(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: -)
الإسلام أصوله ومبادئه القسم: العقيدة
الكتاب: الإسلام أصوله ومبادؤه
المؤلف: محمد بن عبد الله بن صالح السحيم
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1421هـ
عدد الصفحات: 178
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলাম: এর মূলনীতি ও আদর্শসমূহ বিভাগ: আকিদাহ
কিতাব: ইসলাম: এর মূলনীতি ও আদর্শসমূহ
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালেহ আস-সুহাইম
প্রকাশক: ইসলামি বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৮
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: -)
[توطئة]الإسلام أصوله ومبادؤه
[ভূমিকা]ইসলাম: এর মূলনীতি ও আদর্শসমূহ
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
توطئة الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق، والحمد لله الذي جعلنا من أتباع محمد صلى الله عليه وسلم، والحمد لله الذي من علينا فجعلنا من المتمسكين بهديه، الداعين إلى سبيله.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، إله الأولين والآخرين، وقيوم السماوات والأرضين، أذعن له البر والفاجر، وشهدت بعدله وفضله الأبصار والبصائر، هدى من شاء - بفضله - إلى صراطه المستقيم، وصرف عن سبيله - بعدله - من استحق العذاب المقيم، وأشهد أن محمدا عبد الله ورسوله صلى الله عليه وسلم، أفنى عمره جهادا ومجاهدة وصبرا ومصابرة، ودعا إلى سبيل ربه في كل ساحة وواد، ونادى: حي على الفلاح حي على الجهاد، خصه الله بخصائص عظيمة تجل عن الحصر، وجعل شريعته باقية إلى يوم القيامة، ودعاته من خلفه يحملون راياته إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها، فلا تزال طائفة منهم على الحق منصورة لا يضرها من خذلها أو خالف أمرها، إذ هم على بصيرة من أمرهم، يقتفون أثر نبيهم محمدا صلى الله عليه وسلم: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي} [يوسف: 108] 4 {أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} [يوسف: 108]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে প্রেরণ করেছেন এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের তাঁর হিদায়াতের ওপর অবিচল ও তাঁর পথের দিকে আহ্বানকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ইলাহ এবং আসমানসমূহ ও জমিনসমূহের ধারক। পুণ্যবান ও পাপাচারী সকলেই তাঁর বশ্যতা স্বীকার করে। তাঁর ন্যায়বিচার ও অনুগ্রহের সাক্ষ্য দেয় দৃষ্টিসমূহ ও অন্তর্দৃষ্টিসমূহ। তিনি তাঁর অনুগ্রহে যাকে চান তাকে তাঁর সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন এবং তাঁর ন্যায়বিচারের মাধ্যমে যে স্থায়ী আজাবের যোগ্য তাকে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তিনি জিহাদ ও কঠোর সাধনা এবং ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি প্রতিটি ময়দানে ও উপত্যকায় তাঁর প্রতিপালকের পথের দিকে আহ্বান করেছেন এবং ঘোষণা করেছেন: সফলতার দিকে এসো, জিহাদের দিকে এসো। আল্লাহ তাঁকে এমন সব মহান বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করেছেন যা গণনা করা দুঃসাধ্য এবং তাঁর শরীয়তকে কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী করেছেন। তাঁর পরবর্তী দাওয়াত দানকারীরা তাঁর পতাকাসমূহ বহন করবেন যতক্ষণ না আল্লাহ জমিন ও তার ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী হন। তাদের মধ্যে একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে বা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কেননা তারা তাদের বিষয়ের ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর অটল। তারা তাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করে: {বলুন, এটিই আমার পথ} [ইউসুফ: ১০৮] ৪ {আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি} [ইউসুফ: ১০৮]
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ৪)
(1) يدعون من ضل إلى الهدى، ويحذرون الخلق من الهلاك والردى، رغبة فيما عند الله، ولئلا يتشبهوا بأهل الكتاب الذين أخذ عليهم الميثاق فنبذوه وراء ظهورهم، قال تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ فَنَبَذُوهُ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ وَاشْتَرَوْا بِهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَبِئْسَ مَا يَشْتَرُونَ} [آل عمران: 187] (2) .
أما بعد. . فإن كل من عمل في ميدان طباعة الكتب الإسلامية ونشرها وترجمتها يدرك عظم الحاجة إلى كتاب يدعو غير المسلمين إلى الإسلام، لأن الكتب التي تناولت الإسلام كثيرة جدا، سواء كانت مجملة أم مفصلة، ولكن قد لا تجتمع فيها الشروط المطلوبة في دعوة غير المسلمين، لأن بعضها ألف للمسلمين ولم يقصد به غير المسلمين، وبعضها فيه تفصيل في مسائل العبادات لا يناسب بسطه أمام غير المسلمين، وبعضها اشتمل على ملاحظات تمنع الإفادة منه.
وقد عنيت بذا الأمر - منذ مدة - وكالة شؤون المطبوعات بوزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد، ولم تجد ذلك الكتاب الذي تطمح إليه، ولم يتيسر لنا في الوكالة الاتفاق مع مؤلف لكتابته، وإن كنا عرضنا ذلك على بعض المختصين، ولكن حال دون ذلك عقبات لعل مردها إلى كثرة الذنوب، والتقصير في حق علام الغيوب.
--------------------------------------------
(১) তারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন এবং সৃষ্টির ধ্বংস ও বিনাশ থেকে তাদের সতর্ক করেন। তারা তা করেন আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তার প্রত্যাশায় এবং যাতে তারা সেই আহলে কিতাবদের সদৃশ না হয়, যাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়েছিল কিন্তু তারা তা তাদের পিঠের পেছনে নিক্ষেপ করেছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছিল যে, ‘তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না।’ অতঃপর তারা তা তাদের পিঠের পেছনে ফেলে দিল এবং এর বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করল। সুতরাং তারা যা ক্রয় করে তা কতই না নিকৃষ্ট।} [আল-ইমরান: ১৮৭] (২)।
অতঃপর... নিশ্চয়ই যারা ইসলামি কিতাবাদি মুদ্রণ, প্রকাশনা ও অনুবাদের ময়দানে কাজ করেন তারা অমুসলিমদের ইসলামের দিকে আহ্বান করার মতো একটি কিতাবের চরম প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। কারণ ইসলাম নিয়ে রচিত কিতাবসমূহ সংখ্যায় অনেক, তা সংক্ষিপ্ত হোক বা বিস্তারিত, তবে অমুসলিমদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শর্তাবলি সম্ভবত সেগুলোতে একত্রিত হয়নি। কারণ এগুলোর কোনটি মুসলিমদের জন্য রচিত হয়েছে যেখানে অমুসলিমদের উদ্দেশ্য করা হয়নি, আবার কোনটিতে ইবাদতের মাসআলাসমূহের এমন দীর্ঘ বর্ণনা রয়েছে যা অমুসলিমদের সামনে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়, আবার কোনটি এমন কিছু পর্যবেক্ষণ সংবলিত যা তা থেকে উপকৃত হতে বাধা প্রদান করে।
ইসলামি বিষয়াদি, ওয়াকফ, দাওয়াত ও ইরশাদ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা বিষয়ক সংস্থা গত কিছুকাল ধরে এই বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করে আসছে, কিন্তু তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেই কিতাবটি খুঁজে পায়নি। আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে এটি রচনার জন্য কোনো লেখকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়াও সম্ভব হয়ে ওঠেনি, যদিও আমরা বিষয়টি কয়েকজন বিশেষজ্ঞের নিকট পেশ করেছিলাম। কিন্তু কিছু প্রতিবন্ধকতা এর অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার কারণ সম্ভবত অধিক গুনাহ এবং অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর হকের প্রতি অবহেলা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
وبين آونة وأخرى يرد إلينا كتاب من مهتد جديد أو من مركز إسلامي يطلب منا أن نرشح له كتابا ليترجمه إلى أبناء أمته، مما يناسب أن تخاطب به أمم الكفر، فنلتمس يمينا وشمالا فلا نجد ذلك الكتاب، ونشعر بالضيق والحرج في عجزنا أن نبلغ شرع الله من خلال كتاب مختصر موجز.
وبعد ذلك رأيت أن التسويف آفة لا تنتهي، وأن رجاء المعدوم وانتظاره سفه، وأنه لا عذر لنا في تقصيرنا، فاستخرت الله وسألته العون والتوفيق على كتابة كتاب يسد تلك الثغرة - ولو مؤقتا -، ويحقق شيئا من ذلك الحلم الذي طالما راودنا، ولا أدعي أنني حققت تلك الغاية التي كنا نطمح إليها، ولكنني أحاول أن أختط الطريق ليعمره من بعدي، وأضع البذرة، ليسقيها غيري.
وقد حاولت قدر المستطاع أن أعرض الإسلام في هذا الكتاب عرضا موجزا من خلال التعريف بأركان الإسلام ومبادئه العظام، وما يتطلبه البيان من ذكر بعض المسائل والقضايا التي لا بد من التعريف بها عند الدعوة إلى الإسلام.
وقد اعتمدت في هذا المنهج على الأحاديث الجامعة مثل خبر بعث معاذ رضي الله عنه إلى اليمن حينما قال له النبي صلى الله عليه وسلم: «إنك تأتي قوما من أهل الكتاب فادعهم إلى شهادة أن لا إله إلا الله وأني رسول الله،
সময়ে সময়ে আমাদের কাছে কোনো নতুন হিদায়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কোনো ইসলামিক সেন্টার থেকে এমন পত্র আসে, যেখানে তারা তাদের জাতির লোকদের নিকট অনুবাদ করার উপযোগী কোনো কিতাব সুপারিশ করার জন্য আমাদের কাছে অনুরোধ জানায়, যা কুফরি জাতিগুলোর সামনে উপস্থাপনের জন্য উপযুক্ত হয়। তখন আমরা ডানে-বামে অন্বেষণ করি কিন্তু সেরূপ কোনো কিতাব খুঁজে পাই না। একটি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ কিতাবের মাধ্যমে আল্লাহর শরীয়ত পৌঁছে দিতে আমাদের এই অক্ষমতায় আমরা সংকীর্ণতা ও সংকোচ বোধ করি।
অতঃপর আমি দেখলাম যে, দীর্ঘসূত্রিতা একটি অন্তহীন ব্যাধি, আর অবর্তমান জিনিসের আশা করা ও তার প্রতীক্ষায় থাকা নির্বুদ্ধিতা। আমাদের এই অবহেলার পেছনে কোনো ওজর নেই। তাই আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্যে—যদিও তা সাময়িকভাবে হয়—একটি কিতাব রচনার বিষয়ে তাঁর কাছে সাহায্য ও তাওফীক প্রার্থনা করলাম, যেন এর মাধ্যমে আমাদের সেই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের কিছু অংশ বাস্তবায়িত হয়। আমি এ দাবি করছি না যে, আমি সেই লক্ষ্য পূর্ণ করেছি যার উচ্চাশা আমরা করতাম; বরং আমি একটি পথ অঙ্কন করার চেষ্টা করছি যেন আমার পরবর্তীতে কেউ একে সমৃদ্ধ করতে পারে এবং আমি একটি বীজ বপন করছি যেন অন্য কেউ তাতে পানি সেচন করতে পারে।
আমি এই কিতাবে ইসলামের রুকনসমূহ এবং এর মহান মূলনীতিগুলোর পরিচয়ের মাধ্যমে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্তাকারে ইসলামকে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। সেই সাথে বর্ণনার প্রয়োজনে এমন কিছু মাসআলা ও বিষয়ের অবতারণা করেছি যা ইসলামের দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে পরিচিতি দেওয়া অপরিহার্য।
আমি এই পদ্ধতিতে অত্যন্ত ব্যাপক অর্থবোধক হাদিসসমূহের ওপর নির্ভর করেছি, যেমন মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামেনে পাঠানোর ঘটনা, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ; সুতরাং তুমি তাদেরকে এই সাক্ষ্য প্রদানের দিকে আহ্বান জানাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ৬)
فإن هم أطاعوا لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم خمس صلوات في كل يوم وليلة، فإن هم أطاعوا لذلك فأعلمهم أن الله افترض عليهم صدقة تؤخذ من أغنيائهم فترد في فقرائهم» (1) وعلى حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه حيث قال: «بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم، إذ طلع علينا رجل شديد بياض الثياب، شديد سواد الشعر، لا يرى عليه أثر السفر، ولا يعرفه منا أحد، حتى جلس إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فأسند ركبتيه إلى ركبتيه، ووضع يديه على فخذيه، وقال: يا محمد أخبرني عن الإسلام. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الإسلام أن تشهد أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، وتقيم الصلاة، وتؤدي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلا، قال: صدقت، قال: فعجبنا له يسأله ويصدقه، قال: فأخبرني عن الإيمان. قال: أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خيره وشره، قال: صدقت. قال: فأخبرني عن الإحسان. قال: أن تعبد الله كأنك تراه، فإن لم تكن تراه فإنه يراك. . . إلى أن قال: يا عمر أتدري من السائل؟ قلت: الله ورسوله أعلم. قال: فإنه جبريل أتاكم يعلمكم دينكم» (2) .
--------------------------------------------
“যদি তারা তা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যদি তারা তা মেনে নেয়, তবে তাদের জানিয়ে দিন যে, আল্লাহ তাদের ওপর সদকা (জাকাত) ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করা হবে।” (১) এবং উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের ভিত্তিতে, যেখানে তিনি বলেছেন: “একদা আমরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে উপস্থিত ছিলাম, তখন আমাদের সামনে এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন যার পোশাক ছিল অত্যন্ত সাদা এবং চুল ছিল অত্যন্ত কালো। তার মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের কেউ তাকে চিনতেনও না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে গিয়ে বসলেন, অতঃপর নিজের দুই হাঁটু তাঁর দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং নিজের দুই হাত তাঁর দুই উরুর ওপর রাখলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের সিয়াম পালন করা এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ করা। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তাঁর বিষয়ে বিস্মিত হলাম যে, তিনি তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তাঁর সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ইমান হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: ইহসান হলো এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যেন তুমি তাঁকে দেখছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তো তোমাকে দেখছেন। ... পরিশেষে তিনি বললেন: হে উমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি বললেন: তিনি ছিলেন জিবরীল; তিনি তোমাদের নিকট এসেছিলেন তোমাদের দ্বীন শেখাতে।” (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
ففي هذين الحديثين بين النبي صلى الله عليه وسلم أصول الإيمان والإسلام والإحسان، ولم يتجاوز ذلك إلى فروع المسائل، بل في الحديث الأول لم يذكر صلى الله عليه وسلم لمعاذ الصيام والحج، وعلل العلماء ذلك بتعليلات ليس هذا أوان بسطها.
كما حاولت - قدر المستطاع - أن أستشهد لكل مسألة من مسائل العقيدة بآية أو أكثر من كتاب الله، استئناسا بقوله تعالى: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ} [التوبة: 6] (1) فينبغي أن يسمعوا كلام الله، لأن له طلاوة تسلب العقول، وتأخذ بالألباب، كما أن كثيرا ممن أسلم يذكر أنه قرأ آيات من القرآن الكريم فكانت سبب هدايته، وقد حاولت - جاهدا - أن أتجنب بعض المسائل التي قد تستدعي التساؤلات والاعتراضات إلى ذهن القارئ، كذلك آثرت عدم الرد على بعض الشبهات، واكتفيت بذكر الأدلة والأصول التي تنفي هذه الشبهة أو تلك.
واجتهدت أن يكون خفيفا لطيفا كالأدلة الإرشادية، بعيدا عن الأبواب والفصول، وثقل الكتب المنهجية.
وهذا العمل جهد بشري مطبوع بطابع البشر فيه أن الضعف والنقص والخطأ، فما كان فيه من صواب وسداد فمن الله، وأسأل الله أن يجعله خالصا لوجهه الكريم، وأن يتقبله مني، وأن يكتب له
--------------------------------------------
সুতরাং এই দুটি হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈমান, ইসলাম এবং ইহসানের মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করেছেন এবং এর বাইরে শাখা-প্রশাখার মাসআলাসমূহে প্রবেশ করেননি। বরং প্রথম হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআয (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট রোজা ও হজের কথা উল্লেখ করেননি। উলামায়ে কেরাম এর কারণসমূহ বর্ণনা করেছেন যা এখানে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই।
তেমনিভাবে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি আকিদার প্রতিটি মাসআলায় আল্লাহর কিতাব থেকে এক বা একাধিক আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করতে, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে প্রশান্তি অর্জনের উদ্দেশ্যে: "আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়" [তওবা: ৬] (১)। সুতরাং তাদের আল্লাহর কালাম শোনা উচিত, কারণ এতে এমন মাধুর্য রয়েছে যা বুদ্ধিকে বিমোহিত করে এবং অন্তরকে জয় করে নেয়। যেমন ইসলাম গ্রহণকারী অনেকের ভাষ্যমতে, তারা পবিত্র কুরআনের আয়াত পাঠ করেছেন এবং সেটিই তাদের হেদায়েতের কারণ হয়েছে। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি এমন কিছু মাসআলা এড়িয়ে চলতে যা পাঠকের মনে প্রশ্ন বা আপত্তির উদ্রেক করতে পারে। একইভাবে আমি কিছু সংশয়ের জবাব প্রদান না করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি এবং কেবল সেই দলিল ও মূলনীতিসমূহ উল্লেখের ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি যা এই বা সেই সংশয়কে নিরসন করে।
আর আমি এই বিষয়টিকে নির্দেশনামূলক পুস্তিকার ন্যায় সহজ ও সাবলীল করার চেষ্টা করেছি, যা অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ এবং পাঠ্যপুস্তকের গুরুগম্ভীরতা থেকে মুক্ত থাকবে।
আর এই কর্মটি একটি মানবীয় প্রচেষ্টা যা মানুষের স্বভাবজাত দুর্বলতা, অপূর্ণতা ও ভুলত্রুটি দ্বারা প্রভাবিত। সুতরাং এতে যা কিছু সঠিক ও নির্ভুল রয়েছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আমার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করেন এবং এর জন্য নেকি লিখে দেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
القبول، وما كان فيه من خطأ فمني ومن الشيطان، والله سبحانه وتعالى منزه عن الخطأ والتقصير، وأسأل الله أن يبدل خطأ هذا الكتاب صوابا، وضلاله رشادا.
وأشكر في نهاية هذا التمهيد كل من سعى لإخراج هذا الكتاب وطبعه وترجمته ونشره، وأسأل الله أن يضاعف لهم الأجر والمثوبة، وأن يجعله من العمل الصالح والعلم النافع، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وآخر دعوانا أن الحصد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
المؤلف
د. محمد بن عبد الله بن صالح السحيم
ص ب 1032 - الرياض 11342
কবুলিয়াত [কামনা করছি], আর এতে যা কিছু ভুল রয়েছে তা আমার পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর মহান আল্লাহ ভুল ও ত্রুটি থেকে পবিত্র। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কিতাবের ভুলগুলোকে সঠিকতায় এবং এর বিচ্যুতিকে হেদায়েতে পরিবর্তন করে দেন।
এই উপক্রমণিকার শেষে আমি তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাই যারা এই কিতাবটি প্রকাশ, মুদ্রণ, অনুবাদ ও প্রচারের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাদের সওয়াব ও প্রতিদান বহুগুণ বাড়িয়ে দেন, এবং একে নেক আমল ও উপকারী ইলমের অন্তর্ভুক্ত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সক্ষম। আমাদের শেষ আহ্বান হলো—সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সহচরদের ওপর।
লেখক
ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালেহ আস-সুহাইম
পো. ব. ১০৩২ - রিয়াদ ১১৩৪২
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ৯)
[المقدمة]المقدمة (1) إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم تسليما كثيرا.
أما بعد: فقد أرسل الله رسله إلى العالمين، لئلا يكون للناس على الله حجة بعد الرسل، وأنزل الكتب هدى ورحمة ونورا وشفاء، فكان الرسل فيما مضى يبعثون إلى أقوامهم خاصة، ويستحفظون كتبهم؛ فلذلك اندثرت كتاباتهم، وحرفت وبدلت شرائعهم؛ لأنها أنزلت لأمة محدودة، في فترة معدودة.
ثم اختص الله نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم بأن جعله خاتم الأنبياء والمرسلين، قال تعالى: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} [الأحزاب: 40] (2) وأكرمه بخير كتاب أنزل، وهو القرآن العظيم،
--------------------------------------------
[ভূমিকা]ভূমিকা (১) নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলের মন্দ দিক থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর অসংখ্য রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর: আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে বিশ্বজগতের নিকট প্রেরণ করেছেন, যাতে রাসূলগণের প্রেরণের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। তিনি কিতাবসমূহকে হেদায়েত, রহমত, নূর এবং নিরাময় হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। পূর্ববর্তী যুগে রাসূলগণ বিশেষভাবে তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরিত হতেন এবং তাঁদের কিতাবসমূহ সংরক্ষণের দায়িত্ব তাঁদের ওপরই ন্যস্ত ছিল। ফলে তাঁদের লিপিগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে এবং তাঁদের শরীয়তগুলো বিকৃত ও পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছে; কারণ সেগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমিত একটি জনগোষ্ঠীর নিকট অবতীর্ণ হয়েছিল।
এরপর আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই বিশেষত্ব দান করেছেন যে, তাঁকে সর্বশেষ নবী ও রাসূল করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী} [আল-আহযাব: ৪০] (২) আর তাঁকে অবতীর্ণ সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব দ্বারা সম্মানিত করেছেন, যা হলো মহান কুরআন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ১০)
وتكفل سبحانه بحفظه، ولم يترك حفظه لخلقه، فقال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9] (1) وجعل شريعته باقية إلى قيام الساعة، وبين - سبحانه - أن من لوازم بقاء شريعته الإيمان بها، والدعوة إليها، والصبر عليها، فكان منهج محمد صلى الله عليه وسلم ومنهج أتباعه من بعده الدعوة إلى الله على بصيرة، قال - تعالى - موضحا هذا المنهج: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108] (2) وأمره بالصبر على الأذى في سبيل الله فقال تعالى {فَاصْبِرْ كَمَا صَبَرَ أُولُو الْعَزْمِ مِنَ الرُّسُلِ} [الأحقاف: 35] (3) وقال جل ثناؤه: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [آل عمران: 200] (4) واتباعا لهذا المنهج الإلهي الكريم كتبت هذا الكتاب دعوة إلى سبيل الله، مستبصرا بكتاب الله، ومسترشدا بسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وبينت فيه بيانا موجزا خبر خلق الكون، وخلق الإنسان وتكريمه، وإرسال الرسل إليه، وحال الديانات السابقة، ثم عرفت بالإسلام معنى وأركانا، فمن أراد الهدى، فهاهي أدلته بين يديه، ومن أراد النجاة فقد أوضحت له طريقها، فمن رغب في اقتفاء آثار الأنبياء والمرسلين والمصلحين فهاهي سبيلهم، ومن رغب عنهم فقد سفه نفسه، وسلك سبيل الضلال.
--------------------------------------------
এবং মহান আল্লাহ তাআলা এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, আর এর সংরক্ষণের ভার তাঁর সৃষ্টির ওপর ছেড়ে দেননি। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} [আল-হিজর: ৯] (১) এবং তিনি তাঁর শরীয়তকে কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট রেখেছেন। মহান আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর শরীয়ত অবশিষ্ট থাকার অন্যতম অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলো এর প্রতি ঈমান আনা, এর দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং এর ওপর ধৈর্য ধারণ করা। তাই মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এবং তাঁর পরবর্তী অনুসারীদের মানহাজ বা পদ্ধতি হলো চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়া। মহান আল্লাহ এই মানহাজ স্পষ্ট করে বলেছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে ডাকছি। আল্লাহ অতি পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই} [ইউসুফ: ১০৮] (২) এবং তিনি তাঁকে আল্লাহর পথে কষ্টের ওপর ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন যেমন ধৈর্য ধারণ করেছিলেন দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ রাসূলগণ} [আল-আহকাফ: ৩৫] (৩) এবং মহান মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করো, পাহারায় নিয়োজিত থাকো এবং আল্লাহকে ভয় করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো} [আল-ইমরান: ২০০] (৪) এই মহান ঐশী পদ্ধতির অনুসরণে আমি আল্লাহর পথের দাওয়াত হিসেবে এই বইটি লিখেছি, আল্লাহর কিতাব থেকে চাক্ষুষ জ্ঞান লাভ করে এবং তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সুন্নাহ থেকে নির্দেশনা গ্রহণ করে। এতে আমি সংক্ষেপে মহাবিশ্ব সৃষ্টি, মানুষ সৃষ্টি ও তাকে সম্মানিত করা, তার কাছে রাসূল প্রেরণের সংবাদ এবং পূর্ববর্তী ধর্মগুলোর অবস্থা বর্ণনা করেছি। অতঃপর ইসলামের অর্থ ও রুকনসমূহের পরিচয় প্রদান করেছি। সুতরাং যে হিদায়েত চায়, তার সামনে এর দলীলসমূহ উপস্থিত। আর যে মুক্তি চায়, আমি তার সামনে মুক্তির পথ স্পষ্ট করেছি। যে ব্যক্তি নবী, রাসূল এবং সংস্কারকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চায়, এটিই তাদের পথ। আর যে ব্যক্তি তাদের থেকে বিমুখ হলো, সে নিজেকে নির্বোধ সাব্যস্ত করল এবং ভ্রষ্টতার পথ অবলম্বন করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
إن كل أصحاب ملة يدعون الناس إليها، ويعتقدون أن الحق فيها دون ما سواها، وكل أصحاب عقيدة يدعون الناس إلى اتباع صاحب عقيدتهم، وتعظيم قائد طريقهم.
أما المسلم فلا يدعو إلى اتباع طريقته، لأنه ليس له طريقة تخصه، إنما دينه دين الله الذي ارتضاه لنفسه، قال تعالى: {إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ} [آل عمران: 19] (1) ولا يدعو إلى تعظيم بشر، فكل البشر في دين الله سواء لا فرق بينهم إلا بالتقوى، بل يدعو الناس إلى أن يسلكوا سبيل ربهم، ويؤمنوا برسله، ويتبعوا شرعه الذي أنزله على خاتم رسله محمد صلى الله عليه وسلم، وأمره أن يبلغه إلى الناس كافة.
ومن أجل ذلك فقد حررت هذا الكتاب دعوة إلى دين الله الذي ارتضاه لنفسه، وأنزل به خاتم رسله، وإرشادا لمن أراد الهداية، ودليلا لمن أراد السعادة، فوالله لن يجد مخلوق السعادة الحقيقية إلا في هذا الدين، ولن يعرف الطمأنينة إلا من آمن بالله ربا، وبمحمد صلى الله عليه وسلم رسولا، وبالإسلام دينا، فقد شهد الآلاف من المهتدين إلى الإسلام - في قديم الدهر وحديثه - بأنهم لم يعرفوا الحياة الحقيقية إلا بعد إسلامهم، ولم يذوقوا السعادة إلا في ظلال الإسلام. . . ولأن كل إنسان يتطلع إلى السعادة، ويبحث عن الطمأنينة، ويتحرى الحقيقة،
--------------------------------------------
সকল ধর্মাদর্শের অনুসারীরা মানুষকে তাদের নিজেদের পথের দিকে আহ্বান করে এবং বিশ্বাস করে যে সত্য কেবল তাদের মধ্যেই নিহিত, অন্য কিছুতে নয়। সকল আকিদার অনুসারীরা মানুষকে তাদের আকিদার প্রবর্তকের অনুসরণ এবং তাদের পথের নেতার মাহাত্ম্য প্রচারের দিকে আহ্বান জানায়।
পক্ষান্তরে একজন মুসলিম তার নিজস্ব কোনো পথের অনুসরণের দিকে আহ্বান করে না, কারণ তার ব্যক্তিগত কোনো বিশেষ পথ নেই; বরং তার দীন হলো আল্লাহর দীন যা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত দীন হলো ইসলাম} [আলে ইমরান: ১৯] (১)। তিনি কোনো মানুষের মাহাত্ম্য প্রচারের দিকেও আহ্বান করেন না, কেননা আল্লাহর দীনে সকল মানুষই সমান, তাদের মধ্যে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি ব্যতীত অন্য কোনো পার্থক্য নেই। বরং তিনি মানুষকে তাদের রবের পথে চলতে, তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনতে এবং তাঁর সেই শরিয়ত অনুসরণ করতে আহ্বান জানান, যা তিনি তাঁর শেষ রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁকে তা সকল মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আর সে কারণেই আমি এই গ্রন্থটি সংকলন করেছি আল্লাহর সেই দীনের দাওয়াত হিসেবে যা তিনি নিজের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাঁর শেষ রাসূলের মাধ্যমে তা অবতীর্ণ করেছেন, এটি হিদায়াত অন্বেষণকারীদের জন্য একটি নির্দেশনা এবং প্রকৃত সুখ প্রত্যাশীদের জন্য একটি প্রমাণ। আল্লাহর কসম! কোনো সৃষ্টিই এই দীন ব্যতীত প্রকৃত সুখ খুঁজে পাবে না এবং সে ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ অন্তরের প্রশান্তির দেখা পাবে না যে আল্লাহকে রব হিসেবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল হিসেবে এবং ইসলামকে দীন হিসেবে মনে-প্রাণে গ্রহণ করেছে। সুপ্রাচীন কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত হাজার হাজার ইসলাম গ্রহণকারী সত্যের পথের দিশারীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তারা ইসলাম গ্রহণের আগে প্রকৃত জীবনের স্বাদ পাননি এবং ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসার পূর্ব পর্যন্ত প্রকৃত সুখ আস্বাদন করতে পারেননি। যেহেতু প্রত্যেক মানুষই সুখের প্রত্যাশা করে, প্রশান্তির খোঁজ করে এবং সত্যের অনুসন্ধান চালায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ১২)
فقد أعددت هذا الكتاب، وأسأل الله أن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه، داعيا إلى سبيله، وأن يكتب له القبول، وأن يجعله من العمل الصالح الذي ينفع صاحبه في الدنيا والآخرة.
وقد أذنت لمن أراد طبعه بأية لغة، أو ترجمته إلى أية لغة شريطة أن يلتزم الأمانة في نقله إلى اللغة التي سيترجمه إليها، وأن يتكرم علي بنسخة من ترجمته للإفادة منها، ولئلا تتكرر الجهود.
كما أرجو من كل من له ملحوظة أو استدراك سواء على أصل الكتاب باللغة العربية، أو في أية ترجمة لهذا الكتاب أن يوافيني بها على العنوان المذكور هنا.
والحمد لله أولا وآخرا، وظاهرا وباطنا، وله الحمد علانية وسرا، وله الحمد في الأولى والآخرة، وله الحمد ملء السماوات وملء الأرض وملء ما شاء من شيء ربنا، وصلى الله على نبينا محمد وصحبه ومن سار على منهجه وسلك سبيله وسلم تسليما كثيرا إلى يوم الدين.
المؤلف
د. محمد بن عبد الله بن صالح السحيم
الرياض 13 / 10 / 1420 هـ
ص. ب 1032 الرياض 1342
وص. ب 6249 الرياض 11442
আমি এই গ্রন্থটি প্রস্তুত করেছি এবং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, তাঁর পথের দিকে আহ্বানকারী বানান, এর জন্য কবুলিয়্যাত দান করেন এবং এটিকে এমন নেক আমল হিসেবে গণ্য করেন যা দুনিয়া ও আখিরাতে এর লেখককে উপকৃত করবে।
আমি এই গ্রন্থটি যে কোনো ভাষায় মুদ্রণ করতে বা অনুবাদ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে অনুমতি প্রদান করেছি, তবে শর্ত হলো অনুবাদের ক্ষেত্রে তাকে আমানতদারিতা বজায় রাখতে হবে এবং অনুগ্রহপূর্বক আমাকে অনুবাদের একটি অনুলিপি প্রদান করতে হবে যাতে তা থেকে উপকৃত হওয়া যায় এবং প্রচেষ্টার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সেই সাথে আমি প্রত্যেকের নিকট আশা রাখি যে, এই মূল আরবি গ্রন্থ অথবা এর যেকোনো অনুবাদের ওপর যদি কারো কোনো মন্তব্য বা সংশোধনী থাকে, তবে তিনি যেন এখানে উল্লিখিত ঠিকানায় আমাকে তা অবহিত করেন।
আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে, প্রকাশ্যে ও গোপনে; তাঁরই প্রশংসা প্রকাশ্যে ও সংগোপনে; তাঁরই প্রশংসা ইহকালে ও পরকালে; আকাশসমূহ পূর্ণ করে, পৃথিবী পূর্ণ করে এবং এরপর আমাদের রব যা কিছু চান তা পূর্ণ করে আল্লাহরই প্রশংসা। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর মানহাজ ও পথ অনুসরণ করবে, তাদের ওপর আল্লাহর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
লেখক
ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন সালিহ আস-সুহাইম
রিয়াদ ১৩ / ১০ / ১৪২০ হিজরি
পি.ও. বক্স ১০৩২ রিয়াদ ১৩৪২
পি.ও. বক্স ৬২৪৯ রিয়াদ ১১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
[أين الطريق]أين الطريق؟ حينما يكبر الإنسان ويعقل تتوارد على ذهنه أسئلة كثيرة من مثل: من أين جئت؟ ولماذا جئت؟ وإلى أين المصير؟ ومن خلقني وخلق هذا الكون من حولي؟ ومن يملك هذا الكون ويتصرف فيه؟ إلى غير ذلك من الأسئلة.
ولا يستطيع الإنسان أن يستقل بمعرفة إجابات هذه الأسئلة، ولا يقدر العلم الحديث أن يرتقي إلى الإجابة عنها، لأن هذه القضايا مما يدخل ضمن دائرة الدين، ولأجل ذلك تعددت الروايات، وتنوعت الخرافات والأساطير حول هذه المسائل مما يزيد في حيرة الإنسان وقلقه، ولا يمكن أن يقف الإنسان على الإجابة الشافية الكافية لهذه المسائل إلا إذا هداه الله إلى الدين الصحيح الذي يأتي بالقول الفصل في هذه المسائل وغيرها، لأن هذه القضايا تعد من الأمور الغيبية، والدين الصحيح هو الذي ينفرد بالحق وقول الصدق، لأنه وحده من الله أوحاه إلى أنبيائه ورسله، ولذا كان لزاما على الإنسان أن يقصد الدين الحق ويتعلمه ويؤمن به، لتذهب عنه الحيرة، وتزول عنه الشكوك، ويهتدي إلى الصراط المستقيم.
وفي الصفحات التالية أدعوك إلى اتباع صراط الله المستقيم، وأعرض أمام ناظريك بعض أدلته وبراهينه وحججه، لتنظر فيها بتجرد وتمعن وأناة.
[পথ কোথায়?]পথ কোথায়? মানুষ যখন বড় হয় এবং বুদ্ধিদীপ্ত হয়, তখন তার মনে অনেক প্রশ্ন জাগে, যেমন: আমি কোথা থেকে এসেছি? কেন এসেছি? গন্তব্য কোথায়? আমাকে এবং আমার চারপাশের এই মহাবিশ্বকে কে সৃষ্টি করেছেন? কে এই মহাবিশ্বের মালিক এবং এটি পরিচালনা করেন? এই জাতীয় আরও অনেক প্রশ্ন।
মানুষ এককভাবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে সক্ষম নয়, এবং আধুনিক বিজ্ঞানও এগুলোর উত্তর দেওয়ার স্তরে পৌঁছাতে পারে না। কারণ এই বিষয়গুলো ধর্মের পরিমণ্ডলের অন্তর্ভুক্ত। এই কারণে এসব বিষয়ে নানা বর্ণনার উদ্ভব ঘটেছে এবং বিভিন্ন প্রকার রূপকথা ও পৌরাণিক কাহিনীর সৃষ্টি হয়েছে, যা মানুষের বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। মানুষের পক্ষে এই বিষয়গুলোর পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে সঠিক ধর্মের দিকে পরিচালিত করেন, যা এই সমস্ত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে। কারণ এই বিষয়গুলো অদৃশ্যের (গায়েব) বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। আর একমাত্র সঠিক ধর্মই সত্য ও সঠিক কথা বলতে পারে, যেহেতু এটি কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবী ও রাসূলদের কাছে অবতীর্ণ ওহি। অতএব, মানুষের জন্য অপরিহার্য হলো সত্য ধর্মের সন্ধান করা, তা শিক্ষা করা এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করা, যাতে তার বিভ্রান্তি দূর হয়, সন্দেহ নিরসন হয় এবং সে সরল পথের দিশা পায়।
পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে আমি আপনাকে আল্লাহর সরল পথ অনুসরণের আহ্বান জানাচ্ছি এবং আপনার সামনে এর কিছু দলীল, প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন করছি, যাতে আপনি নিরপেক্ষতা, গভীর মনোযোগ ও ধীরস্থিরভাবে সেগুলো বিবেচনা করতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ১৪)
[وجود الله وربوبيته ووحدانيته وألوهيته سبحانه]وجود الله وربوبيته
ووحدانيته وألوهيته سبحانه (1) يعبد كثير من الناس آلهة مخلوقة مصنوعة كالشجر والحجر والبشر، ولذا سأل اليهود والمشركون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صفة الله ومن أي شيء هو، فأنزل الله تعالى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ - اللَّهُ الصَّمَدُ - لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ - وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 1 - 4] (2) وعرف عباده بنفسه فقال جل ثناؤه: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} [الأعراف: 54] (3) وقال عز من قائل: {اللَّهُ الَّذِي رَفَعَ السَّمَاوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى يُدَبِّرُ الْأَمْرَ يُفَصِّلُ الْآيَاتِ لَعَلَّكُمْ بِلِقَاءِ رَبِّكُمْ تُوقِنُونَ - وَهُوَ الَّذِي مَدَّ الْأَرْضَ وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنْهَارًا وَمِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ جَعَلَ فِيهَا زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ} [الرعد: 2 - 3] إلى أن قال تعالى
--------------------------------------------
[আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর রুবুবিয়্যাহ, একত্ব ও উলুহিয়্যাহ]আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর রুবুবিয়্যাহ, একত্ব ও উলুহিয়্যাহ (১)। অনেক মানুষ গাছ, পাথর এবং মানুষের মতো সৃষ্টি করা ও তৈরি করা মাবুদদের ইবাদত করে। তাই ইহুদি ও মুশরিকরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে এবং তিনি কী দিয়ে তৈরি তা নিয়ে প্রশ্ন করেছিল। তখন মহান আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।} [আল-ইখলাস: ১-৪] (২) তিনি তাঁর বান্দাদের নিকট নিজের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর প্রশংসা সুউচ্চ, তিনি বলেছেন: {নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশের উপর উঠেছেন। তিনি রাতকে দিন দিয়ে ঢেকে দেন, যা দ্রুতগতিতে তার পিছে ছুটে আসে এবং সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আদেশের অনুগত। জেনে রেখো, সৃষ্টি ও আদেশ তাঁরই। বিশ্বজগতের রব আল্লাহ বরকতময়।} [আল-আরাফ: ৫৪] (৩) এবং মহাপরাক্রমশালী সত্তা বলেন: {আল্লাহই আসমানসমূহকে স্তম্ভহীনভাবে উচ্চে রেখেছেন যা তোমরা দেখছ, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন, প্রত্যেকেই এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবর্তন করছে। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন, আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করো। আর তিনিই জমিনকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে পাহাড় ও নদী সৃষ্টি করেছেন আর তাতে প্রত্যেক ফল থেকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাতকে দিন দিয়ে ঢেকে দেন।} [আর-রাদ: ২-৩] মহান আল্লাহ এরপর আরও বলেছেন-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ১৫)
{اللَّهُ يَعْلَمُ مَا تَحْمِلُ كُلُّ أُنْثَى وَمَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ وَمَا تَزْدَادُ وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ - عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ} [الرعد: 8 - 9] (1) وقال جل ثناؤه: {قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُمْ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لَا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ نَفْعًا وَلَا ضَرًّا قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّورُ أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} [الرعد: 16] (2) وأقام سبحانه لهم آياته شواهد وبينات، فقال تعالى: {وَمِنْ آيَاتِهِ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَالشَّمْسُ وَالْقَمَرُ لَا تَسْجُدُوا لِلشَّمْسِ وَلَا لِلْقَمَرِ وَاسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَهُنَّ إِنْ كُنْتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ - فَإِنِ اسْتَكْبَرُوا فَالَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ يُسَبِّحُونَ لَهُ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَهُمْ لَا يَسْأَمُونَ - وَمِنْ آيَاتِهِ أَنَّكَ تَرَى الْأَرْضَ خَاشِعَةً فَإِذَا أَنْزَلْنَا عَلَيْهَا الْمَاءَ اهْتَزَّتْ وَرَبَتْ إِنَّ الَّذِي أَحْيَاهَا لَمُحْيِي الْمَوْتَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [فصلت: 37 - 39] (3) وقال سبحانه: {وَمِنْ آيَاتِهِ خَلْقُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافُ أَلْسِنَتِكُمْ وَأَلْوَانِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِلْعَالِمِينَ - وَمِنْ آيَاتِهِ مَنَامُكُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ} [الروم: 22 - 23] (4) ووصف نفسه بنعوت الجمال والكمال فقال تعالى: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ} [البقرة: 255] 16 {مِنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ} [البقرة: 255]
--------------------------------------------
{আল্লাহ জানেন প্রত্যেক নারী যা গর্ভে ধারণ করে এবং জরায়ু যা সংকুচিত করে ও যা বৃদ্ধি করে; এবং তাঁর নিকট প্রতিটি বস্তুরই এক নির্দিষ্ট পরিমাণ রয়েছে। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত, মহান, সর্বোচ্চ।} [আর-রাদ: ৮-৯] (১) এবং তাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত হোক, তিনি বলেছেন: {বলুন, ‘আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক কে?’ বলুন, ‘আল্লাহ’। বলুন, ‘তবে কি তোমরা তাঁর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করেছ, যারা নিজেদের লাভ বা ক্ষতিরও মালিক নয়?’ বলুন, ‘অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? অথবা অন্ধকার ও আলো কি সমান হতে পারে?’ তবে কি তারা আল্লাহর এমন সব অংশীদার সাব্যস্ত করেছে যারা তাঁর সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করেছে, ফলে তাদের নিকট সৃষ্টিসমূহ সদৃশ মনে হয়েছে? বলুন, ‘আল্লাহই সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি এক, মহাপরাক্রমশালী’।} [আর-রাদ: ১৬] (২) এবং তিনি সুবহানাহু তাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহকে সাক্ষী ও স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, এবং সূর্য ও চাঁদ। তোমরা সূর্যকে সিজদাহ করো না এবং চাঁদকেও না; বরং আল্লাহকে সিজদাহ করো যিনি এগুলি সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো। যদি তারা অহংকার করে, তবে যারা আপনার প্রতিপালকের সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তো দিন-রাত তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা ক্লান্ত হয় না। তাঁর আরও একটি নিদর্শন এই যে, আপনি ভূমিকে শুষ্ক-ধূসর দেখতে পান, অতঃপর যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয় যিনি একে জীবিত করেছেন তিনিই মৃতদের জীবিতকারী; নিশ্চয় তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।} [ফুসসিলাত: ৩৭-৩৯] (৩) এবং তিনি সুবহানাহু বলেছেন: {তাঁর নিদর্শনসমূহের অন্যতম হলো আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র্য। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে। তাঁর আরও নিদর্শন হলো রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা।} [আর-রুম: ২২-২৩] (৪) এবং তিনি নিজেকে সৌন্দর্য ও পূর্ণতার গুণাবলিতে গুণান্বিত করেছেন, অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশমন্ডলীতে যা কিছু আছে এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। কে সেই ব্যক্তি যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। এবং তারা কোনো কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না,} [আল-বাকারা: ২৫৫] ১৬ {তাঁর জ্ঞান থেকে তবে তিনি যতটুকু ইচ্ছে করেন তা ছাড়া।} [আল-বাকারা: ২৫৫]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: -)
الإسلام أصوله ومبادئه القسم: العقيدة
الكتاب: الإسلام أصوله ومبادؤه
المؤلف: محمد بن عبد الله بن صالح السحيم
الناشر: وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1421هـ
عدد الصفحات: 178
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলাম: এর মূলনীতি ও নীতিমালা বিভাগ: আকিদাহ
বই: ইসলাম: এর মূলনীতি ও নীতিমালা
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আল-সুহাইম
প্রকাশক: ইসলাম বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াত ও নির্দেশনা মন্ত্রণালয় - সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৮
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: -)
(1) وقال تعالى: {غَافِرِ الذَّنْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي الطَّوْلِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ} [غافر: 3] (2) وقال جل ثناؤه: {هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ} [الحشر: 23] (3) .
هذا الرب الإله الحكيم القادر الذي عرف عباده بنفسه، وأقام لهم آياته شواهد وبينات، ووصف نفسه بصفات الكمال دلت على وجوده وربوبيته وألوهيته الشرائع النبوية، والضرورة العقلية، والفطرة الخلقية، وأجمعت الأمم على ذلك، وسأبين لك شيئا من ذلك فيما يلي، فأما أدلة وجوده وربوبيته فهي:
1 - خلق هذا الكون وما فيه من بديع الصنع: يحيط بك أيها الإنسان هذا الكون العظيم ويتكون من سماوات وكواكب ومجرات، وأرض ممدودة فيها قطع متجاورات يختلف ما ينبت فيها باختلافها، وفيها من كل الثمرات، ومن كل المخلوقات تجد زوجين اثنين. . فهذا الكون لم يخلق نفسه، ولا بد له من خالق حتما، لأنه لا يمكن أن يخلق نفسه، فمن الذي خلقه على هذا النظام البديع؟ وأكمله هذا الكمال الحسن؟ وجعله آية للناظرين إلا الله الواحد القهار
--------------------------------------------
(১) এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {পাপ ক্ষমাশীল, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা, মহানুভব; তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনস্থল} [গাফির: ৩] (২) এবং তাঁর প্রশংসা অতি মহান, তিনি বলেছেন: {তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনিই অধিপতি, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষণাবেক্ষণকারী, পরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত; তারা যে শরিক স্থির করে আল্লাহ তা হতে পবিত্র} [হাশর: ২৩] (৩) ।
এই প্রতিপালক, প্রজ্ঞাময়, ক্ষমতাধর ইলাহ, যিনি তাঁর বান্দাদের নিকট নিজের পরিচয় দিয়েছেন এবং তাদের জন্য তাঁর নিদর্শনসমূহকে সাক্ষী ও স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি নিজেকে এমন সব পূর্ণ গুণাবলিতে বিশেষিত করেছেন যা তাঁর অস্তিত্ব, রুবুবিয়্যাহ (প্রতিপালকত্ব) এবং উলুহিয়্যাহর (উপাস্য হওয়ার যোগ্যতা) ওপর প্রমাণ বহন করে; যা নবীদের প্রদর্শিত শরিয়তসমূহ, যৌক্তিক আবশ্যকতা এবং সৃষ্টিগত ফিতরাত দ্বারা প্রমাণিত। সমস্ত জাতি এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে। আমি আপনার নিকট নিম্নোক্ত আলোচনায় এর কিঞ্চিৎ বর্ণনা করব। তাঁর অস্তিত্ব ও রুবুবিয়্যাহর প্রমাণসমূহ হলো:
১ - এই মহাবিশ্ব এবং এর মধ্যকার নিখুঁত সৃষ্টিশৈলী: হে মানুষ! এই বিশাল মহাবিশ্ব তোমাকে পরিবেষ্টন করে আছে, যা আসমানসমূহ, গ্রহরাজি ও গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত। আর রয়েছে বিস্তৃত জমিন যাতে রয়েছে পাশাপাশি অবস্থানরত বিভিন্ন ভূখণ্ড, যার ভিন্নতা অনুযায়ী উৎপন্ন ফসলেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এতে রয়েছে সব ধরণের ফলমূল এবং প্রতিটি সৃষ্টিকেই তুমি জোড়ায় জোড়ায় পাবে। এই মহাবিশ্ব নিজেকে নিজে সৃষ্টি করেনি এবং এর জন্য অবশ্যই একজন স্রষ্টা থাকা অপরিহার্য; কারণ কোনো কিছুর পক্ষে নিজেকে নিজে সৃষ্টি করা অসম্ভব। সুতরাং কে একে এমন চমৎকার শৃঙ্খলায় সৃষ্টি করেছেন? এবং একে এই সুন্দর পূর্ণতা দান করেছেন? আর দর্শকদের জন্য একে নিদর্শন বানিয়েছেন সেই এক ও অদ্বিতীয় পরাক্রমশালী আল্লাহ ছাড়া?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الذي لا رب سواه ولا إله غيره؟ قال تعالى: {أَمْ خُلِقُوا مِنْ غَيْرِ شَيْءٍ أَمْ هُمُ الْخَالِقُونَ - أَمْ خَلَقُوا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بَل لَا يُوقِنُونَ} [الطور: 35 - 36] (1) فتضمنت هاتان الآيتان ثلاث مقدمات هي:
1 - هل خلقوا من العدم؟
2 - هل خلقوا أنفسهم؟
3 - هل خلقوا السماوات والأرض؟
فإذا لم يكونوا خلقوا من عدم، ولم يخلقوا أنفسهم، ولم يخلقوا السماوات والأرض، فتعين أنه لا بد من الإقرار بوجود خالق خلقهم وخلق السماوات والأرض، وهو الله الواحد القهار.
2 - الفطرة: الخلق مفطورون على الإقرار بالخالق، وأنه أجل وأكبر وأعظم وأكمل من كل شيء، وهذا الأمر راسخ في الفطرة أشد رسوخا من مبادئ العلوم الرياضية، ولا يحتاج إلى إقامة الدليل إلا من تغيرت فطرته، وعرض لها من الأحوال ما يصرفها عما تسلم به (2) قال تعالى: {فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ} [الروم: 30] (3) وقال صلى الله عليه وسلم: «ما من مولود إلا يولد على الفطرة، فأبواه
--------------------------------------------
যার কোনো প্রতিপালক নেই তিনি ব্যতীত এবং নেই কোনো ইলাহ তিনি ব্যতীত? মহান আল্লাহ বলেন: {তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা? - নাকি তারা আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে না} [আত-তুর: ৩৫ - ৩৬] (১) এই আয়াত দুটি তিনটি প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করেছে, সেগুলো হলো:
১ - তারা কি অনস্তিত্ব থেকে সৃষ্টি হয়েছে?
২ - তারা কি নিজেদেরকে সৃষ্টি করেছে?
৩ - তারা কি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছে?
সুতরাং তারা যদি অনস্তিত্ব থেকে সৃষ্টি না হয়ে থাকে, এবং নিজেরাও নিজেদের সৃষ্টি না করে থাকে, আর আসমান ও জমিনও সৃষ্টি না করে থাকে, তবে এটি অবধারিত হয় যে, অবশ্যই এমন একজন স্রষ্টার অস্তিত্বের স্বীকৃতি দিতে হবে যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; আর তিনি হলেন আল্লাহ, যিনি একক ও মহাপরাক্রমশালী।
২ - ফিতরাত (সহজাত প্রকৃতি): সৃষ্টিজগত স্রষ্টাকে স্বীকার করার ফিতরাতের ওপর সৃজিত এবং তিনি যে সবকিছুর চেয়ে অধিক মহিমান্বিত, অধিক বড়, অধিক মহান এবং অধিক পূর্ণাঙ্গ - এ বিষয়েও তারা ফিতরাতগতভাবে আদিষ্ট। আর এই বিষয়টি গাণিতিক বিজ্ঞানের নীতিমালার চেয়েও অধিক সুদৃঢ়ভাবে ফিতরাতের মধ্যে প্রোথিত। আর এর জন্য প্রমাণের প্রয়োজন হয় না কেবল তাদের ছাড়া যাদের ফিতরাত পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং যার ওপর এমন সব অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যা তাকে তার স্বীকৃত সত্য থেকে সরিয়ে দেয় (২) মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর সেই ফিতরাত যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সঠিক দ্বীন} [আর-রূম: ৩০] (৩) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «প্রতিটি নবজাতক ফিতরাতের ওপরই জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه كما تنتج البهيمة بهيمة جمعاء هل تحسون فيها من جدعاء؟ ثم يقول أبو هريرة: واقرؤوا إن شئتم: {فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} [الروم: 30] » (1) وقال - أيضا صلى الله عليه وسلم: «ألا إن ربي أمرني أن أعلمكم ما جهلتم مما علمني يومي هذا: كل مال نحلته عبدا حلال، وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم، وحرمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرتهم أن يشركوا بي ما لم أنزل به سلطانا» (2) .
3 - إجماع الأمم: أجمعت الأمم - قديمها وحديثها - بأن لهذا الكون خالقا وهو الله رب العالمين، وأنه خالق السماوات والأرض، ليس له شريك في خلقه، كما أنه ليس له شريك في ملكه سبحانه.
ولم ينقل عن أية أمة من الأمم الماضية أنها كانت تعتقد أن آلهتها شاركت الله في خلق السماوات والأرض، بل كانوا يعتقدون أن الله خالقهم وخالق آلهتهم، فلا خالق ولا رازق غيره، والنفع والضر بيده سبحانه (3) قال تعالى مخبرا عن إقرار المشركين بربوبيته:
--------------------------------------------
তাকে ইহুদি বানায় বা খ্রিস্টান বানায় বা অগ্নিপূজক বানায়, যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করে। তোমরা কি সেখানে কোনো কানকাটা (খুঁতযুক্ত) জন্তু দেখতে পাও? অতঃপর আবু হুরায়রা বলতেন: তোমরা চাইলে পড়ো: {আল্লাহর সেই স্বভাব (ফিতরাত), যার ওপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই} [রুম: ৩০] (১) এবং তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও বলেছেন: «জেনে রেখো, আমার রব আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি তোমাদেরকে তা শিক্ষা দিই যা তোমরা জানো না এবং যা তিনি আমাকে আজ শিক্ষা দিয়েছেন: আমি কোনো বান্দাকে যে সম্পদ দান করেছি তা হালাল। আর আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ (হানিফ) হিসেবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু শয়তানরা তাদের কাছে এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করেছে, আর আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছি তা তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছে এবং তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার কোনো প্রমাণ আমি অবতীর্ণ করিনি» (২) ।
৩ - জাতিসমূহের ঐকমত্য: প্রাচীন ও আধুনিক সকল জাতি এ বিষয়ে একমত যে, এই মহাবিশ্বের একজন স্রষ্টা রয়েছেন এবং তিনি হলেন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। আর তিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, তাঁর সৃষ্টিতে কোনো শরিক নেই, যেমনটি তাঁর রাজত্বেও কোনো শরিক নেই, তিনি পবিত্র।
অতীতের কোনো জাতি থেকেই এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে তারা বিশ্বাস করত যে তাদের উপাস্যরা আসমান ও জমিন সৃষ্টিতে আল্লাহর সাথে অংশীদার ছিল। বরং তারা বিশ্বাস করত যে আল্লাহই তাদের স্রষ্টা এবং তাদের উপাস্যদেরও স্রষ্টা। সুতরাং তিনি ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই এবং কোনো রিযিকদাতাও নেই। আর উপকার ও অপকার আল্লাহরই হাতে, তিনি পবিত্র (৩)। আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) স্বীকার করার বিষয়ে সংবাদ দিয়ে বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
{وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ - اللَّهُ يَبْسُطُ الرِّزْقَ لِمَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَيَقْدِرُ لَهُ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ - وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ نَزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ} [العنكبوت: 61 - 63] (1) وقال جل ثناؤه: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ} [الزخرف: 9] (2) .
4 - الضرورة العقلية: لا تجد العقول بدا من الإقرار بأن لهذا الكون خالقا عظيما، لأن العقل يرى الكون مخلوقا محدثا، وأنه لم يوجد نفسه، والمحدث لا بد له من محدث.
والإنسان يعلم أنه تمر به أزمات ومصائب، وحينما لا يقدر البشر على دفعها فإنه يتجه بقلبه إلى السماء، ويستغيث بربه ليفرج همه، ويكشف غمه، وإن كان في سائر أيامه ينكر ربه ويعبد صنمه، فهذه ضرورة لا تدفع، ولا بد من الإقرار بها، بل إن الحيوان إذا ألمت به مصيبة رفع رأسه وشخص ببصره إلى السماء، وقد أخبر الله عن الإنسان أنه إذا أصابه ضر أسرع إلى ربه يسأله أن يكشف ضره، قال تعالى:
--------------------------------------------
"আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস কর, ‘কে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন?’ তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। তাহলে তারা কোথায় বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে? আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা করেন রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং যার জন্য ইচ্ছা করেন তা সংকুচিত করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস কর, ‘কে আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন?’ তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। বল, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই’। বরং তাদের অধিকাংশই অনুধাবন করে না।" [আল-আনকাবুত: ৬১-৬৩] (১) এবং মহামহিম আল্লাহ বলেছেন: "আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস কর, ‘কে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন?’ তবে তারা অবশ্যই বলবে, ‘এগুলো সৃষ্টি করেছেন মহাপরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ’।" [আয-যুখরুফ: ৯] (২)।
৪ - যৌক্তিক প্রয়োজনীয়তা: বিবেক এই মহাবিশ্বের জন্য একজন মহান স্রষ্টা থাকার বিষয়টি স্বীকার করা ছাড়া অন্য কোনো পথ পায় না। কারণ বিবেক দেখে যে, এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এটি নতুনভাবে অস্তিত্বে এসেছে। এটি নিজেকে নিজে সৃষ্টি করেনি; আর যা নতুনভাবে অস্তিত্বে আসে, তার জন্য অবশ্যই একজন অস্তিত্বদানকারী থাকা আবশ্যক।
মানুষ জানে যে, তার ওপর দিয়ে নানা সংকট ও বিপদ-আপদ অতিক্রান্ত হয়। যখন মানুষ সেগুলো দূর করতে সক্ষম হয় না, তখন সে তার অন্তর দিয়ে আকাশের দিকে নিবিষ্ট হয় এবং তার রবের কাছে ফরিয়াদ করে যেন তিনি তার দুশ্চিন্তা দূর করে দেন এবং তার কষ্ট মোচন করেন। যদিও সে তার অন্যান্য দিনগুলোতে তার রবকে অস্বীকার করে এবং মূর্তির পূজা করে; তবুও এটি এমন এক বাস্তবতা যা অস্বীকার করার উপায় নেই এবং এটি স্বীকার করে নেওয়া আবশ্যক। এমনকি পশুপাখিও যখন কোনো বিপদে পড়ে, তখন সে তার মাথা উঁচু করে এবং আকাশের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। আল্লাহ মানুষের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে, যখন তাকে কোনো বিপদ স্পর্শ করে, তখন সে দ্রুত তার রবের দিকে ফিরে যায় এবং তাঁর কাছে বিপদ দূর করার প্রার্থনা করে। মহান আল্লাহ বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
{وَإِذَا مَسَّ الْإِنْسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهُ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُ نِعْمَةً مِنْهُ نَسِيَ مَا كَانَ يَدْعُو إِلَيْهِ مِنْ قَبْلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَنْدَادًا} [الزمر: 8] (1) وقال تعالى مخبرا عن حال المشركين: {هُوَ الَّذِي يُسَيِّرُكُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ حَتَّى إِذَا كُنْتُمْ فِي الْفُلْكِ وَجَرَيْنَ بِهِمْ بِرِيحٍ طَيِّبَةٍ وَفَرِحُوا بِهَا جَاءَتْهَا رِيحٌ عَاصِفٌ وَجَاءَهُمُ الْمَوْجُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ أُحِيطَ بِهِمْ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ لَئِنْ أَنْجَيْتَنَا مِنْ هَذِهِ لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ - فَلَمَّا أَنْجَاهُمْ إِذَا هُمْ يَبْغُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا بَغْيُكُمْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ مَتَاعَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُكُمْ فَنُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ} [يونس: 22 - 23] (2) وقال عز من قائل: {وَإِذَا غَشِيَهُمْ مَوْجٌ كَالظُّلَلِ دَعَوُا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَى الْبَرِّ فَمِنْهُمْ مُقْتَصِدٌ وَمَا يَجْحَدُ بِآيَاتِنَا إِلَّا كُلُّ خَتَّارٍ كَفُورٍ} [لقمان: 32] (3) .
هذا الإله الذي أوجد الكون من عدم، وخلق الإنسان في أحسن تقويم، وركز في فطرته عبوديته والاستسلام له، وأذعنت العقول لربوبيته وألوهيته، وأجمعت الأمم على الاعتراف بربوبيته. . . لا بد أن يكون واحدا في ربوبيته وألوهيته، فكما أنه لا شريك له في الخلق، فكذلك لا شريك له في ألوهيته، والأدلة على ذلك كثيرة منها (4) .
1 - ليس في هذا الكون إلا إله واحد هو الخالق الرازق، ولا يجلب النفع ويدفع الضر إلا هو، ولو كان في هذا الكون إله آخر لكان
--------------------------------------------
"আর যখন মানুষকে কোনো দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে তার রবের কাছে একাগ্রচিত্তে ফিরে এসে তাঁকে ডাকে। অতঃপর যখন তিনি তাঁর পক্ষ থেকে তাকে কোনো নেয়ামত দান করেন, তখন সে ইতিপূর্বে যা নিয়ে তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং সে আল্লাহর জন্য সমকক্ষ দাঁড় করায়।" [আজ-জুমার: ৮] (১) আর আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের অবস্থা সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেন: "তিনিই তোমাদেরকে স্থলে ও জলে ভ্রমণ করান। এমনকি তোমরা যখন জলযানে থাকো এবং সেগুলো যখন অনুকূল বাতাসের মাধ্যমে তাদের (আরোহীদের) নিয়ে চলতে থাকে আর তারা তাতে আনন্দিত হয়, তখন তাতে প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস এসে পড়ে এবং সবদিক থেকে তাদের কাছে ঢেউ আসতে থাকে আর তারা নিশ্চিত ধারণা করে যে, তারা পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছে, তখন তারা আল্লাহকে ডাকার সময় আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে বলে: আপনি যদি আমাদের এ থেকে উদ্ধার করেন, তবে অবশ্যই আমরা কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হব। কিন্তু যখনই তিনি তাদের উদ্ধার করেন, তখনই তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ শুরু করে। হে মানুষ! তোমাদের এ বিদ্রোহ তো কেবল তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই। এটি দুনিয়ার জীবনের ভোগ মাত্র, এরপর আমাদের কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমরা তোমাদেরকে জানিয়ে দেব যা তোমরা করছিলে।" [ইউনুস: ২২ - ২৩] (২) আর মহা পরাক্রমশালী সত্তা বলেন: "আর যখন পাহাড়ের মতো ঢেউ তাদেরকে ঢেকে ফেলে, তখন তারা আল্লাহকে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে উদ্ধার করে স্থলে নিয়ে আসেন, তখন তাদের কেউ কেউ সরল পথে থাকে। আর আমাদের নিদর্শনাবলীকে কেবল সেই অস্বীকার করে যে চরম বিশ্বাসঘাতক ও অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ।" [লুকমান: ৩২] (৩) ।
এই ইলাহ, যিনি মহাবিশ্বকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন, মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সর্বোত্তম গঠনে এবং তাঁর ইবাদত ও তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণের বিষয়টি তার ফিতরাতে (স্বভাবে) প্রোথিত করে দিয়েছেন। বিবেকসমূহ তাঁর রুবুবিয়াত (প্রভুত্ব) ও উলুহিয়াতের (উপাস্য হওয়ার যোগ্যতা) প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেছে এবং সকল জাতি তাঁর রুবুবিয়াতকে স্বীকার করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। . . তাঁকে অবশ্যই তাঁর রুবুবিয়াত ও উলুহিয়াতে একক হতে হবে। সুতরাং সৃষ্টির ক্ষেত্রে যেমন তাঁর কোনো শরিক নেই, তেমনি তাঁর উলুহিয়াতেও তাঁর কোনো শরিক নেই। এর প্রমাণ অনেক, যার মধ্যে রয়েছে (৪) ।
১ - এই মহাবিশ্বে একমাত্র ইলাহ ব্যতীত আর কেউ নেই, যিনি স্রষ্টা ও রিজিকদাতা। তিনি ব্যতীত আর কেউ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না এবং অকল্যাণ দূর করতে পারে না। যদি এই মহাবিশ্বে অন্য কোনো ইলাহ থাকত তবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
له فعل وخلق وأمر، ولا يرضى أحدهما بمشاركة الإله الآخر (1) ولا بد لأحدهما من مغالبة الآخر وقهره، والمغلوب لا يمكن أن يكون إلها، والغالب هو الإله الحق، لا يشاركه إله في ألوهيته كما لم يشاركه إله في ربوبيته، قال تعالى: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذًا لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ} [المؤمنون: 91] (2) .
2 - لا يستحق العبادة إلا الله الذي له ملك السماوات والأرض، لأن الإنسان يتقرب إلى الإله الذي يجلب له النفع ويدفع عنه الضر، ويصرف عنه الشر والفتن، وهذه الأمور لا يستطيعها إلا من ملك السماوات والأرض وما بينهما، ولو كان معه آلهة كما يقول المشركون لاتخذ العباد السبل الموصلة إلى عبادة الله الملك الحق، لأن جميع هؤلاء المعبودين من دون الله إنما كانوا يعبدون الله ويتقربون إليه، فحري بمن أراد أن يتقرب إلى من بيده النفع والضر أن يعبد الإله الحق الذي يعبده من في السماوات والأرض بما فيهم هؤلاء الآلهة المعبودون من دون الله، قال تعالى: {قُلْ لَوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا} [الإسراء: 42] (3) وليقرأ مريد الحق قوله تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ} [سبأ: 22] 22 {لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ - وَلَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ} [سبأ: 22 - 23]
--------------------------------------------
তাঁর কাজ, সৃষ্টি ও আদেশ রয়েছে। তাঁদের কেউই অপর ইলাহের অংশীদারিত্বে সন্তুষ্ট হতেন না (১) এবং তাঁদের একজনের জন্য অপরজনের ওপর জয়লাভ করা ও তাকে পরাভূত করা অনিবার্য হয়ে পড়ত। আর যে পরাজিত হয়, সে ইলাহ হতে পারে না; বরং যিনি বিজয়ী তিনিই সত্য ইলাহ। তাঁর উলুহিয়্যাতে (উপাস্যত্বে) যেমন কোনো শরিক নেই, তেমনি তাঁর রুবুবিয়্যাতেও (প্রভুত্বে) কোনো শরিক নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ আপন সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।" [আল-মুমিনুন: ৯১] (২)।
২ - আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয়, যাঁর হাতে আসমান ও জমিনের রাজত্ব। কারণ মানুষ এমন ইলাহের নৈকট্য কামনা করে, যিনি তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনেন এবং তার থেকে ক্ষতি দূর করেন, আর তার থেকে অনিষ্ট ও ফেতনা সরিয়ে দেন। আর এই কাজগুলো আসমান ও জমিন এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর মালিক ছাড়া আর কেউ করতে পারে না। মুশরিকরা যেমন বলে, যদি তাঁর সাথে আরও ইলাহ থাকত, তবে বান্দারা সত্য বাদশাহ আল্লাহর ইবাদতে পৌঁছানোর পথ তালাশ করত। কারণ আল্লাহ ছাড়া অন্য যাদের ইবাদত করা হয়, তারা সবাই মূলত আল্লাহরই ইবাদত করত এবং তাঁরই নৈকট্য কামনা করত। সুতরাং যে ব্যক্তি উপকার ও অপকার যাঁর হাতে তাঁর নৈকট্য পেতে চায়, তার জন্য উচিত হবে সেই সত্য ইলাহের ইবাদত করা, আসমান ও জমিনে বসবাসকারী সবাই যাঁর ইবাদত করে—যাদেরকে আল্লাহ ছাড়া উপাস্য বানানো হয়েছে তারাও তাঁরই ইবাদতকারী। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, তারা যেমন বলে যদি তাঁর সাথে আরও অনেক ইলাহ থাকত, তবে তারা আরশের অধিপতির (নৈকট্য লাভের) কোনো না কোনো পথ তালাশ করত।" [আল-ইসরা: ৪২] (৩)। আর সত্য সন্ধানী যেন আল্লাহ তাআলার এই বাণী পাঠ করে: "বলুন, তোমরা তাদের আহ্বান করো যাদেরকে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত ইলাহ মনে করতে। তারা আসমানসমূহ ও জমিনের মধ্যে অণু পরিমাণ কোনো কিছুর মালিক নয় এবং এ দুয়ের মধ্যে তাদের কোনো অংশীদারিত্বও নেই, আর তাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সাহায্যকারীও নয়। যাঁর জন্য তিনি অনুমতি দেবেন তিনি ছাড়া তাঁর কাছে কারও সুপারিশ কোনো উপকারে আসবে না।" [সাবা: ২২-২৩]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
(1) فإن هذه الآيات تقطع تعلق القلب بغير الله بأربعة أمور هي: الأول: أن هؤلاء الشركاء لا يملكون مثقال ذرة مع الله، والذي لا يملك مثقال ذرة لا ينفع ولا يضر، ولا يستحق أن يكون إلها أو مشاركا لله، والله هو الذي يملكهم ويتصرف فيهم وحده.
الثاني: أنهم لا يملكون شيئا من السماوات والأرض، وليس لهم مثقال ذرة من مشاركة فيهما.
الثالث: ليس لله معين من خلقه، بل هو الذي يعينهم على ما ينفعهم ويدفع عنهم ما يضرهم لكمال غناه عنهم، واضطرارهم إليهم.
الرابع: أن هؤلاء الشركاء لا يملكون أن يشفعوا عند الله لأتباعهم، ولا يؤذن لهم فيها، ولا يأذن - سبحانه - إلا لأوليائه أن يشفعوا، ولا يشفع الأولياء إلا لمن رضي الله قوله وعمله واعتقاده (2) .
--------------------------------------------
(১) কারণ এই আয়াতগুলো আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর সাথে অন্তরের সম্পর্ককে চারটি বিষয়ের মাধ্যমে ছিন্ন করে: প্রথমত: এই শরীকরা আল্লাহর সাথে অণু পরিমাণ কিছুরও মালিক নয়। আর যে অণু পরিমাণ কিছুর মালিক নয়, সে কোনো উপকার করতে পারে না এবং কোনো ক্ষতিও করতে পারে না। সে ইলাহ হওয়ার অথবা আল্লাহর অংশীদার হওয়ার যোগ্য নয়। বরং আল্লাহই তাদের মালিক এবং তিনিই এককভাবে তাদের পরিচালনা করেন।
দ্বিতীয়ত: আসমানসমূহ ও যমীনের কোনো কিছুরই মালিক তারা নয় এবং এই দুটিতে তাদের অণু পরিমাণ কোনো অংশীদারিত্ব নেই।
তৃতীয়ত: তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে আল্লাহর কোনো সাহায্যকারী নেই; বরং তিনিই তাদের এমন বিষয়ে সাহায্য করেন যা তাদের জন্য উপকারী এবং তাদের থেকে ক্ষতি দূর করেন, কারণ তিনি তাদের থেকে সম্পূর্ণ মুখাপেক্ষীহীন এবং তারা তাঁর প্রতি অত্যন্ত মুখাপেক্ষী।
চতুর্থত: এই শরীকরা আল্লাহর কাছে তাদের অনুসারীদের জন্য সুপারিশ করার অধিকার রাখে না এবং তাদের এ বিষয়ে অনুমতিও দেওয়া হবে না। তিনি—সুবহানাহু—কেবল তাঁর অলীদেরই সুপারিশ করার অনুমতি দেবেন। আর অলীগণ কেবল সেই ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবেন যার কথা, কাজ এবং বিশ্বাসের (আকীদার) ব্যাপারে আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3 - انتظام أمر العالم كله وإحكام أمره أدل دليل على أن مدبره إله واحد، وملك واحد، ورب واحد، لا إله للخلق غيره، ولا رب لهم سواه، فكما يمتنع وجود خالقين لهذا الكون، فكذلك يمتنع وجود إلهين قال تعالى: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا} [الأنبياء: 22] (1) فلو فرض أن في السماء والأرض إلها غير الله لفسدتا، ووجه الفساد أنه إذا كان مع الله إله آخر يستلزم أن يكون كل واحد منهما قادرا على الاستبداد والتصرف، فيقع عند ذلك التنازع والاختلاف، ويحدث بسببه الفساد (2) وإذا كان البدن يستحيل أن يكون المدبر له روحان متساويان، ولو كان كذلك لفسد وهلك، وهذا محال، فكيف يتصور هذا في الكون وهو أعظم (3) .
4 - إجماع الأنبياء والمرسلين على ذلك: تجمع الأمم على أن الأنبياء والمرسلين هم أكمل الناس عقولا، وأزكاهم أنفسا، وأفضلهم أخلاقا، وأنصحهم لرعاياهم، وأعلمهم بمراد الله، وأرشدهم إلى الطريق القويم والصراط المستقيم، لأنهم يتلقون الوحي عن الله، فيبلغونه للناس، وقد اتفق جميع الأنبياء والمرسلين من
--------------------------------------------
৩ - সমগ্র বিশ্বজগতের শৃঙ্খলা ও এর কার্যাবলীর সুদৃঢ় ব্যবস্থাপনা এর পরিচালক যে একজনই ইলাহ, একজনই অধিপতি এবং একজনই রব—তার সবচেয়ে বড় দলিল। সৃষ্টিজগতের জন্য তিনি ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই এবং তিনি ছাড়া তাদের কোনো রব নেই। এই মহাবিশ্বের জন্য যেমন দুইজন স্রষ্টা থাকা অসম্ভব, তেমনি দুইজন ইলাহ থাকাও অসম্ভব। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত} [সূরা আল-আম্বিয়া: ২২] (১)। সুতরাং যদি ধরে নেওয়া হয় যে আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ আছে, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। এই বিপর্যয়ের কারণ হলো, আল্লাহর সাথে যদি অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে তাদের প্রত্যেকের জন্য একক কর্তৃত্ব ও পরিচালনার ক্ষমতা থাকা আবশ্যক হতো; ফলে তখন তাদের মধ্যে বিবাদ ও মতবিরোধ দেখা দিত এবং এর কারণে বিপর্যয় সৃষ্টি হতো (২)। আর একটি দেহের পরিচালক যদি সমপর্যায়ের দুটি রুহ হওয়া অসম্ভব হয়—আর যদি এমন হতো তবে তা ধ্বংস ও বিনাশ হয়ে যেত, যা একটি অসম্ভব বিষয়—তবে এই মহাবিশ্বের ক্ষেত্রে তা কীভাবে কল্পনা করা যায় যা তার চেয়েও অনেক বড় ও মহান (৩)।
৪ - এ বিষয়ে নবী ও রাসূলগণের ঐকমত্য: সকল জাতি এ বিষয়ে একমত যে, নবী ও রাসূলগণ হলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ বুদ্ধিসম্পন্ন, সর্বাধিক পবিত্র আত্মার অধিকারী, সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী, তাঁদের অনুসারীদের জন্য সর্বাধিক কল্যাণকামী, আল্লাহর অভিপ্রায় সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত এবং সঠিক পথ ও সরল পথের সবচেয়ে বড় দিশারি; কারণ তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি লাভ করেন এবং তা মানুষের নিকট পৌঁছে দেন। আর সকল নবী ও রাসূল এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أولهم آدم عليه السلام إلى آخرهم محمد صلى الله عليه وسلم على دعوة أقوامهم إلى الإيمان بالله، وترك عبادة ما سواه، وأنه الإله الحق، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] (1) وقال - جل ثناؤه - عن نوح عليه السلام إنه قال لقومه: {لَا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيمٍ} [هود: 26] (2) وقال - سبحانه - عن آخرهم محمد صلى الله عليه وسلم إنه قال لقومه: {قُلْ إِنَّمَا يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَهَلْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [الأنبياء: 108] (3) .
هذا الإله الذي أوجد الكون من عدم فأبدعه، وخلق الإنسان في أحسن تقويم وكرمه، وركز في فطرته الإقرار بربوبيته وألوهيته، وجعل نفسه لا تستقر إلا إذا استسلمت إليه وسارت على منهجه، وفرض على روحه ألا تطمئن إلا إذا سكنت إلى بارئها، واتصلت بخالقها، ولا صلة لها إلا من خلال صراطه المستقيم الذي بلغته الرسل الكرام، ومنحه عقلا لا يستقيم أمره، ولا يقوم بوظيفته على أكمل وجه إلا إذا آمن به سبحانه.
فإذا استقامت الفطرة، واطمأنت الروح، واستقرت النفس، وآمن العقل تحققت له السعادة والأمن والاطمئنان في الدنيا والآخرة.
--------------------------------------------
তাদের প্রথমজন আদম (আলাইহিস সালাম) থেকে শুরু করে সর্বশেষ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত সকলেই নিজ নিজ জাতিকে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার এবং তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছুর ইবাদত বর্জনের দাওয়াত দিয়েছেন, আর একথাই প্রচার করেছেন যে তিনিই একমাত্র সত্য ইলাহ। মহান আল্লাহ বলেন: "আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার প্রতি এই ওহী অবতীর্ণ করিনি যে, আমি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।" [সূরা আল-আম্বিয়া: ২৫] (১) এবং আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা অতি উচ্চ—নূহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি তাঁর জাতিকে বলেছিলেন: "তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক যন্ত্রণাদায়ক দিবসের আযাবের আশঙ্কা করছি।" [সূরা হুদ: ২৬] (২) এবং পবিত্র আল্লাহ তাঁদের সর্বশেষ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে বলেন যে, তিনি তাঁর জাতিকে বলেছেন: "বলুন, আমার প্রতি ওহী পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। সুতরাং তোমরা কি আত্মসমর্পণকারী হবে?" [সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৮] (৩)।
এই সেই ইলাহ যিনি মহাবিশ্বকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন এবং একে নিপুণভাবে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন ও তাকে সম্মানিত করেছেন। তিনি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বা ফিতরাতের মূলে তাঁর প্রভুত্ব ও উপাস্যতার স্বীকৃতির বিষয়টি গেঁথে দিয়েছেন। তিনি মানুষের নফস বা সত্তাকে এমনভাবে গঠন করেছেন যে, এটি ততক্ষণ স্থির হয় না যতক্ষণ না এটি তাঁর সমীপে আত্মসমর্পণ করে এবং তাঁর প্রদর্শিত জীবনবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তিনি মানুষের রূহের জন্য এটি অবধারিত করেছেন যে, এটি তার স্রষ্টার সান্নিধ্য ব্যতীয় প্রশান্ত হবে না এবং তার সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্কযুক্ত হওয়া ব্যতীত স্বস্তি পাবে না। আর তাঁর সেই সরল পথ ব্যতীত তাঁর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের আর কোনো মাধ্যম নেই, যা সম্মানিত রাসূলগণ পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি মানুষকে এমন এক বিবেক দান করেছেন, যার যাবতীয় বিষয় ততক্ষণ সুসংহত হয় না এবং যে তার দায়িত্ব ততক্ষণ পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করতে পারে না, যতক্ষণ না সে মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে।
অতঃপর যখন ফিতরাত সঠিক পথে পরিচালিত হয়, রূহ প্রশান্ত হয়, নফস স্থির হয় এবং বিবেক ঈমান আনে, তখন তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সুখ, নিরাপত্তা ও পরম শান্তি অর্জিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وإن أبى الإنسان غير ذلك عاش مشتتا متفرقا يهيم في أودية الدنيا، ويتوزع بين آلهتها، لا يدري من يحقق له النفع، ومن يدفع عنه الضر، ومن أجل أن يستقر الإيمان في النفس، وتتضح شناعة الكفر، ضرب الله لذلك مثلا - لأن المثل مما يقرب المعنى إلى الذهن -، قارن فيه بين رجل تفرق أمره بين آلهة متعددة ورجل يعبد ربه وحده فقال سبحانه: {ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا رَجُلًا فِيهِ شُرَكَاءُ مُتَشَاكِسُونَ وَرَجُلًا سَلَمًا لِرَجُلٍ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ} [الزمر: 29] (1) يضرب الله المثل للعبد الموحد والعبد المشرك بعبد يملكه شركاء يخاصم بعضهم بعضا فيه، وهو بينهم موزع، ولكل منهم فيه توجيه، ولكل منهم عليه تكليف، وهو بينهم حائر لا يستقر على منهج، ولا يستقر على طريق، ولا يملك أن يرضي أهواءهم المتنازعة المتشاكسة المتعارضة التي تمزق اتجاهاته وقواه، وعبد يملكه سيد واحد، وهو يعلم ما يطلبه منه ويكلفه به، فهو مستريح مستقر على منهج واحد صريح، فلا يستويان فهذا يخضع لسيد واحد وينعم براحة الاستقامة والمعرفة واليقين، وذاك يخضع لسادة متشاكسين فهو معذب قلق لا يستقر على حال، ولا يرضي واحدا منهم فضلا عن أن يرضي الجميع.
وبعد أن أوضحت الأدلة الدالة على وجود الله وربوبيته وألوهيته يحسن أن نتعرف على خلقه للكون والإنسان، وأن نتلمس حكمته في ذلك.
--------------------------------------------
আর মানুষ যদি এর বিকল্প কিছু করতে অস্বীকার করে, তবে সে বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করে, দুনিয়ার উপত্যকাসমূহে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায় এবং এর বহু উপাস্যের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেয়। সে জানে না কে তার জন্য উপকার বয়ে আনবে এবং কে তার থেকে ক্ষতি প্রতিহত করবে। অন্তরে ঈমানকে সুদৃঢ় করার জন্য এবং কুফরের জঘন্যতা স্পষ্ট করার জন্য আল্লাহ তাআলা এর একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন—কেননা দৃষ্টান্ত বিষয়বস্তুকে বুদ্ধিগম্য করে তোলে—। তিনি এখানে এমন এক ব্যক্তির তুলনা করেছেন যার বিষয়াদি বহু উপাস্যের মাঝে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং এমন এক ব্যক্তির তুলনা করেছেন যে কেবল তার রবের ইবাদত করে। অতঃপর সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: "আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন: এক ব্যক্তি, যার মালিকানায় রয়েছে পরস্পর বিরোধী বহু অংশীদার; আর অন্য এক ব্যক্তি, যে পূর্ণরূপে কেবল একজনের অনুগত। তারা কি উভয়ে তুলনায় সমান? সকল প্রশংসা আল্লাহরই, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।" [আয-যুমার: ২৯] (১) আল্লাহ তাআলা মুওয়াহহিদ বান্দা এবং মুশরিক বান্দার দৃষ্টান্ত দিয়েছেন এমন এক দাসের মাধ্যমে, যার মালিক এমন কতগুলো অংশীদার যারা তাকে নিয়ে একে অপরের সাথে বিবাদে লিপ্ত। সে তাদের মাঝে বিভক্ত, তাদের প্রত্যেকেরই তার ব্যাপারে পৃথক পৃথক নির্দেশনা রয়েছে এবং প্রত্যেকেরই তার ওপর পৃথক দায়িত্ব অর্পিত। সে তাদের মাঝে বিভ্রান্ত, কোনো সুনির্দিষ্ট আদর্শ বা পথে স্থির হতে পারে না। সে তাদের সেই সব বিবাদমান, কলহপ্রিয় ও পরস্পরবিরোধী খেয়ালখুশিকে তুষ্ট করার ক্ষমতা রাখে না, যা তার সংকল্প ও শক্তিকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। পক্ষান্তরে অন্য এক দাস, যার মালিক কেবল একজন। সে জানে তার মালিক তার কাছে কী চায় এবং তাকে কী দায়িত্ব দেয়। ফলে সে স্বস্তিতে থাকে এবং একটি সুস্পষ্ট ও একক আদর্শের ওপর স্থির থাকে। সুতরাং তারা উভয়ে সমান নয়; কারণ এই ব্যক্তি একজনের অনুগত এবং সে একনিষ্ঠতা, জ্ঞান ও দৃঢ় বিশ্বাসের প্রশান্তি ভোগ করে। আর ওই ব্যক্তি কলহপ্রিয় বহু মালিকের অনুগত, তাই সে যন্ত্রণাবিদ্ধ ও উদ্বিগ্ন থাকে, কোনো অবস্থায় স্থির হতে পারে না এবং তাদের সকলের সন্তুষ্টি তো দূরের কথা, একজনের সন্তুষ্টি অর্জন করাও তার পক্ষে সম্ভব হয় না।
আল্লাহর অস্তিত্ব, রুবুবিয়্যাহ এবং উলুহিয়্যাহর প্রমাণাদি স্পষ্ট করার পর, এখন মহাবিশ্ব ও মানুষ সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়া এবং সে বিষয়ে তাঁর প্রজ্ঞা অনুসন্ধান করা সমীচীন হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[خلق الكون]خلق الكون هذا الكون بسماواته وأرضه ونجومه ومجراته وبحاره وأشجاره وسائر حيواناته خلقه الله سبحانه وتعالى من عدم، قال تعالى: {قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَنْدَادًا ذَلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ - وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِنْ فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاءً لِلسَّائِلِينَ - ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ اِئْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ - فَقَضَاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ فِي يَوْمَيْنِ وَأَوْحَى فِي كُلِّ سَمَاءٍ أَمْرَهَا وَزَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَحِفْظًا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ} [فصلت: 9 - 12] (1) .
وقال جل ثناؤه: {أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاءِ كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ - وَجَعَلْنَا فِي الْأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِهِمْ وَجَعَلْنَا فِيهَا فِجَاجًا سُبُلًا لَعَلَّهُمْ يَهْتَدُونَ - وَجَعَلْنَا السَّمَاءَ سَقْفًا مَحْفُوظًا وَهُمْ عَنْ آيَاتِهَا مُعْرِضُونَ} [الأنبياء: 30 - 32] (2) .
هذا الكون خلقه الله لحكم عظيمة تجل عن الحصر، ففي كل
--------------------------------------------
[মহাবিশ্ব সৃষ্টি]মহাবিশ্ব সৃষ্টি; এই মহাবিশ্ব তার আকাশমন্ডলী, পৃথিবী, নক্ষত্ররাজি, গ্যালাক্সি, সমুদ্রসমূহ, বৃক্ষরাজি এবং অন্যান্য সকল প্রাণীকুল সহ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা শূন্য থেকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, তোমরা কি সেই সত্তাকেই অস্বীকার করো যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে? এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ দাঁড় করাও? তিনি তো জগতসমূহের রব। তিনি পৃথিবীর উপরিভাগে অটল পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দান করেছেন এবং সেখানে চার দিনে সকল খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন যা যাচনাকারীদের জন্য সমানভাবে। এরপর তিনি আসমানের দিকে উঠলেন যখন তা ছিল ধূম্রকুঞ্জ। অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, 'তোমরা উভয়ে আসো ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়।' তারা বলল, 'আমরা অনুগত হয়ে আসলাম।' অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দুই দিনে সাত আসমানে পরিণত করলেন এবং প্রত্যেক আসমানে তার বিধান ওহী পাঠালেন। আর আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং করেছি সংরক্ষিত। এটি পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের সুনির্ধারিত ব্যবস্থাপনা।} [ফুসসিলাত: ৯ - ১২] (১)।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অবিশ্বাসীরা কি দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম এবং প্রাণবান সবকিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। তবুও কি তারা ঈমান আনবে না? এবং আমি পৃথিবীতে অটল পাহাড়সমূহ স্থাপন করেছি যাতে পৃথিবী তাদেরকে নিয়ে নড়ে না ওঠে এবং আমি তাতে প্রশস্ত পথসমূহ তৈরি করেছি যাতে তারা সঠিক পথ পেতে পারে। আর আমি আসমানকে করেছি একটি সংরক্ষিত ছাদ, কিন্তু তারা এর নিদর্শনাবলী থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।} [আল-আম্বিয়া: ৩০ - ৩২] (২)।
এই মহাবিশ্ব আল্লাহ এমন মহান হিকমত বা উদ্দেশ্যের জন্য সৃষ্টি করেছেন যা গণনা করা সম্ভব নয়। কারণ প্রতিটি বিষয়ের মধ্যেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ২৭)
جزء منه حكم عظيمة، وآيات باهرة، ولو تأملت آية واحدة منها لوجدت فيها عجبا، فانظر إلى عجائب صنع الله في النبات التي لا تكاد تخلو ورقة منه ولا عرق ولا ثمرة من منافع تعجز عقول البشر عن الإحاطة بها وتفاصيلها، وانظر إلى مجاري الماء في تلك العروق الرقيقة الضئيلة الضعيفة التي لا يكاد البصر يدركها إلا بعد تحديقه، كيف تقوى على اجتذاب الماء من أسفل إلى أعلى، ثم يتنقل في تلك المجاري بحسب قبولها وسعتها، ثم تتفرق وتتشعب وتدق إلى غاية لا ينالها البصر، ثم انظر إلى تكون حمل الشجرة ونقلته من حال إلى حال، كتنقل أحوال الجنين المغيب عن الأبصار، بينا تراها حطبا عاريا لا كسوة عليها إذ كساها ربها وخالقها من الورق أحسن كسوة، ثم أطلع فيها حملها ضعيفا ضئيلا بعد أن أخرج ورقها صيانة له، وثوبا لتلك الثمرة، الضعيفة لتستجن به من الحر والبرد والآفات، ثم ساق إلى تلك الثمار رزقها وغذاها في تلك العروق والمجاري فتغذت به، كما يتغذى الطفل بلبن أمه، ثم رباها ونماها حتى استوت وكملت وتناهى إدراكها فأخرج ذلك الجني اللذيذ اللين من تلك الحطبة الصماء.
وأنت إذا نظرت إلى الأرض وكيف خلقت، رأيتها من أعظم آيات فاطرها ومبدعها، خلقها سبحانه فراشا ومهادا وذللها لعباده، وجعل فيها أرزاقهم وأقواتهم ومعايشهم، وجعل فيها السبل لينتقلوا فيها في حوائجهم وتصرفاتهم، وأرساها بالجبال فجعلها أوتادا تحفظها
এর অংশবিশেষে রয়েছে মহান প্রজ্ঞা এবং সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি। তুমি যদি এর একটি নিদর্শনের প্রতিও গভীরভাবে লক্ষ্য করো, তবে তাতে বিস্ময় খুঁজে পাবে। উদ্ভিদের মধ্যে আল্লাহর সৃষ্টির বিস্ময়কর নিপুণতার দিকে তাকাও, যার কোনো পাতা, শিরা বা ফল এমন কোনো উপকারিতা থেকে মুক্ত নয় যা পরিবেষ্টন করতে এবং যার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিতে মানুষের বিবেক-বুদ্ধি অক্ষম। সেই সূক্ষ্ম, ক্ষুদ্র ও দুর্বল শিরাগুলোর মধ্য দিয়ে পানির প্রবাহপথের দিকে তাকাও, যা তীক্ষ্ণভাবে না তাকালে দৃষ্টি প্রায় ধরতেই পারে না; কীভাবে সেগুলো নিচ থেকে ওপরের দিকে পানি টেনে নিতে সক্ষম হয়, এরপর সেই প্রবাহপথগুলোতে তাদের গ্রহণক্ষমতা ও প্রশস্ততা অনুযায়ী তা স্থানান্তরিত হয়, অতঃপর তা এমনভাবে বিভক্ত, শাখায়িত ও সূক্ষ্ম হয় যে দৃষ্টি আর সেখানে পৌঁছাতে পারে না। অতঃপর বৃক্ষের ফল উৎপাদন এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় তার পরিবর্তনের দিকে তাকাও, যেমনভাবে দৃষ্টির অগোচরে থাকা ভ্রূণের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। একসময় তুমি তাকে দেখতে পাও নগ্ন কাষ্ঠখণ্ড হিসেবে যার ওপর কোনো আবরণ নেই, এমতাবস্থায় তার প্রতিপালক ও স্রষ্টা তাকে পাতার মাধ্যমে সর্বোত্তম পোশাকে আবৃত করে দেন। অতঃপর তার পাতা বের করার পর তাতে তার দুর্বল ও ক্ষুদ্র ফল প্রকাশ করেন যেন তা ফলের জন্য সুরক্ষা এবং সেই দুর্বল ফলের জন্য পোশাক হয়, যাতে তা তাপ, শৈত্য ও দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে পারে। অতঃপর তিনি সেই ফলগুলোর নিকট তাদের রিযিক ও খাদ্য সেই শিরা ও প্রবাহপথগুলোতে পরিচালিত করেন, ফলে তারা তা থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে—যেভাবে শিশু তার মায়ের দুধ থেকে পুষ্টি পায়। এরপর তিনি তাকে লালন-পালন করেন এবং বৃদ্ধি দান করেন যতক্ষণ না তা সুঠাম ও পূর্ণাঙ্গ হয় এবং তার পরিপক্কতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। অতঃপর তিনি সেই প্রাণহীন কাষ্ঠখণ্ড থেকে সেই সুস্বাদু ও কোমল ফল বের করে আনেন।
আর তুমি যদি পৃথিবীর দিকে এবং তা কীভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে সেদিকে তাকাও, তবে একে এর স্রষ্টা ও উদ্ভাবকের অন্যতম মহান নিদর্শন হিসেবে দেখতে পাবে। তিনি (পবিত্র ও মহান) একে বিছানা ও দোলনা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং একে তাঁর বান্দাদের জন্য অনুগত করেছেন। এতে তিনি তাদের রিযিক, খাদ্য ও জীবনোপকরণ রেখেছেন এবং এতে পথ তৈরি করেছেন যেন তারা তাদের প্রয়োজন ও কাজের তাগিদে চলাচল করতে পারে। তিনি একে পাহাড়ের মাধ্যমে সুদৃঢ় করেছেন এবং পাহাড়গুলোকে একে রক্ষা করার জন্য খুঁটি হিসেবে বানিয়েছেন।
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لئلا تميد، ووسع أكنافها، ودحاها فمدها وبسطها، وجعلها كفاتا للأحياء تضمهم على ظهرها، وكفاتا للأموات تضمهم في بطنها إذا ماتوا، فظهرها وطن للأحياء، وبطنها وطن للأموات، ثم انظر إلى هذا الفلك الدوار بشمسه وقمره ونجومه وبروجه، وكيف يدور على هذا العالم هذا الدوران الدائم إلى آخر الأجل على هذا الترتيب والنظام، وما في طي ذلك من اختلاف الليل والنهار والفصول والحر والبرد، وما في ضمن ذلك من مصالح ما على الأرض من أصناف الحيوان والنبات.
ثم تأمل خلق السماء، وارجع البصر فيها كرة بعد كرة تراها من أعظم الآيات في علوها وسعتها وقرارها، فلا عمد تحتها، ولا علاقة فوقها، بل هي ممسوكة بقدرة الله الذي يمسك السماوات والأرض أن تزولا.
وأنت إذا نظرت إلى هذا الكون وتأليف أجزائه، ونظمها على أحسن نظام - يدل على كمال قدرة خالقه، وكمال علمه، وكمال حكمته، وكمال لطفه - وجدته كالبيت المبني المعد فيه جميع آلاته ومصالحه، وكل ما يحتاج إليه، فالسماء سقفه المرفوع عليه، والأرض مهاد وبساط وفراش مستقر للساكن، والشمس والقمر سراجان يزهران فيه، والنجوم مصابيحه وزينته، تدل المتنقل في طرق هذه الدار، والجواهر والمعادن مخزونة فيه كالذخائر المهيأة، كل شيء منها لشأنه الذي يصلح له، وصنوف النبات مهيأ لمآربه، وصنوف الحيوان مصروفة
যাতে পৃথিবী দুলতে না পারে, এবং তিনি এর দিগন্তসমূহকে প্রশস্ত করেছেন, একে বিস্তৃত করেছেন, প্রসারিত করেছেন ও বিছিয়েছেন। তিনি একে জীবিতদের জন্য জমায়েতস্থল বানিয়েছেন যা তাদেরকে এর পিঠের ওপর ধারণ করে, এবং মৃতদের জন্য জমায়েতস্থল বানিয়েছেন যা তাদেরকে এর ভেতরে ধারণ করে যখন তারা মারা যায়। সুতরাং এর উপরিভাগ জীবিতদের আবাসস্থল এবং এর অভ্যন্তরভাগ মৃতদের আবাসস্থল। এরপর এই ঘূর্ণায়মান আকাশমণ্ডলীর দিকে তাকান যা তার সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র এবং গ্রহপুঞ্জ নিয়ে গঠিত; এবং দেখুন কীভাবে এটি এই জগতের ওপর এই সুশৃঙ্খল বিন্যাস ও নিয়মানুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত অবিরাম ঘুরছে। আর এর ভেতরে নিহিত রয়েছে দিবা-রাত্রির পরিবর্তন, ঋতুচক্র, গ্রীষ্ম ও শীতের আবর্তন এবং এর মাঝে নিহিত রয়েছে পৃথিবীর বুকে বিচরণশীল বিভিন্ন শ্রেণির প্রাণী ও উদ্ভিদের নানাবিধ কল্যাণ।
এরপর আকাশ সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা করুন এবং বারবার সেদিকে দৃষ্টিপাত করুন; আপনি একে এর উচ্চতা, বিশালতা এবং স্থিতিশীলতার দিক থেকে মহান নিদর্শনসমূহের একটি হিসেবে দেখতে পাবেন। এর নিচে কোনো খুঁটি নেই এবং ওপর থেকে কোনো বন্ধনী নেই, বরং এটি আল্লাহর কুদরতে ধৃত, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে বিচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করেন।
আর আপনি যখন এই মহাবিশ্ব এবং এর অংশসমূহের বিন্যাস ও সর্বোত্তম শৃঙ্খলার দিকে তাকাবেন—যা এর স্রষ্টার পূর্ণ ক্ষমতা, পূর্ণ জ্ঞান, পূর্ণ হিকমত এবং পূর্ণ করুণার প্রমাণ দেয়—তখন আপনি একে একটি সুনির্মিত গৃহের মতো দেখতে পাবেন যাতে এর যাবতীয় সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সুসজ্জিত রাখা হয়েছে। আকাশ হলো এর ওপর উত্তোলিত ছাদ, পৃথিবী হলো এর বাসিন্দাদের জন্য শয্যা, বিছানা ও স্থিতিশীল বিশ্রামস্থল। সূর্য ও চন্দ্র হলো এতে আলো দানকারী প্রদীপ এবং নক্ষত্ররাজি হলো এর বাতি ও সৌন্দর্য, যা এই গৃহের পথচারীদের পথ প্রদর্শন করে। মণি-মুক্তা ও খনিজ সম্পদগুলো এতে সঞ্চিত ভাণ্ডারের মতো জমা রাখা হয়েছে; যার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য উপযোগী কাজের জন্য নির্ধারিত। বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ মানুষের নানাবিধ প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণির প্রাণীদের (মানুষের কল্যাণে) নিয়োজিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ২)
আল-ইসলাম উসুলুহু ওয়া মাবাদিউহু
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لمصالحه، فمنها الركوب، ومنها الحلوب، ومنها الغذاء، ومنها اللباس، ومنها الحرس، وجعل الإنسان كالملك المخول في ذلك المتصرف فيه بفعله وأمره.
وأنت لو تأملت هذا الكون كله أو جزءا من أجزائه لوجدت فيه عجبا، ولو تمعنت فيه تمام الإمعان، وأنصفت من نفسك، وتخلصت من ربقة الهوى والتقليد لأيقنت تمام اليقين أن هذا الكون مخلوق، خلقه حكيم قدير عليم، قدره أحسن تقدير، ونظمه أحسن نظام، وأن الخالق يستحيل أن يكون اثنين، بل الإله واحد لا إله إلا هو، وأنه لو كان في السماوات والأرض إله غير الله لفسد أمرهما، واختل نظامها، وتعطلت مصالحها.
فإن أبيت إلا أن تنسب الخلق إلى غير خالقه، فما تقول في دولاب دائر على نهر قد أحكمت آلاته، وأحكم تركيبه، وقدرت أدواته أحسن تقدير وأبلغه، بحيث لا يرى الناظر فيه خللا في مادته، ولا في صورته، وقد جعل على حديقة عظيمة فيها من كل أنواع الثمار يسقيها حاجتها، وفي تلك الحديقة من يلم شعثها، ويحسن مراعاتها وتعهدها والقيام بجميع مصالحها، فلا يختل منها شيء ولا يتلف ثمارها، ثم يقسم قيمتها عند الجذاذ على سائر المخارج بحسب حاجاتهم وضروراتهم، لكل صنف ما يليق به، ويقسم هكذا على الدوام.
أترى هذا وقع اتفاقا بلا صانع ولا مختار ولا مدبر؟ بل اتفق
তার উপকারের জন্য। এর কিছু আরোহণের জন্য, কিছু দুগ্ধবতী, কিছু খাদ্যের জন্য, কিছু পোশাকের জন্য এবং কিছু প্রহরার জন্য। তিনি মানুষকে এতে একজন ক্ষমতাশীল বাদশাহর ন্যায় করেছেন, যে তার কাজ ও আদেশের মাধ্যমে এতে কর্তৃত্ব করতে পারে।
আপনি যদি সমগ্র মহাবিশ্ব বা এর কোনো একটি অংশের প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করেন, তবে তাতে বিস্ময়কর বিষয় খুঁজে পাবেন। আপনি যদি এতে পরিপূর্ণ মনোনিবেশ করেন, নিজের প্রতি ইনসাফ করেন এবং প্রবৃত্তির গোলামি ও অন্ধ অনুকরণের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হন, তবে আপনি পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে নিশ্চিত হবেন যে, এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা হয়েছে। একে একজন প্রজ্ঞাময়, সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞাতা সত্তা সৃষ্টি করেছেন। তিনি একে সর্বোত্তমভাবে সুপরিমিত করেছেন এবং সুশৃঙ্খল করেছেন। আর স্রষ্টা দুইজন হওয়া অসম্ভব; বরং ইলাহ মাত্র একজন, তিনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই। আসমান ও জমিনে যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ থাকতো, তবে উভয়ের ব্যবস্থাপনা ধ্বংস হয়ে যেত, এর শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ত এবং এর কল্যাণসমূহ রুদ্ধ হয়ে যেত।
যদি আপনি সৃষ্টিকে তার প্রকৃত স্রষ্টা ছাড়া অন্য কারো দিকে সম্বন্ধ করতে অনড় থাকেন, তবে এমন একটি জলচক্র সম্পর্কে আপনার অভিমত কী হবে যা একটি নদীর তীরে আবর্তিত হচ্ছে, যার কলকব্জা সুনিপুণ এবং যার গঠন অত্যন্ত মজবুত? এর সরঞ্জামগুলো এমন নিখুঁত ও সর্বোত্তমভাবে পরিমাপ করা হয়েছে যে, কোনো দর্শক এর উপাদান বা কাঠামোতে কোনো ত্রুটি দেখতে পায় না। একে একটি বিশাল বাগানের সেচ কাজের জন্য রাখা হয়েছে যেখানে সব ধরনের ফলমূল রয়েছে এবং এটি প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ করে। সেই বাগানে এমন লোক রয়েছে যে এর অগোছালো অবস্থা বিন্যস্ত করে, এর যথাযথ দেখাশোনা ও পরিচর্যা করে এবং এর যাবতীয় কল্যাণের দায়িত্ব পালন করে। ফলে এর কোনো কিছুই নষ্ট হয় না এবং ফলমূলও বিনষ্ট হয় না। অতঃপর ফসল কাটার সময় এর অর্জিত মূল্য অন্যান্যদের মাঝে তাদের প্রয়োজন ও অভাব অনুযায়ী বন্টন করে দেয়, প্রত্যেক শ্রেণির জন্য যা উপযুক্ত তা প্রদান করে এবং এভাবেই ধারাবাহিকভাবে বন্টন চলতে থাকে।
আপনি কি মনে করেন এটি কোনো কারিগর, কোনো ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন সত্তা বা কোনো পরিচালক ছাড়াই আকস্মিকভাবে ঘটে গেছে? বরং দৈবক্রমে...