(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: -)
التحرير في شرح صحيح مسلم - الأصبهاني القسم: شروح الحديث
الكتاب: التحرير في شرح مسلم
(قطعة تمثل النصف الثاني من الكتاب)
المؤلف: قِوَام السنة الأصبهاني، أبو القاسم إسماعيل بن محمد التيمي الشافعي (ت 535 هـ)
المحقيق: إبراهيم أيت باخة
الناشر: دار أسفار - الكويت
الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م
عدد الصفحات: 666
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ربيع الأول 1445
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহ মুসলিম - আল-আস বাহানী বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ
কিতাব: আত-তাহরীর ফী শারহি মুসলিম
(এই অংশটি কিতাবটির দ্বিতীয় অর্ধাংশ সম্বলিত)
লেখক: কিওয়ামুস সুন্নাহ আল-আস বাহানী, আবুল কাসিম ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ আত-তাইমী আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ৫৩৫ হি.)
সম্পাদক: ইবরাহীম আইত বাখা
প্রকাশক: দার আসফার - কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হি. - ২০২১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬৬
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণকপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২)
أَسْفَار
لِنَشر نَفِيس الكُتُبِ والرَّسَائِل العِلْمِيَّةِ
دَولة الكُويت
التَّحرِيرُ فِي شَرح مُسلِم
قِطْعَةٌ تُمثِّلُ النِّصْف الثَّانِي مِنَ الكِتَاب
تَألِيفُ
قِوَامِ السُّنَّةِ الأَصْبَهَانِيّ
أَبِي القَاسِم إِسْمَاعِيل بن مُحمَّد التَّيْمِيّ الشَّافِعِيّ (ت 535 هـ)
تَحْقِيقُ
إبرَاهِيم أيت بَاخة
طبع بتمويل
سَعْدِ مَنْصُور يُوسُفَ الخِلَيفِيّ
غفرَ الله لهُ ولوَالديه
আসফার
মূল্যবান গ্রন্থ ও জ্ঞানগর্ভ গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য
কুয়েত রাষ্ট্র
আত-তাহরির ফি শারহি মুসলিম
গ্রন্থের দ্বিতীয় অর্ধাংশ সম্বলিত খণ্ড
রচনা করেছেন
কিওয়ামুস সুন্নাহ আল-আসবাহানি
আবুল কাসিম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাইমি আশ-শাফিঈ (মৃত্যু: ৫৩৫ হিজরি)
সম্পাদনা
ইব্রাহিম আইত বাখা
যার অর্থায়নে মুদ্রিত
সাদ মানসুর ইউসুফ আল-খুলাইফি
আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
يسرُّ "مشروع أسفار" أنْ يقدِّمَ للقارئ الكريم الإصدارَ الحادي والأَربعين من إصدارات المشروع: (التَّحرير في شَرحِ مُسلِم)، لشيخِ الإسلام قِوام السنَّة إسماعيل التَّيميِّ الأصبهانيِّ (ت 535).
كتابُنا؛ دُرَّةٌ من بحورِ السنَّة النبوية، وجدناها بعدَ طُولِ غياب، واستَخرَجناها عن الاحتجاب، من عُيونِ شُروحِ صحيحِ "الإمام مُسلِمِ بن الحجَّاج القُشيريِّ" أملاهُ "إمامُ وقتهِ، وأستاذُ علماءِ عَصرهِ، وقدوةُ أهلِ السنَّةِ في زمانهِ" قوامُ السنَّة من "جهابذةِ الحديثِ ونقَّادِهم" و"المسؤول عن الغَوامضِ والمشكِلات"، كان مشاركًا في العلوم؛ نحويًّا، مفسِّرًا، محدِّثًا، فقيهًا، عالمًا بالتَّوحيد ومقالات الفِرَق، قال الحافظُ ابن كثير: "ورَحَلَ وطوّف، وجَالَ وصنّف"، انقطع للتَّدريس أكثر من ستينَ سنةً حتى تخرَّج به العلماء وصدروا عنه، وكان منهم ابنه الإمام محمد بن إسماعيل.
فمن خَبَرِ الكتاب: أنَّ هذه الإملاءة تتميمٌ لما كتبه الإمامُ أبو عبد الله محمَّد بنُ إسماعيلَ (قوامِ السنَّة)، فقد شرَعَ في شرحِ مسلم وكتبَ حظًّا صالحًا من مبادئه، غير أنَّه قَضَى رحمه الله ولم يتمَّه فأكمله أبوه، وقد اشتهر محمَّد بن إسماعيل بـ (شارحِ مُسلِم) بين المترجمين والنَّاقلين نظرًا لعنايتهِ به، لكن لم نقف عليه بعد، "فالجزء الأوَّل من الشَّرح" في حكم المفقود، وعليه تمحَّضَت هذه النُّسخة الخطيَّة التي ننشرها لقِوام السُّنةِ وحدَهُ؛ فهي القسم الثاني من الكتاب: تبدأ بـ "كتاب الزَّكاة" وتنتهي بـ "باب ذكرِ الدجَّال"، وقد كان شيخُ الإسلام الأصبهانيُّ رحمه الله حفيًّا بشرحِ الكتاب وتكميله، فأولاه عنايتَهُ واهتمامه، وقصدَ نفعَ ولده بإتمامه.
ومِن مزايا كتاب "التَّحرير" ومَسلكِهِ: أنَّه يُعتبر من الشُّروح الأولى لصَحِيحِ مُسلم، فهو الثَّالث بعد شرحَيْ الإمامين: المازَري وعبد الغافر الفارسيِّ، ويُعدُّ من بواكيرِ عناية علماءِ المشرق بصَحيح الإمامِ مُسلِم، ومن أهميته كثرةُ إفادة الأئمة منه؛ كابن تيميَّة والفاكهاني وابن الملقن والعراقي وابن حجر العسقلاني وغيرهم من شرَّاح السنَّة، واعتمدهُ الإمامُ النَّووي ضمن مصادره العلميَّة في شرحه مسلمًا وبلغت الإحالات عليه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
‘আস্ফার প্রজেক্ট’ সম্মানিত পাঠকদের সামনে তাদের প্রজেক্টের ৪১তম প্রকাশনা পেশ করতে পেরে আনন্দিত: শাইখুল ইসলাম কিওয়ামুস সুন্নাহ ইসমাঈল আত-তাইমি আল-আসবাহানির (ওফাত ৫৩৫ হিজরি) রচিত ‘আত-তাহরির ফি শারহি মুসলিম’।
আমাদের এই গ্রন্থটি সুন্নাহর সমুদ্র থেকে সংগৃহীত এক অমূল্য রত্ন, যা দীর্ঘকাল অন্তরালে থাকার পর আমরা খুঁজে পেয়েছি এবং উদ্ধার করেছি। এটি ‘ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ আল-কুশাইরি’র সহীহ-এর শ্রেষ্ঠতম ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর অন্যতম। এটি শ্রুতিলিপি হিসেবে প্রদান করেছেন ‘নিজ সময়ের ইমাম, সমকালীন আলেমদের উস্তাদ এবং তাঁর যুগের আহলুস সুন্নাহর আদর্শ’ কিওয়ামুস সুন্নাহ। তিনি ছিলেন ‘হাদিসের প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ ও সমালোচক’ এবং ‘জটিল ও সংশয়পূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধানকারী’। তিনি ব্যাকরণবিদ, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকিহ, তাওহীদ এবং বিভিন্ন অনৈসলামিক ফিরকার মতবাদ সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন বহুবিদ্যাবিশারদ ছিলেন। হাফেজ ইবনে কাসির তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি সফর করেছেন এবং ভ্রমণ করেছেন, বিচরণ করেছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন।" তিনি ষাট বছরেরও বেশি সময় শিক্ষকতায় নিয়োজিত ছিলেন, যার ফলে তাঁর নিকট থেকে অনেক আলেম জ্ঞান অর্জন করে ধন্য হয়েছেন; তাঁদের মধ্যে তাঁর পুত্র ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল অন্যতম।
গ্রন্থটির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তথ্য: এই শ্রুতিলিখনের সংকলনটি ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল (কিওয়ামুস সুন্নাহ) যা লিখেছিলেন তারই পরিশিষ্ট। তিনি সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা শুরু করেছিলেন এবং এর প্রারম্ভিক অংশের একটি বড় অংশ লিখেছিলেন। কিন্তু তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকাল করায় তা সম্পন্ন করতে পারেননি, ফলে তাঁর পিতা এটি সম্পন্ন করেন। মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল তাঁর বিশেষ মনোযোগের কারণে জীবনীকার ও বর্ণনাকারীদের নিকট ‘শারহে মুসলিম’ (মুসলিমের ব্যাখ্যাকারী) হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তবে আমরা এখনও সেই অংশটি খুঁজে পাইনি। তাই ‘ব্যাখ্যার প্রথম খণ্ডটি’ নিখোঁজ হিসেবে গণ্য। সেই প্রেক্ষাপটে আমরা যে পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশ করছি, তা সম্পূর্ণভাবে কিওয়ামুস সুন্নাহর একক কৃতি; এটি গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশ, যা ‘যাকাত অধ্যায়’ থেকে শুরু হয়ে ‘দাজ্জালের আলোচনা’ অধ্যায়ে শেষ হয়েছে। শাইখুল ইসলাম আসবাহানি (রাহিমাহুল্লাহ) এই গ্রন্থের ব্যাখ্যা ও এটি সম্পূর্ণ করার ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। তিনি একে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন এবং তাঁর পুত্রের কাজ সমাপ্ত করার মাধ্যমে সাধারণের উপকার সাধনের উদ্দেশ্য পোষণ করেছিলেন।
‘আত-তাহরির’ গ্রন্থের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ও পদ্ধতি হলো: এটি সহীহ মুসলিমের সর্বপ্রথম ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। ইমাম মাযেরি এবং আব্দুল গাফির আল-ফারিসির ব্যাখ্যার পর এটি তৃতীয় পর্যায়ের ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি প্রাচ্যের আলেমদের সহীহ ইমাম মুসলিমের প্রতি শুরুর দিকের মনোযোগের একটি স্মারক। এই গ্রন্থের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয় বরেণ্য ইমামদের মাধ্যমে এর ব্যাপক ব্যবহারের মধ্য দিয়ে; যেমন ইবনে তাইমিয়য়াহ, ফাকিহানি, ইবনুল মুলাক্কিন, ইরাকি, ইবনে হাজার আসকালানি এবং সুন্নাহর অন্যান্য ব্যাখ্যাকারগণ। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে একে অন্যতম শাস্ত্রীয় উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এতে অসংখ্যবার উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৬)
"خمسًا وخمسين" موضعًا، وأمَّا مسالكهُ: فبيانُ غريب الحديث والاستشهادُ على لغته، ولم يستوعب جميع الأحاديث بالشرح وإنما كان ينتقي المحتاج منها للبيان ويراعي الاختصار، وأيضًا استنباط الأحكام والفقهيّات والفوائد والمعاني من الحديث، مع إعماله القواعد الأصولية، ولا يورد ألفاظ الأحاديثِ كاملة بل يقتصر على موطن الشَّاهد منها، أو يكتفي بالأطراف أو ما يدلُّ على القصَّة كـ (حديث أمِّ زَرع) أو الرَّاوي، ويورد الرِّوايات المختلفة للصَّحيح ويقارن بينها، ويستعينُ بذكر الشَّواهد من السنَّة النبويَّة إما لبيانِ المشكل أو دفعِ التَّعارض أو الاستشهادِ على فقهِ الحديثِ ولُغتِهِ، ولم تمنع رتابةُ الاختصَارِ المؤلِّفَ منَ الاستطرادِ في إيراد الفوائد المتنوِّعة حتى يستوفيَ القولَ فيها، كما لم يخل من النُّكت الحديثية المستجادة كإسنادِهِ بعض الأحاديثِ المشروحةِ عن شيوخه، وقد يذكر الحديث متأخِّرًا عن محلِّه على وجه التَّدارك، ومن مسلكهِ أيضًا: تقريرهُ لعقيدة أئمة السَّلفِ الرَّاسِخينَ في العلمِ ودفاعهُ عنها، وربما دَمَجَ بين الكتب أحيانًا: كـ "الإمارة والجهاد" و"والذِّكر والتَّوبة والفِتَن ضمن كتاب العلم".
وقد بذل المحقِّقُ الفاضل جهدًا مشكورًا في قراءةِ المخطوط وتحقيقهِ، على رغمِ معوِّقاتِ النُّسخة الخطيَّة؛ فقد نالتْ منها العوادي والآفاتُ من بللٍ وسقوطِ بعضِ أوراقها، واختلافِ ترتيبها تقديمًا وتأخيرًا بعد إعادة ترميمها، فجزاه الله خيرًا، ومن مقاديرِ اللهِ سبحانه أنْ تكون نسختُنا من شرحِ مسلمٍ (ذات الخطِّ المغربيِّ) مرتحلةً إلى بلاد المشرِقِ مستقرَّةً بالشَّام، وأنَّ نسخةَ شرحِ البخاريِّ للأصبهاني (ذات الخطِّ المشرقيِّ) حطَّت رحالها في "خزانة الجامع الكبير بمكناس"، وألقَتْ عَصَا تَطوافها بالمغرب.
وفي الختام: نشكرُ فضيلة الدكتور: "مولاي بوجمعة أمدجار" على جهوده الكريمة وتعاونه البنَّاء مع (أسفار) جزاه الله الجنَّة، ونسألُ الله تعالى المغفرة والرَّحمة والرِّضوان للعاملين بهذا المشروع ولمؤلِّف الكتاب ومحقِّقه، ولمن تحمَّل تمويل نشرِهِ: (سعد منصور يوسف الخليفي) أجزلَ الأجرِ والثَّواب، اللَّهم أجزهم خيرًا، وأسبِل عليهم بركتك، والحمد لله ربِّ العالمين.
أسفار
لِنَشْرِ نَفيس الكتب والرسائل العِلْمِيَّةِ
دولة الكويت
৫৫টি স্থানে। আর তাঁর কর্মপদ্ধতি হলো: হাদিসের বিরল শব্দাবলির ব্যাখ্যা এবং এর ভাষাতাত্ত্বিক প্রয়োগের প্রমাণ উপস্থাপন করা। তিনি সকল হাদিসের পূর্ণ ব্যাখ্যা প্রদান করেননি, বরং কেবল ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে এমন হাদিসগুলোই নির্বাচন করেছেন এবং সংক্ষিপ্ততার দিকে লক্ষ্য রেখেছেন। এছাড়াও হাদিস থেকে আহকাম (বিধান), ফিকহী মাসআলা, উপকারিতা ও অর্থসমূহ আহরণ করেছেন, পাশাপাশি উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহ প্রয়োগ করেছেন। তিনি হাদিসের পূর্ণ শব্দাবলি উল্লেখ করেন না, বরং কেবল প্রয়োজনীয় অংশটুকুর ওপর সীমাবদ্ধ থাকেন, অথবা হাদিসের শুরুর অংশ কিংবা ঘটনার প্রতি ইঙ্গিতবাহী অংশ যেমন (উম্মে জার-এর হাদিস) অথবা বর্ণনাকারীর নামের ওপর নির্ভর করেন। তিনি সহিহ হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনা উল্লেখ করেন এবং তাদের মধ্যে তুলনা করেন। এছাড়া সুন্নাহ থেকে অন্যান্য সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা উপস্থাপন করেন, হয় কোনো অস্পষ্টতা দূর করতে, নতুবা আপাত বৈপরীত্য নিরসনে অথবা হাদিসের ফিকহ ও ভাষার প্রমাণ দিতে। সংক্ষিপ্তকরণের বাধ্যবাধকতা লেখককে বিভিন্ন প্রকার ফায়দা বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা থেকে বিরত রাখতে পারেনি, যতক্ষণ না তিনি সেই বিষয়ে বক্তব্য পূর্ণ করেছেন। একইভাবে এটি চমৎকার সব হাদিসতাত্ত্বিক সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ থেকে খালি নয়, যেমন ব্যাখ্যাত কিছু হাদিসকে নিজের শায়খদের সূত্রে বর্ণনা করা। কোনো কোনো সময় তিনি সংশোধনী হিসেবে হাদিসটিকে তার নির্ধারিত স্থানের পরে উল্লেখ করেন। তাঁর পদ্ধতির মধ্যে আরও রয়েছে: ইলমে সুগভীর সালাফ ইমামগণের আকিদা সাব্যস্ত করা এবং এর প্রতিরক্ষা করা। কখনও কখনও তিনি কয়েকটি কিতাবকে একত্রিত করেছেন, যেমন 'কিতাবুল ইলম'-এর অধীনে 'ইমারত ও জিহাদ' এবং 'জিকির, তওবা ও ফিতনা' বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করা।
গুণী গবেষক পাণ্ডুলিপিটি পাঠ ও এর সম্পাদনায় প্রশংসনীয় পরিশ্রম করেছেন, পাণ্ডুলিপির নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও। কারণ পাণ্ডুলিপিটি আর্দ্রতা, পাতা বিলুপ্তি এবং পুনরায় বাঁধানোর পর বিন্যাসের ওলটপালট হওয়ার মতো বিভিন্ন দুর্যোগ ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। মহান আল্লাহর এক অপূর্ব ফয়সালা যে, সহিহ মুসলিমের শারহ-এর আমাদের এই পাণ্ডুলিপিটি (মাগরিবি লিপিতে লিখিত) প্রাচ্যের দেশগুলোতে সফর করে সিরিয়ায় থিতু হয়েছে। আর আসবাহানির সহিহ বুখারির শারহ-এর পাণ্ডুলিপিটি (মাশরিকি লিপিতে লিখিত) মরক্কোর মেকনেস শহরের 'জামে কাবির'-এর গ্রন্থাগারে এসে পৌঁছেছে এবং সেখানেই তার দীর্ঘ সফরের সমাপ্তি ঘটেছে।
পরিশেষে, আমরা শ্রদ্ধেয় ডক্টর 'মাওলাই বুজুমআ আমদজার'-এর মহান প্রচেষ্টা এবং 'আসফার'-এর সাথে তাঁর গঠনমূলক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করুন। আমরা মহান আল্লাহর কাছে এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, কিতাবের লেখক ও গবেষক (মুহাক্কিক)-এর জন্য ক্ষমা, রহমত ও সন্তুষ্টি প্রার্থনা করি। এবং যিনি এর প্রকাশনার অর্থায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন: (সাদ মনসুর ইউসুফ আল-খুলাইফি), আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন। হে আল্লাহ, আপনি তাদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাদের ওপর আপনার বরকত বর্ষণ করুন। সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আসফার
মূল্যবান গ্রন্থ ও ইলমি গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য
কুয়েত রাষ্ট্র
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৭)
مقدمةالحمد لله المحمود بآلائه، الممدوح على نعمائه، المشكور بجزيل عطائه، وأشهد أن لا إله إلا الله، ولي النعم كلها دون سواه، أحمده أبلغ حمد وأزكاه، وأشمله وأنماه، وأشهد أن سيدنا محمدا عبده الذي ارتضاه، ونبيه الذي اختاره واجتباه، ورسوله الذي ائتمنه واصطفاه، ورفعه وأعلاه، وخصه بختم النبوة وحباه، وأبانه بأعلى منازل الفضل على كل آدمي عداه، صلى الله عليه وعلى آله الأطهار، وصحابته الغر الأخيار، وعلى التابعين لهم بإحسان ما تعاقب الليل والنهار.
أما بعد:
فمما لا شك فيه ولا مرية أن دواوين السنّة، من أعظم ما يَصرف لها العقلاء الأكياس عزيز الأوقات، وغُرر الأنفاس، وذلك لمسيس حاجة العلماء وطلبة العلم إليها، ولعظيم منزلتها السنِية العلية في بناء العلوم الشرعية وتأسيسها، إذ الحَدِيثُ بِمَنزِلَةِ الأَسَاسِ الَّذِي هُوَ الأَصلُ، وَالفِقهُ بِمَنزِلَةِ البِنَاءِ الَّذِي هُوَ لَهُ كَالفَرعِ، وَكُلُّ بِنَاءٍ لَم يُوضَع عَلَى قَاعِدَةٍ وَأَسَاسٍ فَهُوَ مُنهَارٌ، وَكُلُّ أَسَاسٍ خَلَا عَن بِنَاءٍ وَعِمَارَةٍ فَهُوَ قَفْرٌ وَخَرَابٌ
(1).
وقد صرف الأسلاف هممهم لهذه الدواوين، وجعلوا النهل من رياضها
--------------------------------------------
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর নিআমতসমূহের কারণে প্রশংসিত, তাঁর অনুগ্রহরাজির জন্য মহিমান্বিত এবং তাঁর অঢেল দানের জন্য কৃতজ্ঞতাভাজন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি ছাড়া আর কেউ সকল নিআমতের অধিপতি নন। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করি যা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও পবিত্রতম, এবং অত্যন্ত ব্যাপক ও ক্রমবর্ধমান। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর মনোনীত বান্দা, তাঁর নির্বাচিত ও পছন্দকৃত নবী এবং তাঁর বিশ্বস্ত ও মনোনীত রসূল; আল্লাহ তাঁকে সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছেন, নবুওয়তের পরিসমাপ্তি দ্বারা তাঁকে বিশেষায়িত ও ভূষিত করেছেন এবং অন্য সকল মানুষের ঊর্ধ্বে তাঁকে ফযীলতের উচ্চাসনে সুস্পষ্ট করেছেন। তাঁর উপর এবং তাঁর পবিত্র বংশধর, বরেণ্য ও শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী হবেন, তাঁদের সকলের উপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—যতদিন দিন ও রাতের আবর্তন জারি থাকবে।
অত:পর:
নিঃসন্দেহে এতে কোনো সংশয় বা দ্বিধা নেই যে, সুন্নাহর সংকলনসমূহ (দাওয়াউইনুস সুন্নাহ) সেই শ্রেষ্ঠ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যাতে বুদ্ধিমান ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা তাঁদের মূল্যবান সময় ও অমূল্য নিঃশ্বাসসমূহ ব্যয় করে থাকেন। এর কারণ হলো, আলিম ও তালিবে ইলমদের (জ্ঞানান্বেষী) জন্য এর প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত প্রবল এবং শারঈ ইলম গঠন ও এর ভিত্তি স্থাপনে এর মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ ও সুমহান। কেননা, হাদীস হলো সেই ভিত্তির সমতুল্য যা মূল (আসল), আর ফিকহ হলো সেই অট্টালিকার সমতুল্য যা তার শাখা (ফার')। যে অট্টালিকা কোনো নিয়ম ও ভিত্তির ওপর স্থাপন করা হয়নি তা ধসে পড়ে, আর যে ভিত্তি অট্টালিকা ও স্থাপত্যশূন্য থাকে তা জনশূন্য ও বিরান প্রান্তরে পরিণত হয়
(১)।
পূর্বসূরিগণ এই সংকলনগুলোর প্রতি তাঁদের সকল উদ্যম নিয়োজিত করেছেন এবং এর উদ্যানসমূহ হতে জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করাকে গ্রহণ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৮)
ديدنهم وهِجِّيرَاهُم، فقضوا منها بدقيق النظر نَهمتهم، واتخذوا قَفوَ شواردها القلائد، وفوائدها الفرائد، بغيتهم.
وكان من جملة تلكم الدواوين الجليلة، والمصادر الأصيلة الأثيلة، التي ضرب العلماء إلى أحاديثها أكباد الإبل، وحج الناس من كل صقع إلى مجالسها؛ صحيح الإمام مسلم بن الحجاج، نجم الأسانيد والرواية، وصاحب القدح المعلى في الدراية، الذي ذاع صيته وانتشر، وطَبَّقت شهرته أهل المدر والوبر، فكان كتابه لحملة الآثار وطلبة الفقه والعلم قبلة وشعلة؛ أقبلوا عليه إقبالا عز نظيره في الدواوين قبله، فلا تسل كم من شارح له ومنتصر، ومدرس له ومختصر
…ومن أجَلِّ لبنات هذه الجهود المباركة التي رامت خدمة هذا السفر العظيم، كتاب الإمام العلامة شيخ الإسلام وقوام السنة والدين أبي القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل التميمي الأصبهاني الشافعي رحمه الله، الموسوم بـ (التَّحرِير فِي شَرحِ مُسلِم).
وقد رام بمرقومه رحمه الله أن يكون مرجعا للمعتنين بصحيح مسلم في جانبي الفقه والغريب، من خلال تتبع ألفاظ الحديث، وضبطها واستيفاء الكلام عنها، بما يفتح مُغلقها ويزيل مشكلها، وييسر مدارك النظر في معانيها فقها واستنباطا.
فكان سِفْرًا عظيما من نفيس الكتب الخادمة لصحيح مسلم، أطبق جهابذة العلماء بعده على النقل منه والرجوع إليه، كالإمام النووي؛ وابن تيمية؛ وشرف الدين الطيبي؛ والكِرماني؛ وابن المُلقِّن؛ وابن حجر، وأضراب هؤلاء من أساطين العلم وأعلام الأمة الكبار.
وقد وفق الله تعالى مركز أسفار لطباعة نفيس الكتب، لإخراج هذا العمل،
এটি ছিল তাদের অভ্যাস ও নিরন্তর সাধনা; এর সূক্ষ্ম পর্যালোচনার মাধ্যমে তারা তাদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করেছেন এবং এর দুর্লভ বিষয়াবলি অনুসরণ করে তাকে কণ্ঠহারে ও এর শিক্ষাগুলোকে অমূল্য মুক্তায় পরিণত করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।
আর সেই মহান গ্রন্থাবলি এবং মৌলিক ও সুদৃঢ় উৎসসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজের সহীহ গ্রন্থটি—যাঁর হাদীসের অন্বেষণে আলেমগণ কঠোর সফর করেছেন এবং যার মজলিসসমূহে মানুষ প্রতিটি জনপদ থেকে সমবেত হয়েছে। তিনি ছিলেন সনদ ও বর্ণনার উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং শাস্ত্রীয় প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। তাঁর সুখ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর খ্যাতি গ্রাম ও মরুভূমির সকল অধিবাসীদের মাঝে ব্যাপ্ত হয়েছিল। ফলে তাঁর এই কিতাবটি হাদীসের ধারক এবং ফিকহ ও ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য একটি কেন্দ্রবিন্দু ও প্রদীপ্ত মশালে পরিণত হয়েছিল। তারা এর প্রতি এমনভাবে নিবিষ্ট হয়েছিলেন যার নজির তাঁর পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোর ক্ষেত্রে বিরল। সুতরাং কতজন যে এর ব্যাখ্যা লিখেছেন, একে সমর্থন করেছেন, এটি পাঠদান করেছেন এবং এর সংক্ষিপ্তসার তৈরি করেছেন তার ইয়ত্তা নেই
…এই মহান গ্রন্থের সেবায় নিয়োজিত সেই বরকতময় প্রচেষ্টাসমূহের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভিত্তিপ্রস্তর হলো ইমাম, আল্লামা, শায়খুল ইসলাম, সুন্নাহ ও দ্বীনের স্তম্ভ আবু কাসেম ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আত-তামীমী আল-আসবাহানী আশ-শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব, যার শিরোনাম হলো ‘আত-তাহরীর ফী শারহি মুসলিম’।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই লেখনীর মাধ্যমে চেয়েছিলেন যেন এটি ফিকহ ও কঠিন শব্দাবলির উভয় ক্ষেত্রে সহীহ মুসলিম নিয়ে চর্চাকারীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হয়। তিনি হাদীসের শব্দাবলি অনুসন্ধান, সেগুলোর সঠিক রূপ নির্ধারণ এবং সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার মাধ্যমে এর জটিল বিষয়গুলো উন্মোচন করেছেন, এর অস্পষ্টতা দূর করেছেন এবং ফিকহ ও মাসয়ালা উদঘাটনের ক্ষেত্রে এর অর্থ বোঝার পথকে সহজতর করেছেন।
ফলে এটি সহীহ মুসলিমের সেবায় রচিত মূল্যবান গ্রন্থরাজির মধ্যে একটি মহান গ্রন্থে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীকালের বিজ্ঞ আলেমগণ এর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান এবং এর উপর নির্ভর করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; যেমন ইমাম নববী, ইবনে তাইমিয়্যাহ, শরফুদ্দিন আত-তীবী, আল-কিরমানী, ইবনুল মুলাক্কিন, ইবনে হাজার এবং ইলমের স্তম্ভ ও উম্মাহর মহান মণীষীগণের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
আর মহান আল্লাহ মূল্যবান কিতাবসমূহ প্রকাশনা সংস্থা ‘মারকায আসফার’-কে এই কর্মটি সম্পন্ন করার তাওফীক দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৯)
وإثراء المكتبة الإسلامية التراثية بهذا السفر النفيس، الذي يعد إخراجه إلى الوجود إحياء بعد موات، وأملا بعد قنوط، وصلة لرحم العلم بعد قطيعة استمرت لعقود.
ومع أن الذي وصلنا من الكتاب هو نصفه فقط، أو أكثر من النصف بقليل، إلا أنَّه غزير الفائدة، كثير العائدة، حافل بالنوادر اللغوية؛ والنكت العلمية؛ واللطائف المعرفية، والأحكام الفقهية، ولا عجب؛ فالإمام الأصبهاني قد آتاه الله تعالى قدرة فائقة على الفهم واستنباط المعاني الخفية؛ التي غالبا ما تحجبها ظواهر النصوص، وتخفيها المعاني الجلية الواضحة، فجمع من الخواطر والتأملات والإشارات ما لم يسبق إليه.
وليتضح هذا أكثر، فقد قدمت بين يدي التحقيق بهذه المقدمة الدراسية، التي حاولت من خلالها أن أنبذ إلى القارئ نبذة عن الكتاب وصاحبه، وفيها:
الفصل الأول: التعريف بكتاب التحرير وصاحبيه.
* المبحث الأول: التعريف بصاحبي الكتاب.
المطلب الأول: التعريف بالأصبهاني الأب.
المطلب الثاني: التعريف بالأصبهاني الابن.
* المبحث الثاني: اسم الكتاب.
* المبحث الثالث: نسبة الكتاب إلى مؤلفه.
* المبحث الرابع: تحديد القدر الذي أملاه الابن.
এবং এই মূল্যবান গ্রন্থের মাধ্যমে ইসলামী ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থাগারকে সমৃদ্ধ করা, যার প্রকাশকে গণ্য করা হয় প্রাণহীন হওয়ার পর পুনর্জীবন, নিরাশার পর আশা এবং কয়েক দশক স্থায়ী বিচ্ছেদের পর ইলমের আত্মীয়তার বন্ধন স্বরূপ।
যদিও কিতাবটির যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে তা মাত্র অর্ধেক বা অর্ধেকের সামান্য বেশি, তবুও এটি অত্যন্ত উপকারী, প্রচুর কল্যাণময় এবং ভাষাতাত্ত্বিক বিরল বিষয়াদি, ইলমী সূক্ষ্মতা, জ্ঞানতাত্ত্বিক লতিফা ও ফিকহি আহকামে ভরপুর। আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই; কারণ ইমাম আসবাহানিকে আল্লাহ তাআলা বুঝ এবং এমন গোপন অর্থ উদ্ধারের এক অসাধারণ ক্ষমতা দান করেছিলেন যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মূল পাঠের বাহ্যিক রূপ দ্বারা আবৃত থাকে এবং সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য অর্থের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। ফলে তিনি এমন সব চিন্তা, গভীর মনোনিবেশ ও ইঙ্গিত একত্রিত করেছেন যা আগে কেউ করেনি।
বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য আমি তাহকিকের শুরুতে এই গবেষণামূলক ভূমিকা পেশ করেছি, যার মাধ্যমে আমি পাঠকের সামনে কিতাবটি এবং এর লেখক সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এতে রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: কিতাবুত তাহরির এবং এর দুই লেখকের পরিচয়।
* প্রথম অনুচ্ছেদ: কিতাবের দুই লেখকের পরিচয়।
প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: পিতা আসবাহানির পরিচয়।
দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: পুত্র আসবাহানির পরিচয়।
* দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কিতাবের নাম।
* তৃতীয় অনুচ্ছেদ: লেখকের প্রতি কিতাবের সম্বন্ধের প্রমাণ।
* চতুর্থ অনুচ্ছেদ: পুত্র কর্তৃক শ্রুতিলিখনের পরিমাণ নির্ধারণ।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ১০)
* المبحث الخامس: القيمة العلمية للكتاب.
المطلب الأول: مكانة مؤلفه.
المطلب الثاني: زمان تأليفه.
المطلب الثالث: نقل العلماء عنه ورجوعهم إليه.
المطلب الرابع: مناقشة العلماء لاجتهاداته وتعقيبهم عليه.
* المبحث السادس: موضوعه وسياقه التاريخي.
الفصل الثاني: منهج الإمام الأصبهاني في التحرير
* المبحث الأول: التبويب والترتيب وعدد الأحاديث.
المطلب الأول: تبويبه وترتيبه.
المطلب الثاني: عدد أحاديثه.
* المبحث الثاني: منهجه في شرح الحديث.
* المبحث الثالث: تقريراته العلمية في الكتاب.
المطلب الأول: تقريراته اللغوية.
المطلب الثاني: تقريراته الفقهية.
المطلب الثالث: تقريراته العقدية.
* المبحث الرابع: مصادر المؤلف في الكتاب.
المطلب الأول: مصادره السمعية.
* পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের ইলমি গুরুত্ব।
প্রথম অনুচ্ছেদ: এর লেখকের মর্যাদা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এটি রচনার সময়কাল।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আলেমগণের এই গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান এবং এর প্রতি প্রত্যাবর্তন।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: লেখকের ইজতিহাদসমূহের বিষয়ে আলেমগণের আলোচনা ও তাদের পর্যালোচনা।
* ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এর বিষয়বস্তু এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
দ্বিতীয় অধ্যায়: গ্রন্থ সংকলনে ইমাম আসবাহানীর পদ্ধতি
* প্রথম পরিচ্ছেদ: অধ্যায় বিন্যাস, ক্রম এবং হাদিসের সংখ্যা।
প্রথম অনুচ্ছেদ: এর অধ্যায় বিন্যাস ও ক্রম।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এর হাদিসের সংখ্যা।
* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিস ব্যাখ্যায় তাঁর পদ্ধতি।
* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে তাঁর ইলমি সিদ্ধান্তসমূহ।
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর ভাষাগত সিদ্ধান্তসমূহ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ফিকহী সিদ্ধান্তসমূহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর আকিদাগত সিদ্ধান্তসমূহ।
* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থে লেখকের উৎসসমূহ।
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর শ্রবণজাত উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
المطلب الثاني: المصادر النقلية التي صرح بها أو بأصحابها.
المطلب الثالث: المصادر النقلية التي لم يصرح بها، ويغلب على الظن نقله عنها.
* المبحث الخامس: مقارنة بين كتاب التحرير ونظرائه.
الفصل الثالث: وصف المخطوط ومنهج التحقيق
* المبحث الأول: وصف المخطوط وتقدير سقطه.
المطلب الأول: وصف المخطوط.
المطلب الثاني: تقدير ما وقع في المخطوط من السقط
* المبحث الثاني: منهج التحقيق وإخراج الكتاب.
خاتمة ونتائج.
* * *
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: সেই সমস্ত বর্ণনাভিত্তিক উৎসসমূহ যেগুলোর নাম অথবা সেগুলোর লেখকদের নাম তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: সেই সমস্ত বর্ণনাভিত্তিক উৎসসমূহ যেগুলোর নাম তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, তবে প্রবল ধারণা এই যে তিনি সেগুলো থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।
* পঞ্চম পরিচ্ছেদ: 'আত-তাহরির' গ্রন্থ এবং এর সমগোত্রীয় গ্রন্থসমূহের মধ্যে তুলনা।
তৃতীয় অধ্যায়: পাণ্ডুলিপির বিবরণ এবং সম্পাদনা পদ্ধতি
* প্রথম পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির বিবরণ এবং এর বিলুপ্ত অংশের পরিমাপ।
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির বিবরণ।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপিতে বিলুপ্ত হওয়া অংশের পরিমাপ
* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সম্পাদনা পদ্ধতি এবং গ্রন্থটি প্রস্তুতকরণ।
উপসংহার ও ফলাফল।
* * *
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الفصل الأول التعريف بكتاب التحرير وصاحبيه* المبحث الأول: التعريف بصاحبي الكتاب.
* المبحث الثاني: اسم الكتاب.
* المبحث الثالث نسبة الكتاب إلى مؤلفه.
* المبحث الرابع: تحديد القدر الذي أملاه الابن.
* المبحث الخامس: القيمة العلمية للكتاب.
* المبحث السادس: موضوعه وسياقه التاريخي.
প্রথম অধ্যায়: আত-তাহরীর গ্রন্থ এবং এর লেখকদ্বয়ের পরিচিতি* প্রথম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের লেখকদ্বয়ের পরিচিতি।
* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের নাম।
* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের প্রতি গ্রন্থের সম্বন্ধ।
* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পুত্র কর্তৃক শ্রুতিলিখনের পরিমাণ নির্ধারণ।
* পঞ্চম পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব।
* ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: এর বিষয়বস্তু ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الأول التعريف بصاحبي الكتاب* * *
المطلب الأول التعريف بالأصبهاني الأبهو: إسماعيل بن محمد بن الفضل بن علي بن أحمد بن طاهر الطلحي التيمي الأصبهاني
(1)، يكنى بأبي القاسم، ويلقب بشيخ الإسلام
(2)، وبقوام السنة
(3) وبها اشتهر كثيرا.
كما لقب بالجُوزِي - بضم الجيم والواو الساكنة وفي آخرها الزاي - وهو الطير الصغير بلسان أهل أصبهان، ويقال بمَرْوٍ للفروج الصغير: جوزه بالعجمية
(4).
وقد كان يكره هذا اللقب ولا يحبه رغم اشتهاره به، قال تلميذه الإمام أبو سعد السمعاني رحمه الله: (وَسَمِعتُ أَنَّهُ كَانَ يَكْرَهُ هَذِهِ النِّسبَةَ
… وَكَانَ أَهلُ أَصْبَهَانَ
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: কিতাবের লেখকদ্বয়ের পরিচিতি* * *
প্রথম অনুচ্ছেদ: পিতা আসবাহানীর পরিচিতিতিনি হলেন: ইসমাইল বিন মুহাম্মাদ বিন আল-ফজল বিন আলী বিন আহমাদ বিন তাহির আল-তালহী আল-তাইমী আল-আসবাহানী
(১), তাঁর উপনাম (কুনিয়াহ) হলো আবু আল-কাসিম, এবং তাঁকে 'শাইখুল ইসলাম'
(২) ও 'কাওয়ামুস সুন্নাহ'
(৩) উপাধিতে ভূষিত করা হয়—আর এই শেষোক্ত উপাধিতেই তিনি অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
তেমনিভাবে তাঁকে 'আল-জুযী'—জীম-এর পেশ, ওয়াও সাকিন এবং শেষে ঝা যোগে—উপাধিতেও অভিহিত করা হতো; আসবাহানবাসীদের ভাষায় এর অর্থ হলো ছোট পাখি। বলা হয়ে থাকে যে, মার্ভ অঞ্চলে ছোট মুরগির বাচ্চাকে অনারব ভাষায় 'জুযাহ' বলা হয়
(৪)।
তিনি এই উপাধিটি অপছন্দ করতেন এবং এটি তাঁর নিকট প্রিয় ছিল না, যদিও তিনি এর মাধ্যমেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। তাঁর ছাত্র ইমাম আবু সা’দ আস-সামআনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আমি শুনেছি যে তিনি এই সম্বোধনটি অপছন্দ করতেন... আর আসবাহানবাসীরা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يَقُولُونَ شَيخ إِسْمَاعِيل جُوزِي يُعرَفُ بِذَلِكَ، وَلَولَا شُهَرَتُهُ بَينَ أَهْلِ بَلَدِهِ بِهَذِهِ النِّسبَةِ مَا ذَكَرتُهَا)
(1).
وهو رحمه الله قرشي النسب والحسب، من ذرية طلحة بن عبيد الله رضي الله عنه أحد المبشرين بالجنة
(2).
ولد رحمه الله بأصبهان وإليها نُسِب، وذلك سنة 457 هـ على قول أكثر المترجمين له، وقيل سنة: 458 هـ
(3)، وذكر الإمام الذهبي أن ولادته كانت تحديدا في التاسع من شهر شوالَ سنة سبعٍ وخمسين وأربعمائة
(4).
عاش رحمه الله ونشأ في أسرة مشهورة بالعلم والصلاح، فوالده أبو جعفر محمد بن الفضل؛ كان آية في الزُّهْد والأمانة والورع، قال عنه أبو زكرياء يحيى بن منده: (أَبُو جَعفَرَ عَفِيفٌ، دَيِّنٌ، لَم نَرَ مِثْلَهُ فِي الدِّيَانَةِ وَالأَمَانَةِ فِي وَقتِنَا)
(5)، وقال عنه أبو موسى المديني: (الشَّيخُ الصَّالِحُ حَقِيقَةً)
(6).
ووالدته من ذرية طلحة بن عبيد الله رضي الله عنه، وهي بنت محمد بن مصعب
(7)، وزوجه هي أم الضياء عاشوراء بنت الأديب أبي الحسين محمد بن الحسن الوركاني
(8).
--------------------------------------------
তারা বলেন, শায়খ ইসমাইল জুজি এই নামেই পরিচিত। যদি তাঁর শহরের লোকদের মাঝে তিনি এই নিসবত (নামের সম্বন্ধ) দ্বারা পরিচিত না হতেন, তবে আমি এটি উল্লেখ করতাম না)
(১)।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বংশ ও আভিজাত্যের দিক থেকে কুরাইশী ছিলেন; তিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের অন্যতম তলহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর বংশধর
(২)।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ইসফাহানে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর সম্বন্ধ সেদিকেই করা হয়। অধিকাংশ জীবনীকারের মতে এটি ৪৫৭ হিজরিতে হয়েছিল, আর কারো কারো মতে ৪৫৮ হিজরি
(৩)। ইমাম যাহাবী উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর জন্ম সুনির্দিষ্টভাবে চারশ সাতান্ন হিজরির শাওয়াল মাসের নয় তারিখে হয়েছিল
(৪)।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ইলম ও নেক আমলের জন্য প্রসিদ্ধ এক পরিবারে জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন। তাঁর পিতা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনুল ফযল; যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), আমানতদারি এবং তাকওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য নিদর্শন ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে আবু যাকারিয়া ইয়াহিয়া ইবনে মানদাহ বলেন: (আবু জাফর ছিলেন অত্যন্ত পবিত্র চরিত্রের অধিকারী এবং ধর্মপ্রাণ; আমাদের সময়ে দ্বীনদারি ও আমানতদারির ক্ষেত্রে আমরা তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি)
(৫), এবং তাঁর সম্পর্কে আবু মুসা আল-মাদিনী বলেন: (প্রকৃত অর্থেই একজন নেককার শায়খ)
(৬)।
তাঁর মাতা তলহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর বংশধর ছিলেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে মুসআব-এর কন্যা
(৭)। তাঁর স্ত্রী ছিলেন উম্মুদ যিয়া আশুরা, যিনি সাহিত্যিক আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-ওয়ারকানি-এর কন্যা
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وابنه العالم الشابُّ أبو عبد الله، نتحدث عنه لاحقا، وله ابنة تسمى سِتِّيتَة، لها رواية، حدثت بالإجازة عن ظفر بن دَاعِي بن مهدي العمريّ العلوي
(1).
وكان أبوه أبو جعفر حريصا على تربية ولده تربية صالحة، فصرفه إلى مجالس العلم والسماع وهو حدث صغير لم يتجاوز عمره أربع سنين
(2)، فأخذ عن مشايخ بلده كعائشة بنت الحسن الوركانية
(3)، وأبي القاسم عليِّ بن عبد الرَّحمن المشهور بابن عُلَيِّك النيسابوري
(4).
ثم رحل لطلب العلم - على عادة العلماء - إلى بلاد كثيرة، فرحل إلى بغداد ونيسابور ومكة المكرمة، وغيرها، حتى نال رياسة العلم، وإمامة الدين، قال عبد الجليل بن محمد: كُوتَاه: (سَمِعْتُ أَئِمَّةَ بَغدَادَ يَقُولُونَ: مَا رَحَلَ إِلَى بَغدَادَ بَعدَ الإِمَامِ أحمَدَ أَفضَلُ وَأَحفَظُ مِنَ الإِمَامِ إِسْمَاعِيل)
(5).
وبعد حياةٍ حافلةٍ بالعلم والتعليم، مات الحافظ أبو القاسم الأصبهاني عن عمر يناهز ثمانية وسبعين عامًا، سنة 535 هـ.
نقل الإمام الذهبي عن أبي موسى المديني قولَه: (أُصْمِتَ فِي صَفَرٍ سَنَةَ أَربَعٍ وَثَلَاثِينَ وَخَمْسِ مِائَةٍ، ثُمَّ فُلِجَ بَعدَ مُدَّةٍ، وَمَاتَ يَومَ النَّحْرِ، سَنَةَ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ، وَاجْتَمَعَ فِي جَنازَتِه جَمعٌ لَم أَرَ مِثْلَهُم كثرَةً)
(6).
--------------------------------------------
এবং তাঁর পুত্র তরুণ আলেম আবু আব্দুল্লাহ, আমরা তাঁর সম্পর্কে পরবর্তীতে আলোচনা করব। তাঁর সিততিতা নামে এক কন্যা ছিল, যাঁর বর্ণনা (রেওয়ায়েত) রয়েছে; তিনি জফর বিন দায়ি বিন মাহদি আল-উমারি আল-আলাভি থেকে ইজাজতের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা করেছেন
(১)।
তাঁর পিতা আবু জাফর তাঁর সন্তানকে সৎভাবে গড়ে তোলার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। ফলে তিনি তাকে ইলম ও শ্রবণের (সামা) মজলিসে পাঠান যখন তিনি অত্যন্ত অল্পবয়স্ক শিশু ছিলেন এবং যাঁর বয়স চার বছর অতিক্রম করেনি
(২)। তিনি তাঁর নিজ শহরের শায়খদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন, যেমন আয়েশা বিনতে হাসান আল-ওয়ারকানিয়্যাহ
(৩) এবং আবুল কাসিম আলি বিন আব্দুর রহমান, যিনি ইবনে উলাইক আন-নাইসাবুরি নামে পরিচিত
(৪)।
অতঃপর তিনি ইলম অন্বেষণের জন্য - ওলামায়ে কেরামের রীতি অনুযায়ী - অনেক দেশ সফর করেন। তিনি বাগদাদ, নাইসাবুর, মক্কাতুল মোকাররমা এবং অন্যান্য স্থানে সফর করেন, যতক্ষণ না তিনি ইলমের নেতৃত্ব এবং দ্বীনের ইমামত লাভ করেন। আব্দুল জলিল বিন মুহাম্মদ কুতাহ বলেন: (আমি বাগদাদের ইমামদের বলতে শুনেছি: ইমাম আহমদের পর ইমাম ইসমাইলের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ এবং অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি বাগদাদে আর কেউ সফর করে আসেননি)
(৫)।
এবং জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদানে ভরপুর এক জীবনের পর হাফেজ আবুল কাসিম আল-আসবাহানি ৫৩৫ হিজরি সালে প্রায় আটাত্তর বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
ইমাম যাহাবি আবু মুসা আল-মাদিনি থেকে তাঁর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: (তিনি ৫৩৪ হিজরি সালের সফর মাসে নির্বাক হয়ে যান, এরপর কিছুদিন পর তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন এবং ৫৩৫ হিজরি সালের কুরবানির ঈদের দিন মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জানাজায় এমন এক বিশাল জনসমাবেশ হয়েছিল যার আধিক্যের সমতুল্য আমি আর দেখিনি)
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وكان من جملة كراماته بعد وفاته ما رواه محمد بن ناصر الحافظ قال: حدثنا أبو جعفر محمد بن الحسن ابن أخي إسماعيل الحافظ، حدَّثني أحمد الأسواري الذي تولى غسل عمي - وكان ثقةً -: أنَّه أراد أن يُنحِّي عن سوأته الخِرقة لأجل الغَسل، قال: فجبذها إسماعيل بيده، وغطَّى فرجه، فقال الغاسل: (أَحَيَاةٌ بَعدَ مَوتٍ)
(1).
المطلب الثاني التعريف بالأصبهاني الابنهو: محمدُ بنُ إسماعيل بن محمدٍ بن الفضلِ بن عليٍّ بن أحمدَ بن طاهرٍ الطَّلحِي التَّيمِي الأصبهاني، المكنى بأبي عبد الله، كان من العلماء البارزين النابغين، إماما في اللغة وسائر العلوم، وكان أبوه يفضله على نفسه في اللغة وجريان اللسان
(2)، مات صغيرا وعمره ستٌّ وعشرون سنةً.
لم يحظ هذا الإمام النابغة بترجمة وافية تناسب منزلته العلمية السامقة، ولو جمع كل ما ورد عنه في كتب التراجم فلن يعدو صفحةً أو صفحتين يتيمتين على أقصى تقدير، فصارت أغلب تفاصيل حياته الشخصية والعلمية مجهولة، لا تسعفنا المصادر فيها بنقير ولا قطمير!!
وشُحّ المعلومات في تراجم كثير من الأعلام أمرٌ مشهورٌ معروفٌ، ونظائر هذا الإمام في تاريخنا الإسلامي كثيرة لا تحصى ولا يمكن أن تستقصى، ومرد ذلك في الغالب إلى تفريط التلاميذ والأبناء في التأريخ لمشايخهم والتعريف بهم
--------------------------------------------
তাঁর ইন্তেকালের পরবর্তী কারামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল যা হাফেজ মুহাম্মদ ইবন নাসির বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাফেজ ইসমাইলের ভ্রাতুষ্পুত্র আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান, তিনি বলেন: আমাকে আহমাদ আল-আসোয়ারী বর্ণনা করেছেন—যিনি আমার চাচার গোসলের দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন—যে, তিনি গোসলের জন্য তাঁর লজ্জাস্থান থেকে কাপড়টি সরাতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন: তখন ইসমাইল সেটি নিজ হাতে টেনে ধরলেন এবং তাঁর লজ্জাস্থান আবৃত করে দিলেন। তখন গোসলদানকারী ব্যক্তি বললেন: (মৃত্যুর পরে কি জীবন?)
(১).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল-আসবাহানী জুনিয়র-এর পরিচিতিতিনি হলেন: মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল ইবন মুহাম্মদ ইবনুল ফজল ইবন আলী ইবন আহমাদ ইবন তাহির আত-তালহী আত-তৈমী আল-আসবাহানী, তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট ও প্রতিভাবান আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, ভাষা ও অন্যান্য সকল জ্ঞানে একজন ইমাম। তাঁর পিতা ভাষা ও বাকপটুতার ক্ষেত্রে তাঁকে নিজের চাইতেও শ্রেষ্ঠ মনে করতেন
(২), তিনি অল্প বয়সে মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
এই প্রতিভাবান ইমাম তাঁর সুউচ্চ ইলমী মর্যাদার উপযুক্ত কোনো বিস্তারিত জীবনী লাভ করেননি। যদি জীবনী গ্রন্থসমূহে তাঁর সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা একত্রিত করা হয়, তবে তা বড়জোর এক বা দুই পৃষ্ঠার বেশি হবে না। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত ও ইলমী জীবনের অধিকাংশ বিবরণ অজানাই রয়ে গেছে, যে বিষয়ে উৎসসমূহ আমাদের সামান্যতম তথ্য দিয়েও সাহায্য করে না!!
অনেক প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বের জীবনীতে তথ্যের এই স্বল্পতা একটি বহুল পরিচিত বিষয়। আমাদের ইসলামী ইতিহাসে এই ইমামের সদৃশ আরও অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে যা অগণিত এবং সবগুলোর অনুসন্ধান করা সম্ভব নয়। এর কারণ সাধারণত ছাত্রদের এবং সন্তানদের তাদের উস্তাদদের ইতিহাস সংরক্ষণ ও তাঁদের পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে অবহেলা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وبتراثهم، وقد كان ذلك سببا في ضياع علوم غزيرة ومصنفات عزيزة.
بل إن هذا التفريط من التلاميذ أدى إلى اندثار مذاهب ومدارس فقهية كانت قبلُ قائمة بأصولها ومناهجها
… وكلمة الشافعي في مذهب الليث ذائعة مشهورة: (اللَّيْثُ أَفَقَهُ مِن مَالِكِ إِلَّا أَنَّ أَصْحَابَه لَم يَقُومُوا بِهِ)
(1).
ثم إن من الأسباب الظاهرة بخصوص ترجمة الإمام أبي عبد الله محمد الأصبهاني - إضافة إلى ما تقدم - موته المبكر وهو في ريعان شبابه فلم يصل إلى عقده الثالث.
وكان موته بهمذان، ففجع به أبوه، واشتد حزنه عليه، قال في شرح البخاري ناعيًا إياه: (ذَهَبَ بِطَرَائِه، وَأَوجَعَ القُلُوبَ، وَأَدمَعَ العُيُونَ رحمه الله رَحمَةً وَاسِعَةً، وَبَلَّغَهُ دَرَجَةً عَالِيَةً فِيه)
(2)، ولِبِرِّه بابنه وحبه ووفائه له، أخذ على عاتقه إتمامَ ما كان شرع فيه، من إملاء شرح الصحيحين، فأتمَّ الله مراده، وبلَّغه قصدَه، ورُوِي عنه أنَّه كان يملي شرح مسلم عند قبر ولَدِه، ولما أتمَّه عمِل مأدُبة، وصنع حلاوةً كثيرةً شكرا لله على أن مد له في العمر، حتى أتم ما بدأه ولده الذي فُجع فيه
(3).
ومع صغر سنه فقد، بلغ مقام العلماء الكبار، وصنَّف تصانيف كثيرة في هذا السن، وكان شديد البرِّ بأبيه، قويَّ العلاقة به، فقد تتلمذ عليه، وأخذ عنه شرح الصحيحين، قال في مقدمته لشرح البخاري: (فإنَّ سيِّدنا وإمامَنا الوَالِد أبا القَاسِم
--------------------------------------------
এবং তাদের ঐতিহ্যের প্রতি; আর এটিই ছিল প্রচুর ইলম ও মূল্যবান গ্রন্থরাজি হারিয়ে যাওয়ার কারণ।
বরং ছাত্রদের এই শিথিলতা এমন অনেক ফিকহি মাযহাব ও পাঠশালার বিলুপ্তির দিকে নিয়ে গেছে যা পূর্বে নিজস্ব মূলনীতি ও পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল
… আর লাইস ইবন সা'দের মাযহাব সম্পর্কে ইমাম শাফিঈর এই উক্তিটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ: "লাইস (ইবন সা'দ) ইমাম মালিকের চেয়েও বড় ফকিহ ছিলেন, কিন্তু তাঁর শাগরেদগণ তাঁর ইলমকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রচার করেননি।"
(১)।
অতঃপর ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-আসবাহানির জীবনীর ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত কারণগুলো ছাড়াও অন্যতম একটি প্রকাশ্য কারণ হলো তাঁর অকাল মৃত্যু; তিনি জীবনের বসন্তকালেই ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর জীবনের তৃতীয় দশকেও পদার্পণ করতে পারেননি।
হামাদানে তাঁর ইন্তেকাল হয়, যার ফলে তাঁর পিতা শোকাতুর হয়ে পড়েন এবং তাঁর শোক অত্যন্ত তীব্র আকার ধারণ করে। তিনি তাঁর 'শারহু বুখারি' গ্রন্থে পুত্রের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন: "তিনি তাঁর সজীব বয়সেই চলে গেছেন, হৃদয়কে ব্যথিত করেছেন এবং চক্ষুদ্বয়কে অশ্রুসিক্ত করেছেন। আল্লাহ তাঁকে প্রশস্ত রহমত দান করুন এবং তাঁকে উচ্চ মাকামে পৌঁছিয়ে দিন।"
(২) পুত্রের প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর অসামান্য পিতৃভক্তির প্রতিদানস্বরূপ তিনি তাঁর ছেলের শুরু করা সহীহাইনের ব্যাখ্যাগ্রন্থের শ্রুতিলিপি প্রদানের (ইমলা) কাজ পূর্ণ করার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আল্লাহ তাঁর সংকল্প পূর্ণ করেন এবং তাঁকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছান। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর পুত্রের কবরের পাশে বসে 'শারহু মুসলিম' ইমলা করাতেন। যখন তিনি এটি সমাপ্ত করলেন, তখন আল্লাহর শোকরিয়া স্বরূপ একটি ভোজের আয়োজন করেন এবং প্রচুর মিষ্টান্ন তৈরি করেন, কারণ আল্লাহ তাঁর হায়াতকে দীর্ঘায়িত করেছেন যাতে তিনি তাঁর শোকাতুর পুত্রের শুরু করা কাজটি সমাপ্ত করতে পারেন।
(৩)।
অল্প বয়স হওয়া সত্ত্বেও তিনি বড় বড় উলামায়ে কেরামের মাকামে পৌঁছেছিলেন এবং এই বয়সেই তিনি বহু কিতাব রচনা করেছেন। তিনি তাঁর পিতার প্রতি অত্যন্ত অনুগত ছিলেন এবং পিতার সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। তিনি তাঁর পিতার নিকটই ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকেই সহীহাইনের ব্যাখ্যাগ্রন্থ গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর 'শারহু বুখারি'র মুকাদ্দিমায় বলেন: "নিশ্চয়ই আমাদের সায়্যিদ ও ইমাম, শ্রদ্ধেয় পিতা আবুল কাসিম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২০)
حَرسَ الله تَعالى وآنَسَ بِبَقائِه رِبَاع العِلم نَبَّهَنِي عَلَى صُنُوفٍ مِنَ المُشكِلَاتِ، حَدانِي ذلكَ عَلَى أَن أَقرَأَ هَذَا الكِتَابَ
… وأَستَفِيدَ مِنْهُ فَوَائِدَه)
(1).
وقال: (فَزَادَ فِيَّ هَذَا حِرصًا، وَحَمَلَنِي عَلَى أَن أَسْتَأْنِفَ قِرَاءَةَ الكِتَابِ، وَأَتَفَقَّدَ ظَوَاهِرَهُ بِاسْتِقصَاءِ مَا فِيهَا مِنَ المَعَانِي الدَّقِيقَةِ عَنِ الفَهِمِ، فَعَلتُ حَتَّى تَمَّ لِي قِرَاءَةُ هَذَا الكِتَابِ عَلَيْهِ، فَمَا مِن حَدِيثٍ إِلَّا وَقَد أَطِلَعَنِي فِيهِ مِنَ الفَوَائِدِ عَلَى مِثلِ مَا ذَكَرَهُ لِي فِي المَثَالِ الَّذِي ذَكَرتُه، فَأَطَالَ الله بَقَاءَه، وَلَا حَرَم أَهْلَ العِلمِ غَزِيرَ بَحرِه، وَلَا أَخلَاهُم مِن فَوَائِدِ عِلمِهِ، وَسَائِحِ فِكرِهِ، فَهُوَ الجَامِعُ لِأَطْرَافِ العُلُومِ، المُسَيْطِرُ عَلَيْهَا، المُسَلَّطُ عَلَى بَيَانِ مَا فِيهَا مِنَ المُشْكِلَاتِ، المَرجُوعُ إِلَيهِ فِيمَا يَقَعُ فِي الدِّينِ مِنَ المُعضِلَاتِ)
(2).
قال عنه القفطي: (كَانَ شابًا، وَفَاقَ فِي الفَضلِ شُيوخَ أَهْلِ زَمانِهِ، لَكِنَّهُ استَوفَى أَنفاسَهُ وَطَوَى قِرطاسَهُ قَبْلَ أَوانِهِ، وَفُجعَ والده بِشَبابِه)
(3)، وذكر له شعرا:
أحقًا خليلي أنت أوّل ناكبٍ
… عن العهد تجفوني وتهجر جانبي
أترضى خليلي أن قلبي نُهبةً
… تعاورها أيدي النوى والنوائب
يدا الدهر لا صحَّت رمتني بأسهم
… نسيت لها ما فوقت بالحواجبِ
ومنه:
هوى البيض لا يجدي على المرء طائلًا
… وإدمان شرب الراح يجني الغوائلا
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন এবং তাঁর দীর্ঘায়ুর মাধ্যমে জ্ঞানের আবাসকে আনন্দময় করুন; তিনি আমাকে বিভিন্ন জটিল বিষয়ের প্রতি সজাগ করেছেন, যা আমাকে এই কিতাবটি পাঠ করতে
… এবং তা থেকে এর উপকারসমূহ অর্জন করতে অনুপ্রাণিত করেছে।
(১)এবং তিনি বলেছেন: (এটি আমার মাঝে আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আমাকে কিতাবটি পুনরায় পাঠ শুরু করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যাতে আমি এর প্রকাশ্য বিষয়গুলোতে অনুসন্ধান চালিয়ে বোধগম্যতার অতীত সূক্ষ্ম অর্থসমূহ খুঁজে পেতে পারি। আমি তাই করলাম, এমনকি তাঁর নিকট এই কিতাবটি পাঠ সম্পন্ন করলাম। প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রেই তিনি আমাকে এমন সব উপকার সম্পর্কে অবগত করেছেন, যা আমি ইতিপূর্বে উল্লিখিত উদাহরণে উল্লেখ করেছি। আল্লাহ তাঁর দীর্ঘায়ু দান করুন, জ্ঞানপিপাসুদের তাঁর বিশাল সমুদ্রসম জ্ঞান থেকে বঞ্চিত না করুন এবং তাঁর জ্ঞানের উপকারিতা ও সুদূরপ্রসারী চিন্তাধারা থেকে তাঁদের রিক্ত না রাখুন। তিনি তো জ্ঞানের সকল শাখার সমাহারকারী, এগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণকারী, এর মধ্যকার জটিলতাসমূহ বর্ণনায় দক্ষ এবং দ্বীনের কঠিন সমস্যার ক্ষেত্রে যাঁর নিকট প্রত্যাবর্তন করা হয়।)
(২)আল-কিফতি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি ছিলেন একজন যুবক, অথচ শ্রেষ্ঠত্বে তিনি তাঁর সমসাময়িক যুগের শায়খদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু অকালেই তিনি তাঁর নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এবং জীবনের খাতা বন্ধ করেছেন, আর তাঁর পিতা তাঁর যৌবনেই অকাল মৃত্যুতে শোকার্ত হয়েছেন।)
(৩) এবং তিনি তাঁর কিছু কবিতা উল্লেখ করেছেন:
হে আমার বন্ধু, তুমিই কি তবে প্রথম ব্যক্তি যে প্রতিজ্ঞা থেকে বিচ্যুত হলে?
… আমার প্রতি রুক্ষতা প্রদর্শন করছো এবং আমাকে ত্যাগ করছো?
হে বন্ধু, তুমি কি এতেই সন্তুষ্ট যে আমার হৃদয় লুণ্ঠিত বস্তুতে পরিণত হবে,
… যাকে দূরত্বের হাত এবং বিপদ-আপদ বারবার আক্রমণ করবে?
কালের দুই হাত—সেগুলো যেন সুস্থ না থাকে—আমাকে এমন সব তীর নিক্ষেপ করেছে
… যেগুলোর আঘাতের কাছে আমি সেই তীরগুলো ভুলে গেছি যা ভ্রু দিয়ে লক্ষ্য করা হতো।
এবং তা থেকে আরও রয়েছে:
সুন্দরী নারীদের প্রেম মানুষের কোনো উপকারে আসে না
… আর মদ্যপানের নেশা কেবল বিপদই ডেকে আনে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
وكم تبتغي أن تعذِل الدهر دائبًا
… ودهرُك أولى أن يُرى لك عاذلا
وما العمر والأيام إلا وسائطًا
… جُعِلن إلى نيل المعالي وسائلا
هذا ما أمكن ذكره هنا عن ترجمة الإمام الأصبهاني وولده، وفي بقية مباحث الدراسة شذرات؛ وإشارات؛ ومعالم أخرى عن الإمامين، آثرت أن أذكرها هناك تجنبا للتكرار.
* * *
আর তুমি কতকাল নিরন্তর কালকে তিরস্কার করতে চাইবে
… অথচ তোমার কালই তোমাকে তিরস্কার করার জন্য অধিকতর উপযুক্ত।
জীবন এবং দিনসমূহ তো কেবল মাধ্যম ছাড়া আর কিছুই নয়
… যা উচ্চমর্যাদা লাভের উপায় হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
ইমাম আসবাহানি এবং তাঁর পুত্রের জীবনী সম্পর্কে এখানে যা কিছু উল্লেখ করা সম্ভব হয়েছে তা এই। আর গবেষণার অবশিষ্ট পরিচ্ছেদগুলোতে এই দুই ইমাম সম্পর্কে আরও কিছু তথ্যকণিকা, ইঙ্গিত এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে; পুনরাবৃত্তি এড়ানোর লক্ষ্যে আমি সেগুলো সেখানেই উল্লেখ করা শ্রেয় মনে করেছি।
* * *
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الثاني اسم الكتاب* * *
القدر الذي بين أيدينا من الكتاب؛ إنما هو الجزء الثاني الذي يبدأ من كتاب الزكاة، وقدر الله تعالى أن يُفقد الجزء الأول الذي هو مظِنَّة كثيرٍ من المعطيات حول هذا السِّفر؛ وبتقرير المؤلف نفسِه، إذ من المظنون أن يكون المؤلف قد وضع له مقدمة، يُبِين فيها عن منهجه، ودوافعِ تأليفه، وامتساسِ الحاجة إليه، وكذلك يكشف فيها عن الاسم الذي وضعه واختاره، كما جرت في مصنفاته الأخرى، كالحجة في بيان المحجة؛ والمغازي؛ والترغيب والترهيب، ودلائل النبوة وغيرها، وهو أثبت ما يُعتمَد عليه في إثبات أسماء التآليف وضبطها، لكن لا يتأتى لنا هذا بخصوص الكتاب؛ للسبب الذي ذكرناه.
وحتى إن رجعنا إلى هذه المصنفات التي طبعت من آثاره، فلا نجد أي إشارة تقربنا من هذا الكتاب الذي نحن بصدد دراسته، لكن ثمة مظانَّ أخرى؛ يمكن أن نستعين بها للتعرف على اسم الكتاب:
* أولا: المخطوطة: فقد كتب على الصفحة الأولى من الجزء المتوفر اسم الكتاب وهو: (التَّحرِيرُ فِي شَرحِ مُسلِم)، والأظهر - بعد مقارنة الخط - أن كاتبَ هذه اللوحة التي تحمل اسم الكتاب ومؤلفَه، هو نفسُه ناسخُ الكتاب، أقول هذا من باب الاحتراز فقط؛ من أن يكون كُتِب اسمه عليه لاحقا من باب الفهرسة والترتيب، فلا يكون ذا قيمة، خاصة في حالات المشاححة فيه والاختلاف في ضبطه.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের নাম* * *
এই গ্রন্থের যতটুকু অংশ আমাদের নাগালে রয়েছে, তা মূলত দ্বিতীয় খণ্ড যা ‘কিতাবুয যাকাত’ থেকে শুরু হয়েছে। আল্লাহ তাআলার ফয়সালা ছিল যে, এর প্রথম খণ্ডটি হারিয়ে যাবে, যা এই বিশাল গ্রন্থ সম্পর্কে অনেক তথ্যের আধার হওয়ার কথা ছিল। স্বয়ং লেখকের বর্ণনামতেই এটি স্পষ্ট, কেননা ধারণা করা হয় যে, লেখক এই গ্রন্থের জন্য একটি ভূমিকা লিখেছিলেন যেখানে তিনি তাঁর কর্মপদ্ধতি, রচনার প্রেক্ষাপট এবং এর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন। পাশাপাশি সেখানে তিনি গ্রন্থের সেই নামটিও প্রকাশ করেছিলেন যা তিনি নিজে পছন্দ ও নির্ধারণ করেছিলেন, যেমনটি তাঁর অন্যান্য রচনার ক্ষেত্রে দেখা যায়; যেমন: ‘আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ’, ‘আল-মাগাযী’, ‘আত-তারগীব ওয়াত তারহীব’, ‘দালায়েলুন নুবুওয়াহ’ ইত্যাদি। কোনো রচনার নাম নিশ্চিত করা ও তা শুদ্ধভাবে নির্ধারণের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। কিন্তু উল্লিখিত কারণে এই গ্রন্থের ক্ষেত্রে আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি।
এমনকি আমরা যদি তাঁর মুদ্রিত অন্যান্য রচনার দিকেও ফিরে তাকাই, তবুও আমাদের এই বর্তমান গবেষণাধীন গ্রন্থটি সম্পর্কে সরাসরি কোনো ইঙ্গিত খুঁজে পাই না। তবে অন্যান্য কিছু সম্ভাব্য উৎস রয়েছে যেগুলোর সাহায্য নিয়ে গ্রন্থের নাম সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যেতে পারে:
* প্রথমত: পাণ্ডুলিপি: সংরক্ষিত খণ্ডটির প্রথম পৃষ্ঠায় গ্রন্থের নাম লেখা রয়েছে: ‘আত-তাহরীর ফি শারহি মুসলিম’। হাতের লেখা তুলনা করার পর এটিই স্পষ্ট হয় যে, গ্রন্থের নাম ও লেখকের নাম সংবলিত এই ফলকটি যিনি লিখেছেন, তিনি এবং পাণ্ডুলিপির মূল লিপিকার একই ব্যক্তি। আমি এটি কেবল সতর্কতাস্বরূপ বলছি যাতে এটি মনে করা না হয় যে, পরবর্তীতে সূচিপত্র বা বিন্যাস করার উদ্দেশ্যে এটি লেখা হয়েছে; কারণ সেক্ষেত্রে এর কোনো নির্ভরযোগ্যতা থাকত না, বিশেষ করে যখন নাম সুনির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে কোনো বিতর্ক বা মতভেদ দেখা দেয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فإن كان الأمر على ما ذكرناه، فالناسخ نقل الاسم من الأصل الذي نسخ منه، فيجري عليه ما يجري على بقية الكتاب من حيث الصحةُ والثبوتُ، خاصة أن النسخة قُوبِلت على الأصل كما يظهر.
* ثانيا: التنصيص عليه عند غيره ممن وقف على الكتاب ونقل عنه: فقد ذكره باسمه ثلة من العلماء بعده؛ ممن وقع بين يديه؛ فاعتمده ونهل منه ورجع إليه، وكلهم متفقون على تسميته بـ: (التَّحرِيرِ في شَرحِ مُسلِم)، وأحيانا بزيادة لفظ: (صَحيح)، وأحيانا يذكرونه بـ: (التَّحرِيرِ) اختصارا، ونذكر منهم:
* الإمام النووي رحمه الله (676) هـ): فقد أكثر النقل عنه، وصرح باسم الكتاب في مواضع كثيرة، قال في كتاب الإيمان من شرح مسلم: (وَقالَ الإِمامُ أَبو عَبْدِ اللهِ مُحَمَّد بنُ إِسماعِيلَ بن مُحَمَّدِ بن الفَضلِ التَّمِيمِي الأَصبَهَانِي الشَّافِعِي رحمه الله في كِتابِه التَّحْرِيرِ فِي شَرحِ صَحِيحِ مُسلِم الإيمانُ فِي اللُّغَةِ هُوَ التَصدِيقُ)
(1).
وقال في المجموع: (وَقالَ التَّمِيمِي مِن أصحابنا فِي كِتَابِهِ التَّحريرِ فِي شَرحِ صَحِيحِ مُسلِمٍ: مِنَ النَّاسِ مَن قالَ رَفعُ اليَدَينِ تَعَبُّدٌ لَا يُعقَلُ مَعناهُ)
(2).
وكذا ذكره في مواضعَ من كتاب تهذيب الأسماء واللغات
(3).
* الإمام تاج الدين الفاكهاني اللخمي رحمه الله (734 هـ): نقل عنه في كتابه: رياض الأفهام في شرح عمدة الأحكام، وذكره بنفس الاسم، حيث قال - وهو يذكر أقوال العلماء في معنى: الله أكبر: (قال صاحِبُ التَّحرِيرِ فِي شَرحِ مُسلِمٍ:
--------------------------------------------
বিষয়টি যদি আমাদের উল্লিখিত বর্ণনার ন্যায় হয়, তবে অনুলিপিকারক সেই মূল পাণ্ডুলিপি থেকেই নামটি গ্রহণ করেছেন যেখান থেকে তিনি অনুলিপি করেছেন। ফলে বিশুদ্ধতা ও প্রমাণের ক্ষেত্রে কিতাবটির বাকি অংশের ওপর যা প্রযোজ্য হয়, এর ওপরও তাই প্রযোজ্য হবে; বিশেষ করে যখন এটি প্রতীয়মান যে, অনুলিপিটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।
* দ্বিতীয়ত: কিতাবটি যারা প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তাঁদের মাঝে এর সুনির্দিষ্ট উল্লেখ: তাঁর পরবর্তী একদল আলেম কিতাবটিকে এর নামে উল্লেখ করেছেন; যাঁদের নিকট এটি পৌঁছেছে, তাঁরা এর ওপর নির্ভর করেছেন, এখান থেকে জ্ঞান আহরণ করেছেন এবং এর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন। তাঁরা সবাই একে 'আত-তাহরির ফি শারহি মুসলিম' নামে অভিহিত করার ব্যাপারে একমত; কখনো 'সহিহ' শব্দটি বৃদ্ধির সাথে, আবার কখনো সংক্ষিপ্তভাবে একে 'আত-তাহরির' নামে উল্লেখ করেন। তাঁদের মধ্য থেকে আমরা উল্লেখ করছি:
* ইমাম নববী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (৬৭৬ হিজরি): তিনি এটি থেকে অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং অনেক স্থানে কিতাবটির নামের ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন। তিনি শারহে মুসলিমের কিতাবুল ইমানে বলেছেন: (ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ফাদল আত-তামিমি আল-আসবাহানি আশ-শাফিয়ি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর 'আত-তাহরির ফি শারহি সহিহ মুসলিম' কিতাবে বলেছেন: আভিধানিক অর্থে ইমান হলো সত্যায়ন করা)
(১)।
এবং তিনি আল-মাজমু' গ্রন্থে বলেছেন: (আমাদের মাযহাবের ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত আত-তামিমি তাঁর 'আত-তাহরির ফি শারহি সহিহ মুসলিম' কিতাবে বলেছেন: মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন যে, দুই হাত উত্তোলন করা একটি ইবাদত যার গূঢ় রহস্য অনুধাবন করা যায় না)
(২)।
অনুরূপভাবে তিনি 'তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত' কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন
(৩)।
* ইমাম তাজউদ্দীন আল-ফাকিহানি আল-লাখমি রহমাতুল্লাহি আলাইহি (৭৩৪ হিজরি): তিনি তাঁর 'রিয়াদুল আফহাম ফি শারহি উমদাতিল আহকাম' কিতাবে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং একই নামে তা উল্লেখ করেছেন। যেখানে তিনি 'আল্লাহু আকবার'-এর অর্থ সম্পর্কে আলেমগণের অভিমত বর্ণনা করার সময় বলেছেন: (আত-তাহরির ফি শারহি মুসলিম-এর লেখক বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هَذَا أَحْسَنُ الأَقوالِ؛ لِمَا فِيهِ مِن زِيادَةِ المَعنَى)
(1).
* وأما من ترجم له من العلماء، فقد اكتفوا بذكر موضوعه: (شَرحُ صحيحِ مُسلِمٍ) دون تمييزه بالاسم المذكور، كما وقع عند الذّهبي
(2)، وابنِ كثيرٍ
(3)، والسيوطي
(4)، والداودي
(5)، والزركلي
(6)، وغيرهم، ويبدو أن مصدرهم واحد، وهو ما نقله الذهبي عن أبي موسى المديني.
وعلى العموم؛ فهذا الكتاب قد استفاض ذكره باسم: التحرير في شرح مسلم، بلا خلاف في ذلك، ويكفي ما ذكرناه في إثباته وتعيينه.
وتسميته بالتحرير إشارة إلى منهجه في الكتاب، وهو تتبعُ الألفاظ وضبطُها، وإتقانُها روايةً ودرايةً، واستيفاءُ الكلام عنها؛ وتبيينُ وجوه الإشكال والغرابة فيها، فكان كتابًا جديرا بهذا المعنى، خليقًا بأن يرجع إليه كل من التبست عليه ألفاظ الحديث، ورام تحرير القول فيها.
واختار المؤلف لكتابه هذا الاسم، بعيدا عن السجع الذي نجده في أغلب التصانيف، خاصة ما تعلق منها بشروح دواوين السنة، والأمر راجع - في نظري - إلى أن المؤلف لم يكن ممن تستهويه هذه العناوين، وإن كان فعل ذلك في كتاب: (الحُجَّة فِي بَيانِ المَحَجَّة)، إلا أن بقية كتبه خِلوٌ من ذلك، يضاف إلى هذا واقع
--------------------------------------------
এটিই সবচেয়ে উত্তম বক্তব্য; কারণ এতে অতিরিক্ত অর্থ বিদ্যমান)
(১).
* আর যে সকল আলেম তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, তাঁরা একে উল্লিখিত নামে স্বতন্ত্র না করে কেবল এর মূল বিষয়বস্তু অর্থাৎ (সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যা) উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন; যেমনটি ঘটেছে যাহাবি
(২), ইবনে কাসির
(৩), সুয়ুতি
(৪), দাউদি
(৫), যিরিকলি
(৬) এবং অন্যদের ক্ষেত্রে। মনে হয় তাঁদের সকলের উৎস এক, আর তা হলো যা যাহাবি আবু মুসা আল-মাদিনি থেকে বর্ণনা করেছেন।
যাই হোক; এই গ্রন্থটি 'আত-তাহরির ফি শারহি মুসলিম' নামে ব্যাপকভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এর প্রমাণ ও নির্ধারণে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট।
এর নামকরণ 'আত-তাহরির' করার মাধ্যমে গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে; আর তা হলো শব্দাবলির অনুসন্ধান ও বিন্যাস, রেওয়ায়েত (বর্ণনা) ও দিরায়েত (উপলব্ধি) উভয় দিক থেকে তার নিখুঁত উপস্থাপন এবং সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা; সেইসাথে শব্দাবলির জটিলতা ও দুর্বোধ্যতার দিকগুলো স্পষ্ট করা। ফলে গ্রন্থটি এই নামের যথার্থ দাবিদার এবং যে ব্যক্তির কাছে হাদিসের শব্দাবলি অস্পষ্ট মনে হয় এবং সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত পেতে চায়, তার জন্য এই গ্রন্থের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত সমীচীন।
লেখক তাঁর গ্রন্থের জন্য এই নামটি বেছে নিয়েছেন অনুপ্রাস (সাজ') থেকে দূরে থেকে, যা আমরা অধিকাংশ রচনায় দেখতে পাই, বিশেষ করে হাদিসগ্রন্থগুলোর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে। আমার মতে, এর কারণ হলো লেখক এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যাদের এ ধরনের গালভরা শিরোনাম আকর্ষণ করে। যদিও তিনি 'আল-হুজ্জাহ ফি বয়ানিল মাহাজ্জাহ' গ্রন্থে তা করেছেন, তবে তাঁর বাকি গ্রন্থগুলো এ থেকে মুক্ত। এর সাথে যুক্ত হয়েছে এই বাস্তবতা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
عصره؛ فإن الحركة العلمية حينها، لم تشهد، بعد هذا الانتشار الواسع لهذا الضرب من العناوين، كما حصل في بعض القرون المتأخرة، وإن وجد شيء من ذلك؛ حتى قبل عصره، كما نجد عند ابن عبد البر وغيره.
* * *
তাঁর যুগ; কারণ সে সময়ের জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলন এই ধরণের শিরোনামের এমন ব্যাপক প্রসার তখনও প্রত্যক্ষ করেনি, যেমনটি পরবর্তী কিছু শতাব্দীতে ঘটেছিল, যদিও তাঁর যুগের আগেও এমন কিছু বিদ্যমান ছিল; যেমনটি আমরা ইবনে আবদিল বার ও অন্যদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করি।
* * *
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المبحث الثالث نسبة الكتاب إلى مؤلفه* * *
أشار غير واحد ممن ترجم للإمام الأصبهاني، ومن ذكر هذا الكتاب؛ إلى أن الذي ابتدأ تأليفه هو الابنُ: أبو عبد الله محمدُ بنُ إسماعيلَ الأصبهاني، لكن المنية اخترمته في وقت مبكر، فأتمه أبوه الإمامُ الحافظُ الأصبهاني؛ المعروف بقِوام السنة، قال ابن قاضي شهبة، وهو يعدد مؤلفاته: (وَشَرحُ صَحِيحِ البُخَارِي، وَصحِيحِ مُسلِمٍ، وَكَانَ ابنُه شَرَع فيهِما، فَمَاتَ فِي حَياتِه فَأَتَمَّها)
(1).
وكم من كتابٍ نفيسٍ كتب الله ألَّا يكتمل، إما لوفاةٍ، أو فتور عزمٍ، أو انشغالٍ بما هو أنفسُ وأهمُّ، أو عذرٍ حال دون ذلك، وقد تكرر هذا عبر تاريخ الإسلام؛ نذكر - على سبيل التمثيل - بعض ما تعلق بشرح دواوين السنة:
* التلخيص في شرح البخاري للنووي (676 هـ): وصل إلى آخر كتاب الإيمان، وتوفي قبل إتمامه
(2).
* الإيجاز شرح سنن أبي داود للنووي أيضا: وصل فيه إلى أثناء الوضوء
(3).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের প্রতি কিতাবের সম্বন্ধ* * *
ইমাম আসবাহানির জীবনীকারদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এবং যারা এই কিতাবটির উল্লেখ করেছেন তারা ইঙ্গিত করেছেন যে, এর সংকলন শুরু করেছিলেন তাঁর পুত্র: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আসবাহানি। কিন্তু তিনি অকালেই ইন্তেকাল করেন, ফলে তাঁর পিতা ইমাম হাফিজ আসবাহানি—যিনি ‘কিওয়ামুস সুন্নাহ’ নামে পরিচিত—এটি সম্পন্ন করেন। ইবনে কাজি শুহবাহ তাঁর রচনাবলির তালিকা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: “এবং সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ; তাঁর পুত্র এ দুটির কাজ শুরু করেছিলেন, অতঃপর তাঁর (পিতার) জীবদ্দশাতেই তিনি ইন্তেকাল করেন, ফলে তিনি (পিতা) তা সম্পন্ন করেন।”
(১)কতই না মূল্যবান কিতাব রয়েছে যা আল্লাহ পূর্ণতা না পাওয়ার ফয়সালা করেছেন; হয় মৃত্যুর কারণে, অথবা সংকল্পের শিথিলতার কারণে, অথবা অধিকতর মূল্যবান ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ততার কারণে, কিংবা এমন কোনো ওজরের কারণে যা এর পথে অন্তরায় হয়েছিল। ইসলামের ইতিহাসে এর বহু উদাহরণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ আমরা সুন্নাহর সংকলনসমূহের ব্যাখ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু গ্রন্থের উল্লেখ করছি:
* ইমাম নববি (৬৭৬ হি.) রচিত ‘আত-তালখিস ফি শারহিল বুখারি’: এটি কিতাবুল ইমানের শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং তিনি তা সম্পন্ন করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন।
(২)* ইমাম নববি রচিত ‘আল-ইজাজ শারহু সুনানি আবি দাউদ’: এতে তিনি ওযুর অধ্যায়ের মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন।
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
* النفح الشذي في شرح جامع الترمذي لابن سيد الناس (734 هـ): بلغ فيه كتاب الصلاة فاخترمته المنية فجأة، فأتمه الحافظ العراقي
(1).
* منهاج الابتهاج بشرح مسلم بن الحجاج للقسطلاني (923 هـ): بلغ إلى نحو نصفه في ثمانية أجزاء كبار
(2).
* فتح الباري شرح صحيح البخاري؛ لابن رجب الحنبلي (995 هـ): وصل فيه إلى كتاب الجنائز، وتوفي قبل إتمامه
(3).
* شرح الترمذي لابن حجر العسقلاني: شرع فيه ثم فتر عزمه عنه؛ كما ذكر تلميذه السخاوي
(4).
وغير هذا كثير، وفي مختلف العلوم والفنون، حتى صار إتمام الناقص من مقاصد التأليف، وهو من البر بأهل العلم، وإحياء ذكرهم، وإعلاء شأنهم، وحفظ آثارهم، ولوكانت الأعمار توهب؛ فهم أحق بذلك وأولى، فلا أقل من أن تصرف وتوهب لآثارهم؛ شرحا واختصارا وتعليقا وتنكيتا وتتميما كذلك.
وقد قيض الله تعالى لكثير مما لم يكتمل منها - من الخلف الصالح - من ينسج على سَنَن أصحابها؛ فيتم ما نقص منها، إما أن يكون هذا الخلف تلميذا نجيبا، كالليث بن المظفر الكناني الذي أتم كتاب العين لشيخه الخليل بن أحمد الفراهيدي،
--------------------------------------------
* আন-নাফহুশ শাযি ফি শারহি জামিউত তিরমিযি, ইবনু সাইয়্যিদিন নাস (৭৩৪ হিজরি) কর্তৃক রচিত: তিনি এতে সালাত অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন, অতঃপর হঠাৎ তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হয়, ফলে হাফিজ ইরাকি তা সম্পন্ন করেন
(১)।
* কাসতালানি (৯২৩ হিজরি) কর্তৃক রচিত মিনহাজুল ইবতিহাজ বি-শারহি মুসলিম ইবনু হাজ্জাজ: এটি বড় আট খণ্ডে প্রায় অর্ধেক পর্যন্ত পৌঁছেছিল
(২)।
* ইবনু রাজাব হাম্বালি (৯৯৫ হিজরি) রচিত ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি: তিনি এতে জানাজা অধ্যায় পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন এবং এটি সমাপ্ত করার পূর্বেই ইন্তেকাল করেন
(৩)।
* ইবনু হাজার আসকালানি রচিত শারহুত তিরমিযি: তিনি এটি শুরু করেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর সংকল্প শিথিল হয়ে যায়; যেমনটি তাঁর ছাত্র সাখাভি উল্লেখ করেছেন
(৪)।
এ ছাড়াও এমন আরও অনেক রয়েছে এবং তা বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় বিস্তৃত। এমনকি অসম্পূর্ণকে সম্পূর্ণ করা রচনার অন্যতম উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে। এটি আলেমদের প্রতি সদাচরণ, তাঁদের স্মৃতি জাগরূক রাখা, তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাঁদের রচনারাজি সংরক্ষণের অন্তর্ভুক্ত। যদি বয়স দান করা যেত, তবে তাঁরাই এর সবচেয়ে বেশি হকদার ও উপযুক্ত হতেন। তাই অন্তত তাঁদের রচনারাজির পেছনে সময় ব্যয় করা এবং তা উৎসর্গ করা উচিত; ব্যাখ্যা, সংক্ষেপণ, টীকা প্রদান, পর্যবেক্ষণ এবং একইভাবে তা পূর্ণ করার মাধ্যমে।
আল্লাহ তাআলা এই অসম্পূর্ণ কাজগুলোর অনেকগুলোর জন্য পরবর্তী যুগের সৎ উত্তরসূরিদের মধ্য থেকে এমন ব্যক্তিদের নির্ধারিত করে দিয়েছেন যারা তাঁদের (মূল লেখকদের) পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। ফলে তাঁরা অসম্পূর্ণ অংশটুকু পূর্ণ করেছেন। এই উত্তরসূরিদের কেউ হয়তো একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন, যেমন লাইস ইবনুল মুজাফফর আল-কিনানি, যিনি তাঁর উস্তাদ খলিল ইবনু আহমাদ আল-ফারাহিদির 'কিতাবুল আইন' সম্পন্ন করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وكالإمام السخاوي التي أتم كتاب نتائج الأفكار لشيخه ابن حجر العسقلاني.
وإما أن يكون عالما وفيا، معظما لجهد غيره، راغبا في نشره وتمام خيره، ككتاب المهذب للإمام النووي، فقد أتمه تاج الدين السبكي، والنفح الشذي السالف الذكر، وتفسير الجلالين الذي بدأه جلال الدين المحلى، وأتمه السيوطي.
وقد يكون ابنا بارا صالحا، جاريا على سنن أبيه في العلم والصلاح، ككتاب المحلى لابن حزم، فقد مات دون إتمامه، فأتمه ابنه أبو رافع من كتاب الإيصال، وكذلك رد المحتار لابن عابدين، أتمه ابنه محمد، وكتاب طرح التثريب في شرح التقريب للحافظ العراقي، فقد أتمه ابنه ولي الدين، وغيرها من المؤلفات.
ومن نكت هذا الضرب من التأليف، أن يتولى الأب ما بدأه الابن وهذا - بلا شك - من بر الوالد، بولده، ورضاه عنه، واعترافه له بالمكانة والفضل، خاصة إن كان الأب من العلماء الحفاظ المبرزين، ولم أجد لهذا إلا مثالين اثنين:
* كتاب الدلائل في غريب الحديث، لأبي محمد القاسم بن ثابت العوفي السرقسطي (302 هـ): وهو من أجل ما ألف في هذا العلم، جعله كالذيل على غريب أبي عبيد وغريب ابن قتيبة، وقد فاجأته المنية دون إتمامه، وعُمِّر أبوه الحافظ الكبير ثابت بن حزم السرقسطي (313) هـ)، فأتم الكتاب وأظهره للناس وحدث به
(1).
* كتاب التحرير في شرح صحيح مسلم: وهو كتابنا هذا، فقد ابتدأه - كما
--------------------------------------------
যেমন ইমাম সাখাভী, যিনি তাঁর উস্তাদ ইবনে হাজার আসকালানীর 'নাতায়িজুল আফকার' কিতাবটি সম্পন্ন করেছেন।
অথবা তিনি হতে পারেন একজন নিষ্ঠাবান আলেম, যিনি অন্যের প্রচেষ্টাকে সম্মান করেন এবং সেটি প্রকাশ ও তার কল্যাণ পূর্ণ করার আগ্রহী হন। যেমন ইমাম নববীর 'আল-মুহাজ্জাব' কিতাবটি, যা তাজউদ্দীন সুবকী সম্পন্ন করেছেন; আর পূর্বে উল্লেখিত 'আন-নাফহ আশ-শাযী'; এবং 'তাফসিরে জালালাইন' যা জালালুদ্দীন মুহাল্লী শুরু করেছিলেন এবং সুয়ুতী তা সম্পন্ন করেছেন।
আবার তিনি একজন পুণ্যবান ও সৎ সন্তান হতে পারেন, যিনি ইলম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। যেমন ইবনে হাজমের 'আল-মুহাল্লা' কিতাবটি, তিনি এটি সম্পন্ন করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন, অতঃপর তাঁর পুত্র আবু রাফে 'কিতাবুল ইসাল' থেকে এটি সম্পন্ন করেন। একইভাবে ইবনে আবিদীনের 'রাদ্দুল মুহতার', যা তাঁর পুত্র মুহাম্মদ সম্পন্ন করেছেন; এবং হাফেজ ইরাকীর 'আত-তাকরীব'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তারহুত تثریب', যা তাঁর পুত্র ওলীউদ্দীন সম্পন্ন করেছেন; এবং এ জাতীয় আরও অন্যান্য গ্রন্থ।
এই ধরণের রচনার একটি সূক্ষ্ম দিক হলো, পুত্রের শুরু করা কাজ পিতা সম্পন্ন করেন। এটি নিঃসন্দেহে সন্তানের প্রতি পিতার সদাচার, সন্তুষ্টি এবং সন্তানের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে যদি পিতা বরেণ্য হাফেজ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হন। আমি এর কেবল দুটি উদাহরণ খুঁজে পেয়েছি:
* আবু মুহাম্মদ কাসিম বিন সাবিত আল-আউফী আস-সারাখুস্তী (৩০২ হিজরি) রচিত 'কিতাবুদ দালাইল ফি গারিবিল হাদিস'। এটি এই শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। তিনি একে আবু উবাইদ এবং ইবনে কুতাইবার 'গারিব' গ্রন্থের পরিশিষ্ট স্বরূপ তৈরি করেছিলেন। এটি সম্পন্ন করার আগেই তাঁর মৃত্যু ঘটে, এবং তাঁর পিতা প্রখ্যাত হাফেজ সাবিত বিন হাজম আস-সারাখুস্তী (৩১৩ হিজরি) দীর্ঘজীবী হন; ফলে তিনি কিতাবটি সম্পন্ন করেন, মানুষের সামনে প্রকাশ করেন এবং এর পাঠদান করেন
(১)।
* 'কিতাবুত তাহরীর ফি শারহি সহিহ মুসলিম': এটি আমাদের আলোচ্য এই কিতাব। এটি শুরু করেছিলেন—যেমনটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أسلفنا - أبو عبد الله محمد بن إسماعيل الأصبهاني، وأتمه أبوه، ومعه شرح صحيح البخاري كذلك.
والذي يعنينا في هذا المبحث؛ ليس إثبات نسبه الكتاب إلى مؤلفه، فذلك ثابت على الوجه الذي ذكرناه من البدء والإتمام، وإنما يعنينا أن نتعرف على القدر الذي كتبه الابن وهل وصلنا منه شيء في المخطوطة التي بين أيدينا؟
والجواب - كما سنبين - أن الذي وصلنا من الكتاب كله للأب الحافظ قِوام السنة، ولم يصلنا شيء مما كتبه الابن والدليل على ذلك أمور:
1 - الجزء المفقود من أول الكتاب هو من بداية الشرح إلى آخر كتاب الجنائز، وهو جزء لا بأس به، فيكون احتمال الضياع واردا على كل ما كتبه الابن لأنه لم يبلغ هذا القدر كما سنبين.
2 - في شرح الإمامين لصحيح البخاري نص نفيس، يمكن من خلاله أن نتبين صاحب الجزء الذي بين أيدينا، فقد نص فيه قوام السنة رحمه الله على الموضع الذي أكمل منه شرح ولده؛ حيث قال: (وإليه انتهى مَا تولاه ولَدِي أبو عبد الله رحمه الله ونوَّر قبرَه من شَرح الكتَاب، ومن هَاهُنا تَولَّيتُ أَنَا شَرحَه، فأقولُ وأَستَمِدُّ المعُونَة مِنَ الله، وأَسأَله أن يُجريَ في ذَلِك الصَّواب علَى لسَاني، وأن يُجزل الثَّوابَ لابني أبي عبدِ الله رحمه الله لِسَبقه إلى هَذا الشَّرح، وشَرح كِتَاب مُسلمٍ)
(1).
فأمكننا أن نقارن بين أسلوبي المؤلفين، لنتعرف على صاحب الجزء الذي وصلنا من صحيح مسلم، ثم إنه بهذا يفترض أن يكون قوام السنة رحمه الله؛ قد نص
--------------------------------------------
আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল-আসবাহানি, এবং তাঁর পিতা এটি সম্পন্ন করেছেন, আর একইভাবে এর সাথে সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থও রয়েছে।
এই আলোচনায় আমাদের উদ্দেশ্য লেখকের সাথে গ্রন্থটির সম্বন্ধ প্রমাণ করা নয়, কারণ শুরু এবং সমাপ্তি সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি সেভাবে তা প্রমাণিত; বরং আমাদের উদ্দেশ্য হলো পুত্র কতটুকু অংশ লিখেছিলেন তা জানা এবং আমাদের কাছে থাকা পাণ্ডুলিপিতে তার কোনো অংশ পৌঁছেছে কি না তা নির্ণয় করা।
আর এর উত্তর হলো—যেমনটি আমরা বর্ণনা করব—পুরো গ্রন্থ থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তা হাফিজ কিওয়ামুস সুন্নাহ পিতার লেখা, আর পুত্রের লেখা অংশ থেকে আমাদের কাছে কিছুই পৌঁছেনি। এর প্রমাণস্বরূপ কয়েকটি বিষয় রয়েছে:
১ - গ্রন্থের শুরুর হারানো অংশটি হলো ব্যাখ্যার শুরু থেকে জানাজা অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত, যা বেশ বড় একটি অংশ। ফলে পুত্র যা কিছু লিখেছিলেন তা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটি এখানে সবটুকুর ওপর প্রযোজ্য হয়, কারণ তিনি এই পরিমাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি যেমনটি আমরা অচিরেই বর্ণনা করব।
২ - সহিহ বুখারির দুই ইমামের ব্যাখ্যাগ্রন্থে একটি মূল্যবান পাঠ রয়েছে, যার মাধ্যমে আমাদের হাতে থাকা অংশের লেখক কে তা আমরা স্পষ্ট করতে পারি। কিওয়ামুস সুন্নাহ (রাহিমাহুল্লাহ) সেখানে সেই স্থানটি নির্দিষ্ট করেছেন যেখান থেকে তিনি তাঁর পুত্রের করা ব্যাখ্যাটি সম্পন্ন করেছেন; যেখানে তিনি বলেছেন: (গ্রন্থের ব্যাখ্যার যতটুকু আমার পুত্র আবু আবদুল্লাহ—আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন এবং তাঁর কবরকে আলোকিত করুন—সম্পাদন করেছেন তা এই পর্যন্তই শেষ হয়েছে, আর এখান থেকে আমি এর ব্যাখ্যার দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। সুতরাং আমি বলছি এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি, আর তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার জবান দিয়ে সঠিক বিষয়টি প্রকাশ করেন এবং আমার পুত্র আবু আবদুল্লাহকে—আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন—এই ব্যাখ্যা এবং সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যার সূচনার জন্য যেন প্রচুর সওয়াব দান করেন)
(১)।
ফলে আমাদের পক্ষে উভয় লেখকের রচনারীতির মধ্যে তুলনা করা সম্ভব হয়েছে যাতে সহিহ মুসলিমের যে অংশটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে তার লেখককে চিনতে পারি। আর এর মাধ্যমে এটিই প্রতীয়মান হয় যে কিওয়ামুস সুন্নাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এটি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كذلك على الموضع الذي أكمل منه شرح مسلم، خاصة أن احتفاءه به أشد وأقوى، فقد ورد - كما مر - أنه دعا الناس يوم فراغه منه، وعمل مأدبة، وصنع حلاوة كثيرة
(1)، ولا نجد في الجزء الذي وصل إلينا شيئا من ذلك.
3 - بالمقارنة بين ما وصلنا من شرح مسلم، وما في شرح البخاري من إملاء الإمامين، نلمس تطابقا واضحا، وانسجاما كبيرا مع أسلوب قِوام السنة؛ وطريقة شرحه، بحيث لا يماري في هذا أحد، ولو بالنظرة العجلى في الكتابين، ففي أسلوب قِوام السنة معالم وإشارات لا تخفى، تميزه عن أسلوب ولده، ومن ذلك:
* أن للأب عباراتٍ يُكثِر من استعمالها، لا نجدها إطلاقا في شرح الابن من ذلك تكراره لـ: (قَالَ صَاحِبُ المُجمَل)، (قَالَ أَهلُ اللُّغَة)، (قَالَ صَاحِبُ الغَرِيبَين)، وهو نفس ما تكرر في مواضع كثيرة في شرح مسلم.
* أن الابن يسوق فقه الحديث مع المباحث اللغوية، سياقا واحدا، وأما الأب فقد سلك مسلكا آخر، وهو البداءة بفقه اللغة، ثم ذكر ما في الحديث أو بعضه من الفقه والأحكام، مشيرا إلى ذلك بقوله: (وَفِيهِ)، (وَمِن فِقهِ الحَدِيثِ)، (وَفِيهِ دَلَالَةٌ
… )، وهو ما لا نجده في شرح الابن.
* نجد فيما وصلنا أن المؤلف قد أسند، بعض الأحاديث، منها حديث طلب الولاية في بداية الجزء الذي بين أيدينا، حيث قال: (حَدَّثَنَا أَبُو نَصرٍ مُحَمَّدُ بنُ سَهلٍ السرَّاج
… )، ومعلوم أن أبا نصر توفي سنة 483 هـ، وهو من شيوخ
--------------------------------------------
একইভাবে সহীহ মুসলিমের শারহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) যেখানে তিনি সমাপ্ত করেছিলেন, সেই বিষয়ের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য, বিশেষ করে যেহেতু এর প্রতি তাঁর উদযাপন ছিল অত্যন্ত প্রবল ও জোরালো। যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে—বর্ণিত আছে যে, তিনি এটি শেষ করার দিনে লোকজনকে দাওয়াত দিয়েছিলেন, একটি ভোজের আয়োজন করেছিলেন এবং প্রচুর মিষ্টান্ন প্রস্তুত করেছিলেন
(১)। তবে আমাদের নিকট যে অংশটি পৌঁছেছে তাতে এর কোনো কিছুই আমরা খুঁজে পাই না।
৩ - সহীহ মুসলিমের শারহ যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং দুই ইমামের শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে সংকলিত সহীহ বুখারীর শারহের মধ্যে তুলনা করলে আমরা কিওয়ামুস সুন্নাহর রচনাশৈলী ও তাঁর ব্যাখ্যা পদ্ধতির সাথে এক স্পষ্ট সামঞ্জস্য ও গভীর মিল দেখতে পাই। এতটাই যে, গ্রন্থ দুটির ওপর সামান্যতম দৃষ্টি দিলেও এ বিষয়ে কেউ কোনো সন্দেহ পোষণ করবে না। কিওয়ামুস সুন্নাহর রচনাশৈলীতে এমন কিছু লক্ষণ ও ইঙ্গিত রয়েছে যা অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যা তাঁকে তাঁর সন্তানের রচনাশৈলী থেকে আলাদা করে। এর মধ্যে রয়েছে:
* পিতার কিছু পরিভাষা রয়েছে যা তিনি প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করেন, যা পুত্রের ব্যাখ্যাগ্রন্থে একেবারেই পাওয়া যায় না। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর এই বাক্যগুলোর পুনরাবৃত্তি: (আল-মুজমাল প্রণেতা বলেছেন), (ভাষাবিদগণ বলেছেন), (আল-গারিবাইন প্রণেতা বলেছেন)। সহীহ মুসলিমের শারহের অনেক স্থানেও একইভাবে এই কথাগুলো পুনরাবৃত্তি হয়েছে।
* পুত্র হাদীসের ফিকহ ও ভাষাগত আলোচনা একই সাথে বর্ণনা করেন। পক্ষান্তরে পিতা ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন; তিনি প্রথমে ভাষাতাত্ত্বিক আলোচনা দিয়ে শুরু করেন, এরপর হাদীসে বিদ্যমান ফিকহ ও আহকাম বা এর কিছু অংশ উল্লেখ করেন। সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর এই বাক্যগুলোর মাধ্যমে ইশারা করেন: (এর মধ্যে রয়েছে), (হাদীসের ফিকহ থেকে), (এর মধ্যে দলিল রয়েছে ... ), যা পুত্রের ব্যাখ্যাগ্রন্থে পাওয়া যায় না।
* আমাদের কাছে পৌঁছেছে এমন পাণ্ডুলিপিতে আমরা দেখতে পাই যে, লেখক কিছু হাদীসের সনদ বা সূত্র বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আমাদের হাতে থাকা খণ্ডের শুরুতে নেতৃত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কিত হাদীসটি, যেখানে তিনি বলেছেন: (আমাদের নিকট আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে সাহল আস-সাররাজ বর্ণনা করেছেন ... )। এটি সুবিদিত যে, আবু নাসর ৪৮৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তিনি ছিলেন ... এর উস্তাদগণের অন্তর্ভুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قوام السنة بنيسابور
(1)، فيتأكد، بهذا أن الشارح هو الأب لا الابن لأن هذا الأخير لم يدرك أبا نصر، فإنه لم يولد إلا في حدود الـ 500 هـ، وكذلك أسند حديث الإفك عن الدَّشْتِي، وهو أبو سهل عبد الملك بن عبد الله الدَّشْتِي النيسابوري توفي سنة 488 هـ، وأسنده كذلك عن النِّعالي، وهو أبو عبد الله الحسين بن أحمد النِّعالي البغدادي الحافظ، توفي سنة 493 هـ
(2).
* الابن يطيل النفس في اللغة، ويغوص في أعماقها، ويورد مذاهب اللغويين، ويرجح، ويستدرك، ويناقش، ويذكر أخطاء العامة، ونحو ذلك، والأب لا يتعمق هذا التعمق الواسع.
* يبحث الابن أسماء الصحابة من جهة اللغة؛ أولَ ما ترِد عليه، كقوله: (حَدِيثُ سَعدِ بن أَبِي وقَّاصٍ السَّعدُ: ضد النَّحْسِ، والوقَّاص: الكَثِيرُ الكَسْر، يُقالُ: من وَقَصت الشَّيء: إذا كَسَرته، واسمُ أبي وقَّاص: مَالِكُ بنُ أُهَيْب بن عَبد مَناف بن زُهرة بن كِلاب)
(3)، وهكذا لبقية الصَّحابة، وليس لهذا نظير فيما وصلنا من شرح مسلم.
* يستشهد الابن - أحيانا - بأقوال والده ومذهبه في بعض القضايا، كقوله: (وَذَكَر إمَامُنا الوَالدُ في هذه اللفظة وَجهًا آخرَ اسْتَحسَنه)
(4)، ولم نجد إشارة من هذا القبيل في شرح مسلم.
--------------------------------------------
নিশাপুরের ক্বাওয়ামুস সুন্নাহ
(১); এর মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ব্যাখ্যাকার হলেন পিতা, পুত্র নন। কারণ পুত্র আবু নাসরকে পাননি, যেহেতু তিনি আনুমানিক ৫০০ হিজরি সালের দিকে জন্মগ্রহণ করেছেন। একইভাবে তিনি ইফক-এর হাদিসটি দাশতি থেকে বর্ণনা করেছেন, যিনি হলেন আবু সাহল আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দাশতি আন-নিশাপুরি, তিনি ৪৮৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এটি নিআলি থেকেও বর্ণনা করেছেন, যিনি হলেন হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে আহমদ আন-নিআলি আল-বাগদাদি, তিনি ৪৯৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(২)।
* পুত্র ভাষাতত্ত্বের ক্ষেত্রে দীর্ঘ আলোচনা করেন, এর গভীরে প্রবেশ করেন, ভাষাবিদদের মতসমূহ উল্লেখ করেন, কোনো মতকে প্রধান্য দেন, ভুল সংশোধন বা সংযোজন করেন, আলোচনা-পর্যালোচনা করেন এবং সাধারণ মানুষের ভাষাগত ভুলসমূহ ও অনুরূপ বিষয়াদি উল্লেখ করেন। কিন্তু পিতা এ ধরনের ব্যাপক গভীরতা প্রদর্শন করেন না।
* পুত্র সাহাবীগণের নাম ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করেন যখনই তা প্রথমবার তার সামনে আসে; যেমন তার উক্তি: (সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস-এর হাদিস; সা’দ: এর অর্থ হলো দুর্ভাগ্যের বিপরীত। আর ওয়াক্কাস: অধিক ভগ্নকারী, বলা হয়: ‘ওয়াকাসতুশ শাইআ’ অর্থাৎ আমি বস্তুটি ভেঙেছি; যখন তুমি কোনো কিছু ভেঙে ফেলো। আর আবু ওয়াক্কাস-এর নাম হলো: মালিক ইবনে উহাইব ইবনে আব্দ মানাফ ইবনে জুহরা ইবনে কিলাব)
(৩)। অবশিষ্ট সাহাবীগণের ক্ষেত্রেও তিনি এমনটি করেছেন। সহিহ মুসলিমের যে ব্যাখ্যাগ্রন্থ আমাদের কাছে পৌঁছেছে তাতে এর কোনো নজির নেই।
* পুত্র কখনও কখনও কিছু বিষয়ে তার পিতার উক্তি ও মতের মাধ্যমে দলিল পেশ করেন; যেমন তার উক্তি: (আমাদের ইমাম পিতা এই শব্দটির ক্ষেত্রে অন্য একটি দিক উল্লেখ করেছেন যা তিনি পছন্দ করেছেন)
(৪)। সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যায় আমরা এই ধরনের কোনো ইঙ্গিত খুঁজে পাইনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
* من خلال ما نقله النووي مما أملاه الابن نلحظ أنَّه يستعمل ضمائر المتكلم: (لم نعثر، ولستُ، ذَكَرنَاه، ولَكِنَّا لَا نَتَمَسَّك، وَقَعَ لِي مَعنًى مَلِيحٌ)، كما نجده يناقش ويتعقب ويستدرك، وذلك كله دال على عنفوان الشباب، لا نلمس مثله في أسلوب الأب الهادئ.
وبهذا نعلم أن ما بين أيدينا من شرح صحيح مسلم؛ كلُّه للإمام الحافظ قوام السنة، وهو نسَق واحد، ومنهج مطرد، لا يختلف أو يتخلَّف، وليس فيه شيء مما كتبه الابن، ولو كان لظهر من غير التباس.
* * *
* ইমাম নববী পুত্রের শ্রুতিলিখন থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন তা থেকে আমরা লক্ষ্য করি যে, তিনি উত্তম পুরুষবাচক সর্বনাম ব্যবহার করেন: (আমরা খুঁজে পাইনি, আমি নই, আমরা তা উল্লেখ করেছি, কিন্তু আমরা তা আঁকড়ে ধরি না, আমার কাছে একটি চমৎকার অর্থ প্রতিভাত হয়েছে); তদুপরি আমরা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা এবং সংশোধনী প্রদান করতে দেখি। এসবই যৌবনের উদ্দীপনার পরিচায়ক, যা পিতার ধীরস্থির রচনাশৈলীতে লক্ষ্য করা যায় না।
এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, সহীহ মুসলিমের যে ব্যাখ্যাগ্রন্থটি আমাদের হস্তগত হয়েছে, তার পুরোটাই ইমাম হাফিজ কাওয়ামুস সুন্নাহর রচনা। এটি একটি অভিন্ন বিন্যাস এবং সুসংগত পদ্ধতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে কোনো বৈসাদৃশ্য বা ব্যত্যয় নেই। এতে পুত্রের লিখিত কোনো অংশ নেই; যদি থাকত, তবে তা কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠত।
* * *
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
المبحث الرابع تحديد القدر الذي أملاه الابن* * *
وأما القدر الذي شرحه محمدُ بنُ إسماعيلَ (الابن) من صحيح مسلم فقال الذَّهبي: (فَأَملَى فِي شَرحِ كلِّ وَاحِدٍ مِنهُما صَدْرًا صَالحًا)
(1)، والظاهر أنه كان يملي شرح الصحيحين جميعا، كأن له مجلسين يراوح بينهما، أحدهما لصحيح البخاري، والآخر لصحيح مسلم، ولو قدَّم أحدهما على الآخر لكان الأول تامًّا، أولم يكن قد شرع في الثاني.
فيحتمل أن يكون مبلغه من شرح الصحيحين واحدًا متقاربًا، وهو كتاب الإيمان، فإنه توفي قبل أن يستوفيَ الكلام عن الحديث الثامن والأربعين من صحيح البخاري.
ولعل هذا الافتراض غيرُ مسلم، وإن بدا منطقيا، فقد نقل النووي في تهذيب الأسماء واللغات نقلًا نفيسًا عن كتاب التحرير، وهو من كتاب الصلاة، وفيه نفَس الأصبهاني الابن تقعيدًا وأسلوبًا، وزاده النووي تأكيدا بأن صدَّره باسم صاحبه فقال: (وَقَالَ الإمَامُ أَبو عبدِ الله صَاحِبُ التَّحرِيرِ فِي شَرحِ صَحِيحِ مُسلِمٍ: في آمين لغتان: فَتحُ الأَلِفِ مِن غَيْرِ مَدٍّ، وَالثَّانِيَةُ: بِالمَدِّ، وَهِيَ مَبنيّةٌ، قَالَ بَعضُهُم: بُنِيَت لِأَنَّها لَيسَت عَرَبِيَّة، أَو أَنَّها اسمُ فِعلٍ كَصَه ومَه، أَلَا تَرَى أَنَّ مَعنَاهَا: اللَّهُمَّ استَجِب، وَأَعطِنَا مَا سَأَلْنَاكَ، وَقَالُوا: إِنَّ مَجِيءَ آمِينَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّهَا لَيْسَت عَرَبِيَّة،
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: পুত্র কর্তৃক শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে সংকলিত অংশের সীমা নির্ধারণ* * *
আর মুহাম্মদ বিন ইসমাইল (পুত্র) সহীহ মুসলিমের যে পরিমাণ ব্যাখ্যা করেছিলেন, সে সম্পর্কে আয-যাহাবী বলেন: (তিনি এই দুইটির প্রতিটির ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য প্রারম্ভিক অংশ শ্রুতিলিখন হিসেবে প্রদান করেছিলেন)
(১)। বাহ্যত এটি প্রতীয়মান হয় যে, তিনি উভয় সহীহ গ্রন্থের ব্যাখ্যা একসাথে প্রদান করতেন, যেন তার দুটি মজলিস ছিল যেখানে তিনি পর্যায়ক্রমে বসতেন; একটি সহীহ বুখারীর জন্য এবং অন্যটি সহীহ মুসলিমের জন্য। যদি তিনি একটির ওপর অন্যটিকে প্রাধান্য দিতেন, তবে প্রথমটি পূর্ণাঙ্গ হতো অথবা দ্বিতীয়টি শুরুই করতেন না।
সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে, উভয় সহীহর ব্যাখ্যার পরিমাণ প্রায় কাছাকাছি ছিল, আর তা হলো 'কিতাবুল ঈমান'; কারণ সহীহ বুখারীর আটচল্লিশতম হাদীসের আলোচনা পূর্ণ করার পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
সম্ভবত এই ধারণাটি চূড়ান্ত নয়, যদিও তা যুক্তিযুক্ত মনে হয়। কেননা আন-নববী 'তহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত' গ্রন্থে 'আত-তাহরির' কিতাব থেকে একটি মূল্যবান উদ্ধৃতি বর্ণনা করেছেন, যা 'কিতাবুস সালাত' (সালাত অধ্যায়) থেকে গৃহীত। এতে মূলনীতি নির্ধারণ ও রচনাশৈলীর দিক থেকে আল-আসবাহানী পুত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। আন-নববী এর লেখকের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে একে আরও নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন: (সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আত-তাহরির'-এর লেখক ইমাম আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন: 'আমীন' শব্দটিতে দুটি ভাষাগত রূপ রয়েছে: প্রথমটি হলো দীর্ঘ করা ব্যতীত আলিফের উপর ফাতহা বা জবর প্রদান করা, এবং দ্বিতীয়টি হলো দীর্ঘ করার (মাদ) সাথে। এটি একটি অপরিবর্তনীয় শব্দ। কেউ কেউ বলেছেন: এটি অপরিবর্তনীয় হওয়ার কারণ হলো এটি আরবী নয়, অথবা এটি 'সাহ্' এবং 'মাহ্'-এর মতো ক্রিয়া বিশেষ্য। আপনি কি দেখছেন না যে এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ! আপনি কবুল করুন এবং আমরা আপনার কাছে যা চেয়েছি তা আমাদের দান করুন। তারা বলেছেন: 'আমীন' শব্দের ব্যবহারই প্রমাণ করে যে এটি আরবী নয়,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহরীর ফী শারহি সহীহি মুসলিম - আল-আসুবাহানী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
إِذ لَيسَ فِي كَلَامِ العَرَبِ فَاعِيلَ، فَأَمَّا آرَى فَلَيسَ بِفَاعِيل، بَل هُوَ عِندَ جَمَاعَةٍ: فَاعُول، وَعِندَ بَعضِهِم: فَاعَلَى، وَعِندَ بَعضِهِم: فَاعَى بِالنُّقْصَانِ، وَقَد قَالَ جَمَاعَةٌ إِنَّ آمِينَ - يَعنِي المَقصُورَة - لَمْ يَجِئ عَنِ العَرَب، وَالبَيتُ الَّذِي يُنشَدُ: آمِينَ فَزَادَ اللهُ مَا بَينَنَا بُعدًا؛ لَا يَصِحُّ عَلَى هَذَا الوَجهِ، وَإِنَّمَا هُوَ: فَآمِينَ زَادَ اللهُ مَا بَينَنَا بُعدًا، قال: وَكَثِيرٌ مِنَ العَامَّةِ يُشَدِّدُونَ المِيمَ مِنهَا، وَهُوَ خَطَأٌ لَا وَجْهَ لَهُ، هَذَا آخِرُ كَلَامِ صَاحِبِ التَّحرِيرِ)
(1).
والتنبيه على أخطاء العامة من أسلوب الابن فثبت بهذا؛ أن الإمام أبا عبد الله قد بلغ من شرح مسلم كتاب الصلاة، وربما أبعد منه، وهذا ملمح في غاية الأهمية، فإن فيه إشارة إلى تقديم مسلم على البخاري في الشرح والإملاء والحفاوة أيضا، وهو ما سار عليه أبوه بعدُ من التعظيم، فكان يُملي شرح مسلمٍ عند قبر ولده
(2)، لما علم من مكانته عنده واحتفائه به، ولما فرغ منه أظهر الفرح بذلك، ودعا الناس كما أشرنا إليه قبل.
ولعل الباعث على إيثاره شرح مسلم، هو حاجة الناس إليه، فإنه لم يكن محلَّ عناية الشُّرَّاح من قبل، بخلاف صحيح البخاري؛ فقد، سبق إليه الإمام الخطابي (388 هـ)، في أعلام الحديث، ولم يكن من جاء بعده بأقدرَ على معارضته، وهو سبب كافٍ لفتور العزائم عن مثله.
لذلك قال عبد الغافر الفارسي؛ مبينا قيمة شرح الإمام الخطابي، وكفايتَه عن غيره: (قَد سَبَقَ غَيْرَهُ فِي تَصَانِيفِه فِي عُلُومِ الحَدِيثِ، وَزَادَ عَلَى المُتَقَدِّمِينَ، وَأَتعَبَ مَن بَعدَهُ مِنَ اللَّاحِقِينَ، لِوُفُورِ مَعرِفَتِهِ بِمَا يَتَعَلَّقُ بِهَا إِسنَادًا وَمَتنًا، وَتَمَامِ
--------------------------------------------
কেননা আরবের ভাষাভঙ্গিতে ‘ফা-ঈল’ ওজনের কোনো শব্দ নেই। আর ‘আরা’ শব্দটি ‘ফা-ঈল’ ওজনের নয়; বরং একদল বিশেষজ্ঞের মতে এটি ‘ফা-উল’, কারো মতে এটি ‘ফা-আলা’, আবার কারো মতে এটি অসম্পূর্ণভাবে ‘ফা-আ’। একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, ‘আমীন’ (হ্রস্ব আলিল তথা মাকসুরাহ যোগে) শব্দটি আরবদের থেকে বর্ণিত হয়নি। আর যে পঙক্তিটি আবৃত্তি করা হয়: ‘আমীন, আল্লাহ আমাদের মধ্যকার দূরত্ব বাড়িয়ে দিন’—তা এই পাঠরীতিতে সঠিক নয়; বরং এটি হবে: ‘ফা-আমীন (অতঃপর আমীন), আল্লাহ আমাদের মধ্যকার দূরত্ব বাড়িয়ে দিন’। তিনি বলেন: সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকেই এর ‘মীম’ বর্ণে তাশদীদ দিয়ে উচ্চারণ করে, যা একটি ভিত্তিহীন ভুল। এটিই তাহরীর গ্রন্থের লেখকের বক্তব্যের শেষ অংশ)
(১).
সাধারণ মানুষের ভুলভ্রান্তির বিষয়ে সতর্ক করা পুত্রের রচনার একটি শৈলী, যার মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয় যে, ইমাম আবু আবদুল্লাহ সহীহ মুসলিমের সালাত অধ্যায় পর্যন্ত ব্যাখ্যা সম্পন্ন করেছিলেন, অথবা সম্ভবত এর চেয়েও বেশি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইঙ্গিত, কারণ এতে সহীহ বুখারীর চেয়ে সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা প্রদান, শ্রুতলিখন (ইমলা) এবং বিশেষ গুরুত্বারোপের অগ্রাধিকার প্রকাশ পায়। পরবর্তীতে তাঁর পিতাও এই একই সম্মান প্রদর্শনের পথ অনুসরণ করেছিলেন; তিনি তাঁর পুত্রের কবরের পাশে বসে সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা শ্রুতলিখন করাতেন
(২), কারণ তিনি তাঁর কাছে এই গ্রন্থের মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানতেন। যখন তিনি এটি সম্পন্ন করেন তখন অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেন এবং আমরা আগে যেভাবে উল্লেখ করেছি সেভাবে মানুষকে আমন্ত্রণ জানান।
সম্ভবত সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণ ছিল এর প্রতি মানুষের প্রয়োজনীয়তা; কারণ ইতিপূর্বে এটি ব্যাখ্যাকারীদের কাছে বিশেষ গুরুত্বের বিষয় ছিল না, যা সহীহ বুখারীর ক্ষেত্রে ভিন্ন ছিল। সহীহ বুখারীর ক্ষেত্রে ইমাম আল-খাত্তাবী (৩৮৮ হি.) তাঁর ‘আ’লামুল হাদীস’ গ্রন্থে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর পরবর্তী সময়ে এমন কেউ ছিলেন না যিনি তাঁর সমকক্ষ হতে পারেন, আর এটিই ছিল বুখারীর অনুরূপ কাজের প্রতি উৎসাহ স্তিমিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট কারণ।
এ কারণেই আবদুল গাফির আল-ফারিসী ইমাম আল-খাত্তাবীর ব্যাখ্যার গুরুত্ব এবং এটি যে অন্য সবকিছুর জন্য যথেষ্ট তা বর্ণনা করে বলেছেন: (তিনি হাদীস বিজ্ঞানের বিভিন্ন রচনায় অন্যদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং পূর্ববর্তীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তিনি তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরিদের জন্য পথ কঠিন করে দিয়েছেন, কারণ হাদীসের সনদ ও মতন সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর গভীর জ্ঞান ছিল এবং পূর্ণতা...
--------------------------------------------