(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: -)
الإيمان - أبو عبيد - ط المكتب الإسلامي   (أبو عبيد القاسم بن سلام)

القسم: العقيدة


الكتاب: كتاب الإيمان

(ومعالمه، وسننه، واستكماله، ودرجاته)

المؤلف: أبو عُبيد القاسم بن سلاّم (157 - 224 هـ)

حققه وقدم له وخرج أحاديثه وعلق عليه: محمد ناصر الدين الألباني

المكتب الإسلامي - بيروت

الطبعة: الثانية، 1403 هـ - 1983 م

عدد الصفحات: 51

تنبيه: انتهى المحقق منه سنة 1385 هـ - 1966 م، ضِمن مجموع مِن أربع رسائل طُبِع في حينه تحت عنوان «مِن كنوز السنة» في المطبعة العمومية بدمشق (وصَوّرَتْه دارُ الأرقم بالكويت)، ثم أعاد المكتبُ الإسلامي نشرَ الرسائل مفردة بحرفٍ جديد، وعنه أعادتْ صَفّه مكتبة المعارف بالرياض

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ربيع الأول 1445

ঈমান - আবু উবাইদ - আল-মাকতাব আল-ইসলামী প্রকাশনী   (আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম)

বিভাগ: আকীদা


বই: কিতাবুল ঈমান

(এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ، এর সুন্নাতসমূহ، এর পূর্ণতা، ও এর স্তরসমূহ)

লেখক: আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম (১৫৭ - ২২৪ হিজরি)

তাহকীক, ভূমিকা, হাদীস তাখরীজ ও টীকা প্রদান করেছেন: মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী

আল-মাকতাব আল-ইসলামী - বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১

সতর্কীকরণ: মুহাক্কিক এটি ১৩৮৫ হিজরি - ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে সম্পন্ন করেন، যা সেই সময়ে দামেস্কের আল-মাতবাআ আল-উমুমিয়্যাহ-তে «মিন কুনুযিস সুন্নাহ» শিরোনামে চারটি রিসালার একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছিল (এবং কুয়েতের দারুল আরকাম এটি পুনরায় মুদ্রণ করেছিল)، এরপর আল-মাকতাব আল-ইসলামী রিসালাগুলো নতুন অক্ষরে পৃথকভাবে পুনরায় প্রকাশ করে এবং রিয়াদের মাকতাবাতুল মাআরিফ তা থেকে পুনরায় কম্পোজ সম্পন্ন করে।

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم[*]

 

‌‌ترجمة المصنف الإمام ابن سلام

هو: أبو عبيد القاسم بن سلام البغدادي، الإمام المجتهد البحر، اللغوي الفقيه، صاحب المصنفات. ولد بـ: "هراة" نحو سنة (157)، وكان أبوه عبدًا روميا لبعض أهل هراة.

سمع جماعة من الأئمة الثقات، مثل سفيان بن عيينة، وإسماعيل بن عُلَيَّة، ويزيد بن هارون، ويحيى بن سعيد القطان، وعبد الرحمن بن مهدي، وحماد بن سلمة، وغيرهم. وحدث عنه: الإمام الدارمي، وأبو بكر ابن أبي الدنيا، وعلي بن عبد العزيز البغوي، ومحمد بن يحيى المروزي، وآخرون.

قال الإمام إسحاق بن راهويه: "الله يحب الحق، أبو عبيد أعلم مني وأفقه". وقال أيضًا: "نحن نحتاج إلى أبي عبيد، وأبو عبيد لا يحتاج إلينا". وقال أحمد بن حنبل:

--------------------------------------------

[*] (تعليق الشاملة): طبع الكتاب أول مرة عام 1385 هـ ضمن مجموع باسم «مِن كنوز السنة» قال الشيخ الألباني في مقدمته:

«فهذه أربع رسائل. . . أزمعنا على نشرها. . . ويعود الفضل في البدء بذلك إلى فضيلة الشيخ محمد نصيف. . . فهو الذي كان كتب إلي سنة (1383 هـ) - وأنا يومئذ في المدينة المنورة - أن اختار له بعض الرسائل المخطوطة التي لم يسبق أن نشرت من قبل، فانتقيت له من فهرستي التي كنت جمعت فيها أسماء كتب الحديث المحفوظة في المكتبة الظاهرية بدمشق، الرسائل المشار إليها، وهي لبعض الأئمة المعروفين بالحفظ والعلم والعقيدة الصحيحة، وأرسلت بأسمائها إليه وهي:

1 - كتاب الإيمان. للحافظ أبي بكر بن أبي شيبة. (159 - 235).

2 - كتاب الإيمان. للإمام أبي عبيد القاسم بن سلام (159 - 224).

3 - كتاب العلم. للحافظ أبي خيثمة زهير بن حرب (160 - 234).

4 - كتاب اقتضاء العلم العمل. للخطيب البغدادي (392 - 463)

ومن نحو أربعة أشهر، كتب فضيلته إلينا برغبته في أن نقوم بطبعها في دمشق مع التعليق عليها، فاستجبت لرغبته. . .»

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।[*]

 

‌‌গ্রন্থকার ইমাম ইবনে সালামের জীবনী

তিনি হলেন: আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সালাম আল-বাগদাদি; মুজতাহিদ ইমাম, ইলমের সমুদ্র, ভাষাবিদ, ফকিহ এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি আনুমানিক ১৫৭ হিজরি সনে "হিরাত"-এ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হিরাতের জনৈক ব্যক্তির রোমান ক্রীতদাস ছিলেন।

তিনি একদল নির্ভরযোগ্য ইমামের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, যেমন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা, ইসমাইল বিন উলাইয়্যাহ, ইয়াজিদ বিন হারুন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান, আব্দুর রহমান বিন মাহদি, হাম্মাদ বিন সালামাহ এবং অন্যান্যগণ। তাঁর নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন: ইমাম আদ-দারিমি, আবু বকর ইবনে আবিদ দুনইয়া, আলি বিন আব্দুল আজিজ আল-বাগাওয়ি, মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-মারওয়াযি এবং আরও অনেকে।

ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াইহ বলেন: "আল্লাহ সত্যকে ভালোবাসেন; আবু উবাইদ আমার চেয়েও বড় আলেম এবং বড় ফকিহ।" তিনি আরও বলেন: "আমাদের আবু উবাইদকে প্রয়োজন, কিন্তু আবু উবাইদের আমাদের প্রয়োজন নেই।" আহমাদ বিন হাম্বল বলেন:

--------------------------------------------

[*] (শামেলা কর্তৃপক্ষের টীকা): বইটি প্রথমবার ১৩৮৫ হিজরি সনে «মিন কুনুযিস সুন্নাহ» (সুন্নাহর ভাণ্ডার থেকে) নামক একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়। শেখ আলবানি এর ভূমিকায় বলেন:

«এগুলো হলো চারটি পুস্তিকা... যা আমরা প্রকাশ করার সংকল্প করেছি... এর পেছনে সূচনালগ্নে কৃতিত্বের দাবিদার হলেন ফযীলাতুশ শেখ মুহাম্মদ নাসিফ... তিনিই ১৩৮৩ হিজরি সনে আমাকে লিখেছিলেন - আমি তখন মদিনা মুনাওয়ারায় ছিলাম - যেন আমি তাঁর জন্য এমন কিছু পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করি যা ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়নি। ফলে আমি দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত হাদিসের কিতাবসমূহের যে তালিকা (ক্যাটালগ) তৈরি করেছিলাম, সেখান থেকে তাঁর জন্য এই পুস্তিকাগুলো মনোনীত করি। এগুলো এমন সব ইমামদের রচিত যারা হিফয, ইলম এবং সঠিক আকিদার জন্য সুপরিচিত। আমি সেগুলোর নাম তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলাম, সেগুলো হলো:

১ - কিতাবুল ঈমান। হাফেজ আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ (১৫৯ - ২৩৫) কৃত।

২ - কিতাবুল ঈমান। ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সালাম (১৫৯ - ২২৪) কৃত।

৩ - কিতাবুল ইলম। হাফেজ আবু খাইসামা যুহাইর বিন হারব (১৬০ - ২৩৪) কৃত।

৪ - কিতাবুল ইক্তিদাউল ইলমি বিল আমাল। খতিব আল-বাগদাদি (৩৯২ - ৪৬৩) কৃত।

প্রায় চার মাস আগে ফযীলাতুশ শেখ আমাদের কাছে তাঁর এই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে পত্র লিখেন যে, আমরা যেন দামেস্কে টীকা-টিপ্পনীসহ এগুলো মুদ্রণের ব্যবস্থা করি। অতঃপর আমি তাঁর সে আহ্বানে সাড়া দেই...»

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৬)
"أبو عبيد أستاذ، وهو يزداد كل يوم خيرًا".

وسئل يحيى بن معين عنه؟ فقال:

"أبو عبيد يسأل الناس عنه! ".

وقال أبو داود:

"ثقة مأمون".

قال الحافظ الذهبي:

"من نظر في كتب أبي عبيد علم مكانه من الحفظ والعلم، وكان حافظًا للحديث وعلله، عارفًا بالفقه والاختلاف رأسًا في اللغة، إمامًا في القراءات، له فيها مصنف، وقع لي من تصانيفه (كتاب الأموال) و (كتاب الناسخ والمنسوخ) ".

وقال الخطيب البغدادي:

"وكان ذا فضل، ودين، وستر، ومذهب حسن، وكتبه مستحسنة، مطلوبة في كل بلد، والرواة عنه مشهورون ثقات، ذو ذكر ونبل، وكتابه في (الأموال) من أحسن ما صنف في الفقه وأجوده".

قلت: ومع هذه المناقب والفضائل، فإن الأئمة الستة لم يخرجوا له شيئًا من الحديث، فذلك من الأدلة الكثيرة على أنهم لم يخرجوا لجميع رواة الحديث الثقات، فلا غرابة بعد هذا أن لا يخرج البخاري لبعض رواة أهل البيت الثقات منهم رضي الله عنهم!

ومن كلام أبي عبيد رحمه الله تعالى:

"المتبع للسنة كالقابض على الجمر، وهو اليوم عندي أفضل من ضرب السيف في سبيل الله عز وجل".

قلت: هذا في زمانه فماذا يقال في زماننا؟

أقام رحمه الله ببغداد مدة، ثم ولي القضاء بـ (طرسوس)، وخرج بعد ذلك إلى مكة، فسكنها حتى مات بها، سنة أربع وعشرين ومائتين.
"আবু উবাইদ একজন উস্তাদ, এবং তিনি প্রতিদিন কল্যাণে বৃদ্ধি পাচ্ছেন।"

এবং ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন:

"মানুষ কি আবু উবাইদ সম্পর্কে (অন্যকে) জিজ্ঞাসা করবে! (অর্থাৎ তিনি এতটাই প্রসিদ্ধ যে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই)।"

এবং আবু দাউদ বলেছেন:

"নির্ভরযোগ্য ও আমানতদার।"

হাফিজ আয-যাহাবি বলেছেন:

"যে ব্যক্তি আবু উবাইদের কিতাবসমূহ দেখবে, সে তাঁর মুখস্থশক্তি ও ইলমের মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি ছিলেন হাদিস ও এর ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে হাফিজ, ফিকহ ও মতপার্থক্য সম্পর্কে অভিজ্ঞ, ভাষাতত্ত্বের শীর্ষস্থানীয় এবং কিরাআত শাস্ত্রের ইমাম। এ বিষয়ে তাঁর কিতাব রয়েছে। তাঁর সংকলনসমূহের মধ্যে আমার কাছে 'কিতাবুল আমওয়াল' এবং 'কিতাবুন নাসিখ ওয়াল মানসুখ' পৌঁছেছে।"

আল-খাতিব আল-বাগদাদি বলেছেন:

"তিনি ছিলেন ফযিলত, দ্বীনদারি, পবিত্রতা এবং উত্তম মানহাজের অধিকারী। তাঁর কিতাবসমূহ প্রশংসিত এবং প্রতিটি দেশে অন্বেষিত। তাঁর থেকে বর্ণনাকারীরা প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য। তিনি সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন। 'আল-আমওয়াল' বিষয়ে তাঁর কিতাবটি ফিকহ শাস্ত্রে রচিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও উৎকৃষ্ট কাজ।"

আমি বলছি: এতসব গুণাবলি ও মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও ছয় ইমাম (কুতুবে সিত্তাহর লেখকগণ) তাঁর কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি। এটি এই বিষয়ের অনেক দলীলের একটি যে, তাঁরা সকল নির্ভরযোগ্য হাদিস বর্ণনাকারীর হাদিস বর্ণনা করেননি। সুতরাং এরপর ইমাম বুখারি যদি আহলে বাইতের কিছু নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হাদিস বর্ণনা না করে থাকেন, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই!

এবং আবু উবাইদ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হলো:

"সুন্নাহর অনুসরণকারী জ্বলন্ত অঙ্গার ধারণকারীর ন্যায়। আর এটি বর্তমান সময়ে আমার নিকট মহান আল্লাহর পথে তলোয়ার চালানোর চেয়েও অধিক উত্তম।"

আমি বলছি: এটি ছিল তাঁর সময়ের কথা, তাহলে আমাদের সময়ের ব্যাপারে কী বলা যাবে?

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বাগদাদে কিছুকাল অবস্থান করেন, অতঃপর 'তারসুস'-এ বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে বের হন এবং সেখানেই বসবাস করতে থাকেন, অবশেষে দুইশত চব্বিশ হিজরি সনে সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৭)
صورة الوجه الأول من الأصل المخطوط[*]

--------------------------------------------

[*] (تعليق الشاملة): جاء في مقدمة المجموع، الواردة في صدر كتاب «الإيمان لابن أبي شيبة» ط المكتب الإسلامي (ص 8) ما نصه:

«وأما الرسالة الثانية «الإيمان لأبي عبيد»:

فإنما اعتمدنا فيها على نسخة قديمة وحيدة [لم يذكر بروكلمن سواها]، كتبت سنة ثمان وثمانين وأربعمائة من نسخة الشيخ العفيف أبي محمد عثمان بن أبي نصر بـ (مصر). وهي نسخة ليست بالجيدة، فإنها مع كونها مقابلة بالأصل كما جاء في خاتمتها، وتراه في الوجه الأخير مصورًا على الصفحة الآتية فقد وقع فيها أخطاء كثيرة، وسقطٌ في غير ما موضع، وقد اجتهدت، فصححت من ذلك ما أمكنني تصحيحه، وأشرت إلى ذلك في التعليق، وما عجزت عنه نبهت عليه في التعليق غالبًا.

وهي إلى ذلك سيئة الخط، كما يبدو لمن نظر في الصورتين اللتين تمثلان الوجه الأول والأخير منها.»

মূল পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার ছবি[*]

--------------------------------------------

[*] (শামেলা-এর টীকা): সংকলনের ভূমিকায়, যা 'ইবন আবি শাইবা' রচিত 'আল-ইমান' গ্রন্থের শুরুতে এসেছে (আল-মাকতাব আল-ইসলামি সংস্করণ, পৃ. ৮), তাতে নিম্নোক্ত বক্তব্যটি এসেছে:

«আর দ্বিতীয় রিসালাহ 'আবু উবাইদ-এর আল-ইমান' প্রসঙ্গে:

আমরা এতে একটি প্রাচীন ও অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি [ব্রোকলম্যান এটি ছাড়া অন্য কোনো পাণ্ডুলিপির কথা উল্লেখ করেননি], যা চারশত আটাশি হিজরি সালে মিশরে শায়খ আল-আফিফ আবু মুহাম্মাদ উসমান ইবন আবি নাসর-এর পাণ্ডুলিপি থেকে প্রতিলিপি করা হয়েছিল। এটি কোনো উন্নত মানের পাণ্ডুলিপি নয়; কারণ এর সমাপ্তি অংশে এটি মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখার দাবি করা হলেও (যা পরবর্তী পৃষ্ঠায় এর শেষাংশের ছবিতে দেখতে পাবেন), এতে অনেক ভুল এবং বিভিন্ন স্থানে অনেক বিচ্যুতি (শব্দ বাদ পড়া) ঘটেছে। আমি সাধ্যমতো তা সংশোধন করার চেষ্টা করেছি এবং টীকায় তা নির্দেশ করেছি; আর যা সংশোধন করতে আমি অক্ষম হয়েছি, সে ব্যাপারে সাধারণত টীকায় সতর্ক করে দিয়েছি।

সেই সাথে এর হস্তলিপিও বেশ অস্পষ্ট, যা এর প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠার ছবি দুটির দিকে তাকালে যে কারো কাছে স্পষ্ট হবে।»

(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৮)
صورة الوجه الأخير من الأصل المخطوط
মূল পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

توكلت على الله

 

‌‌بَابُ نَعْتِ الْإِيمَانِ فِي اسْتِكْمَالِهِ وَدَرَجَاتِهِ

أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ مَعْرُوفٍ أَعْنِي ابْنَ أَبِي نَصْرٍ فِي دَارِهِ بِدِمِشْقَ، فِي صَفَرٍ سَنَةَ عِشْرِينَ وَأَرْبَعْ مَائَةٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو يَعْقُوبَ إِسْحَاقُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ يَحْيَى الْعَسْكَرِيُّ (صَاحِبُ [أَبِي] عُبَيْدٍ الْقَاسِمِ بْنِ سَلَامٍ) هَذِهِ الرِّسَالَةَ وَأَنَا أَسْمَعُ قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ:

أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّكَ كُنْتَ تَسْأَلُنِي عَنِ الْإِيمَانِ، وَاخْتِلَافِ الْأُمَّةِ فِي اسْتِكْمَالِهِ، وَزِيَادَتِهِ وَنَقْصِهِ، وَتَذْكُرُ أَنَّكَ أَحْبَبْتَ مَعْرِفَةَ مَا عَلَيْهِ أَهْلُ السُّنَّةِ مِنْ ذَلِكَ، وَمَا الْحُجَّةُ عَلَى مَنْ فَارَقَهُمْ فِيهِ؟ فَإِنَّ هَذَا رَحِمَكَ اللَّهُ خَطْبٌ قَدْ تَكَلَّمَ فِيهِ السَّلَفُ فِي صَدْرِ هَذِهِ الْأُمَّةِ وَتَابِعِيهَا وَمَنْ بَعْدَهُمْ إِلَى يَوْمِنَا هَذَا، وَقَدْ كَتَبْتُ إِلَيْكَ بِمَا انْتَهَى إِلَيَّ عِلْمُهُ مِنْ ذَلِكَ مَشْرُوحًا مُخَلَّصًا، وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ.

 

اعْلَمْ رَحِمَكَ اللَّهُ، أَنَّ أَهْلَ الْعِلْمِ وَالْعِنَايَةِ بِالدِّينِ افْتَرَقُوا فِي هَذَا الْأَمْرِ فِرْقَتَيْنِ:

فَقَالَتْ إِحْدَاهُمَا: الْإِيمَانُ بِالْإِخْلَاصِ لِلَّهِ بِالْقُلُوبِ، وَشَهَادَةِ الْأَلْسِنَةِ، وَعَمَلِ الْجَوَارِحِ
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম।

 

‌‌পরিচ্ছেদ: ঈমানের পূর্ণতা ও এর স্তরসমূহের বিবরণ

আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে উসমান ইবনে মারুফ—অর্থাৎ ইবনে আবু নাসর—দামেশকে তার নিজগৃহে, চারশত বিশ হিজরি সালের সফর মাসে। তিনি বলেন: আমাদেরকে আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আসকারি (আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সালামের সহচর) এই রিসালাটি বর্ণনা করেছেন এবং আমি তা শ্রবণ করছিলাম। আবু উবাইদ বলেন:

অতঃপর, আপনি আমাকে ঈমান সম্পর্কে এবং এর পূর্ণতা লাভ, বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার বিষয়ে উম্মতের মতভেদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আপনি উল্লেখ করেছেন যে, এই বিষয়ে আহলে সুন্নাতের অবস্থান কী এবং যারা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে দলিল কী, তা আপনি জানতে আগ্রহী। আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, নিশ্চয়ই এটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা নিয়ে এই উম্মতের প্রাথমিক যুগের সালাফগণ, তাবেয়িগণ এবং তাঁদের পরবর্তীগণ আমাদের বর্তমান সময় পর্যন্ত আলোচনা করেছেন। আমি আপনার নিকট এ বিষয়ে আমার কাছে যতটুকু জ্ঞান পৌঁছেছে তা ব্যাখ্যাসহ ও সারসংক্ষেপে লিখে পাঠিয়েছি। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

 

জেনে রাখুন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, নিশ্চয়ই দ্বীন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আলেমগণ এই বিষয়ে দুই দলে বিভক্ত হয়েছেন:

তাদের মধ্যে একদল বলেছে: ঈমান হলো অন্তরের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া, জিহ্বা দ্বারা সাক্ষ্য প্রদান করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করা।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১০)
وَقَالَتِ الْفِرْقَةُ الْأُخْرَى: بَلِ الْإِيمَانُ بِالْقُلُوبِ وَالْأَلْسِنَةِ، فَأَمَّا الْأَعْمَالُ فَإِنَّمَا هِيَ تَقْوَى وَبِرٌّ، وَلَيْسَتْ مِنَ الْإِيمَانِ.

وَإِنَّا نَظَرْنَا فِي اخْتِلَافِ الطَّائِفَتَيْنِ، فَوَجَدْنَا الْكِتَابَ وَالسُّنَّةَ يُصَدِّقَانِ الطَّائِفَةَ الَّتِي جَعَلَتِ الْإِيمَانَ بِالنِّيَّةِ وَالْقَوْلِ وَالْعَمَلِ جَمِيعًا، وَيَنْفِيَانِ مَا قَالَتِ الْأُخْرَى.

وَالْأَصْلُ الَّذِي هُوَ حُجَّتُنَا فِي ذَلِكَ اتِّبَاعُ مَا نَطَقَ بِهِ الْقُرْآنُ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى ذِكْرُهُ عُلُوًّا كَبِيرًا قَالَ فِي مُحْكَمِ كِتَابِهِ: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59] وَإِنَّا رَدَدْنَا الْأَمْرَ إِلَى مَا ابْتَعَثَ اللَّهُ عَلَيْهِ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم(1) وَأَنْزَلَ بِهِ كِتَابَهُ، فَوَجَدْنَاهُ قَدْ جَعَلَ بَدْءَ الْإِيمَانِ شَهَادَةَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ بَعْدَ النُّبُوَّةِ عَشْرَ سِنِينَ، أَوْ بِضْعَ عَشَرَ سَنَةً، يَدْعُو إِلَى هَذِهِ الشَّهَادَةِ خَاصَّةً، وَلَيْسَ الْإِيمَانُ الْمُفْتَرَضُ عَلَى الْعِبَادِ يَوْمَئِذٍ سِوَاهَا، فَمَنْ أَجَابَ إِلَيْهَا كَانَ مُؤْمِنًا، لَا يَلْزَمُهُ اسْمٌ فِي الدِّينِ غَيْرُهُ، وَلَيْسَ يَجِبُ عَلَيْهِمْ زَكَاةٌ، وَلَا صِيَامٌ، وَلَا غَيْرُ ذَلِكَ مِنْ شَرَائِعِ الدِّينِ، وَإِنَّمَا كَانَ هَذَا التَّخْفِيفُ عَنِ النَّاسِ يَوْمَئِذٍ فِيمَا يَرْوِيهِ الْعُلَمَاءُ رَحْمَةً مِنَ اللَّهِ لِعِبَادِهِ، وَرِفْقًا بِهِمْ، لِأَنَّهُمْ كَانُوا حَدِيثَ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ وَجَفَائِهَا، وَلَوْ حَمَّلَهُمُ الْفَرَائِضَ كُلَّهَا مَعًا نَفَرَتْ مِنْهُ قُلُوبُهُمْ، وَثَقُلَتْ عَلَى أَبْدَانِهِمْ، فَجَعَلَ ذَلِكَ الْإِقْرَارَ بِالْأَلْسُنِ وَحْدَهَا هُوَ الْإِيمَانَ الْمُفْتَرَضَ عَلَى النَّاسِ يَوْمَئِذٍ، فَكَانُوا عَلَى ذَلِكَ إِقَامَتَهُمْ بِمَكَّةَ كُلِّهَا، وَبِضْعَةَ عَشَرَ شَهْرًا بِالْمَدِينَةِ وَبَعْدَ الْهِجْرَةِ فَلَمَّا أَثَابَ النَّاسُ إِلَى الْإِسْلَامِ وَحَسُنَتْ(2) فِيهِ رَغْبَتُهُمْ، زَادَهُمُ اللَّهُ فِي إِيمَانِهِمْ أَنْ صَرَفَ الصَّلَاةَ إِلَى الْكَعْبَةِ،

--------------------------------------------

(1) الكتاب ليس فيه ذلك، فعرفنا أن المؤلف التزم ذلك فيه غالبًا فلم نستجز الزيادة عليه (ناصر)

غير إننا في هذه الطبعة تعذر علينا ذلك فوضعنا الزيادة غالبًا (زهير).

(الأصل ليس فيه (وسلم)، وكذلك في جل ما يأتي من الصلاة عليه - صلى الله عليه سلم -)

 

(تعليق الشاملة): حاصل ذلك أن المخطوط فيه «ما ابتعث الله عليه رسوله (صلى الله عليه) وأنزل به كتابه»

وعلق الشيخ الألباني (هامش ط دمشق) على قوله: «صلى الله عليه»، بقوله: «كذا الأصل، ليس فيه «وسلم»، وكذلك هو في جُلّ ما يأتي من الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم في الكتاب، فعرفنا أن المؤلف التزم ذلك فيه غالبا فلم نستجز الزيادة عليه». انتهى بلفظه من ط المطبعة العمومية بدمشق

لكن عندما طُبع الكتاب في «المكتب الإسلامي»، طبعوه بالرمز المعروف الذي يشمل ضمنه لفظة «وسلم»، وعلق زهير الشاويش رحمه الله بقوله: غير إننا في هذه الطبعة تعذر علينا ذلك فوضعنا الزيادة غالبًا (زهير).

 

(2) الأصل "حسنت" بدون الواو.
অন্য দলটি বলেছে: বরং ঈমান হলো অন্তর ও জিহ্বা দ্বারা; আর আমলসমূহ কেবল তাকওয়া ও নেক কাজ, যা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর আমরা এই দুই দলের মতভেদের বিষয়ে দৃষ্টিপাত করেছি এবং কুরআন ও সুন্নাহকে সেই দলেরই সত্যায়ন করতে পেয়েছি, যারা নিয়ত, কথা ও কাজ—সবকিছুর সমষ্টিকেই ঈমান বলে গণ্য করেছে; এবং অপর পক্ষ যা বলেছে তা এ দুই উৎস অস্বীকার করে।

এ বিষয়ে আমাদের প্রমাণ হলো কুরআনের বাণীর অনুসরণ। কেননা সুমহান আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে বলেছেন: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো। এটাই উত্তম এবং পরিণামে অতি সুন্দর।} [নিসা: ৫৯] আর আমরা বিষয়টি সেই বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছি, যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করেছেন(১) এবং যা দিয়ে তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আমরা পেয়েছি যে, তিনি ঈমানের সূচনা করেছেন এই সাক্ষ্য দ্বারা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াতের পর মক্কায় দশ বছর বা তার কিছু বেশি সময় অবস্থান করেন এবং বিশেষভাবে এই সাক্ষ্যের দিকেই দাওয়াত দেন। সে সময় বান্দাদের ওপর ফরযকৃত ঈমান এটি ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। সুতরাং যে কেউ এর আহবানে সাড়া দিত, সে মুমিন হিসেবে গণ্য হতো; দ্বীনের ক্ষেত্রে এর বাইরে অন্য কোনো নাম তার জন্য আবশ্যক ছিল না। আর তাদের ওপর যাকাত, রোযা বা দ্বীনের অন্য কোনো বিধান ওয়াজিব ছিল না। আলেমগণ যা বর্ণনা করেছেন সেই অনুযায়ী, সে সময়ে মানুষের জন্য এই শিথিলতা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের প্রতি এক রহমত এবং দয়া স্বরূপ। কারণ তারা জাহেলিয়াতের যুগ এবং এর রুক্ষতার নিকটবর্তী ছিল। যদি তিনি তাদের ওপর সকল ফরয বিধান একত্রে চাপিয়ে দিতেন, তবে তাদের অন্তরসমূহ তা থেকে বিমুখ হতো এবং তাদের শরীরের ওপর তা ভারী মনে হতো। তাই তিনি কেবল জিহ্বার স্বীকৃতির এই বিষয়টিকে সে সময়ের মানুষের জন্য ফরয ঈমান হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। মক্কায় অবস্থানকালীন পুরো সময় এবং হিজরতের পর মদীনায় দশ মাসের কিছু বেশি সময় পর্যন্ত তারা এর ওপরই ছিল। অতঃপর যখন মানুষ ইসলামের দিকে ধাবিত হলো এবং এর প্রতি তাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেল, তখন আল্লাহ তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দিলেন এভাবে যে, তিনি নামাযের দিক কাবা অভিমুখে ফিরিয়ে দিলেন।

--------------------------------------------

(১) মূল কিতাবে এটি নেই। আমরা জানতে পেরেছি যে, লেখক অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাই আমরা এতে কোনো সংযোজন করা বৈধ মনে করিনি (নাসির)।

তবে আমাদের এই সংস্করণে সেটি করা সম্ভব হয়নি, তাই আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সংযোজনটি করেছি (যুহাইর)।

(মূল পাণ্ডুলিপিতে "ওয়াসাল্লাম" শব্দটি নেই এবং এরপর যেখানেই দরুদ এসেছে সেখানেই এমনটি ঘটেছে)

 

(শামেলার টীকা): এর সারকথা হলো, পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন (সাল্লাল্লাহু আলাইহি) এবং তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন"

শেখ আলবানী (দামেশক সংস্করণের হাশিয়াতে) তাঁর কথা "সাল্লাল্লাহু আলাইহি"-এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই আছে, এতে 'ওয়াসাল্লাম' শব্দটি নেই। একইভাবে কিতাবের পরবর্তী অধিকাংশ স্থানে দরুদ পাঠের ক্ষেত্রেও তাই। এতে আমরা বুঝতে পারি যে, লেখক অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটিই অনুসরণ করেছেন, তাই আমরা এতে অতিরিক্ত কিছু যুক্ত করা সমীচীন মনে করিনি।" দামেশকের আল-মাতবাআতুল উমুমিয়্যাহ সংস্করণের শব্দগুলো এভাবেই শেষ হয়েছে।

কিন্তু যখন কিতাবটি "আল-মাকতাবুল ইসলামী" থেকে মুদ্রিত হয়, তারা এটি প্রচলিত সংকেতের মাধ্যমে মুদ্রণ করে যার মধ্যে "ওয়াসাল্লাম" শব্দটিও অন্তর্ভুক্ত। এর ওপর মরহুম যুহাইর আশ-শাভিশ মন্তব্য করেছেন এই বলে: তবে আমাদের এই সংস্করণে সেটি করা সম্ভব হয়নি, তাই আমরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সংযোজনটি করেছি (যুহাইর)।

 

(২) মূল পাঠে "ওয়াও" (এবং) ছাড়াই "হাসুনাত" রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১১)
بَعْدَ أَنْ كَانَتْ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَقَالَ {قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَحَيْثُمَا كُنْتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ} ثُمَّ خَاطَبَهُمْ وَهُمْ بِالْمَدِينَةِ بِاسْمِ الْإِيمَانِ الْمُتَقَدِّمِ لَهُمْ فِي كُلِّ مَا أَمَرَهُمْ بِهِ، أَوْ نَهَاهُمْ عَنْهُ، فَقَالَ فِي الْأَمْرِ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا} [الحج: 77] وَ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ} [المائدة: 6] وَقَالَ فِي النَّهْيِ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُضَاعَفَةً} [آل عمران: 130] وَ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ} [المائدة: 95]

.

وَعَلَى هَذَا كُلُّ مُخَاطَبَةٍ كَانَتْ لَهُمْ فِيهَا أَمْرٌ أَوْ نَهْيٌ بَعْدَ الْهِجْرَةِ، وَإِنَّمَا سَمَّاهُمْ بِهَذَا الِاسْمِ بِالْإِقْرَارِ وَحْدِهِ إِذْ لَمْ يَكُنْ هُنَاكَ فَرْضٌ غَيْرُهُ، فَلَمَّا نَزَلَتِ الشَّرَائِعُ بَعْدَ هَذَا وَجَبَتْ عَلَيْهِمْ وُجُوبُ الْأَوَّلِ سَوَاءً لَا فَرْقَ بَيْنَهَا، لِأَنَّهَا جَمِيعًا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَبِأَمْرِهِ وَبِإِيجَابِهِ فَلَوْ أَنَّهُمْ عِنْدَ تَحْوِيلِ الْقِبْلَةِ إِلَى الْكَعْبَةِ أَبَوْا أَنْ يُصَلُّوا إِلَيْهَا، وَتَمَسَّكُوا بِذَلِكَ الْإِيمَانِ الَّذِي لَزِمَهُمُ اسْمُهُ، وَالْقِبْلَةُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا لَمْ يَكُنْ ذَلِكَ مُغْنِيًا عَنْهُمْ شَيْئًا، وَلَكَانَ فِيهِ نَقْضٌ لِإِقْرَارِهِمْ لِأَنَّ الطَّاعَةَ الْأُولَى لَيْسَتْ بِأَحَقَّ بِاسْمِ الْإِيمَانِ مِنَ الطَّاعَةِ الثَّانِيَةِ، فَلَمَّا أَجَابُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِلَى قَبُولِ الصَّلَاةِ كَإِجَابَتِهِمْ إِلَى الْإِقْرَارِ صَارَا جَمِيعًا مَعًا هُمَا يَوْمَئِذٍ الْإِيمَانُ، إِذْ أُضِيفَتِ الصَّلَاةُ إِلَى الْإِقْرَارِ.

وَالشَّهِيدُ(3) عَلَى أَنَّ الصَّلَاةَ مِنَ الْإِيمَانِ قَوْلُ اللَّهِ عز وجل

{وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ} وَإِنَّمَا نَزَلَتْ فِي الَّذِينَ تُوُفُّوا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُمْ عَلَى الصَّلَاةِ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ، فَسُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ(4) فَأَيُّ شَاهِدٍ يُلْتَمَسُ عَلَى أَنَّ الصَّلَاةَ مِنَ الْإِيمَانِ بَعْدَ هَذِهِ الْآيَةِ؟

--------------------------------------------

(3) كذا الأصل، وفي المواطن الآتية "والشاهد"، ولعله الصواب هنا بدليل قوله بعد سطور: "فأي شاهد .. ".

(4) أخرجه البخاري من حديث البراء، والترمذي من حديث ابن عباس وصححه.
বায়তুল মাকদিসের দিকে কিবলা থাকার পর, তিনি বললেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনার মুখমন্ডলকে বারবার আকাশের দিকে তাকাতে দেখছি। অতএব অবশ্যই আমি আপনাকে এমন এক কিবলার দিকে ফিরিয়ে দেব যা আপনি পছন্দ করেন। সুতরাং আপনি আপনার মুখমন্ডল মসজিদে হারামের দিকে ফিরান। আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তোমাদের মুখমন্ডল সেদিকেই ফিরিয়ে নাও।} অতঃপর তারা যখন মদিনায় ছিলেন, তখন তিনি তাদের ইতিপূর্বে অর্জিত ঈমানের নামেই সম্বোধন করলেন সেই সমস্ত বিষয়ে যা তিনি তাদের আদেশ করেছেন বা যা থেকে তাদের নিষেধ করেছেন। আদেশের ক্ষেত্রে তিনি বললেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা রুকু করো এবং সেজদা করো} [হজ: ৭৭] এবং {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হও, তখন তোমাদের মুখমন্ডল ও তোমাদের হাতসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত করো} [মায়িদাহ: ৬]। আর নিষেধের ক্ষেত্রে তিনি বললেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না} [আল-ইমরান: ১৩০] এবং {হে মুমিনগণ, তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকার হত্যা করো না} [মায়িদাহ: ৯৫]

.

হিজরতের পর তাদের প্রতি করা সকল সম্বোধনই এই নীতির ওপর ভিত্তি করে ছিল যাতে আদেশ বা নিষেধ বিদ্যমান ছিল। তিনি তাদের এই নামেই (মুমিন) নামকরণ করেছিলেন কেবল স্বীকৃতির (ইকরার) কারণে, যেহেতু তখন সেখানে এ ছাড়া অন্য কোনো ফরজ বিধান ছিল না। অতঃপর যখন এর পরে অন্যান্য শরিয়ত অবতীর্ণ হলো, তখন পূর্বেরটির মতোই সেগুলোও তাদের ওপর সমানভাবে ওয়াজিব হয়ে গেল, এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য রইল না। কারণ এগুলোর সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং তাঁর আদেশে ও তাঁর ওয়াজিব করার মাধ্যমেই এসেছে। কিবলা কাবার দিকে পরিবর্তনের সময় যদি তারা সেদিকে নামাজ পড়তে অস্বীকার করত এবং সেই ঈমানের ওপরই অটল থাকত যার নাম তাদের জন্য আবশ্যক হয়েছিল এবং যে কিবলার ওপর তারা ছিল, তবে তা তাদের কোনো উপকারে আসত না। বরং এতে তাদের পূর্বের স্বীকৃতিরই লঙ্ঘন হতো। কারণ প্রথম আনুগত্য দ্বিতীয় আনুগত্যের চেয়ে ঈমান নামের অধিক হকদার নয়। সুতরাং তারা যখন নামাজের বিষয়টি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ডাকে সাড়া দিল—যেমন তারা ইতিপূর্বে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে সাড়া দিয়েছিল—তখন এ দুটোই একত্রে সেদিন থেকে ঈমান হিসেবে গণ্য হলো, যেহেতু স্বীকৃতির সাথে নামাজকেও যুক্ত করা হয়েছে।

আর নামাজ যে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, তার প্রমাণ(৩) হলো মহান আল্লাহর বাণী:

{আর আল্লাহ তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন না, নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম দয়ালু ও অতি মেহেরবান}। নিশ্চয়ই এটি সেই সকল সাহাবীদের সম্পর্কে নাজিল হয়েছে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের মধ্যে ইন্তেকাল করেছিলেন এবং তারা বায়তুল মাকদিসের দিকে নামাজ পড়তেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে এই আয়াত নাজিল হয়(৪)। এই আয়াতের পর নামাজ যে ঈমানের অন্তর্ভুক্ত, সে বিষয়ে আর কী প্রমাণের খোঁজ করা হবে?

--------------------------------------------

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে পরবর্তী স্থানগুলোতে "প্রমাণকারী" এসেছে। সম্ভবত কয়েক ছত্র পরেই "কী প্রমাণের..." উক্তির ভিত্তিতে এখানেও এটিই সঠিক হবে।

(৪) ইমাম বুখারি এটি বারা-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিজি ইবনে আব্বাস-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করে একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১২)
فَلَبِثُوا بِذَلِكَ بُرْهَةً مِنْ دَهْرِهِمْ، فَلَمَّا أَنْ دَارُوا إِلَى الصَّلَاةِ مُسَارَعَةً، وَانْشَرَحَتْ لَهَا صُدُورُهُمْ، أَنْزَلَ اللَّهُ فَرْضَ الزَّكَاةِ فِي أَيْمَانِهِمْ إِلَى مَا قَبْلَهَا، فَقَالَ {أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [البقرة: 83، 110](5) وَقَالَ {خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} [التوبة: 103] فَلَوْ أَنَّهُمْ مُمْتَنِعُونَ(6) مِنَ الزَّكَاةِ عِنْدَ الْإِقْرَارِ، وَأَعْطُوهُ ذَلِكَ بِالْأَلْسِنَةِ، وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ غَيْرَ أَنَّهُمْ مُمْتَنِعُونَ مِنَ الزَّكَاةِ كَانَ ذَلِكَ مُزِيلًا لِمَا قَبْلَهُ، وَنَاقِضًا لِلْإِقْرَارِ وَالصَّلَاةِ، كَمَا كَانَ إِيتا(7) الصَّلَاةِ قَبْلَ ذَلِكَ نَاقِضًا لِمَا تَقَدَّمَ مِنَ الْإِقْرَارِ وَالْمُصَدِّقُ لِهَذَا جِهَادُ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ بِالْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ عَلَى مَنْعِ الْعَرَبِ الزَّكَاةَ كَجِهَادِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَهْلَ الشِّرْكِ سَوَاءً، لَا فَرْقَ بَيْنَهَا فِي سَفْكِ الدِّمَاءِ، وَسَبْيِ الذُّرِّيَّةِ، وَاغْتِنَامِ الْمَالِ، فَإِنَّمَا كَانُوا مَانِعِينَ لَهَا غَيْرَ جَاحِدِينَ بِهَا ثُمَّ كَذَلِكَ كَانَتْ شَرَائِعُ الْإِسْلَامِ كُلُّهَا، كُلَّمَا نَزَلَتْ شَرِيعَةٌ صَارَتْ مُضَافَةً إِلَى مَا قَبْلَهَا لَاحِقَةً بِهِ وَيَشْمَلُهَا جَمِيعًا اسْمُ الْإِيمَانِ، فَيُقَالُ لِأَهْلِهِ: مُؤْمِنُونَ وَهَذَا هُوَ الْمَوْضِعُ الَّذِي غَلَطَ فِيهِ مَنْ ذَهَبَ إِلَى أَنَّ الْإِيمَانَ بِالْقَوْلِ، لَمَّا سَمِعُوا تَسْمِيَةَ اللَّهِ إِيَّاهُمْ مُؤْمِنِينَ، أَوْجَبُوا لَهُمُ الْإِيمَانَ كُلَّهُ بِكَمَالِهِ كَمَا غَلَطُوا فِي تَأْوِيلِ حَدِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ سُئِلَ عَنِ الْإِيمَانِ مَا هُوَ؟ فَقَالَ: "أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَكَذَا وَكَذَا"(8) وَحِينَ سَأَلَهُ الَّذِي عَلَيْهِ رَقَبَةٌ

--------------------------------------------

(5) قلت: قد جاءت آيات مكية. ورد فيها ذكر الزكاة، تارة أمرًا بها، وأخرى مدحا لفاعليها، ومرة ذمًا لتاركيها، ففي سورة (المزمل /20) {وأقيموا الصلاة وآتُوا الزكاة}، وفي (النمل /3) و (لقمان / 4): {الذين يقيمون الصلاة، ويؤتون الزكاة وهم بالآخرة هم يوقنون. وفي (فصلت/ 6 - 7): {وويل للمشركين. الذين لا يؤتون الزكاة وهم بالآخرة هم كافرون}.

فالظاهر أن المراد بهذه الزكاة الصدقات المفروضة من غير تعيين الأنصبة والمقادير، وإنما فرض تعيينها في المدينة. والله أعلم.

(6) كذا الأصل.

(7) كذا الأصل، ولعل الصواب "إباء".

(8) يشير إلى حديث جبريل المخرج في "الصحيحين" من حديث أبي هريرة، وعند مسلم من حديث ابن عمر عن عمر، وانظر الحديث (119) من "كتاب الإيمان" لابن أبي شيبة.
তারা তাদের জীবনের একটি দীর্ঘ সময়কাল এই অবস্থায় অতিবাহিত করলেন। এরপর যখন তারা সালাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হলেন এবং তাদের অন্তরসমূহ এর জন্য উন্মোচিত হলো, তখন আল্লাহ তাদের পূর্ববর্তী স্বীকৃতির সাথে যাকাতের বিধান অবতীর্ণ করলেন। তিনি বললেন: {তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো} [আল-বাকারাহ: ৮৩, ১১০](৫) এবং তিনি বললেন: {আপনি তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন} [আত-তাওবাহ: ১০৩]। সুতরাং তারা যদি স্বীকৃতির সময় যাকাত দিতে অস্বীকার করত, যদিও তারা মুখে স্বীকৃতি প্রদান করত এবং সালাত কায়েম করত কিন্তু যাকাত প্রদান থেকে বিরত থাকত, তবে তা তার পূর্ববর্তী বিষয়সমূহকে (ঈমান ও সালাত) বিনষ্টকারী এবং তাদের স্বীকৃতি ও সালাতকে ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হতো। ঠিক যেমন এর আগে সালাত অস্বীকার করা পূর্ববর্তী স্বীকৃতির জন্য ভঙ্গকারী ছিল। এর সত্যতার প্রমাণ হলো মুহাজির ও আনসারদের সাথে নিয়ে আরবদের যাকাত অস্বীকার করার বিরুদ্ধে আবু বকর সিদ্দিক (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর জিহাদ, যা ছিল রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদের মতোই সমান। রক্তপাত, পরিবার-পরিজনকে বন্দী করা এবং সম্পদ গনিমতের মাল হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না; অথচ তারা যাকাতকে অস্বীকারকারী ছিল না বরং তা দিতে বিরত ছিল। এরপর ইসলামের সকল বিধান এভাবেই ছিল; যখনই কোনো বিধান অবতীর্ণ হতো, তা পূর্ববর্তী বিধানের সাথে যুক্ত হতো এবং 'ঈমান' নামটির অধীনে এই সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত হতো। ফলে এর অনুসারীদের 'মুমিন' বলা হতো। এখানেই তারা ভুল করেছে যারা মনে করে যে ঈমান শুধুমাত্র মৌখিক স্বীকৃতির নাম। যখন তারা আল্লাহকে তাদের 'মুমিন' বলে নামকরণ করতে শুনল, তখন তারা তাদের জন্য পরিপূর্ণ ঈমানকে সাব্যস্ত করে নিল। ঠিক যেমন তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসের ব্যাখ্যায় ভুল করেছে যখন তাঁকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ঈমান কী? তিনি বলেছিলেন: "তুমি আল্লাহর প্রতি এবং অমুক অমুক বিষয়ের প্রতি ঈমান আনবে"(৮) এবং যখন তাঁকে সেই ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিল যার ওপর একজন দাস মুক্ত করার বাধ্যবাধকতা ছিল।

--------------------------------------------

(৫) আমি বলছি: অনেক মক্কী আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যেখানে যাকাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; কখনও তা পালনের নির্দেশ হিসেবে, কখনও পালনকারীদের প্রশংসাস্বরূপ, আবার কখনও বর্জনকারীদের নিন্দাস্বরূপ। যেমন সূরা (আল-মুযযাম্মিল/ ২০)-তে আছে: {সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো}, এবং সূরা (আন-নামল/ ৩) ও (লুকমান/ ৪)-এ আছে: {যারা সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং তারা আখেরাতে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে}। এবং সূরা (ফুসসিলাত/ ৬-৭)-এ আছে: {আর ধ্বংস মুশরিকদের জন্য, যারা যাকাত দেয় না এবং তারা আখেরাতকে অস্বীকারকারী}।

প্রকাশ্যত মনে হয় যে, এই যাকাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ফরজ সদকা, যার নিসাব বা পরিমাণ নির্দিষ্ট ছিল না। এর পরিমাণ নির্ধারণ মদীনায় ফরজ হয়েছে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

(৬) মূল কপিতে এভাবেই আছে।

(৭) মূল কপিতে এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত সঠিক শব্দ হবে "ইবা" (অস্বীকৃতি)।

(৮) এটি জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করে যা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে "সহীহাইন"-এ বর্ণিত হয়েছে এবং মুসলিম-এ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: ইবনে আবি শায়বার "কিতাবুল ঈমান"-এর হাদিস নং ১১৯।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৩)
مُؤْمِنَةٌ عَنْ عِتْقِ الْعَجَمِيَّةِ فَأَمَرَ بِعِتْقِهَا وَسَمَّاهَا مُؤْمِنَةً(9)، وَإِنَّمَا هَذَا عَلَى مَا أَعْلَمْتُكَ مِنْ دُخُولِهِمْ فِي الْإِيمَانِ، وَمِنْ قَبُولِهِمْ وَتَصْدِيقِهِمْ بِمَا نَزَلَ مِنْهُ، وَإِنَّمَا كَانَ يَنْزِلُ مُتَفَرِّقًا كَنُزِولِ الْقُرْآنِ.

وَالشَّاهِدُ لِمَا نَقُولُ وَالدَّلِيلُ عَلَيْهِ كِتَابُ اللَّهِ تبارك وتعالى، وَسُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَمِنَ الْكِتَابِ قَوْلُهُ {وَإِذَا مَا أُنْزِلَتْ سُورَةٌ فَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ أَيُّكُمْ زَادَتْهُ هَذِهِ إِيمَانًا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَزَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَهُمْ يَسْتَبْشِرُونَ} [التوبة: 124] وَقَوْلُهُ {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} [الأنفال: 2] فِي مَوَاضِعَ مِنَ الْقُرْآنِ مِثْلِ هَذَا.

أَفَلَسْتَ تَرَى أَنَّ اللَّهَ تبارك وتعالى لَمْ يُنَزِّلْ عَلَيْهِمُ الْإِيمَانَ جُمْلَةً، كَمَا لَمْ يُنَزِّلِ الْقُرْآنَ جُمْلَةً؟ فَهَذِهِ الْحُجَّةُ مِنَ الْكِتَابِ، فَلَوْ كَانَ الْإِيمَانُ مُكَمَّلًا بِذَلِكَ الْإِقْرَارِ مَا كَانَ لِلزِّيَادَةِ إِذًا مَعْنًى، وَلَا لِذِكْرِهَا مَوْضِعٌ.

وَأَمَّا الْحُجَّةُ مِنَ السُّنَّةِ وَالْآثَارِ الْمُتَوَاتِرَةِ فِي هَذَا الْمَعْنَى مِنْ زِيَادَاتِ قَوَاعِدِ الْإِيمَانِ بَعْضُهَا بَعْدَ بَعْضٍ، فَفِي حَدِيثٍ مِنْهَا أَرْبَعٌ، وَفِي آخَرَ خَمْسٌ، وَفِي الثَّالِثِ تِسْعٌ، وَفِي الرَّابِعِ أَكْثَرُ مِنْ ذَلِكَ.

--------------------------------------------

(9) يشير إلى حديث معاوية بن الحكم السلمي الذي فيه أنه صلى الله عليه وسلم سأل الجارية: "أين الله". رواه مسلم، وانظر "ابن أبي شيبة" رقم (84).
একজন মুমিন নারী, অনারব দাসীর মুক্তির ব্যাপারে। অতঃপর তিনি তাকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিলেন এবং তাকে মুমিন বলে অভিহিত করলেন(৯)। আর এটি কেবল আমি আপনাকে যা জানিয়েছি তার ওপর ভিত্তি করে যে, তাদের ঈমানে প্রবেশ করা এবং তাঁর পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা গ্রহণ ও সত্যায়ন করার কারণে। আর নিশ্চয়ই তা কুরআনের অবতরণের ন্যায় পৃথক পৃথকভাবে অবতীর্ণ হতো।

আমরা যা বলছি তার সাক্ষী ও প্রমাণ হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার কিতাব এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। কিতাব থেকে তাঁর বাণী: {আর যখনই কোনো সূরা নাযিল করা হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘এটি তোমাদের কার ঈমান বৃদ্ধি করল?’ সুতরাং যারা ঈমান এনেছে, এটি তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়।} [তাওবাহ: ১২৪] এবং তাঁর বাণী: {মুমিন তো তারাই, যাদের অন্তর আল্লাহকে স্মরণ করা হলে প্রকম্পিত হয় এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।} [আনফাল: ২] কুরআনের অনুরূপ আরও অনেক স্থানে এমনটি রয়েছে।

আপনি কি দেখছেন না যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাদের ওপর ঈমানকে একযোগে নাযিল করেননি, যেমনটি তিনি কুরআনকেও একযোগে নাযিল করেননি? সুতরাং এটি কিতাব থেকে দলিল। যদি কেবল সেই স্বীকৃতির মাধ্যমেই ঈমান পূর্ণাঙ্গ হয়ে যেত, তবে বৃদ্ধি পাওয়ার কোনো অর্থ থাকত না এবং তা উল্লেখ করারও কোনো অবকাশ থাকত না।

আর সুন্নাহ এবং মুতাওয়াতির আসার থেকে দলিল হলো—ঈমানের মূলনীতিসমূহ একের পর এক বৃদ্ধি পাওয়ার ব্যাপারে; কোনো হাদীসে এর চারটি বিষয় রয়েছে, অন্যটিতে পাঁচটি, তৃতীয়টিতে নয়টি এবং চতুর্থটিতে তার চেয়েও বেশি রয়েছে।

--------------------------------------------

(৯) এটি মুয়াবিয়া ইবনে হাকাম আস-সুলামীর হাদীসের দিকে ইঙ্গিত করে, যাতে রয়েছে যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাসীটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আল্লাহ কোথায়?"। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, দেখুন "ইবনে আবি শাইবাহ" নং (৮৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৩)
فَمِنَ الْأَرْبَعِ حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم:

أَنَّ وَفْدَ عَبْدِ الْقَيْسِ قَدِمُوا عَلَيْهِ، فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا(10) هَذَا الْحَيَّ مِنْ رَبِيعَةَ، وَقَدْ حَالَتْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ كُفَّارُ مُضَرَ، فَلَسْنَا نَخْلُصُ(11) إِلَّا فِي شَهْرٍ حَرَامٍ، فَمُرْنَا بِأَمْرٍ نَعْمَلُ بِهِ، وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا، فَقَالَ: آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ، وَأَنْهَاكُمْ عَنْ أَرْبَعٍ: الْإِيمَانُ، ثُمَّ فَسَّرَهُ لَهُمْ، "شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَأَنْ تُؤَدُّوا خُمْسَ مَا غَنِمْتُمْ، وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ، وَالْحَنْتَمِ،

 

⦗ص: 14⦘

وَالنَّقِيرِ، وَالْمُقَيِّرِ"(12).

 

1 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَاه عَبَّادُ بْنُ عَبَّادٍ الْمُهَلَّبِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو جَمْرَةَ(13)، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ.

--------------------------------------------

(10) الأصل، "إن" والتصويب من "صحيح مسلم". لفظه غير مطابق لما هنا بخلاف لفظه في مسلم.

(11) أي نصل. زاد مسلم "إليك".

(12) هو الوعاء المزفت وهو المطلى بالقار وهو الزفت. و "النقير" جذع ينقر وسطه. و"الحنتم" جرار خضر. و "الدباء" القرع اليابس، أي الوعاء منه.

(13) الأصل "أبو حمزة، والتصحيح من "مسلم" فقد اخرجه من طريق أخرى عن عباد بن عباد به. وإسم أبي جمرة نصر بن عمران.
সেই চারটির মধ্যে রয়েছে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীস:

নিশ্চয়ই আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দল তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা(১০) রাবিআ গোত্রের এই জনপদ থেকে এসেছি। আমাদের এবং আপনার মাঝে মুযার গোত্রের কাফিররা প্রতিবন্ধক হয়ে আছে। ফলে আমরা 'হারাম মাস' (নিষিদ্ধ মাস) ব্যতীত আপনার নিকট পৌঁছাতে(১১) পারি না। সুতরাং আমাদের এমন কোনো বিষয়ের আদেশ দিন যা আমরা আমল করতে পারি এবং আমাদের পিছনে যারা রয়েছে তাদেরকেও এর দিকে আহ্বান করতে পারি। তিনি বললেন: আমি তোমাদের চারটি বিষয়ের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি: (তা হলো) ঈমান। এরপর তিনি তাদের নিকট এর ব্যাখ্যা প্রদান করলেন, "এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা; জাকাত প্রদান করা এবং তোমরা যা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গণীমত) লাভ করবে তার এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করবে। আর আমি তোমাদের 'দুব্বা' ও 'হানতাম' হতে নিষেধ করছি,

 

⦗পৃষ্ঠা: ১৪⦘

'নাকীর' এবং 'মুকাইয়ার' হতে"(১২)।

 

১ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন আব্বাদ ইবনুল আব্বাদ আল-মুহাল্লাবী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু জামরা(১৩), তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১০) মূল পাণ্ডুলিপিতে "ইন্ন" ছিল এবং সংশোধনটি "সহীহ মুসলিম" থেকে করা হয়েছে। এর শব্দবিন্যাস এখানে যা আছে তার সাথে হুবহু মিল নেই, তবে মুসলিমে বর্ণিত শব্দের অনুরূপ।

(১১) অর্থাৎ আমরা পৌঁছাতে পারি। মুসলিম "আপনার নিকট" শব্দটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

(১২) 'মুকাইয়ার' হলো এমন পাত্র যাতে আলকাতরা বা পিচ লেপন করা হয়েছে। আর 'নাকীর' হলো খেজুর গাছের গুঁড়ি যা মাঝখানে খোদাই করা হয়েছে। 'হানতাম' হলো সবুজ রঙের কলস। আর 'দুব্বা' হলো শুকনা কদু বা লাউয়ের তৈরি পাত্র।

(১৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে "আবু হামযা" রয়েছে, আর সংশোধনটি "মুসলিম" থেকে করা হয়েছে; কারণ তিনি এটি আব্বাদ ইবনুল আব্বাদ থেকে অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আবু জামরা-এর নাম হলো নাসর ইবনে ইমরান।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَمِنَ الْخَمْسِ حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ:

"بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ، وَحَجِّ الْبَيْتِ".

 

2 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ الرَّازِيُّ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ(14).

--------------------------------------------

(14) قلت: وإسناده صحيح على شرط الشيخين، وقد أخرجاه.
এবং সেই পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হলো ইবনে উমরের হাদীস, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:

"ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং বাইতুল্লাহর হজ করা।"

 

২ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক ইবনে সুলাইমান আর-রাযী হাদীস বর্ণনা করেছেন হানজালা ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে, তিনি ইকরিমা ইবনে খালিদ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন(১৪)।

--------------------------------------------

(১৪) আমি বলছি: এর সনদ শায়খাইনের শর্তানুসারে সহীহ এবং তাঁরা উভয়েই এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَمِنَ التِّسْعِ حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، أَنَّهُ قَالَ:

"[إِنَّ] لِلْإِسْلَامِ صُوًى وَمَنَارًا كَمَنَارِ الطَّرِيقِ، (قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: "صُوًى": هِيَ مَا غَلُظَ وَارْتَفَعَ مِنَ الْأَرْضِ، وَاحِدَتُهَا "صُوَّةٌ")(15) مِنْهَا: أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَلَا تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا، وَإِقَامَةُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَحَجُّ الْبَيْتِ، وَالْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ، وَالنَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ، وَأَنْ تُسَلِّمَ عَلَى أَهْلِكَ إِذَا دَخَلْتَ عَلَيْهِمْ، وَأَنْ تُسَلِّمَ عَلَى الْقَوْمِ إِذَا مَرَرْتَ بِهِمْ، فَمَنْ تَرَكَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا [فَقَدْ تَرَكَ سَهْمًا مِنَ

 

⦗ص: 15⦘

الْإِسْلَامِ، وَمَنْ تَرَكَهُنَّ فَقَدْ وَلَّى الْإِسْلَامَ ظَهْرَهُ] "

 

3 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنِيهِ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْعَطَّارُ(16)، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.

فَظَنَّ الْجَاهِلُونَ بِوُجُوهِ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ أَنَّهَا مُتَنَاقِضَةٌ لِاخْتِلَافِ الْعَدَدِ مِنْهَا، وَهِيَ بِحَمْدِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ بَعِيدَةٌ عَلَى التَّنَاقُضِ، وَإِنَّمَا وُجُوهُهَا مَا أَعْلَمْتُكَ مِنْ نُزُولِ الْفَرَائِضِ بِالْإِيمَانِ مُتَفَرِّقًا، فَكُلَّمَا نَزَلَتْ وَاحِدَةٌ. أَلْحَقَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَدَدَهَا بِالْإِيمَانِ، ثُمَّ كُلَّمَا جَدَّدَ اللَّهُ لَهُ مِنْهَا أُخْرَى زَادَهَا فِي الْعَدَدِ، حَتَّى جَاوَزَ ذَلِكَ السَّبْعِينَ كَلِمَةً،

--------------------------------------------

(15) كان الأصل كما يأتي "الإسلام صوى ومنار كمنار الطريق منها. قال أبو عبيد "صوى" إرتفع من الأرض، واحد "صوة" كمنار منها"، فصححت نص الحديث من "الأمالي" لابن بشران (ق 98/ 2)، و "الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر" للحافظ عبد الغني المقدسي (82/ 1) وقد أخرجا الحديث من طريق المؤلف، ولكنها لم يذكرا تفسيره لـ "الصوى"، وصححت التفسير من "القاموس"، و "لسان العرب" وحكاه هذا عن الأصمعي. وذكر عن أبي عمرو أنه قال "الصوى أعلام من حجارة منصوبة في الفيافي، والمفازة المجهولة يستدل بها على الطريق وعلى طرفيها. أراد (يعني الحديث) أن للإسلام طرائق وأعلامًا يهتدي بها". قال صاحب "اللسان":

"قال أبو عبيد: وقول أبي عمرو أعجب إلي، وهو أشبه بمعنى الحديث".

(16) الأصل "القطان"، والتصحيح من "الأمر بالمعروف" للحافظ المقدسي.

ويحيى بن سعيد العطار هذا حمصي ضعيف. وقد خولف في إسناده، فرواه جماعة عن ثور بن يزيد عن خالد عن أبي هريرة، لم يذكروا الرجل. أخرجه جمع، منهم الحاكم (1/ 21) وصححه على شرط البخاري ووافقه الذهبي. وهو كما قالا على ما حققته في "سلسلة الأحاديث الصحيحة".
নয়টি বিষয়ের বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হলো আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদীস, যা তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

"[নিশ্চয়ই] ইসলামের জন্য কিছু নিদর্শন ও আলোকবর্তিকা রয়েছে, যেমনটি রাস্তার আলোকবর্তিকা থাকে, (আবু উবাইদ বলেন: "সুওয়া" হলো জমিনের সেই অংশ যা শক্ত এবং উঁচু, এর একবচন হলো "সুওয়াহ")(১৫) তার মধ্যে রয়েছে: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করা, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা, বায়তুল্লাহর হজ করা, সৎকাজের আদেশ দেওয়া, অসৎকাজে নিষেধ করা, এবং তুমি যখন তোমার পরিবারের নিকট প্রবেশ করবে তখন তাদের সালাম দেওয়া, এবং যখন কোনো দলের পাশ দিয়ে যাবে তখন তাদের সালাম দেওয়া। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলোর মধ্য থেকে কোনো কিছু ছেড়ে দিল, [সে যেন ইসলামের একটি অংশ ছেড়ে দিল।

 

⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘

আর যে এগুলো সবই ছেড়ে দিল, সে ইসলামের দিকে পিঠ ফিরিয়ে নিল।] "

 

৩ - আবু উবাইদ বলেন: আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আত্তার(১৬), তিনি সাওরের সূত্রে, তিনি খালিদ ইবনে মা’দান থেকে, তিনি এক ব্যক্তির সূত্রে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে।

এই হাদীসগুলোর দিকনির্দেশনা সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিরা ধারণা করেছে যে, সংখ্যার ভিন্নতার কারণে এগুলো পরস্পর বিরোধী। অথচ আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর রহমতে এগুলো বিরোধ থেকে অনেক দূরে। বরং এর প্রকৃত দিকনির্দেশনা হলো যা আমি আপনাকে জানিয়েছি যে, ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট ফরজ বিধানগুলো বিভিন্ন সময়ে অবতীর্ণ হয়েছে। যখনই একটি বিধান অবতীর্ণ হতো, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঈমানের সংখ্যার সাথে তা যুক্ত করে দিতেন। এরপর যখনই আল্লাহ তাঁর জন্য নতুন কোনো বিধান জারি করতেন, তিনি সেটিকে সংখ্যার সাথে যোগ করতেন, এমনকি তা সত্তরটিরও বেশি বিষয়ে পৌঁছেছে।

--------------------------------------------

(১৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবে ছিল: "ইসলামের কিছু সুওয়া ও আলোকবর্তিকা রয়েছে যেমন রাস্তার আলোকবর্তিকা। আবু উবাইদ বলেছেন, 'সুওয়া' হলো জমিনের উঁচু স্থান, এর একবচন 'সুওয়াহ'..."। আমি হাদীসের পাঠটি ইবনে বিশরানের 'আল-আমালি' এবং হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসির 'আল-আমর বিল মা’রুফ ওয়ান নাহয়ু আনিল মুনকার' থেকে সংশোধন করেছি। তারা উভয়েই লেখকের সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু 'সুওয়া'-এর ব্যাখ্যা উল্লেখ করেননি। আমি ব্যাখ্যাটি 'আল-কামুস' এবং 'লিসানুল আরব' থেকে সংশোধন করেছি, যেখানে এটি আসমায়ি থেকে বর্ণিত হয়েছে। আবু আমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, 'সুওয়া' হলো মরুভূমিতে স্থাপিত পাথরের নিদর্শন, যা দ্বারা জনমানবহীন পথে চলার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। হাদীসের উদ্দেশ্য হলো—ইসলামের কিছু পথ ও নিদর্শন রয়েছে যার দ্বারা হেদায়েত প্রাপ্ত হওয়া যায়। 'লিসানুল আরব'-এর লেখক বলেন:

"আবু উবাইদ বলেছেন: আবু আমরের বক্তব্য আমার নিকট অধিক পছন্দনীয় এবং হাদীসের অর্থের সাথে এটি অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।"

(১৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'আল-কাত্তান' ছিল, সংশোধনটি হাফেজ আল-মাকদিসির 'আল-আমর বিল মা’রুফ' থেকে নেওয়া হয়েছে।

এই ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আত্তার হিমসি (সিরীয়), তিনি জয়িফ (দুর্বল)। এর সনদে মতভেদ রয়েছে; একদল বর্ণনাকারী একে সাওরের সূত্রে খালিদ থেকে এবং সরাসরি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা সেই 'এক ব্যক্তির' কথা উল্লেখ করেননি। একদল মুহাদ্দিস এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে হাকেম (১/২১) অন্যতম এবং তিনি একে বুখারীর শর্ত অনুযায়ী সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন। আমি 'সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা' গ্রন্থে যা তাহকীক করেছি, সে অনুযায়ী বিষয়টি তেমনই।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫)
كَذَلِكَ [فِي] الْحَدِيثِ الْمُثْبَتِ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ:

"الْإِيمَانُ بِضْعَةٌ وَسَبْعُونَ جُزْءًا، أَفْضَلُهَا: شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ".

 

4 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ بِهَذَا الْحَدِيثِ(17).

وَإِنْ كَانَ زَائِدًا فِي الْعَدَدِ فَلَيْسَ هُوَ بِخِلَافِ مَا قَبْلَهُ، وَإِنَّمَا تِلْكَ دَعَائِمُ وَأُصُولٌ، وَهَذِهِ فُرُوعُهَا زَائِدَاتٌ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ مِنْ غَيْرِ تِلْكَ الدَّعَائِمِ.

فَنَرَى وَاللَّهُ أَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْقَوْلَ آخِرُ مَا وَصَفَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْإِيمَانَ، لِأَنَّ الْعَدَدَ إِنَّمَا تَنَاهَى بِهِ، وَبِهِ كَمُلَتْ خِصَالُهُ

--------------------------------------------

(17) إسناده صحيح على شرط مسلم، وقد أخرجه في "صحيحه" عن جرير عن سهيل به. وتابعه ابن عجلان عن ابن دينار به، انظر ابن أبي شيبة (66).
একইভাবে তাঁর থেকে প্রমাণিত হাদিসে রয়েছে যে তিনি বলেছেন:

"ঈমান সত্তরের অধিক শাখাবিশিষ্ট, যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই—এ সাক্ষ্য দেওয়া এবং এর সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া।"

 

৪ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ আজ-যুবাইরী, সুফিয়ান ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন(১৭)।

আর যদিও এটি সংখ্যার দিক থেকে অধিক, তবুও এটি পূর্বেরটির পরিপন্থী নয়। বরং সেগুলো ছিল মূল স্তম্ভ ও ভিত্তি, আর এগুলো হলো ঈমানের শাখা-প্রশাখার অতিরিক্ত বিষয় যা ওই ভিত্তিগুলো ছাড়া।

সুতরাং আমরা মনে করি—এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন—যে এই বর্ণনাটিই ঈমান সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বশেষ বর্ণনা, কারণ এর মাধ্যমেই সংখ্যাটি চূড়ান্ত হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই এর বৈশিষ্ট্যসমূহ পূর্ণতা পেয়েছে।

--------------------------------------------

(১৭) এর সনদ ইমাম মুসলিমের শর্তানুসারে সহিহ, এবং তিনি এটি তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে জারির থেকে সুহাইলের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আজলান ইবনে দিনারের সূত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন, দেখুন ইবনে আবি শাইবা (৬৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَالْمُصَدِّقُ لَهُ قَوْلُ اللَّهِ تبارك وتعالى {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي} [المائدة: 3]

 

⦗ص: 16⦘

5 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ:

"أَنَّ الْيَهُودَ قَالُوا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ: إِنَّكُمْ تَقْرَءُونَ آيَةً لَوْ نَزَلَتْ فِينَا لَاتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا، فَذَكَرَ هَذِهِ الْآيَةَ، فَقَالَ عُمَرُ: إِنِّي لَأَعْلَمُ حَيْثُ أُنْزِلَتْ، وَأَيَّ يَوْمٍ أُنْزِلَتْ، [أُنْزِلَتْ] بِعَرَفَةَ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ".

قَالَ سُفْيَانُ: وَأَشُكُّ أَقَالَ: يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَمْ لَا؟(18)

--------------------------------------------

(18) إسناده صحيح على شرط الشيخين، وقد أخرجاه، وفي رواية لمسلم من طريق أبي عميس عن قيس: "نزلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم بعرفات يوم جمعة".
এবং এর সমর্থনকারী হলো আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলার বাণী: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম} [আল-মায়েদাহ: ৩]

 

⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘

৫ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি কায়েস ইবনে মুসলিম থেকে, তিনি তারিক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেন:

"ইয়াহুদীরা উমর ইবনুল খাত্তাব (তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)-কে বলল: আপনারা এমন একটি আয়াত পাঠ করেন যা যদি আমাদের ওপর নাযিল হতো তবে আমরা সেই দিনটিকে উৎসবের দিন (ঈদ) হিসেবে গ্রহণ করতাম। অতঃপর তিনি এই আয়াতটির কথা উল্লেখ করলেন। তখন উমর বললেন: আমি অবশ্যই জানি এটি কোথায় নাযিল হয়েছে এবং কোন দিনে নাযিল হয়েছে; এটি আরাফায় নাযিল হয়েছে যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফায় অবস্থান করছিলেন।"

সুফিয়ান বলেন: আমি সন্দেহে আছি তিনি কি জুমার দিনের কথা বলেছিলেন কি না?(১৮)

--------------------------------------------

(১৮) এর সনদ শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর শর্তানুযায়ী সহীহ, এবং তারা উভয়েই এটি বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের একটি বর্ণনায় আবু উমাইস-এর সূত্রে কায়েস থেকে এসেছে: "এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর আরাফাতের ময়দানে জুমার দিনে নাযিল হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬)
6 - قَالَ [أَبُو] عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ(19) سَلَمَةَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ، قَالَ:

"تَلَى ابْنُ عَبَّاسٍ هَذِهِ الْآيَةَ، وَعِنْدَهُ يَهُودِيٌّ، فَقَالَ الْيَهُودِيُّ: لَوْ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِينَا لَاتَّخَذْنَا يَوْمَهَا عِيدًا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَإِنَّهَا نَزَلَتْ فِي يَوْمِ عِيدٍ، يَوْمِ جُمُعَةٍ، وَيَوْمِ عَرَفَةَ".

--------------------------------------------

(19) الأصل: "عن".
৬ - [আবু] উবাইদ বলেন: ইয়াযীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ বিন(১৯) সালামাহ থেকে, তিনি আম্মার বিন আবি আম্মার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

"ইবনে আব্বাস এই আয়াতটি পাঠ করলেন এবং তাঁর নিকট একজন ইহুদি উপস্থিত ছিল। তখন ইহুদি লোকটি বলল: যদি এই আয়াতটি আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হতো, তবে আমরা সেই দিনটিকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতাম। ইবনে আব্বাস বললেন: এটি তো ঈদের দিনেই অবতীর্ণ হয়েছে—জুমার দিন এবং আরাফার দিন।"

--------------------------------------------

(১৯) মূল পাঠে রয়েছে: "থেকে"।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৬)
7 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، قَالَ:

نَزَلَتْ عَلَيْهِ وَهُوَ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ حِينَ اضْمَحَلَّ الشِّرْكُ، وَهُدِمَ مَنَارُ الْجَاهِلِيَّةِ، وَلَمْ يَطُفْ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ"(20).

فَذَكَرَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ إِكْمَالَ الدِّينِ فِي هَذِهِ الْآيَةِ وَإِنَّمَا نَزَلَتْ - فِيمَا يُرْوَى - قَبْلَ وَفَاةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِإِحْدَى وَثَمَانِينَ لَيْلَةً.

 

8 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: كَذَلِكَ حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ.

فَلَوْ كَانَ الْإِيمَانُ كَامِلًا بِالْإِقْرَارِ، وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ فِي أَوَّلِ النُّبُوَّةِ كَمَا يَقُولُ هَؤُلَاءِ مَا كَانَ لِلْكَمَالِ مَعْنًى، وَكَيْفَ يُكَمِّلُ شَيْئًا قَدِ اسْتَوْعَبَهُ، وَأَتَى عَلَى آخِرِهِ؟

--------------------------------------------

(20) إسناده مرسل صحيح.
৭ - আবু উবাইদ বলেছেন: ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি আশ-শা’বী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন:

"এটি তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল যখন তিনি আরাফায় অবস্থান করছিলেন, সেই সময় যখন শিরক বিলুপ্ত হয়েছিল, জাহেলিয়াতের নিশানসমূহ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং কোনো নগ্ন ব্যক্তি বায়তুল্লাহ তওয়াফ করছিল না"(২০)।

অতঃপর আল্লাহ জাল্লা সানাউহু এই আয়াতে দ্বীন পূর্ণ করার কথা উল্লেখ করেছেন। আর বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী—এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের একাশি দিন পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছিল।

 

৮ - আবু উবাইদ বলেছেন: একইভাবে হাজ্জাজ আমাদের কাছে ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন।

যদি তারা যেমনটি বলে, কেবল মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমেই ঈমান পূর্ণাঙ্গ হতো যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবুওয়াতের শুরুতে মক্কায় ছিলেন, তবে (পরবর্তীতে) এই 'পূর্ণতা' শব্দের কোনো অর্থ থাকত না। আর তিনি এমন একটি বিষয়কে কীভাবে পূর্ণ করবেন যা ইতোমধ্যেই সবকিছুকে শামিল করে নিয়েছে এবং যা তার শেষসীমায় পৌঁছে গেছে?

--------------------------------------------

(২০) এর সনদ মুরসাল সহীহ।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৭)
قَالَ [أَبُو] عُبَيْدٍ: فَإِنْ قَالَ لَكَ قَائِلٌ: فَمَا هَذِهِ الْأَجْزَاءُ الثَّلَاثَةُ وَسَبْعُونَ؟ قِيلَ لَهُ: لَمْ تُسَمَّ لَنَا مَجْمُوعَةً فَنُسَمِّيَهَا، غَيْرَ أَنَّ الْعِلْمَ يُحِيطُ أَنَّهَا مِنْ طَاعَةِ اللَّهِ وَتَقْوَاهُ، وَإِنْ لَمْ تُذْكَرْ لَنَا فِي حَدِيثٍ وَاحِدٍ، وَلَوْ تَفَقَّدْتَ الْآثَارَ لَوَجَدْتَ، مُتَفَرِّقَةً فِيهَا، أَلَا تَسْمَعُ قَوْلَهُ فِي "إِمَاطَةِ الْأَذَى"، وَقَدْ جَعَلَهُ جُزْءًا مِنَ الْإِيمَانِ؟ وَكَذَلِكَ(21) قَوْلُهُ فِي حَدِيثٍ آخَرَ: "الْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيمَانِ"(22)، وَفِي الثَّالِثِ: "الْغَيْرَةُ مِنَ الْإِيمَانِ"(23)، وَفِي الرَّابِعِ: "الْبَذَاذَةُ مِنَ الْإِيمَانِ"(24)، وَفِي الْخَامِسِ: "حُسْنُ الْعَهْدِ مِنَ الْإِيمَانِ"(25).

فَكُلُّ هَذَا مِنْ فُرُوعِ الْإِيمَانِ، وَمِنْهُ حَدِيثُ عَمَّارٍ:

"ثَلَاثٌ مِنَ الْإِيمَانِ: الْإِنْفَاقُ مِنَ الْإِقْتَارِ، وَالْإِنْصَافُ مِنْ نَفْسِكَ، وَبَذْلُ السَّلَامِ عَلَى الْعَالَمِ"(26).

ثُمَّ الْأَحَادِيثُ الْمَعْرُوفَةُ عِنْدَ ذِكْرِ كَمَالِ الْإِيمَانِ، حِينَ قَالَ:

"أَيُّ الْخَلْقِ أَعْظَمُ إِيمَانًا؟ فَقِيلَ: الْمَلَائِكَةُ، ثُمَّ قِيلَ: نَحْنُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ: بَلْ قَوْمٌ يَأْتُونَ بَعْدَكُمْ(27)، فَذَكَرَ صِفَتَهُمْ".

وَمِنْهُ أَيْضًا قَوْلُهُ: "إِنَّ أَكْمَلَ، أَوْ مِنْ أَكْمَلِ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ

--------------------------------------------

(21) الأصل "وذلك".

(22) متفق عليه من حديث أبي هريرة. وانظر ابن أبي شيبة (66).

(23) رواه البزار وابن بطة في "الإبانة" عن أبي سعيد مرفوعًا بسند فيه مجهول الحال.

(24) يعني التقشف. والحديث أخرجه أبو داود وابن ماجه وغيرهم عن أبي إمامة الحارثي مرفوعًا، وصححه الحاكم، ووافقه الذهبي.

(25) حديث حسن، وصححه الحاكم، وقد خرجته في "سلسلة الأحاديث الصحيحة".

(26) روي مرفوعًا وموقوفًا، والراجح الموقوف على أن في سنده من كان اختلط، انظر الكلام عليه مع تخريجه فيما علقته على "الكلم الطيب" لابن تيمية رقم الحديث (195)، والحديث (125) من "الايمان" لابن أبي شيبة وهما طبع المكتب الاسلامي.

(27) أخرجه الحسن بن عرفة في "جزئه" (ق 90/ 2) عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده مرفوعًا وسنده ضعيف. وأخرجه الحاكم من حديث عمر، وصححه، ورده الذهبي عليه، وبيان ذلك في المائة السابعة من "سلسلة الأحاديث الضعيفة".
[আবু] উবাইদ বলেন: যদি কেউ আপনাকে জিজ্ঞেস করে: এই তিয়াত্তরটি অংশ কী কী? তাকে বলা হবে: এই অংশগুলো একত্রে আমাদের কাছে নামকরণ করা হয়নি যে আমরা সেগুলোর নাম বলব, তবে জ্ঞান এটুকু পরিবেষ্টন করে আছে যে এগুলো আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর তাকওয়ার অন্তর্ভুক্ত, যদিও সেগুলো একটি মাত্র হাদিসে আমাদের কাছে উল্লেখ করা হয়নি। আপনি যদি আসার (বর্ণনা) সমূহ অনুসন্ধান করেন, তবে সেগুলোকে সেখানে বিক্ষিপ্তভাবে পাবেন। আপনি কি "কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা" সম্পর্কে তাঁর কথা শোনেননি, অথচ তিনি ইহাকে ঈমানের একটি অংশ হিসেবে গণ্য করেছেন? তেমনিভাবে(২১) অন্য একটি হাদিসে তাঁর বাণী: "লজ্জাশীলতা ঈমানের একটি শাখা"(২২), তৃতীয় হাদিসে: "গাইরত (আত্মমর্যাদাবোধ) ঈমানের অন্তর্ভুক্ত"(২৩), চতুর্থ হাদিসে: "বযাযাহ (অনাড়ম্বর জীবনযাপন) ঈমানের অন্তর্ভুক্ত"(২৪), এবং পঞ্চম হাদিসে: "অঙ্গীকার পূর্ণ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত"(২৫)।

এর সবই ঈমানের শাখা-প্রশাখা। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আম্মার-এর হাদিস:

"তিনটি বিষয় ঈমানের অন্তর্ভুক্ত: অভাবগ্রস্ত অবস্থায় দান করা, নিজের পক্ষ থেকে ইনসাফ (ন্যায়বিচার) করা এবং বিশ্ববাসীকে সালাম প্রদান করা।"(২৬)।

অতঃপর ঈমানের পূর্ণতা বর্ণনার ক্ষেত্রে সুপরিচিত হাদিসগুলো, যখন তিনি বললেন:

"সৃষ্টিজগতের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে কারা মহান? বলা হলো: ফেরেশতারা। এরপর বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা। তিনি বললেন: বরং এমন এক কওম যারা তোমাদের পরে আসবে(২৭), অতঃপর তিনি তাদের গুণাবলী উল্লেখ করলেন।"

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ (বা সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গদের অন্তর্ভুক্ত) হলো তারা, যারা তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম...

--------------------------------------------

(২১) মূলে রয়েছে "وذلك" (আর সেটি)।

(২২) এটি আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি। দেখুন ইবনে আবি শাইবাহ (৬৬)।

(২৩) এটি আল-বাযযার এবং ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থে আবু সাঈদ থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদে এমন বর্ণনাকারী আছে যার অবস্থা অজ্ঞাত।

(২৪) এর অর্থ হলো অনাড়ম্বরতা। হাদিসটি আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং অন্যান্যরা আবু উমামাহ আল-হারিসী থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম একে সহিহ বলেছেন এবং আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন।

(২৫) এটি হাসান হাদিস। আল-হাকিম একে সহিহ বলেছেন এবং আমি একে 'সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ' গ্রন্থে সংকলন করেছি।

(২৬) এটি মারফু এবং মাওকুফ উভয়ভাবেই বর্ণিত হয়েছে, তবে অগ্রগণ্য মত হলো এটি মাওকুফ। আর এর সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছে যার মধ্যে সংমিশ্রণ (ইখতিলাত) ঘটেছিল। ইবনে তাইমিয়্যাহ-র 'আল-কালিমুত তাইয়্যিব' (হাদিস নং ১৯৫) এবং ইবনে আবি শাইবাহ-র 'আল-ইমান' (হাদিস নং ১২৫) এর উপর আমার করা টিকায় এর তাহকিক ও তাখরিজ দেখুন। উভয়ই আল-মাকতাবুল ইসলামি থেকে প্রকাশিত।

(২৭) আল-হাসান ইবনে আরাফাহ তাঁর 'জুয' (পৃষ্ঠা ৯০/২)-এ আমর ইবনে শুআইব, তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এর সনদ দুর্বল। আল-হাকিম এটি উমর-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করে সহিহ বলেছেন, কিন্তু আয-যাহাবী তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এর বিস্তারিত বর্ণনা 'সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দয়িফাহ'-র সপ্তম শততম খণ্ডে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৮)
خُلُقًا(28) وَكَذَلِكَ(29) قَوْلُهُ: "لَا يُؤْمِنُ الرَّجُلُ الْإِيمَانَ كُلَّهُ حَتَّى يَدَعَ الْكَذِبَ فِي الْمِزَاحِ، وَالْمِرَاءَ وَإِنْ كَانَ صَادِقًا"(30) وَقَدْ رُوِيَ مِثْلُهُ أَوْ نَحْوُهُ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، وَابْنِ عُمَرَ.

ثُمَّ مِنْ أَوْضَحِ ذَلِكَ وَأَبْيَنِهِ حَدِيثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الشَّفَاعَةِ، حِينَ قَالَ: "فَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ شَعِيرَةٍ مِنْ إِيمَانٍ، وَبُرَّةٍ مِنْ إِيمَانٍ، وَمِثْقَالُ ذَرَّةٍ"(31) وَإِلَّا صُولِبَ(32) وَمِنْهُ حَدِيثُهُ فِي الْوَسْوَسَةِ، حِينَ سُئِلَ عَنْهَا؟ فَقَالَ: "ذَلِكَ صَرِيحُ الْإِيمَانِ"(33) وَكَذَلِكَ حَدِيثُ عَلِيٍّ عليه السلام: "إِنَّ الْإِيمَانَ يَبْدَأُ لُمْظَةً(34) فِي الْقَلْبِ، فَكُلَّمَا ازْدَادَ الْإِيمَانُ عِظَمًا(35) ازْدَادَ ذَلِكَ الْبَيَاضُ عِظَمًا" فِي أَشْيَاءَ مِنْ هَذَا النَّحْوِ كَثِيرَةٍ يَطُولُ ذِكْرُهَا(36) تَبَيَّنَ لَكَ التَّفَاضُلُ فِي الْإِيمَانِ بِالْقُلُوبِ وَالْأَعْمَالِ، وَكُلُّهَا يَشْهَدُ أَوْ أَكْثَرُهَا أَنَّ أَعْمَالَ الْبِرِّ مِنَ الْإِيمَانِ، فَكَيْفَ تُعَانَدُ هَذِهِ الْآثَارُ بِالْإِبْطَالِ وَالتَّكْذِيبِ؟!

وَمِمَّا يُصَدِّقُ تَفَاضُلَهُ بِالْأَعْمَالِ قَوْلُ اللَّهِ جَلَّ ثَنَاؤُهُ {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ} [الأنفال: 2] إِلَى قَوْلِهِ {أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا}(37) فَلَمْ يَجْعَلِ اللَّهُ لِلْإِيمَانِ حَقِيقَةً إِلَّا بِالْعَمَلِ عَلَى هَذِهِ الشُّرُوطِ، وَالَّذِي يَزْعُمُهُ

--------------------------------------------

(28) حديث صحيح، وصححه جماعة، وقد أخرجه ابن أبي شيبة من حديث أبي هريرة وعائشة والحسن البصري فراجع تعليقنا عليه (رقم 17 و 20 و 120).

(29) الأصل "وذلك".

(30) أخرجه أحمد (2/ 352 - 353 و 364) من حديث مكحول عن أبي هريرة مرفوعًا به. ومكحول لم يسمع من أبي هريرة رضي الله عنه.

(31) متفق عليه من حديث أنس، رضي الله عنه الله عنه وأخرجه بن أبي شيبة (35).

(32) كذا الأصل مهمل الحروف.

(33) أخرجه مسلم وغيره من حديث أبي هريرة، وهو مخرج في "الأحاديث الصحيحة".

(34) بضم اللام مثل النكتة من البياض.

(35) هذا موقوف على علي رضي الله عنه، كذلك أخرجه ابن أبي شيبة في كتابه (رقم 8)، وإسناده منقطع كما بينته هناك.

(36) قلت: يراجع الكثير الطيب منها في كتاب ابن أبي شيبة.

(37) وتمامها: {الذين يقيمون الصلاة ومما رزقناهم ينفقون}.
চরিত্রের দিক থেকে(২৮) এবং তদ্রূপ(২৯) তাঁর বাণী: "কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ঈমানের অধিকারী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে কৌতুকের ছলে মিথ্যা বলা এবং ঝগড়া-বিবাদ পরিত্যাগ করে, যদিও সে সত্যের ওপর থাকে"(৩০)। আর ওমর ইবনুল খাত্তাব এবং ইবনে ওমর থেকেও এর অনুরূপ বা কাছাকাছি বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে।

অতঃপর এর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট ও উজ্জ্বল দলিল হলো শাফায়াত (সুপারিশ) সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস, যখন তিনি বলেছিলেন: "অতঃপর জাহান্নাম থেকে বের করা হবে তাকে, যার হৃদয়ে বার্লি সমপরিমাণ ঈমান আছে, অথবা গমের দানা সমপরিমাণ ঈমান আছে, কিংবা অণু পরিমাণ ঈমান আছে"(৩১) অন্যথায় তাকে কঠোর দণ্ড দেওয়া হতো(৩২)। এর অন্তর্ভুক্ত হলো কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) সম্পর্কে তাঁর হাদিস, যখন তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বলেছিলেন: "সেটিই হলো স্পষ্ট ঈমান"(৩৩)। তদ্রূপ আলী আলাইহিস সালাম-এর হাদিস: "নিশ্চয়ই ঈমান অন্তরে একটি শুভ্র বিন্দুর(৩৪) ন্যায় শুরু হয়, অতঃপর ঈমান যত বৃদ্ধি পায়(৩৫) সেই শুভ্রতাও তত বৃদ্ধি পায়।" এই জাতীয় আরও অনেক বিষয় রয়েছে যার বর্ণনা দীর্ঘ হবে(৩৬)। এর মাধ্যমে আপনার নিকট অন্তর ও আমলের ভিত্তিতে ঈমানের তারতম্য হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেল। আর এই বর্ণনাসমূহের সব কটি বা অধিকাংশ সাক্ষ্য দেয় যে, নেক আমল ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কীভাবে এই বর্ণনাগুলোকে বাতিল ও অস্বীকার করার মাধ্যমে বিরোধিতা করা সম্ভব?!

আর আমলের মাধ্যমে ঈমানের তারতম্য হওয়ার সত্যতা প্রমাণ করে মহান আল্লাহর বাণী: {মুমিন তো তারাই, যাদের নিকট আল্লাহর কথা স্মরণ করা হলে তাদের অন্তর কেঁপে ওঠে এবং যখন তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে} [আল-আনফাল: ২] তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {তারাই হলো প্রকৃত মুমিন}(৩৭)। সুতরাং আল্লাহ এই শর্তসমূহের অধীনে আমল ব্যতীত ঈমানের কোনো বাস্তবতা সাব্যস্ত করেননি। আর যে দাবি করে...

--------------------------------------------

(২৮) এটি সহিহ হাদিস, একদল আলেম একে সহিহ বলেছেন; এটি ইবনে আবি শায়বা আবু হুরায়রা, আয়েশা এবং হাসান বসরির হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, সুতরাং এর ওপর আমাদের টীকা দেখুন (নং ১৭, ২০ এবং ১২০)।

(২৯) মূল পাঠে রয়েছে "وذلك"।

(৩০) ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন (২/৩৫২-৩৫৩ এবং ৩৬৪) মাকহুল থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফু হিসেবে। আর মাকহুল আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সরাসরি শোনেননি।

(৩১) আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি, এবং ইবনে আবি শায়বা এটি বর্ণনা করেছেন (৩৫)।

(৩২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই বর্ণমালা অস্পষ্ট অবস্থায় রয়েছে।

(৩৩) ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যরা এটি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং এটি "আল-আহাদিস আস-সহিহাহ" গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

(৩৪) লাম বর্ণে পেশসহ, যার অর্থ সাদা বিন্দুর মতো।

(৩৫) এটি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উক্তি (মওকুফ), তদ্রূপ ইবনে আবি শায়বা তাঁর গ্রন্থে (নং ৮) এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ বিচ্ছিন্ন যেমনটি আমি সেখানে ব্যাখ্যা করেছি।

(৩৬) আমি বলব: এর অনেক উত্তম বর্ণনা ইবনে আবি শায়বার গ্রন্থে দেখা যেতে পারে।

(৩৭) এবং এর পূর্ণ অংশ হলো: {যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে}।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ১৯)
أَنَّهُ بِالْقَوْلِ خَاصَّةً يَجْعَلُهُ مُؤْمِنًا حَقًّا، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ هُنَاكَ عَمَلٌ، فَهُوَ مُعَانِدٌ لِكِتَابِ اللَّهِ وَالسُّنَّةِ.

وَمِمَّا يُبَيِّنُ لَكَ تَفَاضُلَهُ فِي الْقَلْبِ، قَوْلُهُ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ} [الممتحنة: 10] أَلَسْتَ تَرَى أَنَّ هَاهُنَا مَنْزِلًا دُونَ مَنْزِلٍ {اللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِهِنَّ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ} [الممتحنة: 10] كَذَلِكَ وَمِثْلُهُ قَوْلُهُ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا آمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ} [النساء: 136].

فَلَوْلَا أَنَّ هُنَاكَ مَوْضِعَ مَزِيدٍ، مَا كَانَ لَأَمْرِهِ بِالْإِيمَانِ مَعْنًى، ثُمَّ قَالَ أَيْضًا {ألم أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ}، وَقَالَ {وَمِنَ النَّاسِ مِنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ فَإِذَا أُوذِيَ فِي اللَّهِ جَعَلَ فِتْنَةَ النَّاسِ كَعَذَابِ اللَّهِ} [العنكبوت: 10] وَقَالَ {وَلِيُمَحِّصَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَيَمْحَقَ الْكَافِرِينَ} [آل عمران: 141].

أَفَلَسْتَ تَرَاهُ تبارك وتعالى، قَدِ امْتَحَنَهُمْ بِتَصْدِيقِ الْقَوْلِ بِالْفِعْلِ، وَلَمْ يَرْضَ مِنْهُمْ بِالْإِقْرَارِ دُونَ الْعَمَلِ، حَتَّى جَعَلَ أَحَدَهُمَا مِنَ الْآخَرِ؟ فَأَيُّ شَيْءٍ يُتَّبَعُ بَعْدَ كِتَابِ اللَّهِ وَسُنَّةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم، وَمِنْهَاجِ السَّلَفِ بَعْدَهُ الَّذِينَ هُمْ مَوْضِعُ الْقُدْوَةِ وَالْإِمَامَةِ؟!

فَالْأَمْرُ الَّذِي عَلَيْهِ السُّنَّةُ عِنْدَنَا مَا نَصَّ عَلَيْهِ عُلَمَاؤُنَا؟ مِمَّا اقْتَصَصْنَا فِي كِتَابِنَا هَذَا(38): أَنَّ الْإِيمَانَ بِالنِّيَّةِ وَالْقَوْلِ وَالْعَمَلِ جَمِيعًا، وَأَنَّهُ دَرَجَاتٌ بَعْضُهَا فَوْقَ بَعْضٍ، إِلَّا أَنَّ أَوَّلَهَا وَأَعْلَاهَا الشَّهَادَةُ بِاللِّسَانِ، كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الْحَدِيثِ الَّذِي جَعَلَهُ فِيهِ بِضْعَةً وَسَبْعِينَ جُزْءًا، فَإِذَا نَطَقَ بِهَا الْقَائِلُ، وَأَقَرَّ بِمَا جَاءَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ لَزِمَهُ اسْمُ الْإِيمَانِ بِالدُّخُولِ فِيهِ بِالِاسْتِكْمَالِ عِنْدَ اللَّهِ، وَلَا عَلَى تَزْكِيَةِ النُّفُوسِ، وَكُلَّمَا ازْدَادَ لِلَّهِ طَاعَةً وَتَقْوَى، ازْدَادَ بِهِ إِيمَانًا.

--------------------------------------------

(38) الأصل "عندنا ماضي عليه علمانا ما اقتصصنا في كتابنا هذا لأن"!
যে ব্যক্তি মনে করে যে কেবল মৌখিক স্বীকৃতির মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন হয়ে যায়, যদিও সেখানে কোনো আমল না থাকে, সে আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর বিরুদ্ধাচরণকারী।

অন্তরে ঈমানের তারতম্য বা কম-বেশি হওয়ার বিষয়টি আপনার কাছে যা স্পষ্ট করবে তা হলো আল্লাহর এই বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের কাছে যখন মুমিন নারীরা হিজরত করে আসে, তখন তোমরা তাদেরকে পরীক্ষা করো} [আল-মুমতাহিনা: ১০]। আপনি কি দেখছেন না যে এখানে এক স্তরের নিচে অন্য স্তর রয়েছে? {আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে অধিক অবগত। যদি তোমরা জানতে পারো যে তারা মুমিন নারী...} [আল-মুমতাহিনা: ১০]। অনুরূপভাবে আল্লাহর এই বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো} [আন-নিসা: ১৩৬]।

যদি ঈমান বৃদ্ধির কোনো অবকাশ না থাকত, তবে ঈমান আনার এই নির্দেশের কোনো অর্থ থাকত না। অতঃপর তিনি আরও বলেছেন: {আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি। আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং অবশ্যই জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী}। তিনি আরও বলেছেন: {মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলে, ‘আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি’, কিন্তু যখন আল্লাহর পথে সে নির্যাতিত হয়, তখন সে মানুষের দেওয়া পরীক্ষাকে আল্লাহর আযাবের মতো মনে করে} [আল-আনকাবুত: ১০]। তিনি আরও বলেছেন: {যাতে আল্লাহ মুমিনদেরকে পরিশোধন করেন এবং কাফিরদের নিশ্চিহ্ন করেন} [আল-ইমরান: ১৪১]।

আপনি কি দেখছেন না যে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কাজের মাধ্যমে কথাকে সত্য প্রমাণিত করার দ্বারা তাদের পরীক্ষা করেছেন? তিনি তাদের নিকট থেকে আমলবিহীন কেবল মৌখিক স্বীকৃতিতে সন্তুষ্ট হননি, যতক্ষণ না তিনি একটিকে অপরটির অংশ করেছেন। অতএব আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ এবং তাঁর পরবর্তী সালাফ বা পূর্বসূরিদের পথ—যারা অনুসরণ ও নেতৃত্বের যোগ্য আদর্শ—তা ছেড়ে আর কিসের অনুসরণ করা হবে?!

আমাদের নিকট সুন্নাহর বিষয়টি তাই যা আমাদের উলামাগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং যা আমরা আমাদের এই কিতাবে বর্ণনা করেছি(৩৮): নিশ্চয়ই ঈমান হলো নিয়ত (সংকল্প), কথা ও আমল—এই সবকিছুর সমষ্টি। আর ঈমানের বিভিন্ন স্তর রয়েছে যার একটি অপরটির উপরে। তবে এর প্রথম ও সর্বোচ্চ স্তর হলো জিহ্বা দ্বারা সাক্ষ্য প্রদান করা, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই হাদিসে বলেছেন যেখানে তিনি ঈমানকে সত্তরটিরও বেশি শাখায় বিভক্ত করেছেন। যখন কোনো ব্যক্তি তা উচ্চারণ করে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা এসেছে তা স্বীকার করে নেয়, তখন ঈমানে প্রবেশের কারণে সে ঈমান নামের অন্তর্ভুক্ত হয় যা আল্লাহর নিকট পূর্ণতা লাভের স্তরে পৌঁছাতে পারে, আর এটি কেবল নিজের নফসের পবিত্রতা দাবি করার বিষয় নয়। সে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও তাকওয়া যত বৃদ্ধি করবে, তার মাধ্যমে তার ঈমান তত বৃদ্ধি পাবে।

--------------------------------------------

(৩৮) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আমাদের নিকট আমাদের উলামাগণ যার ওপর গত হয়েছেন, যা আমরা আমাদের এই কিতাবে বর্ণনা করেছি কারণ"!
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌بَابُ الِاسْتِثْنَاءِ فِي الْإِيمَانِ
ঈমানের ক্ষেত্রে ‘ইস্তিসনা’ (ইনশাআল্লাহ বলা) সংক্রান্ত অধ্যায়
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২০)
9 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي الْأَشْهَبِ، عَنِ الْحَسَنِ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ عِنْدَ ابْنِ مَسْعُودٍ: أَنَا مُؤْمِنٌ فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: "أَفَأَنْتَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟ " فَقَالَ: أَرْجُو، فَقَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: "أَفَلَا وَكَّلْتَ الْأُولَى كَمَا وَكَّلْتَ الْأُخْرَى؟ "(39).

--------------------------------------------

(39) رجال إسناده ثقات رجال الستة، إلا أنه منقطع بين الحسن وابن مسعود. وأبو الأشهب اسمه جعفر بن حيان.
৯ - আবু উবায়দ বলেন: ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-আশহাব থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনু মাসউদের নিকট এক ব্যক্তি বলল, "আমি একজন মুমিন।" তখন ইবনু মাসউদ বললেন: "তাহলে তুমি কি জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত?" সে বলল: "আমি আশা করি।" ইবনু মাসউদ বললেন: "তুমি কেন প্রথম বিষয়টি (আল্লাহর ওপর) সোপর্দ করলে না, যেমনটি তুমি দ্বিতীয় বিষয়টি সোপর্দ করেছ?"(৩৯).

--------------------------------------------

(৩৯) এর সানাদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং 'সিত্তাহ' (ছয়টি হাদীস গ্রন্থের) বর্ণনাকারী, তবে হাসান ও ইবনু মাসউদের মধ্যবর্তী সূত্রে সানাদটি বিচ্ছিন্ন। আর আবু আল-আশহাবের নাম হলো জাফর ইবনু হাইয়ান।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২০)
10 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ: بَيْنَا نَحْنُ نَسِيرُ إِذْ لَقِينَا رَكْبًا، فَقُلْنَا: مَنْ أَنْتُمْ؟ فَقَالُوا: نَحْنُ الْمُؤْمِنُونَ فَقَالَ: أَوَلَا قَالُوا: إِنَّا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ؟!(40).

--------------------------------------------

(40) إسناده على شرط الشيخين. وكذا إسناد الذي بعده. والأول أخرجه ابن أبي شيبة في كتابه (122) من طريق أخرى عن أبي وائل به نحوه.
১০ - আবু উবাইদ বলেন: আব্দুর রহমান বিন মাহদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফইয়ান বিন সাঈদ থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহর নিকট এসে বললেন: "আমরা যখন পথ চলছিলাম, তখন একদল আরোহীর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হলো। আমরা জিজ্ঞেস করলাম: আপনারা কারা? তারা উত্তর দিল: আমরা মুমিন। তখন তিনি (আব্দুল্লাহ) বললেন: তারা কেন বলল না যে, আমরা জান্নাতবাসী?!"(৪০).

--------------------------------------------

(৪০) এর সনদ শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী। অনুরূপভাবে এর পরবর্তী বর্ণনার সনদও তদ্রূপ। প্রথমটি ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর কিতাবে (১২২) আবু ওয়াইল থেকে অন্য সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২০)
11 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ كِلَاهُمَا عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ قَالَ:

قَالَ رَجُلٌ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ: أَنَا مُؤْمِنٌ! فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَقُلْ: إِنِّي فِي الْجَنَّةِ! وَلَكِنْ آمَنَّا بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ.
১১ - আবু উবাইদ বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই শু'বাহ থেকে, তিনি সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে এবং তিনি আলক্বামাহ থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন:

আব্দুল্লাহর নিকট এক ব্যক্তি বলল: "আমি মুমিন!" তখন আব্দুল্লাহ বললেন: "তবে তুমি ইহাও বলো যে, 'আমি জান্নাতি!' বরং (আমরা বলব) আমরা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতামণ্ডলী, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি।"
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২০)
12 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مُحِلِّ(41) بْنِ مُحْرِزٍ قَالَ: قَالَ لِي إِبْرَاهِيمُ:

"إِذَا قِيلَ لَكَ: أَمُؤْمِنٌ أَنْتَ؟ فَقُلْ: آمَنْتُ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ".

--------------------------------------------

(41) هو بضم أوله وكسر ثانية وتشديد اللام، وكان الأصل "مُجلي"، فصححناه من كتب الرجال. وهو كوفي ولا بأس به.
১২ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি মুহিল(৪১) ইবনে মুহরিজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম আমাকে বলেছেন:

"যখন তোমাকে বলা হবে: তুমি কি মুমিন? তখন বলো: আমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি ঈমান এনেছি।"

--------------------------------------------

(৪১) নামটি প্রথম বর্ণে পেশ, দ্বিতীয় বর্ণে জের এবং ‘লাম’ বর্ণে তাসদীদসহ উচ্চারিত হবে। মূল পাঠে এটি "মুজলী" ছিল, যা আমরা রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ থেকে সংশোধন করেছি। তিনি কুফার অধিবাসী এবং তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২১)
13 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ:

"إِذَا قِيلَ لَكَ: أَمُؤْمِنٌ أَنْتَ؟ فَقُلْ: آمَنْتُ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ".
১৩ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি ইবনে তাউস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

"যদি তোমাকে জিজ্ঞেস করা হয়: তুমি কি মুমিন? তবে বলো: আমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলগণের প্রতি ঈমান এনেছি।"
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২১)
14 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَتِيقٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ:

إِذَا قِيلَ لَكَ: أَمُؤْمِنٌ أَنْتَ؟ فَقُلْ {آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ} الْآيةَ * [البقرة / 136].

--------------------------------------------

(*) وتمامها: ( … وما أوتي موسى وعيسى وما أوتي النبيون من ربهم لا نفرق بين أحدٍ منهم ونحن له مسلمون).
১৪ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি হাম্মাদ বিন যায়িদ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আতীক থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন সীরীন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

যখন তোমাকে বলা হবে: তুমি কি মুমিন? তখন বলো: {আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যা ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে}—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। [আল-বাকারা: ১৩৬]।

--------------------------------------------

(*) আর আয়াতের পূর্ণ অংশ হলো: ( … এবং যা মূসা ও ঈসাকে প্রদান করা হয়েছে এবং যা নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছে; আমরা তাঁদের মধ্য থেকে কোনো একজনের মধ্যেও পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই অনুগত মুসলিম)।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২১)
15 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ:

قَالَ رَجُلٌ لِعَلْقَمَةَ: أَمُؤْمِنٌ أَنْتَ؟ فَقَالَ: "أَرْجُو إِنْ شَاءَ اللَّهُ".

قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: وَلِهَذَا كَانَ يَأْخُذُ سُفْيَانُ وَمَنْ وَافَقَهُ الِاسْتِثْنَاءَ فِيهِ، وَإِنَّمَا كَرَاهَتُهُمْ عِنْدَنَا أَنْ يَبُتُّوا الشَّهَادَةَ بِالْإِيمَانِ مَخَافَةَ مَا أَعْلَمْتُكُمْ فِي الْبَابِ الْأَوَّلِ مِنَ التَّزْكِيَةِ وَالِاسْتِكْمَالِ عِنْدَ اللَّهِ، وَأَمَّا عَلَى أَحْكَامِ الدُّنْيَا فَإِنَّهُمْ يُسَمُّونَ أَهْلَ الْمِلَّةِ جَمِيعًا مُؤْمِنِينَ، لِأَنَّ وِلَايَتَهُمْ وَذَبَائِحَهُمْ وَشَهَادَاتِهِمْ وُمُنَاكَحَتَهُمْ وَجَمِيعَ سُنَّتِهِمْ: إِنَّمَا هِيَ عَلَى الْإِيمَانِ، وَلِهَذَا كَانَ الْأَوْزَاعِيُّ يَرَى الِاسْتِثْنَاءَ وَتَرْكَهُ جَمِيعًا وَاسِعَيْنِ.
১৫ - আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

এক ব্যক্তি আলকামাহকে বললেন: আপনি কি মুমিন? তিনি বললেন: "আল্লাহ চাইলে আমি আশা করি।"

আবু উবাইদ বলেন: এই কারণেই সুফিয়ান এবং তাঁর সাথে একমত পোষণকারীগণ এতে ইস্তিসনা (ইনশাআল্লাহ বলা) গ্রহণ করতেন। আমাদের নিকট তাঁদের এটি অপছন্দ করার কারণ কেবল এটাই যে, তাঁরা ঈমানের সাক্ষ্যকে চূড়ান্তভাবে প্রদান করতে ভয় পেতেন—সেটির কারণে যা আমি আপনাদের প্রথম অধ্যায়ে জানিয়েছি যে, আল্লাহর নিকট নিজের আত্মশুদ্ধি বর্ণনা করা এবং ঈমান পূর্ণ হওয়ার দাবি করার ভয়। তবে পার্থিব বিধানের ক্ষেত্রে তাঁরা মিল্লাতের সকল অনুসারীকে মুমিন বলেই অভিহিত করেন। কারণ তাদের অভিভাবকত্ব, তাদের জবেহকৃত পশু, তাদের সাক্ষ্যদান, তাদের বিবাহ এবং তাদের সমস্ত রীতিনীতি ঈমানের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে। এই কারণেই ইমাম আওজায়ি ইস্তিসনা করা এবং তা বর্জন করা—উভয়টিকেই প্রশস্ত মনে করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২১)
16 - قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، قَالَ:

"مَنْ قَالَ: أَنَا مُؤْمِنٌ فَحَسَنٌ. وَمَنْ قَالَ: أَنَا مُؤْمِنٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ فَحَسَنٌ، لِقَوْلِ اللَّهِ عز وجل {لَتَدْخُلُنَّ الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ آمِنِينَ} [الفتح / 27]، وَقَدْ عَلِمَ أَنَّهُمْ دَاخِلُونَ".

وَهَذَا عِنْدِي وَجْهُ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ(42) حِينَ أَتَاهُ صَاحِبُ مُعَاذٍ فَقَالَ: "أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ النَّاسَ كَانُوا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَةَ أَصْنَافٍ: مُؤْمِنٌ وَمُنَافِقٌ وَكَافِرٌ، فَمِنْ أَيِّهِمْ كُنْتَ؟ قَالَ: مِنَ الْمُؤْمِنِينَ"، إِنَّمَا نَرَاهُ أَرَادَ أَنِّي كُنْتُ

--------------------------------------------

(42) هو ابن مسعود، وحديثه المشار إليه، أخرجه ابن أبي شيبة في كتابه (73) وفي سنده رجل لم يسم، وقد أنكره يحيى بن سعيد كما يأتي عند المصنف بعد قليل.
১৬ - আবু উবাইদ বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে কাসীর আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আওযাঈ থেকে, তিনি বলেছেন:

"যে ব্যক্তি বলে: 'আমি মুমিন', তা উত্তম। আর যে ব্যক্তি বলে: 'আমি মুমিন ইনশাআল্লাহ (যদি আল্লাহ চান)', তাও উত্তম; মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমরা অবশ্যই মসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে ইনশাআল্লাহ, নিরাপদ অবস্থায়} [আল-ফাতহ: ২৭], অথচ তিনি জানতেন যে তারা অবশ্যই প্রবেশ করবে।"

আর আমার নিকট এটিই আব্দুল্লাহর(৪২) সেই হাদীসের ব্যাখ্যা, যখন মুআযের এক সাথী তাঁর নিকট এসে বলেছিলেন: "আপনি কি জানেন না যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মানুষ তিন শ্রেণীর ছিল: মুমিন, মুনাফিক এবং কাফের? তো আপনি তাদের মধ্যে কোন্ শ্রেণীর ছিলেন? তিনি বললেন: মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত।" আমরা মনে করি তিনি কেবল এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে আমি ছিলাম—

--------------------------------------------

(৪২) তিনি হলেন ইবনে মাসউদ। তাঁর নির্দেশিত এই হাদীসটি ইবনে আবি শায়বা তাঁর গ্রন্থে (৭৩) বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্রে এমন এক ব্যক্তি রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেমনটি গ্রন্থকার একটু পরেই উল্লেখ করবেন।
(খণ্ড: ১) আল-ঈমান - আবু উবাইদ - ত. আল-মাকতাবুল ইসলামী (পৃষ্ঠা: ২২)
مِنْ أَهْلِ هَذَا الدِّينِ لَا مِنَ الْآخَرِينَ، فَأَمَّا الشَّهَادَةُ بِهَا عِنْدَ اللَّهِ فَإِنَّهُ كَانَ عِنْدَنَا أَعْلَمَ بِاللَّهِ وَأَتْقَى لَهُ مِنْ أَنْ يُرِيدَهُ، فَكَيْفَ يَكُونُ ذَلِكَ، وَاللَّهُ يَقُولُ:

{فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى} [النجم: 32].

وَالشَّاهِدُ: (عَلَى مَا نَظُنُّ) أَنَّهُ كَانَ قَبْلَ هَذَا لَا يَقُولُ: أَنَا مُؤْمِنٌ عَلَى تَزْكِيَةٍ وَلَا عَلَى غَيْرِهَا، وَلَا نَرَاهُ أَنَّهُ كَانَ يُنْكِرُهُ عَلَى قَائِلِهِ بِأَيِّ وَجْهٍ كَانَ، إِنَّمَا كَانَ يَقُولُ: آمَنْتُ بِاللَّهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ، لَا يَزِيدُ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ، وَهُوَ الَّذِي كَانَ أَخَذَ بِهِ إِبْرَاهِيمُ وَطَاوُسٌ وَابْنُ سِيرِينَ ثُمَّ أَجَابَ عَبْدُ اللَّهِ إِلَى أَنْ قَالَ: "أَنَا مُؤْمِنٌ"، فَإِنْ كَانَ الْأَصْلُ مَحْفُوظًا عَنْهُ(43) فَهُوَ عِنْدِي عَلَى مَا أَعْلَمْتُكَ، وَقَدْ رَأَيْتُ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ يُنْكِرُهُ وَيَطْعَنُ فِي إِسْنَادِهِ، لِأَنَّ أَصْحَابَ عَبْدِ اللَّهِ عَلَى خِلَافِهِ.

وَكَذَلِكَ نَرَى مَذْهَبَ الْفُقَهَاءِ الَّذِينَ كَانُوا يَتَسَمَّوْنَ بِهَذَا الِاسْمِ بِلَا اسْتِثْنَاءٍ، فَيَقُولُونَ: نَحْنُ مُؤْمِنُونَ، مِنْهُمْ عَبْدُ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيُّ، وَإِبْرَاهِيمُ التَّيْمِيُّ، وَعَوْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَمَنْ بَعْدَهُمْ مِثْلُ: عُمَرُ بْنُ ذَرٍّ، وَالصَّلْتُ بْنُ بَهْرَامَ، وَمِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ، وَمَنْ نَحَا نَحْوَهُمْ، إِنَّمَا هُوَ عِنْدَنَا مِنْهُمْ عَلَى الدُّخُولِ فِي الْإِيمَانِ لَا عَلَى الِاسْتِكْمَالِ، أَلَا تَرَى أَنَّ الْفَرْقَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ إِبْرَاهِيمَ وَبَيْنَ ابْنِ سِيرِينَ وَطَاوُسٍ إِنَّمَا كَانَ أَنَّ هَؤُلَاءِ كَانُوا بِهِ(44) أَصْلًا، وَكَانَ الْآخَرُونَ يَتَسَمَّونَ بِهِ.

فَأَمَّا عَلَى مَذْهَبِ مَنْ قَالَ: كَإِيمَانِ الْمَلَائِكَةِ وَالنَّبِيِّينَ! فَمَعَاذَ اللَّهِ، لَيْسَ هَذَا طَرِيقَ الْعُلَمَاءِ، وَقَدْ جَاءَتْ كَرَاهِيَتُهُ مُفَسَّرَةً عِنْدَ عِدَّةٍ مِنْهُمْ.

--------------------------------------------

(43) الأصل "محفوظ".

(44) كذا الأصل، وفيه سقط ظاهر، ولعله "كانوا لا يتسمون به أصلًا".
এই দ্বীনের অন্তর্ভুক্তদের পক্ষ থেকে, অন্যদের পক্ষ থেকে নয়। আর আল্লাহর নিকট এর সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি হলো, আমাদের নিকট তিনি (ইবন মাসউদ রা.) আল্লাহ সম্পর্কে অধিক অবগত এবং তাঁর প্রতি অধিক তাকওয়াবান ছিলেন এটি ইচ্ছা করার চেয়ে; এটি কীভাবে হতে পারে যখন আল্লাহ বলছেন:

{সুতরাং তোমরা নিজেদের পবিত্রতা ঘোষণা করো না; তিনিই ভালো জানেন কে তাকওয়াবান।} [আন-নাজম: ৩২]।

আর সাক্ষী (আমাদের ধারণা অনুযায়ী) হলো: এর আগে তিনি আত্ম-প্রশংসা বা অন্য কোনো কারণে "আমি মুমিন" বলতেন না। আর আমরা তাঁকে দেখিনি যে তিনি এটি কোনোভাবেই এর প্রবক্তার প্রতি অস্বীকার করতেন; তিনি কেবল বলতেন: "আমি আল্লাহ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান এনেছি"। তিনি এই শব্দের অতিরিক্ত কিছু বলতেন না। আর এটিই ছিল যা ইবরাহিম, তাউস এবং ইবন সিরিন গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ (ইবন মাসউদ) এই জবাবে ফিরে এসেছিলেন যে তিনি বলেছিলেন: "আমি মুমিন"। যদি এই মূল বিষয়টি তাঁর থেকে সংরক্ষিত হয়ে থাকে, তবে তা আমার কাছে তেমন যা আমি আপনাকে জানিয়েছি। আমি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদকে দেখেছি তিনি এটি অস্বীকার করছেন এবং এর সনদের সমালোচনা করছেন, কারণ আবদুল্লাহর ছাত্রগণ এর বিপরীত মত পোষণ করতেন।

তদ্রূপ আমরা সেই ফুকাহাদের মাযহাবও দেখি যারা কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই নিজেদের এই নামে (মুমিন) অভিহিত করতেন এবং বলতেন: "আমরা মুমিন"। তাদের মধ্যে রয়েছেন আবদুর রহমান আস-সুলামি, ইবরাহিম আত-তাইমি, আউন ইবন আবদুল্লাহ এবং তাদের পরবর্তীগণ যেমন: উমর ইবন যার, আস-সলত ইবন বাহরাম, মিসআর ইবন কিদাম এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন। আমাদের নিকট তাদের এই উক্তিটি ঈমানে প্রবেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অর্থে, ঈমানের পূর্ণতা অর্জনের অর্থে নয়। আপনি কি দেখেন না যে, তাদের এবং ইবরাহিম, ইবন সিরিন ও তাউসের মধ্যে পার্থক্য কেবল এই ছিল যে, তারা আদতেই এটি ধারণ করতেন, আর অন্যরা এই নামে নিজেদের নামাঙ্কিত করতেন।

কিন্তু যারা বলে: "(আমাদের ঈমান) ফেরেশতা ও নবীদের ঈমানের মতো!" তাদের মাযহাবের ক্ষেত্রে— আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই, এটি উলামাদের পথ নয়। তাদের অনেকের নিকট এর অপছন্দনীয়তা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(৪৩) মূলে রয়েছে "সংরক্ষিত"।

(৪৪) মূলে এমনই আছে, এবং এতে একটি স্পষ্ট বিচ্যুতি রয়েছে; সম্ভবত এটি ছিল "তারা আদতেই এই নামে নিজেদের নামাঙ্কিত করতেন না"।