(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: -)
صفة الجنة - الضياء المقدسي - المختصرة   (ضياء الدين المقدسي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: صفة الجنة

المؤلف: ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد الحنبلي المقدسي (567 - 643 هـ)

المحقق: صبري بن سلامة شاهين

الناشر: دار بلنسية - الرياض

الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 186

أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জান্নাতের বিবরণ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসী - সংক্ষিপ্ত   (জিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: জান্নাতের বিবরণ

লেখক: জিয়াউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-হাম্বলী আল-মাকদিসী (৫৬৭ - ৬৪৩ হিজরি)

মুহাক্কিক: সাবরি বিন সালামাহ শাহীন

প্রকাশক: দার বালানসিয়া - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৬

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٤٩)
كتاب صفة الجنة

تأليف

الشيخ الإمام العالم الزاهد الفاضل ضياء الدين أبي عبد الله

محمد بن عبد الواحد بن أحمد بن عبد الله المقدسي

متع الله المسلمين بطول حياته غفر الله له

ونفع الله بها صاحبها وكاتبها وقارئها

بكرمه ومنه وفضله

ولله الحمد والمنة وصلواته على نبينا محمد وآله وأصحابه

وسلامه تسليما كثيرا

ورضي الله عن أبي بكر الصديق وعن عمر بن الخطاب

وعن عثمان بن عفان وعن علي ابن أبي طالب

وعن أصحاب رسول الله أجمعين

واحشرني في زمرتهم يا رب العالمين
জান্নাতের বিবরণ বিষয়ক গ্রন্থ

রচনায়

শায়খ, ইমাম, আলিম, যাহেদ, ফাযেল জিয়াউদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ

মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাকদিসি

আল্লাহ তাঁর দীর্ঘ জীবনের দ্বারা মুসলিমদের উপকৃত করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন

আল্লাহ এর দ্বারা এর স্বত্বাধিকারী, লেখক এবং পাঠককে উপকৃত করুন

তাঁর মহানুভবতা, অনুগ্রহ এবং কৃপায়

যাবতীয় প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর তাঁর রহমত বর্ষিত হোক

এবং বর্ষিত হোক প্রচুর শান্তি

আল্লাহ সন্তুষ্ট হন আবু বকর সিদ্দিক ও ওমর ইবনুল খাত্তাব-এর প্রতি

উসমান বিন আফফান ও আলী ইবনে আবি তালিব-এর প্রতি

এবং আল্লাহর রাসূলের সকল সাহাবীর প্রতি

এবং হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আমাকে তাঁদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরুত্থিত করুন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٠)
بسم الله الرحمن الرحيم

والحمد لله وحده وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه

قال الشيخ الحافظ العالم العابد ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد بن أحمد بن عبد الرحمن المقدسي متع الله المسلمين بطول حياته.

 

‌‌ذكر عدد أبواب الجنة نسأل الله من فضله أن يدخلناها

1 - عن سهل بن سعد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في الجنة ثمانية أبواب باب منها يسمى الريان لا يدخله إلا الصائمون.

صحيح اتفق البخاري ومسلم على إخراجه فرواه البخاري في صفة الجنة كما أخرجاه عن سعيد بن أبي مريم غير أنه قال فيها باب يسمى. ورواه في كتاب الصوم عن خالد بن مخلد عن سليمان بن بلال ورواه مسلم في الصوم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

শাইখ, হাফেজ, আলেম, আবেদ জিয়াউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-মাকদিসি (আল্লাহ দীর্ঘ হায়াতের মাধ্যমে মুসলমানদের তাঁর দ্বারা উপকৃত করুন) বলেন—

 

‌‌জান্নাতের দরজাসমূহের সংখ্যার বর্ণনা; আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহের মাধ্যমে সেখানে আমাদের প্রবেশ করানোর প্রার্থনা করি

১ - সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “জান্নাতে আটটি দরজা রয়েছে, যার মধ্যে একটি দরজার নাম রাইয়ান; সেখানে রোজাদার ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করবে না।”

এটি সহিহ। ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ইমাম বুখারি এটি 'জান্নাতের বর্ণনা' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, যেভাবে তাঁরা উভয়ে সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে সেখানে তিনি বলেছেন, “একটি দরজা যাকে নাম দেওয়া হয়েছে (রাইয়ান)।” তিনি এটি 'রোজা' অধ্যায়ে খালিদ ইবনে মাখলাদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম এটি 'রোজা' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٠)
2 - عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من أنفق زوجين من ⦗ص: 51⦘ ماله في سبيل الله دعي من أبواب الجنة وللجنة أبواب فمن كان من أهل الصلاة دعي من باب الصلاة ومن كان من أهل الصدقة دعي من باب الصدقة ومن كان من أهل الجهاد دعي من باب الجهاد ومن كان من أهل الصوم دعي من باب الريان. فقال أبو بكر والله يا رسول الله ما على أحد من ضرورة دعي من أيها دُعي فهل يدعى منها كلها أحد يا رسول الله قال نعم وأرجو أن تكونه منهم.

صحيح أخرجه البخاري ومسلم بنحوه من حديث الزهري.
২ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে তার সম্পদের মধ্য হতে জোড়ায় জোড়ায় ⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ ব্যয় করবে, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ হতে আহ্বান করা হবে। জান্নাতের অনেকগুলো দরজা রয়েছে; সুতরাং যে ব্যক্তি সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে সালাতের দরজা হতে আহ্বান করা হবে। আর যে ব্যক্তি সদকাহ দানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে সদকার দরজা হতে আহ্বান করা হবে। আর যে ব্যক্তি জিহাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে জিহাদের দরজা হতে আহ্বান করা হবে। আর যে ব্যক্তি রোজা পালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে, তাকে রাইয়ান দরজা হতে আহ্বান করা হবে। তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রাসূল, যার কোনো একটি দরজা হতে আহ্বান করা হবে তার জন্য তো অন্য কোনো দরজার আবশ্যকতা থাকবে না; তবে এমন কেউ কি আছেন যাকে এই সকল দরজা হতেই আহ্বান করা হবে? হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: হ্যাঁ, আর আমি আশা করি তুমি তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।

সহীহ; বুখারী ও মুসলিম ইমাম যুহরীর হাদীস হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥١)
3 - عن شرحبيل بن شفعة قال لقيني عتبة بن عبد السلمي قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ما من مسلم يتوفى له ثلاثة من الولد لم يبلغوا الحنث إلا تلقوه من أبواب الجنة الثمانية من أيها شاء دخل.

أخرجه ابن ماجه في سننه.
৩ - শুরাহবিল ইবনে শুফআহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উতবা ইবনে আবদ আস-সুলামী আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "কোনো মুসলিমের যদি এমন তিনটি সন্তান মারা যায় যারা বালেগ হওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি, তবে তারা জান্নাতের আটটি দরজার সামনে তার সাথে সাক্ষাৎ করবে (তাকে অভ্যর্থনা জানাবে); সে এর যে কোনোটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করবে।"

ইবনে মাজাহ এটি তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٢)
‌‌ذكر أول من يفتح له باب الجنة وأول من يقرعه

4 - عن أنس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم آتي باب الجنة يوم القيامة فأستفتح ويقول الخازن من أنت فأقول محمد قال يقول بك أمرت أن لا افتح لأحد قبلك.

صحيح أخرجه مسلم في صحيحه في كتاب الإيمان.
জান্নাতের দরজা যাঁর জন্য প্রথম খোলা হবে এবং যিনি প্রথম করাঘাত করবেন তাঁর বর্ণনা

৪ - আনাস ইবন মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় আসব এবং তা খোলার জন্য আবেদন করব। তখন জান্নাতের রক্ষক বলবে, আপনি কে? আমি বলব, মুহাম্মদ। তিনি বলবেন, আপনার ব্যাপারেই আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আপনার আগে আমি কারো জন্য তা না খুলি।

সহীহ। মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের ঈমান অধ্যায়ে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٢)
5 - عن أنس بن مالك قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أنا أكثر الأنبياء تبعا يوم القيامة وأنا أول من يقرع باب الجنة.
5 - আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কিয়ামতের দিন নবীদের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যা হবে সবচেয়ে বেশি এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যে জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়বে।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٢)
6 - عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أول من يفتح له باب الجنة إلا أن امرأة تبادرني فأقول لها مالك أو ما أنت فتقول أنا امرأة قعدت على أيتامي.
৬ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমিই প্রথম ব্যক্তি যার জন্য জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করা হবে, তবে জনৈক নারী আমার আগে বেড়ে যেতে চাইবে। তখন আমি তাকে বলব, 'তোমার কী হয়েছে?' অথবা 'তুমি কে?' সে বলবে, 'আমি এমন এক নারী যে আমার এতিম সন্তানদের লালন-পালনের জন্য (ধৈর্য ধরে) একা অবস্থান করেছিলাম'।"
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٣)
‌‌ذكر سعة أبواب الجنة اللهم أدخلنا الجنة بفضل رحمتك

7 - عن أبي هريرة قال وضعت بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم قصعة من ثريد ولحم فتناول الذراع وكان أحب الشاة إليه فنهش نهشة وقال أنا سيد الناس يوم القيامة ثم نهش أخرى وقال أنا سيد الناس يوم القيامة فلما رأى أصحابه لا يسألونه قال ألا تتقون قالوا كيف يا رسول الله قال يقوم الناس لرب العالمين فيسمعهم الداعي وينفذهم البصر -وذكر حديث الشفاعة وقال في آخره- فأنطلق فآتي العرش فأقع ساجدا لربي فيقيمني رب العالمين مقاما لم يقمه أحدا قبلي ولن يقيمه أحدا بعدي فيقول يا محمد أدخل من لا حساب عليه من أمتك من الباب الأيمن وهم شركاء الناس في الأبواب الأخرى والذي نفس محمد بيده إن ما بين المصراعين من مصاريع الجنة ما بين عضادتي الباب لكما بين مكة وهجر أو هجر ومكة لا أدري أي ذلك.

قال صحيح اتفق البخاري ومسلم على إخراجه فأحد طرق البخاري عن محمد بن مقاتل عن ابن المبارك عن أبي حيان يحيى بن ⦗ص: 54⦘ سعيد عن أبي زرعة هرم بن عمرو بن جرير البجلي بنحوه. وفي رواية أبي حيان لكما بين مكة وهجر أو كما بين مكة وبصرى.

ورواه مسلم من طرق أحدها هذه التي رويناه منها.
জান্নাতের দরজাসমূহের প্রশস্ততার বর্ণনা। হে আল্লাহ, আপনার রহমতের অনুগ্রহে আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান।

৭ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে সারীদ (ঝোলযুক্ত রুটি) ও গোশতের একটি পাত্র রাখা হলো। তিনি সেখান থেকে বাহুর গোশত গ্রহণ করলেন, যা বকরির মাংসের মধ্যে তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ছিল। তিনি তা থেকে এক কামড় খেলেন এবং বললেন, "আমি কিয়ামতের দিন মানুষের সরদার হব।" এরপর তিনি আরও এক কামড় খেলেন এবং বললেন, "আমি কিয়ামতের দিন মানুষের সরদার হব।" যখন তিনি দেখলেন যে তাঁর সাথীরা তাঁকে কোনো প্রশ্ন করছে না, তখন তিনি বললেন, "তোমরা কি জিজ্ঞাসা করবে না?" তারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে?" তিনি বললেন, "মানুষ জগতসমূহের রবের সামনে দণ্ডায়মান হবে, একজন আহ্বানকারী তাদের সকলকে শোনাবেন এবং দৃষ্টি তাদের সকলকে পরিবেষ্টন করবে।" -অতঃপর তিনি শাফায়াতের দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলেন এবং এর শেষে বললেন- "তখন আমি চলে যাব এবং আরশের নিকট এসে আমার রবের উদ্দেশ্যে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। তখন জগতসমূহের রব আমাকে এমন এক মর্যাদায় দণ্ডায়মান করাবেন, যে মর্যাদায় তিনি আমার পূর্বে কাউকে দণ্ডায়মান করাননি এবং আমার পরেও কাউকে করাবেন না। অতঃপর তিনি বলবেন, 'হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোনো হিসাব নেই, তাদেরকে জান্নাতের ডান দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করান। আর তারা অন্যান্য দরজাতেও মানুষের সাথে অংশীদার হবে।' যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর শপথ! জান্নাতের কপাটদ্বয়ের মধ্যকার প্রশস্ততা অথবা দরজার দুই পার্শ্বের ব্যবধান মক্কা ও হাজার-এর মধ্যবর্তী দূরত্বের মতো, অথবা হাজার ও মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্বের মতো। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি জানি না তিনি এর মধ্যে কোনটি বলেছিলেন।"

তিনি (গ্রন্থকার) বলেন, এটি সহীহ। বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনায় ঐকমত্য পোষণ করেছেন। বুখারীর অন্যতম সূত্র হলো মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি আবু হাইয়ান ইয়াহইয়া ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৪⦘ সাঈদ থেকে, তিনি আবু যুরআ হারাম ইবনে আমর ইবনে জারীর আল-বাজালী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু হাইয়ানের বর্ণনায় রয়েছে— "মক্কা ও হাজার-এর মধ্যবর্তী দূরত্বের মতো অথবা মক্কা ও বসরার মধ্যবর্তী দূরত্বের মতো।" এবং মুসলিম এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যার মধ্যে একটি হলো সেই সূত্র যেখান থেকে আমরা এটি বর্ণনা করেছি।

(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٤)
8 - عن أبي خيثمة زهير بن حرب عن خالد بن عمير العدوي قال خطبنا عتبة بن غزوان فحمد الله وأثنى عليه ثم قال أما بعد فإن الدنيا قد آذنت بصرم وولت حذاء وإنما بقي صُبَابة كصُبَابة الإناء يتصابها صاحبها وإنكم منتقلون منها إلى دار لا زوال لها فانتقلوا بخير ما بحضرتكم فلقد ذكر لنا أن مصراعين من مصاريع الجنة بينهما مسيرة أربعين سنة وليأتين عليه يوم وهو كظيظ الزحام.

أخرجه مسلم في صحيحه.
৮ - আবু খাইসামাহ জুহাইর ইবন হারব খালিদ ইবন উমাইর আল-আদাউয়ি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উতবাহ ইবন গাযওয়ান আমাদের নিকট ভাষণ প্রদান করলেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করলেন, তারপর বললেন: "অতঃপর, নিশ্চয়ই পৃথিবী তার সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে এবং দ্রুত পিঠটান দিয়েছে। এখন এর কেবল সামান্য অবশিষ্টাংশই বাকি আছে, যেমন পাত্রের অবশিষ্ট তলানি যা তার মালিক পান করে শেষ করে ফেলে। আর তোমরা অবশ্যই এই জগত থেকে এমন এক আবাসে স্থানান্তরিত হবে যার কোনো বিনাশ নেই; সুতরাং তোমাদের নিকট থাকা সর্বোত্তম পাথেয় নিয়ে সেখানে স্থানান্তরিত হও। আমাদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, জান্নাতের দরজাসমূহের দুই পাল্লার মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো চল্লিশ বছরের পথ। আর অবশ্যই এর ওপর এমন একদিন আসবে যখন এটি ভিড়ের কারণে কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে।"

মুসলিম এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٤)
9 - عن شيبان بن فروخ عن حماد بن سلمة قال سمعت الجريري ⦗ص: 55⦘ يحدث حكيم بن معاوية عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أنتم توفون سبعين أمة أنتم آخرها وأكرمها على الله وما بين مصراعين من مصاريع الجنة مسيرة أربعين عاما وليأتين عليه يوم وله كظيظ.

رواه الإمام أحمد في مسنده وفيه وإنه لكظيظ.
৯ - শায়বান ইবনে ফাররুখ থেকে বর্ণিত, তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি বলেন, আমি আল-জুরারিকে ⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ হাকিম ইবনে মুয়াবিয়া থেকে এবং তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা সত্তরটি উম্মত পূর্ণ করবে, তোমরা তাদের মধ্যে সর্বশেষ এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত। জান্নাতের দরজাসমূহের দুই পাল্লার মধ্যবর্তী ব্যবধান চল্লিশ বছরের পথ; এবং অবশ্যই এর ওপর এমন একদিন আসবে যখন তা ভিড়ের চাপে কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে।

ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: এবং নিশ্চয়ই তা কানায় কানায় পূর্ণ থাকবে।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٥)
10 - عن أبي سعيد الخدري عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إن ما بين مصراعين في الجنة لمسيرة أربعين سنة.
১০ - আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই জান্নাতের দরজার দুই পাল্লার মধ্যবর্তী দূরত্ব চল্লিশ বছরের পথ।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٥)
‌‌ذكر ما بين البابين من أبواب الجنة

11 - عن عاصم بن لقيط أن لقيط بن عامر خرج وافدا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال قلت يا رسول الله فما الجنة والنار قال لَعَمْرُ ⦗ص: 56⦘ إلهك إن للنار سبعة أبواب ما فيهن بابان إلا يسير الراكب سبعين عاما وأن للجنة ثمانية أبواب ما منهما بابان إلا يسير الراكب بينهما سبعين عاما.
জান্নাতের দরজাসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্বের বর্ণনা

১১ - আসিম ইবনে লাকিত থেকে বর্ণিত যে, লাকিত ইবনে আমির প্রতিনিধি হিসেবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গমন করেন। তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাত ও জাহান্নাম কী? তিনি বললেন, তোমার ইলাহর জীবনের কসম! ⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘ নিশ্চয়ই জাহান্নামের সাতটি দরজা রয়েছে; তাদের যে কোনো দুই দরজার মাঝখানে একজন আরোহী সত্তর বছর পথ চলবেন। আর জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে; তাদের যে কোনো দুই দরজার মাঝখানে একজন আরোহী সত্তর বছর পথ চলবেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٧)
‌‌ذكر مفتاح الجنة نسأل الله من فضله

12 - عن معاذ قال قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم مفتاح الجنة شهادة أن لا إله إلا الله.

كنت أطوف على هذا الحديث في ذكر مفتاح الجنة فرأيت فيما يرى النائم قبل أن أجده كأن بيت مسعود بن أبي بكر قد سألوني أن أطلب من النبي صلى الله عليه وسلم فيها ومعه جماعة من الصبيان فيها وأنا أنتظره حتى ينزل منها فغاب عني كيف كان نزوله منها وكأنني اجتمعت معه صلى الله عليه وسلم في بعض المساجد وكأنه قاعد وأنا قائم وعليه ثوب أخضر أو أزرق كأنه عنابي وعمامة بيضاء فقال لي إذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول ثم صلوا علي فإنه من صلى عليه صلاة صلى الله عليه عشرا. ثم نظر إلي صلى الله عليه وسلم فقال إن هذا مفتاح جيد. أو نحو هذا ثم انتبهت فبقيت لحظة أتذكره وإذا المؤذن يؤذن لصلاة الفجر.
জান্নাতের চাবিকাঠির বর্ণনা, আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করি

১২ - মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: জান্নাতের চাবিকাঠি হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।

আমি জান্নাতের চাবিকাঠির বর্ণনায় এই হাদিসটির অনুসন্ধান করছিলাম। এটি খুঁজে পাওয়ার আগে আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন মাসউদ বিন আবু বকরের পরিবারের সদস্যরা আমার কাছে অনুরোধ করছে যে, আমি যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সে বিষয়ে প্রার্থনা করি। সেখানে তাঁর সাথে একদল বালক ছিল। তিনি সেখান থেকে অবরতণ করা পর্যন্ত আমি তাঁর অপেক্ষায় ছিলাম, কিন্তু তিনি কীভাবে সেখান থেকে নামলেন তা আমার অগোচরে রয়ে গেল। এরপর যেন আমি কোনো এক মসজিদে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মিলিত হলাম। তিনি যেন বসা অবস্থায় ছিলেন আর আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম। তাঁর পরিধানে সবুজ বা নীল রঙের পোশাক ছিল যা অনেকটা লালচে আভার মতো লাগছিল এবং তাঁর মাথায় ছিল সাদা পাগড়ি। তিনি আমাকে বললেন: যখন তোমরা মুয়াজ্জিনের আজান শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তাই বলবে। এরপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে; কেননা যে ব্যক্তি তাঁর ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন। এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার দিকে তাকালেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই এটি একটি উত্তম চাবিকাঠি। অথবা এই জাতীয় কিছু বললেন। এরপর আমার ঘুম ভেঙে গেল এবং আমি কিছুক্ষণ তা স্মরণ করতে থাকলাম। ঠিক তখনই মুয়াজ্জিন ফজরের নামাজের আজান দিচ্ছিলেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٨)
‌‌ذكر أن الجنة لا يدخلها أحد إلا بجواز

13 - عن سلمان الفارسي قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يدخل الجنة أحد إلا بجواز بسم الله الرحمن الرحيم هذا كتاب من الله لفلان ابن فلان أدخلوه جنة عالية قطوفها دانية.
জান্নাতে প্রবেশের জন্য অনুমতিপত্র আবশ্যক হওয়া প্রসঙ্গে

১৩ - সালমান আল-ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: জান্নাতে কেউ প্রবেশ করবে না অনুমতিপত্র ব্যতীত। (তাতে লেখা থাকবে:) পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অমুকের পুত্র অমুকের জন্য লিখিত পত্র: তোমরা তাকে সুউচ্চ জান্নাতে প্রবেশ করাও, যার ফলসমূহ অবনমিত (হাতের নাগালে)।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٨)
14 - عن سلمان الفارسي أن النبي صلى الله عليه وسلم يعطى المؤمن جوازا على الصراط بسم الله الرحمن الرحيم هذا كتاب من الله العزيز الحكيم لفلان أدخلوه جنة عالية قطوفها دانية.
১৪ - সালমান আল-ফারসি থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিন ব্যক্তিকে সিরাতের ওপর দিয়ে পার হওয়ার জন্য একটি অনুমতিপত্র প্রদান করা হবে: পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এটি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অমুকের জন্য একটি লিখিত ঘোষণা: তাকে এক সুউচ্চ জান্নাতে প্রবেশ করাও, যার ফলসমূহ অবনত ও নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٨)
‌‌ذكر أول زمرة تدخل الجنة نسأل الله بفضله وكرمه أن يجعلنا منهم آمين

قرئ على الشيخ الإمام الزاهد أبي علي عمر بن علي بن عمر الواعظ الحربي رحمه الله ونحن نسمع بها أخبركم هبة الله بن محمد بن عبد الواحد بن الحصين قراءة عليه وأنت تسمع فأقر به.
জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলের বিবরণ; আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন, আমীন

শাইখ ইমাম যাহেদ আবু আলী উমর ইবনে আলী ইবনে উমর আল-ওয়ায়েজ আল-হারবী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর নিকট এটি পাঠ করা হলো এবং আমরা তা শুনছিলাম; হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল হুসাইন আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন, যখন তাঁর নিকট এটি পাঠ করা হচ্ছিল এবং আপনি শুনছিলেন, অতঃপর তিনি তা স্বীকার করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٨)
15 - عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أول زمرة تلج الجنة صورهم على صورة القمر كليلة البدر لا يبصقون فيها ⦗ص: 59⦘ ولا يمتخطون فيها ولا يتغوطون فيها، آنيتهم وأمشاطهم الذهب والفضة ومجامرهم من ألوة ورشحهم المسك لكل واحد منهم زوجتان يرى مخ ساقها من وراء اللحم من الحسن لا اختلاف بينهم ولا تباغض، قلوبهم على قلب واحد يسبحون الله بكرة وعشية.

صحيح اتفق البخاري ومسلم على إخراجه فرواه البخاري في صفة الجنة عن محمد بن مقاتل عن ابن المبارك وأخرجه مسلم عن محمد بن رافع عن عبد الرزاق كلاهما عن معمر بنحوه.
১৫ - আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের আকৃতি হবে পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মতো। তারা সেখানে থুতু ফেলবে না, ⦗পৃষ্ঠা: ৫৯⦘ নাক ঝাড়বে না এবং মলত্যাগ করবে না। তাদের পাত্রসমূহ ও চিরুনিসমূহ হবে সোনা ও রুপার, তাদের ধূপদানি হবে সুগন্ধি কাষ্ঠের এবং তাদের শরীরের ঘাম হবে কস্তুরী। তাদের প্রত্যেকের জন্য দুজন করে স্ত্রী থাকবে, যাদের সৌন্দর্যের আধিক্যের কারণে মাংসের ভেতর দিয়ে তাদের পায়ের নলার মজ্জা দেখা যাবে। তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ থাকবে না এবং কোনো বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের সবার অন্তর হবে যেন একটি অন্তর। তারা সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করবে।

সহীহ; বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনায় একমত হয়েছেন। ইমাম বুখারী এটি 'জান্নাতের গুণাবলি' অধ্যায়ে মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল-এর সূত্রে ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম এটি মুহাম্মদ ইবনে রাফে-এর সূত্রে আব্দুর রাজ্জাক থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই মা'মার থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٥٩)
‌‌ذكر الزمرة الثانية من أهل الجنة

16 - عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم أول زمرة يدخلون الجنة على صورة القمر ليلة البدر والذين يلونهم على ضوء أشد كوكب دري في السماء إضاءة لا يبولون ولا يتغوطون ولا يتفلون ولا يمتخطون أمشاطهم الذهب ورشحهم المسك ومجامرهم الألوة وأزواجهم الحور العين أخلاقهم على رجل خُلق واحد على صورة أبيهم آدم عليه السلام ستون ذراعا في السماء.

⦗ص: 60⦘

صحيح اتفق البخاري ومسلم على إخراجه أخرجه البخاري في خلق آدم عليه السلام ورواه مسلم في آخر كتابه جميعا عن قتيبة بن سعيد عن جرير بنحوه ورواه مسلم أيضا عن أبي خيثمة كما أخرجاه غير أنه قال على أشد كوكب.
জান্নাতবাসীদের দ্বিতীয় দলের আলোচনা

১৬ - আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে প্রবেশকারী প্রথম দলটি পূর্ণিমার রাতের চাঁদের আকৃতিতে থাকবে। আর তাদের পরবর্তী স্তরে যারা থাকবে, তারা আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় দীপ্তিমান হবে। তারা প্রস্রাব করবে না, মলত্যাগ করবে না, থুথু ফেলবে না এবং তাদের নাক থেকে শ্লেষ্মা ঝরবে না। তাদের চিরুনি হবে স্বর্ণের, তাদের শরীরের ঘাম হবে কস্তুরী এবং তাদের ধুনুচি (সুগন্ধি জ্বালানোর পাত্র) হবে চন্দন কাঠের। তাদের স্ত্রীগণ হবে ডাগরচোখা হূর। তাদের স্বভাব-চরিত্র হবে এক ব্যক্তির ন্যায়। তারা তাদের পিতা আদম আলাইহিস সালামের আকৃতিতে হবে, যা উচ্চতায় আকাশের দিকে ষাট হাত।

⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘

সহীহ। বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। বুখারী এটি আদম আলাইহিস সালামের সৃষ্টি অধ্যায়ে উদ্ধৃত করেছেন এবং মুসলিম তার কিতাবের শেষে এটি কুতাইবা ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি জারীর থেকে অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন। মুসলিম এটি আবূ খাইসামাহ থেকেও বর্ণনা করেছেন যেভাবে তারা উভয়ে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি বলেছেন 'সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায়'।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٦٠)
‌‌ذكر أن الله عز وجل فضل بعض أهل الجنة على بعض وأن الله يبلغ بفضله من أراد من المؤمنين درجة الأنبياء عليهم السلام

17 - عن أبي سعيد الخدري أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إن أهل الجنة ليتراءون أهل الغرف من فوقهم كما تتراءون الكوكب الدري الغابر من الأفق من المشرق أو المغرب لتفاضل ما بينهم قالوا يا رسول الله تلك منازل الأنبياء لا يبلغها غيرهم قال بلى والذي نفسي بيده رجال آمنوا بالله وصدقوا المرسلين.

اتفق البخاري ومسلم على إخراجه.

رواه البخاري عن عبد العزيز بن عبد الله عن مالك وأخرجه مسلم كما أوردناه وروايتهما سواء غير أن في رواية البخاري في الأفق.
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কর্তৃক জান্নাতবাসীদের একদলকে অন্যদলের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান এবং আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে মুমিনদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) স্তরে পৌঁছিয়ে দেবেন—এর উল্লেখ

১৭ - আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: জান্নাতবাসীরা তাদের উপরের উচ্চকক্ষের অধিবাসীদের এমনভাবে দেখবে যেমন তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম দিগন্তের শেষে উজ্জ্বল দীপ্তিময় নক্ষত্রকে দেখে থাকো, তাদের মধ্যকার মর্যাদার পার্থক্যের কারণে। তাঁরা (সাহাবীগণ) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ওগুলো কি নবীগণের আবাসস্থল, যেখানে অন্য কেউ পৌঁছাতে পারবে না? তিনি বললেন: অবশ্যই (পৌঁছাবে), সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তারা হলো সেই সকল মানুষ যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলগণের সত্যতা স্বীকার করেছে।

বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

ইমাম বুখারী এটি আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম মুসলিম এটি সেভাবেই বর্ণনা করেছেন যেভাবে আমরা উল্লেখ করেছি। উভয়ের বর্ণনা একই রকম, তবে বুখারীর বর্ণনায় ‘দিগন্তে’ কথাটি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٦١)
18 - عن سهل بن سعد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إن أهل الجنة ليتراءون الغرفة في الجنة كما تراءون الكوكب في أفق السماء.

اتفق البخاري ومسلم على إخراجه رواه البخاري عن القعنبي عن عبد العزيز بن حازم عن أبيه وأخرجه مسلم عن قتيبة ووقع لنا موافقة في شيخه وقالا جميعا الكوكب في السماء.
thought) texts. * Output language: Formal, scholarly Bangla. * Constraints: * No Arabic in output. * Pure translation (translate all Arabic). * Output format: Raw HTML (no Markdown). * Preserve structure (tags like `

`, ``, ``). * Theological terms: * *Istiwa* -> "উঠা" (not "সমাসীন" or "অধিষ্ঠিত"). * Attributes (*Yad*, *Rijl*, *Qadam*) -> Literal ("আল্লাহর হাত", "আল্লাহর পা"). No metaphorical interpretations. * `18 - عن سهل بن سعد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إن أهل الجنة ليتراءون الغرفة في الجنة كما تراءون الكوكب في أفق السماء.

اتفق البخاري ومسلم على إخراجه رواه البخاري عن القعنبي عن عبد العزيز بن حازم عن أبيه وأخرجه مسلم عن قتيبة ووقع لنا موافقة في شيخه وقالا جميعا الكوكب في السماء.` * *Text segment 1:* `18 - عن سهل بن سعد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال` * Translation: ১৮ - সাহল বিন সাদ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন * *Text segment 2:* `إن أهل الجنة ليتراءون الغرفة في الجنة كما تراءون الكوكب في أفق السماء.` * Translation: নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা জান্নাতের কক্ষগুলোকে সেভাবে দেখবে, যেভাবে তোমরা আসমানের দিগন্তে নক্ষত্র দেখতে পাও। * *Text segment 3:* `اتفق البخاري ومسلم على إخراجه` * Translation: ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। * *Text segment 4:* `رواه البخاري عن القعنبي عن عبد العزيز بن حازم عن أبيه` * Translation: বুখারী এটি কা’নাবী হতে, তিনি আব্দুল আজিজ বিন হাযিম হতে, তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। * *Text segment 5:* `وأخرجه مسلم عن قتيبة ووقع لنا موافقة في شيخه` * Translation: এবং মুসলিম এটি কুতায়বা হতে বর্ণনা করেছেন, আর তার শায়েখের মাধ্যমে আমাদের কাছে এটি উচ্চতর সনদে (মুওয়াফাকাত) পৌঁছেছে। * *Text segment 6:* `وقالا جميعا الكوكب في السماء.` * Translation: এবং তারা উভয়েই "আসমানের নক্ষত্র" কথাটি বলেছেন। * Input: `18 - عن سهل بن سعد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إن أهل الجنة ليتراءون الغرفة في الجنة كما تراءون الكوكب في أفق السماء.

اتفق البخاري ومسلم على إخراجه رواه البخاري عن القعنبي عن عبد العزيز بن حازম عن أبيه وأخرجه مسلم عن قتيبة ووقع لنا موافقة في شيخه وقالا جميعا الكوكب في السماء.` * Apply translation while keeping tags. *Draft:* `১৮ - সাহল বিন সাদ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা জান্নাতের কক্ষগুলোকে সেভাবেই দেখবে যেভাবে তোমরা আকাশের দিগন্তে নক্ষত্রসমূহ দেখতে পাও।

বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ইমাম বুখারী এটি কা’নাবী হতে, তিনি আব্দুল আজিজ বিন হাযিম হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি কুতায়বা হতে বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের কাছে তাঁর শায়খের সনদে এটি উচ্চতর সনদে পৌঁছেছে। তাঁরা উভয়েই "আকাশের নক্ষত্র" শব্দদ্বয় উল্লেখ করেছেন।` * No Arabic? Yes. * Formal scholarly Bangla? Yes. * Raw HTML? Yes. * Preserve structure? Yes. * Specific theological terms? Not applicable here (no *Istiwa* or Body attributes in this specific text), but maintained literalism for terminology. `১৮ - সাহল বিন সাদ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা জান্নাতের উচ্চকক্ষসমূহকে সেভাবেই দেখবে যেভাবে তোমরা আকাশের দিগন্তে উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখতে পাও।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ইমাম বুখারী এটি কা’নাবী হতে, তিনি আব্দুল আজিজ বিন হাযিম হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি কুতায়বা হতে বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের নিকট তাঁর শায়খের মাধ্যমে এটি উচ্চতর সনদে পৌঁছেছে। তাঁরা উভয়েই "আকাশের নক্ষত্র" কথাটি উল্লেখ করেছেন।` *Self-Correction during refinement:* Ensure the "Muwaafaqah" (موافقة) term in Hadith terminology is translated accurately as reaching the narrator's Sheikh through a different chain, often referred to as "উচ্চতর সনদ" or "সম্মতিমূলক সনদ". "উচ্চতর সনদে পৌঁছেছে" is appropriate for scholarly contexts. *Final check of the Arabic:* "أفق السماء" (Sky's horizon), "الغرفة" (Chamber/Room/High room). Final String Construction: `১৮ - সাহল বিন সাদ হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা জান্নাতের কক্ষগুলোকে সেভাবেই দেখবে যেভাবে তোমরা আকাশের দিগন্তে নক্ষত্র দেখতে পাও।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ইমাম বুখারী এটি কা’নাবী হতে, তিনি আব্দুল আজিজ বিন হাযিম হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি কুতায়বা হতে বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের নিকট তাঁর শায়খের মাধ্যমে এটি উচ্চতর সনদে পৌঁছেছে। তাঁরা উভয়েই "আকাশের নক্ষত্র" শব্দদ্বয় উল্লেখ করেছেন।`

(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٦١)
19 - عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إن أهل الجنة ليتراءون في الجنة كما تراءون أو ترون الكوكب الدري الغارب في الأفق الطالع في تفاضل الدرجات قالوا يا رسول الله أولئك النبيون قال بلى والذي نفسي بيده وأقوام آمنوا بالله عز وجل وصدقوا المرسلين.

هذا الحديث على شرط البخاري والله أعلم.
১৯ - আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “জান্নাতবাসীরা জান্নাতে একে অপরকে এমনভাবে দেখবে যেমন তোমরা দিগন্তের উদীয়মান বা অস্তগামী উজ্জ্বল নক্ষত্র দেখতে পাও, তাদের স্তরের মর্যাদাগত পার্থক্যের কারণে।” তারা জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! ওগুলো কি নবীদের মর্যাদা?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ; সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তারা হলো সেই সব লোক যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং রাসূলদের সত্য বলে স্বীকার করেছে।”

এই হাদিসটি ইমাম বুখারীর শর্তানুযায়ী সহিহ, এবং আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٦١)
20 - عن عائشة قالت جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا رسول الله والله إنك لأحب إلي من نفسي وإنك لأحب من أهلي وأحب ⦗ص: 62⦘ إلي من ولدي وإني لأكون في البيت فأذكرك فما أصبر حتى آتيك فأنظر إليك وإذا ذكرت موتي وموتك عرفت أنك إذا دخلت الجنة رفعت مع النبيين وإني إذا دخلت الجنة خشيت أن لا أراك فلم يرد عليه النبي صلى الله عليه وسلم حتى نزل جبريل عليه السلام بهذه الآية: {ومن يطع الله والرسول فأولئك مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين} الآية.

لا أعلم بإسناد هذا الحديث بأسا والله أعلم.
২০ - আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই আপনি আমার নিকট আমার নিজের জীবনের চেয়েও অধিক প্রিয়, আপনি আমার নিকট আমার পরিবারের চেয়েও অধিক প্রিয় এবং আপনি আমার নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ আমার সন্তানের চেয়েও অধিক প্রিয়। আমি যখন বাড়িতে থাকি এবং আপনার কথা স্মরণ করি, তখন আপনার নিকট এসে আপনাকে না দেখা পর্যন্ত আমি ধৈর্য ধারণ করতে পারি না। আর যখন আমি আমার মৃত্যু ও আপনার মৃত্যুর কথা চিন্তা করি, তখন আমি বুঝতে পারি যে আপনি যখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তখন আপনাকে নবীদের সাথে উচ্চ মর্যদায় উন্নীত করা হবে; আর আমি যদি জান্নাতে প্রবেশ করিও, তবে ভয় হয় যে আমি আপনাকে দেখতে পাব না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে কোনো উত্তর দিলেন না, যতক্ষণ না জিবরীল (আলাইহিস সালাম) এই আয়াতটি নিয়ে অবতীর্ণ হলেন: {আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সাথে থাকবে যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ এবং সত্যনিষ্ঠগণ...} আয়াতাংশ।

আমি এই হাদীসের সনদে কোনো সমস্যা আছে বলে জানি না, আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٦٢)
‌‌ذكر أعلى منزلة في الجنة وما اسمها

21 - عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من قال حين يسمع النداء اللهم رب هذه الدعوة التامة والصلاة القائمة آت محمدا الوسيلة والفضيلة وابعثه مقاما محمودا الذي وعدته إلا حلت له الشفاعة يوم القيامة.

⦗ص: 63⦘

أخرجه البخاري في صحيحه عن علي بن عياش.
জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর এবং তার নাম কী সেই প্রসঙ্গের আলোচনা

২১ - জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আযান শোনার পর বলে— হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাতের প্রতিপালক, মুহাম্মদকে ‘ওয়াসিলা’ ও মর্যাদা দান করুন এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছে দিন যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাঁকে দিয়েছেন, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফায়াত অবধারিত হয়ে যাবে।"

⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘

বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি আলী ইবনে আয়্যাশ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٦٣)
22 - عن عبد الله بن عمرو بن العاص أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول إذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول ثم صلوا علي فإنه من صلى علي صلاة صلى الله عليه عشرا ثم سلوا لي الوسيلة فإنها منزلة في الجنة لا تنبغي إلا لعبد من عباد الله وأرجو أن أكون أنا هو فمن سأل لي الوسيلة حلت عليه الشفاعة.

صحيح أخرجه مسلم في صحيحه عن محمد بن سلمة المرادي وترك ذكر ابن لهيعة.
২২ - আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে (আজান দিতে) শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তদ্রূপ বলো। অতঃপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো, কেননা যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত নাজিল করেন। এরপর তোমরা আল্লাহর কাছে আমার জন্য ‘ওসিলা’ প্রার্থনা করো; তা হলো জান্নাতের এমন এক মর্যাদা যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল একজনের জন্যই উপযুক্ত, আর আমি আশা করি আমিই হবো সেই ব্যক্তি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার জন্য ওসিলা প্রার্থনা করবে, তার জন্য (আমার) সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে।

সহিহ। মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ আল-মুরাদির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে লাহিয়ার উল্লেখ বর্জন করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٦٣)
23 - عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال إذا صليتم علي فسألوا الله لي الوسيلة قيل يا رسول الله وما الوسيلة قال أعلى درجة في الجنة لا ينالها إلا رجل واحد وأرجو أن أكون أنا هو. كذا رواه الإمام أحمد رضي الله عنه في مسنده.
২৩ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "তোমরা যখন আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে, তখন আল্লাহর কাছে আমার জন্য 'ওয়াসিলাহ' প্রার্থনা কোরো।" জিজ্ঞেস করা হলো, "হে আল্লাহর রাসুল! 'ওয়াসিলাহ' কী?" তিনি বললেন, "এটি জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর, যা কেবল একজন ব্যক্তিই লাভ করবেন; আর আমি আশা করি যে, আমিই সেই ব্যক্তি।" ইমাম আহমাদ (রা.) তাঁর মুসনাদে এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٦٣)
24 - عن ابن عباس قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم سلوا الله لي الوسيلة فإنه لم يسألها لي عبد في الدنيا إلا كنت له شهيدا أو شفيعا ⦗ص: 64⦘ يوم القيامة.

قال سليمان بن أحمد لم يروه عن ابن أبي ذئب إلا موسى بن أعين.
২৪ - ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমরা আল্লাহর কাছে আমার জন্য ‘ওয়াসিলা’ প্রার্থনা করো; কেননা দুনিয়াতে যে বান্দাই আমার জন্য তা প্রার্থনা করবে, আমি তার জন্য কিয়ামতের দিন সাক্ষী অথবা সুপারিশকারী হব ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘।

সুলাইমান বিন আহমদ বলেন, মুসা বিন আয়ুন ব্যতীত আর কেউ ইবনে আবি যিব থেকে এটি বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٦٤)
‌‌ذكر أعلى الجنات وأفضلها نسأل الله من فضله

25 - عن أبي بكر بن عبد الله بن قيس عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال جنتان من ذهب آنيتهما وما فيهما وجنتان من فضة آنيتهما وما فيهما وما بين القوم وبين أن ينظروا إلى ربهم إلا رداء الكبر على وجهه في جنة عدن.

صحيح اتفق البخاري ومسلم على إخراجه فرواه البخاري في كتاب التوحيد عن علي بن المديني ورواه مسلم في كتاب الله الإيمان عن نصر بن علي ⦗ص: 65⦘ وغيره كلهم عن عبد العزيز بن عبد الصمد ووقع لنا موافقة في شيخ مسلم.
জান্নাতসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সর্বোত্তম জান্নাতের আলোচনা; আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করি

২৫ - আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ বিন কায়স তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: দুটি জান্নাত স্বর্ণের, সেগুলোর পাত্রসমূহ এবং তার মধ্যকার সবকিছুও স্বর্ণের। আর দুটি জান্নাত রূপার, সেগুলোর পাত্রসমূহ এবং তার মধ্যকার সবকিছুও রূপার। আদন জান্নাতে অবস্থানকালে জান্নাতীগণের তাদের রবের দিকে তাকানোর মাঝে তাঁর চেহারার ওপর থাকা মহানত্বের চাদর ছাড়া আর কোনো প্রতিবন্ধক থাকবে না।

সহীহ। ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। বুখারী এটি ‘কিতাবুত তাওহীদ’-এ আলী বিন মাদীনী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম এটি ‘কিতাবুল ঈমান’-এ নাসর বিন আলী ⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা সবাই আব্দুল আজীজ বিন আব্দুল সামাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আমাদের জন্য ইমাম মুসলিমের উস্তাদের স্তরে বর্ণনাকারীর মিল (মুওয়াফাকাত) ঘটেছে।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٦٥)
26 - عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من آمن بالله ورسوله وأقام الصلاة وصام رمضان فإن حقا على الله عز وجل أن يدخله الجنة هاجر في سبيل الله أو جلس في أرضه التي ولد فيها قالوا يا رسول الله أفلا نخبر الناس قال إن في الجنة مئة درجة أعدها الله عز وجل للمجاهد في سبيله بين كل درجتين كما بين السماء والأرض فإذا سألتم الله فسألوه الفردوس فإنه وسط الجنة وأعلى الجنة وفوقه عرش الرحمن ومنه تُفَجَّرُ أو تَفَجَّرُ أنهار الجنة.

شك أبو عامر.

صحيح أخرجه البخاري عن إبراهيم بن منذر عن محمد بن فليح عن أبيه بمعناه.
২৬ - আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনল, সালাত কায়েম করল এবং রমজানের সিয়াম পালন করল, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ওপর এটি একটি পাওনা অধিকার যে তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন; চাই সে আল্লাহর পথে হিজরত করুক কিংবা তার সেই জন্মভূমিতেই অবস্থান করুক যেখানে সে জন্মগ্রহণ করেছে।" তারা বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি মানুষকে এই সুসংবাদটি দেব না?" তিনি বললেন: "নিশ্চয় জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে, যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রতিটি দুই স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের সমান। অতএব যখন তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে, তখন ফিরদাউস চাইবে। কারণ এটি জান্নাতের মধ্যস্থল এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ অংশ, আর এর উপরেই রয়েছে রাহমানের আরশ। সেখান থেকেই জান্নাতের নদীসমূহ প্রবাহিত হয়।"

আবু আমের (শব্দ বিন্যাসে) সন্দেহ পোষণ করেছেন।

সহিহ। ইমাম বুখারি এটি ইব্রাহিম ইবনে মুনযির থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ফুলাইহ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে এর সমার্থবোধক বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) সিফাতুল জান্নাহ - আদ দিয়া আল মাকদিসি - আল মুখতাসারাহ (পৃষ্ঠা: ٦٥)
27 - عن أنس بن مالك أن أم الربيع ابنة البراء وهي أم حارثة ابن سراقة أتت النبي صلى الله عليه وسلم فقالت يا رسول الله ألا تحدثني عن حارثة -وكان قتل يوم بدر أصابه سهم غرب- فإن كان في الجنة صبرت وإن كان غير ذلك اجتهدت عليه البكاء فقال يا أم حارثة إنها جنان في ⦗ص: 66⦘ الجنة وإن ابنك أصاب الفردوس الأعلى. قال قتادة الفردوس ربوة الجنة وأوسطها وأفضلها.

أخرجه البخاري بنحوه في الجهاد عن محمد بن عبد الله عن حسين بن محمد أبي أحمد عن شيبان.
২৭ - আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণিত যে, উম্মুর রাবী বিনতে আল-বারা—যিনি হারিসাহ ইবনে সুরাকাহর মা—নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে হারিসাহ সম্পর্কে কিছু বলবেন না? —সে বদরের যুদ্ধে নিহত হয়েছিল, তাকে একটি লক্ষ্যহীন তীর আঘাত করেছিল— যদি সে জান্নাতে থাকে তবে আমি ধৈর্য ধারণ করব, আর যদি অন্য কিছু হয় তবে আমি তার জন্য বিলাপ বা প্রচুর কান্নাকাটি করব। তিনি বললেন, হে হারিসাহর মা! জান্নাতের ভেতরে অনেকগুলো বাগান রয়েছে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৬⦘ আর তোমার পুত্র অবশ্যই সর্বোচ্চ জান্নাতুল ফিরদাউস লাভ করেছে। কাতাদাহ বলেন, ফিরদাউস হলো জান্নাতের উচ্চভূমি, এর মধ্যভাগ এবং এর সর্বোত্তম অংশ।

বুখারি জিহাদ অধ্যায়ে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আবু আহমাদ হতে এবং তিনি শায়বানের সূত্রে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।