(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: -)
المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة - ت الغماري القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة
المؤلف: شمس الدين أبو الخير محمد بن عبد الرحمن بن محمد السخاوي (ت 902 هـ)
صححه وعلق حواشيه: عبد الله محمد الصديق [الغماري]
قدمه وترجم للمؤلف: عبد الوهاب عبد اللطيف
الناشر: مكتبة الخانجي - مصر
عام النشر: 1375 هـ - 1956 م
عدد الصفحات: 505
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 30 صفر 1445
মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত অনেক হাদীসের বর্ণনায় উত্তম উদ্দেশ্যসমূহ - তাহকীক: আল-গুমারী বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত অনেক হাদীসের বর্ণনায় উত্তম উদ্দেশ্যসমূহ
গ্রন্থকার: শামসুদ্দিন আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আস-সাখাওয়ী (মৃত্যু ৯০২ হিজরি)
সংশোধন ও টীকা প্রদান: আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আস-সিদ্দিক [আল-গুমারী]
উপস্থাপনা ও গ্রন্থকারের জীবনী: আব্দুল ওয়াহাব আব্দুল লতিফ
প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি - মিশর
প্রকাশকাল: ১৩৭৫ হিজরি - ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০৫
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৩০ সফর ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ২)
- ب -
مقدمة بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد للَّه رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف المرسلين، سيدنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين
وبعد: فإن اللَّه سبحانه، أنزل كتابه المبين، وجعله دستورَ أحكامه المتينَ، فأحكم نظامَه، وأتمَّ بيانه، وبلَّغه للرسول الأمين، وتعبَّد به المسلمين، وأمر الرسول ببيانه، فشرحه عليه السلام ووضَّحه وخصَّص عامَّه وقيَّد مطلقه، بالقول، والفعل، والتقرير، بما أفاضه عليه ربُّه من الوحي الباطن، {وما ينطق عن الهوى إن هو إلاّ وحي يوحى}. وأمرنا سبحانه باتِّباع أمر الرسول ونهيه {وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا}. {وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزِّل إليهم}،
ولذا كانت السنة النبوية، في المرتبة الثانية من الكتاب في الحجية، وأصبحت العناية بها عناية به، وحِفْظَها حفظَ أحكامه، وأمر النبي عليه السلام بإبلاغها وسماعها وإسماعها، وتوعَّد من كذب عليه، فإن الكذب عليه، ليس كالكذب على غيره: "نضَّر اللَّه امرءاً سمع منا شيئاً فبلَّغه كما سمعه"، "ونضَّر اللَّه امرءاً سمع منا حديثاً فحفظه حتى يبلغه، ومن كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار"
ولذا تنافس العلماء من الصحابة ومن بعدهم، في تحصيل السنة، وطلب الرواية، طاعةً للأمر، ورغبةً في تحصيل الأجر - وقد رحل أبو أيوب الأنصاري إلى مصر، ليروي حديثاً واحداً، عن عقبة بن عامر الجهني.
ورحل جابر بن عبد اللَّه إلى الشام، ليروي حديثاً عن عبد اللَّه بن أنيس
وكان أصحاب ابن مسعود يرحلون إلى المدينة من الكوفة، لسماع السنن
واهتم العلماء في سائر العصور،
- খ -
ভূমিকা পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর।
অতঃপর: নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা তাঁর সুস্পষ্ট কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং একে তাঁর বিধানের সুদৃঢ় সংবিধানে পরিণত করেছেন। তিনি এর ব্যবস্থাকে সুসংহত করেছেন, এর বর্ণনাকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং একে আমানতদার রাসূলের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। আর মুসলিমদের জন্য এর বিধান পালন করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি রাসূলকে কিতাবটি ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে তিনি (আলাইহিস সালাম) তাঁর প্রতিপালক তাঁর প্রতি যে গোপন ওহী (ওহী বাতেন) প্রেরণ করেছেন তার মাধ্যমে কথা, কাজ ও মৌন সম্মতির দ্বারা এর ব্যাখ্যা করেছেন, একে স্পষ্ট করেছেন, এর সাধারণ বিষয়গুলোকে বিশেষায়িত করেছেন এবং এর শর্তহীন বিষয়গুলোকে শর্তযুক্ত করেছেন। {আর তিনি নিজ খেয়াল-খুশি মতো কথা বলেন না; এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়}। আর আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা আমাদের রাসূলের আদেশ ও নিষেধ অনুসরণের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {আর রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}। {আর আমি আপনার প্রতি যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে}।
এই কারণে প্রামাণিকতার দিক থেকে আল-কুরআনের পরেই সুন্নাহর অবস্থান দ্বিতীয় স্তরে। সুন্নাহর প্রতি যত্ন নেওয়া মানেই কুরআনের প্রতি যত্ন নেওয়া, আর সুন্নাহর সংরক্ষণ মানেই কুরআনের বিধানের সংরক্ষণ। নবী (আলাইহিস সালাম) সুন্নাহ প্রচার করার, তা শোনার এবং অন্যকে শোনানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপকারীর ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন; কেননা তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারও ওপর মিথ্যা আরোপ করার মতো নয়: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল ও সজীব করুন যে আমাদের থেকে কোনো কথা শুনেছে এবং তা যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিয়েছে।" আরও বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব করুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে এবং তা মুখস্থ রেখেছে যতক্ষণ না সে তা পৌঁছে দেয়। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।"
এই কারণেই সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী যুগের আলেমগণ আল্লাহর নির্দেশ পালন এবং সওয়াব অর্জনের আশায় সুন্নাহ অর্জন ও বর্ণনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতেন। আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) উকবা ইবনে আমির আল-জুহানি (রা.) থেকে মাত্র একটি হাদিস বর্ণনা করার জন্য মিশরে সফর করেছিলেন।
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করার জন্য সিরিয়ায় সফর করেছিলেন।
আর ইবনে মাসউদ (রা.)-এর ছাত্ররা সুন্নাহ শোনার জন্য কুফা থেকে মদিনায় সফর করতেন।
আর সর্বযুগের আলেমগণ গুরুত্বারোপ করেছেন,
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৩)
- جـ -
بالرواية والإسناد، حتى وصلت إلينا الشريعة الإسلامية الغرَّاء، نقية خالصة، يرويها عن الرسول الأمين، الصحابيُّ الثقة، وعنه الثقة، إلى عصرنا هذا
(1).
وهذا النقل الصحيح المتصل بالثقات الأمناء، خصوصية لهذه الأمة المحمَّدية، لم يكن لسواها من الشرائع السماوية. فاليهود، والنصارى، ليس لهم من هذا النقل الصحيح المتصل، إلى نبيهم شيء - قال الحافظ محمد بن حاتم بن المظفَّر:
"إن اللَّه كرَّم هذه الأمة، وشرَّفها، وفضَّلها بالإسناد، وليس لأحد من الأمم قديمها وحديثها، إسناد موصول، إنما هو صحف في أيديهم، وقد خلطوا بكتبهم أخبَارهم، فليس عندهم تميزٌ بين ما نَزَل من التوراة والإنجيل، وبين ما ألحقوه بكتبهم، من الأخبار التي اتخذوها عن غير الثقات. وهذه الأمة الشريفة - زادها اللَّه شرفاً - بنبيّها، إنما تنُصُ الحديث عن الثقة المعروف في زمانه بالصدق والأمانة، عن مثله، حتى تتناهى أخبارهم، ثم يبحثون أشد البحث، حتى يعرفوا الأحفَظ، فالأحفظ، والأضبط، فالأضبط، والأطول مجالسة لمن فوقه، ممن كان أقصر، ثم يكتبون الحديث من عشرين وجهاً وأكثر، حتى يهذبوه من الغلط والزلل، ويضبطوا حروفه، ويعدوّه عدَّاً. فهذا من فضل اللَّه على هذه الأمة.
فنستودع اللَّه شكر هذه النعمة وغيرِها من نعمه" انتهى
ولصيانة هذه الشريعة من الدسِّ والخطأ شرع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، أن نتكلم في حال الرجل، لمصلحة الرواية والخبر، فتكلم عليه السلام بما تتحقق به النصيحة
(2)، وتكلم الصحابة في بعض الرواة والنَّقلة، ونقدوا أخبارهم: فتكلم منهم ابن عباس، وعبادة بن الصامت، وأنس بن مالك، والسيدة عائشة، رضي الله عنهم، وكان القول في الرجال قليل في عصرهم، لأن الصحابة جميعاً معدلون بتعديل اللَّه تعالى، ولا يجرح الواحد منهم إلا بالخطأ والنسيان، وذلك فيهم قليل، لشدة حرصهم وتحريهم.
وتكلم من كبار التابعين في الرجال جماعة أيضاً: كالشعبي، وابن المسيب، وابن سيرين، ولم يوجد في طبقتهم من كان يعتمد الكذب،
--------------------------------------------
- জ -
বর্ণনা ও ইসনাদের (সনদ) মাধ্যমে, যা আমাদের কাছে মহান ইসলামী শরীয়তকে পৌঁছে দিয়েছে বিশুদ্ধ ও নিরেট অবস্থায়। বিশ্বস্ত রাসূল থেকে নির্ভরযোগ্য সাহাবী বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর থেকে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি, এভাবে আমাদের এই যুগ পর্যন্ত পৌঁছেছে
(১)।
আর বিশ্বস্ত আমানতদারদের মাধ্যমে এই সহীহ ও নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনাধারা উম্মতে মুহাম্মাদীয়ার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য, যা অন্য কোনো আসমানী শরীয়তের নেই। কেননা ইহুদি ও নাসারাদের তাদের নবীর পর্যন্ত কোনো সহীহ ও নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনাধারা নেই - হাফেয মুহাম্মাদ বিন হাতেম বিন মুযাফফর বলেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতকে সম্মানিত করেছেন, মর্যাদা দান করেছেন এবং ইসনাদের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। প্রাচীন বা আধুনিক কোনো জাতির মধ্যেই এমন নিরবচ্ছিন্ন ইসনাদ নেই; বরং তাদের কাছে কেবল কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে এবং তারা তাদের কিতাবগুলোর সাথে নিজেদের বিবরণ মিশিয়ে ফেলেছে। তাই তাওরাত ও ইনজিল থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তারা অবিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে গ্রহণ করে যা কিতাবে যুক্ত করেছে, তার মধ্যে পার্থক্য করার কোনো উপায় তাদের কাছে নেই। আর এই সম্মানিত উম্মত - আল্লাহ যাদের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন - তাদের নবীর মাধ্যমে সত্যবাদিতা ও আমানতদারীর জন্য নিজ সময়ে সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর কাছ থেকে তাঁর অনুরূপ ব্যক্তির মাধ্যমে হাদীস উদ্ধৃত করে, যতক্ষণ না তাদের বর্ণনা সমাপ্ত হয়। এরপর তারা কঠোরভাবে অনুসন্ধান চালায়, যাতে তারা জানতে পারে কে বেশি মুখস্থকারী, কে সবচেয়ে বেশি মুখস্থকারী, কে বেশি সুসংরক্ষণকারী, কে সবচেয়ে বেশি সুসংরক্ষণকারী এবং কার তার উপরের স্তরের উস্তাদের সান্নিধ্য বেশি ছিল বা কার কম ছিল। এরপর তারা বিশ বা ততোধিক সূত্র থেকে হাদীসটি লিখে থাকে, যাতে তারা একে ভুল-ভ্রান্তি থেকে পরিশুদ্ধ করতে পারে এবং এর হরফসমূহ ও শব্দসমূহ সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও গণনা করতে পারে। এটি এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহ।
আমরা আল্লাহর কাছে এই নিয়ামত ও তাঁর অন্যান্য নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করছি।" সমাপ্ত
এই শরীয়তকে অনুপ্রবেশ ও ভুল থেকে রক্ষা করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা ও খবরের স্বার্থে কোনো ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করার বৈধতা দিয়েছেন। ফলে তিনি আলাইহিস সালাম এমন কথা বলেছেন যার মাধ্যমে হিতাকাঙ্ক্ষা অর্জিত হয়
(২)। এবং সাহাবায়ে কেরামও কিছু রাবী ও বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং তাদের বর্ণনাগুলোকে সমালোচনা (যাচাই-বাছাই) করেছেন: তাঁদের মধ্যে ইবনে আব্বাস, উবাদাহ ইবনুস সামিত, আনাস ইবনে মালেক এবং সাইয়িদা আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহুম আলোচনা করেছেন। তবে তাঁদের যুগে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা কম ছিল, কারণ সকল সাহাবীই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্য ঘোষিত। তাঁদের কাউকে কেবল ভুল বা বিস্মৃতি ছাড়া দোষারোপ করা হতো না, আর তাঁদের গভীর সতর্কতা ও অনুসন্ধানের কারণে তাও খুব সামান্যই ছিল।
বড় তাবিঈদের মধ্যে একদলও বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন: যেমন শা'বী, ইবনুল মুসায়্যিব এবং ইবনে সিরীন। তাঁদের স্তরে এমন কেউ ছিল না যারা মিথ্যার ওপর নির্ভর করত,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৪)
- د -
وإنما وجد فيهم، من تقع له أوهام وأغلاط، والضعفاء فيهم قليلون، فتكلم العلماء منهم في الواحد بعد الواحد ممن كان من دعاة المذاهب الخارجة والنحل الغالية
-وفي عصر أوساط التابعين، في أوائل القرن الثاني، وجد فيهم من الضعفاء مَن يقع منه رفع الموقوف ووقف المرفوع، ورواية المرسل، ومن يكثر خطؤه كأبي هارون عمارة بن جوَين العبدي
-وكثر في عصر صغار التابعين، في حدود الخمسين بعد المائة، ظهور الفرق السياسية، والعناصر الفلسفية، وازداد التعصب، فظهر الكذب، ولزم من ذلك أن يتكلم العلماء في الرجال، وأن يتسع النظر في الجرح والتعديل، خصوصاً وقد كثر بعد ذلك في أتباع التابعين، من يعتمد الكذب في عصرهم - فنظر شعبة، ومالك، ومعمر، وهشام الدّسْتَوائي. ثم ابن المبارك، وهشيم، وابن عيينة، ومن بعدهم، يحيى بن سعيد القطان وعبد الرحمن بن مهدي - وأول من جمع كلامه في ذلك: يحيى بن سعيد ثم تلامذته مثل يحيى بن مَعين وعلي بن المَدِيني، وأحمد بن حنبل، ثم تلامذتهم: كالبخاري ومسلم، وأبي زرعة، وأبي حاتم، ثم تلامذتهم: كالترمذي، والنسائي. إلى آخر عصر الرواية، في حدود الثلاثمائة
(1).
ودونت الكتب في هذا الفن، مع ما دون من العلوم في عصر التدوين، وتتابع العلماء في خدمة السنة وعلومها: حتى نضج علم الحديث، واحترق، ولم يبق لمتأخر كبير عناية في معرفة السنة، من العلماء، ومعرفة صحيحها من سقيمها، ونبه العلماء على مراتب ما اشتهر من الأحاديث، وميزوا المكذوب منها عن المقبول، غير أن بعض المتقدمين كان ينص على الحديث الموضوع، وينذِر مَن رواه لغير التعليم، بالعذاب الشديد في الآخرة، والنكال في الدنيا، كما كان من البخاري فإنه كتب على حديث موضوع: من حدث بهذا استوجب الضرب الشديد، والحبس الطويل. وروى بعض العلماء المحدثين شيئاً في كتبهم من الأحاديث الموضوعة: مثل أبي نُعَيم، والطبراني، وابن مَندة، والحكيم الترمذي، وأبي الليث السَمَرْقندي. من غير نص على
--------------------------------------------
- দ -
তবে তাদের মধ্যে এমন কিছু লোক পাওয়া যেত যাদের ভ্রান্তি ও ভুলভ্রান্তি ঘটত, আর তাদের মধ্যে দুর্বল বর্ণনাকারীর সংখ্যা ছিল খুবই কম। ফলে আলেমগণ তাদের মধ্য থেকে একে একে সেই সকল ব্যক্তিদের সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যারা বহিষ্কৃত মাযহাব ও চরমপন্থী দলসমূহের প্রচারক ছিল।
-এবং তাবেয়ীগণের মধ্যবর্তী যুগে, দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে, তাদের মধ্যে এমন কিছু দুর্বল বর্ণনাকারী পাওয়া যেত যাদের দ্বারা মৌকুফ হাদিসকে মারফু হিসেবে এবং মারফু হাদিসকে মৌকুফ হিসেবে বর্ণনা করার ঘটনা ঘটত, আর মুরসাল বর্ণনা এবং অধিক ভুল সংঘটিত হতো, যেমন আবু হারুন উমারা বিন জুয়াইন আল-আবদী।
-কনিষ্ঠ তাবেয়ীগণের যুগে, ১৫০ হিজরির কাছাকাছি সময়ে, রাজনৈতিক দল ও দার্শনিক মতবাদের উদ্ভব ঘটে এবং গোঁড়ামি বৃদ্ধি পায়, ফলে মিথ্যার প্রকাশ ঘটে। এ কারণেই আলেমদের জন্য রাবী বা বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আলোচনা করা এবং জারহ ও তাদীল (দোষ-গুণ বিচার) সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। বিশেষ করে এর পরে তাবে-তাবেয়ীগণের যুগে এমন লোক বেড়ে যায় যারা মিথ্যার ওপর নির্ভর করত। ফলে শু'বাহ, মালিক, মা'মার, হিশাম আদ-দাস্তাওয়াঈ, এরপর ইবনুল মুবারক, হুশাইম, ইবনে উয়ায়নাহ এবং তাদের পরবর্তী ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান ও আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী এ বিষয়ে দৃষ্টিপাত করেন। আর এই বিষয়ে যাঁর বক্তব্য প্রথম সংকলিত হয়েছে তিনি হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, এরপর তাঁর ছাত্রগণ যেমন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আলী ইবনুল মাদীনী এবং আহমাদ বিন হাম্বল। এরপর তাঁদের ছাত্রগণ যেমন বুখারী, মুসলিম, আবু যুরআহ এবং আবু হাতিম। তারপর তাঁদের ছাত্রগণ যেমন তিরমিযী ও নাসাঈ। এটি রেওয়ায়েত বা বর্ণনার যুগের শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ তিনশ হিজরি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল
(১)।
সংকলন যুগে অন্যান্য ইলমের সাথে এই শাস্ত্রের ওপরও কিতাবসমূহ রচিত হয়। সুন্নাহ ও এর সংশ্লিষ্ট ইলমসমূহের খিদমতে আলেমগণ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে গেছেন, এমনকি ইলমে হাদীস পরিপক্ক ও পূর্ণতা লাভ করে। ফলে পরবর্তী যুগের আলেমদের জন্য সুন্নাহর পরিচয় এবং এর সহীহ ও যয়ীফ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে বড় কোনো কাজ অবশিষ্ট থাকেনি। আলেমগণ প্রচলিত হাদীসসমূহের স্তর বর্ণনা করেছেন এবং গ্রহণযোগ্য বর্ণনা থেকে মিথ্যা বর্ণনাগুলোকে পৃথক করেছেন। তবে পূর্ববর্তী আলেমদের কেউ কেউ মাওজু (জাল) হাদীসের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে সতর্ক করতেন এবং যারা শিক্ষা প্রদান ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে তা বর্ণনা করত, তাদেরকে আখেরাতে কঠোর শাস্তি এবং দুনিয়াতে লাঞ্ছনার ভয় দেখাতেন। যেমনটি ইমাম বুখারী করেছিলেন; তিনি একটি জাল হাদীসের ওপর লিখেছিলেন: "যে ব্যক্তি এটি বর্ণনা করবে সে কঠোর প্রহার এবং দীর্ঘ কারাবাসের যোগ্য।" আবার কোনো কোনো মুহাদ্দিস আলেম তাঁদের কিতাবে কিছু জাল হাদীস বর্ণনা করেছেন, যেমন: আবু নুআইম, তাবারানী, ইবনে মান্দাহ, হাকীম তিরমিযী এবং আবু লাইস সমরকন্দী; তারা এগুলোর ওপর কোনো স্পষ্ট মন্তব্য না করেই তা বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৫)
- هـ -
وضعها، اعتماداً على معرفة الوضع من أسانيد ما ذكروه منها، فبذكر السند، يُعرف الوضع، وهذا يبرئ ذمتهم من العهدة على راوي الحديث لا عليهم
(1).
وأغلب ما وُجِدَت فيه الأحاديث الضعيفة والمكذوبة من المؤلفات: كتب المعاجم، والمسانيد المختفية، التي لم تشتهر عند العلماء، فبقيت بغير فحص لمتونها، ولم يتداولها الفقهاء في استنباطهم، فلم ينقدوها: مثل كتب الخطيب البغدادي وأبي نعيم والجُوْزقَاني، وابن عساكر، وابن النجار، والديلمي، والكثير من أحاديث هذه الكتب في كتاب الكامل لابن عدي، وكذلك كان كثير من الأحاديث، على ألسِنَة من لم يكتب المحدثون حديثه
(2)، من الوعاظ والمؤرخين، والصوفية، وأهل الأهواء، وقد خلط بعضها بأخبار بني إسرائيل، وكلام الحكماء، وأصبحت هذه الأحاديث، مصدرَ الاستشهاد لمذاهب أهل الزيغ والابتداع.
-غير أن العلماء قد فحصوا هذه الأحاديث، وكشفوا أستارها، وخلصوا الشريعة منها. وتحقق وعد اللَّه، فحُفظت السنة، وبحفظها حفظت أحكام القرآن. {إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون}. وتبين بالمؤلفات في الرجال الكذابين، وفي الأحاديث الموضوعة، مما يذكر في الكتب المدونة، أو يدور على ألسِنَة الناس، أعيانُ تلك الأحاديث، ولا يزال العلماء يتعقبون الروايات في كل عصر، مما يدور على ألسنة الناس ليحذروهم منها. وإليك بعض هذه المؤلفات في الأحاديث الموضوعة، وفيما اشتهر على ألسنة الناس منها ومن غيرها.
المؤلفات في الموضوعات:المؤلفات في الموضوعات على نوعين:
-النوع الأول ما قَصَد به مؤلفه، ذكر الرجال الكذابين والضعفاء، وذكرَ جملةٍ من الموضوعات لهم. وكتب هذا النوع
--------------------------------------------
- ৫ -
সেগুলো (জাল হাদীসসমূহ) তারা সন্নিবেশিত করেছেন বর্ণনাকারীদের সনদ থেকে জাল হওয়ার বিষয়টি জানার ওপর নির্ভর করে। কারণ সনদ উল্লেখ করার মাধ্যমে জাল হওয়ার বিষয়টি চেনা যায়। আর এটি মূল বর্ণনাকারীর ওপর দায়িত্ব অর্পণ করার মাধ্যমে তাঁদের (সংকলকদের) দায়মুক্ত করে দেয়, তাঁদের ওপর নয়
(১)।
রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে দুর্বল ও বানোয়াট হাদীস অধিকাংশ ক্ষেত্রে যেখানে পাওয়া যায় তা হলো: মু'জাম গ্রন্থসমূহ এবং অপ্রকাশিত মুসনাদসমূহ, যা আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। ফলে সেগুলোর মতন (মূল পাঠ) যাচাই করা ছাড়াই রয়ে গেছে এবং ফকীহগণ তাঁদের মাসআলা ইস্তিম্বাতের (উদ্ধারের) ক্ষেত্রে সেগুলো ব্যবহার করেননি, ফলে তাঁরা সেগুলোর সমালোচনাও করেননি। যেমন: খতীব বাগদাদী, আবু নুআইম, আল-জাওযাকানী, ইবনে আসাকির, ইবনুন্নজজার এবং দাইলামীর কিতাবসমূহ। এসব কিতাবের অনেক হাদীস ইবনে আদীর 'আল-কামিল' কিতাবে বিদ্যমান। অনুরূপভাবে অনেক হাদীস এমন ব্যক্তিদের মুখে প্রচলিত ছিল যাঁদের হাদীস মুহাদ্দিসগণ লিপিবদ্ধ করতেন না
(২), যেমন: ওয়ায়েজ (উপদেশদাতা), ইতিহাসবিদ, সূফী এবং প্রবৃত্তি পূজারিরা। এর কিছু অংশ বনী ইসরাঈলের সংবাদ এবং প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের বাণীর সাথে মিশ্রিত হয়ে গেছে। আর এই হাদীসগুলো ভ্রান্ত ও বিদআতী দলগুলোর মতাদর্শের স্বপক্ষে দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হতে শুরু করেছে।
তবে আলেমগণ এই হাদীসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, সেগুলোর রহস্য উন্মোচন করেছেন এবং শরীয়তকে সেগুলো থেকে মুক্ত করেছেন। ফলে আল্লাহর ওয়াদা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং সুন্নাহ সংরক্ষিত হয়েছে; আর সুন্নাহ সংরক্ষণের মাধ্যমেই কুরআনের বিধানসমূহ সংরক্ষিত হয়েছে। "নিশ্চয়ই আমিই উপদেশ (যিকর) নাযিল করেছি এবং আমিই তার সংরক্ষণকারী।" মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারী এবং জাল হাদীস বিষয়ক রচিত গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে ঐ সকল সুনির্দিষ্ট হাদীসগুলো স্পষ্ট হয়ে গেছে, যা সংকলিত কিতাবগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে কিংবা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত রয়েছে। আলেমগণ প্রতিটি যুগে মানুষের মুখে প্রচলিত বর্ণনাগুলো অনুসন্ধান করে চলেছেন যাতে তাঁরা মানুষকে সেগুলো সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন। নিম্নে জাল হাদীস এবং মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ হয়ে যাওয়া বিভিন্ন বর্ণনা বিষয়ক কিছু গ্রন্থের বিবরণ দেওয়া হলো।
জাল হাদীস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ:জাল হাদীস বিষয়ক গ্রন্থসমূহ দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: যেখানে লেখক মিথ্যাবাদী ও দুর্বল বর্ণনাকারীদের এবং তাদের মাধ্যমে বর্ণিত একগুচ্ছ জাল হাদীস উল্লেখ করার উদ্দেশ্য করেছেন। এই প্রকারের কিতাবসমূহ হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৬)
- و -
هي كتب الضعفاء، وكتب الجرح والتعديل. وهذا النوع صنيع المتقدمين من المحدثين، إذ الموضوع من الضعيف، لأنه شر أنواعه.
-النوع الثاني - ما قَصَد به مؤلفه ذكرَ الأحاديث الموضوعة والنصَّ على أعيانها، إما مطلقاً من غير التزام أحاديث كتابٍ معين أو أحاديث موضوع واحد وإما بالتزام ذلك فالموضوعات، على الإطلاق، هي ما عرفت بذلك، والخاص منها بكتاب معين، قد يفرد بالتأليف، وقد يبقى في كتب التخريج مع غيره، وهذا النوع صنيع المتأخرين من المحدثين
(1).
ولما كانت رواية الأحاديث الموضوعة، وشيوعها، واشتهارها، من غير نص على وضعها، سبباً في فساد الدين، وهي الآفة في شريعة المسلمين، عُني العلماء بالتدوين فيها، وكانت المرجع الهام، لمن يؤلف، في الأحاديث المشتهرة، والمددَ لمثل كتاب "المقاصد الحسنة" فإن ما اشتهر من الصحيح، فهو علمٌ يعمل به، وما اشتهر من الضعيف، إذا لم يشتد ضعفه، ولم يتعارض مع النص الصحيح فالعمل به جائز، والرواية له تجوز في الترغيب والترهيب، والمناقب ونحوها، فتعين الموضوع للاهتمام به، حتى لا يقع الرجل في وعيد كبيرةِ الكذب على الرسول صلى الله عليه وسلم، أو يدخل في دينه الابتداع والفضول. ولذا نكتب عن بعض هذه المؤلفات. مما كان منها من النوع الثاني، فإنه المهم والمقصود، وأما النوع الأول فبحثه في علم الرجال أليق.
-كتاب الموضوعات: لجمال الدين أبي الفرج، عبد الرحمن بن علي البغدادي المعروف بابن الجوزي، المتوفى سنة (597)، جَمَعَ فيه ما ورد من الموضوعات، في كتاب "الكامل" لابن عدي، والضعفاء لابن حبان، والضعفاء للعقيلي، والضعفاء لأبي الفتح الأزدي، وما في تفسير ابن مردويَه، ومعاجم الطبراني الثلاثة، والأفراد للدارقطني، وما في تصانيف الخطيب البغدادي، وابن شاهين ومصنفات أبي نعيم، وتاريخ الحاكم، وكتاب الأباطيل للجَوْزقاني. قال السخاوي: وفَاتَه من الموضوعات قدر ما كتب
(2). وابن الجوزي متساهل في الحكم على الحديث بالوضع في هذا الكتاب، وقد أورد فيه
--------------------------------------------
- ও -
সেগুলো হলো দুর্বল বর্ণনাকারীদের বিষয়ক গ্রন্থ এবং জারহ ও তা'দীল (বর্ণনাকারীদের দোষ-গুণ বিচার) বিষয়ক গ্রন্থ। এই পদ্ধতিটি পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসগণের রীতি, কেননা মাওদু' বা জাল হাদিস যয়ীফ বা দুর্বল হাদিসেরই অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি যয়ীফ হাদিসের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রকার।
-দ্বিতীয় প্রকার- যাতে লেখক মাওদু' হাদিসসমূহ উল্লেখ করা এবং সেগুলোর নির্দিষ্ট পরিচয় বর্ণনা করার সংকল্প করেন; তা কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের হাদিস কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের হাদিস হওয়ার বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সাধারণভাবে হোক, অথবা এই শর্তারোপের মাধ্যমেই হোক। সুতরাং সাধারণভাবে 'মাওদু'আত' বলতে সেই কিতাবগুলোই পরিচিত যা এই নামেই সংকলিত। আর কোনো নির্দিষ্ট কিতাবের জন্য নির্ধারিত মাওদু' হাদিসগুলো অনেক সময় পৃথকভাবে সংকলিত হয়, আবার অনেক সময় তা অন্যান্য হাদিসের সাথে তাখরিজ গ্রন্থসমূহেও থেকে যায়। এই পদ্ধতিটি পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিসগণের।
মাওদু' হাদিস বর্ণনা করা এবং জাল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট না করে সেগুলোর প্রচার ও প্রসার করা যেহেতু দ্বীনের বিকৃতির কারণ এবং এটি মুসলিমদের শরীয়তের জন্য একটি আপদ, তাই উলামায়ে কেরাম জাল হাদিস সংকলনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। যারা প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত হাদিসসমূহ নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেন, তাদের জন্য এগুলো গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়েছে এবং "আল-মাকাসিদুল হাসানা"-এর মতো কিতাবগুলোর জন্য এগুলো সহায়ক সামগ্রী হয়েছে। কেননা সহীহ হাদিসের মধ্যে যা প্রসিদ্ধ, তা এমন ইলম যা অনুযায়ী আমল করা হয়। আর যয়ীফ হাদিসের মধ্যে যা প্রসিদ্ধ, যদি তার দুর্বলতা অত্যন্ত প্রকট না হয় এবং সহীহ দলিলের পরিপন্থী না হয়, তবে তার ওপর আমল করা জায়েজ এবং তারগীব ও তারহীব (উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শন), ফাযায়েল এবং এ জাতীয় ক্ষেত্রে তা বর্ণনা করাও অনুমোদিত। তাই মাওদু' হাদিস শনাক্ত করার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য, যাতে কোনো ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপের সেই ভয়াবহ কবিরা গুনাহের সতর্কবাণীর অন্তর্ভুক্ত না হয়, অথবা দ্বীনের মধ্যে বিদ'আত ও অসার বিষয় প্রবিষ্ট না করে। এই কারণেই আমরা এই ধরণের কিছু সংকলন সম্পর্কে লিখছি। বিশেষত যেগুলো দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটিই আমাদের মূল উদ্দেশ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর প্রথম প্রকারের আলোচনা ইলমুর রিজাল বা বর্ণনাকারী বিষয়ক শাস্ত্রে হওয়াই অধিকতর সমীচীন।
-কিতাবুল মাওদু'আত: এটি জামালুদ্দিন আবুল ফারাজ আব্দুর রহমান ইবনে আলী আল-বাগদাদী, যিনি ইবনুল জাওযী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৫৯৭ হি.), তাঁর সংকলন। এতে তিনি ইবনে আদীর 'আল-কামিল', ইবনে হিব্বানের 'আদ-দু'য়াফা', উকাইলীর 'আদ-দু'য়াফা', আবুল ফাতহ আল-আযদি-র 'আদ-দু'য়াফা', ইবনে মারদুওয়াইহ-র তাফসীর, তাবারানীর তিনটি মু'জাম, দারা কুতনীর 'আল-আফরাদ', খতীব আল-বাগদাদীর রচনাবলী, ইবনে শাহীন ও আবু নুয়াইমের রচনাবলী, হাকেমের 'তারীখ' এবং জাওযাকানী-র 'আল-আবাতীল' কিতাবসমূহে বর্ণিত মাওদু' হাদিসগুলো একত্রিত করেছেন। সাখাভী বলেন: তিনি যতগুলো জাল হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন, সমপরিমাণ জাল হাদিস তাঁর সংকলন থেকে বাদ পড়ে গেছে। এই কিতাবে কোনো হাদিসকে জাল হিসেবে হুকুম দেওয়ার ক্ষেত্রে ইবনুল জাওযী শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন এবং তিনি এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৭)
- ز -
بعض الأحاديث التي أوردها في كتابه "العلل المتناهية في الأحاديث الواهية" وفي كتاب العلل أيضاً بعض ما أورده في الموضوعات. وأورد فيه بعض الأحاديث الصحيحة والضعيفة تساهلاً منه. قال ابن حجر العسقلاني: وتساهله وتساهل الحاكم أعدم النفع بكتابهما"- فقد ذكر المحدثون أن ابن الجوزي ذكر في كتابه، حديثاً من صحيح مسلم، وحديثاً من صحيح البخاري، رواية حماد بن شاكر وفيه من تعاليق صحيح البخاري، ومن كتاب خلق الأفعال له، وانتقد عليه الحافظ ابن حجر، في القول المسدد، أربعة وعشرين حديثاً، من مسند الإمام أحمد، وللسيوطي ذيل على القول المسدد، ذكر فيه أربعة عشر حديثاً أخرى، من مسند أحمد، وللسيوطي أيضاً، كتاب القول الحسن في الذب عن السنن، ذيل به الكتابين السابقين. ذكر فيه نيفاً وعشرين حديثاً ومائة حديث، ليست موضوعة منها أربعة أحاديث، في سنن أبي داود، وثلاثة وعشرون، في جامع الترمذي، وحديث في سنن النسائي، وستة عشر حديثاً في سنن ابن ماجه، ومنها ما هو في صحيح ابن حِبان، وسنن الدارمي ومستدرك الحاكم، وتصانيف البيهقي
(1). ولإبراهيم بن حسن الكوراني شرح على موضوعات ابن الجوزي - الأحاديث الموضوعة، التي يرويها العامة والقصاص على الطرقات - لمجد الدين عبد السلام بن تيمية، المتوفى سنة (652) الأحاديث الموضوعة لأبي العباس أحمد بن تيمية المتوفى سنة (728)، نقل عنها السيوطي، في ذيل اللآلئ - اللآلئ المصنوعة في الأحاديث الموضوعة - لجلال الدين السيوطي، تناول فيها مواد كتاب ابن الجوزي وزاد فيها، ما ورد في تاريخ ابن عساكر، وابن النجار، ومسند الفردوس للديلمي، وتصانيف أبي الشيخ، وحقق فيها ما تساهل فيه ابن الجوزي. وله عليها ذيل كبير، معروف بذيل اللآلئ، وله النكت البديعات، في التعقبات التي أوردها على ابن الجوزي.
-كتاب: تنزيه الشريعة المرفوعة، عن الأخبار الشنيعة الموضوعة - للعلامة المحدث المحقق، أبي الحسن علي بن محمد بن عراق الكناني، الشافعي، المتوفى سنة (963) وهو أكمل كتاب، في هذا الباب، جمع فيه مجموعات ابن الجوزي،
--------------------------------------------
- যা -
তিনি তাঁর "আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ ফিল আহাদিসিল ওয়াহিয়াহ" গ্রন্থে এবং "আল-ইলাল" গ্রন্থটিতেও এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যা তিনি মনগড়া হাদিস বিষয়ক গ্রন্থেও এনেছেন। শিথিলতাবশত তিনি এতে কিছু সহিহ এবং জইফ হাদিসও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইবনে হাজার আসকালানি বলেন: "তার এবং হাকিমের শিথিলতা তাদের কিতাবদ্বয় থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টিকে নষ্ট করে দিয়েছে।" মুহাদ্দিসগণ উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে জাওজি তাঁর কিতাবে সহিহ মুসলিম থেকে একটি হাদিস এবং হাম্মাদ বিন শাকিরের বর্ণনায় সহিহ বুখারি থেকে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। এতে সহিহ বুখারির মুয়াল্লাক বর্ণনা এবং তাঁর "খালাকু আফআলিল ইবাদ" গ্রন্থ থেকেও বর্ণনা রয়েছে। হাফেজ ইবনে হাজার "আল-কাউলুল মুসাদ্দাদ" গ্রন্থে ইমাম আহমদের মুসনাদ থেকে নেওয়া চব্বিশটি হাদিসের ব্যাপারে তাঁর সমালোচনা করেছেন। এবং "আল-কাউলুল মুসাদ্দাদ"-এর ওপর সুয়ুতির একটি পরিশিষ্ট রয়েছে, যেখানে তিনি মুসনাদে আহমদ থেকে আরও চৌদ্দটি হাদিস উল্লেখ করেছেন। সুয়ুতির "আল-কাউলুল হাসান ফিজ জাব্বি আনিস সুনান" নামক আরেকটি গ্রন্থ রয়েছে, যা তিনি পূর্বোক্ত কিতাবদ্বয়ের পরিশিষ্ট হিসেবে রচনা করেছেন। এতে তিনি একশ বিশটিরও বেশি হাদিস উল্লেখ করেছেন যেগুলো মনগড়া নয়; এর মধ্যে চারটি হাদিস সুনানে আবু দাউদে, তেইশটি জামি তিরমিজিতে, একটি সুনানে নাসায়িতে এবং ষোলোটি হাদিস সুনানে ইবনে মাজাহ-তে রয়েছে। এছাড়া কিছু হাদিস সহিহ ইবনে হিব্বান, সুনানে দারেমি, মুসতাদরাকে হাকিম এবং বায়হাকির সংকলনসমূহে বিদ্যমান
(১)। ইব্রাহিম বিন হাসান আল-কুরানি ইবনে জাওজির মনগড়া হাদিস বিষয়ক গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন। এছাড়া মাকদুদ্দিন আবদুস সালাম ইবনে তাইমিয়াহ (মৃত্যু ৬৫২ হি.)-এর রচিত "আল-আহাদিসুল মাওজুয়াহ" (সেসব মনগড়া হাদিস যা সাধারণ মানুষ ও গল্পকাররা রাস্তাঘাটে বর্ণনা করে) এবং আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়াহ (মৃত্যু ৭২৮ হি.)-এর "আল-আহাদিসুল মাওজুয়াহ" থেকেও সুয়ুতি তাঁর "জাইলুল লাআলি" গ্রন্থে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। জালালুদ্দিন সুয়ুতির "আল-লাআলিল মাসনুয়াহ ফিল আহাদিসুল মাওজুয়াহ" গ্রন্থে তিনি ইবনে জাওজির কিতাবের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাতে ইবনে আসাকির, ইবনে নাজ্জার, দাইলামির "মুসনাদুল ফিরদাউস" ও আবু শেখের সংকলনসমূহের বর্ণনা যুক্ত করেছেন এবং ইবনে জাওজি যেখানে শিথিলতা করেছেন সেখানে তিনি তাহকিক করেছেন। এর ওপর তাঁর একটি বড় পরিশিষ্ট রয়েছে যা "জাইলুল লাআলি" নামে পরিচিত। এছাড়া ইবনে জাওজির ওপর করা আপত্তিসমূহের খণ্ডনে তাঁর "আন-নুখাবুল বাদিআত" নামক গ্রন্থটিও রয়েছে।
-কিতাব: তানজিহুশ শারিয়াতিল মারফুয়াহ আনিল আখবারিশ শানিআতিল মাওজুয়াহ - এটি প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও গবেষক আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন ইরাক আল-কিনানি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু ৯৬৩ হি.) কর্তৃক রচিত। এটি এই বিষয়ের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ কিতাব, যাতে তিনি ইবনে জাওজির সংগ্রহসমূহ একত্রিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৮)
- ح -
والسيوطي، ورتبه على ترتيبهما، وأهداه للسلطان سليمان خان، ويعتبر هذا الكتاب خلاصة جميع الموضوعات، مع التحرير والإنصاف والتحقيق العلمي، والاستقراء التام، وقد حرك اللَّه الهمة لنشره وإحيائه. بطبعه وتصحيحه والتعليق عليه، مني ومن صديقي الأستاذ المحدث السيد عبد اللَّه بن محمد الصديق الغماري، فاشتركنا معاً في التعليق عليه، ومراجعة أصوله، بعد أن أحضرنا نسخاً متعددة منه لمراجعتها، ومن أهم هذه النسخ، نسخة تكرم بها محدث العصر، فضيلة السيد أحمد الصديق الغماري بعث بها من طنجة، ومحلاة ببعض تعاليقه، نسأل المعونة على إعداده وإتمامه، ونشره.
وهذا الكتاب: يزيد على كتاب السيوطي وابن الجوزي، ما جمعه فيه مؤلفه من كتاب العلل المتناهية لابن الجوزي، وتلخيصها للذهبي، وتلخيص موضوعات الجوزقاني للذهبي أيضاً، وما في الميزان للذهبي، وما في لسان الميزان، وتخريج أحاديث الكشاف، والمطالب العالية، وتسديد القوس، وزهر الفردوس: الخمسة للحافظ ابن حجر، وما في تخريج الإحياء الكبير للعراقي، والأمالي له، وتلخيص الموضوعات لابن درباس وغيرها
(1) ولذلك نقول: ما رواه عبَادان قرية.
كتاب الهبات السنَيات، في الأحاديث الموضوعات - والأسرار المرفوعة، في الأحاديث الموضوعة كلاهما لعلي بن سلطان القاري المتوفى سنة (1014).
الفوائد المجموعة، في الأحاديث الموضوعة - لأبي عبد اللَّه محمد الشامي الصالحي المتوفى سنة (942).
الفوائد المجموعة - للقاضي أبي عبد اللَّه الشوكاني اليمني المتوفى سنة (1250). وفيه بعض الأحاديث الصحيحة والحسنة، تقليداً للمتشددين في الموضوعات. كما ذكره عبد الحيّ اللكنوي،
--------------------------------------------
- হা -
এবং আল-সুয়ূতী; তিনি এটি তাঁদের বিন্যাস অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন এবং সুলতান সুলায়মান খানকে উপহার দিয়েছেন। এই বইটি সমস্ত মাউযু' (জাল) হাদীস বিষয়ক গ্রন্থের সারসংক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সম্পাদনা, ইনসাফ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার সাথে প্রস্তুত করা হয়েছে। আল্লাহ এটি প্রকাশ ও পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দীপনা জাগ্রত করেছেন—এর মুদ্রণ, সংশোধন এবং টীকা প্রদানের মাধ্যমে, আমার পক্ষ থেকে এবং আমার বন্ধু উস্তাদ মুহাদ্দিস সাইয়্যিদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আস-সিদ্দীক আল-গুমারী-এর পক্ষ থেকে। আমরা যৌথভাবে এর উপর টীকা প্রদান এবং এর মূল পাণ্ডুলিপিগুলো পর্যালোচনার কাজে অংশগ্রহণ করেছি, এর জন্য আমরা পর্যালোচনার নিমিত্তে একাধিক পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করার পর। এই পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই পাণ্ডুলিপিটি, যা বর্তমান যুগের মুহাদ্দিস ফজিলতুত শায়খ সাইয়্যিদ আহমদ আস-সিদ্দীক আল-গুমারী সৌজন্যমূলকভাবে দান করেছেন; তিনি এটি তাঞ্জিয়ার থেকে পাঠিয়েছিলেন এবং এটি তাঁর কিছু টীকা দ্বারা সুশোভিত। আমরা এটি প্রস্তুতকরণ, সম্পন্নকরণ এবং প্রকাশের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি।
আর এই বইটি: সুয়ূতী এবং ইবনুল জাওযীর কিতাবের তুলনায় বর্ধিত, কারণ এর লেখক এতে ইবনুল জাওযীর 'আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ', ইমাম যাহাবীর এর সংক্ষিপ্তসার (তালখীস) এবং জাওযাকানী-এর 'মাউযু'আত'-এর যাহাবী কৃত সংক্ষিপ্তসারও সংকলন করেছেন। আরও এতে আছে যাহাবীর 'মিযান', 'লিসানুল মিযান', এবং হাফেজ ইবনে হাজারের পাঁচটি কিতাব—'তাখরীজু আহাদিসিল কাশশাফ', 'আল-মাতালিবুল আলিয়া', 'তাসদীদুল কাউস', এবং 'যাহরুল ফিরদাউস' থেকে সংগৃহীত তথ্য। এছাড়া এতে ইরাকী-এর 'তাখরীজুল ইহয়াউল কাবীর', তাঁর 'আল-আমালী', ইবনে দিরবাস-এর 'তালখীসুল মাউযু'আত' এবং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য রয়েছে।
(১) আর এই কারণেই আমরা বলি: 'আবাদান যা বর্ণনা করেছে তা একটি জনপদ।'
কিতাব 'আল-হিবাতুস সানিয়্যাত ফিল আহাদিসিল মাউযু'আত' এবং 'আল-আসরারুল মারফু'আ ফিল আহাদিসিল মাউযু'আ'—উভয়টি আলী বিন সুলতান আল-কারী-এর রচনা, যিনি ১০১৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন।
'আল-ফাওয়াইদুল মাজমু'আ ফিল আহাদিসিল মাউযু'আ'—আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ আশ-শামী আস-সালেহী-এর রচনা, যিনি ৯৪২ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন।
'আল-ফাওয়াইদুল মাজমু'আ'—কাযী আবু আবদুল্লাহ আশ-শাওকানী আল-ইয়ামানী-এর রচনা, যিনি ১২৫০ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন। এতে কিছু সহীহ ও হাসান হাদীসও রয়েছে, যা জাল হাদীসের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বনকারীদের অনুকরণের ফলে ঘটেছে। যেমনটি আব্দুল হাই লাখনভী উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৯)
- ط -
المغني عن الحفظ والكتاب. بقولهم لم يصح شيء في هذا الباب - لضياء الدين، عمر بن بدر الموصلي الحنفي المتوفى سنة (623). وذكر السخاوي والسيوطي: أنَّ عليه مؤاخذات كثيرة في كل باب، وهو ملخصٌ من موضوعات ابن الجوزي
(1).
الدُّرر المصنوعات، في الأحاديث الموضوعات - لمحمد بن أحمد السّفّاريني الحنبلي من علماء القرن الثاني عشر. وهو مختصر من كتاب ابن الجوزي.
تذكرة الموضوعات - لمحمد بن طاهر الفَتَّني الهندي المتوفى سنة (986).
الآثار المرفوعة، في الأحاديث الموضوعة - لأبي الحسنات عبد الحي اللكنوي الهندي المتوفى سنة (1304).
اللؤلؤ المرصوع، فيما قيل لا أصل له، أو بأصله موضوع - لأبي المحاسن القاوقجي المتوفى سنة (1305).
تحذير المسلمين، من الأحاديث الموضوعة إلى سيد المرسلين - لأبي عبد اللَّه محمد البشير ظافر المالكي الأزهري المتوفى سنة (1325)، ويعتبر من الكتب التي كتبت في الأحاديث المشتهرة
(2).
ومن المؤلفات في الأحاديث الموضوعة في موضوع واحد: أحاديث المعراج الموضوعة، للفيشي - قلائد المرجان، في الحديث الوارد كذباً في الباذنجان، لإبراهيم بن محمد الناجي - أداء ما وجب، في بيان وضع الوضاعين، في رجب، لابن دحية أبي الخطاب الأندلسي - وهو في ضمن، تبيين العجب، في ما ورد من الأحاديث في رجب، للحافظ ابن حجر العسقلاني.
وكثير من المؤلفات في هذا الباب
(3)، جزى اللَّه العلماء العاملين، وخلفاء سيد المرسلين، بما أعدَّه سبحانه للصدّيقين، في أعلى عليين ..
--------------------------------------------
- ত -
আল-মুগনি আনিল হিফজি ওয়াল কিতাব: "এই অধ্যায়ে সহিহ কিছুই নেই" উক্তির মাধ্যমে - লিখেছেন জিয়াউদ্দীন উমর ইবন বদর আল-মাওসিলি আল-হানাফি, যিনি ৬২৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। সাখাবি এবং সুয়ুতি উল্লেখ করেছেন যে, এই কিতাবের প্রতিটি অধ্যায়ে অনেক আপত্তি বা সমালোচনা রয়েছে এবং এটি ইবনুল জাওযির 'মাওদুআত' কিতাবের সারসংক্ষেপ।
(১)আদ-দুরারুল মাসনুয়াত ফিল আহাদিসিল মাওদুয়াত - দ্বাদশ শতাব্দীর আলেম মুহাম্মদ ইবন আহমদ আস-সাফফারিনি আল-হাম্বলির রচিত। এটি ইবনুল জাওযির কিতাবের সংক্ষিপ্তসার।
তাযকিরাতুল মাওদুয়াত - মুহাম্মদ ইবন তাহির আল-ফাত্তানি আল-হিন্দি (মৃত্যু ৯৮৬ হিজরি) এর রচিত।
আল-আসারুল মারফুয়াহ ফিল আহাদিসিল মাওদুয়াহ - আবুল হাসানাত আব্দুল হাই লাখনভি আল-হিন্দি (মৃত্যু ১৩০৪ হিজরি) এর রচিত।
আল-লু'লু'উল মারসু, ফিমা কিলা লা আসলা লাহু আও বি-আসলিহি মাওদু - আবুল মাহাসিন আল-কাওয়ুকজি (মৃত্যু ১৩০৫ হিজরি) এর রচিত।
তাহযীরুল মুসলিমীন মিনাল আহাদিসিল মাওদুয়াহ ইলা সাইয়্যিদিল মুরসালীন - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-বাশির জাফির আল-মালিকি আল-আযহারি (মৃত্যু ১৩২৫ হিজরি) এর রচিত। এটি প্রচলিত হাদিসসমূহের ওপর লিখিত কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা হয়।
(২)একক বিষয়ের জাল হাদিস বিষয়ক কিছু রচনা হলো: আল-ফিশি রচিত 'আহাদিসুল মিরাজ আল-মাওদুয়াহ'; ইব্রাহিম ইবন মুহাম্মদ আন-নাজি রচিত বেগুন সম্পর্কে বর্ণিত মিথ্যা হাদিস বিষয়ক 'কালাইদুল মারজান'; ইবন দিহইয়া আবুল খাত্তাব আল-আন্দালুসি রচিত রজব মাসে জালকারিদের জালিয়াতি বর্ণনায় 'আদাউ মা ওয়াজাব' - এটি হাফেজ ইবন হাজার আল-আসকালানি রচিত 'তাবয়ীনুল আজাব ফিমা ওয়ারাদা মিনাল আহাদিসি ফি রজব' গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
এই বিষয়ে আরও অনেক রচনা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমলকারী আলেমদের এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উত্তরসূরিদের সেই প্রতিদান দান করুন যা মহান আল্লাহ সত্যবাদীদের জন্য সর্বোচ্চ 'ইল্লিয়্যিন'-এ প্রস্তুত করে রেখেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ১০)
- ي -
ولتمام الفائدة مما قصدنا نذكر طائفة من الكتب المشتهرة في عصرنا هذا، وهي مشحونة بالموضوعات، من الإسرائيليات، وغيرها فمن ذلك:
كتب الواقدي - كفتوح الشام وغيره - تفسير ابن عباس، المروي من طريق الكذّابين، كالكلبي والسُّدِّي، ومقاتل، كما ذكره السيوطي - نزهة المجالس، ومنتخب النفائس للصفّوري، فإنه مشحون بالموضوعات، وبما لا أصل له من الحكايات - وقصص الأنبياء للثعلبي - ودرة الناصحين، للخوبَوِي - وبدائع الزهور، في وقائع الدهور، لابن إياس، وأخباره إسرائيلية - والروض الفائق، في المواعظ والرقائق، للحريفيش، كما ذكره البيروتي - وكثير من ذلك. في كتب المناقب - وفضائل البلدان وكتب الملاحم، والخواص الطبية والروحانية
(1).
المؤلفات في الأحاديث المشتهرة:الحديث المشهور عند المحدثين، هو ما رواه ثلاثة فأكثر ما لم يبلغ حد التواتر، وهو المستفيض عند جماعة من الأصوليين والفقهاء وبعض المحدثين. ويطلق أيضاً على: ما اشتهر على الألسنة مطلقاً، ولو كان له إسناد واحد، أو كان لا إسناد له. والشهرة على هذا النحو لا يلزم منها، صحة الحديث أو ضعفه وقد ألف فيها العلماء: لحاجة الناس إليها، لما ذكرناه في أسباب تدوين الأحاديث الموضوعة، سابقا. وفيها من المؤلفات:
التذكرة، في الأحاديث المشتهرة. لبدر الدين الزركشي المتوفى سنة (794) هـ - والدُّرر المنتثرة، في الأحاديث المشتهرة، للسيوطي، لخص فيه تذكرة الزركشي، وزاد عليها كثيراً - واللآلئ المنثورة، في الأحاديث المشهورة، مما ألِفَهُ الطبع، وليس له أصل في الشرع. للحافظ ابن حجر العسقلاني، المتوفى سنة (852) هـ - والبدر المنير، في غريب أحاديث البشير النذير، لعبد الوهاب بن أحمد الشعراني، المتوفى سنة (973)، انتخبها من جامع السيوطي، والمقاصد الحسنة، ورتبها على حروف المعجم، وفيها نحو ثلاثمائة وألفي حديث - كشف الالتباس، فيما خفي على كثير من الناس، ذكر البشير ظافر. أن مؤلفه: عز الدين الخليلي من
--------------------------------------------
- ইয়া -
যাতে আমরা যা উদ্দেশ্য করেছি তার পূর্ণ ফায়দা অর্জিত হয়, তাই আমরা আমাদের এই যুগে প্রচলিত এমন একদল কিতাবের কথা উল্লেখ করছি, যা ইসরাঈলী বর্ণনা ও অন্যান্য জাল বর্ণনায় ভরপুর। এর মধ্যে রয়েছে:
ওয়াকিদীর গ্রন্থসমূহ - যেমন ফুতুহুশ শাম এবং অন্যান্য - ইবনে আব্বাসের তাফসীর, যা কালবী, সুদ্দী ও মুকাতিলের মতো মিথ্যাবাদীদের সূত্রে বর্ণিত, যেমনটি সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন - সাফফুরীর 'নুজহাতুল মাজালিস ওয়া মুনতাখাবুন নাফাইস', কারণ এটি জাল বর্ণনা এবং ভিত্তিহীন কাহিনীতে ভরপুর - সা'লাবীর 'কাসাসুল আম্বিয়া' - খুবাবীর 'দুররাতুন নাসিহীন' - ইবনে ইয়াসের 'বাদাইউয যুহুর ফী ওয়াকাইইদ দুহুর', যার সংবাদগুলো ইসরাঈলী বর্ণনা - হুরায়ফীশের 'আর-রাওযুল ফাইক ফিল মাওয়ায়িয ওয়ার রাকাইক', যেমনটি বায়রূতী উল্লেখ করেছেন - এবং এই ধরনের আরও অনেক কিতাব। বিশেষ করে মানাকিব (মর্যাদা), বিভিন্ন শহরের ফযীলত, মালাহিম (যুদ্ধবিগ্রহের ভবিষ্যদ্বাণী), এবং চিকিৎসীয় ও আধ্যাত্মিক গুণাগুণ বিষয়ক গ্রন্থাবলীতে এ জাতীয় বর্ণনা অনেক রয়েছে
(১)।
প্রচলিত হাদীস বিষয়ক গ্রন্থাবলি:মুহাদ্দিসগণের নিকট 'মাশহুর' (প্রসিদ্ধ) হাদীস হলো যা তিন বা ততোধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, যতক্ষণ না তা 'মুতাওয়াতির'-এর স্তরে পৌঁছায়। একদল উসূলবিদ, ফকীহ এবং কিছু মুহাদ্দিসের নিকট এটিই 'মুস্তাফীয' হিসেবে পরিচিত। এটি এমন হাদীসের ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় যা মানুষের মুখে মুখে প্রসিদ্ধ, চাই তার একটি মাত্র সনদ থাকুক বা কোনো সনদই না থাকুক। এই ধরনের প্রসিদ্ধি হাদীসটি সহীহ বা যয়ীফ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আবশ্যকতা তৈরি করে না। জাল হাদীস সংকলনের যেসব কারণ আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, সেই প্রয়োজনেই আলিমগণ মানুষের প্রয়োজনে এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
বদরুদ্দীন যারকাশী (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরী) রচিত 'আত-তাযকিরাহ ফিল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ' - সুয়ূতী রচিত 'আদ-দুরারুল মুনতাছিরাহ ফিল আহাদীসিল মুশতাহিরাহ', যাতে তিনি যারকাশীর 'তাযকিরাহ' সংক্ষেপ করেছেন এবং তাতে অনেক কিছু যোগ করেছেন - হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হিজরী) রচিত 'আল-লাআলীল মানসূরাহ ফিল আহাদীসিল মাশহুরাহ', যা মানুষের মুখে প্রচলিত হলেও শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই - আব্দুল ওয়াহহাব বিন আহমদ শারানী (মৃত্যু ৯৭৩ হিজরী) রচিত 'আল-বাদরুল মুনীর ফী গারীবী আহাদীসিল বাশীরিন নাযীর', যা তিনি সুয়ূতীর 'জামে' এবং 'মাকাসিদুল হাসানাহ' থেকে নির্বাচন করেছেন এবং বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন, এতে প্রায় তেইশ শ হাদীস রয়েছে - বাশীর জাফির উল্লেখ করেছেন যে, 'কাশফুল ইলতিবাস ফীমা খাফিয়া আলা কাসীরিন মিনান নাস' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন ইযযুদ্দীন আল-খালীলী...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ১১)
- ك -
علماء القرن الحادي عشر. وذكر ابن جعفر الكتاني، أنه: تسهيل السبيل إلى كشف الالتباس، ومؤلفه عز الدين محمد بن أحمد الخليلي، المدني القادري الشافعي، المتوفى سنة (1057) - الغمّاز، على اللمّاز، لأبي الحسن نور الدين السمهودي المتوفى سنة (911) كما ذكره البشير ظافر والكناني - الدرة اللامعة، في بيان كثير من الأحاديث الشائعة. ذكر الكتاني، أنها مختصر المقاصد الحسنة، ولم يذكر مؤلفها، ونسبها البشير ظافر، إلى أحمد بن محمد بن عبد السلام المتوفى - إتقان ما يَحُسن، من الأحاديث الدائرة على الألسن، لنجم الدين، محمد بن محمد الغَزي العامري الشافعي، المتوفى سنة (985)، جمع فيه بين كتاب الزركشي وكتاب السيوطي والمقاصد الحسنة، وزيادات حسنة عليها. كشف الخفا، ومزيل الإلباس، عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس، للشيخ إسماعيل بن محمد الُعْجلوني، الشهير بالجَرّاحي، المتوفى سنة (1162) - النوافح العطرة، في الأحاديث المشتهرة، للقاضي محمد بن أحمد بن جار اللَّه مشحم الصُّعدي الصنعاني، المتوفى سنة (1223)، جمع فيه، الدرر للسيوطي، ومختصر المقاصد للزرقاني، وللديبع، وزاد عليهما كثيراً - تحذير المسلمين، من كثير من الأحاديث الموضوعة على سيد المرسلين، لمحمد البشير ظافر الأزهري، وهي في الموضوعات المشهورات، وفيها مقدمة نافعة - أسنى المطالب، في أحاديث مختلفة المراتب، لأبي عبد اللَّه، محمد بن درويش، الحوت البيروتي، جمعها ولده أبو زيد عبد الرحمن - ومن أهم الكتب المؤلفة في هذا الباب، كتاب الحافظ السخاوي، الذي سنفرد الكتابة عليه، لمزيد شأنه
(1).
المقاصد الحسنة:للسخاوي في هذا الباب، المقاصد الحسنة، في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة. وهو كتاب جامع، وفيه من الصناعة الحديثية ما ليس في غيره، والنّكَات العلمية ما خلا منه غيره
(2)، مع التحرير والإتقان، قال ابن العماد الحنبلي
(3): وهو أجمع من كتاب السيوطي المسمى بالدرر المنتثرة، في الأحاديث
--------------------------------------------
- কাফ -
একাদশ শতাব্দীর আলেমগণ। ইবনে জাফর আল-কাত্তানি উল্লেখ করেছেন যে: 'তাসহিলুস সাবিল ইলা কাশফিল ইলতিবাস', এর লেখক হলেন ইযযুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-খালিজি আল-মাদানি আল-কাদরি আশ-শাফেয়ি, যিনি (১০৫৭) হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন। আবু হাসান নূরুদ্দীন আস-সামহুদি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) রচিত 'আল-গাম্মায আলাল লাম্মায', যেমনটি বাশির যাফির এবং আল-কিনানি উল্লেখ করেছেন। 'আদ-দুররাতুল লামিয়াহ ফি বায়ানিন কাথিরিন মিনাল আহাদিসিশ শায়িয়াহ'। আল-কাত্তানি উল্লেখ করেছেন যে, এটি 'মাকাসিদুল হাসানাহ'র সারসংক্ষেপ, তবে তিনি এর লেখকের নাম উল্লেখ করেননি। আর বাশির যাফির এটি আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুস সালাম (যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন) এর দিকে নেসবত করেছেন। নাজম উদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাযযি আল-আমিরি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু ৯৮৫ হিজরি) রচিত 'ইতকানু মা ইয়াহসুন মিনাল আহাদিসিদ দাইরাতি আলাল আলসুন', এতে তিনি যারকাশি ও সুয়ুতির কিতাব এবং 'মাকাসিদুল হাসানাহ'র মধ্যে সমন্বয় করেছেন এবং তাতে উত্তম কিছু সংযোজন করেছেন। শায়খ ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ আল-আজলুনি (যিনি আল-জাররাহি নামে খ্যাত, মৃত্যু ১১৬২ হিজরি) রচিত 'কাশফুল খাফা ওয়া মুযিলুল ইলবাস আম্মাশ তাহারা মিনাল আহাদিসি আলা আলসিনাতিন নাস'। কাজী মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন জারুল্লাহ মুশাহহাম আস-সু'দি আস-সানআনি (মৃত্যু ১২২৩ হিজরি) রচিত 'আন-নাওয়াফিহুল আতিরাহ ফিল আহাদিসিল মুশতাহিরাহ', এতে তিনি সুয়ুতির 'আদ-দুরার', যারকানি ও দাইবা'র সংক্ষেপিত সংকলনগুলোকে একত্রিত করেছেন এবং তাতে প্রচুর পরিবর্ধন করেছেন। মুহাম্মদ বাশির যাফির আল-আযহারি রচিত 'তাহযিরুল মুসলিমিন মিন কাথিরিন মিনাল আহাদিসিল মাউদু'আতি আলা সাইয়্যিদিল মুরসালিন', এটি প্রসিদ্ধ জাল হাদিসসমূহ নিয়ে রচিত এবং এতে একটি উপকারী ভূমিকা রয়েছে। আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন দারবিশ আল-হুত আল-বাইরুতি রচিত 'আসনা আল-মাতালিব ফি আহাদিসিন মুখতালিফাতিল মারাতিব', যা তাঁর পুত্র আবু যায়িদ আব্দুর রহমান সংকলন করেছেন। এই বিষয়ে রচিত কিতাবগুলোর মধ্যে হাফেজ সাখাওয়ির কিতাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার বিশেষ মর্যাদার কারণে আমরা এটি সম্পর্কে স্বতন্ত্রভাবে লিখব
(১)।
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ:সাখাওয়ির এই বিষয়ে 'আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফি বায়ানি কাথিরিন মিনাল আহাদিসিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাতি' নামক একটি কিতাব রয়েছে। এটি একটি জামে বা সংকলনমূলক গ্রন্থ। এতে হাদিস শাস্ত্রের এমন কারিগরি দক্ষতা বিদ্যমান যা অন্য কিতাবগুলোতে নেই এবং এতে এমন সব ইলমি সূক্ষ্মতা রয়েছে যা অন্যগুলো থেকে অনুপস্থিত
(২), সেই সাথে এটি অত্যন্ত নিখুঁত ও পরিপক্ক। ইবনুল ইমাদ আল-হানবালি
(৩) বলেন: এটি সুয়ুতির 'আদ-দুরারুল মুনতাসিরাহ' নামক কিতাব অপেক্ষা অধিক হাদিস সমৃদ্ধ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ১২)
- ل -
المشتهرة، وفي كل منهما ما ليس في الآخر. ولذا أصبح محط أنظار العلماء، فتناولوه بالدرس، والاختصار. فاختصره: أبو الحسن، علي بن محمد المنوفي المالكي، المتوفى سنة (939). من تلاميذ السيوطي، في كتابه المسمى "بالوسائل السنية من المقاصد السخاوية"، والجامع، والزوائد الأسيوطية، ولعلها اشتبهت بالدرة اللامعة، التي سبق ذكرها، والتي نسبها البشير ظافر إلى أحمد بن محمد المنوفي، ولكنها لعلي بن محمد المنوفي هذا، ولم تشتهر بهذا الاسم، فلم ينسبها صاحب الرسالة المستطرفة إلى مؤلف معلوم له.
هذا، وما زالت المقاصد الحسنة، مرجع العلماء المحققين، ولن تزال كذلك، لتحرير أحكامها وحسن نظامها، فعم الانتفاع بها، وذلك دلالة على حسن مقاصد السخاوي، جزاه اللَّه جزاء العاملين، وأجرى عليه ثواب المنتفعين.
ومما زادها حسناً، ما حباها اللَّه من الفضل، بتعليق العلامة المحدث أبي الفضل. العبقري الشيخ عبد اللَّه بن محمد الصديق الغماري، فله على الكتاب تعليقات وتحريرات، ومكملات، واستدراكات، أكملت النفع بالكتاب، وفضيلة الأستاذ المحدث، قد وهبَ قريحة وقادة وحافظة واعية، وبصيرة نفاذة. قلما تجد في هذا الباب مثلَه، أو عبقرياً يفري فَرْيَه، وسترى، فيما يمر عليك من تعليقاته، أنه حرر ما فات المؤلفَ تحريره، وأكمل ما بيض له المصنف، وزاد ما لم يطبع في النسخة المطبوعة في الهند، من أصل كان يملكه المرتضى الزبيدي وعليه خطه، وأزال الشكوك والأغاليط التي كانت تعترض القارئ، من رداءة الطباعة الحجرية الهندية، وإليك أمثلة توضح لك مجهوده، وتوضح لك مزايا هذه الطبعة الجديدة، مما يستحق به الشاب النجيب، السيد محمد نجيب الخانجي، كثير الشكر والثناء، لقيامه بإعادة طبع هذا الكتاب - فمن ذلك. أنه استدرك على المصنف في حديث الأبدال رقم (8). حديثاً من رواية أبي داود السجستاني في سننه وهو على شرط الصحيحين، وبه يتغير الحكم على الحديث ويصير صحيحاً لا ضعيفاً كما ذكره المؤلف - وحديث في آداب الأكل بيض له المصنف، ولم يتكلم عليه وهو رقم (54) فتكلم عليه الأستاذ - وحديث، في خطبة الجمعة، جهل المصنف أمره، ولم
- ল -
প্রসিদ্ধ, এবং এর প্রত্যেকটিতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্যটিতে নেই। এই কারণে এটি আলেমদের দৃষ্টির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, ফলে তারা এটি অধ্যয়ন করেছেন এবং সংক্ষেপ করেছেন। ইমাম সুয়ূতী (রহ.)-এর অন্যতম ছাত্র আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ আল-মানুফী আল-মালিকী (মৃত্যু ৯৩৯ হি.) এটি সংক্ষেপ করেছেন। তার এই সংক্ষিপ্তকরণের নাম হলো ‘আল-ওয়াসায়িলুস সুন্নিয়্যাহ মিনাল মাকাসিদিস সাখাওইয়্যাহ’, ‘আল-জামি’ এবং ‘আয-যাওয়ায়েদুল আসয়ুত্বিয়্যাহ’। সম্ভবত এটি ‘আদ-দুররাতুল লামিয়াহ’ গ্রন্থের সাথে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে, যার কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বশির যফির যা আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মানুফীর দিকে নিসবত করেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি এই আলী বিন মুহাম্মদ আল-মানুফীরই কাজ, তবে এটি এই নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেনি। ফলে ‘আর-রিসালাতুল মুসতাত্বরিফাহ’ এর লেখক এটি কোনো সুনির্দিষ্ট লেখকের দিকে নিসবত করেননি।
যাই হোক, ‘আল-মাকাসিদুল হাসানাহ’ মুহাক্কিক আলেমদের কাছে সবসময়ই একটি নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে গণ্য ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এর কারণ হলো এর সিদ্ধান্তসমূহের সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ এবং চমৎকার বিন্যাস। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত উপকারিতা সর্বজনীন হয়েছে, যা ইমাম সাখাওয়ীর নিয়তের বিশুদ্ধতারই প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ তাকে একনিষ্ঠ আমলকারীদের অনুরূপ প্রতিদান দান করুন এবং যারা এর দ্বারা উপকৃত হচ্ছেন তাদের সওয়াব তার আমলনামায় জারি রাখুন।
এই গ্রন্থের সৌন্দর্য ও উপযোগিতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে আল্লাহ প্রদত্ত সেই অনুগ্রহের মাধ্যমে, যা হলো আল্লামা মুহাদ্দিস আবুল ফযল, অনন্য প্রতিভার অধিকারী শায়খ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আস-সিদ্দীক আল-গুমারী (রহ.)-এর টীকা সংযোজন। এই গ্রন্থের ওপর তার গুরুত্বপূর্ণ টীকা, বিশ্লেষণ, পরিপূরক আলোচনা ও সংশোধনী রয়েছে, যা গ্রন্থটির উপযোগিতাকে পূর্ণতা দান করেছে। এই ফযীলতপূর্ণ উস্তাদ ও মুহাদ্দিস এক প্রখর মেধা, তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী ছিলেন। এই শাস্ত্রে তার মতো দ্বিতীয় কাউকে বা তার সমকক্ষ কোনো অনন্য প্রতিভাকে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আপনি যখন তার টীকাগুলো পড়বেন, তখন দেখতে পাবেন যে, তিনি এমন সব বিষয় বিশ্লেষণ করেছেন যা মূল লেখকের অগোচরে ছিল। মূল লেখক যে জায়গাগুলো শূন্য রেখেছিলেন, তিনি তা পূর্ণ করেছেন। ভারতের মুদ্রিত সংস্করণে যা মুদ্রিত হয়নি, তিনি তা আল-মুরতাদা আয-যাবিদীর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পাণ্ডুলিপি (যাতে তার নিজ হাতের লেখা ছিল) থেকে সংযোজন করেছেন। এছাড়া ভারতের নিম্নমানের লিথোগ্রাফি মুদ্রণের কারণে পাঠকদের সামনে যেসব সংশয় ও ভুলভ্রান্তি আসত, তিনি তা দূর করেছেন। এখানে শায়খের শ্রমের কিছু উদাহরণ এবং এই নতুন সংস্করণের বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরা হলো, যার জন্য মেধাবী যুবক জনাব মুহাম্মদ নাজিব আল-খাঞ্জী অশেষ কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসার দাবিদার—কারণ তিনি এই কিতাবটি পুনরায় মুদ্রণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে একটি হলো: তিনি ৮ নম্বর হাদিস অর্থাৎ ‘আবদাল’ সংক্রান্ত হাদিসের ক্ষেত্রে মূল লেখকের ওপর সংশোধনী এনেছেন। তিনি ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানী (রহ.)-এর সুনান থেকে এমন একটি হাদিস উদ্ধৃত করেছেন যা বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী। এর মাধ্যমে হাদিসটির হুকুম পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং এটি লেখকের বর্ণনানুযায়ী ‘যয়ীফ’ বা দুর্বল না হয়ে ‘সহীহ’ বা বিশুদ্ধ সাব্যস্ত হয়। এছাড়া খাওয়ার আদব সংক্রান্ত ৫৪ নম্বর হাদিসটি মূল লেখক কোনো মন্তব্য ছাড়াই রেখে দিয়েছিলেন, শায়খ সেটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। জুমুআর খুতবা বিষয়ক একটি হাদিসের ব্যাপারে লেখক সম্যক অবগত ছিলেন না এবং তিনি...
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
- م -
يجده، فأثبته الأستاذ المحدث من تاريخ واسط وهو رقم (72) - وحديث نقص من المطبوعة، فأكمله الغماري من نسخة مخطوطة يملكها الزبيدي وعليها خطه، وهو حديث، في النية رقم 119. وكثير من ذلك
(1)، أجزل اللَّه له الثواب ونفع بالكتاب.
ترجمة الحافظ السخاوي: هو أبو الخير وأبو عبد اللَّه، محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن أبي بكر الملقب بشمس الدين، السخاوي الأصل، القاهري المولد والنشأة، الشافعي المذهب، الإمام شيخ الإسلام، وحافظ العصر، ومفتي المسلمين، المؤرخ المحقق، النسابة العمدة، الرحالة الناقد، وارث علوم الأنبياء، الفرد الفريد، وبيت القصيد - ينسب لسَخَا - وهى قرية غربيّ الفسطاط بمصر - بلد آبائه، وهو مولود بالقاهرة، بحارة بهاء الدين، بجوار مدرسة البُلقيني، في شهر ربيع الأول من سنة إحدى وثلاثين وثمانمائة، وتحول منها إلى سكن بجوار الحافظ أحمد بن حجر العسقلاني، عند بلوغه الرابعة من عمره، ودخل المكتب، فحفظ القرآن، وجوده، وحفظ كثيراً من المئون، وقرأ وسمع وقابل الشيوخ، وروى عن العلماء وحمل عنهم كثيراً، ولازم شيخه حافظ الدنيا أحمد بن حجر، وظهرت عبقريته، حتى شهد له شيخه بأنه أمثل جماعته
(2) ورحل إلى البلاد المصرية، والحجازية، وإلى حلب، وحماة، وبعلبك، ودمشق. يروي عن علماء هذه البلاد، وتلك الأمصار، ويعقد مجالس الإملاء، ويحدث بمروياته ومؤلفاته، وبرع في العلوم النقلية والعقلية، وشهد له العلماء: من شيوخه وأقرانه، بأنه حجه وإمام وحافظ، وولَى قراءة الحديث في كثير من المدارس المصرية، وانتهت إليه رياسة علم الحديث، وعلم التاريخ، وصنف كثيراً من المصنفات في علوم الحديث والتاريخ، كانت مرجع العلماء وأهل التخصص، ولم ينازعه أحد في إمامة علماء الجرح والتعديل، ونقد الرجال، لما حصله من تلك العلوم، بالرحلة ولقاء الشيوخ، وملازمة الحافظ ابن حجر، حتى أصبح وارث علمه، ولم يغمط السخاوي حقه إلا منافس، حاسد مما يكون عادة بين المعاصرين.
--------------------------------------------
- ম -
সেটি পাননি, ফলে মুহাদ্দিস উস্তাদ এটি 'তারিখে ওয়াসিত' (নং ৭২) থেকে সাব্যস্ত করেছেন এবং মুদ্রিত কপি থেকে একটি হাদিস বাদ পড়েছিল, যা গুমারী জুবাইদীর মালিকানাধীন এবং তাঁর হস্তাক্ষরযুক্ত একটি পাণ্ডুলিপি থেকে পূর্ণ করেছেন, আর এটি নিয়ত অধ্যায়ের ১১৯ নং হাদিস। এমন আরও অনেক কিছু রয়েছে
(১), আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং এই কিতাব দ্বারা উপকৃত করুন।
হাফেজ সাখাবীর জীবনী: তিনি হলেন আবুল খায়ের এবং আবু আব্দুল্লাহ, মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আবি বকর, যাঁর উপাধি শামসুদ্দিন। তিনি মূলত সাখাবী, কায়রোতে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা, মাযহাবে শাফেয়ী, ইমাম, শায়খুল ইসলাম, যুগের হাফেজ, মুসলিমদের মুফতি, গবেষক ইতিহাসবিদ, নির্ভরযোগ্য বংশগতিবিদ, পর্যটক সমালোচক, নবীদের ইলমের উত্তরাধিকারী এবং অনন্য এক ব্যক্তিত্ব। তিনি সাখাওয়াতের (সাখা) সাথে সম্বন্ধযুক্ত—যা মিশরের ফুস্তাতের পশ্চিমে অবস্থিত একটি গ্রাম—তাঁর পিতৃপুরুষের দেশ। তিনি কায়রোর বাহাউদ্দিন পাড়ায় বুলকিনি মাদ্রাসার পাশে ৮৩১ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। চার বছর বয়সে পৌঁছালে তিনি সেখান থেকে হাফেজ আহমদ বিন হাজার আসকালানীর পাশের একটি বাসস্থানে চলে যান। তিনি মক্তবে প্রবেশ করে কুরআন হিফজ ও তাজবিদ সম্পন্ন করেন এবং অনেকগুলো ক্ষুদ্র গ্রন্থ (মুতুন) মুখস্থ করেন। তিনি পাঠ করেছেন, শ্রবণ করেছেন এবং উস্তাদদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি উলামায়ে কেরাম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি দুনিয়ার হাফেজ আহমদ বিন হাজারের সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে থাকেন এবং তাঁর প্রতিভা এমনভাবে বিকশিত হয় যে, তাঁর উস্তাদ সাক্ষ্য দেন যে তিনি তাঁর সহপাঠীদের মধ্যে সর্বোত্তম
(২)। তিনি মিশরীয় ও হিজাজী ভূখণ্ডে এবং আলেপ্পো, হামাত, বালবাক ও দামেস্কে সফর করেন। তিনি এসব দেশের এবং জনপদগুলোর আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন, ইমলার (শ্রুতলিখন) মজলিস কায়েম করেছেন এবং তাঁর বর্ণিত ও রচিত গ্রন্থসমূহ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি নকলি (উৎস ভিত্তিক) ও আকলি (যুক্তি ভিত্তিক) উভয় শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তাঁর উস্তাদ এবং সমসাময়িক আলেমগণ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি একজন হুজ্জাত (প্রমাণ), ইমাম এবং হাফেজ। তিনি মিশরের বহু মাদ্রাসায় হাদিস পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন এবং হাদিস শাস্ত্র ও ইতিহাস শাস্ত্রের নেতৃত্ব তাঁর ওপর এসে পৌঁছে। তিনি হাদিস ও ইতিহাস শাস্ত্রে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা আলেম ও বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রধান উৎস হিসেবে গণ্য হয়। 'জারহ ও তাদিল' এবং 'রিজাল' শাস্ত্রের ইমামতির ক্ষেত্রে কেউ তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি, কারণ তিনি দেশভ্রমণ, শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ এবং হাফেজ ইবনে হাজারের দীর্ঘ সান্নিধ্যের মাধ্যমে এসব জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, এমনকি তিনি তাঁর ইলমের উত্তরাধিকারী হয়ে উঠেছিলেন। সমসাময়িকদের মধ্যে সচরাচর বিদ্যমান কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা হিংসুক ব্যতীত আর কেউ সাখাবীর প্রাপ্য সম্মানকে খাটো করে দেখেনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
- ن -
دراساته الأولى:بعد أن حفظ القرآن، قرأه بالقراءات على جماعة من العلماء، كالزيني رضوان العقبي، والشهاب السكندري، وجعفر السنهوري. ثم حفظ كثيراً من كتب الفقه والحديث وعلوم العربية، فحفظ عمدة الأحكام، والتنبيه، والمنهاج الأصلي والنخبة وشرحها وألفية الزين العراقي، وألفية ابن مالك، وغالب الشاطبية، ومقدمة الساوي في العروض. وغير ذلك، وكان كلما حفظ كتاباً عرضه على شيوخ عصره. مثل المحب بن نصر اللَّه البغدادي الحنبلي، والشمس ابن عمار المالكي، والجمال عبد اللَّه الزيتوني، وغيرهم
(1).
ثم قرأ التنبيه على الشمس الونائي، والشمس الشنشي، وابن خضر. وأخذ الفقه عن العَلَم صالح البلقيني، ودرس عليه الروضة والمنهاج. ودرس المهذب على الزين البوتيجي، ودرس بعض شرح الحاوي على شيخه ابن حجر، وحضر كثيراً من دروس التقي الشمني في الأصلين والمعاني والبيان: وأخذ الفرائض والحساب، وعلم الميقات: عن الشهاب ابن المجدي، والأصول على الكمال إمام الكاملية. وأخذ الصرف والمنطق عن العز عبد السلام البغدادي، وقرأ من القاموس في اللغة على المحب بن الشحنة، وشرح ألفية العراقي على الزين السندبيسي، والزين قاسم الحنفي. وسمع وروى عن كثير من كبار العلماء.
وكانت دراساته العليا في مرحلة التكوين أكثرها على شيخه ابن حجر، فهو الذي تدرب به واختص بمشيخته
(2).
دراساته العليا:كان ذكاء السخاوي وفطنته وحرصه على العلم، وإقباله بهمته على دروس الحافظ ابن حجر، سبباً في محبة شيخه، ومنزله قريب منه، فلازمه وشجعه شيخه، فساعده على الحصول على الكتب، وقرأ عليه مصنفاته في علوم الحديث، وغيرها كالنخبة
--------------------------------------------
- ন -
তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা:কুরআন মুখস্থ করার পর তিনি একদল আলেমের কাছে বিভিন্ন কিরাত অনুযায়ী তা পাঠ করেন, যেমন—যাইনি রিদওয়ান আল-উকবি, আশ-শিহাব আল-ইসকান্দারি এবং জাফর আস-সানহুরি। এরপর তিনি ফিকহ, হাদিস এবং আরবি ভাষাতত্ত্বের অনেক কিতাব মুখস্থ করেন। তিনি মুখস্থ করেন ‘উমদাতুল আহকাম’, ‘আত-তানবিহ’, মূল ‘আল-মিনহাজ’, ‘আন-নুখবাহ’ ও এর ব্যাখ্যা (শারহ), যাইনুদ্দিন আল-ইরাকির ‘আলফিয়্যাহ’, ইবনে মালিকের ‘আলফিয়্যাহ’, ‘আশ-শাতবিয়্যাহ’-র অধিকাংশ এবং ছন্দশাস্ত্রে আস-সাভির ‘মুকাদ্দিমাহ’। এছাড়াও আরও অনেক কিতাব তিনি আয়ত্ত করেন। তিনি যখনই কোনো কিতাব মুখস্থ করতেন, তা সমকালীন শায়খদের কাছে পেশ করতেন। যেমন—আল-মুহিব্ব ইবনে নাসরুল্লাহ আল-বাগদাদি আল-হাম্বলি, আশ-শামস ইবনে আম্মার আল-মালিকি, আল-জামাল আবদুল্লাহ আজ-জাইতুনি এবং অন্যান্যরা
(১)।
এরপর তিনি আশ-শামস আল-ওয়ানায়ি, আশ-শামস আশ-শানশি এবং ইবনে খিদরের কাছে ‘আত-তানবিহ’ পাঠ করেন। তিনি আল-আলাম সালিহ আল-বুলকিনির কাছে ফিকহ শিক্ষা করেন এবং তাঁর কাছে ‘আর-রাওদাহ’ ও ‘আল-মিনহাজ’ অধ্যয়ন করেন। তিনি যাইন আল-বুতীজির কাছে ‘আল-মুহাজ্জাব’ এবং তাঁর শায়খ ইবনে হাজারের কাছে ‘শারহুল হাবি’-র কিছু অংশ অধ্যয়ন করেন। তিনি আত-তাকি আশ-শুমুন্নির কাছে ‘আসলাইন’ (উসুলুল ফিকহ ও উসুলুদ্দিন), মাআনি ও বয়ানের অনেক দরসে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তিনি আশ-শিহাব ইবনুল মাজদির কাছে ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), গণিত ও মীকাত (সময় গণনা) শাস্ত্র গ্রহণ করেন এবং আল-কামাল ইমামুল কামিলিয়্যাহর কাছে উসুল (মূলনীতি শাস্ত্র) শিক্ষা করেন। তিনি আল-ইজ্জ আব্দুস সালাম আল-বাগদাদির কাছে সরফ (রূপান্তর শাস্ত্র) ও মানতিক (তর্কশাস্ত্র) গ্রহণ করেন। তিনি আল-মুহিব্ব ইবনে আশ-শিহনার কাছে লুগাত বা ভাষা অভিধান ‘আল-কামুস’ পাঠ করেন এবং যাইন আস-সানদাবিসি ও যাইন কাসিম আল-হানাফির কাছে ইরাকির ‘আলফিয়্যাহ’-র ব্যাখ্যা পাঠ করেন। তিনি অনেক বড় বড় আলেমের কাছে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন।
জ্ঞানার্জনের গঠনমূলক পর্যায়ে তাঁর উচ্চতর শিক্ষার অধিকাংশ ছিল তাঁর শায়খ ইবনে হাজারের কাছে। তাঁর কাছেই তিনি পূর্ণ প্রশিক্ষণ লাভ করেন এবং বিশেষভাবে তাঁর শায়খত্বের সান্নিধ্যে ধন্য হন
(২)।
তাঁর উচ্চতর শিক্ষা:আস-সাখাবির মেধা, বিচক্ষণতা, ইলমের প্রতি প্রবল আকাঙ্ক্ষা এবং হাফেজ ইবনে হাজারের দরসের প্রতি একাগ্রতা তাঁর শায়খের প্রিয়পাত্র হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর বাসগৃহ শায়খের নিকটেই ছিল, ফলে তিনি সর্বদা শায়খের সান্নিধ্যে থাকতেন। শায়খ তাঁকে উৎসাহিত করতেন এবং কিতাব সংগ্রহের ক্ষেত্রেও তাঁকে সহযোগিতা করতেন। তিনি শায়খের কাছে হাদিস শাস্ত্রের তাঁর নিজস্ব রচনাবলি এবং ‘আন-নুখবাহ’-র মতো অন্যান্য কিতাব পাঠ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
- س -
وشرحها، وعلوم الحديث لابن الصلاح، ومؤلفاته في الرجال وشرح الحديث، والتخريج، والطبقات: كالتقريب، ولسان الميزان، وتعجيل المنفعة، ومشتبه النسبة، وتخريج الرافعي، وتلخيص مسند الفردوس، وتخريج المصابيح والأمالي الحلبية، والدمشقية وإتحاف المهرة، ومقدمة فتح الباري، ومناقب الليث، ومناقب الشافعي، وغالب فتح الباري. وقرأ السخاوي بنفسه بقية مؤلفات شيخه، فقرأ هذه المؤلفات التي تخرِّج الحافظ والفقيه والمؤرخ، وتدرب على شيخه في معرفة العالي والنازل من الأسانيد، وفي معرفة العلل والمتون، وتراجم الرواة، حتى أصبح وارث شيخه في حياته وبعد مماته، ولم يرتحل إلى الأماكن النائية إلا بعد وفاة شيخه سنة (852).
وتدرب السخاوي أيضاً على كثير من العلماء: كالزين العقبي، والنجم عمر بن فهد المكي الهاشمي، وغيرهما.
رحلاته وشيوخه (1):
روى السخاوي عن شيوخ عصره، من المصريين في مصر، ومن غيرهم من الواردين إليها في حياة شيخه، كثيراً من الدواوين والأجزاء الحديثية، وبعد وفاة شيخه، رحل إلى كثير من البلاد المصرية، ليسمع من المسْنِدين فيها، فسافر إلى: منوف، ودمياط، وفيشا الصغرى، وبلبيس، والمنصورة، والخانقاه، والمحلة، ورشيد، ودسوق، وسمنود، وفاِرسْكور، واسكندرية. وغيرها. فأخذ عن نحو خمسين من العلماء والمسندين في تلك البلاد
(2).
وروى في مكة، والمدينة، وأخذ في الطريق إليهما عن علماء ينبوع، وجُدة والطور وجاور بمكة، وبالمدينة مراراً، لأنه حج مرات، وارتحل لحلب فسمع وروى، في غزة، والمجدل، والرملة. وإلى بيت المقدس، والمجدل، ونابلس، ودمشق، وبعلبك، وحمص، وحماة، والمعرة، وجبرين، وطرابلس، والمزة، ودَارِيا. ويبلغ عدد
--------------------------------------------
-
...এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ইবনে আস-সালাহ-এর উলূমুল হাদীস, এবং রিজাল শাস্ত্র, হাদীসের ব্যাখ্যা, তাখরীজ ও তাবাকাত বিষয়ে তাঁর অন্যান্য রচনা: যেমন আত-তাকরীব, লিসানুল মিজান, তাজীলুল মানফায়া, মুশতাবিহুন নিসবাহ, তাখরীজু আর-রাফিয়ী, তালখীসু মুسনাদিল ফিরদাউস, তাখরীজুল মাসাবীহ, আল-আমালী আল-হালাবিয়্যাহ ও আদ-দিমাশকিয়্যাহ, ইতাহাফুল মাহারা, মুকাদ্দিমাতু ফাতহুল বারী, মানাকিবুল লাইস, মানাকিবুশ শাফিয়ী এবং ফাতহুল বারীর অধিকাংশ। আস-সাখাভী নিজে তাঁর শায়খের বাকি রচনাগুলো পাঠ করেন; তিনি এমন সব গ্রন্থ পাঠ করেন যা একজন হাফিয, ফকীহ ও ঐতিহাসিক তৈরি করে। তিনি তাঁর শায়খের নিকট উচ্চ ও নিম্নমানের সনদ (আলি ও নাযিল) শনাক্তকরণ, ইল্লাত (ত্রুটি) ও মতন (মূল পাঠ) অনুধাবন এবং বর্ণনাকারীদের জীবনী পর্যালোচনার বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করেন। এমনকি তিনি তাঁর শায়খের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর তাঁর প্রকৃত উত্তরসূরি হয়ে ওঠেন। তিনি ৮৫২ হিজরীতে শায়খের মৃত্যুর আগে দূরবর্তী স্থানসমূহে সফর করেননি।
আস-সাখাভী আরও অনেক আলেমের নিকট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন: যেমন যাইন আল-উকবী, আন-নাজম উমর বিন ফাহাদ আল-মাক্কী আল-হাশিমী এবং অন্যান্য।
তাঁর সফরসমূহ এবং তাঁর শিক্ষকগণ (১):
আস-সাখাভী তাঁর সময়ের শায়খদের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন; যাদের মধ্যে যেমন মিশরের মিশরীয় শায়খগণ ছিলেন, তেমনি তাঁর শায়খের জীবদ্দশায় সেখানে আসা বহিরাগত আলেমগণও ছিলেন। তিনি তাঁদের নিকট থেকে হাদীসের অনেক সংকলন ও পুস্তিকা (জুয) গ্রহণ করেন। তাঁর শায়খের মৃত্যুর পর তিনি হাদীস বর্ণনাকারীদের (মুসনিদ) নিকট থেকে শ্রবণ করার উদ্দেশ্যে মিশরের অনেক অঞ্চলে সফর করেন। তিনি সফর করেন: মানুফ, দমিয়াত, ফিশা আস-সুগরা, বিলবাইস, আল-মানসুরা, আল-খানকাহ, আল-মাহাল্লা, রাশিদ, দাসুক, সামানুদ, ফারিসকুর, আলেকজান্দ্রিয়া এবং অন্যান্য স্থানে। তিনি সেসব অঞ্চলের প্রায় পঞ্চাশজন আলেম ও মুসনিদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন
(২)।
তিনি মক্কা ও মদীনায় হাদীস বর্ণনা করেন এবং সেখানে যাওয়ার পথে ইয়ানবু, জেদ্দা ও তূরের আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি কয়েকবার মক্কা ও মদীনায় অবস্থান করেন, কারণ তিনি একাধিকবার হজ পালন করেছিলেন। তিনি আলেপ্পোর উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং সেখানে হাদীস শ্রবণ ও বর্ণনা করেন; এছাড়া গাজা, মাজদাল ও রামলায়। তিনি বাইতুল মাকদিস, মাজদাল, নাবলুস, দামেস্ক, বালবিক, হিমস, হামাত, মা'আররাহ, জিবরীন, ত্রিপোলি, আল-মিযযাহ এবং দারিয়া সফর করেন। আর সংখ্যাটি পৌঁছেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
- ع -
من سمع منهم في هذه الرحلات: نحو مائة نفس، ويزيد عدد البلدان والأماكن التي سمع فيها على الثمانين، وفي هذه البلدان أملى كثيراً من مؤلفاته، ورواها عنه العلماء وأجازهم وأجازوه، واجتمع له من المرويات بالسماع والقراءة، بمصر وغيرها، ما يفوق الوصف. فروى: الكتب الستة، وما التحق بها، والمسانيد والمعاجم، والأجزاء، وكتب المناقب، والأربعينيات، والزهد لابن المبارك، والدعوات للطبراني، وعمل اليوم والليلة لابن السني، والمؤلفات في التفسير، واللغة، والنحو، وغيرها. وله فهرست بمروياته تبلغ ثلاثة أسفار، وله الثبت المصري في ثلاث مجلدات
(1).
فأخذ في مصر: عن نحو أربعمائة شيخ منهم: العلم صالح بن عمر البلقيني، والشرف المناوي، والكمال إمام الكاملية، والتقى الشمني، والأمين الأقصرائي، والزين قاسم الحنفي، والمحب بن الشحنة، وأبو بكر القَلقشندي، وابن المجدي، والشمس الونائي، وابن خضر، وغيرهم. وسمع بالحجاز: من أبي الفتح المراغي، والبرهان الزمزمي والتقي ابن فهد، وأبي السعادات ابن ظهيرة، والبدر عبد اللَّه بن فرحون، ومن نحو ثلاثين شيخاً. وأفرد تراجم من أخذ عنهم في مصنف يبلغ ثلاث مجلدات يسمى: بغية الراوي فيمن أخذ عنه السخاوي. وله الامتنان:، بمشايخ محمد بن عبد الرحمن. وحضر كثير من شيوخه مجالس إملائه، ولذا يعدون في الرواة عنه، وفي عداد شيوخه. فإن شيخه الشمني أشار عليه بعقد مجالس الإملاء، اقتداء بشيخه ابن حجر، فأملى بمنزله، وبسعيد السعداء، كما أملى بمكة، والمدينة، وتزيد مجالس إملائه على الستين مجلساً: حضرها من شيوخه وأقرانه وتلامذته، بمصر والحجاز جماعة. منهم البهاء العلقمي، والنجم ابن فهد، والشمس الأمشاطي، والزين البوتيجي، وإمام الكاملية، وابن الشحنة، والمناوي، والشهاب الحجازي، والتقي الجراعي، والفخر عثمان الديمي، والشرف عبد الحق السنباطي وغيرهم
(2).
ودرس الحديث في الكاملية بعد موت الكمال، وفي الصرغتمشية بعد الأمين الأقصرائي، وفي البرقوقية عقب موت البهاء المشهدي، وفي غيرها من المدارس المصرية وكان لا يرغب في القراءة في بيوت الأمراء، ولا في تولي القضاء، فكان يتنصل منها.
--------------------------------------------
- ع -
এই সফরগুলোতে তিনি যাদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন: প্রায় একশ ব্যক্তি; আর যে সকল শহর ও জনপদে তিনি শ্রবণ করেছেন তার সংখ্যা আশিরও অধিক। এসব দেশে তিনি তাঁর অনেক কিতাব শ্রুতলিপি (ইমলা) দিয়েছেন এবং আলেমগণ তাঁর থেকে তা বর্ণনা করেছেন; তিনি তাঁদের ইজাযাহ (অনুমতি) প্রদান করেছেন এবং তাঁরাও তাঁকে ইজাযাহ দিয়েছেন। মিশর ও অন্যান্য স্থানে শ্রবণ ও পাঠের মাধ্যমে তাঁর নিকট বর্ণনার যে ভাণ্ডার সংগৃহীত হয়েছিল, তা বর্ণনাতীত। তিনি বর্ণনা করেছেন: কুতুবে সিত্তাহ ও তৎসংশ্লিষ্ট গ্রন্থাবলি, মুসনাদসমূহ, মুজামসমূহ, জুযসমূহ, মানাকিব (মর্যাদা) বিষয়ক গ্রন্থাবলি, আরবাঈনিয়াত (চল্লিশ হাদিসের সংকলন), ইবনুল মুবারকের যুহদ, তাবারানির দাওয়াত, ইবনুস সুন্নির আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ এবং তাফসির, ভাষা, ব্যাকরণ ও অন্যান্য বিষয়ের গ্রন্থাবলি। তাঁর বর্ণিত বিষয়াবলির একটি তালিকা রয়েছে যা তিন খণ্ডে সমাপ্ত এবং তিন খণ্ডে তাঁর 'আস-সাবাতুল মিসরি' নামক গ্রন্থটি রয়েছে
(১)।
তিনি মিশরে প্রায় চারশ শায়খের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আলাম সালিহ বিন উমর আল-বুলকিনি, আশ-শারাফ আল-মুনাউই, ইমামুল কামিলিয়্যাহ আল-কামাল, আত-তাকি আশ-শুমুন্নি, আল-আমিন আল-আকসারায়ি, আয-যাইন কাসিম আল-হানাফি, আল-মুহিব্ব ইবনুশ শুহনাহ, আবু বকর আল-কালকাশান্দি, ইবনুল মাজদি, আশ-শামস আল-ওয়ানায়ি, ইবনে খিদর এবং অন্যান্য। তিনি হিজাজে শ্রবণ করেছেন: আবু ফাতহ আল-মারাগি, আল-বুরহান আয-যামযামি, আত-তাকি ইবনে ফাহাদ, আবুল সা'দাত ইবনে যুহাইরাহ, আল-বদর আব্দুল্লাহ বিন ফারহুন এবং প্রায় ত্রিশজন শায়খের নিকট থেকে। তিনি যাঁদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন তাঁদের জীবনী একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলন করেছেন যা তিন খণ্ডে সমাপ্ত, যার নাম: 'বুগইয়াতুর রাউয়ি ফিমান আখাযা আনহুস সাখাউয়ি'। তাঁর 'আল-ইমতিনান বি-মাশায়িখি মুহাম্মাদ বিন আবদির রহমান' নামক গ্রন্থটিও রয়েছে। তাঁর অনেক শায়খ তাঁর শ্রুতলিপি প্রদানের মজলিসে উপস্থিত হতেন, যার ফলে তাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনাকারীদের মধ্যে এবং তাঁর শায়খদের কাতারে গণ্য হন। কেননা তাঁর শায়খ আশ-শুমুন্নি তাঁকে তাঁর শায়খ ইবনে হাজারের অনুসরণে শ্রুতলিপি প্রদানের মজলিস কায়েম করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ফলে তিনি নিজ বাসভবনে এবং সাঈদ আস-সুয়াদায় শ্রুতলিপি প্রদান করেছেন, যেমনটি তিনি মক্কা ও মদিনায় করেছেন। তাঁর শ্রুতলিপি প্রদানের মজলিসের সংখ্যা ষাটেরও অধিক: যেখানে মিশর ও হিজাজের একদল শায়খ, সমসাময়িক এবং ছাত্র উপস্থিত হতেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল-বাহা আল-আলকামি, আন-নাজম ইবনে ফাহাদ, আশ-শামস আল-আমশাতি, আয-যাইন আল-বুতাইজি, ইমামুল কামিলিয়্যাহ, ইবনুশ শুহনাহ, আল-মুনাউই, আশ-শিহাব আল-হিজাজি, আত-তাকি আল-জারা'য়ি, আল-ফখর উসমান আদ-দাইমি, আশ-শারাফ আব্দুল হক আস-সিনবাতি এবং অন্যান্য
(২)।
আল-কামালের ইন্তেকালের পর তিনি কামিলিয়্যাহ মাদরাসায়, আল-আমিন আল-আকসারায়ির পর সরগাতমুশিয়্যাহ মাদরাসায়, আল-বাহা আল-মাশহাদির মৃত্যুর পর বারকুকিয়্যাহ মাদরাসায় এবং মিশরের অন্যান্য মাদরাসায় হাদিসের দরস প্রদান করেছেন। তিনি আমিরদের আবাসে গিয়ে পাঠ দান করতে এবং বিচারকের পদ গ্রহণ করতে পছন্দ করতেন না, তাই তিনি এসব থেকে নিবৃত্ত থাকতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
- ف -
ولبس رحمه الله: الخرقة مع التلقين. من المحيوي حفيد الجمال يوسف العجمي وأبي مدين الأشمومي، وأبي الفتح الفوي. وعمر النبتيتي وغيرهم.
وشغل حياته كلها بالتأليف والرواية والسماع، حتى توفي بالمدينة المنورة، في يوم الأحد وهو اليوم الثامن والعشرون من شهر شعبان المعظم من السنة الثانية بعد التسعمائة (902 هـ) ودفن بالبقيع بجوار الإمام مالك، كما ذكره ابن العماد الحنبلي
(1).
ثناء العلماء عليه:أثنى عليه شيوخه، وفي مقدمتهم شيخه ابن حجر، وأقرانه وتلامذته والعلماء بعده، ممن قرأ كتبه ومؤلفاته، ووصفوه، بأنه: عمدة الحفاظ، وشيخ الإسلام، وإمام المحدثين، وشيخ السنة، ومفتي المسلمين، ونحو ذلك من الألقاب العلمية، والأوصاف العلية، وممن وصفه بذلك: الزين قاسم الحنفي، والبدر ابن القطان، والتقي ابن فهد، وأبو ذر الحلبي، والتقي القلقشندي، والبلقيني، والمناوي، والسراج العبادي، والتقي الحصني، والزين زكريا الأنصاري، والبدر العيني، والمحيوي الكافياجي، وابن ظهيرة، والشمس القرافي، وغيرهم ممن أنصفه، وعرف له حقه.
غير أن بعض المعاصرين له، من أقرانه قد تحركت في نفوسهم الأحقاد حسداً منهم له على ما ناله من المرتبة العلمية والشهرة العالمية، فتكلموا في شأنه، وانتقصوه في علمه، ونقموا منه أموراً ومسائل، أصابوا في قليل منها. والكمال للَّه وحده، والكثير منها مردود عليهم، وذلك عادة الأقران، في كل الأزمان
(2).
منافسة معاصريه ونقدهم له:تحامل بعض العلماء المعاصرين للسخاوي عليه، للمنافسة التي تكون بين الأقران، فتكلموا فيه، وألفوا في نقده والكلام في مؤلفاته، بغير إنصاف، حسداً منهم،
--------------------------------------------
- ফ -
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) মুহিউই (যিনি আল-জামাল ইউসুফ আল-আজামির নাতি), আবু মাদইয়ান আল-আশমুমি, আবুল ফাতহ আল-ফাউয়ি, উমর আন-নাবতিতী এবং অন্যদের কাছ থেকে তালকিনের (দীক্ষা) সাথে খিরকা (সুফি পোশাক) পরিধান করেন।
তিনি তাঁর পুরো জীবন লেখালেখি, হাদীস বর্ণনা এবং শ্রবণের কাজে ব্যয় করেন, অবশেষে তিনি মদিনা মুনাওয়ারায় ৯০২ হিজরি সনের সম্মানিত শাবান মাসের আঠাশ তারিখ রবিবারে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে জান্নাতুল বাকিতে ইমাম মালিকের পাশে সমাহিত করা হয়, যেমনটি ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি উল্লেখ করেছেন
(১)।
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:তাঁর শিক্ষকগণ তাঁর প্রশংসা করেছেন, যাঁদের অগ্রভাগে ছিলেন তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজার। এছাড়াও তাঁর সমসাময়িকগণ, ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁর পরবর্তী উলামায়ে কেরাম যাঁরা তাঁর বই ও রচনাবলী পড়েছেন তাঁরা তাঁর প্রশংসা করেছেন। তাঁরা তাঁকে 'উমদাতুল হুফফাজ' (হাফিজদের প্রধান অবলম্বন), 'শাইখুল ইসলাম', 'ইমামুল মুহাদ্দিসিন' (মুহাদ্দিসদের ইমাম), 'শাইখুস সুন্নাহ', 'মুসলিমদের মুফতি' এবং এই জাতীয় বিভিন্ন ইলমি উপাধি ও সুউচ্চ বিশেষণে ভূষিত করেছেন। যাঁরা তাঁকে এসব বিশেষণে ভূষিত করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: যাইন কাসিম আল-হানাফি, বদর ইবনুল কাত্তান, তাকি ইবনে ফাহদ, আবু যার আল-হালাবি, তাকি আল-কালকাশান্দি, আল-বুলকিনি, আল-মুনাউয়ি, সিরাজ আল-আবাদি, তাকি আল-হিসনি, যাইন জাকারিয়া আল-আনসারি, বদর আল-আইনি, মুহিউই আল-কাফিয়াজি, ইবনে জুহাইরাহ, শামস আল-কারাফি এবং অন্যান্যরা যাঁরা তাঁর প্রতি ইনসাফ করেছেন এবং তাঁর যথাযথ মর্যাদা অনুধাবন করেছেন।
তবে তাঁর সমসাময়িক একদল লোক, যাঁরা তাঁর সমমর্যাদার ছিলেন, তাঁদের অন্তরে তাঁর অর্জিত ইলমি মর্তবা এবং বিশ্বজোড়া খ্যাতির কারণে হিংসা ও বিদ্বেষের উদ্রেক হয়। ফলে তাঁরা তাঁর সমালোচনা করেন, তাঁর ইলমকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেন এবং তাঁর বিভিন্ন বিষয় ও মাসআলা নিয়ে আপত্তি তোলেন। এসবের খুব অল্প বিষয়েই তাঁরা সঠিক ছিলেন; কেননা পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহর জন্য। আর তাঁদের অধিকাংশ আপত্তিই খণ্ডনযোগ্য। আর এটিই সব যুগে সমসাময়িকদের চিরাচরিত স্বভাব
(২)।
সমসাময়িকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সমালোচনা:সাখাভির সমসাময়িক কিছু আলেম তাঁর প্রতি কঠোরতা প্রদর্শন করেছেন। সমসাময়িকদের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে তাঁরা তাঁর সমালোচনা করেছেন এবং ইনসাফ বহির্ভূতভাবে তাঁর সম্পর্কে ও তাঁর রচনাবলী নিয়ে সমালোচনামূলক কিতাব রচনা করেছেন, যা ছিল মূলত তাঁদের হিংসার বহিঃপ্রকাশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
- ص -
يتقدمهم جلال الدين السيوطي، ويؤيده، الحافظ الدِّيمي، والبرهان البقاعي
(1)، وغيرهم.
فألف السيوطي مقامته المعروفة - بالكاوي في تاريخ السخاوي - والقول المجمل في الرد على المهمل. وترجم للسخاوي، في كتابه: نظم العقيان. ترجمة لا تليق بالسخاوي، ولم ينصفه فيها، وطعن في علمه، صريحاً في رسالته: الدوران الفلكي. علي ابن الكركي، وفي رسالته: ألوية النصر في خصّيصي بالقصر. ومن تعريضه به قوله:
قل للسخاوي إن تعروك مشكلةٌ
… علمي كبحر من الأمواج متلطمِ
والحافظ الدِّيمي غيث الزمان فخذ
… "غرفاً من اليم أو رشَفاً من الديم"
(2)انتقد السيوطي كتاب السخاوي "الضوء اللامع لأهل القرن التاسع" - وذكر أن المؤلف، جرح كثيراً من العلماء، وذكر مساوئهم، واحتقرهم، على وجه لا يحل، وبغير إنصاف في حكمه عليهم، حتى إنه ذكر ما رماهم به الشعراء في أهاجيهم، مع أنهم أئمة أعلام، ومن مشايخ الإسلام، مثل البلقيني، والقاياتي، والقلْقشَندي، والمناوي، وغيرهم، وذكر أن التجريح للرجال، لا حاجة إليه في هذه العصور، بعد أن دونت الكتب في رجال الإسناد، وبعد انتهاء عصر الرواية، والكلام في شأن من لا رواية له، من الغيبة المحرمة. وقول السيوطي بذلك مردود. فإن معرفة العدالة في كل عصر، لا بد منها، لقبول قول الفقيه، والمفتي، والشاهد، والمؤرخ. وحتى تقليد العالم بعد موته، مشروط بمعرفة عدالته، على أن علوم الأوائل، ورواياتهم، لا يقوم الاحتجاج بها، إلا إذا وصلت إلينا من طريق صحيح، يعتمد نقلَ العدل الثقة طبقة عن طبقة
(3)، فأمر السيوطي ينتهي بتسجيل الحسد منه على السخاوي، للمنافسة بينهما، وقول المتنافسين لا يقبل في بعض
(4).
--------------------------------------------
- পৃষ্ঠা -
তাদের অগ্রভাগে রয়েছেন জালালুদ্দিন আস-সুয়ূতী, এবং তাকে সমর্থন করছেন হাফেজ আদ-দীমি, বুরহান আল-বিকায়ি
(১) এবং অন্যরা।
সুয়ূতী তার সুপরিচিত মাকামা—'আল-কাউয়ি ফি তারিখিস সাখাভি'—এবং 'আল-কাওলুল মুজমাল ফির রাদ্দি আলাল মুজমাল' রচনা করেন। তিনি তাঁর 'নাযমুল উকিয়ান' গ্রন্থে সাখাভীর একটি জীবনী বর্ণনা করেছেন, যা সাখাভীর জন্য মোটেও শোভনীয় ছিল না এবং তিনি সেখানে তাঁর প্রতি ইনসাফ করেননি। তিনি তাঁর 'আদ-দাওরানুল ফালাকি আলা আলি ইবনুল কারকি' নামক রিসালায় এবং 'আলবিয়াতুন নাসর ফি খাছীছি বিল কাছর' নামক রিসালায় স্পষ্টভাবে তাঁর জ্ঞানের ওপর আঘাত হেনেছেন। তাঁর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন:
সাখাভীকে বলো, যদি তোমার কোনো সমস্যা দেখা দেয়... তবে আমার জ্ঞান তো উত্তাল তরঙ্গমালার সমুদ্রের ন্যায়।
আর হাফেজ আদ-দীমি তো যামানার বৃষ্টি, অতএব গ্রহণ করো... "সমুদ্র থেকে অঞ্জলি ভরে কিংবা মেঘের বৃষ্টি থেকে চুমুক দিয়ে"।
(২)সুয়ূতী সাখাভীর 'আদ-দাওউল লামি লি আহলিল কারনিত তাসি' গ্রন্থটির সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, লেখক (সাখাভী) অনেক আলেমকে জরাহ (দোষারোপ) করেছেন, তাদের মন্দ দিকগুলো তুলে ধরেছেন এবং তাদেরকে এমনভাবে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন যা বৈধ নয়। তাদের ব্যাপারে বিচার করার ক্ষেত্রে তিনি ইনসাফ করেননি, এমনকি কবিরা তাদের ব্যঙ্গাত্মক কবিতায় তাদের প্রতি যে অপবাদ দিয়েছে, তাও তিনি উল্লেখ করেছেন; অথচ তারা ছিলেন বরেণ্য ইমাম এবং ইসলামের শায়খদের অন্তর্ভুক্ত, যেমন আল-বুলকিনী, আল-কায়াতি, আল-কালকাশান্দি, আল-মুনাউয়ি প্রমুখ। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই যুগে ব্যক্তিদের জরাহ করার কোনো প্রয়োজন নেই, যেহেতু বর্ণনাকারীদের (রাবী) জীবনী নিয়ে গ্রন্থসমূহ সংকলিত হয়ে গেছে এবং বর্ণনা করার যুগ শেষ হয়েছে। আর যাদের বর্ণনা করার মতো কোনো বিষয় নেই, তাদের নিয়ে সমালোচনা করা নিষিদ্ধ গীবতের অন্তর্ভুক্ত। সুয়ূতীর এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যাত। কেননা প্রত্যেক যুগে ফকিহ, মুফতি, সাক্ষী এবং ঐতিহাসিকদের কথা গ্রহণ করার জন্য তাদের ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) জানা অপরিহার্য। এমনকি কোনো আলেমের মৃত্যুর পর তাঁর অনুসরণ (তাকলিদ) করার জন্যও তাঁর ন্যায়পরায়ণতা জানা শর্ত। তাছাড়া পূর্ববর্তীদের জ্ঞান এবং তাদের বর্ণনাগুলোর মাধ্যমে দলিল প্রদান করা সম্ভব নয়, যদি না তা আমাদের কাছে এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে পৌঁছে যা বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের পরম্পরার ওপর ভিত্তি করে সংকলিত হয়েছে।
(৩) সুতরাং সুয়ূতীর বিষয়টি সাখাভীর প্রতি তাঁর হিংসা লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়, যা তাদের মধ্যকার পারস্পরিক প্রতিযোগিতার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল; আর প্রতিযোগীদের একে অপরের বিরুদ্ধে করা বক্তব্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হয় না।
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
- ق -
قال الشوكاني: السخاوي وإن كان إماماً كبيراً، غير مدفوع لكنه كثير التحامل على أكابر أقرانه كما يَعرف ذلك من طالع كتابه "الضوء اللامع"، فإنه لا يقيم لهم وزناً، بل لا يسلم غالبهم من الحط عليه - وقال أيضاً: وليته صان ذلك الكتاب عن الوقيعة في أكابر أقرانه، ولكن ربما كان له مقصد صالح.
والسيوطي تنقص السخاوي أيضاً، وادعى أنه قاصر في علم الحديث، وأن مؤلفاته فيه هي مسودات ظفر بها من تركة شيخه ابن حجر، فنسبها إلى نفسه.
وهذه الدعوى مردودة أيضاً. فإن السخاوي، رجل ممارس للعلوم منقولها ومعقولها، وطويل الباع فيها، وهو وارث علوم شيخه، وليس في مؤلفاته عبارات تشترك مع عبارات شيخه، وذلك لازم النقل عنه، بل في مؤلفات السخاوي، كثير مما لم يكمله شيخه، أو بيَّض له.
وذكر السيوطي أيضاً: أن علم السخاوي بالعربية قليل، ووصفه بالجهل به، فإنه لم يقل بأن "خصيصَي " - وهو مصدر بمعنى الخصوصية - يتعين قصرها وحينما كاتبه السيوطي، وبين له نقول أهل العربية، لم يرجع إلى الصواب، في حين أن غيره من العلماء، قد رجعوا عن جواز أن تكون بالياء الساكنة على أنها مثناة مضافة لما بعدها، فقد رجع: أمين الدين الأقصرائي، والفخر الديمي، وزين الدين قاسم الحنفي، وسراج الدين العبادي، بعد أن كاتبهم السيوطي
(1).
وصحة هذه الحادثة، لا تنزل بالسخاوي عن درجة الحافظ، لكن السيوطي كان حريصاً على تفرده بعلم العربية، لتتم دعواه بالاجتهاد، ويسلم له الأقران بأنه مجدد القرن، فقد ذكر
(2) أنه لا يعلم أحداً على وجه الأرض، أعلم بالعربية منه، إلا أن يكون الخضر عليه السلام، أو ولياً للَّه تعالى.
وكذلك الحافظ السخاوي - انتقص السيوطي، وانتصر له جماعة، فترجمه السخاوي في الضوء اللامع، ترجمة مظلمة، كما يقول الشوكاني، وألف ابن العُليّف،
--------------------------------------------
শাওকানী বলেন: সাখাবী যদিও একজন বড় এবং অবিসংবাদিত ইমাম, তবে তিনি তাঁর সমসাময়িক বড় আলেমদের প্রতি অত্যন্ত কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিলেন, যা তাঁর "আদ-দাও আল-লামি" গ্রন্থটি পাঠকারী মাত্রই জানতে পারেন। তিনি তাঁদের কোনো গুরুত্বই দিতেন না, বরং তাঁদের অধিকাংশকেই তাঁর কঠোর সমালোচনা থেকে রেহাই দেননি। তিনি আরও বলেন: তিনি যদি কিতাবটিকে তাঁর সমসাময়িক মহান ব্যক্তিদের কুৎসা থেকে রক্ষা করতেন তবে কতই না ভালো হতো, তবে সম্ভবত তাঁর কোনো ভালো উদ্দেশ্য ছিল।
সুয়ূতীও সাখাবীর সমালোচনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি হাদিস শাস্ত্রে অপরিপক্ক ছিলেন, আর এ শাস্ত্রে তাঁর রচনাবলি মূলত তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজারের পরিত্যক্ত পাণ্ডুলিপি যা তিনি লাভ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সেগুলোকে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন।
এই দাবিটিও প্রত্যাখ্যাত। কেননা সাখাবী ছিলেন মানকুল (বর্ণিত) এবং মাকুল (যৌক্তিক) উভয় প্রকার শাস্ত্রেই অভিজ্ঞ এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া গভীর জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তি। তিনি তাঁর উস্তাদের ইলমের উত্তরসূরি। তাঁর রচনাগুলোতে এমন কোনো বাক্য নেই যা তাঁর উস্তাদের বাক্যের সাথে হুবহু মিলে যায়, যা সাধারণত নকল করার ক্ষেত্রে আবশ্যক হয়। বরং সাখাবীর রচনাবলির মধ্যে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা তাঁর উস্তাদ পূর্ণ করে যেতে পারেননি কিংবা যা তিনি পাণ্ডুলিপি আকারে রেখে গিয়েছিলেন।
সুয়ূতী আরও উল্লেখ করেছেন যে: আরবি ভাষায় সাখাবীর জ্ঞান সামান্য এবং তিনি তাঁকে এ বিষয়ে অজ্ঞ বলে অভিহিত করেছেন। কেননা তিনি মনে করতেন না যে "খুসিসাই" - যা বিশেষত্ব অর্থে একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল) - শব্দটির কাসর (হ্রস্ব) হওয়াই অবধারিত। সুয়ূতী যখন তাঁকে চিঠি লিখলেন এবং আরবি ভাষাবিদদের উদ্ধৃতি বর্ণনা করলেন, তখনও তিনি সঠিক মতের দিকে ফিরে আসেননি। অথচ অন্যান্য আলেমগণ এটিকে 'ইয়া' সাকিন যোগে দ্বিবচন হিসেবে পরবর্তী শব্দের সাথে মুদাফ হওয়ার বৈধতা থেকে ফিরে এসেছিলেন; যেমন: আমিনুদ্দিন আল-আকসারাঈ, আল-ফখর আদ-দাইমি, যাইনুদ্দিন কাসিম আল-হানাফি এবং সিরাজুদ্দিন আল-আব্বাদি; সুয়ূতী তাঁদের চিঠি লেখার পর তাঁরা ফিরে আসেন
(১)।
এই ঘটনার সত্যতা সাখাবীকে হাফেযের মর্যাদা থেকে নিচে নামিয়ে দেয় না, তবে সুয়ূতী আরবি ভাষাজ্ঞানে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে আগ্রহী ছিলেন যাতে তাঁর ইজতিহাদের দাবি পূর্ণতা পায় এবং সমসাময়িকরা তাঁকে এই শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হিসেবে মেনে নেন। তিনি উল্লেখ করেছেন
(২) যে, তিনি পৃথিবীতে তাঁর চেয়ে অধিক আরবি ভাষাজ্ঞান সম্পন্ন আর কাউকে জানেন না, যদি না তিনি খিজির আলাইহিস সালাম অথবা আল্লাহর কোনো ওলী হন।
অনুরূপভাবে হাফেয সাখাবীও সুয়ূতীকে খাটো করেছেন, যদিও একদল আলেম সুয়ূতীর পক্ষ নিয়েছেন। শাওকানী যেমনটি বলেছেন, সাখাবী তাঁর "আদ-দাও আল-লামি" গ্রন্থে সুয়ূতীর অত্যন্ত নেতিবাচক ও অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবনী আলোচনা করেছেন। আর ইবনুল উলাইফ রচনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ২০)
- ر -
أحمد بن الحسين، الشاعر المكي، كتاب "الشهاب الهاوي، على منشئ الكاوي" وكتاب "المنتقِد اللوذعي، على المجتهد الدعي"
(1).
واتهمه السخاوي. بعدم الإمعان في كل الفنون، وأنه يقع في التحريف والتصحيف كثيراً، لأنه يعتمد على بطون الدفاتر، وأنه تزبّب " قبل أن يصير حصرماً". ووصفه بالبلادة، لأنه لا يحسن علم الحساب كما ذكره عن نفسه، وأن مؤلفاته ليست له، وإنما هي من كتب المتقدمين التي لا عهد لكثير من المعاصرين بها، قد أخذها من المكتبة المحمودية، فغير فيها يسيراً، وقدم وأخر، ثم نسبها إلى نفسه، وأنه اختلس تصانيف الحافظ ابن حجر، ومسخها على غير وجهها، وأنه كان كثير الوقيعة في شيوخه فمن فوقهم، وأنه متهوس، ومترفع حتى على أمه
(2).
وقد رد هذه التهم، العلامة الشوكاني
(3)، وذكر أنها تحامل على السيوطي، وأن الأقران لا يقبل قول بعضهم في بعض، وأن ترجمة السخاوي له بهذه التهم، قد صدرت من خصم له، غير مقبول عليه.
وأنت ترى بعد ما ذكرناه لك، من قول أحدهما في الآخر، أن كثيراً من هذه التهم متبادلة بينهما، والذي يعرفه العلماء عنهما، أن السخاوي كان متفوقاً بمعرفة علل الحديث، لكثرة شيوخه، وقراءاته وسماعاته، وتدريبه بالمدربين المهَرَة، وأن السيوطي: كان متفوقاً بالحفظ، ومعرفة المتون، والإحاطة بها، وأنه امتاز بالوقوف على كثير من الروايات التي لم تشتهر عند العلماء، وبالوقوف على رجالها، مما جعله وحيداً في جمع الأجزاء الحديثية، وهي قد أضافت إلى العلم مادة جديدة، إذ بها يصير الضعيف التي تعددت طرقه مقبولاً، وهو عند من لم يغصْ غوصَه ليس بمقبول، وترفع السيوطي على السخاوي، وادعاؤه الاجتهاد، من بين أقرانه. وعدم مزاحمته لمجالس العلماء، كما زاحم السخاوي، هو السبب في تحامل السخاوي عليه.
مع أن كلاهما جيد في فنه، ومشارك في غيره، ولا يقبل قول المتنافسين بعضهم في البعض.
--------------------------------------------
- র -
আহমাদ বিন আল-হুসাইন, মক্কী কবি, (রচিত) "আশ-শিহাব আল-হাওয়ি, আলা মুনশি আল-কাউয়ি" কিতাব এবং "আল-মুনতাকিদ আল-লাউযাঈ, আলা আল-মুজতাহিদ আদ-দায়ী" কিতাব।
(১).
আর আস-সাখাভী তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তিনি সকল শিল্পে বা বিদ্যায় গভীরভাবে নিমগ্ন নন এবং তিনি প্রচুর বিকৃতি (তাহরিফ) ও বর্ণগত ভুল (তাসহিফ) করেন; কারণ তিনি পাণ্ডুলিপি বা খাতার অভ্যন্তরের ওপর নির্ভর করেন। আর তিনি "আঙুর হওয়ার আগেই কিশমিশ হয়ে গেছেন" (অর্থাৎ উপযুক্ত হওয়ার আগেই পূর্ণতা দাবি করেছেন)। তিনি তাঁকে স্থবিরতা বা জড়তা সম্পন্ন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ তিনি গণিতশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন না যেমনটি তিনি নিজেই নিজের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন। (সাখাভী দাবি করেন যে) তাঁর রচনাগুলো তাঁর নিজস্ব নয়, বরং সেগুলো পূর্ববর্তীদের কিতাব থেকে নেওয়া যা সমসাময়িকদের অনেকের কাছেই পরিচিত ছিল না। তিনি সেগুলো মাহমুদিয়া লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করেছেন, তাতে সামান্য পরিবর্তন করেছেন, আগে-পিছে করেছেন এবং এরপর সেগুলোকে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তিনি হাফেয ইবনে হাজার-এর সংকলনগুলো আত্মসাৎ করেছেন এবং সেগুলোকে অন্যরূপে বিকৃত করেছেন। এছাড়া তিনি তাঁর শিক্ষক এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতনদের প্রতি প্রায়ই কটূক্তি করতেন এবং তিনি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ছিলেন, এমনকি নিজের মায়ের সাথেও অহংকার প্রদর্শন করতেন।
(২).
আল্লামা আশ-শাওকানী এই অভিযোগগুলো খণ্ডন করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এটি আস-সুয়ুতীর প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত আচরণ। সমসাময়িকদের (একই স্তরের আলেমদের) একে অপরের বিরুদ্ধে করা মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। সাখাভী তাঁর জীবনীতে যে অভিযোগগুলো করেছেন, তা একজন শত্রুর পক্ষ থেকে এসেছে, যা তাঁর বিরুদ্ধে গ্রহণযোগ্য নয়।
(৩).
আমরা যা উল্লেখ করলাম তা থেকে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে, একে অপরের বিরুদ্ধে করা এই অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই পারস্পরিক। আলেমগণ তাঁদের সম্পর্কে যা জানেন তা হলো, আস-সাখাভী হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) নির্ণয়ে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন তাঁর অসংখ্য উস্তাদ, পাঠাভ্যাস, শ্রবণ এবং দক্ষ শিক্ষকদের অধীনে প্রশিক্ষণের কারণে। অন্যদিকে আস-সুয়ুতী শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন হাদিস মুখস্থ রাখা, মতন (মূল পাঠ) সম্পর্কে জ্ঞান এবং সেগুলোর ওপর পূর্ণ দখলের ক্ষেত্রে। তিনি এমন অনেক বর্ণনার খোঁজ রাখতেন যা আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ ছিল না এবং সেগুলোর বর্ণনাকারীদের (রিজাল) সম্পর্কেও জানতেন। এটি তাঁকে হাদিসের বিভিন্ন অংশ (আহাদিসিয়া) সংকলনে অনন্য করে তুলেছে, যা ইলমের জগতে নতুন উপকরণ যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে অনেক দুর্বল হাদিসও—যার একাধিক সূত্র রয়েছে—গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, যা তাঁর মতো গভীর অনুসন্ধানকারী ছাড়া অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। আস-সুয়ুতীর আস-সাখাভী থেকে নিজেকে উচ্চে রাখা এবং সমসাময়িকদের মধ্যে ইজতিহাদের দাবি করা এবং সাখাভীর মতো আলেমদের মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত না হওয়া—এসবই ছিল সাখাভীর তাঁর প্রতি বিদ্বেষের কারণ।
যদিও তাঁরা উভয়েই নিজ নিজ শাস্ত্রে দক্ষ ছিলেন এবং অন্য শাস্ত্রেও তাঁদের পদচারণা ছিল। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের একে অপরের বিরুদ্ধে করা মন্তব্য গ্রহণযোগ্য হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ২১)
- ش -
مؤلفات السخاوي:ابتدأ السخاوي في التأليف، قبل أن يكمل العشرين من عمره، واجتمع له في مؤلفاته التحرير والاعتماد، وحسن الرصف، وصحة النقد، وزادت مؤلفاته على أربعمائة مجلد، ذكر أكثرها في كتابه "الضوء اللامع". وذكر فيها كثيراً تلميذه ابن غازي في فهرسته - ويغلب عليها فنون الحديث. والتاريخ
(1).
فله في علم الحديث وأنواعه، وعلومه: مؤلفات في المشيخات، والأربعينيات، والمسلسلات، والفهارس، والرحلات، وكتب في الجرح والتعديل، والتخريج، وشَرْح الحديث، وتاريخ الوَفيَات، والطبقات، والأفراد، وصنف في كثير من الأبواب والمسائل.
فله في المشيخات: العقد الثمين، في مشيخة خطيب المسلمين. يريد به أبا عبد اللَّه الرشيدي - والفتح القربي، في مشيخة الشهاب العقبي - وله في الحديث: البلدانيات في مجلد، ترجم فيه الأماكن والبلدان، مرتبة على الحروف، مخرجاً في كل مكان منها حديثاً، أو شعراً، أو حكايةً، لواحدٍ من أهلها، أو الواردين عليها - وله الأحاديث المسلسلة - وله في التخريج: القول البار، في تكملة تخريج الأذكار، لشيخه ابن حجر. وتخريج أحاديث النووي الأربعين. وله التحفة المنيفَة، فيما وقع له من حديث أبي حنيفة - وله في الرحلات: الرحلة الحلبية، والرحلة المكية، والرحلة السكندرية - وله فهرست مروياته، في ثلاثة أسفار، والثبت المصري، في ثلاث مجلدات - وله بلوغ الأمل. في تلخيص العلل. للدارقطني. نحو ربعها مع زوائد عليها
(2).
وله في علوم الحديث: فتح المغيث. بشرح ألفية الحديث للعراقي. في مجلد ضخم. ولا يعلم مؤلف في هذا الفن مثله. ولا أكثر تحقيقاً منه. وشرح التقريب للنووي. في مجلد. وهو جيِّد ومتقن. والإيضاح. في شرح نظم العراقي للاقتراح، في مجلد.
--------------------------------------------
- ব্যাখ্যা -
আস-সাখাভীর রচনাবলী:সাখাভী তাঁর বয়স বিশ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গ্রন্থ রচনা শুরু করেন। তাঁর রচনাবলীতে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, নির্ভরযোগ্যতা, চমৎকার বিন্যাস এবং সঠিক সমালোচনাশৈলী ফুটে উঠেছে। তাঁর রচনাবলী চারশ খণ্ডেরও বেশি, যার অধিকাংশের কথা তিনি তাঁর ‘আদ-দাও আল-লামি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ছাত্র ইবনে গাজীও তাঁর ‘ফিহিরিস্ত’-এ এর অনেকগুলো উল্লেখ করেছেন—যার অধিকাংশ হাদীস শাস্ত্র ও ইতিহাস বিষয়ক।
হাদীস শাস্ত্র এবং এর বিভিন্ন প্রকার ও শাখা-প্রশাখায় তাঁর অনেক রচনা রয়েছে: মাশয়াখাত (শিক্ষক তালিকা), আরবাঈনিয়্যাত (চল্লিশ হাদীস সংকলন), মুসালসালাত, ফিহিরিস্ত (নির্ঘণ্ট), রিহলাত (সফরনামা), জারহ ও তা’দীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও মূল্যায়ন), তাখরীজ, হাদীসের ব্যাখ্যা, মৃত্যু ইতিহাস, তাবাকাত (জীবনী অভিধান), এবং একক বর্ণনা (আফরাদ) বিষয়ক গ্রন্থ। এছাড়াও তিনি অনেক অধ্যায় ও মাসআলার ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন।
মাশয়াখাত বিষয়ে তাঁর রয়েছে: ‘আল-ইকদুত সামীন ফী মাশয়াখাতি খাতিবিল মুসলিমীন’—এর দ্বারা তিনি আবু আব্দুল্লাহ আর-রাশিদীকে বুঝিয়েছেন; এবং শিহাব আল-উক্ববীর মাশয়াখাত নিয়ে ‘আল-ফাতহুল কুরবী’। হাদীস বিষয়ে তাঁর রয়েছে: এক খণ্ডে ‘আল-বুলদানিয়াত’, যেখানে তিনি বর্ণানুক্রমিকভাবে বিভিন্ন স্থান ও জনপদের বর্ণনা দিয়েছেন এবং প্রতিটি স্থানের বর্ণনায় সেখানকার কোনো অধিবাসী বা সেখানে আগমনকারী কোনো ব্যক্তির বর্ণিত হাদীস, কবিতা বা কাহিনী উল্লেখ করেছেন। আরও রয়েছে ‘আল-আহাদীস আল-মুসালসালা’। তাখরীজ বিষয়ে তাঁর রয়েছে: তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজার আসকালানীর ‘তাখরীজুল আযকার’-এর পরিশিষ্ট হিসেবে ‘আল-ক্বওলুল বার’, এবং ইমাম নববীর ‘চল্লিশ হাদীস’-এর তাখরীজ। আরও রয়েছে ইমাম আবু হানীফা থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ নিয়ে ‘আত-তুহফাতুল মুনীফাহ’। সফরনামার মধ্যে রয়েছে: ‘আর-রিহলাতুল হালাবিয়্যাহ’, ‘আর-রিহলাতুল মাক্কিয়্যাহ’ এবং ‘আর-রিহলাতুস সাকান্দারিয়্যাহ’। তিন খণ্ডে তাঁর বর্ণিত হাদীসসমূহের ‘ফিহিরিস্ত’, তিন খণ্ডে ‘আস-সাবত আল-মিসরী’। দারাকুতনীর ‘আল-ইলাল’-এর সারসংক্ষেপ ‘বুলুগুল আমাল’, যা মূল গ্রন্থের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং এতে কিছু বর্ধিত তথ্যও রয়েছে।
হাদীস বিজ্ঞানে তাঁর রয়েছে: ইমাম ইরাকীর ‘আলফিয়াতুল হাদীস’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল মুগীস’, যা একটি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত। এই শাস্ত্রে এর সমতুল্য কিংবা এর চেয়ে অধিকতর গবেষণালব্ধ আর কোনো গ্রন্থ জানা নেই। ইমাম নববীর ‘আত-তাক্বরীব’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এক খণ্ডে, যা অত্যন্ত চমৎকার ও নিপুণ। ইমাম ইরাকীর ‘আল-ইকতিরাহ’ কাব্যের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-ঈযাহ’ এক খণ্ডে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ২২)
- ت -
وله في شرح الحديث: - القول المفيد، في إيضاح شرح العمدة لابن دقيق العيد، كتب منه من أوله. وشْرح الترمذي، لما بقي منه مما لم يشرحه العراقي، كتب منه أكثر من مجلدين على عدة أوراق من المتن. وأقرب الوسائل، في شرح الشمائل، للترمذي، كتب منه مجلداً.
وله في التاريخ: - الإعلان بالتوبيخ، لمن ذم التوْريخ، والتبرك المسبوك، في الذيل على السلوك للمقريزي، نحو أربعة أسفار. والضوء اللامع، لأهل القرن التاسع، في عشرة أجزاء. وفي هذا الكتاب يقول الشوكاني
(1): لو لم يكن له من التصانيف إلا الضوء اللامع، لكان أعظم دليل على إمامته. فإنه ترجم فيه أهل الديار الإسلامية، وسرد في ترجمة كل أحد: محفوظاته، ومقروءاته، وشيوخه، ومصنفاته، وأحواله، ومولده، ووفاته، على نمط حسن، وأسلوب لطيف، ينبهر له من لديه معرفة بهذا الشأن. وذكر الشوكاني: أن من قَرَنه بالدر الكامنة لشيخه. عرف فضله، للفرق بينهما. واعتذر عن شيخه. بأنه لم يعش في المائة الثامنة. التي أرخ لها. إلا نحو سبع وعشرين سنة. وأما السخاوي فإنه عاش في المائة التاسعة. نحو تسع وستين سنة. فشاهد أحوال أهلها. وأن ابن حجر لم يترجم إلا لمن مات في القرن الثامن. وأما السخاوي. فترجم لمن وجد في القرن التاسع. ولو مات في القرن العاشر - وللسخاوي. كتاب الذيل على قضاة مصر. لابن حجر. في مجلد. والذيل على طبقات القراء لابن الجزري. في مجلد. والذيل على دول الإسلام للذهبي. وله الشافي من الألم. في وفَيَات الأمم. ذكر فيه وفيات القرنين الثامن والتاسع. في مجلدات - والجواهر والدرر. في ترجمة شيخ الإسلام ابن حجر. نحو مجلدين. وتاريخ المدنيِّين. في مجلدين. والتاريخ المحيط. على حروف المعجم. ولم يسبق إليه. وعمدة الأصحاب. في معرفة الألقاب. وترتيب طبقات المالكية لابن فرحون. والقول المنْبي. في ترجمة ابن العربي، في مجلد - وله غير ذلك في تراجم الأفراد.
--------------------------------------------
- ত -
এবং হাদিসের ব্যাখ্যায় তাঁর রয়েছে: - আল-কাওলুল মুফীদ ফী ইদাহি শারহিল উমদাহ লি-ইবনি দাকীকিল ঈদ; এর প্রথম অংশ থেকে তিনি লিখেছেন। এবং শারহুত তিরমিযী, যা আল-ইরাকী ব্যাখ্যা করেননি এমন অবশিষ্ট অংশের ওপর; এর মূল পাঠের বেশ কিছু পাতার ওপর ভিত্তি করে তিনি দুই খণ্ডেরও বেশি লিখেছেন। এবং তিরমিযীর আশ-শামাইল-এর ব্যাখ্যায় আকরাবুল ওয়াসায়িল; তিনি এর এক খণ্ড লিখেছেন।
এবং ইতিহাসে তাঁর রয়েছে: - আল-ইলান বিত-তাওবীখ লিমান যাম্মাত তাওরীখ, এবং আল-তাবাররুকুল মাসবুক ফীল যাইলি আলাস সুলুক লিল-মাকরীযী; এটি প্রায় চার খণ্ডে। এবং নবম শতাব্দীর ব্যক্তিবর্গের স্মরণে আদ-দাওউল লামি; দশ খণ্ডে। এই কিতাব সম্পর্কে শাওকানী
(১) বলেন: যদি তাঁর রচনার মধ্যে আদ-দাওউল লামি ছাড়া আর কিছুই না থাকত, তবে এটিই তাঁর ইমামতের (নেতৃত্বের) ওপর শ্রেষ্ঠ দলিল হিসেবে গণ্য হতো। কেননা তিনি এতে ইসলামি ভূখণ্ডের অধিবাসীদের জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং প্রত্যেকের জীবনীতে তাঁর মুখস্থকৃত বিষয়াবলি, পঠিত বিষয়সমূহ, তাঁর শায়খগণ, তাঁর গ্রন্থাবলী, তাঁর অবস্থা, তাঁর জন্ম ও মৃত্যু এক চমৎকার পদ্ধতি এবং সূক্ষ্ম ভঙ্গিতে ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেছেন, যা এ বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের মুগ্ধ করে। শাওকানী আরও উল্লেখ করেছেন যে: যে ব্যক্তি এটিকে তাঁর শিক্ষকের আদ-দুরারুল কামিনাহ-এর সাথে তুলনা করবে, সে উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যের কারণে এর শ্রেষ্ঠত্ব বুঝতে পারবে। এবং তিনি তাঁর শিক্ষকের পক্ষ থেকে ওজর পেশ করেছেন যে, তিনি (ইবনে হাজার) অষ্টম শতাব্দীতে—যার ইতিহাস তিনি লিখেছিলেন—মাত্র সাতাশ বছর জীবিত ছিলেন। পক্ষান্তরে সাখাবী নবম শতাব্দীতে প্রায় উনসত্তর বছর বেঁচে ছিলেন; ফলে তিনি সেই শতাব্দীর লোকদের অবস্থা প্রত্যক্ষ করেছেন। এবং ইবনে হাজার কেবল তাঁদের জীবনীই লিখেছেন যাঁরা অষ্টম শতাব্দীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু সাখাবী নবম শতাব্দীতে বিদ্যমান ব্যক্তিদের জীবনী লিখেছেন, যদিও তাঁরা দশম শতাব্দীতে মৃত্যুবরণ করে থাকেন। এবং সাখাবীর রয়েছে ইবনে হাজরের কুজ্জাতু মিসর-এর পরিশিষ্ট (যাইল) এক খণ্ডে। এবং ইবনুল জাযারীর তাবাকাতুল কুররা-এর পরিশিষ্ট এক খণ্ডে। এবং যাহাবীর দুওয়ালুল ইসলাম-এর পরিশিষ্ট। এবং তাঁর রয়েছে আশ-শাফি মিনাল আলাম ফী ওয়াফায়াতিল উমাম; এতে তিনি অষ্টম ও নবম শতাব্দীর মৃত্যুসমূহ কয়েক খণ্ডে উল্লেখ করেছেন। এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে হাজরের জীবনীতে আল-জাওয়াহির ওয়াদ-দুরার; প্রায় দুই খণ্ডে। এবং তারীখুল মাদানিয়্যীন; দুই খণ্ডে। এবং বর্ণানুক্রমিকভাবে আত-তারীখুল মুহীত; তাঁর আগে কেউ এমন কাজ করেনি। এবং উপাধি পরিচিতি বিষয়ক উমদাতুল আসহাব। এবং ইবনে ফারহুন রচিত তাবাকাতুল মালিকিয়্যাহ-এর বিন্যাসকরণ। এবং ইবনুল আরাবীর জীবনীতে আল-কাওলুল মুনবী এক খণ্ডে। এবং ব্যক্তিদের জীবনীতে তাঁর আরও অন্যান্য গ্রন্থ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
- ض -
وله في المسائل والأبواب - القول البديع، في الصلاة على الحبيب الشفيع. والأحاديث الصالحة في المصافحة. ونظم اللآل، في حديث الأبدال. والقناعة، مما تحسن الإحاطة به من أشراط الساعة. واستجلاء ارتقاء الغَرف، بحب أقرباء الرسول صلى الله عليه وسلم وذوي الشرف. والمقاصد المباركة، في إيضاح الفِرَق الهالكة، والقول المتين، في تحسين الظن بالمخلوقين. والبستان، في مسألة الاختتان. والأصل الأصيل، في تحريم النقل من التوراة والإنجيل
(1). وكتابه المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة. وهو من أهم مؤلفاته وأعمها نفعاً، وقد استوفينا الكلام عنه فيما مضى. وللسخاوي كثير من المؤلفات، غير ما ذكرنا. وكلها محررة متقنة، عم النفع بها، وصارت مرجعاً للعلماء والمحققين، جزى اللَّه السخاوي بما يجزي به الصديقين، وأعلى درجته في عليين، وأوسع له في رمسه، وسقى جدَثَه، وروح روحه، وأضاء ضريحه ورضي عنه وأرضاه، آمين.
كتبه
عبد الوهاب عبد اللطيف
المدرس بكلية الشريعة بالأزهر
في 17 من شعبان المعظم من سنة 1375 هـ
--------------------------------------------
- দ -
বিভিন্ন মাসআলা ও অনুচ্ছেদে তাঁর আরও রয়েছে— 'আল-কাওলুল বাদি' ফিস সালাতি আলাল হাবিবিশ শাফি' (সুপারিশকারী প্রিয়তমের ওপর দরুদ পাঠের চমৎকার বাণী)। এবং 'আল-আহাদিসুস সালিহা ফিল মুসাফাহা' (মুসাফাহা সংক্রান্ত বিশুদ্ধ হাদিসসমূহ)। এবং 'নাজমুল লাআলি ফি হাদিসিল আবদাল' (আবদাল সম্পর্কিত হাদিসসমূহের মুক্তামালা)। এবং 'আল-কানায়া', কিয়ামতের আলামতসমূহের মধ্য থেকে যা আয়ত্ত করা উত্তম। এবং 'ইস্তিযলাউ ইরতিকাইল গুরাফ বি-হুব্বি আকরাবাইর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া যাভিশ শারাফ' (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটাত্মীয় ও মর্যাদাবানদের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে উচ্চকক্ষে আরোহণের স্পষ্টীকরণ)। এবং 'আল-মাকাসিদুল মুবারাকা', ধ্বংসপ্রাপ্ত দলসমূহের বর্ণনায়; এবং 'আল-কাওলুল মাতিন', সৃষ্টির প্রতি সুধারণা পোষণের বিষয়ে। এবং 'আল-বুস্তান', খতনার মাসআলা নিয়ে। এবং 'আল-আসলুল আসীল', তাওরাত ও ইঞ্জিল থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের অবৈধতার বিষয়ে
(১)। এবং তাঁর কিতাব 'আল-মাকাসিদুল হাসানা', যা মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত অনেক হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে রচিত। এটি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বাধিক উপকারী গ্রন্থসমূহের একটি, যার সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমরা সবিস্তারে আলোচনা করেছি। সাখাভীর আমরা যা উল্লেখ করেছি তার বাইরেও আরও বহু রচনা রয়েছে। এর সবকটিই সুসম্পাদিত ও সুসংবদ্ধ, যা থেকে ব্যাপক উপকার সাধিত হয়েছে এবং এগুলো আলিম ও গবেষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য মডেলে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সাখাভীকে সেই প্রতিদান দান করুন যা তিনি সিদ্দিকীনদের দান করেন, ইল্লিয়্যীনে তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করুন, তাঁর কবরে প্রশস্ততা দান করুন, তাঁর সমাধিস্থলকে সিক্ত রাখুন, তাঁর আত্মাকে প্রশান্তি দান করুন, তাঁর সমাধিকে আলোকিত করুন এবং তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন, আমীন।
এটি লিখেছেন
আবদুল ওয়াহহাব আবদুল লতিফ
আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের শিক্ষক
১৭ই শাবানুল মুয়াযযাম, ১৩৭৫ হিজরিতে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: -)
المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة - ت الغماري القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة
المؤلف: شمس الدين أبو الخير محمد بن عبد الرحمن بن محمد السخاوي (ت 902 هـ)
صححه وعلق حواشيه: عبد الله محمد الصديق [الغماري]
قدمه وترجم للمؤلف: عبد الوهاب عبد اللطيف
الناشر: مكتبة الخانجي - مصر
عام النشر: 1375 هـ - 1956 م
عدد الصفحات: 505
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 30 صفر 1445
আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ ফি বায়ানি কাসিরিন মিনাল আহাদিস আল-মুশতাহারা আলাল আলসিনাহ - তাহকিক: আল-গুমারি বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
কিতাব: আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ ফি বায়ানি কাসিরিন মিনাল আহাদিস আল-মুশতাহারা আলাল আলসিনাহ
লেখক: শামসুদ্দিন আবুল খায়ের মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আস-সাখাভি (মৃত ৯০২ হিজরি)
সংশোধন ও টীকা প্রদান করেছেন: আবদুল্লাহ মুহাম্মদ আস-সিদ্দিক [আল-গুমারি]
ভূমিকা ও লেখকের জীবনী লিখেছেন: আবদুল ওয়াহহাব আবদুল লতিফ
প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি - মিশর
প্রকাশের বছর: ১৩৭৫ হিজরি - ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫০৫
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৩০ সফর ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد للَّه مميز الخبيث من الطيب، ومحرز الحديث بنقاده من الخطأ والكذب، والصلاة والسلام على أشرف خلقه محمد وعلى آله وأزواجه ومن له صحب، صلاةً وسلاماً نرجو بهما الاستقامة للنفس والأهل والعقب.
وبعد: فهذا كتاب رغب إلي فيه بعض الأئمة الأنجاب، أبين فيه بالعزو والحكم المعتبر، ما على الألسنة اشتهر، مما يظن إجمالاً أنه من الخبر، ولا يهتدي لمعرفته إلا جهابذة الأثر، وقد لا يكون فيه شيء مرفوع، وإنما هو في الموقوف أو المقطوع وربما لم أقف له على أصل أصلاً، فلا أبت بفصل فيه قولاً، غير ملتزم في ذلك الاستيفاء ولا مقدم على تنقيص لمتقدم أو جفاء، وإن لم يسلم كلامه من خلل، ولا تكلم بما يتضح به زوال العلل، تأدباً مع الأئمة كالزركشي وابن تيمية، فالفضل للسابق، والعدل هو الموافق، مرتباً على حروف المعجم في أول الكلمات، وإن كان ترتيبه على الأبواب للعارف من أكبر المهمات، ولذا جمعت بين الطريقتين، ورفعت عني اللوم ممن يختار إحدى الجهتين، فبوبت للأحاديث بعد انتهائها، وأشرت لمظانها من ابتدائها، ولاحظت في تسميتها أحاديث - المعنى اللغوي، كما أني لم أقصد في الشهرة الاقتصار على الاصطلاح القوي، وهي ما يروى عن أكثر من اثنين في معظم طباقه أو جميعها بدون مين، بل القصد الذي عزمت على إيضاحه وأن أتقنه، ما كان مشهوراً على الألسنة من العالم المتقن في سبره أو غيره في بلد خاص، أو قوم معينين، أو في جل البلدان وبين أكثر الموجودين، وذلك يشمل ما كان كذلك، وما انفرد به راويه بحيث ضاقت مما عداه المسالك، وما لا يوجد له عند أحد سند معتمد، بل عمن عرف بالتضعيف والتلفيق والتحريف، وما لم يجيء كما أشرت إليه إلا عن الصحابة، فمن بعدهم من ذوي الرجاحة والإصابة، وما لم يفه به أحد من المعتمدين بالظن الغالب لا اليقين، وربما أنشط لشيء من المعنى، وأضبط ما يزول به اللبس بالحسنى، وكان أعظم باعث لي على
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মন্দকে ভালো থেকে পৃথক করেছেন এবং অভিজ্ঞ সমালোচকদের মাধ্যমে হাদিসকে ভুল ও মিথ্যা থেকে রক্ষা করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, পত্নীগণ ও তাঁর সাহাবীদের ওপর; এমন সালাত ও সালাম যার মাধ্যমে আমরা নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য হিদায়াতের ওপর অবিচল থাকার আশা রাখি।
অতঃপর: এটি এমন একটি গ্রন্থ যা সংকলনের জন্য কিছু বরেণ্য ইমাম আমাকে অনুরোধ করেছেন। এতে আমি উদ্ধৃতি এবং গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত এমন সব কথা স্পষ্ট করব, যা সাধারণভাবে 'খবর' (হাদিস) বলে ধারণা করা হয়, অথচ হাদিস শাস্ত্রের বিদগ্ধ পণ্ডিতগণ ব্যতীত কেউ তার স্বরূপ উদঘাটন করতে পারে না। হতে পারে এর মধ্যে কোনোটি 'মারফু' নয়, বরং তা কেবল 'মাওকুফ' অথবা 'মাকতু'। আবার কখনও হতে পারে এমন কোনো কথা যার কোনো মূল ভিত্তিই আমি খুঁজে পাইনি, ফলে আমি সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করিনি। এই ক্ষেত্রে আমি পূর্ণাঙ্গতার দাবি করিনি এবং পূর্ববর্তী কোনো ইমামের প্রতি অসম্মান বা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করিনি, যদিও তাঁদের বক্তব্যে কিছু বিচ্যুতি থাকতে পারে কিংবা তাঁরা এমন কিছু বলেননি যা দ্বারা সংশয় দূর হয়। এটি ইমাম জারকাশি এবং ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর মতো মনীষীদের প্রতি শিষ্টাচার রক্ষার্থে করা হয়েছে; কারণ অগ্রবর্তীদের মর্যাদা অনস্বীকার্য এবং ন্যায়বিচারই হলো কাম্য। আমি এটি শব্দের প্রথম বর্ণের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি, যদিও অভিজ্ঞদের নিকট বিষয়ভিত্তিক বিন্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে আমি উভয় পদ্ধতির সমন্বয় করেছি এবং কোনো একটি পক্ষ অবলম্বনকারীদের তিরস্কার থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছি। তাই হাদিসগুলো বর্ণনার পর আমি সেগুলোকে অধ্যায়ভুক্ত করেছি এবং শুরুতেই সেগুলোর সম্ভাব্য উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করেছি। এই কিতাবের নামাকরণে আমি 'হাদিস' শব্দের আভিধানিক অর্থটি বিবেচনা করেছি। তেমনিভাবে 'মাশহুর' বা প্রসিদ্ধি বলতে আমি কেবল সুদৃঢ় পারিভাষিক অর্থটিই উদ্দেশ্য করিনি—যা সাধারণত বর্ণনার অধিকাংশ স্তরে দুইয়ের অধিক বর্ণনাকারী দ্বারা বর্ণিত হওয়াকে বোঝায়। বরং আমার সংকল্প ও লক্ষ্য ছিল এমন সব কথা স্পষ্ট করা ও সুবিন্যস্ত করা, যা দক্ষ আলেম বা অন্যদের মুখে কোনো বিশেষ জনপদে, নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের মাঝে, কিংবা অধিকাংশ জনপদে এবং অধিকাংশ মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ হয়ে আছে। এর মধ্যে এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে মাশহুর, আবার এমনও আছে যা বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন যার ফলে অন্য কোনো সূত্রের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। আরও রয়েছে এমন কথা যার কোনো নির্ভরযোগ্য সনদ কারো কাছে নেই, বরং তা দুর্বলতা, জালিয়াত ও বিকৃতির জন্য পরিচিত ব্যক্তিদের থেকে বর্ণিত। আবার কিছু কথা এমন যা আমি ইঙ্গিত করেছি যে, তা কেবল সাহাবী বা তাঁদের পরবর্তী বিজ্ঞ ও সঠিক ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমেই এসেছে। আবার এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে যা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের কেউ উচ্চারণ করেননি বলেই প্রবল ধারণা হয়, যদিও তা নিশ্চিত নয়। আমি কখনও কোনো অর্থের বিষয়ে উৎসাহিত হয়েছি এবং সুন্দরভাবে তা বিশ্লেষণ করেছি যাতে সকল বিভ্রান্তি দূর হয়ে যায়। আর আমার জন্য এই কাজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিল...
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৪)
هذا الجمع، وأهم حاث لعزمي فيما تقر به العين ويلتذ به السمع، كثرة التنازع لنقل ما لا يعلم في ديوان، مما لا يسلم عن كذب وبهتان، ونسبتهم إياه إلى الرسول، مع عدم خبرتهم بالمنقول، جازمين بإيراده، عازمين على إعادته وترداده، غافلين عن تحريمه، إلا بعد ثبوته وتفهيمه، من حافظ متقن في تثبيته، بحيث كان ابن عم المصطفى علي بن أبي طالب، لا يقبل الحديث إلا ممن حلف
(1) له من قريب أو مناسب، لأن الكذب عليه صلى الله عليه وآله وسلم ليس كالكذب على غيره من الخلق والأمم، حتى اتفق أهل البصيرة والبصائر، أنه من أكبر الكبائر، وصرح غير واحد من علماء الدين وأئمته، بعدم قبول توبته، بل بالغ الشيخ أبو محمد الجويني فكفره وحذر فتنته وضرره، إلى غيره من الأسباب، التي يطول في شأنها الانتخاب وسميته:
المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة
واللَّه أسأل أن يسلك بنا طريق الحق والاعتدال وأن لا يترك الأحمق المائق يتمادى بالضلال، فيما لم يحققه مع الفحول الأبطال، وأن يجعل هذا التأليف خالصاً لوجهه الكريم، موجباً لرضاه العميم، إنه قريب مجيب.
--------------------------------------------
এই সংকলন, এবং চক্ষু যা দেখে প্রশান্ত হয় ও কর্ণ যা শুনে আনন্দিত হয়—এমন কাজে আমার সংকল্পকে উদ্দীপ্ত করার প্রধান কারণ হলো, এমন সব বর্ণনা উদ্ধৃত করার ব্যাপারে অধিক বিবাদ যা কোনো নির্ভরযোগ্য দপ্তরে পরিচিত নয়, এবং যা মিথ্যা ও অপবাদ থেকে মুক্ত নয়। তারা এগুলোকে রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে, অথচ বর্ণিত বিষয়ের ওপর তাদের কোনো বিশেষজ্ঞ জ্ঞান নেই। তারা এগুলো উদ্ধৃত করার ব্যাপারে দৃঢ় এবং তা পুনরাবৃত্তি ও প্রচারের জন্য সংকল্পবদ্ধ। তারা এর নিষিদ্ধতা সম্পর্কে গাফেল, যতক্ষণ না কোনো সুনিপুণ ও নির্ভরযোগ্য হাফেজ কর্তৃক তা প্রমাণিত ও বোধগম্য হয়। এমনকি মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিতৃব্য পুত্র আলী বিন আবি তালিব, কোনো নিকটাত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে শপথ
(১) গ্রহণ ব্যতীত হাদীস গ্রহণ করতেন না। কারণ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর পরিজনের ওপর মিথ্যারোপ করা অন্য কোনো সৃষ্টি বা জাতির ওপর মিথ্যারোপ করার মতো নয়। এমনকি প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী বিশেষজ্ঞগণ একমত হয়েছেন যে, এটি কবিরা গুনাহসমূহের মধ্যে অন্যতম বড় গুনাহ। দীনের একাধিক আলেম ও ইমাম এমন ব্যক্তির তাওবাহ কবুল না হওয়ার ব্যাপারেও মত প্রকাশ করেছেন। এমনকি শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনী এ ব্যাপারে অতিশয়তা করে তাকে কাফের বলে অভিহিত করেছেন এবং তার ফিতনা ও ক্ষতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। এছাড়াও আরও অনেক কারণ রয়েছে যা বিস্তারিত চয়ন করতে গেলে দীর্ঘ হয়ে যাবে। আমি এর নামকরণ করেছি:
আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ ফি বায়ানি কাসিরিন মিনাল আহাদিসিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ (মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত অনেক হাদীসের বর্ণনায় উত্তম উদ্দেশ্যসমূহ)
আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সত্য ও মধ্যমপন্থার পথে পরিচালিত করেন এবং কোনো নির্বোধ ও মূর্খকে যেন সেই বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত থাকতে না দেন যা সে শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদের সাথে যাচাই করেনি। তিনি যেন এই রচনাটিকে কেবল তাঁর মহান সত্তার জন্য নিবেদিত করেন এবং একে তাঁর ব্যাপক সন্তুষ্টির কারণ বানিয়ে দেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে ও দুআ কবুলকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৫)
حرف الهمزة
1 - حديث: آخر الدواء الكي، كلام معناه أنه بعد انقطاع طرق الشفاء يعالج به، ولذا كان أحد ما حمل عليه النهي
(1) عن الكي وجود طريق مرجو الشفاء.
2 - حديث: آفة الكذب النسيان، القضاعي في مسند الشهاب، والديلمي من حديث جعفر بن محمد عن أبيه عن جده، ومن حديث شعبة عن أبي إسحاق السبيعي عن الحارث الأعور كلاهما عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه مرفوعاً في حديث بلفظ: آفة الحديث الكذب وآفة العلم النسيان، وسنده ضعيف إلا أنه صحيح المعنى، وللدارمي في مسنده والعسكري في الأمثال من حديث وكيع عن الأعمش رفعه معضلاً أو مرسلاً: آفة العلم النسيان وإضاعته أن تحدث به غير أهله، وللبيهقي في المدخل من حديث أبي العميس
(2) المسعودي عن القاسم هو ابن عبد الرحمن بن عبد اللَّه بن مسعود عن جده - وبينهما انقطاع - موقوفاً: آفة الحديث النسيان، وله في الشعب وغيرها وكذا للخلعي في فوائده عن رؤبة بن العجاج، قال قال لي النسابة البكري: للعلم آفة ونكد وهجنة فآفته نسيانه، ونكده الكذب، وهجنته نشره عند غير أهله.
3 - حديث: آل محمد كل تقي، تمام في فوائده من حديث شيبان بن فروخ حدثنا نافع بن هرمز. والديلمي من حديث النضر بن محمد الشيباني عن يحيى بن سعيد كلاهما عن أنس رضي الله عنه، قال: سئل رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم من آل محمد؟ فقال كل تقي من أمة محمد، ولفظ الديلمي فقال: آل محمد كل تقي، ثم قرأ {إن أولياؤه إلا المتقون} وفي الدلائل من حديث ابن الشخير
(3) ومن حديث شريك عن أبي إسحاق
--------------------------------------------
হামজা বর্ণ ১ - হাদীস: সর্বশেষ ঔষধ হলো সেঁক দেওয়া। এর অর্থ হলো, সুস্থ হওয়ার সকল পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এর মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এই কারণেই সেঁক দেওয়ার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা
(১) এসেছে, তার একটি কারণ হলো সুস্থতার অন্য কোনো আশাব্যঞ্জক পথ বিদ্যমান থাকা।
২ - হাদীস: মিথ্যার আপদ হলো বিস্মৃতি। কুদাঈ 'মুসনাদুশ শিহাব'-এ এবং দাইলামী জাফর বিন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও শু'বাহ সূত্রে আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে, তিনি হারিস আল-আওয়ার থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) থেকে মারফূ সূত্রে একটি হাদীসের শব্দে বর্ণনা করেছেন: হাদীসের আপদ হলো মিথ্যা এবং ইলমের আপদ হলো বিস্মৃতি। এর সনদ যঈফ (দুর্বল), তবে এর অর্থ সহীহ। ইমাম দারেমী তার মুসনাদে এবং আসকারী 'আল-আমসাল'-এ ওকী' সূত্রে আমাশ থেকে মা'দাল অথবা মুরসাল হিসেবে মারফূ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: ইলমের আপদ হলো বিস্মৃতি এবং এর অপচয় হলো অযোগ্য ব্যক্তির কাছে তা বর্ণনা করা। বায়হাকী তার 'আল-মাদখাল'-এ আবু উমাইস আল-মাসউদী সূত্রে কাসেম (তিনি হলেন ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ) থেকে তার দাদার সূত্রে (তাদের মাঝে বর্ণনাকারী বিচ্ছিন্নতা আছে) মাওকৃষ্ণ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: হাদীসের আপদ হলো বিস্মৃতি। বায়হাকী তার 'শুআবুল ঈমান' ও অন্যান্য গ্রন্থে এবং খালায়ী তার 'ফাওয়ায়িদ'-এ রু'বাহ বিন আজাজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বংশবিদ আল-বাকরী আমাকে বলেছেন: ইলমের আপদ, কষ্ট ও কুশ্রীতা রয়েছে। এর আপদ হলো বিস্মৃতি, এর কষ্ট হলো মিথ্যা এবং এর কুশ্রীতা হলো অযোগ্য ব্যক্তির মাঝে তা প্রচার করা।
৩ - হাদীস: মুহাম্মাদের পরিবার হলো প্রত্যেক পরহেযগার ব্যক্তি। তাম্মাম তার 'ফাওয়ায়িদ'-এ শায়বান বিন ফাররুখ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নাফে' বিন হুরমুয বর্ণনা করেছেন। এবং দাইলামী নাযর বিন মুহাম্মাদ আল-শায়বানী সূত্রে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, মুহাম্মাদের পরিবার কারা? তিনি বললেন: মুহাম্মাদের উম্মতের প্রত্যেক পরহেযগার ব্যক্তি। দাইলামীর শব্দে এসেছে: তিনি বললেন: মুহাম্মাদের পরিবার হলো প্রত্যেক পরহেযগার। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: "তার অভিভাবক তো কেবল মুত্তাকীরাই।" এবং 'আদ-দালাইল'-এ ইবনে আশ-শিখখীর থেকে এবং শারীক সূত্রে আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৬)
السبيعي
(1) عن الحارث الأعور عن علي رضي الله عنه قال: قلت يا رسول اللَّه من آل محمد؟ قال: كل تقي، وأسانيدها ضعيفة، ولكن شواهده كثيرة. منها في الصحيحين قوله صلى الله عليه وسلم: إن آل أبي فلان ليسوا لي بأولياء إنما وليي اللَّه وصالح المؤمنين، كما بينتها في ارتقاء الغرف، وقد حمل الحليمي حديث الترجمة على كل تقي من قرابته، ومن الأدلة التي استدل بها البيهقي على أن اسم الآل للقرابة خاصة لا لعامة المؤمنين
(2).
4 - حديث: آية المنافق ثلاث إذا حدث كذب، وإذا وعد أخلف، وإذا اؤتمن خان، متفق عليه من حديث مالك بن أبي عامر جد مالك بن أنس عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً بهذا.
5 - حديث: آية من كتاب اللَّه خير من محمد وآله، لم أقف عليه، وكذا فيما قيل شيخي
(3) من قبلي، ولكن قد رأيته بخط بعض طلبته من أصحابنا في هامش تسديد القوس مجرداً عن العزو والصحابي، وذلك لا أعتمده من مثله، وزاد فيه: لأن القرآن كلام اللَّه غير مخلوق. نعم في فضائل القرآن من جامع الترمذي من حديث الحميدي قال: قال لنا سفيان بن عيينة في تفسير حديث ابن مسعود: ما خلق اللَّه سبحانه من سماء ولا أرض أعظم من آية الكرسي: آية الكرسي كلام اللَّه وكلام اللَّه أعظم خلق اللَّه من السماء والأرض، وفي نسخة: أعظم مما في السماوات والأرض، قلت: وكأنه أشار إلى ما أورده الطبراني من حديث ابن مسعود موقوفاً: كل آية في كتاب اللَّه خير مما في السماء والأرض، ووقفت على أثر عن ابن مسعود رضي الله عنه من قوله أنه كان يقرئ الرجل الآية ثم يقول: لهي خير مما طلعت عليه الشمس وما على الأرض من شيء، حتى يقول ذلك في القرآن كله، وفي لفظ أنه كان إذا علم الآية قال: خذها
--------------------------------------------
সুবাইঈ
(১) হারিস আল-আওয়ার থেকে এবং তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, মুহাম্মাদের পরিবার (আল) কারা? তিনি বললেন: প্রত্যেক মুত্তাকী। এর সূত্রসমূহ দুর্বল, তবে এর সপক্ষে অনেক প্রমাণ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে সহীহাইনে (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণিত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বাণীটি অন্তর্ভুক্ত: "অমুক বংশের লোকেরা আমার প্রকৃত বন্ধু নয়, বরং আমার বন্ধু তো স্বয়ং আল্লাহ এবং সৎকর্মশীল মুমিনগণ।" যেমনটি আমি 'ইরতিকাউল গুরাফ' কিতাবে ব্যাখ্যা করেছি। আর হালীমী আলোচ্য হাদীসটিকে তাঁর (নবীর) নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে প্রত্যেক মুত্তাকীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন। আর ইমাম বায়হাকী যে দলীলগুলো দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, 'আল' (পরিবার) শব্দটি কেবল নিকটাত্মীয়দের জন্য নির্দিষ্ট, সাধারণ মুমিনদের জন্য নয়, এটি সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত
(২)।
৪ - হাদীস: মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় সে খেয়ানত করে। এটি মালিক ইবনে আনাসের দাদা মালিক ইবনে আবি আমিরের সূত্রে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মারফূ' হিসেবে মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত)।
৫ - হাদীস: আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের চেয়ে উত্তম। আমি এটি কোথাও পাইনি এবং আমার পূর্ববর্তী উস্তাদ (৩) সম্পর্কেও অনুরূপ বলা হয়েছে। তবে আমি আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে এক ছাত্রের হাতের লেখায় 'তাসদীদুল ক্বাউস'-এর টীকায় এটি দেখেছি, যা কোনো উৎস বা সাহাবীর নাম ছাড়াই কেবল উদ্ধৃত ছিল। তাঁর মতো কারো থেকে এটি আমি নির্ভরযোগ্য মনে করি না। তাতে আরও যোগ করা হয়েছে: কারণ কুরআন আল্লাহর কালাম, যা মাখলূক (সৃষ্টি) নয়। হ্যাঁ, জামে তিরমিযীর 'ফাযাইলুল কুরআন' অধ্যায়ে হুমায়দীর সূত্রে একটি বর্ণনা রয়েছে, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা ইবনে মাসউদের হাদীসের তাফসীরে আমাদের বলেছেন: "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আসমান বা জমিনে আয়াতুল কুরসীর চেয়ে মহান কিছু সৃষ্টি করেননি।" আয়াতুল কুরসী আল্লাহর কালাম, আর আল্লাহর কালাম আল্লাহর সৃষ্টি আসমান ও জমিনের চেয়েও মহান। অন্য পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তার চেয়ে মহান। আমি বলছি: সম্ভবত তিনি তাবারানী কর্তৃক ইবনে মাসউদের সূত্রে মাওকূফ হিসেবে বর্ণিত রিওয়ায়াতটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন: "আল্লাহর কিতাবের প্রতিটি আয়াত আসমান ও জমিনে যা আছে তার চেয়ে উত্তম।" আর আমি ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে একটি আসার (বর্ণনা) পেয়েছি যে, তিনি কোনো ব্যক্তিকে একটি আয়াত পাঠ করাতেন এবং বলতেন: "নিশ্চয় এটি সূর্য যার ওপর উদিত হয় এবং জমিনের ওপর যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম।" এমনকি তিনি পুরো কুরআনের ব্যাপারেই এমন বলতেন। অন্য একটি শব্দে এসেছে যে, তিনি যখন কোনো আয়াত শেখাতেন তখন বলতেন: এটি গ্রহণ করো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৭)
فلهي خير من الدنيا وما فيها. أخرجهما ابن الضريس في فضائل القرآن، وأولهما عند الطبراني في معجمه الكبير، وأبي عبيد في فضائل القرآن، بلفظ: كان يقرئ القرآن فيمر بالآية فيقول للرجل: خذها فواللَّه لهي خير مما على الأرض من شيء، وأورده بعضهم موهماً رفعه بلفظ: آية من كتاب اللَّه خير من الدنيا وما فيها. ولأبي عبيد أيضاً من حديث فروة بن نوفل الأشجعي عن خَبَّاب ابن الأرتِّ أنه قال: واعلم أنك لست تتقرب إليه بشيء هو أحب إليه من كلامه، وفي الأول من ثاني حديث المخلص من مرسل محمد بن علي، بل هو في مسند الفردوس عن علي رفعه: القرآن أفضل من كل شيء دون اللَّه، قال: وفي الباب عن أنس وكأنه يشير إلى ما أخرجه من حديثه رضي الله عنه في حديث أوله: لقراءة آية من كتاب اللَّه أفضل مما تحت العرش. ولأبي الشيخ والديلمي في مسنده معاً من حديث صهيب رضي الله عنه مرفوعاً: لقراءة آية من كتاب اللَّه أفضل من كل شيء دون العرش، وفي المعنى ما رواه عبد الملك بن حبيب من رواية سعيد بن سليم رفعه مرسلاً - مما هو عند الغزالي في الإحياء -: ما من شفيع أعظم عند اللَّه منزلة من القرآن، لا نبي ولا ملك ولا غيره.
6 - حديث: أبخل الناس، في: إن أبخل.
7 - حديث: ابدأ بنفسك، مسلم في الزكاة من صحيحه من حديث الليث عن أبي الزبير عن جابر رضي الله عنه، قال: أعتق رجل من بني عذرة عبداً له عن دبر
(1) فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال: ألك مال غيره؟ فقال: لا، فقال: من يشتريه مني؟ فاشتراه نعيم بن عبد اللَّه العدوي بثمانمائة درهم، فجاء بها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فدفعها إليه، ثم قال: ابدأ بنفسك فتصدق عليها فإن فضل شيء فلأهلك، فإن فضل عن أهلك شيء فلذي قرابتك، فإن فضل عن ذي قرابتك شيء فهكذا وهكذا، يقول: فبين يديك وعن يمينك وعن شمالك، وكذا أخرجه النسائي وآخرون، وفي الباب عن جابر بن سمرة عند الطبراني في الكبير من حديث حاتم بن إسماعيل وابن أبي ذئب كلاهما عن المهاجر بن مسمار عن عامر بن سعد عنه رضي الله عنه رفعه إذا أنعم اللَّه على عبد بنعمة فليبدأ بنفسه وأهل بيته، ولفظ ابن أبي ذئب: إذا أعطى
--------------------------------------------
তা দুনিয়া এবং এতে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম। ইবনে আদ-দোরয়ইস তাঁর 'ফাদায়িলুল কুরআন'-এ উভয়টি বর্ণনা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রথমটি আত-তাবারানি তাঁর 'আল-মু'জামুল কাবীর'-এ এবং আবু উবায়েদ তাঁর 'ফাদায়িলুল কুরআন'-এ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: তিনি কুরআন পাঠ করাতেন, অতঃপর কোনো আয়াত অতিক্রম করার সময় লোকটিকে বলতেন: এটি গ্রহণ করো, আল্লাহর শপথ, এটি যমীনের উপর থাকা যেকোনো কিছুর চেয়েও উত্তম। কেউ কেউ একে মারফু হিসেবে এই শব্দে উল্লেখ করেছেন বলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন: আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত দুনিয়া এবং এতে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম। আবু উবায়েদ আরও বর্ণনা করেছেন ফারওয়া ইবনে নাওফাল আল-আশজাঈর সূত্রে খাব্বাব ইবনুল আরাত থেকে যে তিনি বলেছেন: জেনে রেখো, আল্লাহর কাছে তাঁর কালামের (বাণীর) চেয়ে প্রিয় আর কোনো কিছুর মাধ্যমে তুমি তাঁর নৈকট্য লাভ করতে পারবে না। আল-মুখলিসের দ্বিতীয় হাদিসের প্রথমাংশে মুহাম্মাদ ইবনে আলীর মুরসাল সূত্রে এটি বর্ণিত হয়েছে, বরং এটি 'মুসনাদুল ফিরদাউস'-এ আলী থেকে মারফু হিসেবে রয়েছে: কুরআন আল্লাহ ব্যতীত সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তিনি বলেন: এ বিষয়ে আনাস থেকে বর্ণনা রয়েছে এবং মনে হচ্ছে তিনি তাঁর সেই হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যার শুরুতে রয়েছে: আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত তিলাওয়াত করা আরশের নিচে যা কিছু আছে তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ। আবুশ শাইখ এবং আদ-দাইলামি তাঁর মুসনাদে একত্রে সুহাইব (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত তিলাওয়াত করা আরশের নিচের সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এই অর্থেই আব্দুল মালিক ইবনে হাবিব, সাঈদ ইবনে সুলাইম থেকে মুরসাল ও মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন—যা আল-গাজালির 'ইহইয়া' গ্রন্থে রয়েছে—: আল্লাহর কাছে কুরআনের চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ আর কোনো সুপারিশকারী নেই, কোনো নবী নেই, কোনো ফেরেশতা নেই এবং অন্য কেউও নেই।
৬ - হাদিস: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কৃপণ, ‘নিশ্চয়ই সবচেয়ে কৃপণ’ এর মধ্যে রয়েছে।
৭ - হাদিস: তুমি নিজেকে দিয়ে শুরু করো। মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের যাকাত অধ্যায়ে লায়স থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: বনু উজরা গোত্রের এক ব্যক্তি তার এক গোলামকে তার মৃত্যুর পর আযাদ করে দেওয়ার ঘোষণা (তাদবীর) দিল। এই সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন: তোমার কাছে কি এটি ছাড়া অন্য কোনো সম্পদ আছে? সে বলল: না। তখন তিনি বললেন: কে এটি আমার থেকে ক্রয় করবে? তখন নুয়াইম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আদাবী এটি আটশ দিরহামে কিনে নিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই মূল্য নিয়ে তাকে প্রদান করলেন এবং বললেন: তুমি নিজেকে দিয়ে শুরু করো এবং নিজের ওপর সদকা করো। যদি কিছু অতিরিক্ত থাকে তবে তা তোমার পরিবারের জন্য। যদি পরিবারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকে তবে তা তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য। যদি নিকটাত্মীয়দের হকের অতিরিক্ত থাকে তবে এভাবে এবং এভাবে করো। তিনি বলছিলেন: তোমার সামনে, তোমার ডানে এবং তোমার বামে। অনুরুপভাবে এটি আন-নাসায়ী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে জাবির ইবনে সামুরা থেকে তাবারানির ‘আল-কাবীর’-এ হাতিম ইবনে ইসমাইল এবং ইবনে আবি যিব-এর সূত্রে হাদিস রয়েছে, তাঁরা উভয়েই মুহাজির ইবনে মিসমার থেকে, তিনি আমির ইবনে সাদ থেকে, তিনি তাঁর (জাবির) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে কোনো নিয়ামত দান করেন, তখন সে যেন তা নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে দিয়ে শুরু করে। আর ইবনে আবি যিব-এর শব্দ হলো: যখন তিনি দান করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফী বায়ানি কাছীরিম মিনাল আহাদীছিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ - তাহকীক আল-গুমারী
(পৃষ্ঠা: ৮)
اللَّه أحدكم خيراً فليبدأ بنفسه وأهله. وهو كذلك - لكن بلفظ -: وأهل بيته، عند مسلم في أول الإمارة من صحيحه من حديث حاتم بن إسماعيل فقط، وفي الحروف من السنن لأبي داود من حديث حمزة الزيات عن أبي إسحاق السبيعي عن سعيد بن جبير عن ابن عباس عن أبي بن كعب رضي الله عنه: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا دعا بدأ بنفسه، وقال: رحمة اللَّه علينا وعلى موسى الحديث، بل هو في صحيح مسلم من حديث رَقَية بن مَصْقَلة عن أبي إسحاق في قصة موسى مع الخضر: وكان يعني النبي صلى الله عليه وسلم إذا ذكر أحداً من الأنبياء بدأ بنفسه: رحمة اللَّه علينا وعلى أخي كذا، وفي السنن لسعيد بن منصور من حديث عروة بن الزبير أن عمر بن الخطاب كان إذا تشهد قال: بسم اللَّه خير الأسماء، وذكر التشهد وفيه: السلام علينا وعلى عباد اللَّه الصالحين، إن أحدكم يصلي فيسلم ولا يسلم على نفسه، فابدؤوا بأنفسكم فإن ذلك قد جمع لكم الملائكة والصالحين.
8 - حديث: الأبدال، له طرق عن أنس رضي الله عنه مرفوعاً بألفاظ مختلفة كلها ضعيفة. منها للخلال في كرامات الأولياء بلفظ: الأبدال أربعون رجلاً وأربعون امرأة كلما مات رجل أبدل اللَّه رجلاً مكانه، وإذا ماتت امرأة أبدل اللَّه مكانها امرأة، ومنها للطبراني في الأوسط بلفظ: لن تخلو الأرض من أربعين رجلاً مثل خليل الرحمن عليه السلام، فبهم يسقون، وبهم ينصرون، ما مات منهم أحد إلا أبدل اللَّه مكانه آخر، ومنها لابن عدي في كامله بلفظ: البدلاء أربعون، اثنان وعشرون بالشام، وثمانية عشر بالعراق، كلما مات منهم واحد أبدل اللَّه مكانه آخر، فإذا جاء الأمر قبضوا كلهم، فعند ذلك تقوم الساعة، وكذا يروى كما عند أحمد في المسند والخلال وغيرهما عن عبادة بن الصامت رضي اللَّه مرفوعاً: لا يزال في هذه الأمة ثلاثون مثل إبراهيم خليل الرحمن كلما مات واحد منهم أبدل اللَّه عز وجل مكانه رجلاً، وفي لفظ للطبراني في الكبير: بهم تقوم الأرض، وبهم يمطرون، وبهم ينصرون، ولأبي نعيم في الحلية عن ابن عمر رفعه: خيار أمتي في كل قرن خمسمائة والأبدال أربعون، فلا الخمسمائة ينقصون ولا الأربعون كلما مات رجل أبدل اللَّه مكانه آخر، قالوا: يا رسول اللَّه دلنا على أعمالهم؟ قال: يعفون عمن ظلمهم، ويحسنون إلى من أساء إليهم، ويتواصلون فيما أتاهم اللَّه عز وجل، وفي لفظ للخلال: لا يزال أربعون رجلاً يحفظ
আল্লাহ তোমাদের কারো মঙ্গল দান করলে সে যেন নিজের এবং নিজের পরিবার থেকে শুরু করে। বিষয়টি এমনই—তবে এই শব্দে—: "এবং তার পরিবার-পরিজন", মুসলিমের নিকট তাঁর সহীহ গ্রন্থের 'ইমারাহ' (নেতৃত্ব) অধ্যায়ের শুরুতে শুধু হাতিম বিন ইসমাইলের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আর আবু দাউদের সুনান গ্রন্থের 'হুরূফ' (কিরাত) অংশে হামযাহ আল-যায়্যাত-এর সূত্রে—তিনি আবু ইসহাক আল-সাবি'য়ী থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন দোয়া করতেন, নিজের থেকে শুরু করতেন এবং বলতেন: "আমাদের ওপর এবং মুসার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক"—সম্পূর্ণ হাদীস। বরং এটি সহীহ মুসলিমে রাকিয়া বিন মাসকালাহ-এর সূত্রে আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত মুসা ও খিজিরের ঘটনায় এসেছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন নবীদের কারো কথা উল্লেখ করতেন, তখন নিজের থেকে শুরু করতেন: "আমাদের ওপর এবং আমার অমুক ভাইয়ের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক"। সাঈদ বিন মানসুরের সুনান গ্রন্থে উরওয়াহ বিন যুবাইরের সূত্রে বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব যখন তাশাহহুদ পড়তেন, তখন বলতেন: "আল্লাহর নামে, যিনি শ্রেষ্ঠতম নামের অধিকারী"। এরপর তিনি তাশাহহুদ উল্লেখ করেছেন যাতে ছিল: "আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। তোমাদের কেউ যখন নামাজ পড়ে তখন সে সালাম দেয় অথচ নিজের ওপর সালাম দেয় না। অতএব তোমরা নিজেদের থেকে শুরু করো, কারণ এটি তোমাদের জন্য ফেরেশতা ও নেককারদের একত্র করবে"।
৮ - হাদীস: 'আবদাল' (বিনিময়কারী পুণ্যবানদের এক বিশেষ শ্রেণী) সংক্রান্ত। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে এর বিভিন্ন শব্দে একাধিক বর্ণনা পথ রয়েছে যার সবগুলোই দুর্বল। এর মধ্যে একটি আল-খল্লাল তাঁর 'কারামাতুল আউলিয়া' গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আবদাল হলেন চল্লিশজন পুরুষ ও চল্লিশজন নারী। যখনই কোনো পুরুষ মারা যান, আল্লাহ তাঁর স্থলে অন্য একজন পুরুষকে স্থলাভিষিক্ত করেন; আর যখন কোনো নারী মারা যান, আল্লাহ তাঁর স্থলে অন্য একজন নারীকে স্থলাভিষিক্ত করেন।" এর একটি তাবারানী তাঁর 'আল-আওসাত' গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "পৃথিবী কখনোই খলীলুর রহমান (আলাইহিস সালাম)-এর ন্যায় চল্লিশজন পুরুষ থেকে শূন্য হবে না। তাদের অসিলায় মানুষ বৃষ্টি পায় এবং তাদের অসিলায় তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। তাদের কেউ মারা গেলেই আল্লাহ তাঁর স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন।" এর একটি ইবনে আদী তাঁর 'কামিল' গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "আবদালগণ চল্লিশজন—বাইশজন শামে (সিরিয়া অঞ্চল) এবং আঠারোজন ইরাকে। যখনই তাদের কেউ মারা যান, আল্লাহ তাঁর স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন। যখন চূড়ান্ত আদেশ আসবে, তখন তাদের সবাইকে উঠিয়ে নেওয়া হবে। আর তখনই কিয়ামত সংঘটিত হবে।" এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যেমনটি ইমাম আহমদের মুসনাদ, আল-খল্লাল এবং অন্যদের গ্রন্থে উবাদাহ বিন সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: "এই উম্মতে সর্বদা ইবরাহীম খলীলুর রহমানের ন্যায় ত্রিশজন ব্যক্তি বর্তমান থাকবেন। যখনই তাদের কেউ মারা যাবেন, আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত তাঁর স্থলে অন্য একজন পুরুষকে স্থলাভিষিক্ত করবেন।" তাবারানীর 'আল-কাবীর' গ্রন্থের এক বর্ণনায় রয়েছে: "তাদের মাধ্যমে পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত থাকে, তাদের কারণে তারা বৃষ্টি পায় এবং তাদের মাধ্যমেই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়।" আবু নুআইম 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেন: "আমার উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ প্রতি শতাব্দীতে পাঁচশত জন এবং আবদাল হলেন চল্লিশজন। এই পাঁচশত জনের সংখ্যাও কমে না, আর এই চল্লিশজনের সংখ্যাও কমে না। যখনই কোনো ব্যক্তি মারা যান, আল্লাহ তাঁর স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন।" তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের তাদের আমল সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: "তারা তাদের ক্ষমা করে দেয় যারা তাদের ওপর জুলুম করে, তাদের সাথে সদাচরণ করে যারা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত তাদের যা দান করেছেন তাতে একে অপরের সাথে হৃদ্যতা বজায় রাখে।" আল-খল্লালের এক বর্ণনায় এসেছে: "সর্বদা চল্লিশজন ব্যক্তি থাকবেন যারা সংরক্ষণ করবেন..."