(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: -)
المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة - ط الميمنة   (السخاوي)

القسم: التخريج والأطراف

الكتاب: المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة

المؤلف: شمس الدين محمد بن عبد الرحمن السخاوي (ت 902 هـ)

أصل التحقيق: رسائل ماجستير، كلية الحديث الشريف، بالجامعة الإسلامية في المدينة النبوية

جـ 1: عبد المعطي بن عبد الرزاق البكور

جـ 2: حسام الدين بن أمين حمدان

جـ 3: إحسان الله بن عبد الوهاب مبارز البدخشي

جـ 4: عبد المولى عبد السلام سالم الهاشمي

جـ 5: سفيان بن فؤاد باسويدان

الناشر: مكتبة الميمنة المدنية (المدينة النبوية)، دار الميمنة للنشر والتوزيع (سورية - دمشق)

الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2017 م

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 30 صفر 1445

আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছিরিম মিনাল আহাদিসিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - আল-মায়মানাহ সংস্করণ   (আস-সাখাভী)

বিভাগ: তাখরিজ এবং আতরাফ

কিতাব: আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছিরিম মিনাল আহাদিসিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ

লেখক: শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাখাভী (মৃত্যু ৯০২ হিজরি)

মূল সম্পাদনা: মাস্টার্স থিসিসসমূহ, হাদিস অনুষদ, মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

১ম খণ্ড: আব্দুল মু'তি বিন আব্দুল রাজ্জাক আল-বাক্কুর

২য় খণ্ড: হুসামুদ্দিন বিন আমিন হামদান

৩য় খণ্ড: ইহসানুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহাব মুবারিজ আল-বাদাখশি

৪র্থ খণ্ড: আব্দুল মাওলা আব্দুস সালাম সালিম আল-হাশেমি

৫ম খণ্ড: সুফিয়ান বিন ফুয়াদ বাসুয়াইদান

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মায়মানাহ আল-মাদানিইয়াহ (মদিনা মুনাওয়ারা), দারুল মায়মানাহ প্রকাশনী ও পরিবেশনা (সিরিয়া - দামেস্ক)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ সফর ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌الكتاب: المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة

‌‌المؤلف: شمس الدين محمد بن عبد الرحمن السخاوي (ت 902 هـ)

‌‌أصل التحقيق: رسائل ماجستير، كلية الحديث الشريف، بالجامعة الإسلامية في المدينة النبوية

جـ 1: عبد المعطي بن عبد الرزاق البكور

جـ 2: حسام الدين بن أمين حمدان

جـ 3: إحسان الله بن عبد الوهاب مبارز البدخشي

جـ 4: عبد المولى عبد السلام سالم الهاشمي

جـ 5: سفيان بن فؤاد باسويدان

‌‌الناشر: مكتبة الميمنة المدنية (المدينة النبوية)، دار الميمنة للنشر والتوزيع (سورية - دمشق)

‌‌الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2017 م
বই: আল-মাকাসিদ আল-হাসানা ফি বায়ানি কাসিরিম মিনাল আহাদিস আল-মুশতাহারাহ আলাল আলসিনাহ

লেখক: শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাখাভি (মৃত্যু ৯০২ হিজরি)

সম্পাদনার উৎস: মাস্টার্স থিসিসসমূহ, হাদিস অনুষদ, মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

খণ্ড ১: আব্দুল মু'তি বিন আব্দুর রাজ্জাক আল-বাক্কুর

খণ্ড ২: হুসামুদ্দিন বিন আমিন হামদান

খণ্ড ৩: ইহসানুল্লাহ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মুবারিজ আল-বাদাখশি

খণ্ড ৪: আব্দুল মাওলা আব্দুস সালাম সালিম আল-হাশেমি

খণ্ড ৫: সুফিয়ান বিন ফুয়াদ বাসুওয়াইদান

প্রকাশক: মাকতাবাতুল মায়মানা আল-মাদানিয়া (মদিনা মুনাওয়ারা), দারুল মায়মানা প্রকাশনী ও পরিবেশনী (সিরিয়া - দামেস্ক)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ২)
أصل هذا التحقيق

رسالة علمية نوقشت في قسم علوم الحديث بالجامعة الإسلامية في المدينة النبوية

بتقدير: ممتاز مع مرتبة الشرف الأولى

أشرف عليها: فضيلة الشيخ الدكتور عبد الصمد بن بكر آل عابد

وناقشها

فضيلة الأستاذ الدكتور: عبد الله بن محمد حسن دمفو

وفضيلة الدكتور: عبد الباري بن حمّاد الأنصاري
এই গবেষণার মূল উৎস

মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদিস বিজ্ঞান বিভাগে উপস্থাপিত একটি গবেষণাপত্র

গ্রেড: প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ চমৎকার

তত্ত্বাবধানে ছিলেন: ফাদিলাতুশ শায়খ ডক্টর আবদুস সামাদ বিন বকর আল-আবিদ

এবং এটি পর্যালোচনা করেছেন

ফাদিলাতুশ প্রফেসর ডক্টর: আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ হাসান দামফু

এবং ফাদিলাতুশ ডক্টর: আবদুল বারী বিন হাম্মাদ আল-আনসারী
(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

إنَّ الحمد لله نحمدُه ونستعينُه ونستغفرُه، ونعوذُ بالله من شرورِ أنفسنا وسيِّئاتِ أعمالنا، من يهدِه الله فلا مضلَّ له، ومن يضللْ فلا هاديَ له، وأشهدُ أنْ لا إلهَ إلا الله وحدَه لا شريكَ له، وأشهدُ أنَّ محمدًا عبدُه ورسولُه.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].

أما بعدُ، فإنَّ خيرَ الحديثِ كتابُ اللهِ، وخيرَ الهديِ هديُ محمدٍ صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمورِ محدثاتُها، وكلَّ محدثةٍ بدعةٌ، وكلَّ بدعةٍ ضلالةٌ، وكلَّ ضلالةٍ في النارِ.

وبعدُ، فإنَّ الله عز وجل أرسلَ محمدًا صلى الله عليه وسلم إلى الناسِ كافَّةً، وأنزل عليه الكتابِ تبيانًا لكلِّ شيءٍ؛ فقال تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ} [النحل: 89]، فكان رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم هو المبينَ عن اللهِ عز وجل أمرَه، وعن كتابِه معانيَ ما خوطبَ به الناسُ وما أرادَ الله عز وجل به، وما شرع من معاني دينِه وأحكامِه، قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل: 44]، وقال سبحانه: {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ} [النحل: 64].
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” [আলে ইমরান: ১০২]।

“হে মানুষ, তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক নফস থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের দু’জন থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর নজরদারি করছেন।” [আন-নিসা: ১]।

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করল।” [আল-আহযাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

এরপর কথা হলো, মহান আল্লাহ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সমস্ত মানুষের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর ওপর কিতাব নাযিল করেছেন যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা; মহান আল্লাহ বলেন: “আমি আপনার ওপর এমন কিতাব নাযিল করেছি যা সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা” [আন-নাহল: ৮৯]। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর নির্দেশের বর্ণনাকারী ছিলেন এবং তাঁর কিতাব থেকে সেই সকল অর্থ বর্ণনাকারী ছিলেন যা মানুষকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন, আর তাঁর দ্বীনের অর্থ ও বিধানসমূহের মধ্য থেকে যা তিনি প্রবর্তন করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: “আমি আপনার নিকট যিকর (কুরআন) নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষের নিকট বর্ণনা করতে পারেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে” [আন-নাহল: ৪৪], এবং তিনি আরও বলেন: “আমি আপনার ওপর কিতাব কেবল এজন্যই নাযিল করেছি যাতে আপনি তাদের নিকট সেই বিষয়টি স্পষ্ট করতে পারেন যাতে তারা মতবিরোধ করছে” [আন-নাহল: ৬৪]।
(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
فكان السبيلُ إلى معرفةِ معاني كتابِ اللهِ عز وجل ومعالمِ دينِه: الآثارَ الصحيحةَ عن رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وعن أصحابِه الذين شهدوا التنزيلَ وعرفوا التأويلَ، رضي الله تعالى عنهم أجمعينَ.

ولأجلِ هذا حرص أهلُ العلمِ على تمييزِ صحيحِ الأخبارِ من سقيمِها، وتخليصِها مما دخلَ فيها وليس منها، لا سيَّما وقد راجت على ألسنةِ كثيرٍ من الناسِ أخبارٌ واهيةٌ ومكذوبةٌ، نُسِبَت إلى رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وإلى أصحابِه رضي الله عنهم.

فقيَّض الله عز وجل لهذا الشأن أهلًا يذبُّون عن دينه وشرعه، وقام أهل الحديث يذودون عن حياض سنة سيد المرسلين صلى الله عليه وسلم، فوضعوا المصنفاتِ لنفي الدخيلِ عن السُّنَّةِ، مما اشتَهَرَ من الأخبارِ على الأَلسِنَةِ.

ومن أجمعِ ما صُنِّفَ في هذا البابِ كتابُ الحافظِ السَّخَاويِّ رحمه الله، الموسومُ بـ "المقاصد الحسنةِ في بيانِ كثيرٍ من الأحاديثِ المشتهِرةِ على الألسِنةِ".

ولأهميَّةِ هذا الكتابِ ومكانةِ مصنِّفِه العلميَّةِ فقد قمنا بتحقيقه في مجموعةٍ من رسائل العالمية (الماجستير)، بقسم علوم الحديث، في كلية الحديث الشريف والدراسات الإسلامية، بالجامعة الإسلامية في المدينة النبوية.

وقد أُجيزت جميع هذه الرسائل -بحمد الله وتوفيقه- بتقدير (ممتاز، مع مرتبة الشرف الأولى)، والحمد لله أولًا وآخرًا.

ثم الشكرُ موصولٌ للقائمين على هذه الجامعة المباركة، التي ما برحت تبثُّ العلم في شتى بقاع الأرض، فبارك الله في أعمالهم وأعمارهم، وسدَّد على طريق الخير والحق خطاهم.

ونتوجه بالشكر الجزيل والعرفان بالجميل إلى كلِّ من أسدى إلينا يدًا في عملنا هذا، وأعاننا بقليلٍ أو كثيرٍ، ونخصُّ بالذكر أصحاب الفضيلة المشايخ المشرفين على هذه الرسائل:

الشيخ: د. عبد الصمد بن بكر آل عابد.

والشيخ: أ. د. عبد الرحيم بن أحمد القشقري.

মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার কিতাবের অর্থ এবং তাঁর দ্বীনের নিদর্শনাবলী জানার পথ হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ আসার (বর্ণনা), যারা ওহী অবতরণ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং এর ব্যাখ্যা জানতেন, আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন।

এ কারণেই আলেমগণ বিশুদ্ধ সংবাদসমূহকে ত্রুটিপূর্ণ সংবাদ থেকে পৃথক করতে এবং এর অন্তর্ভুক্ত নয় এমন প্রক্ষিপ্ত বিষয়গুলো থেকে একে পরিচ্ছন্ন করতে সচেষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে যখন মানুষের মুখে অনেক ভিত্তিহীন ও বানোয়াট সংবাদ প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এই কাজের জন্য এমন একদল যোগ্য লোক নির্ধারণ করেছেন যারা তাঁর দ্বীন ও শরীয়তকে রক্ষা করেন। মুহাদ্দিসগণ রাসূলগণের সরদার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর সীমানাকে রক্ষা করতে দাঁড়িয়েছেন। ফলে তাঁরা মানুষের মুখে প্রসিদ্ধ হওয়া বর্ণনাগুলোর মধ্য থেকে সুন্নাহর মধ্যে অনুপ্রবেশকারী বিষয়গুলোকে দূর করার জন্য গ্রন্থাবলী রচনা করেছেন।

এই বিষয়ে সংকলিত সবচাইতে সমৃদ্ধ গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হাফেজ সাখাভী রহিমাহুল্লাহ-এর কিতাব, যা "আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ ফি বায়ানি কাসীরিন মিনাল আহাদিসিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ" নামে সুপরিচিত।

এই কিতাবটির গুরুত্ব এবং এর লেখকের ইলমি মর্যাদার কারণে আমরা মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কুল্লিয়াতুল হাদিস আশ-শরিফ ওয়াদ দিরাসাত আল-ইসলামিয়ার হাদিস বিজ্ঞান বিভাগে কয়েকটি মাস্টার্স (আল-আলামিয়্যাহ) গবেষণাপত্রের মাধ্যমে এর সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন করেছি।

আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর তাওফিকে এই সকল গবেষণাপত্র 'মুমতাজ মাআ মারতাবাতুশ শারাফ আল-উলা' (প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ চমৎকার) গ্রেডে গৃহীত হয়েছে। শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।

অতঃপর এই বরকতময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ইলম ছড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ তাঁদের কর্মে ও জীবনে বরকত দান করুন এবং কল্যাণ ও সত্যের পথে তাঁদের পদক্ষেপগুলোকে সুদৃঢ় করুন।

আমরা সেই সকল ব্যক্তিদের প্রতি আন্তরিক শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এই কাজে আমাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং অল্প কিংবা অধিক সাহায্য করেছেন। আমরা বিশেষভাবে এই গবেষণাপত্রগুলোর তত্ত্বাবধায়ক সম্মানিত শায়খদের নাম উল্লেখ করছি:

শায়খ: ড. আবদুস সামাদ বিন বকর আল-আবিদ।

এবং শায়খ: প্রফেসর ড. আবদুর রহিম বিন আহমদ আল-কাশগারি।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
والشيخ: د. إبراهيم بن محمد نور بن سيف.

فجزاهم الله عنا خيرًا، وأجزل لهم الثواب، وبارك في أعمارهم وأعمالهم، ورفع درجاتهم في الدنيا والآخرة، وختم لهم بالخير والتوفيق.

واللهَ نسأل أن يجعل عملنا هذا خالصًا لوجهه الكريم، وأن يتقبله منا، وينفع به الإسلام والمسلمين.

سبحان ربنا رب العزة عما يصفون، وسلام على المرسلين، والحمد لله رب العالمين.

وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

* * *
এবং শায়খ: ড. ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ নূর ইবনে সাইফ।

আল্লাহ তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাদের প্রতিদানকে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দিন, তাদের হায়াতে ও আমলে বরকত দান করুন, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের মর্যাদা সুউচ্চ করুন এবং কল্যাণ ও তাওফিকের সাথে তাদের জীবনের সমাপ্তি দান করুন।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই কাজকে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন, আমাদের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করেন এবং এর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করেন।

পবিত্রতা আমাদের প্রতিপালকের, যিনি সম্মানের অধিপতি, তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি পবিত্র। আর রাসুলগণের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক এবং সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসুল আমাদের নবি মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌تمهيد

وفيه مبحثان:

المبحث الأول: التعريف بالمشهور وبيان أقسامه.

المبحث الثاني: المصنفات في الأحاديث المشتهرة.
উপক্রমণিকা

এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মাশহুর-এর পরিচয় এবং এর প্রকারভেদ বর্ণনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রসিদ্ধ হাদীসসমূহ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌المبحث الأول: التعريف بالمشهور وبيان أقسامه

‌‌تعريف المشهور لغة:

(المشهور) اسم مفعول من شَهَر الشَّيءَ، يَشهَرَه، إذا أظهره‌‌(1)، وشهرتُ الحديث إذا أفشيته، فاشتَهَر‌‌(2). فالشُّهرةُ: ظهور الشيء ووُضوحه‌‌(3).

وسمي الحديث بذلك لوضوحه‌‌(4).

 

‌‌تعريف المشهور اصطلاحًا:

وأما الحديثُ المشهورُ في لسانِ المحدثينَ فإنه يُطلَقُ على معنَيَينِ:

الأول: وهو أشهرُ ذَينِكَ المعنَيينِ وأكثرُهما إطلاقًا وأوسعهما استعمالًا: وهو "ما شاع بين الناس واشتهر على الألسنة".

قال البرهانُ الجَعبَريُّ (732 هـ): "المشهورُ: الشائعُ عندَ الناسِ أو المحدِّثينَ أو الفقهاءِ أو الأصوليينَ"‌‌(5).

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: "تهذيب الأسماء واللغات" (4/ 126).

‌‌(2) انظر: "المصباح المنير" للفيومي (ص 445).

‌‌(3) كذا أطلقه الجوهري في "الصحاح" (ص 705) وابن فارس في "مقاييس اللغة" (3/ 222). وقال الأزهري في "تهذيب اللغة" (6/ 80) وابن سيده في "المحكم" (4/ 132)، وابن الأثير في "النهاية" (1/ 902) وغيرهم: "الشهرة: ظهور الشيء في شُنْعَةٍ، حتى يشهره الناس". اهـ.

‌‌(4) انظر: "نزهة النظر" (ص 46)، و"فتح المغيث" (3/ 389).

‌‌(5) "رسوم التحديث" (ص 79)، وهو أول من وقفنا عليه عرَّفَ (المشهور) بهذا المعنى تعريفًا صريحًا، وكلُّ من قبله يحومون حول هذا المعنى، لكنهم لم يصرحوا به. والله أعلم.

প্রথম পরিচ্ছেদ: মশহুর-এর পরিচয় ও এর প্রকারভেদ বর্ণনা

অভিধানিক অর্থে মশহুর-এর সংজ্ঞা:

(মশহুর) শব্দটি 'শাহারা আশ-শাইআ' (সে কোনো কিছুকে প্রকাশ করেছে) থেকে 'ইসমুল মাফউল' (কর্মবাচক বিশেষ্য)(১)। আমি হাদিসটি প্রকাশ করেছি মানে আমি তা প্রচার করেছি, ফলে তা মশহুর (প্রসিদ্ধ) হয়েছে(২)। সুতরাং 'শুহরাহ' (প্রসিদ্ধি) অর্থ হলো কোনো বিষয়ের প্রকাশ পাওয়া ও সুস্পষ্ট হওয়া(৩)।

আর হাদিসকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে তার সুস্পষ্টতার কারণে(৪)।

 

পারিভাষিক অর্থে মশহুর-এর সংজ্ঞা:

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় 'হাদিসে মশহুর' শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমটি: যা এই দুটি অর্থের মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ, অধিক প্রচলিত এবং যার ব্যবহার সবচেয়ে ব্যাপক: তা হলো "যা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মুখে মুখে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে"।

বুরহান আল-জাবারী (৭৩২ হি.) বলেন: "মশহুর হলো তা, যা সাধারণ মানুষ, মুহাদ্দিসগণ, ফকিহগণ অথবা উসুলবিদগণের নিকট বহুল প্রচলিত"(৫)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "তাহজীবুল আসমা ওয়াল লুগাত" (৪/১২৬)।

(২) দেখুন: আল-ফায়িউমি রচিত "আল-মিসবাহুল মুনির" (পৃ. ৪৪৫)।

(৩) আল-জাওহারি "আস-সিহাহ" (পৃ. ৭০৫) গ্রন্থে এবং ইবনে ফারিস "মাকায়িসুল লুগাহ" (৩/২২২) গ্রন্থে একইভাবে এটি ব্যক্ত করেছেন। আল-আজহারি "তাহজীবুল লুগাহ" (৬/৮০), ইবনে সিদাহ "আল-মুহকাম" (৪/১৩২), ইবনুল আসির "আন-নিহায়াহ" (১/৯০২) এবং অন্যান্যগণ বলেছেন: "শুহরাহ হলো কোনো জিনিসের এমনভাবে প্রকাশ পাওয়া যাতে তা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।" (সমাপ্ত)।

(৪) দেখুন: "নুজহাতুন নাযার" (পৃ. ৪৬), এবং "ফাতহুল মুগিস" (৩/৩৮৯)।

(৫) "রুসুমুত তাহদিস" (পৃ. ৭৯); তিনিই প্রথম ব্যক্তি যার সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি যে তিনি 'মশহুর'কে এই অর্থে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন; তাঁর পূর্ববর্তী সকলেই এই অর্থের আশেপাশে ঘুরপাক খেতেন কিন্তু স্পষ্টভাবে তা ব্যক্ত করেননি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وقال الحافظ: "المشهور يطلَقُ … على ما اشتَهَرَ على الألسِنَةِ"‌‌(1).

وقال السخاويُّ: "كذلك المشهور أيضًا يقعُ على ما اشتَهَرَ على الألسنةِ، فيشملُ ما لَهُ إسنادٌ واحدٌ فصاعدًا، بل ما لا يوجدُ له إسناد أصلًا"‌‌(2).

وقال السيوطي نحوًا كلامه في "التدريب"‌‌(3).

وقال في "الألفية"‌‌(4):

ويطلَقُ المشهورُ لِلَّذي اشتَهَرْ … في الناسِ مِن غيرِ شروطٍ تُعتَبَرْ

وفي كلام المتقدمين ما يشعر باستعمالهم لفظ "المشهور" بهذا المعنى:

قال الحاكم في "نوع: معرفة المشهور من الحديث" بعد أن ذكر أحاديثَ مشهورةً: "فهذه الأنواعُ التي ذكرنا من المشهورةِ التي يعرفُها أهل العلمِ، وقلَّ ما يخفى ذلك عليهِم، وهو المشهورُ الذي يستوي في معرفته الخاصُّ والعامُّ"‌‌(5).

ويُشعرُ بذلك أيضًا ما ذكره ابنُ الصَّلاحِ في "معرفة المشهور من الحديث"؛ حيث قال: "وكما بلغَنا عن أحمدَ بنِ حنبلٍ رضي الله عنه أنه قال: "أربعةُ أحاديثَ تدورُ عن رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم في الأسواقِ ليس لها أصلٌ: "من بشَّرني بخروجِ آذارَ بشرتُه بالجنةِ"‌‌(6)، و"من آذى ذِمِّيًا فأنا خصمُه يومَ القيامةِ"‌‌(7)، و"يومُ نحرِكم يومُ صومِكم"‌‌(8)، و"للسائلِ حقٌّ وإن جاءَ على فرسٍ"‌‌(9).

ويغلب على هذا النوع من المشهور لقبُ (المشتهِر)، وعليه عامة من صنَّف في هذا الباب من أهل العلم.

والمعنى الثاني: وهو المعنى الخاص عند المحدثين؛ ولهم في ذلك تعريفان مشهوران؛

--------------------------------------------

‌‌(1) "نزهة النظر" (50).

‌‌(2) "فتح المغيث" (4/ 13). وانظر: "الغاية في شرح الهداية" (141).

‌‌(3) "تدريب الراوي" (2/ 173).

‌‌(4) البيت رقم (198).

‌‌(5) "معرفة علوم الحديث" (ص 92).

‌‌(6) لم نقف عليه في غير كلام الإمام أحمد.

‌‌(7) انظر: من الأصل.

‌‌(8) انظر: من الأصل.

‌‌(9) انظر: من الأصل.

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "মশহুর শব্দটি ব্যবহৃত হয় … যা মানুষের মুখে মুখে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তার ওপর।"‌‌(১).

সাখাভী বলেন: "অনুরূপভাবে মশহুর শব্দটিও সেই সব হাদীসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা মানুষের মুখে মুখে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, ফলে এটি এমন হাদীসকেও অন্তর্ভুক্ত করে যার একটি বা ততোধিক সনদ রয়েছে, বরং এমন হাদীসকেও যার আদতে কোনো সনদই নেই।"‌‌(২).

সুয়ূতী 'তাদরিব' গ্রন্থে তাঁর কথার অনুরূপ কথা বলেছেন।‌‌(৩).

তিনি 'আলফিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন:‌‌(৪):

মশহুর শব্দটি এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে … মানুষের মধ্যে কোনো ধর্তব্য শর্ত ছাড়াই।

পূর্বসূরীদের বক্তব্যের মধ্যে এমন কিছু পাওয়া যায় যা ইঙ্গিত দেয় যে, তাঁরা 'মশহুর' শব্দটিকে এই অর্থেই ব্যবহার করতেন:

হাকীম 'পরিচ্ছেদ: মশহুর হাদীস পরিচিতি'-তে কিছু মশহুর হাদীস উল্লেখ করার পর বলেন: "আমরা মশহুর হাদীসের যেসব প্রকার উল্লেখ করেছি, ইলম অন্বেষণকারীরা সেগুলো জানেন এবং খুব কম ক্ষেত্রেই তা তাঁদের কাছে অস্পষ্ট থাকে। এটিই সেই মশহুর, যার পরিচিতি সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলের কাছে সমান।"‌‌(৫).

ইবনুস সালাহ 'মশহুর হাদীস পরিচিতি'-তে যা উল্লেখ করেছেন তাও এ কথারই ইঙ্গিত দেয়; সেখানে তিনি বলেন: "যেমনটি আমাদের কাছে আহমাদ বিন হাম্বল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে পৌঁছেছে যে তিনি বলেছেন: চারটি হাদীস বাজারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে প্রচলিত রয়েছে যেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই: 'যে ব্যক্তি আমাকে আযার মাস অতিবাহিত হওয়ার সুসংবাদ দিবে, আমি তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিব'‌‌(৬), এবং 'যে ব্যক্তি কোনো জিম্মিকে কষ্ট দিল আমি কিয়ামতের দিন তার বিপক্ষে অবস্থানকারী হব'‌‌(৭), এবং 'তোমাদের কুরবানির দিনই তোমাদের রোজা শুরুর দিন'‌‌(৮), এবং 'সাহায্যপ্রার্থীর হক রয়েছে যদিও সে ঘোড়ায় চড়ে আসে'‌‌(৯)।

মশহুর হাদীসের এই প্রকারটির ওপর 'মুশতাহির' (সুপ্রসিদ্ধ) উপাধিটিই প্রবল থাকে এবং এই শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনা করা অধিকাংশ আলেম এই মতেরই অনুসারী।

দ্বিতীয় অর্থ: এটি মুহাদ্দিসগণের নিকট একটি বিশেষ পারিভাষিক অর্থ; আর এই বিষয়ে তাঁদের নিকট দুটি মশহুর (প্রসিদ্ধ) সংজ্ঞা রয়েছে;

--------------------------------------------

‌‌(১) "নুযহাতুন নাযার" (৫০)।

‌‌(২) "ফাতহুল মুগীস" (৪/ ১৩)। এবং দেখুন: "আল-গায়া ফী শারহিল হিদায়া" (১৪১)।

‌‌(৩) "তাদরিবুর রাবী" (২/ ১৭৩)।

‌‌(৪) কবিতা নং (১৯৮)।

‌‌(৫) "মা'রিফাতু উলূমিল হাদীস" (পৃষ্ঠা ৯২)।

‌‌(৬) ইমাম আহমাদ-এর বক্তব্য ছাড়া অন্য কোথাও আমরা এটি খুঁজে পাইনি।

‌‌(৭) দেখুন: মূল উৎস থেকে।

‌‌(৮) দেখুন: মূল উৎস থেকে।

‌‌(৯) দেখুন: মূল উৎস থেকে।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
أحدهما: ما ذكره ابن الصلاح عن ابن منده حيث قال: "الغريب من الحديث، كحديث الزهري وقتادة وأشباههم من الأئمة ممن يُجمع حديثُهم، إذا انفرد الرجل عنهم بالحديث يسمى غريبًا. فإذا روى عنهم رجلان وثلاثة واشتركوا في حديثٍ يسمى عزيزًا. فإذا روى الجماعة عنهم حديثًا سمي مشهورًا"‌‌(1).

ومفهوم هذا، أن ما رواه أكثر من ثلاثة مطلقًا يسمى مشهورًا أيضًا، وهذا التعريف لا يفرق بين المشهور والمتواتر، ولذا صرح بأن من المشهور: "المتواترَ الذي يذكره أهل الفقه وأصوله"‌‌(2).

ثم إنه لا يشترط عند ابن الصلاح ومن وافقه أن يكون العدد المذكور في جميع طبقات السند، بل يكتفى بطبقة واحدة، بحيث لا يمتنع أن يكون في غيرها من طباقه غريبًا، بأن ينفرد به راوٍ آخر عن شيخه. ودليل ذلك أنه مثَّل للمشهور بحديث: "إنما الأعمال بالنيات"، فقال إنه "غريب مشهور"، وذلك بوجهَين واعتبارَين‌‌(3).

وقد مشى بعض المتقدمين -كأبي نعيم الأصبهاني- على هذا، فإنه قال في حديث سفيان عن عبد الله بن محمد بن عَقِيل، عن ابن الحَنَفِية، عن عليٍّ رفعه: "مفتاح الصلاة الطهور": إنه "مشهور لا نعرفه إلا من حديث ابن عقيل". فقال الحافظ ابن حجر: "إن مراده أنه مشهور من حديث ابن عقيل"، قال السخاوي: "فهذه الشُّهرة النِّسبية نظير الغرابة النِّسبية في قوله -فيما ينفرد به الراوي عن شيخه-: غريب"‌‌(4).

والتعريف الثاني: -وهو المختار- ما ذكره الحافظ ابن حجر بقوله: "ما له طرقٌ محصورةٌ بأكثر من اثنين"‌‌(5). فقوله (محصورة) يخرج به المتواتر، فإنه

--------------------------------------------

‌‌(1) "علوم الحديث" (ص 270)، وتبعه النووي كما في "تدريب الراوي" (2/ 632).

‌‌(2) انظر: "علوم الحديث" (ص 267).

‌‌(3) انظر: "فتح المغيث" (3/ 386). قال ابن الصلاح في "علوم الحديث" (ص 271): فإن إسناده متصف بالغرابة في طرفه الأول، متصف بالشهرة في طرفه الآخر.

‌‌(4) انظر: "فتح المغيث" (3/ 386 - 387).

‌‌(5) "نزهة النظر" (ص 46)، وانظر: "نخبة الفكر" (ص 30).

প্রথমটি: যা ইবনে আল-সালাহ ইবনে মানদাহ থেকে উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "হাদিসের মধ্যে গারিব হলো সেই হাদিস, যেমন যুহরি, কাতাদাহ এবং তাঁদের মতো ইমামদের হাদিস যাঁদের হাদিস সংকলন করা হয়; যখন কোনো ব্যক্তি তাঁদের থেকে কোনো হাদিস বর্ণনায় একক হয়ে যান, তখন তাকে গারিব বলা হয়। আর যখন তাঁদের থেকে দুইজন বা তিনজন বর্ণনা করেন এবং একটি হাদিসে শরিক হন, তখন তাকে আজিজ বলা হয়। আর যখন একদল লোক তাঁদের থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করেন, তখন তাকে মাশহুর বলা হয়"‌‌(১)।

এর মর্মার্থ এই যে, যা সাধারণভাবে তিনজনের অধিক রাবি বর্ণনা করেছেন তাকেও মাশহুর বলা হয়। এই সংজ্ঞাটি মাশহুর এবং মুতাওয়াতিরের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না, আর এই কারণেই তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে মাশহুরের অন্তর্ভুক্ত হলো: "সেই মুতাওয়াতির যা ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রবিদগণ উল্লেখ করেন"‌‌(২)।

তদুপরি, ইবনে আল-সালাহ এবং যাঁরা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন তাঁদের নিকট এটি শর্ত নয় যে, উল্লিখিত সংখ্যাটি সনদের সকল স্তরে থাকতে হবে; বরং একটি স্তরই যথেষ্ট, যাতে সনদের অন্য স্তরগুলোতে গারিব হওয়া অসম্ভব না হয়—অর্থাৎ অন্য কোনো স্তরে একজন রাবি তাঁর উস্তাদ থেকে বর্ণনায় একক হয়ে যেতে পারেন। এর প্রমাণ হলো যে, তিনি মাশহুরের উদাহরণ হিসেবে এই হাদিসটি পেশ করেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল"। তিনি বলেছেন যে এটি "গারিব মাশহুর", আর এটি দুটি ভিন্ন দিক ও বিবেচনার ভিত্তিতে‌‌(৩)।

পূর্ববর্তীদের মধ্যে কেউ কেউ—যেমন আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি—এই পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকিল থেকে, তিনি ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে এবং তিনি আলী (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত "নামাজের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা" হাদিসটি সম্পর্কে বলেছেন: "এটি মাশহুর, আমরা এটি কেবল ইবনে আকিলের হাদিস হিসেবেই জানি।" হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "তাঁর উদ্দেশ্য হলো এটি ইবনে আকিলের হাদিস হিসেবে মাশহুর।" সাখাবি বলেন: "এই আপেক্ষিক প্রসিদ্ধি (শুহরাত নিসবিয়্যাহ) হলো আপেক্ষিক বিরলতার (গারাবাত নিসবিয়্যাহ) অনুরূপ, যা কোনো রাবি তাঁর উস্তাদ থেকে বর্ণনায় একক হওয়ার ক্ষেত্রে 'গারিব' বলার মতো"‌‌(৪)।

দ্বিতীয় সংজ্ঞা: —যা অধিক গ্রহণযোগ্য— হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: "যার দুইয়ের অধিক সীমিত সংখ্যক সূত্র রয়েছে"‌‌(৫)। তাঁর "সীমিত" কথাটির মাধ্যমে মুতাওয়াতির বাদ পড়ে যায়, কারণ এটি

--------------------------------------------

‌‌(১) "উলুমুল হাদিস" (পৃ. ২৭০), এবং নববি তাঁর অনুসরণ করেছেন যেমনটি "তাদরিবুর রাবি" (২/ ৬৩২)-তে রয়েছে।

‌‌(২) দেখুন: "উলুমুল হাদিস" (পৃ. ২৬৭)।

‌‌(৩) দেখুন: "ফাতহুল মুগিস" (৩/ ৩৮৬)। ইবনে আল-সালাহ "উলুমুল হাদিস" (পৃ. ২৭১)-এ বলেছেন: এর সনদটি শুরুর দিকে বিরলতা (গারাবাত) গুলে গুণান্বিত এবং শেষ দিকে প্রসিদ্ধি (শুহরাত) গুলে গুণান্বিত।

‌‌(৪) দেখুন: "ফাতহুল মুগিস" (৩/ ৩৮৬ - ৩৮৭)।

‌‌(৫) "নুযহাতুন নাযার" (পৃ. ৪৬), এবং দেখুন: "নুখবাতুল ফিকার" (পৃ. ৩০)।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
بلا حصر عددٍ معيَّن على الصحيح‌‌(1). وقوله (بأكثر من اثنين) يخرج به العزيز والغريب.

وبعبارة أخرى، المشهور هو: ما رواه ثلاثة فصاعدًا، ما لم يجمع شروط التواتر‌‌(2).

قال الحافظ ابن حجر: "وهو المستفيضُ على رأي جماعةٍ من أئمة الفقهاء، سُمِّى بذلك لانتشاره، من: فاضَ الماءُ يَفيضُ فَيضًا.

ومنهم من غايَرَ بين المستفيضِ والمشهور؛ بأنَّ المستفيضَ يكونُ في ابتدائه وانتهائه سواء، والمشهورَ أعمُّ من ذلك، ومنهم من غايَرَ على كيفيةٍ أخرى .. "‌‌(3).

قال الحافظ السخاوي: "يعنى: بأنَّ المستفيضَ ما تلقَّته الأمةُ بالقبول، دونَ اعتبارِ عددٍ، ولذا قال أبو بكر الصَّيْرَفيُّ والقفَّال: إنه هو والمتواتر بمعنى واحدٍ"‌‌(4).

 

‌‌أقسام الحديث المشتهِر (النوع الأول من المشهور):

سلك أهل الحديث مسالكَ شتى في تقسيم الأحاديث المشتهرة، والسبب في ذلك اختلافُ الحيثية الموجبة للتقسيم.

 

‌‌أ - فمن حيث الصحة وعدمها:

ينقسم إلى: مشهورٍ صحيحٍ، وغيرِه‌‌(5).

فالصحيح؛ يعني: المحتجَّ به، الشامل للحسن‌‌(6). وغيره؛ يعني: غير المحتج به، الشامل لجميع أنواع الضعيف.

--------------------------------------------

‌‌(1) وقد صرح بذلك في "النزهة" (ص 41 - 42).

‌‌(2) كما في المصدر نفسه (ص 44).

‌‌(3) المصدر السابق.

‌‌(4) "فتح المغيث" (3/ 390).

‌‌(5) انظر: "معرفة علوم الحديث" (ص 304 - 305)، و"علوم الحديث" (ص 265).

‌‌(6) انظر: "فتح المغيث" (3/ 391) و"تدريب الراوي" (2/ 621).

বিশুদ্ধ মতানুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ না করে‌‌(১)। আর তাঁর কথা "(দুইয়ের অধিক দ্বারা)" এর মাধ্যমে 'আজিজ' এবং 'গারিব' হাদিস বাদ পড়ে যায়।

অন্য কথায়, মাশহুর হলো: যা তিন বা ততোধিক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, যতক্ষণ না তা মুতাওয়াতির হওয়ার শর্তাবলি পূরণ করে‌‌(২)।

হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "একদল ফকিহ ইমামের মতে এটিই ‘মুস্তাফিদ’। এর ব্যাপক প্রচারের কারণে এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে; যা পানি উছলে পড়া বা প্রবাহিত হওয়া থেকে নির্গত হয়েছে।"

তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুস্তাফিদ এবং মাশহুরের মধ্যে পার্থক্য করেছেন; এই মর্মে যে, মুস্তাফিদ হলো যার শুরু এবং শেষ (বর্ণনাকারীর সংখ্যায়) সমান থাকে, আর মাশহুর এর চেয়েও ব্যাপক। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভিন্নভাবে পার্থক্য করেছেন.."‌‌(৩)।

হাফেজ সাখাভি বলেন: "অর্থাৎ: মুস্তাফিদ হলো যা উম্মত গ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণ করে নিয়েছে, কোনো সংখ্যা বিবেচনা ছাড়াই। আর এ কারণেই আবু বকর আস-সাইরাফি এবং আল-কাফফাল বলেছেন: এটি এবং মুতাওয়াতির একই অর্থবোধক"‌‌(৪)।

 

‌‌প্রসিদ্ধ হাদিসের প্রকারভেদ (মাশহুরের প্রথম প্রকার):

মুহাদ্দিসগণ প্রসিদ্ধ হাদিসগুলোর বিভাজনে বিভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। এর কারণ হলো যে প্রেক্ষিতগুলোর ভিত্তিতে বিভাজন করা হয়েছে সেগুলোর ভিন্নতা।

 

‌‌ক - বিশুদ্ধতা ও অবিশুদ্ধতার দিক থেকে:

এটি বিভক্ত হয়: মাশহুর সহিহ এবং অন্যান্য ভাগে‌‌(৫)।

সহিহ বলতে দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হাদিস বুঝানো হয়েছে, যা হাসানকেও অন্তর্ভুক্ত করে‌‌(৬)। আর ‘অন্যান্য’ বলতে দলিল হিসেবে অগ্রহণযোগ্য হাদিস বুঝানো হয়েছে, যা সব ধরনের জইফ বা দুর্বল হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে।

--------------------------------------------

‌‌(১) তিনি "আন-নুজহা" (পৃ. ৪১-৪২) গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

‌‌(২) যেমনটি পূর্বোক্ত উৎস (পৃ. ৪৪)-এ রয়েছে।

‌‌(৩) পূর্বোক্ত উৎস।

‌‌(৪) "ফাতহুল মুগিস" (৩/৩৯০)।

‌‌(৫) দেখুন: "মা'রিফাতু উলুমিল হাদিস" (পৃ. ৩০৪-৩০৫) এবং "উলুমুল হাদিস" (পৃ. ২৬৫)।

‌‌(৬) দেখুন: "ফাতহুল মুগিস" (৩/৩৯১) এবং "তাদরিবুর রাবি" (২/৬২১)।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
فمثال المشهور الصحيح: حديث: "إن الله لا يقبض العلم انتزاعًا … " الحديث.

وحديث: "من أتى الجمعة فليغتسل"‌‌(1). وكلاهما في الصحيحين.

ومثال المشهور الحسن: حديث "طلب العلم فريضة على كل مسلم"، فقد قال المزي: إن له طرقًا يرتقي بها إلى رتبة الحسن‌‌(2). وكذا حديث "من باع دارًا ولم يجعل ثمنها في مثلها، لم يبارك له فيه"، قال السخاوي: حديث حسن، ورد عن جماعة من الصحابة‌‌(3).

ومثال المشهور الضعيف: حديث "من حفظ على أمتي أربعين حديثا بعث يوم القيامة فقيهًا"، فقد رُوي عن جماعة من الصحابة وليس له إسناد ثابت، كما قال البيهقي والنووي والحافظ‌‌(4).

 

‌‌ب - ومن حيث الجماعة أو الطائفة التي يشتهر فيها:

ينقسم إلى أقسام:

‌‌1 - مشهور عند أهل الحديث خاصة، كحديث أنس: "إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قنت شهرًا بعد الركوع يدعو على رِعْلٍ وذَكوان". أخرجه الشيخان من رواية سليمان التيمي، عن أبي مجلز، عن أنس. وقد رواه عن أنس جماعةٌ غير أبي مجلز، منهم: أنس بن سيرين وعاصم وقتادة. وعن أبي مجلز جماعة، وعن سليمان جماعة، بحيث اشتهر بين أهل الحديث خاصة، وقد يستغربه غيرُهم؛ لأن الغالب على رواية التيمي عن أنس، كونها بلا واسطة‌‌(5).

--------------------------------------------

‌‌(1) ذكرهما الحاكم في "المعرفة" (ص 305)، وعنه السيوطي في "التدريب" (2/ 622).

‌‌(2) المصدر نفسه (2/ 622)، وكذا حكاه عنه السخاوي في "المقاصد" (ص 276). وقد مثَّل به الحاكم "المعرفة" (ص 304) وابن الصلاح "المقدمة" (ص 205) للمشهور غير الصحيح، فقال البلقيني: المراد ما لم يبلغ رتبة الصحيح "محاسن الاصطلاح" (ص 450).

‌‌(3) انظر: "الأجوبة المرضية" (ص 264) وقد توسع في تخريجه فيه.

‌‌(4) انظره مع تخريجه برقم (1125).

‌‌(5) انظر: "علوم الحديث" (ص 267)، و"الفتح" (3/ 395) و"تدريب الراوي" (2/ 623).

মাশহুর সহিহ-এর উদাহরণ: হাদিস: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইলমকে (বান্দাদের অন্তর থেকে) টেনে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে কবজ করবেন না..." হাদিসটি শেষ পর্যন্ত।

এবং হাদিস: "যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসবে, সে যেন গোসল করে"‌‌(১)। উভয় হাদিসই সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ রয়েছে।

মাশহুর হাসান-এর উদাহরণ: "ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ" হাদিসটি। ইমাম মিযযি বলেছেন: এর এমন কিছু সূত্র রয়েছে যার মাধ্যমে এটি হাসানের স্তরে উন্নীত হয়‌‌(২)। অনুরুপভাবে, "যে ব্যক্তি কোনো বাড়ি বিক্রি করল কিন্তু সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ একই জাতীয় অন্য কোনো সম্পদে বিনিয়োগ করল না, তাতে তার বরকত হবে না" হাদিসটি। সাখাভি বলেছেন: এটি হাসান হাদিস, যা একদল সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে‌‌(৩)।

মাশহুর জয়িফ-এর উদাহরণ: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য চল্লিশটি হাদিস মুখস্থ রাখবে, কিয়ামতের দিন তাকে ফকিহ (বিদ্বান) হিসেবে পুনরুত্থিত করা হবে" হাদিসটি। এটি একদল সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু এর কোনো সুদৃঢ় সনদ নেই; যেমনটি বায়হাকি, নববি এবং হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেছেন‌‌(৪)।

 

‌‌খ - যে জনগোষ্ঠী বা দলের মধ্যে প্রসিদ্ধ (মাশহুর) সেই দিক থেকে:

এটি কয়েক ভাগে বিভক্ত:

‌‌১ - বিশেষভাবে মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধ, যেমন আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুর পর এক মাস যাবৎ কুনুত পড়েছেন, যাতে তিনি রিল ও যাকওয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন।" এটি শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) সুলাইমান আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু মিজলায থেকে এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আনাস (রা.) থেকে আবু মিজলায ছাড়াও একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে আনাস ইবনে সিরিন, আসিম এবং কাতাদাহ রয়েছেন। আবার আবু মিজলায থেকে একদল এবং সুলাইমান থেকে একদল বর্ণনা করেছেন, যার ফলে এটি বিশেষভাবে মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তবে অন্যদের কাছে এটি অপরিচিত (গারিব) মনে হতে পারে; কারণ আনাস (রা.) থেকে তাইমির বর্ণনার ক্ষেত্রে সাধারণত কোনো মধ্যস্থতাকারী না থাকাই প্রবল‌‌(৫)।

--------------------------------------------

‌‌(১) আল-হাকিম 'আল-মা'রিফাহ' (পৃ. ৩০৫)-এ উভয়টি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর থেকে সুয়ুতি 'আত-তাদরিব' (২/৬২২)-এ উল্লেখ করেছেন।

‌‌(২) একই উৎস (২/৬২২), অনুরুপভাবে সাখাভি 'আল-মাকাসিদ' (পৃ. ২৭৬)-এ তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম 'আল-মা'রিফাহ' (পৃ. ৩০৪)-এ এবং ইবনুস সালাহ 'আল-মুকাদ্দিমাহ' (পৃ. ২০৫)-এ মাশহুর অ-সহিহ (গাইরে সহিহ)-এর উদাহরণ হিসেবে এটি পেশ করেছেন। বুলকিনি বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা সহিহ-এর স্তরে পৌঁছায়নি, দেখুন 'মাহাসিনুল ইস্তিলাহ' (পৃ. ৪৫০)।

‌‌(৩) দেখুন: 'আল-আজউয়িবাতুল মারদিয়্যাহ' (পৃ. ২৬৪), এতে এর তাখরিজ বিস্তারিতভাবে করা হয়েছে।

‌‌(৪) এটি এর তাখরিজসহ দেখুন নম্বর (১১২৫)।

‌‌(৫) দেখুন: 'উলুমুল হাদিস' (পৃ. ২৬৭), এবং 'আল-ফাতহ' (৩/৩৯৫) ও 'তাদরিবুর রাবি' (২/৬২৩)।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌2 - مشهور عند أهل الحديث والعلماء والعوام، كحديث: "المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده"‌‌(1).

‌‌3 - مشهور عند الفقهاء، كحديث: "أبغض الحلال عند الله الطلاق"، وحديث: "من سئل عن علم فكتمه … " الحديث، وحديث: "لا غيبة لفاسق"، وحديث: "لا صلاة لجار المسجد إلا في المسجد" وغيرها‌‌(2).

‌‌4 - مشهور عند الأصوليين، كحديث: "رفع عن أمتي الخطأ والنسيان وما استكرهوا عليه" صححه ابن حبان، والحاكم بلفظ: "إن الله وضع"‌‌(3)، وحديث: "أمرت أن أحكم بالظاهر، والله يتولى السرائر"‌‌(4).

‌‌5 - مشهور عند النحاة، كحديث: "نِعم العبدُ صهيبٌ، لو لم يخف الله لم يعصه"‌‌(5).

وحديث: "الناس مجزيون بأعمالهم، إن خيرا فخير … "‌‌(6)، وحديث: "يتعاقبون فيكم ملائكة بالليل وملائكة بالنهار"‌‌(7).

‌‌6 - مشهور عند أهل السير والمغازي، كحديث رضاعه صلى الله عليه وسلم في بني. سعد وقصة شقِّ صدره صلى الله عليه وسلم‌‌(8).

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: "علوم الحديث" (ص 266)، و"الفتح" (3/ 395)، و"المقاصد" رقم (1025)، و"التدريب" (2/ 623).

‌‌(2) انظر: "تدريب الراوي" (2/ 623 - 624)، وذكرها السخاوي في "المقاصد" بأرقام (10، 921، 1135).

‌‌(3) "تدريب الراوي" (2/ 624). وذكره في "المقاصد" رقم (528) مشيرًا إلى شهرته عند الفقهاء أيضًا.

‌‌(4) ذكره في "المقاصد" رقم (178) مشيرًا إلى شهرته عند الفقهاء أيضا.

‌‌(5) "تدريب الراوي" (2/ 624). وذكره في "المقاصد" رقم (1259).

‌‌(6) ذكره في "المقاصد" رقم (367).

‌‌(7) وهو مشهور في كتب النحو، وقد استشهد به ابن مالك على لغة "أكلوني البراغيث" وسماه لغة "يتعاقبون فيكم ملائكة بالنهار". انظر: "شرح الكافية الشافية" (ص 581)، و"شرح ابن عقيل" (1/ 429).

‌‌(8) انظر: "البداية والنهاية" (3/ 411 - 412) وقال ابن كثير عقبه: هذا الحديث قد روي من طرق أخر، وهو من الأحاديث المشهورة المتداولة عند أهل السير والمغازي.

২ - হাদিস বিশারদ, আলেম এবং সাধারণ মানুষের নিকট প্রসিদ্ধ, যেমন এই হাদিসটি: "প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।"(১)

৩ - ফকিহগণের নিকট প্রসিদ্ধ, যেমন হাদিস: "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় হালাল কাজ হলো তালাক", এবং হাদিস: "যাকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে তা গোপন করে..." হাদিসটি, এবং হাদিস: "ফাসিকের কোনো গিবত (পরনিন্দা) নেই", এবং হাদিস: "মসজিদের প্রতিবেশীর সালাত মসজিদ ছাড়া হয় না" এবং এ জাতীয় অন্যান্য।(২)

৪ - উসুলবিদগণের নিকট প্রসিদ্ধ, যেমন হাদিস: "আমার উম্মতের ভুলবশত করা কাজ, ভুলে যাওয়া কাজ এবং যে কাজের জন্য তাদের বাধ্য করা হয়েছে তা ক্ষমা করা হয়েছে।" ইবনে হিব্বান একে সহিহ বলেছেন, আর হাকেম "নিশ্চয়ই আল্লাহ সরিয়ে নিয়েছেন" শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন।(৩) এবং হাদিস: "আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমি বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা করি, আর আল্লাহ গোপন বিষয়ের হিসাব নেবেন।"(৪)

৫ - ব্যাকরণবিদগণের নিকট প্রসিদ্ধ, যেমন হাদিস: "সুহাইব কতই না উত্তম বান্দা! সে যদি আল্লাহকে ভয় না-ও করত, তবুও তাঁর অবাধ্য হতো না।"(৫)

এবং হাদিস: "মানুষকে তাদের কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হবে, যদি কাজ ভালো হয় তবে প্রতিদানও ভালো হবে..."(৬), এবং হাদিস: "তোমাদের নিকট রাতে একদল ফেরেশতা এবং দিনে একদল ফেরেশতা পর্যায়ক্রমে যাতায়াত করে।"(৭)

৬ - সিরাত ও মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিশেষজ্ঞদের নিকট প্রসিদ্ধ, যেমন বনু সাদ গোত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুগ্ধপানের হাদিস এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বক্ষ বিদীর্ণ করার ঘটনা।(৮)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "উলুমুল হাদিস" (পৃষ্ঠা ২৬৬), "আল-ফাতহ" (৩/৩৯৫), "আল-মাকাসিদ" নম্বর (১০২৫), এবং "আত-তাদরিব" (২/৬২৩)।

(২) দেখুন: "তাদরিবুর রাবি" (২/৬২৩-৬২৪), সাখাভি এটি "আল-মাকাসিদ"-এ (১০, ৯২১, ১১৩৫) নম্বরগুলোতে উল্লেখ করেছেন।

(৩) "তাদরিবুর রাবি" (২/৬২৪)। তিনি এটি "আল-মাকাসিদ" নম্বর (৫২৮)-এ উল্লেখ করেছেন এবং ফকিহগণের নিকট এর প্রসিদ্ধির কথা ইঙ্গিত করেছেন।

(৪) এটি "আল-মাকাসিদ" নম্বর (১৭৮)-এ উল্লেখ করা হয়েছে এবং ফকিহগণের নিকট এর প্রসিদ্ধির কথা জানানো হয়েছে।

(৫) "তাদরিবুর রাবি" (২/৬২৪)। তিনি এটি "আল-মাকাসিদ" নম্বর (১২৫৯)-এ উল্লেখ করেছেন।

(৬) এটি "আল-মাকাসিদ" নম্বর (৩৬৭)-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

(৭) এটি ব্যাকরণ শাস্ত্রের বইগুলোতে প্রসিদ্ধ। ইবনে মালিক একে "আকালুনি আল-বারাগিস" এর ভাষার সপক্ষে দলিল হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং একে "তোমাদের নিকট দিনে ফেরেশতারা পর্যায়ক্রমে আসে" এর ভাষা হিসেবে অভিহিত করেছেন। দেখুন: "শারহুল কাফিয়াতুশ শাফিয়া" (পৃষ্ঠা ৫৮১), এবং "শারহু ইবনু আকিল" (১/৪২৯)।

(৮) দেখুন: "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া" (৩/৪১১-৪১২)। ইবনে কাসির এরপর বলেছেন: এই হাদিসটি অন্যান্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে, এবং এটি সিরাত ও মাগাজি বিশেষজ্ঞদের নিকট বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ হাদিসগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌7 - مشهور عند العامة، كحديث: "من دل على خير فله مثل أجر فاعله" وهو في صحيح مسلم، وحديث: "اختلاف أمتي رحمة"، وحديث: "الخير عادة"‌‌(1)، وغيرها كثير.

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) ذكرها السخاوي في "المقاصد" بأرقام (39، 467 و 478).

৭ - সাধারণ মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ, যেমন হাদীস: "যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ প্রদর্শন করবে, সে তার সম্পাদনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে", যা সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে; এবং হাদীস: "আমার উম্মতের মতভেদ রহমতস্বরূপ"; এবং হাদীস: "কল্যাণ একটি স্বভাব"(১), এবং এ জাতীয় আরও অনেক।

* * *

--------------------------------------------

(১) সাখাবী এগুলো "আল-মাকাসিদ" গ্রন্থে ৩৯, ৪৬৭ এবং ৪৭৮ নম্বর ক্রমিকে উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌المبحث الثاني: المصنفات فيه

جرت العادة في مبدأ التصنيف في كل فن من الفنون أن يكون مختلطًا مع غيره من أبواب العلم، غير متميز عنها، ثم ينضج التصنيف فيه تبعًا لتمايز العلوم من جهة، وتزايد الحاجة إليه من جهة أخرى؛ فيصبح له مصنفاته المفردة، الخاصة به دون غيره.

ولذا قسمنا الكلام في هذا المبحث إلى قسمين:

 

‌‌الأول: المصنفات التي تحوي كثيرًا من الأحاديث المشتهرة ولا تختص بها:

‌‌1 - فأولها ما جاء عن ابن قتيبةَ رحمه الله (276 هـ) في "تأويل مختلف الحديث"‌‌(1)؛ حيث قال: "وقالوا في أحاديثَ موجودةٍ على ألسنةِ الناسِ: ليس لها أصلٌ، ومنها … ".

‌‌2 - ثم جاء علاءُ الدينِ ابنُ العطَّارِ؛ فعقد ضمن "فتاوى النووي"‌‌(2) بابًا جمع فيه أقوال النووي في أحاديثَ شائعةٍ.

‌‌3 - ومنها ما جاء في "خاتمة سفر السعادة" للفيروز آبادي (ت 817 هـ) فقد ذكر فيها مجموعة من الأحاديث المشتهرة التي لم تثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم‌‌(3).

--------------------------------------------

‌‌(1) "تأويل مختلف الحديث" (ص 75).

واستفدنا هذا من مقدمة الدكتور محمد لطفي الصباغ لتحقيقه كتاب "الدرر المنتثرة" (ص 11).

‌‌(2) "فتاوى النووي" (ص 118 - 132). وهذا استفدناه أيضًا من مقدمة الدكتور الصباغ.

‌‌(3) انظر: "فهرس الفهارس" للكتاني (2/ 908).

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই বিষয়ের ওপর রচিত গ্রন্থসমূহ

প্রতিটি শাস্ত্রের সংকলন রচনার সূচনা লগ্নে এটিই নিয়ম যে, তা জ্ঞানের অন্যান্য শাখার সাথে মিশ্রিত থাকে এবং তা থেকে স্বতন্ত্রভাবে পৃথক থাকে না। এরপর একদিকে বিজ্ঞানের স্বতন্ত্র রূপ লাভ এবং অন্যদিকে এর প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধির ফলে এতে গ্রন্থ রচনা পূর্ণতা পায়; ফলে এর জন্য স্বতন্ত্র ও বিশেষ গ্রন্থসমূহ প্রণীত হয় যা অন্য বিষয় থেকে পৃথক।

এ কারণে আমরা এই পরিচ্ছেদের আলোচনাকে দুই ভাগে ভাগ করেছি:

 

‌‌প্রথম: সেই সকল গ্রন্থ যা অনেক বহুল প্রচলিত হাদীস অন্তর্ভুক্ত করে কিন্তু কেবল তাতেই সীমাবদ্ধ নয়:

‌‌১ - এর মধ্যে প্রথমটি হলো ইবনে কুতায়বাহ রাহিমাহুল্লাহ (২৭৬ হিজরী) থেকে তাঁর "তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদীস"‌‌(১) গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে; যেখানে তিনি বলেছেন: "আর মানুষের মুখে প্রচলিত কিছু হাদীসের ব্যাপারে তারা বলেছে: এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই, এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে..."।

‌‌২ - এরপর আলাউদ্দীন ইবনুল আত্তার এসেছেন; তিনি "ফাতাওয়া আন-নাওয়াবী"‌‌(২) এর অন্তর্ভুক্ত একটি অধ্যায় সংকলন করেছেন যেখানে তিনি বহুল প্রচলিত হাদীসসমূহের ব্যাপারে ইমাম নাওয়াবীর উক্তিগুলো একত্র করেছেন।

‌‌৩ - এর মধ্যে আরও রয়েছে ফিরোজাবাদী (মৃত্যু ৮১৭ হিজরী) এর "খতিমাতু সাফিরিস সা'আদাহ" গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে, কেননা তিনি সেখানে এমন একগুচ্ছ বহুল প্রচলিত হাদীস উল্লেখ করেছেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়‌‌(৩)।

--------------------------------------------

‌‌(১) "তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদীস" (পৃ. ৭৫)।

এবং আমরা এটি ডক্টর মুহাম্মদ লুতফি আস-সাব্বাগের "আদ-দুরারুল মুনতাসিরাহ" গ্রন্থের সম্পাদনার ভূমিকা (পৃ. ১১) থেকে গ্রহণ করেছি।

‌‌(২) "ফাতাওয়া আন-নাওয়াবী" (পৃ. ১১৮ - ১৩২)। এবং এটিও আমরা ডক্টর সাব্বাগের ভূমিকা থেকে গ্রহণ করেছি।

‌‌(৩) দেখুন: কাত্তানীর "ফিহরিসুল ফাহরিস" (২/ ৯০৮)।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وغيرها مما لا يختص بجمع الأحاديث المشتهرة على المعنى الذي تقدَّم.

 

‌‌الثاني: المصنفات التي تختص بجمع الأحاديث المشتهرة على الألسنة:

وفيما يأتي ذكر تلكم المصنفات، وسنرجئ الكلام عن المصنفات المتعلقة بالمقاصد إلى مبحث "عناية العلماء بالكتاب".

‌‌1 - "أحاديث القصاص" وهي رسالة منسوبة لشيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية رحمه الله (ت 728 هـ).

وسميت أيضًا "أكاذيب القُصَّاص"، أو "أحاديث يرويها القصَّاص عن الله وعن رسول الله صلى الله عليه وسلم" أو "رسالة في الأحاديث المتداولة بين الناس يذكرها القصَّاص"‌‌(1). والسبب في اختلاف التسميات أن الرسالة ليست من جمع المؤلف، بل جمعها بعض تلامذته من أجوبته على أحاديث سئل عنها‌‌(2).

والرسالة لا تراعي ترتيبًا معينًا، بل أقرب ما تكون إلى فتاوى حديثية، وأسلوبها مرسَل من غير تكلُّف ولا تنميق‌‌(3).

وهذه الرسالة -مع صغر حجمها- ذات قيمة كبيرة من الناحية التاريخية؛ لأنها من أول الرسائل التي ألِّفت في الأحاديث المشتهرة الشائعة بين الناس بسبب القصاص وبتأثيرهم غالبًا. ومعظمها باطل مكذوب، وفيها ما لا يصل إلى هذه الدرجة، بل فيها حديث صحيح، وهو قوله صلى الله عليه وسلم: "بدأ الإسلام غريبًا … ".

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: "الأثبات في مخطوطات الأئمة" شيخ الإسلام ابن تيمية وابن القيم وابن رجب (ص 45، 53 و 105).

‌‌(2) ومما يؤكد أنها ليست من جمع المؤلف: اختلاف ترتيب أحاديثها والعبارة التي تفتتح بها.

‌‌(3) ولمعرفة المزيد عن مزايا الرسالة ومنهج المؤلف فيها، انظر: "مقدمة الدكتور الصباغ" (ص 15 - 20).

এবং এ ছাড়াও অন্যান্য গ্রন্থসমূহ যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত অর্থে কেবল প্রসিদ্ধ হাদীসসমূহ সংকলনের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।

 

‌‌দ্বিতীয়: ঐ সকল রচনাবলি যা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত প্রসিদ্ধ হাদীসসমূহ সংকলনের সাথে নির্দিষ্ট:

নিম্নে সেই সকল রচনাবলির উল্লেখ করা হলো, আর 'মাকাসিদ' সংক্রান্ত রচনাবলি সম্পর্কে আলোচনা আমরা "গ্রন্থটির প্রতি ওলামায়ে কেরামের বিশেষ মনোযোগ" নামক পরিচ্ছেদ পর্যন্ত স্থগিত রাখব।

‌‌১ - "আহাদীসুল কাসসাস" (গল্পকারদের হাদীসসমূহ); এটি শায়খুল ইসলাম আহমাদ বিন আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ রহি মাহুল্লাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী)-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত একটি পুস্তিকা।

এর আরও নামকরণ করা হয়েছে "আকাযীবুল কাসসাস" (গল্পকারদের মিথ্যাচার), অথবা "আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ হতে গল্পকারদের বর্ণিত হাদীসসমূহ", কিংবা "মানুষের মাঝে প্রচলিত ঐ সকল হাদীস বিষয়ক পুস্তিকা যা গল্পকাররা উল্লেখ করে থাকে"‌‌(১)। নামকরণের এই পার্থক্যের কারণ হলো, পুস্তিকাটি স্বয়ং লেখকের সংকলিত নয়, বরং তাঁর নিকট জিজ্ঞাসিত বিভিন্ন হাদীসের উত্তরের ভিত্তিতে তাঁর কোনো কোনো ছাত্র এটি সংকলন করেছেন‌‌(২)।

পুস্তিকাটিতে কোনো নির্দিষ্ট বিন্যাস রক্ষা করা হয়নি, বরং এটি হাদীস বিষয়ক ফতোয়ার অধিক কাছাকাছি এবং এর প্রকাশভঙ্গি কোনো প্রকার কৃত্রিমতা বা আড়ম্বরহীন সাবলীল‌‌(৩)।

এই পুস্তিকাটি—তার ক্ষুদ্র কলেবর হওয়া সত্ত্বেও—ঐতিহাসিক দিক থেকে অত্যন্ত মূল্যবান; কেননা এটি মানুষের মাঝে গল্পকারদের কারণে এবং প্রধানত তাদের প্রভাবে প্রচলিত প্রসিদ্ধ হাদীসসমূহের উপর রচিত প্রথম দিককার পুস্তিকাগুলোর অন্যতম। এগুলোর অধিকাংশ ভ্রান্ত ও বানোয়াট, তবে এর মধ্যে এমন কিছুও আছে যা এই (বানোয়াট হওয়ার) স্তরে পৌঁছে না, বরং এর মধ্যে সহীহ হাদীসও রয়েছে, যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "ইসলামের সূচনা হয়েছিল প্রবাসীদের মতো অপরিচিত অবস্থায় ..."

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: "আল-আসবাতু ফী মাখতুতাতিল আইম্মাহ" শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম এবং ইবনে রজব (পৃষ্ঠা: ৪৫, ৫৩ ও ১০৫)।

‌‌(২) এটি যে লেখকের সংকলিত নয় তার অন্যতম প্রমাণ হলো: এর হাদীসগুলোর বিন্যাসের ভিন্নতা এবং এর প্রারম্ভিক বাক্যসমূহ।

‌‌(৩) পুস্তিকাটির বৈশিষ্ট্য এবং এতে লেখকের মানহাজ সম্পর্কে আরও জানতে দেখুন: "ডক্টর আস-সাব্বাগের ভূমিকা" (পৃষ্ঠা: ১৫ - ২০)।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
والرسالة كانت أصلًا اعتمده الزركشي والسخاوي والسيوطي وغيرهم ممن ألف في الأحاديث المشتهرة، فأوردوا جل أحاديثها في مصنفاتهم، ونقلوا عبارات شيخ الإسلام فيها معزوة إليه تارة، وغير معزوة تارة أخرى‌‌(1).

وقد طُبِعت أولًا ضمن مجموع فتاوى شيخ الإسلام (18/ 375 - 385).

ثم طبعت ثانيًا بتحقيق د. محمد لطفي الصباغ في المكتب الإسلامي، الأولى عام 1392 هـ، والثانية سنة 1405 هـ.

وطبعت ثالثًا بتحقيق أحمد عبد الله باجور، بالدار المصرية اللبنانية عام 1413 هـ، والطبعتان الأخيرتان بعنوان (أحاديث القصاص).

وعدد الأحاديث المسؤول عنها حسب ترقيم الصباغ (79) حديثا، وبترقيم باجور (77) حديثًا.

‌‌2 - "اللآلئ المنثورة في الأحاديث المشهورة" أو "التذكرة بالأحاديث المشتهرة"، للإمام بدر الدين محمد بن عبد الله بن بهادر الزركشي (ت 794 هـ).

سماه مؤلفه بالاسم الأول كما في آخر مقدمته للكتاب، ولكنه اشتهر بالاسم الثاني. بدأ المؤلف كتابه بمقدمة نفيسة، بين فيها أهمية التأليف في هذا الباب، فقال: (أما بعد، فإن من النصيحة الواجبة في الدين: التنبيه على ما يشتهر بين الناس مما ألِفه الطبع، وليس له أصل في الشرع. وقد صنف الإمام تاج الدين الفزاري كتابا في تفقيه العوام وإنكار أمور قد اشتهرت بينهم لا أصل لها، أجاد فيها الانتقاد، وصان الشريعة أن يدخل فيها ما يخل بالاعتقاد، شكر الله صنعه، وأثاب جمعه. وقد رأيت ما هو أهم من ذلك: وهو تبيين الأحاديث المشتهرة على ألسنة العوامّ وكثير من الفقهاء الذين لا معرفة لهم بالحديث).

--------------------------------------------

‌‌(1) المصدر نفسه (ص 15 - 16) بتصرف.

وانظر أيضًا: مقدمة الصباغ على "التذكرة" للزركشي (ص 25) فقد بيَّن أن الزركشي اطلع على هذه الرسالة ونقل منها كثيرًا، وأورد معظم أحاديثها، بل نقل كلام شيخ الإسلام دون التصريح بالعزو إليه في كثير من المواضع. وقال: "ودرج من بعده من المؤلفين في الأحاديث المشتهرة على هذا الإغفال".

এবং এই রিসালাটি (পুস্তিকাটি) মূলত একটি ভিত্তি ছিল যার ওপর যারকাশী, সাখাবী, সুয়ূতী এবং প্রসিদ্ধ হাদীসসমূহ সম্পর্কে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তারা নির্ভর করেছেন। ফলে তারা এর অধিকাংশ হাদীস তাদের সংকলনসমূহে উল্লেখ করেছেন এবং এতে শাইখুল ইসলামের বক্তব্যসমূহ কখনও তাঁর দিকে সম্বন্ধ করে, আবার কখনও সম্বন্ধ না করে উদ্ধৃত করেছেন‌‌(১)।

এটি সর্বপ্রথম শাইখুল ইসলামের 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১৮/ ৩৭৫ - ৩৮৫)-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত হয়েছিল।

অতঃপর এটি দ্বিতীয়বার ড. মুহাম্মাদ লুতফী আস-সাব্বাগের সম্পাদনায় আল-মাকতাব আল-ইসলামী থেকে মুদ্রিত হয়; প্রথম প্রকাশ ১৩৯২ হিজরীতে এবং দ্বিতীয় প্রকাশ ১৪০৫ হিজরীতে।

এবং এটি তৃতীয়বার আহমাদ আব্দুল্লাহ বাজুরের সম্পাদনায় আদ-দারুল মিসরীয়্যাহ আল-লুবনানীয়্যাহ থেকে ১৪১৩ হিজরীতে মুদ্রিত হয়। শেষোক্ত দুই সংস্করণ 'আহাদীসুল কুসসাস' শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।

সাব্বাগের নম্বর অনুযায়ী প্রশ্নকৃত হাদীসের সংখ্যা (৭৯)টি এবং বাজুরের নম্বর অনুযায়ী (৭৭)টি হাদীস।

‌‌২ - ইমাম বদরুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বাহাদুর আয-যারকাশী (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরী) রচিত "আল-লাআলিল মানসুরাহ ফিল আহাদীসিল মাশহুরাহ" অথবা "আত-তাযকিরাহ বিল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ"।

লেখক তার গ্রন্থের ভূমিকার শেষে প্রথম নামে এর নামকরণ করেছেন, কিন্তু এটি দ্বিতীয় নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। লেখক তার গ্রন্থটি একটি মূল্যবান ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছেন, যাতে তিনি এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: (অতঃপর, দীনের মধ্যে যে নসিহত করা ওয়াজিব, তার অন্তর্ভুক্ত হলো: মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ এমন সব বিষয়ের প্রতি সতর্ক করা যা তাদের স্বভাবে মিশে গেছে অথচ শরিয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই। ইমাম তাজউদ্দীন আল-ফাযারী সাধারণ মানুষকে দ্বীনি জ্ঞান দান এবং তাদের মধ্যে প্রচলিত ভিত্তিহীন বিষয়গুলো প্রত্যাখ্যান করার বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন; সেখানে তিনি চমৎকার সমালোচনা করেছেন এবং শরিয়তকে এমন সব বিষয় থেকে হেফাযত করেছেন যা আকিদার পরিপন্থী, আল্লাহ তার কর্মকে কবুল করুন এবং তার সংকলনের জন্য তাকে পুরস্কৃত করুন। আর আমি এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় দেখেছি: আর তা হলো সাধারণ মানুষ এবং হাদীস সম্পর্কে জ্ঞান নেই এমন অনেক ফকিহদের মুখে প্রচলিত প্রসিদ্ধ হাদীসগুলোর স্বরূপ উন্মোচন করা)।

--------------------------------------------

‌‌(১) একই উৎস (পৃষ্ঠা ১৫-১৬), কিছুটা পরিমার্জিত।

আরও দেখুন: যারকাশীর 'আত-তাযকিরাহ' গ্রন্থের ওপর সাব্বাগের ভূমিকা (পৃষ্ঠা ২৫); সেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে যারকাশী এই রিসালাটি অধ্যয়ন করেছিলেন এবং তা থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন, এর অধিকাংশ হাদীসই তিনি উল্লেখ করেছেন, এমনকি অনেক স্থানে তিনি শাইখুল ইসলামের নাম সরাসরি উল্লেখ না করেই তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন: "আর প্রসিদ্ধ হাদীস বিষয়ে পরবর্তী লেখকরাও এই অসতর্কতার ধারা অনুসরণ করেছেন।"

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
ففيه إشارة إلى ريادته في التأليف في الأحاديث المشتهرة، فقد توسع في تخريج أحاديثها، وأورد أسانيدها، وأقوال علماء الجرح والتعديل في بعض رواتها، وكلامهم عليها، فهو بهذا قد فتح الباب أمام طالب العلم الذي يريد التوسع في التحقيق والبحث‌‌(1)، وهذا لم يكن في رسالة شيخ الإسلام السابقة.

وقد تكلم الدكتور الصباغ على ملحوظات تتعلق بالكتاب، فبين منهج المؤلف فيه، ومزايا كتابه، مع بعض ما يؤخذ عليه، ومن أراد المزيد فليرجع إليه‌‌(2).

والرسالة مطبوعة عدة طبعات.

* وهناك كتاب "اللآلئ المنثورة في الأحاديث المشهورة" الذي نسبه غير واحدٍ للحافظ ابن حجر العسقلاني رحمه الله (ت 852 هـ).

ذكره عبد الوهاب عبد اللطيف في مقدمته على المقاصد، وذكره أيضًا الدكتور بدر العماش حفظه الله في كتابه حين بين مصادر السخاوي في "المقاصد"، فقال: (اعتمد السخاوي في مادة كتابه على مصادر كثيرة، وفي مقدمة هذه المصادر المصنفات في الحديث المشهور … ) ثم ذكر في مقدمة تلك المصادر: اللآلئ المنثورة في الأحاديث المشهورة لشيخه ابن حجر، والتذكرة، وأحاديث القصاص‌‌(3).

وفي هذا الكلام نظر مِنْ وجوه:

أولًا: عمدتهم في ذلك كلام العجلوني في مقدمته‌‌(4)، وقد نقل قبل هذا

--------------------------------------------

‌‌(1) مختصر من كلام المحقق في "مقدمته" (ص 29 - 31).

‌‌(2) انظر: "مقدمة المحقق" (ص 31 - 37).

‌‌(3) انظر: "الحافظ السخاوي وجهوده في الحديث وعلومه" (1/ 491 - 192).

‌‌(4) قال في "مقدمة الكشف" (1/ 8 - 9): ( … وضامًّا [أي: السخاوي] إليه [أي: المقاصد] مما في كتب الأئمة المعتبرين كاللآلئ المنثورة في الأحاديث المشهورة لأمير الحفاظ والمحدثين من المتأخرين: الشهاب أحمد بن حجر العسقلاني … =

এতে প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহের ওপর গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তাঁর অগ্রণী ভূমিকার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি এগুলোর তাখরিজে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, সেগুলোর সনদসমূহ উল্লেখ করেছেন এবং কিছু বর্ণনাকারীর বিষয়ে ‘জারহ ও তাদিল’ (দোষ ও গুণ যাচাই) শাস্ত্রের ইমামগণের বক্তব্য ও এগুলোর ওপর তাঁদের পর্যালোচনা তুলে ধরেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সেই ইলম অন্বেষণকারীর সামনে গবেষণার দ্বার উন্মোচিত করে দিয়েছেন, যে কি না যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানে বিস্তৃতি কামনা করে‌‌(১)। আর বিষয়টি শায়খুল ইসলামের পূর্ববর্তী রিসালায় ছিল না।

ডক্টর সাব্বাগ গ্রন্থটি সংক্রান্ত কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন; তিনি এতে লেখকের মানহাজ (পদ্ধতি), গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য এবং এর ওপর বিদ্যমান কিছু আপত্তি বর্ণনা করেছেন। যারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান, তারা সেটির দিকে রুজু করতে পারেন‌‌(২)।

আর রিসালাটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।

* এবং ‘আল-লাআলি আল-মানছুরা ফিল আহাদিসিল মাশহুবা’ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে, যা একাধিক আলিম হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি রহ.-এর (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) দিকে নিসবত করেছেন (তাঁর রচিত বলে উল্লেখ করেছেন)।

আব্দুল ওয়াহাব আব্দুল লতিফ ‘আল-মাকাসিদ’-এর ভূমিকায় এটি উল্লেখ করেছেন। ডক্টর বদর আল-আম্মাশ হাফিজাহুল্লাহও তাঁর গ্রন্থে সাখাবির ‘আল-মাকাসিদ’-এর উৎসসমূহ বর্ণনার সময় এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: (সাখাবি তাঁর গ্রন্থের উপকরণের ক্ষেত্রে অনেক উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন, আর এই উৎসসমূহের অগ্রভাগে রয়েছে প্রসিদ্ধ হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ … ) এরপর তিনি সেই উৎসসমূহের শুরুতে উল্লেখ করেন: তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজারের ‘আল-লাআলি আল-মানছুরা ফিল আহাদিসিল মাশহুবা’, ‘আত-তাজকিরাহ’ এবং ‘আহাদিসুল কুস্সাস’‌‌(৩)।

তবে এই বক্তব্যের ব্যাপারে কয়েকটি দিক থেকে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে:

প্রথমত: এ বিষয়ে তাদের প্রধান ভিত্তি হলো আজলুনির তাঁর মুকাদ্দিমায় প্রদত্ত বক্তব্য‌‌(৪), আর তিনি এর পূর্বে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন

--------------------------------------------

‌‌(১) মুহাক্কিকের ‘মুকাদ্দিমা’ (পৃ. ২৯ - ৩১) থেকে সংক্ষেপিত।

‌‌(২) দেখুন: ‘মুকাদ্দিমাতুল মুহাক্কিক’ (পৃ. ৩১ - ৩৭)।

‌‌(৩) দেখুন: ‘আল-হাফেজ আস-সাখাবি ওয়া জুহুদুহু ফিল হাদিসি ওয়া উলুমিহি’ (১/ ৪৯১ - ১৯২)।

‌‌(৪) তিনি ‘মুকাদ্দিমাতুল কাশফ’ (১/ ৮ - ৯) গ্রন্থে বলেন: ( … এবং তিনি [অর্থাৎ: সাখাবি] সেটির [অর্থাৎ: মাকাসিদের] সাথে নির্ভরযোগ্য ইমামগণের কিতাবসমূহ থেকে যুক্ত করেছেন, যেমন পরবর্তী যুগের হাফেজ ও মুহাদ্দিসগণের আমির শিহাব উদ্দিন আহমদ ইবনে হাজার আল-আসকালানির ‘আল-লাআলি আল-মানছুরা ফিল আহাদিসিল মাশহুবা’ … =

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الكلام ثمانيةَ عشرَ سطرًا من مقدمة الكتاب المنسوب إلى الحافظ (انظر: ص 7 - 8)، وهي بحروفها موجودة في مقدمة الزركشي للتذكرة! فالكتاب كتاب الزركشي الذي سماه مؤلفه بهذا الاسم.

ثانيًا: لم ينسب أحدٌ هذا الكتاب إلى الحافظ ابن حجر قبل العجلوني، وهو متأخر عن الحافظ بثلاثة قرون تقريبًا. ولو كان السخاوي قد اعتمد عليه في المقاصد فلا بد أن يشير إليه ولو في موضعٍ واحدٍ في كتابه، لكنه لم يفعل، وإنما قال: (قال شيخنا) أو (قال شيخنا في بعض أجوبته) أو نحو ذلك. وقد وجدنا بعضها في "أجوبة الحافظ ابن حجر على أسئلة بعض تلامذته"، في المجموعتين الأولى والثانية، اللَّتَين حققهما الشيخ الدكتور عبد الرحيم القشقري.

ثالثًا: لم يذكر السخاوي في ترجمة شيخه -لما تكلم عن مصنفاته- أن له كتابًا في الأحاديث المشتهرة، لا بهذا الاسم ولا بغيره‌‌(1)، مع أنه لم يشاركه أحدٌ في كثرة ما قرأ من تصانيف الحافظ ومروياته عليه -كما صرح به في الضوء اللامع (2/ 40) - فَيبْعُد مع هذا أنه لم يعرفه.

ولعل سبب الوهم وجود حاشية للحافظ ابن حجر على النسخة الخطية لكتاب الزركشي -كما ذكره محققه مصطفى عبد القادر عطا-، فظُنَّ أنه من تصنيف الحافظ.

‌‌3 - "المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة"، للحافظ شمس الدين محمد بن عبد الرحمن السخاوي (ت 902 هـ). وهو الكتاب الذي قمنا بتحقيقه، وسيأتي الكلام عليه في الفصل الثاني من القسم الأول إن شاء الله.

--------------------------------------------

= وقال: واعلم أني حيث أقول (قال في اللآلئ) أو (ذكر فيها)، فالمراد به كتاب الحافظ العسقلاني المذكور … ). اهـ.

‌‌(1) انظر: "الجواهر والدرر" (2/ 657 - 693). وقد استقصى في ذلك بحيث ذكر المصنفات التي شرع فيها الحافظ ولم يتمها، بل هي مسوداتٌ في ورقات … فكيف يمكن أن يترك كتابا كاملًا!

হাফেযের (ইবনে হাজার) প্রতি নিসবতকৃত বইটির ভূমিকার আঠারোটি লাইন (দেখুন: পৃষ্ঠা ৭ - ৮) আক্ষরিকভাবেই আয-যারকাশীর 'আত-তাযকিরাহ'-এর ভূমিকায় বিদ্যমান! সুতরাং গ্রন্থটি মূলত আয-যারকাশীরই কিতাব, যার নাম লেখক এই রেখেছেন।

দ্বিতীয়ত: আল-আজলুনীর পূর্বে কেউ এই কিতাবটিকে হাফেয ইবনে হাজারের দিকে নিসবত করেননি, অথচ তিনি হাফেযের প্রায় তিন শতাব্দী পরের মানুষ। যদি আস-সাখাভী তাঁর 'মাকাসিদ' গ্রন্থে এর ওপর নির্ভর করতেন, তবে অবশ্যই তাঁর কিতাবের অন্তত এক জায়গায় হলেও এর প্রতি ইঙ্গিত করতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং তিনি বলেছেন: (আমাদের শায়খ বলেছেন) অথবা (আমাদের শায়খ তাঁর কিছু উত্তরে বলেছেন) কিংবা এই জাতীয় কিছু। এর কিছু অংশ আমরা শেখ ডক্টর আবদুর রহিম আল-কাশকারী কর্তৃক সম্পাদিত 'তাঁর কিছু ছাত্রের প্রশ্নের বিপরীতে হাফেয ইবনে হাজারের উত্তরসমূহ' নামক সংকলনের প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডে পেয়েছি।

তৃতীয়ত: আস-সাখাভী তাঁর শায়খের জীবনীতে—যখন তাঁর রচনাবলি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন—উল্লেখ করেননি যে, প্রচলিত হাদীসসমূহ সম্পর্কে তাঁর কোনো কিতাব আছে, না এই নামে না অন্য কোনো নামে‌‌(১), অথচ হাফেযের রচনাবলি ও তাঁর নিকট থেকে বর্ণিত বিষয়াবলি পাঠ করার ক্ষেত্রে আধিক্যের দিক থেকে আস-সাখাভীর সমকক্ষ কেউ ছিল না—যেমনটি তিনি নিজেই 'আয-যাওউল লামি' (২/ ৪০) গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এমতাবস্থায় এটি সুদূরপরাহত যে তিনি সেই কিতাবটি সম্পর্কে জানবেন না।

সম্ভবত এই বিভ্রান্তির কারণ হলো আয-যারকাশীর কিতাবের পাণ্ডুলিপিতে হাফেয ইবনে হাজারের একটি টীকা (হাশিয়া) থাকা—যেমনটি এর সম্পাদক মোস্তফা আব্দুল কাদের আতা উল্লেখ করেছেন—যার ফলে ধারণা করা হয়েছে যে এটি হাফেযেরই রচনা।

‌‌৩ - হাফেয শামসুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আস-সাখাভী (ওফাত ৯০২ হিজরী) রচিত "আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাসীরিম মিনাল আহাদিসিল মুশতাহারাতি আলাল আলসিনাহ"। এটিই সেই কিতাব যা আমরা সম্পাদনা করেছি, এবং ইনশাআল্লাহ প্রথম খণ্ডের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এ সম্পর্কে আলোচনা আসবে।

--------------------------------------------

= এবং তিনি বলেছেন: জেনে রাখুন, আমি যখনই বলি (আল-লাআলী-তে বলেছেন) অথবা (তাতে উল্লেখ করেছেন), তবে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হাফেয আসকালানীর উল্লেখিত কিতাবটি... সমাপ্ত।

‌‌(১) দেখুন: "আল-জাওয়াহির ওয়াদ দুরার" (২/ ৬৫৭ - ৬৯৩)। তিনি এতে এতটাই পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করেছেন যে, হাফেয যে সমস্ত কিতাব শুরু করেছিলেন কিন্তু শেষ করতে পারেননি, এমনকি যেগুলো কেবল কাগজে লেখা খসড়া ছিল সেগুলোর কথাও উল্লেখ করেছেন... এমতাবস্থায় তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব বাদ দেবেন—তা কীভাবে সম্ভব!

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌4 - "التخريج الصغير والتحبير الكبير"، للإمام يوسف بن حسن بن عبد الهادي المقدسي المعروف بابن المبرد (ت 909 هـ).

جمع فيه الأحاديث المشتهرة بين الناس مما ليس في صحيحي البخاري ومسلم، وكذا الأحاديث الغرائب التي لم تقع في كثير من الكتب المشهورة المتداولة، إلا أنه ترك بيان حال كثير من أحاديثها، فلم يبين صحتها من ضعفها.

ومع ذلك فقد حوى تصنيفُه جملةً وافرةً من النفائس والمهمات التي التقطها من المسانيد والمصنفات والمعاجم والأمالي والمشيخات والأجزاء وكتب التاريخ والطبقات والفوائد، ولم يزل كثير منها مفقودًا أو لم ير النور بعد.

وقد طبع الكتاب (عام 2011 م) بتحقيق نور الدين طالب في مجلد واحد، عن دار النوادر. ويبلغ عدد أحاديثه (1253) حديثًا‌‌(1).

‌‌5 - "الدُّرَر المُنتَثِرة في الأحاديث المشتهرة"، لجلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي (ت 911 هـ).

قال في مقدمته (ص 37): (وبعد، فإن من المهم بيان حال الأحاديث التي اشتهرت على ألسنة العامة ومن ضاهاهم من الفقهاء الذين لا علم لهم بالحديث، وبيان ما له أصل من ذلك من غيره. وقد ألف الشيخ بدر الدين الزركشي في ذلك كتابا لطيفًا، غير أنه محتاج إلى تنقيح وزيادة، وتنكيت وإفادة، فلخصته هنا مع زيادة الجم الغفير، ونبهت على ما فيه اعتراض من كلامه وتنفير، وميزتُ ما زدته بقولي (قلت) في أوله، وبـ (انتهى) في آخره. ورتبته على حروف المعجم ليكون أسهل في الكشف، وسميته: "الدرر المنتثرة في الأحاديث المشتهرة" … ).

وترتيبه على الحروف مراعيا الحرف الأول فقط.

--------------------------------------------

‌‌(1) هذه المعلومات اختصرناها من كلام المحقق.

৪ - ইমাম ইউসুফ বিন হাসান বিন আব্দুল হাদি আল-মাকদিসি, যিনি ইবনুল মুবাররিদ (মৃত্যু ৯০৯ হি.) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত "আত-তাখরিজ আস-সগির ওয়াত-তাহবির আল-কাবির"।

এতে তিনি মানুষের মাঝে প্রচলিত সেইসব হাদীস সংগ্রহ করেছেন যা বুখারী ও মুসলিমের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে নেই। পাশাপাশি এমন সব দুর্লভ হাদীসও এতে রয়েছে যা বহুল প্রচলিত প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে সচরাচর পাওয়া যায় না। তবে তিনি অনেক হাদীসের মান বর্ণনা করা বর্জন করেছেন, ফলে সেগুলো সহীহ নাকি যঈফ তা স্পষ্ট করেননি।

তা সত্ত্বেও, তাঁর এই সংকলনটি এমন অনেক মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে সমৃদ্ধ যা তিনি মুসনাদ, মুসান্নাফ, মু'জাম, আমালি, মাশয়াখাত, আজযা এবং ইতিহাস, তাবাকাত ও ফাওয়াইদ বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকে চয়ন করেছেন। এগুলোর অনেকগুলোই আজও নিখোঁজ অথবা এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

কিতাবটি ২০১১ সালে নুর উদ্দিন তালিবের তাহকীকে দারুন নাওয়াদির থেকে এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। এর হাদীস সংখ্যা ১২৫৩টি(১)।

৫ - জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান বিন আবু বকর আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হি.) রচিত "আদ-দুরারুল মুনতাসিরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহিরাহ"।

তিনি এর ভূমিকায় (পৃষ্ঠা ৩৭) বলেছেন: (পর সমাচার, সাধারণ মানুষ এবং তাদের সমপর্যায়ের সেইসব ফকীহ—যাদের হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞান নেই—তাদের মুখে প্রচলিত হাদীসগুলোর অবস্থা বর্ণনা করা এবং যেগুলোর ভিত্তি আছে আর যেগুলোর নেই তা স্পষ্ট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ বদরুদ্দিন যারকাশি এই বিষয়ে একটি চমৎকার কিতাব রচনা করেছিলেন, তবে সেটি পরিমার্জন, পরিবর্ধন এবং প্রয়োজনীয় টীকা ও পর্যালোচনার মুখাপেক্ষী ছিল। তাই আমি এখানে সেটি সংক্ষেপ করেছি এবং সাথে প্রচুর নতুন তথ্য যোগ করেছি। তাঁর বক্তব্যের যেসব বিষয়ে আপত্তি বা অসংগতি রয়েছে সেগুলোর ব্যাপারেও সতর্ক করেছি। আমি যা বৃদ্ধি করেছি তার শুরুতে 'আমি বলছি' এবং শেষে 'সমাপ্ত' শব্দ লিখে পার্থক্য করে দিয়েছি। কিতাবটি আমি বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছি যাতে কাঙ্ক্ষিত হাদীস খুঁজে পাওয়া সহজ হয় এবং এর নাম দিয়েছি: "আদ-দুরারুল মুনতাসিরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহিরাহ" ...)।

এর বিন্যাস বর্ণানুক্রমিক, যেখানে শুধুমাত্র প্রথম অক্ষরের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এই তথ্যগুলো আমরা গবেষকের বক্তব্য থেকে সংক্ষেপ করেছি।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وبعد حرف الياء عقد فصلًا بعنوان: (فصل في أشياء لم تدخل في الحروف) وذكر (34) حديثا.

ثم ختمه بخاتمة وكأنها مختصرة من خاتمة المقاصد، لتشابه محتواهما إلى حدٍّ كبير.

وهو مطبوع عدة طبعات.

‌‌6 - "الغمَّاز على اللمَّاز"، لنور الدين علي بن عبد الله السمهودي المدني (ت 911)‌‌(1). والكتاب تجريد للموضوع والضعيف وما لا أصل له من أحاديث الدرر للسيوطي، كما ذكر ذلك في مقدمته.

وهي رسالة مختصرة جدًّا، اكتفى فيها بذكر الأحاديث والحكم عليها من غير تخريج. وهو مطبوع أيضا.

‌‌7 - "التخريجات المختصرة للأحاديث المشتهرة"، تأليف: علي بن ناصر بن محمد الحجازي (ت بعد 915 هـ). مخطوط‌‌(2).

‌‌8 - "الدرة اللامعة في بيان كثير من الأحاديث الشائعة"، لشهاب الدين أحمد بن محمد بن عبد السلام المنوفي (ت 931 هـ)، وهو تلميذ السخاوي، وكتابه تلخيص للمقاصد‌‌(3) ولم نقف عليه.

‌‌9 - "الشذرة في الأحاديث المشتهرة"، لمحمد بن طولون الصالحي (ت 953 هـ)، اختصر فيه التذكرة والمقاصد والدرر‌‌(4). وهو مطبوع.

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: "كشف الظنون" (2/ 1209)، و"هدية العارفين" (1/ 740)، و"الرسالة المستطرفة" (ص 191)، و"الأعلام" (4/ 307).

‌‌(2) له نسخة على ميكروفيلم في مكتبة الجامعة الإسلامية برقم (856)، وانظر: "فهارس آل البيت" (1/ 353 رقم 248).

‌‌(3) ذكره صاحب "كشف الظنون" (2/ 1780)، و"هدية العارفين" (1/ 141) وقال: إنه تلخيص من تمييز الطيب من الخبيث. وأبهم الكتاني اسمَ مؤلفه في "الرسالة المستطرفة" (ص 191).

‌‌(4) انظر: "مقدمة الشذرة" (ص 17).

এবং 'ইয়া' বর্ণের পর তিনি একটি পরিচ্ছেদ সংযোজন করেছেন যার শিরোনাম: (এমন বিষয়সমূহ যা বর্ণমালার অন্তর্ভুক্ত হয়নি) এবং সেখানে তিনি (৩৪)টি হাদিস উল্লেখ করেছেন।

অতঃপর তিনি একটি উপসংহার দিয়ে এটি শেষ করেছেন, যা দেখে মনে হয় 'আল-মাকাসিদ'-এর উপসংহারের সংক্ষিপ্ত রূপ, কারণ তাদের বিষয়বস্তুর মধ্যে ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।

এটি বেশ কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে।

‌‌৬ - "আল-গুম্মায আলাল লাম্মায", নূরুদ্দীন আলী বিন আব্দুল্লাহ আস-সামহুদী আল-মাদানী (মৃত্যু ৯১১)‌‌(১)। বইটি সুয়ূতী-র 'আদ-দুরার'-এর হাদিসসমূহ থেকে জাল, দুর্বল এবং ভিত্তিহীন হাদিসসমূহের একটি সারাংশ, যেমনটি তিনি তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন।

এটি খুবই সংক্ষিপ্ত একটি পুস্তিকা, যেখানে তিনি তাখরীজ ছাড়াই কেবল হাদিসসমূহ উল্লেখ করা এবং সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এটিও মুদ্রিত হয়েছে।

‌‌৭ - "আত-তাখরীজাত আল-মুখতাসারা লিল আহাদিস আল-মুশতাহারা", রচনা: আলী বিন নাসির বিন মুহাম্মদ আল-হিজাযী (মৃত্যু ৯১৫ হিজরীর পর)। পাণ্ডুলিপি‌‌(২)।

‌‌৮ - "আদ-দুররাতুল লামিআ ফি বায়ানি কাসীরিম মিনাল আহাদিসিশ শায়িআ", শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম আল-মানূফী (মৃত্যু ৯৩১ হিজরী)-এর রচিত। তিনি সাখাভীর ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর বইটি হলো 'আল-মাকাসিদ'-এর সংক্ষিপ্তসার‌‌(৩) যা আমরা পাইনি।

‌‌৯ - "আশ-শাযরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহারা", মুহাম্মদ বিন তুলূন আস-সালিহী (মৃত্যু ৯৫৩ হিজরী)-এর রচিত। এতে তিনি 'আত-তাযকিরাহ', 'আল-মাকাসিদ' এবং 'আদ-দুরার'-কে সংক্ষিপ্ত করেছেন‌‌(৪)। এটি মুদ্রিত।

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: "কাশফুজ জুনুন" (২/ ১২০৯), "হাদিয়াতুল আরিফীন" (১/ ৭৪০), "আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ" (পৃ. ১৯১), এবং "আল-আ'লাম" (৪/ ৩০৭)।

‌‌(২) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে এর একটি মাইক্রোফিল্ম কপি রয়েছে যার নম্বর (৮৫৬), আরও দেখুন: "ফাহারিসু আহলিল বাইত" (১/ ৩৫৩, নম্বর ২৪৮)।

‌‌(৩) "কাশফুজ জুনুন"-এর লেখক (২/ ১৭৮০) এটি উল্লেখ করেছেন এবং "হাদিয়াতুল আরিফীন" (১/ ১৪১) গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি 'তাময়িযুত তয়্যিব মিনাল খাবিস'-এর সংক্ষিপ্তসার। আর কাত্তানী "আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ" (পৃ. ১৯১)-তে এর লেখকের নাম অস্পষ্ট রেখেছেন।

‌‌(৪) দেখুন: "মুকাদ্দিমাতুশ শাযরাহ" (পৃ. ১৭)।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌10 - "البدر المنير في غريب أحاديث البشير النذير"، لعبد الوهاب بن أحمد بن علي الشعراني الشافعي (ت 973 هـ). انتخبها من جوامع السيوطي (الكبير والصغير وزوائده) مع المقاصد الحسنة‌‌(1)، وهو مطبوع.

‌‌11 - "رسالة في الأحاديث المشتهرة على الألسنة"، تأليف: المُلَّا علي القاري (ت 1014 هـ). مخطوط‌‌(2)، ولم نطلع عليه.

‌‌12 - "مختصر الأحاديث المشتهرة على الألسنة وبيان الصحيح والحسن والضعيف والموضوع على الطريق الحسنة"، للقاري أيضًا. مخطوط‌‌(3) ويحتمل أنه نفس الذي قبله، والله أعلم.

‌‌13 - "أجوبة الشنواني على الدرر المنتثرة" للسيوطي، تأليف: أبي بكر بن إسماعيل بن عمر الشنواني (ت 1019 هـ). مخطوط‌‌(4).

‌‌14 - "التذكرة المشهورة على الألسنة"، لمحمود بن صلاح الدين بن عيسى القباني المقدسي، تلميذ الرملي (ت 1043 هـ)‌‌(5). لم نقف عليه.

‌‌15 - "البدور المنورة في معرفة رتب الأحاديث المشتهرة"، لأحمد بن أحمد بن سلامة القليوبي (ت 1069 هـ). مخطوط‌‌(6).

‌‌16 - "الأحاديث المشتهرة"، تأليف: إبراهيم بن سليمان بن محمد

--------------------------------------------

‌‌(1) انظر: "الرسالة المستطرفة" (ص 192)، و "معجم المطبوعات" ليوسف سركيس (1/ 1130)، و"الأعلام" (4/ 180).

‌‌(2) له نسخة في المكتبة المركزية بالرياض، برقم (1743)، وانظر: "فهارس آل البيت" (2/ 815 رقم 182).

‌‌(3) له نسخة في دار الكتب القطرية، برقم (456 - الحديث وعلومه)؛ وأخرى في مكتبة عبد الله بن عباس بالطائف، برقم (3/ 166).

‌‌(4) له نسخة في معهد المخطوطات العربية بالقاهرة (14 عن دار الكتب 1724 - الحديث).

‌‌(5) انظر: "إيضاح المكنون" (1/ 277)، و"هدية العارفين" (2/ 415)، و"معجم المؤلفين" (3/ 800).

‌‌(6) انظر: "فهارس آل البيت" (1/ 293 رقم 50)، و"معجم المؤلفين" (1/ 94).

১০ - "আল-বাদরুল মুনীর ফী গরীবী আহাদীসিল বাশীরিন নাযীর", লেখক: আব্দুল ওয়াহহাব বিন আহমদ বিন আলী আশ-শা'রানী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু: ৯৭৩ হিজরি)। এটি তিনি সুয়ূতীর সংকলনসমূহ (আল-জামিউল কাবীর, আল-জামিুস সাগীর ও এর পরিশিষ্টসমূহ) এবং 'আল-মাকাসিদুল হাসানা'‌‌(১) থেকে চয়ন করেছেন; এটি বর্তমানে মুদ্রিত।

‌১১ - "রিসালাহ ফিল আহাদীসিল মুশতাহিরা আলাল আলসিনাহ", লেখক: মোল্লা আলী আল-কারী (মৃত্যু: ১০১৪ হিজরি)। এটি পাণ্ডুলিপি‌‌(২) আকারে আছে এবং আমরা এটি দেখার সুযোগ পাইনি।

‌১২ - "মুখতাসারুল আহাদীসিল মুশতাহিরা আলাল আলসিনাহ ওয়া বয়ানুস সহীহ ওয়াল হাসান ওয়াদ দায়ীফ ওয়াল মাউদু আলাত ত্বরীকাতিল হাসানাহ", এটিও আল-কারী-র সংকলন। এটি পাণ্ডুলিপি‌‌(৩) এবং সম্ভবত এটি পূর্বোক্ত কিতাবটিই হবে, আল্লাহই ভালো জানেন।

‌১৩ - সুয়ূতীর 'আদ-দুরারুল মুনতাসিরা'-র উপর "আজওয়াবাতুশ শানওয়ানী", লেখক: আবু বকর বিন ইসমাঈল বিন উমর আশ-শানওয়ানী (মৃত্যু: ১০১৯ হিজরি)। এটি পাণ্ডুলিপি‌‌(৪) হিসেবে সংরক্ষিত।

‌১৪ - "আত-তাযকিরাতুল মাশহুরা আলাল আলসিনাহ", লেখক: মাহমুদ বিন সালাহুদ্দীন বিন ঈসা আল-কাব্বানী আল-মাকদিসী, যিনি আর-রামলীর ছাত্র ছিলেন (মৃত্যু: ১০৪৩ হিজরি)‌‌(৫)। এটি আমাদের হস্তগত হয়নি।

‌১৫ - "আল-বুদূরুল মুনওয়ারা ফী মা'রিফাতি রুতাবিল আহাদীসিল মুশতাহিরা", লেখক: আহমদ বিন আহমদ বিন সালামাহ আল-ক্বলিউবী (মৃত্যু: ১০৬৯ হিজরি)। এটি একটি পাণ্ডুলিপি‌‌(৬)।

‌১৬ - "আল-আহাদীসুল মুশতাহিরা", লেখক: ইব্রাহীম বিন সুলাইমান বিন মুহাম্মদ

--------------------------------------------

‌‌(১) দেখুন: "আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ" (পৃষ্ঠা: ১৯২), এবং ইউসুফ সারকিসের "মু'জামুল মাতবুয়াত" (১/ ১১৩০), এবং "আল-আ'লাম" (৪/ ১৮০)।

‌‌(২) এর একটি কপি রিয়াদের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে রয়েছে, যার নম্বর (১৭৪৩); এবং দেখুন: "ফাহারিসু আলিল বাইত" (২/ ৮১৫, নম্বর: ১৮২)।

‌‌(৩) এর একটি কপি কাতারের 'দারুল কুতুব'-এ রয়েছে, যার নম্বর (৪৫৬ - হাদিস ও তার শাস্ত্রসমূহ); এবং অন্যটি তায়েফের আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস লাইব্রেরিতে রয়েছে, যার নম্বর (৩/ ১৬৬)।

‌‌(৪) এর একটি কপি কায়রোর আরব পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে (মাহাদুল মাখতুতাতিল আরাবিয়্যাহ) রয়েছে (দারুল কুতুবের ১৭২৪ নম্বর হাদিস বিষয়ক পাণ্ডুলিপির বিপরীতে ১৪ নম্বর)।

‌‌(৫) দেখুন: "ইযাহুল মাকনুন" (১/ ২৭৭), এবং "হাদিয়াতুল আরিফীন" (২/ ৪১৫), এবং "মু'জামুল মুয়াল্লিফীন" (৩/ ৮০০)।

‌‌(৬) দেখুন: "ফাহারিসু আলিল বাইত" (১/ ২৯৩, নম্বর: ৫০), এবং "মু'জামুল মুয়াল্লিফীন" (১/ ৯৪)।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الجينيني (ت 1108 هـ). مخطوط‌‌(1).

‌‌17 - "زيادات إتقان ما يحسن من بيان الأخبار الدائرة على الألسن"، للجينيني أيضًا. مخطوط‌‌(2). ويحتمل أنه الذي قبله.

‌‌18 - "الجوهرة النضرة في الأحاديث المشتهرة"، تأليف: إسماعيل بن عبد الباقي اليازجي (ت 1121 هـ). مخطوط‌‌(3) ولم نطلع عليه.

‌‌19 - "النوافح العطرة في الأحاديث المشتهرة"، للشيخ محمد بن أحمد بن جار الله الصعدي اليمني المعروف بالمشحم الكبير (ت 1181 هـ)‌‌(4)، جمع فيه درر السيوطي ومختصر الزرقاني وتمييز ابن الديبع وزاد عليهما كثيرًا. وهو مطبوع‌‌(5).

‌‌20 - "أسنى المطالب في أحاديث مختلفة المراتب"، للشيخ محمد بن درويش الحُوت البيروتي (ت 1276 هـ)‌‌(6)، بترتيب ابنه عبد الرحمن، الذي قال في مقدمته: (إنني كثيرًا ما سئِلتُ من بعض المترددين عليَّ، الذين لهم حسن نظر إليَّ، عن فقرات اشتهرت بين الأنام، وتناقلها ألسنة الخاص والعام، هل هي من حديث سيد المرسلين، أم من كلام غيره من العالمين؟ فكنت أجيب عنها بما ذكره علماء هذا الفن، الذين بينوا أحاديثه صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

‌‌(1) له نسخة على ميكروفيلم في مكتبة الجامعة الإسلامية برقم (461) ونسخة أخرى في مكتبة المخطوطات بجامعة الكويت برقم (6578)، وهي مصورة عن دار الكتب الظاهرية بدمشق.

‌‌(2) له نسخة على ميكروفيلم في مكتبة الجامعة الإسلامية برقم (4588/ 19).

‌‌(3) له نسخة في مركز الملك فيصل برقم (2686 - 2) وانظر: "فهرس مخطوطات المركز" (2/ 85)، و"فهارس آل البيت" (1/ 673 رقم 612).

‌‌(4) انظر: "إيضاح المكنون" (2/ 682)، وسماه "النوافح المعطَّرة … "، و"هدية العارفين" (2/ 336) وسماه: "النوافح المعطرة والأحاديث المشتهرة" ولعله خطأ مطبعي.

‌‌(5) انظر: "مقدمة المقاصد" لعبد الوهاب عبد اللطيف ص (ك)، و"دليل المؤلفات" (1/ 622).

‌‌(6) انظر: "إيضاح المكنون" (1/ 81)، و"هدية العارفين" (2/ 377)، و"الرسالة المستطرفة" (ص 192)، و"الأعلام" (7/ 74)، و"معجم المؤلفين" (3/ 286).

আল-জাইনী (মৃত্যু ১১০৮ হি.)। পাণ্ডুলিপি‌‌(১)।

‌‌১৭ - "যিয়াদাতু ইতকানি মা ইয়াহসুনু মিন বায়ানিল আখবারিদ দাইরাতি আলাল আলসুন", এটিও আল-জাইনীর। পাণ্ডুলিপি‌‌(২)। সম্ভবত এটি পূর্বোক্তটিই।

‌‌১৮ - "আল-জাওহারাতুন নাদরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহারাহ", রচনা: ইসমাইল ইবনে আব্দুল বাকি আল-ইয়াজিজি (মৃত্যু ১১২১ হি.)। পাণ্ডুলিপি‌‌(৩) এবং আমি এটি দেখার সুযোগ পাইনি।

‌‌১৯ - "আন-নাওয়াফিহুল আতিরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহারাহ", শেখ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে জারুল্লাহ আস-সাদি আল-ইয়ামানি, যিনি আল-মুশাহাম আল-কাবির নামে পরিচিত (মৃত্যু ১১৮১ হি.)‌‌(৪)। এতে তিনি সুয়ুতির 'দুরার', যুরকানীর 'মুখতাসার' এবং ইবনে উদ-দাইবা-র 'তাময়িজ'-কে একত্রিত করেছেন এবং সেগুলোর ওপর অনেক কিছু বৃদ্ধি করেছেন। এটি মুদ্রিত‌‌(৫)।

‌‌২০ - "আসনী আল-মাতালিব ফি আহাদিসি মুখতaliফাতির মারাতীব", শেখ মুহাম্মদ ইবনে দারবিশ আল-হুত আল-বাইরুতি (মৃত্যু ১২৭৬ হি.)‌‌(৬)। এটি বিন্যাস করেছেন তার ছেলে আব্দুর রহমান, যিনি তার ভূমিকায় বলেছেন: (আমার নিকট যাতায়াতকারী এবং আমার প্রতি সুধারণা পোষণকারী একদল লোক আমাকে প্রায়শই এমন কিছু বাক্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন যা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রসিদ্ধ এবং যা বিশিষ্ট ও সাধারণ সবার মুখে মুখে আলোচিত হয়; সেগুলো কি রাসুলগণের সরদারের হাদিস, নাকি জগতের অন্য কারো কথা? তখন আমি এই শিল্পের আলেমদের বক্তব্যের আলোকে সেগুলোর উত্তর দিতাম, যারা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

‌‌(১) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে (৪৬১) নম্বরে এর একটি মাইক্রোফিল্ম কপি রয়েছে এবং কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি লাইব্রেরিতে (৬৫৭৮) নম্বরে আরেকটি কপি রয়েছে, যা দামেস্কের দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়া থেকে ফটোস্ট্যাট করা।

‌‌(২) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে (৪৫৮৮/ ১৯) নম্বরে এর একটি মাইক্রোফিল্ম কপি রয়েছে।

‌‌(৩) কিং ফয়সাল সেন্টারে (২৬৮৬ - ২) নম্বরে এর একটি কপি রয়েছে। দেখুন: "ফিহরিস মাখতুতাত আল-মারকায" (২/ ৮৫), এবং "ফিহারিস আলিল বাইত" (১/ ৬৭৩ নম্বর ৬১২)।

‌‌(৪) দেখুন: "ইদাহুল মাকনুন" (২/ ৬৮২), তিনি একে "আন-নাওয়াফিহুল মুআত্তারাহ..." নামে নামকরণ করেছেন এবং "হাদিয়াতুল আরিফিন" (২/ ৩৩৬) এতে এর নাম "আন-নাওয়াফিহুল মুআত্তারাহ ওয়াল আহাদিসুল মুশতাহারাহ" উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভবত এটি একটি মুদ্রণজনিত ত্রুটি।

‌‌(৫) দেখুন: আব্দুল ওয়াহহাব আব্দুল লতিফ-এর "মুকাদ্দিমাতুল মাকাসিদ" পৃষ্ঠা (কাফ), এবং "দালিলুল মুআল্লাফাত" (১/ ৬২২)।

‌‌(৬) দেখুন: "ইদাহুল মাকনুন" (১/ ৮১), "হাদিয়াতুল আরিফিন" (২/ ৩৭৭), "আর-রিসালাহ আল-মুসতাতরাফাহ" (পৃষ্ঠা ১৯২), "আল-আ'লাম" (৭/ ৭৪), এবং "মুজামুল মুআল্লিফিন" (৩/ ২৮৬)।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وميزوا ضعيفها من الحسن، وكان والدي الشيخ محمد رحمه الله ممن عُنِي بهذا العلم الشريف، وألف به عدة تآليف، منها كتابه الذي جرد من مختصر الإمام العالم الشيخ عبد الرحمن اليمني رحمه الله‌‌(1) وزاد في آخره ذيلًا، ذكر فيه عدة أحاديث ليست في الأصل، ولكنه لم يرتبها على حروف المعجم، وكذلك ذكر في هامش النسخة التي بخطه أحاديث ليست في الذيل المذكور، وتكلم على بعض مآثر وفوائد ومطالب تتعلق بهذا الفن، فخدمة للعلم وتعميمًا للنفع تبادرت بطبع الكتاب المذكور، ورتبت جميع الأحاديث على حروف الهجاء تسهيلًا لتحصيلها، وألحقت تلك الفوائد والمآثر بآخر الكتاب تتميمًا للفائدة، وسميته: "أسنى المطالب في أحاديث مختلفة المراتب" … )‌‌(2). وهو مطبوع.

‌‌21 - "تحذير المسلمين من كثير من الأحاديث الموضوعة على سيد المرسلين"، لمحمد البشير ظافر الأزهري (ت 1325 هـ)، وهي رسالة في الموضوعات المشهورات، قال مؤلفها بعد الكلام على انتشار الموضوعات في زمنه (فلذلك عزمت على جمع الأحاديث الموضوعة المشتهرة على الألسنة في رسالة، أذكر فيها الأحاديث مرتبة على حروف المعجم، وسميتها: تحذير المسلمين من الأحاديث الموضوعة على سيد المرسلين … )‌‌(3)، وقد طبعت سنة 1321 هـ بمطبعة جريدة الراوي اليومية بمصر في (100 ص)، ولها مقدمة نافعة عن الأحاديث الموضوعة وما يتعلق بها.

‌‌22 - "الكواكب المنتثرة في الأحاديث المشتهرة"، لمحمد بن إدريس القادري المغربي (ت 1350 هـ)، ذكره ابن سُودة في سل النصال‌‌(4)، ولم نقف عليه.

--------------------------------------------

‌‌(1) يعني: ابن الديبع في التمييز.

‌‌(2) "مقدمة المرتب" (ص 15).

‌‌(3) "المقدمة" (ص 3).

‌‌(4) انظر: "موسوعة أعلام المغرب" (8/ 3003).

এবং তারা সেগুলোর মধ্য থেকে দুর্বল ও হাসান হাদিসকে পৃথক করেছেন। আমার পিতা শাইখ মুহাম্মদ (রাহিমাহুল্লাহ) সেই মহান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা এই মহান ইলম বা শাস্ত্র নিয়ে যত্নশীল ছিলেন। তিনি এই বিষয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো সেই কিতাব যা তিনি ইমাম আলিম শাইখ আবদুর রহমান আল-ইয়ামানি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মুখতাসার (সংক্ষেপণ) থেকে সংকলন করেছেন‌‌(১) এবং এর শেষে একটি পরিশিষ্ট (যাইল) যুক্ত করেছেন। সেখানে তিনি এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যা মূল গ্রন্থে নেই, কিন্তু তিনি সেগুলোকে বর্ণানুক্রমে সাজাননি। একইভাবে, তিনি নিজের হাতের লেখা পাণ্ডুলিপির টীকায় (হাশিয়া) এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যা উক্ত পরিশিষ্টেও নেই। তিনি এই শাস্ত্র সংশ্লিষ্ট কিছু নিদর্শনাদি, উপকারিতা ও দাবি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাই ইলমের খিদমত এবং ফায়দা সাধারণ করার উদ্দেশ্যে আমি উক্ত কিতাবটি প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করি। হাদিসগুলো সহজে খুঁজে পাওয়ার সুবিধার্থে আমি সেগুলোকে বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছি এবং ফায়দা পূর্ণ করার লক্ষ্যে সেই আলোচনা ও নিদর্শনাদি কিতাবের শেষে যুক্ত করেছি। আমি এর নাম দিয়েছি: "আসনী আল-মাতালিব ফী আহাদিস মুখতালিফাত আল-মারাতাব" … )‌‌(২)। এটি বর্তমানে মুদ্রিত অবস্থায় আছে।

‌‌২১ - "তাহযীরুল মুসলিমীন মিন কাসীরিন মিনাল আহাদিসিল মাওদুআতি আলা সায়্যিদিল মুরসালীন", এটি মুহাম্মদ আল-বাশির যাফির আল-আযহারী (ওফাত ১৩২৫ হিজরি) এর রচনা। এটি প্রচলিত জাল হাদিস বিষয়ক একটি পুস্তিকা। এর লেখক তার যুগে জাল হাদিসের বিস্তারের আলোচনার পর বলেন: (এ কারণেই আমি মানুষের মুখে প্রচলিত জাল হাদিসগুলো একটি পুস্তিকায় একত্রিত করার সংকল্প করেছি, যেখানে আমি হাদিসগুলো বর্ণানুক্রমে উল্লেখ করব। আমি এর নাম দিয়েছি: তাহযীরুল মুসলিমীন মিনাল আহাদিসিল মাওদুআতি আলা সায়্যিদিল মুরসালীন … )‌‌(৩)। এটি ১৩২১ হিজরিতে মিসরের দৈনিক আল-রাওয়ি প্রেস থেকে (১০০ পৃষ্ঠায়) মুদ্রিত হয়েছে। এতে জাল হাদিস এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি উপকারী ভূমিকা রয়েছে।

‌‌২২ - "আল-কাওয়াকিব আল-মুনতাসিরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহিরাহ", মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আল-কাদিরি আল-মাগরিবী (ওফাত ১৩৫০ হিজরি) এর রচনা। ইবনে সুদা 'সাল্লুন নিসাল'‌‌(৪) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, তবে আমরা কিতাবটি খুঁজে পাইনি।

--------------------------------------------

‌‌(১) অর্থাৎ: আত-তাময়িয গ্রন্থে ইবনুদ্ দাইবা।

‌‌(২) "সমন্বয়কারীর ভূমিকা" (পৃষ্ঠা ১৫)।

‌‌(৩) "ভূমিকা" (পৃষ্ঠা ৩)।

‌‌(৪) দেখুন: "মাওসুআতু আলামিল মাগরিব" (৮/ ৩০০৩)।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌23 - "رفع الجهالة والالتباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس"، لمحمد بن محمد بن حامد الجرجاوي المراغي (ت بعد 1355 هـ)، وهو مخطوط كما أشار إليه الزركلي‌‌(1).

‌‌24 - "المشتهر من الحديث الموضوع والضعيف والبديل الصحيح"، لعبد المتعال محمد الجبري (ت 1415 هـ).

قال في مقدمته: ( … فهذه الرسالة في الحديث المشهور مما هو ضعيف أو موضوع، أقدمها تحذيرًا من رواية الموضوع وما لا أصل له، مما يجري على ألسنة الوعاظ الذين لا دراية لهم بالسُّنَّة … ). وبين في المقدمة بعض المصطلحات الحديثية المستخدمة في الكتاب. والكتاب مرتب على الأبواب العلمية -سماها فصولًا-، فيه خمسة فصول (الإيمان - العلم والاجتهاد - السياسة والملك - اجتماعيات - العبادات)، وتحت كل فصل عناوين الموضوع. وكانت طريقته فيه مختصرة في التخريج والكلام على الأحاديث، وقد بدأ بالأحاديث الضعيفة والموضوعة في كل عنوان، ثم أتبعه بالبديل الصحيح، وهذه هي ميزة الكتاب. وهو مطبوع.

‌‌25 - "أحاديث مردودة مشتهرة على ألسنة الناس"، للدكتور سعيد بن صالح الرقيب الغامدي.

وهي رسالة لطيفة ألفها مؤلفها لما رأى من كثرة الأحاديث التي اشتهرت عند الناس ولا يصح نسبتها للنبي صلى الله عليه وسلم، وقد بنوا عليها أحكامًا وعبادات ومفاهيم وأفكارًا. لم يتوسع المؤلف في التخريج وبيان العلل رغبة الاختصار، وقد يحيل إلى الكتب والمراجع التي استقى منها الحكم على الحديث. رتبه على الحروف وعدد أحاديثه (312) حديثًا. وهو مطبوع.

‌‌26 - "أحاديث مقبولة مشتهرة على ألسنة الناس"، للمؤلف نفسه، وقد أشار إليه في مقدمة الكتاب السابق‌‌(2).

--------------------------------------------

‌‌(1) "الأعلام" (7/ 81).

‌‌(2) انظر: "المقدمة" (ص 3 - 5).

২৩ - "রাফউল জাহালাহ ওয়াল ইলতিবাস আম্মা উশতুহিরা মিনাল আহাদিস আলা আলসিনাতিন নাস" (মানুষের মুখে প্রচলিত প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহের অজ্ঞতা ও অস্পষ্টতা দূরীকরণ), মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হামিদ আল-জিরজাবি আল-মারাগির (মৃত্যু ১৩৫৫ হিজরির পর) রচিত, এটি একটি পাণ্ডুলিপি যেমনটি আল-জিরিকলি ইঙ্গিত করেছেন‌‌(১)।

‌‌২৪ - "আল-মুশতাহির মিনাল হাদিসিল মাওদু ওয়াল দয়িফ ওয়াল বাদিলুস সহিহ" (প্রসিদ্ধ জাল ও দুর্বল হাদিস এবং সহিহ বিকল্প), আবদুল মুতাআল মুহাম্মাদ আল-জাবরির (মৃত্যু ১৪১৫ হিজরি) রচিত।

তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: ( ... সুতরাং এই পুস্তিকাটি দুর্বল বা জাল হিসেবে প্রসিদ্ধ হাদিসসমূহ সম্পর্কে; আমি এটি জাল এবং ভিত্তিহীন বর্ণনা থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে পেশ করছি, যা সুন্নাহ সম্পর্কে জ্ঞানহীন ওয়ায়েজদের (উপদেশদাতাদের) মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে ... )। তিনি ভূমিকায় কিতাবটিতে ব্যবহৃত হাদিসশাস্ত্রীয় কিছু পরিভাষা ব্যাখ্যা করেছেন। কিতাবটি ইলমি অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত—যেগুলোকে তিনি 'ফসল' (পরিচ্ছেদ) নামে অভিহিত করেছেন—এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে (ইমান - ইলম ও ইজতিহাদ - রাজনীতি ও রাজত্ব - সামাজিক বিষয়াবলি - ইবাদতসমূহ), এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের অধীনে বিষয়ের শিরোনাম রয়েছে। এতে হাদিসের তাখরিজ ও আলোচনার ক্ষেত্রে তার পদ্ধতি ছিল সংক্ষিপ্ত। তিনি প্রতিটি শিরোনামে প্রথমে দুর্বল ও জাল হাদিসগুলো দিয়ে শুরু করেছেন, তারপর সেগুলোর সহিহ বিকল্প উল্লেখ করেছেন; আর এটিই বইটির বৈশিষ্ট্য। এটি মুদ্রিত।

‌‌২৫ - "আহাদিসু মারদুদাহ মুশতাহিরাহ আলা আলসিনাতিন নাস" (মানুষের মুখে প্রসিদ্ধ প্রত্যাখ্যাত হাদিসসমূহ), ডক্টর সাঈদ বিন সালিহ আল-রাকিব আল-গামদির রচিত।

এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যা লেখক সংকলন করেছেন যখন তিনি মানুষের মধ্যে এমন অনেক হাদিসের ব্যাপক প্রসিদ্ধি লক্ষ্য করেন যেগুলোর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে নিসবত করা (সম্পর্কিত করা) সঠিক নয়, অথচ তারা এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিধান, ইবাদত, ধারণা ও চিন্তা-চেতনা গড়ে তুলেছে। লেখক সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে তাখরিজ ও হাদিসের ত্রুটি বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেননি; তিনি কখনো কখনো এমন সব কিতাব ও সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়েছেন যেখান থেকে তিনি হাদিসের হুকুম গ্রহণ করেছেন। তিনি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন এবং এর হাদিস সংখ্যা ৩১২টি। এটি মুদ্রিত।

‌‌২৬ - "আহাদিসু মাকবুলাহ মুশতাহিরাহ আলা আলসিনাতিন নাস" (মানুষের মুখে প্রসিদ্ধ গ্রহণযোগ্য হাদিসসমূহ), একই লেখকের রচিত, তিনি পূর্বোক্ত কিতাবের ভূমিকায় এটির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন‌‌(২)।

--------------------------------------------

‌‌(১) "আল-আলাম" (৭/ ৮১)।

‌‌(২) দেখুন: "আল-মুকাদ্দিমাহ" (পৃ. ৩ - ৫)।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وتتميمًا للفائدة: هناك كتاب قد يدخل في هذا الباب ولم نقف عليه، ولا على من تعرض له، وهو:

‌‌27 - "كشف الباس في كلمات يقولها كثير من الناس"، للعلامة محمد مكي بن عزوز التونسي (ت 1333 هـ)‌‌(1). لم نقف عليه.

* * *

--------------------------------------------

‌‌(1) ذكره البغدادي في "إيضاح المكنون" (2/ 357).

وابن عزوز كان معاصرًا لعبد الحي الكتاني، وقد ترجم له في "فهرس الفهارس" (2/ 856 - 861)، ولم يذكر هذا الكتاب في مصنفاته.

অধিক উপকারের নিমিত্তে: এখানে একটি গ্রন্থ রয়েছে যা সম্ভবত এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, কিন্তু আমরা সেটি দেখিনি এবং এমন কাউকে পাইনি যিনি এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেটি হলো:

‌‌২৭ - "কাশফুল বাস ফি কালিমাতিন ইয়াকুলুহা কাসিরুম মিনান নাস", আল্লামা মুহাম্মাদ মাক্কী বিন আযযূয তিউনিসীয় (মৃত্যু ১৩৩৩ হিজরী) এর লিখিত‌‌(১)। আমরা এটি দেখিনি।

* * *

--------------------------------------------

‌‌(১) আল-বাগদাদী এটি "ঈযাহুল মাকনুন" (২/৩৫৭) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আর ইবনে আযযূয আব্দুল হাই আল-কাত্তানীর সমসাময়িক ছিলেন এবং তিনি "ফিহরিসুল ফাহারিস" (২/৮৫৬-৮৬১) গ্রন্থে তার জীবনী আলোচনা করেছেন, তবে সেখানে তিনি তার রচনাবলীর মধ্যে এই গ্রন্থটির কথা উল্লেখ করেননি।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
القسم الأول:‌‌ دراسة عن الحافظ السخاوي وكتابه "المقاصد الحسنة"

وفيه فصلان:

الفصل الأول: ترجمة موجزة للحافظ السخاوي.

الفصل الثاني: كتاب "المقاصد الحسنة".
প্রথম বিভাগ:‌‌ হাফিজ সাখাবি এবং তাঁর গ্রন্থ "আল-মাকাসিদ আল-হাসানা" বিষয়ক গবেষণা

এতে দুইটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাফিজ সাখাবির সংক্ষিপ্ত জীবনী।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: "আল-মাকাসিদ আল-হাসানা" গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الأول: ترجمة موجزة للحافظ السَّخَاوي ‌‌(1)

ويشتملُ على سبعةِ مباحثَ:

* المبحثُ الأولُ: اسمُهُ ونَسَبُه، ومَولِدُه ووفاتُه.

* المبحثُ الثاني: نشأتُه العلميَّةُ ورحلاتُه.

* المبحثُ الثالثُ: شيوخه.

* المبحثُ الرابعُ: تلاميذُه.

* المبحثُ الخامسُ: عقيدته ومذهبه الفِقهيُّ.

* المبحثُ السادسُ: مَنزلَته العِلمِيَّةُ وثناءُ العلماءِ عليه.

* المبحثُ السابعُ: مؤلَّفاته.

--------------------------------------------

‌‌(1) مصادر ترجمة السخاوي كثيرة، من أهمها ترجمته لنفسه في: "الضوء اللامع" (8/ 2 - 32)، وفي "التحفة اللطيفة في تاريخ المدينة الشريفة" (3/ 630)، وفي "الجواهر والدرر" (3/ 1146). وله كتابٌ مفردٌ صنفه في ترجمته الذاتية اسمه "إرشاد الغاوي"، أشار إليه في "التحفة اللطيفة" (3/ 630)، وقد طُبعَ. ومن أشهر مصادر ترجمته:

‌‌1 - "نظم العقيان في أعيان الأعيان" (ص 152 - 153)، للسيوطي (911 هـ). وفيه حطٌّ على السخاوي، وذلك لما كان بينهما من منافسة ومنافرة -رحمهما الله-.

‌‌2 - "النور السافر عن أخبار القرن العاشر" (ص 40 - 47)، لعبد القادر العيدروس (1038 هـ).

‌‌3 - "الكواكب السائرة بأعيان المائة العاشرة" (1/ 53 - 54)، للنجم الغزي (1061 هـ).

‌‌4 - "شذرات الذهب في أخبار من ذهب" (10/ 23 - 25)، لابن العماد الحنبلي (1089 هـ).

‌‌5 - "البدر الطالع بمحاسن من بعد القرن السابع" (701)، للشوكاني (1250 هـ).

‌‌6 - "فهرس الفهارس والأثبات" (2/ 989 - 993)، لعبد الحي الكتاني (1382 هـ).

‌‌7 - "الأعلام" (6/ 194 - 195)، لخير الدين الزركلي (1396 هـ).

ومن التراجم الحديثة المفردة للسخاوي رحمه الله:

‌‌1 - "السخاوي مؤرخًا"، للدكتور عبد الله بن ناصر الشقاري (رسالة دكتوراه بجامعة الإمام).

‌‌2 - "الحافظ السخاوي وجهوده في الحديث وعلومه"، للشيخ الدكتور بدر بن محمد العمَّاش، (رسالة دكتوراه بالجامعة الإسلامية).

প্রথম অধ্যায়: হাফেজ সাখাবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী (১)

এবং এটি সাতটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

* প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয় এবং তাঁর জন্ম ও মৃত্যু।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানার্জন ও সফরসমূহ।

* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।

* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।

* পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর আকিদাহ ও ফিকহি মাযহাব।

* ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর প্রতি ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা।

* সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।

--------------------------------------------

(১) সাখাবীর জীবনীর উৎস অনেক, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো "আদ-দউ আল-লামি" (৮/ ২ - ৩২)-তে তাঁর নিজের লেখা জীবনী, এবং "আত-তুহফাতুল লতীফাহ ফী তারিখিল মাদিনাতুশ শারিফাহ" (৩/ ৬৩০), এবং "আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার" (৩/ ১১৪৬)-এ। তাঁর নিজের লেখা জীবনীর ওপর "ইরশাদুল গাভী" নামে তাঁর একটি স্বতন্ত্র কিতাব রয়েছে, যা তিনি "আত-তুহফাতুল লতীফাহ" (৩/ ৬৩০)-তে উল্লেখ করেছেন এবং এটি মুদ্রিত হয়েছে। তাঁর জীবনীর প্রসিদ্ধ উৎসসমূহের মধ্যে রয়েছে:

১ - সুয়ূতী (৯১১ হিজরি) রচিত "নাযমুল উকইয়ান ফী আয়ানিল আয়ান" (পৃষ্ঠা ১৫২ - ১৫৩)। এতে সাখাবীর সমালোচনা করা হয়েছে, কারণ তাঁদের উভয়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিমুখতা বিদ্যমান ছিল—আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।

২ - আব্দুল কাদির আল-আইদারুস (১০৩৮ হিজরি) রচিত "আন-নূরুস সাফির আন আখবারিল কারনিল আশির" (পৃষ্ঠা ৪০ - ৪৭)।

৩ - নাজমুদ্দিন আল-গাজ্জি (১০৬১ হিজরি) রচিত "আল-কাওয়াকিবুস সাইয়িরাহ বি-আয়ানিল মিআতিল আশারাহ" (১/ ৫৩ - ৫৪)।

৪ - ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বালী (১০৮৯ হিজরি) রচিত "শাযারাতুয যাহাব ফী আখবারিন মান যাহাব" (১০/ ২৩ - ২৫)।

৫ - শাওকানী (১২৫০ হিজরি) রচিত "আল-বাদরুত তালি' বি-মাহাসিনি মান বাদাল কারনিল সাবি'" (৭০১)।

৬ - আব্দুল হাই আল-কাত্তানী (১৩৮২ হিজরি) রচিত "ফিহরিসুল ফাহারিস ওয়াল আসবাত" (২/ ৯৮৯ - ৯৯৩)।

৭ - খাইরুদ্দিন আয-যিরিকলী (১৩৯৬ হিজরি) রচিত "আল-আলাম" (৬/ ১৯৪ - ১৯৫)।

সাখাবী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ওপর আধুনিক একক জীবনীগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন নাসির আল-শাকারীর "আস-সাখাবী মুআররিখান" (ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট থিসিস)।

২ - শেখ ডক্টর বদর বিন মুহাম্মদ আল-আম্মাশের "আল-হাফিয আস-সাখাবী ওয়া জুহুদুহু ফিল হাদিস ওয়া উলুমিহি" (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেট থিসিস)।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌المبحثُ الأولُ: اسمُهُ ونَسَبُه، ومَولِدُه ووفاتُه

‌‌اسمُه ونسبُه:

هو الحافظُ شمسُ الدِّينِ محمدُ بنُ عبدِ الرَّحمنِ بنِ محمدِ بنِ أبي بكرِ بنِ عثمانَ بن محمد السَّخَاوِيُّ القاهِريُّ. ويُكنى بـ "أبي الخير" و"أبي عبدِ الله".

والسَّخاويُّ نسبةٌ إلى"سَخَا": مدينة بأسفل مصر، وهي قصبة الكُورة الغربية‌‌(1).

 

‌‌مَولِدُه:

أرَّخ الحافظ السخاوي مولده في شهر ربيع الأولِ من سنة إحدى وثلاثينَ وثمانمائةٍ بحارة بهاء الدين علو الدرب المجاور لمدرسة البلقيني‌‌(2).

 

‌‌وفاتُه:

توفي بالمدينة النبوية‌‌(3) عصرَ يومِ الأحدِ سادسَ عشرَ‌‌(4) شعبانَ سنة اثنتين وتسعمائةٍ، وعمرُهُ إحدى وسبعونَ سنةً، وصُلِّي عليه بعدَ صلاةِ الصبحِ يوم الاثنينِ بالروضة الشريفة، ودُفِنَ بالبقيعِ بجوارِ الإمامِ مالكٍ.

--------------------------------------------

‌‌(1) "معجم البلدان" (3/ 196).

وهي الآن قريةٌ من قرى مركز كَفْر الشيخ بمديرية الغربية بمصر، وكَفْرُ الشيخِ يبعدُ عن القاهرة حوالي 17 كم. يُنظر: "الحافظ السَّخاوي وجهوده" (1/ 32).

‌‌(2) "الضوء اللامع" (8/ 2).

‌‌(3) على الأرجح. كما في "النور السافر" و"شذرات الذهب" و"البدر الطالع" وغيرها.

‌‌(4) كما ذكر تلميذه جار الله بن فهد. نقله عنه الشوكاني في "البدر الطالع" (2/ 186). وقيل: في الثامن والعشرين. كما في "النور السافر"، و"شذرات الذهب".

প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম ও বংশপরিচয় এবং জন্ম ও মৃত্যু

তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন হাফেজ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে উসমান ইবনে মুহাম্মদ আস-সাখাভী আল-কাহিরী। তাঁকে "আবু আল-খায়ের" এবং "আবু আবদুল্লাহ" উপনামে অভিহিত করা হতো।

সাখাভী শব্দটি "সাখা"-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত; যা নিম্ন মিসরের একটি শহর এবং এটি আল-কুরা আল-গারবিয়ার প্রধান কেন্দ্র ছিল(১)।

 

তাঁর জন্ম:

হাফেজ সাখাভী তাঁর জন্ম তারিখ উল্লেখ করেছেন ৮৩১ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে, বালকিনি মাদরাসার নিকটবর্তী বাহাউদ্দিন মহল্লার উলু আদ-দারব নামক স্থানে(২)।

 

তাঁর মৃত্যু:

তিনি মদিনা মুনাওয়ারায়(৩) ৯০২ হিজরি সনের ১৬ই(৪) শাবান রবিবার আসরের ওয়াক্তে ইন্তেকাল করেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল একাত্তর বছর। সোমবার ফজরের নামাযের পর রওজা শরীফে তাঁর জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয় এবং জান্নাতুল বাকিতে ইমাম মালিকের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।

--------------------------------------------

(১) "মুজামুল বুলদান" (৩/ ১৯৬)।

বর্তমানে এটি মিসরের আল-গারবিয়া প্রদেশের কাফরুশ শায়খ কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত একটি গ্রাম। কাফরুশ শায়খ কায়রো থেকে প্রায় ১৭ কিমি দূরে অবস্থিত। দ্রষ্টব্য: "আল-হাফেজ আস-সাখাভী ওয়া জুহুদুহু" (১/ ৩২)।

(২) "আদ-দাও আল-লামি" (৮/ ২)।

(৩) অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী। যেমনটি "আন-নুর আস-সাফির", "শাযারাতুজ জাহাব", "আল-বদরুত তালি" এবং অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(৪) যেমনটি তাঁর ছাত্র জারুল্লাহ ইবনে ফাহদ উল্লেখ করেছেন। তাঁর থেকে ইমাম শাওকানী "আল-বদরুত তালি" (২/ ১৮৬) গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন: আটাশ তারিখ; যেমনটি "আন-নুর আস-সাফির" এবং "শাযারাতুজ জাহাব" গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তিবায়াতুল মায়মানাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌المبحثُ الثاني: نشأتُه العلميَّةُ ورِحلاتُه

نشأ السخاويُّ في بيت علمٍ وفضلٍ، فأدخله أبوهُ المكتَبَ صغيرًا عند المؤدِّب الشرف عيسى بن أحمد المَقسي (865 هـ) فأقام عنده يسيرًا جدًا، ثم نقله لزوج أخته الفقيه الصالح البدر حسين بن أحمد الأزهري (878 هـ)، فقرأ عنده القرآنَ وصلى بالناسِ التراويحَ في رمضان بزاوية لأبي أمه الشيخ شمس الدين العدوي المالكي، ثم توجَّه به أبوه إلى الفقيه الشمس محمد بن أحمد الحريري (849 هـ)، فجوَّد عليه القرآن، وانتفع به في آداب التجويد وغيرها وعلق عنه فوائد ونوادر، وقرأ القرآن وجوَّده على غير واحدٍ من مشايخه، وحفظَ بعضَ "عمدةِ الأحكامِ"، ثم انتقل للعلامة الشهابِ بنِ أسدٍ فأكملَ عندَه حفظَها مع حفظِ "التنبيه"، و"المنهاج"، و"ألفية ابن مالك"، و"النُّخبة"، وقرأ عليه شيئًا من القراءاتِ.

ثم حفظَ "ألفية العراقي"، و"شرح النخبة"، وغالبَ "الشاطبية"، و"مقدمة الساوي" في العَروضِ، وسمع الكثيرَ من الجمعِ للسبعِ وللعشرِ على الزَّينِ رضوانَ العُقْبيِّ، ولازمَ البرهانَ ابنَ خضرٍ وقرأ عليه غالب "شرح الألفية" لابن عقيل، وسمع الكثيرَ من "توضيحِها" لابن هشام، وأخذ العربية أيضًا عن الشهابِ الأبدي المغربيِّ والجمالِ بنِ هشامٍ الحنبليِّ.

وأخذ الكثيرَ من الفقهِ عن العَلَم صالحٍ البُلقينيِّ وغيره، وأخذَ طرفًا من الفرائضِ والحسابِ والميقاتِ، وقرأ الأصولَ على الكمالِ ابنِ إمامِ الكامِلِيَّةِ، وحضر كثيرًا من دروسِ التقى الشُّمُنِّيِّ في الأصلينِ والمعاني والبيانِ والتفسيرِ، وقرأ عليه "شرحَه" نظمَ والدهِ للنخبةِ.

وسمع مع والده ليلًا الكثيرَ من الحديثِ على إمامِ عصرِه ووحيدِ دهرِه
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানগত বেড়ে ওঠা এবং সফরসমূহ

আস-সাখাভী একটি জ্ঞান ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা তাঁকে শৈশবেই শিক্ষক শরাফ ঈসা বিন আহমদ আল-মাকসি (মৃত্যু ৮৬৫ হিজরি)-এর মকতবে ভর্তি করে দেন। তিনি সেখানে খুব অল্প সময় অবস্থান করেন। এরপর তাঁর পিতা তাঁকে তাঁর ভগ্নিপতি পুণ্যবান ফকিহ আল-বদর হুসাইন বিন আহমদ আল-আজহারি (মৃত্যু ৮৭৮ হিজরি)-এর কাছে নিয়ে যান। সেখানে তিনি কুরআন পাঠ করেন এবং তাঁর মাতামহ শাইখ শামস উদ্দিন আল-আদাওয়ী আল-মালিকির খানকায় রমজান মাসে মানুষকে নিয়ে তারাবিহ সালাত আদায় করেন। অতঃপর তাঁর পিতা তাঁকে ফকিহ আশ-শামস মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-হারিরি (মৃত্যু ৮৪৯ হিজরি)-এর নিকট নিয়ে যান। তাঁর কাছে তিনি তাজবিদসহ কুরআন পাঠ সম্পন্ন করেন এবং তাজবিদের আদব ও অন্যান্য বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হন এবং তাঁর থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ বিষয় ও বিরল তথ্যসমূহ লিপিবদ্ধ করেন। তিনি তাঁর আরও অনেক শাইখের কাছে তাজবিদসহ কুরআন পাঠ করেন এবং 'উমদাতুল আহকাম'-এর একাংশ মুখস্থ করেন। এরপর তিনি আল্লামা আশ-শিহাব বিন আসাদের নিকট যান এবং তাঁর কাছে গ্রন্থটি মুখস্থ সম্পন্ন করার পাশাপাশি 'আত-তানবিহ', 'আল-মিনহাজ', 'আলফিয়্যা ইবনে মালিক' এবং 'আন-নুখবাহ' মুখস্থ করেন এবং তাঁর নিকট কিরাত শাস্ত্রের কিছু অংশ পাঠ করেন।

এরপর তিনি মুখস্থ করেন 'আলফিয়্যাতুল ইরাকি', 'শারহুন নুখবাহ', 'আশ-শাতবিয়্যাহ'-এর অধিকাংশ এবং ইলমে আরুজ (ছন্দতত্ত্ব) বিষয়ে 'মুকাদ্দিমাতুস সাভি'। তিনি আয-যাইন রিদওয়ান আল-উকবির কাছে সাত এবং দশ কিরাতের সমন্বিত পাঠের অনেক কিছু শ্রবণ করেন। তিনি আল-বুরহান ইবনে খিদরের সান্নিধ্যে থাকেন এবং তাঁর নিকট ইবনে আকিলের 'শারহুল আলফিয়্যাহ'-এর অধিকাংশ পাঠ করেন এবং ইবনে হিশামের 'তাওদিহ'-এর অনেক অংশ শ্রবণ করেন। এছাড়াও তিনি আশ-শিহাব আল-আবাদি আল-মাগরিবি এবং আল-জামাল বিন হিশাম আল-হাম্বলির নিকট থেকেও আরবি ভাষা শিক্ষা করেন।

তিনি প্রখ্যাত আলিম সালেহ আল-বুলকিনি এবং অন্যান্যদের থেকে অনেক ফিকহ শিক্ষা করেন। এছাড়া ফরায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), হিসাব এবং মিকাত (সময় গণনা) শাস্ত্রের অংশবিশেষ অর্জন করেন। আল-কামাল ইবনে ইমাম আল-কামিলিয়ার কাছে তিনি উসুল (মূলনীতি শাস্ত্র) পাঠ করেন। তিনি তাকি আশ-শুমুনির 'আসলানি' (উসুলুদ দ্বীন ও উসুলুল ফিকহ), মাআনি, বায়ান এবং তাফসিরের অসংখ্য দরসে উপস্থিত হন এবং তাঁর কাছে তাঁর পিতার রচিত 'নুখবাহ'-এর কাব্যিক রূপের ব্যাখ্যাগ্রন্থটি পাঠ করেন।

তিনি তাঁর পিতার সাথে রাতের বেলায় সমকালীন ইমাম ও তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্বের কাছে অনেক হাদিস শ্রবণ করেন।