8 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْعَبَّاسِ الْوَرَّاقُ إِمْلاءً قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ الْفَضْلُ بْنُ يَعْقُوبَ الرَّخَّامِيُّ ثنا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْحَكَمِ عَنِ الْعَلاءِ بْنِ بُكَيْرٍ عَنْ مَكْحُولٍ أَنَّ رَجُلا سَأَلَ أَبَا الدَّرْدَاءِ عَنْ صِيَامِ رَجَبٍ فَقَالَ:
⦗ص: 59⦘ سَأَلْتُ عَنْ شَهْرٍ كَانَتِ الْجَاهِلِيَّةُ تُعَظِّمُهُ فِي جَاهِلِيَّتِهَا وَمَا زَادَهُ الإِسْلامُ إِلا فَضْلا وَتَعْظِيمًا فَمَنْ صَامَ فِيهِ يَوْمًا تَطَوُّعًا يَحْتَسِبُ بِهِ ثَوَابَ اللَّهِ عز وجل وَيَبْتَغِي بِهِ وَجْهَهُ مُخْلِصًا أَطْفَأَ صَوْمُهُ ذَلِكَ الْيَوْمِ غَضَبَ اللَّهِ وَأَغْلَقَ عَنْهُ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ جَهَنَّمَ وَلَوْ أُعْطِيَ مِلْءَ الأَرْضِ ذَهَبًا مَا كَانَ ذَلِكَ جَزَاءً لَهُ وَلا يَسْتَكْمِلُ أَجْرَهُ شَيْءٌ مِنَ الدُّنْيَا دُونَ يَوْمِ الْحِسَابِ وَلَهُ إِذَا أَمْسَى عَشْرَ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٍ، فَإِنْ دَعَا
⦗ص: 60⦘ بِشَيْءٍ مِنْ عَاجِلِ الدُّنْيَا أُعِطِيَهُ وَإِلا أَرْضَى لَهُ مِنَ الْخَيْرِ أَفْضَلَ دُعَاءٍ دَعَاهُ داعٍ مِنْ أَوْلِيَاءِ اللَّهِ عز وجل وَأَحِبَّائِهِ وَأَصْفِيَائِهِ، وَمَنْ صَامَ يَوْمَيْنِ كَانَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ وَلَهُ مَعَ ذَلِكَ ثَوَابُ عَشَرَةٍ مِنَ الصِّدِّيقِينَ فِي عُمْرِهِمْ بَالِغَةً أَعْمَارُهُمْ مَا بَلَغَتْ وَيَشْفَعُ فِي مِثْلِ ما يشفعون فيه ويكون فِي زُمْرَتِهِمْ حتَّى يَدْخُلَ الْجَنَّةَ مَعَهُمْ وَيَكُونُ مِنْ رُفَقَائِهِمْ.
وَمَنْ صَامَ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَقَالَ اللَّه لَهُ عِنْدَ إِفْطَارِهِ: لَقَدْ وَجَبَ حَقُّ عَبْدِي هَذَا وَوَجَبَتْ لَهُ مَحَبَّتِي وَوِلايَتِي أُشْهِدُكُمْ يَا مَلائِكَتِي أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ.
وَمَنْ صَامَ أَرْبَعَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَمِثْلُ ثَوَابِ أُولِي الأَلْبَابِ التَّوَّابِينَ وَيُعْطَى كِتَابُهُ فِي أَوَّلِ الْفَائِزِينَ.
وَمَنْ صَامَ خَمْسَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَيُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَوَجْهُهُ مِثْلُ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَيُكْتَبُ لَهُ عَدَدُ رَمْلِ عَالَجٍ حَسَنَاتٍ وَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَيُقَالُ لَهُ تَمَنَّ عَلَى اللَّهِ مَا شِئْتَ.
وَمَنْ صَامَ سِتَّةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَيُعْطَى سِوَى ذَلِكَ نُورًا يَسْتَضِيُء بِهِ أَهْلُ الْجَمْعِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيُبْعَثُ فِي الآمِنِينَ حَتَّى يَمُرَّ عَلَى الصِّرَاطِ بِغَيْرِ حِسَابٍ ويعافى من عقوق الوالدين وقطعية الرَّحِمِ وَيُقْبِلُ اللَّهُ عَلَيْهِ بِوَجْهِهِ إِذَا لَقِيَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
⦗ص: 61⦘ وَمَنْ صَامَ سَبْعَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَتُغْلَقُ عَنْهُ سَبْعَةُ أَبْوَابِ الْجَحِيمِ وَحَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ وَأَوْجَبَ لَهُ الْجَنَّةَ يَتَبَوَّأُ مِنْهَا حَيْثُ يَشَاءُ.
وَمَنْ صَامَ ثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذلك وفتحت له ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيُّهَا شَاءَ.
وَمَنْ صَامَ تِسْعَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَرُفِعَ كِتَابُهُ فِي عِلِّيِّينَ وَيُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الآمِنِينَ وَيَخْرُجُ من قبره ووجهه نور يَتَلأْلأُ يُشْرِقُ لأَهْلِ الْجَمْعِ يَقُولُونَ هَذَا نَبِيٌّ مُصْطَفَى وَإِنَّ أَدْنَى مَا يُعْطَى أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ.
وَمَنْ صَامَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ فَبَخٍ بَخٍ بَخٍ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَعَشَرَةُ أَضْعَافٍ وَهُوَ مِمَّنْ يُبَدِّلُ اللَّهُ سِيَّئَاتَهُ حَسَنَاتٍ وَيَكُونُ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ الْقَوَّامِينَ للَّهِ بِالْقِسْطِ كَمَنْ عَبْدَ أَلْفَ سنةٍ قَائِمًا صَائِمًا صَابِرًا مُحْتَسِبًا.
وَمَنْ صَامَ عِشْرِينَ يَوْمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَعِشْرُونَ ضِعْفًا وَهُوَ مَنْ يُزَاحِمُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلَ اللَّهِ فِي قُبَّتِهِ وَيُشَفَّعُ فِي مِثْلِ رَبِيعَةَ وَمُضَرَ كُلُّهُمْ مِنْ أَهْلِ الْخَطَايَا وَالذُّنُوبِ.
وَمَنْ صَامَ ثَلاثِينَ يَوْمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وثلاثون ضعفاً ونادى منادٍ في السَّمَاءِ: أَبْشِر يَا وَلِيَّ اللَّهِ بِالْكَرَامَةِ
⦗ص: 62⦘ الْعُظْمَى النَّظَرِ إِلَى وَجْهِ اللَّهِ الْكَرِيمِ عز وجل فِي مُرَافَقَةِ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا طُوبَى لَكَ طُوبَى لَكَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ غَدًا إِذَا كُشِفَ الْغِطَاءُ فَأَفْضَيْتَ إِلَيَّ جَسِيمَ ثَوَابِ رَبِّكَ.
فَإِذَا نَزَلَ بِهِ الْمَوْتُ سَقَاهُ اللَّهُ عِنْدَ خُرُوجِ نَفَسِهِ شَرْبَةً مِنْ حِيَاضِ الْفِرْدَوْسِ وَيُهَوِّنُ عَلَيْهِ سَكْرَةَ الْمَوْتِ حتَّى مَا يَجِدُ لِلْمَوْتِ أَلَمًا فَيَظَلُّ فِي قَبْرِهِ رَيَّانًا حَتَّى يَرِدَ حَوْضَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا خَرَجَ مِنْ قَبْرِهِ يَلْقَاهُ سَبْعُونَ أَلْفَ ملكٍ مَعَهُمْ نَجَائِبُ مِنَ الدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ وَمَعَهُمْ طَرَائِفُ الْحُلِيِّ وَالْحُلَلِ فَيَقُولُونَ لَهُ يَا وَلِيَّ اللَّهِ الْمُنَجَّى إِلَى رَبِّكَ الَّذِي أَظْمَيْتَ لَهُ نَهَارَكَ وَأَنْحَلْتَ لَهُ جِسْمَكَ فَهُوَ أَوَّلُ النَّاسِ دُخُولا جَنَّاتِ عَدْنٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْفَائِزِينَ الَّذِينَ رَضِي اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضَوْا عَنْهُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.
قَالَ فَإِنْ كَانَ لَهُ فِي كُلِّ يَوْمٍ يَصُومُهُ صَدَقَةٌ عَلَى قَدْرِ قوته يتصدق بها فهيات هيهات هَيْهَاتَ ثَلاثًا لَوِ اجْتَمَعَ جَمِيعُ الْخَلائِقِ عَلَى أَنْ يُقَدِّرُوا قَدْرَ مَا أُعْطِيَ ذَلِكَ الْعَبْدُ مِنَ الثَّوَابِ مَا بَلَغُوا مِعْشَارَ الْعُشْرِ مِمَّا أُعْطِيَ ذَلِكَ الْعَبْدُ مِنَ الثَّوَابِ.
৮ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল ইবন আব্বাস আল-ওয়াররাক আমাদের কাছে শ্রুতিলিপি আকারে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবুল আব্বাস আল-ফজল ইবন ইয়াকুব আর-রাখামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবন আল-মুহাব্বার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবন আল-হাকাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-আলা ইবন বুকাইর থেকে, তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি আবু দারদা (রা.)-কে রজব মাসের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন:
⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ তুমি এমন একটি মাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ যাকে জাহেলি যুগে জাহেলিয়াতপন্থীরা সম্মান করত, আর ইসলাম এর মর্যাদা ও সম্মান কেবল বৃদ্ধিই করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর নিকট সওয়াবের আশায় এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর সন্তুষ্টির (আল্লাহর চেহারার) উদ্দেশ্যে এতে নফল হিসেবে একদিন রোজা রাখবে, তার সেই দিনের রোজা আল্লাহর রাগকে নির্বাপিত করবে এবং তার জন্য জাহান্নামের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা বন্ধ করে দেবে। যদি তাকে পৃথিবী পূর্ণ স্বর্ণও দেওয়া হয়, তবুও তা তার প্রতিদান হিসেবে গণ্য হবে না এবং হাশরের দিনের আগে দুনিয়ার কোনো কিছুই তার নেকি পূর্ণ করতে পারবে না। সন্ধ্যায় যখন তার ইফতারের সময় হবে, তার জন্য দশটি কবুলযোগ্য দোয়া রয়েছে। যদি সে
⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ দুনিয়ার তাৎক্ষণিক কোনো কিছুর জন্য দোয়া করে, তবে তাকে তা দেওয়া হবে; অন্যথায় তার জন্য এমন কল্যাণ দ্বারা সন্তুষ্টির ব্যবস্থা করা হবে যা মহান আল্লাহর ওলিগণ, তাঁর প্রিয়ভাজনগণ এবং মনোনীত বান্দাগণ যে সর্বোত্তম দোয়া করেন তার অনুরূপ। আর যে ব্যক্তি দুই দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং এর পাশাপাশি সে দশজন সত্যবাদীর (সিদ্দিকীন) সারাজীবনের ইবাদতের সমান সওয়াব পাবে, তাদের বয়স যত দীর্ঘই হোক না কেন। তারা যাদের জন্য সুপারিশ করবেন, সেও তাদের মতো সুপারিশ করতে পারবে এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত তাদের দলেই থাকবে এবং তাদের সঙ্গী হবে।
আর যে ব্যক্তি তিন দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং তার ইফতারের সময় আল্লাহ বলবেন: ‘আমার এই বান্দার হক অবধারিত হয়ে গেছে এবং তার জন্য আমার ভালোবাসা ও অভিভাবকত্ব অবধারিত হয়েছে। হে আমার ফেরেশতারা! আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তার আগের ও পরের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছি।’
আর যে ব্যক্তি চার দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং তাওবাকারী প্রজ্ঞাবানদের সওয়াবের অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং সফলকামদের প্রথম সারিতে তার আমলনামা প্রদান করা হবে।
আর যে ব্যক্তি পাঁচ দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং কিয়ামতের দিন তাকে এমন অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে যে তার মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। তার জন্য 'আলাজ' নামক প্রান্তরের বালুকণার সমপরিমাণ নেকি লেখা হবে এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাকে বলা হবে: ‘আল্লাহর কাছে যা চাও, তা কামনা করো।’
আর যে ব্যক্তি ছয় দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং এর বাইরেও তাকে এমন এক নূর (আলো) দান করা হবে যা দ্বারা কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানের সকল মানুষ আলোকপ্রাপ্ত হবে। সে নিরাপদ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পুনরুত্থিত হবে, এমনকি সে হিসাব ছাড়াই পুলসিরাত পার হবে। সে পিতামাতার অবাধ্যতা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার পাপ থেকে মুক্তি পাবে এবং কিয়ামতের দিন যখন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, আল্লাহ তাঁর চেহারা (মুখ) নিয়ে তার দিকে অভিমুখ করবেন।
⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ আর যে ব্যক্তি সাত দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং তার জন্য জাহান্নামের সাতটি দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আল্লাহ তার জন্য আগুনকে হারাম করে দেবেন এবং তার জন্য জান্নাত অবধারিত করবেন, যেখানে খুশি সে সেখানে বসবাস করবে।
আর যে ব্যক্তি আট দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, যেখান দিয়ে ইচ্ছা সে প্রবেশ করবে।
আর যে ব্যক্তি নয় দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং তার আমলনামা 'ইল্লিয়্যিন'-এ উন্নীত করা হবে। সে কিয়ামতের দিন নিরাপদ ব্যক্তিদের মধ্যে পুনরুত্থিত হবে এবং কবর থেকে এমন অবস্থায় বের হবে যে তার মুখমণ্ডল নূরের মতো জ্বলজ্বল করবে এবং হাশরের ময়দানবাসীর জন্য তা আভা ছড়াবে। লোকেরা বলবে, 'ইনি একজন মনোনীত নবী।' তার জন্য সবচেয়ে নগণ্য পুরস্কার হবে হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করা।
আর যে ব্যক্তি দশ দিন রোজা রাখবে, তার জন্য চমৎকার, চমৎকার, চমৎকার! সে অনুরূপ সওয়াব ও তার দশগুণ সওয়াব পাবে। সে হবে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের মন্দ কাজগুলোকে আল্লাহ নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দেন। সে ইনসাফের সাথে আল্লাহর ইবাদতে দণ্ডায়মান নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে, যেন সে হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে ইবাদত করেছে, রোজা রেখেছে, ধৈর্য ধরেছে এবং সওয়াবের আশা করেছে।
আর যে ব্যক্তি বিশ দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব ও তার বিশ গুণ পাবে। সে হবে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর খলিল ইব্রাহিম (আ.)-এর সাথে তাঁর তাঁবুতে অবস্থান করবে। সে রাবিআ ও মুদার গোত্রের সমপরিমাণ পাপিষ্ঠ ও গুনাহগার ব্যক্তিদের জন্য সুপারিশ করতে পারবে।
আর যে ব্যক্তি ত্রিশ দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব ও ত্রিশ গুণ সওয়াব পাবে। আকাশ থেকে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে: ‘হে আল্লাহর ওলি! সুসংবাদ গ্রহণ করো মহান মর্যাদার—
⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সম্মানিত চেহারার (মুখের) দিকে তাকানোর, নবীগণ, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ এবং নেককারদের সান্নিধ্যে। আর তারা কতই না উত্তম সঙ্গী! তোমার জন্য সুসংবাদ, তোমার জন্য সুসংবাদ, তোমার জন্য সুসংবাদ—আগামীকাল যখন পর্দা উন্মোচিত হবে এবং তুমি তোমার রবের বিশাল সওয়াবের অধিকারী হবে।’
যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হবে, তখন প্রাণ বের হওয়ার সময় আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের হাউজ থেকে পানীয় পান করাবেন এবং তার জন্য মৃত্যুযন্ত্রণাকে সহজ করে দেবেন, এমনকি সে মৃত্যুর কোনো কষ্ট অনুভব করবে না। সে তার কবরে তৃপ্ত অবস্থায় থাকবে যতক্ষণ না সে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাউজে উপনীত হয়। যখন সে কবর থেকে বের হবে, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার সাথে সাক্ষাৎ করবেন, যাদের সাথে মুক্তা ও ইয়াকুতের তৈরি সওয়ারী থাকবে এবং তাদের সাথে থাকবে বিস্ময়কর অলঙ্কার ও পোশাক। তারা তাকে বলবে, ‘হে আল্লাহর ওলি! তোমার রবের কাছে নাজাতপ্রাপ্ত হিসেবে চলো, যাঁর জন্য তুমি তোমার দিনগুলোকে তৃষ্ণার্ত রেখেছিলে এবং তোমার শরীরকে জীর্ণ করেছিলে।’ কিয়ামতের দিন সফলকামদের সাথে সে-ই সর্বপ্রথম জান্নাতে আদনে প্রবেশ করবে, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই হলো মহাসাফল্য।
তিনি বললেন: যদি সে রোজা রাখার প্রতিদিনে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করে, তবে সুদূরপরাহত, সুদূরপরাহত, সুদূরপরাহত (অর্থাৎ অভাবনীয়)! সমস্ত সৃষ্টিজগত মিলেও যদি সেই বান্দাকে প্রদত্ত সওয়াবের পরিমাণ নির্ধারণ করতে চায়, তবে সেই বান্দাকে যা সওয়াব দেওয়া হয়েছে তারা তার দশভাগের একভাগের দশভাগেও পৌঁছাতে পারবে না।