(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: -)
فضل عشر ذي الحجة للطبراني القسم: كتب السنة
الكتاب: فضل عشر ذي الحجة
المؤلف: سليمان بن أحمد بن أيوب بن مطير اللخمي الشامي، أبو القاسم الطبراني (ت 360هـ)
المحقق: أبو عبد الله عمار بن سعيد تمالت الجزائري
الناشر: مكتبة العمرين العلمية - دولة الأمارات العربية المتحدة - الشارقة
الطبعة: الأولى
عدد الصفحات: 58
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433
তাবরানীর যিলহজ মাসের দশ দিনের ফযীলত বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: যিলহজ মাসের দশ দিনের ফযীলত
লেখক: সুলাইমান বিন আহমদ বিন আইয়ুব বিন মুতায়ের আল-লাখমী আশ-শামী، আবু আল-কাসিম আত-তাবরানী (মৃত্যু ৩৬০ হিজরী)
তাহকীক: আবু আব্দুল্লাহ আম্মার বিন সাঈদ তামালত আল-জাযায়েরী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উমরায়ন আল-ইলমিয়্যাহ - সংযুক্ত আরব আমিরাত - শারজাহ
সংস্করণ: প্রথম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৮
শামেলা সংস্করণের প্রস্তুতকারক: ইয়া বাগিয়াল খাইরি আকবিল
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: -)
فضل عشر ذي الحجة
تأليف
الإمام الحافظ أبي القاسم سليمان بن أحمد الطبراني
(260 - 360 هـ)
تحقيق
أبي عبد الله عمار بن سعيد تمالت الجزائري
مكتبة العمرين العلمية
دولة الأمارات العربية المتحدة - الشارقة
الطبعة الأولى
1420 هـ - 1999 م
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের ফযিলত
সংকলনে
আল-ইমাম আল-হাফিজ আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনে আহমদ আত-তাবারানি
(২৬০ - ৩৬০ হিজরি)
সম্পাদনায়
আবু আবদুল্লাহ আম্মার বিন সাঈদ তামালত আল-জাজায়েরি
মাকতাবাতুল উমরাইন আল-ইলমিয়্যাহ
সংযুক্ত আরব আমিরাত - শারজাহ
প্রথম সংস্করণ
১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
أخبرنا الشيخ عز الدين أبو اليمن محمد بن عبد اللطيف بن أحمد بن محمود بن أبي الفتح بن محمود بن أبي القاسم بن الكويك الربعي الشافعي قراءة عليه وأنا أسمع قال أنا قاضي القضاة بدر الدين محمد بن إبراهيم بن سعد الله بن جماعة الكناني الشافعي قال أنا العلامة جمال الدين بن عبد الله بن عبد الله بن مالك الطائي الجياني قال أنا أبو عبد الله محمد بن عبد الرحمن بن علوان الأسدي قال أنا الحافظ مجد الدين أبو الفرج يحيى بن محمود بن سعد الثقفي قال أنا السيد حمزة بن العباس بن علي العلوي قال أنا أبو سعيد عبد الرحمن بن أحمد بن الصفار إجازة قال أنا الحافظ أبو القاسم سليمان بن أحمد بن أيوب اللخمي الطبراني.
1 - ثنا إسحاق بن إبراهيم الدبري أبنا عبد الرزاق وثنا إدريس بن جعفر العطار ثنا يزيد بن هارون ثنا سفيان الثوري عن الأعمش عن مسلم البطين عن سعيد بن جبير عن
⦗ص: 30⦘ ابن عباس رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم تسليما كثيرا ما من أيام العمل فيهن أفضل من العمل في عشر ذي الحجة قالوا ولا الجهاد في سبيل الله قال ولا الجهاد في سبيل الله إلا من عقر جواده وأهريق دمه
لفظهما واحد.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শেখ ইজ্জুদ্দিন আবুল ইয়ামান মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল লতিফ ইবনে আহমদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আবুল ফাতহ ইবনে মাহমুদ ইবনে আবুল কাসিম ইবনুল কুওয়াইক আর-রাবায়ী আশ-শাফিয়ী আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন, তাঁর কাছে এটি পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনছিলাম, তিনি বলেন: কাযিউল কুযাত (প্রধান বিচারপতি) বদরুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে সাদুল্লাহ ইবনে জামায়া আল-কিনানী আশ-শাফিয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল্লামা জামালুদ্দিন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক আত-তাঈ আল-জাইয়ানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আলওয়ান আল-আসাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেজ মাজদুদ্দিন আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া ইবনে মাহমুদ ইবনে সাদ আস-সাকাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আস-সৈয়দ হামজা ইবনুল আব্বাস ইবনে আলী আল-আলাওয়ী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনুল সাফফার ইজাজাহ (অনুমতি) সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাফেজ আবুল কাসিম সুলায়মান ইবনে আহমদ ইবনে আইয়ুব আল-লাখমী আত-তাবারানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
১ - ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আদ-দাবারী আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রাজ্জাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; এবং ইদ্রিস ইবনে জাফর আল-আত্তার আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি আল-আমাশ থেকে, তিনি মুসলিম আল-বাতিন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি
⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "জিলহজ মাসের (প্রথম) দশ দিনের আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোনো দিনের আমল নেই।" তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, "আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?" তিনি বললেন, "না, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়; তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে নিজের ঘোড়াটিকে যখম করেছে এবং নিজের রক্ত প্রবাহিত করেছে (অর্থাৎ শহীদ হয়েছে)।"
উভয়ের শব্দ বিন্যাস একই।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
2 - حدثنا موسى بن زكريا أبو عمران التستري ثنا الأزرق بن علي ثنا حسان بن إبراهيم عن سفيان الثوري عن حبيب بن أبي عمرة والأعمش عن مسلم البطين عن سعيد بن جبير عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم تسليما كثيرا ما من أيام الدنيا أيام العمل فيها أفضل من أيام العشر فقال رجل وما مثلها في سبيل الله فأعادها ⦗ص: 31⦘ ثلاث مرات فقال له صلى الله عليه وسلم في الثالثة إلا لمن لا يرجع.
২ - মুসা ইবনে জাকারিয়া আবু ইমরান আত-তুস্তারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আজরাক ইবনে আলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসসান ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি হাবিব ইবনে আবি আমরাহ ও আল-আ’মাশ থেকে, তিনি মুসলিম আল-বাতিন থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—যাঁর প্রতি আল্লাহর অবারিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দুনিয়ার দিনগুলোর মধ্যে এমন কোনো দিন নেই যাতে আমল করা এই দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক উত্তম। তখন এক ব্যক্তি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদও কি এর সমতুল্য নয়? তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৩১⦘ তিনবার এ কথাটি পুনরাবৃত্তি করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তৃতীয়বারে তাকে বললেন, তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া যে (জিহাদে যাওয়ার পর) আর ফিরে আসেনি।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
3 - حدثنا أحمد بن زهير التستري ثنا عمر بن الخطاب السجستاني ثنا محمد بن أبي يعقوب الكرماني ثنا حسان بن إبراهيم عن سفيان الثوري عن مخول بن راشد عن مسلم البطين عن سعيد بن جبير عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم مثله.
৩ - আহমদ বিন জুহাইর আত-তুস্তারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওমর বিন আল-খাত্তাব আস-সিজিস্তানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আবি ইয়াকুব আল-কিরমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসসান বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি মাখুল বিন রাশিদ থেকে, তিনি মুসলিম আল-বাতিন থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
4 - حدثنا العباس بن الفضل الأسفاطي ثنا علي بن المديني ثنا معتمر بن سليمان قال قرأت على الفضيل بن ميسرة عن أبي حريز عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من أيام العمل فيهن أفضل من أيام العشر قيل ولا الجهاد في سبيل الله عز وجل قال ولا الجهاد في ⦗ص: 32⦘ سبيل الله عز وجل.
৪ - আব্বাস ইবনুল ফাদল আল-আসফাতি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনুল মাদিনী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুতামির ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ফুযাইল ইবনে মাইসারার নিকট পাঠ করেছি, তিনি আবু হারীজ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "এমন কোনো দিন নেই যাতে আমল করা এই দশ দিনের চেয়ে অধিক উত্তম।" জিজ্ঞেস করা হলো: "মহান আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?" তিনি বললেন: "মহান আল্লাহর ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ পথে জিহাদও নয়।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
5 - حدثنا معاذ بن المثنى العنبري ثنا مسدد ثنا خالد بن عبد الله عن يزيد بن أبي زياد عن مجاهد عن ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من أيام العمل فيهن أفضل من أيام العشر فأكثروا فيهن التسبيح والتهليل والتكبير.
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়ায ইবনুল মুসান্না আল-আনবারী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসাদ্দাদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন আব্দুল্লাহ, তিনি ইয়াযীদ বিন আবি যিয়াদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: এমন কোনো দিন নেই যাতে আমল করা এই দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক উত্তম। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে অধিক পরিমাণে তাসবীহ, তাহলীল এবং তাকবীর পাঠ করো।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
6 - حدثنا حفص بن عمر بن الصباح الرقي ثنا أبو غسان مالك بن إسماعيل النهدي ثنا مسعود بن سعد الجعفي عن يزيد بن أبي زياد عن مجاهد عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من أيام أعظم عند الله عز وجل ولا أحب فيهن إليه العمل من هذه الأيام أيام العشر فأكثروا فيهن من التحميد والتهليل والتكبير.
6 - আমাদের নিকট হাফস বিন উমর বিন আস-সাব্বাহ আর-রাক্কী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আবু গাসসান মালিক বিন ইসমাইল আন-নাহদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মাসউদ বিন সা’দ আল-জু’ফী বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াযীদ বিন আবী যিয়াদ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট এই দশ দিনের (জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন) চেয়ে মহান আর কোনো দিন নেই এবং এই দিনগুলোতে আমল করা তাঁর নিকট অন্য যেকোনো সময়ের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয়। সুতরাং তোমরা এই দিনগুলোতে অধিক পরিমাণে তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করো।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
7 - حدثنا محمد بن عمر بن خالد الحراني ثنا أبي ثنا زهير بن معاوية ثنا إبراهيم بن مهاجر عن عبد الله بن باباه عن عبد الله بن عمر قال كنت عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكرت الأعمال فقال ما من أيام أفضل فيهن العمل من هذا العشر قالوا يا رسول الله ولا الجهاد في سبيل الله فأكبر قال ثم قال ولا الجهاد في سبيل ⦗ص: 34⦘ الله إلا أن يخرج رجل بنفسه وماله ويكون مهجة نفسه فيه.
৭ - মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে খালিদ আল-হাররানী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, যুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবরাহিম ইবনে মুহাজির আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে বাবাহ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন আমলসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। তিনি বললেন: "এই দশ দিনের (জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন) আমলের চেয়ে উত্তম আর কোনো দিনের আমল নেই।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও কি (এর সমতুল্য) নয়? তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিলেন। তারপর তিনি বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদও নয়; ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে তার জান ও মাল নিয়ে (জিহাদে) বের হয়েছে এবং এতেই তার প্রাণের বিসর্জন ঘটেছে।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
8 - حدثنا علي بن عبد العزيز البغوي ثنا زيد العمي ثنا عبد العزيز بن المختار عن يحيى بن أبي إسحاق ثنا عبدة بن أبي لبابة عن حبيب بن أبي ثابت عن أبي عبد الله مولى عبد الله بن عمرو قال قال عبد الله بن عمرو ونحن نطوف بالبيت قال نبي الله صلى الله عليه وسلم في هذه الأيام يعني العشر ما من أيام أحب إلى الله عز وجل العمل فيهن من أيام العشر فقيل يا رسول الله ولا الجهاد في سبيل الله قال ولا الجهاد في سبيل الله إلا من خرج بنفسه وماله ثم لم يرجع حتى يهراق دمه
قال يحيى فلقيت حبيب بن أبي ثابت فسألته عنه فحدثني نحوا من هذا أو قيل ليحيى لم تخالفه في اللفظ فقال لأمر.
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগভী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যাইদ আল-আম্মী, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন আল-মুখতার, ইয়াহইয়া বিন আবি ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদাহ বিন আবি লুবাবাহ, হাবিব বিন আবি সাবিত থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ বিন আমরের মুক্তদাস আবু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আমর বলেছেন—এমতাবস্থায় যে আমরা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করছিলাম—আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই দিনগুলো অর্থাৎ (যিলহজ মাসের প্রথম) দশ দিন সম্পর্কে বলেছেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র নিকট এই দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় আর কোনো দিনের আমল নেই।" জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়? তিনি বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদও নয়; তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে বের হয়েছে এবং তার রক্ত প্রবাহিত হওয়া পর্যন্ত সে আর ফিরে আসেনি।"
ইয়াহইয়া বলেন, অতঃপর আমি হাবিব বিন আবি সাবিতের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি আমার নিকট অনুরূপ বর্ণনা করলেন। অথবা ইয়াহইয়াকে বলা হলো, আপনি তো শব্দের বর্ণনায় তার ভিন্নতা করেননি, তখন তিনি বললেন, বিশেষ কারণে।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
9 - حدثنا علي بن عبد العزيز وأبو زرعة الدمشقي قالا ثنا أبو نعيم ثنا مرزوق مولى طلحة الباهلي حدثني أبو الزبير عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من أيام أفضل عند الله من أيام العشر قالوا ولا مثلها في سبيل الله قال إلا من عفر وجهه في التراب.
৯ - আমাদের নিকট আলী বিন আব্দুল আজিজ এবং আবু জুরআ আদ-দিমাশকি বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট তালহা আল-বাহিলির আযাদকৃত গোলাম মারযুক বর্ণনা করেছেন: আমার নিকট আবুয যুবায়র জাবির বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহর নিকট (যিলহজের) দশ দিনের চেয়ে উত্তম আর কোনো দিন নেই। তাঁরা বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদও কি এর সমতুল্য নয়? তিনি বললেন: না, তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে ধূলিময় মাটিতে নিজের চেহারা রঞ্জিত করেছে।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
10 - حدثنا مصعب بن إبراهيم بن حمزة الدينوري حدثني أبي وحدثنا محمد بن محمد التمار البصري حدثنا محمد بن الصلت أبو يعلى التوزي قال ثنا عبد العزيز بن محمد الدراوردي عن إبراهيم بن إسماعيل بن مجمع الأنصاري عن أبي الزبير عن جابر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من أيام الدنيا أيام العمل فيها أفضل من عشر ذي الحجة قالوا يا رسول الله ولا الجهاد في سبيل الله قال ولا الجهاد في سبيل الله إلا أن يخرج بنفسه وماله ثم لا يرجع من ذلك بشيء.
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসআব বিন ইবরাহীম বিন হামযাহ আদ-দীনওয়ারী, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন; এবং আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আত-তাম্মার আল-বাছরী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আস-সালত আবু ইয়ালা আত-তাউযী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ আদ-দারাওয়ারদী, তিনি ইবরাহীম বিন ইসমাঈল বিন মাজমা আল-আনসারী থেকে, তিনি আবু আয-যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "দুনিয়ার দিনগুলোর মধ্যে যিলহজ মাসের দশ দিনের তুলনায় আমল করার জন্য শ্রেষ্ঠ কোনো দিন নেই।" তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও কি (এর সমতুল্য) নয়?" তিনি বললেন, "আল্লাহর পথে জিহাদও নয়; তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে নিজের জান ও মাল নিয়ে বের হয়েছে এবং এরপর এর কোনো কিছু নিয়েই ফিরে আসেনি।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
11 - حدثنا الحسن بن علي المعمري ثنا أبو كامل الجحدري ثنا أبو النضر يعني عاصم بن هلال عن أيوب السختياني عن أبي ⦗ص: 36⦘ الزبير عن جابر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أفضل أيام الدنيا أيام العشر قالوا يا رسول الله ولا مثلهن في سبيل الله قال ولا مثلهن في سبيل الله إلا من عفر وجهه في التراب.
১১ - হাসান ইবনে আলী আল-মামারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু কামিল আল-জাহদারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আন-নাদর অর্থাৎ আসিম ইবনে হিলাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি থেকে, তিনি আবু ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ আল-জুবায়ের থেকে এবং তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "দুনিয়ার দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো (জিলহজ মাসের প্রথম) দশ দিন।" তারা জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদ করাও কি এর সমতুল্য নয়?" তিনি বললেন, "না, আল্লাহর পথে জিহাদ করাও এর সমতুল্য নয়; তবে সেই ব্যক্তি ব্যতীত যার চেহারা (আল্লাহর পথে) মাটিতে ধূলিমলিন হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
12 - حدثنا عبدان بن أحمد العسكري ثنا محمد بن عمرو بن جبلة ثنا محمد بن مروان عن هشام بن أبي عبد الله عن أبي الزبير عن جابر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من أيام أفضل من عشر ذي الحجة فقال رجل يا رسول الله أفضل من عدتهن جهاد في سبيل الله فقال هذا أفضل من عدتهن جهاد في سبيل الله إلا عفيرا يعفر في التراب.
১২ - আবদান বিন আহমদ আল-আসকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মাদ বিন আমর বিন জাবালাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মাদ বিন মারওয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন আবি আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের চেয়ে উত্তম আর কোনো দিন নেই।" তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে সমপরিমাণ দিন জিহাদ করাও কি এর চেয়ে উত্তম নয়?" তিনি বললেন, "এই দিনগুলো আল্লাহর পথে সমপরিমাণ জিহাদ করার চেয়েও উত্তম, তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যার চেহারা (যুদ্ধে) ধূলিমলিন হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
13 - حدثنا معاذ بن المثنى بن معاذ العنبري ثنا مالك بن عبد الله بن غسان المسمعي ثنا مسعود بن واصل السابري ثنا النهاس بن قهم عن قتادة عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ما من أيام العمل أفضل فيهن من عشر ذي الحجة قالوا يا رسول الله ولا الجهاد في سبيل الله قال ولا الجهاد في سبيل الله إلا من عقر جواده وأهريق دمه.
১৩ - আমাদের নিকট মুআয ইবনুল মুসান্না ইবনে মুআয আল-আনবারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মালিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে গাসসান আল-মিসমায়ী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট মাসউদ ইবনে ওয়াসিল আস-সাবিরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আন-নাহহাস ইবনে কাহাম বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব থেকে, আর তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যিলহজ মাসের (প্রথম) দশ দিনের তুলনায় এমন কোনো দিন নেই যাতে আমল করা অধিক উত্তম।” তাঁরা আরজ করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়?” তিনি বললেন, “আল্লাহর পথে জিহাদও নয়; তবে ঐ ব্যক্তির কথা ভিন্ন যার ঘোড়াটি নিহত হয়েছে এবং যার নিজের রক্ত প্রবাহিত করা হয়েছে।”
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
باب تأويل قول الله عز وجل {وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ معدودات} {معلومات}⦗ص: 38⦘14 - حدثنا علي بن عبد العزيز ثنا الحجاج بن منهال ثنا حماد بن سلمة عن حميد عن الحسن قال الأيام المعلومات عشر ذي الحجة والمعدودات أيام التشريق.
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী {এবং তোমরা নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহকে স্মরণ করো} ও {জ্ঞাত দিনসমূহ}-এর ব্যাখ্যার পরিচ্ছেদ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘১৪ - আলী ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট হুমাইদ থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: জ্ঞাত দিনসমূহ হলো জিলহজ মাসের (প্রথম) দশ দিন এবং নির্দিষ্ট দিনসমূহ হলো তাশরিকের দিনসমূহ।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
15 - حدثنا محمد بن علي الصائغ المكي ثنا سعيد بن منصور ثنا أبو عوانة عن أبي بشر عن سعيد بن جبير قال الأيام المعلومات أيام العشر.
১৫ - মুহাম্মদ ইবনে আলী আস-সায়িগ আল-মাক্কী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ ইবনে মানসুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বিশর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: নির্ধারিত দিনসমূহ হলো (জিলহজ মাসের) দশ দিন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
16 - حدثنا الحسين بن إسحاق التستري ثنا يحيى الحماني ثنا هشيم عن سعيد بن جبير عن ابن عباس {فِي أَيَّامٍ مَعْلُومَاتٍ} قال العشر.
১৬ - আল-হুসাইন ইবনে ইসহাক আত-তুস্তারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আল-হিমমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, {সুনির্দিষ্ট দিনগুলোতে} এর অর্থ সম্পর্কে তিনি বলেছেন: তা হলো (জিলহজ মাসের প্রথম) দশ দিন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
17 - حدثنا أحمد بن إبراهيم بن عنبر البصري ثنا العباس بن الوليد النرسي ثنا يزيد بن زريع عن سعيد بن أبي عروبة عن قتادة قال الأيام المعلومات أيام العشر والأيام المعدودات أيام التشريق.
১৭ - আহমাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আনবার আল-বাসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাস ইবনুল ওয়ালীদ আন-নারসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবনে যুরাই' সাঈদ ইবনে আবী আরূবা থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুনির্ধারিত দিনসমূহ হলো যিলহজ্জের (প্রথম) দশ দিন এবং গণনাকৃত দিনসমূহ হলো তাশরীকের দিনসমূহ।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
18 - حدثنا الحسين بن إسحاق التستري ثنا يحيى الحماني ثنا جرير عن منصور.
১৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন বিন ইসহাক আত-তুস্তারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া আল-হিম্মানি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারির, মানসুর থেকে।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
19 - حدثنا الحسين بن إسحاق التستري ثنا يحيى الحماني ثنا أبو معاوية عن عبد الملك بن أبي سليمان عن عطاء قال الأيام المعلومات أيام العشر.
১৯ - হুসাইন বিন ইসহাক আত-তুস্তারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া আল-হিমমানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল মালিক বিন আবি সুলাইমান থেকে বর্ণিত, আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: 'জ্ঞাত দিনগুলো' (আল-আইয়ামুল মালুমাত) হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৪০)
باب تأويل قول الله تعالى {وَوَاعَدْنَا مُوسَى ثَلاثِينَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَاهَا بعشر}⦗ص: 40⦘20 - حدثنا إبراهيم بن محمد بن برة الصنعاني ثنا عبد الرزاق ثنا الثوري عن مجاهد في قول الله تعالى {وَوَاعَدْنَا مُوسَى ثلاثين ليلة وأتممناها بعشر} قال ذو القعدة {وَأَتْمَمْنَاهَا بِعَشْرٍ} من ذي الحجة.
মহান আল্লাহর বাণী {এবং আমি মূসার জন্য ত্রিশ রাত নির্ধারণ করেছিলাম এবং আরও দশ যোগ করে তা পূর্ণ করেছিলাম}-এর ব্যাখ্যার অধ্যায়⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘২০ - ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বাররাহ আস-সানআনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আস-সাওরি আমাদের নিকট মুজাহিদ থেকে মহান আল্লাহর বাণী {এবং আমি মূসার জন্য ত্রিশ রাত নির্ধারণ করেছিলাম এবং আরও দশ যোগ করে তা পূর্ণ করেছিলাম} সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (মুজাহিদ) বলেন: (ত্রিশ রাত হলো) যিলকদ মাস, আর {এবং আমি আরও দশ যোগ করে তা পূর্ণ করেছিলাম} হলো যিলহজ মাসের (প্রথম দশ দিন)।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৪০)
باب تأويل قول الله عز وجل {والفجر وليال عشر}21 - حدثنا أحمد بن محمد بن يحيى بن حمزة الدمشقي ثنا أبو الجماهر محمد بن عثمان التنوخي ثنا سعيد بن بشير عن أبي بشر عن عكرمة في قول الله تعالى {وَالْفَجْرِ وليال عشر} قال الفجر الصبح وليال عشر عشر الأضحى.
মহান আল্লাহ্র বাণী "ভোর এবং দশ রজনীর শপথ"-এর ব্যাখ্যার পরিচ্ছেদ২১ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন হামযা আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-জামাহির মুহাম্মদ বিন উসমান আত-তানুখী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন বাশীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বিশর থেকে এবং তিনি ইকরিমাহ থেকে মহান আল্লাহ্র বাণী "ভোর এবং দশ রজনীর শপথ" সম্পর্কে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: 'ভোর' অর্থ সকাল এবং 'দশ রজনী' অর্থ কুরবানির (মাসের প্রথম) দশ দিন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৪১)
22 - حدثنا أحمد بن إبراهيم بن عنبر البصري ثنا العباس بن الوليد النرسي ثنا يزيد بن زريع عن سعيد عن قتادة في قوله عز وجل {وَالْفَجْرِ وليال عشر} قال كنا نحدث أنها عشر الأضحى.
২২ - আমাদের নিকট আহমদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আম্বার আল-বসরী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-আব্বাস ইবনে আল-ওয়ালিদ আন-নারসী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে জুরাই’ সাঈদ থেকে এবং তিনি কাতাদাহ থেকে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী {শপথ ফজরের এবং দশ রাতের} সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি (কাতাদাহ) বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করা হতো যে, তা হলো জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন (কোরবানির মাস)।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৪১)
23 - حدثنا جعفر بن إلياس المصري ثنا أصبغ بن الفرج ثنا عبد الرحمن بن زيد بن أسلم في قول الله عز وجل {وليال عشر} قال عشر ذي الحجة.
২৩ - জাফর বিন ইলিয়াস আল-মিসরি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আসবাগ বিন আল-ফারাজ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান বিন যায়িদ বিন আসলাম মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর বাণী {এবং দশটি রজনীর কসম} সম্পর্কে বলেন, তা হলো জিলহজ মাসের দশ দিন।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৪১)
24 - حدثنا إسحاق بن إبراهيم عن عبد الرزاق عن معمر عن الأعمش عن أبي الضحى قال سئل مسروق عن قوله عز وجل {والفجر وليال عشر} قال هي أفضل أيام السنة.
২৪ - ইসহাক বিন ইবরাহিম আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু আদ-দুহা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মাসরুককে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর বাণী {শপথ উষার এবং দশ রাতের} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: এগুলো বছরের শ্রেষ্ঠ দিনসমূহ।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৪২)
باب فضل صيام أيام العشر25 - حدثنا إسحاق بن إبراهيم عن عبد الرزاق عن جعفر بن سليمان عن هشام بن حسان عن الحسن قال صيام يوم من أيام العشر يعدل شهرين.
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের রোজার ফজিলত পরিচ্ছেদ২৫ - ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি জাফর ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি হিশাম ইবনে হাসসান থেকে, তিনি হাসান (আল-বাসরি) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: জিলহজ মাসের দশ দিনের একদিনের রোজা দুই মাসের রোজার সমতুল্য।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৪২)
باب فضل صيام يوم عرفة26 - حدثنا الحسن بن علي المعمري وعبدان بن أحمد قالا ثنا محمد بن عمرو بن جبلة ثنا محمد بن مروان العقيلي عن هشام بن أبي عبد الله عن أبي الزبير عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ما من يوم أفضل عند الله من يوم عرفة ينزل الله تعالى إلى سماء الدنيا فيباهي بأهل الأرض فيقول انظروا إلى عبادي شعثا غبرا جاؤوا من كل فج عميق لم يروا رحمتي ولا عذابي فلم ير يوم أكثر عتيقا من النار من يومئذ.
আরাফার দিনের সিয়ামের ফযীলতের অধ্যায়২৬ - আল-হাসান ইবন আলী আল-মামারি এবং আবদান ইবন আহমাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তাঁরা বলেন, মুহাম্মাদ ইবন আমর ইবন জাবালা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবন মারওয়ান আল-উকায়লি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হিশাম ইবন আবু আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু যুবায়র থেকে, তিনি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর নিকট আরাফার দিনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোনো দিন নেই। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং যমীনবাসীদের নিয়ে গর্ব করেন। অত:পর তিনি বলেন: "তোমরা আমার বান্দাদের দিকে তাকাও, তারা আলুথালু চুলে এবং ধূলিধূসরিত অবস্থায় প্রতিটি দূরবর্তী পথ থেকে এসেছে। তারা আমার রহমত দেখেনি এবং আমার আযাবও দেখেনি।" সুতরাং সেই দিনের চেয়ে অধিক সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিতে আর কোনো দিন দেখা যায় না।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
27 - حدثنا أبو مسلم الكجي وعلي بن عبد العزيز ومعاذ بن المثنى قالوا ثنا أبو الوليد الطيالسي ثنا عبد القاهر بن السري عن ابن لكنانة بن عباس بن مرداس السلمي عن أبيه عن جده العباس بن مرداس أن النبي صلى الله عليه وسلم دعا لأمته عشية عرفة بالمغفرة والرحمة فأكثر الدعاء فأجابه الله تبارك وتعالى إني قد غفرت لهم إلا ظلم بعضهم لبعض فأما ذنوبهم فيما بيني وبينهم فقد غفرتها، فقال يا رب إنك قادر أن تثيب هذا المظلوم خيرا من مظلمته وتغفر لهذا الظالم، فلم يجبه تلك العشية فلما كان غداة المزدلفة أعاد الدعاء فأجابه إني قد غفرت لهم
ثم تبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له بعض أصحابه تبسمت في ساعة لم تكن تبتسم فيها فقال تبسمت من عدو الله إبليس لعنه الله إنه لما علم أن الله قد
⦗ص: 44⦘ استجاب لي في أمتي أهوى يدعو بالويل والثبور ويحثو التراب على رأسه.
لم يسم أبو الوليد ابنا لكنانة.
২৭ - আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুসলিম আল-কাজ্জী, আলী বিন আব্দুল আজীজ এবং মুয়ায বিন আল-মুসান্না, তাঁরা বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল কাহির বিন আস-সারী, ইবনে লুকানানা বিন আব্বাস বিন মিরদাস আস-সুলামী থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা আব্বাস বিন মিরদাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতের সন্ধ্যায় তাঁর উম্মতের জন্য ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করেন এবং অধিক পরিমাণে দোয়া করেন। অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাঁকে উত্তর দিলেন, "নিশ্চয়ই আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি, তবে একে অপরের প্রতি তাদের করা জুলুম ব্যতীত। আর আমার ও তাদের মধ্যকার যে পাপসমূহ রয়েছে, তা আমি ক্ষমা করে দিয়েছি।" তখন তিনি বললেন, "হে প্রতিপালক! আপনি তো এই মজলুমকে তার ওপর করা জুলুমের চেয়েও উত্তম প্রতিদান দিতে এবং এই জালেমকে ক্ষমা করে দিতে সক্ষম।" সে সন্ধ্যায় তিনি তাঁকে কোনো উত্তর দিলেন না। অতঃপর যখন মুজদালিফার সকাল হলো, তিনি পুনরায় সেই দোয়া করলেন, তখন তিনি তাঁকে উত্তর দিলেন, "নিশ্চয়ই আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।"
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন। তখন তাঁর কিছু সাহাবী তাঁকে বললেন, "আপনি এমন এক মুহূর্তে হাসলেন যে মুহূর্তে আপনি হাসতেন না।" তিনি বললেন, "আমি আল্লাহর শত্রু ইবলিসের কারণে হাসলাম—তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ হোক—কেননা সে যখন জানতে পারল যে আল্লাহ
⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ আমার উম্মতের ব্যাপারে আমার দোয়া কবুল করেছেন, তখন সে ধ্বংস ও বিনাশের চিৎকার করতে লাগল এবং নিজের মাথায় মাটি নিক্ষেপ করতে লাগল।"
আবু আল-ওয়ালিদ কিনানার পুত্রের নাম উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১)
ফাদলু আশরি জিল হিজ্জাহ লিত তবারানি
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
28 - حدثنا زكريا بن يحيى الساجي ثنا أيوب بن محمد ثنا عبد القاهر بن السري عن عبد الله بن كنانة بن عباس بن مرداس السلمي عن أبيه عن جده أن النبي صلى الله عليه وسلم دعا لأمته عشية عرفة فذكر مثله.
২৮ - জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া আস-সাজি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আইয়ুব ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্দুল কাহের ইবনে আস-সিররি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে কিনানা ইবনে আব্বাস ইবনে মিরদাস আস-সুলামি হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফাতের সন্ধ্যায় তাঁর উম্মতের জন্য দুআ করেছিলেন; এরপর তিনি এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।