(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: -)
محاسبة النفس لابن أبي الدنيا القسم: كتب السنة
الكتاب: محاسبة النفس لابن أبي الدنيا
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
تحقيق: المسعتصم بالله أبي هريرة مصطفى بن علي بن عوض
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 134
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 ربيع الأول 1433
ইবনে আবি আদ-দুনিয়ার আত্মার হিসাব গ্রহণ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
বই: ইবনে আবি আদ-দুনিয়ার আত্মার হিসাব গ্রহণ
লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কাইস আল-বাগদাদী আল-উমাবী আল-কুরাশী, যিনি ইবনে আবি আদ-দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃ. ২৮১ হি.)
তাহকিক: আল-মু’তাসিম বিল্লাহ আবু হুরায়রা মুস্তফা বিন আলী বিন আওয়াদ
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৪
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ١٩)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ حَافِظُ الْعَصْرِ أَبُو الْفَضْلِ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيُّ الشَّافِعِيُّ سَمَاعًا عَلَيْهِ فِي رَمَضَانَ سَنَةَ اثْنَتَيْنِ وَأَرْبَعِينَ وَثَمَانِمِائَةٍ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الْوَاحِدِ التَّنُّوخِيِّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الدَّائِمِ، أَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْإِرْبِلِيُّ، قَالَ: قُرِئَ عَلَى شُهْدَةَ بِنْتِ أَحْمَدَ الْكَاتِبَةِ وَنَحْنُ نَسْمَعُ قَالَتْ: أَنا أَبُو الْفَوَارِسِ طَرَّادُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنَبِيُّ، أَنا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ، أَنا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ الْبَرْذَعِيُّ فِي ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ تِسْعٍ وَثَلَاثِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، ثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ ابْنُ أَبِي الدُّنْيَا الْقُرَشِيُّ قَالَ:
1 - حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، ثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنِي خُمْرَةُ بْنُ حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي يَعْلَى شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ وَالْعَاجِزُ مَنِ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا وَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ عز وجل»
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যুগের ইমাম ও হাফেজ শাইখ আবুল ফজল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাজার আল-আসকালানী আশ-শাফিঈ, ৮৪২ হিজরীর রমজান মাসে তাঁর নিকট সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে। তিনি বলেন: আমি পাঠ করেছি শাইখ আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন আহমদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ আত-তানূখীর নিকট, তিনি আবু বকর বিন আহমদ বিন আব্দুল দায়িম থেকে, তিনি আমাদের জানিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম আল-ইরবিলি। তিনি বলেন: শুহদাহ বিনতে আহমদ আল-কাতিবাহর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমরা তা শ্রবণ করছিলাম। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাওয়ারিস তাররাদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আজ-জায়নাবী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন বিন সাফওয়ান আল-বারযাঈ ৩৩৯ হিজরীর জিলহজ মাসে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ ইবনে আবিদ দুনিয়া আল-কুরাশী। তিনি বলেন:
১ - আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন হাইসাম বিন খারিজাহ। তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ। তিনি আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি মারইয়াম থেকে, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন খুমরাহ বিন হাবিব। তিনি আবু ইয়ালা শাদ্দাদ বিন আউস (রাজিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "সেই ব্যক্তিই বুদ্ধিমান যে নিজের নফসের হিসাব নেয় এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য আমল করে। আর অক্ষম সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে খেয়াল-খুশির অনুগামী করে এবং মহান আল্লাহর কাছে (অহেতুক) আশা পোষণ করে।"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
2 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ الْحَجَّاجِ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه: " حَاسِبُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا، وَزِنُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُوزَنُوا؛ فَإِنَّهُ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ فِي الْحِسَابِ غَدًا أَنْ تُحَاسِبُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ، وَتَزَيَّنُوا لِلْعَرْضِ الْأَكْبَرِ {يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ} [الحاقة: 18] "
২ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবন ইসমাঈল হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফইয়ান ইবন উয়ায়নাহ থেকে, তিনি জা'ফর ইবন বুরকান থেকে, তিনি সাবিত ইবন আল-হাজ্জাজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগেই তোমরা নিজেদের হিসাব গ্রহণ করো, এবং তোমাদের আমল ওজন করার আগেই তা নিজেরা ওজন করে নাও; কেননা আজই নিজেদের হিসাব সম্পন্ন করা আগামীকালের হিসাবের ক্ষেত্রে তোমাদের জন্য অধিকতর সহজ হবে। আর তোমরা সেই মহা উপস্থিতির জন্য সুসজ্জিত হও {সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে, তোমাদের কোনো গোপন বিষয়ই আর গোপন থাকবে না।} [আল-হাক্কাহ: ১৮]"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
3 - حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه يَوْمًا وَخَرَجْتُ مَعَهُ حَتَّى دَخَلَ حَائِطًا فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ وَبَيْنِي وَبَيْنَهُ جِدَارٌ وَهُوَ فِي جَوْفِ الْحَائِطِ: «عُمَرُ بْنَ الْخَطَّابِ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ بَخٍ وَاللَّهِ لَتَتَّقِيَنَّ اللَّهَ، ابْنَ الْخَطَّابِ أَوْ لَيُعَذِّبَنَّكَ»
৩ - আমাদের নিকট হারুন ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মা'ন ইবনে ঈসা বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি একদিন উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-কে বলতে শুনেছি; আমি তাঁর সাথে বের হলাম এমনকি তিনি একটি বাগানে প্রবেশ করলেন। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনলাম—এমতাবস্থায় যে আমার ও তাঁর মাঝে একটি দেয়াল ছিল এবং তিনি ছিলেন বাগানের ভেতরে—: "উমর ইবনুল খাত্তাব, মুমিনদের সেনাপতি, বাহবা! আল্লাহর কসম, হে খাত্তাবের পুত্র, তুমি অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করবে, নতুবা তিনি অবশ্যই তোমাকে শাস্তি দেবেন।"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْعِجْلِيُّ، ثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، ثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، {وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ} [الْقِيَامَة: 2] قَالَ: «لَا يُلْقَى الْمُؤْمِنُ إِلَّا يُعَاتِبُ نَفْسَهُ مَاذَا أَرَدْتُ بِكَلِمَتِي مَاذَا أَرَدْتُ بِأَكْلَتِي مَاذَا أَرَدْتُ بِشَرْبَتِي وَالْعَاجِزُ يَمْضِي قُدُمًا لَا يُعَاتِبُ نَفْسَهُ»
৪ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-ইজলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আমির আল-আকাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কুররাহ ইবনে খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান (আল-বাসরি) থেকে বর্ণিত, {এবং আমি শপথ করছি সেই নফসের বা আত্মার, যে নিজেকে অধিক তিরস্কার করে} [আল-কিয়ামাহ: ২] তিনি বলেন: «একজন মুমিন কেবল নিজেকে তিরস্কার করা অবস্থাতেই পরিদৃষ্ট হয় যে—আমি আমার এই কথার মাধ্যমে কী উদ্দেশ্য পোষণ করেছি? আমি আমার এই আহারের মাধ্যমে কী চেয়েছি? আমি আমার এই পানীয়র মাধ্যমে কী চেয়েছি? আর অক্ষম ব্যক্তি (পাপী) সামনে এগিয়ে যেতেই থাকে, সে নিজেকে কোনো তিরস্কার করে না।’»
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
5 - حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، ثَنَا عَمْرُو بْنُ حُمْرَانَ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، {وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا} [الْكَهْف: 28] قَالَ: «أَضَاعَ أَكْبَرَ الضَّيْعَةِ أَضَاعَ نَفْسَهُ وَعَسَى مَعَ ذَلِكَ أَنْ تَجِدَهُ حَافِظًا لِمَا لَهُ، مُضَيِّعًا لِدِينِهِ»
৫ - ইউসুফ ইবনে মুসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে হুমরান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন— {এবং তার কাজ ছিল সীমালংঘন} [আল-কাহাফ: ২৮] সম্পর্কে তিনি বলেন: «সে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয়েছে, সে নিজেকে ধ্বংস করেছে; অথচ হয়তো তুমি তাকে তার সম্পদের সংরক্ষণকারী হিসেবে পাবে, কিন্তু সে তার দ্বীনের বিনাশকারী»
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
6 - وَأَخْبَرَنِي صَالِحُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ أَبَا عُبَيْدَةَ النَّاجِيَّ، حَدَّثَهُمْ قَالَ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ، يَقُولُ: «إِنَّ الْعَبْدَ لَا يَزَالُ بِخَيْرٍ مَا كَانَ لَهُ وَاعِظٌ مِنْ نَفْسِهِ وَكَانَتِ الْمُحَاسَبَةُ مِنْ هِمَّتِهِ»
৬ - সালিহ ইবনে মালিক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু উবাইদাহ আন-নাজী তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল-হাসানকে বলতে শুনেছি, “নিশ্চয়ই বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকে, যতক্ষণ তার নিজের অন্তরে একজন নসিহতকারী থাকে এবং আত্ম-হিসাব গ্রহণ করাই হয় তার প্রধান লক্ষ্য।”
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
7 - حَدَّثَنَا سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، ثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَيَّانَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، قَالَ: «لَا يَكُونُ الرَّجُلُ تَقِيًّا حَتَّى يَكُونَ لِنَفْسِهِ أَشَدَّ مُحَاسَبَةً مِنَ الشَّرِيكِ لِشَرِيكِهِ»
৭ - আমাদের নিকট সুরাইজ ইবনে ইউনুস হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুলাইমান ইবনে হাইয়ান হাদীস বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে বুরকান থেকে, তিনি মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের নফসের হিসাব গ্রহণে একজন অংশীদার তার অংশীদারের প্রতি যতটা কঠোর হয়, তার চেয়েও অধিক কঠোর হয়।"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
8 - حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ الصَّفَّارُ أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ، يَقُولُ: " رَحِمَ اللَّهُ عَبْدًا قَالَ لِنَفْسِهِ النَّفِيسَةِ: أَلَسْتِ صَاحِبَةَ كَذَا؟ أَلَسْتِ صَاحِبَةَ كَذَا؟ ثُمَّ ذَمَّهَا ثُمَّ خَطَمَهَا، ثُمَّ أَلْزَمَهَا كِتَابَ اللَّهِ؛ فَكَانَ لَهَا قَائِدًا "
৮ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস আস-সাফফার আহমাদ ইবনু হুমাইদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনু সুলাইমান, আমি মালিক ইবনু দীনারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি দয়া করুন যে তার বহুমূল্য নফসকে উদ্দেশ্য করে বলে: 'তুমি কি অমুক কাজের কর্ত্রী নও? তুমি কি অমুক কাজের কর্ত্রী নও?' অতঃপর সে তাকে (নফসকে) নিন্দা করল, তারপর তাকে লাগাম পরিয়ে দিল এবং তাকে আল্লাহর কিতাব অনুসরণে বাধ্য করল; ফলে তা (আল্লাহর কিতাব) তার জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে গেল।"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
9 - حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى الْعَبْدِيُّ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، قَالَ: «التَّقِيُّ أَشَدُّ مُحَاسَبَةً لِنَفْسِهِ مِنْ سُلْطَانٍ عَاصٍ، وَمِنْ شَرِيكٍ شَحِيحٍ»
৯ - আমাদের নিকট আবু মুসা আল-আবদি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আল-মালিহ থেকে, তিনি মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «একজন মুত্তাকী ব্যক্তি নিজের নফসের হিসাব গ্রহণে একজন অবাধ্য শাসক এবং একজন কৃপণ অংশীদারের চেয়েও অধিক কঠোর হন।»
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
10 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّهُ سَمِعَ سُفْيَانَ بْنَ عُيَيْنَةَ، يَقُولُ: قَالَ إِبْرَاهِيمُ التَّيْمِيُّ: " مَثَّلْتُ نَفْسِي فِي الْجَنَّةِ، آكُلُ ثِمَارَهَا، وَأَشْرَبُ مِنْ أَنْهَارِهَا، وَأُعَانِقُ أَبْكَارَهَا، ثُمَّ مَثَّلْتُ نَفْسِي فِي النَّارِ، آكُلُ مِنْ زَقُّومِهَا، وَأَشْرَبُ مِنْ صَدِيدِهَا، وَأُعَالِجُ سَلَاسِلَهَا وَأَغْلَالَهَا؛ فَقُلْتُ لِنَفْسِي: أَيْ نَفْسِي، أَيُّ شَيْءٍ تُرِيدِينَ؟، قَالَتْ: أُرِيدُ أَنْ أُرَدَّ إِلَى الدُّنْيَا؛ فَأَعْمَلَ صَالِحًا قَالَ: قُلْتُ: فَأَنْتِ فِي الْأُمْنِيَةِ فَاعْمَلِي "
১০ - ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহকে বলতে শুনেছেন, ইবরাহিম আত-তাইমি বলেছেন: "আমি জান্নাতে নিজের অবস্থা কল্পনা করলাম যে, আমি তার ফলমূল খাচ্ছি, তার নহরসমূহ থেকে পান করছি এবং তার কুমারীদের আলিঙ্গন করছি। অতঃপর আমি জাহান্নামে নিজের অবস্থা কল্পনা করলাম যে, আমি তার জাক্কুম খাচ্ছি, তার রক্ত-পুঁই পান করছি এবং তার শিকল ও বেড়িসমূহ নিয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করছি। তখন আমি আমার নফসকে বললাম: হে আমার নফস, তুমি কী চাও? সে বলল: আমি দুনিয়াতে ফিরে যেতে চাই যাতে নেক আমল করতে পারি। তিনি বলেন, তখন আমি তাকে বললাম: তুমি তো এখন সেই আকাঙ্ক্ষিত সুযোগের মধ্যেই রয়েছ, সুতরাং আমল করো।"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
11 - حَدَّثَنِي أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ وَغَيْرُهُ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ، سَمِعْتُ مَالِكَ بْنَ دِينَارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ، يَخْطُبُ وَيَقُولُ: «امْرَأً وَزَنَ نَفْسَهُ، امْرَأً اتَّخَذَ نَفْسَهُ عَدُوًّا، امْرَأً حَاسَبَ نَفْسَهُ قَبْلَ أَنْ يَصِيرَ الْحِسَابُ إِلَى غَيْرِهِ، امْرَأً أَخَذَ بِعِنَانِ عَمَلِهِ فَنَظَرَ أَيْنَ يُرِيدُ؟ امْرَأً نَظَرَ فِي مِكْيَالِهِ، امْرَأً نَظَرَ فِي مِيزَانِهِ، فَمَا زَالَ يَقُولُ امْرَأً حَتَّى أَبْكَانِي»
১১ - আজহার ইবনে মারওয়ান ও অন্যান্যরা জাফর ইবনে সুলাইমান থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিক ইবনে দিনারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাজ্জাজকে খুতবা দিতে এবং বলতে শুনেছি: "সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে ওজন করেছে, সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে শত্রু হিসেবে গণ্য করেছে, সেই ব্যক্তি যে অন্যের নিকট হিসাব চলে যাওয়ার পূর্বেই নিজের হিসাব নিজে গ্রহণ করেছে, সেই ব্যক্তি যে নিজের কর্মের লাগাম ধরেছে এবং লক্ষ্য করেছে সে কোথায় যেতে চায়, সেই ব্যক্তি যে নিজের পরিমাপক পাত্রের দিকে লক্ষ্য করেছে, সেই ব্যক্তি যে নিজের তুলাদণ্ডের দিকে লক্ষ্য করেছে।" তিনি অনবরত "সেই ব্যক্তি" বলতে থাকলেন, এমনকি তিনি আমাকে কাঁদিয়ে ফেললেন।
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
12 - حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِي الْأَغَرِّ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: " مَكْتُوبٌ فِي حِكْمَةِ آلِ دَاوُدَ: حَقٌّ عَلَى الْعَاقِلِ أَنْ لَا يَغْفَلَ عَنْ أَرْبَعِ سَاعَاتٍ، سَاعَةٍ يُنَاجِي فِيهَا رَبَّهِ، وَسَاعَةٍ يُحَاسِبُ فِيهَا نَفْسَهُ، وَسَاعَةٍ يَخْلُو فِيهَا مَعَ إِخْوَانِهِ الَّذِينَ يُخْبِرُونَهُ بِعُيُوبِهِ وَيَصْدُقُونَهُ عَنْ نَفْسِهِ، وَسَاعَةٍ يَخْلُو فِيهَا بَيْنَ نَفْسِهِ وَبَيْنَ لَذَّاتِهَا فِيمَا يَحِلُّ وَيُحْمَدُ؛ فَإِنَّ فِي هَذِهِ السَّاعَةِ عَوْنًا عَلَى تِلْكَ السَّاعَاتِ، وَإِجْمَامًا لِلْقُلُوبِ، وَحَقٌّ عَلَى الْعَاقِلِ أَنْ لَا يُرَى ظَاعِنًا إِلَّا فِي ثَلَاثٍ، زَادٍ لِمِيعَادٍ، أَوْ مَرَمَّةٍ لِمَعَاشٍ أَوْ لَذَّةٍ فِي غَيْرِ مُحَرَّمٍ، وَحَقٌّ عَلَى الْعَاقِلِ أَنْ يَكُونَ عَارِفًا بِزَمَانِهِ، حَافِظًا لِلِسَانِهِ، مُقْبِلًا عَلَى شَأْنِهِ "
১২ - আমাদের নিকট আবু খাইসামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী সুফিয়ান থেকে, তিনি আবুল আগার থেকে এবং তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আলে দাউদের হিকমতে (প্রজ্ঞায়) লিখিত আছে: বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য কর্তব্য হলো চারটি সময় সম্পর্কে উদাসীন না হওয়া; একটি সময় যখন সে তার রবের সাথে নিভৃতে কথোপকথন করবে, একটি সময় যখন সে নিজের নফসের হিসাব গ্রহণ করবে, একটি সময় যখন সে তার ঐসব ভাইদের সাথে নিভৃতে সময় কাটাবে যারা তাকে তার দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে অবহিত করবে এবং তার নিজের ব্যাপারে তাকে সত্য কথা বলবে, আর একটি সময় যখন সে নিজের নফস ও হালাল এবং প্রশংসনীয় আনন্দ-উপভোগের মাঝে নির্জনে থাকবে; কারণ এই সময়টি পূর্বোক্ত সময়গুলোর জন্য সহায়ক এবং হৃদয়ের প্রশান্তি স্বরূপ। আর বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য উচিত হলো তিনটি উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোথাও সফর না করা: পরকালের পাথেয় সংগ্রহের জন্য, অথবা জীবিকা নির্বাহের প্রচেষ্টায়, কিংবা হারাম নয় এমন কোনো আনন্দ লাভের জন্য। আর বুদ্ধিমান ব্যক্তির জন্য কর্তব্য হলো নিজ জামানা সম্পর্কে অবগত থাকা, নিজের জিহ্বা সংবরণ করা এবং নিজ কাজে মনোযোগী হওয়া।"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
13 - حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ زُرَيْقِ بْنِ رُدَيْحٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ مَنْصُورٍ، عَنْ مَوْلًى لَهُمْ كَانَ يَصْحَبُ الْأَحْنَفَ بْنَ قَيْسٍ قَالَ: كُنْتُ أَصْحَبُهُ فَكَانَ عَامَّةُ صَلَاتِهِ الدُّعَاءَ وَكَانَ يَجِيءُ الْمِصْبَاحَ فَيَضَعُ أُصْبُعَهُ فِيهِ ثُمَّ يَقُولُ: «حِسِّ» ثُمَّ يَقُولُ: «يَا حُنَيْفُ، مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ يَوْمَ كَذَا؟ مَا حَمَلَكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ يَوْمَ كَذَا؟»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে খিদাশ, তিনি হাম্মাদ ইবনে যাইদ থেকে, তিনি ঝুরাইক ইবনে রুদাইহ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে মানসুর থেকে, তিনি তাদের এক মুক্তদাসের বরাতে বর্ণনা করেন, যিনি আহনাফ ইবনে কাইসের সাথে থাকতেন। তিনি বলেন: আমি তাঁর সাথে থাকতাম, তাঁর সালাতের অধিকাংশ ছিল দুআ। তিনি প্রদীপের কাছে আসতেন এবং তাতে নিজের আঙুল রাখতেন, তারপর বলতেন: "উহ!" এরপর বলতেন: "হে হুনাইফ! অমুক দিন তুমি যা করেছিলে, তা করতে তোমাকে কিসে প্ররোচিত করেছিল? অমুক দিন তুমি যা করেছিলে, তা করতে তোমাকে কিসে প্ররোচিত করেছিল?"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
14 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ بْنُ حُسَيْنِ بْنِ ذَكْوَانَ الْمُعَلِّمُ، عَنْ سَلَامِ بْنِ مِسْكِينٍ، قَالَ: خَطَبَ الْحَجَّاجُ، أَوْ قَامَ خَطِيبًا، فَقَالَ: «أَيُّهَا الرَّجُلُ وَكُلُّكُمْ ذَلِكَ الرَّجُلُ ذُمُّوا أَنْفُسَكُمْ وَاخْطِمُوهَا وَخُذُوا بَأَزِمَّتِهَا إِلَى طَاعَةِ اللَّهِ وَكُفُّوهَا بِخَطْمِهَا عَنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ»
১৪ - মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে আলী আস-সাকাফী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদ ইবনে হুসাইন ইবনে যাকওয়ান আল-মুআল্লিম আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সালাম ইবনে মিসকীন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হাজ্জাজ খুতবা দিলেন অথবা তিনি খতিব হিসেবে দণ্ডায়মান হলেন, অতঃপর বললেন: «হে মানুষ! আর তোমরা সকলেই সেই মানুষ; তোমরা নিজেদের নফসকে (প্রবৃত্তিকে) তিরস্কার করো, একে বলগা পরিয়ে দাও, এর লাগাম আল্লাহর আনুগত্যের দিকে টেনে ধরো এবং একে বলগা পরানোর মাধ্যমে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখো।’»
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
15 - حَدَّثَنِي يَحْيَى أَبُو مُحَمَّدٍ التَّمِيمِيُّ، ثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، ثَنَا شِهَابُ بْنُ خِدَاشٍ، ثَنَا سَيَّارٌ أَبُو الْحَكَمِ، سَمِعْتُ الْحَجَّاجَ بْنَ يُوسُفَ، عَلَى الْمِنْبَرِ يَقُولُ: «يَا أَيُّهَا الرَّجُلُ وَكُلُّكُمْ ذَلِكَ الرَّجُلُ رَجُلٌ خَطَمَ نَفْسَهُ وَذَمَّهَا فَقَادَهَا بِخِطَامِهَا إِلَى طَاعَةِ اللَّهِ وَعَنَجَهَا بِزِمَامِهَا عَنْ مَعَاصِي اللَّهِ عز وجل»
১৫ - ইয়াহইয়া আবু মুহাম্মদ আত-তামিমী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শিহাব ইবনে খিদাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাইয়্যার আবু আল-হাকাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফকে মিম্বারের ওপর বলতে শুনেছি: "হে মানুষ! আর তোমরা সকলেই সেই মানুষ; এমন এক ব্যক্তি যে তার নফসকে লাগামবদ্ধ করেছে এবং একে তিরস্কার করেছে, অতঃপর একে এর লাগাম ধরে মহান আল্লাহর আনুগত্যের দিকে পরিচালিত করেছে এবং একে এর লাগাম টেনে মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর নাফরমানি থেকে ফিরিয়ে রেখেছে।"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
16 - حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الطَّالْقَانِيُّ مَحْمُودُ بْنُ خِدَاشٍ ثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، ثَنَا جَعْفَرُ بْنُ بُرْقَانَ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، رضي الله عنه كَتَبَ إِلَى بَعْضِ عُمَّالِهِ فَكَانَ فِي آخِرِ كِتَابِهِ «أَنْ حَاسِبْ نَفْسَكَ فِي الرَّخَاءِ قَبْلَ حِسَابِ الشِّدَّةِ، فَإِنَّهُ مَنْ حَاسَبَ نَفْسَهُ فِي الرَّخَاءِ قَبْلَ حِسَابٍ فِي الشِّدَّةِ؛ عَادَ مَرْجِعُهُ إِلَى الرْضَا وَالْغِبْطَةِ، وَمَنْ أَلْهَتْهُ حَيَاتُهُ، وَشَغَلَتْهُ أَهْوَاؤُهُ عَادَ أَمْرُهُ إِلَى النَّدَامَةِ وَالْحَسْرَةِ فَتَذَكَّرْ مَا تُوعَظُ بِهِ لِكَيْمَا تُنْهَى عَمَّا يَنْهَى عَنْهُ وَتَكُونَ عِنْدَ التَّذْكِرَةِ وَالْمَوْعِظَةِ مِنْ أُولِي النُّهَى»
১৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আত-তালকানি মাহমুদ বিন খিদাশ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসির বিন হিশাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন বুরকান যে, নিশ্চয়ই ওমর বিন আল-খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) তাঁর জনৈক কর্মচারীর নিকট লিখেছিলেন, এবং তাঁর পত্রের শেষাংশে ছিল: «তুমি কঠিন হিসাবের সম্মুখীন হওয়ার পূর্বেই সচ্ছলতার সময়ে নিজের হিসাব গ্রহণ করো। কেননা যে ব্যক্তি কঠিন সময়ের হিসাবের পূর্বে সচ্ছলতার সময়ে নিজের নফসের হিসাব গ্রহণ করে, তার পরিণাম সন্তুষ্টি ও আনন্দের দিকে ধাবিত হয়। আর যার জীবন তাকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে এবং প্রবৃত্তি তাকে ব্যস্ত রাখে, তার পরিণাম অনুশোচনা ও আক্ষেপের দিকে ফিরে যায়। সুতরাং তোমাকে যে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে তা স্মরণ রাখো, যেন তোমাকে যা থেকে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে তুমি বিরত থাকতে পারো এবং উপদেশ ও নসিহতের সময় তুমি প্রজ্ঞাবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারো»
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
17 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْمُخْتَارِ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: " الْمُؤْمِنُ قَوَّامٌ عَلَى نَفْسِهِ يُحَاسِبُ نَفْسَهُ لِلَّهِ عز وجل، وَإِنَّمَا خَفَّ الْحِسَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى قَوْمٍ حَاسَبُوا أَنْفُسَهُمْ فِي الدُّنْيَا، وَإِنَّمَا شَقَّ الْحِسَابُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَى قَوْمٍ أَخَذُوا هَذَا الْأَمْرَ مِنْ غَيْرِ مُحَاسَبَةٍ، إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَفْجَأَهُ الشَّيْءُ وَيُعْجِبُهُ، فَيَقُولُ وَاللَّهِ أَنِّي لَأَشْتَهِيكَ وَإِنَّكَ لَمِنْ حَاجَتِي، وَلَكِنْ وَاللَّهِ، مَا صِلَةٌ إِلَيْكَ هَيْهَاتَ، حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ وَيُفْرَطُ مِنْهُ الشَّيْءُ فَيَرْجِعُ إِلَى نَفْسِهِ فَيَقُولُ: هَيْهَاتَ مَا أَرَدْتُ إِلَى هَذَا وَمَا لِي وَلِهَذَا وَاللَّهِ مَا أُعْذَرُ بِهَذَا وَاللَّهِ لَا أَعُودُ إِلَى هَذَا أَبَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ وَمَالِي وَلِهَذَا، وَاللَّهِ مَا أُعْذَرُ بِهَذَا وَاللَّهِ لَا أَعُودُ إِلَى هَذَا أَبَدًا إِنْ شَاءَ اللَّهُ، إِنَّ الْمُؤْمِنِينَ قَوْمٌ أَوْقَفَهُمُ الْقُرْآنُ وَحَالَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ هَلَكَتِهِمْ أَنَّ الْمُؤْمِنَ أَسِيرٌ فِي الدُّنْيَا يَسْعَى فِي فِكَاكِ رَقَبَتِهِ لَا يَأْمَنُ شَيْئًا حَتَّى يَلْقَى اللَّهَ يَعْلَمُ أَنَّهُ مَأْخُوذٌ عَلَيْهِ فِي سَمْعِهِ، وَفِي بَصَرِهِ، وَفِي لِسَانِهِ، وَفِي جَوَارِحِهِ، مَأْخُوذٌ عَلَيْهِ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ "
১৭ - ইসমাইল ইবনে যাকারিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মা'মার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনুল মুখতার থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মুমিন হলো নিজের নফসের ওপর তদারককারী; সে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য নিজের নফসের হিসাব গ্রহণ করে। বস্তুত কিয়ামতের দিন সেই সম্প্রদায়ের জন্য হিসাব হালকা হয়ে যাবে যারা দুনিয়াতে নিজেদের নফসের হিসাব গ্রহণ করেছে। আর কিয়ামতের দিন সেই সম্প্রদায়ের জন্য হিসাব কঠিন হয়ে যাবে যারা এই বিষয়টি (জীবন পরিচালনা) কোনো প্রকার হিসাব গ্রহণ ছাড়াই গ্রহণ করেছে। মুমিনের সামনে হঠাৎ এমন কিছু আসে যা তাকে মুগ্ধ করে, তখন সে বলে: 'আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তোমাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখি এবং তুমি আমার প্রয়োজনেও ছিলে, কিন্তু আল্লাহর কসম! তোমার কাছে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই, হায় আফসোস! আমার ও তোমার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করা হয়েছে।' আর যখন তার থেকে কোনো বিচ্যুতি ঘটে যায় তখন সে নিজের নফসের দিকে ফিরে আসে এবং বলে: 'হায় আফসোস! আমি এমনটি করতে চাইনি। এর সাথে আমার কী সম্পর্ক? আল্লাহর কসম! এর জন্য আমার কোনো অজুহাত কবুল করা হবে না। আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ চান তবে আমি আর কখনো এতে ফিরে আসব না। এর সাথে আমার কী সম্পর্ক? আল্লাহর কসম! এর জন্য আমার কোনো অজুহাত কবুল করা হবে না। আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ চান তবে আমি আর কখনো এতে ফিরে আসব না।' নিশ্চয়ই মুমিনগণ এমন এক জাতি যাদেরকে কুরআন থামিয়ে রেখেছে এবং কুরআন তাদের ও তাদের ধ্বংসের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিশ্চয়ই মুমিন দুনিয়াতে একজন বন্দির ন্যায় যে তার গর্দান মুক্ত করার প্রচেষ্টায় রত থাকে। আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করার পূর্ব পর্যন্ত সে কোনো কিছুতেই নিরাপদ বোধ করে না। সে জানে যে তার কান, তার চোখ, তার জিহ্বা এবং তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যাপারে তাকে পাকড়াও করা হবে; এই সবকিছুর ব্যাপারেই তাকে পাকড়াও করা হবে।"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
18 - حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، ثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، قَالَ: " لَمَّا قَالَ يُوسُفُ صلى الله عليه وسلم {ذَلِكَ لِيَعْلَمَ أَنِّي لَمْ أَخُنْهُ بِالْغَيْبِ} [يُوسُف: 52] قَالَ لَهُ جِبْرِيلُ صلى الله عليه وسلم: وَلَا حِينَ هَمَمْتَ بِمَا هَمَمْتَ بِهِ، حِينَ حَلَلْتَ السَّرَاوِيلَ قَالَ {وَمَا أُبَرِّئُ نَفْسِي إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ} [يُوسُف: 53] "
১৮ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ফুযাইল ইবনুল আবদুল ওয়াহহাব, তিনি হুশাইম থেকে, তিনি ইসমাঈল ইবনে সালিম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) বললেন: {এটা এ জন্য যেন সে জানতে পারে যে, আমি অগোচরে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি} [ইউসুফ: ৫২], তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে বললেন: এমনকি সেই সময়েও কি নয় যখন আপনি সংকল্প করেছিলেন যা করেছিলেন, যখন আপনি পোশাক আলগা করেছিলেন? তখন তিনি বললেন: {এবং আমি নিজের নফসকে নির্দোষ দাবি করি না, নিশ্চয়ই নফস মন্দ কাজের আদেশ দিয়ে থাকে।} [ইউসুফ: ৫৩]"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٦٨)
19 - وَحَدَّثَنِي أَبِي، ثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ الْأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنِي الْحَكَمُ بْنُ عَبْدِ السَّلَامِ بْنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ الْأَنْصَارِيُّ أَنَّ جَعْفَرَ بْنَ أَبِي طَالِبٍ حِينَ قُتِلَ دَعَا النَّاسُ: «يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ رَوَاحَةَ» وَهُوَ فِي جَانِبِ الْعَسْكَرِ وَمَعَهُ ضِلَعٌ وَجَمَلٌ مُنْهَشَةٌ، وَلَمْ يَكُنْ ذَاقَ طَعَامًا قَبْلَ ذَلِكَ بِثَلَاثٍ، فَرَمَى بِالضِّلَعِ، ثُمَّ قَالَ: وَأَنْتَ مَعَ الدُّنْيَا " ثُمَّ تَقَدَّمَ فَقَاتَلَ فَأُصِيبَ أُصْبُعُهُ فَارْتَجَزَ فَجَعَلَ يَقُولُ: «
[الْبَحْر الرجز]
هَلْ أَنْتِ إِلَّا أُصْبُعٌ دَمِيتِ
… وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا لَقِيتِ
يَا نَفْسُ، إِلَّا تُقْتَلِي تَمُوتِي
… هَذَا حِيَاضُ الْمَوْتِ قَدْ صَلِيتِ
وَمَا تَمَنَّيْتِ فَقَدْ لَقِيتِ
… إِنْ تَفْعَلِي؛ فِعْلَهَا هُدِيتِ
وَإِنْ تَأَخَّرْتِي؛ فَقَدْ شَقِيتِي»
ثُمَّ قَالَ: " يَا نَفْسُ، إِلَى أَيِّ شَيْءٍ تَتَشَوَّفِينَ إِلَى فُلَانَةَ، فَهِيَ طَالِقٌ ثَلَاثًا وَإِلَى فُلَانٍ وَفُلَانٍ - غِلْمَانٍ لَهُ - وَإِلَى مَعْجَفٍ - حَائِطٍ لَهُ - فَهُوَ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ:
يَا نَفْسُ، مَا لَكِ تَكْرَهِينَ الْجَنَّهْ
… أُقْسِمُ بِاللَّهِ لَتَنْزِلِنَّهْ
طَائِعَةً أَوْ لَتُكْرَهِنَّهْ
… فَطَالَمَا قَدْ كُنْتِ مُطْمَئِنَّهْ
هَلْ أَنْتِ إِلَّا نُطْفَةٌ فِي شَنَّهْ
… قَدْ أَجْلَبَ النَّاسُ وَشَدْوُ الرَّنَّهْ "
১৯ - এবং আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল কুদ্দুস ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাকাম ইবনে আব্দুস সালাম ইবনে আন-নুমান ইবনে বশির আল-আনসারী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, জাফর ইবনে আবি তালিব যখন শহীদ হলেন, তখন লোকেরা ডাকতে শুরু করল: "হে আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা! হে আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা!" তিনি তখন সৈন্যবাহিনীর এক প্রান্তে ছিলেন এবং তাঁর নিকট গোশতযুক্ত একটি হাড় ছিল। এর আগে তিন দিন যাবত তিনি কোনো খাদ্য আস্বাদন করেননি। তখন তিনি হাড়টি ফেলে দিলেন, অতঃপর বললেন: "আর তুমি তো দুনিয়ার মোহেই পড়ে আছো!" এরপর তিনি সামনে অগ্রসর হলেন এবং যুদ্ধ করলেন। এমতাবস্থায় তাঁর একটি আঙুল আঘাতপ্রাপ্ত হলো, তখন তিনি বীরত্বব্যঞ্জক কবিতা আবৃত্তি করতে করতে বলতে লাগলেন:
[রাজায ছন্দ]
তুমি তো কেবল একটি রক্তাক্ত আঙুল বৈ নও
… আর আল্লাহর পথেই তুমি এই কষ্টের সম্মুখীন হয়েছ।
হে নফস (প্রাণ)! যদি তুমি নিহত না হও, তবে তো তোমাকে এমনিতেও মরতে হবে
… এই তো মৃত্যুর সুধাভাণ্ডার যাতে তুমি অবগাহন করছ।
আর যা তুমি তামান্না (আকাঙ্ক্ষা) করছিলে, তা তো পেয়েই গিয়েছ
… যদি তুমি তাদের (শহীদদের) ন্যায় কাজ করো, তবে তুমি সুপথ প্রাপ্ত হবে।
আর যদি তুমি বিলম্ব করো, তবে অবশ্যই তুমি দুর্ভাগা হবে।
অতঃপর তিনি বললেন: "হে নফস! তুমি কিসের প্রতি লালায়িত হচ্ছ? অমুক মহিলার প্রতি? তবে তাকে তিন তালাক। অমুক ও অমুক দাসের প্রতি? তারা (মুক্ত)। এবং অমুক প্রাচীরবেষ্টিত বাগানের প্রতি? তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য উৎসর্গিত।"
হে নফস! তোমার কী হলো যে তুমি জান্নাতকে অপছন্দ করছ?
… আল্লাহর কসম! অবশ্যই তুমি তাতে প্রবেশ করবে।
ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায়, অবশ্যই তোমাকে তাতে নামতে হবে
… দীর্ঘকাল তো তুমি নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত ছিলে।
তুমি কি একটি জীর্ণ মশকের বীর্যবিন্দু ছাড়া আর কিছু নও?
… অথচ আজ মানুষ সমবেত হয়েছে এবং যুদ্ধের শোরগোল তীব্র হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
20 - وَحَدَّثَنِي أَبُو مُوسَى، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ، قَالَ: كَانَ الْأَسْوَدُ بْنُ كُلْثُومٍ إِذَا مَشَى نَظَرَ إِلَى قَدَمَيْهِ قَالَ: وَدُورُ النَّاسِ إِذْ ذَاكَ فِيهَا تَوَاضُعٌ فَعَسَى أَنْ يَفْجَأَ النِّسْوَةَ، فَيَقُولُ بَعْضُهُنَّ لِبَعْضٍ: كَلَّا إِنَّهُ الْأَسْوَدُ بْنُ كُلْثُومٍ إِنَّهُ لَا يَنْظُرُ فَلَمَّا قَرُبَ غَازِيًا، قَالَ: «اللَّهُمَّ، إِنَّ هَذِهِ النَّفْسَ تَزْعُمُ فِي الرَّخَاءِ أَنَّهَا تُحِبُّ لِقَاكَ، فَإِنْ كَانَتْ صَادِقَةً؛ فَارْزُقْهَا ذَاكَ، وَإِنْ كَانَتْ كَاذِبَةً؛ فَاحْمِلْهَا عَلَيْهِ وَإِنْ كَرِهَتْ؛ فَاجْعَلْ ذَلِكَ قَتْلًا فِي سَبِيلِكَ، وَأَطْعِمْ لَحْمِي سِبَاعًا وَطَيْرًا» قَالَ: فَانْطَلَقَ فِي طَائِفَةٍ مِنْ ذَلِكَ الْجَيْشِ الَّذِي خَرَجَ فِيهِ حَتَّى دَخَلُوا حَائِطًا فِيهِ ثَلْمَةٌ وَجَاءَ الْعَدُوُّ حَتَّى قَامَ عَلَى الثَّلْمَةِ، فَنَزَلَ عَنْ فَرَسِهِ، وَضَرَبَ وَجْهَهُ فَانْطَلَقَ غَايِرًا، ثُمَّ عَمَدَ إِلَى الْمَاءِ فِي الْحَائِطِ، فَتَوَضَّأَ مِنْهُ، وَصَلَّى، قَالَ: «تَقُولُ الْعَجَمُ هَكَذَا اسْتِسْلَامُ الْعَرَبِ» فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ قَاتَلَهُمْ حَتَّى قُتِلَ وَعَظُمَ الْجَيْشُ عَلَى ذَلِكَ الْحَائِطِ وَفِيهِمْ أَخُوهُ، فَقِيلَ لِأَخِيهِ: «أَلَا تَدْخُلُ الْحَائِطَ فَتَنْظُرَ مَا أُصِيبَتْ مِنْ عِظَامِ أَخِيكَ فَتُجِبَّهُ»، قَالَ: «مَا أَنَا بِفَاعِلٍ شَيْئًا دَعَا بِهِ أَخِي فَاسْتُجِيبَ لَهُ»
২০ - আবু মুসা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবরাহিম ইবন আবদুর রহমান থেকে, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে সুলায়মান ইবন মুগিরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি হুমাইদ ইবন হিলাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আসওয়াদ ইবন কুলসুম যখন হাঁটতেন তখন তিনি নিজের দুই পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। তিনি বলেন: তৎকালীন সময়ে মানুষের ঘরবাড়িগুলো ছিল অত্যন্ত সাধারণ (নিচু), ফলে হঠাৎ নারীদের সামনে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকত। তাই তারা একে অপরকে বলত: 'না (ভয় নেই), ইনি আসওয়াদ ইবন কুলসুম, তিনি (বেগানা নারীর দিকে) তাকান না।' অতঃপর যখন তিনি যুদ্ধের নিকটবর্তী হলেন, তখন বললেন: "হে আল্লাহ! এই নফস (আত্মা) সচ্ছলতার সময় দাবি করে যে সে আপনার সাক্ষাৎ ভালোবাসে; সুতরাং যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে তাকে তা দান করুন। আর যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তাকে এর ওপর বাধ্য করুন যদিও সে তা অপছন্দ করে। আর একে আপনার পথে শাহাদাত হিসেবে কবুল করুন এবং আমার গোশতকে হিংস্র জন্তু ও পাখিদের আহার বানান।" রাবী বলেন: অতঃপর তিনি সেই বাহিনীর একটি দলের সাথে রওনা হলেন যাতে তিনি বের হয়েছিলেন, যতক্ষণ না তারা একটি প্রাচীরঘেরা বাগানে প্রবেশ করলেন যাতে একটি ফাটল ছিল। শত্রু বাহিনী এসে সেই ফাটলের ওপর অবস্থান নিল। তখন তিনি তার ঘোড়া থেকে নামলেন এবং ঘোড়ার মুখে আঘাত করলেন যেন সেটি দ্রুত বেগে চলে যায়। এরপর তিনি বাগানের পানির দিকে গিয়ে তা দিয়ে অজু করলেন এবং সালাত আদায় করলেন। তিনি বললেন: "অনারবরা বলে, আরবদের আত্মসমর্পণ এমনই হয়।" যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন যতক্ষণ না তিনি শহীদ হলেন। এবং সেই বাগানে বিশাল বাহিনী সমবেত হলো, আর তাদের মধ্যে তার ভাইও ছিল। তার ভাইকে বলা হলো: "আপনি কি বাগানের ভেতরে গিয়ে আপনার ভাইয়ের যে হাড়গোড় পড়ে আছে তা দেখে সংগ্রহ করবেন না?" তিনি বললেন: "আমার ভাই আল্লাহর কাছে যা চেয়েছেন এবং যা তার জন্য কবুল করা হয়েছে, তার বিপরীতে কোনো কিছু করার লোক আমি নই।"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٧١)
21 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ، ثَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ نُسَيْرِ بْنِ ذُعْلُوقٍ، ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ قَيْسٍ أَبُو أُمَيَّةَ الْغِفَارِيُّ، قَالَ: " كُنَّا فِي غَزَاةٍ لَنَا، فَحَضَرَ عَدُوُّهُمْ، فَصِيحَ فِي النَّاسِ، فَهُمْ يَثُوبُونَ إِلَى مَصَافِّهِمْ، وَفِي يَوْمٍ شَدِيدِ الرِّيحِ، إِذَا رَجُلٌ أَمَامِي، رَأْسُ فَرَسِي عِنْدَ عَجُزِ فَرَسِهِ، وَهُوَ يُخَاطِبُ نَفْسَهُ، فَيَقُولُ: أَيْ نَفْسِي، أَلَمْ أَشْهَدْ مَشْهَدَ كَذَا وَكَذَا؟ فَقُلْتِ لِي: أَهْلُكَ وَعِيَالُكَ، وَأَطَعْتُكِ فَرَجَعْتُ، أَلَمْ أَشْهَدْ مَشْهَدَ كَذَا وَكَذَا؟، فَقُلْتِ لِي: أَهْلُكَ وَعِيَالُكَ، فَأَطَعْتُكِ، فَرَجَعْتُ، وَاللَّهِ، لَأَعْرِضَنَّكِ الْيَوْمَ عَلَى اللَّهِ عز وجل، أَخَذَكِ أَوْ تَرَكَكِ، فَقُلْتُ: لَأَرْمُقَنَّهُ الْيَوْمَ فَرَمَقْتُهُ فَحَمَلَ النَّاسُ عَلَى عَدُوِّهِمْ فَكَانَ فِي أَوَائِلِهِمْ، ثُمَّ إِنَّ الْعَدُوَّ حَمَلَ عَلَى النَّاسِ فَانْكَشَفُوا وَكَانِ فِي حُمَاتِهِمْ، ثُمَّ حَمَلُوا عَلَى عَدُوِّهِمْ فَكَانَ فِي أَوَائِلِهِمْ، ثُمَّ حَمَلَ الْعَدُوُّ وَانْكَشَفَ النَّاسُ فَكَانَ فِي حُمَاتِهِمْ، قَالَ: فَوَاللَّهِ، مَازَالَ ذَلِكَ دَأْبَهُ حَتَّى رَأَيْتُهُ صَرِيعًا فَعَدَدْتُ بِهِ وِبَدَابَّتِهِ سِتِّينَ أَوْ أَكْثَرَ مِنْ سِتِّينَ طَعْنَةً "
২১ - হাসান ইবনে আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুবারক ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন নুসাইর ইবনে যু'লুক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে কায়স আবু উমাইয়া আল-গিফারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা আমাদের এক যুদ্ধে ছিলাম, তখন শত্রুরা উপস্থিত হলো এবং মানুষের মাঝে যুদ্ধের ডাক দেওয়া হলো। তারা তাদের কাতারগুলোর দিকে সমবেত হতে লাগল। সেদিন প্রবল বাতাস বইছিল। এমতাবস্থায় আমার সামনে একজন লোক ছিল, যার ঘোড়ার পেছনের অংশের নিকট আমার ঘোড়ার মাথা ছিল। সে নিজের সাথে কথা বলছিল এবং বলছিল: 'হে আমার নফস! আমি কি অমুক অমুক যুদ্ধে উপস্থিত হইনি? তখন তুমি আমাকে বলেছিলে: তোমার পরিবার ও সন্তান-সন্ততি রয়েছে, ফলে আমি তোমার কথা মেনে নিয়ে ফিরে গিয়েছিলাম। আমি কি অমুক অমুক যুদ্ধে উপস্থিত হইনি? তখন তুমি আমাকে বলেছিলে: তোমার পরিবার ও সন্তান-সন্ততি রয়েছে, ফলে আমি তোমার কথা মেনে নিয়ে ফিরে গিয়েছিলাম। আল্লাহর কসম, আজ আমি অবশ্যই তোমাকে মহা পরাক্রমশালী ও মহান আল্লাহর সামনে পেশ করব; তিনি তোমাকে গ্রহণ করুন কিংবা বর্জন করুন।' আমি মনে মনে বললাম: আজ আমি অবশ্যই তাকে লক্ষ্য করব। ফলে আমি তাকে লক্ষ্য করতে লাগলাম। এরপর যখন লোকেরা তাদের শত্রুর ওপর আক্রমণ করল, তখন সে তাদের অগ্রভাগে ছিল। অতঃপর যখন শত্রুরা লোকদের ওপর আক্রমণ করল এবং তারা পিছু হটল, তখন সে তাদের রক্ষকদের মধ্যে অবস্থান করছিল। পুনরায় তারা যখন শত্রুর ওপর আক্রমণ করল, তখন সে তাদের অগ্রভাগে ছিল। এরপর আবার শত্রু আক্রমণ করল এবং লোকেরা পিছু হটল, তখন সে তাদের রক্ষকদের মধ্যে ছিল। তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, তার এই ধারা অব্যাহত ছিল যতক্ষণ না আমি তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলাম। আমি তার শরীরে এবং তার পশুর দেহে ষাটটি বা ষাটেরও অধিক আঘাতের চিহ্ন গণনা করলাম।"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
بَابُ ذَمِّ النَّفْسِ
নফসের নিন্দার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
22 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ حَمَّادٍ الْكُوفِيُّ الضَّبِّيُّ، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُيَيْنَةَ الْكُوفِيُّ، سَمِعْتُ أَبَا الصَّبَّاحِ، يَذْكُرُ عَنْ أَبِي نُصَيْرَةَ، عَنْ مَوْلًى، لِأَبِي بَكْرٍ قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ رضي الله عنه: «مَنْ مَقَتَ نَفْسَهُ فِي ذَاتِ اللَّهِ؛ آمَنَهُ اللَّهُ مِنْ مَقْتِهِ»
২২ - আমাদের নিকট হাসান ইবনুল হাম্মাদ আল-কুফি আদ-দাব্বি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনু উইয়াইনাহ আল-কুফি বর্ণনা করেছেন, আমি আবুস সাব্বাহকে আবু নুসাইরাহ থেকে উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি আবু বকরের জনৈক মাওলা (আযাদকৃত দাস) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আস-সিদ্দিক রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজের নফসের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে; আল্লাহ তাকে তাঁর ক্রোধ থেকে নিরাপত্তা দান করেন।»
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
23 - حَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطُّفَاوِيُّ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: «لَا يَفْقَهُ الرَّجُلُ كُلَّ الْفِقْهِ حَتَّى يَمْقُتَ النَّاسَ فِي جَنْبِ اللَّهِ ثُمَّ يَرْجِعَ إِلَى نَفْسِهِ فَيَكُونَ لَهَا أَشَدَّ مَقْتًا»
২৩ - সুরাইজ বিন ইউনুস আমাকে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আত-তুফাউয়ি আমাদের বর্ণনা করেছেন আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবা থেকে, তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ প্রজ্ঞা (ফিকহ) অর্জন করতে পারে না, যতক্ষণ না সে আল্লাহর সন্তুষ্টির খাতিরে মানুষের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে, অতঃপর সে নিজের নফসের দিকে ফিরে আসে এবং নিজের প্রতি আরও অধিক কঠোর ঘৃণা পোষণ করে»
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
24 - حَدَّثَنِي أَبِي رحمه الله، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُلَيَّةَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ رُسْتُمَ، قَالَ: قَالَ مُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: «لَوْلَا مَا أَعْلَمُ مِنْ نَفْسِي، لَقَيْتُ النَّاسَ»
২৪ - আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাঈল বিন উলাইয়্যাহ থেকে, তিনি সালিহ বিন রুস্তম থেকে, তিনি বলেন: মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বলেছেন: "আমি নিজের সম্পর্কে যা জানি তা যদি না হতো, তবে আমি মানুষের সাথে সাক্ষাৎ করতাম।"
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٧٢)
25 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، عَنْ خَلَفِ بْنِ الْوَلِيدِ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي نَهْشَلٍ قَالَ: قَالَ مُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ وَهُوَ بِعَرَفَةَ: «اللَّهُمَّ لَا تَرُدَّ الْجَمِيعَ مِنْ أَجْلِي»
২৫ - মুহাম্মদ ইবনে কুদামা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, খালাফ ইবনে ওয়ালিদ থেকে, তিনি বনু নাহশাল গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ আরাফাতে থাকাকালীন বলেছিলেন: «হে আল্লাহ, আমার কারণে আপনি সকলকে বিমুখ করবেন না»
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٧٣)
26 - حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ الْجَوْيَنْبَارِيُّ، ثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ بَكْرٌ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيَّ أَوْ قَالَ رَجُلٌ: «لَمَّا نَظَرْتُ إِلَى أَهْلِ عَرَفَاتٍ ظَنَنْتُ أَنَّهُ قَدْ غُفِرَ لَهُمْ لَوْلَا أَنِّي كُنْتُ فِيهِمْ»
২৬ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ ইয়াহইয়া ইবনে খালাফ আল-জুওয়াইমবারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুতামির ইবনে সুলাইমান, তাঁর পিতার সূত্রে, তিনি বলেন: বকর অর্থাৎ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুজানি বলেছেন, অথবা এক ব্যক্তি বলেছেন: «আমি যখন আরাফাতবাসীদের দিকে তাকালাম, তখন আমার মনে হলো যে নিশ্চয়ই তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে, যদি না আমি তাদের মধ্যে থাকতাম (অর্থাৎ নিজের পাপের কারণে তাদের ক্ষমাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছিলাম)।»
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٧٥)
27 - حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَمْرٍو الضَّبِّيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ الْأَسَدِيِّ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ، قَالَ: قَالَ مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ: «أَذْكُرُ الصَّالِحِينَ، فَأُفٍ لِي وَتُفٍّ»
২৭ - দাউদ বিন আমর আদ-দাব্বি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-আসাদি থেকে, তিনি জাফর বিন সুলাইমান থেকে, তিনি বলেন: মালিক বিন দিনার বলেছেন: «আমি নেককার বান্দাদের স্মরণ করি, অথচ আমার নিজের জন্য ধিক্কার ও পরিতাপ!»
(খণ্ড: ১)
মুহাসাবাতুন নাফসি লি ইবনি আবীদ দুনিয়া
(পৃষ্ঠা: ٧٦)
28 - وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَاصِمٍ الْعَبَّادَانِيُّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَامِرٍ، عَنْ وَهَيْبِ بْنِ خَالِدٍ، قَالَ: قَالَ أَيُّوبُ السَّخْتِيَانِيُّ: «إِذَا ذُكِرَ الصَّالِحُونَ كُنْتُ مِنْهُمْ بِمَعْزِلٍ»
২৮ - এবং আহমাদ বিন আসিম আল-আব্বাদানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন সাঈদ বিন আমির থেকে, তিনি ওয়াহাইব বিন খালিদ থেকে, তিনি বলেন: আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি বলেছেন: "যখন পুণ্যবানদের আলোচনা করা হয়, তখন আমি নিজেকে তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করি।"