(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: -)
فصل المقال لابن رشد   (ابن رشد الحفيد)

القسم: علوم أخرى


الكتاب: فصل المقال

المؤلف: أبو الوليد محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن رشد القرطبي الشهير بابن رشد الحفيد (ت 595هـ)

دراسة وتحقيق: محمد عمارة

الناشر: دار المعارف

الطبعة: الثانية

عدد الصفحات: 77

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে রুশদ রচিত ফাসলুল মাকাল   (ইবনে রুশদ আল-হাফিদ)

বিভাগ: অন্যান্য বিজ্ঞান


গ্রন্থ: ফাসলুল মাকাল

লেখক: আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রুশদ আল-কুরতুবি, যিনি ইবনে রুশদ আল-হাফিদ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৫৯৫ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ আমারা

প্রকাশক: দারুল মাআরিফ

সংস্করণ: দ্বিতীয়

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على محمد وعلى آله وسلم

مقدمة - قال الفقيه الأجل الأوحد العلامة، الصدر الكبير، القاضي الأعدل، أبو الوليد محمد بن احمد بن محمد بن احمد بن احمد بن رشد، رضي الله تعالى عنه ورحمه. أما بعد حمد الله بجميع محامده، والصلاة على محمد عبده المطهر، المصطفى ورسوله:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

ভূমিকা - সুমহান, অনন্য ফকীহ ও আল্লামা, উচ্চমর্যাদাশীল ব্যক্তিত্ব, পরম ন্যায়পরায়ণ বিচারক, আবু আল-ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আহমদ ইবনে রুশদ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে রহমত দান করুন) বলেছেন: আল্লাহর যাবতীয় প্রশংসার পর এবং তাঁর পবিত্র বান্দা, মনোনীত ও রাসূল মুহাম্মদের ওপর রহমত বর্ষণের পর:
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الفلسفة و‌‌المنطق والشريعة

 

‌‌هل أوجب الشرع الفلسفة

فإن الغرض من، هذا القول أن نفحص، على جهة النظر الشرعي، هل النظر في الفلسفة وعلوم المنطق مباح بالشرع، أم محظور، أم مأمور به، إما على جهة الندب، وإما على جهة الوجوب.

فنقول: أن كأن فع! ل الفلسفة ليس شيئاً أكثر من النظر في الموجودات، واعتبارها من جهة دلالتها على الصانع، أعني من جهة ما هي مصنوعات، فإن الموجودات إنما تدل على الصانع لمعرفة صنعتها. وأنه كلما كانت المعرفة بصنعتها أتم كانت المعرفة بالصانع أتم، وكأن الشرع قد ندب إلى اعتبار الموجودات، وحث على ذلك.

فبين أن ما يدل عليه هذا الاسم أما واجب بالشرع، واما مندوب اليه.

فأما أن الشرع دعا إلى اعتبار الموجودات بالعقل وتطلب معرفتها به، فذلك بين في غير ما آية من كتاب الله، تبارك وتعالى، مثل قوله تعالى " فاعتبروا يا أو لي الأبصار " وهذا نص على وجوب استعمال القياس العقلي، أو العقلي والشرعي معاً.

ومثل قوله تعالى " أولم ينظروا في ملكوت السموات والأرض وما خلق الله من شيء "؟ وهذا نص بالحث على النظر في جميع الموجودات.
‌দর্শন ও‌‌যুক্তিবিদ্যা এবং শরীয়াহ

 

‌‌শরীয়াহ কি দর্শনকে আবশ্যক করেছে?

এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো শরয়ী দৃষ্টিভিকোণ থেকে পরীক্ষা করা যে, দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার জ্ঞান চর্চা করা শরীয়াহ অনুযায়ী বৈধ, নাকি নিষিদ্ধ, নাকি এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—তা মুস্তাহাব হিসেবে হোক অথবা ওয়াজিব হিসেবে।

আমরা বলি: দর্শনের কাজ বিদ্যমান বস্তুসমূহ পর্যবেক্ষণ করা এবং স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ হিসেবে সেগুলোকে বিবেচনা করা ছাড়া আর কিছুই নয়; অর্থাৎ বস্তুসমূহ যে সৃষ্টি, সেই দিক থেকে সেগুলো বিবেচনা করা। কারণ বিদ্যমান বস্তুসমূহ তাদের নিপুণ নির্মাণশৈলী সম্পর্কে জ্ঞানের মাধ্যমেই স্রষ্টার পরিচয় প্রদান করে। আর তাদের নির্মাণশৈলী সম্পর্কে জ্ঞান যত নিখুঁত হবে, স্রষ্টা সম্পর্কে জ্ঞানও ততটাই পূর্ণাঙ্গ হবে। বস্তুত শরীয়াহ বিদ্যমান বস্তুসমূহ পর্যবেক্ষণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছে এবং এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে।

সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, এই সংজ্ঞা যা নির্দেশ করে তা শরীয়াহ অনুযায়ী হয় ওয়াজিব, না হয় মুস্তাহাব।

আর শরীয়াহ যে বিবেকের মাধ্যমে বিদ্যমান বস্তুসমূহ পর্যবেক্ষণ এবং এর মাধ্যমে জ্ঞান অন্বেষণের আহ্বান জানিয়েছে, তা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার কিতাবের একাধিক আয়াতে সুস্পষ্ট। যেমন আল্লাহর বাণী: "অতএব হে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ, তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।" এটি যৌক্তিক অনুমান (কিয়াস), অথবা যৌক্তিক ও শরয়ী অনুমান উভয়টি একত্রে ব্যবহারের আবশ্যকতা সম্পর্কে একটি স্পষ্ট বক্তব্য।

অনুরূপভাবে আল্লাহর বাণী: "তারা কি আসমান ও জমিনের রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তার প্রতি দৃষ্টিপাত করে না?" এটি সমস্ত বিদ্যমান বস্তুর পর্যবেক্ষণের প্রতি উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট দলিল।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وأعلم أن ممن خصه الله تعالى بهذا العلم وشرفه به، إبراهيم عليه السلام. فقال تعالى: " وكذلك نري إبراهيم ملكوت السموات والأرض " الآية. - وقال تعالى: " أفلا ينظرون إلى الإبل كيف خلقت وإلى السماء كيف رفعت "؟ وقال، " ويتفكرون في خلق السموات والأرض " إلى غير ذلك من اليبات التي لا تحصى كثيرة.

المنطق

وإذا تقرر أن الشرع قد أوجب النظر بالعقل في الموجودات راعتبارها، وكأن الاعتبار ليس شيئاً اكثر من استنباط المجهول من المعلوم، واستخراجه منه، وهذا هو القياس أو بالقياس. فواجب أن نجعل نظرنا في الموجودات بالقياس العقلي.

وبين أن هذا النحو من النظر الذي دعا إليه الشرع وحث. عليه، هو أتم أنواع
এবং জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা যাদেরকে এই ইলম বা জ্ঞানের জন্য বিশেষিত করেছেন এবং এর মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, তাদের মধ্যে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম অন্যতম। মহান আল্লাহ বলেন: "আর এভাবেই আমি ইব্রাহিমকে আসমান ও যমীনের রাজত্ব দেখাই" - আয়াত। - এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "তবে কি তারা উটের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, তা কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে? এবং আকাশের প্রতি যে, তা কীভাবে সমুন্নত করা হয়েছে?" এবং তিনি বলেন: "এবং তারা আসমান ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করে" - এছাড়া আরও অসংখ্য আয়াত রয়েছে যা গণনা করা সম্ভব নয়।

যুক্তিবিদ্যা

যখন এটি স্থিরিকৃত হলো যে, শরীয়ত বিদ্যমান বস্তুনিচয়ের প্রতি বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টি প্রদান এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাকে ওয়াজিব বা আবশ্যক করেছে; আর যেহেতু শিক্ষা গ্রহণ বা 'এ’তিবার' হলো জানা বিষয় থেকে অজানা বিষয়কে উদ্ভাবন ও নিষ্কাশন করা ব্যতীত অন্য কিছু নয়, এবং এটাই হলো কিয়াস বা অনুমান পদ্ধতি। অতএব, আমাদের জন্য আবশ্যক হলো বিদ্যমান বস্তুসমূহ নিয়ে যৌক্তিক কিয়াসের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করা।

এবং এটি সুস্পষ্ট যে, শরীয়ত যে ধরণের চিন্তা-গবেষণার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং তাকিদ দিয়েছে, তা হলো সর্বোত্তম প্রকারের...
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
مثبتون القياس العقلي، إلا طائفة من الحشوية قليلة، وهم محجوجون بالنصوص. وإذا تقرر أنه يحب بالشرع النظر، في القياس العقلي وأنواعه، كان يجب النظر في القياس الفقهي، فبين أنه أن كأن لم يتقدم احد ممن قبلنا بفحص عن القياس العقلي وأنواعه، أنه يجب علينا أن نبتدىء! بالفحص عنه، وأن يستعين في ذلك المتأخر بالمتقدم،

তারা বুদ্ধিবৃত্তিক অনুমানের প্রবক্তা, হাশউয়্যাহদের একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ব্যতীত; আর তারা শাস্ত্রীয় পাঠ (নুসুস) দ্বারা খণ্ডিত। যখন এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, শরিয়তের দৃষ্টিতে বুদ্ধিবৃত্তিক অনুমান ও এর প্রকারভেদসমূহ নিয়ে পর্যালোচনা করা আবশ্যক, তখন ফিকহী অনুমান নিয়ে পর্যালোচনা করাও ওয়াজিব ছিল। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, যদি আমাদের পূর্ববর্তীদের কেউ বুদ্ধিবৃত্তিক অনুমান ও এর প্রকারভেদ সম্পর্কে অনুসন্ধান করে না যেতেন, তবে আমাদের পক্ষেই এর অনুসন্ধান শুরু করা আবশ্যক হতো এবং এক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পূর্ববর্তী প্রজন্মের সহায়তা গ্রহণ করা অপরিহার্য হতো।

(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
حتى تكمل المعرفة به. فإنه عسير أو غير ممكن أن يقف واحد من الناس من تلقائه وابتداء على جميع، ما يحتاج إليه كل من ذلك، كما أنه عسير أن يستنبط واحد جميع ما يحتاج إليه من معرفة أنواع القياس الفقهي، بل معرفة القياس العقلي أحرى بذلك، وأن كأن غيرنا قد فحص عن ذلك.

فبين أنه يجب علينا أن نستعين على ما نحن بسبيله بما قاله من تقدمنا في ذلك، وسواء كأن ذلك الغير مشاركاً لنا أو غير مشارك في الملة. أن الآلة التي تصح بها التذكية ليس يعتبر في صحة التذكية بها كونها آلة لمشارك لنا في الملة أو غير مشارك إذا كانت فيها، شروط الصحة. واعني بغير المشارك من نظر في هذه الأشياء من القدماء قبل ملة الإسلام. - وإذا كأن الأمر هكذا، وكأن كل ما يحتاج إليه من النظر في أمر المقاييس العقلية قد فحص عنه، القدماء أتم فحص، فقد ينبغي أن نضرب بأيدينا إلى كتبهم. فننظر فيما قالوه من ذلك: فإن كأن كله صواباً قبلناه منهم، وأن كأن فيه ما ليس بصواب، نبهنا عليه.

فإذا فرغنا من هذا الجنس من النظر وحصلت عندنا الآلات التي بها نقدر على الاعتبار في الموجودات ودلالة الصنعة فيها، فإن من لا يعرف الصنعة لا يعرف المصنوع، ومن لا يعرف المصنوع لا يعرف الصانع، قد يجب أن نشرع في الفحص عن الموجودات على الترتيب والنحو الذي استفدناه من صناعة المعرفة بالمقاييس البرهانية.
যাতে তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান পূর্ণতা লাভ করে। কেননা কোনো এক ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে এবং প্রারম্ভিক পর্যায় থেকে এর জন্য প্রয়োজনীয় সকল বিষয় অবগত হওয়া কঠিন কিংবা অসম্ভব, যেমনটি একজন ব্যক্তির পক্ষে ফিকহী কিয়াসের সকল প্রকার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান উদ্ভাবন করা কঠিন; বরং বুদ্ধিবৃত্তিক কিয়াসের জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি প্রযোজ্য, যদিও আমাদের পূর্বসূরিরা তা নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছেন।

সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, আমরা যে বিষয়ে নিয়োজিত আছি তাতে আমাদের পূর্ববর্তীরা যা বলেছেন তা থেকে সাহায্য গ্রহণ করা আমাদের জন্য আবশ্যক, চাই সেই অন্য ব্যক্তি আমাদের ধর্মাদর্শের অন্তর্ভুক্ত হোন বা না হোন। কারণ জবেহ করার ক্ষেত্রে যে যন্ত্রটির দ্বারা জবেহ বৈধ হয়, তা আমাদের ধর্মাদর্শের অনুসারী কোনো ব্যক্তির যন্ত্র কি না তা জবেহ সহীহ হওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য নয়, যদি তাতে বৈধতার শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে। আর 'অন্য ধর্মাদর্শের অনুসারী' বলতে আমি ইসলাম আসার পূর্বে সেই প্রাচীন মনীষীদের বুঝাচ্ছি যারা এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেছেন। আর বিষয়টি যখন এই রূপ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক কিয়াসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল বিষয় যখন প্রাচীনরা অত্যন্ত নিপুণভাবে অনুসন্ধান করেছেন, তখন আমাদের জন্য তাদের রচিত গ্রন্থাবলি হাতে নেওয়া উচিত। অতঃপর তারা এ বিষয়ে যা বলেছেন তা আমরা পর্যবেক্ষণ করব; যদি তার সবটুকু সঠিক হয় তবে আমরা তা তাদের থেকে গ্রহণ করব, আর যদি তাতে এমন কিছু থাকে যা সঠিক নয়, তবে আমরা সে বিষয়ে সতর্ক করে দেব।

যখন আমরা এই প্রকারের বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ শেষ করব এবং আমাদের নিকট সেই সব উপকরণ অর্জিত হবে যার মাধ্যমে আমরা বিদ্যমান বস্তুসমূহ এবং তাদের মাঝে নিহিত গঠন-শৈলীর নিদর্শনাদি সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হব—কেননা যে গঠন-শৈলী সম্পর্কে জানে না সে গঠিত বস্তু সম্পর্কে জানে না, আর যে গঠিত বস্তু সম্পর্কে জানে না সে এর নির্মাতা সম্পর্কেও অবগত হতে পারে না—তখন আমাদের জন্য আবশ্যক হবে বিদ্যমান বস্তুসমূহ নিয়ে সেই ক্রম ও পদ্ধতিতে অনুসন্ধান শুরু করা যা আমরা প্রমাণসিদ্ধ কিয়াস সম্পর্কিত জ্ঞান থেকে অর্জন করেছি।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌لا يمكن لفرد واحد إدراك كل العلوم

وبين أيضاً أن هذا االغرض إنما يتم لنا في الموجودات بتداول الفحص عنها واحداً

بعد واحد، وأن يستعين في ذلك المتأخر بالمتقدم، على مثال ما عرض في علوم التعاليم. فإنه لو فرضنا صناعة الهندسة في وقتنا هذا معدومة، وكذلك صناعة علم الهيئة، ورام أنسأن واحد من تلقاء نفسه أن يدرك مقادير الأجرام السماوية وأشكالها وأبعاد بعضها عن بعض، لما أمكنه ذلك. مثل أن يعرف قدر الشمس من الأرض، وغير ذلك من مقادير الكواكب، ولوكأن أذكى الناس طبعاً إلا بوحي أو شيء يشبه الوحي. بل لو قيل له أن الشمس أعظم من الأرض بنحو، مائة وخمسين ضعفاً، أو ستين، لعد هذا القول جنوناً من قائله. وهذا شيء قد قام عليه البرهان في علم الهيئة قياماً لا يشك فيه من هو من أصحاب ذلك العلم.

وأما الذي أحوج في هذا إلى التمثيل بصناعة التعاليم، فهذه صناعة أصول الفقه. والفقه نفسه لم يكمل النظر فيما إلا في زمن طويل. ولو رام أنسأن اليوم من تلقاء نفسه أن يقف على جميع الحجج التي استنبطها النظار من أهل المذاهب في مسائل الخلاف التي وقعت المناظرة فيها بينهم في معظم بلاد الإسلام ما عدا المغرب -
একজন একক ব্যক্তির পক্ষে সকল জ্ঞান আয়ত্ত করা অসম্ভব

তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, বিদ্যমান বস্তুসমূহের ক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যটি কেবল তখনই আমাদের জন্য সফল হয় যখন আমরা একে একে ক্রমাগতভাবে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি, এবং এক্ষেত্রে উত্তরসূরি যেন পূর্বসূরির সাহায্য গ্রহণ করে, যেমনটি গাণিতিক বিজ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে ঘটেছে। কেননা যদি আমরা ধরে নিই যে আমাদের বর্তমান সময়ে জ্যামিতি শাস্ত্র অনুপস্থিত, এবং একইভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞানও, আর একজন ব্যক্তি যদি একা নিজের পক্ষ থেকে মহাজাগতিক বস্তুসমূহের পরিমাপ, তাদের আকৃতি এবং একে অপরের থেকে তাদের দূরত্ব উপলব্ধি করতে চায়, তবে তার পক্ষে তা সম্ভব হবে না। যেমন পৃথিবী থেকে সূর্যের আয়তন জানা এবং গ্রহসমূহের অন্যান্য পরিমাপ সম্পর্কে অবগত হওয়া; সে যদি স্বভাবগতভাবে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক বুদ্ধিমানও হয়, তবুও ওহী বা ওহীর সদৃশ কোনো মাধ্যম ব্যতীত তার পক্ষে এটি সম্ভব নয়। বরং তাকে যদি বলা হতো যে সূর্য পৃথিবীর চেয়ে প্রায় একশত পঞ্চাশ গুণ বা ষাট গুণ বড়, তবে সে বক্তার এই কথাকে উম্মাদনা বলে গণ্য করত। অথচ এটি এমন একটি বিষয় যা জ্যোতির্বিজ্ঞানে এমন শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত যে, সেই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই।

আর যা এক্ষেত্রে গাণিতিক বিজ্ঞানের উদাহরণের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে, তা হলো উসূলে ফিকহ শাস্ত্র। এবং স্বয়ং ফিকহও দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান ছাড়া পূর্ণতা লাভ করেনি। আর আজ যদি কোনো ব্যক্তি নিজে থেকে সেই সমস্ত দলীল-প্রমাণ উপলব্ধি করতে চায়, যা বিভিন্ন মাযহাবের গবেষকগণ ঐসব মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহে উদ্ভাবন করেছেন যেগুলোতে মাগরিব ব্যতীত ইসলামের অধিকাংশ ভূখণ্ডে তাঁদের মধ্যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে—
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فكان أهلاً أن يضحك منه، لكون ذلك ممتنعاً في حقه مع وجود ذلك مفروغاً منه. وهذا أمر بين بنفسه، ليس في الصنائع العلمية فقط، بل وفي العملية. فإنه ليس منها صناعة بقدر أن ينشئها واحد بعينه، فكيف بصناعة الصنائع، وهي الحكمة؟ وإذا كأن هذا! هكذا، فقد يجب علينا أن الفينا لمن تقدمنا من المقام السالفة نظراً في الموجودات واعتبار لها بحسب ما اقتضته شرائط البرهان أن ننظر في الذي قالوه من ذلك وما أثبتوه في كتبهم: فما كأن منها موافقاً للحق قبلناه منهم وسررنا به، وشكرناهم عليه، وما كان منها غبر موافق للحق نبهنا عليه وحذرنا منه وعذرناهم.

 

‌‌الفلسفة ومعرفة الله تعالى

فقد تبين من هذا أن النظر في كتب القدماء واجب بالشرع، إذ، كان مغزاهم كتبهم ومقصدهم هو المقصد الذي حثنا الشرع عليه، وأن من نهى عن النظر فيها من كأن أهلاً للنظر فيها، وهو الذي جمع أمرين أحدهما ذكاء الفطرة، والثاني العدالة الشرعية والفضيلة الخلقية -
ফলত তিনি উপহাসের পাত্র হওয়ারই যোগ্য ছিলেন, কারণ বিষয়টি সুনিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ক্ষেত্রে তা অসম্ভব ছিল। এটি একটি স্বয়ংপ্রমাণিত সত্য, যা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেই নয়, বরং ব্যবহারিক শিল্পের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কেননা কোনো শিল্পই এমন নয় যা একজন ব্যক্তি এককভাবে উদ্ভাবন করতে পারে; তাহলে শিল্পের পরম শিল্প তথা প্রজ্ঞার (হিকমাহ) ক্ষেত্রে তা কীভাবে সম্ভব? যেহেতু বিষয়টি এই রূপ, তাই আমাদের কর্তব্য হলো প্রাচীন জাতিসমূহের মধ্যে যারা বিদ্যমান বস্তুসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেছেন এবং অকাট্য প্রমাণের (বুরহান) শর্তানুসারে সেগুলোর সারবত্তা বিবেচনা করেছেন, তাদের কিতাবসমূহে বর্ণিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা। অতঃপর তাদের বক্তব্যের যা কিছু সত্যের অনুকূল হবে, আমরা তা গ্রহণ করব এবং সেজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব। আর যা কিছু সত্যের প্রতিকূল হবে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক করব, তা হতে সাবধান করে দেব এবং তাদের ত্রুটির জন্য ওজর কবুল করব।

 

‌‌দর্শন এবং আল্লাহ তাআলার পরিচয়

এ থেকে এটি স্পষ্ট হলো যে, প্রাচীন পণ্ডিতদের কিতাবসমূহ পাঠ করা শরীয়ত অনুযায়ী আবশ্যক; কারণ তাদের কিতাবসমূহের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সেই উদ্দেশ্যই যা পালনে শরীয়ত আমাদের উৎসাহিত করেছে। আর যে ব্যক্তি পর্যালোচনার যোগ্যতা রাখে—অর্থাৎ যার মধ্যে দুটি গুণের সমাবেশ ঘটেছে: প্রথমত প্রখর মেধা এবং দ্বিতীয়ত শরয়ি ন্যায়নিষ্ঠতা ও চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্ব—তাকে এসব কিতাব পাঠ করতে বাধা দেওয়া—
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فقد صد الناس عن الباب الذي دعا الشرع منه الناس إلى معرفة الله، و!! باب النظر، المؤدي إلى معرفته حق المعرفة. وذلك غاية الجهل والبعد عن الله تعالى.

 

‌‌موافقة الشريعة لمناهج الفلسفة

وليس يلزم من أنه أن غوى غاو بالنظر فيها، وزل زال، إما من قبل نقص فطرته، وإما من فبل سوء ترتيب نظره فيها، أومن قبل غلبة شهواته عليه، أو أنه لم يجد معلماً يرشده إلى فهم ما فيها، أو من قبل اجتماع هذه الأسباب فيه، أو اكثر من واحد منها، أن نمنعها عن الذي هو أهل للنظر فيها. فإن هذا النحو من الضرر الداخل من قبلها هو شيء لحقها بالعرض لا بالذات. وليس يجب فيما كأن نافعاً بطباعه وذاته أن يترك، لمكان مضرة موجودة فيه بالعرض. ولذلك قال عليه السلام للذي أمره بسقي العسل أخاه لإسهال كأن به، فتزايد الإسهال به لما سقاه العسل، وشكا ذلك إليه: " صدق الله وكذب بطن أخيك "، بل نقول أن مثل من منع النظر في كتب الحكمة من هو أهل لها،
তিনি মানুষকে সেই দ্বার হতে নিবৃত্ত করেছেন যার মাধ্যমে শরীয়ত মানুষকে আল্লাহর পরিচয়ের দিকে আহ্বান জানিয়েছে, আর তা হলো বিচার-বুদ্ধি ও গবেষণার দ্বার, যা তাঁর যথাযথ পরিচয়ের দিকে পরিচালিত করে। আর এটি চরম মূর্খতা এবং আল্লাহ তাআলা হতে দূরত্বের নামান্তর।

 

‌‌দর্শনের পদ্ধতির সাথে শরীয়তের সামঞ্জস্য

এটি আবশ্যক নয় যে, যদি কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তি এতে গবেষণার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয় এবং কোনো বিচ্যুত ব্যক্তি পদস্খলিত হয়—তা তার স্বভাবজাত ত্রুটির কারণে হোক, কিংবা গবেষণার বিন্যাসে ত্রুটির কারণে হোক, অথবা তার ওপর প্রবৃত্তির আধিপত্যের কারণে হোক, কিংবা সে এতে বিদ্যমান বিষয়াদি বোঝার জন্য কোনো দিকনির্দেশক শিক্ষক না পাওয়ার কারণে হোক, অথবা তার মাঝে এই সকল কারণের সমন্বয় বা একাধিক কারণের উপস্থিতির কারণে হোক—তবে যারা এতে গবেষণার যোগ্য তাদের জন্য আমরা তা নিষিদ্ধ করব। কেননা এ ধরণের ক্ষতি এর সাথে প্রাসঙ্গিকভাবে যুক্ত হয়েছে, এর সত্ত্বাগত বৈশিষ্ট্যের কারণে নয়। আর যা স্বভাবগতভাবে এবং সত্ত্বাগতভাবে উপকারী, তা বর্জন করা আবশ্যক নয় সেই ক্ষতির কারণে যা তাতে প্রাসঙ্গিকভাবে বিদ্যমান। এই কারণেই নবী (আলাইহিস সালাম) সেই ব্যক্তিকে বলেছিলেন যাকে তিনি তার ভাইয়ের উদরাময় নিরাময়ের জন্য মধু পান করাতে আদেশ করেছিলেন, অতঃপর মধু পান করানোর ফলে তার উদরাময় বৃদ্ধি পায় এবং সে এ বিষয়ে তাঁর কাছে অভিযোগ জানায়: "আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলেছে।" বরং আমরা বলব, যে ব্যক্তি প্রজ্ঞার কিতাবসমূহ গবেষণার যোগ্য ব্যক্তির জন্য তা নিষিদ্ধ করে, তার উদাহরণ হলো,
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
من اجل أن قوماً من أراذل الناس قد يظن بهم أنهم ضلوا من قبل نظرهم فيها، مثل من منع العطشان شرب الماء البارد العذب حتى مات من العطش، لأن قوماً شرقوا به فماتوا. فإن الموت عن الماء بالشرق أمر عارض، وعن العطش أمر ذاتي وضروري.

وهذا الذي عرض لهذه الصنعة هو شئ عارض لسائر الصنائع. فكم من فقيه كأن الفقه سبباً لقلة تورعه وخوضه في الدنيا، بل اكثر الفقهاء كذلك نجدهم وصناعهم إنما تقتضي بالذات الفضيلة العملية. فإذاً لا يبعد أن يعرض في الصناعة التي تقتضي الفضيلة العلمية ما عرض في الصناعة التي تقتضي الفضيلة العملية.

وإذا تقرر هذا كله وكنا نعتقد معشر المسلمين أن شريعتنا هذه الإلهية حق وأنها التي نبهت على هذه السعادة، ودعت إليها، التي هي المعرفة بالله عز وجل وبمخلوقاته، فإن ذلك متقرر عند كل مسلم من الطريق الذي اقتضته جبلته وطبيعته من التصديق.
যেহেতু নিচ শ্রেণীর কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটার সম্ভাবনা থাকায় মনে হতে পারে যে তারা এটি পর্যালোচনার দরুন পথভ্রষ্ট হয়েছে; তাদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির ন্যায় যে কোনো তৃষ্ণার্তকে সুপেয় শীতল পানি পান করতে বাধা দেয় যার ফলে সে তৃষ্ণায় মৃত্যুবরণ করে—কেবল এই কারণে যে একদল লোক তা পান করতে গিয়ে বিষম খেয়ে মারা গিয়েছিল। বস্তুত পানি পান করতে গিয়ে বিষম খেয়ে মারা যাওয়া একটি আকস্মিক আপদ, কিন্তু তৃষ্ণায় মারা যাওয়া একটি স্বভাবজাত ও অনিবার্য বিষয়।

এই বিদ্যার ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা অন্যান্য সকল বিদ্যার ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে। কত ফকিহ্ রয়েছেন যাদের ক্ষেত্রে ফিকহ্ শাস্ত্রই তাদের তাকওয়া কমে যাওয়া এবং পার্থিব বিষয়ে নিমজ্জিত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; বরং আমরা অধিকাংশ ফকিহ্কেই এমনটি পাই, যদিও তাদের বিদ্যার মূল লক্ষ্য ছিল ব্যবহারিক উৎকর্ষ অর্জন করা। সুতরাং, যে বিদ্যা তাত্ত্বিক উৎকর্ষ দাবি করে, তাতে এমন কিছু ঘটা বিচিত্র নয় যা ব্যবহারিক উৎকর্ষ দাবি করে এমন বিদ্যার ক্ষেত্রে ঘটে থাকে।

যখন এই সবকিছু সুপ্রতিষ্ঠিত হলো এবং আমরা মুসলিম সম্প্রদায় যখন এই বিশ্বাস রাখি যে আমাদের এই ঐশী শরিয়ত সত্য এবং এটিই সেই সৌভাগ্যের প্রতি পথনির্দেশ করেছে ও তার দিকে আহ্বান করেছে—যা হলো মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টিসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা—তখন এই বিষয়টি প্রত্যেক মুসলিমের নিকট সেই সত্যায়নের পন্থায় সুনিশ্চিত যা তার সহজাত প্রবৃত্তি ও স্বভাব দাবি করে।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وذلك أن طباع الناس متفاضلة في التصديق: فمنهم من يصدق بالبرهان، ومنهم من يصدق، بالأقاويل الجدلية تصديق صاحب البرهان بالبرهان، إذ ليس في طباعه اكثر من ذلك، ومنهم يصدق بالأقاويل الخطابية كتصد يق صاحب البرهان بالأقاويل البرهانية.

وذلك أنه لما كانت شريعتنا هذه الإلهية قد دعت الناس من هذه الطرق الثلاث عم التصديق بها كل أنسأن، إلا من جحدها كناداً بلسانه، أو لم تتقرر عنده طرق الدعاء فيها إلى الله تعالى لإغفاله ذلك من نفسه. ولذلك خص عليه السلام بالبعث إلى الأحمر والأسود،، اعني لتضمن شريعته طرق الدعاء إلى الله تعالى. وذلك صريح في قوله تعالى:! ادع إلى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة وجادلهم بالتي هي احسن ".

وإذا كانت هذه الشريعة، حقاً وداعية إلى النظر المؤدي إلى معرفة الحق فإنا معشر المسلمين، نعلم على القطع أنه لا يؤدي النظر البرهأني إلى مخالفة ما ورد به الشرع. فإن الحق لا يضاد
আর তা এই কারণে যে, মানুষের স্বভাব সত্যায়নের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন স্তরের: তাদের মধ্যে কেউ প্রমাণের মাধ্যমে সত্যায়ন করে; কেউ বিতর্কমূলক যুক্তির মাধ্যমে সেভাবে সত্যায়ন করে যেভাবে প্রমাণের অধিকারী প্রমাণের মাধ্যমে সত্যায়ন করে, কারণ তার স্বভাবে এর চেয়ে বেশি কিছুর সক্ষমতা নেই; আবার কেউ অলঙ্কারিক বক্তব্যের মাধ্যমে সেভাবে সত্যায়ন করে যেভাবে প্রমাণের অধিকারী প্রমাণনির্ভর বক্তব্যের মাধ্যমে সত্যায়ন করে।

আর যেহেতু আমাদের এই ঐশী শরীয়ত এই তিনটি পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষকে আহ্বান করেছে, তাই এর প্রতি সত্যায়ন করা প্রতিটি মানুষের জন্য ব্যাপক হয়ে গেছে; কেবল সে ব্যক্তি ছাড়া যে হঠকারিতাবশত তার জিহ্বা দিয়ে একে অস্বীকার করে, অথবা নিজের অবহেলার কারণে যার নিকট মহান আল্লাহর দিকে আহ্বানের পদ্ধতিগুলো সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। আর এই কারণেই তাঁকে (আলাইহিস সালাম) লাল ও কালো (অর্থাৎ সকল বর্ণ ও জাতির) নিকট প্রেরণের মাধ্যমে বিশেষায়িত করা হয়েছে, অর্থাৎ তাঁর শরীয়ত মহান আল্লাহর দিকে আহ্বানের সকল পদ্ধতিকে অন্তর্ভুক্ত করার কারণে। আর এটি মহান আল্লাহর বাণীতে সুস্পষ্ট: "তুমি তোমার রবের পথের দিকে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করো এবং তাদের সাথে সেই পন্থায় বিতর্ক করো যা সর্বোত্তম।"

আর যখন এই শরীয়ত সত্য এবং এমন চিন্তাশীল পর্যবেক্ষণের দিকে আহ্বানকারী যা সত্যের পরিচয়ের দিকে নিয়ে যায়, তখন আমরা মুসলিম সম্প্রদায় নিশ্চিতভাবে জানি যে, প্রমাণনির্ভর পর্যবেক্ষণ শরীয়ত যা নিয়ে এসেছে তার বিরোধিতার দিকে নিয়ে যায় না। কারণ সত্য কখনো সত্যের বিরোধী হয় না।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৩২)
الحق، بل يوافقه ويشهد له.

وإذا كأن هذا هكذا، فإن أدى النظر البرهاني إلى نحو ما من المعرفة بموجود ما، فلا يخلو ذلك الموجود أن يكون قد سكت عنه في الشرع أو عرف به. فإن كأن مما قد سكت عنه فلا تعارض هنالك، هو بمنزلة ما سكت عنه من الأحكام، فاستنبطها الفقيه بالقياس الشرعي. وأن كانت الشريعة نطقت به، فلا يخلو ظاهر النطق أن يكون موافقاً لما أدى إليه البرهان فيه أو مخا لفاً. فإن كأن موافقاً، فلا قول هنالك. وأن كأن مخالفاً، طلب هنالك تأويله.

ومعنى التأويل هو إخراج دلالة اللفظ من الدلالة الحقيقية إلى الدلالة المجازة من غير أن يخل في ذلك بعادة لسان العرب في التجوز من تسمية الشيء بشبيهه أو بسببه أو لاحقه " أو مقارنه أو غير ذلك من الأشياء التي عددت، في تعريف أصناف الكلام المجازي،.

 

‌‌التوافق بين المعقول والمنقول

وإذا كأن الفقيه يفعل هذا في كثير من الأحكام الشرعية، فكم
সত্যের বিরোধিতা করে না, বরং তা তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয় এবং এর সাক্ষ্য দেয়।

আর বিষয়টি যখন এইরকম, তখন যদি যৌক্তিক পর্যবেক্ষণ কোনো অস্তিত্বশীল সত্তা সম্পর্কে বিশেষ কোনো জ্ঞানের দিকে ধাবিত করে, তবে সেই অস্তিত্বশীল সত্তাটি সম্পর্কে শরিয়তে হয় নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে, অথবা তা সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে। যদি বিষয়টি এমন হয় যা সম্পর্কে শরিয়ত নীরব, তবে সেখানে কোনো বিরোধ নেই; এটি শরিয়তের সেই সকল বিধানের পর্যায়ভুক্ত যা সম্পর্কে শরিয়ত নীরব থেকেছে এবং ফকিহগণ তা শরয়ী কিয়াসের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করেছেন। আর যদি শরিয়ত তা বর্ণনা করে থাকে, তবে সেই বর্ণনার বাহ্যিক অর্থ হয় যুক্তিনির্ভর প্রমাণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে অথবা তার পরিপন্থী হবে। যদি সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তবে সেখানে নতুন কোনো প্রসঙ্গের প্রয়োজন নেই। আর যদি পরিপন্থী হয়, তবে সেখানে 'তাবিল' বা ব্যাখ্যার অনুসন্ধান করতে হবে।

আর 'তাবিল' বা ব্যাখ্যার অর্থ হলো শব্দের অর্থকে তার প্রকৃত অর্থ হতে রূপক অর্থের দিকে সরিয়ে নেওয়া; তবে তা হতে হবে আরবি ভাষার অলঙ্কারশাস্ত্রের ব্যাকরণসিদ্ধ রীতি অনুসারে, যেখানে কোনো বস্তুকে তার সদৃশ বিষয়, তার কারণ, তার অনুষঙ্গী বা তার সংলগ্ন কোনো কিছুর নামে অভিহিত করা হয়, অথবা রূপক বাক্যের বিভিন্ন প্রকরণের সংজ্ঞায় যে সকল বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে সেগুলোর ভিত্তিতে।

 

‌‌যুক্তি ও বর্ণনার মধ্যে সামঞ্জস্য

আর একজন ফকিহ যখন অনেক শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে এমনটি করে থাকেন, তখন কতই না...
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بالحري أن يفعل ذلك صاحب علم البرهان،؟ فإن الفقيه إنما عند قياس ظني، والعارف عنده قياس، يقيني. ونحن نقطع قطعاً كل ما أدى إليه البرهان وخالفه ظاهر الشرع أن ذلك الظاهر يقبل التأويل على قانون التأويل العربي. وهذه القضية لا يشك فيها مسلم، ولا يرتاب بها مؤمن. وما اعظم ازدياد اليقين بها عند من زاول هذا المعنى وجربه، وقصد هذا المقصد من الجمع بين المعقول والمنقول. بل نقول أنه ما من منطوق به في الشرع مخالف بظاهره لما أدى إليه البرهان، إلا إذا اعتبر الشرع وتصفحت سائر أجزائه وجد في ألفاظ الشرع ما يشهد بظاهره لذلك التأويل أو يقارب أن يشهد.

ولهذا المعنى اجمع المسلمون على أنه ليس يجب أن تحمل ألفاظ الشرع كلها على ظاهرها، ولا أن تخرج كلها عن أب، ظاهرها بالتأويل. واختلفوا في المؤول منها من غير المؤول فالأشعريون مثلاً يتأولون آية الاستواء وحديث النزول والحنابلة تحمل ذلك على ظاهره.

والسبب في ورود الشرع فيه الظاهر والباطن هو اختلاف فطر
যুক্তি-প্রমাণ বিজ্ঞানের অধিকারীর পক্ষে এটি করাই অধিক সমীচীন। কারণ ফকিহদের কাছে কেবল ধারণাপ্রসূত কিয়াস থাকে, কিন্তু আরিফ বা প্রকৃত জ্ঞানীদের কাছে থাকে নিশ্চিত ও অকাট্য কিয়াস। আমরা সুনিশ্চিতভাবে এই সিদ্ধান্ত দিচ্ছি যে, অকাট্য যুক্তি-প্রমাণ যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয় এবং শরিয়তের বাহ্যিক পাঠ যদি তার পরিপন্থী হয়, তবে সেই বাহ্যিক পাঠটি আরবি ভাষার ব্যাখ্যার (তাবিল) নিয়ম অনুযায়ী ব্যাখ্যাযোগ্য। এ বিষয়ে কোনো মুসলিম সন্দেহ পোষণ করে না এবং কোনো মুমিন সংশয় প্রকাশ করে না। যে ব্যক্তি এই বিষয়টি চর্চা করেছে ও পরীক্ষা করেছে এবং যৌক্তিক ও শ্রুতিনির্ভর প্রমাণের মধ্যে সমন্বয় সাধনের এই উদ্দেশ্য গ্রহণ করেছে, তার নিকট এ সংক্রান্ত দৃঢ় বিশ্বাস কতই না বৃদ্ধি পায়! বরং আমরা বলি যে, শরিয়তে বর্ণিত এমন কোনো বক্তব্য নেই যার বাহ্যিক রূপ অকাট্য যুক্তি-প্রমাণের সিদ্ধান্তের বিরোধী; যদি শরিয়তকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করা হয় এবং এর অন্যান্য অংশগুলো অনুসন্ধান করা হয়, তবে শরিয়তের শব্দাবলির মধ্যেই এমন কিছু পাওয়া যাবে যা তার বাহ্যিক রূপ দ্বারাই সেই ব্যাখ্যার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় অথবা সাক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছায়।

এই কারণেই মুসলিমগণ এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, শরিয়তের সমস্ত শব্দাবলিকে যেমন তার বাহ্যিক অর্থে গ্রহণ করা আবশ্যক নয়, তেমনি সবগুলোকে ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে বাহ্যিক অর্থ থেকে বিচ্যুত করাও জরুরি নয়। তবে তারা কোনটি ব্যাখ্যাযোগ্য আর কোনটি নয়—সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, আশআরিগণ আরশে উঠার আয়াত এবং অবতরণ সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যা করেন, আর হাম্বলিগণ এগুলোকে বাহ্যিক অর্থেই গ্রহণ করেন।

শরিয়তে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ রূপ বিদ্যমান থাকার কারণ হলো মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির ভিন্নতা
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
الناس وتباين قرائحهم في التصديق. والسبب في ورود الظواهر المتعارضة فيه هو تنبيه الراسخين في العلم على التأويل الجامع بينها. والى هذا المعنى وردت الإشارة بقوله تعالى: " هو الذي أنزل عليك الكتاب، منه آيات محكمات " إلى قوله: " والراسخون في العلم. "

 

‌‌استحالة الإجماع العام

فإن قال قائل أن في الشرع أشياء قد اجمع المسلمون على حملها على ظواهرها وأشياء على تأويلها وأشياء اختلفوا فيها، فهل يجوز أن يؤدي البرهان إلى تأويل ما اجمعوا على ظاهره، أو ظاهر ما اجمعوا على تأويله؟ قلنا: أما لو ثبت الإجماع بطريق يقيني فلم يصح، وأما أن كأن الإجماع فيها ظنياً فقد يصح. ولذلك أبو حامد وأبو المعالي وغيرهما. من
মানুষের সত্যতা স্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের মেধা ও প্রকৃতির ভিন্নতা রয়েছে। এতে বাহ্যত পরস্পরবিরোধী বর্ণনা আসার কারণ হলো, যারা জ্ঞানে সুগভীর, তাদেরকে এমন একটি ব্যাখ্যার দিকে সজাগ করা যা সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। আর এই অর্থের দিকেই মহান আল্লাহর এই বাণীতে ইঙ্গিত করা হয়েছে: "তিনিই আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত মুহকাম..." থেকে "আর যারা জ্ঞানে সুগভীর" পর্যন্ত।

 

‌সাধারণ ইজমা অসম্ভব হওয়া

যদি কেউ বলেন যে, শরীয়তে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যার বাহ্যিক অর্থ গ্রহণের ওপর মুসলিমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন, কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং কিছু বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন; তবে কি অকাট্য দলিল এমন কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যার দিকে নিয়ে যাওয়া বৈধ হবে যার বাহ্যিক অর্থের ওপর তারা ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন, অথবা এমন কোনো বিষয়ের বাহ্যিক অর্থের দিকে নিয়ে যাওয়া যার ব্যাখ্যার ওপর তারা ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন? আমরা বলি: যদি ইজমা নিশ্চিত পদ্ধতিতে প্রমাণিত হয় তবে তা সঠিক হবে না, কিন্তু যদি সেই ইজমা ধারণাপ্রসূত হয় তবে তা সঠিক হতে পারে। আর এই কারণেই আবু হামিদ, আবু আল-মাআলি এবং অন্যান্যরা। থেকে
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
أئمة النظر أنه لا يقطع بكفر من خرق الإجماع في التأويل في أمثال هذه الأشياء.

وقد يدلك على أن الإجماع لا يتقرر في النظريات بطريق يقيني كما يمكن أن يتقرر في العمليات، أنه ليس يمكن أن يتقرر الإجماع في مسألة ما في عصر ما إلا بأن يكون ذلك العصر عندنا محصوراً، وأن يكون جميع العلماء الموجودين في ذلك العصر معلومين عندنا، اعني معلوماً أشخاصهم ومبلغ عددهم، وأن ينقل إلينا في المسألة مذهب كل واحد منهم نقل تواتر، ويكون مع هذا كله قد صح عندنا أن العلماء الموجودين في ذلك الزمان متفقون على أنه ليس في الشرع ظاهر أو باطن، وأن العلم بكل مسألة يجب أن لا يكتم عن أحد، وأن الناس طريقهم واحد في علم الشريعة. وأما كثير من الصدر الأول فقد نقل عنهم أنهم كانوا يرون أن للشرع ظاهراً وباطناً، وأنه ليس يجب أن يعلم بالباطن من ليس من أهل العلم به ولا يقدر على فهمه - مثل ما روى البخاري عن علي رضي الله عنه أنه قال: " حدثوا الناس بما يعرفون. أتريدون أن يكذب الله ورسوله؟ ". ومثل ما روي من ذلك عن جماعة من السلف
তাত্ত্বিক ইমামগণের অভিমত এই যে, এই জাতীয় বিষয়াবলির ব্যাখ্যায় ইজমা লঙ্ঘনকারীকে নিশ্চিতভাবে কাফির বলা যাবে না।

আর যা আপনাকে এই বিষয়ের প্রতি দিকনির্দেশনা দিতে পারে তা হলো— তাত্ত্বিক বিষয়াবলিতে ইজমা নিশ্চিতভাবে সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না যেভাবে ব্যবহারিক বিষয়াবলিতে হওয়া সম্ভব। কারণ, কোনো একটি যুগে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে ইজমা প্রতিষ্ঠিত হওয়া তখনই সম্ভব, যদি সেই যুগটি আমাদের নিকট সীমাবদ্ধ ও সুনির্দিষ্ট হয়, এবং সেই যুগে বিদ্যমান সকল আলেম আমাদের নিকট পরিচিত হন— অর্থাৎ তাঁদের ব্যক্তি-পরিচয় ও মোট সংখ্যা আমাদের জানা থাকে। তদুপরি সেই বিষয়ে তাঁদের প্রত্যেকের অভিমত আমাদের নিকট 'তাওয়াতুর' (অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা) পদ্ধতিতে বর্ণিত হতে হবে। এ সবকিছুর পাশাপাশি আমাদের নিকট এটিও প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক যে, সেই যুগের আলেমগণ এ বিষয়ে একমত ছিলেন যে, শরয়ি বিধানে জাহির (প্রকাশ্য) ও বাতিন (গুঢ়) বলতে কিছু নেই, এবং কোনো বিষয়ের জ্ঞানই কারও নিকট গোপন করা যাবে না, আর শরয়ি জ্ঞানার্জনে সকল মানুষের পথ অভিন্ন। অথচ প্রথম প্রজন্মের অনেকের পক্ষ থেকেই বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা শরয়ি বিধানের জাহির ও বাতিন রয়েছে বলে মনে করতেন। এবং তাঁরা মনে করতেন যে, যারা ইলমের অধিকারী নয় এবং এটি অনুধাবনে সক্ষম নয়, তাদের নিকট বাতিন বা গুঢ় রহস্য উন্মোচন করা আবশ্যক নয়। যেমন ইমাম বুখারী আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "মানুষের নিকট তা-ই বর্ণনা করো যা তারা বুঝতে সক্ষম। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক?" অনুরূপ বক্তব্য সালাফদের একটি জামাআতের পক্ষ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فكيف يمكن أن يتصور إجماع منقول إلينا عن مسألة من المسائل النظرية، ونحن نعلم قطعاً أنه لا يخلو عصر من الأعصر من علماء يرون أن في الشرع أشياء لا ينبغي أن يعلم بحقيقتها جميع الناس؟.

وذلك بخلاف ما عرض في العمليات: فإن الناس كلهم يرون إفشاؤها لجميع الناس على السواء، ونكتفي في حصول الإجماع فيها بأن تنتشر المسألة، فلا ينقل إلينا فيها خلاف. فإن هذا كاف في حصول الإجماع في العمليات بخلاف الأمر في العلميات.

 

‌‌تكفير الغزالي لفلاسفة الإسلام

فإن قلت: فإذا لم يجب التكفير بخرق الإجماع في التأويل إذ لا يتصور في ذلك إجماع، فما تقول في الفلاسفة من أهل الإسلام، كأبي نصر وابن سينا؟ فإن أبا حامد قد قطع بتكفيرهما في كتابه المعروف التهافت في ثلاث مسائل: في القول بقدم العالم، وبأنه تعالى لا يعلم الجزئيات تعالى عن ذلك -
সুতরাং কোনো তাত্ত্বিক মাসআলা বা তাত্ত্বিক বিষয়সমূহের মধ্য থেকে কোনো একটি বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো বর্ণিত ইজমার কথা কীভাবে কল্পনা করা যেতে পারে, যখন আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে কোনো যুগই এমন আলেমদের থেকে শূন্য ছিল না যারা মনে করতেন যে শরিয়তে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের অবগত হওয়া সমীচীন নয়?

এটি আমলগত বা ব্যবহারিক বিষয়ের ক্ষেত্রে যা ঘটে তার বিপরীত: কারণ সকল মানুষই এগুলো সবার কাছে সমানভাবে প্রকাশ করা সংগত মনে করেন। আমলগত বিষয়ে ইজমা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য মাসআলাটি লোকমুখে ছড়িয়ে পড়াই আমাদের জন্য যথেষ্ট, যদি সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো ভিন্নমত বর্ণিত না হয়। কারণ আমলগত বিষয়ে ইজমা সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট, যা তাত্ত্বিক বা ইলমি বিষয়ের ক্ষেত্রে ভিন্নতর।

 

‌‌ইসলামি দার্শনিকদের প্রতি গাজ্জালির কাফের ফতোয়া প্রদান

আপনি যদি বলেন: যদি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ইজমা লঙ্ঘনের কারণে কাফের ফতোয়া দেওয়া আবশ্যক না হয়—যেহেতু সে ক্ষেত্রে ইজমা কল্পনা করা সম্ভব নয়—তবে মুসলিম দার্শনিকদের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী, যেমন আবু নসর ও ইবনে সিনা? কারণ আবু হামিদ তার সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'তাহাফুত'-এ তিনটি মাসআলার কারণে তাদের কাফের হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্ত দিয়েছেন: জগৎ অনাদি হওয়ার মতবাদ পোষণ করা, এবং আল্লাহ তায়ালা খুটিনাটি বা আংশিক বিষয়সমূহ অবগত নন বলে মত প্রদান করা—আল্লাহ তায়ালা তা থেকে পরম পবিত্র ও সুউচ্চ—
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وفي تأويل ما جاء في حشر الأجساد وأحوال المعاد. - قلنا: الظاهر من قوله في ذلك أنه ليس تكفيره إياهما في ذلك قطعاً، إذ قد صرح في " كتاب التفرقة أن التكفير بخرق الإجماع فيه احتمال. وقد تبين من قولنا أنه ليس يمكن أن يتقرر إجماع في أمثال هذه المسائل، لما روي عن كثير من السلف الأول، فضلاً عن غيرهم، أن هاهنا تأويلات يجب أن لا يفصح بها إلا لمن هو من أهل التأويل وهم الراسخون في العلم. لأن الاختيار عندنا هو الوقوف على قوله تعالى " والراسخون في العلم "، لأنه إذا لم يكن أهل العلم يعلمون التأويل لم تكن عندهم مزية تصديق توجب لهم من الإيمان به لا يوجد عند غير أهل العلم. وقد وصفهم الله بأنهم المؤمنون به، وهذا إنما يحمل على الإيمان الذي يكون من قبل البرهان، وهذا لا يكون إلا

এবং দেহের পুনরুত্থান ও পরকালের অবস্থা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে। — আমরা বলি: এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এ ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতি তাঁর কাফির ঘোষণা করাটা নিশ্চিত কোনো বিষয় নয়; যেহেতু তিনি "কিতাবুত তাফরিকা"-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ঐক্যমত লঙ্ঘনের কারণে কাউকে কাফির ঘোষণা করার বিষয়ে সংশয় বা অবকাশ রয়েছে। আর আমাদের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, এই জাতীয় মাসআলাগুলোতে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়; কারণ প্রথম যুগের অনেক পূর্বসূরি এবং অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, এখানে এমন কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে যা কেবলমাত্র ব্যাখ্যার যোগ্য ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্য কারো কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়, আর তাঁরা হলেন জ্ঞানে সুগভীর পণ্ডিতগণ। কেননা আমাদের নিকট পছন্দনীয় মত হলো মহান আল্লাহর বাণী "এবং যারা জ্ঞানে সুগভীর"-এর ওপর থামা; কারণ আলেমগণ যদি এর ব্যাখ্যা না জানতেন, তবে সত্যায়ন বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তাঁদের এমন কোনো বিশেষত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব থাকত না যা তাঁদের জন্য এমন ঈমানকে সাব্যস্ত করে যা সাধারণ জ্ঞানসম্পন্নদের নিকট নেই। অথচ আল্লাহ তাঁদেরকে এর প্রতি বিশ্বাসী বলে অভিহিত করেছেন; আর এটি কেবল সেই ঈমানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে অর্জিত হয়, আর এটি কেবল...

(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
مع العلم بالتأويل.

فإن غير أهل العلم من المؤمنين هم أهل الإيمان به لا من قبل البرهان. فإن وكأن هذا الإيمان الذي وصف الله به العلماء خاصاً بهم فيجب أن يكون بالبرهان. أن كأن بالبرهان فلا يكون إلا مع العلم بالتأويل، لأن الله تعالى قد اخبر أن لها تأويلا هو الحقيقة، والبرهان لا يكون إلا على الحقيقة. وإذا كان ذلك كذلك، فلا يمكن أن يتقرر في التأويلات التي خص الله العلماء بها إجماع مستفيض. وهذا بين بنفسه عند من أنصف.

 

‌‌هل يعلم الله تعالى الجزئيات؟

والى هذا كله فقد نرى أن أبا حامد قد غلط على الحكماء المشائين بما نسب إليهم من أنهم يقولون أنه تقدس وتعالى لا يعلم الجزئيات أصلاً. بل يرون أنه تعالى يعلمها بعلم غير مجانس
ব্যাখ্যার জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও।

কেননা মুমিনদের মধ্যে যারা আলেম নন, তারা এর প্রতি ঈমান পোষণকারী, তবে তা প্রমাণের (বুরহান) মাধ্যমে নয়। যেহেতু আল্লাহ আলেমদের যে ঈমানের বর্ণনায় বিশেষিত করেছেন তা যেন তাদের জন্যই নির্দিষ্ট, তাই তা অবশ্যই প্রমাণের ভিত্তিতে হতে হবে। আর যেহেতু তা প্রমাণের ভিত্তিতে হবে, তাই তা ব্যাখ্যার জ্ঞান ব্যতীত হওয়া সম্ভব নয়; কারণ মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে এর একটি ব্যাখ্যা রয়েছে যা মূলত এর প্রকৃত স্বরূপ, আর প্রমাণ কেবল প্রকৃত স্বরূপের ওপরই সাব্যস্ত হয়। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে আল্লাহ আলেমদের জন্য যেসব ব্যাখ্যা নির্দিষ্ট করেছেন সেগুলোর ওপর কোনো সর্বজনবিদিত ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। যারা ন্যায়পরায়ণ তাদের নিকট বিষয়টি স্বয়ংস্পষ্ট।

 

‌‌মহান আল্লাহ কি খুঁটিনাটি বিষয়সমূহ জানেন?

এই সবকিছুর পাশাপাশি আমরা দেখতে পাই যে, আবু হামিদ মাশশাঈ দার্শনিকদের প্রতি এমন একটি বিষয় আরোপ করে ভুল করেছেন যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে, তারা বলে—পবিত্র ও মহান আল্লাহ মোটেও খুঁটিনাটি বিষয়সমূহ জানেন না। বরং তারা মনে করেন যে, মহান আল্লাহ এমন এক জ্ঞানের মাধ্যমে তা জানেন যা অন্য কোনো প্রকার জ্ঞানের সমজাতীয় নয়।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
لعلمنا بها وذلك أن علمنا بها معلول للمعلوم به فهو محدث بحدوثه ومتغير بتغيره. وعلم الله سبحانه بالوجود على مقابل هذا، فإنه علة للمعلوم الذي هو الموجود. فمن شبه العلمين أحدهما بالآخر فقد جعل ذوات المتقابلات وخواصها واحداً، وذلك غاية الجهل.

فاسم العلم إذا قيل على العلم المحدث والقديم فهو مقول باشتراك الاسم المحض، كما يقال كثير من الأسماء على المتقابلات، مثل الجلل المقول على العظيم والصغير، و " الصريم المقول على الضوء والظلمة " ولهذا ليس هاهنا حد يشتمل العلمين جميعاً كما توهمه المتكلمون من أهل زماننا. وقد أفردنا في هذه المسألة! قولاً حركنا إليه بعض أصحابنا.

كيف يتوهم على المشائين انهم يقولون أنه سبحانه لا يعلم بالعلم القديم الجزئيات؟ وهم يرون أن الرؤيا الصادقة تتضمن الإنذارات بالجزئيات الحادثة في الزمان المستقبل، وان ذلك العلم المنذر يحصل للإنسان في النوم من قبل العلم الأزلي المدبر للكل والمستولي عليه؟
আমাদের সেই বিষয়ের জ্ঞানটি মূলত জ্ঞাত বস্তুর দ্বারা প্রভাবিত; তাই এটি বস্তুর উৎপত্তির সাথে উৎপন্ন হয় এবং তার পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়। পক্ষান্তরে, অস্তিত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ তাআলার জ্ঞান এর সম্পূর্ণ বিপরীত; কারণ তা জ্ঞাত বস্তুর জন্য কারণস্বরূপ, যা মূলত বিদ্যমান। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুই প্রকার জ্ঞানের একটিকে অন্যটির সাথে তুলনা করল, সে বিপরীতধর্মী সত্তা ও তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহকে এক করে ফেলল, যা চরম মূর্খতা।

তাই 'জ্ঞান' শব্দটি যখন সৃষ্ট এবং অনাদি জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তখন তা কেবল আভিধানিক সমার্থকতার ভিত্তিতেই হয়। যেমন অনেক নাম বিপরীতধর্মী বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেমন 'জালাল' শব্দটি মহান এবং ক্ষুদ্র উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়, এবং 'সারিম' শব্দটি আলো ও অন্ধকার উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়। এই কারণে এখানে এমন কোনো সাধারণ সংজ্ঞা নেই যা উভয় প্রকার জ্ঞানকে শামিল করে, যেমনটি আমাদের সমসাময়িক কালাম শাস্ত্রবিদগণ ধারণা করেছেন। আমরা এই বিষয়ে একটি পৃথক আলোচনা করেছি, যেদিকে আমাদের কিছু সহচর আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।

মাশশায়ি দার্শনিকদের সম্পর্কে কীভাবে এমন ধারণা করা হতে পারে যে, তারা মহান আল্লাহ অনাদি জ্ঞানের মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে অবগত নন বলে মনে করেন? অথচ তারা বিশ্বাস করেন যে, সত্য স্বপ্ন ভবিষ্যতে সংঘটিতব্য খুঁটিনাটি ঘটনাবলির আগাম সতর্কবার্তা বহন করে এবং সেই সতর্কবার্তা প্রদানকারী জ্ঞান মানুষের কাছে ঘুমের ঘোরে সেই অনাদি জ্ঞান হতেই আসে, যা বিশ্বজগতের সবকিছুর পরিচালক এবং সবকিছুর ওপর কর্তৃত্বশীল।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৪০)
وليس يرون أنه لا يعلم الجزئيات فقط على النحو الذي نعلمه نحن، بل ولا الكليات، فإن الكليات المعلومة عندنا معلولة، أيضاً عن طبيعة الوجود، والأمر في ذلك العلم بالعكس. ولذلك ما قد أدى إليه البرهان أن ذلك العلم منزه عن أن يوصف بكلي أو جزئي فلا معنى للاختلاف في هذه المسألة، أعني في تكفيرهم أو لا تكفيرهم.

 

‌‌تقسيم الموجودات ورأي الفلاسفة فيها

اختلاف المتكلمين في القدم والحدوث

وأما مسألة قدم العالم أو حدوثه، فإن الاختلاف فيها عندي بين المتكلمين من الأشعرية والحكماء المتقدمين يكاد أن يكون راجعاً للاختلاف في التسمية، وبخاصة عند بعض القدماء. وذلك أنهم اتفقوا على أن هاهنا ثلاثة أصناف من الموجودات طرفان وواسطة ببن الطرفين، فاتفقوا في تسمية الطرفين واختلفوا في الواسطة.

فأما الطرف الواحد، فهو موجود وجد من شيء، أعني عن سبب فاعل ومن مادة، والزمان متقدم عليه، اعني على وجوده. وهذه هي حال الأجسام التي يدرك تكونها بالحس، مثل تكون الماء والهواء والأرض والحيوان والنبات وغير ذلك.
তারা কেবল এটিই মনে করেন না যে তিনি আংশিক বিষয়গুলো কেবল আমাদের জানার মতো করে জানেন না, বরং তারা মনে করেন তিনি সামগ্রিক বিষয়গুলোও জানেন না। কারণ আমাদের জানা সামগ্রিক বিষয়গুলোও অস্তিত্বের প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত; আর সেই জ্ঞানের ক্ষেত্রে বিষয়টি এর বিপরীত। আর এ কারণেই যুক্তি-প্রমাণ যা সাব্যস্ত করেছে তা হলো—সেই জ্ঞান সামগ্রিক বা আংশিক হিসেবে বিশেষিত হওয়া থেকে পবিত্র। সুতরাং এই মাসয়ালায় মতবিরোধের কোনো অর্থ নেই, অর্থাৎ তাদের কাফির সাব্যস্ত করা বা না করার বিষয়ে।

 

‌‌বিদ্যমান বস্তুসমূহের বিভাজন এবং এ বিষয়ে দার্শনিকদের অভিমত

অনাদিত্ব ও সৃষ্টিত্ব বিষয়ে কালামশাস্ত্রবিদদের মতভেদ

আর জগতের অনাদিত্ব বা সৃষ্টিত্ব সংক্রান্ত মাসয়ালাটির ক্ষেত্রে আশআরি মতাবলম্বী কালামশাস্ত্রবিদ এবং পূর্ববর্তী প্রাজ্ঞজনদের মধ্যে যে মতভেদ রয়েছে, তা আমার মতে প্রায় নামকরণের পার্থক্যের দিকেই পর্যবসিত হয়, বিশেষ করে কিছু পূর্বসূরীদের নিকট। আর তা এজন্য যে, তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে বিদ্যমান বস্তুসমূহ তিন প্রকার: দুটি প্রান্ত এবং দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী একটি পর্যায়। তারা দুই প্রান্তের নামকরণের ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন, তবে মধ্যবর্তী পর্যায়ের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

প্রথম প্রান্তটি হলো এমন এক বিদ্যমান বস্তু যা কোনো কিছু থেকে অস্তিত্ব লাভ করেছে; অর্থাৎ কোনো প্রভাবক কারণ এবং উপাদান থেকে, আর সময় তার অস্তিত্বের পূর্ববর্তী। আর এটিই হলো সেই সমস্ত স্থূল বস্তুর অবস্থা যাদের গঠন ইন্দ্রিয় দ্বারা প্রত্যক্ষ করা যায়, যেমন—পানি, বায়ু, মাটি, প্রাণী, উদ্ভিদ এবং অন্যান্য বিষয়ের উৎপত্তি।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৪১)
وهذا الصنف من الموجودات اتفق الجميع من القدماء والأشعريين على تسميتها محدثة.

وأما الطرف المقابل لهذا، فهو موجود لم يكن من شيء، ولا عن شيء ولا تقدمه زمان. وهذا أيضاً اتفق الجميع من الفرقتين على تسميته " قديماً وهذا الموجود مدرك بالبرهان، وهو الله تبارك وتعالى. هو فاعل الكل وموجده والحافظ له سبحانه وتعالى قدره.

وأما الصنف من الموجود الذي بين هذين الطرفين، فهو موجود لم يكن من شيء، ولا تقدمه زمان، ولكنه موجود عن شيء، أعني عن فاعل، وهذا هو العالم بأسره.

اختلاف المتكلمين في القدم والحدوث

والكل منهم متفق على وجود هذه الصفات الثلاث للعالم. فإن المتكلمين يسلمون أن الزمان غير متقدم عليه، أو يلزمهم ذلك، ان الزمان عندهم شيء مقارن للحركات والأجسام. وهم أيضاً متفقون مع القدماء على أن الزمان المستقبل غير متناه، وكذلك الوجود المستقبل.

وإنما يختلفون في الزمان الماضي، والوجود الماضي: فالمتكلمون يرون أنه متناه، وهذا هو مذهب أفلاطون وشيعته. وأرسطو وفرقته يرون أنه غير متناه كالحال في المستقبل.
বিদ্যমান বস্তুর এই শ্রেণিটির ব্যাপারে প্রাচীন দার্শনিক এবং আশআরী—উভয় পক্ষই একে 'সৃষ্ট' হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

আর এর বিপরীত প্রান্তের বিষয়টি হলো এমন এক অস্তিত্ব, যা কোনো বস্তু থেকে সৃষ্টি হয়নি, কোনো কিছুর মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভ করেনি এবং যার পূর্বে কোনো সময় অতিবাহিত হয়নি। উভয় দলই একে 'অনাদি' হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এই সত্তাকে যুক্তিনির্ভর প্রমাণের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়, আর তিনি হলেন বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ। তিনি সবকিছুর কর্তা, উদ্ভাবক এবং সবকিছুর হেফাজতকারী; তাঁর মহিমা অতি মহান।

আর অস্তিত্বের সেই শ্রেণি যা এই দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী, তা এমন এক অস্তিত্ব যা কোনো উপাদান থেকে সৃষ্টি হয়নি এবং যার পূর্বে কোনো সময় অতিবাহিত হয়নি, কিন্তু তা কোনো একটি সত্তার মাধ্যমে অস্তিত্ব লাভ করেছে—অর্থাৎ একজন কর্তার মাধ্যমে। আর এটিই হলো সমগ্র জগত।

অনাদিত্ব ও সৃষ্টিতত্ত্বের বিষয়ে মুতাকাল্লিমদের মতভেদ

তাঁদের প্রত্যেকেই জগতের এই তিনটি বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে একমত। কেননা মুতাকাল্লিমরা স্বীকার করেন যে, সময় জগতের পূর্ববর্তী নয়, অথবা এটি মেনে নেওয়া তাঁদের জন্য অনিবার্য হয়ে পড়ে; কারণ তাঁদের মতে সময় হলো গতি ও বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়। তাঁরা প্রাচীন দার্শনিকদের সাথে এ বিষয়েও একমত যে, অনাগত সময় অসীম, ঠিক তেমনি অনাগত অস্তিত্বও অসীম।

তাঁরা কেবল অতীত সময় এবং অতীত অস্তিত্বের বিষয়ে মতভেদ করেন। মুতাকাল্লিমরা মনে করেন যে এটি সসীম, আর এটিই হলো প্লেটো এবং তাঁর অনুসারীদের মত। পক্ষান্তরে এরিস্টটল এবং তাঁর অনুসারীরা মনে করেন যে এটি ভবিষ্যতের মতোই অসীম।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৪২)
فهذا الوجود الآخر الأمر فيه بين أنه قد آخذ شبهاً من الوجود الكائن الحقيقي ومن الوجود القديم. فمن غلب عليه ما فيه من شبه القديم على ما فيه من شبه المحدث وسماه قديماً ومن غلب عليه ما فيه من شبه المحدث، سماه محدثاً وهو في الحقيقة ليس محدثاً حقيقياً، ولا قديماً حقيقياً. فإن المحدث الحقيقي فاسد ضرورة، القديم الحقيقي ليس له علة. ومنهم من سماه محدثاً أزلياً، وهو أفلاطون وشيعته، لكون الزمان متناهياً ب عندهم من الماضي.

فالمذاهب في العالم ليست تتباعد، كل التباعد حتى يكفر بعضها ولا يكفر. فإن الآراء التي شأنها هذا يجب أن تكون في الغاية من، التباعد، اعني أن تكون متقابلة، كما ظن المتكلمون في هذه المسألة، اعني أن اسم! القدم والحدوث في العالم بأسره هو من المتقابلة.، قد تبين من قولنا أن الأمر ليس كذلك.

 

‌‌تأويل بعض الآيات

ويدل ظاهرها على وجود قبل وجود العالم

وهذا كله مع أن هذه الآراء في العالم ليست على ظاهر الشرع. فإن ظاهر الشرع إذا تصفح ظهر من الآيات الواردة في الأنباء عن إيجاد العالم أن صورته محدثة بالحقيقة، وأن نفس الوجود والزمان مستمر من الطرفين، أعني غير منقطع. وذلك أن قوله تعالى: وهو الذي خلق
অতএব এই অন্য অস্তিত্বের বিষয়টি স্পষ্ট যে, এটি বিদ্যমান প্রকৃত অস্তিত্ব এবং অনাদি অস্তিত্ব—উভয় দিক থেকেই সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে। সুতরাং যার নিকট অনাদি অস্তিত্বের সাদৃশ্যটি নবসৃষ্ট অস্তিত্বের সাদৃশ্যের ওপর প্রবল হয়েছে, সে একে 'অনাদি' বলে অভিহিত করেছে। আর যার নিকট নবসৃষ্ট অস্তিত্বের সাদৃশ্যটি প্রবল হয়েছে, সে একে 'নবসৃষ্ট' বলে অভিহিত করেছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এটি না প্রকৃত নবসৃষ্ট, আর না প্রকৃত অনাদি। কেননা যা প্রকৃত নবসৃষ্ট, তা অনিবার্যভাবেই নশ্বর; আর যা প্রকৃত অনাদি, তার কোনো কারণ নেই। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একে 'অনাদি নবসৃষ্ট' বলে অভিহিত করেছেন, আর তাঁরা হলেন প্লেটো ও তাঁর অনুসারীরা; কারণ তাঁদের নিকট অতীত দিক থেকে সময় সসীম।

সুতরাং বিশ্বজগত সম্পর্কে মতবাদগুলো একে অপরের থেকে এতটাই দূরবর্তী নয় যে, একদল অন্যকে কাফির সাব্যস্ত করবে। কারণ যে মতাদর্শগুলোর প্রকৃতি এমন, সেগুলোকে চরমভাবে পরস্পরবিরোধী হতে হয়; যেমনটি এই মাসআলায় মুতাকাল্লিমগণ ধারণা করেছেন। অর্থাৎ তাদের মতে, সমগ্র বিশ্বজগতের ক্ষেত্রে 'অনাদিত্ব' ও 'নবসৃষ্ট হওয়া' নাম দুটি পরস্পরবিরোধী। আমাদের আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বিষয়টি তেমন নয়।

 

‌‌কতিপয় আয়াতের ব্যাখ্যা

যেগুলোর বাহ্যিক অর্থ বিশ্বজগত সৃষ্টির পূর্বে অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকার নির্দেশ দেয়

এই সবকিছু সত্ত্বেও বিশ্বজগত সম্পর্কে এই মতগুলো শরীয়তের বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী নয়। কেননা শরীয়তের প্রকাশ্য রূপটি যদি অনুসন্ধান করা হয়, তবে বিশ্বজগত সৃষ্টি বিষয়ক সংবাদ সম্বলিত আয়াতগুলো থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, এর আকৃতি প্রকৃতপক্ষে নবসৃষ্ট, তবে খোদ অস্তিত্ব ও সময় উভয় প্রান্ত থেকেই চলমান, অর্থাৎ নিরবচ্ছিন্ন। আর তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর তিনিই সেই সত্তা যিনি সৃষ্টি করেছেন..."
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
السماوات والأرض ني ستة أيام وكان عرشه على الماء " يقتضي بظاهره أن وجوداً قبل هذا الوجود، وهو العرش والماء، وزماناً قبل هذا الزمان، أعنى المقترن بصورة هذا الوجود، الذي هو عدد حركة الفلك. - وقوله تعالى: يوم تبدل الأرض غير الأرض والسموات يقتضي ايضاً بظاهره أن وجوداً ثانياً، بعد هذا الوجود. وقوله تعالى: ثم أستوى إلى السماء وهي دخان " يقتضي بظاهره أن اسموات خلقت من شيء

فالمتكلمون ليسوا في قولهم ايضاً في العالم على ظاهر الشرع، بل متأولون. فإنه ليس في الشرع أن الله كان موجوداً مع العدم المحض، ولا يوجد هذا فيه نصاً ابداً. فكيف بتصور في تأويل المتكلمين في هذه الآيات أن الاجماع انعقد عليه. والظاهر الذي قلناه من الشرع في وجود العالم قد قال به فرقة من الحكماء.

 

‌‌خطأ الحاكم وخطأ العالم أي خطأ معذور

ويشبه أن يكون المختلفون في تأويل هذه المسائل العويصة أما مصيبين مأجوري، واما مخطئين معذورين. فإن التصديق بالشيء من قبل الدليل القائم في النفس، هو شيء اضطراري لا اختياري، اعني أنه ليس لنا أن لا نصدق أو نصدق، كما لنا أن نقوم أو لا نقوم.
"আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর" - এটি এর বাহ্যিক দিক থেকে নির্দেশ করে যে, এই অস্তিত্বের পূর্বেও একটি অস্তিত্ব ছিল, যা হলো আরশ ও পানি; এবং এই সময়ের পূর্বেও একটি সময় ছিল, অর্থাৎ যা এই অস্তিত্বের রূপের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা মহাকাশীয় গোলকের গতির হিসাব। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "যেদিন এই জমিন পরিবর্তিত হয়ে অন্য জমিনে রূপান্তরিত হবে এবং আসমানসমূহও" - এটিও এর বাহ্যিক দিক থেকে নির্দেশ করে যে, এই অস্তিত্বের পরে দ্বিতীয় একটি অস্তিত্ব রয়েছে। আর মহান আল্লাহর বাণী: "অতপর তিনি আসমানের দিকে উঠলেন যখন তা ছিল ধোঁয়া" - এটি এর বাহ্যিক দিক থেকে নির্দেশ করে যে, আসমানসমূহ কোনো বস্তু থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

সুতরাং মুতাকাল্লিমগণও জগত সম্পর্কে তাদের বক্তব্যে শররিয়তের বাহ্যিক অর্থের ওপর নেই, বরং তারা ব্যাখ্যাকারী। কেননা শররিয়তে এমন কোনো কথা নেই যে, আল্লাহ কেবল বিশুদ্ধ অস্তিত্বহীনতার সাথে বিদ্যমান ছিলেন এবং এ বিষয়ে শররিয়তে কখনোই কোনো অকাট্য বর্ণনা পাওয়া যায় না। সুতরাং এই আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে মুতাকাল্লিমদের ব্যাখ্যার ওপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে কীভাবে ধারণা করা যায়? আর জগতের অস্তিত্ব সম্পর্কে শররিয়তের যে বাহ্যিক মর্ম আমরা উল্লেখ করেছি, দার্শনিকদের একটি দলও তা ব্যক্ত করেছেন।

 

‌‌শাসকের ভুল এবং বিদ্ধানের ভুল অর্থাৎ মার্জনীয় ভুল

আর এটিই স্বাভাবিক যে, এই জটিল বিষয়গুলোর ব্যাখ্যায় যারা মতভেদ করেছেন তারা হয় সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন, অথবা ভুল করে মার্জনীয় হবেন। কেননা অন্তরে প্রতিষ্ঠিত দলিলের ভিত্তিতে কোনো বিষয়কে সত্য বলে মেনে নেওয়া একটি অনিবার্য বিষয়, ঐচ্ছিক নয়; অর্থাৎ আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী কোনো বিষয়কে বিশ্বাস করা বা না করার বিষয়টি তেমন নয়, যেমনটি আমাদের ইচ্ছা অনুযায়ী দাঁড়ানো বা না দাঁড়ানোর বিষয়টি ঐচ্ছিক।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وإذا كان من شرط التكليف الاختيار، فالمصدق بالخطأ من قبل شبهة عرضت له إذا كان من اهل العلم معذور. ولذلك قال عليه السلام: " إذ اأجتهد الحاكم فأصاب فله أجران، وإذا، أخطأ فله أجر ". وأي حاكم أعظم من الذي يحكم على الوجود بأنه، كذا أو ليس بكذا. وهؤلاء الحكام هم العلماء الذين خصهم الله بالتأويل. وهذا الخطأ المصفوح عنه في الشرع، إنما هو الخطأ الذي يقع، من العلماء إذا نظروا في الأشياء العويصة التي كلفهم الشرع النظر فيها.

وأما، الخطأ الذي يقع من غير هذا الصنف من الناس فهو اثم محض، وسواء كأن الخطأ في الأمور النظرية أو العملية،. فكما، أن الحاكم الجاهل بالسنة إذا اخطأ في الحاكم لم يكن معذوراً، كذلك الحاكم! الموجودات إذا لم توجد فيه شروط الحاكم " فليس بمعذور، بل هو إما آثم وإما كافر. وإذا كأن يشترط في الحاكم في الحلال والحرام أن تجتمع، له
যেহেতু দায়বদ্ধতার শর্তসমূহের মধ্যে একটি হলো স্বেচ্ছাধীন এখতিয়ার, তাই ইলমের অধিকারীদের মধ্যে যারা সংশয়ের উদ্রেক হওয়ার কারণে ভুল বিষয়কে সত্য বলে সাব্যস্ত করেন, তারা ওজরপ্রাপ্ত বলে গণ্য হবেন। আর এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ করেন এবং তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তখন তার জন্য দুটি প্রতিদান রয়েছে; আর যদি তিনি ইজতিহাদ করেন এবং ভুল করেন, তবে তার জন্য রয়েছে একটি প্রতিদান।" আর অস্তিত্বের হাকিকত সম্পর্কে—এটি এমন কিংবা এটি এমন নয়—যিনি ফয়সালা দেন, তার চেয়ে বড় বিচারক আর কে হতে পারে? এই বিচারকগণ হলেন সেই সকল আলেম, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা গভীর অর্থ বিশ্লেষণের (তাবিল) বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। শরিয়তে যে ভুলটি মার্জনা করা হয়েছে, তা হলো সেই ভুল যা আলেমদের মাধ্যমে সংঘটিত হয়, যখন তারা এমন সব জটিল বিষয় নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেন যা গবেষণার দায়িত্ব শরিয়ত তাদের ওপর অর্পণ করেছে।

পক্ষান্তরে, এই শ্রেণির বাইরে অন্য লোকদের দ্বারা সংঘটিত ভুল নিছক পাপ হিসেবে গণ্য হবে; চাই তা তাত্ত্বিক বিষয়ে হোক কিংবা ব্যবহারিক বিষয়ে। যেমন সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞ কোনো বিচারক যদি বিচারের ক্ষেত্রে ভুল করেন, তবে তিনি যেমন ওজরপ্রাপ্ত হন না, ঠিক তেমনি বিদ্যমান বিষয়াবলির ফয়সালা প্রদানকারীর মধ্যে যদি বিচারকের প্রয়োজনীয় শর্তাবলি বিদ্যমান না থাকে, তবে তিনিও ওজরপ্রাপ্ত নন; বরং তিনি হয় পাপিষ্ঠ অথবা কাফের। আর হালাল ও হারামের বিচারকের ক্ষেত্রে যেমন শর্তারোপ করা হয় যে, তার মধ্যে যেন একত্রিত হয়...
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
اسباب الاجتهاد - وهو معرفة الأصول ومعرفة الاستنباط من تلك الأصول بالقياس - فكم والحري أن يشترط ذلك في الحاكم على الموجودات، اعني أن يعرف الأوائل العقلية ووجه الاستنباط منها.

وبالجملة فالخطأ في الشرع على ضربين: إما خطأ يعذر فيه من هو من أهل النظر في ذلك الشيء الذي وقع فيه الخطأ - كا يعذر الطبيب الماهر إذا اخطأ في صناعة الطب، والحاكم الماهر إذا اخطأ في الحكم. ولا يعذر فيه من ليس من اهل ذلك الشأن. واما خطأ ليس يعذر فيه احد من الناس، بل أن وقع في مبادىء الشريعة فهو كفروان وقع فيما بعد المبادئ فهو بدعة.

 

‌‌الأصول الثلاثة للشرع والإيمان بها

وهذا الخطأ هو الخطأ الذي يكون في الأشياء التي تفضي، جميع اصناف طرق الدلائل إلى معرفتها، فتكون معرفة ذلك الشيء بهذه الجهة ممكنة للجميع. وهذا هو مثل الاقرار بالله تبارك وتعالى، وبالنبوات، وبالسعادة، الأخروية، والشقاء الأخروي.

وذلك أن هذه الأصول الثلاثة تؤدي اليها اصناف الدلائل، الثلاثة التي لا يعرى احد من الناس عن وقوع التصديق له من قبلها بالذي كلف معرفته، اعني الدلائل الخطابية والجدلية والبرهانية. فالجاحد لا مثال هذه الأشياء إذا كانت اصلاً من اصول الشرع كافر معاند بلسانه دون قلبه أو بغفلته عن التعرض إلى معرفة دليلها. لأنه أن كان من اهل البرهان فقد جعل له سبيل إلى التصديق بها
ইজতিহাদের উপকরণসমূহ - যা হলো মূলনীতিসমূহ অনুধাবন করা এবং সেই মূলনীতিসমূহ থেকে কিয়াসের মাধ্যমে বিধান আহরণ (ইস্তিনবাত) সম্পর্কে জানা - আর বিদ্যমান বিষয়সমূহের বিচারকের জন্য এই শর্তারোপ করা কতটা যুক্তিযুক্ত, অর্থাৎ তিনি যেন বুদ্ধিবৃত্তিক মূলসূত্রাবলি এবং তা থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত থাকেন।

সারসংক্ষেপ হলো, শরীয়তের ক্ষেত্রে ভুল দুই প্রকার: হয় এমন ভুল যার জন্য সেই বিষয়ে দক্ষ গবেষক (আহলুন নাযার) ক্ষমাযোগ্য হন - যেমন একজন দক্ষ চিকিৎসক চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভুল করলে এবং একজন দক্ষ বিচারক রায়ের ক্ষেত্রে ভুল করলে ক্ষমা পান। তবে যে ব্যক্তি সেই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ নন, তিনি ক্ষমাযোগ্য নন। আর অন্যটি হলো এমন ভুল যা কারো পক্ষেই ক্ষমাযোগ্য নয়; বরং তা যদি শরীয়তের মৌলিক নীতিমালাসমূহের মধ্যে ঘটে তবে তা কুফর (অবিশ্বাস), আর যদি মৌলিক নীতিমালার পরবর্তী বিষয়সমূহে ঘটে তবে তা বিদআত (নব-উদ্ভাবন)।

 

‌‌শরীয়তের তিনটি মূলনীতি এবং সেগুলোর প্রতি ঈমান

আর এই ভুলটি সেইসব বিষয়ে হয়ে থাকে যার জ্ঞান অর্জনের দিকে সকল প্রকার দলিল-প্রমাণ পথপ্রদর্শন করে, ফলে এই দিক থেকে সেই বিষয়টি জানা সবার জন্যই সম্ভব। এটি যেমন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার প্রতি স্বীকৃতি প্রদান, নবুওয়াতসমূহ, পরকালীন সুখ এবং পরকালীন দুঃখের স্বীকৃতির ন্যায়।

তার কারণ হলো এই তিনটি মূলনীতির দিকে তিন প্রকারের দলিল-প্রমাণই পথপ্রদর্শন করে, যেগুলোর মাধ্যমে যা জানার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে সত্যয়ন বা বিশ্বাস স্থাপন থেকে কোনো মানুষই বঞ্চিত নয়। অর্থাৎ আলংকরিক (খিতাবিয়া), তর্কমূলক (জাদলিয়া) এবং অকাট্য যুক্তিগত (বুরহানিয়া) দলিলসমূহ। সুতরাং শরীয়তের মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও এই ধরণের বিষয়সমূহ অস্বীকারকারী একজন হঠকারী কাফির, যে তার মুখ দিয়ে অস্বীকার করে যদিও অন্তরে নয়, অথবা এই দলিলসমূহ জানার চেষ্টা না করার উদাসীনতার কারণে অস্বীকারকারী। কারণ সে যদি অকাট্য যুক্তিওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, তবে তার জন্য এগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের পথ সুগম করে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
بالبرهان، وأن كان من اهل الجدل فبالجدل، وأن كأن من اهل الموعظة فبالموعظة. ولذلك قال عليه السلام: " أمرت أن أقايل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله ويؤمنوا بى " - يريد بأي طريق أنفق لهم من طرق الإيمان الثلاث.

 

‌‌تأويل ظاهر الآيات والأحاديث

أهل البرهان وأهل القياس

وأما الأشياء التي لخفائها لا تعلم الا بالبرهان فقد تلطف الله فيها لعباده، الذين لا سبيل لهم إلى البرهان، اما من قبل فطرهم، واما من قبل عادتهم، واما من قبل عدمهم اسباب التعلم، بأن ضرب لهم امثالها وأشباهها ودعاهم إلى التصديق بتلث الأمثال، اذ كانت تلك الأمثال يمكن أن يقع التصديق بها بالأدلة المشتركة للجميع، اعني الجدلية والخطابية. وهذا هو السبب في أن أنقسم، الشرع إلى ظاهر وباطن. فإن الضاهر هو تلك الأمثال المضروبة لتلك المعاني، والباطن هو تلك المعاني التي لا تنجلي إلا لأهل البرهان. وهذه هي اصناف تلك الموجودات الأربعة أو الخمسة التي ذكرها ابو حامد في " كتاب، التفرقة.
প্রমাণের মাধ্যমে; আর যদি সে বিতর্কপ্রিয়দের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে বিতর্কের মাধ্যমে, আর যদি সে উপদেশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে উপদেশের মাধ্যমে। এই কারণেই তিনি (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমার প্রতি ঈমান আনে" — এর মাধ্যমে তিনি ঈমানের তিনটি পদ্ধতির মধ্য থেকে তাদের জন্য যেটিই প্রযোজ্য হয় সেটির কথাই বুঝিয়েছেন।

 

‌‌আয়াত ও হাদিসের বাহ্যিক অর্থের ব্যাখ্যা

প্রমাণপন্থী ও কিয়াসপন্থীগণ

আর যেসব বিষয় তাদের অতি সূক্ষ্মতার কারণে অকাট্য প্রমাণ ব্যতীত জানা সম্ভব নয়, আল্লাহ সেগুলোর ক্ষেত্রে তাঁর সেইসব বান্দাদের প্রতি সদয় হয়েছেন যাদের কাছে প্রমাণের কোনো পথ নেই—হয়তো তাদের সহজাত স্বভাবের কারণে, অথবা অভ্যাসের কারণে, কিংবা জ্ঞানার্জনের উপকরণের অভাবের কারণে। তাই তিনি তাদের জন্য এগুলোর দৃষ্টান্ত ও সদৃশ বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছেন এবং তাদের এই দৃষ্টান্তসমূহের সত্যতা স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন। যেহেতু এই দৃষ্টান্তগুলোর সত্যতা সবার জন্য সাধারণ দলীলগুলোর মাধ্যমে, অর্থাৎ তর্কমূলক ও উপদেশমূলক আলোচনার মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব। আর এটাই হলো শরয়ি বিধানের বাহ্যিক (জাহের) ও অভ্যন্তরীণ (বাতেন) রূপে বিভক্ত হওয়ার কারণ। কেননা বাহ্যিক দিক হলো সেই সব অর্থের জন্য বর্ণিত দৃষ্টান্তসমূহ, আর অভ্যন্তরীণ দিক হলো সেই সব নিহিত অর্থ যা কেবল প্রমাণের অধিকারীদের নিকটই উন্মোচিত হয়। আর এগুলিই হলো অস্তিত্বের সেই চার বা পাঁচ প্রকার যা আবু হামিদ তাঁর 'কিতাবুত তাফরিকা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
واذا اتفق كا قلنا أن نعلم الشيء بنفسه بالطرق الثلاث، لم نحتج أن نضرب له امثالاً،، وكان على ظاهره لا يتطرق اليه تأويل. وهذا النحو من الظاهر أن كان في الأصول فالمتأول له كافر، مثل من يعتقد أنه لا سعادة أخروية ههنا ولا شقاء، وأنه إنما قصد بهذا القول أن يسلم، الناس بعضهم من بعض في ابدانهم وحواسهم، وانها حيلة، وأنه لا غاية للانسان الا وجوده المحسوس فقط.

واذا تقرر، هذا، فقد ظهر لك من قولنا أن ههنا ظاهراً من الشرع
আর যখন এটি একমত হলো যেমনটি আমরা বলেছি যে, কোনো বিষয়কে তার সত্তাগতভাবে তিনটি উপায়ে জানা যায়, তখন তার জন্য আমাদের কোনো উপমা পেশ করার প্রয়োজন পড়ে না; এবং তা তার প্রকাশ্য অর্থের ওপরই থাকে যেখানে কোনো রূপক ব্যাখ্যার অবকাশ থাকে না। আর প্রকাশ্য অর্থের এই ধরনটি যদি মূলনীতির (উসুল) অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে যে ব্যক্তি এর রূপক ব্যাখ্যা করবে সে কাফির; যেমন এমন ব্যক্তি যে বিশ্বাস করে যে এখানে (পরকালে) কোনো সুখ বা দুঃখ নেই, এবং এই বক্তব্যের মাধ্যমে কেবল মানুষের শরীর ও ইন্দ্রিয়সমূহকে একে অপরের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখাই উদ্দেশ্য ছিল, আর এটি একটি কৌশল মাত্র; এবং মানুষের জন্য তার এই ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অস্তিত্ব ছাড়া আর কোনো চরম লক্ষ্য নেই।

আর যখন এটি সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন আমাদের বক্তব্য থেকে আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এখানে শরিয়তের একটি প্রকাশ্য দিক রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
لا يجوز تأويله. فإنا كان نأويله في المبادئ فهو كفر، وأن كان فيما بعد المبادىء فهو بدعة. وههنا ايضاً ظاهره يجب على اهل البرهان تأويله، علهم اياه على ظاهره كفر. وتأويل غير اهل البرهان له واخراجه عن ظاهره كفر في حقهم أو بدعة. ومن هذا الصنف آية الاستواء وحديث النزول. ولذلك قال عليه السلام في السوداء اذ اخبرته أن الله في السماء " اعتقها فإنها مؤمنة " اذ كانت ليست من اهل البرهان.

والسبب في ذلك أن الصنف من الناس الذين لا يقع لهم التصديق الا من قبل التخيل - اعني أنهم لا يصدقون بالشيء الا من جهة ما يتخيلونه - يعسر وقوع التصديق لهم بموجود ليس منسوباً إلى شيء متخيل.
এর ব্যাখ্যা করা বৈধ নয়। কেননা এর ব্যাখ্যা যদি মৌলিক বিষয়াদির ক্ষেত্রে হয় তবে তা কুফর, আর যদি তা মৌলিক বিষয়ের পরবর্তী স্তরের ক্ষেত্রে হয় তবে তা বিদআত। আর এক্ষেত্রেও এর বাহ্যিক অর্থটি দলীল-প্রমাণে পারদর্শী ব্যক্তিদের জন্য ব্যাখ্যা করা আবশ্যক, কারণ তাদের জন্য একে এর বাহ্যিক অর্থে গ্রহণ করা কুফর। আর যারা দলীল-প্রমাণে পারদর্শী নয়, তাদের পক্ষ থেকে এর ব্যাখ্যা করা এবং একে এর বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়া তাদের ক্ষেত্রে কুফর বা বিদআত। আর এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো আরশের উপর উঠার আয়াত এবং অবতরণ সংক্রান্ত হাদীস। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই কৃষ্ণবর্ণের দাসী সম্পর্কে বলেছিলেন—যখন সে তাঁকে সংবাদ দিয়েছিল যে আল্লাহ আসমানে আছেন—"তাকে মুক্ত করে দাও, কারণ সে একজন মুমিন", যেহেতু সে দলীল-প্রমাণে পারদর্শী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

এর কারণ হলো সেই শ্রেণীর মানুষ যাদের নিকট কল্পনা ব্যতিরেকে বিশ্বাস জন্মায় না—অর্থাৎ তারা কোনো বস্তুকে তখনই বিশ্বাস করে যখন তা তাদের কল্পনার সীমানায় আসে—তাদের পক্ষে এমন কোনো সত্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা কঠিন যা কোনো কল্পনাযোগ্য বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
ويدخل ايضاً على من لا يفهم من هذه النسبه الا المكان، وهم الذين شدوا على رتبة الصنف الأول قليلاً في النظر بانكار اعتقاد الجسمية. ولذلك كان الجواب لهؤلاء في امثال هذه أنها من المتشابهات، وأن الوقف في قوله تعالى: " وما يعلم تأويله الإ الله ". واهل البرهان مع أنهم مجمعون في هذا الصنف أنه من المؤول فقد يختلفون في تأويله، وذلك بحسب مرتبة كل واحد من معرفة البرهان.

وههنا صنف ثالث من الشرع متردد بين هذين الصنفين يقع فيه شك، فيلحقه قوم ممن يتعاطى النظر بالظاهر الذي لا يجوز تأويله، ويلحقه آخرون بالباطن الذى لا يجوز حمله على الظاهر للعلماء، وذلك لعواصة هذا الصنف واشثباهه. والمخطىء. في هذا معذور - اعني من العلماء.

 

‌‌اختلاف العلماء في أحوال المعاد

فإن قيل " فإذا تبين أن الشرع في هذا على ثلاث مراتب، فمن اي هذه المراتب الثلاث هو عندم ما جاء في صفات المعاد وأحواله "؟ فنقول: أن هذه المسألة الأمر فيها بين انها من الصنف المختلف
এই বিষয়টি তাদের উপরেও আপতিত হয় যারা এই সম্পর্ক থেকে কেবল স্থান ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না; তারা হলো সেই দল যারা শরীর বা অবয়ব হওয়ার বিশ্বাসকে অস্বীকার করার মাধ্যমে চিন্তাগত নিরিখে প্রথম শ্রেণির চেয়ে কিছুটা অগ্রসর হয়েছে। তাই এই ধরণের বিষয়ে তাদের ক্ষেত্রে উত্তর ছিল এই যে, এগুলো ‘মুতাশাবিহাত’ (অস্পষ্ট বিষয়)-এর অন্তর্ভুক্ত, এবং মহান আল্লাহর বাণী— "আল্লাহ ছাড়া কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না" —এখানেই থামা (ওয়াকফ করা) কর্তব্য। আর প্রমাণের অনুসারী (আহলে বুরহান) আলেমগণ এই বিষয়ে একমত যে এটি ব্যাখ্যার (তাবিল) যোগ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, তবে তারা এর ব্যাখ্যায় ভিন্নমত পোষণ করে থাকেন; আর তা মূলত প্রত্যেকের প্রমাণের জ্ঞানের স্তরের ভিন্নতার কারণে ঘটে থাকে।

আর এখানে শরীয়তের একটি তৃতীয় শ্রেণি রয়েছে যা এই দুই শ্রেণির মাঝে দোদুল্যমান এবং যাতে সংশয় সৃষ্টি হয়। ফলে যারা বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেন, তাদের একদল একে সেই বাহ্যিক অর্থের সাথে যুক্ত করেন যার ব্যাখ্যা করা বৈধ নয়। আবার অন্যদল একে অভ্যন্তরীণ অর্থের সাথে যুক্ত করেন যা আলেমদের নিকট বাহ্যিক অর্থের ওপর রাখা বৈধ নয়। আর এটি এই শ্রেণির জটিলতা ও অস্পষ্টতার কারণেই হয়ে থাকে। আর এই ক্ষেত্রে যে ভুল করেন তিনি ক্ষমাপ্রাপ্ত—আমি আলেমদের কথা বলছি।

 

‌‌পরকালের অবস্থা সম্পর্কে আলেমদের মতভেদ

যদি বলা হয়, "যখন এটি স্পষ্ট হলো যে এই বিষয়ে শরীয়ত তিনটি স্তরে বিন্যস্ত, তবে পরকালের গুণাবলি ও অবস্থার বর্ণনাসমূহ এই তিন স্তরের কোনটি?" আমরা বলব: এই মাসআলাটির বিষয়টি স্পষ্ট যে, এটি সেই মতভেদপূর্ণ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) ফাসলুল মাক্বাল লিবনি রুশদ (পৃষ্ঠা: ৫০)
فيه. وذلك انا. نرى قوماً ينسبون أنفسهم إلى البرهان يقولون أن الواجب حملها على ظاهرها، اذ كأن ليس ههنا برهان يؤدي إلى استحالة الظاهر فيها. وهذه طريقة الأشعرية، وقوم آخرون ايضاً ممن يتعاطى البرهان، يتأولونها. وهؤلاء يختلفون في تأويلها اختلافاً كثيراً. وفي هذا الصنف ابو حامد معدود وكثير من المتصوفة. ومنهم من يجمع فيها التأويلين، كما يفعل ذلك ابو حامد في بعض كتبه.
এ প্রসঙ্গে। আর তা হলো এই যে, আমরা এমন এক সম্প্রদায়কে দেখি যারা নিজেদেরকে অকাট্য প্রমাণের অনুসারী বলে দাবি করে। তারা বলে যে, এগুলোকে এগুলোর বাহ্যিক অর্থের ওপর গ্রহণ করা আবশ্যক, যেহেতু এখানে এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই যা এগুলোর বাহ্যিক অর্থ অসম্ভব হওয়ার দিকে নিয়ে যায়। আর এটিই হলো আশআরীগণের পদ্ধতি। এছাড়া যারা অকাট্য প্রমাণ নিয়ে চর্চা করেন তাদের মধ্যে অন্য একদল এগুলোর ব্যাখ্যা করেন। আর তারা এগুলোর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে মতবিরোধ করেছেন। এই শ্রেণিতে আবু হামিদ এবং অনেক সুফি অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য। আবার তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা এতে উভয় প্রকারের ব্যাখ্যাকে একত্রিত করেন, যেমনটি আবু হামিদ তার কোনো কোনো কিতাবে করেছেন।