(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: -)
التأويل خطورته وآثاره   (عمر سليمان الأشقر)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: التَّأويل - خُطُورَتُهُ وَآثَارُهُ

المؤلف: عمر بن سليمان بن عبد الله الأشقر العتيبي (ت 1433هـ)

الناشر: دار النفائس للنشر والتوزيع، الأردن

الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 1992 م

عدد الصفحات: 73

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 14 رمضان 1434

তাওয়িল: এর ভয়াবহতা ও প্রভাব   (উমর সুলায়মান আল-আশকার)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: তাওয়িল - এর ভয়াবহতা ও প্রভাব

লেখক: উমর বিন সুলায়মান বিন আবদুল্লাহ আল-আশকার আল-উতাইবি (মৃত্যু: ১৪৩৩ হিজরি)

প্রকাশক: দারুন নাফায়েস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৪ রমজান ১৪৩৪

(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: -)
التَّأويل

خُطُورَتُهُ وَآثَارُهُ

 

تأليف

الدّكتور عمر سُليمان الأشقر

 

دار النفائس

للنشر والتوزيع
তাকউইল

এর ভয়াবহতা ও প্রভাবসমূহ

 

রচনা করেছেন

ডক্টর ওমর সুলাইমান আল-আশকার

 

দারুন নাফায়েস

প্রকাশনা ও বিতরণ
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

" فاتحة كل خير وتمام كل نعمة "
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

"সকল কল্যাণের সূচনা এবং প্রতিটি নিআমতের পূর্ণতা"
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌كلمة الافتتاح

الحمد لله الذي أضاء القلوب بنور كتابه، وأرشد العقول إلى البراهين، والأدلة التي تظهر الحق وتعليه، وتبطل الباطل وتبليه، وأصلي وأسلم على عبده المصطفى ونبيه المجتبى الذي بلغ الرسالة وأدى الأمانة، وتركنا على المحجة البيضاء ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها بعده إلا هالك، وعلى آله وصحبه الذين تلقوا عن نبيهم هذا الدين، وفقهوه وفقهوا به عباد الله، وبلغوه لمن ورائهم، حتى استنارت به الدنيا، وبلغت أنواره أقطار الأرض. وعلى الذين سلكوا سبيلهم وساروا مسارهم إلى يوم الدين، وبعد:
ভূমিকা

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় কিতাবের আলোয় অন্তরসমূহকে উদ্ভাসিত করেছেন এবং বিবেক-বুদ্ধিকে এমন সব অকাট্য প্রমাণ ও দলিলের দিশা দিয়েছেন যা সত্যকে প্রকাশিত ও সমুন্নত করে এবং মিথ্যাকে অসার ও বিলুপ্ত করে। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি আল্লাহর মনোনীত বান্দা ও নির্বাচিত নবী (সা.)-এর প্রতি, যিনি রিসালাতের পয়গাম পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমানত যথাযথভাবে আদায় করেছেন। তিনি আমাদের এমন এক উজ্জ্বল ও সুষ্পষ্ট রাজপথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাত্রিও দিনের মতো জ্যোতির্ময়; তাঁর পরে পথভ্রষ্ট ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। আর সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সেই সব সাহাবায়ে কেরামের ওপর, যাঁরা তাঁদের নবীর নিকট থেকে এই দ্বীন গ্রহণ করেছেন এবং তা গভীরভাবে উপলব্ধি করে আল্লাহর বান্দাদের প্রজ্ঞাসম্পন্ন করেছেন। তাঁরা এই দ্বীনকে তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন, যার ফলে এ ধরণী আলোকিত হয়েছে এবং এর নূর পৃথিবীর প্রান্তরে প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। আরও সালাম তাঁদের ওপর, যাঁরা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের পথ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন। অতঃপর:
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৮)
فقد لفت نظري عظم جناية التأويل على هذه الشريعة المباركة أثناء بحثي في موضوع: "أسماء الله وصفاته في معتقد أهل السنة والجماعة"، وقد طال البحث في التأويل وآثاره، وأصبح من غير المقبول أن يدخل في صورته التي أنتهى إليها في الكتاب المذكور، فأفردته في رسالة خاصة.

لقد كان التأويل باب شرّ كبير، ولج منه الذين يردون هدم الإسلام، فما تركوا شيئاً إلا أولوه، ولولا حماية الله ورعايته لهذا الدين لدرست معالمه وضاعت حدوده.

لقد أول الضالون الواجبات فصرفوها عن وجهها، وهونوا على أتباعهم رميها وراء ظهورهم.

وأولوا المحرمات تأويلاً جر الذين ضلوا بضلالهم على ارتكابها والولوغ فيها.
"আল্লাহর নাম ও গুণাবলি: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা" শীর্ষক বিষয়ে গবেষণাকালে এই বরকতময় শরীয়তের ওপর অপব্যাখ্যার (তাউইল) ভয়াবহ অপরাধের বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়। অপব্যাখ্যা ও এর প্রভাব সংক্রান্ত গবেষণাটি দীর্ঘ হয়ে যাওয়ায় উল্লিখিত কিতাবে একে অন্তর্ভুক্ত রাখা সমীচীন মনে হয়নি; তাই একে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে রূপদান করেছি।

প্রকৃতপক্ষে অপব্যাখ্যা ছিল অনিষ্টের এক বিশাল দ্বার, যা দিয়ে ইসলাম বিনাশক শক্তিগুলো প্রবেশ করেছিল। তারা কোনো কিছুকেই তার অপব্যাখ্যা করা থেকে রেহাই দেয়নি। যদি এই দ্বীনের প্রতি আল্লাহর বিশেষ সুরক্ষা ও তত্ত্বাবধান না থাকত, তবে এর নিদর্শনগুলো মুছে যেত এবং এর সুনির্দিষ্ট সীমারেখা বিলীন হয়ে যেত।

পথভ্রষ্টরা আবশ্যিক কর্তব্যগুলোর এমন অপব্যাখ্যা করেছে যে, তারা সেগুলোকে প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছে এবং তাদের অনুসারীদের নিকট সেসব আমল বর্জন করাকে সহজ করে তুলেছে।

আর তারা হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর এমন অপব্যাখ্যা প্রদান করেছে, যা তাদের বিভ্রান্তির মাধ্যমে পথভ্রষ্টদের সেসব পাপে লিপ্ত হতে এবং পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত হতে প্ররোচিত করেছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৯)
وأولوا نصوص عذاب القبر ونعيمه، والساعة وأهولها، والمعاد والحشر والميزان والجنة والنار بحيث فقدت النصوص تأثيرها في نفوس العباد.

وأولوا نصوص الصفات تأويلاً أضعف صلى العباد بربهم، وأفقد النصوص هيبتها إذ جعلها لعبة في أيدي المؤولين، يجتهدون ليلهم ونهارهم في صرفها عن وجهها بشتى أنواع التأويل.

وقد اقتصرت في هذه الرسالة على النوع الأخير من المؤولات، تأويل الأسماء والصفات، فإن التأويلات التي أبطلت بها الأوامر والنواهي، ونصوص المعاد، والجنة والنار لم ترج عند عوام أهل السنة فضلاً عن علمائهم.

ولكن تأويل نصوص الصفات وجد آذاناً
তারা কবরের আযাব ও নেয়ামত, কিয়ামত ও তার ভয়াবহতা, পরকাল, হাশর, মীযান, জান্নাত ও জাহান্নাম বিষয়ক নাসসমূহের (শরয়ী বক্তব্যসমূহ) এমন অপব্যাখ্যা করেছে যে, এর ফলে বান্দাদের অন্তরে এ সকল নাসের প্রভাব বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

তারা সিফাত বা গুণাবলি সংক্রান্ত নাসসমূহের এমন অপব্যাখ্যা করেছে যা রবের সাথে বান্দাদের সম্পর্ককে শিথিল করে দিয়েছে এবং নাসের গাম্ভীর্যকে ক্ষুণ্ণ করেছে; কেননা তারা এগুলোকে অপব্যাখ্যাকারীদের হাতের খেলনায় পরিণত করেছে, যারা দিন-রাত এই প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকে যেন নানা প্রকার অপব্যাখ্যার আশ্রয়ে এগুলোকে তার মূল অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়।

আমি এই পুস্তিকায় কেবল শেষোক্ত প্রকারের অপব্যাখ্যা অর্থাৎ আসমা ও সিফাতের (নাম ও গুণাবলি) অপব্যাখ্যার আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি। কেননা আদেশ-নিষেধ এবং পরকাল, জান্নাত ও জাহান্নাম সংক্রান্ত নাসসমূহকে বাতিলকারী অপব্যাখ্যাগুলো আহলুস সুন্নাহর আলেমগণ তো বটেই, এমনকি সাধারণ মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

কিন্তু সিফাত সংক্রান্ত নাসসমূহের অপব্যাখ্যা একদল আগ্রহী শ্রোতা খুঁজে পেয়েছে (অর্থাৎ এটি একদল মানুষের নিকট গ্রহণীয় হয়েছে)
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১০)
صاغية عند جمع من أصحاب العقول من هذه الأمة، وجازت هذه الفرية على أقوام أتوا ذكاء ونباهة ورأيا.

لقد ألف في موضوع الرسالة مؤلفات توسع فيها كاتبوها، وتأتي هذه الرسالة لتعالج المشكلة بصورة مبسطة ومختصرة، ولكنها - إن شاء الله- كافية وافية بالغرض، والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، ولله الأمر من قبل ومن بعد.

د- عمر بن سليمان الأشقر

الجامعة الأردنية - كلية الشريعة

عمان - الأردن
এই উম্মাহর একদল বুদ্ধিমান মানুষের নিকট এটি মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং এই মিথ্যাচারটি এমন সব সম্প্রদায়ের মাঝেও প্রভাব বিস্তার করেছে যারা অত্যন্ত মেধাবী, সচেতন ও দূরদর্শী ছিলেন।

এই রিসালার (পুস্তিকা) বিষয়বস্তুর ওপর ইতিপূর্বে এমন অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে যেখানে লেখকগণ বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আর এই রিসালাটি সমস্যাটিকে অত্যন্ত সহজবোধ্য ও সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করার প্রয়াস পেয়েছে; তবে ইনশাআল্লাহ—এটি মূল উদ্দেশ্য সাধনে যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত হবে। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সুসম্পন্ন হয়। আর পূর্বের ও পরের সকল কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহরই।

ড. উমর বিন সুলাইমান আল-আশকার

জর্ডান বিশ্ববিদ্যালয় - শরীয়াহ অনুষদ

আম্মান - জর্ডান
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌دعوى باطلة

أجهد الذين خالفوا منهج الكتاب والسنة الذي فقهه السلف الصالح في أسماء الله وصفاته أنفسهم في ليّ أعناق النصوص، ليصرفوها عن ظاهرها بشتى أنواع التمحلات، وسموا عملهم هذا تأويلاً، ليروج على من لا يدرك الباطل الذي جاءوا به، وزعموا فيما زعموه أنهم علموا بالقرآن الذي ألزم بتأويل المتشابه، وساروا على هدي علمائنا الأعلام الذين أولوا ما تشابه من آيات الكتاب.

وهذا الذي جاءوا به باطل لا شك في بطلانه.
একটি অসার দাবি

যারা মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহর সেই মানহাজের (পদ্ধতি) বিরোধিতা করেছে যা সালাফে সালেহীন অনুধাবন করেছিলেন, তারা শরয়ি প্রমাণাদির (নসুস) অর্থকে তাদের বাহ্যিক মর্ম থেকে বিচ্যুত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকার কৃত্রিম ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে সেগুলোকে বিকৃত করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। তারা তাদের এই কর্মতৎপরতাকে ‘তাবিল’ (ব্যাখ্যা) হিসেবে নামকরণ করেছে, যাতে তাদের উপস্থাপিত এই ভ্রান্ত বিষয়টি ঐ সকল ব্যক্তির নিকট গ্রহণযোগ্য হয় যারা তাদের আনীত এই বাতুলতা অনুধাবন করতে সক্ষম নয়। তারা আরও দাবি করেছে যে, তারা কুরআনের নির্দেশ অনুযায়ীই আমল করেছে—যা মুতাশাবিহ (অস্পষ্টার্থ) আয়াতসমূহের তাবিল করতে বাধ্য করেছে—এবং তারা আমাদের সেই বরেণ্য উলামায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে যারা কিতাবুল্লাহর মুতাশাবিহ আয়াতসমূহের তাবিল করেছেন।

তাদের উপস্থাপিত এই বিষয়টি যে সম্পূর্ণ অসার, সে ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌هذا ليس بتأويل بل تحريف

والذي يعرف التأويل عند العرب في كلامها، ويفقه معنى التأويل الذي جاءت به النصوص، والتأويل الذي عناه الأصوليون والفقهاء يعلم قطعاً أنما جاءوا به ليس تأويلاً، بل هو من تحريف الكلم عن مواضعه الذي ذمه القرآن وذم أهله.

يقول شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى- بعد ذكره لهذا النمط من التأويل:

" هذا التأويل في كثير من المواضع - أو أكثرها وعامتها- من باب تحريف الكلم عن مواضعه، من جنس تأويلات القرامطة والباطنية، وهذا هو التأويل الذي اتفق سلف الأمة وأئمتها على ذمة، وصاحوا بأهله من أقطار الأرض، ورموا في أثرهم بالشهب.

وقد صنف الإمام أحمد كتاباً في الرد على
এটি কোনো ব্যাখ্যা নয়, বরং বিকৃতি

আরবদের ভাষাগত ব্যবহারে ‘তাবিল’ বা ব্যাখ্যার প্রকৃতি সম্পর্কে যারা অবগত এবং ধর্মীয় উৎসগ্রন্থসমূহে (নসুস) ব্যবহৃত ‘তাবিল’-এর মর্মার্থ ও উসুলবিদ ও ফকিহগণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যারা প্রাজ্ঞ, তারা সুনিশ্চিতভাবে জানেন যে, তারা যা পেশ করেছে তা কোনোভাবেই ব্যাখ্যা নয়। বরং তা হলো শব্দকে তার সঠিক প্রেক্ষিত থেকে বিচ্যুত ও বিকৃত করা, যা পবিত্র কুরআনে নিন্দিত হয়েছে এবং এর চর্চাকারীদেরও কঠোরভাবে তিরস্কার করা হয়েছে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) এই প্রকারের ব্যাখ্যার আলোচনা করার পর বলেন:

“এই ব্যাখ্যা অনেক ক্ষেত্রে—বরং অধিকাংশ ও সাধারণ ক্ষেত্রে—শব্দকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করার নামান্তর, যা কারামিতা ও বাতিনিয়া সম্প্রদায়ের ব্যাখ্যার পর্যায়ভুক্ত। এটিই সেই ব্যাখ্যা যার নিন্দার ব্যাপারে উম্মাহর সালাফ ও ইমামগণ একমত হয়েছেন এবং এর প্রবক্তাদের বিরুদ্ধে পৃথিবীর দিক-দিগন্ত থেকে উচ্চকণ্ঠ হয়েছেন এবং তাদের পশ্চাতে উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপ (কঠোর মোকাবিলা) করেছেন।

ইমাম আহমাদ একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার বিষয়বস্তু হলো এর খণ্ডন...
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৩)
هؤلاء سماه: (الرد على الجهمية والزنادقة) (1).

ويقول في موضع آخر:

" هذا التأويل المذموم الباطل هو تأويل أهل التحريف والبدع، والذين يتأولونه على غير تأويله، ويدعون صرف اللفظ عن مدلوله إلى غير مدلوله بغير دليل يوجب ذلك … " (2).

 

‌‌التأويل في لغة العرب وفي اصطلاح الشارع

مفهوم التأويل في لغة العرب لا يأتي على هذا المعنى الذي أرادوه فمداره مادة "أوْل" في لغة العرب في استعمالاتها على الرجوع والعود.

يقول ابن منظور:

" الأوْل الرجوع، آل الشيء يؤول ومآلا رجع، وأوّل إليه الشيء: رَجَعَهَ. وألْتُ عن الشيء: ارتددت. يقال: طبخت النبيذ حتى آل إلى الثلث أو الربع أي رجع، والأيّل

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى شيخ الإسلام 4/ 69.

(2) مجموع فتاوى شيخ الإسلام ابن تيمية 3/ 67.
তারা একে নামকরণ করেছেন: (জাহমিয়া ও জিন্দিকদের খণ্ডন) (১)।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেন:

"এই নিন্দনীয় ও বাতিল অপব্যাখ্যা হলো বিকৃতিসাধনকারী ও বিদআতিদের ব্যাখ্যা, যারা একে তার প্রকৃত ব্যাখ্যা ব্যতীত অন্যভাবে ব্যাখ্যা করে এবং কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই শব্দের মূল অর্থ থেকে সরিয়ে অন্য অর্থের দিকে নিয়ে যাওয়ার দাবি করে … " (২)।

 

‌‌আরবি ভাষায় এবং শরীয়তের পরিভাষায় তাবিল (ব্যাখ্যা)-এর অর্থ

আরবি ভাষায় 'তাবিল'-এর ধারণা তারা যে অর্থ উদ্দেশ্য করেছে সেভাবে আসে না। বরং আরবি ভাষায় এর ব্যবহারের মূল ভিত্তি হলো "আওল" ধাতু, যার অর্থ প্রত্যাবর্তন ও ফিরে আসা।

ইবনে মানজুর বলেন:

"আল-আওল অর্থ প্রত্যাবর্তন করা। কোনো কিছু যখন প্রত্যাবর্তন করে তখন বলা হয় 'আ-লা আশ-শাইউ ইয়াউলু' যার অর্থ ফিরে আসা। আর 'আউওয়ালা ইলাইহিশ শাইআ' মানে সেটিকে ফিরিয়ে আনা। 'আলতু আনিল শাই' মানে আমি তা থেকে নিবৃত্ত হলাম বা সরে এলাম। বলা হয়: আমি পানীয়টি রান্না করলাম যতক্ষণ না তা এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশে ফিরে এল, অর্থাৎ কমে থিতু হলো। আর আইয়িল (হরিণ বিশেষ)...

--------------------------------------------

(১) মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ৪/৬৯।

(২) মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ৩/৬৭।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৪)
من الوحش: الوعل، قال الفارسي: سمي بذلك لمآله إلى الجبل يتحصن فيه" (1).

ويأتي التأويل في لغة العرب بمعنى التفسير أيضاً، وهذا المعنى ليس بعيد عن المعنى السابق، فالتفسير تأويل، لأن المفسر يراجع نفسه عند الشرح والبيان ويدبر الكلام ويقدره، ففيه معنى العود والرجوع.

والتأويل في الكتاب والسنة ليس بعيد عن المعنى اللغوي، يقول شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمه الله تعالى: " يراد بالتأويل حقيقة ما يؤول إليه الكلام، وإن وافق ظاهره، وهذا هو المعنى المراد بلفظ التأويل في الكتاب والسنة" (2).

يقول شارح الطحاوية: " التأويل في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم هو الحقيقة التي يؤول إليه الكلام، فتأويل الخبر هو عين المخبر به،

--------------------------------------------

(1) لسان العرب لابن منظور 1/ 130.

(2) مجموع فتاوى شيخ الإسلام 3/ 36.
বন্য প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে: পাহাড়ি ছাগল; আল-ফারিসি বলেন: "একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি আশ্রয়ের জন্য পাহাড়ে ফিরে যায়" (১)।

আরবি ভাষায় 'তাউইল' শব্দটি 'তাফসির' বা ব্যাখ্যা অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এই অর্থটি পূর্ববর্তী অর্থ থেকে ভিন্ন কিছু নয়। কেননা তাফসির হলো এক প্রকার তাউইল; কারণ মুফাসসির (ব্যাখ্যাকারী) যখন ব্যাখ্যা ও বর্ণনা প্রদান করেন, তখন তিনি বক্তব্যটি নিয়ে গভীর চিন্তা ও পর্যালোচনা করেন এবং এর তাৎপর্য নিরূপণ করেন। সুতরাং এতে কোনো কিছুর মূলে ফিরে যাওয়ার অর্থ নিহিত রয়েছে।

কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষায় 'তাউইল' এর প্রয়োগ আভিধানিক অর্থ থেকে দূরে নয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তাউইল বলতে বক্তব্যের সেই বাস্তব রূপকে বোঝানো হয় যাতে বিষয়টি পর্যবসিত হয়, যদিও তা তার বাহ্যিক অর্থের সাথে মিলে যায়। আর কুরআন ও সুন্নাহর শব্দে তাউইল দ্বারা মূলত এই অর্থই উদ্দেশ্য" (২)।

তাহাবিয়ার ব্যাখ্যাকারী বলেন: "আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহতে 'তাউইল' হলো সেই হাকিকত বা বাস্তবতা যার দিকে বক্তব্যটি পর্যবসিত হয়। সুতরাং কোনো সংবাদের তাউইল হলো স্বয়ং সেই বিষয়টি যার সংবাদ দেওয়া হয়েছে,

--------------------------------------------

(১) ইবনে মানজুর প্রণীত লিসানুল আরব, ১/ ১৩০।

(২) শাইখুল ইসলামের মাজমুউল ফাতাওয়া, ৩/ ৩৬।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৫)
وتأويل الأمر: نف الفعل المأمور به" (1).

وقد أورد الباحثون في هذا الموضوع النصوص التي تدلل على أن معنى التأويل في القرآن هو هذا المعنى الذي قرروه، فمن ذلك قوله تعالى: {هل ينظرون إلا تأويله، يوم يأتي تأويله يقول الذين نسوه من قبل قد جاءت رسل ربنا بالحق}.

والمتحدث في هذا النص هو القرآن، وانتظارهم لتحقيق ما أخبر الحق عنه من وقوع العذاب بهم يوم القيامة، وهذا هو المراد بقوله: يوم يأتي تأويله عند ذلك يقر هؤلاء الذين كذبوا به في الدنيا، ويقولون في ذلك: {قد جاءت رسلنا ربنا بالحق}.

وقد صح في السنة أن الرسول صلى الله عليه وسلم كان يقول في ركوعه: ((سبحانك اللهم

--------------------------------------------

(1) شرح العقيدة الطحاوية ص232.
এবং কোনো নির্দেশের রূপায়ণ হলো: আদিষ্ট কর্মটির বাস্তবায়ন" (১)।

গবেষকগণ এই বিষয়ে এমন সব উদ্ধৃতি পেশ করেছেন যা প্রমাণ করে যে, কুরআনে 'তাবিল' বা রূপায়ণ শব্দের অর্থ সেটিই যা তারা সাব্যস্ত করেছেন। তার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {তারা কি কেবল এর পরিণতিরই (বাস্তবায়ন) প্রতীক্ষা করছে? যেদিন এর পরিণতি (বাস্তবায়ন) সমাগত হবে, সেদিন যারা ইতিপূর্বে একে বিস্মৃত হয়েছিল তারা বলবে: অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ সত্য নিয়েই এসেছিলেন}।

এই পাঠ্যটিতে আলোচিত বিষয় হলো কুরআন এবং কিয়ামতের দিন তাদের ওপর আজাব আপতিত হওয়ার বিষয়ে মহান আল্লাহ যে সংবাদ দিয়েছেন তার সত্যতা নিরূপণ বা বাস্তবায়নের প্রতীক্ষা। আর এটিই হলো তাঁর এই বাণীর মর্মার্থ: 'যেদিন এর রূপায়ণ সমাগত হবে'। তখন দুনিয়াতে যারা একে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তারা তা স্বীকার করে নেবে এবং বলবে: {আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ সত্য নিয়েই এসেছিলেন}।

সুন্নাহর বিশুদ্ধ বর্ণনায় প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর রুকুতে বলতেন: "হে আল্লাহ, আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি...

--------------------------------------------

(১) শরহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৩২।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৬)
وبحمدك يتأول القرآن)) (1)، أي يحقق ما أمره الله به في كتابه.

وعندما رفع نبي الله يوسف أبويه على العرش وخر والداه وإخوانه له ساجدين قال: {يا أبتِ هذا تأويل رؤياي من قبل} فتأويل الرؤيا تحققها في عالم الواقع.

ويأتي التأويل في اللغة وفي الكتاب والسنة بمعنى التفسير، ومنه دعاء الرسول صلى الله عليه وسلم لابن عمه عبد الله بن عباس: ((اللهم فقهه في الدين، وعلمه التأويل)).

ومن هذا الباب ما جرى عليه ابن جرير الطبري في تفسيره، فإنه كثيراً ما يقول إذا شرع في تفسير آية: "القول في تأويل قوله تعالى".

--------------------------------------------

(1) حديث متفق عليه من قول أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها.
...এবং আপনার প্রশংসার সাথে তিনি কুরআনের প্রয়োগ (বাস্তবায়ন) করতেন" (১), অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর কিতাবে তাঁকে যা নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি তা বাস্তবে রূপ দিতেন।

আর যখন আল্লাহর নবী ইউসুফ তাঁর পিতামাতাকে সিংহাসনে বসালেন এবং তাঁর পিতামাতা ও ভ্রাতৃবৃন্দ তাঁর প্রতি সিজদাবনত হলেন, তখন তিনি বললেন: "হে আমার পিতা, এটিই আমার পূর্বের স্বপ্নের তাউয়িল (বাস্তব রূপ)।" সুতরাং স্বপ্নের তাউয়িল বা ব্যাখ্যা হলো বাস্তব জগতে তার সত্যতা প্রমাণিত হওয়া বা বাস্তবায়িত হওয়া।

অভিধান এবং কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষায় 'তাউয়িল' শব্দটি 'তাফসীর' বা ব্যাখ্যার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুআ: "হে আল্লাহ, তাঁকে দীনের গভীর প্রজ্ঞা দান করুন এবং তাঁকে তাউয়িল (ব্যাখ্যা) শিক্ষা দিন।"

এই পদ্ধতিতেই ইবনে জারীর তাবারী তাঁর তাফসীর গ্রন্থে আলোচনা করেছেন; কেননা তিনি যখনই কোনো আয়াতের তাফসীর শুরু করেন, তখন প্রায়ই বলেন: "আল্লাহ তাআলার বাণীর তাউয়িল (ব্যাখ্যা) প্রসঙ্গে আলোচনা।"

--------------------------------------------

(১) উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত) হাদীস।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌اعتراض وجوابه

قد يقال: إن بعض معاجم اللغة العربية تذكر أن معنى التأويل هو صرف اللفظ عن معناه الراجح إلى المعنى المرجوح لدليل يقترن به.

أشار إلى ذلك ابن منظور وابن الأثير وغيرهما، فكيف تزعمون أن العرب لا تفقه من كلامها هذا المعنى.

والجواب: أن هذا المعنى دخل إلى معاجم اللغة العربية المتأخرة نقلاً عن استعمالات الفقهاء والأصوليين، لا نقلاً عن كلام العرب الذي يحتج به، يدل على صحة هذا القول أن معاجم اللغة العربية المتقدمة أمثال: تهذيب اللغة للأزهري، ومقاييس اللغة لابن فارس وهما مما دون في القرن الرابع الهجري لم يشيرا إلى هذا المعنى الذي ذكره الفقهاء
আপত্তি ও তার উত্তর

বলা হয়ে থাকে যে: আরবি ভাষার কোনো কোনো অভিধানে উল্লেখ রয়েছে যে, ‘তাবিল’ (ব্যাখ্যা)-এর অর্থ হলো কোনো শব্দের প্রবল বা প্রধান অর্থ বর্জন করে কোনো সংলগ্ন প্রমাণের ভিত্তিতে তার অপ্রধান বা দুর্বল অর্থের দিকে ধাবিত হওয়া।

ইবনে মনযুর, ইবনুল আসীর এবং অন্যরা এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এমতাবস্থায় আপনারা কীভাবে দাবি করেন যে, আরবরা তাদের ভাষায় এই অর্থটি বুঝতে সক্ষম ছিল না?

উত্তর হলো: এই অর্থটি পরবর্তী যুগের আরবি অভিধানসমূহে ফকিহ এবং উসুলবিদদের (আইনতত্ত্ববিদ) পরিভাষা থেকে সংগৃহীত হয়ে প্রবেশ করেছে; এটি আরবদের সেই আদি ও বিশুদ্ধ ভাষা থেকে সংগৃহীত হয়নি যা দলিল হিসেবে পেশ করা যায়। এই বক্তব্যের যথার্থতার প্রমাণ হলো—আরবি ভাষার প্রাচীন অভিধানসমূহ, যেমন আল-আযহারীর ‘তাহযীবুল লুগাহ’ এবং ইবনে ফারিসের ‘মাকায়িসুল লুগাহ’ (যেগুলো হিজরি চতুর্থ শতাব্দীতে সংকলিত), সেগুলোতে ফকিহদের বর্ণিত এই অর্থের কোনো উল্লেখ বা ইঙ্গিত নেই।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৮)
والأصوليون مما يدل على أنه معنى اصطلاحي خاص بهم، فلا يجوز حمل ألفاظ القرآن عليه.

وعلى فرض أن هذا التأويل في لغة العرب هو هذا المعنى الذي أورده الأصوليون، فإن المؤولين للنصوص لم يلتزموا بالشروط التي وضعها الأصوليون لجواز التأويل، كما سيأتي بيانه، ولذا فإن صنيعهم هذا لا يخرج تأويلهم عن التحريف.

 

‌‌المراد بالتأويل الذي يذم طالبه

التأويل الذي يذم طالبه هو البحث عن حقيقة ما اخبرنا الله به من الغيوب التي لا يستطيع العباد بعقولهم المجردة إدراك حقيقتها، فالله أخبرنا بنعيم القبر وعذابه في عالم البرزخ، كما أخبرنا بالبعث والنشور، والحشر وأهواله والجنة وأنهارها وثمارها وأطيارها وحورها، والنار وسمومها وحميمها وغسلينها، ونحن لا ندري حقيقة ما أخبرنا الله عنه،
এবং উসুলবিদগণ, যা প্রমাণ করে যে এটি তাদের একটি বিশেষ পারিভাষিক অর্থ। অতএব কুরআনের শব্দাবলিকে এই অর্থে গ্রহণ করা বৈধ নয়।

আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে, আরবি ভাষায় এই 'তাবিল' বলতে উসুলবিদদের বর্ণিত অর্থই উদ্দেশ্য, তবুও নসের (মূলপাঠের) তাবিলকারীগণ তাবিল বৈধ হওয়ার জন্য উসুলবিদদের নির্ধারিত শর্তসমূহ মেনে চলেননি—যেমনটি সামনে আলোচিত হবে। সুতরাং তাদের এই কর্মকাণ্ড তাদের তাবিলকে তাহরিফ বা বিকৃতি হওয়া থেকে রক্ষা করে না।

 

‌‌ঐ তাবিল বা ব্যাখ্যার উদ্দেশ্য যার অন্বেষণকারী নিন্দিত

যে তাবিলের অন্বেষণকারী নিন্দিত, তা হলো আল্লাহ তাআলা আমাদের যেসব অদৃশ্যের (গাইব) সংবাদ দিয়েছেন, তার প্রকৃত স্বরূপ অনুসন্ধান করা; যার বাস্তবতা বান্দা তার সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে অনুধাবন করতে সক্ষম নয়। আল্লাহ আমাদের বারযাখি জীবনে কবরের নেয়ামত ও আযাব সম্পর্কে জানিয়েছেন, যেমন তিনি জানিয়েছেন পুনরুত্থান, হাশর ও তার ভয়াবহতা এবং জান্নাত ও তার নহরসমূহ, ফলমূল, পাখি ও হুরদের সম্পর্কে; তেমনি জাহান্নাম ও তার বিষাক্ত উত্তাপ, ফুটন্ত পানি ও পূঁজ সম্পর্কেও সংবাদ দিয়েছেন। অথচ আল্লাহ যা সংবাদ দিয়েছেন, তার প্রকৃত স্বরূপ আমরা জানি না।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال تعالى نافيا علم العباد بحقيقة ما أخبر الله به من نعيم أهل الجنة {فلا تعلم نفس ما أخفي لهم من قرة أعين}.

وفي الحديث القدسي: ((أعددت لعبادي الصالحين ما لا عين رأت ولا أذن سمعت ولا خطر على قلب بشر)).

وصفات الباري غيب لا نعرف حقيقتها، فالكلام عن الصفات فرع عن الكلام عن الذات، وحقيقة الذات غير معروفة لنا، فكذلك صفاته تبارك وتعالى.

أما التأويل الذي يحمد طالبه فهو البحث عن تفسير الأسماء والصفات ومعرفة معانيها على الوجه الذي تعرفه العرب من كلامها.

فنحن نعرف معاني ما أخبرنا الله به من معاني
মহান আল্লাহ জান্নাতবাসীদের জন্য যে নেয়ামতরাজির সংবাদ দিয়েছেন, তার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে বান্দাদের জ্ঞানের অভাব ঘোষণা করে ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর কোনো প্রাণই জানে না তাদের জন্য তাদের নয়নপ্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে}।

এবং হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত হয়েছে: ((আমি আমার পুণ্যবান বান্দাদের জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোনো চোখ কখনো দেখেনি, কোনো কান কখনো শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে যার কল্পনাও কখনো উদিত হয়নি))।

সৃষ্টিকর্তার গুণাবলি অদৃশ্যের বিষয় যার হাকিকত বা প্রকৃত স্বরূপ আমরা জানি না। কেননা গুণাবলি সংক্রান্ত আলোচনা হলো মূলত সত্তা (জাত) সংক্রান্ত আলোচনারই অনুবর্তী। আর যেহেতু আল্লাহর সত্তার প্রকৃত স্বরূপ আমাদের নিকট অজ্ঞাত, সেহেতু বরকতময় ও মহান আল্লাহর গুণাবলির স্বরূপও তদ্রূপ।

তবে যে ‘তাবিল’ বা ব্যাখ্যা অন্বেষণকারী প্রশংসার যোগ্য, তা হলো আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ব্যাখ্যা অনুসন্ধান করা এবং এর অর্থসমূহ আরবরা তাদের ভাষারীতিতে যেভাবে বুঝে থাকে, সেই আলোকে তা অবগত হওয়া।

সুতরাং আল্লাহ আমাদের যা সংবাদ দিয়েছেন, সেই অর্থগুলো আমরা জানি...
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২০)
أسماء الله وصفاته، كما نعلم معاني ما أخبرنا الله به من نعيم القبر وعذابه، وقيام الساعة، والبعث والنشور، والموقف وأهواله، والحساب والجزاء والميزان، والجنة ونعيمها، والنار وأهوالها.

 

‌‌فقه آية آل عمران في ضوء ما قررناه في المبحث السابق

قرر الحق تبارك وتعالى في سورة آل عمران أنه أنزل الكتاب {منه آيات محكمات هن أم الكتاب وأخر متشابهات} وقرر أن {الذين في قلوبهم زيغ يتبعون ما تشابه منه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله وما يعلم تأويله إلا الله، والراسخون في العلم يقولون آمنا به كل من عند ربنا}.
আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলি, যেমন আমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো কবরের নেয়ামত ও তার আযাব, কিয়ামত সংঘটিত হওয়া, পুনরুত্থান ও হাশর, হাশরের ময়দান ও তার ভয়াবহতা, হিসাব-নিকাশ, প্রতিদান ও মিযান, জান্নাত ও তার নেয়ামত এবং জাহান্নাম ও তার ভয়াবহতার অর্থসমূহ জানি।

 

পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে আমরা যা স্থির করেছি তার আলোকে সূরা আলে ইমরানের আয়াতের তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

সত্যময় মহান আল্লাহ সূরা আলে ইমরানে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার "কিছু আয়াত সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় (মুহকাম), যা কিতাবের মূল ভিত্তি, আর অন্যগুলো রূপক বা অস্পষ্টার্থ (মুতাশাবিহ)"। তিনি আরও নির্ধারিত করেছেন যে, "যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে রূপক আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ব্যতীত এগুলোর প্রকৃত ব্যাখ্যা আর কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলে— আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি, এ সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে আগত।"
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد قرر الحق في هذا النص أن أهل هذا الزيغ يتركون المحكم من النصوص ويجرون وراء المتشابه، قاصدين من وراء ذلك إثارة الفتن، وبلبلة العقول والقلوب، وتفريق الأمّة.

أما الراسخون في العلم فإنهم يحكِّمون المحكم ويؤمنون بالمتشابه.

فإن قيل: هل يعلم الراسخون تأويل المتشابه؟

فالجواب: أن أهل العلم اختلفوا في الوقف في النص، هل نقف على قوله (إلا الله) فيكون تأويل المتشابه مما استأثر الله به. أو نقف على (الراسخون في العلم) فيكون الراسخون في العلم ممن يعلم تأويله.

وفي ضوء ما قررناه في البحث السابق يعلم الجواب، فإذا كان المراد بالتأويل حقيقة ما اخبر الله عنه من صفاته فالوقف على: (إلا الله) ويكون تأويل مما استأثر الله بعلمه.
মহান সত্য এই পাঠে নির্ধারণ করেছেন যে, এই বিচ্যুতিগ্রস্তরা সুস্পষ্ট (মুহকাম) বক্তব্যসমূহ বর্জন করে অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) বিষয়গুলোর পেছনে ছোটে; তাদের উদ্দেশ্য হলো ফিতনা সৃষ্টি করা, মানুষের মন ও হৃদয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।

পক্ষান্তরে, যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা সুস্পষ্ট (মুহকাম) আয়াতসমূহকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করে এবং অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) বিষয়গুলোর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে।

এখন যদি প্রশ্ন করা হয়: জ্ঞানে সুগভীর ব্যক্তিবর্গ কি অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা (তাউয়িল) জানেন?

উত্তর হলো: আলেমগণ এই পাঠের বিরতি (ওয়াকফ) নিয়ে মতভেদ করেছেন; আমরা কি ‘আল্লাহ ব্যতীত’ (ইল্লাল্লাহ) কথাটির ওপর থামব? যদি তাই হয়, তবে অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা কেবল আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত থাকবে। নাকি আমরা ‘জ্ঞানে সুগভীরগণ’ (আর-রাসিখুনা ফিল ইলম)-এর ওপর থামব? সেক্ষেত্রে জ্ঞানে সুগভীর ব্যক্তিরাও এর ব্যাখ্যা জানেন বলে গণ্য হবে।

পূর্ববর্তী আলোচনায় আমরা যা নির্ধারণ করেছি, তার আলোকে উত্তরটি জানা যায়। যদি ব্যাখ্যা (তাউয়িল) দ্বারা আল্লাহ তাআলা তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে যে সংবাদ দিয়েছেন তার প্রকৃত স্বরূপ উদ্দেশ্য হয়, তবে বিরতি হবে ‘আল্লাহ ব্যতীত’ (ইল্লাল্লাহ)-এর ওপর; আর তখন এর ব্যাখ্যা কেবল আল্লাহর নিজস্ব জ্ঞানভাণ্ডারে সংরক্ষিত বিষয় হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২২)
وإن كان المراد معرفة ما أخبر الله به عن نفسه، وهو التفسير فإن الراسخين في العلم يعلمونه في الجملة، وإن كان فيهم من يخفى عليه المعنى، لكن لا يخلو أن يكون فيهم من يعرف مراد الله من قوله، ويعرف المعنى الذي عناه.

فالقرآن أنزل بلغة العرب، والراسخون في العلم لا بدّ أن يتميزوا عن الجهلاء وعوام الناس بمعرفتهم بمعان ما أنزل إليهم ربهم. ومما يدل على صحة هذا أن القرآن نزل بلغة العرب، وقد أمرنا الله بفقهه وتدبره، فكيف يكون في القرآن ما لا يفقه معناه؟!
আর যদি উদ্দেশ্য হয় আল্লাহ নিজের সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তা জানা—যা মূলত তাফসির বা ব্যাখ্যা—তবে জ্ঞানে সুগভীর পণ্ডিতগণ সামগ্রিকভাবে তা অবগত। যদিও তাদের মধ্যে এমন কেউ থাকতে পারেন যার কাছে কোনো কোনো অর্থ অস্পষ্ট থেকে যায়, কিন্তু তারা এমন ব্যক্তিবর্গশূন্য হতে পারেন না যাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর বাণীর উদ্দেশ্য অনুধাবন করেন এবং তিনি যে অর্থ বুঝিয়েছেন তা জানেন।

কেননা কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে আরবি ভাষায়, আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা মূর্খ ও সাধারণ মানুষের চেয়ে অবশ্যই স্বতন্ত্র হবেন তাদের প্রতিপালক তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার অর্থ উপলব্ধির মাধ্যমে। এর সত্যতার অন্যতম প্রমাণ হলো যে, কুরআন আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহ আমাদের তা গভীরভাবে অনুধাবন ও অনুধ্যান করার নির্দেশ দিয়েছেন; সুতরাং কুরআনে এমন কিছু কীভাবে থাকতে পারে যার অর্থ বোঝা যায় না?!
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌تناقض أهل التأويل

الذين يوجبون تأويل ما أثبته الله لنفسه من الصفات، ويصرفونها عن ظاهرها يرون أن تأويل تلك النصوص لا يعلمه أحد إلا الله تبارك وتعالى.

وهم يتناقضون هنا تناقضا بينا، فإذا كانوا لا يعلمون معاني نصوص الصفات، فكيف يدعون إلى تأويلها، إن المنطق السليم يلزمهم بأن لا يبحثوا لها عن تأويل موافق لظاهرها أو مخالف له، لأنهم لا يعلمون لها معنى، أو له معنى غير مفهوم لهم، فكان الواجب عليهم أن يقولوا رضينا بالجهل بهذه النصوص سبيلا ولا نثبت ظاهرا ولا ننفيه ولا نؤوله.

أمّا أن يقولوا يجب علينا صرف ألفاظ النصوص من المعنى الراجح إلى المعنى المرجوح لدليل، فهذا تناقض مخالف لدعواهم أنه لا أحد يفقه معناها.
ব্যাখ্যাকারীদের স্ববিরোধিতা

যারা আল্লাহ তাআলা নিজের জন্য যে সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করেছেন সেগুলোর অপব্যাখ্যা (তাবিল) করা আবশ্যক মনে করেন এবং সেগুলোকে এগুলোর বাহ্যিক অর্থ থেকে বিচ্যুত করেন, তারা মনে করেন যে সেই সকল পাঠের ব্যাখ্যা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ব্যতীত আর কেউ জানে না।

তারা এখানে এক সুস্পষ্ট স্ববিরোধিতায় লিপ্ত হন। যদি তারা গুণাবলি সংক্রান্ত পাঠগুলোর অর্থই না জানেন, তবে কীভাবে তারা সেগুলো ব্যাখ্যার আহ্বান জানান? সুস্থ বিবেক তাদের এই বিষয়ে বাধ্য করে যে, তারা যেন এগুলোর এমন কোনো ব্যাখ্যা না খোঁজেন যা বাহ্যিক অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ কিংবা তার বিরোধী; কারণ তারা তো এগুলোর কোনো অর্থই জানেন না, অথবা এগুলোর এমন কোনো অর্থ রয়েছে যা তাদের নিকট বোধগম্য নয়। এমতাবস্থায় তাদের জন্য এটিই আবশ্যক ছিল যে তারা বলবে, "আমরা এই পাঠগুলো সম্পর্কে অজ্ঞ থাকাকেই পথ হিসেবে গ্রহণ করলাম; আমরা এর বাহ্যিক অর্থ সাব্যস্তও করব না, তা অস্বীকারও করব না এবং এর কোনো ব্যাখ্যাও করব না।"

পক্ষান্তরে, তাদের এই দাবি করা যে—"কোনো দলিলের ভিত্তিতে পাঠের শব্দগুলোকে এর প্রবল অর্থ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেয়া আমাদের জন্য আবশ্যক"—এটি একটি সুস্পষ্ট বৈপরীত্য যা তাদের সেই দাবির পরিপন্থী যে, এগুলোর মর্মার্থ কেউ অনুধাবন করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৪)
ثم هم يتناقضون مرة أخرى عندما يصرفون هذه النصوص إلى نظير ما نفوه من معاني، فهم يؤولون يد الله بقدرته، فإذا كان هذا التأويل حقّا ممكنا كان المنفي مثله، وإن كان المنفي باطلا ممتنعا كان الثابت مثله.

 

‌‌هل الصفات من المتشابه

الإحكام والتشابه قد يكون عامّا، فيوصف القرآن كله بالإحكام، كما يوصف كله بالتشابه، وقد يكون خاصا، فيكون بعض آيات الكتاب محكما وبعضها متشابها.

وقد جلَّى شيخ الإسلام ابن تيمية هذه المسالة، وشرحها شرحا وافيا (1)، فالإحكام العام جاء في مثل قوله تعالى: {الر كتاب أحكمت آياته ثم

--------------------------------------------

(1) راجع مجموع فتاوى شيخ الإسلام: 3/ 59 - 66.
অতঃপর তারা পুনরায় বৈপরীত্যে পতিত হয় যখন তারা এই নাসসমূহকে (ধর্মতাত্ত্বিক পাঠ্য) তারা ইতিপূর্বে যা অস্বীকার করেছিল তার অনুরূপ অর্থের দিকে ফিরিয়ে দেয়। তারা আল্লাহর 'হাত'-কে তাঁর 'ক্ষমতা' দ্বারা ব্যাখ্যা করে; অথচ এই ব্যাখ্যা যদি প্রকৃতপক্ষে সম্ভব হতো, তবে যা অস্বীকার করা হয়েছে তাও তেমনই হতো। আর যদি যা অস্বীকার করা হয়েছে তা বাতিল ও অসম্ভব হতো, তবে যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তাও তদ্রূপ হতো।

 

‌‌সিফাত বা গুণাবলি কি মুতাশাবিহাতের অন্তর্ভুক্ত?

ইহকাম (সুস্পষ্টতা) এবং তাশাবুহ (অস্পষ্টতা বা সাদৃশ্য) কখনো সাধারণ অর্থে হতে পারে, ফলে সমগ্র কুরআনকেই ইহকাম বা সুদৃঢ় হিসেবে বর্ণনা করা হয়, যেমনটি একে পূর্ণাঙ্গভাবে তাশাবুহ বা সাদৃশ্যপূর্ণ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। আবার এটি কখনো বিশেষ অর্থেও হতে পারে, ফলে কিতাবের কিছু আয়াত মুহকাম (সুস্পষ্ট) এবং কিছু আয়াত মুতাশাবিহ হয়।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছেন এবং এর একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন (১)। সাধারণ ইহকাম-এর বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণীর ন্যায় এসেছে: {আলিফ-লাম-রা; এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুদৃঢ় করা হয়েছে, অতঃপর...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম: ৩/ ৫৯ - ৬৬।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৫)
فصلت} فأخبر هنا أنه تبارك وتعالى أحكم جميع آيات الكتاب.

وأما التشابه العام ففي مثل قوله تعالى: {الله نزل أحسن الحديث كتاب متشابها مثاني} فأخبر أن القرآن كله متشابه.

وبين شيخ الإسلام رحمه الله تعالى: أن المراد بالإحكام العام الإتقان بتمييز الصدق من الكذب في أخباره، وتمييز الرشد من الغي في أوامره، وقد سمى الحق القرآن بأنه حكيم {الر تلك آيات الكتاب الحكيم} والحكيم بمعنى الحاكم، والله جعل القرآن حكما يفصل بين الناس فيما اختلفوا فيه، ومن ذلك حكمه بين بني إسرائيل في أكثر ما اختلفوا فيه.

وبين أن التشابه العام ضد الاختلاف المنفي عن
ফুসসিলাত}; এখানে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কিতাবের সকল আয়াতকে সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুসংবদ্ধ করেছেন।

আর সাধারণ সামঞ্জস্যতার বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: "আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী অবতীর্ণ করেছেন, যা একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কিতাব, যা বারবার পঠিত হয়।" এতে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, সমগ্র কুরআনই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে: সাধারণ 'ইহকাম' (সুপ্রতিষ্ঠিতকরণ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সংবাদসমূহের ক্ষেত্রে সত্যকে মিথ্যা থেকে এবং আদেশসমূহের ক্ষেত্রে সঠিক পথকে বিভ্রান্তি থেকে পৃথক করার মাধ্যমে বিষয়টিকে সুনিপুণ ও ত্রুটিমুক্ত করা। মহান সত্য (আল্লাহ) কুরআনকে 'হাকীম' (প্রজ্ঞাময়) হিসেবে অভিহিত করেছেন: "আলিফ-লাম-রা; এগুলো প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত।" এখানে 'হাকীম' শব্দটি ফয়সালাকারী (হাকিম) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ কুরআনকে এমন এক মীমাংসাকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যা মানুষের মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা করে দেয়; এর অন্তর্ভুক্ত হলো বনী ইসরাঈলরা যেসব বিষয়ে অধিক মতভেদ করত সেগুলোর ফয়সালা করা।

তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, সাধারণ সামঞ্জস্যতা হলো সেই বৈপরীত্যের বিপরীত যা নাকচ করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৬)
القرآن في قوله: {ولو كان من عند غير الله لوجدوا فيه اختلافا كثيرا} وهو الاختلاف المذكور في قوله: {وإنكم لفي قول مختلف يؤفك عنه من أفك}.

ومعنى التشابه الذي يوصف به القرآن كله تماثل الكلام وتناسبه، بحيث يصدق بعضه بعضا فإذا أمر القرآن بأمر لم يأمر بنقيضه في موضع آخر، بل يأمر به أو بنظيره أو بملزوماته، وإذا نهى عن شيء لم يأمر به في موضع آخر، بل ينهى عنه أو عن نظيره أو ملزوماته، إذا لم يكن هناك نسخ.

وكذلك في الأخبار، لا يخبر بنقيض ما قرره، وعلى ذلك فالتشابه التوافق والتماثل، وهو يقابل الاختلاف والتضاد.

والتشابه يكون في المعاني وإن اختلفت الألفاظ،
কুরআন সম্পর্কে আল্লাহর বাণী: "যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক বৈসাদৃশ্য পেত।" আর এটি সেই বৈসাদৃশ্য যার উল্লেখ এই বাণীতে রয়েছে: "নিশ্চয় তোমরা পরস্পরবিরোধী কথায় লিপ্ত; তা থেকে সেই ব্যক্তিই বিমুখ হয়, যাকে সত্যবিমুখ করা হয়েছে।"

আর সম্পূর্ণ কুরআনকে যে সাদৃশ্যপূর্ণ (তাশাবুহ) বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে, তার অর্থ হলো বাণীর সমরূপতা ও সামঞ্জস্য, যাতে এর এক অংশ অপর অংশকে সত্যায়ন করে। সুতরাং কুরআন যখন কোনো বিষয়ের আদেশ দেয়, তখন অন্য কোনো স্থানে তার বিপরীত কিছুর আদেশ দেয় না; বরং সেই বিষয়েরই, অথবা তার সদৃশ বিষয়ের, অথবা তার অপরিহার্য অনুষঙ্গের নির্দেশ দেয়। আর যখন কোনো বিষয়ে নিষেধ করে, তখন অন্য কোনো স্থানে তার আদেশ দেয় না; বরং তা থেকে, অথবা তার সদৃশ বিষয় থেকে, অথবা তার অপরিহার্য অনুষঙ্গ থেকে নিষেধ করে—যদি সেখানে কোনো রহিতকরণ (নাসখ) না ঘটে থাকে।

একইভাবে সংবাদের ক্ষেত্রেও, এটি তার সাব্যস্তকৃত বিষয়ের বিপরীতে কোনো সংবাদ প্রদান করে না। এর ভিত্তিতে, সাদৃশ্য (তাশাবুহ) হলো ঐকমত্য ও সমরূপতা, যা অনৈক্য ও বৈপরীত্যের বিপরীত।

আর এই সাদৃশ্য অর্থের মধ্যে বিদ্যমান থাকে, যদিও শব্দাবলি ভিন্ন হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৭)
فإذا كانت المعاني يوافق بعضها بعضا، ويعضد بعضها بعضا، ويناسب بعضها بعضا، ويشهد بعضها لبعض، كان الكلام متشابها بخلاف الكلام الذي يضاد بعضه بعضا.

فالتشابه العام لا ينافي الإحكام العام، بل هو مصدق له، ثم تكلم شيخ الإسلام على الإحكام الخاص والتشابه الخاص، وبين أن الإحكام الخاص ضد التشابه الخاص.

ثم بين أن المراد بالتشابه الخاص مشابهة الشيء لغيره من وجه مع مخالفته له من وجه آخر، بحيث يشتبه على بعض الناس أنه هو، أو مثله، وليس كذلك.

والإحكام الخاص هو الفصل بينهما، بحيث لا يشتبه أحدهما بالآخر، وهذا التشابه إنما يكون بقدر مشترك مع وجود الفاصل بينهما.
সুতরাং যখন অর্থসমূহ একে অপরের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, একে অপরকে শক্তিশালী করে, একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং একে অপরের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়, তখন সেই কালাম বা বক্তব্য সুসংগত হিসেবে গণ্য হয়; যা একে অপরের বিপরীতধর্মী বক্তব্যের পরিপন্থী।

অতএব, সাধারণ সুসংগতি সাধারণ সুসংবদ্ধতার পরিপন্থী নয়, বরং এটি তার সত্যায়নকারী। অতঃপর শায়খুল ইসলাম বিশেষ সুসংবদ্ধতা ও বিশেষ অস্পষ্টতা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, বিশেষ সুসংবদ্ধতা হলো বিশেষ অস্পষ্টতার বিপরীত।

এরপর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, বিশেষ অস্পষ্টতা বা সাদৃশ্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোনো জিনিসের এক দিক থেকে অন্য জিনিসের সাথে সাদৃশ্য থাকা, যদিও অন্য দিক থেকে তার সাথে বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান থাকে; ফলে কিছু মানুষের নিকট এমন সংশয় তৈরি হয় যে এটিই সেটি, অথবা তার অনুরূপ, অথচ বিষয়টি তেমন নয়।

আর বিশেষ সুসংবদ্ধতা হলো উভয়ের মাঝে এমন পার্থক্য নিরূপণ করা যাতে একটির সাথে অন্যটির সংশয় বা বিভ্রম না ঘটে। আর এই সাদৃশ্য মূলত একটি সাধারণ গুণের ভিত্তিতেই হয়ে থাকে, যদিও তাদের মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী বিদ্যমান থাকে।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৮)
وبين رحمه الله تعالى: أن من الناس من لا يهتدي للفصل بينهما فيكون مشتبهاً عليه، ومنهم من يهتدي إلى ذلك، فالتشابه هنا من الأمور النسبية الإضافية، يشتبه على بعض الناس دون بعض، وأهل العلم والإيمان عندهم من العلم ما يزيل هذا الاشتباه.

ومن هذا الباب الشبه التي يضل بها بعض الناس، وهي ما يشتبه فيها الحق والباطل، حتى يشتبه على بعض الناس، ومن أوتي العلم بالفصل بين هذا وهذا لم يشتبه عليه الحق بالباطل.

وضرب شيخ الإسلام أمثلة كثيرة على المتشابه الذي اشتبه على كثير من الناس وعرف أهل العلم الفصل بين الحق والباطل فيه.

فقد اشتبه على بعض الناس وجود الرب بوجود العبد ووجود كل موجود، وساقهم هذا الاشتباه إلى عدم التفريق بين وجود المخلوق ووجود الخالق، حتى زعم أهل وحدة الوجود أن وجود المخلوق هو عين
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন যে, মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যারা এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে সমর্থ হয় না, ফলে বিষয়টি তাদের নিকট অস্পষ্ট থেকে যায়। আবার তাদের মধ্যে এমনও আছে যারা এ বিষয়ে সঠিক পথের দিশা পায়। সুতরাং এখানে অস্পষ্টতা বা সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া বিষয়টি একটি আপেক্ষিক বিষয়; যা কারো কাছে অস্পষ্ট মনে হলেও অন্যের কাছে তা নয়। আর জ্ঞান ও ঈমানের অধিকারীদের নিকট এমন ইলম রয়েছে যা এই অস্পষ্টতাকে দূরীভূত করে।

এই পর্যায়ভুক্ত হলো সেই সকল সংশয় যার মাধ্যমে কিছু মানুষ পথভ্রষ্ট হয়, আর তা হলো সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটা, যা কিছু মানুষের নিকট অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। তবে যাকে এই দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করার জ্ঞান দান করা হয়েছে, তার নিকট সত্য ও মিথ্যার মাঝে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না।

শাইখুল ইসলাম এমন অনেক অস্পষ্ট বিষয়ের উদাহরণ পেশ করেছেন যা অনেক মানুষের নিকট বিভ্রান্তিকর ছিল, অথচ ইলমের অধিকারীরা সেগুলোর ক্ষেত্রে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

যেমন কিছু মানুষের নিকট রবের অস্তিত্বের সাথে বান্দার অস্তিত্ব এবং প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুর অস্তিত্বের বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। এই অস্পষ্টতা তাদেরকে সৃষ্টির অস্তিত্ব ও স্রষ্টার অস্তিত্বের মধ্যে পার্থক্য না করার দিকে ধাবিত করেছে; এমনকি ‘ওয়াহদাতুল উজুদ’ বা সর্বেশ্বরবাদে বিশ্বাসীরা দাবি করেছে যে, সৃষ্টির অস্তিত্বই হলো স্বয়ং
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ২৯)
وجود الخالق، مع أنه لا شيء أبعد عن المماثلة من الخالق بالمخلوق.

والسر في الخلل الذي أصاب هؤلاء أنهم رأوا الموجودات تشترك في مسمى الوجود، فرأوا الوجود واحداً، ولم يفرقوا بين الواحد بالعين، والواحد بالنوع.

وظن آخرون أنه إذا قيل إن الموجودات تشترك في مسمى الوجود فإنه يلزم من ذلك التشبيه والتركيب، وقالوا: لفظ الوجود مقول بالاشتراك اللفظي، فخالفوا ما اتفق عليه العقلاء على اختلاف أصنافهم إلى أن الوجود ينقسم إلى قديم ومحدث.

وأهل العلم يعلمون أن وجود الخالق يخصه، ووجود المخلوقات يخصها، فهي وإن شاركت الخالق في مسمى الوجود، لكن هناك من الفروق ما يزيل التشابه، وهؤلاء لا يضلون بالمتشابه من الكلام، لأنهم يجمعون بينه وبين المحكم الذي يبين ما بينهما من الفصل
স্রষ্টার অস্তিত্ব, যদিও স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে সাদৃশ্যের চেয়ে অধিক দূরবর্তী আর কিছুই নেই।

তাদের এই বিভ্রান্তির প্রকৃত কারণ হলো—তারা বিদ্যমান বস্তুসমূহকে 'অস্তিত্ব' নামক সংজ্ঞায় অংশীদার হিসেবে দেখেছে; ফলে তারা অস্তিত্বকে অভিন্ন মনে করেছে এবং তারা সত্তাগত ঐক্য ও শ্রেণিগত ঐক্যের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি।

অন্যরা ধারণা করেছে যে, যদি বিদ্যমান সত্তাসমূহ 'অস্তিত্ব' নামক সংজ্ঞায় অংশীদার হয়, তবে তা থেকে সাদৃশ্যারোপ ও সংমিশ্রণ অনিবার্য হয়ে পড়ে। তারা বলেছে: 'অস্তিত্ব' শব্দটি কেবল একটি আভিধানিক সমোচ্চারিত শব্দ মাত্র। এর মাধ্যমে তারা সর্বস্তরের জ্ঞানীদের সেই স্বীকৃত মূলনীতির বিরোধিতা করেছে যা অনুযায়ী অস্তিত্ব অনাদি এবং নশ্বর—এই দুই ভাগে বিভক্ত।

পক্ষান্তরে আহলুল ইলম বা বিজ্ঞজনেরা জানেন যে, স্রষ্টার অস্তিত্ব তাঁর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এবং সৃষ্টির অস্তিত্ব তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। সৃষ্টি যদিও 'অস্তিত্ব' নামক সংজ্ঞায় স্রষ্টার সাথে অংশীদার হয়, তথাপি সেখানে এমন সব পার্থক্য বিদ্যমান যা সাদৃশ্যকে নাকচ করে দেয়। তারা দ্ব্যর্থবোধক বক্তব্যের কারণে বিভ্রান্ত হন না; কারণ তারা একে সুষ্পষ্ট ও অকাট্য বক্তব্যের সাথে সমন্বয় করেন, যা উভয়ের মধ্যকার পার্থক্যকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৩০)
والافتراق.

وإذا تمسك النصراني بقوله تعالى: {إنا نحن نزلنا الذكر} مستدلاً بقوله: {نحن} على تعدد الآلهة، رد عليهم أهل العلم بالمحكم في قوله: {وإلهكم إله واحد} وبذلك يزول الاشتباه، وما ذكره الحق في صيغة الجمع فهو يعظم به نفسه تبارك وتعالى، ومن ذلك ما أخبر به الحق تبارك وتعالى مما في الجنّة من ماء ولبن وخمر وعنب وعسل ونحو ذلك فإنها وإن شاركت ما في الدنيا من أسماء ومعاني، إلا أن حقيقة هذه الخيرات في الجنات لا تعرف، ويكفي أن الرب أخبر أنها من نعيم الجنّة لنفرق بينها وبين ما نشاهده في الدنيا مما يتسمى بالأسماء نفسها.

ومن ذلك أسماء الباري - جل وعلا- وصفاته التي اختص بها، فإن معانيها معروفة معلومة، وقد
এবং বিভক্তি।

আর যদি কোনো খ্রিস্টান মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় আমিই যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি" এর "আমরা" শব্দটিকে বহু উপাস্যের উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে আঁকড়ে ধরে, তবে জ্ঞান অন্বেষী বিদ্বানগণ আল্লাহর অকাট্য বাণীর মাধ্যমে তাদের প্রতিবাদ করেন, যা হলো: "তোমাদের ইলাহ তো কেবল এক ইলাহ"। এর মাধ্যমে সকল অস্পষ্টতা দূরীভূত হয়। আর সত্য ইলাহ বহুবচনের যে রূপ উল্লেখ করেছেন, তা দ্বারা বরকতময় ও মহান আল্লাহ স্বয়ং নিজের মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করেছেন। এর উদাহরণ হলো জান্নাতের পানি, দুধ, শরাব, আঙুর, মধু এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে বরকতময় ও মহান আল্লাহ যা সংবাদ দিয়েছেন; এগুলো দুনিয়ার বস্তুসমূহের সাথে নামে ও অর্থে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও জান্নাতের এই কল্যাণকর বস্তুসমূহের প্রকৃত স্বরূপ মানুষের অজ্ঞাত। আর রবের পক্ষ থেকে এটি জান্নাতের নেয়ামত হওয়ার সংবাদ পাওয়াই আমাদের জন্য যথেষ্ট, যাতে আমরা দুনিয়ায় প্রত্যক্ষ করা একই নামের বস্তুগুলো থেকে এগুলোকে পৃথক করতে পারি।

অনুরূপভাবে মহান ও উচ্চতর স্রষ্টার সেই নামসমূহ ও গুণাবলী যা তাঁর জন্য নির্দিষ্ট, সেগুলোর অর্থ সুপরিচিত ও জ্ঞাত, আর নিশ্চয়...
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৩১)
يشتبه على بعض الناس هذه الصفات بصفات الخلق، فيظنون أن صفاتهم كصفاته وهؤلاء المشبهة، وفريق آخر يظن أنه يلزم من إثبات هذه الصفات التشبيه، ولذلك يحتاج إلى تأويلها أو نفيها تنزيهاً للباري جل وعلا.

وأهل العلم يعلمون الفارق الذي يزول به الاشتباه، فصفات الباري تخصه وتناسب جلاله وكماله، وصفات المخلوقات تناسب عجزهم وقصورهم، أما حقيقة صفات الباري على ما هي عليه فإننا لا نعرفها، فالحق تبارك وتعالى ليس كمثله شيء.
কিছু মানুষের নিকট এই গুণাবলি সৃষ্টির গুণাবলির সাথে সদৃশ মনে হয়, ফলে তারা ধারণা করে যে তাদের গুণাবলি তাঁর গুণাবলির সদৃশ; আর এরাই হলো সাদৃশ্যবাদী। অন্য এক দল মনে করে যে, এই গুণাবলি সাব্যস্ত করার দ্বারা সাদৃশ্য প্রদান অনিবার্য হয়ে পড়ে, তাই মহান স্রষ্টার পবিত্রতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে তারা এগুলোর অপব্যাখ্যা অথবা অস্বীকার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

পক্ষান্তরে জ্ঞানবান আলিমগণ সেই পার্থক্য সম্পর্কে অবগত আছেন যার মাধ্যমে এই সংশয় দূরীভূত হয়। কেননা স্রষ্টার গুণাবলি তাঁর একান্ত নিজস্ব এবং তা তাঁর মহিমা ও পূর্ণতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর সৃষ্টিজীবের গুণাবলি তাদের অক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মহান স্রষ্টার গুণাবলির প্রকৃত স্বরূপ আমরা জানি না, কারণ সত্য সত্তা আল্লাহ তাআলার সদৃশ কোনো কিছুই নেই।
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌ادعاء أهل التأويل أنهم يسيرون على خطا علماء الأصول

قد يقول أهل التحريف والتأويل إن منهجنا الذي سرنا عليه وسلكناه سار عليه كثير من أهل العلم من أهل الفقه والأصول، يعنون أهل أصول الفقه وأصول الدين، فإن هؤلاء يعرفون التأويل بأنه صرف اللفظ عن معناه الراجح إلى المعنى المرجوح لدليل يقترن به.

وجوابنا على هؤلاء من وجوه:

الأول: أن هذا التعريف للتأويل تعريف اصطلاحي لجماعة من متأخري العلماء، وليس هو التأويل الذي ورد في الكتاب والسنة، كما سبق بيانه.

فحمل التأويل الذي جاءت به النصوص على
ব্যাখ্যাদানকারী সম্প্রদায়ের এই দাবি যে তারা মূলনীতিবিদ আলেমদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে

অপব্যাখ্যা ও রূপক ব্যাখ্যাদানকারী সম্প্রদায় সম্ভবত বলতে পারে যে, আমরা যে মানহাজ বা পদ্ধতি গ্রহণ করেছি এবং যে পথে চলেছি, ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রের অনেক আলেমই সেই পথে চলেছেন; তারা এর দ্বারা মূলত উসুলুল ফিকহ এবং উসুলুদ দ্বীনের পণ্ডিতদের বুঝিয়ে থাকেন। কেননা, এই পণ্ডিতগণ তাবিলের সংজ্ঞায় বলেন যে, কোনো শব্দের অর্থকে তার প্রবল অর্থ থেকে সরিয়ে কোনো সংলগ্ন দলিলের কারণে অপেক্ষাকৃত অপ্রধান অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া।

তাদের এই দাবির উত্তর কয়েকভাবে দেওয়া যেতে পারে:

প্রথমত: তাবিলের এই সংজ্ঞাটি পরবর্তী যুগের একদল আলেমের একটি পারিভাষিক সংজ্ঞা মাত্র। এটি সেই তাবিল নয় যা কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সুতরাং পবিত্র পাঠ্যসমূহে বর্ণিত তাবিল শব্দটিকে... এর ওপর প্রয়োগ করা...
(খণ্ড: ১) আত-তাবিল খুতুরাতুহু ওয়া আসারুহু (পৃষ্ঠা: ৩৩)
هذا المعنى الاصطلاحي المحدث لا يجوز، وإنما تحمل الألفاظ على ما تعرفه العرب من كلامها، ولم يفقه الصحابة ومن بعدهم من القرون الفاضلة التأويل على هذا الوجه.

يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: (التأويل في اصطلاح كثير من المتأخرين هو صرف اللفظ عن الاحتمال الراجح إلى الاحتمال المرجوح لدليل يقترن بذلك، فلا يكون معنى اللفظ الموافق لدلالة ظاهرة تأويلا على اصطلاح هؤلاء، وظنوا أن مراد الله-تعالى- بلفظ التأويل ذلك، وان للنصوص تأويلا يخالف مدلولها لا يعلمه إلا الله ولا يعلمه المتأولون) (1).

وقال في موضع آخر بعد أن حكى هذا النوع من التأويل: (وتسمية هذا تأويلا لم يكن في عرف

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى شيخ الإسلام 5/ 35. وراجع: 3/ 55، 67 من مجموع الفتاوى. راجح شرح العقيدة الطحاوية ص235.
এই নব আবিষ্কৃত পারিভাষিক অর্থটি বৈধ নয়। বরং শব্দগুলোকে আরবরা তাদের কথাবার্তায় যেভাবে ব্যবহার করত সেই অর্থেই গ্রহণ করতে হবে। সাহাবীগণ এবং পরবর্তী শ্রেষ্ঠ যুগের উলামাগণ এই পদ্ধতিতে 'তাবিল' (ব্যাখ্যা)-কে অনুধাবন করেননি।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: (পরবর্তী যুগের অনেক আলিমের পরিভাষায় 'তাবিল' হলো কোনো শব্দকে তার শক্তিশালী সম্ভাবনা থেকে সরিয়ে দুর্বল সম্ভাবনার দিকে ফিরিয়ে নেওয়া—এমন কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে যা এর সাথে যুক্ত থাকে। ফলে তাদের পরিভাষা অনুযায়ী শব্দের প্রকাশ্য অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ অর্থকে 'তাবিল' বলা হয় না। তারা ধারণা করেছে যে, আল্লাহ তাআলা 'তাবিল' শব্দ দ্বারা এটিই উদ্দেশ্য নিয়েছেন এবং মূলপাঠসমূহের এমন কিছু ব্যাখ্যা রয়েছে যা এর প্রকাশ্য অর্থের বিপরীত, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না, এমনকি ব্যাখ্যা প্রদানকারীরাও তা জানেন না) (১)।

তিনি অন্য এক স্থানে এই ধরণের 'তাবিল' বর্ণনা করার পর বলেন: (এটিকে 'তাবিল' হিসেবে নামকরণ করা প্রচলিত প্রথায় ছিল না...

--------------------------------------------

(১) মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ৫/৩৫। আরও দেখুন: মাজমুউল ফাতাওয়া ৩/৫৫, ৬৭। শরহুল আকিদাহ আত-তহবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৩৫।