(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: -)
تذكرة الموضوعات للفتني القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: تذكرة الموضوعات
المؤلف: محمد طاهر بن علي الصديقي الهندي الفَتَّنِي (ت 986هـ)
الناشر: إدارة الطباعة المنيرية
الطبعة: الأولى، 1343 هـ
عدد الصفحات: 312
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফাতনি রচিত তাযকিরাতুল মাওদুআত বিভাগ: হাদিসের ত্রুটি ও প্রশ্নসমূহ
গ্রন্থ: তাযকিরাতুল মাওদুআত
লেখক: মুহাম্মাদ তাহির বিন আলী আস-সিদ্দিকী আল-হিন্দী আল-ফাতনি (মৃত্যু ৯৮৬ হি.)
প্রকাশক: ইদারাতুত তিবায়াতিল মুনিরিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৩৪৩ হি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ৩)
مُقَدمَات الْكتاب
مُقَدّمَة الْمُؤلف.
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمد لله الَّذِي ميز الْخَبيث من الطّيب، وأحرز الحَدِيث بالعلماء النقاد من الْخَطَأ وَالْكذب، وَالصَّلَاة على سيد الورى وَخير الْبَريَّة، وَجَمِيع صحابته دعاة الله إِلَى سبله المرضية، وأزواجه أُمَّهَات الْمُؤمنِينَ وَذريته الطيبين. ونسأله التَّوْفِيق والتأييد. فبيده أزمة التَّحْقِيق والتسديد.
وَبعد فَقَالَ أَضْعَف عباد الْقوي الْوَلِيّ مُحَمَّد بن طَاهِر بن عَليّ الفتني الْهِنْدِيّ مسكنا ونسبا والحنفي مذهبا: هَذَا مُخْتَصر يجمع أَقْوَال الْعلمَاء النقاد والمحدثين السراد فِي وضع الحَدِيث أَو ضعفه حَتَّى يتَبَيَّن أَن وَضعه أَو ضعفه مُتَّفق أَو أَنه بِسَبَب قُصُور قَاصِر أَو سَهْو ساه مُخْتَلف كَيْلا يتجاسر الكسل على الْجَزْم بِوَضْعِهِ بِمُجَرَّد نظرة فِي كَلَام قَائِل أَنه مَوْضُوع وَلَا يتسارع إِلَى الحكم بِصِحَّة كل مَا نسب إِلَى الحَدِيث غافل مخدوع فَإِن النَّاس فِيهِ بَين إفراط وتفريط فَمن مفرط يجْزم بِالْوَضْعِ بِمُجَرَّد السماع من أحد لَعَلَّه ساه أَو ذُو تخطيط وَمن مفرط يستبعد كَونه مَوْضُوعا وَظن الحكم بِهِ سوء أدب ومخترعا وَلم يدر أَن لَيْسَ حكمه على الحَدِيث بل على مخترع الْكَذِب الخاذل أَو مَا زل فِيهِ قدم الغافل. وَمِمَّا بَعَثَنِي إِلَيْهِ أَنه اشْتهر فِي الْبلدَانِ مَوْضُوعَات الصغاني وَغَيره وظني أَن أمامهم كتاب ابْن الْجَوْزِيّ وَنَحْوه ولعمري أَنه قد أفرط فِي الحكم بِالْوَضْعِ حَتَّى تعقبه الْعلمَاء من أفاضل الكاملين فَهُوَ ضَرَر عَظِيم على القاصرين المتكاسلين. قَالَ مُجَدد الْمِائَة السُّيُوطِيّ (1) قد أَكثر ابْن الْجَوْزِيّ فِي الموضوعات من إِخْرَاج الضَّعِيف بل وَمن الحسان وَمن الصِّحَاح كَمَا نبه عَلَيْهِ الْحفاظ وَمِنْهُم ابْن الصّلاح وَقد ميز فِي حيزه ثَلَاثمِائَة حَدِيث وَقَالَ لَا سَبِيل إِلَى إدراجها فِي الموضوعات فَمِنْهَا حَدِيث فِي صَحِيح مُسلم وَفِي صَحِيح البُخَارِيّ رِوَايَة حَمَّاد بن شَاكر وَأَحَادِيث فِي بَقِيَّة الصِّحَاح وَالسّنَن وَنقل فِيهِ عَن أَحْمد بن أبي الْمجد أَنه قَالَ وَمِمَّا
--------------------------------------------
গ্রন্থের ভূমিকারাজ
লেখকের ভূমিকা.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মন্দকে ভালো থেকে পৃথক করেছেন এবং সমালোচক আলেমদের মাধ্যমে হাদীসকে ভুল ও মিথ্যা থেকে রক্ষা করেছেন। আর দরুদ বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম মানব, আল্লাহর সন্তোষজনক পথের দিকে আহ্বানকারী তাঁর সমস্ত সাহাবী, মুমিনদের জননীগণ এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর। আমরা তাঁর কাছে তাওফিক এবং সাহায্য প্রার্থনা করছি; কেননা সত্য উদঘাটন ও সঠিক পথে পরিচালনার চাবিকাঠি তাঁরই হাতে।
অতঃপর শক্তিশালী ও অভিভাবক আল্লাহর দুর্বলতম বান্দা মুহাম্মদ ইবনে তাহের ইবনে আলী আল-ফাতানি—বাসস্থান ও বংশে ভারতীয় এবং মাযহাবে হানাফী—বলেন: এটি একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন, যা হাদীস জাল হওয়া বা দুর্বল হওয়ার বিষয়ে সমালোচক আলেম ও বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিসদের বক্তব্যসমূহকে একত্রিত করে। যাতে স্পষ্ট হয় যে, হাদীসটি জাল বা দুর্বল হওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মত, নাকি কোনো ব্যক্তির অযোগ্যতা বা ভুলবশত এটি বিতর্কিত। যাতে কোনো অলস ব্যক্তি কেবল কোনো একজন প্রবক্তার উক্তি দেখেই হাদীসটিকে জাল বলে দেওয়ার ধৃষ্টতা না দেখায়, আবার কোনো অসতর্ক বিভ্রান্ত ব্যক্তি হাদীসের নামে যা-ই বর্ণিত হয় তাকেই সহীহ বলে দেওয়ার তাড়াহুড়া না করে। কারণ মানুষ এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির (ইফরাত ও তাফরিত) মধ্যে রয়েছে। কেউ কেউ বাড়াবাড়ি করে কারো মুখে শোনা মাত্রই তাকে জাল বলে সিদ্ধান্ত দেয়, অথচ হতে পারে সেই বক্তা ভুল করেছেন বা তার কোনো পরিকল্পনা ছিল। আবার কেউ কেউ একে জাল মনে করাকেই অসম্ভব মনে করে এবং এরূপ সিদ্ধান্ত দেওয়াকে বেয়াদবি ও নতুন কিছু উদ্ভাবন বলে ধারণা করে। অথচ সে জানে না যে, তার এই হুকুম হাদীসের ওপর নয়, বরং যে মিথ্যা জাল করেছে বা যে অপদস্থ হয়েছে অথবা যে অসতর্ক ব্যক্তির পদস্খলন ঘটেছে তার ওপর। এই গ্রন্থটি রচনায় আমাকে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো, বিভিন্ন দেশে সাগানি এবং অন্যদের জাল হাদীস বিষয়ক গ্রন্থগুলো প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। আমার ধারণা, তাদের সামনে ইবনুল জাওযী প্রমুখের কিতাবগুলো ছিল। আমার জীবনের কসম, তিনি (ইবনুল জাওযী) জাল হওয়ার হুকুম দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন বাড়াবাড়ি করেছেন যে, পরবর্তী পূর্ণজ্ঞানী আলেমগণ তাঁর পর্যালোচনা করেছেন। তাই এটি অলস ও অযোগ্যদের জন্য এক বড় ক্ষতির কারণ। শতাব্দীর মুজাদ্দিদ সুয়ূতী (১) বলেছেন: ইবনুল জাওযী তাঁর 'মাওযুআত' গ্রন্থে অনেক দুর্বল, এমনকি হাসান ও সহীহ হাদীসকেও অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা হাফেজগণ সতর্ক করেছেন। তাঁদের মধ্যে ইবনুস সালাহ অন্যতম; তিনি তাঁর পরিসীমায় প্রায় ৩০০ হাদীস চিহ্নিত করেছেন এবং বলেছেন এগুলোকে জাল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। তার মধ্যে এমন হাদীসও আছে যা সহীহ মুসলিম এবং সহীহ বুখারীর (হাম্মাদ ইবনে শাকিরের বর্ণনা) মধ্যে রয়েছে এবং অন্যান্য সহীহ ও সুনান গ্রন্থসমূহেও রয়েছে। তিনি এতে আহমদ ইবনে আবু মাজদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ৪)
وَلم يصب فِيهِ ابْن الْجَوْزِيّ إِطْلَاقه الْوَضع بِكَلَام قَائِل فِي بعض رُوَاته فلَان ضَعِيف أَو لَيْسَ بِقَوي أَو لين فَحكم بِوَضْعِهِ من غير شَاهد عقل وَنقل وَمُخَالفَة كتاب أَو سنة أَو إِجْمَاع وَهَذَا عدوان ومجازفة - انْتهى
وَأَنا أورد بعض مَا وَقع فِي مُخْتَصر الشَّيْخ مُحَمَّد بن يَعْقُوب الفيروز آبادي من كتاب الْمُغنِي من حمل الْأَسْفَار فِي الْأَسْفَار للشَّيْخ زين الدَّين عبد الرَّحِيم بن الْحُسَيْن الْعِرَاقِيّ فِي تَخْرِيج الْأَحْيَاء وَفِي الْمَقَاصِد الْحَسَنَة للشَّيْخ الْعَلامَة أبي الْخَيْر شمس الدَّين السخاوي وَفِي كتاب اللآلئ للشَّيْخ جلال الدَّين السُّيُوطِيّ وَفِي كتاب الذيل لَهُ وَفِي كتاب الْوَجِيز لَهُ وموضوعات الصغاني وموضوعات المصابيح الَّتِي جمعهَا الشَّيْخ سراج الدَّين عمر بن عَليّ الْقزْوِينِي ومؤلف الشَّيْخ عَليّ بن إِبْرَاهِيم الْعَطَّار وَغير ذَلِك فاجمع أَقْوَال الْعلمَاء فِي كل حَدِيث كي يَتَّضِح لَك الْحق الْحقيق بِالْقبُولِ وَقد حثني عَلَيْهِ بعض الأعزة الْكِرَام واستبطئوا حِين شرعت الاختتام وَهُوَ كالتذكرة للموضوعات وكاف عَن المطولات وَحين وَقع الْفَرَاغ عَن التسويد تحرّك عزمي إِلَى أَن أجمع من أجد من الْكَذَّابين والضعاف ليَكُون قانونا (1) فِي غير مَا فِي هَذَا الْكتاب من الموضوعات والضعاف وَالله الْمُوفق لهَذَا المرام وبعونه التَّيْسِير للاختتام والمرجو من الإخوان ذَوي الطباع الصَّحِيحَة إِذا اطلعوا على سَهْو أَو طغيان أَن يصلحوا بأقلامهم الفصيحة ويعذروا الْكَاتِب الحقير بِعَين النَّصِيحَة فَإِن الْخَطَأ ديدني لقلَّة عدتي وَكَثْرَة أشغالي وتشتت أحوالي بتفاقم النوائب (2) من أَرْبَاب الدولة الآخذين سيف الْعدوان على الضعفة من الإخوان فَالله الْمُسْتَعَان.
هَذَا مَعَ عدم من أراجعه فِي هَذِه الْبِلَاد من الْمُحدثين أعالم الْعلمَاء وأفاضل الْفُضَلَاء فَإِن هز عطف أحد استطراف شَيْء من الْمكَاتب فَلَا ينس قِرَاءَة الْفَاتِحَة لمن تعنى فِيهِ مُدَّة مديدة وإراحة من التَّبعَات الشَّدِيدَة والمرجو من فضل الله الْعَظِيم أَن يَجعله خَالِصا لوجهه الْكَرِيم.
--------------------------------------------
এ ক্ষেত্রে ইবনুল জাওযী সঠিক ছিলেন না যে, তিনি কোনো কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে কোনো বক্তার উক্তি—যেমন অমুক দুর্বল, বা শক্তিশালী নয়, কিংবা শিথিল—পাওয়ার পরই ঢালাওভাবে তা জাল (মাওযু) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন। ফলে তিনি বুদ্ধিভিত্তিক বা বর্ণনানির্ভর কোনো প্রমাণ ছাড়াই এবং কিতাব, সুন্নাহ বা ইজমার কোনো রূপ বিরোধিতা ছাড়াই তা জাল সাব্যস্ত করেছেন। আর এটি সীমালঙ্ঘন ও দুঃসাহসিকতা। — সমাপ্ত।
আর আমি শায়খ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদীর ‘আল-মুগনী’ গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করছি, যা শায়খ যয়নুদ্দীন আব্দুর রহীম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকী কর্তৃক ‘ইহয়াউ উলুমিদ্দীন’ এর হাদীসসমূহের তাখরীজ ‘হামলুল আসফার ফিল আসফার’ থেকে সংগৃহীত। এছাড়া শায়খ আল্লামা আবুল খায়ের শামসুদ্দীন আস-সাখাভীর ‘আল-মাকাসিদুল হাসানাহ’, শায়খ জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতীর ‘আল-লাআলী’, তাঁর ‘আয-যাইল’, তাঁর ‘আল-ওয়াজীয’, সাগানীর ‘মাওযুআত’, শায়খ সিরাজুদ্দীন উমর বিন আলী আল-কাযভীনী সংকলিত ‘মাওযুআতুল মাসাবীহ’, শায়খ আলী বিন ইবরাহীম আল-আত্তারের রচনা এবং এ জাতীয় অন্যান্য কিতাব থেকেও তথ্য দিচ্ছি। ফলে আমি প্রতিটি হাদীস সম্পর্কে উলামাদের মতামত একত্রিত করছি, যাতে আপনার কাছে গ্রহণীয় সত্যটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কতিপয় পরম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি আমাকে এই কাজে উৎসাহিত করেছেন এবং আমি যখন এটি শেষ করার উদ্যোগ নিই, তখন তারা দেরি দেখে অধৈর্য হয়ে পড়েছিলেন। এটি জাল হাদীসসমূহের জন্য একটি স্মারকলিপি স্বরূপ এবং দীর্ঘ কিতাবসমূহের বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট। পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতের কাজ শেষ করার পর আমার সংকল্প হলো যে, আমি যারা মিথ্যাবাদী ও দুর্বল বর্ণনাকারী হিসেবে পরিচিত তাদের তালিকা একত্রিত করব, যাতে এই কিতাবে নেই এমন অন্যান্য জাল ও দুর্বল বর্ণনার ক্ষেত্রেও এটি একটি মূলনীতি (১) হিসেবে কাজ করে। আল্লাহ এই লক্ষ্য পূরণে তাওফীকদাতা এবং তাঁর সাহায্যেই এটি সমাপ্ত করা সহজ হবে। আর সুস্থ স্বভাবের অধিকারী ভাইদের নিকট প্রত্যাশা এই যে, তারা যদি কোনো ভ্রম বা বিচ্যুতি লক্ষ্য করেন, তবে যেন তাদের প্রাঞ্জল কলম দিয়ে তা সংশোধন করে দেন এবং এই নগণ্য লেখককে সদুপদেশের দৃষ্টিতে ক্ষমা করেন। কেননা প্রস্তুতির স্বল্পতা, কাজের আধিক্য এবং সেই সব রাষ্ট্রশক্তির ধারকদের পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান বিপদাপদ ও বিপর্যয়ের (২) কারণে আমার অবস্থার বিপর্যস্ততার দরুন ভুল হওয়াই আমার স্বভাব, যারা দুর্বল ভাইদের বিরুদ্ধে অন্যায়ের তলোয়ার তুলে ধরেছে। অতএব, আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
তাছাড়া এই জনপদে এমন কোনো মুহাদ্দিস নেই যাঁর কাছে আমি পরামর্শ নিতে পারি, যিনি আলেমদের মাঝে শ্রেষ্ঠ আলেম বা গুণীদের মাঝে শ্রেষ্ঠ গুণী হবেন। যদি কোনো ব্যক্তি এই লেখাগুলোর কোনো নতুন বা দুর্লভ বিষয় দেখে আনন্দিত হন, তবে তিনি যেন দীর্ঘ সময় ধরে এতে পরিশ্রমকারী ব্যক্তির জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করতে এবং তাকে কঠিন দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তির দোয়া করতে ভুলে না যান। মহান আল্লাহর অসীম অনুগ্রহের কাছে প্রত্যাশা এই যে, তিনি যেন একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কবুল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ৫)
مُقَدّمَة وفيهَا مبَاحث
الأول فِي اصْطِلَاح الحَدِيث وشروط رِوَايَته.
الصَّحِيح مَا اتَّصل سَنَده بِنَقْل الْعدْل الضَّابِط عَن مثله وَسلم عَن شذوذ وَعلة - والشذوذ أَن يرويهِ الثِّقَة مُخَالفا لغيره - وَالْحسن مَا لَا فِي إِسْنَاده مُتَّهم وَلَا يكون شاذا ويروى من غير وَجه نَحوه، والضعيف مَا لم يجْتَمع فِيهِ شرطا الصِّحَّة وَالْحسن. وَيجوز عِنْد الْعلمَاء التساهل فِي أَسَانِيد الضَّعِيف بِلَا شَرط بَيَان ضعفه فِي الْوَعْظ والقصص والفضائل لَا فِي صِفَات الله والحلال وَالْحرَام. قيل كَانَ مَذْهَب النَّسَائِيّ أَن يخرج عَن كل من لم يجمع على تَركه وَكَذَا أَبُو دَاوُد وَكَانَ يخرج الضَّعِيف إِذا لم يجد فِي الْبَاب غَيره ويرجحه على الرَّأْي (1) . الْمسند مَا اتَّصل سَنَده مَرْفُوعا إِلَيْهِ صلى الله عليه وآله وسلم أَو مَوْقُوفا، وَالْمَرْفُوع مَا أضيف إِلَيْهِ صلي الله عَلَيْهِ وَسلم سَوَاء كَانَ مُتَّصِلا أَو مُنْقَطِعًا فالمتصل يكون مَرْفُوعا وَغير مَرْفُوع وَالْمَرْفُوع يكون مُتَّصِلا وَغير مُتَّصِل. والمسند مُتَّصِل مَرْفُوع، وَالْمُعَلّق مَا حذف من مبدأ إِسْنَاده وَاحِد فَأكْثر، والغريب مَا تفرد وَاحِد عَمَّن يجمع حَدِيثه كالزهري، وَالْمَوْقُوف مَا رُوِيَ عَن الصَّحَابِيّ من قَول أَو فعل مُتَّصِلا أَو مُنْقَطِعًا وَهُوَ لَيْسَ بِحجَّة، والمقطوع مَا جَاءَ عَن التَّابِعين، والمرسل قَول التَّابِعِيّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم. والمنقطع مَا لم يتَّصل إِسْنَاده من الأول
--------------------------------------------
ভূমিকা ও এতে রয়েছে কতিপয় পরিচ্ছেদপ্রথমটি হলো হাদিসের পরিভাষা এবং এর বর্ণনার শর্তাবলি প্রসঙ্গে.
সহিহ হলো এমন হাদিস যার সনদ একজন ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী কর্তৃক তার অনুরূপ বর্ণনাকারীর বর্ণনা থেকে শুরু করে নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে এবং তা 'শুজুজ' (বিচ্যুতি) ও 'ইল্লাত' (ত্রুটি) থেকে মুক্ত। আর 'শুজুজ' হলো কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী কর্তৃক অন্যদের বিরোধপূর্ণ বর্ণনা করা। হাসান হলো এমন হাদিস যার সনদে কোনো (মিথ্যাচারের) অভিযুক্ত ব্যক্তি নেই, তা বিচ্যুত নয় এবং এর অনুরূপ বর্ণনা একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। জয়িফ (দুর্বল) হলো এমন হাদিস যাতে সহিহ ও হাসানের শর্তাবলি একত্রিত হয়নি। ওলামায়ে কেরামের নিকট ওয়াজ-নসিহত, কিচ্ছা-কাহিনী এবং ফজিলতের ক্ষেত্রে জয়িফ হাদিসের সনদে এর দুর্বলতা বর্ণনা করার শর্ত ছাড়াই শিথিলতা প্রদর্শন করা জায়েজ, তবে আল্লাহর গুণাবলি এবং হালাল ও হারামের ক্ষেত্রে তা জায়েজ নয়। বলা হয়েছে যে, ইমাম নাসায়ির মাযহাব ছিল এমন প্রত্যেক বর্ণনাকারী থেকে হাদিস গ্রহণ করা যার ত্যাগের ব্যাপারে ঐকমত্য হয়নি; ইমাম আবু দাউদের পদ্ধতিও অনুরূপ ছিল। তিনি যখন কোনো পরিচ্ছেদে অন্য কোনো হাদিস পেতেন না, তখন জয়িফ হাদিস বর্ণনা করতেন এবং একে ব্যক্তিগত রায়ের ওপর প্রাধান্য দিতেন। (১) মুসনাদ হলো সেই হাদিস যার সনদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত মারফু হিসেবে অথবা মাওকুফ হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে। মারফু হলো যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, চাই তা মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) হোক বা মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন) হোক। সুতরাং মুত্তাসিল হাদিস মারফু হতে পারে আবার মারফু নাও হতে পারে, আর মারফু হাদিস মুত্তাসিল হতে পারে আবার মুত্তাসিল নাও হতে পারে। আর মুসনাদ হলো মুত্তাসিল মারফু। মুআল্লাক হলো যার সনদের শুরু থেকে একজন বা একাধিক বর্ণনাকারীকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। গরিব হলো এমন হাদিস যাতে এমন বর্ণনাকারী থেকে একজন এককভাবে বর্ণনা করেছেন যার হাদিসসমূহ সংকলন করা হয়, যেমন যুহরি। মাওকুফ হলো যা সাহাবি থেকে কথা বা কাজ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, চাই তা মুত্তাসিল হোক বা মুনকাতি হোক, তবে এটি দলিল হিসেবে গণ্য নয়। মাকতু হলো যা তাবেয়িদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। মুরসাল হলো তাবেয়ির এই কথা বলা যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন"। আর মুনকাতি হলো যার সনদ শুরু থেকে নিরবচ্ছিন্ন নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ৬)
وَالْآخر، والمعضل مَا سقط من سَنَده اثْنَان، وَالْمُنكر مَا فِيهِ أَسبَاب خُفْيَة غامضة قادحة. وَفِي شرح النخبة وللجرح مَرَاتِب أسوأها أكذب النَّاس وَإِلَيْهِ الْمُنْتَهى فِي الْوَضع أَو هُوَ ركن الْكَذِب. ثمَّ قَوْلهم دجال أَو وَضاع أَو كَذَّاب. وأسفلها تحولين أَو سيئ الْحِفْظ أَو فِيهِ أدنى مقَال. وَبَين الأسوأ والأسفل مَرَاتِب فَقَوْلهم مَتْرُوك أَو سَاقِط أَو فَاحش الْغَلَط أَو مُنكر الحَدِيث أَشد من قَوْلهم ضَعِيف أَو لَيْسَ بِالْقَوِيّ أَو فِيهِ مقَال. وَأَرْفَع مَرَاتِب التَّعْدِيل كأوثق النَّاس ثمَّ ثِقَة ثِقَة أَو ثِقَة حَافظ أَو ثَبت ثَبت وَأَدْنَاهَا كشيخ ويروى حَدِيثه وَيعْتَبر بِهِ وَنَحْو ذَلِك.
وَفِي الْعدة وَأعلم أَن الْأَحَادِيث الَّتِي لَا أصل لَهَا لَا تقبل وَالَّتِي لَا إِسْنَاد لَهَا لَا يرْوى بهَا: فَفِي الحَدِيث "اتَّقوا الحَدِيث عني إِلَّا مَا علمْتُم فَمن كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار" فقيد صلى الله عليه وآله وسلم الرِّوَايَة بِالْعلمِ وكل حَدِيث لَيْسَ لَهُ إِسْنَاده صَحِيح وَلَا هُوَ مَنْقُول فِي كتاب مُصَنفه إِمَام مُعْتَبر لَا يعلم ذَلِك الحَدِيث عَنهُ صلى الله عَلَيْهِ وأله وَسلم فَلَا يجوز قبُوله: فَفِي مُسلم "كفى بِالْمَرْءِ كذبا أَن يحدث بِكُل مَا سمع" وَفِيه "يكون فِي آخر الزَّمَان كذابون دجالون يأتونكم بِأَحَادِيث بِمَا لم تسمعوا أَنْتُم وَلَا آباؤكم فإياكم وإياهم لَا يضلونكم وَلَا يفتنونكم.
الثَّانِي فِي أَقسَام الواضعين.
فِي خُلَاصَة علم الحَدِيث أعلم أَن الْخَبَر ثَلَاثَة أَقسَام: قسم يجب تَصْدِيقه وَهُوَ مَا نَص الْأَئِمَّة على صِحَّته. وَقسم يجب تَكْذِيبه وَهُوَ مَا نصوا على وَضعه. وَقسم يجب التَّوَقُّف فِيهِ لاحْتِمَاله الصدْق وَالْكذب كَسَائِر الْأَخْبَار وَلَا يحل رِوَايَة الْمَوْضُوع لمن علم حَالَة فِي أَي معنى إِلَّا بِبَيَان وَضعه. وَيعرف الْوَضع بِإِقْرَار وَاضعه وبقرينة حَال الرَّاوِي والمروى بركاكة اللَّفْظ وَالْمعْنَى. والواضعون أَصْنَاف وأعظمهم ضَرَرا
এবং অন্যটি হলো মুদাল; যার সনদ থেকে পরস্পর দুইজন বর্ণনাকারী পড়ে গেছে। আর মুনকার হলো যাতে লুকায়িত, অস্পষ্ট এবং ত্রুটিযুক্ত কারণ থাকে। শরহুন্ নাখবাহ-তে বর্ণিত হয়েছে যে, জারহ বা সমালোচনার বিভিন্ন স্তর রয়েছে; যার মধ্যে নিকৃষ্টতম স্তর হলো ‘মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী’, আর এটিই হলো জালকরণের চূড়ান্ত সীমা অথবা সে হলো মিথ্যার স্তম্ভ। এরপর তাদের উক্তি ‘দাজ্জাল’ বা ‘জালিয়াত’ অথবা ‘চরম মিথ্যাবাদী’। আর এর সর্বনিম্ন স্তর হলো ‘পরিবর্তনকারী’ অথবা ‘স্মৃতিশক্তি দুর্বল’ অথবা ‘তার ব্যাপারে সামান্য কথা আছে’। নিকৃষ্টতম ও সর্বনিম্ন স্তরের মাঝামাঝি আরও কিছু স্তর রয়েছে। মুহাদ্দিসগণের উক্তি ‘মাতরূক’ (পরিত্যক্ত), ‘সাক্বিত’ (বর্জিত), ‘জঘন্য ভুলকারী’ অথবা ‘মুনকারুল হাদীস’—এই শব্দগুলো ‘যয়ীফ’ (দুর্বল), ‘শক্তিশালী নয়’ বা ‘তার ব্যাপারে কথা আছে’—এই উক্তিগুলোর চেয়ে অধিক কঠোর। আর তা’দীল বা নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ স্তর হলো ‘লোকদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য’, এরপর ‘সিক্বাহ সিক্বাহ’ বা ‘সিক্বাহ হাফিয’ অথবা ‘সাবত সাবত’। আর এর সর্বনিম্ন স্তর হলো ‘শায়খ’, ‘তার হাদীস বর্ণনা করা হয়’, ‘এর দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায়’ এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।
আল-ইদ্দাহ গ্রন্থে রয়েছে: জেনে রাখুন, যে সকল হাদীসের কোনো ভিত্তি নেই তা গ্রহণ করা হবে না এবং যেগুলোর কোনো সনদ নেই তা বর্ণনা করা হবে না। হাদীসে এসেছে: “তোমরা আমার পক্ষ থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করো, তবে যা তোমরা নিশ্চিতভাবে জানো তা ব্যতীত। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।” সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) হাদীস বর্ণনা করাকে জ্ঞানের সাথে শর্তযুক্ত করেছেন। আর যে হাদীসের কোনো সহীহ সনদ নেই এবং কোনো নির্ভরযোগ্য ইমামের সংকলিত কিতাবেও তা উদ্ধৃত হয়নি, সেই হাদীস নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রমাণিত বলে গণ্য হবে না; সুতরাং তা গ্রহণ করা বৈধ নয়। মুসলিম শরীফে এসেছে: “কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।” এতে আরও রয়েছে: “শেষ যামানায় এমন কিছু মিথ্যাবাদী ও দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে যারা তোমাদের কাছে এমন সব হাদীস নিয়ে আসবে যা তোমরা শোনোনি এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরাও শোনেনি। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সাবধান থেকো, তারা যেন তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে না পারে এবং ফিতনায় ফেলতে না পারে।”
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জালকারীদের প্রকারভেদ সম্পর্কেখুলাসাতু ইলমিল হাদীসে রয়েছে: জেনে রাখুন যে, খবর বা সংবাদ তিন প্রকার: এক প্রকার যার সত্যায়ন করা আবশ্যক, আর তা হলো যা ইমামগণ সহীহ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন। দ্বিতীয় প্রকার যার প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক, আর তা হলো যা তাঁরা জাল হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন। তৃতীয় প্রকার হলো যে বিষয়ে বিরত থাকা আবশ্যক, কারণ এতে সত্য ও মিথ্যা উভয়টির সম্ভাবনা রয়েছে যেমনটি অন্যান্য সাধারণ সংবাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর যে ব্যক্তি কোনো হাদীসের অবস্থা সম্পর্কে অবগত, তার জন্য সেই হাদীসটি জাল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তা বর্ণনা করা বৈধ নয়। হাদীস জাল হওয়ার বিষয়টি জালকারীর স্বীকারোক্তি, বর্ণনাকারী ও বর্ণিত বিষয়ের পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং শব্দ ও অর্থের অসারতার মাধ্যমে চেনা যায়। আর জালকারীরা বিভিন্ন শ্রেণির হয়ে থাকে এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর হলো...
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ৭)
قوم منتسبون إِلَى الزّهْد وضعُوا حسبَة فَيقبل موضوعاتهم ثِقَة بهم. والكرامية وَبَعض المبتدعة يجوزون الْوَضع فِي التَّرْغِيب والترهيب وَهُوَ خلاف إِجْمَاع الْمُسلمين الَّذين يعْتد بهم فِي الْإِجْمَاع - انْتهى.
وَفِي الرسَالَة قَالَ زيد بن أسلم من عمل بِخَبَر صَحَّ أَنه كذب فَهُوَ من خدم الشَّيْطَان. وَفِي اللآلئ قَالَ الزَّرْكَشِيّ بَين قَوْلنَا لم يَصح وَقَوْلنَا مَوْضُوع بون بعيد كثير فَإِن الْوَضع إِثْبَات الْكَذِب وَالِاخْتِلَاف وَقَوْلنَا لم يَصح لَا يلْزم مِنْهُ إِثْبَات الْعَدَم وَإِنَّمَا هُوَ أَخْبَار عَن عدم الثُّبُوت. وَقَالَ أَيْضا لَا يلْزم من جهل الرَّاوِي وضع حَدِيثه. وَفِي الْوَجِيز فرق بَين الْمُنكر والموضوع. وَقَالَ ابْن حجر أَكثر الْمُحدثين من سنة مِائَتَيْنِ إِلَى الْآن إِذا ساقوا الحَدِيث بِإِسْنَادِهِ اعتقدوا أَنهم برئوا من عهدته. وَذكر السخاوي عَنهُ أَن لفظ لَا يثبت لَا يلْزم مِنْهُ أَن يكون مَوْضُوعا فَإِن الثَّابِت يَشْمَل الصَّحِيح فَقَط والضعيف دونه. وَالْمُنكر إِذا تعدّدت طرقه (1) إِلَى دَرَجَة الضعْف الْقَرِيب بل رُبمَا ارْتقى إِلَى الْحسن. وَحكى السُّيُوطِيّ عَن ابْن الْجَوْزِيّ أَن من وَقع فِي حَدِيثه الْمَوْضُوع وَالْكذب وَالْقلب أَنْوَاع: مِنْهُم من غلب عَلَيْهِم الزّهْد فغفلوا عَن الْحِفْظ أَو ضَاعَت كتبه فَحدث من حفظه فغلط، وَعَن يحيى مَا رَأَيْت الْكَذِب فِي أحد أَكثر مِنْهُ فِي من ينْسب إِلَى الْخَبَر والزهد. وَمِنْهُم قوم ثقاة لَكِن اخْتلطت عُقُولهمْ فِي أَوَاخِر أعمارهم. وَمِنْهُم من روى الْخَطَأ سَهْو فَلَمَّا رأى الصَّوَاب وأيقن لم يرجع أَنَفَة أَن ينسبوا إِلَى الْغَلَط. وَمِنْهُم زنادقة وضعُوا قصدا إِلَى إِفْسَاد الشَّرِيعَة وإيقاع الشَّك والتلاعب بِالدّينِ. وَقد كَانَ بعض الزَّنَادِقَة يتغفل الشَّيْخ فيدس فِي كِتَابه مَا لَيْسَ من حَدِيثه. قَالَ حَمَّاد بن زيد وضعت الزَّنَادِقَة أَرْبَعَة آلَاف حَدِيث وَلما أَخذ ابْن أبي العوجاء لضرب عُنُقه قَالَ وضعت فِيكُم أَرْبَعَة آلَاف حَدِيث أحرم فِيهَا الْحَلَال وأحلل فِيهَا الْحَرَام. وَمِنْهُم من يضع نصْرَة لمذهبه رَجَعَ رجل من المبتدعة فَجعل يَقُول انْظُرُوا عَمَّن تأخذون هَذَا الحَدِيث فَإنَّا كُنَّا إِذا هوينا أمرا صيرناه حَدِيثا. وَمِنْهُم من يضعون حسبَة ترغيبا وترهيبا، ومضمون فعلهم أَن الشَّرِيعَة نَاقِصَة إِلَى تَتِمَّة. وَمِنْهُم من أجَاز وضع الْأَسَانِيد لكَلَام حسن. وَمِنْهُم من قصد التَّقَرُّب إِلَى السُّلْطَان. وَمِنْهُم
--------------------------------------------
একদল লোক যারা যুহদ বা পরহেযগারীর সাথে সম্পৃক্ত, তারা সওয়াবের আশায় হাদীস জাল করেছে; ফলে তাদের ওপর আস্থার কারণে মানুষ তাদের জাল বর্ণনাগুলো গ্রহণ করে নেয়। কাররামিয়া এবং কিছু বিদআতিরা তারগীব (উৎসাহদান) এবং তারহীবের (ভীতিপ্রদর্শন) ক্ষেত্রে হাদীস জাল করাকে বৈধ মনে করে। অথচ এটি সেই সকল মুসলিমদের ঐকমত্যের (ইজমার) পরিপন্থী যাদের ইজমা গ্রহণযোগ্য - সমাপ্ত।
আর 'রিসালাহ' গ্রন্থে আছে, যায়িদ ইবনে আসলাম বলেছেন: যে ব্যক্তি এমন কোনো সংবাদের ওপর আমল করল যা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে, সে শয়তানের সেবকদের অন্তর্ভুক্ত। 'আল-লাআলি' গ্রন্থে আল-যারকাশী বলেছেন: আমাদের এই কথা যে "এটি সহীহ নয়" এবং "এটি জাল" - এই দুইয়ের মাঝে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। কারণ 'জাল' হওয়া মানে হলো মিথ্যা ও বানোয়াট হওয়া প্রমাণিত হওয়া। আর আমাদের কথা "এটি সহীহ নয়" এর দ্বারা এটি যে অস্তিত্বহীন তা সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হয় না, বরং এটি কেবল (সহীহ হিসেবে) প্রমাণিত না হওয়ার সংবাদ দেয়। তিনি আরও বলেছেন: রাবী বা বর্ণনাকারী অজ্ঞাত হওয়ার কারণে তার বর্ণিত হাদীসটি জাল হওয়া আবশ্যক হয় না। 'আল-ওয়াজীয়' গ্রন্থে মুনকার এবং মাওযুর (জাল) মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। ইবনে হাজার বলেছেন: হিজরী দুইশ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অধিকাংশ মুহাদ্দিস যখন কোনো হাদীস তার সনদসহ বর্ণনা করেন, তখন তারা মনে করেন যে তারা এর দায়ভার থেকে মুক্ত হয়েছেন। আল-সাখাবী তাঁর থেকে উল্লেখ করেছেন যে, 'সাব্যস্ত নয়' (লা ইয়াসবুত) কথাটি দ্বারা এটি জাল হওয়া আবশ্যক হয় না। কারণ যা সাব্যস্ত তা কেবল সহীহ হাদীসকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর যয়ীফ তার নিচের স্তরের। আর 'মুনকার' হাদীসের সূত্রগুলো যখন একাধিক হয় (১) এবং কাছাকাছি দুর্বলতার স্তরে পৌঁছে, বরং সম্ভবত তা হাসান (উত্তম) স্তরে উন্নীত হয়। আল-সুয়ূতী ইবনুল জাওযী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যাদের হাদীসে জাল, মিথ্যা এবং ওলটপালট বা শব্দের অদলবদল প্রবেশ করেছে তারা কয়েক প্রকার: তাদের মধ্যে একদল এমন যাদের ওপর যুহদ (সংসারবিরাগ) প্রবল ছিল, ফলে তারা হাদীস মুখস্থ রাখার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে পড়েছিলেন অথবা তাদের কিতাবপত্র হারিয়ে গিয়েছিল, ফলে তারা নিজেদের স্মৃতি থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং ভুল করেছেন। ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে: আমি নেককার ও পরহেযগার হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের চেয়ে বেশি মিথ্যা অন্য কারো মধ্যে দেখিনি। তাদের মধ্যে কিছু লোক নির্ভরযোগ্য ছিলেন, কিন্তু শেষ বয়সে তাদের বুদ্ধিবৃত্তি বা স্মৃতি এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভুলবশত ভুল বর্ণনা করেছেন, কিন্তু যখন তিনি সঠিকটি দেখলেন এবং নিশ্চিত হলেন, তখন অহংকারের বশবর্তী হয়ে তা থেকে ফিরে আসেননি যাতে তাঁকে ভুলের দিকে সম্বন্ধ করা না হয়। তাদের মধ্যে কিছু যিনদীক (ধর্মদ্রোহী) ছিল যারা শরীয়তকে কলুষিত করার, মনে সন্দেহ তৈরি করার এবং দ্বীন নিয়ে খেলা করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে হাদীস জাল করেছিল। কোনো কোনো যিনদীক শায়েখদের অসতর্কতার সুযোগ নিত এবং তাদের কিতাবে এমন কিছু ঢুকিয়ে দিত যা তাদের হাদীস নয়। হাম্মাদ ইবনে যায়েদ বলেছেন: যিনদীকরা চার হাজার হাদীস জাল করেছে। আর যখন ইবনে আবিল আওজাকে শিরশ্ছেদ করার জন্য নেওয়া হলো, তখন সে বলল: আমি তোমাদের মাঝে চার হাজার হাদীস জাল করে ঢুকিয়ে দিয়েছি, যার মাধ্যমে আমি হালালকে হারাম করেছি এবং হারামকে হালাল করেছি। তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা নিজ মাযহাবের সমর্থনে হাদীস জাল করে। জনৈক বিদআতি ব্যক্তি (তওবা করে) ফিরে আসার পর বলতে লাগলেন: তোমরা লক্ষ্য করো যে কার কাছ থেকে এই হাদীস গ্রহণ করছো, কারণ আমরা যখন কোনো বিষয় পছন্দ করতাম, তখন সেটাকে হাদীস বানিয়ে দিতাম। তাদের মধ্যে কিছু লোক সওয়াবের আশায় তারগীব ও তারহীবের জন্য হাদীস জাল করে; তাদের কাজের সারমর্ম হলো শরীয়ত অপূর্ণাঙ্গ এবং তা পূর্ণ করা প্রয়োজন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সুন্দর কথার জন্য সনদ বা সূত্র জাল করা বৈধ মনে করত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ শাসকের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য করত। আর তাদের মধ্যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ৮)
الْقصاص لأَنهم يُرِيدُونَ أَحَادِيث ترقق وتنفق وَفِي الصِّحَاح يقل مثله. ثمَّ إِن الْحِفْظ يشق عَلَيْهِم ويتفق عدم الدَّين وهم يحضرهم جهال وَمَا أَكثر مَا تعرض على أَحَادِيث فِي مجْلِس الْوَعْظ قد ذكرهَا قصاص الزَّمَان فأردها فيحقدون عَليّ انْتهى. قَالَ الصغاني إِذا علم أَن حَدِيثا مَتْرُوك أَو مَوْضُوع فليروه وَلَكِن لَا يَقُول عَلَيْهِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
الثَّالِث فِي كتب أحاديثها مَوْضُوعَة فِي الْكَذَّابين.
فِي الْخُلَاصَة قَالَ الشَّيْخ قد صنف كتب فِي الحَدِيث وَجَمِيع مَا احتوت عَلَيْهِ مَوْضُوع كَمَا مر من مَوْضُوعَات الْقُضَاعِي. وَمِنْهَا الْأَرْبَعُونَ الودعانية. وَمِنْهَا وَصَايَا عَليّ رضي الله عنه كلهَا مَوْضُوعَة عَنهُ سوى الحَدِيث الأول وَهُوَ "أَنْت مني بِمَنْزِلَة هَارُون من مُوسَى غير أَنه لَا نَبِي بعدِي" قَالَ الصغاني وَمِنْهَا وَصَايَا عَليّ رضي الله عنه كلهَا الَّتِي أَولهَا يَا عَليّ لفُلَان ثَلَاث عَلَامَات، وَفِي آخرهَا النَّهْي عَن المجامعة وَفِي أَوْقَات مَخْصُوصَة كلهَا مَوْضُوعَة، وَآخر هَذِه الْوَصَايَا يَا عَليّ أَعطيتك فِي هَذِه الْوَصِيَّة علم الْأَوَّلين والآخرين وَضعهَا حَمَّاد بن عَمْرو النصيبي وَقَالَ السُّيُوطِيّ فِي اللآلئ وَكَذَا وَصَايَا عَليّ مَوْضُوعَة واتهم بهَا حَمَّاد بن عَمْرو وَكَذَا وَصَايَاهُ الَّتِي وَضعهَا عبد الله بن زِيَاد بن سمْعَان أَو شَيْخه وَقَالَ الصغاني وَأول هَذِه الودعانية كَانَ الْمَوْت فِيهَا على غير مَا كتب وَقد ذَكرْنَاهُ من غَيره من مَوْضُوعَات الشهَاب وَآخِرهَا "مَا من بَيت إِلَّا وَملك يقف على بَابه كل يَوْم خمس مَرَّات فَإِذا وجد الْإِنْسَان قد نفد أكله وَانْقطع أَجله ألْقى عَلَيْهِ غم الْمَوْت فَغَشِيتهُ كرباته وغمرته سكراته" وَقَالَ السُّيُوطِيّ فِي الذيل إِن الْأَرْبَعين الودعانية لَا يَصح فِيهَا حَدِيث مَرْفُوع على هَذَا النسق فِي هَذِه الْأَسَانِيد وَإِنَّمَا يَصح مِنْهَا أَلْفَاظ بسيرة وَإِن كَانَ كَلَامهَا حسنا وموعظة فَلَيْسَ كل مَا هُوَ حق حَدِيثا بل
গল্পকারগণ; কারণ তারা এমন হাদিস চায় যা মানুষের মন নরম করে এবং জনপ্রিয় হয়, অথচ সহিহ কিতাবসমূহে এই ধরণের বর্ণনা খুব কমই পাওয়া যায়। তদুপরি, (হাদিস) মুখস্থ রাখা তাদের জন্য কষ্টকর এবং তাদের মধ্যে দ্বীনদারির অভাব দেখা যায়, আর তাদের মজলিসে মূর্খরাই উপস্থিত থাকে। অনেক সময়ই আমার কাছে এমন অনেক হাদিস পেশ করা হয় যা বর্তমান সময়ের গল্পকারগণ তাদের ওয়াযের মজলিসে উল্লেখ করেছেন, আর আমি যখন সেগুলো প্রত্যাখ্যান করি, তখন তারা আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। (সমাপ্ত) সাগানী বলেন: যখন জানা যাবে যে কোনো হাদিস পরিত্যক্ত বা জাল, তখন তারা যেন তা বর্ণনা করে, কিন্তু তারা যেন তা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামে না বলে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যে সকল কিতাবের হাদিসসমূহ মিথ্যুকদের মাধ্যমে জালকৃত.
‘আল-খুলাসা’ গ্রন্থে শায়খ বলেন যে, হাদিসের এমন কিছু কিতাব সংকলিত হয়েছে যার অন্তর্ভুক্ত সকল বিষয়ই জাল, যেমনটি ইতিপূর্বে কুযায়ির জাল বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে অতিবাহিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আল-আরবাউন আল-ওয়াদউনিয়্যাহ’। আরও রয়েছে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর অসিয়তনামা সমূহ, যার সবটুকুই তাঁর নামে জাল করা হয়েছে কেবল প্রথম হাদিসটি ছাড়া, আর তা হলো: “তুমি আমার কাছে হারুনের স্থলাভিষিক্ত মুসার কাছে যেমন ছিলে তেমন; তবে আমার পরে আর কোনো নবী নেই।” সাগানী বলেন: এর মধ্যে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই সকল অসিয়তনামা অন্তর্ভুক্ত যার শুরুতে রয়েছে “হে আলী, অমুকের জন্য তিনটি আলামত রয়েছে”, এবং যার শেষে বিশেষ সময়ে সহবাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, এগুলোর সবই জাল। এই অসিয়তনামার শেষ কথাটি হলো “হে আলী, আমি তোমাকে এই অসিয়তে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের জ্ঞান দান করেছি।” এটি জাল করেছে হাম্মাদ বিন আমর আন-নাসিবি। আস-সুয়ূতী ‘আল-লাআলি’ গ্রন্থে বলেন: একইভাবে আলীর অসিয়তনামাগুলো জাল এবং এর জন্য হাম্মাদ বিন আমরকে অভিযুক্ত করা হয়। অনুরূপভাবে তাঁর সেই অসিয়তনামাগুলোও জাল যা আবদুল্লাহ বিন যিয়াদ বিন সামআন অথবা তার শিক্ষক জাল করেছে। সাগানী বলেন: এই ‘ওয়াদউনিয়্যাহ’র শুরুটা ছিল মৃত্যুর বর্ণনা দিয়ে যা লিখিত বিষয়ের বাইরে ছিল। আমরা এটি শিহাবের অন্যান্য জাল বর্ণনার সাথে উল্লেখ করেছি। এর শেষ অংশটি হলো: “এমন কোনো ঘর নেই যেখানে প্রতিদিন পাঁচবার একজন ফেরেশতা এসে দাঁড়ায় না; যখন সে দেখে যে মানুষের রিজিক ফুরিয়ে এসেছে এবং তার হায়াত শেষ হয়ে গেছে, তখন সে তার ওপর মৃত্যুর যন্ত্রণা চাপিয়ে দেয়, ফলে মৃত্যুর কষ্ট তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে এবং মৃত্যুর মোহ তাকে ঘিরে ধরে।” আস-সুয়ূতী ‘আয-যাইল’ গ্রন্থে বলেন: নিশ্চয়ই ‘আল-আরবাউন আল-ওয়াদউনিয়্যাহ’র এই ধারায় এবং এই সকল সনদে একটি মারফু হাদিসও সহিহ নয়। এর মধ্যে কেবল সামান্য কিছু শব্দ সহিহ হতে পারে। যদিও এর কথাগুলো সুন্দর এবং উপদেশমূলক, তবুও যা কিছু সত্য তাই হাদিস নয়, বরং...
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ৯)
عَكسه وَهِي مسروقة سَرَقهَا ابْن ودعان من واضعها زيد بن رِفَاعَة وَيُقَال أَنه الَّذِي وضع رسائل إخْوَان الصَّفَا وَكَانَ من أَجْهَل خلق الله فِي الحَدِيث وَأَقلهمْ حَيَاء وأجرأهم على الْكَذِب وَفِي الْوَجِيز (1) قَالَ جمال الدَّين الْمُزنِيّ الْأَحَادِيث المنسوبة إِلَى القَاضِي أبي نصر بن ودعان الْموصِلِي لَا يَصح مِنْهَا حَدِيث وَاحِد مَرْفُوع وَإِنَّمَا يَصح يسيره مِنْهَا يحْتَاج فِي تميزها إِلَى نوع من التتبع وَقَالَ الصغاني وَمِنْهَا كتاب فضل الْعلمَاء للمحدث شرف الْبَلْخِي وأوله "من تعلم مَسْأَلَة من الْفِقْه قَلّدهُ الله كَذَا"
وَمن الْأَحَادِيث الْمَوْضُوعَة بِإِسْنَاد وَاحِد أَحَادِيث الشَّيْخ الْمَعْرُوف بِابْن أبي الدُّنْيَا وَهُوَ الَّذِي يَزْعمُونَ أَنه أدْرك عليا وَعمر طَويلا وَأخذ بركابه فَركب وأصابه ركابه فَشَجَّهُ فَقَالَ مد الله فِي عمرك مدا وَأَحَادِيث أبي نسطور الرُّومِي وَأَحَادِيث بشر ونعيم بن سَالم وخراش عَن أنس وَأَحَادِيث دِينَار عَنهُ وَأَحَادِيث أبي هدبة إِبْرَاهِيم بن هدبة الْقَيْسِي وَمِنْهَا كتاب يدعى بِمُسْنَد أنس الْبَصْرِيّ مِقْدَار ثَلَاثمِائَة حَدِيث يرويهِ سمْعَان الْمهْدي عَن أنس وأوله أمتِي فِي سَائِر الْأُمَم كَالْقَمَرِ فِي النُّجُوم وَفِي الذيل سمْعَان بن الْمهْدي عَن أنس لَا يكَاد يعرف ألصقت بِهِ نُسْخَة مكذوبة قبح الله من وَضعهَا، وَفِي اللِّسَان هِيَ من رِوَايَة مُحَمَّد بن مقَاتل الرَّازِيّ عَن جَعْفَر بن هَارُون عَن سمْعَان فَذكر النُّسْخَة وَهِي أَكثر من ثَلَاثمِائَة حَدِيث أَكثر متونها مَوْضُوعَة - انْتهى.
قَالَ الصغاني وَمِنْهَا الْأَحَادِيث الَّتِي تروى فِي التَّسْمِيَة بِأَحْمَد لَا يثبت شَيْء مِنْهَا، وَمِنْهَا خطْبَة الْوَدَاع عَن أبي الدَّرْدَاء رَفعه وأوله أَلا لَا يركبن أحدكُم الْبَحْر عِنْد ارتجاجه، وَفِي اللآلئ آخر الْخطْبَة الْأَخِيرَة عَن أبي هُرَيْرَة وَابْن عَبَّاس بِطُولِهَا مَوْضُوعَة اتهمَ بهَا ميسرَة بن عبد ربه لَا بورك فِيهِ.
قَالَ ابْن الْجَوْزِيّ الوضاعون خلق كَثِيرُونَ كبارهم وهب بن وهب القَاضِي وَمُحَمّد بن السَّائِب الْكَلْبِيّ وَمُحَمّد بن سعيد الشَّامي المصلوب وَأَبُو دَاوُد النَّخعِيّ وَإِسْحَاق بن نجيح الْمَلْطِي وغياث بن إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ والمغيرة بن سعيد الْكُوفِي
--------------------------------------------
এটি তার বিপরীত এবং এটি একটি চুরি করা বিষয়, যা ইবনে উদআন এর মূল জালকারী যায়িদ বিন রিফায়া থেকে চুরি করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, সেই ‘রাসায়িল ইখওয়ানুস সাফা’ (ইখওয়ানুস সাফার পত্রাবলি) রচনা করেছে। সে হাদিস শাস্ত্রে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বড় অজ্ঞ এবং তাদের মধ্যে সবচেয়ে নির্লজ্জ ও মিথ্যার ব্যাপারে সবচেয়ে দুঃসাহসী ছিল। ‘আল-ওয়াজিজ’ (১) গ্রন্থে রয়েছে, জামালুদ্দিন আল-মুজানি বলেছেন: কাজি আবু নাসর বিন উদআন আল-মাওসিলির দিকে সম্বন্ধযুক্ত হাদিসগুলোর একটিও ‘মারফু’ (রাসূলুল্লাহ ﷺ পর্যন্ত পৌঁছানো বর্ণনা) হিসেবে সহিহ নয়। এগুলোর মধ্যে খুব সামান্যই সহিহ হতে পারে যা পৃথক করার জন্য এক প্রকার নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন। সাগানি বলেছেন: এগুলোর মধ্যে মুহাদ্দিস শারাফ আল-বালখির ‘ফাদলুল উলামা’ কিতাবটিও রয়েছে, যার শুরু হয়েছে এভাবে: "যে ব্যক্তি ফিকহের একটি মাসআলা শিখবে, আল্লাহ তাকে এমন এমন পুরস্কার দান করবেন।"
একটি মাত্র সনদে বর্ণিত জাল হাদিসগুলোর মধ্যে রয়েছে ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত শায়খের হাদিসসমূহ; যার সম্পর্কে তারা দাবি করে যে, সে দীর্ঘকাল আলি (রা.)-কে পেয়েছেন এবং দীর্ঘ জীবন পেয়েছেন। সে নাকি তার সওয়ারির রেকাব ধরেছিল, এরপর তিনি আরোহণ করলেন এবং তার রেকাবটি তাকে আঘাত করে আহত করল। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহ তোমার হায়াতকে দীর্ঘায়িত করুন।" আরও রয়েছে আবু নাসতুর আল-রুমি, বিশর, নুয়াইম বিন সালিম এবং আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করা খিরাশের হাদিসসমূহ এবং আনাস (রা.) থেকে দিনারের হাদিসসমূহ ও আবু হুদবা ইবরাহিম বিন হুদবা আল-কাইসির হাদিসসমূহ। আরও রয়েছে ‘মুসনাদে আনাস আল-বাসরি’ নামক একটি কিতাব যাতে প্রায় তিনশ হাদিস রয়েছে, যা সামআন আল-মাহদি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করে। এর শুরু হয়েছে এভাবে: "অন্যান্য উম্মতের মাঝে আমার উম্মত তারকারাজির মাঝে চাঁদের মতো।" ‘আয-যাইল’ গ্রন্থে আছে: আনাস (রা.) থেকে সামআন বিন মাহদির বর্ণনা প্রায় অপরিচিত; তার সাথে একটি মিথ্যা পাণ্ডুলিপি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যে এটি জাল করেছে আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন। ‘আল-লিসান’ গ্রন্থে রয়েছে: এটি মুহাম্মদ বিন মুকাতিল আর-রাজি থেকে জাফর বিন হারুন, তিনি সামআন থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি পাণ্ডুলিপিটির উল্লেখ করেছেন এবং এটি তিনশ’র বেশি হাদিস সম্বলিত, যার অধিকাংশ মতনই (মূল পাঠ) জাল। — সমাপ্ত।
সাগানি বলেছেন: এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আহমদ’ নাম রাখার ফজিলত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো, যার কোনোটিই প্রমাণিত নয়। আরও রয়েছে আবু দারদা (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত বিদায় খুতবাটি, যার শুরু হলো: "সাবধান! তোমাদের কেউ যেন উত্তাল অবস্থায় সমুদ্রে আরোহণ না করে।" ‘আল-লাআলি’ গ্রন্থে রয়েছে: আবু হুরায়রা (রা.) ও ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত শেষ দীর্ঘ খুতবাটি জাল। এর জন্য মাইসারা বিন আবদু রাব্বিহকে অভিযুক্ত করা হয়, আল্লাহ তার কল্যাণ না করুন।
ইবনুল জাওজি বলেছেন: হাদিস জালকারী অনেক লোক রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান হলো কাজি ওয়াহাব বিন ওয়াহাব, মুহাম্মদ বিন সায়িব আল-কালবি, মুহাম্মদ বিন সাইদ আল-শামি আল-মাসলুব (যাকে শূলে চড়ানো হয়েছিল), আবু দাউদ আন-নাখায়ি, ইসহাক বিন নাজিহ আল-মালতি, গিয়াস বিন ইবরাহিম আন-নাখায়ি এবং মুগিরা বিন সাইদ আল-কুফি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১০)
وَأحمد بن عبد الله الجويباري ومأمون بن أَحْمد الْهَرَوِيّ وَمُحَمّد بن عكاشة الْكرْمَانِي وَمُحَمّد بن الْقَاسِم الطالكاني وَمُحَمّد بن زِيَاد الْيَشْكُرِي.
وَقَالَ النَّسَائِيّ الكذابون المعروفون بِالْوَضْعِ أَرْبَعَة ابْن أبي يحيى بِالْمَدِينَةِ والواقدي بِبَغْدَاد وَمُقَاتِل بن سُلَيْمَان بخراسان وَمُحَمّد بن سعيد المصلوب بِالشَّام، وَقيل وضع الجويباري وَابْن عكاشة وَمُحَمّد بن نميم والفاريابي أَكثر من عشرَة آلَاف فَأَنْشَأَ الله عُلَمَاء يَذبُّونَ ويوضحون الصَّحِيح ويفضحون الْقَبِيح فهم حراس الأَرْض وفرسان الدَّين كثرهم الله إِلَى يَوْم الدَّين.
وَفِي الْوَجِيز قَالَ ابْن عدي كتبت جملَة عَن مُحَمَّد بن مُحَمَّد بن الْأَشْعَث عَن مُوسَى بن إِسْمَاعِيل بن مُوسَى بن جَعْفَر عَن آبَائِهِ إِلَى عَليّ رَفعهَا إِذْ أخرج إِلَيْنَا نُسْخَة قريب من ألف حَدِيث عَن مُوسَى الْمَذْكُور عَن آبَائِهِ بِخَط طري عامتها مَنَاكِير، قَالَ الدَّارَقُطْنِيّ إِنَّه من آيَات الله وضع ذَلِك الْكتاب يَعْنِي العلويات، قَالَ ابْن حجر وَسَماهُ السّنَن وَكله بِسَنَد وَاحِد مِنْهُ لَا خيل أبقى من الدهم وَلَا امْرَأَة كابنة الْعم، وَمِنْه لَا خير فِي الْعَيْش إِلَّا لمسمع واع أَو عَامل نَاطِق وَغير ذَلِك مِمَّا يَجِيء فِي بَابه وَعبد الله بن أَحْمد عَن أَبِيه عَن عَليّ الرِّضَا عَن آبَائِهِ يروي نُسْخَة مَوْضُوعَة بَاطِلَة مَا يَنْفَكّ عَن وَضعه أَو وضع أَبِيه، وَإِسْحَاق الْمَلْطِي لَهُ أباطيل، مِنْهَا لَا يَحِلُّ لامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ أَن تعرج على السرج، وَمن منع الماعون لزمَه طرف من الْبُخْل، وَمِنْه لعن النَّاظر والمنظور إِلَيْهِ، وَمِنْه لَا تَقولُوا مسيجد وَلَا مصيحف وَنهى عَن تَصْغِير الْأَسْمَاء وَأَن يُسمى حمدون أَو علوان أَو يعموش وَغَيرهَا مِمَّا يَجِيء، قَالَ ابْن عدي كلهَا وَضعهَا هُوَ ورى عَن ابْن جريج عَن عَطاء عَن أبي سعيد الْوَصِيَّة لعَلي رضي الله عنه فِي الْجِمَاع وَكَيف يُجَامع فَانْظُر إِلَى هَذَا الدَّجَّال مَا أجرأه.
وَقَالَ الديلمي أَسَانِيد كتاب الْعَرُوس لأبي الْفضل جَعْفَر بن مُحَمَّد بن عَليّ الْحُسَيْنِي واهية لَا يعْتَمد عَلَيْهَا وَأَحَادِيثه مُنكرَة. وَقَالَ الذَّهَبِيّ أَحْمد بن إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم بن بليط بن شريط حدث عَن أَبِيه عَن جده بنسخة فِيهَا بِلَال لَا يحل الِاحْتِجَاج بِهِ فَإِنَّهُ كَذَّاب انْتهى كَلَام الْوَجِيز. وَسَنذكر أحد عشر حَدِيثا فِي بَابه مِنْهَا وَنَذْكُر أَحَادِيث كل من هَذِه الْكتب ونحيل بَيَان
এবং আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আল-জুয়ায়বারি, মামুন বিন আহমদ আল-হারাওয়ি, মুহাম্মদ বিন উকাশাহ আল-কিরমানি, মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আত-তালিকানি এবং মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল-ইয়াশকুরি।
ইমাম নাসাঈ বলেন, হাদিস জালকারী হিসেবে পরিচিত মিথ্যাবাদী চারজন: মদিনায় ইবনে আবি ইয়াহইয়া, বাগদাদে আল-ওয়াকিদি, খুরাসানে মুকাতিল বিন সুলাইমান এবং শামে মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল-মাসলুব। আর বলা হয়ে থাকে যে, আল-জুয়ায়বারি, ইবনে উকাশাহ, মুহাম্মদ বিন নামিম এবং আল-ফারিয়াবি দশ হাজারেরও বেশি হাদিস জাল করেছেন। অতঃপর আল্লাহ এমন আলেমদের সৃষ্টি করেছেন যারা এই বাতিলকে প্রতিহত করেন, সহিহ হাদিসকে স্পষ্ট করেন এবং কদর্য বিষয়গুলোকে উন্মোচন করেন; তারা যমীনের প্রহরী এবং দ্বীনের অশ্বারোহী বীর, কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন।
'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে ইবনে আদি বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আশআদ থেকে একগুচ্ছ হাদিস লিখেছি, যা তিনি মুসা বিন ইসমাইল বিন মুসা বিন জাফর থেকে তার পিতৃপুরুষদের সূত্রে আলী (রা.) পর্যন্ত মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আমাদের নিকট প্রায় এক হাজার হাদিসের একটি পাণ্ডুলিপি বের করলেন যা উল্লিখিত মুসা তার পিতৃপুরুষদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যা একদম নতুন হস্তাক্ষরে লেখা এবং এর অধিকাংশ হাদিসই মুনকার (অস্বীকৃত)। দারাকুতনি বলেন: এই কিতাবটি জাল করা আল্লাহর নিদর্শনগুলোর একটি, অর্থাৎ 'আল-আলাউইয়াত' কিতাবটি। ইবনে হাজার বলেন: তিনি এর নাম দিয়েছিলেন 'আস-সুনান', যার সব হাদিসই একটি মাত্র সনদে বর্ণিত। এর মধ্যে রয়েছে: 'কালো ঘোড়ার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী কোনো ঘোড়া নেই এবং চাচাতো বোনের মতো কোনো নারী নেই।' আরও রয়েছে: 'সতর্ক শ্রোতা বা কথা বলা আমলকারী ব্যক্তি ছাড়া জীবনের কোনো কল্যাণ নেই' এবং এ জাতীয় আরও কথা যা সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে আসবে। আর আবদুল্লাহ বিন আহমদ তার পিতার সূত্রে, তিনি আলী আর-রিদা থেকে তার পিতৃপুরুষদের সূত্রে একটি জাল ও বাতিল পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেন, যা তার নিজের অথবা তার পিতার জালিয়াতি থেকে মুক্ত নয়। আর ইসহাক আল-মালতির অনেক বাতিল বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: 'আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এমন কোনো নারীর জন্য জিনের (ঘোড়ার পিঠের আসন) ওপর আরোহণ করা বৈধ নয়।' আরও আছে: 'যে ব্যক্তি নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু দেওয়া থেকে বিরত থাকে সে কৃপণতার দোষে দুষ্ট হবে।' আরও আছে: 'আল্লাহ লানত করেছেন দর্শনকারী এবং যাকে দর্শন করা হয় তার ওপর।' আরও আছে: 'তোমরা মসজিদকে মুসাইজিদ বা মুসহাফকে মুসাইহিফ বলো না' এবং তিনি নামগুলোকে ক্ষুদ্রার্থে ব্যবহার করা থেকে এবং হামদুন, আলওয়ান বা ইয়ামুশ নামকরণ থেকে নিষেধ করেছেন, এ জাতীয় আরও যা বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আদি বলেন: এর সবগুলোই তার নিজের তৈরি। তিনি ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ থেকে সহবাসের ক্ষেত্রে আলী (রা.)-কে করা একটি ওসিয়তনামা এবং কীভাবে সহবাস করতে হবে তা বর্ণনা করেছেন; সুতরাং এই দাজ্জালকে দেখুন যে সে কতটা দুঃসাহসী!
দাইলামি বলেন: আবুল ফজল জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-হুসাইনি রচিত 'কিতাবুল আরুস'-এর সনদসমূহ অত্যন্ত দুর্বল, যার ওপর নির্ভর করা যায় না এবং এর হাদিসসমূহ মুনকার। ইমাম জাহাবি বলেন: আহমদ বিন ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন বালিাত বিন শারিত তার পিতার সূত্রে এবং তিনি তার দাদার সূত্রে একটি পাণ্ডুলিপি বর্ণনা করেছেন যাতে বিলাল (নামক এক বর্ণনাকারী) রয়েছে; তার বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করা বৈধ নয়, কেননা সে একজন চরম মিথ্যাবাদী। 'আল-ওয়াজিজ'-এর বক্তব্য এখানেই শেষ। আমরা অচিরেই এই প্রসঙ্গে এ সম্পর্কিত এগারোটি হাদিস উল্লেখ করব এবং এই প্রত্যেকটি কিতাবের হাদিসগুলো উল্লেখ করে সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনার দিকে দিকনির্দেশনা দেব।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
حاكيه على مَا فِي الْمُقدمَة فاحفظ الْمُحْتَال عَلَيْهِ وَلَا تغفل، فِي اللآلئ قَالَ الْحَاكِم قَالَ التِّرْمِذِيّ كل حَدِيث فِي كِتَابه مَعْمُول بِهِ إِلَّا حديثان.
ভূমিকার বিষয়বস্তু অনুযায়ী এটি বর্ণনা করো; সুতরাং যে বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে তা স্মরণে রাখো এবং উদাসীন হয়ো না। 'আল-লাআলি' গ্রন্থে রয়েছে, আল-হাকিম বলেন, ইমাম তিরমিযী বলেছেন: তাঁর কিতাবের প্রতিটি হাদিসের ওপর আমল করা হয়, কেবল দুটি হাদিস ব্যতীত।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
كتاب التَّوْحِيد
তাওহিদ গ্রন্থ
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
بَاب الْإِيمَان بِاللَّه وبالقدر ومعرفته وشعبه وَفضل من دَعَا إِلَيْهِ.
আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাকদির, তাঁর পরিচয় লাভ, ঈমানের শাখাসমূহ এবং এর প্রতি আহ্বানকারীর ফযিলত সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
فِي الْخُلَاصَة «الْيَقِين الْإِيمَان كُله» مَوْضُوع: قَالَه الصغاني والسخاوي.
আল-খুলাসা গ্রন্থে রয়েছে: "দৃঢ়বিশ্বাসই হলো পূর্ণ ঈমান"—এটি বানোয়াট: আস-সাগানী এবং আস-সাখাবী এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
«الإِيمَانُ عَقْدٌ بِالْقَلْبِ وَإِقْرَارٌ بِاللِّسَانِ وَعمل بالأركان» حكم ابْن الْجَوْزِيّ بِوَضْعِهِ وَهُوَ من حَدِيث عبد السَّلَام بن صَالح عِنْد ابْن مَاجَه.
«ঈমান হলো অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস, জিহ্বার মাধ্যমে স্বীকৃতি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল» — ইবনুল জাওজি একে জাল বা বানোয়াট হওয়ার রায় দিয়েছেন এবং এটি ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত আবদুস সালাম ইবনে সালিহের হাদিসের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَفِي الْوَجِيز معَاذ بن جبل «الْإِيمَان يزِيد وَينْقص» أعله بعماد بن مطرف مُنكر الحَدِيث: قلت قد أخرجه أَحْمد وَأَبُو دَاوُد من وَجه آخر جيد عَن معَاذ وَسكت عَلَيْهِ أَبُو دَاوُد فَهُوَ صَالح عِنْده وَله شَوَاهِد عَن أبي هُرَيْرَة وَابْن عَبَّاس وَأبي الدَّرْدَاء مَوْقُوفا.
এবং 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে মুয়ায ইবনে জাবাল থেকে বর্ণিত: "ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়"। তিনি ইহাকে ইমাদ ইবনে মুতাররিফের কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন, যিনি মুনকারুল হাদিস। আমি বলছি, ইমাম আহমাদ এবং আবু দাউদ মুয়ায থেকে অন্য একটি উত্তম সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ এ ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, সুতরাং এটি তাঁর নিকট গ্রহণযোগ্য। আর আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস এবং আবু দারদা থেকে মাওকুফ হিসেবে এর স্বপক্ষে আরও বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
أَبُو هُرَيْرَة «إِنَّ مِنْ تَمَامِ إِيمَانِ الْعَبْدِ أَنْ يَسْتَثْنِيَ فِي كُلِّ حَدِيثِهِ» أعله بمعارك بن عباد، مُنكر. قلت فِي الحكم بِوَضْعِهِ نظر.
আবু হুরায়রা «নিশ্চয়ই বান্দার ঈমানের পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত হলো তার প্রতিটি কথায় ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ চাইলে) বলা»। তিনি একে মুআরিক বিন আব্বাদের কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন, এটি মুনকার। আমি বলছি: একে জাল হিসেবে গণ্য করার হুকুমের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَفِي الذيل «مَنْ لَمْ يَكُنْ مُؤْمِنًا حَقًّا فَهُوَ كَافِر حَقًا» . قَالَ المذنب: فِيهِ سمْعَان بن الْمهْدي.
এবং পরিশিষ্টে রয়েছে: «যে ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয়, সে প্রকৃতই কাফির»। পাপী (গ্রন্থকার) বলেন: এতে সিমআন ইবনুল মাহদী রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
عَن أنس «مَنْ عَرَفَ نَفْسَهُ عَرَفَ رَبَّهُ وَمَنْ عَرَفَ رَبَّهُ كَلَّ لِسَانُهُ» قَالَ النَّوَوِيّ لَيْسَ بِثَابِت.
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে; আর যে ব্যক্তি তার রবকে চিনেছে, তার জিহ্বা (তাঁকে বর্ণনা করতে) অক্ষম হয়ে পড়েছে।" ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন: এটি প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
«مَنْ عَرَفَ نَفْسَهُ عَرَفَ رَبَّهُ» قَالَ ابْن تَيْمِية مَوْضُوع وَهُوَ كَمَا قَالَ.
«যে ব্যক্তি নিজেকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে» ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন এটি জাল এবং বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَفِي الْمَقَاصِد لَا يعرف مَرْفُوعا وَإِنَّمَا يَحْكِي من قَول يحيى بن معَاذ. وَكَذَا قَالَ النَّوَوِيّ إِنَّه لَيْسَ بِثَابِت.
এবং ‘আল-মাকাসিদ’ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, এটি মারফু হিসেবে পরিচিত নয়; বরং এটি কেবল ইয়াহইয়া ইবনে মুআজের উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে ইমাম আন-নববীও বলেছেন যে, এটি প্রমাণিত নয়।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
«كُنْتُ كَنْزًا لَا أُعْرَفُ فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُعْرَفَ فَخَلَقْتُ خَلْقًا فَعَرَّفْتُهُمْ بِي فعرفوني» قَالَ ابْن تَيْمِية لَيْسَ من الحَدِيث وَلَا يعرف لَهُ سَنَد صَحِيح وَلَا ضَعِيف وَتَبعهُ الزَّرْكَشِيّ وَشَيخنَا، وَفِي الذيل قَالَ ابْن تَيْمِية مَوْضُوع وَهُوَ كَمَا قَالَ.
«আমি ছিলাম এক গুপ্ত ভাণ্ডার যা পরিচিত ছিল না, অতঃপর আমি পরিচিত হতে পছন্দ করলাম, তাই আমি সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলাম এবং তাদের নিকট আমার পরিচয় দান করলাম, ফলে তারা আমাকে চিনল» ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেছেন, এটি হাদীসের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এর কোনো সহীহ কিংবা যঈফ সনদ জানা নেই। যারকাশী এবং আমাদের শায়খ তাকে অনুসরণ করেছেন। আর 'যাইল' গ্রন্থে ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেছেন এটি বানোয়াট, আর বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَفِي الْمَقَاصِد «لَوْ وُزِنَ خَوْفُ الْمُؤْمِنِ وَرَجَاؤُهُ لاعْتَدَلا» لَا أَصْلَ لَهُ مَرْفُوعًا وَإِنَّمَا هُوَ عَن بعض السّلف.
'আল-মাকাসিদ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "যদি মুমিনের ভয় ও আশাকে ওজন করা হতো, তবে তা সমান হতো।" 'মারফু' হিসেবে এর কোনো ভিত্তি নেই; বরং এটি কেবল কতিপয় সালাফ থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
«حب الوطن من الْإِيمَان» لم أَقف عَلَيْهِ وَمَعْنَاهُ صَحِيح.
«দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ» — আমি এর কোনো ভিত্তি খুঁজে পাইনি, তবে এর অর্থ সঠিক।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الصغاني «حُبُّ الْهِرَّةِ مِنَ الإِيمَانِ» مَوْضُوعٌ.
আস-সাঘানী: «বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত» এটি বানোয়াট।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
فِي الْخُلَاصَة «مَنْ أَسْلَمَ عَلَى يَدَيْهِ رَجُلٌ وَجَبت لَهُ الْجنَّة» قَالَ الصغاني مَوْضُوع. وَفِي اللآلئ إِذْ فِيهِ مُحَمَّد بن ⦗ص: 12⦘ مُعَاوِيَة غير ثِقَة لَكِن تبعه سعيد بن كثير وَهُوَ ثِقَة. وَفِي الْوَجِيز قلت وثقة أَحْمد وَغَيره.
'আল-খুলাসাহ' গ্রন্থে রয়েছে: «যে ব্যক্তির হাতে কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়»। আস-সাগানি বলেছেন: এটি বানোয়াট। 'আল-লাআলি' গ্রন্থে রয়েছে: যেহেতু এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ মুয়াবিয়া রয়েছে যে নির্ভরযোগ্য নয়, তবে সাঈদ ইবনে কাসীর তার অনুসরণ করেছেন এবং তিনি নির্ভরযোগ্য। 'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে রয়েছে: আমি বলেছি, আহমাদ ও অন্যান্যরা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
«مَا كَانَ زَنْدَقَةٌ إِلا وَأَصْلُهَا التَّكْذِيب بِالْقدرِ» فِيهِ بَحر بن كثير كَذَّاب. قلت ورد بِسَنَد لَا بَأْس بِهِ.
«তাকদীর বা ভাগ্যলিপিকে অস্বীকার করাই হলো সকল জিন্দিকি বা ধর্মদ্রোহিতার মূল ভিত্তি»। এর বর্ণনাসূত্রে বাহর বিন কাসীর রয়েছেন যিনি একজন মিথ্যাবাদী। আমি বলছি, এটি এমন একটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যাতে কোনো সমস্যা নেই।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَفِي الْمُخْتَصر «الْقَدَرُ سِرُّ اللَّهِ فَلا تُفْشُوا الله سره» ضَعِيف.
এবং মুখতাসার-এ বর্ণিত হয়েছে: “তাকদীর আল্লাহর গোপন রহস্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর গোপন রহস্য ফাঁস করো না।” এটি যঈফ।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَفِي الْمَقَاصِد «إِذَا أَرَادَ اللَّهُ إِنْفَاذَ قَضَائِهِ وَقَدَرِهِ سَلَبَ ذَوِي الْعُقُولِ عُقُولَهُمْ حَتَّى يَنْفُذَ فِيهِمْ قَضَاؤُهُ وَقَدَرُهُ» فِيهِ كَذَّاب يضع مَتْرُوك، وَعند الْبَيْهَقِيّ من قَول ابْن عَبَّاس.
আল-মাকাসিদ গ্রন্থে রয়েছে: "যখন আল্লাহ তাঁর ফয়সালা ও তাকদির কার্যকর করার ইচ্ছা করেন, তখন তিনি বুদ্ধিমানদের বুদ্ধি কেড়ে নেন, যাতে তাদের ওপর তাঁর ফয়সালা ও তাকদির কার্যকর হয়।" এর বর্ণনাসূত্রে এমন একজন মিথ্যাবাদী রয়েছে যে হাদীস জাল করে এবং সে পরিত্যক্ত; আর বায়হাকীর নিকট এটি ইবনে আব্বাসের উক্তি হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
بَاب أَوْصَافه المتشابهة كحجابه وخلقه وَصورته واللا أُبَالِي وردائه ونزوله عَن عَرْشه وَصفَة كن وسعة عَرْشه وسمائه وأرضه وَسُرْعَة سير الشَّمْس وبحاره وَملكه وتخمير طين آدم.
পরিচ্ছেদ: তাঁর মুতাশাবিহ গুণাবলী—যেমন তাঁর পর্দা, তাঁর সৃষ্টি, তাঁর রূপ, তাঁর 'আমি পরোয়া করি না' (বক্তব্য), তাঁর চাদর, তাঁর আরশ থেকে নিচে নামা, 'কুন' (হও) শব্দের স্বরূপ এবং তাঁর আরশ, আসমান ও যমীনের প্রশস্ততা, সূর্যের গতির দ্রুততা, তাঁর সমুদ্রসমূহ, তাঁর রাজত্ব এবং আদমের মাটি ছানা।
(খণ্ড: ১)
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত লিল ফাতানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
فِي الْمُخْتَصر «إِنَّ لِلَّهِ سَبْعِينَ حِجَابًا مِنْ نُورٍ لَوْ كَشَفَهَا لأَحْرَقَتْ سُبُحَاتُ وَجهه كل مَا أبصره» لأبي الشَّيْخ بِسَنَد ضَعِيف. وَقَالَ ابْن الْجَوْزِيّ لَا أصل لَهُ. وللطبراني بِسَنَد جيد بِلَفْظ «حجابه النُّور» إِلَخ.
‘আল-মুখতাসার’-এ রয়েছে: “নিশ্চয় আল্লাহর সত্তরটি নূরের পর্দা রয়েছে; যদি তিনি সেগুলো উন্মোচন করে দিতেন, তবে তাঁর চেহারার জ্যোতিরাশি তাঁর দৃষ্টির সীমানায় আসা সবকিছুকে জ্বালিয়ে দিত।” এটি আবুশ শায়খ একটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওযী বলেছেন, এর কোনো ভিত্তি নেই। আর তাবারানীতে একটি উত্তম সনদে “তাঁর পর্দা হলো নূর” শব্দে এটি বর্ণিত হয়েছে ইত্যাদি।