(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: -)
اتحاف السائل بما لفاطمة من المناقب والفضائل (عبد الرؤوف المناوي)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: اتحاف السائل بما لفاطمة من المناقب والفضائل
المؤلف: محمد عبد الرؤوف بن علي بن زين العابدين المناوي (952 - 1031 هـ)
دراسة وتحقيق وتعليق: عبد اللطيف عاشور
الناشر: مكتبة القرآن للطبع والنشر والتوزيع، القاهرة - مصر
عدد الصفحات: 107
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফাতিমার মর্যাদা ও গুণাবলি বিষয়ক জিজ্ঞাসুদের জন্য উপঢৌকন (আব্দুর রউফ আল-মুনাউয়ী)
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: ফাতিমার মর্যাদা ও গুণাবলি বিষয়ক জিজ্ঞাসুদের জন্য উপঢৌকন
লেখক: মুহাম্মাদ আব্দুর রউফ বিন আলী বিন যাইনুল আবিদীন আল-মুনাউয়ী (৯৫২ - ১০৩১ হিজরি)
গবেষণা, সম্পাদনা ও টীকা: আব্দুল লতিফ আশুর
প্রকাশক: মাকতাবাতুল কুরআন মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ, কায়রো - মিশর
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ২১)
الباب الأولفي ولادتها وتسميتها ومحبته صلى الله عليه وسلم لها ومتعلقات ذلك رضي الله عنها
প্রথম পরিচ্ছেদতাঁর জন্ম, তাঁর নামকরণ এবং তাঁর প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা প্রসঙ্গে এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি (রাদিয়াল্লাহু আনহা)
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ولادتها رضي الله عنهاذكر أبو عمر: أنها ولدت سنة إحدى وأربعين من المولد.وتعقب بما ذكره ابن إسحاق وغيره.أن أولاد النبي صلى الله عليه وسلم ولدوا قبل النبوة إلا إبراهيم.وقال ابن إسحاق: ولدت وقريش تبني الكعبة.قال: وبنتها: قبل المبعث لسبع سنين ونصف.وقيل: ولدت تمام المبعث.وقيل غير ذلك.كذا نقله الجلال السيوطي عن ابن إسحاق وأقره. وفيه بالنسبة لقوله: (قبل البعث بسبع ونصف) ما فيه. ونعرف ما فيه، بل لا يكاد يصح؛ لأن بناء قريش الكعبة، ووضعه عليه السلام الحجر في محله كان سنة خمس وثلاثين من مولده صلى الله عليه وسلم، وبعث على رأس الأربعين، فمولدها قبل الإرسال بنحو خمس سنين كما ذكره ابن الجوزى وغيره، وأنه أيام بناء البيت، وبه جزم المدايني.
তাঁর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) জন্মআবু উমর উল্লেখ করেছেন: তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) জন্মের একচল্লিশতম বছরে জন্মগ্রহণ করেন।ইবনে ইসহাক এবং অন্যান্যরা যা উল্লেখ করেছেন, তার মাধ্যমে একে খণ্ডন করা হয়েছে।নিশ্চয়ই ইব্রাহিম ব্যতীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সন্তান নবুওয়তের পূর্বেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।ইবনে ইসহাক বলেন: কুরাইশরা যখন কাবা নির্মাণ করছিল, তখন তিনি জন্মগ্রহণ করেন।তিনি বলেন: তারা এটি নির্মাণ করেছিল নবুওয়ত প্রাপ্তির সাড়ে সাত বছর আগে।বলা হয়েছে: তিনি নবুওয়ত প্রাপ্তির ঠিক আগমুহূর্তে জন্মগ্রহণ করেন।আরও অন্যান্য বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে।জালালুদ্দিন সুয়ূতী ইবনে ইসহাক থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং তা সমর্থন করেছেন। তবে তাঁর এই বক্তব্য: (নবুওয়ত প্রাপ্তির সাড়ে সাত বছর আগে) এর ক্ষেত্রে কিছুটা সংশয় রয়েছে। আমরা জানি তাতে কী সমস্যা রয়েছে, বরং এটি সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম; কারণ কুরাইশদের কাবা নির্মাণ এবং তাঁর (আলাইহিস সালাম) হাজরে আসওয়াদকে নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করার ঘটনাটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের পঁয়ত্রিশতম বছরে, আর তিনি নবুওয়ত লাভ করেছিলেন চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর। সুতরাং তাঁর জন্ম নবুওয়ত প্রাপ্তির প্রায় পাঁচ বছর পূর্বে হয়েছিল, যেমনটি ইবনে আল-জাওযী ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন, এবং তা ছিল বাইতুল্লাহ (কাবা) নির্মাণের দিনগুলোতে; আর আল-মাদায়িনী এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بم سماها النبي صلى الله عليه وسلم وما سر هذه التسمية؟! وسماها (فاطمة) بإلهام من الله تعالى؛ لأن الله فطمها عن النار! فقد روى الديلمي عن أبي هريرة والحاكم عن علي أنه عليه السلام قال: (إنما سميت فاطمة، لأن الله فطمها وحجبها عن النار) .واشتقاقها من الفطم وهو (القطع) كما قال ابن دريد. ومنه: فطم الصبى: إذا قطع عنه اللبن.ويقال: لأفطمنك عن كذا: أي لأمنعنك عنه.لم سميت بالزهراء؟ وسميت بالزهراء؛ لأنها زهرة المصطفى صلى الله عليه وسلم.لم لقبت بالبتول؟ ولقبت (بالبتول) ؛ لأنه لا شهوة لها للرجال، أو لأنه تعالى قطعها عن النساء حسنا وفضلا وشرفا.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে কী নামে অভিহিত করেছিলেন এবং এই নামকরণের রহস্য কী ছিল? তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ইলহামের মাধ্যমে তার নাম রেখেছিলেন 'ফাতিমা'; কারণ আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত রেখেছেন! দাইলামী আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং হাকেম আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "তার নাম ফাতিমা রাখা হয়েছে কেবল এই কারণে যে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেছেন এবং তাকে এর থেকে আড়াল করে রেখেছেন।"ইবনে দুরাইদ যেমনটি বলেছেন, এই শব্দের বুৎপত্তিগত উৎস হলো 'ফাতম', যার অর্থ 'বিচ্ছিন্ন করা'। এর থেকেই এসেছে: 'শিশুর দুধ ছাড়ানো'—যখন তার দুগ্ধপান বন্ধ করা হয়।বলা হয়ে থাকে: 'আমি তোমাকে অমুক বিষয় থেকে বিযুক্ত করব', অর্থাৎ 'আমি তোমাকে তা থেকে বিরত রাখব'।কেন তাকে 'যাহরা' নামে নামকরণ করা হয়েছে? তাকে 'যাহরা' বলা হয়েছে কারণ তিনি ছিলেন মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রস্ফুটিত কুসুম।কেন তাকে 'বাতুল' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে? তাকে 'বাতুল' উপাধি দেওয়া হয়েছে কারণ পুরুষদের প্রতি তার কোনো জাগতিক আকাঙ্ক্ষা ছিল না, অথবা এজন্য যে, মহান আল্লাহ তাকে সৌন্দর্য, মর্যাদা ও সম্মানের দিক থেকে অন্যান্য নারী থেকে অনন্য ও পৃথক করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أو لانقطاعها إلى الله.بم كنيت؟ وكنيت (بأم أبيها) كما اخرجه الطبراني عن ابن المدايني.بطلان بعض الروايات الخاصة بالتسمية: وأما ما رواه الخطيب البغدادي (من أن جبريل ليلة الإسراء ناول المصطفى تفاحة فأكلها فصارت نطفة في صلبه، فحملت منه بفاطمة، وأنه كلما اشتاق إلى الجنة قبلها) .فقال الذهبي - كابن الجوزى: موضوع. وأقره الجلال السيوطي، فيما تعقبه على ابن الجوزى، ولم يعترضه.وقال الحافظ ابن حجر: هذا من وضع محمد بن خليل؛ فإن
অথবা আল্লাহর প্রতি তাঁর একাগ্র নিমগ্নতার কারণে।তাঁর উপনাম কী ছিল? তাঁকে ‘উম্মু আবিহা’ (তাঁর পিতার জননী) উপনামে ভূষিত করা হয়েছিল, যেমনটি তাবারানি ইবনুল মাদায়িনি থেকে বর্ণনা করেছেন।নামকরণ সংক্রান্ত কিছু বর্ণনার অসারতা: আর খতিব আল-বাগদাদি যা বর্ণনা করেছেন (যে, ইসরা বা মেরাজের রাতে জিবরাইল আল-মুস্তফাকে একটি আপেল প্রদান করেন এবং তিনি তা ভক্ষণ করেন, ফলে তা তাঁর পৃষ্ঠদেশে বীর্যে পরিণত হয় এবং ফাতিমা গর্ভস্থ হন; আর তিনি যখনই জান্নাতের প্রতি ব্যাকুল হতেন, তাঁকে চুম্বন করতেন)।ইমাম আয-যাহাবি—ইবনুল জাওযির মতো—বলেছেন: এটি বানোয়াট। জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতি ইবনুল জাওযির ওপর তাঁর টীকায় একে সমর্থন করেছেন এবং কোনো আপত্তি করেননি।হাফিজ ইবনে হাজার বলেছেন: এটি মুহাম্মাদ বিন খলিলের জালিয়াতি; কারণ...
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فاطمة ولدت قبل الإسراء بمدة، بل قبل النبوة اتفاقاً.وكذا ما قاله الحاكم في مستدركه عن سعد بن أبي وقاص مرفوعا: (أن جبريل أتى بسفرجلة من الجنة فأكلتها ليلة الإسراء فعلقت خديجة بفاطمة فإذا اشتقت إلى رائحة الجنة شممت رقبة فاطمة) ما ذاك إلا أن فاطمة ولدت قبل الوحي إجماعاً؛ فهو قطعى البطلان! منزلتها ومحبته صلى الله عليه وسلم لهاومتعلقات ذلكوكانت فاطمة أحب أولاده وأحظاهن عنده، بل أحب الناس إليه مطلقا.روى الترمذي عن بريدة وعائشة قالت: (ما رأيت أحدا أشبه سمتا ولا هديا برسول الله صلى الله عليه وسلم من فاطمة في قيامها وقعودها، وكان إذا دخلت عليه قام إليها فقبلها وأجلسها في مجلسه) .زاد داود في روايته: (وكان يمص لسانها) .روى الطبراني في الأوسط عن أبي هريرة: (أن عليا قال: (يا رسول الله، أيما أحب إليك أنا أم فاطمة؟ قال: فاطمة أحب إلي منك، وأنت أعز علي منها وكأني بك وأنت علي حوضي تذود
ফাতিমা ইসরা’র কিছুকাল পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বরং সর্বসম্মতিক্রমে তিনি নবুওয়াতের পূর্বেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন।অনুরূপভাবে হাকেম তাঁর ‘মুস্তাদরাক’-এ সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে মারফু সূত্রে যা বর্ণনা করেছেন: (নিশ্চয়ই জিবরাইল জান্নাত থেকে একটি সফরজল নিয়ে আসলেন এবং আমি ইসরা’র রাতে তা ভক্ষণ করলাম, ফলে খাদিজা ফাতিমাকে গর্ভে ধারণ করলেন। সুতরাং যখনই আমি জান্নাতের সুগন্ধি পেতে আকাঙ্ক্ষা করি, আমি ফাতিমার ঘাড়ের ঘ্রাণ গ্রহণ করি); এটি মূলত এ কারণেই যে, ফাতিমা সর্বসম্মতিক্রমে ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন; সুতরাং তা নিশ্চিতভাবেই বাতিল! তাঁর মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসাএবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদিআর ফাতিমা ছিলেন তাঁর সন্তানদের মধ্যে তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং সর্বাধিক মর্যাদাবান, বরং তিনি ছিলেন তাঁর কাছে মানুষের মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে সবচেয়ে প্রিয়।তিরমিযী বুরাইদাহ এবং আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি (আয়েশা) বলেন: (আমি চালচলন ও আচার-আচরণে ফাতিমার চেয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অধিক সদৃশ আর কাউকে দেখিনি—তাঁর দাঁড়ানো এবং বসার ক্ষেত্রে। আর যখনই তিনি তাঁর কাছে প্রবেশ করতেন, তিনি তাঁর দিকে উঠে দাঁড়াতেন, তাঁকে চুম্বন করতেন এবং তাঁকে তাঁর নিজের বসার স্থানে বসাতেন)।দাউদ তাঁর বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: (এবং তিনি তাঁর জিহ্বা চুষতেন)।তাবারানী ‘আল-আওসাত’-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: (নিশ্চয়ই আলী বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল, আপনার কাছে কে বেশি প্রিয়, আমি নাকি ফাতিমা?’ তিনি বললেন: ‘ফাতিমা আমার কাছে তোমার চেয়ে বেশি প্রিয়, আর তুমি আমার কাছে তাঁর চেয়ে বেশি সম্মানিত। আমি যেন তোমাকে দেখতে পাচ্ছি যখন তুমি আমার হাউজের নিকট থাকবে এবং তুমি বিতাড়িত করছ...
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عنه الناس، وإن عليه لأباريق مثل عدد نجوم السماء، وإني وأنت والحسن والحسين وعقيل وجعفر في الجنة إخوانا على سرر متقابلين ثم قرأ صلى الله عليه وسلم (إِخواناً عَلى سُرَرٍ مُتَقارِبين) لا ينظر أحدهم في قفا صاحبه) .وفيه سلمى بن عبقة مجهول.هل بين الأحاديث تعارض؟ وكيف نوفق بينها لو كان؟ ولا ينافي ذلك قوله في حديث آخر: (أحب النساء إلي عائشة) ؛ لأن المراد بالنساء زوجاته الموجودات عند قوله ذلك.وبفرض خلاقه: فهو على معنى من، ففاطمة لها الأحبية
মানুষ তার থেকে (তৃষ্ণা নিবারণ করে) ফিরে যাবে, আর তাতে আকাশের নক্ষত্ররাজির সমান সংখ্যক পানপাত্র থাকবে। আমি, আপনি, হাসান, হুসাইন, আকীল এবং জাফর জান্নাতে ভাই ভাই হিসেবে একে অপরের মুখোমুখি আসনে অবস্থান করব। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন: (ভ্রাতৃরূপে একে অপরের মুখোমুখি আসনে আসীন), তাদের কেউ অন্যজনের পেছনের দিকে তাকাবে না।আর এতে সালমা ইবনে উবাকা রয়েছেন যিনি একজন অপরিচিত বর্ণনাকারী।হাদীসগুলোর মধ্যে কি কোনো বৈপরীত্য আছে? আর যদি থাকে তবে কীভাবে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হবে? এটি অন্য হাদীসে বর্ণিত তাঁর এই বাণীর পরিপন্থী নয় যে: (নারীদের মধ্যে আয়েশা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়); কারণ ‘নারী’ বলতে তাঁর সেই সময়ে বিদ্যমান স্ত্রীদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে।আর যদি এর বৈপরীত্য ধরে নেওয়া হয়: তবে তা ‘মধ্য থেকে’ অর্থে গণ্য হবে, ফলে ফাতিমার জন্য রয়েছে সর্বাধিক প্রিয়তা।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المطلقة.سيدة نساء الأمة: وعن أبي هريرة أنه عليه الصلاة والسلام قال: إن ملكان من السماء لم يكن زارني فاستأذن الله في زيارتي، فبشرني، أو قال: أخبرني (أن فاطمة سيدة نساء أمتي) رواه الطبراني ورجاله رجال الصحيح غير محمد بن مروان الدهلي وقد وثقه ابن حبان.أحب الأهل: وعن أسامة بن زيد أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (أحب أهلي إلى فاطمة) .رواه أبو داود الطيالس والطبراني في الكبير والحاكم والترمذي.شهادة عائشة لها:وعن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: (ما رأيت أفضل من فاطمة غير أبيها!) .قالت - وكان بينهما شيء - (يا رسول الله، سلها؛ فإنها لا تكذب!!) .رواه الطبراني في الأوس وأبو يعلى لكنها قالت: (ما رأيت أحدا قط أصدق من فاطمة) ورجاله رجال صحيح
পূর্ণাঙ্গ।উম্মতের নারীকুল শিরোমণি: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আকাশ থেকে এমন একজন ফেরেশতা—যিনি আগে কখনও আমার সাথে সাক্ষাত করতে আসেননি—আমার সাথে সাক্ষাতের জন্য আল্লাহর নিকট অনুমতি চাইলেন। এরপর তিনি আমাকে সুসংবাদ দিলেন, অথবা বললেন: আমাকে সংবাদ দিলেন যে, (ফাতেমা আমার উম্মতের নারীকুল শিরোমণি)। তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ-এর বর্ণনাকারী, তবে মুহাম্মদ বিন মারওয়ান আদ-দুহলি ব্যতীত, যাকে ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।পরিবারের সবচেয়ে প্রিয়জন: উসামা বিন যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আমার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় হলো ফাতেমা)।আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, তাবারানি আল-কাবিরে, হাকেম এবং তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।তার সম্পর্কে আয়িশার সাক্ষ্য:আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: (আমি ফাতেমার পিতা ব্যতীত ফাতেমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কাউকেও দেখিনি!)।তিনি বলেন—আর তাদের মাঝে কিছু একটা (মনোমালিন্য) বিদ্যমান ছিল—(হে আল্লাহর রাসূল, তাকে জিজ্ঞাসা করুন; কারণ সে মিথ্যা বলে না!!)।তাবারানি আল-আওসাতে এবং আবু ইয়ালা এটি বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে তিনি বলেছেন: (আমি ফাতেমার চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কাউকেও কখনো দেখিনি) এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ-এর বর্ণনাকারী।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
منزلتها هي وزوجها عند الرسول صلى الله عليه وسلم: وعن النعمان بن بشير: استأذن أبو بكر على المصطفى، فسمع عائشة عاليا وهي تقول: (والله لقد عرفت أن فاطمة وعليا أحب إليك مني ومن أبي مرتين أو ثلاثا، فاستأذن أبو بكر فأهوى عليها، فقال: يا بنت فلان، ألا سمعتك ترفعين صوتك على رسول الله صلى الله عليه وسلم .رواه الإمام أحمد ورجاله رجال الصحيح أيهما الأحب؟ وأيهما الأعز؟ وعن ابن عباس، دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم على علي وفاطمة وهما يضحكان، فلما رأياه سكتا، فقالا لهما النبي: ما لكما كنتما تضحكان، فلما رأيتماني سكتما؟!؟ فبادرت فاطمة فقالت: بأبي أنت يا رسول الله قال هذا.. قال: أنا أحب إلى رسول الله منك! فقلت: بل أنا أحب إليه منك.فتبسم رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال: (يا بنية، لك رقة الولد، وعلى أعز على منك) .رواه الطبراني بإسناد صحيح نجاتها هي وولدها: وعن ابن عباس أنه صلى الله عليه وسلم قال لفاطمة: (إن الله غير معذبك ولا ولدك بالنار) .وعن على أنه كان عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال:
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাঁর ও তাঁর স্বামীর মর্যাদা: নুমান ইবনে বশির থেকে বর্ণিত: আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহাকে উচ্চস্বরে বলতে শুনলেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই জানি যে ফাতিমা ও আলী আপনার নিকট আমার এবং আমার পিতার চেয়েও দুই বা তিন গুণ বেশি প্রিয়।" অতঃপর আবু বকর অনুমতি পেয়ে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর (আয়েশার) দিকে ধাবিত হলেন এবং বললেন: "হে অমুকের কন্যা, আমি কি তোমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে উচ্চস্বরে কথা বলতে শুনছি?" ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীবৃন্দ সহীহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী। কোনটি অধিক প্রিয়? এবং কোনটি অধিক প্রিয়তর? ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ও ফাতিমার নিকট প্রবেশ করলেন যখন তাঁরা হাসছিলেন। যখন তাঁরা তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁরা চুপ হয়ে গেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বললেন: "তোমাদের কী হলো যে তোমরা হাসছিলে, কিন্তু আমাকে দেখামাত্রই চুপ হয়ে গেলে?!" তখন ফাতিমা দ্রুত উত্তর দিলেন: "হে আল্লাহর রাসুল, আপনার জন্য আমার পিতা উৎসর্গিত হোন! তিনি বললেন যে.. তিনি বলেছেন: 'আমি রাসুলুল্লাহর নিকট তোমার চেয়েও অধিক প্রিয়!' আর আমি বললাম: 'বরং আমিই তাঁর নিকট তোমার চেয়ে অধিক প্রিয়'।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুচকি হাসলেন এবং বললেন: "হে প্রিয় বৎস, তোমার জন্য রয়েছে সন্তানের কোমল মমতা, আর আলী আমার নিকট তোমার চেয়েও অধিক প্রিয়।" তাবারানি এটি সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ও তাঁর সন্তানদের মুক্তি: ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাকে বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে এবং তোমার সন্তানদের আগুনে শাস্তি দেবেন না।" আলী থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলেন, অতঃপর তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أي شيء خبر للمرأة؟ فسكتوا، فلما رجع، قال لفاطمة: أي شيء خير للنساء؟ قالت: لا يراهن الرجال!! فذكر ذلك للمصطفى فقال: (إنما فاطمة بضعة مني) .وفيه دليل على فرط ذكائها، وكمال فطنتها، وقوة فمهما، وعجيب إدراكها.
নারীর জন্য সর্বোত্তম বিষয় কোনটি? তারা নীরব থাকলেন। অতঃপর যখন তিনি ফিরে আসলেন, ফাতিমাকে বললেন: নারীদের জন্য সর্বোত্তম বিষয় কী? তিনি বললেন: যেন পুরুষরা তাদের দেখতে না পায়!! অতঃপর তিনি বিষয়টি মুস্তফার নিকট উল্লেখ করলেন, তখন তিনি বললেন: (ফাতিমা তো আমারই একটি অংশ)।এবং এতে তাঁর প্রখর বুদ্ধিমত্তা, প্রজ্ঞার পূর্ণতা, অনুধাবন ক্ষমতার প্রবলতা এবং বিস্ময়কর উপলব্ধির প্রমাণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الباب الثانيفي تزويجها بعلي وجهازها ومتعلقات ذلكرضي الله عنها
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদআলীর সাথে তাঁর বিবাহের বর্ণনায় এবং তাঁর আসবাবপত্র ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলিআল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
زواج الطاهرةتزويجها بعليلما شبت فاطمة وترعرعت، وبلغت من العمر خمس عشرة سنة، وقيل: ست عشرة سنة وقيل: ثماني عشرة سنة وقيل أحدى وعشرين، تزوجها علي وعمره نحو إحدى وعشرين سنة وقيل: غير ذلك في رمضان من السنة الثانية من الهجرة.قالت الليث: بعد وقعة بدر.وقيل: في رجب منها.وقيل: في صفر.وقيل: بعد وقعة أحد، وبني بها بعد العقد بنحو أربعة أشهر، وقيل ستة أشهر، ولم يتزوج قبلها ولا عليها.قال الليث: فولدت له حسنا وحسينا ومحسنا مات صغيرا، وأم كلثوم الكبرى التي تزوجها عمر، فولدت له زيدا ورقية، ولم يعقبا، وتزوجت بعد عمر عوف بن جعفر ثم بأخيه محمد، ثم بأخيهما عبد الله، ولم تلد إلا للثاني فولدت له ابنة صغيرة.
পবিত্রার বিবাহআলীর সাথে তাঁর বিবাহযখন ফাতিমা বড় হলেন এবং কৈশোর অতিক্রম করলেন, আর পনের বছর বয়সে পদার্পণ করলেন—বলা হয়ে থাকে: ষোল বছর, আরও বলা হয়ে থাকে: আঠারো বছর এবং এও বলা হয়ে থাকে: একুশ বছর—তখন আলী তাঁকে বিবাহ করেন। সে সময় আলীর বয়স ছিল প্রায় একুশ বছর, তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। এই বিবাহ হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষের রমজান মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।লাইস বলেন: বদর যুদ্ধের পর।বলা হয়ে থাকে: উক্ত বছরের রজব মাসে।বলা হয়ে থাকে: সফর মাসে।বলা হয়ে থাকে: উহুদ যুদ্ধের পর। বিবাহের প্রায় চার মাস পর তাঁদের বাসর হয়েছিল, আবার বলা হয়েছে ছয় মাস পর। আলী তাঁর পূর্বে কোনো বিবাহ করেননি এবং তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর উপস্থিতিতে অন্য কাউকে বিবাহ করেননি।লাইস বলেন: তিনি তাঁর জন্য হাসান, হুসাইন ও মুহসিনকে জন্ম দেন; মুহসিন শৈশবেই মারা যান। এছাড়া উম্মে কুলসুম আল-কুবরা (জন্মগ্রহণ করেন), যাঁকে ওমর বিবাহ করেছিলেন। তিনি ওমরের জন্য যায়েদ ও রুকাইয়্যাহকে জন্ম দেন, কিন্তু তাঁদের কোনো বংশধর ছিল না। ওমরের পর তিনি আউফ বিন জাফরকে বিবাহ করেন, অতঃপর তাঁর ভাই মুহাম্মাদকে এবং এরপর তাঁদের ভাই আব্দুল্লাহকে বিবাহ করেন। তিনি কেবল দ্বিতীয় স্বামীর পক্ষ থেকেই সন্তান লাভ করেছিলেন এবং তাঁর জন্য একটি ছোট কন্যা সন্তান জন্ম দেন।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وولدت فاطمة الزهراء أيضا (زينب الكبرى) تزوجها (عبد الله ابن جعفر) فولدت له عدة أولاد، ولها العقب؛ فعقب أبي جعفر انتشر من على، وأم كلثوم وزينب ابنتي فاطمة.ويقال لكل من ينسب إلى هؤلاء (جعفري) ، ولا ريب أن لهم شرفا لكنهم لا يحاذون شرف المنسوبين للحسنين؛ ولهذا ترضى العباسيون بالشرف مع أن الشرفية المطلقة لعقب الحسنين فقط لاختصاص ذريتهما بشرف النسبة.وعرف مصر أن الأشراف: كل حسنى وحسني.تزوجيها بأمر الله تعالى: وكان تزويج المصطفى فاطمة لعلي بأمر الله تعالى: فعن ابن مسعود أنه صلى الله عليه وسلم قال: (إن الله تعالى أمرني أن أزوج فاطمة من علي) .رواه الطبراني ورجاله ثقات وعن أنس قال: جاء أبو بكر إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقعد بين يديه فقال: يا رسول الله قد علمت مناصحتي وقدمي في الإسلام وإني … قال: وما ذاك؟
ফাতিমা আয-যাহরা (যয়নাব আল-কুবরা)-কেও জন্ম দিয়েছিলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর তাঁকে বিবাহ করেন এবং তাঁর গর্ভে বেশ কিছু সন্তান জন্ম দেন এবং তাঁর বংশধর রয়েছে। আবু জাফরের বংশধারা ফাতিমার দুই কন্যা উম্মে কুলসুম এবং যয়নাবের গর্ভজাত সন্তান আলীর মাধ্যমেই বিস্তৃত হয়েছে।যাদের বংশধারা এঁদের সাথে যুক্ত হয়, তাদের প্রত্যেককে 'জাফরি' বলা হয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তাঁদের মর্যাদা রয়েছে, তবে তাঁরা হাসান ও হুসাইন (হাসানাইন)-এর সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের মর্যাদার সমকক্ষ নন। এই কারণেই আব্বাসীয়গণ এই আভিজাত্য নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন, যদিও নিরঙ্কুশ আভিজাত্য কেবল হাসান ও হুসাইনের বংশধরদের জন্যই নির্ধারিত, কারণ তাঁদের বংশধারা এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কের অধিকারী।মিশরে এটি পরিচিত যে 'আশরাফ' (অভিজাত) হলেন: প্রত্যেক হাসানি এবং হুসাইনি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি।মহান আল্লাহর আদেশে তাঁর বিবাহ: মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আলীর সাথে ফাতিমার বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল মহান আল্লাহর আদেশে। ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আমাকে ফাতিমাকে আলীর সাথে বিবাহ দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।"এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু বকর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং তাঁর সামনে বসলেন। এরপর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার শুভাকাঙ্ক্ষিতা এবং ইসলামে আমার অগ্রবর্তিতা সম্পর্কে জানেন এবং আমি … তিনি বললেন: তা কী?
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
قال تزوجني فاطمة. فأعرض عنه، فرجع أبو بكر إلى عمر فقال: إنه ينتظر أمر الله فيها. ثم فعل عمر ذلك، فأعرض عنه، فرجع إلى أبي بكر فقال: إنه ينتظر أمر الله فيها. انطلق بنا إلى علي نأمره أن يطلب مثل ما طلبنا. قال علي فأتياني له، فقالا: بنت عمك تخطب، فنبهاني لأمر، فقمت أجر ردائي..طرفه على عاتقي به، وطرفه الآخر في الأرض، حتى انتهيت إليه، فقعدت بين يديه فقلت: قد علمت قدمي في الإسلام، ومُناصَحَتي، وأني … قال: وما ذاك؟ قال تزوجني فاطمة، قال: وما عندك؟ قال: فرسى، وبدني.قال: أما فرسك، فلا بد لك منه.وأما بدنك فبعها، فبعتها بأربعمائة وثمانين درهما، فأتيته بها، فوضعها في حجره، فقبض منها قبضة، فقال: يا بلال، ابتع طيبا، وأمرهم أن يجهزوها، فعجل لها سريرا مشروطا، ووسادة من أدم حشوها ليف، وقال: (آت أهلك فلا تحدث بها حتى آتيك) . فجاءت مع أم أيمن، فقعدت في جانب البيت، وأنا في الجانب الآخر، فجاء النبي صلى الله عليه وسلم
তিনি বললেন, আমাকে ফাতিমার সাথে বিয়ে দিন। তিনি তাঁর থেকে বিমুখ হলেন। এরপর আবু বকর ওমরের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন: তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষা করছেন। এরপর ওমরও অনুরূপ করলেন, তিনিও তাঁর থেকে বিমুখ হলেন। তখন তিনি আবু বকরের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন: তিনি এ ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশের অপেক্ষা করছেন। (তিনি বললেন:) আমাদের সাথে আলীর কাছে চলুন, আমরা তাঁকে বলব যেন তিনি আমাদের মতো আবেদন করেন। আলী বললেন, তাঁরা এ উদ্দেশ্যে আমার কাছে আসলেন এবং বললেন: আপনার চাচার কন্যার বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা আমাকে বিষয়টি নিয়ে সচেতন করলেন। ফলে আমি আমার চাদর টানতে টানতে দাঁড়ালাম, যার এক প্রান্ত ছিল আমার কাঁধে এবং অন্য প্রান্তটি মাটিতে হেঁচড়াচ্ছিল, যতক্ষণ না আমি তাঁর কাছে পৌঁছালাম। আমি তাঁর সামনে বসলাম এবং বললাম: আপনি ইসলামে আমার অগ্রগামিতা ও আমার একনিষ্ঠতা সম্পর্কে জানেন এবং আমি … তিনি বললেন: বিষয়টি কী? তিনি বললেন, আমাকে ফাতিমার সাথে বিয়ে দিন। তিনি বললেন: তোমার নিকট কী আছে? তিনি বললেন: আমার ঘোড়া এবং আমার বর্ম।তিনি বললেন: তোমার ঘোড়াটির তো তোমার প্রয়োজন রয়েছে।আর তোমার বর্মটি বিক্রি করে দাও। আমি তা চারশত আশি দিরহামে বিক্রি করলাম এবং তা নিয়ে তাঁর নিকট আসলাম। তিনি তা নিজের কোলে রাখলেন এবং তা থেকে এক মুষ্টি গ্রহণ করলেন। এরপর বললেন: হে বিলাল, সুগন্ধি ক্রয় করো। আর তিনি ফাতিমার আসবাবপত্র প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন। ফলে তাঁর জন্য ফিতা দিয়ে বোনা একটি খাট এবং চামড়ার একটি বালিশ প্রস্তুত করা হলো যার ভেতরে খেজুর গাছের ছাল ভরা ছিল। তিনি বললেন: (তোমার স্ত্রীর নিকট যাও, আর আমি না আসা পর্যন্ত তাঁর সাথে কথা বলো না)। এরপর তিনি (ফাতিমা) উম্মে আয়মানের সাথে আসলেন এবং ঘরের এক পার্শ্বে বসলেন, আর আমি অন্য পার্শ্বে বসলাম। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فقال: (ها هنا أخي؟) قالت أم أيمن: أخوك وقد زوجته ابنتك؟! فقال لفاطمة: (آتيني بماء، فقامت إلى قعب في البيت فجعلت فيه ماء، فأتته به، فمج فيه، ثم قال: قومي، فنضح بين يديها، وعلى رأسها، وقال: اللهم إني أعيذها بك وذريتها من الشيطان الرجيم. ثم قال: آتيني بماء، فعلمت الذي يريده، فملأت القعب فأتيته به، فأخذ منه بفيه، ثم مجه فيه، ثم صب على رأس علي وبين قدميه ثم قال: (ادخل على أهلك باسم الله) .رواه الطبراني وفيه محسن الأسلمي ضعيف وعن أنس رضى الله عنه أيضا: أن عمر أتى أبا بكر فقال: ما منعك أن تتزوج فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: لا يزوجني! قال: إذا لم يزوجك فمن يزوج؟! وإنك من أكرم الناس وأقدمهم إسلاما.فانطلق أبو بكر إلى عائشة رضي الله عنها فقال: إذا رأيت من محمد طيب نفسك به وإقبالا - أي عليك - فاذكرى له: أني ذكرت فاطمة فلعل الله أن ييسرها لي.
তিনি বললেন: "এখানে কি আমার ভাই আছেন?" উম্মে আয়মান বললেন: "আপনার ভাই? অথচ আপনি তাঁর নিকট আপনার কন্যাকে বিয়ে দিয়েছেন?!" অতঃপর তিনি ফাতিমাকে বললেন: "আমার জন্য পানি নিয়ে আসো।" তখন তিনি ঘরের একটি কাঠের পেয়ালার দিকে গেলেন এবং তাতে পানি নিয়ে আসলেন। তিনি তাতে কুলি করলেন, তারপর বললেন: "দাঁড়াও।" অতঃপর তিনি ফাতিমার সামনে এবং তাঁর মাথার ওপর তা ছিটিয়ে দিলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! আমি তাকে এবং তার বংশধরকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে সমর্পণ করছি।" এরপর তিনি বললেন: "আমার জন্য পানি নিয়ে আসো।" আমি বুঝতে পারলাম তিনি কী চাচ্ছেন, তাই আমি পেয়ালাটি পূর্ণ করে তাঁর কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি তা থেকে মুখে পানি নিলেন, তারপর তাতে কুলি করলেন এবং তা আলীর মাথায় ও তাঁর দুই পায়ের মাঝে ঢেলে দিলেন। অতঃপর বললেন: "আল্লাহর নামে তোমার স্ত্রীর নিকট প্রবেশ করো।" এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন, তবে এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে মুহসিন আল-আসলামি রয়েছেন যিনি দুর্বল। আনাস (রা.) থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, উমর (রা.) আবু বকর (রা.)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কন্যা ফাতিমাকে বিয়ে করতে আপনাকে কিসে বাধা দিচ্ছে?" তিনি বললেন: "তিনি আমার নিকট বিয়ে দেবেন না!" উমর (রা.) বললেন: "তিনি যদি আপনার নিকট বিয়ে না দেন, তবে কার নিকট দেবেন?! অথচ আপনি মানুষের মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত এবং ইসলাম গ্রহণের দিক থেকে অগ্রগামীদের অন্তর্ভুক্ত।" অতঃপর আবু বকর আয়েশা (রা.)-এর নিকট গেলেন এবং বললেন: "তুমি যখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রফুল্ল চিত্তে এবং তোমার প্রতি মনোযোগী দেখবে, তখন তাঁর নিকট আমার কথা উল্লেখ করো যে, আমি ফাতিমার কথা আলোচনা করেছি; হয়তো আল্লাহ তা আমার জন্য সহজ করে দেবেন।"
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فرأت منه طيب نفس وإقبالا، فذكرت ذلك له، فقال: (حتى ينزل القضاء) .فرجع إليها أبو بكر فقالت: ما أتاه، ووددت أني لم أذكر له ما ذكرت.فلقى أبو بكر عمر، فذكر لهما أخبرته عائشة، فانطلق عمر إلى حفصه وقال: إذا رأيت منه طيب نفس وإقبالا، فاذكريني له، واذكرى فاطمة لعل الله ييسرها لي.فرأت منه إقبالا وطيب نفس فذكرت له، فقال: (حتى ينزل القضاء) فأخبرته وقالت: وددت أني لم أذكر له شيئا!! فانطلق عمر إلى علي وقال: ما يمنعك من فاطمة؟! قال: أخشى أن لا يزوجني! قال: إن لم يزوجك فمن؟ أنت أقرب خلق الله إليه، فانطلق علي إليه، ولم يكن له مقل. قال: إني أريد أن أتزوج فاطمة. قال: فافعل. قال: ما عندي إلا درعي الحُطَمِيَّة. قال: فاجمع له ما قدرت، وأتني به، فباعها بأربعمائة وثمانين، فأتاه بها، فزوجه فاطمة، فقبض ثلاث قبضات، فدفعها إلى أم أيمن فقال: اجعلي منها قبضة في الطيب، والباقي فيما يصلح للمرأة من المتاع، فلما
তিনি তাঁর মধ্যে মনের প্রফুল্লতা ও অনুকূল মনোভাব দেখতে পেলেন, তাই তিনি তাঁর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তিনি বললেন: (যতক্ষণ না ফয়সালা অবতীর্ণ হয়)। অতঃপর আবু বকর তাঁর নিকট ফিরে আসলেন। তিনি (আয়েশা) বললেন: তাঁর নিকট কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি, আর আমি আকাঙ্ক্ষা করছিলাম যে, আমি যদি তাঁর কাছে এই বিষয়টি উল্লেখ না করতাম। এরপর আবু বকরের সাথে উমরের সাক্ষাৎ হলো, আয়েশা তাঁকে যা জানিয়েছিলেন তিনি তা তাঁর নিকট উল্লেখ করলেন। তখন উমর হাফসার নিকট গেলেন এবং বললেন: যখন তুমি তাঁর মাঝে মনের প্রফুল্লতা ও অনুকূল মনোভাব দেখবে, তখন আমার কথা তাঁর নিকট উল্লেখ করো এবং ফাতিমার কথাও আলোচনা করো, সম্ভবত আল্লাহ তা আমার জন্য সহজ করে দেবেন। তিনিও তাঁর মাঝে অনুকূল মনোভাব ও মনের প্রফুল্লতা দেখতে পেলেন এবং তাঁর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন: (যতক্ষণ না ফয়সালা অবতীর্ণ হয়)। এরপর তিনি তাঁকে (উমরকে) সংবাদ দিলেন এবং বললেন: আমি আকাঙ্ক্ষা করছিলাম যে, আমি যদি তাঁর কাছে কিছুই উল্লেখ না করতাম!! অতঃপর উমর আলীর নিকট গেলেন এবং বললেন: ফাতিমার বিষয়ে তোমাকে কিসে বাধা দিচ্ছে?! তিনি বললেন: আমি আশঙ্কা করি যে, তিনি হয়তো আমার নিকট তাঁকে বিয়ে দেবেন না! উমর বললেন: তিনি যদি তোমার নিকট বিয়ে না দেন, তবে কার নিকট দেবেন? তুমি আল্লাহর মাখলুকের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে কাছের ব্যক্তি। তখন আলী তাঁর নিকট গেলেন, অথচ তাঁর নিকট কোনো অর্থ-সম্পদ ছিল না। তিনি বললেন: আমি ফাতিমাকে বিয়ে করতে চাই। তিনি বললেন: তবে তাই করো। তিনি বললেন: আমার নিকট আমার 'হুতামিয়া' নামক বর্মটি ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি বললেন: এর জন্য যা পারো সংগ্রহ করো এবং তা আমার কাছে নিয়ে এসো। অতঃপর তিনি তা চারশ আশি দিরহামে বিক্রি করলেন এবং তা তাঁর নিকট নিয়ে আসলেন। তখন তিনি ফাতিমাকে তাঁর সাথে বিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তিন মুষ্টি মুদ্রা গ্রহণ করলেন এবং তা উম্মে আয়মানকে প্রদান করে বললেন: এর এক মুষ্টি সুগন্ধির জন্য ব্যয় করো, আর বাকিটা নারীর প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের জন্য ব্যয় করো। যখন...
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
فرغت من الجهاز، وأدخلتها بيتا قال: يا على، لا تحدثن إلى أهلك شيئا حتى آتيك.فأتاهم، فإذا فاطمة متعففة، وعلي قاعد، وأم أيمن، فقال: يا أم أيمن، آتيني بقدح من ماء، فأتته به، فشرب، ثم مج فيه، ثم ناوله فاطمة، فشربت، وأخذ منه، فضرب جبينها وبين قدميها، وفعل بعلي مثل ذلك. ثم قال: اللهم أهل بيتي، فأذهب عنهم الرجس وطهرهم تطهيرا.رواه البزار وفيه محمد بن ثابت وهو ضعيف، بل لوائح الوضع ظاهرة عليه.فإن تزويج فاطمة كان في السنة الثانية اتفاقا، وبناء المصطفى بحفصة بنت عمر إنما كان في الثالثة.وعن ابن عباس قال: كانت فاطمة تذكر لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فلا يذكرها أحد إلا صد عنه فيئسوا منها. فلقى سعد بن معاذ فقال: إني والله ما أراه يحبسها إلا عليك، فقال: ما أنا بأحد الرجلين.ما أنا بصاحب دنيا يلتمسها منى وقد علم: مالي صفراء ولا بيضاء، وما أنا بالكافر الذي يترفق بها عن دينه. يعنى مبالغة بها. إني لأول من أسلم.فقال سعد: عزمت عليها لتفرجها عني؛ فإن لي في ذلك فرجا ماذا أقول؟! قال: تقول: جئت خاطبا إلى الله وإلى رسوله. فقال النبي من كلمة ضعيفة، ثم رجع إلى سعد، فقال له: لم يزد على أن رحب بي، كلمة ضعيفة.
আমি সরঞ্জামের কাজ শেষ করলাম এবং তাকে একটি ঘরে প্রবেশ করালাম। তিনি বললেন: হে আলী, আমি না আসা পর্যন্ত তোমার স্ত্রীর সাথে কোনো কথা বলো না।অতঃপর তিনি তাদের কাছে আসলেন, সেখানে ফাতিমা লজ্জাবনত অবস্থায় ছিলেন, আলী বসা ছিলেন এবং উম্মে আয়মান উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: হে উম্মে আয়মান, আমার কাছে এক পেয়ালা পানি নিয়ে এসো। তিনি তা নিয়ে আসলেন। অতঃপর তিনি পান করলেন এবং তাতে কুলি করলেন। তারপর তিনি তা ফাতিমাকে দিলেন, তিনি তা পান করলেন। এরপর তিনি তা থেকে পানি নিয়ে তার ললাট ও দুই পায়ের মাঝখানে ছিটিয়ে দিলেন। আলীর সাথেও তিনি অনুরূপ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ, এরা আমার আহলে বাইত, আপনি তাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করে দিন এবং তাদেরকে পূর্ণরূপে পবিত্র করুন।এটি আল-বাজার বর্ণনা করেছেন এবং এতে মুহাম্মাদ বিন সাবিত রয়েছেন, যিনি দুর্বল; বরং এতে জালিয়াতির চিহ্নসমূহ সুস্পষ্ট।কেননা ফাতিমার বিবাহ সর্বসম্মতিক্রমে দ্বিতীয় হিজরীতে হয়েছিল, আর মুস্তফা (রাসূলুল্লাহ)-এর উমর-কন্যা হাফসার সাথে দাম্পত্য মিলন তৃতীয় হিজরীতে হয়েছিল।ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ফাতিমার বিয়ের কথা তোলা হতো, কিন্তু যারাই তার কথা উল্লেখ করত তিনি তাদের দিক থেকে বিমুখ হতেন। ফলে তারা তার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেলেন। অতঃপর সা'দ বিন মু'আযের সাথে দেখা হলো, তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি দেখছি তিনি তাকে তোমার জন্যই আটকে রেখেছেন। তিনি বললেন: আমি তো সেই দুই ব্যক্তির কোনোটিই নই।আমি এমন কোনো দুনিয়াদার লোক নই যার কাছে তিনি দুনিয়া প্রত্যাশা করবেন, অথচ তিনি জানেন যে আমার কাছে স্বর্ণ বা রৌপ্য কিছুই নেই। আর আমি এমন কোনো কাফিরও নই যে তার দ্বীনের বিনিময়ে তার প্রতি মমতা পাওয়ার চেষ্টা করব—অর্থাৎ এ ব্যাপারে অতিরঞ্জিত কিছু। আমি তো সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন।সা'দ বললেন: আমি তোমাকে এ ব্যাপারে সংকল্প করার অনুরোধ করছি যাতে তুমি আমার দুশ্চিন্তা দূর করো; কারণ এতে আমার জন্য প্রশান্তি রয়েছে। আমি কী বলব?! তিনি বললেন: তুমি বলবে: আমি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছি। অতঃপর নবী (সা.) একটি ক্ষীণ বাক্যে উত্তর দিলেন। তারপর তিনি সা'দের কাছে ফিরে এলেন এবং তাকে বললেন: তিনি আমাকে কেবল স্বাগতম জানিয়েছেন এর চেয়ে বেশি কিছু বলেননি—একটি ক্ষীণ বাক্য।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
قال: أنكحك.والذي بعثه بالحق إنه لا خلف ولا كذب عند، أعزم عليك، فلتأتينه غداً، فأتاه، فقال: يا نبي الله، متى؟ قال الليلة: إن شاء الله. ثم دعا ثلاثا، فقال: زوجت ابنتي ابن عمي، وأنا أحب أني كون سنة أمتى الطعام عند النكاح فخذ شاة، وأربعة أمداد، واجعل قصعة اجمع عليها المهاجرين والأنصار، فإذا فرغت فآذني. ففعل، ثم أتاه بقصعة فوضعها بين يديه، فطعن في رأسها وقال: أدخل الناس رفة بعد رفة فجعلوا يردون كلما فرغت رفة، وردت أخرى حتى فرغوا. ثم عمد إلى ما فضل منها، فتفل فيها، فوضعها بين يديه، وبارك، وقال:احملها إلى أمهاتك، وقل لهن: كلن وأطعمن من غشيكن، ثم قام فدخل على النساء فقال: زوجت بنتي ابن عمي، وقد علمتن منزلها مني، وأنا دفعها إليه، فدونكم، فقمن فطيبنها من طيبهن وألبسنها من ثيابهن، وحليهن.فدخل، فلما رأته النساء ذهبن، وتخلقت أسماء بنت عميس.فقال: على رسلك من أنت؟ قالت: على رسلك من أنت؟ قالت: أنا التي أحرس ابنتك.إن الفتاة ليلة زفافها لا بد لها من امرأة قريبة منها إن عرضت لها حاجة، أو أرادت أمرا أفضت إليها به.قال: فإني أسأل إلاهي أن يحرسك من بين يديك ومن خلفك،
তিনি বললেন: আমি তোমাকে বিয়ে দিচ্ছি।সেই সত্তার শপথ যিনি তাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমার নিকট কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ বা মিথ্যা নেই। আমি তোমাকে দৃঢ়ভাবে বলছি, তুমি আগামীকাল অবশ্যই তার কাছে আসবে। এরপর তিনি তার কাছে এলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর নবী, কখন? তিনি বললেন: আজ রাতে, ইনশাআল্লাহ। অতঃপর তিনি তিনবার প্রার্থনা করলেন এবং বললেন: আমি আমার মেয়েকে আমার চাচাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিয়েছি। আর আমি পছন্দ করি যে, বিয়ের সময় খাবার খাওয়ানো আমার উম্মতের সুন্নাত হোক। সুতরাং তুমি একটি বকরি এবং চার মুদ (শস্য) নাও, আর একটি বড় পাত্র প্রস্তুত করো যাতে মুহাজির ও আনসারদের একত্রিত করা যায়। যখন তুমি শেষ করবে, তখন আমাকে জানাবে। তিনি তা-ই করলেন। এরপর তিনি একটি বড় পাত্র নিয়ে তার কাছে আসলেন এবং সেটি তার সামনে রাখলেন। তিনি তার উপরিভাগে স্পর্শ করলেন এবং বললেন: মানুষকে দলে দলে প্রবেশ করাও। অতঃপর তারা আসতে লাগল; যখনই একদল শেষ করত, অন্য দল প্রবেশ করত, যতক্ষণ না তারা সবাই শেষ করল। অতঃপর তিনি যা অবশিষ্ট ছিল তার দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং তাতে সামান্য লালা প্রদান করলেন, তারপর তা নিজের সামনে রাখলেন এবং বরকতের দোয়া করলেন। এরপর বললেন:এটি তোমার মায়েদের কাছে নিয়ে যাও এবং তাদের বলো: তোমরা নিজেরা খাও এবং তোমাদের কাছে যারা আসবে তাদের খাওয়াও। এরপর তিনি উঠে মহিলাদের কাছে প্রবেশ করলেন এবং বললেন: আমি আমার মেয়েকে আমার চাচাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিয়েছি। আমার কাছে তার মর্যাদা কেমন তা তোমরা জানো। আমি তাকে তার হাতে তুলে দিচ্ছি, সুতরাং তোমরা তাকে প্রস্তুত করো। এরপর তারা উঠে দাঁড়াল এবং তাকে তাদের সুগন্ধি দ্বারা সুসজ্জিত করল এবং তাদের পোশাক ও অলংকার পরিধান করাল।অতঃপর তিনি প্রবেশ করলেন। মহিলারা যখন তাকে দেখল, তারা চলে গেল; কিন্তু আসমা বিনতে উমাইস রয়ে গেলেন।তিনি বললেন: থামো, তুমি কে? তিনি বললেন: আমি সেই ব্যক্তি যে আপনার মেয়ের দেখাশোনা করছে।নিশ্চয়ই বিয়ের রাতে যুবতী মেয়ের জন্য একজন নিকটবর্তী মহিলার প্রয়োজন হয়, যাতে তার কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে বা সে কিছু চাইলে তার কাছে তা প্রকাশ করতে পারে।তিনি বললেন: আমি আমার ইলাহের কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি তোমাকে তোমার সামনে থেকে এবং তোমার পেছন থেকে রক্ষা করেন,
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وعن يمينك وشمالك من الشيطان الرجيم ثم خرج بفاطمة، فلما رأت عليا بكت، فخشى المصطفى أن يكون بكاؤها أن عليا لا مال له! فقال: ما يبكيك؟! ما ألومك في نفسي، وقد أصبت لك خير أهلي، والذي نفسي بيده، لقد زوجتك سيدا في الدنيا وفي الآخرة لمن المصلحين.فدنا منها..قال آتيني بالمخضب فأميليه.فأتت أسماء به فمج فيه، ثم دعا فاطمة فأخذ كفا من ماء فضرب على رأسها وبين قدميها، ثم التزمها فقال: اللهم، إنها منى، وإني منها. اللهم كما أذهبت عني الرجس وطهرتني فطهرها.ثم دعا بمخضب آخر فصنع بعلى كما صنع بها ثم قال: قوما، جمع الله شملكما، وأصلح بالكما. ثم قام وأغلق عليهما بابه.رواه الطبراني بإسناد ضعيف وعن بريدة قال: قال نفر من الأنصار لعلي: عندك فاطمة، فأتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ما حاجة ابن أبي طالب؟ فقال: ارسول الله، ذكرت فاطمة فقال: مرحبا وأهلا!. لم يزد عليها. فخرج علي بن أبي طالب إلى رهط من الأنصار ينتظرونه. فقالوا: ما وراءك؟ قال: ما أدري..غير أنه قال: مرحبا وأهلا قالوا: يكفيك من رسول الله صلى الله عليه وسلم إحداهما: أعطاك الأهل والمرحب، فلما كان بعد ما زوجه قال: يا علي، إنه لا بد للعروس من وليمة.
আপনার ডান এবং বাম দিক থেকে বিতাড়িত শয়তান থেকে (আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। অতঃপর তিনি ফাতিমাকে নিয়ে বের হলেন। যখন ফাতিমা আলীকে দেখলেন, তখন তিনি কেঁদে দিলেন। এতে মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আশঙ্কা করলেন যে, আলীর কোনো সম্পদ না থাকার কারণে হয়তো তাঁর এই কান্না! তিনি বললেন: তুমি কেন কাঁদছ? আমি নিজের ব্যাপারে তোমাকে কোনো দোষ দেব না, অথচ আমি তোমার জন্য আমার পরিবারের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে পছন্দ করেছি। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ, আমি তোমাকে দুনিয়াতে একজন নেতার সাথে বিয়ে দিয়েছি এবং তিনি পরকালেও অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।অতঃপর তিনি তাঁর নিকটবর্তী হলেন এবং বললেন: আমার কাছে একটি পানির পাত্র নিয়ে এসো এবং তা উপুড় করো।অতঃপর আসমা সেটি নিয়ে আসলেন এবং তিনি তাতে কুলি করলেন। এরপর তিনি ফাতিমাকে ডাকলেন এবং এক আজলা পানি নিয়ে তাঁর মাথায় ও তাঁর দুই পায়ের মাঝে ছিটিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! সে আমার অংশ এবং আমি তার অংশ। হে আল্লাহ! যেভাবে আপনি আমার থেকে অপবিত্রতা দূর করেছেন এবং আমাকে পবিত্র করেছেন, তাকেও তেমনি পবিত্র করুন।অতঃপর তিনি অন্য একটি পানির পাত্র আনালেন এবং আলীর সাথেও তদ্রূপ করলেন যা ফাতিমার সাথে করেছিলেন। এরপর বললেন: তোমরা ওঠো, আল্লাহ তোমাদের ঐক্যবদ্ধ করুন এবং তোমাদের অবস্থা সংশোধন করুন। এরপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁদের ওপর দরজা বন্ধ করে দিলেন।তাবারানি এটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আনসারদের একদল লোক আলীকে বললেন: ফাতিমা আপনার নিকটবর্তী (অর্থাৎ বিয়ের উপযুক্ত)। অতঃপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন। তিনি বললেন: আবু তালিবের পুত্রের কী প্রয়োজন? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি ফাতিমার কথা উল্লেখ করতে এসেছি (তাঁর পাণিপ্রার্থী হিসেবে)। তিনি বললেন: মারহাবা ও স্বাগতম! তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু বললেন না। এরপর আলী ইবনে আবি তালিব আনসারদের সেই দলের কাছে ফিরে গেলেন যারা তাঁর অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁরা বললেন: আপনার পেছনে কী সংবাদ? তিনি বললেন: আমি জানি না... তবে তিনি কেবল 'মারহাবা ও স্বাগতম' বলেছেন। তাঁরা বললেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এর যেকোনো একটি শব্দই আপনার জন্য যথেষ্ট; তিনি আপনাকে আপন করে নিয়েছেন এবং অভিবাদন জানিয়েছেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁর সাথে বিয়ে সম্পন্ন করলেন, তখন বললেন: হে আলী, বাসর রাতের জন্য অবশ্যই ওয়ালিমার প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
قال سعد رضي الله عنه: عندي كبش، وجمع له الأنصار أصوعا من ذرة، فلما كان ليلة البناء، قال: لا تحدث شيئا حتى تلقاني! فدعا رسول الله صلى الله عليه وسلم بماء فتوضأ منه ثم أفرغه على فقال: (اللهم بارك فيهما وبارك لهما في بنائهما) .رواه الطبراني بإسناد صحيح هل هناك تعارض بين الأحاديث؟ ولا يعارضه ما سبق: أن الذي نبهه لذلك العمران.وما في حديث ابن عباس: أن سعدا لما خرج له ثم لقيه سعد، فحثه عليه من غير أن يعلم أحدهم بما فعله الآخر.ولا حديث أسماء. إذ مرادها وليمة علي ما قام به بنفسه غير ما جاء به الأنصار وسعدا.أو أن الوليمة تعددت فيما دفعه المصطفى لها للنساء.وبقية حديثها يشهد له وذاك للرجال.
সাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: আমার কাছে একটি দুম্বা আছে, আর আনসারগণ তাঁর জন্য কয়েক সা' ভুট্টা সংগ্রহ করলেন। যখন বাসর রাত হলো, তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: আমার সাথে তোমার সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত তুমি কোনো কিছু করবে না! এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পানি চাইলেন এবং তা দিয়ে ওজু করলেন, তারপর তা আমার ওপর ঢেলে দিলেন এবং বললেন: (হে আল্লাহ, তাঁদের উভয়ের মাঝে বরকত দিন এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবনে বরকত দান করুন)।তাবারানি এটি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন। হাদিসগুলোর মধ্যে কি কোনো বৈপরীত্য আছে? পূর্বের বর্ণনার সাথে এর কোনো বৈপরীত্য নেই যে: উমরান তাকে এ বিষয়ে সচেতন করেছিলেন।আর ইবনে আব্বাসের হাদিসে যা আছে: সাদ যখন তাঁর জন্য বের হলেন এবং সাদের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলো, তখন তিনি তাঁকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করলেন, অথচ তাঁদের কেউ অপরজনের কাজ সম্পর্কে জানতেন না।আসমার হাদিসের সাথেও কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ তাঁর উদ্দেশ্য হলো আলীর ঐ ওয়ালিমা যা তিনি নিজে করেছিলেন, আনসার ও সাদ যা নিয়ে এসেছিলেন তা ছাড়া।অথবা ওয়ালিমা একাধিকবার হয়েছিল যা মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীদের জন্য দিয়েছিলেন।আর তাঁর হাদিসের অবশিষ্টাংশ এর সাক্ষ্য দেয় এবং সেটি ছিল পুরুষদের জন্য।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
ولا حديث أنس المصرح بإيقاعه عليهما؛ لتغاير الكيفية كما أفاده المحب الطبرى.وعن جابر، لما حضرنا عرس على وفاطمة رضي الله عنهما فما رأينا عرسا كان أحسن منه.حشونا الفراش يعني الليف - وأتينا بتمر وزبيب فأكلنا. وكان فراشها ليلة عرسها إهاب كبش.رواه البزار. وفيه ضعف وعن علي قال: خطبت فاطمة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت مولاة لي: هل علمت أن فاطمة خطبت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قلت: لا.قالت: فقد خطبت. فما يمنعك أن تأتي رسول الله صلى الله عليه وسلم، فيزوجك؟! فقلت: أو عندي شيء أتزوج به؟ فقالت: إنك إن جئته زوجك. فوالله ما زالت ترجيني حتى دخلت عليه - وكانت له جلالة وهيبة - فلما قعدت بين يديه أفحمت، فما استطعت أن أتكلم جلالة وهيبة! فقال: ما جاء بك؟ ألك حاجة؟! فسكت.
আনাস (রা.)-এর সেই হাদিসটিও নয় যাতে পরিষ্কারভাবে উভয়ের ওপর তা প্রয়োগের কথা এসেছে; কারণ এর ধরণ ভিন্নতর, যেমনটি মুহিব্ব আল-তবারি উল্লেখ করেছেন।জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আমরা আলি ও ফাতিমা (রা.)-এর বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলাম, তখন আমরা এর চেয়ে সুন্দর কোনো বিবাহ অনুষ্ঠান দেখিনি।আমরা বিছানায় খেজুর গাছের আঁশ ভরলাম এবং আমাদের সামনে খেজুর ও কিসমিস আনা হলো, অতঃপর আমরা তা খেলাম। আর তাঁর বিবাহের রাতে তাঁর বিছানা ছিল একটি ভেড়ার চামড়া।আল-বাজজার এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। আলি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ফাতিমা (রা.)-এর বিয়ের জন্য আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তখন আমার এক দাসী আমাকে বলল: আপনি কি জানেন যে ফাতিমার জন্য আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে? আমি বললাম: না।সে বলল: প্রস্তাব তো দেওয়া হয়েছে। তবে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যেতে আপনাকে কিসে বাধা দিচ্ছে, যাতে তিনি আপনার সাথে তাঁর বিয়ে দিয়ে দেন?! আমি বললাম: বিয়ে করার মতো আমার কাছে কি কিছু আছে? সে বলল: আপনি যদি তাঁর কাছে যান, তবে তিনি আপনার সাথে বিয়ে দিয়ে দেবেন। আল্লাহর কসম! সে আমাকে ক্রমাগত আশান্বিত করতে থাকল যতক্ষণ না আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম—আর তাঁর এক বিশেষ গাম্ভীর্য ও প্রভাব ছিল—যখন আমি তাঁর সামনে বসলাম, তখন আমি নির্বাক হয়ে গেলাম এবং তাঁর গাম্ভীর্য ও প্রভাবের কারণে আমি কোনো কথা বলতে পারলাম না! তখন তিনি বললেন: তোমার আসার কারণ কী? তোমার কি কোনো প্রয়োজন আছে?! আমি চুপ করে রইলাম।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
فقال: (لعلك جئت تخطب فاطمة) ؟! قلت: نعم.قال: (وهل عندك من شيء تستحلها به؟) .فقلت: (ما فعلت درع سلَّحتُكُها؟) .فوالذي نفس علي بيده إنها لحطمية. ما قيمتها أربعة دراهم. فقلت: عندي. فقال: قد زوجتكها فابعث إليها بها فاستحلها بها، فإن كانت لصدق فاطمة. بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم.قال: المحب الطبري: يشبه أن العقد وقع على الدرع وبعث بها على ثم ردها إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ليبيعها فباعها، وأتاه بثمنها.ثم هذه الأحاديث وقائع حال فعلية محتملة، فعدم تصريح علي بالقبول فيها لا يدل على عدم اشتراطه لاحتمال أنه قيل ما شاء لمن شاء.ولا تدل أيضا على عدم وجوب تسمية المهر في العقد بدليل ما رواه أبو داود عن ابن عباس قال: لما تزوج علي فاطمة قال له المصطفى: أعطها شيئا. قال: ما عندي شيء.
তিনি বললেন: (সম্ভবত তুমি ফাতিমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছ?) আমি বললাম: হ্যাঁ।তিনি বললেন: (তোমার কাছে কি এমন কিছু আছে যার বিনিময়ে তাকে তোমার জন্য হালাল করবে?)।আমি বললাম: (আমি তোমাকে যে বর্মটি দিয়েছিলাম সেটির কী হয়েছে?)।সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আলীর প্রাণ, সেটি ছিল হুতামিয়াহ বর্ম। সেটির মূল্য চার দিরহামও ছিল না। আমি বললাম: সেটি আমার কাছে আছে। তিনি বললেন: আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহ দিয়েছি, সুতরাং সেটি তার নিকট পাঠিয়ে দাও এবং এর মাধ্যমে তাকে হালাল করো; কেননা এটিই ছিল আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমার মোহরানা।আল-মুহিব্ব আত-তাবারী বলেন: মনে হয় যে বিবাহের আকদ বর্মটির বিনিময়েই সম্পন্ন হয়েছিল এবং আলী সেটি পাঠিয়েছিলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁর কাছে ফেরত দেন যেন তিনি তা বিক্রি করেন। এরপর তিনি তা বিক্রি করেন এবং তার মূল্য তাঁর নিকট নিয়ে আসেন।অতঃপর এই হাদিসগুলো সম্ভাব্য বাস্তব পরিস্থিতির বর্ণনা, তাই এতে আলীর পক্ষ থেকে কবুলের (গ্রহণের) স্পষ্ট উল্লেখ না থাকা এটি প্রমাণ করে না যে কবুল বলা শর্ত নয়; কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে যা বলার ছিল তা যাকে বলার বলা হয়েছিল।আর এটি আকদের সময় মোহরানা নির্ধারণ করা ওয়াজিব না হওয়াকেও বুঝায় না। এর দলিল হলো যা আবু দাউদ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন আলী ফাতিমাকে বিবাহ করলেন, তখন আল-মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: তাকে কিছু দাও। তিনি বললেন: আমার কাছে কিছু নেই।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
قال: أني درعك الحطمية؟! فقوله: (لما تزوج) فيه تصريح بأنه إنما ذكر ذلك بعد وقوع العقد.وروى إسحاق - بسند ضعيف - عن علي أنه لما تزوج فاطمة قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم (اجعل عامة الصداق في الطيب) .وعن أبي يعلى بسند ضعيف عن علي قال: خطبت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم ابنته فاطمة. قال: فباع علي درعا وبعض ما باع من متاعه، فبلغ أربعمائة وثمانين درهما، وأمر رسول الله أن يجعل ثلثين في الطيب وثلثا في الثياب، ومج في جرة من ماء وأمرهم أن يغتسلوا به وأمرها أن لا تستبقه برضاع ولدها فسبقته برضاع الحسين، وأما الحسن فإنه عليه الصلاة والسلام صنع في فيه شيئا لا ندري ما هو فكان أعلم الرجلين.وعن علي بن أحمد اليشكرى أن عليا تزوج فاطمة فباع بعيرا له بثمانين وأربعمائة درهم. فقال المصطفى: اجعلوا ثلثين في الطيب، وثلثا في الثياب.رواه ابن سعد في الطبقات
তিনি বললেন: তোমার সেই হুতামিয়া বর্মটি কোথায়?! তাঁর উক্তি: (যখন তিনি বিয়ে করলেন) এতে স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে যে, তিনি এটি কেবল বিবাহের আকদ সম্পন্ন হওয়ার পরেই উল্লেখ করেছিলেন।ইসহাক একটি দুর্বল সনদে আলীর বরাতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যখন ফাতিমাকে বিয়ে করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: (মোহরের অধিকাংশ অংশ সুগন্ধির জন্য নির্ধারণ করো)।আবু ইয়ালা থেকে একটি দুর্বল সনদে আলীর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তাঁর কন্যা ফাতিমার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। তিনি বলেন: তখন আলী একটি বর্ম এবং তাঁর বিক্রিত কিছু আসবাবপত্র বিক্রি করলেন, যার মূল্য চারশ আশি দিরহামে পৌঁছাল। রাসূলুল্লাহ নির্দেশ দিলেন যেন দুই-তৃতীয়াংশ সুগন্ধিতে এবং এক-তৃতীয়াংশ পোশাকে ব্যয় করা হয়। তিনি একটি পানির পাত্রে কুলি করলেন এবং তাঁদের তা দিয়ে গোসল করার নির্দেশ দিলেন। আর তিনি ফাতিমাকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাঁর সন্তানদের দুধ পান করানোর ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহর আগে না যান। কিন্তু হুসাইনের দুধ পানের ক্ষেত্রে তিনি রাসূলুল্লাহর আগে চলে যান। আর হাসানের ক্ষেত্রে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুখে এমন কিছু প্রদান করলেন যা আমরা জানি না সেটি কী ছিল, ফলে তিনি ঐ দুইজনের মধ্যে অধিক জ্ঞানী হলেন।আলী বিন আহমাদ আল-ইয়াশকুড়ি থেকে বর্ণিত যে, আলী ফাতিমাকে বিয়ে করলেন এবং নিজের একটি উট চারশ আশি দিরহামে বিক্রি করলেন। তখন মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমরা দুই-তৃতীয়াংশ সুগন্ধিতে এবং এক-তৃতীয়াংশ পোশাকে ব্যয় করো।ইবনে সাদ এটি আত-তবাকাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وهذا لا ينافيه ما مر أنه أصدقها ذلك الدرع؛ لأن الدرع هو الصداق، وثمن البعير قام بما لها ما عليه من حقوق الوليمة واللوازم العرفية والعادية ونحو ذلك. وعن حجر بن عنبس - وكان قد أدرك الجاهلية لكنه لم ير المصطفى - قال: خطب أبو بكر وعمر إلى رسول الله فاطمة، فقال رسول الله: (هي لك يا علي) رواه الطبراني بإسناد صحيح وعن حجر المذكور قال: خطب علي إلى رسول الله فاطمة، فقال: (هي لك يا علي لست بدخال) - أي لأنه كان قد وعده فقال: إني لا أخلف الوعد.رواه البزار ورجاله ثقات وظاهر حديث حجر الأول أن المصطفى لما خطبها الشيخان ابتدأ عليا فزوجه إياها بغير طلب.وظاهر الباقي أنه لما خطباها علم علي فجاء فخطبها، فأجابه، ويدل عليه كثير من الأخبار المارة.
এটি ইতিপূর্বে বর্ণিত সেই ঢালটিকে মোহর হিসেবে প্রদানের বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ ঢালটি ছিল মোহর, আর উটের মূল্য দ্বারা ওয়ালিমার হকসমূহ ও অন্যান্য প্রথাগত ও স্বাভাবিক প্রয়োজনীয় খরচাদি এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ নির্বাহ করা হয়েছে। হুজর বিন আনবাস থেকে বর্ণিত—যিনি জাহেলিয়াতকাল পেয়েছিলেন কিন্তু রাসুলুল্লাহর সাক্ষাৎ পাননি—তিনি বলেন: আবু বকর ও উমর আল্লাহর রাসুলের কাছে ফাতিমার বিয়ের প্রস্তাব দেন, তখন আল্লাহর রাসুল বললেন: "হে আলী, সে তোমার জন্য।" এটি তাবারানি সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন। উল্লিখিত হুজর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী আল্লাহর রাসুলের কাছে ফাতিমার বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি বললেন: "হে আলী, সে তোমার জন্য, আমি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী নই।"—অর্থাৎ যেহেতু তিনি তাকে ইতিপূর্বে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাই তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করি না।"এটি বাজ্জার বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। হুজর বর্ণিত প্রথম হাদিসের বাহ্যিক অর্থ হলো, যখন শায়খাইন (আবু বকর ও উমর) ফাতিমার বিয়ের প্রস্তাব দেন, তখন আল্লাহর রাসুল স্বয়ং আলীর নিকট প্রস্তাব করেন এবং কোনো আবেদন ছাড়াই তার সাথে ফাতিমার বিয়ে দেন।আর অবশিষ্ট বর্ণনার বাহ্যিক অর্থ হলো, যখন তারা দুজন বিয়ের প্রস্তাব দেন, তখন আলী বিষয়টি জানতে পেরে নিজে এসে প্রস্তাব দেন এবং আল্লাহর রাসুল তার প্রস্তাবে সাড়া দেন। ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হওয়া অনেক বর্ণনাও এর সপক্ষে প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
والظاهر أن الواقعة تعددت فخطباها فلم يجب، ولم يرد، فجاء علي فوعده وسكت، فلما يعلما بوعده، فأعاد الخطبة، فابتدأ وزوجها من على لسبق إجابته له.وفي حديث عكرمة: أنه استأذنها قبل تزويجها منه، فقد روى ابن سعد عن عطا قال: خطب على فاطمة فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم: إن عليا يريد يتزوجك، فسكتت، فزوجها.ففيه أنه يستحب استئذان البكر، وأن إذنها سكوتها، وعليه الشافعي.وروى ابن أبي حاتم عن أنس وأحمد عنه بنحوه قال: جاء أبو بكر وعمر يخطبان فاطمة إلى المصطفى فسكت ولم يرجع إليهما شيئا، فانطلقا إلى علي يأمرانه يطلب ذلك. قال على. فنهاني لأمر فقمت أجرر ردائي حتى أتيته فقلت: تزوجني فاطمة؟ (قال: وعندك شيء؟ قلت: فرسى وبدني. قال: أما فرسك، فلا بد لك منه، وأما بدنك - أي درعك - فبعها، فبعتها بأربعمائة وثمانين فجئته بها، فوضعها في حجرة، فقبض منها قبضة فقال: أي بلال، ابتع بها طيبا وأمرهم أن يجهزوها. فجعل لها سريرا مشروطا، ووسادة من أدم حشوها ليف، وقال لي: إذا أتيت فلا تحدثن شيئا حتى آتيك فجئت مع أم أيمن فقعدت
প্রকাশ্যত ঘটনাটি একাধিকবার ঘটেছে; তাঁরা দুজনে (আবু বকর ও ওমর) বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কোনো উত্তর দেননি এবং কোনো সাড়াও দেননি। অতঃপর আলী আসলেন, তখন তিনি তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং চুপ থাকলেন। তাঁরা দুজনে সেই প্রতিশ্রুতির কথা জানতেন না। অতঃপর তিনি পুনরায় বিয়ের প্রস্তাবের বিষয়টি উত্থাপন করলেন এবং আলীর সাথে তাঁর বিবাহ দিয়ে দিলেন, কারণ তিনি পূর্বেই তাঁর প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছিলেন।ইকরিমার বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: আলীর সাথে বিয়ে দেওয়ার পূর্বে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অনুমতি চেয়েছিলেন। ইবনে সাদ আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ফাতিমার বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন: আলী তোমাকে বিয়ে করতে চায়। তিনি চুপ থাকলেন, অতঃপর তিনি তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করলেন।এর মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে, কুমারী মেয়ের অনুমতি গ্রহণ করা মুস্তাহাব এবং তার নীরবতাই তার সম্মতি হিসেবে গণ্য। ইমাম শাফেঈ (রহ.) এই মতই পোষণ করেছেন।ইবনে আবি হাতিম আনাস (রা.) থেকে এবং আহমদ (রহ.) তাঁর থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ও ওমর মুস্তাফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফাতিমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসলেন, কিন্তু তিনি চুপ থাকলেন এবং তাঁদের কোনো উত্তর দিলেন না। অতঃপর তাঁরা আলীর নিকট গেলেন এবং তাঁকে সেই প্রস্তাব দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন। আলী (রা.) বলেন: আমি একটি কারণে দ্বিধান্বিত ছিলাম, অতঃপর আমি চাদর টানতে টানতে তাঁর নিকট আসলাম এবং বললাম: ফাতিমাকে আমার কাছে বিবাহ দেবেন? (তিনি বললেন: তোমার কাছে কি কিছু আছে? আমি বললাম: আমার একটি ঘোড়া ও আমার বর্ম আছে। তিনি বললেন: তোমার ঘোড়ার তো তোমার প্রয়োজন আছে, আর তোমার বর্ম—অর্থাৎ তোমার যুদ্ধবস্ত্র—সেটি বিক্রি করে দাও। আমি সেটি চারশত আশি দিরহামে বিক্রি করলাম এবং তাঁর নিকট তা নিয়ে আসলাম। তিনি তা নিজের কোলে রাখলেন এবং সেখান থেকে এক মুষ্টি নিয়ে বললেন: হে বেলাল, এটি দিয়ে সুগন্ধি কিনে আনো। আর তিনি তাঁদেরকে ফাতিমার আসবাবপত্র প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাঁর জন্য খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি একটি খাট এবং একটি চামড়ার বালিশের ব্যবস্থা করলেন যার ভেতরে খেজুরের আঁশ ভর্তি ছিল। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: যখন তুমি ঘরে প্রবেশ করবে, তখন আমি না আসা পর্যন্ত কোনো কিছু করো না। আমি উম্মে আয়মানের সাথে আসলাম এবং বসে পড়লাম...
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
في جانب البيت وأنا في جانب، فجاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: ها هنا أخي..قالت أم أيمن: أخوك وتزوجه ابنتك؟! قال نعم، فقال لفاطمة: آتيني بماء، فقامت فأتت بعقب - أي قدح - في البيت فيه ماء، فأخذه ومج فيه، ثم قال لها تقدمي، فتقدمت، فنفخ بين يديها، وعلى رأسها وقال: اللهم إني أعيذها بك وذريتها من الشيطان الرجيم، ثم قال: أدبرى فأدبرت، وصب بين كتفيها، ثم فعل مثل ذلك مع على. ثم قال له: ادخل بأهلك باسم الله والبركة) .وأخرج الخطيب البغدادي في كتاب التلخيص عن أنس قال: بينما أنا عند المصطفى إذا غشيه الوحي، فلما سرى عنه قال لي: تدري ما جاء به جبريل من عند صاحب العرش؟(إن الله أمرني أن أزوج فاطمة من على. انطلق فادع لي أبا بكر وعمر وعثمان، وعبد الرحمن بن عوف، وعدة من الأنصار. فلما اجتمعوا، وأخذوا مجالسهم - وكان علي غائبا - قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الحمد لله المحمود بنعمته، المعبود بقدرته، المطاع سلطانه، النافذ أمره في سمائه وأرضه، الذي خلق الخلق بقدرته وميزهم بأحكامه، وأعزهم بدينه، وأكرمهم بنبيهم محمدا إن الله - تبارك اسمه وتعالت عظمته - قال عز من قائل: (وَهُوَ الَّذي خَلَقَ مِنَ الماءِ بَشَراً فَجَعَلَهُ نَسَباً وَصَهراً وَكانَ رَبُّكَ قَديراً) .
ঘরের এক পার্শ্বে আমি ছিলাম এবং অন্য পার্শ্বে তিনি। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন এবং বললেন: এখানে কি আমার ভাই আছে? উম্মে আয়মান বললেন: আপনার ভাই! আর আপনি কি তাঁর সাথে নিজের মেয়ের বিবাহ দিচ্ছেন?! তিনি বললেন: হ্যাঁ। এরপর তিনি ফাতিমাকে বললেন: আমার নিকট কিছু পানি নিয়ে এসো। তখন তিনি উঠে আসলেন এবং ঘরে থাকা একটি পাত্রে (আকাব - অর্থাৎ পেয়ালা) করে পানি নিয়ে আসলেন। তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং তাতে কুলি করলেন। এরপর তাঁকে বললেন: সম্মুখে অগ্রসর হও। তিনি অগ্রসর হলেন। তখন তিনি তাঁর সামনের অংশে এবং মাথায় ফুঁ দিলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! আমি তাঁকে এবং তাঁর বংশধরকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আপনার আশ্রয়ে রাখছি। এরপর বললেন: পিঠ ফেরাও। তিনি পিঠ ফিরালে তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে পানি ঢেলে দিলেন। এরপর আলীর সাথেও অনুরূপ করলেন। এরপর তাঁকে বললেন: আল্লাহর নামে এবং বরকতের সাথে তোমার স্ত্রীর নিকট প্রবেশ করো।খতীব বাগদাদী 'কিতাবুত তালখীস' গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যখন মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকটে ছিলাম, তখন তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতে লাগল। যখন ওহীর আবেশ কেটে গেল, তখন তিনি আমাকে বললেন: তুমি কি জানো জিবরাঈল আরশের অধিপতির নিকট থেকে কী নিয়ে এসেছেন?(নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে ফাতিমাকে আলীর সাথে বিবাহ দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। তুমি যাও এবং আমার নিকট আবু বকর, উমর, উসমান, আবদুর রহমান ইবনে আউফ এবং আনসারদের একটি দলকে ডেকে নিয়ে আসো। যখন তাঁরা একত্রিত হলেন এবং নিজ নিজ আসনে উপবিষ্ট হলেন - তখন আলী অনুপস্থিত ছিলেন - আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর নিআমতের কারণে প্রশংসিত, তাঁর কুদরতের কারণে ইবাদতযোগ্য, যাঁর কর্তৃত্ব মান্য করা হয়, যাঁর নির্দেশ তাঁর আসমানে ও জমিনে কার্যকর, যিনি তাঁর কুদরতে সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর বিধানের মাধ্যমে তাদের পৃথক করেছেন, তাঁর দ্বীনের মাধ্যমে তাদের সম্মানিত করেছেন এবং তাঁর নবী মুহাম্মদের মাধ্যমে তাদের মর্যাদাবান করেছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ - যাঁর নাম বরকতময় এবং যাঁর মহিমা সুউচ্চ - তিনি মহান বক্তা হিসেবে বলেছেন: (এবং তিনিই পানি থেকে মানুষ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বংশগত ও বৈবাহিক আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন; এবং তোমার রব চির সক্ষম)।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
فأمر الله مجرى إلى قضائه، وقضاؤه مجرى إلى قدره، ولكل قدر أجل، ولكل أجل كتاب، يمحو ما يشاء ويثبت وعنده أم الكتاب.ثم إن الله أمرني أن أزوج فاطمة من علي، فاشهدوا على أني قد زوجته على أربعمائة مثقال فضة إن رضي على بذلك. ثم دعا بطبق من بسر. ثم قال انتبهوا فانتبهنا، ودخل علي فتبسم النبي في وجهه ثم قال: (إن الله أمرني أن أزوجك فاطمة على أربعمائة مثقال فضل، أرضيت؟ فقال: رضيت.زاد ابن شاذان في رواية: ثم خر علي ساجدا شكرا لله تعالى.فقال المصطفى: (جمع الله شملكما وبارك عليكما، وأخرج منكما صالحا طيبا) .زاد في رواية ابن شاذان: (وجعل نسلكما مفاتيح الرحمة ومعدن الحكمة) .وهذه واقعة محتملة كما مر لأن يكون على قبل لما حضر وعلم.وقوله: (إن رضى) صورة تعليق، لا حقيقته، لأن الأمر منوط برضى الزوج.على أن هذا الحديث قد حكم ابن الجوزى بوضعه وتبعه الذهبي.وقالا هو من وضع (محمد بن دينار) ، ورواه ابن عساكر بنحوه وقال: غريب لا أعلمه.
আল্লাহর আদেশ তাঁর ফয়সালার দিকে ধাবিত হয়, আর তাঁর ফয়সালা তাঁর তকদিরের দিকে ধাবিত হয়। প্রতিটি তকদিরের একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে এবং প্রতিটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একটি কিতাব রয়েছে। তিনি যা ইচ্ছা করেন মুছে ফেলেন এবং যা ইচ্ছা বহাল রাখেন, আর তাঁর নিকটেই রয়েছে মূল কিতাব।অতঃপর আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি ফাতিমাকে আলীর সাথে বিবাহ দিই। অতএব আপনারা সাক্ষী থাকুন যে, আমি চারশত মিসকাল রূপার বিনিময়ে তাঁর সাথে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন করেছি, যদি আলী তাতে সন্তুষ্ট থাকে। এরপর তিনি এক পাত্র কাঁচা খেজুর আনালেন। এরপর তিনি বললেন, তোমরা মনোযোগী হও। অতঃপর আমরা মনোযোগী হলাম। তখন আলী প্রবেশ করলেন এবং নবী তাঁর চেহারার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। তারপর বললেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন তোমাকে চারশত মিসকাল রূপার বিনিময়ে ফাতিমার সাথে বিবাহ দিতে। তুমি কি সন্তুষ্ট?) তিনি বললেন: আমি সন্তুষ্ট।ইবনে শাযান এক বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: অতঃপর আলী মহান আল্লাহর শুকরিয়া স্বরূপ সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন।অতঃপর মুস্তাফা (সা.) বললেন: (আল্লাহ তোমাদের একত্র করুন এবং তোমাদের ওপর বরকত দান করুন, আর তোমাদের থেকে নেককার ও পবিত্র সন্তানাদি নির্গত করুন)।ইবনে শাযানের বর্ণনায় আরও বর্ধিত আছে: (এবং তিনি তোমাদের বংশধরদের রহমতের চাবিকাঠি ও হিকমতের আধার করুন)।এটি একটি সম্ভাব্য ঘটনা যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, যাতে আলী উপস্থিত হওয়ার এবং জানার পর তা কবুল করেছেন।আর তাঁর উক্তি: (যদি সে সন্তুষ্ট থাকে) এটি শর্তযুক্ত করার একটি রূপ মাত্র, প্রকৃত অর্থে নয়। কারণ বিষয়টি বরের সন্তুষ্টির ওপর নির্ভরশীল।তদুপরি, এই হাদিসটিকে ইবনুল জাওযি জাল হওয়ার ফয়সালা দিয়েছেন এবং ইমাম যাহাবিও তাঁর অনুসরণ করেছেন।তাঁরা উভয়েই বলেছেন যে এটি (মুহাম্মাদ বিন দিনার) নামক ব্যক্তির জাল করা। ইবনে আসাকিরও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি অপরিচিত (গরিব), এটি সম্পর্কে আমার জানা নেই।
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
قال ابن طاهر المهدسي: محمد بن دينار روى عن هيثم عن يونس عن الحسن عن أنس تزويج فاطمة، والراوى عنه فيه جهالة.ورواه ابن قانع وغيره من طريق محمد بن دينار عن جابر.قال ابن الجوزى: وضع ابن دينار هذا الحديث فوضع الطريق الأول إلى أنس، ووضع الطريق الثاني إلى جابر، وأقره على الجزم بوضعه الجلال السيوطي فيما تعقبه عليه مع تحريه لاجتهاد في أحكامه ما وجد بذلك سبيلا.والحاصل أن هذه الكيفية من الخطبة عند العقد والاجتماع كذلك لا أصل له بالكلية.وأما وقوع التزويج بالأمر الإلهي لعلي وخطبة الشيخين لها قبل ذلك جعل الدرع صداقا، فلا شك فيه لوروده من طرق بأسانيد صحيحة.وأما ما زعمه الشيخ شهاب الدين بن حجر الهيتمي من أن لذلك أصلا فممنوع، وما تمسك به من كلام الحافظ بن حجر في اللسان فمدفوع، فإن الحافظ لم يقل فيه إنه غير موضوع، بل حكى عن ابن عساكر أن الرواي عن محمد بن دينار دمشقى فيه جهالة.على أن محمد بن دينار وضاع، فمراده زيادة توهين الحديث، وأنه مع كونه من رواية ابن دينار فالراوى عنه أيضا فيه جهالة، فهي ظلمات بعضها فوق بعض.وأخرج ابن سعد في طبقاته عن عكرمة قال لما زوج المصطفى
ইবনে তাহির আল-মাকদিসি বলেছেন: মুহাম্মদ বিন দিনার হাইসাম থেকে, তিনি ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আনাস থেকে ফাতিমার বিবাহের ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন; আর তার থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তিটি অজ্ঞাত।আর ইবনে কানি এবং অন্যরা এটি মুহাম্মদ বিন দিনারের সূত্রে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন।ইবনুল জাওযি বলেছেন: ইবনে দিনার এই হাদিসটি জাল করেছেন। তিনি আনাস পর্যন্ত প্রথম সূত্রটি এবং জাবির পর্যন্ত দ্বিতীয় সূত্রটি জাল করেছেন। জালালুদ্দিন সুয়ূতি তার গবেষণায় বিধানগুলোর ক্ষেত্রে যথাসম্ভব নমনীয়তা তালাশ করা সত্ত্বেও, এই হাদিসটি জাল হওয়ার ব্যাপারে তার (ইবনুল জাওযির) সুনিশ্চিত সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেছেন।সারকথা হলো, বিবাহের আকদ ও সমাবেশের সময় খুতবার এই বিশেষ পদ্ধতিটির মূলে কোনো ভিত্তি নেই।তবে আলীর সাথে আল্লাহর নির্দেশে বিবাহ হওয়া, তার পূর্বে শায়খাইন কর্তৃক বিবাহের প্রস্তাব প্রদান এবং বর্মকে মোহরানা সাব্যস্ত করার বিষয়টি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ এটি সহিহ সনদে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।শেখ শিহাবুদ্দিন ইবনে হাজার আল-হাইতমি এর কোনো ভিত্তি আছে বলে যা দাবি করেছেন তা অগ্রহণযোগ্য। আর তিনি হাফেজ ইবনে হাজারের ‘আল-লিসান’ গ্রন্থের যে বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন তাও খণ্ডনযোগ্য; কেননা হাফেজ সেখানে হাদিসটি জাল নয়—এমন কথা বলেননি, বরং তিনি ইবনে আসাকির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মদ বিন দিনার থেকে বর্ণনাকারী দামেস্কি ব্যক্তিটি অজ্ঞাত।তাছাড়া মুহাম্মদ বিন দিনার নিজেই একজন চরম জালিয়াত, তাই তার উদ্দেশ্য ছিল হাদিসটির দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে দেখানো; অর্থাৎ এটি ইবনে দিনারের বর্ণনা হওয়া সত্ত্বেও তার থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তিটিও অজ্ঞাত, যা অন্ধকারের ওপর অন্ধকার স্বরূপ।আর ইবনে সাদ তার ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে ইকরামা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ বিবাহ দিলেন...
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
عليا فاطمة كان فيما جهزت به سرير مشروط ووسادة من أدم حشوها ليف وقربة. وقال لعلى: إذا أتيت بها فلا تقربها حتى آتيك.وكانت اليهود يأخذون الرجل عن امرأته، فلما أتى بها قعدا جنبا في ناحية البيت، ثم جاء رسول الله صلى الله عليه وسلم فدعا بماء فأتى به فمج فيه ومسه بيده، ثم دعا عليا فنضح من ذلك على كتفيه وصدره، وذراعيه، ثم دعا فاطمة فأقبلت تتعثر في ثوبها حياء من رسول الله ففعل بها مثل ذلك.ثم قال لها يا فاطمة، أما إني ما أليت أن أنكحتك خير أهلي.وأخرج ابن ماجه عن علي قال: لقد أهديت ابنة الرسول صلى الله عليه وسلم فما كان فراشنا ليلة أهديت إلا إهاب كبش.وروى الطبراني: (لما أهديت فاطمة إلى على لم نجد في بيته إلا رملا مبسوطا، ووسادة حشوها ليف وجزة وكوزا..) .وروى عن رجل قال: أخبرتني جدتي: أنها كانت مع النسوة اللاتي أهدين فاطمة إلى
আলী ও ফাতিমার বিবাহের সামগ্রীর মধ্যে ছিল একটি খেজুরের ডাল দিয়ে তৈরি খাট, খেজুরের ছাল ভর্তি চামড়ার বালিশ এবং একটি মশক। তিনি আলীকে বললেন: "যখন তুমি তাকে নিয়ে আসবে, তখন আমি না আসা পর্যন্ত তার নিকটবর্তী হবে না।"ইহুদীরা পুরুষকে তার স্ত্রী থেকে পৃথক রাখত। যখন তাকে নিয়ে আসা হলো, তারা ঘরের এক কোণে পাশাপাশি বসল। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসলেন এবং পানি চাইলেন। পানি আনা হলে তিনি তাতে কুলি করলেন এবং নিজের হাত দিয়ে তা স্পর্শ করলেন। এরপর তিনি আলীকে ডাকলেন এবং সেই পানি তার দুই কাঁধ, বুক ও দুই বাহুর ওপর ছিটিয়ে দিলেন। তারপর তিনি ফাতিমাকে ডাকলেন, তিনি আল্লাহর রাসূলের প্রতি লজ্জাবশত নিজের পোশাকে হোঁচট খেতে খেতে এগিয়ে আসলেন, অতঃপর তিনি তার সাথেও অনুরূপ করলেন।অতঃপর তিনি তাকে বললেন, "হে ফাতিমা! আমি আমার পরিবারের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তির সাথে তোমাকে বিবাহ দিতে কোনো ত্রুটি করিনি।"ইবনে মাজাহ আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কন্যাকে যখন আমার ঘরে পাঠানো হলো, তখন সেই রাতে একটি ভেড়ার চামড়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিছানা ছিল না।"তাবারানী বর্ণনা করেছেন: (যখন ফাতিমাকে আলীর নিকট পাঠানো হলো, তখন তার ঘরে বিছানো বালু, খেজুরের ছাল ভর্তি একটি বালিশ, এক গুচ্ছ পশম এবং একটি পানির পাত্র ছাড়া আর কিছুই আমরা দেখতে পাইনি...) ।জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার দাদী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি সেই সব নারীদের সাথে ছিলেন যারা ফাতিমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন..."
(খণ্ড: ১)
ইতিহাফুস সাইল বিমা লি ফাতিমাহ মিনাল মানাকিব ওয়াল ফাদাইল
(পৃষ্ঠা: ৫১)
على، قالت: أهديت في بردين عليها، ودملجان من فضة مصفران، فدخلت بيت علي، فإذا إهاب شاة، ووسادة فيها ليف، وقربة، ومنخل، وقدح.وروى أحمد في الزهد عن علي قال: جهز رسول الله فاطمة في خميلة وقربة، ووسادة من أدم حشوها ليف.وروى عن علي قال: ما كان لنا إلا إهاب كبش تنام على ناحيته، وتعجن فاطمة على ناحتيه.وروى أبو بكر بن فارس وابن مشدد عن ضمرة بن حبيب:قضى رسول الله صلى الله عليه وسلم على ابنته فاطمة بخدمة البيت، وقضى على علي بما كان خارج البيت.وروى البخاري في الخمس، ومسلم في الدعوات، وغيرهما، عن على: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما زوجه فاطمة بعث معها خميلة ووسادة من آدم وحشوها ليف ورحيين، ومسقا وجرتين.
আলী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাকে (ফাতিমাকে) যখন দুই প্রস্থ চাদর পরিহিত অবস্থায় পাঠানো হলো, তখন তার হাতে ছিল রূপার তৈরি হলুদ প্রলেপযুক্ত দু'টি বাজুবন্ধ। আমি আলীর ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম একটি ভেড়ার চামড়া, খেজুরের আঁশভর্তি একটি বালিশ, একটি পানির মশক, একটি চালনি এবং একটি পেয়ালা।ইমাম আহমদ 'কিতাবুয যুহদ'-এ আলী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ফাতিমাকে একটি নকশা করা চাদর, একটি মশক এবং চামড়ার তৈরি একটি বালিশ—যার ভেতরে খেজুরের আঁশ ভর্তি ছিল—এসব সামগ্রী দিয়ে বিদায় দিয়েছিলেন।আলী থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের কাছে একটি ভেড়ার চামড়া ছাড়া আর কিছুই ছিল না; আমরা তার এক অংশে ঘুমাতাম এবং ফাতিমা তার অন্য অংশে আটা মাখতেন।আবু বকর ইবনে ফারিস এবং ইবনে মুসাদ্দাদ যামরাহ ইবনে হাবীব থেকে বর্ণনা করেছেন:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কন্যা ফাতিমার ওপর ঘরের ভেতরের কাজের দায়িত্ব এবং আলীর ওপর ঘরের বাইরের কাজের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন।বুখারি 'আল-খুমুস' অধ্যায়ে এবং মুসলিম 'আদ-দাওয়াত' অধ্যায়ে এবং অন্যরা আলী থেকে বর্ণনা করেছেন যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফাতিমার সাথে তার বিবাহ সম্পন্ন করলেন, তখন তার সাথে একটি নকশা করা চাদর, চামড়ার একটি বালিশ—যার অভ্যন্তরে খেজুরের আঁশ ছিল—দু'টি যাতা, একটি পানির মশক এবং দু'টি কলস পাঠিয়েছিলেন।