(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: -)
فضائل شهر رجب للخلال   (أبو محمد الحسن الخلال)

القسم: كتب السنة


الكتاب: فضائل شهر رجب

المؤلف: أبو محمد الحسن بن محمد بن الحسن بن علي البغدادي الخَلَّال (ت 439هـ)

المحقق: أبو يوسف عبد الرحمن بن يوسف بن عبد الرحمن آل محمد

الناشر: دار ابن حزم

الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1996 م

عدد الصفحات: 80

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433

খলাল এর রজব মাসের ফযীলতসমূহ   (আবু মুহাম্মদ আল-হাসান আল-খলাল)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: রজব মাসের ফযীলতসমূহ

লেখক: আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আলী আল-বাগদাদী আল-খলাল (মৃ. ৪৩৯ হি.)

তাহকীককারী: আবু ইউসুফ আবদুর রহমান বিন ইউসুফ বিন আবদুর রহমান আল মুহাম্মদ

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হি. - ১৯৯৬ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারক: ইয়া বাগী আল-খাইর আকবিল

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩

(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: -)
فضائل شهر رجب

 

للإمام الحافظ

أَبِي مُحَمَّد الْحَسَن بْن مُحَمَّد بن الحسن الخلال

352 هـ - 439هـ

 

حققه وضبط نصه وخرج أحاديثه

أبو يوسف عبد الرحمن بن يوسف بن عبد الرحمن آل محمد

 

دار ابن حزم

 

الطبعة الأولى

1416 هـ - 1996 م
রজব মাসের ফজিলত

 

ইমাম আল-হাফিজ

আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হাসান আল-খাল্লাল

৩৫২ হিজরি - ৪৩৯ হিজরি

 

এটি তাহকিক ও সম্পাদনা করেছেন এবং হাদিসসমূহের তাখরিজ করেছেন

আবু ইউসুফ আবদুর রহমান ইবনে ইউসুফ ইবনে আবদুর রহমান আল মুহাম্মদ

 

দার ইবনু হাজম

 

প্রথম সংস্করণ

১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৪১)
‌‌فضائل شهر رجب

جمع الشَّيْخ أَبِي مُحَمَّد الْحَسَن بْن محمد بن الحسن الخلال.

رواية الشيخ أبي مَنْصُور عَبْد المحسن بْن مُحَمَّد بن علي عنه.

رواية الشيخ أبي مَنْصُور سَعِيد بْن مُحَمَّد الرزاز عنه.

رواية الشيخ أبي البركات عَبْد اللَّه بْن الخضر بن الحسين عنه.

رواية الشيخ الإمام شرف الدين أَبِي المظفر مُحَمَّد بْن علوان بْن مهاجر الموصلي عنه.

رواية الشيخ القاضي فخر الدين إِسْحَاق بْن أبي بكر الطبري عنه.

رواية الشيخ محب الدين أَحْمَد بْن عَبْد اللَّه بْن مُحَمَّد بْن أَبِي بكر الطبري عنه.

رواية الشيخ رضي الدين أبي أَحْمَد إِبْرَاهِيم بْن مُحَمَّد بْن إبراهيم الطبري إمام المقام الشريف عنه.
রজব মাসের ফযীলতসমূহ

সংকলনে: শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-খাল্লাল।

তাঁর নিকট থেকে শায়খ আবু মনসুর আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ বিন আলীর বর্ণনা।

তাঁর নিকট থেকে শায়খ আবু মনসুর সাঈদ বিন মুহাম্মদ আর-রাযযাযের বর্ণনা।

তাঁর নিকট থেকে শায়খ আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আল-খিদর বিন আল-হুসাইনের বর্ণনা।

তাঁর নিকট থেকে শায়খ ইমাম শরফুদ্দীন আবি আল-মুযাফফর মুহাম্মদ বিন আলওয়ান বিন মুহাজির আল-মাওসিলীর বর্ণনা।

তাঁর নিকট থেকে শায়খ কাযী ফখরুদ্দীন ইসহাক বিন আবু বকর তাবারীর বর্ণনা।

তাঁর নিকট থেকে শায়খ মুহিব্বুদ্দীন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর তাবারীর বর্ণনা।

তাঁর নিকট থেকে মাকামে শরীফের ইমাম শায়খ রাযীউদ্দীন আবু আহমদ ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম তাবারীর বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৪২)
رواية الشيخ عفيف الدين عَبْد اللَّه بْن مُحَمَّد بْن مُحَمَّد بْن سُلَيْمَان النيسابوري النشاوري عنه إجازة.

رواية صاحب الجزء محمد بن محمد بن محمد بن أسعد بن عبد الكريم القايابي.

رواية وقراءته سماعاً له وحضوراً لولده عبد الله في الثالثة من عمره.
শায়খ আফিফ উদ্দিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আন-নাইসাবুরি আন-নাশাভুরি-এর বর্ণনা, তাঁর নিকট থেকে এজাজত সূত্রে।

এই জুয (অংশ)-এর মূল বর্ণনাকারী মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আসআদ বিন আব্দুল কারিম আল-কায়াবি-এর বর্ণনা।

তাঁর বর্ণনা এবং শ্রবণপূর্বক তাঁর পাঠ, এবং তাঁর পুত্র আবদুল্লাহর উপস্থিতিতে যখন তাঁর বয়স ছিল তিন বছর।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৪৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

أخبرنا الشَّيْخ العابد المعمر عفيف الدين عَبْد اللَّه بْن الشَّيْخ شمس الدين مُحَمَّد بْن مُحَمَّد بْن سُلَيْمَان النَّيْسَابُوريّ المعروف بالنشاوري الْمَكِّيّ قَالَ:

أخبرنا الشَّيْخ الْإِمَام العالم رَضِي الدين أَبُو أَحْمَد إِبْرَاهِيم بْن مُحَمَّد بْن إِبْرَاهِيم الطبري الْمَكِّيّ إمام المقام الشريف إجازة إن لم يكن سماعًا قَالَ أخبرنا الشَّيْخ القاضي الأجل الْإِمَام فخر الدين إِسْحَاق بْن أَبِي بَكْر الطبري عم أَبِي رحمه اللَّه تَعَالى إجازة.

وأخبرنا شيخي الْإِمَام الأوحد العلامة بقية السلف فخر الخلف محب الدين أَحْمَد بْن عَبْد اللَّه بْن مُحَمَّد بْن أَبِي بَكْر الطبري قراءة مني عَلَيْهِ فِي عشرة شهر رجب سنة ثمان وستين وستمائة بالمدرسة المنصورية بمكة المشرفة تجاه الكعبة المعظمة قَالَ:
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন দীর্ঘায়ু লাভকারী ইবাদতগুজার শায়খ আফিফ উদ্দিন আবদুল্লাহ ইবনে শায়খ শামস উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলাইমান আন-নিশাপুরী, যিনি আন-নাশাওরী আল-মাক্কী নামে পরিচিত, তিনি বলেন:

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম ও আলেম রাযী উদ্দিন আবু আহমদ ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাবারী আল-মাক্কী—যিনি মাকামে শরীফের ইমাম—এজাযাত প্রদানের মাধ্যমে, যদি সরাসরি শ্রবণ না হয়ে থাকে; তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মহান শায়খ, কাযী ও ইমাম ফখর উদ্দিন ইসহাক ইবনে আবু বকর আত-তাবারী—যিনি আমার পিতার চাচা ছিলেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এজাযাত প্রদানের মাধ্যমে।

এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার শায়খ, অনন্য ইমাম, আল্লামা, সালাফদের অবশিষ্টাংশ ও উত্তরসূরিদের গৌরব মুহিব উদ্দিন আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আত-তাবারী—আমি ৬৬৮ হিজরীর রজব মাসের দশ তারিখে মক্কা মুশাররাফার মহান কাবার সম্মুখে অবস্থিত আল-মাদরাসাতুল মানসুরিয়্যাহ-তে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে—তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৪৪)
أخبرنا القاضي فخر الدين إِسْحَاق بْن أَبِي بَكْر الطبري سماعًا عَلَيْهِ فِي أول يَوْم من رجب سنة تسع وثلاثين وستمائة بحق سماعه عَلَى الشَّيْخ الْإِمَام العالم شرف الدين أَبِي المظفر مُحَمَّد بْن علوان بْن مهاجر الموصلي فِي آخر جمادى الأخرى سنة ثلاث وستمائة قَالَ حَدَّثَنَا الشَّيْخ الْإِمَام الأجل مجد الدين شرف الْإِسْلَام أَبُو البركات عَبْد اللَّه بْن الخضر بْن الْحُسَيْن بقراءته علينا فِي يَوْم الأحد الخامس والعشرين من جمادى الآخرة سنة ست وخمسين وخمسمائة قال أنبأنا الشَّيْخ الْإِمَام الأوحد معين الدين ركن الْإِسْلَام أَبُو مَنْصُور سَعِيد بْن مُحَمَّد الرزاز أحسن اللَّه توفيقه قراءة عَلَيْهِ فِي يَوْم السبت رابع عشر رجب من سنة ثمان وثلاثين وخمسمائة قَالَ أخبرنا الشَّيْخ أَبُو مَنْصُور عَبْد المحسن بْن مُحَمَّد بْن عليّ أيده اللَّه تَعَالى قَالَ قرئ عَلَى الشَّيْخ أَبِي مُحَمَّد الْحَسَن بْن مُحَمَّد بْن الْحَسَن الخلال وأنا أسمع قيل لَهُ:
বিচারক ফখরুদ্দিন ইসহাক বিন আবি বকর আত-তাবারী ৬৩৯ হিজরির রজব মাসের প্রথম দিনে তাঁর নিকট শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; যা তিনি ৬০৩ হিজরির জুমাদাল আখিরা মাসের শেষে শেখ ইমাম আলিম শারফুদ্দীন আবি আল-মুজাফফর মুহাম্মদ বিন আলওয়ান বিন মুহাজির আল-মাওসিলির নিকট শ্রবণের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ ইমাম মহান মাজদুদ্দীন শারফুল ইসলাম আবুল বারাকাত আবদুল্লাহ বিন আল-খিজির বিন আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ৫৫৬ হিজরির জুমাদাল আখিরা মাসের পঁচিশ তারিখ রবিবারে আমাদের সামনে পাঠ করার মাধ্যমে। তিনি বলেন, শেখ ইমাম অদ্বিতীয় মুঈনুদ্দীন রুকনুল ইসলাম আবু মনসুর সাঈদ বিন মুহাম্মদ আর-রাজজাজ—আল্লাহ তাঁর তাওফিককে উত্তম করুন—৫৩৮ হিজরির চৌদ্দই রজব শনিবারে তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ আবু মনসুর আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ বিন আলী—আল্লাহ তাআলা তাঁকে শক্তিশালী করুন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-খাল্লালের সামনে পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম, তাঁকে বলা হয়েছে:
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৪৫)
1 - حَدَّثَكُمْ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْعَبَّاسِ الْوَرَّاقُ وَأَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ شَاهِينَ قَالا ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ ثنا زِيَادُ بْنُ أَبِي الرُّقَادِ قَالَ حَدَّثَنِي زَيِادُ النُّمَيْرِيُّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ:

كَانَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم إِذَا دخل رَجَبٍ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ.
১ - তোমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আল-আব্বাস আল-ওয়াররাক এবং আবু হাফস উমর বিন আহমদ, যিনি ইবনে শাহিন নামে পরিচিত। তাঁরা উভয়েই বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী। তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন উমর আল-কাওয়ারীরী। তিনি বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যিয়াদ বিন আবিল রুরাদ। তিনি বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যিয়াদ আন-নুমায়রী, আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন রজব মাস শুরু হতো তখন বলতেন: হে আল্লাহ, আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৪৭)
2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّد بْن إِسْمَاعِيل ثنا مُحَمَّد بْن مُحَمَّد الْبُخَارِيّ قَدِمَ عَلَيْنَا قَالَ ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ حَاتِمٍ الْبُخَارِيُّ الْمُعَدِّلُ ثنا الْحَارِثُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ:

قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ سُمِّيَ رَجَبٌ قَالَ: لأَنَّهُ يُتَرَجَّبُ فِيهِ خَيْرٌ كثيرٌ لِشَعْبَانَ وَرَمَضَانَ.
২ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-বুখারী বর্ণনা করেছেন—যিনি আমাদের এখানে এসেছিলেন—তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুল আজিজ বিন হাতিম আল-বুখারী আল-মুয়াদদিল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হারিস বিন মুসলিম বর্ণনা করেছেন যিয়াদ বিন মায়মুন থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, কেন রজব মাসের নামকরণ করা হয়েছে? তিনি বললেন: কারণ এতে শাবান ও রমজানের জন্য প্রচুর কল্যাণ সঞ্চিত হয়।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৪৮)
3 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُثْمَانَ الْوَاعِظُ قَالَ ثنا أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ عُثْمَانَ الْبَيِّعُ قَالَ ثنا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ قَالَ ثنا عَبْد اللَّه بْن عَبْد الرَّحْمَن ثنا مَنْصُورُ بْنُ زَيْدٍ الأَسَدِيُّ ثنا مُوسَى بْنُ عُمَيْرٍ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رضي الله عنه يَقُولُ:

قَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم: إِنَّ فِي الْجَنَّةِ نَهْرًا يُقَالُ لَهُ رَجَبٌ مَنْ صَامَ مِنْ رَجَبٍ يَوْمًا وَاحِدًا سَقَاهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ النَّهْرِ.
৩ - আমাদের নিকট উমর বিন আহমদ বিন উসমান আল-ওয়ায়েজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু উসমান সাঈদ বিন উসমান আল-বায়্যি' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাসান বিন আস-সাব্বাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মনসুর বিন যায়েদ আল-আসাদী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুসা বিন উমাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি নদী রয়েছে যাকে রজব বলা হয়। যে ব্যক্তি রজব মাসে একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তাকে সেই নদী থেকে পান করাবেন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৫০)
4 - حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ عَبْدُ اللَّهُ بْنَ مُوسَى بْنُ إِسْحَاقَ الْهَاشِمِيُّ الْمُقْرِئُ ثنا حَامِدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُعَيْبٍ الْبَلْخِيُّ ثنا شُجَاعُ بْنُ مَخْلَدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ عَطِيَّةَ الصَّفَّارِ عَنْ هِشَامٍ الْقُرْدُوسِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه

أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُتِمَّ صوم شهرٍ بعد شهر رَمَضَانَ إِلا رَجَبٍ وَشَعْبانَ.
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আল-আব্বাস আব্দুল্লাহ ইবনে মুসা ইবনে ইসহাক আল-হাশেমি আল-মুকরি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হামিদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শুয়াইব আল-বালখি, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শুজা ইবনে মাখলাদ, তিনি ইউসুফ ইবনে আতিয়্যাহ আস-সাফফার থেকে, তিনি হিশাম আল-কুরদুসি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) রমজান মাসের পর রজব ও শাবান মাস ব্যতীত অন্য কোনো পূর্ণ মাস রোজা পালন করেননি।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৫২)
5 - حَدَّثَنَا أَبُو عُمَر مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ حَيُّوَيْهِ قَالَ ثنا مُحَمَّد بْن مُحَمَّد بْن سُلَيْمَان الْوَاسِطِيُّ ثنا أَحْمَد بْن عِيسَى عَنْ إِبْرَاهِيم بْنِ الْيَسَعَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ:

قَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم وَمَنْ صَامَ يَوْمًا مِنْ شَهْرٍ حَرَامٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ يومٍ شَهْرًا وَمَنْ صَامَ أَيَّامَ الْعَشْرِ كَانَ لَهُ بِكُلِّ يومٍ حَسَنَةٌ.
৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস ইবনে হাইয়ুওয়াইহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলায়মান আল-ওয়াসিতি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ঈসা, ইব্রাহিম ইবনুল ইয়াসা থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি হারাম মাসসমূহের কোনো একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি দিনের বিনিময়ে এক মাসের (সওয়াব) লিখে দেবেন। আর যে ব্যক্তি (জিলহজের) দশ দিন রোজা রাখবে, তার জন্য প্রতিটি দিনের বিনিময়ে একটি নেকি রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৫৪)
6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْوَرَّاقُ ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَرْوَانَ الْقَطَّانُ ثنا أَبِي ثنا حُصَيْنُ بْنُ غَارِقٍ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ الثُّمَالِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه قَالَ:

قَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم مَنْ أَحْيَا لَيْلَةَ رَجَبٍ وَصَامَ يَوْمَهَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ مِنْ ثِمَارِ الْجَنَّةِ وَكَسَاهُ مِنْ خُضْرِ الْجَنَّةِ وَسَقَاهُ مِنَ الرَّحِيقِ الْمَخْتُومِ إِلا مَنْ فَعَلَ ثَلاثًا: مَنْ قَتَلَ نَفْسًا أَوْ سَمِعَ مُسْتَغِيثًا يَسْتَغِيثُ بِاللَّهِ بليلٍ أو نهارٍ ياغوثاً بِاللَّهِ فَلَمْ يُغِثْهُ أَوْ شَكَى إِلَيْهِ أَخُوهُ حَاجَةً فَلَمْ يُفَرِّجْ عَنْهُ.
৬ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান আল-কাত্তান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে গারিক, তিনি আবু হামযাহ আস-সুমালী থেকে, তিনি আলী ইবনে আল-হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: যে ব্যক্তি রজব মাসের রাত (ইবাদতের মাধ্যমে) জীবিত রাখে এবং তার দিনে রোজা পালন করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফলমূল থেকে আহার করাবেন, তাকে জান্নাতের সবুজ রেশমি বস্ত্র পরিধান করাবেন এবং তাকে মোহরকৃত বিশুদ্ধ সুধা পান করাবেন; তবে ঐ ব্যক্তি ব্যতীত যে তিনটি কাজ করে: যে কোনো প্রাণ হত্যা করে, অথবা যে রাত বা দিনে আল্লাহর দোহাই দিয়ে কোনো আর্তনাদকারীর সাহায্য প্রার্থনা শুনতে পায় কিন্তু তাকে সাহায্য করে না, অথবা যার কাছে তার কোনো ভাই প্রয়োজনের কথা জানায় অথচ সে তার অভাব দূর করে না।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৫৬)
7 - حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بن الجراحي وَعُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ الْوَاعِظُ قَالا ثنا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى بْنِ السُّكَيْنِ الْبَلَدِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بن إسحاق الملقب بالحسام ثنا إِسْحَاقُ بْنُ زُرَيْقٍ الرَّسْعَنِيُّ ثنا إِسْمَاعِيل بْن يَحيى بْن عُبَيْد اللَّه التَّيْمِيُّ ثنا مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ عَنْ عَطِيَّةَ الْعَوْفِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ:

قَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم رَجَبٌ مِنْ شُهُورِ الْحُرُمِ وَأَيَّامُهُ مكتوبةٌ عَلَى أَبْوَابِ السَّمَاءِ السَّادِسَةِ فَإِذَا صَامَ الرَّجُلُ مِنْهُ يَوْمًا وَجَرَّدَ صَوْمَهُ لِتَقْوَى اللَّهِ نَطَقَ الْبَابُ وَنَطَقَ الْيَوْمُ قَالا يَا رَبٍّ اغْفِرْ لَهُ وَإِذَا لَمْ يُتِمَّ صَوْمَهُ بِتَقْوَى اللَّهِ لَمْ يَسْتَغْفِرَا قَالَ أَوْ قِيلَ خَدَعَتْكَ نَفْسُكَ.
৭ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাজী আবু আল-হাসান আলী বিন আল-জাররাহি এবং উমর বিন আহমাদ আল-ওয়ায়িজ, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ঈসা বিন আস-সুকাইন আল-বালাদি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক, যিনি আল-হুসাম উপাধিতে পরিচিত, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন যুরাইক আর-রাসআনি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন ইয়াহইয়া বিন উবাইদুল্লাহ আত-তাইমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিসআর বিন কিদাম, আতিয়্যাহ আল-আউফি থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: রজব হলো সম্মানিত মাসসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এর দিনগুলো ষষ্ঠ আসমানের ফটকসমূহে লিপিবদ্ধ থাকে। সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি এই মাস থেকে একদিন রোজা রাখে এবং আল্লাহর তাকওয়ার উদ্দেশ্যে তার রোজাকে একনিষ্ঠ করে, তখন সেই ফটক এবং সেই দিন কথা বলে ওঠে; তারা উভয়ে বলে: হে প্রতিপালক, তাকে ক্ষমা করে দিন। আর যখন সে আল্লাহর তাকওয়ার সাথে তার রোজা পূর্ণ করে না, তখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে না। তিনি বলেন অথবা বলা হয়: তোমার প্রবৃত্তি তোমাকে প্রতারিত করেছে।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৫৮)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْعَبَّاسِ الْوَرَّاقُ إِمْلاءً قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ الْفَضْلُ بْنُ يَعْقُوبَ الرَّخَّامِيُّ ثنا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ الْحَكَمِ عَنِ الْعَلاءِ بْنِ بُكَيْرٍ عَنْ مَكْحُولٍ أَنَّ رَجُلا سَأَلَ أَبَا الدَّرْدَاءِ عَنْ صِيَامِ رَجَبٍ فَقَالَ:

⦗ص: 59⦘ سَأَلْتُ عَنْ شَهْرٍ كَانَتِ الْجَاهِلِيَّةُ تُعَظِّمُهُ فِي جَاهِلِيَّتِهَا وَمَا زَادَهُ الإِسْلامُ إِلا فَضْلا وَتَعْظِيمًا فَمَنْ صَامَ فِيهِ يَوْمًا تَطَوُّعًا يَحْتَسِبُ بِهِ ثَوَابَ اللَّهِ عز وجل وَيَبْتَغِي بِهِ وَجْهَهُ مُخْلِصًا أَطْفَأَ صَوْمُهُ ذَلِكَ الْيَوْمِ غَضَبَ اللَّهِ وَأَغْلَقَ عَنْهُ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ جَهَنَّمَ وَلَوْ أُعْطِيَ مِلْءَ الأَرْضِ ذَهَبًا مَا كَانَ ذَلِكَ جَزَاءً لَهُ وَلا يَسْتَكْمِلُ أَجْرَهُ شَيْءٌ مِنَ الدُّنْيَا دُونَ يَوْمِ الْحِسَابِ وَلَهُ إِذَا أَمْسَى عَشْرَ دَعَوَاتٍ مُسْتَجَابَاتٍ، فَإِنْ دَعَا ⦗ص: 60⦘ بِشَيْءٍ مِنْ عَاجِلِ الدُّنْيَا أُعِطِيَهُ وَإِلا أَرْضَى لَهُ مِنَ الْخَيْرِ أَفْضَلَ دُعَاءٍ دَعَاهُ داعٍ مِنْ أَوْلِيَاءِ اللَّهِ عز وجل وَأَحِبَّائِهِ وَأَصْفِيَائِهِ، وَمَنْ صَامَ يَوْمَيْنِ كَانَ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ وَلَهُ مَعَ ذَلِكَ ثَوَابُ عَشَرَةٍ مِنَ الصِّدِّيقِينَ فِي عُمْرِهِمْ بَالِغَةً أَعْمَارُهُمْ مَا بَلَغَتْ وَيَشْفَعُ فِي مِثْلِ ما يشفعون فيه ويكون فِي زُمْرَتِهِمْ حتَّى يَدْخُلَ الْجَنَّةَ مَعَهُمْ وَيَكُونُ مِنْ رُفَقَائِهِمْ.

وَمَنْ صَامَ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَقَالَ اللَّه لَهُ عِنْدَ إِفْطَارِهِ: لَقَدْ وَجَبَ حَقُّ عَبْدِي هَذَا وَوَجَبَتْ لَهُ مَحَبَّتِي وَوِلايَتِي أُشْهِدُكُمْ يَا مَلائِكَتِي أَنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأَخَّرَ.

وَمَنْ صَامَ أَرْبَعَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَمِثْلُ ثَوَابِ أُولِي الأَلْبَابِ التَّوَّابِينَ وَيُعْطَى كِتَابُهُ فِي أَوَّلِ الْفَائِزِينَ.

وَمَنْ صَامَ خَمْسَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَيُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَوَجْهُهُ مِثْلُ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَيُكْتَبُ لَهُ عَدَدُ رَمْلِ عَالَجٍ حَسَنَاتٍ وَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ وَيُقَالُ لَهُ تَمَنَّ عَلَى اللَّهِ مَا شِئْتَ.

وَمَنْ صَامَ سِتَّةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَيُعْطَى سِوَى ذَلِكَ نُورًا يَسْتَضِيُء بِهِ أَهْلُ الْجَمْعِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيُبْعَثُ فِي الآمِنِينَ حَتَّى يَمُرَّ عَلَى الصِّرَاطِ بِغَيْرِ حِسَابٍ ويعافى من عقوق الوالدين وقطعية الرَّحِمِ وَيُقْبِلُ اللَّهُ عَلَيْهِ بِوَجْهِهِ إِذَا لَقِيَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

⦗ص: 61⦘ وَمَنْ صَامَ سَبْعَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَتُغْلَقُ عَنْهُ سَبْعَةُ أَبْوَابِ الْجَحِيمِ وَحَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ وَأَوْجَبَ لَهُ الْجَنَّةَ يَتَبَوَّأُ مِنْهَا حَيْثُ يَشَاءُ.

وَمَنْ صَامَ ثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذلك وفتحت له ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ يَدْخُلُ مِنْ أَيُّهَا شَاءَ.

وَمَنْ صَامَ تِسْعَةَ أَيَّامٍ كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَرُفِعَ كِتَابُهُ فِي عِلِّيِّينَ وَيُبْعَثُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي الآمِنِينَ وَيَخْرُجُ من قبره ووجهه نور يَتَلأْلأُ يُشْرِقُ لأَهْلِ الْجَمْعِ يَقُولُونَ هَذَا نَبِيٌّ مُصْطَفَى وَإِنَّ أَدْنَى مَا يُعْطَى أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ.

وَمَنْ صَامَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ فَبَخٍ بَخٍ بَخٍ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَعَشَرَةُ أَضْعَافٍ وَهُوَ مِمَّنْ يُبَدِّلُ اللَّهُ سِيَّئَاتَهُ حَسَنَاتٍ وَيَكُونُ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ الْقَوَّامِينَ للَّهِ بِالْقِسْطِ كَمَنْ عَبْدَ أَلْفَ سنةٍ قَائِمًا صَائِمًا صَابِرًا مُحْتَسِبًا.

وَمَنْ صَامَ عِشْرِينَ يَوْمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَعِشْرُونَ ضِعْفًا وَهُوَ مَنْ يُزَاحِمُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلَ اللَّهِ فِي قُبَّتِهِ وَيُشَفَّعُ فِي مِثْلِ رَبِيعَةَ وَمُضَرَ كُلُّهُمْ مِنْ أَهْلِ الْخَطَايَا وَالذُّنُوبِ.

وَمَنْ صَامَ ثَلاثِينَ يَوْمًا كَانَ لَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وثلاثون ضعفاً ونادى منادٍ في السَّمَاءِ: أَبْشِر يَا وَلِيَّ اللَّهِ بِالْكَرَامَةِ ⦗ص: 62⦘ الْعُظْمَى النَّظَرِ إِلَى وَجْهِ اللَّهِ الْكَرِيمِ عز وجل فِي مُرَافَقَةِ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيقًا طُوبَى لَكَ طُوبَى لَكَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ غَدًا إِذَا كُشِفَ الْغِطَاءُ فَأَفْضَيْتَ إِلَيَّ جَسِيمَ ثَوَابِ رَبِّكَ.

فَإِذَا نَزَلَ بِهِ الْمَوْتُ سَقَاهُ اللَّهُ عِنْدَ خُرُوجِ نَفَسِهِ شَرْبَةً مِنْ حِيَاضِ الْفِرْدَوْسِ وَيُهَوِّنُ عَلَيْهِ سَكْرَةَ الْمَوْتِ حتَّى مَا يَجِدُ لِلْمَوْتِ أَلَمًا فَيَظَلُّ فِي قَبْرِهِ رَيَّانًا حَتَّى يَرِدَ حَوْضَ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا خَرَجَ مِنْ قَبْرِهِ يَلْقَاهُ سَبْعُونَ أَلْفَ ملكٍ مَعَهُمْ نَجَائِبُ مِنَ الدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ وَمَعَهُمْ طَرَائِفُ الْحُلِيِّ وَالْحُلَلِ فَيَقُولُونَ لَهُ يَا وَلِيَّ اللَّهِ الْمُنَجَّى إِلَى رَبِّكَ الَّذِي أَظْمَيْتَ لَهُ نَهَارَكَ وَأَنْحَلْتَ لَهُ جِسْمَكَ فَهُوَ أَوَّلُ النَّاسِ دُخُولا جَنَّاتِ عَدْنٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ الْفَائِزِينَ الَّذِينَ رَضِي اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضَوْا عَنْهُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ.

قَالَ فَإِنْ كَانَ لَهُ فِي كُلِّ يَوْمٍ يَصُومُهُ صَدَقَةٌ عَلَى قَدْرِ قوته يتصدق بها فهيات هيهات هَيْهَاتَ ثَلاثًا لَوِ اجْتَمَعَ جَمِيعُ الْخَلائِقِ عَلَى أَنْ يُقَدِّرُوا قَدْرَ مَا أُعْطِيَ ذَلِكَ الْعَبْدُ مِنَ الثَّوَابِ مَا بَلَغُوا مِعْشَارَ الْعُشْرِ مِمَّا أُعْطِيَ ذَلِكَ الْعَبْدُ مِنَ الثَّوَابِ.
৮ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল ইবন আব্বাস আল-ওয়াররাক আমাদের কাছে শ্রুতিলিপি আকারে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবুল আব্বাস আল-ফজল ইবন ইয়াকুব আর-রাখামি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, দাউদ ইবন আল-মুহাব্বার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবন আল-হাকাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-আলা ইবন বুকাইর থেকে, তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি আবু দারদা (রা.)-কে রজব মাসের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন:

⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ তুমি এমন একটি মাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ যাকে জাহেলি যুগে জাহেলিয়াতপন্থীরা সম্মান করত, আর ইসলাম এর মর্যাদা ও সম্মান কেবল বৃদ্ধিই করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর নিকট সওয়াবের আশায় এবং একনিষ্ঠভাবে তাঁর সন্তুষ্টির (আল্লাহর চেহারার) উদ্দেশ্যে এতে নফল হিসেবে একদিন রোজা রাখবে, তার সেই দিনের রোজা আল্লাহর রাগকে নির্বাপিত করবে এবং তার জন্য জাহান্নামের দরজাসমূহ থেকে একটি দরজা বন্ধ করে দেবে। যদি তাকে পৃথিবী পূর্ণ স্বর্ণও দেওয়া হয়, তবুও তা তার প্রতিদান হিসেবে গণ্য হবে না এবং হাশরের দিনের আগে দুনিয়ার কোনো কিছুই তার নেকি পূর্ণ করতে পারবে না। সন্ধ্যায় যখন তার ইফতারের সময় হবে, তার জন্য দশটি কবুলযোগ্য দোয়া রয়েছে। যদি সে ⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ দুনিয়ার তাৎক্ষণিক কোনো কিছুর জন্য দোয়া করে, তবে তাকে তা দেওয়া হবে; অন্যথায় তার জন্য এমন কল্যাণ দ্বারা সন্তুষ্টির ব্যবস্থা করা হবে যা মহান আল্লাহর ওলিগণ, তাঁর প্রিয়ভাজনগণ এবং মনোনীত বান্দাগণ যে সর্বোত্তম দোয়া করেন তার অনুরূপ। আর যে ব্যক্তি দুই দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং এর পাশাপাশি সে দশজন সত্যবাদীর (সিদ্দিকীন) সারাজীবনের ইবাদতের সমান সওয়াব পাবে, তাদের বয়স যত দীর্ঘই হোক না কেন। তারা যাদের জন্য সুপারিশ করবেন, সেও তাদের মতো সুপারিশ করতে পারবে এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত তাদের দলেই থাকবে এবং তাদের সঙ্গী হবে।

আর যে ব্যক্তি তিন দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং তার ইফতারের সময় আল্লাহ বলবেন: ‘আমার এই বান্দার হক অবধারিত হয়ে গেছে এবং তার জন্য আমার ভালোবাসা ও অভিভাবকত্ব অবধারিত হয়েছে। হে আমার ফেরেশতারা! আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তার আগের ও পরের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছি।’

আর যে ব্যক্তি চার দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং তাওবাকারী প্রজ্ঞাবানদের সওয়াবের অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং সফলকামদের প্রথম সারিতে তার আমলনামা প্রদান করা হবে।

আর যে ব্যক্তি পাঁচ দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং কিয়ামতের দিন তাকে এমন অবস্থায় পুনরুত্থিত করা হবে যে তার মুখমণ্ডল হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। তার জন্য 'আলাজ' নামক প্রান্তরের বালুকণার সমপরিমাণ নেকি লেখা হবে এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাকে বলা হবে: ‘আল্লাহর কাছে যা চাও, তা কামনা করো।’

আর যে ব্যক্তি ছয় দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং এর বাইরেও তাকে এমন এক নূর (আলো) দান করা হবে যা দ্বারা কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানের সকল মানুষ আলোকপ্রাপ্ত হবে। সে নিরাপদ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পুনরুত্থিত হবে, এমনকি সে হিসাব ছাড়াই পুলসিরাত পার হবে। সে পিতামাতার অবাধ্যতা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার পাপ থেকে মুক্তি পাবে এবং কিয়ামতের দিন যখন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, আল্লাহ তাঁর চেহারা (মুখ) নিয়ে তার দিকে অভিমুখ করবেন।

⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ আর যে ব্যক্তি সাত দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং তার জন্য জাহান্নামের সাতটি দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আল্লাহ তার জন্য আগুনকে হারাম করে দেবেন এবং তার জন্য জান্নাত অবধারিত করবেন, যেখানে খুশি সে সেখানে বসবাস করবে।

আর যে ব্যক্তি আট দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, যেখান দিয়ে ইচ্ছা সে প্রবেশ করবে।

আর যে ব্যক্তি নয় দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব পাবে এবং তার আমলনামা 'ইল্লিয়্যিন'-এ উন্নীত করা হবে। সে কিয়ামতের দিন নিরাপদ ব্যক্তিদের মধ্যে পুনরুত্থিত হবে এবং কবর থেকে এমন অবস্থায় বের হবে যে তার মুখমণ্ডল নূরের মতো জ্বলজ্বল করবে এবং হাশরের ময়দানবাসীর জন্য তা আভা ছড়াবে। লোকেরা বলবে, 'ইনি একজন মনোনীত নবী।' তার জন্য সবচেয়ে নগণ্য পুরস্কার হবে হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করা।

আর যে ব্যক্তি দশ দিন রোজা রাখবে, তার জন্য চমৎকার, চমৎকার, চমৎকার! সে অনুরূপ সওয়াব ও তার দশগুণ সওয়াব পাবে। সে হবে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের মন্দ কাজগুলোকে আল্লাহ নেকি দ্বারা পরিবর্তন করে দেন। সে ইনসাফের সাথে আল্লাহর ইবাদতে দণ্ডায়মান নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে, যেন সে হাজার বছর ধরে দাঁড়িয়ে ইবাদত করেছে, রোজা রেখেছে, ধৈর্য ধরেছে এবং সওয়াবের আশা করেছে।

আর যে ব্যক্তি বিশ দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব ও তার বিশ গুণ পাবে। সে হবে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর খলিল ইব্রাহিম (আ.)-এর সাথে তাঁর তাঁবুতে অবস্থান করবে। সে রাবিআ ও মুদার গোত্রের সমপরিমাণ পাপিষ্ঠ ও গুনাহগার ব্যক্তিদের জন্য সুপারিশ করতে পারবে।

আর যে ব্যক্তি ত্রিশ দিন রোজা রাখবে, সে অনুরূপ সওয়াব ও ত্রিশ গুণ সওয়াব পাবে। আকাশ থেকে এক ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে: ‘হে আল্লাহর ওলি! সুসংবাদ গ্রহণ করো মহান মর্যাদার— ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সম্মানিত চেহারার (মুখের) দিকে তাকানোর, নবীগণ, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ এবং নেককারদের সান্নিধ্যে। আর তারা কতই না উত্তম সঙ্গী! তোমার জন্য সুসংবাদ, তোমার জন্য সুসংবাদ, তোমার জন্য সুসংবাদ—আগামীকাল যখন পর্দা উন্মোচিত হবে এবং তুমি তোমার রবের বিশাল সওয়াবের অধিকারী হবে।’

যখন তার মৃত্যু উপস্থিত হবে, তখন প্রাণ বের হওয়ার সময় আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের হাউজ থেকে পানীয় পান করাবেন এবং তার জন্য মৃত্যুযন্ত্রণাকে সহজ করে দেবেন, এমনকি সে মৃত্যুর কোনো কষ্ট অনুভব করবে না। সে তার কবরে তৃপ্ত অবস্থায় থাকবে যতক্ষণ না সে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাউজে উপনীত হয়। যখন সে কবর থেকে বের হবে, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার সাথে সাক্ষাৎ করবেন, যাদের সাথে মুক্তা ও ইয়াকুতের তৈরি সওয়ারী থাকবে এবং তাদের সাথে থাকবে বিস্ময়কর অলঙ্কার ও পোশাক। তারা তাকে বলবে, ‘হে আল্লাহর ওলি! তোমার রবের কাছে নাজাতপ্রাপ্ত হিসেবে চলো, যাঁর জন্য তুমি তোমার দিনগুলোকে তৃষ্ণার্ত রেখেছিলে এবং তোমার শরীরকে জীর্ণ করেছিলে।’ কিয়ামতের দিন সফলকামদের সাথে সে-ই সর্বপ্রথম জান্নাতে আদনে প্রবেশ করবে, যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই হলো মহাসাফল্য।

তিনি বললেন: যদি সে রোজা রাখার প্রতিদিনে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করে, তবে সুদূরপরাহত, সুদূরপরাহত, সুদূরপরাহত (অর্থাৎ অভাবনীয়)! সমস্ত সৃষ্টিজগত মিলেও যদি সেই বান্দাকে প্রদত্ত সওয়াবের পরিমাণ নির্ধারণ করতে চায়, তবে সেই বান্দাকে যা সওয়াব দেওয়া হয়েছে তারা তার দশভাগের একভাগের দশভাগেও পৌঁছাতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৬৩)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ حَمْدَانَ بْنِ مَالِكٍ الْقَطِيعِيُّ ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حَمَّادٍ ثنا كَهْمَسُ بْنُ الْحَسَنِ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ:

كَانَ ابْنُ عُمَر رَضِيَ اللهُ تعالى عَنْهما يُعْجِبُهُ أَنْ يَعْتَمِرَ فِي رَجَبٍ شَهْرٍ حَرَامٍ بَيْنَ ظَهْرَانَيِ السَّنَةِ.
৯ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে জাফর ইবনে হামদান ইবনে মালিক আল-কাতিয়ী, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে হাম্মাদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাহমাস ইবনুল হাসান, তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

ইবনে উমর (আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বছরের মধ্যবর্তী সম্মানিত মাস রজবে উমরাহ পালন করা পছন্দ করতেন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৬৪)
10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ التَّمَّارُ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الطلالاينوسِيُّ أَبُو بَكْرٍ الصَّيْدَلانِيُّ ثنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ الْمُقْرِئُ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْعُقَيْلانِيُّ عَنْ حُمْرَانَ بْنِ أَبَانٍ مَوْلَى عُثْمَانَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ:

قَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم صَوْمُ أَوَّلِ يَوْمٍ في رجب كفارة ثلاث سِنِينَ وَالثَّانِي كَفَّارَةُ سَنَتَيْنِ وَالثَّالِثُ كَفَّارَةُ سنةٍ ثُمَّ كُلُّ يومٍ شَهْرٍ.
১০ - আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ আত-তাম্মার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আত-তালালাইনুসী আবু বকর আস-সাইদালানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আবি সালিম আল-মুকরি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে বিশর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু আবদুল্লাহ আল-উকাইলানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হুমরান ইবনে আবান থেকে—যিনি উসমানের (রা.) মুক্তদাস ছিলেন—তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "রজব মাসের প্রথম দিনের রোজা তিন বছরের (গুনাহের) কাফফারা, দ্বিতীয় দিনের রোজা দুই বছরের কাফফারা এবং তৃতীয় দিনের রোজা এক বছরের কাফফারা; অতঃপর প্রতিটি দিনের রোজা এক মাসের (গুনাহের) কাফফারা।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৬৫)
11 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَعْقُوبَ الْمُقْرِئُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْبَوَّابِ ثنا الْقَاسِمُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْعَبَّاسِ الشَّامِيُّ قَالَ ثنا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُسَاوِرٍ ثنا أَبُو خَيْثَمَةَ قَالَ ثنا عَبْدُ الْغَفُورِ أَبُو الصَّبَّاحِ ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ سَعِيدٍ الشَّامِيُّ عَنْ أَبِيهِ رضي الله عنه قَالَ:

قَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم رَجَبٌ شَهْرُ اللَّهِ الأَحْكَمُ مَنْ صَامَ يَوْمًا مِنْ رَجَبٍ كَانَ لَهُ كِصِيَامِ شَهْرٍ وَمَنْ صَامَ سَبْعَةَ أَيَّامٍ مِنْ رَجَبٍ غَلَّقَ اللَّهُ عَنْهُ سَبْعَةَ أَبْوَابِ جَهَنَّمَ وَمَنْ صَامَ ثَمَانِيَةَ أَيَّامٍ مِنْ رَجَبٍ فُتِحَتْ لَهُ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ وَمَنْ صَامَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ مِنْ رَجَبٍ نَادَى منادٍ مِنَ السَّمَاءِ قَدْ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ فَاسْتَأَنِفْ عَمَلَكَ وَمَنْ زَادَ زَادَهُ اللَّهُ.
১১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন ইয়াকুব আল-মুকরি, যিনি ইবনুল বাওয়াব নামে পরিচিত; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-কাসিম বিন আহমাদ বিন আল-আব্বাস আশ-শামি; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলি বিন আল-হাসান বিন মুসাওয়ির; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু খাইসামাহ; তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল গফুর আবু আস-সাব্বাহ; তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল আজিজ বিন সাঈদ আশ-শামি; তিনি তাঁর পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: রজব হলো আল্লাহর অতি মহিমান্বিত মাস। যে ব্যক্তি রজব মাসে একদিন রোজা রাখবে, তা তার জন্য এক মাস রোজা রাখার সমতুল্য হবে। আর যে ব্যক্তি রজব মাসে সাত দিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের সাতটি দরজা বন্ধ করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি রজব মাসে আট দিন রোজা রাখবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি রজব মাসে দশ দিন রোজা রাখবে, আসমান থেকে এক ঘোষক ঘোষণা করবেন যে, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, সুতরাং তুমি নতুন করে আমল শুরু করো। আর যে ব্যক্তি বৃদ্ধি করবে, আল্লাহ তাকে আরও বাড়িয়ে দেবেন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৬৭)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّد عَبْد اللَّه بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ التمار ثنا نصر بْن بيزويه بْن جوانويه الشيرازي ثنا إِسْمَاعِيل بْن أَبِي الحارث ثنا عَبْد العزيز بْن أبان ثنا عَبْد الله بن النضر عن أَبِيهِ عن قيس بْن عباد فِي قولُه تَعَالى: {إنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْراً فِي كَتَابِ اللهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ مِنْهَا أرْبَعَةٌ حُرُمٌ}.

هَذِهِ الأربعة أشهر الحرم كلها فِي يَوْم عاشر منها أمرٌ:

أما المحرم فاليوم العاشر من عاشوراء وأما ذو الحجة فاليوم العاشر مِنْهُ يَوْم النحر وأمَّا رجب فاليوم العاشر مِنْهُ يَمْحُو اللَّهُ مَا يَشَاءُ وَيُثْبِتُ وعنده أم الكتاب ونسيت ما فِي ذي القعدة.
১২ - আমাদের নিকট আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আত-তাম্মার হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট নাসর বিন বাইজুওয়াহ বিন জুওয়ানুওয়াহ আশ-শিরাজি হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইসমাইল বিন আবিল হারিস হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল আজিজ বিন আবান হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন আন-নাজর তার পিতা থেকে, তিনি কাইস বিন আব্বাদ থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসসমূহের সংখ্যা বারোটি, আল্লাহর কিতাবে (বিধান অনুসারে), যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; তন্মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত।}

এই চারটি সম্মানিত মাসের প্রত্যেকটির দশম দিনে একটি করে নির্দেশ বা বিষয় রয়েছে:

মুহররমের ক্ষেত্রে, দশম দিনটি হলো আশুরার দিন; জিলহজ মাসের ক্ষেত্রে, এর দশম দিনটি হলো নহরের (কোরবানির) দিন; আর রজব মাসের ক্ষেত্রে, এর দশম দিনে আল্লাহ যা ইচ্ছা মিটিয়ে দেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন, আর তাঁর নিকটই রয়েছে উম্মুল কিতাব (মূল কিতাব); আর জিলকদ মাসে কী রয়েছে তা আমি ভুলে গিয়েছি।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৬৯)
13 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ الْعَبَّاسِ الْوَرَّاقُ ثنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَاعِظُ ثنا أَبُو رِفَاعَةَ عُمَارَةُ بْنُ وَثِيمَةَ ثنا أَحْمَد بْن عَبْد اللَّه الْبَجَلِيُّ ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُهَلَّبِ ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ إِدْرِيسَ ثنا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أَنَّ يَهُودِيًّا أَتَاهُ فَقَالَ يَا ابْنَ عَبَّاسٍ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكَ عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ أَنْتَ أَخْبَرْتَنِي بِتَأْوِيلِهَا فَأَنْتَ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ وَمَا هِيَ قَالَ عَنْ رَجَبٍ لِمَ سُمِّيَ رجب وعن شعبان لما سُمِّيَ شَعْبَانُ؟

قَالَ: أَمَّا رَجَبٌ فإنه يُتَرَجَّبُ فِيهِ خَيْرٌ كَثِيرٌ لِشَعْبَانَ وَسُمِّيَ أَصَمُّ لأَنَّ الْمَلائِكَةَ تُصَمُّ أَذَانُهَا لِشِدَّةِ ارْتِفَاعِ أَصْوَاتِهَا بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّقْدِيسِ.
১৩ - মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনুল আব্বাস আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়ায়িজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু রিফায়া উমারা ইবনে ওয়াসীমাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহিম ইবনুল মুহাল্লাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইদরীস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সায়িব থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ইহুদি তাঁর নিকট এসে বলল: হে ইবনে আব্বাস! আমি আপনাকে কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চাই, যদি আপনি আমাকে সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেন তবে আপনিই (প্রকৃত) ইবনে আব্বাস। তিনি বললেন: সেগুলো কী? সে বলল: রজব সম্পর্কে, কেন এর নাম রজব রাখা হয়েছে? এবং শাবান সম্পর্কে, কেন এর নাম শাবান রাখা হয়েছে?

তিনি বললেন: রজব সম্পর্কে কথা হলো, এতে শাবানের জন্য প্রচুর কল্যাণকে মহিমান্বিত করা হয়। আর একে 'আসাম' (বধির) বলা হয় কারণ তাসবীহ ও তাকদিসের শব্দের তীব্র উচ্চতার কারণে ফেরেশতাদের কান বধির হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৭১)
14 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ قَالَ ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْخَلالُ بِوَاسِطَ ثنا يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ زِيَادِ بْنِ بدينَا ثنا مُحَمَّد بْن يَحيى ثنا يَعْقُوبُ بْنُ مُوسَى ثنا مَسْلَمَةُ بْنُ رَاشِدٍ عَنْ رَاشِدٍ أَبِي مُحَمَّدٍ الْجُمَّانِيِّ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه قَالَ:

قَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم: مَنْ صَامَ ثَلاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شهرٍ حرامٍ الْخَمِيسَ وَالْجُمْعَةَ وَالسَّبْتَ كُتِبَ لَهُ عِبَادَةُ سَبْعِ مِئَةِ سَنَةٍ.
১৪ - আমাদের নিকট আলী ইবনে উমর ইবনে আহমাদ আল-হাফিয বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হুসাইন ইবনে ইবরাহিম আল-খাল্লাল ওয়াসিতে বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে যিয়াদ ইবনে বাদিনা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াকুব ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মাসলামাহ ইবনে রাশিদ বর্ণনা করেছেন রাশিদ আবু মুহাম্মদ আল-জুম্মানি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি প্রতিটি হারাম (নিষিদ্ধ) মাস থেকে তিনটি দিন—বৃহস্পতিবার, শুক্রবার এবং শনিবার রোজা রাখবে, তার জন্য সাতশত বছরের ইবাদতের সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৭৩)
15 - حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ بْنُ حَيُّوَيْهِ ثنا مُحَمَّد بْن سُلَيْمَان ثنا أَحْمَد بْن عِيسَى ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنِ الْيَسَعَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِي اللَّه تَعَالى عَنْهُمَا قَالَ:

قَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم مَنْ صَامَ يَوْمًا مِنْ شهرٍ حرامٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ بِكُلِّ يومٍ شَهْرًا وَمَنْ صَامَ أَيَّامَ الْعَشْرِ كَانَ لَهُ بِكُلِّ يومٍ حَسَنَةٌ.
১৫ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু উমর বিন হাইয়্যুওয়াহ, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ঈসা, তিনি বলেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন আল-ইয়াসা, তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো সম্মানিত মাস থেকে একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি দিনের বিনিময়ে এক মাসের (রোজা পালনের সওয়াব) লিখে দেবেন; আর যে ব্যক্তি (জিলহজ মাসের প্রথম) দশ দিন রোজা রাখবে, তার জন্য প্রতিটি দিনের বিনিময়ে পুণ্য বা নেকি রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৭৪)
16 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَهْلٍ ثنا مَنْصُورُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْوَكِيلُ ثنا حَمَّادُ بْنُ مُدْرِكٍ ثنا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الشَّامِيُّ ثنا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ قَالَ:

قَالَ عَبْد اللَّه بْن عُمَر رضي الله عنهما: إنَّمَا سُمِّيَ شَهْرُ رَمَضَانَ لأَنَّهُ يَرُضُّ فِيهِ الذُّنُوبَ رَضًّا وَإِنَّمَا سُمِّيَ شوال لأنه يشول الذنوب كما تشول الناقة ذنبها وإنما سمي شعبان لأن الأرزاق تشعب فيه وإنما سمي رجب لأنه الْمَلائِكَة تَرْجُبُ فِيهِ بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّحْمِيدِ وَالتَّمْجِيدِ لِلْجَبَّارِ عز وجل

وَكَانَ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما يَقُولُ: يَوْمُ الْفِطْرِ يَوْمُ الْجَوَائِزِ.
১৬ - আলী ইবনে আমর ইবনে সাহল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মনসুর ইবনে মুহাম্মদ আল-ওয়াকিল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবনে মুদরিক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শামী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মালিক ইবনে আনাস আমাদের ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন:

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: রমজান মাসের নামকরণ এই কারণে করা হয়েছে যে, এতে গুনাহসমূহকে পুরোপুরি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হয়। শাওয়াল মাসের নামকরণ এই কারণে করা হয়েছে যে, তা গুনাহসমূহকে সরিয়ে দেয় যেমন উষ্ট্রী তার লেজ উপরে উঠিয়ে নেয়। শাবান মাসের নামকরণ এই কারণে করা হয়েছে যে, এতে রিযিকসমূহ বণ্টিত হয়। আর রজব মাসের নামকরণ এই কারণে করা হয়েছে কারণ এতে ফেরেশতারা মহাপরাক্রমশালী মহান আল্লাহর তাসবীহ, তাহমীদ ও মহিমা বর্ণনার মাধ্যমে অত্যন্ত সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শন করেন।

আর ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলতেন: ঈদুল ফিতরের দিন হলো পুরস্কারের দিন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৭৫)
17 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ هارون المقرئ ثنا أَحْمَد بْن الْحَسَن الفقيه ثنا الْحَسَن بْن عليّ ثنا سويد بْن سَعِيد ثنا سَلَمة بْن مُوسَى الْأَنْصَارِيّ بالشام عن أَبِي مُوسَى الهلالي عن خَالِد بْن معدان قَالَ:

خمس ليالٍ فِي السنة من واظب عليهن رجاء ثوابهن وتصديقًا بوعدهن أدخله الله الجنة أول ليلة من رجب يقوم ليلها ويصوم نهارها وليلة النصف من شعبان يقوم ليلها ويصوم نهارها وليلة الفطر يقوم ليلها ويصوم نهارها وليلة الأضحى يقوم ليلها ويصوم نهارها وليلة عاشوراء يقوم ليلها ويصوم نهارها.
১৭ - উমর ইবনে আহমদ ইবনে হারুন আল-মুকরি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে হাসান আল-ফকিহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন হাসান ইবনে আলি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন সুওয়াইদ ইবনে সাঈদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন শাম দেশে সালামাহ ইবনে মুসা আল-আনসারি আমাদের নিকট আবু মুসা আল-হিলালি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি খালিদ ইবনে মা’দান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

বছরে পাঁচটি রাত এমন রয়েছে, যে ব্যক্তি এগুলোর সওয়াবের আশায় এবং এগুলোর প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাস রেখে নিয়মিত এগুলোর ওপর আমল করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (সেগুলো হলো:) রজবের প্রথম রাত—যার রাতে সে ইবাদত করবে এবং দিনে রোজা রাখবে; শাবানের মধ্যরাত (পনেরো তারিখের রাত)—যার রাতে সে ইবাদত করবে এবং দিনে রোজা রাখবে; ঈদুল ফিতরের রাত—যার রাতে সে ইবাদত করবে এবং দিনে রোজা রাখবে; ঈদুল আযহার রাত—যার রাতে সে ইবাদত করবে এবং দিনে রোজা রাখবে; এবং আশুরার রাত—যার রাতে সে ইবাদত করবে এবং দিনে রোজা রাখবে।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৭৬)
18 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ ثنا حَبْشُونُ بْنُ مُوسَى الْخَلالُ أَبُو نَصْرٍ ثنا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدِ بْنِ قُتَيْبَةَ الرَّمْلِيُّ ثنا ضَمْرَةُ عَنِ ابْنِ شَوْذَبٍ عَنْ مَطَرٍ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ:

مَنْ صَامَ يَوْمَ سَبْعَةٍ وَعِشْرِينَ مِنْ رَجَبٍ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ صِيَامَ سِتِّينَ شَهْرًا وَهُوَ الْيَوْمُ الَّذِي هَبَطَ فِيهِ جِبْرِيلُ عليه السلام عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِالرِّسَالَةِ.
১৮ - আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে শাযান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাবশুন ইবনে মুসা আল-খাল্লাল আবু নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলি ইবনে সাঈদ ইবনে কুতায়বা আর-রামলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট দামরাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনে শাওযাব থেকে, তিনি মাতার থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

যে ব্যক্তি রজব মাসের সাতাশ তারিখে রোজা রাখবে, আল্লাহ তার জন্য ষাট মাস রোজা রাখার সওয়াব লিখে দেবেন। আর এটি সেই দিন, যেদিন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট রিসালাত নিয়ে অবতরণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৭৮)
19 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الفقيه أبو أحمد البزار مِنْ كِتَابِهِ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْبَحْرِيُّ ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ ثنا الْعَلاءُ بْنُ عَمْرٍو الْحَنَفِيُّ ثنا خَالِدُ بْنُ حَيَّانَ الرَّقِّيُّ عَنْ فُرَاتِ بْنِ سُلَيْمَانَ عَنْ أَبِي رَجَاءٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ:

قَالَ رَسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم: مَنْ بَلَغَهُ عَنِ اللَّهِ شيءٌ فِيهِ فضيلةٌ فَأَخَذَ بِهِ إِيمَانًا بِاللَّهِ وَرَجَاءَ ثَوَابِهِ أَعْطَاهُ اللَّهُ ذَلِكَ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ كَذَلِكَ.
১৯ - উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফকিহ আবু আহমদ আল-বাযযার তাঁর কিতাব থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল-বাহরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে উসমান ইবনে আবু শাইবাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-আলা ইবনে আমর আল-হানাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে হাইয়ান আর-রাক্কি ফুরাত ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি আবু রাজা থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবু কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে ফজিলতপূর্ণ কোনো বিষয়ের সংবাদ পৌঁছেছে, অতঃপর সে আল্লাহর প্রতি ঈমান রেখে এবং তাঁর সওয়াবের আশায় তা গ্রহণ করল, আল্লাহ তাকে তা দান করবেন; যদিও বিষয়টি (বাস্তবে) সেরূপ না হয়।
(খণ্ড: ১) ফাদাইলু শাহরি রজব লিল খাল্লাল (পৃষ্ঠা: ৮০)
20 - أخبرنا الشَّيْخ أَبُو مُحَمَّد الْحَسَن بن محمد بن الحسن بن الخلال قراءة عَلَيْهِ ثنا عَبْد اللَّه بْن عثمان بْن مُحَمَّد القطان قَالَ ثنا أَبُو الْحَسَن مُحَمَّد بن أحمديه محروم مولى بني هاشم قَالَ ثنا أَحْمَد بْن عَبْد اللَّه الْقُرَشِيّ قَالَ ثنا زكريا بْن يَحيى الوقار ثنا عَمْرو بْن الربيع بْن طارق قَالَ:

رأت آمنة ابْنَة وهب أم النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي منامها يُقال لها: إنك قَدْ حملت بخير البرية وسيد العالمين فإذا ولدته فسميه محمدًا فإن اسمه فِي التوراة حامد وفي الإنجيل ⦗ص: 81⦘ أَحْمَد وعلقي عَلَيْهِ هَذِهِ التميمة

قَالَتْ فانتبهت وعند رأسي صحيفة من ذهب مكتوب بها هَذِهِ النسخة: أعيذه بالواحد من شر كل حاسد وكل خَلَقَ زائد من نائم أَوْ قاعد عن السبيل عاند عَلَى الفساد جاهد يأخذ بالمراصد من طرق الموارد أنهاهم عَنْهُ بالله العلي الأعلى وأحفظه باليد العليا والكف التي ترى يد اللَّه فوق أيديهم وحجاب اللَّه دون عاديهم لا تضروه ولا تطروه فِي مقعد ولا منام ولا مسير ولا مقام أول الليل وآخره.

تم الجزء والحمد لله رب العالمين وصلى اللَّه عَلَى نبينا محمد وآله وصحبه
২০ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আল-খাল্লাল, তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন মুহাম্মদ আল-কাত্তান; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আহমাদিয়া মাহরুম, যিনি বনী হাশেমের মুক্তদাস ছিলেন; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কুরাশী; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া আল-ওয়াকার; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আমর বিন আর-রাবি বিন তারিক; তিনি বলেন:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা আমিনা বিনতে ওয়াহাব তাঁর স্বপ্নে দেখলেন যে তাঁকে বলা হচ্ছে: "নিশ্চয়ই আপনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং বিশ্বজগতের সরদারকে গর্ভে ধারণ করেছেন। অতএব যখন আপনি তাঁকে প্রসব করবেন, তখন তাঁর নাম রাখবেন মুহাম্মদ। কারণ তাওরাতে তাঁর নাম 'হামিদ' এবং ইনজীলে ⦗পৃষ্ঠা: ৮১⦘ 'আহমদ'। আর তাঁর গায়ে এই কবচটি ঝুলিয়ে দিন।"

তিনি বললেন, "অতপর আমি জাগ্রত হলাম এবং আমার শিয়রে স্বর্ণের একটি লিপি পেলাম যাতে এই অনুলিপিটি লিখিত ছিল: আমি তাঁকে এককের (আল্লাহর) আশ্রয়ে সঁপে দিচ্ছি প্রত্যেক হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, এবং প্রত্যেক অতিরিক্ত সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে—চাই সে নিদ্রিত হোক বা উপবিষ্ট, যারা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত ও অবাধ্য, যারা বিপর্যয় সৃষ্টিতে সচেষ্ট এবং যারা গমনাগমনের পথে ওত পেতে থাকে। আমি মহান সুউচ্চ আল্লাহর মাধ্যমে তাদেরকে তাঁর থেকে প্রতিহত করছি। আমি তাঁকে রক্ষা করছি সুউচ্চ হাত এবং এমন হাতের তালুর মাধ্যমে যা প্রত্যক্ষ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে এবং আল্লাহর পর্দা তাদের শত্রুদের সামনে। তোমরা তাঁর কোনো ক্ষতি করো না এবং তাঁর প্রতি কঠোরতা করো না; উপবিষ্ট অবস্থায়, নিদ্রাকালে, পথ চলায় কিংবা অবস্থানকালে—রাত্রির শুরুতে এবং তার শেষে।"

এই অংশটি সমাপ্ত হলো, এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহ সালাত বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর।