(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: -)
صراع مع الملاحدة حتى العظم   (عبد الرحمن حبنكة الميداني)

القسم: كتب عامة


الكتاب: صراع مع الملاحدة حتى العظم

المؤلف: عبد الرحمن بن حسن حَبَنَّكَة الميداني الدمشقي (ت 1425هـ)

الناشر: دار القلم، دمشق

الطبعة: الخامسة، 1412 هـ - 1992 م

عدد الصفحات: 467

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নাস্তিকদের সাথে আমূল সংঘাত   (আবদুর রহমান হাবান্নাকা আল-মাইদানি)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


গ্রন্থ: নাস্তিকদের সাথে আমূল সংঘাত

লেখক: আবদুর রহমান বিন হাসান হাবান্নাকা আল-মাইদানি আদ-দিমাশকি (মৃ. ১৪২৫ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল কলম، দামেস্ক

সংস্করণ: পঞ্চম، ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৬৭

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ৩)
في سلسلة

أعدَاء الإسلام

2

صِرَاعُ مَعَ المَلاحِدَة

 

حتى العظم

تأليف

عبد الرحمن حسن حبنّكة الميداني

 

دار القلم

دمشق
ধারাবাহিকে

ইসলামের শত্রুরা

২

নাস্তিকদের সাথে সংঘাত

 

মজ্জাগত

রচনায়

আবদুর রহমান হাসান হাবান্নাকাহ আল-মাইদানি

 

দারুল কলম

দামেস্ক
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، والصلاة على خاتم أنبيائه

وإخوانه الأنبياء والمرسلين، حَمَلة رسالات الهدى،

ودُعَاة الخلق إلى الحق.

اللهم ألهِمنا الصواب، وآتِنا الحكمة وفصل

الخطاب.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর সর্বশেষ নবীর ওপর

ও তাঁর ভ্রাতৃপ্রতিম নবী ও রাসূলগণের ওপর, যাঁরা হিদায়াতের বাণীর বাহক,

এবং সৃষ্টিজগতকে সত্যের দিকে আহ্বানকারী।

হে আল্লাহ, আমাদের সঠিক বিষয়ের অনুপ্রেরণা দিন এবং আমাদের প্রজ্ঞা ও সুস্পষ্ট

সিদ্ধান্তমূলক বক্তব্য দান করুন।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌الإهْدَاء

 

إلى كل مفتون بتزييفات المبطلين، مخدوع بزخارف أقوال الملحدين.

 

إلى كل ناشد للحقيقة الكبرى في الوجود، حريص على النجاة، طالب للسعادة الخالدة.

 

إلى الشباب المؤمن الذي يودّ أن يدمغ الملاحدة بالبراهين الساطعة والحجج القاطعة.

 

أقدم هذا الكتاب الذي يمكن أن يعتبر معركة جدلية مع طائفة الملحدين المعاصرين، جنود الشياطين، وأجراء اليهودية العالمية، التي تكيد لكل حق، ولكل أمة، ولكل خير، ولكل فضيلة.

 

اللهم أرنا الحق حقاً وارزقنا اتباعه، وأرنا الباطل باطلاً وارزقنا اجتنابه، ووفقنا لما تحب وترضى، واجمع كلمة المسلمين على الهدى والتقوى، وانصر أولياءك على أعدائك، وأيَّد جندك على جند إبليس، وحقق وعدك إذ قلت وأنت لا تخلف الميعاد:

 

{بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ}

 

(الأنبياء/21 مصحف/73 نزول)
উৎসর্গ

 

তাদের প্রত্যেকের প্রতি, যারা বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচারে বিমোহিত এবং নাস্তিকদের বাকচাতুর্যে বিভ্রান্ত।

 

অস্তিত্বের মহান সত্যের প্রত্যেক অন্বেষণকারীর প্রতি, যারা মুক্তি লাভে আগ্রহী এবং চিরস্থায়ী সুখের প্রত্যাশী।

 

সেই মুমিন যুবকদের প্রতি, যারা উজ্জ্বল প্রমাণ ও অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে নাস্তিকদের পরাভূত করতে চায়।

 

আমি এই বইটি নিবেদন করছি যা সমকালীন নাস্তিকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক বিতর্কমূলক লড়াই হিসেবে গণ্য হতে পারে; যারা শয়তানের সৈন্য এবং আন্তর্জাতিক ইহুদিবাদের বেতনভুক্ত কর্মচারী, যারা প্রতিটি সত্য, প্রতিটি জাতি, প্রতিটি কল্যাণ এবং প্রতিটি সচ্চরিত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

 

হে আল্লাহ! আমাদের নিকট সত্যকে সত্য হিসেবে স্পষ্ট করে দিন এবং আমাদের তা অনুসরণের তাওফিক দান করুন। আমাদের নিকট মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে স্পষ্ট করে দিন এবং আমাদের তা বর্জনের তাওফিক দান করুন। আপনি যা ভালোবাসেন এবং যাতে সন্তুষ্ট হন, আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। মুসলিমদের ঐক্যকে হিদায়াত ও তাকওয়ার ওপর সুসংহত করুন। আপনার শত্রুদের বিরুদ্ধে আপনার বন্ধুদের সাহায্য করুন। ইবলিসের বাহিনীর বিরুদ্ধে আপনার বাহিনীকে শক্তিশালী করুন। আর আপনার ওয়াদা পূর্ণ করুন, যেহেতু আপনি বলেছেন এবং আপনি আপনার ওয়াদা খেলাফ করেন না:

 

{বরং আমি সত্য দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যার মস্তক চূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর তোমরা যা বলছ, তার জন্য তোমাদের দুর্ভোগ।}

 

(আল-আম্বিয়া/২১, মুসহাফ/৭৩ নাজিল)
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصل الأول

مقدمات

 

لولا واجب حماية المسلمين من تضليلات المضلين، حتى السخفاء والتافهين، لما كان (د. العظم) يستحق النظر فيه، ولا الالتفات إليه.
প্রথম অধ্যায়

ভূমিকা

 

পথভ্রষ্টকারীদের বিভ্রান্তি থেকে মুসলিমদের রক্ষা করার আবশ্যিক দায়িত্ব না থাকলে—এমনকি যারা নির্বোধ ও অসার তাদের থেকেও—তবে ড. আল-আজম পর্যালোচনার বা তাঁর প্রতি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করার যোগ্য বিবেচিত হতেন না।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ১১)
(1)

 

تصدّى لمحاربة الإسلام متصدّون كثيرون بوسائل مختلفة، فتحطّموا وتكسّرت على حقيقته الثابتة المتينة نظرياتهم وجدلياتهم وأقوالهم المزخرفة، وتكشفت بنوره تزييفاتهم وأكاذيبهم وأباطيلهم وظل الإسلام بحقه ونوره يتحدى كل مخالف له، ويصرع كل مصارع، ويطحن كل محارب.

{يُرِيدُونَ لِيُطْفِئُواْ نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ}

(الصف/61 مصحف/109 نزول)

 

هذا وإني ما زلت أعتقد أنه من غير المستحسن إثارة معارك جدلية مع الملحدين من أعداء الإسلام، حتى لا تعطيهم هذه المعارك فرصة لنشر آرائهم بين أبناء المسلمين، وحتى لا تكسبهم هذه المعارك دعاية يستغلونها لنشر أسمائهم، وترديد أفكارهم وآرائهم الباطلة، وبإهمالهم يتساقطون تساقطاً ذاتياً أمام سلطان الحق المالئ للوجود، وينساهم الزمان كما نسي أسلافهم، وتطويهم الحقائق طي وفاة الهالكين، ما زلت في هذا الاعتقاد إلى أن ألحَّ عليَّ فريق من أهل الغيرة على الإسلام، أن أكشف زيف بعض الملاحدة المعاصرين الذين تصدوا لمحاربة الإسلام في جذوره الكبرى، بمكتوباتهم ومنشوراتهم التي حاولوا أن يضعوا لها هالة البحث العلمي، والنقد الحر الجريء، وبرر لي هؤلاء الأحبة من أهل الغيرة ضرورة العمل، وأنه قد أصبح واجباً إسلامياً متحتماً، باعتبار أن طائفة من طلائع فتياننا وفتياتنا قد أثرت في نفوسهم وأفكارهم بعض أباطيل هؤلاء الملاحدة وسفسطاتهم ومغالطاتهم، حتى نقلني إلحاحهم من موقع الرفض إلى موقع التردد، وبقيت متردِّداً حولاً كاملاً، حتى أعاد هؤلاء الأحبة الغيورون على إلحاحهم في صيف عام 1393-1973م، فاستخرت الله، وعزمت على تحقيق الطلب، وكتبت هذا الصراع العلمي المنطقي المحتشم، التزاماً بآداب المناظرة والجدال بالتي هي أحسن، ما لم يستدع رد الضربة الباطلة بكفئها من الحق.
(১)

 

ইসলামকে প্রতিহত করার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে বহু লোক অবতীর্ণ হয়েছে, কিন্তু ইসলামের সুদৃঢ় ও অটল হাকিকতের সামনে তারা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে এবং তাদের তত্ত্বসমূহ, কুতর্কসমূহ ও জমকালো বচনসমূহ ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। এর নূরের প্রভাবে তাদের জালিয়াতি, মিথ্যাচার ও অসারতা উন্মোচিত হয়েছে। আর ইসলাম তার সত্যতা ও নূর নিয়ে তার প্রত্যেক বিরোধীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যাচ্ছে, প্রতিটি মল্লযোদ্ধাকে ধরাশায়ী করছে এবং প্রতিটি আক্রমণকারীকে পিষ্ট করছে।

{তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতাদানকারী, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।}

(আস-সাফ/৬১ মুসহাফ/১০৯ নাজিল)

 

আমি এখনও বিশ্বাস করি যে, ইসলামের শত্রু নাস্তিকদের সাথে তর্কমূলক যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া সমীচীন নয়, যাতে এই লড়াইগুলো তাদের নিজেদের মতবাদ মুসলিম সন্তানদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ করে না দেয় এবং যাতে এই বিতর্কগুলো তাদেরকে এমন প্রচার এনে না দেয় যা তারা নিজেদের নাম প্রচার এবং তাদের বাতিল চিন্তা ও মতবাদগুলো বারবার আওড়ানোর জন্য ব্যবহার করতে পারে। তাদের উপেক্ষা করলে তারা অস্তিত্বময় সত্যের প্রবল প্রতাপের সামনে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ঝরে পড়বে এবং মহাকাল তাদেরকে ভুলে যাবে যেমন তাদের পূর্বসূরিদের ভুলে গেছে; এবং সত্যের হাকিকতসমূহ তাদেরকে বিনাশপ্রাপ্তদের মতোই বিলীন করে দেবে। আমি এই বিশ্বাসেই অটল ছিলাম যতক্ষণ না ইসলামের প্রতি একনিষ্ঠ একদল ব্যক্তি আমাকে পীড়াপীড়ি করলেন যেন আমি বর্তমান যুগের কতিপয় নাস্তিকের জালিয়াতি উন্মোচন করি, যারা ইসলামের মৌলিক ভিত্তিগুলোর ওপর আঘাত হানার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে তাদের সেই সব লেখা ও প্রকাশনার মাধ্যমে যাতে তারা বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং সাহসী ও মুক্ত সমালোচনার মোড়ক দেওয়ার চেষ্টা করেছে। ইসলামের প্রতি অনুরাগী এই প্রিয়জনরা আমার কাছে এই কাজের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি এখন একটি অবধারিত ইসলামি কর্তব্যে পরিণত হয়েছে; যেহেতু আমাদের তরুণ ও তরুণীদের একটি অংশের অন্তর ও চিন্তাধারায় ঐসব নাস্তিকদের কিছু অসার কথাবার্তা, কুতর্ক ও বিভ্রান্তি প্রভাব বিস্তার করেছে। অবশেষে তাদের প্রবল পীড়াপীড়ি আমাকে অস্বীকৃতির অবস্থান থেকে দ্বিধার অবস্থানে নিয়ে এল। আমি পূর্ণ এক বছর দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, পরিশেষে এই অনুরাগী প্রিয়জনরা ১৩৯৩ হিজরি মোতাবেক ১৯৭৩ সালের গ্রীষ্মকালে পুনরায় তাদের অনুরোধ ব্যক্ত করলেন। তখন আমি আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করলাম এবং অনুরোধ রক্ষার সংকল্প করলাম। আর আমি এই মার্জিত বৈজ্ঞানিক ও যৌক্তিক লড়াইটি লিপিবদ্ধ করলাম, যা বিতর্কের শিষ্টাচার এবং উত্তম পন্থায় যুক্তি প্রদর্শনের নীতি বজায় রেখে রচিত, যতক্ষণ না কোনো বাতিল আঘাতকে সত্যের মাধ্যমে উপযুক্ত পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ১২)
ورجوت من هذا الصراع أن يحقق الله سنته التي أعلنها بقوله في سورة (الرعد/13 مصحف/96 نزول) :

{أَنَزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَالَتْ أَوْدِيَةٌ بِقَدَرِهَا فَاحْتَمَلَ السَّيْلُ زَبَداً رَّابِياً وَمِمَّا يُوقِدُونَ عَلَيْهِ فِي النَّارِ ابْتِغَآءَ حِلْيَةٍ أَوْ مَتَاعٍ زَبَدٌ مِّثْلُهُ كَذالِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الْحَقَّ وَالْبَاطِلَ فَأَمَّا الزَّبَدُ فَيَذْهَبُ جُفَآءً وَأَمَّا مَا يَنفَعُ النَّاسَ فَيَمْكُثُ فِي الأَرْضِ كَذالِكَ يَضْرِبُ اللَّهُ الأَمْثَالَ} .

 

والله ولي التوفيق، وهو الهادي إلى سبيل الرشاد والسداد، وهو حسبي ونعم الوكيل.

 

(2)

 

لو عرف كثير من الملاحدة أن اليهود المقنعين يحرثون على أكتافهم وظهورهم مزارع سياستهم، ولا يدفعون لهم مقابل ذلك إلا الغرور بالنفس والأجر اليسير، والفحش الكثير، والخمر والحشيش، والمواعيد الكاذبة، والأوهام الخادعة، لاستقام تفكيرهم، وتيقظت بصائرهم، ولرجعوا إلى صفوف المؤمنين بالله، يكافحون الإلحاد ومن يغذيه أو يدفع إليه.

 

إن اليهود الذين وضعوا أو دعموا ما أسموه بالنظريات المناقضة للدين، وزعموا أنها حقائق علمية زوراً وبهتاناً، وأدخلوها ضمن حشد التقدم العلمي المعاصر، أرادوا أن يخدعوا بها أجيال المثقفين ليخرجوهم من صفوف أمتهم ويستخدموهم جنوداً يدمرون بهم كل المواريث الإنسانية والتعاليم الربانية.

 

ألا فليعلم هذه الحقيقة شباب مضللون سائرون في طريق الإلحاد، أو واصلون إلى غايته، أو متطلعون إلى السير فيه.

 

(3)

قرأت طائفة من مكتوبات ملاحدة القرن العشرين، فرأيتها حشداً من المغالطات الفكرية المقرونة بزخرف من القول، والمقنَّعة بقناع العلمانية. فهي تحاول أن تُدَلِّي قارئها بغرور إلى مواقع الباطل، مغشية بصره وبصيرته حتى لا يرى
আর আমি এই সংগ্রামের মাধ্যমে আল্লাহর সেই সুন্নাত বা রীতি বাস্তবায়নের আশা করেছি, যা তিনি সূরা আর-রা'দ-এ (১৩ নং সূরা/৯৬ অবতরণক্রম) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে ঘোষণা করেছেন:

{তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, ফলে উপত্যকাগুলো তাদের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী প্লাবিত হয়; অতঃপর প্রবাহমান স্রোত উপরিভাগে স্ফীত ফেনা বহন করে আনে। আর অলঙ্কার বা আসবাবপত্র তৈরির উদ্দেশ্যে তারা যা আগুনে উত্তপ্ত করে, তাতেও অনুরূপ ফেনা থাকে। এভাবেই আল্লাহ সত্য ও মিথ্যার উদাহরণ প্রদান করেন। সুতরাং যা ফেনা, তা তো অসার হিসেবে চলে যায়, আর যা মানুষের উপকারে আসে, তা জমিনে অবস্থান করে। এভাবেই আল্লাহ উপমাসমূহ বর্ণনা করেন।}

 

আর আল্লাহই তাওফীক প্রদানের অভিভাবক, তিনি সঠিক ও কল্যাণের পথের দিশারী এবং তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।

 

(২)

 

অনেক নাস্তিক যদি জানত যে, ছদ্মবেশী ইহুদিরা তাদের কাঁধ ও পিঠের ওপর নিজেদের রাজনীতির খামার চাষ করছে এবং এর বিনিময়ে তারা তাদের আত্ম-অহংকার, সামান্য পারিশ্রমিক, প্রচুর অশ্লীলতা, মদ ও মাদক, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং প্রতারণামূলক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই দিচ্ছে না, তবে তাদের চিন্তাধারা সঠিক পথে পরিচালিত হতো এবং তাদের অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত হতো; আর তারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী মুমিনদের কাতারে ফিরে আসত এবং নাস্তিকতা ও যারা একে লালন করে বা এর দিকে উস্কানি দেয় তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করত।

 

নিশ্চয়ই সেই ইহুদিরা, যারা তথাকথিত ধর্মবিরোধী মতবাদসমূহ উদ্ভাবন করেছে বা সমর্থন দিয়েছে এবং মিথ্যা ও অপবাদের মাধ্যমে সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক সত্য বলে দাবি করেছে এবং সমকালীন বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির আবহে সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে; তারা এর মাধ্যমে শিক্ষিত প্রজন্মকে প্রতারিত করতে চেয়েছিল যাতে তাদের নিজ জাতির কাতার থেকে বের করে নেওয়া যায় এবং তাদের এমন সৈন্য হিসেবে ব্যবহার করা যায় যারা সমস্ত মানবিক ঐতিহ্য ও ঐশী শিক্ষা ধ্বংস করে দেবে।

 

সাবধান! সেই বিভ্রান্ত যুবকদের এই ধ্রুব সত্যটি জানা উচিত যারা নাস্তিকতার পথে চলছে, অথবা এর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, কিংবা এই পথে চলার আকাঙ্ক্ষা করছে।

 

(৩)

আমি বিংশ শতাব্দীর নাস্তিকদের একদল লেখকের রচনাবলি পড়েছি, সেগুলোকে আমি চটকদার কথার মোড়কে আবৃত এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে ঢাকা একরাশ বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তি হিসেবে দেখতে পেয়েছি। সেগুলো তার পাঠককে প্রতারণার মাধ্যমে মিথ্যার গহ্বরে নিক্ষেপ করার অপচেষ্টা করে এবং তার চক্ষু ও অন্তর্দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে দেয় যাতে সে আর দেখতে না পায়—
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ১৩)
وجه الحق الجميل، ثم تنتقل به من تضليل إلى تضليل، مستخدمة عبارات الأمانة العلمية، وغوغائيات كلمات التقدم الصناعي والتكنولوجيا، ومعطية أحكاماً قطعية على مذاهب ومبادئ لا تمثل إلى وجهة نظر معينة لفئة من العلمانيين، تخالفها وتناقضها وجهات نظر أخرى تدعمها مدارس علمانيَّة كثيرة، من علمانيات القرن العشرين نفسه، قرن التقدم المادي على اختلاف جوانبه واختصاصه.

 

وتسير جدليّاتهم ضمن هذا المنهج من المغالطات والغوغائيات والتقريرات، والعبارات التي تتصنَّع الهدوء والمنطقية، وتستغل كل ثقل التقدم العلمي الذي أحرزه إنسان القرن العشرين لأنفسها ومذاهبها، مع أن التقدم العلمي والتكنولوجيا بعيد كل البعد عن دعم مذاهبها، أو تأييد إلحادها بالله، وجحودها اليوم الآخر، لدى تحري الحقيقة بصدق، في كل مجالات التقدم الصحيح الحق، في العلوم المادية والتكنولوجيا. وتدس جدلياتُهم في بعض عباراتها نفثات الهزء والسخرية، وتبجحات التعاظم بالتقدم العلمي والصناعي، وذكر الأسماء الأجنبية المعروفة في ميادين المعرفة والعلوم المادية وسيلة للتأثير على الضعفاء المراهقين في عقولهم ونفوسهم، الذين لا يصمُدون لاستهزاء المستهزئين من أهل الباطل، وتستهويهم مظاهر الاستكبار والتعاظم، وتخدعهم دعاوَى المعرفة والتقدم العلمي الحديث، وتؤثر في نفوسهم الأسماء المشهورة في ميادين العلم.

 

وأمام هذه المغالطات والغوغائيات الجدلية، ذكرت قول الله تعالى في سورة (الكهف/18 مصحف/69 نزول) :

{وَيُجَادِلُ الَّذِينَ كَفَرُواْ بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُواْ بِهِ الْحَقَّ وَاتَّخَذُو?اْ آيَاتِي وَمَا أُنْذِرُواْ هُزُواً} .

(4)

 

قرأت فيما قرأت مقولات "نقد الفكر الديني" للدكتور صادق جلال العظم، الحائز على لقب "دكتور" من الذين دسَّوا الكفر في فكره إذ منحوه هذا اللقب، فرأيت في مقولاته عجباً من المغالطات والأباطيل والافتراءات، وسائر وسائل الجدال بالباطل لدحض قضية الحق.
সত্যের সুন্দর রূপ, এরপর তারা একে এক বিভ্রান্তি থেকে অন্য বিভ্রান্তিতে নিয়ে যায়, যেখানে তারা 'বৈজ্ঞানিক সততা'র বুলি এবং শিল্প ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বাগাড়ম্বরপূর্ণ শব্দাবলি ব্যবহার করে। তারা এমন সব মতবাদ ও মূলনীতির ওপর চূড়ান্ত ফয়সালা দেয় যা কেবল সেক্যুলারদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করে, অথচ বিংশ শতাব্দীরই অন্যান্য অনেক সেক্যুলার ধারা তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরোধিতা ও বৈপরীত্য করে—যেই শতাব্দীটি তার বিচিত্র দিক ও বিশেষত্বে বস্তুগত অগ্রগতির কাল ছিল।

 

তাদের তর্কমূলক পদ্ধতিগুলো বিভ্রান্তি, বাগাড়ম্বর, একপাক্ষিক ঘোষণা এবং এমন সব শব্দগুচ্ছের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয় যা কৃত্রিমভাবে ধীরস্থির ও যৌক্তিক হওয়ার ভান করে। বিংশ শতাব্দীর মানুষ যে বৈজ্ঞানিক উন্নতি সাধন করেছে, তারা তার পূর্ণ প্রভাবকে নিজেদের এবং নিজেদের মতবাদের স্বার্থে ব্যবহার করে। অথচ বস্তুগত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সকল সঠিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে যদি সততার সাথে সত্য অন্বেষণ করা হয়, তবে দেখা যায় যে, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও প্রযুক্তি তাদের মতবাদকে সমর্থন করা কিংবা আল্লাহর প্রতি তাদের নাস্তিক্যবাদ ও পরকালের প্রতি তাদের অস্বীকৃতিকে অনুমোদন দেওয়া থেকে বহু দূরে অবস্থান করছে। তাদের এই তর্কমূলক বাক্যগুলোর মধ্যে বিদ্রূপ ও উপহাসের বিষবাষ্প মিশিয়ে দেওয়া হয়। তারা বৈজ্ঞানিক ও শিল্প বিপ্লবের বড়াই করে এবং জ্ঞান ও বস্তুগত বিজ্ঞানের ময়দানে সুপরিচিত বিদেশি নামগুলো উল্লেখ করে। এটি তারা করে মূলত সেই সব মানসিক ও আত্মিকভাবে দুর্বল তরুণদের ওপর প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে, যারা বাতিলপন্থীদের উপহাসের মুখে অটল থাকতে পারে না। অহংকার ও মহত্ত্বের বাহ্যিক রূপ তাদের মোহিত করে এবং জ্ঞান ও আধুনিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির দাবিগুলো তাদের ধোঁকায় ফেলে। বিজ্ঞানের ময়দানে সুপরিচিত নামগুলো তাদের মনে গভীর রেখাপাত করে।

 

এই সব বিভ্রান্তি ও তর্কমূলক বাগাড়ম্বরের প্রেক্ষিতে আমি সূরা কাহাফের (১৮ নম্বর সূরা/৬৯ নম্বর অবতীর্ণ) আল্লাহ তাআলার বাণী স্মরণ করছি:

{আর কাফেররা মিথ্যার আশ্রয়ে বিতর্ক করে যেন এর মাধ্যমে তারা সত্যকে নস্যাৎ করে দিতে পারে; আর তারা আমার আয়াতসমূহ এবং যে বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে তাকে উপহাসের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে।}

(৪)

 

আমি যা পড়েছি তার মধ্যে ডক্টর সাদিক জালাল আল-আজমের "ধর্মীয় চিন্তার সমালোচনা" শীর্ষক প্রবন্ধগুলোও ছিল। তিনি এমন লোকদের কাছ থেকে "ডক্টর" উপাধি লাভ করেছেন যারা তাকে এই উপাধি প্রদানের মাধ্যমে তার চিন্তাধারায় কুফর ঢুকিয়ে দিয়েছে। আমি তার বক্তব্যের মধ্যে অদ্ভুত সব বিভ্রান্তি, বাতিল কথা, অপবাদ এবং সত্যের দাবিকে ধূলিসাৎ করার জন্য বাতিল উপায়ে বিতর্কের যাবতীয় হীন কৌশল দেখতে পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ১৪)
وكنت قلت في نفسي قبل أن أقرأ مقولاته بإمعان: لعله باحث أخطأ وجه الصواب، وعاب بانحرافه الحق الذي لا يعاب، ولكني بعد أن قرأت كتابه رأيته نموذجاً من التضليل المراد، القائم على المغالطات والأكاذيب والادِّعاءات الباطلة، وستر وجه الحق الديني الذي تصدى لمحاربته علناً، وتزيين وجه الباطل الإلحادي الذي حمل لواء مناصرته والتبشير به.

 

وقد كنت قرأت علوم الفلسفة والمنطق والمناظرة، ومررت فيها على ما يسمونه (بالمغالطة) وما يسمون (بالسفسطة) فإذا سئلت عن أمثلة لهما لم ينجدني الخيال إلا بأمثلة محدودة، رغم الكد الذهني الذي أبذله، فلما قرأت مقالات "نقد الفكر الديني" ظفرت منها بأمثلة كثيرة للمغالطات وأنواع السفسطات التي تعمدها كاتبها الناقد (د. العظم) ليضلل بها من يطالع كتابه من مراهقي الفتيان والفتيات، من أجيال الأمة الإسلامية، خدمة متحمسَة للماركسية والداروينية والفرويدية وسائر النظريات بل (الفرضيات) اليهودية الإلحادية، وهو في كل ذلك يتستر بعبارات التقدم العلمي والصناعي، والمناهج العلمية الحديثة، ولا يقدم من البينات إلا قوله مثلاً: إن العلم يرفض هذا، أو لا يسلم بهذا، أو يثبت هذا، دون أ، يطرح مناقشات علمية نقدية تتحرى الحقيقة.

 

فمن غريب ما فعل في منطقه الشاذ أنه جمع كل الأديان، وكل ما فيها من حق وباطل، وكل ما نسب إليها من ضعيف وقوي وفاسد وصحيح، وقال: هذه هي الأديان، ثم وجه النقد اللاذع للباطل الظاهر، وللضعيف البين، وللفاسد المعروف فساده، ثم صنع من ذلك مقدمة فاسدة استنتج منها إبطال الدين كله.

لقد رأى في مقدمته الفاسدة أن الاتجاهات الدينية يوجد فيها ما هو باطل مخالف للحقائق العلمية، التي توصل إلهيا البحث العلمي (ووضع الأديان المختلفة كلها في دائرة واحدة) ثم زعم أنه لما كان الدين كله يمثل جبهة واحدة، وقد وجد الباطل في جانب من جوانب هذه الجبهة، ولما كان الدين متماسك الحلقات متى انتقض بعضه انتقض كله، فالنتيجة التي يستخلصها الفكر العلمي هي أن الدين كله مشكوك به، ولا يصح الاعتماد عليه ولا الأخذ به.
তার বক্তব্যসমূহ নিবিড়ভাবে পাঠ করার পূর্বে আমি মনে মনে বলছিলাম: সম্ভবত তিনি একজন গবেষক যিনি সঠিক পথের দিশা হারিয়েছেন এবং স্বীয় বিচ্যুতিবশত সেই সত্যেরই দোষারোপ করছেন যা নিষ্কলঙ্ক। কিন্তু তার গ্রন্থটি পাঠ করার পর আমি তাকে সুপরিকল্পিত বিভ্রান্তির এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখতে পেলাম, যা গড়ে উঠেছে কূযুক্তি, মিথ্যাচার ও অসার দাবির ওপর। তিনি সেই ধর্মীয় সত্যের রূপকে আবৃত করেছেন যার বিরুদ্ধে তিনি প্রকাশ্যে লড়তে নেমেছেন, আর সেই নাস্তিক্যবাদী বাতিলের রূপকে সুশোভিত করেছেন যার সমর্থন ও প্রচারের ঝাণ্ডা তিনি ধারণ করেছেন।

 

আমি দর্শন, যুক্তিবিদ্যা ও মুনাজারা (বিতর্ক শাস্ত্র) অধ্যয়ন করেছি এবং সেখানে তথাকথিত 'কূযুক্তি' ও 'কুতর্ক'-এর বিষয়সমূহ পাঠ করেছি। তবে যখনই এগুলোর উদাহরণ দিতে বলা হতো, অনেক মানসিক পরিশ্রম সত্ত্বেও আমার কল্পনায় কেবল সীমিত কিছু উদাহরণই ভেসে আসত। কিন্তু যখন আমি "ধর্মীয় চিন্তার সমালোচনা" নামক প্রবন্ধগুলো পাঠ করলাম, তখন আমি সেখানে কূযুক্তি ও নানা প্রকার কুতর্কের অসংখ্য উদাহরণ খুঁজে পেলাম, যা এর লেখক সমালোচক (ড. আল-আজম) সচেতনভাবে প্রয়োগ করেছেন; যেন এর মাধ্যমে তিনি মুসলিম উম্মাহর নতুন প্রজন্মের কিশোর-কিশোরীদের বিভ্রান্ত করতে পারেন। এটি তিনি করেছেন মার্ক্সবাদ, ডারউইনবাদ, ফ্রয়েডীয়বাদ এবং অন্যান্য ইহুদি নাস্তিক্যবাদী তত্ত্ব—বরং বলা উচিত 'অনুমান'—সমূহের প্রতি চরম একনিষ্ঠ সেবক হিসেবে। এসব ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে বৈজ্ঞানিক ও শিল্পবিপ্লব এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আবরণে ঢেকে রাখেন। তিনি তার প্রমাণের সপক্ষে কেবল এই জাতীয় বুলিই আওড়ান যে: 'বিজ্ঞান এটি প্রত্যাখ্যান করে', অথবা 'এটি মেনে নেয় না', অথবা 'এটি প্রমাণ করে'; অথচ তিনি সত্যের সন্ধানে কোনো তাত্ত্বিক বৈজ্ঞানিক সমালোচনা বা আলোচনা উপস্থাপন করেন না।

 

তার অস্বাভাবিক যুক্তিপদ্ধতির এক অদ্ভুত বিষয় হলো, তিনি সকল ধর্মকে একীভূত করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যকার সত্য-মিথ্যা, আর সেগুলোর দিকে যা কিছু সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে তার সবল-দুর্বল ও অশুদ্ধ-শুদ্ধ সবকিছুকে একত্রিত করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন: 'এগুলোই হলো ধর্ম'। অতঃপর তিনি সুস্পষ্ট বাতিল, প্রকাশ্য দুর্বল এবং সুপরিচিত ভ্রান্ত বিষয়গুলোর ওপর তীব্র সমালোচনা বর্ষণ করেছেন। এরপর তিনি তা থেকে একটি ত্রুটিপূর্ণ ভূমিকার অবতারণা করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি সমগ্র ধর্মকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত টেনেছেন।

তিনি তার ভ্রান্ত ভূমিকায় ধারণা করেছেন যে, ধর্মীয় ধারাগুলোর মধ্যে এমন কিছু বাতিল বিষয় রয়েছে যা বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ সত্যের পরিপন্থী। তিনি (ভিন্ন ভিন্ন সকল ধর্মকে একই বৃত্তে আবদ্ধ করেছেন) এবং দাবি করেছেন যে, যেহেতু সমগ্র ধর্ম একটি অভিন্ন ফ্রন্ট হিসেবে উপস্থাপিত এবং যেহেতু এই ফ্রন্টের কোনো এক পার্শ্বে বাতিল বা অসত্য বিদ্যমান, আর যেহেতু ধর্মের শিকলসমূহ একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত যে এর এক অংশ ভেঙে গেলে পুরোটিই ভেঙে যায়; তাই বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফল হলো এই যে, সমগ্র ধর্মই সন্দেহযুক্ত এবং এর ওপর নির্ভর করা বা এটি গ্রহণ করা সমীচীন নয়।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ১৫)
هذه هي حجة (د. العظم) في إبطال الدين كله، ولست أدري هل يقبل إنسان يملك الحد الأدنى من التفكير المنطقي السليم هذا النوع من الاستدلال العظمي الذي ليس له أسر (1) يشده، ولا لحم يملؤه، ولا إهاب يزينه، أو تجرى فيه دماء حياء أو حياة.

 

على هذا القياس العظمي نستطيع أن نبطل العلوم المادية كلها، ونجعلها شيئاً غير موثوق به مطلقاً، فنقول: إن الاتجاهات العلمانية التي تعتمد على البحث العلمي المدروس بأناة واختبار وتجربة للوصول إلى الحقائق هي اتجاهات باطلة مزيفة، بدليل أننا نلاحظ عند أصحاب هذه الاتجاهات نظريات متناقضة، ونلاحظ بعضها فاسداً قطعاً، وبعد هذه المقدمة نُصدر وفق القياس العظمي حكماً قطعياً عاماً على كل الاتجاه العلمي، ونقول: هو اتجاه مشكوك به، باعتبار أن فيه نظريات باطلة، وبما أن أصحاب الاتجاه العلماني يُمثلون جبهة واحدة، ومتى ظهر الفساد في بعضها فلا بد أن يكون الفساد أو الشك شاملاً لها كلها، وبناءً على ذلك فالاتجاه العلماني باطل كله!.

 

لو قال هذا الكلام واحد من المتدينين لقال الناس جميعاً - وفيهم المتدينون أنفسهم-: هذا إنسان فاسد العقل فاسد التفكير.

أما سيادة العظم فيقول مثله تماماً عن الاتجاه الديني كله، وهو يتظاهر بحرصه الشديد على الأمانة العلمية التي تنشد الحقيقة، ثم لا يجد بين العلمانيين الماديين من يوجه له نقداً أو تصحيحاً منطقياً، فأين الأمانة العلمية التي يزعمونها ويتبجحون بها؟!

 

أهذا أمانة علمية؟ أم هو مغالطة، وخيانة للعلم، وخيانة لأصول العقل السليم والمنطق السديد؟

 

هل يصح في أصول العقل السليم تعميم مثل هذا التعميم؟ إن هذا التعميم

--------------------------------------------

(1) الجملة العصبية.
এটিই হলো সমস্ত ধর্মকে বাতিল করার ক্ষেত্রে (ড. আল-আজমের) যুক্তি। আমি জানি না ন্যূনতম সঠিক যৌক্তিক চিন্তাশক্তির অধিকারী কোনো মানুষ আল-আজমের এই ধরণের প্রমাণ উপস্থাপনকে গ্রহণ করবে কি না, যার কোনো স্নায়ু (১) নেই তাকে সুসংহত করার জন্য, নেই কোনো মাংস যা তাকে পূর্ণতা দেবে, নেই কোনো চামড়া যা তাকে সৌন্দর্য দান করবে, আর নেই তাতে লজ্জা বা জীবনের কোনো রক্তপ্রবাহ।

 

আল-আজমের এই অনুমানের ভিত্তিতে আমরা সমস্ত বস্তুগত বিজ্ঞানকে বাতিল করে দিতে পারি এবং সেগুলোকে সম্পূর্ণরূপে অবিশ্বাস্য বিষয়ে পরিণত করতে পারি। তখন আমরা বলতে পারি: সত্যে পৌঁছানোর জন্য ধৈর্যশীল গবেষণা, পরীক্ষা ও নিরীক্ষার ওপর নির্ভরশীল সেকুলার বা ইহজাগতিক ধারাগুলো হলো ভ্রান্ত ও কৃত্রিম; এর প্রমাণ হলো এই ধারার অনুসারীদের মধ্যে আমরা পরস্পরবিরোধী তত্ত্ব দেখতে পাই এবং তাদের কিছু তত্ত্ব যে নিশ্চিতভাবেই ত্রুটিপূর্ণ তাও আমরা লক্ষ্য করি। এই ভূমিকার পর, আল-আজমের সেই অনুমান অনুযায়ী আমরা সমগ্র বৈজ্ঞানিক ধারার ওপর একটি চূড়ান্ত ও সাধারণ রায় ঘোষণা করতে পারি এবং বলতে পারি: এটি একটি সন্দেহজনক ধারা, কারণ এতে ভ্রান্ত তত্ত্ব রয়েছে। যেহেতু ইহজাগতিক ধারার অনুসারীরা একটি একক ফ্রন্ট গঠন করে, তাই যখন এর কোনো অংশে ত্রুটি প্রকাশ পায়, তখন সেই ত্রুটি বা সন্দেহ পুরোটার ওপরই বর্তাবে। ফলশ্রুতিতে, ইহজাগতিক বা সেকুলার ধারাটি সামগ্রিকভাবেই বাতিল!.

 

যদি ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের কেউ এই কথা বলতেন, তবে সমস্ত মানুষ—এমনকি খোদ ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরাও—বলতেন: এই লোকটির বুদ্ধি বিকৃত এবং তার চিন্তাচেতনা ভ্রান্ত।

অথচ জনাব আল-আজম সমগ্র ধর্মীয় ধারার ব্যাপারে ঠিক এমনই কথা বলছেন। তিনি সত্যের সন্ধানে লিপ্ত থাকার বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার প্রতি তার প্রবল আগ্রহের ভান করেন, অথচ বস্তুগত সেকুলারদের মধ্যে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না যে তাকে কোনো যৌক্তিক সমালোচনা বা সংশোধন করবে। তাহলে সেই বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতা কোথায়, যার দাবি তারা করে এবং যা নিয়ে তারা বড়াই করে থাকে?!

 

এটি কি বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতা? নাকি এটি একটি হেত্বাভাস, বিজ্ঞানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং সঠিক বুদ্ধি ও সঠিক যুক্তির মূলনীতির সাথে প্রতারণা?

 

সঠিক বুদ্ধির মূলনীতিতে কি এই ধরণের সাধারণীকরণ বৈধ? নিশ্চয়ই এই সাধারণীকরণ

--------------------------------------------

(১) স্নায়ুতন্ত্র।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ১৬)
الفاسد لا يفعله بقَّال ولا بائع خضراوات، بل نرى البقَّال يصنف بقوله، ويميز بين الفاسد والصحيح منها، ونرى بائع الخضروات كذلك يميز بين الفاسد والصحيح من خضرواته، ثم لا يرفض أصحاب الحوائج كل ما عندهما، ولا كل ما عند جميع البقالين وبائعي الخضراوات، لأن بعضهم يوجد عنه فاسد من بقول أو فاسد من خضراوات.

 

فأين المنهج العلمي الذي يتبجح به؟ وأين الأمانة العلمية التي يتظاهر بالغيرة عليها؟

 

قرأت جدليات (د. العظم) وجدليات غيره من أساطين الإلحاد، فرأيت أن جدلياتهم كلها تعتمد على المغالطة الفاحشة الوقحة، أو المغالطات المقنعة بالحيلة والخداع، ولدى إحصاء هذه المغالطات وجدتها تعتمد على العناصر التالية:

1- تعميم أمر خاص، والمغالطة هنا تنسب إلى بعض أفراد العام ما ليس له من أحكام بغية التضليل.

2- تخصيص أمر عام، والمغالطة هنا تنفي عن بعض أفراد العام ما له من أحكام بغية التضليل.

3- ضم زيادات وإضافات ليست في الأصل.

4- حذف قيود وشروط لازمة، يؤدي حذفها إلى تغيير الحقيقة.

5- التلاعب في معاني النصوص لإبطال حق أو إحقاق باطل.

6- طرح فكرة مختلفة من أساسها للتضليل بها.

7- تصيّد بعض الاجتهادات الضعيفة لبعض العلماء وجعلها هي الإسلام، مع أنها اجتهادات منتقدة مردودة من قبل مجتهدين آخرين، أو من قبل جمهور علماء المسلمين.

8- التقاط مفاهيم شاذة موجودة عند بعض الفرق التي تنتسب إلى الإسلام، وإطلاقها على أنها مفاهيم إسلامية مُسلَّم بها عند المسلمين، والإسلام منها بريء براءة الحق من الباطل.

9- نسبة أقوال أو نصوص إلى غير قائليها أو إلى غير رواتها.
কোনো মুদি দোকানদার বা সবজি বিক্রেতা এমন নিকৃষ্ট কাজ করে না। বরং আমরা দেখি যে, মুদি তার ডালগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করে এবং ভালো ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য করে। একইভাবে সবজি বিক্রেতাকেও দেখি তার সবজির মধ্য থেকে পচা ও ভালোকে আলাদা করতে। অতঃপর ক্রেতারা তাদের কাছে থাকা সব পণ্য প্রত্যাখ্যান করে না, আবার সব মুদি বা সবজি বিক্রেতার পণ্যকেও বর্জন করে না শুধু এই কারণে যে, তাদের কারো কারো কাছে পচা ডাল বা পচা সবজি পাওয়া গেছে।

 

তাহলে সেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কোথায় যা নিয়ে তিনি আস্ফালন করেন? আর সেই বৈজ্ঞানিক আমানতদারিই বা কোথায় যার প্রতি তিনি প্রবল অনুরাগী হওয়ার ভান করেন?

 

আমি ড. আল-আযম এবং নাস্তিকতার অন্যান্য দিকপালদের বিতর্কসমূহ পড়েছি এবং দেখেছি যে, তাদের সমস্ত বিতর্ক অত্যন্ত নির্লজ্জ ও জঘন্য বিভ্রান্তি, অথবা চাতুর্য ও প্রতারণার আবরণে ঢাকা বিভ্রান্তির ওপর নির্ভরশীল। এই বিভ্রান্তিগুলো বিশ্লেষণ করে আমি দেখেছি যে সেগুলো নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে:

১- কোনো বিশেষ বিষয়কে সাধারণীকরণ করা; এখানে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে সাধারণের অন্তর্ভুক্ত কিছু সদস্যের ওপর এমন বিধান আরোপ করা হয় যা আদতে তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

২- কোনো সাধারণ বিষয়কে বিশেষায়িত করা; এখানে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে সাধারণের অন্তর্ভুক্ত কিছু সদস্যের ওপর প্রযোজ্য বিধানকে অস্বীকার করা হয়।

৩- এমন কিছু বাড়তি বা অতিরিক্ত বিষয় যুক্ত করা যা মূলে ছিল না।

৪- আবশ্যক শর্ত ও সীমাবদ্ধতা বাদ দেওয়া; যা বাদ দেওয়ার ফলে সত্য পরিবর্তিত হয়ে যায়।

৫- সত্যকে বাতিল বা বাতিলকে সত্য সাব্যস্ত করার জন্য পাঠ্যের (নস) অর্থের মধ্যে কারসাজি করা।

৬- বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মৌলিক ধারণা উপস্থাপন করা।

৭- কয়েকজন আলেমের কিছু দুর্বল ইজতিহাদ খুঁজে বের করা এবং সেগুলোকে 'ইসলাম' হিসেবে উপস্থাপন করা, অথচ সেই ইজতিহাদগুলো অন্য মুজতাহিদগণ বা জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) উলামায়ে কেরাম কর্তৃক সমালোচিত ও প্রত্যাখ্যাত।

৮- ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু দলের মধ্যে বিদ্যমান কিছু বিচ্যুত ধারণা গ্রহণ করা এবং সেগুলোকে মুসলমানদের নিকট স্বীকৃত ইসলামি ধারণা হিসেবে প্রচার করা; অথচ ইসলাম এই সমস্ত বিষয় থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, যেমন সত্য মিথ্যা থেকে মুক্ত থাকে।

৯- কোনো বক্তব্য বা পাঠ্যকে প্রকৃত বক্তা বা বর্ণনাকারী ব্যতীত অন্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ১৭)
10- كتمان أقوال صحيحة، وعدم التعرض إليها مطلقاً، مع العلم بها وشهرتها.

11- الإيهام بأن العلوم المادية ملحدة على خلاف ما هي عليه في الواقع.

 

وعلى هذا النمط تسير مغالطاتهم ضمن تلاعبات كثيرة فيها خيانة للعلم وللحقيقة.

 

ولكني أرجو أن لا تنطلي مغالطاتهم وحيلهم وألاعيبهم على مثقفي هذه الأمة، وأن يكتشف الجميع خيانتهم لأمتهم وتاريخها، وخيانتهم لأنفسهم إذ باعوا نفوسهم لأعداء الحق شياطين الإنس، وأن يكون رائد هؤلاء المثقفين محبي الخير لأمتهم وأنفسهم أن يتحققوا بمضمون الدعاء التالي:

"اللهم أرنا الحق حقاً وارزقنا اتباعه، وأرنا الباطل باطلاً وارزقنا اجتنابه، ووفقنا لما تحب وترضى".

 

والناقد (د. العظم) قد استخدم في كتابه "نقد الفكر الديني" معظم عناصر المغالطات التي أوضحتها آنفاً، غير مكترث بالحقيقة، ولا بالأصول المنطقية الصحيحة، ولا بالبحث العلمي السليم، وأما الأمانة العلمية التي تباكى من أجلها وتظاهر بالحرص الشديد عليها فلم يُقم لها أي وزن، بل راح يطعنها في الصميم لدعم قضية الإلحاد التي حمل لواءها، وانطق يبشر بها بين أبناء الأمة العربية.

 

أفبهذه المغالطات تُنشد الحقيقة العلمية؟

أفبهذه المغالطات تكون المحافظة على الأمانة العلمية؟

أهذه هي الأصول المنطقية المتقدمة التي يعتمد عليها؟

 

إن الحق الذي تنكره اليوم أيها الجاحد لن تستطيع أن تنكره غداً يوم الدين، ولن تستطيع أن تجحده إذا أراد الله أن ينزل بك شيئاً من معجَّل عقابه، وعندئذٍ لن تستطيع الشيوعية العالمية، ولا اليهودية العالمية، ولن يستطيع ملاحدة الدنيا أن ينقذوك من قبضة العدل الإلهي.

إن عذاب الله لشديد، ولئن استهنت به وأنت مغرور متمتع بصحتك وقوتك، فلن تستهين به يوم يمسُّك شيء منه، إن ربك لبالمرصاد، وإنه لا يخلف الميعاد.
১০- সঠিক বক্তব্যসমূহ গোপন করা এবং তা জানা থাকা ও প্রসিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর ধারে-কাছেও না যাওয়া।

১১- বস্তুগত বিজ্ঞানসমূহ নাস্তিক্যবাদী—বাস্তবতার বিপরীত এমন একটি বিভ্রান্তি তৈরি করা।

 

আর এভাবেই তাদের বিভ্রান্তিগুলো বহু কারসাজির মধ্য দিয়ে চলতে থাকে, যাতে জ্ঞান ও সত্যের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা রয়েছে।

 

তবে আমি আশা করি যে, তাদের বিভ্রান্তি, প্রতারণা ও কূটচাল এই উম্মাহর শিক্ষিত মহলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। সবাই যেন তাদের নিজ উম্মাহ ও তার ইতিহাসের প্রতি তাদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং তাদের নিজেদের প্রতি তাদের বিশ্বাসঘাতকতা আবিষ্কার করতে পারে; কেননা তারা সত্যের শত্রু—মানুষরূপী শয়তানদের কাছে নিজেদের আত্মা বিক্রি করে দিয়েছে। আর এই শিক্ষিত সমাজ, যারা নিজেদের ও জাতির কল্যাণকামী, তাদের পথপ্রদর্শক যেন হয় নিম্নোক্ত দোয়ার মর্মার্থটি অর্জন করা:

"হে আল্লাহ! আমাদের কাছে সত্যকে সত্য হিসেবে স্পষ্ট করে দিন এবং তার অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। আর আমাদের কাছে মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে স্পষ্ট করে দিন এবং তা বর্জন করার তাওফিক দান করুন। আর আমাদের সেই কাজের তাওফিক দিন যা আপনি ভালোবাসেন এবং যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন।"

 

সমালোচক (ড. আল-আযম) তার 'নকদুল ফিকর আদ-দীনি' (ধর্মীয় চিন্তার সমালোচনা) গ্রন্থে আমি ইতিপূর্বে যেসব বিভ্রান্তিকর উপাদান স্পষ্ট করেছি তার অধিকাংশেরই প্রয়োগ করেছেন। তিনি সত্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি, সঠিক যৌক্তিক মূলনীতি বা সুস্থ বৈজ্ঞানিক গবেষণারও তোয়াক্কা করেননি। আর যে জ্ঞানগত আমানতদারিতার জন্য তিনি মায়াকান্না কেঁদেছেন এবং যার প্রতি প্রবল আগ্রহের ভান করেছেন, সেটিকে তিনি বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেননি; বরং তিনি যে নাস্তিক্যবাদের ঝাণ্ডা বহন করছেন তার সমর্থনে একে একেবারে মূলে আঘাত করেছেন এবং আরব জাতির সন্তানদের মাঝে এর প্রচার শুরু করেছেন।

 

এই বিভ্রান্তিগুলোর মাধ্যমেই কি বৈজ্ঞানিক সত্য অন্বেষণ করা হয়?

এই বিভ্রান্তিগুলোর মাধ্যমেই কি জ্ঞানগত আমানতদারিতা রক্ষা করা হয়?

এগুলোই কি সেই উন্নত যৌক্তিক মূলনীতি যার ওপর তিনি নির্ভর করছেন?

 

হে অস্বীকারকারী! যে সত্যকে তুমি আজ অস্বীকার করছ, আগামীকাল বিচার দিবসে তা অস্বীকার করতে পারবে না। আর আল্লাহ যদি তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো নগদ শাস্তি দিতে চান, তবে তুমি তা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না। তখন আন্তর্জাতিক সাম্যবাদ, আন্তর্জাতিক ইহুদিবাদ কিংবা দুনিয়ার নাস্তিকরা কেউই তোমাকে আল্লাহর ইনসাফের পাকড়াও থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

নিশ্চয়ই আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর; আর যদি তুমি তোমার সুস্থতা ও শক্তির মোহে অন্ধ হয়ে একে অবজ্ঞা করো, তবে যেদিন এর সামান্য স্পর্শ তোমাকে স্পর্শ করবে, সেদিন তুমি আর একে তুচ্ছ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই তোমার রব অপেক্ষায় রয়েছেন এবং তিনি তাঁর ওয়াদার ব্যতিক্রম করেন না।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ১৮)
لن يضر الحق شيئاً أن يجحده جاحدوه، أو ينكره منكروه، فالله حق وبيده مقاليد كل شيء، وهو على كل شيء قدير.

 

ولكن إنكار الحق تبارك وتعالى يضر المنكر وحده، وجحوده تبارك وتعالى يضر الجاحد وحده، فهو بجحوده وإنكاره واستكباره يخسر نفسه وسعادته، ويقذف بهما إلى العذاب الأليم.

 

أيها الملحدون: اسمعوا قول الله تعالى في سورة (آل عمران/3 مصحف/89 نزول) :

{إِنَّ الَّذِينَ اشْتَرَوُاْ الْكُفْرَ بِالإِيمَانِ لَن يَضُرُّواْ اللَّهَ شَيْئاً وَلهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ * وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ كَفَرُواْ أَنَّمَا نُمْلِي لَهُمْ خَيْرٌ لأَنْفُسِهِمْ إِنَّمَا نُمْلِي لَهُمْ لِيَزْدَادُو?اْ إِثْمَاً وَلَهْمُ عَذَابٌ مُّهِينٌ} .

 

* … * … *
সত্যকে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না যদি অস্বীকারকারীরা তা অস্বীকার করে বা প্রত্যাখ্যানকারীরা তা প্রত্যাখ্যান করে। কারণ আল্লাহ সত্য এবং তাঁর হাতেই সবকিছুর চাবিকাঠি, আর তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।

 

কিন্তু মহান আল্লাহকে অস্বীকার করা কেবল অস্বীকারকারীরই ক্ষতি করে, এবং মহান আল্লাহকে প্রত্যাখ্যান করা কেবল প্রত্যাখ্যানকারীরই ক্ষতি করে। সে তার প্রত্যাখ্যান, অস্বীকার ও অহংকারের মাধ্যমে নিজের জীবন ও সুখকে হারায় এবং সেগুলোকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির দিকে ঠেলে দেয়।

 

হে নাস্তিকেরা: সূরা আলে ইমরানে (৩ নম্বর সূরা/অবতরণক্রম ৮৯) মহান আল্লাহর বাণী শোনো:

{নিশ্চয় যারা ঈমানের বিনিময়ে কুফর ক্রয় করেছে, তারা আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর যারা কুফরি করেছে তারা যেন কিছুতেই মনে না করে যে, আমি তাদের যে অবকাশ দিচ্ছি তা তাদের নিজেদের জন্য মঙ্গলজনক; আমি তো তাদের অবকাশ দিই যেন তারা পাপে বৃদ্ধি পায় এবং তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।} .

 

* … * … *
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الثاني

 

الحقيقة بين الدين والعلم
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

 

ধর্ম ও বিজ্ঞানের মাঝে হাকিকত
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ২১)
(1)

 

حاول الناقد (د. العظم) بمغالطاته وافتراءاته الكثيرة - أُسوة بسائر ملحدي هذا العصر - أن يثبت أن الدين مناقض للعلم، ليتوصل من ذلك إلى نقض الدين كله جملة وتفصيلاً، وقد جعل هذه النقطة هي المحور الأساسي الذي دار حوله في محاربته للدين، ونقده المزعوم المزور للفكر الديني، ونقضه المزيف الكاذب لقضية الإيمان بالله من أساسها.

من أجل ذلك عقدت هذا الفصل "الحقيقة بين الدين والعلم" قبل الدخول مع العظم في المعركة الجدالية، حول النقاط التفصيلية التي أثارها في جدلياته غير الشريفة وغير الأمينة، لأكشف فيه مواقع النظر السليم إلى كل من العلم والدين، ولأحدِّد فيه أبعاد كل منهما، ومواطن الشبهات التي قد يقع فيها هؤلاء أو هؤلاء، وبذلك ينكشف للقارئ منهج الحق قبل أن يشهد في هذا الكتاب فصول الصراع الجدلي على النقاط التفصيلية التي أثارها العظم، فمن عرف قواعد الصواب والخطأ في موضوع ما قبل أن يشهد حلبة الصراع فيه استطاع في نفسه أن يكون حكماً، ويعرف المحق من المبطل، ويعرف المستقيم المقسط من المراوغ المخادع.

 

(2)

 

تجوزاً في التعبير، ومتابعة لما هو دارج على ألسنة الناس، أضع هذا العنوان (الحقيقة بين الدين والعلم) لهذا الفصل، مع أن الحقيقة أن الدين الحق ليس قسيماً مغايراً للعلم، وإنما هو علم عن طريق الوحي، وما جاءت به طريق الدِّين اليقينية هو من قبيل الحقائق العلمية، وللحقائق العلمية طرق إثبات أخرى هي الوسائل الإنسانية البحتة.
(১)

 

সমালোচক (ড. আল-আজম) তার অসংখ্য ভ্রান্তিপূর্ণ যুক্তি এবং অপবাদের মাধ্যমে—এই যুগের অন্যান্য নাস্তিকদের অনুকরণে—প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, ধর্ম বিজ্ঞানের পরিপন্থী। এর মাধ্যমে তিনি সামগ্রিক ও বিস্তারিতভাবে সম্পূর্ণ ধর্মকে খণ্ডন করার লক্ষ্যে পৌঁছাতে চেয়েছেন। তিনি এই বিষয়টিকে তার ধর্মবিরোধিতার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং এর মাধ্যমেই তিনি ধর্মীয় চিন্তাধারার তথাকথিত জালিয়াতিপূর্ণ সমালোচনা এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের বিষয়টিকে এর মূল ভিত্তি থেকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীনভাবে খণ্ডন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

এ কারণেই আল-আজমের সাথে তর্কমূলক লড়াইয়ের বিস্তারিত বিষয়গুলোতে প্রবেশের আগে আমি এই অধ্যায়টি "ধর্ম ও বিজ্ঞানের মাঝে সত্য" শিরোনামে সাজিয়েছি, যাতে তার অসাধু এবং আমানতহীন বিতর্কগুলোতে উত্থাপিত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পূর্বে বিজ্ঞান ও ধর্ম—উভয় বিষয়েই সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকগুলো উন্মোচন করতে পারি। আমি এখানে উভয়ের পরিসর এবং সেই সংশয়পূর্ণ ক্ষেত্রগুলো নির্দিষ্ট করতে চাই যেগুলোতে কেউ বিভ্রান্তিতে পতিত হতে পারে। এর ফলে পাঠকের নিকট সত্যের সঠিক পন্থা উন্মোচিত হবে, যা তাকে এই বইটিতে আল-আজম কর্তৃক উত্থাপিত বিস্তারিত বিষয়গুলোর উপর তর্কমূলক সংঘাতের অধ্যায়গুলো প্রত্যক্ষ করার আগেই প্রস্তুত করে তুলবে। কেননা, কোনো বিষয়ে বিতর্কের ময়দান প্রত্যক্ষ করার আগেই যদি কেউ সত্য ও ভুলের নিয়মাবলি জেনে নিতে পারে, তবে সে নিজেই বিচারকের ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয় এবং সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী থেকে এবং ন্যায়নিষ্ঠ সরল ব্যক্তিকে ধূর্ত প্রতারক থেকে পৃথকভাবে চিনতে পারে।

 

(২)

 

প্রকাশভঙ্গির সাবলীলতা এবং মানুষের মাঝে যা প্রচলিত তা অনুসরণ করেই আমি এই অধ্যায়ের শিরোনাম "ধর্ম ও বিজ্ঞানের মাঝে সত্য" নির্ধারণ করেছি। যদিও বাস্তবতা হলো, সত্য ধর্ম বিজ্ঞানের বিপরীত বা ভিন্ন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সত্তা নয়; বরং এটি ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত একটি জ্ঞান। ধর্মের সুনিশ্চিত পন্থায় যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা মূলত বৈজ্ঞানিক সত্যেরই অন্তর্ভুক্ত, তবে বৈজ্ঞানিক সত্য প্রমাণের অন্যান্য মাধ্যমগুলো হলো নিছক মানবিক উপায়সমূহ।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ২২)
فالمقابلة إذن ليست بين الدِّين والعلم، ولكن بين طرق اكتساب العلم الذي يأتي به الدين، وطرق اكتساب المعرفة الإنسانية البحتة، كطريق الحس المباشر لإدراك المعارف، وهو الإدراك القائم على المشاهدة والتجربة، وكطريق العقل لاستنباط المعارف التي لا تُدرك بالحس المباشر، وهذه الوسائل الإنسانية المختلفة وأدواتها التي تستخدمها، هي منحة من الله لعباده، حتى يستخدموها في اكتساب المعارف والعلوم، ولذلك كان الإنسان مسؤولاً عنها عند الله في مجال اكتساب العلم، فقال الله في سورة (الإسراء/17 مصحف/50 نزول) :

{وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولائِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولاً}

وهذه السوائل الإنسانية تقدم بدورها شهادة يقينية بالحقائق التي توصلت إليها، أو شهادة ترجيحية بالمعارف التي ترجحت لديها بغلبة الظن، وكذلك الوحي الجامع لطرق اكتساب العلم الذي يأتي به الدين، هو أيضاً منحة من الله لعباده، وقد جعله الله للناس طريقاً لاكتساب طائفة من العلوم، وهي التي يطق عليها اسم علوم الدين، ونلاحظ أن أهم ما يختص بها العلوم الغيبية التي لا تدركها الحواس الإنسانية، ولا تستطيع العقول بوسائلها إثابتها مستقلة عن أنباء الدين.

 

أما الحقيقة بالنسبة إلى الأمور الوجودية (غير الاعتبارية وغير النسبية) فهي واحدة، والإدراك الحسي يقدم شهادة بما توصل إليه من نتائج نحو الحقيقة، ويرافق الإدراك الحسي الوسائل المادية التي يستخدمها الحس، كالملاحظة والتجربة مع الأدوات والآلات التي تثبت صحة شهاداتها، كالمقاييس والموازين والكواشف المختلفة، وذوات الإحساس المادي غير الإرادي الكيميائي والفيزيائي، حتى الذري الإلكتروني. والاستنتاج أو الاستدلال العقلي يقدم أيضاً شهادةً بما توصل إليه من نتائج نحو الحقيقة. ولا يمكن أن تتناقض نتائج الإدراك الحسي ونتائج الاستدلال العقلي إلا وأحدهما أو كلاهما مصاب بالخلل، وذلك لأن كلاً منهما منحة ربانية وضعها الخالق بين يدي الإنسان ليعرف بها حقائق الأشياء، كما وضع بين يدي كل منهما وسائل البحث التي تقدم شهاداتها عن مشاهداتها، والطرق
সুতরাং বৈপরীত্য মূলত দ্বীন ও বিজ্ঞানের মধ্যে নয়, বরং দ্বীন যে জ্ঞান নিয়ে আসে তা অর্জনের পদ্ধতি এবং বিশুদ্ধ মানবিক জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতির মধ্যে। যেমন জ্ঞান উপলব্ধির জন্য প্রত্যক্ষ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পথ, যা পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং প্রত্যক্ষ ইন্দ্রিয় দ্বারা যা উপলব্ধি করা যায় না, তেমন জ্ঞান আহরণের জন্য আকল বা বিবেকের পথ। মানুষের এই বিভিন্ন মাধ্যম এবং সেগুলোর ব্যবহৃত উপকরণসমূহ আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য একটি অনুগ্রহ, যাতে তারা এগুলি জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জনে ব্যবহার করতে পারে। একারণেই জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে মানুষকে আল্লাহর নিকট এই মাধ্যমগুলো সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ তাআলা সূরা ইসরা-তে (১৭ নং সূরা/৫০ তম অবতীর্ণ) বলেছেন:

“এবং যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তঃকরণ—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।”

আর এই মানবিক মাধ্যমগুলো তাদের প্রাপ্ত সত্য সম্পর্কে সুনিশ্চিত সাক্ষ্য প্রদান করে, অথবা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে প্রাধান্যপ্রাপ্ত জ্ঞান সম্পর্কে সম্ভাব্য সাক্ষ্য দেয়। একইভাবে ওহি, যা দ্বীন কর্তৃক আনীত জ্ঞান অর্জনের সকল পদ্ধতিকে ধারণ করে, তাও আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য একটি উপহার। আল্লাহ একে মানুষের জন্য এক বিশেষ জ্ঞানসমষ্টি অর্জনের পথ বানিয়েছেন, যাকে দ্বীনি উলুম বা ধর্মীয় জ্ঞান বলা হয়। আমরা লক্ষ্য করি যে, এই জ্ঞানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গায়বি বা অতীন্দ্রিয় বিষয়সমূহ, যা মানবিক ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করা সম্ভব নয় এবং আকল বা বিবেকও তার নিজস্ব উপায়ে দ্বীনি সংবাদ ব্যতিরেকে স্বতন্ত্রভাবে সেগুলো প্রমাণ করতে অক্ষম।

 

আর অস্তিত্বগত বিষয়াবলির (যা ধারণাপ্রসূত বা আপেক্ষিক নয়) ক্ষেত্রে সত্য মূলত একটাই। ইন্দ্রিয়জাত উপলব্ধি সত্যের দিকে তার প্রাপ্ত ফলাফলের মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রদান করে। এই ইন্দ্রিয়জাত উপলব্ধির সাথে যুক্ত থাকে সেই সমস্ত বস্তুগত মাধ্যম যা ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে, যেমন বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যা তাদের সাক্ষ্যের সত্যতা প্রমাণ করে; যেমন পরিমাপক যন্ত্র, পাল্লা এবং বিভিন্ন ধরনের শনাক্তকারী মাধ্যম, এমনকি রাসায়নিক, পদার্থবিদ্যাগত এবং আণবিক ইলেকট্রনিক পর্যায়ের সংবেদনশীল নির্জীব বস্তুসমূহ। আকলি বা যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত ও অনুমানও সত্যের অভিমুখে তার প্রাপ্ত ফলাফলের একটি সাক্ষ্য প্রদান করে। ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য উপলব্ধির ফলাফল এবং যুক্তিনির্ভর অনুমানের ফলাফলের মধ্যে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো বিরোধ হওয়া সম্ভব নয়, যতক্ষণ না তাদের কোনো একটিতে অথবা উভয়টিতে কোনো ত্রুটি থাকে। কেননা এর প্রতিটিই রব্বানি বা ঐশী উপহার যা স্রষ্টা মানুষের আয়ত্তে দিয়েছেন যেন সে এর মাধ্যমে বস্তুনিচয়ের হাকিকত বা প্রকৃত রূপ জানতে পারে। যেভাবে তিনি এদের প্রত্যেকের জন্য অনুসন্ধানের এমন মাধ্যমসমূহ নির্ধারণ করেছেন যা তাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রদান করে এবং সেই পথগুলো...
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ২৩)
الصحيحة التي تقصد أمراً واحداً لا بد أن توصل إلى غاية واحدة ونتيجة واحدة، أو غير متناقضة على أقل تقدير، إذ تتكامل الحقيقة مما قدمت هذه الطرق من مدركات، أو يعرف بها جزء من الحقيقة، على قدر ما استطاعت أن تكشف منها.

ثم إن الوحي الذي هو منحة من الله لعباده عن طريق النبوَّة هو أيضاً طريق من طرق المعرفة الصحيحة، فهو يقدم شهادة بالحقيقة، ومتى كان الخبر عن الوحي يقينياً مقطوعاً به فإنه لا يمكن بحال من الأحوال أن يتناقض مع اليقين الذي تُوصل إليه الوسائل الإنسانية البحتة. ولو أمكن أن تتناقض لكان معنى ذلك أن الفاطر الحكيم لم يضع بين أيدينا الوسائل الصحيحة التي تكسبنا المعارف والعلوم الحقة، أو لم يصدقنا فيما أخبرنا به عن طريق الوحي، وكل من الأمرين مستحيل عقلاً وشرعاً.

فالله تبارك وتعالى جعل وسائل المعرفة فينا مسؤولية في ميدان المعرفة والبحث العلمي، ومسؤوليتها هذه رهن بأنها من الطرق الموصلة إلى الحقيقة، كما جعلنا مسؤولين عن التسليم بما يخبرنا به عن طريق الوحي، لأن برهان العقل قد قام لدينا بأن ما يخبرنا به الرسول عن طريق الوحي صدق وحق، والجامع بين الأمرين هو أن كلاً منهما يقدم شهادة بالحقيقة، وبما أن الحقيقة واحدة فإنه لا يمكن أن تتناقض نتائج الطرق الصحيحة الموصلة إليها، ومتى ظهر التناقض فلا بد أن يكون ذلك لخلل أصابها أو أصاب واحداً منها.

 

فمن الأمثلة ما يلي: لقد أخبرنا الله أنه لا إله إلا هو، وهذا خبر جاءنا به الوحي فقدم لنا شهادة بحقيقة وحدانية الخالق تبارك وتعالى، والبحث العلمي في هذا المجال لا بد أن يوصل إلى هذه الحقيقة نفسها، ولذلك قال الله تعالى في سورة (آل عمران/3 مصحف/89 نزول) :

{شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا اله إِلَاّ هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُوْلُواْ الْعِلْمِ قَآئِمَاً بِالْقِسْطِ..} .

 

فلدينا إذن حول هذه الحقيقة شهادة الله إذ أخبرنا بوحدانيته عن طريق الوحي والرسل، ولدينا أيضاً شهادة أولي العلم الذين توصلوا إلى هذه الحقيقة عن طريق البحث العلمي.
সঠিক পদ্ধতিসমূহ যা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে উদ্দেশ্য করে, তা অবশ্যই একটি অভিন্ন গন্তব্য ও ফলাফলে পৌঁছাবে, অথবা অন্ততপক্ষে পরস্পরবিরোধী হবে না। কেননা এই পদ্ধতিসমূহ যা কিছু উপলব্ধিজাত জ্ঞান প্রদান করে তার সমন্বয়ে সত্য পূর্ণতা পায়, অথবা এর মাধ্যমে সত্যের একটি অংশ জানা যায়, যতটা তা উন্মোচন করা সম্ভব হয়।

অতঃপর ওহী, যা নবুওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের জন্য একটি বিশেষ দান, সেটিও সঠিক জ্ঞানার্জনের অন্যতম একটি পথ। এটি সত্যের সপক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে। ওহীর সংবাদ যখন নিশ্চিত ও অকাট্য হয়, তখন তা কোনো অবস্থাতেই কেবল মানবিক উপায়ে অর্জিত নিশ্চিত জ্ঞানের সাথে বৈপরীত্য সৃষ্টি করতে পারে না। যদি বৈপরীত্য সৃষ্টি হওয়া সম্ভব হতো, তবে তার অর্থ হতো এই যে, প্রজ্ঞাময় স্রষ্টা আমাদের হাতে সত্য জ্ঞান ও বিজ্ঞান অর্জনের সঠিক মাধ্যমগুলো অর্পণ করেননি, অথবা তিনি ওহীর মাধ্যমে আমাদের যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে সত্য বলেননি। আর এই উভয় বিষয়ই বুদ্ধিগত ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে অসম্ভব।

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আমাদের মাঝে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমসমূহকে জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে একটি দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এই দায়িত্বের অপরিহার্যতা হলো এই যে, এগুলো সত্যে পৌঁছানোর পথ। অনুরূপভাবে তিনি ওহীর মাধ্যমে আমাদের যা সংবাদ দেন তা মেনে নেওয়ার জন্যও আমাদের দায়িত্বশীল করেছেন। কারণ আমাদের কাছে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, রাসূল ওহীর মাধ্যমে যা সংবাদ দেন তা সত্য ও সঠিক। এই উভয় বিষয়ের মাঝে সাধারণ যোগসূত্র হলো এই যে, এদের প্রত্যেকেই সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করে। যেহেতু সত্য অভিন্ন, তাই সত্যে পৌঁছানোর সঠিক পদ্ধতিসমূহের ফলাফল পরস্পরবিরোধী হতে পারে না। যখনই বৈপরীত্য প্রকাশ পায়, তখন বুঝতে হবে যে তা কোনো ত্রুটির কারণে হয়েছে যা সেই পদ্ধতিগুলোকে বা তাদের কোনো একটিকে আক্রান্ত করেছে।

 

এর উদাহরণগুলো নিম্নরূপ: আল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। এটি এমন এক সংবাদ যা ওহীর মাধ্যমে আমাদের কাছে এসেছে এবং স্রষ্টা তাবারাকা ওয়া তাআলার একত্বের সত্যতার সপক্ষে আমাদের নিকট সাক্ষ্য পেশ করেছে। এই ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেও অবশ্যই এই একই সত্যে উপনীত হতে হবে। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা সূরা আলে ইমরানে (কুরআন অনুসারে ৩ নং সূরা / অবতীর্ণ হওয়ার ক্রম অনুসারে ৮৯ নং সূরা) বলেছেন:

{আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; এবং ফেরেশতাগণ ও জ্ঞানী ব্যক্তিগণও (একই সাক্ষ্য দেয়), তিনি ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত...} ।

 

অতএব, এই সত্যের ব্যাপারে আমাদের কাছে আল্লাহর সাক্ষ্য রয়েছে যখন তিনি ওহী ও রাসূলগণের মাধ্যমে তাঁর একত্বের সংবাদ দিয়েছেন; আবার আমাদের কাছে সেই সব জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাক্ষ্যও রয়েছে যারা বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে এই সত্যে উপনীত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ২৪)
فمن الغفلة الكبيرة والجهل بأصول المعرفة، إقامة الصراع والنزاع بين ما يأتي من المعارف الكونية عن طريق الدين، وما يأتي منها عن طريق الوسائل الإنسانية، مع أن هذه وتلك شواهد إلهية أقامها الله بين يدي الإنسان ليعرف بها الحقيقة، وهل يشهد الله شهادتين متناقضتين أو يضللنا سبحانه فيضع لنا وسيلتين تعطي كل منهما نتيجة مناقضة للأخرى في موضع واحد؟

 

هذا أمر لا يكون في حال من الأحوال، وحكمة الله العلي العليم الحكيم القدير تأباه.

 

وواجبنا لدى البحث عن الحقيقة أن نحرر تحريراً دقيقاً ما تأتينا به الوسائل الإنسانية من المعارف، وما يصلنا من أخبار الوحي.

 

وكل مظهر للتناقض بين ما تشهد به الوسائل الإنسانية للمعرفة وما تشهد به النصوص الدينية لا يعدو أحد الاحتمالات التالية:

1- إما أن يكون الذي نسب إلى العلم لم يصل إلى مرحلة العلم المقطوع به، كالنظريات التي لم تتأكد بعد، والتي ما زالت رهن البحث والنظر، أو التي لا سبيل إلى إثباتها بأدلة علمية يقينية، وإن اعتقدها العلماء الماديون لعدم وجود ما هو أقوى منها في نظرهم المادي البحت، ولأنه لا اختيار لهم بعد ذلك إلا التسليم بما جاء به الدين، وهم يرفضون نفسياً هذا الأخير.

 

2- وإما لأن الذي نسب إلى الدين لم يصل إلى درجة القطع في نقل النص الذي تضمنه.

 

3- وإما لأن الفهم الذي فُهم به النص الديني فهم خاطئ، وهذا الفهم لا يتحمل النص الديني وزر خطئه، وغنما يعبر عن رأي من فهمه على هذا الوجه المخالف للحقيقة العلمية، التي توصلت إليها الوسائل الإنسانية، كمسألة كروية الأرض ودورانها حول نفسها وحول الشمس.

وهنا نلاحظ أن النصرانية لما سقطت في طائفة من المفاهيم الباطلة الدخيلة على أصل الدين، والمخالفة له، والمناقضة لأصول العقل والعلم الصحيح،
জ্ঞানের মূলনীতি সম্পর্কে চরম উদাসীনতা ও মূর্খতা হলো দ্বীনের মাধ্যমে প্রাপ্ত জাগতিক জ্ঞান এবং মানবিক উপায়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞানের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টি করা। অথচ এই উভয়টিই হলো মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে উপস্থাপিত নিদর্শন, যা তিনি মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন সত্যকে জানার জন্য। আল্লাহ কি এমন দুটি সাক্ষ্য দেবেন যা পরস্পরবিরোধী? অথবা তিনি (পবিত্রতা তাঁরই) কি আমাদের পথভ্রষ্ট করবেন এমন দুটি মাধ্যম দিয়ে, যার প্রতিটি একই বিষয়ে একে অপরের বিপরীত ফলাফল প্রদান করে?

 

এটি কোনো অবস্থাতেই হতে পারে না; আর সুউচ্চ, সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময় ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর হিকমত তা প্রত্যাখ্যান করে।

 

সত্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আমাদের কর্তব্য হলো মানবিক উপায়ে অর্জিত জ্ঞান এবং ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদসমূহকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই করা।

 

মানবিক জ্ঞান এবং ধর্মীয় বর্ণনার সাক্ষ্যের মধ্যে যে কোনো ধরণের আপাত বৈপরীত্য নিম্নোক্ত সম্ভাবনাগুলোর কোনো একটির বাইরে নয়:

১- হয় বিজ্ঞানের নামে যা চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে তা নিশ্চিত জ্ঞানের পর্যায়ে পৌঁছেনি, যেমন ঐসব তত্ত্ব যা এখনও সুনিশ্চিত হয়নি এবং যা এখনও গবেষণা ও পর্যালোচনারাধীন। অথবা যেগুলোকে নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত করার কোনো পথ নেই, যদিও বস্তুবাদী বিজ্ঞানীরা তাদের নিছক বস্তুবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো কিছু না পেয়ে তা বিশ্বাস করেন; এবং যেহেতু দ্বীন যা নিয়ে এসেছে তার সামনে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না, অথচ তারা মানসিকভাবে দ্বীনকে প্রত্যাখ্যান করে।

 

২- অথবা দ্বীনের দিকে যা সম্বন্ধ করা হয়েছে, তা মূল পাঠ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অকাট্যতার স্তরে পৌঁছেনি।

 

৩- অথবা ধর্মীয় পাঠের যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে তা ভুল। এই ভুলের দায়ভার ধর্মীয় পাঠের ওপর বর্তায় না, বরং এটি সেই ব্যক্তির মত প্রকাশ করে যে একে এমনভাবে বুঝেছে যা মানবিক উপায়ে অর্জিত বৈজ্ঞানিক সত্যের পরিপন্থী। যেমন পৃথিবীর গোলকাকৃতি হওয়া এবং নিজের অক্ষ ও সূর্যের চারদিকে ঘূর্ণনের বিষয়টি।

এখানে আমরা লক্ষ্য করি যে, খ্রিস্টধর্ম যখন মূল ধর্মের বিপরীতে প্রবিষ্ট একদল বাতিল ও ভ্রান্ত ধারণার কবলে পড়েছিল, যা বুদ্ধি ও সঠিক বিজ্ঞানের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক ছিল,
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ২৫)
حاولت أن تتلخص من ورطتها هذه بمقالتها المشهورة: "الدين لا يخضع للعقل" وأطلق علماؤهم بين بين أتباعهم كلمتهم المأثورة: "أطفئ مصباح عقلك واعتقد وأنت أعمى" وحرموا التفكير والنظر في مسائل الدين، وفرضوا عليهم التسليم الأعمى بالإله المثلث دون مناقشة ولا نظر، مع أن أصول العقل السليم ترفض هذا رفضاً قطعياً، ولا تسلم به النفوس إلا مع تعطيل منطق العقل، ورافق ذلك أنهم أقفلوا باب العقل والبحث العلمي نهائياً عن كل مسألة تعرضت إليها نصوص دينهم، حتى ما كان منها متعلقاً بواقع الكون الذي تستطيع الوسائل الإنسانية أن تصل إلى معرفته.

 

ولما جاء الإسلام رفض هذا التثليث الدخيل على دين الله، ونادى بالوحدانية، وقدم على ذلك شهادة من عند الله، نزل بها الوحي على رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم، وشهادة من أولي العلم، فجعل العقل العلمي شاهداً على هذه الحقيقة، وناقض مخالفيها على أساس من العقل والعلم، واعتبر العقل في هذا سنداً يُستفتى ويُستشهد به، ولو كان البحث العلمي الإنساني السليم سيوصل إلى القطع بحقائق لا يوافق عليها الدين لما دعاه الإسلام إلى تقديم شهادته بالحقيقة، ولما أرشد الله العلماء إليه، ووضع في أيديهم وسائله، ودفع بهم إليه دفعاً، فقال الله تعالى في سورة (يونس/10 مصحف/51 نزول) :

{قُلِ انظُرُواْ مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ … } .

 

وقال في سورة (العنكبوت/29 مصحف/85 نزول) :

{قُلْ سِيرُواْ فِي الأَرْضِ فَانظُرُواْ كَيْفَ بَدَأَ الْخَلْقَ … } .

 

وقال في سورة (الذاريات/51 مصحف/61 نزول) :

{وَفِي الأَرْضِ آيَاتٌ لِّلْمُوقِنِينَ * وَفِي? أَنفُسِكُمْ أَفَلَا تُبْصِرُونَ..} .

ولما ناقش الناس بدلائله (أي: بدلائل العقل) ، ففي إثبات الوحدانية قال الله تعالى في سورة (الأنبياء/21 مصحف/73 نزول) :

{لَوْ كَانَ فِيهِمَآ آلِهَةٌ إِلَاّ اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ}
তারা তাদের এই সংকট থেকে তাদের বিখ্যাত এই উক্তির মাধ্যমে মুক্তি পেতে চেয়েছিল: "ধর্ম বিবেকের বশীভূত নয়"। আর তাদের আলেমগণ তাদের অনুসারীদের মাঝে তাদের প্রবাদপ্রতিম এই কথাটি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন: "তোমার বিবেকের প্রদীপ নিভিয়ে দাও এবং অন্ধের মতো বিশ্বাস করো"। তারা ধর্মের বিষয়ে চিন্তা ও গবেষণা করাকে নিষিদ্ধ করেছিল এবং কোনো আলোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই তাদের উপর ত্রিত্ববাদী ইলাহের প্রতি অন্ধ আনুগত্য চাপিয়ে দিয়েছিল। অথচ সুস্থ বিবেকের মূলনীতি একে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে। আর বিবেকের যুক্তি অকেজো করা ছাড়া কোনো আত্মা তা গ্রহণ করে না। এর পাশাপাশি তারা ধর্মের যেসব বিষয় মানুষের জ্ঞানার্জনের মাধ্যমের আওতায় পড়ে, মহাবিশ্বের বাস্তবতা সংশ্লিষ্ট সেই সকল বিষয়েও যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার পথ চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছিল।

 

যখন ইসলাম আসলো, তখন সে আল্লাহর দীনে প্রবিষ্ট এই ত্রিত্ববাদকে প্রত্যাখ্যান করল এবং তাওহীদের ডাক দিল। এর সপক্ষে আল্লাহর পক্ষ থেকে সাক্ষ্য পেশ করল, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ওহী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি জ্ঞানীদের মধ্য থেকেও সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে ইসলাম বৈজ্ঞানিক যুক্তিকে এই সত্যের সাক্ষী হিসেবে সাব্যস্ত করল এবং এর বিরোধীদের যুক্তি ও জ্ঞানের ভিত্তিতে খণ্ডন করল। ইসলাম বিবেককে এমন এক দলিল হিসেবে গণ্য করেছে যার কাছে সিদ্ধান্ত চাওয়া হয় এবং যার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। যদি সুস্থ মানবিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা এমন কোনো ধ্রুব সত্যে পৌঁছাত যার সাথে দ্বীন একমত নয়, তবে ইসলাম তাকে সত্যের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাত না এবং আল্লাহ তাআলা আলেমদেরকে সেদিকে পথপ্রদর্শন করতেন না, তাদের হাতে এর উপকরণগুলো তুলে দিতেন না এবং তাদেরকে এর প্রতি উৎসাহিত করতেন না। আল্লাহ তাআলা সূরা (ইউনুস/১০ মুসহাফ/৫১ অবতীর্ণ)-এ বলেন:

{বলুন, তোমরা লক্ষ্য করো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে কী রয়েছে … }।

 

এবং সূরা (আনকাবুত/২৯ মুসহাফ/৮৫ অবতীর্ণ)-এ বলেন:

{বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ করো, অতঃপর লক্ষ্য করো কীভাবে তিনি সৃষ্টি আরম্ভ করেছেন … }।

 

এবং সূরা (আয-যারিয়াত/৫১ মুসহাফ/৬১ অবতীর্ণ)-এ বলেন:

{আর নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য পৃথিবীতে বহু নিদর্শন রয়েছে। আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেও; তোমরা কি তবে দেখবে না?}।

আর যখন তিনি মানুষের সাথে তার দলিলসমূহ (অর্থাৎ বিবেকের দলিলসমূহ) দিয়ে আলোচনা করেছেন, তখন একত্ববাদ প্রমাণের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা সূরা (আম্বিয়া/২১ মুসহাফ/৭৩ অবতীর্ণ)-এ বলেন:

{যদি এ দুটিতে (আকাশ ও পৃথিবীতে) আল্লাহ ছাড়া বহু ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত। সুতরাং আরশের রব আল্লাহ তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে পবিত্র।}
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقال في سورة (المؤمنون/23 مصحف/74 نزول) :

{مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِن وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذاً لَّذَهَبَ كُلُّ اله بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ} .

 

وفي إثبات وجود الله ناقش بالمنطق العقلي البحت فقال الله تعالى في سورة (الطور/52 مصحف/76 نزول) :

{أَمْ خُلِقُواْ مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ} .

 

إلى غير ذلك من شواهد كثيرة (1)

 

(3)

 

الغيب ومنطق العقل

 

حينما يناقش علماء النصارى في مسألة التثليث أو غيرها من المسائل التي يرفضها منطق العقل، يدافعون بأن الدين لا يخضع لمنطق العقل، إذ هو فوق مستوى العقل البشري، ويجب التسليم بكل ما جاء فيه، ولو كان العقل يرفضه رفضاً باتاً لاستحالته.

 

وظل رؤساء الدين عندهم يهيمنون على أتباعهم بهذه الحجة، حتى قامت الثورة العلمية المادية الحديثة، ففجرت جوانب البحث العلمي في كل مجال من المجالات العلمية التي يستطيع الإنسان أن يتوصل إليها، وأيقظت الفكر النصراني من سباته الذي لازمه قرابة خمسة عشر قرناً، ثم امتد أثره إلى الأمم الأخرى، ومع هذه اليقظة العلمية أخذ المثقفون منهم يفكرون في قضية التثليث، وفي قضايا مشابهة، يقال عنها: إنها من أمور الدين التي هي فوق مستوى العقل، ويجب التسليم بها، ولو كان العقل يرفضها قطعياً ويرى أنها مستحيلة، فلم تهضمها

--------------------------------------------

(1) شرحت طائفة منها في كتابي: "العقيدة الإسلامية وأسسها".
এবং তিনি সূরা (আল-মুমিনুন/২৩ মুসহাফ/৭৪ নুযুল)-এ বলেছেন:

{আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।} ।

 

আর আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে তিনি বিশুদ্ধ বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তির মাধ্যমে আলোচনা করেছেন। মহান আল্লাহ সূরা (আত-তূর/৫২ মুসহাফ/৭৬ নুযুল)-এ বলেছেন:

{তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?} ।

 

এ জাতীয় আরও অনেক প্রমাণ রয়েছে (১)

 

(৩)

 

অদৃশ্যের জগত ও বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তি

 

যখন খ্রিস্টান আলেমগণ ত্রিত্ববাদ বা এমন অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করেন যা বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, তখন তারা এই বলে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন যে, ধর্ম বুদ্ধিভিত্তিক যুক্তির অধীন নয়; কারণ এটি মানব বুদ্ধির স্তরের ঊর্ধ্বে। আর এতে যা কিছু এসেছে তার সবটুকুই মেনে নেওয়া আবশ্যক, যদিও বুদ্ধি তা অসম্ভব হওয়ার কারণে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

 

তাদের ধর্মীয় নেতারা এই যুক্তির মাধ্যমেই তাদের অনুসারীদের ওপর আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন, যতক্ষণ না আধুনিক বস্তুবাদী বৈজ্ঞানিক বিপ্লব সূচিত হয়। এই বিপ্লব মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা বিজ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রে গবেষণার দ্বার উন্মোচন করে দেয় এবং খ্রিস্টীয় চিন্তাধারাকে প্রায় পনেরো শতাব্দী ব্যাপী দীর্ঘ তন্দ্রাচ্ছন্নতা থেকে জাগ্রত করে। এরপর এর প্রভাব অন্যান্য জাতির মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে। এই বৈজ্ঞানিক জাগরণের ফলে তাদের মধ্যকার শিক্ষিত সমাজ ত্রিত্ববাদ এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করে, যেগুলোকে বলা হয়ে থাকে যে, এগুলো ধর্মের এমন বিষয় যা বুদ্ধির স্তরের ঊর্ধ্বে এবং তা মেনে নেওয়া আবশ্যক, যদিও বুদ্ধি তা চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং অসম্ভব মনে করে। ফলে তারা এগুলো মেনে নিতে পারেনি

--------------------------------------------

(১) আমি এগুলোর একটি অংশ আমার ‘আল-আকিদাহ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়া উসুসুহা’ (ইসলামি আকিদা ও এর মূলনীতিসমূহ) গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছি।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ২৭)
عقولهم، وبدأوا يتشككون في صحة ديانتهم من أساسها، وقام الصراع المعروف بين قوتين:

قوة تقليدية لها مؤسسات ورياسات دينية وأنظمة حكم تدعمها.

 

وقوة أخرى أخذت سبيلها إلى النهوض المادي عن طريق البحث العلمي، ومناقشة الأمور بالعقل والمنطق وسائر وسائل البحث الإنساني للوصول إلى المعرفة الصحيحة.

 

وانتهت معركة الصراع بمحاصرة الديانة النصرانية وحجزها داخل جدران الكنيسة، ثم أخذت الأجيال النصرانية سبيلها إلى إنكار ديانتهم، والشك في صحتها من أساسها، وعاشت في فراغ فكري وروحي خطير، وفي هذا الجو النفسي المستعد لملئه بشيء آخر نشط دعاة الإلحاد الماديون يبثون أفكارهم الإلحادية، واستغلت اليهودية العالمية هذا الواقع أو ساهمت في التدبير له، وشحنته بما يلزم من الآراء الإلحادية والنظريات الخادمة لقضية الإلحاد، فأخذ الإلحاد ينتشر في أوروبا انتشار النار في الهشيم، وتبعتها شعوب أخرى، ودار دولاب الانهيار في الغرب والشرق متسارعاً بشكل خطير، مؤذن بدمار قريب تتحقق فيه سنة الله في الأمم.

 

والمسؤول عن كل ذلك أو معظمه العلماء بالنصرانية ورؤساء الكنيسة، لأنهم لم يصححوا العقائد المزيفة، الدخيلة على أصول ديانتهم، والتي كان اليهود من قبل قد عملوا على إدخالها فيها لإفساد أصول النصرانية، ثم لم يعمل هؤلاء الرؤساء الدينيون لإقناع شبابهم المثقف بالحجة والبرهان.

 

وهنا يتساءل الشاب المسلم المثقف فيقول: ما هو موقف الإسلام من العقل، ومما تثبته وسائل المعرفة الإنسانية تجاه ما جاء به الدين؟

 

ومن واجبنا أمام هذا التساؤل أن نحرر الجواب تحريراً شاملاً شافياً:

أولاً: من نعمة الله علينا في الإسلام أن أصوله وأركانه قد سَلِمت من التغيير والتحريف، فلم يصبها شيءٌ، مما أصاب أصول الأديان الأخرى من ذلك، فليس
তাদের বুদ্ধিবৃত্তি, এবং তারা তাদের ধর্মের মূল সত্যতা সম্পর্কে গোড়া থেকেই সন্দেহ করতে শুরু করল, আর দুটি শক্তির মধ্যে সুপরিচিত সংঘাত শুরু হলো:

একটি ঐতিহ্যবাহী শক্তি যার নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, নেতৃত্ব এবং শাসনব্যবস্থা রয়েছে যা তাকে সমর্থন করে।

 

এবং অন্য একটি শক্তি যা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যুক্তি ও তর্কের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এবং সঠিক জ্ঞান অর্জনের জন্য যাবতীয় মানবিক অনুসন্ধান পদ্ধতির মাধ্যমে বস্তুগত উন্নতির পথ বেছে নিয়েছে।

 

এই সংঘাতের লড়াই শেষ হলো খ্রিস্টধর্মকে অবরুদ্ধ করে গির্জার দেয়ালের মাঝে বন্দী করার মাধ্যমে। এরপর খ্রিস্টান প্রজন্ম তাদের ধর্মকে অস্বীকার এবং এর মৌলিক সত্যতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করার পথ বেছে নিল। তারা এক ভয়াবহ বুদ্ধিবৃত্তিক ও আত্মিক শূন্যতার মাঝে বসবাস করতে লাগল। অন্য কিছু দিয়ে এই শূন্যতা পূরণের জন্য প্রস্তুত এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশে বস্তুবাদী নাস্তিকতার প্রবক্তারা তাদের নাস্তিক্যবাদী ধ্যান-ধারণা প্রচারে সক্রিয় হয়ে উঠল। বিশ্ব ইহুদিবাদ এই বাস্তবতাকে কাজে লাগাল অথবা এর পরিকল্পনায় অবদান রাখল, এবং নাস্তিকতার প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় মতবাদ ও তত্ত্ব দিয়ে একে পূর্ণ করল। ফলে ইউরোপে নাস্তিকতা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ল যেমন শুকনো খড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। অন্য জাতিগুলোও তাদের অনুসরণ করল, আর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে পতনের চাকা ভয়াবহ দ্রুতগতিতে ঘুরতে শুরু করল, যা এক আসন্ন ধ্বংসের পূর্বাভাস দিচ্ছিল যেখানে জাতিগুলোর ব্যাপারে আল্লাহর নির্ধারিত নিয়ম বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছিল।

 

আর এই সব কিছুর অথবা এর অধিকাংশের জন্য দায়ী হলো খ্রিস্টান পণ্ডিত এবং গির্জার প্রধানরা। কারণ তারা তাদের ধর্মের মূলনীতির মধ্যে অনুপ্রবেশকারী সেই সব মিথ্যা আকীদা সংশোধন করেনি, যা ইহুদিরা আগে থেকেই খ্রিস্টধর্মের মূলনীতি নষ্ট করার জন্য তাতে প্রবেশ করিয়ে দিয়েছিল। তাছাড়া, এই ধর্মীয় প্রধানরা তাদের শিক্ষিত যুবসমাজকে দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে সন্তুষ্ট করার জন্যও কাজ করেনি।

 

আর এখানে শিক্ষিত মুসলিম যুবক প্রশ্ন করে বলে: ধর্মের আনীত বিষয়ের বিপরীতে বুদ্ধি এবং মানবিক জ্ঞানের মাধ্যমগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ইসলামের অবস্থান কী?

 

এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে আমাদের কর্তব্য হলো একটি বিস্তারিত এবং সন্তোষজনক উত্তর প্রদান করা:

প্রথমত: ইসলামের ক্ষেত্রে আমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত হলো এই যে, এর মূলনীতি ও স্তম্ভগুলো পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে নিরাপদ রয়েছে। অন্যান্য ধর্মের মূলনীতিগুলোতে যা ঘটেছে, তার কিছুই এখানে স্পর্শ করেনি। সুতরাং এমন নয় যে
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ২৮)
أمامنا مشكلة دين محرف مخالف للحقيقة، أو مخالف لمنطق فليس أمامنا مشكلة دين محرف مخالف للحقيقة، أو مخالف لمنطق العقل والواقع، حتى نلفّق لدعمه الحجج الخرافية، على أن الإسلام لا يرضى ولا يقبل بحالٍ من الأحوال من المؤمنين به أن يلفقوا الحجج الباطلة، أو يختلقوا الشهادات الكاذبات، ولو كان ذلك لدعم الحق الذي جاء به، لأن قبول هذا الأسلوب سيقضي على الأدلة والحجج الحقة الصادقة، وسيقضي بالتالي على الدين من أساسه، إذ قبل بمبدأ التأييد بالباطل، فالحق لا يقبل التأييد والمناصرة إلا بالحق.

 

ثانياً: الإسلام دين الحق، والحق لا يمكن أن تقوم الأدلة الصحيحة على إبطاله بحال من الأحوال. ولكن قد تقوم الأدلة الباطلة لإبطاله في تصورات المغرورين المخدوعين صغار العقول، على أن هذه الأدلة الباطلة لا تلبث حتى تنهار، وحسبها ضعفاً وقلة شأن أنها أدلة باطلة في أصلها، مهما طليت بالأصباغ وأنواع الزينة من زخرف القول.

 

ثالثاً: تنقسم المعارف الدينية إلى ثلاثة أقسام:

 

القسم الأول:

 

تكاليف عملية نفسية وجسدية يطالب الناس بها. ومن نعمة الله علينا في الإسلام أنها مشتملة على ما يصلح أوضاع الناس وأحوالهم، ويرتقي بهم إلى أرفع درجة حضارية إنسانية، سواءٌ أكانت تكاليف عبادات، أو تكاليف أخلاق، أو تكاليف معاملات، أو تكاليف أخرى تدفع الناس إلى الارتقاء المجيد في سلَّم الحضارة الإنسانية المثلى، الخالية من عيوب الانهيار الأخلاقي والنفسي والسلوكي.

 

وبرهان هذا وتفصيله يتطلب شرحاً طويلاً، عرضت طائفة مناسبة منه في كتابي: "أسس الحضارة الإسلامية ووسائلها".

على أن الأصل في التكاليف أنها ابتلاء للإرادة، والامتحان لا يشترط فيه بشكل لازم أن يكون موافقاً لمصالح الواقعين تحت الامتحان. لكن فضل الله كان عظيماً، إذ كان امتحانه لنا في تكاليف تضمن أحسن المصالح لنا، وأوفى المنافع، وأكثر الاحتمالات دفعاً للأضرار والمخاطر، وأسلمها حلاً للمشكلات.
আমাদের সামনে সত্যবিমুখ কোনো বিকৃত ধর্ম কিংবা বিবেক ও বাস্তবতার পরিপন্থী কোনো সমস্যা উপস্থিত নেই যে, তার সমর্থনে আমাদের অলীক যুক্তিজাল বুনতে হবে। ইসলাম কোনোভাবেই তার অনুসারীদের কাছ থেকে এটি কাম্য মনে করে না যে, তারা অসত্য যুক্তি তৈরি করবে কিংবা মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন করবে—এমনকি তা ইসলামের আনীত সত্যকে সমর্থন করার জন্য হলেও। কেননা, এই পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রকৃত ও সত্য প্রমাণসমূহকে নস্যাৎ করে দেবে এবং ফলস্বরূপ ধর্মের ভিত্তিকেই সমূলে বিনাশ করবে; যেহেতু এতে অসত্যের মাধ্যমে সমর্থন প্রদানের নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ সত্য কেবল সত্যের মাধ্যমেই সমর্থন ও সহযোগিতা প্রাপ্তি প্রত্যাশা করে।

 

দ্বিতীয়ত: ইসলাম সত্য ধর্ম, আর সত্যকে বাতিল করার জন্য কোনোভাবেই সঠিক দলিল বা প্রমাণ দণ্ডায়মান হতে পারে না। তবে বিভ্রান্ত, প্রতারিত ও সংকীর্ণমনা ব্যক্তিদের ধারণায় একে বাতিল করার জন্য অলীক যুক্তি উত্থাপিত হতে পারে। কিন্তু এই অসত্য দলিলসমূহ ধসে পড়তে সময় নেবে না। এগুলোর দুর্বলতা ও হীনম্মন্যতার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, এগুলো মূলে বাতিল; যদিও তাকে চাকচিক্যময় কথা ও নানা প্রকার অলংকার দিয়ে সুশোভিত করার চেষ্টা করা হোক না কেন।

 

তৃতীয়ত: ধর্মীয় জ্ঞান তিন ভাগে বিভক্ত:

 

প্রথম ভাগ:

 

মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক এমন কিছু ব্যবহারিক বিধান, যা পালন করার জন্য মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রতি আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ এই যে, ইসলামে এমন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা মানুষের অবস্থা ও পরিস্থিতির সংশোধন করে এবং তাদেরকে মানব সভ্যতার সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করে; চাই তা ইবাদত সংক্রান্ত বিধান হোক, কিংবা চরিত্র সংক্রান্ত, অথবা লেনদেন সংক্রান্ত, কিংবা এমন অন্য কোনো বিধান হোক যা মানুষকে আদর্শ মানব সভ্যতার সোপানে এক গৌরবোজ্জ্বল উন্নতির দিকে ধাবিত করে—যা নৈতিক, মানসিক ও আচরণগত অবক্ষয়ের কলঙ্ক থেকে মুক্ত।

 

এর প্রমাণ ও বিস্তারিত বিবরণ দীর্ঘ আলোচনার দাবি রাখে, যার একটি উপযুক্ত অংশ আমি আমার ‘ইসলামী সভ্যতার ভিত্তি ও মাধ্যমসমূহ’ গ্রন্থে উপস্থাপন করেছি।

তবে বিধানের মূল ভিত্তি হলো ইচ্ছাশক্তির পরীক্ষা। আর পরীক্ষার ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য শর্ত নয় যে, তা সর্বদা পরীক্ষাধীন ব্যক্তিদের পার্থিব স্বার্থের অনুকূল হতে হবে। কিন্তু আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল অপরিসীম, কারণ তিনি আমাদের এমন সব বিধানের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়েছেন যা আমাদের সর্বোত্তম স্বার্থ, পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ এবং ক্ষতি ও ঝুঁকি নিরসনের অধিকতর নিশ্চয়তা প্রদান করে এবং যা সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে নিরাপদ পথ বাতলে দেয়।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ২৯)
القسم الثاني:

 

أنباء عن واقع كوني باستطاعة الوسائل الإنسانية أن تصل إلى معرفتها على ما هي عليه في الواقع، ولو بعد حين.

 

وما جاء في الإسلام من هذا القسم لا يمكن أن يكون مخالفاً للواقع والحقيقة، إلا ضمن احتمالين لا ثالث لهما:

 

الأول: أن يكون فهم النص الإسلامي من قبل بعض المجتهدين أو المؤولين فهماً خاطئاً.

 

الثاني: أن يكون النص المنسوب إلى الإسلام نصاً غير صحيح النسبة، كأن يكون خبراً كاذباً، أو ضعيفاً لا يصح الاعتماد عليه، أو خبراً غير قطعي الثبوت، فمن الممكن دخول خطأ فيه من نقل الراوي أو فهمه، إذ يحتمل أنه روى المعنى الذي فهمه هو، ولم يرو اللفظ ذاته الذي أخبر به الرسول صلى الله عليه وسلم، وهذا إنما يكون في أحاديث الآحاد فقط، أي: التي لم تبلغ مبلغ التواتر اللفظي أو المعنوي.

 

إما أن يكون الخبر الإسلامي قطعي الثبوت قطعي الدلالة، ثم يخالف الحقيقة والواقع، فهذا غير موجود حتماً، وليس من الممكن أن يوجد قطعاً.

 

ولكن هنا قد تقع مغالطة لا بد من التنبيه عليها، وهذه المغالطة تأتي من قبل ما ينسب إلى الحقيقة العلمية، الآتية عن طريق الوسائل الإنسانية البحتة، فكثيراً ما يدعي الماديون أن فرضية من الفرضيات، أو نظرية من النظريات، قد أصبحت حقيقة علمية غير قابلة للنقض أو التعديل، مع أن هذه النظرية لا تملك أدلة إثبات يقينية تجعلها حقيقة نهائية، أو حقيقة مقطوعاً بها ضمن مستواها، وذلك بشهادة العلماء، الذين وضعوا هذه النظرية أو ساهموا في تدعيمها.

ومن أمثلة ذلك الداروينية بالنسبة إلى نشأة الكون وخلق الإنسان، فهي لا تملك أدلة إثبات قاطعة أو شديدة الترجيح، ولكن كثيراً من العلماء الماديين يقبلونها تسليماً اعتقادياً، لا تسليماً علمياً، إذ ليس لديهم اختيار بعدها إلا الإيمان بالخلق الرباني، وهذا أمر لا يجدون أنفسهم الآن مستعدين لقبوله، ما دام منطق الإلحاد هو المسيطر على اعتقادهم في بيئاتهم.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

 

মহাজাগতিক বাস্তবতা সংক্রান্ত এমন সংবাদ যা মানুষের বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে বাস্তবে যেমন আছে সেভাবে অনুধাবন করা সম্ভব, এমনকি তা কিছুকাল পরে হলেও।

 

ইসলামে এই পরিচ্ছেদ সম্পর্কে যা এসেছে তা বাস্তবতা ও সত্যের পরিপন্থী হওয়া সম্ভব নয়, তবে দুটি সম্ভাবনা ব্যতীত যার তৃতীয় কোনোটি নেই:

 

প্রথমত: কোনো কোনো মুজতাহিদ বা ব্যাখ্যাকারী কর্তৃক ইসলামি ভাষ্যের অনুধাবনে ভুল হওয়া।

 

দ্বিতীয়ত: ইসলামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত ভাষ্যটি সনদ বা প্রমাণের দিক থেকে সঠিক না হওয়া। যেমন তা মিথ্যা সংবাদ হওয়া, অথবা দুর্বল হওয়া যার ওপর নির্ভর করা সঠিক নয়, কিংবা সংবাদটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত না হওয়া। ফলে বর্ণনাকারীর বর্ণনা বা তার অনুধাবনের কারণে তাতে ভুল প্রবেশ করা সম্ভব। কেননা এটি হতে পারে যে, তিনি তাঁর অনুধাবন অনুযায়ী কেবল মর্ম বর্ণনা করেছেন, কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে শব্দে খবর দিয়েছিলেন হুবহু সেই শব্দ বর্ণনা করেননি। আর এটি কেবল একক বর্ণনা বা 'আখবারে আহাদ' হাদিসসমূহের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে, অর্থাৎ যা শাব্দিক বা অর্থগতভাবে অকাট্য ধারাবাহিক বর্ণনার পর্যায়ে পৌঁছেনি।

 

পক্ষান্তরে ইসলামি সংবাদ যদি অকাট্যভাবে প্রমাণিত এবং দ্ব্যর্থহীন অর্থবোধক হয়, আর এরপরও তা সত্য ও বাস্তবতার পরিপন্থী হয়—তবে এমনটি ঘটা সুনিশ্চিতভাবেই অসম্ভব এবং অকাট্যভাবেই এর কোনো অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।

 

তবে এখানে একটি ভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে যা নিয়ে সতর্ক করা আবশ্যক। এই ভ্রান্তিটি আসে কেবল মানবিক উপায়ে অর্জিত তথাকথিত বৈজ্ঞানিক সত্যের পক্ষ থেকে। বস্তুবাদীরা প্রায়শই দাবি করে যে, কোনো একটি অনুমান বা মতবাদ বৈজ্ঞানিক সত্যে পরিণত হয়েছে যা খণ্ডন বা পরিবর্তনযোগ্য নয়, অথচ সেই মতবাদটির কাছে এমন কোনো সুনিশ্চিত প্রমাণ থাকে না যা তাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে, কিংবা তার নিজ স্তরে অকাট্য সত্য হিসেবে গণ্য করা যায়; আর এটি স্বয়ং সেই বিজ্ঞানীদেরই সাক্ষ্য যারা এই মতবাদটি তৈরি করেছেন বা এর সমর্থনে অবদান রেখেছেন।

এর অন্যতম উদাহরণ হলো মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও মানব সৃষ্টি সম্পর্কে ডারউইনবাদ। এর স্বপক্ষে কোনো অকাট্য বা অতি শক্তিশালী প্রমাণ নেই, কিন্তু অনেক বস্তুবাদী বিজ্ঞানী একে বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতির পরিবর্তে বিশ্বাসগত স্বীকৃতি হিসেবে গ্রহণ করে নেন। কারণ এটি গ্রহণ না করলে তাদের সামনে আল্লাহর পক্ষ থেকে সৃষ্টির ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকে না। আর এটি এমন এক বিষয় যা তারা এখন গ্রহণ করতে প্রস্তুত নন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের পরিবেশে নাস্তিক্যবাদী যুক্তি তাদের বিশ্বাসের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে থাকে।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ৩০)
ويأتي كُسور من المثقفين (أنصاف - أرباع - أعشار) من المتأثرين بالنزعات الإلحادية فيدَّعون وجود التناقض بين الدين والحقائق العلمية، استناداً إلى وجود اختلاف بين بعض المعارف الدينية وبعض الفرضيات أو النظريات التي لم تصبح بعدُ حقائق علمية، وهم يزعمون كذباً أو يتصورون خطأ أن هذه الفرضيات أو النظريات قد أصبحت حقائق علمية ثابتة بشكل قطعي غير قابل للنقض، وهنا يقعون في غلط علمي فاحش جداً، ويتبع ذلك سقوطهم في ضلال اعتقادي كبير تجاه الدين وأصوله ومعارفه، علماً بأن طائفة من النظريات التي نسبت إلى العلم قد وُضعت خصيصاً لدعم قضية الإلحاد والكفر بالله، على أيدي يهود أو أجراء يهود، وصيغت لها المقدمات والمبررات التي ليس لها قواعد منطقية علمية صحيحة.

 

فالواجب إذن يتحتم علينا - أخذاً بطرق البحث العلمي السليم المحرر الذي أمرنا به الإسلام-أن نمعن النظر فيما قدمته شهادة العقل، ووسائل البحث العلمي الإنسانية، وفيما قدمته شهادة النصوص الدينية، وأن نخضع هذه الشهادات للضوابط العلمية الصحيحة، المتفق عليها في أصول العقل، وفي أصول الدين.

 

وإني لأجزم بكل يقين أننا لن نجد مسألة واحدة يستحكم فيها الخلاف بين شهادة النصوص الدينية اليقينية قطعية الثبوت قطعية الدلالة، وبين الشهادة القاطعة التي يقدمها العقل، أو الشهادة القاطعة التي يقدمها البحث العلمي الإنساني البحت.

بل اليقيني من كل ذلك لا بد أن يتطابق في شهادته، متى استطاع أن يصل إلى الحقيقة التي هي موضوع البحث.

 

فإن وصل بعضها وبعضها الآخر لم يصل أعلن كل عن مبلغه من العلم قصَّر في المعرفة أو زاد، وفي هذا لا يوجد تناقض أو خلاف، ولكن يوجد بيان جزئي وبيان أشمل وأكمل، أو بيان جزئي من جهة وبيان جزئي من جهة أخرى، وفق مثال العميان والفيل (1) .

--------------------------------------------

(1) مثل أورده الغزالي وغيره، خلاصته أن عدداً من العميان قُدّم لهم فيل ليصفوه، فوقعت يد كل منهم على جانب منه، ثم أخذ يصف الفيل عن طريق ما تلمسه بيده منه، فوصف أحدهم ملاسة الناب وقسوته، والآخر خشونة الذيل، والثالث ما تلمسه من الخرطوم، والرابع ما تلمسه من رجله … وهكذا.
নাস্তিক্যবাদী প্রবণতায় প্রভাবিত একদল তথাকথিত বুদ্ধিজীবী (অর্ধ-শিক্ষিত, সিকি-শিক্ষিত বা দশমাংশ-শিক্ষিত) ধর্ম ও বৈজ্ঞানিক সত্যের মধ্যে বৈপরীত্যের দাবি করেন। তারা এটি করেন কিছু ধর্মীয় জ্ঞান এবং এমন কিছু অনুমিতি বা তত্ত্বের মধ্যে পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে, যা এখনও বৈজ্ঞানিক সত্যে পরিণত হয়নি। তারা মিথ্যা দাবি করেন অথবা ভুলভাবে কল্পনা করেন যে, এই অনুমিতি বা তত্ত্বগুলো নিশ্চিত ও অখণ্ডনীয় বৈজ্ঞানিক সত্যে পরিণত হয়েছে। এখানেই তারা অত্যন্ত জঘন্য বৈজ্ঞানিক ভুল করে বসেন, যার ফলে তারা ধর্ম, এর মূলনীতি ও জ্ঞানভাণ্ডারের বিষয়ে বড় ধরণের বিশ্বাসগত ভ্রান্তিতে নিপতিত হন। উল্লেখ্য যে, বিজ্ঞানের নামে চালানো একদল তত্ত্ব মূলত নাস্তিক্যবাদ ও আল্লাহর প্রতি কুফরকে সমর্থন করার জন্য ইহুদি বা তাদের ভাড়াটে লোকদের দ্বারা বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে, এবং এর জন্য এমন সব ভূমিকা ও যৌক্তিকতা সাজানো হয়েছে যার কোনো সঠিক যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

 

অতএব আমাদের কর্তব্য হলো—ইসলাম আমাদের যে বিশুদ্ধ ও মুক্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির নির্দেশ দিয়েছে তা অনুসরণের মাধ্যমে—বিবেকের সাক্ষ্য, মানবীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমসমূহ এবং ধর্মীয় পাঠ্যসমূহের সাক্ষ্যের ওপর গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করা। আর এই সাক্ষ্যগুলোকে বিবেক ও ধর্মের মূলনীতির আলোকে সর্বসম্মত ও সঠিক বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের অধীন করা।

 

আমি পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে দৃঢ়ভাবে বলছি যে, এমন একটি বিষয়ও আমরা পাব না যেখানে অকাট্যভাবে প্রমাণিত এবং দ্ব্যর্থহীন অর্থের অধিকারী ধর্মীয় পাঠ্যের (নصوص) সাক্ষ্য এবং বিবেকের দেওয়া অকাট্য সাক্ষ্য বা বিশুদ্ধ মানবীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণার অকাট্য সাক্ষ্যের মধ্যে কোনো বিরোধ স্থায়ী হতে পারে।

বরং এগুলোর মধ্যে যা নিশ্চিত, তা যখন গবেষণার বিষয়বস্তু তথা প্রকৃত সত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, তখন তাদের সাক্ষ্যে মিল থাকতে বাধ্য।

 

যদি কোনোটি সত্যে পৌঁছায় আর অন্যটি না পৌঁছায়, তবে প্রত্যেকে তার অর্জিত জ্ঞানের পরিমাণ প্রকাশ করবে, তাতে জ্ঞানের ঘাটতি থাকুক বা আধিক্য। এক্ষেত্রে কোনো বৈপরীত্য বা বিরোধ নেই, বরং এটি হলো আংশিক বর্ণনা এবং অধিকতর ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ বর্ণনার বিষয়, অথবা এক দিক থেকে আংশিক বর্ণনা ও অন্য দিক থেকে আংশিক বর্ণনার বিষয়—যেমনটি অন্ধ ও হাতির উদাহরণে দেখা যায় (১)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম গাজালি ও অন্যান্যদের বর্ণিত একটি উদাহরণ। এর সারসংক্ষেপ হলো—একদল অন্ধের সামনে একটি হাতি আনা হলো যাতে তারা সেটির বর্ণনা দিতে পারে। তাদের প্রত্যেকের হাত হাতির শরীরের একেকটি অঙ্গে স্পর্শ করল, এরপর সে তার হাতের স্পর্শের মাধ্যমে হাতির বর্ণনা দিতে শুরু করল। তাদের একজন হাতির দাঁতের মসৃণতা ও কঠোরতার বর্ণনা দিল, অন্যজন লেজের খসখসে ভাবের বর্ণনা দিল, তৃতীয় জন শুঁড়ের স্পর্শের কথা বলল এবং চতুর্থ জন তার পায়ের স্পর্শের বর্ণনা দিল … এভাবেই চলতে থাকল।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ৩১)
القسم الثالث: أنباء من أنباء الغيب الذي لا تستطيع الوسائل الإنسانية البحتة أن تصل إلى معرفته على ما هو عليه في الواقع.

 

وهذه الأنباء الدينية الغيبية تخبر عن بعض حقائق الوجود الأكبر، فمنها ما يتعلق بخصائص الخالق جل وعلا، ومنها ما يصف بعض الحقائق الغيبية من واقع هذا الكون المخلوق لله تعالى، كالملائكة والجن والعرش والكرسي، ومنها ما يحكي أحداثاً سبق أن حدثت فيما مضى من الأزمان، وليس باستطاعة الوسائل الإنسانية أن تستعيد صورتها الواقعية، كقصة خلق آدم، ومنها ما يُنبيء عن أحداث ستقع فيما يأتي من الأزمان، ضمن واقع هذا النظام الكوني القائم، كأشراط الساعة، أو سوف تقع في نظام عالم آخر وحياة أخرى، وهو ما جاء عن الآخرة زماناً وداراً وحياة وحساباً ونعيماً وعذاباً.

 

وموقف العقل ووسائل البحث العلمي الإنسانية بالنسبة إلى ما جاء في هذا القسم يتلخص بما يلي:

1- تحرير صدق الخبر وصحة دلالته.

2- رفض ما لم يثبت صدقه ضمن قواعد تحرير صدق الأخبار.

3- رفض ما خالف أحكام العقل القاطعة، وهو ما يدخل في قسم المستحيلات العقلية، كالجمع بين النقيضين، وكوجود شريك لله الخالق سبحانه وتعالى، فأي نبأ من أنباء الغيب يثبت شيئاً يحكم العقل حكماً قاطعاً باستحالة وجوده هو خبر مرفوض عقلاً وشرعاً، وأي نبأ من أنباء الغيب ينفي شيئاً يحكم العقل حكماً قاطعاً بأنه واجب الوجود هو نبأ مرفوض عقلاً وشرعاًً.

 

ولما قال الإمام الغزالي في كتابه "المقصد الأسنى شرح أسماء الله الحسنى" كلمته الحصيفة الرصينة المشتملة على نظر ثاقب عميق:
তৃতীয় বিভাগ: গায়েবি সংবাদের এমন কিছু খবর, যা নিছক মানবিক উপায়-উপকরণের মাধ্যমে বাস্তবে তা যেমন আছে তেমনভাবে অবগত হওয়া সম্ভব নয়।

 

আর এই ধর্মীয় গায়েবি সংবাদসমূহ অস্তিত্বের বৃহত্তর কিছু সত্য সম্পর্কে খবর দেয়। এর মধ্যে কিছু স্রষ্টা জাল্লা ওয়া আলার বৈশিষ্ট্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট। আবার কিছু মহান আল্লাহর সৃষ্টি করা এই মহাবিশ্বের বাস্তবতার গায়েবি সত্যসমূহ বর্ণনা করে, যেমন: ফেরেশতা, জিন, আরশ ও কুরসি। আবার কিছু এমন সব ঘটনার বিবরণ দেয় যা অতীতকালে ঘটে গেছে, অথচ মানবিক উপায়-উপকরণের মাধ্যমে তার বাস্তব চিত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, যেমন আদমের সৃষ্টির ঘটনা। আর কিছু এমন সব ঘটনা সম্পর্কে সংবাদ দেয় যা ভবিষ্যতে ঘটবে—বর্তমান মহাজাগতিক ব্যবস্থার অধীনে যেমন কিয়ামতের আলামতসমূহ, অথবা যা অন্য কোনো জগতের ব্যবস্থা ও অন্য কোনো জীবনে ঘটবে, যেমন আখেরাতের কাল, নিবাস, জীবন, হিসাব-নিকাশ এবং নেয়ামত ও আজাব সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

 

এই বিভাগে যা বর্ণিত হয়েছে সে সম্পর্কে বুদ্ধি ও মানবিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির অবস্থান নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

1- সংবাদের সত্যতা এবং এর নির্দেশনার বিশুদ্ধতা যাচাই করা।

2- সংবাদ যাচাইয়ের নিয়মানুযায়ী যার সত্যতা প্রমাণিত নয় তা প্রত্যাখ্যান করা।

3- বুদ্ধির অকাট্য বিধানের পরিপন্থী বিষয়গুলো প্রত্যাখ্যান করা। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক অসম্ভব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেমন দুই বিপরীত বস্তুর একত্রিকরণ এবং স্রষ্টা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কোনো অংশীদার থাকা। সুতরাং গায়েবি সংবাদসমূহের মধ্য হতে এমন কোনো সংবাদ যা এমন কিছুর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করে যেটির অস্তিত্ব অসম্ভব বলে বুদ্ধি অকাট্য সিদ্ধান্ত দেয়, তবে তা বুদ্ধি ও শরিয়ত উভয় দিক থেকেই প্রত্যাখ্যাত। আর গায়েবি সংবাদের এমন কোনো খবর যা এমন কিছুকে অস্বীকার করে যেটিকে বুদ্ধি অকাট্যভাবে আবশ্যিক অস্তিত্ব (ওয়াজিবুল উজুদ) বলে গণ্য করে, তাও বুদ্ধি ও শরিয়ত উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যাখ্যাত।

 

আর ইমাম গাজালি যখন তাঁর "আল-মাকসাদুল আসনা শারহু আসমাইল্লাহিল হুসনা" কিতাবে তাঁর সেই প্রজ্ঞাপূর্ণ সুদৃঢ় কথাটি বলেছেন যা অত্যন্ত গভীর ও সূক্ষ্ম অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন:
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ৩২)
" ولا تستبعد أيها المعتكف في عالم العقل أن يكون وراء العقل طور قد يظهر فيه ما لا يظهر في العقل ".

 

عقّب عليه باستدراك خلاصته: إن ما وراء العقل قد يكون بعيداً عن تصور العقل وتوهمه بُعداً بالغ النهاية، لأن العقل محجوب عنه في حدوده التي لا يستطيع أن يتعداها، لكنه لا يمكن أن يكون وراء العقل أشياء يحكم العقل حكماً قاطعاً باستحالتها، فهنالك فرق كبير بين ما لا يدركه العقل فهو لا يتناوله بنفي ولا إثبات، لأنه ليس من الأمور التي يتناولها بأحكامه، وبين ما يحكم العقل حكماً قاطعاً بنفيه أو إثباته.

 

فمن الأشياء التي لا يمكن أن يكون وضعها فيما وراء العقل على خلاف وضعها في أحكام العقل القاطعة لأنها من المستحيلات العقلية: أن يكون لله تعالى شريك، أو أن يكون في مقدور الخالق جل وعلا أن يخلق مثل ذاته سبحانه، أو أن يجعل الحادث قديماً، أو ما أشبه ذلك.

 

وقد أوفيت هذا الموضوع بمزيد من الشرح والتفصيل في كتابي: "العقيدة الإسلامية وأسسها".

 

4- ما له دلائل وقرائن من العقل تؤيده فإن موقف العقل منه موقف الشاهد المؤيد المسلم.

 

5- التسليم التام في كل ما يقول فيه العقل: لا أدري، إذ ليس لدي من الأدلة الظاهرة في مقاييسي ما أستطيع أن أثبت به، كما أنه ليس لدي منها ما أستطيع أن أنفي به.

وهذا التسليم تصديق لشهادة النص الديني الثابت من جهة الرواية، وفق أصول تحقيق المستندات الأخبارية، وتصديق شهادة النص الديني له مستند عقلي قاطع، لأن العقول يقول: ما جربته من أنباء الإسلام الصحيحة النسبة بشكل يقيني لم أجد فيها إلا الحق، وكل ما وجدته فيها مما استطعت الوصول إلى حقيقته الواقعة بنفسي كان حقاً وصدقاً. ويقول العقل أيضاً: إن من يملك تغيير سنن الكون الثابتة بما يجريه من معجزات على أيدي أنبيائه ورسله، ليعلمني بأن الكون كله خاضع
" হে বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের ধ্যানমগ্ন ব্যক্তি, আপনি একে অসম্ভব মনে করবেন না যে, বুদ্ধির ঊর্ধ্বে এমন এক পর্যায় থাকতে পারে যেখানে এমন কিছু প্রকাশ পেতে পারে যা বুদ্ধিতে প্রকাশিত হয় না। "

 

তিনি এর ওপর একটি সংশোধনীমূলক মন্তব্য করেছেন যার সারকথা হলো: বুদ্ধির ঊর্ধ্বে যা কিছু রয়েছে, তা বুদ্ধির কল্পনা ও অনুমানের চেয়ে চরম মাত্রায় দূরবর্তী হতে পারে; কারণ বুদ্ধি তার নিজ সীমানার মধ্যে এর থেকে অবরুদ্ধ, যা সে অতিক্রম করতে সক্ষম নয়। কিন্তু বুদ্ধির ঊর্ধ্বে এমন কিছু থাকা সম্ভব নয় যার অসম্ভব হওয়ার ব্যাপারে বুদ্ধি অকাট্য সিদ্ধান্ত প্রদান করে। সুতরাং যা বুদ্ধি অনুধাবন করতে পারে না—ফলে তা অস্বীকার বা স্বীকৃতির আওতায় আনে না কারণ তা এমন বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত নয় যা তার বিচারবুদ্ধির আওতায় আসে—এবং যে বিষয়ে বুদ্ধি তার অস্বীকৃতি বা স্বীকৃতির অকাট্য ফয়সালা দেয়, এই দুইয়ের মাঝে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।

 

সুতরাং এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা বুদ্ধির ঊর্ধ্বে বুদ্ধির অকাট্য সিদ্ধান্তের বিপরীত হওয়া সম্ভব নয়, কারণ সেগুলো বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অসম্ভব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। যেমন: মহান আল্লাহর কোনো অংশীদার থাকা, অথবা মহান স্রষ্টার নিজ সত্তার অনুরূপ কিছু সৃষ্টি করার সামর্থ্য থাকা, কিংবা নশ্বর বিষয়কে অনাদি করা, অথবা এই জাতীয় বিষয়গুলো।

 

আমি আমার "আল-আকিদাতুল ইসলামিয়্যাহ ওয়া আসাসুহা" (ইসলামি আক্বিদা ও এর মূলনীতিসমূহ) গ্রন্থে এই বিষয়টি অধিকতর ব্যাখ্যা ও বিশদভাবে বর্ণনা করেছি।

 

৪- যার স্বপক্ষে বুদ্ধিবৃত্তিক দলিল ও আলামত বিদ্যমান রয়েছে, সে ক্ষেত্রে বুদ্ধির অবস্থান হলো একজন সমর্থনকারী ও আত্মসমর্পণকারী সাক্ষীর মতো।

 

৫- এমন প্রতিটি বিষয়ে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা যেখানে বুদ্ধি বলে: 'আমি জানি না', কেননা আমার মানদণ্ডে এমন কোনো প্রকাশ্য দলিল নেই যা দ্বারা আমি এটি প্রমাণ করতে পারি, আবার এমন কোনো দলিলও নেই যা দ্বারা আমি এটি অস্বীকার করতে পারি।

আর এই আত্মসমর্পণ হলো নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত ধর্মীয় ভাষ্যের সাক্ষ্যের সত্যায়ন, যা সংবাদ-সংক্রান্ত দলিলাদি যাচাইয়ের মূলনীতি অনুযায়ী প্রমাণিত। ধর্মীয় ভাষ্যের সাক্ষ্যকে সত্যায়ন করার পেছনে একটি অকাট্য বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি রয়েছে। কারণ বুদ্ধি বলে: ইসলামের যেসব সংবাদ নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত বলে আমি নিশ্চিত হয়েছি, সেখানে আমি সত্য ছাড়া আর কিছুই পাইনি। এবং সেখানে আমি যা কিছু পেয়েছি যার প্রকৃত হাকিকত আমি নিজে উপলব্ধি করতে পেরেছি, তা সত্য ও সঠিক ছিল। বুদ্ধি আরও বলে: যিনি তাঁর নবী ও রাসুলগণের মাধ্যমে মুজিজা প্রকাশের মাধ্যমে মহাবিশ্বের প্রতিষ্ঠিত নিয়মাবলি পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেন, তিনি আমাকে জানাচ্ছেন যে সমগ্র মহাবিশ্ব তাঁর অনুগত।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
لقدرته وإرادته، وليعلمني بأن أخباره التي يبلغها أنبياؤه ورسله أخبار صادقة، لا يمكن أن تكون أخباره عن الغيوب التي لا أستطيع الوصول إليها بنفسي أخباراً مخالفة لحقيقة الغيب وواقعه.

 

لكل ذلك فإنه يجب التسليم بها تسليماً قاطعاً لا يداخله ريب.

 

(4)

 

منهج الإسلام في المعرفة

 

الأساس الأول للمعرفة في الفكر الإسلامي يقوم على أن المعرفة الصحيحة هي ما كان مطابقاً للواقع والحقيقة، فما كان مطابقاً لذلك فهو حق، وما لم يكن مطابقاً له فهو باطل، وقد تكون الصورة الذهنية أو القولية مطابقة للواقع والحقيقة من بعض الوجوه، ومخالفة من بعض الوجوه، فيكون فيها من الحق على مقدار المطابقة، ومن الباطل على مقدار المخالفة.

 

والقاعدة الكلية التي تأتي وراء هذا الأساس هي: أن كل وسيلة صحيحة تعطينا صورة صادقة عن الواقع والحقيقة هي وسيلة يجب الاعتماد عليها والثقة بها في تحصيل المعرفة، والمرجع الأول والأخير دائماً هو الواقع، وبالواقع تقاس النتائج. وعلى هذه القاعدة قام بناء الفكر الإسلامي.

 

أما وسائل المعرفة التي يجب اعتمادها في الفكر الإسلامي فتتلخص بثلاث وسائل:

 

الوسيلة الأولى: المعرفة المباشرة، وتكون بالإدراك الحسي، ولو عن طريق الأجهزة والأدوات.

 

الوسيلة الثانية: الاستدلال العقلي بمختلف طرقه الاستنتاجية والاستنباطية.

الوسيلة الثالثة: الخبر الصادق، ومن الخبر الصادق الوحي، وهنا يعترضنا سؤال وهو: إذا كان الهدف الأول والرئيسي هو أن تكون المعرفة مطابقة للواقع والحقيقة، فماذا نصنع حينما تختلف وسائل المعرفة حول موضوع واحد، أو حول نقطة في موضوع واحد؟
তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছার জন্য; এবং তিনি যেন আমাকে জানিয়ে দেন যে, তাঁর নবি ও রাসুলগণ যে সংবাদ পৌঁছে দেন তা সত্য সংবাদ। গায়ব বা অদৃশ্যের যে বিষয়গুলোতে আমি নিজে পৌঁছাতে অক্ষম, সে সম্পর্কে তাঁর প্রদত্ত সংবাদসমূহ গায়বের হাকিকত ও বাস্তবতার পরিপন্থী হওয়া অসম্ভব।

 

এসব কারণেই সেগুলোর প্রতি কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই দৃঢ়ভাবে আত্মসমর্পণ করা ওয়াজিব।

 

(৪)

 

জ্ঞানে ইসলামের মানহাজ

 

ইসলামি চিন্তাধারায় জ্ঞানের প্রথম ভিত্তি হলো এই যে, সঠিক জ্ঞান হলো যা বাস্তবতা ও হাকিকতের সাথে সংগতিপূর্ণ। সুতরাং যা এর সাথে সংগতিপূর্ণ তা সত্য, আর যা এর সাথে সংগতিপূর্ণ নয় তা মিথ্যা। মানসিক বা ভাষাগত কোনো ধারণা কোনো কোনো দিক থেকে বাস্তবতা ও হাকিকতের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে পারে আবার কোনো কোনো দিক থেকে পরিপন্থী হতে পারে। এমতাবস্থায় সংগতিপূর্ণ হওয়ার মাত্রা অনুযায়ী তাতে সত্য বিদ্যমান থাকে এবং পরিপন্থী হওয়ার মাত্রা অনুযায়ী তাতে মিথ্যা বিদ্যমান থাকে।

 

এই ভিত্তির পেছনে যে সামগ্রিক নিয়মটি বিদ্যমান তা হলো: প্রত্যেকটি সঠিক মাধ্যম যা আমাদের বাস্তবতা ও হাকিকত সম্পর্কে সত্য ধারণা প্রদান করে, জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে সেই মাধ্যমের ওপর নির্ভর করা ও বিশ্বাস রাখা ওয়াজিব। সর্বদাই প্রথম ও শেষ মানদণ্ড হলো বাস্তবতা, এবং বাস্তবতার আলোকেই ফলাফল পরিমাপ করা হয়। এই নিয়মের ওপরই ইসলামি চিন্তাধারার অট্টালিকা নির্মিত হয়েছে।

 

ইসলামি চিন্তাধারায় জ্ঞান অর্জনের যে মাধ্যমগুলোর ওপর নির্ভর করা আবশ্যক, তা তিনটি মাধ্যমে সংক্ষেপে বর্ণনা করা যায়:

 

প্রথম মাধ্যম: প্রত্যক্ষ জ্ঞান; যা ইন্দ্রিয়লব্ধ উপলব্ধির মাধ্যমে অর্জিত হয়, তা কোনো যন্ত্র বা সরঞ্জামের মাধ্যমে হলেও।

 

দ্বিতীয় মাধ্যম: বিভিন্ন প্রকার অনুমানমূলক ও গবেষণা নির্ভর যৌক্তিক প্রমাণাদি।

তৃতীয় মাধ্যম: সত্য সংবাদ; আর ওহি হলো সত্য সংবাদের অন্তর্ভুক্ত। এখানে আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন উপস্থিত হয়: যদি প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হয় জ্ঞানকে বাস্তবতা ও হাকিকতের সাথে সংগতিপূর্ণ করা, তবে যখন একই বিষয়ে বা একই বিষয়ের কোনো বিন্দুতে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন আমরা কী করব?
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
هل نعتمد وسيلة الإدراك الحسي؟

أو وسيلة الاستدلال العقلي؟

أو وسيلة الخبر الصادق؟

أو ماذا نصنع … ؟

 

ونجيب على هذا السؤال بما يلي:

حينما يكون دليل وسيلة من هذه الوسائل هو الدليل الأقوى في الموضوع فإنه ينبغي اعتماده وترجيحه، فإذا كان دليل الحس قائماً على مشاهدة صحيحة يقينية خالية من احتمال الخطأ، مؤكدة بتوافق الحواس في إدراكها، كان دليل الحس هو الذي ينبغي اعتماده، ومن ثم يعاد النظر في الاستدلال العقلي إذا كان الخلاف معه أو يعاد النظر في دليل الخبر الصادق إذا كان الخلاف معه، وإعادة النظر في دليل الخبر الصادق قد لا تحتاج أكثر من تصحيح فهم النص، والنظر في تأويله بما يتفق مع النتائج اليقينية التي قدمها دليل الحس، وذلك لأن الغاية من استخدام وسائل المعرفة إنما هو الوصول إلى معرفة مطابقة للواقع، وليس من الممكن أن يتناقض الواقع مع نفسه، وحينما يظهر خلاف أو تناقض في النتائج التي قدمتها الوسائل فلا بد أن خطأ قد دخل حتماً في بعضها أو في كلها، وعندئذ لا مناص من مراجعة الأدلة والتمحيص فيها، وإعادة النظر وزيادة التحري عن الحقيقة لاكتشاف مواقع الخطأ والخلل. وتظل المراجعة مفتوحة حتى يتم اكتشاف المخطئ منها، ثم ما يثبت منها الواقع والحقيقة بصفة يقينية يكون هو الجدير بالاعتماد، ثم يعاد النظر في غيره حتى نصححه وننتهي إلى التوافق التام في النتائج، فمن المستحيل في منطق الوجود أن تتناقض الأدلة اليقينية في معطياتها العلمية، وحينما نجد التناقض في هذه المعطيات فلا بد من وجود خلل أو خطأ في بعض الأدلة أو في كلها.

وتخضع النصوص الدينية لحكم هذا المنهج العلمي، لأن الحقيقة الواقعة في الوجود هي من خلق الله تعالى، والله محيط بكل شيء علماً، وحينما يخبرنا عن شيء منها فلا بد أن يكون خبره مطابقاً لما هي عليه في الواقع، لأنه يستحيل الجهل أو الكذب عليه سبحانه.
আমরা কি ইন্দ্রিয়লব্ধ উপলব্ধির মাধ্যমকে গ্রহণ করব?

নাকি বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের মাধ্যমকে?

নাকি সত্য সংবাদের মাধ্যমকে?

নাকি আমরা কী করব … ?

 

আমরা এই প্রশ্নের উত্তর নিম্নোক্তভাবে দিচ্ছি:

যখন এই মাধ্যমগুলোর কোনো একটির দলিল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধিকতর শক্তিশালী হয়, তখন সেটিকে গ্রহণ করা ও প্রাধান্য দেওয়া আবশ্যক। সুতরাং যদি ইন্দ্রিয়জাত দলিল কোনো নির্ভুল ও সুনিশ্চিত পর্যবেক্ষণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় যা ভুলের সম্ভাবনা থেকে মুক্ত এবং তার উপলব্ধিতে ইন্দ্রিয়সমূহের ঐকমত্যের মাধ্যমে সমর্থিত, তবে সেক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়জাত দলিলই হবে গ্রহণীয়। অতঃপর যদি বুদ্ধিবৃত্তিক দলিলের সাথে এর বিরোধ দেখা দেয় তবে তা পুনর্বিবেচনা করা হবে, অথবা যদি সত্য সংবাদের দলিলের সাথে এর বিরোধ হয় তবে তাও পুনর্বিবেচনা করা হবে। আর সত্য সংবাদের দলিল পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে মূল পাঠের (নস) সঠিক মর্ম উপলব্ধি করা এবং ইন্দ্রিয়জাত দলিলের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুনিশ্চিত ফলাফলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তার ব্যাখ্যা (তাবিল) প্রদান করার চেয়ে বেশি কিছুর প্রয়োজন নাও হতে পারে। কেননা জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমসমূহ ব্যবহারের উদ্দেশ্যই হলো বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ জ্ঞান লাভ করা, আর বাস্তবতার পক্ষে নিজের সাথে বিরোধপূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। যখন এই মাধ্যমগুলোর দেওয়া ফলাফলের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য বা বৈপরীত্য প্রকাশ পায়, তখন নিশ্চিতভাবেই বুঝতে হবে যে তার কোনো একটিতে বা সবগুলোতে কোনো ভুল প্রবেশ করেছে। এমতাবস্থায় দলিলসমূহ পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই করা এবং ভুল ও ত্রুটির উৎসগুলো উদঘাটনের জন্য সত্য অনুসন্ধানে আরও গভীরভাবে দৃষ্টি দেওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না। এই পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না ভুলটি চিহ্নিত হয়। অতঃপর যা সুনিশ্চিতভাবে বাস্তবতা ও সত্য হিসেবে প্রমাণিত হবে, সেটিই হবে নির্ভরযোগ্য। এরপর অন্যান্য বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে যাতে আমরা সেগুলো সংশোধন করতে পারি এবং চূড়ান্তভাবে ফলাফলের মধ্যে পূর্ণ ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারি। অস্তিত্বের যুক্তিতে এটা অসম্ভব যে সুনিশ্চিত দলিলসমূহ তাদের বৈজ্ঞানিক তথ্যে পরস্পর বিরোধী হবে। যখন আমরা এই তথ্যগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য খুঁজে পাই, তখন অবশ্যই কিছু দলিলে বা সবগুলোতে কোনো ত্রুটি বা ভুল বিদ্যমান থাকে।

ধর্মীয় পাঠ্যসমূহও এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। কারণ অস্তিত্বের মাঝে বিরাজমান বাস্তবতা মহান আল্লাহরই সৃষ্টি, আর আল্লাহ তাঁর জ্ঞানে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন। যখন তিনি আমাদের এ সম্পর্কে কোনো সংবাদ দেন, তখন অবশ্যই তাঁর সেই সংবাদ বাস্তবতার সাথে হুবহু মিলে যাবে; কারণ তাঁর ক্ষেত্রে অজ্ঞতা বা মিথ্যার সম্ভাবনা অসম্ভব, তিনি অতি পবিত্র।
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
والمشكلة قد تأتي - كما سبق أن أوضحت - من الخطأ في فهم النص الديني الثابت، وفهم النص الديني عمل اجتهادي إنساني، وهذا الفهم الإنساني للنص قد يصيب وقد يخطئ، فإذا أخطأ الاجتهاد في الفهم فليس معنى خطئه أن النص هو المخطئ، ولكن المخطئ هو الإنسان غير المعصوم، الذي اجتهد في فهم معنى النص، وفي هذه الحالة علينا أن نراجع فهمنا للنص، ونعيد تدبُّرنا له، حتى نصل إلى المعنى اليقيني الذي تم الوصول إليه بيقين عن طريق الإدراك الحسي أو الاستدلال العقلي.

 

ولا يكون التعصب للاجتهاد الذي أخطأ فيه صاحبه إلا خدمة للذين يحاولون بكل ما يستطيعون من جهد أن يثبتوا التناقض بين ما يأتي به الدين، وبين الحقائق التي تأتي بها الوسائل الإنسانية للبحث العلمي، لطعن الدين من أساسه، ونسف قواعده القائمة على الحق، وإشاعة الإلحاد والمادية التي لا تؤمن بالله.

 

وقد تأتي المشكلة أيضاً من كون النص الديني نصاً غير ثابت ثبوتاً قطعياً، لأنه لم تتوافر له الروايات الصحيحة التي تجعله قطعيّ الثبوت، وبدهي في هذه الحالة أن يكون الدليل الحسي اليقيني أو الدليل العقلي اليقيني أقوى من دليل الخبر الظني الذي لم يبلغ مبلغ القطعية، فإن أمكن تأويل النص أقوى من دليل الخبر الظني الذي لم يبلغ مبلغ القطعية، فإن أمكن تأويل النص بما يتفق مع النتائج اليقينية للأدلة الأخرى أولناه، وإلا أخذنا بالنتائج اليقينية حتماً، وتركنا النص ودلالته، ولا يضرنا هذا في الدين، لأن قبولنا له من الأساس قد كان بصفة ترجيحية لا بصفة قطعية.

فإذا سأل سائل فقال: هل لنا أن نؤول النصوص الدينية أو نخصصها بدليل الحس أو بدليل العقل، حتى تكون دلالتها مطابقة للواقع والحقيقة؟

 

كان جوابنا بالإيجاب حتماً، وبأن هذا العمل من القواعد المقررة في علوم الشريعة الإسلامية، يقول علماء أصول الفقه في أبواب تخصيص العام: "لا خلاف في جواز تخصيص العموم" ويقررون في أبواب تأويل الظاهر: "أنه يجوز التأويل متى كان دليله أرجح من دليل العمل بالظاهر، ويجب التأويل متى كان دليله دليلاً قاطعاً لا يجوز العدول عنه" ويذكرون من أدلة تخصيص العموم: "دليل الحس،
সমস্যাটি আসতে পারে - যেমন আমি আগে স্পষ্ট করেছি - অপরিবর্তনীয় ধর্মীয় পাঠ (নাস) বোঝার ভুল থেকে, আর ধর্মীয় পাঠ বোঝা একটি মানবিক গবেষণালব্ধ কাজ। পাঠের এই মানবিক অনুধাবন সঠিকও হতে পারে আবার ভুলও হতে পারে। যদি গবেষণায় বোঝার ক্ষেত্রে ভুল হয়, তবে তার ভুলের অর্থ এই নয় যে পাঠটি ভুল, বরং ভুলকারী হলেন সেই নিষ্পাপ নন এমন মানুষ, যিনি পাঠের অর্থ বোঝার জন্য গবেষণা করেছেন। এমতাবস্থায় আমাদের উচিত পাঠ সম্পর্কে আমাদের বুঝকে পর্যালোচনা করা এবং তা নিয়ে পুনরায় চিন্তা-গবেষণা করা, যতক্ষণ না আমরা সেই সুনিশ্চিত অর্থে পৌঁছাতে পারি যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতি বা বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে লাভ করা হয়েছে।

 

যে গবেষণায় তার প্রণেতা ভুল করেছেন, তার প্রতি গোঁড়ামি প্রদর্শন করা কেবল তাদেরই সেবা করা যারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে ধর্মের আনীত বিষয় এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার মানবিক উপায়ে প্রাপ্ত সত্যের মধ্যে বৈপরীত্য প্রমাণ করার চেষ্টা করে; যাতে ধর্মের মূলে আঘাত করা যায়, সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এর ভিত্তিগুলোকে ধূলিসাৎ করা যায় এবং নাস্তিক্যবাদ ও বস্তুবাদ ছড়িয়ে দেওয়া যায় যা আল্লাহতে বিশ্বাস করে না।

 

সমস্যাটি এমন থেকেও হতে পারে যে, ধর্মীয় পাঠটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত নয়; কারণ এটি এমন বিশুদ্ধ বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে আসেনি যা একে অকাট্যভাবে প্রমাণিত করে তোলে। এমতাবস্থায় এটি স্বতঃসিদ্ধ যে, সুনিশ্চিত ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণ বা সুনিশ্চিত বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি সেই ধারণা-প্রসূত সংবাদের প্রমাণের চেয়ে অধিক শক্তিশালী যা অকাট্যতার স্তরে পৌঁছায়নি। যদি পাঠটিকে অন্যান্য প্রমাণের সুনিশ্চিত ফলাফলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়, তবে আমরা তার ব্যাখ্যা করব; অন্যথায় আমরা আবশ্যিকভাবে সুনিশ্চিত ফলাফলকেই গ্রহণ করব এবং পাঠ ও তার অর্থগত নির্দেশনা বর্জন করব। এটি ধর্মে আমাদের কোনো ক্ষতি করবে না, কারণ আমাদের এটি গ্রহণ করা মূলত ছিল একটি প্রাধান্যমূলক ভিত্তিতে, অকাট্য ভিত্তিতে নয়।

যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন: আমাদের জন্য কি ধর্মীয় পাঠগুলোর ব্যাখ্যা করা বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণের মাধ্যমে সেগুলোকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব, যাতে সেগুলোর অর্থগত নির্দেশনা বাস্তব ও সত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়?

 

আমাদের উত্তর অবশ্যই ইতিবাচক হবে এবং এটি ইসলামি শরিয়াহ বিজ্ঞানের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত। উসুলে ফিকহবিদগণ সাধারণ বিধানের সীমাবদ্ধকরণ অধ্যায়ে বলেন: "সাধারণ বিধানকে সীমাবদ্ধকরণের বৈধতার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।" এবং তারা বাহ্যিক পাঠের ব্যাখ্যার অধ্যায়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন: "যখন ব্যাখ্যার প্রমাণটি বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করার প্রমাণের চেয়ে বেশি প্রাধান্যযোগ্য হয়, তখন ব্যাখ্যা করা বৈধ; আর যখন ব্যাখ্যার প্রমাণটি এমন অকাট্য প্রমাণ হয় যা থেকে বিমুখ হওয়া বৈধ নয়, তখন ব্যাখ্যা করা আবশ্যক।" তারা সাধারণ বিধানকে সীমাবদ্ধ করার প্রমাণগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেন: "ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য প্রমাণ,"
(খণ্ড: ১) সিরাউম মায়াল মুলাহিদাহ হাত্তাল আজম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ودليل العقل" ونظير ذلك يكون في تأويل الظاهر، فيتم التأويل بناء على دليل الحس أو دليل العقل.

 

هذا هو منهجنا الإسلامي فيما يتعلق بالنصوص الدينية ودلالتها على حقائق الأشياء.

 

ولكن يجب الحذر الشديد لدى تطبيق هذا المنهج، حتى لا يدخل علينا الدس الماكر باسم الحقائق العلمية التي توصلت إليها نتائج البحث العلمي بالوسائل الإنسانية البحتة، فكثير من النتائج التي تُقرَّر على أنها حقائق علمية عند أصحاب البحث العلمي المادي لا تعدو أنها نظريات أو فرضيات قابلة للتعديل أو التغيير أو النقض الكلي، وليست حقائق علمية يقينية عند أصحابها، ولكن أصحاب الأهواء أو صغار المثقفين الذين لا يقدرون المعارف العلمية حق قدرها، وينخدعون بدعايات الترويج التجاري أو السياسي للنظريات أو الفرضيات العلمية، قد يزعمون أنها حقائق ويقينيات علمية، وليست هي في الواقع كذلك، ثم يحملونها حمل الببغاوات أو حمل الأجراء، ثم يقولون: إن بين الحقائق العلمية وبين النصوص الدينية تناقضاً، ويقصدون بالحقائق العلمية هذه النظريات أو الفرضيات التي لم تثبت بعد في نظر واضعيها ثبوتاً يقينياً أو نهائياً، فضلاً عن أن تكون يقينيات في نظر غيرهم من الذين يعارضون فيها.

وأمام هذه النظريات أو الفرضيات لا نجد أنفسنا ملزمين علمياً بتحديد معاني النصوص الدينية التي تتناول الموضوع نفسه تحديداً قاطعاً.

 

والخطة المثلى أن نطرح الاحتمالات دلالاتها طرحاً غير مقترن بترجيح ولا تثبيت، وحينما نرى أن نرجح فعلينا أن لا نجزم، وأن نترك الجز لمستقبل البحث العلمي، وننتظر إثبات الحقيقة العلمية بوسيلة يقينية، فالمضمون لا يتعلق به حكم شرعي يجب العمل به، لذلك فلا ضير من التريث والأناة، هذا إذا لم يكن النص اليقيني قاطعاً في دلالته.

 

أما إذا كان قاطعاً في دلالته، أو كان من الأمور المتعقلة بالتشريع والأحكام الدينية، أو من الغيب الاعتقادي الذي لا تملك الوسائل الإنسانية الوصول إلى شيء
"বিবেকের দলিল" এবং এর অনুরূপ বিষয়গুলো বাহ্যিক অর্থের ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হয়, ফলে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য দলিল বা বিবেকের দলিলের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা সম্পন্ন হয়।

 

ধর্মীয় মূল পাঠ এবং বস্তুনিচয়ের প্রকৃত তত্ত্বের ওপর সেগুলোর নির্দেশনার ক্ষেত্রে এটাই আমাদের ইসলামি পদ্ধতি।

 

তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকা আবশ্যক, যাতে বিশুদ্ধ মানবিক উপায়ে পরিচালিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফলের মাধ্যমে অর্জিত বৈজ্ঞানিক সত্যের নামে কোনো ধূর্ত অনুপ্রবেশ আমাদের মাঝে ঘটে না যায়। কারণ বস্তুগত বৈজ্ঞানিক গবেষণার অনুসারীদের নিকট বৈজ্ঞানিক সত্য হিসেবে নির্ধারিত অনেক ফলাফলই আসলে কেবল কিছু মতবাদ বা অনুকল্প ছাড়া আর কিছু নয়, যা পরিমার্জন, পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ বাতিলের উপযোগী; এমনকি তাদের কাছেও এগুলো নিশ্চিত কোনো বৈজ্ঞানিক সত্য নয়। কিন্তু প্রবৃত্তির অনুসারী বা অল্পশিক্ষিতরা যারা বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারে না এবং বৈজ্ঞানিক মতবাদ বা অনুকল্পের বাণিজ্যিক বা রাজনৈতিক প্রচারণায় প্রলুব্ধ হয়, তারা এগুলোকে বৈজ্ঞানিক সত্য ও নিশ্চিত বিষয় বলে দাবি করতে পারে, যদিও বাস্তবে তা তেমন নয়। অতঃপর তারা তোতাপাখির মতো বা ভাড়াটে লোকের মতো তা বহন করে এবং বলে যে: বৈজ্ঞানিক সত্য এবং ধর্মীয় মূল পাঠের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে। আর বৈজ্ঞানিক সত্য বলতে তারা সেই সব মতবাদ বা অনুকল্পকে বোঝায় যা স্বয়ং সেগুলোর প্রণেতাদের নিকটই এখনো নিশ্চিত বা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি, অন্যের কাছে নিশ্চিত হওয়ার কথা তো বহু দূরের বিষয় যারা এগুলোর বিরোধিতা করে।

এই সব মতবাদ বা অনুকল্পের সামনে আমরা সেই একই বিষয় নিয়ে আলোচিত ধর্মীয় মূল পাঠগুলোর অর্থ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করতে বৈজ্ঞানিকভাবে নিজেদের দায়বদ্ধ মনে করি না।

 

সর্বোত্তম পরিকল্পনা হলো অর্থ নির্দেশনার সম্ভাবনাগুলোকে কোনো প্রাধান্য দান বা স্থিরীকরণ ছাড়াই উপস্থাপন করা। আর যখন আমরা কোনো একটিকে প্রাধান্য দেয়া সমীচীন মনে করি, তখন আমাদের উচিত হবে না সেটাকে চূড়ান্ত বলে ঘোষণা করা; বরং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক গবেষণার ওপর ছেড়ে দেয়া এবং কোনো নিশ্চিত উপায়ে বৈজ্ঞানিক সত্যটি প্রমাণিত হওয়ার অপেক্ষা করা। কারণ এর বিষয়বস্তুর সাথে এমন কোনো শরিয়তসম্মত বিধান সংশ্লিষ্ট নয় যা পালন করা আবশ্যক। তাই এক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ ও ধীরস্থিরতা অবলম্বনে কোনো ক্ষতি নেই—যদি না বিষয়টি এমন হয় যেখানে নিশ্চিত মূল পাঠটি তার নির্দেশনায় অকাট্য হয়।

 

পক্ষান্তরে, যদি তা তার নির্দেশনায় অকাট্য হয়, অথবা তা শরিয়ত প্রণয়ন ও ধর্মীয় বিধান সংক্রান্ত কোনো বিষয় হয়, অথবা বিশ্বাসগত অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত হয় যেখানে পৌঁছানোর মতো কোনো সামর্থ্য মানবিক উপায়-উপকরণের নেই—