(খণ্ড: ১) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: -)
أحاديث ومرويات في الميزان 1 - حديث قلب القرآن يس   (محمد عمرو بن عبد اللطيف)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: أحاديث ومرويات في الميزان 1 - حديث قلب القرآن يس

المؤلف: محمد عمرو بن عبد اللطيف بن محمد بن عبد القادر بن رضوان بن سليمان بن مفتاح بن شاهين الشنقيطي (ت 1429هـ)

الناشر: ملتقى أهل الحديث، مكة المكرمة

الطبعة: الأولى، 1426 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মিজান বা পরিমাপের মানদণ্ডে হাদিস ও বর্ণনা ১ - কুরআনের হৃদয় সূরা ইয়াসিন সংক্রান্ত হাদিস   (মুহাম্মদ আমরু ইবনে আব্দুল লতিফ)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


গ্রন্থ: মিজান বা পরিমাপের মানদণ্ডে হাদিস ও বর্ণনা ১ - কুরআনের হৃদয় সূরা ইয়াসিন সংক্রান্ত হাদিস

লেখক: মুহাম্মদ আমরু ইবনে আব্দুল লতিফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে রিজওয়ান ইবনে সুলাইমান ইবনে মিফতাহ ইবনে শাহিন আশ-শানকিতী (মৃত্যু ১৪২৯ হিজরি)

প্রকাশক: মুলতাকা আহলিল হাদিস, মক্কা আল-মুকাররামা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌تقدمة [هذه الطبعة]

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا.

من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ} .

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللَّهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} .

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71) } .

أما بعد: فإن خير الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر تقدمة الجزء الثاني من هذه السلسلة المباركة ـ إن شاء الله ـ: (حديث: «ما من عبد مؤمن إلا وله ذنب يعتاده الفينة بعد الفينة … » في الميزان) تعلم السبب في إعراضي عن اللفظة المشهورة جداً: «وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار» وأنها شاذة، و (الشاذ في عداد الواهي) كما قال الإمام الذهبي رحمه الله في كتابه القيم «المُوقظة» ، ومعناها أيضاً غير صحيح كما في «مجموع الفتاوى» (19 / 191) . والله أعلى وأعلم.
[এই সংস্করণের] ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।

আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট হক দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষণকারী।}

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য অর্জন করল। (৭১)}

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রষ্টতা (১)।

--------------------------------------------

(১) ইনশাআল্লাহ, এই বরকতময় সিরিজের দ্বিতীয় খণ্ডের ভূমিকা দেখুন: (হাদিস: ‘এমন কোনো মুমিন বান্দা নেই যার কোনো গুনাহ নেই যাতে সে মাঝে মাঝে লিপ্ত হয় … ’ এর বিচার-বিশ্লেষণ) তবেই আপনি আমার এই অত্যন্ত প্রসিদ্ধ শব্দ সমষ্টি থেকে বিমুখ হওয়ার কারণ জানতে পারবেন: ‘আর প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত বিষয় বিদআত, প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতা জাহান্নামে।’ নিশ্চয়ই এটি শায (বিচ্ছিন্ন); আর ইমাম যাহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘আল-মুকিজাহ’-তে যেমনটি বলেছেন যে, ‘শায বর্ণনা দুর্বল ও অসার বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত’। এর অর্থও সঠিক নয়, যেমনটি ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (১৯/১৯১) গ্রন্থে রয়েছে। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞাত ও অধিক অবগত।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٦)
اللهم صلِّ على محمد وعلى آل محمد، كما صليت على آل إبراهيم، إنك حميد مجيد.

اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على آل إبراهيم إنك حميد مجيد.

فهذه تقدمة بين يدَي الطبعة الجديدة من الحلقة الأولى من سلسلة: «أحاديث ومرويات في الميزان» والتي كان عنوانها:

(حديث «قلب القرآن يس» في الميزان وجملة مما رُوي في فضلها) .

وقد أبقيت أصل الكتاب على حاله ـ سوى أحرف يسيرة ـ تيسيراً على إخواني الأفاضل الذين تفضلوا بقبول نشر هذه السلسلة وإخراجها في أبهى حلة إن شاء الله تعالى، وجعلت الاستدراكات التي طرأت عليه ـ حتى الآن ـ ملحقة بآخره.

وفيها حديثان زدت أحدهما، واستدرك عليَّ الآخرَ أحدُ طلبة العلم الذي أجد فيه مخايل النجابة، والشغف الشديد بهذا العلم الشريف.

أسأل الله لي وله وللمسلمين جميعاً التوفيق والسداد، والقبول والرشاد، وأسأله أن يجيرنا من خزي الدنيا وعذاب الآخرة.

(ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العليم) .
হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইবরাহীমের পরিবারের ওপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

এটি হলো ‘পরিমাপদণ্ডে হাদীস ও বর্ণনা’ সিরিজের প্রথম খণ্ডের নতুন সংস্করণের একটি ভূমিকা, যার শিরোনাম ছিল:

(পরিমাপদণ্ডে ‘কুরআনের হৃদয় ইয়াসিন’ সংক্রান্ত হাদীস এবং এর ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত বর্ণনাসমূহ)।

আমি মূল কিতাবটিকে সামান্য কিছু অক্ষর পরিবর্তন ছাড়া তার পূর্বাবস্থাতেই বহাল রেখেছি—যাতে সেই সব সম্মানিত ভাইদের জন্য সহজ হয় যারা এই সিরিজটি প্রকাশ করার এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা একে সর্বোত্তম রূপে বের করার সদয় সম্মতি দিয়েছেন। আর এখন পর্যন্ত যে সকল নতুন বিষয় বা সংশোধনী এতে যুক্ত হয়েছে, তা আমি কিতাবের শেষে পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করে দিয়েছি।

এতে দুটি হাদীস রয়েছে, যার একটি আমি নিজে বৃদ্ধি করেছি এবং অন্যটি আমার এক জ্ঞানপিপাসু ছাত্র আমার দৃষ্টিগোচর করেছেন, যার মধ্যে আমি প্রতিভা ও যোগ্যতার লক্ষণ এবং এই মহান ইলমের প্রতি প্রবল অনুরাগ লক্ষ্য করেছি।

আমি আল্লাহর কাছে আমার জন্য, তার জন্য এবং সকল মুসলমানের জন্য সঠিক পথ ও তৌফিক, কবুলিয়ত ও হেদায়েত প্রার্থনা করছি। আর আমি তাঁর কাছে দুনিয়ার লাঞ্ছনা এবং আখিরাতের আযাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

(হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ)।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٧)
اللهم أصلح ذات بيننا، وألف بين قلوبنا، واهدنا سبل السلام، ونجنا من الظلمات إلى النور، وبارك لنا في أسماعنا وأبصارنا وقلوبنا وأزواجنا وذرياتنا،

واجعلنا شاكرين لنعمتك، مُثْنِينَ بها، قابليها، وأتمها علينا (1) .

آمين. آمين. آمين.

وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وآله وصحبه ومن تبع هداه إلى يوم الدين.

 

وكتبه:

محمد عمرو بن عبد اللطيف

بمنزله بمدينة نصر

ليلة الثلاثاء العاشرمن ذي القعدة سنة 1425

من هجرة حبيب الله صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

(1) الدعاء ثابت عن ابن مسعود رضي الله عنه موقوفاً عليه، وأخطأ شَرِيْكُ القاضي رحمه الله

فرفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
হে আল্লাহ, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে দিন, আমাদের অন্তরসমূহের মাঝে সম্প্রীতি স্থাপন করুন, আমাদের শান্তির পথে পরিচালিত করুন, আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে উদ্ধার করুন এবং আমাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, অন্তর, স্ত্রী ও সন্তানদের মাঝে বরকত দান করুন,

এবং আমাদের আপনার নিআমতের কৃতজ্ঞতা আদায়কারী, তার প্রশংসা জ্ঞাপনকারী ও তা গ্রহণকারী বানিয়ে দিন এবং আমাদের ওপর তা পূর্ণ করুন (১)।

আমীন। আমীন। আমীন।

আর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর।

 

এটি লিখেছেন:

মুহাম্মদ আমরু ইবন আব্দুল লতিফ

মাদিনাতুন নাসরে তাঁর নিজ বাসভবনে

১৪২৫ হিজরি সনের ১০ই জিলকদ মঙ্গলবার রাতে

আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের।

--------------------------------------------

(১) দুআটি ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে মাওকুফ হিসেবে সাব্যস্ত, আর শারীক আল-কাদী রহিমাহুল্লাহ ভুল করেছেন

ফলে তিনি একে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٨)
‌‌تقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا.

من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ} .

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيرًا وَنِسَاء وَاتَّقُواْ اللَّهَ الَّذِي تَسَاءلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} .

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَن يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71) } .

أما بعد، فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
উপস্থাপনা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি।

আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদেরকে একটিমাত্র সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক ও সত্য কথা বলো। (৭০) তাহলে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করবে। (৭১)}

অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম হলো জাহান্নাম।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٩)
فإني أتقدم إلى إخواني الكرام من المهتمين بحديث النبي صلى الله عليه وسلم والمشتغلين بتخريجه وتحقيقه ومعرفة مراتبه بهذه الرسالة الجديدة التي ستكون بإذن الله جل وعلا باكورة السلسلة التي أسميتها (أحاديث ومرويات في الميزان) .

وهي بعنوان: (حديث «قلب القرآن يس» في الميزان) وجملة مما رُوي في فضلها، أعني ما رُوي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن لكل شيء قلباً وقلب القرآن يس، ومن قرأ يس كتب الله له بقراءتها قراءة القرآن عشر مرات» لكنني آثرت اختصار العنوان مكتفياً بالإشارة وقد أشرت إلى ذلك في تقدمتي لرسالة أهلي ـ أم عبد الرحمن بنت النوبي ـ حفظها الله تعالى ـ: (إماطة الجهل بحال حديثَي «ما خير للنساء؟» و «عقدة الحبل» ) ، وأومأت في الحاشية ـ بإيجاز ـ إلى قصة اختيار هذه الرسالة.

وأزيد هنا إبداء اغتباطي وفرحي بستر الله عز وجل وفضله حيث لم يقدر لي ـ سبحانه ـ أن أورده في الجزء الثاني من «تكميل النفع» ، فقد تبين لي بَعْدُ ثبوته عن صاحب لمعمر بن راشد رحمه الله لم يُسَمَّ، على احتمال أبديته في موضوعه مما يتنافى مع شرطي في الكتاب المتقدم ذكره. أضف إلى ذلك أن التأني في تنقيحه قد أفاد كثيراً في تدعيمه بالفوائد الجمة، والتعليقات التي رأيتها تنفع القارئ الكريم لأدنى مناسبة مع العلم بأن اكتمال عناصر هذه الرسالة لدي ـ قبل الشروع في
আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের প্রতি আগ্রহী এবং হাদীসের তাখরীজ, তাহকীক ও এর মান নির্ণয়ে নিয়োজিত আমার সম্মানিত ভাইদের নিকট এই নতুন রিসালাটি পেশ করছি, যা মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ‘আহাদিস ওয়া মারউইয়াত ফিল মিযান’ (দাঁড়িপাল্লায় হাদীস ও বর্ণনা) নামক ধারাবাহিকের প্রথম সংকলন হবে।

এর শিরোনাম হলো: (দাঁড়িপাল্লায় ‘সুরা ইয়াসীন কুরআনের হৃদয়’ সংক্রান্ত হাদীস) এবং এর ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর সমষ্টি। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একটি হৃদয় থাকে এবং কুরআনের হৃদয় হলো ইয়াসীন; যে ব্যক্তি ইয়াসীন পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য এটি পাঠ করার বিনিময়ে দশবার কুরআন পাঠের সওয়াব লিখে দেবেন।” তবে আমি কেবল ইশারার মাধ্যমে শিরোনামটি সংক্ষিপ্ত করাকে প্রাধান্য দিয়েছি। আমি আমার সহধর্মিনী —উম্মু আবদুর রহমান বিনতে আন-নুবী (আল্লাহ তাআলা তাকে হিফাযত করুন)— এর রিসালা: (ইমাতাতুল জাহল বি-হালি হাদীসাই ‘মা খাইরুন লিন-নিসা?’ ওয়া ‘উকদাতুল হাবল’) এর ভূমিকায় এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছি এবং টীকায় সংক্ষেপে এই রিসালাটি নির্বাচনের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করেছি।

আমি এখানে মহান আল্লাহর পর্দা এবং তাঁর অনুগ্রহের প্রতি আমার আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা আরও প্রকাশ করছি যে, তিনি —সুবহানাহু— ‘তাকমিলুন নাফ’ এর দ্বিতীয় খণ্ডে এটি অন্তর্ভুক্ত করার ফয়সালা করেননি। কারণ পরবর্তীতে আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে এটি মা‘মার বিন রাশিদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জনৈক সঙ্গীর মাধ্যমে বর্ণিত যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। উপরন্তু এর বিষয়বস্তু জাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা উল্লিখিত কিতাবে আমার স্থিরকৃত শর্তের পরিপন্থী। এর সাথে আরও যুক্ত করা প্রয়োজন যে, এর পরিমার্জনে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করায় একে প্রচুর ফায়দা এবং এমন সব টীকা-মন্তব্যের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে অনেক সাহায্য করেছে যা আমি সামান্যতম উপলক্ষেও সম্মানিত পাঠকের জন্য উপকারী মনে করেছি। উল্লেখ্য যে, আমার নিকট এই রিসালার উপাদানগুলো পূর্ণ হওয়া —কাজ শুরু করার পূর্বে—...
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ١٠)
تبييضها وتنقيحها ـ هو الذي دعاني إلى البدء بها في هذه السلسلة التي أدعو الله عز وجل أن يُبَلِّغَهَا أقواماً ينتفعون بما فيها ولا يضنون على أخيهم بالنصح والإرشاد والملاحظات النافعة، ولا بالدعوات الصالحة بظهر الغيب: أن يتقبل الله عز وجل مني صالح عملي، وأن يتجاوز عن سيئاتي، وأن يجعل ما أقول وأفعل حجة لي لا عَلَيَّ.

وأن يجعل الحرص والإسهاب الذَيْن لا يخفيان علي القارئ اللبيب مما خلص لوجه ربنا الكريم. إنه خير مسؤول وأقرب مأمول.

وهو حسبي ونعم الوكيل.

كما أتقدم إلى الجميع ـ ناصحاً ـ أن يتقوا الله عز وجل فيَّ، ويقدروني قدري، ويكرروا النظر والتأمل فيما سطرته في تقدمتى للجزء الأول من «تكميل النفع» وفي ص 103: 105 منه أيضاً.

والذي استبان لي بيقين أن استعجالي في تصنيف الرسائل والكتب، والتعليق عليها، بل ومراجعة بعضها، هو الذي جرَّ عليَّ أموراً لم تكن في الحسبان، وتَعَرُّفاً من الكثيرين عَلَيَّ، بصورة لم تخطر على القلب، بحيث ارتسم في أذهان الكثيرين تصور غير صادق لحقيقة أمري ومبلغ علمي، وزادهم اغتراراً بي: إجازةٌ من الشيخ محمد نجيب المطيعي رحمه الله لم أستشرف لها ولم أسع إليها، ولم أُرٍه من نفسي ما يؤهلني لها (1) . إنما هو مجرد توسم للخير فِيَّ من شيخ فاضل لم ألازمه ولم أُطِل صحبته ولا الانتفاع به.

--------------------------------------------

(1) ولا علاقة لها بكتاب «المجموع» ـ رغم وجودها فيه ـ ولا غيره. وأتوقع أن يستغل هذه التصريحات بعض ضعفاء النفوس. فالله يتولاني، وهو حسبي ونعم الوكيل.
এর পরিমার্জন ও সংশোধনই আমাকে এই ধারাবাহিকটি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে। আমি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে দুআ করি যেন তিনি এটি এমন লোকদের কাছে পৌঁছে দেন যারা এর বিষয়বস্তু দ্বারা উপকৃত হবেন এবং তাদের ভাইয়ের প্রতি উপদেশ, দিকনির্দেশনা ও উপকারী মন্তব্য প্রদানে কার্পণ্য করবেন না; আর না অগোচরে তার জন্য নেক দুআ করতে কার্পণ্য করবেন: আল্লাহ যেন আমার কাছ থেকে আমার নেক আমলগুলো কবুল করেন, আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করেন এবং আমি যা বলি ও করি তা যেন আমার পক্ষে দলিল বানান, বিপক্ষে নয়।

আর বুদ্ধিমান পাঠকের কাছে যে যত্নশীলতা ও বিস্তারিত বর্ণনা গোপন নয়, তিনি যেন তা আমাদের মহান রবের সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম প্রার্থিত এবং নিকটতম আশার স্থল।

তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।

আমি উপদেশদাতা হিসেবে সকলের প্রতি এই আরজ করছি যে, তারা যেন আমার ব্যাপারে পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহকে ভয় করেন, আমার প্রকৃত মূল্যায়ন করেন এবং 'তাকমিলুন নাফ' এর প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় এবং এর ১০৩-১০৫ পৃষ্ঠায় আমি যা লিখেছি তা যেন বারবার দেখেন ও চিন্তা করেন।

আমার কাছে যা দৃঢ়ভাবে স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, এই রিসালা ও কিতাবসমূহ রচনা করা, সেগুলোর ওপর টীকা প্রদান, এমনকি সেগুলোর কিছু পর্যালোচনা করার ক্ষেত্রে আমার তাড়াহুড়া করাটাই আমার ওপর এমন কিছু বিষয় বয়ে এনেছে যা ভাবনায় ছিল না। এর ফলে অনেকের কাছে আমার পরিচয় এমনভাবে হয়েছে যা কল্পনাও করা যায় না। এতে করে অনেকের মনে আমার প্রকৃত অবস্থা এবং ইলমের গভীরতা সম্পর্কে একটি অসত্য ধারণা তৈরি হয়েছে। আর আমার ব্যাপারে তাদের এই বিভ্রান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে শায়খ মুহাম্মদ নাজিব আল-মুতিয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) এর পক্ষ থেকে পাওয়া একটি ইজাজত (অনুমতিপত্র), যার জন্য আমি কোনো প্রত্যাশা করিনি এবং কোনো চেষ্টাও করিনি। এমনকি তার সামনে আমি এমন কিছু প্রকাশ করিনি যা আমাকে এর যোগ্য করে তুলত (১)। এটি ছিল কেবল একজন গুণী শায়খের পক্ষ থেকে আমার মধ্যে কল্যাণের এক প্রকার চিহ্ন দেখা মাত্র, যাঁর সান্নিধ্যে আমি খুব একটা থাকিনি এবং তাঁর সাহচর্য বা তাঁর থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগও দীর্ঘকাল পাইনি।

--------------------------------------------

(১) এবং 'আল-মাজমু' কিতাবের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই—তাতে এর অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও—এবং অন্য কোনো কিতাবের সাথেও নয়। আমি ধারণা করছি যে, কিছু সংকীর্ণমনা লোক এই স্বীকারোক্তিগুলোকে অপব্যবহার করবে। সুতরাং আল্লাহই আমার অভিভাবক, আর তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ١١)
وقد صرت أسمع ألقاباً وأوصافاً لا تنبغي للمتقين، ولا تليق إلا بالعلماء ـ حقاً وصدقاً ـ من الحفاظ العاملين!

ولم يقف الأمر عند هذا الحد، بل تجاوزه إلى تعليق آمالٍ على المسكين وأنه أهل أن يدرس فقهاً، أو يلقي محاضرة في قضية عامة، أو يُطْلَب منه موعد لحل مشكلة زوجية ينبني عليها تقرير مصير!! وجماعة من المتقين من علماء الأمة ـ حقاً وصدقاً ـ كانوا يتحاشون كثيراً من هذه الأمور فلا ينطقون فيها بحرف، مع الأهلية والكفاءة!

إن إنساناً ابتُلِي بمعرفة الناس إيَّاه وتمييزه في المعاملة ومبالغتهم في أمره أحياناً إلى درجة الكذب عليه (!) ينبغي أن يُرحم وأن يُعان على تخليص رقبته، وعلى هوى نفسه وشيطانه ودنياه، فإن النفوس ـ في هذا الزمان ـ ضعيفة تسارع إليها الفتنة إن لم يتداركها ربها ـ تعالى ـ برحمته فأرجو هؤلاء وأولئك أن يصححوا تصورهم، وألَاّ يحملوا ما ذكرتُ على تواضع أو غيره، فإن لكل مقام مقالاً كما قال أبو الطفيل عليه رضوان الله، وذلك قبل أن يؤاخذني ربي ـ جل وعلا ـ على ما يقولون (1) ويفعلون ويعتقدون ويغالون.

إذ أن المقصد الأسمى عند كل من عرف هذا الرب الجليل ـ تعالى ـ

--------------------------------------------

(1) وقد دار حوار بيني وبين أهلي فهمتُ ـ على أثره ـ أن البعض يظن أنني لا أتقاضى مقابلاً نظير كتبي ورسائلي. وليس هذا بصحيح.
আমি এখন এমন সব উপাধি ও গুণাবলি শুনতে পাচ্ছি যা মুত্তাকীদের জন্য শোভনীয় নয়, এবং যা আমলকারী হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত প্রকৃত ও সত্যকার আলেমগণ ব্যতীত অন্য কারো যোগ্য নয়!

আর বিষয়টি কেবল এখানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি ছাড়িয়ে এই মিসকিনের ওপর এমন সব আশা পোষণ করা হচ্ছে যে, সে ফিকহ পড়ানোর যোগ্য, অথবা কোনো সাধারণ বিষয়ে ভাষণ দেওয়ার যোগ্য, অথবা তার কাছে দাম্পত্য সমস্যা সমাধানের জন্য সময় চাওয়া হচ্ছে যার ওপর ভাগ্য নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নির্ভর করে!! অথচ উম্মতের আলেমদের মধ্য থেকে মুত্তাকীদের একটি দল—যারা প্রকৃতপক্ষে ও সত্যকার অর্থে আলেম—যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তারা এ জাতীয় অনেক বিষয় এড়িয়ে চলতেন এবং এ নিয়ে একটি বর্ণও উচ্চারণ করতেন না!

নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মানুষের মাঝে পরিচিত হওয়া, লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশেষ মর্যাদা পাওয়া এবং কখনও কখনও তার ব্যাপারে অতিরঞ্জন করতে করতে মিথ্যা বলার মতো পরীক্ষার (!) সম্মুখীন হয়েছে—সে দয়া পাওয়ার এবং নিজের নফসকে মুক্ত করতে, কুপ্রবৃত্তি, শয়তান ও দুনিয়া থেকে বাঁচতে সাহায্য পাওয়ার যোগ্য। কেননা বর্তমান সময়ে মানুষের নফস অত্যন্ত দুর্বল, যদি তার রব—যিনি সুউচ্চ—রহমত দ্বারা তাকে রক্ষা না করেন তবে খুব দ্রুতই তাতে ফিতনা প্রবেশ করে। তাই আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের ধারণা সংশোধন করার অনুরোধ করছি এবং আমি যা বললাম তাকে যেন তারা বিনয় বা অন্য কিছুর ওপর চাপিয়ে না দেয়। কারণ প্রতিটি স্থানেরই উপযুক্ত কথা থাকে যেমনটি আবু তুফাইল (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন। আর এসব আমি বললাম আমার প্রতিপালক—যিনি প্রতাপশালী ও সুউচ্চ—তারা যা বলছে (১), করছে, বিশ্বাস করছে এবং যে অতিরঞ্জন করছে তার জন্য আমাকে পাকড়াও করার আগেই।

কারণ এই মহান প্রতিপালককে—যিনি সুউচ্চ—চিনেছেন এমন প্রত্যেকের কাছেই চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো...

--------------------------------------------

(১) আমার ও আমার পরিবারের মধ্যে একটি কথোপকথন হয়েছিল যার প্রেক্ষিতে আমি বুঝতে পেরেছি যে, কেউ কেউ ধারণা করেন আমি আমার বই ও রিসালাহসমূহের জন্য কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করি না। এটি সঠিক নয়।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ١٢)
ورضيه رباً وإلهاً، ورضي محمداً صلى الله عليه وسلم نبياً ورسولاً، وشريعة الإسلام ديناً ومنهجاً هو رضوانه ـ تعالى ـ في الدنيا والآخرة، ومغفرته للذنوب الأوزار، وستره عليه في الدنيا والآخرة، ودخول جنته، والتزحزح عن ناره وعذابه، وكل ما سوى ذلك فهو تابع له، دائر في فلكه.

فعلى كل امرئٍ أن يُقبل على شأنه ويعرض عما لا ينفعه في الدنيا ولا في الآخرة. اللهم هل بلغت؟ اللهم فاشهد.

 

وكتبه:

محمد عمرو بن عبد اللطيف

القاهرة في أوقات متفرقة كان آخرها يوم الثلاثاء الموافق

7 من صفر سنة 1414 هـ

و26 من يوليو سنة 1993م.
আর তাঁকে রব ও ইলাহ হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করা, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবী ও রাসূল হিসেবে এবং ইসলামের শরীয়তকে দ্বীন ও জীবনবিধান হিসেবে মেনে নেওয়া—এটাই দুনিয়া ও আখিরাতে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি, গুনাহ ও পাপের ক্ষমা, দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর পক্ষ থেকে দোষ গোপন রাখা, তাঁর জান্নাতে প্রবেশ এবং তাঁর আগুন ও আযাব থেকে মুক্তি। এ ছাড়া যা কিছু আছে তা এরই অনুগামী এবং এরই কক্ষপথে আবর্তিত।

সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত নিজের বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করা এবং দুনিয়া ও আখিরাতে যা তার কোনো উপকারে আসবে না তা থেকে বিমুখ থাকা। হে আল্লাহ, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন।

 

এটি লিখেছেন:

মুহাম্মদ আমর ইবনে আব্দুল লতিফ

কায়রো, বিভিন্ন সময়ে, যার সর্বশেষ ছিল মঙ্গলবার মোতাবেক

৭ সফর ১৪১৪ হিজরি

২৬ জুলাই ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌نص الحديث

 

(إن لكل شيء قلباً، وقلب القرآن يس، ومن قرأ يس كتب الله له بقراءتها قراءة القرآن عشر مرات)
হাদীসের মূল পাঠ

 

(নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একটি হৃদয় রয়েছে এবং কুরআনের হৃদয় হলো ইয়াসিন। যে ব্যক্তি ইয়াসিন পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য এটি পাঠ করার বিনিময়ে দশবার কুরআন পাঠ করার সওয়াব লিখে দেবেন।)
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ١٥)
‌‌الطرق الإجمالية للحديث مرفوعاً وموقوفاً ومقطوعاً:

رُوِيَ هذا الحديث ـ بالتمام الذي قدمته ـ من حديث أنس بن مالك ـ وهذا لفظه ـ وبنحوه من حديث ابن عباس، وأبي بن كعب ـ من طريقين عنه بتفاوت في تضعيف الثواب المتقرر فيه، وبشطره (1) الأول من حديث أبي هريرة، وابن عباس، ومعقل بن يسار.

وبشطره الثاني من حديث أبي هريرة وأبي سعيد بتفاوت في تضعيف الثواب في لفظ ثانيهما، وابن عباس، وعقبة بن عامر، ومن معضل حسان بن عطية المحاربي.

ورُويَ موقوفاً ـ بشطره الأول فيما يظهر ـ على معقل بن يسار، وأبي قلابة الجرمي ـ مقطوعاً ـ بتفاوت في الثواب، وعبد الرحمن بن أبي ليلي الأنصاري مقطوعاً أيضاً بالشطر الأول، وعن صاحب لمعمر لم يُسَم مقطوعاً أيضاً بتفاوت في الثواب (وهذا الثواب المتقرر فيه مروي عن سليمان التيمي أو الحسن البصري على تردد) . وعن يحيى بن أبي كثير مقطوعاً أيضاً بشطره الأول (2) (وفي نسبته إليه أو إلى غيره تردد مشار إليه في محله) .

--------------------------------------------

(1) حيث أذكر (الشطر الأول) لا أعني أن الرواية لم تقرر فضلاً لقراءة السورة، ولكن أقصد أن ليس فيها تضعيف الثواب بحيث تعدل قراءة القرآن عشر مرات أو أقل أو أكثر. فتنبه.

(2) وليس في كلها عبارة «إن لكل شيء قلباً» فهذا مرادي بالشطر الأول.
হাদিসটির মারফু, মাউকুফ এবং মাকতু ধারার সামগ্রিক সুত্রসমূহ:

এই হাদিসটি—আমি পূর্বে যে পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপন করেছি সেইরূপে—আনাস ইবনে মালিকের হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে—এবং এটিই তার শব্দরূপ—এবং একই মর্মে ইবনে আব্বাস ও উবাই ইবনে কাবের হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে—তার পক্ষ থেকে দুটি সূত্রে, যাতে নির্ধারিত সওয়াব বহুগুণ হওয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। আর এর প্রথম অর্ধাংশ (১) বর্ণিত হয়েছে আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস এবং মা’কিল ইবনে ইয়াসারের হাদিস থেকে।

আর এর দ্বিতীয় অর্ধাংশ বর্ণিত হয়েছে আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদের হাদিস থেকে, যেখানে দ্বিতীয়জনের শব্দে সওয়াব বহুগুণ হওয়ার বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে। এছাড়া ইবনে আব্বাস, উকবা ইবনে আমির এবং হাসান ইবনে আতিয়্যাহ আল-মুহারিবীর মু’দাল বর্ণনা থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

আর এটি মাউকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে—দৃশ্যত এর প্রথম অর্ধাংশ—মা’কিল ইবনে ইয়াসারের সূত্রে। এবং আবু কিলাবাহ আল-জারমী থেকে মাকতু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে সওয়াবের বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে। আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা আল-আনসারী থেকেও প্রথম অর্ধাংশের ক্ষেত্রে এটি মাকতু হিসেবে বর্ণিত। এছাড়া মা’মারের একজন নামহীন সাথী থেকেও মাকতু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, সওয়াবের ভিন্নতাসহ (আর এতে নির্ধারিত এই সওয়াবের বিষয়টি সুলাইমান আত-তাইমী অথবা হাসান বসরী থেকে বর্ণিত হওয়ার ব্যাপারে সংশয় রয়েছে)। ইয়াহিয়া ইবনে আবি কাসীর থেকেও এর প্রথম অর্ধাংশ (২) মাকতু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে (আর এটি তাঁর দিকে নাকি অন্য কারও দিকে সম্পর্কিত হবে, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে যা যথাস্থানে উল্লেখ করা হয়েছে)।

--------------------------------------------

(১) আমি যখন (প্রথম অর্ধাংশ) উল্লেখ করি, তখন আমার উদ্দেশ্য এটা নয় যে, এই বর্ণনায় সূরাটি তিলাওয়াতের কোনো ফজিলত বর্ণিত হয়নি; বরং আমার উদ্দেশ্য হলো এতে সওয়াব বহুগুণ হওয়ার বিষয়টি নেই, যা কুরআন দশবার খতম করার সমান বা তার কম-বেশি হয়। অতএব বিষয়টি লক্ষ্য করুন।

(২) এবং এগুলোর সবগুলোতে "নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একটি হৃদয় আছে" -এই বাক্যটি নেই। প্রথম অর্ধাংশ বলতে আমি এটাই বুঝিয়েছি।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ١٦)
هذا، وقد ختمت الرسالة بفائدة لم أَرَ فيها كبير فائدة، حيث أنها تتعلق بشرح بعض العلماء لهذا الحديث غير الصحيح، لكنني ـ أثناء ذلك ـ دعمتها ببعض الفوائد، وعقبت تعقيباً ينبئ عن وجهة نظري النهائية في الحديث سنداً ومتناً.

 

‌‌وهذا أوان الشروع في البيان التفصيلي لهذه الطرق وفقاً للترتيب الذي أجملتُه:

‌‌1ـ حديث أنس:

قال الإمام أبو عيسى الترمذي رحمه الله في «جامعه» (1)

(2887) : «حدثنا

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ ابن كثير رحمه الله في «اختصار علوم الحديث» (ص 31) تحت عنوان: (إطلاق اسم «الصحيح» على الترمذي والنسائي) : «وكان الحاكم أبو عبد الله والخطيب البغدادي يسميان كتاب الترمذي: «الجامع الصحيح» وهذا تساهل منهما، فإن فيه أحاديث كثيرة منكرة … » .

وقال الدكتور نور الدين عتر في كتابه: «الإمام الترمذي والموازنة بين جامعه وبين الصحيحين» (ص 50 - 51) : «أما عنوان الكتاب نفسه واسمه الذي يطلق عليه، فقد وجدنا له عدة أسماء أطلقت عليه وهى:

1 ـ صحيح الترمذي وهو إطلاق الخطيب كما ذكر السيوطي.

2 ـ الجامع الصحيح وهو إطلاق الحاكم.

ونحن نجد بعض حديثه صحيحاً وبعضه حسناً ومنه دون ذلك وهو ينص على هذه الدرجات صراحة، إذن ففي كل من هاتين التسميتين ضَرْبٌ من التَّجَوُّز.

3 ـ الجامع الكبير، ذكره الكتاني في الرسالة المستطرفة وهو قليل الاستعمال.

4 ـ السنن، وهو اسم مشهور للكتاب، ويكثر نسبته إلى مؤلفه فيقال سنن الترمذي تمييزاً له عن بقية السنن.

ووجه هذه التسمية اشتماله على أحاديث الأحكام مرتبة على ترتيب أبواب الفقه، وما كان كذلك يسمى سنناً، ولكن الكتاب فيه الأحكام وغيرها. ففي هذه التسمية تَجَوُّزٌ بتسمية الكل ببعض أجزائه.

5 ـ الجامع: وهو أشهر وأكثر استعمالاً، واشتهر إطلاقه منسوباً إلى مؤلفه فيقال: «جامع الترمذي» ووجه تسميته بذلك: أن الجامع عند المحدثين ما كان مستوعباً لنماذج فنون الحديث الثمانية، وهي هذه: السير والآداب، والتفسير، والعقائد، والفتن، والأحكام، والأشراط، والمناقب، فسُمِّيَ الكتاب جامعاً لوجود هذه الأبواب فيه.

وهذا الاسم «الجامع» أو «جامع الترمذي» يدل على الكتاب بالمطابقة وذلك:

6 ـ لاشتماله على هذه الفنون الثمانية.

 

7 ـ لأنه مطلق عن قيد الصحة، فيطابق حال الكتاب وواقعه، فهو إذن أولى الأسماء بالإطلاق على كتاب الإمام الترمذي فاستحسن أن يسمى الكتاب ويطبع بعنوان «الجامع» فأما من طبع الكتاب بعنوان الصحة مثل «صحيح الترمذي» أو «الجامع الصحيح» فهذا عمل قد أخطأ صاحبه التوفيق، لما ذكرنا فيه من التساهل، ولأنا نخشى أن يقع في اللبس بسببه من لا دراية عنده، فيظن كل أحاديث الكتاب صحيحة، وهو خلاف الواقع» أهـ.

قلت: والكتاب المذكور نفيس، فهو حري بالدراسة والاهتمام لما فيه من إزاحة كثير من الإشكالات المتعلقة باصطلاحات الترمذي وما يتعلق بكتابه.
এটি এই যে, আমি এই রিসালাটি (পুস্তিকাটি) এমন একটি ফায়দা (উপকারিতা) দিয়ে শেষ করেছি যাতে আমি বড় কোনো ফায়দা দেখিনি; কারণ এটি এই অ-সহীহ হাদীসের ব্যাপারে কতিপয় আলিমের ব্যাখ্যার সাথে সম্পৃক্ত। তবে এর মাঝে আমি বিষয়টিকে কিছু ফায়দা দ্বারা শক্তিশালী করেছি এবং এমন একটি মন্তব্য করেছি যা এই হাদীসের সনদ (সূত্র) ও মতন (মূল পাঠ) সম্পর্কে আমার চূড়ান্ত দৃষ্টিভঙ্গিকে ব্যক্ত করে।

 

‌‌আর এখন আমার সংক্ষিপ্ত করা ক্রম অনুযায়ী এই পথগুলোর (সূত্রগুলোর) বিস্তারিত বর্ণনা শুরু করার সময় হয়েছে:

‌‌১- আনাস-এর হাদীস:

ইমাম আবু ঈসা আত-তিরমিযী রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘জামি’ (১) গ্রন্থে বলেছেন:

(২৮৮৭) : ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) হাফিয ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ‘ইখতিসার উলূমিল হাদীস’ (পৃ. ৩১) গ্রন্থে (তিরমিযী ও নাসায়ীর ওপর ‘সহীহ’ নাম প্রয়োগ করা) শিরোনামের অধীনে বলেছেন: ‘আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ এবং খতীব আল-বাগদাদী তিরমিযীর কিতাবকে ‘আল-জামি আস-সহীহ’ নামকরণ করতেন। এটি তাদের পক্ষ থেকে কিছুটা শিথিলতা, কারণ এতে অনেক মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) হাদীস রয়েছে...’।

ড. নূরুদ্দীন ইতর তাঁর ‘আল-ইমাম আত-তিরমিযী ওয়াল মুওয়াযানা বাইনা জামি’ইহি ওয়া বাইনাস সহীহাইন’ (পৃ. ৫০-৫১) গ্রন্থে বলেছেন: ‘কিতাবটির মূল শিরোনাম এবং এর ওপর যে নামগুলো প্রয়োগ করা হয়, সে সম্পর্কে আমরা কতিপয় নাম পেয়েছি, যেগুলো হলো:

১- সহীহ আত-তিরমিযী; যা খতীব (আল-বাগদাদী)-এর প্রয়োগ, যেমনটি সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন।

২- আল-জামি আস-সহীহ; এটি আল-হাকিমের প্রয়োগ।

অথচ আমরা এর কিছু হাদীসকে সহীহ, কিছুকে হাসান এবং কিছুকে এর চেয়েও নিম্নমানের পাই এবং তিনি (ইমাম তিরমিযী) এই স্তরগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। সুতরাং এই উভয় নামকরণের ক্ষেত্রেই এক ধরনের রূপক বা শিথিলতা রয়েছে।

৩- আল-জামি আল-কাবীর; কাত্তানী ‘আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফা’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর ব্যবহার খুব কম।

৪- আস-সুনান; এটি কিতাবটির একটি প্রসিদ্ধ নাম। একে রচয়িতার দিকে সম্বন্ধ করে প্রায়ই ‘সুনানে তিরমিযী’ বলা হয় যাতে অন্য ‘সুনান’ গ্রন্থগুলো থেকে একে পৃথক করা যায়।

এই নামকরণের কারণ হলো এতে ফিকহী অধ্যায়গুলোর বিন্যাস অনুযায়ী আহকাম বা বিধি-বিধান সংক্রান্ত হাদীসগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর যে কিতাব এমন হয় তাকে ‘সুনান’ বলা হয়। কিন্তু এই কিতাবে আহকাম ছাড়াও অন্যান্য বিষয় রয়েছে। তাই এই নামকরণের ক্ষেত্রেও আংশিক বিষয়ের নামে পূর্ণ কিতাবের নামকরণের মাধ্যমে এক প্রকার রূপক ব্যবহার করা হয়েছে।

৫- আল-জামি: এটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং অধিক ব্যবহৃত। লেখকের দিকে নিসবত করে এটি ‘জামি তিরমিযী’ হিসেবে প্রসিদ্ধ। এর এই নামকরণের কারণ হলো: মুহাদ্দিসগণের নিকট ‘জামি’ হলো ওই কিতাব যা হাদীসের আটটি শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর সেগুলো হলো: সিরাত, আদব (শিষ্টাচার), তাফসীর, আকাইদ (বিশ্বাস), ফিতান (বিপর্যয়), আহকাম (বিধান), আশরাত (কিয়ামতের আলামত) এবং মানাকিব (মর্যাদা)। এই অধ্যায়গুলো বিদ্যমান থাকায় কিতাবটির নাম ‘জামি’ রাখা হয়েছে।

আর এই ‘আল-জামি’ বা ‘জামি তিরমিযী’ নামটি কিতাবটির সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ; কারণ এটি:

৬- উক্ত আটটি শাস্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

 

৭- কারণ এটি ‘সহীহ’ হওয়ার শর্ত থেকে মুক্ত, যা কিতাবটির অবস্থা ও বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং ইমাম তিরমিযীর কিতাবের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার জন্য এটিই সর্বাপেক্ষা উত্তম নাম। তাই কিতাবটির নাম ‘আল-জামি’ রাখা এবং এই শিরোনামেই মুদ্রিত হওয়াকে উত্তম মনে করা হয়েছে। কিন্তু যারা কিতাবটিকে ‘সহীহ’ শিরোনামে ছাপিয়েছেন, যেমন ‘সহীহ আত-তিরমিযী’ বা ‘আল-জামি আস-সহীহ’, তারা সঠিক কাজটি করেননি; যার কারণ হিসেবে আমরা (নামকরণের ক্ষেত্রে) শিথিলতার কথা উল্লেখ করেছি। এছাড়া আমাদের ভয় হয় যে, এর ফলে কোনো অনভিজ্ঞ ব্যক্তি বিভ্রান্তিতে পড়তে পারে এবং কিতাবের সকল হাদীসকে সহীহ মনে করে বসতে পারে, যা বাস্তবের বিপরীত।’ সমাপ্ত।

আমি (লেখক) বলছি: উল্লিখিত কিতাবটি অত্যন্ত মূল্যবান, এটি অধ্যয়ন ও গুরুত্ব প্রদানের যোগ্য। কারণ এতে ইমাম তিরমিযীর পরিভাষা এবং তাঁর কিতাব সংক্রান্ত অনেক জটিলতার নিরসন রয়েছে।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ١٧)
قتيبة وسفيان بن وكيع قالا: حدثنا حميد بن عبد الرحمن الرؤاسي عن الحسن بن صالح عن هارون أبي محمد عن مقاتل بن حيان عن قتادة عن أنس قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: (إن لكل شيء قلباً، وقلب القرآن يس، ومن قرأ يس كتب الله له بقراءتها قراءة القرآن عشر مرات) » . ثم قال: «هذا حديث غريب (1) لا نعرفه إلا من حديث حميد بن عبد الرحمن، وبالبصرة لا يعرفون (2) من حديث قتادة إلا من هذا الوجه وهارون أبو محمد شيخ مجهول.

--------------------------------------------

(1) وفي نسخة: «حسن غريب» كما سيأتي عن العلامة الألباني.

(2) يعني: لا يعرفون هذا الحديث. وكذلك العبارة في المخطوط (ق 226 ب) و «عارضة الأحوذي» و «التحفة» . وسأزيدها بياناً في محله بإذن الله.
কুতাইবাহ এবং সুফিয়ান ইবনে ওয়াকি' বলেন: হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান আর-রুআসি হাসান ইবনে সালিহ থেকে, তিনি হারুন আবু মুহাম্মাদ থেকে, তিনি মুকাতিল ইবনে হাইয়ান থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একটি অন্তর আছে, আর কুরআনের অন্তর হলো ইয়াসিন। যে ব্যক্তি ইয়াসিন পাঠ করবে, আল্লাহ তার জন্য এর বিনিময়ে দশবার কুরআন পাঠের সওয়াব লিখে দেবেন।" অতঃপর তিনি বলেন: "এই হাদিসটি গরিব (১)। হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমানের হাদিস ছাড়া এটি আমাদের জানা নেই। আর বসরাবাসীদের নিকট কাতাদাহর হাদিস হিসেবে কেবল এই সূত্রেই এটি পরিচিত (২)। হারুন আবু মুহাম্মাদ একজন অপরিচিত শায়খ।"

--------------------------------------------

(১) একটি পাণ্ডুলিপিতে 'হাসান গরিব' রয়েছে, যেমনটি আল্লামা আলবানি থেকে সামনে উল্লেখ করা হবে।

(২) অর্থাৎ: তারা এই হাদিসটি জানেন না। পাণ্ডুলিপি (পৃষ্ঠা ২২৬ বি), 'আরিদাতুল আহওয়াযি' এবং 'আত-তুহফাহ' গ্রন্থেও পাঠ্যটি এমনই রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, যথাস্থানে আমি এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করব।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ١٨)
حدثنا (1) أبو موسى محمد بن المثنى حدثنا أحمد بن سعيد الدرامي حدثنا قتيبة عن حميد بن عبد الرحمن بهذا، وفي الباب عن أبي بكر الصديق، ولا يصح من قبل إسناده، إسناده ضعيف» .

زاد في المخطوط و «التحفة» : «وفي الباب عن أبي هريرة» ، وقال الحافظ أبو بشر الدَّوْلابيّ رحمه الله في «الكنى والأسماء» له (2/102) : «أخبرنى أحمد بن شعيب (2) قال: أنبأ قتيبة بن سعيد … » فذكره مختصراً. (وتحرف عنده: الحسن بن صالح إلى: جبير بن صالح!) . ورواه الخطيب (4/167) من طريق أبي زرعة الرازي حدثنا أبوحفص عمرو بن على حدثني أحمد بن سعيد الدرامي النيسابوري حدثنا قتيبة بن سعيد ـ أبو رجاء البغلاني ـ به مختصراً.

وهو والبيهقي في «الشعب» (2460) من طريقين عن داود بن الحسين حدثنا أبو موسى محمد بن المثنى حدثنا أحمد بن سعيد الدارمي به.

--------------------------------------------

(1) وهذا إسناد نازل للترمذي يلتقي أيضاً عند شيخه قتيبة، ولم أدْر ما الذي حمله على ذلك.

(2) هو الإمام النسائي رحمه الله وليس الحديث في «تفسيره» ولا «فضائل القرآن» له فالظاهر أنه أورده في ترجمه (هارون أبي محمد) من كتابه «الكني» . وهو عمدة الدَّولابي في مواضع كثيرة من كتابه. والله أعلم.
আবু মুসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন সাঈদ আদ-দারেমী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, কুতাইবা আমাদের নিকট হুমায়িদ বিন আবদুর রহমান থেকে এই সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর এই অনুচ্ছেদে আবু বকর আস-সিদ্দিক থেকেও বর্ণনা রয়েছে, তবে তার সনদের দিক থেকে তা সহীহ নয়; এর সনদ দুর্বল।

পাণ্ডুলিপি এবং ‘আত-তুহফা’ গ্রন্থে বর্ধিত অংশ রয়েছে: “আর এই অনুচ্ছেদে আবু হুরায়রা থেকেও বর্ণনা রয়েছে।” হাফিজ আবু বিশর আদ-দাওলাবী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আল-কুনা ওয়াল আসমা’ গ্রন্থে (২/১০২) বলেছেন: “আহমাদ বিন শুআইব (২) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: কুতাইবা বিন সাঈদ আমাদের অবহিত করেছেন...” এরপর তিনি তা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। (আর তাঁর নিকট ‘হাসান বিন সালিহ’ শব্দটি বিকৃত হয়ে ‘জুবাইর বিন সালিহ’ হয়ে গেছে!)। আর আল-খতীব (৪/১৬৭) এটি আবু যুরআহ আর-রাযীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, (যিনি বলেছেন) আবু হাফস আমর বিন আলী আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন সাঈদ আদ-দারেমী আন-নিসাবুরী আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, কুতাইবা বিন সাঈদ—আবু রাজা আল-বাগালানী—এর মাধ্যমে এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

তিনি এবং আল-বায়হাকী ‘আশ-শুআব’ গ্রন্থে (২৪৬০) দাউদ বিন আল-হুসাইনের মাধ্যমে দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন, (যিনি বলেছেন) আবু মুসা মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন সাঈদ আদ-দারেমী এর মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি তিরমিযীর জন্য একটি নাযিল (দীর্ঘ) সনদ যা তাঁর উস্তাদ কুতাইবার নিকট গিয়ে মিলিত হয়েছে। আর আমি জানি না তাঁকে কিসে এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে।

(২) তিনি হলেন ইমাম আন-নাসায়ী (রাহিমাহুল্লাহ)। আর এই হাদীসটি তাঁর ‘তাফসীর’ কিংবা ‘ফাদাইলুল কুরআন’ গ্রন্থে নেই। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, তিনি এটি তাঁর ‘আল-কুনা’ কিতাবের (হারুন আবু মুহাম্মাদ) এর জীবনী অংশে উল্লেখ করেছেন। আর এটি দাওলাবীর জন্য তাঁর কিতাবের অনেক স্থানে প্রধান অবলম্বন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ١٩)
ورواه الخطيب والشجري (1) في «أماليه» (1/118) بإسناد واحد إلى علي بن طيفور النسوي، والشجري من طريق محمد بن غالب التستوري (2) .

والبيهقي من طريق أبي عبد الله محمد بن الفضل الزاهد، والقضاعي في «مسند الشهاب» (1035) من طريق علي بن عبد العزيز (وهو أبو الحسن البغوي الحافظ) قالوا جميعاً: «حدثنا قتيبة بن سعيد به» .

وقال الحافظ أبو محمد الدرامي رحمه الله في «سننه» (2/456) . «حدثنا محمد بن سعيد حدثنا حميد بن عبد الرحمن … » به.

وقال أبو الفتح الأزدي في «الضعفاء» : «حدثنا أبو يعلي الموصلي (3) ، حدثنا عثمان ابن أبي شيبة عن حميد الرؤاسي … » به. كما في «الميزان» (4/172) .

ورواه البيهقي (2461) من طريق عباس الأسفاطي (وهو ابن الفضل، صدوق من شيوخ الطبراني) ثنا عثمان بن أبي شيبة به.

--------------------------------------------

(1) إلا أن الشجري رواه عن شيخهما إجازة، وعن الخطيب ـ تحديثاً ـ عنه.

(2) كذا، وينظر هل صواب هذه النسبة: (الستوري) ؟ وفي رواية هذا الشيخ: «ومن قرأ يس كتب الله له بقراءته (كذا) قراءة القرآن عشرين مرة» . وقال: «قال كذا في كتابي عشرين مرات (كذا) والباقي سواء إلا أنه قال في آخره: عشرين مرات، كذا كان في كتابي» أهـ. ولم يتبين لي قائل هذا الكلام. والحاصل أن رواية (عشرين مرة) مرجوحة قطعاً في هذا الحديث.

(3) ولم أره في «مسنده» المطبوع، ولا «معجم شيوخه» . فالله أعلم.
আল-খতিব এবং আশ-শাজারি (১) তাঁর ‘আমালি’ (১/১১৮) গ্রন্থে একই সনদে আলি বিন তাইফুর আন-নাসাওয়ি পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন; আর আশ-শাজারি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন গালিব আত-তুস্তারি (২) এর সূত্রে।

এবং আল-বাইহাকি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আজ-জাহিদ-এর সূত্রে, আর আল-কুদায়ি ‘মুসনাদুশ শিহাব’ (১০৩৫) গ্রন্থে আলি বিন আবদুল আজিজ (যিনি হলেন আবু আল-হাসান আল-বাগাউই আল-হাফিজ) এর সূত্রে; তাঁরা সবাই বলেছেন: “কুতাইবাহ বিন সাঈদ আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন”।

এবং হাফিজ আবু মুহাম্মদ আদ-দারিমি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘সুনান’ (২/৪৫৬) গ্রন্থে বলেছেন: “মুহাম্মদ বিন সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হুমাইদ বিন আবদুর রহমান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন … ” এই সূত্রে।

এবং আবু আল-ফাতহ আল-আজদি ‘আদ-দুয়াফা’ গ্রন্থে বলেছেন: “আবু ইয়া’লা আল-মাওসিলি (৩) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উসমান বিন আবি শাইবাহ হুমাইদ আর-রুয়াসি থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন … ” এই সূত্রে। যেমনটি ‘আল-মিজান’ (৪/১৭২) গ্রন্থে রয়েছে।

এবং আল-বাইহাকি (২৪৬১) এটি বর্ণনা করেছেন আব্বাস আল-আসফাতি (তিনি ইবনুল ফজল, তাবারানির নির্ভরযোগ্য শিক্ষকদের একজন) এর সূত্রে, উসমান বিন আবি শাইবাহ এটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তবে আশ-শাজারি এটি তাঁদের উভয়ের শিক্ষকের কাছ থেকে ইজাযাহ (অনুমতি) সূত্রে এবং আল-খতিব থেকে সরাসরি বর্ণনা (তাহদিস) সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) এভাবেই আছে, তবে এই নিসবতটি (উপাধি) কি ‘আস-সুতুরি’ হওয়া সঠিক কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। আর এই শায়খের বর্ণনায় রয়েছে: “এবং যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে, আল্লাহ তার পাঠের বিনিময়ে (এভাবেই আছে) তাকে বিশবার কুরআন খতমের সওয়াব লিখে দেবেন।” এবং তিনি বলেছেন: “আমার কিতাবে বিশবার (এভাবেই আছে) কথাটি এভাবেই আছে এবং বাকি অংশ একই রকম, তবে তিনি এর শেষে বলেছেন: বিশবার, আমার কিতাবে এভাবেই ছিল” ইতি। এই কথাটির প্রবক্তা কে তা আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি। মোদ্দাকথা হলো, এই হাদিসে ‘বিশবার’ কথাটি বর্ণনার দিক থেকে নিশ্চিতভাবেই দুর্বল।

(৩) এবং আমি এটি তাঁর মুদ্রিত ‘মুসনাদ’ কিংবা ‘মু’জামু শুয়ুখ’-এ দেখিনি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
وقال الإمام محمد بن نصر المروزي رحمه الله في «قيام الليل» : «حدثنا نصر بن علي قال: وجدت في كتاب عبد الله بن داود (وهو الخريبي) عن حسن بن صالح قال: حدثني هارون أبو محمد ثنا مقاتل بن حيان … » به مختصراً. كما في «مختصره» للمقريزي (ص73) .

وقد علق العلامة المباركفوري رحمه الله على الجملة الوسطى من كلام الترمذي تعليقاً غريباً غير مرضي، فقال في «تحفة الأحوذي» (8/197) :

«لعل مقصود الترمذي بهذا الكلام أن أهل العلم بالحديث بالبصرة لا يعرفون من حديث قتادة عن صحابي إلا من هذا الوجه أي إلا عن أنس لأن قتادة لم يسمع من صاحبي غير أنس (1) (!) . قال الحافظ في تهذيب التهذيب: وقال الحاكم في علوم الحديث: لم يسمع قتادة من صحابي غير أنس. وقال ابن أبي حاتم في كتاب المراسيل: «أنبأ حرب بن إسماعيل فيما كتب إليّ، قال: قال أحمد بن حنبل: ما أعلم قتادة روى عن أحد من أصحاب النبى صلى الله عليه وسلم إلا عن أنس رضي الله عنه

--------------------------------------------

(1) قلت: كلا، فقد قال أبو حاتم الرازي رحمه الله: «ولم يلق قتادة من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم إلا أنساً، وعبد الله بن سرجس» كما في «المراسيل» لابنه (640) .

وقال الحافظ العلائى في «جامع التحصيل» (ص225) : «وصحح أبو زرعة سماعه من عبد الله بن سرجس وزاد ابن المديني: أبا الطفيل» .

قلت: روى شعبة عنه عن أبي الطفيل رضي الله عنه قوله: «لكل مقام مقال» . رواه الخرائطي في «مكارم الأخلاق» كما في «المنتقي منه» (240) ، وابن عدي في «الكامل» (5/1741) ، وكذا رواه ابن عساكر (8/831) من طريق شعبة وغيره به، وهذا إسناد صحيح جليل.

وإحدى هذه الطرق في «التاريخ الكبير» (3/59) ، لكن إسنادها تالف.
ইমাম মুহাম্মদ ইবন নাসর আল-মারওয়াযী (রহিমাহুল্লাহ) ‘কিয়ামুল লাইল’-এ বলেছেন: “নাসর ইবন আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবন দাউদ (যিনি আল-খুরাইবী)-এর কিতাবে পেয়েছি হাসান ইবন সালেহ থেকে, তিনি বলেছেন: হারুন আবু মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, মুকাতিল ইবন হাইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন … ” এটি সংক্ষেপে। যেমনটি আল-মাকরিযী তাঁর ‘মুখতাসার’-এ উল্লেখ করেছেন (পৃষ্ঠা ৭৩)।

আল্লামা মুবারকপুরী (রহিমাহুল্লাহ) তিরমিযীর বক্তব্যের মধ্যবর্তী বাক্যটির উপর একটি অদ্ভুত ও অপ্রীতিকর মন্তব্য করেছেন, তিনি ‘তুহফাতুল আহওয়াযী’ (৮/১৯৭)-তে বলেছেন:

“সম্ভবত এই কথার মাধ্যমে তিরমিযীর উদ্দেশ্য হলো, বসরার হাদীস বিশারদগণ সাহাবী থেকে কাতাদাহর হাদীস এই সূত্র ব্যতীত অর্থাৎ আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সূত্র ব্যতীত চেনেন না। কেননা কাতাদাহ আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ব্যতীত অন্য কোনো সাহাবীর নিকট থেকে শোনেননি (১) (!)। হাফিয (ইবন হাজার) তহযীবুত তহযীব-এ বলেছেন: আল-হাকিম উলূমুল হাদীস-এ বলেছেন: কাতাদাহ আনাস ব্যতীত অন্য কোনো সাহাবীর নিকট থেকে শোনেননি। আর ইবন আবি হাতিম কিতাবুল মারাসীল-এ বলেছেন: ‘হারব ইবন ইসমাঈল আমাকে যা লিখেছেন তাতে আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমাদ ইবন হাম্বল বলেছেন: আমার জানা মতে কাতাদাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ব্যতীত অন্য কারো নিকট থেকে বর্ণনা করেননি।

--------------------------------------------

(১) আমি বলছি: কখনোই নয়, বরং আবু হাতিম আর-রাযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “কাতাদাহ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে কেবল আনাস এবং আবদুল্লাহ ইবন সারজিসের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।” যেমনটি তাঁর পুত্রের ‘আল-মারাসীল’ (৬৪০) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

হাফিয আল-আলাঈ ‘জামি আত-তাহসীল’ (পৃষ্ঠা ২২৫)-এ বলেছেন: “আবু যুরআ আবদুল্লাহ ইবন সারজিস থেকে তাঁর শ্রবণকে সহীহ বলেছেন এবং ইবনুল মাদীনী ‘আবু তোফায়েল’-কে এর সাথে যুক্ত করেছেন।”

আমি বলছি: শু’বাহ তাঁর থেকে, তিনি আবু তোফায়েল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তাঁর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন: “প্রতিটি পরিস্থিতির জন্যই উপযুক্ত কথা রয়েছে।” এটি আল-খারাইতী ‘মাকারিমুল আখলাক’-এ বর্ণনা করেছেন যেমনটি ‘আল-মুন্তাকা মিনহু’ (২৪০)-তে রয়েছে, এবং ইবন আদী ‘আল-কামিল’ (৫/১৭৪১)-এ বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ইবন আসাকির (৮/৮৩১) শু’বাহ ও অন্যান্যদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটি একটি চমৎকার সহীহ সনদ।

এই সূত্রগুলোর মধ্যে একটি ‘আত-তারীখুল কাবীর’ (৩/৫৯)-এ রয়েছে, কিন্তু সেটির সনদ অকেজো।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٢١)
قيل: فابن سرجس؟ وكأنه لم يره سماعاً. انتهى. والله تعالى أعلم» .

قلت: لاشك أن المتبادر إلى الأذهان ـ لأول وهلة ـ أن الترمذي رحمه الله يريد بقوله: «لا يعرفون» أنهم لا يعرفون هذا الحديث أو هذا المتن، فيكون مقصوده أن البصريين لا يعرفون هذا المتن ـ من حديث قتادة عن أنس ـ إلا من هذا الوجه بخصوصه الذي أتى به هارون أبو محمد هذا عن مقاتل بن حيان عنه به. فمقاتل إنما هو نبطي بلخي ـ كان بمرو وكابل ـ وليس هو بصرياً وإن رَوَى عن غير واحد من البصريين، وليس هذا الحديث عند مشاهير الثقات من أصحاب قتادة ـ وأغلبهم من أهل البصرة أو كان بها ـ كهشام الدستوائي وسعيد بن أبي عروبة، وشعبة، وهمام، وأيوب، وأبان العطار، وسلام بن أبي مطيع، وشيبان النحوي، وأبي عوانة، وأضرابهم، بل ليس عند الثقات المتكلم في حديثهم عن قتادة خاصة: كحماد بن سلمة، ومعمر، وجرير بن حازم، ويزيد بن إبراهيم التستري. والله أعلم.

وقال أبو محمد بن أبي حاتم رحمه الله في «علل الحديث» (1652) : «سألت أبي عن حديث رواه قتيبة بن سعيد وابن أبي شيبة عن حميد بن عبد الرحمن عن الحسن بن صالح عن هارون أبي محمد عن مقاتل عن قتادة عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم: «إن لكل شيء قلباً وقلب القرآن يس، ومن قرأ كذا» قال: قال أبي: مقاتل هذا هو مقاتل بن سليمان،
বলা হয়েছে: তাহলে ইবনে সারজিস? মনে হচ্ছে তিনি সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে তাঁকে পাননি। সমাপ্ত। আর আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

আমি বলি: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রথম দৃষ্টিতেই মনে আসে যে তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর উক্তি "তারা চেনে না" দ্বারা এটিই বুঝাতে চেয়েছেন যে, তারা এই হাদিস বা এই মূলপাঠটি (মতন) চেনে না। সুতরাং তাঁর উদ্দেশ্য হলো বসরাবাসীরা আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত কাতাদার এই হাদিসটির মূলপাঠ চেনে না—ব্যতিক্রম হলো হারুন আবু মুহাম্মদের বর্ণিত এই বিশেষ সূত্রটি, যা তিনি মুকাতিল ইবনে হাইয়্যান থেকে এবং তিনি কাতাদা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। মুকাতিল মূলত একজন নাবাতি বালখি—যিনি মার্ভ ও কাবুলে অবস্থান করতেন—তিনি বসরাবাসী নন, যদিও তিনি একাধিক বসরাবাসীর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। আর এই হাদিসটি কাতাদার সুপ্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ছাত্রদের নিকট নেই—যাদের অধিকাংশ বসরার অধিবাসী ছিলেন বা সেখানে অবস্থান করতেন—যেমন হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ি, সাঈদ ইবনে আবি আরুবাহ, শু'বাহ, হাম্মাম, আইয়ুব, আবান আল-আত্তার, সাল্লাম ইবনে আবি মুতি', শায়বান আন-নাহবি, আবু আওয়ানাহ এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। এমনকি এটি ঐ সকল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের কাছেও নেই যাঁদের কাতাদার হাদিস বর্ণনার ব্যাপারে বিশেষ পর্যালোচনা রয়েছে: যেমন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, মা'মার, জারির ইবনে হাযিম এবং ইয়াযীদ ইবনে ইবরাহিম আত-তুস্তারি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আবু মুহাম্মদ ইবনে আবি হাতিম (রহিমাহুল্লাহ) 'ইলালুল হাদিস' (১৬৫২) গ্রন্থে বলেছেন: আমি আমার পিতাকে একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যা কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ এবং ইবনে আবি শাইবাহ বর্ণনা করেছেন হুমাইদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি হাসান ইবনে সালিহ থেকে, তিনি হারুন আবু মুহাম্মদ থেকে, তিনি মুকাতিল থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একটি হৃদয় থাকে এবং কুরআনের হৃদয় হলো ইয়াসিন; আর যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে..." তিনি বললেন: আমার পিতা বলেছেন: এই মুকাতিল হলেন মুকাতিল ইবনে সুলাইমান।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
رأيت هذا الحديث في أول كتاب وضعه مقاتل بين سليمان، وهو حديث باطل لا أصل له. قلت لأبي، مقاتل أدرك قتادة؟ قال: وأكبر من قتادة، أبو الزبير» أهـ.

قلت: وسيأتي التعقيب على هذا في محله بإذن الله.

* وقال أبو الفتح الأزدي رحمه الله في ترجمة (مقاتل بن حيان) من «ضعفائه» : «سكتوا عنه» . ثم ذكر عن وكيع أنه قال: «ينسب إلى الكذب» (1) . ثم قال: «وقال ابن معين: ضعيف. وكان أحمد بن حنبل لا يعبأ بمقاتل بن حيان ولا بابن سليمان» . ثم قال: «حدثنا أبو يعلي الموصلي … » فذكر الحديث كما قدمت كما في «الميزان» (4/172) .

قال الذهبي: «قلت: الظاهر أنه مقاتل بن سليمان (2) ، وقد جاء توثيق يحيى ابن معين لابن حيان من وجوه عنه. وقال فيه الدارقطني: صالح الحديث. نعم، أما ابن خزيمة فقال: لا أحتج بمقاتل بن حيان … » .

قلت: وسيأتي ما في استظهاره في محله أيضاً. والله المستعان.

* وقال الإمام أبو بكر بن العربي المالكي رحمه الله في «عارضة الأحوذي» (11/17) : «حديثها ضعيف (يعني سورة يس) فلم نقبل عليه.

--------------------------------------------

(1) قال الذهبي في «الميزان» ـ معترضاً ـ: «كذا قال أبو الفتح، وأحسبه التبس عليه مقاتل بن حيان بمقاتل ابن سليمان، فابن حيان صدوق قوي الحديث، والذي كذبه وكيع فابن سليمان» .

(2) حيث ورد في إسناد أبي الفتح مهملاً، لم ينسب إلى أبيه.
আমি মুকাতিল বিন সুলাইমানের সংকলিত প্রথম কিতাবে এই হাদিসটি দেখেছি, এবং এটি একটি বাতিল হাদিস যার কোনো ভিত্তি নেই। আমি আমার পিতাকে বললাম, মুকাতিল কি কাতাদাহকে পেয়েছেন? তিনি বললেন: এবং কাতাদাহর চেয়ে বড়, আবু যুবায়ের। সমাপ্ত।

আমি বলছি: ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে এর উপর মন্তব্য আসবে।

* এবং আবুল ফাতহ আল-আযদি (রাহিমাহুল্লাহ) তার ‘দুয়াফা’ গ্রন্থে (মুকাতিল বিন হাইয়্যান)-এর জীবনীতে বলেছেন: “তারা তার ব্যাপারে চুপ থেকেছেন।” এরপর তিনি ওকী‘ থেকে উল্লেখ করেছেন যে তিনি বলেছেন: “তার দিকে মিথ্যার সম্বন্ধ করা হয়” (১)। এরপর তিনি বলেছেন: “ইবনে মাঈন বলেছেন: যয়ীফ। এবং আহমাদ বিন হাম্বল মুকাতিল বিন হাইয়্যান বা ইবনে সুলাইমান কারো প্রতিই ভ্রূক্ষেপ করতেন না।” এরপর তিনি বললেন: “আমাদের কাছে আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি … ” এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন যেমনটি আমি ‘আল-মিজান’ (৪/১৭২) থেকে পূর্বে উপস্থাপন করেছি।

আয-যাহাবি বলেছেন: “আমি বলছি: বাহ্যত এটি মুকাতিল বিন সুলাইমান (২), আর ইবনে হাইয়্যান সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে নির্ভরযোগ্যতার বর্ণনা এসেছে। আদ-দারাকুতনি তার ব্যাপারে বলেছেন: সালিহুল হাদিস। হ্যাঁ, তবে ইবনে খুযাইমাহ বলেছেন: আমি মুকাতিল বিন হাইয়্যানকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করি না … ”।

আমি বলছি: তার এই অনুমানের বিষয়েও যথাস্থানে আলোচনা আসবে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

* এবং ইমাম আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-মালিকি (রাহিমাহুল্লাহ) ‘আরিদাতুল আহওয়াযি’ (১১/১৭) গ্রন্থে বলেছেন: “এর হাদিসটি যয়ীফ (অর্থাৎ সূরা ইয়াসিন) তাই আমরা এর প্রতি মনোনিবেশ করিনি।

--------------------------------------------

(১) আয-যাহাবি ‘আল-মিজান’-এ আপত্তি জানিয়ে বলেছেন: “আবুল ফাতহ এমনটিই বলেছেন, তবে আমি মনে করি তার কাছে মুকাতিল বিন হাইয়্যান এবং মুকাতিল বিন সুলাইমান উভয়ের মাঝে বিভ্রান্তি ঘটেছে। কারণ ইবনে হাইয়্যান তো সত্যবাদী ও হাদিসের ক্ষেত্রে শক্তিশালী, আর ওকী‘ যাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন তিনি হলেন ইবনে সুলাইমান।”

(২) যেহেতু আবুল ফাতহের সনদে এটি অস্পষ্টভাবে এসেছে, তার পিতার দিকে সম্বন্ধ করা হয়নি।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وللناس فيها رواء وآراء وروايات وتأويلات وذلك كله لا أصل له. وقد روى أبو داود: «اقرؤا يس على موتاكم» (1) ولم يصح» أهـ.

* وصدَّر الحديثَ الحافظُ المنذري رحمه الله في «الترغيب والترهيب» (2/636) بتحقيق الشيخ هراس) . بصيغة التمريض جازماً بضعفه. وحكى استغراب الترمذي له، وتمم محققه رحمه الله عبارة الترمذي.

* وقال الحافظ الذهبي رحمه الله في ترجمة (هارون أبي محمد) من «الميزان» (4/288) : «عن مقاتل بن حيان حديث: «قلب القرآن يس» . قال الترمذي: مجهول. قلت: أنا (2) أتهمه بما رواه القضاعي في شهابه … » فذكره بإسناده إليه، وسيأتي ما بينه وبين إسناد «الشهاب» المطبوع من التفاوت في حينه.

* وأورده الحافظ ابن كثير رحمه الله في أول تفسير (سورة يس) من «تفسيره» (3/562 - 563) ، وحكى كلام الترمذي بغير تعقيب.

* وكذا الحافظ ابن حجر رحمه الله في «الكافي الشاف» (ص140) مختصراً.

* وحكى الحافظ المناوي رحمه الله في «الفتح السماوي» (3/951-952) ما قاله ابن حجر عن الولي العراقي رحمه الله حاشا تجهيل هارون،

--------------------------------------------

(1) ستأتي الخلاصة في هذا الحديث عند إيراد حديث معقل بن يسار رضي الله عنه.

(2) وهذا التصرف لم أعرف سببه، فالحديث نفسه في «جامع الترمذي» وبجهالة هارون أعله، فلماذا العزو لشهاب القضاعي؟ ولو قال: «أنا اتهمه بما رواه هو والقضاعي في شهابه … » الخ، لكان ذلك أشبه.
মানুষের এ বিষয়ে বিভিন্ন অভিমত, মতামত, বর্ণনা এবং ব্যাখ্যা রয়েছে যার কোনো ভিত্তি নেই। আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন: «তোমরা তোমাদের মৃতদের ওপর ইয়াসিন পাঠ করো» (১) কিন্তু এটি বিশুদ্ধ নয়। সমাপ্ত।

* হাফেজ মুনজিরি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব’ (২/৬৩৬, শেখ হাররাসের তাহকীকসহ) গ্রন্থে হাদিসটিকে দুর্বলতা জ্ঞাপক শব্দ দিয়ে উল্লেখ করেছেন এবং এর দুর্বলতার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি ইমাম তিরমিযীর একে অদ্ভুত (গারীব) মনে করার কথা বর্ণনা করেছেন এবং এর মুহাক্কিক (রহিমাহুল্লাহ) তিরমিযীর কথাটিকে পূর্ণ করেছেন।

* হাফেজ যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-মিজান’ (৪/২৮৮) গ্রন্থে (হারুন আবু মুহাম্মদ)-এর জীবনীতে বলেছেন: «মুকাতিল ইবনে হাইয়ান থেকে বর্ণিত হাদিস: ‘কুরআনের হৃদয় হলো ইয়াসিন’। তিরমিযী বলেছেন: এটি মাজহুল বা অপরিচিত। আমি (যাহাবী) বলছি: আমি (২) তাকে কুদায়ী তার ‘শিহাব’ গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তার কারণে অভিযুক্ত করি ...» অতঃপর তিনি তাঁর নিজের সনদসহ সেটি উল্লেখ করেছেন। মুদ্রিত ‘শিহাব’-এর সনদের সাথে এর যে পার্থক্য রয়েছে, তা যথাসময়ে সামনে আসবে।

* হাফেজ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ‘তাফসীর’ (৩/৫৬২ - ৫৬৩)-এর (সূরা ইয়াসিন)-এর শুরুতে এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম তিরমিযীর বক্তব্যটি কোনো মন্তব্য ছাড়াই বর্ণনা করেছেন।

* অনুরূপভাবে হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-কাফিশ শাফ’ (পৃষ্ঠা ১৪০) গ্রন্থে সংক্ষেপে এটি উল্লেখ করেছেন।

* হাফেজ মুনাবী (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-ফাতহুস সামাউয়ি’ (৩/৯৫১-৯৫২) গ্রন্থে হারুনকে মাজহুল বলা ব্যতীত ইবনে হাজার ওয়ালি আল-ইরাকী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে যা নকল করেছেন তা উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) মা'কিল ইবনে ইয়াসার (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি আলোচনার সময় এই হাদিসের সারসংক্ষেপ সামনে আসবে।

(২) এই আচরণের কারণ আমি জানতে পারিনি। কারণ হাদিসটি স্বয়ং ‘জামে তিরমিযী’তে বিদ্যমান এবং হারুনের পরিচয়হীনতার (জাহালাত) কারণেই তিনি হাদিসটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন। তবে কেন কুদায়ীর ‘শিহাব’-এর দিকে নিসবত করা হলো? যদি তিনি বলতেন: «আমি তাকে সেই বর্ণনার কারণে অভিযুক্ত করি যা সে এবং কুদায়ী তার ‘শিহাব’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছে ...» ইত্যাদি, তবে সেটি অধিক সঙ্গত হতো।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
فجعله من كلام الحافظ رحمه الله نفسه، وليس كذلك، بل هو من نقله عن الترمذي. ولذلك تعقبه محقق «الفتح» .

* وقال الشيخ العلامة الألباني ـ حفظه الله ـ في «السلسلة الضعيفة» (169) : «موضوع» .

وعزاه للترمذي والدرامي وحدهما. وحكى كلام الترمذي بزيادة: «حسن» .

وقال: «قلت: كذا في نسختنا من الترمذي: «حسن غريب» ونقل المنذري في «الترغيب» (2/22) والحافظ ابن كثير في «تفسيره» (3/563) والحافظ في «التهذيب» أنه قال: «حديث غريب» ليس في نقلهم عنه أنه حسنه ولعله الصواب فإن الحديث ضعيف ظاهر الضعف بل هو موضوع من أجل هارون، فقد قال الحافظ الذهبي في ترجمته بعد أن نقل عن الترمذي تجهيله إياه: «قلت: أنا أتهمه بما رواه القضاعي في «شهابه» . ثم ساق له هذا الحديث. وفي «العلل» (2/55 ـ 56) لابن أبي حاتم: «سألت أبي عن هذا الحديث» (فذكره باختصار آخره) . قال: «قلت: كذا جزم أبو حاتم ـ وهو الإمام الحجة ـ أن مقاتلاً المذكور في الإسناد هو ابن سليمان مع أنه وقع عند الترمذي والدارمي «مقاتل بن حيان» كما رأيت، فعله خطأ من بعض الرواة. ويؤيده أن الحديث رواه القضاعي كما سبق وكذا أبو الفتح الأزدي من طريق حميد الرؤاسي بسنده المتقدم عن مقاتل عن قتادة به. كذا قال: «عن مقاتل» لم ينسبه فظن بعض الرواه أنه ابن حيان فنسبه إليه. من
তিনি এটিকে হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিজস্ব কথা বলে সাব্যস্ত করেছেন, অথচ বিষয়টি তেমন নয়; বরং এটি তিরমিজি থেকে তাঁর উদ্ধৃতি মাত্র। আর এই কারণেই ‘আল-ফাতহ’-এর মুহাক্কিক (গবেষক) এর সমালোচনা করেছেন।

* এবং শাইখ আল্লামা আলবানি (হাফিজাহুল্লাহ) ‘আস-সিলসিলাতুত দয়িফাহ’ (১৬৯) গ্রন্থে বলেছেন: “এটি জাল (মওজু)।”

এবং তিনি এটিকে কেবল তিরমিজি ও দারিমির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। আর তিনি তিরমিজির বক্তব্যটি ‘হাসান’ শব্দের আধিক্যসহ উল্লেখ করেছেন।

এবং তিনি বলেছেন: “আমি বলছি: আমাদের নিকট তিরমিজির পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই ‘হাসান গরিব’ রয়েছে। তবে মুনজিরি ‘আত-তারগিব’ (২/২২) গ্রন্থে, হাফেজ ইবনে কাসির তাঁর ‘তাফসির’ (৩/৫৬৩) গ্রন্থে এবং হাফেজ ‘আত-তাহজিব’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি (তিরমিজি) বলেছেন: ‘এটি গরিব হাদিস’। তাদের উদ্ধৃতিতে তিনি একে হাসান বলেছেন—এমনটি নেই, আর সম্ভবত সেটিই সঠিক। কেননা হাদিসটি দুর্বল এবং এর দুর্বলতা সুস্পষ্ট, বরং হারুনের কারণে এটি জাল (মওজু)। হাফেজ জাহাবি হারুনের জীবনীতে তিরমিজি কর্তৃক তাকে অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করার কথাটি উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: ‘আমি বলছি: কুদায়ী তাঁর ‘শিহাব’ গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন, সেটির কারণে আমি তাকে অভিযুক্ত করছি।’ এরপর তিনি তাঁর সূত্রে এই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। এবং ইবনে আবি হাতিমের ‘আল-ইলাল’ (২/৫৫-৫৬) গ্রন্থে রয়েছে: ‘আমি আমার পিতাকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি’ (এরপর তিনি এর শেষাংশ সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন)। তিনি বলেছেন: ‘আমি বলছি: আবু হাতিম—যিনি একজন হুজ্জাত (প্রমাণ্য) ইমাম—এভাবে দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে, সনদে উল্লিখিত মুকাতিল হলেন ইবনে সুলাইমান; যদিও আপনি যেমনটি দেখেছেন তিরমিজি ও দারিমির নিকট ‘মুকাতিল ইবনে হাইয়ান’ এসেছে, যা সম্ভবত কিছু বর্ণনাকারীর ভুল। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো, হাদিসটি কুদায়ী বর্ণনা করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং একইভাবে আবুল ফাতহ আল-আজদি হুমাইদ আর-রুয়াসির সূত্রে তাঁর পূর্বোক্ত সনদে মুকাতিল থেকে, তিনি কাতাদা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এভাবেই বলেছেন: ‘মুকাতিল থেকে’, তাঁর বংশ পরিচয় উল্লেখ করেননি। ফলে কিছু বর্ণনাকারী ধারণা করেছেন যে তিনি ইবনে হাইয়ান, তাই তারা তাঁকে তাঁর সাথে সম্পর্কিত করেছেন। থেকে (বা হতে)।”
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
هؤلاء الأزدي نفسه فإنه ذكر عن وكيع أنه قال في مقاتل بن حيان: «يُنسب إلى الكذب» قال الذهبي: كذا قال أبو الفتح … » . فذكره بنحو ما تقدم عن «الميزان» .

قال: «قلت: وإذا ثبت أنه ابن سليمان كما استظهره الذهبي وجزم به أبو حاتم فالحديث موضوع قطعاً لأنه ـ أعني ابن سليمان ـ كذاب كما قال وكيع وغيره. ثم اعلم أن حديث أبي بكر الذي أشار إليه الترمذي وضعه لم أقف على متنه، وأما حديث أبي هريرة قال الحافظ ابن كثير: «منظور فيه» ثم قال: قال أبو بكر البزار: حدثنا عبد الرحمن بن الفضل حدثنا زيد بن الحباب حدثنا حميد المكي مولى آل علقمة عن عطاء بن أبي رباح مرفوعاً به دون قوله: «من قرأها … » ثم قال البزار: «لا نعلم رواه إلا زيد عن حميد» .

قلت: وحميد (1) هذا مجهول كما قال الحافظ في «التقريب» وعبد الرحمن بن الفضل شيخ البزار لم أعرفه (2) أهـ.

--------------------------------------------

(1) سيأتي كلام النقاد تفصيلياً في حميد هذا، والأحاديث التي استنكرت عليه عند حديث أبي هريرة بإذن الله.

(2) ومن المصادفات الطريفة أن الحافظ الهيثمي رحمه الله أيضاً قال في «المجمع» (9/70) ـ عند حديث في فضل عمر ـ: «وإسناده حسن إلا أن عبد الرحمن بن الفضل بن موفق لم أعرفه، وبقية رجاله وثقوا» . دلني عليه محقق «مجمع البحرين» حفظه الله.

لكنه بينما حكى توثيق ابن حبان عند الحديث (2836) منه، قال عنه (3659) : «لا بأس به تقدم حديث 2836» ، ولم يبين سبب إعطائه هذا التقويم. وقد استبان لي ـ من تعليق آخر له ـ أن كل من يتفرد ابن حبان بتوثيقه، فهو لا بأس به عنده!
এই স্বয়ং আযদী, কারণ তিনি ওকী' থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি মুকাতিল ইবনে হাইয়ান সম্পর্কে বলেছেন: «তাকে মিথ্যার সাথে সম্পর্কিত করা হয় (অর্থাৎ তাকে মিথ্যাবাদী বলা হয়)» আয-যাহাবী বলেছেন: আবুল ফাতহ এভাবেই বলেছেন … » । অতঃপর তিনি একে 'আল-মিযান' থেকে পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে সেই অনুসারেই উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেছেন: «আমি বলছি: যদি এটি সাব্যস্ত হয় যে তিনি ইবনে সুলায়মান, যেমনটি যাহাবী প্রকাশ করেছেন এবং আবু হাতিম নিশ্চিত করেছেন, তবে হাদীসটি নিশ্চিতভাবে জাল (মাওযু)। কারণ তিনি—অর্থাৎ ইবনে সুলায়মান—একজন বড় মিথ্যাবাদী, যেমনটি ওকী' এবং অন্যান্যরা বলেছেন। অতঃপর জেনে রাখুন যে, আবু বকর (রা.)-এর যে হাদীসটির প্রতি তিরমিযী ইঙ্গিত করেছেন তার জাল হওয়ার ব্যাপারে, আমি তার মূল পাঠ (মতন) খুঁজে পাইনি। আর আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীস সম্পর্কে হাফিয ইবনে কাসীর বলেছেন: «এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে (মুনযুরুন ফীহ)» অতঃপর তিনি বললেন: আবু বকর আল-বাযযার বলেছেন: আব্দুর রহমান ইবনুল ফযল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, যায়েদ ইবনুল হুবাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আলকামা পরিবারের আযাদকৃত দাস হুমাইদ আল-মাক্কী আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে মারফু' সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে «যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে … » কথাটি ছাড়া। অতঃপর আল-বাযযার বলেছেন: «হুমাইদ থেকে যায়েদ ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন বলে আমাদের জানা নেই» ।

আমি বলছি: আর এই হুমাইদ (১) একজন মাজহুল (অপরিচিত) রাবী, যেমনটি হাফিয 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন। আর বায্যারের উস্তাদ আব্দুর রহমান ইবনুল ফযলকে আমি চিনি না (২)। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

(১) এই হুমাইদ সম্পর্কে সমালোচকদের বিস্তারিত বক্তব্য এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীসের আলোচনায় তার যেসব হাদীসকে মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) বলা হয়েছে, সেগুলো আল্লাহর ইচ্ছায় সামনে আসবে।

(২) একটি চমৎকার কাকতালীয় বিষয় হলো, হাফিয আল-হায়সামী (রহ.)-ও 'আল-মাজমা' (৯/৭০) গ্রন্থে উমর (রা.)-এর ফযীলত সংক্রান্ত একটি হাদীসের আলোচনায় বলেছেন: «এর সনদ হাসান, তবে আব্দুর রহমান ইবনুল ফযল ইবনে মুওয়াফফাককে আমি চিনি না, আর অবশিষ্ট বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য» । 'মাজমাউল বাহরাইন'-এর মুহাক্কিক (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) আমাকে এই তথ্যটি প্রদান করেছেন।

কিন্তু তিনি উক্ত গ্রন্থের (২৮৩৬) নম্বর হাদীসে ইবনে হিব্বানের পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্যতা (তাওসীক) বর্ণনা করলেও, (৩৬৫৯) নম্বর হাদীসে তার সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি সমস্যাগ্রস্ত নন (লা বা'সা বিহি), পূর্ববর্তী ২৮৩৬ নম্বর হাদীস দেখুন» , তবে তিনি তাকে এই মান দেওয়ার কারণ বর্ণনা করেননি। তার অন্য একটি টীকা থেকে আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, যার নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে ইবনে হিব্বান একাকী বর্ণনা করেছেন, তিনি তার নিকট 'লা বা'সা বিহি' (সমস্যাগ্রস্ত নন) হিসেবে গণ্য!
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
قلت: جزى الله شيخ أهل الحديث ـ حفظه الله ـ عن الإسلام والسنة خيراً، على أنني أود أن ألقى الضوء على بعض ما تقدم عند تحقيقه لهذا الحديث، فأقول:

أولاً: الملاحظ أن جميع روايات الحديث أتت عن الحسن بن صالح ـ وهو ابن صالح بن حي الهمداني الكوفي ـ باستثناء روايتي الأزدي وابن أبي حاتم: «عن مقاتل بن حيان» والنسخة التي نقل منها الحافظ الذهبي رحمه الله الحديث من «مسند الشهاب» كأن فيها اختصاراً أو تصرفاً منه أو من بعض الرواة.

فالذي في «الميزان» : «أخبرنا أبو محمد النحاس» والذي في «الشهاب» ـ المطبوع ـ: «أخبرنا أبو محمد عبد الرحمن بن عمر النحاس» .

وفي «الميزان» : «عن مقاتل» وفي «المسند» : «عن مقاتل بن حيان» . ومتن «الميزان» : «لكل شيء قلب، وقلب القرآن يس. فمن قرأها كتب له بقراءتها قراءة القرآن عشر مرار» ، ومتن «المسند» : «إن لكل شيء قلباً، وإن قلب القرآن يس، فمن قرأ يس كتب له بقراءتها قراءة القرآن عشر مرار» .
আমি বলছি: আহলে হাদিসের শাইখ —আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন— ইসলাম ও সুন্নাহর পক্ষ থেকে আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। তবে এই হাদিসটির তাহকিকের ক্ষেত্রে যা গত হয়েছে, তার কিছু বিষয়ের ওপর আমি আলোকপাত করতে চাই। আমি বলছি:

প্রথমত: লক্ষণীয় যে, হাদিসটির সকল বর্ণনা আল-হাসান বিন সালিহ —যিনি ইবনে সালিহ বিন হাই আল-হামদানি আল-কুফি— থেকে বর্ণিত হয়েছে, কেবল আল-আযদি এবং ইবনে আবি হাতিমের বর্ণনাদ্বয় ব্যতীত: "মুকাতিল বিন হাইয়ান থেকে"। আর হাফিজ আয-যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) 'মুসনাদুশ শিহাব' থেকে হাদিসটির যে পাণ্ডুলিপি নকল করেছেন, তাতে মনে হচ্ছে তাঁর পক্ষ থেকে অথবা বর্ণনাকারীদের কারো পক্ষ থেকে কিছুটা সংক্ষেপণ বা রদবদল করা হয়েছে।

সুতরাং 'আল-মিজান' গ্রন্থে যা রয়েছে তা হলো: "আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আন-নাহহাস"; আর 'আশ-শিহাব' —মুদ্রিত— গ্রন্থে যা রয়েছে তা হলো: "আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন উমর আন-নাহহাস"।

এবং 'আল-মিজান' গ্রন্থে রয়েছে: "মুকাতিল থেকে" এবং 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে রয়েছে: "মুকাতিল বিন হাইয়ান থেকে"। আর 'আল-মিজান'-এর মূল পাঠ হলো: "প্রত্যেক জিনিসের একটি হৃদয় রয়েছে, আর কুরআনের হৃদয় হলো ইয়াসিন। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তার পাঠের বিনিময়ে তার জন্য দশবার কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে"। আর 'আল-মুসনাদ'-এর মূল পাঠ হলো: "নিশ্চয়ই প্রত্যেক জিনিসের একটি হৃদয় রয়েছে, আর নিশ্চয়ই কুরআনের হৃদয় হলো ইয়াসিন। সুতরাং যে ব্যক্তি ইয়াসিন পাঠ করবে, তার পাঠের বিনিময়ে তার জন্য দশবার কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে"।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
نعم، وفي إسناد «الميزان» أيضاً: «محمد بن سعيد» . وفي مطبوع «المسند» : «قتيبة بن سعيد» . ولم يتبين لي الصواب منهما، فكلاهما قد رواه عن الرؤاسي كما تقدم.

أقول: فكان يحسن بالشيخ ـ أمتع الله به ـ أن يراجع نقل «الميزان» على «مسند الشهاب» المخطوط أو المطبوع إن كان أحدهما بحضرته وقتئذ. زادنا الله وإياه حرصاً. وظني أن عثمان بن أبي شيبة ـ وحده ـ هو الذي قال: «عن مقاتل» فقد قرنه ابن أبي حاتم ـ في سؤاله لأبيه ـ بقتيبة، ولم أره عن قتيبة إلا باسمه كاملاً: (مقاتل بن حيَّان) وكذا كل من رواه عن حميد الرؤاسي والحسن بن صالح. وعثمان هو راويه عن حميد الرؤاسي عند الأزدي (1) فتأمل.

وليس عثمان فوق قتيبة ومن تابعه فلا يرجُح عليهم، وبالتالي فلن نعتمد روايته التي فيها (عن مقاتل) مُهْملاً بمجردها.

ثانياً: يتعين إلصاق الوهم بالحسن بن صالح ـ عفا الله عنه ـ مع ثقته وصدقه ـ إن برَّأنا ساحة (هارون أبي محمد) ذاك المجهول من قلب اسم (مقاتل ابن سليمان) إلى: (مقاتل بن حيان) ، حيث لم نر أحداً وصفه بأنه راوي أول كتاب وضعه ابن سليمان، على قول أبي حاتم رحمه الله فهو غيره في أغلب الظن. وتبرأة ساحة هذا الرجل أمر متعذر،

--------------------------------------------

(1) وكذا عند البيهقي ـ في رواية عنده ـ كما تقدم، إلا أنه اختصر الإسناد.
হ্যাঁ, আর ‘আল-মিজান’-এর সনদেও রয়েছে: ‘মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ’। আর ‘আল-মুসনাদ’-এর মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: ‘কুতাইবা ইবনে সাঈদ’। তাদের মধ্যে কোনটি সঠিক তা আমার কাছে স্পষ্ট হয়নি, কারণ তারা উভয়েই আর-রুয়াসি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আমি বলি: শাইখের জন্য—আল্লাহ তাকে তার নেয়ামত দ্বারা দীর্ঘজীবী করুন—উচিত ছিল ‘আল-মিজান’-এর উদ্ধৃতিটি ‘মুসনাদ আশ-শিহাব’-এর পাণ্ডুলিপি অথবা মুদ্রিত কপির সাথে মিলিয়ে দেখা, যদি সেই সময় তার কাছে কোনো একটি বিদ্যমান থাকত। আল্লাহ আমাদের এবং তাকে ইলমের প্রতি অধিক আগ্রহী করে তুলুন। আমার ধারণা এই যে, উসমান ইবনে আবি শায়বাহ—একা—হলেন তিনি যিনি বলেছেন: ‘মুকাতেল থেকে’; কারণ ইবনে আবি হাতিম—তার পিতার কাছে করা প্রশ্নে—তাকে কুতাইবার সাথে যুক্ত করেছেন, অথচ আমি কুতাইবার বর্ণনায় তার পূর্ণ নাম (মুকাতেল ইবনে হাইয়্যান) ব্যতিরেকে অন্যভাবে দেখিনি। একইভাবে যারা হুমাইদ আর-রুয়াসি এবং হাসান ইবনে সালেহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা। আর আজদি-র বর্ণনায় হুমাইদ আর-রুয়াসি থেকে উসমানই এর বর্ণনাকারী (১), সুতরাং আপনি বিষয়টি অনুধাবন করুন।

আর উসমান কুতাইবা ও তার অনুসারীদের ঊর্ধ্বে নন যে তাদের ওপর তাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, ফলে আমরা তার সেই বর্ণনাটির ওপর এককভাবে নির্ভর করব না যেখানে (মুকাতেল থেকে) অনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: হাসান ইবনে সালেহ—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন—তার নির্ভরযোগ্যতা ও সত্যবাদিতা সত্ত্বেও এই ভ্রমটি তার দিকেই সম্পর্কিত হওয়া অবধারিত হয়—যদি আমরা সেই অজ্ঞাত ব্যক্তি (হারুন আবু মুহাম্মদ)-কে (মুকাতেল ইবনে সুলাইমান)-এর নাম পরিবর্তন করে (মুকাতেল ইবনে হাইয়্যান) করার দায় থেকে মুক্ত করি। কেননা আমরা কাউকে দেখিনি যিনি তাকে ইবনে সুলাইমানের রচিত প্রথম গ্রন্থের বর্ণনাকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন—আবু হাতিম (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি অনুযায়ী সম্ভবত তিনি অন্য কোনো ব্যক্তি। আর এই লোকটিকে নির্দোষ প্রমাণ করা একটি দুঃসাধ্য বিষয়,

--------------------------------------------

(১) একইভাবে বায়হাকির নিকট—তার একটি বর্ণনায়—রয়েছে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তবে তিনি সনদটি সংক্ষেপ করেছেন।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
أما اتهام الذهبي إياه، فمتوجه ـ عندي ـ إلى قلب اسم شيخه ـ حسب ـ لا إلى وضع هذا الحديث بهذا الإسناد، لأن اتهامه بذلك إنما يكون منتهضاً في حالة كون رجال الإسناد ثقات سواه كما هو معلوم. وليس الأمر كذلك، لأن مقاتلاً هو المتهم بالكذب والوضع ـ من جهة ـ ولأن روايته هذا الحديث ثبتت عند الناقد الجهبذ أبي حاتم الرازي رحمه الله من غير طريق هارون هذا عنه ـ من جهة أخرى ـ، إلا أن يكون سرق الحديث وقلب إسناده. فالله أعلم. وبالله التوفيق.

ثالثاً: الحديث باطل لا أصل له من هذا الوجه بخصوصه، من طريق قتادة عن أنس، ولذلك لم يعرفه أهل البصرة إلا منه كما ذكر أبو عيسى الترمذي رحمه الله. لكن المتن لا يتهيأ الحكم بوضعه أو بطلانه، أو هو على الأقل مما تتفاوت الأنظار في الحكم عليه بذلك (1) . أما النكارة فظاهرة بل مسلَّمة.

وأما الشطر الثاني، فالحكم عليه بالبطلان متوجه لتضمنه أمارة من أمارات الوضع، وهي المبالغة في تقرير الثواب. ولهذه القاعدة استثناءات فيما صح إسناده وتلقي بالقبول.

رابعاً: حديث أبي بكر الصديق رضي الله عنه الذي أشار إليه الترمذي ـ

--------------------------------------------

(1) ولم أدْرِ لماذا جزم الشيخ الألباني بوضعه مع إيراده إياه في نهاية بحثه من حديث أبي هريرة الذي لم يبلغ

حال إسناده ذلك؟ نعم، الظاهر أن هذا الحكم متوجه عنده إلى نفس هذا المتن، على أنه لم يفصح عن ذلك صراحةً. فالله أعلم.
তবে যাহাবীর তাকে অভিযুক্ত করাটি—আমার মতে—কেবল তার শায়খের নামের পরিবর্তনের দিকেই ধাবিত হয়, এই সনদে এই হাদিসটি জাল করার দিকে নয়। কেননা সেই মর্মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তখনই জোরালো হতো যদি জানা মতে তিনি ছাড়া সনদের বাকি বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত হতেন। আর বিষয়টি এমন নয়, কারণ একদিকে মুকাতিল নিজেই মিথ্যাচার ও জালকরণের দায়ে অভিযুক্ত, অন্যদিকে প্রাজ্ঞ সমালোচক আবু হাতিম আর-রাযী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট এই হারুন ছাড়াও অন্য সূত্রে মুকাতিল থেকে এই হাদিসের বর্ণনাটি সাব্যস্ত হয়েছে—যদি না তিনি হাদিসটি চুরি করে এর সনদ পরিবর্তন করে থাকেন। আল্লাহই ভালো জানেন। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে।

তৃতীয়ত: হাদিসটি বাতিল এবং বিশেষত ক্বাতাদাহ থেকে আনাসের সূত্রে এই দিক থেকে এর কোনো ভিত্তি নেই; এই কারণেই আবু ঈসা আত-তিরমিযী (রাহিমাহুল্লাহ) যেমনটি উল্লেখ করেছেন যে, বসরার অধিবাসীগণ তার মাধ্যম ছাড়া এটি চিনতেন না। কিন্তু মূল পাঠটি (মতন) জাল বা বাতিল হওয়ার হুকুম দেওয়ার মতো নয়, অথবা অন্ততপক্ষে এটি এমন একটি বিষয় যাতে এই প্রকার হুকুম দেওয়ার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে (১)। তবে এর মধ্যকার ‘নাকারা’ (অসংগতি) স্পষ্ট, বরং তা সর্বজনস্বীকৃত।

আর দ্বিতীয় অংশটির ক্ষেত্রে বাতিলের হুকুম হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ এতে জাল হওয়ার আলামতগুলোর একটি বিদ্যমান, আর তা হলো সওয়াব বা প্রতিদান বর্ণনায় অতিরঞ্জন। তবে যেগুলোর সনদ সহিহ এবং গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে।

চতুর্থত: আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি যার দিকে তিরমিযী ইঙ্গিত করেছেন—

--------------------------------------------

(১) আমি বুঝতে পারছি না কেন শায়খ আলবানী এটি জাল হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন, যেখানে তিনি তার আলোচনার শেষে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর এমন একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যার সনদের অবস্থা এই পর্যায়ে পৌঁছায়নি?

হ্যাঁ, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে যে এই হুকুমটি তার নিকট খোদ এই মতনের (পাঠের) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যদিও তিনি স্পষ্টভাবে তা প্রকাশ করেননি। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
رحمه الله ـ عزاه العلامة القرطبي في «تفسيره» (15/2) والحافظان ابن كثير وابن حجر في «الكافي» إلى الحكيم الترمذي في «نوادر الأصول» (1) ، وحكاه العلامة المباركفوري في «التحفة» (8/198) عن ابن كثير، ولم يزد.

وقد رواه أيضاً ابن الضريس في «فضائل القرآن» (217، 218) والعقيلي (2/143) والشجري في «أماليه» (1/118) ، والبيهقي في «الشعب» (2465) والخطيب (2/388) ، وابن الجوزي في «الموضوعات» (1/247) من طرق عن إسماعيل بن أبي أويس، حدثني محمد بن عبد الرحمن بن أبي بكر الجدعاني ـ من قريش من بن تميم، من أهل مكة ـ عن سليمان بن مرقاع عن هلال عن الصلت أن أبا بكر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «سورة يس تدعى في التوراة: المعمة، قيل: وما المعمة؟ قال: تعم صاحبها بخير الدنيا والآخرة وتدعى: المدافعة القاضية، وتدفع عن صاحبها كل سوء، وتقضي له كل حاجة، ومن قرأها عدلت له عشرين حجة، ومن سمعها عدلت له ألف دينار في سبيل الله، ومن كتبها ثم شربها أدخلت جوفه ألف دواء، وألف نور، وألف يقين، وألف بركة، وألف رحمة، ونزعت منه كل غل، وكل داء» !!

وهو في «الكنز» (1/590) معزواً إلى الحكيم والبيهقي وحدهما،

--------------------------------------------

(1) هو فيه (ص335) ، وكذا حديث أنس، ولم يذكر مُخْتَصِرُهُ من إسناده سوى هلال عن الصلت (تحرف إلى: هلال بن الصلت) ولم يسق شارحه إسناده لوقوعه في القطعة التي انتهى قبلها بكثير. وليس لمعرفة إسناده كبير فائدة، فالظاهر أن مداره على ابن أبي أويس.
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—আল্লামা কুরতুবি তাঁর ‘তাফসিরে’ (১৫/২) এবং দুই হাফেজ ইবনে কাসির ও ইবনে হাজার ‘আল-কাফি’ গ্রন্থে একে হাকিম তিরমিজির ‘নাওয়াদিরুল উসুল’ (১) এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। আল্লামা মুবারকপুরি ‘আত-তুহফা’ (৮/১৯৮) গ্রন্থে ইবনে কাসির থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বেশি কিছু উল্লেখ করেননি।

এটি ইবনুুদ দুরিস তাঁর ‘ফাদাইলুল কুরআন’ (২১৭, ২১৮) গ্রন্থে, উকায়লি (২/১৪৩), শাজারি তাঁর ‘আমালি’ (১/১১৮) গ্রন্থে, বায়হাকি ‘আশ-শুআব’ (২৪৬৫) গ্রন্থে, খতিব (২/৩৮৮) এবং ইবনুল জাওজি ‘আল-মাওদুআত’ (১/২৪৭) গ্রন্থে ইসমাইল বিন আবি উওয়াইস থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন আবদুর রহমান বিন আবি বকর আল-জাদআনি—যিনি মক্কাবাসী কুরাইশ ও বনু তামিমের অন্তর্ভুক্ত—আমাকে বর্ণনা করেছেন সুলায়মান বিন মুরকা’ থেকে, তিনি হিলাল থেকে, তিনি আল-সালত থেকে যে, আবু বকর (রা.) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তাওরাতে সূরা ইয়াসীনকে ‘আল-মুয়াম্মাহ’ নামে ডাকা হয়। জিজ্ঞেস করা হলো: আল-মুয়াম্মাহ কী? তিনি বললেন: এটি তার পাঠকারীকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দ্বারা পরিবেষ্টিত করে রাখে। একে ‘আল-মুদাফিয়া আল-কাদিয়া’ (প্রতিরোধকারী ও পূরণকারী) বলা হয়, যা তার পাঠকারীর থেকে সকল অনিষ্টকে প্রতিহত করে এবং তার সকল প্রয়োজন পূরণ করে। যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, তা তার জন্য বিশটি হজের সমান হবে। আর যে ব্যক্তি এটি শুনবে, তা আল্লাহর পথে এক হাজার দিনার (ব্যয় করার) সমান হবে। আর যে ব্যক্তি এটি লিখে তারপর পান করবে, তা তার ভেতরে এক হাজার ওষুধ, এক হাজার নূর, এক হাজার ইয়াকিন, এক হাজার বরকত ও এক হাজার রহমত প্রবেশ করাবে এবং তার থেকে সকল হিংসা-বিদ্বেষ ও রোগব্যাধি দূর করে দেবে»!!

এটি ‘আল-কানজ’ (১/৫৯০) গ্রন্থে শুধুমাত্র হাকিম ও বায়হাকির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে উল্লেখ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) এটি সেখানে (পৃ. ৩৩৫) রয়েছে, এবং আনাসের হাদিসটিও অনুরূপ। এর সংক্ষেপকারী এর সনদ থেকে ‘হিলাল আনিল সালত’ (যা ‘হিলাল বিন সালত’ হিসেবে বিকৃত হয়েছে) ব্যতীত আর কিছু উল্লেখ করেননি। আর এর ব্যাখ্যাকারী এর সনদ বর্ণনা করেননি কারণ এটি এমন একটি অংশে পড়েছে যা তার অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। আর এর সনদ জানার মাঝে তেমন কোনো বড় ফায়দা নেই, কারণ দৃশ্যত এটি ইবনে আবি উওয়াইসের ওপর আবর্তিত।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وقد ضعفه الترمذي ـ كما تقدم عنه ـ واستنكره العقيلي ثم البيهقي، وقال ابن الجوزي في «الموضوعات» ـ وقد أورده من حديث أنس (1) وأبي بكر، وبأخصر منه من حديث علي ـ: «هذا الحديث من جميع طرقه باطل لا أصله له» حتى قال: «وأما حديث أبي بكر، فقال النسائي: محمد بن عبد الرحمن الجدعاني متروك الحديث» . قلت: وقوله أشبه بالصواب، فإن لوائح الوضع والتهافت على هذا الكلام لا تخفى على أحد!

وفي الإسناد علل أخرى سوى الجدعاني.

* فابن مرقاع، قال العقيلي: «منكر الحديث» وأورد هذا الحديث في ترجمته (2) .

* وإسماعيل، وهو ابن عبد الله بن أبي أويس المدني ضعيف باستثناء رواية البخاري عنه، ولا مانع من أن ينسحب هذا الحكم على كل من ثبت أنه كان ينتقي من أصوله من أهل الحذق والمعرفة.

قال الحافظ رحمه الله في «هدي الساري» (ص410 ريان) : «احتج به

--------------------------------------------

(1) عن شيخ له عن الخطيب بإسناده إلى أنس. وهو في «تاريخه» (2/387) ، وقال: «وهذا الحديث بهذا الإسناد باطل أيضاً. وإنما يحفظ من حديث محمد بن عبد الرحمن الجدعاني … » إلخ. قلت: وفيه محمد بن عبد بن عامر السمرقندي، وهو وضَّاع.

(2) مع أنه أورد ابن أبي أويس، والجدعاني في «ضعفائه الكبير» أيضاً (1/87، 4/101) ففي صنيعه رد

على القائلين بأنه لا يصح الإعلال بضعف راو أو تدليسه ـ مثلاً ـ والإسناد إليه غير ثابت، والقضية ـ برمتها ـ تحتاج إلى تحرير واستقراء واسع لتصرفات الأئمة رحمهم الله وإن كنت مطمئناً إلى جواز هذا الصنيع.
ইমাম তিরমিযী একে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন—যেমনটি ইতিপূর্বে তার পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে—এবং আল-উকালী ও এরপর আল-বায়হাকী একে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইবনুল জাওযী তার 'আল-মাওদুআত' কিতাবে বলেছেন—যিনি একে আনাস (১), আবু বকর এবং আলীর পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ততর সূত্রে উল্লেখ করেছেন—: "এই হাদীসটি তার সকল সূত্রেই বাতিল, এর কোনো ভিত্তি নেই।" এমনকি তিনি বলেছেন: "আর আবু বকরের হাদীস সম্পর্কে আন-নাসাঈ বলেছেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-জাদআনী মাতরুকুল হাদীস (পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী)।" আমি বলি: তার কথাটিই সত্যের অধিক নিকটবর্তী, কারণ এই বাণীর মধ্যে জাল হওয়ার লক্ষণসমূহ এবং অসংলগ্নতা কারো কাছে গোপন নয়!

আর সানাদে (সূত্রে) জাদআনী ছাড়াও অন্যান্য ত্রুটি বিদ্যমান।

* ইবনে মিরকা সম্পর্কে আল-উকালী বলেছেন: "তিনি মুনকারুল হাদীস" এবং তার জীবনীতে (২) তিনি এই হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

* আর ইসমাঈল, যিনি হলেন ইবনে আব্দুল্লাহ বিন আবি উওয়াইস আল-মাদানী, তিনি দুর্বল; তবে তার থেকে ইমাম বুখারীর বর্ণিত হাদীসগুলো এর ব্যতিক্রম। আর যারা বিশেষজ্ঞ ও জ্ঞানীদের মধ্য থেকে নিজ মূল পাণ্ডুলিপি থেকে যাচাই-বাছাই করে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে প্রমাণিত, তাদের সবার ক্ষেত্রে এই হুকুম প্রয়োগ করতে কোনো বাধা নেই।

আল-হাফিয (রহিমাহুল্লাহ) তার 'হাদয়ুস সারী' (পৃষ্ঠা ৪১০, রাইয়ান প্রকাশনী) গ্রন্থে বলেছেন: "তিনি তাকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছেন...

--------------------------------------------

(১) তার একজন উস্তাদ থেকে, তিনি আল-খাতীব থেকে তার সানাদসহ আনাসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এটি তার 'তারীখ' (২/৩৮৭) গ্রন্থে রয়েছে এবং তিনি বলেছেন: "এই সানাদে এই হাদীসটিও বাতিল। এটি কেবল মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-জাদআনী এর হাদীস থেকে সংরক্ষিত..." ইত্যাদি। আমি বলি: এর মধ্যে মুহাম্মদ বিন আব্দ বিন আমির আস-সামারকন্দী রয়েছে, সে একজন জালিয়াত।

(২) যদিও তিনি ইবনে আবি উওয়াইস এবং জাদআনীকে তার 'দুআফাউল কাবীর' গ্রন্থেও (১/৮৭, ৪/১০১) উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তার এই কাজে সেই সব ব্যক্তিদের কথার খণ্ডন রয়েছে যারা বলেন যে, বর্ণনাকারীর দুর্বলতা বা তার তাদলীসের মাধ্যমে—উদাহরণস্বরূপ—ত্রুটি সাব্যস্ত করা সঠিক নয় যখন তার পর্যন্ত আসা সানাদটি সাব্যস্ত নয়। পুরো বিষয়টি নিয়ে ইমামদের (রহিমাহুল্লাহ) কর্মপন্থা সম্পর্কে বিশদ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে, যদিও আমি এই কর্মপন্থা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٣١)
الشيخان إلا أنهما لم يكثرا من تخريج حديثه، ولا أخرج له البخاري مما تفرد به سوى حديثين، وأما مسلم فأخرج له أقل مما أخرج له البخاري، وروى له الباقون سوى النسائي، فإنه أطلق القول بضعفه … » ، حتى قال: «قلت: وروينا في مناقب البخاري بسند صحيح أن إسماعيل أخرج له أصوله وأذن له أن ينتقي (1) منها وأن يعلم له على ما يحدث به ليحدث به ويعرض عما سواه. وهو مشعر بأن ما أخرجه البخاري عنه هو من صحيح حديثه لأنه كتب من أصوله. وعلى هذا لا يحتج بشيء من حديثه غير ما في الصحيح من أجل ما قدح فيه النسائي وغيره إلا إن شاركه فيه غيره، فيعتبر فيه» .

قلت: وهو يخرج عنه في «تواريخه» أشياء يستنبط منها أموراً ويستدل بها على علل، فالظاهر أن حكمها كذلك.

وعليه، فقد قال في ترجمة الجدعاني من «تاريخه الكبير» (1/157) : «وقال لي إسماعيل: سمعت محمد بن عبد الرحمن بن أبي بكر الجدعاني القرشي المكي منذ ستون سنة (كذا، والصواب: ستين) عن عبيد الله وسليمان ابن مرقاع» . فكأنه يعني هذا الحديث. والله أعلم.

* وهلال، والصلت أشار الخطيب إلى جهالتهما في «تاريخه» (2/387) حيث قال: «وفي إسناده غير واحد من المجهولين» (2) .

--------------------------------------------

(1) تحرف فيه إلى: «ينتفي» ولا شك في خطئها، وهي في «الطبعة السلفية» (ص391) على الصواب.

(2) وهذا يؤيد أيضاً القضية التي أشرت إليها آنفاً في الصفحة السابقة هامش رقم (2) فتأمل.
দুই শায়খ (বুখারী ও মুসলিম) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তাঁরা তাঁর হাদিস অধিক পরিমাণে বর্ণনা করেননি। বুখারী তাঁর একক বর্ণনার মধ্য থেকে কেবল দুটি হাদিস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেননি। আর মুসলিম তাঁর থেকে বুখারীর চেয়েও কম বর্ণনা করেছেন। নাসাঈ ব্যতীত বাকিরা তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন; কেননা নাসাঈ স্পষ্টভাবে তাঁকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন ... » , এমনকি তিনি বলেন: «আমি বলছি: আমরা বুখারীর মানাকিব (মর্যাদা) গ্রন্থে সহীহ সনদে বর্ণনা করেছি যে, ইসমাঈল তাকে (বুখারীকে) তাঁর মূল পাণ্ডুলিপিগুলো বের করে দিয়েছিলেন এবং তাঁকে সেখান থেকে পছন্দমতো বেছে নেওয়ার (১) অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তিনি যা বর্ণনা করবেন তা চিহ্নিত করে দিতে বলেছিলেন যাতে তিনি তা বর্ণনা করতে পারেন এবং বাকিগুলো এড়িয়ে যেতে পারেন। এটি নির্দেশ করে যে, বুখারী তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা তাঁর সহীহ হাদিসের অন্তর্ভুক্ত, কারণ তিনি তাঁর মূল পাণ্ডুলিপি থেকে লিখেছিলেন। এর ভিত্তিতে, নাসাঈ এবং অন্যদের সমালোচনার কারণে 'সহীহ' গ্রন্থে যা আছে তা ছাড়া তাঁর অন্য কোনো হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে না, যদি না অন্য কেউ তাঁর সাথে সেই বর্ণনায় শরিক থাকে; সেক্ষেত্রে তা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে» ।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি (বুখারী) তাঁর 'তারিখ' (ইতিহাস) গ্রন্থগুলোতে তাঁর থেকে এমন কিছু বিষয় বর্ণনা করেন যা থেকে বিভিন্ন মাসআলা আহরণ করা যায় এবং সেগুলোকে ইল্লাত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) নির্ণয়ের দলিল হিসেবে ব্যবহার করা হয়; সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, সেগুলোর বিধানও একইরূপ।

এর ওপর ভিত্তি করে, তিনি তাঁর 'তারিখুল কাবীর' (১/১৫৭) গ্রন্থে জাদ'আনী-র জীবনীতে বলেছেন: «ইসমাঈল আমাকে বলেছেন: আমি ষাট বছর আগে (মূল পাঠে 'সিত্তুনা' রয়েছে, সঠিক হলো 'সিত্তিনা') উবায়দুল্লাহ এবং সুলায়মান ইবনে মিরকা' থেকে মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি বকর আল-জাদ'আনী আল-কুরাশী আল-মাক্কীকে বর্ণনা করতে শুনেছি» । মনে হচ্ছে তিনি এই হাদিসটিই বুঝিয়েছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

* হিলাল এবং সালত: খতীব তাঁর 'তারিখ' (২/৩৮৭) গ্রন্থে তাঁদের পরিচয় অজ্ঞাত হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: «এবং এর সনদে একাধিক অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছেন» (২) ।

--------------------------------------------

(১) এখানে শব্দটিতে ভুল হয়ে 'ইান্তাফি' হয়ে গিয়েছে এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি ভুল; 'তাব'আতুস সালাফিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা ৩৯১) সংস্করণে এটি সঠিকভাবে (ইান্তাকি) রয়েছে।

(২) এটি সেই বিষয়টিকেও সমর্থন করে যা আমি ইতিপূর্বে পূর্ববর্তী পৃষ্ঠার ২ নম্বর টীকায় উল্লেখ করেছি, সুতরাং লক্ষ্য করুন।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٣٢)
* ولم يتبين لي سماع بعض هؤلاء من بعض حتى الصديق رضي الله عنه (وقد) تعقب ابنَ الجوزي كلٌ من السيوطيُّ في «اللآلئ» (1/234) وابن عراق في «تنزيه الشريعة» (1/289) بما لا طائل من ورائه. وحسب هذا الحديث ما ذكرت وبينت.

خامساً: أورد ابن حبان في «ثقاته» (8/379، 382) كلاً من: (عبد الرحمن بن الفضل ابن مالك بن مغول) و (عبد الرحمن بن الفضل بن موفق) .

والأول ذكر أنه يروي عن وكيع وعبد الله بن بكير الغنوي، والثاني ذكر أنه يروي عن أبي نعيم وأبيه، وكلهم كوفيون، ومن نفس طبقة زيد بن الحباب حاشا الغنوي، فلعل شيخ البزار في حديث أبي هريرة أحد هذين.

ثم استدركت بأنه الثانى ـ جازماً بذلك ـ لما وجدت الخطيب ـ قدراً بدون تعمد بحث ـ يقول في ترجمة البزار من «تاريخه» (4/334) : «سمع هدبة بن خالد، وعمر ابن موسى الحادي، وإسماعيل بن سيف، وعبد الرحمن بن الفضل بن موفق، … » ، وما توفيقي إلا بالله. وسوف أتعرض لهذا الرجل بصورة مباشرة لدى الكلام عن علل حديث أبي هريرة بإذن الله.

 

‌‌2 ـ حديث ابن عباس:

رواه ابن مردويه في «تفسيره» كما في «الدر المنثور» (5/257) ،
আমার কাছে এঁদের একে অপরের থেকে শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়নি, এমনকি সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্তও। আর সুয়ূতী 'আল-লাআলী' (১/২৩৪) গ্রন্থে এবং ইবন ইরাক 'তানযীহুশ শারীআহ' (১/২৮৯) গ্রন্থে ইবনুল জাওযীর এমন সব বিষয়ের মাধ্যমে সমালোচনা করেছেন যার কোনো বিশেষ সার্থকতা নেই। এই হাদিসের ব্যাপারে আমি যা উল্লেখ ও ব্যাখ্যা করেছি তা-ই যথেষ্ট।

পঞ্চমতঃ ইবন হিব্বান তাঁর 'আছ-ছিকাত' (৮/৩৭৯, ৩৮২) গ্রন্থে (আবদুর রহমান বিন আল-ফাদল ইবন মালিক বিন মিগওয়াল) এবং (আবদুর রহমান বিন আল-ফাদল বিন মুয়াফ্ফাক) — এই উভয়কেই উল্লেখ করেছেন।

প্রথমজনের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ওয়াকী’ এবং আবদুল্লাহ বিন বুকাইর আল-গানাবী থেকে বর্ণনা করেন। আর দ্বিতীয়জনের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আবু নুয়াইম এবং তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তাঁরা সকলেই কুফাবাসী এবং আল-গানাবী ব্যতীত সকলেই যায়িদ বিন আল-হুবাবের সমসাময়িক। সুতরাং আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে আল-বায্যারের শাইখ সম্ভবত এই দুইজনেরই একজন।

অতঃপর আমি নিশ্চিতভাবে সংশোধন করে নিলাম যে তিনি দ্বিতীয়জন—এ ব্যাপারে আমি সুনিশ্চিত—কারণ আমি আল-খাতীবকে—পূর্বপরিকল্পিত অনুসন্ধান ছাড়াই ঘটনাক্রমে—তাঁর 'তারীখ' (৪/৩৩৪) গ্রন্থে আল-বায্যারের জীবনীতে বলতে পেয়েছি: "তিনি হুদবাহ বিন খালিদ, উমর ইবন মূসা আল-হাদী, ইসমাঈল বিন সাইফ এবং আবদুর রহমান বিন আল-ফাদল বিন মুয়াফ্ফাক... থেকে শুনেছেন।" আর আমার তাওফীক তো কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই। ইনশাআল্লাহ, আবু হুরাইরার হাদিসের ইল্লত (ত্রুটি) সম্পর্কে আলোচনার সময় আমি এই ব্যক্তি সম্পর্কে সরাসরি আলোকপাত করব।

 

‌‌২ — ইবন আব্বাসের হাদিস:

ইবন মারদাওয়াইহ তাঁর 'তাফসীর' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি 'আদ-দুররুল মানছুর' (৫/২৫৭) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٣٣)
ولفظه: «لكل شيء قلب، وقلب القرآن يس. ومن قرأ يس فكأنما قرأ القرآن عشر مرات» .

والتفسير المذكور في عداد المفقود حتى هذه اللحظة، ولم أر من نقله بإسناده أو بعضه عنه، لكنني لست أشك أن تفرد ابن مردويه ـ في الأعم الأغلب ـ مظنة النكارة والضعف الشديد. كما أشرت في غير هذا الموضع والأمثلة على ذلك كثيرة لدي.

 

‌‌3 ـ حديث أبي بن كعب:

أولاً: من طريق زر بن حبيش الأسدي عنه: قال الحافظ أبو عبد الله القضاعي رحمه الله في «مسند الشهاب» (1036) :

«أخبرنا أبو محمد عبد الرحمن بن محمد الأدفوي، ثنا أبو الطيب أحمد بن سليمان الجريري إجازة، أنبا أبو جعفر محمد بن جرير الطبري، حدثنى زكريا ابن يحيى، ثنا شبابة، ثنا مخلد بن عبد الواحد، عن علي بن زيد بن جدعان، وعطاء بن أبي ميمونة، عن زر بن حبيش، عن أبي بن كعب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن لكل شيء قلباً، وإن قلب القرآن يس، ومن قرأ يس وهو يريد بها الله عز وجل غفر الله له، وأُعطيَ من الأجر كأنما قرأ القرآن اثنتي عشرة مرة، وأيما مسلم قُرئ عنده إذا نزل به ملك الموت سورة يس نزل بكل حرف من سورة يس عشرة أملاك يقومون بين يديه صفوفاً، يصلون عليه ويستغفرون له، ويشهدون غسله، ويشيعون جنازته، ويصلون عليه (كذا) ويشهدون دفنه، وأيما مسلم قرأ يس وهو في سكرات الموت لم يقبض ملك الموت روحه حتى يجيئه رضوان خازن الجنة بشربة من شراب الجنة، فيشربها على فراشه، فيقبض
এবং এর শব্দগুলো হলো: "প্রত্যেক জিনিসের একটি হৃদয় থাকে, আর কুরআনের হৃদয় হলো ইয়াসিন। যে ব্যক্তি ইয়াসিন পাঠ করবে, সে যেন দশবার কুরআন পাঠ করল।"

আর উল্লেখিত তাফসিরটি বর্তমান সময় পর্যন্ত নিখোঁজ বা হারানো গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত, এবং আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি এটি তার সনদসহ বা এর কোনো অংশ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে আমার এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইবনে মারদুওয়াহর একক বর্ণনাগুলো—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—প্রত্যাখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনা এবং চরম দুর্বলতার পরিচায়ক। যেমনটি আমি অন্য স্থানেও নির্দেশ করেছি এবং এ সম্পর্কিত অনেক উদাহরণ আমার কাছে রয়েছে।

 

‌‌৩ ـ উবাই ইবনে কা'ব বর্ণিত হাদিস:

প্রথমত: তাঁর পক্ষ থেকে যির ইবনে হুবাইশ আল-আসাদীর সূত্রে: হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ আল-কুদায়ী (রহিমাহুল্লাহ) «মুসনাদুশ শিহাব» (১০৩৬) গ্রন্থে বলেছেন:

«আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-আদফুয়ী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুুত তায়্যিব আহমদ ইবনে সুলাইমান আল-জারিরা ইজাযত সূত্রে, আমাদের জানিয়েছেন আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাবাবাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুখাল্লাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ, আলি ইবনে যাইদ ইবনে জুদআন ও আতা ইবনে আবি মাইমুনাহ থেকে, তিনি যির ইবনে হুবাইশ থেকে, তিনি উবাই ইবনে কা'ব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই প্রতিটি জিনিসের একটি হৃদয় রয়েছে, আর কুরআনের হৃদয় হলো ইয়াসিন। যে ব্যক্তি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ইয়াসিন পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তাকে বারো বার কুরআন পাঠ করার সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে। আর যেকোনো মুসলমানের মৃত্যুর সময় যদি তার কাছে সূরা ইয়াসিন পাঠ করা হয়, তবে সূরা ইয়াসিনের প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে দশজন করে ফেরেশতা অবতরণ করেন। তারা তার সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন, তার জন্য রহমতের দোয়া করেন, তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তার গোসলের সময় উপস্থিত থাকেন, তার জানাজার অনুগমন করেন, তার জানাজার সালাত আদায় করেন এবং তার দাফনের সময় উপস্থিত থাকেন। আর যেকোনো মুসলমান মৃত্যুর যন্ত্রণার সময় ইয়াসিন পাঠ করে, জান্নাতের রক্ষক রিদওয়ান জান্নাতের পানীয় নিয়ে তার কাছে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর ফেরেশতা তার জান কবজ করেন না। অতঃপর সে তার বিছানায় থাকা অবস্থায়ই তা পান করে, এরপর তিনি জান কবজ করেন।"
(খণ্ড: ١) আহাদিসু ওয়া মারউইয়াতুন ফিল মিযান ১ - হাদিসু কলবিল কুরআন ইয়াসিন (পৃষ্ঠা: ٣٤)
ملك الموت روحه وهو ريان، فيمكث في قبره وهو … ريان، ويبعث يوم القيامة وهو ريان، ولا يحتاج إلى حوض من حياض الأنبياء حتى يدخل الجنة وهو ريان» !!!

ورواه ابن الجوزي في «الموضوعات» (1/239) من طريق أبي بكر بن أبي داود السجستاني قال: حدثنا محمد بن عاصم قال حدثنا شبابة بن سوار به مطولاً في فضائل القرآن سورة سورة، إلا أنه لم يسق هذه القطعة في فضل يس (1) .

وفيه: مخلد بن عبد الواحد. قال ابن حبان في «المجروحين» (3/43) : «يروي عن البصريين وعلي بن زيد بن جدعان وغيره (كذا، والصواب عندي حذف الواو الأولى) روى عنه المكي بن إبراهيم والناس، منكر الحديث جداً ينفرد بأشياء مناكير لا تشبه حديث الثقات فبطل الاحتجاج به فيما وافقهم من الروايات» .

--------------------------------------------

(1) وزكريا بن يحيى الذي في إسناد القضاعي هو ابن ايوب المدائني الضرير، سكت عليه الخطيب في «تاريخه» (8/457) وله مناكير عديدة عن شبابة بن سوار ساقها الإخوان الأفضال في بطاقته لدينا بـ «دار التأصيل» . ولكن شيخ القضاعي لم أجده إلا في «الطالع السعيد» (ترجمة 225) مسكوتاً عليه كالعادة. وشيخ شيخه سكت عليه الخطيب أيضاً (4/179 - 180) .

 

نعم، تابع زكريا: محمد بن عاصم الثقفي الأصبهاني ـ شيخ ابن أبي داود ـ وهو صدوق مصنف، ولكن لفظه الذي ساقه ابن الجوزي في فضل كل سورة مختصر جداً، إذ فيه: «نعم يا أُبَيّ، أيما مسلم قرأ فاتحة الكتاب أعطي من الأجر كمن قرأ ثلثي القرآن، وأعطي من الأجر كأنما تصدق على كل مؤمن ومؤمنة، ومن قرأ آل عمران أعطي بكل آية منها أماناً على جسر جهنم، ومن قرأ سورة النساء أعطي من الأجر كأنما تصدق على كل من ورثه ميراثاً … » وهكذا باختصار في فضل كل سورة. فالله أعلم بحقيقة هذا التفاوت.
মৃত্যুর ফেরেশতা তার প্রাণ কবজ করবেন এমন অবস্থায় যখন সে তৃপ্ত থাকবে, এরপর সে তার কবরে অবস্থান করবে … তৃপ্ত অবস্থায়, এবং কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত হবে তৃপ্ত অবস্থায়, আর জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত তাকে নবীদের হাউজসমূহের কোনোটির মুখাপেক্ষী হতে হবে না তৃপ্ত থাকা অবস্থায়» !!!

এবং ইবনুল জাওযী এটি ‘আল-মাওদুআত’ (১/২৩৯) গ্রন্থে আবু বকর বিন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন আসিম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট শাবাবাহ বিন সাওয়ার এটি দীর্ঘভাবে কুরআনের প্রতিটি সূরার ফজিলত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি সূরা ইয়াসীনের ফজিলতে এই অংশটি উল্লেখ করেননি (১)।

এবং এতে (বর্ণনাকারী হিসেবে) রয়েছেন: মাখলাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ। ইবনে হিব্বান ‘আল-মাজরুহীন’ (৩/৪৩) গ্রন্থে বলেছেন: «তিনি বসরার অধিবাসীগণ এবং আলী বিন যাইদ বিন জুদআন ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেন (মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে আমার নিকট সঠিক হলো প্রথম ‘ওয়াও’ বর্ণটি বাদ দেওয়া), তার থেকে মাক্কী বিন ইবরাহিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত মুনকারুল হাদিস, তিনি এমন সব আপত্তিকর বিষয় এককভাবে বর্ণনা করেন যা নির্ভরযোগ্যদের হাদিসের সদৃশ নয়, তাই বর্ণনাসমূহে নির্ভরযোগ্যদের সাথে তার মিল থাকলেও তার দ্বারা দলিল গ্রহণ বাতিল গণ্য হবে»।

--------------------------------------------

(1) এবং আল-কুদাঈর সনদে থাকা যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া হলেন ইবনে আইয়ুব আল-মাদায়িনী আদ-দারীর, আল-খতীব তার ‘তারিখ’ (৮/৪৫৭) গ্রন্থে তার ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। শাবাবাহ বিন সাওয়ারের সূত্রে তার বহু আপত্তিকর বর্ণনা রয়েছে যা সম্মানিত ভাইয়েরা ‘দারুত তাসহীল’-এ আমাদের নিকট সংরক্ষিত তার পরিচিতি কার্ডে উল্লেখ করেছেন। তবে আল-কুদাঈর উস্তাদকে আমি কেবল ‘আত-তালিউস সাঈদ’ (জীবনী ২২৫) গ্রন্থে পেয়েছি, যেখানে যথারীতি তার সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে। আর তার উস্তাদের উস্তাদ সম্পর্কেও আল-খতীব (৪/১৭৯-১৮০) নীরব থেকেছেন।

 

হ্যাঁ, যাকারিয়াকে অনুসরণ করেছেন: মুহাম্মাদ বিন আসিম আস-সাকাফী আল-আসফাহানী —ইবনে আবু দাউদের উস্তাদ— এবং তিনি সত্যবাদী গ্রন্থকার। তবে ইবনুল জাওযী প্রতিটি সূরার ফজিলতে তার যে শব্দাবলি উল্লেখ করেছেন তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। তাতে রয়েছে: «হ্যাঁ হে উবাই, যে মুসলিমই ফাতিহাতুল কিতাব পড়বে তাকে দুই-তৃতীয়াংশ কুরআন পড়ার সমপরিমাণ সওয়াব দেওয়া হবে, এবং তাকে এমন সওয়াব দেওয়া হবে যেন সে প্রত্যেক মুমিন নর-নারীর ওপর সদকা করেছে। আর যে ব্যক্তি আলে ইমরান পাঠ করবে তাকে এর প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে জাহান্নামের পুলের ওপর নিরাপত্তা দান করা হবে। আর যে ব্যক্তি সূরা নিসা পাঠ করবে তাকে এমন সওয়াব দেওয়া হবে যেন সে উত্তরাধিকারী হওয়া প্রত্যেকের জন্য সদকা করেছে …» এভাবে প্রতিটি সূরার ফজিলতে সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহই এই পার্থক্যের প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে সম্যক অবগত।