সালাতে দাঁড়ায়, তখন আল্লাহ তার প্রতি হাসেন। আর অন্য এক ব্যক্তি যে শত্রুর সম্মুখীন হয়, অতঃপর তার সাথীরা পরাজিত হয়ে পলায়ন করলেও সে অটল থাকে যতক্ষণ না আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাকে শাহাদাত দান করেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
10 - حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحِ بْنِ ذُرَيْحٍ الْعُكْبَرِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ⦗ص: 96⦘ إِسْحَاقَ عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ فِي الْجَنَّةِ غُرَفًا يُرَى بُطُونُهَا مِنْ ظُهُورِهَا وَظُهُورُهَا مِنْ بُطُونِهَا قَالَ فَقَامَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ لِمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ هِيَ لِمَنْ طَيَّبَ الْكَلامَ وَأَطْعَمَ الطَّعَامَ وَأَفْشَى السَّلامَ وَصَلَّى بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ.
১০ - আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনে যুরাইহ আল-উকবারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হান্নাদ ইবনুল সারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৯৬⦘ ইসহাক থেকে, তিনি নুমান ইবনে সাদ থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই জান্নাতে এমন কিছু কক্ষ রয়েছে যেগুলোর ভেতর থেকে বাহির দেখা যায় এবং বাহির থেকে ভেতর দেখা যায়।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন জনৈক বেদুঈন দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, "হে আল্লাহর রাসূল! এগুলো কাদের জন্য?" তিনি বললেন, "এগুলো তার জন্য যে উত্তম কথা বলে, অন্ন দান করে, সালামের প্রসার ঘটায় এবং রাতে সালাত আদায় করে যখন মানুষ ঘুমিয়ে থাকে।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
11 - حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مِنْجَابُ بْنُ الْحَارِثِ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ أَبِي ⦗ص: 98⦘ إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ إِنَّ فِي التَّوْرَاةِ مَكْتُوبًا لَقَدْ أَعْطَى اللَّهُ عز وجل الَّذِينَ تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ مَا لَمْ تَرَ عَيْنٌ وَلا تَسْمَعْ أُذُنٌ وَلَمْ يَخْطُرْ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ مَا لا يَعْلَمُهُ مَلَكٌ مُقَرَّبٌ وَلا نَبِيٌّ مُرْسَلٌ، قَالَ وَنَحْنُ نَقْرَؤُهَا: {فَلا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ من قرة أعين}.
১১ - আমাদের নিকট আল-ফিরইয়াবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মিনজাব ইবনুল হারিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু আল-আহওয়াস বর্ণনা করেছেন আবু ইসহাক থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৯৮⦘ আবু উবায়দাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসউদ বলেছেন: নিশ্চয়ই তাওরাতে লিখিত রয়েছে, আল্লাহ তাআলা মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত সেই লোকদের জন্য—যাদের পার্শ্বদেশ (বিছানা থেকে) আলাদা থাকে—এমন কিছু দান করেছেন যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরেও তা কখনো কল্পনা আসেনি, যা কোনো নিকটবর্তী ফেরেশতা কিংবা কোনো প্রেরিত নবীও জানেন না। তিনি বলেন, আর আমরা তা (কুরআনে) এভাবে পড়ি: {অতঃপর কেউ জানে না তাদের জন্য তাদের নয়নপ্রীতিকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে।}
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو الْفَضْلِ الْعَبَّاسُ بْنُ يُوسُفَ الشِّكْلِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَمِّي قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ ⦗ص: 99⦘ قَالَ حَدَّثَنَا هِلالٌ قَالَ حَدَّثَنِي طَلْحَةُ بْنُ مُصَرِّفٍ قَالَ بَلَغَنِي أَنَّ الْعَبْدَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ لِلتَّهَجُّدِ نَادَاهُ مَلَكٌ طُوبَى لَكَ سَلَكْتَ مِنْهَاجَ الْعَابِدِينَ قَبْلَكَ، قَالَ وَإِنَّ لَيْلَتَهُ تِلْكَ لَتُوصِيَ بِهِ اللَّيْلَةَ الأُخْرَى أَنْ أَيْقِظِيهِ فِي وَقْتِهِ الَّذِي قَامَ فِيهِ، قَالَ وَيَتَنَاثَرُ عَلَيْهِ الْبِرُّ مِنْ أَعْنَانِ السَّمَاءِ إِلَى مَفْرِقِ رَأْسِهِ وَيُنَادِيهِ مُنَادٍ لَوْ يَعْلَمُ الْمُنَاجِي مَنْ يُنَادِي مَا انْفَتَلَ.
১২ - আমাদের নিকট আবুল ফজল আব্বাস ইবনে ইউসুফ আশ-শিকলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আমার চাচা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবনে আবি মারইয়াম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হুসাইন ইবনে আলী আল-জু'ফী ⦗পৃষ্ঠা: ৯৯⦘ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হিলাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাকে তালহা ইবনে মুসাররিফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, নিশ্চয়ই বান্দা যখন রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশ্যে দাঁড়ায়, তখন একজন ফেরেশতা তাকে ডেকে বলেন, "তোমার জন্য সুসংবাদ! তুমি তোমার পূর্ববর্তী ইবাদতকারীদের পথ অনুসরণ করেছ।" তিনি বলেন, এবং তার সেই রাতটি পরবর্তী রাতকে তার সম্পর্কে এই অসিয়ত করে যে, "তাকে সেই সময়েই জাগিয়ে দিও যে সময়ে সে দাঁড়িয়েছিল।" তিনি বলেন, এবং আকাশের দিগন্ত থেকে তার মাথার সিঁথি পর্যন্ত তার ওপর পুণ্য বর্ষিত হতে থাকে এবং একজন ঘোষণাকারী তাকে ডেকে বলেন, "মুনাজাতকারী যদি জানত সে কার সাথে মুনাজাত করছে, তবে সে ফিরত না।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১০০)
13 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بن وهب عن عمرو الْحَارِثِ عَنْ دَرَّاجٍ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الشِّتَاءُ رَبِيعُ الْمُؤْمِنِ قَصُرَ نَهَارُهُ فَصَامَهُ وَطَالَ ليله فقامه.
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আস-সুফী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারুন ইবনে মা'রূফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব, আমর ইবনুল হারিস হতে, তিনি দাররাজ হতে, তিনি আবুল হায়সাম হতে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল; এর দিন সংক্ষিপ্ত হওয়ায় সে রোজা রাখে এবং এর রাত দীর্ঘ হওয়ায় সে কিয়াম (সালাত আদায়) করে।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১০১)
14 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَيُّوبَ السَّقَطِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ الدَّوْرَقِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ قَالَ حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ قَالَ كَانَ إِذَا جَاءَ الشِّتَاءُ قَالَ يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ طَالَ اللَّيْلُ لِصَلاتِكُمْ وَقَصُرَ النَّهَارُ لِصِيَامِكُمْ فَاغْتَنِمُوا.
১৪ - আমাদের নিকট উমর ইবনে আইয়ুব আস-সাকাতী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইয়াকুব আদ-দাওরাকী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হুসাইন বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ থেকে, তিনি উবায়দ ইবনে উমাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন শীতকাল আসত, তখন তিনি বলতেন: হে কুরআনের ধারকগণ! তোমাদের সালাতের জন্য রাত দীর্ঘ হয়েছে এবং তোমাদের সিয়ামের জন্য দিন ছোট হয়েছে, অতএব তোমরা একে গনীমত হিসেবে গ্রহণ করো।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১০২)
15 - حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّنْدَلِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُجَشِّر قَالَ حَدَّثَنَا هُشَيْمُ بْنُ بَشِيرٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلُّوا مِنَ اللَّيْلِ وَلَوْ رَكْعَتَيْنِ، مَا مِنْ أَهْلِ بَيْتٍ تُعْرَفُ لَهُمْ صَلاةٌ
⦗ص: 103⦘ بِاللَّيْلِ إِلا نَادَاهُمْ مُنَادٍ يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ قُومُوا لصلاتكم.
قال هشيم وأخبرنا غَيْرُ أَبِي عَامِرٍ أَنَّ الْحَسَنَ قَالَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ: فَاللَّهُ أَعْلَمُ مَا ذَاكَ الْمُنَادِي.
১৫ - জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সানদালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইব্রাহিম ইবনে মুজাশশির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুশাইম ইবনে বাশির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাসান বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা রাতে সালাত আদায় করো, যদিও তা দুই রাকাত হয়। এমন কোনো পরিবারের লোক নেই যাদের রাতের সালাতের কথা জানা যায়
⦗পৃষ্ঠা: ১০৩⦘ রাতে, তবে একজন ঘোষণাকারী তাদের ডেকে বলেন: হে কুরআনের ধারকগণ, তোমাদের সালাতের জন্য দাঁড়াও।
হুশাইম বলেন, আবু আমির ছাড়া অন্য একজন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, হাসান এই হাদিসের বিষয়ে বলেছেন: সেই ঘোষণাকারী কে, তা আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ قَالَ حَدَّثَنَا سَعْدَانُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الأَزْرَقُ عَنْ عَوْفٍ الأَعْرَابِيِّ عَنْ ⦗ص: 104⦘ أَبِي مَخْلَدٍ عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو مُسْلِمٍ قَالَ قُلْتُ لأَبِي ذَرٍّ أَيُّ صَلاةِ اللَّيْلِ أَفْضَلُ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قال نِصْفُ اللَّيْلِ وَقَلِيلٌ فَاعِلُهُ.
১৬ - আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আল-আত্তার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সাদান ইবনে নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইসহাক আল-আজরাক বর্ণনা করেছেন আউফ আল-আরাবি থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ১০৪⦘ আবু মাখলাদ থেকে, তিনি আবুল আলিয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাকে আবু মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু যারকে বললাম, রাতের কোন সালাত সর্বোত্তম? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বললেন: মধ্যরাত, আর এর সম্পাদনকারী খুব সামান্য।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ يَنْبَغِي لِمَنْ كَانَ لَهُ حَظٌّ مِنَ اللَّيْلِ أَنْ يَدُومَ عَلَيْهِ وَيُرَاعِيَهُ قَلَّ ذَلِكَ أَوْ كَثُرَ وَيَتَحَذَّرَ مِنْ فُتُورِ النَّفْسِ فَإِنَّ النَّفْسَ رُبَّمَا فَتَرَتْ وَاسْتَلَذَّتِ النَّوْمَ فِي وَقْتِ الْقِيَامِ فَزَيَّنَ لَهَا الشَّيْطَانُ النَّوْمَ لِيَنَامَ عَنِ الْقِيَامِ حَسَدًا مِنْهُ لِلْمُؤْمِنِ فَيَنْبَغِي لِمَنْ أَحَسَّ بِذَلِكَ مِنْ نَفْسِهِ أَنْ يُكْثِرَ الذِّكْرَ للَّهِ عز وجل عِنْدَ استيقاظه وينضح الماء عل وَجْهِهِ فَإِنَّهُ يَنْطَرِدُ عَنْهُ مَا أَمَّلَهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْفُتُورِ عَنِ الْقِيَامِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
17 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْوَاسِطِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنِ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ
⦗ص: 106⦘ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا نَامَ أَحَدُكُمْ عَقَدَ الشَّيْطَانُ عَلَى رَأْسِهِ ثَلاثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ أَيِ ارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ فإن صلى انجلت الْعُقَدُ كُلُّهَا، قَالَ فَيُصْبِحُ طَيِّبَ النفيس نَشِيطًا وَإِلا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كسلانا.
মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বলেন, রাতের বেলা (ইবাদতের) যার কোনো অংশ নির্ধারিত আছে, তার উচিত তা নিয়মিত বজায় রাখা এবং তার প্রতি যত্নবান হওয়া, তা অল্প হোক বা বেশি। আর নফসের শিথিলতা বা অলসতা থেকে সতর্ক থাকা উচিত; কেননা নফস অনেক সময় অলস হয়ে পড়ে এবং কিয়ামের (রাতের নামাজের) সময় ঘুমকে আনন্দদায়ক মনে করে। ফলে শয়তান মুমিনের প্রতি হিংসাবশত তাকে কিয়াম থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে তার কাছে ঘুমকে সুশোভিত করে তোলে। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের মাঝে এমন কিছু অনুভব করবে, তার উচিত জাগ্রত হওয়ার পর মহান আল্লাহর জিকির অধিক পরিমাণে করা এবং নিজ মুখে পানির ঝাপটা দেওয়া। এর ফলে শয়তান কিয়ামের ব্যাপারে অলসতা সৃষ্টির যে আশা করেছিল, তা তার থেকে দূর হয়ে যাবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
১৭ - আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল হামিদ আল-ওয়াসিতি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবি আব্দুর রহমান আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়ায়না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুয যিনাদ থেকে, তিনি আল-আরাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে,
⦗পৃষ্ঠা: ১০৬⦘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখন তোমাদের কেউ ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শয়তান তার মাথার শেষ অংশে তিনটি গিট দেয়। প্রতিটি গিটের ওপর সে এই বলে চাপ দেয় যে, ‘তোমার সামনে দীর্ঘ রাত পড়ে আছে, সুতরাং তুমি ঘুমাও’। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহর জিকির করে, তবে একটি গিট খুলে যায়। যদি সে অজু করে, তবে আরেকটি গিট খুলে যায়। আর যদি সে নামাজ পড়ে, তবে সবকটি গিট খুলে যায়। এর ফলে সে পবিত্র মনে ও প্রফুল্ল চিত্তে ভোরে উপনীত হয়। অন্যথায় সে অপবিত্র মনে ও অলস অবস্থায় ভোরে উপনীত হয়।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
18 - وَحَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ الْعَطَّارُ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ سَعِيدٍ الأَصْبَهَانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا بَكْرُ ⦗ص: 107⦘ بْنُ بَكَّارٍ قَالَ حَدَّثَنَا قُرَّةُ عَنْ عَطِيَّةَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ ⦗ص: 108⦘ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا أَحَدٌ يَنَامُ إِلا ضُرِبَ عَلَى سِمَاخِهِ بِجَرِيرٍ مُعْقَدٍ فَإِنِ اسْتَيْقَظَ وَذَكَر اللَّهَ حُلَّتْ عُقْدَةٌ فإن استيقظ توضأ حُلَّتْ عُقْدَةٌ أُخْرَى فَإِنْ قَامَ يُصَلِّي حُلَّتِ الْعُقَدُ كُلُّهَا فَإِنْ هُوَ لَمْ يَسْتَيْقِظْ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَلَمْ يُصَلِّ أَصْبَحَتِ الْعُقَدُ كُلُّهَا كَهَيْئَتِهَا وَبَالَ الشَّيْطَانُ فِي أُذُنِهِ.
১৮ - আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ আল-আত্তার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে সাঈদ আল-আসবাহানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বকর ⦗পৃষ্ঠা: ১০৭⦘ ইবনে বাক্কার বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট কুররাহ বর্ণনা করেছেন আতিয়্যাহ ইবনে সাদ থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ⦗পৃষ্ঠা: ১০৮⦘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "এমন কেউ নেই যে ঘুমালে তার কানের ছিদ্রে একটি গিঁট দেওয়া রশি দ্বারা আঘাত করা হয় না। এরপর যদি সে জাগ্রত হয় এবং আল্লাহর স্মরণ করে, তবে একটি গিঁট খুলে যায়। যদি সে ওযু করে, তবে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। অতঃপর যদি সে সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ায়, তবে সকল গিঁট খুলে যায়। কিন্তু সে যদি জাগ্রত না হয়, ওযু না করে এবং সালাত আদায় না করে, তবে সকালবেলা সকল গিঁট পূর্বাবস্থায় থেকে যায় এবং শয়তান তার কানে প্রস্রাব করে দেয়।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
19 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ قَالَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنِ ابْنِ عَجْلانَ حَدَّثَنِي الْقَعْقَاعُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ ⦗ص: 110⦘ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَحِمَ اللَّهُ رَجُلا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَصَلَّتْ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا مِنَ الْمَاءِ وَرَحِمَ اللَّهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ ثُمَّ أَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ مِنَ الْمَاءِ.
১৯ - আবু বকর ইবনে আব্দুল হামিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম আদ-দাওরাকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট ইবনে আজলান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল-কাক্কা ইবনে হাকীম আমার নিকট আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১১০⦘ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ সেই পুরুষের প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে সালাত আদায় করে এবং তার স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয়, ফলে সেও সালাত আদায় করে। যদি সে অস্বীকার করে, তবে সে তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়। আর আল্লাহ সেই নারীর প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে সালাত আদায় করে এবং তার স্বামীকে জাগিয়ে দেয়, অতঃপর সেও সালাত আদায় করে। যদি সে অস্বীকার করে, তবে সে তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১১১)
20 - وحَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الْجَوْزِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدُّورِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى قَالَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الأَقْمَرِ عَنِ الأَغَرِّ أَبِي مُسْلِمٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنِ اسْتَيْقَظَ مِنَ اللَّيْلِ وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ فَصَلَّيَا رَكْعَتَيْنِ جَمِيعًا كُتِبَا مِنَ الذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ.
২০ - এবং আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবনু মুসা আল-জাওযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আল-আব্বাস ইবনু মুহাম্মাদ আদ-দুরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট উবাইদুল্লাহ ইবনু মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শাইবান ইবনু আবদুর রহমান আমাদের নিকট আল-আ’মাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী ইবনুল আক্বমার থেকে, তিনি আল-আগারর আবু মুসলিম থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি রাতে জাগ্রত হয় এবং তার পরিবারকেও জাগ্রত করে, অতঃপর তারা উভয়ে একত্রে দুই রাকাত সালাত আদায় করে, তবে তাদের আল্লাহর অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও অধিক স্মরণকারী নারীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে লিখে রাখা হয়।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১১২)
21 - وَأَخْبَرَنَا حَامِدُ بْنُ شُعَيْبٍ الْبَلْخِيُّ قال حدثنا أبو عمر المقري قَالَ حَدَّثَنَا سُنَيْدُ بْنُ دَاوُدَ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مُحَمَّدِ ⦗ص: 113⦘ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ يَا بُنَيَّ لا تُكْثِرِ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَإِنَّ كَثْرَةَ النَّوْمِ بالليل يترك الرَّجُلَ فَقِيرًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
২১ - এবং আমাদের নিকট হামিদ ইবনে শুআইব আল-বালখি সংবাদ প্রদান করেছেন, তিনি বলেন, আবু উমর আল-মুকরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুনাইদ ইবনে দাউদ আমাদের নিকট ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ ⦗পৃষ্ঠা: ১১৩⦘ ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সুলাইমান ইবনে দাউদের মাতা বলেছিলেন, "হে আমার বৎস! রাতে অধিক ঘুমিও না, কেননা রাতের অধিক ঘুম কিয়ামতের দিন মানুষকে দরিদ্র অবস্থায় ছেড়ে দেয়।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
22 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ الْمُفَضَّلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَنَدِيُّ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ قَالَ حَدَّثَنَا صَامِتُ بْنُ مُعَاذٍ قَالَ قَرَأْنَا عَلَى أَبِي قُرَّةَ مُوسَى بْنِ طَارِقٍ قَالَ ذَكَرَ زرعة بْنُ صَالِحٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ سعد عن أبان ⦗ص: 115⦘ ابن أَبِي عَيَّاشٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا صَلَّى حَتَّى يُدْرِكَهُ النُّعَاسُ وَهُوَ سَاجِدٌ فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل يُبَاهِي بِهِ الْمَلائِكَةَ يَقُولُ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي نَفْسُهُ عِنْدِي وَجَسَدُهُ فِي طَاعَتِي.
২২ - আমাদের নিকট আবু সাঈদ আল-মুফাদ্দাল ইবনে মুহাম্মদ আল-জানাদি মাসজিদুল হারামে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট সামিত ইবনে মুআয বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা আবু কুররাহ মুসা ইবনে তারিকের সামনে পাঠ করেছি, তিনি বলেন, যুরআহ ইবনে সালিহ যিয়াদ ইবনে সা'দ থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি আবান ⦗পৃষ্ঠা: ১১৫⦘ ইবনে আবি আইয়াশ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন: নিশ্চয়ই বান্দা যখন সালাত আদায় করে এমনকি সিজদাবনত অবস্থায় তাকে তন্দ্রা আচ্ছন্ন করে, তখন আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা ফেরেশতাদের নিকট তাকে নিয়ে গর্ব করেন এবং বলেন, তোমরা আমার বান্দার দিকে তাকাও; তার প্রাণ আমার নিকট এবং তার দেহ আমার আনুগত্যে নিমগ্ন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ فِيمَا ذَكَرْتُهُ وَاخْتَصَرْتُهُ بَلاغٌ لِمَنْ مَنَعَ نَفْسَهُ لَذَّةَ النَّوْمِ فَآثَرَ الْقِيَامَ وَرَاوَحَ بَيْنَ الأَقْدَامِ وَتَنَعَّمَ بِتِلاوَةِ الْقُرْآنِ يَرْجُو بِذَلِكَ رِضَى الرَّحْمَنِ عَزَّ
⦗ص: 116⦘ وَجَلَّ
فَلَوْ شَهِدْتَهُ يَا أَخِي فِي اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ فَقَلْبُهُ لِمَا يَتْلُو مِنَ الْقُرْآنِ مُتَدَبِّرٌ وَبِأَمْثَالِهِ مُعْتَبِرٌ وَفِيمَا حَكَى مُتَفَكِّرٌ وَبِالْوَعْدِ وَالْوَعِيدِ لِنَفْسِهِ مُذَكِّرٌ، فَالْقَلْبُ مِنْ ذِكْرِ الْمَوْتِ خَائِفٌ مُقْلَقٌ وَلِمَا عَمِلَ مِنَ الْحَسَنَاتِ مُشْفِقٌ، فَالاسْتِغْفَارُ شِعَارُهُ وَهُجُومُ الظَّلامِ سُرُورُهُ وَحُسْنُ الظَّنِّ بِاللَّهِ الْكَرِيمِ آمَالُهُ وَاللَّهُ وَلِيُّ التَّوْفِيقِ.
قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بَلَغَنِي عَنْ شَيْخٍ مِنَ الْمُتَعَبِّدِينَ أَنَّهُ كَانَ لَهُ وِرْدٌ مِنَ اللَّيْلِ يَقُومُهُ فَفَتَرَ عَنْ وِرْدِهِ ذَاتَ لَيْلَةٍ قَالَ فَإِذَا أَنَا بِجَارِيَةٍ قَدْ وَقَفَتْ عَلَى رَأْسِي كَأَنَّ وَجْهَهَا قَمَرٌ وبيدها رق وفيه مكتوب فقال أَيُّهَا الشَّيْخُ أَتَقْرَأُ قُلْتُ نَعَمْ قَالَتِ اقْرَأْ مَا فِي هَذَا فَأَخَذْتُهُ فَقَرَأْتُهُ فَإِذَا فِيهِ:
أَلْهَتْكَ لَذَّةُ نَوْمَةٍ عَنْ خَيْرِ عَيْشٍ
… مَعَ الْخَيِّرَاتِ فِي غُرَفِ الْجِنَانِ
تَعِيشُ مُخَلَّدًا لا مَوْتَ فِيهَا
… وَتَنْعُمُ فِي الْجِنَانِ مَعَ الْحِسَانِ
تَيَقَّظْ مِنْ مَنَامِكَ إنَّ خَيْرًا
… مِنَ النَّوْمِ التَّهَجُّدُ بِالْقُرْانِ
⦗ص: 117⦘قَالَ فَمَا ذَكَرْتُهَا سَاعَةً إِلا ذَهَب عَنِّي النَّوْمُ.
মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বলেন, আমি যা উল্লেখ করেছি এবং সংক্ষেপে বর্ণনা করেছি, তাতে ওই ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত উপদেশ রয়েছে যে নিজেকে ঘুমের স্বাদ থেকে বিরত রেখেছে, অতঃপর কিয়ামকে (দাঁড়ানোকে) প্রাধান্য দিয়েছে, দুই পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে (নামাজে) দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছে এবং কুরআনের তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনন্দ লাভ করেছে। এর মাধ্যমে সে পরাক্রমশালী ও মহান রহমানের সন্তুষ্টি কামনা করে।
⦗পৃষ্ঠা: ১১৬⦘হে আমার ভাই! তুমি যদি তাকে অন্ধকার রাতে দেখতে পেতে—তার অন্তর কুরআনের যা তিলাওয়াত করা হচ্ছে তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছে, তার উপমাগুলো থেকে শিক্ষা নিচ্ছে, তার বর্ণিত বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছে এবং সে তার নিজের নফসকে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও ভীতি প্রদর্শন সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। মৃত্যুর স্মরণে তার অন্তর ভীত ও অস্থির, আর সে যা নেক আমল করেছে তা কবুল হওয়া নিয়ে সে চিন্তিত। ক্ষমা প্রার্থনা তার ভূষণ, অন্ধকারের আগমন তার আনন্দের কারণ এবং মহান আল্লাহর প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করাই তার প্রত্যাশা। আর আল্লাহই তাওফিক দানকারী।
মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বলেন, ইবাদতকারীদের মধ্য থেকে জনৈক শাইখ সম্পর্কে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাতের বেলায় তার একটি নির্দিষ্ট আমল ছিল যা তিনি পালন করতেন। এক রাতে তিনি তার সেই আমল পালনে কিছুটা শিথিলতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তখন হঠাৎ আমি দেখলাম এক কিশোরী আমার মাথার পাশে দাঁড়িয়ে আছে, যার মুখমণ্ডল যেন পূর্ণিমার চাঁদ। তার হাতে একটি চর্মখণ্ড ছিল এবং তাতে কিছু লেখা ছিল। সে বলল, হে শাইখ! আপনি কি পড়তে পারেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, এতে যা আছে তা পড়ুন। আমি সেটি গ্রহণ করলাম এবং পড়লাম, তাতে লেখা ছিল:
ঘুমের স্বাদ তোমাকে বিমুখ করেছে সর্বোত্তম জীবন থেকে
… জান্নাতের কক্ষগুলোতে পুণ্যময়ীদের সাথে বসবাস হতে।
সেখানে তুমি চিরস্থায়ীভাবে বাস করবে যেখানে কোনো মৃত্যু নেই
… এবং জান্নাতে হুরদের সাথে নেয়ামত ভোগ করবে।
তোমার ঘুম থেকে জাগ্রত হও, নিশ্চয়ই ঘুমের চেয়ে উত্তম হলো
… কুরআনের সাথে তাহাজ্জুদ পালন করা।
⦗পৃষ্ঠা: ১১৭⦘তিনি বলেন, আমি যখনই সেই মুহূর্তটির কথা স্মরণ করি, অমনি আমার ঘুম চলে যায়।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু কিয়ামিল লাইলি ওয়াত তাহাজ্জুদি লিল আজুররি
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
بَابٌ فِيمَنْ كَانَ لَهُ وِرْدٌ مِنَ اللَّيْلِ يَقُومُهُ فَشَغَلَهُ عَنْهُ مَرَضٌ أَو عُذْرٌ وَنَامَ عَنْهُ وَمَنْ نِيَّتُهُ الْقِيَامُ⦗ص: 121⦘23 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ سَهْلٍ الأُشْنَانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانٍ الْكُوفِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ عَنْ زَائِدَةَ بْنِ قُدَامَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ الأَعْمَشِ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ عَبْدَةَ بْنِ أَبِي لُبَابَةَ عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفْلَةَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ أَتَى فِرَاشَهُ وَهُوَ يَنْوِي أَنْ يَقُومَ فَيُصَلِّيَ مِنَ اللَّيْلِ فَغَلَبَتْهُ عَيْنُهُ حَتَّى يُصْبِحَ كُتِبَ لَهُ مَا نَوَى وَكَانَ نَوْمُهُ صَدَقَةً عَلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ عز وجل.
পরিচ্ছেদ: যার রাতের কোনো নির্দিষ্ট আমল ছিল যা সে পালন করত, কিন্তু অসুস্থতা বা কোনো ওজরের কারণে তা থেকে বিরত থেকেছে এবং ঘুমিয়ে পড়েছে, আর যার নিয়ত ছিল সালাত আদায়ের⦗পৃষ্ঠা: ১২১⦘২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্বাস আহমাদ বিন সাহল আল-উশনানি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আবান আল-কুফি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন বিন আলী আল-জু'ফি, যায়িদা বিন কুদামাহ থেকে, তিনি সুলায়মান আল-আ'মাশ থেকে, তিনি হাবিব বিন আবি সাবিত থেকে, তিনি আবদাহ বিন আবি লুবাবাহ থেকে, তিনি সুওয়াইদ বিন গাফলাহ থেকে, তিনি আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন (মারফু হিসেবে), তিনি বলেন: যে ব্যক্তি রাতে সালাত আদায়ের নিয়ত করে নিজের বিছানায় আসে, অতঃপর সকাল হওয়া পর্যন্ত তার ওপর ঘুম প্রবল হয়ে থাকে, তবে সে যা নিয়ত করেছিল তার জন্য তা-ই লেখা হয় এবং তার এই ঘুম তার মহান রবের পক্ষ থেকে তার জন্য সদকা স্বরূপ হয়।