(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: -)
النهي عن سب الأصحاب - الضياء المقدسي القسم: كتب السنة
الكتاب: النهي عن سب الأصحاب وما فيه من الإثم والعقاب
المؤلف: ضياء الدين أبو عبد الله محمد بن عبد الواحد المقدسي (ت 643هـ)
المحقق: د. محمد أحمد عاشور - م. جمال عبدالمنعم الكومي
الناشر: الدار الذهبية - مصر - القاهر
الطبعة: الأولى، 1994 م
عدد الصفحات: 120
أعده للشاملة: يا باغي الخير أقبل
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ربيع الأول 1433
সাহাবীদের গালি প্রদান থেকে নিষেধ - আদ-দিয়া আল-মাকদিসি বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
বই: সাহাবীদের গালি প্রদান থেকে নিষেধ এবং এতে যে গুনাহ ও শাস্তি রয়েছে
লেখক: জিয়াউদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি)
গবেষক: ড. মুহাম্মদ আহমদ আশুর - ম. জামাল আবদুন মুনিম আল-কুমি
প্রকাশক: আদ-দার আল-জাহাবিয়্যাহ - মিশর - কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০
শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: হে কল্যাণের অন্বেষী, অগ্রসর হও
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: -)
كتاب
النهي عن سب الأصحاب
وما فيه من الإثم والعقاب
للإمام الحافظ محمد بن عبد الواحد ضياء الدين المقدسي
569هـ - 643هـ
تحقيق وتعليق
د. محمد أحمد عاشور
م. جمال عبد المنعم الكومي
الدار الذهبية
مصر - القاهرة
1994 م
কিতাব
সাহাবীদের গালি প্রদানের নিষেধাজ্ঞা
এবং এতে যে গুনাহ ও শাস্তি রয়েছে
ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ জিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসি রচিত
৫৬৯ হিজরি - ৬৪৩ হিজরি
সম্পাদনা ও টীকা
ড. মুহাম্মদ আহমাদ আশুর
এম. জামাল আব্দুল মুনয়িম আল-কুমি
আদ-দারুজ জাহাবিয়্যাহ
মিশর - কায়রো
১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ذِكْرُ النَّهْيِ عَنْ سَبِّ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم وما فِي مَعْنَاهُ1 - قُرِئَ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بن أبي القاسم الدار قزي رحمه الله وَنَحْنُ نَسْمَعُ بِدَارِ الْقَزِّ بِالْجَانِبِ الْغَرْبِيِّ مِنْ بَغْدَادَ أَخْبَرَكُمُ الْإِمَامُ الْقَاضِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بنُ عَبْدِ الْبَاقِي الْبَزَّازُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنْتَ تَسْمَعُ فَأقَرَّ بِهِ قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عِيسَى الْمُقْرِئُ الْبَاقِلَّانِيُّ قَالَ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْوَرَّاقُ إِمْلَاءً ثَنَا عُمَرُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَلَمَةَ الثَّقَفِيُّ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَا ثَنَا عَلِيُّ بْنُ
⦗ص: 32⦘ الْجَعْدِ قَالَ ثَنَا شُعْبَةُ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ ذَكْوَانَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا أَدْرَكَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ.
صَحِيحٌ مُتَّفَقٌ عَلَى صِحَّتِهِ وَثُبُوتِهِ مِنْ حَدِيثِ أَبِي صَالِحٍ ذَكْوَانَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ
⦗ص: 33⦘ وَاسْمُهُ سَعْدُ بْنُ مَالِكِ بْنِ سِنَانٍ الْأَنْصَارِيُّ الْخُدْرِيُّ وَثَابِتٌ مِنْ
⦗ص: 34⦘ رِوَايَةِ سُلَيْمَانَ بْنِ مِهْرَانَ الْأَعْمَشِ عَنْهُ
اتَّفَقَ الْبُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ عَلَى
⦗ص: 35⦘ إِخْرَاجِهِ فِي صَحِيحَيْهِمَا فَرَوَاهُ الْبُخَارِيُّ عَنْ آدَمَ بْنِ أَبِي إِيَاسٍ الْعَسْقَلَانِيِّ عَنْ شُعْبَةَ فَهُوَ مِنَ الْأَبْدَالِ الْعَوَالِي
وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ شُعْبَةَ وَقَدْ أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ أَيْضًا مِنْ رِوَايَةِ وَكِيعٍ وَجَرِيرٍ عَنِ الْأَعْمَشِ وَعَنْ يَحْيَى بْنِ يَحْيَى وَأَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ وَأَبِي كُرَيْبٍ كُلُّهُمْ عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ.
সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) গালি দেওয়া এবং এই অর্থবোধক বিষয়গুলোর নিষেধাজ্ঞার আলোচনা১ - শাইখ আবু মুহাম্মাদ বিন আবু বকর বিন আবু কাসিম আদ-দারকাজি (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন)-এর সামনে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমরা বাগদাদের পশ্চিম পার্শ্বে দারুল কায-এ তা শুনছিলাম। ইমাম কাজী আবু বকর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল বাকি আল-বাজ্জাজ আপনাদের এটি পাঠ করে শুনিয়েছেন এবং আপনি তা শুনছিলেন ও স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আবু হাসান আলী বিন ইব্রাহিম বিন ঈসা আল-মুকরি আল-বাকিলানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল-ওয়াররাক আমাদের শ্রুতিলিপি দিয়েছেন, উমর বিন ইসমাইল বিন সালামাহ আস-সাকাফি এবং আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল আজিজ আমাদের বলেছেন, তাঁরা বলেন, আলী বিন
⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ আল-জাদ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন, শু’বাহ ও আবু মুয়াবিয়া আমাদের আল-আ’মাশ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি যাকওয়ান থেকে, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে! যদি তোমাদের কেউ ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবে সে তাদের ব্যয় করা এক মুদ (এক আঁজলা) কিংবা তার অর্ধেক পরিমাণ সওয়াবেও পৌঁছাতে পারবে না।"
এটি একটি সহীহ হাদিস, আবু সালেহ যাকওয়ানের বর্ণনায় আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে এর বিশুদ্ধতা ও প্রামাণিকতার বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে।
⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ তাঁর নাম হলো সাদ বিন মালিক বিন সিনান আল-আনসারি আল-খুদরি। আর এটি
⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ সুলাইমান বিন মিহরান আল-আ’মাশের তাঁর থেকে করা বর্ণনা হিসেবে প্রমাণিত।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম
⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে এটি উদ্ধৃত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। ইমাম বুখারী এটি আদম বিন আবু ইয়াস আল-আসকালানি থেকে এবং তিনি শু’বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এটি উচ্চমানের 'আবদাল' বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।
ইমাম মুসলিম এটি উবায়দুল্লাহ বিন মুয়ায আল-আম্বারি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি শু’বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম এটি ওকি’ ও জারির থেকে, তাঁরা আল-আ’মাশ থেকে এবং ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া, আবু বকর বিন আবি শাইবাহ ও আবু কুরাইব থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সকলে আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আল-আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
2 - أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ الصَّيْدَلَانِيُّ أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ الْحَدَّادَ أَخْبَرَهُمْ وَهُوَ حَاضِرٌ أَنْبَأَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ أَنْبَأَنَا أَبُو الْقَاسِمِ ⦗ص: 36⦘ الطَّبَرَانِيُّ أَنْبَأَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الأَبَّارُ ثَنَا مَخْلَدُ بْنُ مَالِكٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي فوالذي نفسي بيده لو أنفق أحدكم مثل أحد ذهبا ما بلغ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ.
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর আস-সাইদালানি যে, আবু আলী আল-হাদ্দাদ তাদের সংবাদ দিয়েছেন এমতাবস্থায় যে তিনি উপস্থিত ছিলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুয়াইম আল-হাফিজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘ আত-তাবারানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে আলী আল-আব্বার, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মাখলাদ ইবনে মালিক, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আবু আবদুর রাহিম থেকে, যায়দ ইবনে আবি উনাইসাহ থেকে, আল-আমাশ থেকে, আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যদি তোমাদের কেউ উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবুও তাদের একজনের এক মুদ কিংবা তার অর্ধেক পরিমাণ আমলের সমানও হবে না।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
3 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرٍ الْمُبَارَكُ بْنُ أَبِي الْمَعَالِي الْحَرِيمِيُّ بِبَغْدَادَ أَنَّ هِبَةَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَهُمْ أَنْبَأَ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْقَطيِعِيُّ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ حَدَّثَنِي أَبِي ثَنَا سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ ثَنَا عبيدة بن أبي رايطة الْحَذَّاءُ التَّمِيمِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ أَوْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ
⦗ص: 38⦘ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ الْمُزَنِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّهَ اللَّهَ فِي أَصْحَابِي اللَّهَ اللَّهَ فِي أَصْحَابِي لَا تَتَّخِذُوهُمْ غَرَضًا بَعْدِي فَمَنْ أَحَبَّهُمْ فَبِحُبِّي أَحَبَّهُمْ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ فَبِبُغْضِي أَبْغَضَهُمْ وَمَنْ آذَاهُمْ فَقَدْ آذَانِي وَمَنْ آذَانِي فَقَدْ آذى الله تبارك وتعالى وَمَنْ آذَى اللَّهَ فَيُوشِكُ أَنْ يَأْخُذَهُ.
هَكَذَا رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ رضي الله عنه فِي مُسْنَدِهِ وَقَدْ رَوَاهُ بَعْضُ الْمُحَدِّثِينَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ عُبَيْدَةَ بن أبي رايطة عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بِغَيْرِ شَكٍّ وَاللَّهُ أَعْلَمُ.
৩ - বাগদাদে আবু তাহির আল-মুবারক বিন আবি আল-মা’আলি আল-হারিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আলি আল-হাসান বিন আলি তাঁদের জানিয়েছেন, (তিনি বলেন) আবু বকর আহমাদ বিন জাফর আল-কাতিয়ি আমাদের জানিয়েছেন, (তিনি বলেন) আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) সা'দ বিন ইব্রাহিম বিন সা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) উবাইদাহ বিন আবি রায়িতাহ আল-হাযযা আত-তামিমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুর রহমান বিন যিয়াদ অথবা আবদুর রহমান বিন
⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘ আবদুল্লাহ আমার নিকট আবদুল্লাহ বিন মুগাফফাল আল-মুজানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো! আমার পরে তোমরা তাঁদের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানিও না। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের ভালোবাসলো, সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাঁদের ভালোবাসলো; আর যে তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলো, সে আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলো। যে ব্যক্তি তাঁদের কষ্ট দিলো, সে আমাকেই কষ্ট দিলো; আর যে আমাকে কষ্ট দিলো, সে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলাকে কষ্ট দিলো। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দিলো, অচিরেই তিনি তাকে পাকড়াও করবেন।"
ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এভাবেই তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন। কোনো কোনো মুহাদ্দিস এটি ইব্রাহিম বিন সা'দ থেকে, তিনি উবাইদাহ বিন আবি রায়িতাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান থেকে কোনো প্রকার সন্দেহ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
4 - أَخْبَرَتْنَا فَاطِمَةُ بِنْتُ سَعْدِ الْخَيْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ سَهْلٍ الْأَنْصَارِيِّ قِرَاءَةً عَلَيْهَا بِالْقَاهِرَةِ قِيلَ لَهَا أَخْبَرَكُمْ أَبُو الْقَاسِمِ هِبَةُ اللَّهِ
⦗ص: 39⦘ بن أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْحَرِيرِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ أَنْبَأَنَا أَبُو طَالِبٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْفَتْحِ الْعُشَارِيُّ أَنْبَأَ أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ شَاهِينَ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَغَوِيُّ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عِيسَى الْعَطَّارُ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ عُبَيْدَةَ بْنِ أَبِي رايطة عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اللَّهَ اللَّهَ فِي أَصْحَابِي لَا تَتَّخِذُوهُمْ غَرَضًا مِنْ بَعْدِي ثَلَاثًا مَنْ أَحَبَّهُمْ فَبِحُبِّي أَحَبَّهُمْ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ فَبِبُغْضِي أَبْغَضَهُمْ وَمَنْ آذَاهُمْ فَقَدْ آذَانِي وَمَنْ آذَانِي فَقَدْ آذَى الله ومن آذى الله يوشك أَنْ يَأْخُذَهُ.
⦗ص: 40⦘ وَقَدْ رَوَاهُ الْبَغَوِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْوَرْكَانِيِّ وَأَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمَوْصِلِيُّ كَذَلِكَ.
৪ - ফাতিমা বিনতে সাদ আল-খাইর বিন মুহাম্মদ বিন সাহল আল-আনসারী কায়রোতে তাঁর সম্মুখে পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তাকে বলা হয়েছিল: আবু আল-কাসিম হিবাতুল্লাহ
⦗পৃষ্ঠা: ৩৯⦘ বিন আহমদ বিন উমর আল-হারীরী তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আপনাদের অবহিত করেছেন যে, আবু তালিব মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-ফাতহ আল-উশারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাফস উমর বিন শাহীন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইসমাঈল বিন ঈসা আল-আত্তার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবরাহীম বিন সাদ উবাইদাহ বিন আবি রায়িতা থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মুগাফফাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো! আমার পরে তোমরা তাদেরকে উপহাসের লক্ষ্যবস্তু বানিও না" — একখাটি তিনি তিনবার বললেন। "যে ব্যক্তি তাদের ভালোবাসল, সে আমার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসল। আর যে ব্যক্তি তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল, সে আমার প্রতি বিদ্বেষের কারণেই তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করল। যে ব্যক্তি তাদের কষ্ট দিল, সে মূলত আমাকেই কষ্ট দিল; আর যে ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহকে কষ্ট দিল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে কষ্ট দিল, অচিরেই তিনি তাকে পাকড়াও করবেন।"
⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ আল-বাগাওয়ী একইভাবে মুহাম্মদ বিন জাফর আল-ওয়ারকানী এবং আহমদ বিন ইবরাহীম আল-মাওসিলী থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
5 - أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَصْرٍ الصَّيْدَلَانِيُّ بِأَصْبَهَانَ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ عَبْدِ اللَّهِ الْجُوزْدَانِيَّةَ أَخْبَرَتْهُمْ قَالَتْ أَنْبَأَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رِيذَةَ أَنْبَأَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ الطَّبَرَانِيُّ ثَنَا خَلَفُ بْنُ عَمْرٍو الْعُكْبَرِيُّ قَالَ ثَنَا الْحُمَيْدِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَلْحَةَ التَّيْمِيُّ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَالِمِ بْنِ ⦗ص: 41⦘ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُوَيْمِ بْنِ سَاعِدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى اخْتَارَنِي وَاخْتَارَ لِي أَصْحَابًا فَجَعَلَ لِي مِنْهُمْ وُزَرَاءَ وَأَنْصَارًا وَأَصْهَارًا فَمَنْ سَبَّهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لَا يُقْبَلُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفٌ وَلَا عَدْلٌ.
৫ - আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন নাসর আস-সাইদালানি ইসফাহানে আমাদের অবহিত করেছেন যে, ফাতিমা বিনত আব্দুল্লাহ আল-জুজদানিয়্যাহ তাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রিযাহ আমাদের জানিয়েছেন, সুলাইমান বিন আহমদ আত-তাবারানি আমাদের জানিয়েছেন, খালাফ বিন আমর আল-উকবারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল-হুমাইদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন তালহা আত-তাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান বিন সালিম বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘ আব্দুর রহমান বিন উওয়াইম বিন সায়েদাহ তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে মনোনীত করেছেন এবং আমার জন্য সাহাবীগণকে মনোনীত করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের মধ্য থেকে আমার জন্য উজির, সাহায্যকারী এবং বৈবাহিক আত্মীয় বানিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের গালি দিবে, তার ওপর আল্লাহর লানত, ফেরেশতাদের লানত এবং সকল মানুষের লানত। কিয়ামতের দিন তার থেকে কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করা হবে না।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٤١)
6 - أَخْبَرَنَا الْإِمَامُ الْعَالِمُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَحْمَدَ الْمَقْدِسِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ أَنَّ أَحْمَدَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ ⦗ص: 42⦘ النَّاعِمِ أَخْبَرَهُمْ أَنْبَأَ الْمُبَارَكُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْغَسَّالُ الْمُقْرِئُ أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخَلَّالُ ثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيَّاتُ ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الطَّيِّبِ الْبَلْخِيُّ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْجُمَحِيُّ ثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ السَّمَّانُ وَاسْمُهُ أَشْعَثُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ النَّاسَ يَكْثُرُونَ وَأَصْحَابِي يَقِلُّونَ فَلَا ⦗ص: 43⦘ تَسُبُّوهُمْ فَمَنْ سَبَّهُمْ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ.
৬ - ইমাম আলেম আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবনে ইবরাহিম ইবনে আহমদ আল-মাকদিসি তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন যে, আহমদ ইবনে আলি ইবনে ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘ আন-নাইম তাঁদের জানিয়েছেন, মুবারক ইবনুল হুসাইন আল-গাসসাল আল-মুকরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-খাল্লাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আজ-যাইয়াত আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আল-হাসান ইবনে আত-তাইয়িব আল-বালখি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া আল-জুমাহি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু রাবি আস-সাম্মান (যার নাম আশআস) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আমর ইবনে দিনার থেকে এবং তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং আমার সাহাবীদের সংখ্যা কমে যাবে। সুতরাং তোমরা ⦗পৃষ্ঠা: ৪৩⦘ তাদেরকে গালি দিও না। যে ব্যক্তি তাদের গালি দেবে, তার ওপর আল্লাহর লানত।"
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
7 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الشُّرُوطِيُّ أَنْبَأَنَا طَاهِرُ بْنُ سَهْلِ بْنِ بِشْرِ بْنِ أَحْمَدَ أَنْبَأَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الله هِلَالٍ الْحِنَّائِيُّ ثَنَا ⦗ص: 44⦘ أَبُو يُوسُفَ الْجَصَّاصُ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَيُّوبَ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَيْفٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَعَنَ اللَّهُ مَنْ سَبَّ أَصْحَابِي.
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল ইসমাইল ইবনে আলী ইবনে ইব্রাহিম আশ-শুরুতি, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন তাহির ইবনে সাহল ইবনে বিশর ইবনে আহমাদ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের অবহিত করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ হিলাল আল-হিন্নায়ি, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৪⦘ আবু ইউসুফ আল-জাসসাস, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আইয়ুব, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে সাইফ, তিনি মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আল্লাহর লানত (অভিসম্পাত) বর্ষিত হোক তার ওপর, যে আমার সাহাবীদের গালি দেয়।”
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
8 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُعَمَّرٍ الْمُؤَدِّبُ أَنَّ ⦗ص: 45⦘ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْبَاقِي الْأَنْصَارِيَّ أَخْبَرَهُمْ أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ ثَنَا أَبُو عُمَرَ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ بْنِ حَيَّوَيْهِ الْخَزَّازُ ثَنَا أَبُو عُبَيْدِ بْنُ حَرْبَوَيْهِ ثَنَا أَبُو السُّكَيْنِ الطَّائِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي خَالِدُ بن عمرو بن محمد بْنِ مُحَمَّدٍ الْأُمَوِيُّ -وَهُوَ ابْنُ عَمِّ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبَانَ- عَنْ سَهْلِ بْنِ يُوسُفَ بْنِ سَهْلِ بْنِ مَالِكٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ ⦗ص: 46⦘ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ رضي الله عنه قَالَ لَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ حَجَّةِ الْوَدَاعِ صَعِدَ الْمِنْبَرِ فَحَمِدَ اللَّهَ تَعَالَى وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ لَمْ يَسُؤْنِي قَطُّ فَاعْرِفُوا ذَلِكَ لَهُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَاضٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ وَعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ وَطَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ وَالزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ وَسَعْدِ بْنِ مَالِكٍ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَالْمُهَاجِرِينَ الْأَوَّلِينَ فَاعْرِفُوا ذَلِكَ لَهُمْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى قَدْ غَفَرَ لِأَهْلِ بَدْرٍ وَالْحُدَيْبِيَةِ يَا أَيُّهَا النَّاسُ احْفَظُونِي فِي أَخْتَانِي وَأَصْهَارِي وَفِي أَصْحَابِي لَا يُطَالِبَنَّكُمُ اللَّهُ بِمَظْلِمَةِ أَحَدٍ مِنْهُمْ فَإِنَّهَا لَيْسَتْ تَذْهَبُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ ارْفَعُوا أَلْسِنَتَكُمْ عَنِ الْمُسْلِمِينَ وَإِذَا مَاتَ الرَّجُلُ فَلَا تَقُولُوا إِلَّا خَيْرًا ثُمَّ نَزَلَ صلى الله عليه وسلم.
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুয়াম্মার আল-মুয়াদ্দিব যে, ⦗পৃষ্ঠা: ৪৫⦘ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী আল-আনসারী তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, (তিনি বলেন) আমাদের জানিয়েছেন আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-জাওহারী, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু উমর মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে হাইয়াওয়াইহ আল-খাজ্জায, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু উবাইদ ইবনে হারবুওয়াইহ, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবুস সুকাইন আত-তায়ী, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-হাশিমি, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে আমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-উমাবী—যিনি আব্দুল আজিজ ইবনে আবানের চাচাতো ভাই—সাহল ইবনে ইউসুফ ইবনে সাহল ইবনে মালিক আল-আনসারী থেকে, তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৪৬⦘ তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বিদায় হজ থেকে ফিরে আসলেন, তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন। এরপর তিনি বললেন: হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আবু বকর আমাকে কখনো কষ্ট দেননি, সুতরাং তোমরা তাঁর এই মর্যাদার কথা স্বীকার করো। হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আমি উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনে আফফান, আলী ইবনে আবি তালিব, তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ, জুবাইর ইবনুল আওয়াম, সা'দ ইবনে মালিক, আব্দুর রহমান ইবনে আউফ এবং প্রাথমিক হিজরতকারী মুহাজিরগণের ওপর সন্তুষ্ট; সুতরাং তোমরা তাদের এই অধিকারের কথা স্বীকার করো। হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ বরকতময় ও সুউচ্চ, তিনি বদর ও হুদায়বিয়াবাসীদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। হে লোকসকল! তোমরা আমার খাতিরে আমার বৈবাহিক আত্মীয়-স্বজন এবং আমার সাহাবীদের সম্মান রক্ষা করো। আল্লাহ যেন তাদের কারো প্রতি অন্যায়ের কারণে তোমাদের পাকড়াও না করেন; কারণ সেই অন্যায় এমনি এমনি চলে যায় না। হে লোকসকল! তোমরা মুসলিমদের সমালোচনা থেকে তোমাদের জিহ্বাকে বিরত রাখো, আর যখন কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সম্পর্কে ভালো কথা ছাড়া আর কিছু বলো না। অতঃপর তিনি (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক) মিম্বর থেকে নেমে আসলেন।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
9 - أَخْبَرَنَا الْإِمَامُ الْعَالِمُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمَقْدِسِيُّ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ أَحْمَدَ بْنَ الْمُقَرِّبِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْكَرْخِيَّ أَخْبَرَهُمْ بِبَغْدَادَ قَالَ قُرِئَ عَلَى الشَّرِيفِ النَّقِيبِ أَبِي الْفَوَارِسِ طِرَادِ بْنِ مُحَمَّدٍ الزَّيْنَبِيِّ أَنْبَأَ أَبُو نَصْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَسْنُونَ النَّرْسِيُّ الْبَزَّازُ ثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْبَخْتَرِيِّ الرَّزَّازُ قَالَ ثَنَا ابْنُ أَبِي الْعَوَّامِ مُحَمَّدُ بْنُ ⦗ص: 48⦘ أَحْمَدَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ يَسْأَلُ أَبَا النَّضْرِ هَاشِمَ بْنَ الْقَاسِمِ عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَسَمِعْتُ هَاشِمَ بْنَ الْقَاسِمِ يَقُولُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ النُّعْمَانِ الْقُرَشِيُّ أَنْبَأَنَا يَزِيدُ بْنُ حَيَّانَ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَجْتَمعُ حُبُّ هَؤُلَاءِ الْأَرْبَعَةِ إِلَّا فِي قَلْبِ مُؤْمِنٍ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ وَعَلِيُّ رضي الله عنهم.
৯ - ইমাম, বিজ্ঞ আলেম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মাকদিসি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর আহমদ বিন আল-মুকাররিব বিন আল-হুসাইন আল-কারখি বাগদাদে তাঁদেরকে সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, শরীফ নাকীব আবু আল-ফাওয়ারিস তিরাদ বিন মুহাম্মদ আল-যাইনাবীর সামনে পাঠ করা হয়েছে যে, আবু নাসর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসনুন আল-নারসি আল-বাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আমর বিন আল-বাখতারি আল-রাযযায আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবন আবি আল-আওয়াম মুহাম্মদ বিন ⦗পৃষ্ঠা: ৪৮⦘ আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু আবদুল্লাহ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বলকে এই হাদীসটি সম্পর্কে আবু আন-নাদর হাশিম বিন আল-কাসিমকে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। অতঃপর আমি হাশিম বিন আল-কাসিমকে বলতে শুনেছি যে, আব্দুল আজিজ বিন আন-নুমান আল-কুরাশি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াযিদ বিন হাইয়ান আতা থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এই চারজনের প্রতি ভালোবাসা কেবল একজন মুমিনের অন্তরেই একত্রিত হয়: আবু বকর, উমর, উসমান এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।"
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
مَا ذُكِرَ عَنْ عَلِيٍّ عليه السلام فِي حَقِّ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما10 - قُرِئَ عَلَى الشَّيْخِ الْإِمَامِ أَبِي الْفَضْلِ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الجنزوي وَنَحْنُ نَسْمَعُ سَنَةَ سَبْعٍ وَسَبْعِينَ بِدِمَشْقَ أَخْبَرَكُمُ الشَّيْخُ أَبُو الْقَاسِمِ الْخَضِرُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَبْدَانَ بِقِرَاءَتِكَ عَلَيْهِ أَنْبَأَنَا الشَّيْخُ الْفَقِيهُ الْإِمَامُ أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْمَقْدِسِيُّ مِنْ لَفْظِهِ بِدِمَشْقَ أَنْبَأَنَا أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عُمَرَ بْنِ برهان البغدادي أنبأنا أبو عَبْدُ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ الْوَرَّاقُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْعَسْكَرِيِّ ثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ الْمُخَرَّمِيُّ فِي سَنَةِ إِحْدَى وَثَلَاثِمِائَةٍ ثَنَا عَلِيُّ
⦗ص: 50⦘ بْنُ عِيسَى الْكَرَاجِكِيُّ ثَنَا حُجَيْنُ بْنُ الْمُثَنَّى ثَنَا كَثِيرُ بْنُ مَرْوَانَ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ قَالَ مَرَرْتُ بِنَفَرٍ مِنَ الشِّيعَةِ يَتَنَاوَلُونَ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ فَدَخَلْتُ عَلَى عَلِيٍّ فَقُلْتُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مَرَرْتُ بَنَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِكَ آنِفًا يَتَنَاوَلُونَ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ بِغَيْرِ الَّذِي هُمَا لَهُ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَهْلٌ فَلَوْلَا أَنَّكَ تُضْمِرُ عَلَى مِثْلِ مَا أَعْلَنُوا عَلَيْهِ مَا تَجَرَّءُوا عَلَى ذَلِكَ فَقَالَ عَلِيٌّ مَا أُضْمِرُ لَهُمَا إِلَّا الَّذِي أَتَمَنَّى الْمُضِيَّ عَلَيْهِ لَعَنَ اللَّهُ مَنْ أَضْمَرَ لَهُمَا إِلَّا الْحَسَنَ الْجَمِيلَ
ثُمَّ نَهَضَ دَامِعَ الْعَيْنِ يَبْكِي قَابِضًا عَلَى يَدِي حَتَّى دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَصَعِدَ الْمِنْبَرَ وَجَلَسَ عَلَيْهِ مُتَمَكِّنًا قَابِضًا عَلَى لِحْيَتِهِ يَنْظُرُ فِيهَا وَهِيَ بَيْضَاءُ حَتَّى اجْتَمَعَ لَهُ النَّاسُ ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ خُطْبَةً مُوجَزَةً بَلِيغَةً ثُمَّ قَالَ:
مَا بَالُ قَوْمٍ
⦗ص: 51⦘ يَذْكُرُونَ سَيِّدَيْ قُرَيْشٍ وَأَبَوَيِ الْمُسْلِمِينَ أَنَا مِمَّا قالوا برئ وَعَلَى مَا قَالُوا مُعَاقِبٌ، أَلَا وَالَّذِي فَلَقَ الْحَبَّةَ وَبَرَأَ النَّسَمَةَ لَا يُحبُّهُمَا إِلَّا مُؤْمِنٌ تَقِيٌّ ولا يبغضهما إلا فاجر ردي، صَحِبَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الصِّدْقِ وَالْوَفَاءِ يَأْمُرَانِ وَيَنْهَيَانِ وَمَا يُجَاوِزَانِ فِيمَا يَصْنَعَانِ رَأْيَ رَسُولِ اللَّهِ، وَلَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَرَى بِمِثْلِ رَأْيِهِمَا وَلَا يُحِبُّ كَحُبِّهِمَا أَحَدًا، مَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ عَنْهُمَا رَاضٍ وَمَضَيَا وَالْمُؤْمِنُونَ عَنْهُمَا رَاضُونَ، أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَبَا بَكْرٍ بِصَلَاةِ الْمُؤْمِنِينَ فَصَلَّى بهما سَبْعَةَ أَيَّامٍ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا قَبَضَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم وَاخْتَارَ لَهُ مَا عِنْدَهُ وَلَّاهُ الْمُؤْمِنُونَ أَمْرَهُمْ وَقَضَوْا إِلَيْهِ الزَّكَاةَ لِأَنَّهُمَا مَقْرُونَتَانِ ثُمَّ أَعْطَوْهُ الْبَيْعَةَ طَائِعِينَ غَيْرَ كَارِهِينَ، أَنَا أَوَّلُ مَنْ سَنَّ ذَلِكَ مِنْ بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَهُوَ لِذَلِكَ كَارِهٌ يَوَدُّ أَنَّ أَحَدَنَا كَفَاهُ ذَلِكَ، وَكَانَ وَاللَّهِ خَيْرَ مَنِ اتَّقَى أَرْحَمَهُ رَحْمَةً وَأَرْأَفَهُ رَأْفَةً وَأَثْبَتَهُ وَرَعًا وَأَقْدَمَهُ سِنًّا وَإِسْلَامًا، شَبَّهَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِيكَائِيلَ رَأْفَةً وَرَحْمَةً وَبِإِبْرَاهِيمَ عَفْوًا وَوَقَارًا، فَسَارَ فِينَا سِيرَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى مَضَى عَلَى ذَلِكَ
ثُمَّ وَلِيَ عُمَرُ الْأَمْرَ مِنْ بَعْدِهِ فَمِنْهُمْ مَنْ رَضِيَ وَمِنْهُمْ مَنْ كَرِهَ، فَلَمْ يُفَارِقِ الدُّنْيَا حَتَّى رَضِيَ بِهِ مَنْ كَانَ كَرِهَهُ، فَأَقَامَ الْأَمْرَ عَلَى مِنْهَاجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَصَاحِبِهِ يتبع آثارهما كتباع الْفَصِيلِ أُمَّهُ، وَكَانَ وَاللَّهِ رَفيقًا رَحِيمًا لِلْمَظْلُومِينَ عَوْنًا وَرَاحِمًا وَنَاصِرًا لَا يَخَافُ فِي اللَّهِ لَوْمَةَ لَائِمٍ، ضَرَبَ اللَّهُ بِالْحَقِّ عَلَى لِسَانِهِ وَجَعَلَ الصِّدْقَ مِنْ شَأْنِهِ حَتَّى كُنَّا نَظُنُّ أَنَّ مَلَكًا يَنْطِقُ عَلَى لِسَانِهِ، أَعَزَّ اللَّهُ بِإِسْلَامِهِ الْإِسْلَامَ
⦗ص: 52⦘ وَجَعَلَ هِجْرَتَهُ لِلدِّينِ قِوَامًا، أَلْقَى اللَّهُ تَعَالَى لَهُ فِي قُلُوبِ الْمُنَافِقِينَ الرَّهْبَةَ وَفِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ الْمَحَبَةَ، شَبَّهَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِجِبْرِيلَ فَظًّا غَلِيظًا عَلَى الْأَعْدَاءِ وَبِنُوحٍ حَنِقًا مُغْتَاظًا الضَّرَّاءُ عَلَى طَاعَةِ اللَّهِ آثَرُ عِنْدَهُ مِنَ السَّرَّاءِ عَلَى مَعْصِيَةِ اللَّهِ
فَمَنْ لَكُمْ بِمِثْلِهِمَا رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِمَا وَرَزَقَنَا الْمُضِيَّ عَلَى سَبِيلِهِمَا فَإِنَّهُ لَا يُبْلَغُ مَبْلَغُهُمَا إِلَّا بِاتِّبَاعِ آثَارِهِمَا وَالْحُبِّ لَهُمَا، أَلَا فَمَنْ أَحَبَّنِي فَلْيُحبُّهُمَا وَمَنْ لَمْ يُحِبُّهُمَا فَقَدْ أَبْغَضَنِي وَأَنَا مِنْهُ بَرِيءٌ، وَلَوْ كُنْتُ تَقَدَّمْتُ إِلَيْكُمْ فِي أَمْرِهِمَا لَعَاقَبْتُ عَلَى هَذَا أَشَدَّ الْعُقُوبَةِ، وَلَكِنْ لَا يَنْبَغِي أَنْ أُعَاقِبَ قَبْلَ التَّقَدُّمِ، فَمَنْ أُتِيتُ بِهِ يَقُولُ هَذَا بَعْدَ الْيَوْمِ فَإِنَّ عَلَيْهِ مَا عَلَى الْمُفْتَرِي، أَلَا وَخَيْرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ بَعْدَ نَبِيِّهَا أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَلَوْ شِئْتُ سَمَّيْتُ الثَّالِثَ. وَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ لِي وَلَكُمْ.
وَقَدْ رَوَاهُ عَبْدُ الْحَمِيدِ الْحِمَّانِيُّ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُمَارَةَ بِنَحْوِهِ.
আবু বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মর্যাদা সম্পর্কে আলী (আলাইহিস সালাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে১০ - শায়খ ইমাম আবুল ফজল ইসমাইল ইবনে আলী ইবনে ইব্রাহিম আল-জানজাওয়ীর সামনে দামেস্কে সাতাত্তর হিজরি সনে পাঠ করা হয়েছিল এবং আমরা তা শুনছিলাম। তিনি বলেন, শায়খ আবু কাসেম আল-খিজর ইবনুল হুসাইন ইবনে আবদান আপনাকে পাঠ করে শুনিয়েছেন যে, ফকিহ ইমাম শায়খ আবুল ফাতহ নাসর ইবনে ইব্রাহিম আল-মাকদিসি দামেস্কে তাঁর নিজ মুখে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবুল ফারাজ আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুল হুসাইন ইবনে ওমর ইবনে বুরহান আল-বাগদাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আল-ওয়াররাক, যিনি ইবনুল আসকারি নামে পরিচিত, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আইয়ুব আল-মুখাররামি ৩০১ হিজরি সনে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আলী
⦗পৃষ্ঠা: ৫০⦘ ইবনে ঈসা আল-কারাজিকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, হুজাইন ইবনুল মুসান্না আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কাসীর ইবনে মারওয়ান, হাসান ইবনে উমারা থেকে, তিনি মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি সুওয়াইদ ইবনে গাফালা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আমি শিয়াদের একটি দলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যারা আবু বকর ও ওমর (রা.) সম্পর্কে কটূক্তি করছিল। অতঃপর আমি আলীর নিকট প্রবেশ করে বললাম, "হে আমিরুল মুমিনিন, আমি এইমাত্র আপনার একদল সাথীর পাশ দিয়ে এলাম যারা আবু বকর ও ওমর (রা.) সম্পর্কে এমন সব কথা বলছে, এই উম্মতের মাঝে তারা যে মর্যাদার অধিকারী তার সাথে তা মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আপনি যদি তাদের প্রকাশ্যে বলা কথার অনুরূপ কিছু মনে মনে পোষণ না করতেন, তবে তারা এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস করত না।" তখন আলী বললেন, "তাদের দুইজনের প্রতি আমার মনে কেবল তাই আছে যার ওপর ভিত্তি করে আমি মৃত্যুবরণ করতে চাই। আল্লাহ তাকে লানত করুন যে তাদের প্রতি কল্যাণ ও সৌন্দর্য ব্যতীত অন্য কিছু অন্তরে পোষণ করে।"
অতঃপর তিনি অশ্রুসজল নয়নে কাঁদতে কাঁদতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং আমার হাত ধরে মসজিদে প্রবেশ করলেন। তারপর তিনি মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং দৃঢ়ভাবে উপবেশন করলেন। তিনি নিজের শুভ্র দাড়ি ধরে সেদিকে তাকিয়ে রইলেন যতক্ষণ না মানুষ তাঁর কাছে সমবেত হলো। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে এক সংক্ষিপ্ত ও প্রাঞ্জল ভাষণ দিলেন এবং বললেন:
"সেই লোকদের কী হয়েছে
⦗পৃষ্ঠা: ৫১⦘ যারা কুরাইশের দুই সরদার ও মুসলমানদের দুই পিতার সমালোচনা করে? তারা যা বলেছে তা থেকে আমি মুক্ত এবং তাদের এই বক্তব্যের জন্য আমি তাদের শাস্তি প্রদানকারী। সাবধান! সেই সত্তার শপথ যিনি শস্যবীজ বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন, মুত্তাকি মুমিন ছাড়া কেউ তাদের ভালোবাসবে না এবং পাপিষ্ঠ দুর্ভাগা ছাড়া কেউ তাদের ঘৃণা করবে না। তারা সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন। তারা আদেশ করতেন ও নিষেধ করতেন এবং তারা যা করতেন তাতে রাসূলুল্লাহর সিদ্ধান্তের বাইরে যেতেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাদের মতামতের মতো অন্য কারও মতামত দেখতেন না এবং তাদের ভালোবাসার মতো অন্য কাউকে ভালোবাসতেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন এমতাবস্থায় যে তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন এবং তাঁরাও বিদায় নিয়েছেন এমতাবস্থায় যে মুমিনরা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে মুমিনদের সালাতের ইমামত করার আদেশ দিয়েছিলেন, ফলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় সাত দিন তাদের নিয়ে সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর আল্লাহ যখন তাঁর নবীকে তুলে নিলেন এবং তাঁর জন্য আল্লাহর নিকট যা আছে তা পছন্দ করলেন, তখন মুমিনরা তাকে তাদের অভিভাবক নিযুক্ত করল এবং তাদের জাকাত তাঁর কাছে সমর্পণ করল, কারণ সালাত ও জাকাত পরস্পর সংশ্লিষ্ট। এরপর তারা সন্তুষ্টচিত্তে কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই তাঁর কাছে বায়আত গ্রহণ করল। বনু আব্দুল মুত্তালিবের মধ্যে আমিই প্রথম এই রীতি চালু করেছি। অথচ তিনি (আবু বকর) এই দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং কামনা করছিলেন যে আমাদের মধ্যে কেউ যেন তাঁর পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব পালন করে নেয়। আল্লাহর শপথ! তিনি ছিলেন আল্লাহভীরুদের মধ্যে সর্বোত্তম, দয়ার ক্ষেত্রে অধিক দয়ালু, স্নেহের ক্ষেত্রে অধিক স্নেহপরায়ণ, তাকওয়ার ক্ষেত্রে সুদৃঢ় এবং বয়সে ও ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্নেহ ও করুণার ক্ষেত্রে তাঁকে মিকাইলের সাথে এবং ক্ষমা ও গাম্ভীর্যের ক্ষেত্রে ইব্রাহিমের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি আমাদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুযায়ী চলেছেন এবং সেভাবেই বিদায় নিয়েছেন।
অতঃপর তাঁর পরে ওমর দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। তাদের মধ্যে কেউ সন্তুষ্ট ছিল আবার কেউ অপছন্দ করেছিল। কিন্তু তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার আগেই তারা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়ে গিয়েছিল যারা তাকে অপছন্দ করত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাথীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে সঠিক পথে শাসনকার্য পরিচালনা করেছেন, যেভাবে উটের বাচ্চা তার মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। আল্লাহর শপথ! তিনি ছিলেন অত্যন্ত বন্ধুসুলভ, মজলুমদের প্রতি দয়ালু, সাহায্যকারী ও হিতাকাঙ্ক্ষী। আল্লাহর ব্যাপারে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় করতেন না। আল্লাহ তাঁর জিহ্বায় সত্য জারি করে দিয়েছিলেন এবং সত্যবাদিতাকে তাঁর স্বভাবজাত করেছিলেন, এমনকি আমরা মনে করতাম যে কোনো ফেরেশতা যেন তাঁর জিহ্বা দিয়ে কথা বলছে। তাঁর ইসলামের মাধ্যমে আল্লাহ ইসলামকে সম্মানিত করেছেন
⦗পৃষ্ঠা: ৫২⦘ এবং তাঁর হিজরতকে দ্বীনের ভিত্তি করেছেন। আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের অন্তরে তাঁর প্রতি ভীতি এবং মুমিনদের অন্তরে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শত্রুদের প্রতি কঠোরতার ক্ষেত্রে তাঁকে জিবরাইলের সাথে এবং প্রচণ্ড ক্রোধের ক্ষেত্রে নূহের সাথে তুলনা করেছেন। আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করা তাঁর কাছে আল্লাহর নাফরমানির সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে অধিক প্রিয় ছিল।
তাদের মতো আর কে আছে আপনাদের জন্য? তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক এবং আল্লাহ আমাদের তাঁদের পথে চলার তৌফিক দান করুন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ ও তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া কেউ তাঁদের মর্যাদায় পৌঁছাতে পারবে না। সাবধান! যে আমাকে ভালোবাসে সে যেন তাঁদের দুইজনকে ভালোবাসে। আর যে তাঁদের ভালোবাসবে না সে প্রকৃতপক্ষে আমাকেই ঘৃণা করল এবং আমি তার থেকে মুক্ত। আমি যদি আগে এ বিষয়ে আপনাদের সতর্ক করতাম তবে এর জন্য আমি কঠোরতম শাস্তি দিতাম। কিন্তু সতর্ক করার আগে শাস্তি দেওয়া সমীচীন নয়। আজকের পর থেকে যাকে এ জাতীয় কথা বলতে শোনা যাবে, তার ওপর অপবাদকারীর শাস্তি কার্যকর হবে। জেনে রাখুন, এই উম্মতের নবীর পর সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন আবু বকর ও ওমর। আমি চাইলে তৃতীয় জনের নামও নিতে পারতাম। আমি নিজের জন্য এবং আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"
আব্দুল হামিদ আল-হিমমানি, হাসান ইবনে উমারা থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
11 - أَخْبَرَتْنَا شُهْدَةُ بِنْتُ أَحْمَدَ بْنِ الْفَرَجِ الإِبَرِيِّ الْكَاتِبَةُ كِتَابَةً أَنَّ طراد بن محمد الزينبي أَخْبَرَهُمْ أَنْبَأَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ⦗ص: 53⦘ الْهَاشِمِيُّ ثَنَا أَبُو جَعْفَرِ بْنُ الْبَخْتَرِيِّ إِمْلَاءً ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ الْفَحَّامُ ثَنَا شَاذَانُ أَنْبَأَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ أَبِي بَكْرٍ الْهُذَلِيِّ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ عن عبيدة السلماني قَالَ بَلَغَ عَلِيًّا أَنَّ رَجُلًا سَبَّ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ قَالَ فَبَعَثَ إِلَيْهِ فَأَتَاهُ قَالَ فَجَعَلَ يُعَرِّضُ لَهُ بِعَيْبِهِمَا فَفَطِنَ فَقَالَ أما والذي بعث محمد بِالْحَقِّ لَوْ سَمِعْتُ مِنْكَ مَا بَلَغَنِي أَوْ ثَبَتَتْ عَلَيْكَ بَيِّنَةٌ لألقيت أكثرك شعرا.
১১ - আমাদের নিকট শুহদাহ বিনতে আহমাদ বিন আল-ফারাজ আল-ইবারী আল-কাতিবাহ লিখিতভাবে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিরাদ বিন মুহাম্মাদ আজ-জাইনাবী তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী বিন আব্দুল্লাহ ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ আল-হাশিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাফর বিন আল-বাখতারী আমাদের নিকট শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-ফাহহাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শাযান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু বকর আল-হুযালী থেকে, তিনি ইবনে সীরীন থেকে, তিনি উবাইদাহ আস-সালমানী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলীর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, এক ব্যক্তি আবু বকর ও উমরকে গালি দিয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন: ফলে তিনি তার নিকট লোক পাঠালেন এবং সে তাঁর নিকট আসল। তিনি বলেন: এরপর সে আলীর নিকট তাঁদের দোষত্রুটির প্রতি ইঙ্গিত করতে লাগল। তিনি তা বুঝতে পারলেন এবং বললেন: "সেই সত্তার কসম, যিনি মুহাম্মাদকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন! আমি যা শুনেছি তা যদি সরাসরি তোমার থেকে শুনতাম অথবা তোমার বিরুদ্ধে যদি প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হতো, তবে আমি তোমার শরীরের সেই অংশটি ফেলে দিতাম যেখানে সবচেয়ে বেশি চুল রয়েছে (অর্থাৎ তোমার গর্দান উড়িয়ে দিতাম)।"
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
ذكر قول الله عز وجل: {وَلا تَجْعَلْ فِي قلوبنا غلا للذين آمنوا}12 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْخَبَّازُ بِأَصْبَهَانَ أَنَّ أَبَا الْخَيْرِ مُحَمَّدَ بْنَ رَجَاءِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ يُونُسَ أَخْبَرَهُمْ أَنْبَأَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى بْنِ مَرْدَوَيْهِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَعْمَرٍ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ دَرَسْتَوَيْهِ الْفَارِسِيُّ ثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ ثَنَا الْمُحَاربِيُّ ثَنَا لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ قَالَ بَلَغَ ابْنَ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا نَالَ مِنْ عُثْمَانَ قَالَ فَدَعَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَأقْعَدَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَرَأَ عَلَيْهِ: {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ}. إِلَى آخِرِ الْآيَةِ قَالَ مِن هَؤُلَاءِ أَنْتَ؟ قَالَ لَا ثُمَّ قَرَأَ عَلَيْهِ: {وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ والإيمان من قبلهم}. إلى آخر الآية الحشر:9 ثُمَّ قَالَ لَهُ: أمِن هَؤُلَاءِ أَنْتَ؟ قَالَ: لَا ثُمَّ
⦗ص: 55⦘ قَرَأَ: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إنك رؤوف رحيم}. ثُمَّ قَالَ أمِن هَؤُلَاءِ أَنْتَ؟ قَالَ أَرْجُو أَنْ أَكُونَ مِنْهُمْ. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ لَا وَاللَّهِ مَا يَكُونُ مِنْهُمْ مَنْ يَتَنَاوَلَهُمْ وَكَانَ فِي قَلْبِهِ الْغِلُّ عَلَيْهِمْ.
মহান আল্লাহ তাআলার বাণীর আলোচনা: {এবং আমাদের অন্তরে মুমিনদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রেখো না}১২ - ইস্পাহানে আবুল কাসিম বিন আহমদ বিন আবুল কাসিম বিন মুহাম্মদ আল-খাব্বাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন রাজা বিন ইবরাহিম বিন উমর বিন আল-হাসান বিন ইউনুস তাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমদ বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ বিন মুসা বিন মারদুওয়াইহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন মা’মার, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবরাহিম বিন দারাস্তুওয়াইহ আল-ফারিসি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু কুরাইব, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-মুহারিবি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন লাইস বিন আবি সুলাইম, তিনি বলেন: ইবনে উমরের কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, এক ব্যক্তি উসমান (রা.) সম্পর্কে কটূক্তি করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবদুল্লাহ বিন উমর তাকে ডেকে আনলেন এবং তাকে নিজের সামনে বসালেন। এরপর তিনি তার সামনে তিলাওয়াত করলেন: {সেই অভাবী মুহাজিরদের জন্য, যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি ও ধন-সম্পদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি এদের অন্তর্ভুক্ত? সে বলল: না। এরপর তিনি তার সামনে তিলাওয়াত করলেন: {আর যারা তাদের আগে এই আবাসে (মদিনায়) বসতি স্থাপন করেছে এবং ঈমান গ্রহণ করেছে...} আল-হাশর: ৯, আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: তুমি কি এদের অন্তর্ভুক্ত? সে বলল: না। এরপর
⦗পৃষ্ঠা: ৫৫⦘ তিনি পাঠ করলেন: {এবং যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের পথে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে এবং আমাদের অন্তরে মুমিনদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি পরম দয়ালু, অতি মেহেরবান।} এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি এদের অন্তর্ভুক্ত? সে বলল: আমি আশা করি আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হব। আবদুল্লাহ (ইবনে উমর) বললেন: না, আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তি তাদের প্রতি কটূক্তি করে এবং তার অন্তরে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ থাকে, সে কখনোই তাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
13 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ حَمْزَةَ السُّلَمِيُّ أَنَّ أَبَا عَلِيٍّ الْحَسَنَ بْنَ أَحْمَدَ الْحَدَّادَ أَخْبَرَهُمْ إِجَازَةً أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْوَهَّابِ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ السَّرَّاجُ ثَنَا أَبُو مُصْعَبٍ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ قُدَامَةَ وَهُوَ ابْنُ مُحَمَّدِ بْنُ حَاطِبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ قَالَ: ⦗ص: 56⦘ أَتَانِي نَفَرٌ مِنْ أهل العراق فقالوا فِي أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ رضي الله عنهم فَلَمَّا فَرَغُوا قَالَ لَهُمْ عَلِيُّ بْنُ الْحُسَيْنِ أَلَا تُخْبِرُونِي أَنْتُمُ الْمُهَاجِرُونَ الْأَوَّلُونَ: {الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ هُمُ الصادقون}. قَالُوا لَا قَالَ فَأَنْتُمْ: {وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هَاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حَاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلَى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كَانَ بِهِمْ خَصَاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ}. قَالُوا لَا قَالَ أَمَّا أَنْتُمْ فَقَدْ تَبَرَّأْتُمْ أَنْ تَكُونُوا مِنْ أَحَدِ هَذَيْنِ الْفَرِيقَيْنِ ثُمَّ قَالَ أَشْهَدُ أَنَّكُمْ لَسْتُمْ مِنَ الَّذِينَ قَالَ فِيهِمُ اللَّهُ عز وجل: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالإِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إنك رؤوف رحيم}. اخْرُجُوا فَعَلَ اللَّهُ بِكُمْ.
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ বিন হামযাহ আস-সুলামী যে, আবু আলী আল-হাসান বিন আহমাদ আল-হাদ্দাদ তাঁদের ইজাজতসূত্রে সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আস-সাররাজ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু মুসআব, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইবরাহীম বিন কুদামাহ—আর তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন হাতিবের পুত্র—তাঁর পিতা হতে বর্ণিত, আলী বিন আল-হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৫৬⦘ ইরাকের একদল লোক আমার কাছে এল এবং তারা আবু বকর, উমর ও উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সম্পর্কে (মন্দ) কথা বলল। যখন তারা তাদের কথা শেষ করল, তখন আলী বিন আল-হুসাইন তাদের বললেন, তোমরা কি আমাকে বলবে যে তোমরা কি সেই প্রথম পর্যায়ের মুহাজির: {যাদেরকে নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টির অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাহায্য করে। তারাই তো সত্যবাদী}। তারা বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে তোমরা কি তারা: {যারা তাদের পূর্বে এই জনপদে (মদীনায়) বসবাস করেছে এবং ঈমান এনেছে, তারা তাদের কাছে হিজরত করে আসা লোকেদের ভালোবাসে এবং তাদেরকে (মুহাজিরদের) যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য তারা নিজেদের অন্তরে কোনো চাহিদা অনুভব করে না এবং নিজেদের ওপর তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা নিজেরা অভাবগ্রস্ত হয়। আর যাদেরকে আত্মার কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম}। তারা বলল, না। তিনি বললেন, তোমরা তো এই দুই দলের কোনোটি হতে নিজেদের মুক্ত করে নিলে (অর্থাৎ তোমরা এই দুই দলের অন্তর্ভুক্ত নও)। এরপর তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্তও নও যাদের সম্পর্কে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {এবং যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছেন এবং আমাদের অন্তরে মুমিনদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত দয়ালু, পরম করুণাময়}। এখান থেকে বের হয়ে যাও, আল্লাহ তোমাদের সাথে (তোমাদের কর্ম অনুযায়ী) অনুরূপ আচরণ করুন।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٥٧)
قَوْلُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ14 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الدَّارَقَزِّيُّ أَنَّ الْقَاضِي أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْبَاقِي أَخْبَرَهُمْ أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ أَنْبَأَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ قَالَ ثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْبَزَّازُ ثَنَا عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ ثَنَا عَامِرُ بْنُ مُدْرِكٍ ثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَيْمَنَ قَالَ سمعت الحسن بن محمد ابن الْحَنَفِيَّةِ يَقُولُ مَنْ كَانَ سَأَلَنَا عَنْ أَمْرِنَا وَرَأْيِنَا فإنا قوم الله عز وجل ربنا والإسلام ديننا ومحمد صلى الله عليه وسلم نبينا والقرآن إمامنا وهو حجتنا نرضى من أئمتنا بأبي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما ونرضى أَنْ يُطَاعَا وَنَسْخَطُ أَنْ يُغْضَبَا نُوَالِي وَلِيَّهُمَا وَنُعَادِي عَدُوَّهُمَا.
হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহর বক্তব্য১৪ - আবু হাফস উমর ইবনে মুহাম্মদ আদ-দারাকাজ্জি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, কাজি আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি তাঁদের জানিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আল-জাওহারি আমাদের জানিয়েছেন, আবুল হাসান আলি ইবনে উমর ইবনে আহমদ আল-হাফিয আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন, ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আল-বাজ্জায আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে শাব্বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমির ইবনে মুদরিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আয়মান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হানাফিয়্যাহকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি আমাদের পথ ও মতাদর্শ সম্পর্কে আমাদের জিজ্ঞাসা করে, (সে জানুক যে) আমরা এমন এক সম্প্রদায় যাদের প্রতিপালক হলেন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা, ইসলাম আমাদের দ্বীন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নবী এবং কুরআন আমাদের ইমাম ও আমাদের দলিল। আমরা আমাদের ইমামদের মধ্য থেকে আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর প্রতি সন্তুষ্ট। তাঁদের আনুগত্য করা হোক—তাতে আমরা সন্তুষ্ট এবং তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা হোক—তাতে আমরা অসন্তুষ্ট। আমরা তাঁদের বন্ধুর সাথে বন্ধুত্ব করি এবং তাঁদের শত্রুর সাথে শত্রুতা পোষণ করি।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٥٨)
قَوْلُ زَيْدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ15 - أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي أَنْبَأَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَنْبَأَنَا علي بن عمر الْحَافِظِ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الصُّوفِيُّ ثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ دُبَيْسٍ الْمُلَائِيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ [عَنْ] هَاشِمِ بْنِ الْبَرِيدِ عَنْ زَيْدِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ لِي يَا هَاشِمُ اعْلَمْ وَاللَّهِ إِنَّ الْبَرَاءَةَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ الْبَرَاءَةُ مِنْ عَلِيٍّ رضي الله عنهم، فَإِنْ شِئْتَ فَتَقَدَّمْ وَإِنْ شِئْتَ فَتَأخَّرْ.
যায়দ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইনের বক্তব্য১৫ - উমর ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী আমাদের জানিয়েছেন, হাসান ইবনে মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন, হাফেজ আলী ইবনে উমর আমাদের জানিয়েছেন, আহমাদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে ইয়াহইয়া আস-সুফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে দুবাইস আল-মুলায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে কাসীর [হাশিম ইবনুল বারীদ হতে] আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি যায়দ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তিনি আমাকে বললেন, হে হাশিম! জেনে রেখো, আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আবু বকর ও উমর থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা মানে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা। এখন তোমার ইচ্ছা হলে অগ্রসর হও আর ইচ্ছা হলে পিছিয়ে থাকো।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٥٩)
مَا ذُكِرَ مِنْ قَوْلِ أَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ رضي الله عنهم16 - قُرِئَ عَلَى الشَّيْخِ أَبِي الْحُسَيْنِ أَحْمَدَ بْنِ حَمْزَةَ السُّلَمِيِّ وَأَنَا أَسْمَعُ أَخْبَرَكُمْ أَبُو عَلِيٍّ الْحَدَّادُ إِجَازَةً وَأَخْبَرَكُمْ يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْبَاقِي قِرَاءَةً عَلَيْهِ أَنْبَأَنَا حَمْدُ بْنُ أَحْمَدَ قَالَا أَنْبَأَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُبَيْشٍ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يَحْيَى الْحُلْوَانِيُّ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شَمِرٍ
⦗ص: 60⦘ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ لِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ يَا جَابِرُ بَلَغَنِي أَنَّ قَوْمًا بِالْعِرَاقِ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ يُحبَّونَنَا وَيَتَنَاوَلُونَ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَيَزْعُمُونَ أَنِّي آمُرُهُمْ بِذَلِكَ فَأَبْلِغْهُمْ أَنِّي إِلَى اللَّهِ مِنْهُمْ بَرِيءٌ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ وَلِيتُ لَتَقَرَّبْتُ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى بِدِمَائِهِمْ، لَا نَالَتْنِي شَفَاعَةُ مُحَمَّدٍ إِنْ لَمْ أَكُنْ أَسْتَغْفِرُ لَهُمَا وَأَتَرَحَّمُ عَلَيْهِمَا، إِنَّ أَعْدَاءَ اللَّهِ لَغَافِلُونَ عَنْهُمَا.
আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর উক্তি থেকে যা বর্ণিত হয়েছে১৬ - শায়খ আবুল হুসাইন আহমদ ইবনে হামজাহ আস-সুলামীর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি শুনছিলাম, তিনি বলেন: আবু আলী আল-হাদ্দাদ ইজাযতসূত্রে আপনাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল বাকী তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন যে, হামদ ইবনে আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁরা বলেন, আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুবাইশ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হুলওয়ানী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমদ ইবনে ইউনুস আমর ইবনে শামির থেকে আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন
⦗পৃষ্ঠা: ৬০⦘ জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আলী আমাকে বললেন, হে জাবির! আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইরাকের একদল লোক দাবি করে তারা আমাদের ভালোবাসে এবং তারা আবু বকর ও ওমরকে গালিগালাজ করে এবং দাবি করে যে আমিই তাদের এমনটি করতে নির্দেশ দিই। সুতরাং তুমি তাদের কাছে সংবাদ পৌঁছে দাও যে, আমি আল্লাহর কাছে তাদের থেকে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দিচ্ছি। যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ রয়েছে তাঁর কসম, আমি যদি কর্তৃত্ব লাভ করতাম তবে তাদের রক্ত প্রবাহিত করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অন্বেষণ করতাম। আমি যদি তাঁদের দুজনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করি এবং তাঁদের ওপর রহমত কামনা না করি, তবে আমি যেন মুহাম্মদের শাফায়াত লাভ করতে না পারি। নিশ্চয়ই আল্লাহর শত্রুরা তাঁদের ব্যাপারে উদাসীন।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
17 - وَبِهِ أَنْبَأَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ سَلْمٍ ثَنَا عَبَّاسُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُقَيْلٍ حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ قَالَ حَدَّثَنِي شُعْبَةُ الْخَيَّاطُ مَوْلَى جَابِرِ الْجُعْفيِّ حَدَّثَنِي مَوْلَايَ جَابِرٌ الْجُعْفِيُّ قَالَ قَالَ لِي أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ لَمَّا وَدَّعْتُهُ أَبْلِغْ أَهْلَ الْكُوفَةِ أَنِّي بَرِيءٌ مِمَّنْ تَبَرَّأَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما.
17 - এবং একই সনদে আবু নুআইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে উমর ইবনে সালম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আব্বাস ইবনে আহমাদ ইবনে উকাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মানসুর ইবনে আবি মুজাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জাবির আল-জু'ফির মুক্তদাস শু'বাহ আল-খাইয়্যাত আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার মনিব জাবির আল-জু'ফি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু জাফর মুহাম্মাদ ইবনে আলী আমাকে তাঁর থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বললেন: তুমি কুফাবাসীদের নিকট পৌঁছে দাও যে, যে ব্যক্তি আবু বকর ও উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় বা তাদের প্রতি বিরাগ পোষণ করে, আমি তার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٦٠)
18 - وَبِهِ ثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُبَيْشٍ ثَنَا ⦗ص: 61⦘ إِبْرَاهِيمُ بْنُ شَرِيكٍ ثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ ثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَ مَنْ لَمْ يَعْرِفْ فَضْلَ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ رضي الله عنهما فَقَدْ جَهِلَ السُّنَّةَ.
১৮ - এবং একই সূত্রে আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, মুহাম্মদ বিন আলী বিন হুবাইশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৬১⦘ ইবরাহীম বিন শারীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, উকবা বিন মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, ইউনুস বিন বুকাইর মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে এবং তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: যে ব্যক্তি আবু বকর ও উমরের (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) মর্যাদা সম্পর্কে অবগত নয়, সে অবশ্যই সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٦١)
19 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ ضِيَاءُ بْنُ أَبِي الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي عَلِيٍّ بِبَغْدَادَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْبَاقِي الْبَزَّازَ أَخْبَرَهُمْ ثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْجَوْهَرِيُّ ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْحَافِظُ ثَنَا أَبُو عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلَدٍ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَتِيقُ ثَنَا الْفَضْلُ بْنُ جُبَيْرٍ ثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ صَاحِبُ الْكَرَابِيسيُّ عَنْ ⦗ص: 62⦘ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى أَبِي فَقَالَ أَخْبِرْنِي عَنْ أَبِي بَكْرٍ قَالَ عَنِ الصِّدِّيقِ تَسْأَلُ قَالَ رَحِمَكَ اللَّهُ وَتُسَمِّيهِ الصِّدِّيقَ قَالَ ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ قَدْ سَمَّاهُ صِدِّيقًا مَنْ هُوَ خَيْرٌ مني منك رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْمُهَاجِرُونَ وَالْأَنْصَارُ فَمَنْ لَمْ يُسَمِّهِ صِدِّيقًا لَا صَدَّقَ اللَّهُ قَوْلَهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ اذْهَبْ فَأحِبَّ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ وَتَوَلَّهُمَا فَمَا كَانَ مِنْ إِثْمٍ فَفِي عُنُقِي.
১৯ - বাগদাদে আবু আলী যিয়া ইবনে আবিল কাসিম ইবনে আবু আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল বাকী আল-বায্যায তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আল-জাওহারী; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী ইবনে উমর ইবনে আহমাদ আল-হাফিয; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মাখলাদ; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহীম ইবনে মুহাম্মাদ আল-আতীক; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফাদল ইবনে জুবায়ের; আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কারাবিসীর সঙ্গী ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর; তিনি ⦗পৃষ্ঠা: ৬২⦘ জা’ফর ইবনে মুহাম্মাদ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আমার পিতার নিকট এসে বলল, “আমাকে আবু বকর সম্পর্কে বলুন।” তিনি বললেন, “তুমি কি সিদ্দীক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ?” সে বলল, “আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি কি তাঁকে সিদ্দীক বলে অভিহিত করেন?” তিনি বললেন, “তোমার মা তোমাকে হারাক! তাঁকে তো এমন ব্যক্তিবর্গ সিদ্দীক বলে অভিহিত করেছেন যারা আমার ও তোমার চেয়ে উত্তম; অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুহাজিরগণ এবং আনসারগণ। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁকে সিদ্দীক বলবে না, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার কথা সত্য করবেন না। যাও, আবু বকর ও উমরকে ভালোবাসো এবং তাঁদের অনুসরণ করো; এতে যদি কোনো গুনাহ হয়, তবে তা আমার ঘাড়ে।”
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٦٢)
20 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُظَفَّرِ عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ مُحَمَّدٍ السَّمْعَانيُّ الْمَرْوَزِيُّ أَنَّ أَبَا عَامِرٍ سعد بن علي الغفاري أخبرهم ثنا أبو القاسم إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْخَلَّالَ ثَنَا أَبُو مَعْمرٍ الْمُفَضَّلُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَحْمَدَ ثَنَا الْإِمَامُ جَدِّي ⦗ص: 63⦘ ثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَاتِمٍ الْقُومَسِيُّ ثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ الْمُؤْمِنِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ دَاوُدَ الْوَاسِطِيَّ التَّمَّارَ ثَنَا يَحْيَى بْنَ الْمُتَوَكِّلِ عَنْ كَثِيرٍ النَّوَّاءِ قَالَ قُلْتُ لِأَبِي جَعْفَرٍ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنهم: إِي جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ إِنَّ النَّاسَ يَقُولُونَ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ ظَلَمَاكُمْ وَذَهَبَا بِحَقِّكُمْ فَقَالَ لَا وَالَّذِي أَنْزَلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا مَا ظَلَمَانَا وَلَا ذَهَبَا مِنْ حَقِّنَا مَا يَزِنُ حَبَّةَ خَرْدَلٍ، قُلْتُ إِي جَعَلَنِي اللَّهُ فِدَاكَ أَفَأَتَوَلَّاهُمَا؟ فَضَرَبَ يَدَهُ عَلَى عَاتِقِي وَقَالَ لِي وَيْحَكَ يَا كَثِيرُ تَوَلَّهُمَا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ فَمَا أَصَابَكَ فَفِي عُنُقِي، بَرِئَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِمَّنْ كَذَبَ ⦗ص: 64⦘ عَلَيْنَا أَهْلَ الْبَيْتِ يَعْنِي الْمُغِيرَةَ بْنَ فُلَانٍ السَّاحِرَ وَبَيَانَ الْمَدِينِيَّ إِنَّهُمَا كَذِبَا عَلَيْنَا.
২০ - আবুল মুজাফফর আব্দুর রহীম ইবন আব্দুল কারীম ইবন মুহাম্মদ আস-সামআনী আল-মারওয়াযী আমাদের অবহিত করেছেন যে, আবু আমির সা’দ ইবন আলী আল-গাফফারী তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল কাসিম ইবরাহীম ইবন উসমান ইবন ইবরাহীম আল-খাল্লাল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মামার আল-মুফাদ্দাল ইবন ইসমাঈল ইবন আহমদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইমাম আমার দাদা ⦗পৃষ্ঠা: ৬৩⦘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী ইবন মুহাম্মদ ইবন হাতিম আল-কুমাসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবন আব্দুল মু’মিন ইবন আব্দুর রহমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ অর্থাৎ ইবন দাউদ আল-ওয়াসিতী আত-তাম্মার, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনুল মুতাওয়াক্কিল, তিনি কাসীর আন-নাওয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন আলী ইবনুল হুসাইন ইবন আলী ইবন আবী তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-কে বললাম: হে (ইমাম), আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন! নিশ্চয়ই মানুষ বলে যে, আবু বকর ও উমর আপনাদের প্রতি জুলুম করেছেন এবং আপনাদের অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছেন। তখন তিনি বললেন: কক্ষনোই না; সেই সত্তার কসম যিনি তাঁর বান্দার ওপর ফুরকান অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারী হতে পারেন, তাঁরা আমাদের প্রতি কোনো জুলুম করেননি এবং আমাদের অধিকার থেকে সরিষার দানা পরিমাণও ছিনিয়ে নেননি। আমি বললাম: ওগো, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গিত করুন! আমি কি তবে তাঁদের অভিভাবক ও বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করব? তখন তিনি আমার কাঁধে তাঁর হাত দিয়ে আঘাত করলেন এবং আমাকে বললেন: তোমার জন্য আফসোস হে কাসীর! দুনিয়া ও আখিরাতে তুমি তাঁদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো এবং তাঁদের আনুগত্য করো; এতে তোমার যা কিছু (বিপদ) ঘটবে তার দায় আমার ঘাড়ে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ওই ব্যক্তি থেকে দায়মুক্ত যে আমাদের অর্থাৎ আহলে বাইতের ওপর মিথ্যা আরোপ করেছে ⦗পৃষ্ঠা: ৬৪⦘ অর্থাৎ অমুক জাদুকরের পুত্র আল-মুগীরা এবং বায়ান আল-মাদীনি; নিশ্চয়ই তারা উভয়ে আমাদের নামে মিথ্যা বলেছে।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٦٤)
21 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَمْزَةَ السُّلَمِيُّ أَنَّ الْحَسَنَ بْنَ أَحْمَدَ أَجَازَ لَهُمْ ثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حُبَيْشٍ ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ شَرِيكٍ الْأَسَدِيُّ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ ثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجُعْفِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ⦗ص: 65⦘ قَالَ سَأَلْتُ أَبَا جَعْفَرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيٍّ عَنْ حِلْيَةِ السُّيُوفِ فَقَالَ لَا بَأْسَ بِهِ قَدْ حَلَّى أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ سَيْفَهُ قَالَ قُلْتُ وَتَقُولُ الصِّدِّيقَ قَالَ فَوَثَبَ وَثْبَةً وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ ثُمَّ قَالَ نَعَمِ الصديق نَعَمِ الصِّدِّيقُ نَعَمِ الصِّدِّيقُ فَمَنْ لَمْ يَقُلْ لَهُ الصِّدِّيقُ فَلَا صَدَّقَ اللَّهُ لَهُ قَوْلًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ.
২১ - আহমাদ বিন হামযাহ আস-সুলামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আল-হাসান বিন আহমাদ তাদের অনুমতি প্রদান করেছেন; আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ বিন আলী বিন হুবাইশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবরাহীম বিন শারীক আল-আসাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উকবাহ বিন মুকরাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস বিন বুকাইর আবু আব্দুল্লাহ আল-জুফী থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৬৫⦘ তিনি বলেন: আমি আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আলীকে তলোয়ারের অলঙ্করণ বা কারুকার্য করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এতে কোনো অসুবিধা নেই, নিশ্চয়ই আবু বকর আস-সিদ্দিক তাঁর তলোয়ার কারুকার্যখচিত করেছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম, আপনিও কি তাঁকে 'আস-সিদ্দিক' বলছেন? তিনি বলেন: তখন তিনি এক লাফে দাঁড়িয়ে কিবলার দিকে মুখ করলেন, এরপর বললেন: হ্যাঁ, আস-সিদ্দিক; হ্যাঁ, আস-সিদ্দিক; হ্যাঁ, আস-সিদ্দিক। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁকে আস-সিদ্দিক বলবে না, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার কোনো কথাই সত্য বলে গণ্য করবেন না।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٦٦)
قَوْلُ الْحَسَنِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رحمه الله22 - أَخْبَرَنَا الْحَافِظُ أَبُو طَاهِرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ السَّلَفِيُّ فِي كِتَابِهِ وَأَخْبَرَنَا عَنْهُ الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ خَلَفٍ الْمَقْدِسِيُّ أَنَّ أَبَا مُطِيعٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْمِصْرِيَّ أَخْبَرَهُمْ أَنْبَأَ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي عَلِيٍّ الْقَاضِي أَنْبَأَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ فَارِسٍ ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَاصِمٍ ثَنَا شَبَابَةُ ثَنَا
⦗ص: 67⦘ الْفُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ قَالَ سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ الْحَسَنِ أَخَا عبد الله بن الْحَسَنِ وَهُوَ يَقُولُ لِرَجُلٍ مِمَّنْ يَغْلُو فِيهِمْ وَيْحَكُمْ أَحِبُّونَا للَّهِ عز وجل فَإِنْ أَطَعْنَا اللَّهَ فَأَحِبُّونَا وَإِنْ عَصَيْنَا اللَّهَ فَأَبْغِضُونَا قَالَ فَقَالَ لَهُ الرَّجُلُ أَنْتُمْ ذَوُو قَرَابَةٍ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَهْلِ بَيْتِهِ فَقَالَ وَيْحكُمْ لَوْ كَانَ اللَّهُ نَافِعًا بِقَرَابَةٍ مِنْ رَسُولِهِ بِغَيْرِ عَمَلٍ بِطَاعَتِهِ لَنَفَعَ بِذَلِكَ مَنْ هُوَ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنَّا أَبَاهُ وَأُمَّهُ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَخَافُ أَنْ يُضَاعِفَ لِلْعَاصِي مِنَّا الْعَذَابَ ضِعْفَيْنِ وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْجُو أَنْ يُؤْتَى الْمُحْسِنُ مِنَّا أَجْرَهُ مَرَّتَيْنِ
قَالَ ثُمَّ قَالَ لَقَدْ أَسَاءَ بِنَا آبَاؤُنَا وَأُمَّهَاتُنَا إِنْ كَانَ مَا تَقُولُونَ فِي دِينِ اللَّهِ حَقًّا ثُمَّ لَمْ يُخْبِرُونَا بِهِ وَلَمْ يُطْلِعُونَا عَلَيْهِ وَلَمْ يُرَغِّبُونَا فِيهِ فَنَحْنُ وَاللَّهِ كُنَّا أَقْرَبَ مِنْهُمْ قَرَابَةً مِنْكُمْ وَأَوْجَبَ عَلَيْهِمْ حَقًّا وَأَحَقَّ بِأَنْ يُرَغِّبُونَا فِيهِ مِنْكُمْ وَلَوْ كَانَ الْأَمْرُ كَمَا تَزْعُمُونَ وَأَنَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ اخْتَارَا عَلِيًّا لِهَذَا الْأَمْرِ وَلِلْقِيَامِ عَلَى النَّاسِ بَعْدَهُ إِنْ كَانَ أَعْظَمَ النَّاسِ فِي ذَلِكَ خَطِيئةً وَجُرْمًا إذ تَرَكَ أَمْرَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقُومَ فِيهِ كَمَا أَمَرَهُ أَوْ يَعْذُرَ فِيهِ إِلَى النَّاسِ
قَالَ فَقَالَ لَهُ الرَّافِضِيُّ أَلَمْ يَقُلْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِعَلِيٍّ مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ؟ قَالَ أَمَا وَاللَّهِ أَنْ
⦗ص: 68⦘ لَوْ عَنَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ الْإِمَارَةَ وَالسُّلْطَانَ وَالْقِيَامَ عَلَى النَّاسِ لَأَفْصَحَ لَهُمْ بِذَلِكَ كَمَا أَفْصَحَ لَهُمْ بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَصِيَامِ رَمَضَانَ وَحَجِّ الْبَيْتِ وَلَقَالَ لَهُمْ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ هَذَا وَلِيُّ أَمْرِكُمْ مِنْ بَعْدِي فَاسْمَعُوا لَهُ وَأَطِيعُوا فَإِنَّ أَنْصَحَ النَّاسِ كَانَ لِلْمُسْلِمِينَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবু তালিব (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য২২ - হাফিয আবু তাহির আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আস-সিলাফি তাঁর কিতাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন খালাফ আল-মাকদিসি তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু মুতি’ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল আযীয আল-মিসরি তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর বিন আবি আলী আল-কাদি সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন ফারিস সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ বিন আসিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, শাবাবাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন,
⦗পৃষ্ঠা: ৬৭⦘ আল-ফুদায়ল বিন মারযুক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি হাসান বিন হাসানকে (যিনি আব্দুল্লাহ বিন হাসানের ভাই) তাদের ব্যাপারে চরমপন্থী এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি, "তোমাদের দুর্ভোগ হোক! তোমরা আমাদেরকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসো। আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করি তবে আমাদের ভালোবাসো, আর যদি আল্লাহর অবাধ্য হই তবে আমাদের ঘৃণা করো।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন লোকটি তাঁকে বলল, "আপনারা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকটাত্মীয় এবং তাঁর আহলে বাইত।" তিনি বললেন, "তোমাদের দুর্ভোগ হোক! আল্লাহ যদি তাঁর আনুগত্যের আমল ব্যতীত কেবল তাঁর রাসূলের সাথে আত্মীয়তার কারণে কাউকে উপকৃত করতেন, তবে যারা আমাদের চেয়েও তাঁর অধিক নিকটবর্তী ছিলেন—অর্থাৎ তাঁর পিতা ও মাতা—তাঁদেরই তিনি এর মাধ্যমে উপকৃত করতেন। আল্লাহর কসম, আমি আশঙ্কা করি যে আমাদের মধ্য থেকে পাপাচারীকে দ্বিগুণ শাস্তি প্রদান করা হবে। আর আল্লাহর কসম, আমি আশা করি যে আমাদের মধ্য থেকে সৎকর্মশীল ব্যক্তিকে তাঁর প্রতিদান দুইবার প্রদান করা হবে।"
বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি বললেন, "তোমরা আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে যা বলছ তা যদি সত্য হতো এবং আমাদের পিতা-মাতা তা আমাদেরকে না জানাতেন, আমাদেরকে সে বিষয়ে অবগত না করতেন এবং সেদিকে উৎসাহিত না করতেন, তবে তাঁরা আমাদের সাথে অন্যায় আচরণ করে গেছেন। আল্লাহর কসম, আমরা তোমাদের তুলনায় তাঁদের অধিক নিকটাত্মীয় ছিলাম এবং তাঁদের ওপর আমাদের হক তোমাদের চেয়ে বেশি ছিল; সুতরাং তোমাদের তুলনায় আমাদেরকেই সেদিকে উৎসাহিত করা তাঁদের জন্য অধিক সমীচীন ছিল। আর বিষয়টি যদি তেমনই হতো যা তোমরা দাবি করছ—অর্থাৎ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যদি আলীকে এই কাজের (নেতৃত্বের) জন্য এবং তাঁর পরে মানুষের অভিভাবকত্বের জন্য মনোনীত করতেন—তবে আলী হতেন এক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচাইতে বড় অপরাধী ও গুনাহগার; কারণ তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই আদেশ পালন করা বর্জন করেছেন যা তাঁকে করার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন অথবা সে বিষয়ে মানুষের কাছে কোনো ওজর পেশ করেননি।"
বর্ণনাকারী বলেন, তখন জনৈক রাফেযী তাঁকে বলল, "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি আলীর ব্যাপারে বলেননি: 'আমি যার মাওলা, আলীও তার মাওলা'?" তিনি বললেন, "শোনো, আল্লাহর কসম! যদি
⦗পৃষ্ঠা: ৬৮⦘ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দ্বারা শাসনক্ষমতা, কর্তৃত্ব এবং মানুষের ওপর অভিভাবকত্ব বুঝাতেন, তবে তিনি অবশ্যই তাদের কাছে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতেন যেভাবে তিনি তাদের কাছে নামায, যাকাত, রমজানের রোজা এবং বায়তুল্লাহর হজের কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি অবশ্যই তাদের বলতেন, 'হে লোকসকল! এ ব্যক্তিই আমার পরে তোমাদের কার্যভার গ্রহণকারী, সুতরাং তোমরা তার কথা শোনো এবং তার আনুগত্য করো।' কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন মুসলমানদের জন্য সবচাইতে হিতাকাঙ্ক্ষী ও উপদেশদাতা ব্যক্তি।"
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٦٩)
قَوْلُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ23 - أَنْبَأَنَا زَاهِرُ بْنُ أَحْمَدَ الثَّقَفِيُّ أَنَّ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنَ بْنَ عَبْدِ الْمَلِكِ أَجَازَ لَهُمْ أَنَّ أَبَا الْقَاسِمِ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْدَهْ أَذِنَ لَهُمْ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى أَنْبَأَنَا أَبِي ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ السَّرَّاجُ ثَنَا الْعَبَّاسُ
⦗ص: 70⦘ بْنُ أَبِي طَالِبٍ ثَنَا بِشْرُ بْنُ آدَمَ ثَنَا عَبْثَرُ بْنُ الْقَاسِمِ أَبُو زُبَيْدٍ ثَنَا عَمَّارُ بْنُ رُزَيْقٍ الضَّبِّيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَسَنِ قَالَ مَا أَرَى رَجُلًا يَسُبُّ أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ تُيَسَّرُ لَهُ تَوْبَةٌ أَبَدًا.
আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে আলী রহমাতুল্লাহি আলাইহির উক্তি২৩ - জাহির ইবনে আহমাদ আস-সাকাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আব্দুল মালিক তাদের অনুমতি দিয়েছেন যে, আবুল কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে মানদাহ তাদের অনুমতি দিয়েছেন; (তিনি বলেছেন) মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; (তিনি বলেছেন) আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আস-সাররাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আব্বাস
⦗পৃষ্ঠা: ৭০⦘ ইবনে আবি তালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; বিশর ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আবু যুবায়দ আবসার ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আম্মার ইবনে রুজাইক আদ-দব্বী আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মনে করি না যে ব্যক্তি আবু বকর ও উমরকে গালি দেয়, তার জন্য কখনো তওবা করা সহজ হবে।"
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٧٠)
24 - وَبِهِ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ إِذْنًا أَنْبَأَ عَبْدُ الصَّمَدِ بن مُحَمَّدٍ الْعَاصِمِيُّ أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ الْمُسْتَمْلِي ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَرْخَانَ ثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ ثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ ثَنَا حَفْصُ بْنُ قَيْسٍ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَسَنِ عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَ امْسَحْ فَقَدْ مَسَحَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ قُلْتُ إِنَّمَا أَسْأَلُكَ أَنْتَ تَمْسَحُ قَالَ ذَاكَ أَعْجَزُ لَكَ أُخْبِرُكَ عَنْ عُمَرَ وَتَسْأَلُنِي عَنْ رَأْيِي فَعُمَرُ كَانَ خَيْرًا
⦗ص: 71⦘ مِنِّي وَمِنْ مِلْءِ الْأَرْضِ
فَقُلْتُ يَا أَبَا مُحَمَّدٍ فَإِنَّ نَاسًا يَزْعُمُونَ أَنَّ هَذَا مِنْكُمْ تَقِيَّةٌ قَالَ فَقَالَ لِي وَنَحْنُ بَيْنَ الْقَبْرِ وَالْمِنْبَرِ اللَّهُمَّ إِنَّ هَذَا قَوْلِي فِي السِّرِّ وَالْعَلَانِيَةِ فَلَا تَسْمَعَنَّ عَلَيَّ قَوْلَ أحَدٍ بَعْدِي ثُمَّ قَالَ مَنْ هَذَا الَّذِي يَزْعُمُ أَنَّ عَلِيًّا رضي الله عنه كَانَ مَقْهُورًا وَأَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ بِأَمْرٍ وَلَمْ يُنَفِّذْهُ وَكَفَى بِإِزْرَاءٍ عَلَى عَلِيٍّ وَمَنْقَصَةٍ أَنْ تَزْعُمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَهُ بِأَمْرٍ وَلَمْ يُنَفِّذْهُ.
২৪ - এবং এর মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ অনুমতিক্রমে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আব্দুস সামাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আসিমী, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে আহমাদ আল-মুস্তামলী, তিনি আমাদের বলেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তারখান, তিনি আমাদের বলেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব, তিনি আমাদের বলেছেন শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার, তিনি আমাদের বলেছেন হাফস ইবনে কাইস। তিনি বলেন: আমি আব্দুল্লাহ ইবনে হাসানকে মোজার উপর মাসেহ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: মাসেহ করো, কেননা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু মাসেহ করেছেন। তিনি বলেন, আমি বললাম: আমি তো আপনাকে আপনার নিজের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছি যে আপনি মাসেহ করেন কি না। তিনি বললেন: এটা তোমার জন্য এক চরম অক্ষমতা; আমি তোমাকে উমরের কথা বলছি আর তুমি আমাকে আমার ব্যক্তিগত মতামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছ! অথচ উমর আমার চেয়ে এবং পৃথিবী পূর্ণ
⦗পৃষ্ঠা: ৭১⦘ (আমার মতো মানুষ) থেকেও শ্রেষ্ঠ ছিলেন।
অতঃপর আমি বললাম: হে আবু মুহাম্মদ! কিছু লোক দাবি করে যে, আপনাদের এই বক্তব্য মূলত তাকিয়া (কৌশলগত সত্য গোপন)। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি আমাকে বললেন—এমতাবস্থায় যে আমরা (নবীজীর) কবর ও মিম্বরের মাঝে অবস্থান করছিলাম: হে আল্লাহ! এটাই গোপনে ও প্রকাশ্যে আমার প্রকৃত বক্তব্য। সুতরাং আমার পরে আপনি আমার ব্যাপারে অন্য কারো দাবি শুনবেন না। এরপর তিনি বললেন: সেই ব্যক্তি কে যে ধারণা করে যে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু অসহায় বা বিজিত ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কোনো বিষয়ের আদেশ দিয়েছিলেন অথচ তিনি তা কার্যকর করেননি? আলীর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন ও তাঁকে খাটো করার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি ধারণা করবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে কোনো নির্দেশ দিয়েছিলেন অথচ তিনি তা বাস্তবায়ন করেননি।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٧١)
25 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ سُلَيْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الْمَوْصِلِيُّ بِبَغْدَادَ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ السَّلَّالِ أَخْبَرَهُمْ قِرَاءَةً عَلَيْهِ أَنْبَأَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدٍ الْمُهْتَدِي بِاللَّهِ ثَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْكِتَّانِيُّ إِمْلَاءً ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ ⦗ص: 72⦘ الْجَوْزَجَانِيُّ ثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ ثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ الطَّنَافِسِيُّ ثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ قَالَ سَأَلْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمَا وَلَا صَلَّى عَلَى مَنْ لَا يُصَلِّي عَلَيْهِمَا.
২৫ - বাগদাদে আবুল ফজল সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-মাওসিলি আমাদের জানিয়েছেন যে, মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আস-সাল্লাল তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে তাঁদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-মুহতাদি বিল্লাহ আমাদের খবর দিয়েছেন; আবু হাফস উমর বিন ইব্রাহিম আল-কিত্তানি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আহমদ বিন আলী ⦗পৃষ্ঠা: ৭২⦘ আল-জাওজাজানি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; জিয়াদ বিন আইয়ুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; ইয়ালা বিন উবায়েদ আত-তানাফিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আবু খালিদ আল-আহমার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ বিন আল-হাসানকে আবু বকর ও উমর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, “আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তিনি ঐ ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করবেন না যে তাঁদের উভয়ের ওপর রহমত প্রার্থনা করে না।”
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٧٣)
قَوْلُ التَّيَّارِ مَلِكُ الْمِيَاهِ26 - أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ الْمُؤدِّبُ أَنَّ الشَّرِيفَ أَبَا مَنْصُورٍ الْأَسْعَدَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُهْتَدِي بِاللَّهِ أَخْبَرَهُمْ قَالَ أَنْبَأَنَا الشَّرِيفُ أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْوَدُودِ بْنِ الْمُهْتَدِي بِاللَّهِ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو عَمْرٍو عُثْمَانُ بْنُ عِيسَى الصَّمُوتُ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْبَاقِلَّانِيُّ مِنْ كِتَابِهِ وَهُوَ يَسْمَعُ فِي مَسْجِدِهِ قَالَ ثَنَا أَبُو الطَّيِّبِ بْنُ الْمُنْتَابِ ثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ حَمْدَانَ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ فَضْلَانَ ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ ثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ عَبْدِ الْكَرِيمِ الصَّنْعَانِيُّ عَنْ إِدْرِيسَ بْنِ سِنَانٍ عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ الْيَمَانِيِّ قَالَ
رَأَيْتُ أُسْقُفَّ قَيْسَارِيَّةَ مُسْلِمًا وَقَدْ كَانَ قَبْلَ ذَلِكَ نَصْرَانِيًّا تُشِيرُ إِلَيْهِ النَّصْرَانِيَّةُ بِالْأَصَابِعِ وَيُعَظِّمُونَهُ فَقُلْتُ لَهُ مَا الَّذِي دَعَاكَ إِلَى الْإِسْلَامِ بَعْدَ تِلْكَ الرِّيَاسَةِ وَرْغَبَتَكَ فِيهَا فَقَالَ رَكِبْتُ الْبَحْرَ فَكُسِرْنَا فَأَفْلَتُّ أَنَا عَلَى لَوْحٍ وَحْدِي فَلَمْ يَزَلِ اللَّوْحُ يَسِيرُ بِي وَحْدِي وَالْأَمْوَاجُ تَلْعَبُ بِي شَهْرًا لَا أَدْرِي أَيْنَ أَتَوَجَّهُ مِنْ
⦗ص: 74⦘ بِلَادِ اللَّهِ ثُمَّ إن البحر نبذني إلى جَزِيرَةٍ كَبِيرَةٍ فِيهَا شَجَرٌ عَظِيمٌ جِدًّا مَا رَأَيْتُ شَجَرًا أَكْبَرَ مِنْهُ وَلَهُ وَرَقٌ تُغَطِّي الْوَرَقَةُ الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ تَحْمِلُ شَيْئًا من النَّبْقِ وَلَيْسَ بِهِ أَحْلَى مِنَ التَّمْرِ .. .. وَنَهْرٌ فِي الْجَزِيرَةِ جَارٍ عَذْبٌ شَدِيدُ الْجَرَيَانِ فَأَكَلْتُ مِنْ ذَلِكَ الثَّمَرِ وَشَرِبْتُ مِنْ ذَلِكَ الماء وقلت لا أبرح من هَذَا الْمَوْضِعَ أَوْ يَأْتِي اللَّهُ بِالْفَرَجِ أَوِ الْمَوْتِ
فَلَمَّا أَنْ أَمْسَيْتُ وَغَرُبَتِ الشَّمْسُ وَأَقْبَلَ اللَّيْلُ بسواده فإذا أنا بِقَائِلٍ يَقُولُ مِثْلُ الرَّعْدِ فِي الشِّدَّةِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْمَلِكُ الْجَبَّارُ الْعَزِيزُ الْغَفَّارُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ الْحَبِيبُ الْمُصْطَفَى الْمُخْتَارُ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ صَاحِبُ الْغَارِ عُمَرُ الْفَارُوقُ مِفْتَاحُ الْأَمْصَارِ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ الْحَسَنُ الْجِوَارُ عَلِيُّ الرَّضِيُّ قَاصِمُ الْكُفَّارِ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ الْمُصْطَفُونَ الْأَخْيَارُ وَقَاهُمُ اللَّهُ عَذَابَ النَّارِ عَلَى مَنْ سَبَّهُمْ لَعْنَةُ اللَّهِ وَمَأْوَاهُ جَهَنَّمُ وَلَبِئْسَ الْقَرَارُ
فَانْخَلَعَ لِذَلِكَ قَلْبِي وَطَارَ نَوْمِي ثُمَّ هَدَأَ الصَّوْتُ فَلَمَّا أَنْ كَانَ فِي وَسَطِ اللَّيْلِ عَادَ ذَلِكَ الْكَلَامُ فَلَمَّا أَنْ كَانَ فِي السَّحَرِ عَادَ ذَلِكَ الْكَلَامُ فَلَمَّا أَنْ أَصْبَحْتُ وَطَلَعَتِ الشَّمْسُ إِذَا أَنَا بِصُورَةِ رَأْسِ جَارِيَةٍ فِي الْبَحْرِ تَسْبَحُ لَمْ أَرَ أَحْسَنَ وَجْهًا مِنْهَا بِشَعْرٍ قَدْ جَلَّلَهَا وَإِذَا أَنَا بِالصُّورَةِ تَقُولُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْقَرِيبُ الْمُجِيبُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ الْمُصْطَفَى الْحَبِيبُ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ الرَّفِيقُ السَّدِيدُ عُمَرُ الْفَارُوقُ قِرْنٌ مِنْ حَدِيدٍ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ الْمَظْلُومُ الشَّهِيدُ عَلِيُّ الرِّضَا .. .. ثُمَّ لَمْ تَزَلْ تَدْنُو مِنِّي حَتَى قَرُبَتْ وخرجت من الماء فإذا رأسها رَأْسُ جَارِيَةٍ
⦗ص: 75⦘ وَعُنُقُهَا عُنُقُ نَعَامَةٍ وَبَدَنُهَا بَدَنُ سَمَكَةٍ وَسَاقَاهَا سَاقَا ثَوْرٍ فَقَالَتْ لِي مَا دِينُكَ قُلْتُ النَّصْرَانِيَّةُ فَقَالَتْ وَيْحُكَ إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ الْحَنِيفِيَّةُ السَّمْحَةُ أَسْلِمْ وَإِلَّا هَلَكْتَ إِنَّكَ قَدْ حَلَلْتَ بِجَزِيرَةِ قَوْمٍ صَالِحِينَ مُسْلِمِينَ لَا يَنْجُو مِنْهُمْ إِلَّا مَنْ كَانَ عَلَى دِينِ مُحَمَّدٍ وَشَرِيعَتِهِ وَهَدْيِهِ وَسُنَّتِهِ
قَالَ فَقُلْتُ فَأَنَا أَشْهَدُ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَقَالَتْ تَمِّمْ إِسْلَامَكَ فَقُلْتُ بِمَاذَا قَالَتْ بِالتَّرَحُّمِ عَلَى أَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ وَعُثْمَانَ وَعَلِيٍّ وَالصَّحَابَةُ أَجْمَعِينَ وَإِلَّا لَا يَصِحُّ لَكَ الْإِسْلَامُ فَفَعَلْتُ مَا أَمَرَتْنِي بِهِ فقلتُ الصَّوْتُ الَّذِي سَمِعْتُ بِاللَّيْلِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ قَالَتْ ذَاكَ التَّيَّارُ مَلِكُ الْمِيَاهِ فِي الْبَحْرِ وَنَحْنُ خَلْقٌ كَثِيرٌ مِنْ خَلْقِ اللَّهِ أمرنا بِمَا سَمِعْتَ مِنَّا فَقُلْتُ إِنِّي غَرِيبٌ فِي هَذَا الْمَوْضِعِ وَقَدْ وَجَبَ حَقِّي قَالَتْ تُحِبُّ الرُّجُوعَ إِلَى بَلَدِكَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَتْ السَّاعَةُ تَمُرُّ بِنَا مَرْكَبٌ نَحْبِسُهُ لَكَ
فَبَيْنَمَا أَنَا كَذَلِكَ إِذَا بِمَرْكَبٍ تَسِيرُ فِي الْبَحْرِ بِقِلْعٍ إِذْ وَقَفَ الْمَرْكَبُ وَحَطُّوا الْقِلْعَ فَتَحَيَّرَ أَهْلُهُ لَا يَدْرُونَ الْقِصَّةَ مَا هِيَ إِذْ أَشَرْتُ إِلَيْهِمْ وَنَظَرُوا إِلَيَّ فَأَلْقُوا الْقَارِبَ وَجَاءُوا فَحَمَلُونِي وَحَدَّثْتُهُمْ بِحَدِيثِي وَكَانَ فِي الْمَرْكَبِ بِضْعَةَ عَشَرَ نَصْرَانِيًّا فَأَسْلَمُوا عَلَى يَدَيْ فَهَذَا كَانَ سَبَبَ إِسْلامِي.
পানির রাজা তাইয়ারের কথা২৬ - আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আশ-শরিফ আবু মানসুর আল-আসআদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-মুহতাদি বিল্লাহ তাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শরিফ আবু আলি আল-হাসান বিন আব্দুল ওয়াদুদ বিন আল-মুহতাদি বিল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আমর উসমান বিন ঈসা আস-সামুত—যিনি ইবনুল বাকিল্লানি নামে পরিচিত—তার কিতাব থেকে, আর তিনি তার মসজিদে তা শ্রবণ করছিলেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবুত্তায়্যিব বিন আল-মুনতাব, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলি বিন হামদান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন ফাদলান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন উসমান বিন আব্দুর রহমান, তিনি শুরাহবিল বিন আব্দুল কারিম আস-সানআনি থেকে, তিনি ইদরিস বিন সিনান থেকে, তিনি ওহাব বিন মুনাব্বিহ আল-ইয়ামানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আমি কায়সারিয়ার বিশপকে মুসলিম হিসেবে দেখেছি, অথচ এর আগে তিনি এমন একজন খ্রিস্টান ছিলেন যার দিকে খ্রিস্টানরা আঙুল দিয়ে ইশারা করত এবং তাকে অত্যন্ত সম্মান করত। আমি তাকে বললাম, আপনার সেই নেতৃত্ব এবং তার প্রতি আপনার প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আপনাকে কিসে ইসলামের দিকে ধাবিত করল? তিনি বললেন, আমি সমুদ্রে যাত্রা করেছিলাম, এক পর্যায়ে আমাদের জাহাজটি ভেঙে যায়। আমি একা একটি কাঠের তক্তায় চড়ে বেঁচে যাই। সেই তক্তাটি আমাকে নিয়ে একা চলতে থাকে এবং সমুদ্রের ঢেউ এক মাস পর্যন্ত আমাকে নিয়ে খেলতে থাকে। আমি জানতাম না যে ⦗পৃষ্ঠা: ৭৪⦘ আল্লাহর জমিনের কোন দিকে আমি যাচ্ছি। তারপর সমুদ্র আমাকে একটি বড় দ্বীপে নিক্ষেপ করল যেখানে অত্যন্ত বিশাল বিশাল সব গাছ ছিল, আমি এর চেয়ে বড় গাছ আর কখনও দেখিনি। এর পাতাগুলো এত বড় ছিল যে এক একটি পাতা একদল মানুষকে ঢেকে ফেলতে পারত। তাতে কুল জাতীয় কিছু ফল ছিল যা খেজুরের চেয়েও মিষ্টি ছিল... দ্বীপে একটি মিষ্টি পানির নদী প্রবহমান ছিল যার স্রোত ছিল অত্যন্ত তীব্র। আমি সেই ফল থেকে খেলাম এবং সেই পানি পান করলাম এবং মনে মনে বললাম, যতক্ষণ না আল্লাহ কোনো মুক্তির পথ না দেখান অথবা মৃত্যু না আসে, ততক্ষণ আমি এই স্থান ত্যাগ করব না।
যখন সন্ধ্যা হলো, সূর্য ডুবে গেল এবং রাত তার অন্ধকার নিয়ে উপস্থিত হলো, তখন হঠাৎ আমি বজ্রের মতো তীব্র আওয়াজে কাউকে বলতে শুনলাম: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি মালিক (রাজা), জাব্বার (মহা প্রতাপশালী), আজিজ (পরাক্রমশালী), গাফফার (অত্যন্ত ক্ষমাশীল); মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, যিনি হাবিব (প্রিয়), মুস্তফা (মনোনীত), মুখতার (নির্বাচিত); আবু বকর সিদ্দিক গুহার সাথী; উমর ফারুক শহরসমূহের বিজয়ী; উসমান বিন আফফান উত্তম প্রতিবেশী; আলী রাজি কাফেরদের চূর্ণকারী; মুহাম্মদের সাথীবৃন্দ মনোনীত ও শ্রেষ্ঠ; আল্লাহ তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করেছেন; যে ব্যক্তি তাদের গালি দেবে তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ এবং তার আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম, আর তা কতই না নিকৃষ্ট আবাস।
এতে আমার অন্তর যেন ফেটে যাচ্ছিল এবং আমার ঘুম উড়ে গেল। তারপর শব্দটি থেমে গেল। যখন মাঝরাত হলো, সেই কথাগুলো আবার ফিরে এল। যখন শেষ রাত হলো, তখনও কথাগুলো আবার শোনা গেল। এরপর যখন সকাল হলো এবং সূর্য উঠল, তখন হঠাৎ আমি সমুদ্রের মধ্যে একটি তরুণীর মাথার অবয়ব দেখতে পেলাম যে সাঁতার কাটছে। আমি তার চেহারার চেয়ে সুন্দর আর কোনো চেহারা দেখিনি, তার চুলে সে আবৃত ছিল। হঠাৎ সেই অবয়বটি বলতে লাগল: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই যিনি নিকটবর্তী ও সাড়াদানকারী; মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল যিনি মুস্তফা ও হাবিব; আবু বকর সিদ্দিক সুদৃঢ় বন্ধু; উমর ফারুক লোহার একটি শৃঙ্গ; উসমান বিন আফফান মজলুম শহীদ; আলী রিদা...। তারপর সে ক্রমাগত আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল যতক্ষণ না সে কাছে চলে এল এবং পানি থেকে উঠে এল। তখন দেখা গেল তার মাথা ছিল তরুণীর মাথার মতো ⦗পৃষ্ঠা: ৭৫⦘, তার ঘাড় ছিল উটপাখির ঘাড়ের মতো, তার দেহ ছিল মাছের দেহের মতো এবং তার পা দুটি ছিল ষাঁড়ের পায়ের মতো। সে আমাকে বলল, তোমার ধর্ম কী? আমি বললাম, খ্রিস্টধর্ম। সে বলল, তোমার জন্য আফসোস! আল্লাহর নিকট একমাত্র ধর্ম হলো ইসলাম, যা একনিষ্ঠ ও সহজ-সরল। ইসলাম গ্রহণ করো, অন্যথায় ধ্বংস হয়ে যাবে। তুমি এমন এক জাতির দ্বীপে এসেছ যারা নেককার মুসলিম, তাদের হাত থেকে কেবল সেই ব্যক্তিই নাজাত পাবে যে মুহাম্মদের ধর্ম, শরিয়ত, হিদায়াত ও সুন্নাহর ওপর থাকবে।
তিনি বললেন, আমি বললাম: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। সে বলল, তোমার ইসলামকে পূর্ণ করো। আমি বললাম, কিসের মাধ্যমে? সে বলল, আবু বকর, উমর, উসমান, আলী এবং সকল সাহাবীর প্রতি রহমতের দোয়া করার মাধ্যমে; নতুবা তোমার ইসলাম সঠিক হবে না। সে আমাকে যা আদেশ করল আমি তা-ই করলাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, রাতে যে আওয়াজটি আমি তিনবার শুনেছি তা কী ছিল? সে বলল, তিনি হলেন তাইয়ার, পানির রাজা। আর আমরা আল্লাহর মাখলুকের মধ্যে এক বিশাল সৃষ্টি, আমাদের সেই আদেশই দেওয়া হয়েছে যা তুমি আমাদের থেকে শুনেছ। আমি বললাম, আমি এই স্থানে প্রবাসী এবং আমার একটি হক পাওনা হয়েছে। সে বলল, তুমি কি তোমার দেশে ফিরে যেতে চাও? আমি বললাম, হ্যাঁ। সে বলল, এই মুহূর্তেই আমাদের পাশ দিয়ে একটি জাহাজ যাবে, আমরা সেটি তোমার জন্য আটকে দেব।
আমি এমতাবস্থায় থাকতেই হঠাৎ পালের একটি জাহাজ সমুদ্রে চলতে দেখলাম। হঠাৎ জাহাজটি থেমে গেল এবং তারা পাল নামিয়ে ফেলল। জাহাজের লোকজন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল, তারা বুঝতে পারছিল না ঘটনা কী। তখন আমি তাদের দিকে ইশারা করলাম এবং তারা আমাকে দেখতে পেল। তারা নৌকা পাঠিয়ে আসল এবং আমাকে তুলে নিল। আমি তাদের নিকট আমার ঘটনা বর্ণনা করলাম। জাহাজে দশ জনের বেশি খ্রিস্টান ছিল, তারা আমার হাতে ইসলাম গ্রহণ করল। এটাই ছিল আমার ইসলাম গ্রহণের কারণ।
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٧٧)
ذِكْرُ دُعَاءِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَلَى مَنْ شَتَمَ عَلِيًّا وَطَلْحَةَ وَالزُّبَيْرِ رضي الله عنهم27 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفُتُوحِ يُوسُفُ بْنُ الْمُبَارَكِ بْنِ كَامِلِ بْنِ الْحُسَيْنِ الْخَفَّافُ بِبَغْدَادَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الْبَاقِي بْنِ مُحَمَّدٍ الْأَنْصَارِيَّ أَخْبَرَهُمْ أَنْبَأَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي حَفْصٍ الْبَرْمَكِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ أَنْبَأَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ مَاسِيٍّ الْبَزَّازُ قِرَاءَةً عَلَيْهِ ثَنَا أَبُو مُسْلِمٍ الْكَجِّيُّ ثَنَا مُحَمَّدُ بُنْ عَبْدِ اللَّهِ الْأَنْصَارِيُّ قَالَ ثَنَا ابْنُ عَوْنٍ
⦗ص: 78⦘ قَالَ أَنْبَأَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْأَسْوَدِ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ بَيْنَمَا سَعْدٌ يَعْنِي ابْنَ أَبِي وَقَّاصٍ رضي الله عنه يَمْشِي إِذْ مَرَّ بِرَجُلٍ وَهُوَ يَشْتُمُ عَلِيًّا وَطَلْحَةَ وَالزُّبيْرَ رِضْوَانُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ إِنَّكَ لَتَشْتُمُ قَوْمًا قَدْ سَبَقَ لَهُمْ مِنَ اللَّهِ مَا سَبَقَ وَاللَّهِ لَتَكُفَّنَّ عَنْ شَتْمِهِمْ أَوْ لَأَدْعُوَنَّ اللَّهَ عَلَيْكَ قَالَ يُخَوِّفُنِي كَأَنَّهُ نَبِيٌّ قَالَ فَقَالَ سَعْدٌ اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ هَذَا يَسُبُّ أَقْوَامًا قَدْ سَبَقَ لَهُمْ مِنْكَ مَا سَبَقَ فَاجْعَلْهُ الْيَوْمَ نَكَالًا قَالَ فجاءت بختية فأفرج الناس لها فَتَخَبَّطَتْهُ قَالَ فَرَأَيْتُ النَّاسَ يَتْبَعُونَ سَعْدًا وَيَقُولُونَ اسْتَجَابَ اللَّهُ لَكَ أَبَا إِسْحَاقَ.
আলী, তালহা ও যুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-কে গালিদানকারীর বিরুদ্ধে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দুআর উল্লেখ২৭ - বাগদাদে আবুল ফুতুহ ইউসুফ ইবনুল মুবারাক ইবনে কামিল ইবনুল হুসাইন আল-খাফফাফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি তাঁদের জানিয়েছেন, ইব্রাহিম ইবনে আবি হাফস আল-বারমাকি তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ ইবনে মাসি আল-বাযযায তাঁর নিকট পাঠ করার মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন, আবু মুসলিম আল-কাজ্জি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আনসারি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবনে আউন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন
⦗পৃষ্ঠা: ৭৮⦘ তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আসওয়াদ আমাকে আমির ইবনে সাদ থেকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: একদা সাদ—অর্থাৎ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—হেঁটে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন যে আলী, তালহা ও যুবাইর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে গালি দিচ্ছিল। তখন সাদ তাকে বললেন: "নিশ্চয়ই তুমি এমন একদল লোককে গালি দিচ্ছ যাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্বেই যা নির্ধারিত হওয়ার তা হয়ে গেছে (অর্থাৎ জান্নাতের সুসংবাদ)। আল্লাহর কসম! হয় তুমি তাদের গালি দেওয়া থেকে বিরত থাকবে, নতুবা আমি অবশ্যই তোমার বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে দুআ করব।" সে ব্যক্তি বলল: "সে আমাকে এমনভাবে ভয় দেখাচ্ছে যেন সে একজন নবী!" বর্ণনাকারী বলেন, তখন সাদ বললেন: "হে আল্লাহ! যদি এই ব্যক্তি এমন একদল লোককে গালি দেয় যাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে পূর্বেই যা নির্ধারিত হওয়ার তা হয়ে গেছে, তবে আজ তাকে আপনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করুন।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর একটি উট আসল এবং মানুষ তার জন্য পথ ছেড়ে দিল, অতঃপর সেটি তাকে আক্রমণ করে পিষ্ট করে ফেলল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখলাম মানুষ সাদের অনুসরণ করছে এবং বলছে: "হে আবু ইসহাক! আল্লাহ আপনার দুআ কবুল করেছেন।"
(খণ্ড: ১)
আন নাহয়ু আন সাব্বিল আসহাব - আদ দিয়াউল মাকদিসী
(পৃষ্ঠা: ٧٩)
قَوْلُ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ فِيمَنْ نَالَ مِنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها28 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ الرَّزَّاقِ بْنُ عَبْدِ الْقَادِرِ الْجِيلِيُّ بِبَغْدَادَ أَنَّ أَبَا الْقَاسِمِ سَعِيدَ بْنَ أَحْمَدَ بن الحسن ابن الْبَنَّا أَخْبَرَهُمْ أَنْبَأَنَا الشَّرِيفُ أَبُو نَصْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ الزَّيْنَبِيُّ أَنْبَأَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ زُنْبُورٍ ثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ ثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ثَنَا أَبُو أُسَامَةَ
⦗ص: 80⦘ عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ غَرِيبِ بْنِ حُمَيْدٍ قَالَ قَامَ رَجُلٌ فَنَالَ مِنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها فَقَامَ عَمَّارٌ رضي الله عنه يَتَخَطَّى النَّاسَ فَقَالَ اجْلِسْ مَقْبُوحًا مَنْبُوحًا أَنْتَ الَّذِي تَقَعُ في حَبِيَبةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَاللَّهِ إِنَّهَا لَزَوْجُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ.
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে কটু কথা বলা ব্যক্তির ব্যাপারে আম্মার বিন ইয়াসির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি২৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ, ইমাম, হাফিয আবু বকর আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল কাদির আল-জিলি বাগদাদে; তিনি বলেন যে, আবু আল-কাসিম সাঈদ বিন আহমাদ বিন আল-হাসান ইবনে আল-বান্না তাঁদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আশ-শরিফ আবু নাসর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আজ-জাইনাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন উমর বিন যুনবুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, হারুন বিন আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
⦗পৃষ্ঠা: ৮০⦘ যাকারিয়া বিন আবি যায়িদা থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি গারিব বিন হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে কটু কথা বলল। তখন আম্মার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) লোকদের ঘাড় টপকে এগিয়ে এসে দাঁড়ালেন এবং বললেন: "বসো হে কদাকার ও ধিকৃত ব্যক্তি! তুমি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রিয়তমার ব্যাপারে কটু কথা বলছ? আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁরই স্ত্রী।"