(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: -)
الأهوال لابن أبي الدنيا (ابن أبي الدنيا)
القسم: كتب السنة
الكتاب: الأهوال.
المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)
المحقق: مجدي فتحي السيد.
دار النشر: مكتبة آل ياسر - مصر.
عام النشر: 1413 هـ.
عدد الصفحات: 225
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আবিদ দুনিয়া রচিত আল-আহওয়াল (কেয়ামতের ভয়াবহতা) (ইবনে আবিদ দুনিয়া)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-আহওয়াল.
লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হি.)
তাহকিককারী: মাজদি ফাতহি আস-সাইয়িদ.
প্রকাশনী: মাকতাবাতু আলি ইয়াসির - মিশর.
প্রকাশকাল: ১৪১৩ হিজরি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২২৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢)
ذِكْرُ تَقْرِيبِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ
কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার আলোচনা
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢)
1 - دنا الْكُدَيْمِيُّ، دثنا مُحْرِزُ بْنُ هَارُونَ الْمَدَنِيُّ التَّيْمِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ الْأَعْرَجَ، يَذْكُرُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " بَادِرُوا الْأَعْمَالَ سَبْعًا، مَا تَنْتَظِرُونَ إِلَّا فَقْرًا مُنْسِيًا، أَوْ غِنًى مُطْغِيًا، أَوْ مَرَضًا مُفْسِدًا، أَوْ هَرَمًا مُقْعِدًا، أَوْ مَوْتًا مُجْهِزًا، أَوِ الْمَسِيحَ فَشَرُّ مُنْتَظَرٍ، أَوِ السَّاعَةَ، {وَالسَّاعَةُ أَدْهَى} [القمر: 46] وَأَمَرُّ "
১ - আল-কুদাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহরিজ বিন হারুন আল-মাদানি আল-তাইমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল-আ’রাজকে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সাতটি বিষয়ের পূর্বে দ্রুত আমল করো। তোমরা কি কেবল এমন দারিদ্র্যের অপেক্ষা করছ যা (সব কিছু) ভুলিয়ে দেয়, নাকি এমন প্রাচুর্যের যা অবাধ্য করে তোলে, নাকি এমন অসুস্থতার যা স্বাস্থ্য ভেঙে দেয়, নাকি এমন বার্ধক্যের যা অক্ষম করে ফেলে, নাকি এমন আকস্মিক মৃত্যুর যা দ্রুত শেষ করে দেয়, নাকি দাজ্জালের—যা হবে অপেক্ষমান নিকৃষ্টতম বিষয়, নাকি কিয়ামতের? আর কিয়ামত তো অধিকতর ভয়াবহ ও তিক্ততর [সূরা আল-কামার: ৪৬]।"
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٣)
2 - وَثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، دثنا ضِمَامُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ مُوسَى بْنِ وَرْدَانَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ، أَنَا النَّذِيرُ، وَالْمَوْتُ الْمُغِيرُ، وَالسَّاعَةُ الْمَوْعِدُ»
২ - আমাকে সুওয়াইদ ইবন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, যিমাম ইবন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মূসা ইবন ওয়ারদান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: «হে বনু আবদে মানাফ! আমি হলাম সতর্ককারী, মৃত্যু হলো অতর্কিত আক্রমণকারী এবং কিয়ামত হলো প্রতিশ্রুত সময়।»
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٤)
3 - وَثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْأَدَمِيُّ، دثنا أَبُو ضَمْرَةَ أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا خَطَبَ فَذَكَرَ السَّاعَةَ رَفَعَ صَوْتَهُ، وَاحْمَرَّتْ وَجْنَتَاهُ، كَأَنَّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ يَقُولُ: «صَبَّحَتْكُمْ أَوْ مَسَّتْكُمْ» ، وَيَقُولُ: «بُعِثْتُ أَنَا مِنَ السَّاعَةِ كَهَاتَيْنِ، يَقْرُنُ بَيْنَ أُصْبُعَيْهِ الْوُسْطَى وَالَّتِي تَلِي الْإِبْهَامَ»
৩ - আর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-আদামি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দামরাহ আনাস ইবনে ইয়াদ, জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন খুতবা প্রদান করতেন এবং কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করতেন, তখন তাঁর কণ্ঠস্বর উচ্চ হতো এবং তাঁর গালদ্বয় লাল হয়ে যেত, যেন তিনি কোনো এক সৈন্যদলের সতর্ককারী এবং বলছেন: «সকাল কিংবা সন্ধ্যায় তা তোমাদের ওপর আপতিত হবে»; এবং তিনি বলতেন: «আমি এবং কিয়ামত এই দুটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি, এই বলে তিনি তাঁর মধ্যমা আঙ্গুল এবং বৃদ্ধাঙ্গুলির পার্শ্ববর্তী আঙ্গুলটি (তর্জনী) একত্রিত করতেন।»
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥)
4 - وَثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْعِجْلِيُّ، وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَيُّوبَ، دثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةَ كَهَاتَيْنِ»
4 - এবং আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আল-ইজলি ও আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট আবু বকর বিন আইয়াশ বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমি এবং কিয়ামত এই দুইটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি।’»
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٥)
5 - دثني أَبُو مُسْلِمٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يُونُسَ، دثنا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي جَبِيرَةَ بْنِ الضَّحَّاكِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بُعِثْتُ فِي نَسَمِ السَّاعَةِ» سَمِعْتُ أَعْرَابِيًّا يَقُولُ: «فِي أَوَّلِ وَقْتِهَا»
৫ - আবু মুসলিম আবদুর রহমান বিন ইউনুস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আবি খালিদ থেকে, তিনি কায়েস বিন আবি হাজিম থেকে, তিনি আবু জাবীরাহ বিন আদ-দাহহাক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমি কিয়ামতের সমীরণের (প্রাক্কালের) ন্যায় প্রেরিত হয়েছি»। আমি একজন বেদুইনকে বলতে শুনেছি: «তার প্রাথমিক সময়ে»।
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦)
6 - وَثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، دثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَرْوَةَ قَالَ: " مَا زَالَ صلى الله عليه وسلم يُسْأَلُ عَنِ السَّاعَةِ حَتَّى نَزَلَ عَلَيْهِ: {فِيمَ أَنْتَ مِنْ ذِكْرَاهَا إِلَى رَبِّكَ مُنْتَهَاهَا} [النازعات: 44] فَلَمْ يُسْأَلْ بَعْدَ ذَلِكَ "
৬ - এবং ইসহাক বিন ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিয়ামত সম্পর্কে অনবরত জিজ্ঞাসা করা হতো, যতক্ষণ না তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হলো: {এর আলোচনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক? এর চূড়ান্ত জ্ঞান তো আপনার প্রতিপালকের কাছেই} [আন-নাযিআত: ৪৪]। এরপর তাঁকে আর সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়নি।"
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٦)
7 - دثنا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، دثنا وَكِيعٌ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ: " كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا يَزَالُ يَذْكُرُ مِنْ شَأْنِ السَّاعَةِ حَتَّى نَزَلَتْ: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا فِيمَ أَنْتَ مِنْ ذِكْرَاهَا} [النازعات: 43] "
৭ - ইউসুফ ইবনু মূসা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ওয়াকী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আবু খালিদ থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিয়ামতের বিষয়টি অনবরত আলোচনা করতে থাকতেন যতক্ষণ না অবতীর্ণ হলো: {তারা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে, তা কখন সংঘটিত হবে? এর আলোচনার সাথে আপনার কী সম্পর্ক?} [আন-নাযিআত: ৪৩]"
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٧)
8 - دثني إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُسْتَمِرِّ النَّاجِيُّ، دثنا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، دثنا سَهْلُ بْنُ أَبِي الصَّلْتِ السَّرَّاجُ، عَنِ الْحَسَنِ، {السَّمَاءُ مُنْفَطِرٌ بِهِ} [المزمل: 18] قَالَ: «مَحْزُونَةٌ، مُثْقَلَةٌ»
৮ - ইব্রাহিম ইবনে আল-মুস্তামির আল-নাজি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু দাউদ আল-তায়ালিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাহল ইবনে আবি আল-সলত আল-সাররাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান থেকে বর্ণিত, {আকাশ তার কারণে বিদীর্ণ হবে} [আল-মুযযাম্মিল: ১৮] তিনি বলেছেন: «ব্যথিত ও ভারাক্রান্ত»
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٧)
9 - دثنا فُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، دثنا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ، عَنِ الْحَسَنِ، فِي قَوْلِهِ: {السَّمَاءُ مُنْفَطِرٌ بِهِ} [المزمل: 18] قَالَ: «مُثْقَلَةٌ»
৯ - আমাদের নিকট ফুদাইল ইবনুল আব্দুল ওয়াহহাব বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইয়াযীদ ইবনু যুরায় বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু রাজা থেকে, তিনি হাসান থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {আসমান সেই কারণে বিদীর্ণ হয়ে যাবে} [মুয্যাম্মিল: ১৮], তিনি বলেন: "ভারাক্রান্ত"।
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٧)
10 - دثنا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ الْمُهَلَّبِيُّ، دثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَتَشٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ: «إِذَا قَامَتِ السَّاعَةُ صَرَخَتِ الْحِجَارَةُ صُرَاخَ النِّسَاءِ، وَقَطَرَتِ الْعِضَاهُ دَمًا»
১০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন খিদাশ আল-মুহাল্লাবি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসান বিন আতাশ, ইমরান বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে, তখন পাথরসমূহ নারীদের চিৎকারের ন্যায় চিৎকার করে উঠবে এবং কাঁটাযুক্ত বৃক্ষসমূহ হতে রক্ত ঝরবে»
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٨)
11 - دثنا فُضَيْلُ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، دثنا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنِي مَطَرٌ الْوَرَّاقُ، قَالَ: بَاتَ هَرِمُ بْنُ حَيَّانَ الْعَبْدِيُّ عِنْدَ حُمَمَةَ، فَبَاتَ حُمَمَةُ بَاكِيًا حَتَّى أَصْبَحَ، فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ لَهُ: مَا الَّذِي أَبْكَاكَ اللَّيْلَةَ؟ قَالَ: «ذَكَرْتُ لَيْلَةً صَبِيحَتُهَا تَنَاثُرُ الْكَوَاكِبِ» ، وَبَاتَ حُمَمَةُ عِنْدَ هَرِمٍ، فَبَاتَ هَرِمُ بْنُ حَيَّانَ بَاكِيًا حَتَّى أَصْبَحَ، فَلَمَّا أَصْبَحَ قَالَ لَهُ حُمَمَةُ: مَا أَبْكَاكَ؟ قَالَ: «ذَكَرْتُ لَيْلَةً صَبِيحَتُهَا تَبَعْثُرُ الْقُبُورِ لِلْحَشْرِ إِلَى اللَّهِ»
১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফুযাইল বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর বিন সুলাইমান, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মাতার আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: হারিম বিন হাইয়ান আল-আবদী (রাহিমাহুল্লাহ) হুমামাহর নিকট রাত যাপন করলেন। তখন হুমামাহ সকাল পর্যন্ত ক্রন্দনরত অবস্থায় রাত কাটালেন। যখন সকাল হলো, তিনি (হারিম) তাকে বললেন: "আজ রাতে কিসে আপনাকে কাঁদাল?" তিনি বললেন: "আমি এমন এক রাতের কথা স্মরণ করেছি, যার প্রভাতে নক্ষত্ররাজি ঝরে পড়বে।" অতঃপর হুমামাহ হারিমের নিকট রাত যাপন করলেন। তখন হারিম বিন হাইয়ান সকাল পর্যন্ত ক্রন্দনরত অবস্থায় রাত কাটালেন। যখন সকাল হলো, হুমামাহ তাকে বললেন: "কিসে আপনাকে কাঁদাল?" তিনি বললেন: "আমি এমন এক রাতের কথা স্মরণ করেছি, যার প্রভাতে আল্লাহর সমীপে হাশরের উদ্দেশ্যে কবরসমূহ উন্মোচিত হবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٩)
12 - دثنا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، دثنا أَحْمَدُ بْنُ الْحَجَّاجِ بْنِ مُحَمَّدٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي قَالَ: دثنا الْمَسْعُودِيُّ، قَالَ: كَانَ عَوْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ: «وَيْحِي، كَيْفَ تُهْنِئُنِي مَعِيشَتِي وَالْيَوْمُ الثَّقِيلُ أَمَامِي؟ أَمْ كَيْفَ أَغْفُلُ عَنْ أَمْرِ حِسَابِي، وَقَدْ أَظَلَّنِي، وَاقْتَرَبَ مِنِّي؟ أَمْ كَيْفَ لَا يَكْثُرُ بُكَائِي، وَلَا أَدْرِي مَا يُرَادُ بِي؟»
১২ - হারুন ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল-মাসউদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আউন ইবনে আবদুল্লাহ বলতেন: «হায় আমার আফসোস! কীভাবে আমার জীবনযাপন আমার নিকট আনন্দদায়ক হবে অথচ এক কঠিন দিন আমার সামনে? অথবা কীভাবে আমি আমার হিসাবের বিষয়ে উদাসীন থাকব অথচ তা আমাকে ছায়া দিয়ে ঘিরে ফেলেছে এবং আমার নিকটবর্তী হয়েছে? অথবা কেনই বা আমার ক্রন্দন বৃদ্ধি পাবে না অথচ আমি জানি না আমার ব্যাপারে কী ফয়সালা করা হবে?»
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٠)
13 - دثنا خَالِدُ بْنُ خِدَاشٍ، دثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، عَنْ بَكْرِ بْنِ مُضَرَ، قَالَ: كَانَ أَبُو الْهَيْثَمِ قَدْ مَاتَ وَلَدُهُ وَبَقِيَ لَهُ بُنَيٌّ صَغِيرٌ فَمَاتَ، فَقَامَ أَصْحَابُهُ يُعَزُّونَهُ، وَهُوَ فِي نَاحِيَةِ الْمَسْجِدِ مُكْتَئِبٌ حَزِينٌ، فَقَالَ: «مَا تَرَكَنِي حُزْنُ يَوْمِ الْقِيَامَةِ آسَى عَلَى مَا فَاتَنِي، وَلَا أَفْرَحُ بِمَا آتَانِي»
১৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ বিন খিদাশ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব, বাকর বিন মুদার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবুল হায়সামের এক সন্তান মারা গিয়েছিল এবং তার একটি ছোট পুত্র অবশিষ্ট ছিল, অতঃপর সে-ও মারা গেল। তখন তার সঙ্গীরা তাকে সান্ত্বনা দিতে উঠে দাঁড়াল, এমতাবস্থায় তিনি মসজিদের এক কোণে বিষণ্ণ ও দুঃখিত অবস্থায় ছিলেন। তিনি বললেন: «কিয়ামত দিবসের চিন্তা আমাকে যা হারিয়েছি তার জন্য আফসোস করতে দেয় না, আর যা আমাকে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে আনন্দিত হতেও অবকাশ দেয় না»
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١١)
14 - دثنا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ كَثِيرٍ، دثني قُرْطُ بْنُ حُرَيْثٍ أَبُو سَهْلٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ أَصْحَابِ الْحَسَنِ قَالَ: قَالَ الْحَسَنُ: «يَوْمَانِ وَلَيْلَتَانِ لَنْ تَسْمَعَ الْخَلَائِقُ بِمِثْلِهِنَّ قَطُّ، لَيْلَةٌ تَبِيتُ مَعَ أَهْلِ الْقُبُورِ وَلَمْ تَبِتْ لَيْلَةً قَبْلَهَا، وَلَيْلَةٌ صَبِيحَتُهَا يَوْمُ الْقِيَامَةِ، وَيَوْمَ يَأْتِيكَ الْبَشِيرُ مِنَ اللَّهِ إِمَّا بِالْجَنَّةِ، وَإِمَّا بِالنَّارِ، وَيَوْمَ تُعْطَى كِتَابَكَ إِمَّا بِيَمِينِكَ، وَإِمَّا بِشِمَالِكَ»
14 - আহমাদ ইবন ইবরাহীম ইবন কাসীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কুরত ইবন হুরাইস আবু সাহল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-হাসানের জনৈক সাথী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল-হাসান বলেছেন: «দুটি দিন এবং দুটি রাত এমন যে, সৃষ্টিজগত কখনো সেগুলোর মতো ভয়াবহ কিছুর কথা শোনেনি: একটি রাত যা তুমি কবরবাসীদের সাথে কাটাবে অথচ এর আগে কখনো তেমন রাত কাটাওনি; এবং এমন এক রাত যার ভোর হবে কিয়ামতের দিন। আর সেই দিন যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার নিকট সংবাদবাহক আসবে, হয় জান্নাতের সুসংবাদ নিয়ে নতুবা জাহান্নামের সংবাদ নিয়ে; এবং সেই দিন যখন তোমার আমলনামা তোমাকে প্রদান করা হবে, হয় তোমার ডান হাতে নতুবা তোমার বাম হাতে।»
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٢)
15 - دثنا حَمْزَةُ بْنُ الْعَبَّاسِ، ادنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، ادنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، ادنا سُفْيَانُ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ فَأُتِيَ بِشَرَابٍ، فَقَالَ: نَاوِلْهُ الْقَوْمَ، قَالُوا: نَحْنُ صِيَامٌ، قَالَ: «لَكِنِّي لَسْتُ بِصَائِمٍ» ، ثُمَّ قَرَأَ: {يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ} [النور: 37] "
১৫ - হামযাহ ইবনুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে উসমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান সুলাইমান থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহর নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় কিছু পানীয় আনা হলো। তিনি বললেন: "এটি লোকদের দাও।" তারা বললেন: "আমরা রোজা পালন করছি।" তিনি বললেন: "কিন্তু আমি রোজা পালন করছি না।" অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {তারা ভয় পায় সেই দিনকে, যে দিন অন্তর ও দৃষ্টিসমূহ উল্টে যাবে।} [আন-নূর: ৩৭]
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٢)
16 - دثنا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، دَثَنَا أَبُو عُمَرَ الضَّرِيرُ، عَنْ صَالِحٍ الْمُرِّيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زُفَرَ السَّعْدِيِّ، قَالَ: كَانَ الْأَحْنَفُ بْنُ قَيْسٍ يُرِيدُ الصَّوْمَ، فَقِيلَ لَهُ فِي ذَلِكَ، فَقَالَ: «إِنِّي أُعِدُّهُ لِيَوْمٍ شَرُّهُ طَوِيلٌ» ، ثُمَّ تَلَا: {فَوَقَاهُمُ اللَّهُ شَرَّ ذَلِكَ الْيَوْمِ} [الإنسان: 11]
১৬ - মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু উমর আদ-দারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সালিহ আল-মুররি থেকে, তিনি আলী ইবনে যুফার আস-সাদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল-আহনাফ ইবনে কাইস রোজা রাখার ইচ্ছা করতেন। এ বিষয়ে তাঁকে কিছু বলা হলে তিনি বলেন: "আমি এটি এমন এক দিনের জন্য প্রস্তুত করছি যার অনিষ্ট দীর্ঘস্থায়ী।" অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {সুতরাং আল্লাহ তাদেরকে সেই দিনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করলেন} [আল-ইনসান: ১১]
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٣)
17 - دثنا حَمْزَةُ بْنُ الْعَبَّاسِ، ادنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، ادنا ابْنُ الْمُبَارَكِ، ادنا ابْنُ جُرَيْجٍ فِي قَوْلِهِ: {ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [الأعراف: 187] قَالَ: «عَظُمَ ذِكْرُهَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ» ، وَقَالَ: " إِنَّمَا ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِذَا جَاءَتِ انْشَقَّتِ السَّمَاءُ، وَانْتَثَرَتِ النُّجُومُ، وَكُوِّرَتِ الشَّمْسُ، وَسُيِّرَتِ الْجِبَالُ، وَكَانَ مَا قَالَ اللَّهُ: فَذَاكَ ثِقَلُهَا "
১৭ - হামযা ইবনুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে জুরাইজ আল্লাহর এই বাণী: {তা আসমানসমূহ ও জমিনে অত্যন্ত ভারী বিষয়} [আল-আ’রাফ: ১৮৭] সম্পর্কে বলেছেন: «আসমানসমূহ ও জমিনে এর আলোচনা অত্যন্ত মহান হয়েছে», এবং তিনি বলেছেন: "তা আসমানসমূহ ও জমিনে কেবল তখনই ভারী হবে যখন তা উপস্থিত হবে; তখন আসমান বিদীর্ণ হবে, নক্ষত্ররাজি ঝরে পড়বে, সূর্য আলোহীন হয়ে যাবে, পাহাড়সমূহ সঞ্চালিত হবে এবং আল্লাহ যা বলেছেন তা-ই ঘটবে: আর সেটিই হলো তার সেই ভারী হওয়া বা ভয়াবহতা।"
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٤)
18 - دثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَرَوِيُّ، ادنا هُشَيْمٌ، ادنا مُغِيرَةُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ: " كَانَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم إِذَا ذُكِرَتْ عِنْدَهُ السَّاعَةُ صَاحَ وَيَقُولُ: مَا يَنْبَغِي لِابْنِ مَرْيَمَ أَنْ تُذْكَرَ عِنْدَهُ السَّاعَةُ إِلَّا صَاحَ "
১৮ - ইবরাহিম ইবনে আবদুল্লাহ আল-হারাউয়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুশাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুগিরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আশ-শা’বি থেকে, তিনি বলেন: "ঈসা ইবনে মারইয়াম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যখন কিয়ামতের কথা উল্লেখ করা হতো, তখন তিনি চিৎকার করে উঠতেন এবং বলতেন: মারইয়াম-পুত্রের জন্য এটি সমীচীন নয় যে তাঁর নিকট কিয়ামতের কথা আলোচনা করা হবে আর তিনি চিৎকার করবেন না।"
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٤)
19 - دثنا الْحَسَنُ بْنُ يَحْيَى الْعَبْدِيُّ، ادنا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، ادنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَحِيرٍ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَزِيدَ الصَّنْعَانِيَّ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ رَأْيَ عَيْنٍ فَلْيَقْرَأْ إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ، وَإِذَا السَّمَاءُ انْشَقَّتْ، وَإِذَا السَّمَاءُ انْفَطَرَتْ»
১৯ - আল-হাসান ইবনে ইয়াহইয়া আল-আবদি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে বাহীর, তিনি বলেন: আমি আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ আস-সানআনিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসকে স্বচক্ষে দেখার আনন্দ লাভ করতে চায়, সে যেন পাঠ করে— ‘যখন সূর্য গুটিয়ে নেওয়া হবে’, ‘যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে’ এবং ‘যখন আকাশ ফেটে যাবে’।’»
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٥)
20 - دثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، دثنا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ " مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فِي الدُّنْيَا فَلْيَقْرَأْ: إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ "
২০ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ, তিনি বলেন: উমর ইবনে যারর বলেছেন, "যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কিয়ামতের দিনের দিকে তাকাতে পছন্দ করে, সে যেন পাঠ করে: 'যখন সূর্যকে গুটিয়ে ফেলা হবে'।"
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٥)
21 - دثنا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ،. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . {إِذَا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ} [التكوير: 1] قَالَ: «أُغْوِرَتْ» ، {وَإِذَا النُّجُومُ انْكَدَرَتْ} [التكوير: 2] : «تَسَاقَطَتْ» ، {وَإِذَا الْجِبَالُ سُيِّرَتْ} [التكوير: 3] : «ذَهَبَتْ» ، {وَإِذَا الْعِشَارُ عُطِّلَتْ} [التكوير: 4] : «لَا رَاعِيَ لَهَا» ، {وَإِذَا النُّفُوسُ زُوِّجَتْ} [التكوير: 7] : «الْأَمْثَالُ لِلنَّاسِ، جَمَعَ بَيْنَهُمْ، الزُّنَاةُ مَعَ الزُّنَاةِ، وَأَكَلَةُ الرِّبَا مَعَ أَكَلَةِ الرِّبَا، وَقَتَلَةُ النَّفْسِ مَعَ قَتَلَةِ النَّفْسِ»
২১ - আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হাদীস বর্ণনা করেছেন। . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . {যখন সূর্যকে গুটিয়ে নেওয়া হবে} [আত-তাকভীর: ১] তিনি বলেন: "তা আলোহীন হয়ে পড়বে", {এবং যখন নক্ষত্ররাজি খসে পড়বে} [আত-তাকভীর: ২]: "ঝরে পড়বে", {এবং যখন পাহাড়গুলোকে চলমান করা হবে} [আত-তাকভীর: ৩]: "তা অপসারিত হবে", {এবং যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীসমূহ পরিত্যক্ত হবে} [আত-তাকভীর: ৪]: "সেগুলোর কোনো রাখাল থাকবে না", {এবং যখন আত্মাগুলোকে জোড়ায় জোড়ায় মেলানো হবে} [আত-তাকভীর: ৭]: "মানুষের সমশ্রেণীভুক্তদের মাঝে; তাদের সকলকে একত্রিত করা হবে—ব্যভিচারীদের ব্যভিচারীদের সাথে, সুদখোরদের সুদখোরদের সাথে এবং হত্যাকারীদের হত্যাকারীদের সাথে।"
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٦)
22 - دثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْجُشَمِيُّ، دثنا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامٍ، دثنا قَتَادَةُ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ وَقَدْ تَفَاوَتَ بَيْنَ أَصْحَابِهِ فِي السَّيْرِ، فَرَفَعَ بِهَاتَيْنِ الْآيَتَيْنِ صَوْتَهُ: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيمٌ يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ} [الحج: 2] حَتَّى بَلَغَ الْآيَتَيْنِ، فَلَمَّا سَمِعَ ذَلِكَ أَصْحَابُهُ حَثُّوا الْمَطِيَّ، وَعَرَفُوا أَنَّهُ عِنْدَ قَوْلٍ يَقُولُهُ ⦗ص: 17⦘، فَلَمَّا تَاشَبُوا حَوْلَهُ، قَالَ: «أَتَدْرُونَ أَيُّ يَوْمٍ ذَاكَ؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: " ذَاكَ يَوْمَ يُنَادَى آدَمُ صلى الله عليه وسلم، يُنَادِيهِ رَبُّهُ عز وجل، يَقُولُ: يَا آدَمُ، ابْعَثْ بَعْثَ النَّارِ قَالَ: يَا رَبِّ، وَمَا بَعْثُ النَّارِ؟ قَالَ: مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ فِي النَّارِ، وَوَاحِدٌ فِي الْجَنَّةِ " فَأَبْلَسَ أَصْحَابُهُ حَتَّى مَا أَوْضَحُوا بِضَاحِكَةٍ، فَلَمَّا رَأَى ذَاكَ قَالَ: «اعْمَلُوا وَأَبْشِرُوا، فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، إِنَّكُمْ لَمَعَ خَلِيقَتَيْنِ مَا كَانَتَا مَعَ شَيْءٍ إِلَّا كَثَّرَتَاهُ، يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ، وَمَنْ هَلَكَ مِنْ بَنِي آدَمَ، وَمِنْ بَنِي إِبْلِيسَ» ، قَالَ: فَسُرِّيَ عَنْهُمْ، ثُمَّ قَالَ: «اعْمَلُوا وَأَبْشِرُوا، فَوَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، مَا أَنْتُمْ فِي النَّاسِ إِلَّا كَالشَّامَةِ فِي جَنْبِ الْبَعِيرِ، وَالرَّقْمَةِ فِي ذِرَاعِ الدَّابَّةِ»
২২ - উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-জুশামি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হিশাম থেকে, কাতাদাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হাসান থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোনো এক সফরে ছিলেন এবং পথচলায় সাহাবীগণের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। তখন তিনি এই দুই আয়াতের মাধ্যমে উচ্চস্বরে পাঠ করলেন: {হে লোকসকল! তোমাদের রবকে ভয় করো, নিশ্চয়ই কিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়াবহ বিষয়। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে ভুলে যাবে} এই দুই আয়াতের শেষ পর্যন্ত। সাহাবীগণ যখন তা শুনতে পেলেন, তখন তারা দ্রুত বাহন ছুটিয়ে দিলেন এবং বুঝতে পারলেন যে তিনি কোনো বিশেষ কথা বলবেন ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘। যখন তারা তাঁর চারপাশে সমবেত হলেন, তখন তিনি বললেন: «তোমরা কি জানো সেটা কোন দিন?» তারা বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: "সেদিন আদম আলাইহিস সালামকে আহ্বান করা হবে; তাঁর রব আযযা ওয়া জাল্লা তাঁকে আহ্বান করে বলবেন: হে আদম! জাহান্নামের দল বের করো। তিনি বলবেন: হে আমার রব! জাহান্নামের দল কী? তিনি বলবেন: প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন জাহান্নামে এবং একজন জান্নাতে।" এতে তাঁর সাহাবীগণ অত্যন্ত বিমর্ষ হয়ে পড়লেন, এমনকি তাদের আর হাস্যোজ্জ্বল দেখা যাচ্ছিল না। তিনি যখন তাদের এই অবস্থা দেখলেন, তখন বললেন: «তোমরা আমল করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে! তোমরা এমন দুটি সৃষ্টির সাথে আছো, যারা যার সাথেই থাকে তাকে সংখ্যাধিক্য দান করে: ইয়াজুজ ও মাজুজ, এবং বনী আদমের মধ্য হতে যারা ধ্বংস হয়েছে ও ইবলিসের বংশধররা।» বর্ণনাকারী বলেন: এতে তাদের চিন্তা দূর হলো। এরপর তিনি বললেন: «তোমরা আমল করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে! মানুষের মাঝে তোমাদের অবস্থান তো উটের পার্শ্বদেশের একটি তিল কিংবা চতুষ্পদ জন্তুর পায়ের চিহ্নের মতো (অর্থাৎ সংখ্যায় অত্যন্ত নগণ্য)।’»
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٨)
23 - دثنا أَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ الْمَرْوَزِيُّ، دثنا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنِ الْحُسَيْنِ بْنِ وَاقِدٍ، عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ قَالَ: دثني أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ قَالَ: " سِتُّ آيَاتٍ قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ: بَيْنَمَا النَّاسُ فِي أَسْوَاقِهِمْ إِذْ ذَهَبَ ضَوْءُ الشَّمْسِ، فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ، إِذْ وَقَعَتِ الْجِبَالُ عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ، فَتَحَرَّكَتْ، وَاضْطَرَبَتْ، وَاخْتَلَطَتْ، فَفَزِعَتِ الْجِنُّ إِلَى الْإِنْسِ، وَالْإِنْسُ إِلَى الْجِنِّ، فَاخْتَلَطَتِ الدَّوَابُّ، وَالطَّيْرُ، وَالْوُحُوشُ، فَمَاجُوا بَعْضُهُمْ فِي بَعْضٍ "، {وَإِذَا الْوُحُوشُ حُشِرَتْ} [التكوير: 5] ، قَالَ: «انْطَلَقَتْ» ، {وَإِذَا الْعِشَارُ عُطِّلَتْ} [التكوير: 4] قَالَ: «أَهْمَلَهَا أَهْلُهَا» ، {وَإِذَا الْبِحَارُ سُجِّرَتْ} [التكوير: 6] " قَالَتِ الْجِنُّ لِلْإِنْسِ: نَحْنُ نَأْتِيكُمْ بِالْخَبَرِ، انْطَلَقُوا إِلَى الْبَحْرِ فَإِذَا هُوَ نَارٌ تَأَجَّجُ "، قَالَ: «فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ تَصَدَّعَتِ الْأَرْضُ صَدْعَةً وَاحِدَةً إِلَى الْأَرْضِ السَّابِعَةِ السُّفْلَى، وَإِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ الْعُلْيَا، فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ جَاءَتْهُمْ رِيحٌ فَأَمَاتَتْهُمْ»
২৩ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আম্মার আল-হুসাইন বিন হুরাইস আল-মারওয়াযী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ফাযল বিন মূসা, হুসাইন বিন ওয়াকিদ থেকে, তিনি আর-রাবী বিন আনাস থেকে, তিনি আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উবাই বিন কাব আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি নিদর্শন ঘটবে: মানুষ যখন তাদের বাজারে থাকবে তখন হঠাৎ সূর্যের আলো চলে যাবে। তারা যখন এই অবস্থায় থাকবে, তখন পাহাড়গুলো ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়বে, ফলে সেগুলো নড়ে উঠবে, প্রকম্পিত হবে এবং একে অপরের সাথে মিশে যাবে। তখন জিনেরা মানুষের কাছে এবং মানুষ জিনের কাছে আতঙ্কে ছুটে আসবে। চতুষ্পদ জন্তু, পাখি ও বন্যপ্রাণীরা একে অপরের সাথে মিশে যাবে এবং তারা বিশৃঙ্খলভাবে একে অপরের ওপর ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়বে।" {এবং যখন বন্যপশুদের একত্রিত করা হবে} [তাকভীর: ৫], তিনি বলেন: «সেগুলো দিগিবিদিক ছুটে পালাবে»। {এবং যখন দশ মাসের গর্ভবতী উষ্ট্রীগুলো পরিত্যক্ত হবে} [তাকভীর: ৪], তিনি বলেন: «সেগুলোর মালিকরা সেগুলোকে তদারকিহীন ছেড়ে দেবে»। {এবং যখন সমুদ্রগুলোকে অগ্নিদগ্ধ করা হবে} [তাকভীর: ৬], তিনি বলেন: "জিনেরা মানুষকে বলবে: আমরা তোমাদের জন্য খবর নিয়ে আসছি; এরপর তারা সমুদ্রের দিকে যাবে এবং দেখবে যে তা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন।" তিনি বলেন: «তারা যখন এই অবস্থায় থাকবে, তখন পৃথিবী একযোগে বিদীর্ণ হয়ে একেবারে সপ্তম নিম্নস্তর ভূমি এবং সপ্তম ঊর্ধ্ব আকাশ পর্যন্ত ফেটে যাবে। তারা যখন এই অবস্থায় থাকবে, তখন তাদের নিকট এক বায়ু আসবে যা তাদের মৃত্যু ঘটাবে»।
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ١٩)
24 - دثنا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، دثنا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مَيْسُورٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا الْحَارِثِ الْغِفَارِيَّ، يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَقُومُ السَّاعَةُ عَلَى رَجُلَيْنِ مَعَهُمَا ثَوْبٌ يَبِيعَانِهِ، فَلَا هُمَا يَطْوِيَانِهِ، وَلَا هُمَا يَنْشُرَانِهِ»
২৪ - আমাদের নিকট সুওয়াইদ ইবন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-মুতামির ইবন সুলায়মান বর্ণনা করেছেন মাইসুর থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু আল-হারিস আল-গিফারীকে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামত এমন অবস্থায় সংঘটিত হবে যখন দুই ব্যক্তি একটি কাপড় নিয়ে তা কেনাবেচা করতে থাকবে, এমতাবস্থায় তারা সেটি ভাঁজ করতে পারবে না এবং বিছাতেও পারবে না।’»
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
25 - دثنا هَارُونُ بْنُ سُفْيَانَ، دثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ، ثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ فَضَالَةَ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح وحدثنا هِشَامُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ، عَنِ ابْنِ حُجَيْرَةَ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " تَطْلُعُ قَبْلَ السَّاعَةِ عَلَيْكُمْ سَحَابَةٌ سَوْدَاءُ مِثْلُ التُّرْسِ مِنْ قِبَلِ الْمَغْرِبِ، فَمَا تَزَالُ تَرْتَفِعُ حَتَّى تَمْلَأَ السَّمَاءَ، قَالَ: فَيُنَادِي مُنَادٍ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ أَمْرَ اللَّهِ قَدْ أَتَى، فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، إِنَّ الرَّجُلَيْنِ لَيَنْشُرَانِ الثَّوْبَ فَمَا يَطْوِيَانِهِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَلُوطُ حَوْضَهُ فَمَا يَشْرَبُ، وَالرَّجُلُ لَيَحْلُبُ لِقْحَتَهُ فَمَا يَشْرَبُ مِنْهَا شَيْئًا "
২৫ - হারুন ইবন সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন উমর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মুয়াবিয়া ইবন সালিহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবন জুবায়ের ইবন নুফাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ফাদালাহ ইবন উবাইদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে। (হ) এবং হিশাম ইবন সা’দ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবন আবি হিলাল থেকে, তিনি ইবন হুজায়রাহ থেকে, তিনি উকবাহ ইবন আমির থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কিয়ামতের পূর্বে পশ্চিম দিক থেকে ঢালের ন্যায় একটি কালো মেঘ তোমাদের নিকট উদিত হবে, অতঃপর তা ক্রমাগত উপরে উঠতে থাকবে যতক্ষণ না তা আকাশকে পূর্ণ করে ফেলে। তিনি বলেন: তখন একজন আহ্বানকারী আহ্বান করবেন: হে লোকসকল, আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে। সুতরাং সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই দুজন লোক তাদের কাপড় বিছাবে কিন্তু তারা তা আর ভাঁজ করতে পারবে না; এবং কোনো লোক তার হাউজ মেরামত করবে কিন্তু সে আর তা থেকে পান করতে পারবে না; এবং কোনো লোক তার দুগ্ধবতী উষ্ট্রীর দুধ দোহন করবে কিন্তু সে তা থেকে আর কিছুই পান করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢١)
26 - دثنا هَارُونُ بْنُ عُمَرَ الْقُرَشِيُّ، ثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، دثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ السَّكْسَكِيِّ، قَالَ: " يَبْعَثُ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً بَعْدَ قَبْضِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صلى الله عليه وسلم، وَعِنْدَ دُنُوٍّ مِنَ السَّاعَةِ فَتُقْبَضُ كُلَّ مُؤْمِنٍ وَمُؤْمِنَةٍ، وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ تَهَارُجَ الْحُمُرِ، عَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ، قَالَ: فَبَيْنَمَا هُمْ عَلَى ذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ عَلَى أَهْلِ الْأَرْضِ الْخَوْفَ، فَتَرْجُفُ أَفْئِدَتُهُمْ، وَمَسَاكِنُهُمْ، فَتَخْرُجُ الْجِنُّ وَالْإِنْسُ وَالشَّيَاطِينُ إِلَى سَيْفِ الْبَحْرِ، فَيَمْكُثُونَ كَذَلِكَ مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ تَقُولُ الْجِنُّ وَالشَّيَاطِينُ: هَلُمَّ نَلْتَمِسُ الْمَخْرَجَ، فَيَأْتُونَ خَافِقَ الْمَغْرِبِ فَيَجِدُونَهُ قَدْ سُدُّوا عَلَيْهِ الْحَفَظَةُ، ثُمَّ يَرْجِعُونَ إِلَى النَّاسِ، فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ، إِذْ أَشْرَفَتْ عَلَيْهِمُ السَّاعَةُ، وَيَسْمَعُونَ مُنَادِيًا يُنَادِي: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ، قَالَ: فَمَا الْمَرْأَةُ أَشَدَّ اسْتِمَاعًا مِنَ الْوَلِيدِ فِي حِجْرِهَا، ثُمَّ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَيَصْعَقُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ "
২৬ - হারুন ইবনে উমর আল-কুরাশি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন আতা ইবনে ইয়াজিদ আস-সাকসাকি থেকে, তিনি বলেন: "ঈসা ইবনে মারিয়াম (আলাইহিস সালাম)-এর তিরোধানের পর এবং কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সময় আল্লাহ এক পবিত্র বায়ু প্রেরণ করবেন, যা প্রত্যেক মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর প্রাণ হরণ করবে। তখন কেবল নিকৃষ্ট লোকেরাই অবশিষ্ট থাকবে, যারা গাধাদের মতো একে অপরের সাথে কামাচারে লিপ্ত হবে; তাদের ওপরই কিয়ামত সংঘটিত হবে। তিনি বলেন: তারা যখন এই অবস্থায় থাকবে, তখন আল্লাহ জমিনবাসীর ওপর ভীতি সঞ্চার করবেন, ফলে তাদের অন্তরসমূহ এবং তাদের আবাসস্থলগুলো প্রকম্পিত হবে। তখন জিন, মানুষ ও শয়তানরা সমুদ্রতীরের দিকে বেরিয়ে যাবে এবং আল্লাহ যতদিন ইচ্ছা করবেন তারা সেভাবেই অবস্থান করবে। অতঃপর জিন ও শয়তানরা বলবে: এসো, আমরা বের হওয়ার পথ খুঁজি। তখন তারা পশ্চিম দিগন্তে আসবে এবং দেখতে পাবে যে ফেরেশতারা তা রুদ্ধ করে রেখেছেন। এরপর তারা মানুষের কাছে ফিরে আসবে। তারা যখন এই অবস্থায় থাকবে, তখন কিয়ামত তাদের ওপর ঘনিয়ে আসবে এবং তারা একজন ঘোষণাকারীকে ঘোষণা করতে শুনবে: হে লোকসকল! আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, সুতরাং তোমরা তা ত্বরান্বিত করো না। তিনি বলেন: কোনো নারী তার কোলে থাকা দুগ্ধপোষ্য শিশুর প্রতি যতখানি নিবিষ্ট হয়ে শোনে, তারা তার চেয়েও অধিক মনোযোগ দিয়ে তা শুনবে। অতঃপর শিংগায় ফুঁ দেওয়া হবে, ফলে আসমান ও জমিনে যারা আছে তারা সকলে মূর্ছা যাবে, তবে আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করবেন তারা ব্যতীত।"
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
27 - دثني الْمُثَنَّى بْنُ مُعَاذِ بْنِ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، دثنا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، قَالَ دثنا أَبُو نَضْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: " يُنَادِي مُنَادٍ بَيْنَ يَدَيِ الصَّيْحَةِ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، أَتَتْكُمُ السَّاعَةُ، قَالَ: فَسَمِعَهَا الْأَحْيَاءُ وَالْأَمْوَاتُ، قَالَ: وَيَنْزِلُ اللَّهُ عز وجل إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا، فَيُنَادِي مُنَادٍ: لِمَنِ الْمَلِكُ الْيَوْمَ؟، لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ "
২৭ - মুসান্না ইবনে মুআয ইবনে মুআয আল-আনবারী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মুতামির ইবনে সুলাইমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আবু নাদরাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "মহা-চিৎকারের প্রাক্কালে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: হে লোকসকল, তোমাদের নিকট কিয়ামত উপস্থিত হয়েছে। তিনি বলেন: তখন জীবিত ও মৃত সকলেই তা শুনতে পাবে। তিনি বলেন: আর মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসবেন, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: আজ রাজত্ব কার? আল্লাহরই, যিনি একক, প্রবল প্রতাপশালী।"
(খণ্ড: ১)
আল-আহওয়াল লি-ইবনি আবিদ দুনইয়া
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
28 - وَثنا يُوسُفُ، دثنا أَبُو عُمَرَ الْحَوْضِيُّ، دثنا أَبُو حَمْزَةَ يَعْنِي الْعَطَّارَ، سَمِعَ الْحَسَنَ، {فَإِذَا نُقِرَ فِي النَّاقُورِ} [المدثر: 8] قَالَ: «النَّاقُورُ، وَالْحَسْرَةُ، وَالْبَطْشَةُ الْكُبْرَى، وَالتَّغَابُنُ، وَالْجَاثِيَةُ، وَالتَّنَادِ، هَذَا كُلُّهُ يَوْمُ الْقِيَامَةِ»
২৮ - এবং আমাদের নিকট ইউসুফ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু উমর আল-হাওদি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু হামযাহ অর্থাৎ আল-আত্তার বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-হাসান থেকে শুনেছেন, {অতঃপর যখন শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে} [আল-মুদ্দাসসির: ৮] তিনি বলেন: «আন-নাকূর, আল-হাসরাহ, আল-বাতশাহ আল-কুবরা, আত-তাগাবুন, আল-জাছিয়াহ এবং আত-তানাদ—এই সবই হলো কিয়ামতের দিন।’»