(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: -)
الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة - ت الأفغاني القسم: الفقه العام
الكتاب: الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة
المؤلف: بدر الدين الزركشي [ت 794 هـ]
عُني بتحقيقه: سعيد الأفغاني [ت 1417 هـ]
الناشر: المكتب الإسلامي - بيروت
الطبعة: الثانية، 1390 هـ - 1970 م
عدد الصفحات: 184
تنبيه: كانت الطبعة الأولى للكتاب (بهذا التحقيق) في المطبعة الهاشمية بدمشق، 1358 هـ - 1939 م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলা আস-সাহাবাহ - তাহকিক: আল-আফগানি বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলা আস-সাহাবাহ
লেখক: বদরউদ্দিন আল-যারকাশি [মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি]
সম্পাদনায়: সাঈদ আল-আফগানি [মৃত্যু ১৪১৭ হিজরি]
প্রকাশক: আল-মাকতাব আল-ইসলামি - বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৯০ হিজরি - ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৪
সতর্কবার্তা: এই গ্রন্থটির প্রথম সংস্করণ (এই তাহকিক অনুযায়ী) দামেস্কের আল-মাতবাআ আল-হাশিমিয়াহ-তে মুদ্রিত হয়েছিল, ১৩৫৮ হিজরি - ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে।
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على المبعوث بالهدى ودين الحق وعلى جميع الأنبياء والمرسلين والأصحاب والتابعين.
أما بعد فقد سلخت سنين في دراسة السيدة عائشة، كنت فيها حيال معجزة لا يجد القلم إلى وصفها سبيلا، وأخص ما يبهرك فيها علم زاخر كالبحر بعد غور، وتلاطم أمواج، وسعة آفاق، واختلاف ألوان، فما شئت إذ ذاك من تمكن في فقه أو حديث أو تفسير أو علم بشريعة أو آداب أو شعر أو أخبار أو أنساب أو مفاخر أو طب أو تاريخ. . . إلا أنت واجد منه ما يروعك عند هذه السيدة، ولن تقضي عجبًا من اضطلاعها بكل أولئك وهي لا تتجاوز الثامنة عشرة.
ولست بسبيل بيان ذلك الآن، وإنما أخبرك أني وقعت وأنا أنقب في كنوز المكتبة الظاهرية بدمشق، على مجموعة خطية في آخرها رسالة نفيسة للإمام بدر الدين الزركشي الشافعي بخط المؤلف نفسه؛ قصرها على موضوع واحد: هو استدراكات السيدة عائشة على الصحابة، ولم
ভূমিকা পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরিত রাসূলের ওপর এবং সকল নবী ও রাসূল, সাহাবীগণের (أصحاب) ও তাবেয়ীগণের (تابعين) ওপর।
পরন্তু, আমি সায়্যিদা আয়েশা (রা.)-এর গবেষণায় বহু বছর অতিবাহিত করেছি। সে সময় আমি এমন এক অলৌকিকত্বের সম্মুখীন হয়েছিলাম যা বর্ণনা করার ভাষা আমার কলমের নেই। বিশেষ করে যা আপনাকে মুগ্ধ করবে তা হলো সমুদ্রের ন্যায় তাঁর সুগভীর ইলম বা জ্ঞান, তরঙ্গবিক্ষুব্ধ ঢেউ, দিগন্তবিস্তৃত প্রসারতা এবং জ্ঞানের বিচিত্র শাখা-প্রশাখা। আপনি ফিকহ, হাদিস, তাফসির, শরিয়তের জ্ঞান, আদব, কবিতা, সংবাদ, বংশলতিকা, গৌরবগাথা, চিকিৎসাশাস্ত্র কিংবা ইতিহাস—যাই অন্বেষণ করুন না কেন, এই মহীয়সী নারীর নিকট আপনি এমন সব বিস্ময়কর উপাদান পাবেন যা আপনাকে বিমোহিত করবে। আঠারো বছর বয়স অতিক্রম করার পূর্বেই এই সকল বিষয়ে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও পারদর্শিতা দেখে আপনি বিস্ময় কাটিয়ে উঠতে পারবেন না।
আমি এখন সেসব বর্ণনা করতে প্রবৃত্ত হচ্ছি না; বরং আমি আপনাকে অবহিত করছি যে, দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি ভাণ্ডার অনুসন্ধানকালে আমি একটি পাণ্ডুলিপি সংকলনের সন্ধান পেয়েছি, যার শেষে ইমাম বদরুদ্দিন আল-যারকাশী আশ-শাফিয়ী-এর স্বহস্তে লিখিত একটি মূল্যবান ক্ষুদ্র গ্রন্থ রয়েছে; যা তিনি একটিমাত্র বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ রেখেছেন: আর তা হলো সাহাবীগণের (صحابة) ওপর সায়্যিদা আয়েশা (রা.)-এর সংশোধনীসমূহ (استدراكات)। এবং তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৪)
أنته من قراءتها حتى عزمت على نشرها للناس، بل اعتقدت أني أُسأل عن إهمال هذه الذخيرة لأمرين.
أحدهما: توفري على دراسة السيدة عائشة تلك السنوات الطوال.
والثاني: أن أحدًا لن يستطيع حل كتابتها وهي بخط سقيم غامض جدًّا إلا إذا حفظ أكثر أخبار عائشة وأحاديثها، بحيث إذا استطاع قراءة كلمة في سطر عرف من حفظه ما قبلها وما بعدها. لذلك لم تكد الأحوال السياسية تجر إلى إغلاق المدارس في الربع الأول من سنة 1939 حتى شغلت وقتي كله بالعكوف على إنجاز هذا العمل. وإلى القارئ الآن كلمة عن الموضوع والمؤلف والنسخة:
أ - الموضوع:"من خصائص المرء ذي الطبيعة العلمية؛ أن يكون طُلعَة كثير السؤال، لا يهدأ له بال حتى يرضي طمأنينته ويجلو لنفسه كل خفي مما يحيط به. وكانت السيدة عائشة بهذه الصفة، ساعدها على بلوغ ما بلغت من المعرفة: أنها ربيت في حجر أبي بكر الصديق أعلم الناس بأنساب العرب وأخبار قبائلها وميزات بطونها، فحازت من ذلك علمًا كثيرًا، ثم انتقلت إلى بيت الرسول ومهبط الوحي، فكانت أقرب الناس من معين العلم، فغرفت منه ما لم يتيسر لأحد غيرها، لمكانها منه زوجةً، ولما تفردت به من ذكاء نادر وفكر واسع. وكلما عظم حظ الإنسان من المعرفة، كثر تطلعه إلى ما فوقه. أما الجاهل فليس بمعنى أن يبحث أو يسأل، فإذا أصاب من المعرفة حظًا ما بطريق العرض، كان أبعد الناس عن أن تطلب نفسه مزيدًا أو تثير له شكوكًا أو تحدثه بسؤال يسأله. وقد أوردت السيدة على الرسول صلى الله عليه وسلم من الأسئلة في كل ما يمر بها من موضوعات: في الفقه والقرآن والأخبار والمغيبات وأمور الآخرة؛ وفيما يعرض له من أحداث وخطوب، وما يفد عليه من وفود".
এটি পড়া শেষ করার সাথে সাথেই আমি তা মানুষের কাছে প্রকাশ করার দৃঢ় সংকল্প করি, বরং আমি মনে করি যে, এই মূল্যবান ভাণ্ডারটি অবহেলা করার জন্য আমাকে দুটি কারণে জবাবদিহি করতে হতে পারে।
প্রথমত: দীর্ঘ বছর ধরে হযরত আয়েশা (রা.)-এর জীবন ও কার্যাবলি নিয়ে আমার নিবিড় অধ্যয়ন।
দ্বিতীয়ত: এর পাণ্ডুলিপি অত্যন্ত অস্পষ্ট ও প্রায় পাঠাতীত হাতের লেখায় হওয়ার কারণে আয়েশা (রা.) সম্পর্কিত অধিকাংশ বর্ণনা (أخبار) ও হাদিস কারো মুখস্থ না থাকলে এটি পাঠোদ্ধার করা কারো পক্ষেই সম্ভব ছিল না। এমন হতে হতো যাতে পঙক্তির একটি শব্দ পড়লে তার মুখস্থ ভাণ্ডার থেকে তার আগের ও পরের অংশ চিনে নিতে পারে। এই কারণে, ১৯৩৯ সালের প্রথম চতুর্ভাগে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফলে যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেল, তখন আমি আমার পুরো সময় এই কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ব্যয় করলাম। এখন পাঠকদের জন্য বিষয়বস্তু, লেখক এবং পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে কিছু কথা তুলে ধরা হলো:
অ - বিষয়বস্তু:"জ্ঞানতাত্ত্বিক স্বভাবের মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—অত্যন্ত অনুসন্ধিৎসু ও অধিক প্রশ্নকারী হওয়া; যতক্ষণ না তার মনের প্রশান্তি অর্জিত হয় এবং পারিপার্শ্বিক অস্পষ্ট বিষয়গুলো তার সামনে উন্মোচিত হয়, ততক্ষণ সে শান্ত হয় না। হযরত আয়েশা (রা.) এই গুণের অধিকারী ছিলেন। তাঁর এই স্তরের জ্ঞান অর্জনে যা সহায়ক হয়েছিল তা হলো—তিনি আরবের বংশপরম্পরা এবং গোত্রসমূহের ইতিহাস ও বর্ণনা (أخبار) সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর কোলে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। ফলে তিনি এ থেকে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেন। অতঃপর তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গৃহ এবং ওহী (وحي) অবতরণের স্থানে স্থানান্তরিত হন। ফলে তিনি জ্ঞানের মূল উৎসের সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষে পরিণত হন এবং সেখান থেকে এমন জ্ঞান আহরণ করেন যা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না; কারণ তিনি ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী এবং অধিকারী ছিলেন অনন্য মেধা ও সুবিশাল চিন্তাশক্তির। মানুষের জ্ঞানের পরিধি যত বৃদ্ধি পায়, তার আকাঙ্ক্ষা ও জিজ্ঞাসা তত বাড়ে। পক্ষান্তরে, একজন অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য গবেষণা বা প্রশ্ন করার কোনো অবকাশ থাকে না। যদি সে আকস্মিকভাবে সামান্য জ্ঞানের দেখা পায়ও, তবুও নতুন কিছু জানার আকাঙ্ক্ষা, মনে কোনো সংশয় জাগা কিংবা প্রশ্ন উত্থাপন করার থেকে সে অনেক দূরে থাকে। হযরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট তাঁর সামনে আসা সকল বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতেন: ফিকহ (فقه), কুরআন, বর্ণনা (أخبار), অদৃশ্যের বিষয়াদি (مغيبات) ও পরকাল সংক্রান্ত বিষয়সমূহ; এমনকি রাসুলের সামনে আসা বিভিন্ন ঘটনা, সংকট এবং আগত প্রতিনিধি দলগুলোর ব্যাপারেও তিনি প্রশ্ন করতেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৫)
"وبعد انتقال النبي صلى الله عليه وسلم، كان علم عائشة قد بلغ ذروة الإحاطة والنضج، في كل ما اتصل بالدين من قرآن وحديث وتفسير وفقه. . . ومع حمل الأصحاب إلى الأمصار طائفة صالحة من الأحاديث والأحكام حتى كانوا ثمة مرجع طلاب العلم ورواة الحديث، بقيت المدينة - لأسباب أهمها وجود عائشة - دار الحديث ومنبع العلم. فحين يُشكل على أهل الأمصار أمر من الأمور، يكتبون إلى أصحاب رسول الله في الحجاز يسألونهم عن حكم الله فيه، فكان هؤلاء إذا فاتهم علم شيء، رجعوا إلى علماء بينهم اشتهروا بحمل العلم وفقهه كعبد الله بن عمر وأبي هريرة وعبد الله بن عمرو وعروة وعبد الله ابني الزبير. . . تروى عنهم الأحاديث وتنشر الأحكام، حتى صاروا مقصد الرواد. ومقام السيدة بينهم مقام الأستاذ من تلاميذه، فكان عمر بن الخطاب يحيل عليها كل ما تعلق بأحكام النساء أو بأحوال النبي البيتية، لا يضارعها في هذا الاختصاص أحد من الرجال ولا النساء.
ويصل إلى مسمع السيدة عن أولئك العلماء روايات وأحكام على غير وجهها، فتصحح لهم ما أخطؤوا فيه أو خفي عليهم، حتى عرف ذلك عنها فصار من شك في رواية أتى عائشة سائلا، وإن كان بعيدًا كتب إليها يسألها
(1). ومن هنا طار لها ذلك الصيت في التمكن من العلم، ورجع إلى قولها كبار الصحابة كأبيها أبي بكر وعمر وابنه وأبي هريرة وابن عباس وابن الزبير. . . وصار معاوية في خلافته يكتب إليها سائلا عن حكم أو حديث أو شيء من فعل النبي صلى الله عليه وسلم، ولا يطمئن إلى يقين مما يسمع من غيرها حتى يرد عليه جوابها فيبرد صدره
(2) وستجد أن خطأ الصحابة كثيرًا ما يرجع إلى أنهم حضروا آخر الحديث وفاتهم أوله. وسترى في كل ما تستدرك: صحة النظر وصواب النقد وحضور الحفظ وجودة النقاش. وأغلب الأسباب في تخبط الروايات أن الرواة يستنبطون الحكم من
--------------------------------------------
نবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর, আয়েশা (রা.)-এর জ্ঞান কুরআন, হাদিস, তাফসির এবং ফিকহসহ দ্বীনের সকল বিষয়ে পূর্ণতা ও পরিপক্কতার শীর্ষে পৌঁছেছিল। সাহাবীগণ বিভিন্ন জনপদে একদল উত্তম হাদিস এবং বিধানসমূহ (أحكام) পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সেখানে জ্ঞানান্বেষী এবং হাদিস বর্ণনাকারী (رواة الحديث)-দের জন্য রেফারেন্সস্থলে পরিণত হয়েছিলেন; তথাপি মদিনা—বিশেষত আয়েশা (রা.)-এর উপস্থিতির কারণে—হাদিসের কেন্দ্র এবং জ্ঞানের উৎস হিসেবেই রয়ে গিয়েছিল। যখন বিভিন্ন জনপদের লোকদের কাছে কোনো বিষয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হতো, তারা হিজাজে অবস্থানরত রাসুলুল্লাহর সাহাবীগণের নিকট পত্র লিখে সেই বিষয়ে আল্লাহর বিধান (حكم) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। তারা যখন কোনো বিষয়ে জ্ঞানের অভাব বোধ করতেন, তখন তারা তাদের মধ্যস্থতাকারী সেইসব আলেমদের শরণাপন্ন হতেন যারা জ্ঞান বহন ও ফিকহ চর্চায় প্রসিদ্ধ ছিলেন; যেমন—আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবু হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনে আমর, উরওয়াহ এবং যুবাইরের দুই পুত্র আবদুল্লাহ (রা.)। তাদের নিকট থেকে হাদিস বর্ণিত (تروى) হতো এবং বিধানসমূহ (أحكام) প্রচারিত হতো, এমনকি তারা জ্ঞান অন্বেষণকারীদের গন্তব্যে পরিণত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এই মহীয়সী নারীর মর্যাদা ছিল ছাত্রের নিকট শিক্ষকের মতো। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) নারীদের বিধানসমূহ (أحكام) বা নবীর পারিবারিক বিষয় সম্পর্কিত সবকিছুই তাঁর কাছে পাঠিয়ে দিতেন; এই বিশেষায়িত ক্ষেত্রে পুরুষ বা নারীদের মধ্যে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না।
সেইসব আলেমদের নিকট থেকে যখন ভুলভাবে বর্ণিত বর্ণনা (روايات) এবং বিধানসমূহ (أحكام) এই মহীয়সী নারীর কানে আসত, তখন তিনি তাদের ভুল সংশোধন করে দিতেন কিংবা যা তাদের নিকট অস্পষ্ট ছিল তা স্পষ্ট করতেন। এমনকি তাঁর এই যোগ্যতা এতটাই পরিচিতি লাভ করেছিল যে, কারো যদি কোনো বর্ণনা (رواية) নিয়ে সন্দেহ হতো, সে আয়েশা (রা.)-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করত; আর যদি সে দূরে থাকত তবে পত্র লিখে জিজ্ঞাসা করত
(1)। এখান থেকেই জ্ঞানের গভীরতায় তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর মতামতের দিকে বড় বড় সাহাবীগণও প্রত্যাবর্তন করতেন; যেমন—তাঁর পিতা আবু বকর, উমর, তাঁর পুত্র (ইবনে উমর), আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস এবং ইবনে যুবাইর (রা.)। আমীর মুয়াবিয়া (রা.) তাঁর খিলাফতকালে কোনো বিধান (حكم) বা হাদিস অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে তাঁর কাছে পত্র লিখতেন। অন্যের কাছে যা শুনতেন তাতে তিনি ততক্ষণ আশ্বস্ত হতেন না যতক্ষণ না তাঁর নিকট থেকে উত্তর আসত যা তাঁর অন্তরকে প্রশান্ত করত
(2)। আপনি দেখতে পাবেন যে, সাহাবীগণের ভুলের কারণ প্রায়শই ছিল এই যে, তারা হাদিসের শেষাংশে উপস্থিত ছিলেন কিন্তু প্রথমাংশ তাদের কাছে অজানা ছিল। আপনি তাঁর প্রতিটি সংশোধন (تستدرك)-এর ক্ষেত্রে গভীর পর্যবেক্ষণ, সঠিক সমালোচনা (النقد), প্রখর স্মৃতিশক্তি এবং চমৎকার বিতর্কের প্রতিফলন দেখতে পাবেন। বর্ণনা (روايات)-সমূহের বিভ্রান্তির অধিকাংশ কারণ হলো, বর্ণনাকারীগণ (الرواة) থেকে বিধান (حكم) উদ্ঘাটন করতে গিয়ে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৬)
الجملة التي حضروها وكثيرًا ما يكون الرسول ذكرها في معرض الإنكار، وترى ذلك في مرويات أبي هريرة بصورة خاصة.
وكما استدركت على أبي هريرة ضياع أول الكلام عليه أو آخره، استدركت على كثيرين فهمهم لحديث، أو خطأ استنباط حكم من آية، أو ضلالًا في معرفة أسباب النزول، أو اجتهادًا فيه مشقة على الناس. وكان الناس يقعون منها في كل ذلك على علم غزير وفهم حصيف، ورأي صائب. ولا غرو فقد كانت السيدة عائشة الملجأ الأخير الذي ترفع إليه مسائل الخلاف والروايات وأحكام الشريعة لتمحيصها والقضاء فيها بالقول الفصل".
ومن هنا توقن أن حياة السيدة بنت مجدًا باذخًا لتاريخ المرأة العلمي في الإسلام، بل إن عبقريتها وحدها كفيلة بملء تاريخ كامل، فلست أعلم في عبقريات الرجال والنساء في تواريخ الأمم ما يداني مكانة السيدة التي تناسيناها حتى أنه لم يؤلف - فيما علمنا - في سيرتها إلى اليوم كتاب وهذا أول ما كان يجب أن نعنى به.
ولتعلم بعد هذا سيداتنا، أن امرأة منهن في صدر الإسلام تتلمَذ عليها مشيخة المهاجرين والأنصار من كل حبر وعالم وفقيه وقارئ وراوية. وعنها وحدها نقل ربع الشريعة كما قال الحاكم في المستدرك.
ليس مؤلفنا الزركشي أول من صنف في هذا الموضوع، بل إن السابق إليه هو أبو منصور عبد المحسن بن محمد بن علي البغدادي المحدث التاجر السفار عاش في القرن الخامس الهجري ولد سنة 411 هـ ومات سنة 489 هـ تلقى الحديث في دمشق ومصر والرحبة وروى عن ابن غيلان والعتيقي وطبقتهما وكتب وحصل في الأصول
(1). وجملة ما استدرك في مصنفه خمسة وعشرون حديثًا.
وقد نقل الزركشي عن كتاب البغدادي هذا في مواضع متعددة وفي
--------------------------------------------
তারা যে পূর্ণ বাক্যটি শুনেছিলেন, রাসূল (সা.) অনেক সময় তা অসম্মতি বা খণ্ডনের প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেছিলেন। বিশেষ করে আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলোতে এটি বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়।
আর তিনি যেমন আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় কথার শুরু বা শেষ অংশ বাদ পড়ে যাওয়ার বিষয়টি সংশোধন করে দিয়েছেন, তেমনিভাবে তিনি অনেকের ক্ষেত্রে কোনো হাদিস বোঝার ভুল, আয়াত থেকে হুকুম বা বিধিবিধান আহরণের ত্রুটি, শানে নুযূল বা অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট জানার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি অথবা মানুষের জন্য কষ্টদায়ক হয় এমন ইজতিহাদকেও সংশোধন করে দিয়েছেন। মানুষ এই সবকিছুতেই তাঁর মধ্যে অগাধ জ্ঞান, বিচক্ষণ প্রজ্ঞা এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধান পেত। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, সায়্যিদা আয়েশা (রা.) ছিলেন সেই চূড়ান্ত আশ্রয়স্থল, যাঁর কাছে মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলা, বর্ণনা এবং শরীয়তের বিধানসমূহ যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত ফয়সালা লাভের জন্য পেশ করা হতো।
এখান থেকেই আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে, এই মহীয়সীর জীবন ইসলামের ইতিহাসে নারীর জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের এক সুউচ্চ মিনার নির্মাণ করেছে। এমনকি তাঁর একক মেধা ও প্রতিভাই পুরো ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট। বিশ্বের জাতিসমূহের ইতিহাসে নারী ও পুরুষের মেধা ও প্রতিভার যত নজির রয়েছে, তাতে আমি এমন কাউকে জানি না যিনি এই মহীয়সীর মর্যাদার সমকক্ষ হতে পারেন, যাঁর কথা আমরা প্রায় বিস্মৃত হতে বসেছি; এমনকি আমাদের জানামতে তাঁর জীবনী নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র কিতাব রচিত হয়নি, অথচ এটিই ছিল আমাদের সর্বাগ্রে মনোযোগ দেওয়ার বিষয়।
এরপর আমাদের শ্রদ্ধেয়া নারীগণের জানা উচিত যে, ইসলামের সূচনালগ্নে তাঁদেরই মধ্য থেকে এমন একজন নারী ছিলেন, যাঁর কাছে মুহাজির ও আনসারদের প্রবীণ শায়খগণ এবং প্রতিটি বড় আলিম, ফকীহ, ক্বারী ও বর্ণনাকারী (راوية) শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আল-হাকিম তাঁর আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন, শরীয়তের এক-চতুর্থাংশ জ্ঞান কেবল তাঁর মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে।
আমাদের লেখক যারকাশীই এই বিষয়ে প্রথম গ্রন্থ রচনা করেননি; বরং তাঁর আগে এই বিষয়ে অগ্রগামী ছিলেন আবু মনসুর আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-বাগদাদী, যিনি ছিলেন একজন হাদিস বিশারদ (المحدث), ব্যবসায়ী ও পরিব্রাজক। তিনি পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে অতিবাহিত করেছেন; তাঁর জন্ম ৪১১ হিজরিতে এবং মৃত্যু ৪৮৯ হিজরিতে। তিনি দামেস্ক, মিশর ও রাহবায় হাদিস শিক্ষা লাভ করেন এবং ইবনে গাইলান, আল-আতিকী ও তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি কিতাবাদি লিখেছেন এবং উসূল (الأصول) বা মূলনীতি শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন
(1)। তাঁর সংকলিত গ্রন্থে সংশোধিত হাদিসের মোট সংখ্যা হলো পঁচিশটি।
যারকাশী তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে বাগদাদীর এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৭)
بعضها سمى كتابه قائلا: "قال أبو منصور البغدادي في استدراكه". ونراه أحيانًا ينقل عنه ثم يشطب نقله ويثبت الحديث من طريق آخر غير طريقه كما سيمر بك.
وأهدى الزركشي مصنفه هذا على ما ترى في خطبة الكتاب إلى القاضي برهان الدين بن جماعة.
ثم جاء الإمام السيوطي فاختصره - على عادته في كثير من مؤلفاته - في رسالة سماها (عين الإجابة في استدراك عائشة عَلى الصحابة)
(1).
ب - المؤلف:أما الزركشي فهو محمد بن عبد الله بن بهادر بن عبد الله الزركشي أبو عبد الله بدر الدين؛ مصري المولد والوفاة، تركي الأصل، شافعي المذهب كان إمامًا علامة مصنفًا محررًا ولد سنة 745 هـ. وأخذ عن الشيخين جمال الدين الأسنوي وسراج الدين البلقيني ورحل إلى حلب فأخذ عن الشيخ شهاب الدين الأذرعي. وسمع الحديث بدمشق وغيرها وكان فقيهًا أصوليًا أديبًا فاضلا في جميع ذلك. ودرّس وأفتى وولي مشيخة خانقاه كريم الدين بالقرافة الصغرى. قال البرماوي: "كان منقطعًا إلى الاشتغال، لا يشتغل عنه بشيء وله أقارب يكفونه أمر دنياه".
وكان خطه ضعيفًا جدًّا، قل من يحسن استخراجه
(2) توفي بمصر ثالث رجب سنة 794 هـ ودفن بالقرافة الصغرى بالقرب من تربة بكتمر الساقي
(3).
--------------------------------------------
তাদের কেউ কেউ তাঁর কিতাবের নামকরণ করেছেন এভাবে: "আবু মানসুর আল-বাগদাদি তাঁর ইস্তিদরাক গ্রন্থে বলেছেন"। আমরা মাঝেমধ্যে দেখি যে তিনি তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দেন, এরপর তা মুছে ফেলেন এবং তাঁর সূত্র (طريق) ব্যতীত অন্য কোনো সূত্র (طريق) থেকে হাদিসটি সাব্যস্ত করেন, যেমনটি আপনার সামনে আসবে।
আর ইমাম যরকাশী তাঁর এই সংকলনটি (যেমনটি আপনি কিতাবের ভূমিকায় দেখতে পাবেন) কাজী বুরহানউদ্দিন ইবনে জামা'আ-কে উৎসর্গ করেছেন।
এরপর ইমাম সুয়ূতী আসলেন এবং তিনি—তাঁর অনেক রচনার অভ্যাসমতো—এটি সংক্ষেপ করলেন একটি রিসালায় (পুস্তিকায়), যার নাম তিনি দিয়েছেন (আইনুল ইজাবাহ ফি ইস্তিদরাকি আইশা আলাস সাহাবাহ)
(১)।
খ - লেখক:যরকাশী সম্পর্কে বলতে গেলে, তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহাদুর বিন আব্দুল্লাহ আল-যরকাশী আবু আব্দুল্লাহ বদরুদ্দিন; তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন, তাঁর মূল বংশধারা তুর্কি, তিনি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, গ্রন্থকার ও সংকলক। তিনি ৭৪৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দুই শাইখ—জামালুদ্দিন আল-আসনাবী এবং সিরাজুদ্দিন আল-বুলকিনী—এর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। তিনি আলেপ্পোতে সফর করে শাইখ শিহাবুদ্দিন আল-আযরায়ী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি দামেস্ক ও অন্যান্য স্থানে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি একাধারে ফকিহ, উসুলবিদ (أصولي), সাহিত্যিক ও গুণী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি পাঠদান করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং কারাফা আস-সুগরা-তে খানকাহ কারিমুদ্দিনের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। আল-বারমাবী বলেন: "তিনি জ্ঞানার্জনে নিমগ্ন থাকতেন, অন্য কিছু তাঁকে তা থেকে বিচ্যুত করতে পারত না; তাঁর কিছু আত্মীয় ছিল যারা তাঁর পার্থিব বিষয়াদি দেখাশোনা করত।"
তাঁর হাতের লেখা ছিল অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف), খুব কম লোকই তা পাঠোদ্ধার করতে পারত
(২)। তিনি ৭৯৪ হিজরির ৩রা রজব মিশরে মৃত্যুবরণ করেন এবং কারাফা আস-সুগরা-তে বকতমার আল-সাকীর সমাধির পাশে সমাহিত হন
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৮)
مؤلفاته: أكثر اشتغال الزركشي بالفقه وأصوله وعلوم الحديث والقرآن والتفسير وقد ترك فيها أكثر من ثلاثين مصنفًا؛ منها ما عرفنا أنه له بطريق العرض ونحن على رغم ما بذلنا من وقت وجهد في سبيل جمعها لا نقطع بالإحاطة بها جميعًا. وإنما نقطع بأننا بذلنا الطاقة كلها حتى لم يبق منها شيء. وإليك أسماءها وشيئًا عنها
(1) مرتبة على الحروف:
1 - رسالتنا هذه: الإجابة لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة.
2 - إعلام الساجد في أحكام المساجد
(2).
3 - البحر المحيط في أصول الفقه
(3).
قال في شذرات الذهب هو "في ثلاثة أجزاء جمع فيه جمعًا كثيرًا يسبق إليه".
4 - البرهان في علوم القرآن
(4):
كتاب جليل ضمنه سبعة وأربعين نوعًا، ثم اطلع عليه السيوطي فأدرجه في كتابه الكبير (الإتقان في علوم القرآن) وله الفضل في تعريفنا بمحتوياته قال في مقدمة الإتقان في صدد كلامه على تأليفه في هذا الموضوع:
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলি: আজ-জারকাশির অধিকাংশ নিবিষ্টতা ছিল ফিকহ, এর মূলনীতি (أصول), হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث), কুরআন ও তাফসির নিয়ে। তিনি এই বিষয়গুলোতে ত্রিশটিরও বেশি গ্রন্থ রেখে গেছেন; যার মধ্যে কিছু সম্পর্কে আমরা অন্যদের বর্ণনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমরা এগুলো সংগ্রহের জন্য প্রচুর সময় ও শ্রম ব্যয় করা সত্ত্বেও এগুলোর পূর্ণাঙ্গ ব্যাপ্তি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে দাবি করছি না। তবে আমরা এটি নিশ্চিত করছি যে, আমরা আমাদের সাধ্যের সবটুকু ব্যয় করেছি যাতে এর কোনো কিছুই বাদ না পড়ে। নিচে বর্ণানুক্রমিকভাবে সেগুলোর নাম ও সে সম্পর্কে কিছু তথ্য দেওয়া হলো
(১):
১ - আমাদের এই রিসালাহটি: আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মা ইস্তাদরাকাতহু আইশা আলা আস-সাহাবাহ।
২ - ইলামুস সাজিদ ফি আহকামিল মাসাজিদ
(২)।
৩ - আল-বাহরুল মুহিত ফি উসুলিল ফিকহ
(৩)।
শাজারাতুজ জাহাব গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এটি "তিনটি খণ্ডে সমাপ্ত, যাতে তিনি এমন বিপুল তথ্য একত্র করেছেন যা তাঁর পূর্বে আর কেউ করেনি"।
৪ - আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন
(৪):
এটি একটি সুমহান গ্রন্থ যাতে তিনি সাতচল্লিশটি প্রকার (نوعًا) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পরবর্তীতে ইমাম সুয়ূতি এটি দেখেন এবং তাঁর বিশাল গ্রন্থ (আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন)-এ এটি অন্তর্ভুক্ত করেন। আমাদের এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তিনি আল-ইতকান গ্রন্থের ভূমিকায় এই বিষয়ে তাঁর নিজের রচনার প্রেক্ষাপটে বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৯)
". . . وأنا أظن أني متفرد بذلك، غير مسبوق بالخوض في هذه المسالك، فبينما أنا أجيل في ذلك فكري أقدم رجلا وأؤخر أخرى، إذ بلغني أن الشيخ الإمام بدر الدين بن محمد بن عبد الله الزركشي أحد متأخري أصحابنا الشافعيين، ألف كتابًا في ذلك حافلا يسمى (البرهان في علوم القرآن) فتطلبته حتى وقفت عليه فوجدته قال في خطبته: "لما كانت علوم القرآن لا تحصى، ومعانيه لا تستقصى، وجبت العناية بالقدر الممكن. ومما فات المتقدمين وضع كتاب يشتمل على أنواع علومه كما وضع الناس ذلك بالنسبة إلى علم الحديث، فاستخرت الله تعالى وله الحمد في وضع كتاب في ذلك جامع لما تكلم الناس في فنونه، وخاضوا في نكته وعيونه، وضمنته من المعاني الأنيقة والحكم الرشيقة، ما بهر القلوب عجبًا ليكون مفتاحًا لأبوابه، وعنوانًا على كتابه، معينًا للمفسر على حقائقه، مطلعًا على بعض أسراره ودقائقه، وسميته (البرهان في علوم القرآن)، وهذه فهرست أنواعه: النوع الأول
(1). . . الخ واعلم أنه ما من نوع من هذه الأنواع؛ إلا ولو أراد الإنسان استقصاءه لاستفرغ عمره ثم لم يحكم أمره؛ ولكن اقتصرنا من كل نوع على أصوله والرمز إلى بعض فصوله؛ فإن الصناعة طويلة والعمر قصير؛ وماذا عسى أن يبلغ لسان التقصير" ا هـ. كلام الزركشي. ثم قال السيوطي: ولما وقفت على هذا الكتاب ازددت به سرورًا، وحمدت الله كثيرًا، وقوي العزم على إبراز ما أضمرته. . الخ".
5 - تخريج أحاديث الرافعي
(2)6 - التذكرة في الأحاديث المشتهرة
(3)--------------------------------------------
". . . আমি মনে করতাম যে এই পথে চলার ক্ষেত্রে আমি একাই পদচারণা করছি এবং আমার পূর্বে কেউ এই পথে অগ্রসর হননি। যখন আমি এ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করছিলাম এবং দ্বিধাগ্রস্তভাবে এগোচ্ছিলাম, তখন আমার কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে শায়খ ইমাম বদরুদ্দীন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-যারকাশি—যিনি আমাদের পরবর্তী যুগের শাফিঈ পণ্ডিতদের অন্যতম—এই বিষয়ে 'আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন' নামক একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমি এটি অনুসন্ধান করলাম এবং শেষ পর্যন্ত গ্রন্থটি লাভ করলাম। আমি দেখলাম তিনি তাঁর ভূমিকায় বলেছেন: 'যেহেতু কুরআনের জ্ঞানসমূহ অগণিত এবং এর অর্থসমূহ সীমাহীন, তাই সাধ্যমতো এর যত্ন নেওয়া অপরিহার্য। পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে যা অপূর্ণ রয়ে গিয়েছিল তা হলো কুরআনের জ্ঞানসমূহের প্রকারভেদ (أنواع علومه) সম্বলিত একটি গ্রন্থ রচনা করা, যেমনটি মানুষ হাদিস শাস্ত্র (علم الحديث) এর ক্ষেত্রে করেছে। তাই আমি মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম—আর সকল প্রশংসা তাঁরই—যাতে এমন একটি গ্রন্থ সংকলন করা যায় যা মানুষের আলোচিত সকল শাখা-প্রশাখা এবং সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্ত করবে। আমি এতে চমৎকার অর্থ ও মার্জিত প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়াবলি সন্নিবেশিত করেছি, যা হৃদয়কে বিস্ময়ে অভিভূত করে; যাতে এটি কুরআনের দ্বারসমূহের চাবিকাঠি এবং তার বিষয়বস্তুর পরিচায়ক হয়। এটি মুফাসসিরের জন্য প্রকৃত অর্থ অনুধাবনে সহায়ক এবং এর গূঢ় রহস্য ও সূক্ষ্মতা অনুধাবনে সহায়ক হবে। আমি এর নাম রেখেছি 'আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন'। আর এটি এর প্রকারসমূহের তালিকা: প্রথম প্রকার (النوع الأول)... ইত্যাদি। জেনে রাখুন, এই প্রকারসমূহের মধ্যে এমন কোনো প্রকার (نوع) নেই যা মানুষ যদি পূর্ণাঙ্গভাবে আয়ত্ত করতে চায়, তবে তার সারা জীবন শেষ হয়ে যাবে তবুও তা সুচারুরূপে সম্পন্ন হবে না। কিন্তু আমরা প্রত্যেক প্রকারের মূলনীতিসমূহ (أصول) এবং এর কিছু উপ-বিভাগের প্রতি ইঙ্গিত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি; কারণ এই বিদ্যা সুদীর্ঘ আর জীবন সংক্ষিপ্ত; আর ত্রুটিপূর্ণ লেখনীই বা আর কতটুকু পৌঁছাতে পারে!'—যারকাশির বক্তব্য সমাপ্ত। এরপর সুয়ূতী বলেন: 'যখন আমি এই গ্রন্থটি দেখলাম, আমার আনন্দ বহুগুণ বেড়ে গেল এবং আমি আল্লাহর অনেক প্রশংসা করলাম। আর আমি মনে মনে যা সংকল্প করেছিলাম তা প্রকাশ করার দৃঢ়তা আরও বৃদ্ধি পেল... ইত্যাদি'।"
৫ - তাখরিজ আহাদিসির রাফিঈ
৬ - আত-তাযকিরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহিরাহ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ১০)
7 - تفسير القرآن
(1)ذكر في كشف الظنون أنه وصل في التفسير حتى سورة مريم.
8 - تكملة شرح المنهاج
(2)كتاب منهاج الطالبين هو للإمام النووي، وقد شرحه الأسنوي وبلغ فيه إلى (المساقاة) وتوفي ولم يكمله، فأكمله الزركشي. وفي دار الكتب الظاهرية منه الجزء الثالث رقم (345 فقه الشافعي).
9 - التنقيح لألفاظ الجامع الصحيح
(3)جاء في كشف الظنون عند الكلام على الجامع الصحيح للبخاري وشروحه: "وشرحه الزركشي وهو شرح مختصر في مجلد أوله (الحمد لله ما عم بالإنعام. . الخ) قصد فيه إيضاح غريبه وإعراب غامضه، وضبط نسب أو اسم يخشى فيه التصحيف، منتخبًا من الأقوال أصحها ومن المعاني أوضحها مع إيجاز العبارة، والرمز بالإشارة، وإلحاق فوائد يكاد يستغني [بها] اللبيب عن الشروح، لأن أكثر الحديث ظاهر لا يحتاج إلى بيان. . . وعليه نكت للحافظ ابن حجر وهي تعليقة بالقول ولم تكمل، وللقاضي محب الدين أحمد بن نصر الله البغدادي الحنبلي المتوفى سنة 844 هـ نكت أيضًا على تنقيح الزركشي" وفي المكتبة الظاهرية نسخة مخطوطة منه رقمها (848 حديث).
10 - خادم الرافعي والروضة
(4) في الفروع أو خادم الشرح والروضة:
جاء في كشف الظنون: "ذكر في بغية المستفيد أنه أربعة عشر مجلدًا،
--------------------------------------------
7 - কুরআনের তাফসির
(১)কাশফুন জুনুন-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তাফসিরের ক্ষেত্রে সুরা মারইয়াম পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।
8 - তাকমিলাতু শারহিল মিনহাজ
(২)মিনহাজুত তালিবিন গ্রন্থটি ইমাম নববীর লেখা, আর আসনাভী এর একটি ব্যাখ্যা লিখেছিলেন যা (আল-মুসাকাত) অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তিনি এটি সম্পন্ন করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন, পরবর্তীতে যারকাশী এটি সম্পন্ন করেন। দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়্যাহ-তে এর তৃতীয় খণ্ড সংরক্ষিত রয়েছে, যার নম্বর (৩৪৫ শাফেয়ী ফিকহ)।
9 - আত-তানকিহ লি-আলফাজিল জামিউস সহিহ
(৩)বুখারীর জামিউস সহিহ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনার সময় কাশফুন জুনুন-এ এসেছে: "যারকাশী এটি ব্যাখ্যা করেছেন যা এক খণ্ডে সমাপ্ত একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (شرح مختصر), যার শুরু হয়েছে (আলহামদুলিল্লাহি মা আম্মা বিল ইনআম... ইত্যাদি) বাক্য দিয়ে। তিনি এতে হাদিসের বিরল (غريب) শব্দসমূহের ব্যাখ্যা এবং এর অস্পষ্ট ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) প্রয়াস পেয়েছেন, সেইসাথে সেইসব বংশপরম্পরা বা নামসমূহ সঠিকভাবে বিন্যস্ত করেছেন যেগুলোতে বিকৃতি (تصحيف) ঘটার আশঙ্কা থাকে। তিনি বিভিন্ন মতামতের মধ্য থেকে বিশুদ্ধতম (أصح) এবং অর্থগুলোর মধ্য থেকে স্পষ্টতমগুলো নির্বাচন করেছেন, সেইসাথে তিনি শব্দ প্রয়োগে সংক্ষিপ্ততা এবং ইঙ্গিতের মাধ্যমে সংকেত প্রদান করেছেন। তিনি এমন সব তাত্ত্বিক উপকারিতা সংযোজন করেছেন যার ফলে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি অন্যান্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে প্রায় অমুখাপেক্ষী হয়ে যায়, কারণ অধিকাংশ হাদিসই স্পষ্ট যা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না... আর এর ওপর হাফেজ ইবনে হাজারের 'নুকাত' (نكت) রয়েছে যা একটি বক্তব্যনির্ভর টীকা (تعليقة بالقول) এবং এটি সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া ৮৪৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী হাম্বলী মাযহাবের বিচারক মুহিব্বুদ্দিন আহমদ ইবনে নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদীও যারকাশীর তানকিহ-এর ওপর নুকাত (نكت) লিখেছেন।" মাকতাবাতুজ জাহিরিয়্যাহ-তে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার নম্বর (৮৪৮ হাদিস)।
10 - খাদিমুর রাফেয়ী ওয়াল রওদাহ
(৪) ফুরু' বা শাখা শাস্ত্রের ক্ষেত্রে, অথবা খাদিমুশ শারহি ওয়াল রওদাহ:
কাশফুন জুনুন-এ এসেছে: "বুগইয়াতুল মুস্তাফিদ-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি চৌদ্দ খণ্ড,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ১১)
كل منها خمسة وعشرون كراسة. ثم إني رأيت المجلد الأول منها افتتح بقوله أوله: (الحمد لله الذي أمدنا بنعمائه الخ) وذكر أنه شرح فيه مشكلات (الروضة) وفتح مغلقات (فتح العزيز) وهو على أسلوب التوسط للأذرعي. وأخذ جلال الدين السيوطي يختصر من (الزكاة) إلى آخر (الحج) ولم يتم وسماه: (تحسين الخادم) واسمه في (شذرات الذهب): خادم الشرح والروضة. وقال عنه: "وهو كتاب كبير فيه فوائد جليلة".
11 - خبايا الزوايا في الفروع
(1)قال في كشف الظنون: "أوله الحمد لله الذي لم تزل نعمته تتجدد الخ" ذكر فيه ما ذكره الرافعي والنووي في غير مظنته من الأبواب فرد كل شكل إلى شكله، وكل فرع إلى أصله، واستدرك عليه الشريف عز الدين حمزة بن أحمد الحسيني الدمشقي الشافعي المتوفى سنة 874 هـ وسماه (بقايا الخبايا). ولبدر الدين أبي السعادات محمد بن محمد البلقيني المتوفى سنة 890 هـ حاشية عليه".
12 - خلاصة الفنون الأربعة
(2)13 - الديباج في توضيح المنهاج
(3)ذكر صاحب كشف الظنون أن له شرحًا للمنهاج اسمه (الديباج) غير تكملة شرح المنهاج الذي مر آنفًا. وفي دار الكتب الظاهرية منه مجلد (رقم 68 فقه شافعي).
14 - الذهب الإبريز في تخريج أحاديث (فتح العزيز)
لم يذكر هذا المصنف أحد وإنما ذكره المؤلف نفسه في رسالته (الإجابة)
--------------------------------------------
প্রত্যেকটি পঁচিশটি কুরাসাহ (খাতা) বিশিষ্ট। অতঃপর আমি এর প্রথম খণ্ডটি দেখেছি যা এভাবে শুরু হয়েছে: (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের তাঁর নেয়ামত দিয়ে সাহায্য করেছেন...)। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এতে তিনি ‘রওজা’-এর জটিল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছেন এবং ‘ফাতহুল আজিজ’-এর অস্পষ্টতাগুলো উন্মোচন করেছেন। এটি আজরাঈ-এর ‘তাওয়াসসুত’-এর শৈলীতে রচিত। জালালুদ্দিন সুয়ূতী ‘যাকাত’ অধ্যায় থেকে ‘হজ’ অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত এর সংক্ষিপ্তসার করা শুরু করেছিলেন, কিন্তু তা সমাপ্ত করতে পারেননি এবং এর নামকরণ করেছিলেন: ‘তাহসিনুল খাদেম’। ‘শাযারাতুয যাহাব’ গ্রন্থে এর নাম: খাদেমুশ শারহ ওয়াল রওজা। তিনি এর সম্পর্কে বলেছেন: "এটি একটি বিশাল কিতাব যাতে অনেক মহান উপকারিতা রয়েছে।"
11 - খাবায়া আল-যাওয়ায়া ফিল ফুরু
(1)কাশফুয যুনুন-এ বলা হয়েছে: "এর শুরু হলো: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর নেয়ামত সর্বদা নবায়ন হতে থাকে..." এতে তিনি রাফেয়ি ও নববী অন্যান্য অধ্যায়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে যা উল্লেখ করেছেন তা বর্ণনা করেছেন; অতঃপর প্রতিটি সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়কে তার স্বস্থানে এবং প্রতিটি শাখাকে তার মূলে ফিরিয়ে দিয়েছেন। শরিফ ইযযুদ্দিন হামযা বিন আহমদ আল-হুসাইনি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৮৭৪ হিজরি) এর ওপর একটি সম্পূরক সংশোধনী প্রদান করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন বাকায়া আল-খাবায়া। বদরুদ্দিন আবুস সা’দাত মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-বুলকিনি (মৃত্যু ৮৯০ হিজরি) এর ওপর একটি টীকা লিখেছেন।
12 - খুলাসাতুল ফুনুন আল-আরবা’আ
(2)13 - আদ-দিবাজ ফি তাওদিহিল মিনহাজ
(3)কাশফুয যুনুন এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, মিনহাজ-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাঁর রয়েছে যার নাম আদ-দিবাজ, যা পূর্বে উল্লিখিত মিনহাজ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের পরিশিষ্টের চেয়ে ভিন্ন। দারুল কুতুব আয-যাহirিয়া-তে এর একটি খণ্ড রয়েছে (নম্বর ৬৮ শাফিয়ি ফিকহ)।
14 - আয-যাহাবুল ইবরিয ফি তাখরিজি আহাদিসি (ফাতহুল আজিজ)
এই গ্রন্থটির কথা কেউ উল্লেখ করেননি, তবে স্বয়ং লেখক তাঁর ‘আল-ইজাবাহ’ নামক রিসালায় এটি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ১২)
هذه فقال: قلت في الذهب الإبريز في تخريج أحاديث (فتح العزيز).
15 - زهر العريش في أحكام الحشيش
(1)أوله: (الحمد لله على نعمائه).
16 - سلاسل الذهب في الأصول
(2)17 - شرح التنبيه للشيرازي
(3)18 - شرح جامع الصحيح
(4)، أو شرح البخاري:
19 - شرح جمع الجوامع للسبكي
(5) (في أصول الفقه)
ذكر صاحب شذرات الذهب أنه: "في مجلدين" وفي كشف الظنون أن اسمه (تشنيف المسامع) واختصر شرح الزركشي هذا أبو زرعة العراقي المتوفي سنة 826 هـ بكتاب سماه (الغيث الهامع).
20 - شرح (المعتبر للأسنوي) ذكره في كشف الظنون
21 - شرح الوجيز
مخطوط في الظاهرية برقم 2392
--------------------------------------------
এই বিষয়ে তিনি বলেন: "আমি 'আদ-দাহাবুল ইবরিজ' গ্রন্থে 'ফাতহুল আজিজ'-এর হাদিসসমূহের তখরিজ (تخريج) প্রসঙ্গে আলোচনা করেছি।"
১৫ - জাহরুল আরিশ ফি আহকামিল হাশিশ
(১)এর প্রারম্ভিক অংশ: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর তাঁর নেয়ামতসমূহের জন্য)।
১৬ - সালাসিলুদ দাহাব ফিল উসুল (الأصول)
(২)১৭ - শিরাজি রচিত আত-তানবিহ-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)
(৩)১৮ - জামিউস সহিহ-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)
(৪), বা বুখারি-এর শারহ:
১৯ - সুবকি রচিত জামউল জাওয়ামি-এর শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ)
(৫) (উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) বা ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি বিষয়ক)
শাজারাতুদ দাহাব-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে: "এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত" এবং কাশফুজ জুনুন-এ এর নাম (তাশনিফুল মাসামি) বলা হয়েছে। জারকাশি-এর এই শারহটি (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) আবু জুরআ আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮২৬ হিজরি) সংক্ষেপ করেছেন, যার নাম দিয়েছেন (আল-গাইসুল হামি)।
২০ - আসনাউয়ি রচিত (আল-মুতাবার)-এর শারহ, কাশফুজ জুনুন-এ এর উল্লেখ আছে
২১ - আল-ওয়াজিজ-এর শারহ
জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে ২৩৯২ নম্বর পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
22 - عمل من طب لمن حبَّ
(1)23 - الغرر السوافر فيما يحتاج إليه المسافر
(2)مختصر على ثلاثة أبواب، أوله: "الحمد لله الذي جعل الأرض ذلولا نمشي الخ"، الأول: في مدلول السفر، الثاني فيما يتعلق عند السفر، الثالث: في الآداب المتعلقة بالسفر
(3) - كشف الظنون.
24 - غنية المحتاج في شرح المنهاج
(4)لم يذكر في كشف الظنون. إلا أن السيوطي في حسن المحاضرة عد في كتبه (شرح المنهاج) غير (الديباج) الذي مر ذكره، فلعل هذا الشرح أوفى.
25 - في أحكام التمني
تفرد بذكره برو كلمان.
26 - القواعد في الفقه
(5) (أو في الفروع)
من مخطوطات دمشق واسمه (القواعد والزوائد). أما صاحب كشف الظنون فذكر أن اسمه (القواعد في الفروع) وأنه: "رتبها على حروف المعجم. وشرحها سراج الدين العبادي في مجلدين واختصر الشيخ عبد الوهاب بن أحمد الشعراني المتوفى سنة 973 هـ الأصل كما ذكره في متنه".
--------------------------------------------
22 - আমালু মান তব্বা লিমান হাব্বা
(১)23 - আল-গুরারুস সাওয়াফির ফীমা ইয়াহ্তাজু ইলাইহিল মুসাফির
(২)তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ। এর প্রারম্ভিক অংশ হলো: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জমিনকে অনুগত করে দিয়েছেন যেন আমরা এতে বিচরণ করতে পারি... ইত্যাদি।" প্রথম অধ্যায়: সফরের তাৎপর্য প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় অধ্যায়: সফরকালীন করণীয় বিষয়াদি সম্পর্কে। তৃতীয় অধ্যায়: সফর সংশ্লিষ্ট আদব বা শিষ্টাচার প্রসঙ্গে
(৩) - কাশফ আল-জুনুন।
24 - গুনিয়াতুল মুহতাজ ফী শারহিল মিনহাজ
(৪)কাশফ আল-জুনুন গ্রন্থে এটি উল্লিখিত হয়নি। তবে সুয়ূতী 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থে তাঁর রচিত কিতাবসমূহের তালিকায় 'শারহুল মিনহাজ'-এর কথা উল্লেখ করেছেন, যা পূর্বে বর্ণিত 'আদ-দিবাজ' থেকে ভিন্ন। সম্ভবত এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি অধিকতর পূর্ণাঙ্গ।
25 - ফী আহকামিত তামান্নি
কেবল ব্রোকলম্যান এটি উল্লেখ করেছেন।
26 - আল-কাওয়াইদ ফিল ফিকহ
(৫) (অথবা ফিল ফুরু)
এটি দামেস্কের পাণ্ডুলিপিসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এর নাম হলো 'আল-কাওয়াইদ ওয়াজ-জাওয়াইদ'। কাশফ আল-জুনুন-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে, এর নাম হলো 'আল-কাওয়াইদ ফিল ফুরু' এবং এটি: "তিনি বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছেন। সিরাজুদ্দীন আল-আব্বাদী এটি দুই খণ্ডে ব্যাখ্যা করেছেন এবং শেখ আব্দুল ওয়াহাব বিন আহমদ আল-শারানী (মৃত্যু ৯৭৩ হি.) এর মূল (أصل) অংশটি সংক্ষেপ করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর মূল পাঠে (متن) উল্লেখ করেছেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
27 - اللآلئ المنثورة في الأحاديث المشهورة
تفرد بذكره للمؤلف (برو كلمان) في الذيل. أما صاحب كشف الظنون فقد ذكره مغفلا من التعريف واسم المؤلف.
28 - لقطة العجلان وبلة الظمآن
(1).
وقد طبع في دمشق مؤخرًا.
29 - ما لا يسع المكلف جهله:
بهذا العنوان عد صاحب كشف الظنون مؤلفين متعددين، ليس فيهم الزركشي وقد تفرد بذكره (برو كلمان).
30 - مجْلى الأفراح شرح تلخيص المفتاح
قال العاملي صاحب الكشكول: "كتاب ضخم يزيد على المطول وقفت عليه في القدس الشريف سنة 992 هـ" - الكشكول 1: 8 (مطبعة الشيخ شرف موسى بمصر)، لا تاريخ.
31 - مجموعة فقه
(2)32 - المختصر (في الحديث)
لم يذكره أحد ممن رجعت إليهم، وإنما وجدته في حاشية الأجهوري على شرح البيقونية للزرقاني، قال في ص (15) (طبع مصر): "قال الزركشي في مختصره يدخل القلب والشذوذ والاضطراب في قسم الصحيح والحسن".
33 - المعتبر في تخريج أحاديث المنهاج والمختصر:
مخطوط في دار الكتب الظاهرية بدمشق (رقمه 1115 حديث) لم يذكره غير (برو كلمان) في "الذيل"
--------------------------------------------
২৭ - আল-লাআলি আল-মানছুরাহ ফিল আহাদিসিল মাশহুরাহ
(ব্রোকলম্যান) তার 'যাইল' (পরিশিষ্ট) গ্রন্থে লেখকের এই বইটি সম্পর্কে এককভাবে উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে, 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক এটি কোনো পরিচয় এবং লেখকের নাম ছাড়াই উল্লেখ করেছেন।
২৮ - লুকতাতুল আজলান ওয়া বাল্লাতুয যামআন
(১)।
এটি সম্প্রতি দামেস্কে মুদ্রিত হয়েছে।
২৯ - মা লা ইয়াসাউল মুকাল্লাফা জাহলুহু:
এই শিরোনামে 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক একাধিক রচয়িতার নাম উল্লেখ করেছেন, যাদের মধ্যে আল-যারকাশী নেই; কেবল (ব্রোকলম্যান) এককভাবে তার কথা উল্লেখ করেছেন।
৩০ - মাজলাল আফরাহ শারহু তালখিসিল মিফতাহ
'আল-কাশকুল' গ্রন্থের রচয়িতা আল-আমিলি বলেছেন: "এটি একটি বিশাল গ্রন্থ যা 'আল-মুতাউয়াল' গ্রন্থকেও ছাড়িয়ে যায়; আমি ৯৯২ হিজরিতে পবিত্র কুদস (জেরুজালেম) নগরীতে এটি দেখেছি" - আল-কাশকুল ১: ৮ (মিশরের শাইখ শরাফ মুসা প্রেস), প্রকাশকাল বিহীন।
৩১ - মাজমুআতু ফিকহ
(২)৩২ - আল-মুখতাসার (হাদিস শাস্ত্রে)
আমি যাদের তথ্যসূত্র হিসেবে গ্রহণ করেছি তাদের মধ্যে কেউ এটি উল্লেখ করেননি। তবে আল-যারকানির 'শারহুল বাইকুনিয়্যাহ'-এর উপর আল-আজহুরীর হাশিয়া (টীকা)-তে আমি এটি পেয়েছি। তিনি (মিশর সংস্করণের) ১৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "আল-যারকাশী তার মুখতাসার গ্রন্থে বলেছেন— বর্ণনার শব্দ বিনিময় (القلب), শায বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বিরোধিতা (الشذوذ) এবং ইযতিরাব বা বর্ণনার অস্থিরতা (الاضطراب) সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত।"
৩৩ - আল-মুতাবার ফি তাখরিজি আহাদিসিল মিনহাজ ওয়াল মুখতাসার:
এটি দামেস্কের দারুল কুতুব আল-জহিরিয়্যাহ-তে পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত আছে (হাদিস বিভাগ, নম্বর: ১১১৫)। (ব্রোকলম্যান) ব্যতীত তার 'যাইল' (পরিশিষ্ট) গ্রন্থে আর কেউ এটি উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
34 - المنثور
(1) في ترتيب القواعد الفقهية
في قاموس الأعلام للزركلي: أنه هو المعروف بقواعد الزركشي، إلا أن برو كلمان ذكر المنثور في كتابه ثم ذكر في (الذيل) القواعد والزوائد.
35 - النكت على البخاري
(2)36 - النكت على ابن الصلاح
(3)هذا وسنتمثل مكانته في العلم وبُعد غوره؛ عند قراءة هذه الرسالة (الإجابة)؛ ولا حرج علي إذا دللتك منذ الآن على مثال من دقته وتحريه؛ لتعلم مبلغ تنقيره واطلاعه؛ فانظر بصورة خاصة استدراكه على أوهام وقعت في صحيح البخاري والترمذي وكيف أقام الأدلة على ما ذهب إليه ثم كيف اعتذر الاعتذار اللطيف الذي سوغ درج هذه الأوهام في الصحيح، لتستأنس بذلك في معرفة فضله، والنسق الذي عليه تحقيقاته في مصنفاته الجليلة، التي لم يبق من الكثير منها إلا الأسماء وبعضها ذهبت هي وأسماؤها.
ج - النسخةلم يرد لهذه الرسالة ذكر في فهارس المكتبات المطبوعة. ولم نسمع أنها في مكتبة خاصة، ولم يذكرها برو كلمان، حتى فهرس المكتبة الظاهرية القديم خال من ذكرها، فهي على هذا ولما سيأتي، فريدة في العالم ذات قيمة ممتازة، تشغل كما تقدم الجزء الأخير من المجموعة ذات الرقم (32 مجاميع) في القبة الظاهرية، وهي بحجم صغير 14 × 19 س. م. وعدد أوراقها (44). والظاهر أنها مسودة كتبها المؤلف وهو ينوي أن يعود إليها بالتنقيح بدليل الشطب الكثير الذي فيها والحواشي الدقيقة التي ألحقت ببعض صحفها، وبياض ترك في صحف متعددة بين الفقرة والفقرة أو بين الفصل والفصل، ثم لم يسعفه الوقت فأبقاها على حالها. وصحفها لا تتشابه فبينما تجد
--------------------------------------------
৩৪ - আল-মানসুর ফী তারতীবিল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ
(১)যিরিকলির ‘আল-আলাম’ অভিধানে বলা হয়েছে: এটি ‘কাওয়াইদুজ যিরকাশী’ নামেই সমধিক পরিচিত। তবে ব্রোকলম্যান তাঁর গ্রন্থে ‘আল-মানসুর’ উল্লেখ করেছেন এবং পরবর্তীতে ‘আয-যাইল’ (পরিশিষ্ট)-এ ‘আল-কাওয়াইদ ওয়াল যাওয়াইদ’ এর কথা উল্লেখ করেছেন।
৩৫ - আন-নুকাত আলাল বুখারি
(২)৩৬ - আন-নুকাত আলা ইবনুস সালাহ
(৩)আমরা এই রিসালাটি (আল-ইজাবাহ) পাঠ করার সময় ইলম ও পাণ্ডিত্যের গভীরতায় তাঁর সুউচ্চ অবস্থান প্রত্যক্ষ করব। আমি যদি এখন থেকেই তাঁর সূক্ষ্মতা ও অনুসন্ধিৎসার একটি উদাহরণ পেশ করি তবে তাতে কোনো দোষ নেই; যাতে আপনি তাঁর পর্যবেক্ষণ ও অধ্যয়নের ব্যাপ্তি সম্পর্কে জানতে পারেন। বিশেষ করে সহীহ বুখারি ও তিরমিযীতে ঘটে যাওয়া ভুলভ্রান্তিগুলোর (أوهام) ওপর তাঁর সংশোধনগুলো (استدراك) লক্ষ্য করুন; এবং দেখুন কীভাবে তিনি নিজের অবলম্বিত মতের স্বপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন। অতঃপর তিনি কত চমৎকারভাবে সেই সব ওজব পেশ করেছেন যা এই ভুলগুলো সহীহ (صحيح) গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে যুক্তিসঙ্গত করে তোলে। এর মাধ্যমে আপনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর মহান গ্রন্থসমূহে গবেষণার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন, যেগুলোর অনেকগুলোরই কেবল নাম অবশিষ্ট আছে আর কিছু তো নামসহই বিলীন হয়ে গিয়েছে।
গ - পাণ্ডুলিপিমুদ্রিত কুতুবখানাগুলোর ক্যাটালগে এই রিসালাটির কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এমনকি কোনো ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় এটি থাকার সংবাদও আমরা পাইনি। ব্রোকলম্যানও এটি উল্লেখ করেননি, এমনকি যাহিরিয়া কুতুবখানার পুরাতন ক্যাটালগও এর উল্লেখ থেকে খালি। সুতরাং এই কারণে এবং যা সামনে আসছে সেই প্রেক্ষিতে, এটি বিশ্বে একটি অনন্য ও অত্যন্ত মূল্যবান কপি। যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি যাহিরিয়া কুতুবখানার 'মাজামী' (৩২ নম্বর সংগ্রহ) এর শেষ অংশ জুড়ে রয়েছে। এটি আকারে ছোট, ১৪ x ১৯ সে.মি. এবং এর পত্রসংখ্যা (৪৪)। প্রতীয়মান হয় যে, এটি লেখকের একটি খসড়া (مسودة), যা তিনি পরিমার্জনের নিয়তে লিখেছিলেন। এর প্রমাণ হলো এতে প্রচুর কাটাকাটি রয়েছে এবং এর কিছু পৃষ্ঠায় সূক্ষ্ম টীকা যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অনুচ্ছেদ বা পরিচ্ছেদের মাঝে মাঝে ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে, কিন্তু সময় সুযোগ না হওয়ায় তিনি একে এই অবস্থাতেই রেখে দিয়েছিলেন। এর পাতাগুলো পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, কারণ আপনি দেখতে পাবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الصفحة (16) مثلا مكتظة السطور والحواشي حتى لا تتبين فيها بياضًا، إذا بك في بعضها الآخر إزاء سطرين أو ثلاثة، وهي في أكثرها غير منقوطة. وقد قرأها على المؤلف نفسه ولده محمد الزركشي وإخوته حتى الصغار منهم وسنثبت السماع في آخر الكتاب كما هو في الأصل. وكان الفراغ من قراءته سنة أربع وتسعين وسبعمائة وهي السنة التي مات فيها المؤلف رحمه الله. أما تاريخ كتابتها فقبل سنة 790 لأنها أُهديت إلى القاضي برهان الدين بن جماعة المتوفي سنة 790 هـ.
أما خط المؤلف فإنا إذا استثنينا خطبة الكتاب التي تخف فيها صعوبة القراءة فإن ما بقي منها أشبه بالرموز والطلاسم. ويبلغ فن التعمية نهايته في الصفحة السادسة عشرة فقد لزت حواشيها لزًا بخط دقيق يشبه في بعضها ما يكتبه الأطباء إلى الصيادلة باللاتينية، وإن كان خط صاحبنا أدق وأغمض. وبعض الكلمات يكتفي منها بأول حرف إذا وافقت حرف الصفحة، وجرى على كتابة العناوين بالحبر الأحمر. وقد صورنا هذه الصفحة ليطلع القارئ على أسلوب المؤلف في تهيئة تصانيفه.
أما الصفحة الأولى فقد أثبت فيها إلى جانب اسم الكتاب نحو اليسار (فرغه قراءة ونسخًا العبد محمد بن محمد بن الزركشي عامله الله تعالى بلطفه الخفي) وهي بخط ولده المذكور الذي كتب الإجازة في آخر الكتاب بالخط نفسه وليس المراد بالنسخ أن الرسالة من خطه، بل هي من خط والده، أما خط الولد فجيد مقروء. وتحت عنوان الكتاب والمؤلف أسطر بخط ابن طولون الصالحي
(1) هذا نصها:
--------------------------------------------
উদাহরণস্বরূপ, ১৬ নম্বর পৃষ্ঠাটি পঙ্ক্তি ও টীকা দ্বারা এমনভাবে ঘনসন্নিবিষ্ট যে সেখানে কোনো সাদা অংশ দৃশ্যমান নয়; অথচ অন্য কিছু পৃষ্ঠায় আপনি মাত্র দুই বা তিন পঙ্ক্তি দেখতে পাবেন। এর অধিকাংশ লেখাই নুকতাহীন (অক্ষরের উপরে বা নিচে বিন্দুহীন)। এই পাণ্ডুলিপিটি লেখক স্বয়ং তাঁর পুত্র মুহাম্মদ আল-যারকাশি এবং তাঁর অন্যান্য ভাইদের—এমনকি তাদের মধ্যে যারা ছোট ছিল—পড়িয়েছেন। আমরা মূল পাণ্ডুলিপির অনুসরণে গ্রন্থের শেষে শ্রুতিলিপি (السماع)-এর বিষয়টি সাব্যস্ত করব। এই পাঠ সম্পন্ন হয়েছিল ৭৯৪ হিজরিতে, যা লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) মৃত্যুসন। তবে এর রচনাকাল ৭৯০ হিজরির পূর্বে, কারণ এটি ৭৯০ হিজরিতে ইন্তেকালকারী কাযী বুরহানউদ্দিন বিন জামাআহ-কে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল।
লেখকের হাতের লেখার ব্যাপারে বলতে গেলে, যদি আমরা কিতাবটির ভূমিকা অংশটি বাদ দেই—যেখানে পড়ার কষ্টসাধ্যতা কিছুটা কম—তবে অবশিষ্ট অংশগুলো সংকেত ও রহস্যের মতো দুর্বোধ্য। ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় এসে এই অস্পষ্টতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে; এর টীকাগুলো সূক্ষ্ম অক্ষরে এমনভাবে ঠাসা যে তার কিছু অংশ চিকিৎসকরা ফার্মাসিস্টদের উদ্দেশ্যে ল্যাটিন ভাষায় যা লেখেন তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, যদিও আমাদের লেখকের লেখা আরও বেশি সূক্ষ্ম ও রহস্যময়। কিছু শব্দের ক্ষেত্রে তিনি কেবল প্রথম অক্ষরটি লিখেই ক্ষান্ত হয়েছেন যদি তা পৃষ্ঠার অক্ষরের সাথে মিলে যায়। তিনি শিরোনামগুলো লাল কালিতে লিখতেন। লেখকের পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করার পদ্ধতি সম্পর্কে পাঠককে অবগত করার জন্য আমরা এই পৃষ্ঠাটির ছবি সংযুক্ত করেছি।
প্রথম পৃষ্ঠায় কিতাবের নামের পাশে বাম দিকে লেখা আছে: (আল্লাহর বান্দা মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-যারকাশি—আল্লাহ তাআলা তাঁর সাথে তাঁর গোপন অনুগ্রহ প্রদর্শন করুন—এর পাঠ ও অনুলিপি সম্পন্ন করেছেন)। এটি তাঁর উল্লিখিত পুত্রের হস্তলিপি, যিনি কিতাবের শেষে একই হস্তাক্ষরে ইজাযত (الإجازة) লিখেছিলেন। এখানে 'অনুলিপি' বলতে এটা বোঝানো হয়নি যে পুরো রিসালাটি তাঁর হাতের লেখা, বরং এটি তাঁর পিতার হাতের লেখা; পুত্রের হাতের লেখা ছিল সুন্দর ও পাঠযোগ্য। কিতাবের নাম ও লেখকের নামের নিচে ইবনে তুলুন আল-সালিহি
(1)-এর হাতের লেখায় কিছু পঙ্ক্তি রয়েছে যার পাঠ নিম্নরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
"قال أبو الفضل بن حجر: أصل هذا التصنيف للأستاذ الجليل أبي منصور عبد المحسن بن محمد بن علي بن طاهر البغدادي الفقيه المحدث المشهور رأيته في مجلدة لطيفة، وجملة ما فيه من الأحاديث 25 حديثًا، وكان الكتاب المذكور عند القاضي برهان الدين بن جماعة، فما أدري هلى خفي عليه وقت تقديم هذا له أو أعلمه به؟ نعم، لمصنف الإجابة حسن الترتيب والزيادات البينة والعزو إلى التصانيف الكبار والأول على عادة من تقدم يقتصر على سوق الأحاديث بأسانيده إلى شيوخه، وجملة من أخرج ذلك عنه من شيوخه نحو من ثلاثين شيخًا من شيوخ بغداد ومصر وغيرها ولا يعزو التخريج إلى أحد. وقد نقل هذا المصنف عن أبي منصور في هذا الكتاب، فعلم أنه وقف عليه، وكان ينبغي له أن ينبه على ذلك وهذا التصنيف القديم أخبرنا به غير واحد من شيوخنا إجازة عن عبد القادر بن أبي البركات بن القريشي: أنا المسلم بن علان سماعًا عن الخشوعي عن أبي عبد الله الحسين بن محمد بن خسرو أخبرنا المصنف سماعًا."
وتحت هذا الكلام بخط آخر ما نصه:
"نقلت من كتاب أبي بكر محمد بن عبد الملك التاريخي الذي وضعه في أخبار النحاة: حدثنا سوادة بن علي: ثنا محمد بن عبد الله بن نمير: ثنا أبو معاوية: ثنا المنهال بن خليفة عن سلمة بن هشام قال: كانت حفصة وعائشة متآخيتين، وكانت سودة وأم سلمة متآخيتين، فكانت سودة تنشد:
"عدي وتيم تبتغي من تحالف"
فقالت عائشة: "ما تعرّض إلا بي وبك يا حفصة، فإذا رأيتني قد قمت فأخذت برأسها فأعينيني" فقامت فأخذت برأسها وخافت حفصة فأعانتها، وجاءت أم سلمة فأعانت سودة، فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فأخبر وقيل له: "أدرك نساءك يقتتلن" فقال: "ويحكن ما لكن؟ " فقالت عائشة
আবুল ফজল ইবনে হাজার বলেছেন: এই সংকলনটির মূল হলো মহান উস্তাদ আবু মনসুর আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন তাহের আল-বাগদাদীর, যিনি একজন প্রখ্যাত ফকিহ (فقيه) এবং মুহাদ্দিস (محدث)। আমি এটি একটি সুন্দর খণ্ডে দেখেছি এবং এতে সর্বমোট ২৫টি হাদিস রয়েছে। উল্লিখিত বইটি কাজি বুরহানউদ্দিন বিন জামাআ’র নিকট ছিল; তবে আমি জানি না এটি যখন তাকে প্রদান করা হয়েছিল তখন বিষয়টি তার নিকট অস্পষ্ট ছিল কি না, নাকি তিনি এ সম্পর্কে অবগত ছিলেন। হ্যাঁ, ‘আল-ইজাবাহ’ গ্রন্থের লেখকের চমৎকার বিন্যাস, সুস্পষ্ট পরিবর্ধন এবং বৃহৎ গ্রন্থগুলোর উদ্ধৃতি প্রদানের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর প্রথমোক্ত জন পূর্ববর্তীদের রীতি অনুযায়ী শুধুমাত্র তার শায়খদের প্রতি সনদ (إسناد) বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তার সেই শায়খদের মধ্যে যারা এটি বর্ণনা করেছেন তারা বাগদাদ, মিসর ও অন্যান্য অঞ্চলের প্রায় ত্রিশজন শায়খ। তিনি এর তাহরিজ (تخريج) কারও দিকে সম্বন্ধ করেননি। এই লেখক এই কিতাবে আবু মনসুর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, ফলে এটি স্পষ্ট যে তিনি গ্রন্থটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তার উচিত ছিল এ বিষয়ে উল্লেখ করা। আমাদের একাধিক শায়খ ইজাজত (إجازة) সূত্রে আমাদের এই প্রাচীন সংকলনটি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, যা আব্দুল কাদির বিন আবিল বারাকাত বিন আল-কুরাইশি থেকে বর্ণিত: মুসলিম বিন আল্লান আমাদের কাছে সামা (سماع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি খুশুয়ি থেকে, তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন খুসরো থেকে, তিনি সরাসরি লেখকের থেকে সামা (سماع) সূত্রে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
এবং এই বক্তব্যের নিচে অন্য হাতের লেখায় নিম্নোক্ত পাঠটি রয়েছে:
আমি আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক তারিখি-এর ইতিহাস গ্রন্থ থেকে এটি নকল করেছি, যা তিনি নাহুবিদদের জীবনীর ওপর রচনা করেছেন: সাওয়াদাহ বিন আলী আমাদের বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর আমাদের বর্ণনা করেছেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের বর্ণনা করেছেন: মিনহাল বিন খলিফা আমাদের সালামাহ বিন হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাফসা ও আয়েশা পরস্পর সখ্যতা বজায় রাখতেন এবং সওদা ও উম্মে সালামা পরস্পর সখ্যতা বজায় রাখতেন। তখন সওদা এই কবিতাটি আবৃত্তি করতেন:
"আদি ও তায়িম গোত্র মৈত্রী অন্বেষণ করছে"
তখন আয়েশা বললেন: "হে হাফসা, সে তো আমাকে আর তোমাকেই ইঙ্গিত করছে। সুতরাং তুমি যখন দেখবে আমি উঠে তার মাথার চুল ধরেছি, তখন তুমি আমাকে সাহায্য করো।" অতঃপর তিনি উঠে তার মাথার চুল ধরলেন এবং হাফসা ভীত হয়ে তাকে সাহায্য করলেন। এদিকে উম্মে সালামা এসে সওদাকে সাহায্য করলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং তাকে সংবাদ দেওয়া হলো ও বলা হলো: "আপনার স্ত্রীদের নিকট যান, তারা ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছে।" তিনি বললেন: "তোমাদের প্রতি করুণা হোক, তোমাদের কী হয়েছে?" তখন আয়েশা বললেন
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
"يا رسول الله ألا تسمعها تقول: (عدي وتيم تبتغي من تحالف)؟ فقال: "ويحكن ليس عديكن ولا تيمكن، إنما هو عدي تميم وتيم تميم."
قال الكلبي: "تيم تميم هو الرباب وقيل: إن عدي
(1) وتيم أخوان قال جرير:
يا تيم تيم عدي لا أبا لكم
… لا يوقعنكم في سوْءة عمر
روى أبو نعيم الحافظ في حلية الأولياء في ترجمتها: "حدثنا سليمان بن أحمد (ثنا أحمد)
(2) بن يحيى بن خالد (بن حيان)
(2) الرقي ثنا محمد بن بشر المصري ثنا عثمان بن عبد الله ثنا مالك بن أنس عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة قالت: "قلت لرسول الله صلى الله عليه وسلم: كيف حبك لي؟ " قال: "كعقدة الحبل" فكنت أقول: "كيف العقدة يا رسول الله؟ " قالت فيقول: "هي على حالها" ا هـ.
هذا ما على أول الرسالة ومن هنا نعرف قيمة هذا المخطوط النفيس فهو بخط مؤلفه أحد أئمة المذهب الشافعي المشهورين؛ وهو أشبه بمسودة تطلعنا على طريقته في التأليف من حذف وإثبات وإلحاق، وعلى غلافها ثلاثة خطوط غير خط المؤلف: خط ولده؛ وخط ابن طولون الصالحي وخط لآخر لا يعرف؛ ونحن مدينون لهذا الآخر بإطلاعنا على فقرة من كتاب مفقود هو الذي صنفه أبو بكر التاريخي في أخبار النحاة، وقد قرأها على المؤلف أولاده وبناته حتى الطفل الذي في الثانية من عمره في عشرة مجالس آخرها في يوم الأحد لثمان خلون من صفر عام أربع وتسعين وسبعمائة، وأجاز لهم جميع مؤلفاته كما ترى في آخر الرسالة. وأمر آخر ذو شأن أيضًا؛ وهو أن هذه النسخة وقعت في ملك العلامة الفضيه الشافعي أحمد بن عبد الرحمن الرملي المشهور بأبي الأسباط، فألحق فيها استدراك السيدة عائشة على مروان بن
--------------------------------------------
"হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তাকে বলতে শুনছেন না: (আদি এবং তায়ম কি মৈত্রী চায়)? তখন তিনি বললেন: "তোমাদের জন্য আক্ষেপ! এটি তোমাদের আদি বা তোমাদের তায়ম নয়; বরং এটি হলো তামিমে (গোত্রের) আদি এবং তামিমে (গোত্রের) তায়ম।"
কালবি বলেন: "তামিমে তায়ম হলো রিবাব এবং বলা হয়েছে যে: আদি
(১) ও তায়ম দুই ভাই। জারির বলেন:
হে তায়ম, আদির তায়ম, তোমাদের কোনো পিতা নেই
… উমরের মন্দ কাজে যেন তোমরা পতিত না হও
হাফেজ (الحافظ) আবু নুয়াইম হিলয়াতুল আউলিয়া গ্রন্থে তাঁর জীবনীতে বর্ণনা করেছেন: "আমাদের নিকট সুলায়মান ইবনে আহমদ বর্ণনা করেছেন, (আমাদের নিকট আহমদ)
(২) ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ (ইবনে হাইয়ান)
(২) আর-রাক্কি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে বিশর আল-মিসরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মালেক ইবনে আনাস বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম: আমার প্রতি আপনার ভালোবাসা কেমন?" তিনি বললেন: "রশির গিরোর মতো।" আমি বলতাম: "হে আল্লাহর রাসূল! গিরোটি কেমন?" তিনি বলতেন: "এটি আগের অবস্থাতেই আছে।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
এটিই রিসালার শুরুতে রয়েছে এবং এখান থেকে আমরা এই মূল্যবান পাণ্ডুলিপির গুরুত্ব বুঝতে পারি। কারণ এটি এর লেখকের স্বহস্তে লিখিত, যিনি শাফেয়ী মাজহাবের অন্যতম প্রসিদ্ধ ইমাম ছিলেন। এটি অনেকটা খসড়ার মতো যা আমাদের তাঁর রচনাশৈলী—যেমন বর্জন, সংযোজন ও অনুবৃত্তি সম্পর্কে অবগত করে। এর প্রচ্ছদে লেখকের হাতের লেখা ছাড়াও আরও তিনটি হাতের লেখা রয়েছে: তাঁর ছেলের লেখা; ইবনে তুলুন আস-সালিহির লেখা এবং অন্য একজনের লেখা যা শনাক্ত করা যায়নি। আমরা এই শেষোক্ত ব্যক্তির কাছে ঋণী, কারণ তিনি আমাদের একটি বিলুপ্ত গ্রন্থের অনুচ্ছেদ সম্পর্কে অবহিত করেছেন যা আবু বকর আত-তারিখি নাহুবিদদের জীবনীর ওপর রচনা করেছিলেন। লেখকের সামনে তাঁর পুত্র ও কন্যারা এটি পাঠ করেছেন, এমনকি দুই বছর বয়সী শিশুও, দশটি মজলিসে যার শেষটি ছিল ৭৯৪ হিজরির ৮ই সফর, রবিবার। তিনি তাদের তাঁর সমস্ত রচনার অনুমতি (إجازة) প্রদান করেছেন, যেমনটি আপনি রিসালার শেষে দেখতে পাবেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো; এই কপিটি প্রখ্যাত শাফেয়ী ফকিহ (الفقيه) আল্লামা আহমদ ইবনে আব্দুর রহমান আর-রামলি, যিনি আবু আল-আসবাত নামে পরিচিত, তাঁর মালিকানায় ছিল। তিনি এতে মারওয়ান ইবনে... এর ওপর সায়্যিদা আয়েশার সংশোধনী (استدراك) যুক্ত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحكم ولم يكن هذا في الأصل وإنما أثبته الرملي بخطه أيضًا، كما ترى كلامه في موضعه من الرسالة. فأنت ترى أنها إلى قيمتها العلمية ذات قيمة أثرية لاشتمالها على خطوط أئمة في القرن الثامن وبعده: الزركشي وولده وابن طولون الصالحي والرملي وآخر.
هذا وقد رجعت في حل ما أشكل علي من الخط:
أولًا: إلى كتب الرجال وخاصة الإصابة وأسد الغابة وتهذيب التهذيب والاستيعاب ولسان الميزان والكنى والأسماء ثم ابن خلكان ومعجم البلدان وغيرها.
ثانيًا: إلى كتب الحديث وشروحها: صحيح البخاري ومسلم ومسند أحمد وسنن أبي داوود والترمذي وابن ماجه والحاكم وغيرها.
ثالثًا: إلى كتب المعاجم وخاصة النهاية لابن الأثير والفائق للزمخشري ولسان العرب.
واقتصرت من التعليق على ما تمس إليه الحاجة ولم أغير إلا ما يقتضيه الرسم الحديث؛ وماسها فيه المؤلف في سرعة كتابته فرفع في محل نصب أو نصب في محل رفع؛ فأشرت إلى ذلك كما أشرت إلى الكلام الذي شطب عليه؛ حرصًا على الإخراج الأمين للرسالة.
أما ما لقيت من عناء وبذلت من جهد ووقت فما يفيد القارئ بيانه، إلا أني كنت بعد أن نسخ الرسالة ناسخ متقن متمرن، حيال مئة وعشرين مشكلا، فما زلت أرجع إلى الأمات التي أشرت إليها، وأستعين بمذكراتي عن السيدة عائشة حتى لم يبق منها إلا دون المواضع الخمسة وهي إما من كلام المؤلف نفسه، أو من نص منقول عن كتاب مفقود فلا سبيل إلى حله ولم أشأ التصرف من عندي بشيء. وبقي كذلك نقص في ثلاث جمل ذهبت بعض كلماتها مع حرف الصفحة، فلم يكن سبيل إلى معرفته. وأكبر ظني أن المؤلف رحمه الله لو أراد تبييض هذه النسخة لما استطاع حل رموز هو عقدها. ولا أريد أن أكتم القارئ اغتباطي من نزول العدد من مئة وعشرين
সিদ্ধান্ত (الحكم) এবং এটি মূলে ছিল না, বরং আল-রামলি এটি তার নিজ হাতেও সাব্যস্ত করেছেন, যেমনটি আপনি রিসালাহ্র সংশ্লিষ্ট স্থানে তার বক্তব্য দেখতে পাবেন। সুতরাং আপনি দেখছেন যে, এর জ্ঞানতাত্ত্বিক মূল্যের পাশাপাশি এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বও বহন করে; কারণ এতে অষ্টম হিজরি শতাব্দী ও পরবর্তী যুগের ইমামদের হস্তলিপি সংরক্ষিত রয়েছে: আল-জারকাশি ও তার পুত্র, ইবনে তুলুন আস-সালিহি, আল-রামলি এবং অন্যান্য।
হস্তলিপির পাঠোদ্ধারে আমার কাছে যা অস্পষ্ট ছিল, তা সমাধানের জন্য আমি প্রত্যাবর্তন করেছি:
প্রথমত: রাবিদের জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসমূহের (كتب الرجال) দিকে, বিশেষ করে আল-ইসাবাহ, আসাদুল গাবাহ, তাহজিবুত তাহজিব, আল-ইসতিআব, লিসানুল মিজান, আল-কুনা ওয়াল আসমা (الكنى والأسماء), এরপর ইবনে খাল্লিকান, মুজামুল বুলদান ও অন্যান্য গ্রন্থ।
দ্বিতীয়ত: হাদিস গ্রন্থসমূহ ও সেগুলোর ব্যাখ্যার দিকে: সহিহ বুখারি, মুসলিম, মুসনাদ আহমাদ, সুনান আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, আল-হাকিম ও অন্যান্য।
তৃতীয়ত: অভিধান গ্রন্থসমূহের দিকে, বিশেষ করে ইবনুল আসিরের আন-নিহায়াহ, আজ-জামাশারির আল-ফাইক এবং লিসানুল আরব।
টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমি কেবল প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং আধুনিক লিখনশৈলীর প্রয়োজনে যতটুকু পরিবর্তন আবশ্যক ছিল, তার বাইরে কিছু পরিবর্তন করিনি। লেখক দ্রুত লেখার কারণে যে বিষয়গুলোতে অসাবধানতাবশত ভুল করেছিলেন, যেমন পেশ (رفع) প্রদানের স্থানে জবর (نصب) প্রদান বা জবর (نصب) প্রদানের স্থলে পেশ (رفع) প্রদান; আমি সেগুলোকে নির্দেশ করেছি, ঠিক যেমনটি আমি নির্দেশ করেছি কেটে দেওয়া কথাগুলোকে; যাতে রিসালাহটি বিশ্বস্ততার সাথে সম্পাদিত হয়।
আমি যে কষ্ট সহ্য করেছি এবং যতটুকু শ্রম ও সময় ব্যয় করেছি, তা পাঠকের কাছে বর্ণনা করার বিশেষ প্রয়োজন নেই। তবে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ লিপিকার কর্তৃক রিসালাহটি প্রতিলিপি করার পর আমি প্রায় ১২০টি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম। এরপর আমি উপরে উল্লিখিত মূল উৎসগুলোর দিকে বারবার ফিরে গিয়েছি এবং সায়্যিদা আয়েশা (রা.) সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত নোটগুলোর সাহায্য নিয়েছি, যতক্ষণ না মাত্র পাঁচটি অস্পষ্ট স্থান বাকি ছিল। এগুলো হয় লেখকের নিজস্ব বক্তব্য, অথবা এমন কোনো বিলুপ্ত গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত পাঠ যার সমাধানের কোনো পথ নেই; আর আমি নিজের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপ করতে চাইনি। একইভাবে তিনটি বাক্যে কিছু অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে, যার কিছু শব্দ পৃষ্ঠার প্রান্তের সাথে বিলীন হয়ে গেছে, ফলে সেগুলো জানার কোনো উপায় ছিল না। আমার প্রবল ধারণা এই যে, লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) নিজে যদি এই পাণ্ডুলিপিটি পুনরায় পরিচ্ছন্নভাবে লিখতে চাইতেন, তবে তিনিও তার নিজের তৈরি করা এই সব জটিল ধাঁধা সমাধান করতে পারতেন না। আমি পাঠকের কাছে আমার এই আনন্দের কথা লুকিয়ে রাখতে চাই না যে, সমস্যার সংখ্যা একশ বিশ থেকে কমে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ২০)
إلى ما دون العشرة، فقد نعمت بلذة لا يستطاع وصفها.
وإن أختم بشيء فهو الإعجاب الذي لا يحد بالمحدثين الذين جاهدوا لعلمهم وأخلصوا له أكبر جهاد وأتم إخلاص، وأشهد لقد كانوا في دقتهم وتحريهم وإحاطتهم وإتقانهم معجزة الله في المؤلفين. وما أزعم أني أدركت مدى تعبهم واجتهادهم، وإنما استطعت - وأنا أُخرج هذه الرسالة - أن أكون في نفسي فكرة عن جهادهم في سبيل السنة. لقد آمنت بعظمتهم وعظمة عملهم وأنهم الشهداء الصامتون وأن مدادهم أثمن من دم شهداء المعركة، وإني لم أر ولم أسمع ولم أتخيل أن أناسًا لهم مثل تلك الهمم والعزائم والصبر والأمانة. وإني لأخجل حين أقرر أني - على كثرة من أعرف من ذوي الجلادة والهمة والانقطاع لخدمة العلم - عجزت أن أعد واحدًا بذل معشار ما كان يبذل أصغر أولئك المحدثين. وما لي أخجل؟ وقد أيقنت أن ما قدموا هو شيء فوق طوق البشر الذين نعرف، فرحمهم الله وأثابهم ونفع بهم وقيض لهذا العلم الجليل من يعنى به على غرارهم.
سعيد الافغاني
15 صفر سنة 1358 هـ
5 نيسان سنة 1939 م
تنبيه 1 - الأرقام التي على الهامش تشير إلى صحف الأصل المخطوط ابتداء من خطبة الكتاب. وما داخل [] زيادة ليست في الأصل.
تنبيه 2 - أخطأ مجلد هذه المجموعة فوضع ثماني أوراق من الأصل في آخر الرسالة بعد السماع، وتبدأ بالحديث السادس من استدراكاتها على عمر بن الخطاب، ثم باستدراكاتها على علي بن أبي طالب، ثم باستدراكاتها على عبد الله بن عباس، وتنتهي بآخرها وهو الحديث الثامن، لننتقل بعده إلى استدراكاتها على عبد الله بن عمر، وقد وضعناها في طبعتنا في موضعها الصحيح.
দশ জন বা তার কম হওয়ার কারণে আমি এমন এক অনির্বচনীয় স্বাদ লাভ করেছি যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
আমি যদি কোনো কথার মাধ্যমে ইতি টানতে চাই, তবে তা হবে সেই হাদিস বিশারদদের (المحدثين) প্রতি এক অসীম মুগ্ধতা, যারা তাদের অর্জিত ইলমের জন্য কঠোর সংগ্রাম করেছেন এবং এর প্রতি চরম নিষ্ঠা ও পূর্ণ একাগ্রতা প্রদর্শন করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তাদের সূক্ষ্মতা, পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান (التحري), তথ্যগত ব্যাপকতা এবং পারদর্শিতার (الإتقان) ক্ষেত্রে তারা লেখককুলের মাঝে আল্লাহর এক জীবন্ত মুজেজা বা অলৌকিক নিদর্শন ছিলেন। আমি এটি দাবি করি না যে, আমি তাদের ক্লান্তি ও পরিশ্রমের (الاجتهاد) প্রকৃত মাত্রা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পেরেছি; তবে এই পুস্তিকাটি সম্পাদনা করার সময় আমি হাদিসের পথে তাদের সংগ্রামের বিষয়ে নিজের অন্তরে একটি ধারণা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। আমি তাদের শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাদের মহৎ কর্মের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেছি। তারা হলেন সেই নীরব সাক্ষী বা শহীদ, যাদের কলমের কালি রণক্ষেত্রের শহীদদের রক্তের চেয়েও অধিক মূল্যবান। আমি দেখিনি, শুনিনি এমনকি কল্পনাও করিনি যে, কোনো মানুষের মাঝে এমন সুউচ্চ হিম্মত, দৃঢ় সংকল্প, ধৈর্য এবং আমানতদারি (الأمانة) থাকতে পারে। আমি অত্যন্ত লজ্জা বোধ করি যখন আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে—আমি জ্ঞান সাধনায় একনিষ্ঠ ও কঠোর পরিশ্রমী এমন অনেক ব্যক্তিকে চেনা সত্ত্বেও—তাদের মধ্যে এমন একজনকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছি যিনি সেই হাদিস বিশারদদের (المحدثين) মধ্যে সবচেয়ে কনিষ্ঠ জন যে পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন তার দশভাগের একভাগও করেছেন। আর কেনই বা আমি লজ্জিত হব না? যেখানে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, তারা যা পেশ করেছেন তা আমাদের পরিচিত সাধারণ মানুষের সাধ্যাতীত বিষয়। আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন, তাদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাদের দ্বারা উম্মাহকে উপকৃত করুন; আর এই মহান ইলমের জন্য এমন ব্যক্তিদের নিয়োজিত করুন যারা তাদেরই আদর্শে এর সেবা করবেন।
সাঈদ আল-আফগানি
১৫ সফর, ১৩৫৮ হিজরি
৫ এপ্রিল, ১৯ dime ৩৯ খ্রিস্টাব্দ
সতর্কবার্তা ১ - পার্শ্বটীকায় দেওয়া নম্বরগুলো গ্রন্থের ভূমিকা থেকে শুরু করে মূল পাণ্ডুলিপির (المخطوط) পৃষ্ঠা নম্বর নির্দেশ করে। আর বন্ধনীর [] ভেতরে থাকা অতিরিক্ত অংশগুলো মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।
সতর্কবার্তা ২ - এই সংকলনের বাঁধাইকারী ভুলবশত মূল পাণ্ডুলিপির আটটি পাতা শ্রবণ (السماع) সংক্রান্ত আলোচনার শেষে পুস্তিকাটির একদম শেষ অংশে যুক্ত করে দিয়েছিলেন। সেই পাতাগুলো শুরু হয়েছে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর বর্ণনার ওপর করা ষষ্ঠ সংশোধনী (استدراكات) সংক্রান্ত হাদিসের মাধ্যমে, এরপর আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর ওপর করা সংশোধনী (استدراكات), এরপর আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ওপর করা সংশোধনী (استدراكات) এবং সবশেষে অষ্টম হাদিসের মাধ্যমে এটি শেষ হয়েছে; এরপর আমরা আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর ওপর করা সংশোধনীর (استدراكات) আলোচনার দিকে অগ্রসর হই। আমরা বর্তমান মুদ্রণে সেগুলোকে তাদের সঠিক স্থানে বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ২১)
شكل (1) صورة ما على الورقة الأولى من النسخة الخطية
চিত্র (১) পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার প্রতিচ্ছবি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
شكل (2) صورة الصفحة الأولى في الأصل
চিত্র (২) মূল পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
شكل (3)
صورة الصفحة الأخيرة في الأصل ويظهر فيها سماع أسرة المؤلف بخط ولده
চিত্র (৩)
মূল পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার ছবি, যাতে লেখকের পুত্রের হস্তাক্ষরে তাঁর পরিবারের শ্রবণ (سماع)-এর বিবরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
شكل (4) صورة الصفحة 16 من الأصل
চিত্র (৪) মূল পাণ্ডুলিপির ১৬ নম্বর পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
مقدمة المؤلّفبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي جعل فضل عائشة على النساء كفضل الثريد على سائر الطعام، وأَعلى أَعلام فتواها بين الأَعلام، وأَلبسها حلة الشرف حيث جاءَ إلى سيد الخلق الملك بها في سرقةٍ
(1) من حرير في المنام، وأَشهد أَن لا إله إلا الله وحده لا شريك له شهادة تنظمنا في أَبناء أُمهات المؤمنين، وتهدينا إلى سنن السنة آمنين، وأشهد أَن سيدنا محمدًا عبده ورسوله الذي أَرشد إلى الشريعة البيضاء، وأَعلن بفضل عائشة حتى قيل: خذوا شطر دينكم عن الحميراء، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه صباح مساء، وعلى أَزواجه اللواتي قيل في حقهن: {لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ}
(2) صلاة باقية في كل أَوان دائمة ما اختلف الملوان.
وبعد، فهذا كتاب أجمعُ فيه ما تفردتْ به الصدِّيقة رضي الله عنها
--------------------------------------------
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল নারীর ওপর আয়েশার শ্রেষ্ঠত্বকে অন্য সকল খাদ্যের ওপর সারীদের (মাংসের ঝোলে ভেজানো রুটি) শ্রেষ্ঠত্বের ন্যায় নির্ধারণ করেছেন; এবং প্রাজ্ঞজনদের মাঝে তাঁর ফতোয়ার নিশানকে সমুন্নত করেছেন। তিনি তাঁকে সম্মানের পোশাকে ভূষিত করেছেন যখন ফেরেশতা রেশমি কাপড়ের এক টুকরোতে
(১) করে স্বপ্নে তাঁকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের নিকট নিয়ে এসেছিলেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন সাক্ষ্য যা আমাদের উম্মুল মুমিনীনগণের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করবে এবং আমাদের নিরাপত্তার সাথে সুন্নাহর পথে পরিচালিত করবে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের সর্দার মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল, যিনি উজ্জ্বল শরিয়তের পথ দেখিয়েছেন এবং আয়েশার ফজিলত ঘোষণা করেছেন, এমনকি বলা হয়েছে: "তোমরা তোমাদের দ্বীনের অর্ধেক এই হুমায়রা থেকে গ্রহণ করো।" আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর সকাল-সন্ধ্যায়, এবং তাঁর স্ত্রীদের ওপর যাদের শানে বলা হয়েছে: {তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও}
(২); এমন রহমত যা সর্বকালব্যাপী স্থায়ী হবে এবং দিন ও রাত্রির আবর্তনের সাথে চিরকাল জারি থাকবে।
অতঃপর, এটি এমন এক কিতাব যাতে আমি সিদ্দিকা (রা.) যা এককভাবে বর্ণনা (تفردت) করেছেন তা একত্র করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أَو خالفت فيه سواها برأَي منها أَو كان عندها فيه سنة بينة، أَو زيادة علم متقنة، أَو أَنكرت فيه على علماءِ زمانها، أَو رجع فيه إليها أَجلة من أَعيان أَوانها، أَو حررته من فتوى، أَو اجتهدت فيه من رأَي رأَته أَقوى. موردًا ما وقع إليَّ من اختياراتها، ذاكرًا من الأَخبار في ذلك ما وصل إليَّ عن رواتها. غير مدَّعٍ في تمهيدها للاستيعاب، وأَن الطاقة أَحاطت بجميع ما في هذا الباب. على أَني حررت ما وقع لي من ذلك تحريرًا ونمقت بروده رقمًا وتحبيرا. مع فوائد أَضمها إليه وفرائد أَنثرها عليه، ليكنَّ عقدًا ثمينة جواهره، وفلكًا منيرة زواهره، ولقد وفقت لجمعها في زمن قريب، وأَصبح مأْهول ربعها مأْوىً لكل غريب. وما هذا إلا ببركة هذا البيت العظيم الفخر، وما هي بأَول بركتكم يا آل أبي بكر. وسميته (الإجابة: لإيراد ما استدركته عائشة على الصحابة). والله أَسأَل أَن يجعله خالصًا لوجهه الكريم، موصلًا إلى جنان النعيم وأَهديته إلى بحر علم ثمين جوهره، وأُفق فضل أَضاءَ شمسه وقمره، وروض آداب يانعة ثماره، ساطعة أَزهاره، سيدي
(1) قاضي القضاة برهان الدين بن جماعة
(2)--------------------------------------------
কিংবা তিনি নিজের মতের ভিত্তিতে অন্যদের থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, অথবা তাঁর নিকট এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট সুন্নাহ (سنة) কিংবা সুদৃঢ় অতিরিক্ত জ্ঞান বিদ্যমান ছিল; অথবা তিনি সমসাময়িক আলেমদের (علماء) কোনো বিষয়ে সংশোধন করে দিয়েছেন, অথবা তাঁর যুগের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এ বিষয়ে তাঁর শরণাপন্ন হয়েছেন; অথবা তিনি কোনো ফতোয়া (فتوى) পরিমার্জন করেছেন কিংবা তাঁর নিকট অধিকতর শক্তিশালী মনে হওয়া কোনো মতের ভিত্তিতে ইজতিহাদ (اجتهاد) করেছেন। আমি তাঁর সেই সংকলনসমূহ উপস্থাপন করছি এবং সে বিষয়ে বর্ণনাকারীদের (رواة) মাধ্যমে আমার নিকট পৌঁছানো সংবাদগুলো (أخبار) উল্লেখ করছি। তবে এই ভূমিকা রচনার ক্ষেত্রে আমি এটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার দাবি করছি না, কিংবা এ বিষয়ের সবকিছুই আমার সামর্থ্যের আয়ত্তে এসেছে এমনটিও নয়। যদিও আমি এ সংক্রান্ত যা কিছু পেয়েছি তা অত্যন্ত নিপুণভাবে পরিমার্জন করেছি এবং এর বাহ্যিক রূপকে অলঙ্কৃত ও সুসজ্জিত করেছি। সাথে কিছু কল্যাণকর টীকা যুক্ত করেছি এবং কিছু বিরল জ্ঞানবিন্দু এতে ছড়িয়ে দিয়েছি, যাতে এটি একটি মূল্যবান রত্নখচিত হারে পরিণত হয় এবং এমন একটি জ্যোতিষ্কে রূপ নেয় যার উজ্জ্বলতা চারিদিকে বিচ্ছুরিত হয়। আমি অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো সংগ্রহ করার তৌফিক লাভ করেছি এবং এর আঙিনা এখন প্রতিটি জ্ঞানপিপাসুর আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে কেবল এই অত্যন্ত মর্যাদাবান পরিবারের বরকতে; আর হে আবু বকরের বংশধর! এটিই আপনাদের প্রথম বরকত নয়। আমি এই গ্রন্থটির নামকরণ করেছি (আল-ইজাবাহ: লি-ইরাদি মাসতাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ)। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং জান্নাতুন নাঈমে পৌঁছানোর মাধ্যম বানিয়ে দেন। আর আমি এটি উপহারস্বরূপ উৎসর্গ করছি জ্ঞান-সমুদ্রের এক অমূল্য রত্নকে, ফযিলতের দিগন্তের উজ্জ্বল সূর্য ও চন্দ্রকে এবং সাহিত্যের সেই উদ্যানে যার ফলসমূহ সুপক্ক এবং পুষ্পরাজি সুভাসিত—আমার সয়্যিদ
(১) কাযিল কুযাত বুরহান উদ্দিন ইবনে জামাআহ
(২)-এর প্রতি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الشافعي أَدام الله علوه وكبت عدوه إذ لمذهب الشافعي من ثماره أَي روضات، وهو لمحرابه إِمام يتلو فيه من معجز القول آيات. قد أَظهر عرايس فضله المجلوة، وأَبرز نفائس نقله المحبوة، وبهر العقول بدقائقه التي بهرت، وزاد المباحث رونقًا بعبارته التي سحرت الأَلباب وما شعرت، تهدى العلوم إِليه وهو حقيقة أَدرى من المهدي بهن وأَعلم. وكنت في إِهدائه إلى مقامه كمن يهدي إلى البستان أَزهاره؛ وإلى الفلك شموسه وأَقماره، وإلى البحر جدولًا، وإلى السيل وشلًا، ولكن عرضت هذا المصنف على ملك الكلام؛ بل أَمير المؤمنين في الحديث والإِمام،
--------------------------------------------
শাফেয়ী, আল্লাহ তাঁর উচ্চমর্যাদাকে চিরস্থায়ী করুন এবং তাঁর শত্রুকে দমন করুন; কেননা শাফেয়ী মাযহাবের ফলসমূহ থেকে অনেক উদ্যান বিকশিত হয়েছে। আর তিনি তাঁর মিহরাবের এমন এক ইমাম (إمام) যিনি সেখানে অলৌকিক বাণীর নিদর্শনসমূহ তিলাওয়াত করেন। তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রস্ফুটিত সৌন্দর্যকে প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর বর্ণনার অমূল্য রত্নরাজিকে সামনে এনেছেন। তিনি তাঁর সূক্ষ্ম তত্ত্বসমূহ দ্বারা বুদ্ধিবৃত্তিকে অভিভূত করেছেন এবং তাঁর এমন শব্দশৈলীর মাধ্যমে জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনায় লাবণ্য বৃদ্ধি করেছেন যা মানুষের অজান্তেই তাদের হৃদয়কে বিমোহিত করেছে। সকল জ্ঞান তাঁর দিকেই পরিচালিত করা হয়, অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি সেই পথপ্রদর্শক অপেক্ষা অধিক অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী। তাঁর উচ্চ মর্যাদার সমীপে এই নিবেদন পেশ করার ক্ষেত্রে আমার অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো যে কোনো বাগানে তার ফুলই উপহার দেয়; অথবা মহাকাশে তার সূর্য ও চন্দ্রসমূহ উপহার দেয়; অথবা সমুদ্রের নিকট একটি ক্ষুদ্র ঝরনা এবং প্লাবনের নিকট একবিন্দু জল উপহার দেয়। তবুও আমি এই মুসান্নাফটি বাণীর সম্রাটের নিকট পেশ করছি; বরং যিনি হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন (أمير المؤمنين في الحديث) এবং ইমাম (إمام)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
لأثقفه باطلاعه عليه والسلام. والله تعالى يجعل أَيامه كلها مواسم، ويطرز التصانيف بفوائده حتى تصير كالثغور البواسم.
--------------------------------------------
যাতে তাঁর পরিদর্শনের মাধ্যমে আমি একে পরিমার্জিত করতে পারি এবং সালাম। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতিটি দিনকে কল্যাণময় করুন এবং তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনার (فوائد) মাধ্যমে গ্রন্থরাজিকে এমনভাবে সুশোভিত করুন যেন সেগুলো হাস্যোজ্জ্বল দন্তরাজির ন্যায় সুন্দর হয়ে ওঠে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
البابُ الأول في ترجمتهَا وخصَائصهَا
প্রথম অধ্যায়: তাঁর জীবনী (ترجمة) এবং বৈশিষ্ট্যসমূহ (خصائص) প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الفصل 1(1) - في ذكر شيءٍ من حالهاهي أُم المؤمنين وأُم عبد الله عائشة بنت أَبي بكر الصديقة بنت الصديق رضي الله عنه وعنها -، حبيبة رسول الله صلى الله عليه وسلم الفقيهة الربانية. كنيتها أُم عبد الله كناها به النبي صلى الله عليه وسلم، بابن أُختها عبد الله بن الزبير رواه أَبو داوود، وقال الحاكم: صحيح الإِسناد.
وجاءَ في معجم ابن الاعرابي: أَنها جاءَت بسقط فسماه النبي صلى الله عليه وسلم عبد الله و كناها به. وفي إسناده نظر لأَن مداره على داوود بن المحَبَّر
(2) صاحب كتاب العقل. وعائشة مأَخوذة من العيش، ويقال أيضًا عَيْشة، لغة حكاها ابن الأَعرابي وعلي بن حمزة ولا التفات لإِسناد أَبي عبيدة في الغريب المصنف ذلك.
وذكر أَبو الفضل الفلكي في الأَلقاب: النبي صلى الله عليه وسلم صغَّر اسمها وقال
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ(১) - তাঁর অবস্থা বা জীবনবৃত্তান্তের বর্ণনা প্রসঙ্গেতিনি হলেন উম্মুল মুমিনীন এবং উম্মু আবদুল্লাহ আয়েশা বিনতে আবু বকর; সিদ্দীকের কন্যা সিদ্দীকা (আল্লাহ তাঁর ও তাঁর পিতার প্রতি সন্তুষ্ট হোন), আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রিয়তমা এবং রব্বানী ফকীহ। তাঁর উপনাম (কুনিয়া) ছিল উম্মু আবদুল্লাহ; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ভাগ্নে আবদুল্লাহ বিন আল-জুবায়েরের নামানুসারে তাঁর এই উপনাম রেখেছিলেন। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম বলেছেন: এর সনদ সহীহ (صحيح الإسناد)।
মু’জাম ইবনুল আ’রাবি-তে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর একটি গর্ভপাত হয়েছিল, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই সন্তানের নাম রেখেছিলেন আবদুল্লাহ এবং সেই নামেই তাঁর উপনাম নির্ধারণ করেছিলেন। তবে এর সনদে সংশয় (نظر) রয়েছে, কারণ এর বর্ণনাসূত্র দাউদ বিন আল-মুহাব্বার-এর ওপর আবর্তিত, যিনি ‘কিতাবুল আকল’-এর লেখক। ‘আয়েশা’ শব্দটি ‘আইশ’ (জীবন) থেকে উদ্ভূত, ইবনুল আ’রাবি ও আলী বিন হামজার বর্ণনা অনুযায়ী একে ‘আইশাহ্’ হিসেবেও উচ্চারণ করা হয়। তবে ‘গারীবুল মুসান্নাফ’-এ এ সংক্রান্ত আবু উবাইদাহর সনদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করার অবকাশ নেই।
আবু আল-ফজল আল-ফালাকি ‘আল-আলকাব’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্নেহের আতিশয্যে তাঁর নাম সংক্ষিপ্ত (তাসগীর) করে ডাকতেন এবং বলতেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইজাবাহ লি-ইরাদি মাস্তাদরাকাতহু আইশা আলাস সাহাবাহ - ত আল-আফগানি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
يا عُويْش. وذكر صاحب مسند الفردوس أَن الإِمام أَحمد في مسنده رواه من حديث أُم سلمة: قالت عائشة " (يا) رسول الله علمني دعوة أَدعو بها" فقال: "يا عُوَيْش قولي اللهم رب محمد الأُمِّي أَذهب عني غيظ قلبي وأَجرني من مضلات الفتن." واستغربه ابن الصلاح في طبقاته، وفي الصحيحين "ياعايش" على الترخيم وفي الأَول دليل على جواز التصغير كقوله: "يا أَبا عُمَيْر" تصغير تحبيب. وجعل صاحب البسيط من النحويين مثل قوله: "يا حميرا" تصغير تقريب ما يتوهم أَنه بعيد، كقولهم بُعَيْدَ الْعَصْر وقُبيْلَ الفجر. قال: لأَن المراد بها البيضاءَ فكأَنها غير كاملة البياض، قال: وكذلك قوله: "كُنيْف ملئَ علمًا" اهـ.
وقال أَبو القاسم الثمانيني في شرح اللمع: "قول عمر رضي الله عنه في ابن مسعود: "كنيف ملئَ علمًا" قالوا إنه أَراد بهذا التحقير تعظيمه، كما قالوا في داهية: دويهية وخُوَيخِيَة
(1) " قال: والصحيح أَن ابن مسعود كان صغير الجسم قصيرًا فقال: (كُنَيْف) مصغرة ليدل على تصغير جسمه لأَن كنيْفًا تكبيره كِنْف وهو شيءُ يكون فيه أَداة الراعي فأَراد أَنه حافظ لما فيه" اهـ.
وأُمها أُم رومان بفتح الراء وضمها بنت عامر بن عوَيمِر بن عبد شمس بن كنانة. روى البخاري لأُم رومان حديثًا واحدًا من حديث الإِفك من رواية مسروق عنها ولم يلقها وقيل: "عن مسروق حدثتني أُم رومان" وهو وهم. ونقل النووي أَن ابن إسحاق سماها في السيرة زينب. وفي
--------------------------------------------
হে উওয়াইশ। মুসনাদুল ফিরদাউস-এর গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ তার মুসনাদ গ্রন্থে উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন: আয়েশা (রা.) বললেন, "(হে) আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি পাঠ করব।" তিনি বললেন: "হে উওয়াইশ, বলো—হে আল্লাহ, উম্মি (নিরক্ষর) মুহাম্মাদের রব, আমার অন্তরের ক্রোধ দূর করে দিন এবং বিভ্রান্তিকর ফিতনা থেকে আমাকে রক্ষা করুন।" ইবনুস সালাহ তার 'তাবাকাত' গ্রন্থে এটিকে অপরিচিত/সূত্রহীন (غريب) বলে গণ্য করেছেন। সহীহাইন গ্রন্থে নামের শেষাংশ বিলোপ (ترخيم) করে "হে আইশ" শব্দ এসেছে। আর প্রথম শব্দটিতে আদুরে সংক্ষেপিত নাম (تصغير) ব্যবহারের বৈধতার প্রমাণ রয়েছে, যেমন তার বাণী: "হে আবু উমাইর", যা ভালোবাসাস্বরূপ সংক্ষেপিত নাম (تصغير تحبيب) হিসেবে ব্যবহৃত। ব্যাকরণবিদদের মধ্যে আল-বাসীত গ্রন্থের লেখক 'হে হুমাইরা' উক্তিটিকে এমন সংক্ষেপিত রূপ (تصغير تقريب) হিসেবে গণ্য করেছেন যা দূরের বিষয়কে নিকটবর্তী করার ধারণা দেয়; যেমনটি বলা হয়ে থাকে: আসরের কিছু পর (বুইয়াদাল আসর) এবং ফজরের সামান্য আগে (কুবাইলাল ফাজর)। তিনি বলেন: কারণ এর দ্বারা ফর্সা নারী উদ্দেশ্য, যেন তার শুভ্রতা পূর্ণাঙ্গ নয়। তিনি আরও বলেন: অনুরূপভাবে তার এই উক্তিটিও: "জ্ঞানে পরিপূর্ণ একটি ছোট থলি (কুনিফ)"। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
আবু আল-কাসিম আস-সামানিনি 'শারহুল লুমা'-র ব্যাখ্যায় বলেন: "ইবনে মাসউদ (রা.) সম্পর্কে উমর (রা.)-এর উক্তি: 'জ্ঞানে পরিপূর্ণ একটি ছোট থলি'—তারা বলেন যে, তিনি এর দ্বারা এই তুচ্ছতাবোধক শব্দের মাধ্যমে মূলত তার সম্মান বৃদ্ধি করতে চেয়েছেন, যেমনটি কঠিন বিপদ বোঝাতে 'দুইহাইইয়াহ' বা 'খুওয়াইখিয়াহ'
(১) বলা হয়।" তিনি বলেন: সঠিক মত হলো, ইবনে মাসউদ (রা.) শারীরিক গঠনে ছোট ও খাটো ছিলেন, তাই তার দেহের ক্ষুদ্রতা বোঝাতে 'কুনিফ' শব্দটি সংক্ষেপিত রূপ (مصغرة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ 'কুনিফ' এর মূল শব্দ হলো 'কিনফ', যা রাখালদের সরঞ্জাম রাখার একটি পাত্র; এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি (ইবনে মাসউদ) তার ভেতরে থাকা ইলমের সংরক্ষণকারী ছিলেন। উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
আর তার মাতা হলেন উম্মে রুমান (রা-এ যবর এবং পেশ উভয়ই পঠিত), তিনি আমির বিন উওয়াইমির বিন আবদ শামস বিন কিনানার কন্যা। বুখারি উম্মে রুমান থেকে ইফকের (মিথ্যা অপবাদ) ঘটনার কেবল একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা মাসরুক তার থেকে বর্ণনা করেছেন, যদিও তিনি তার সাক্ষাৎ পাননি। কেউ কেউ বলেছেন: "মাসরুক থেকে বর্ণিত, উম্মে রুমান আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন"—যা একটি ভ্রান্তি (وهم)। ইমাম নববী উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে ইসহাক সিরাত গ্রন্থে তার নাম জয়নব রেখেছেন।
--------------------------------------------